(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: -)
معالم الدين من أحاديث الصادق الأمين   (محمد محب الدين أبو زيد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: معالم الدين من أحاديث الصادق الأمين

المؤلف: محمد محب الدين أبو زيد

الناشر: دار مشارق الأنوار للبحث العلمي

الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م

عدد الصفحات: 103

مصدر الكتاب: إهداء من المؤلف للمكتبة الشاملة، جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 ذو الحجة 1436

সত্যবাদী বিশ্বস্ত (রাসূল ﷺ)-এর হাদিসসমূহ থেকে দীনের নিদর্শনসমূহ   (মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যায়েদ)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সত্যবাদী বিশ্বস্ত (রাসূল ﷺ)-এর হাদিসসমূহ থেকে দীনের নিদর্শনসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যায়েদ

প্রকাশক: দারু মাশারিকিল আনওয়ার লিল বাহাসিল ইলমি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৩

গ্রন্থের উৎস: লেখকের পক্ষ থেকে মাকতাবাতুশ শামিলাকে উপহার, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ জিলহজ্জ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢)
جَزى اللهُ أصحابَ الحديثِ مَثُوبةً … وبَوَّأهم في الخُلدِ أعلى المنازلِ

فلولا اعتِناهُم بالحديثِ وحِفظِه … ونَفْيُهم عنه ضُروبَ الأباطلِ

وإنفاقُهم أعمارَهم في طِلابِه … وبحثُهم عنه بجِدٍّ مُواصِلِ

لَمَا كان يَدرِي مَنْ غَدا مُتَفَقِّهًا … صَحيحَ حديثٍ مِنْ سَقيمٍ وباطلِ

ولم يَسْتَبِنْ ما كان في الذِّكْرِ مُجْمَلًا … ولم نَدْرِ فَرْضًا مِن عُمومِ النَّوافِلِ

لقد بَذلوا فيه نفوسًا نفيسةً … وباعُوا بِحَظٍّ آجِلٍ كلَّ عاجِلِ

فحُبُّهم فَرضٌ على كلَّ مُسْلِمٍ … وليس يُعادِيهِم سِوى كلِّ جاهِل

 

معالم الدين

من أحاديث الصادق الأمين
আল্লাহ হাদীসবিশারদগণকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন … এবং জান্নাতুল খুলদে তাঁদের উচ্চতম মর্যাদা দান করুন।

যদি হাদীসের প্রতি তাঁদের যত্ন ও তা সংরক্ষণ না থাকত … এবং তাঁরা যদি তা থেকে নানা প্রকার বাতিল বিষয় দূরীভূত না করতেন;

যদি তাঁরা হাদীস অন্বেষণে তাঁদের জীবন ব্যয় না করতেন … এবং নিরবচ্ছিন্ন সাধনার মাধ্যমে তা অনুসন্ধান না করতেন;

তবে আজ যে ফকীহ হতে চায় সে জানতে পারত না … কোনটি সহীহ হাদীস আর কোনটি দুর্বল ও বাতিল;

কুরআনে যা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে তা স্পষ্ট হতো না … এবং আমরা নফল ইবাদত থেকে ফরযের পার্থক্য বুঝতে পারতাম না;

তাঁরা এই মহৎ কাজে নিজেদের মূল্যবান প্রাণ উৎসর্গ করেছেন … এবং পরকালের চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের বিনিময়ে পার্থিব সব নগদ সুযোগ-সুবিধা বিসর্জন দিয়েছেন;

সুতরাং তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয … আর কেবল জাহিল বা মূর্খ ব্যক্তিই তাঁদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে।

 

দ্বীনের নিদর্শনসমূহ

সত্যবাদী ও আমানতদার (রাসূল ﷺ)-এর হাদীসসমূহ হতে।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٣)
حقوق الطبع محفوظة

دار مشارق الأنوار

جوال/ 01149778416

الطبعة الأولى سنة 1434 هـ / 2013 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দার মাশারিকুল আনওয়ার

মোবাইল/ ০১১৪৯৭৭৮৪১৬

প্রথম প্রকাশ হিজরি ১৪৩৪ / ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٤)
«نَضَّرَ اللهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حديثًا فحَفِظَه حتى يُبَلِّغَه غيرَه» حديث شريف

 

معالم الدين

من أحاديث الصادق الأمين

 

بقلم

محمد محب الدين أبو زيد

 

دار مشارق الأنوار
«আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সতেজ রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিয়েছে» হাদিস শরিফ

 

দীনের নিদর্শনসমূহ

সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত (রাসূল)-এর হাদিসসমূহ থেকে

 

রচনায়

মুহাম্মাদ মুহিব্বুদ্দিন আবু যাইদ

 

দারু মাশারিকিল আনওয়ার
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على النبي الأُمِّي الأمين، وعلى آله وصحبه الطيِّبين الطاهرين. وبعد:

فامتثالًا لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ اللهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حديثًا فحَفِظَه حتى يُبَلِّغَه غيرَه»، رأيتُ أن أجمع طائفة من الأحاديث النبوية الجامعة لأصول الدين وأحكامه، انتقيتُ معظمها من كتب الأربعينيات، التي قصد مؤلفوها جَمْعَ أربعين حديثًا من الأحاديث النبوية، معتمدين في ذلك على حديث: «مَنْ حَفِظَ على أُمَّتي أربعين حديثاً مِن أمرِ دينِها بعثه اللهُ يومَ القيامةِ في زُمرةِ الفقهاءِ والعلماءِ»، وهو حديث قد اتفق الحُفَّاظ على ضعفه.

فبعض هؤلاء العلماء جمع أربعين حديثًا في أصول الدين، وبعضهم في الأحكام، وبعضهم في الزهد والرِّقاق، وبعضهم في الآداب والأخلاق، وبعضهم في الجهاد، وبعضهم في الذِّكر، إلى غير ذلك من المقاصد الحسنة.

فرأيتُ أن أجمع -مقتديًا بهؤلاء العلماء ومسترشدًا بصنيعهم- أحاديث صحيحة مشتملة على جميع تلك المقاصد، في أصول الدين، وأحكام الشريعة، والزهد، والذِّكر، والآداب، والأخلاق، وغيرها.

فصار هذا الكتاب جامعًا لأصول الأحاديث التي تُبيِّن معالمَ الدين وأحكامَه العامة، لعل الله عز وجل أنْ يمحو به ما انتشر بين المسلمين اليوم من الجهل بأمور دينهم، حتى إنك ترى الرجلَ يحمل أعلى الشهادات، ويتقلَّد أرفع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মী ও বিশ্বস্ত নবীর ওপর, আর তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর অনুসরণে: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিল», আমি দ্বীনের মূলনীতি ও বিধানসমূহকে শামিল করে এমন একগুচ্ছ নববী হাদিস সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এর অধিকাংশ আমি সেই সব ‘আরবাঈন’ (চল্লিশ হাদিসের সংকলন) গ্রন্থসমূহ থেকে নির্বাচন করেছি, যাদের লেখকেরা চল্লিশটি নববী হাদিস একত্রিত করার সংকল্প করেছিলেন। তাঁরা এক্ষেত্রে এই হাদিসের ওপর নির্ভর করেছেন: «যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয় সংবলিত চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন ফকীহ ও আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করবেন», এটি এমন একটি হাদিস যার দুর্বলতার ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণ একমত হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে কোনো কোনো আলেম দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ে চল্লিশটি হাদিস সংকলন করেছেন, কেউ বিধিবিধান বিষয়ে, কেউ দুনিয়াবিমুখতা ও হৃদয়স্পর্শী বিষয়ে, কেউ আদব ও আখলাক বিষয়ে, কেউ জিহাদ বিষয়ে, আবার কেউ যিকর বিষয়ে; এছাড়াও আরও অনেক মহৎ উদ্দেশ্যে।

তাই আমি—সেই আলেমদের অনুসরণ করে এবং তাঁদের কর্মপন্থা দ্বারা পরিচালিত হয়ে—এমন কিছু সহিহ হাদিস সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিলাম, যা ওই সকল বিষয়সমূহকে—যেমন দ্বীনের মূলনীতি, শরীয়তের বিধিবিধান, দুনিয়াবিমুখতা, যিকর, আদব, আখলাক এবং অন্যান্য বিষয়—অন্তর্ভুক্ত করে।

ফলে এই গ্রন্থটি দ্বীনের নিদর্শনাবলি ও এর সাধারণ বিধিবিধান বর্ণনাকারী মৌলিক হাদিসসমূহের একটি সংকলনে পরিণত হয়েছে। সম্ভবত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এর মাধ্যমে বর্তমান সময়ে মুসলমানদের মধ্যে দ্বীনের বিষয়াবলি সম্পর্কে যে অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়েছে তা দূর করে দেবেন। এমনকি আপনি দেখবেন একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এবং অত্যন্ত উচ্চ পদের অধিকারী...
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٦)
المناصب، وهو لا يعلم عن دينه شيئًا، فالأُمِّي الذي لا يقرأ ولا يكتب ويعلم ما افترض الله عليه من أمور دينه أفضل في ميزان الشرع من هذا المثقَّف العالم بأمور دنياه الجاهل بأمور دينه، قال تعالى: {وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ * يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ} [الروم: 6 - 7].

قال الإمام ابن كثير في «تفسيره» (6/ 311): {وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} أي: بحِكَم الله في كونه وأفعاله المُحْكمة الجارية على وفق العدل.

وقوله: {يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ} أي: أكثر الناس ليس لهم علم إلا بالدنيا وأكسابها وشؤونها وما فيها، فهم حُذَّاق أذكياء في تحصيلها ووجوه مكاسبها، وهم غافلون عما ينفعهم في الدار الآخرة، كأنَّ أحدهم مُغَفَّل لا ذهن له ولا فكرة.

قال الحسن البصري: والله لَبَلَغَ من أحدهم بدنياه أنه يقلِّب الدرهم على ظفره فيُخبرك بوزنه، وما يُحسن أن يصلي.

وقال ابن عباس في قوله: {يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ} يعني: الكفار، يعرفون عمران الدنيا، وهم في أمر الدين جُهَّال. اهـ.

* وأهم كتب الأربعينيات التي انتقيت منها هذا الكتاب هي:

1 - «الأربعون» للإمام محمد بن أسلم الطُّوسي (ت: 242 هـ).

2 - «الأربعون» للإمام الحسن بن سفيان النَّسَوي (ت: 303 هـ).

3 - «الأربعون حديثًا» للإمام أبي بكر محمد بن الحسين الآجُرِّي (ت: 360 هـ).

4 - «الأربعون» للإمام أبي بكر ابن المُقْرئ (ت: 381 هـ).
পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি, অথচ তিনি তাঁর দ্বীন সম্পর্কে কিছুই জানেন না; ফলে সেই নিরক্ষর ব্যক্তি যে পড়তে ও লিখতে পারে না কিন্তু আল্লাহ তার ওপর দ্বীনের যা কিছু ফরজ করেছেন তা জানেন, তিনি শরীয়তের পাল্লায় এই দুনিয়াবি বিষয়ে শিক্ষিত ও দ্বীনি বিষয়ে অজ্ঞ ব্যক্তির চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিকটা জানে এবং তারা আখিরাত সম্পর্কে গাফেল (বিস্মৃত)} [রূম: ৬ - ৭]।

ইমাম ইবনে কাসীর তাঁর «তাফসীর»-এ (৬/ ৩১১) বলেন: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না} অর্থাৎ: আল্লাহর সৃষ্টিজগতে তাঁর প্রজ্ঞা এবং ন্যায়বিচার অনুযায়ী পরিচালিত তাঁর সুনিপুণ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা জানে না।

এবং তাঁর বাণী: {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিকটা জানে এবং তারা আখিরাত সম্পর্কে গাফেল} অর্থাৎ: অধিকাংশ মানুষের দুনিয়া, এর উপার্জন, বিষয়াদি এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা ছাড়া আর কোনো জ্ঞান নেই। তারা দুনিয়া হাসিল এবং উপার্জনের পন্থায় অত্যন্ত পটু ও মেধাবী, অথচ তারা আখিরাতের জীবনে যা তাদের উপকারে আসবে সে বিষয়ে গাফেল; যেন তাদের কেউ এমন একজন নির্বোধ যার কোনো বুদ্ধি বা চিন্তা নেই।

হাসান বসরী বলেন: আল্লাহর কসম, তাদের কেউ দুনিয়াবি বিষয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সে নখের ওপর দিরহাম ঘুরিয়ে তার ওজন বলে দিতে পারে, অথচ সে ঠিকমতো সালাত আদায় করতে জানে না।

ইবনে আব্বাস তাঁর বাণী: {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিকটা জানে এবং তারা আখিরাত সম্পর্কে গাফেল} প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ: কাফেররা; তারা দুনিয়ার আবাদ বা সমৃদ্ধি সম্পর্কে জানে, কিন্তু দ্বীনের বিষয়ে তারা মূর্খ। সমাপ্ত।

* আর চল্লিশ হাদিস বা আরবাঈন বিষয়ক প্রধান যে গ্রন্থগুলো থেকে আমি এই বইটি চয়ন করেছি সেগুলো হলো:

১ - ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আত-তূসী (মৃত্যু: ২৪২ হি.) রচিত «আল-আরবাউন»।

২ - ইমাম হাসান ইবনে সুফিয়ান আন-নাসাবী (মৃত্যু: ৩০৩ হি.) রচিত «আল-আরবাউন»।

৩ - ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-আজুরী (মৃত্যু: ৩৬০ হি.) রচিত «আল-আরবাউন হাদিসান»।

৪ - ইমাম আবু বকর ইবনুল মুকরি (মৃত্যু: ৩৮১ হি.) রচিত «আল-আরবাউন»।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٧)
5 - «كتاب الأربعين في فضائل ذِكر رب العالمين» للإمام مسافر بن محمد بن حاجي الدمشقي (ت: 420 هـ).

6 - «الأربعون الصغرى» للإمام أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي (ت: 458 هـ).

7 - «الأربعون في دلائل التوحيد» للإمام أبي إسماعيل عبد الله بن محمد الأنصاري الهَرَوي (ت: 481 هـ).

8 - «الأربعون» للإمام القاسم بن الفضل الثقفي الأصبهاني (ت: 489 هـ).

9 - «الأربعون» للإمام أبي سعد محمد بن يحيى النَّيسابوري (ت: 548 هـ).

10 - «كتاب الأربعين في إرشاد السائرين إلى منازل المتقين» للإمام أبي الفتوح محمد بن محمد بن علي الطائي (ت: 555 هـ).

11 - «الأربعون الكيلانية» للإمام عبد الرزاق بن عبد القادر الكيلاني (ت: 595 هـ).

12 - «كتاب الأربعين في فضل الدعاء والداعين» للإمام شرف الدين علي بن المُفَضَّل المقدسي (ت: 611 هـ).

13 - «الأربعون حديثًا» للإمام صدر الدين الحسن بن محمد البَكْري (ت: 656 هـ).

14 - «الأربعون في الأحكام» للإمام زكي الدين عبد العظيم بن عبد القوي المُنْذري (ت: 656 هـ).

15 - «الأربعون» للإمام أبي زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت: 676 هـ).
৫ - «বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের জিকিরের ফজিলত সংক্রান্ত চল্লিশ হাদিসের গ্রন্থ» ইমাম মুসাফির বিন মুহাম্মদ বিন হাজি আদ-দামেশকি (মৃত্যু: ৪২০ হিজরি)-এর।

৬ - «আল-আরবাউন আস-সুগরা» (সংক্ষিপ্ত চল্লিশ হাদিস) ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকি (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি)-এর।

৭ - «তাওহিদের প্রমাণাদি বিষয়ক চল্লিশ হাদিস» ইমাম আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আনসারি আল-হারাউয়ি (মৃত্যু: ৪৮১ হিজরি)-এর।

৮ - «চল্লিশ হাদিস» ইমাম আল-কাসিম বিন আল-ফজল আস-সাকাফি আল-আসবেহানি (মৃত্যু: ৪৮৯ হিজরি)-এর।

৯ - «চল্লিশ হাদিস» ইমাম আবু সাদ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাইসাবুরি (মৃত্যু: ৫৪৮ হিজরি)-এর।

১০ - «মুত্তাকিদের স্তরে পথচারীদের পথপ্রদর্শন বিষয়ক চল্লিশ হাদিসের গ্রন্থ» ইমাম আবু আল-ফুতুহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আত-তায়ি (মৃত্যু: ৫৫৫ হিজরি)-এর।

১১ - «আল-আরবাউন আল-কিলানিয়্যাহ» ইমাম আবদুর রাজ্জাক বিন আবদুল কাদির আল-কিলানি (মৃত্যু: ৫৯৫ হিজরি)-এর।

১২ - «দোয়া এবং দোয়াকারীদের ফজিলত সংক্রান্ত চল্লিশ হাদিসের গ্রন্থ» ইমাম শরাফ উদ্দিন আলি বিন আল-মুফাদ্দাল আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬১১ হিজরি)-এর।

১৩ - «চল্লিশটি হাদিস» ইমাম সদরুদ্দিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বাকরি (মৃত্যু: ৬৫৬ হিজরি)-এর।

১৪ - «বিধিবিধান সংক্রান্ত চল্লিশ হাদিস» ইমাম জাকি উদ্দিন আবদুল আজিম বিন আবদুল কাবি আল-মুনজিরি (মৃত্যু: ৬৫৬ হিজরি)-এর।

১৫ - «চল্লিশ হাদিস» ইমাম আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া বিন শরাফ আন-নববী (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি)-এর।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٨)
16 - «كتاب الأربعين في صفات رب العالمين» للإمام شمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي (ت: 748 هـ).

17 - «الأربعون حديثًا في قواعد من الأحكام الشرعية وفضائل الأعمال والزهد» للإمام جلال الدين السيوطي (ت: 911 هـ).

وقد زدتُ أحاديث من عندي لم يذكرها هؤلاء العلماء، رأيتُها مهمةً في بابها.

