(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: -)
وسطية الإسلام ودعوته إلى الحوار القسم: كتب عامة
الكتاب: وسطية الإسلام ودعوته إلى الحوار
المؤلف: أ. د. عبد الرب نواب الدين آل نواب
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 39
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 52
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামের মধ্যপন্থা এবং সংলাপে এর আহ্বান বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
বই: ইসলামের মধ্যপন্থা এবং সংলাপে এর আহ্বান
লেখক: প্রফেসর ডক্টর আব্দুর রব নওয়াব আদ-দীন আল-নওয়াব
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৩৯
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১)
وسطية الإسلام ودعوته إلى الحوار إعداد
أد. عبد الرب نواب الدين آل نواب
عضو هيئة التدريس بكلية الدعوة وأصول الدين
الجامعة الإسلامية - المدينة المنورة
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه وبعد:
فإن الحديث عن الإرهاب والتطرف والعنف حديث عن قضية عصرية شغلت حيزا كبيرا من الساحة السياسية والفكرية والاجتماعية والنفسية، وللإرهاب مفاهيمه المتعددة ودوافعه المتنوعة، وله كذلك مجالاته ومظاهره وأخطاره، والإرهاب أمر شنيع بالمفهوم المتبادر في الرأي العام وهو المنصبّ نحو (العمل العنيف لقتل الأبرياء وانتهاك حرماتهم) ، ويجمع العلماء على تحريمه وتجريمه، والإرهاب بهذا المفهوم داء عضال بل داء فتاك إذا استشرى في أمة أرداها وقضى عليها، وأول أخطاره زعزعة الأمن في البلاد وبث الرعب في القلوب والتقليل من هيبة النظام.
ইসলামের মধ্যপন্থা এবং সংলাপে এর আহ্বান — উপস্থাপনায়
প্রফেসর ড. আব্দুর রব নওয়াব উদ্দিন আল-নওয়াব
শিক্ষক, দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি - মদিনা মুনাওয়ারা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও সহিংসতা নিয়ে আলোচনা বর্তমান সময়ের এমন একটি সমকালীন বিষয় যা রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক অঙ্গনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিবিধ ধারণা ও বিচিত্র প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং এর বিভিন্ন ক্ষেত্র, বহিঃপ্রকাশ ও ঝুঁকি বিদ্যমান। সাধারণ জনমত অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ একটি জঘন্য বিষয়, যা মূলত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা এবং তাদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সহিংস কর্মকাণ্ডকে নির্দেশ করে। আলেম সমাজ এর নিষিদ্ধতা ও অপরাধমূলক হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন। এই অর্থে সন্ত্রাসবাদ একটি দুরারোগ্য ব্যাধি, বরং এটি একটি প্রাণঘাতী মহামারি; যা কোনো জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তাকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এর প্রথম ও প্রধান বিপদ হলো দেশে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২)
لذا قام أفضل الأمة وهم صحابة النبي صلى الله عليه وسلم بالوقوف صفا واحدا لصد هذا التيار المنحرف، وكان لهم مواقف صارمة تجاه هذا الداء الفتاك، وذلك حين عاصروا ما عرف في التاريخ الإسلامي (بالخوارج) قد واجهوه بمختلف الوسائل والأساليب بالحوار طورا، وبالسيف والقتال طورا آخر، وبالتحذير من أخطار الفئة التي تحمل وتبث أفكار الإرهاب في المجتمع وتنخر كالسوس لتقويض بنيانه وهدم أركانه.
وهذا البحث المتواضع إسهام قليل من واجب كثير وكبير يطالب به المثقفون لصد تيار هذا الفكر المنحرف واجتثاث جذوره والبحث في أسبابه وبيان طرائق علاجه ووقاية الأمة من أخطاره وآثاره، كتبته بعنوان: (وسطية الإسلام ودعوته إلى الحوار) ضمن المحور الخامس من محاور المؤتمر الدولي.
তাই এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ অর্থাৎ নবী (সা.)-এর সাহাবী (صحابة)গণ এই বিভ্রান্ত (المنحرف) ধারার মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন এবং এই মারাত্মক ব্যাধির বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। এটি তখন ঘটেছিল যখন তাঁরা ইসলামি ইতিহাসে খারেজী (الخوارج) হিসেবে পরিচিতদের সমসাময়িক ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন মাধ্যম ও পদ্ধতিতে তাদের মোকাবিলা করেছিলেন; কখনো আলোচনার মাধ্যমে, আবার কখনো তলোয়ার ও যুদ্ধের মাধ্যমে এবং সেই গোষ্ঠীর বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার মাধ্যমে, যারা সমাজে সন্ত্রাসবাদের ধারণা বহন ও প্রচার করে এবং ঘুণপোকার মতো এর কাঠামো নড়বড়ে করতে ও স্তম্ভগুলো ধ্বংস করতে কাজ করে।
এই বিনম্র গবেষণাটি সেই মহান ও ব্যাপক দায়িত্বের একটি ক্ষুদ্র অংশ, যা এই বিভ্রান্ত (المنحرف) চিন্তাধারার স্রোত রোধ করা, এর শিকড় উপড়ে ফেলা, এর কারণসমূহ অনুসন্ধান করা, প্রতিকারের উপায়গুলো বর্ণনা করা এবং উম্মতকে এর বিপদ ও কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের নিকট দাবি রাখে। আমি এটি ‘ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية) ও সংলাপের প্রতি এর আহ্বান’ শিরোনামে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পঞ্চম মূল বিষয়ের অধীনে লিখেছি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩)
والحوار في المنظومة الإسلامية أسلوب ووسيلة في الدعوة إلى الله، وفي دحض الشبهات والافتراءات، وفي رد الشاردين والجاهلين والغافلين من أبناء المسلمين إلى حياض الإسلام، إن الحوار ترياق فعال لمعالجة داء الإرهاب، بل هو وقاية وعلاج، فبالحوار تنفتح مغاليق الشبهات، وبالحوار تدرأ الكثير من مكنونات النفس وتراكمات العقائد الضالة المضللة، وللحوار في القرآن العظيم والسنة النبوية الشريفة مساحات شاسعة، حوار النفس وحوار المشمولين في بوتقة الأخوة الإسلامية، وحوار المخالفين في الرأي، وحوار المخالفين في الدين، وحوار المسالمين وحوار؛ فالحوار بكل صوره وأبعاده وأهدافه وآثاره مادة علمية لها ظلال عميقة في واقع التطبيق.
ইসলামী ব্যবস্থায় সংলাপ (حوار) হলো আল্লাহর পথে দাওয়াতের (دعوة) একটি পদ্ধতি ও মাধ্যম, এবং সংশয় (شبهات) ও অপবাদসমূহ নিরসনের একটি উপায়; সেইসাথে পথভ্রষ্ট, অজ্ঞ ও গাফেল মুসলিম সন্তানদের ইসলামের সুশীতল আঙিনায় ফিরিয়ে আনার একটি মাধ্যম। নিশ্চয়ই সংলাপ (حوار) সন্ত্রাসবাদের ব্যাধি নিরাময়ে একটি কার্যকর মহৌষধ, বরং এটি প্রতিরোধ ও প্রতিকার উভয়ই। কারণ সংলাপের (حوار) মাধ্যমেই সংশয়ের (شبهات) বদ্ধ দুয়ারগুলো খুলে যায় এবং সংলাপের (حوار) মাধ্যমে মনের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা অনেক বিষয় এবং বিভ্রান্তিকর আকিদার (عقائد) স্তূপ দূর করা সম্ভব হয়। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং সুন্নাহর (سنة) মধ্যে সংলাপের (حوار) বিশাল পরিধি রয়েছে; যেমন—নিজের সাথে সংলাপ (حوار), ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধদের সাথে সংলাপ (حوار), ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে সংলাপ (حوار), ভিন্নধর্মাবলম্বীদের সাথে সংলাপ (حوار) এবং শান্তিকামীদের সাথে সংলাপ (حوار)। সুতরাং সংলাপ (حوار) তার সকল রূপ, মাত্রা, লক্ষ্য ও প্রভাবসহ এমন একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়, যার প্রায়োগিক বাস্তবতায় গভীর তাৎপর্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৪)
واشتملت
خطة البحث على المباحث الآتية المبحث الأول: (تعريفات عامة) : الإرهاب والعنف والتطرف.
المبحث الثاني: (من مظاهر وسطية الإسلام وسماحته)
المبحث الثالث: (تعريف الحوار وبيان أهميته)
المبحث الرابع: (أصول الحوار)
المبحث الخامس: (مجالات الحوار)
المبحث السادس: (دعوة القرآن الكريم والسنة النبوية الشريفة إلى الحوار)
المبحث السابع: (نماذج من الحوار من القرآن الكريم والسنة النبوية الشريفة وسير الصحابة رضي الله عنهم .
وبعد:
فما رصدته في موضوع الحوار في مثل هذه المؤتمر الموقر هو جزء يسير من موضوع متشعب الأطراف متعدد المسالك.
وأسأل الله التوفيق. . .
كتبه
أ. د / عبد الرب نواب الدين آل نواب
عضو هيئة التدريس بكلية الدعوة وأصول الدين
الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية.
