(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: -)
سنن سعيد بن منصور - بداية التفسير - ت الحميد   (سعيد بن منصور)

القسم: كتب السنة


الكتاب: سنن سعيد بن منصور (ت 227 هـ)

دراسة وتحقيق: د سعد بن عبد الله بن عبد العزيز آل حميد

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুনান সাঈদ বিন মানসুর - তাফসীরের শুরু - আল-হুমাইদ এর তাহকীক   (সাঈদ বিন মানসুর)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সুনান সাঈদ বিন মানসুর (মৃত্যু: ২২৭ হিজরী)

গবেষণা ও তাহকীক: ড. সা’দ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আযীয আল-হুমাইদ

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি প্রকাশনী ও বিতরণ কেন্দ্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১)
المقدمة

الحمد لله الذي خَلَقَ السمواتِ والأرضَ وجَعَلَ الظلماتِ والنُّورَ ثم الذين كفروا بربهم يَعْدِلُون.

والحمد لله الذي لا يُؤَدَّى شُكْرُ نِعْمةٍ من نِعَمِهِ إلا بِنِعْمةٍ منه تُوجِبُ على مُؤَدِّي مَاضِي نِعَمِهِ بِأَدَائِها نعمةً حَادِثَةً يَجِبُ عليه شُكْرُه بها.

ولا يَبْلُغُ الواصفون كُنْهَ عَظَمَتِه الذي هو كما وَصَفَ نَفْسَهُ، وفوق ما يَصِفُهُ به خَلْقُه.

أحمده حمداً كما يَنبغي لكرمِ وَجْهِهِ وعِزِّ جَلاله.

وأستعينه استعانةَ من لا حَوْل له ولا قُوَّة إلا به.

وأستَهْديه بِهُدَاهُ الذي لا يَضِلُّ من أَنْعَمَ به عليه.

واستغفره لما أَزْلَفْتُ وأَخَّرْتُ استغفار من يُقِرُّ بعبوديَّته، ويعلم أنه لا يَغْفِرُ ذنبه ولا يُنَجِّيه منه إلا هو.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له، وأن محمداً عبده ورسوله، المُصْطَفى لوَحْيه، المنْتَخَبُ لرسالته، المفضَّلُ على جميع خلقه بِفَتْحِ رحمتهِ، وخَتْمِ نبوَّته، وأعمُّ ما أُرسل به مُرْسَل قَبْلَه، المرفوعُ ذكرُهُ مع ذكره في الأُولى، والشَّافع المشفَّع في الأُخرى، أفضلُ خَلْقِه نفساً، وأجمعهم لكلِّ خُلُق رَضِيَهُ في دين ودُنيا، وخيرهم نسباً وداراً.

صلَّى الله على نبينا كلَّما ذكره الذاكرون، وغَفَلَ عن ذكره الغافلون، وصلَّى عليه في الأولين والآخِرين، أفضلَ وأكثرَ وأزكَى ما صلَّى على أحد من خلقه، وجزاه الله عنّا أفضلَ ما جَزَى مُرْسلاً عَنْ مَنْ أُرْسِلَ إليه، فإنه أنقذَنا به من الهَلَكَةِ، وجعلنا في خير أمة أُخرجت
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; তা সত্ত্বেও যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ নির্ধারণ করে।

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা সম্ভব নয় তাঁরই পক্ষ থেকে অন্য আরেকটি নেয়ামত ছাড়া, যা পূর্ববর্তী নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়কারীর ওপর সেই শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে নতুন একটি নেয়ামত অর্পণ করে যার জন্য পুনরায় শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে।

বর্ণনাকারীরা তাঁর মহত্ত্বের প্রকৃত স্বরূপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না; তিনি তেমনটিই যেমন তিনি নিজের গুণগান করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টিরা তাঁর যে গুণগান করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।

আমি তাঁর প্রশংসা করছি এমন প্রশংসা যা তাঁর চেহারার মাহাত্ম্য এবং তাঁর প্রতাপের মর্যাদার জন্য শোভনীয়।

এবং আমি তাঁর কাছে এমনভাবে সাহায্য প্রার্থনা করছি, যার কোনো উপায় ও শক্তি নেই তিনি ছাড়া।

আর আমি তাঁরই হিদায়াতের মাধ্যমে হিদায়াত কামনা করছি, যাকে তিনি তা দান করেছেন সে পথভ্রষ্ট হয় না।

এবং আমি তাঁর কাছে আমার আগের ও পরের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এমন ব্যক্তির মতো যে নিজের দাসত্ব স্বীকার করে এবং জানে যে, তিনি ছাড়া আর কেউ তার পাপ ক্ষমা করতে পারে না এবং তা থেকে উদ্ধার করতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল; যিনি তাঁর ওহির জন্য মনোনীত, তাঁর রিসালাতের জন্য নির্বাচিত, যাকে তাঁর রহমতের দ্বার উন্মোচন এবং নবুওয়তের সমাপ্তির মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে; এবং তাঁকে যা দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে তা তাঁর পূর্ববর্তী যে কোনো প্রেরিত রাসুলের বার্তার চেয়ে অধিক ব্যাপক; পৃথিবীতে যাঁর নাম আল্লাহর নামের সাথে সমুন্নত করা হয়েছে এবং পরকালে যিনি সুপারিশকারী ও যাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে; যিনি স্বীয় সত্তায় সৃষ্টির সেরা এবং দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় পছন্দনীয় চরিত্রের আধার এবং বংশ ও আবাসের দিক থেকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আল্লাহ আমাদের নবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করবে এবং গাফেলরা তাঁর স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে। এবং তিনি তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মাঝে—এমন সর্বোত্তম, সর্বাধিক এবং সবচেয়ে পবিত্র রহমত যা তিনি তাঁর সৃষ্টির কারো ওপর বর্ষণ করেছেন। এবং আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে এমন প্রতিদান দিন, যা কোনো রাসুলকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বোত্তম প্রতিদান; কেননা তিনি তাঁর মাধ্যমে আমাদেরকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন এবং আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২)
للناس، دَائِنينَ بدينه الذي ارْتَضَى واصْطَفَى به ملائكتَه ومَنْ أنْعَمَ عليه من خلقه، فلم تُمْسِ بنا نعمة ظَهَرَتْ ولا بَطَنَتْ نِلْنَا بها حظّاً في دينٍ ودُنْيَا، أو دُفِع بها عنّا مكروه فيهما وفي واحد منهما، إلا ومحمد صلى الله عليه وسلم سَبَبُها، القَائِدُ إلى خيرها، والهادي إلى رُشدها، فصلى الله على محمد وعلى آل محمد كما صلّى على إبراهيم وآل إبراهيم، إنه حميد مجيد(1).

وكما أنه صلى الله عليه وسلم بلَّغ رسالة ربه أتمَّ بلاغ وأكْمَلَه إمتثالاً لأمر ربه له بذلك في قوله سبحانه: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ}(2)، فإنه صلى الله عليه وسلم حرص على استمرار هذا البلاغ في أمته، فقال: ((بلِّغوا عني ولو آية، وحَدِّثوا عن بني إسرائيل ولا حَرَج، ومن كذب علي متعمِّداً فَلْيَتَبَّوأْ مقعده من النار))(3).

ودعى صلى الله عليه وسلم لسامع السنة ومبلِّغها بالنَّضَارَةِ- وهي النِّعمةُ والبَهْجَةُ(4) -، فقال صلى الله عليه وسلم: ((نَضَّر الله امرءاً سمع مِنَّا حديثاً، فحفظه حتى يبلِّغَه غيرَه، فرُبَّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه، ورُبَّ حامل فقه ليس بفقيه))، وفي لفظ: ((نَضَّر الله امرءاً سمع منا شيئاً، فبلَّغه كما سمعه، فرُبَّ مبلَّغ أَوْعَى من سامع))(5).

--------------------------------------------

(1) من مقدمة الإمام الشافعي لكتاب الرسالة (ص 7 - 17) بتصرُّف.

(2) الآية (67) من سورة المائدة.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه (6/ 496 رقم 3461) في أحاديث الأنبياء، باب ما ذكر عن بني إسرائيل.

والترمذي في جامعه (7/ 431 - 432 رقم 2806) في العلم، باب ما جاء في الحديث عن بني إسرائيل، ثم قال الترمذي: (هذا حديث حسن صحيح).

(4) كما فسره الخطابي في معالم السنن (5/ 253)، وابن الأثير في جامع الأصول (8/ 18).

(5) هو حديث متواتر صنَّف فيه الشيخ عبد المحسن العبّاد- أثابه الله- مصنّفاً بعنوان: (دراسة حديث، ((نضّر الله امرءاً سمع مقالتي)) رواية ودراية)، وجمع فيه طرق هذا الحديث، فبلغت أربعة وعشرين طريقاً عن أربعة وعشرين صحابياً، ولحديث بعض =

মানুষের জন্য, তাঁর সেই দ্বীনের অনুসারী হয়ে যা তিনি পছন্দ করেছেন এবং যার মাধ্যমে তিনি তাঁর ফেরেশতা ও তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাদের প্রতি তিনি অনুগ্রহ করেছেন তাদের মনোনীত করেছেন। কোনো অনুগ্রহই—তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন—যার মাধ্যমে আমরা দ্বীন ও দুনিয়াতে কোনো কল্যাণ লাভ করেছি, অথবা যা দ্বারা আমাদের থেকে উভয় জগতে বা যে কোনো একটিতে কোনো অনিষ্ট দূর হয়েছে, তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমেই এসেছে; তিনিই এর কল্যাণের দিকে পরিচালক এবং এর সঠিক পথের দিশারী। অতএব, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যেমন রহমত বর্ষিত হয়েছে ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারের ওপর, নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত(১)।

এবং যেহেতু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের বাণীকে অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর রবের এই আদেশের অনুসরণে: "হে রাসূল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দাও; যদি তুমি তা না করো, তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌঁছালে না"(২), সেহেতু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের মাঝে এই প্রচারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাই তিনি বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, এবং বনী ইসরাঈলের কাহিনী বর্ণনা করো তাতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়"(৩)।

এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর শ্রবণকারী ও প্রচারকারীর জন্য সতেজতা বা উজ্জ্বলতার—যা হলো স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ(৪)—দোয়া করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়; কারণ অনেক ফিকহ (জ্ঞানের বিষয়) বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা নিয়ে যায় যে তার চেয়ে বেশি সমঝদার, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে সমঝদার নন।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শুনেছে, অতঃপর তা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে; কারণ অনেক ক্ষেত্রে যাকে সংবাদ পৌঁছানো হয় সে মূল শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে"(৫)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাফেঈর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৭ - ১৭) থেকে সংক্ষেপিত।

(২) সূরা আল-মায়িদাহ-এর ৬৭ নম্বর আয়াত।

(৩) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৬/ ৪৯৬, নম্বর ৩৪৬১), নবীদের হাদিসসমূহ অধ্যায়, বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে অনুচ্ছেদ।

এবং তিরমিজি তাঁর জামে গ্রন্থে (৭/ ৪৩১ - ৪৩২, নম্বর ২৮০৬), ইলম (জ্ঞান) অধ্যায়, বনী ইসরাঈল থেকে হাদিস বর্ণনা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ। এরপর তিরমিজি বলেছেন: (এই হাদিসটি হাসান সহিহ)।

(৪) যেমনটি খাত্তাবি 'মাআলিমুস সুনান' (৫/ ২৫৩) গ্রন্থে এবং ইবনুল আসির 'জামেউল উসুল' (৮/ ১৮) গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন।

(৫) এটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস যার ওপর শেখ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন যার শিরোনাম: (একটি হাদিস গবেষণা: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে" বর্ণনা ও বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা)। তিনি এতে এই হাদিসের সূত্রগুলো একত্রিত করেছেন, ফলে তা চব্বিশজন সাহাবী থেকে বর্ণিত চব্বিশটি সূত্রে পৌঁছেছে। কোনো কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে...

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৩)
ومن هذا المنطلق حرص سلف الأمة على هذا الفضل العظيم، فتفرَّق الصحابة رضي الله عنهم في الأمصار يبلِّغون ما سمعوه، وينشرون العلم بين الناس، ((وكان الخلفاء يُمِدُّون البلاد الجديدة بالعلماء، وقد استوطن كثير من الصحابة رضوان الله عليهم تلك الأمصار، يرشدون أهلها، ويعلِّمون أبناءها، وقد دخل الناس في دين الله أفواجاً، والْتَفُّوا حول أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم، ينهلون من الينابيع التي أخذت عن الرسول الكريم عليه الصلاة والسلام، وتخرَّج في حلقاتهم التابعون الذين حملوا لواء العلم بعدهم، وحفظوا السنَّة الشريفة. وهكذا أصبحت في الأقاليم والأمصار الإسلامية مراكز علمية عظيمة، تُشِعُّ منها أنوار الإسلام وعلومه، إلى جانب مراكز الإشعاع الأولى التي أمدَّت هذه الأقطار بالأساتذة الأُوَل))(1).

فمدينة الرسول صلى الله عليه وسلم هي موطن الخلافة الأولى، وكان فيها من الصحابة: أبو بكر وعمر وعثمان وعلي وأبو هريرة وعائشة وعبد الله بن عمر وأبو سعيد الخدري وزيد بن ثابت وغيرهم رضي الله عنهم، فنشروا علماً غزيراً. وفي مدرسة المدينة النبوية هذه تخرَّج خلق من

--------------------------------------------

= الصحابة طرق عنه، وهو باللفظ الأول هنا من حديث زيد بن ثابت رضي الله عنه عند أبي داود في سننه (4/ 68 - 69 رقم 3660) في العلم، باب فضل نشر العلم، والترمذي في جامعه (7/ 415 - 417 رقم 2794) في العلم، باب في الحث على تبليغ السماع، والنسائي في سننه الكبرى (3/ 431 رقم 5847) في العلم، باب الحث على إبلاغ العلم.

وأما اللفظ الثاني فهو من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عند الترمذي في الموضع السابق (7/ 417 رقم 2795)، وابن ماجه في سننه (1/ 85 رقم 232) في المقدمة، باب من بلّغ علماً.

قال الترمذي في الموضع الأول: (حديث زيد بن ثابت حديث حسن)، وقال في الموضع الثاني: (هذا حديث حسن صحيح).

(1) السنة قبل التدوين لمحمد عجّاج الخطيب (ص 164).

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই উম্মাহর পূর্বসূরিগণ এই মহান মর্যাদার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। ফলে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বিভিন্ন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েন তারা যা শুনেছেন তা প্রচার করার জন্য এবং মানুষের মাঝে ইলম বা জ্ঞান বিস্তারের জন্য। ((খলিফাগণ নববিজিত দেশগুলোতে আলেমদের পাঠাতেন এবং অনেক সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সেই সব দেশগুলোতে বসতি স্থাপন করেন। তারা সেখানকার অধিবাসীদের পথপ্রদর্শন করতেন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা দিতেন। মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ঘিরে সমবেত হয়। তারা সেই ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে থাকে যা সরাসরি দয়ালু রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে গৃহীত হয়েছিল। তাদের এই পাঠচক্রগুলো থেকেই সেই তাবেয়িগণ তৈরি হন যারা তাদের পরে ইলমের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন এবং সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবেই ইসলামী দেশ ও অঞ্চলসমূহে মহান জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র গড়ে ওঠে, যেখান থেকে ইসলামের আলো ও এর জ্ঞানরাজি বিচ্ছুরিত হতে থাকে। পাশাপাশি প্রথম দিককার সেই জ্ঞান বিকিরণকারী কেন্দ্রগুলোও বিদ্যমান ছিল যা এই অঞ্চলগুলোকে প্রথম প্রজন্মের শিক্ষক সরবরাহ করেছিল))(১)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহর (মদিনা) হলো প্রথম খিলাফতের কেন্দ্রভূমি। সেখানে সাহাবীদের মধ্যে ছিলেন: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, আবু হুরায়রা, আয়েশা, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবু সাঈদ আল-খুদরী, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং অন্যান্যগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। তারা প্রচুর জ্ঞান প্রচার করেছিলেন। মদিনা মুনাওয়ারার এই মাদরাসায় বিপুল সংখ্যক সৃষ্টি...

--------------------------------------------

= সাহাবীগণের মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন সূত্র রয়েছে। এখানে প্রথম শব্দে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা আবু দাউদ তাঁর সুনানে (৪/ ৬৮ - ৬৯ নং ৩৬৬০) 'ইলম' অধ্যায়ে, 'ইলম প্রচারের ফযীলত' পরিচ্ছেদে; এবং তিরমিজি তাঁর জামে গ্রন্থে (৭/ ৪১৫ - ৪১৭ নং ২৭৯৪) 'ইলম' অধ্যায়ে, 'যা শোনা হয়েছে তা প্রচার করার উৎসাহ প্রদান' পরিচ্ছেদে; আর নাসাঈ তাঁর সুনানে কুবরায় (৩/ ৪৩১ নং ৫৮৪৭) 'ইলম' অধ্যায়ে, 'ইলম প্রচারের উৎসাহ প্রদান' পরিচ্ছেদে যায়েদ ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর দ্বিতীয় শব্দে বর্ণিত হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তিরমিজি পূর্বোক্ত স্থানে (৭/ ৪১৭ নং ২৭৯৫) এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে (১/ ৮৫ নং ২৩২) 'ভূমিকা' অধ্যায়ে, 'যে ব্যক্তি ইলম পৌঁছে দেয়' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিজি প্রথম স্থানে বলেছেন: (যায়েদ ইবনে সাবিতের হাদিসটি হাসান)। আর দ্বিতীয় স্থানে বলেছেন: (এই হাদিসটি হাসান সহীহ)।

(১) আস-সুন্নাহ কবলাত তাদউইন, মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খাতিব (পৃষ্ঠা ১৬৪)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৪)
أفاضل التابعين، منهم: سعيد بن المسيّب، والقاسم بن محمد، وعروة بن الزبير، وخارجة بن زيد، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وعبيد اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عتبة، وسليمان بن يسار، وهؤلاء هم الفقهاء السبعة(1).

وفي مكة كان حَبْر الأمّة عبد الله بن عباس رضي الله عنهما الذي تخرَّج على يديه خلق من سادات التابعين، منهم: مجاهد بن جَبْر، وعطاء بن أبي رباح، وسعيد بن جبير، وعكرمة، وطاوُس.

ولما بويع عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه بالخلافة، رحل إلى الكوفة، فانتفع به خلق كثير هناك، وكانت الكوفة إحدى قواعد الفتح الإسلامي في عصر الخلفاء الراشدين، ونزلها جَمٌّ غفير من الصحابة. قال إبراهيم النخعي: ((هبط الكوفة ثلاثمائة من أصحاب الشجرة، وسبعون من أهل بدر))(2)، وعلى رأس هؤلاء البدريين: ابن أُمِّ عَبْد: عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، وكان عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه بعثه معلِّماً لأهل الكوفة، وكتب لهم كتاباً يقول فيه: ((يا أهل الكوفة، أنتم رأس العرب وجمجمتها وسهمي الذي أرمي به، إن أتاني شيء من هاهنا وهاهنا، قد بعثت إليكم بعبد الله، وخِرْتُ لكم، وآثرتكم به على نفسي))(3).

وكان لعبد الله بن مسعود رضي الله عنه أثر كبير على أهل الكوفة، بحيث أصبحت مدرستها من أكبر مدارس الإسلام. قال إبراهيم التيمي: ((كان فينا- يعني أهل الكوفة- ستون شيخاً من أصحاب عبد الله))(4).

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن الصلاح (ص 325).

(2) طبقات ابن سعد (6/ 9).

(3) المرجع السابق (6/ 7).

(4) السابق أيضاً (6/ 10).

