(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: -)
أمالي ابن الحاجب   (ابن الحاجب)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: أمالي ابن الحاجب

المؤلف: عثمان بن عمر بن أبي بكر بن يونس، أبو عمرو جمال الدين ابن الحاجب الكردي المالكي (ت 646هـ)

دراسة وتحقيق: د. فخر صالح سليمان قدارة

الناشر: دار عمار - الأردن، دار الجيل - بيروت

عام النشر: 1409 هـ - 1989 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

أعده للشاملة: سيد محمود الهاشمي، نسألكم الدعاء بظهر الغيب

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ربيع الأول 1436

আমালি ইবনুল হাজিব   (ইবনুল হাজিব)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আমালি ইবনুল হাজিব

লেখক: উসমান বিন উমর বিন আবি বকর বিন ইউনুস, আবু আমর জামালুদ্দিন ইবনুল হাজিব আল-কুর্দি আল-মালিকি (মৃত ৬৪৬ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. ফাখর সালেহ সুলায়মান কুদারা

প্রকাশক: দার আম্মার - জর্ডান, দার আল-জিল - বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: সাইয়িদ মাহমুদ আল-হাশেমি, আমরা আপনার নিকট অগোচরে দোয়ার আবেদন করছি

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: -)
كتاب

أمالي بن الحاجب

 

لأبي عمرو عثمان بن الحاجب

 

دراسة وتحقيق

الدكتور فخر صالح سليمان قدارة

دار الجيل … دار عمار

بيروت … عَمّان
কিতাব

আমালি ইবনে হাজিব

 

আবু আমর উসমান ইবনে হাজিব এর

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

ডক্টর ফাখর সালিহ সুলাইমান কুদারাহ

দারুল জিল … দারু আম্মার

বৈরুত … আম্মান
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১)
كتاب

أمالي ابن الحاجب

لأبي عمرو عثمان بن الحاجب

(570 - 646هـ)

 

دراسة وتحقيق

الدكتور فخر صالح سليمان قداره

الأستاذ المساعد في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

فرع القصيم

 

الجزء الأول

Printed in Lebanaon

دار عمار … دار الجيل

عمّان - الأردن … بيروت - لبنان
কিতাব

আমালি ইবনুল হাজিব

আবু আমর উসমান ইবনুল হাজিব রচিত

(৫৭০ - ৬৪৬ হিজরি)

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

ডক্টর ফখর সালিহ সুলাইমান কাদারা

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক

কাসিম শাখা

 

প্রথম খণ্ড

লেবাননে মুদ্রিত

দার আম্মার … দার আল-জিল

আম্মান - জর্ডান … বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

1409 هـ - 1989م.
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين. وبعد: فإن صعوبة الدراسات اللغوية وما تتطلبه من عناء وتعب وصبر جعلت الطلاب والباحثين يتجهون إلى دراسات أقل صعوبة منها. ولكن رغبتي في دراسة النحو جعلتني أفضلها على غيرها من الدراسات.

ولقد يسر الله لي اجتياز التجربة الأولى في هذه الدراسات عندما حصلت على درجة (الماجستير) في النحو من كلية اللغة العربية في جامعة الأزهر. وكان عنوان البحث (التوكيد في القرآن الكريم). ولقد رأيت لزاماً عليَّ السير في طريق التحصيل العلمي لعلي أستفيد وأفيد. عند ذلك بدأت أفكر في اختيار موضوع البحث للحصول على درجة العالمية (الدكتوراه). وبعد تفكير دقيق وبحث متواصل رأيت من المفيد إحياء نص قديم. فعزمت على اختيار إحدى المخطوطات للقيام بتحقيقها. ولا شك أن إخراج كتاب من ظلمات جدران المكتبات ووضعه بين أيدي الطلاب والباحثين يعد عملاً عظيماً ونافعاً. كما أنه لا سبيل إلى التجديد في الدراسات النحوية والصرفية إلا باطلاع على آثار القدماء ودراستها دراسة واعية، وذلك من أجل الوقوف على الأصول التي أقاموا عليها عملهم العلمي وبنوا عليها مناهجهم التي ساروا عليها في دراسة المسائل النحوية والصرفية واللغوية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর। অতঃপর: ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার কঠিন প্রকৃতি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় যে শ্রম, ক্লান্তি ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, তা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের এর চেয়ে সহজ গবেষণার দিকে ধাবিত করেছে। কিন্তু নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র অধ্যয়নে আমার প্রবল আগ্রহ আমাকে অন্য যেকোনো বিষয়ের তুলনায় এটিকে অগ্রাধিকার দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আল্লাহ তাআলা আমার জন্য এই গবেষণার প্রথম ধাপটি অতিক্রম করা সহজ করে দিয়েছিলেন যখন আমি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদ থেকে নাহু শাস্ত্রে ‘মাস্টার্স’ ডিগ্রি অর্জন করি। সেই গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘আল-কুরআনুল কারীমে তাওকীদুল (গুরুত্বারোপ)’। এরপর আমি জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে চলা নিজের জন্য আবশ্যক বলে মনে করেছি যাতে আমি নিজে উপকৃত হতে পারি এবং অন্যকেও উপকৃত করতে পারি। সেই প্রেক্ষিতেই আমি ‘আল-আলামিয়্যাহ’ (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জনের জন্য গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কথা ভাবতে শুরু করি। গভীর চিন্তা ও নিরন্তর অনুসন্ধানের পর আমি একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পুনরুজ্জীবিত করাকে ফলপ্রসূ মনে করেছি। তাই আমি একটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকীক) জন্য নির্বাচন করার সংকল্প করি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একটি কিতাবকে লাইব্রেরির দেয়ালের অন্ধকার থেকে বের করে এনে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের হাতে তুলে দেওয়া একটি মহৎ ও উপকারী কাজ। তদুপরি, নাহু ও সরফ বিষয়ক গবেষণায় নতুনত্ব আনয়নের কোনো পথ নেই পূর্বসূরিদের কর্মসমূহ দেখা এবং সেগুলো সচেতনভাবে অধ্যয়ন করা ছাড়া; আর তা হলো সেই সকল মূলনীতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য যার ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের ইলমি কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন এবং তাদের সেই পদ্ধতিগুলো গড়ে তুলেছেন যা তারা নাহু, সরফ ও ভাষাগত মাসয়ালাসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৬)
وبعد بحث طويل هداني الله إلى مخطوطة لعالم مشهور عاش خلال القرنين السادس والسابع الهجريين متنقلاً بين مصر والشام هو الإمام أبو عمرو عثمان بن الحاجب، وهذه المخطوطة هي كتابه: (الأمالي).

إن مصر والشام شهدا خلال هذين القرنين نشاطاً ثقافياً واسعاً نظراً لهجرة العلماء من الشرق والغرب إليهما. وابن الحاجب عاش في هذا الجو الثقافي واكتسب من العقول المهاجرة والمستقرة علوماً مختلفة جعلت منه قارئاً وأصولياً ونحويا. وقد طبقت شهرته الأفاق بما ألفه من كتب عظيمة في علوم شتى كالكافية والشافية والأمالي، ومختصر الفروع، وغيرها.

وكتاب الأمالي الذي اخترته موضوعاً للتحقيق هو مجلد ضخم. ذكره وأطراه بالمدح كلٌّ من ترجم لابن الحاجب. ولقد تجلت في هذا الكتاب براعة ابن الحاجب في النحو والفقه والقراءات والأصول. ومما يدل على أهميته وقيمته أن كثيراً من العلماء قد اطلعوا عليه وأفادوا منه، ومن هؤلاء السيوطي والبغدادي وابن هشام وغيرهم.

وقبل أن أقرر نهائياً تسجيل هذا الموضوع للقيام بتحقيقه ذهبت إلى مكتبة دار الكتب المصرية، حيث توجد نسخة قيمة من هذا الكتاب. وبعد أن اطلعت عليها زادت رغبتي في في تحقيقه، حيث وجدته سفراً عظيماً يحتوي على مسائل نافعة وفوائد جمة.

وبعون الله وتوفيقه فقد ذللت جميع الصعوبات التي واجهتني في التحقيق، ومنها حجم المخطوطة الكبير، وكثرة النسخ وتفرقها في مكتبات العالم.

ولقد أعطيت الموضوع كل ما في وسعي، وبذلت قصارى جهدي، كي يأتي البحث محققاً للهدف المطلوب.
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আল্লাহ আমাকে ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরি শতাব্দীর একজন বিখ্যাত আলেম, যিনি মিশর ও শামের মাঝে যাতায়াত করে জীবন অতিবাহিত করেছেন, সেই ইমাম আবু আমর উসমান ইবনুল হাজিবের একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান দিয়েছেন। আর এই পাণ্ডুলিপিটি হলো তাঁর কিতাব: (আল-আমালি)।

মিশর ও শাম এই দুই শতাব্দীতে পূর্ব ও পশ্চিম থেকে আলেমদের হিজরত বা আগমনের কারণে এক ব্যাপক সাংস্কৃতিক চঞ্চলতা প্রত্যক্ষ করেছে। ইবনুল হাজিব এই সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করেছেন এবং আগত ও স্থানীয় জ্ঞানীদের থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা তাঁকে একজন ক্বারি, উসূলবিদ এবং ব্যাকরণবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর রচিত মহান গ্রন্থসমূহ যেমন— আল-কাফিয়া, আশ-শাফিয়া, আল-আমালি এবং মুখতাসারুল ফুরু' ইত্যাদির মাধ্যমে তাঁর খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

আর 'আল-আমালি' গ্রন্থটি, যা আমি তাহক্বীক বা সম্পাদনার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছি, সেটি একটি বিশাল খণ্ড। যারা ইবনুল হাজিবের জীবনী লিখেছেন, তারা সকলেই এই কিতাবটির উল্লেখ করেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। এই কিতাবে ব্যাকরণ, ফিকহ, ক্বিরাআত এবং উসূল শাস্ত্রে ইবনুল হাজিবের পারদর্শিতা ফুটে উঠেছে। এর গুরুত্ব ও মূল্যের প্রমাণ হলো এই যে, বহু আলেম এটি অধ্যয়ন করেছেন এবং এখান থেকে উপকৃত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে সুয়ূতী, বাগদাদী, ইবনে হিশাম এবং অন্যান্যরা রয়েছেন।

এই বিষয়টি সম্পাদনার জন্য চূড়ান্তভাবে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমি মিশরের 'দারুল কুতুব' লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম, যেখানে এই কিতাবটির একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি রয়েছে। সেটি দেখার পর এটি সম্পাদনা করার ব্যাপারে আমার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়, কারণ আমি এটিকে একটি মহান গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি যা অত্যন্ত উপকারী মাসয়ালা ও প্রচুর ফায়দায় ভরপুর।

আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে আমি এই সম্পাদনার কাজে আমার সামনে আসা সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেছি, যার মধ্যে পাণ্ডুলিপির বিশাল আয়তন এবং বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পাণ্ডুলিপির আধিক্য অন্যতম।

আর আমি এই বিষয়ে আমার সাধ্যমতো সবকিছু দিয়েছি এবং আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি, যাতে এই গবেষণাটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৭)
وقسمت الموضوع إلى قسمين: الدراسة والتحقيق. أما القسم الأول وهو الدراسة فقد جعلته ثلاثة فصول، خصصت الأول منها للحديث عن صاحب الكتاب، تحدثت فيه عن عصره، نسبه ونشأته، أخلاقه وشخصيته، عقيدته وثقافته، مذهبه النحوي، شعره، شيوخه، تلاميذه، آثاره. وجعلت الفصل الثاني للحديث عن كتاب (الأمالي)، صدَّرته بتمهيد، تكلمت بعده عن نسبة الكتاب وعنوانه، زمن تأليفه ومكانه، مصادره، أسلوبه، أقسامه، أهميته وقيمته، وصف النسخ. أما الفصل الثالث فقد خصصته للحديث عن ابن الحاجب في كتابه الأمالي، تحدثت فيه عن أهم القضايا النحوية التي اشتمل عليها هذا الكتاب، وموقف ابن الحاجب من النحاة، وموقفه من الشواهد، والآراء التي خالف فيها جمهور النحاة، ومآخذ عليه في كتابه الأمالي. وأنهيت الدراسة بالمنهج الذي سرت عليه في التحقيق.

وأما القسم الثاني من البحث فقد اشتمل على تحقيق الكتاب وخراجه بصورة واضحة صحيحة. وقد حاولت جهدي المحافظة على صورة النص كما وضعها المؤلف ولم أتدخل فيه إلا بتصحيح خطأ نحوي أو إملائي، أو زيادة كلمة مني أو من النسخ الأخرى بعد التأكد أنها ساقطة من الأصل، والإشارة إليها في الهامش بعد حصرها بين قوسين معقوفين. وأنهيت هذا القسم بخاتمة تحدثت فيها عن أهم النتائج التي توصلت إليها وفهارس فنية للآيات والأحاديث والأشعار والأمثال والأعلام والمصادر والموضوعات.

وبعد: فإني أحمد الله الذي أمدني بالعون والصبر، وأسأله أن يغفر لي أخطائي وأن يوفقني إلى ما يحبه ويرضاه إنه نعم المولى ونعم النصير.

المحقق

فخر صالح سليمان قداره
আমি বিষয়টিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি: গবেষণা ও সম্পাদনা। প্রথম অংশ তথা গবেষণাকে আমি তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। এর মধ্যে প্রথম অধ্যায়টি গ্রন্থের রচয়িতার আলোচনার জন্য নির্ধারিত করেছি; এতে আমি তাঁর যুগ, বংশপরিচয় ও বেড়ে ওঠা, চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব, আকিদা ও সংস্কৃতি, তাঁর ব্যাকরণিক মাযহাব, তাঁর কবিতা, তাঁর শিক্ষকগণ, তাঁর ছাত্রগণ এবং তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় অধ্যায়টি ‘আল-আমালি’ গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি; যা আমি একটি উপক্রমণিকা দিয়ে শুরু করেছি, এরপর বইটির সম্বন্ধ ও শিরোনাম, এটি রচনার সময় ও স্থান, এর উৎসসমূহ, রচনার শৈলী, এর পরিচ্ছেদসমূহ, এর গুরুত্ব ও মূল্য এবং পাণ্ডুলিপির বিবরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আর তৃতীয় অধ্যায়টি আমি ‘আল-আমালি’ গ্রন্থে ইবনুল হাজিব-এর আলোচনার জন্য বিশেষিত করেছি; এতে আমি এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণিক বিষয়াবলি, ব্যাকরণবিদদের ব্যাপারে ইবনুল হাজিব-এর অবস্থান, কাব্যিক ও ভাষাগত প্রমাণের (শাওয়াহিদ) ব্যাপারে তাঁর অবস্থান, যে সকল মতামতে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যাকরণবিদদের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর ‘আল-আমালি’ গ্রন্থের সমালোচনা বা ত্রুটিসমূহ আলোচনা করেছি। আর সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, তা আলোচনার মাধ্যমে গবেষণা অংশটি সমাপ্ত করেছি।

গবেষণার দ্বিতীয় অংশটি গ্রন্থের সম্পাদনা এবং তা সুস্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমি মূল পাঠের রূপটি লেখক যেভাবে রেখে গেছেন সেভাবেই সংরক্ষণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ব্যাকরণগত বা বানানগত ভুল সংশোধন করা, অথবা মূল পাঠ থেকে বাদ পড়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের পক্ষ থেকে বা অন্য পাণ্ডুলিপি থেকে কোনো শব্দ সংযোজন করা ছাড়া আমি এতে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি; এবং উক্ত সংযোজনগুলো থার্ড ব্র্যাকেটের [ ] মধ্যে আবদ্ধ করে পাদটীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি। আমি এই অংশটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, যাতে আমি প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ এবং আয়াত, হাদিস, কবিতা, প্রবাদ-প্রবচন, ব্যক্তিবর্গ, উৎস এবং বিষয়াদির নির্ঘণ্ট উল্লেখ করেছি।

পরিশেষে: আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাকে সাহায্য ও ধৈর্য দান করেছেন, এবং আমি তাঁর কাছে আমার ভুল-ভ্রান্তিগুলোর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তিনি যা পছন্দ করেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন, সেদিকে আমাকে তাওফিক দান করার আবেদন করছি; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।

সম্পাদক

ফখর সালিহ সুলাইমান কাদারাহ
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الأول: الدراسة
প্রথম অংশ: গবেষণা
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول: ابن الحاجب 570 هـ - 646 هـ

1 - عصره.