এবং
গবেষণা পরিকল্পনাটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে: প্রথম পরিচ্ছেদ: (সাধারণ সংজ্ঞাসমূহ): সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা এবং চরমপন্থা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: (ইসলামের মধ্যপন্থা ও উদারতার স্বরূপ)
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (সংলাপের সংজ্ঞা এবং এর গুরুত্বের বর্ণনা)
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: (সংলাপের মূলনীতিসমূহ)
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: (সংলাপের ক্ষেত্রসমূহ)
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: (সংলাপের প্রতি পবিত্র কুরআন এবং সম্মানিত নববী সুন্নাহর আহ্বান)
সপ্তম পরিচ্ছেদ: (পবিত্র কুরআন, সম্মানিত নববী সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম -রাযিয়াল্লাহু আনহুম- এর জীবনী হতে সংলাপের কিছু নমুনা।
অতঃপর:
সম্মানিত এই সম্মেলনে সংলাপের বিষয়ে আমি যা উপস্থাপন করেছি, তা অত্যন্ত বিস্তৃত ও বহুমুখী একটি বিষয়ের অতি সামান্য অংশ মাত্র।
আমি আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা করছি...
লিখেছেন
প্রফেসর ড. আব্দুর রব নওয়াবউদ্দীন আল নওয়াব
অনুষদ সদস্য, দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول تعريفات عامة
تعريف: (الإرهاب والعنف والتطرف)الإرهاب في اللغة مشتق من مادة (ر هـ ب) ومعناه الخوف والفزع، قال ابن منظور: رَهِبَ، بالكسر، يَرْهَبُ رَهْبَةً ورُهْباً، بالضم، ورَهَبَاً، بالتحريك، أَي خافَ. ورَهِبَ الشيءَ رَهْباً ورَهَباً ورَهْبةً: خافَه. . . . . وأَرْهَبَهه ورَهَّبَه واستَرْهَبَه: أَخافَه وفَزَّعه [لسان العرب 1 / 436] .
والعنف: الشدة والغلظة، وهو عكس الرفق واللين [اللسان 9 / 257] .
والتطرف: الأخذ بطرف الشيء أي منتهاه وغايته، قال اللغويون: والمطرّف: الذي يأتي على أوائل الخيل فيردها عن آخرها. [اللسان 9 / 217] فالتطرف يقصد به الغلو والمبالغة والتزمّت. وهذه الاصطلاحات الثلاثة متقاربة (الإرهاب والعنف والتطرف) .
يجمعها جامع الشذوذ والخروج عن حد الاعتدال. ونركّز في الحديث عن الإرهاب فهو الأكثر شيوعا في الاصطلاحات الإعلامية والسياسية والفكرية المعاصرة.
الإرهاب في الاصطلاح:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণ সংজ্ঞাসমূহসংজ্ঞা: (সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা এবং চরমপন্থা)সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب) শব্দটি আভিধানিক অর্থে (ر هـ ب) মূলধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ভয় ও আতঙ্ক। ইবনে মানজুর বলেন: 'রাহিবা' (رَهِبَ), কাসরা যোগে, 'ইয়ারহাবু' (يَرْهَبُ), 'রাহবাতান' (رَهْبَةً), 'রুহবান' (رُهْباً), পেশ যোগে এবং 'রাহাবান' (رَهَبَاً), হরকত যোগে; যার অর্থ হলো সে ভয় পেয়েছে। আর 'আরহাবা' (أَرْهَبَ), 'রাহ্হাবা' (رَهَّبَ) এবং 'ইস্তারহাবা' (اسْتَرْهَبَ) এর অর্থ হলো সে তাকে ভীত ও আতঙ্কিত করেছে [লিসানুল আরব ১/৪৩৬]।
সহিংসতা (العنف): এর অর্থ হলো কঠোরতা ও রূঢ়তা, যা কোমলতা ও নমনীয়তার বিপরীত [লিসান ৯/২৫৭]।
চরমপন্থা (التطرف): কোনো বস্তুর প্রান্তভাগ তথা তার শেষ সীমা ও চূড়ান্ত পর্যায় গ্রহণ করা। ভাষাবিদগণ বলেন: 'আল-মুতারিফ' (المطرّف) হলো সেই ব্যক্তি যে অশ্বারোহী বাহিনীর অগ্রভাগে আক্রমণ করে তাদের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত হটিয়ে দেয় [লিসান ৯/২১৭]। সুতরাং চরমপন্থা (التطرف) বলতে বাড়াবাড়ি (الغلو), অতিরঞ্জন ও গোঁড়ামি বোঝানো হয়। এই তিনটি পরিভাষা—সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب), সহিংসতা (العنف) ও চরমপন্থা (التطرف)—পরস্পর অত্যন্ত নিকটবর্তী।
বিচ্যুতি (الشذوذ) এবং পরিমিতিবোধের সীমা লঙ্ঘন করার বিষয়টি এই তিনটিকে একই সূত্রে গেঁথেছে। আমরা এখানে সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب) নিয়ে আলোচনার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি, কারণ সমকালীন গণমাধ্যম, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিভাষায় এটিই সর্বাধিক প্রচলিত।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاح) সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب):
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৬)
يبرز أولا في تعريف الإرهاب مشكلة بحثية، لتعدد مفاهيمه وتباين مدلولاته، فهو اصطلاح فيه غموض ثم هو غير دقيق، ويرجع ذلك إلى الخلفية العقدية والتاريخية لمن يستعمل هذا الاصطلاح في خطابه، وعلى سبيل المثال فالجهاد في سبيل الله لنشر الإسلام أو دفاعا عن الأرض والعرض أمر مشروع، لكن أعداء الإسلام يرونه إرهابا!
فالإرهاب على هذا عند الجميع (تخويف وترويع وبثٌ للفزعُ الرعب في قلوب الناس) ، لكن المقاصد والأهداف والغايات هي التي تحدد مفهومه حميدا كان أو ذميما.
সন্ত্রাসবাদের (الإرهاب) সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে প্রথমত একটি গবেষণামূলক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়, কারণ এর ধারণাগুলো বহুমুখী এবং এর অর্থের প্রয়োগ ভিন্ন ভিন্ন। এটি এমন এক পরিভাষা যাতে অস্পষ্টতা রয়েছে এবং যা সঠিক ও সুনির্দিষ্ট নয়। এর কারণ হলো যারা এই পরিভাষাটি তাদের বক্তব্যে ব্যবহার করেন তাদের আদর্শিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। উদাহরণস্বরূপ, ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে কিংবা ভূখণ্ড ও সম্মানের প্রতিরক্ষায় আল্লাহর পথে জিহাদ (الجهاد) একটি বৈধ (مشروع) বিষয়; কিন্তু ইসলামের শত্রুরা একে সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب) হিসেবে গণ্য করে!
এ প্রেক্ষাপটে সকলের নিকট সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب) হলো (মানুষের হৃদয়ে ভয়-ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া), তবে এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যই নির্ধারণ করে যে এর ধারণাটি প্রশংসনীয় হবে নাকি নিন্দনীয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإرهاب في القرآن الكريمقال الراغب: الرهبة والرهب مخافة مع تحرز واضطراب [المفردات ص 204 (رهب) ] .
ولقد وردت مادة (رهب) في القرآن الكريم (12) مرة، وترجع إلى ثلاثة معانٍ رئيسة وهي:
المعنى الأول: الخوف والخشية من الله تعالى، قال جل ذكره:
{يَابَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} [البقرة:40]
وقال: {وَلَمَّا سَكَتَ عَنْ مُوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الْأَلْوَاحَ وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ} [الأعراف:154]
وقال تعالى: {وَقَالَ اللَّهُ لَا تَتَّخِذُوا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} [النحل:51]
وقال تعالى: {فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ} [الأنبياء:90]
পবিত্র কুরআনে ইরহাব (ভীতিপ্রদর্শন)রাغب (রহ.) বলেছেন: ‘রাহবাহ’ (الرهبة) ও ‘রাহাব’ (الرهب) হলো সতর্কতা ও অস্থিরতা মিশ্রিত ভয় [আল-মুফরাদাত, পৃ. ২০৪ (رهب)]।
পবিত্র কুরআনে ‘রা-হা-বা’ (رهب) মূলধাতুটি ১২ বার এসেছে এবং এটি তিনটি প্রধান অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর সেগুলো হলো:
প্রথম অর্থ: মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি ভয় (الخوف) ও ভীতি (الخشية); মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
{হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি এবং তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করো, তবে আমি তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর তোমরা কেবল আমাকেই ভয় (فارهبون) করো।} [আল-বাকারা: ৪০]
তিনি আরও বলেছেন: {আর যখন মূসার ক্রোধ প্রশমিত হলো, তখন তিনি ফলকগুলো তুলে নিলেন; আর তার লিপিতে সেই সমস্ত লোকদের জন্য হিদায়াত ও রহমত ছিল যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় (يرهبون) করে।} [আল-আরাফ: ১৫৪]
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর আল্লাহ বলেছেন, তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না; তিনি তো কেবল এক ইলাহ। সুতরাং তোমরা কেবল আমাকেই ভয় (فارهبون) করো।} [আন-নাহল: ৫১]
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {অতঃপর আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে ইয়াহইয়া দান করেছিলাম এবং তার জন্য তার স্ত্রীকে সংশোধন (সন্তানধারণের উপযোগী) করেছিলাম। তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং তারা আমাকে আশা ও ভীতি (رهبا) সহকারে ডাকত; আর তারা ছিল আমার নিকট বিনীত।} [আল-আম্বিয়া: ৯০]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال تعالى: {اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِنْ رَبِّكَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ} [القصص:32]
المعنى الثاني: الترهب بمعنى التعبد ومنه الراهب النصراني ومعنى الراهب الخائف أو الخاشع قال الراغب: الرهبانية غلو في تحمل التعبد من فرط الرهبة.