শ্রেষ্ঠ তাবেঈগণ, তাদের মধ্যে রয়েছেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ, উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর, খারিজাহ ইবনে যায়েদ, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ এবং সুলাইমান ইবনে ইয়াসার। এরাই হলেন সাত ফকীহ(১)。

মক্কায় ছিলেন উম্মতের মহাজ্ঞানী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), যার নিকট থেকে বহু সংখ্যক শ্রেষ্ঠ তাবেঈ শিক্ষা লাভ করেন; তাদের মধ্যে রয়েছেন: মুজাহিদ ইবনে জাবর, আতা ইবনে আবি রাবাহ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, ইকরামা এবং তাউস।

যখন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করা হলো, তিনি কুফায় চলে যান এবং সেখানে বহু মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হন। কুফা ছিল খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে ইসলামী বিজয়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক সাহাবী বসতি স্থাপন করেছিলেন। ইবরাহীম নাখয়ী বলেন: "কুফায় তিনশ’ জন আসহাবে শাজারা (গাছের নিচে শপথ গ্রহণকারী সাহাবী) এবং সত্তর জন বদরী সাহাবী পদার্পণ করেছিলেন"(২)। এসকল বদরী সাহাবীদের শীর্ষে ছিলেন ইবনে উম্মে আবদ: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে কুফাবাসীদের শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে এক পত্রে লিখেছিলেন: "হে কুফাবাসী! তোমরা আরবদের মস্তক ও তাদের প্রাণকেন্দ্র এবং আমার সেই তীর যা দিয়ে আমি লক্ষ্যভেদ করি। যদি আমার কাছে এদিক-সেদিক থেকে কোনো বিপদ আসে (তবে তোমরা তা মোকাবিলা করবে)। আমি তোমাদের নিকট আবদুল্লাহকে পাঠিয়েছি; আমি তোমাদের জন্য তাকে মনোনীত করেছি এবং নিজের চেয়ে তোমাদের তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি"(৩)।

কুফাবাসীদের ওপর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সুগভীর প্রভাব ছিল, যার ফলে কুফার ইলমি কেন্দ্রটি ইসলামের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়। ইবরাহীম আত-তৈমী বলেন: "আমাদের মধ্যে—অর্থাৎ কুফাবাসীদের মধ্যে—আবদুল্লাহর শিষ্যদের মধ্য থেকে ষাট জন শাইখ ছিলেন"(৪)。

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃ. ৩২৫)।

(২) তাবাকাতে ইবনে সাদ (৬/ ৯)।

(৩) প্রাগুক্ত (৬/ ৭)।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্রটিও (৬/ ১০)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৫)
وعلى رأس هؤلاء الذين تخرّجوا من مدرسة ابن مسعود رضي الله عنه: عَبِيدَةُ السَّلْماني وعلقمة بن قيس والأسود بن يزيد ومسروق بن الأجْدَع والربيع بن خُثَيْم وشُريح القاضي وغيرهم خلق(1).

وهكذا البصرة والشام ومصر وغيرها من بلاد الإسلام(2).

وقد نشطت الحركة العلمية في عصر التابعين نشاطاً كان من آثاره بدء مرحلة التدوين الرَّسمي للسنة بأمر من الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز رحمه الله، بسبب خوفه من ذهاب العلم بذهاب العلماء. يقول عبد الله بن دينار رحمه الله: ((كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إلى أهل المدينة: أن انظروا حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فاكتبوه، فإني خِفْتُ دُرُوسَ(3) العلم وذهاب أهله))(4)، وفي رواية: ((كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إلى أبي بكر بن حزم: انظر ما كان من حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فاكتبه، فإن خفت دروس العلم وذهاب العلماء، ولا تقبل إلا حديث النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ولْتُفْشُوا العلم، ولْتَجْلِسُوا حتى يُعَلَّمَ من لا يَعْلَمُ، فإن العلم لا يهلِك حتى يكون سرّاً))(5). ولم يكن أمرُه هذا مقصوراً على أهل المدينة فحسب، فقد روى أبو نعيم في تاريخ أصبهان هذه القصة بلفظ: ((كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إلى الآفاق: انظروا حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فاجمعوه))(6).

--------------------------------------------

(1) السابق أيضاً (6/ 10).

(2) انظر في ذلك وفيما سبق: السنة قبل التدوين لمحمد عجاج الخطيب (ص 164 - 175).

(3) أي خاف عليه من أن تنمحي آثاره وتذهب. انظر لسان العرب (6/ 79).

(4) أخرجه الدارمي في سننه (1/ 104 رقم 494)، والخطيب البغدادي في تقييد العلم (ص 106).

(5) أخرجه البخاري في صحيحه موصولاً إلى قوله: ((وذهاب العلماء))، وباقيه معلَّقاً. انظر صحيح البخاري (1/ 194) كتاب العلم، باب كيف يقبض العلم.

(6) نقلاً عن فتح الباري (1/ 194 - 195).

এবং ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পাঠশালা থেকে যারা উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তাদের শীর্ষে ছিলেন: আবীদাহ আস-সালমানী, আলকামা ইবনুল কায়স, আল-আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ, মাসরূক ইবনুল আজদা‘, আর-রাবী‘ ইবনু খুসায়ম, শুরাইহ আল-কাযী এবং আরও অসংখ্য লোক(১)।

এভাবেই বসরা, শাম, মিসর এবং ইসলামের অন্যান্য ভূখণ্ডও (জ্ঞানের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল)(২)।

তাবিঈদের যুগে ইলমি আন্দোলন এমন সক্রিয়তা লাভ করেছিল যার অন্যতম প্রভাব ছিল খলীফায়ে রাশিদ উমর ইবনু আব্দুল আযীয (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নির্দেশে সুন্নাহর আনুষ্ঠানিক সংকলন পর্বের সূচনা হওয়া। এটি হয়েছিল উলামায়ে কেরামের তিরোধানের মাধ্যমে ইলম বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “উমর ইবনু আব্দুল আযীয মদিনাবাসীদের কাছে লিখেছিলেন: তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তা লিখে ফেলো, কেননা আমি ইলম মিটে যাওয়ার(৩) এবং এর ধারক-বাহকদের চলে যাওয়ার ভয় করছি”(৪)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: “উমর ইবনু আব্দুল আযীয আবু বকর ইবনু হাযমের কাছে লিখেছিলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যা কিছু হাদীস রয়েছে তা দেখো এবং লিখে ফেলো; কেননা আমি ইলম মিটে যাওয়া এবং উলামাদের চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। তুমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করবে না। তোমরা ইলম প্রচার করো এবং মজলিসে বসো যাতে যে জানে না তাকে শেখানো যায়; কেননা ইলম গোপন না হওয়া পর্যন্ত ধ্বংস হয় না”(৫)। তাঁর এই নির্দেশ কেবল মদিনাবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আবু নুআয়ম ‘তারীখে আসবাহান’-এ এই ঘটনাটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: “উমর ইবনু আব্দুল আযীয বিভিন্ন দিগন্তে (প্রদেশসমূহে) লিখে পাঠিয়েছিলেন: তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তা সংগ্রহ করো”(৬)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্রও (৬/ ১০)।

(২) এ বিষয়ে এবং পূর্বের বিষয়ে দেখুন: মুহাম্মাদ আজজাজ আল-খতীব রচিত আস-সুন্নাহ কবলাত তাদবীন (পৃ. ১৬৪ - ১৭৫)।

(৩) অর্থাৎ তিনি এর চিহ্ন মুছে যাওয়া এবং চলে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। দেখুন লিসানুল আরব (৬/ ৭৯)।

(৪) ইমাম দারেমী তাঁর সুনানে (১/ ১০৪, নং ৪৯৪) এবং খতীব বাগদাদী তাকয়ীদূল ইলম (পৃ. ১০৬)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ-এ ‘উলামাদের চলে যাওয়া’ কথাটি পর্যন্ত মুত্তাসিল সনদে এবং বাকি অংশ মুআল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেখুন সহীহুল বুখারী (১/ ১৯৪), ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: কীভাবে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে।

(৬) ফাতহুল বারী (১/ ১৯৪ - ১৯৫) থেকে উদ্ধৃত।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৬)
وموقف عمر بن عبد العزيز- رحمه الله هذا شبيه بموقف عثمان- رضي الله عنه في قصة جمعه للقرآن، فقد رحم الله الأمة بصنيع هذين الخليفتين.

وكان أول من قام بتدوين السنة بأمر من عمر بن عبد العزيز: محمد بن مسلم بن شهاب الزُّهْري. يقول عبد العزيز بن محمد الدَّرَاوَرْدي: (أول من دَوَّن العلم وكتبه ابن شهاب)(1).

ويقول ابن شهاب الزُّهْري نفسه: (أمرنا عمر بن عبد العزيز بجمع السنن، فكتبناها دفتراً دفتراً، فبعث إلى كل أرض له عليها سلطان دفتراً)(2). ويقول الحافظ ابن حجر: (وأول من دوَّن الحديث: ابن شهاب الزُّهْري على رأس المائة، بأمر عمر بن عبد العزيز، ثم كثر التدوين، ثم التصنيف، وحصل بذلك خير كثير، فلله الحمد)(3). ويقول السُّيوطي في منظومته(4):

أَوَّلُ جامعِ الْحديثِ والأَثَرْ … ابنُ شهابٍ آمراً له عُمَرْ

ثم أَعْقَبَ التدوينَ مرحلةُ التَّصنيف كما سبق نقله عن ابن حجر، فأوَّل من صنَّف على الأبواب: عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج (ت 150 هـ) بمكة، والإمام مالك بن أنس (ت 179 هـ) أو محمد بن إسحاق بن يَسَار (ت 151 هـ) بالمدينة، والرَّبيع بن صَبيح (ت 160 هـ) أو سعيد بن أبي عَرُوبة (ت 156 هـ أو 157 هـ) أو حماد بن سلمة (ت 167 هـ) بالبصرة، وسفيان بن سعيد الثوري

--------------------------------------------

(1) جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر (1/ 88).

(2) المرجع السابق (1/ 91 - 92).

(3) فتح الباري (1/ 208).

(4) ألفية السيوطي (ص 10).

উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই অবস্থানটি কুরআন সংকলনের ঘটনায় উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থানের অনুরূপ; আল্লাহ এই দুই খলিফার কর্মের মাধ্যমে উম্মতের ওপর রহম করেছেন।

আর উমর ইবনে আব্দুল আযীযের নির্দেশে সর্বপ্রথম সুন্নাহ সংকলনের কাজ যিনি সম্পাদন করেন, তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আজ-জুহরি। আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দারাওয়ার্দি বলেন: (ইলম সর্বপ্রথম সংকলন ও লিপিবদ্ধ করেছেন ইবনে শিহাব)(১)।

ইবনে শিহাব আজ-জুহরি নিজেই বলেন: (উমর ইবনে আব্দুল আযীয আমাদের সুন্নাহসমূহ সংকলন করার নির্দেশ দেন, ফলে আমরা তা খণ্ড খণ্ড করে লিপিবদ্ধ করি। এরপর তিনি তাঁর শাসনাধীন প্রতিটি ভূখণ্ডে একটি করে খণ্ড পাঠিয়ে দেন)(২)। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: (আর একশত হিজরির শুরুতে উমর ইবনে আব্দুল আযীযের নির্দেশে সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন করেন ইবনে শিহাব আজ-জুহরি। এরপর সংকলন ও বিন্যাস বৃদ্ধি পায় এবং এর মাধ্যমে প্রভুত কল্যাণ সাধিত হয়। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)(৩)। সুয়ূতি তাঁর পদ্যগ্রন্থে বলেন(৪):

সর্বপ্রথম হাদিস ও আসার সংগ্রহকারী … ইবনে শিহাব, যাকে উমর নির্দেশ দিয়েছিলেন

এরপর ইবনে হাজারের উদ্ধৃতি অনুযায়ী সংকলনের পরে বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পর্যায় আসে। মক্কায় সর্বপ্রথম অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করেন: আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে জুরাইজ (মৃত্যু ১৫০ হি.), এবং মদিনায় ইমাম মালিক ইবনে আনাস (মৃত্যু ১৭৯ হি.) অথবা মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার (মৃত্যু ১৫১ হি.), এবং বসরার ক্ষেত্রে আর-রবি ইবনে সবিহ (মৃত্যু ১৬০ হি.) অথবা সাঈদ ইবনে আবি আরুবা (মৃত্যু ১৫৬ হি. বা ১৫৭ হি.) অথবা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (মৃত্যু ১৬৭ হি.), এবং সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্দুল বার-এর জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি (১/ ৮৮)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৯১ - ৯২)।

(৩) ফাতহুল বারী (১/ ২০৮)।

(৪) আলফিয়াতুস সুয়ূতি (পৃষ্ঠা ১০)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৭)
(ت 161 هـ) بالكوفة، وعبد الرحمن بن عمرو الأَوْزاعي (ت 157 هـ) بالشام، وهُشَيم بن بشير الواسطي (ت 183 هـ) بواسط، ومعمر بن راشد (ت 153 هـ) باليمن، وجرير بن عبد الحميد (ت 188 هـ) بالرَّيّ، وعبد الله بن المبارك المَرْوَزي (ت 181 هـ) بِمَرْو وخراسان(1). قال الحافظان: العراقي وابن حجر: (وكان هؤلاء في عصر واحد، فلا ندري أيُّهم أسبق)(2). وقد قيل: إن ابن جريج هو أول من صنف الكتب(3)، لكن ما ذكره العراقي وابن حجر أدقّ، ولذا يمكن أن يُقَيّد كلٌّ منهم بمصره، فيقال مثلاً: أول من صنف بالكوفة سفيان الثوري وهكذا. وكان معظم هذه المصنفات يضم أحاديث النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وما ورد عن الصحابة والتابعين، إلى أن رأى بعض الأئمة أن تفرد أحاديث النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خاصة، وذلك على رأس المائتين، فصنَّف أسد بن موسى (ت 212 هـ) مسنداً، وصنَّف عبيد الله بن موسى العَبْسي (ت 213 هـ) مسنداً، وصنَّف مُسَدَّد البصري (ت 228 هـ) مسنداً، وصنَّف نُعيم بن حماد الخُزَاعي (ت 228 هـ) مسنداً، ثم اقتفى الأئمة آثارهم، فقلَّ إمام من الحفاظ إلا وصنَّف حديثه على المسانيد، كأحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه وعثمان بن أبي شيبة وغيرهم(4).

وامتداداً لمرحلة التصنيف على الأبواب نجد عبد الرزاق بن هَمَّام الصنعاني (ت 211 هـ) صنَّف كتابه العظيم: (المصنَّف)، ومثله أبو بكر عبد الله بن محمد أبي شيبة (ت 235 هـ) صنف كتاب:

--------------------------------------------

(1) انظر المحدِّث الفاصل للرَّامَهُرْمُزِي (ص 611 - 618)، وتدريب الراوي (1/ 89).

(2) الموضع السابق من تدريب الراوي.

(3) تاريخ بغداد (10/ 400).

(4) تدريب الراوي (1/ 89) نقلاً عن ابن حجر.

(ওফাত ১৬১ হি.) কুফায়, আব্দুর রহমান বিন আমর আল-আওজাঈ (ওফাত ১৫৭ হি.) সিরিয়ায়, হুশাইম বিন বাশির আল-ওয়াসিতি (ওফাত ১৮৩ হি.) ওয়াসিতে, মা'মার বিন রাশিদ (ওফাত ১৫৩ হি.) ইয়ামেনে, জারীর বিন আব্দুল হামিদ (ওফাত ১৮৮ হি.) রাইয়ে এবং আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আল-মারওয়াজি (ওফাত ১৮১ হি.) মার্ভ ও খুরাসানে(১)। দুই হাফেজ: আল-ইরাকি এবং ইবন হাজার বলেছেন: (তারা সবাই একই যুগে ছিলেন, তাই আমরা জানি না তাদের মধ্যে কে অগ্রগামী)(২)। বলা হয়ে থাকে যে: ইবন জুরাইজই প্রথম কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন(৩), তবে আল-ইরাকি এবং ইবন হাজার যা উল্লেখ করেছেন তা অধিকতর নির্ভুল, তাই তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ শহরের সাথে সুনির্দিষ্ট করা যেতে পারে; উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: কুফায় সর্বপ্রথম সংকলন করেছেন সুফিয়ান সাওরি এবং এভাবেই অন্যান্যরা। এই সংকলনগুলোর অধিকাংশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করত, যতক্ষণ না কিছু ইমাম মনে করলেন যে বিশেষভাবে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ পৃথক করা উচিত; আর এটি ছিল দুইশত হিজরির শুরুর দিকের ঘটনা। ফলে আসাদ বিন মুসা (ওফাত ২১২ হি.) একটি মুসনাদ সংকলন করেন, উবাইদুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসি (ওফাত ২১৩ হি.) একটি মুসনাদ সংকলন করেন, মুসাদ্দাদ আল-বাসরি (ওফাত ২২৮ হি.) একটি মুসনাদ সংকলন করেন এবং নুআইম বিন হাম্মাদ আল-খুজায়ি (ওফাত ২২৮ হি.) একটি মুসনাদ সংকলন করেন। অতঃপর ইমামগণ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, ফলে হাফেজদের মধ্যে এমন ইমাম খুব কমই ছিলেন যারা মুসনাদ পদ্ধতিতে হাদিস সংকলন করেননি, যেমন আহমদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, উসমান বিন আবি শাইবা এবং অন্যান্যরা(৪)।

অধ্যায়ভিত্তিক সংকলন পর্যায়ের ধারাবাহিকতায় আমরা পাই আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সানআনি (ওফাত ২১১ হি.) তার মহান গ্রন্থ: (আল-মুসান্নাফ) সংকলন করেছেন এবং অনুরূপভাবে আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ ইবন আবি শাইবা (ওফাত ২৩৫ হি.) সংকলন করেছেন কিতাব:

--------------------------------------------

(১) রামাহুরমুজি রচিত আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (পৃষ্ঠা ৬১১ - ৬১৮) এবং তাদরিবুর রাবি (১/ ৮৯) দেখুন।

(২) তাদরিবুর রাবি-এর পূর্বোক্ত স্থান।

(৩) তারিখে বাগদাদ (১০/ ৪০০)।

(৪) ইবন হাজার থেকে উদ্ধৃত করে তাদরিবুর রাবি (১/ ৮৯)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৮)
(المصنَّف)، وهذان الكتابان كما أنهما شبيهان في التسمية، فهما شبيهان أيضاً في المحتوى، فكلاهما مما صُنِّف على الأبواب (الموضوعات)، ويشملان الأحاديث المرفوعة لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، والموقوفة على الصحابة رضي الله عنهم، ومقاطيع التابعين فمن بعدهم رحمهم الله، وبين هذين المصنَّفَيْن نجد مصنَّفاً آخر شبيهاً بهما من حيث طريقةُ التصنيف والمحتوى في الجملة، وهو كتاب: (السنن) لسعيد بن منصور (ت 227 هـ) وشَبَهُهُ بمصنَّف ابن أبي شيبة أكثر منه بمصنَّف عبد الرزاق(1)، وقد قال الرَّامَهُرْمزي: (وتفرَّد بالكوفة أبو بكر ابن أبي شيبة بتكثير الأبواب، وجودة الترتيب، وحسن التأليف)(2).

ونجد كثيراً من المصنِّفين يروون كثيراً من الأحاديث والآثار من طريق هذه الكتب الثلاثة- مصنف عبد الرزاق، ومصنف ابن أبي شيبة، وسنن سعيد بن منصور-، أو يعزونها إليها(3)، وهذا يعود لندرة محتواها، وعُلُوِّ أسانيدها، وغير ذلك من الاعتبارات.

وقد حُظِيَ مصنف عبد الرزاق ومصنف ابن أبي شيبة بالنشر(4) - على ما فيهما من السقط والتصحيف والغلط-.

وأما سنن سعيد بن منصور، فنشر منها الجزء الثالث فقط في

--------------------------------------------

(1) كما سيأتي في التعريف بكتاب السنن.

(2) المحدِّث الفاصل (ص 614).

(3) كما يتضح من مراجعة تخريج الأحاديث والآثار في القسم المحقق من السنن.