2 - نسبه ونشأته.

3 - أخلاقه وشخصيته.

4 - عقيدته وثقافته.

5 - مذهبه النحوي.

6 - شعره.

7 - شيوخه.

8 - تلاميذه.

9 - آثاره.
প্রথম অধ্যায়: ইবনুল হাজিব ৫৭০ হি. - ৬৪৬ হি.

১ - তাঁর যুগ।

২ - তাঁর বংশপরিচয় ও লালন-পালন।

৩ - তাঁর চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব।

৪ - তাঁর আকিদাহ ও সংস্কৃতি।

৫ - তাঁর ব্যাকরণতাত্ত্বিক মাযহাব।

৬ - তাঁর কবিতা।

৭ - তাঁর উস্তাদগণ।

৮ - তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

৯ - তাঁর রচনাবলি।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌عصره

ولد عثمان بن عمر بن أبي بكر المعروف بابن الحاجب في العام الذي أحكم فيه صلاح الدين الأيوبي سيطرته على الديار المصري بعد قضائه على الفتن التي أشعلها جماعة من السودان والأعراب في مدينتي أسوان وطود بزعامة رجل يدعى الكنز (1).

وقد توجه صلاح الدين بعد ذلك إلى دمشق فانتزعها من أيدي الزنكيين. وبعدها صار سيد الموقف في مصر والشام. ولذا فإن عام (570 هـ) الذي ولد فيه ابن الحاجب يعدّ عام إقامة دولة الأيوبيين. وقد استطاع صلاح الدين الأيوبي أن يقهر الصليبيين في عدة مواقع وأن يحرر أجزاء كثيرة من فلسطين كانت خاضعة لهم. وقد استمرت الحرب بينه وبينهم حتى وفاته سنة (589 هـ). وبعد وفاته اضطربت الأمور إذ تنازع أبناؤه الأقاليم واختلفوا فيما بينهم، فكان صراعهم هذا نكبة على البلاد حيث انتشرت الأوبئة والمجاعات (2).

وبالرغم من ذلك فإننا نجد أن الحكام كانوا يكثرون من إنشاء المدارس

--------------------------------------------

(1) الكامل في التاريخ لابن الأثير 11/ 414 (دار صادر. بيروت).

(2) الخطط المقريزية 2/ 235 (دار صادر. بيروت).
তাঁর যুগ

উসমান বিন উমর বিন আবি বকর, যিনি ইবনুল হাজিব নামে পরিচিত, সেই বছর জন্মগ্রহণ করেন যে বছর সালাহউদ্দীন আইয়ুবি আসওয়ান ও তওদ শহরে আল-কানজ (১) নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল সুদান ও বেদুইনদের দ্বারা প্রজ্জ্বলিত ফিতনা বা বিদ্রোহ দমন করার পর মিশরীয় ভূখণ্ডের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেন।

এরপর সালাহউদ্দীন দামেস্কের দিকে অগ্রসর হন এবং তা জানকিদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন। এর ফলে তিনি মিশর ও শামের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে ওঠেন। আর একারণেই ইবনুল হাজিবের জন্মের বছরটি (৫৭০ হিজরি) আইয়ুবি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বছর হিসেবে বিবেচিত হয়। সালাহউদ্দীন আইয়ুবি বেশ কয়েকটি রণাঙ্গনে ক্রুসেডারদের পরাজিত করতে এবং ফিলিস্তিনের অনেক অংশ যা তাদের শাসনাধীন ছিল তা মুক্ত করতে সক্ষম হন। তাঁর মৃত্যু (৫৮৯ হিজরি) পর্যন্ত তাঁর ও তাদের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে, কারণ তাঁর পুত্ররা বিভিন্ন অঞ্চলের অধিকার নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হন এবং নিজেদের মধ্যে মতভেদে জড়িয়ে পড়েন। তাদের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব দেশের জন্য এক চরম বিপর্যয় হয়ে দেখা দেয়, ফলে বিভিন্ন মহামারী ও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ে (২)।

তা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে, শাসকরা প্রচুর পরিমাণে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসির রচিত 'আল-কামিল ফিত তারিখ' ১১/৪১৪ (দার সাদির, বৈরুত)।

(২) 'আল-খিতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ' ২/২৩৫ (দার সাদির, বৈরুত)।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১৪)
التي تدرس فيها مختلف علوم الدين والعربية، لكن المذهبية كانت الطابع المميز لهذه المدارس.

كذلك نجد العناية الواسعة بالقرآن الكريم. وكان كثير من القراء لا يكتفي بتلقي القرآن عن شيخه ثم إقرائه تلاميذه، وإنما كان يضيف إليه مواد أخرى كان أكثرها في الفقه والنحون أو يتجه بها اتجاهاً أدبياً (1). وربما تعددت جوانب ثقافة القارئ في فروع العلوم المختلفة. ولهذا كان في مصر والشام علماء مشهورون في النحو واللغة والقراءات والتفسير والحديث والأدب والبلاغة، ولكن نرى الناس قد شغلوا بالقراءات زمناً طويلاً لصلتها القوية بالقرآن الكريم، وكانت هذه القراءات مفتاح الدرس النحوي في العصر الأيوبي في مصر والشام.

وعلماء النحو في مصر والشام في تلك الفترة لم تكن لهم مذاهب جديدة في النحو، إنما انكبوا على دراسة آراء المتقدمين وإحياء تراثهم وترجيح بعض الآراء. لذا فإننا نرى أن الدراسات النحوية في مصر والشام كان يغشاها الأسلوب التعليمي في الدرس النحوي، الأسلوب الذي كان من مظاهره أن أقدم النحاة على وضع المتون المختصرة والمنظومات ثم شرحها والتعليق عليها. وقد ظهرت عناية النحويين بوجه خاص بكتاب المفصل للزمخشري فشرحه ابن يعيش والسخاوي وابن الحاجب وغيرهم.

وكانت اتجاهات النحو في مصر والشام تتجه إلى وجهتين (2):

--------------------------------------------

(1) الحياة العقلية في عصر الحروب الصليبية لأحمد بدوي ص 93 (دار نهضة مصر للطباعة والنشر).

(2) القرآن وأثره في الدراسات النحوية. عبد العال سالم مكرم ص 179 (دار المعارف).
যেখানে দ্বীন ও আরবির বিভিন্ন শাখা শিক্ষা দেওয়া হতো, তবে মাজহাব-কেন্দ্রিকতা ছিল এই মাদ্রাসাগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

একইভাবে আমরা পবিত্র কুরআনের প্রতি ব্যাপক যত্ন ও গুরুত্ব দেখতে পাই। অনেক ক্বারী কেবল তাদের শাইখের নিকট কুরআন গ্রহণ এবং পরবর্তীতে ছাত্রদের তা পড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না; বরং তারা এর সাথে অন্যান্য বিষয়ও যুক্ত করতেন, যার অধিকাংশই ছিল ফিকহ ও নাহু (ব্যাকরণ) সম্পর্কিত অথবা বিষয়টিকে তারা সাহিত্যের দিকে নিয়ে যেতেন (১)। সম্ভবত ক্বারীদের পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্র বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বহুমুখী ছিল। একারণেই মিশর ও শামে নাহু, ভাষা, কিরাত, তাফসির, হাদিস, সাহিত্য এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে প্রখ্যাত আলেমগণ ছিলেন। তবে আমরা দেখি যে, পবিত্র কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্কের কারণে মানুষ দীর্ঘ সময় কিরাত চর্চায় মগ্ন ছিল এবং মিশর ও শামে আইয়ুবী যুগে এই কিরাতগুলোই ছিল নাহু পাঠের চাবিকাঠি।

সেই সময়ে মিশর ও শামের নাহুবিদদের নিজস্ব কোনো নতুন মাজহাব বা মতবাদ ছিল না, বরং তারা পূর্ববর্তীদের মতামতের অধ্যয়ন, তাদের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিতকরণ এবং কিছু মতকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তাই আমরা দেখি যে, মিশর ও শামে নাহু বিষয়ক অধ্যয়নগুলো শিক্ষামূলক পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত ছিল। এই পদ্ধতির একটি বৈশিষ্ট্য ছিল যে, নাহুবিদরা সংক্ষিপ্ত মূল পাঠ (মতন) ও কাব্য আকারে নিয়মাবলি রচনা করতেন এবং পরবর্তীতে সেগুলোর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করতেন। নাহুবিদদের বিশেষ মনোযোগ পরিলক্ষিত হয় জামাখশারীর 'আল-মুফাসসাল' গ্রন্থের প্রতি, যার ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখেছেন ইবনে ইয়াইশ, সাখাভী, ইবনুল হাজিব ও অন্যান্যরা।

মিশর ও শামে নাহুর গতিধারা দুটি দিকে ধাবিত হয়েছিল (২):

--------------------------------------------

(১) ক্রুসেড যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন, আহমদ বাদাবী, পৃষ্ঠা ৯৩ (দারু নাহদাতি মিসর লিত-তিবাআতি ওয়ান-নাশর)।

(২) কুরআন এবং নাহু গবেষণায় এর প্রভাব, আবদুল আল সালিম মাকরাম, পৃষ্ঠা ১৭৯ (দারুল মাআরিফ)।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأولى:

وجهة متأثرة بالنحو البصري بمقاييسه وأصوله وعلله وفروعه، وهذه يمثلها ابن الحاجب وأبو حيان الأندلسي.

الثانية:

وجهة لا تنكر النحو البصري، ولا تنكر النحو الكوفي لكنها مع ذلك لا تنكر نفسها ولا تنكر أن لها رأياً في هذه المشكلات، ويمثل هذه الوجهة ابن مالك وابن هشام.

إلى جانب هذا فإن المنطقة شهدت حركة من التأليف والنشر لم تكن في أية منطقة أخرى من العالم الإسلامي. وقد شملت هذه الحركة مختلفة العلوم كالهندسة والطب والجغرافية والفقه والتفسير والنحو والأصول، وألفت فيها مؤلفات قيمة أفادت المكتبة العربية (1).

في هذه البيئة العلمية الواسعة المملوءة بمختلف العلوم نشأ ابن الحاجب وأخذ مختلف العلوم من علمائها مثل النحو والفقه والأصول والقراءات والمنطق. وألف كتباً كثيرة نالت إعجاب المتأخرين وعكفوا عليها بالشرح والدراسة، وتخرج عليه طلاب أصبحوا بعد ذلك من العلماء المبرزين.

 

‌‌نسبه ونشأته

هو عثمان بن عمر بن أبي بكر بن يونس الدّويني (2) أبو عمرو جمال

--------------------------------------------

(1) خطط الشام. محمد كرد علي 4/ 44 (بيروت)

(2) نسبه إلى دوين. وهي بلدة من نواحي أران في آخر حدود أذربيجان. منها ملوك الشام بني أيوب. انظر معجم البلدان 1/ 491 (دار صادر - دار بيروت).
প্রথমত:

এমন এক ধারা যা বসরীয় ব্যাকরণের মানদণ্ড, মূলনীতি, কার্যকারণতত্ত্ব ও শাখা-প্রশাখা দ্বারা প্রভাবিত; এই ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন ইবনে আল-হাজিব ও আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি।

দ্বিতীয়ত:

এমন এক ধারা যা বসরীয় ব্যাকরণকে অস্বীকার করে না, কুফীয় ব্যাকরণকেও অস্বীকার করে না; তবে এর পাশাপাশি তারা নিজেদের স্বকীয়তাকে বিসর্জন দেয় না এবং এই সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব মতামত থাকাকেও অস্বীকার করে না। ইবনে মালিক ও ইবনে হিশাম এই ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন।

এর পাশাপাশি, এই অঞ্চলটি রচনা ও প্রকাশনার এমন এক আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছিল যা ইসলামি বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে পরিলক্ষিত হয়নি। এই আন্দোলন জ্যামিতি, চিকিৎসাশাস্ত্র, ভূগোল, ফিকহ, তাফসির, ব্যাকরণ ও উসুলের মতো বিভিন্ন বিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং এতে এমন সব মূল্যবান গ্রন্থাবলী রচিত হয়েছিল যা আরবি গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করেছে (১)।

বিভিন্ন জ্ঞানে ভরপুর এই বিস্তৃত জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে ইবনে আল-হাজিব বেড়ে ওঠেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে ব্যাকরণ, ফিকহ, উসুল, কিরাত ও যুক্তিশাস্ত্রের মতো বিভিন্ন শাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেন যা পরবর্তী প্রজন্মের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং তারা এগুলোর ব্যাখ্যা ও গবেষণায় মনোনিবেশ করেছেন। তাঁর নিকট এমন অনেক ছাত্র শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন যারা পরবর্তীতে বিশিষ্ট আলেম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন।

 

‌‌তাঁর বংশ পরিচয় ও লালন-পালন

তিনি হলেন উসমান বিন উমর বিন আবি বকর বিন ইউনুস আদ-দুওয়াইনি (২) আবু আমর জামাল

--------------------------------------------

(১) খিতাতুশ শাম। মুহাম্মদ কুরদ আলি ৪/ ৪৪ (বৈরুত)

(২) তাঁর নিসবত বা বংশীয় সম্পর্ক দুওয়াইনের সাথে। এটি আজারবাইজানের শেষ সীমান্তে আররান অঞ্চলের একটি শহর। শামের আইয়ুবি রাজবংশের রাজারা এখান থেকেই এসেছিলেন। দেখুন: মুজামুল বুলদান ১/ ৪৯১ (দার সাদির - দার বৈরুত)।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১৬)
الدين بن الحاجب (1). كان والده حاجباً للأمير عز الدين موسك الصلاحي، ومن هنا جاءت كنيته. وهو كردي الأصل.