قال تعالى في النصارى: {ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [المائدة:82]
وقال: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [التوبة:31]
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমার হাত তোমার বগলে প্রবেশ করাও, তা কোনো প্রকার ব্যাধি ছাড়াই শুভ্র-উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে এবং ভয় দূর করতে তোমার হাত নিজের বুকের সাথে চেপে ধরো। সুতরাং এই দুটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট প্রেরিত দুটি প্রমাণ। নিশ্চয়ই তারা ছিল এক পাপাচারী (فاسقين) সম্প্রদায়।} [আল-কাসাস: ৩২]
দ্বিতীয় অর্থ: ‘আত-তারাহহুব’ ইবাদত বা উপাসনার অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং খ্রিস্টান সন্ন্যাসী শব্দটি এখান থেকেই উদ্ভূত। আর সন্ন্যাসী শব্দের অর্থ হলো ভীত অথবা বিনয়াবনত ব্যক্তি। আল-রাগিব বলেন: অত্যধিক ভয় থেকে ইবাদতের কঠোর সাধনায় চরমপন্থা অবলম্বন করার নামই হলো বৈরাগ্যবাদ।
খ্রিস্টানদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তা এই কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক ধর্মতাত্ত্বিক পণ্ডিত ও সন্ন্যাসী রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না।} [আল-মায়িদাহ: ৮২]
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {তারা আল্লাহ ব্যতীত নিজেদের আলেম ও সন্ন্যাসীদের এবং মারইয়াম-পুত্র মসীহকে রবরূপে গ্রহণ করেছে; অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই। তারা যা শরিক করে, তিনি তা থেকে অতি পবিত্র।} [আত-তাওবাহ: ৩১]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقال: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} [التوبة:34]
وقال تعالى: {ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَاهُ الْإِنْجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} [الحديد: 27]
المعنى الثالث: التخويف والترويع وبث الفزع والرعب:
قال تعالى في سحرة فرعون: {قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ} [الأعراف: 116]
এবং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই অনেক পণ্ডিত ও ধর্মযাজক মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে। আর যারা সোনা ও রুপা পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।} [আত-তাওবাহ: ৩৪]
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর আমি তাদের অনুগামী করেছি আমার রাসূলদের এবং অনুগামী করেছি মারইয়াম-পুত্র ঈসাকে এবং তাকে দিয়েছিলাম ইনজিল। যারা তার অনুসরণ করেছিল আমি তাদের অন্তরে মমতা ও দয়া দান করেছি। আর বৈরাগ্যবাদ—তা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল, আমি তা তাদের ওপর বিধিবদ্ধ করিনি, তারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্বেষায় তা করেছিল; অথচ তারা তা যথাযথভাবে রক্ষা করেনি। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমি তাদের পুরস্কার দিয়েছি, আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।} [আল-হাদিদ: ২৭]
তৃতীয় অর্থ: ভীতিপ্রদর্শন, আতঙ্কিতকরণ এবং ভয় ও ত্রাস সঞ্চার করা:
আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের জাদুকরদের প্রসঙ্গে বলেছেন: {তিনি বললেন, ‘তোমরাই নিক্ষেপ করো।’ অতঃপর তারা যখন নিক্ষেপ করল, তারা মানুষের চোখে জাদু করল এবং তাদের আতঙ্কিত করল এবং তারা এক মহা জাদু প্রদর্শন করল।} [আল-আরাফ: ১১৬]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১০)
{وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ} [الأنفال: 60]
وقال تعالى: {لَأَنْتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةً فِي صُدُورِهِمْ مِنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ} [الحشر: 13]
{আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের অশ্ব প্রস্তুত রাখো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে এবং তারা ছাড়া অন্যদের ভীত করবে যাদের তোমরা চেনো না, কিন্তু আল্লাহ তাদের চেনেন। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তার প্রতিদান তোমাদেরকে পূর্ণভাবে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।} [আনফাল: ৬০]
আর মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি। এটা এ কারণে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা উপলব্ধি করে না।} [হাশর: ১৩]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১১)
الإرهاب في اصطلاح الرأي العامنختار من بين التعريفات الكثيرة ما ذكره د. سيار الجميل قال محددا الإرهاب: (هو عملية أو مجموعة من العمليات مضادة للآخر وتقتص منه عشوائيا بعد أن يتم التخطيط للعمليات أو محاولات تنفيذها وبشكل منظم ودقيق من أجل كبح جماح الآخر ومعاقبته مهما كان الثمن وبوسائل غير مشروعة) [جريدة الزمان 22 تشرين الثاني (نوفمبر) 2001 ص 13]
জনমতের পরিভাষায় সন্ত্রাসবাদঅসংখ্য সংজ্ঞার মধ্য থেকে আমরা ড. সাইয়্যার আল-জামিল যা উল্লেখ করেছেন তা নির্বাচন করছি; তিনি সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করে বলেন: (এটি হলো একটি প্রক্রিয়া বা একগুচ্ছ প্রক্রিয়ার সমষ্টি যা অন্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত এবং সুসংগঠিত ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনার পর কিংবা তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার পর উদ্দেশ্যহীনভাবে অন্যের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করে; যার উদ্দেশ্য হলো যেকোনো মূল্যে এবং অবৈধ উপায়ে অন্যকে দমন ও শাস্তি প্রদান করা।) [আল-জামান পত্রিকা, ২২ নভেম্বর ২০০১, পৃষ্ঠা ১৩]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১২)
الإرهاب عند الغربيينينصب مدلول الارهاب عند الغربيين نحو كل عمل يتضمن مقاومة للفكر الغربي أو التدخل العسكري الغربي أو للنفوذ الغربي في بلاد المسلمين. والإرهاب بهذا المعنى اصطلاح يرد في كتابات الغربيين منذ قرنين، فالحركات التحررية ضد الاستعمار إرهاب عندهم، ورفض الهيمنة الغربية بما فيها العولمة إرهاب أيضا في قاموسهم، وبرز هذا الاصطلاح أكثر بعد أحداث 11 سبتمبر الشهيرة، فأصبح المسلمون في أكثر الدوائر الإعلامية إرهابيين!! والمؤسسات الإسلامية الأكاديمية والإغاثية بل الأنظمة تدعم الإرهاب أو تغذيه وتسانده.
لقد ذهب مثقفو الإرهاب إلى أبعد حد عندما وجدوا أن القرآن الكريم هو أصل الإرهاب بما أنه يتضمن آيات في القتل والحرب. ونسي هؤلاء أن التوراة وكل الكتب الدينية قد تحدثت عن الصمود والمواجهة. لنتمعن في هذه الفقرة من كتاب التوراة وها هي ترجمتها التقريبية: يقدم لك إلهك ومولاك هذه الأوطان ويبث فيها الرعب حتى إبادتها ويقدم بين أيديك ملوكهم فتمحي أسماءهم من الوجود ولا أحد يقف صامدا أمامك حتى تقتلهم وتبيدهم والأمثلة على ذلك كثيرة.
পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদপশ্চিমাদের নিকট সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞার্থ এমন প্রতিটি কর্মের দিকে ধাবিত হয় যাতে পশ্চিমা চিন্তাধারা, পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা মুসলিম দেশগুলোতে পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই অর্থে সন্ত্রাসবাদ এমন একটি পরিভাষা যা দুই শতাব্দী যাবৎ পশ্চিমাদের লেখনিতে পাওয়া যায়। তাদের নিকট উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী আন্দোলনগুলো সন্ত্রাসবাদ এবং বিশ্বায়নসহ পশ্চিমা আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করাও তাদের অভিধানে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য। ১১ সেপ্টেম্বরের সেই বিখ্যাত ঘটনার পর এই পরিভাষাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে, যার ফলে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে মুসলিমরা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পায়!! আর ইসলামী শিক্ষামূলক ও ত্রাণ সংস্থাগুলো, এমনকি শাসনব্যবস্থাসমূহও সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে কিংবা ইন্ধন যোগাচ্ছে ও সহায়তা করছে।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যারা তাত্ত্বিক আলোচনা করেন তারা চরম সীমায় পৌঁছে গেছেন যখন তারা দাবি করেছেন যে, পবিত্র কুরআনই হলো সন্ত্রাসবাদের মূল উৎস, যেহেতু এতে হত্যা ও যুদ্ধ সংক্রান্ত আয়াত রয়েছে। অথচ এই ব্যক্তিরা বিস্মৃত হয়েছে যে, তওরাত এবং সমস্ত ধর্মীয় গ্রন্থই দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের কথা বলেছে। আসুন আমরা তওরাত কিতাবের এই অনুচ্ছেদটির দিকে লক্ষ্য করি এবং এর আনুমানিক অনুবাদটি নিম্নরূপ: তোমার উপাস্য ও প্রতিপালক তোমাকে এই দেশগুলো প্রদান করবেন এবং তাদের মধ্যে ত্রাস সঞ্চার করবেন যতক্ষণ না তাদের বিনাশ ঘটে, আর তিনি তাদের রাজাদের তোমার হস্তগত করবেন যাতে তুমি জগত থেকে তাদের নাম নিশ্চিহ্ন করে দাও এবং কেউ তোমার সম্মুখে অটল থাকতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি তাদের হত্যা ও নির্মূল করো; এমন উদাহরণ সেখানে প্রচুর রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ولنتمعن قليلا أيضا في هذه المقولة لمفكر ألماني (1848 Karl Heinzen) ألف كتابا عن القتل هو عبارة عن نصائح متعددة في استعمال تقنيات التقتيل والمذابح والإبادة ضد الآخر أي ضد الشعوب المتوحشة تلك التي لم تدخل الحضارة الغربية قال فيه: إذا ما أجبرت على تدمير نصف قارة وعلى نشر حمام دماء لمحو البرابرة، فلا يجب أن يوبخك ضميرك. إن الذي لا يضحي بحياته فرحا من أجل إبادة مليون من المتوحشين لا يعد مواطنا جمهوريا (نجد هذه المقولة في كتاب:
Jean Claude Brusson، Le si cle rebelle، Dictionnaire de la contestation au XXe si cle، Larousse، Paris 1999) . ولعله قد آن الأوان لإعادة النظر في كلمة إرهاب وتدقيقها حتى لا تكون أداة إيديولوجية نستعملها حسب ظروفنا وملابسات سياساتنا.) [عاطف الغمري: صحيفة الأهرام 27 / 8 / 2003م]
আসুন আমরা একজন জার্মান চিন্তাবিদের (১৮৪৮ কার্ল হাইনজেন) এই উক্তিটি নিয়ে কিছুটা গভীরভাবে চিন্তা করি, যিনি হত্যা বিষয়ক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এটি মূলত 'অপরের' বিরুদ্ধে—অর্থাৎ সেই সব অসভ্য জাতি যারা পাশ্চাত্য সভ্যতায় প্রবেশ করেনি তাদের বিরুদ্ধে—হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা এবং নির্মূলীকরণের কৌশল ব্যবহারের বিভিন্ন উপদেশের সংকলন। তিনি সেখানে বলেছেন: "যদি তোমাকে বর্বরদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহাদেশের অর্ধেক ধ্বংস করতে এবং রক্তের বন্যা বইয়ে দিতে বাধ্য করা হয়, তবে তোমার বিবেক যেন তোমাকে দংশন না করে। যে ব্যক্তি দশ লক্ষ বন্য মানুষকে নির্মূল করার জন্য সানন্দে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে পারে না, তাকে একজন প্রজাতন্ত্রবাদী নাগরিক হিসেবে গণ্য করা যায় না।" (আমরা এই উক্তিটি নিম্নোক্ত গ্রন্থে পাই:
জঁ ক্লদ ব্রুসন, ল্য সিয়াকল রেবেল, ডিকশনারি অফ কনটেস্টেশন ইন দ্য টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি, লারোস, প্যারিস ১৯৯৯) । সম্ভবত 'সন্ত্রাসবাদ' শব্দটিকে পুনর্বিবেচনা করার এবং এর সুক্ষ্ম বিশ্লেষণের সময় এসেছে, যাতে এটি এমন কোনো আদর্শিক হাতিয়ারে পরিণত না হয় যা আমরা আমাদের পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ব্যবহার করি।) [আতিফ আল-গামরি: আল-আহরাম পত্রিকা ২৭ / ৮ / ২০০৩ খ্রি.]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثاني من مظاهر وسطية الإسلام وسماحته
وسطية الإسلام في العقيدةتتجلى في أسس الإيمان وأركانه العظام حيث الوضوح والخلو من الغموض والطلاسم والتعقيد، فالإيمان بالله تعالى وبوجوده مركوز في الفطرة، ودلائل ذلك واضحة جلية في صفحة الكون وأغوار النفس، والإيمان بأنه لا إله إلا هو وأنه متفرد في ربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته وأنه ليس كمثله شيء، كذلك واضح وضوح الشمس في آيات التنزيل الحكيم وفي آيات الله في الكون، والوسطية في اعتقاد العقيدة القويمة في ذلك دون غلو ولا إفراط ولا تفريط أيضا مظهر من مظاهر الاعتدال، والمسلمون يبتهلون إلى الله كل يوم خمس مرات قائلين {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 6-7]
هي دعوة أن يهديهم الصراط المستقيم، الذي هو وسط بين طريق المغضوب عليهم وهم اليهود وبين الضالين وهم النصارى. وهي دعوة أن يثبتهم على ذلك.
ইসলামের মধ্যমপন্থা ও সহনশীলতার নিদর্শনসমূহ হতে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
আকিদাহ (العقيدة)-র ক্ষেত্রে ইসলামের মধ্যমপন্থাএটি ঈমানের (الإيمان) ভিত্তি ও তার মহান স্তম্ভসমূহের মাঝে প্রতিফলিত হয়, যেখানে রয়েছে স্পষ্টতা এবং অস্পষ্টতা, রহস্যময়তা ও জটিলতা থেকে মুক্তি। মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান (الإيمان) এবং তাঁর অস্তিত্বের বিষয়টি স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে (فطرة) প্রোথিত। এর প্রমাণসমূহ বিশ্বচরাচরে এবং আত্মার গহীন কোণে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রদীপ্ত। আর এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি তাঁর রুবুবিয়্যাত (ربوبية), উলুহিয়্যাত (ألوهية) ও নাম ও গুণাবলীতে একক এবং তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই—এসব বিষয়ও হিকমতপূর্ণ ওহী এবং মহাবিশ্বে আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে মধ্যাহ্ন সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট। তদ্রূপ চরমপন্থা (غلو), বাড়াবাড়ি (إفراط) কিংবা ছাড়াছাড়ি (تفريط) বর্জন করে সঠিক আকিদাহ (العقيدة) বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাও ভারসাম্যের একটি অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। মুসলিমগণ প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, "আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ যাদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয় যাদের ওপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট।" [আল-ফাতিহা: ৬-৭]
এটি হলো আল্লাহ তাআলার কাছে তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শনের একটি প্রার্থনা, যা ক্রোধনিপতিত ইয়াহুদি এবং পথভ্রষ্ট খ্রিষ্টানদের পথের মধ্যবর্তী এক মধ্যম (وسط) পথ। আর এটি সেই পথের ওপর অটল রাখারও একটি দোয়া।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وسطية الإسلام في الشريعةشريعة الإسلام في مجال العبادات والمعاملات تتسم بالوسطية، فهي بين الغلو والتهاون، بين الإفراط والتفريط، وما الشواهد المتكاثرة في القرآن والسنة على تقرير الوسطية إلا مظاهر تقرر أنها شريعة صالحة لكل عصر ومصر. مثل قوله صلى الله عليه وسلم: «أما أنا فأصوم وأفطر وأرقد وأصلي وأتزوج النساء فمن رغب عن سنتي فليس مني» [متفق عليه] .
ولقد استنبط العلماء القواعد الفقهية والأصولية من تشريعات الإسلام مثل قولهم: الضرورات تبيح المحظورات، والضرورة تقدر بقدرها، وغيرها كثير كلها تنبئ بعظمة هذا الدين وأنه دين الوسطية والاعتدال قال تعالى: {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [المائدة: 50] .
