(খণ্ড: ১) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: -)
ملء العيبة بما جمع بطول الغيبة - جـ 5   (ابن رشيد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ملء العَيبة بما جُمع بطول الغَيبة في الوجهة الوجيهة إلى الحرمين مكة وطَيبة - الجزء الخامس

المؤلف: أبو عبد الله، محمد بن عمر بن رشيد الفهري السبتي (ت 721 هـ)

تقديم وتحقيق: د. محمد الحبيب ابن الخُوجة [ت 1433 هـ]

الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 405

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিলউল আইবাহ বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবাহ - ৫ম খণ্ড   (ইবনে রাশিদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


বই: মিলউল আইবাহ বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবাহ ফীল ওয়াজহাতিল ওয়াজিহা ইলাল হারামাইন মক্কা ওয়া তাইবাহ - পঞ্চম খণ্ড

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ বিন উমর বিন রাশিদ আল-ফিহরি আস-সাবতি (মৃত্যু ৭২১ হিজরি)

উপস্থাপনা ও সম্পাদনা: ড. মুহাম্মদ আল-হাবিব ইবনুল খুজাহ [মৃত্যু ১৪৩৩ হিজরি]

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٥)
أبو محمد عفيف الدين عبد الرحيم، وأبو القاسم عبد الحميد ابنا الزجاج

ولقينا هنالك الشيخين الفاضلين الإمام الفقيه النحوي الفاضل عفيف الدين عبد الرحيم بن محمد بن أحمد الزجاج، وابن أخيه أبا القاسم عبد الحميد بن محمد المذكور البغداديين قدما من بغداد حاجين، سمعا أبا الحسن ابن روزبة، وسمع أبو محمد منهما ابن اللتي، وأجاز له ابن الحرستاني، وما أدري أسمع أبو القاسم من ابن اللتي أم لا، وذكر لي أبو محمد أنه لم يبق ممن أسأرتهم دخلة التتر ببغداد غيره، يعني ممن كان من أهل العلم.
আবু মুহাম্মদ আফিফউদ্দিন আব্দুর রহিম এবং আবুল কাসিম আব্দুল হামিদ, আয-যাজ্জাজের দুই পুত্র

সেখানে আমরা দুই ফযিলতধারী শাইখের সাক্ষাৎ লাভ করলাম—ইমাম, ফকিহ, নাহুবিদ ও গুণী আফিফউদ্দিন আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আয-যাজ্জাজ এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র বাগদাদী আবুল কাসিম আব্দুল হামিদ বিন মুহাম্মদ। তাঁরা হজের উদ্দেশ্যে বাগদাদ থেকে এসেছিলেন। তাঁরা উভয়ে আবুল হাসান ইবনে রুজবাহর নিকট থেকে শ্রুতি গ্রহণ করেছেন। আবু মুহাম্মদ ইবনুল লাত্তির নিকট থেকে শ্রুতি গ্রহণ করেছেন এবং ইবনুল হারুস্তানি তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছেন। আবুল কাসিম ইবনুল লাত্তির নিকট থেকে শ্রুতি গ্রহণ করেছেন কি না তা আমার জানা নেই। আবু মুহাম্মদ আমাকে অবহিত করেছেন যে, বাগদাদে তাতারীদের আক্রমণের পর আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে তিনি ব্যতীত আর কেউ জীবিত নেই।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٦)
قرأت عليهما هناك الجزء المعروف بجزء ابن العالي بسماعهما معا من ابن روزبة، وكانت قراءتي في يوم الجمعة الثاني والعشرين لشوال، وكتبا لي خطهما بالإذن هنالك لي وأخواتي نفع الله بهما، وأخبرني شيخنا أبو محمد أنه سمع على ابن اللتي الأربعين حديثا للطائي، بسماعه لها من مؤلفها، قَالَ أبو محمد: وسمعت الأربعين لأبي عبد الله الحاكم، على أبي الفرج بن عبد السلام، بسماعه من الميهني، بسماعه من ابن خلف، عن الحاكم.

ورحلنا منه ضحاء يوم السبت الثالث والعشرين، ومن هناك يرفع الماء إلى الموضع المعروف بجفار المعظم، ونزلنا بالطريق منازل فوافينا جفار المعظم ظهر يوم الخميس الثامن والعشرين لشوال، ووافينا هناك وفودا من أهل الشام، قد وروده قبل مقدمنا.

هناك يوم الجمعة لاستيفاء الوافدين من أطراف الشام، ولم يكن الماء بالكثير الذي يسع الناس دون ازدحام، واجتمع من الخلق ما لا يحصيه العد، حرز الركب الشامي بستين ألف راحلة دون الخيل والبغال والحمر، فكان يملأ السهل والحزن.
আমি সেখানে তাঁদের উভয়ের নিকট 'জুজউ ইবনিল আলী' নামে পরিচিত অংশটি পাঠ করেছি, যা তাঁরা উভয়ে ইবনে রুজবাহর নিকট একত্রে শ্রবণ করেছিলেন। আমার এই পাঠ সম্পন্ন হয়েছিল শাওয়াল মাসের বাইশ তারিখ জুমুআর দিনে। তাঁরা উভয়ে সেখানে আমার এবং আমার বোনদের জন্য অনুমতির স্বাক্ষর প্রদান করেছিলেন, আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। আমাদের শাইখ আবু মুহাম্মদ আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি ইবনুল লাত্তির নিকট আত-তায়ীর 'চল্লিশ হাদীস' শ্রবণ করেছেন, যা তিনি স্বয়ং লেখকের নিকট শ্রবণ করেছিলেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের 'চল্লিশ হাদীস' আবু আল-ফারাজ বিন আব্দুস সালামের নিকট শ্রবণ করেছি, তিনি আল-মিহানি থেকে, তিনি ইবনে খালাফ থেকে এবং তিনি আল-হাকিম থেকে শ্রবণ করেছেন।

আমরা সেখান থেকে তেইশ তারিখ শনিবার পূর্বাহ্নে যাত্রা শুরু করলাম। সেখান থেকে 'জাফার আল-মুআজ্জাম' নামক স্থানে পানি উত্তোলন করে নেওয়া হয়। আমরা পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে যাত্রাবিরতি করলাম এবং শাওয়াল মাসের আটাশ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাফার আল-মুআজ্জামে পৌঁছলাম। সেখানে আমরা সিরিয়াবাসী কাফেলার দেখা পেলাম, যারা আমাদের আগমনের পূর্বেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।

সিরিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সকলের একত্রিত হওয়ার অপেক্ষায় জুমুআর দিন সেখানে অবস্থান করা হলো। পানি এত পর্যাপ্ত ছিল না যে মানুষ ভিড় ছাড়াই তা গ্রহণ করতে পারে। সেখানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটেছিল যা গণনা করা অসম্ভব। সিরীয় কাফেলায় কেবল উটের সংখ্যাই অনুমান করা হয়েছিল ষাট হাজার, ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা ব্যতিরেকেই। ফলে এই কাফেলা সমতল ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল পূর্ণ করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٧)
وأهل هلال ذي القعدة ليلة السبت، وسافرنا منه ضحوة يوم السبت، ونزلنا منازل بالطريق إلى أن وافينا تبوك ظهر يوم الجمعة السابع لذي قعدة، وهي أدنى أرض الشام إلى المدينة، وضبط هذا الاسم بفتح التاء المثناة من فوق في أوله، وهي أقصى أثر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحين دنونا منها بأميال خمسة أو ستة عبأ الناس الجيش وتزينوا بالأسلحة، ورتبت الرجال والفرسان وخلفهم الرواحل ونزل كثير من الناس عن رواحلهم، وساروا بها يسوقونها منتسقة، وعبؤوها بجزل الحطب حتى كأنها مراكب بحرية موسقة، وذلك لتعذر الحطب بأرض تبوك إلا على بعد منها.

ويذكر الناس أنهم يعبئون الجيش عند دخولها، عادة لهم يزعمون فيها الاقتداء لأنه صلى الله عليه وسلم دخلها كذلك، والله أعلم.

ولا شك أنه انتهى إليها صلى الله عليه وسلم وأقام بها ولم يتجاوزها، وكانت مدة إقامته بها فيما ذكر الرواة عشرين ليلة، وهي آخر غزوة غزاها رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه سنة تسع من الهجرة، أذن فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم للمسلمين في غزو الروم، وذلك في شهر رجب من السنة، وعاد صلى الله عليه وسلم إلى المدينة في شهر رمضان ولم يلق حربا.

وكانت له بهذه الوجهة صلى الله عليه وسلم معجزات: منها المعجزة الباقية آثارها ما بقي الدهر، وهي

أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم عِنْدَمَا شَارَفَهَا أَوْ دَنَا مِنْهَا، قَالَ: " إِنَّكُمْ

‌‌سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ، وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يَضْحَى النَّهَارُ، فَمَنْ جَاءَهَا فَلا يَمَسَّنَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ، فَجِئْنَاهَا وَقَدْ سَبَقَنَا إِلَيْهَا رَجُلانِ، وَالْعَيْنُ مِثْلُ الشِّرَاكِ تَبُضُّ بِشَيْءٍ مِنْ مَاءٍ، فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هَلْ مَسَسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا؟ فَقَالا: نَعَمْ.
জিলকদ মাসের চাঁদ শনিবার রাতে উদিত হলো এবং আমরা শনিবার পূর্বাহ্ণে সেখান থেকে যাত্রা করলাম। পথের বিভিন্ন মনজিলে যাত্রা বিরতি করে আমরা জিলকদ মাসের সাত তারিখ শুক্রবার দুপুরে তাবুকে পৌঁছালাম। এটি মদিনার দিক থেকে শামের নিকটতম ভূমি। এই নামের শুরুতে 'তা' বর্ণে জবর দিয়ে উচ্চারণ করতে হয়। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদচিহ্ন সংবলিত সর্বশেষ বা দূরতম সীমানা। আমরা যখন সেখান থেকে পাঁচ বা ছয় মাইল দূরে ছিলাম, তখন লোকজন সৈন্যবাহিনী বিন্যস্ত করল এবং অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হলো। পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীকে সুশৃঙ্খল করা হলো এবং তাদের পেছনে মালবাহী পশুগুলো রাখা হলো। অনেকে তাদের বাহন থেকে নেমে পড়ল এবং সেগুলোকে সারিবদ্ধভাবে চালিত করতে থাকল। তারা সেগুলোকে প্রচুর জ্বালানি কাষ্ঠ দিয়ে এমনভাবে সজ্জিত করল যে, মনে হচ্ছিল সেগুলো যেন মালামাল বোঝাই সমুদ্রগামী জাহাজ। এর কারণ ছিল তাবুক অঞ্চলে দূরবর্তী স্থান ছাড়া জ্বালানি কাঠ দুষ্প্রাপ্য হওয়া।

মানুষ উল্লেখ করে যে, তারা সেখানে প্রবেশের সময় সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করে; এটি তাদের একটি প্রথা যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে করে বলে দাবি করে, কারণ তিনিও এভাবেই সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে পৌঁছেছিলেন এবং অবস্থান করেছিলেন, কিন্তু তা অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হননি। বর্ণনাকারীদের মতে সেখানে তাঁর অবস্থানের সময়কাল ছিল বিশ রাত। এটি ছিল নবম হিজরি সনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সশরীরে অংশগ্রহণ করা সর্বশেষ যুদ্ধ। সেই বছরের রজব মাসে তিনি মুসলমানদের রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং রমজান মাসে তিনি কোনো যুদ্ধ ছাড়াই মদিনায় ফিরে এসেছিলেন।

এই সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশ কিছু মোজেজা প্রকাশিত হয়েছিল, যার মধ্যে একটির প্রভাব মহাকাল অবধি অবশিষ্ট রয়েছে, আর তা হলো—

তিনি যখন তাবুকের নিকটবর্তী হলেন বা এর কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন বললেন: “ইনশাআল্লাহ আগামীকাল তোমরা

‌‌তাবুকের ঝরনার কাছে পৌঁছাবে। দিনের আলো প্রখর না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে পৌঁছাতে পারবে না। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেখানে আগে পৌঁছাবে, সে যেন আমার আসার আগে তার পানি থেকে কিছুই স্পর্শ না করে। অতঃপর আমরা যখন সেখানে পৌঁছালাম, দেখলাম আমাদের আগে দুই ব্যক্তি সেখানে পৌঁছে গেছে। ঝরনাটি তখন জুতার ফিতার মতো চিকন ধারায় সামান্য পানি নির্গত করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন: “তোমরা কি এর পানি থেকে কিছু স্পর্শ করেছ?” তারা বলল: “হ্যাঁ।”
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٨)
فَسَبَّهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَهُمَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ، قَالَ: ثُمَّ غَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْعَينِ قَلِيلا قَلِيلا، حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَيْءٍ، ثُمَّ غَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا فَجَرَتِ الْعَيْنُ بِمَاءٍ كَثِيرٍ، فَاسْتَقَى النَّاسُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُوشَكُ يَا مُعَاذُ إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ أَنْ تَرَى مَا هَاهُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا» .

وَهَذَا الْحَدِيثُ خَرَّجَهُ مَالِكٌ فِي مُوَطَّئِهِ بِهَذَا اللَّفْظِ بَعْدَ ذِكْرِهِ صَدْرَ الْحَدِيثِ، وَالْحَدِيثُ بِجُمْلَتِهِ مِمَّا قَرَأْتُهُ بِتُونُسَ عَلَى الأَدِيبِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الطَّائِيِّ الْقُرْطُبِيِّ مِنْ ضِمْنِ كِتَابِ الْمُوَطَّأِ بِسَنَدِهِ الْعَالِي.