ولد بإسنا من صعيد مصر أواخر عام (570 هـ) ن ثم انتقل به أبوه إلى القاهرة وهو لا يزال صغيراً، وفيها حفظ القرآن ودرس العلوم المتصلة به. فقرأ القراءات على الغزنوي والشاطئ وسمع الحديث من البوصيري وغيره، وأخذ الفقه عن أبي منصور الأبياري وسواه.

ودخل دمشق فسمع من القاسم بن عساكر، ولازم الاشتغال حتى ضرب

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في:

1 - وفيات الأعيان لابن خلكان 3/ 248 (تحقيق الدكتور إحسان عباس).

2 - غاية النهاية لابن الجزري 1/ 508 (عني بنشره: ج. برجستراسر).

3 - بغية الوعاة للسيوطي 2/ 134 (تحقيق محمد أبو الفضل إبراهيم).

4 - حسن المحاضرة للسيوطي 1/ 456 (تحقيق محمد أبو الفضل إبراهيم).

5 - الديباج المذهب لابن فرحون 3/ 86 (تحقيق محمد الأحمدي).

6 - شذرات الذهب لابن العماد الحنبلي 5/ 234 (المكتب التجاري للطباعة والنشر والتوزيع. بيروت).

7 - تاريخ الأدب العربي لبروكلمان 5/ 308 (نقله على العربية رمضان عبد التواب، راجع الترجمة السيد يعقوب بكر) ز

8 - كشف الظنون لحاجي خليفة 1/ 161 (الطبعة الإسلامية بطهران).

9 - هدية العارفين لإسماعيل باشا البغدادي 1/ 654 (طهران. المكتبة الإسلامية).

10 - الطالع السعيد للأدفوي ص 352 (تحقيق سعد محمد حسن).

11 - البداية والنهاية لابن كثير 13/ 176 (مكتبة المعارف. بيروت).

12 - مرآة الجنان لليافعي 4/ 114 (مؤسسة الأعلمي للمطبوعات. بيروت).

13 - تاريخ أبي الفداء 6/ 81 (دار الكتاب اللبناني. بيروت).

14 - مفتاح السعادة. لطاش كبرى زاده 1/ 138 (تحقيق كامل بكري وعبد الوهاب أبو النور).

النجوم الزاهرة لابن تغري بردي 6/ 360 (المؤسسة المصرية العامة للتأليف والترجمة والطباعة والنشر).
আদ-দ্বীন বিন আল-হাজিব (১)। তাঁর পিতা আমির ইজজুদ্দীন মুসক আস-সালাহির হাজিব (প্রহরী) ছিলেন, আর এখান থেকেই তাঁর উপাধি এসেছে। তিনি জাতিতে কুর্দি।

তিনি ৫৭০ হিজরি সালের শেষভাগে উচ্চ মিশরের এসনা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে শৈশবে কায়রোতে নিয়ে যান এবং সেখানেই তিনি কুরআন হিফজ করেন ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ অধ্যয়ন করেন। তিনি আল-গজনভী ও শাতবি-এর নিকট কিরাত পাঠ করেন এবং আল-বুসিরি ও অন্যদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। এছাড়া তিনি আবু মনসুর আল-আবিয়ারি ও অন্যদের নিকট থেকে ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন।

তিনি দামেস্কে প্রবেশ করেন এবং কাসেম ইবনে আসাকির-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি জ্ঞানার্জনে এতটাই ব্রতী ছিলেন যে...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন:

১ - ইবনে খাল্লিকান রচিত ওফায়াতুল আইয়ান ৩/ ২৪৮ (ডক্টর ইহসান আব্বাসের সম্পাদনা)।

২ - ইবনুল জাযারি রচিত গায়াতুন নিহায়াহ ১/ ৫০৮ (সম্পাদনায়: জি. বার্গস্ট্রাসার)।

৩ - সুয়ুতী রচিত বুগয়াতুল উয়াত ২/ ১৩৪ (মুহাম্মদ আবু ফজল ইব্রাহিমের সম্পাদনা)।

৪ - সুয়ুতী রচিত হুসনুল মুহাদারা ১/ ৪৫৬ (মুহাম্মদ আবু ফজল ইব্রাহিমের সম্পাদনা)।

৫ - ইবনে ফারহুন রচিত আদ-দিবাজুল মাজহাব ৩/ ৮৬ (মুহাম্মদ আল-আহমাদির সম্পাদনা)।

৬ - ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি রচিত শাজারাতুজ জাহাব ৫/ ২৩৪ (আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ লিত-তিবাআ ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওজি, বৈরুত)।

৭ - ব্রোকলম্যান রচিত তারিখুল আদাবিল আরাবি ৫/ ৩০৮ (আরবিতে ভাষান্তর করেছেন রমজান আব্দুল তাওয়াব, অনুবাদ পর্যালোচনা করেছেন সাইয়্যিদ ইয়াকুব বকর)।

৮ - হাজি খলিফা রচিত কাশফুজ জুনুন ১/ ১৬১ (ইসলামিক সংস্করণ, তেহরান)।

৯ - ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি রচিত হাদিয়াতুল আরিফিন ১/ ৬৫৪ (তেহরান, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ)।

১০ - আল-আদফুয়ী রচিত আত-তালিউস সাঈদ পৃষ্ঠা ৩৫২ (সাদ মুহাম্মদ হাসানের সম্পাদনা)।

১১ - ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/ ১৭৬ (মাকতাবাতুল মাআরিফ, বৈরুত)।

১২ - আল-ইয়াফিয়ী রচিত মিরাতুল জিনান ৪/ ১১৪ (মুয়াসসাসাতুল আলামি লিল-মাতবুয়াত, বৈরুত)।

১৩ - আবু ফাল ফদা রচিত তারিখ ৬/ ৮১ (দারুল কিতাব আল-লুবনানি, বৈরুত)।

১৪ - তাশ কুবরা জাদেহ রচিত মিফতাহুস সাআদাহ ১/ ১৩৮ (কামিল বাকরি এবং আব্দুল ওয়াহাব আবু নূরের সম্পাদনা)।

ইবনে তাগরি বারদি রচিত আন-নুজুমুজ জাহেরা ৬/ ৩৬০ (আল-মুয়াসসাসাতুল মিসরীয়্যাহ আল-আম্মাহ লিত-তালিফ ওয়াত-তারজামা ওয়াত-তিবাআ ওয়ান-নাশর)।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১৭)
به المثل. وقد برع فيما درسه وأتقنه غاية الإتقان ولاسيما الأصول والعربية. وكان الأغلب عليه علم العربية فإنه برز في النحو حتى صار من كبار رجاله.

وتكرر دخول ابن الحاجب دمشق للاستفادة حيناً وللتدريس بها أحياناً. وآخر ما دخلها سنة (617 هـ)، إذ أقم بها مدرساً لجمهور من الدارسين في علمي القراءات والعربية، وقد انتفع به كثير من الناس.

ثم إن ابن الحاجب دافع عن الشيخ عز الدين بن عبد السلام في إنكاره على الصالح إسماعيل صاحب دمشق سوء سيرته وتقاعسه ن قتال الصليبيين وصلحه معهم، فأمرهما بأن يخرجا من دمشق، فخرجا سنة (638 هـ) وعادا معاً إلى مصر. وهناك تصدر بالمدرسة الفاضلية وجلس في موضع شيخه الشاطئ، وقصده الطلبة وأكبوا على الأخذ عنه.

ثم غادر القاهرة قاصداً الإسكندرية للإقامة فيها، إلا أن مدته هناك لم تطل حيث توفي يوم الخميس السادس والعشرين من شوال سنة (646 هـ) ودفن في خارج الإسكندرية في المقبرة التي بين المنارة والبلد.

وقد رثاه ابن المنّير بهذه الأبيات:

ألا أيها المختال في مطرف العمر … هلم إلى قبر الإمام أبي عمرو

ترى العلم والآداب والفضل والتقى … ونيل المنى والعز غيبن في قبر

فتدعو له الرحمن دعوة رحمة … يكافأ بها في مثل منزلة القفر

…
তিনি এক উদাহরণ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি যা কিছু অধ্যয়ন করেছেন তাতে অত্যন্ত পারদর্শিতা ও চূড়ান্ত নিপুণতা অর্জন করেছিলেন, বিশেষ করে উসুল এবং আরবি ভাষায়। তাঁর ওপর আরবি শাস্ত্রের জ্ঞানই ছিল প্রবল, কারণ তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে এমনভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন যে তিনি এর প্রধান ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন।

ইবনুল হাজিব বারবার দামেশকে প্রবেশ করেছেন; কখনো জ্ঞান অর্জনের জন্য আবার কখনো সেখানে পাঠদানের জন্য। সেখানে তাঁর সর্বশেষ প্রবেশ ছিল ৬১৭ হিজরি সালে, যখন তিনি কিরাত এবং আরবি শাস্ত্রের একদল শিক্ষার্থীর শিক্ষক হিসেবে সেখানে অবস্থান করেন এবং বহু মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হন।

অতঃপর ইবনুল হাজিব শাইখ ইযযউদ্দীন বিন আবদুস সালামের পক্ষ অবলম্বন করেন যখন তিনি দামেশকের অধিপতি আস-সালিহ ইসমাইলের মন্দ আচরণ, ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অনীহা এবং তাদের সাথে সন্ধি করার প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে তিনি তাদের উভয়কে দামেশক থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁরা ৬৩৮ হিজরি সালে সেখান থেকে বেরিয়ে যান এবং একসাথে মিশরে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি আল-মাদ্রাসা আল-ফাদিলিয়াতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর উস্তাদ শাতিবির স্থলাভিষিক্ত হন। শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে ভিড় জমাতে থাকে এবং তাঁর কাছ থেকে ইলম হাসিলে আত্মনিয়োগ করে।

অতঃপর তিনি কায়রো ছেড়ে আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থানের মেয়াদ দীর্ঘ হয়নি, কারণ তিনি ৬৪৬ হিজরি সনের ২৬শে শাওয়াল বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ার বাইরে বাতিঘর ও শহরের মধ্যবর্তী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

ইবনুল মুনাইর এই পংক্তিগুলোর মাধ্যমে তাঁর শোকগাথা রচনা করেছেন:

হে জীবনের চাকচিক্যে অহংকারী ব্যক্তি! এসো ইমাম আবু আমরের কবরের দিকে। … জ্ঞান, আদব, শ্রেষ্ঠত্ব ও তাকওয়া … এবং সকল আকাঙ্ক্ষা ও সম্মান এই কবরের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেছে।

অতঃপর তুমি দয়াময় আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করো … যেন এই নির্জন স্থানে তাঁর বিনিময় প্রদান করা হয়।

…
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌أخلاقه وشخصيته

كانت أخلاق ابن الحاجب نسيجا فذا بين أخلاق العلماء. وقد انتزعت هذه الأخلاق ثناء الناس حتى أولئك الذين كانوا يخالفونه في الرأي. فقد كان الرجل ثقة حجة متواضعا عفيفا، كثير الحياء، منصفا ، محبا للعلم وأهله، محتملا للأذى صبورا على البلوى (1). وكان صدوقا مخلصا. وقصة وقوف صاحب دمشق الصالح إسماعيل تأييدا لصديقه العز بن عبد السلام ودخوله السجن معه مما يثير الإعجاب.

ولقد استكمل ابن الحاجب مقومات الشخصية العلمية بما اشتملت نفسه من العزم والتواضع، وما أدركه عقله من مختلف صنوف المعرفة العلم وما استقام به لسانه من الفصاحة والبلاغة، كل ذلك جعل منه عظيماً. جاء في الديباج المذهب (2): "وقد بالغ الشيخ تقي الدين بن العيد وهو أحد أثمة الشافية في مدح كتابه (جامع الأمهات) ثم قال: الدين كان وحيد عصره علماً وفضلاً وإطلاعاً".

وتتضح شخصية ابن الحاجب فيما نقله ابن خلكان عنه حيث قال (3): "وخالف النحاة في مواضع وأورد عليهم إشكالات وإلزامات تبعد الإجابة وكان من أحسن خلق الله ذهناً. وجاءني مراراً بسبب أداء شهادات وسألته عن مواضع في العربية مشكلة فأجاب أبلغ إجابة بسكون كثير وتثبت تام".

 

‌‌عقيدته وثقافته

كان ابن الحاجب من أبرز فقهاء مصر والشام في العصر الأيوبي

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية 13/:176.

(2) 2/ 86.

(3) وفيات الأعيان 3/ 248.
তাঁর চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব

ইবনুল হাজিবের চরিত্র ছিল আলেমদের চরিত্রের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই চরিত্র মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছিল, এমনকি তাদেরও যারা তাঁর সাথে মতভিন্নতা পোষণ করতেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, অকাট্য প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব, বিনয়ী, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, অত্যন্ত লজ্জাশীল, ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞান ও জ্ঞানীদের অনুরাগী, কষ্টসহিষ্ণু এবং বিপদে ধৈর্যশীল (১)। তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান। তাঁর বন্ধু ইযয ইবনু আবদিস সালামের সমর্থনে দামেস্কের অধিপতি আস-সালিহ ইসমাঈলের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং তাঁর সাথে কারাগারে প্রবেশের ঘটনা বিস্ময় জাগায়।

ইবনুল হাজিব তাঁর অন্তরের দৃঢ় সংকল্প ও বিনয়, তাঁর বুদ্ধি দিয়ে অর্জিত বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান এবং প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের মাধ্যমে তাঁর জিহ্বার সাবলীলতার দ্বারা একটি পূর্ণাঙ্গ ইলমি ব্যক্তিত্বের উপাদানসমূহ অর্জন করেছিলেন; এই সব কিছুই তাঁকে মহান করে তুলেছিল। আদ-দীবাজুল মুযাহহাব (২) গ্রন্থে এসেছে: "শাফিঈ ইমামদের অন্যতম শেখ তাকিউদ্দীন ইবনু দাকীকিল ঈদ তাঁর গ্রন্থ (জামি-উল উম্মাহাত)-এর প্রশংসায় অনেক উচ্চ বাক্য ব্যয় করেছেন এবং অতঃপর বলেছেন: তিনি ইলম, মর্যাদা ও পাণ্ডিত্যে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন।"

ইবনু খালিকান তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তাতে ইবনুল হাজিবের ব্যক্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে তিনি বলেছেন (৩): "তিনি বিভিন্ন স্থানে বৈয়াকরণদের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁদের সামনে এমন সব জটিলতা ও বাধ্যবাধকতা উপস্থাপন করেছেন যার উত্তর প্রদান করা ছিল সুদূরপরাহত। তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে তিনি আমার কাছে বহুবার এসেছেন। আমি তাঁকে আরবীর কিছু জটিল বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি এবং তিনি অত্যন্ত প্রশান্তি ও পূর্ণ স্থিরতার সাথে অত্যন্ত চমৎকার উত্তর দিয়েছেন।"

 

‌তাঁর আকীদা ও সংস্কৃতি

আইয়ুবী যুগে ইবনুল হাজিব ছিলেন মিশর ও শামের অন্যতম প্রধান ফকীহ।

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৭৬।

(২) ২/ ৮৬।

(৩) ওফায়াতুল আ’ইয়ান ৩/ ২৪৮।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ১৯)
على مذهب الإمام مالك، وتعمق فيه وفهمه واستوعبه حتى نبغ وبلغ فيه مبلغاً عظيماً، وصار رأساً عند المالكية، بل شيخ المالكية في عصره (1)، وصنف في مذهبه تصانيف جليلة لا تزال تعد من أمهات المراجع الفقهية المعتمدة وخصوصاً كتابه (جامع الأمهات).

