(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: -)
الكوكب المنير في شرح الألفية بالتشطير القسم: النحو والصرف
الكتاب: الكوكب المنير في شرح الألفية بالتشطير
المؤلف: عبد الجليل بن أبي المواهب محمد بن عبد الباقي الحنبلي البعلي الدمشقي الشهير بـ المواهبي (1079 - 1119 هـ)
ومعه: شفاء الغليل في ترجمة الشيخ عبد الجليل، من تأليف أحد تلامذة المؤلف
دراسة وتحقيق: حمزة مصطفى أبو توهة
الناشر: أروقة للدراسات والنشر، الأردن - عمان
الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 202
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 جُمادَى الأولى 1442
আল-কাওকাবুল মুনীর ফি শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতির বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আল-কাওকাবুল মুনীর ফি শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতির
লেখক: আব্দুল জলীল বিন আবি আল-মাওয়াহিব মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-হানবালি আল-বালি আদ-দিমাশকি, যিনি আল-মাওয়াহিবি নামে পরিচিত (১০৭৯ - ১১১৯ হিজরী)
এবং সাথে রয়েছে: শিফাউল গালীল ফি তারজামাতুশ শায়খ আব্দুল জলীল, যা লেখকের একজন ছাত্র কর্তৃক রচিত
গবেষণা ও সম্পাদনা: হামজা মুস্তফা আবু তাওয়াহা
প্রকাশক: আরওয়িকাহ আদ-দিরাসাত ওয়ান-নাশর, জর্ডান - আম্মান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরী - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুমাদাল উলা ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১)
الكوكب المنير
في
شرح الألفية بالتشطير
تصنيف خاتمة المحققين ونادرة المدققين
العلامة الأوحد والفهامة الأمجد
الوحيد الألمعي والفريد اللوذعي
عبد الجليل بن أبي المواهب الحنبلي البعلي المواهبي
ت 1119 هـ
ومعه:
شفاء الغليل
في
ترجمة الشيخ عبد الجليل
دراسة وتحقيق
حمزة مصطفى حسن أبو توهة
আল-কাওকাবুল মুনির
এর
শারহুল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতির
গবেষককুলের শিরোমণি এবং সূক্ষ্মদর্শীদের অনন্য উপমা কর্তৃক রচিত
অদ্বিতীয় মহাজ্ঞানী এবং শ্রেষ্ঠতম প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব
অনন্য বুদ্ধিদীপ্ত এবং অসাধারণ ধীসম্পন্ন অদ্বিতীয় মনীষী
আব্দুল জলিল বিন আবি আল-মাওয়াহিব আল-হানবালী আল-বালী আল-মাওয়াহিবি
মৃত্যু ১১১৯ হিজরি
এবং এর সাথে রয়েছে:
শিফাউল গালীল
এর
শায়খ আব্দুল জলিলের জীবনী
গবেষণা ও সম্পাদনা (تحقيق)
হামযা মুস্তফা হাসান আবু তুহা
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة
حاز علم النحو نصيبًا وافرًا من المنظومات العلمية، منها ما كان يجمع جُلّ أبواب النحو، مثل ألفية ابن معط، وألفية ابن مالك، وألفية الآثاري، وألفية السيوطي، ومن قبلها ملحة الإعراب، ومنها ما كان يختص بمسائل مفردة، مثل القصيدة المجرادية، ونظم المرادي للجمل، ونظم الزواوي لقواعد الإعراب، والمنظومة الميمية لحازم القرطاجني.
ولعل أول منظومة في النحو -كما يقال- هي منظومة الخليل بن أحمد الفراهيدي، وقد شكك الدكتور العلامة الطناحي في هذه النسبة للخليل بن أحمد، ورجح أن يكون أول عهد بالمنظومات ما بعد القرن الرابع
(1).
وأشهر هذه المنظومات ملحة الإعراب للحريري، وألفية ابن معط، والوافية لابن الحاجب، وألفية ابن مالك، وألفية السيوطي المسماة بالفريدة، وألفية ابن مالك هي الأشهر على الإطلاق، حيث إنه إذا أُطلق لفظ الألفية فهو منصرف إليها من غير لبس.
ولمّا كانت العربية من أجل العلوم، والمصنفات فيها أكثر من أن تعد وتحصى، تميزت من هذه التصنيفات بعضها، وشاع ذكرها، وتُصدي لشرحها، ومن أجَلّ هذه المصنفات (ألفية ابن مالك)، ولها ما يزيد على مئة وثلاثين شرحًا، ما بين مطبوع ومخطوط ومفقود، وقد أعرب أبياتها بعض العلماء، ووضع لها آخرون حواشيَ
--------------------------------------------
ভূমিকা
নাহু (نحو) শাস্ত্র ইলমি পদ্যের (المنظومات العلمية) একটি বিশাল অংশ লাভ করেছে। এর মধ্যে কিছু ছিল এমন যা নাহু শাস্ত্রের অধিকাংশ অধ্যায়কে একত্রিত করেছে, যেমন ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহ, ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ, আল-আসারির আলফিয়্যাহ, আল-সুয়ুতির আলফিয়্যাহ এবং এর আগে মুলহাতুল ই'রাব। আবার কিছু ছিল নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন আল-কাসিদা আল-মাজরাদিয়্যাহ, জুমাল (الجمل) বা বাক্য প্রসঙ্গে আল-মুরাদির পদ্য, ই'রাবের (الإعراب) নিয়মাবলি প্রসঙ্গে আল-জাওয়াওয়ির পদ্য এবং হাজিম আল-কারতাজানির মিমিয়্যাহ পদ্য।
সম্ভবত নাহু (نحو) শাস্ত্রের প্রথম পদ্য (منظومة) —যেমনটি বলা হয়ে থাকে— সেটি হলো খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদির পদ্য। তবে আল্লামা ড. আত-তান্নাহি খলিল ইবনে আহমদের প্রতি এই সম্বন্ধের (النسبة) ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং তিনি অগ্রাধিকার (رجح) দিয়েছেন যে, পদ্য রচনার এই ধারার সূচনা হয়েছে চতুর্থ শতাব্দীর পরে
(1)।
এই পদ্যগুলোর (المنظومات) মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো হারিরির মুলহাতুল ই'রাব, ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহ, ইবনে আল-হাজিবের আল-ওয়াফিয়াহ, ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ এবং আল-সুয়ুতির আল-ফারিদাহ। আর ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ হলো সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ, ফলে যখনই 'আলফিয়্যাহ' শব্দটি উচ্চারণ করা হয়, তখন কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই তা ইবনে মালিকের কিতাবকেই বোঝায়।
যেহেতু আরবি ভাষা ছিল মহান জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এই বিষয়ের গ্রন্থসমূহ গণনার অতীত, তাই এই রচনাগুলোর মধ্যে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে, সেগুলোর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই শ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো 'ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ'। মুদ্রিত (مطبوع), পাণ্ডুলিপি (مخطوط) এবং বিলুপ্ত (مفقود) মিলিয়ে এর একশ ত্রিশটিরও বেশি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রয়েছে। কিছু আলেম এর পদ্যগুলোর ই'রাব (أعرب) বিশ্লেষণ করেছেন এবং অন্যরা এর উপর হাশিয়া বা পার্শ্বটীকা (حواشي) লিখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৬)
وتقريراتٍ وتقييداتٍ وتعليقاتٍ، وحوّلها بعضهم إلى نثر، وغير ذلك من ألوان العناية والاهتمام بهذا الكتاب المبارك
(1).
ويمكن القول إن أول شرح للألفية كان شرح ابن الناظم
(2)، ثم تلاه شروحات مَن بعده، وتصدى للألفية جهابذة العلماء كأبي حيان والمرادي والشاطبي والمكودي وابن عقيل وابن هشام.
لكن هذه الشروح كلها كانت على هيئة واحدة وهي الشرح المنثور، إلا أن التراث حفظ لنا شرحًا بديعًا عظيمًا، غريبًا في بابه، لم يُنسج على منواله، وهو شرح الإمام بدر الدين الغزي المسمى "البهجة الوفية بحجة الخلاصة الألفية"، وهو شرح منظوم في عشرة آلاف بيت ونيف وخمسين بيتًا، وقد حققته من قبلُ وطُبع مع صناعة دراسة وافية شافية لهذا السفر المبارك.
ويندرج تحت هذا النوع البديع كتاب (الكوكب المنير) الذي نحن بصدد تحقيقه، وهو شرح بالتشطير على ألفية ابن مالك، والتشطير أن يعمد الناظم إلى البيت فيضع لصدره عجزًا من عنده، ويضع لعجزه صدرًا من عنده، فيصبح البيت بيتين، ومثال ذلك قول ابن مالك:
قال محمد هو ابن مالك
… أحمد ربي الله خير مالك
فقد جاء الإمام عبد الجليل وشطّر هذا البيت قائلًا:
قال محمد هو ابن مالك
… العالم الأندلسي من سالكي
…رأي الإمام الشافعي الناسك
… أحمد ربي الله خير مالك
واللهَ أسأل التوفيق والسداد في القول والعمل، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه والتابعين.
حمزة مصطفى حسن أبو توهة
مدينة غزة
28\ 3\2019
--------------------------------------------
এবং বিভিন্ন ব্যাখ্যা, টীকা ও মন্তব্যসমূহ, এবং তাদের কেউ কেউ সেগুলোকে গদ্যে রূপান্তর করেছেন, এছাড়া এই বরকতময় কিতাবটির প্রতি যত্ন ও মনোযোগের আরও নানাবিধ দিক রয়েছে
(১)।
বলা যেতে পারে যে, আলফিয়ার প্রথম ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) ছিল ইবনুন নাযিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ
(২), অতঃপর পরবর্তীকালের ব্যাখ্যাকারদের গ্রন্থসমূহ এসেছে। আলফিয়ার ব্যাখ্যায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন আবু হাইয়ান, মুরাদি, শাতিবি, মাকুদি, ইবনে আকিল এবং ইবনে হিশামের মতো প্রথিতযশা আলেমগণ।
তবে এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থই ছিল এক বিশেষ ধারার, আর তা হলো গদ্যে রচিত ব্যাখ্যা। কিন্তু ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডার আমাদের জন্য একটি চমৎকার ও মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংরক্ষণ করেছে, যা এই ক্ষেত্রে এক অনন্য ও অতুলনীয় দৃষ্টান্ত, যার কোনো সমতুল্য নেই। সেটি হলো ইমাম বদরুদ্দিন আল-গাযযির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম "আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বি হুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ"। এটি দশ হাজার পঞ্চাশের অধিক পংক্তির একটি পদ্যে রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আমি ইতিপূর্বে এটি সম্পাদনা করেছি এবং এই বরকতময় কিতাবটির ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত গবেষণাসহ তা মুদ্রিত হয়েছে।
এই চমৎকার প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত হলো 'আল-কাওয়াকিবুল মুনির' নামক কিতাবটি, যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা করছি। এটি ইবনে মালিকের আলফিয়ার ওপর একটি তাশতির (পংক্তি বিভাজন) ভিত্তিক ব্যাখ্যা। তাশতির হলো এই যে, কবি কোনো পংক্তির প্রথম অর্ধাংশের পরে নিজের পক্ষ থেকে একটি অর্ধাংশ যোগ করেন এবং এর শেষ অর্ধাংশের আগে নিজের পক্ষ থেকে একটি অর্ধাংশ বসান, ফলে একটি পংক্তি দুটি পংক্তিতে পরিণত হয়। এর উদাহরণ হলো ইবনে মালিকের এই উক্তি:
মুহাম্মাদ বলেন, তিনিই ইবনে মালিক
… আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি শ্রেষ্ঠ অধিপতি
অতঃপর ইমাম আবদুল জলিল এসে এই পংক্তিটিকে তাশতির করে বলেছেন:
মুহাম্মাদ বলেন, তিনিই ইবনে মালিক
… আন্দালুসি আলিম এবং অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত
…ইবাদতগুজার ইমাম শাফেয়ীর অভিমতের
… আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি শ্রেষ্ঠ অধিপতি
আমি আল্লাহর কাছে কথা ও কাজে তাওফিক এবং সঠিকতা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাবেয়ীদের (التابعين) ওপর।
হামজা মুস্তফা হাসান আবু তাওয়াহা
গাজা শহর
২৮\ ৩\ ২০১৯
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المصنف (1)
اسمه ومولدهعبد الجليل بن الشيخ عبد الباقي محمد أبي المواهب بن عبد الباقي بن عبد الباقي بن عبد القادر بن عبد الباقي بن إبراهيم بن عمر بن محمد الحنبلي البعلي الدمشقي الشَّهير بالمَواهِبيِّ.
اتفقت مصادر ترجمته على إيراد اسمه واسم والده ومنها من ذكر جده، وقد نقل الغزي في النعت الأكمل من ثبت جد المؤلف أنه عبد الباقي تقي الدين الحنبلي ابن الشيخ عبد الباقي ابن خطيب المسلمين الشيخ عبد القادر زين الدين ابن مفتي الموحدين عبد الباقي علامة المتبحرين ابن الشيخ إبراهيم بن عمر بن محمد الشهير أولًا بابن البدر والآن بابن فقيه فصة الأزهري الطلب الدمشقي المنشأ والوفاة.
ولد الإمام عبد الجليل بدمشق في سادس شعبان سنة تسع وسبعين بعد الألف، ونشأ بها في كنف والده واشتغل بطلب العلم فيها، ولكن أصله من بعلبك ونسبته إليها.
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনী(১)তাঁর নাম ও জন্মআব্দুল জলীল বিন আশ-শাইখ আব্দুল বাকী মুহাম্মাদ আবুল মাওয়াহিব বিন আব্দুল বাকী বিন আব্দুল বাকী বিন আব্দুল কাদির বিন আব্দুল বাকী বিন ইবরাহিম বিন উমর বিন মুহাম্মাদ আল-হাম্বলী আল-বা'লী আদ-দিমাশকী, যিনি আল-মাওয়াহিবি নামে সমধিক পরিচিত।
তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ তাঁর নাম এবং তাঁর পিতার নাম উল্লেখ করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর দাদার নামও উল্লেখ করেছেন। আল-গাজ্জি 'আন-নাতুল আকমাল' গ্রন্থে গ্রন্থকারের দাদার সনদ (ثبت) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হলেন আব্দুল বাকী তাকিউদ্দীন আল-হাম্বলী ইবন আশ-শাইখ আব্দুল বাকী ইবনু খতিবিল মুসলিমিন আশ-শাইখ আব্দুল কাদির যাইনুদ্দীন ইবনু মুফতিয়িল মুওয়াহহিদীন আব্দুল বাকী আল্লামাতুল মুতাবাহহিরীন ইবন আশ-শাইখ ইবরাহিম বিন উমর বিন মুহাম্মাদ; যিনি পূর্বে 'ইবনুল বদর' এবং বর্তমানে 'ইবনু ফাকিহি ফাসসাহ' আল-আযহারি আত-তালাব আদ-দিমাশকী আল-মানশা ওয়াল ওয়াফাত নামে পরিচিত।
ইমাম আব্দুল জলীল ১০৭৯ হিজরি সালের ৬ই শাবান দিমাশকে (দামেস্ক) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেখানেই তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং সেখানে ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন। তবে তাঁর মূল উৎস ছিল বালবাক এবং তাঁর সম্বন্ধ (نسبة) সেদিকেরই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
أخلاقهكان وقورًا ساكنًا كثير البر بوالده، وشوهد مرارًا إذا كان في درسه ومر عليه والده يقوم من الدرس ويأخذ مداس والده منه ويمشي خلفه بأدب وسكينة ويلازم حضور دروس والده بالجامع الأموي بين العشاءين وكان والده يحبه كثيرًا ويحترمه ويدعو له لِما كان عليه من البر والديانة والصيانة وملازمة الطاعات وكف اللسان عن اللغو والانقطاع عن الناس.
* * *
علمه وعبارات العلماء فيهبرع في المعقولات لا سيما النحو والصرف والمعاني والبيان وجلس للتدريس بالجامع الأموي وعكف عليه الطلبة للاستفادة وكان عجباً في تقرير العبارة يؤديها بفصاحة وبيان.
قال عنه السفاريني: "خاتمة المحققين ونادرة المدققين العلامة الأوحد والفهامة الأمجد الوحيد الألمعي والفريد اللوذعي المحقق عبد الجليل بن أبي المواهب .. ".
وقال عنه صاحب سلك الدرر: " الشيخ العالم المحقق المدقق الفهامة الإمام الفاضل".
