(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: -)
تقريب الوصول إلى ثلاثة الأصول   (منصور الصقعوب)

القسم: العقيدة


الكتاب: تقريب الوصول إلى ثلاثة الأصول

المؤلف: منصور بن محمد الصقعوب

الناشر: دار العقيدة للنشر والتوزيع - الرياض، السعودية

الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2020 م

عدد الصفحات: 189

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 صفر 1445

সালাসাতুল উসূলের (তিনটি মূলনীতির) নিকটবর্তী অনুধাবন   (মানসুর আস-সাকউব)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: সালাসাতুল উসূলের (তিনটি মূলনীতির) নিকটবর্তী অনুধাবন

লেখক: মানসুর বিন মুহাম্মাদ আস-সাকউব

প্রকাশক: দারুল আকিদাহ প্রকাশনী ও বিতরণ - রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ সফর ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله ربِ العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد:

فلا يخفى على طالب العلم أهمية العناية بمتون العقيدة، وتفهمها، وقد درج علماء بلادنا على أنهم يبدؤون في تعليمهم برسالة ثلاثة الأصول، للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله فيبدأ بها طالب العلم المبتدئ، ومن بعدها ينطلق لما هو أرفع منها، ككتاب التوحيد في توحيد العبادة، والعقيدة الواسطية في الاعتقاد العام.

وقد كنتُ كتبتٌ على هذه الرسالة شرحاً متوسطاً، حرصت أن يكون بلا إيجاز مخلٍّ، ولا إطالة مملة، يكون القصد فيه فك العبارات، وتفهم المعاني، ولم أشأ أن أطيل فيه بأمورٍ قد يجدها طالب العلم في غيره، وإنما اكتفيت بما يتعلق بعباراته مباشرة، وليس المقصد تكثير الصفحات، وإنما فهمُ هذا المتن، والترقي بعده لمتون العلم الأخرى، وأسميت هذا التعليق [تقريب الوصول إلى ثلاثة الأصول]، وها هو بين يديك أخي الكريم، وأنا على يقينٍ أنه جهدٌ قابلٌ للتعقب، وعملٌ مليء بالثغرات، والقلب مفتوحٌ، والأذن مصغيةٌ، لكل مصوِّبٍ، وناقدٍ، ومتعقبٍ، علّ الله عز وجل أن يجعلنا من الذين ينتظمون في سلك أهل العلم والعمل به إنه سميع مجيب.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين

 

كتبه

د. منصور بن محمد الصقعوب

M0505148411@hotmail.com
উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

জ্ঞানপিপাসুর কাছে আকীদার মূল পাঠসমূহের (মুতুন) প্রতি যত্নবান হওয়া এবং সেগুলো অনুধাবন করার গুরুত্ব অস্পষ্ট নয়। আমাদের দেশের আলেমগণ তাঁদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘সালাসাতুল উসুল’ (তিনটি মূলনীতি) রিসালাহটি দিয়ে শুরু করার রীতি অনুসরণ করে আসছেন। অতএব, শিক্ষার্থী এটি দিয়ে শুরু করবে এবং এরপর এর চেয়ে উচ্চতর বিষয়ের দিকে ধাবিত হবে, যেমন ইবাদতের তাওহীদের ক্ষেত্রে ‘কিতাবুত তাওহীদ’ এবং সাধারণ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ‘আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়াহ’।

আমি এই রিসালাহটির ওপর একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যা লিখেছি, যেখানে আমি এমনভাবে যত্নশীল ছিলাম যাতে তা ক্ষতিকারক সংক্ষিপ্ততা কিংবা বিরক্তিকর দীর্ঘতা বর্জিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো বাক্যগুলোর জট খোলা এবং অর্থগুলো অনুধাবন করা। আমি এতে এমন সব বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে চাইনি যা শিক্ষার্থী অন্য কোথাও পেতে পারে, বরং আমি কেবল এর বাক্যগুলোর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বিষয়ের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। পৃষ্ঠার সংখ্যা বৃদ্ধি করা আমার উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো এই মূল পাঠটি (মাতন) বোঝা এবং এরপর ইলমের অন্যান্য স্তরে উন্নীত হওয়া। আমি এই টীকাটির নামকরণ করেছি [তাকরীবুল উসুল ইলা সালাসাতিল উসুল]। হে সম্মানিত ভাই, এটি এখন আপনার হাতে। আমি নিশ্চিত যে এটি এমন একটি প্রচেষ্টা যা সংশোধনযোগ্য এবং ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে। যে কোনো সংশোধনকারী, সমালোচক এবং অনুধাবনকারীর জন্য আমার অন্তর খোলা এবং কর্ণ উন্মুক্ত। আশা করি মহান আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করবেন যারা ইলম এবং আমলের কাফেলায় শামিল হয়েছেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

লিখেছেন

ড. মানসুর বিন মুহাম্মাদ আস-সাকউব

M0505148411@hotmail.com
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تمهيد

* قبل الشروع في كلام المؤلف لا بد من ذكر ثلاث مقدمات:

 

‌‌المقدمة الأولى: تعريف موجز بمؤلف الرسالة:

مؤلف هذه الرسالة، هو الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد بن بريد بن محمد بن بريد بن مشرف التميمي.

والده من أعلم أهل زمانه، وكان شيخاً وقوراً جليلاً متواضعاً، تولى القضاء في حريملاء، وكذلك كان جده سليمان من أكبر علماء نجد، كان محبوباً وبحراً في العلوم، تولى جده منصب الفتيا، وأخذ على يديه كثير من العلماء.

ولد الشيخ محمد عام (1115) من هجرة النبي صلى الله عليه وسلم، وكان محباً للعلم منذ صغره، ولما بلغ الثانية عشرة من عمره، وأدرك ما يدرك الرجال، قدّمه أبوه في إمامة الصلاة، وكان والده شديد التعجب من قوة وسرعة حفظه، لكل ما يطالعه ولو لمرة واحدة، ويعترف علَناً بالاستفادة منه في بعض الأحكام، حتى قال: استفدت من ولدي محمد فوائد من الأحكام قبل بلوغه.

وكانت الجزيرة آنذاك فيها بعض مظاهر الشرك، والتعلق بغير الله، والبدع، فسعى -رحمه الله تعالى- للدعوة إلى التوحيد، وتصحيح العقائد، ونبذ الشرك بقوله وبفعله، بقلمه ورسائله ومؤلفاته، وبجهده أيضاً، وتنقله
উপস্থাপনা

* লেখকের বক্তব্য শুরু করার পূর্বে তিনটি ভূমিকা উল্লেখ করা আবশ্যক:

 

প্রথম ভূমিকা: এই রিসালার লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

এই রিসালার লেখক হলেন শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রাশিদ ইবনে বারীদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বারীদ ইবনে মুশাররাফ আত-তামীমী।

তাঁর পিতা তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন গম্ভীর, মর্যাদাবান ও বিনয়ী শায়খ, যিনি হারাইমিলায় বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অনুরূপভাবে তাঁর দাদা সুলাইমান নজদের অন্যতম বড় আলেম ছিলেন; তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জ্ঞানের সমুদ্র ছিলেন। তাঁর দাদা ফতোয়া প্রদানের পদে নিয়োজিত ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে অনেক আলেম ইলম অর্জন করেছেন।

শায়খ মুহাম্মদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিজরতের ১১১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ইলমের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। যখন তাঁর বয়স বারো বছর হলো এবং তিনি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ন্যায় সমঝদার হলেন, তখন তাঁর পিতা তাঁকে সালাতের ইমামতির জন্য এগিয়ে দিলেন। তাঁর পিতা তাঁর মুখস্থ শক্তির প্রবলতা ও দ্রুততা দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হতেন, কারণ তিনি যা একবার পড়তেন তাই মুখস্থ করে ফেলতেন। তিনি জনসমক্ষে স্বীকার করতেন যে, তিনি কিছু বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাঁর ছেলের নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন: "আমি আমার ছেলে মুহাম্মদের থেকে সে সাবালক হওয়ার পূর্বেই বিধান সংক্রান্ত অনেক ফায়দা লাভ করেছি।"

তৎকালীন সময়ে আরব উপদ্বীপে শিরকের কিছু নিদর্শন, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের প্রতি আসক্তি এবং বিদআত বিদ্যমান ছিল। তাই তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিতে, আকীদা সংশোধন করতে এবং কথা, কাজ, কলম, পত্র ও রচনার মাধ্যমে এবং নিজের প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের মাধ্যমে শিরক বর্জনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৭)
في البلدان ودعوته الناس إلى التوحيد، وبجهاده في سبيل الله عز وجل في تحقيق هذا الأمر، عاش واستمر على ذلك حتى مات في أواخر سنة (1206) من هجرة النبي صلى الله عليه وسلم، وكان عمره حينها واحداً وتسعين عاماً.

وخلفه من بعد ذلك أبناؤه وتلاميذه وحملوا راية الدعوة إلى التوحيد وسلامة الاعتقاد.

 

*‌‌ ألّف الشيخ كتباً عديدة في الاعتقاد، من أشهرها:

1 - كتاب التوحيد: ويحتوي على (66) باباً من أبواب توحيد العبادة، وله شروح كثيرة، وشهرة واسعة.

2 - كشف الشبهات: وهي عبارة عن رسالة تضمنت كشف شبهات الذين يتوجهون لغير الله من أصحاب القبور وغيرهم.

3 - القواعد الأربع: وهي عبارة عن رسالة لطيفة ضمّنها أربع قواعد في توحيد العبادة.

4 - ثلاثة الأصول: وهي هذه الرسالة التي نحن بصدد التعليق عليها.

وله أيضاً: مفيد المستفيد في تارك التوحيد، والمسائل التي خالف فيها أهل الإسلام الجاهلية، ونواقص الإسلام، وغيرها كثير.

رحم الله الشيخ وجمعنا به في الفردوس الأعلى من الجنة.
বিভিন্ন দেশে এবং মানুষের প্রতি তাওহীদের দাওয়াত প্রদান, এবং এই বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য মহান আল্লাহর পথে তাঁর জিহাদের মাধ্যমে তিনি জীবন অতিবাহিত করেন এবং এর ওপর অবিচল থাকেন, যতক্ষণ না তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের ১২০৬ হিজরি সনের শেষভাগে মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল একানব্বই বছর।

তাঁর পর তাঁর সন্তানগণ এবং ছাত্রগণ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং তাওহীদ ও আকিদাহর বিশুদ্ধতার দাওয়াতের ঝাণ্ডা বহন করেন।

 

*‌‌ শাইখ আকিদাহ বিষয়ে অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেছেন, তার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:

১ - কিতাবুত তাওহীদ: এটি ইবাদতের তাওহীদ বিষয়ক ৬৬টি অধ্যায় সংবলিত, এর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে এবং এটি অত্যন্ত সুপরিচিত।

২ - কাশফুশ শুবুহাত: এটি একটি পুস্তিকা যা কবরপূজারী এবং অন্যদের মতো যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের অভিমুখী হয়, তাদের সংশয় নিরসন সংবলিত।

৩ - আল-কাওয়াইদুল আরবা' (চারটি মূলনীতি): এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যাতে তিনি ইবাদতের তাওহীদ বিষয়ক চারটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

৪ - সালাসারতুল উসুল (তিনটি মূলনীতি): এটি সেই পুস্তিকা যার ওপর আমরা এখন ব্যাখ্যা প্রদান করছি।

এছাড়াও তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: মুফিদ আল-মুস্তাফিদ ফি তারিকিত তাওহীদ, আল-মাসায়িল আল্লাতি খালাফা ফিহা আহলুল ইসলাম আল-জাহিলিয়্যাহ, নাওয়াকিদুল ইসলাম এবং আরও অনেক।

আল্লাহ শাইখের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের সবাইকে তাঁর সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকামে একত্রিত করুন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المقدمة الثانية: تعريف موجز بهذه الرسالة:

رسالة ثلاثة الأصول، كما يسميها مؤلفها غالباً، أو الأصول الثلاثة، هي رسالة ميسرة مبسطة، كان الشيخ وتلاميذه من بعد ذلك يعنون بتلقينها للعامة، ولجماعات المساجد، وكان أئمة المساجد يلزمون بسؤال الجماعة عن هذه الرسالة(1)، وكان العلماء يخرجون إلى القرى والبلدان يعلمون الناس هذه الأصول الثلاثة(2)؛ لأنها على يسرها واختصارها إلا أنها حوت أهم الأصول التي يحتاجها الإنسان في دينه.

 

*‌‌ وقد اعتنى العلماء المعاصرون بهذه الرسالة، عبر صور متعددة:

1) شرحها والتعليق عليها: وهذا أكثر من أن يحصر، غير أن من أشهر شروحها المطبوعة: حاشية ثلاثة الأصول لابن قاسم النجدي، وشرح الأصول الثلاثة لابن عثيمين، وحصول المأمول شرح ثلاثة الأصول، للشيخ عبد الله الفوزان، وغيرها.

2) عنايتهم بتحفيظها للطلاب، وهذا معلوم من هدي العلماء مع طلابهم، حيث كانوا يعنون بتحفيظهم المتون الصغيرة، لا سيما متون العقيدة، ومن هؤلاء الشيخ محمد بن إبراهيم، حيث كان يبدأ بتحفيظ طلابه هذه الرسالة.

3) عنايتهم بتلقينها للعوام، وسبق ذكر ذلك.

--------------------------------------------

(1) انظر: «الدرر السنية في الأجوبة النجدية» (14/ 414).