* وقد شرحتُ الألفاظ الغريبة، وعلَّقتُ على الأحاديث تعليقات مختصرة، وأهم الكتب التي اعتمدتُ عليها في ذلك:

1 - «معالم السنن» للخطابي.

2 - «التمهيد» لابن عبد البر.

3 - «شرح صحيح البخاري» لابن بطال.

4 - «كشف مشكل الصحيحين» لابن الجوزي.

5 - «النهاية في غريب الحديث» لابن الأثير.

6 - «شرح صحيح مسلم» للنووي.

7 - «شرح الأربعين النووية» لابن دقيق العيد.

8 - «جامع العلوم والحِكَم» لابن رجب.

9 - «فتح الباري» لابن حجر.

10 - «عمدة القاري» للعيني.

11 - «فيض القدير» للمُناوي.

12 - «مرقاة المفاتيح» للمُلَّا علي القاري.

13 - «المصباح المنير» للفيومي.
১৬ - ইমাম শামসউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আয-যাহাবীর (মৃত্যু: ৭৪৮ হি.) «বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের গুণাবলি বিষয়ক চল্লিশ হাদীসের গ্রন্থ»।

১৭ - ইমাম জালালউদ্দীন আস-সুয়ূতীর (মৃত্যু: ৯১১ হি.) «শরীয়তের বিধিবিধানের মূলনীতি, আমলের ফযীলত ও দুনিয়াবিমুখতা বিষয়ক চল্লিশটি হাদীস»।

এবং আমি আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু হাদীস যোগ করেছি যা এই আলেমগণ উল্লেখ করেননি, আমি সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি।

* এবং আমি এখানে কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করেছি এবং হাদীসগুলোর ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করেছি; আর এক্ষেত্রে আমি যেসব প্রধান গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি তা হলো:

১ - আল-খাত্তাবীর «মাআলিমুস সুনান»।

২ - ইবন আবদিল বার-এর «আত-তামহীদ»।

৩ - ইবন বাত্তালের «শারহু সহীহ আল-বুখারী»।

৪ - ইবনুল জাওযীর «কাশফুল মুশকিল মিন আস-সহীহাঈন»।

৫ - ইবনুল আসীরের «আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস»।

৬ - আন-নাওয়াবীর «শারহু সহীহ মুসলিম»।

৭ - ইবন দাকীক আল-ঈদের «শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ»।

৮ - ইবন রাজাবের «জামি’উল উলূমি ওয়াল হিকাম»।

৯ - ইবন হাজারের «ফাতহুল বারী»।

১০ - আল-আইনীর «উমদাতুল কারী»।

১১ - আল-মুনাভীর «ফায়যুল কাদীর»।

১২ - মোল্লা আলী কারীর «মিরকাতুল মাফাতীহ»।

১৩ - আল-ফাইয়ূমীর «আল-মিসবাহুল মুনীর»।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٩)
14 - «تاج العروس» للزَّبيدي.

15 - «شرح الأربعين» لابن عثيمين.

16 - «فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين» لعبد المحسن بن حمد العباد البدر.

* وقد رأيتُ أن أُقدِّم أمام هذه الأحاديث المختارة بمقدِّمة مختصرة تحتوي على منهج أهل السنة والجماعة في الاعتقاد وأحكام الشريعة العامة، اقتبستُها ممَّا وصل إلينا من عقائد أئمة أهل السنة والجماعة.

كما أورتُ في نهاية الكتاب القصيدة الحائية في أصول السنة للإمام أبي بكر بن الإمام أبي داود السجستاني رحمة الله عليهما.

وأخيرًا، أسأل الله العظيم أن ينفع بهذا الكتاب، وأن يكتب له القبول عنده وفي الأرض، وأن ينفعني به يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، وصلَّى الله وسلَّم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العلمين.

 

وكتب

محمد محب الدين أبو زيد

الإثنين الموافق 11 من صفر 1434 هـ

 

24 من ديسمبر 2012 م
১৪ - জাবীদীর ‘তাজুল আরুস’।

১৫ - ইবনে উসাইমীনের ‘শারহুল আরবাঈন’।

১৬ - আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদরের ‘ফাতহুল কাবিউল মাতীন ফী শারহিল আরবাঈন ওয়া তাতািম্মাতিল খামসীন’।

* আমি এই নির্বাচিত হাদীসসমূহের পূর্বে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পেশ করা সমীচীন মনে করেছি, যা আকিদাহ এবং শরীয়তের সাধারণ বিধানাবলীতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মানহাজ (নীতিমালা) অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ইমামগণের আকিদাহ সংক্রান্ত আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তা থেকে উদ্ধৃত করেছি।

একইভাবে আমি বইটির শেষে ইমাম আবু বকর বিন ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)-এর সুন্নাহর মূলনীতি বিষয়ক ‘আল-কাসিদাহ আল-হাইইয়াহ’ যুক্ত করেছি।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাবের মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং তাঁর নিকট ও পৃথিবীতে এর কবুলিয়াত লিখে দেন। আর এর মাধ্যমে যেন আমাকে সেই দিনে উপকৃত করেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

 

লিখেছেন

মুহাম্মাদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যাইদ

সোমবার, ১১ সফর ১৪৩৪ হিজরি

 

২৪ ডিসেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌منهج أهل السنة والجماعة

في الاعتقاد والأحكام العامة للشريعة

* أهل السنة والجماعة يؤمنون بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره.

* فيُقِرُّون بتوحيد الله في ربوبيته بأنه تعالى هو الخالق الرازق المُحيي المُميت، المالك لجميع المخلوقات، المُدَبِّر لجميع الأمور، المتصرِّف في كل مخلوقاته، لا شريك له في ملكه.

* كما يُقِرُّون بتوحيد الألوهية، وهو إفراد الله تعالى بالعبادة وحده لا شريك له، والإخلاص له، وخوفه ومحبته ورجاؤه والتوكُّل عليه، فلا يُعْبَد ولا يُدْعى ولا يُرْجى إلا الله وحده لا شريك له، ولا يُتوكَّل إلا عليه، ولا يُستغاث بغيره، ولا يُذبَح لغيره، ولا يُنذَر لغيره، لا لمَلَك مقرَّب ولا لنبي مرسَل.

* كما يؤمنون بكل ما ورد في الكتاب والسنة من أسماء الله وصفاته، ويثبتون ذلك على حقيقته من غير تكييف ولا تمثيل، ومن غير تحريف ولا تعطيل.

* فيؤمنون بأن الله فوق سماواته، مستوٍ على عرشه، عالٍ على خلقه، بائن منهم وهم بائنون منه، وأنَّ علمه في كل مكان.

* وأنَّ له سبحانه سمعًا وبصرًا ووجهًا وعينين ويدين وعلمًا وقوة وقدرة وعزة وعظمة وإرادة ومشيئة، وأنه يجيء يوم القيامة، ويَنزل إلى السماء الدنيا في ثلث الليل الآخر.

* وأنه سبحانه يتكلَّم ويَرضى ويسخط ويغضب ويُحب ويبغض ويَعجب ويضحك، وتعالى الله أن تكون صفاته كصفات المخلوقين.
আকিদাহ এবং শরীয়তের সাধারণ বিধানাবলির ক্ষেত্রে

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ বা পদ্ধতি

* আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান রাখে।

* তারা আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর তাওহীদকে স্বীকার করে যে, তিনি সুউচ্চ; তিনি স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, সমস্ত সৃষ্টির মালিক, সমস্ত বিষয়ের পরিচালক, তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর কর্তৃত্বশীল, তাঁর রাজত্বে কোনো শরীক নেই।

* তারা উলুহিয়্যাহর তাওহীদকেও স্বীকার করে, যা হলো ইবাদতে আল্লাহ তাআলাকে একক করা—যাঁর কোনো শরীক নেই; তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া, তাঁকে ভয় করা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর নিকট আশা রাখা এবং তাঁর ওপর ভরসা করা। সুতরাং আল্লাহ একক—যাঁর কোনো শরীক নেই—তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না, কাউকে ডাকা যাবে না এবং কারো কাছে আশা করা যাবে না। একমাত্র তাঁরই ওপর ভরসা করা হবে, তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করা যাবে না, অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবাই করা যাবে না এবং অন্য কারো নামে মানত করা যাবে না; তা কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা বা কোনো প্রেরিত রাসূলের জন্যও নয়।

* তারা কিতাব ও সুন্নাহয় আল্লাহর যে সমস্ত নাম ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর ওপরও ঈমান রাখে। তারা এগুলোকে এর প্রকৃত অর্থের ওপর সাব্যস্ত করে—কোনো ধরণ নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদান করা ব্যতীত এবং কোনো বিকৃতি ও অর্থহীন করা ব্যতীত।

* তারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাঁর আসমানসমূহের উপরে, তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে, তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক এবং সৃষ্টিও তাঁর থেকে পৃথক; আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় পরিব্যাপ্ত।

* আর তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) শ্রবণ, দর্শন, মুখমণ্ডল, দুই চোখ, দুই হাত, জ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা, মহিমা, মহানুভবতা, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় রয়েছে। তিনি কিয়ামতের দিন আসবেন এবং রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন।

* আর তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) কথা বলেন, সন্তুষ্ট হন, অসন্তুষ্ট হন, রাগান্বিত হন, ভালোবাসেন, ঘৃণা করেন, আশ্চর্য হন এবং হাসেন। আল্লাহ তাআলা সুউচ্চ—তাঁর গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির সদৃশ হওয়া থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١١)
* وأنَّ القرآن كلام الله غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود.

* ويؤمنون بالملائكة، وأنهم خُلِقوا من نور، وأنهم عباد مُكْرَمون، لا يعصون الله ما أمرهم ويفعلون ما يؤمرون، ويؤمنون بجبريل وميكائيل وإسرافيل ومَلَك الموت وحملة العرش والكِرام الكاتبين.

* ويؤمنون بكل كتاب أنزله الله، وبكل رسول أرسله الله، لا يُفَرِّقون بين أحد من رسله، دينهم واحد هو الإسلام، وشرائعهم متعددة نسختها الشريعة المحمدية الخاتمة.

* ويشهدون أنَّ محمدًا عبدُ الله ورسوله، وصفيُّه من خلقه وخليلُه، أرسله بالهدى ودين الحق ليُظهره على الدين كله ولو كره المشركون، أرسله إلى الإنس والجن شاهدًا ومبشِّرًا ونذيرًا، وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، فلا عقيدة إلا عقيدته، ولا حقيقة إلا حقيقته، ولا طريقة إلا طريقته، ولا شريعة إلا شريعته، ولا يَصِلُ أحد من الخلق إلى الله وإلى رضوانه وجنته وكرامته وولايته، إلا بمتابعته باطنًا وظاهرًا، في الاعتقادات والأقوال والأعمال الباطنة والظاهرة، ولا يسمع به يهودي ولا نصراني ثم لا يؤمن به إلا كان كافرًا خالدًا مخلَّدًا في نار جهنم.

* ويعلمون أنه أعلمُ الخلق وأصدقهم وأنصحهم للناس، فيُعظِّمونه ويوقِّرونه ويُحبُّونه، ويُقَدِّمون محبته على أنفسهم وأهليهم والناس أجمعين، ويتخذونه أسوة حسنة، ويُقَدِّمون قوله وهديه على قول كل أحد وهديه، ويُعظِّمون أحاديثه ويُصدِّقونها ويتَّبعونها، ويعلمون أنه لم يُبق خيرًا إلا ودلَّ أمته عليه، ولا شرًا إلا وحذَّرهم منه.
আর কুরআন আল্লাহর কালাম, এটি সৃষ্টি নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে।

এবং তাঁরা ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান রাখেন যে, তাঁদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাঁরা সম্মানিত বান্দা; আল্লাহ তাঁদের যা নির্দেশ দেন তাঁরা তাতে অবাধ্য হন না এবং তাঁরা যা আদিষ্ট হন তা-ই পালন করেন। তাঁরা জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফীল, মৃত্যুর ফেরেশতা, আরশ বহনকারীগণ এবং সম্মানিত লেখকবৃন্দের প্রতি ঈমান রাখেন।

আর তাঁরা আল্লাহর নাযিলকৃত প্রতিটি কিতাব এবং প্রেরিত প্রতিটি রাসূলের প্রতি ঈমান রাখেন। তাঁরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। তাঁদের দ্বীন এক, যা হলো ইসলাম; তবে তাঁদের শরীয়তসমূহ ছিল বহুবিধ, যা সর্বশেষ মুহাম্মাদী শরীয়ত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।

এবং তাঁরা সাক্ষ্য দেন যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত এবং তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। তিনি তাঁকে মানুষ ও জিনের নিকট সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং তাঁর আকিদা ছাড়া কোনো আকিদা নেই, তাঁর সত্য ছাড়া কোনো সত্য নেই, তাঁর পথ ছাড়া কোনো পথ নেই এবং তাঁর শরীয়ত ছাড়া কোনো শরীয়ত নেই। সৃষ্টির কোনো ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট, তাঁর সন্তুষ্টি, জান্নাত, সম্মান ও নৈকট্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না—যতক্ষণ না সে অন্তরে ও প্রকাশ্যে, বিশ্বাসে, কথায় এবং প্রকাশ্য ও গোপন আমলের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করবে। কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান যদি তাঁর সম্পর্কে শোনার পর তাঁর ওপর ঈমান না আনে, তবে সে কাফির হিসেবে জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ী হবে।

আর তাঁরা জানেন যে, তিনি সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী, সর্বাধিক সত্যবাদী এবং মানুষের জন্য সর্বাধিক হিতাকাঙ্ক্ষী। ফলে তাঁরা তাঁকে সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন এবং ভালোবাসেন; তাঁরা নিজেদের প্রাণ, পরিবার-পরিজন এবং সকল মানুষের চেয়ে তাঁর ভালোবাসাকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁরা তাঁকে উত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর কথা ও হেদায়েতকে অন্য যে কারও কথা ও হেদায়েতের ওপর প্রাধান্য দেন। তাঁরা তাঁর হাদিসসমূহকে সম্মান করেন, সেগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন ও অনুসরণ করেন। তাঁরা জানেন যে, এমন কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট নেই যার দিকে তিনি তাঁর উম্মতকে পথ দেখাননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٢)
* ويعتقدون أن الله جمع له من الفضائل والخصائص والكمالات ما لم يجمعه لأحد، فهو أعلى الخلق مقامًا، وأعظمهم جاهًا، وأكملهم في كل فضيلة، فصلى الله عليه وسلم في الأولى والآخرة.

* ويؤمنون بما صح من أشراط الساعة: من خروج الدجال، وأنه مكتوب بين عينيه كافر، يقرؤه كل مؤمن كاتب وغير كاتب، ونزول المسيح عيسى ابن مريم عليه السلام من السماء فيقتل الدجال بباب لُدٍّ، وخروج يأجوج ومأجوج، وطلوع الشمس من مغربها، وخروج دابة الأرض من موضعها.

* وينزل عيسى ابن مريم عليه السلام في آخر الزمان، فيقتل الخنزير، ويكسر الصليب، ويضع الجزية، فلا يقبل إلا الإسلام.

* ويؤمنون بعذاب القبر ونعيمه، وسؤال الملَكين منكَر ونكير، يسألان العبد: مَن ربُّك؟ وما دينك؟ ومَن الرجل الذي بُعث فيكم؟

* ويؤمنون بالبعث بعد الموت يوم القيامة، وبكل ما أخبر الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم من أهوال ذلك اليوم الحق: من أخذ الكتب باليمين والشمال ومن وراء الظهر، ومن وزن الأعمال بميزان له كفتان ولسان، ومن المرور على صراط بين ظَهْرَانَيْ جهنم، أدق من الشعر وأَحَدِّ من السيف، وفي حافَّتَيْ الصراط كلاليب معلَّقة مأمورة بأَخْذ مَن أُمِرَت به، فناجٍ مُسَلَّم، ومخدوش مُرْسَل، ومكدوس في النار.

* ويؤمنون بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم لأهل الكبائر من أمته، وباختصاصه بالحوض والكوثر.

* ويؤمنون بإدخال فريق من المؤمنين الجنة بغير حساب، ومحاسبة فريق
তারা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাঁর জন্য এমন সব ফযিলত, বৈশিষ্ট্য এবং পূর্ণতা একত্রিত করেছেন যা অন্য কারও জন্য করেননি। সুতরাং তিনি মর্যাদায় সৃষ্টির সেরা, সম্মানে মহান এবং প্রতিটি সদ্গুণে সবচেয়ে পূর্ণ। দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আর কিয়ামতের সহীহ আলামতসমূহের প্রতি তারা ঈমান রাখেন: যেমন দাজ্জালের বহির্ভুত হওয়া, এবং তার দুই চোখের মাঝখানে 'কাফির' লেখা থাকা, যা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিই পড়তে পারবে। আকাশ থেকে ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ, অতঃপর তিনি দাজ্জালকে 'লুদ' নামক গেটের কাছে হত্যা করবেন। ইয়াজুজ ও মাজুজের বের হওয়া, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া এবং নিজ স্থান থেকে ভূগর্ভস্থ প্রাণীর নির্গমন।

এবং শেষ জামানায় ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম অবতীর্ণ হবেন। তিনি শূকর হত্যা করবেন, ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন এবং জিজয়া রহিত করবেন; ফলে ইসলাম ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করা হবে না।

তারা কবরের আযাব ও নেয়ামতের ওপর এবং দুই ফেরেশতা মুনকার ও নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদের ওপর বিশ্বাস করেন; তারা বান্দাকে প্রশ্ন করবেন: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমাদের মাঝে প্রেরিত সেই ব্যক্তিটি কে?