* * *
شيوخهاشتغل بطلب العلم على والده وعلى غيره ولازم الشيخ إبراهيم الفتال ومفتي دمشق الشيخ إسماعيل الحايك والشيخ عبد القادر بن عبد الهادي فأخذ عنهم الأصلين والنحو والصرف والمعاني والبيان والعلامة الشيخ عبد الرحيم
তাঁর চরিত্রতিনি ছিলেন গম্ভীর ও শান্ত স্বভাবের এবং পিতার প্রতি অত্যন্ত সদাচারী। তাঁকে বহুবার দেখা গেছে যে, তিনি যখন পাঠদানে রত থাকতেন এবং তাঁর পিতা তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন, তখন তিনি পাঠদান থেকে উঠে দাঁড়াতেন এবং পিতার পাদুকা জোড়া তাঁর হাত থেকে নিয়ে নিতেন। অত্যন্ত আদব ও প্রশান্তির সাথে তিনি তাঁর পিতার পেছনে হাঁটতেন এবং উমাইয়া জামে মসজিদে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নিয়মিত তাঁর পিতার দরসে উপস্থিত থাকতেন। তাঁর পিতা তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন; কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত সদাচারী, ধার্মিক (ديانة), চারিত্রিক পবিত্রতার অধিকারী (صيانة), ইবাদতে মগ্ন, অনর্থক কথা থেকে জিহ্বাকে সংযত রাখা এবং মানুষের থেকে নির্জনতা অবলম্বনকারী।
* * *
তাঁর জ্ঞান এবং তাঁকে নিয়ে উলামায়ে কেরামের উক্তিতিনি যুক্তিনির্ভর শাস্ত্রসমূহে (المعقولات), বিশেষ করে ব্যাকরণ (النحو), রূপতত্ত্ব (الصرف), অর্থালঙ্কার (المعاني) ও শব্দালঙ্কার (البيان) শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি উমাইয়া জামে মসজিদে পাঠদানের জন্য উপবিষ্ট হতেন এবং ছাত্ররা তাঁর থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য তাঁর নিকট ভিড় জমাত। কোনো ইবারত বা পাঠ ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বিস্ময়কর; অত্যন্ত প্রাঞ্জলতা ও স্পষ্টতার সাথে তিনি তা উপস্থাপন করতেন।
আস-সাফারিনী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি হলেন গবেষকদের সমাপ্তি (خاتمة المحققين), সূক্ষ্মদর্শীদের মধ্যে বিরল (نادرة المدققين), অনন্য আল্লামা, মহিমান্বিত ধীমান, অদ্বিতীয় মেধাবী এবং প্রখর ধীশক্তির অধিকারী গবেষক (المحقق) আব্দুল জলীল বিন আবি আল-মাওয়াহিব..."।
সিলক আদ-দুরার এর লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন শাইখ, আলেম, গবেষক (المحقق), সূক্ষ্মদর্শী (المدقق), মহাজ্ঞানী এবং ফযীলতপূর্ণ ইমাম।"
* * *
তাঁর শিক্ষকগণতিনি তাঁর পিতা ও অন্যদের নিকট ইলম অন্বেষণে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি শাইখ ইবরাহিম আল-ফাত্তাল, দামেস্কের মুফতি শাইখ ইসমাইল আল-হায়েক এবং শাইখ আব্দুল কাদির বিন আব্দুল হাদি-র সান্নিধ্যে ছিলেন। তাঁদের নিকট থেকে তিনি দুই মূলনীতি (الأصلين), ব্যাকরণ (النحو), রূপতত্ত্ব (الصرف), অর্থালঙ্কার (المعاني) ও শব্দালঙ্কার (البيان) এবং আল্লামা শাইখ আব্দুর রহীম শিক্ষা লাভ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
الكابلي نزيل دمشق وأخذ الفقه والحديث ومصطلحه عن والده وقرأ على الشيخ عثمان القطان وأجازه المحقق الرباني الشيخ إبراهيم الكوراني نزيل المدينة المنورة والعلامة السيد محمد البرزنجي الكوراني نزيلها أيضًا.
* * *
مؤلفاتهيكاد يجمع من ترجم للمؤلف أن له من التآليف نظم شافية ابن الحاجب في الصرف، وشرحها شرحاً حافاً، وله تشطير بديع على ألفية ابن مالك في النحو، وهو ما نحن نعمل عليه الآن، وله أرجوزة في العروض، وغير ذلك من الرسائل.
وجاء في حاشية السحب الوابلة من عمل المحققَين:
"ورأيت للمذكور -يعنيان به المؤلف- نظمًا للشّافية لابن الحاجب (ت 646 هـ)، وشرحًا على هذا النظم اسمه (الموارد العذبة الصّافية
… )، أوّل هذا النّظم:
حَمْدًا لِأَهْلِ الحَمْدِ فَيَّاضِ النِّعَمْ
… مَا دَامَ مِقْدَارُ العُلُومِ فِي العِظَمْ
…وَدَامَ صَرْفُ القَلْبِ نَحْوَهَا لِمَنْ
… وَفَّقَهُ مَوْلَاهُ عَنْ ذِي الفِطَنْ
…فَأَنْفَقُوا رَيْعَانَ عُمْرِهِمْ عَلَى
… إِبْرَازِ مَكْنُونَاتِهَا إِلَى الجَلَا
ثم قال:
وَإِنَّ أُسَّ ذِي العُلُومِ كُلِّهَا
… صِنَاعَةُ التَّصْرِيفِ فَهْيَ أَصْلُهَا
…وَإِنَّ مَا أَلَّفَهُ ابْنُ الحَاجِبِ
… فِيهِ وَفِي خَطٍّ أَحَقُّ مَا اجْتُبِي
…وَهْوَ المُسَمَّى شُهْرَةً بِـ (الشَّافِيَهْ)
… جَزَاهُ عَنْهُ بِالجِنَانِ العَافِيَهْ
وجاء في أول الشّرح: "الحمدُ للهِ الذي عزَّ اسمُه، وتمَّتْ كَلِمُه، وعمَّتْ البريةَ آلاؤهُ ونعمُه،
… ". وغير ذلك مما يطول شرحه وذكره.
* * *
আল-কাবুলি, দামেস্কের অধিবাসী; তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ, হাদিস এবং এর পরিভাষা (مصطلح) শিক্ষা করেন। তিনি শেখ উসমান আল-কাত্তানের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসী মহাক্কিক রব্বানি শেখ ইব্রাহিম আল-কুরানি এবং মদিনারই অপর অধিবাসী আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ আল-বারজানজি আল-কুরানি তাঁকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন।
* * *
তাঁর রচনাবলিযাঁরা লেখকের জীবনী বর্ণনা করেছেন তাঁরা প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে সরফ (শব্দতত্ত্ব) শাস্ত্রে ইবনুল হাজিব রচিত 'শাফিয়া'-এর কাব্যরূপ এবং তার একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে ইবনে মালিকের 'আলফিয়া'-এর ওপর তাঁর একটি চমৎকার তশতির (পঙক্তি বর্ধিতকরণ) রয়েছে—যা নিয়ে আমরা বর্তমানে কাজ করছি। এছাড়া ছন্দশাস্ত্রে তাঁর একটি আরজুযা (কাব্য) এবং আরও অন্যান্য রিসালাহ (ক্ষুদ্র পুস্তিকা) রয়েছে।
দুই গবেষকের (محقق) সম্পাদিত 'আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ'-এর টীকায় এসেছে:
"আমি উল্লিখিত ব্যক্তির—অর্থাৎ লেখকের—ইবনুল হাজিব (মৃত্যু ৬৪৬ হি.)-এর 'শাফিয়া'-এর একটি কাব্যরূপ এবং এই কাব্যরূপের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখেছি যার নাম 'আল-মাওয়ারিদ আল-আযবাহ আস-সাফিয়াহ
… ', এই কাব্যের শুরুটি হলো:
প্রশংসা কেবল প্রশংসিত সত্তার জন্য, যিনি নিআমতের প্রাচুর্য দানকারী
… যতক্ষণ জ্ঞানের মর্যাদা মহত্ত্বে বিদ্যমান থাকবে
…আর ঐ ব্যক্তির অন্তরের ঝোঁক সেদিকেই থাকবে যাকে
… তাঁর প্রতিপালক প্রজ্ঞাবানদের মধ্য থেকে তাওফিক দান করেছেন
…ফলে তাঁরা তাঁদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ব্যয় করেছেন
… এর লুকায়িত বিষয়সমূহ প্রকাশ করার তরে।
অতঃপর তিনি বলেন:
আর নিশ্চয়ই এই সকল ইলমের ভিত্তি হলো
… ইলমুত তাসরিফ বা শব্দতত্ত্বের শিল্প, যা এদের মূল
…আর ইবনুল হাজিব এই বিষয়ে এবং লিপিবিদ্যায় যা কিছু রচনা করেছেন
… তা চয়ন করার জন্য সর্বাধিক উপযোগী
…আর তা 'শাফিয়া' নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে
… আল্লাহ এর বিনিময়ে তাঁকে জান্নাতের প্রশান্তি দান করুন।
ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে এসেছে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর নাম অতি মহিমান্বিত, যাঁর বাণী সুসম্পূর্ণ এবং যাঁর কৃপা ও নিআমত সমস্ত সৃষ্টির ওপর পরিব্যাপ্ত
… "। এছাড়াও আরও অনেক কিছু রয়েছে যা উল্লেখ করা ও ব্যাখ্যা করা দীর্ঘসাধ্য।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
شعرهقال في سلك الدرر إن المؤلف كان ينظم الشعر الباهر، ولعل أقدم من نسب إليه هذا الإمام السفاريني في غذاء الألباب حيث قال:
"وقال خاتمة المحققين ونادرة المدققين العلامة الأوحد والفهامة الأمجد الوحيد الألمعي والفريد اللوذعي المحقق عبد الجليل بن أبي المواهب .... ، مشطِّرًا للأبيات المنسوبة لسيدنا جعفر الصادق رضي الله عنه وعن آبائه الأطهرين، وهي:
(عَتَبْتُ عَلَى الدُّنْيَا وَقُلْتُ إلَى مَتَى)
… تُسِيئِينَ صُنْعًا مَعْ ذَوِي الشَّرَفِ الجَلِي
…أَفَاقِدَةُ الْإِنْصَافِ حَتَّى عَلَيْهِمُ
… (تَجُودِينَ
(1) بِالهَمِّ الذِي لَيْسَ يَنْجَلِي)
…(فَكُلُّ شَرِيفٍ مِنْ سُلَالَةِ هَاشِمٍ)
… بِسَيِّئٍ حَظٍّ فِي مَذَاهِبِهِ ابْتُلِي
…وَمَعْ كَوْنِهِ فِي غَايَةِ العِزِّ وَالعُلَا
… (يَكُونُ عَلَيْهِ الرِّزْقُ غَيْرَ مُسَهَّلِ)
…(فَقَالَتْ نَعَمْ يَا بْنَ الْبَتُولِ لِأَنَّنِي)
… خَسِيسَةُ قَدْرٍ عَنْ عُلَاكُمْ بِمَعْزِلِ
…وَأَمَّا إسَاءَاتِي فَذَلِكَ أَنَّنِي
… (حَقَدْتُ عَلَيْكُمْ حِينَ طَلَّقَنِي عَلِي)
ومن شعره أبيات شطّر فيها أبياتًا منسوبة إلى ابن عباس رضي الله عنهما:
(أَحِبُّوا الخَيْلَ وَاصْطَبِرُوا عَلَيْهَا)
… فَإِنَّ بِهَا المَسَرَّةَ وَالكَمَالَا
…وَرَاعُوا حَقَّهَا فِي كُلِّ وَقْتٍ
… (فَإِنَّ العِزَّ فِيهَا وَالجَمَالَا)
…(إِذَا مَا الخَيْلُ ضَيَّعَهَا أُنَاسٌ)
… أَنَلْنَاهَا التَرَفُّهَ وَالدَّلَالَا
…فَخَيْرٌ فِي نَوَاصِيهَا اقْتَضَي أَنْ
… (حَفِظْنَاهَا فَأَشْبَهَتِ العِيَالَا)
…(نُقَاسِمُهَا المَعِيشَةَ كُلَّ يَوْمٍ)
… وَلَا نَخْشَى لِنِعْمَتِنَا زَوَالَا
…--------------------------------------------
তাঁর কবিতাসিলকুদ দুরার গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, লেখক চমৎকার সব কবিতা রচনা করতেন। সম্ভবত ইমাম সাফফারিনি তাঁর 'গিযাউল আলবাব' গ্রন্থে সর্বপ্রথম তাঁর কবিতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
"গবেষকগণের (محقق) শেষ আশ্রয়স্থল, সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতদের মধ্যে বিরল প্রতিভা, অদ্বিতীয় আল্লামা এবং শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাবান, অপ্রতিম মেধাবী ও অনন্য ধীমান গবেষক (محقق) আব্দুল জলিল বিন আবি আল-মওয়াহিব... আমাদের নেতা জাফর আস-সাদিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর পবিত্র পিতৃপুরুষগণের প্রতি আরোপিত (منسوب) কবিতাগুলোকে পঙ্ক্তি বর্ধিত (তশতির) করে লিখেছেন, যা হলো:
(আমি দুনিয়ার প্রতি অনুযোগ করলাম এবং বললাম, আর কতকাল?)
… তুমি স্পষ্ট মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সাথে মন্দ আচরণ করে যাবে?
…হে ইনসাফহীন দুনিয়া! এমনকি তাদের ওপরও কি...
… (তুমি এমন দুশ্চিন্তা বর্ষণ করো যা কখনো অপসারিত হয় না?)
…(কেননা হাশেমী বংশের প্রত্যেক অভিজাত ব্যক্তিই)
… স্বীয় জীবন চলার পথে দুর্ভাগ্যের পরীক্ষার সম্মুখীন হন।
…অথচ তিনি চরম সম্মান ও উচ্চমর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও...
