(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: -)
جزء من حديث الأوزاعي لابن حذلم   (أحمد بن حذلم)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء من حديث الأوزاعي لابن حذلم

المؤلف: الإمام الحافظ أبو الحسن أحمد بن سليمان بن أيوب بن عبد الله بن حذلم (ت 347 هـ)

تحقيق: أبو عبد الرحمن مسعد السعدني، شريف بن أبي العلا العدوي

الناشر: دار ماجد عسيري للنشر والتوزيع، جدة

الطبعة: الأولى، 2000 م

عدد الصفحات: 19

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে হাযলাম বর্ণিত আওযায়ী-এর হাদীসের অংশ   (আহমাদ বিন হাযলাম)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


কিতাব: ইবনে হাযলাম বর্ণিত আওযায়ী-এর হাদীসের অংশ

লেখক: ইমাম হাফিজ আবু হাসান আহমাদ বিন সুলায়মান বিন আইয়ুব বিন আব্দুল্লাহ বিন হাযলাম (মৃ. ৩৪৭ হি.)

তাহকীক: আবু আব্দুর রহমান মুসআদ আস-সাদানি, শরীফ বিন আবিল আলা আল-আদাওয়ী

প্রকাশক: দার মাজেদ আসিরি প্রকাশনা ও বিতরণ, জেদ্দা

সংস্করণ: প্রথম, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَسَدِ بْنِ عَمَّارٍ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السُّوِيدِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِدَارِهِ بِمَدِينَةِ دِمِشْقَ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ خَامِسَ عَشَرَ رَبِيعٍ الْآخَرِ مِنَ سَنَةِ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ قَالَ: أَجَازَ لِي مُطْلَقًا الشَّيْخُ الصَّالِحُ الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ الصُّوفِيُّ الْكِتَّانِيُّ، قَالَ: أَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيُّ، قَالَ: أَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ الْقَاضِيُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ:

 

1 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ، وَأَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو، قَالَا: ثنا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: ثنا هِقْلُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ قَيْسٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي كُرْزُ بْنُ حُبَيْشٍ الْخُزَاعِيُّ، قَالَ: " أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ،‌‌ هَلْ لِلْإِسْلَامِ مِنْ مُنْتَهًى؟ قَالَ: «نَعَمْ، فَمَنْ أَرَادَ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا مِنْ عَجَمٍ أَوْ عَرَبٍ أَدْخَلَهُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ، ثُمَّ تُرْفَعُ فِتَنٌ كَالظُّلَلِ، تَعُودُونَ فِيهَا أَسَاوِرَ صَبًّا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ ⦗ص: 2⦘ بَعْضٍ، فَأَفْضَلُ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ مُؤْمِنٌ مُعْتَزِلٌ فِي شِعْبٍ مِنَ الشِّعَابِ يَتَّقِي رَبَّهُ، يَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আসাদ ইবনে আম্মার, যিনি ইবনুস সুওয়াইদি নামে পরিচিত; দামেশক শহরে তাঁর নিজ গৃহে ৫৪৬ হিজরি সনের ১৫ই রবিউস সানি শুক্রবার দিন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: নেককার শায়খ হাফিজ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমাদ আস-সুফি আল-কিত্তানি আমাকে সাধারণ অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল কাসিম তাম্মাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আর-রাজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আইয়ুব ইবনে হাজলাম আল-কাদি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন:

 

১ - আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সামাদ এবং আবু জুরআ আবদুর রহমান ইবনে আমর। তাঁরা বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুশহির। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হিকল ইবনে জিয়াদ। তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আওজায়ি। তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে কায়স, তিনি উরওয়াহ ইবনুয যুবাইরকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন কুরয ইবনে হুবাইশ আল-খুজায়ি, তিনি বলেন: "এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল,‌‌ ইসলামের কি কোনো সমাপ্তি আছে? তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, আল্লাহ অনারব হোক বা আরব—যাদের কল্যাণ চান তাদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করবেন। এরপর মেঘখণ্ডের ন্যায় ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনাসমূহ প্রকাশ পাবে, যাতে তোমরা একে অপরের গর্দান কর্তনকারী অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক দলে পরিণত হবে। ⦗পৃষ্ঠা: ২⦘ সেই দিনগুলোতে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হবে সেই মুমিন ব্যক্তি, যে কোনো এক পাহাড়ের গিরিপথে নির্জনে থেকে নিজ প্রতিপালককে ভয় করে এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখে।’"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ২)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ: ثنا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَمَاعَةَ، قَالَ: ثنا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ سُرَاقَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ كُهَيْلِ بْنِ حَرْمَلَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: "‌‌ كَيْفَ بِكُمْ إِذَا لَمْ تَأْخُذُوا أَصْفَرَ وَلَا أَبْيَضَ، وَلَمْ تَخْدِمْكُمْ مَارِيَةُ، وَلَا جُرْجِيَةُ، وَلَا بُدْرَاقُ، وَلَا يَنَّاقُ، وَأُخْرِجْتُمْ مِنْهَا كَفْرًا كَفْرًا. قَالَ:. قُلْتُ: أَبْصِرْ مَا تَقُولُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: فَغَضِبَ حَتَّى تَخَالَجَ وَجْهُهُ، ثُمَّ قَالَ: ضَلَّ أَبُو هُرَيْرَةَ وَمَا اهْتَدَى، إِنْ لَمْ أَكُنْ سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَهَا "
২ - আমাদের নিকট আবু যুরআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুসহির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সামাআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আওযায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট উসমান ইবনে সুরাকাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি কুহাইল ইবনে হারমালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: "‌‌তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্য গ্রহণ করবে না এবং মারিয়া, জুরজিয়া, বুদরাক ও ইয়ান্নাক তোমাদের সেবা করবে না, আর তোমাদেরকে সেখান থেকে জনপদে জনপদে বের করে দেওয়া হবে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি বললাম: হে আবু হুরায়রা! আপনি যা বলছেন তা ভেবে দেখুন। তিনি বলেন: তখন তিনি রাগান্বিত হলেন এমনকি তাঁর মুখমণ্ডল সংকুচিত হয়ে গেল, অতঃপর তিনি বললেন: আবু হুরায়রা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সে সঠিক পথ পায়নি, যদি না আমার দুই কান তা শুনে থাকে এবং আমার অন্তর তা ধারণ করে থাকে—তিনি এটি তিনবার বললেন।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
3 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ، قَالَ: ثنا أَبُو مُسْهِرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ سَمَاعَةَ قَالَ: أنا الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُقْبَةُ بْنُ وَسَّاجٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: "‌‌ قَدِمَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَكَانَ أَسَنَّ أَصْحَابِهِ أَبُو بَكْرٍ، فَغَلَفَهَا بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ، حَتَّى قَنَأَ لَوْنُهَا، قال فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ لَقِيتُهُ فَقُلْتُ: يَا أَبَا حَمْزَةَ، حَتَّى قَنَا لَوْنُهَا سَوَادًا؟ قَالَ: لَمْ أَقُلْ لَكَ سَوَادًا
৩ - আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুস সামাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুসহির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন সামাআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওযায়ী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবায়দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উকবাহ ইবন ওয়াসসাজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে আবু বকর ছিলেন বয়সে সবচেয়ে বড়; তিনি তাঁর চুল মেহেদি ও কাতাম দ্বারা রঞ্জিত করলেন, যার ফলে তার রঙ অত্যন্ত গাঢ় হয়ে গেল।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর পরদিন আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম: হে আবু হামযাহ, তার রঙ কি কালো হয়ে গিয়েছিল? তিনি বললেন: আমি তোমাকে কালো বলিনি।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
4 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، يَعْنِي ابْنُ سَمَاعَةَ قَالَ: أنا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ، قَالَ: سَأَلْتُ زِيَادَ بْنَ حَارِثَةَ، وَأَبَا إِدْرِيسٍ عَائِذَ اللَّهِ، وَقَبِيصَةَ بْنَ ذُؤَيْبٍ، عَنِ‌‌ الدَّنَانِيرِ،: وَزْنُهَا وَاحِدٌ، وَجَوَازُهَا وَاحِدٌ، وَعَدَدُهَا مُخْتَلِفٌ، فَقَالُوا: خَبِيثٌ فَلَا تَقْرَبْهَا "
৪ - ইয়াজিদ ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুশহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল অর্থাৎ ইবন সামাআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওযায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবন মায়সারা ইবন হালবাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যিয়াদ ইবন হারিসা, আবু ইদরিস আইযুল্লাহ এবং কাবিসা ইবন যুয়াইবকে দিনারসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: যেগুলোর ওজন এক এবং বিনিময়যোগ্যতাও এক, কিন্তু সংখ্যা ভিন্ন; তখন তাঁরা বললেন: এটি নিকৃষ্ট, সুতরাং তুমি এর নিকটেও যেয়ো না।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
5 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أنا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي حُرَيْثُ بْنُ أَبِي حُرَيْثٍ، قَالَ: " سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، فَقُلْتُ: رَجُلًا أَرَادَ أَنْ يَأَتْيَ، مِصْرَ، فَقَالَ لِصَاحِبِهِ: أَعْطِنِي مِائَةَ دِينَارٍ تَجُوزُ بِمِصْرَ وَزْنًا وَأُعْطِيكَ مِائَةً مِمَّا يَجُوزُ هَا هُنَا وَزْنًا، فَوَضَعَاهَا فِي الْمِيزَانِ حَتَّى إِذَا اسْتَوَتْ كَانَتِ الدَّنَانِيرُ الَّتِي أَخَذَ مِائَةَ دِينَارٍ عَدَدًا، وَكَانَتِ الدَّنَانِيرُ الَّتِي ⦗ص: 4⦘ أَعْطَى دِينَارَيْنِ وَمِائَةَ دِينَارٍ عَدَدًا، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: وَزْنًا بِوَزْنٍ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ:‌‌ إِذَا اخْتَلَفَ الْعَدَدُ فَقَدْ أَرْبَى، خَبِيثٌ فَلَا تَقْرَبْهَا "