وقد ألف كتابين في الأصول حازا شهرة كبيرة وهما: منتهى السول والأمل في علمي الأصول والجدل، ومختصره الذي كان موضع عناية الدارسين من طلاب الفقه، قال ابن كثير (2): "مختصره في الفقه من أحسن المختصرات، انتظم فيه فوائد ابن شاش، ومختصره في الأصول استوعب فيه عامة فوائد الأحكام لسيف الدين الأمدي".

وكان ابن الحاجب معنياً بالقراءات عناية خاصة تلقاها عن شيوخ القراء في عصره كالشاطبي وأبي الجود اللخمي والغزنوي وغيرهم.

وكانت هذه الدراسات العلمية في الفقه والقراءات مقدمة للدراسات العربية في النحو والصرف. وقد وصل في ذلك إلى مرتبة عالية بما وضعه من مصنفات مختلفة في علم العربية ولاسيما مقدمتاه: الكافية والشافية، وأماليه. وقد أثنى ابن الجزري على تصانيفه فقال (3): "ومؤلفاته تنبئ عن فضله كمختصري الأصول والفقه، ومقدمتي النحو والتصريف ولاسيما أماليه التي يظهر فيها ما أتاه الله من عظم الذهن وحسن التصور. إلا أنه أعضل فيما ذكره في مختصر الأصول حين تعرض للقراءات وأتى بما لم يتقدم فيه غيره". وقال النعيمي (4): " واشتغل بالعلم فقرأ القراءات وحرر النحو تحريرا بليغا، وتفقه

--------------------------------------------

(1) طبقات الشافعية للسبكي 3|365 (تحقيق عبد الفتاح محمد الحلو ومحمود محمد الطناحي)

(2) البداية والنهاية 13|176

(3) غاية النهاية 1|509

(4) الدارس في تاريخ المدارس لعبد القادر النعيمي 2/ 3 (تحقيق جعفر الحسيني)
ইমাম মালিকের মাযহাবের উপর, তিনি এতে গভীরতা অর্জন করেন, এটি অনুধাবন করেন এবং আত্মস্থ করেন, এমনকি তিনি এতে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং এক মহান পর্যায়ে পৌঁছান। তিনি মালিকিগণের নিকট একজন প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হন, বরং নিজ যুগের মালিকিগণের শাইখ (১) হিসেবে গণ্য হন। তিনি তার মাযহাবে এমন কিছু মহান গ্রন্থ রচনা করেছেন যা আজও ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য মূল উৎসগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে তার গ্রন্থ (জামি আল-উম্মাহাত)।

উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রে তিনি দুটি কিতাব রচনা করেছেন যা ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, সেগুলো হলো: মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল ফি ইলমাই আল-উসুল ওয়াল জাদাল, এবং এর সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার), যা ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ইবনে কাসির (২) বলেন: "ফিকহ শাস্ত্রে তার মুখতাসার হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, এতে তিনি ইবনে শাশ-এর উপকারিতাগুলো সন্নিবেশিত করেছেন। আর উসুলের ক্ষেত্রে তার মুখতাসার গ্রন্থে তিনি সাইফুদ্দীন আল-আমিদির আল-আহকাম-এর সাধারণ উপকারিতাগুলো আত্মস্থ করেছেন।"

ইবনে হাজিব কিরাআত বা পবিত্র কুরআন পাঠরীতি বিষয়েও বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। তিনি তার যুগের কিরাআত বিশেষজ্ঞ শাইখদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন, যেমন- আশ-শাতিবি, আবুল জুদ আল-লাখমি, আল-গজনবি এবং অন্যান্যগণ।

ফিকহ এবং কিরাআতের এই ইলমি অধ্যয়নসমূহ ছিল আরবি ব্যাকরণ (নাহু) এবং রূপতত্ত্বের (সরফ) গবেষণার সোপান। আরবি ভাষায় বিভিন্ন কিতাব রচনার মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন, বিশেষ করে তার দুটি ভূমিকাগ্রন্থ: আল-কাফিয়া ও আশ-শাফিয়া, এবং তার আমালি। ইবনে আল-জাযারি তার রচনাবলির প্রশংসা করে বলেন (৩): "তার গ্রন্থসমূহ তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়, যেমন- উসুল ও ফিকহের দুটি সংক্ষিপ্তসার, নাহু ও সরফের দুটি ভূমিকাগ্রন্থ এবং বিশেষ করে তার আমালি, যাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে প্রদত্ত সুতীক্ষ্ণ মেধা ও চমৎকার অনুধাবন শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তবে উসুলের সংক্ষিপ্তসারে কিরাআত নিয়ে আলোচনার সময় তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা কিছুটা জটিল করে ফেলেছেন এবং এমন কিছু নিয়ে এসেছেন যেখানে অন্য কেউ তার আগে পা রাখেনি।" আন-নুয়াইমি (৪) বলেন: "তিনি জ্ঞান অর্জনে মশগুল হন, কিরাআত পাঠ করেন, নাহু শাস্ত্রকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে পরিমার্জিত করেন এবং ফিকহ অর্জন করেন..."

--------------------------------------------

(১) আস-সুবকি রচিত ত্বাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ ৩/৩৬৫ (তাহকিক: আব্দুল ফাত্তাহ মুহাম্মদ আল-হুলু এবং মাহমুদ মুহাম্মদ আত-তানাহি)

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৭৬

(৩) গায়াতুন নিহায়া ১/৫০৯

(৪) আব্দুল কাদির আন-নুয়াইমি রচিত আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস ২/৩ (তাহকিক: জাফর আল-হুসাইনি)
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২০)
وساد أهل عصره، وكان رأسا في علوم كثيرة منها: الأصول والفروع والنحو والتصريف والعروض والتفسير وغير ذلك"

 

‌‌مذهبه النحوي

إن الناظر في مصنفات ابن الحجب يقف على ثقافة واسعة منوعة، وعقلية ناضجة، وفكر عميق. ولكن غلب عليه العم العربية ، وصنف في ذلك عددا من الكتب القيمة التي تدل على سعة الاطلاع وعمق التحليل.

وهو يبدو متأثرا بمذهب البصريين إلى حد كبير. فهو في الغالب يتبنى آراءهم، ويسوق حججهم ، ويأخذ بادلتهم دون تعصب، وقد قام بشرح عدد من مصنفاتهم. ومما يدل على اتجاهه نحو هذا المذهب تأثره بسيبويه وأبي علي الفارسي والزمخشري.

فسيبويه إمام نحاة البصرة، وقد عد كتابه أول كتاب نحوي رسم صورة المنهاج البصري في دراسة العربية. وقد ظهرت عناية ابن الحاجب بكتاب سيبويه في مصنفاته المختلفة، فقد كان كثير النقل عنه. هذا إلى ترجيحه لكثير من آرائه، ووقوفه منه موقف المؤيد الذي يتابعه في كثير من أقواله وتعليلاته. ويقال: إنه شرح كتابه. ومن هنا فإن ابن الحاجب كان على صلة قوية بأثر بصري ضخم، وإن هذه الصلة دليل ميله البصري.

… وأبو علي الفارسي يغلب عليه المذهب البصري (1). وأية مراجعة لكتبه تدل على التمسك الظاهر بالمذهب البصري، والذي ينظر في كتب ابن الحب فإنه يجد فيها الكثير من آراء الفارسي. ويقال: إنه شرح كتابه (الإيضاح) في كتاب سماه (المكتفي للمبتدي).

--------------------------------------------

(1) المدارس النحوية للدكتور شوقي ضيف ص 257
তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং বহু বিদ্যায় শীর্ষস্থানীয় ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে: উসুল (মূলনীতি), ফুরু (শাখা), নাহু (ব্যাকরণ), তাসরিফ (রূপতত্ত্ব), আরুজ (ছন্দতত্ত্ব), তাফসির এবং আরও অনেক কিছু।

 

‌‌তাঁর ব্যাকরণগত মাযহাব

ইবনুল হাজিবের রচনাবলির প্রতি দৃষ্টিপাতকারী এক বিশাল ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, পরিপক্ক বুদ্ধিমত্তা এবং গভীর চিন্তাধারার পরিচয় পাবেন। তবে তাঁর ওপর আরবি ভাষা বিষয়ক জ্ঞান প্রবল ছিল এবং তিনি এ বিষয়ে বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য এবং বিশ্লেষণের গভীরতা প্রমাণ করে।

তিনি বসরিদের মাযহাব দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত বলে প্রতীয়মান হন। তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের মতামত গ্রহণ করেন, তাদের যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেন এবং কোনো গোঁড়ামি ছাড়াই তাদের প্রমাণাদি গ্রহণ করেন। তিনি তাদের বেশ কিছু রচনা ব্যাখ্যাও করেছেন। এই মাযহাবের প্রতি তাঁর ঝোঁকের প্রমাণ হলো সিবাওয়াইহ, আবু আলি আল-ফারিসি এবং যামাখশারির দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়া।

সিবাওয়াইহ হলেন বসরার ব্যাকরণবিদদের ইমাম, এবং তাঁর কিতাবকে প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা আরবি ভাষা চর্চায় বসরি পদ্ধতির রূপরেখা অঙ্কন করেছে। ইবনুল হাজিবের বিভিন্ন রচনায় সিবাওয়াইহ-এর কিতাবের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ ফুটে উঠেছে, কারণ তিনি তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিতেন। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর অনেক মতামতের প্রাধান্য দিতেন এবং তাঁর প্রতি একজন সমর্থনকারীর অবস্থান গ্রহণ করতেন যিনি তাঁর অনেক বক্তব্য ও ব্যাখ্যা অনুসরণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাঁর কিতাবটির ব্যাখ্যাও করেছেন। এখান থেকেই বোঝা যায় যে, ইবনুল হাজিব এক বিশাল বসরি ঐতিহ্যের সাথে দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এই সম্পর্কই তাঁর বসরি ঝোঁকের প্রমাণ।

… আর আবু আলি আল-ফারিসির ওপর বসরি মাযহাব প্রবল ছিল (১)। তাঁর গ্রন্থাবলির যেকোনো পর্যালোচনা বসরি মাযহাবের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য আনুগত্যের প্রমাণ দেয়। আর যিনি ইবনুল হাজিবের গ্রন্থগুলো দেখবেন, তিনি সেখানে ফারিসির অনেক মতামত খুঁজে পাবেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাঁর 'আল-ঈজাহ' গ্রন্থটির ব্যাখ্যা করেছেন 'আল-মুকতাফি লিল-মুবতাদি' নামক গ্রন্থে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ, ড. শওকি দাইফ, পৃষ্ঠা ২৫৭
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২১)
أما الزمخشري فهو في جمهرة آرائه يتفق ونحاة البصرة (1). يدل على ذلك (مفصله) الذي كان متأثرا فيه بكتاب سيبويه. تشهد بذلك عباراته وأمثلته، فهو كان يقول بآراء البصريين، وستعمل مصطلحاتهم. وقد تأثر ابن الحاجب به، وأورد كثيرا من آرائه، وجعل قسما من أماليه لمواضع من (المفصل). ويدل على اهتمام ابن الحجب بالزمخشري وتأثره به أنه قام بشرح كتابه (المفصل) في كتاب سماه (الإيضاح في شرح المفصل).

فهذه الأمثلة وغيرها تظهر لنا أن ابن الحجب كان يميل إلى المذهب البصري وهذا واضح في أماليه؛ فهو يحكم بأن مجيء كلمة (ذلك) بمعنى (الذي) في قوله تعالى: (يدعو لمن ضره أقرب من نفعه ذلك هو الضلال البعيد) (2) رأي ليس بالقوي، لأن اسم الإشارة لا يقع عند البصريين بمعنى الذي (3). فالرأي ضعيف عنده لعجم وروده عند البصريين، مما يدل على ميله لمذهبهم. ويقف بجانبهم في أن المصدر أصل الاشتقاق (4)، وأيدهم في أن (لات) بمعنى ليس، وليست نافية للجنس (5). وغير هذه الأمثلة كثير. ويستطيع المطلع أن يقرر عن يقين ووضوح هذا الميل إلى جانب البصريين. وفوق هذا كله فابن الحاجب نفسه كان يصرح ببصريته بحيث لا يشك باحث منصف بأنه كان يذهب مذهبهم ويقف إلى جانبهم، قال في الإملاء (77) من الأمالي على المفصل، على قول الزمخشري: "وما نقله الكوفيون من قولهم: الثلاثة الأثواب فبمعزل عند أصحابنا عن القياس واستعمال الفصحاء". قال: "أما القياس فلما ذكرناه وأما استعمال الفصحاء فنحو ما أنشده وما تمسك به

--------------------------------------------

(1).المدارس النحوية ص 284

(2) الحج: 13

(3) الإملاء (8) من الأمالي القرآنية.

(4) الإملاء (88) من الأمالي على المفصل.