(4) أما مصنف عبد الرزاق فقام بتحقيقه الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي، ونشره المجلس العلمي في أحد عشر مجلداً، لكن الحادي عشر منها وبعض العاشر هما كتاب الجامع لمعمر، من رواية عبد الرزاق عنه. وأما مصنف ابن أبي شيبة، فقد حققه الأستاذ عبد الخالق الأفغاني، واهتم بطباعته ونشره صاحب الدار السلفية بالهند: مختار الندوي، ونشر الكتاب في خمسة عشر مجلداً، إلا أنه سقط من هذه الطبعة القسم الأول من الجزء الرابع، فطبع في دار أخرى، وهي إدارة القرآن والعلوم الإسلامية في كراتشي بباكستان.

(আল-মুসান্নাফ), এই কিতাব দুটি নামকরণের দিক থেকে যেমন সদৃশ, তেমনি বিষয়বস্তুর দিক থেকেও সদৃশ। উভয় কিতাবই অধ্যায় (বিষয়ভিত্তিক) বিন্যাসে সংকলিত হয়েছে। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মারফূ হাদীস, সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর মাওকূফ বর্ণনা এবং তাবিঈ ও তাঁদের পরবর্তীগণের মাকতূ বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন)। এই দুই মুসান্নাফের পাশাপাশি আমরা সংকলন পদ্ধতি ও সামগ্রিক বিষয়বস্তুর দিক থেকে এদের সদৃশ আরেকটি মুসান্নাফ দেখতে পাই, আর তা হলো সাঈদ ইবনে মানসূর (মৃ. ২২৭ হি.)-এর কিতাব: (আস-সুনান)। আব্দুর রাজ্জাক-এর মুসান্নাফের তুলনায় ইবনে আবী শায়বাহ-এর মুসান্নাফের সাথে এর সাদৃশ্য অনেক বেশি(১)। রামহুরমুযী বলেছেন: (কুফায় আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ অধিক অধ্যায় বিন্যাস, চমৎকার বিন্যাসশৈলী এবং সুন্দর সংকলনের মাধ্যমে অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন)(২)।

আমরা অনেক সংকলককে এই তিনটি কিতাব—মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ এবং সুনানে সাঈদ ইবনে মানসূর—এর সূত্রে অনেক হাদীস ও আসার বর্ণনা করতে দেখি অথবা সেগুলোর দিকে উদ্ধৃতি প্রদান করতে দেখি(৩)। এর কারণ হলো এগুলোর বিষয়বস্তুর বিরলতা, উচ্চ সনদ এবং অন্যান্য নানা গুরুত্ব।

মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ও মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ মুদ্রণ ও প্রকাশের সুযোগ লাভ করেছে(৪) —যদিও এগুলোতে কিছু শব্দ বাদ পড়া, পাঠবিকৃতি ও ভুলভ্রান্তি রয়েছে—।

আর সুনানে সাঈদ ইবনে মানসূর সম্পর্কে বলা যায়, এর কেবল তৃতীয় খণ্ডটি প্রকাশিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) যেমনটি সামনে সুনান কিতাবটির পরিচিতিতে আসবে।

(২) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (পৃ. ৬১৪)।

(৩) যেমনটি সুনান-এর তাহকীককৃত অংশের হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়।

(৪) মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকের তাহকীক করেছেন শায়খ হাবিবুর রহমান আল-আযমী এবং এটি আল-মাজলিসুল ইলমি থেকে এগারো খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এর একাদশ খণ্ড এবং দশম খণ্ডের কিছু অংশ হলো মা’মার-এর ‘কিতাবুল জামি’, যা আব্দুর রাজ্জাক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহর তাহকীক করেছেন উস্তাদ আব্দুল খালিক আল-আফগানী এবং ভারতের ‘আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ’-এর স্বত্বাধিকারী মুখতার আন-নাদভী এর মুদ্রণ ও প্রকাশনার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিতাবটি পনের খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, তবে এই সংস্করণে চতুর্থ খণ্ডের প্রথম অংশ বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে পাকিস্তানের করাচির ‘ইদারাতুল কুরআন ওয়াল উলুমিল ইসলামিয়্যাহ’ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৯)
مجلدين تضمنا عدد (2978) من الأحاديث والآثار، في الفرائض والنكاح والجهاد، وما يلحق بالفرائض من الوصايا، وما يلحق بالنكاح من الطلاق والظهار ونحوهما.

وكانت هذه السنن حبيسة المكتبات نتيجة خطأ ورد على غلاف النسخة الخطيّة كما سيأتي بيانه في التعريف بالكتاب، إلى أن قام الدكتور محمد حميد الله بالعثور على هذه القطعة التي تشكل الجزء الثالث، ودفعها لمحمد ميان السملكي رحمه الله، الذي دفعها بدوره للشيخ حبيب الرحمن الأعظمي، حيث قام بتحقيقها، ونشرت في هذين المجلدين المشار إليهما.

وفي المقدمة التي كتبها الدكتور محمد حميد الله للتعريف بالسنن لسعيد بن منصور وذكر حكاية اكتشافه لها قال: (ولا أعرف نسخة أخرى لسنن الإمام سعيد بن منصور هذه، فلم يذكرها بروكلمان ((مع سعة فهرس فهارسه للكتب العربية الذي نشره بالألمانية تحت الاسم المُضِلّ: تاريخ الآداب العربية)) ولا غيره فيما أعرف، فنحن إذن ننشر كتاباً ليس يعرف له إلا نسخة واحدة في العالم)(1). اهـ.

ولم يشر الدكتور حميد الله إلى ما ذكره المباركفوري رحمه الله في مقدمة تحفة الأحوذي من وجود نسخة كاملة لسنن سعيد بن منصور، حيث قال: (ومنها: سنن سعيد بن منصور، وهو الحافظ سعيد بن منصور الخراساني المتوفى سنة 227 سبع وعشرين ومائتين، نسخة كاملة من هذا الكتاب موجودة في الخزانة الجرمنية، وهي مكتوبة بخط الإمام الشوكاني)(2)، فإما أنه لم يطلع على هذا الكلام، وإما أنه ممن يستبعد صحته.

--------------------------------------------

(1) مقدمة القسم المطبوع من سنن سعيد بن منصور (ص 16).

(2) مقدمة تحفة الأحوذي (1/ 336).

দুই খণ্ডে সমাপ্ত এই সংকলনটিতে মোট (২৯৭৮)টি হাদিস ও আসার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), বিবাহ ও জিহাদ এবং ফারায়েজ সংশ্লিষ্ট অসিয়ত ও বিবাহ সংশ্লিষ্ট তালাক, জিহার ও এ জাতীয় বিষয়াদি সম্পর্কিত।

পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে একটি ভুলের কারণে এই ‘সুনান’ গ্রন্থটি দীর্ঘকাল লাইব্রেরিগুলোতে পড়ে ছিল, যার বর্ণনা গ্রন্থটির পরিচিতি পর্বে সামনে আসবে। অতঃপর ডক্টর মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ এই অংশটি খুঁজে পান যা মূলত গ্রন্থটির তৃতীয় খণ্ড ছিল। তিনি এটি মুহাম্মদ মিয়াঁ আস-সামলাকি (রহ.)-এর নিকট অর্পণ করেন। তিনি আবার তা শায়খ হাবিবুর রহমান আল-আজমিকে দেন, যিনি এটি সম্পাদনা করেন এবং গ্রন্থটি উল্লিখিত এই দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

সাঈদ ইবনে মানসুরের ‘সুনান’-এর পরিচিতি এবং এটি আবিষ্কারের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে ডক্টর মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ তার লিখিত ভূমিকায় বলেন: (ইমাম সাঈদ ইবনে মানসুরের এই ‘সুনান’-এর অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির কথা আমার জানা নেই। ব্রোকেলম্যান—তার আরবি বইয়ের বিশাল ক্যাটালগ যা তিনি জার্মান ভাষায় ‘তারিখুল আদাবিল আরাবি’ (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস) নামক বিভ্রান্তিকর শিরোনামে প্রকাশ করেছেন, সেখানেও—এর কথা উল্লেখ করেননি এবং আমার জানামতে অন্য কেউও করেননি। সুতরাং আমরা এমন একটি কিতাব প্রকাশ করছি যার সারা বিশ্বে মাত্র একটি পাণ্ডুলিপিই জানা আছে)(১)। সমাপ্ত।

ডক্টর হামিদুল্লাহ মুবারকপুরী (রহ.) কর্তৃক ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’-এর ভূমিকায় সাঈদ ইবনে মানসুরের ‘সুনান’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। মুবারকপুরী (রহ.) বলেছিলেন: (আর তন্মধ্যে একটি হলো: ‘সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর’। তিনি হলেন হাফেজ সাঈদ ইবনে মানসুর আল-খুরাসানি, যিনি ২২৭ (দুইশত সাতাশ) হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এই কিতাবটির একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি জার্মান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে এবং এটি ইমাম শাওকানির স্বহস্তে লিখিত)(২)। সম্ভবত তিনি এই বক্তব্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, অথবা তিনি এর সঠিকতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ‘সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর’-এর মুদ্রিত অংশের ভূমিকা (পৃ. ১৬)।

(২) ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’-এর ভূমিকা (১/ ৩৩৬)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وحينما كنت أدرس في السنة الرابعة من كلية أصول الدين، وكنت أتذاكر مع بعض الإخوة في أمور الكتب، ذكر أحدهم أنه رأى- أو ذُكر له- نسخة خطية لسنن سعيد بن منصور في إحدى المكتبات الخاصة في بلدة (الرَّيْن)(1)، فوقع كلامه في نفسي، وبعد مدة سألت شيخنا العلامة عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الجبرين(2) عمّا إذا كان يعرف مكتبة هناك- وذكرت له ما قاله الأخ المذكور-، فوعدني بالتحرِّي عن ذلك إذا ما قدِّر له الذهاب إلى بَلَدِهِ (القويعية). وقد وفَّى بوعده- جزاه الله عني وعن المسلمين خير الجزاء-، وفوجئت به يستدعيني، ويبشِّرني بعثوره على نسخة خَطِّيَّةٍ أصليّة من سنن سعيد بن منصور في مكتبة الشيخ محمد بن سعود الصُّبَيْحي إمام جامع بَلْدَة (الرَّيْن)(3)، لكنها نسخة غير كاملة. وأخبرني أنه طلب من صاحبها السماح لي بتصويرها، فأجاب، وزيادة على ذلك كتب الشيخ معي كتاباً إليه، وأرسل معي أحد أبناء عمومته ليدُلَّني، وهو الشيخ حمد بن عبد العزيز الجبرين، فذهب معي مشكوراً، وحملت آلة النسخ معي في السيارة، ولا أطيل في ذكر التفاصيل، فقد دفع الشيخ محمد بن سعود الصبيحي الكتاب إلي، فصوّرته، وأعدته إليه، وكنت إذْ ذاك مشغولاً بإعداد رسالتي لنيل درجة التخصص (الماجستير)، فلما انتهيت منها، تقدمت إلى قسم السنة وعلومها في كلية أصول الدين بالرياض بطلب الموافقة على إكمال دراستي لنيل درجة (الدكتوراة) في موضوع: (الإمام سعيد بن منصور وكتابه السنن) دراسةً وتحقيقاً،

--------------------------------------------

(1) وهي بلدة إلى الجنوب من بلدة القويعية المعروفة على طريق الذاهب من الرياض إلى مكة.

(2) والشيخ حفظه الله من أهل القويعية وإن كان يسكن الرياض.

(3) وهو رجل فاضل أثنى عليه الشيخ عبد الله الجبرين، ومن عائلة معروفة بالعلم ومكتبته هذه متوارثة عن أسلافه.

যখন আমি উসুল আদ-দীন অনুষদের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছিলাম এবং কিছু ভাইদের সাথে কিতাবপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করছিলাম, তখন তাদের একজন উল্লেখ করলেন যে, তিনি আর-রাইন(১) শহরের একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে সুনানে সাঈদ বিন মানসুরের একটি পাণ্ডুলিপি দেখেছেন—অথবা তাকে এটি জানানো হয়েছে। তার কথাটি আমার মনে রেখাপাত করল। এর কিছুকাল পর আমি আমাদের শায়খ আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন(২)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তিনি সেখানে কোনো লাইব্রেরি চেনেন কি না—এবং উক্ত ভাই যা বলেছিলেন তা তাকে জানালাম। তিনি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, যদি তার নিজ শহর (আল-কুওয়ায়িয়্যাহ)-তে যাওয়ার সুযোগ হয়, তবে তিনি বিষয়টি অনুসন্ধান করবেন। তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন—আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন—এবং আকস্মিকভাবে তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং সুসংবাদ দিলেন যে, তিনি আর-রাইন(৩) শহরের জামে মসজিদের ইমাম শায়খ মুহাম্মদ বিন সাউদ আস-সুবাইহির লাইব্রেরিতে সুনানে সাঈদ বিন মানসুরের একটি মূল পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছেন, তবে সেটি একটি অসম্পূর্ণ কপি। তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি এর মালিকের কাছে আমাকে সেটি অনুলিপি করার অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন। অধিকন্তু, শায়খ আমার সাথে তাকে দেওয়ার জন্য একটি পত্র লিখে দিলেন এবং আমাকে পথ দেখানোর জন্য তার এক চাচাতো ভাইকে আমার সাথে পাঠালেন, তিনি হলেন শায়খ হামাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-জিবরীন। তিনি অনুগ্রহ করে আমার সাথে গেলেন এবং আমি গাড়িতে করে অনুলিপি করার যন্ত্র (ফটোকপি মেশিন) সাথে নিয়ে গেলাম। বিস্তারিত বর্ণনায় দীর্ঘ করছি না, শায়খ মুহাম্মদ বিন সাউদ আস-সুবাইহি কিতাবটি আমার হাতে অর্পণ করলেন, আমি সেটি অনুলিপি করলাম এবং তাকে ফেরত দিলাম। সেই সময় আমি আমার বিশেষত্ব ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জনের জন্য থিসিস প্রস্তুত করতে ব্যস্ত ছিলাম। যখন আমি তা সম্পন্ন করলাম, তখন রিয়াদের উসুল আদ-দীন অনুষদের সুন্নাহ ও উলুমুল হাদিস বিভাগে এই বিষয়ে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জনের জন্য আবেদন পেশ করলাম: (ইমাম সাঈদ বিন মানসুর ও তাঁর সুনান গ্রন্থ: পর্যালোচনা ও সম্পাদনা),

--------------------------------------------

(১) এটি রিয়াদ থেকে মক্কা যাওয়ার পথে সুপরিচিত আল-কুওয়ায়িয়্যাহ শহরের দক্ষিণে অবস্থিত একটি জনপদ।

(২) শায়খ—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন—আল-কুওয়ায়িয়্যাহর অধিবাসী, যদিও তিনি রিয়াদে বসবাস করেন।

(৩) তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি যার প্রশংসা শায়খ আব্দুল্লাহ আল-জিবরীন করেছেন। তিনি ইলমের জন্য সুপরিচিত একটি পরিবারের সন্তান এবং তার এই লাইব্রেরিটি তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১১)
على أن أبدأ من حيث انتهى المطبوع، وذلك ابتداء من كتاب (فضائل القرآن)، ويليه (كتاب التفسير)، بحيث أَنْتَهي إلى نهاية سورة المائدة من كتاب التفسير، فوافق القسم مشكوراً، وتُوِّج ذلك بموافقة مجلس الكلية. وقد دفعني إلى اختيار هذا الموضوع لإعداد درجة (الدكتوراة) عدة أسباب، من أهمها ما يأتي:

 

(1) مكانة المؤلف العلمية، ويتجلَّى ذلك في:

أ - كونه أحد الأئمة الحفاظ كما سيأتي في ترجمته.

ب - كونه أحد رجال الكتب الستة، ممن رضيه الجماعة وأخرجوه في كتبهم.

جـ - تتلمذ عدد من الأئمة عليه مثل مسلم وأبي داود، بل حتى الإمام أحمد، حدَّث عنه وهو حيّ.

وسيأتي التعريف به على وجه التفصيل.

 

(2) قيمة الكتاب العلمية، وتتجلَّى في:

أ - كونه من الكتب القليلة التي تعنى بتخريج الآثار عن الصحابة والتابعين ومن بعدهم، بالإضافة للأحاديث المرفوعة، ولا يخفى ما لتخريج الآثار من الأهمية، فإنها تعكس لنا ما كان عليه السلف من العمل في العقائد والأحكام وغير ذلك.

ب - ما يمتاز به الكتاب من علوّ الإسناد، مما حدى بالعلماء إلى التخريج من طريقه، ومنهم أصحاب الكتب الستة وغيرهم، وقد ساهم في ذلك ما منّ الله به على المؤلف من طول العمر، حتى إنه أدرك شيوخاً لم يدركهم بعض من اتفق معه في سنة الوفاة، أو قاربها.

جـ - كثرة العزو إليه عند الفقهاء والمحدثين والمفسرين وغيرهم.
আমি ছাপানো অংশ যেখান থেকে শেষ হয়েছে সেখান থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই, আর তা হলো (ফাযায়িলুল কুরআন) বা কুরআনের ফযীলত অধ্যায় থেকে শুরু করে, এরপর (কিতাবুত তাফসীর) বা তাফসীর অধ্যায়, এভাবে যেন আমি তাফসীর অধ্যায়ের সূরা আল-মায়িদাহর শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি। বিভাগ কৃতজ্ঞতার সাথে তাতে সম্মত হয় এবং অনুষদ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। পিএইচডি (ডক্টরেট) ডিগ্রির প্রস্তুতির জন্য এই বিষয়টি বেছে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নিম্নরূপ:

 

(১) লেখকের ইলমী বা পাণ্ডিত্যপূর্ণ মর্যাদা, যা নিচের বিষয়গুলোতে ফুটে ওঠে:

ক - তিনি হাফেয ইমামগণের অন্যতম ছিলেন, যেমনটি তার জীবনবৃত্তান্তে সামনে আসবে।

খ - তিনি কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থ)-এর বর্ণনাকারীদের একজন, যাদের প্রতি জামাআত (উলামাগণ) সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাদের কিতাবসমূহে তার বর্ণনা সংকলন করেছেন।

গ - মুসলিম ও আবু দাউদের মতো বেশ ক’জন ইমাম তার নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন, এমনকি ইমাম আহমাদ তার জীবদ্দশায় তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তার বিস্তারিত পরিচয় সামনে আসবে।

 

(২) কিতাবটির বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক গুরুত্ব, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে পরিস্ফুট হয়:

ক - এটি সেই অল্প সংখ্যক কিতাবের অন্তর্ভুক্ত যা মারফূ হাদীস ছাড়াও সাহাবী, তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তীগণের আছারসমূহ (বর্ণনা) উদ্ধৃত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে। আছার বা প্রাচীন বর্ণনা উদ্ধৃত করার গুরুত্ব কারও অজানা নয়, কারণ এটি আমাদের সামনে আকীদা ও বিধিবিধান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সালাফ বা পূর্বসূরিগণের কর্মপন্থা কেমন ছিল তা ফুটিয়ে তোলে।

খ - কিতাবটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সনদের উচ্চমান (উলুওয়ুল ইসনাদ), যা ওলামায়ে কেরামকে তার সূত্রে হাদীস বর্ণনায় উদ্বুদ্ধ করেছে, যাদের মধ্যে কুতুবে সিত্তাহর লেখকগণ ও অন্যান্যরাও রয়েছেন। আল্লাহ তাআলা লেখককে যে দীর্ঘ জীবন দান করেছিলেন তা এতে সহায়ক হয়েছে, এমনকি তিনি এমন সব শাইখ বা শিক্ষকদের সাহচর্য লাভ করেছেন যাদেরকে তার সমসাময়িক বা কাছাকাছি সময়ে ইন্তেকালকারী অনেকেই পাননি।

গ - ফকীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং অন্যান্যদের নিকট এই কিতাব থেকে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান।
(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১২)
د - تفرُّد المصنِّف ببعض الآثار التي لا توجد عند غيره- بحسب بحثي-.

