(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
البلاغة العمرية   (محمد سالم الخضر)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: البلاغة العمرية

المؤلف: محمد سالم الخضر

الناشر: مبرة الآل والأصحاب

الطبعة: الأولى، 2014 م

عدد الصفحات: 397

الكتاب إهداء من مؤلفه جزاه الله خيرا، للبرنامج

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 صفر 1436

আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ   (মুহাম্মদ সালিম আল-খিদর)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ

লেখক: মুহাম্মদ সালিম আল-খিদর

প্রকাশক: মাব্বারাত আল-আল ওয়াল আসহাব

সংস্করণ: প্রথম, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৭

বইটি লেখকের পক্ষ থেকে একটি উপহার, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, প্রোগ্রামের জন্য

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ সফর ১৪৩৬ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌إهداء

* إلى فاروق الأمة وعبقريها … إلى عِزِّها وضميرها النابض في عروقنا …

إلى مُلهِم الأحرار عبر الأزمان والأقطار …

إلى السيف البتّار على أهل الشنار …

إلى عمر بن الخطاب …

* إلى أبي الذي افتقدته صغيراً ولم تمتلئ عيناي منه … فهذه الثمرة التي كنت ترجوها في أبنائك … وهذه الصلوات المتتاليات التي أذكرك بها حيناً بعد حين.
উৎসর্গ

* উম্মাহর ফারুক এবং তার অনন্য প্রতিভাধরের প্রতি … উম্মাহর মর্যাদা এবং আমাদের শিরায় স্পন্দিত তার বিবেকের প্রতি …

যুগ-যুগান্তরের এবং দেশ-দেশান্তরের স্বাধীনচেতা মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতি …

কলঙ্কিতদের ওপর ধারালো তলোয়ারের প্রতি …

উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রতি …

* আমার পিতার প্রতি, যাঁকে আমি শৈশবে হারিয়েছি এবং যাঁর সান্নিধ্যে আমার দুই চোখ তৃপ্ত হতে পারেনি … এটিই সেই ফল যা আপনি আপনার সন্তানদের মাঝে প্রত্যাশা করেছিলেন … আর এটিই সেই ধারাবাহিক প্রার্থনা যার মাধ্যমে আমি আপনাকে সময়ে সময়ে স্মরণ করি।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
* إلى التي أظلتني برعايتها … واكتنَفَتْني بعطفها وحنانها … وأسهرت على راحتي عينيها …

إلى أمي الحبيبة … بكل المشاعر الإنسانية المتدفقة التي لا يحجزها عن التعبير عن عظيم حقك عليَّ حاجز … وبكل صلواتي المتتاليات التي أذكرك فيها كل حين.

* إلى أهلي وقرابتي …

* إلى ابني ((عمر)) سَمِيِّ الفاروق الأكبر …

* إلى أشقائه: ((الحسين)) و ((بدرية)) و ((آلاء)) …

 

هذا عِزكم ففاخروا به، وانهضوا بحقه، واعملوا بأحسنه …

المؤلف
* তাঁর প্রতি, যিনি আমাকে তাঁর অভিভাবকত্বের ছায়ায় আশ্রয় দিয়েছেন … এবং তাঁর দয়া ও মমতায় আমাকে জড়িয়ে রেখেছেন … আর আমার আরামের জন্য নিজের চোখ দুটিকে বিনিদ্র রেখেছেন …

আমার প্রিয় জননীর প্রতি … সেই সকল প্রবহমান মানবিক অনুভূতি সহকারে, যা আমার উপর আপনার সুমহান অধিকার ব্যক্ত করার পথে কোনো বাধার সম্মুখীন হয় না … এবং আমার সেই সকল নিরন্তর দোয়ার সাথে, যাতে আমি আপনাকে প্রতিক্ষণ স্মরণ করি।

* আমার পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের প্রতি …

* আমার পুত্র ((উমর))-এর প্রতি, যে ফারুকুল আজম-এর নামধারী …

* তার ভাই-বোনদের প্রতি: ((হুসাইন)), ((্বাদরিয়্যাহ)) ও ((আলাআ)) …

 

এটাই তোমাদের মর্যাদা, সুতরাং তোমরা একে নিয়ে গর্ব করো, এর হক আদায়ে সচেষ্ট হও এবং এর সর্বোত্তম অনুযায়ী আমল করো …

লেখক
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌عَلَى سَاحِلِ عُمَر …

((إِيهٍ يَا ابْنَ الخَطَّابِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ سَالِكًا فَجًّا إِلَّا سَلَكَ فَجًّا غَيْرَ فَجِّكَ)). النبي صلى الله عليه وسلم

((مَا زِلْنَا أَعِزَّةً مُنْذُ أَسْلَمَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه)).

عبد الله بن مسعود رضي الله عنه

((مَا كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِأَوَّلِنَا إِسْلامًا، وَلا أَقْدَمِنَا هِجْرَةً، وَلَكِنَّهُ كَانَ أَزْهَدَنَا فِي الدُّنْيَا، وَأَرْغَبَنَا فِي الآخِرَةِ)).

طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه

((وَمَنْ رَأَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَرَفَ أَنَّهُ خُلِقَ غَنَاءً لِلْإِسْلَامِ، كَانَ وَاللهِ أَحْوَزِيًّا، نَسِيجَ وَحْدِهِ، قَدْ أَعَدَّ لِلْأُمُورِ أَقْرَانَهَا)). أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها -
উমরের উপকূলে …

((সাবাস ওহে ইবনুল খাত্তাব! সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, শয়তান আপনাকে কোনো পথে চলতে দেখলে অবশ্যই আপনার পথ ছেড়ে অন্য পথ অবলম্বন করে।))। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

((উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে আমরা সর্বদা মর্যাদাবান ও শক্তিশালী থেকেছি।))।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

((উমর ইবনুল খাত্তাব ইসলাম গ্রহণে আমাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন না এবং হিজরতেও আমাদের মাঝে প্রাচীনতম ছিলেন না; তবে তিনি ছিলেন আমাদের মধ্যে দুনিয়ার প্রতি সবচেয়ে বেশি বিমুখ এবং আখিরাতের প্রতি সর্বাধিক অনুরাগী।))।

তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

((যে ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাবকে দেখেছে সে বুঝতে পেরেছে যে, তাকে ইসলামের সচ্ছলতা ও শক্তিরূপেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন অত্যন্ত কর্মতৎপর ও বিচক্ষণ, আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য; তিনি প্রতিটি বিষয়ের মোকাবিলা করার জন্য তার উপযুক্ত ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতেন।))। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
أَبَعْدَ قَتِيلٍ بِالْمَدِينَةِ أَشْرَقَتْ … لَهُ الْأَرْضُ وَاهْتَزَّ الْعِضَاةُ بِأَسْوُقِ

جَزَى اللهُ خَيْرًا مِنْ إِمَامٍ وَبَارَكَتْ … يَدُ اللهِ فِي ذَاكَ الْأَدِيمِ الْمُمَزَّقِ

قَضَيْتَ أُمُورًا ثُمَّ غَادَرْتَ بَعْدَهَا … بَوَائِجَ فِي أَكْمَامِهَا لَمْ تُفَتَّقِ

وَكُنْتَ نَشَرْتَ الْعَدْلَ بِالْبِرِّ وَالتُّقَى … وَحُكْمُ صَلِيبِ الدِّينِ غَيْرُ مُزَوَّقِ

فَمَنْ يَسْعَ أَوْ يَرْكَبْ جَنَاحَيْ نَعَامَةٍ … لَيُدْرِكَ مَا قَدَّمْتَ بِالْأَمْسِ يُسْبَقِ

أَمِينُ النَّبِيِّ حِبُّهُ وَصَفِيُّهُ … كَسَاهُ الْمَلِيكُ جُبَّةً لَمْ تَمَزَّقِ

مِنَ الدِّينِ وَالْإِسْلَامِ وَالْعَدْلِ وَالتُّقَى … وَبَابُكَ عَنْ كُلِّ الْفَوَاحِشِ مُغْلَقُ

تَرَى الْفُقَرَاءَ حَوْلَهُ فِي مَفَازَةٍ … شِبَاعًا رُوَاءً لَيْلُهُمْ لَمْ يُؤَرَّقِ

جزء بن ضرار
মদিনায় নিহত সেই ব্যক্তির পর কি পৃথিবী তাঁর জন্য উজ্জ্বল হয়েছিল … এবং বৃক্ষরাজি তাদের কাণ্ডের ওপর স্পন্দিত হয়েছিল?

আল্লাহ সেই ইমামকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং বরকত দান করুক … আল্লাহর হাত সেই ছিন্নভিন্ন চামড়ার ওপর।

আপনি বহু বিষয় সম্পন্ন করেছেন অতঃপর পেছনে রেখে গেছেন … এমন সব বিপদ যা তার আবরণের ভেতর ছিল, তখনো বিদীর্ণ হয়নি।

আপনি পুণ্য ও তাকওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ছড়িয়ে দিয়েছিলেন … আর দ্বীনের সুদৃঢ় বিধান ছিল অলঙ্করণমুক্ত বা কৃত্রিমতাহীন।

সুতরাং যে ব্যক্তিই দ্রুত চলুক কিংবা উটপাখির ডানায় চড়ে বসুক … যাতে আপনি যা পেশ করেছেন তা স্পর্শ করতে পারে, সে অবশ্যই পিছিয়ে পড়বে।

নবীর আমানতদার, তাঁর প্রিয় ও মনোনীত বন্ধু; … মহান বাদশাহ (আল্লাহ) তাঁকে এমন এক জুব্বা পরিয়েছিলেন যা কখনো ছিঁড়ে যায়নি।

তা ছিল দ্বীন, ইসলাম, ন্যায়বিচার ও তাকওয়ার; … আর সকল অশ্লীল কাজের জন্য আপনার দরজা ছিল রুদ্ধ।

আপনি তাঁর চারপাশে অভাবীদের মরু প্রান্তরেও দেখতে পেতেন … পরিতৃপ্ত ও পিপাসামুক্ত অবস্থায়, যাদের রাতগুলো নির্ঘুম দুশ্চিন্তায় কাটত না।

জুয বিন দিরার
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مقدمة

الحمد لله الأوّل بلا ابتداء، الآخر بلا انتهاء؛ المنفرد بقدرته، المتعالي في سلطانه؛ البادئ بالإحسان، العائد بالامتنان؛ الدالّ على بقائه بفناء خلقه، وعلى قدرته بعجز كلّ شيء سواه؛ المغتفر إساءة المذنب بعفوه، وجهل المسيء بحلمه؛ الذي جعل معرفته اضطراراً، وعبادته اختياراً؛ وخلق الخلق من بين ناطق معترف بوحدانيّته، وصامت متخشّع لربوبيّته؛ لا يخرج شيء عن قدرته، ولا يعزب عن رؤيته؛ الذي قرن بالفضل رحمته، وبالعدل عذابه؛ فالناس مدينون بين فضله وعدله، آذنون بالزّوال، آخذون في الانتقال؛ من دار بلاء إلى دار جزاء.

أحمده على حلمه بعد علمه، وعلى عفوه بعد قدرته؛ فإنّه رضي الحمد ثمناً لجزيل نعمائه، وجليل آلائه؛ وجعله مفتاح رحمته، وكفاء نعمته، وآخر دعوى أهل جنّته، بقوله جلّ وعزّ: {وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}.

وصلّى الله على سيّدنا محمّد النبيّ المكرّم، الشافع المقرّب، الذي
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শুরুর সূচনাহীন অনাদি এবং শেষের অন্তহীন অনন্ত; স্বীয় কুদরতে এক ও অদ্বিতীয়, স্বীয় কর্তৃত্বে সুউচ্চ; অনুগ্রহের সূচনাকারী, করুণার প্রত্যাবর্তনকারী; সৃষ্টির বিনাশের মাধ্যমে যিনি স্বীয় অবিনশ্বরতার প্রমাণ দেন এবং নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য সব কিছুর অক্ষমতার মাধ্যমে স্বীয় ক্ষমতার পরিচয় প্রদান করেন; যিনি অপরাধীর মন্দ কাজকে স্বীয় ক্ষমা দ্বারা এবং দুষ্কৃতিকারীর অজ্ঞতাকে স্বীয় সহনশীলতা দ্বারা মার্জনা করেন; যিনি তাঁর পরিচিতিকে অবধারিত এবং তাঁর ইবাদতকে ঐচ্ছিক করেছেন; এবং সৃষ্টিজগতকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, কেউ তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতিতে মুখর, আবার কেউ তাঁর প্রভুত্বের ভয়ে অবনত ও নিস্তব্ধ; কোনো কিছুই তাঁর ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে না এবং কোনো কিছুই তাঁর দৃষ্টির আড়ালে থাকতে পারে না; যিনি স্বীয় অনুগ্রহের সাথে রহমতকে এবং স্বীয় ইনসাফের সাথে শাস্তিকে যুক্ত করেছেন; ফলে মানুষ তাঁর অনুগ্রহ ও ইনসাফের মাঝে ঋণী, তারা বিলুপ্তির পথে ধাবমান এবং স্থানান্তরের যাত্রায় রত; পরীক্ষার আলয় থেকে প্রতিদানের আলয়ের দিকে।

আমি তাঁর জ্ঞানের পরে তাঁর সহনশীলতার জন্য এবং তাঁর ক্ষমতার পরে তাঁর ক্ষমার জন্য তাঁর প্রশংসা করি; কেননা তিনি তাঁর বিপুল নিয়ামতরাজি এবং মহান অনুগ্রহের বিনিময়ে প্রশংসাকেই মূল্য হিসেবে পছন্দ করেছেন; আর তিনি একে স্বীয় রহমতের চাবিকাঠি, নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা এবং জান্নাতবাসীদের শেষ আহ্বান হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তাঁর এই মহান বাণীর মাধ্যমে: "তাদের শেষ আহ্বান হলো: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।"

এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা সম্মানিত নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি নৈকট্যপ্রাপ্ত সুপারিশকারী, যিনি
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
بعث آخراً واصطفي أولاً، وجعلنا من أهل طاعته، وعتقاء شفاعته.