أنا أَبُو الْقَاسِمِ أَحْمَدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ بَقِيٍّ قِرَاءَةً لِبَعْضِهِ وَسَمَاعًا لِسَائِرِهِ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْحَقِّ بْنِ أَحْمَدَ الْخَزْرَجِيُّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ فَرَجٍ، أنا الْقَاضِي أَبُو الْوَلِيدِ يُونُسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أنا أَبُو عِيسَى يَحْيَى بْنُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে তিরস্কার করলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে তা-ই বললেন যা আল্লাহ বলতে চেয়েছিলেন। তিনি বললেন: এরপর তারা তাদের হাত দিয়ে ঝরনা থেকে অল্প অল্প করে পানি তুললেন, যতক্ষণ না তা কোনো পাত্রে জমা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে তাঁর মুখমণ্ডল ও তাঁর দুই হাত ধৌত করলেন। এরপর তিনি তা পুনরায় সেই ঝরনায় ফিরিয়ে দিলেন, ফলে ঝরনাটি প্রচুর পানির সাথে প্রবাহিত হতে লাগল। তখন লোকেরা পানি পান করল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে মুয়াজ! যদি তোমার জীবন দীর্ঘ হয়, তবে অচিরেই তুমি দেখতে পাবে যে এখানকার এই স্থানটি বাগান দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেছে।»

আর এই হাদিসটি ইমাম মালেক তাঁর মুয়াত্তায় এই শব্দেই সংকলন করেছেন হাদিসটির প্রথমাংশ উল্লেখ করার পর। আর পূর্ণাঙ্গ হাদিসটি আমি তিউনিসিয়ায় সাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আত-তাঈ আল-কুরতুবীর নিকট মুয়াত্তা গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তাঁর উচ্চতর সনদে পাঠ করেছি।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আহমাদ বিন ইয়াজিদ বিন বাকি—কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ শ্রবণের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল হক বিন আহমাদ আল-খাজরাজি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফারাজ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আল-ওয়ালিদ ইউনুস বিন আবদুল্লাহ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা ইয়াহিয়া বিন...
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٩)
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عِيسَى، أنا عَمُّ أَبِي أَبُو مَرْوَانَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى أنا أَبِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أنا مَالِكٌ رضي الله عنه، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ أَخْبَرَهُ " أَنَّهُمْ خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ تَبُوكَ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الْظُهْرِ وَالْعَصْرِ جَمِيعًا، ثُمَّ دَخَلَ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا، ثُمَّ قَالَ: إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ ".

وَذَكَرَ سَائِرَ الْحَدِيثِ كَمَا قَدَّمْتُهُ حَرْفًا حَرْفًا.

قُلْتُ: وَهَذَا الْحَدِيثُ يَقْتَضِي أَنَّ هَذَا الاسْمَ أَعْنِي تَبُوكَ وَاقِعٌ عَلَيْهَا قَبْلَ قُدُومِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

وذكر أبو عبيدة البكري في كتابه المسمى بمعجم ما استعجم ما نصه: وذكر القتبي من رواية موسى بن شيبة، عن محمد بن كليب: " أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاء في غزوة تبوك وهم يبوكون حسيها بقدح، فقال: ما زلتم تبوكونها بعد؟ فسميت تبوك، ومعنى تبوكون تدخلون فيه السهم وتحركونه ليخرج ماؤه ".
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ঈসা হতে বর্ণিত, আমার পিতার চাচা আবু মারওয়ান উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যুবাইর আল-মাক্কী হতে, তিনি আবু তুফাইল আমির ইবনে ওয়াসিলা হতে বর্ণনা করেন যে, মুয়ায ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, "তারা তাবুক যুদ্ধের বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বের হয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহর ও আসর সালাত একত্রে আদায় করছিলেন, অতঃপর তিনি (তাঁবুতে) প্রবেশ করলেন, পুনরায় বের হয়ে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন: ইনশাআল্লাহ আগামীকাল তোমরা তাবুকের ঝরনার নিকট পৌঁছাবে।"

এবং তিনি হাদিসের অবশিষ্ট অংশ ঠিক সেভাবেই অক্ষরে অক্ষরে উল্লেখ করেছেন যেভাবে আমি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।

আমি বলছি: এই হাদিসটি দাবি করে যে, এই নাম অর্থাৎ 'তাবুক' নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের পূর্বেই এই স্থানের জন্য নির্ধারিত ছিল।

আবু উবাইদাহ আল-বাকরি তাঁর 'মু'জাম মা ইস্তাজাম' নামক গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার মূল পাঠ নিম্নরূপ: আল-কুতবী, মুসা ইবনে শায়বা'র সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে কুলাইব থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবুক যুদ্ধে আগমন করলেন এবং তখন তারা (সাহাবীগণ) একটি পাত্র দিয়ে এর গর্তের স্বল্প পানি নাড়াচাড়া করছিলেন। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি এখনও এটি নাড়াচাড়া করছ? ফলে এর নাম 'তাবুক' রাখা হলো। আর 'তাবুকুনা' শব্দের অর্থ হলো এতে তীরের অগ্রভাগ প্রবেশ করানো এবং তা নাড়ানো যাতে এর পানি নির্গত হয়।"
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٠)
قلت: صدق صلى الله عليه وسلم فقد رأينا هذا الموضع قد ملئ جنانا من نخيل وبينها يسير زرع للأعراب، وهذه العين صهريج كبير مطوي بالحجر يجتمع فيه ماء كثير، ويخرج منه إلى جفر آخر كبير، يجتمع فيه ماء يسيل من ذلك، وماؤها كثير عذب، فاغتسلنا من هذه العين المباركة وتضلعنا من مائها الطيب المبارك.

وبمقربة من العين أصل شجرة يابس فيه غصن كبير ناعم أظنها سدرا يزعم الناس أنه صلى الله عليه وسلم قعد هناك فاخضرت الشجرة والله أعلم، ولقد اتفق لي هناك أن أخذت يسيرا من لحائها بسكين الأقلام، على حكم التبرك لما ذكر من أمرها، ولأني رأيت بعض من حضر هناك أخذ شيئا منها متبركا، فرأيت شخصا قد أقبل إليّ لم أعرفه قبل ولا بعد، فقال لي: حتى أنت تفعل ذلك؟ فقلت: ولم؟ وما تنكر من ذلك؟ فقال: إن كان حقا ما ذكر فيقتدي الناس بك في الأخذ منها فيفنيها الناس، فيذهب هذا الأثر المبارك فتكون سبب إذهابه، وإلا يكن فيقتدي الناس بك في باطل، أو معنى هذا الكلام، فشكرته وانصرف.

رجع إلى أبي محمد ابن الزجاج واجتمعت هنا لكم أيضا بالشيخ الفقيه المحدث الفاضل عفيف الدين أبي محمد عبد الرحيم بن الزجاج البغدادي، قدم من بغداد حاجا، وهو من بقية علمائها الذين أسأرتهم دخلة التتر بغداد، وقد تقدم ذكره وقرأت عليه يسيرا " من كتاب البخاري، وأخبرني بجميعه، إذنا معينا، بسماعه لجميعه من أبي الحسن بن روزبة والقطيعي، بسماعهما لجميعة من أبي الوقت أحاديث غزوة تبوك بتبوك
আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন। আমরা দেখেছি যে এই স্থানটি খেজুরের বাগান দ্বারা পূর্ণ হয়েছে এবং এর মাঝে বেদুইনদের সামান্য কিছু ফসলের জমি রয়েছে। আর এই ঝর্ণাটি পাথর দিয়ে বাঁধানো একটি বড় চৌবাচ্চার মতো, যেখানে প্রচুর পানি জমা হয়। সেখান থেকে পানি অন্য একটি বড় গর্তে গিয়ে পড়ে, যেখানে সেই প্রবাহমান পানি একত্রিত হয়। এর পানি প্রচুর ও সুমিষ্ট। আমরা এই বরকতময় ঝর্ণায় গোসল করেছি এবং এর পবিত্র বরকতময় পানি তৃপ্তিভরে পান করেছি।

ঝর্ণার কাছেই একটি শুষ্ক গাছের গোড়া রয়েছে যাতে একটি বড় ও সতেজ ডাল আছে, আমার ধারণা এটি একটি কুল গাছ। মানুষ ধারণা করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসেছিলেন এবং ফলে গাছটি সবুজ হয়ে গিয়েছিল, আল্লাহই ভালো জানেন। সেখানে আমার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল যে, আমি কলম কাটার ছুরি দিয়ে সেই গাছের ছাল থেকে সামান্য কিছু অংশ নিয়েছিলাম বরকত লাভের আশায়, যেহেতু গাছটি সম্পর্কে এমন কথা প্রচলিত ছিল এবং আমি সেখানে উপস্থিত কিছু মানুষকেও বরকত হিসেবে এর কিছু অংশ নিতে দেখেছিলাম। তখন আমি এক ব্যক্তিকে আমার দিকে এগিয়ে আসতে দেখলাম যাকে আমি আগে বা পরে কখনও দেখিনি। তিনি আমাকে বললেন: আপনিও এমনটি করছেন? আমি বললাম: কেন নয়? এতে আপনি কী অপছন্দ করছেন? তিনি বললেন: যদি গাছটি সম্পর্কে যা বলা হয় তা সত্য হয়, তবে মানুষ আপনাকে অনুসরণ করে এর থেকে নেওয়া শুরু করবে এবং মানুষ একে নিঃশেষ করে ফেলবে। ফলে এই বরকতময় চিহ্নটি বিলীন হয়ে যাবে এবং আপনি তা বিলীন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। আর যদি এটি সত্য না হয়, তবে মানুষ আপনার অনুসরণে একটি বাতিল বিষয়ে লিপ্ত হবে—অথবা এই জাতীয় কিছু কথা তিনি বললেন। আমি তাকে ধন্যবাদ জানালাম এবং তিনি চলে গেলেন।

আবু মুহাম্মদ ইবনুল জাজ্জাজের বর্ণনায় ফিরে আসা যাক; আমি এখানে আপনাদের জন্য ফকিহ, মুহাদ্দিস ও ফাজিল শায়খ আফিফ উদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বিন আল-জাজ্জাজ আল-বাগদাদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছি। তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাগদাদ থেকে এসেছিলেন। তিনি বাগদাদের সেই অবশিষ্ট আলেমদের একজন যাঁদের তাতারীদের বাগদাদ আক্রমণের পর আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। আমি তাঁর কাছে বুখারি শরীফের সামান্য অংশ পড়েছি এবং তিনি আমাকে সুনির্দিষ্ট অনুমতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ কিতাবটির সংবাদ দিয়েছেন, যা তিনি আবু হাসান বিন রুজবাহ এবং আল-কাতিয়ি থেকে শুনেছেন। আর তাঁরা উভয়েই আবু আল-ওয়াক্ত থেকে সম্পূর্ণ কিতাবটি শুনেছেন। আমি তাবুকে থাকাকালীন তাবুক যুদ্ধের হাদিসগুলো তাঁর নিকট পড়েছিলাম।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١١)
وقد أعلمت على ذلك في موضع آخر لم يقع لي الآن ذكره، ولا أشك أن من جملتها حديث: «السفر قطعة من العذاب يمنع أحدكم طعامه وشرابه ونومه، فإذا قضى أحدكم نهمته من وجهه فليعجل الرجوع إلى أهله» .

وذلك في التاسع لذي القعدة عام أربعة وثمانين وست مائة، وكانت القراءة في أصل عتيق فيه رواية الحمويي وغيره مفسرة، وكأنه تكره من القراءة في غير أصل سماعه أو ما عورض به فأعجبني منه ذلك ولم أحمل عليه في الازدياد.

وأقمنا هناك بقية يوم الجمعة إلى ظهر يوم السبت الثامن لذي قعدة، ورحلنا من هناك، ومن تبوك يرفع الماء إلى العلى، وما بينهما أشق شيء في الطريق، وأقله ماء لأنه ليس فيه ماء أصلي سوى بئر بوادي الأخضر، قل أن ينفي بالركب، وقد هلك فيه في بعض الأوقات خلق كثير وعدد كبير، لكن من الله الكريم بلطفه وصادفنا بالطريق من ماء المطر نحو سبعة أمواه.

وفي ذلك الطريق في مواضع منه عديدة بصائط كثيرة فيها حصى أبيض رائق كثير الصفاء والبريق في لون البلور كأنه حب اللؤلؤ لصفائه وحسنه وكثرة مائه
আমি অন্য এক স্থানে এ বিষয়ে অবগত করেছি যা বর্তমানে আমার স্মরণে আসছে না, আর আমি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, তার মধ্যে একটি হলো এই হাদিস: "সফর হলো যন্ত্রণার একটি অংশ, যা তোমাদের কাউকে তার খাদ্য, পানীয় এবং ঘুম থেকে বিরত রাখে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন তার উদ্দেশ্য পূরণ করে ফেলে, তখন সে যেন দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে।"

আর তা ছিল ৬৮৪ হিজরি সনের ৯ই জিলকদ তারিখে। পাঠ করা হয়েছিল একটি প্রাচীন মূল পাণ্ডুলিপি থেকে, যাতে আল-হামাউয়ী ও অন্যদের বর্ণিত রেওয়ায়াতসমূহ ব্যাখ্যাসহ ছিল। মনে হচ্ছিল তিনি তাঁর শ্রবণকৃত মূল পাণ্ডুলিপি বা যার সাথে মোকাবিলা (তুলনা) করা হয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছু থেকে পাঠ করা অপছন্দ করছিলেন। তাঁর এই বিষয়টি আমার কাছে পছন্দনীয় মনে হয়েছিল এবং আমি আরও বৃদ্ধির জন্য তাঁকে চাপ দিইনি।

আমরা সেখানে জুমার দিনের অবশিষ্টাংশ থেকে শুরু করে ৮ই জিলকদ শনিবারের জোহর পর্যন্ত অবস্থান করলাম এবং আমরা সেখান থেকে রওয়ানা হলাম। তাবুক থেকে আল-উলা পর্যন্ত পানি বহন করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী পথটি হলো সফরের সবচেয়ে কষ্টকর অংশ এবং এখানে পানির পরিমাণ অত্যন্ত কম; কারণ ওয়াদি আল-আখদারের একটি কূপ ছাড়া সেখানে অন্য কোনো স্থায়ী পানির উৎস নেই, যা কাফেলার জন্য পর্যাপ্ত হওয়া দুষ্কর। বিভিন্ন সময়ে সেখানে বহু মাখলুক ও বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে দয়া করেছেন এবং আমরা পথে বৃষ্টির পানির প্রায় সাতটি আধার পেয়েছিলাম।

উক্ত পথের অনেকগুলো স্থানে বহু বিস্তৃত প্রান্তর রয়েছে যেখানে ধবধবে সাদা প্রচুর কঙ্কর বিদ্যমান, যা অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং স্ফটিকের ন্যায় উজ্জ্বল। তার স্বচ্ছতা, সৌন্দর্য এবং উজ্জ্বলতার আধিক্যের কারণে মনে হয় যেন সেগুলো মুক্তার দানা।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وشفوفه، كأنما جزر عنه البحر يلتقطه الناس هنالك، وهو يقبل الجلاء لصفائه ويكون معه غيره من الحصى الأحمر والأسود ولكن كالبحري ليس بشفاف ولا صاف، وأظن هذه الحصى هي التي عنى القائل، أنشده لنا بعض أصحابنا:

دمشق بنا شوق إليها مبرح … وإن لج واش أو ألح عذول

بلاد بها الحصباء در، وتربها … عبير، وأنفاس الرياض شمول.