هـ - ذكره لبعض الآثار التي يشاركه فيها بعض أصحاب المؤلفات المفقودة، كعبد بن حميد وابن المنذر في تفسيريهما.

و تفرُّده ببعض الطرق التي تقوِّي طرقاً أخرى، أو تفيد في كشف عِلَّةٍ لبعض الطرق، أو ترجيح بعض ما قد يُعَلُّ منها.

 

(3) حاجة العلماء وطلبة العلم الماسّة لمزيد من مصادر السنة الأصلية التي تروي بالإسناد، وحاجتهم لهذا الكتاب بالأخص بسبب قيمته العلمية.

 

(4) ما اشتهر لدى الأوساط العلمية من فقدان الكتاب، سوى ما طبع منه.

 

لهذه الأسباب أقدمت مستعيناً بالله على اختيار هذا الموضوع مع اعترافي بالتقصير والضعف، وفيما يلي شرح لخطة البحث: -

فقد قسمت الكتاب إلى مقدمة وثلاثة أقسام وخاتمة وملحق تعقبه الفهارس.

أ - المقدمة: وفيها بيان أهمية الموضوع، وسبب اختياره، وشرح خطة البحث فيه.

ب - القسم الأول: دراسة عن المؤلف سعيد بن منصور وكتابه السنن، وفيه مبحثان:

 

• المبحث الأول: التعريف بالمؤلف سعيد بن منصور، ويشمل: دراسة عن بيئته وعصره، واسمه ونسبه وكنيته، ومولده ونشأته، وطلبه للعلم، ورحلته فيه، وشيوخه وتأثيرهم فيه، وتلاميذه وتأثيره فيهم، وجهوده في خدمة الحديث وعلومه، ومؤلفاته فيه، وثناء العلماء عليه، وما تُكُلِّم به فيه والجواب عنه، وعقيدته، ومن اتفق معه في الاسم واسم الأب، وأولاده، ووفاته.
ঘ - লেখকের এমন কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে একক হওয়া যা অন্যের কাছে পাওয়া যায় না - আমার গবেষণা অনুযায়ী।

ঙ - এমন কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা যাতে বিলুপ্ত গ্রন্থসমূহের কতিপয় লেখক তাঁর সাথে শরিক আছেন, যেমন আব্দ ইবনে হুমায়দ ও ইবনুল মুনযির তাঁদের তাফসিরদ্বয়ে।

চ - এমন কিছু সূত্রের (তুরুক) ক্ষেত্রে তাঁর একচ্ছত্রতা যা অন্য সূত্রগুলোকে শক্তিশালী করে, অথবা কিছু সূত্রের ত্রুটি (ইল্লাত) উন্মোচনে সাহায্য করে, কিংবা যেগুলোতে ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হয়।

 

(৩) সনদসহ বর্ণনা করা সুন্নাহর মৌলিক উৎসসমূহের প্রতি আলেম ও তালিবে ইলমদের তীব্র প্রয়োজনীয়তা এবং এর ইলমী গুরুত্বের কারণে বিশেষভাবে এই কিতাবটির আবশ্যকতা।

 

(৪) কিতাবটির যতটুকু অংশ মুদ্রিত হয়েছে তা ব্যতিরেকে বাকি অংশ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইলমী মহলে প্রসিদ্ধি লাভ করা।

 

এসব কারণেই আমি আমার ত্রুটি ও অক্ষমতা স্বীকার করে আল্লাহর সাহায্য কামনাস্বরূপ এই বিষয়টি নির্বাচনের প্রয়াস পেয়েছি। নিম্নে গবেষণা পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: -

আমি কিতাবটিকে একটি ভূমিকা, তিনটি অংশ, একটি উপসংহার এবং একটি পরিশিষ্টে বিভক্ত করেছি, যার পরে নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করা হয়েছে।

ক - ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, তা নির্বাচনের কারণ এবং এতে গবেষণা পরিকল্পনার ব্যাখ্যা রয়েছে।

খ - প্রথম অংশ: লেখক সাঈদ ইবনে মানসুর এবং তাঁর কিতাব 'আস-সুনান' সম্পর্কে পর্যালোচনা, যা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

 

• প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখক সাঈদ ইবনে মানসুরের পরিচিতি। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: তাঁর পরিবেশ ও যুগ সম্পর্কে আলোচনা, তাঁর নাম, বংশ ও উপনাম, জন্ম ও বেড়ে ওঠা, ইলম অর্জন, ইলম অর্জনে তাঁর সফর, তাঁর উস্তাদগণ এবং তাঁদের ওপর তাঁর প্রভাব, তাঁর ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁদের ওপর তাঁর প্রভাব, হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের সেবায় তাঁর প্রচেষ্টা, এই বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ, তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা, তাঁর সম্পর্কে যে সমালোচনা করা হয়েছে এবং তার উত্তর, তাঁর আকিদা, যাদের নাম ও পিতার নাম তাঁর সাথে হুবহু মিলে যায়, তাঁর সন্তানাদি এবং তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
• المبحث الثاني: التعريف بكتاب السنن، ويشمل:

تسميته، وتوثيق نسبته للمؤلف مع ذكر سند الكتاب، وموضوعه، ومنهج المؤلف فيه ويتضمن: (ترتيب الكتاب، ومصادره، وطريقته في الرواية، وسياق الأسانيد والمتون، وتراجمه للأبواب، وأنواع المرويات عنده من أحاديث مرفوعة وآثار موقوفة أو مقطوعة، ودرجة أحاديث الكتاب، ومقارنته بطريقة علماء عصره)، والزيادات عليه ومميزاته، وبعض المآخذ عليه، والتعريف بنسخ الكتاب.

جـ- القسم الثاني: طريقة العمل في الكتاب، وتشمل:

1 - توثيق النص، وذلك بالرجوع إلى المصادر، ومحاولة بيان من نقل النص من العلماء عن سعيد مباشرة، أو بواسطة، وتخريج الأحاديث والآثار، مع ذكر الشواهد والمتابعات، ودراسة أسانيدها، والحكم عليها.

2 - تفسير غريب الحديث.

3 - توضيح النص، بالتعليق على كل ما يحتاج إلى توضيح.

د- القسم الثالث: النص محققاً ومعلقاً عليه طبقاً لخطة العمل السابقة.

هـ- الخاتمة: وفيها تقويم العمل على ضوء الدراسة والتحقيق، وذكر أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال عملي بإيجاز.

و ملحق: في تقويم العمل المطبوع من الكتاب مع مقارنته بالمخطوط.

ز- الفهارس: وتشتمل على:

1 - فهرس الآيات مرتبة حسب ترتيب المصحف.

2 - فهرس الأحاديث والآثار مرتبة على حروف المعجم.

3 - فهرس الأحاديث والآثار مرتبة على المسانيد.

4 - فهرس الأحاديث والآثار مرتبة على الأبواب.

5 - فهرس شيوخ المصنف.
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আস-সুনান গ্রন্থের পরিচিতি, এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

এর নামকরণ, লেখকের সাথে এর সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা এবং কিতাবের সনদ উল্লেখ, এর বিষয়বস্তু এবং এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি; আর এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: (গ্রন্থের বিন্যাস, এর উৎসসমূহ, বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি, সনদ ও মতনের বিন্যাসধারা, অধ্যায়সমূহের শিরোনাম, তাঁর কাছে বর্ণিত বিভিন্ন প্রকারের বর্ণনা—চাই তা মারফু হাদীস হোক কিংবা মাওকুফ বা মাকতু আসার হোক, কিতাবের হাদীসসমূহের মান এবং তাঁর সমসাময়িক আলেমদের পদ্ধতির সাথে এর তুলনা), এর ওপর অতিরিক্ত সংযোজন ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ, এর ওপর কিছু সমালোচনা এবং কিতাবের পাণ্ডুলিপিগুলোর পরিচিতি।

গ- দ্বিতীয় অংশ: গ্রন্থে কাজের পদ্ধতি, এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

1 - পাঠ্যের প্রামাণিকতা যাচাই, যা করা হয়েছে মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে, এবং যেসকল আলেম সরাসরি সাঈদ থেকে অথবা কোনো মধ্যস্থতায় পাঠ্যটি বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ করার চেষ্টা করা, এবং হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ করা, সাথে শাওয়াহিদ ও মুতাবাআত উল্লেখ করা, সেগুলোর সনদসমূহ অধ্যয়ন করা এবং সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করা।

2 - গারীব হাদীসের ব্যাখ্যা।

3 - পাঠ্যের স্পষ্টীকরণ, যার জন্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন এমন প্রত্যেকটি বিষয়ের ওপর টীকা প্রদানের মাধ্যমে।

ঘ- তৃতীয় অংশ: পূর্বোক্ত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পাদিত ও টীকাযুক্ত মূল পাঠ্য।

ঙ- উপসংহার: এতে রয়েছে অধ্যয়ন ও তাহক্বীকের আলোকে কাজের মূল্যায়ন এবং আমার কাজের মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

চ- পরিশিষ্ট: গ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণের মূল্যায়ন এবং পাণ্ডুলিপির সাথে এর তুলনা।

ছ- নির্ঘণ্টসমূহ: আর এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

1 - কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট, যা মুসহাফের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।

2 - হাদীস ও আসারের নির্ঘণ্ট, যা বর্ণানুক্রমিক সাজানো।

3 - হাদীস ও আসারের নির্ঘণ্ট, যা মাসানীদ অনুযায়ী সাজানো।

4 - হাদীস ও আসারের নির্ঘণ্ট, যা অধ্যায়ভিত্তিক সাজানো।

5 - গ্রন্থকারের শাইখদের নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
6 - فهرس رجال الأسانيد.

7 - فهرس الأعلام الواردين في النص.

8 - فهرس الرواة المترجمين في التعليق.

9 - فهرس الأبيات الشعرية.

10 - فهرس الأماكن والبلدان.

11 - فهرس الأنساب.

12 - فهرس غريب اللغة والحديث.

13 - فهرس المراجع.

14 - الفهرس العام.

وفي الختام أتوجه بالشكر لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية التي أتاحت لي الفرصة لإكمال دراستي، وأخص بذلك كلية أصول الدين ممثلة في عميدها ووكيليه وقسم السنة وعلومها، كما أشكر فضيلة الأستاذ الدكتور عبد المنعم السيد نجم على تفضله بقبول الإشراف على هذه الرسالة وقراءتها وإبداء الملاحظات عليها، كما لا يسعني أن أغفل الشكر الجزيل لفضيلة الشيخ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الجبرين على ما بذله من جهد في الحصول على هذا المخطوط، ولفضيلة الشيخ الدكتور أحمد معبد عبد الكريم على توجيهاته لي في هذا البحث وغيره، والتي كان لها أطيب الأثر في نفسي، فأسأل الله تعالى أن يجزيهما عني أفضل الجزاء، كما أشكر الشيخ حمد بن عبد العزيز الجبرين على ما ساعدني به في سبيل الحصول على هذا المخطوط، والشيخ محمد بن سعود الصبيحي على تفضله بالسماح لي بتصوير المخطوط لهذا الكتاب، وأشكر كل من أسدى إلي معروفاً؛ من نصح، أو توجيه أو غير ذلك، وأسأل الله تعالى أن يجزيهم عني أفضل الجزاء، وسبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك.

سعد بن عبد الله بن عبد العزيز آل حُمَيِّد
6 - সনদের বর্ণনাকারীদের সূচিপত্র।

7 - মূল পাঠে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সূচিপত্র।

8 - টীকায় জীবনী বর্ণিত রাবীদের সূচিপত্র।

9 - কাব্য পঙ্ক্তিগুলোর সূচিপত্র।

10 - স্থান ও দেশসমূহের সূচিপত্র।

11 - বংশতালিকার সূচিপত্র।

12 - ভাষা ও হাদিসের দুর্লভ শব্দসমূহের সূচিপত্র।

13 - তথ্যসূত্রের সূচিপত্র।

14 - সাধারণ সূচিপত্র।

পরিশেষে আমি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যা আমাকে আমার উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে উসুলুদ্দীন অনুষদের ডিন, তার দুই সহকারী ডিন এবং সুন্নাহ ও এর বিজ্ঞান বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। একইভাবে আমি মাননীয় প্রফেসর ডক্টর আব্দুল মুনইম আস-সাইয়্যিদ নাজমু-কে ধন্যবাদ জানাই এই থিসিসটি তদারকির দায়িত্ব গ্রহণ করা, এটি পাঠ করা এবং এর ওপর মূল্যবান মন্তব্য প্রদানের জন্য। আরও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মাননীয় শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন-এর প্রতি, এই পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তার জন্য। এবং মাননীয় শায়খ ডক্টর আহমাদ মাবাদ আব্দুল কারীম-কে তার দিকনির্দেশনার জন্য—এই গবেষণায় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে—যা আমার মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের উভয়কে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। তদ্রূপ আমি শায়খ হামাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-জিবরীন-কে ধন্যবাদ জানাই এই পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহের পথে আমাকে সহযোগিতা করার জন্য, এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন সাউদ আস-সুবাইহী-কে এই কিতাবের পাণ্ডুলিপিটি আমাকে ছবি তোলার অনুমতি দিয়ে অনুগ্রহ করার জন্য। আমি সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে কোনো না কোনোভাবে সাহায্য করেছেন; চাই তা উপদেশ, দিকনির্দেশনা বা অন্য কিছু হোক। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।

সাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-হুমাইয়িদ
(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌القسم الأول

دراسة عن المؤلف سعيد بن منصور

وكتابه ((السنن))

وفيه مبحثان: المبحث الأول: التعريف بالمؤلف.

المبحث الثاني: التعريف بكتاب السنن.
প্রথম অংশ

লেখক সাঈদ বিন মনসুর এবং তাঁর গ্রন্থ ((আস-সুনান)) সংক্রান্ত গবেষণা

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখক পরিচিতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুনান গ্রন্থের পরিচিতি।
(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الأول

التعريف بالمؤلف
(1)

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته هي: الطبقات الكبرى لمحمد بن سعد (5/ 502)، ومعرفة الرجال لابن معين (رواية ابن محرز) (1/ 101 رقم 444)، والتاريخ الكبير للبخاري (3/ 516 رقم 1722)، والكنى لمسلم (ص 73)، والمعرفة والتاريخ ليعقوب بن سفيان (انظر فهرسه والمواضع المحال عليها هنا)، وتاريخ أبي زرعة الدمشقي (انظر فهرسه والمواضع المحال عليها هنا)، والجرح والتعديل لابن أبي حاتم (4/ 68 رقم 284)، والثقات لاين حبان (8/ 268 - 269)، وتاريخ مولد العلماء ووفياتهم لابن زَبْر الرَّبَعي (2/ 499 و 501)، ورجال صحيح البخاري المسمى: (الهداية والإرشاد في معرفة أهل الثقة والسداد) للكَلابَاذِي (1/ 295 - 296 رقم 407)، ورجال مسلم لابن مَنْجُوْيَهْ (1/ 249 رقم 536)، و: (تسمية ما انتهى إلينا من الرواة عن سعيد بن منصور عالياً) لأبي نعيم الأصبهاني (ص 26)، والإرشاد للخليلي (1/ 231 رقم 60)، والمتفق والمفترق للخطيب البغدادي (ل 109 - 110)، والتعديل والجرح لأبي الوليد الباجي (3/ 1087 رقم 1276)، والجمع بين رجال الصحيحين لابن القيسراني (1/ 170)، وترتيب المدارك للقاضي عياض (1/ 78، 168) و (3/ 200، 240)، والمعجم المشتمل (ص 129 رقم 375)، وتاريخ دمشق كلاهما لابن عساكر (7/ 354 - 357، مخطوط الظاهرية) ومختصره لابن منظور (10/ 12 - 13 رقم 8) وتهذيبه لابن بدران (6/ 177)، والتقييد لابن نقطة (2/ 17 - 18)، ومعجم البلدان لياقوت (1/ 420، 425)، و (2/ 367)، و (3/ 230)، والعلم المشهور لابن دحية الكلبي (ص 161 و 162)، وتهذيب الكمال للمزي (11/ 77 - 82 رقم 2361)، وسير أعلام النبلاء (10/ 586 - 590)، وتاريخ الإسلام (ص 184 - 186 / وفيات 221 - 230)، وتذكرة الحفاظ (2/ 416)، ودول الإسلام (1/ 137)، والعبر (1/ 399)، وميزان الاعتدال (2/ 159 رقم 3277)، والكاشف (1/ 373 رقم 1982)، وذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل (ص 169 رقم 128) جميعها للذهبي، والوافي بالوفيات للصَّفَدي (15/ 263 رقم 370)، والبداية والنهاية لابن كثير (10/ 299)، وإكمال تهذيب الكمال لمغلطاي (ل 98 / ب - 99 / ب)، والعقد الثمين للفاسي (4/ 586 - 587) وتهذيب التهذيب (4/ 89 - 90 رقم 148)، وتقريب التهذيب (ص 241 رقم 2399) كلاهما لابن حجر، وطبقات الحفاظ للسيوطي (ص 179، رقم 403)، وبحر الدم =

প্রথম পরিচ্ছেদ

লেখকের পরিচিতি
(১)

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ হলো: মুহাম্মদ ইবন সা'দের আত-তাবাকাতুল কুবরা (৫/৫০২), এবং ইবন মাঈনের মা'রিফাতুর রিজাল (ইবন মুহরিযের বর্ণনা) (১/১০১, নম্বর ৪৪৪), এবং বুখারীর আত-তারিখুল কাবীর (৩/৫১৬, নম্বর ১৭২২), এবং মুসলিমের আল-কুনা (পৃ. ৭৩), এবং ইয়াকুব ইবন সুফিয়ানের আল-মা'রিফাহ ওয়াত-তারিখ (এর নির্ঘণ্ট এবং এখানে উদ্ধৃত স্থানগুলো দেখুন), এবং আবু যুরআ আদ-দিমাশকীর তারিখ (এর নির্ঘণ্ট এবং এখানে উদ্ধৃত স্থানগুলো দেখুন), এবং ইবন আবু হাতিমের আল-জারহ ওয়াত-তা'দীল (৪/৬৮, নম্বর ২৮৪), এবং ইবন হিব্বানের আস-সিকাত (৮/২৬৮-২৬৯), এবং ইবন যাবর আর-রাবা'য়ীর তারিখু মাওলিদিল উলামা ওয়া ওয়াফায়াতিহিম (২/৪৯৯ এবং ৫০১), এবং কালাবাযীর রিজালু সহীহিল বুখারী, যার নাম: (আল-হিদায়াহ ওয়াল ইরশাদ ফী মা'রিফাতি আহলিস সিকাহ ওয়াস সাদাদ) (১/২৯৫-২৯৬, নম্বর ৪০৭), এবং ইবন মানজুওয়াইহ-এর রিজালু মুসলিম (১/২৪৯, নম্বর ৫৩৬), এবং আবু নুআইম আল-আসফাহানীর: (তাসমিয়াতু মা ইনতাহা ইলাইনা মিনার রুওয়াতি আন সাঈদ ইবন মানসুর আলিয়ান) (পৃ. ২৬), এবং খালীলীর আল-ইরশাদ (১/২৩১, নম্বর ৬০), এবং খতিব বাগদাদীর আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক (ফলন ১০৯-১১০), এবং আবু ওয়ালীদ আল-বাজীর আত-তা'দীল ওয়াল জারহ (৩/১০৮৭, নম্বর ১২৭৬), এবং ইবনুল কাইসারানীর আল-জামউ বাইনা রিজালিস সহীহাইন (১/১৭০), এবং কাযী আইয়াযের তারতীবুল মাদারিক (১/৭৮, ১৬৮) এবং (৩/২০০, ২৪০), এবং আল-মু'জামুল মুশতামিল (পৃ. ১২৯, নম্বর ৩৭৫), এবং ইবন আসাকিরের তারিখু দিমাশক (৭/৩৫৪-৩৫৭, জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপি) এবং ইবন মানযুরের এর সংক্ষেপিত রূপ (১০/১২-১৩, নম্বর ৮) এবং ইবন বাদরানের এর তাহযীব (৬/১৭৭), এবং ইবন নুকতার আত-তাকয়ীদ (২/১৭-১৮), এবং ইয়াকুতের মু'জামুল বুলদান (১/৪২০, ৪২৫), এবং (২/৩৬৭), এবং (৩/২৩০), এবং ইবন দিহইয়া আল-কালবীর আল-আলামুল মাশহুর (পৃ. ১৬১ এবং ১৬২), এবং মিযযীর তাহযীবুল কামাল (১১/৭৭-৮২, নম্বর ২৩৬১), এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৫৮৬-৫৯০), এবং তারিখুল ইসলাম (পৃ. ১৮৪-১৮৬ / মৃত্যু ২২১-২৩০), এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ (২/৪১৬), এবং দুওয়ালুল ইসলাম (১/১৩৭), এবং আল-ইবার (১/৩৯৯), এবং মীযানুল ইতিদাল (২/১৫৯, নম্বর ৩২৭৭), এবং আল-কাশিফ (১/৩৭৩, নম্বর ১৯৮২), এবং যিকরু মান ইউ'তামাদু কাওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তা'দীল (পৃ. ১৬৯, নম্বর ১২৮), এ সবগুলো আয-যাহাবীর, এবং আস-সাফাদীর আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত (১৫/২৬৩, নম্বর ৩৭০), এবং ইবন কাসীরের আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (১০/২৯৯), এবং মুগলতাইয়ের ইকমালু তাহযীবিল কামাল (ফলন ৯৮/খ - ৯৯/খ), এবং ফাসীর আল-ইকদুত সামীন (৪/৫৮৬-৫৮৭), এবং তাহযীবুত তাহযীব (৪/৮৯-৯০, নম্বর ১৪৮), এবং তাকরীবুত তাহযীব (পৃ. ২৪১, নম্বর ২৩৯৯), এ উভয়টি ইবন হাজারের, এবং সুয়ূতীর তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃ. ১৭৯, নম্বর ৪০৩), এবং বাহরুদ দাম =

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - بيئته وعصره: -

ولد سعيد بن منصور- كما سيأتي- قبل سنة سبع وثلاثين ومائة، أو بعدها بيسير، وتوفي في سنة سبع وعشرين ومائتين، فهو إذاً عاش في الفترة التي نشأت فيها الدولة العباسية إلى أن بلغت أوْجَ قوَّتها، وكان يقال: (لبني العباس فاتحة وواسطة وخاتمة. فالفاتحة السَّفَّاح، والواسطة المأمون، والخاتمة المُعْتَضِد)(1).