৫ - ইয়াজিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুশহির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওযায়ি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে মাইসারা ইবনে হালবাস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুরাইস ইবনে আবি হুরাইস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: এক ব্যক্তি মিশরে যাওয়ার ইচ্ছা করল, তখন সে তার সাথীকে বলল: আমাকে একশ দিনার দাও যা মিশরে ওজনে প্রচলিত, আর আমি তোমাকে এখান থেকে ওজনে প্রচলিত একশ দিনার দেব। এরপর তারা সেগুলো পাল্লায় রাখল, অবশেষে যখন পাল্লা সমান হলো, তখন যে দিনারগুলো সে গ্রহণ করেছিল তা সংখ্যায় ছিল একশ দিনার, আর যে দিনারগুলো ⦗পৃষ্ঠা: ৪⦘ সে প্রদান করেছিল তা সংখ্যায় ছিল একশ দুই দিনার। তখন আবদুল্লাহ বললেন: ওজনে ওজনে কি সমান ছিল? তিনি (হুরাইস) বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: যখন সংখ্যায় পার্থক্য হলো তখন তা সুদে পরিণত হলো; এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট, সুতরাং এর নিকটবর্তী হয়ো না।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
6 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، وَهِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْعَطَّارُ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أنا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي الْمُحَارِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُجَاهِدُ بْنُ جَبْرٍ، قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ جَنَازَةً وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى يَدِي، فَبَصُرَ بِامْرَأَةٍ تَحْمِلُ مِرْفَقَةً، أَوْ قَالَ: وَسَادَةً، فَوَقَفَ لَهَا حَتَّى لَحِقَتْهُ، ثُمَّ قَالَ لَهَا: ‌‌«ارْجِعِي ارْجِعِي، حَتَّى تَوَارَتْ»
৬ - আমাদের নিকট ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুশহির এবং হিশাম ইবনে ইসমাঈল আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওযাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সালেম ইবনে আবদুল্লাহ—অর্থাৎ আল-মুহারিবি—আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ ইবনে জাবর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আমার হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি এক নারীকে একটি তাকিয়া—অথবা তিনি বলেছেন বালিশ—বহন করতে দেখলেন। তখন তিনি তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেন যতক্ষণ না সে তাঁর নিকট পৌঁছাল। এরপর তিনি তাকে বললেন: «ফিরে যাও, ফিরে যাও; যতক্ষণ না সে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ مُوسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ نُفَيْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَحَضَرَ الْوَلِيدَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ عِنْدَ عَشَائِهِ، فَلَمَّا قَامَ النَّاسُ أَرْسَلَ إِلَيْهِ الْوَلِيدُ: مَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ بِهِ السَّاعَةَ؟ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: ‌‌«أَنْتُمْ وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ فِي الْقُرْبِ» يَعْنِي: السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى "
৭ - আবু ইমরান মূসা বিন মুহাম্মদ বিন আবি আউফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন নুফাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসকীন বিন বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি ইসমাঈল বিন উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের সান্ধ্যভোজের মজলিসে উপস্থিত থাকতে দেখেছি। অতঃপর যখন লোকজন উঠে চলে গেল, তখন আল-ওয়ালিদ তাঁর নিকট লোক পাঠালেন (জিজ্ঞাসা করতে যে): আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে কী আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "তোমরা এবং কিয়ামত নৈকট্যের দিক থেকে এই দুইটির মতো।" অর্থাৎ: তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলি।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
8 - حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا النُّفَيْلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، قَالَ: قَالَ أَبُوالدَّرْدَاءِ: " كَيْفَ تَرَى النَّاسَ؟ قَالَ: قُلْتُ: صَالِحُونَ، دَعْوَتُهُمْ وَاحِدَةٌ، وَإِمَامُهُمْ وَاحِدٌ، وَعَدُوُّهُمْ مَنْفِيُّ، وَأُعْطِيَاتُهُمْ وَأَرْزَاقُهُمْ دَارَةٌ قَالَ:‌‌ فَكَيْفَ إِذَا تَبَاغَضَتْ قُلُوبُهُمْ، وَتَلَاعَنَتْ أَلْسِنَتُهُمْ، وَضَرَبَ بَعْضُهُمْ رِقَابَ بَعْضٍ، ثُمَّ قَالَ: بِشَرٍّ "
৮ - মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুফাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসকীন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ থেকে, তিনি ইসমাঈল বিন উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন গানম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু দারদা (রা.) বললেন: "তুমি মানুষকে কেমন দেখছো?" তিনি বলেন: আমি বললাম: "তারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদের দাওয়াত এক, তাদের ইমাম এক, তাদের শত্রু বিতাড়িত এবং তাদের অনুদান ও রিযিক প্রবাহমান।" তিনি বললেন: "তাহলে তখন কেমন হবে যখন তাদের অন্তরসমূহ একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, তাদের জিহবাসমূহ একে অপরকে লানত বা অভিশাপ দিবে এবং তারা একে অপরের ঘাড়ে আঘাত করবে? এরপর তিনি বললেন: অত্যন্ত মন্দ অবস্থায়।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
9 - حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا النُّفَيْلُ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ يَزِيدَ الْأَصَمِّ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ رَخَّصَ فِي الرُّقْيَةِ مِنْ كُلِّ ذِي حُمَّةٍ "
৯ - মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুফাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসকীন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি উমর ইবনে ইয়ায়ীদ আল-আসাম থেকে, তিনি মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক বিষধর প্রাণীর বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে রুকইয়া (ঝাড়ফুঁক) করার অনুমতি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