أما بعد؛ فهذا كتاب فريد في بابه، مُسْتَوْعِب لأَطْرَافِ الْفَنِّ، جَامِع لِشَتِيت الْفَوَائِد، وَمَنْثُور الْمَسَائِل، وَمُتَشَعِّب الأَغْرَاضِ، تخيّرت فيه من جواهر كلام الفاروق عمر بن الخطاب رضي الله عنه ما حفلت به كتب الآثار.

وصنعت فيه صَنْعَة الشريف الرضي في سِفره (نهج البلاغة)، إذ جمع من كلام أبي السبطين علي رضي الله عنه ما صح سنده وما لم يصح، غير أني جانبت طريقته في نِسبة كثير من الحكم والخطب إليه مما ثبت أنها لغيره أو نُحِلت على لسانه، فخلّفت ورائي من الفرائد الكثير، حين لاح لي زيف نِسبتها.

وقد أعرضت عن التعرض للحُكْمِ على أغلبِ رواياتِ هذا السِفر عن عمد، رغم وقوفي على رُتَبِها، لمَّا كانت الغاية من كتابة هذا السِفر، جمع ما تناثر في الكتب من خُطب الفاروق عمر وكتبه وحِكمه، ليسوغ لمِثلي أن يتمَثَّل بعد هذا قول الفرزدق لجرير مفتخراً:

أولئك آبائي فجئني بمثلهم … إذا جمعَتْنا يا جرير المجامعُ

 

والبلاغة كما فسَّرها أهل الفن: هي موافقة الكلام مقتضى الحال، مع الفصاحة والإيجاز.

وما أبلغ تعبير القدماء من أعلام الأمة إذ قالوا أنها: بلوغ دقيق المعاني بجليل الكلام.
যাকে সর্বশেষ প্রেরিত করা হয়েছে এবং সর্বপ্রথম মনোনীত করা হয়েছে, আর আল্লাহ আমাদের তাঁর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁর শাফায়াতের মাধ্যমে মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

অতঃপর; এটি নিজ বিষয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ, যা এই বিষয়ের সমস্ত দিককে পরিবেষ্টনকারী, বিক্ষিপ্ত ফায়দা ও ছড়িয়ে থাকা মাসআলাসমূহের সংকলন এবং বহুবিধ উদ্দেশ্য সংবলিত। এতে আমি ফারুক ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেইসব রত্নতুল্য বাণীসমূহ চয়ন করেছি যা আসার (রেওয়ায়েত) এর গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান ছিল।

আর এতে আমি শরীফ আর-রাজী তাঁর গ্রন্থ ‘নাহজুল বালাগাহ’ তে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা অনুসরণ করেছি; যেখানে তিনি আবুস সিবতাইন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই সকল বাণীসমূহ সংকলন করেছেন যার সনদ সহীহ এবং যার সনদ সহীহ নয়। তবে আমি অনেক প্রজ্ঞা ও ভাষণ তাঁর দিকে নিসবত করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি পরিহার করেছি, যা অন্য কারো বলে প্রমাণিত অথবা যা তাঁর নামে কৃত্রিমভাবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে আমি অনেক বিরল বাণী বর্জন করেছি যখন আমার নিকট সেগুলোর নিসবতের অসারতা স্পষ্ট হয়েছে।

আর আমি এই গ্রন্থের অধিকাংশ বর্ণনার মানের ওপর হুকুম লাগানো থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরত থেকেছি, যদিও আমি সেগুলোর স্তর সম্পর্কে অবগত ছিলাম। কেননা এই গ্রন্থটি রচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফারুক ওমরের ভাষণসমূহ, পত্রাবলি এবং হিকমতসমূহ যা বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তা একত্রিত করা; যাতে করে আমার মতো কেউ পরবর্তীতে জারীরের উদ্দেশ্যে বলা ফারাজদাকের সেই গর্বিত পংক্তিটি আওড়াতে পারে:

ওরাই আমার পিতৃপুরুষ, সুতরাং হে জারীর! তুমিও তাদের মতো কাউকে নিয়ে আসো, যখন কোনো মজলিসে আমাদের একত্রিত করা হবে।

 

আর অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘বালাগাত’ হলো: প্রাঞ্জলতা ও সংক্ষিপ্ততার সাথে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী কথা বলা।

আর উম্মতের বরেণ্য পূর্বসূরিদের সেই অভিব্যক্তি কতই না চমৎকার ছিল যখন তারা বলেছিলেন যে এটি হলো: মহান বাক্যের মাধ্যমে সূক্ষ্ম অর্থসমূহে পৌঁছানো।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
فقد سأل رَجُلٌ الشَّافِعِيِّ: يَا أَبَا عَبْدِ اللهِ، مَا الْبَلَاغَةُ؟، فقال: ((الْبَلَاغَةُ أَنْ تَبْلُغَ إِلَى دَقِيقِ الْمَعَانِي بِجَلِيلِ الْقَوْلِ))، فسأله: فَمَا الْإِطْنَابُ؟، فقال: ((الْبَسْطُ لِيَسِيرِ الْمَعَانِي، فِي فُنُونِ الْخِطَابِ))، فسأله: فَأَيُّمَا أَحْسَنُ عِنْدَكَ الْإِيجَازُ أَمْ الْإِسْهَابُ؟، فقال: ((لِكُلٍّ مِنَ الْمَعْنَيَيْنِ مَنْزِلَةٌ، فَمَنْزِلَةُ الْإِيجَازِ عِنْدَ التَّفَهُّمِ فِي مَنْزِلَةِ الْإِسْهَابِ عِنْدَ الْمَوْعِظَةِ، أَلَا تَرَى أَنَّ اللهَ تَعَالَى إِذَا احْتَجَّ فِي كَلَامِهِ كَيْفَ يُوجِزُ، وَإِذَا وَعَظَ يُطْنِبُ فِي مِثْلِ قَوْلِهِ مُحْتَجًّا: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} [الأنبياء: 22]، وَإِذَا جَاءَتِ الْمَوْعِظَةُ، جَاءَ بِأَخْبَارِ الْأَوَّلِينَ، وَضَرَبَ الْأَمْثَالَ بِالسَّلَفِ الْمَاضِينَ)) (1).

ومن تأمل كلام الماضين، تفتقت له ينابيع الحِكمة، وفَصل الخِطاب، وتجلَّت له بلاغة المنطق، وتفتحت له أبوابها.

وأما كلام الفاروق عمر رضي الله عنه فهو البحر الذي لا يُساجَل (2)، والجمّ الذي لا يحافَل (3)، وهو دائرٌ على أقطاب (4) ثلاثة؛ كنحو تلك الأقطاب التي دارت عليها بلاغة أبي السبطين علي رضي الله عنه.

--------------------------------------------

(1) الفقيه والمتفقه للخطيب البغدادي: 2/ 66

(2) لا يُساجَل: لا يغالب في الامتلاء وكثرة الماء.

(3) لا يحُافَل: لا يغالب في الكثرة، من قولهم: ضرع حافل: ممتلئ كثير اللبن، والمراد أنّ كلامه لا يقابل بكلام غيره لكثرة فضائله.

(4) أقطاب: أصول.
এক ব্যক্তি ইমাম শাফেয়ীকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, বালাগাত (বাগ্মিতা) কী? তিনি উত্তরে বললেন: "বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্র হলো মহান ও সারগর্ভ বক্তব্যের মাধ্যমে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অর্থসমূহ ফুটিয়ে তোলা।" এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তাহলে ইটনাব (বিস্তারিত বর্ণনা) কী? তিনি বললেন: "বক্তব্যের বিভিন্ন শৈলীর মাধ্যমে সামান্য অর্থকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা।" তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: আপনার নিকট কোনটি অধিক উত্তম—সংক্ষিপ্ততা (ইজায) নাকি দীর্ঘসূত্রিতা (ইস-হাব)? তিনি উত্তরে বললেন: "এই দুই প্রকারের প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট অবস্থান ও মর্যাদা রয়েছে। কোনো বিষয় বুঝানোর ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততার যে মর্যাদা, উপদেশ বা নসিহতের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার মর্যাদাও তদ্রূপ। আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কালামে কোনো দলিল বা যুক্তি পেশ করেন তখন তিনি কত সংক্ষিপ্ত করেন, আর যখন তিনি উপদেশ প্রদান করেন তখন কত বিস্তারিত বর্ণনা দেন। যেমন দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: 'যদি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে যেত' [সূরা আল-আম্বিয়া: ২২]। আর যখন উপদেশের প্রসঙ্গ আসে, তখন তিনি পূর্ববর্তীদের সংবাদ নিয়ে আসেন এবং গত হয়ে যাওয়া সালাফদের (পূর্বসূরিদের) উদাহরণ পেশ করেন।" (১)।

আর যে ব্যক্তি পূর্ববর্তীদের কথা নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করবে, তার জন্য হিকমত (প্রজ্ঞা) ও চূড়ান্ত ফয়সালার ঝর্ণাধারা উৎসারিত হবে, তার কাছে যুক্তির প্রাঞ্জলতা সুস্পষ্ট হবে এবং এর দুয়ারসমূহ তার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

আর ফারুক উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য হলো এমন এক সমুদ্র যার বিশালতায় কেউ সমকক্ষ হতে পারে না (২), এবং এমন এক প্রাচুর্য যাকে কেউ অতিক্রম করতে পারে না (৩)। তাঁর বক্তব্য তিনটি মূল স্তম্ভের (৪) ওপর আবর্তিত; ঠিক সেই স্তম্ভগুলোর ন্যায় যার ওপর রাসুলুল্লাহর দুই দৌহিত্রের পিতা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রাঞ্জলতা আবর্তিত হতো।

--------------------------------------------

(১) খতিব আল-বাগদাদি প্রণীত আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ: ২/ ৬৬

(২) লা ইউসাজাল: এর অর্থ হলো পানির আধিক্য ও পূর্ণতায় যাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।

(৩) লা ইউহাফাল: এর অর্থ হলো প্রাচুর্যে যাকে কেউ হার মানাতে পারে না। কথাটি মূলত আরবদের উক্তি 'দুগ্ধপূর্ণ ওলান' থেকে নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, তাঁর গুণাবলির আধিক্যের কারণে তাঁর বক্তব্যের সমকক্ষ অন্য কারও বক্তব্য হতে পারে না।

(৪) আক্তাব: এর অর্থ হলো মূল ভিত্তি বা উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
* فأول هذه الأقطاب: الخطب والأوامر.

* وثانيها: الكتب والرسائل.

* وثالثها: الحكم والمواعظ.

فأجمعتُ (1) بتوفيق الله جل جلاله على الابتداء باختيار محاسن الخطب، ثم محاسن الكتب، ثم محاسن الحِكَم والأدب، مفرداً لكلّ صنف من ذلك باباً، ومفصَّلاً فيه أوراقاً، لتكون مقدمة لاستدراك ما عساه يشذّ عنّي عاجلاً، ويقع إليّ آجلاً.

ولا أدَّعي - مع ذلك - أنّي أحيط بأقطار جميع كلامه رضي الله عنه (2) حتّى لا يشذَّ عني منه شاذّ، ولا يَنِدَّ نادّ (3)، بل لا أبعد أن يكون القاصر عني فوق الواقع إليّ، والحاصل في رِبْقتي (4) دون الخارج من يديّ، وما عليّ إلا بذل الجهد، وبلاغ الوسع، وعلى الله سبحانه نهج السبيل (5)، وإرشاد الدليل، إن شاء الله تعالى.

ورأيتُ من بعد تسمية هذا الكتاب بـ ((البلاغة العُمرية)) إذ كان يفتح للناظر فيه أبوابها، ويقرّب عليه طِلابها، وفيه حاجة العالم

--------------------------------------------

(1) أجمع عليه: عزم.

(2) أقطار الكلام: جوانبه.

(3) الناد: المنفرد الشاذ.

(4) الربقة: عروة حبل يجعل فيها رأس البهيمة.