تسلسل فيها ماؤها وهو مطلق … وصح نسيم الروض وهو عليل

فيكون الشاعر نسب هذه الحصباء إلى دمشق لأن موضع هذه الحصباء بأطراف الشام، فإن أول مكان لاقيناها به عند خروجنا من تبوك أو لعله يوجد في جهات دمشق.

ومما جرى لنا في هذه الصحراء، وغالب ظني أن ذلك كان صبيحة الليلة التي عقب يوم انفصالنا عن تبوك، فهب علينا نسيم طيب عند السحر، أوجد نشاطا أزال كسل السهر، فقلت لرفيق لي: ما هذه الرائحة؟ ولم أكن أعرف للشيخ طيب ذلك العرف.

أشيح الفلا ما نم أم عنبر الشحر … أم العرف أهدت طيبة طيب النشر

فناولني غصنا عطر النفس، لم أدر حقيقته من الغلس، فقد قلد من الأنداء دررا وسقته المزن من أخلافها دررا، فسألت بعض الأعراب: ما هو؟ فقال: هذا هو الشيحُ، فقلت مطلع هذه الأبيات، ثم تشاغلنا بأداء صلاة الصبح، وصلات ذلك النسيم تنعم الأنوف بالنفح، فتذكرت المطلع بعدما تممت عليه:

أشيحُ الفلا ما نم أم عنبر الشحر … أم العرف أهدت طيبة طيب النشر

وإلا فما بال الرياض تعطرت … وما لثغور النور تبسم عن در؟
এবং এর স্বচ্ছতা এমন যে, যেন সমুদ্র তা থেকে সরে গেছে এবং মানুষ সেখান থেকে তা কুড়িয়ে নিচ্ছে। এর নির্মলতার কারণে এটি পালিশ গ্রহণ করে। এর সাথে অন্য লাল ও কালো রঙের নুড়ি পাথরও থাকে, কিন্তু সেগুলো সামুদ্রিক পাথরের মতো স্বচ্ছ বা নির্মল নয়। আমার ধারণা, এই নুড়ি পাথরগুলো সম্বন্ধেই সেই ব্যক্তি (কবি) বুঝিয়েছেন, যার কবিতা আমাদের কোনো এক সঙ্গী আমাদের শুনিয়েছেন:

দামেস্কের প্রতি আমাদের মনে তীব্র ব্যাকুলতা রয়েছে … যদিও কোনো চোগলখোর জেদ ধরে কিংবা নিন্দুক পিড়াপিড়ি করে।

এমন এক শহর যেখানে নুড়ি পাথরগুলো মুক্তাসদৃশ এবং এর মাটি … সুগন্ধি আবীর সদৃশ, আর উদ্যানগুলোর নিশ্বাস যেন শীতল সমীরণ।

সেখানে তার বারিধারা স্বচ্ছন্দে ও সাবলীলভাবে বয়ে চলে … আর উদ্যানের মৃদু বাতাস রুগ্ন হওয়া সত্ত্বেও আরোগ্যপ্রদ।

কবি সম্ভবত এই নুড়ি পাথরগুলোকে দামেস্কের সাথে সম্পর্কিত করেছেন কারণ এই নুড়ি পাথরগুলোর প্রাপ্তিস্থান হলো সিরিয়ার প্রান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে। কেননা তাবুক থেকে বের হওয়ার পর প্রথম যে স্থানে আমরা এগুলোর দেখা পেয়েছিলাম সেটি ছিল সেখানেই, অথবা সম্ভবত এটি দামেস্কের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও পাওয়া যায়।

এই মরুভূমিতে আমাদের সাথে যা ঘটেছিল—আর আমার প্রবল ধারণা এটি ছিল তাবুক থেকে আমাদের রওয়ানা হওয়ার পরবর্তী রাতটির ভোরবেলা—তখন শেষ রাতে আমাদের ওপর এক মনোরম মৃদু বাতাস প্রবাহিত হলো, যা এমন এক সজীবতা তৈরি করল যা রাত জাগরণের ক্লান্তি দূর করে দিল। তখন আমি আমার এক সঙ্গীকে বললাম: এই সুগন্ধ কিসের? আমি জানতাম না যে 'শীহ' গাছের এমন চমৎকার সুবাস রয়েছে।

মরুভূমির শীহ গাছ কি তার সুবাস ছড়িয়েছে নাকি এটি শাহর অঞ্চলের আম্বর? … নাকি মদিনার পবিত্র বায়ু তার সুগন্ধি উপহার দিয়েছে?

তখন সে আমাকে সুগন্ধিযুক্ত একটি ডাল দিল, রাতের অন্ধকারের কারণে আমি এর প্রকৃত রূপ বুঝতে পারছিলাম না। এটি যেন শিশিরবিন্দুর মুক্তামালা পরিধান করেছিল এবং মেঘমালা তার কোল থেকে বারিবিন্দু দিয়ে একে সিক্ত করেছিল। আমি জনৈক আরব বেদুইনকে জিজ্ঞেস করলাম: এটি কী? সে বলল: এটিই হলো 'শীহ' গাছ। তখন আমি এই পঙ্ক্তিগুলোর সূচনাংশ বললাম। এরপর আমরা ফজরের সালাত আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, আর সেই সমীরণ তখন তার সুগন্ধি ঝাপটায় নাসিকাগুলোকে তৃপ্ত করছিল। সালাত শেষ করার পর আমি সূচনাংশটি স্মরণ করলাম এবং তা পূর্ণ করলাম:

মরুভূমির শীহ গাছ কি তার সুবাস ছড়িয়েছে নাকি এটি শাহর অঞ্চলের আম্বর? … নাকি মদিনার পবিত্র বায়ু তার সুগন্ধি উপহার দিয়েছে?

তা না হলে উদ্যানগুলো কেন সুবাসিত হয়ে উঠল … আর আলোর অধরগুলো কেন মুক্তার ন্যায় হাসি ছড়াচ্ছে?
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٣)
وما بال أدواح البطاح تأطرت … وجرت ذيولا من غلائلها الخضر؟

وما لفصاح الطير تعلو منابرا … تردد ألحانا على مزهر الزهر؟

وما بال أرواح الصباح تذاءبت … تفاتح بالبشرى وتتحف بالبشر؟

نعم هو عرف من نواحي معرف … سرى ملقيا ما حملوه من السر

ترى علموا أني فقدت خيالهم … لفقدي الكرى، فالطيف نحوي لا يسري

فأهدوا مع الريح الشمال شمائلا … سقتني شمولا فانثنيت من السكر

على أن بعد الدار يعذر طيفهم … فيثنيه إن جد السرى مسفر الفجر

بشير الرياح المهديات بشائرا … حقيق علينا أن تقابل بالشكر

فحل ضلوعي منزلا إن رضيتها … وعذرا فقلبي بالمكان الذي تدري

ومن كبدي أقريك وهي نضيجة … ومن أدمعي أرويك إذ لم تزل تجري

وبالله إلا ما أقمت مكرما … لدينا، ولا ترجع سريعا على الإثر

فقال: تكفلت الجواب وإنني … وفي بعهدي لا أميل إلى الغدر

فناديته بلغ سلامي وقل لهم: … أقام لعذر صده ذو الهوى العذري

فكان لقائي والوداع معا فلا … تسل كيف حالي حين ولى مع الصبر

وما زلنا نتعرف التيسير والتسهيل والصنع الجميل في كل حل وترحال إلى أن وافينا الحجر حجر ثمود ليلة الجمعة الرابعة عشرة لذي قعدة، عند الغروب ولكثرة الازدحام لم يتأت النزول حتى قضى هزيع من الليل، وبتنا تلك الليلة في الموضع المعروف بمبرك الناقة.
উপত্যকার বৃক্ষরাজির কী হলো যে তারা নুয়ে পড়েছে … আর তাদের সবুজ বসনের আঁচল টেনে হেঁচড়ে চলছে?

পাখিদের বাগ্মিতারই বা কী হলো যে তারা মিম্বরসমূহে আরোহণ করছে … আর পুষ্পের বীণার তারে সুরের মূর্ছনা তুলছে?

প্রভাতের মৃদুমন্দ বাতাসেরই বা কী হলো যে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে … সুসংবাদ দিয়ে শুরু করছে এবং আনন্দের উপঢৌকন দিচ্ছে?

হ্যাঁ, এ হলো মারেফ অঞ্চলের সুগন্ধি … যা রাতে ভ্রমণ করে তাদের বহন করা গোপন রহস্যগুলো বিলিয়ে দিচ্ছে।

তুমি কি মনে করো তারা জানতে পেরেছে যে আমি তাদের কল্পনাকে হারিয়েছি … আমার নিদ্রাহীনতার কারণে, তাই ছায়া-মূর্তি আমার পানে আর ছুটছে না?

তাই তারা উত্তরীয় বায়ুর সাথে এমন কিছু সুগন্ধি উপহার পাঠিয়েছে … যা আমাকে শরাব পান করিয়েছে, ফলে আমি মত্ততায় নুয়ে পড়েছি।

যদিও দূরত্বের কারণে তাদের ছায়া-মূর্তির ওজর কবুলযোগ্য … তবে ভ্রমণের তীব্রতায় ভোরের আলো ফুটে উঠলে তা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

সুসংবাদ বহনকারী বাতাস যা মঙ্গলের বার্তা বয়ে আনে … আমাদের জন্য আবশ্যক তাকে শুকরিয়ার সাথে গ্রহণ করা।

যদি তোমার পছন্দ হয় তবে আমার পাঁজরের হাড়ের ভেতর বসতি স্থাপন করো … আর আমাকে ক্ষমা করো, কারণ আমার অন্তর সেই স্থানেই রয়েছে যা তুমি জানো।

আমার কলিজা দিয়ে আমি তোমার মেহমানদারি করছি যা দগ্ধ … আর আমার অশ্রু দিয়ে তোমাকে সিক্ত করছি যা নিরন্তর প্রবহমান।

আল্লাহর কসম, তুমি কেবল সম্মানিত হয়ে আমাদের কাছে অবস্থান করো … পদচিহ্ন ধরে দ্রুত ফিরে যেয়ো না।

সে বলল: আমি উত্তরের দায়িত্ব নিলাম এবং আমি … আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী, আমি বিশ্বাসঘাতকতার দিকে ঝুঁকব না।

আমি তাকে ডেকে বললাম, আমার সালাম পৌঁছে দিয়ো এবং তাদের বলো: … সে এক ওজরের কারণে থেকে গেছে, যাকে উদরি প্রেমের অধিকারী ব্যক্তি পথ আগলে রেখেছে।

ফলে আমার সাক্ষাৎ এবং বিদায় একই সাথে হলো, সুতরাং … যখন সে ধৈর্যের সাথে বিদায় নিলো তখন আমার অবস্থা কেমন ছিল তা জিজ্ঞেস করো না।

আমরা প্রতিটি যাত্রাবিরতি ও ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্য, সহজতা এবং সুন্দর অনুগ্রহের পরিচয় পেয়ে আসছিলাম, অবশেষে আমরা যিলকদ মাসের চৌদ্দ তারিখ শুক্রবার রাতে সূর্যাস্তের সময় হিজর তথা সামুদ জাতির হিজরে পৌঁছালাম। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে রাতের একটি অংশ অতিবাহিত হওয়ার আগে অবতরণ করা সম্ভব হয়নি, এবং আমরা সেই রাতে 'মাবরাকুন নাকা' (উষ্ট্রীর বসার স্থান) হিসেবে পরিচিত স্থানে রাত যাপন করলাম।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٤)
ولما نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحجر في غزوة تبوك استقى الناس من بئرها فأمرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا يتوضؤوا من مائهم ولا يشربوا ولا يعجنوا منه، وما عجنوا منه فليعلفوه الإبل، وأمرهم أن يستعملوا في كل ذلك من ماء بئر الناقة، وأمر عليه السلام أن لا يدخلوا عليهم بيوتهم أعني بيوت أهل الحجر إلا باكين، ونهاهم عليه السلام أن يخرج أحد منهم تلك الليلة منفردا دون صاحبه، ففعل الناس ما أمرهم به صلى الله عليه وسلم إلا رجلين من بني ساعدة خرجا متفرقين: أحدهما للغائط فخنق على مذهبه، فأخبر بذلك النبي صلى الله عليه وسلم فدعا له فشفي، وخرج الآخر في طلب بعير له فاحتملته الريح حتى طرحته في آخر جبلي طيء، فأهدته طيء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قدم المدينة.