10 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ سَمَاعَةَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجَاءُ بْنُ حَيْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: ⦗ص: 6⦘ كَانَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ‌‌ يُصَلِّي الظُّهْرَ فِي السَّاعَةِ الثَّامِنَةِ، وَالْعَصْرَ فِي السَّاعَةِ الْعَاشِرَةِ "
১০ - আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সামাআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওজায়ি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাজা ইবনে হাইওয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ অষ্টম ঘণ্টায় যোহরের নামায এবং দশম ঘণ্টায় আসরের নামায আদায় করতেন। "
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
11 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أنا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ: مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، ثُمَّ لِيَشْكُرِ النِّعْمَةَ بِمَا يَشَاءُ "
১১ - আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুশহির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওযায়ী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি আইশা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ থেকে অবসর হবে, তখন সে যেন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে: জাহান্নামের আজাব থেকে, কবরের আজাব থেকে এবং জীবনের ফিতনা ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে; অতঃপর সে যা ইচ্ছা তার মাধ্যমে নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করবে।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
12 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ سَمَاعَةَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو كَبْشَةَ السَّلُولِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مِقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
১২ - ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল মালেক হিশাম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সামাআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি বলেন: হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কাবশাহ আস-সালুলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, আর বনি ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন তার ঠিকানা বানিয়ে নেয় জাহান্নামের আগুনে।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ غَسَلَ وَاغْتَسَلَ، وَغَدَا وَابْتَكَرَ، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআ আবদুর রহমান ইবনে আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযায়ী, হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবুল আশআস থেকে, তিনি আওস ইবনে আওস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি (মাথা) ধৌত করল ও গোসল করল, এবং খুব ভোরে রওয়ানা হলো ও শুরুতে উপস্থিত হলো, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের (গুনাহ) ক্ষমা করে দেওয়া হয়।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
14 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ سَمَاعَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَعْيَنَ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ: " لَمَّا نَزَلَ بِعَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ جَعَلَ يَتَضَوَّرُ، فَقِيلَ لَهُ؟ فَقَالَ: أَمَا إِنِّي سَمِعْتُ أُمَّ حَبِيبَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُحَدِّثُ عَنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ‌‌«مَنْ رَكَعَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَأَرْبَعَ بَعْدَهَا، حَرَّمَ اللَّهُ لَحْمَهُ عَلَى النَّارِ» فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ
১৪ - আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম ইবন ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন সামাআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা ইবন আ'য়ান থেকে, তিনি আবু আমর থেকে, তিনি হাসসান ইবন আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন আনবাসাহ ইবন আবু সুফিয়ানের মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলেন। তাকে (এর কারণ) জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: শোনো, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু হাবিবা (রা.)-কে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকাত এবং এর পরে চার রাকাত সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তার মাংস জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন।» সুতরাং আমি যখন থেকে এই কথাগুলো শুনেছি, তখন থেকে তা আর কখনো পরিত্যাগ করিনি।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
15 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ سَمَاعَةَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْعَلَاءُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنِي ⦗ص: 8⦘ نَافِعٌ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ: «كَانَ‌‌ يَحْتَبِي وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَكَانَ مَكْحُولٌ يَفْعَلُ ذَلِكَ»
১৫ - ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিশাম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে সামাআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলা ইবনে আল-হারিস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের মুক্ত দাস নাফে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর: «জুমার দিনে ইমাম যখন খুতবা দিতেন তখন তিনি ইহতিবা (দুই হাত দিয়ে হাঁটু জড়িয়ে বসা) অবস্থায় বসতেন এবং মাকহুলও এরূপ করতেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْقُرَشِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْهِقْلُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ: «كَانَ‌‌ يَضْطَجِعُ فَيَنَامُ الْيَسِيرَ فِي الْمَسْجِدِ وَيَتَوَضَّأُ»
১৬ - আমাদের নিকট আবু আব্দুল মালেক আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল মালেক ইবনে শুয়াইব ইবনুল লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: হিকল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আওজায়ি থেকে, তিনি হাসান ইবনে হাসান থেকে, তিনি নাফে থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমর: «তিনি মসজিদে কাত হয়ে শুতেন ও সামান্য সময় ঘুমাতেন এবং অজু করতেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُعَلَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْقٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو وَهْبٍ الْكَلَاعِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ مَكْحُولًا، يَقُولُ: " سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ: "‌‌ كُنْتُمْ تَتَوَضَّئُونَ إِذَا شَهِدْتُمُ الْجَنَازَةَ؟ قَالَ: أَمَّا فِيمَا خَلَا فَلَا "