শরিয়তে ইসলামের মধ্যপন্থাইবাদত ও মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত মধ্যপন্থা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; যা চরমপন্থা ও শিথিলতা এবং অতিরঞ্জন ও বর্জনের মাঝামাঝি অবস্থান করে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে মধ্যপন্থা নির্ধারণের সপক্ষে যে অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান, তা মূলত এই শরিয়ত প্রতিটি যুগ ও স্থানের জন্য উপযোগী হওয়ারই বহিঃপ্রকাশ। যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আমি রোজা রাখি আবার ভঙ্গও করি, নামাজ পড়ি আবার নিদ্রাও যাই এবং আমি নারীদের বিবাহ করি; সুতরাং যে আমার সুন্নাহ হতে বিমুখ হবে সে আমার দলভুক্ত নয়» [সর্বসম্মত (متفق عليه)]।
ওলামায়ে কেরাম ইসলামের বিধানাবলি থেকে বিভিন্ন ফিকহি ও উসুলি নীতিমালা উদ্ভাবন করেছেন, যেমন তাঁদের উক্তি: ‘প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে’, ‘প্রয়োজন তার পরিমাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়’ ইত্যাদি। এ সবই এই দ্বীনের মহানুভবতা এবং এটি যে মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ দ্বীন তা ঘোষণা করে। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর আর কে হতে পারে?} [আল-মায়িদাহ: ৫০]।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وسطية الإسلام في الأخلاقوهو الجانب السلوكي التطبيقي في المعاملات بين الناس، عماده أيضا الوسطية والاعتدال في البذل والإنفاق، وفي القضاء والاقتضاء، وفي البيوع، وفي التقاضي وفي سائر الأمور، لهذا المعنى كانت الأمة الخاتمة خير الأمم لوسطيتها قال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143]
নৈতিকতায় ইসলামের মধ্যপন্থাএটি মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আচরণগত ও প্রায়োগিক দিক; এর মূল ভিত্তিও হলো দান ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে, পাওনা পরিশোধ ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে, ক্রয়-বিক্রয়ে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় এবং অন্যান্য সকল বিষয়ে মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য। এই বিশেষ তাৎপর্যের কারণেই এই শেষ উম্মত তাদের মধ্যপন্থা অবলম্বনের দরুন শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গঠন করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হও এবং রসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৪৩]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وسطية الإسلام في منهج الدعوةوهو منهج قائم على الاعتدال أساسه الحكمة والموعظة الحسنة، والجدال بالتي هي أحسن، عماده اللين والرفق في غير ضعف، وفي الوقت ذاته الجدال بالتي هي أحسن للإقناع وإقامة الحجة، ثم الجلاد لمن كابر وعاند. ولكن دون إكراه ولا قهر، فمن آمن فله ما لنا وعليه ما علينا، ومن اختار دينه فلا حرج على أن يكف عن المسلمين يده ولسانه قال تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 256]
দাওয়াহর মানহাজে (منهج) ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية)এটি পরিমিতিবোধের (الاعتدال) ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি মানহাজ (منهج); যার ভিত্তি হলো হিকমাহ (الحكمة), উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة) এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক (الجدال بالتي هي أحسن)। এর মূল স্তম্ভ হলো কোনো প্রকার দুর্বলতা (ضعف) প্রকাশ না করে কোমলতা (اللين) ও নম্রতা (الرفق) অবলম্বন করা। একইসাথে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা এবং হুজ্জাহ (الحجة) কায়েম করার লক্ষ্যে সর্বোত্তম উপায়ে বিতর্ক (الجدال بالتي هي أحسن) করা; অতঃপর যারা দম্ভ ও হঠকারিতা প্রদর্শন করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা। তবে এই প্রক্রিয়া কোনো প্রকার জবরদস্তি (إكراه) বা নিপীড়ন (قهر) ব্যতীত হতে হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমান আনবে, তার অধিকার ও দায়িত্ব আমাদের মতোই হবে। আর যে নিজের ধর্ম বেছে নেবে তার ওপর কোনো সংকীর্ণতা নেই, যদি সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিজের হাত ও জিহ্বাকে সংযত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; ভ্রান্ত পথ থেকে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করল যা কখনো ছিঁড়ে যাওয়ার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر أيضا لا عنف ولا تطرف ولا إرهاب، ولا بد من إذن الإمام في تغيير المنكرات التي تتعلق بحقوق الآخرين من مسلمين أو ذميين ومعاهدين، وطاعة ولي الأمر من واجبات الشريعة قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59]
সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) ক্ষেত্রেও কোনো সহিংসতা (عنف), চরমপন্থা (تطرف) বা সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) নেই। মুসলিম কিংবা জিম্মি (ذمي) ও চুক্তিবদ্ধ (معاهد) অমুসলিম নির্বিশেষে অন্যদের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট অসৎ কাজগুলো (منكرات) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইমামের অনুমতির আবশ্যকতা রয়েছে। আর শাসকের (ولي الأمر) আনুগত্য করা শরিয়াহর (شريعة) আবশ্যিক বিধানসমূহের (واجبات) অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য হতে যারা উলিল আমর (أولي الأمر), তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে অতি উৎকৃষ্ট।} [আন-নিসা: ৫৯]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثالث تعريف الحوار وأهميته تعريف الحوار
الحوار في اللغة من الحور وهو: الرجوع عن الشيء إلى الشيء. [اللسان 4 / 217] ويقصد به: المُراجعة في الكلام.
والجدال: من جَدَلَ الحبل إذا فَتَلَه، أطلق على من خاصم بما يشغل عن ظهور الحق ووضوح الصواب، ثم استعمل في مُقابَلَة الأدلة لظهور أرجحها.
وبين الجدال والحوار فرق؛ فالحوار مراجعة الكلام وتبادله بين المتحاورين وصولاً إلى غاية مستنداً إلى أنه يجري بين صاحبين أو اثنين ليس بينهما صراع، ومنه قوله تعالى: {قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ} [الكهف: 37]
وأما الجدال فأكثر وروده في القرآن الكريم بالمعنى المذموم كقوله تعالى: {وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ} [غافر: 5] وهذا الجدل حوار لا طائل من ورائه ولكن جاء الجدل أيضاً محموداً في مواضع كقوله تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [العنكبوت: 46] ، وقوله تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125]
তৃতীয় পরিচ্ছেদ সংলাপের (الحوار) সংজ্ঞা ও গুরুত্ব সংলাপের (الحوار) সংজ্ঞা
ভাষাগতভাবে সংলাপ (الحوار) শব্দটি 'হাওর' (الحور) থেকে আগত, যার অর্থ হলো: এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুর দিকে প্রত্যাবর্তন (الرجوع) করা। [লিসানুল আরব ৪ / ২১৭] এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কথোপকথনের বিনিময় বা পর্যালোচনা।
আর বিতর্ক (الجدال): এটি রশি পাকানো বা পাক দেওয়া থেকে উদ্ভূত। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যে সত্যের প্রকাশ এবং সঠিকতার স্পষ্টতাকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে বিবাদে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে এটি দলীলসমূহের তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে যাতে সেগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (أرجحها) বিষয়টি ফুটে ওঠে।
বিতর্ক (الجدال) এবং সংলাপের (الحوار) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; সংলাপ (الحوار) হলো কোনো একটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আলাপকারীদের মধ্যে কথোপকথনের বিনিময় ও পর্যালোচনা, যা মূলত এমন দুই বন্ধু বা ব্যক্তির মধ্যে সংঘটিত হয় যাদের মাঝে কোনো সংঘাত নেই। এরই অংশ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: {তার সাথী তাকে সংলাপ (يحاوره) করার সময় বলল...} [সূরা কাহাফ: ৩৭]
পক্ষান্তরে বিতর্ক (الجدال) শব্দটির অধিকাংশ ব্যবহার পবিত্র কুরআনে নিন্দনীয় (مذموم) অর্থে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিতর্ক (جادلوا) করেছিল যাতে এর মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে} [সূরা গাফির: ৫]। এই ধরনের বিতর্ক (الجدل) হলো এমন এক সংলাপ (حوار) যার কোনো সুফল নেই। তবে কিছু স্থানে বিতর্ক (الجدل) প্রশংসনীয় (محمود) হিসেবেও এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতীত আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক (تجادلوا) করো না} [সূরা আনকাবুত: ৪৬], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান জানান এবং তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক (جادلهم) করুন} [সূরা নাহল: ১২৫]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২০)
فالجدال بالتي هي أحسن مرادف للحوار الإيجابي البناء، ويجمع بين الحوار والجدال معنى تطارح الرأي والأخذ والرد وقد جمعهما قول الله تعالى: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} (المجادلة:1)
قال الدكتور صالح بن حميد: ويراد بالحوار والجدال في مصطلح الناس: مناقشة بين طرفين أو أطراف، يُقصد بها تصحيح كلامٍ، وإظهار حجَّةٍ، وإثبات حقٍ، ودفع شبهةٍ، وردُّ الفاسد من القول والرأي.
وقد يكون من الوسائل في ذلك: الطرق المنطقية والقياسات الجدليَّة من المقدّمات والمُسلَّمات، مما هو مبسوط في كتب المنطق وعلم الكلام وآداب البحث والمناظرة وأصول الفقة. [أصول الحوار]
ولكي يكون التعريف جامعا يراعى فيه ثلاثة عناصر: الأول: أن يجمع بين خصمين متضادين. والثاني: أن يأتي كل خصم في نصرته لنفسه بأدلة ترفع شأنه وتعلي مقامه فوق خصمه. والثالث: أن تصاغ المعاني والمراجعات صوغاً لطيفا.
উত্তম পন্থায় বিতর্ক হলো ইতিবাচক ও গঠনমূলক সংলাপের সমার্থক। সংলাপ ও বিতর্কের সাধারণ অর্থ হলো মতবিনিময় এবং সওয়াল-জওয়াব বা আদান-প্রদান। মহান আল্লাহর বাণী এ দুটির সমন্বয় করেছে: “আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করছিল এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিল। আল্লাহ আপনাদের কথোপকথন শুনছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা আল-মুজাদালাহ: ১)
ড. সালেহ বিন হুমাইদ বলেন: সাধারণ পরিভাষায় সংলাপ ও বিতর্ক বলতে দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যকার এমন আলোচনাকে বোঝায়, যার উদ্দেশ্য হলো বক্তব্য সংশোধন করা, প্রমাণ (حجة) উপস্থাপন করা, সত্য প্রতিষ্ঠা করা, সংশয় নিরসন করা এবং ভ্রান্ত কথা ও মত খণ্ডন করা।
এর উপায়গুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে: যুক্তিবিদ্যার পদ্ধতিসমূহ এবং ভূমিকা ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়াবলি থেকে গৃহীত তর্কমূলক অনুমান (قياس), যা যুক্তিবিদ্যা, ইলমুল কালাম, গবেষণা ও বিতর্কের আদব এবং উসুলুল ফিকহের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। [উসুলুল হিওয়ার]
সংজ্ঞাটিকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য এতে তিনটি উপাদানের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন: প্রথমত: এটি দুইজন পরস্পরবিরোধী প্রতিপক্ষকে একত্রিত করবে। দ্বিতীয়ত: প্রত্যেক প্রতিপক্ষ নিজের সমর্থনে এমন দলিল বা প্রমাণাদি নিয়ে আসবে যা তার অবস্থানকে সুসংহত করবে এবং প্রতিপক্ষের তুলনায় তার মর্যাদাকে সমুন্নত করবে। তৃতীয়ত: বক্তব্য ও পর্যালোচনাগুলো অত্যন্ত মার্জিত ও সুন্দর শৈলীতে উপস্থাপিত হবে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২১)
أهمية الحواريكتسب الحوار أهمية بالغة في منظومة الدعوة الإسلامية، فهو أسلوب أصيل من أساليب الدعوة ومعلم بارز في منهجها الرشيد.