ورحلنا من هذا الموضع في آخر الليل، وشاهدنا في صبيحته من عجائب صنع الله ما يقف فيه الطرف، ويحار فيه الوصف، من الدور المنحوته في الجبال، المحكمة الصنعة، البديعة الإتقان، الفارهة النقش، وأكثرها لم يتغير كأنها قريبة العهد بالصنعة، وبعض تلك المساكن قد أخل بها نفوذ مياه الأمطار لأحجارها فتشقق بعضها، وصورة هذا الحجر أرض رملة متسعة، تحف بها جبال، كأنها أسوار لها، ولها مدخل ضيق كأن جانبيه مصرعا باب في غاية العلو، ومنه كان دخولنا إليه، وما وصفنا من التضايق عليه، وأثناء هذه الأرض المحجورة جبال صغار، فيجيئون إلى تلك الجبال الصغار فيمسحون وجه الجبل بالنجارة، ويحكمون تسويته بالنحت، ويفتحون فيه أبوابا، وينقشون جوانبها وأعاليها بأبدع الصنعة، ثم يتسعون في نقر الجبل قبالة الباب، وعن يمينه ويساره، ويصنعون فيه بيوتا.
যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাবুক যুদ্ধের সময় আল-হিজর নামক স্থানে অবতরণ করলেন, তখন লোকজন সেখানকার কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন সেই পানি দিয়ে ওজু না করে, তা পান না করে এবং তা দিয়ে খামির তৈরি না করে। আর তারা যে খামির তৈরি করেছিল, তা যেন উটকে খাইয়ে দেয়। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন এই সকল কাজে উষ্ট্রীর কূপের পানি ব্যবহার করে। নবী (আলাইহিস সালাম) আরও নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন তাদের ঘরে—অর্থাৎ হিজর অধিবাসীদের ঘরে—ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ না করে। নবী (আলাইহিস সালাম) তাদের নিষেধ করলেন যে, সেই রাতে তাদের কেউ যেন তার সাথীকে ছাড়া একা বের না হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের যা নির্দেশ দিয়েছিলেন, লোকজন তা-ই পালন করল; কেবল বনী সায়েদা গোত্রের দুই ব্যক্তি ছাড়া, যারা পৃথকভাবে বের হয়েছিল। তাদের একজন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হয়েছিল, ফলে সে তার যাওয়ার পথেই শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে রইল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তার জন্য দোয়া করলেন এবং সে সুস্থ হয়ে গেল। আর অপরজন তার একটি উটের সন্ধানে বের হয়েছিল, ফলে প্রবল বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে তায়ি গোত্রের দুই পাহাড়ের শেষপ্রান্তে নিক্ষেপ করল। অতঃপর তায়ি গোত্রের লোকেরা তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দিল যখন তিনি মদীনায় পৌঁছালেন।

আমরা রাতের শেষভাগে এই স্থান থেকে যাত্রা করলাম এবং সকালে আল্লাহর সৃষ্টির এমন সব বিস্ময় দেখলাম যা দেখে দৃষ্টি থমকে যায় এবং বর্ণনা করতে গিয়ে বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে পড়ে। সেগুলো হলো পাহাড়ে খোদাই করা ঘরবাড়ি, যার নির্মাণশৈলী অত্যন্ত মজবুত, নিপুণতা চমৎকার এবং কারুকার্য অতি সুন্দর। এগুলোর অধিকাংশই পরিবর্তিত হয়নি, যেন মনে হয় এখনই নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি পাথরের ভেতরে প্রবেশের কারণে এই বসতিগুলোর কোনো কোনোটির ক্ষতি হয়েছে এবং কিছু জায়গায় ফাটল ধরেছে। এই হিজর নামক স্থানের দৃশ্যটি হলো একটি বিশাল বালুময় ভূমি, যাকে পাহাড়গুলো পরিবেষ্টন করে আছে যেন সেগুলো এর প্রাচীর। এর একটি সংকীর্ণ প্রবেশপথ রয়েছে, যার দুই পাশ যেন অত্যন্ত উঁচু দরজার দুটি কপাট; আর আমরা সেই পথেই সেখানে প্রবেশ করেছিলাম। এবং আমরা এর যে সংকীর্ণতার কথা বর্ণনা করেছি (তা সত্ত্বেও), এই বেষ্টিত ভূমির ভেতরে ছোট ছোট পাহাড় রয়েছে। তারা সেই ছোট পাহাড়গুলোর কাছে আসত এবং খোদাই করে পাহাড়ের সম্মুখভাগ মসৃণ করত এবং কুঁদে কুঁদে তা সমান করার কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করত। এরপর তারা তাতে দরজা তৈরি করত এবং অপূর্ব শৈল্পিকতায় সেগুলোর পার্শ্বদেশ ও উপরিভাগে কারুকার্য করত। এরপর তারা দরজার সামনে এবং তার ডানে ও বামে পাহাড় খোদাই করে প্রশস্ত করত এবং তাতে কামরা নির্মাণ করত।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٥)
وشاهدنا بعض هذه البيوت مملوءا عظاما، وظاهر أحوالهم أن خلقهم كانت كخلقنا، إذ أبواب بيوتهم وزواياها على مقادير أبوابنا المعتادة في الارتفاع، والله أعلم.

وفي ظهر يوم الجمعة المذكور نزلنا العلي، وأقمنا به يوم السبت الخامس عشر، وهو موضع فيه مياه بعضها في أحساء، وبعضها جارية في رمال، وبها نخل وزرع وحصن ودور.

وفي ذلك الموضع يودع أهل الشام فضول أزوادهم عدة للعودة بعد قضاء الحج والزيارة، يخففون بذلك عن رواحلهم.

وهذا الموضع لا أعرف هذا الاسم له مذكورا في الكتب، فلعله كان يسمى باسم آخر.

وقد ذكر أبو عبيد البكري في كتابه معجم ما استعجم العلاة بفتح أوله على وزن فعلة أرض بالشام، قلت: فلعله هو فغير، والله أعلم.

وذكر أبو عبيد أيضا في ترجمة العوصاء، بالصاد المهملة ممدودا، وهي بلد من أرض الشام ما نصه: «قَالَ الحارث بن حلزة يذكر قتل عمرو بن هند الحارث الغساني، بأبيه المنذر وأخذه ميسون بنت الحارث، وقبتها» .

إذ أحل العلاة قبة ميسون … فأدنى ديارها العوصاء

ثم قَالَ: العلاة أرض قريبة من العوصاء، وهي أقرب منزل أنزلها فيه عمرو حين أخرجها من الشام.
আমরা এই ঘরগুলোর কোনো কোনোটি হাড্ডিতে পরিপূর্ণ দেখেছি। তাদের অবস্থার বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তাদের শারীরিক গঠন আমাদের গঠনের মতোই ছিল। কেননা তাদের ঘরের দরজা ও কোণগুলো উচ্চতার দিক থেকে আমাদের স্বাভাবিক দরজার মাপের অনুরূপ ছিল। আল্লাহই ভালো জানেন।

উল্লিখিত জুমার দিনের জোহরের সময় আমরা আল-উলা নামক স্থানে অবতরণ করলাম এবং সেখানে পনেরো তারিখ শনিবার অবস্থান করলাম। এটি এমন একটি স্থান যেখানে পানি রয়েছে; যার কিছু ভূগর্ভস্থ পাথুরে গহ্বরে জমা এবং কিছু বালির ওপর দিয়ে প্রবাহিত। সেখানে খেজুর গাছ, শস্যখেত, একটি দুর্গ এবং ঘরবাড়ি রয়েছে।

সেই স্থানে সিরিয়ার অধিবাসীরা তাদের অতিরিক্ত পাথেয় গচ্ছিত রাখে, যাতে হজ ও জিয়ারত সম্পন্ন করে ফেরার সময় সেগুলো গ্রহণ করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা তাদের ভারবাহী পশুদের বোঝা হালকা করে।

এই স্থানের এই নামটি কোনো কিতাবে উল্লিখিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সম্ভবত এটি অন্য কোনো নামে পরিচিত ছিল।

আবু উবাইদ আল-বাকরি তার 'মু'জাম মা ইস্তা'জাম' গ্রন্থে সিরিয়ার একটি ভূখণ্ডের নাম 'আল-আলাহ' (প্রথম অক্ষরে ফাতহাহ দিয়ে ফালাহ ওজনে) উল্লেখ করেছেন। আমি বলি: সম্ভবত এটিই সেই জায়গা যার নাম পরবর্তীতে পরিবর্তিত হয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।

আবু উবাইদ সিরিয়ার একটি অঞ্চল 'আল-আওসা' (সাদ অক্ষর ও মাদ্দ সহযোগে) এর বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেছেন, যার পাঠ নিম্নরূপ: "হারিস বিন হিল্লিজাহ বর্ণনা করেছেন যে, আমর বিন হিন্দ তার পিতা আল-মুনজিরের হত্যার প্রতিশোধ নিতে হারিস আল-গাসসানিকে হত্যা করেন এবং হারিসের কন্যা মায়সুন ও তার গম্বুজসদৃশ তাবু ছিনিয়ে নেন।"

যখন সে আল-আলাহ নামক স্থানে মায়সুনের গম্বুজ নামাল … তখন তার নিকটতম আবাসস্থল হলো আল-আওসা।

এরপর তিনি বলেন: আল-আলাহ হলো আল-আওসার নিকটবর্তী একটি ভূমি। আমর যখন মায়সুনকে সিরিয়া থেকে বের করে আনেন, তখন এটিই ছিল নিকটতম মঞ্জিল যেখানে তিনি তাকে অবস্থান করিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٦)
ورحلنا من العلى غدوة يوم الأحد السادس عشر من ذي قعدة، وقد تضاعف الشوق وبرح الوجد، فسرنا على اسم الله تعالى منزلا منزلا إلى أن بلغنا وادي القرى، وأكثره خراب، فتجاوزناه والأرواح تكاد تفارق الأجساد شوقا إلى طيبة.

وفي عشي يوم السبت الثاني والعشرين تلقانا قريب العصر أهل المدينة على ساكنها الصلاة والسلام، مبشرين بالوصول إلى حضرة المصطفى الرسول صلى الله عليه وسلم، وجالبين من تمر المدينة ما يتحفون به القادمين ملتمسين رفدهم، وقد صنعوا عصيا في أطرافها أوعية صغار، فيجعلون فيها شيئا من التمر ويناولونه أهل القباب المسترة من بين ستورها، فيعطي كل أحد ما تيسر له من الرفد، ويدفعون إلى الركبان والمشيان أيضًا من ذلك على حكم التحفة والهدية، فيحسن كل على قدر وجده، ويقسمه الناس بينهم متبركين مستبشرين، ولقد رأيتهم يحنكون به الأطفال الصغار التماسا للبركة، وحق لهم ذلك.

وأصاب الناس عند الغروب مطر شديد لم يمكن معه تمادي المسير ولا ارتياد المنزل، فنزلوا في جوانب الوادي وتضايق حتى نزلوا بطنه، وكان هذا المنزل بمقربة من الموضع الذي يسمونه عيون حمزة، وتمادى المطر حتى طفيت النيران الظاهرة، والتهبت النيران الباطنة، وعصم الله من طروق السيل في تلك الساعة.

ولقد صلينا العشاء الآخرة في تلك الليلة، والماء على وجه الأرض يغلب
আমরা যিলকদ মাসের ১৬ তারিখ, রবিবার ভোরে উলা থেকে যাত্রা করলাম। তখন আমাদের আকাঙ্ক্ষা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তীব্র আবেগ গ্রাস করেছিল। আমরা মহান আল্লাহর নাম নিয়ে একের পর এক মনজিল অতিক্রম করে চললাম, যতক্ষণ না ওয়াদিউল কুরা-তে পৌঁছলাম, যার অধিকাংশ অংশই ছিল বিধ্বস্ত। আমরা তা অতিক্রম করে গেলাম, আর তায়বা (মদিনা)-র প্রতি ব্যাকুলতায় আমাদের প্রাণ যেন দেহ ত্যাগ করার উপক্রম হয়েছিল।

২২ তারিখ শনিবার অপরাহ্নে আসরের কাছাকাছি সময়ে মদিনাবাসীরা—তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক যিনি সেখানে অবস্থান করছেন—আমাদেরকে রাসূল আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দরবারে পৌঁছানোর সুসংবাদ দিতে দিতে অভ্যর্থনা জানালেন। তাঁরা মদিনার খেজুর নিয়ে এসেছিলেন যা তাঁরা আগন্তুকদের উপহার দিচ্ছিলেন এবং বিনিময়ে তাঁদের সাহায্য প্রার্থনা করছিলেন। তাঁরা কতগুলো লাঠি তৈরি করেছিলেন যার প্রান্তে ছিল ছোট ছোট পাত্র। তাঁরা তাতে কিছু খেজুর ভরে পর্দার অন্তরাল থেকে পালকিতে উপবিষ্টদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। আর প্রত্যেকেই নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান করছিলেন। সওয়ারী ও পথচারীদেরকেও তাঁরা উপহার ও উপঢৌকন হিসেবে তা দিচ্ছিলেন। ফলে প্রত্যেকেই তার সামর্থ্য অনুযায়ী অনুগ্রহ করছিল এবং বরকত ও আনন্দের সাথে তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিচ্ছিল। আমি দেখলাম, তাঁরা বরকতের আশায় শিশুদেরকে সেই খেজুর দিয়ে তাহনিক (মুখের তালুতে ঘষে দেওয়া) করছেন, আর এটাই ছিল তাঁদের জন্য সমীচীন।

সূর্যাস্তের সময় প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হলো, যার ফলে যাত্রা অব্যাহত রাখা বা উপযুক্ত অবস্থানস্থল নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়ল। তাই মানুষ উপত্যকার পার্শ্ববর্তী স্থানগুলোতে অবস্থান নিল এবং জায়গাটি এতোই সংকীর্ণ ছিল যে তাঁরা শেষ পর্যন্ত উপত্যকার তলদেশে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। এই মঞ্জিলটি ছিল ‘উয়ুনে হামযা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী। বৃষ্টি এতোটাই অব্যাহত ছিল যে বাহ্যিক আগুনগুলো নিভে গিয়েছিল, কিন্তু (আকাঙ্ক্ষার) অভ্যন্তরীণ আগুন ছিল প্রজ্জ্বলিত। আর সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে আকস্মিক প্লাবন থেকে রক্ষা করেছিলেন।

আমরা সেই রাতে এশার সালাত আদায় করলাম এমতাবস্থায় যে, যমিনের ওপর পানির প্রবল আধিক্য ছিল।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٧)
سيحا على الوجوه إلى أن ارتفع المطر وأصحت السماء، وأوقد الناس النيران، وتدفئوا ونشفوا أثوابهم، ولم يكن أصابنا من وقت خروجنا من الشام إلى تلك الليلة مطر لطفا من الله بنا، وكان المطر ينزل أمامنا فما نقدم منزلا إلا ألفيناه قد مطر بين أيدينا، وكأنما أرسل هذا المطر هدية إلينا ليطهرنا، ويفيض من البركات علينا فمكثنا هناك على مهاد القلق وفرش الشوق لم نكتحل بنوم.