فنشأة الدولة العباسية كانت في سنة اثنتين وثلاثين ومائة (132 هـ) على أنقاض الدولة الأموية، وكان هذا قريباً من ولادة سعيد بن منصور الذي عاش بداية حياته في خراسان مُنْطَلَقِ الدعوة العباسية ومحطّ قوَّتها بقيادة أبي مسلم الخراساني الذي أَبْلَى مع العباسيين بلاءً كان عاقبته القتل من قبل ثاني خلفاء بني العباس: أبي جعفر المنصور؛ بعد أن أحسّ بخطر أبي مسلم الخراساني على دولتهم.

عاش سعيد هذه الحياة الطويلة التي تزيد على تسعين عاماً، وعايش فيها أحداثاً كثيرة، سأتناول الحديث عنها بإيجاز، مقسَّماً على

--------------------------------------------

= ليوسف بن عبد الهادي (ص 178 رقم 370)، وخلاصة تذهيب الكمال للخزرجي (ص 143)، وشذرات الذهب لابن العماد (2/ 62)، والرسالة المستطرفة للكتّاني (ص 34)، والفكر السامي للفاسي (2/ 73 رقم 268)، ومعجم المؤلفين لعمر كحالة (4/ 232).

(1) تاريخ الخلفاء (ص 490).

والمعتضد هو الخليفة العباسي أبو العباس أحمد بن الموفق بالله طلحة بن المتوكل جعفر بن المعتصم محمد بن الرشيد. ولد في سنة اثنتين وأربعين ومائتين، وتولّى الخلافة سنة تسع وسبعين ومائتين، وتوفي سنة تسع وثمانين ومائتين، قال الذهبي في وصفه: (وكان ملكاً مهيباً شجاعاً كامل العقل ذا سياسة عظيمة، وفي دولته سكنت الفتن، وأسقط المَكْسَ، ونشر العدل، وقلل من الظلم، وكان يُسَمَّى السَّفّاح الثاني، أحيا رميم الخلافة التي ضعفت من مقتل المتوكل) اهـ بتصرف من سير أعلام النبلاء (13/ 463 - 479).

وأما السَّفَّاح والمأمون فسيأتي الحديث عنهما.

১ - তাঁর পরিবেশ ও যুগ: -

সাঈদ ইবনে মানসুর—যেমনটি সামনে আসবে—১৩৭ হিজরি সনের পূর্বে অথবা এর সামান্য পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২২৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। সুতরাং তিনি এমন এক যুগে বসবাস করেছেন যখন আব্বাসীয় রাষ্ট্র তার সূচনালগ্ন থেকে শক্তির চরম শিখরে পৌঁছানো পর্যন্ত সময়টি অতিবাহিত করছিল। বলা হতো: (আব্বাসীয় বংশের একজন সূচনাকারী, একজন মধ্যবর্তী এবং একজন সমাপ্তকারী রয়েছেন। সূচনাকারী হলেন আস-সাফফাহ, মধ্যবর্তী হলেন আল-মামুন এবং সমাপ্তিকারী হলেন আল-মুতাদিদ)(১)।

আব্বাসীয় রাষ্ট্রের উত্থান হয়েছিল ১৩২ হিজরি সনে উমাইয়া রাষ্ট্রের ধ্বংসাবশেষের ওপর। এটি সাঈদ ইবনে মানসুরের জন্মের কাছাকাছি সময় ছিল, যিনি তাঁর জীবনের শুরুর দিকে খোরাসানে বসবাস করতেন, যা ছিল আব্বাসীয় দাওয়াতের সূচনাস্থল এবং আবু মুসলিম খোরাসানীর নেতৃত্বে তাদের শক্তির কেন্দ্র। আবু মুসলিম খোরাসানী আব্বাসীয়দের সাথে মিলে এমন কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন যার পরিণতি হয়েছিল আব্বাসীয়দের দ্বিতীয় খলিফা আবু জাফর আল-মানসুরের হাতে তাঁর মৃত্যু; যখন আল-মানসুর তাদের রাষ্ট্রের ওপর আবু মুসলিম খোরাসানীর বিপদের আশঙ্কা অনুভব করেছিলেন।

সাঈদ এই দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছেন যা নব্বই বছরেরও বেশি ছিল। এতে তিনি অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন, যা আমি সংক্ষেপে আলোচনা করব, বিভক্ত করে...

--------------------------------------------

= ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি (পৃ. ১৭৮, নং ৩৭০), আল-খাজরাজির খুলাসাতু তাযহিবিল কামাল (পৃ. ১৪৩), ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব (২/৬২), আল-কাত্তানির আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফা (পৃ. ৩৪), আল-ফাসির আল-ফিকরুস সামি (২/৭৩, নং ২৬৮) এবং উমর কাহহালার মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (৪/২৩২)।

(১) তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৯০)।

আর আল-মুতাদিদ হলেন আব্বাসীয় খলিফা আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আল-মুওয়াফ্ফাক বিল্লাহ তালহা বিন আল-মুতাওয়াক্কিল জাফর বিন আল-মুতাসিম মুহাম্মদ বিন আর-রশিদ। তিনি ২৪২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৯ হিজরি সনে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২৮৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম যাহাবি তাঁর বর্ণনায় বলেন: (তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী, সাহসী, পূর্ণ বুদ্ধিমান এবং মহান রাজনীতির অধিকারী শাসক। তাঁর শাসনামলে ফিতনা-ফ্যাসাদ শান্ত হয়েছিল, তিনি অবৈধ কর বিলুপ্ত করেছিলেন, ন্যায়বিচার প্রচার করেছিলেন এবং জুলুম হ্রাস করেছিলেন। তাঁকে দ্বিতীয় সাফফাহ বলা হতো, তিনি খেলাফতের সেই জরাজীর্ণ অবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন যা আল-মুতাওয়াক্কিলের হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বল হয়ে পড়েছিল)। সমাপ্ত—সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/৪৬৩ - ৪৭৯) থেকে সংক্ষেপিত।

আর আস-সাফফাহ এবং আল-মামুন সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
عناوين ثلاثة: الحالة السياسية، والحالة الفكرية، والحالة العلمية.

أ - الحالة السياسية:

كانت الحالة السياسية في بداية حياة المؤلف (سعيد بن منصور) تشهد فتناً وقلاقل بسبب قيام الدولة العباسية التي وجدت مناهضين لها، شأنها في ذلك شأن أي دولة تنهض من مرحلة الضعف، فتكون عرضة لأطماع الطامعين، فإذا قُدِّر لها أن تقوى شوكتُها، ويصلب عودُها استطاعت أن ترسِّخ دعائم سلطانها، وتبسط نفوذها، وتبطش بأعدائها، وهذا ما حصل للدولة العباسية. فإنها قامت في سنة (132 هـ) على يد أبي العباس السَّفَّاح عبد الله ويقال: المرتضى، ويقال: القاسم بن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس بن عبد المطلب أوّل الخلفاء العباسيين الذي أخذ يطارد فُلُولَ الأمويين، إلى أن استقرّ له الأمر بعد مقتل آخر خلفاء بني أمية: مروان بن محمد. ثم أخذ أبو العباس يبسط نفوذه على البلاد والأقاليم، إلا أن كثيراً من الأقاليم كانت تنشقّ عنه بعد أن تكون أعطته البيعة، مثل قنسرين، ودمشق، وحمص، والجزيرة، وقرقيسيا، والرَّقَّة، وغيرها كثير(1).

كما أن هناك من قام بالخروج عليه، والتحم معه في قتال، مثل بسام بن إبراهيم، والخوارج، وشريك المهري ببخارى، وزياد بن صالح من وراء نهر بَلْخ(2).

ولم تدم الحياة طويلاً بالسفاح، فإنه ما لبث أن توفي في سنة ست وثلاثين ومائة (136 هـ). ثم تولّى بعده أخوه أبو جعفر المنصور عبد الله بن محمد الذي استقبل تصدُّعاً في أجزاء دولته استطاع بدهائه رَأْبَه. فأول ذلك: حينما جاءه خبر وفاة أخيه أبي العباس، كان في الطريق

--------------------------------------------

(1) انظر تفاصيل ذلك في البداية والنهاية (10/ 52 - 57).

(2) المرجع السابق.

তিনটি শিরোনাম: রাজনৈতিক অবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা।

ক - রাজনৈতিক অবস্থা:

লেখক (সাঈদ ইবনে মানসুর)-এর জীবনের শুরুর দিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নানা ফিতনা ও অস্থিরতার সম্মুখীন ছিল। এর কারণ ছিল আব্বাসীয় খেলাফতের প্রতিষ্ঠা, যা বহু বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। এটি মূলত যেকোনো রাষ্ট্রের প্রাথমিক দুর্বল অবস্থার মতোই ছিল, যখন রাষ্ট্রটি উচ্চাভিলাষীদের লালসার শিকার হয়। তবে যখন এর ক্ষমতা সুসংহত হয় এবং ভিত্তি মজবুত হয়, তখন এটি তার কর্তৃত্বের ভিত্তি স্থাপন করতে, প্রভাব বিস্তার করতে এবং শত্রুদের দমন করতে সক্ষম হয়; আর আব্বাসীয় রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও এটিই ঘটেছিল। ১৩২ হিজরি সনে আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ আবদুল্লাহর হাতে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁকে আল-মুরতাদা বা আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবও বলা হয়। তিনি ছিলেন আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে প্রথম, যিনি উমাইয়াদের অবশিষ্টাংশকে তাড়া করতে শুরু করেন। অবশেষে বনু উমাইয়ার শেষ খলিফা মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল হয়। এরপর আবুল আব্বাস বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ওপর তাঁর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। তবে অনেক অঞ্চল আনুগত্যের বাইয়াত প্রদানের পর আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে; যেমন: কিন্নাসরিন, দামেস্ক, হিমস, আল-জাজিরা, কারকিসিয়া, আর-রাক্কাহ এবং আরও অনেক(১)।

এছাড়াও অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, যেমন: বাসসাম ইবনে ইব্রাহিম, খাওয়ারিজ সম্প্রদায়, বুখারার শারিক আল-মাহরি এবং বালখ নদীর ওপার থেকে জিয়াদ ইবনে সালিহ(২)।

আস-সাফফাহ দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন না; তিনি ১৩৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পর তাঁর ভাই আবু জাফর আল-মনসুর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হন এবং নিজের বিচক্ষণতা দিয়ে তা মেরামত করতে সক্ষম হন। এর প্রথম উদাহরণ হলো—যখন তাঁর ভাই আবুল আব্বাসের মৃত্যুর সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি পথে ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/ ৫২ - ৫৭)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২০)
عائداً من الحج، فتعجل حتى أتى العراق، فأُخذت له البيعة من أهل العراق وخراسان وسائر البلاد، سوى الشام، فإنه خرج بها عمُّه عبد الله بن علي مدَّعياً أن السَّفَّاح كان عهد إليه بالخلافة، فأرسل إليه أبو جعفر أبا مسلم الخراساني الذي استطاع أن يوقع به الهزيمة بعد حروب يطول ذكرها، كان من نتيجتها أن هرب عبد الله بن علي إلى أخيه سليمان بن علي في البصرة، فاختفى عنده، فعلم به المنصور، فأخذه، ويقال إنه سجنه في بيت بَنَى أساسه على الملح، ثم أطلق عليه الماء، فذاب الملح، وسقط البيت على عبد الله بن علي، فمات.

ثم أحس أبو جعفر بعد ذلك باستفحال أمر أبي مسلم واستخفافه به واحتقاره له، فأوجس منه خيفة، فسعى في إهلاكه، فما زال به يستدرجه ويَعِدُهُ ويُمَنِّيه، إلى أن أقدمه عليه، فلما تمكَّن منه، أخذ يعاتبه على ما بدر منه، وأبو مسلم يعتذر، وكان أبو جعفر أمر بعض حرسه وقال لهم: كونوا من وراء الرُّواق، فإذا صَفَّقت بيدي، فاخرجوا عليه فاقتلوه، فخرجوا عليه فقتلوه، فيقال: إن المنصور أنشد عند ذلك:

فَأَلْقَتْ عَصَاها واسْتَقَرَّ بها النَّوَى … كما قَرَّ عَيْناً بالإِيَابِ المسافِرُ

وشهد عصر المنصور بعد ذلك فتناً وقلاقل كثيرة، من أهمِّها:

خروج محمد بن عبد الله بن حسن بن حسن بن علي بن أبي طالب وأخيه إبراهيم بن عبد الله في المدينة والبصرة، وبعد معارك ضارية استطاع المنصور إخماد هذه الفتنة بعد مقتل محمد وأخيه إبراهيم.

وبدأت الأمور تستقرّ للمنصور، فشرع في تطوير مملكته، فبنى مدينة بغداد(1)، وجعلها دار مملكته، وبنى مدناً أخرى، وهدأت الفتن والحروب، وتوجه للإصلاح الداخلي، ويعتبر أبو جعفر بحق الخليفة

--------------------------------------------

(1) انظر تفاصيل بنائها في البداية والنهاية (10/ 96 - 103).

হজ থেকে ফেরার পথে তিনি ত্বরান্বিত হলেন এবং ইরাকে পৌঁছালেন। সেখানে ইরাক, খোরাসান এবং সিরিয়া ব্যতীত অন্যান্য দেশের অধিবাসীদের কাছ থেকে তাঁর জন্য আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করা হলো। সিরিয়ায় তাঁর চাচা আবদুল্লাহ ইবনে আলী বিদ্রোহ করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে, আস-সাফফাহ তাকেই খিলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে গিয়েছিলেন। তখন আবু জাফর তাঁর বিরুদ্ধে আবু মুসলিম খোরাসানীকে প্রেরণ করেন, যিনি দীর্ঘ যুদ্ধের পর তাকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। যুদ্ধের পরিণামে আবদুল্লাহ ইবনে আলী বসরায় তাঁর ভাই সুলাইমান ইবনে আলীর কাছে পালিয়ে যান এবং সেখানে আত্মগোপন করেন। আল-মনসুর তাঁর খবর জানতে পেরে তাকে বন্দী করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাকে এমন একটি ঘরে বন্দী করেছিলেন যার ভিত্তি লবণের ওপর নির্মিত ছিল। অতঃপর তার ওপর পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, ফলে লবণ গলে যায় এবং ঘরটি আবদুল্লাহ ইবনে আলীর ওপর ধসে পড়ে, এতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর আবু জাফর আবু মুসলিমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং তাঁর প্রতি তার অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান অনুভব করলেন। তিনি তাকে নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন এবং তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করলেন। তিনি তাকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করতে থাকলেন এবং নানা প্রতিশ্রুতি ও আশা দিতে থাকলেন, যতক্ষণ না তিনি তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারলেন। যখন তিনি তাকে বাগে পেলেন, তখন তিনি তাঁর কৃতকর্মের জন্য তাকে তিরস্কার করতে শুরু করলেন, আর আবু মুসলিম ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকলেন। আবু জাফর তাঁর কিছু দেহরক্ষীকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন এবং তাদের বলেছিলেন: "তোমরা পর্দার আড়ালে থাকো, আমি যখন হাততালি দেব, তখন বেরিয়ে এসে তাকে হত্যা করবে।" তারা বেরিয়ে এসে তাকে হত্যা করল। বলা হয় যে, তখন মনসুর এই কবিতাটি পাঠ করেছিলেন:

সে তার লাঠি নিক্ষেপ করল এবং তার গন্তব্য স্থির হলো … যেমন মুসাফির তার প্রত্যাবর্তনে আনন্দিত হয়

এর পরে মনসুরের যুগে অনেক ফিতনা ও অস্থিরতা দেখা দেয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:

মদিনা ও বসরায় মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব এবং তাঁর ভাই ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহর বিদ্রোহ। এক ভয়াবহ যুদ্ধের পর মুহাম্মদ ও তাঁর ভাই ইব্রাহিমের মৃত্যুর মাধ্যমে মনসুর এই ফিতনা দমন করতে সক্ষম হন।

অতঃপর মনসুরের শাসনকাল স্থিতিশীল হতে শুরু করল। তিনি তাঁর রাজ্যের উন্নয়নে মনোনিবেশ করলেন এবং বাগদাদ নগরী নির্মাণ করলেন(১), আর একে তাঁর রাজ্যের রাজধানী বানালেন। তিনি আরও অনেক শহর নির্মাণ করেন। ফিতনা ও যুদ্ধসমূহ স্তিমিত হয়ে এল এবং তিনি অভ্যন্তরীণ সংস্কারের দিকে মনোযোগ দিলেন। আবু জাফরকে যথার্থই খলিফা হিসেবে গণ্য করা হয়...

--------------------------------------------

(১) এর নির্মাণের বিস্তারিত বিবরণ দেখুন 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' গ্রন্থে (১০/ ৯৬ - ১০৩)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২১)
الذي أرسى دعائم الدولة العباسية. وبعد هذه المدة التي عاشها في الحكم منذ سنة ست وثلاثين ومائة، أدركت أبا جعفر الوفاة في سنة ثمان وخمسين ومائة (158 هـ) بعد أن عهد بالخلافة لابنه محمد المهدي، ومن بعده لعيسى بن موسُى(1)، إلا أن المهدي لما تولّى الخلافة، أَلَحَّ على عيسى أن يخلع نفسه ويتنازل عن الخلافة للهادي، فامتنع، ثم أجاب بعد ترغيب وترهيب ووعد ووعيد من المهدي له يطول ذكره(2).