(5) نهج السبيل: إبانته وإيضاحه.
* এই স্তম্ভগুলোর প্রথমটি হলো: ভাষণ ও আদেশসমূহ।

* আর দ্বিতীয়টি হলো: কিতাব ও পত্রসমূহ।

* আর তৃতীয়টি হলো: প্রজ্ঞা ও উপদেশসমূহ।

অতঃপর আমি আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর তাওফিকে সংকল্প করেছি (১) ভাষণসমূহের সৌন্দর্য চয়ন করে শুরু করার, এরপর কিতাবসমূহের সৌন্দর্য, তারপর হিকমত ও শিষ্টাচারের সৌন্দর্য চয়নের। প্রতিটি শ্রেণির জন্য আমি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছি এবং তাতে বিস্তারিতভাবে পত্রসমূহ সন্নিবেশিত করেছি, যাতে এটি ভবিষ্যতে আমার কাছে আসতে পারে এমন সম্ভাব্য বাদ পড়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা হিসেবে কাজ করে।

তা সত্ত্বেও আমি দাবি করি না যে, আমি তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (২) সকল কথার সকল দিক পরিবেষ্টন করে ফেলেছি, যাতে কোনো কিছুই বাদ না পড়ে এবং কোনো কিছুই অগোচরে না থাকে (৩)। বরং আমি অসম্ভব মনে করি না যে, যা আমার কাছে পৌঁছেনি তা আমার হস্তগত বিষয়ের চেয়ে বেশি হতে পারে, এবং আমার সংগ্রহে (৪) যা আছে তা আমার হাতের বাইরে রয়ে যাওয়া বিষয়ের তুলনায় কম। আমার দায়িত্ব কেবল প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করা; আর পথ প্রদর্শন (৫) এবং সঠিক নির্দেশনার দায়িত্ব মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

অতঃপর আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি 'আল-বালাঘাতুল উমারিয়া' নামে, কারণ এটি এর পাঠকের জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়, শিক্ষার্থীর জন্য তা সহজসাধ্য করে তোলে এবং এতে আলিমের প্রয়োজন রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে সংকল্প করা: দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করা।

(২) কথার পরিধি: এর দিকসমূহ।

(৩) বিচ্ছিন্ন: যা একক বা অগোচরে থাকে।

(৪) রিবকাহ: রশির ফাঁস যাতে পশুর মাথা রাখা হয়।

(৫) পথ প্রদর্শন: তা স্পষ্ট ও পরিষ্কার করা।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
والمتعلّم، وبغية البليغ والزاهد، ويمضي في أثنائه من عجيب الكلام، ما هو بِلال كلّ غلّة (1)، وشفاء كلّ علّة، وجِلاء كلّ شبهة.

ثمَّ إني بعد هذا كله، عزوت كل أثر عنه رضي الله عنه بحسب الوُسع والطاقة - إلى مصدره، فما كان منه في الكتب التسعة قدَّمته على غيره، وأخَّرت ما سواه ولو كان ذا علو في الإسناد، بادئًا بالبخاري ثمَّ مسلم ثمَّ أصحاب السنن ثمَّ الموطأ ثمَّ مسند أحمد ثمَّ الدارمي ثمَّ سائر الكتب.

وما كان منه خِلواً مما ذكرت، قَدَّمت فيه الأقدم تصنيفاً فالأحدث.

فإن كان الأثر مُسنداً في كتب أهل الفن، عبَّرت عن ذلك بقولي (رواه)، وإن كان مذكوراً بلا إسناد يُعرف، عبَّرت عن ذلك بقولي (ذكره).

وإني قبل هذا وبعده؛ أستمد من الله تعالى التوفيق والعصمة، وأتنجّزُ التسديد والمعونة، وأستعيذه من خطأ الجنان، قبل خطأ اللسان، ومن زلّة الكَلِم، قبل زلّة القَدَمْ، وهو حسبي ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

(1) الغلة: العطش.
এবং শিক্ষার্থীর পাথেয়, এবং বাগ্মী ও জাহিদের অভীষ্ট লক্ষ্য। এর পরতে পরতে এমন সব চমৎকার কথা বিদ্যমান, যা প্রতিটি পিপাসার প্রশান্তিদায়ক, প্রতিটি ব্যাধির আরোগ্য এবং প্রতিটি সংশয়ের বিদূষক।

অতঃপর আমি এই সবকিছুর পর, সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত প্রতিটি বর্ণনাকে তার মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। সুতরাং যা কিছু নয়টি মূল কিতাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলোকে আমি অন্যগুলোর ওপর প্রাধান্য দিয়েছি এবং অবশিষ্টগুলোকে পরে উল্লেখ করেছি, যদিও সেগুলোর সনদ উচ্চপর্যায়ের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আমি বুখারী, এরপর মুসলিম, এরপর সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ, এরপর মুয়াত্তা, এরপর মুসনাদে আহমাদ, এরপর দারেমী এবং সবশেষে অন্যান্য কিতাবের ক্রমানুসারে শুরু করেছি।

আর যা কিছু আমার উল্লিখিত কিতাবসমূহে ছিল না, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি অপেক্ষাকৃত প্রাচীন সংকলনকে পরের সংকলনগুলোর ওপর প্রাধান্য দিয়েছি।

যদি বর্ণনাটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কিতাবসমূহে সনদসহ বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি তা ‘তিনি বর্ণনা করেছেন’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছি। আর যদি তা কোনো পরিচিত সনদ ছাড়াই উল্লিখিত হয়ে থাকে, তবে আমি তা ‘তিনি উল্লেখ করেছেন’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছি।

আর আমি এর আগে ও পরে মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক ও অটলতা প্রার্থনা করছি এবং সঠিক পথনির্দেশ ও সাহায্য কামনা করছি। জিহ্বার স্খলনের আগে অন্তরের ভ্রান্তি থেকে এবং পদের বিচ্যুতির আগে কথার বিচ্যুতি থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

(১) গাল্লাহ: পিপাসা।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌الباب الأول: في المُختار من خُطب أمير المؤمنين رضي الله عنه وأوامره
প্রথম অধ্যায়: আমীরুল মুমিনীন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নির্বাচিত ভাষণ ও নির্দেশনাবলী প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌[1] وَمِنْ كَلامٍ لَهُ رضي الله عنه يذكر وقوع الإسلام في قلبه قبل إسلامه

((خَرَجْتُ أَتَعَرَّضُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ أُسْلِمَ، فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَبَقَنِي إِلَى الْمَسْجِدِ، فَقُمْتُ خَلْفَهُ، فَاسْتَفْتَحَ سُورَةَ الْحَاقَّةِ، فَجَعَلْتُ أَعْجَبُ مِنْ تَالِيفِ الْقُرْآنِ، فَقُلْتُ: هَذَا وَاللهِ شَاعِرٌ كَمَا قَالَتْ قُرَيْشٌ، فَقَرَأَ: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ (40) وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ}، قُلْتُ: كَاهِنٌ، قَالَ: {وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ (42) تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ (43) وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ (44) لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ (45) ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ (46) فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ (47) وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ (48) وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنْكُمْ مُكَذِّبِينَ (49) وَإِنَّهُ لَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِينَ (50) وَإِنَّهُ لَحَقُّ الْيَقِينِ (51) فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ} [الحاقة: 42 - 52]، فَوَقَعَ الْإِسْلامُ فِي قَلْبِي كُلَّ مَوْقِعٍ)) (1).

 

‌‌[2] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه يذكر إسلامه وفضل الله تعالى عليه

((أَتُحِبُّونَ أَنْ أُعْلِمَكُمْ بُدُوَّ إِسْلَامِي؟ قالوا: نَعَمْ، قَالَ: كُنْتُ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَبَيْنَا أَنَا فِي يَوْمٍ حَارٍّ فِي

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في المسند (108) وابن عساكر في تاريخ دمشق: 44/ 28.
[১] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্যসমূহের মধ্য থেকে, যেখানে তিনি ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁর হৃদয়ে ইসলামের প্রভাব পড়ার ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

((আমি ইসলাম গ্রহণ করার আগে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখোমুখি হওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমি দেখলাম তিনি আমার আগেই মসজিদে পৌঁছে গেছেন। আমি তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা আল-হাক্কাহ তিলাওয়াত শুরু করলেন। আমি কুরআনের চমৎকার বিন্যাস দেখে বিস্ময়াবিষ্ট হতে থাকলাম। আমি (মনে মনে) বললাম: আল্লাহর কসম, ইনি একজন কবি, যেমনটি কুরাইশরা বলে থাকে। তখন তিনি পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী (৪০) এবং এটি কোনো কবির বাক্য নয়; তোমরা খুব সামান্যই বিশ্বাস করো (৪১)}। আমি বললাম: তবে কি জ্যোতিষী? তিনি পাঠ করলেন: {আর এটি কোনো জ্যোতিষীর বাক্যও নয়; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো (৪২)। এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪৩)। আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো মিথ্যা কথা রচনা করতেন (৪৪), তবে আমরা অবশ্যই ডান হাত দ্বারা তাঁকে পাকড়াও করতাম (৪৫), অতঃপর অবশ্যই তাঁর হৃদপিণ্ডের শিরা কেটে দিতাম (৪৬)। তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না যে তাঁকে রক্ষা করতে পারত (৪৭)। আর নিশ্চয়ই এটি মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশ (৪৮)। আর আমরা অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে অস্বীকারকারী রয়েছে (৪৯)। আর নিশ্চয়ই এটি কাফিরদের জন্য আক্ষেপের কারণ (৫০)। আর নিশ্চয়ই এটি সুনিশ্চিত সত্য (৫১)। অতএব আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন (৫২)} [আল-হাক্কাহ: ৪০ - ৫২]। ফলে ইসলামের প্রভাব আমার অন্তরের প্রতিটি স্থানে গেঁথে গেল।)) (১)।

 

[২] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্যসমূহের মধ্য থেকে, যেখানে তিনি তাঁর ইসলাম গ্রহণ এবং তাঁর ওপর মহান আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন।

((তোমরা কি চাও যে আমি তোমাদের আমার ইসলাম গ্রহণের সূচনা সম্পর্কে জানাই? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি মানুষের মধ্যে অন্যতম কঠোর ছিলাম। একদিন এক তপ্ত দুপুরে আমি...

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ (১০৮) এবং ইবনে আসাকির তারিখু দামেশক (৪৪/২৮)-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
بَعْضِ طُرُقِ مَكَّةَ إِذْ لَقِيَنِي رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ: أَيْنَ تَذْهَبُ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ؟ قُلْتُ: أُرِيدُ هَذَا الَّذِي الَّذِي الَّذِي، قَالَ: عَجَبًا لَكَ تَزْعُمُ أَنَّكَ هَكَذَا، وَقَدْ دَخَلَ عَلَيْكَ هَذَا الْأَمْرُ بَيْتَكَ، قُلْتُ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالَ: أُخْتُكَ قَدْ صَبَتْ، فَرَجَعْتُ مُغْضَبًا، وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ الرَّجُلَ وَالرِّجْلَيْنِ إِذَا أَسْلَمَا عِنْدَ الرَّجُلِ بِهِ قُوَّةٌ يُصِيبَانِ مِنْ طَعَامِهِ، وَقَدْ كَانَ ضَمَّ إِلَى زَوْجِ أُخْتِي رَجُلَيْنِ، فَجِئْتُ حَتَّى قَرَعْتُ الْبَابَ، قَالَ: مَنْ هَذَا؟ قُلْتُ: ابْنُ الْخَطَّابِ، وَكَانُوا يَقْرَءُونَ صَحِيفَةً مَعَهُمْ، فَلَمَّا سَمِعُوا صَوْتِي اخْتَفَوْا وَنَسُوا الصَّحِيفَةَ، فَقَامَتِ الْمَرْأَةُ فَفَتَحَتْ لِي، فَقُلْتُ: يَا عَدُوَّةَ نَفْسِهَا، قَدْ بَلَغَنِي أَنَّكِ صَبَوْتِ، وَأَرْفَعُ شَيْئًا فِي يَدِي فَأَضْرِبَهَا، فَسَالَ الدَّمُ، فَلَمَّا رَأَتِ الدَّمَ بَكَتْ وَقَالَتْ: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، مَا كُنْتَ فَاعِلًا فَافْعَلْ، فَقَدْ أَسْلَمْتُ.