(2) انظر: «الدرر السنية في الأجوبة النجدية» (14/ 86).
দ্বিতীয় ভূমিকা: এই পুস্তিকাটির একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

সালাসাাতুল উসুল (তিনটি মূলনীতি) নামক পুস্তিকাটি—যেমনটি লেখক একে সচরাচর নামকরণ করেছেন, অথবা আল-উসুলুস সালাসা—হলো একটি সহজ ও প্রাঞ্জল পুস্তিকা। শায়খ এবং পরবর্তীতে তাঁর ছাত্রগণ সাধারণ মানুষ ও মসজিদের মুসল্লিদের এটি শেখানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন। মসজিদের ইমামগণ মুসল্লিদের এই পুস্তিকাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আদিষ্ট হতেন(১) এবং আলেমগণ গ্রামেগঞ্জে ও বিভিন্ন জনপদে বেরিয়ে যেতেন মানুষকে এই তিনটি মূলনীতি শিক্ষা দেওয়ার জন্য(২); কারণ এটি সহজ ও সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এমন সব গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিকে শামিল করেছে যা একজন মানুষের তার দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।

 

*‌সমকালীন আলেমগণ বিভিন্নভাবে এই পুস্তিকাটির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন:

১) এর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান: এটি সংখ্যায় এত বেশি যে তা সীমাবদ্ধ করা কঠিন। তবে এর প্রসিদ্ধ মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইবন কাসিম আন-নাজদী রচিত 'হাশিয়া সালাসাাতুল উসুল', ইবন উসাইমীন রচিত 'শারহু উসুলিস সালাসা', শায়খ আবদুল্লাহ আল-ফাওজান রচিত 'হুসুলুল মামুল শারহু সালাসাাতুল উসুল' এবং আরও অন্যান্য।

২) ছাত্রদের এটি মুখস্থ করানোর প্রতি তাঁদের যত্নশীল হওয়া: ছাত্রদের সাথে আলেমদের এই কর্মপদ্ধতি সুপরিচিত যে, তাঁরা তাঁদের ছোট ছোট মূল পাঠ্য (মুতুন) মুখস্থ করানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন, বিশেষ করে আকীদার পাঠ্যসমূহ। তাঁদের অন্যতম ছিলেন শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম, যিনি তাঁর ছাত্রদের এই পুস্তিকাটি মুখস্থ করানোর মাধ্যমে পাঠদান শুরু করতেন।

৩) সাধারণ মানুষকে এটি শেখানোর প্রতি তাঁদের গুরুত্বারোপ, যার কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজওয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ' (১৪/৪১৪)।

(২) দেখুন: 'আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজওয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ' (১৪/৮৬)।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৯)
4) نظمها، وممن نظمها:

أ. الشيخ عمر بن إبراهيم البري المدني، المتوفى سنة (1378 هـ)، بعنوان: تسهيل الحفظ والوصول، نظم ثلاثة الأصول.

ب. الشيخ سعود الشريم، في نظم سمّاه: إسراج الخيول نظم ثلاثة الأصول.

5) اختصارها، وممن اختصرها: الشيخ عبد العزيز بن محمد الشثري، المتوفى سنة (1387 هـ)، وطبعت أخيراً مع تعليق لحفيده، وهو الشيخ سعد الشثري، بعنوان: المصقول في التعليق على مختصر ثلاثة الأصول.
৪) এর পদ্যরূপ প্রদান, এবং যারা এটি পদ্যাকারে রচনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

ক. শায়খ উমর বিন ইব্রাহিম আল-বাররি আল-মাদানি, মৃত্যু: ১৩৭৮ হিজরি, শিরোনাম: তাসহিলুল হিফজ ওয়াল-উসুল, নাজম সালাহাতিল উসুল।

খ. শায়খ সুউদ আল-শুরাইম, ‘ইসরাজুল খুয়ুল নাজম সালাহাতিল উসুল’ নামক একটি পদ্যের মাধ্যমে।

৫) এর সংক্ষিপ্তকরণ, এবং যারা এটি সংক্ষেপ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আশ-শাথরি, মৃত্যু: ১৩৮৭ হিজরি। এটি সম্প্রতি তার নাতি শায়খ সাদ আশ-শাথরি-এর টীকা সহ মুদ্রিত হয়েছে, যার শিরোনাম: আল-মাসকুল ফি আল-তালিক আলা মুখতাসার সালাহাতিল উসুল।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المقدمة الثالثة: موضوع الرسالة ومضمونها:

تدور هذه الرسالة حول تحقيق توحيد العبادة، والإجابة عن الأسئلة الثلاثة التي يسأل المرء عنها في قبره.

* وقد تضمنت هذه الرسالة أربعة أمور:

الأمر الأول: مقدمة: ذكر فيها المؤلف أربع مسائل وهي: العلم والعمل والدعوة والصبر.

الأمر الثاني: مقدمة: ذكر فيها المؤلف ثلاث مسائل وقواعد في تحقيق توحيد العبادة.

الأمر الثالث: مقدمة: ذكر فيها مسألة واحدة بيّن فيها معنى الحنيفية التي هي دين إبراهيم ودين محمد عليهم الصلاة والسلام.

الأمر الرابع: الأصول الثلاثة: وهي معرفة العبد لربه، ولنبيه، ولدين الإسلام، وذكر كل واحدٍ من هذه الأصول الثلاثة بالتفصيل، وبالأدلة.

* * * * *
তৃতীয় ভূমিকা: পুস্তিকার বিষয়বস্তু ও এর সারসংক্ষেপ:

এই পুস্তিকাটি তাওহীদুল ইবাদত বাস্তবায়ন এবং কবরে মানুষকে যে তিনটি প্রশ্ন করা হবে সেগুলোর উত্তর প্রদানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

* আর এই পুস্তিকাটি চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম বিষয়: ভূমিকা: এতে লেখক চারটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন, আর সেগুলো হলো: ইলম (জ্ঞান), আমল (কর্ম), দাওয়াত এবং সবর (ধৈর্য)।

দ্বিতীয় বিষয়: ভূমিকা: এতে লেখক তাওহীদুল ইবাদত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি মাসআলা ও মূলনীতি উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয় বিষয়: ভূমিকা: এতে তিনি একটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন যাতে তিনি 'হানিফিয়্যাত' (একনিষ্ঠতা)-এর অর্থ বর্ণনা করেছেন, যা ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর দ্বীন।

চতুর্থ বিষয়: তিনটি মূলনীতি: আর তা হলো বান্দার নিজ রব, নিজ নবী এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। তিনি এই তিনটি মূলনীতির প্রত্যেকটি বিস্তারিতভাবে এবং দলীলসহ উল্লেখ করেছেন।

* * * * *
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌متن الأصول الثلاثة

قال المؤلف رحمه الله: اعْلمْ رَحِمَكَ اللهُ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْنَا تَعَلَّمُ أَرْبَع مَسَائِلَ:

المسألة الأُولَى: الْعِلْمُ: وَهُوَ مَعْرِفَةُ اللهِ، وَمَعْرِفَةُ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعْرِفَةُ دِينِ الإِسْلامِ بالأَدِلَّةِ.

المسألة الثَّانِيَةُ: الْعَمَلُ بِهِ.

المسألة الثَّالِثَةُ: الدَّعْوَةُ إِلَيْهِ.

المسألة الرَّابِعَةُ: الصَّبْرُ عَلَى الأَذَى فِيهِ. وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3].

قَالَ الشَّافِعيُّ -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى-: «لَوْ مَا أَنْزَلَ اللهُ حُجَّةً عَلَى خَلْقِهِ إِلا هَذِهِ السُّورَةَ لَكَفَتْهُمْ».

وَقَالَ البُخَارِيُّ -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى-: بَابُ: العِلْمُ قَبْلَ القَوْلِ وَالْعَمَلِ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} [محمد: 19]، فَبَدَأَ بِالْعِلْمِ (قَبْلَ القَوْلِ وَالعَمَلِ).

* اعْلَمْ رَحِمَكَ اللهُ أَنَّه يَجِبُ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَمُسْلِمَةٍ، تَعَلُّمُ هَذِهِ الثَّلاثِ مَسَائِل، والْعَمَلُ بِهِنَّ:

الأُولَى: أَنَّ اللهَ خَلَقَنَا، وَرَزَقَنَا، وَلَمْ يَتْرُكْنَا هَمَلا، بَلْ أَرْسَلَ إِلَيْنَا رَسُولاً، فَمَنْ أَطَاعَهُ دَخَلَ الجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَاهُ دَخَلَ النَّارَ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ رَسُولًا شَاهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولًا (15) فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْنَاهُ أَخْذًا وَبِيلًا (16)} [المزمل: 15، 16].
তিন মূলনীতির মূলপাঠ

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন যে, আমাদের জন্য চারটি বিষয় শিক্ষা করা ওয়াজিব:

প্রথম বিষয়টি: ইলম তথা জ্ঞান অর্জন করা: আর তা হলো আল্লাহ সম্পর্কে জানা, তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে জানা এবং দলীলসহ ইসলামের দ্বীন সম্পর্কে জানা।

দ্বিতীয় বিষয়টি: সেই অনুযায়ী আমল করা।

তৃতীয় বিষয়টি: সেই দিকে দাওয়াত প্রদান করা।

চতুর্থ বিষয়টি: এই পথে প্রাপ্ত কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করা। আর এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। {সময়ের শপথ। (১) নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। (২) তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং একে অপরকে হকের উপদেশ দিয়েছে ও একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে। (৩)} [আল-আসর: ১-৩]।

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন: «আল্লাহ যদি তাঁর সৃষ্টির ওপর এই সূরাটি ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ না করতেন, তবে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।»

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন: পরিচ্ছেদ: কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন; আর এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [মুহাম্মদ: ১৯], সুতরাং তিনি (কথা ও কাজের আগে) জ্ঞান অর্জন দিয়ে শুরু করেছেন।

* জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন যে, প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর ওপর এই তিনটি বিষয় শিক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব:

প্রথমত: আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের রিযিক দিয়েছেন এবং আমাদের উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি, বরং আমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন; সুতরাং যে তাঁর আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট একজন রাসূলকে তোমাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে পাঠিয়েছি, যেমন আমি ফিরআউনের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম (১৫) অতঃপর ফিরআউন সেই রাসূলের অবাধ্য হলো, ফলে আমি তাকে কঠোর শাস্তিতে পাকড়াও করলাম (১৬)} [আল-মুযযাম্মিল: ১৫, ১৬]।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১২)
الثَّانِيَةُ: أَنَّ الله لا يَرْضى أَنْ يُشركَ مَعَهُ أَحَدُ فِي عِبَادَتِهِ، لا مَلَكٌ مُقَرَّبٌ، وَلا نَبِيٌّ مُرْسَلٌ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18].

الثَّالِثَةُ: أَنَّ مَنْ أَطَاعَ الرَّسُولَ، وَوَحَّدَ اللهَ لا يَجُوزُ لَهُ مُوَالاةُ مَنْ حَادَّ اللهَ وَرَسُولَهُ، وَلَوْ كَانَ أَقْرَبَ قَرِيبٍ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [المجادلة: 22].

اعْلَمْ أَرْشَدَكَ اللهُ لِطَاعَتِهِ، أَنَّ الْحَنِيفِيَّةَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ: أَنْ تَعْبُدَ اللهَ وَحْدَهُ، مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ. وَبِذَلِكَ أَمَرَ اللهُ جَمِيعَ النَّاسِ، وَخَلَقَهُمْ لَهَا؛ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]. وَمَعْنَى {لِيَعْبُدُونِ}: يُوَحِّدُونِ، وَأَعْظَمُ مَا أَمَرَ اللهُ بِهِ التَّوْحيِدُ، وَهُوَ: إِفْرَادُ اللهِ بِالْعِبَادَةِ. وَأَعْظَمُ مَا نَهَى عَنْه الشركُ، وَهُوَ: دَعْوَةُ غَيْرِهِ مَعَهُ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} [النساء: 36].

فَإِذَا قِيلَ لَكَ: مَا الأُصُولُ الثَّلاثَةُ التِي يَجِبُ عَلَى الإِنْسَانِ مَعْرِفَتُهَا؟

فَقُلْ: مَعْرِفَةُ الْعَبْدِ رَبَّهُ، وَدِينَهُ، وَنَبِيَّهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم.
দ্বিতীয়: আল্লাহ তাঁর ইবাদতে কাউকে শরিক করা পছন্দ করেন না, কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতাকেও নয় এবং কোনো প্রেরিত নবীকেও নয়; এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: "আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" [জিন: ১৮]।

তৃতীয়: যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করে, তার জন্য এমন ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করা বৈধ নয় যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, যদিও সে তার নিকটতম আত্মীয় হয়; এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবে না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে, অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতাকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে—যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা আত্মীয়-স্বজন হোক না কেন। আল্লাহ তাদের অন্তরে ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।" [মুজাদালাহ: ২২]।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে তাঁর আনুগত্যের পথে পরিচালিত করুন—নিশ্চয়ই ইবরাহিমের আদর্শ হলো ‘হানিফিয়াহ’; আর তা হলো আপনি একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদত করবেন। আর আল্লাহ সমস্ত মানুষকে এরই নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ জন্যই তাদের সৃষ্টি করেছেন; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি জিন এবং মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [যারিয়াত: ৫৬]। আর ‘আমার ইবাদত করবে’-এর অর্থ হলো: আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা। আল্লাহ সবচেয়ে মহান যে বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তা হলো ‘তাওহিদ’, আর তা হলো: ইবাদতে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা। আর সবচেয়ে বড় যে বিষয় থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা হলো ‘শিরক’, আর তা হলো: আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডাকা। এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।" [নিসা: ৩৬]।

অতঃপর যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়: সেই তিনটি মূলনীতি কী যা জানা মানুষের জন্য আবশ্যক?

তবে বলুন: বান্দার নিজ প্রতিপালক, নিজ ধর্ম এবং নিজ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৩)
* *‌‌ الأَصْلُ الأوَّلُ * *

معرفة الرب:

فَإِذَا قِيلَ لَكَ: مَنْ رَبُّكَ؟

فَقُلْ: رَبِّيَ اللهُ الَّذِي رَبَّانِي، وَرَبَّى جَمِيعَ الْعَالَمِينَ بِنِعَمِهِ، وَهُوَ مَعْبُودِي لَيْسَ لِي مَعْبُودٌ سِوَاهُ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]. وَكُلُّ مَنْ سِوَى اللهِ عَالَمٌ، وَأَنَا وَاحِدٌ مِنْ ذَلِكَ الْعَالَمِ.

فَإِذَا قِيلَ لَكَ: بِمَ عَرَفْتَ رَبَّكَ؟

فَقُلْ: بِآيَاتِهِ وَمَخْلُوقَاتِهِ، وَمِنْ آيَاتِهِ: اللَّيْلُ، وَالنَّهَارُ، وَالشَّمْسُ، وَالْقَمَرُ، وَمِنْ مَخْلُوقَاتِهِ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرَضُونَ السَّبْعُ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَمَا بَيْنَهُمَا؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ} [فصلت: 37]. وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الأعراف: 54]. وَالرَّبُ هُوَ الْمَعْبُودُ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (21) الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (22)} [البقرة: 21، 22].

قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى-: الخَالِقُ لِهَذِهِ الأَشياءَ هُوَ الْمُسْتَحِقُّ لِلْعِبَادَةِ.
প্রথম মূলনীতি

প্রতিপালকের পরিচয়:

অতএব তোমাকে যখন জিজ্ঞেস করা হবে: তোমার প্রতিপালক কে?