وللحوار دوره الكبير في تأصيل الموضوعية ورد الفكرة المغرضة كالفكرة القائلة إن الإسلام دين القهر، وإنه انتشر بالسيف كما روجه أعداء الإسلام من ضلال المستشرقين والمنصّرين. وكيف يصح ذلك والإسلام دين الحوار وفي التنزيل الحكيم {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 256] .
فلو كان صحيحا أن الإسلام دين السيف لما كان للحوار معنى، وقد حفل القرآن الكريم بعشرات النصوص حول الحوار تأمر به وتحض عليه وتنوه بقيمته وتقدم نماذج من حوارات الأنبياء والمرسلين، وتقدم نماذج من الحوارات التي ينبغي أن يسلكها الدعاة إلى الله مع مختلف أصناف المدعوين من أهل الكتاب والمشركين والملاحدة ومنكري البعث وغيرهم.
সংলাপের গুরুত্বইসলামী দাওয়াহর কাঠামোতে সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে; এটি দাওয়াহর পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক পদ্ধতি এবং এর সঠিক নির্দেশনার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
বস্তুনিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্বেষপ্রসূত ধারণা খণ্ডনে সংলাপের এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে; যেমন এই ধারণা যে ইসলাম জবরদস্তির ধর্ম এবং এটি তরবারির জোরে প্রসারিত হয়েছে, যা ইসলামের শত্রুরা অর্থাৎ পথভ্রষ্ট প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিরা প্রচার করেছে। এটি কীভাবে সঠিক হতে পারে যখন ইসলাম হলো সংলাপের ধর্ম এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ ওহীতে অবতীর্ণ হয়েছে: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; ভ্রান্ত পথ থেকে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে এমন এক মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরল যা কখনো ছিঁড়ে যাওয়ার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬]।
যদি এটি সহিহ (صحيح) হতো যে ইসলাম তরবারির ধর্ম, তবে সংলাপের কোনো অর্থ থাকত না। পবিত্র কুরআন সংলাপ সম্পর্কিত কয়েক ডজন বর্ণনায় সমৃদ্ধ যা এর নির্দেশ দেয়, উৎসাহিত করে এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরে। এতে নবী ও রাসূলগণের সংলাপের নমুনা পেশ করা হয়েছে এবং দাঈদের জন্য আহলে কিতাব, মুশরিক, নাস্তিক, পুনরুত্থান অস্বীকারকারী এবং অন্যান্য বিভিন্ন শ্রেণীর আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের সাথে কেমন সংলাপ পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত, তার নমুনাও পেশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২২)
والحوار قديم قدم البشرية فهو نابع من أعماق النفس البشرية، ومما ورد في القرآن الكريم الحوار الذي كان بين آدم وزوجه حوار وهما في الجنة، وكذلك ما أمر الله به الملائكة من السجود لآدم لما خلقه قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ} إلى آخر الآيات من سورة [البقرة] .
সংলাপ মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন; এটি মানবাত্মার গহীন থেকে উৎসারিত। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে জান্নাতে অবস্থানকালে আদম ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যকার কথোপকথন। অনুরূপভাবে, আদমকে সৃষ্টির পর আল্লাহ ফেরেশতাদের যে সিজদাহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সেটিও এর অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের বললেন, 'আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে যাচ্ছি', তারা বলল, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার মহিমা ঘোষণা করছি।' তিনি বললেন, 'নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না'।" — সূরা আল-বাকারার এ আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الرابع أصول الحوار وغايته تتعدد آراء الباحثين في أصول الحوار.
فمنهم من يؤسس حديثه في هذا الموضوع على أطراف الحوار الأربعة وهي: موضوع الحوار، وأسلوبه، وطرفاه أعني المتحاورين.
ومنهم من يؤسسه على الصفات العلمية والخلقية والنفسية التي ينبغي أن يتحلى بها المتحاورون.
ومنهم من يجعل القضايا المتحاور عليها هي الأساس الذي يبني عليه الحوار.
والأصوب أن يؤخذ كل ذلك في الحسبان، فأصول الحوار على الإجمال ثلاثة: العلم، والأهلية، والخلق الفاضل، ويندرج في كل أصل ما يتفرع عنه وتفصيله كالآتي:
الأصل الأول: (العلم) ويتضمن
أ) العلم بالدليل والبرهان وبوجه الاستدلال الصحيح: وفي التنزيل الحكيم: {قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} ، {قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَنْ مَعِيَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِي} [الأنبياء:24] {قُلْ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [آل عمران:93] فمن واجبات المتحاورين التزام الطرق الإقناعية الصحيحة؛ كتقديم الأدلة المثبتة للأمور، وإثبات صحة النقل لما نقل.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সংলাপের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য সংলাপের মূলনীতি সম্পর্কে গবেষকদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিষয়ে তাদের আলোচনাকে সংলাপের চারটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন, সেগুলো হলো: সংলাপের বিষয়বস্তু, এর পদ্ধতি এবং এর পক্ষদ্বয় অর্থাৎ সংলাপকারীগণ।
আবার কেউ কেউ একে সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক, নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুণাবলির ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন যা সংলাপকারীদের ধারণ করা বাঞ্ছনীয়।
কারো কারো মতে সংলাপের বিচার্য বিষয়গুলোই হলো সংলাপের মূল ভিত্তি যার ওপর সংলাপ প্রতিষ্ঠিত হয়।
অধিকতর সঠিক হলো এই সবগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া; সুতরাং সংলাপের মূলনীতি সামগ্রিকভাবে তিনটি: জ্ঞান, যোগ্যতা এবং উত্তম চরিত্র। প্রতিটি মূলনীতির অধীনে এর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
প্রথম মূলনীতি: (জ্ঞান) এর অন্তর্ভুক্ত হলো:
ক) দলিল (دليل), প্রমাণ (برهان) এবং দলিল থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি (وجه الاستدلال) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা: পবিত্র মহাগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: {বলুন, তোমরা তোমাদের প্রমাণ (برهان) উপস্থাপন করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও}, {বলুন, তোমরা তোমাদের প্রমাণ (برهان) নিয়ে এসো; এটি আমার সাথে যারা আছে তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্ববর্তীদের জন্যও উপদেশ} [সূরা আল-আম্বিয়া: ২৪], {বলুন, তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও} [সূরা আল-ইমরান: ৯৩]। সুতরাং সংলাপকারীদের অন্যতম কর্তব্য হলো সঠিক ও যুক্তিগ্রাহ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা; যেমন কোনো বিষয়ের স্বপক্ষে প্রমাণাদি পেশ করা এবং যা উদ্ধৃত করা হয়েছে তার বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة النقل) প্রমাণ করা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ب) السلامة من التناقض: لأن التناقض ممجوج، ومن أمثلة ذلك ما ذكره بعض أهل التفسير من وصف فرعون لموسى عليه السلام بقوله: {سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ} [االذاريات:39]
وهو وصف قاله الكفار لكثير من الأنبياء بما فيهم كفار الجاهلية ولنبينا محمد صلى الله عليه وسلم. وهذان الوصفان السحر والجنون لا يجتمعان، لأن الشأن في الساحر العقل والفطنة والذكاء، أما المجنون فلا عقل معه ألبتة، وهذا منهم تهافت وتناقض بيّن.
ونعت كفار قريش لآيات محمد صلى الله عليه وسلم بأنها سحر مستمر، كما في قوله تعالى: {وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ} [القمر:2] وهو تناقض؛ فالسحر لا يكون مستمرًا، والمستمر لا يكون سحرًا.
ج) ألا يكون الدليل هو عين الدعوى، لأنه إذا كان كذلك لم يكن دليلاً، ولكنه إعادة للدعوى بألفاظ وصيغ أخرى. وعند بعض المُحاورين من البراعة في تزويق الألفاظ وزخرفتها ما يوهم بأنه يُورد دليلًا. وواقع الحال أنه إعادة للدعوى بلفظ مُغاير، وهذا تحايل لإطالة النقاش من غير فائدة.