وأبرح ما يكون الشوق يوما … إذا دنت الديار من الديار

إلى أن بقي من الليل نحو الربع وأخذنا في الرحيل، وارتفعت أصوات الحداة، وخفت الركاب واختفت، واهتاجت القلوب وخفقت، وهمعت الدموع حتى لقد كاد يسمع وقعها، ولمعت البروق من آفاق طيبة وتتابع لمعها، فما لمع برق إلا ضج الناس بالتسليم على النبي الكريم، فلله تلك الساعة، ما كان أطيبها، وتلك الأصوات ما كان أعذبها وأطربها.

فرحا بمغناه المقدس تربه … فرح المحب مبشرا بقبول

إلى أن تنفس الصبح وقد تراءت أعلام طيبة، مطوقة بالنور متوجة بالهيبة، وقد كدنا من الطرب نطير، وعاينا مرأى بديعا ما له في الوجود من نظير، وحين دنونا من جدران المدينة نفحتنا روائح كأنها العبير، فمن الناس من أقدمت به أريحية الشوق فتقدم، ومنهم من تأخرت به الهيبة فأحجم وما أقدم، حتى سكنت منه الحال، وتأهب لمشاهدة ذلك الجلال.
বৃষ্টির পানি চেহারার ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকল যতক্ষণ না বৃষ্টি থেমে গেল এবং আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল। মানুষ আগুন জ্বালাল, নিজেদের উষ্ণ করে নিল এবং তাদের কাপড় শুকাল। সিরিয়া ত্যাগের সময় থেকে সেই রাত পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ কোনো বৃষ্টি আমাদের স্পর্শ করেনি। বৃষ্টি আমাদের সামনে সামনে পড়ছিল; যখনই আমরা কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতাম, দেখতাম আমাদের পৌঁছানোর আগেই সেখানে বৃষ্টি হয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল যেন এই বৃষ্টি আমাদের পবিত্র করার জন্য এবং আমাদের ওপর বরকত বর্ষণের জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আমরা সেখানে উদ্বেগের শয্যায় এবং ব্যাকুলতার বিছানায় অবস্থান করলাম, আমাদের চোখে ঘুমের অঞ্জন বিন্দুমাত্র স্পর্শ করল না।

আর ব্যাকুলতা সবচেয়ে তীব্র হয় সেই দিন … যখন এক জনপদ অন্য জনপদের নিকটবর্তী হয়

রাতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ অবশিষ্ট থাকতে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। উটচালকদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত হলো, উষ্ট্রারোহীরা দ্রুতবেগে চলতে লাগল এবং দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। হৃদয়গুলো আন্দোলিত ও স্পন্দিত হলো, অঝোরে অশ্রু ঝরতে লাগল এমনকি প্রায় তার পতনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তাইয়েবার দিগন্ত থেকে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করল এবং তার ঝিলিক চলতেই থাকল। যখনই বিদ্যুৎ চমকাত, অমনি মানুষ সম্মানিত নবীর প্রতি সালাম পেশ করে উচ্চধ্বনি করে উঠত। আল্লাহর কসম সেই মুহূর্তটি, তা কতই না মনোরম ছিল! আর সেই শব্দগুলো কতই না সুমধুর ও হৃদয়গ্রাহী ছিল!

তার পবিত্র স্থানের মাটির সান্নিধ্যের আনন্দে আনন্দিত … যেমন একজন প্রেমিকের আনন্দ যাকে কবুল হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে

অবশেষে ভোর হলো এবং তাইয়েবার নিশানসমূহ দৃষ্টিগোচর হলো, যা নূরে ঘেরা এবং গাম্ভীর্যের মুকুটে ভূষিত। আনন্দের আতিশয্যে আমাদের প্রায় উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আমরা এমন এক অপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করলাম যার এই জগতে কোনো তুলনা নেই। যখন আমরা মদিনার প্রাচীরের নিকটবর্তী হলাম, তখন আমাদের মাঝে এমন সুগন্ধ প্রবাহিত হলো যা যেন কস্তুরীর সুবাস। কিছু লোক তো ব্যাকুলতার আতিশয্যে সামনের দিকে এগিয়ে গেল, আবার কেউ গাম্ভীর্যের কারণে পিছিয়ে থাকল এবং অগ্রসর হতে সাহসী হলো না, যতক্ষণ না তার অবস্থা স্থিতিশীল হলো এবং সে সেই মহিমা দর্শনের জন্য প্রস্তুত হলো।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وكان نزولنا على اليمن والبركة بظاهر طيبة شرفها الله وقت الضحاء من يوم الأحد الثالث والعشرين لذي قعدة، فأخذ الناس منازلهم واغتسلوا، وتجملوا للقدوم على الضريح الطاهر، فلله ذاك اليوم ما أعظمه وأسعده وأكرمه، أعزز به من عيد سعيد فاق كل عيد، فهو خير أيام العمر، وأسعد أوقات الدهر، وتاريخ مولد السعادة، ومفتاح الحسنى والزيادة.

ثم دخلنا المدينة شرفها الله للسلام على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد ملأ السرور قلوبنا وملك التوقير جوارحنا، واستعملنا سنة السلام وحييناه صلى الله عليه وسلم بتحية الإجلال والإعظام، ووقفنا حيث حده العلماء من ضريحه الكريم، المخصوص بالتشريف والتعظيم، وقضينا المستطاع من أدب التحية وكادت تغلب الوقار الأريحية ولله در شيخنا الأديب الصوفي أبي يعقوب يوسف بن أبي الحسن على البكري المهدوي عرف بابن السماط حيث يقول، وهو أيضًا قائل البيت الذي تمثلت به آنفا:

وإذا أسأت تأدبي بحماكم … عفوا، فإني غبت عن معقولي

من ذا يرى حرم الحبيب فيهتدي … لتميز المعلوم والمجهول

ولي من كلمة في نحو هذا:

وإن أضع أدبا فالصفح ملتمس … إني بقلب من الإعظام ملآن

من ذا يرى ربع محبوب فيصبر عن … لثم وتعفير خد فعل ولهان

ثم قضينا حق السلام على خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم الصديق، ثانيه في الغار والعريش والطريق، ثم على أمير المؤمنين الفاروق ثالثهما في المدفن الكريم المقدس، وتالي أبي بكر في المكانة، الذي اختصه بحمل أعباء الخلافة بعده
আমাদের অবতরণ ছিল বরকত ও কল্যাণের সাথে তাইবা (মদীনা)-এর উপকণ্ঠে—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন—জিলকদ মাসের তেইশ তারিখ রবিবার চাশতের সময়। এরপর মানুষ নিজ নিজ আবাসন গ্রহণ করল এবং পবিত্র রওজায় উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে গোসল ও সুসজ্জিত হলো। আল্লাহর শপথ, সেই দিনটি কতই না মহান, কতই না সৌভাগ্যময় এবং কতই না সম্মানিত ছিল! একে এমন এক শুভ ঈদ হিসেবে গণ্য করুন যা সকল ঈদকে ছাড়িয়ে গেছে; কারণ তা ছিল জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন, কালের সবচেয়ে সৌভাগ্যময় সময়, সৌভাগ্যের শুভলগ্ন এবং কল্যাণ ও প্রাচুর্যের চাবিকাঠি।

অতঃপর আমরা মদীনা—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন—প্রবেশ করলাম নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর প্রতি সালাম পেশ করার জন্য। তখন আমাদের অন্তরসমূহ আনন্দে পরিপূর্ণ ছিল এবং গভীর শ্রদ্ধা আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। আমরা সালামের সুন্নাহ পালন করলাম এবং তাঁকে (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মহিমা ও সম্মানের সাথে অভিবাদন জানালাম। ওলামায়ে কেরাম তাঁর সম্মানিত রওজার যে সীমানা নির্ধারণ করেছেন—যা বিশেষ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত—আমরা সেখানে দাঁড়ালাম। আমরা সালামের শিষ্টাচার পালনে সাধ্যমতো সচেষ্ট হলাম, যদিও প্রবল আবেগ গাম্ভীর্যের ওপর জয়ী হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আমাদের শায়খ সাহিত্যিক ও সূফী আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন আবিল হাসান আলি আল-বাকরি আল-মাহদাভি—যিনি ইবনুল সাম্মাত নামে পরিচিত—আল্লাহ তাঁর জ্ঞান ও গুণকে বৃদ্ধি করুন, তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন; আর তিনিই সেই পঙ্ক্তিটির রচয়িতা যা আমি ইতিপূর্বে উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছি:

যদি আপনার আঙিনায় আমার শিষ্টাচারে ত্রুটি ঘটে থাকে … তবে ক্ষমা করবেন, কারণ আমি আমার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।

কে আছে এমন যে প্রিয়তমের পবিত্র আঙিনা দর্শন করবে, আর তারপরও … জানা ও অজানার পার্থক্য করার মতো সুস্থির থাকতে পারবে?

এই প্রসঙ্গে আমারও কিছু পঙ্ক্তি রয়েছে:

যদি আমি শিষ্টাচার রক্ষা করতে ব্যর্থ হই তবে ক্ষমা করবেন … কারণ আমার অন্তর শ্রদ্ধায় কানায় কানায় পূর্ণ।

কে আছে এমন যে প্রিয়তমের আবাসস্থল দেখবে অথচ … ব্যাকুল হয়ে চুমু খাওয়া ও ধূলিমলিন হওয়া থেকে নিজেকে সংবরণ করতে পারবে?

অতঃপর আমরা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর খলিফা সিদ্দীক-এর প্রতি সালাম পেশ করার হক আদায় করলাম, যিনি গুহায়, যুদ্ধক্ষেত্রে ও যাত্রাপথে তাঁর দ্বিতীয় সঙ্গী ছিলেন। এরপর আমীরুল মুমিনীন ফারুক-এর প্রতি সালাম পেশ করলাম, যিনি এই পবিত্র ও বরকতময় সমাধিস্থলে তাঁদের মাঝে তৃতীয় এবং মর্যাদার দিক থেকে আবু বকরের অনুসারী, যাঁকে তিনি তাঁর পরে খিলাফতের গুরুভার বহনের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ١٩)
وفوض إليه ملقيا مقاليد تلك الأمانة، رضي الله عنهما وجزاهما أفضل ما جزي صاحبي نبي عنه.

ثم زرنا بالبقيع قبر أمير المؤمنين ذو النورين وثالث العمرين رضوان الله عليه وقبره في طرف البقيع بقيع الغرقد بالموضع المعروف بحش كوكب، ودفنت معه في قبة واحدة فاطمة بنت أسد رضي الله عنها أم أمير المؤمنين وابن عم سيد المرسلين أبي الحسن علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وقرأنا على مهد قبرها منقوشا: «ما ضم قبر أم أحد، كفاطمة بنت أسد» .

وفاطمة هذه هي بنت أسد بن هاشم بن عبد مناف، أم علي وإخوته، وهي أول هاشمية ولدت لهاشمي، وهاجرت إلى المدينة وبها ماتت، وشهدها رسول الله صلى الله عليه وسلم وشرف وكرم، وألبسها قميصه، واضطجع معها في قبرها، فسئل عن ذلك فقال: «لم يكن أحد بعد أبي طالب أبر بي منها، ألبستها قميصي لتكسي من حلل الجنة، وأضجعت معها ليهون عليها» وزرنا من عرف قبره من الصحابة رضوان الله عليهم والصحابيات، وقبر إمام دار الهجرة أبي عبد الله مالك بن أنس رضوان الله عليه، وخرجنا ماشين إلى قباء اقتداء بزيارته صلى الله عليه وسلم إياها، وصلينا في مسجدها في الموضع الذي يقال إنه كان صلى الله عليه وسلم يصلي فيه، وشربنا من العين التي هنالك، والحمد لله على نعمة الصافية وآلائه الضافية.
এবং তিনি সেই আমানতের চাবিকাঠি তাঁর কাছে সোপর্দ করলেন; আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে এমন সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন যা একজন নবীর পক্ষ থেকে তাঁর দুই সঙ্গীকে দেওয়া হয়।

অতঃপর আমরা বাক্বী’তে আমীরুল মুমিনীন যুন-নূরাইন এবং তৃতীয় উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবর যিয়ারত করলাম। তাঁর কবর বাক্বীউল গারক্বাদের এক প্রান্তে 'হাশশু কাওকাব' নামক পরিচিত স্থানে অবস্থিত। তাঁর সাথে একই গম্বুজের নিচে ফাতিমা বিনতে আসাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সমাহিত আছেন, যিনি আমীরুল মুমিনীন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন-এর চাচাতো ভাই আবুল হাসান আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জননী। আমরা তাঁর কবরের ফলকে খোদাই করা এই কথাটি পাঠ করলাম: «কোনো কবর ফাতিমা বিনতে আসাদের মতো আর কোনো মাকে এভাবে নিজের ভেতর ধারণ করেনি»।

এই ফাতিমা হলেন আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফের কন্যা, আলী ও তাঁর ভাইদের জননী। তিনি ছিলেন প্রথম হাশেমী নারী যিনি কোনো হাশেমী পুরুষের ঔরসে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়ে তাঁকে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেন। তিনি তাঁকে নিজের জামা পরিয়ে দেন এবং তাঁর কবরে তাঁর সাথে শয়ন করেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «আবু তালিবের পর আমার প্রতি তাঁর চেয়ে বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী আর কেউ ছিল না। আমি তাঁকে আমার জামা পরিয়েছি যাতে তাঁকে জান্নাতের পোশাক পরানো হয়, আর তাঁর সাথে কবরে শুয়েছি যাতে তাঁর ওপর কবরের কষ্ট লাঘব হয়»। আমরা সাহাবী ও সাহাবীয়াদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে যাদের কবর সুপরিচিত ছিল তাঁদের যিয়ারত করলাম এবং দারুল হিজরাতের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবরও যিয়ারত করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যিয়ারতের অনুসরণে আমরা পদব্রজে কুবা’র দিকে রওনা হলাম এবং তাঁর মসজিদে সেই স্থানে সালাত আদায় করলাম যেখানে বলা হয় যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতেন। আমরা সেখানকার ঝরনা থেকে পানি পান করলাম। আল্লাহর নির্মল নিআমত ও ব্যাপক অনুগ্রহের জন্য তাঁরই সকল প্রশংসা।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ذكر أسماء مدينة النبي صلى الله عليه وسلم: تسمى مدينة الرسول، فإذا قيل المدينة غير مضافة علم أنها هي فصارت كالنجم.