তখন বলো: আমার প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং তাঁর সকল নেয়ামত দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিজগৎকে লালন-পালন করেছেন। তিনিই আমার একমাত্র উপাস্য, তিনি ছাড়া আমার আর কোনো উপাস্য নেই। এর দলীল হচ্ছে মহান আল্লাহর বাণী: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক।" [সূরা আল-ফাতিহা: ২]। আর আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই সৃষ্টিজগত এবং আমি সেই সৃষ্টিজগতেরই একজন।

তোমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়: কিসের মাধ্যমে তুমি তোমার প্রতিপালককে চিনেছ?

তখন বলো: তাঁর নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সৃষ্টিরাজির মাধ্যমে। আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে: রাত, দিন, সূর্য এবং চাঁদ। তাঁর সৃষ্টিরাজির মধ্যে রয়েছে: সাত আকাশ, সাত যমীন, এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চাঁদকেও নয়; বরং সিজদা করো আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো।" [সূরা ফুসসিলাত: ৩৭]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হচ্ছেন আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাত দিয়ে দিনকে ঢেকে দেন, যা দ্রুত তার অনুগামী হয়। এবং সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রাখো, সৃষ্টি করা ও আদেশ করার মালিক কেবল তিনিই। বরকতময় আল্লাহ, যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক।" [সূরা আল-আ'রাফ: ৫৪]। আর প্রতিপালকই হচ্ছেন একমাত্র উপাস্য। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা এবং আসমানকে ছাদ বানিয়েছেন, এবং আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যা দিয়ে তোমাদের রিযিক হিসেবে ফলমূল উৎপন্ন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ স্থির করো না।" [সূরা আল-বাকারাহ: ২১, ২২]।

ইবনে কাসীর —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— বলেছেন: এই বস্তুসমূহের স্রষ্টাই ইবাদত পাওয়ার প্রকৃত অধিকারী।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأَنْوَاعُ الْعِبَادَةِ الَّتِي أَمَرَ اللهُ بِهَا مِثْلُ: الإِسْلامِ، وَالإِيمَانِ، وَالإِحْسَانِ، وَمِنْهُ: الدُّعَاءُ، وَالْخَوْفُ، وَالرَّجَاءُ، وَالتَّوَكُّلُ، وَالرَّغْبَةُ، وَالرَّهْبَةُ، وَالْخُشُوعُ، وَالْخَشيةُ، وَالإِنَابَةُ، وَالاسْتِعَانَةُ، وَالاسْتِعَاذَةُ، وَالاسْتِغَاثَةُ، وَالذَّبْحُ، وَالنَّذْرُ، وَغَيْرُ ذَلَكَ مِنْ أَنْوَاعِ الْعِبَادَةِ الَّتِي أَمَرَ اللهُ بِهَا. كُلُّهَا للهِ تَعَالَى، وَالدَّلِيلُ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18]. فَمَنْ صرفَ مِنْهَا شيئًا لِغَيْرِ اللهِ؛ فَهُوَ مُشركٌ كَافِرٌ؛ وَالدَّلِيلُ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ} [المؤمنون: 117].

وَفِي الْحَدِيثِ: «الدُّعَاءُ مخ الْعِبَادَةِ». وَالدَّلِيلُ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر: 60].

وَدَلِيلُ الْخَوْفِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [آل عمران: 175].

وَدَلِيلُ الرَّجَاءِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110].

ودَلِيلُ التَّوَكُلِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [المائدة: 23]. وقوله: {وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ} [الطلاق: 3].

وَدَلِيلُ الرَّغْبَةِ، وَالرَّهْبَةِ، وَالْخُشُوعِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ} [الأنبياء: 90].

وَدَلِيلُ الْخَشيةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي} الآية [البقرة: 150].
আল্লাহ তাআলা যে সকল ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলোর প্রকারভেদ যেমন: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান; এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: দুআ, ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল (ভরসা), আকাঙ্ক্ষা, ভীতি, বিনয়, গভীর ভীতি, আল্লাহর অভিমুখী হওয়া, সাহায্য প্রার্থনা, আশ্রয় প্রার্থনা, উদ্ধার প্রার্থনা, জবেহ করা, মানত করা এবং এ ছাড়াও ইবাদতের অন্যান্য প্রকারসমূহ যা আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। এ সব কিছুই কেবল মহান আল্লাহর জন্য। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" [আল-জিন: ১৮]। সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো অংশ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবেদন করবে, সে মুশরিক ও কাফির। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে যার কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই, তার হিসাব তো কেবল তার রবের নিকট। নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না।" [আল-মুমিনুন: ১১৭]।

আর হাদিসে এসেছে: "দুআ হলো ইবাদতের মূল।" এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" [গাফির: ৬০]।

ভয়ের প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হও।" [আল-ইমরান: ১৭৫]।

আশার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে।" [আল-কাহফ: ১১০]।

তাওয়াক্কুলের প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুমিন হও।" [আল-মায়িদাহ: ২৩]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।" [আত-তালাক: ৩]।

আকাঙ্ক্ষা, ভীতি এবং বিনয়ের প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং তারা আমাদিগকে ডাকত আশা ও ভীতির সাথে; আর তারা ছিল আমাদের কাছে বিনীত।" [আল-আম্বিয়া: ৯০]।

গভীর ভীতির প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো।" আয়াতের শেষ পর্যন্ত [আল-বাকারাহ: ১৫০]।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَدَلِيلُ الإِنَابَةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ} الآية [الزمر: 54].

وَدَلِيلُ الاسْتِعَانَةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5]. وَفِي الْحَدِيثِ: « … وإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللهِ».

وَدَلِيلُ الاسْتِعَاذَةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} [الفلق: 1]. وَ {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1].

وَدَلِيلُ الاسْتِغَاثَةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ} الآية [الأنفال: 9].

وَدَلِيلُ الذَّبْحِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ (161) قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (162) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (163)} [الأنعام: 161 - 163]. وَمِنَ السُنَّةِ: «لعَنَ اللهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللهِ».

وَدَلِيلُ النَّذْرِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا} [الإنسان: 7].
ইনাজাহ (আল্লাহ-অভিমুখী হওয়া)-এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর অনুগত হও} আয়াত [আয-যুমার: ৫৪]।

ইস্তিয়ানা (সাহায্য প্রার্থনা)-এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি} [আল-ফাতিহা: ৫]। এবং হাদিসে এসেছে: « ... এবং যখন তুমি সাহায্য চাইবে, তখন আল্লাহর নিকটই সাহায্য চাও।»

ইস্তিয়াযা (আশ্রয় প্রার্থনা)-এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার প্রতিপালকের নিকট} [আল-ফালাক: ১]। এবং {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের নিকট} [আন-নাস: ১]।

ইস্তিগাসা (বিপদে উদ্ধার প্রার্থনা)-এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট উদ্ধার প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন} আয়াত [আল-আনফাল: ৯]।

যবেহ (বলিদান)-এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং ইবরাহীমের আদর্শ, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (১৬১) বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি (যবেহ), আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। (১৬২) তাঁর কোনো শরিক নেই, আর আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমিই প্রথম মুসলিম। (১৬৩)} [আল-আনআম: ১৬১-১৬৩]। সুন্নাহ থেকে দলিল হলো: «যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ করে, আল্লাহ তার ওপর অভিশাপ দেন।»

মানত-এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা মানত পূর্ণ করে এবং তারা সেই দিনকে ভয় করে যার অকল্যাণ হবে সুদূরপ্রসারী} [আল-ইনসান: ৭]।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৬)
* *‌‌ الأَصْلُ الثَّانِي * *

مَعْرِفَةُ دِينِ الإِسْلامِ بِالأَدِلَّةِ

وَهُوَ: الاسْتِسْلامُ للهِ بِالتَّوْحِيدِ، وَالانْقِيَادُ لَهُ بِالطَّاعَةِ، وَالْبَرَاءَةُ مِنَ الشركِ وَأَهْلِهِ، وَهُوَ ثَلاثُ مَرَاتِبَ: الإسْلامُ، وَالإِيمَانُ، وَالإِحْسَانُ. وَكُلُّ مَرْتَبَةٍ لَهَا أَرْكَانٌ.

المرتبة الأولى: الإسلام: فَأَرْكَانُ الإِسْلامِ خَمْسَةٌ: شَهَادَةُ أَنْ لا إله إِلا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامُ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ بَيْتِ اللهِ الْحَرَامِ.

فَدَلِيلُ الشَّهَادَةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [آل عمران، 18].

وَمَعْنَاهَا: لا مَعْبُودَ بِحَقٍّ إلا اللهُ، وَحَدُّ النَّفْيِ مِنْ الإِثْبَاتِ {لَا إِلَهَ} نَافِيًا جَمِيعَ مَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللهِ {إِلَّا اللَّهُ} مُثْبِتًا الْعِبَادَةَ للهِ وَحْدَهُ لا شريكَ لَهُ فِي عِبَادَتِهِ، كَمَا أَنَّهُ لَيْسَ لَهُ شريكٌ فِي مُلْكِهِ.

وَتَفْسيرُهَا: الَّذِي يُوَضِّحُهَا قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ (26) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ (27) وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ (28)} [الزخرف: 26 - 28]. وقَوْلُهُ تَعَالَى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 64].

وَدِليلُ شَهَادَةِ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ
দ্বিতীয় মূলনীতি

দলীলসহ ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা

আর তা হলো: তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগত হওয়া এবং শিরক ও শিরকপন্থীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা। এটি তিনটি স্তর বিশিষ্ট: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান। আর প্রতিটি স্তরের রুকন বা স্তম্ভ রয়েছে।

প্রথম স্তর: ইসলাম: ইসলামের রুকন পাঁচটি: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমাদানের সিয়াম পালন করা এবং আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ করা।

শাহাদাতের দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (একই সাক্ষ্য দিয়েছেন), তিনি ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আল ইমরান: ১৮]।

এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এর না-বোধক ও হাঁ-বোধক অংশের ব্যাখ্যা হলো— {লা ইলাহা} আল্লাহ ছাড়া যা কিছুর ইবাদত করা হয় তার সবকিছুকে অস্বীকার করে এবং {ইল্লাল্লাহ} ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে, যাঁর ইবাদতে কোনো শরীক নেই; যেমন তাঁর রাজত্বে কোনো শরীক নেই।

এর ব্যাখ্যা যা একে সুস্পষ্ট করে তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘নিশ্চয়ই তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই; তবে আমার সম্পর্ক তাঁর সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর নিশ্চয়ই তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।’ আর তিনি এটিকে তাঁর বংশধরদের মধ্যে একটি স্থায়ী বাণী হিসেবে রেখে গেছেন যাতে তারা ফিরে আসে} [আয-যুখরুফ: ২৬ - ২৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে কিতাবীগণ! তোমরা এমন একটি বাণীর দিকে আসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান; তা হলো আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করব না এবং আমাদের একে অপরকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করব না। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম} [আল ইমরান: ৬৪]।

আর মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্যের দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৭)
مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 128].

وَمَعْنَى شَهَادَة أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ: طَاعَتُهُ فِيمَا أَمَرَ، وَتَصْدِيقُهُ فِيمَا أَخْبَرَ، واجْتِنَابُ مَا نَهَى عَنْهُ وَزَجَرَ وأَلا يُعْبَدَ اللهُ إِلا بِمَا شرعَ.

وَدَلِيلُ الصَّلاةِ، وَالزَّكَاةِ، وَتَفْسيرُ التَّوْحِيدِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5].

ودَلِيلُ الصيامِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 183].

ودَلِيلُ الْحَجِّ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 97].

الْمَرْتَبَةُ الثَّانِيَةُ: الإِيمَانُ: وَهُوَ: بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً، فَأَعْلاهَا قَوْلُ لا إله إِلا اللهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنْ الإِيمَانِ.

وَأَرْكَانُهُ سِتَّةٌ: كما في الحديث: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشرهِ».

وَالدَّلِيلُ عَلَى هَذِهِ الأَرْكَانِ السِّتَةِ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} [البقرة: 177].

ودليل القدر: قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49].

الْمَرْتَبَةُ الثَّالِثَةُ: الإِحْسَانُ: وله رُكْنٌ وَاحِدٌ. كما في الحديث: «أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ».
তোমাদের মধ্য থেকেই; তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর নিকট অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তিনি তোমাদের অতি মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতীব দয়ালু ও পরম করুণাময়। [আত-তাওবাহ: ১২৮]।

আর "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল"—এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো: তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা, তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন ও ধমক দিয়েছেন তা বর্জন করা এবং আল্লাহ নির্দেশিত পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে তাঁর ইবাদত না করা।

সালাত, জাকাত এবং তাওহীদের ব্যাখ্যার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে; আর এটাই হলো সঠিক দ্বীন।" [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]।

সিয়ামের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।" [আল-বাকারা: ১৮৩]।

হজের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক; আর যে কুফরি করবে সে জেনে রাখুক যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।" [আলে ইমরান: ৯৭]।

দ্বিতীয় স্তর: ঈমান। আর তা হলো সত্তরটিরও কিছু বেশি শাখা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

এর রুকন ছয়টি: যেমন হাদিসে এসেছে: "তা হলো—তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে।"

এই ছয়টি রুকনের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "পূর্ব বা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্য হলো তার যে ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, কিতাবের প্রতি এবং নবীগণের প্রতি।" [আল-বাকারা: ১৭৭]।

তাকদীরের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেকটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাপে সৃষ্টি করেছি।" [আল-কামার: ৪৯]।

তৃতীয় স্তর: ইহসান। এর রুকন একটিই। যেমন হাদিসে এসেছে: "তা হলো—তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।"
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ} [النحل: 128]. وقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ (217) الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ (218) وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ (219) إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (220)} [الشعراء: 217 - 220]. وقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ} [يونس: 61].