১৭ - আহমাদ ইবনুল মুআল্লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুরাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযাঈ থেকে, তিনি বলেন: আবু ওয়াহাব আল-কালাঈ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাকহুলকে বলতে শুনেছি: "আমি আনাস ইবনে মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম: "‌‌ আপনারা কি জানাযায় উপস্থিত হলে উযু করতেন? তিনি বললেন: অতীতে তো আমরা তা করতাম না। "
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ: حَدَّثَنِي الْهِقْلُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ شِهَابٍ الْقُشَيْرِيُّ، يَرْفَعُ الْحَدِيثَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ لَمْ يُدْرِكِ الْغَزْوَ مَعِي فَلْيَغْزُ فِي الْبَحْرِ، فَغَزْوُ يَوْمٍ فِي الْبَحْرِ خَيْرٌ مِنْ مِائَةٍ فِي الْبَرِّ، وَإِنَّ أَجْرَ شَهِيدٍ فِي الْبَحْرِ كَأَجْرِ ⦗ص: 9⦘ شَهِيدَيْنِ فِي الْبَرِّ، وَإِنَّ أَفْضَلَ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ أَصْحَابُ الْأَكُفِّ» ، قِيلَ: وَمَا أَصْحَابُ الْأَكُفِّ؟ قَالَ: «قَوْمٌ تَتَكَافَأُ عَلَيْهِمْ مَرَاكِبُهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
১৮ - আমাদের নিকট আবু আব্দুল মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আব্দুল মালিক বিন শুআইব বিন আব্দুল আযীয বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট হিকল বর্ণনা করেছেন আওযাঈ হতে, তিনি সাঈদ বিন আব্দুল আযীয হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আলকামা বিন শিহাব আল-কুশাইরী হাদীসটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ না পায়, সে যেন সমুদ্রে যুদ্ধ করে। কেননা সমুদ্রে একদিনের যুদ্ধ স্থলের একশত যুদ্ধের চেয়ে উত্তম। আর সমুদ্রের একজন শহীদের সওয়াব সমুদ্রের যুদ্ধে ⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ স্থলের দুইজন শহীদের সওয়াবের সমতুল্য। আর আল্লাহর নিকট শহীদদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘আসহাবুল আকুফ’।” জিজ্ঞেস করা হলো: আসহাবুল আকুফ কারা? তিনি বললেন: “এমন এক সম্প্রদায় আল্লাহর পথে যাদের নৌযানসমূহ তাদের ওপর উল্টে গিয়েছে।”
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
19 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَكْحُولٍ، يَرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَا مِنْ أَهْلِ بَيْتٍ لَمْ يَغْزُ مِنْهُمْ غَازٍ أَوْ يُجَهِّزْ غَازِيًا، أَوْ يُخْلِفُوا غَازِيًا فِي أَهْلِهِ إِلَّا أَصَابَهُمُ اللَّهُ بِقَارِعَةٍ قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
১৯ - এবং তাঁর সনদে সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি হাদীসটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করে বলেন: “এমন কোনো পরিবার নেই যাদের মধ্য থেকে কোনো যোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, অথবা যারা কোনো যোদ্ধাকে যুদ্ধের সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করেনি, অথবা যারা কোনো যোদ্ধার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের দেখাশোনা করেনি, আল্লাহ অবশ্যই তাদের ওপর কিয়ামত দিবসের পূর্বেই কোনো বিপর্যয় আপতিত করবেন।”
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
20 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ ابْنُ سَمَاعَةَ: عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي غَيْلَانُ بْنُ أَنَسٍ، قَالَ: «رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ، فَكَانَ‌‌ يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ كُلِّ تَكْبِيرَةٍ»
২০ - ইয়াজীদ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে সামাআ বলেন: আওযাঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: গায়লান বিন আনাস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি উমর বিন আব্দুল আযীযকে জানাযার সালাত আদায় করতে দেখেছি, তিনি‌‌ প্রত্যেক তাকবীরের সাথে তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
21 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُعَلَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ حَسَّانَ الْجُرِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ دِهْقَانَ، قَالَ: «أَوَّلُ مَنْ أَحْدَثَ الدِّرَاسَةَ بِدِمَشْقَ هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ ⦗ص: 10⦘ هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْمَخْزُومِيُّ، وَأَوَّلُ مَنْ أَحْدَثَ الدِّرَاسَةَ فِي فِلَسْطِينَ الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيُّ»
২১ - আহমদ ইবনুল মুআল্লা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আইয়ুব ইবনে হাসসান আল-জুররি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-আওযাঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: খালিদ ইবনে দিহকান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “দামেস্কে প্রথম যিনি সম্মিলিত পাঠ বা অধ্যয়ন (আদ-দিরাসাহ) প্রবর্তন করেছিলেন, তিনি হলেন হিশাম ইবনে ইসমাইল ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ হিশাম ইবনুল মুগীরা আল-মাখযুমি; এবং ফিলিস্তিনে প্রথম যিনি সম্মিলিত পাঠ বা অধ্যয়ন প্রবর্তন করেছিলেন, তিনি হলেন আল-ওয়ালিদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরাশি।”
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
22 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، حَدَّثَنَا هِقْلُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ الْقَاسِمَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: " قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: " مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تُقَاتِلَ، حَتَّى يَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ؟ قَالَ: "‌‌ قَدْ قَاتَلْتُ وَالْأَوْثَانُ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ حَتَّى نَقَّاهَا اللَّهُ مِنْ أَرْضِ الْعَرَبِ، فَأَنَا الْيَوْمَ أَكْرَهُ أَنْ أُقَاتِلَ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ، قَالَ: مَا ذَاكَ بِكَ، وَلَكِنَّكَ أَرَدْتَ أَنْ يُفْنِيَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بَعْضُهُمْ بَعْضًا، فَإِذَا لَمْ يَبْقَ غَيْرُكَ قَالُوا: بَايِعُوا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِإِمَارَةِ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: مَا ذَاكَ بِي، وَلَكِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ: حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، أَجَبْتُكُمْ، وَإِذَا افْتَرَقْتُمْ لَمْ أُجَامِعْكُمْ، وَإِذَا اجْتَمَعْتُمْ لَمْ أُفَارِقْكُمْ "