وقد سميت في كتاب الله يثرب، وفي الحديث: «من قَالَ يثرب فليقل المدينة» ، وهي الدار، قَالَ الله تعالى: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ} [الحشر: 9] ، وهي طيبة وطابة والعرباء، وهي جابرة والمجبورة والمحبة والمحبوبة والقاصمة قصمت الجبابرة ويندد.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহরের নামসমূহের আলোচনা: একে রাসূলের শহর বলা হয়। যখন কোনো সম্বন্ধপদ ব্যতিরেকে কেবল 'আল-মাদিনা' বলা হয়, তখন এটি যে সেই শহরটিকেই বোঝায় তা সুনিশ্চিতভাবে জানা যায়, ফলে এটি (আকাশের) নক্ষত্রের ন্যায় সুপ্রসিদ্ধ হয়ে গেছে।

আল্লাহর কিতাবে একে ইয়াসরিব নামে অভিহিত করা হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «যে ব্যক্তি ইয়াসরিব বলবে, সে যেন একে মাদিনা বলে»। এর অপর নাম হলো 'আদ-দার' (বাসগৃহ), মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর যারা তাদের পূর্বে এই বাসগৃহে ও ঈমানে স্থান করে নিয়েছে} [হাশর: ৯]। একে তায়িবা, তাবা এবং আল-আরবা নামেও ডাকা হয়। আরও কিছু নাম হলো জাবিরাহ, মাজবুরাহ, মুহিব্বাহ, মাহবুবা এবং আল-কাসিমা—কেননা এটি উদ্ধত যালিমদের চূর্ণ করে দেয়। এর আরেকটি নাম হলো ইয়ানদাদ।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢١)
ذكر من لقيناه بمدينة النبي صلى الله عليه وسلم وشرف وكرم من العلماء والرواة 3 - أم الخير فاطمة البطائحي فمنهم الشيخة الصالحة الكاتبة أم الخير أم محمد فاطمة بنت إبراهيم بن محمود بن جوهر البعلبكي المعروف البطائحي رضي الله عنها، قدمت في ركب الشام زائرة وحاجة، لقيتها بمسجد المصطفي صلى الله عليه وسلم، وقرئ عليها، وهي مستندة إلى جانب رواق الروضة الكريمة المحمدية على ساكنيها السلام، تجاه رأس المصطفى الكريم وكتبت لي خطها بالإجازة هنالك في جميع مروياتها، ولبني أبي القاسم وعائشة وأمه الله، ولأخواتي ومن تسمى معنا في الإجازة، وبمحضر من ابنها، واسمه في غالب ظني محمد، وكانت تسدل جلبابها على وجهها حياء وصونا رضي الله عنها.

قرأت على الشيخة الصالحة أم الخير أم محمد فاطمة بنت إبراهيم البطائحي تجاه رأس المصطفى الكريم عليه أفضل الصلاة وأكمل التسليم، بين قبره ومنبره في الرابع والعشرين لذي قعدة،

قُلْتُ: أَخْبَرَكِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْكِ، الْحُسَيْنُ بْنُ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শহর (যাকে আল্লাহ সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন)—সেখানের যে সকল আলেম ও বর্ণনাকারীদের সাথে আমরা সাক্ষাৎ করেছি তাদের আলোচনা: ৩ - উম্মুল খায়ের ফাতিমা আল-বাতাইহি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন নেককার শাইখা ও লেখিকা উম্মুল খায়ের উম্মু মুহাম্মাদ ফাতিমা বিনতে ইবরাহিম বিন মাহমুদ বিন জাওহার আল-বালাবাক্কি, যিনি আল-বাতাইহি নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)। তিনি সিরীয় কাফেলার সাথে জিয়ারতকারী ও হজ পালনকারী হিসেবে এসেছিলেন। আমি তাঁর সাথে আল-মুস্তফার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে সাক্ষাৎ করেছি। তাঁর সামনে (হাদিস) পাঠ করা হয়েছে, তখন তিনি মুহাম্মাদি রওজা শরীফের (সেখানকার অধিবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বারান্দার এক পাশে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, যা সম্মানিত আল-মুস্তফার শির মোবারকের দিকে অবস্থিত। তিনি সেখানে আমাকে তাঁর সকল বর্ণিত হাদিসের জন্য নিজ হাতে ইজাজত লিখে দিয়েছেন, এবং আবুল কাসিমের পুত্রদের জন্য, আয়িশার জন্য, আমাতুল্লাহর জন্য, আমার বোনদের জন্য এবং যাদের নাম আমাদের সাথে ইজাজতে উল্লিখিত হয়েছে তাদের সবার জন্য। এটি তাঁর পুত্রের উপস্থিতিতে হয়েছিল, যার নাম আমার প্রবল ধারণা মতে মুহাম্মাদ। লজ্জা ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে তিনি তাঁর চেহারার ওপর জিলবাব ঝুলিয়ে রাখতেন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)।

আমি নেককার শাইখা উম্মুল খায়ের উম্মু মুহাম্মাদ ফাতিমা বিনতে ইবরাহিম আল-বাতাইহির সামনে পাঠ করেছি সম্মানিত আল-মুস্তফার (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক) শির মোবারকের দিকে মুখ করে, তাঁর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে, চব্বিশে জিলকদ তারিখে।

আমি বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন, হুসাইন বিন... কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন?
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الْمُبَارَكِ بْنِ مُحَمَّدٍ الزُّبَيْدِيُّ، بِسَمَاعِكِ عَلَيْهِ فَأَشَارَتْ أَنْ نَعَمْ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَيْخُ الْوَقْتِ أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ السِّجْزِيُّ الصُّوفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ، قَالَ: أنا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُظَفَّرِ الدَّاوُدِيُّ الْبُوشَنْجِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ بِبُوشَنْجَ، قَالَ: أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمُّوَيْهِ السَّرَخْسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَطَرٍ الْفَرَبْرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ الأَحْنَفِ الْجُعْفِيُّ مَوْلاهُمْ، قَالَ: أنا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
আল-মুবরাক বিন মুহাম্মদ আজ-যুবায়দী, তাঁর নিকট আপনার শ্রবণের মাধ্যমে; অতঃপর তিনি (ইশারায়) হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানালেন। তিনি বলেন: সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খ আবু আল-ওয়াকত আব্দুল আওয়াল বিন ঈসা বিন শুআইব আস-সিজযী আস-সুফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমরা তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফ্ফার আদ-দাউদী আল-বুশাঞ্জী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন বুশাঞ্জ শহরে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্মুওয়াহ আস-সারাখসী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাতার আল-ফারাবরী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগীরা বিন আল-আহনাফ আল-জুফী (তাদের আযাদকৃত দাস) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুসাদ্দাদ, ইয়াহইয়া থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি বলেন: খুবাইব বিন আব্দুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস বিন আসিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌«مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي»

ومما قرئ عليها، وأنا أسمع بالروضة
المحمدية تجاه رأس المصطفى الكريم عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم، جميع الجزء المعروف بجزء أبي الجهم العلاء بن موسى الباهلي رحمه الله، بسماعها من أبي عبد الله الزبيدي لجميعه، بسماعه من أبي الوقت سنة ثلاث وخمسين وخمس مائة قيل له، أخبركم أبو عبد الله محمد بن أبي مسعود عبد العزيز الفارسي، سنة تسع وستين وأربع مائة، أنا الشيخ الفقيه الصالح أبو محمد عبد الرحمن بن أبي شريح الأنصاري، أنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي، رحمه الله، ثنا أبو الجهم العلاء بن موسى بن عطية الباهلي رحمه الله إملاء من كتابه في منزله في شهر ربيع الآخر سنة تسع وعشرين ومائتين وذكر جميع الجزء.
«আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহ থেকে একটি বাগান, আর আমার মিম্বরটি আমার হাউযের উপরে»

সেখানে যা কিছু পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি শুনছিলাম সেই রওজা
মুহাম্মাদীতে সম্মানিত আল-মুস্তফার শিয়রে দাঁড়িয়ে—যাঁর প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম—তা হলো আবু আল-জাহম আলা বিন মুসা আল-বাহিলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নামে পরিচিত সম্পূর্ণ 'জুয' (হাদিস-সংগ্রহ), যা আবু আব্দুল্লাহ আল-জুবাইদি থেকে সম্পূর্ণ শ্রবণ করা হয়েছে, যা তিনি পাঁচশত তিপ্পান্ন হিজরি সনে আবুল ওয়াক্ত থেকে শ্রবণ করেছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি মাসউদ আব্দুল আজিজ আল-ফারিসি, চারশত ঊনসত্তর হিজরি সনে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ফকিহ সালিহ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন আবি শুরাইহ আল-আনসারি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাউয়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন); আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আল-জাহম আলা বিন মুসা বিন আতিয়্যাহ আল-বাহিলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), তাঁর নিজ বাসভবনে দুইশত ঊনত্রিশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে তাঁর কিতাব হতে শ্রুতিলিখন (ইমলা) হিসেবে এবং সম্পূর্ণ জুযটি সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ومنه بالإسناد إلى أبي الجهم وهو أول حديث منه:

أنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ الْمِصْرِيُّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا يَدْخُلُ أَحَدٌ مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ النَّارَ»

ومنه بالإسناد:

أنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ

‌‌خَيْرَ مَا رُكِبَتْ إِلَيْهِ الرَّوَاحِلُ مَسْجِدِي هَذَا وَالْبَيْتُ الْعَتِيقُ»

ومنه بالإسناد:

أنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ امْرَأَةً اشْتَكَتْ شَكْوَى فَنَذَرَتْ لَئِنْ شَفَانِي اللَّهُ لأَخْرُجَنَّ فَلأُصَلِّيَنَّ فِي
এবং সেই একই কিতাব থেকে আবু জাহম পর্যন্ত সূত্রের মাধ্যমে, আর এটি সেই কিতাবের প্রথম হাদিস:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লায়স ইবন সা’দ আল-মিসরি, তিনি আবুয যুবাইর আল-মাক্কি থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «গাছের নিচে যারা আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছিল, তাদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না»

এবং একই সূত্রের মাধ্যমে:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লায়স ইবন সা’দ, তিনি আবুয যুবাইর থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই

সর্বোত্তম স্থান যার উদ্দেশ্যে সওয়ারি চালনা করা হয়, তা হলো আমার এই মসজিদ এবং প্রাচীন ঘর (কাবা)»

এবং একই সূত্রের মাধ্যমে:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লায়স ইবন সা’দ, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন মা’বাদ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখন তিনি মানত করেছিলেন যে, যদি আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেন তবে আমি অবশ্যই বের হব এবং অবশ্যই সালাত আদায় করব...
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَبَرَئَتْ وَصَحَّتْ، وَظَهَرَتْ تُرِيدُ الْخُرُوجَ، فَلَمَّا أَتَتْ مَيْمُونَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُسَلِّمُ عَلَيْهَا، فَأَخْبَرَتْهَا بِذَلِكَ، فَقَالَتِ: انْطَلِقِي فَكُلِي مَا صَنَعْتِ وَصَلِّي فِي مَسْجِدِ الرَّسُولِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «

‌‌صَلاةٌ فِيهِ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاةٍ فِي مَا سُوَاهُ إِلا مَسْجِدَ الْكَعْبَةِ» .

قُلْتُ: كَذَا سَمِعْنَا هَذَا الْحَدِيثَ عَلَى
فَاطِمَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ امْرَأَةً» ، وَكَذَلِكَ رَأَيْتُهُ فِي الأَصْلِ الْمَسْمُوعِ عَلَى ابْنِ أَبِي مَسْعُودٍ الْفَارِسِيِّ، وَفِي غَيْرِهِ مِنَ الأُصُولِ، وَلَعَلَّهُ سَقَطَ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَالْحَدِيثُ عِنْدَ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ، رحمه الله، عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ رُمْحٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: وَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَفِي اللَّفْظِ اخْتِلافٌ يَسِيرٌ

إبراهيم هذا هو ابن عبد الله بن معبد بن عباس بن عبد المطلب، أخرج له مسلم دون البخاري، يروي عن أبيه عبد الله.