وَالدَّلِيلُ مِنَ السُّنَّةِ: حَدِيثُ جِبْرِيلَ الْمَشْهُورُ: عَنْ عُمَرَ بنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ، شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ، لا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، فَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلامِ فَقَالَ: «أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لا إله إِلا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَتُقِيمَ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنْ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلا». قَالَ: صَدَقْتَ. فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ. قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشرهِ». قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ. قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ». قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ. قَالَ: «مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ». قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا. قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ». قَالَ: فَمَضى، فَلَبِثْنَا مَلِيَّا، فَقَالَ: «يَا عُمَرُ أَتَدْرُونَ مَنِ السَّائِلِ؟». قُلْنَا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «هَذَا جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ أَمْرَ دِينِكُم».
এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল} [আন-নাহল: ১২৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর ওপর (২১৭) যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি সালাতে দাঁড়ান (২১৮) এবং সিজদাকারীদের মাঝে আপনার উঠাবসা (২১৯) নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (২২০)} [আশ-শুআরা: ২১৭-২২০]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন এবং আপনি কুরআন থেকে যা-ই তিলাওয়াত করুন না কেন এবং তোমরা যে কাজই করো না কেন, আমরা তোমাদের প্রত্যক্ষদর্শী থাকি যখন তোমরা তাতে লিপ্ত হও} [ইউনুস: ৬১]।

আর সুন্নাহ থেকে দলীল হলো জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদীসটি: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুল বিশিষ্ট একজন লোক উপস্থিত হলেন। তাঁর মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনত না। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসলেন এবং তাঁর দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই হাঁটুর সাথে মিলালেন এবং তাঁর দুই হাতের তালু নিজের উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তখন তিনি বললেন: «ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করা»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তাঁর উত্তরকে সত্য বলে সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «ঈমান হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস রাখবেন»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «ইহসান হলো এই যে, আপনি আল্লাহর এমনভাবে ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন; আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান, তবে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন»। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন»। তিনি বললেন: তাহলে আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এবং আপনি দেখবেন বস্ত্রহীন, পদব্রজে চলন্ত অভাবী মেষপালকরা বড় বড় দালানকোঠা তৈরিতে প্রতিযোগিতা করছে»। তিনি বলেন: অতঃপর লোকটি চলে গেলেন। আমরা দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলাম। তারপর তিনি বললেন: «হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?»। আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «ইনি ছিলেন জিবরীল; তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন»।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ১৯)
* *‌‌ الأَصْلُ الثَّالِثُ * *

مَعْرِفَةُ نَبِيِّكُمْ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم
-

وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمٍ، وَهَاشِمٌ مِنْ قُرَيْشٍ، وَقُرَيْشٌ مِنَ الْعَرَبِ، وَالْعَرَبُ مِنْ ذُرِّيَّةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ عَلَيْهِ وَعَلَى نَبِيِّنَا أَفْضَلُ الصَّلاةِ وَالسَّلامِ، وَلَهُ مِنَ الِعُمُرِ ثَلاثٌ وَسِتُّونَ سَنَةً، مِنْهَا أَرْبَعُونَ قَبْلَ النُّبُوَّةِ، وَثَلاثٌ وَعِشرونَ في النبوة. نُبِّئَ ب {اقْرَأْ}، وَأُرْسِلَ ب {الْمُدَّثِّرُ}، وَبَلَدُهُ مَكَّةُ.

بَعَثَهُ اللهُ بِالنِّذَارَةِ عَنِ الشركِ، وَبالَدْعُوة إِلَى التَّوْحِيدِ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (1) قُمْ فَأَنْذِرْ (2) وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ (3) وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ (4) وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ (5) وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ (6) وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ (7)} [المدثر: 1 - 7]. وَمَعْنَى: {قُمْ فَأَنْذِرْ}: يُنْذِرُ عَنِ الشركِ، وَيَدْعُو إِلَى التَّوْحِيدِ. {وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ}: أَيْ: عَظِّمْهُ بِالتَّوْحِيدِ. {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ}: أَيْ: طَهِّرْ أَعْمَالَكَ عَنِ الشركِ. {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ}: الرُّجْزَ: الأَصْنَامُ، وَهَجْرُهَا: تَرْكُهَا، وَالْبَرَاءَةُ مِنْهَا وَأَهْلُهَا، أَخَذَ عَلَى هَذَا عَشر سِنِينَ يَدْعُو إِلَى التَّوْحِيدِ، وَبَعْدَ الْعَشر عُرِجَ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ، وَفُرِضَتْ عَلَيْهِ الصَّلَواتُ الْخَمْسُ، وَصَلَّى فِي مَكَّةَ ثَلاثَ سِنِينَ، وَبَعْدَهَا أُمِرَ بالْهِجْرَةِ إِلَى الْمَدِينَةِ، وَالْهِجْرَةُ الانْتِقَالُ مِنْ بَلَدِ الشركِ إِلَى بَلَدِ الإِسْلامِ.

وَالْهِجْرَةُ فَرِيضَةٌ عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ مِنْ بَلَدِ الشركِ إِلَى بلد الإِسْلامِ، وَهِيَ بَاقِيَةٌ إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (97) إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًا (98) فَأُولَئِكَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُمْ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًا (99)} [النساء: 97 - 99]. وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {يَاعِبَادِيَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ أَرْضِي وَاسِعَةٌ فَإِيَّايَ فَاعْبُدُونِ} [العنكبوت: 56].
তৃতীয় মূলনীতি

তোমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিচয়
-

তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিব ইবন হাশিম। আর হাশিম কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত, কুরাইশ আরবের অন্তর্ভুক্ত, আর আরব হলো ইব্রাহিম আল-খলিল আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর—তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর, এর মধ্যে চল্লিশ বছর নবুওয়াতের আগে এবং তেইশ বছর নবুওয়াত ও রাসূল হিসেবে। তাঁর কাছে নবুওয়াত আসে ‘ইকরা’ (পড়ুন) আয়াতের মাধ্যমে, আর তাঁকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয় ‘আল-মুদ্দাসসির’ সূরার মাধ্যমে। তাঁর শহর হলো মক্কা।

আল্লাহ তাঁকে শিরক থেকে সতর্ক করার জন্য এবং তাওহিদের দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছেন। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে বস্ত্রাবৃত! (১) উঠুন এবং সতর্ক করুন (২) আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন (৩) আর আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন (৪) আর অপবিত্রতা (মূর্তি) বর্জন করুন (৫) আর অধিক পাওয়ার আশায় দান করবেন না (৬) আর আপনার রবের জন্য ধৈর্য ধারণ করুন (৭)} [আল-মুদ্দাসসির: ১-৭]। আর ‘উঠুন এবং সতর্ক করুন’ এর অর্থ হলো: তিনি শিরক থেকে সতর্ক করেন এবং তাওহিদের দিকে আহ্বান জানান। ‘আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন’ অর্থাৎ: তাওহিদের মাধ্যমে তাঁর মহিমা ও বড়ত্ব বর্ণনা করুন। ‘আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন’ অর্থাৎ: আপনার আমলসমূহকে শিরক থেকে পবিত্র রাখুন। ‘অপবিত্রতা বর্জন করুন’: ‘রুজজ’ (অপবিত্রতা) মানে হলো মূর্তিসমূহ, আর তা বর্জন করার অর্থ হলো—তা পরিত্যাগ করা এবং তা থেকে ও তার অনুসারীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা। তিনি এভাবে দশ বছর তাওহিদের দিকে দাওয়াত দিতে থাকেন। দশ বছর পর তাঁকে আসমানে আরোহণ করানো হয় (মিরাজ) এবং তাঁর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। তিনি মক্কায় তিন বছর সালাত আদায় করেন। এরপর তাঁকে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর হিজরত হলো শিরকের দেশ থেকে ইসলামের দেশে স্থানান্তরিত হওয়া।

শিরকের দেশ থেকে ইসলামের দেশে হিজরত করা এই উম্মতের ওপর একটি ফরজ কাজ, যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা নিজেদের ওপর জুলুমকারী থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করে, তারা (ফেরেশতারা) বলে: তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে: আমরা জমিনে অসহায় ছিলাম। তারা বলে: আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে? অতএব তাদের আবাসস্থল হলো জাহান্নাম, আর তা কতই না মন্দ গন্তব্য! (৯৭) তবে পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে যারা প্রকৃতই অসহায়, যাদের কোনো উপায় অবলম্বনের সামর্থ্য নেই এবং যারা কোনো পথ খুঁজে পায় না (৯৮) আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন, আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু (৯৯)} [আন-নিসা: ৯৭-৯৯]। মহান আল্লাহর আরও বাণী: {হে আমার মুমিন বান্দাগণ! নিশ্চয়ই আমার জমিন প্রশস্ত, অতএব তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো} [আল-আনকাবুত: ৫৬]।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২০)
قَالَ الْبُغَوِيُّ رحمه الله: نزلت هَذِهِ الآيَةُ فِي المُسْلِمِينَ الَّذِينَ بِمَكَّةَ ولَمْ يُهَاجِرُوا، نَادَاهُمُ اللهُ بِاسْمِ الإِيمَانِ.

وَالدَّلِيلُ عَلَى الْهِجْرَةِ مِنَ السُّنَّةِ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «لا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ، وَلا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا».

فَلَمَّا اسْتَقَرَّ فِي الْمَدِينَةِ أُمِرَ بِبَقِيَّةِ شرائِعِ الإِسْلامِ، مِثلِ: الزَّكَاةِ، وَالصَّوْمِ، وَالْحَجِّ، وَالأَذَانِ، وَالْجِهَادِ، وَالأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ شرائِعِ الإِسْلامِ، أَخَذَ عَلَى هَذَا عَشر سِنِينَ، وَتُوُفِّيَ -صَلواتُ اللهِ وَسَلامُهُ عَلَيْهِ- وَدِينُهُ بَاقٍ.

وَهَذَا دِينُهُ، لا خَيْرَ إِلا دَلَّ الأُمَّةَ عَلَيْهِ، وَلا شر إِلا حَذَّرَهَا مِنْهُ، وَالْخَيْرُ الَّذِي دَلَّهَا عَلَيْهِ التَّوْحِيدُ، وَجَمِيعُ مَا يُحِبُّهُ اللهُ وَيَرْضَاهُ، وَالشر الَّذِي حَذَّرَهَا مِنْهُ الشركُ، وَجَمِيعُ مَا يَكْرَهُه اللهُ وَيَأْبَاهُ. بَعَثَهُ اللهُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً، وَافْتَرَضَ طَاعَتَهُ عَلَى جَمِيعِ الثَّقَلَيْنِ الْجِنِّ وَالإِنْسِ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} [الأعراف: 158]. وَكَمَّلَ اللهُ بِهِ الدِّينَ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3]. وَالدَّلِيلُ عَلَى مَوْتِهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ (30) ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ (31)} [الزمر: 30، 31].

وَالنَّاسُ إِذَا مَاتُوا يُبْعَثُونَ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى} [طه: 55]. وقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَاللَّهُ أَنْبَتَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ نَبَاتًا (17) ثُمَّ يُعِيدُكُمْ فِيهَا وَيُخْرِجُكُمْ إِخْرَاجًا (18)} [نوح: 17، 18].
ইমাম বাগাউয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই আয়াতটি মক্কায় অবস্থানরত সেই মুসলমানদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যারা হিজরত করেনি; আল্লাহ তাদেরকে ঈমানের নামে সম্বোধন করেছেন।

সুন্নাহ থেকে হিজরতের প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «তওবা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত বিচ্ছিন্ন হবে না এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তওবা বিচ্ছিন্ন হবে না»।

অতঃপর যখন তিনি মদীনায় থিতু হলেন, তখন তাঁকে ইসলামের অবশিষ্ট বিধিবিধান পালনের আদেশ দেওয়া হলো, যেমন: যাকাত, সিয়াম, হজ, আযান, জিহাদ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং ইসলামের অন্যান্য বিধানাবলী। তিনি এর ওপর দশ বছর অতিবাহিত করেন, অতঃপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তবে তাঁর দ্বীন অবশিষ্ট রয়েছে।

আর এটাই হলো তাঁর দ্বীন; এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি উম্মতকে পথ দেখাননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদেরকে সতর্ক করেননি। সেই কল্যাণ—যার দিকে তিনি পথ দেখিয়েছেন—তা হলো তাওহীদ এবং আল্লাহর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির সকল কাজ। আর সেই অকল্যাণ—যা থেকে তিনি সতর্ক করেছেন—তা হলো শিরক এবং আল্লাহর অপছন্দনীয় ও ঘৃণিত সকল কাজ। আল্লাহ তাঁকে সমস্ত মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং জিন ও মানুষ উভয় জাতির ওপর তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন; এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার জন্য আল্লাহর রাসূল} [সূরা আল-আরাফ: ১৫৮]। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন; এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [সূরা আল-মায়েদাহ: ৩]। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে। তারপর কিয়ামতের দিন তোমরা তোমাদের রবের নিকট বিবাদে লিপ্ত হবে} [সূরা আয-যুমার: ৩০, ৩১]।

আর মানুষ মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে; এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তোমাদেরকে মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং তা থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করব} [সূরা ত্বহা: ৫৫]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি থেকে উদ্ভিদের মতো উৎপন্ন করেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তাতে ফিরিয়ে নেবেন এবং পুনরায় তোমাদেরকে বের করবেন} [সূরা নূহ: ১৭, ১৮]।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২১)
وَبَعْدَ الْبَعْثِ مُحَاسَبُونَ وَمَجْزِيُّونَ بِأَعْمَالِهِمْ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاءُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى} [النجم: 31].

وَمَنْ كَذَّبَ بِالْبَعْثِ كَفَرَ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} [التغابن: 7].

وَأَرْسَلَ اللهُ جَمِيعَ الرُّسُلِ مُبَشرينَ وَمُنْذِرِينَ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} [النساء: 165].

وَأَّولُهُمْ نُوحٌ عليهم السلام، وَآخِرُهُمْ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ؛ وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ أَوَّلَهُمْ نُوحٌ قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ} [النساء: 165].

وَكُلُّ أُمَّةٍ بَعَثَ اللهُ إِلَيْهِا رَسُولا مِنْ نُوحٍ إِلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ اللهِ وَحْدَهُ، وَيَنْهَاهُمْ عَنْ عِبَادَةِ الطَّاغُوتِ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]. وَافْتَرَضَ اللهُ عَلَى جَمِيعِ الْعِبَادِ الْكُفْرَ بِالطَّاغُوتِ وَالإِيمَانَ بِاللهِ.

قَالَ ابْنُ الْقَيِّمِ -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى-: مَعْنَى الطَّاغُوتِ مَا تَجَاوَزَ بِهِ الْعَبْدُ حَدَّهُ مِنْ مَعْبُودٍ أَوْ مَتْبُوعٍ أَوْ مُطَاعٍ. وَالطَّوَاغِيتُ كَثِيرُونَ وَرُؤُوسُهُمْ خَمْسَةٌ: إِبْلِيسُ لَعَنَهُ اللهُ، وَمَنْ عُبِدَ وَهُوَ رَاضٍ، وَمَنْ دَعَا النَّاسَ إِلَى عِبَادَةِ نَفْسِهِ، وَمَنْ ادَّعَى شيئًا مِنْ عِلْمِ الْغَيْبِ، وَمَنْ حَكَمَ بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللهُ؛ وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 256]. وَهَذَا هُوَ مَعْنَى لا إله إِلا اللهُ، وَفِي الْحَدِيثِ: «رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلامِ، وَعَمُودُهُ الصَّلاةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ».

وَاللهُ أَعْلَمُ. وَصَلَّى اللهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعلى آله وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.

* ** * *
পুনরুত্থানের পর তারা তাদের আমল অনুযায়ী জিজ্ঞাসিত হবে এবং প্রতিদান লাভ করবে। এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর; যাতে যারা মন্দ কাজ করে তিনি তাদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দেন এবং যারা ভালো কাজ করে তাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার} [আন-নাজম: ৩১]।

আর যে ব্যক্তি পুনরুত্থানকে অস্বীকার করবে সে কুফরি করল। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হ্যাঁ, আমার রবের কসম! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে, তারপর তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে। আর এটা আল্লাহর জন্য অতি সহজ} [আত-তাগাবুন: ৭]।

আল্লাহ সকল রাসূলকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূলগণকে পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো ওজুহাত না থাকে} [আন-নিসা: ১৬৫]।

তাঁদের প্রথম হলেন নূহ (আলাইহিস সালাম) এবং শেষ হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আর তিনি হলেন সর্বশেষ নবী। তাঁদের প্রথম যে নূহ (আলাইহিস সালাম), তার দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমনিভাবে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি} [আন-নিসা: ১৬৩]।

আল্লাহ নূহ থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছেন, যারা তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদত করার আদেশ দিতেন এবং তাগুতের ইবাদত করতে নিষেধ করতেন। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬]। আর আল্লাহ সকল বান্দার ওপর তাগুতকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনা ফরজ করেছেন।

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: তাগুত হলো বান্দা কর্তৃক তার সীমাকে ছাড়িয়ে যাওয়া—চাই সে উপাস্য হোক অথবা অনুসরিত হোক কিংবা আনুগত্যপ্রাপ্ত হোক। তাগুত অনেক, তবে তাদের প্রধান হলো পাঁচটি: ইবলিস (তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক), যাকে ইবাদত করা হয় এবং সে তাতে সন্তুষ্ট, যে মানুষকে নিজের ইবাদতের দিকে আহ্বান করে, যে গায়েবের (অদৃশ্য) জ্ঞানের কোনো বিষয় দাবি করে এবং যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বিচার-ফয়সালা করে। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করল যা কখনো ছিঁড়ে যাওয়ার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-বাকারাহ: ২৫৬]। আর এটাই হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ। হাদীসে এসেছে: "সকল বিষয়ের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো সালাত এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ।"

আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

* ** * *
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২২)
* وهذا أوان الشروع في الكلام على هذه الرسالة فأقول:

 

*‌‌ قوله: (الأصول الثلاثة).

الأصول جمع أصلٍ، على وزن فَعْلٍ، يُجمع على فُعُول، وأَصْل يجمع على أصول.

والأصل في اللغة: ما يُبنى عليه غيره، كأصل الجدار -أي أساسه- لأن الفرع لا ينشأ إلا عن أصل، فكل فرع لا بد وأن يكون له أصل قد نشأ منه وتفرع عنه.

والمراد هنا بالأصول الثلاثة: الأسس التي يقوم عليها الدين، وهي الأسئلة التي يُسأل عنها العبد في قبره.
এটিই এই পুস্তিকাটির আলোচনা শুরু করার সময়, আমি বলছি:

 

‌‌ তাঁর উক্তি: (তিনটি মূলনীতি)।

আল-উসুল হলো আসল-এর বহুবচন, যা ফাল ওজনে, একে ফুউল এর ওজনে বহুবচন করা হয়; আর আসল শব্দটিকে উসুল হিসেবে বহুবচন করা হয়।

আভিধানিক অর্থে 'আসল' হলো এমন কিছু যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়, যেমন দেয়ালের মূল—অর্থাৎ এর ভিত্তি—কেননা শাখা কেবল মূল থেকেই উৎপন্ন হয়। সুতরাং প্রতিটি শাখারই অবশ্যই একটি মূল থাকতে হবে যেখান থেকে তা উৎপন্ন এবং শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে।

এখানে 'তিনটি মূলনীতি' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সেই সকল ভিত্তি যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত, আর এগুলো হলো সেই সকল প্রশ্ন যা কবরে বান্দাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৩)
*‌‌ قوله: (بسم الله الرحمن الرحيم، اعْلمْ رَحِمَكَ اللهُ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْنَا تَعَلَّمُ أَرْبَع مَسَائِلَ).

بهذه الجملة ابتدأ المؤلف رحمه الله رسالته، وتحتها ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: (بسم الله الرحمن الرحيم).

بدأ المصنف على عادة أهل العلم بما استقر في عرفهم بالبسملة وذلك لأمور:

أولاً: اقتداءً بالكتاب العزيز، حيث بدأ ب: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2)} (الفاتحة 1، 2).

ثانيًا: اقتداءً وتأسيا بالسنة الفعلية، فإن مكاتباته صلى الله عليه وسلم كان يصدّرها بالبسملة، ككتابه لهرقل، حيث بدأه بقوله: «بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ»(1).

ثالثًا: اقتداءً بالأئمة المصنفين، قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: «وَقَدِ اسْتَقَرَّ عَمَلُ الْأَئِمَّةِ الْمُصَنِّفِينَ عَلَى افْتِتَاحِ كُتُبِ الْعِلْمِ بِالْبَسْمَلَةِ وَكَذَا مُعْظَمُ كُتُبِ الرَّسَائِلِ»(2). وأما ما ورد في الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِبَسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَهُو أَبْتَر»، فإن هذا الحديث إسناده ضعيف(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه «البخاري» (7)، و «مسلم» (1773) من حديث عبد الله بن عباس رضي الله عنه.

(2) انظر: «فتح الباري» (1/ 9).

(3) أخرجه الخطيب في «الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع» (2/ 69)، والرهاوي في «الأربعين» من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وضعفه الألباني في «ضعيف الجامع» (4217).
তাঁর উক্তি: (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। জেনে রাখো, আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন, নিশ্চয়ই আমাদের ওপর চারটি বিষয় শিক্ষা করা আবশ্যক)।

এই বাক্যের মাধ্যমে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পুস্তিকাটি শুরু করেছেন এবং এর অধীনে তিনটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি)।

আলিমগণের রীতি অনুযায়ী লেখক বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন যা তাঁদের নিকট প্রতিষ্ঠিত প্রথা, আর তা কয়েকটি কারণে:

প্রথমত: মহাগ্রন্থের (কুরআনের) অনুকরণে, যেহেতু তা শুরু হয়েছে: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে (১) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক (২)} (আল-ফাতিহা ১, ২)।

দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কর্মগত সুন্নাহর অনুসরণ ও অনুকরণের নিমিত্তে। কেননা তিনি তাঁর চিঠিপত্র বিসমিল্লাহর মাধ্যমেই শুরু করতেন, যেমন হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রটি, যা তিনি শুরু করেছিলেন এই বলে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি"(১)।

তৃতীয়ত: ইমাম ও গ্রন্থকারগণের অনুসরণে। হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইমাম ও লেখকগণের নিকট ইলমী গ্রন্থসমূহ বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করার আমলটি সুপ্রতিষ্ঠিত, এবং চিঠিপত্র বিষয়ক অধিকাংশ কিতাবের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম"(২)। আর হাদিসে যে বর্ণিত হয়েছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বা বরকতহীন)", নিশ্চয়ই এই হাদিসটির সনদ দুর্বল(৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৭) এবং মুসলিম (১৭৭৩) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: "ফাতহুল বারী" (১/ ৯)।

(৩) এটি খতীব বাগদাদী "আল-জামি লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি" (২/ ৬৯) গ্রন্থে এবং রাহাভী "আল-আরবাঈন" গ্রন্থে আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, আর আলবানী একে "যঈফ আল-জামি" (৪২১৭) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৪)
المسألة الثانية: (اعْلمْ رَحِمَكَ اللهُ).

وهذا تلطفٌ من المؤلف -رحمه الله تعالى- حينما ابتدأ بالدعاء له بالرحمة، وهكذا ينبغي لطالب العلم أن يتلطف تجاه مدعويه، فيدعو لهم ويتلطف معهم بالعبارة، فإن هذا أدعى لقبول الكلام الذي سيطرحه بعد ذلك، وقد أمر الله نبيه بأن يتلطف في دعوته، فغيره من أتباعه، الدعاة لدينه، ينبغي أن يقتدوا به، قال تعالى: {وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ} [آل عمران: 159].

المسألة الثالثة: (أَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْنَا تَعَلَّمُ أَرْبَع مَسَائِلَ).

هذه طريقة المؤلف في ذكر المسائل، وهي: حصر عدد المسائل، فيقول: ثلاث مسائل، أو أربع مسائل، وذلك أحسن في التعليم، وأرتب لذهن السامع.

وذكر هنا أن حكم تعلم هذه المسائل التي سيوردها واجب، ولا يتم الدين إلا بها، ولا ينال العلم إلا بتحقيقها، ثم بعد ذلك ذكرها المصنف رحمه الله.
দ্বিতীয় মাসআলা: (জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন)।

এটি লেখক -রহিমাহুল্লাহ তায়ালা- এর পক্ষ থেকে এক প্রকার কোমলতা, যেহেতু তিনি তাঁর জন্য রহমতের দুআ দিয়ে শুরু করেছেন। এভাবেই ইলম অন্বেষণকারীর উচিত তার দাওয়াতপ্রাপ্তদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা, তাদের জন্য দুআ করা এবং তাদের সাথে কোমল বাক্যে কথা বলা। কারণ, এটি পরবর্তীতে তিনি যে কথা উপস্থাপন করবেন তা গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে তাঁর দাওয়াতি কাজে কোমল হতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, তাঁর অনুসারী দ্বীনের দায়ীগণের জন্য তাঁকে অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি আপনি কঠোর ও রুক্ষ হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত" [আলে ইমরান: ১৫৯]।

তৃতীয় মাসআলা: (নিশ্চয়ই আমাদের জন্য চারটি মাসআলা শিক্ষা করা ওয়াজিব)।

মাসআলা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এটি লেখকের একটি পদ্ধতি, আর তা হলো: মাসআলার সংখ্যা নির্দিষ্ট করা। যেমন তিনি বলেন: তিনটি মাসআলা বা চারটি মাসআলা। এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে উত্তম এবং শ্রবণকারীর মগজে গুছিয়ে রাখার জন্য অধিক উপযোগী।

তিনি এখানে উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসআলাগুলো যা তিনি বর্ণনা করবেন তা শিক্ষা করা ওয়াজিব। দ্বীন এগুলোর মাধ্যম ব্যতীত পূর্ণ হয় না এবং এগুলো অর্জন করা ছাড়া ইলম লাভ করা যায় না। এরপর লেখক রহিমাহুল্লাহ সেগুলো উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৫)
*‌‌ قوله: (المسألة الأُولَى: الْعِلْمُ: وَهُوَ مَعْرِفَةُ اللهِ، وَمَعْرِفَةُ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعْرِفَةُ دِينِ الإِسْلامِ بالأَدِلَّةِ).

المسألة الأولى التي يجب على الإنسان تعلمها هي العلم، والكلام عليها في خمسة مسائل:

1/ تعريف العلم: العلم هو معرفة الحق والهدى بالدليل، قال ابن القيم:

الْعِلْمُ مَعْرِفَةُ الهُدَى بِدَلِيْلِهِ … مَا ذَاكَ وَالتَّقْلِيْدُ يَسْتَوِيَانِ(1)

وإذا أطلق العلم فإن المراد به العلم الشرعي، واعلم أن أول واجب على الإنسان أن يتعلم أحكام دينه فكان لزاماً على المسلم أن يتعلم ليتعبد لربه سبحانه وتعالى على بصيرة، فلا يصح إسلام وتعبّدٌ حتى تتعلم التوحيد لله؛ لتعبده بلا إشراك وبعد هذا يتعلم بقية الشرائع والواجبات.

2/ العلماء يذكرون أن أول واجب على المكلفين هو: أن يتعلم توحيد الله تعالى، وهذا يكون بمعرفة معنى لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله.

وقد ذكر بعض أهل العلم أنه لا يصح أن يقلد في اعتقاده فيقول: أنا أعتقد كما يعتقد فلان، بل يجب عليه أن يعرف ماذا يعتقد في دينه.