وكان المهدي أتى للخلافة والأمور مستقرّة، فكان عصره بداية عصر ازدهار الدولة العباسية، لذلك نجده أول من عمل البريد من الحجاز إلى العراق(3)، وأمر بعمارة طريق مكة، فبنى بها القصور، وحَفَرَ الآبار، وعمل المصانع والبِرَكَ، حتى صارت طريق الحجاز من العراق من أرفق الطرقات وآمنها وأطيبها(4). ونجده أول خليفة حمل له الثَّلْجُ إلى مكة(5). وفي سنة سبع وستين ومائة أمر بالزيادة الكبرى في المسجد الحرام، وأدخل في ذلك دوراً كثيرة(6).

وقد شهد عصره شيئاً من الاضطراب(7)، لكنه لا يداني ما

--------------------------------------------

(1) هو عيسى بن موسى بن محمد بن علي بن عبد الله بن العباس، ابن أخ أبي جعفر، وكان فارس بني العباس، وسَيْفَهم المسلول، جعله السَّفّاح ولي العهد بعد المنصور، فتحيَّل عليه المنصور بكل ممكن حتى أخّره وقدّم عليه المهدي، فيقال: بذل له بعد الرغبة والرهبة عشرة آلاف ألف درهم. انظر سير أعلام النبلاء (7/ 434 - 435).

(2) انظر البداية والنهاية (10/ 130، 131).

(3) تاريخ الخلفاء (ص 437).

(4) انظر البداية والنهاية (10/ 133)، وتاريخ الخلفاء (ص 436).

(5) كما في البداية (10/ 132)، ويقول الذهبي: (لم يتهيّأ ذلك لملك قط) كما في تاريخ الخلفاء (ص 436).

(6) تاريخ الخلفاء (ص 436).

(7) انظر البداية والنهاية (10/ 133، 135، 145).

যিনি আব্বাসীয় রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ১৩৬ হিজরি থেকে শাসনক্ষমতায় অতিবাহিত এই সময়ের পর, ১৫৮ হিজরিতে আবু জাফরের মৃত্যু হয়; তার আগে তিনি তার পুত্র মুহাম্মদ আল-মাহদী এবং তার পরে ঈসা ইবনে মুসার(১) অনুকূলে খিলাফতের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন। তবে মাহদী যখন খিলাফতে অধিষ্ঠিত হলেন, তখন তিনি ঈসাকে তার পদ ত্যাগ করার জন্য এবং আল-হাদীর অনুকূলে খিলাফতের দাবি ছেড়ে দিতে পিড়াপিড়ি করেন। তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানান, কিন্তু পরবর্তীতে মাহদীর পক্ষ থেকে দীর্ঘ প্রলোভন, ভীতিপ্রদর্শন এবং প্রতিশ্রুতির পর তিনি তাতে সম্মত হন, যার বিবরণ দীর্ঘ(২)।

মাহদী এমন এক সময়ে খিলাফতে এসেছিলেন যখন পরিস্থিতি ছিল স্থিতিশীল, ফলে তার শাসনকাল ছিল আব্বাসীয় রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির যুগের সূচনা। এই কারণেই আমরা তাকে হিজাজ থেকে ইরাক পর্যন্ত ডাক ব্যবস্থা প্রবর্তনকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পাই(৩)। তিনি মক্কার রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দেন, সেখানে প্রাসাদ নির্মাণ করেন, কূপ খনন করেন এবং শিল্পশালা ও জলাশয় তৈরি করেন। ফলে ইরাক থেকে হিজাজের পথটি অত্যন্ত সুগম, নিরাপদ ও মনোরম হয়ে ওঠে(৪)। তিনিই প্রথম খলিফা যার জন্য মক্কায় বরফ আনা হয়েছিল(৫)। ১৬৭ হিজরিতে তিনি মসজিদে হারামের এক বিশাল সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন এবং এর মধ্যে অনেক ঘরবাড়ি অন্তর্ভুক্ত করেন(৬)।

তার যুগে কিছু বিশৃঙ্খলাও পরিলক্ষিত হয়েছিল(৭), তবে তা সেই পর্যায়ের ছিল না যা

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ঈসা ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-আব্বাস, আবু জাফরের ভ্রাতুষ্পুত্র। তিনি ছিলেন বনু আব্বাসের শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী বীর এবং তাদের উন্মুক্ত তলোয়ার। আস-সাফফাহ তাকে মনসুরের পরে খিলাফতের উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু মনসুর সম্ভাব্য সব উপায়ে তাকে হটিয়ে আল-মাহদীকে অগ্রগণ্য করেন। বলা হয় যে, প্রলোভন ও ভীতি প্রদর্শনের পর তাকে এক কোটি দিরহাম প্রদান করা হয়েছিল। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (৭/৪৩৪-৪৩৫)।

(২) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/১৩০, ১৩১)।

(৩) তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৩৭)।

(৪) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/১৩৩), এবং তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৩৬)।

(৫) যেমনটি আল-বিদায়ায় (১০/১৩২) রয়েছে। আয-যাহাবী বলেন: (এটি ইতিপূর্বে আর কোন রাজার জন্য সম্ভব হয়নি) যেমনটি তারিখুল খুলাফায় (পৃ. ৪৩৬) বর্ণিত হয়েছে।

(৬) তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৩৬)।

(৭) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/১৩৩, ১৩৫, ১৪৫)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২২)
حصل في عصر والده.

كما أن عصره كان عصر فتوحات في بلاد الروم وجهة جُرْجَان(1).

وكان رحمه الله سَمْحَ الخلق، محبّاً للسنة، معظِّماً لحُرُمات الله، حسن الاعتقاد، مبغضاً للزنادقة.

كان يصلي بالناس الصلوات الخمس في المسجد الجامع بالبصرة لما قدمها، فأقيمت الصلاة يوماً، فقال أعرابي: لستُ على طُهْرٍ، وقد رغبت في الصلاة خلفك، فَأْمُرْ هولاء بانتظاري، فقال: انتظروه، ودخل المحراب، فوقف إلى أن قيل: قد جاء الرجل، فكبَّر، فعجب الناس من سماحة أخلاقه(2). وأصدر أمره بترك المقاصير التي في جوامع الإسلام، وقصّر المنابر، وصيّرها على مقدار منبر رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم(3).

وكان إذا عرضت قضيّة، واستُدِلَّ لها بحديث، وَثَبَ عند ذكر النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حتى يُلْصِقَ خَدَّهُ بالتراب ويقول: سمعت لما قال وأطعت(4).

وهاجت ريح سوداء ذات مرّة حتى خافوا أن تكون القيامة قد قامت، فطلبه أحد حُجَّابه، فلم يجده في الإيوان، فإذا هو في بيت ساجد على التراب يقول: اللهم لا تُشْمت بنا أعداءنا من الأمم، ولا تفجع بنا نبيّنا، اللهم إن كنت أخذتَ العامة بذنبي، فهذه ناصيتي بيدك، فما أتمّ كلامه حتى انْجلتْ(5).

--------------------------------------------

(1) انظر البداية والنهاية (10/ 146 - 150).

(2) تاريخ الخلفاء (ص 442).

(3) المرجع السابق (ص 436).

(4) السابق أيضاً (ص 442).

(5) سير أعلام النبلاء (7/ 402، 403).

তার পিতার যুগে তা সংঘটিত হয়েছিল।

তেমনিভাবে তার যুগটি ছিল রোমীয় অঞ্চল এবং জুরজান অভিমুখে বিজয়াভিযানের যুগ(১)।

তিনি—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—উদার চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, সুন্নাহর প্রেমিক ছিলেন, আল্লাহর পবিত্র বিধানাবলিকে সম্মানকারী ছিলেন, সঠিক আকিদাবিশ্বাসের অনুসারী এবং যিনদিকদের (ধর্মদ্রোহীদের) প্রতি চরম বিদ্বেষী ছিলেন।

তিনি যখন বসরার জামে মসজিদে আসতেন, তখন সেখানে লোকেদের নিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন। একদিন সালাত শুরু হওয়ার সময় এক বেদুইন বলল: ‘আমি পবিত্র অবস্থায় নেই, অথচ আপনার পেছনে সালাত আদায়ের আকাঙ্ক্ষা রাখি; সুতরাং এদেরকে আমার জন্য অপেক্ষা করার আদেশ দিন।’ তখন তিনি বললেন: ‘তোমরা তার জন্য অপেক্ষা করো।’ এরপর তিনি মেহরাবে প্রবেশ করে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন যতক্ষণ না বলা হলো: ‘লোকটি এসেছে।’ অতঃপর তিনি তাকবির দিলেন। লোকেরা তার চরিত্রের এই মহানুভবতা দেখে বিস্মিত হলো(২)। তিনি ইসলামের জামে মসজিদগুলোতে বিদ্যমান ‘মাকসুরা’সমূহ (বেষ্টনী) বর্জন করার নির্দেশ জারি করেন এবং মিম্বরগুলোকে ছোট করেন এবং সেগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বরের পরিমাপে নিয়ে আসেন(৩)।

যখন কোনো বিচার্য বিষয় আসত এবং তার স্বপক্ষে কোনো হাদিস পেশ করা হতো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা উল্লেখ হওয়ামাত্র তিনি লাফিয়ে উঠতেন এবং এমনকি নিজের গাল মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে বলতেন: ‘তিনি যা বলেছেন তা আমি শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম’(৪)।

একবার এমন প্রচণ্ড কালো ঝোড়ো হাওয়া বইতে লাগল যে, লোকেরা কিয়ামত কায়েম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করল। তার এক দ্বাররক্ষী তাকে খুঁজতে লাগল, কিন্তু রাজপ্রাসাদের প্রধান কক্ষে তাকে পেল না। হঠাৎ দেখা গেল তিনি একটি ঘরে মাটির ওপর সিজদাবনত হয়ে বলছেন: ‘হে আল্লাহ, অন্যান্য জাতির মধ্য থেকে আমাদের শত্রুদের আমাদের ওপর আনন্দিত হওয়ার সুযোগ দেবেন না এবং আমাদের কারণে আমাদের নবীকে ব্যথিত করবেন না। হে আল্লাহ, আপনি যদি আমার পাপের কারণে সাধারণ মানুষকে পাকড়াও করে থাকেন, তবে এই যে আমার কপালের চুল আপনার হাতে।’ তিনি তার কথা শেষ করতে না করতেই সেই দুর্যোগ কেটে গেল(৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১০/ ১৪৬-১৫০)।

(২) তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৪২)।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র (পৃ. ৪৩৬)।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্রটিও (পৃ. ৪৪২)।

(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৭/ ৪০২, ৪০৩)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ويقول الذهبي عنه: (كان غارقاً- كنحوه من الملوك- في بحر اللذات، واللهو والصيد، ولكنه خائف من الله، معادٍ لأولي الضلالة، حَنِقٌ عليهم)(1).

وهذا الذي ذكره الذهبي من معاداة المهدي لأولي الضلالة وحَنَقِهِ عليهم، دليل على حسن اعتقاده الذي أشار إليه السيوطي بقوله: (كان المهدي جواداً ممدَّحاً، مليح الشكل، محبّباً إلى الرّعيّة، حسن الاعتقاد، تتبع الزنادقة، وأفنى منهم خلقاً كثيراً، وهو أول من أمر بتصنيف كتب الجدل في الرَّدّ على الزنادقة والملحدين)(2).

ويصفه الذهبي بأنه كان قصّاباً في الزنادقة، باحثاً عنهم(3).

والسبب في حرص المهدي على تتبع الزنادقة: أن الزندقة قد نشطت في ذلك العهد، مما اضطر المهدي في سنة ست وستين ومائة وفيما بعدها إلى أن يجدّ في تتبع الزنادقة وإبادتهم والبحث عنهم في الآفاق والقتل على التهمة(4)، بل أنشأ ديواناً خاصاً للبحث عن الزنادقة، والتفتيش عنهم، ومحاكمتهم، وعهد به إلى رجل أطلق عليه اسم: (صاحب الزنادقة)، كما أمر بوضع الكتب للرد عليهم ومناظرتهم، فإذا لم تُجْدِ هذه الوسائل كان يلجأ إلى العنف، فيسرف في قتل الملحدين(5)، وتابعه على هذه السياسة ابنه الهادي الذي جَدّ

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء (7/ 402، 403).

(2) تاريخ الخلفاء (ص 434).

(3) سير أعلام النبلاء (7/ 401).

(4) تاريخ الخلفاء (ص 437).

(5) وصفه السيوطي كما سبق بأنه كان يقتل على التهمة، وإليك هذه القصة التي تحكي تعامله مع من اتهم بالزندقة:-

رفع له ذات مرة صالح بن عبد القدوس البصري في الزندقة، فأراد قتله، فقال: =

আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (তিনি ছিলেন—তাঁর সমসাময়িক রাজাদের মতোই—ভোগ-বিলাস, আমোদ-প্রমোদ এবং শিকারের সাগরে নিমগ্ন, কিন্তু তিনি আল্লাহকে ভয় করতেন, বিভ্রান্তদের শত্রু ছিলেন এবং তাদের প্রতি কঠোর ছিলেন)(1).

আয-যাহাবী মাহদীর পক্ষ থেকে বিভ্রান্তদের প্রতি যে শত্রুতা ও কঠোরতার কথা উল্লেখ করেছেন, তা তাঁর বিশ্বাসের বিশুদ্ধতার প্রমাণ, যেদিকে আস-সুয়ূতী এই বলে ইঙ্গিত করেছেন: (মাহদী ছিলেন দানশীল ও প্রশংসিত, সুদর্শন চেহারার অধিকারী, প্রজাদের কাছে প্রিয় এবং বিশুদ্ধ বিশ্বাসের অধিকারী। তিনি যিন্দিকদের পিছু নিতেন এবং তাদের অনেককে নির্মূল করেছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি যিন্দিক ও নাস্তিকদের খণ্ডন করে বিতর্কশাস্ত্রের কিতাব রচনার আদেশ দিয়েছিলেন)(2).

আয-যাহাবী তাঁকে যিন্দিকদের ব্যাপারে একজন কঠোর কসাই এবং তাদের অনুসন্ধানকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন(3).

যিন্দিকদের খুঁজে বের করার বিষয়ে মাহদীর এই আগ্রহের কারণ ছিল: সেই যুগে যিন্দিকাহ (ধর্মদ্রোহিতা) ব্যাপক রূপ নিয়েছিল। ফলে মাহদী ১৬৬ হিজরী এবং তার পরবর্তী সময়ে যিন্দিকদের খুঁজে বের করতে, তাদের নির্মূল করতে, দিগন্তজুড়ে তাদের সন্ধান করতে এবং কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের হত্যা করতে কঠোর তৎপরতা চালাতে বাধ্য হন(4)। এমনকি তিনি যিন্দিকদের অনুসন্ধান, তদারকি এবং তাদের বিচারের জন্য একটি বিশেষ দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এর দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন এমন এক ব্যক্তির ওপর যাকে 'সাহিবুয যিনাদিকা' (যিন্দিক দমন বিষয়ক প্রধান) নামে অভিহিত করা হতো। একইভাবে তিনি তাদের খণ্ডন করার জন্য এবং তাদের সাথে বিতর্ক করার জন্য কিতাব রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যখন এই মাধ্যমগুলো ফলপ্রসূ হতো না, তখন তিনি কঠোরতার আশ্রয় নিতেন এবং নাস্তিকদের হত্যায় চরম সীমা পর্যন্ত যেতেন(5)। তাঁর এই নীতি অনুসরণ করেছিলেন তাঁর পুত্র আল-হাদী, যিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে...

--------------------------------------------

(1) সিয়ারু আলামিন নুবালা (7/ 402, 403)।

(2) তারিখুল খুলাফা (পৃ. 434)।

(3) সিয়ারু আলামিন নুবালা (7/ 401)।

(4) তারিখুল খুলাফা (পৃ. 437)।

(5) আস-সুয়ূতী ইতিপূর্বে যেমন বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সন্দেহের ভিত্তিতে হত্যা করতেন; আপনাদের জন্য এই ঘটনাটি তুলে ধরা হলো যা যিন্দিকাহর অভিযোগে অভিযুক্তদের সাথে তাঁর আচরণের বর্ণনা দেয়:-

একদা সালিহ বিন আব্দুল কুদ্দুস আল-বাসরীকে যিন্দিকাহর অভিযোগে তাঁর নিকট পেশ করা হলো, তখন তিনি তাকে হত্যা করতে চাইলেন। এরপর তিনি বললেন: =

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
في القضاء عليهم(1) بعد وفاة أبيه في سنة تسع وستين ومائة (169 هـ)، حيث تولى الخلافة بعده، وعمل بوصية أبيه الذي أوصاه بقتل الزنادقة، واقتدى به في ذلك، وشرع في تَطَلُّبهم من الآفاق، وَجَدَّ في ذلك، فقتل منهم خلقاً كثيراً(2).

وكان موسى الهادي لما تولى الخلافة عزم على خلع أخيه هارون الرشيد من ولاية العهد بعده، والعهد بها لابنه جعفر كما صنع أبوه بعيسى بن موسى، فانقاد هارون لذلك ولم يظهر منازعة، واستدعى الهادي جماعة من الأمراء، فأجابوه لذلك، وأَبَتْ أُمُّهما الخيزران، وكانت تميل إلى ابنها هارون أكثر من موسى، فأَلَحَّ الهادي على أخيه هارون في الخلع، واستشار يحيى بن خالد بن بَرْمَك، فقال له: ماذا ترى فيما أريد من خلع هارون وتولية ابني جعفر؟ فقال: إني أخشى أن تهون الأيمان على الناس، ولكن المصلحة تقتضي أن تجعل جعفراً وليَّ العهد من بعد هارون، وأيضاً فإني أخشى أن لا يجيب أكثر الناس إلى البيعة لجعفر، لأنه دون البلوغ، فيتفاقم الأمر ويختلف الناس، فعدل الهادي عن رأيه، ولم يلبث إلا يسيراً حتى توفي في سنة سبعين ومائة (170 هـ)(3)، وتولَّى الخلافة بعده أخوه هارون الرشيد،

--------------------------------------------

= أتوب إلى الله، وأنشده لنفسه:

ما يبلغ الأعداء من جاهل … ما يبلغ الجاهل من نفسِهِ

والشيخ لا يترك أخلاقه … حتى يُوَارَى في ثرى رَمْسِهِ

فصرفه المهدي، فلما قرب من الخروج، ردَّه، فقال: ألم تقل: والشيخ لا يترك أخلاقه؟ قال: بلى قال: فكذلك أنت، لا تدع أخلاقك حتى تموت، ثم أمر بقتله.

انظر تاريخ الخلفاء (ص 438 - 439).

(1) الشعوبية وأثرها الاجتماعي والسياسي في الحياة الإسلامية في العصر العباسي الأول (ص 132).

(2) البداية والنهاية (10/ 157)، وتاريخ الخلفاء (ص 446).

(3) البداية والنهاية (10/ 158).