২২ - ইয়াজিদ ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসগির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিকল ইবন জিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওযায়ি আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যিনি কাসেম আবু আব্দুর রহমানকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: "আব্দুল্লাহ ইবন উমরকে বলা হলো: 'দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?' তিনি বললেন: "‌‌আমি তখন যুদ্ধ করেছি যখন রুকন ও মাকামের মাঝে মূর্তিসমূহ ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ সেগুলোকে আরব ভূমি থেকে নির্মূল করেছেন। আর আজ আমি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অপছন্দ করি যে আল্লাহর ইবাদত করে।' তিনি (প্রশ্নকারী) বললেন: 'আপনার অবস্থা এমন নয়; বরং আপনি চেয়েছেন যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ একে অপরকে নিঃশেষ করে দিক, আর যখন আপনি ছাড়া কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, তখন তারা বলবে: মুমিনদের আমীর হিসেবে আব্দুল্লাহ ইবন উমরের নিকট বায়আত গ্রহণ করো।' তিনি বললেন: 'আমার উদ্দেশ্য এমনটি নয়। বরং তোমরা যখন বলো: নামাজের দিকে আসো, কল্যাণের দিকে আসো, তখন আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিই। আর যখন তোমরা বিচ্ছিন্ন হও তখন আমি তোমাদের সাথে যুক্ত হই না, আর যখন তোমরা ঐক্যবদ্ধ হও তখন আমি তোমাদের ছেড়ে যাই না'।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
23 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ سَمَاعَةَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: " حَضَرْنَا عِنْدَ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ فِي زَمَانِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَتَوَضَّأْتُ، قَالَ عَلِيٌّ:‌‌ أَمَّا أَبِي فَلَمْ يَكُنْ يَتَوَضَّأُ، وَقَالَ جَعْفَرُ بْنُ أُمَيَّةَ: أَمَّا أَبِي فَلَمْ يَكُنْ يَتَوَضَّأُ "
২৩ - ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সামাআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী হতে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল মিকদাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী হতে, তিনি বলেন: "আমরা আবদুল মালিকের শাসনামলে ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন আমি ওজু করলাম। আলী বললেন: আমার পিতা তো ওজু করতেন না; এবং জাফর ইবনে উমাইয়্যাহ বললেন: আমার পিতা তো ওজু করতেন না।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ، قَالَ: " خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: ‌‌«تَزْعُمُونَ أَنِّي مِنْ آخِرِكُمْ وَفَاةً، وَإِنِّي مِنْ أَوَّلِكُمْ وَفَاةً، وَتَتَّبِعُونِي أَفْنَادًا يُهْلِكُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا»
২৪ - আবু জুরআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ থেকে, তিনি বলেন: রাবিয়াহ ইবনে ইয়াযিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াসিলাহ ইবনে আল-আসকা’ থেকে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: ‘তোমরা ধারণা করছ যে আমি তোমাদের মধ্যে সবার শেষে মৃত্যুবরণ করব, অথচ আমি তোমাদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করব। আর তোমরা বিচ্ছিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে আমার অনুসরণ করবে, যার ফলে তোমাদের একে অপরকে ধ্বংস করবে’"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ سَمَاعَةَ، قَالَ: أنا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ، قَالَ: " خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: ‌‌«تَزْعُمُونَ أَنِّي مِنْ آخِرِكُمْ وَفَاةً، أَلَا وَإِنِّي مِنْ أَوَّلِكُمْ وَفَاةً، وَتَتَّبِعُونِي أَفْنَادًا، يُهْلِكُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا» حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِقْلٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ وَاثِلَةَ بْنَ الْأَسْقَعَ، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ، فَذَكَرَ مِثْلَهُ
২৫ - আমাদের নিকট আবু যুরআ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুসহির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সামাআহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওযাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাবিআহ ইবনে ইয়াযীদ আমাকে জানিয়েছেন ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা' থেকে, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: «তোমরা ধারণা করছ যে আমি তোমাদের মধ্যে সবার শেষে মৃত্যুবরণ করব, জেনে রেখো যে আমিই তোমাদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করব; আর তোমরা বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে আমার অনুগমন করবে, যেখানে তোমরা একে অপরকে ধ্বংস করবে (একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে)।» আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুসহির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিকল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে রাবিআহ আবু শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা'-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
26 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، وَعُمَرُ، قَالَا: أنا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: " دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 12⦘ الْكَعْبَةَ، وَمَعَهُ بِلَالٌ وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، فَأَغْلَقُوهَا عَلَيْهِمْ مِنْ دَاخِلٍ، فَلَمَّا خَرَجُوا سَأَلْتُ بِلَالًا: أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ؟ فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ‌‌ صَلَّى عَلَى وَجْهِهِ حِينَ دَخَلَ بَيْنَ الْعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِهِ، ثُمَّ أَلَّا أَكُونُ سَأَلْتُهُ: كَمْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ "
২৬ - আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-ওয়ালিদ ও উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদেরকে আল-আওযায়ী সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি বলেছেন: নাফে' আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ কাবাগৃহে প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় তাঁর সাথে বিলাল ও উসমান ইবনে আবি শায়বা ছিলেন। অতঃপর তাঁরা ভেতর থেকে তাঁদের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। যখন তাঁরা বের হলেন, তখন আমি বিলালকে জিজ্ঞাসা করলাম: আল্লাহর রাসূল কোথায় সালাত আদায় করেছেন? তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি‌‌ প্রবেশের সময় তাঁর ডান দিকের দুই স্তম্ভের মাঝে সামনের দিকে সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর আক্ষেপ যে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিনি: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কত রাকাত সালাত আদায় করেছেন?"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