وذكر محمد بن طاهر المقدسي، في كتابه الذي جمع فيه رجال الصحيحين، أن إبراهيم هذا يروي عن ميمونة عند مسلم، ولم يعين الموضع، فما أدري أعنى هذا الموضع أم غيره فزد فيه بحثا
বাইতুল মাকদিস। অতঃপর তিনি আরোগ্য লাভ করলেন ও সুস্থ হলেন এবং (মানত পূরণের জন্য) বের হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট সালাম দিতে আসলেন এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন, তখন তিনি বললেন: তুমি যাও এবং যা প্রস্তুত করেছ তা ভক্ষণ করো এবং রাসূলের মসজিদে সালাত আদায় করো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

‌‌"এখানকার এক ওয়াক্ত সালাত কাবা মসজিদ ব্যতীত অন্য যেকোনো স্থানের এক হাজার ওয়াক্ত সালাতের চেয়ে উত্তম।"

আমি বললাম: আমরা এই হাদিসটি ফাতিমার নিকট এভাবেই শুনেছি; তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা’বাদ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এক নারী..."। একইভাবে আমি ইবনে আবু মাসউদ আল-ফারিসির নিকট পঠিত মূল পাণ্ডুলিপিতে এবং অন্যান্য মূলে দেখেছি। সম্ভবত এতে ইবনে আব্বাসের নাম (সূত্র থেকে) বাদ পড়েছে। হাদিসটি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনে রুমহ থেকে, তাঁরা লাইস থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা’বাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে যে, তিনি বলেছেন... এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। তবে শব্দবিন্যাসে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

এই ইবরাহিম হলেন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মা’বাদ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, বুখারি করেননি। তিনি তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন।

মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি তাঁর কিতাবে—যেখানে তিনি সহীহাইনের বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলন করেছেন—উল্লেখ করেছেন যে, এই ইবরাহিম ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় মায়মুনা থেকে বর্ণনা করেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট স্থানটি উল্লেখ করেননি। তাই আমি জানি না তিনি কি এই স্থানটি বুঝিয়েছেন নাকি অন্য কিছু। সুতরাং তুমি এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করো।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ورجع إلى أبي محمد عبد الرحيم بن محمد بن أحمد الزجاج البغدادي، وابن أخيه أبي القاسم عبد الحميد بن أحمد بن محمد بن أحمد الزجاج.

وممن لقيناه بطيبة زادها الله طيبا: الشيخان الفاضلان الشيخ الإمام العالم بقيه السلف مفتي المسلمين عفيف الدين أبو محمد عبد الرحيم بن محمد بن أحمد بن فارس بن راض العلثي، شهر بابن الزجاج البغدادي، وابن أخيه الشيخ الجليل أبو القاسم عبد الحميد بن أحمد بن محمد المذكور، وهما المتقدم ذكرهما، بوادي الأزرق، ثم بتبوك.

فمما قرئ عليهما وأنا أسمع عند علامة حد الجدار الجوفي الأصلي قبل الزيادة من مسجد المصطفى صلوات الله عليه، وسلامة مع الأنفاس مهدى إليه، وذلك في عشي يوم الاثنين الرابع والعشرين لذي قعدة، وفصلت صلاة المغرب ثم اتصلت القراءة إلى قريب العشاء الآخرة من الليلة المسفر صباحها عن الخامس والعشرين، ونحن نشاهد الروضة الكريمة، وكان مجلسا مباركا كريما، نرجو به من الله فضلا عظيما وثوابا جسيما، كثر فيه ترداد الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم لتردد ذكره الكريم في القصيد المقروء مرة في كل بيت منه أو مرات، لالتزام قائله تكرار اسمه المشرف المكرم في كل قافية من القصيد على طوله ولسان حالي ينشد ما قلته من قصيد:

أعد حديث أحبائي علي فما … يمل سمعي منه بالإعادات

أسعد بها من ليلة تحليت من تجلي أنوارها بأشراف حلية، وانتظمت في سلك الوافدين العلية، وحللت أكرم منزل، وضفت أفضل مرسل، راجيا كريم القرى، داعيا بتمام النعمة ببلوغ أم القرى، اللهم كما أفضت علينا نعمك، وأحللتنا حرم نبيك، عليه الصلاة والسلام، فأحللنا حرمك، وأفض دائما علينا كرمك إنك المنعم الكريم الغفور الرحيم.
আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-জাজ্জাজ আল-বাগদাদি এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আবুল কাসিম আব্দুল হামিদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-জাজ্জাজের নিকট ফিরে আসা হয়েছে।

তাইবাতে (আল্লাহ যার পবিত্রতা ও সুগন্ধ বৃদ্ধি করুন) আমরা যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি তাদের মধ্যে রয়েছেন: দুই ফযিলতপূর্ণ শাইখ, শাইখ, ইমাম, আলিম, পূর্বসূরীদের অবশিষ্টাংশ, মুসলিমদের মুফতি, আফিফ উদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ফারিস বিন রায আল-আলসি, যিনি ইবনুল জাজ্জাজ আল-বাগদাদি নামে পরিচিত, এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মহান শাইখ আবুল কাসিম আব্দুল হামিদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, যাঁর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াদি আল-আযরাকে এবং পরবর্তীতে তাবুকে।

তাঁদের সামনে যা পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম নবী মুস্তফার (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) মসজিদের বর্ধিত অংশের পূর্বের মূল উত্তরীয় দেয়ালের সীমানার চিহ্নের নিকটে; প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে তাঁর প্রতি সালাম নিবেদিত হোক। আর তা ছিল যিলকদ মাসের চব্বিশ তারিখ সোমবার সন্ধ্যায়। মাগরিবের সালাত আদায় করার পর পাঠ পুনরায় শুরু হয় এবং এশার সালাতের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত তা চলতে থাকে, সেই রাতটির সকাল ছিল পঁচিশ তারিখ। আমরা তখন পবিত্র রওযা প্রত্যক্ষ করছিলাম। এটি ছিল এক বরকতময় ও সম্মানিত মজলিস, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নিকট মহান অনুগ্রহ এবং বিশাল সওয়াবের আশা রাখি। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর প্রচুর পরিমাণে দরুদ পাঠ করা হয়েছে, কারণ পঠিত কাসিদাটির প্রতিটি পঙক্তিতে একবার বা একাধিকবার তাঁর সম্মানিত যিকির ফিরে আসছিল। কেননা এর রচয়িতা কাসিদাটির দীর্ঘতা জুড়ে প্রতিটি অন্ত্যমিলে তাঁর সম্মানিত ও বরকতময় নাম বারবার উল্লেখ করার আবশ্যকতা রক্ষা করেছিলেন। আর আমার তৎকালীন অবস্থা আমারই রচিত একটি কাসিদার পঙক্তি আবৃত্তি করছিল:

আমার প্রিয়জনদের কথা আমার কাছে পুনরায় বলো, কেননা … বারবার তা শুনে আমার শ্রবণেন্দ্রিয় ক্লান্ত হয় না।

কতই না সৌভাগ্যময় সেই রাতটি, যার নূরের বিচ্ছুরণ থেকে আমি সর্বোত্তম অলংকারে অলঙ্কৃত হয়েছিলাম, এবং উচ্চমর্যাদাবান আগন্তুকদের শ্রেণিতে শামিল হয়েছিলাম। আমি সবচেয়ে সম্মানিত স্থানে অবতরণ করেছি এবং সর্বোত্তম রাসূলের মেহমান হয়েছি। আল্লাহর মহান আতিথেয়তার আশা করছি এবং উম্মুল কুরায় (মক্কায়) পৌঁছানোর মাধ্যমে নিয়ামতের পূর্ণতার জন্য দোয়া করছি। হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে আমাদের ওপর আপনার নিয়ামতসমূহ ঢেলে দিয়েছেন এবং আপনার নবীর (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) হারামে আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তেমনি আমাদের আপনার হারামেও পৌঁছিয়ে দিন। সর্বদা আমাদের ওপর আপনার দয়া বর্ষণ করুন; নিশ্চয়ই আপনি নিয়ামতদাতা, মহানুভব, ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قصيد أبي عبد الرحمن الشحامي رحمه الله.

قيل لهما: قرئ على الشيخ الجليل أبي الفضل محمد بن محمد بن الحسن بن السباك الوكيل وأنتما حاضران تسمعان، وذلك يوم الجمعة رابع عشرين، جمادى الأولى من سنة تسع وعشرين بمسجد ابن بورنداز بالمأمونية شرقي بغداد، فأقرا به، قيل له: أخبرك الخطيب ضياء الدين أبو عبد الرحمن محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن أبي بكر الكشميهني كتابة، قَالَ: أنا أبو القاسم زاهر بن طاهر بن محمد الشحامي النيسابوري بهمذان في شهر رمضان من سنة خمس وعشرين وخمس مائة.

قال شيخنا عفيف الدين أبو محمد بن الزجاج: وأنا به إجازة عبد الصمد بن محمد الحرستاني، قَالَ: أنا أبو القاسم زاهر إجازة قَالَ، أنشدنا والدي أبو عبد الرحمن طاهر بن محمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن يوسف بن محمد بن المرزبان الشحامي لنفسه، قَالَ: أفتتح بذكر الله والصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
আবু আব্দুর রহমান আশ-শাহহামী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কবিতা।

তাঁদের উভয়কে বলা হলো: মহান শায়খ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আস-সাব্বাক আল-ওয়াকীল-এর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আপনারা উভয়ই উপস্থিত থেকে তা শ্রবণ করছিলেন; আর তা ছিল বাগদাদের পূর্বপ্রান্তের আল-মামুনিয়ার ইবনে বুরান্দায মসজিদে, পাঁচশত ঊনত্রিশ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসের চব্বিশ তারিখ শুক্রবার; অতঃপর তাঁরা তা স্বীকার করে নিলেন। তাঁকে বলা হলো: খতীব জিয়াউদ্দীন আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর আল-কুশমীহানী আপনাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল কাসিম যাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মদ আশ-শাহহামী আন-নিসাবুরী আমাদের নিকট হামাদানে পাঁচশত পঁচিশ হিজরী সনের রমজান মাসে বর্ণনা করেছেন।

আমাদের শায়খ আফীফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ বিন আয-যাজ্জাজ বলেছেন: আব্দুস সামাদ বিন মুহাম্মদ আল-হারাসতানী আমাকে ইজাজত প্রদান করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল কাসিম যাহির আমাকে ইজাজত প্রদান করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আবু আব্দুর রহমান তাহির বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মারযুবান আশ-শাহহামী নিজের রচিত কবিতা আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন; তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে শুরু করছি।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
لأصلين على النبي محمد … أبدا كما يرضى وآل محمد

خير البرايا أجمعين محمد … والآل خير الآل آل محمد

خير الصحابة في الورى أصحابه … وأعز بيت أهل بيت محمد

خير النساء بناته، ونساؤه … حق الجميع مؤكد بمحمد

خير البرايا أمة من بعدهم … مرحومة قد آمنت بمحمد

ثم ذكر خلقة المصطفى صلى الله عليه وسلم ووصف أعضاءه وأوصافه، ثم أسماءه، ثم البعثة والرسالة، وإظهار الدين، وخصائص الإسلام، والمعراج، وإكمال الدين، وإبلاغ الرسالة من خصائصه بعد وفاته صلى الله عليه وسلم، ثم الصحابة وحسن مؤازرتهم إياه، ثم شرفه صلى الله عليه وسلم في القيامة وخصائصه فيها، ثم اعتذر أخيرا عن تكرار القافية بعد أن قَالَ:

قد قَالَ حسان وقولي قوله … في مدح خير العالمين محمد

ما أن مدحت محمدا بمقالتي … لكن مدحت مقالتي بمحمد

ثم اعتذر فقال:

أكثرت تكراري لذكر محمد … حبا له فخرا بحب محمد

حب هو الإيمان إيثارا على … حب الورى والنفس حب محمد

جعل الإلاه صلاته وسلامه … حقا توجه للنبي محمد

وبذاك قد أمر الورى ليثيبهم … عشرا بواحدة إلاه محمد

لا يقبل الله الصلاة من امرئ … ما لم يصل على النبي محمد

حجب الدعاء عن السماء إذا علا … دون الصلاة على النبي محمد

أوما عليه سلام مكة سلمت … وتنكست أصنامها لمحمد

أوفوا الصلاة عليه ثمت سلموا … حتى تروا رضوان رب محمد

يا رب أكرمنا وأكرم نزلنا … وأغفر لنا وارحم بحق محمد

يا رب واخصص بالكرامة عبدك … الراجي لفضلك طاهر بن محمد
আমি নবী মুহাম্মদ … এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর সর্বদা দরুদ পাঠ করব, যেভাবে তিনি সন্তুষ্ট হন।

সমগ্র সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মদ … আর সকল পরিবারের মাঝে শ্রেষ্ঠ হলো মুহাম্মদের পরিবার।

সৃষ্টিজগতের মাঝে শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ হলেন তাঁর সাহাবীগণ … আর সবচেয়ে সম্মানিত ঘর হলো মুহাম্মদের আহলে বাইত।

শ্রেষ্ঠ নারীগণ হলেন তাঁর কন্যাগণ ও স্ত্রীগণ … মুহাম্মদের উসিলায় সকলের অধিকার সুনিশ্চিত।

তাঁদের পরে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জাতি হলো সেই উম্মত … যারা দয়াপ্রাপ্ত এবং মুহাম্মদের প্রতি ঈমান এনেছে।

অতঃপর তিনি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন উল্লেখ করেন এবং তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও গুণাবলি বর্ণনা করেন; এরপর তাঁর নামসমূহ, অতঃপর নবুওয়াত ও রিসালাত, দ্বীন প্রকাশ, ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ, মেরাজ, দ্বীন পূর্ণতা দান এবং তাঁর ওফাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর রিসালাতের বাণী পৌঁছে দেওয়া তাঁর বিশেষত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা বর্ণনা করেন; এরপর সাহাবীগণ এবং তাঁর প্রতি তাঁদের উত্তম সহযোগিতার কথা, অতঃপর কিয়ামতের দিন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা ও তথায় তাঁর বিশেষত্বসমূহ বর্ণনা করেন। পরিশেষে তিনি নিচের কথাটি বলার পর অন্ত্যমিলের পুনরুক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন:

হাসসান যা বলেছিলেন, আমার কথাটিই হলো সেই কথা … যা বিশ্বজগতের শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ-এর প্রশংসায় বলা হয়েছে।