তাদের নির্মূল করার ক্ষেত্রে(১) ১৬৯ হিজরি সনে তার পিতার মৃত্যুর পর, যখন তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার পিতার অসিয়ত অনুযায়ী কাজ করেন—যিনি তাকে জিন্দিকদের (ধর্মদ্রোহীদের) হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি এ বিষয়ে তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং দিগন্ত জুড়ে তাদের তালাশ করতে শুরু করেন ও এ কাজে কঠোর পরিশ্রম করেন, ফলে তাদের মধ্য থেকে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেন(২)।

মুসা আল-হাদি যখন খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি তার পরে তার ভাই হারুন আল-রশিদকে উত্তরাধিকার থেকে অপসারণ করার এবং তার পুত্র জাফরের জন্য সেই পদের অঙ্গীকার করার সংকল্প করেন, যেমনটি তার পিতা ঈসা ইবনে মুসার সাথে করেছিলেন। হারুন এতে অনুগত হন এবং কোনো বিরোধ প্রকাশ করেননি। হাদি একদল আমিরকে তলব করেন এবং তারা তার আহবানে সাড়া দেন। কিন্তু তাদের মাতা আল-খায়জুরান তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি মুসার চেয়ে তার পুত্র হারুনের প্রতি বেশি অনুরাগী ছিলেন। হাদি তার ভাই হারুনকে পদত্যাগের জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকেন এবং ইয়াহিয়া ইবনে খালিদ ইবনে বারমাকের পরামর্শ চান। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন: "আমি হারুনকে অপসারণ করে আমার পুত্র জাফরকে স্থলাভিষিক্ত করার যে ইচ্ছা পোষণ করছি, সে বিষয়ে আপনার অভিমত কী?" তিনি বলেন: "আমি আশঙ্কা করছি যে, মানুষের কাছে শপথগুলো তুচ্ছ হয়ে যাবে। তবে জনস্বার্থ দাবি করে যে, আপনি জাফরকে হারুনের পরে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করুন। এছাড়াও আমি ভয় পাচ্ছি যে অধিকাংশ মানুষ জাফরের বায়আত গ্রহণে সাড়া দেবে না, কারণ সে তখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করবে এবং মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দেবে।" তখন হাদি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং অল্প সময় পরেই ১৭০ হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন(৩)। তার পরে তার ভাই হারুন আল-রশিদ খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

= আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করছি, এবং তিনি নিজের সম্পর্কে আবৃত্তি করেন:

শত্রুরা একজন মূর্খের যতটা ক্ষতি করতে পারে না … মূর্খ নিজের নফসের (প্রবৃত্তির) ততটা ক্ষতি করে।

আর বৃদ্ধ তার স্বভাব ত্যাগ করে না … যতক্ষণ না তাকে কবরের মাটিতে সমাহিত করা হয়।

তখন মাহদি তাকে চলে যেতে বললেন। যখন সে প্রস্থানের উপক্রম করল, তিনি তাকে ফিরিয়ে আনলেন এবং বললেন: "তুমি কি বলোনি: আর বৃদ্ধ তার স্বভাব ত্যাগ করে না?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তুমিও ঠিক তেমনি, মৃত্যু পর্যন্ত তুমি তোমার স্বভাব ছাড়বে না।" এরপর তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন।

দেখুন: তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৩৮ - ৪৩৯)।

(১) আশ-শুউবিয়্যাহ এবং প্রথম আব্বাসীয় যুগে ইসলামী জীবনে এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব (পৃ. ১৩২)।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/ ১৫৭), এবং তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৪৬)।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/ ১৫৮)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وكان عمره إذ ذاك ثنتين وعشرين سنة، فبعث إلى يحيى بن خالد بن بَرْمَك، وولاه الوزارة، وتمكَّن عنده(1).

وكان هارون من أَمْيَزِ الخلفاء، وأَجَلِّ ملوك الدنيا، ذا شجاعة ورأي، كثير الغزو والحج والصلاة والصدقة، مُحِبّاً للعلم وأهله، معظِّماً لحُرُمات الإسلام، مبغضاً للمِرَاء والجَدَل في الدين، والكلامِ في معارضة النصّ، وكان يبكي على نفسه ولهوه وذنوبه، لا سيّما إذا وُعِظَ(2).

دخل عليه مرَّة ابن السَّمَّاك الواعظ، فبالغ في إجلاله، فقال ابن السَّمَّاك: تواضعك في شرفك أشرف من شرفك، ثم وعظه فأبكاه(3).

ووعظه الفضيل بن عياض مرَّة حتى شهق في بكائه(4).

وقال عبد الرزاق: كنت مع الفضيل بمكة، فمرّ هارون، فقال فضيل: الناس يكرهون هذا، وما في الأرض أعزّ عليّ منه، لو مات لرأيت أموراً عظاماً(5).

وقال عمّار الواسطي: سمعت الفضيل بن عياض يقول: ما من نفس تموت أشد عليّ موتاً من أمير المؤمنين هارون، ولوددت أن الله زاد من عمري في عمره. قال: فكبُر ذلك علينا، فلما مات هارون، وظهرت الفتن، وكان من المأمون ما حمل الناس على خلق القرآن، قلنا: الشيخ كان أعلم بما تكلم(6). ولما بلغه موت ابن المبارك، حزن عليه، وجلس للعزاء، فعزّاه الأكابر(7).

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية (10/ 160).

(2، 3، 4، 5) سير أعلام النبلاء (9/ 287 - 289)، وتاريخ الخلفاء (ص 452 - 454).

(6) سير أعلام النبلاء (9/ 289).

(7) سير أعلام النبلاء (9/ 288)، وتاريخ الخلفاء (ص 454، 455).

সেই সময় তাঁর বয়স ছিল বাইশ বছর। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ ইবনে বারমাককে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে উজির (মন্ত্রী) নিযুক্ত করলেন, আর তাঁর কাছে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো(১).

হারুন ছিলেন শ্রেষ্ঠতম খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত এবং বিশ্বের মহান রাজাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন সাহসী ও দূরদর্শী; অধিক জিহাদকারী, হজ পালনকারী, নামাজ আদায়কারী ও দানশীল। তিনি ইলম (জ্ঞান) ও আলেমদের ভালোবাসতেন, ইসলামের পবিত্র বিষয়গুলোর মর্যাদা রক্ষা করতেন, এবং দ্বীনের ব্যাপারে বিতর্ক ও ঝগড়া এবং নস (সুস্পষ্ট দলীল)-এর বিপরীতে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন। তিনি নিজের অবস্থা, আমোদ-প্রমোদ এবং গুনাহর জন্য কাঁদতেন, বিশেষ করে যখন তাঁকে উপদেশ দেওয়া হতো(২).

একবার ওয়ায়েজ ইবনুন সাম্মাক তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করলেন। অতঃপর ইবনুন সাম্মাক বললেন: "আপনার শ্রেষ্ঠত্বের মাঝে আপনার বিনয় আপনার আভিজাত্যের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।" এরপর তিনি তাঁকে নসিহত করলেন এবং তাঁকে কাঁদালেন(৩).

ফুদায়েল ইবনে ইয়াদ একবার তাঁকে উপদেশ দিলেন, ফলে তিনি উচ্চস্বরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন(৪).

আব্দুর রাজ্জাক বলেন: আমি মক্কায় ফুদায়েলের সাথে ছিলাম, তখন হারুন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফুদায়েল বললেন: "লোকেরা একে অপছন্দ করে, অথচ জমিনে আমার কাছে তাঁর চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ নেই। যদি তিনি মারা যান, তবে তোমরা ভয়াবহ সব বিষয় দেখতে পাবে"(৫).

আম্মার আল-ওয়াসিতি বলেন: আমি ফুদায়েল ইবনে ইয়াদকে বলতে শুনেছি: "আমিরুল মুমিনীন হারুনের মৃত্যু আমার কাছে অন্য যে কারও মৃত্যুর চেয়ে বেশি বেদনাদায়ক হবে। আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে, আল্লাহ যদি আমার হায়াত থেকে কিছু অংশ তাঁর হায়াতে বাড়িয়ে দিতেন!" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুভার মনে হয়েছিল। কিন্তু যখন হারুন ইন্তেকাল করলেন এবং ফিতনা প্রকাশ পেল, আর মামুন যখন লোকদের 'কুরআন সৃষ্টি' হওয়ার মতবাদে বাধ্য করল, তখন আমরা বললাম: "শায়খ যা বলেছিলেন, সে সম্পর্কে তিনি অধিক অবগত ছিলেন"(৬)। যখন তাঁর কাছে ইবনুল মুবারকের মৃত্যুর খবর পৌঁছাল, তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন এবং শোক প্রকাশের জন্য বসলেন। তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন(৭).

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/ ১৬০)।

(২, ৩, ৪, ৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/ ২৮৭ - ২৮৯), এবং তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৫২ - ৪৫৪)।

(৬) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/ ২৮৯)।

(৭) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/ ২৮৮), এবং তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৫৪, ৪৫৫)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال أبو معاوية الضَّرير: صبّ على يدي بعد الأكل شخص لا أعرفه، فقال الرشيد: تدري من يصبّ عليك؟ قلت: لا، قال: أنا، إجلالاً للعلم(1).

وقال القاضي الفاضل: ما أعلم أن لملك رحلة قطّ في طلب العلم، إلا للرشيد؛ فإنه رحل بولديه الأمين والمأمون لسماع الموطّأ على مالك رحمه الله، وكان أصل الموطّأ بسماع الرشيد في خزانة المصريين، قال: ثم رحل لسماعه السلطان صلاح الدين بن أيوب إلى الإسكندريّة، فسمعه على ابن طاهر بن عوف، ولا أعلم لهما ثالثاً(2).

وحدث أبو معاوية الضرير الرشيدَ يوماً عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، أبي هريرة بحديث احتجاج آدم وموسى، فقال عمّ الرشيد: أين التقيا يا أبا معاوية؟ فغضب الرشيد من ذلك غضباً شديداً، وقال: أتعترض على الحديث؟ عليّ بالنّطع والسيف، زنديق يطعن في الحديث، فأحضر ذلك، فقام الناس إليه يشفعون فيه، وما زال أبو معاوية يُسَكِّنه ويقول: بَادِرَةٌ منه يا أمير المؤمنين، حتى سكن، ثم قال: هذه زندقة، فأمر بسجنه، وأقسم أن لا يخرج حتى يخبرني من ألقى إليه هذا، فأقسم عمّه بالأيمان المُغَلَّظَة ما قال هذا له أحد، وإنما كانت هذه الكلمة بَادِرَةٌ منه، وهو يستغفر الله ويتوب إليه منها، فأطلقه(3).

ودخل بعضهم عليه وبين يديه رجل مضروب عنقه، والسياف يمسح سيفه في قفا الرجل المقتول، فقال الرشيد: قتلته لأنه قال: القرآن مخلوق، فقتلته على ذلك قربة إلى الله عز وجل(4).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء (9/ 288)، وتاريخ الخلفاء (ص 454، 455).

(2) تاريخ الخلفاء (ص 468 - 469).

(3) سير أعلام النبلاء (9/ 288)، والبداية والنهاية (10/ 215)، وتاريخ الخلفاء (ص 454).

(4) الموضع السابق من البداية والنهاية.

আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর বলেন: খাবারের পর একজন ব্যক্তি আমার হাতে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন যাকে আমি চিনতাম না। তখন রশিদ বললেন: আপনি কি জানেন আপনার হাতে কে পানি ঢালছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: আমি, ইলমের (জ্ঞানের) প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ।(১)

কাজী আল-ফাদিল বলেন: ইলম অন্বেষণে কোনো রাজার সফরের কথা আমি জানি না, কেবল রশিদ ব্যতীত; কারণ তিনি তাঁর দুই পুত্র আল-আমিন ও আল-মামুনকে নিয়ে ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট মুয়াত্তা শোনার জন্য সফর করেছিলেন। আর রশিদের শ্রবণকৃত মুয়াত্তার মূল পাণ্ডুলিপিটি মিশরীয়দের গ্রন্থাগারে ছিল। তিনি বলেন: এরপর সুলতান সালাহউদ্দিন ইবনে আইয়ুব মুয়াত্তা শোনার জন্য ইসকান্দারিয়া সফর করেন এবং ইবনে তাহির ইবনে আউফের নিকট তা শ্রবণ করেন। আমি এই দুইজন ব্যতীত তৃতীয় কোনো রাজার কথা জানি না।(২)

একদিন আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর রশিদের নিকট আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে আদম ও মুসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর বিতর্কের হাদিসটি বর্ণনা করছিলেন। তখন রশিদের চাচা বললেন: হে আবু মুয়াবিয়া, তারা কোথায় সাক্ষাৎ করেছিলেন? এতে রশিদ অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তুমি কি হাদিসের ওপর আপত্তি করছ? জল্লাদের চর্মাবরণ ও তলোয়ার নিয়ে এসো! একজন যিন্দিক যে হাদিসের নিন্দা করছে। অতঃপর তা উপস্থিত করা হলো এবং লোকজন রশিদের কাছে এসে তাঁর (চাচার) জন্য সুপারিশ করতে লাগল। আবু মুয়াবিয়া অনবরত তাকে শান্ত করতে থাকলেন এবং বলতে লাগলেন: হে আমিরুল মুমিনিন, এটি তাঁর মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া একটি কথা। শেষ পর্যন্ত তিনি শান্ত হলেন। এরপর তিনি বললেন: এটি যিন্দিকপনা। অতঃপর তিনি তাকে কারারুদ্ধ করার আদেশ দিলেন এবং কসম করলেন যে, কে তাকে এটি শিখিয়েছে তা না জানানো পর্যন্ত সে মুক্তি পাবে না। তখন তাঁর চাচা অত্যন্ত কঠোরভাবে কসম করে বললেন যে, তাকে কেউ এটি বলেনি, বরং এটি কেবলই তাঁর মুখ ফসকে বের হওয়া কথা ছিল এবং তিনি এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন ও তাওবা করছেন। তখন তিনি তাকে মুক্তি দিলেন।(৩)

জনৈক ব্যক্তি রশিদের কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর সামনে একজন শিরশ্ছেদকৃত ব্যক্তি পড়ে ছিল এবং জল্লাদ নিহত ব্যক্তির ঘাড়ের পেছনে তার তলোয়ার মুছছিল। তখন রশিদ বললেন: আমি তাকে হত্যা করেছি কারণ সে বলেছিল: ‘কুরআন সৃষ্টি (মাখলুক)’; তাই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আমি তাকে হত্যা করেছি।(৪)

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/২৮৮), এবং তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৫৪, ৪৫৫)।

(২) তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৬৮ - ৪৬৯)।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/২৮৮), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/২১৫), এবং তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৫৪)।

(৪) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার পূর্বোক্ত স্থান।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وبلغه عن بشر المِرِّيسي القول بخلق القرآن، فقال: بلغني أن بشر بن غياث المِرِّيسي يقول: القرآن مخلوق، فلله علي إن أظْفَرَني به لأقتلنّه. فكان متوارياً أيام الرشيد، فلما مات الرشيد ظهر، ودعا إلى الضلالة(1).

وأَخَذَ مَرَّةً زنديقاً، فأمر بضرب عنقه، فقال له الزنديق: لم تضرب عنقي؟ قال له: أريح العباد منك. قال: فأين أنت من ألف حديث وضعتها عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كلُّها ما فيها حرف نَطَقَ به؟ قال: فأين أنت يا عدوَّ الله من أبي إسحاق الفَزَاري وعبد الله بن المبارك يَنْخُلانها، فيخرجانها حرفاً حرفاً(2)؟.

وكان عهد هارون الرشيد أطول عهود خلفاء بني العباس وأزهاها؛ فقد كثر فيه الغزو، واتَّسَعَت الفتوحات، ومن ذلك: أنه أرسل الفضل بن يحيى إلى خراسان، فأحسن السيرة فيها، وبنى الرُّبُطَ والمساجد، وغزا ما وراء النهر، واتخذ بها جنداً من العجم سَمَّاهم: العَبَّاسِيَّةَ، وفتح الفضل بلاداً كثيرة، منها كابل وما وراء النهر، وقَهَرَ مَلِكَ التُّرك وكان ممتنعاً، وأطلق أموالاً جزيلة، ثم قفل راجعاً إلى بغداد(3).

وغزا الرشيد بنفسه بلاد الروم، فافتتح حصناً يقال له: الصَّفْصَاف(4) وغيره(5)، حتى إن الروم كانوا يدفعون إليه الأموال تعبيراً عن خضوعهم له مقابل صلح عقدوه بينهم وبينه في عهد

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء (11/ 236 - 237)، وتاريخ الخلفاء (ص 453).

(2) تاريخ الخلفاء (ص 466).

(3) البداية والنهاية (10/ 172 - 173).

(4) الصَّفْصَافُ- بالفتح والسكون- كُورَةٌ من ثغور المِصيِّصَة. معجم البلدان (3/ 413).

(5) البداية والنهاية (10/ 177، 179).

বিশর আল-মারিসী কুরআন সৃষ্টি হওয়ার কথা বলছেন বলে হারুনুর রশীদের কাছে খবর পৌঁছাল। তখন তিনি বললেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে বিশর ইবনে গিয়াস আল-মারিসী বলছে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট)। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহ আমাকে তার ওপর বিজয় দান করেন তবে আমি তাকে অবশ্যই হত্যা করব।" ফলে রশীদের শাসনামলে সে আত্মগোপন করে ছিল। যখন রশীদ মারা গেলেন, তখন সে প্রকাশ্য হলো এবং পথভ্রষ্টতার দিকে ডাকতে লাগল(১)।

একবার তিনি এক যিন্দিককে (ধর্মদ্রোহী) ধরলেন এবং তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তখন সেই যিন্দিক তাঁকে বলল: "আপনি কেন আমার গর্দান উড়াচ্ছেন?" তিনি তাকে বললেন: "বান্দাদেরকে তোমার অনিষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য।" সে বলল: "তাহলে সেই এক হাজার হাদীসের ব্যাপারে আপনার অবস্থান কী হবে যা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে জাল করেছি, যার একটি অক্ষরও তিনি উচ্চারণ করেননি?" তিনি বললেন: "ওরে আল্লাহর শত্রু, আবু ইসহাক আল-ফাজারি এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের ব্যাপারে তোর কী ধারণা? তাঁরা এগুলোকে এমনভাবে যাচাই করবেন যে, অক্ষর ধরে ধরে জালিয়াত বের করে আনবেন(২)।"

হারুনুর রশীদের শাসনামল ছিল আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে গৌরবময়; তাঁর সময়ে যুদ্ধাভিযান বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বিজয়সমূহ বিস্তৃত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হলো: তিনি ফজল ইবনে ইয়াহইয়াকে খোরাসানে প্রেরণ করেন, সেখানে তিনি উত্তম শাসন পরিচালনা করেন, অনেকগুলো সীমান্ত দুর্গ ও মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি অনারবদের মধ্য থেকে একটি সৈন্যবাহিনী গঠন করেন যাদের নাম দিয়েছিলেন: 'আল-আব্বাসিয়্যাহ'। ফজল অনেক দেশ বিজয় করেন, যার মধ্যে কাবুল ও মা-ওয়ারাউন নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি তুর্কি রাজাকে পরাজিত করেন, যিনি অবাধ্য ছিলেন। এরপর তিনি প্রচুর অর্থ বিলিয়ে দেন এবং বাগদাদে ফিরে আসেন(৩)।

রশীদ নিজে রোমানদের দেশে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং আস-সাফসাফ নামক দুর্গ(৪) ও অন্যান্য এলাকা(৫) জয় করেন। এমনকি রোমানরা তাঁর প্রতি আনুগত্যের নিদর্শন হিসেবে তাঁকে অর্থ প্রদান করত, যা তাঁর শাসনামলে তাদের ও তাঁর মধ্যে সম্পাদিত এক সন্ধিচুক্তির বিনিময়ে ছিল।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১১/ ২৩৬ - ২৩৭), এবং তারিখুল খুলাফা (পৃষ্ঠা ৪৫৩)।

(২) তারিখুল খুলাফা (পৃষ্ঠা ৪৬৬)।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/ ১৭২ - ১৭৩)।

(৪) আস-সাফসাফ—প্রথম বর্ণে ফাতহ এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন সহকারে—এটি মাসিসা সীমান্তের একটি জেলা। মুজামুল বুলদান (৩/ ৪১৩)।

(৫) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/ ১৭৭, ১৭৯)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ملكتهم (رَنَى) الملقَّبة: (أغسطة)، إلى أن قام الروم بعزل هذه الملكة، ونقض الصلح الذي كان بينهم وبين المسلمين، وملّكوا عليهم رجلاً يقال له (نقفور) وكان شجاعاً، وخلعوا (رنى)، وسملوا عينيها، وكتب (نقفور) إلى الرشيد كتاباً يذكر فيه ضعف الملكة التي كانت قبله ويقول: (حملت إليك من أموالها ما كنت حقيقاً بحمل أمثاله إليها، وذلك من ضعف النساء وحمقهن، فإذا قرأت كتابي هذا فاردد إليّ ما حملته إليك من الأموال، وافتد نفسك به، وإلا فالسيف بيننا وبينك). فلما قرأ هارون كتابه، أخذه الغضب الشديد، حتى لم يتمكن أحد أن ينظر إليه، ولا يستطيع مخاطبته، وأشفق عليه جلساؤه خوفاً منه، ثم استدعى بدواة وكتب على ظهر الكتاب: (بسم الله الرحمن الرحيم. من هارون أمير المؤمنين إلى نقفور كلب الروم، قد قرأت كتابك يا ابن الكافرة، والجواب ما تراه دون ما تسمعه، والسلام).