তারা কিয়ামতের দিন মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর ঈমান রাখেন এবং সেই সত্য দিবসের ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার সবকিছুর ওপর বিশ্বাস করেন। যেমন: ডান হাতে, বাম হাতে ও পিঠের পিছন দিক থেকে আমলনামা গ্রহণ করা; দুই পাল্লা ও কাঁটা বিশিষ্ট মিজানের মাধ্যমে আমল ওজন করা; এবং জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাত পার হওয়া, যা চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়েও ধারালো। পুলসিরাতের দুই পাশে ঝুলন্ত বড় বড় আংটা থাকবে, যেগুলোকে পাকড়াও করার আদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে পাকড়াও করার জন্য নির্দেশ দেওয়া থাকবে। ফলে কেউ সহিহ-সালামতে নাজাত পাবে, কেউ হবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত, আর কেউ উপুড় হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

তারা নিজ উম্মতের কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতের (সুপারিশের) ওপর বিশ্বাস করেন এবং তাঁর জন্য নির্দিষ্ট হাউজ ও কাউসারের ওপর ঈমান রাখেন।

তারা বিশ্বাস করেন যে মুমিনদের একটি দলকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং অপর একটি দলের হিসাব গ্রহণ করা হবে।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٣)
منهم حسابًا يسيرًا، وإدخالهم الجنة بغير سوء يمسهم وعذاب يلحقهم، وإدخال فريق من مذنبيهم النار ثم إخراجهم منها وإلحاقهم بإخوانهم الذين سبقوهم إلى الجنة، ولا يترك الله أحدًا من عصاة أهل الإيمان في النار، بل يُخرِج الله مَن كان في قلبه مثقال ذرة من إيمان، فأما الكفار فإنهم يُخَلَّدون فيها ولا يخرجون منها أبدًا.

* ويشهدون أن المؤمنين يرون ربهم يوم القيامة بأبصارهم، لا يَشُكُّون في رؤيته.

* ويشهدون أن الجنة والنار مخلوقتان موجودتان الآن، باقيتان لا تبيدان ولا تفنيان، وأنه لا يدخل الجنة أحد من أهل الشرك، ولا يبقى في النار أحد من أهل الإسلام، وأن الكفار في النار لا يخرجون منها أبدًا، وأهل الجنة لا يخرجون منها أبدًا، وأن الموت يُؤتى به على صورة كبش فيُذبح بين الجنة والنار، وينادي منادٍ يومئذ: يا أهل الجنة خلود فلا موت، ويا أهل النار خلود فلا موت.

* ويعتقدون أنَّ الإيمان قول وعمل، يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية.

* وأن المؤمن لا يَكفر بما اقترفه من صغائر وكبائر ولو كثرت، وإن مات ولم يتب منها -وكان على التوحيد- فإن أمره إلى الله، إن شاء عفا عنه وأدخله الجنة بلا عذاب، وإن شاء عذَّبه مدة في النار ولم يُخلِّده فيها، بل يُخْرجه منها إلى الجنة.

* ويؤمنون بالقدر خيره وشره حُلوه ومُرِّه من الله، عَلِمَ الله ما العباد عاملوه قبل أن يعملوه، وكتب كل شيء في اللوح المحفوظ قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين ألف سنة، وأفعال العباد وأكسابهم مخلوقة لله تعالى.
তাদের থেকে সহজ হিসাব নেওয়া হবে এবং কোনো অনিষ্ট ও শাস্তি তাদের স্পর্শ করা ছাড়াই তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর তাদের মধ্যকার একদল অপরাধীকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে, অতঃপর সেখান থেকে তাদের বের করে তাদের সেই ভাইদের সাথে মিলিত করা হবে যারা তাদের আগে জান্নাতে চলে গেছেন। আল্লাহ ঈমানদারদের মধ্যকার কোনো অবাধ্য ব্যক্তিকে জাহান্নামে ছেড়ে দেবেন না, বরং যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে আল্লাহ তাকে বের করে আনবেন। পক্ষান্তরে কাফেররা সেখানে চিরস্থায়ী হবে এবং সেখান থেকে তারা কখনো বের হবে না।

* এবং তারা সাক্ষ্য দেয় যে, মুমিনরা কিয়ামতের দিন তাদের রবকে স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করবে, তাঁর দর্শনে তারা কোনো সন্দেহ পোষণ করবে না।

* এবং তারা সাক্ষ্য দেয় যে, জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমানে সৃষ্টিগতভাবে বিদ্যমান রয়েছে; এ দুটি অবশিষ্ট থাকবে, কখনো ধ্বংস বা বিলীন হবে না। আরও সাক্ষ্য দেয় যে, শিরককারীদের কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং ইসলামপন্থীদের কেউ জাহান্নামে অবশিষ্ট থাকবে না। কাফেররা জাহান্নাম থেকে কখনো বের হবে না এবং জান্নাতবাসীরাও জান্নাত থেকে কখনো বের হবে না। মৃত্যুকে একটি দুম্বার আকৃতিতে আনা হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে তা জবাই করা হবে। সেদিন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবেন: হে জান্নাতবাসীরা! এটি অনন্তকাল, আর কোনো মৃত্যু নেই; এবং হে জাহান্নামীরা! এটি অনন্তকাল, আর কোনো মৃত্যু নেই।

* তারা বিশ্বাস করে যে, ঈমান হলো কথা ও কাজের সমষ্টি, যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে হ্রাস পায়।

* আর মুমিন ব্যক্তি তার কৃত ছোট বা বড় কোনো পাপের কারণে কাফের হয়ে যায় না, যদিও তা অনেক বেশি হয়। সে যদি তওবা ছাড়া মারা যায়—অথচ সে তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল—তবে তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করে শাস্তি ব্যতিরেকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আর চাইলে তাকে নির্দিষ্ট কাল জাহান্নামে শাস্তি দেবেন কিন্তু সেখানে তাকে চিরস্থায়ী করবেন না, বরং তাকে সেখান থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

* তারা তাকদীরের ভালো-মন্দ এবং মিষ্টি ও তিক্ততার ওপর বিশ্বাস রাখে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। বান্দারা কী আমল করবে তা তারা করার পূর্বেই আল্লাহ জানতেন। তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই লওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রেখেছেন। আর বান্দাদের কার্যাবলি ও উপার্জনসমূহ মহান আল্লাহরই সৃষ্টি।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٤)
* للرب مشيئة وللعباد مشيئة، ولا تنفذ مشيئة العباد إلا بمشيئة الله، وما تشاؤون إلا أن يشاء الله. لا يتحرك متحرِّك، ولا يسكن ساكن، ولا يحدث شيء في السماوات والأرض إلا بتقدير الله وإذنه ومشيئته.

* ويشهدون أنَّ الله يهدي مَن يشاء ويضل مَن يشاء، لا حُجة لمَن أضله الله عليه، ولا عذر له لديه، وجعل سبحانه الخلق فريقين؛ فريقًا في الجنة فضلًا، وفريقًا في النار عدلًا، لا يُسئل عما يفعل وهم يُسئلون.

* ويعتقدون أن أحدًا لا تجب له الجنة وإنْ كان عمله حسنًا إلا أنْ يتفضَّل الله عليه فيوجبها له بمنِّه وفضله؛ إذ عَمَلُ الخير الذي عَمِله لم يتيسَّر له إلا بتيسير الله، فلو لم ييسِّره له، ولو لم يهده لم يهتد له أبدًا، قال تعالى: {وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ} [الأعراف: 43].

* والله عز وجل مريد إرادة كونية قدرية لجميع أعمال العباد خيرها وشرها، وإيمان المؤمنين وكفر الكافرين بإرادة الله ومشيئته، ويرضى الإيمانَ والطاعة، ويسخط الكفر والمعصية.

* ويؤمن أهل السنة أن الخير والشر والنفع والضر بقضاء الله وقدره، لا يُصيب الإنسان إلا ما كتبه له ربُّه، ولو اجتمع الخلق أن ينفعوه بشيء لم يكتبه الله له لم يستطيعوا، ولو اجتمعوا على أن يضروه بشيء لم يكتبه الله عليه لم يستطيعوا.

* ومع إيمان أهل السنة بقضاء الله وقدره، فإنهم يصبرون على مُرِّ القضاء، ويشكرون عند النعماء، ويُفَوِّضون أمورهم كلَّها لربهم سبحانه وتعالى.

* ويعتقدون أن الله أجَّل لكل مخلوق أجلًا، وأنَّ نفسًا لن تموت إلا بإذن الله
রবের ইচ্ছা রয়েছে এবং বান্দাদেরও ইচ্ছা রয়েছে, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত বান্দাদের ইচ্ছা কার্যকর হয় না। আর আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত তোমরা কিছুই চাও না। কোনো সচল ব্যক্তি নড়াচড়া করে না এবং কোনো স্থির ব্যক্তি স্থির থাকে না, আর আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই ঘটে না আল্লাহর নির্ধারণ, অনুমতি ও ইচ্ছা ব্যতীত।

তাঁরা সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আল্লাহর বিরুদ্ধে তার কোনো দলিল নেই এবং তাঁর নিকট তার কোনো ওজর নেই। তিনি সুবহানাহু সৃষ্টিজগতকে দুই দলে বিভক্ত করেছেন; একদল জান্নাতে যাবে তাঁর অনুগ্রহে, আর অন্য দল জাহান্নামে যাবে তাঁর ন্যায়বিচারের কারণে। তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।

তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, কারো আমল ভালো হলেও তার জন্য জান্নাত অনিবার্য হয়ে যায় না, যতক্ষণ না আল্লাহ তার ওপর অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর দান ও করুণায় তা তার জন্য অবধারিত করেন; কেননা সে যে নেক আমল করেছে তা আল্লাহর সহজ করে দেওয়া ব্যতীত তার জন্য সম্ভব হতো না। তিনি যদি তার জন্য তা সহজ না করতেন এবং হিদায়াত না দিতেন, তবে সে কখনোই হিদায়াত প্রাপ্ত হতো না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা কক্ষনো হিদায়াত পেতাম না।" [আল-আরাফ: ৪৩]।

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বান্দাদের সমস্ত কাজ—তার ভালো ও মন্দ—উভয়টির জন্যই সৃষ্টিগত ও তাকদিরি ইচ্ছা (ইরাদায়ে কাউনিয়া কাদরিয়া) পোষণ করেন। মুমিনদের ঈমান এবং কাফিরদের কুফর আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুযায়ীই ঘটে। তিনি ঈমান ও আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং কুফর ও পাপাাচারে অসন্তুষ্ট হন।

আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করেন যে, কল্যাণ ও অকল্যাণ এবং লাভ ও ক্ষতি আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী হয়। মানুষের ওপর কেবল তা-ই আপতিত হয় যা তার রব তার জন্য লিখে রেখেছেন। যদি সমস্ত সৃষ্টিজগত একত্রিত হয়ে তাকে এমন কোনো উপকার করতে চায় যা আল্লাহ তার জন্য লেখেননি, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না। আর যদি তারা সবাই মিলে তার এমন কোনো ক্ষতি করতে চায় যা আল্লাহ তার ভাগ্যে লেখেননি, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না।

আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি ঈমান রাখার পাশাপাশি আহলুস সুন্নাহ তাকদীরের তিক্ততায় সবর করেন, নেয়ামত প্রাপ্তিতে শোকর করেন এবং তাদের যাবতীয় বিষয় তাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর সোপর্দ করেন।

তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ প্রতিটি সৃষ্টির জন্য একটি আয়ু নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রাণই মৃত্যুবরণ করবে না।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٥)
كتابًا مؤجَّلًا، وأنه إذا انقضى أجل المرء فليس إلا الموت، وليس منه فوت.

* ويعتقدون أن عواقب العباد مُبهَمة، لا يدري أحد بما يُخْتَم له، ولا يحكمون لواحد بعينه أنه من أهل الجنة أو أنه من أهل النار.

* فأما الذين شهد لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من أصحابه بأعيانهم أنهم من أهل الجنة، فإن أهل السنة يشهدون لهم بذلك؛ تصديقًا منهم للرسول صلى الله عليه وسلم، وقد بشَّر صلى الله عليه وسلم عشرة من أصحابه بالجنة وهم: أبو بكر الصديق، وعمر بن الخطاب، وعثمان بن عفان، وعلي بن أبي طالب، وطلحة بن عُبيد الله، والزُّبير بن العوام، وعبد الرحمن بن عوف، وسعد بن أبي وقَّاص، وسعيد بن زيد، وأبو عُبيدة بن الجراح.

* وكذلك شهد لغير هؤلاء بالجنة مثل: ثابت بن قيس بن شمَّاس، وبلال بن رباح، وعُكَّاشة بن مِحْصَن، وغيرهم.

* ويشهدون أن أفضل الصحابة: أبو بكر، ثم عمر، ثم عثمان، ثم علي، وأنهم الخلفاء الراشدون المهدِيُّون، ثم بعد هؤلاء في الفضل بقية العشرة المبشَّرين بالجنة.

* ثم أفضل الناس بعد هؤلاء بقية أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، وأدنى الصحابة منزلة أفضل من أعلى التابعين منزلة، ولو أتى التابعي بكل أعمال الخير كان الصحابي أفضل منه؛ لأن منزلة الصحبة لا تعدلها منزلة.

* ويتولَّون صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم ويحبونهم ويعرفون حقَّهم وفضلهم، ويتبرؤون ممن يبغضهم أو يكفِّرهم، من الشيعة الرافضة والخوارج المارقة، لعنهم الله وأصمهم وأعمى أبصارهم.
একটি নির্ধারিত লিখিত বিধান, এবং যখন কোনো ব্যক্তির নির্ধারিত আয়ু শেষ হয়ে যায়, তখন মৃত্যু ব্যতিরেকে আর কিছুই থাকে না এবং তা থেকে পলায়নের কোনো পথ নেই।

* এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন যে বান্দাদের পরিণাম অস্পষ্ট, কেউ জানে না কার শেষ পরিণতি কী হবে, আর তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জান্নাতি বা জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা করেন না।

* তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে যাঁদের নাম নির্দিষ্ট করে জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন, আহলে সুন্নাহ তাঁদের জন্য সেই সাক্ষ্যই প্রদান করে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বিশ্বাস ও তাঁর সত্যায়ন স্বরূপ। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দশজন সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা হলেন: আবু বকর সিদ্দীক, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান, আলী ইবনে আবি তালিব, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সাঈদ ইবনে যায়েদ এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।

* অনুরূপভাবে তিনি এঁদের ব্যতীত অন্যদের ব্যাপারেও জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন যেমন: সাবিত ইবনে কায়স ইবনে শাম্মাস, বিলাল ইবনে রাবাহ, উক্কাশা ইবনে মিহসান এবং আরও অনেকে।

* এবং তাঁরা সাক্ষ্য দেন যে সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন: আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান, তারপর আলী, এবং তাঁরাই হলেন সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীন। এরপর মর্যাদার ক্রমানুসারে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত অবশিষ্ট দশজন।

* অতঃপর এঁদের পরে সর্বোত্তম মানুষ হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবশিষ্ট সাহাবীগণ। মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন স্তরের সাহাবীও সর্বোচ্চ স্তরের তাবিঈর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যদি কোনো তাবিঈ সমস্ত নেক আমলও সম্পাদন করেন, তবুও সাহাবী তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবেন; কারণ সাহচর্যের মর্যাদার সমতুল্য কোনো মর্যাদা নেই।

* তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন, তাঁদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের অধিকার ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন। আর যারা তাঁদের ঘৃণা করে কিংবা তাঁদের কাফির বলে—যেমন রাফেজি শিয়া ও ধর্মচ্যুত খারেজি—তাদের সাথে তাঁরা সম্পর্ক ছিন্ন করেন; আল্লাহ তাদের অভিশপ্ত করুন, তাদের বধির করুন এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি অন্ধ করে দিন।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٦)
* ويرون الكفَّ عمَّا شجر بين الصحابة، وعدمَ ذِكْرِ مساويهم، وَنشْرَ فضائلهم ومحاسنهم، والترحُّمَ عليهم جميعًا، وأنهم أحق أن يُلْتَمس لهم أحسنُ المخارج، وأن يُظَنَّ بهم أحسنُ المذاهب.

* ومعاوية بن أبي سفيان خال المؤمنين، وكاتب وحي رب العالمين، وأحد خلفاء المسلمين.

قال الإمام أحمد بن حنبل: إذا رأيتَ رجلًا يذكر أحدًا من الصحابة بسوء فاتهمه على الإسلام.

وسُئل رحمه الله عن رجل تنقَّص معاوية وعمرو بن العاص: أيقال له رافضي؟ فقال: إنه لم يجترِئ عليهما إلا وله خبيئة سوء، ما انتقص أحدٌ أحدًا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا وله داخلة سوء.

* ويَرَوْن تعظيم أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، والدعاء لهن، ومعرفة فضلهن، والإقرار بأنهن أمهات المؤمنين.

* ويعرفون فضل آل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويحبونهم ويوقِّرونهم، ويحفظون وصية رسول الله صلى الله عليه وسلم فيهم، ويتبرءون من طريقة النواصب الذين يبغضونهم. ولا يَغْلُون فيهم، ولا يرفعونهم فوق منزلتهم، ولا يَدْعونهم من دون الله، كما يفعله الشيعة الرافضة وغلاة المتصوِّفة.