আমি আমার কথা দ্বারা মুহাম্মদের প্রশংসা করিনি … বরং মুহাম্মদের মাধ্যমে আমার কথাকেই প্রশংসিত করেছি।

অতঃপর তিনি ওজর পেশ করে বলেন:

মুহাম্মদের প্রতি ভালোবাসাবশত এবং মুহাম্মদের ভালোবাসার গর্বে … আমি মুহাম্মদের নাম বারবার উচ্চারণ করেছি।

এই ভালোবাসা হলো ঈমান, যা সৃষ্টিজগত ও নিজের প্রাণের ওপর … মুহাম্মদকে ভালোবাসাকেই অগ্রাধিকার দেয়।

ইলাহ (আল্লাহ) তাঁর রহমত ও সালামকে … নবী মুহাম্মদের প্রতি অবধারিত হক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আর এর মাধ্যমেই তিনি সৃষ্টিজগতকে আদেশ দিয়েছেন, যাতে মুহাম্মদের ইলাহ তাদেরকে একটির বিনিময়ে … দশটি প্রতিদান দান করেন।

আল্লাহ কোনো ব্যক্তির সালাত (দুয়া/নামাজ) কবুল করেন না … যতক্ষণ না সে নবী মুহাম্মদের ওপর দরুদ পাঠ করে।

দুয়া যখন ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে তখন তা মেঘের ন্যায় আটকে থাকে … নবী মুহাম্মদের ওপর দরুদ পাঠ করা ব্যতীত।

মক্কা কি তাঁর ওপর সালাম দেয়নি? মক্কা সালাম দিয়েছিল … এবং মক্কার মূর্তিসমূহ মুহাম্মদের সম্মানে নুইয়ে পড়েছিল।

তোমরা তাঁর ওপর পরিপূর্ণ দরুদ ও সালাম পেশ করো … যতক্ষণ না তোমরা মুহাম্মদের রবের সন্তুষ্টি দেখতে পাও।

হে রব! আমাদের সম্মানিত করুন, আমাদের অবস্থানস্থলকে সম্মানিত করুন … আমাদের ক্ষমা করুন এবং মুহাম্মদের উসিলায় দয়া করুন।

হে রব! আপনার অনুগ্রহের প্রত্যাশী আপনার বান্দা … তাহের বিন মুহাম্মদকে বিশেষভাবে সম্মানিত করুন।
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وبهذا البيت ختم القصيد: وما قرأته عليهما، في الليلة المذكورة وفي الموضع المحدود من المحل الشريف السامي المنيف، وحضر السماع عدد لا أحصيهم، الجزء المعروف بجزء أبي الحسين أحمد بن محمد بن أبي بكر بن العالي، وفيه شيء من حديث غيره، وجميعه رواية شيخ الإسلام أبي إسماعيل عبد الله بن محمد الأنصاري عنه، رواية أبي الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي عنه، رواية أبي الحسن علي بن أبي بكر بن عبد الله بن روزبة عنه، سماع شيخينا أبي محمد وأبي القاسم وجماعة من شيوخنا منه.

وهذا الجزء هو الذي تقدمت قراءتي له بوادي الأزرق، وأعدته هنا تبركا بالمحل الشريف.

أنا أَبُو مُحَمَّدٍ وَأَبُو الْقَاسِمِ الزُّجَاجِيَّانِ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِمَا بِالْمَسْجِدِ الْمُشَرَّفِ الَّذِي أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مَسْجِدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالا: أنا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ رُوزْبَةَ الْعَطَّارُ الْقَلانِسِيُّ الصُّوفِيُّ الْبَغْدَادِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ، قَالَ: أنا الشَّيْخُ أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ السِّجْزِيُّ الصُّوفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي النِّصْفِ مِنْ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قَالَ: أنا الإِمَامُ شَيْخُ الإِسْلامِ أَبُو إِسْمَاعِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ الْعَالِي هُوَ ابْنُ سُلَيْمَانَ الْبُوشَنْجِيُّ بِهَا فِي سَنَةِ سَبْعَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أنا أَبُو أَحْمَدَ الْغِطْرِيفِيُّ، وَمَنْصُورُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْفَقِيهُ قَالا: أنا الْحَسَنُ
এই পংক্তির মাধ্যমেই কবিতাটি সমাপ্ত হয়েছে: আর আমি উল্লিখিত রাতে এবং সুউচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র স্থানের নির্ধারিত স্থানে তাঁদের দুজনের কাছে যা পাঠ করেছি, এবং এই শ্রবণ অনুষ্ঠানে অগণিত মানুষ উপস্থিত ছিলেন, তা হলো ‘জুযউ আবি আল-হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বাকর বিন আল-আলি’ হিসেবে পরিচিত সংকলনটি। এতে অন্যান্যের কিছু হাদিসও রয়েছে। এর সম্পূর্ণ অংশটি হলো শাইখুল ইসলাম আবু ইসমাঈল আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারির বর্ণনা তাঁর থেকে, আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুআইব আস-সিজযির বর্ণনা তাঁর থেকে, আবু আল-হাসান আলী বিন আবি বাকর বিন আব্দুল্লাহ বিন রুযবাহর বর্ণনা তাঁর থেকে, যা আমাদের দুই শাইখ আবু মুহাম্মাদ ও আবু আল-কাসিম এবং আমাদের একদল শাইখ তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।

আর এই সংকলনটিই আমি ইতিপূর্বে ওয়াদি আল-আযরাক-এ পাঠ করেছিলাম এবং এই পবিত্র স্থানের বরকত হাসিলের জন্য এখানে পুনরায় পাঠ করেছি।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই যুজাজি—আবু মুহাম্মাদ ও আবু আল-কাসিম—তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত বরকতময় মসজিদ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে তাঁদের দুজনের কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আল-হাসান আলী বিন আবি বাকর বিন রুযবাহ আল-আত্তার আল-কালানিসি আস-সুফি আল-বাগদাদি, বাগদাদে তাঁর কাছে শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুআইব আস-সিজযি আস-সুফি, পাঁচশ তিপ্পান্ন হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম শাইখুল ইসলাম আবু ইসমাঈল আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারি, চারশ চুয়াত্তর হিজরির শাওয়াল মাসে তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বাকর বিন মানসুর বিন আল-হুসাইন বিন আল-আলি—যিনি ইবনু সুলাইমান আল-বুশাঞ্জি—সেখানে চারশ সতেরো হিজরিতে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আল-গিতরিফি এবং মানসুর বিন আল-আব্বাস আল-ফকিহ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান...
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
بْنُ سُفْيَانَ، نا أَبُو صَالِحٍ الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَلْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ وَلَيْسَ بِالنَّهْدِيِّ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «

‌‌اقْرَءُوهَا عَلَى مَوْتَاكُمْ يَعْنِي يس» هَذَا أَوَّلُ حَدِيثٍ مِنَ الْجُزْءِ

وَبِهِ إِلَى ابْنِ الْعَالِي: أنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ السَّرَّاجُ بِنَيْسَابُورَ، قَالَ: أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْمُثَنَّى بْنِ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ بِالْبَصْرَةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، قَالَ: أنا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، أنا
ইবনে সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালেহ আল-হাকাম ইবনে মুসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, সালমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে—আর তিনি আন-নাহদি নন—তিনি মা'কিল ইবনে ইয়াসার থেকে: নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «

‌‌"তোমরা তোমাদের মৃতদের ওপর এটি পাঠ করো, অর্থাৎ ইয়াসিন।" এটি এই খণ্ডের প্রথম হাদিস।

এবং একই সনদে ইবনুল আলী পর্যন্ত: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ইসমাইল আস-সাররাজ নিশাপুরে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান ইবনুল মুসান্না ইবনে মুআয আল-আনবারি বসরায় দুইশত তিরানব্বই হিজরি সালে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আফফান ইবনে মুসলিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٣١)
هَمَّامٌ، أنا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ حَدَّثَهُ، قَالَ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ فِي الْغَارِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ

‌‌لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ يَنْظُرُ إِلَى قَدَمَيْهِ لأَبْصَرَنَا تَحْتَ قَدَمْيَهِ، فَقَالَ: «يَا أَبَا بَكْرٍ مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا» .

وَبِهِ إِلَى شَيْخِ الإِسْلامِ مِنَ الْجُزْءِ الْمَذْكُورِ مِنْ غَيْرِ حَدِيثِ ابْنِ الْعَالِي: أنا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ جِبْرِيلَ الْمَاحِي، أنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الإِسْمَاعِيلِيُّ السَّرَّاجُ بِنَيْسَابُورَ، أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بنُ الْمُثَنَّى الْعَنْبَرِيُّ، أنا عَفَّانُ، فَذَكَرَهُ حَرْفًا حَرْفًا، سَنَدًا وَمَتْنًا غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: «بِالْغَارِ»

وبه إلى ابن العالي:

أنا بِشْرُ بْنُ أَحْمَدَ، أَنَّ ابْنَ نَاجِيَةَ، أنا عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ، أنا مُوسَى بْنُ هِلالٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ،
হাম্মাম, সাবিত আমাকে জানিয়েছেন, আনাস থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম যখন আমরা গুহার মধ্যে ছিলাম: হে আল্লাহর রাসূল

‌‌“যদি তাদের কেউ নিজের দুই পায়ের দিকে তাকাত, তবে সে অবশ্যই আমাদের তার দুই পায়ের নিচেই দেখতে পেত।” তিনি বললেন: “হে আবু বকর, সেই দুইজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ?”।

আর তার মাধ্যমে শাইখুল ইসলাম পর্যন্ত উল্লিখিত খণ্ড হতে ইবনুল আলীর হাদীস ব্যতীত: আমাদের জানিয়েছেন আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন জিবরীল আল-মাহহী, আমাদের জানিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন হাসান বিন ইসমাঈল আল-ইসমাঈলী আস-সাররাজ নিশাপুরে, আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী হাসান বিন আল-মুসান্না আল-আনবারী, আমাদের জানিয়েছেন আফফান, অতঃপর তিনি এটি অক্ষরে অক্ষরে বর্ণনা করেছেন, সনদ ও মতনসহ, তবে তিনি বলেছেন: “গুহার মধ্যে”

আর তার মাধ্যমে ইবনুল আলী পর্যন্ত:

আমাদের জানিয়েছেন বিশর বিন আহমাদ, যে ইবনে নাজিয়াহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের জানিয়েছেন উবাইদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক, আমাদের জানিয়েছেন মুসা বিন হিলাল আল-আবদী, উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে,
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌«مَنْ رَآنِي بَعْدَ مَوْتِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي»

قلت: خرج الدارقطني هذا الحديث، فقال:

أنا الْقَاضِي الْمَحَامِلِيُّ، أنا عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ، أنا مُوسَى بْنُ هِلالٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي»

وبه أنا شيخ الإسلام، أنا أبو الحسن علي بن أبي طالب الخوارزمي
، ثم الهروي، قَالَ: أنا حامد بن محمد الرفاء، قَالَ: أنا أبو الحسن معاذ بن المثنى، قَالَ: أنا مسدد، أنا حماد بن زيد، أنا يونس، قَالَ: سمعت الحسن رحمه الله يقول:
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার মৃত্যুর পর আমাকে দেখল, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে গেল»

আমি বলছি: দারা কুতনী এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আল-মাহামিলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা বিন হিলাল আল-আবদী, উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, নাফে’ থেকে, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে গেল»

এবং এর মাধ্যমেই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খুল ইসলাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আবু তালিব আল-খাওয়ারিজমী
, অতঃপর আল-হারাবী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামিদ বিন মুহাম্মদ আর-রাফ্ফা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুয়াজ বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসাদ্দাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, তিনি বলেন: আমি হাসান (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ٥) মিলউল আইবা বিমা জুমিআ বিতুলিল গাইবা - খণ্ড ৫ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
«حادثوا هذه القلوب فإنها سريعة الدثور» .

وبه إلى أبي الوقت، قَالَ: أنشدنا الإمام شيخ الإسلام، قَالَ: أنشدنا يحيى بن عمار الإمام، قَالَ: أنشدنا أبو المنذر عبد الله بن محمد بن أحمد بن جعفر الأديب، قَالَ: أنشدني الصولي، لأبي العباس ثعلب:

رب ريح لأناس عصفت … ثم ما أن لبثت أن ركدت

وكذاك الدهر من أفعاله … قدم زلت وأخرى ثبتت

بالغ ما كان يرجو دونه … ويد عما استقلت قصرت

وكذا الأيام من عاداتها … أنها مفسدة ما أصلحت

ثم تأتيك مقادير لها … فترى مصلحة ما أفسدت

بهذه الأبيات ختم الجزء
«তোমরা এই অন্তরগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করো, কেননা এগুলো দ্রুত মলিন হয়ে যায়»।

এবং তাঁর মাধ্যমে আবু আল-ওয়াক্ত পর্যন্ত সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শায়খুল ইসলাম আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আম্মার আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আবুল মুনজির আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আল-আদিব আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আস-সুলি আমার নিকট আবুল আব্বাস সা'লাবের এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন:

কতই না বাতাস মানুষের জন্য প্রচণ্ড বেগে বয়ে যায় … অতঃপর তা শান্ত হতে দেরি করে না

তেমনিভাবে কালচক্রের কর্মকাণ্ড এই যে … এক পা পিছলে যায় এবং অন্যটি স্থির থাকে

সে যা প্রত্যাশা করেছিল তার নাগাল পাওয়ার পূর্বেই … আর যে হাতটি উত্তোলন করেছিল তা সংকুচিত হয়ে যায়

অনুরূপভাবে দিনগুলোর স্বভাব এমন যে … তারা যা সংশোধন করেছিল তা বিনষ্ট করে দেয়

অতঃপর তোমার নিকট এমন তকদিরসমূহ আসে … যার ফলে তুমি দেখতে পাও যা নষ্ট হয়েছিল তা সংশোধিত হয়ে গেছে

এই কবিতাগুলোর মাধ্যমেই খণ্ডটি সমাপ্ত হলো