খ) বৈপরীত্য (تناقض) থেকে মুক্ত হওয়া: কারণ বৈপরীত্য (تناقض) হচ্ছে একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়। এর অন্যতম উদাহরণ হলো যা কিছু তাফসিরবিদ (أهل التفسير) উল্লেখ করেছেন যে, ফেরাউন মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে এই বলে বর্ণনা করেছিল: {জাদুকর (ساحر) অথবা উন্মাদ (مجنون)} [আয-যারিয়াত: ৩৯]
এটি এমন এক বিশেষণ যা কাফিররা (كفار) জাহেলিয়াতের (جاهلية) কাফিরসহ অনেক নবী এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কেও ব্যবহার করেছিল। এই জাদুকর (ساحر) এবং উন্মাদ (مجنون)—এই দুটি গুণ একত্রে থাকা অসম্ভব। কারণ জাদুকরের (ساحر) প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বুদ্ধি, প্রজ্ঞা এবং চাতুর্য; অথচ উন্মাদের (مجنون) একেবারেই কোনো আকল বা বিচারবুদ্ধি থাকে না। এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট অসারতা (تهافت) এবং বৈপরীত্য (تناقض)।
কুরাইশ কাফিরদের (كفار) পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিদর্শনসমূহকে 'নিরবচ্ছিন্ন জাদু' হিসেবে আখ্যায়িত করা, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটি তো নিরবচ্ছিন্ন জাদু (سحر مستمر)} [আল-ক্বামার: ২]। এটিও একটি বৈপরীত্য (تناقض); কারণ জাদু কখনো নিরবচ্ছিন্ন (مستمر) হয় না, আর যা নিরবচ্ছিন্ন (مستمر) তা জাদু (سحر) হতে পারে না।
গ) প্রমাণ (دليل) যেন দাবির (دعوى) হুবহু অনুরূপ না হয়। কারণ যদি তাই হয়, তবে তা কোনো প্রমাণ (دليل) হিসেবে গণ্য হবে না; বরং তা হবে ভিন্ন শব্দ ও বিন্যাসে দাবির (دعوى) পুনরাবৃত্তি মাত্র। কোনো কোনো আলোচকের মাঝে শব্দ চাতুর্য ও অলঙ্করণের এমন দক্ষতা থাকে যা শ্রোতাকে এমন বিভ্রান্তিতে ফেলে যে তিনি হয়তো কোনো প্রমাণ (دليل) উপস্থাপন করছেন। অথচ প্রকৃত অবস্থা হলো, এটি ভিন্ন শব্দে দাবিরই (دعوى) পুনরাবৃত্তি মাত্র, যা কোনো উপকার ছাড়াই আলোচনা দীর্ঘ করার একটি অপকৌশল।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
د) معرفة وجهة نظر المخالف وشبهاته ومسالك الرد عليها. ومن ذلك عدم الطعن في أدلة الخصم إلا ضمن الأمور المبنية على المنطق السليم والقواعد المعترف بها لدى الفريقين.
هـ) معرفة مجالات الحوار، وهي كل ما يقع فيه الخلاف وليس من الثوابت والمسلمات، لأن المُسَلَّمات والثوابت لا تقبل النقاش عند العقلاء المتجردين كحُسْنِ الصدق، وقُبحِ الكذب، وشُكر المُحسن، ومعاقبة المُذنب. فالتسليم ابتداء بالقضايا التي تعد من المسلمات والمتفق على صحتها مما ينبغي أن يتوافر عليها المتحاورون.
و) التخصص العلمي، فلا يصح أن يحاور في الأديان من يجهل أصولها وتاريخها والفرق التي تنتسب إلى كل ملة، وبالتخصص يتحقق التكافؤ العلمي وكثير من الحوار غير المنتج مردُّه إلى عدم التكافؤ بين المتحاورين، ولقد قال الشافعي رحمه الله: "ما جادلت عالمًا إلا وغلبته، وما جادلني جاهل إلا غلبني! ". وهذا التهكم من الشافعي رحمه الله يشير إلى الجدال العقيم الذي يجري بين غير المتكافئين.
ঘ) প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের সংশয় এবং সেগুলো খণ্ডন করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো প্রতিপক্ষের দলিলের ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত আপত্তি না তোলা, যতক্ষণ না তা সুস্থ যুক্তি এবং উভয় পক্ষের নিকট স্বীকৃত নিয়মনীতির পরিপন্থী হয়।
ঙ) সংলাপের ক্ষেত্রগুলো চেনা; আর তা হলো সেই সকল বিষয় যেখানে মতভেদ বিদ্যমান এবং যেগুলো ধ্রুব সত্য বা স্বতঃসিদ্ধ (مسلمات) বিষয় নয়। কারণ নিরপেক্ষ বুদ্ধিমানদের নিকট ধ্রুব সত্য ও স্বতঃসিদ্ধ (مسلمات) বিষয়সমূহ আলোচনার ঊর্ধ্বে, যেমন সত্যের সৌন্দর্য, মিথ্যার কুৎসিত রূপ, উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং অপরাধীর শাস্তি প্রদান। সুতরাং, আলোচনার প্রারম্ভে সেই সকল বিষয়কে স্বীকার করে নেওয়া যা স্বতঃসিদ্ধ (مسلمات) এবং যার বিশুদ্ধতা (صحة) সর্বসম্মত; সংলাপকারীদের মাঝে এই বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি আবশ্যক।
চ) জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞতা; ধর্মতত্ত্বের মূলনীতি (أصول), ইতিহাস এবং প্রতিটি ধর্মের অন্তর্ভুক্ত উপদলসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে ধর্মীয় সংলাপে লিপ্ত হওয়া সঠিক নয়। বিশেষজ্ঞতার মাধ্যমেই জ্ঞানতাত্ত্বিক সমতা অর্জিত হয়। অনেক নিষ্ফল সংলাপের মূল কারণ হলো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যোগ্যতার অসমতা। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি যখনই কোনো জ্ঞানীর সাথে বিতর্ক করেছি, আমি তার ওপর জয়ী হয়েছি; আর যখনই কোনো মূর্খ আমার সাথে বিতর্ক করেছে, সে-ই আমার ওপর জয়ী হয়েছে!" ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই শ্লেষোক্তি মূলত অসম যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে পরিচালিত নিষ্ফল বিতর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأصل الثاني: (تحقق أهلية المحاور)ويقتضي ذلك:
أ) اعتناق الحق والإيمان به، إذ من الخطأ أن يتصدى للدفاع عن الحق من كان على الباطل، ومن لا يعرف الحق، ومن لا يجيد الدفاع عن الحق، ومن لا يجيد مسالك الباطل.
ب) معرفة أصول الحوار ومسالكه وغايته وجملة آدابه فمن ذلك: إقامةُ الحجة، ودفعُ الشبهة والفاسد من القول والرأي. فهو تعاون من المُتناظرين على معرفة الحقيقة والتَّوصُّل إليها، ليكشف كل طرف ما خفي على صاحبه منها، والسير بطرق الاستدلال الصحيح للوصول إلى الحق. يقول الحافظ الذهبي: "إنما وضعت المناظرة لكشف الحقِّ، وإفادةِ العالِم الأذكى العلمَ لمن دونه، وتنبيهِ الأغفلَ الأضعفَ".