* ولا يَرَوْن القتال في الفتنة التي تحدث بين المسلمين في التنازع على الدنيا، ويلزمون الجماعة، ويعتزلون الفتن، ويرون السمع والطاعة لولاة الأمر ما لم يأمروا بمعصية، فإن أمروا بمعصية فلا سمع ولا طاعة، ولا يرون الخروج عليهم، ويصبرون على ما كان منهم من ظلم وجور.
তারা সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে মৌনতা অবলম্বন করা, তাদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা না করা, তাদের মর্যাদা ও গুণাবলি প্রচার করা, তাদের সকলের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা এবং তারা যে সর্বোত্তম ব্যাখ্যা পাওয়ার যোগ্য এবং তাদের ব্যাপারে সর্বোত্তম ধারণা পোষণ করা উচিত—এতে বিশ্বাস করেন।

আর মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান হলেন মুমিনদের মামা, রাব্বুল আলামীনের ওহী লেখক এবং মুসলিমদের অন্যতম খলিফা।

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে সাহাবায়ে কিরামের কাউকেও মন্দভাবে উল্লেখ করতে দেখবেন, তখন তার ইসলামের সততার ব্যাপারে তাকে অভিযুক্ত করবেন।

তাঁকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আসকে অবজ্ঞা করে: তাকে কি রাফেযী বলা হবে? তিনি বললেন: সে তাদের বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখায়নি কেবল তার অন্তরে লুকায়িত কোনো মন্দের কারণেই; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীকে যে কেউ অবজ্ঞা করে, তার অন্তরে অবশ্যই কোনো মন্দ অভিসন্ধি থাকে।

এবং তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র স্ত্রীদের সম্মান করা, তাঁদের জন্য দুআ করা, তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করা এবং তাঁরা যে মুমিনদের মাতা—এ বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করা আবশ্যক মনে করেন।

আর তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহলে বায়ত বা পরিবারবর্গের মর্যাদা জানেন, তাঁদের ভালোবাসেন ও সম্মান করেন এবং তাঁদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসিয়ত রক্ষা করেন। তারা সেই নাওয়াসিবদের পথ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন যারা তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তারা তাঁদের ব্যাপারে কোনো অতিরঞ্জন করেন না, তাঁদেরকে তাঁদের প্রকৃত মর্যাদার ঊর্ধ্বে স্থান দেন না এবং তাঁদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে আহ্বান করেন না, যেমনটি শিয়া রাফেযী ও চরমপন্থী সুফিরা করে থাকে।

তারা দুনিয়াবী স্বার্থে মুসলিমদের মধ্যে সৃষ্ট কোনো ফিতনায় লড়াই করা সমীচীন মনে করেন না; তারা জামাআতকে আঁকড়ে ধরেন, ফিতনা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন এবং শাসকগোষ্ঠীর কথা শোনা ও তাদের আনুগত্য করাকে আবশ্যক মনে করেন যতক্ষণ না তারা পাপাচারের আদেশ দেয়। যদি তারা পাপাচারের আদেশ দেয়, তবে কোনো শোনা বা আনুগত্য নেই; তারা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ মনে করেন না এবং তাদের পক্ষ থেকে সংঘটিত যুলুম ও অন্যায়ের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٧)
* ويعتقدون أن الله خلق الشياطين، يوسوسون للآدميين، ويقصدون استزلالهم، وأنه تعالى يسلِّطهم على مَن يشاء، ويعصم مِن كيدهم ومكرهم مَن يشاء.

* ويشهدون أن في الدنيا سِحرًا وسَحَرة، إلا أنهم لا يضرون أحدًا إلا بإذن الله، وأنَّ مَن سحر واستعمل السحر واعتقد أنه يضر وينفع بغير إذن الله فقد كفر.

* ولا يُصَدِّقون كاهنًا ولا عرَّافًا، ولا مَن يدَّعي شيئًا يخالف الكتاب والسنة وإجماع الأمة.

* ويبتعدون عن آراء الفلاسفة وأهل الكلام، والخوضُ في الفلسفة والمنطق والكلام عندهم بدعة منكرة، حدثت لأن بعض الناس لم يقنعوا بالكتاب والسنة في إثبات الاعتقادات وأحكام الشريعة، فنظروا في مذاهب الفلاسفة الملاحدة، فحملهم ذلك على مذاهب باطلة أفسدوا بها عقائد المسلمين، وليس بالعقيدة وأحكام الشريعة افتقار إلى الفلسفة والمنطق أصلًا. والحمد لله.

* ويوقنون أن العقل الصريح يوافق النقل الصحيح ويؤيده، وكلُّ ما خالف الكتاب والسنة وطريق سلف الأمة فهو مخالف لصريح المعقول.

* ويتحابُّون في الدين ويتباغضون فيه، فيُحبون أهل الإسلام ويوالونهم، ويبغضون أهل الكفر ويعادونهم ويتبرؤون منهم، ومع بغضهم للكفار فإنهم يُحسنون إلى أهل الذمة منهم كما أمر الرسول صلى الله عليه وسلم.

* ويتقون الجدال والخصومات في الدين، ويجانبون أهل البدع والضلالات، ويُعادون أصحاب الأهواء والجهالات، ومع هذا، فإنهم يحرصون على جمع كلمة المسلمين، ويسعون في تقريب قلوبهم وتأليفها، ويحذِّرون من التفرُّق
তারা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ শয়তানদের সৃষ্টি করেছেন, যারা আদম সন্তানদের কুমন্ত্রণা দেয় এবং তাদের পদস্খলন ঘটানোর সংকল্প করে। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাদের ওপর শয়তানদের আধিপত্য দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তাদের ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল থেকে রক্ষা করেন।

তারা সাক্ষ্য দেয় যে দুনিয়াতে জাদু এবং জাদুকর রয়েছে, তবে তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারও ক্ষতি করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি জাদু করে, জাদু ব্যবহার করে এবং বিশ্বাস করে যে তা আল্লাহর অনুমতি ছাড়াই ক্ষতি বা উপকার করতে পারে, সে কুফরি করল।

তারা কোনো গণক বা জ্যোতিষীকে বিশ্বাস করে না, এবং এমন কাউকেও বিশ্বাস করে না যে কিতাব, সুন্নাহ ও উম্মতের ঐকমত্যের পরিপন্থী কোনো কিছু দাবি করে।

তারা দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের মতামত থেকে দূরে থাকে। তাদের নিকট দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও কালাম শাস্ত্রে নিমগ্ন হওয়া একটি গর্হিত বিদআত। এটি এই কারণে উদ্ভাবিত হয়েছে যে, কিছু মানুষ আকিদা ও শরিয়তের বিধানসমূহ প্রমাণের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকতে পারেনি। ফলে তারা নাস্তিক দার্শনিকদের মতবাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেছে, যা তাদের এমন সব বাতিল মতবাদের দিকে ধাবিত করেছে যার মাধ্যমে তারা মুসলিমদের আকিদা বিনষ্ট করেছে। মূলত আকিদা ও শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার কোনো মুখাপেক্ষিতা আদৌ নেই। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, স্বচ্ছ বিবেক সহিহ শাস্ত্রীয় বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং একে সমর্থন করে। কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের পথের পরিপন্থী যা কিছু রয়েছে, তা স্বচ্ছ বিবেকেরও পরিপন্থী।

তারা দ্বীনের খাতিরেই পরস্পরকে ভালোবাসে এবং দ্বীনের খাতিরেই ঘৃণা পোষণ করে। তারা ইসলাম অনুসারীদের ভালোবাসে ও তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে এবং কুফরি অবলম্বনকারীদের ঘৃণা করে, তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে ও তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কাফেরদের প্রতি ঘৃণা থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের মধ্যকার জিম্মিদের সাথে সদাচরণ করে, যেভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন।

তারা দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক ও বিবাদ পরিহার করে এবং বিদআত ও ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলে। তারা প্রবৃত্তি পূজারি ও মূর্খদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। এতদসত্বেও তারা মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করতে আগ্রহী এবং তাদের অন্তরসমূহকে নিকটবর্তী ও সুসংহত করার চেষ্টা করে, আর তারা অনৈক্য ও বিভেদ থেকে সতর্ক করে।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٨)
والتعادي والتباغض والتحاسد.

* ويقتدون بالنبي صلى الله عليه وسلم وبأصحابه والسلف الصالحين وأئمة الدين وعلماء المسلمين، ويتمسَّكون بما كانوا به متمسِّكين، من الدين المتين والحق المبين.

* ويعتقدون أنه لا سبيل إلى إصلاح هذه الأمة وعزتها ونُصرتها إلا باتباع الكتاب والسنة بفهم سلف الأمة، فإنه لا يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها.

* ويَرَوْن المسارعة إلى أداء الصلوات في أوقاتها مع الاطمئنان والخشوع فيها، ويتواصون بقيام الليل، وبصلة الأرحام، وبر الوالدين، والإحسان إلى الجيران، وإفشاء السلام، وإطعام الطعام، والرحمة على الفقراء والمساكين والأيتام، والاهتمام بأمور المسلمين، والتعفُّف في المأكل والمشرب والمنكح والملبس، والعدل والإنصاف في جميع المعاملات ومع جميع الناس، والسعي في الخيرات، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والإحسان إلى الخلق أجمعين، وينهون عن أذية الخلق في دمائهم وأموالهم وأعراضهم، ويتواصون بالحق والصبر، ويدعون إلى مكارم الأخلاق ومحاسنها، وينهون عن مساوئ الأخلاق وأراذلها.

* هذا جملة ما عليه السلف الصالح، أصحاب الحديث والأثر، أهل السنة والجماعة، وهم الطائفة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة، جعلنا الله منهم وحشرنا معهم يوم القيامة، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.
এবং পারস্পরিক শত্রুতা, বিদ্বেষ ও হিংসা।

* এবং তাঁরা অনুসরণ করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে, তাঁর সাহাবীগণকে, সালাফে সালেহীনকে, দ্বীনের ইমামগণকে এবং মুসলিম উলামাদেরকে। তাঁরা সেই সুদৃঢ় দ্বীন ও সুস্পষ্ট হককে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেন, যা তাঁরা আঁকড়ে ধরেছিলেন।

* এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, এই উম্মতের সংশোধন, সম্মান ও বিজয় অর্জনের কোনো পথ নেই কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ ব্যতীত উম্মতের সালাফদের বুঝ অনুযায়ী। কারণ, এই উম্মতের শেষাংশকে তা ব্যতীত সংশোধন করা সম্ভব নয়, যা দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।

* এবং তাঁরা নামাজের সময় হওয়ার সাথে সাথে ধীরস্থিরতা ও খুশু-খুজুর সাথে তা আদায় করার ব্যাপারে তৎপর হওয়াকে আবশ্যক মনে করেন। তাঁরা একে অপরকে কিয়ামুল লাইল, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, প্রতিবেশীর প্রতি ইহসান, সালামের প্রসার ঘটানো, অন্নদান করা, দরিদ্র, মিসকিন ও এতিমদের প্রতি দয়া প্রদর্শন, মুসলিমদের সার্বিক বিষয়ে গুরুত্বারোপ, পানাহার, বিবাহ ও পোশাক-পরিচ্ছদে পবিত্রতা বজায় রাখা, সকল লেনদেনে এবং সকল মানুষের সাথে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার করা, কল্যাণকর কাজে ধাবিত হওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং সকল সৃষ্টির প্রতি ইহসান করার উপদেশ দেন। তাঁরা মানুষের জান, মাল ও সম্মানের ক্ষতি করা থেকে নিষেধ করেন। তাঁরা সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেন, উত্তম ও সুন্দর চরিত্রের দিকে আহ্বান করেন এবং মন্দ ও নিকৃষ্ট চরিত্র থেকে নিষেধ করেন।

* এটিই সালাফে সালেহীন, আসহাবুল হাদীস ওয়াল আসার তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সামগ্রিক আদর্শ। তাঁরাই কিয়ামত পর্যন্ত নাজাতপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দল। আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং কিয়ামতের দিন তাঁদের সাথে আমাদের হাশর করুন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌التوحيد

1 - عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ (1)، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى (2)، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ (3)، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ (4)» (5). مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

 

2 - عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ رِدْفَ (6) النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى حِمَارٍ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ، فَقَالَ: «يَا مُعَاذُ، هَلْ تَدْرِي ما حَقُّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ؟ وَمَا حَقُّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ؟». قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا

--------------------------------------------

(1) النية: هي قصد القلب، وليس من السنة التلفظ بها. والمراد: أن صلاح الأعمال وفسادها بحسب صلاح النية وفسادها.

(2) أي: أن حظ العامل من عمله نيته، فإن كانت صالحة، فعمله صالح، فله أجره، وإن كانت فاسدة، فعمله فاسد، فعليه وزره.

(3) أي: من قصد بهجرته وجه الله فهجرته مقبولة عند الله ورسوله، وقد وقع أجره على الله.

(4) أي: من قصد بهجرته دنيا أو امرأة فهي حظه، ولا نصيب له في الآخرة.

(5) قال الإمام الآجري في «الأربعين» (ص: 79): «اعلم أن هذا الحديث أصل من أصول الدين، لا يجوز لأحد من المسلمين أن يؤدي ما افترض الله عز وجل عليه من فريضة، ولا يتقرب إليه بنافلة إلا بنية خالصة صادقة، لا رياء فيها ولا سُمعة، ولا يريد بها إلا الله عز وجل، ولا يُشرك فيها مع الله عز وجل غيره؛ لأن الله تعالى لا يقبل من العمل إلا ما أُخلِص له وأُريد به وجهه، لا يختلف في هذا العلماء» اهـ.

أقول: ولكي يكون العمل مقبولًا فلابد أن يتوفر فيه شرطان:

أولهما: إخلاص العمل لله، وهو الذي يدل عليه هذا الحديث.

وثانيهما: متابعة النبي صلى الله عليه وسلم، ويدل عليه الحديث الآتي: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد».

فلابد لكي يُقبل العمل أن يكون خالصًا لله، على هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم.

(6) أي: خلف.
তাওহীদ

১ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (১), আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যার সে নিয়ত করেছে (২)। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে (৩)। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যেদিকে সে হিজরত করেছে (৪)» (৫)। মুত্তাফাকুন আলাইহি।

 

২ - মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ‘উফাইর’ নামক একটি গাধার পিঠে নবী (সা.)-এর পিছনে বসা (৬) ছিলাম। তখন তিনি বললেন: «হে মুয়াজ, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী? আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী?». আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং [তাঁর সাথে] কোনো কিছুকে [শরিক] করবে না

--------------------------------------------

(১) নিয়ত: এটি হলো অন্তরের সংকল্প, আর এটি মুখে উচ্চারণ করা সুন্নাত নয়। এর উদ্দেশ্য হলো: আমলের শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা নির্ভর করে নিয়তের শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতার ওপর।

(২) অর্থাৎ: আমলকারীর তার আমল থেকে প্রাপ্য হলো তার নিয়ত। যদি নিয়ত সৎ হয়, তবে তার আমল সৎ এবং সে তার প্রতিদান পাবে। আর যদি নিয়ত অসৎ হয়, তবে তার আমল অসৎ এবং এর পাপ তার ওপর বর্তাবে।

(৩) অর্থাৎ: যে ব্যক্তি তার হিজরতের মাধ্যমে আল্লাহর চেহারার সংকল্প করেছে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট কবুল হবে এবং তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায় অবধারিত হবে।

(৪) অর্থাৎ: যে ব্যক্তি তার হিজরতের মাধ্যমে দুনিয়া বা কোনো নারী পাওয়ার সংকল্প করেছে, তবে সেটিই হবে তার অংশ এবং আখেরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না।

(৫) ইমাম আল-আজুররী ‘আল-আরবাঈন’ (পৃ. ৭৯) গ্রন্থে বলেছেন: «জেনে রেখো যে, এই হাদিসটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের অন্যতম একটি মূলনীতি। কোনো মুসলিমের জন্য আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার ওপর যা ফরজ করেছেন তা আদায় করা কিংবা নফলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা বৈধ নয়—একনিষ্ঠ ও সত্য নিয়ত ব্যতীত, যাতে কোনো রিয়া (লোকদেখানো) বা সুম‘আ (লোকশোনানো) থাকবে না এবং এর মাধ্যমে সে কেবল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকেই চাইবে এবং আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা সেই আমল ছাড়া কিছুই কবুল করেন না যা কেবল তাঁরই জন্য একনিষ্ঠভাবে করা হয় এবং যার মাধ্যমে তাঁর চেহারা কামনা করা হয়। এ বিষয়ে আলেমগণ ভিন্নমত পোষণ করেননি» সমাপ্ত।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমল কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই দুটি শর্ত থাকতে হবে:

প্রথমটি: আমল কেবল আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হওয়া, যা এই হাদিসটি প্রমাণ করে।

দ্বিতীয়টি: নবী (সা.)-এর অনুসরণ করা, যা পরবর্তী হাদিসটি প্রমাণ করে: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে»।

সুতরাং আমল কবুল হওয়ার জন্য তা অবশ্যই আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হেদায়েত অনুযায়ী হতে হবে।

(৬) অর্থাৎ: পিছনে।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَحَقَّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا» (1). فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلَا أُبَشِّرُ بِهِ النَّاسَ؟ قَالَ: «لَا تُبَشِّرْهُمْ، فَيَتَّكِلُوا (2)». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

 

3 - عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ (3)، وَالجَنَّةَ حَقٌّ، وَالنَّارَ حَقٌّ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنَ العَمَلِ (4)». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

 

4 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ (5)؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلَنِي عَنْ هَذَا

--------------------------------------------

(1) فحقه تعالى على عباده: أن يعبدوه، مخلصين له العبادة، ممتثلين ما أمرهم به وأوجبه عليهم، وأعظمه التوحيد، ومجتنبين ما نهاهم عنه وحرمه عليهم، وأعظمه الشرك، فإذا فعلوا ذلك، فحقهم عليه أن يغفر لهم ولا يعذبهم، وأن يدخلهم الجنة، وقد وعدهم ذلك، ووعده حق لا يُخلَف.

(2) أي: يعتمدوا على هذا ويتركوا الاجتهاد في العمل.

(3) «وكلمته ألقاها إلى مريم»: أي: قوله: «كن»، وسُمِّي عيسى عليه السلام كلمة؛ لأنه كان بكلمة «كن» فحسب من غير أب، بخلاف غيره من بني آدم. «وروح منه»: أي: مخلوقة من عنده، وعلى هذا يكون إضافتها إليه إضافة تشريف، كناقة الله وبيت الله.