ثم شخص من فوره وسار حتى نزل بباب هَرَقْلَةَ(1)، ففتحها، واصطفى ابنة ملكها، وغنم من الأموال شيئاً كثيراً، وخرَّب وأحرق، فطلب منه (نقفور) الموادعة على خراج يؤديه إليه في كل سنة، فأجابه الرشيد إلى ذلك(2). وبعد أن استمرّ في الخلافة مدة ثلاث وعشرين سنة أدركته الوفاة رحمه الله في سنة ثلاث وتسعين ومائة بعد أن عهد

--------------------------------------------

(1) قال ياقوت في معجم البلدان (5/ 398): (هِرَقْلَةُ: بالكسر ثم الفتح: مدينة ببلاد الروم، سُمِّيَتْ بهرقْلة بنت الروم بن اليفز بن سام بن نوح عليه السلام، وكان الرشيد غزاها بنفسه، ثم افتتحها عنوة بعد حصار وحرب شديد ورمي بالنار والنفط حتى غلب أهلها، فلذلك قال المكّي الشاعر:

هَوَتْ هِرَقْلَةُ لمّا أنْ رَأتْ عَجَباً … جَوَّ السَّماءِ تَرْتَمي بالنَّفْطِ والنّارِ

كأنّ نيرانَنا في جَنْبِ قَلْعَتِهم … مُصَبَّغات على أرْسَانِ قَصَّارِ) اهـ

(2) البداية والنهاية (10/ 193 - 194، 199، 203).

তাদের ওপর শাসনকর্ত্রী ছিলেন (রানী) উপনামে পরিচিত (অগুস্তা), যতক্ষণ না রোমানরা এই রানীকে অপসারিত করল এবং তাদের ও মুসলিমদের মধ্যে যে সন্ধি ছিল তা ভঙ্গ করল। তারা তাদের ওপর (নাকফুর) নামক এক ব্যক্তিকে রাজা মনোনীত করল, যে ছিল অত্যন্ত সাহসী। তারা (রানী)-কে ক্ষমতাচ্যুত করে তার চোখ অন্ধ করে দিয়েছিল। (নাকফুর) রশীদের কাছে একটি পত্র লিখল যাতে সে তার পূর্ববর্তী রানীর দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে বলল: (সে নারীসুলভ দুর্বলতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে নিজের সম্পদ থেকে আপনার কাছে যা পাঠাত, আসলে আপনার পক্ষ থেকেই তার সমপরিমাণ সম্পদ তার কাছে পাঠানো উচিত ছিল। যখন আপনি আমার এই পত্রটি পাঠ করবেন, তখন সে আপনার কাছে যা পাঠিয়েছিল তা আমাকে ফেরত দিন এবং এর মাধ্যমে নিজেকে মুক্ত করুন; অন্যথায় আমাদের ও আপনার মধ্যে ফয়সালা হবে তলোয়ার)। হারুন যখন তার পত্রটি পাঠ করলেন, তখন তিনি প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত হলেন, এমনকি কেউ তার দিকে তাকাতে বা তার সাথে কথা বলতে সক্ষম ছিল না। তার সভাসদরা ভয়ে তাকে নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি দোয়াত চাইলেন এবং সেই পত্রের পৃষ্ঠদেশে লিখলেন: (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আমিরুল মুমিনীন হারুনের পক্ষ থেকে রোমের কুকুর নাকফুরের প্রতি। হে কাফের জননীর পুত্র, আমি তোমার পত্র পাঠ করেছি। এর উত্তর তুমি নিজের চোখে দেখতে পাবে, কানে শুনতে পাবে না। আসসালাম)।

অতঃপর তিনি তৎক্ষণাৎ রওনা হলেন এবং পথ অতিক্রম করে ‘হিরাকলা’র(১) দ্বারে গিয়ে অবতীর্ণ হলেন। তিনি তা জয় করলেন, সেখানকার রাজার কন্যাকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন এবং প্রচুর ধন-সম্পদ গনিমত হিসেবে লাভ করলেন। তিনি সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন ও অগ্নিসংযোগ করলেন। তখন (নাকফুর) তার কাছে প্রতি বছর কর প্রদানের শর্তে সন্ধির আবেদন করল এবং রশীদ তাতে সম্মত হলেন(২)। তেইশ বছর খেলাফত পরিচালনার পর ১৯৩ হিজরি সনে তার মৃত্যু হয়, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন। এর পূর্বে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন

--------------------------------------------

(১) ইয়াকুত ‘মুজামুল বুলদান’ (৫/৩৯৮) গ্রন্থে বলেছেন: (হিরাকলা: হা-বর্ণে কাসরা এবং এরপর ফাতহাযোগে: এটি রোমান ভূখণ্ডের একটি শহর। এর নামকরণ করা হয়েছিল নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র সামের পৌত্র ইয়াফিসের পুত্র রোমের কন্যা হিরাকলার নামানুসারে। রশীদ স্বয়ং সেখানে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেছিলেন এবং অবরোধ, তীব্র লড়াই ও আগুন ও নাফতা (দাহ্য পদার্থ) নিক্ষেপের পর বলপূর্বক তা জয় করেন। এ কারণেই মক্কী নামক কবি বলেছিলেন:

হিরাকলা পর্যুদস্ত হলো যখন সে এক বিস্ময় প্রত্যক্ষ করল... আকাশের দিগন্ত থেকে নাফতা ও অগ্নি বর্ষিত হচ্ছিল।

আমাদের আগুন যেন তাদের দুর্গের পার্শ্বদেশে... ধোপার রশিতে ঝোলানো রঙ করা কাপড়ের ন্যায় দীপ্যমান ছিল।) সমাপ্ত।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/১৯৩-১৯৪, ১৯৯, ২০৩)।

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بالخلافة لابنه محمد الأمين، ومن بعده لابنه عبد الله المأمون(1). ولما عهد الرشيد لابنه محمد الأمين بولاية العهد من بعده وقدَّمه على عبد الله المأمون قال: (إني لأعرف في عبد الله حَزْمَ المنصور، ونُسُكَ المهدي، وعِزَّةَ الهادي، ولو أشاء أن أنسبه إلى الرابع- يعني نفسه- لنسبته، وقد قدَّمت محمداً عليه، وإني لأعلم أنه منقادٌ إلى هواه، مُبَذِّر لما حوته يده، يشاركه في رأيه الإماء والنساء، ولولا أمُّ جعفر(2)، ومَيْلُ بني هاشم إليه، لقدَّمتُ عبد الله عليه)(3).

وكان الأمين رحمه الله سُنِّياً، لكنه مسرف على نفسه، سيء التدبير.

يقول الإمام أحمد: (إني لأرجو أن يرحم الله الأمين بإنكاره على إسماعيل بن عُلَيَّة؛ فإنه أُدْخِلَ عليه، فقال له: يا ابن الفاعلة، أنت الذي تقول: كلام الله مخلوق؟!)(4).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (10/ 222، 223) وتاريخ الخلفاء (ص 474، 490).

(2) هي زبيدة بنت جعفر بن أبي جعفر المنصور، وهي أم الأمين، وأما المأمون فأمه أم ولد اسمها: مراجل، وإنما قدم الرشيد ابنه الأمين لأن أمه نسيبة، ولذلك يقول المسعودي: (ما ولي الخلافة إلى وقتنا هذا هاشمي بن هاشمية سوى علي بن أبي طالب، وابنه الحسن، والأمين، فإن أمه زبيدة بنت جعفر بن أبي جعفر المنصور، واسمها: أمة العزيز، وزبيدة لقب لها) اهـ. من تاريخ الخلفاء (ص 484)، وانظر (ص 489) منه أيضاً.

(3) المرجع السابق (ص 490).

(4) المرجع السابق أيضاً (ص 483). والقصة مطوَّلة في تاريخ بغداد (6/ 237 - 238)، وخلاصتها: أن إسماعيل بن علية حدّث بالحديث الآتي في تخريج الحديث رقم [484]، وهو قوله صلى الله عليه وسلم: ((تجيء البقرة وآل عمران يوم القيامة كأنهما غمامتان- أو غيايتان، أو فرقان من طير صوافّ- تحاجّان عن صاحبهما)). فقيل له: ألهما لسانان؟ قال: نعم، فكيف تكلما؟ فشنّعوا عليه وقالوا: إنه يقول القرآن مخلوق، وهو لم =

তার পুত্র মুহাম্মদ আল-আমীনের জন্য খিলাফতের এবং তার পরে তার পুত্র আবদুল্লাহ আল-মামুনের জন্য(১)। যখন রশিদ তার পুত্র মুহাম্মদ আল-আমীনকে তার পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে নিযুক্ত করলেন এবং আবদুল্লাহ আল-মামুনের ওপর তাকে অগ্রাধিকার দিলেন, তখন তিনি বললেন: (আমি আবদুল্লাহর মধ্যে আল-মনসুরের দৃঢ়তা, আল-মাহদীর ইবাদত এবং আল-হাদীর মর্যাদা দেখতে পাই। আমি যদি চাইতাম তাকে চতুর্থজনের সাথে—অর্থাৎ নিজের সাথে—সম্পর্কযুক্ত করতে, তবে আমি তা করতাম। অথচ আমি মুহাম্মদকে তার ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছি, যদিও আমি জানি যে সে তার প্রবৃত্তির অনুসারী, তার হাতে যা আসে তা অপচয়কারী এবং দাসী ও নারীরা তার মতামতে অংশীদার হয়। যদি উম্মু জাফর(২) এবং তার প্রতি বনু হাশিমের ঝোঁক না থাকত, তবে আমি অবশ্যই আবদুল্লাহকে তার ওপর অগ্রাধিকার দিতাম)(৩)।

আমীন (রহিমাহুল্লাহ) সুন্নি ছিলেন, কিন্তু তিনি নিজের ওপর সীমালঙ্ঘনকারী এবং দুর্বল ব্যবস্থাপক ছিলেন।

ইমাম আহমাদ বলেন: (আমি আশা করি যে, ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যাহর ওপর তার আপত্তির কারণে আল্লাহ তাআলা আমীনের ওপর রহম করবেন; কেননা তাকে তার নিকট উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে বলেছিলেন: হে দুশ্চরিত্রার পুত্র! তুমিই কি সেই ব্যক্তি যে বলো: আল্লাহর কালাম সৃষ্টি?!)(৪)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১০/ ২২২, ২২৩) এবং তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৭৪, ৪৯০)।

(২) তিনি হলেন জুবাইদা বিনতে জাফর বিন আবি জাফর আল-মনসুর, তিনি আমীনের মাতা। আর মামুনের মা ছিলেন একজন দাসী মাতা, যার নাম ছিল: মারাজিল। রশিদ তার পুত্র আমীনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন কারণ তার মা ছিলেন উচ্চবংশীয়, তাই আল-মাসউদী বলেন: (আমাদের এই সময় পর্যন্ত আলী বিন আবি তালিব, তার পুত্র হাসান এবং আমীন ছাড়া আর কোনো হাশেমী ব্যক্তি খিলাফতের অধিকারী হননি যার মাতাও হাশেমী ছিলেন। কেননা তার মাতা জুবাইদা বিনতে জাফর বিন আবি জাফর আল-মনসুর, তার নাম ছিল: আমাতুল আজিজ এবং জুবাইদা ছিল তার উপাধি) সমাপ্ত। তারিখুল খুলাফা (পৃ. ৪৮৪) থেকে, আরও দেখুন তার (পৃ. ৪৮৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (পৃ. ৪৯০)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎসও (পৃ. ৪৮৩)। কাহিনীটি তারিখু বাগদাদ-এ (৬/ ২৩৭ - ২৩৮) দীর্ঘভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার সারসংক্ষেপ হলো: ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যাহ [৪৮৪] নম্বর হাদীসের তাখরীজে বর্ণিত নিচের হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন, যা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: ((কিয়ামতের দিন সূরা আল-বাকারা এবং আলে ইমরান আসবে যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড—অথবা দুটি ছায়া, অথবা ডানা বিস্তারকারী পাখির দুটি ঝাঁক—তারা তাদের পাঠকারীর পক্ষ থেকে বিতর্ক করবে))। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: তাদের কি দুটি জিহ্বা আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে তারা কীভাবে কথা বলবে? এতে তারা তার নিন্দা করল এবং বলল: তিনি বলছেন যে কুরআন সৃষ্টি, অথচ তিনি তা...=

(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসূর - বিদায়াতুত তাফসীর - তাহকীক আল-হামীদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأما إسرافه على نفسه وسوء تدبيره فأشار إليه أبوه هارون كما سبق، وتجد جملة من أخباره في ذلك في البداية والنهاية(1) وتاريخ الخلفاء(2)، وقد أعرضت عن ذكرها قصداً؛ لخروجها عن الغرض؛ ولأنها تحتاج إلى تمحيص.

ولما تولى الأمين الخلافة سعى في جعل البيعة من بعده لابنه موسى، فعزل أخاه القاسم عمّا كان الرشيد ولاّه، وأرسل إلى أخيه

--------------------------------------------

= يقله، وإنما غلط، فأحضر للأمين محمد بن هارون، فشتمه وقال: يا ابن كذا وكذا، أَيْشٍ قلت؟ فقال: أنا تائب إلى الله، لم أعلم، أخطات.

وذكر الفضل بن زياد أنه سأل الإمام أحمد عن إسماعيل بن إبراهيم بن علية، فقال: ما زال إسماعيل وضيعاً من الكلام الذي تكلم به إلى أن مات. قال الفضل: قلت: أليس قد رجع وتاب على روؤس الناس؟ فقال: بلى، ولكن ما زال مبغضاً لأهل الحديث بعد كلامه ذاك إلى أن مات، ولقد بلغني أنه أدخل على محمد بن هارون، فلما رآه زحف إليه، وجعل محمد يقول له: يا ابن … ، يا ابن … ، تتكلم في القرآن؟ قال: وجعل إسماعيل يقول له: جعله الله فداه، زلّة من عالم، جعله الله فداه، زلّة من عالم. قال الفضل: ثم قال لي أبو عبد الله: لعلّ الله أن يغفر له- أي للأمين- لإنكاره على إسماعيل، ثم قال بعدُ: هو ثبت- يعني إسماعيل-. اهـ وانظر التهذيب (1/ 278 - 279).

وهذا من إنصاف الإمام أحمد رحمه الله، فإسماعيل رحمه الله ثقة حافظ كما سيأتي في ترجمته في الحديث [59]، ولذا فإن الذهبي رحمه الله ذكر إسماعيل هذا في الميزان للدفاع عنه (1/ 216 - 220)، ولما ذكر كلام الإمام أحمد فيه قال: (قلت: إمامة إسماعيل وثيقة لا نزاع فيها، وقد بدت منه هفوة، وتاب، فكان ماذا؟ إني أخاف الله لا يكون ذكرنا له من الغيبة) اهـ.

وأما ما يتعلق بمسألة القرآن، فإن قوله فيه موافق لقول أهل السنة، قال الخطيب البغدادي في تاريخه (6/ 239): (وقد رُوي عن ابن علية في القرآن قول أهل الحق … ) ثم ساق بإسناده عن عبد الصمد بن يزيد مردويه أنه قال: (سمعت إسماعيل ابن علية يقول: القرآن كلام الله غير مخلوق).

(1) ص 241 فما بعد من الجزء العاشر.

(2) ص 474 - 488.

আর তাঁর নিজের প্রতি অপব্যয় ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার দিকে তাঁর পিতা হারুন ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছেন যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর খবরাখবরের একটি বড় অংশ আপনি 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া'(১) এবং 'তারীখুল খুলাফা'(২) গ্রন্থে পাবেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি; কারণ তা মূল প্রসঙ্গের বহির্ভূত এবং সেগুলোর সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

যখন আল-আমিন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাঁর পরবর্তী বায়াত বা উত্তরাধিকার তাঁর পুত্র মুসার জন্য নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করলেন। ফলে তিনি তাঁর ভাই আল-কাসিমকে রশীদ (হারুনুর রশীদ) যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা থেকে অপসারিত করলেন এবং তাঁর ভাইয়ের কাছে পাঠালেন...

--------------------------------------------

= তাঁকে বহন করে। বরং তিনি ভুল করেছিলেন। অতঃপর মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আল-আমিনের সামনে তাঁকে উপস্থিত করা হলো। তিনি তাঁকে গালি দিলেন এবং বললেন: ওহে অমুকের পুত্র, তুমি কী বলেছ? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করছি, আমি জানতাম না, আমি ভুল করেছি।

ফজল ইবনে যিয়াদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইমাম আহমাদকে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উলাইয়্যাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: ইসমাইল যে কথা বলেছিলেন তার কারণে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মর্যাদাহীন হয়ে রইলেন। ফজল বললেন: আমি বললাম: তিনি কি জনসমক্ষে ফিরে আসেননি এবং তাওবা করেননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, করেছেন, কিন্তু সেই কথার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আহলুল হাদিসদের প্রতি বিদ্বেষী ছিলেন। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাঁকে মুহাম্মাদ ইবনে হারুনের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং মুহাম্মাদ তাঁকে বলতে লাগলেন: ওহে... এর পুত্র, ওহে... এর পুত্র, তুমি কুরআন সম্পর্কে কথা বলছ? তিনি বললেন: ইসমাইল তাঁকে বলতে লাগলেন: আল্লাহ আমাকে তাঁর জন্য উৎসর্গ করুন, এটি একজন আলেমের বিচ্যুতি; আল্লাহ আমাকে তাঁর জন্য উৎসর্গ করুন, এটি একজন আলেমের বিচ্যুতি। ফজল বললেন: অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) আমাকে বললেন: হতে পারে ইসমাইলের প্রতিবাদ করার কারণে আল্লাহ তাঁকে (অর্থাৎ আল-আমিনকে) ক্ষমা করবেন। এরপর তিনি বললেন: তিনি (ইসমাইল) নির্ভরযোগ্য। সমাপ্ত। আর দেখুন 'আত-তাহযীব' (১/ ২৭৮-২৭৯)।

এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতার বহিঃপ্রকাশ, কারণ ইসমাইল (রহিমাহুল্লাহ) একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ ছিলেন, যেমনটি হাদিস নং [৫৯]-এ তাঁর জীবনীতে আসবে। এই কারণে ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মিযান' গ্রন্থে এই ইসমাইলের পক্ষ সমর্থনের জন্য তাঁকে উল্লেখ করেছেন (১/ ২১৬-২২০)। সেখানে ইমাম আহমাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন: (আমি বলি: ইসমাইলের ইমামত সুপ্রতিষ্ঠিত, এতে কোনো বিতর্ক নেই। তাঁর থেকে একটি বিচ্যুতি প্রকাশ পেয়েছিল এবং তিনি তাওবা করেছেন, এতে কী হয়েছে? আমি আল্লাহকে ভয় করি যে, তাঁর সম্পর্কে আমাদের এই আলোচনা যেন গীবত না হয়ে যায়)। সমাপ্ত।

আর কুরআন সংক্রান্ত মাসআলার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য আহলুস সুন্নাহর বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। খতিব বাগদাদী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে (৬/ ২৩৯) বলেছেন: (কুরআনের ব্যাপারে ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে সত্যপন্থীদের বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে...) অতঃপর তিনি নিজ সনদে আবদুস সামাদ ইবনে ইয়াযিদ মারদুওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: (আমি ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহকে বলতে শুনেছি: কুরআন আল্লাহর কালাম, যা মাখলুক বা সৃষ্টি নয়)।

(১) দশম খণ্ডের ২৪১ পৃষ্ঠা থেকে পরবর্তী অংশ।

(২) ৪৭৪ - ৪৮৮ পৃষ্ঠা।