ولكن ذهب الجماهير من أهل العلم إلى جواز التقليد في العقائد لمن لا يعرف، ونُقِلَ عن الأئمة الأربعة، ونسبه شيخ الإسلام رحمه الله إلى جمهور الأمة، قال رحمه الله: «أما في المسائل الأصولية فكثير من المتكلمة والفقهاء من أصحابنا وغيرهم من يوجب النظر والاستدلال على كل أحد وأما جمهور الأمة فعلى خلاف ذلك، فإن ما وجب علمه إنما يجب على من يقدر على

--------------------------------------------

(1) انظر: «الكافية الشافية في الانتصار للفرقة الناجية».
তাঁর বাণী: (প্রথম মাসআলা: ইলম (জ্ঞান): আর তা হলো আল্লাহকে চেনা, তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চেনা এবং দলীলসহ ইসলাম ধর্মকে চেনা)।

প্রথম মাসআলা যা মানুষের শেখা ওয়াজিব তা হলো ইলম, আর এ বিষয়ে পাঁচটি মাসআলায় আলোচনা করা হয়েছে:

১/ ইলমের সংজ্ঞা: ইলম হলো দলীলসহ সত্য ও হিদায়াতকে চেনা। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:

ইলম হলো দলীলসহ হিদায়াতকে চেনা … ইলম এবং অন্ধ অনুকরণ (তাকলীদ) কখনো সমান হতে পারে না(১)

যখন সাধারণত ইলম শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে শরয়ী ইলম। জেনে রাখুন, মানুষের ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব হলো তার দ্বীনের বিধানসমূহ শেখা। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা অপরিহার্য যাতে সে তার রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত সঠিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে করতে পারে। আল্লাহর তাওহীদ না শেখা পর্যন্ত ইসলাম এবং ইবাদত সঠিক হবে না; যেন আপনি কোনো শিরক ছাড়াই তাঁর ইবাদত করতে পারেন। এরপর অন্যান্য শরয়ী বিধান ও ওয়াজিবসমূহ শিখতে হবে।

২/ উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেন যে, মুকাল্লাফ ব্যক্তিদের ওপর প্রথম ওয়াজিব হলো: মহান আল্লাহর তাওহীদ শেখা। আর এটি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' এর অর্থ জানার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

কোনো কোনো বিজ্ঞ আলিম উল্লেখ করেছেন যে, আকিদার ক্ষেত্রে তাকলীদ বা অন্ধ অনুকরণ করা সঠিক নয় যে কেউ বলবে: 'আমি অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসের মতো বিশ্বাস করি'; বরং তার জন্য এটি জানা ওয়াজিব যে সে তার দ্বীনের ক্ষেত্রে কী বিশ্বাস পোষণ করছে।

কিন্তু অধিকাংশ আলিম (জমহুর) এই মত পোষণ করেছেন যে, যার (দলীল সম্পর্কে) জ্ঞান নেই তার জন্য আকিদার ক্ষেত্রেও তাকলীদ করা জায়েজ। এটি চার ইমাম থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ একে উম্মতের জমহুর বা সংখ্যাগুরু অংশের মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: «মৌলিক মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে অনেক মুতাকাল্লিম এবং আমাদের মাযহাবের ও অন্যান্যদের ফকীহগণ প্রত্যেকের ওপর পর্যবেক্ষণ ও দলীলের মাধ্যমে ইলম অর্জন করাকে ওয়াজিব করেছেন। তবে উম্মতের জমহুর এর বিপরীতে অবস্থান করছেন। কারণ, যা জানা ওয়াজিব, তা কেবল তার ওপরই ওয়াজিব যে ব্যক্তি তাতে সক্ষম...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া ফিল ইনতিসারি লিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ»।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৬)
تحصيل العلم، وكثير من الناس عاجز عن العلم بهذه الدقائق، فكيف يكلف العلم بها؟(1).

وهذا هو الأقرب، أنه يجوز التقليد في العقائد للعامي الذي لا يستطيع النظر والاستدلال، كما أنه يجوز له التقليد في الأحكام ولا فرق، وقد كان الصحابة يسلمون، فكان النبي صلى الله عليه وسلم يكتفي منهم بالنطق بالشهادتين، وأما من يستطيع الاستدلال فلا يجوز له التقليد في العقائد أو الأحكام(2).

3/ العلم نوعان:

أ. نوع تعلّمه فرض على الكفاية.

ب. ونوع تعلمه فرض عين.

* أما العلم الذي تعلمه فرض على الكفاية، فهو علوم الوسائل كعلم الفرائض وعلم اللغة وعلم المصطلح وعلم أصول الفقه وعلم أبواب من أبواب الفقه، وقد لا يحتاجها كل الناس كالبيوع والنكاح والقضاء والطلاق ونحو ذلك من الأبواب، فهذه من العلوم التي هي فرض على الكفاية، إذا وجد من يعرفها أسقط الوجوب عن البقية.

* وأما النوع الثاني هو العلم الذي يكون فرضاً على الأعيان، ويجب على الإنسان تعلمه، وهو نوعان:

أ- العقيدة: بأن يتعلم كيف يوحد الله، وطريقة ذلك، وأن يتعلم ضد ذلك وهو الشرك حتى لا يقع فيه.

ب- العبادات التي تجب على المكلف: كصلاته، وطهارته، وصيامه،

--------------------------------------------

(1) انظر: «مجموع الفتاوى لابن تيمية» (20/ 202).

(2) تكلم عن هذه المسألة عدد من أهل العلم، ومنهم السفاريني في «لوامع الأنوار البهية» (1/ 276).
জ্ঞান অর্জন; আর অনেক মানুষই এসব সূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভে অক্ষম, তবে কীভাবে তাদের ওপর এগুলোর জ্ঞান অর্জন আবশ্যক করা যেতে পারে?(১).

আর এটিই অধিকতর সঠিক মত যে, সাধারণ মানুষ যারা চিন্তা-গবেষণা ও দলিল উপস্থাপনে সক্ষম নয়, তাদের জন্য আকিদার বিষয়ে অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ) করা বৈধ, যেমনটি বিধিবিধানের (আহকাম) ক্ষেত্রে তাদের জন্য তাকলিদ বৈধ এবং এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সাহাবায়ে কেরাম যখন ইসলাম গ্রহণ করতেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কেবল শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) উচ্চারণের মাধ্যমেই তুষ্ট থাকতেন। তবে যারা দলিল উপস্থাপনে সক্ষম, তাদের জন্য আকিদা বা আহকামের ক্ষেত্রে তাকলিদ করা বৈধ নয়(২).

৩/ জ্ঞান দুই প্রকার:

ক. এক প্রকার যার শিক্ষা গ্রহণ করা ফরজে কেফায়া।

খ. এবং অন্য প্রকার যার শিক্ষা গ্রহণ করা ফরজে আইন।

* যে জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কেফায়া, তা হলো সহায়ক জ্ঞানসমূহ, যেমন: ইলমুল ফরায়েজ (উত্তরাধিকার শাস্ত্র), ভাষা বিজ্ঞান, ইলমুল মুসতালাহ (পরিভাষা শাস্ত্র), উসুলে ফিকহ (ইসলামি আইনের মূলনীতি) এবং ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ের জ্ঞান, যা হয়তো সমস্ত মানুষের প্রয়োজন হয় না; যেমন: ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ, বিচার ব্যবস্থা, তালাক এবং অনুরূপ অন্যান্য অধ্যায়। এগুলো এমন জ্ঞান যা ফরজে কেফায়া; যদি এমন কেউ থাকে যে এগুলো জানে, তবে তা অবশিষ্টদের ওপর থেকে ওয়াজিব হওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়।

* আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো সেই জ্ঞান যা প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরজ (ফরজে আইন), এবং মানুষের জন্য তা শিক্ষা করা আবশ্যক। এটি আবার দুই প্রকার:

ক- আকিদা: এর মাধ্যমে সে শিখবে কীভাবে আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করতে হয় এবং তার পদ্ধতি কী, আর সে এর বিপরীত বিষয় তথা শিরক সম্পর্কেও শিখবে যেন সে তাতে লিপ্ত না হয়।

খ- ইবাদতসমূহ যা একজন মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ওপর ওয়াজিব: যেমন তার সালাত, পবিত্রতা অর্জন এবং সিয়াম (রোজা),

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (২০/ ২০২)।

(২) এ মাসআলাটি নিয়ে অনেক আলেম আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে আস-সাফারিনি তার ‘লাওয়ামিইল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ’ (১/ ২৭৬) গ্রন্থে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৭)
وحجه وزكاته، فهذه واجبات على الإنسان يجب عليه أن يتعلمها، ولا يجوز له أن يجهل هذه الأشياء؛ لأنه لا يستطيع أن يحقق العبادة إلا بها.

4/ ذكر المصنف أن العلم يشمل ثلاثة أشياء:

1. معرفة الله: بأن تتعرف على الله عز وجل في ألوهيته وربوبيته وأسمائه وصفاته.

2 معرفة النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه هو الواسطة بيننا وبين الله عز و جل في تبليغ الرسالة.

3. معرفة دين الإسلام بالأدلة، وما سيأتي في الأصول الثلاثة هو لبيان هذه المسألة، مسألة العلم بهذه الثلاث.

واعلم أيها المبارك أن طلب العلم من أشرف ما قضيت به الأوقات، وعمرت به الساعات، فبه يعبد المسلم ربه على بصيرة، وبه يدحض الشبهات التي تطرأ عليه، وينقذ الناس من الغواية إلى الرشد، ومن الضلالة إلى الهدى، وهو عبادة لله، ولو لم يكن منه إلا أنه يشغله بالخير، وفوق ذلك كله هو طريق إلى الجنة، لكفى.

قال الزهري: «ما عُبِدَ الله بمثل العلم»(1)، وقال سفيان الثوري: «لَا أَعْلَمُ مِنَ الْعِبَادَةِ شَيْئًا أَفْضَلَ مِنْ أَنْ تُعَلِّمَ النَّاسَ الْعِلْمَ»(2)، وعَنْ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ مَوْلَى غُفْرَةَ: «يَا إِسْحَاقُ عَلَيْكَ بِالْعِلْمِ؛ فَإِنَّهُ لَا يَعْدِمُكَ مِنْهُ كَلِمَةٌ تَدُلُّ عَلَى هُدًى أَوْ أُخْرَى تَنْهَى عَنْ رَدًى»(3)، وقال الحسن: «لأن يتعلم الرجل باباً من العلم فيعبد به ربه فهو خير له من أن لو كانت الدنيا من أولها إلى آخرها له فوضعها في الآخرة»(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: البيهقي في «الشعب» (6/ 380)، والخطيب في «الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع» (1/ 225).

(2) انظر: «الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع» (1/ 211).

(3) انظر: «الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع» (1/ 226).

(4) انظر: «روضة العقلاء» لأبي حاتم البستي (ص 40).
এবং তাঁর হজ ও জাকাত; এগুলো মানুষের ওপর ওয়াজিব, যা শেখা তাঁর জন্য আবশ্যক। তাঁর পক্ষে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা বৈধ নয়; কারণ এগুলো ব্যতীত তিনি ইবাদত সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না।

৪/ লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইলম বা জ্ঞান তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

১. আল্লাহকে চেনা: তাঁর উলুহিয়্যাত (উপাসনা), রুবুবিয়্যাত (প্রতিপালন) এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাকে জানা।

২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চেনা; কারণ রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তিনি আমাদের এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার মাঝে মাধ্যম।

৩. দলীলসহ ইসলাম ধর্মকে জানা। 'তিনটি মূলনীতি' (উসুলুস সালাসা) গ্রন্থে যা আসবে, তা মূলত এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে জানার মাসআলা বর্ণনার জন্যই।

হে বরকতময় ব্যক্তি, জেনে রাখুন যে, জ্ঞান অর্জন সময় অতিবাহিত করার জন্য এবং মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য সর্বোত্তম মাধ্যমগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমেই একজন মুসলিম চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর রবের ইবাদত করেন, তাঁর ওপর আপতিত হওয়া সংশয়গুলোকে খণ্ডন করেন, মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে সঠিক পথে এবং পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের দিকে উদ্ধার করেন। এটি আল্লাহর একটি ইবাদত। যদি এর মধ্যে ভালো কাজে ব্যস্ত থাকা ছাড়া আর কিছুই না থাকত এবং এর ওপর এটি জান্নাতের পথ হতো, তবে এটিই যথেষ্ট ছিল।

যুহরী বলেন: "ইলমের মতো অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি"(১)। সুফিয়ান সাওরী বলেন: "মানুষকে জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ইবাদত সম্পর্কে আমি জানি না"(২)। ইসহাক ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: গুফরার মুক্তদাস উমর আমাকে বলেছেন: "হে ইসহাক, তুমি জ্ঞান অর্জন করো; কারণ এটি তোমাকে এমন কথা থেকে বঞ্চিত করবে না যা তোমাকে হেদায়েতের দিকে পরিচালিত করবে অথবা এমন কথা যা তোমাকে ধ্বংস থেকে বিরত রাখবে"(৩)। হাসান বলেন: "কোনো ব্যক্তির ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা করা এবং তা দ্বারা তাঁর রবের ইবাদত করা তার জন্য দুনিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত সম্পদ তার মালিকানায় থাকা এবং তা পরকালের কল্যাণে ব্যয় করার চেয়েও উত্তম"(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বায়হাকি, 'আশ-শুআব' (৬/৩৮০) এবং খতিব বাগদাদি, 'আল-জামে লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' (১/২২৫)।

(২) দেখুন: 'আল-জামে লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' (১/২১১)।

(৩) দেখুন: 'আল-জামে লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' (১/২২৬)।

(৪) দেখুন: আবু হাতেম আল-বুস্তি রচিত 'রাওজাতুল উকালা' (পৃ. ৪০)।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال محمد بن الربيع الموصلي رحمه الله:

الناس في صورة التّشبيه أكفاءُ … أبوهُمُ آدمٌ والأُمُّ حوَّاءُ

فإن يكن لهُم في أصلها شَرَفٌ … يفاخرون به فالطِّين والماءُ

ما الفضل إلا لأهل العلم إنهمُ … على الهُدَى لمن استهدَى أَدلاّءُ

ووَزْنُ كل امرئ ما كان يُحسنه … والجاهلون لأهل العلم أعداءُ(1)

فاحرص على طلبه، لا سيما في أزمان الفراغ، وأوقات صفاء البال، وفراغ الإنسان من الشغل، واعلم أن الجهل من رديء الخصال، فكم يقبح بالإنسان جهله بأمور من العلم يعرفها الصغار.

فَإِنِّي رَأَيْت الْجَهْل يزري بأَهْله … وَذُو الْعلم فِي الأقوام يرفعهُ الْعلم

يُعدُّ كَبِير الْقَوْم وَهُوَ صَغِيرهمْ … وَينفذ مِنْهُ فيهم القَوْل وَالْحكم(2)

وقد كان السلف يفرحون بمجالسة العلماء، ويحرصون على مجالسهم، قال مَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ: «بِنَفْسِي الْعُلَمَاءُ هُمْ ضَالَّتِي فِي كُلِّ بَلْدَةٍ وَهُمْ بُغْيَتِي إِذَا لَمْ أَجِدْهُمْ، وَجَدْتُ صَلَاحَ قَلْبِي فِي مُجَالَسَةِ الْعُلَمَاءِ»، وقال أيضاً: «إِنَّ مَثَلَ الْعَالِمِ فِي الْبَلَدِ كَمَثَلِ عَيْنٍ عَذْبَةٍ فِي الْبَلَدِ»(3).

وقال الحسن البصري: «الدُّنْيَا كُلُّهَا ظُلْمَةٌ إِلَّا مَجَالِسَ الْعُلَمَاءِ»(4).

وما من شك أنهم لا يعنون بهذا من حصّل المعلومات، وهو عريٌ عن العمل، وإنما يعنون به من كان عالماً عاملاً، والله المستعان.

--------------------------------------------

(1) انظر: «أسرار البلاغة» للجرجاني (ص 265).

(2) انظر: «نشر طيّ التعريف في فضل حملة العلم الشريف والرد على ماقتهم السخيف» للوصابي الشافعي (ص 181).

(3) انظر: «جامع بيان العلم وفضله» لابن عبد البر (1/ 221).