দ্বিতীয় মূলনীতি: (আলোচনাকারীর যোগ্যতা নিশ্চিত করা)আর এটি দাবি করে:
ক) সত্যকে গ্রহণ করা এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা; কেননা যে ব্যক্তি বাতিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যে সত্যকে চিনে না, যে সত্যের প্রতিরক্ষায় পারদর্শী নয় এবং যে বাতিলের পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নয়—তার পক্ষে সত্যের প্রতিরক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া একটি ভুল পদক্ষেপ।
খ) সংলাপের মূলনীতি (أصول), এর কর্মপন্থা, লক্ষ্য এবং সামগ্রিক আদব বা শিষ্টাচার সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: অকাট্য দলিল (حجة) উপস্থাপন করা এবং সংশয় (شبهة) ও ভ্রান্ত বক্তব্য ও মতামতের অপনোদন করা। এটি মূলত সত্য উদ্ঘাটন এবং তাতে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে দুই বিতর্ককারীর মধ্যকার একটি পারস্পরিক সহযোগিতা, যাতে করে প্রত্যেক পক্ষ তার সাথীর কাছে যা অস্পষ্ট ছিল তা উন্মোচন করতে পারে এবং সত্যে পৌঁছানোর জন্য সঠিক প্রমাণ উপস্থাপন বা অনুমানের (استدلال) পথে চলতে পারে। হাফেজ আজ-জাহাবি বলেন: "বিতর্ক বা মুনাজারা (مناظرة) প্রবর্তনই করা হয়েছে সত্য উন্মোচন করার জন্য, অধিক মেধাবী বিজ্ঞ আলেম যেন তার নিম্নস্তরের ব্যক্তিকে জ্ঞান দান করতে পারেন এবং অসতর্ক ও দুর্বলকে সচেতন করতে পারেন।"
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ج) التخصص العلمي: يقول شيخ الأزهر: علم الدين شيء، وسلوك المتدين شيء آخر فالمتدين أيا كان حر في أن يفهم أو يتصور ما يشاء ثم يرد إلى ربه، أما علوم الدين، فتلك علوم لها أصولها وقواعدها التى ارتضاها أهل الاختصاص وبها قامت الأمم وبالخروج على نسقها سقطت أجيال الأمة، وعلماء الدين لا يمثلون كهنوتا ولا يدعونه " إنما يحملون قواعد الدين ونظرياته ويصرون عليها إصرار الطبيب على قواعده، والمحاسب على مبادئ علم المحاسبة، والمهندس على نظريات الهندسة [مجلة نور الإسلام، العدد الأول ربيع الأول 1418هـ أغسطس 1997م]
(গ) জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশেষায়ন: শাইখুল আজহার বলেন, “দ্বীনি ইলম বা ধর্মতত্ত্ব এক বিষয়, আর ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির আচরণ ভিন্ন বিষয়। একজন ধার্মিক ব্যক্তি যাই হোন না কেন, তিনি কোনো বিষয় যেভাবে ইচ্ছা বুঝতে বা কল্পনা করতে স্বাধীন এবং অতঃপর তিনি তাঁর রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করবেন। তবে দ্বীনি ইলমসমূহ (علوم الدين) এমন কিছু জ্ঞান যার নিজস্ব মূলনীতি (أصول) এবং নিয়মনীতি (قواعد) রয়েছে যা বিশেষজ্ঞগণ (أهل الاختصاص) কর্তৃক স্বীকৃত। এর মাধ্যমেই জাতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ধারা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলেই উম্মাহর প্রজন্মসমূহের পতন ঘটেছে। দ্বীনি আলেমগণ কোনো যাজকতন্ত্রের (كهنوت) প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তারা তা দাবিও করেন না; বরং তারা কেবল দ্বীনের নিয়মনীতি (قواعد) ও তত্ত্বসমূহ (نظريات) ধারণ করেন এবং এগুলোর ওপর ঠিক সেভাবেই অবিচল থাকেন যেমন একজন চিকিৎসক তার চিকিৎসাশাস্ত্রের নিয়মনীতির ওপর, একজন হিসাবরক্ষক হিসাববিজ্ঞানের মূলনীতির ওপর এবং একজন প্রকৌশলী প্রকৌশলবিদ্যার তত্ত্বসমূহের ওপর অবিচল থাকেন।” [মাজাল্লাতু নূরিল ইসলাম, প্রথম সংখ্যা, রবিউল আউয়াল ১৪১৮ হিজরি, আগস্ট ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأصل الثالث: التحلي بأخلاق الحوار ومنها
أ) الإخلاص لله تعالى، ويقتضي: قصد الحق، والبعد عن التعصب، ومن مقولات الإمام الشافعي المحفوظة: (ما كلمت أحداً قطّ إلا أحببت أن يُوفّق ويُسدّد ويُعان، وتكون عليه رعاية الله وحفظه. وما ناظرني فبالَيْتُ! أَظَهَرَتِ الحجّةُ على لسانه أو لساني؟) .
ومن الإخلاص قبول الحق، وإلا أصبح الحوار عبثا، قال ابن عقيل: "وليقبل كل واحد منهما من صاحبه الحجة؛ فإنه أنبل لقدره، وأعون على إدراك الحق وسلوك سبيل الصدق ".
قال الشافعي رضي الله عنه: ما ناظرت أحداً فقبل مني الحجَّة إلا عظم في عيني، ولا ردَّها إلا سقط في عيني".
ب) سماحة النفس: فلا ينبغي التدابر والتباغض إذا انتهى الحوار إلى إصرار كل على رأيه، ومقتضى الحكمة الأخذ بالقول الشهير (رأينا صواب يحتمل الخطأ ورأي غيرنا خطأ يحتمل الصواب) .
ج) الحلم وسعة الصدر ويقتضي البعد عن السب أو الشتم أو التجريح أو الحقد أو السخرية من وجهة نظر الطرف الآخر.
د) كرم النفس: ويقتضي التزام القول الحسن، وتجنب منهج التحدي والإفحام:
তৃতীয় মূলনীতি: সংলাপের শিষ্টাচার অবলম্বন করা এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো:
ক) মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা, যা দাবি করে: সত্যের অন্বেষণ এবং গোঁড়ামি থেকে দূরে থাকা। ইমাম শাফেয়ীর একটি সংরক্ষিত উক্তি হলো: (আমি যখনই কারো সাথে কথা বলেছি, আমি সর্বদা এটাই কামনা করেছি যে তাকে যেন তাওফিক দান করা হয়, সঠিক পথে পরিচালিত করা হয় ও সাহায্য করা হয় এবং তার ওপর যেন আল্লাহর বিশেষ যত্ন ও সুরক্ষা থাকে। আমি যখনই কারো সাথে বিতর্ক করেছি, আমি কখনোই পরোয়া করিনি যে সত্য প্রমাণটি কি তার মুখে প্রকাশ পেল নাকি আমার মুখে?)।
একনিষ্ঠতার অন্যতম দাবি হলো সত্যকে গ্রহণ করা, অন্যথায় সংলাপ নিরর্থক হয়ে পড়বে। ইবনে আকিল বলেন: "তাদের প্রত্যেকের উচিত একে অপরের থেকে উপস্থাপিত প্রমাণ গ্রহণ করা; কারণ এটি তার মর্যাদার জন্য অধিকতর মহত্ত্বের এবং সত্য উপলব্ধি ও সততার পথ অবলম্বনের জন্য অধিক সহায়ক।"
ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: "আমি যার সাথেই বিতর্ক করেছি এবং সে আমার উপস্থাপিত প্রমাণ গ্রহণ করেছে, সে আমার দৃষ্টিতে মহান হয়েছে। আর যে তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সে আমার দৃষ্টিতে তুচ্ছ হয়েছে।"
খ) অন্তরের উদারতা: সংলাপ যদি এমনভাবে শেষ হয় যে প্রত্যেকে নিজ নিজ মতামতে অটল থাকে, তবে একে অপরের প্রতি বিমুখ হওয়া বা ঘৃণা পোষণ করা উচিত নয়। প্রজ্ঞার দাবি হলো সেই বিখ্যাত উক্তিটি গ্রহণ করা: (আমাদের মতটি সঠিক যাতে ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে, আর অন্যের মতটি ভুল যাতে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে)।
গ) সহিষ্ণুতা ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়া: এটি গালিগালাজ, অশ্লীল ভাষা, দোষারোপ (تجريح), বিদ্বেষ বা প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিকে উপহাস করা থেকে দূরে থাকাকে অপরিহার্য করে তোলে।
ঘ) মহানুভবতা: এটি উত্তম কথা বলা এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া বা নিরুত্তর করে লাঞ্ছিত করার পদ্ধতি পরিহার করার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলামি ওয়া দাওয়াতুহু ইলাল হিওয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إن من أهم ما يتوجه إليه المُحاور في حواره، التزام الحُسنى في القول والمجادلة، ففي محكم التنزيل: {وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (الإسراء: 53) . {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (النحل: 125) .
{وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا} (البقرة: 83) .
فحق العاقل اللبيب طالب الحق، أن ينأى بنفسه عن أسلوب الطعن والتجريح والهزء والسخرية، وألوان الاحتقار والإثارة والاستفزاز: {وَإِنْ جَادَلُوكَ فَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ} {اللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ} (الحج: 68-69) .
وقوله: {وَإِنَّا أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلَى هُدًى أَوْ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} (سبأ:24) . مع أن بطلانهم ظاهر، وحجتهم داحضة.
ويلحق بهذا الأصل: تجنب أسلوب التحدي والتعسف في الحديث.
على أن هناك بعض الحالات الاستثنائية التي يسوغ فيها اللجوء إلى الإفحام وإسكات الطرف الآخر؛ وذلك فيما إذا استطال وتجاوز الحد، وطغى وظلم وعادى الحق، وكابر مكابرة بيِّنة، وفي مثل هذا جاءت الآية الكريمة:
একজন আলোচক তার আলোচনায় যে বিষয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোনিবেশ করবেন, তা হলো কথা ও বিতর্কের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম নীতি অনুসরণ করা। সুসংহত ও অকাট্য ওহীর বাণীতে এসেছে: “আর আমার বান্দাদের বলুন, তারা যেন এমন কথা বলে যা অত্যন্ত সুন্দর” (আল-ইসরা: ৫৩)। “এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়” (আন-নাহল: ১২৫)।
“আর মানুষের সাথে সদালাপ করো” (আল-বাকারাহ: ৮৩)।
অতএব সত্যের অন্বেষী একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তির কর্তব্য হলো সমালোচনা (الطعن), দোষারোপ (التجريح), উপহাস, ঠাট্টা এবং অবজ্ঞা ও উস্কানিমূলক আচরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখা: “আর তারা যদি আপনার সাথে বিতর্ক করে তবে বলুন, তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত। তোমরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছিলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বিচার করবেন” (আল-হাজ্জ: ৬৮-৬৯)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় আমরা অথবা তোমরা হেদায়েতের ওপর আছি অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তির (ضلال) মাঝে রয়েছি” (সাবা: ২৪)। যদিও তাদের বাতিল হওয়া ছিল সুস্পষ্ট এবং তাদের যুক্তি ছিল অসার।
এই মূলনীতির সাথে যুক্ত হবে: আলোচনায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া এবং স্বেচ্ছাচারিতার পথ পরিহার করা।
তবে কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করা এবং স্তব্ধ করে দেওয়ার আশ্রয় নেওয়া বৈধ; আর তা কেবল তখনই, যখন সে সীমালঙ্ঘন করে, সত্যের সাথে শত্রুতা করে এবং স্পষ্ট হঠকারিতা প্রদর্শন করে। আর এই রূপ প্রেক্ষাপটেই এই মহান আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে: