(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
غاية السول إلى علم الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: غاية السول إلى علم الأصول [على مذهب الإمام المبجل والحبر المفضل أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني]
المؤلف: يوسف بن حسن بن أحمد بن حسن ابن عبد الهادي الصالحي، جمال الدين، ابن المِبْرَد الحنبلي (ت 909هـ)
تحقيق: بدر بن ناصر بن مشرع السبيعي
الناشر: غراس للنشر والتوزيع والإعلان، الكويت
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد الصفحات: 163
أعده للنشر/ فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ربيع الأول 1436
গায়াতুল সুল ইলা ইলমিল উসুল বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ
গ্রন্থ: গায়াতুল সুল ইলা ইলমিল উসুল [মর্যাদাবান ইমাম এবং শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আল-শায়বানি-এর মাজহাব অনুযায়ী]
লেখক: ইউসুফ বিন হাসান বিন আহমদ বিন হাসান ইবনে আব্দুল হাদি আল-সালিহি, জামালুদ্দিন, ইবনুল মুবাররিদ আল-হাম্বলি (মৃ. ৯০৯ হিজরি)
তাহকিক: বদর বিন নাসের বিন মাশরা আল-সুবাইয়ি
প্রকাশক: গিরাাস পাবলিশিং, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩
প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করেছে/ রাবেতাতুল নুসাখ টিম, সৌজন্যে (মার্কাজ আল-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد خاتم النبيين وسيد المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:
فهذا مختصر في أصول الفقه على مذهب الإمام أحمد رضي الله عنه وأرضاه اختصرته حسب الإمكان ليسهل على الطالب ويقرب فهمه للراغب والله حسبنا ونعم الوكيل فنقول وبالله التوفيق
أصول الفقه مركب من مضاف ومضاف إليه وما كان كذلك.
فتعريفه من حيث هو مركب إجمالي لقبي وباعتبار كل من مفرداته تفصيلي.
فأصول الفقه على الأول: العلم بالقواعد التي يتوصل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, নবীগণের মোহর এবং রাসূলগণের সর্দার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
এটি ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত সার। আমি একে যথাসম্ভব সংক্ষেপ করেছি যাতে শিক্ষার্থীর জন্য তা সহজ হয় এবং জ্ঞানান্বেষীর জন্য এর উপলব্ধি নিকটবর্তী হয়। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। আমরা আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি:
ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) হলো মুদাফ (مضاف) ও মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) এবং এর সদৃশ শব্দাবলি দ্বারা গঠিত একটি যৌগিক শব্দ।
সুতরাং যৌগিক রূপ হিসেবে এর সংজ্ঞা হলো সামগ্রিক ও পারিভাষিক (لقبي); আর এর প্রতিটি একক শব্দের বিচারে এর সংজ্ঞা হলো বিশ্লেষণমূলক (تفصيلي)।
প্রথমোক্ত বিচারে ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) হলো: এমন সব মূলনীতিসমূহ (القواعد) সম্পর্কিত জ্ঞান যার মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بها إلى استنباط الأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية.
وعلى الثاني ، الأصول: الآتي ذكرها وهي جمع أصل الشئ: مامنه الشئ.
والفقه لغة: الفهم. وهو: إدراك معنى الكلام.
وشرعا: معرفة الأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية بالاستدلال.
যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে শাখাগত শরয়ী বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية الفرعية) আহরণ (استنباط) করা যায়।
আর দ্বিতীয় প্রকার অনুযায়ী, উসূল (الأصول): যার বর্ণনা সামনে আসছে, আর এটি কোনো বস্তুর মূল (أصل الشيء) শব্দের বহুবচন; যা হলো এমন বিষয় যা থেকে অন্য কিছু উদ্ভূত হয় (ما منه الشيء)।
আর ফিকহ (الفقه) আভিধানিক অর্থে: অনুধাবন (الفهم); আর তা হলো: বক্তব্যের মর্ম উপলব্ধি করা (إدراك معنى الكلام)।
আর শরয়ি পরিভাষায়: প্রমাণের ভিত্তিতে (بالاستدلال) বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে শাখাগত শরয়ী বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية الفرعية) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأصول الفقه فرض كفاية وقيل فرض عين والمراد الاجتهاد قاله أبو العباس.
ومعرفة الفروع مقدمة وقيل الأصول.
والعلم يحد فهو معرفة المعلوم على ما هو عليه.
وقيل: صفة توجب تمييزا لا يحتمل النقيض.
উসুলুল ফিকহ শিক্ষা করা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) এবং বলা হয়েছে এটি ফরজে আইন (فرض عين)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইজতিহাদ (اجتهاد), আবুল আব্বাস এমনই বলেছেন।
ফুরু বা শাখাগত বিষয়ের জ্ঞান অর্জনই অগ্রগণ্য, আবার কারো মতে উসুল বা মূলনীতির জ্ঞান অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
ইলম বা জ্ঞান সংজ্ঞায়নযোগ্য; আর তা হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী অনুধাবন করা।
আবার বলা হয়েছে: এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এমন এক সুনির্দিষ্ট পার্থক্য (تمييز) নিশ্চিত করে যাতে কোনো বিপরীতধর্মী (نقيض) বিষয়ের সম্ভাবনা থাকে না।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقيل لا يحد قال أبو المعالي لعسره ، وقيل لأنه ضروري.
والعقل بعض العلوم الضرورية ، وقيل:
বলা হয়ে থাকে যে, এটি সংজ্ঞায়িত (يحد) করা যায় না; আবু আল-মা'আলী এর কারণ হিসেবে এর কাঠিন্যের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার বলা হয়েছে যে, এটি স্বতঃসিদ্ধ (ضروري) হওয়ার কারণে এমনটি হয়।
আর বুদ্ধি হলো কতিপয় স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানের (العلوم الضرورية) অংশবিশেষ; এবং আরও বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كلها ، وقيل: جوهر بسيط.
وقال أحمد: هو غريزة. قال القاضي: غير مكتسب ،
وقيل: هو اكتساب.
ويختلف فعقل بعض الناس أكثر من بعض. وقيل: لا.
সবই, এবং বলা হয়েছে: এটি একটি অবিভাজ্য সত্তা (جوهر بسيط)।
আর ইমাম আহমাদ বলেছেন: এটি একটি স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (غريزة)। কাজী বলেছেন: এটি অনর্জিত (غير مكتسب) ,
এবং বলা হয়েছে: এটি অর্জনযোগ্য (اكتساب)।
আর এটি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, ফলে কিছু মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি অন্যদের চেয়ে বেশি হয়। আবার বলা হয়েছে: না।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ومحله: القلب. وأشهر الروايتين عن الإمام أحمد رحمه الله تعالى هو: في الدماغ.
والحد أي كل لفظ وضع لمعنى.
وشرط الحد أن يكون جامعا مانعا ويقال له المطرد المنعكس
أقسامها: مفرد ومركب.
المفرد: اللفظ بكلمة واحدة. والمركب بخلافه.
وينقسم إلى اسم وفعل وحرف.
এর স্থান হলো: হৃদয়। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ মতটি হলো: তা মস্তিষ্কে অবস্থিত।
আর সংজ্ঞা (الحد) হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
সংজ্ঞার (الحد) শর্ত হলো তা অন্তর্ভুক্তকারী (جامعا) ও বর্জনকারী (مانعا) হওয়া এবং একে সুসংগত (المطرد) ও বিপরীতমুখী (المنعكس) বলা হয়।
এর প্রকারভেদসমূহ: একক (مفرد) ও যৌগিক (مركب)।
একক (مفرد): এক শব্দবিশিষ্ট লফয বা উচ্চারণ। আর যৌগিক (مركب) এর বিপরীত।
আর এটি বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)-এ বিভক্ত।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
والمركب جملة وغير جملة.
والصوت: عرض مسموع. واللفظ: صوت معتمد على مخرج من مخارج الحروف.
والكلمة: لفظ وضع لمعنى مفرد. وجمعها: كلم.
والكلام: ما تضمن كلمتين بإسناد. وشرطه: الإفادة ،
ولا يتألف إلا من اسمين أو فعل واسم.
وهو نص وظاهر ومجمل.
فالنص: الصريح في (1\أ) معناه.
যৌগিক (مركب) বিষয় বাক্য হতে পারে এবং বাক্য না-ও হতে পারে।
আওয়াজ (صوت) হলো শ্রবণযোগ্য একটি অবস্থা। আর উচ্চারণ (لفظ) হলো এমন আওয়াজ যা বর্ণসমূহের কোনো একটি মাখরাজের ওপর নির্ভরশীল।
কালিমা হলো এমন একটি উচ্চারণ যা একক অর্থের জন্য গঠন করা হয়েছে। এর বহুবচন হলো কালিম।
কালাম (বাক্য) হলো তা, যা সম্পর্কের (إسناد) ভিত্তিতে দুটি শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এর শর্ত হলো—পূর্ণ অর্থ প্রদান করা।
আর এটি কেবল দুটি বিশেষ্য অথবা একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত হয়।
আর তা সুস্পষ্ট (نص), প্রকাশ্য (ظاهر) এবং সংক্ষিপ্ত (مجمل) হয়ে থাকে।
সুতরাং সুস্পষ্ট (نص) হলো তার অর্থের ক্ষেত্রে যা সুনিশ্চিত বা দ্ব্যর্থহীন (১/আ)।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
والظاهر: اللفظ المحتمل معنيين فصاعدا وهو في أحدهما أظهر.
والمشترك: واقع ومنع منه يعضهم ، وقيل: في القرآن.
وقيل: في الحديث.
ولا يجب في اللغة ،وقيل: بلى.
والمترادف واقع ، والحد والمحدود غير مترادف على الأصح.
والحقيقة: اللفظ المستعمل في وضع أول.
সুস্পষ্ট (الظاهر): এমন শব্দ যা দুই বা ততোধিক অর্থ প্রকাশের সম্ভাবনা রাখে এবং শব্দটির অর্থ তাদের একটির ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট।
একাধিক অর্থবোধক (المشترك) শব্দের অস্তিত্ব বাস্তবসম্মত, তবে কেউ কেউ এর অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন; আবার বলা হয়েছে: এটি কুরআনে বিদ্যমান।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি হাদিসে বিদ্যমান।
ভাষার ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য নয়; তবে বলা হয়েছে: এটি অপরিহার্য।
সমার্থক (المترادف) শব্দের অস্তিত্ব বাস্তবসম্মত; আর অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মতানুসারে সংজ্ঞা (الحد) ও সংজ্ঞায়িত বস্তু (المحدود) সমার্থক নয়।
প্রকৃত অর্থ (الحقيقة): সেই শব্দ যা তার প্রাথমিক বিধানে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وهي لغوية وعرفية وشرعية.
والمجاز: اللفظ المستعمل في غير وضع أول على وجه يصح.
ولا بد من العلاقة وقد تكون بالشكل ، أو في صفة ظاهرة، ولما كان ،أو آيل ، أو لمجاورة ، ويجوز أيضا بالمفعول عن الفاعل ، وبالعلة عن المعلول ، واللازم عن الملزوم ، والأثر عن المؤثر ، وما بالقوة على ما بالفعل ، وبالزيادة وبالنقص ، ويسمى الشئ باسم غايته ،
وضده ، والجزء باسم الكل ، وبالعكس فيهن.
এবং এগুলো শাব্দিক (لغوية), প্রচলিত (عرفية) এবং শরয়ি (شرعية)।
আর রূপক (المجاز) হলো: এমন শব্দ যা তার প্রথম অর্থ ব্যতিরেকে অন্য অর্থে এমন এক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় যা শুদ্ধ।
এক্ষেত্রে একটি সম্পর্ক (علاقة) থাকা আবশ্যক; আর তা হতে পারে আকৃতিগত (شكل), অথবা কোনো সুস্পষ্ট গুণের (صفة ظاهرة) মাধ্যমে, অথবা যা পূর্বে ছিল (ما كان) তার বিবেচনায়, অথবা যা ভবিষ্যতে হবে (آيل) তার বিবেচনায়, অথবা সান্নিধ্যের (مجاورة) কারণে। এছাড়াও তা বৈধ হয় কর্তার (فاعل) পরিবর্তে কর্ম (مفعول) ব্যবহারের মাধ্যমে, কার্যের (معلول) পরিবর্তে কারণ (علة) ব্যবহারের মাধ্যমে, যা অত্যাবশ্যক (ملزوم) তার পরিবর্তে যা অনিবার্য (لازم) তা ব্যবহারের মাধ্যমে, প্রভাবকের (مؤثر) পরিবর্তে প্রভাব (أثر) ব্যবহারের মাধ্যমে, যা সুপ্ত অবস্থায় (بالقوة) তার পরিবর্তে যা বাস্তব অবস্থায় (بالفعل) তা ব্যবহারের মাধ্যমে, এবং আধিক্য (زيادة) ও ঘাটতির (نقص) মাধ্যমে। আর কোনো বিষয়কে তার উদ্দেশ্যের (غاية) নামেও নামকরণ করা হয়।
এবং তার বিপরীতের (ضد) নামেও; আবার পূর্ণের (كل) নামে অংশের (جزء) নামকরণ করা হয় এবং এগুলোর ক্ষেত্রে এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ولا يشترط النقل في الآحاد على الأصح.
واللفظ قبل استعماله ليس حقيقة ولا مجازا ، والحقيقة لا تستلزم المجاز، وفي العكس خلاف.
والمجاز واقع خلافا لأبي العباس.
وعلى الأول المجاز أغلب وقوعا.
قال أبو العباس الحقيقة والمجاز من عوارض الألفاظ.
وهو في القرآن ، ومنع منه بعضهم ، وقد يكون في الإسناد وفي الأفعال والحروف ، ولا يكون في الأعلام.
বিশুদ্ধতর অভিমত অনুযায়ী একক সূত্রে বর্ণিত (آحاد) বিষয়ের ক্ষেত্রে লোকপরম্পরায় বর্ণনার (নকল) শর্তারোপ করা হয় না।
শব্দ ব্যবহারের পূর্বে তা প্রকৃত (حقيقة) বা রূপক (مجاز) কোনোটিই নয়; এবং প্রকৃত (حقيقة) অর্থ রূপক (مجاز) অর্থকে আবশ্যক করে না, তবে এর বিপরীতটির ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে।
আবু আব্বাসের ভিন্নমতের বিপরীতে রূপক (مجاز) অর্থের প্রয়োগ বাস্তব ও প্রমাণিত।
প্রথম মত অনুযায়ী, রূপক (مجاز) অর্থের ব্যবহারই অধিক।
আবু আব্বাস বলেন, প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) হওয়া শব্দের আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যমাত্র।
এটি কুরআনে বিদ্যমান, যদিও কেউ কেউ তা অস্বীকার করেছেন। এটি রূপক সম্বন্ধ (إسناد), ক্রিয়া এবং অব্যয়ের ক্ষেত্রেও হতে পারে, তবে ব্যক্তিনাম বা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে হয় না।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ويجوز الاستدلال به ، ولا يقاس عليه ، وقيل: بلى بناء على ثبوت اللغة قياسا.
وإذا دار اللفظ بين المجاز والاشتراك فالمجاز أولى.
وفي تعارض الحقيقة المرجوحة والمجاز الراجح أقوال.
واللفظ لحقيقة حتى يقوم دليل المجاز.
والحقيقة الشرعية واقعة عندنا ، وقيل: لا شرعية بل لغوية وزيدت شروطا.
وفي القرآن المعرب ونفاه الأكثر.
এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (استدلال) করা বৈধ, তবে এর ওপর কিয়াস (قياس) করা যাবে না। আর বলা হয়েছে যে, হ্যাঁ (কিয়াস করা যাবে); ভাষার বিষয়গুলো কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতে।
যদি কোনো শব্দ রূপক (مجاز) এবং একাধিক অর্থবোধকতা (اشتراك)-এর মধ্যে আবর্তিত হয়, তবে রূপক (مجاز)-ই অধিকতর শ্রেয়।
অপ্রধান আভিধানিক অর্থ (حقيقة مرجوحة) এবং প্রধান রূপক অর্থের (مجاز راجح) মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে একাধিক মত রয়েছে।
শব্দটি আভিধানিক অর্থের (حقيقة) জন্যই নির্দিষ্ট থাকবে যতক্ষণ না রূপক (مجاز)-এর পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়।
আমাদের নিকট শরয়ি অর্থ (حقيقة شرعية) সাব্যস্ত রয়েছে; কেউ কেউ বলেছেন: কোনো শরয়ি অর্থ নেই বরং এগুলো আভিধানিক অর্থ (لغوية) মাত্র, তবে তাতে কিছু শর্ত যোগ করা হয়েছে।
কুরআনে আরবিকৃত অনারব শব্দের (معرب) অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিমত রয়েছে এবং অধিকাংশ আলিম এটি অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
والمشتق: فرع وافق أصلا ، وهو: الاسم عند البصريين وعند الكوفيين: الفعل بحروف الأصول.
وإطلاق الاسم المشتق قبل وجود الصفة المشتق منها مجاز. والمزاد: إذا أريد الفعل ، فإذا أريدت الصفة المشبهة بالفاعل فقال القاضي: هو حقيقة ،وقيل: مجاز.
وأما أسماء الله تعالى وصفاته فقديمة وهي حقيقة. وشرط المشتق صدق أصله ، ولا يشتق اسم الفاعل لشيء والفعل قائم بغيره.
এবং ব্যুৎপন্ন (مشتق): এটি এমন একটি শাখা যা মূলের (أصل) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটি হলো: বসরীয়দের মতে বিশেষ্য (اسم), এবং কুফীয়দের মতে: মূল বর্ণসমূহ সম্বলিত ক্রিয়া (فعل)।
যে গুণ থেকে শব্দটি ব্যুৎপন্ন হয়েছে তার অস্তিত্ব প্রকাশের পূর্বে ব্যুৎপন্ন বিশেষ্যের (اسم مشتق) প্রয়োগ হলো রূপক (مجاز)। আর বক্তব্য হলো: যদি এর দ্বারা ক্রিয়া উদ্দেশ্য হয়; তবে যদি এর দ্বারা কর্তৃসদৃশ বিশেষণ (الصفة المشبهة بالفاعل) উদ্দেশ্য হয়, তবে আল-কাজী বলেছেন: এটি প্রকৃত (حقيقة), এবং বলা হয়েছে: এটি রূপক (مجاز)।
আর মহান আল্লাহর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি অনাদি (قديمة) এবং তা প্রকৃত (حقيقة)। ব্যুৎপন্ন (مشتق) হওয়ার শর্ত হলো তার মূলের (أصل) সত্যতা বা বাস্তবতা বিদ্যমান থাকা। কোনো কিছুর জন্য কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) ব্যুৎপন্ন হয় না যখন ক্রিয়াটি অন্য কারো মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত থাকে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
والأبيض ونحوه من المشتق يدل على ذات متصفة (2|ب) بالبياض لا على خصوص من جسم وغيره.
وتثبت اللغة قياسا وقيل: لا.
والإجماع على منعه في الأعلام والألقاب.
এবং 'সাদা' ও এর সদৃশ বুৎপন্ন (مشتق) শব্দসমূহ শুভ্রতা গুণসম্পন্ন কোনো সত্তাকে (২|খ) নির্দেশ করে, কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বা অন্য কিছুকে নয়।
আর ভাষা সাদৃশ্য বা অনুমান (قياس)-এর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়; এবং বলা হয়েছে যে: না (তা হয় না)।
তবে ব্যক্তিনাম ও উপাধির ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فصل
الواو لمطلق الجمع ، لا لترتيب ، ولا معية.
وقيل: للترتيب ، وقيل: إن كان كل واحد من المعطوف والمعطوف عليه شرطا في صحة الآخر فللترتيب وإلا فلا.
والفاء للترتيب والتعقيب: في كل شئ بحسبه.
ومن: لابتداء الغاية حقيقة ، وقيل: في التبعيض ،
وقيل: في التبيين.
وإلى: لانتهاء الغاية ، وابتداء الغاية داخل
পরিচ্ছেদ
ওয়াও (الواو) সাধারণ একত্রিতকরণের (مطلق الجمع) জন্য ব্যবহৃত হয়, পর্যায়ক্রম (ترتيب) কিংবা সহাবস্থান (معية) বোঝানোর জন্য নয়।
কারও মতে: এটি পর্যায়ক্রম (ترتيب) এর জন্য। আবার বলা হয়েছে: যদি অনুগামী (معطوف) এবং যার অনুগামী হয়েছে (معطوف عليه) উভয়েই একে অপরের শুদ্ধতার জন্য শর্ত হয়, তবে সেটি পর্যায়ক্রম (ترتيب) এর জন্য হবে, অন্যথায় নয়।
আর ফা (الفاء) পর্যায়ক্রম (ترتيب) ও অবিলম্বে অনুগমন (تعقيب) এর জন্য ব্যবহৃত হয়; যা প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব প্রকৃতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
আর মিন (من) প্রকৃতপক্ষে প্রান্তসীমার শুরু (ابتداء الغاية) বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং বলা হয়েছে: এটি আংশিকতা (تبعيض) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়,
আবার বলা হয়েছে: এটি স্পষ্টীকরণ (تبيين) এর জন্য ব্যবহৃত হয়।
আর ইলা (إلى) প্রান্তসীমার সমাপ্তি (انتهاء الغاية) বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয় এবং প্রান্তসীমার প্রারম্ভিক অংশটি এর অন্তর্ভুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
لا ما بعدها في ثالث.
وعلى: للاستعلاء ، وهي للإيجاب.
وفي: للظرف ، والتعليل ، وللسببية ، وبمعنى على.
واللام: أقسام وفي التمهيد هي حقيقة للملك لا يعدل عنه وتكون بمعنى على ، وبمعنى إلى.
وأجل: حرف جواب بمعنى نعم.
وإن تكون شرطية ونافية وزائدة.
وأو: حرف عطف ، ويكون للشك ، والإيهام ، والتخيير ، والإباحة ، وبمعنى الواو والإضراب ، والتقسيم ، وبمعنى إلى ، وللتقريب ، وتكون شرطية ، وللتبعيض.
না, তৃতীয় ক্ষেত্রে এর পরবর্তী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত নয়।
এবং "আলা" (على): এটি শ্রেষ্ঠত্ব বা উপরে থাকা (استعلاء) এবং আবশ্যকতা (إيجاب) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
এবং "ফী" (في): এটি আধার (ظرف), কারণ দর্শানো (تعليل), হেতু (سببية) এবং "আলা" (على) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়।
এবং "লাম" (اللام): এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। 'তামহীদ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি মূলত মালিকানা (ملك) সত্ত্ব সাব্যস্ত করার জন্য নির্ধারিত যা থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না; এটি "আলা" (على) এবং "ইলা" (إلى) এর অর্থও প্রদান করে।
এবং "আজাল" (أجل): এটি একটি উত্তরসূচক অব্যয় যা "হ্যাঁ" (نعم) এর অর্থ বহন করে।
এবং "ইন" (إن): এটি শর্তবাচক (شرطية), না-বোধক (نافية) এবং অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এবং "আউ" (أو): এটি একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف); এটি সন্দেহ (شك), সংশয় সৃষ্টি (إيهام), পছন্দ বা ইখতিয়ার (تخيير), বৈধতা (إباحة), "ওয়াও" (الواو) এর অর্থে, পূর্ববর্তী বক্তব্য পরিবর্তন (إضراب), বিন্যাস বা বিভাজন (تقسيم), "ইলা" (إلى) এর অর্থে, নৈকট্য (تقريب), শর্তবাচক (شرطية) এবং আংশিকতা (تبعيض) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وثم: حرف عطف للترتيب ، التشريك ، والمهلة.
وحتى: لانتهاء الغاية ، والتعليل ، وبمعنى إلا في الاستثناء.
এবং 'সুম্মা' (ثم): এটি অনুক্রম (ترتيب), অংশীদারিত্ব (تشريك) এবং বিলম্ব (مهلة) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف)।
এবং 'হাত্তা' (حتى): এটি সীমার সমাপ্তি (انتهاء الغاية), কারণ দর্শানো (تعليل) এবং ব্যতিক্রমের (استثناء) ক্ষেত্রে 'ব্যতীত' (إلا) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فصل
ليس بين اللفظ ومدلوله مناسبة طبيعية.
ومبدأ اللغات توقيف من الله تعالى بإلهام أو وحي
أو كلام.
وقيل: بعضها توقيفا وبعضها اصطلاحا.
পরিচ্ছেদ
শব্দ (اللفظ) এবং এর অর্থের (المدلول) মধ্যে কোনো প্রাকৃতিক বা স্বভাবজাত সম্পর্ক নেই।
আর ভাষার মূল হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত ঐশী নির্দেশনা (توقيف), যা ইলহাম (إلهام) বা ওহীর (وحي) মাধ্যমে প্রাপ্ত।
অথবা সরাসরি বাণীর (كلام) মাধ্যমে।
আবার বলা হয়েছে: এর কিছু অংশ ঐশী নির্দেশনা (توقيف) এবং কিছু অংশ পারস্পরিক সংজ্ঞায়ন (اصطلاح) ভিত্তিক।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
فصلفي الأحكام لا حاكم إلا الله تعالى ، فالعقل لا يحسن ولا يقبح ولا يحرم.
وقال أبو الحسن التميمي: بلى.
وفعل الله تعالى وأمره لعلة.
وسكر المنعم من فال العقل يحسن ويقبح أوجبه عقلا ،
ومن نفاه أوجبه شرعا.
পরিচ্ছেদ (فصل)বিধানসমূহ (الأحكام) প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোনো বিধানদাতা (حاكم) নেই; সুতরাং বুদ্ধি (عقل) কোনো কিছুকে ভালো সাব্যস্ত করা (تحسين), মন্দ সাব্যস্ত করা (تقبيح) কিংবা হারাম সাব্যস্ত করা (تحريم) করতে পারে না।
আবু হাসান আত-তামিমি বলেন: অবশ্যই (বুদ্ধি তা পারে)।
আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি কর্ম ও আদেশ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণের (علة) ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
অনুগ্রহকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার বিষয়ে—যাঁরা বলেন যে বুদ্ধি ভালো ও মন্দ নির্ধারণ করতে পারে, তাঁরা একে বুদ্ধিগতভাবে (عقلاً) আবশ্যক সাব্যস্ত করেছেন,
আর যাঁরা তা অস্বীকার করেছেন, তাঁরা একে শরয়ীভাবে (شرعاً) আবশ্যক সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
والانتفاع بالأعيان قبل الشرع على الإباحة ، وقيل: على الحظر وقيل على الوقف.
وفرض ابن عقيل المسألة في الأقوال والأفعال أيضا.
শরীয়ত (الشرع) আগমনের পূর্বে বস্তুসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া বৈধতা (الإباحة)-র ওপর প্রতিষ্ঠিত; এবং বলা হয়েছে: তা নিষিদ্ধতা (الحظر)-র ওপর, আবার বলা হয়েছে: তা স্থগিতাবস্থা (الوقف)-র ওপর।
ইবনে আকীল এই মাসআলাটি কথা ও কাজের ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فصل
والحكم الشرعي ، وفيل: خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع.
وقيل: مقتضى خطاب الشرع .......... إلى آخره.
ثم الخطاب إما أن يرد باقتضاء مع الجزم وهو الإيجاب،
أو لا مع الجزم وهو الندب ، أو باقتضاء الترك مع الجزم وهو التحريم ، أو لا مع (3|أ) الجزم وهو الكراهة ، أو بالتخيير وهو الإباحة ، فهي حكم شرعي وفي كونها تكليفا خلاف.
পরিচ্ছেদ
শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي); এবং বলা হয়েছে: এটি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ি সম্বোধন (خطاب الشرع), যা দাবি (الاقتضاء), ঐচ্ছিকতা (التخيير) অথবা পরিস্থিতি নির্ধারণের (الوضع) সাথে সম্পর্কিত।
বলা হয়েছে: এটি শরয়ি সম্বোধনের (خطاب الشرع) উপজাত (مقتضى) .......... শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর এই সম্বোধন হয় কোনো বিষয়ের দাবির আকারে দৃঢ়তার সাথে আসবে, যা হলো আবশ্যিকতা (الإيجاب),
অথবা দৃঢ়তা ব্যতীত, যা হলো পছন্দনীয় (الندب); অথবা বর্জনের দাবির সাথে দৃঢ়তার প্রেক্ষিতে আসবে, যা হলো নিষিদ্ধকরণ (التحريم); অথবা (৩/আ) দৃঢ়তা ব্যতীত, যা হলো অপছন্দনীয়তা (الكراهة); অথবা ঐচ্ছিকতা স্বরূপ, যা হলো বৈধতা (الإباحة)। সুতরাং এগুলো শরয়ি বিধান (حكم شرعي), তবে এটি দায়বদ্ধকরণ (تكليفا) হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
والواجب: ما ذم شرعا تاركه قصدا مطلقا.
وهو والفرض متباينان لغة مترادفان شرعا في أصح الروايتين. والثانية الفرض آكد فهو ما ثبت بدليل مقطوع به ،وقيل: ما لا يسقط في عمد ولا سهو ،
وقيل: ما لزم بالقرآن.
والأداء: ما فعل في وقته المقدر له أولا شرعا.
والقضاء: ما فعل بعد وقت الأداء.
والإعادة: ما فعل مرة بعد أخرى ، وقيل: في وقته المقدر له وقيل: لخلل.
ওয়াজিব (واجب): যা ইচ্ছাকৃতভাবে এবং নিঃশর্তভাবে বর্জনকারীকে শরিয়তসম্মতভাবে (شرعا) নিন্দা করা হয়।
এটি এবং ফরজ (فرض) আভিধানিক দিক থেকে ভিন্ন হলেও দুটি অধিকতর বিশুদ্ধ বর্ণনা (أصح الروايتين) অনুযায়ী শরিয়তগতভাবে (شرعا) সমার্থক। দ্বিতীয় মতানুসারে, ফরজ (فرض) হলো অধিকতর সুনিশ্চিত; অর্থাৎ যা অকাট্য দলিল (دليل مقطوع به) দ্বারা প্রমাণিত। মতান্তরে: যা ইচ্ছা কিংবা ভুলবশত কোনোভাবেই রহিত হয় না,
এবং বলা হয়েছে: যা কুরআনের মাধ্যমে আবশ্যক হয়েছে।
আদায় (الأداء): যা শরিয়ত (شرعا) কর্তৃক প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পাদিত হয়।
কাজা (القضاء): যা আদায়ের (الأداء) সময়ের পরে সম্পাদিত হয়।
পুনরায় আদায় (الإعادة): যা একবার সম্পাদন করার পর পুনরায় সম্পাদন করা হয়। কেউ কেউ বলেছেন: তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পাদন করা; আবার বলা হয়েছে: তা ত্রুটির (خلل) কারণে পুনরায় সম্পাদন করা।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
و
فرض الكفاية واجب على الجميع ، وقيل: على بعض غير معين ويسقط بفعل البعض كما يسقط الإثم.
وتكفي غلبة الظن في فعله. وإن فعله الجميع دفعة فالكل فرض وإن فعله بعضهم بعد بعض فالثاني فرض ، وقيل: لا.
ولا فرق بينه وبين فرض العين ابتداء ، ويلزم بالشروع.
وفرض العين أفضل منه. والأمر بواحد كخصال الكفارة مستقيم والواجب واحد لا بعينه. وقبل: يتعين بالفعل ، وقيل: معين عند الله
এবং
সমষ্টিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض الكفاية) সবার উপর আবশ্যিক (واجب); মতান্তরে: এটি অনির্দিষ্ট একদলের উপর অর্পিত হয় এবং কতিপয় ব্যক্তির সম্পাদনের দ্বারা তা রহিত হয়ে যায়, যেমনভাবে গুনাহ রহিত হয়।
এটি পালিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হওয়াই যথেষ্ট। যদি সকলে একযোগে এটি সম্পাদন করে তবে সবটুকুই ফরজ (فرض) হিসেবে গণ্য হবে, আর যদি একে অপরের পর সম্পাদন করে তবে দ্বিতীয়টিও ফরজ (فرض); আবার বলা হয়েছে: না।
প্রাথমিক পর্যায়ে এর এবং ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض العين)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এবং এটি শুরু করার মাধ্যমেই আবশ্যক (يلزم) হয়ে যায়।
ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض العين) এর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কাফফারার বিধানসমূহের মতো যেকোনো একটির নির্দেশ প্রদান করা সংগত এবং এক্ষেত্রে আবশ্যিক (الواجب) বিষয়টি অনির্দিষ্ট। বলা হয়েছে: এটি কর্মের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট হয়, আবার বলা হয়েছে: এটি আল্লাহর নিকট সুনির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
والخلاف معنوي، وقيل: لفظي.
والفعل في الموسع جميعه أداء ، ومن أخر
الواجب الموسع مع ظن مانع أثم ثم إذا بقي على حاله وفعله فأداء وقيل: قضاء.
وما لا يتم الواجب إلا به ليس بواجب، قدر عليه المكلف
أو لا.
وما لا يتم الواجب إلا به واجب. وقيل: ما كان شرطا شرعيا ، وإذا قلنا بوجوبه
এবং মতভেদটি অর্থগত (معنوي), আর বলা হয়েছে: শাব্দিক (لفظي)।
প্রশস্ত সময়ের ওয়াজিবের ক্ষেত্রে পুরো আমলটিই হচ্ছে আদায় (أداء), আর যে ব্যক্তি কোনো প্রতিবন্ধকের প্রবল ধারণা থাকা সত্ত্বেও
প্রশস্ত ওয়াজিব (الواجب الموسع) বিলম্বিত করল সে গুনাহগার হবে; অতঃপর যদি সে তার অবস্থায় বহাল থাকে এবং আমলটি সম্পাদন করে তবে তা আদায় (أداء) হিসেবে গণ্য হবে, আর বলা হয়েছে: এটি কাযা (قضاء)।
আর যার মাধ্যম ব্যতীত ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না তা ওয়াজিব (واجب) নয়, চাই মুকাল্লাফ তার ওপর সক্ষম হোক
বা না হোক।
এবং যার মাধ্যম ব্যতীত ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না তা ওয়াজিব (واجب)। আর বলা হয়েছে: যা শরয়ী শর্ত (شرط شرعي) ছিল, এবং যখন আমরা এর ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার কথা বলব
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
عوقب تاركه وقيل: لا.
وإذا كنى الشارع عن عبادة ببعض ما فيها دل على فرضه.
ويجوز أن يحرم واحد لا بعينه ، ويجتمع في الشخص الواحد ثواب وعقاب ، ويستحيل كون الشيئ الواحد واجبا حراما من جهة واحدة وأما الصلاة في الدار المغصوبة فالصحيح عدم الصحة. وقيل: يسقط الفرض عندها لا بها، وهو مردود.
এর বর্জনকারীকে শাস্তি দেওয়া হবে, আর কেউ কেউ বলেছেন: না।
আর যখন শরীয়ত প্রণেতা (الشارع) কোনো ইবাদতকে এর অন্তর্ভুক্ত কোনো একটি অংশের মাধ্যমে উল্লেখ করেন, তখন তা উক্ত অংশটি ফরজ (فرض) হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
আর অনির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয়কে হারাম (حرام) করা বৈধ। একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে সওয়াব ও শাস্তি একত্রিত হওয়া সম্ভব। তবে একই বিষয় একই দিক থেকে যুগপৎভাবে ওয়াজিব (واجب) ও হারাম (حرام) হওয়া অসম্ভব। আর জবরদখলকৃত ঘরে সালাত আদায়ের ব্যাপারে বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো তা সঠিক (صحيح) না হওয়া। এবং কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা নয় বরং এর সাথে ফরজ (فرض) আদায় হয়ে যাবে; তবে এ মতটি প্রত্যাখ্যাত (مردود)।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وأما من خرج من أرض الغصب تائبا فتصح توبته فيها ولا يأثم بحركة خروجه. وقال أبو الخطاب بلى.
আর যে ব্যক্তি তওবাকারী হিসেবে জবরদখলকৃত ভূমি থেকে বের হয়ে আসে, তার তওবা সেখানেই শুদ্ধ (صحيح) হবে এবং বের হওয়ার প্রাক্কালের গতিবিধির কারণে সে গুনাহগার হবে না। তবে আবু আল-খাত্তাব বলেছেন, বরং সে গুনাহগার হবে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
فصل
الندب في اللغة: الدعاء إلى الفعل. وشرعا: ما أثيب فاعله ولم يعاقب تاركه. وهو مرادف المسنون ، والمستحب ، وهو مأمور به حقيقة. وقيل: مجازا. وهو تكليف وقيل: لا.
والمكروه ضده.
পরিচ্ছেদ
আভিধানিক অর্থে পছন্দনীয় (ندب) হলো: কোনো কাজের প্রতি আহ্বান জানানো। আর শরীয়তের পরিভাষায়: যার সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয় না। এটি মাসনুন (مسنون) এবং মুস্তাহাব (مستحب)-এর সমার্থক এবং এটি প্রকৃত অর্থে (حقيقة) আদিষ্ট (مأمور به)। কেউ কেউ বলেছেন: রূপক অর্থে (مجازا)। এটি শরয়ী দায়বদ্ধতা (تكليف), আবার কেউ বলেছেন: না।
আর অপছন্দনীয় (مكروه) হলো এর বিপরীত।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وفي كونه منهيا عنه حقيقة ومكلفا به كالمندوب ، ويطلق (3|ب) على الحرام، وترك الأولى، وقيل: هو حرام وفي عرف المتأخرين ينصرف إلى التنزيه ولا يتناوله الأمر المطلق.
والمباح: ما استوى طرفاه ، وهو غير مأمور به ، وإذا أريد بالأمر الإباحة فمجاز ، وقيل: حقيقة.
আর এটি প্রকৃতপক্ষে নিষিদ্ধ (منهي عنه) হওয়া এবং মুস্তাহাব (مندوب)-এর মতো শরয়ি দায়িত্বভুক্ত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত। এটি (৩|খ) হারাম (حرام) এবং উত্তম বর্জন (ترك الأولى)-এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়। কেউ কেউ বলেছেন: এটি হারাম (حرام)। আর পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرين) পরিভাষায় এটি তানজিহ (تنزيه) বা সাধারণ অপছন্দনীয়তার দিকে ধাবিত হয় এবং সাধারণ নির্দেশ (أمر مطلق) একে অন্তর্ভুক্ত করে না।
আর মুবাহ (مباح) হলো: যার উভয় দিক সমান, এবং এটি আদিষ্ট কোনো বিষয় নয়। যদি নির্দেশের মাধ্যমে মুবাহ হওয়া (إباحة) উদ্দেশ্য হয় তবে তা রূপক (مجاز), আর কেউ কেউ বলেছেন: এটি প্রকৃত (حقيقة)।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
فصل
خطاب الوضع: ما استفيد بواسطة نصب الشارع علما معرفا لحكمة لتعذر معرفة خطابه في كل حال.
وللعلم المنصوب أصناف:
العلة وهو في الأصل الغرض الموجب لخروج البدن الحيواني عن الاعتدال الطبيعي ،
পরিচ্ছেদ
বিধিবদ্ধ বিধান (خطاب الوضع): যা প্রতিটি অবস্থায় বিধানদাতার (الشارع) সরাসরি সম্বোধন অনুধাবন করা দুঃসাধ্য হওয়ার কারণে, তাঁর হিকমাহ বা প্রজ্ঞার (حكمة) পরিচায়ক হিসেবে কোনো নিদর্শন (علم) স্থাপনের মাধ্যমে অবগত হওয়া যায়।
আর এই নির্ধারিত নিদর্শনের (علم) বিভিন্ন প্রকার রয়েছে:
ইল্লত বা কার্যকর কারণ (العلة): এটি মূলত এমন এক ব্যাধি বা হেতু যা প্রাণীদেহকে তার স্বাভাবিক ভারসাম্য (اعتدال طبيعي) থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়,
(খণ্ড: ১)
গায়াতুস সুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
ثم استعيرت عقلا لما أوجب الحكم العقلي لذاته.
ثم استعيرت لمعان:
أحدهما: ما أوجب الحكم الشرعي لا محالة وهو المجموع المركب من مقتضى الحكم وشرطه ومحله وأهله.
الثاني: مقتضى الحكم ، وإن تخلف لفوات شرط أو وجود مانع.
الثالث: الحكمة كمشقة السفر للفطر.
الصنف الثاني: السبب وهو لغة: ما توصل به إلى الغرض
অতঃপর বুদ্ধিগতভাবে এটি এমন বিষয়ের জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা নিজস্ব সত্তার কারণেই বুদ্ধিগত বিধান (الحكم العقلي) সাব্যস্ত করে।
অতঃপর এটি কয়েকটি অর্থের জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে:
প্রথমটি: যা অনিবার্যভাবে শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي) সাব্যস্ত করে; আর তা হলো বিধানের দাবি (مقتضى الحكم), তার শর্ত (شرط), তার প্রয়োগস্থল (محل) এবং তার যোগ্য পাত্রের (أهل) সমন্বিত রূপ।
দ্বিতীয়টি: বিধানের দাবি (مقتضى الحكم), যদিও কোনো শর্তের (شرط) অনুপস্থিতি অথবা কোনো প্রতিবন্ধকের (مانع) উপস্থিতির কারণে বিধানটি কার্যকর হওয়া থেকে পিছিয়ে পড়ে।
তৃতীয়টি: হিকমাহ বা নিহিত কারণ (حكمة), যেমন রোজা ভঙ্গের জন্য সফরের কষ্ট।
দ্বিতীয় প্রকার: কারণ (السبب) আভিধানিক অর্থে এটি হলো: যার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।