(5) الإملاء (86) من الأمالي على المفصل.
আল-যামাখশারী তাঁর অধিকাংশ মতামতের ক্ষেত্রে বসরার ব্যাকরণবিদদের সাথে একমত পোষণ করেন (১)। তাঁর 'আল-মুফাসসাল' গ্রন্থটি এর প্রমাণ দেয়, যাতে তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাব দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য ও উদাহরণসমূহ এর সাক্ষ্য দেয়; কেননা তিনি বসরীগণের মত পোষণ করতেন এবং তাঁদের পরিভাষা ব্যবহার করতেন। ইবনুল হাজিব তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তাঁর অনেক মতামত উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর 'আমালি'-র (শ্রুতিলিপি) একটি অংশ 'আল-মুফাসসাল'-এর বিভিন্ন বিষয়ের জন্য নির্ধারিত করেছিলেন। যামাখশারীর প্রতি ইবনুল হাজিবের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রমাণ হলো যে, তিনি 'আল-মুফাসসাল'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আল-ঈযাহ ফী শারহিল মুফাসসাল'।

এই উদাহরণগুলো এবং অন্যান্য বিষয় আমাদের সামনে স্পষ্ট করে যে, ইবনুল হাজিব বসরী মাযহাবের (ব্যাকরণিক ঘরানা) প্রতি ঝুঁকে ছিলেন এবং এটি তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে সুস্পষ্ট। তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: "সে তাকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকারের চেয়ে নিকটতর; তা কতই না সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা" (২)-এ 'যালিকা' শব্দটি 'আল্লাযী' (যা/যিনি) অর্থে আসা কোনো শক্তিশালী মত নয়; কারণ বসরীগণের নিকট ইশারা বাচক বিশেষ্য (ইসমে ইশারা) সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের (ইসমে মাওসুল) অর্থে ব্যবহৃত হয় না (৩)। সুতরাং এই মতটি তাঁর নিকট দুর্বল যেহেতু বসরীগণের নিকট এর কোনো প্রয়োগ নেই, যা তাঁদের মাযহাবের প্রতি তাঁর ঝোঁককে প্রমাণ করে। এছাড়া তিনি এই বিষয়েও তাঁদের পক্ষাবলম্বন করেন যে, 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল) হলো শব্দ ব্যুৎপত্তির মূল (৪), এবং তিনি তাঁদের সমর্থন করে বলেন যে, 'লাতা' শব্দটি 'লাইসা'-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, এটি 'নাফিয়া লিল জিনস' (শ্রেণিবাচক নেতিবাচক) নয় (৫)। এই উদাহরণগুলো ছাড়াও আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। একজন মনোযোগী পাঠক পূর্ণ নিশ্চয়তা ও স্বচ্ছতার সাথে বসরীগণের প্রতি এই ঝোঁকের বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন। এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে, ইবনুল হাজিব নিজেই তাঁর বসরী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতেন, যাতে কোনো ন্যায়পরায়ণ গবেষকের মনে এই সন্দেহ থাকে না যে তিনি তাঁদের মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং তাঁদের পক্ষ নিতেন। তিনি 'আল-আমালি আলাল মুফাসসাল'-এর ৭৭তম ইমলায় যামাখশারীর উক্তির প্রেক্ষিতে বলেন: "কূফীগণ তাদের এই বক্তব্য—'আছ-ছালাছাতুল আছওয়াব' (তিনটি পোশাক)—সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছে, তা আমাদের সাথীদের (বসরীগণের) নিকট কিয়াস (নিয়মসিদ্ধ অনুমান) এবং প্রাঞ্জলভাষীদের ব্যবহারের পরিপন্থী।" তিনি বলেন: "কিয়াসের বিষয়টি তো আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই, আর প্রাঞ্জলভাষীদের ব্যবহারের বিষয়টি হলো তিনি যা আবৃত্তি করেছেন এবং যা আঁকড়ে ধরেছেন তার মতো।"

--------------------------------------------

(১) আল-মাদারিস আন-নাহবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৮৪।

(২) আল-হাজ্জ: ১৩।

(৩) আল-ইমলা (৮), আল-আমালি আল-কুরানিয়্যাহ থেকে।

(৪) আল-ইমলা (৮৮), আল-আমালি আলাল মুফাসসাল থেকে।

(৫) আল-ইমলা (৮৬), আল-আমালি আলাল মুফাসসাল থেকে।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২২)
الكوفيون لغة ضعيفة، فلا تقوى لمعارضة ما ذكره البصريون من القياس واستعمال الفصحاء ". فهو قد ضعف المذهب الكوفي في هذه المسألة وهذا دليل واضح لميله إلى المذهب البصري.

وهناك دليل آخر لميله للمذهب البصري أن كثيرا من مصطلحاته مصطلحات بصرية. كاستعمال النعت بذلا من الصفة، وفعل ما لم يسم فاعله بدلا من الفعل المبني للمجهول.

ومع هذا فإننا نجد ابن الحاجب يخالف البصريين إذا لم يقتنع برأيهم ويستخدم في مناقشته لهم الأدله العقلية المنطقية، غير متأثر بشهرة عالم أو منزلته. فهو بذلك يسير على المنهج العلمي الصحيح. فسيبويه مع علو منزلته لم يسلم من مخالفة ابن الحاجب لآرائه. فقد خالفه في الضمير الواقع بعد لولا وعسى حيث إن سيبويه قال: الضمير بعد لولا في محل جر، والضمير بعد عسى في محل نصب. وقال الأخفش: الضمير في البابين في محل رفع. وقال ابن الحجب: فثبت لذلك أن مذهب الأخفش في ذلك أظهر (1). وأحيانا نراه يسوي بين البصريين والكوفيين من غير ترجيح كما فعل في الإملاء (85) من الأمالي القرآنية على قوله تعالى: (لا جرم أن لهم النار) (2) فإنه ذكر قول البصريين في (لا جرم) وذكر قول الكوفيين، ولم يرجح أحدهما. وربما أجاز مسألة على مذهب الكوفيين دون أن يكون فيها مخالفة للبصريين، كما فعل في الإملاء (37) من الأمالي القرآنية على قوله تعالى: (لابثين فيها أحقابا) (3) قال: ويجوز أن يكون خبرا بعد خبر لكان على مذهب الكوفيين.

--------------------------------------------

(1) الإملاء (6) من الامالي على مسائل الخلاف.

(2) النحل: 62.

(3) النبأ: 23.
"কুফাবাসীদের ভাষা দুর্বল, তাই বসরীয়দের বর্ণিত কিয়াস ও বিশুদ্ধভাষীদের ব্যবহারের বিরোধিতার শক্তি এটি রাখে না।" তিনি এই মাসআলায় কুফী মাযহাবকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন এবং এটি বসরী মাযহাবের প্রতি তাঁর ঝোঁকের একটি স্পষ্ট প্রমাণ।

বসরী মাযহাবের প্রতি তাঁর ঝোঁকের আরেকটি প্রমাণ হলো এই যে, তাঁর অধিকাংশ পরিভাষাই বসরীয় পরিভাষা। যেমন 'সিফাত'-এর পরিবর্তে 'নাত' ব্যবহার এবং 'ফে'লে মাবনি লিল মাজহুল'-এর পরিবর্তে 'ফে'লে মা লাম ইউসাম্মা ফা'ইলুহু' পরিভাষার ব্যবহার।

এতদসত্ত্বেও, আমরা ইবনুল হাজিবকে বসরীয়দের বিরোধিতা করতে দেখি যখন তিনি তাদের মতামতে সন্তুষ্ট হন না এবং তাদের সাথে আলোচনায় তিনি যৌক্তিক ও ন্যায়নিষ্ঠ দলীল ব্যবহার করেন, কোনো আলিমের খ্যাতি বা মর্তবা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে। এর মাধ্যমে তিনি সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। সিবওয়াইহ উচ্চ মর্তবার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ইবনুল হাজিব কর্তৃক তাঁর মতের বিরোধিতা থেকে রেহাই পাননি। তিনি 'লাওলা' এবং 'আসা'-এর পরে আসা 'যমীর'-এর ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করেছেন; যেখানে সিবওয়াইহ বলেছিলেন: 'লাওলা'-এর পরের যমীরটি 'জার'-এর স্থানে থাকে এবং 'আসা'-এর পরের যমীরটি 'নসব'-এর স্থানে থাকে। আর আখফাশ বলেছিলেন: উভয় ক্ষেত্রেই যমীর 'রাফা'-এর স্থানে থাকে। আর ইবনুল হাজিব বলেছেন: "এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, এক্ষেত্রে আখফাশের মাযহাবই অধিকতর সুস্পষ্ট" (১)। মাঝে মাঝে আমরা তাঁকে কোনো প্রাধান্য দেওয়া ছাড়াই বসরীয় ও কুফীয়দের মধ্যে সমতা বিধান করতে দেখি, যেমনটি তিনি আল-আমালি আল-কুরআনিয়ার 'ইমলা' (৮৫)-তে মহান আল্লাহর বাণী: (নিঃসন্দেহে তাদের জন্য রয়েছে আগুন) (২)-এর ব্যাখ্যায় করেছেন। সেখানে তিনি 'লা জারামা' সম্পর্কে বসরীয়দের মত উল্লেখ করেছেন এবং কুফীয়দের মতও উল্লেখ করেছেন, কিন্তু কোনোটিকে প্রাধান্য দেননি। কখনো কখনো তিনি বসরীয়দের সাথে বিরোধিতা না করে কুফীয় মাযহাব অনুযায়ী কোনো মাসআলাকে জায়েজ বলে গণ্য করেছেন, যেমনটি তিনি আল-আমালি আল-কুরআনিয়ার 'ইমলা' (৩৭)-এ মহান আল্লাহর বাণী: (তারা সেখানে যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে) (৩)-এর ক্ষেত্রে করেছেন। তিনি বলেছেন: কুফীয়দের মাযহাব অনুযায়ী এটি 'কানা'-এর খবরের পর আরেকটি খবর হওয়া জায়েজ।

--------------------------------------------

(১) আল-ইমলা (৬), আল-আমালি আলা মাসাইলিল খিলাফ থেকে।

(২) আন-নাহল: ৬২।

(৩) আন-নাবা: ২৩।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২৩)
إلى جانب ذلك فإننا نرى ابن الحاجب قد جاء بآراء خالف فيها جمهور النحاة وسأتحدث عنها إن شاء الله في الفصل الثالث.

 

‌‌شعره

لم يكن ابن الحاجب شاعرا، وما صدر عنه لا يعدو أبياتا قليلة تفتقر إلى المقومات الشعرية، وهي بذلك تصدر عن عقل فقيه وتصوره لا عن قلب شاعر وعاطفته.

ومع هذا فإنه قد نظم مقدمته النحوية (الكافية) في منظومته (الوافية).

ونظم في العروض (المقصد الجليل إلى علم الخليل). ونظم في المؤنثات السماعية (القصيدة الموشحة بالأسماء المؤنثة).

ومن شعره هذان البيتان (1):

أي غد مع يد دَدٍ ذي حروف … طاوعت في الرويّ وهي عيون

ودواة والحوت والنون نونا … ت عصتهم وأمرها مستبين

…

 

وهما جواب عن البيتين المشهورين:

ربما عالج القوافي رجال … في القوافي فتلتوي وتلين

طاوعتهم عين وعين وعين … وعصتهم نون ونون ونون

…

 

وهذان بيتان له في الإخوانيات تبدو فيهما عقلية الفقيه (2):

إن غبتم صورة عن ناظريَّ فما … زلتم حضوراً على التحقيق في خلدي

مثل الحقائق في الأذهان حاضرة … وإن ترد صورة في خارج تجد

…

--------------------------------------------

(1) وفيات الأعيان 3/ 248.

(2) الطالع السعيد ص 352.
এর পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে আল-হাজিব এমন কিছু মত পোষণ করেছেন যাতে তিনি অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের (নাহুবিদ) বিরোধিতা করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাইলে) আমি তৃতীয় অধ্যায়ে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

 

‌‌তাঁর কবিতা

ইবনে আল-হাজিব কবি ছিলেন না। তাঁর থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা সামান্য কিছু পঙক্তির বাইরে নয়, যেগুলোতে কাব্যিক উপাদানের অভাব রয়েছে। ফলে সেগুলো কোনো কবির হৃদয় বা আবেগ থেকে নয়, বরং একজন ফকীহর (আইনজ্ঞ) মস্তিষ্ক ও চিন্তা থেকে উৎসারিত হয়েছে।

এতদসত্ত্বেও তিনি তাঁর ব্যাকরণিক ভূমিকা (আল-কাফিয়া)-কে তাঁর কাব্যগ্রন্থ (আল-ওয়াফিয়া)-তে পদ্যরূপ দান করেছেন।

তিনি ছন্দবিজ্ঞানে (আল-মাকসাদ আল-জালিল ইলা ইলমিল খলিল) পদ্য রচনা করেছেন। আর শ্রুতিগত স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দাবলির ক্ষেত্রে (আল-কাসিদা আল-মুওয়াশশাহা বিল আসমায়িল মুয়ান্নাছাহ) পদ্য রচনা করেছেন।

তাঁর কবিতার মধ্যে এই দুটি পঙক্তি উল্লেখযোগ্য (১):

কোন আগামীকাল হাতের সাথে ‘দাদ’ অক্ষরের অধিকারী... মিলের অক্ষরে আনুগত্য করেছে এবং সেগুলো হলো ‘আইন’ (চোখ)।

আর দোয়াত, মাছ এবং ‘নুন’—এমন সব নুন যা তাদের অবাধ্য হয়েছে এবং তার বিষয়টি সুস্পষ্ট।

…

 

এই দু’টি পঙক্তি হলো নিম্নোক্ত দুটি প্রসিদ্ধ পঙক্তির উত্তর:

কখনো পুরুষেরা অন্ত্যমিলের অনুশীলন করে, ফলে ছন্দে সেগুলো কখনো বাঁকা হয় আবার কখনো কোমল হয়।

তিনটি ‘আইন’ তাদের আনুগত্য করেছে, আর তিনটি ‘নুন’ তাদের অবাধ্য হয়েছে।

…

 

ভ্রাতৃত্বসুলভ পঙক্তির ক্ষেত্রে তাঁর আরও দুটি পঙক্তি রয়েছে, যাতে ফকীহর মানসিকতা ফুটে ওঠে (২):

যদি আপনারা বাহ্যিক রূপে আমার দৃষ্টি থেকে আড়ালে থাকেন, তবুও নিশ্চিতভাবে আপনারা আমার হৃদয়ে উপস্থিত আছেন।

যেমন সত্যসমূহ মস্তিস্কে উপস্থিত থাকে; আর যদি আপনি বাইরে কোনো প্রতিকৃতি চান, তবে তাও খুঁজে পাবেন।

…

--------------------------------------------

(১) ওফায়াতুল আ’ইয়ান ৩/২৪৮।

(২) আত-তালেউস সাঈদ, পৃষ্ঠা ৩৫২।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وله بيتان في معناهما لكنه قبلهما في قافية أخرى فقال (1):

إنْ تغيبوا عن العيون فأنتم … في قلوبٍ حضوركم مستمر

مثل ما تثبت الحقائق في الذهن … وفي خارج لها مستقر

…

 

ومن أبياته أيضاً (2):

قد كان ظني بأن الشيب يرشدني … إذ أتى فإذا غيّي به كثرا

ولست أقنط من عفو الكريم وإنْ … أسرفت جهلاً فكم عافى وكم غفرا

إنْ خصَّ عفو إلهي المحسنين فمن … يرجو المسيء ويدعو كلما عثرا

…

 

وله في أسماء قداح الميسر (3):

هي قدّ وتوأم ورقيب … ثم حِلْسٌ ونافِسٌ ثم مُسْبِل

والمعلّى والوعْدُ ثم سَفِيحٌ … وَمِنيحٌ وذي الثلاثة تهمل

ولكل مما عداها نصيب … مثله أن تعد أول أول

…

 

‌‌شيوخه

درس ابن الحاجب العلوم العربية والدينية بمختلف فنونها من نحو وفقه وقراءات وأصول على كبار أستاذة عصره وأثمة العلم. وليس بالمستطاع حصر هؤلاء الشيوخ الذين أخذ عنهم، لذا فإنني سوف اقتصر على ذكر الكبار منهم مع ترجمة موجزة لكل واحد.

 

‌‌1 - الشاطبي:

هو أبو القاسم بن فيرة بن أبي القاسم خلف بن أحمد الرعيني الشاطبي

--------------------------------------------

(1) الطالع السعيد ص 356.

(2) الطالع السعيد ص 356.

(3) شذرات الذهب 5/ 234.
উনার এই একই অর্থের দুটি কবিতা রয়েছে, যা তিনি এই কবিতা দুটির পূর্বে ভিন্ন একটি ছন্দ ও অন্ত্যমিলে বলেছিলেন (১):

যদি আপনারা চোখের আড়ালে চলে যান, তবে আপনারা … অন্তরে আপনাদের উপস্থিতি তো নিরন্তর।

যেমন সত্য ও বাস্তবসমূহ মস্তিষ্কে স্থির থাকে … আর বাহ্যিকভাবে সেগুলোর অবস্থান সুনিশ্চিত।

…

 

উনার আরও কিছু পঙক্তি হলো (২):

আমার ধারণা ছিল যে বার্ধক্য আমাকে সঠিক পথ দেখাবে … কিন্তু যখন তা এল, তখন দেখা গেল আমার বিভ্রান্তি আরও বেড়ে গেছে।

আমি সেই মহানুভবের ক্ষমা থেকে নিরাশ হই না, যদিও … আমি অজ্ঞতাবশত সীমা লঙ্ঘন করেছি; তিনি তো কত ক্ষমা করেছেন এবং কত মার্জনা করেছেন!

যদি আমার মাবুদের ক্ষমা কেবল নেককারদের জন্য নির্দিষ্ট হয়, তবে … পাপাচারী কার কাছে আশা করবে এবং প্রতিবার হোঁচট খাওয়ার পর কাকে ডাকবে?

…

 

জুয়া খেলার তীরের নামসমূহ সম্পর্কে তাঁর কবিতা (৩):

সেগুলো হলো ফাদ্দ, তাওয়াম এবং রাকিব … এরপর হিলস, নাফিস এবং মুসবিল।

মুআল্লা এবং ওয়াদ, এরপর সাফীহ … মানীহ; আর এই শেষের তিনটি কোনো অংশ পায় না।

এগুলো ছাড়া বাকিগুলোর জন্য অংশ নির্ধারিত রয়েছে … যেমনটি প্রথম থেকে ধারাবাহিকভাবে গণনা করা যায়।

…

 

‌‌তাঁর শিক্ষকগণ

ইবনে হাজিব তাঁর সমসাময়িক যুগের মহান শিক্ষক এবং ইলমের ইমামদের নিকট নাহু, ফিকহ, কিরাত ও উসূলসহ বিভিন্ন শাখার আরবি ও ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা লাভ করেন। যাদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন, সেই শায়খদের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়; তাই আমি কেবল তাদের মধ্য থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।

 

‌‌১ - আশ-শাতিবী:

তিনি হলেন আবুল কাসিম ইবনে ফিরাহ ইবনে আবুল কাসিম খালাফ ইবনে আহমাদ আল-রুআইনী আশ-শাতিবী।

--------------------------------------------

(১) আল-তালি আল-সাঈদ, পৃষ্ঠা ৩৫৬।

(২) আল-তালি আল-সাঈদ, পৃষ্ঠা ৩৫৬।

(৩) শাযারাতুজ যাহাব ৫/ ২৩৪।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২৫)
الضرير مصنف الشاطبية في القراءات السبع. ولد سنة (538 هـ). خرج إلى الحج فقدم الإسكندرية سنة (572 هـ). وولاه القاضي الفاضل مشيخة الإقراء بمدرسته. وزار القدس وصام به شهر رمضان، ثم رجع إلى القاهرة، فكانت وفاته بها في هذه السنة. وكان ديناً خاشعاً ناسكاً كثير الوقار (1).

 

‌‌2 - البوصيري:

هبة الله بن علي بن مسعود الأنصاري الكاتب الأديب مسند الديار المصرية. ولد سنة (506 هـ) وسمع من أبي صادق المديني ومحمد بن بركات السعيد وطائفة، وتفرد في زمانه، ورحل إليه. توفي في ثاني صفر سنة (598 هـ) (2).

 

‌‌3 - أبو الفضل الغزنوي:

محمد بن يوسف بن علي بن شهاب الدين أبو الفضل الغزنوي المقرئ الفقيه النحوي. ولد سنة (522 هـ)، وقرأ علي أبي محمد سبط الخياط، وسمع من أبي بكر قباضي الممارستان، وتصدر للإقراء، فأخذ عنه العلم السخاوي وروى عنه ابن خليل والضياء المقدسي والرشيد العطار. ودرس المذهب بمسجد الغزنوي المعروف به. مات بالقاهرة سنة (599 هـ) (3).

 

‌‌4 - القاسم بن عساكر:

هو القاسم بن الحافظ أبي القاسم علي بن الحسن المحدث أبو محمد بن عساكر الدمشقي الشافعي. ولد سنة (527 هـ). وكان محدثاً حسن المعرفة شديد الورع، ومع ذلك كان كثير المزاح. تولى مشيخة دار الحديث

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية 13/ 10، النجوم الزاهرة 6/ 136، شذرات الذهب 4/ 301.

(2) حسن المحاضرة 1/ 375.

(3) حسن المحاضرة 1/ 498، النجوم الزاهرة 6/ 184.
দৃষ্টিহীন, সাত কিরাআত বিষয়ক 'শাতিবিয়্যাহ' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ৫৩৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে ৫৭২ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় আগমন করেন। কাজী ফাদিল তাকে তাঁর মাদরাসার কিরাআত বিভাগের প্রধান শিক্ষক (শাইখুল ইকরা) নিযুক্ত করেন। তিনি কুদস (জেরুজালেম) সফর করেন এবং সেখানে রমজান মাসে রোজা রাখেন, তারপর কায়রোতে ফিরে আসেন এবং এই বছরেই সেখানে তাঁর ইন্তেকাল হয়। তিনি ধর্মপ্রাণ, বিনয়ী, ইবাদতগুজার ও অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলেন (১)।

 

‌‌২ - আল-বুসিরি:

হিবাতুল্লাহ ইবনে আলি ইবনে মাসউদ আল-আনসারী, লেখক, সাহিত্যিক ও মিসর ভূখণ্ডের শীর্ষ হাদিস বর্ণনাকারী (মুসনিদ)। তিনি ৫০৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবু সাদিক আল-মাদিনি, মুহাম্মদ ইবনে বারাকাত আল-সাঈদ ও একদল আলেমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি নিজ যুগে অনন্য ছিলেন এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর নিকট ইলম অর্জনের জন্য আসতেন। তিনি ৫৯৮ হিজরির ২রা সফর মৃত্যুবরণ করেন (২)।

 

‌‌৩ - আবুল ফজল আল-গজনভি:

মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলি ইবনে শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আল-গজনভি; ক্বারী, ফকীহ ও ব্যাকরণবিদ। তিনি ৫২২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবু মুহাম্মদ সিবত আল-খাইয়াতের নিকট কিরাআত পাঠ করেন এবং আবু বকর কাবাদি আল-মারিস্তানি থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি কিরাআত পাঠদানে নিজেকে নিবেদিত করেন, তাঁর থেকে আল-সাখাবি ইলম অর্জন করেন এবং ইবনে খলিল, জিয়া আল-মাকদিসি ও আল-রাশিদ আল-আত্তার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর নামে পরিচিত 'মসজিদে গজনভি'-তে মাযহাবের পাঠ দান করতেন। তিনি ৫৯৯ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন (৩)।

 

‌‌৪ - আল-কাসিম ইবনে আসাকির:

তিনি হলেন কাসিম ইবনে হাফেজ আবুল কাসিম আলি ইবনে হাসান আল-মুহাদ্দিস আবু মুহাম্মদ ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি। তিনি ৫২৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও অত্যন্ত পরহেজগার ছিলেন, এর পাশাপাশি তিনি খুব কৌতুকপ্রিয়ও ছিলেন। তিনি দারুল হাদিসের শাইখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন...

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১০, আল-নুজুম আল-যাহিরা ৬/১৩৬, শাযারাতুয যাহাব ৪/৩০১।

(২) হুসনুল মুহাদারা ১/৩৭৫।

(৩) হুসনুল মুহাদারা ১/৪৯৮, আল-নুজুম আল-যাহিরা ৬/১৮৪।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২৬)
النورية بعد والده، فلم يتناول من معلومها شيئاً، بل كان يرصده للواردين من الطبة (1).

 

‌‌5 - أبو الجود:

هو غياث بن فارس بن سكن أبو الجود اللخمي المنذري المصري المقرئ النحوي الضرير شيخ القراء بديار مصر، قرأ علي الشريف ناصر وسمع من عبد الله بن رفاعة السعدي، وقرأ عليه خلق، ورحل إليه، وكان ديناً فاضلاً بارعاً في الأدب متواضعاً كثير المروءة، ولد سنة (518 هـ) وتوفي سنة (605 هـ) (2).

 

‌‌6 - الأبياري:

أبو الحسن الأبياري علي بن إسماعيل بن علي. أحمد العلماء الأعلام وأثمة الإسلام برع في علوم شتى: الفقه والأصول والكلام. وكان بعض الأثمة يفضله على الإمام فخر الدين في الأصول. تفقه بأبي طاهر بن عوف، ودرس بالإسكندرية وانتفع به الناس، وتخرج به ابن الحاجب. ولد سنة (557 هـ) وتوفي سنة (618 هـ) (3).

 

‌‌7 - أبو الحسن الشاذلي:

هو الشريف تقي الدين علي بن عبد الله بن عبد الجبار شيخ الطائفة الشاذلية. وهو رجل كبير القدر كثير الكلام عالي المقام. له نظم ونشر فيه متشابهات وعبارات. وكان الشيخ عز الدين بن عبد السلام يحضر مجلسه ويسمع كلامه. وكان الشاذلي ضريراً (4). وقد انتسب في بعض مصنفاته إلى

--------------------------------------------

(1) شذرات الذهب 4/ 347.

(2) حسن المحاضرة 1/ 498، بغية الوعاة 2/ 241.

(3) حسن المحاضرة 1/ 454.

(4) وفيات الأعيان 2/ 455، النجوم الزاهرة 6/ 285.
তার পিতার পর তিনি আন-নুরিয়া মাদ্রাসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি এর নির্ধারিত ভাতা থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না; বরং তিনি তা আগত চিকিৎসকদের জন্য জমা রাখতেন (১)।

 

‌‌৫ - আবু আল-জুদ:

তিনি হলেন গিয়াস ইবনে ফারিস ইবনে সাকান আবু আল-জুদ আল-লাখমি আল-মুনজিরি আল-মিসরি। তিনি ছিলেন একজন ক্বারী, ব্যাকরণবিদ এবং দৃষ্টিহীন। তিনি মিশরের ক্বারীগণের শায়খ ছিলেন। তিনি শরীফ নাসিরের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রিফায়া আস-সাদির নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। অসংখ্য লোক তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছে এবং দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর কাছে সফর করে আসত। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক, ফযিলতপূর্ণ, সাহিত্যে দক্ষ, বিনয়ী এবং অত্যন্ত সচ্চরিত্রবান ছিলেন। তিনি ৫১৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

 

‌‌৬ - আল-আবিয়ারি:

আবু আল-হাসান আল-আবিয়ারি আলি ইবনে ইসমাইল ইবনে আলি। তিনি বিশিষ্ট আলেমগণের অন্যতম এবং ইসলামের ইমামদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন: ফিকহ, উসুল এবং কালাম শাস্ত্র। কোনো কোনো ইমাম উসুল শাস্ত্রে তাঁকে ইমাম ফখরুদ্দিনের ওপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি আবু তাহির ইবনে আউফের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় পাঠদান করেন, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়েছে। ইবনুল হাজিব তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। তিনি ৫৫৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

 

‌‌৭ - আবু আল-হাসান আশ-শাজিলি:

তিনি হলেন শরীফ তাকিউদ্দিন আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল জাব্বার, শাজিলিয়া তরিকার শায়খ। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান, বাগ্মী এবং উচ্চ মাকামের অধিকারী একজন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর গদ্য ও পদ্য রচনা রয়েছে যাতে রূপক বর্ণনা ও বিশেষ পরিভাষা বিদ্যমান। শায়খ ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর কথা শুনতেন। আশ-শাজিলি দৃষ্টিহীন ছিলেন (৪)। তিনি তাঁর কোনো কোনো গ্রন্থে নিজের বংশধারা সম্পর্কিত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) শাযারাতুয যাহাব ৪/৩৪৭।

(২) হুসনুল মুহাযারা ১/৪৯৮, বুগইয়াতুল উয়াত ২/২৪১।

(৩) হুসনুল মুহাযারা ১/৪৫৪।

(৪) ওয়াফায়াতুল আইয়ান ২/৪৫৫, আন-নুজুম আয-যাহিরা ৬/২৮৫।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২৭)
علي بن أبي طالب. حج عدة مرات. ومات سنة (656 هـ) بصحراء عيذاب وهو متوجه إلى مكة المكرمة (1).

 

‌‌تلاميذه

ذكرت كتب التراجم الكثير منهم. فمن هؤلاء من هؤلاء من أخذ عنه العربية، ومنهم من قرأ عليه القراءات، ومنهم من روى عنه الحديث. وسوف أذكر بعض هؤلاء التلاميذ مع ترجمة موجزة لكل واحد.

 

‌‌1 - المنذري:

الحافظ الكبير الإمام شيخ الإسلام زكي الدين أبو محمد عبد العظيم بن عبد القوي بن عبد الله المصري الشافعي. ولد بمصر سنة (581هـ). وتفقه وطلب هذا الشأن فبرع فيه. وتخرج بالحافظ أبي الحسن بن المفضل، وولى مشيخة الكاملية، وانقطع بها عشرين سنة. وكان عديم النظر في معرفة علم الحديث على اختلاف فنونه، متبحراً في معرفة أحكامه ومعانيه ومشكلة، إماماً حجة بارعاً في القه والعربية والقراءات. توفي سنة (656 هـ) (2).

 

‌‌2 - ابن مالك:

محمد بن علي بن مالك الإمام العلامة جمال الدين الطائي الجياني الشافعي النحوي. ولد سنة (600 هت) وسمع بدمشق، وتصدر بحلب لإقراء العربية. كان إماماً في القراءات وعللها. أما اللغة فكان إليه المنتهى فيه. وإطلاعه على أشعار العرب التي يستشهد بها على النحو كان أمراً عجيباً. وكان أكثر ما يستشهد بالقرآن، فن كان ليس فيه شاهد عدل إلى الحديث. من

--------------------------------------------

(1) حسن المحاضرة 1/ 520، نكت الهميان في نكت العميان لصلاح الدين الصفدي ص 213 (المطبعة الجمالية بمصر).

(2) حسن المحاضرة 1/ 355.
আলী বিন আবু তালিব। তিনি বেশ কয়েকবার হজ পালন করেন। এবং তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে (৬৫৬ হি.) আইযাব মরুভূমিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ

জীবনীগ্রন্থসমূহে তাঁদের অনেকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন, কেউ তাঁর নিকট কিরাআত পাঠ করেছেন, আবার কেউ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমি এই ছাত্রদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম প্রত্যেকের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ উল্লেখ করব।

 

‌‌১ - আল-মুনযিরি:

মহান হাফিজ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম যাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিম বিন আবদুল কাবি বিন আবদুল্লাহ আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি। তিনি (৫৮১ হি.) সনে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তাতে পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি হাফিজ আবুল হাসান বিন আল-মুফাদ্দালের নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তিনি কামিলিয়া মাদরাসার প্রধান শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে বিশ বছর অতিবাহিত করেন। হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। তিনি হাদিসের বিধান, অর্থ ও জটিল বিষয়সমূহ অনুধাবনে অত্যন্ত দক্ষ ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি ফিকহ, আরবি ভাষা ও কিরাআত শাস্ত্রে একজন প্রাজ্ঞ ইমাম ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি (৬৫৬ হি.) সনে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

 

‌‌২ - ইবনে মালিক:

মুহাম্মদ বিন আলী বিন মালিক, ইমাম, আল্লামা জামালুদ্দীন আত-তায়ি আল-জাইয়ানি আশ-শাফিয়ি আন-নাহবি। তিনি (৬০০ হি.) সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং দামেস্কে শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি আলেপ্পোতে আরবি ভাষা পড়ানোর জন্য নিয়োজিত হন। তিনি কিরাআত এবং এর নিগূঢ় কারণসমূহের (ইলাল) ক্ষেত্রে ইমাম ছিলেন। আর ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতায়। নাহু বা ব্যাকরণের প্রমাণের জন্য তিনি যেভাবে আরবদের কবিতা উদ্ধৃত করতেন তা ছিল বিস্ময়কর। তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কুরআন থেকে দলিল পেশ করতেন, আর যদি তাতে কোনো উপযুক্ত দলিল না পেতেন তবে হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন।

--------------------------------------------

(১) হুসনুল মুহাযারা ১/৫২০, সালাহুদ্দীন আস-সাফাদি রচিত নুকাতুল হুমইয়ান ফি নুকাতিল উমইয়ান, পৃষ্ঠা ২১৩ (আল-মাতবাআতুল জামালিয়্যাহ, মিশর)।

(২) হুসনুল মুহাযারা ১/৩৫৫।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২৮)
تصانيفه: تسهيل الفوائد، والكافية الشافعية، والخلاصة، ومختصر الشافية. توفي سنة (672 هـ) (1).

 

‌‌3 - ابن المئّينر:

هو العلامة ناصر الدين أبو العباس أحمد بن محمد بن منصور الإسكندراني. أحد الأئمة المتبحرين في العلوم من التفسير والفقه والعربية والبلاغة والأنساب. أخذ عن جماعة منهم ابن الحاجب. من تصانيفه: تفسير القرآن، والانتصاف من الكشاف، وأسرار الإسراء، ومناسبات تراجم البخاري، ومختصر التهذيب في الفقه. كان مولده سنة (620 هـ)، وتوفي سنة (683 هـ) (2).

 

‌‌4 - القسطيني:

أبو بكر بن عمر بن علي بن سالم الإمام رضي الدين القسنطيني النحوي الشافعي. ولد سنة (607 هـ) ونشأ بالقدس، وأخذ العربية علي ابن معط وابن الحاجب. وكان من كبار أثمة العربية. سمع الحديث من ابن عوف الزهري وجماعة. وكان له معرفة تامة بالفقه ومشاركة في الحديث، صالحاً خبراً ديناً متواضعاً ساكناً ناسكاً. سمع من جماعة كثيرة. أخذ عنه أبو حيان، ومدحه بقصيدة طويلة. ومات سنة 695 هـ (3).

 

‌‌5 - ابن ملي:

الشيخ نجم الدين أحمد بن محسِّن المعروف بابن ملّي. كان متوقد الذهن. سمع من البهاء المقدسي والحسن الزيدي. وحدث بحلب ودمشق،

--------------------------------------------

(1) فوات الوفيات لابن شاكر الكتبي 2/ 452 (تحقيق محمد محي الدين عبدالحميد)، النجوم الزاهرة 7/ 243.

(2) حسن المحاضرة 1/ 316، بغية الوعاة 1/ 385.

(3) بغية الوعاة 1/ 470.
তাঁর রচনাবলি: তাসহীলুল ফাওয়াইদ, আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া, আল-খুলাসাহ এবং মুখতাসারুশ শাফিয়া। তিনি ৬৭২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

 

‌‌৩ - ইবনুল মুনাইয়ির:

তিনি হলেন আল্লামা নাসিরুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মানসুর আল-ইসকান্দারানি। তিনি তাফসির, ফিকহ, আরবি ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং বংশতালিকাবিদ্যার মতো ইলমসমূহে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ইমামদের একজন ছিলেন। তিনি ইবনুল হাজিবসহ একদল আলিমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: তাফসিরুল কুরআন, আল-ইনতিসাফ মিনাল কাশশাফ, আসরারুল ইসরা, মুনাসাবাতু তারাজিমিল বুখারি এবং ফিকহ শাস্ত্রে মুখতাসারুত তাহজিব। তাঁর জন্ম ৬২০ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৬৮৩ হিজরিতে (২)।

 

‌‌৪ - আল-কুসান্তিনি:

আবু বকর বিন উমর বিন আলি বিন সালিম ইমাম রদিয়ুদ্দিন আল-কুসান্তিনি আল-নাহবি আশ-শাফিয়ি। তিনি ৬০৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং কুদসে (জেরুজালেম) বেড়ে ওঠেন। তিনি ইবনে মু'তি এবং ইবনুল হাজিবের নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেন। তিনি আরবি ভাষার অন্যতম প্রধান ইমাম ছিলেন। তিনি ইবনে আউফ আজ-জুহরি ও একদল আলিমের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ছিল এবং হাদিস শাস্ত্রেও তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। তিনি অত্যন্ত নেককার, অভিজ্ঞ, ধর্মপ্রাণ, বিনয়ী, শান্ত স্বভাবের ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিপুল সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আবু হাইয়ান তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং এক দীর্ঘ কসিদাহর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি ৬৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

 

‌‌৫ - ইবনে মিল্লি:

শায়খ নাজমুদ্দিন আহমদ বিন মুহসিন, যিনি ইবনে মিল্লি নামে পরিচিত। তিনি প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। তিনি আল-বাহা আল-মাকদিসি এবং আল-হাসান আজ-জাইদি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আলেপ্পো ও দামেস্কে হাদিস বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

(১) ইবনে শাকির আল-কুতুবি রচিত ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ২/৪৫২ (মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের সম্পাদনা), আল-নুজুমুজ জাহেরা ৭/২৪৩।

(২) হুসনুল মুহাদারা ১/৩১৬, বুগয়াতুল উয়াত ১/৩৮৫।

(৩) বুগয়াতুল উয়াত ১/৪৭০।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقرأ بها النحو علي ابن الحاجب، وتفقه علي العز بن عبد السلام، وأحكم الأصول والكلام والفلسفة. دخل مصر غير مرة، وعرف عنه علم غزير. ولد ببعلبك سنة (617 هت) وتوفي سنة (699 هـ) (1).

 

‌‌6 - الدمياطي:

الإمام العلامة الحافظة الحجة الفقيه النسابة شيخ المحدثين شرف الدين أبو محمد عبد المؤمن بن خلف التوني الشافعي. ولد سنة (613 هـ). تفقه وبرع وطلب الحديث، فرحل وجمع فأوعى وتخرج بالمنذري وألف. كان واسع الفقه، رأساً في النسب، جيد العربية. توفي سنة (705 هـ) (2).

 

‌‌7 - الملك الناصر داود:

داود بن عبد الملك المعظم عيسى بن العادل. ملك دمشق بعد أبيه ثم انتزعت من يده وأخذها عمه الأشرف، واقتصر على الكرك ونابلس. ثم تنقلت به الأحوال وجرت له خطوب طوال. كان له فصاحة وشعر جيد، وقد عرف علوم الأوائل جداً، وقرأ الكافية علي ابن الحاجب الذي نظمها بطلب منه (3).

 

‌‌آثاره

ألف ابن الحاجب في علوم شتى. فقد ألف في النحو والصرف والفقه والأصول والعروض والقراءات والتاريخ والأدب. ومصنفاته في غاية الحسنن رزقت قبولاً تاماً لحسنها وجزالتها (4). وقد انتفع الناس بها لما فيها من كثرة النقل مع صغر الحجم وترير اللفظ (5). وهذه مؤلفاته مقسمة حسب العلوم:

--------------------------------------------

(1) طبقات الشافعية 5/ 13.

(2) حسن المحاضرة 1/ 357.

(3) انظر البداية والنهاية 13/ 198.

(4) مفتاح السعادة 1/ 138 - 139.

(5) الطالع السعيد ص 352.
তিনি তাঁর (ইবনুল হাজিবের) নিকট নাহু (ব্যাকরণ) পাঠ করেছেন, আল-ইয ইবনে আবদুস সালামের নিকট ফিকহ শাস্ত্র শিখেছেন এবং উসূল, ইলমুল কালাম ও দর্শনশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তিনি একাধিকবার মিশরে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পর্কে সকলে অবগত ছিলেন। তিনি ৬১৭ হিজরিতে বালবাক শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

 

‌‌৬ - আদ-দামিয়াতি:

ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, হুজ্জাহ, ফকিহ, বংশতত্ত্ববিদ, মুহাদ্দিসগণের শায়খ শরফুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ আত-তুনি আশ-শাফেয়ি। তিনি ৬১৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফিকহ অধ্যয়ন করেন ও তাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং হাদিস অন্বেষণ করেন; এজন্য তিনি দেশ-বিদেশে সফর করেন এবং প্রচুর হাদিস সংগ্রহ ও মুখস্থ করেন। তিনি আল-মুনযিরির নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে প্রশস্ত জ্ঞানের অধিকারী, বংশতত্ত্ব বিদ্যায় শীর্ষস্থানীয় এবং আরবি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি ৭০৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (২)।

 

‌‌৭ - আল-মালিকুন নাসির দাউদ:

দাউদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-মুআযযাম ঈসা ইবনুল আদিল। তিনি তাঁর পিতার পর দামেস্কের অধিপতি হন, অতঃপর তা তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর চাচা আল-আশরাফ তা দখল করেন। তখন তিনি কারাক ও নাবলুস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেন। অতঃপর তাঁর জীবনে নানা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি দীর্ঘ জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। তিনি বাগ্মী ছিলেন এবং তাঁর উত্তম কাব্য প্রতিভা ছিল। তিনি প্রাচীনদের (গ্রিক ও অন্যদের) জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে খুব ভালো জানতেন এবং তিনি ইবনুল হাজিবের নিকট 'আল-কাফিয়া' পাঠ করেছেন, যা ইবনুল হাজিব তাঁর অনুরোধেই ছন্দোবদ্ধ করেছিলেন (৩)।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি

ইবনুল হাজিব বিভিন্ন শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), ফিকহ, উসূল, আরূয (ছন্দতত্ত্ব), কিরাআত, ইতিহাস ও সাহিত্যে গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। তাঁর রচনাবলি অত্যন্ত চমৎকার, যা তার লালিত্য ও অলঙ্কারপূর্ণ শৈলীর কারণে পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে (৪)। আয়তনে ছোট হওয়া সত্ত্বেও প্রচুর উদ্ধৃতি এবং শব্দের সূক্ষ্ম বিন্যাসের কারণে মানুষ এর দ্বারা অনেক উপকৃত হয়েছে (৫)। নিম্নে তাঁর রচনাবলি বিষয়ভিত্তিক বিন্যস্ত করা হলো:

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ৫/১৩।

(২) হুসনুল মুহাযারা ১/৩৫৭।

(৩) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৯৮।

(৪) মিফতাহুস সাআদাহ ১/১৩৮ - ১৩৯।

(৫) আত-তালিউস সাঈদ পৃষ্ঠা ৩৫২।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌أولاً: في النحو والصرف:

‌‌1 - الكافية: وهي مقدمة وجيزة في النحو. سار فيها ابن الحاجب على نهج الزمخشري في مفصه. وقد قصر ابن الحاجب كافيته على مسائل النحو، وفصلها عن مسائل الصرف. ولقد طبقت شهرتها الآفاق، وأخذ العلماء يشرحونها ويعربونها ويختصرونها. ومن أهم شروحها شرح ابن الحاجب نفسه وشرح جمال الدين بن مالك وشرح رضي الدين الاستراباذي وهو أعظم الشروح وأدقها. وقد طبعت الكاية عدة طبعات، منها طبعة بولاق سنة 1241 هـ (1).

‌‌2 - الشافية: أجمل فيها ابن الحاجب مسائل الصرف والخط. وذهب في الإيجاز مذهبه في الكافية. ولقد بلغت من الشهرة ما بلغته أختها الكافية. وقد توالت شروحها، ومن أهمها شرح ابن الحاجب نفسه، وشرح رضي الدين الاستراباذي، وشرح فخر الدين الجاربردي. وقد طبعت عدة مرات مع شروحها، منها طبعة الاستانة سنة 1850م، وطبعة كلكتا سنة 1805م، وعدة طبعات في القاهرة (2).

‌‌3 - شرح الكافية: الف ابن الحاجب شرحه هذا بعد أن وضع الكافية. وفي شرحه هذا حاول أن يشرح ويوضح المسائل النحوية التي كانت موجزة أو غامضة، وقد طبع هذا الشرح في استنبول عام 1311 هـ، ونسخه المخطوطة كثيرة (3).

‌‌4 - شرح الشافية: ذكره السيوطي في البغية (4)، وبروكلمان (5)، وقال: إنه

--------------------------------------------

(1) تاريخ الأدب العربي لبروكلمان 5/ 309.

(2) انظر معجم المطبوعات العربية والمعربة ليوسف سركيس ص 71 (مبطعة سركيس بمصر).

(3) بروكلمان 5/ 309.

(4) 2/ 135.

(5) 5/ 327.
প্রথমত: নাহু ও সরফ শাস্ত্রে:

১ - আল-কাফিয়া: এটি নাহু শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকাগ্রন্থ। এতে ইবনুল হাজিব যামাখশারীর রচিত ‘মুফাসসাল’ গ্রন্থের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। ইবনুল হাজিব তার কাফিয়া গ্রন্থটিকে কেবল নাহুর মাসয়ালাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন এবং সরফের মাসয়ালাসমূহ থেকে একে পৃথক করেছেন। এর খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আলিমগণ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ), তারকীব (ই'রাব) এবং সংক্ষিপ্তসার (ইখতিসার) রচনা শুরু করেন। এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে স্বয়ং ইবনুল হাজিবের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ, জামালুদ্দীন ইবনে মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং রাযীউদ্দীন আল-আস্তারাবাদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যা সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সূক্ষ্ম। কাফিয়া গ্রন্থটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে ১২৪১ হিজরিতে বুলাক সংস্করণ অন্যতম (১)।

২ - আশ-শাফিয়া: এতে ইবনুল হাজিব সরফ ও লিপিবিদ্যার (খত) মাসয়ালাসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে তিনি তার কাফিয়া গ্রন্থের পদ্ধতিই অবলম্বন করেছেন। এটি তার সহোদর গ্রন্থ কাফিয়ার মতোই ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। এর একের পর এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো স্বয়ং ইবনুল হাজিবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, রাযীউদ্দীন আল-আস্তারাবাদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ফখরউদ্দীন আল-জারবারদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহসহ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে ইস্তাম্বুল সংস্করণ, ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা সংস্করণ এবং কায়রোর বেশ কয়েকটি সংস্করণ উল্লেখযোগ্য (২)।

৩ - শারহুল কাফিয়া: ইবনুল হাজিব কাফিয়া রচনার পর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংকলন করেন। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে তিনি নাহুর সেই মাসয়ালাগুলো ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন যা সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট ছিল। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ১৩১১ হিজরিতে ইস্তাম্বুলে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর অসংখ্য পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান (৩)।

৪ - শারহুশ শাফিয়া: সুয়ূতী এটি ‘আল-বুগইয়া’ (৪) গ্রন্থে এবং ব্রোকলম্যান (৫) এটি উল্লেখ করেছেন, এবং তিনি বলেছেন: এটি

--------------------------------------------

(১) ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরাবি ৫/ ৩০৯।

(২) দ্রষ্টব্য: ইউসুফ সারকিসের মু'জামুল মাতবু'আত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মু'আররাবাহ, পৃষ্ঠা ৭১ (সারকিস প্রেস, মিশর)।

(৩) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩০৯।

(৪) ২/ ১৩৫।

(৫) ৫/ ৩২৭।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৩১)
توجد نسخة منه في (بولون) رقم 316.

 

‌‌5 - الوافية في نظم الكافية: وذلك تلبية لرغبة الملك الناصر داود بن الملك المعظم عيسى. وهي عبارة عن ثمانين وتسعمائة بيت، ضمنها موضوعات الكافية جميعاً. توجد منها نسخة مخطوطة في مكتبة الأسكريال رقم (146) (1).

‌‌6 - شرح الوافية: توجد منه نسخة مخطوطة في مكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة رقم (114/ 415) كتبت في أوائل القرن الثامن الهجري. وقام الدكتور موسى بناي العليلي بتحقيقه، وطبع في العراق سنة 1980م.

‌‌7 - الإيضاح في شرح المفصل: لقد واكب ابن الحاجب عبارة الزمخشري في المفصل، شارحاً الكتاب فقرة، بادئاً بأوائل الموضوعات مكتفياً بها. وقد خالف الزمخشري في مواضع كثيرة، ورد عليه بعض أقواله. توجد منه عدة نسخ مخطوطة في مصر وإيران وتونس وألمانيا (2).

وقد قام بتحقيقه موسى بناي العليلي وحصل به على درجة الدكتوراه من كلية دار العلوم بجامعة القاهرة سنة 1975م. وطبع في بغداد سنة 1982م.

 

‌‌8 - الأمالي: وهو موضوع هذه الدراسة. وسوف يأتي الحديث عنها بالفصل الثاني إن شاء الله.

‌‌9 - القصيدة المبوشحة بالأسماء المؤنثة: وهي قصيدة جمع فيها الأسماء المؤنثة بدون علامة تأنيث. وقسم هذه الأسماء إلى قسمين: قسم يجب تأنيثه وقسم يجوز تأنيثه. وجمع في القسم الأول ستين لفظاً وفي الثاني سبة عشر لفظاً. وعدد أبياتها ثلاثة وعشرون بيتاً. توجد منها عدة نسخ

--------------------------------------------

(1) بروكلمان 5/ 326.

(2) بروكلمان. الذيل بالألمانية 1/ 570.
(বলোনিয়া) তে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর ৩১৬।

 

‌‌৫ - আল-ওয়াফিয়া ফি নাজমিল কাফিয়া: এটি আল-মালিক আন-নাসির দাউদ ইবনে আল-মালিক আল-মুয়াযযাম ঈসার ইচ্ছার প্রেক্ষিতে রচিত। এটি নয়শত আশিটি পংক্তির সমন্বয়ে গঠিত, যাতে 'কাফিয়া'-এর সকল বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এস্কোরিয়াল লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, নম্বর (১৪৬) (১)।

‌‌৬ - শারহুল ওয়াফিয়া: মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে (নম্বর ১১৪/ ৪১৫), যা অষ্টম হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে লিখিত। ডক্টর মুসা বান্নাই আল-আলিমি এটি সম্পাদনা করেছেন এবং এটি ১৯৮০ সালে ইরাকে মুদ্রিত হয়।

‌‌৭ - আল-ঈযাহ ফি শারহিল মুফাসসাল: ইবনুল হাজিব 'আল-মুফাসসাল'-এ আয-যামাখশারির বর্ণনাভঙ্গিকে অনুসরণ করেছেন এবং বইটির প্রতিটি অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি বিষয়গুলোর শুরু থেকে শুরু করে তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছেন। তিনি অনেক ক্ষেত্রে আয-যামাখশারির বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর কিছু মত খণ্ডন করেছেন। মিশর, ইরান, তিউনিসিয়া ও জার্মানিতে এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে (২)।

মুসা বান্নাই আল-আলিমি এটি সম্পাদনা করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি ১৯৭৫ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এটি ১৯৮২ সালে বাগদাদে মুদ্রিত হয়।

 

‌‌৮ - আল-আমালি: এটিই বর্তমান গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য। ইনশাআল্লাহ দ্বিতীয় অধ্যায়ে এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

‌‌৯ - আল-কাসিদাহ আল-মুবৌশাহাহ বিল আসমায়িল মুআন্নাসাহ: এটি এমন একটি কবিতা যেখানে তিনি স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্নহীন স্ত্রীলিঙ্গ বিশেষ্যসমূহ একত্রিত করেছেন। তিনি এই নামগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: এক ভাগ যা অবশ্যই স্ত্রীলিঙ্গ হতে হবে এবং অন্য ভাগ যা স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া বৈধ। প্রথম ভাগে তিনি ষাটটি শব্দ এবং দ্বিতীয় ভাগে সতেরোটি শব্দ সংগ্রহ করেছেন। এর শ্লোক সংখ্যা তেইশটি। এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩২৬।

(২) ব্রোকলম্যান। জার্মান ভাষায় পরিশিষ্ট (আয-যাইল) ১/ ৫৭০।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৩২)
مخطوطة في دار الكتب المصرية. وقد طبعت في هران سنة 1859 م وفي بيروت سنة 1872 م (1).

 

‌‌10 - رسالة في العشر: وهي بحث صغير في استعمال كلمة (عشر) في الصفتين: أول وآخر. توجد منها نسخة مخطوطة في برلين رقم (6894) (2). وهذه الرسالة موجودة أيضاً في آخر نسخة الأمالي الموجودة في مكتبة شهيد على باستنبول رقم (2337) وهي عبارة عن ورقتين ونصف تقريباً.

‌‌11 - شرح كتاب سيبويه: ذكره صاحب كشف الظنون (3) وصاحب هدية العارفين (4).

‌‌12 - المكتفي للمبتدي - شرح الإيضاح لأبي علي الفارسي. ذكره صاحب هدية العارفين (5). ولم يذكره أحد سواه.

‌‌13 - شرح المقدمة الجزولية: ذكره بروكلمان (6) وقال إنه توجد منه نسخة مخطوطة في جامع القروبين بفاس رقم (1198). والمقدمة الجزولية هي مقدمة صنفها أبو موسى عيسى بن عبد العزيز بللبخت (المتوفي سنة 607 هـ).

‌‌14 - إعراب بعض آيات من القرآن العظيم: ذكره بروكلمان (7) وفي مجلة المجمع العلمي العربي بدمشق (12/ 417) ذكر أنه توجد نسخة

--------------------------------------------

(1) بروكلمان 5/ 334.

(2) بروكلمان 5/ 334.

(3) 2/ 1427.

(4) 1/ 654.

(5) 1/ 654.

(6) 5/ 350.

(7) 5/ 341.
দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এটি ১৮৫৯ সালে হেরানে এবং ১৮৭২ সালে বৈরুতে মুদ্রিত হয়েছে (১)।

 

‌‌১০ - রিসালা ফি আল-উশর: এটি 'উশর' (দশক) শব্দের ব্যবহার সম্পর্কিত একটি ক্ষুদ্র গবেষণা, যা দুটি বিশেষণ: প্রথম ও শেষ-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর একটি পাণ্ডুলিপি বার্লিনে সংরক্ষিত আছে যার নম্বর (৬৮৯৪) (২)। এই পুস্তিকাটি ইস্তাম্বুলের শহীদ আলী গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত 'আল-আমালি'-র পাণ্ডুলিপির শেষেও বিদ্যমান (নম্বর ২৩৩৭), যা প্রায় আড়াই পৃষ্ঠা সম্বলিত।

‌‌১১ - শারহু কিতাব সিবওয়াইহ: 'কাশফুন জুনুন' (৩) এবং 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (৪) প্রণেতা এর কথা উল্লেখ করেছেন।

‌‌১২ - আল-মুকতাফি লিল-মুবতাদি - আবু আলি আল-ফারিসির 'আল-ইজাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (৫) প্রণেতা এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি উল্লেখ করেননি।

‌‌১৩ - শারহুল মুকাদ্দিমাতিল জাযুলিয়্যাহ: ব্রোকলম্যান (৬) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে ফাস শহরের জামে আল-কারাবিন-এ এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান (নম্বর ১১৯৮)। 'আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ' হলো আবু মুসা ঈসা ইবনে আবদুল আজিজ আল-লাবাখত (মৃত্যু ৬০৭ হিজরি) রচিত একটি ভূমিকা।

‌‌১৪ - ইরাবউ বাদিল আয়াত মিনাল কুরআনিল আজিম: ব্রোকলম্যান (৭) এটি উল্লেখ করেছেন এবং দামেস্কের 'মাজাল্লাত আল-মাজমা আল-ইলমি আল-আরাবি' (১২/ ৪১৭)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে এর একটি কপি বিদ্যমান

--------------------------------------------

(১) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩৩৪।

(২) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩৩৪।

(৩) ২/ ১৪২৭।

(৪) ১/ ৬৫৪।

(৫) ১/ ৬৫৪।

(৬) ৫/ ৩৫০।

(৭) ৫/ ৩৪১।
(খণ্ড: ১) আমালি ইবনুল হাজিব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مخطوطة منه في المدرسة العثمانية بحلب ترجع كتابتها إلى القرن الثامن.

 

‌‌ثانياً: في الفقه والأصول:

‌‌1 - منتهى السول والأمل في علمي الأصول والجدل: وهو من كتب الفقه المالكي. وقد اختصر به كتاب الأحكام في أصول الفقه للأمدي. توجد عدة نسخ مخطوطة منه في مكتبات العالم، وقد طبع في استنبول سنة 1326 هـ (1).

‌‌2 - عيون الأدلة: وهو اختصار لكتابه (منتهى السول والأمل في علمي الأصول والجدل). توجد منه نسخة مخطوطة في باريس رقم (5318) (2).

‌‌3 - مختصر المنتهي في الأصول: وهو أيضاً اختصار لكتابه (منتهى السول والأمل في علمي الأصول والجدل). توجد منه عدة نسخ مخطوطة. وقد طبع في بولاق سنة 1316 هـ، 1319 هـ، والقاهرة سنة 1326 هـ (3).

‌‌4 - جامع الأمهات أو مختصر الفروع: ألفه بالاعتماد على جواهر ابن شاش. توجد منه عدة نسخ مخطوطة في الجزائر (1074) وفاس رقم (982) وتونس رقم (761) (4).

‌‌ثالثاً: في العروض:

ألف ابن الحاجب في العروض منظومة من البحر البسيط سماها (المقصد الجليل إلى علم الخليل). عدد أبياتها (171) بيتاً. توجد منها عدة نسخ مخطوطة بدار الكتب المصرية، وتوجد منها نسخة في مكتبة (لاله لي) في

--------------------------------------------

(1) بروكلمان 5/ 334.

(2) بروكلمان 5/ 334.

(3) بروكلمان 5/ 334.

(4) بروكلمان 5/ 340.
হালব শহরের মাদ্রাসা আল-উসমানিয়াতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যার লিখনকাল অষ্টম শতাব্দীর।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: ফিকহ ও উসুল প্রসঙ্গে:

‌‌১ - মুনতাহাস সূল ওয়াল আমাল ফি ইলমাই আল-উসুল ওয়াল জাদাল: এটি মালিকি ফিকহশাস্ত্রের অন্যতম একটি গ্রন্থ। এর মাধ্যমে তিনি আমেদি-র রচিত ‘আল-আহকাম ফি উসুলিল ফিকহ’ গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং এটি ১৩২৬ হিজরিতে ইস্তাম্বুলে মুদ্রিত হয়েছে (১)।

‌‌২ - উয়ুনুল আদিল্লাহ: এটি তাঁর ‘মুনতাহাস সূল ওয়াল আমাল ফি ইলমাই আল-উসুল ওয়াল জাদাল’ গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। প্যারিসে এর একটি পাণ্ডুলিপি কপি রয়েছে যার নম্বর (৫৩১৮) (২)।

‌‌৩ - মুখতাসারুল মুনতাহা ফিল উসুল: এটিও তাঁর ‘মুনতাহাস সূল ওয়াল আমাল ফি ইলমাই আল-উসুল ওয়াল জাদাল’ গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। এটি ১৩১৬ হিজরি ও ১৩১৯ হিজরিতে বুলাকে এবং ১৩২৬ হিজরিতে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে (৩)।

‌‌৪ - জামিউল উম্মাহাত অথবা মুখতাসারুল ফুরু: ইবনে শাশ-এর ‘জাওয়াহির’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি রচনা করেছেন। আলজেরিয়ায় (১০৭৪), ফেজ-এ নম্বর (৯৮২) এবং তিউনিসিয়ায় নম্বর (৭৬১) এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় (৪)।

‌‌তৃতীয়ত: ছন্দবিজ্ঞান (আরুজ) প্রসঙ্গে:

ইবনুল হাজিব ছন্দবিজ্ঞানে ‘বাহরে বাসিত’ ছন্দে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন ‘আল-মাকসাদুল জলিল ইলা ইলমিল খলিল’। এর শ্লোক সংখ্যা ১৭১টি। মিসরীয় দারুল কুতুব-এ এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে ‘লালেলী’ লাইব্রেরিতে

--------------------------------------------

(১) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩৩৪।

(২) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩৩৪।

(৩) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩৩৪।

(৪) ব্রোকলম্যান ৫/ ৩৪০।