(4) هذا محمول على إدخاله الجنة في الجملة، فإن كانت له معاص من الكبائر فهو في مشيئة الله، إن شاء غفر له وإن شاء عذبه، فإن عذبه لم يخلده في النار وختم له بالجنة.

(5) فيه إثبات شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم لأمته، وهو من أصول أهل السنة. وله صلى الله عليه وسلم في القيامة ثلاث شفاعات: أما الشفاعة الأولى: فيشفع في أهل الموقف حتى يُقضى بينهم بعد أن تتراجع الأنبياء: آدم ونوح وإبراهيم وموسى وعيسى ابن مريم عن الشفاعة حتى تنتهي إليه.

وأما الشفاعة الثانية: فيشفع في أهل الجنة أن يدخلوا الجنة. وهاتان الشفاعتان خاصتان له.

وأما الشفاعة الثالثة: فيشفع فيمن استحق النار، وهذه الشفاعة له ولسائر النبيين والصدِّيقين وغيرهم، فيشفع فيمن استحق النار أن لا يدخلها، ويشفع فيمن دخلها أن يخرج منها، وهذه هي الشفاعة المرادة في الحديث المذكور.
তারা যেন তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। আর আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক হলো, তিনি এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করেনি (১)। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: «তাদের সুসংবাদ দিও না, কারণ তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে (২)»। (বুখারি ও মুসলিম)।

 

৩ - উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর কালিমা (বাণী) যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ (৩); আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যা-ই হোক না কেন (৪)»। (বুখারি ও মুসলিম)।

 

৪ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার শাফাআতের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান ব্যক্তি কে হবে (৫)? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আবু হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম যে, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না

--------------------------------------------

(১) বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর হক হলো: তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে, তাঁর ইবাদতে একনিষ্ঠ হবে, তিনি যা আদেশ করেছেন এবং যা তাদের ওপর আবশ্যক করেছেন তা পালন করবে—যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো তাওহিদ; আর তিনি যা নিষেধ করেছেন ও হারাম করেছেন তা বর্জন করবে—যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো শিরক। যখন তারা এটি করবে, তখন আল্লাহর ওপর তাদের হক হবে যে তিনি তাদের ক্ষমা করে দেবেন, তাদের শাস্তি দেবেন না এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তিনি তাদের নিকট এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য যা কখনো ভঙ্গ হয় না।

(২) অর্থাৎ: তারা কেবল এই বার্তার ওপরই নির্ভর করবে এবং আমলের প্রচেষ্টায় শিথিলতা দেখাবে।

(৩) «তাঁর কালিমা (বাণী) যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন»: অর্থাৎ তাঁর বাণী: "হও" (কুন)। ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে "কালিমা" বলা হয়েছে কারণ তিনি পিতা ছাড়াই কেবল "কুন" বাণীর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছেন, যা অন্যান্য আদম সন্তানদের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম। «তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ»: অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে সৃষ্টি করা একটি রূহ। এমতাবস্থায় রূহকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে সম্মান প্রদর্শনার্থে, যেমন—"আল্লাহর উটনি" বা "আল্লাহর ঘর"।

(৪) এটি সামগ্রিকভাবে জান্নাতে প্রবেশ করানোর বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য। যদি তার কোনো কবিরা গুনাহ থাকে, তবে সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন আর চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন। যদি তিনি তাকে শাস্তিও দেন, তবে তাকে চিরকাল জাহান্নামে রাখবেন না এবং পরিশেষে তার শেষ পরিণতি জান্নাতই হবে।

(৫) এতে তাঁর উম্মতের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফাআতের (সুপারিশের) সাব্যস্তকরণ রয়েছে, যা আহলুস সুন্নাহর অন্যতম মূলনীতি। কিয়ামতের ময়দানে তাঁর জন্য তিনটি শাফাআত রয়েছে: প্রথম শাফাআত: তিনি হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবার জন্য সুপারিশ করবেন যাতে তাদের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়, যখন আদম, নূহ, ইবরাহিম, মুসা এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমুস সালাম) একে একে সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানাবেন এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে এসে পৌঁছাবে।

দ্বিতীয় শাফাআত: তিনি জান্নাতবাসীদের জন্য সুপারিশ করবেন যাতে তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। এই দুই প্রকার শাফাআত কেবল তাঁর জন্যই নির্ধারিত।

তৃতীয় শাফাআত: তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করবেন যাদের জন্য জাহান্নাম সাব্যস্ত হয়ে গেছে। এই শাফাআতের অধিকার তাঁর পাশাপাশি অন্যান্য নবীগণ, সিদ্দিকীন ও অন্যদেরও রয়েছে। তিনি সুপারিশ করবেন তাদের জন্য যাদের ওপর জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে যেন তারা তাতে প্রবেশ না করে, এবং যারা প্রবেশ করেছে তাদের জন্য যেন তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। উল্লিখিত হাদিসে এই শাফাআতটিই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢١)
الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ؛ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ (1)، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ، مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ، أَوْ نَفْسِهِ» (2). رَوَاهُ البُخَارِيُّ.

 

5 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: يَا ابْنَ آدَمَ، إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ مِنْكَ وَلَا أُبَالِي، يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ (3)، ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِي، يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الَارْضِ (4) خَطَايَا، ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً» (5). رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، وَقَالَ: حَسَنٌ غَرِيبٌ.

--------------------------------------------

(1) فيه الترغيب على أخذ الحديث وحفظه والحرص عليه، والثناء على أبي هريرة بذلك.

(2) قال شيخ الإسلام ابن تيمية في «الفرق بين عبادات أهل الإسلام وعبادات أهل الشرك» (ص: 128): «فأهل التوحيد المخلصون لله هم أحق الناس بشفاعته صلى الله عليه وسلم، فمن كان لا يدعو إلا الله، ولا يرجو إلا الله، ولا يتوكل إلا على الله، ولا يدعو مخلوقًا، لا مَلَكًا، ولا بشرًا، لا نبيًّا، ولا صالحًا، ولا غيرهما، كان أحق بشفاعته ممن يدعوه، أو يدعو غيره من المخلوقين، فإن هؤلاء مشركون، والشفاعة إنما هي لأهل التوحيد. وإذا كان كذلك، فالذين يدعون المخلوقين، ويطلبون من الموتى والغائبين الدعاء والشفاعة، هم أبعد عن الشفاعة فيهم، والذين لا يدعون إلا الله هم أحق بالشفاعة لهم» اهـ.

(3) العنان: السحاب.

(4) أي: بما يقارب ملأها.

(5) قال الإمام ابن رجب في «جامع العلوم والحكم» (2/ 406 - وما بعدها): «تضمن هذا الحديث الأسباب الثلاثة التي يحصل بها المغفرة:

أحدها: الدعاء مع الرجاء، فإن الدعاء مأمور به، وموعود عليه بالإجابة، كما قال تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60]، لكن الدعاء سبب مقتض للإجابة مع استكمال شرائطه، وانتفاء موانعه، وقد تتخلف إجابته، لانتفاء بعض شروطه، أو وجود بعض موانعه، ومن أعظم شرائطه: حضور القلب، ورجاء الإجابة من الله تعالى. وقوله: «إنك ما دعوتني ورجوتني، غفرت لك ما كان فيك ولا أبالي» يعني: على كثرة ذنوبك وخطاياك، لا يتعاظمني ذلك، ولا أستكثره، فذنوب العبد وإن عظمت فإن عفو الله ومغفرته أعظم منها، فهي صغيرة في جنب عفو الله ومغفرته.

السبب الثاني للمغفرة: الاستغفار، ولو عظمت الذنوب، وبلغت الكثرة عنان السماء. والاستغفار: طلب المغفرة، والمغفرة: هي وقاية شر الذنوب مع سترها. والاستغفار التام الموجب للمغفرة هو ما قارن عدم الإصرار، كما مدح الله أهله، ووعدهم بالمغفرة.

السبب الثالث من أسباب المغفرة: التوحيد، وهو السبب الأعظم، فمن فقده فقد المغفرة، ومن جاء به فقد أتى بأعظم أسباب المغفرة، قال تعالى: {إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] فمن جاء مع التوحيد بقراب الأرض خطايا، لقيه الله بقرابها مغفرة، لكن هذا مع مشيئة الله عز وجل، فإن شاء غفر له، وإن شاء أخذه بذنوبه، ثم كان عاقبته أن لا يخلد في النار، بل يخرج منها، ثم يدخل الجنة. فإنْ كمل توحيد العبد وإخلاصه لله فيه، وقام بشروطه كلها بقلبه ولسانه وجوارحه، أو بقلبه ولسانه عند الموت، أوجب ذلك مغفرة ما سلف من الذنوب كلها، ومنعه من دخول النار بالكلية. فمن تحقق قلبُهُ بكلمة التوحيد، أخرجت منه كل ما سوى الله محبة وتعظيمًا وإجلالًا ومهابة وخشية ورجاء وتوكلًا، وحينئذ تحرق ذنوبَهُ وخطاياه كلها ولو كانت مثل زبد البحر، وربما قلبتها حسنات» اهـ باختصار.
হাদিসের ব্যাপারে তোমার চেয়ে অগ্রগণ্য কাউকে দেখিনি; যেহেতু আমি হাদিসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করেছি (১), কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে সবচেয়ে ধন্য হবে সেই ব্যক্তি, যে তার অন্তর থেকে বা তার মন থেকে একনিষ্ঠভাবে বলবে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই’ (২)।” বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৫ - আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: হে আদম সন্তান, তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে, তোমার থেকে যা-ই ঘটুক না কেন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব এবং আমি এতে পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান, তোমার পাপ যদি আকাশের মেঘমালা পর্যন্তও পৌঁছে যায় (৩), অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব এবং এতে আমি পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান, তুমি যদি পৃথিবী পূর্ণ (৪) পাপ নিয়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, অতঃপর আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে আমার সাথে মিলিত হও, তবে আমিও তোমার কাছে পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে আসব (৫)।” তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান গরিব।

--------------------------------------------

(১) এতে হাদিস গ্রহণ করা, তা মুখস্থ করা এবং এর প্রতি আগ্রহী হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আবু হুরাইরার প্রশংসা করা হয়েছে।

(২) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আল-ফারকু বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলাম ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরক’ (পৃষ্ঠা: ১২৮) গ্রন্থে বলেছেন: “আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ তাওহিদপন্থীরাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশের সবচেয়ে বেশি হকদার। সুতরাং যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহকে ডাকে, শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করে, শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং কোনো সৃষ্টিকে ডাকে না—চাই সে ফেরেশতা হোক বা মানুষ, নবী হোক বা নেককার লোক বা অন্য কেউ—সে ওই ব্যক্তির চেয়ে তাঁর সুপারিশের বেশি হকদার যে তাঁকে (রাসুলকে) ডাকে বা অন্য কোনো সৃষ্টিকে ডাকে। কারণ এরা হলো মুশরিক, আর সুপারিশ তো কেবল তাওহিদপন্থীদের জন্য। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন যারা সৃষ্টিকে ডাকে এবং মৃত ও অনুপস্থিতদের কাছে দোয়া ও সুপারিশ প্রার্থনা করে, তারা তাঁর সুপারিশ লাভ থেকে অনেক দূরে। আর যারা কেবল আল্লাহকেই ডাকে, তারাই তাঁর সুপারিশ লাভের সবচেয়ে যোগ্য।” সমাপ্ত।

(৩) আল-আনান: মেঘমালা।

(৪) অর্থাৎ: যা পৃথিবী পূর্ণ করার কাছাকাছি।

(৫) ইমাম ইবনে রজব ‘জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম’ (২/৪০৬ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো) গ্রন্থে বলেছেন: “এই হাদিসটি সেই তিনটি কারণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যার মাধ্যমে ক্ষমা অর্জিত হয়:

প্রথমটি: প্রত্যাশার সাথে দোয়া করা। কেননা দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা কবুল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব} [গাফির: ৬০]। তবে দোয়া হলো কবুল হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ যা তার শর্তসমূহ পূর্ণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। কখনও এর উত্তর বিলম্বিত হতে পারে কোনো শর্ত অনুপস্থিত থাকার কারণে বা কোনো প্রতিবন্ধক থাকার কারণে। আর দোয়ার অন্যতম বড় শর্ত হলো: অন্তরের উপস্থিতি এবং আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে কবুল হওয়ার আশা রাখা। আর তাঁর বাণী: ‘তুমি যতক্ষণ আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে, তোমার যা-ই থাকুক আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব এবং আমি পরোয়া করি না’—এর অর্থ হলো: তোমার পাপ ও অপরাধের আধিক্য সত্ত্বেও তা আমার কাছে বড় কিছু নয় এবং আমি একে বেশি মনে করি না। বান্দার পাপ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনা তার চেয়েও বড়। আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনার পাশে তা অতি নগণ্য।

ক্ষমা লাভের দ্বিতীয় কারণ: ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা, যদিও পাপ অনেক বড় হয় এবং তার সংখ্যা আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর ইস্তিগফার হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর মাগফিরাত বা ক্ষমা হলো: পাপের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা এবং তা ঢেকে রাখা। সেই পূর্ণাঙ্গ ইস্তিগফার যা ক্ষমা নিশ্চিত করে, তা হলো যার সাথে পাপের ওপর অটল না থাকার বিষয়টি যুক্ত থাকে; যেমনটি আল্লাহ এর অধিকারীদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্ষমা লাভের তৃতীয় কারণ: তাওহিদ, যা সবচেয়ে বড় কারণ। যে ব্যক্তি এটি হারালো সে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হলো, আর যে ব্যক্তি এটি নিয়ে আসলো সে ক্ষমা লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম নিয়ে আসলো। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্য সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} [নিসা: ৪৮]। সুতরাং যে ব্যক্তি তাওহিদসহ পৃথিবী পূর্ণ গুনাহ নিয়ে আসবে, আল্লাহ তার সাথে পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাৎ করবেন। তবে এটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন, আর চাইলে তাকে তার পাপের কারণে পাকড়াও করবেন, তবে তার শেষ পরিণতি হবে এই যে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না, বরং সেখান থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদি বান্দার তাওহিদ ও আল্লাহর প্রতি তার একনিষ্ঠতা পূর্ণ হয় এবং সে তার অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে অথবা মৃত্যুর সময় তার অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে এর সমস্ত শর্ত পালন করে, তবে তা পূর্ববর্তী সকল পাপের ক্ষমাকে অবধারিত করে দেয় এবং তাকে সম্পূর্ণরূপে জাহান্নামে প্রবেশ করা থেকে রক্ষা করে। যার অন্তর তাওহিদের কালিমার মাধ্যমে প্রকৃত সত্যে উপনীত হবে, তার অন্তর থেকে ভালোবাসা, সম্মান, মহিমা, গাম্ভীর্য, ভীতি, আশা এবং ভরসার ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু দূর হয়ে যাবে। আর তখনই তার সমস্ত পাপ ও ভুল-ত্রুটি পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়; এমনকি অনেক সময় তা নেকিতেও রূপান্তরিত হয়ে যায়।” সংক্ষেপে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
6 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا، فَقَالَ: «يَا غُلَامُ، إِنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ، احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ (1)، احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ (2)، إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ

--------------------------------------------

(1) «احفظ الله» يعني: احفظ حدوده، وحقوقه، وأوامره، ونواهيه، بامتثال أوامره، واجتناب نواهيه. «يحفظك» يعني: أنَّ من حفظ حدود الله، وراعى حقوقه، حفظه الله في دينه ودنياه؛ فإن الجزاء من جنس العمل.

(2) وفي رواية: «أمامك». ومعناه: أن من حفظ حدود الله، وراعى حقوقه، وجد الله معه في كل أحواله حيث تَوَجَّه، يحوطه وينصره ويحفظه ويوفقه ويسدده.
৬ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «হে বৎস! আমি তোমাকে কিছু কথা শিখিয়ে দিচ্ছি: তুমি আল্লাহর হিফাযত করো, আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন (১); আল্লাহর হিফাযত করো, তবে তাঁকে তোমার সামনে পাবে (২)। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও; আর যখন তুমি সাহায্য চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও। আর জেনে রেখো, যদি সমগ্র উম্মত একত্রিত হয়ে এই উদ্দেশ্যে যে...

--------------------------------------------

(১) «আল্লাহর হিফাযত করো» অর্থ হলো: তাঁর নির্ধারিত সীমা, তাঁর অধিকারসমূহ, তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ হিফাযত করো—তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে। «তিনি তোমাকে হিফাযত করবেন» অর্থ হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা হিফাযত করে এবং তাঁর অধিকারসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখে, আল্লাহ তাকে তার দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে হিফাযত করেন; কারণ কর্মানুযায়ীই প্রতিফল নির্ধারিত হয়ে থাকে।

(২) অন্য বর্ণনায় এসেছে: «তোমার সামনে»। এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা হিফাযত করে এবং তাঁর অধিকারসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখে, সে আল্লাহকে তার সকল অবস্থায় সাথে পাবে যেদিকেই সে মুখ ফিরাবে; তিনি তাকে বেষ্টন করে রাখবেন, তাকে সাহায্য করবেন, হিফাযত করবেন এবং তাকে তাওফীক দান করবেন ও সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ، وَلَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الْأَقْلَامُ، وَجَفَّتِ الصُّحُفُ (1)». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: حَسَنٌ صَحِيحٌ.

 

7 - عَنْ عَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَا: لَمَّا نُزِلَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (2) طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً (3) لَهُ عَلَى وَجْهِهِ (4)، فَإِذَا اغْتَمَّ بِهَا (5) كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ: «لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى اليَهُودِ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ». يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا (6). مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

--------------------------------------------

(1) هذه كناية عن تقدُّم كتابة المقادير كلها، والفراغ منها من أمد بعيد.

(2) أي: نزل به الموت صلى الله عليه وسلم.

(3) الخميصة: ثوب أسود أو أحمر له أعلام.

(4) أي: يجعلها على وجهه من الحمى.

(5) أي: إذا احتبس نَفَسُهُ عن الخروج.

(6) قال شيخ الإسلام ابن تيمية في «القاعدة الجليلة» (ص: 30): «فحرَّم صلى الله عليه وسلم أن تُتَّخذ قبورهم مساجد يُقصَد الصلوات فيها كما تُقصَد المساجد، وإن كان القاصد لذلك إنما يقصد عبادة الله وحده؛ لأن ذلك ذريعة إلى أن يقصدوا المسجد لأجل صاحب القبر ودعائه والدعاء به والدعاء عنده. فنهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ هذا المكان لعبادة الله وحده؛ لئلا يُتخَذ ذلك ذريعة إلى الشرك بالله، كذلك لما نهى عن اتخاذ قبور الأنبياء والصالحين مساجد، نهى عن قصدها للصلاة عندها؛ لئلا يُفضي ذلك إلى دعائهم والسجود لهم؛ لأن دعاءهم والسجود لهم أعظم تحريمًا من اتخاذ قبورهم مساجد.

ولهذا كانت زيارة قبور المسلمين على وجهين: زيارة شرعية وزيارة بدعية.

فالزيارة الشرعية: أن يكون مقصود الزائر الدعاء للميت، كما يقصد بالصلاة على جنازته الدعاء له.

وأما الزيارة البدعية: فهي التي يُقصَد بها أن يطلب من الميت الحوائج، أو يطلب منه الدعاء والشفاعة، أو يقصد الدعاء عند قبره لظن القاصد أن ذلك أجْوَبُ للدعاء، فالزيارة على هذه الوجوه كلها مبتدعة لم يشرعها النبي صلى الله عليه وسلم، ولا فعلها الصحابة، لا عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم ولا عند غيره، وهي من جنس الشرك وأسباب الشرك.

ولو قصد الصلاةَ عند قبور الأنبياء والصالحين من غير أن يقصد دعاءهم والدعاء عندهم؛ مثل أن يَتخذ قبورهم مساجد، لكان ذلك محرَّمًا منهيًّا عنه، ولكان صاحبه متعرضًا لغضب الله ولعنته، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «اشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد». وقال: «إن من كان قبلكم كانوا يتخذون القبور مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد؛ فإني أنهاكم عن ذلك». فإذا كان هذا محرمًا وهو سبب لسخط الرب ولعنته، فكيف بمن يقصد دعاء الميت والدعاء عنده وبه، واعتقد أن ذلك من أسباب إجابة الدعوات ونيل الطَّلبات وقضاء الحاجات؟! وهذا كان أول أسباب الشرك في قوم نوح وعبادة الأوثان في الناس». اهـ باختصار.
তারা তোমার কোনো উপকার করতে চাইলেও কোনো উপকার করতে পারবে না, তবে তা ব্যতীত যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, তবে তা ব্যতীত যা আল্লাহ তোমার বিরুদ্ধে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাসমূহ শুকিয়ে গেছে (১)।” তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান সহীহ।

 

৭ - আয়েশা এবং আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো (২), তখন তিনি তাঁর একটি নকশাযুক্ত চাদর (৩) তাঁর মুখের ওপর (৪) রাখছিলেন; যখন এর কারণে তাঁর শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসত (৫), তখন তিনি তা তাঁর মুখ থেকে সরিয়ে নিতেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন: “ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।” তারা যা করেছে তা থেকে তিনি সতর্ক করছিলেন (৬)। মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।

--------------------------------------------

(১) এটি সমস্ত তাকদীর পূর্বেই লিখে রাখা এবং অনেক আগে থেকেই তা সমাপ্ত হওয়া বুঝাতে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

(২) অর্থাৎ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট মৃত্যু উপস্থিত হলো।

(৩) খামিসা: নকশাযুক্ত কালো বা লাল রঙের এক প্রকার চাদর।

(৪) অর্থাৎ: জ্বরের তীব্রতার কারণে তিনি তা তাঁর মুখের ওপর রাখছিলেন।

(৫) অর্থাৎ: যখন তাঁর শ্বাস বের হতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

(৬) শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ ‘আল-কায়িদাতুল জালীল্লাহ’ (পৃষ্ঠা: ৩০)-এ বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা অর্থাৎ সেখানে সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়া হারাম করেছেন, যেমনিভাবে মসজিদের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, যদিও সে ব্যক্তির উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহর ইবাদত করাই হয়; কারণ এটি ঐ স্থানের অধিকারীর (কবরস্থ ব্যক্তির) কারণে সে স্থানকে উদ্দেশ্য করা, তাকে ডাকা, তার মাধ্যমে প্রার্থনা করা এবং তার কবরের নিকট প্রার্থনা করার একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই স্থানে কেবল আল্লাহর ইবাদত করতেও নিষেধ করেছেন, যাতে এটি আল্লাহর সাথে শিরক করার মাধ্যম না হয়ে যায়। অনুরূপভাবে, যখন তিনি নবী এবং নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, তখন তার নিকটে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যাওয়াও নিষেধ করেছেন; পাছে তা তাদেরকে ডাকা এবং তাদের প্রতি সিজদা করার দিকে নিয়ে যায়; কারণ কবরস্থ ব্যক্তিকে ডাকা এবং তাদের প্রতি সিজদা করা কবরকে মসজিদে পরিণত করার চেয়েও বড় হারামের অন্তর্ভুক্ত।

এজন্যই মুসলিমদের কবর যিয়ারত দুই প্রকার: শরয়ি যিয়ারত এবং বিদআতি যিয়ারত।

শরয়ি যিয়ারত: হলো যিয়ারতকারীর উদ্দেশ্য হবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, যেমনটি জানাজার সালাতে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার উদ্দেশ্য থাকে।

আর বিদআতি যিয়ারত: তা হলো যা দ্বারা মৃত ব্যক্তির নিকট কোনো প্রয়োজন চাওয়া হয়, অথবা তার নিকট দোয়া ও সুপারিশ চাওয়া হয়, অথবা এই ধারণা নিয়ে তার কবরের নিকট দোয়ার ইচ্ছা করা হয় যে সেখানে দোয়া করা কবুল হওয়ার জন্য বেশি উপযোগী। এই সকল প্রকার যিয়ারতই বিদআত যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিধান হিসেবে দেননি এবং সাহাবীগণও তা করেননি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের কাছেও নয়, অন্য কারও কবরের কাছেও নয়। আর এটি শিরক এবং শিরকের কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

যদি কেউ নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরের নিকট সালাত আদায়ের ইচ্ছা করে তাদের ডাকা বা সেখানে দোয়ার ইচ্ছা করা ব্যতীতও; যেমন তাদের কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে তাও নিষিদ্ধ ও হারাম হবে এবং ঐ ব্যক্তি আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপের সম্মুখীন হবে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘ঐ জাতির ওপর আল্লাহর ক্রোধ তীব্রতর হয়েছে যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।’ তিনি আরও বলেছেন: ‘জেনে রাখ, তোমাদের পূর্ববর্তীরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত; সাবধান, তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না; নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।’ সুতরাং যদি এটিই হারাম এবং রবের অসন্তুষ্টি ও অভিশাপের কারণ হয়, তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে মৃত ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা করে এবং তার কবরের নিকট বা তার মাধ্যমে প্রার্থনা করে এবং বিশ্বাস করে যে এটি দোয়া কবুল হওয়া, যাচ্ঞা লাভ করা এবং প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার একটি মাধ্যম?! আর এটিই ছিল নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কওমের মধ্যে শিরকের প্রথম কারণ এবং মানুষের মাঝে মূর্তিপূজার সূচনা।” সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
8 - عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ قَالَ: قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنْ لَا تَدَعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ، وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ (1)» (2). رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

 

9 - عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُسِرُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: فَغَضِبَ، وَقَالَ:

مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُسِرُّ إِلَيَّ شَيْئًا يَكْتُمُهُ النَّاسَ (3)، غَيْرَ أَنَّهُ قَدْ حَدَّثَنِي بِكَلِمَاتٍ أَرْبَعٍ. قَالَ: فَقَالَ: مَا هُنَّ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: قَالَ: «لَعَنَ اللهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَهُ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللهِ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ آوَى مُحْدِثًا، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ الْأَرْضِ» (4). رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

--------------------------------------------

(1) التمثال: الصورة. وطمسها: محوها. مُشرفًا: مرتفعًا.

(2) قال شيخ الإسلام ابن تيمية في «الرد على الإخنائي» (ص: 396): «فأمره صلى الله عليه وسلم بطمس التماثيل وتسوية القبور العالية المشرفة؛ إذ كان الضالون أهل الكتاب أشركوا بهذا وبهذا، بتماثيل الأنبياء والصالحين، وبقبورهم» اهـ.

(3) في هذا إبطال ما تزعمه الشيعة الرافضة من الوصية إلى علي وغير ذلك من أباطيلهم.

(4) أما لعن الوالدين: فمن الكبائر، ومنه أن تلعن والدي الرجل فيلعن والديك.

وأما الذبح لغير الله: فالمراد به: أن يذبح باسم غير الله تعالى، كمن ذبح للصنم، أو للصليب، أو لموسى أو لعيسى عليهما السلام، أو للكعبة ونحو ذلك، فكل هذا حرام، ولاتحل هذه الذبيحة، سواء كان الذابح مسلمًا أو نصرانيًّا أو يهوديًّا، فإن قصد مع ذلك تعظيم المذبوح له غير الله تعالى والعبادة له كان ذلك كفرًا، فإن كان الذابح مسلمًا قبل ذلك صار بالذبح مرتدًّا.

والمحدِث: هو من يأتي بفساد في الأرض. ومنار الأرض: علامات حدودها، وتغييرها: أن يحوِّل الحد من مكانه ليقتطع جزءًا من أرض جاره.
৮ - আবু হাইয়াজ আল-আসাদী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বলেছেন: "আমি কি তোমাকে সেই কাজের জন্য পাঠাব না, যে কাজের জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? (তা হলো:) তুমি কোনো মূর্তি বা ছবি ছাড়বে না যা তুমি মিটিয়ে দিবে না, এবং কোনো উঁচু কবর ছাড়বে না যা তুমি সমান করে দিবে না (১)" (২)। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

 

৯ - আবু তুফায়েল আমির বিন ওয়াসিলা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি গোপনে আপনাকে বিশেষ কিছু বলতেন? তিনি বলেন: এতে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাগান্বিত হলেন এবং বললেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে গোপনে এমন কিছু বলতেন না যা তিনি মানুষের কাছে গোপন রাখতেন (৩), তবে তিনি আমাকে চারটি কথা বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হে আমিরুল মুমিনীন, সেই কথাগুলো কী? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর লানত বা অভিশাপ তার ওপর যে তার পিতামাতাকে অভিশাপ দেয়, আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যবেহ করে, আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর যে কোনো বিদআতী বা অপরাধীকে আশ্রয় দেয় এবং আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর যে জমির সীমানা পরিবর্তন করে (৪)"। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিমসাল: প্রতিকৃতি বা ছবি। তা মিটিয়ে দেওয়া: মুছে ফেলা বা ধ্বংস করা। উঁচু: যা ভূমি থেকে উঁচুতে অবস্থিত।

(২) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর 'আর-রদ্দু আলাল ইখনায়ী' (পৃষ্ঠা: ৩৯৬) গ্রন্থে বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ছবি বা মূর্তিগুলো মিটিয়ে দিতে এবং উঁচু কবরগুলো সমান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; কেননা পথভ্রষ্ট আহলে কিতাবরা এই দুটির মাধ্যমেই শিরক করত—নবীদের ও নেককারদের ছবি বা মূর্তির মাধ্যমে এবং তাদের কবরের মাধ্যমে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

(৩) এর মধ্যে শিয়া রাফেযীদের দাবির অসারতা প্রমাণিত হয়, যারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি (খেলাফতের) বিশেষ ওসিয়ত বা গোপন নির্দেশের দাবি করে এবং তাদের অন্যান্য ভ্রান্ত আকিদাও এর মাধ্যমে বাতিল প্রমাণিত হয়।

(৪) পিতামাতাকে অভিশাপ দেওয়া: এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে এটিও শামিল যে, কেউ অন্য কোনো ব্যক্তির পিতামাতাকে গালি দিবে, ফলে সেই ব্যক্তিও তার পিতামাতাকে গালি দিবে।

আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য যবেহ করা: এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত অন্য কারো নামে যবেহ করা; যেমন কেউ কোনো মূর্তির নামে, ক্রুশের নামে, মূসা বা ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর নামে, কিংবা কাবার নামে বা এই জাতীয় কোনো কিছুর নামে যবেহ করল। এই সবই হারাম এবং এই যবেহকৃত পশু হালাল নয়, চাই যবেহকারী মুসলিম হোক কিংবা খ্রিস্টান বা ইহুদি। আর যদি এর সাথে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সেই সত্তার সম্মান প্রদর্শন এবং তার ইবাদত করার উদ্দেশ্য থাকে, তবে তা কুফরি বলে গণ্য হবে। যবেহকারী যদি এর আগে মুসলিম থেকে থাকে, তবে এই যবেহ করার কারণে সে মুরতাদ হয়ে যাবে।

মুহদিস: যে ব্যক্তি পৃথিবীতে বিপর্যয় বা ফিতনা সৃষ্টি করে। জমির মানার: এর সীমানার চিহ্নসমূহ। আর তা পরিবর্তন করা হলো: সীমানাটিকে তার নির্ধারিত স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা যাতে প্রতিবেশীর জমির কিছু অংশ নিজের জমির সাথে গেঁথে নেওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
10 - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ (1)، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ، فَقُولُوا: عَبْدُ اللَّهِ، وَرَسُولُهُ» (2). رَوَاهُ البُخَارِيُّ.

--------------------------------------------

(1) الإطراء: مجاوزة الحد في المدح والكذب فيه، وذلك أن النصارى أفرطوا في مدح عيسى وإطرائه بالباطل، وجعلوه ولدًا، فمنعهم النبي صلى الله عليه وسلم من أن يطروه بالباطل.

(2) قال الشيخ سليمان النجدي في «تيسير العزيز الحميد» (ص: 262): «فأبى عُبَّاد القبور إلا مخالفةً لأمره صلى الله عليه وسلم، وارتكابًا لنهيه، وناقضوه أعظم المناقضة، وظنوا أنهم إذا وصفوه بأنه عبد الله ورسوله، وأنه لا يُدعى ولا يُستغاث به، ولا يُنذر له، ولا يُطاف بحجرته، وأنه ليس له من الأمر شيء، ولا يعلم من الغيب إلا ما علَّمه الله، أنَّ في ذلك هضمًا لجنابه، وغضًّا من قدره، فرفعوه فوق منزلته، وادَّعَوا فيه ما ادَّعت النصارى في عيسى أو قريبًا منه، فسألوه مغفرة الذنوب، وتفريج الكروب.

ومن العجب أن الشيطان أظهر لهم ذلك في صورة محبته صلى الله عليه وسلم وتعظيمه ومتابعته، وهذا شأن اللعين، لا بد وأن يمزج الحق بالباطل ليروِّج على أشباه الأنعام أتباع كل ناعق، الذين لم يستضيئوا بنور العلم، ولم يلجؤوا إلى ركن وثيق؛ لأن هذا ليس بتعظيم، فإن التعظيم النافع هو تصديقه صلى الله عليه وسلم فيما أخبر، وطاعته فيما أمر، والانتهاء عما عنه نهى وزجر، والموالاة والمعاداة والحب والبغض لأجله، وتحكيمه وحده، والرضى بحكمه، وأن لا يُتخذ من دونه طاغوت يكون التحاكم إلى أقواله فما وافقها من قوله صلى الله عليه وسلم قبله، وما خالفها رده أو تأوَّله أو أعرض عنه. والله سبحانه يشهد -وكفى به شهيدًا- وملائكته ورسله وأولياؤه: أن عُبَّاد القبور وخصوم الموحِّدين ليسوا كذلك، والله المستعان» اهـ باختصار.
১০ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা আমার অতিপ্রশংসা করো না যেমনটি নাসারাগণ (খ্রিস্টানরা) মারইয়ামের পুত্রের ব্যাপারে করেছিল (১), আমি তো কেবল একজন বান্দা। সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল» (২)। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) অতিপ্রশংসা (ইতরা) হলো: প্রশংসার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা এবং তাতে মিথ্যাচার করা। আর তা একারণে যে, নাসারাগণ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল এবং তাঁকে আল্লাহর সন্তান বানিয়েছিল। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে অন্যায়ভাবে অতিপ্রশংসা করতে নিষেধ করেছেন।

(২) শায়খ সুলাইমান আন-নাজদী 'তাইসীরুল আজিজিল হামিদ' (পৃষ্ঠা: ২৬২) গ্রন্থে বলেন: "কিন্তু কবরপূজারীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশের বিরোধিতা এবং তাঁর নিষেধের লঙঘন করতে ছাড়া কিছুই চায়নি। তারা তাঁর চরম বিরোধিতা করেছে এবং ধারণা করেছে যে, যদি তারা তাঁকে 'আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল' হিসেবে বর্ণনা করে, এবং বলে যে তাঁর কাছে দুআ করা যাবে না, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যাবে না, তাঁর নামে মানত করা যাবে না, তাঁর কক্ষের (কবর) চারপাশ দিয়ে তাওয়াফ করা যাবে না এবং তাঁর হাতে কোনো কর্তৃত্ব নেই এবং আল্লাহ যতটুকু শিক্ষা দিয়েছেন তা ব্যতীত তিনি অদৃশ্যের (গায়েব) জ্ঞান রাখেন না—তবে এতে তাঁর মর্যাদা খর্ব করা হয় এবং তাঁর শান কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তারা তাঁকে তাঁর প্রকৃত মর্যাদার ঊর্ধ্বে তুলে দিয়েছে এবং তাঁর ব্যাপারে এমন দাবি করেছে যা নাসারাগণ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে দাবি করেছিল অথবা তার কাছাকাছি। তাই তারা তাঁর কাছেই পাপের ক্ষমা এবং বিপদ-আপদ দূর করার প্রার্থনা করে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, শয়তান তাদের কাছে এটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও তাঁর অনুকরণের আবরণে প্রকাশ করেছে। আর এটিই সেই অভিশপ্তের কাজ; সে অবশ্যই সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটায় যাতে সেই সব চতুষ্পদ জন্তু সদৃশ অনুসারীদের কাছে তা বাজারজাত করতে পারে যারা প্রত্যেক আহ্বানকারীর পেছনে ছোটে, যারা ইলমের (জ্ঞান) আলোতে আলোকিত হয়নি এবং কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় নেয়নি। কারণ এটি তো প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন নয়। কেননা ফলপ্রসূ সম্মান হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন তা বিশ্বাস করা, যা আদেশ করেছেন তা পালন করা, এবং যা থেকে নিষেধ ও সতর্ক করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। আর তাঁর উদ্দেশ্যেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতা এবং ভালোবাসা ও ঘৃণা পোষণ করা, একমাত্র তাঁর সুন্নাহকেই ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা; আর তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে 'তাগুত' হিসেবে গ্রহণ না করা যার কথার মাধ্যমে ফয়সালা গ্রহণ করা হয়—ফলে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর অনুকূলে হয় তা তারা গ্রহণ করে, আর যা প্রতিকূলে হয় তা তারা প্রত্যাখ্যান করে কিংবা অপব্যাখ্যা দেয় অথবা এড়িয়ে যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাক্ষী—এবং সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট—আর তাঁর ফেরেশতাগণ, রাসূলগণ এবং ওলীগণও সাক্ষী যে: কবরপূজারী এবং তাওহীদপন্থীদের শত্রুরা এমন নয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য কাম্য।" সংক্ষেপিত সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌الإيمان بأسماء الله وصفاته كلِّها

من غير تحريف ولا تعطيل ومن غير تكييف ولا تمثيل

11 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا، مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ (1)، إِنَّهُ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ (2)». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ.

 

12 - عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلًا عَلَى سَرِيَّةٍ، وَكَانَ يَقْرَأُ لَاصْحَابِهِ فِي صَلَاتِهِمْ فَيَخْتِمُ بِـ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}، فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «سَلُوهُ لِأَيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ؟»، فَسَأَلُوهُ، فَقَالَ: لِأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللَّهَ يُحِبُّهُ» (3). مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

 

13 - عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ رضي الله عنه قَالَ: بَيْنَا أَنَا أُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللهِ

--------------------------------------------

(1) أي: من أحصاها علمًا بها وإيمانًا. وقيل: حفظها على قلبه. وقيل: أراد من استخرجها من كتاب الله تعالى وأحاديث رسوله صلى الله عليه وسلم. وقيل: أراد من أطاق العمل بمقتضاها، مثل من يعلم أنه سميع بصير فيكف لسانه وسمعه عما لا يجوز له، وكذلك باقي الأسماء.

(2) الوتر: الفرد، فالله واحد في ذاته، واحد في صفاته، واحد في أفعاله. ومعنى «يحب الوتر»: تفضيل الوتر في الأعمال وكثير من الطاعات، فجعل الصلاة خمسًا، والطهارة ثلاثًا، والطواف سبعًا، والسعي سبعًا، ورمي الجمار سبعًا، وغير ذلك. وقيل: إن معناه منصرف إلى صفة مَن يعبد الله بالوحدانية والتفرد مخلصًا له. والله أعلم.

(3) قال الإمام ابن القيم في «مفتاح دار السعادة» (1/ 77): «دل هذا الحديث على أن مَن أحب صفات الله أحبه الله وأدخله الجنة، والجهمية أشد الناس نفرة وتنفيرًا عن صفاته ونعوت كماله، يعاقبون ويذمون مَن يذكرها ويقرؤها ويجمعها ويعتني بها، ولهذا لهم المقت والذم عند الأمة، وعلى لسان كل عالم من علماء الإسلام، والله تعالى أشد بغضًا ومقتًا لهم؛ جزاء وفاقًا» اهـ.
আল্লাহর সকল নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনা

কোনো ধরনের বিকৃতি (তাহরিফ) ও অস্বীকার (তা’তিল) ব্যতিরেকে এবং কোনো ধরন নির্ধারণ (তাকিয়িফ) ও সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ব্যতিরেকে

১১ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, এক কম একশটি। যে ব্যক্তি এগুলোর যথাযথ হিফাযত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (১), নিশ্চয়ই তিনি বিজোড় এবং তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন (২)»। মুত্তাফাকুন আলাইহি, আর শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

 

১২ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি ক্ষুদ্র সেনাদলের প্রধান হিসেবে পাঠালেন। তিনি যখন তার সাথীদের সালাতে ইমামতি করতেন তখন কিরাআত শেষে সর্বদা {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} (সুরা ইখলাস) পাঠ করতেন। তারা যখন ফিরে এলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: «তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমনটি করে?»। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: কারণ এটি দয়াময় (আর-রাহমান) আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনা করে, আর আমি তা পাঠ করতে ভালোবাসি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন» (৩)। মুত্তাফাকুন আলাইহি।

 

১৩ - মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করছিলাম...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: যে ব্যক্তি এগুলোর জ্ঞান অর্জন করে এবং সেগুলোর প্রতি ঈমান এনে তা হিফাযত করবে। বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি তা অন্তরে গেঁথে নেবে। এও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস থেকে এগুলো আহরণ করেছে। আরও বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তি যে এগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করতে সক্ষম হয়েছে; যেমন— যে ব্যক্তি জানে যে আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, সে তার জবান ও কানকে সেই সব কাজ থেকে বিরত রাখে যা তার জন্য বৈধ নয়। অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও একই রূপ।

(২) বিজোড় (আল-উইতর): এক ও অনন্য; আল্লাহ স্বীয় সত্তায় একক, স্বীয় গুণাবলিতে একক এবং স্বীয় কর্মেও একক। আর ‘বিজোড় পছন্দ করেন’ এর অর্থ হলো: বিভিন্ন আমল এবং অনেক ইবাদতের ক্ষেত্রে বিজোড় সংখ্যাকে প্রাধান্য দেওয়া। যেমন— সালাতকে পাঁচ ওয়াক্ত, পবিত্রতা অর্জনকে (অজু) তিনবার, তাওয়াফকে সাতবার, সা’য়ী সাতবার, পাথর নিক্ষেপ (জামরাত) সাতবার এবং আরও অনেক কিছু এভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো সেই ব্যক্তির দিকে প্রত্যাবর্তন করা যে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর একত্ববাদ ও অনন্যতার ইবাদত করে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(৩) ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘মিফতাহু দারিস সাআদাহ’ (১/৭৭) গ্রন্থে বলেছেন: “এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলিকে ভালোবাসে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর জাহমিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর পূর্ণাঙ্গ বিশেষণসমূহ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর; তারা ঐসব ব্যক্তিদের নিন্দা করে ও শাস্তি দেয় যারা আল্লাহর গুণাবলি আলোচনা করে, পাঠ করে, সংকলন করে এবং সেগুলোর প্রতি যত্নবান হয়। এ কারণেই উম্মতের কাছে এবং ইসলামের প্রত্যেক আলেমের কাছে তারা অত্যন্ত ঘৃণা ও নিন্দার পাত্র। আর আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি অধিক রাগান্বিত ও অসন্তুষ্ট; এটি তাদের কৃতকর্মের যথাযথ প্রতিদান।” সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
- صلى الله عليه وسلم إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ، فَقُلْتُ: يَرْحَمُكَ اللهُ. فَرَمَانِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ (1)، فَقُلْتُ: وَاثُكْلَ أُمِّيَاهْ (2)، مَا شَأْنُكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَيَّ؟! فَجَعَلُوا يَضْرِبُونَ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُصَمِّتُونَنِي لَكِنِّي سَكَتُّ، فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَبِأَبِي هُوَ وَأُمِّي، مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ، فَوَاللهِ مَا كَهَرَنِي (3) وَلَا ضَرَبَنِي وَلَا شَتَمَنِي، قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ». أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم. قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ، وَقَدْ جَاءَ اللهُ بِالْإِسْلَامِ، وَإِنَّ مِنَّا رِجَالًا يَأْتُونَ الْكُهَّانَ؟ قَالَ: «فَلَا تَأْتِهِمْ» (4). قَالَ: وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ؟ (5) قَالَ: «ذَاكَ شَيْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ، فَلَا يَصُدَّنَّهُمْ» (6). قَالَ: قُلْتُ: وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ؟ (7) قَالَ:

--------------------------------------------

(1) أي: أشاروا إليَّ بأعينهم من غير كلام، ونظروا إليَّ نظر زجر حتى لا أتكلم في الصلاة.

(2) الثكل: فقدان المرأة ولدها، والمعنى: وافقدها لي فإني هلكت.

(3) كهرني: نهرني.

(4) وهذا يدل على تحريم الذهاب إلى الكُهَّان والعَرَّافين، ولو لم يصدقهم، أما إذا صدقهم، فقد ورد الحديث عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من أتى عرافًا أو كاهنًا فصدَّقه بما يقول؛ فقد كفر بما أُنزل على محمد صلى الله عليه وسلم».

(5) يتطيرون: يتشاءمون ببعض الأشياء، وكان ذلك يصدهم عن مقاصدهم، فنفاه الشرع وأبطله ونهى عنه، وأخبر أنه ليس له تأثير في جلب نفع أو دفع ضر.

(6) يعني: هذا وَهْمٌ ينشأ من نفوسهم ليس له تأثير في اجتلاب نفع أو ضر، وإنما هو شيء يُسوِّله الشيطان ويزينه حتى يعملوا بقضيته؛ ليجرهم بذلك إلى اعتقاد مؤثر غير الله تعالى، وهو كفر صراح بإجماع العلماء. «فلا يصدنهم»: أي: لا يمنعهم التطير من مقاصدهم؛ لأنه لا يضرهم ولا ينفعهم ما يتوهمونه.

(7) الخط: أن يخط ثلاثة خطوط، ثم يضرب عليهن بشعير أو نوى، ويقول: يكون كذا وكذا. وهو ضرب من الكهانة.
আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—যখন দলের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হাঁচি দিলেন, তখন আমি বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। তখন লোকেরা তাদের চোখ দিয়ে আমার দিকে তাকাতে লাগল (১), আমি বললাম: হায় আমার মা আমাকে হারাক! (২), তোমাদের কী হয়েছে যে আমার দিকে তাকাচ্ছ?! তারা তখন তাদের হাত দিয়ে তাদের উরুতে আঘাত করতে শুরু করল। যখন দেখলাম তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, তখন আমি চুপ হয়ে গেলাম। যখন রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সালাত শেষ করলেন—আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক—আমি তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষক আর কাউকে দেখিনি। আল্লাহর শপথ! তিনি আমাকে ধমক দেননি (৩), প্রহার করেননি এবং গালমন্দও করেননি। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই সালাতে মানুষের কোনো সাধারণ কথা বলা সাজে না, বরং এটি কেবল তাসবীহ, তাকবীর এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য।" অথবা যেমন রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলিয়াতের সময় থেকে নতুন এসেছি (ইসলামে নতুন), আর আল্লাহ ইসলাম নিয়ে এসেছেন। আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা গণকদের কাছে যায়? তিনি বললেন: "তুমি তাদের কাছে যেও না" (৪)। তিনি (রাবী) বললেন: আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কুলক্ষণ গ্রহণ করে? (৫) তিনি বললেন: "এটি এমন একটি বিষয় যা তারা তাদের অন্তরে অনুভব করে, সুতরাং এটি যেন তাদের (কোনো কাজ থেকে) বিরত না রাখে" (৬)। তিনি (রাবী) বললেন: আমি বললাম: আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা রেখা টানে? (৭) তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তারা কথা না বলে চোখের ইশারায় আমাকে ইঙ্গিত করল এবং রাগান্বিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল যেন আমি সালাতে কথা না বলি।

(২) আস-সাকল (الثكل): কোনো নারীর তার সন্তান হারানো। এর অর্থ হলো: হায় সে আমাকে হারাক, কেননা আমি ধ্বংস হয়ে গেছি।

(৩) কাহারা-নী (كهرني): আমাকে ধমক দিয়েছেন বা তিরস্কার করেছেন।

(৪) এটি গণক ও জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়ার হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, যদিও কেউ তাদের বিশ্বাস না করে। আর যদি তাদের বিশ্বাস করে, তবে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদীসে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষী বা গণকের নিকট এল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মাদের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।"

(৫) ইয়াতাতাইয়ারুন (يتطيرون): তারা কোনো জিনিসের মাধ্যমে অশুভ বা কুলক্ষণ গ্রহণ করে। এটি তাদের উদ্দেশ্য সাধনে বাধা দিত, তাই শরীয়ত একে নাকচ করেছে, বাতিল করেছে এবং এ থেকে নিষেধ করেছে। আর জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো কল্যাণ বয়ে আনা বা অকল্যাণ দূর করার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই।

(৬) অর্থাৎ: এটি একটি কাল্পনিক ধারণা যা তাদের মনে জন্ম নেয়, যার কোনো লাভ বা ক্ষতি করার সক্ষমতা নেই। এটি কেবল শয়তানের প্ররোচনা যা সে সুশোভিত করে যেন তারা সে অনুযায়ী কাজ করে; যাতে করে সে তাদের আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে প্রভাববিস্তারকারী বিশ্বাস করার দিকে ধাবিত করতে পারে, যা আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে স্পষ্ট কুফরি। "সুতরাং এটি যেন তাদের বিরত না রাখে": অর্থাৎ, এই কুলক্ষণ যেন তাদের লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে না দেয়; কারণ তারা যা ধারণা করে তা তাদের কোনো ক্ষতি বা উপকার করে না।

(৭) আল-খাত্ত (الخط): তিনটি রেখা টানা, এরপর যব বা ফলের বিচি দিয়ে তাতে আঘাত করা এবং বলা যে—এমন এমন হবে। এটি এক প্রকার গণকবৃত্তি।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
«كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ، فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاكَ» (1). قَالَ: وَكَانَتْ لِي جَارِيَةٌ تَرْعَى غَنَمًا لِي قِبَلَ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ (2)، فَاطَّلَعْتُ ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا الذِّئْبُ قَدْ ذَهَبَ بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِهَا، وَأَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي آدَمَ، آسَفُ (3) كَمَا يَأْسَفُونَ، لَكِنِّي صَكَكْتُهَا (4) صَكَّةً، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَعَظَّمَ ذَلِكَ عَلَيَّ (5)، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَفَلَا أُعْتِقُهَا؟ قَالَ: «ائْتِنِي بِهَا». فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَقَالَ لَهَا: «أَيْنَ اللهُ؟». قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ (6). قَالَ: «مَنْ أَنَا؟». قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللهِ. قَالَ: «أَعْتِقْهَا؛ فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

 

14 - عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ، فَقَالَ: «إِنَّ اللهَ عز وجل لَا يَنَامُ، وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ، يَخْفِضُ الْقِسْطَ

--------------------------------------------

(1) معناه: من وافق خطه فهو مباح له، ولكن لا طريق لنا إلى العلم اليقيني بالموافقة فلا يباح، والمقصود أنه حرام؛ لأنه لا يباح إلا بيقين الموافقة، وليس لنا يقين بها، وإنما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «فمن وافق خطه فذاك»، ولم يقل: هو حرام، بغير تعليق على الموافقة؛ لئلا يتوهم متوهم أن هذا النهي يدخل فيه ذاك النبي الذي كان يخط، فحافظ النبي صلى الله عليه وسلم على حرمة ذاك النبي مع بيان الحكم في حقنا، فالمعنى: أن ذلك النبي لا منع في حقه، وكذا لو علمتم موافقته، ولكن لا علم لكم بها.

(2) الجوانية: موضع في شمالي المدينة بقرب أحد.

(3) آسف: أغضب.

(4) صككتها: لطمتها.

(5) أي: جعل النبي صلى الله عليه وسلم هذا الفعل عظيمًا، استنكارًا له، وشفقة على الجارية.

(6) قال الإمام ابن عبد البر في «التمهيد» (22/ 80): «وأما قوله: «أين الله؟ فقالت: في السماء» فعلى هذا أهل الحق؛ لقول الله عز وجل: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ} [الملك: 17]، ولقوله: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} [فاطر: 10]، ولقوله: {تَعْرُجُ المَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} [المعارج: 4]، ومثل هذا في القرآن كثير، وفيه رد على المعتزلة، وبيان لتأويل قول الله عز وجل: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5]، ولم يزل المسلمون في كل زمان إذا دهمهم أمر وكربهم غم يرفعون وجوههم وأيديهم إلى السماء؛ رغبة إلى الله عز وجل في الكف عنهم» اهـ.
«নবীদের মধ্যে একজন নবী (বালুর ওপর) রেখা আঁকতেন; সুতরাং যাঁর রেখা সেই নবীর রেখার সাথে মিলে যাবে, সেটা (বৈধ) হবে» (১)। তিনি বলেন: উহুদ ও জাওয়ানিয়া অঞ্চলের দিকে আমার এক দাসী ছিল যে আমার বকরি চরাতো। একদিন আমি সেখানে গিয়ে দেখলাম যে নেকড়ে তার পালের একটি বকরি নিয়ে গেছে। আমি তো আদম সন্তানদেরই একজন, তারা যেভাবে রাগান্বিত হয় আমিও সেভাবে রাগান্বিত হলাম, ফলে আমি তাকে একটি থাপ্পড় মারলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলাম, তখন তিনি আমার কাছে বিষয়টিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন: «তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো»। আমি তাকে তাঁর কাছে নিয়ে আসলাম। এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: «আল্লাহ কোথায়?»। সে বলল: আকাশে (৬)। তিনি বললেন: «আমি কে?»। সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «তাকে মুক্ত করে দাও; কারণ সে একজন মুমিন (বিশ্বাসী)»। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

 

১৪ - আবু মুসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে পাঁচটি কথা বললেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ঘুমান না, আর ঘুমানো তাঁর জন্য সমীচীনও নয়। তিনি ইনসাফের তুলাদণ্ড নিচে নামান...

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ হলো: যাঁর রেখা সেই নবীর রেখার সাথে মিলে যাবে তা তার জন্য বৈধ, কিন্তু আমাদের কাছে সেই মিল থাকার বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনের কোনো পথ নেই, তাই এটি বৈধ নয়। আর এর উদ্দেশ্য হলো এটি নিষিদ্ধ; কারণ নিশ্চিতভাবে মিল থাকা ব্যতীত তা বৈধ হয় না এবং আমাদের কাছে এই নিশ্চিত জ্ঞান নেই। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যাঁর রেখা মিলে যাবে সেটা (বৈধ)», তিনি সরাসরি হারাম বলেননি; যাতে কেউ এমন ধারণা না করে যে এই নিষেধের আওতাভুক্ত সেই নবীও ছিলেন যিনি রেখা আঁকতেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ক্ষেত্রে হুকুম বর্ণনা করার পাশাপাশি সেই নবীর মর্যাদা রক্ষা করেছেন। এর অর্থ হলো: সেই নবীর ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ ছিল না, আর তোমাদের ক্ষেত্রেও যদি মিল থাকার কথা জানতে তবে নিষেধ থাকত না, কিন্তু তোমাদের সেই জ্ঞান নেই।

(২) জাওয়ানিয়া: মদিনার উত্তরে উহুদের নিকটবর্তী একটি স্থান।

(৩) আসাফু: আমি রাগান্বিত হলাম।

(৪) সাকাকতুহা: আমি তাকে চড় মারলাম।

(৫) অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কাজটিকে অত্যন্ত গর্হিত মনে করেছেন এবং সেই দাসীর প্রতি করুণা প্রদর্শন করেছেন।

(৬) ইমাম ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে (২২/ ৮০) বলেছেন: "আর তাঁর উক্তি: 'আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আকাশে'—সত্যপন্থীগণ এই মতেরই অনুসারী; কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আকাশে আছেন} [মুলক: ১৭], এবং তাঁর বাণী: {তাঁরই দিকে আরোহণ করে পবিত্র বাণীসমূহ} [ফাতির: ১০], এবং তাঁর বাণী: {ফেরেশতারা এবং রূহ তাঁর দিকেই আরোহণ করে} [মাআরিজ: ৪]। কুরআনে এমন আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। আর এতে মুতাযিলাদের প্রতিবাদ রয়েছে এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র বাণী: {রাহমান আরশের উপর উঠেছেন} [তহা: ৫]-এর সঠিক ব্যাখ্যা নিহিত রয়েছে। মুসলমানরা সর্বদাই যেকোনো বিপদে এবং সংকটে আল্লাহর কাছে তা দূর করার প্রত্যাশায় নিজেদের চেহারা ও হাত আকাশের দিকে উত্তোলন করে থাকেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَيَرْفَعُهُ (1)، يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ عَمَلِ النَّهَارِ، وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ عَمَلِ اللَّيْلِ (2)، حِجَابُهُ النُّورُ - وَفِي رِوَايَةٍ: النَّارُ- (3) لَوْ كَشَفَهُ لَأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ (4) مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ» (5). رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

 

15 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَنْزِلُ رَبُّنَا تبارك وتعالى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ، يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟» (6). مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

--------------------------------------------

(1) القسط: الميزان، وسُمِّي قسطًا؛ لأن القسط: العدل، وبالميزان يقع العدل. والمراد: أن الله تعالى يخفض الميزان ويرفعه بما يوزن من أعمال العباد المرتفعة ويوزن من أرزاقهم النازلة. وأهل السنة والجماعة يؤمنون بأن الميزان شيء حقيقي حسي، له كفتان ولسان، وأنه يوزن به الأعمال والصحائف والأشخاص، وأنه بيد الرحمن يرفع ويخفض، كما صحت بذلك الأخبار.

(2) أي: يُرفع إليه عمل الليل قبل عمل النهار الذي بعده، وعمل النهار قبل عمل الليل الذي بعده. ورَفْعُ الأعمال إلى الله عز وجل من أدلة عُلُوِّه على خلقه.

(3) قال الإمام ابن أبي زمنين في «أصول السنة» (ص: 106): «ومن قول أهل السنة: إن الله عز وجل بائن من خلقه، محتجب عنهم بالحُجُب، فتعالى الله عما يقول الظالمون، كبرت كلمة تخرج من أفواههم إن يقولون إلا كذبًا».

(4) سُبُحات وجهه: جلاله ونوره. ويثبت أهل السنة الوجه لله على ما يليق بذاته، وكذلك يثبتون كل ما ثبت لله تعالى من صفات، من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل.

(5) قال الإمام ابن خزيمة في «التوحيد» (1/ 51): «إن لوجه ربنا عز وجل من النور والضياء والبهاء ما لو كشف حجابه لأحرقت سبحات وجهه كلَّ شيء أدركه بصرُهُ، محجوب عن أبصار أهل الدنيا، لا يراه بشر ما دام في الدنيا الفانية» اهـ.

(6) قال الإمام أبو عثمان الصابوني في «عقيدة أصحاب الحديث» (ص: 191): «ويثبت أصحاب الحديث نزول الرب سبحانه وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا، من غير تشبيه له بنزول المخلوقين، ولا تمثيل ولا تكييف، بل يثبتون ما أثبته رسول الله صلى الله عليه وسلم، وينتهون فيه إليه، ويُمِرُّون الخبر الصحيح الوارد بذكره على ظاهره، ويَكِلون علمه إلى الله. وكذلك يثبتون ما أنزل الله عز وجل في كتابه، من ذِكر المجيء والإتيان المذكورين في قوله عز وجل: {هَلْ يَنظُرُونَ إِلَا أَن يَأْتِيَهُمُ اللهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ وَالمَلآئِكَةُ} [البقرة: 210]، وقوله -عز اسمه-: {وَجَاء رَبُّكَ وَالمَلَكُ صَفًّا صَفًّا} [الفجر: 22]» اهـ.
এবং তিনি তা উঠান (১), তাঁর নিকট রাতের আমল দিনের আমলের আগে এবং দিনের আমল রাতের আমলের আগে উত্তোলিত হয় (২), তাঁর পর্দা হলো নূর -অন্য বর্ণনায়: আগুন- (৩) যদি তিনি তা উন্মোচন করতেন, তবে তাঁর মুখমণ্ডলের জ্যোতি (৪) তাঁর সৃষ্টির যেখানে গিয়ে তাঁর দৃষ্টি পৌঁছেছে তার সবকিছুকে জ্বালিয়ে দিত (৫)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

১৫ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন, তিনি বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে যে আমি তাকে ক্ষমা করব?» (৬)। এটি বুখারি ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-কিসত: পাল্লা বা তুলাদণ্ড। একে কিসত বলা হয়েছে কারণ কিসত অর্থ ন্যায়বিচার, আর পাল্লার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অর্থ হলো: মহান আল্লাহ পাল্লা নামান এবং উঠান যা বান্দাদের আমল হিসেবে উপরে উঠে এবং তাদের রিজিক হিসেবে নিচে নামে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বিশ্বাস করে যে, এই পাল্লা একটি প্রকৃত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়, যার দুটি পাল্লা এবং একটি কাঁটা রয়েছে। এর দ্বারা আমলসমূহ, আমলনামা এবং ব্যক্তিদের ওজন করা হবে। আর এটি পরম দয়াময় আল্লাহর হাতে থাকে, তিনি তা উঠান ও নামান, যেমনটি বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোতে এসেছে।

(২) অর্থাৎ: তাঁর নিকট রাতের আমল তার পরবর্তী দিনের আমলের আগে উত্তোলিত হয় এবং দিনের আমল তার পরবর্তী রাতের আমলের আগে উত্তোলিত হয়। মহান আল্লাহর দিকে আমলসমূহ উত্তোলিত হওয়া তাঁর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে থাকার অন্যতম একটি প্রমাণ।

(৩) ইমাম ইবনে আবি যামানাইন 'উসুলুস সুন্নাহ' (পৃষ্ঠা: ১০৬) গ্রন্থে বলেন: «আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য হলো: মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, পর্দার মাধ্যমে তাদের থেকে নেপথ্যে রয়েছেন। জালিমরা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে, তাদের মুখ থেকে কতই না ভয়ংকর কথা বের হয়, তারা কেবল মিথ্যাই বলে থাকে।»

(৪) তাঁর মুখমণ্ডলের জ্যোতি: তাঁর মর্যাদা ও নূর। আহলুস সুন্নাহ আল্লাহর জন্য তাঁর সত্তার সাথে মানানসই মুখমণ্ডল সাব্যস্ত করে। তেমনিভাবে তারা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করে কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তা’তিল), ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই।

(৫) ইমাম ইবনে খুযাইমাহ 'আত-তাওহিদ' (১/৫১) গ্রন্থে বলেন: «আমাদের মহান রবের মুখমণ্ডলের এমন নূর, দীপ্তি ও আভা রয়েছে যে, তিনি যদি তাঁর পর্দা উন্মোচন করতেন তবে তাঁর মুখমণ্ডলের জ্যোতি তাঁর দৃষ্টি যা কিছু উপলব্ধি করে তার সবকিছুকেই জ্বালিয়ে দিত। তিনি দুনিয়াবাসীদের দৃষ্টি থেকে অন্তরালে রয়েছেন, এই নশ্বর পৃথিবীতে থাকাকালীন কোনো মানুষ তাঁকে দেখতে পাবে না।» সমাপ্ত।

(৬) ইমাম আবু উসমান আস-সাবুনী 'আকিদাতু আসহাবিল হাদিস' (পৃষ্ঠা: ১৯১) গ্রন্থে বলেন: «হাদিস বিশারদগণ প্রতি রাতে মহান রবের দুনিয়ার আকাশে নেমে আসা সাব্যস্ত করেন, কোনো প্রকার সৃষ্টির নেমে আসার সাথে তুলনা করা বা সাদৃশ্য প্রদান বা ধরন নির্ধারণ ছাড়াই। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সাব্যস্ত করেছেন তারা তা-ই সাব্যস্ত করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকেন। তারা এ বিষয়ে বর্ণিত বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোকে এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখেন এবং এর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করেন। অনুরূপভাবে তারা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা নাজিল করেছেন তাও সাব্যস্ত করেন, যেমন আল্লাহর আসা ও আগমন সম্পর্কিত আলোচনা যা তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: {তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, আল্লাহ মেঘমালার ছায়াতলে ফেরেশতাদের নিয়ে তাদের নিকট আগমন করবেন?} [সূরা আল-বাকারাহ: ২১০], এবং তাঁর বাণী: {এবং তোমার রব আসবেন আর ফেরেশতারা কাতারবদ্ধ হয়ে আসবে} [সূরা আল-ফাজর: ২২]।» সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মাআলিমুদ দ্বীন মিন আহাদিসিস সাদিকিল আমিন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
16 - عَنْ جَرِيرِ بْنَ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنه قال: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِذْ نَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، فَقَالَ: «أَمَا إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ (1)، لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ (2)، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَقَبْلَ غُرُوبِهَا» -يَعْنِي: الْعَصْرَ وَالْفَجْرَ (3) - ثُمَّ قَرَأَ جَرِيرٌ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا} [طه: 130] (4). مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ.

 

17 - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمُقْسِطِينَ (5) عِنْدَ اللهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عز وجل، وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ (6)،

--------------------------------------------

(1) قال الإمام ابن خزيمة في «التوحيد» (2/ 406): «باب ذِكْر البيان أن الله عز وجل ينظر إليه جميع المؤمنين يوم القيامة برهم وفاجرهم، وإن رغمت أنوف الجهمية المعطِّلة المنكِرة لصفات خالقنا جل ذكره». ثم روى هذا الحديث.

(2) الضيم: الظلم. أي: لا ينالكم ظلم في رؤيته، فيراه بعضكم دون بعض.

(3) أي: لا يغلبكم الشيطان حتى تتركوهما أو تؤخروهما عن الوقت الأول.

(4) قيل في مناسبة الأمر بالمحافظة على هاتين الصلاتين عقيب ذكر الرؤية: أن أعلى ما في الجنة رؤية الله عز وجل، وأشرف ما في الدنيا من الأعمال هاتان الصلاتان، فالمحافظة عليهما يُرجى بها دخول الجنة ورؤية الله عز وجل فيها.

وقيل: إن أعلى أهل الجنة منزلةً من ينظر في وجه الله عز وجل مرتين بكرة وعشيًا، وعموم أهل الجنة يرونه في كل جمعة في يوم المزيد، والمحافظة على هاتين الصلاتين على ميقاتهما ووضوئهما وخشوعهما وآدابهما يُرجى به أن يوجب النظر إلى الله عز وجل في الجنة في هذين الوقتين.

(5) المقسطون: العادلون.

(6) قال الإمام الخطابي كما في «شرح السنة» للبغوي (10/ 64): «ليس فيما يضاف إلى الله عز وجل من صفة اليدين شمال؛ لأن الشمال على النقص والضعف، وقوله: «كلتا يديه يمين» هي صفة جاء بها التوقيف، فنحن نطلقها على ما جاءت، ولا نكيِّفها، وننتهي إلى حيث انتهى بنا الكتاب والأخبار الصحيحة، وهو مذهب السنة والجماعة» اهـ.
১৬ - জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: «জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে যেমনভাবে তোমরা এই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ (১), তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে তোমরা ভিড়ের কারণে কোনো কষ্টের বা যুলুমের শিকার হবে না (২)। অতএব তোমরা যদি সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত - অর্থাৎ আসর ও ফজর (৩) - আদায়ে পরাজিত না হতে পারো (অর্থাৎ তা যথাযথভাবে আদায় করতে পারো), তবে তা করো।» এরপর জারীর তিলাওয়াত করলেন: {এবং আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে} [ত্বহা: ১৩০] (৪)। মুত্তাফাকুন আলাইহি, আর হাদীসের শব্দ মুসলিমের।

 

১৭ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ (৫) আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরসমূহের উপরে থাকবেন, পরম করুণাময় (আর-রাহমান) আযযা ওয়া জাল্লার ডান দিকে, আর তাঁর উভয় হাতই ডান (৬),

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনে খুযাইমা তাঁর 'আত-তাওহীদ' গ্রন্থে (২/৪০৬) বলেছেন: «অনুচ্ছেদ: এই বর্ণনার বয়ান যে, কিয়ামতের দিন সকল মুমিন ব্যক্তি মহান আল্লাহকে দেখবেন, তাদের মধ্যে নেককার হোক বা পাপাচারী হোক, যদিও সেই জাহমিয়্যাহ মুআত্তিলাদের নাক ধূলামলিন হয় যারা আমাদের স্রষ্টার গুণাবলিকে অস্বীকার করে।» এরপর তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আদ-দাইম: যুলুম। অর্থাৎ: তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে তোমাদের ওপর কোনো যুলুম হবে না যে, তোমাদের কেউ দেখতে পাবে আর কেউ পাবে না।

(৩) অর্থাৎ: শয়তান যেন তোমাদের ওপর বিজয় লাভ করতে না পারে, যার ফলে তোমরা এই দুটি সালাত ছেড়ে দাও অথবা ওয়াক্তের প্রথম সময় থেকে বিলম্ব করো।

(৪) আল্লাহর দিদারের বর্ণনার পরপরই এই দুই সালাত হিফাযত করার নির্দেশের যৌক্তিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে: জান্নাতের সর্বোচ্চ নিআমত হলো মহান আল্লাহর দর্শন, আর দুনিয়ার আমলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত আমল হলো এই দুই সালাত। সুতরাং এই দুটি হিফাযত করার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ এবং সেখানে মহান আল্লাহকে দেখার আশা করা যায়।

আরও বলা হয়েছে: জান্নাতীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদাবান তারা যারা সকাল-সন্ধ্যায় মহান আল্লাহর চেহারা মোবারকের দিকে তাকাবেন। আর সাধারণ জান্নাতীরা প্রতি জুমায় 'ইয়াওমুল মাযীদ'-এ তাঁকে দেখবেন। এই দুই সালাতকে তাদের নির্দিষ্ট ওয়াক্তে, ওযূ, খুশু-খুযূ ও আদবের সাথে হিফাযত করার মাধ্যমে আশা করা যায় যে, জান্নাতে এই দুই সময়ে আল্লাহর দিকে তাকানো অবধারিত হয়ে যাবে।

(৫) আল-মুকসিতুন: ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ।

(৬) ইমাম খাত্তাবী যেমনটি বাগভী-র 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে (১০/৬৪) বর্ণিত হয়েছে, বলেছেন: «মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধকৃত দুই হাতের গুণের ক্ষেত্রে 'বাম' নেই; কারণ বাম হাত মূলত অপূর্ণতা ও দুর্বলতার অর্থে আসে। আর তাঁর বাণী: 'তাঁর উভয় হাতই ডান' এমন একটি সিফাত যা দলীল (তাওকীফ) দ্বারা সাব্যস্ত। সুতরাং আমরা তা সেভাবেই প্রয়োগ করি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, আমরা এর কোনো ধরণ বা প্রকৃতি (কাইফিয়্যাহ) নির্ধারণ করি না। আর কিতাব ও সহীহ বর্ণনা আমাদের যতটুকু পৌঁছে দিয়েছে আমরা সেখানেই থেমে যাই, আর এটাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ।» সমাপ্ত।