… (তাঁর জন্য রিযিকের পথ সহজ করা হয় না।)
…(দুনিয়া উত্তর দিল—হ্যাঁ, হে বাতুলের পুত্র! কারণ আমি তো)
… হীন মর্যাদাসম্পন্ন এবং আপনাদের সুউচ্চ মাকাম থেকে যোজন যোজন দূরে।
…আর আমার এই দুর্ব্যবহারের কারণ এই যে,
… (আমি আপনাদের ওপর বিদ্বেষ পোষণ করেছি সেই মুহূর্ত থেকে, যখন আলী আমাকে তালাক দিয়েছিলেন।)
তাঁর কবিতার মধ্যে এমন কিছু পঙ্ক্তিও রয়েছে যা তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার প্রতি আরোপিত (منسوب) কিছু কবিতার পঙ্ক্তি বর্ধিত (তশতির) করে রচনা করেছেন:
(তোমরা ঘোড়াকে ভালোবাসো এবং তাদের রক্ষাণাবেক্ষণে ধৈর্য ধরো)
… কারণ এতেই রয়েছে আনন্দ ও পূর্ণতা।
…সর্বদাই এদের অধিকারের প্রতি যত্নবান হও
… (কেননা এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মর্যাদা ও সৌন্দর্য।)
…(যখন অন্য লোকেরা ঘোড়াকে অবজ্ঞা বা অবহেলা করে)
… তখন আমরা এদের আরাম ও পরম যত্ন প্রদান করি।
…তাদের ললাটে নিহিত কল্যাণ এই দাবিই করে যে—
… (আমরা তাদের এমনভাবে আগলে রাখি যেন তারা আমাদের পরিবারেরই সদস্য।)
…(প্রতিদিন আমরা আমাদের জীবিকা তাদের সাথে ভাগ করে নেই)
… এবং আমরা আমাদের নিআমত বিলুপ্ত হওয়ার ভয় করি না।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَنُلْبِسُهَا المَحَاسِنَ مِنْ حُلِيٍّ
… (وَنَكْسُوهَا البَرَاقِعَ وَالجِلَالَا)
ومن شعره تذييله على قول الشاعر:
إِذَا مَلِكٌ لَمْ يَكُنْ ذَا هِبَهْ
… فَدَعْهُ فَدَوْلَتُهُ ذَاهِبَهْ
حيث قال مذيلًا:
فَجُدْ لِلفَقِيرِ بِمَا يَبْتَغِي
… وَأَفْضَلَ مَالِكَ كُنْ وَاهِبَهْ
…وَلَا تُلْفَ
(1) دَهْرَكَ مُسْتَوْهِبَا
… فَخَيْرُ اليَدَيْنِ يَدٌ وَاهِبَهْ
…وَفِي اللهِ عَنْ كُلِّ شَيْءٍ غِنَى
… فَكُنْ رَاغِبًا فِيهِ أَوْ رَاهِبَهْ
…وَنَلْ طَيِّبَ العَيْشِ وَانْعَمْ بِهِ
… وَلَا تَكُ أَشْعَثَ كَالرَّاهِبَهْ
…وَعُمْرُكَ رَأْسُ جَمِيعِ الذِي
… مَلَكْتَ فَبِالخَيْرِ كُنْ نَاهِبَهْ
(2) …وَحَاذِرْ مَعاصِي الإِلَهِ التِي
… تَكُونُ لِأَجْرِ الفَتَى نَاهِبَهْ
…وَمِنْ مَالِ رَبِّكَ أَنْفِقْ فَمَا
… تَمَلَّكْتَ عَارِيَةٌ لَا هِبَهْ
…وَدُمْ فِي عُلَاهُ لِتَرْقَى
(3) العُلَا
… وَتَنْجُوَ مِنْ نَارِهِ اللَّاهِبَهْ
ومن شعره قوله:
يَا وَاجِدًا مِنْ بَدِيعِ الحُسْنِ أَجْمَلَهُ
… مَا لَيُّ جِيدِكَ عَنِّي كُنْتُ آمِلَهُ
…أَلَيْسَ يَحْرُمُ لَيُّ الوَاجِدِينَ كَمَا
… نَصَّ الإِلَهُ عَلَى هَذَا وَأَنْزَلَهُ
ومنه قوله:
أَيُّهَا المُكْتَسِي رِدَاءَ جَمَالٍ
… فَوْقَهُ بُرْنُسُ المَحَاسِنِ زَانَه
…--------------------------------------------
এবং আমি একে অলংকারের সৌন্দর্য দ্বারা সজ্জিত করি
… (এবং আমরা একে অবগুণ্ঠন ও ঝালর দ্বারা আচ্ছাদিত করি)
তার কবিতার অন্তর্ভুক্ত হলো জনৈক কবির পঙক্তির ওপর তার সংযোজন:
যখন কোনো রাজা দানশীল না হয়
… তবে তাকে ত্যাগ করো, কেননা তার রাজত্ব বিলীন হতে চলেছে।
যেখানে তিনি সংযোজন করে বলেন:
অতএব অভাবগ্রস্তকে তার চাহিদা অনুযায়ী দান করো
… এবং তোমার সর্বোত্তম সম্পদ তুমি উৎসর্গকারী হও
…এবং সারা জীবন নিজেকে যাঞ্চাকারী হিসেবে উপস্থাপন করো না
(১) … কেননা দুই হাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাত হলো দাতা হাত
…এবং আল্লাহর মাঝেই রয়েছে সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষিতা
… সুতরাং তুমি তাঁর প্রতিই অনুরাগী হও অথবা তাঁর নিকটই ভীতি পোষণ করো
…এবং পবিত্র জীবন অর্জন করো ও তা নিয়ে সুখে থাকো
… সন্ন্যাসীদের মতো উষ্কখুষ্ক থেকো না
…এবং তোমার আয়ুই হলো তোমার মালিকানাধীন সব কিছুর মূলধন
… সুতরাং কল্যাণের মাধ্যমে তা অর্জনকারী
(২) হও
…এবং আল্লাহর নাফরমানি থেকে সতর্ক থাকো যা
… যুবকের পুরস্কার লুণ্ঠন করে নেয়
…এবং তোমার রবের দেওয়া সম্পদ থেকে ব্যয় করো, কারণ যা কিছু
… তুমি মালিক হয়েছ তা আমানত মাত্র, স্থায়ী দান নয়
…এবং তাঁর মহত্ত্বের ওপর অবিচল থাকো যাতে তুমি উচ্চ শিখরে আরোহণ
(৩) করতে পারো
… এবং তাঁর লেলিহান অগ্নি থেকে মুক্তি পেতে পারো।
তার আরও কিছু কবিতা হলো তাঁর এই উক্তি:
হে অপূর্ব সৌন্দর্যের শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী!
… তোমার গ্রীবা আমার দিক থেকে কেন ফিরিয়ে নিলে, অথচ আমি তা প্রত্যাশা করেছিলাম
…সচ্ছল ব্যক্তির টালবাহানা কি হারাম নয়, যেমনটি
… আল্লাহ এর ওপর সুস্পষ্ট বিধান (نص) প্রদান করেছেন এবং তা নাজিল করেছেন?
তার আরও উক্তি:
হে সৌন্দর্যের চাদর পরিধানকারী
… যার ওপর রূপ-মাধুর্যের শিরোস্ত্রাণ তাকে সুশোভিত করেছে
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১২)
مَنْ يَنْعَمْ بِنَظْرَةٍ مِنْكَ يَوْمًا
… أُذْهَبْتَ عَنْهُ دَائِمًا أَحْزَانَه
…وَسَلَا أَهْلَهُ وَكُلَّ حَبِيبٍ
… كَانَ يَهْوَى كَمَا سَلَا أَوْطَانَه
ومن شعره:
سَلِّمْ للهِ الأَمْرَ وَلَا
… تَيْأَسْ أَبَدًا مِنْ رَحْمَتِهِ
…جَهِلَتْ نَفْسٌ عَرَفَتْهُ وَمَا
… رَضِيَتْ بِنُفُوذِ إِرَادَتِهِ
…عَجِلًا يَأْتِيكَ الرُّوحُ إِذَا
… سَلَّمْتَ لَهُ وَلِحِكْمَتِهِ
…للهِ الأَمْرُ فَلَا تَضْرَعْ
… لِلخَلْقِ وَخَفْ مِنْ نِقْمَتِهِ
…أَوَ مَا المَوْلَى مَلِكٌ أَحَدٌ
… ذَلَّ الأَمْلَاكُ لِعِزَّتِهِ
…لِلحَالِ وَإِنْ ضَاقَتْ فَرَجٌ
… يَأْتِي المَهْمُومَ بِنُصْرَتِهِ
…لِيَبِينَ بِذَلِكَ قُدْرَةُ مَنْ
… تَجْرِي الأَشْيَاءُ بِقُدْرَتِهِ
(1) …هَوِّنْ مَا ضَاقَ عَلَيْكَ وَلَا
… تَيْأَسْ أَبَدًا مِنْ رَحْمَتِهِ
…بَيْنَا الإِنْسَانُ يُرَى قَلِقًا
… مِمَّا يَخْشَى مِنْ فَاقَتِهِ
…عَادَ التَّوْسِيعُ عَلَيْهِ بِمَا
… يَجْرِي المَكْرُوهُ بِسُرْعَتِهِ
…دَعْ مَا يَدْعُوكَ إِلَى الدُّنْيَا
… مِنْ حُبِّ المَالِ وَفِتْنَتِهِ
…فَعَسَى المَوْلَى يَؤْتِيكَ غِنًى
… وَيُزِيلُ الفَقْرَ بِنِعْمَتِهِ
…سَلْهُ مَا شِئْتَ فَإِنَّ جَمِيـ
… ـعَ الخَيْرِ لَهُ فِي قَبْضَتِهِ
…وَبِهِ يَرْجُوهُ أَخُو الضَّرَّا
… وَالكَرْبِ لِدَفْعِ مَضَرَّتِهِ
…يَا نَفْسُ ثِقِي بِاللهِ عَسَى
… تَحْظَيْ بِرِضَاهُ وَجَنَّتِهِ
…سَعِدَتْ نَفْسٌ أَبَدًا رَضِيَتْ
… بِقَضَا المَوْلَى وَمَشِيئَتِهِ
…--------------------------------------------
যে ব্যক্তি কোনো একদিন আপনার একটি নজরে ধন্য হয়
… আপনি তার থেকে চিরতরে সকল দুঃখ দূর করে দেন
…সে তার পরিবার ও সকল প্রিয়জনকে ভুলে যায়
… যাদের সে ভালোবাসত, যেমন সে তার স্বদেশকে ভুলে গিয়েছে
তার কবিতা থেকে কিছু অংশ:
আল্লাহর কাছে সমস্ত বিষয় সমর্পণ করো এবং
… তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হয়ো না
…সেই সত্তাই অজ্ঞ যে তাঁকে চিনেছে অথচ
… তাঁর ইচ্ছার বাস্তবায়নে সন্তুষ্ট হয়নি
…খুব দ্রুতই তোমার কাছে প্রশান্তি আসবে যখন
… তুমি তাঁর ও তাঁর প্রজ্ঞার কাছে আত্মসমর্পণ করবে
…কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহরই, সুতরাং সৃষ্টির কাছে
… অনুনয়-বিনয় করো না এবং কেবল তাঁর আযাবের ভয় করো
…আমাদের অভিভাবক কি সেই অদ্বিতীয় রাজাধিরাজ নন
… যাঁর ইজ্জতের সামনে তামাম বাদশাহরা লাঞ্ছিত ও নতজানু?
…পরিস্থিতি যত সংকীর্ণই হোক তার মুক্তি রয়েছে
… যা শোকাতুর ব্যক্তির কাছে তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে পৌঁছে যায়
…যাতে এর মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা প্রকাশ পায়
… যাঁর ক্ষমতায় সকল কিছু পরিচালিত হয়
(১) …তোমার ওপর যা কিছু কঠিন হয়েছে তা সহজভাবে গ্রহণ করো এবং
… তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হয়ো না
…মানুষকে যখন দেখা যায় অত্যন্ত বিচলিত অবস্থায়
… তার অভাব-অনটনের আশঙ্কায়
…তখনই সচ্ছলতা তার দিকে ফিরে আসে এমনভাবে যে
… অপছন্দনীয় বিষয়গুলো দ্রুত বিদায় নেয়
…দুনিয়ার প্রতি তোমাকে যা কিছু আহ্বান করে তা বর্জন করো
… সম্পদের মোহ এবং এর ফিতনা (فتنة) থেকে
…অচিরে হয়তো তোমার রব তোমাকে প্রাচুর্য দান করবেন
… এবং তাঁর নেয়ামতের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করবেন
…তুমি যা চাও তাঁর কাছেই চাও, কারণ যাবতীয়
… কল্যাণ তাঁরই কবজায় রয়েছে
…বিপদগ্রস্ত ও শোকার্ত ব্যক্তি তাঁরই কাছে আশা পোষণ করে
… তার ক্ষয়ক্ষতি দূর করার জন্য
…হে নফস! আল্লাহর ওপর ভরসা করো, সম্ভবত
… তুমি তাঁর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করবে
…সেই নফস সর্বদা সৌভাগ্যবান যে সন্তুষ্ট হয়েছে
… মাবুদের ফয়সালা এবং তাঁর ইচ্ছার ওপর
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
رِفْقًا يَا رَبُّ بِمَنْ يَرْجُو
… مِنْكَ التَّفْرِيجَ لِكُرْبَتِهِ
…اِرْحَمْهُ وَجُدْ بِالعَفْوِ فَأَنْـ
… ـتَ هُوَ الغَفَّارُ لِزَلَّتِهِ
…بِمحمد المُخْتَارِ وَبِالـ
… ـآلِ الأَطْهَارِ وَشِيعَتِهِ
من شعره قوله في فوارة ماء:
اُنْظُرْ إِلَى فَوَّارِ مَاءٍ حَكَى
… رَأْسَ عَجُوزٍ أَبْيَضَ اللَّمَّتَيْنِ
(1) …مُنْتَشِرَ الشَّعْرِ يُرَى دَائِمَا
… مُضْطَرِبًا يَمِيلُ لِلجَانِبَيْنِ
…كَأَنَّهَا ثَمْلَى مِنَ الخَمْرِ أَوْ
… رَعْشَاوَةٌ أَوْ تَلْطِمُ الوَجْنَتَيْنِ
وقوله أيضًا:
اُنْظُرْ إِلَى فَوَّارَةٍ قَدْ حَكَتْ
… جَارِيَةً قَوَامُهَا كَالغُصَيْنِ
…أَرْخَتْ عَلَى أَعْطَافِهَا حِلْيَةً
… بَدِيعَةً مَثْلَ خُيُوطِ اللُّجَيْنِ
* * *
وفاتهقال تلميذه الإمام السفاريني: " الْمُنْتَقِلُ إلَى سَعَةِ رَحْمَةِ الْوَاهِبِ، لَيْلَةَ الْأَحَدِ فِي الثُّلُثِ الْأَخِيرِ فِي أَرْبَعَةَ عَشَرَ جُمَادَى الثَّانِيَةِ فِي سَنَةِ تِسْعَةَ عَشَرَ وَمِائَةٍ وَأَلْفٍ".
ودفن بتربتهم شرقي مزار الشيخ بكار بمرج الدحداح وتأسف عليه الغالب من الناس لا سيما والده فصبر واحتسب ورثاه الشيخ سعدي العمري بقوله مؤرخاً وفاته:
أَلَا تَبًّا لِيَوْمِكَ مِنْ ذَمِيمِ
… أَيَا فَرْدَ الفَضَائِلِ وَالفُهُومِ
…أَبَحْتَ لَنَا بِهِ أَسَفًا وَحُزْنَا
… يُزِيلَانِ الحَيَاةَ عَنِ الجُسُومِ
…وَغَادَرْتَ الزَّمَانَ بِلَا إِمَامِ
… يُرِينَا كَيْفَ فَائِدَةٌ العُلُومِ
…فَلَوْ تَفْدِي النُفُوسُ فَدَتْكَ مِنَّا
… قُلُوبٌ مِنْ حِمَامِكَ فِي حَمِيمِ
…--------------------------------------------
হে প্রতিপালক! দয়া করুন তার প্রতি, যে আপনার নিকট তার বিপদ থেকে মুক্তির আশা করে
…তাকে রহম করুন এবং ক্ষমার বদান্যতা দান করুন, কারণ আপনিই তার পদস্খলনসমূহের পরম ক্ষমাশীল
…মনোনীত মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও অনুসারীদের উসিলায়।
পানির ফোয়ারা সম্পর্কে তাঁর একটি কবিতা:
পানির ফোয়ারাটির দিকে তাকাও, যা এমন এক বৃদ্ধের মাথার সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে যার দুই পাশের চুল ধবধবে সাদা
(১) …যার চুলগুলো সবসময় বিক্ষিপ্ত দেখা যায়, অস্থিরভাবে দুই দিকে হেলে পড়ে
…যেন এটি মদ্যপানে মাতাল, অথবা কম্পিত হাত, কিংবা সে নিজের দুই গালে চপেটাঘাত করছে।
এবং তাঁর আরও একটি উক্তি:
একটি ফোয়ারার দিকে তাকাও যা এমন এক কিশোরীর রূপ ধারণ করেছে, যার দেহবল্লরী গাছের ডালপালার মতো নমনীয়
…সে তার দুই কাঁধের ওপর রূপার সুতোর মতো এক অপূর্ব অলঙ্কার ছড়িয়ে দিয়েছে।
* * *
তাঁর মৃত্যুতাঁর ছাত্র ইমাম (إمام) সাফফারিনি বলেছেন: "তিনি ১১১৯ হিজরির ১৪ই জুমাদাল উখরা তারিখে রবিবার দিবাগত রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দানশীল প্রতিপালকের প্রশস্ত রহমতের দিকে পাড়ি জমিয়েছেন।"
তাঁকে মারজুদ্দাহদাহ এলাকায় শায়খ বাক্কারের মাজারের পূর্ব দিকে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অধিকাংশ মানুষ তাঁর জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন, বিশেষ করে তাঁর পিতা; তবে তিনি ধৈর্য ধারণ করেন ও সওয়াবের আশা রাখেন। শায়খ সাদি আল-উমারি তাঁর মৃত্যু নিয়ে ইতিহাসনির্ভর শোকগাথা রচনা করেছেন:
হায়, তোমার সেই মন্দ দিনের জন্য ধিক্কার! হে অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রজ্ঞার অধিকারী
…এতে তুমি আমাদের জন্য এমন আক্ষেপ ও দুঃখকে উন্মুক্ত করে দিলে, যা দেহ থেকে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে
…তুমি এমন এক সময়ে জগত ছেড়ে গেলে যখন এমন কোনো ইমাম (إمام) রইল না, যিনি আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের (العلوم) উপকারিতা দেখাবেন
…যদি প্রাণ উৎসর্গ করা যেত, তবে আমাদের এমন সব হৃদয় তোমার জন্য উৎসর্গ হতো যা তোমার মৃত্যুতে তপ্ত অগ্নিকুণ্ডের মতো জ্বলছে।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَلَكِنْ لَا مَرَدَّ لِمَا قَضَاهُ
… عَلَيْنَا اللهُ فِي الأَزَلِ القَدِيمِ
…وَحِينَ قَضَى إِمَامُ العَصْرِ طُرَّأ
… أَتَى التَّارِيخُ بَيْتًا مِنْ نَظِيمِي:
…(جَزَاهُ اللهُ عَنْ دُنْيَاهُ مَجْدَا
… وَأَسْكَنَهُ بِجَنَّاتِ النَّعِيمِ)
هذا ما تيسر ترجمته للشارح من كتب التراجم التي ذكرته، وقد وقعت على ترجمة مستقلة للشارح مخطوطة تقع في ست ورقات ضمن أحد المجاميع 3877\ 144 محفوظ في المجمع العلمي في دمشق.
ويمكننا تقريبًا أن نحدد تاريخ نسخ هذه الترجمة، فهي ما بين ألف ومئتين وألف ومئتين وخمسين، وهذا مستمد من تواريخ مأخوذة من رسائل هذا المجموع؛ فبعض هذه الرسائل مؤرخ تاريخ نسخها.
والرسالة التي تعتني بترجمة الشارح ترتيبها السادس من مخطوطات هذا المجموع، وهي تقع من الورقة 4 أ حتى الورقة 6 ب، وهذه محتويات المجموع بالترتيب:
1 - قرعة الشيخ محيي الدين بن عربي.
2 - سر المدد والشهود في مدح النبي المحمود (قصيدة في مدح النبي صلى الله عليه وسلم.
3 - بهجة الشيخ عقيل المنبجي.
4 - شرح غريب ما في الجامع الصغير وهو مما أملاه عليه مؤلفه السيوطي.
5 - أوراق من نظم البرعي يليها أبيات منقولة من حاشية الشيخ حسين عبد الشكور.
6 - شذرة من ترجمة الشيخ عبد الغني النابلسي وغيره من علماء القرن الثاني عشر مع نماذج من أشعارهم، وفيها ترجمة المصنف الإمام عبد الجليل بن أبي المواهب.
7 - الرسالة المشفية للأمراض المشكلة في علة المراقية غير السوداوية.
8 - ثبت عبد الرحمن الكزبري الصغير.
কিন্তু অনাদিকাল থেকে আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা রদ করার কোনো উপায় নেই
… …আর যখন সমসাময়িক ইমাম (إمام) ইন্তেকাল করলেন
… তখন আমার রচিত কাব্য থেকে একটি চরণে তারিখটি এভাবে এল:
…(আল্লাহ তাঁকে তাঁর পার্থিব জীবনের বিনিময়ে মহিমা দান করুন
… এবং তাঁকে জান্নাতুন নাঈমে স্থান দান করুন)
ব্যাখ্যাকারীর (شارح) জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত সেই তথ্যগুলো এখানে সংকলন করা হয়েছে যা তাঁকে উল্লেখকারী জীবনী (ترجمة) গ্রন্থসমূহ থেকে পাওয়া সহজ হয়েছে। এছাড়া আমি ব্যাখ্যাকারীর (شارح) একটি স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) জীবনী (ترجمة) খুঁজে পেয়েছি, যা ছয়টি পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং এটি দামেস্কের আল-মাজমা আল-ইলমিতে সংরক্ষিত ৩৮৭৭/১৪৪ নম্বর সংকলনের (مجموع) অন্তর্ভুক্ত।
আমরা মোটামুটিভাবে এই জীবনীটি (ترجمة) অনুলিপি করার সময়কাল নির্ধারণ করতে পারি; এটি বারোশ থেকে বারোশ পঞ্চাশ হিজরির মধ্যবর্তী কোনো সময়ের। এই তথ্যটি উক্ত সংকলনের (مجموع) অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য পত্রাবলির তারিখ থেকে নেওয়া হয়েছে; কারণ এই পত্রগুলোর কয়েকটিতে অনুলিপি করার তারিখ সংরক্ষিত আছে।
ব্যাখ্যাকারীর (شارح) জীবনী (ترجمة) বিষয়ক পত্রটি এই সংকলনের পাণ্ডুলিপিগুলোর (مخطوطات) মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এবং এটি ৪ক পৃষ্ঠা থেকে ৬খ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। নিচে সংকলনের বিষয়বস্তু ক্রমানুসারে দেওয়া হলো:
১ - শেখ মহিউদ্দিন ইবনে আরাবির কুরআহ (قرعة)।
২ - সিররুল মাদাদ ওয়াশ শুহুদ ফি মাদহিন নাবিয়্যিল মাহমুদ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসামূলক কাসিদা)।
৩ - শেখ আকিল আল-মানবিজির বাহজাহ।
৪ - আল-জামি আস-সাগির-এর বিরল শব্দের (غريب) ব্যাখ্যা (شرح), যা এর লেখক সুয়ুতী নিজেই লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন।
৫ - আল-বুরায়ির কাব্য সংবলিত কিছু পৃষ্ঠা, যার পরেই শেখ হোসেন আব্দুল শাকুরের টীকা (حاشية) থেকে উদ্ধৃত কিছু পংক্তি রয়েছে।
৬ - শেখ আব্দুল গনি আন-নাবুলসি এবং দ্বাদশ শতাব্দীর অন্যান্য আলেমদের জীবনীর (ترجمة) অংশবিশেষ ও তাঁদের কাব্যের কিছু নমুনা, যার মধ্যে গ্রন্থকার (مصنف) ইমাম (إمام) আব্দুল জলীল ইবনে আবি আল-মাওয়াহিবের জীবনী (ترجمة) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৭ - অ-বিষাদগ্রস্ত হাইপোকন্ড্রিয়া রোগের কারণ ও জটিল ব্যাধি নিরাময়কারী পত্র।
৮ - আব্দুর রহমান আল-কুজবারী আস-সাগিরের সনদ সংকলন (ثبت)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
9 - حقيقة الفرق بين الحياة المستمرة والحياة المستقرة وحياة عيش المذبوح.
10 - شرح الهدهدي على المقدمة السنوسية في علم التوحيد.
11 - شهادة عبد ضعيف في التوحيد.
12 - فضائل شهر رمضان.
9 - অবিচ্ছিন্ন জীবন, স্থিতিশীল জীবন এবং জবাইকৃত প্রাণীর ন্যায় জীবনের মধ্যকার পার্থক্যের প্রকৃত স্বরূপ।
10 - ইলমুত তাওহীদের ওপর রচিত আল-মুকাদ্দিমাতুস সানুসিয়্যাহ-এর ওপর আল-হুদহুদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
11 - তাওহীদ বিষয়ে এক দুর্বল (ضعيف) দাসের সাক্ষ্য।
12 - রমজান মাসের ফজিলতসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
نماذج من المخطوطصورة الورقة الأولى من المخطوط
পাণ্ডুলিপির নমুনাপাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
صورة الورقة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠার চিত্র।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
شفاء الغليل فى ترجمة الشيخ الجليلشيخُنا عبدُ الجليلِ ابنُ شيخِنا الشيخِ أبي المواهبِ محمد بنِ الشيخِ عبدِ الباقي بنِ عبدِ القادرِ بنِ إبراهيمَ بنِ عمرَ بنِ محمد الحنبليُّ الشهيرُ جدُّه بابنِ البدرِ وابنِ فقيهِ فصّة، ذو الفهمِ السليم، والمنطقِ القويم، القليلُ المثيلِ والنظيرِ بلِ العديم، كانت ينابيعُ المعرفةِ تتفجَّرُ مِن نفثاته، وروائقُ اللطائفِ تُلتقطُ من دراري كلماتِه، ونفائسُ الجواهرِ تُدّخرُ من نثرانِ جواهرِ فؤادِه، وقلائدُ الحِكَمِ تُنظَمُ من قطراتِ مِدادِه، أمّا النحوُ والتصريفُ فهوَ ابنُ مالكٍ وأبو حيّان، وأمّا العروضُ والبلاغةُ فهوَ الخليلُ وشيخُ جُرجان، وأمّا حُسنُ المنطقِ والفصاحةُ فهوَ قُسُّ إيادٍ وسَحبان.
نشأَ في حجرِ أبيه على الأدبِ والصّيانة، وطلبِ العلومِ والدّيانة، لازم دروسَ والدِه الحديثيةَ العامّةَ وغيرَها منَ الفنونِ في صحيحِ البخاريِّ والجامعِ الصغيرِ والكبيرِ للحافظِ السيوطيِّ وغيرِ ذلك، وجَدَّ في الطلبِ والاشتغالِ في عنفوانِ شبابِه، أخذَ النحوَ والبلاغَةَ والأصلَيْنِ عنِ العلامةِ الشيخِ إبراهيم الفتال، وعنِ الفهّامةِ الشيخِ إسماعيل بنِ عليّ الحايك مفتي الحنفية، وعنِ العلامةِ الشيخِ عثمان بنِ محمود القطان، وأجازهُ بما تجوزُ له روايتُهُ وبمؤلفاتِهِ العلامةُ الشيخُ إبراهيم الكوراني نزيلُ المدينةِ المنورة، وكذلك السيدُ محمد بنُ رسول البرزنجيُّ الحسينيّ، ثم لازمَ الإفادةَ والتدريسَ بالجامعِ الأمويِّ في أنواعٍ منَ العلوم.
وله منَ المؤلفاتِ نظمُ الشافيةِ في الصرفِ لابنِ الحاجبِ وشرحُه، وهو
মহিমান্বিত শায়খের জীবনী বর্ণনায় পিপাসার্তের আরোগ্যআমাদের শায়খ আব্দুল জলিল ইবনে আমাদের শায়খ আবু আল-মওয়াহিব মুহাম্মাদ ইবনে শায়খ আব্দুল বাকি ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাম্বালী; যার দাদা ইবনুল বদর এবং ইবনে ফকীহ ফাস্সাহ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি ও সুদৃঢ় বাকশৈলীর অধিকারী, যার দৃষ্টান্ত বিরল, বরং না থাকাই স্বাভাবিক। তার নিশ্বাস থেকে জ্ঞানের প্রস্রবণসমূহ প্রস্ফুটিত হতো, আর তার উজ্জ্বল বাক্যাবলী থেকে সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ সংগৃহীত হতো। তার হৃদয়ের রত্নরাজি থেকে মূল্যবান জহরতসমূহ সঞ্চিত হতো এবং তার কলমের কালির ফোঁটা থেকে প্রজ্ঞার অলঙ্কারমালা গাঁথা হতো। ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্বের (تصريف) ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ইবনে মালিক ও আবু হাইয়ানের ন্যায়; আর ছন্দপ্রকরণ ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আল-খালিল এবং জুরজানীর শায়খের ন্যায়। আর বাকপটুতা ও বাগ্মিতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন কুস ইবনে সায়েদাহ ও সাহবানের ন্যায়।
তিনি তার পিতার তত্ত্বাবধানে শিষ্টাচার ও আত্মসংযম এবং জ্ঞানান্বেষণ ও ধর্মনিষ্ঠার মাঝে লালিত-পালিত হন। তিনি তার পিতার হাদিস সংক্রান্ত (الحديثية) সাধারণ পাঠ এবং সহিহ বুখারি, হাফেজ সুয়ূতী রচিত আল-জামি আল-সগির ও আল-জামি আল-কাবির এবং অন্যান্য শাস্ত্রীয় পাঠে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তিনি তার যৌবনের প্রারম্ভেই জ্ঞান অন্বেষণ ও জ্ঞানচর্চায় কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং মূলনীতি শাস্ত্রদ্বয় (الأصلين) অর্জন করেন আল্লামা শায়খ ইব্রাহিম আল-ফাত্তাল, বিজ্ঞ শায়খ ইসমাইল ইবনে আলী আল-হায়েক (হানাফি মুফতি) এবং আল্লামা শায়খ উসমান ইবনে মাহমুদ আল-কাত্তানের নিকট থেকে। মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসী আল্লামা শায়খ ইব্রাহিম আল-কুরানি তাকে তার বর্ণনার অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন সেই সব বিষয়ে যা তার জন্য বর্ণনা (رواية) করা বৈধ এবং তার নিজস্ব রচনাবলির ক্ষেত্রেও; অনুরূপভাবে সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ ইবনে রাসূল আল-বারজানজি আল-হুসাইনিও তাকে অনুমতি প্রদান করেন। এরপর তিনি উমাইয়া মসজিদে বিভিন্ন প্রকার শাস্ত্রে শিক্ষাদান ও পাঠদানে আত্মনিয়োগ করেন।
তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ইবনুল হাজিব রচিত রূপতত্ত্বের (تصريف) কিতাব আশ-শাফিয়ার কাব্যরূপ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আর তা হলো
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كتابٌ نفيسٌ يتضمّنُ أبحاثًا شريفة، وتدقيقاتٍ لطيفة، وله تشطيرُ ألفيةِ ابنِ مالك، أجادَ فيهِ كلَّ الإجادة، وغيرُ ذلكِ منَ الرسائلِ والفوائدِ المنظومة، وله أرجوزةٌ في العَروض.
ومِن شِعره
(1):
يَا وَاجِدًا مِن بديعِ الحُسنِ أجملَه
… ما ليُّ جِيدِكَ عنّي كنتُ آمِلَهُ
…أليسَ يحرُمُ ليُّ الواجدينَ كما
… نصَّ الإلهُ على هذا وأنزلَهُ
وله يستدعي بعض أصدقائه:
أحِبَّتنا هل مِن سبيلٍ إلى اللّقا
… وتجديدِ عهدٍ بينَنا لم يكُن يُنسى
…لِبَثِّ أحاديثِ الصبابةِ والجَوى
… وحُبّ وجدنا في الفؤادِ له غرسَا
…فكلُّ زمانٍ معْ سِواكم مضيَّعٌ
… وكلُّ نعيمٍ دونكم غايةُ البأْسَا
…من لطفكم أن يكونَ في
… صبيحةِ هذا اليومِ دُمتُم لنا أُنسَا
وله ملغزًا في (يُمْن):
ما اسمُ شيءٍ عزا النبيّ إليهِ
… رقةَ القلبِ والوفا والديانَهْ
…وهو وِزانُ طرفةِ الغمضِ فقُلْ
… لمن الله بالمحاسنِ زانَهْ
…ويُضمّ ابتداؤهُ فهوَ يُمنٌ
… أو تراهُ في القلبِ فهوَ خيانَهْ
…ثمَّ إن ضُمّ بدؤهُ فهْوَ أمرٌ
… دافع الريب عنْ أهلِ الرّصانَهْ
…أو تؤخره فهوَ ياءٌ ومنه
… كلّ شيءٍ جني فاوضحْ بيانَهْ
…ثلثاهُ حلوٌ وأثقلُ شيءٍ
… ما خلا العذل إن يثقلْ وزانَهْ
…قلبهُ فيهِ راحةٌ وعذابٌ
… حين تشديدٍ ونبذ أمانَهْ
--------------------------------------------
এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁর ‘আলফিয়্যা ইবনে মালিক’-এর একটি ‘তাশতির’ (মূল পংক্তির মাঝে নতুন পংক্তি সংযোজন) রয়েছে, যাতে তিনি পূর্ণ পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর আরও অনেক পুস্তিকা ও ছন্দবদ্ধ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে। ছন্দবিজ্ঞান (আরুজ) বিষয়েও তাঁর একটি ‘উরজুযাহ’ (এক প্রকার কাব্য) রয়েছে।
এবং তাঁর কবিতার মধ্যে রয়েছে
(১):
হে অপূর্ব সৌন্দর্যের সর্বোত্তম অধিকারী ... আমার গ্রীবা তোমার দিক থেকে বিমুখ কেন, অথচ আমি তা (তোমার সান্নিধ্য) আশা করছিলাম ...
সম্পদশালীদের (পাওনা আদায়ে) গড়িমসি করা কি হারাম নয়, যেমনটি আল্লাহ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন এবং তা নাযিল করেছেন?
এবং তিনি তাঁর কিছু বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে (বলেন):
হে আমাদের প্রিয়জন, সাক্ষাতের কি কোনো পথ আছে? ... এবং আমাদের মধ্যে এমন এক অঙ্গীকার নবায়নের, যা কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয় ...
ব্যাকুলতা ও প্রেমের কথামালা প্রকাশের জন্য ... এবং সেই ভালোবাসার জন্য যা আমরা হৃদয়ে রোপণ করেছি ...
তোমাদের ছাড়া প্রতিটি মুহূর্তই বৃথা ... এবং তোমাদের ছাড়া প্রতিটি নেয়ামতই চরম কষ্টের সমতুল্য ...
তোমাদের সৌজন্য হবে যদি এই প্রভাতে ... তোমরা আমাদের সাথে থাকো, তোমরা চিরকাল আমাদের জন্য প্রশান্তিস্বরূপ।
এবং ‘ইয়ুম্ন’ (বরকত) সম্পর্কে তাঁর একটি ধাঁধা:
সেই জিনিসের নাম কী, যার প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হৃদয়ের কোমলতা, বিশ্বস্ততা ও ধর্মপরায়ণতাকে সম্বন্ধ করেছেন? ...
এটি চোখের পলকের ওজনে, অতএব তাকে বলো ... যাকে আল্লাহ সৌন্দর্য দ্বারা অলঙ্কৃত করেছেন ...
এর শুরুতে পেশ (যম্মাহ) দেওয়া হলে তা হয় ‘ইয়ুম্ন’ (বরকত) ... অথবা যদি তুমি একে অন্তরে অনুভব করো তবে তা হবে ‘খিয়ানাহ’ (বিশ্বাসঘাতকতা) ...
আবার যদি এর শুরুতে পেশ দেওয়া হয়, তবে তা এমন এক বিষয় ... যা দৃঢ়চেতা ব্যক্তিদের সংশয় দূর করে ...
অথবা যদি তুমি (তার প্রথম বর্ণকে) পিছিয়ে দাও তবে তা হবে ‘ইয়া’ ... এবং তা থেকে প্রতিটি সংগৃহীত বস্তু, তার ব্যাখ্যা সুস্পষ্ট করো ...
এর দুই-তৃতীয়াংশ মিষ্টি এবং সবচেয়ে ভারী বস্তু ... যদি তিরস্কারের ভার ওজনকে ভারী না করত ...
এর কেন্দ্রে রয়েছে প্রশান্তি ও আজাব ... যখন তাশদীদ প্রদান করা হয় এবং আমানত বর্জন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
وله في فوارة ماء:
انظرْ إلى فَوارةٍ قد حكَتْ
… جاريةً قوامُهَا كالغُصَيْنِ
…أرخَتْ على أعطافِها حليةً
… بديعةً مثلَ خُيوطِ اللُّجَيْنِ
وله ناظمًا لغات (أف):
لِـ (أُفٍّ) لُغاتٌ أربعونَ وأربعٌ
… بتَعدادِها نظمي أتى متكفِّلَا
…فضَمٌّ وكسْرٌ وانفِتاحٌ لهَمْزِها
… فإِنْ ضُمَّ فالفا منهُ خُفَّ وثقِّلَا
…وأسكِنْهُ والتحريكُ يُروى مثلَّثًا
… فإنْ شئتَ نوِّنْهُ وإن لمْ تشأْ فلَا
…وهذا إذا جرَّدْتَها مِن زوائدٍ
… وإن زدتَ ها فثلّث مثقِّلَا
…وإِنْ مد شد والألف اتلُ محضةً
… أو بينَ بينَ لمن ربها تلَا
…وشدُّوا معَ التنوينِ أيضًا وتركِهِ
… ولكنْ بفتحِ الفاءِ والكسر اشكُلَا
…وجاء على كسرٍ (أُفِي) بإمالةٍ
… وإن زدتَ تفخيمًا فلستَ مُجَهَّلَا
…ومعْ فتحِ همزٍ شدّدِ الفَا مُنَوِّنًا
… وتارِكَ تنوينٍ وضمًّا لهُ احظُلَا
…وجاء (أفِي) أيضًا ما وفيه ما
… ذكرنَا منَ التفخيمِ ذكر محصّلَا
…وجاء بها سكتٍ تلي ألفًا فخذ
… جميعَ لغاتٍ فيهِ جاءتكَ كُمَّلَا
وله في لغاتِ (اسم):
وَعَدُّ لغاتِ (الإسمِ) عَشْرٌ وبعدَها
… ثمانيةٌ تأتيكَ نظمًا عَلَى الولَا
…سَماتٌ سِمٌ وَاسْمٌ وَوَسْمٌ فَزِدْ سِمَهْ
… سَمَاءٌ وَثَلِّثْ مَا تَصَدَّرَ أَوَّلَا
وله في معاني (حَجَا):
وتأتي (حَجا) للظَّنِّ والقَصدِ وَالذِي
… بِها غُلبًا لقدْ جَاد مِقْوَلَا
…وَكَتْمًا وَحِفْظًا لِلحَدِيثِ إقامةً
… بِأَرْضٍ وَردًّا مِثْلَ رَدِّكَ سَائِلَا
…وَمَنْعًا وَوَصْفًا لِلبَخِيلِ بِبُخْلِهِ
… فَعَشْرُ مَعَانٍ بِالوُقُوفِ لَهَا انْجَلَا
একটি পানির ঝর্ণা সম্পর্কে তাঁর উক্তি:
তাকাও সেই ঝর্ণার দিকে, যা যেন বর্ণনা করছে
… এক কিশোরীর কথা, যার দেহসৌষ্ঠব পল্লবিত ডালের মতো সুঠাম
…সে তার কাঁধের ওপর বিছিয়ে দিয়েছে এক অলঙ্কার
… যা রূপার সুতার মতো অতি চমৎকার
… (উফ) শব্দের ভাষাগত রূপগুলো পদ্যাকারে বর্ণনা করে তিনি বলেন:
‘উফ’ (أُفٍّ) শব্দের চুয়াল্লিশটি ভাষাগত রূপ রয়েছে
… আমার এই পদ্য সেগুলোর গণনা সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিয়েছে
…এর হামজায় পেশ, যের এবং জবর যুক্ত হতে পারে
… যদি পেশযুক্ত হয়, তবে ‘ফা’ বর্ণটি লঘু (خف) এবং গুরু (ثقل) উভয়ই হতে পারে
…একে সাকিন করো, আর এর হরকত তিন প্রকারেই বর্ণিত (روي) হয়েছে
… তুমি চাইলে এতে তানভীন যুক্ত করতে পারো, আর না চাইলে করো না
…আর এটি তখন, যখন তুমি শব্দটিকে অতিরিক্ত বর্ণ থেকে মুক্ত রাখবে
… কিন্তু যদি ‘হা’ বর্ণ যুক্ত করো, তবে তিন হরকতের সাথেই একে তাশদীদযুক্ত করো
…যদি দীর্ঘ (مد) ও তাশদীদ প্রদান করো, তবে খাঁটি আলিফটি উচ্চারণ করো
… অথবা যারা এটি পাঠ করেন তাদের নিকট এটি ‘বাইনা-বাইনা’ (মাঝামাঝি) হিসেবে পরিগণিত
…তানভীনসহ এবং তানভীন ছাড়াও তারা তাশদীদ প্রদান করেছেন
… তবে ‘ফা’ বর্ণে জবর এবং যের দিয়ে হরকত প্রদান করো
…যের এবং ইমালাহ (إمالة) সহকারে ‘উফি’ (أُفِي) শব্দটিও এসেছে
… আর যদি তুমি একে তাফখিম (تفخيم) করে পড়ো, তবে তোমাকে অজ্ঞ সাব্যস্ত করা হবে না
…হামজার জবরের সাথে ‘ফা’ বর্ণকে তানভীনসহ তাশদীদ প্রদান করো
… আর তানভীন বর্জন করা এবং পেশ প্রদান করাকে নিষিদ্ধ গণ্য করো
…‘উফি’ (أُفِي) শব্দটিও এসেছে, আর এতেও সেই বিষয়টিই রয়েছে যা
… আমরা তাফখিম (تفخيم) সম্পর্কে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করেছি
…আলিফের পর সাকতাহ (سكت) সহ এটি এসেছে, সুতরাং গ্রহণ করো
… এতে আসা সমস্ত ভাষাগত রূপ তোমার নিকট পূর্ণরূপে পৌঁছেছে।
(ইসম) শব্দের ভাষাগত রূপসমূহ সম্পর্কে তাঁর উক্তি:
‘ইসম’ (الإسم) শব্দের গণনাকৃত রূপ দশটি এবং এরপর
… আরও আটটি রূপ এই পদ্যে ধারাবাহিকভাবে তোমার নিকট আসবে
…সামাত, সিমুন, ইসমুন, ওয়াসমুন এবং সিমা যোগ করো
… সামাউন; আর প্রথম বর্ণটিতে তিন প্রকার হরকতই (পেশ, জবর, যের) ব্যবহার করো।
(হাজা) শব্দের অর্থসমূহ সম্পর্কে তাঁর উক্তি:
‘হাজা’ (حَجا) শব্দটি ধারণা, সংকল্প এবং বিজয়ী হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়
… যার মাধ্যমে কোনো সুবক্তা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে
…গোপন করা, হাদিস সংরক্ষণ (حفظ) করা, কোনো ভূখণ্ডে
… বসতি স্থাপন করা এবং ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থে, যেমন তুমি যাঞ্চাকারীকে ফিরিয়ে দাও
…বাধা প্রদান করা এবং কৃপণকে তার কৃপণতার গুণে বিশেষিত করা
… গভীর পর্যবেক্ষণে এর দশটি অর্থ পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
تُوُفِّيَ -رحمهُ اللهُ تعالى- رابعَ جمادى الثانيةِ سنةَ تسعَ عشرةَ ومئةٍ وألفٍ في حياةِ أبيه، وأسِفَ الناسُ عليهِ كثيرًا لفضلِهِ ودماثةِ أخلاقه، وصبرَ والدُهُ على مصيبتِهِ بفقدِه، ورثاهُ كثيرٌ منَ أدباءِ دمشقَ، منهمُ الفاضلُ الأديبُ الشيخُ محمد سعدي بنُ الشيخِ عبدِ القادرِ بنِ عبدِ الهادي العمري، قال:
ألا تبًّا لِيَوْمِكَ مِنْ ذَمِيمِ
… أَيَا فَرْدَ الفَضَائِلِ وَالفُهُومِ
…أَبَحْتَ لَنَا بِهِ أَسَفًا وَحُزْنًا
… يَذُودَانِ الحَيَاةَ عَنِ الجُسُومِ
…وَغَادَرْت الزَّمَانَ بِلَا إِمَامٍ
… يُرِينَا كَيْفَ فَائِدَةُ العُلُومِ
…فَلَوْ تَفْدِي النُّفُوسُ فَدَتْكَ مِنَّا
… قُلُوبٌ مِنْ حِمَامِكَ فِي جَحِيمِ
…وَلَكِنْ لَا مَرَدَّ لِمَا قَضَاهُ
… عَلَيْنَا اللهُ فِي الأَزَلِ القَدِيمِ
…وَحِينَ قَضَى إِمَامُ العَصْرِ طُرًّا
… أَتَى التَّأْرِيخُ بَيْتًا مِنْ نَظِيمِي:
…جَزَاهُ اللهُ عَنْ دُنْيَاهُ مَجْدًا
… وَأَسْكَنَهُ بِجَنَّاتِ النَّعِيمِ
ومنهم تلميذُهُ الفاضلُ الكاملُ الشيخُ أحمدُ المنيني -سلّمهُ اللهُ تعالى- قال:
جُدْ بِمَكْنُونِ دَمْعِكَ المَطْلُولِ
… وَابْكِ رَبْعًا عَفَا وَرَسْمٍ طلُولِ
…فَاسلها طَلّ العُيُونِ عيونًا
… مِنْ نَجِيعٍ يَفِيضُ فَيْضَ السُّيُولِ
…وَانْدُب المَجْدَ وَالنَّدَى وَزَمَانًا
… قَدْ تَقَضَّى بِطِيبِ عَيْشٍ خَضِيلِ
…وَتَسَرْبَلْ لِلعَيْنِ ثَوْبَ حِدَادٍ
… مِنْ أَسًى دَائِمٍ وَحُزْنٍ طَوِيلِ
…فَلَقَدْ غَابَ بَدْرُ مَجْدٍ وَفَضْلٍ
… وَاسْتَسَرَّتْ أَنْوَارُهُ بِالأُفُولِ
…ذَاكَ عَبْدُ الجَلِيلِ عَلَّامَةُ العَصْـ
… ـرِ إِمَامُ المَعْقُولِ وَالمَنْقُولِ
…عَلَمُ العِلْمِ وَاحِدُ الفَضْلِ فَرْدُ الـ
… ـوَقْتِ حَبْرُ التَّفْسِيرِ وَالتَّأْوِيلِ
…مُنْ لَهُ انْقَادَ مِنَ العُلُومِ صِعَابٌ
… وَجَلَاهَا بِفَهْمِهِ المَصْقُولِ
…طَالَمَا قَدْ نَضَى مَوَاضِيَ فِكْرٍ
… فَتَحَتْ كُلَّ مُغْلَقٍ مَقْفُولِ
…
তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর পিতার জীবদ্দশায় ১১১৯ হিজরি সনের ৪ঠা জমাদিউস সানি ইন্তেকাল করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং চারিত্রিক মাধুর্যের কারণে মানুষ তাঁর বিয়োগে অত্যন্ত শোকাতুর হয়েছিল। তাঁর পিতা এই শোকের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন এবং দামেস্কের বহু সাহিত্যিক তাঁর স্মরণে শোকগাথা রচনা করেন। তাঁদের মধ্যে ফাজিল ও বিজ্ঞ সাহিত্যিক শেখ মুহাম্মদ সাদি বিন শেখ আব্দুল কাদির বিন আব্দুল হাদি আল-উমরি অন্যতম, তিনি বলেন:
ধিক্কার সেই নিন্দনীয় দিনটিকে... হে গুণাবলি ও প্রজ্ঞার অনন্য আধার...
…তুমি আমাদের জন্য শোক ও বিষাদকে অবারিত করে দিলে... যা শরীর থেকে প্রাণশক্তিকে হরণ করে নেয়...
…তুমি এই কালকে এমন একজন ইমাম (إمام) বিহীন অবস্থায় ছেড়ে চলে গেলে... যিনি আমাদের দেখাতেন জ্ঞানার্জনের প্রকৃত সুফল...
…যদি প্রাণের বিনিময়ে কাউকে রক্ষা করা যেত, তবে আমাদের হৃদয়গুলো তোমার জন্য উৎসর্গ হতো... যা তোমার মৃত্যুতে দোজখের অগ্নির ন্যায় দগ্ধ হচ্ছে...
…কিন্তু আল্লাহ অনাদিকাল থেকে আমাদের ওপর যা নির্ধারিত করেছেন... তা রদ করার কোনো শক্তি নেই...
…যখন যুগের সর্বজনমান্য ইমাম (إمام) ইন্তেকাল করলেন... তখন আমার কবিতার এই পঙ্ক্তিটি ইতিহাসের তারিখ হয়ে এল:
…আল্লাহ তাঁকে তাঁর ইহলৌকিক জীবনের বিনিময়ে মহান মর্যাদা দান করুন... এবং তাঁকে জান্নাতুন নাঈমে সমাসীন করুন।
তাঁদের মধ্যে তাঁর যোগ্য ছাত্র শেখ আহমদ আল-মানিনি (আল্লাহ তাঁকে নিরাপদ রাখুন) বলেন:
তোমার সযত্নে রাখা অশ্রু প্রবাহিত করো... এবং সেই প্রাঙ্গণ ও ধ্বংসাবশেষের জন্য রোদন করো যা বিলীন হয়ে গেছে...
…রক্তিম অশ্রুর ঝরনাধারা প্রবাহিত করো... যা প্লাবনের বেগে উপচে পড়ে...
…বিলাপ করো সেই সম্মান, বদান্যতা এবং সময়ের জন্য... যা আনন্দময় ও সজীব জীবনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে...
…অবিরাম দুঃখ ও দীর্ঘ শোকের কারণে... চোখের জন্য শোকের কালো পোশাক পরিধান করো...
…কেননা শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরবের পূর্ণিমার চাঁদ অস্তমিত হয়েছে... এবং তাঁর সমস্ত জ্যোতি বিলীন হয়ে গেছে...
…তিনি হলেন আব্দুল জলিল, এই যুগের মহান আল্লামা (علامة)... বুদ্ধিবৃত্তিক (المعقول) ও বর্ণনাগত (المنقول) শাস্ত্রের ইমাম (إمام)...
…জ্ঞানের সুউচ্চ নিশান, শ্রেষ্ঠত্বের অনন্য পুরুষ এবং সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব... তাফসির (التفسير) ও তাবিল (التأويل) শাস্ত্রের সুগভীর পণ্ডিত...
…যাঁর নিকট জ্ঞানরাজ্যের সমস্ত কঠিন বিষয়গুলো অনুগত ছিল... এবং তিনি তাঁর শাণিত মেধা দিয়ে তা উদ্ভাসিত করেছেন...
…দীর্ঘকাল ধরে তিনি তাঁর চিন্তার সেই ধারালো তলোয়ার চালিয়েছেন... যা প্রতিটি রুদ্ধ ও তালাবদ্ধ জট উন্মোচন করে দিয়েছে...
…
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَلَكَمْ قَلَّدَ المَسَامِعَ عِقْدًا
… مِنْ لَآلِي مَفَادِهِ المَبْذُولِ
…رِيحُ رَيْبُ المَنُونِ كَمْ تَرَاهُ
… فِي اغْتِيَالِ النُّفُوسِ غَيْرَ كَلِيلِ
…سَلْهُ إِنْ قَدْ أَصَاخَ عَلَى مَنْ
… رَاحَ يَسْطُو بِسَيْفِهِ المَسْلُولِ
…هَلْ دَرَى إِذْ رَمَى سِهَامَ المَنَايَا
… إِنْ فِي المَجْدِ وَقْعُ تِلْكَ النُّصُولِ
…لَيْتَهُ كَانَ إِذْ يَصُولُ وَيَسْطُو
… فَارِقًا بَيْنَ عَالِمٍ وَجَهُولِ
…يَا إِمَامًا أَوْدَى وَأَوْدَعَ قَلْبِي
… لَاعِجَ الشَّوْقِ وَالغَرَامِ الدَّخِيلِ
…وَنَعَتْهُ الدُّرُوسُ لَمَّا أُضِيعَتْ
… أَهْلُهَا الطَّالِبُونَ لِلتَّحْصِيلِ
…لَكَ مِنِّي حُزْنًا حَمَائِمُ نوحٍ
… حَيْثُ لِي مِنْ نَوَاكَ فَقْدُ هَدِيلِ
…كُنْتُ أَرْجُو بِأَنْ أَعِيشَ عَزِيزاً
… مِنْ ذُرَاكَ السَّامِي بِظِلٍّ ظَلِيلِ
…قَدْ دَهَتْكَ المَنُونُ إِذْ أَنْتَ وَجْهٌ
… لِلأَمَانِي وَلَسْتَ بِالمَسْلُولِ
….. 000
… ... حَيْثُ قَدْ فَارَقُوا لَا عَنْ بَدِيلِ
…وَتَوَطَّنْتَ فِي ثَرَى خَيْرِ قَبْرٍ
… طَابَ فِيهِ المَثْوَى لِخَيْرِ نَزِيلِ
…يَا لَهُ مَرْقَدًا تَلُوحُ عَلَيْهِ
… كُلَّ وَقْتٍ بَوَارِقُ التَّنْزِيلِ
…حَسَدَتْهُ النُّجُومُ مُذْ ..
… لِعَمُودِ الصَّبَاحِ أَيْدِي القَبُولِ
…وَتَمَنَّتْ لَوْ كَانَ مَثْوَاكَ مِنْهَا
… بَيْنَ هَامِ الجَوْزَاءِ وَالإِكْلِيلِ
…قَسَماً بالـ .... مِنْ يَوْم
… ... مَاتَ فِيهِ الرِّجَالُ لِفَقْدِ مَثِيلِ
…وَعَلَا الأَرْضَ لِلأَنَامِ غَمَامٌ
… أَمْطَرَتْ سُحُبًا بِدَمْعٍ هَطُولِ
…لَوْ شَقَقْنَا القُلُوبَ ثُمَّ أَسَلْنَا
… أَنْفُسًا فِيهِ بِالبُكَا وَالعَوِيلِ
…وَاتَّخَذْنَا مِنَ السُّهَادِ عُيُونًا
… وَلَبِسْنَا الحِدَادَ ثَوْبَ نُحُولِ
…لَمْ يَكُنْ ذَا فِي جَنْبِ خَطْبٍ دَهَانَا
… بِنَوَاهُ إِلَّا أَقَلَّ قَلِيلِ
…مُذْ قَضَى رَاحِلًا لِجَنَّاتِ عَدْنٍ
… حَلَّ فِيهَا بَالعَفْوِ أَسْنَى حُلُولِ
…جَاءَ تَأْرِيخُهُ بِبَيْتٍ فَرِيدٍ
… تِلْوَ ذَا البَيْتِ عَادَ لِلمَثِيلِ:
…
কতবার তিনি কর্ণকুহরকে কণ্ঠহারে বিভূষিত করেছেন... তাঁর অবারিত উপকারের মুক্তাসমূহ দ্বারা।
মহাকালের মৃত্যুর ঝঞ্ঝাবায়ু, তাকে কতই না দেখবে... প্রাণ হরণে বিন্দুমাত্র ক্লান্তহীন।
তাকে জিজ্ঞেস করো, সে কি কর্ণপাত করেছে তার প্রতি... যে তার উন্মুক্ত কৃপাণ নিয়ে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিল।
সে কি জানত যখন সে মরণবাণ নিক্ষেপ করেছিল... যে মহিমা ও গৌরবের ওপরই সেই ফলার আঘাত লাগে?
হায়! সে যদি আক্রমণ ও আঘাত করার সময়... একজন বিদ্বান (عالم) ও অজ্ঞ (جهول) ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করত।
হে ইমাম (إمام)! যিনি বিদায় নিয়েছেন এবং আমার হৃদয়ে রেখে গেছেন... তীব্র আকুলতা ও গভীর অনুরাগের দহন।
বিলাপ করেছে তাঁর বিদায়ে জ্ঞানার্জনের পাঠসমূহ যখন সেগুলো বিলীন হয়ে গেছে... এবং জ্ঞানান্বেষী (طالب) ছাত্ররা যখন তা হারিয়েছে।
আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে শোকাতুর কপোতসমূহ বিলাপ করছে... যেহেতু আপনার বিচ্ছেদে আমি তাদের সুমধুর কূজন হারিয়েছি।
আমি আশা করেছিলাম যে আপনার সুউচ্চ মর্যাদার সুশীতল ছায়ায়... সম্মানের সাথে জীবন অতিবাহিত করব।
মৃত্যু আপনাকে গ্রাস করেছে যখন আপনি ছিলেন সকল আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু... এবং আপনি মোটেও হীনবল ছিলেন না।
.. ০০০ ... যেখানে তারা বিদায় নিয়েছেন এমন কাউকে না রেখেই যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।
আপনি সর্বোত্তম সমাধির মৃত্তিকায় আশ্রয় নিয়েছেন... যেখানে সর্বোত্তম মেহমানের জন্য আবাসস্থল অত্যন্ত মনোরম হয়েছে।
হায়! কতই না চমৎকার সেই শয়ানেস্থল, যার ওপর প্রতিক্ষণ... প্রত্যাদেশের (تنزيل) আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হয়।
নক্ষত্ররাজি তাকে ঈর্ষা করেছে যখন থেকে... প্রভাতের স্তম্ভে কবুলিয়তের হাতসমূহ প্রসারিত হয়েছে।
তারা কামনা করেছিল যদি আপনার শয়ানেস্থল নক্ষত্ররাজির মাঝে হতো... জাওজা এবং ইকলিল নক্ষত্রমণ্ডলীর মধ্যস্থলে।
শপথ সেই... দিনের... যেদিন মহাপুরুষগণ তাঁদের সমতুল্য ব্যক্তির অভাবে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলেন।
সমগ্র সৃষ্টির জন্য ধরণীর ওপর মেঘমালা ছেয়ে গিয়েছিল... যে মেঘ থেকে অশ্রুধারার বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছিল।
আমরা যদি অন্তরসমূহকে বিদীর্ণ করতাম এবং রোদন ও আর্তনাদের মাধ্যমে... তাতে প্রাণের প্রবাহ বইয়ে দিতাম।
আর আমরা যদি অনিদ্রাকেই চোখের ভূষণ করতাম... এবং শোকের চিহ্ন হিসেবে জীর্ণতাকে পরিধান করতাম।
তবে আপনার বিচ্ছেদে আমাদের ওপর যে ভয়াবহ বিপদ আপতিত হয়েছে, তার তুলনায় এগুলো হতো... অতি নগণ্য।
যখন তিনি জান্নাতে আদনের দিকে পাড়ি জমিয়েছেন... সেখানে পরম ক্ষমার ছায়ায় তাঁর অবস্থান হয়েছে অতীব মর্যাদাপূর্ণ।
একটি অনন্য পঙক্তির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যু-সাল (تاريخ) নির্ণিত হয়েছে... এই চরণের পরেই যা উপমার স্তরে উপনীত হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
آنَسَ اللهُ رُوحَ عَيْنِ المَعَالِي
… الإِمَامُ النَّبِيلُ عَبْدُ الجَلِيلِ
…وَسَقَى قَبْرَهُ سَحَائِبُ عَفْوٍ
… بِهَتُونٍ مِنَ الرِّضَى مُشْمُولِ
…مَا تَغَنَّتْ حَمَائِمُ الغُصْن فضلًا
… فِي رِيَاضِ التَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ
ومنهُم صاحبُنا الفاضلُ الأديبُ الشيخُ محمد بنُ المرحومِ الشيخِ محمودٍ الكرديِّ:
رُزْءٌ لَهُ أَفْنَيْتُ صَبْرِي الجَمِيلْ
… وَفِي فُؤَادِي
… الخَلِيل الخَلِيلْ
…لِمَّا قَضَى الحَبْرُ وَبَحْرُ النَّدَى
… وَجَامِعُ الأَفْضَالِ عَبْدُ الجَلِيلْ
…وَوَاحِدُ الدَّهْرِ بِلَا مِرْيَةٍ
… وَمُفْرَدُ العَصْرِ عَدِيمُ المَثِيلْ
…وَعَالِمُ الشَّامِ وَنِحْرِيرُهَا
… وَزَهْرُهَا الزَّاهِي النَّبِيهُ النَّبِيلْ
…وَ ...... التَّحْقِيق فِي حلق
… وَصَيَّرَ التَّدْقِيقَ يُبْدِي العَوِيلْ
…وَأَوْرَثَ القَلْبَ لَظَى فُرْقَةٍ
… يُضَرِّمُ فِي الأَحْشَاءِ مِنْهَا شَعِيلْ
…وَحَلَّ مِنْ مَوْلَاهُ أَعْلَى العُلَا
… فِي مَقْعَدِ الصِّدْقِ وَظِلٍّ ظَلِيلْ
…سَأَلْتُ عَنْ مَسْكَنِهِ هَاتِفًا
… فَقَالَ لِي: أَبْشِرْ هُدِيتَ السَّبِيلْ
…وَقَدَّمَ النَّقْرِي لَنَا تَأْرِيخَهُ
… فَفِي جِنَانِ الخُلْدِ عَبْدُ الجَلِيلْ
وَمنهمُ القاضي الكاملُ الشيخُ محمد الدكدجيُّ، قَال رحمه الله:
لَمَّا قَضَى عَلَّامَةُ الـ
… ـشَامِ وَمُفْرَدُ الزَّمَنْ
…وَصَيْدُ أَرْبَابِ العَلَا
… رَبُّ العُلُومِ وَالفِطَنْ
…رُوحُ الفَضَائِلِ التِي
… مِنْهَا الحَيَاةُ لِلبَدَنْ
…عَبْدُ الجَلِيلِ الحَبْرُ مَنْ
… أَحْيَا الفُرُوضَ وَالسُّنَنْ
…وَسَارَ فِي التَّقْوَى عَلَى
… نَهْجِ الكَمَالِ وَالسَّنَنْ
…عَمَّ الوَرَى بِحَفْتِهِ
… وَأَوْرَثَ النَّاسَ الحَزَنْ
…
মহান আল্লাহ উচ্চমর্যাদার শ্রেষ্ঠ পুরুষের আত্মাকে প্রশান্তি দান করুন
… সেই মহৎ ইমাম আব্দুল জলিল
…এবং তাঁর কবরকে সিক্ত করুক ক্ষমার মেঘমালা
… পরিব্যাপ্ত সন্তুষ্টির অঝোর বারিধারায়
…যতক্ষণ পর্যন্ত বৃক্ষশাখার কপোতকুল শ্রেষ্ঠত্বের সাথে
… তাসবিহ ও তাহলিলের উদ্যানে মহিমা কীর্তন করে।
তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আমাদের গুণী ও সাহিত্যমনা বন্ধু শেখ মুহাম্মদ ইবনে মরহুম শেখ মাহমুদ আল-কুর্দি:
এমন এক শোকাবহ সংবাদ যার জন্য আমি আমার সুন্দর ধৈর্য বিলীন করেছি
… আর আমার হৃদয়ের গহীনে
… কেবল সেই অকৃত্রিম বন্ধু, সেই অকৃত্রিম বন্ধু
…যখন সেই বিজ্ঞ পণ্ডিত ও বদান্যতার সমুদ্র ইন্তেকাল করলেন
… এবং সকল শ্রেষ্ঠত্বের আধার আব্দুল জলিল
…যিনি ছিলেন নিঃসন্দেহে জামানার একক ব্যক্তিত্ব
… এবং এই সময়ের অনন্য ও অতুলনীয় নক্ষত্র
…সিরিয়ার প্রাজ্ঞ আলেম ও সুনিপুণ গবেষক
… এবং এর প্রস্ফুটিত, সচেতন ও মহৎ পুষ্প
…এবং ...... ইলমি মজলিসসমূহে গবেষণার আলোকবর্তিকা
… যাঁর বিদায়ে সূক্ষ্ম তত্ত্বানুসন্ধান আজ বিলাপ করছে
…এবং তা অন্তরে বিচ্ছেদের দহন রেখে গেছে
… যা পঞ্জরাস্থির অভ্যন্তরে এক অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করছে
…তিনি তাঁর মহান রবের সান্নিধ্যে সর্বোচ্চ মাকামে আসীন হয়েছেন
… সত্যের আসনে এবং সুশীতল ছায়াতলে
…আমি এক অদৃশ্য গায়বি আওয়াজকে তাঁর আবাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম
… তখন সে আমায় বলল: সুসংবাদ গ্রহণ করো, তুমি সঠিক পথের দিশা পেয়েছ
…আর নাকরি আমাদের নিকট তাঁর মৃত্যু-তারিখ পেশ করেছেন
… সুতরাং জান্নাতুল ফিরদাউসে আব্দুল জলিল অবস্থান করছেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ণজ্ঞানী বিচারক শেখ মুহাম্মদ আদ-দাকদাকজি, তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
যখন সিরিয়ার সেই মহান আল্লামা
… এবং জামানার অনন্য ব্যক্তিত্ব ইন্তেকাল করলেন
…এবং যিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদার অধিকারীদের অন্বেষিত ব্যক্তিত্ব
… জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিপতি
…তিনি ছিলেন সেই সকল শ্রেষ্ঠত্বের প্রাণস্বরূপ
… যা থেকে শরীরের জীবন সঞ্চারিত হয়
…আব্দুল জলিল নামক সেই বিজ্ঞ পণ্ডিত, যিনি
… আবশ্যিক বিধানসমূহ ও সুন্নাতসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন
…এবং তিনি তাকওয়ার ক্ষেত্রে
… পূর্ণতা ও সঠিক পথের অনুসারী ছিলেন
…তিনি তাঁর মহানুভবতায় সকল মানুষকে বেষ্টন করেছিলেন
… এবং মানুষের জন্য শোক রেখে গেছেন
…
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَالجَامِعُ الأُمَوِي مِنْ
… فِرَاقِهِ اشْتَكَى وَحَنّْ
…وَعَيْنُ أَهْلِ الحِلْمِ قَدْ
… بَكَتْ بِدَمْعٍ قَدْ هَتَنْ
…فَإِنَّ مَنْ يُكْرِمُهُ الـ
… ـلَهُ تَعَالَى لَمْ يُهَنْ
…وَمَنْ يُهِنْ فَمَا لَهُ
… مِنْ مُكْرِمٍ بَلْ يُمْتَهَنْ
…وَإِنَّ مَوْتَ العُلَمَا
… ءِ مِنْ أَعَاظِمِ المِحَنْ
…وَالمَوْتُ .....
… .......... وَالحَسَنْ
…وَالأَمْرُ للهِ الذِي
… قَدِ ابْتَلَانَا وَامْتَحَنْ
…وَقَهَرَ العِبَادَ بِالـ
… مَوْتِ .......
…وَلَا مَرَدَّ لِقَضَاءِ الـ
… ـحَقِّ جَلَّ المُؤْتَمَنْ
…وَمَوْتُ خَيْرِ الخَلْقِ
… المُصْطَفَى نَفَى الوَسَنْ
…لَكِنْ لَنَا بِهِ اقْتِدَا
… ءٌ حَسَنٌ يَجْلُو الدُّجَنْ
…لَوْلَا تَسَلِّينَا بِهِ
… لَكَانَ كُلٌّ افْتَتَنْ
…فَمَنْ رَضِي لَهُ الرِّضَا
… وَمَنْ أَبَى عَنْهُ وَهَنْ
…فَالصَّبْرُ أَوْفَى مَا اعْتَنَى
… بِهِ المُصَابُ ذُو الشَّجَنْ
…سَقَى الإِلَهُ قَبْرَهُ
… مِنْ رَحْمَةٍ طُولَ الزَّمَنْ
…وَدَامَ يُولِيهِ الرِّضَا
… وَعَفْوُهُ بِهِ اقْتَرَنْ
…وَعِنْدَمَا فَارَقَ أَحْـ
… بَابًا وَأَهْلًا وَالوَطَنْ
…وَرَاحَ قَادِمًا عَلَى الـ
… ـرَبِّ الكَرِيمِ ذِي المِنَنْ
…قَدْ أَنْشَدَ الهَاتِفُ فِي
… تَأْرِيخِهِ بَيْتًا حَسَنْ:
…لَكِنَّهُ فقد
… .... فِيهِ عَلَنْ
…عَبْدُ الجَلِيلِ الحَنْبَلِي
… فِي جَنَّةٍ لَقَدْ سَكَنْ
رحمهُ اللهُ تعالى وأغدَقَ سحائِبَ رحمتِه".
উমাইয়া জামে মসজিদ তাঁর
… বিচ্ছেদে বিলাপ করেছে এবং ব্যাকুল হয়েছে
…সহনশীল ব্যক্তিদের চক্ষুসমূহ
… প্রবহমান অশ্রুপাতে ক্রন্দন করেছে
…কেননা আল্লাহ তাআলা যাকে সম্মানিত করেন,
… সে কখনো লাঞ্ছিত হয় না
…আর যাকে তিনি লাঞ্ছিত করেন, তার জন্য
… কোনো সম্মানকারী নেই, বরং সে লাঞ্ছিত হতে থাকে
…নিশ্চয়ই আলেমদের মৃত্যু
… অন্যতম মহাবিপদ
…এবং মৃত্যু .....
… .......... এবং উত্তম (حَسَن)
…আর যাবতীয় ফয়সালা আল্লাহর জন্য, যিনি
… আমাদের পরীক্ষা ও বিপদে নিপতিত করেছেন
…এবং তিনি বান্দাদেরকে মৃত্যু দ্বারা
… পরাভূত করেছেন .......
…সত্য ইলাহ-র ফয়সালা রদ করার কেউ নেই,
… তিনি অতি মহান এবং একমাত্র নির্ভরযোগ্য
…সৃষ্টির সেরা মুস্তফার মৃত্যু
… আমাদের নিদ্রা ও শান্তি বিদূরিত করেছে
…তবে তাঁর মাঝে আমাদের জন্য রয়েছে
… উত্তম (حَسَن) আদর্শ, যা অন্ধকার দূরীভূত করে
…যদি আমরা তাঁর মাধ্যমে সান্ত্বনা না পেতাম,
… তবে প্রত্যেকেই ফিতনায় পতিত হতো
…সুতরাং যে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি,
… আর যে বিমুখ হয় তার জন্য রয়েছে দুর্বলতা
…শোকাতুর ও বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ধৈর্যই হলো
… সর্বোত্তম পাথেয়
…আল্লাহ তাঁর কবরে বর্ষণ করুন
… অনন্তকাল ব্যাপী স্বীয় রহমত
…এবং সর্বদা তাঁকে স্বীয় সন্তুষ্টি প্রদান করুন
… আর তাঁর ক্ষমা যেন তাঁর চিরসাথী হয়
…আর যখন তিনি প্রিয়জন,
… পরিবার ও স্বদেশ ছেড়ে বিদায় নিলেন
…এবং পরম দয়ালু ও নিআমতদাতা
… রবের সমীপে উপস্থিত হলেন
…অদৃশ্য গায়েব থেকে ঘোষণাকারী তাঁর
… ইতিহাস প্রসঙ্গে একটি উত্তম (حَسَن) পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেছে:
…কিন্তু তিনি নিখোঁজ
… .... তাতে প্রকাশ্যে
…আবদুল জলিল আল-হাম্বলি
… জান্নাতে বসবাস করছেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর ওপর রহমতের মেঘমালা বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هذا آخر الترجمة من هذا المخطوط المبارك، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
এটিই এই বরকতময় পাণ্ডুলিপি থেকে জীবনবৃত্তান্তের (ترجمة) সমাপ্তি। আর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের (صحابة) ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ترجمة الإمام ابن مالك (1)هو محمد بن عبد اللَّه بن عبد اللَّه بن مالك، العلّامة الأوحد، جمال الدّين، أبو عبد الله الطّائيّ، الجَيّانيّ، الشّافعيّ، النّحويّ.
اشتهر بـ"ابن مالك"، نسبة إلى جدّه الأعلى، وتكنى بأبي عبد الله، وهو نار على علم وأشهر من أن نطنب في ترجمته.
اختُلف في سنة ولادته، فقد ذهب الهواري وابن قاضي شهبة إلى أنه ولد في سنة 598 هـ، وذهب ابن شاكر وابن كثير والفيروزابادي والسيوطي إلى أنه ولد سنة 600 هـ، وذهب الصفدي إلى أنه ولد عام 601 هـ، والراجح أنه ولد عام 598؛ لما قاله معاصره كمال الدين بن العديم أن ابن مالك أخبره بذلك.
وُلد ابن مالك في مدينة جيان في الأندلس، وتلقى العلم فيها، ثم رحل إلى بلاد المشرق، ثم مصر، واستقر أخيرًا في دمشق، وفيها مات منتصف سنة 672 هـ.
وتتلمذ على ابن مالك خلق كثير، منهم:
1. محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن السلمي الدمشقي الحنفي، بدر الدين، المعروف بابن الفويرة ت 672.
2. محمد بن عبد القوي بن بدران المرداوي الجماعيلي الحنبلي، أبو عبد الله، شمس الدين ت 699 هـ.
--------------------------------------------
ইমাম ইবনে মালিক-এর জীবনী(১)তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক, অনন্য বিজ্ঞ পণ্ডিত (العلامة الأوحد), জামালুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ আত-তায়ি, আল-জাইয়্যানি, আশ-শাফিঈ, ব্যাকরণবিদ (النحوي)।
তিনি তাঁর উর্ধ্বতন দাদার নামানুসারে "ইবনে মালিক" নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাঁর কুনিয়াহ ছিল আবু আব্দুল্লাহ। তিনি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং তাঁর জীবনী বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজন পড়ে না।
তাঁর জন্মসাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আল-হাওয়ারি এবং ইবনে কাজি শুহবা মনে করেন তিনি ৫৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে শাকির, ইবনে কাসীর, আল-ফিরোজাবাদী এবং আস-সুয়ূতী মনে করেন তিনি ৬০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। আস-সাফাদি মনে করেন তিনি ৬০১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো তিনি ৫৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন; কারণ তাঁর সমসাময়িক কামালুদ্দিন ইবনুল আদিম উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মালিক নিজেই তাঁকে এ তথ্য প্রদান করেছেন।
ইবনে মালিক আন্দালুসের জাইয়্যান শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি প্রাচ্যের দেশসমূহ এবং মিশরে সফর করেন। অবশেষে তিনি দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং সেখানেই ৬৭২ হিজরির মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন।
ইবনে মালিকের নিকট এক বিশাল জনগোষ্ঠী শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১. মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুলামি আদ-দিমাশকি আল-হানাফি, বদরুদ্দিন, যিনি ইবনুল ফুওয়াইরা নামে পরিচিত (মৃ. ৬৭২ হিজরি)।
২. মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাভি ইবনে বদরান আল-মারদাউয়ি আল-জামাঈলি আল-হানবালি, আবু আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দিন (মৃ. ৬৯৯ হিজরি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3. محمد بن عبد الرحمن بن يوسف بن محمد البعلبكي الحنبلي، أبو عبد الله، شمس الدين ت 699 هـ.
4. محمد بن منصور بن موسى بن محمد الحلبي الشافعي، أبو عبد الله، شمس الدين ت 700 هـ.
5. محمد بن غالب بن يونس بن شعبة الأنصاري، أبو عبد الله، شمس الدين ت 702 هـ.
6. أبو بكر بن يعقوب بن سالم الديري الرحبي الشافعي، شهاب الدين ت 703 هـ.
7. محمد بن الفضل بن سلطان بن عماد بن تمام الجعبري الحلبي، المعروف بابن الخطيب ت 713 هـ.
8. إسماعيل بن الحسين بن أبي السائب بن أبي العيش الأنصاري الدمشقي، مجد الدين ت 721 هـ.
9. محمد بن إسماعيل بن إبراهيم الدمشقي الأنصاري العبادي، أبو عبد الله، المعروف بابن الخباز ت 756 هـ.
لابن مالك ثلاثة من الأولاد، أشهرهم ابنه بدر الدين أبو عبد الله، وهو أكبر أولاده، توفي سنة 686 هـ، وابنه تقي الدين الملقب بالأسد، وهو الذي ألف ابن مالك له المقدمة الأسدية، توفي 699 هـ، وابنه شمس الدين، توفي عام 719 هـ.
من تصانيف ابن مالك المؤصّل في نظم المفصل، وقد حل هذا النظم فسماه سبك المنظوم وفك المختوم، ومن قال إن اسمه فك المنظوم وسبك المختوم فقد خالف النقل والعقل، ومن كتب ابن مالك كتاب الكافية الشافية ثلاثة آلاف بيت، وشرحها،
3. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-বালবাক্কি আল-হাম্বলি, আবু আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দিন, মৃত্যু (وفاة) ৬৯৯ হিজরি (هـ)।
4. মুহাম্মদ বিন মনসুর বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-হালাবি আশ-শাফিয়ি, আবু আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দিন, মৃত্যু (وفاة) ৭০০ হিজরি (هـ)।
5. মুহাম্মদ বিন গালিব বিন ইউনুস বিন শু'বা আল-আনসারি, আবু আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দিন, মৃত্যু (وفاة) ৭০২ হিজরি (هـ)।
6. আবু বকর বিন ইয়াকুব বিন সালিম আদ-দাইরি আর-রাহবি আশ-শাফিয়ি, শিহাবুদ্দিন, মৃত্যু (وفاة) ৭০৩ হিজরি (هـ)।
7. মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল বিন সুলতান বিন ইমাদ বিন তাম্মাম আল-জা'বারি আল-হালাবি, যিনি ইবনুল খাতিব নামে পরিচিত, মৃত্যু (وفاة) ৭১৩ হিজরি (هـ)।
8. ইসমাইল বিন আল-হুসাইন বিন আবিস সায়িব বিন আবিল আইশ আল-আনসারি আদ-দিমাশকি, মাজদুদ্দিন, মৃত্যু (وفاة) ৭২১ হিজরি (هـ)।
9. মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আদ-দিমাশকি আল-আনসারি আল-আবাদি, আবু আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনুল খাব্বাজ নামে পরিচিত, মৃত্যু (وفاة) ৭৫৬ হিজরি (هـ)।
ইবনে মালিকের তিন পুত্র ছিলেন, তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন তাঁর পুত্র বদরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ, তিনি ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান, তিনি ৬৮৬ হিজরি (هـ) সনে মৃত্যু (وفاة) বরণ করেন। তাঁর দ্বিতীয় পুত্র তাকিউদ্দিন, যাঁর উপাধি ছিল 'আল-أسদ' (সিংহ); মূলত তাঁর জন্যই ইবনে মালিক 'আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাদিয়্যাহ' রচনা করেছিলেন, তিনি ৬৯৯ হিজরি (هـ) সনে মৃত্যু (وفاة) বরণ করেন। আর তাঁর অপর পুত্র শামসুদ্দিন ৭১৯ হিজরি (هـ) সনে মৃত্যু (وفاة) বরণ করেন।
ইবনে মালিকের গ্রন্থাবলির (تصانيف) মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-মুআসসিল ফি নাজমিল মুফাসসাল'। তিনি এই কাব্যগ্রন্থের একটি বিশ্লেষণ প্রদান করেন এবং এর নামকরণ করেন 'সাবকুল মানজুম ওয়া ফাক্কুল মাখতুুম'। যারা বলেন যে এর নাম 'ফাক্কুল মানজুম ওয়া সাবকুল মাখতুম', তারা মূলত উদ্ধৃতি (نقل) এবং যুক্তির (عقل) পরিপন্থী কথা বলেছেন। ইবনে মালিকের রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে তিন হাজার পঙ্ক্তির 'আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) উল্লেখযোগ্য,
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والخلاصة وهي مختصر الكافية الشافية، وإكمال الإعلام بمثلث الكلام، وهو مجلد كبير كثير الفوائد يدل على اطلاع عظيم، ولامية الأفعال وشرحها، وفعل وأفعل، والمقدمة الأسدية وضعها باسم ولده الأسد، وعدّة اللافظ وعمدة الحافظ، والنظم الأوجز فيما يهمز، والاعتضاد في الظاء والضاد مجلد، وإعراب مشكل البخاري، وتحفة المودود في المقصور والممدود، وغير ذلك كشرح التسهيل
(1).
مكانته:قال الذهبي: "وكان إمامًا في القراءات وعللها؛ صنَّف فيها قصيدة داليّة مرموزة في مقدار الشاطبية، وأما اللغة فكان إليه المنتهى في الإكثار من نقل غريبها والاطّلاع على وحشِيّها، وأمّا النّحو والتّصريف فكان فيه بحرًا لا يُجارى وحَبرًا لا يُبارى، وأما أشعار العرب التي يُستشهد بها على اللغة والنّحو فكانت الأئمّة الأعلام يتحيّرون فيه ويتعجبّون من أين يأتي بها، وكان نظم الشعر سهلًا عليه، رجزه وطويله وبسيطه وغير ذلك، هذا مع ما هو عليه من الدّين المتين وصِدق اللهجة وكثرة النّوافل، وحُسن السَّمت، ورقّة القلب وكمال العقل والوقار والتُّؤَدَة"
(2).
وقال ابن كثير: "وتقدم وساد في فني النحو والقراءات وحصل منهما شيئًا كبيرًا، وأربى على كثير ممن تقدمه في هذا الشأن مع الدين والصدق وحسن السمت وكثرة النوافل وكمال العقل والوقار والتودد"
(3).
--------------------------------------------
'আল-খুলাসা' যা 'আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ'-এর সংক্ষিপ্তসার, এবং 'ইকমালুল ইলাম বিমুসাল্লাসিল কালাম'; এটি একটি বিশাল খণ্ড এবং অনেক তথ্যসমৃদ্ধ যা তাঁর বিশাল পড়াশোনার প্রমাণ দেয়। 'লামিয়াতুল আফআল' ও তার ব্যাখ্যা, 'ফাউলা ওয়া আফআলা', 'আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাদিয়্যাহ' যা তিনি তাঁর পুত্র আসাদের নামে রচনা করেছেন, 'উদ্দাতুল লাফিয ওয়া উমদাতুল হাফিয', হামযা-বিশিষ্ট শব্দাবলি সংক্রান্ত 'আন-নাযমুল আওজায', 'আল-ইতিযাদ ফিত-য'ই ওয়াদ্-দ'দ' এক খণ্ড, 'ই'রাবু মুশকিলিল বুখারী', 'তুহফাতুল মাওদুদ ফিল মাকসুর ওয়াল মামদুদ' এবং এর বাইরেও 'শারহুত তাসহিল'-এর মতো আরও অনেক গ্রন্থ।
(১).
তাঁর মর্যাদা:ইমাম যাহাবী বলেন: "তিনি কিরাআত এবং এর সূক্ষ্ম কারণসমূহ (علل) নির্ণয়ে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন; তিনি এ বিষয়ে আশ-শাতবিয়্যাহ-এর সমপরিমাণ একটি সংকেতপূর্ণ 'দালিয়্যাহ' কাসিদা রচনা করেছেন। আর ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে, বিরল (غريب) শব্দের উদ্ধৃতি এবং অপরিচিত (وحشي) শব্দের গবেষণায় তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতায়। আর নাহু (ব্যাকরণ) ও সারফ (রূপান্তর) শাস্ত্রে তিনি ছিলেন এক অতুলনীয় সমুদ্র এবং এমন এক বিদগ্ধ পণ্ডিত (حبر) যার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আর ভাষাতত্ত্ব ও ব্যাকরণের প্রমাণ হিসেবে পেশকৃত আরবদের কবিতার ক্ষেত্রে বড় বড় ইমামগণ (الأئمة) হতবাক হয়ে যেতেন এবং আশ্চর্যান্বিত হতেন যে তিনি কোথা থেকে এগুলো নিয়ে আসতেন। কবিতা রচনা করা তাঁর জন্য সহজ ছিল, চাই তা রাজায, তওয়ীল বা বাসীত ছন্দের হোক বা অন্য কিছু। এসবের পাশাপাশি তিনি ছিলেন সুদৃঢ় দ্বীনদারি, সত্যবাদিতা (صدق), প্রচুর নফল ইবাদত, উত্তম শিষ্টাচার (حسن السمت), কোমল হৃদয়, পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা, গাম্ভীর্য ও ধীরস্থিরতার অধিকারী।"
(২).
ইবনে কাসীর বলেন: "তিনি নাহু ও কিরাআত বিদ্যায় অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং এই উভয় শাস্ত্র থেকে অনেক কিছু অর্জন করেছিলেন। দ্বীনদারি, সত্যবাদিতা (صدق), উত্তম শিষ্টাচার (حسن السمت), অধিক নফল ইবাদত, পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা, গাম্ভীর্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সাথে তিনি এই ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তীদের অনেককেই ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
التعريف بألفية ابن مالكسبك الإمام ابن مالك ألفيته في مدينة حماه بطلب من الإمام شرف الدين البارزي، قال ابن الوردي: "وأخبرني شيخنا قاضي القضاة شرف الدين هبة الله بن البارزي قال: نظم الشيخ جمال الدين الخلاصة الألفية بحماه عندنا برسم اشتغالي فيها، وكنت شابًّا وخدمتُه ولقد رأيت بركة خدمتي له"
(1).