(4) انظر: «جامع بيان العلم وفضله» لابن عبد البر (1/ 236).
মুহাম্মাদ ইবনুর রাবী আল-মাওসিলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

সাদৃশ্যের বিচারে মানুষ পরস্পর সমান … তাদের পিতা আদম এবং মাতা হাওয়া।

যদি তাদের মূলসূত্রে এমন কোনো মর্যাদা থেকে থাকে … যা নিয়ে তারা গৌরব করে, তবে তা তো কেবল মাটি আর পানি।

জ্ঞানীদের ব্যতীত আর কারো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কারণ তারা … হেদায়াতপ্রত্যাশীদের জন্য সঠিক পথের দিশারি।

প্রত্যেক ব্যক্তির মূল্য তা-ই যা সে সুন্দরভাবে সম্পাদন করে … আর মূর্খরা হলো জ্ঞানীদের শত্রু।(১)

অতএব জ্ঞান অন্বেষণে সচেষ্ট হও, বিশেষ করে অবসরের সময়ে, মনের স্থিরতায় এবং ব্যস্ততামুক্ত অবস্থায়। জেনে রেখো যে, মূর্খতা এক নিকৃষ্ট স্বভাব। একজন মানুষের জন্য এটি কতই না কদর্য যে, সে ইলমের এমন বিষয়সমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ যা ছোট শিশুরাও জানে।

কেননা আমি দেখেছি মূর্খতা তার অধিকারীকে তুচ্ছ করে দেয় … আর কওমের মাঝে জ্ঞানী ব্যক্তিকে তার ইলম সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন করে।

তাকে কওমের বড় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয় যদিও সে বয়সে তাদের মধ্যে ছোট … এবং তাদের মাঝে তার কথা ও সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।(২)

সালাফগণ আলেমদের মজলিসে বসতে আনন্দিত হতেন এবং তাঁদের মজলিসের ব্যাপারে অতি আগ্রহী ছিলেন। মায়মুন ইবনে মিহরান বলেন: «আমার জীবন উৎসর্গ হোক, আলেমরা হলেন প্রত্যেক শহরে আমার হারানো বস্তু এবং তাঁরাই আমার কাম্য যখন আমি তাঁদের খুঁজে পাই না; আমি আলেমদের মজলিসে আমার অন্তরের সংশোধন খুঁজে পেয়েছি।» তিনি আরও বলেন: «শহরের মধ্যে আলেমের দৃষ্টান্ত হলো জনপদে বহমান সুমিষ্ট ঝরনার মতো।»(৩)।

হাসান বসরী বলেন: «আলেমদের মজলিস ব্যতীত গোটা দুনিয়াই অন্ধকার।»(৪)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁরা এর দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝাননি যে কেবল তথ্য সংগ্রহ করেছে অথচ আমল থেকে বিমুখ; বরং তাঁরা এর দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন যিনি ইলম অনুযায়ী আমলকারী আলেম। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জুরজানী রচিত «আসরারুল বালাগাহ» (পৃ. ২৬৫)।

(২) দেখুন: ওয়াসাবী শাফেয়ী রচিত «নাশরু ত্বায়্যিত তারিফ ফি ফাদলি হামালাতিল ইলমিশ শারিফ ওয়ার রাদ্দু আলা মাাকিতীহিমুস সাখিফ» (পৃ. ১৮১)।

(৩) দেখুন: ইবনে আব্দুল বার রচিত «জামি'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি» (১/ ২২১)।

(৪) দেখুন: ইবনে আব্দুল বার রচিত «জামি'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি» (১/ ২৩৬)।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ২৯)
*‌‌ قوله: (المسألة الثَّانِيَةُ: الْعَمَلُ بِهِ).

المسألة الثانية التي يجب على كل مسلم ومسلمة تعلمها هي: العمل بالعلم، فإذا تعلمت وعرفت وأدركت، بقي عليك أن تعمل بما علمت، فالعمل بالعلم هو ثمرة العلم، فعلم الإنسان بلا عملٍ علمٌ لا يفيده، وترك العمل بالعلم مصيبة؛ لأن من يعلم ليس كالجاهل الذي لا يعلم، فالحجة عليه قد قامت، والمحجة له قد بانت، ولذلك قد قال الناظم(1):

فعالم بعلمه لم يعملن … معذب من قبل عباد الوثن(2)

لأن الإنسان إذا عَلِمَ وعرف الحق وميز، ثم بعد ذلك لم يعمل بما علم فإنه لا يخلو من أحد حالين:

* إما أن يكون قد تعلم لكي يثنى عليه ويمدح فقط، وهذا من أشنع الأشياء والعياذ بالله، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في أول من تسجر بهم النار: «وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ، وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: عَالِمٌ، وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِئٌ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ … »(3).

--------------------------------------------

(1) هو شهاب الدين أبو العباس أحمد بن حسين بن حسن بن علي ابن رسلان الشافعي (المتوفى: 844 هـ)، انظر: «الضوء اللامع» للسخاوي (1/ 289)، و «البدر الطالع» للشوكاني (1/ 49).

(2) انظر: «الزبد في الفقه الشافعي».

(3) أخرجه «مسلم» (1905) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
তাঁর কথা: (দ্বিতীয় মাসআলা: সেই অনুযায়ী আমল করা)।

দ্বিতীয় মাসআলা যা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর শিক্ষা করা আবশ্যক তা হলো: ইলম অনুযায়ী আমল করা। সুতরাং আপনি যখন শিখলেন, জানলেন এবং হৃদয়ঙ্গম করলেন, তখন আপনি যা জেনেছেন সে অনুযায়ী আমল করা আপনার ওপর অবশিষ্ট থাকল। কেননা ইলম অনুযায়ী আমল করাই হলো ইলমের ফল। সুতরাং আমলহীন মানুষের ইলম এমন এক ইলম যা তার কোনো উপকারে আসে না। আর ইলম অনুযায়ী আমল ত্যাগ করা একটি মুসিবত; কারণ যে জানে সে ওই অজ্ঞ ব্যক্তির মতো নয় যে জানে না। ফলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তার জন্য সত্য পথ স্পষ্ট হয়েছে। আর একারণেই কাব্য রচয়িতা বলেছেন(১):

যে আলেম তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না … সে মূর্তিপূজারীদের পূর্বেই আজাবপ্রাপ্ত হবে।(২)

কেননা মানুষ যখন সত্যকে জানল, চিনল এবং পার্থক্য করতে পারল, এরপরও যদি সে তার জানা বিষয় অনুযায়ী আমল না করে, তবে সে দুটি অবস্থার যেকোনো একটি থেকে মুক্ত নয়:

* হয় সে কেবল এজন্যই শিক্ষা করেছে যাতে তার প্রশংসা করা হয় এবং গুণকীর্তন করা হয়; আর এটি অত্যন্ত জঘন্য বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম যাদের দ্বারা জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে তাদের সম্পর্কে বলেছেন: «...আর এক ব্যক্তি যে ইলম শিক্ষা করেছে, তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে (বিচারের দিন) আনা হবে, অতঃপর আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন: তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি ইলম শিক্ষা করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি ইলম শিক্ষা করেছিলে যাতে তোমাকে ‘আলেম’ বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছিলে যাতে তোমাকে ‘ক্বারী’ বলা হয়। আর তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, ফলে তাকে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে...»(৩)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে হুসাইন ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনুস রাসলান আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু: ৮৪৪ হিজরি), দেখুন: সাখাভী রচিত ‘আদ-দাওউল লামে’ (১/ ২৮৯), এবং শাওকানী রচিত ‘আল-বাদরুত তলে’ (১/ ৪৯)।

(২) দেখুন: ‘আয-যুবাদ ফীল ফিকহিশ শাফেয়ী’।

(৩) এটি ইমাম মুসলিম (১৯০৫) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৩০)
* وإما أن يكون قد تعلّم ولم يعمل، لا لقصد الرياء، وإنما تكاسلاً وإعراضاً، وهذا مصيبة أيضاً؛ لأنه ليس كالجاهل، فقد ميّز وأدرك، وعرف الحق بدليله، فقامت عليه الحجة.

فلا تكن يا طالب العلم كالوعاء الذي يحمل العلم ويوصله إلى غيره وهو لا ينتفع به، فإذا أردت أن تنال البركة في العلم، وأن تنال الزيادة فيه، وأن تحقق الثمرة منه فاعمل بما تعلمته من الواجبات ومن السنن، فإذا تعلمت أحكام الصلاة فكن لها مطبقاً، وإذا تعلمت سنة، أو واجباً فكن بما تعلمته عاملاً، وقد ورد في الحديث وإسناده ضعيف عند أهل العلم؛ لكنه مما يذكر هنا: «مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ أَوْرَثَهُ اللَّهُ عِلْمَ مَا لَمْ يَعْلَمْ»(1)، وقال إبراهيم بن إسماعيل بن مُجَمِّع: «كُنَّا نَسْتَعِينُ بِالْحَدِيثِ عَلَى حِفْظِهِ بِالْعَمَلِ»(2)، وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: «وَمِنْ الْمَعْلُومِ أَنَّ الْعِلْمَ أَصْلُ الْعَمَلِ وَصِحَّةُ الْأُصُولِ تُوجِبُ صِحَّةَ الْفُرُوعِ»(3).

واعلم أنه ينبغي على طالب العلم أن يكون تعبده أكثر من غيره، فإن لديه من العلم ما يبصره بربه، ثم إن العلم نعمة، ونعم الله تقابل بالشكر، وذلك يكون بالعبادة، وقد سئل الإمام أحمد بن حنبل عَنِ الرجل يكتب الحديث فيكثر، فقَالَ: «ينبغي أن يكثر العمل به عَلَى قدر زيادته فِي الطلب»، ثم قَالَ: «سبيل العلم مثل سبيل المال إن المال إذا زاد زادت زكاته»(4).

وما أعظمها من كلمة من هذا الإمام، تجعل طالب العلم يقف طويلاً أمام نفسه وحاله مع ربه سبحانه.

--------------------------------------------

(1) انظر: «فيض القدير» للمناوي (4/ 510 - 511)، و «كشف الخفاء» للعجلوني (2/ 347).

(2) انظر: «الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع» (2/ 259).

(3) انظر: «مجموع الفتاوى» (4/ 53).

(4) انظر: «طبقات الحنابلة» ابن أبي يعلى (1/ 188).
অথবা এমন হতে পারে যে, সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে কিন্তু আমল করেনি; এটি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং অলসতা ও বিমুখতার কারণে। এটিও একটি বিপদ; কারণ সে তো কোনো অজ্ঞ ব্যক্তির মতো নয়। সে তো সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পেরেছে, তা উপলব্ধি করেছে এবং দলীলসহ সত্যকে চিনেছে, ফলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অতএব হে ইলম অন্বেষণকারী, তুমি সেই পাত্রের মতো হয়ো না যা ইলম বহন করে এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয় কিন্তু নিজে তা থেকে উপকৃত হয় না। সুতরাং তুমি যদি ইলমে বরকত অর্জন করতে চাও, তাতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাও এবং তা থেকে ফল লাভ করতে চাও, তবে তুমি যা শিখেছ তার মধ্য থেকে ওয়াজিব এবং সুন্নাহসমূহ অনুযায়ী আমল করো। যখন তুমি সালাতের বিধানসমূহ শিখবে তখন তা প্রয়োগকারী হও, আর যখন তুমি কোনো সুন্নাহ বা ওয়াজিব শিখবে তখন তোমার অর্জিত সেই ইলম অনুযায়ী আমলকারী হও। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—যদিও আলেমদের নিকট এর সনদটি দুর্বল, তবুও এটি এখানে আলোচনার উপযোগী—: «যে ব্যক্তি তার জানা ইলম অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে এমন বিষয়ের ইলম দান করেন যা সে জানত না»(১)। ইবরাহীম বিন ইসমাঈল বিন মুজাম্মি বলেছেন: «আমরা হাদীস মুখস্থ করার ক্ষেত্রে তা অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে সাহায্য নিতাম»(২)। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «এটি সুপরিচিত যে, ইলম হলো আমলের মূল এবং মূলের বিশুদ্ধতা শাখার বিশুদ্ধতাকে আবশ্যক করে»(৩)।

জেনে রেখো যে, ইলম অন্বেষণকারীর ইবাদত অন্যের তুলনায় বেশি হওয়া উচিত। কারণ তার কাছে এমন ইলম রয়েছে যা তাকে তার রব সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি দান করে। তদুপরি ইলম একটি নেয়ামত, আর আল্লাহর নেয়ামতের বিপরীতে শুকরিয়া আদায় করতে হয়, যা ইবাদতের মাধ্যমেই সম্ভব। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে প্রচুর হাদীস লিখে থাকে; তখন তিনি বললেন: «তার জ্ঞান অন্বেষণ বৃদ্ধির পরিমাণ অনুযায়ী আমলও বৃদ্ধি পাওয়া উচিত»। এরপর তিনি বললেন: «ইলমের পথ মালের (সম্পদের) পথের মতো; সম্পদ যখন বৃদ্ধি পায়, তার যাকাতও বৃদ্ধি পায়»(৪)।

এই ইমামের কথাটি কতই না মহান! এটি একজন ইলম অন্বেষণকারীকে তার নিজের এবং তার সুমহান রবের সাথে তার অবস্থার বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ ভাবিয়ে তোলে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুনাউয়ি রচিত «ফয়জুল কাদির» (৪/ ৫১০ - ৫১১), এবং আল-আজলুনি রচিত «কাশফুল খাফা» (২/ ৩৪৭)।

(২) দেখুন: «আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি» (২/ ২৫৯)।

(৩) দেখুন: «মাজমুউল ফাতাওয়া» (৪/ ৫৩)।

(৪) দেখুন: ইবনে আবি ইয়া’লা রচিত «তাবাকাতুল হানাবিলাহ» (১/ ১৮৮)।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৩১)
*‌‌ قوله: (المسألة الثَّالِثَةُ: الدَّعْوَةُ إِلَيْهِ).

المسألة الثالثة التي يجب على كل مسلم ومسلمة تعلمها: الدعوة إلى ما تعلمه، والمراد أن الإنسان إذا تعلم وعرف الحق وميز، ثم عمل بما علم فإنه يبقى عليه أمر ثالث وهو أن يدعو إلى هذا العلم الذي حصله، وإلى هذا الخير الذي ناله، و ذلك لأن العلم خير ونور، فلا ينبغي أن تحبسه على نفسك ولا توصله إلى غيرك؛ لأن العلم لم يصل لك إلا بالدعوة إليه، فالعلم الذي وصل إليك، وصل بعدما بلّغه الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وبلّغه التابعون عن الصحابة، وتابعوهم كذلك حتى وصل إليك، ولأجل ذلك فاشكر الله على تعليمه إياك، وواجب العلم الذي نلته أن تسعى إلى الدعوة إلى هذا العلم، وإلى هذا الدين، وإلى هذا الاعتقاد الذي نلته.

ومن المصيبة أن ترى الإنسان قد وهبه الله علماً، وجعل في صدره فهماً وإدراكاً وعملاً، ووفّقه بعد ذلك لأن يعمل بهذا العلم، لكنك تجده ليس له أثر فيمن حوله، فمِنْ حولِهِ أناسٌ مشركون، أو مفرّطون، فلا يدعو أحداً، وليس هذا هديُ النبي صلى الله عليه وسلم بل هديه أنه إذا تعلم الإنسان فعليه أن يسعى لأن يعلم وينقذ الناس من الضلالة إلى الهداية، ومن الغواية إلى الرشد، ولذلك قال النبي صلى الله عليه وسلم: «نَضر اللَّهُ(1) امْرَأً سَمِعَ مِنَّا شيئًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَ،

--------------------------------------------

(1) «نَضر اللَّهُ»: دعاءٌ له بالنظارة، وهي في الأصل حُسن الوجه، والمعنى: جمّله الله، وزيّنه، وأوصله إلى نضرة الجنة ونعيمها.
তাঁর বক্তব্য: (তৃতীয় মাসআলা: তাঁর দিকে আহ্বান করা)।

তৃতীয় মাসআলা যা প্রতিটি মুসলিম নর ও নারীর শেখা আবশ্যক তা হলো: যা শিখেছে তার দিকে দাওয়াত বা আহ্বান করা। এর অর্থ হলো, মানুষ যখন জ্ঞান অর্জন করে, সত্যকে চিনে নেয় এবং পার্থক্য করতে পারে, অতঃপর সে যা শিখেছে তা অনুযায়ী আমল করে, তখন তার ওপর তৃতীয় একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। আর তা হলো, সে যে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং যে কল্যাণ সে লাভ করেছে, তার দিকে মানুষকে আহ্বান করা। আর এটি এজন্য যে, জ্ঞান হলো কল্যাণ ও আলো। সুতরাং আপনার জন্য এটি উচিত নয় যে, আপনি একে নিজের মধ্যে আটকে রাখবেন এবং অন্যের কাছে পৌঁছাবেন না; কারণ আপনার কাছে এই জ্ঞান পৌঁছেছে কেবল এর দাওয়াতের মাধ্যমেই। সুতরাং যে জ্ঞান আপনার কাছে পৌঁছেছে, তা পৌঁছেছে সাহাবায়ে কিরাম কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তা পৌঁছানোর পর, এবং তাবিঈগণ সাহাবায়ে কিরাম থেকে তা পৌঁছানোর পর, এবং একইভাবে তাদের পরবর্তীগণ তা পৌঁছানোর ফলে আপনার নিকট পর্যন্ত তা পৌঁছেছে। এ কারণে আল্লাহ আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন সেজন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করুন। আর আপনি যে জ্ঞান লাভ করেছেন তার দাবি হলো, আপনি এই জ্ঞান, এই দ্বীন এবং আপনি যে আকিদা বা বিশ্বাস লাভ করেছেন তার দিকে দাওয়াত দেওয়ার চেষ্টা করা।

আর এটি একটি মুসিবত যে, আপনি দেখবেন আল্লাহ কোনো মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন, তার অন্তরে বুঝ, উপলব্ধি ও আমল দান করেছেন এবং তাকে সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিয়েছেন; কিন্তু আপনি তাকে দেখবেন যে তার আশেপাশে তার কোনো প্রভাব নেই। তার আশেপাশে মুশরিক কিংবা অবহেলাকারী মানুষ থাকা সত্ত্বেও সে কাউকে দাওয়াত দেয় না। আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ নয়। বরং তাঁর আদর্শ হলো, যখন মানুষ কোনো কিছু শিখবে, তখন সে যেন মানুষকে শিক্ষা দিতে এবং পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াতের দিকে, আর গোমরাহি থেকে সঠিক পথের দিকে মানুষকে উদ্ধার করতে সচেষ্ট হয়। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল(১) রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শুনেছে, অতঃপর যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।"

--------------------------------------------

(১) "আল্লাহ সতেজ রাখুন": এটি তার জন্য সতেজতার দুআ, যা মূলত চেহারার সৌন্দর্য বোঝায়। এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাকে সুন্দর ও সুশোভিত করুন এবং তাকে জান্নাতের সজীবতা ও নিয়ামত পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৩২)
فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ»(1).

مقالةٌ سمعها من النبي صلى الله عليه وسلم، فيدعو النبي صلى الله عليه وسلم لمن بلّغها بعدما سمعها بالرحمة، فكيف بمن عنده من المعلومات، ومن الأحاديث، ومن الاعتقاد، ومن المعرفة الشيء الكثير، ثم هو لا ينفع أحداً، ولا يُعلِّمُ أحداً ممن حوله، وأحسنُ الناس قولاً وهدياً هو ذلك الرجل الذي علم، ثم عمل، ثم دعا، قال الله عز وجل: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} (فصلت: 33).

• واعلم أن الدعوة إلى هذا العلم الذي تعلمته تكون بأمرين:

* بالقول: سواء كان باللسان، أو بما تؤلفه وتصنفه أو بغير ذلك.

* وبالفعل: بأن تدعو الناس إلى الله بفعلك، بأن تكون قدوة، فتسعى إلى أن تزيل مظاهر الشرك ومظاهر المعاصي قدر استطاعتك، ما لم يترتب على ذلك مفسدة أعظم، ونحو ذلك من طرائق الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى.

• وأمرٌ آخرُ ينبغي على طالب العلم أن يعتني به في الدعوة: وهو أن يبدأ بالأهم فالأهم، فلا يليق بطالب علم يرى أناساً مِنْ حوله قد وقعوا في الشرك، وعندهم بعض المعاصي، ثم هو ينكر عليهم المعصية، ويترك إنكار الشرك، إذ من الخطأ أن تقدم المفضول على الفاضل، وإنما الواجب أن تدعو الناس إلى ما هو أهم، وهو توحيد الله سبحانه وتعالى، ومن تأمل دعوة النبي صلى الله عليه وسلم، وجد أن جلّ تركيزه في دعوته إنما كانت دعوةً إلى التوحيد وإلى نبذ الشرك، حتى تحقق ذلك منهم، ثم دعاهم بعد ذلك إلى ما هو دون ذلك.

--------------------------------------------

(1) أخرجه «أحمد» (7/ 221)، و «الترمذي» (2657)، وابن حبان في «صحيحه» (1/ 268)، والطبراني في «الأوسط» (2/ 78) من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، وصححه الألباني في «صحيح الجامع» (6764).
হয়তো যার কাছে (বাণীটি) পৌঁছানো হয়েছে, সে শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী।(১)

এটি এমন এক বাণী যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তির জন্য রহমতের দোয়া করেছেন যে তা শোনার পর অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সুতরাং সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যার কাছে প্রচুর তথ্য, হাদিস, আকিদা ও জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সে কাউকে উপকৃত করে না এবং তার চারপাশের কাউকে শিক্ষা দেয় না? আর কথা ও হেদায়াতের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলো সেই ব্যক্তি যে ইলম অর্জন করেছে, অতঃপর আমল করেছে এবং এরপর দাওয়াত দিয়েছে। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: “ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, নেক আমল করে এবং বলে, ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’।” (ফুসসিলাত: ৩৩)।

• জেনে রাখুন যে, আপনি যা শিখেছেন সেই ইলমের দিকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়টি দুটি উপায়ে সম্পন্ন হয়:

* কথার মাধ্যমে: তা জবানের মাধ্যমেই হোক অথবা আপনার রচিত ও সংকলিত গ্রন্থাদির মাধ্যমে হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে।

* কাজের মাধ্যমে: আপনার কর্মের দ্বারা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা; অর্থাৎ নিজে একজন আদর্শ হয়ে ওঠা। ফলে আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী শিরক ও গুনাহের চিহ্নসমূহ মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন, যতক্ষণ না তা এর চেয়ে বড় কোনো ফিতনা বা অনিষ্টের কারণ হয়। আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার এ জাতীয় অন্যান্য পদ্ধতিও এর অন্তর্ভুক্ত।

• দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অপর একটি বিষয়ে যত্নবান হওয়া উচিত: তা হলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করা। একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এটি মোটেই শোভনীয় নয় যে, সে তার চারপাশে মানুষকে শিরকে লিপ্ত হতে দেখছে এবং তাদের মাঝে কিছু গুনাহও রয়েছে, অথচ সে তাদের গুনাহের নিন্দা করছে কিন্তু শিরক প্রতিরোধ করা বর্জন করছে। কেননা উত্তম বিষয়ের ওপর অনুত্তম বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া একটি ভুল পদ্ধতি। বরং আবশ্যক হলো মানুষকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে আহ্বান করা, আর তা হলো মহান আল্লাহর তাওহীদ। যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে যে তাঁর দাওয়াতের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাওহীদের আহ্বান জানানো এবং শিরক বর্জন করা—যতক্ষণ না তাদের মাঝে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; অতঃপর তিনি তাদের অন্যান্য বিষয়ের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ‘আহমাদ’ (৭/২২১), ‘তিরমিযী’ (২৬৫৭), ইবনে হিব্বান তার ‘সহীহ’ গ্রন্থে (১/২৬৮) এবং তাবারানী ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে (২/৭৮) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস হতে। আলবানী ‘সহীহুল জামি’ গ্রন্থে (৬৭৬৪) একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকরীবুল উসূল ইলা সালাছাতিল উসূল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
*‌‌ قوله: (المسألة الرَّابِعَةُ: الصَّبْرُ عَلَى الأَذَى فِيهِ).

المسألة الرابعة: الصبر، فالداعية إلى الله عز وجل لابد أن يوطن نفسه على أن هذا الطريق ليس مفروشاً بالورود، وإنما هو طريقٌ محفوفٌ بالأذى وبالمكاره، ولأجل هذا فعلى الداعية إلى الله أن يضع نصب عينه أنه قد يؤذى، ويبتلى، ويحارب، وقد يناله من الأذى أشد أنواعه في الدنيا، لكن عليه أن يصبر ويتحمل، لأمرين:

1 - لأنه يسلك طريق الأنبياء والمرسلين، فهم قد سبقوه بالدعوة، وسبقوه أيضاً بما نالهم من الأذى والنصب، وقد قال الله عز وجل: {الم (1) أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ (2) وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ (3)} (العنكبوت: 1 - 3).

والناظر في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم يجد أنه ناله الأذى والشدائد حتى بلغ هذا الدين إلى الناس إلى هذا اليوم، وما ذاك إلا بتوفيق الله، ثم بصبر النبي صلى الله عليه وسلم ومن بعده من الدعاة.

2 - لأنه بصبره على هذه المشاق ينال الثواب من ربه سبحانه، وبقدر البلاء يرفعه الله ويأجره، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم حين سئل عن أي الناس أشد بلاءً؟ قال: «الْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ، يُبْتَلَى الْعَبْدُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ، وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِيَ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشي عَلَى الْأَرْضِ، وَمَا عَلَيْهِ مِنْ خَطِيئَةٍ»(1).

ولأجل هذا؛ فصبرك على طريق الدعوة وعلى المكاره التي تأتيك بهذا

--------------------------------------------

(1) أخرجه «أحمد» (3/ 78)، و «الترمذي» (2398)، و «ابن ماجه» (4023) من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه، وصححه الألباني في «الصحيحة» (143).
তাঁর উক্তি: (চতুর্থ বিষয়টি: এতে কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করা)।

চতুর্থ বিষয়টি হলো: ধৈর্য। সুতরাং মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর জন্য নিজের মনকে এই বিষয়ে প্রস্তুত করা আবশ্যক যে, এই পথ পুষ্পশয্যা নয়; বরং এটি কষ্ট ও প্রতিকূলতায় ঘেরা একটি পথ। এ কারণেই আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর সামনে এই লক্ষ্য রাখা উচিত যে, তাকে কষ্ট দেওয়া হতে পারে, পরীক্ষায় ফেলা হতে পারে এবং তার বিরুদ্ধে শত্রুতা করা হতে পারে। এমনকি দুনিয়াতে তার ওপর চরম পর্যায়ের কষ্টও আসতে পারে। তবে তাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং সহ্য করতে হবে দুটি কারণে:

১ - কারণ তিনি নবী ও রাসূলগণের পথে চলছেন। তাঁরা দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বগামী ছিলেন এবং তাঁদের ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্ট ও ক্লান্তির ক্ষেত্রেও তাঁরা তাঁর অগ্রগামী ছিলেন। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আলিফ-লাম-মীম (১) মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (২) অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি। সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী (৩)} (আল-আনকাবুত: ১ - ৩)।

যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনীর দিকে তাকাবে সে দেখতে পাবে যে, এই দ্বীন বর্তমান দিন পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত তাঁর ওপর বহু কষ্ট ও কাঠিন্য অতিবাহিত হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে কেবল আল্লাহর তাওফীক এবং এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরবর্তী দাঈদের ধৈর্যের মাধ্যমে।

২ - কারণ এসব কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে সে তার প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে সওয়াব লাভ করে। আর পরীক্ষার মাত্রা অনুযায়ী আল্লাহ তাকে উচ্চমর্যাদা দান করেন এবং প্রতিদান দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন কে হয়? তিনি বলেছিলেন: «নবীগণ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী স্তরের নেককার, এরপর যারা তাদের পরবর্তী স্তরের। বান্দাকে তার দ্বীনের অবস্থা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যদি তার দ্বীন মজবুত হয়, তবে তার পরীক্ষাও কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীনে শিথিলতা থাকে, তবে তাকে তার দ্বীনের অবস্থা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। এভাবে বান্দার ওপর বিপদ আসতেই থাকে যতক্ষণ না সে জমিনে এমনভাবে বিচরণ করে যে তার কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না»(১)।

আর এ কারণেই, দাওয়াতের পথে এবং এর মাধ্যমে তোমার কাছে আসা প্রতিকূলতার ওপর তোমার ধৈর্য ধারণ—

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (৩/৭৮), তিরমিযী (২৩৯৮) এবং ইবনে মাজাহ (৪০২৩) সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীস থেকে, আর আলবানী একে «আস-সহীহাহ» (১৪৩) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।