27 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: مَالَ مَكْحُولٌ إِلَى خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَمِلْنَا مَعَهُ، فَحَدَّثَنَا ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، أَنَّ ذَا مُخْبِرٍ ابْنَ أَخِي النَّجَاشِيِّ حَدَّثَهُمْ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "‌‌ سَتُصَالِحُونَ الرُّومَ صُلْحًا آمِنًا حَتَّى تَغْزُوا أَنْتُمْ وَهُمْ عَدُوًّا مِنْ وَرَائِهِمْ، أَوْ مِنْ وَرَائِكُمْ، فَيَنْتَصِرُونَ وَتَسْلَمُونَ وَتَغْنَمُونَ، حَتَّى يَنْزِلُونَ بِمَرْجٍ ذِي تُلُولٍ، فَيَقُولُ قَائِلٌ مِنَ الرُّومِ: غَلَبَ الصَّلِيبُ، وَيَقُولُ قَائِلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ بَلِ اللَّهُ غَلَبَ، فَيَتَدَاوَلُونَهَا سَاعَةً وَصَلِيبُهُمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ غَيْرُ بَعِيدٍ، فَيَثُورُ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَيَدُقُّهُ، فَيَثُورُونَ إِلَى كَاسِرِ صَلِيبِهِمْ فَيَضْرِبُونَ عُنُقَهُ، وَيَثُورُ الْمُسْلِمُونَ إِلَى أَسْلِحَتِهِمْ فَيَقْتَتِلُونَ، فَيُكْرِمُ اللَّهُ تِلْكَ الْعِصَابَةَ ⦗ص: 13⦘ بِالشَّهَادَةِ فَيَأْتُونَ مَلِكَهُمْ فَيَقُولُونَ: كَفَيْنَاكَ حَدَّ الْعَرَبِ، فَيَجْتَمِعُونَ لِلْمَلْحَمَةِ، فَيَأْتُونَ تَحْتَ ثَمَانِينَ رَايَةً، تَحْتَ كُلِّ رَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا "
২৭ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসসান ইবন আতিয়্যাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাকহুল খালিদ ইবন মাদানের দিকে গেলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে গেলাম। অতঃপর তিনি জুবায়ের ইবন নুফাইরের সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নাজ্জাশীর ভ্রাতুষ্পুত্র যা মুখবির তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন: "‌‌ তোমরা রোমকদের সাথে একটি নিরাপদ সন্ধি করবে, এমনকি তোমরা এবং তারা মিলে তোমাদের পেছনের অথবা তোমাদের সম্মুখের কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। অতঃপর তারা বিজয়ী হবে, তোমরাও নিরাপদ থাকবে এবং গনীমত লাভ করবে। এমনকি তারা টিলাময় এক চারণভূমিতে অবতরণ করবে। তখন রোমকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলবে: 'ক্রুশ বিজয়ী হয়েছে'। এবং মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলবে: 'বরং আল্লাহ বিজয়ী হয়েছেন'। তারা কিছু সময় এটি নিয়ে বাদানুবাদ করবে, আর তাদের ক্রুশটি মুসলিমদের থেকে খুব একটা দূরে ছিল না। তখন একজন লোক সেটির দিকে তেড়ে গিয়ে তা ভেঙে ফেলবে। তখন তারা তাদের ক্রুশ ভঙ্গকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং তার গর্দান উড়িয়ে দেবে। তখন মুসলিমরাও তাদের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং যুদ্ধে লিপ্ত হবে। অতঃপর আল্লাহ সেই দলটিকে ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ শাহাদাতের মর্যাদা দান করবেন। এরপর তারা তাদের রাজার কাছে ফিরে যাবে এবং বলবে: 'আমরা আপনাকে আরবদের শক্তি থেকে রক্ষা করেছি'। তখন তারা মহা-যুদ্ধের জন্য একত্রিত হবে এবং আশিটি পতাকাতলে আসবে, প্রতিটি পতাকাতলে থাকবে বারো হাজার সৈন্য।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
28 - حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ،: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَابِطٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ: قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ مِنَ الْيَمَنِ بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَمِعْتُ تَكْبِيرَهُ مَعَ الْفَجْرِ أَحْسَنَ الصَّوْتِ، فَأُلْقِيَتْ عَلَيْهِ مَحَبَّةٌ، فَمَا فَارَقْتُهُ حَتَّى دَفَنْتُهُ بِالشَّامِ، ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى أَفْقَهِ النَّاسِ بَعْدَهُ، فَأَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، فَمَا فَارَقْتُهُ حَتَّى مَاتَ، فَقَالَ لِي: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَيْفَ بِكَ إِذَا أَتَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُصَلُّونَ الصَّلَاةَ لِغَيْرِ وَقْتِهَا؟» فَقُلْتُ: فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ؟ قَالَ: ‌‌«صَلِّ الصَّلَاةَ لِمِيقَاتِهَا، وَاجْعَلْ صَلَاتَكَ مَعَهُمْ سُبْحَةً»
২৮ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আওযায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট হাসসান বিন আতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আব্দুর রহমান বিন সাবিত বর্ণনা করেছেন আমর বিন মাইমুন থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয বিন জাবালকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তিনি সেখান থেকে আমাদের নিকট আসলেন। আমি ফজরের সালাতে তাঁর তাকবীর শুনলাম যা ছিল অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠের। ফলে তাঁর প্রতি হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি হলো। আমি তাঁর সঙ্গ ছাড়িনি যতক্ষণ না তাঁকে শামে দাফন করেছি। এরপর আমি তাঁর পরে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ কে আছেন তা লক্ষ্য করলাম এবং আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের নিকট আসলাম। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গেই ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমার কী অবস্থা হবে যখন তোমার ওপর এমন সব শাসক আসবে যারা সালাতকে তার সময়ের বাইরে আদায় করবে?" আমি বললাম: যদি আমি সেই অবস্থার সম্মুখীন হই তবে আপনি আমাকে কী করার নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: "তুমি সালাত তার নির্দিষ্ট সময়েই আদায় করে নেবে এবং তাদের সাথে তোমার সালাতটিকে নফল হিসেবে গণ্য করবে।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসিল আওযায়ী লি ইবনু হাজলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
29 - حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ،: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي قَزَعَةُ، قَالَ: " قَدِمَ عَلَيْنَا صَاحِبٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْبَصْرَةَ، فَلَمَّا خَرَجَ خَرَجَ مَعَهُ أُنَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ يُشَيِّعُونَهُ، وَخَرَجْتُ فِيمَنْ خَرَجَ، فَجُعِلُوا مُتَفَرِّقِينَ ⦗ص: 14⦘ حَتَّى لَمْ يَبْقَ مَعَهُ غَيْرِي، قَالَ: فَقُلْتُ: حَدِّثْنِي رَحِمَكَ اللَّهُ حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ، فَاتَّقُوا اللَّهَ أَنْ يَطْلُبَكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ ذِمَّتِهِ» ،

 

30 - ثُمَّ قَالَ: " مَا أَوَّلُ شَيءٍ مِنَ الْإِنْسَانِ يُنْتِنُ؟ قُلْتُ: أُذُنُهُ، قَالَ: لَا، قُلْتُ: فَمَا هُوَ؟ قَالَ: بَطْنُهُ، فَاتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُدْخِلْهُ إِلَّا طَيِّبًا "
২৯ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আওযায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট কাযাআ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী আমাদের কাছে বসরায় আগমন করলেন। অতঃপর তিনি যখন (বসরার বাইরে) রওনা হলেন, তখন বসরার একদল লোক তাঁকে বিদায় জানাতে তাঁর সাথে বের হলেন। আমিও তাঁদের মধ্যে বের হলাম। একপর্যায়ে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ এমনকি আমি ছাড়া তাঁর সাথে আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। তিনি বলেন: অতঃপর আমি বললাম, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন এমন একটি হাদিস আমাকে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‌«যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) থাকল। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো, যেন তিনি তাঁর জিম্মার কোনো বিষয়ে তোমাদের পাকড়াও না করেন» ,

 

৩০ - অতঃপর তিনি বললেন: "মানুষের কোন অঙ্গটি সর্বপ্রথম পচে দুর্গন্ধযুক্ত হয়? আমি বললাম: তার কান। তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তবে সেটি কী? তিনি বললেন: তার পেট। অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং তাতে পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছু প্রবেশ করিও না।"