وهذه الألفية تحوي ثمانية وسبعين بابًا وفصلًا، احتوت على جل مقاصد النحو كما قال ابن مالك في ختامها:
نظمًا على جل المهمات اشتمل
(2)وهذه الألفية في الأصل اختصار لمنظومة كبيرة لابن مالك تدعى "الكافية الشافية"، وعدة أبياتها ألفان وسبعمئة ونيف وخمسون بيتًا، قال ابن مالك في ختام الكافية الشافية
(3):
أبياتُها ألفانِ مَعْ سَبعِمئهْ
… وَزِيدَ خمسونَ ونَيْفٌ أَكْملَهْ
وذكر في الألفية أن هذه الألفية اختصار للكافية الشافية فقال:
أحصى من الكافية الخلاصة
(4)--------------------------------------------
আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের পরিচিতিইমাম ইবনে মালিক তাঁর আলফিয়্যাহ গ্রন্থটি হামাহ শহরে ইমাম শরাফ উদ্দিন আল-বারিজির অনুরোধে রচনা করেন। ইবনুল ওয়ারদি বলেন: "আমাদের শাইখ কাজিউল কুজাত শরাফ উদ্দিন হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-বারিজি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: শাইখ জামাল উদ্দিন আল-খুলাসাতুল আলফিয়্যাহ আমাদের হামাহ শহরে আমার অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে রচনা করেছেন। তখন আমি যুবক ছিলাম এবং তাঁর খেদমত করেছি; আমি তাঁর খেদমতের বরকত অবলোকন করেছি"
(১).
এই আলফিয়্যাহ আটাত্তরটি অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত, যা নাহু শাস্ত্রের প্রায় সকল মৌলিক উদ্দেশ্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেমনটি ইবনে মালিক এর শেষে বলেছেন:
এমন এক পদ্য যা অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে
(২)আর এই আলফিয়্যাহ মূলত ইবনে মালিকের একটি বৃহৎ কাব্যগ্রন্থ "আল-কাফিয়াহ আল-শাফিয়াহ" এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এর শ্লোক সংখ্যা ছিল দুই হাজার সাতশত পঞ্চাশের কিছু বেশি। ইবনে মালিক আল-কাফিয়াহ আল-শাফিয়াহ-এর শেষে বলেছেন
(৩):
এর শ্লোক সংখ্যা দুই হাজার সাতশত ... এবং আরও পঞ্চাশের অধিক যা একে পূর্ণতা দান করেছে
তিনি আলফিয়্যাহ-তে উল্লেখ করেছেন যে, এই আলফিয়্যাহ হলো কাফিয়াহ আল-শাফিয়াহ এর সংক্ষিপ্ত রূপ, তিনি বলেছেন:
এটি কাফিয়াহ থেকে সারসংক্ষেপ চয়ন করেছে
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد كتب الله لهذه الألفية الذيوع والانتشار، فقد سارت بها الركبان، وحملها الناس إلى كل مكان، وجمعت في رحابها كبار العلماء شارحين ومستخرجين مكنوناتها.
ومن أهم هذه الشروح شرح ابن الناظم وشرح أبي حيان وشرح المرادي وشرح ابن عقيل وشرح ابن هشام وشرح الشاطبي وشرح المكودي وشرح السيوطي، وغيرها من الشروح كثير.
ومن العلماء من اختصر الألفية، ومنهم محمد بن محمد بن علي بن عمر الإسنوي، وكذلك الإمام ابن الوردي الذي اختصر الألفية في مئة وخمسين بيتًا سماها التحفة الوردية، ثم شرح هذا المختصر وقد طبع، ومنها مختصر اسمه المختصر المفيد لمحمود محفوظ الدمشقي، موجود نسخة منه في القاهرة ثان 2: 158.
ومن هذه المختصرات (الوفية باختصار الألفية) للإمام جلال الدين السيوطي، وقد طبع الكتاب بتحقيقنا مع دراسة واسعة والحمد لله رب العالمين.
وكما سبق الإشارة فإن للألفية شروحًا منظومة كالبهجة الوفية للبدر الغزي وقد طبع بتحقيقنا مع دراسة واسعة، والكوكب المنير للإمام عبد الجليل الحنبلي، وهو الكتاب موضوع تحقيقنا.
আল্লাহ এই আলফিয়্যার জন্য ব্যাপক খ্যাতি ও প্রসার লিখে রেখেছেন। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এটি বহন করে নিয়ে গেছেন এবং মানুষ একে প্রতিটি স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। বড় বড় আলেমগণ এর ছায়াতলে সমবেত হয়ে এর নিহিত রহস্যের ব্যাখ্যাকারী (شارح) এবং তথ্য উদঘাটনকারী (مستخرج) হিসেবে কাজ করেছেন।
এই শরাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইবনে নাযিম-এর শরাহ, আবু হাইয়ান-এর শরাহ, মুরাদি-এর শরাহ, ইবনে আকিল-এর শরাহ, ইবনে হিশাম-এর শরাহ, শাতিবি-এর শরাহ, মাকুদি-এর শরাহ এবং সুয়ুতি-এর শরাহ। এছাড়াও আরও অনেক শরাহ রয়েছে।
আলেমদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা আলফিয়্যাকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, তাদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওমর আল-ইসনাবি অন্যতম। তেমনিভাবে ইমাম ইবনুল ওয়ারদী আলফিয়্যাকে একশত পঞ্চাশটি চরণে সংক্ষিপ্ত করেছেন যার নাম দিয়েছেন আল-তুহফাতুল ওয়ারদিয়্যাহ। অতঃপর তিনি এই সংক্ষিপ্তসার (مختصر) গ্রন্থের ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাহমুদ মাহফুজ আদ-দিমাশকির 'আল-মুখতাসার আল-মুফিদ' নামক একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر) রয়েছে, যার একটি পাণ্ডুলিপি কায়রোর সান ২: ১৫৮-তে সংরক্ষিত আছে।
এই সংক্ষিপ্তসারগুলোর (مختصر) মধ্যে ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি রচিত 'আল-ওয়াফিয়্যাহ বি ইখতিসারিল আলফিয়্যাহ' অন্তর্ভুক্ত। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের সম্পাদনায় (تحقيق) এবং বিস্তৃত গবেষণাসহ বইটি মুদ্রিত হয়েছে।
যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, আলফিয়্যার পদ্য আকারে রচিত কিছু শরাহ রয়েছে, যেমন বদর আল-গাজ্জি রচিত 'আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ'; এটিও আমাদের সম্পাদনায় (تحقيق) এবং বিস্তৃত গবেষণাসহ মুদ্রিত হয়েছে। আর ইমাম আবদুল জলিল আল-হাম্বলির 'আল-কাওকাব আল-মুনির' গ্রন্থটিই আমাদের বর্তমান সম্পাদনার (تحقيق) বিষয়বস্তু।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
التعريف بكتاب "الكتاب المنير"
توثيق نسبته واسمهنسبة الكتاب إلى الإمام عبد الجليل بن أبي المواهب الحنبلي لا يختلف فيه اثنان؛ فقد أثبت كل من ترجم للمصنف إن له شرحًا بالتسطير على ألفية ابن مالك، قال في سلك الدرر: "وله تشطير بديع على ألفية ابن مالك في النحو"، ومثل هذا قال من ترجم للمصنف رحمه الله.
أيضًا يشهد لهذه النسبة مخطوطات الكتاب؛ فقد كُتب على غلاف النسخة ب: "كتاب تشطير الألفية المسماة بالكوكب المنير لمولانا المرحوم العالم العامل العلامة الشيخ عبد الجليل ابن سيدنا المرحوم العلامة شيخ المحدثين وإمام النحاة والأصوليين الشيخ أبي المواهب الحنبلي
… ".
وقد جاء في غلاف النسخة ج: "الكوكب المنير في شرح الألفية بالتشطير تأليف الشيخ الإمام العلامة الشيخ عبد الجليل المواهبي الحنبلي".
أما اسم الكتاب فقد اختلفت دقته، فمن ترجم للمؤلف لم يذكر اسم الكتاب وإنما ذكر أن له تشطيرًا على الألفية، ولكن ثبت اسم الكتاب بعنوان (الكوكب المنير في شرح الألفية بالتشطير) في النسخة أوالنسخة ج، أما النسخة ب فلم يذكر فيها سوى عنوان (الكوكب المنير)، وبالنظر إلى التشطير نفسه تجد المؤلف رحمه الله قد نصّ على عنوان الكتاب، قال في البيت التاسع عشر:
سَمَّيْتُهَا بِالكَوْكَبِ المُنِيرِ
… في شَرْحِ الَالْفِيَّةِ بِالتَّشْطِيرِ
"আল-কিতাব আল-মুনির" গ্রন্থের পরিচিতি
এর সম্পৃক্ততা ও নামকরণের প্রামাণিকতাইমাম আব্দুল জলীল ইবনে আবি আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলীর প্রতি এই গ্রন্থটির সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই; কারণ গ্রন্থকারের জীবনীকারগণের প্রত্যেকেই এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, ইবনে মালিকের আলফিয়ার ওপর তাঁর একটি দ্বিপদী বিন্যাসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। 'সিলকুদ দুরার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "ইবনে মালিকের নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক আলফিয়ার ওপর তাঁর একটি চমৎকার দ্বিপদী বিন্যাস (تشطير) রয়েছে।" যারা গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী বর্ণনা করেছেন তারাও অনুরূপ কথা বলেছেন।
গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিগুলোও এই সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য দেয়; 'খ' পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে লেখা রয়েছে: "আমাদের পরলোকগত মাওলানা, আমলকারী আলেম, মহাজ্ঞানী শায়খ আব্দুল জলীল—যিনি আমাদের পরলোকগত মহাজ্ঞানী নেতা, হাদিস শাস্ত্রবিশারদদের প্রধান (شيخ المحدثين) এবং ব্যাকরণবিদ ও উসুলবিদদের (الأصوليين) ইমাম শায়খ আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলীর সন্তান—কর্তৃক বিরচিত আল-কাওকাব আল-মুনির নামক আলফিয়ার দ্বিপদী বিন্যাস (تشطير) গ্রন্থ
… "।
আর 'গ' পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে এসেছে: "আল-কাওকাব আল-মুনির ফি শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতির, লেখক: শায়খ, ইমাম, আল্লামা শায়খ আব্দুল জলীল আল-মাওয়াহিবী আল-হাম্বলী"।
গ্রন্থের নামের সূক্ষ্মতার ব্যাপারে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যারা লেখকের জীবনী লিখেছেন তারা গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেননি, বরং শুধু এটুকুই উল্লেখ করেছেন যে, আলফিয়ার ওপর তাঁর একটি দ্বিপদী বিন্যাস (تشطير) রয়েছে। তবে 'ক' ও 'গ' পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থটির নাম "আল-কাওকাব আল-মুনির ফি শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতির" শিরোনামে সাব্যস্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে 'খ' পাণ্ডুলিপিতে শুধুমাত্র "আল-কাওকাব আল-মুনির" শিরোনামটি উল্লেখ করা হয়েছে। স্বয়ং দ্বিপদী বিন্যাস (التشطير) পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) নিজেই কিতাবটির শিরোনামের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি উনবিংশতম চরণে বলেছেন:
আমি এর নামকরণ করেছি আল-কাওকাব আল-মুনির
… আলফিয়ার ব্যাখ্যায় দ্বিপদী বিন্যাসের (التشطير) মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওকাবুল মুনীর ফী শারহিল আলফিয়্যাহ বিত-তাশতীর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لكن عند عجز هذا البيت وردت حاشية في النسخ الثلاث تقول: "وفي نسخة:
..................
… وَالرَّوْضِ إِذْ يُوصَفُ بِالنَّضِيرِ
فعلى هذه الحاشية يمكننا أن نقول إن عنوان الكتاب (الكوكب المنير والروض النضير في شرح الألفية بالتشطير).
ولكن يجب علينا أن نعدل عن هذا لمجرد حاشية وردت على هامش المخطوط، والنص في المخطوط على غير هذا؛ فنلتزم على العنوان الداخلي للمخطوط (الكوكب المنير في شرح الألفية بالتشطير).
محتواه ومنهجهالكوكب المنير يندرج تحت الشروح المنظومة على ألفية ابن مالك على قلتها، وأعظم تلك الشروح شرح الإمام بدر الدين الغزي المسمى بالبهجة الوفية بحجة الخلاصة الألفية، وشرح في عشرة آلاف بيت ويزيد.
أما الكوكب المنير فهو من الشروح المختصر، وهو مبني على نظام التشطير، وهو كما قلنا من قبل أن يأتي الناظم إلى البيت ويجعل لصدره عجزًا من عنده، ويجعل لعجزه صدرًا من عنده، فيصبح البيت الواحد بيتين اثنين.
وشرحنا هذا المشطّر يهدف إلى توضيح وشرح مختصر على الألفية، وهو كما قال مؤلفه في المقدمة يعتمد على تسهيل ابن مالك وأوضح المسالك لابن هشام، ولكن عند الوقوف على الشرح نجد الشارح توسع في مصادره كما سيأتي.
ومما يميز هذا الشرح أنه كان بمثابة التكميل والتتميم لألفية ابن مالك، ومن ذلك قوله في بداية خطبة ابن مالك:
قَالَ مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ مَالِكِ
… العَالِمُ الأَنْدَلُسِي مِنْ سَالِكِي
…
لكن এই পঙক্তির শেষাংশের (عجز) ক্ষেত্রে তিনটি পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) একটি পাদটীকা (حاشية) পাওয়া যায় যা বলে: "এবং একটি পাঠে রয়েছে:
..................
… এবং উদ্যান যখন সতেজ হিসেবে বর্ণিত হয়
এই পাদটীকার (حاشية) ওপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি যে বইটির শিরোনাম হলো (আল-কাওকাবুল মুনির ওয়ার রওদুন নাদির ফি শারহিল আলফিয়্যাহ বিত তাশতির)।
কিন্তু পাণ্ডুলিপির (مخطوط) পার্শ্বটীকায় (هامش) আসা নিছক একটি পাদটীকার (حاشية) কারণে আমাদের এটি পরিবর্তন করা উচিত হবে না, অথচ পাণ্ডুলিপির (مخطوط) মূল পাঠ্য এর বিপরীত; তাই আমরা পাণ্ডুলিপির অভ্যন্তরীণ শিরোনামের (আল-কাওকাবুল মুনির ফি শারহিল আলফিয়্যাহ বিত তাশতির) ওপরই অবিচল থাকব।
এর বিষয়বস্তু ও পদ্ধতিআল-কাওকাবুল মুনির ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র ওপর কাব্যিক ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর (الشروح المنظومة) অন্তর্ভুক্ত, যদিও এ ধরনের ব্যাখ্যা সংখ্যায় খুবই কম। আর এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো ইমাম বদরুদ্দিন আল-গাজ্জির ব্যাখ্যা, যার নাম ‘আল-বাহজাতুল ওয়াফিয়্যাহ বিহুজ্জাতিল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ’। এটি দশ হাজার বা তারও বেশি পঙক্তির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
পক্ষান্তরে আল-কাওকাবুল মুনির হলো একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি তাশতির (التشطير) পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত। আমরা ইতিপূর্বে যেমন বলেছি যে, এই পদ্ধতিতে কবি একটি মূল চরণের প্রথমাংশের জন্য নিজের পক্ষ থেকে একটি শেষাংশ (عجز) যোগ করেন এবং মূল চরণের শেষাংশের জন্য নিজের পক্ষ থেকে একটি প্রথমাংশ তৈরি করেন। ফলে একটি চরণ দুটি পঙক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
আমাদের এই দ্বিখণ্ডিত বা তাশতিরকৃত (المشطّر) ব্যাখ্যাটির লক্ষ্য হলো আলফিয়্যাহ-র একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ প্রদান করা। এর লেখক ভূমিকার যেমনটি বলেছেন যে, এটি ইবনে মালিকের ‘তাসহিল’ এবং ইবনে হিশামের ‘আওদাহুল মাসালিক’-এর ওপর নির্ভরশীল। তবে ব্যাখ্যাটি গভীর পর্যালোচনার সময় আমরা দেখতে পাই যে, ব্যাখ্যাকার তার উৎসগুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত করেছেন, যা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।
এই ব্যাখ্যার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী হিসেবে কাজ করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে ইবনে মালিকের ভূমিকার শুরুতে কবির এই উক্তিটি উল্লেখযোগ্য:
মুহাম্মদ বলেন, তিনি ইবনে মালিক
… আন্দালুসি আলিম যিনি [সঠিক পথের] অনুসারী
…