فَجَلَسْتُ عَلَى السَّرِيرِ فَنَظَرْتُ، فَإِذَا بِكِتَابٍ فِي نَاحِيَةِ الْبَيْتِ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟ أَعْطِينِيهِ، قَالَتْ: لَسْتَ مِنْ أَهْلِهِ، إِنَّكَ لَا تَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ، وَلَا تَطْهُرُ، وَهَذَا لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ، فَلَمْ أَزَلْ بِهَا حَتَّى أَعْطِنِيهِ، فَإِذَا فِيهِ: بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، فَلَمَّا مَرَرْتُ بِالرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ذُعِرْتُ وَرَمَيْتُ بِالصَّحِيفَةِ، ثُمَّ رَجَعْتُ فَإِذَا فِيهِ: {سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ}، كُلَّمَا مَرَرْتُ بِاسْمٍ مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ ذُعِرْتُ، ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى نَفْسِي، حَتَّى بَلَغْتُ {آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ
মক্কার কোনো এক পথে কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হলো। সে বলল: "হে খাত্তাবের পুত্র, তুমি কোথায় যাচ্ছ?" আমি বললাম: "আমি সেই ব্যক্তির খোঁজে আছি যে...", সে বলল: "তোমার ব্যাপারে আশ্চর্য লাগে! তুমি মনে করছ তুমি এমন শক্তিশালী, অথচ এই দ্বীন তোমার নিজের ঘরেই ঢুকে পড়েছে।" আমি বললাম: "সেটা কী?" সে বলল: "তোমার বোন পৈতৃক ধর্ম ত্যাগ করেছে।" তখন আমি রাগান্বিত হয়ে ফিরে গেলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো এক বা দুইজন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করতেন, তখন তাদের এমন এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দিতেন যার সামর্থ্য আছে, যাতে তারা তার খাবার থেকে আহার করতে পারে। তিনি আমার ভগ্নিপতির সাথেও দুইজন ব্যক্তিকে যুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমি এসে দরজায় কড়া নাড়লাম। সে বলল: "কে?" আমি বললাম: "খাত্তাবের পুত্র।" তারা তাদের সাথে থাকা একটি সহীফা (লিপি) পাঠ করছিল। যখন তারা আমার কণ্ঠস্বর শুনল, তারা লুকিয়ে পড়ল এবং সহীফাটি নিতে ভুলে গেল। তখন সেই নারী (আমার বোন) উঠে এসে আমার জন্য দরজা খুলে দিল। আমি বললাম: "হে নিজের নফসের শত্রু! আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তুমি পৈতৃক ধর্ম ত্যাগ করেছ।" আমি আমার হাতে থাকা কিছু একটা উঁচিয়ে তাকে আঘাত করলাম, ফলে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। যখন সে রক্ত দেখল, সে কেঁদে ফেলল এবং বলল: "হে খাত্তাবের পুত্র, তোমার যা করার আছে করো, আমি নিশ্চিতভাবেই ইসলাম গ্রহণ করেছি।"

অতঃপর আমি খাটের ওপর বসলাম এবং তাকালাম। দেখলাম ঘরের এক কোণে একটি লিপি পড়ে আছে। আমি বললাম: "এটি কী? এটি আমাকে দাও।" সে বলল: "তুমি এর উপযুক্ত নও। নিশ্চয়ই তুমি জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করো না এবং তুমি পবিত্রও নও; আর এটি কেবল পবিত্ররাই স্পর্শ করে।" আমি তাকে পিড়াপিড়ি করতেই থাকলাম যতক্ষণ না সে আমাকে তা দিল। তাতে লেখা ছিল: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।" যখন আমি 'পরম করুণাময় দয়ালু' শব্দগুলো অতিক্রম করলাম, তখন আমি ভীত হয়ে পড়লাম এবং সহীফাটি ছুড়ে ফেললাম। অতঃপর আমি পুনরায় সেদিকে ফিরে তাকালাম, তাতে ছিল: {আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়}। যতবারই আমি আল্লাহর নামসমূহের মধ্য থেকে কোনো নামের ওপর দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি ভীত হয়ে পড়ছিলাম। অতঃপর আমি নিজেকে সামলে নিলাম, যতক্ষণ না আমি এই আয়াতে পৌঁছালাম: {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো...}
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
وَأَنْفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ فِيهِ فَالَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَأَنْفَقُوا لَهُمْ أَجْرٌ كَبِيرٌ (7) وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا بِرَبِّكُمْ وَقَدْ أَخَذَ مِيثَاقَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [الحديد: 7 - 8]، فَقُلْتُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، فَخَرَجَ الْقَوْمُ يَتَنَادَوْنَ بِالتَّكْبِيرِ اسْتِبْشَارًا بِمَا سَمِعُوا مِنِّي، وَحَمِدُوا اللهَ، وَقَالُوا: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، أَبْشِرْ، فَلَمَّا أَنْ عَرَفُوا مِنِّي الصِّدْقَ قُلْتُ لَهُمْ: أَخْبِرُونِي بِمَكَانِ رَسُولِ اللهِ، قَالُوا: هُوَ فِي بَيْتٍ فِي أَسْفَلِ الصَّفَا، فَخَرَجْتُ حَتَّى قَرَعْتُ الْبَابَ، قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قُلْتُ: ابْنُ الْخَطَّابِ، وَقَدْ عَرَفُوا شِدَّتِي عَلَى رَسُولِ اللهِ، وَلَمْ يَعْلَمُوا إِسْلَامِي.

فَمَا اجْتَرَأَ أَحَدٌ مِنْهُمْ بِفَتْحِ الْبَابِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: ((افْتَحُوا لَهُ، فَإِنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يَهْدِهِ))، فَفَتَحُوا لِي، وَأَخَذَ رَجُلٌ بِعَضُدِي، حَتَّى دَنَوْتُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: ((أَرْسِلُوهُ))، فَأَرْسَلُونِي فَجَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَأَخَذَ بِمَجْمَعِ قَمِيصِي فَجَبَذَنِي إِلَيْهِ وَقَالَ: ((أَسْلِمْ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، اللَّهُمَّ اهْدِهِ))، قُلْتُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللهِ، فَكَبَّرَ الْمُسْلِمُونَ تَكْبِيرَةً سُمِعَتْ بِطُرُقِ مَكَّةَ، وَقَدْ كَانَ اسْتَخْفَى، وَكُنْتُ لَا أَشَاءُ أَنْ أَرَى رَجُلًا إِذَا أَسْلَمَ يُضْرَبُ إِلَّا رَأَيْتُهُ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ قُلْتُ: مَا أُحِبُّ إِلَّا أَنْ يُصِيبَنِي مِمَّا يُصِيبُ الْمُسْلِمِينَ.

فَذَهَبْتُ إِلَى خَالِي، وَكَانَ شَرِيفًا فِيهِمْ، فَقَرَعْتُ عَلَيْهِ الْبَابَ،
আর ব্যয় করো সেই সম্পদ থেকে যাতে তিনি তোমাদের উত্তরাধিকারী করেছেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং ব্যয় করেছে, তাদের জন্য রয়েছে বড় পুরস্কার (৭)। তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনছ না? অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনতে আহ্বান জানাচ্ছেন এবং তিনি ইতিপূর্বেই তোমাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো [আল-হাদিদ: ৭ - ৮]। তখন আমি বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তখন লোকেরা আমার থেকে যা শুনেছে তাতে আনন্দিত হয়ে উচ্চস্বরে তাকবির দিতে দিতে বেরিয়ে এল এবং তারা আল্লাহর প্রশংসা করল ও বলল: হে খাত্তাবের পুত্র, সুসংবাদ গ্রহণ করো। যখন তারা আমার মধ্যে সত্যতা দেখতে পেল, তখন আমি তাদের বললাম: আমাকে আল্লাহর রাসূলের অবস্থান সম্পর্কে জানাও। তারা বলল: তিনি সাফার পাদদেশে একটি ঘরে আছেন। আমি বের হলাম এবং দরজায় কড়া নাড়লাম। বলা হলো: কে? আমি বললাম: খাত্তাবের পুত্র। তারা আল্লাহর রাসূলের প্রতি আমার কঠোরতা সম্পর্কে জানত, কিন্তু আমার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে জানত না।

তাদের কেউ দরজা খোলার সাহস পেল না। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তার জন্য দরজা খুলে দাও; যদি আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ চান, তবে তাকে হেদায়েত দান করবেন।" তখন তারা আমার জন্য দরজা খুলে দিল। একজন লোক আমার বাহু ধরল যতক্ষণ না আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হলাম। তিনি বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও।" তারা আমাকে ছেড়ে দিলে আমি তাঁর সামনে বসলাম। তিনি আমার কামিজের উপরিভাগ ধরে আমাকে নিজের দিকে টানলেন এবং বললেন: "হে খাত্তাবের পুত্র, ইসলাম গ্রহণ করো। হে আল্লাহ, তাকে হেদায়েত দান করুন।" আমি বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন মুসলিমরা এমন জোরে তাকবির দিল যা মক্কার অলিগলিতে শোনা গেল। অথচ তারা তখন আত্মগোপন করে থাকত। আর আমি চাইতাম না যে, ইসলাম গ্রহণের কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রহার করা হবে আর আমি তা দেখব না। যখন আমি তা দেখলাম, তখন বললাম: আমি এটাই পছন্দ করি যে, মুসলিমদের ওপর যা বিপদ আসে, আমার ওপরও যেন তা-ই আসে।

অতঃপর আমি আমার মামার কাছে গেলাম, তিনি তাদের মধ্যে একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন এবং আমি তাঁর দরজায় কড়া নাড়লাম।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
فَقَالَ: مَنْ هَذَا؟ قُلْتُ: ابْنُ الْخَطَّابِ، فَخَرَجَ، فَقُلْتُ: أَشَعَرْتَ أَنِّي قَدْ صَبَوْتُ؟ قَالَ: لَا تَفْعَلْ، قُلْتُ: قَدْ فَعَلْتُ، قَالَ: لَا تَفْعَلْ، وَأَجَافَ الْبَابَ دُونِي، قُلْتُ: مَا هَذَا بِشَيْءٍ، فَخَرَجْتُ حَتَّى جِئْتُ رَجُلًا مِنْ عُظَمَاءِ قُرَيْشٍ، فَقَرَعْتُ الْبَابَ، فَخَرَجَ، فَقُلْتُ: أَشَعَرْتَ أَنِّي قَدْ صَبَوْتُ؟ قَالَ: لَا تَفْعَلْ، قُلْتُ: قَدْ فَعَلْتُ، فَدَخَلَ فَأَجَابَ الْبَابَ، قَالَ: فَانْصَرَفْتُ، فَقَالَ لِي رَجُلٌ: أَتُحِبُّ أَنْ يُعْلَمَ بِإِسْلَامِكَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَإِذَا جَلَسَ النَّاسُ فِي الْحِجْرِ فَائْتِ فُلَانًا، رَجُلًا لَمْ يَكُنْ يَكْتُمُ السِّرَّ، فَأَصْغِ إِلَيْهِ وَقُلْ لَهُ فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ: إِنِّي قَدْ صَبَوْتُ، فَإِنَّهُ سَوْفَ يَظْهَرُ عَلَيْكَ وَيَصِيحُ وَيُعْلِنُهُ، فَلَمَّا اجْتَمَعَ النَّاسُ فِي الْحِجْرِ جِئْتُ إِلَى الرَّجُلِ فَدَنَوْتُ فَأَصْغَيْتُ إِلَيْهِ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَهُ: إِنِّي قَدْ صَبَوْتُ، فَقَالَ: قَدْ صَبَوْتَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، فَرَفَعَ بِأَعْلَى صَوْتِهِ وَقَالَ: أَلَا إِنَّ ابْنَ الْخَطَّابِ قَدْ صَبَا، فَثَابَ إِلَيَّ النَّاسُ فَضَرَبُونِي وَضَرَبْتُهُمْ، فَقَالَ خَالِي: مَا هَذَا؟ فَقِيلَ: ابْنُ الْخَطَّابِ، فَقَامَ عَلَى الْحِجْرِ فَأَشَارَ بِكُمِّهِ: أَلَا إِنِّي قَدْ أَجَرْتُ ابْنَ أُخْتِي، فَانْكَشَفَ النَّاسُ عَنِّي، وَكُنْتُ لَا أَشَاءُ أَنْ أَرَى أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ يُضْرَبُ إِلَّا رَأَيْتُهُ، وَأَنَا لَا أُضْرَبُ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا بِشَيْءٍ حَتَّى يُصِيبَنِي مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمِينَ، وَأَمْهَلْتُ حَتَّى إِذَا جَلَسَ فِي الْحِجْرِ، دَخَلْتُ إِلَى خَالِي قُلْتُ:

اسْمَعْ، قَالَ: مَا أَسْمَعُ؟ قُلْتُ: جِوَارُكَ عَلَيْكَ رَدٌّ، فَقَالَ: لَا تَفْعَلْ يَا ابْنَ أُخْتِي، قُلْتُ: بَلَى هُوَ ذَاكَ،
তিনি বললেন: "এ কে?" আমি বললাম: "ইবনুল খাত্তাব।" তিনি বেরিয়ে এলেন। আমি বললাম: "আপনি কি জানেন যে আমি ধর্ম পরিবর্তন করেছি?" তিনি বললেন: "এমনটা করো না।" আমি বললাম: "আমি তো তা করে ফেলেছি।" তিনি বললেন: "এমনটা করো না" এবং আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। আমি বললাম: "এ তো কিছুই নয়।" তারপর আমি বেরিয়ে কুরাইশদের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে গেলাম। আমি দরজায় করাঘাত করলাম, তিনি বেরিয়ে এলেন। আমি বললাম: "আপনি কি জানেন যে আমি ধর্ম পরিবর্তন করেছি?" তিনি বললেন: "এমনটা করো না।" আমি বললাম: "আমি তো তা করে ফেলেছি।" এরপর তিনি ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। তিনি বললেন: তখন আমি ফিরে যাচ্ছিলাম। এক ব্যক্তি আমাকে বলল: "তুমি কি চাও যে তোমার ইসলাম গ্রহণের কথা সবাই জানুক?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "যখন লোকেরা হিজরে সমবেত হবে, তখন অমুক ব্যক্তির কাছে যেও—যে ব্যক্তি গোপন কথা লুকিয়ে রাখতে পারে না। তার নিকটে গিয়ে নিভৃতে কানে কানে বলো: 'আমি ধর্ম পরিবর্তন করেছি'। তখন সে তোমার ওপর চড়াও হবে এবং চিৎকার করে তা ঘোষণা করে দেবে।" যখন লোকেরা হিজরে সমবেত হলো, আমি সেই লোকটির কাছে গেলাম এবং তার সন্নিকটে গিয়ে নিভৃতে বললাম: "আমি ধর্ম পরিবর্তন করেছি।" সে বলল: "তুমি কি ধর্ম পরিবর্তন করেছ?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তখন সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলল: "শুনে রাখো, ইবনুল খাত্তাব ধর্ম পরিবর্তন করেছে!" তখন লোকেরা আমার দিকে ধাবিত হলো; তারা আমাকে প্রহার করতে লাগল এবং আমিও তাদের প্রহার করতে লাগলাম। তখন আমার মামা বললেন: "এ কী হচ্ছে?" বলা হলো: "ইবনুল খাত্তাব।" তখন তিনি হিজরের ওপর দাঁড়ালেন এবং তার জামার হাতা দিয়ে ইশারা করে বললেন: "শুনে রাখো, আমি আমার ভাগিনাকে আশ্রয় দান করলাম।" ফলে লোকেরা আমার কাছ থেকে সরে গেল। তখন আমি এমনটা চাইতাম না যে কোনো মুসলিমকে প্রহার করা হতে দেখব অথচ আমাকে প্রহার করা হচ্ছে না। আমি বললাম: "যতক্ষণ না মুসলিমরা যা ভোগ করছে তা আমাকে স্পর্শ করছে, ততক্ষণ এই নিরাপত্তার কোনো মূল্য নেই।" আমি অপেক্ষা করলাম, এমনকি যখন তিনি হিজরে বসলেন, আমি আমার মামার কাছে গিয়ে বললাম:

"শুনুন।" তিনি বললেন: "আমি কী শুনব?" আমি বললাম: "আপনার আশ্রয় আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো।" তিনি বললেন: "হে ভাগিনা, এমনটা করো না।" আমি বললাম: "হ্যাঁ, এটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।"
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
قَالَ: مَا شِئْتَ، قَالَ: فَمَا زِلْتُ أَضْرِبُ وَأُضْرَبُ حَتَّى أَعَزَّ اللهُ الْإِسْلَامَ)) (1).

 

‌‌[3] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه لرسول الله صلى الله عليه وسلم بعد إسلامه

((يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَا أَدَعُ مَجْلِسًا جَلَسْتُهُ فِي الْكُفْرِ إِلَّا أَعْلَنْتُ فِيهِ الْإِسْلَامَ)) (2).

 

‌‌[4] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه في هجرته إلى المدينة

((اتعَدْتُّ، لَمَّا أَرَدْنَا الْهِجْرَةَ إلَى الْمَدِينَةِ، أَنَا وعَيَّاش بن أبي ربيعة (3)، وهشام بن العاص بْنِ وَائِلٍ السَّهْمِيُّ (4) التَّناضِبَ مِنْ أَضَاةِ

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في فضائل الصحابة (376) والبيهقي في دلائل النبوة: 2/ 216.

(2) رواه الطبراني في المعجم الأوسط (1293).

(3) عياش بن أبي ربيعة بن المغيرة المخزومي، من المهاجرين الأولين، ذو الهجرتين، ولد له بالحبشة ابنه عبد الله، ثم هاجر هو وعمر بن الخطاب إلى المدينة، كان أخاً لأبي جهل بن هشام لأمه، خرج أبو جهل، والحارث ابنا هشام إلى المدينة فتلطفا له، حتى رجعا به إلى مكة، فكان ممن يعذب في الله مع المستضعفين الذين قنت فيهم النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: ((اللهم أنج عياش بن أبي ربيعة والمستضعفين بمكة)). (معرفة الصحابة لأبي نعيم: 4/ 2226).

(4) هشام بن العاص بن وائل السهمي. كان قديم الإسلام بمكة، وهاجر إلى أرض الحبشة في الهجرة الثانية، ثم قدم مكة حين بلغه مهاجر النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة يريد اللحاق به، فحبسه أبوه وقومه بمكة حتى قدم بعد الخندق على النبي صلى الله عليه وسلم المدينة، فشهد ما بعد =
তিনি বললেন: “তুমি যা চাও।” তিনি বললেন: “অতঃপর আমি ক্রমাগত আঘাত করতে থাকলাম এবং প্রহৃত হতে থাকলাম যতক্ষণ না আল্লাহ ইসলামকে শক্তিশালী ও সম্মানিত করলেন।” (১)।

 

‌‌[৩] ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কিছু উক্তি

“হে আল্লাহর রাসূল, কুফরের অবস্থায় আমি যে মজলিসেই বসেছি, সেখানে অবশ্যই আমি ইসলামের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করব।” (২)।

 

‌‌[৪] মদিনায় হিজরতকালে তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কিছু কথা

“যখন আমরা মদিনায় হিজরত করার সংকল্প করলাম, তখন আমি, আইয়াশ বিন আবি রাবিয়াহ (৩) এবং হিশাম বিন আল-আস বিন ওয়াইল আস-সাহমি (৪) আদাত-এর তানাযিব নামক স্থানে একত্রিত হওয়ার অঙ্গীকার করলাম...

--------------------------------------------

(১) আহমদ এটি ‘ফাযায়িলুস সাহাবা’ (৩৭৬) গ্রন্থে এবং বায়হাকি ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ (২/২১৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(২) তাবারানি এটি ‘আল-মুজামুল আওসাত’ (১২৯৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) আইয়াশ বিন আবি রাবিয়াহ বিন আল-মুগিরা আল-মাখযুমি। তিনি প্রথম যুগের মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত এবং দুই হিজরতের অধিকারী। হাবশায় (আবিসিনিয়ায়) তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি এবং উমর ইবনুল খাত্তাব মদিনায় হিজরত করেন। তিনি ছিলেন আবু জাহল বিন হিশামের বৈমাত্রেয় ভাই (মায়ের দিক থেকে ভাই)। আবু জাহল এবং আল-হারিস ইবনে হিশাম মদিনায় গিয়ে তাঁর সাথে চতুরতা করে তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। তিনি ছিলেন সেই সব দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের আল্লাহর পথে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং যাঁদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনুতে দু’আ করে বলেছিলেন: “হে আল্লাহ, আপনি আইয়াশ বিন আবি রাবিয়াহ এবং মক্কার দুর্বল মুমিনদের মুক্তি দিন।” (আবু নুয়াইম রচিত ‘মা’রিফাতুস সাহাবা’: ৪/২২২৬)।

(৪) হিশাম বিন আল-আস বিন ওয়াইল আস-সাহমি। তিনি মক্কায় ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দ্বিতীয় হিজরতে হাবশা (আবিসিনিয়া) অভিমুখে হিজরত করেন। অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় হিজরতের সংবাদ পান, তখন তাঁর সাথে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মক্কায় ফিরে আসেন। কিন্তু তাঁর পিতা এবং তাঁর গোত্র তাঁকে মক্কায় বন্দি করে রাখে। অবশেষে খন্দকের যুদ্ধের পর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট মদিনায় পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং পরবর্তী সকল অভিযানে অংশগ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
بَنِي غِفَارٍ، فَوْقَ سَرِف وَقُلْنَا: أَيُّنَا لَمْ يُصْبِحْ عِنْدَهَا فَقَدْ حُبس فَلْيَمْضِ صَاحِبَاهُ. قَالَ: فَأَصْبَحْتُ أَنَا وَعَيَّاشُ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ عِنْدَ التَّناضِب، وحُبسَ عنَّا هشامٌ، وفُتن فافتتن.

فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ نَزَلْنَا فِي بَنِي عَمرو بْنِ عَوْفٍ بقُباء، وَخَرَجَ أَبُو جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ وَالْحَارِثُ بْنُ هِشَامٍ إلَى عَيَّاش بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، وَكَانَ ابْنَ عَمِّهِمَا وَأَخَاهُمَا لِأُمِّهِمَا، حَتَّى قَدِمَا عَلَيْنَا الْمَدِينَةَ وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ، فَكَلَّمَاهُ وَقَالَا: إنَّ أمَّك قَدْ نَذَرَتْ أَنْ لَا يَمس رأسَها مُشط حَتَّى تَرَاكَ، وَلَا تَسْتَظِلَّ مِنْ شَمْسٍ حَتَّى تَرَاكَ، فرقَّ لَهَا، فَقُلْتُ لَهُ: يَا عَيَّاشُ، إنَّهُ وَاَللهِ إنْ يُرِيدَكَ الْقَوْمُ إلَّا لِيَفْتِنُوكَ عَنْ دِينِكَ فاحذرْهم، فَوَاَللهِ لَوْ قَدْ آذَى أمَّك القملُ لَامْتَشَطَتْ، وَلَوْ قَدْ اشْتَدَّ عَلَيْهَا حرُّ مَكَّةَ لَاسْتَظَلَّتْ. قَالَ: فَقَالَ: أَبَرُّ قَسَمَ أُمِّي، وَلِي هُنَالِكَ مَالٌ فَآخُذُهُ. قَالَ: فَقُلْتُ: وَاللهِ إنَّكَ لَتَعْلَمُ أَنِّي لَمِنْ أَكْثَرِ قُرَيْشٍ مَالًا، فَلَكَ نِصْفُ مَالِي وَلَا تَذْهَبْ مَعَهُمَا. قَالَ: فَأَبَى عَلَيَّ إلَّا أَنْ يَخْرُجَ مَعَهُمَا؛ فَلَمَّا أَبَى إلَّا ذَلِكَ؛ قَالَ: قُلْتُ لَهُ: أَمَّا إذْ قَدْ فَعَلْتَ مَا فَعَلْتَ، فَخُذْ نَاقَتِي هَذِهِ، فَإِنَّهَا نَاقَةٌ نَجِيبَةٌ ذَلُولٌ، فَالْزَمْ ظهرَها، فَإِنْ رَابَكَ مِنْ الْقَوْمِ ريْب، فانجُ عَلَيْهَا.

--------------------------------------------

= ذلك من المشاهد، وكان أصغر سناً من أخيه عمرو بن العاص وليس له عقب. (الطبقات الكبرى: 4/ 191).
বনু গিফার (গোত্র), সারিফের উপরে। আমরা বললাম: আমাদের মধ্যে যে কেউ ভোরের মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে পারবে না, সে অবরুদ্ধ (আটকা পড়েছে) বলে গণ্য হবে এবং তার অন্য দুই সঙ্গী যেন এগিয়ে যায়। তিনি বললেন: আমি এবং আইয়াশ বিন আবি রাবিয়া ভোরে তানাযিব নামক স্থানে পৌঁছলাম। কিন্তু হিশাম আমাদের থেকে পিছিয়ে পড়ল, তাকে ফেতনায় ফেলা হলো এবং সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল।

যখন আমরা মদিনায় পৌঁছলাম, আমরা কুবাতে বনু আমর বিন আউফের নিকট অবস্থান নিলাম। অতঃপর আবু জাহল বিন হিশাম এবং হারিস বিন হিশাম আইয়াশ বিন আবি রাবিয়ার সন্ধানে বের হলো—সে ছিল তাদের চাচাতো ভাই এবং সহোদর (একই মায়ের গর্ভজাত) ভাই। এমনকি তারা মদিনায় আমাদের কাছে এসে পৌঁছাল, তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় ছিলেন। তারা তার (আইয়াশের) সাথে কথা বলল এবং বলল: "তোমার মা মানত করেছেন যে, তোমাকে না দেখা পর্যন্ত তিনি মাথায় চিরুনি ছোঁয়াবেন না এবং তোমাকে না দেখা পর্যন্ত রোদে ছায়া গ্রহণ করবেন না।" এতে তার মন নরম হয়ে গেল। আমি তাকে বললাম: "হে আইয়াশ! আল্লাহর কসম, এই লোকগুলো তোমাকে তোমার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার জন্য ফেতনায় ফেলা ছাড়া আর কিছুই চায় না, তাই তাদের থেকে সতর্ক থাকো। আল্লাহর কসম, যদি উকুন তোমার মাকে কষ্ট দিত, তবে তিনি অবশ্যই চিরুনি ব্যবহার করতেন এবং মক্কার গরম যদি তার জন্য অসহনীয় হতো, তবে তিনি অবশ্যই ছায়া নিতেন।" আইয়াশ বললেন: "আমি আমার মায়ের শপথ পূর্ণ করতে চাই, আর সেখানে আমার কিছু সম্পদও আছে যা আমি নিয়ে আসব।" উমর (রা.) বললেন: আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, তুমি জানো যে আমি কুরাইশদের মধ্যে অন্যতম সম্পদশালী ব্যক্তি, তোমার জন্য আমার অর্ধেক সম্পদ রইল, তবুও তুমি তাদের সাথে যেয়ো না।" তিনি বললেন: কিন্তু সে তাদের সাথে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হলো না। যখন সে যেতেই চাইল, তখন আমি তাকে বললাম: "যেহেতু তুমি যা করার তা করছই, তবে আমার এই উটটি নিয়ে নাও, এটি একটি উচ্চবংশীয় ও অনুগত উট। এর পিঠ আঁকড়ে থেকো, আর যদি তুমি লোকগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আশঙ্কার আঁচ পাও, তবে এর পিঠে চড়ে পালিয়ে এসো।"

--------------------------------------------

= এটি যুদ্ধাভিযানগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তিনি তার ভাই আমর বিন আস অপেক্ষা বয়সে ছোট ছিলেন এবং তার কোনো বংশধর ছিল না। (আত-তাবাকাতুল কুবরা: ৪/১৯১)।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فَخَرَجَ عَلَيْهَا مَعَهُمَا، حَتَّى إذَا كَانُوا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ، قَالَ لَهُ أَبُو جَهْلٍ: يا ابن أَخِي، وَاَللهِ لَقَدْ استغلظتُ بَعِيرِي هَذَا، أَفَلَا تُعْقِبني عَلَى نَاقَتِكَ هَذِهِ؟ قَالَ: بلَى. قَالَ: فَأَنَاخَ، وَأَنَاخَا لِيَتَحَوَّلَ عَلَيْهَا، فَلَمَّا استَوَوْا بِالْأَرْضِ عدَوَا عَلَيْهِ، فَأَوْثَقَاهُ وَرَبَطَاهُ ثُمَّ دَخَلَا بِهِ مَكَّةَ، وَفَتَنَاهُ فافتُتن)) (1).

 

‌‌[5] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه في أمر أزواج النبي صلى الله عليه وسلم -

((إِنِّي كُنْتُ وَجَارٌ لِي مِنَ الأَنْصَارِ فِي بَنِي أُمَيَّةَ بْنِ زَيْدٍ، وَهِيَ مِنْ عَوَالِي المَدِينَةِ، وَكُنَّا نَتَنَاوَبُ النُّزُولَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَيَنْزِلُ يَوْمًا وَأَنْزِلُ يَوْمًا، فَإِذَا نَزَلْتُ جِئْتُهُ مِنْ خَبَرِ ذَلِكَ اليَوْمِ مِنَ الأَمْرِ وَغَيْرِهِ، وَإِذَا نَزَلَ فَعَلَ مِثْلَهُ، وَكُنَّا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ نَغْلِبُ النِّسَاءَ، فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى الأَنْصَارِ إِذَا هُمْ قَوْمٌ تَغْلِبُهُمْ نِسَاؤُهُمْ، فَطَفِقَ نِسَاؤُنَا يَاخُذْنَ مِنْ أَدَبِ نِسَاءِ الأَنْصَارِ، فَصِحْتُ عَلَى امْرَأَتِي، فَرَاجَعَتْنِي، فَأَنْكَرْتُ أَنْ تُرَاجِعَنِي، فَقَالَتْ: وَلِمَ تُنْكِرُ أَنْ أُرَاجِعَكَ، فَوَاللهِ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ليُرَاجِعْنَهُ، وَإِنَّ إِحْدَاهُنَّ لَتَهْجُرُهُ اليَوْمَ حَتَّى اللَّيْلِ،

--------------------------------------------

(1) رواه ابن إسحاق كما في السيرة النبوية لابن هشام: 1/ 474 وابن سعد في الطبقات الكبرى: 3/ 271 والبزار في البحر الزخار (155) وابن شبة في تاريخ المدينة: 2/ 663 والنجاد في مسند عمر بن الخطاب: ص96 والبيهقي في السنن الكبرى (17756) وابن عساكر في تاريخ دمشق: 47/ 242 و74/ 17.
অতঃপর তিনি তাদের সাথে সেটির পিঠে চড়ে বের হলেন। যখন তারা পথের কিছুটা পথ অতিক্রম করলেন, আবু জাহল তাকে বলল: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আল্লাহর কসম, আমি আমার এই উটটিকে বেশ মন্থর অনুভব করছি, তুমি কি আমাকে তোমার এই উটনীর পিঠে তোমার পেছনে বসাবে না? তিনি বললেন: অবশ্যই। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি উটনীটিকে বসালেন এবং তারাও তাদের উটগুলোকে বসাল যেন তিনি তার ওপর চড়ে বসতে পারেন। যখন তারা মাটিতে স্থির হলেন, তখন তারা দুজন তার ওপর চড়াও হলেন এবং তাকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেললেন। এরপর তারা তাকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং তাকে ফিতনায় ফেললেন, ফলে তিনি ফিতনায় পতিত হলেন)) (১)।

 

‌‌[৫] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণের বিষয়ে তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বক্তব্য থেকে -

((আমি এবং মদীনার উচ্চভূমি এলাকার বনূ উমাইয়্যাহ ইবনে যায়দ গোত্রে বসবাসকারী আমার এক আনসারী প্রতিবেশী—আমরা পালাক্রমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যেতাম। তিনি একদিন যেতেন এবং আমি একদিন যেতাম। আমি যেদিন যেতাম, সেদিনকার ওহী বা অন্য খবরাখবর নিয়ে তাঁর নিকট থেকে ফিরে আসতাম, আর তিনি যখন যেতেন তখন তিনিও অনুরূপ করতেন। আমরা কুরাইশরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল ছিলাম। কিন্তু যখন আমরা আনসারদের নিকট আসলাম, তখন দেখলাম তারা এমন এক জাতি যাদের ওপর তাদের নারীরা কর্তৃত্ব করে। ফলে আমাদের নারীরাও আনসারী নারীদের স্বভাব ও আচার-আচরণ গ্রহণ করতে শুরু করল। একদা আমি আমার স্ত্রীর ওপর চিৎকার করলাম, তখন সে আমাকে পাল্টা জবাব দিল। তার এভাবে পাল্টা জবাব দেওয়াকে আমি অপছন্দ করলাম। তখন সে বলল: আমি আপনাকে পাল্টা জবাব দিচ্ছি বলে আপনি অপছন্দ করছেন কেন? আল্লাহর কসম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণও তাঁকে পাল্টা জবাব দিয়ে থাকেন এবং তাঁদের কেউ কেউ তো সারাদিন রাত পর্যন্ত তাঁর সাথে কথাবার্তা বন্ধ রাখেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে ইসহাক, যেমনটি রয়েছে ইবনে হিশামের আস-সীরাহ আন-নববিয়্যাহ: ১/৪৭৪-এ; ইবনে সা'দ আত-তাবাকাত আল-কুবরা: ৩/২৭১-এ; আল-বাযযার আল-বাহরুজ যাখখার (১৫৫)-এ; ইবনে শাব্বাহ তারিখুল মদীনা: ২/৬৬৩-এ; আন-নাজ্জাদ মুসনাদে উমর ইবনুল খাত্তাব: পৃষ্ঠা ৯৬-এ; আল-বায়হাকী আস-সুনান আল-কুবরা (১৭৭৫৬)-এ; এবং ইবনে আসাকির তারিখু দামেশক: ৪৭/২৪২ ও ৭৪/১৭-এ।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فَأَفْزَعَنِي، فَقُلْتُ: خَابَتْ مَنْ فَعَلَ مِنْهُنَّ بِعَظِيمٍ، ثُمَّ جَمَعْتُ عَلَيَّ ثِيَابِي، فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ، فَقُلْتُ: أَيْ حَفْصَةُ أَتُغَاضِبُ إِحْدَاكُنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اليَوْمَ حَتَّى اللَّيْلِ؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ، فَقُلْتُ: خَابَتْ وَخَسِرَتْ أَفَتَامَنُ أَنْ يَغْضَبَ اللهُ لِغَضَبِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، فَتَهْلِكِينَ لَا تَسْتَكْثِرِي عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَا تُرَاجِعِيهِ فِي شَيْءٍ، وَلَا تَهْجُرِيهِ، وَاسْأَلِينِي مَا بَدَا لَكِ، وَلَا يَغُرَّنَّكِ أَنْ كَانَتْ جَارَتُكِ هِيَ أَوْضَأَ مِنْكِ، وَأَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُرِيدُ عَائِشَةَ - وَكُنَّا تَحَدَّثْنَا أَنَّ غَسَّانَ تُنْعِلُ النِّعَالَ لِغَزْوِنَا، فَنَزَلَ صَاحِبِي يَوْمَ نَوْبَتِهِ فَرَجَعَ عِشَاءً، فَضَرَبَ بَابِي ضَرْبًا شَدِيدًا،

وَقَالَ: أَنَائِمٌ هُوَ، فَفَزِعْتُ، فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ، وَقَالَ: حَدَثَ أَمْرٌ عَظِيمٌ، قُلْتُ: مَا هُوَ؟ أَجَاءَتْ غَسَّانُ؟ قَالَ: لَا، بَلْ أَعْظَمُ مِنْهُ وَأَطْوَلُ طَلَّقَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ، قَالَ: قَدْ خَابَتْ حَفْصَةُ وَخَسِرَتْ، كُنْتُ أَظُنُّ أَنَّ هَذَا يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ، فَجَمَعْتُ عَلَيَّ ثِيَابِي، فَصَلَّيْتُ صَلَاةَ الفَجْرِ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَدَخَلَ مَشْرُبَةً لَهُ، فَاعْتَزَلَ فِيهَا، فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ، فَإِذَا هِيَ تَبْكِي، قُلْتُ: مَا يُبْكِيكِ؟ أَوَلَمْ أَكُنْ حَذَّرْتُكِ، أَطَلَّقَكُنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: لَا أَدْرِي هُوَ ذَا فِي المَشْرُبَةِ، فَخَرَجْتُ، فَجِئْتُ المِنْبَرَ، فَإِذَا حَوْلَهُ رَهْطٌ يَبْكِي بَعْضُهُمْ، فَجَلَسْتُ مَعَهُمْ قَلِيلًا، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَجِدُ، فَجِئْتُ المَشْرُبَةَ الَّتِي هُوَ فِيهَا، فَقُلْتُ لِغُلَامٍ لَهُ أَسْوَدَ:
এটি আমাকে আতঙ্কিত করল, আমি বললাম: তাদের মধ্যে যে এই বড় কাজটি করেছে সে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর আমি আমার কাপড় গুছিয়ে নিলাম এবং হাফসার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম: হে হাফসা, তোমাদের কেউ কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিন থেকে রাত পর্যন্ত রাগান্বিত করে রাখো? সে বলল: হ্যাঁ। আমি বললাম: সে তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুমি কি এই বিষয়ে নিরাপদ বোধ করছো যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাগের কারণে আল্লাহ রাগান্বিত হবেন, আর ফলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বেশি আবদার করো না, কোনো বিষয়ে তাঁকে পাল্টা জবাব দিও না এবং তাঁর সাথে কথাবার্তা বন্ধ করো না। তোমার যা কিছু প্রয়োজন তা আমার কাছে চেয়ে নিও। আর তোমার প্রতিবেশিনী (সতীন) তোমার চেয়ে অধিক রূপসী এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অধিক প্রিয়—এ বিষয়টি যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে (তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে উদ্দেশ্য করছিলেন)। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম যে, গাসসান গোত্র আমাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য তাদের ঘোড়াগুলোকে প্রস্তুত করছে। আমার সঙ্গী তার পালার দিনে নিচে গিয়েছিল এবং এশার সময় ফিরে এল। সে আমার দরজায় অত্যন্ত জোরে করাঘাত করল,

এবং বলল: তিনি কি ঘুমিয়ে আছেন? আমি আতঙ্কিত হয়ে তার কাছে বেরিয়ে এলাম। সে বলল: এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে! আমি বললাম: সেটা কী? গাসসান কি এসে পড়েছে? সে বলল: না, বরং তার চেয়েও বড় এবং ভয়াবহ ঘটনা; আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। তিনি (উমর) বললেন: হাফসা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে! আমি ধারণা করছিলাম যে শীঘ্রই এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। এরপর আমি আমার কাপড় পরে নিলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজরের সালাত আদায় করলাম। তিনি তাঁর একটি উঁচু কামরায় প্রবেশ করে সেখানে নির্জনে অবস্থান নিলেন। আমি হাফসার কাছে প্রবেশ করলাম, দেখলাম সে কাঁদছে। আমি বললাম: তুমি কেন কাঁদছ? আমি কি তোমাকে আগেই সতর্ক করিনি? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের তালাক দিয়েছেন? সে বলল: আমি জানি না, তিনি ওই যে উঁচু কামরায় আছেন। এরপর আমি বেরিয়ে মিম্বরের কাছে এলাম, সেখানে একদল লোক দেখতে পেলাম যাদের কেউ কেউ কাঁদছিল। আমি কিছুক্ষণ তাদের সাথে বসলাম, এরপর আমার মনের অস্থিরতা বেড়ে গেল। তাই আমি সেই উঁচু কামরার কাছে এলাম যেখানে তিনি ছিলেন। আমি তাঁর এক কৃষ্ণাঙ্গ গোলামকে বললাম:
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
اسْتَاذِنْ لِعُمَرَ، فَدَخَلَ، فَكَلَّمَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ: ذَكَرْتُكَ لَهُ، فَصَمَتَ، فَانْصَرَفْتُ، حَتَّى جَلَسْتُ مَعَ الرَّهْطِ الَّذِينَ عِنْدَ المِنْبَرِ، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَجِدُ، فَجِئْتُ، فَذَكَرَ مِثْلَهُ، فَجَلَسْتُ مَعَ الرَّهْطِ الَّذِينَ عِنْدَ المِنْبَرِ، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَجِدُ، فَجِئْتُ الغُلَامَ فَقُلْتُ: اسْتَاذِنْ لِعُمَرَ، فَذَكَرَ مِثْلَهُ، فَلَمَّا وَلَّيْتُ مُنْصَرِفًا، فَإِذَا الغُلَامُ يَدْعُونِي قَالَ: أَذِنَ لَكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ، فَإِذَا هُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى رِمَالِ حَصِيرٍ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ فِرَاشٌ، قَدْ أَثَّرَ الرِّمَالُ بِجَنْبِهِ مُتَّكِئٌ عَلَى وِسَادَةٍ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ،

فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ قُلْتُ وَأَنَا قَائِمٌ: طَلَّقْتَ نِسَاءَكَ، فَرَفَعَ بَصَرَهُ إِلَيَّ، فَقَالَ: ((لَا))، ثُمَّ قُلْتُ وَأَنَا قَائِمٌ: أَسْتَانِسُ يَا رَسُولَ اللهِ، لَوْ رَأَيْتَنِي وَكُنَّا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ نَغْلِبُ النِّسَاءَ، فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى قَوْمٍ تَغْلِبُهُمْ نِسَاؤُهُمْ، فَذَكَرَهُ فَتَبَسَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قُلْتُ: لَوْ رَأَيْتَنِي، وَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ، فَقُلْتُ: لَا يَغُرَّنَّكِ أَنْ كَانَتْ جَارَتُكِ هِيَ أَوْضَأَ مِنْكِ، وَأَحَبَّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُرِيدُ عَائِشَةَ -، فَتَبَسَّمَ أُخْرَى، فَجَلَسْتُ حِينَ رَأَيْتُهُ تَبَسَّمَ، ثُمَّ رَفَعْتُ بَصَرِي فِي بَيْتِهِ، فَوَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ فِيهِ شَيْئًا يَرُدُّ البَصَرَ غَيْرَ أَهَبَةٍ ثَلَاثَةٍ، فَقُلْتُ: ادْعُ اللهَ فَلْيُوَسِّعْ عَلَى أُمَّتِكَ، فَإِنَّ فَارِسَ وَالرُّومَ وُسِّعَ عَلَيْهِمْ، وَأُعْطُوا الدُّنْيَا وَهُمْ لَا يَعْبُدُونَ اللهَ، وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ: ((أَوَفِي شَكٍّ أَنْتَ يَا ابْنَ الخَطَّابِ؟! أُولَئِكَ قَوْمٌ عُجِّلَتْ لَهُمْ طَيِّبَاتُهُمْ فِي الحَيَاةِ الدُّنْيَا))، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ
"উমরের জন্য অনুমতি চাও।" সে ভেতরে গেল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলল। এরপর সে বের হয়ে এসে বলল: "আমি আপনার কথা তাঁর কাছে উল্লেখ করেছি, কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন।" ফলে আমি ফিরে গেলাম এবং মিম্বারের কাছে বসা দলটির সাথে গিয়ে বসলাম। পুনরায় আমার মনের অবস্থা আমাকে তাড়িত করল, তাই আমি আবার আসলাম। সে (বালকটি) আগের মতোই কথা বলল। আমি আবারও মিম্বারের নিকটবর্তী দলটির সাথে বসলাম। আবারও আমার মনের অবস্থা আমাকে অস্থির করে তুলল। আমি বালকের কাছে এসে বললাম: "উমরের জন্য অনুমতি চাও।" সে আবারও আগের মতোই উত্তর দিল। যখন আমি ফিরে যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ বালকটি আমাকে ডাকল এবং বলল: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।" আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম তিনি একটি খসখসে চাটাইয়ের ওপর শুয়ে আছেন, তাঁর ও চাটাইয়ের মাঝে কোনো বিছানা নেই। চাটাইয়ের বুনন তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ ফেলে দিয়েছে। তিনি একটি চামড়ার বালিশে হেলান দিয়ে আছেন, যার ভেতরে খেজুর গাছের আঁশ ভরা ছিল।

আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বললাম: "আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন?" তিনি তাঁর দৃষ্টি আমার দিকে তুললেন এবং বললেন: "না।" তখন আমি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই আরজ করলাম: "হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি আমাকে দেখতেন! আমরা কুরাইশরা নারীদের ওপর কর্তৃত্ব করতাম। কিন্তু যখন আমরা মদিনায় এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসলাম যাদের ওপর তাদের নারীরাই কর্তৃত্ব করে।" উমর (রা.) বিষয়টি আলোচনা করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। এরপর আমি বললাম: "আপনি যদি আমাকে দেখতেন! আমি হাফসার ঘরে প্রবেশ করে বললাম: তোমার সতিন তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অধিক প্রিয় হওয়ার বিষয়টি যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে—তিনি আয়েশাকে (রা.) বুঝাচ্ছিলেন।" এতে তিনি পুনরায় মুচকি হাসলেন। যখন আমি তাঁকে হাসতে দেখলাম, তখন আমি বসলাম। অতঃপর আমি তাঁর ঘরে দৃষ্টিপাত করলাম। আল্লাহর কসম! সেখানে তিনটি পশমহীন চামড়া ব্যতীত দৃষ্টি আটকে যাওয়ার মতো আর কিছুই আমি দেখতে পেলাম না। তখন আমি আরজ করলাম: "আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনার উম্মতের জন্য রিযিক প্রশস্ত করে দেন। কেননা পারস্য ও রোমবাসীদের প্রাচুর্য দান করা হয়েছে এবং তাদের দুনিয়া দেওয়া হয়েছে, অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত করে না।" তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, অতঃপর বললেন: "হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি এখনো সংশয়ে আছ? তারা তো এমন এক জাতি যাদের যাবতীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পার্থিব জীবনেই দ্রুত দিয়ে দেওয়া হয়েছে।" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল!..."
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
اللهِ، اسْتَغْفِرْ لِي، فَاعْتَزَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ الحَدِيثِ حِينَ أَفْشَتْهُ حَفْصَةُ إِلَى عَائِشَةَ، وَكَانَ قَدْ قَالَ: ((مَا أَنَا بِدَاخِلٍ عَلَيْهِنَّ شَهْرًا)) مِنْ شِدَّةِ مَوْجِدَتِهِ عَلَيْهِنَّ حِينَ عَاتَبَهُ الله، فَلَمَّا مَضَتْ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ، دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ، فَبَدَأَ بِهَا، فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ: إِنَّكَ أَقْسَمْتَ أَنْ لَا تَدْخُلَ عَلَيْنَا شَهْرًا، وَإِنَّا أَصْبَحْنَا لِتِسْعٍ وَعِشْرِينَ لَيْلَةً أَعُدُّهَا عَدًّا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ))، وَكَانَ ذَلِكَ الشَّهْرُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ)) (1).

 

‌‌[6] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه في موافقاته لربه عز وجل

((وَافَقْتُ رَبِّي عز وجل فِي ثَلَاثٍ، أَوْ وَافَقَنِي رَبِّي فِي ثَلَاثٍ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَوِ اتَّخَذْتَ الْمَقَامَ مُصَلًّى، فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} [البقرة: 125]، وَقُلْتُ: لَوْ حَجَبْتَ عَنْ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَإِنَّهُ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ، فَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ، وَبَلَغَنِي عَنْ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ شَيْءٌ فَاسْتَقْرَيْتُهُنَّ أَقُولُ لَهُنَّ: لَتَكُفُّنَّ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ لَيُبْدِلَنَّهُ اللهُ بِكُنَّ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ، حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَتْ: يَا عُمَرُ، أَمَا

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه (2468) ومسلم في صحيحه (1479) والترمذي في السنن (3318) وأحمد في المسند (222) وابن حبان في صحيحه (4187) و (4268)
আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। হাফসা যখন আয়েশার কাছে সেই কথাটি প্রকাশ করে দিলেন, তখন সেই কথার কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের থেকে আলাদা হয়ে থাকলেন। তিনি বলেছিলেন: ((আমি এক মাস তাদের নিকট প্রবেশ করব না।)) যখন আল্লাহ তাঁকে অনুযোগ করলেন, তখন তাদের প্রতি তাঁর তীব্র ক্ষোভের কারণে তিনি এমনটি করেছিলেন। অতঃপর যখন ঊনত্রিশ দিন পার হলো, তিনি আয়েশার কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই শুরু করলেন। তখন আয়েশা তাঁকে বললেন: আপনি তো কসম করেছিলেন যে এক মাস আমাদের নিকট প্রবেশ করবেন না, অথচ আমরা ঊনত্রিশতম রাতে উপনীত হয়েছি, যা আমি এক এক করে গণনা করছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ((মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়।)) আর সেই মাসটি ঊনত্রিশ দিনেরই ছিল। (১)।

 

‌‌[৬] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্যসমূহ থেকে, যা তাঁর মহান রবের নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছিল

((আমি আমার মহান রবের সাথে তিনটি বিষয়ে একমত হয়েছি, অথবা আমার রব আমার সাথে তিনটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসুল, যদি আপনি মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতেন! অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো} [আল-বাকারা: ১২৫]। আর আমি বলেছিলাম: যদি আপনি মুমিনদের মাতাদের পর্দার আড়ালে রাখার ব্যবস্থা করতেন, কারণ আপনার নিকট নেককার ও বদকার উভয়ই প্রবেশ করে। অতঃপর পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হলো। আর মুমিনদের মাতাদের পক্ষ থেকে একটি বিষয় আমার নিকট পৌঁছালো, তখন আমি তাদের প্রত্যেকের নিকট গিয়ে বলতে লাগলাম: হয় তোমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, নতুবা আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের পরিবর্তে তাঁকে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। এমনকি যখন আমি মুমিনদের মাতাদের একজনের নিকট আসলাম, তখন তিনি বললেন: হে উমর, তবে কি...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২৪৬৮), মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১৪৭৯), তিরমিজি সুনানে (৩৩১৮), আহমাদ মুসনাদে (২২২) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪১৮৭) ও (৪২৬৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
فِي رَسُولِ اللهِ مَا يَعِظُ نِسَاءَهُ، حَتَّى تَعِظَهُنَّ أَنْتَ؟ فَكَفَفْتُ، فَأَنْزَلَ اللهُ عز وجل: {عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا} [التحريم: 5])) (1).

 

‌‌[7] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه لرسول الله صلى الله عليه وسلم -

وقد ذكر له النبي صلى الله عليه وسلم أنه رأى في الجنة قصراً له وصرفه عن دخوله ما عَلِمَه من غيرته.

((بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللهِ أَوَ عَلَيْكَ أَغَارُ)) (2).

 

‌‌[8] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه للعباس بن عبد المطلب رضي الله عنه -

((مَهْلًا يَا عبّاس، فوالله لَإِسْلَامُكَ يَوْمَ أَسْلَمْتَ كَانَ أَحَبَّ إلَيَّ مِنْ إسْلَامِ الْخَطَّابِ لَوْ أَسْلَمَ، وَمَا بِي إلَّا أَنِّي قَدْ عَرَفْتُ أَنَّ إسْلَامَكَ كَانَ أَحَبَّ إلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إسْلَامِ الْخَطَّابِ لَوْ أَسْلَمَ)) (3).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه (402) و (4483) ومسلم في صحيحه (2399) مختصراً وأحمد في المسند (160) واللفظ له، والدارمي في السنن (1891) وابن حبان في صحيحه (6896).

(2) رواه البخاري في صحيحه (3679) ومسلم في صحيحه (2394) والترمذي في السنن (3688) وأحمد في المسند (15002) و (15189) وابن الجعد في المسند (2904) وابن حبان في صحيحه (54).

(3) رواه ابن إسحاق في السيرة النبوية لابن هشام: 2/ 403 والطحاوي في شرح معاني الآثار =
আল্লাহর রাসুলের কি এমন কিছু নেই যা তাঁর স্ত্রীদের উপদেশ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, যে তোমাকেই তাদের উপদেশ দিতে হবে? তখন আমি বিরত হলাম। এরপর মহিয়ান ও গরিয়ান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {যদি তিনি তোমাদের সকলকে তালাক দেন, তবে তাঁর প্রতিপালক তাকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করবেন—যারা হবে মুসলিম, মুমিন, অনুগত, তওবাকারী, ইবাদতকারী, রোজা পালনকারী, অকুমারী এবং কুমারী} [সূরা আত-তাহরীম: ৫])) (১)।

 

‌‌[৭] আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কিছু কথা -

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি জান্নাতে তাঁর একটি প্রাসাদ দেখেছেন, কিন্তু তাঁর (উমারের) আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে তিনি তাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকেন।

((হে আল্লাহর রাসুল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক! আমি কি আপনার প্রতিও ঈর্ষা বা আত্মমর্যাদাবোধ পোষণ করব?)) (২)।

 

‌‌[৮] আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কিছু কথা -

((থামুন হে আব্বাস! আল্লাহর শপথ, আপনি যেদিন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আপনার সেই ইসলাম গ্রহণ করা আমার কাছে খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ করার চেয়েও বেশি প্রিয় ছিল—যদি সে ইসলাম গ্রহণ করত। এর কারণ এই ছাড়া আর কিছু নয় যে, আমি জেনেছিলাম আপনার ইসলাম গ্রহণ করা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ করার চেয়েও অধিক প্রিয় ছিল—যদি সে ইসলাম গ্রহণ করত।)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪০২) ও (৪৪৮৩), মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২৩৯৯) সংক্ষেপে, আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (১৬০) এবং শব্দাবলি তাঁরই, দারেমি তাঁর সুনান গ্রন্থে (১৮৯১) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৬৮৯৬) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৩৬৭৯), মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২৩৯৪), তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে (৩৬৮৮), আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (১৫০০২) ও (১৫১৮৯), ইবনুল জাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (২৯০৪) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৫৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি ইবনে ইসহাক ইবনে হিশামের আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ: ২/৪০৩ এবং ত্বহাবি শারহু মাআনিল আসার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন =
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌[9] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

عن عطاء النبي صلى الله عليه وسلم لمن سأله بفُحش وغِلظة

((قَسَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَسْمًا، فَقُلْتُ: وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ، لَغَيْرُ هَؤُلَاءِ كَانَ أَحَقَّ بِهِ مِنْهُمْ (1)، قَالَ: ((إِنَّهُمْ خَيَّرُونِي أَنْ يَسْأَلُونِي بِالْفُحْشِ أَوْ يُبَخِّلُونِي، فَلَسْتُ بِبَاخِلٍ (2))) (3).

 

‌‌[10] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

يذكر فيه النبي صلى الله عليه وسلم
-

((كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ شَيْءٍ ثَلاثَ مَرَّاتٍ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، فَقُلْتُ لِنَفْسِي: ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، نَزَرْتَ (4) رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاثَ مَرَّاتٍ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْكَ، فَرَكِبْتُ

--------------------------------------------

= (5450) والطبراني في المعجم الكبير (7264) والضياء المقدسي في الأحاديث المختارة (144) والبيهقي في دلائل النبوة: 5/ 34 وابن عساكر في تاريخ دمشق: 23/ 449.

(1) في مسند أحمد: (لَغَيْرُ هَؤُلاءِ أَحَقُّ مِنْهُمْ: أَهْلُ الصُّفَّةِ).

(2) قال القاضي عياض في (إكمال المعلم: 3/ 594): (معناه: أنه اشتطوا عليه في المسألة، التي تقتضي إن أجابهم إليها حابهم، وإن منعهم آذوه وبخَّلوه، فاختار عليه السلام إعطاءهم، إذ ليس البُخل من طباعه، ومداراةً لهم وتآلفاً كما قال عليه السلام: (إنَّ شر الناس من اتقاه الناس لشره)، كما أُمر بإعطائه المؤلفة قلوبهم).

(3) رواه مسلم في صحيحه (1056) وأحمد في المسند (127) والخطيب البغدادي في البخلاء (11).

(4) نزرت فلاناً: إذا ألححت عليه في السؤال. (جامع الأصول لابن الأثير - (806)).
[৯] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বাণী থেকে

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই দান প্রসঙ্গে, যা তিনি অশ্লীল ও কর্কশভাবে আবেদনকারীকে প্রদান করেছিলেন

((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সম্পদ বণ্টন করলেন। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এরা ছাড়া অন্যরাই তো তাদের চেয়ে এর অধিক হকদার ছিল (১)। তিনি বললেন: ((তারা আমাকে এই ইখতিয়ারের (পছন্দের) সামনে দাঁড় করিয়েছিল যে, হয় তারা অশ্লীলতার সাথে আমার কাছে যাচনা করবে, অথবা আমাকে কৃপণ সাব্যস্ত করবে; অথচ আমি তো কৃপণ নই (২))) (৩)।

 

[১০] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বাণী থেকে

যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা স্মরণ করেছেন
-

((আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমি তাঁকে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে তিনবার জিজ্ঞাসা করলাম, কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। তখন আমি মনে মনে বললাম: হে খাত্তাবের পুত্র! তোমার মা তোমাকে হারাক (অর্থাৎ ধিক্কার), তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনবার বিরক্ত (৪) করলে, অথচ তিনি তোমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর আমি সওয়ার হলাম...

--------------------------------------------

= (৫৪৫০) এবং তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবীর' (৭২৬৪), দিয়া আল-মাকদিসি 'আল-আহাদিসুল মুখতারা' (১৪৪), বায়হাকি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ': ৫/৩৪ এবং ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক': ২৩/৪৪৯ গ্রন্থে।

(১) মুসনাদে আহমাদে রয়েছে: (এদের চেয়ে অন্যরাই বেশি হকদার ছিল: অর্থাৎ আহলে সুফফাহ)।

(২) কাজী ইয়াদ 'ইকমালুল মুলিম' (৩/৫৯৪) গ্রন্থে বলেন: (এর অর্থ হলো: তারা তাঁর কাছে চাওয়ার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেছিল, যা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল যে, যদি তিনি তাদের দান করেন তবে তা হবে তাদের পক্ষপাতিত্ব করা, আর যদি তিনি তাদের না দেন তবে তারা তাঁকে কষ্ট দিবে এবং কৃপণ বলে অপবাদ দিবে। ফলে নবী আলাইহিস সালাম তাদের দান করাকেই বেছে নিলেন, কেননা কৃপণতা তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য নয়। আর এটি ছিল তাদের সাথে সদাচরণ ও মন জয়ের উদ্দেশ্যে, যেমন নবী আলাইহিস সালাম বলেছেন: 'নিশ্চয়ই মানুষের মাঝে সর্বনিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি, যার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য মানুষ তাকে পরিহার করে চলে।' যেমনটি তাঁকে মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম (যাদের মন জয় করা প্রয়োজন) ব্যক্তিদের দান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে)।

(৩) মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১০৫৬), আহমাদ মুসনাদে (১২৭) এবং খতিব বাগদাদী 'আল-বুখালা' (১১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৪) কাউকে 'নাজারতু' (نزرت) করার অর্থ হলো: যখন আপনি কাউকে প্রশ্ন করার মাধ্যমে নাছোড়বান্দার মতো বিরক্ত করেন। (ইবনুল আসীরের জামেউল উসুল - ৮০৬)।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
رَاحِلَتِي فَتَقَدَّمْتُ مَخَافَةَ أَنْ يَكُونَ نَزَلَ فِيَّ شَيْءٌ، فَإِذَا أَنَا بِمُنَادٍ يُنَادِي: يَا عُمَرُ، أَيْنَ عُمَرُ؟، فَرَجَعْتُ وَأَنَا أَظُنُّ أَنَّهُ نَزَلَ فِيَّ شَيْءٌ، فقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: نَزَلَتْ عَلَيَّ الْبَارِحَةَ سُورَةٌ هِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا (1) لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ} [الفتح: 1 - 2])) (1).

 

‌‌[11] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

يذكر العُسرة في تبوك

((خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى تَبُوكَ فِي قَيْظٍ شَدِيدٍ، فَنَزَلْنَا مَنْزِلًا أَصَابَنَا فِيهِ عَطَشٌ شَدِيدٌ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّ رِقَابَنَا سَتَنْقَطِعُ، حَتَّى أَنْ كَانَ أَحَدُنَا يَذْهَبُ يَلْتَمِسُ الْخَلَا فَلَا يَرْجِعُ حَتَّى يَظُنَّ أَنَّ رَقَبَتَهُ تَنْقَطِعُ، وَحَتَّى أَنَّ الرَّجُلَ لَيَنْحَرُ بَعِيرَهُ فَيَعْصِرُ فَرْثَهُ فَيَشْرَبُهُ وَيَضَعُهُ عَلَى بَطْنِهِ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ اللهَ قَدْ عَوَّدَكَ فِي الدُّعَاءِ خَيْرًا فَادْعُ لَنَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((أَتُحِبُّ ذَاكَ يَا أَبَا بَكْرٍ؟)) قَالَ: نَعَمْ، فَرَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ فَلَمْ يُرْجِعْهَا حَتَّى

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه (4177) والترمذي في السنن (3262) ومالك في الموطأ (693) مرسلاً، وموصولاً في الموطأ - برواية أبي مصعب الزهري - (272) وأحمد في المسند (209) واللفظ له، وابن حبان في صحيحه (6409) والبيهقي في شعب الإيمان (2254) ودلائل النبوة: 4/ 154
...আমার সওয়ারি। অতঃপর আমি এই ভয়ে এগিয়ে গেলাম যে সম্ভবত আমার ব্যাপারে কিছু নাযিল হয়েছে। হঠাৎ আমি এক আহ্বানকারীকে ডাকতে শুনলাম: হে ওমর! ওমর কোথায়? তখন আমি ফিরে এলাম এবং ভাবছিলাম যে আমার ব্যাপারে কিছু নাযিল হয়েছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: গত রাতে আমার উপর এমন একটি সূরা নাযিল হয়েছে যা আমার কাছে দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও বেশি প্রিয়: {নিশ্চয় আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি। (১) যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।} [আল-ফাতহ: ১-২] (১)।

 

‌‌[১১] তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) কিছু বক্তব্য থেকে

তিনি তাবুকের কষ্টের কথা উল্লেখ করছেন

((আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাবুকের অভিযানে বের হলাম। আমরা এমন এক জায়গায় অবস্থান নিলাম যেখানে আমরা প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হলাম, এমনকি আমাদের মনে হচ্ছিল যে আমাদের ঘাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এমনকি আমাদের কেউ যখন নির্জনে (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) যেত, সে ফিরে আসার আগেই মনে করত যে তার ঘাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, কোনো লোক তার উট জবাই করত এবং তার নাড়িভুঁড়ির ভেতরের অংশ চিপে (পানি বের করে) পান করত ও তা নিজের পেটের ওপর রাখত। তখন আবু বকর সিদ্দিক বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে দোয়ার ক্ষেত্রে সর্বদা কল্যাণে অভ্যস্ত করেছেন, তাই আমাদের জন্য দোয়া করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তুমি কি তা চাও, হে আবু বকর?)) তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই হাত তুললেন এবং তা আর নামালেন না যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

(১) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৪১৭৭), তিরমিযী সুনানে (৩২৬২), মালিক মুয়াত্তায় (৬৯৩) মুরসাল হিসেবে এবং মুয়াত্তায় - আবু মুসআব আজ-যুহরীর বর্ণনায় - (২৭২) মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং আহমাদ মুসনাদে (২০৯) আর শব্দ বিন্যাস তাঁরই, ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৬৪০৯), বায়হাকী শুয়াবুল ঈমানে (২২৫৪) এবং দালায়েলুন নুবুওয়াহ: ৪/ ১৫৪।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
مَالَتِ السَّمَاءُ فَأَطَلَّتْ ثُمَّ سَكَبَتْ فَمَلَئُوا مَا مَعَهُمْ، ثُمَّ ذَهَبْنَا نَنْظُرُ فَلَمْ نَجِدْهَا جَاوَزَتِ الْعَسْكَرَ)) (1).

 

‌‌[12] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم على عَبْدِ اللهِ بنِ أُبَيِّ بن سلول

((لَمَّا مَاتَ عَبْدُ اللهِ بنُ أُبَيِّ بنِ سَلُولٍ، دُعِيَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ، فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَثَبْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَتُصَلِّي عَلَى ابْنِ أُبَيٍّ وَقَدْ قَالَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا: كَذَا وَكَذَا؟ أُعَدِّدُ عَلَيْهِ قَوْلَهُ، فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ: ((أَخِّرْ عَنِّي يَا عُمَرُ)) فَلَمَّا أَكْثَرْتُ عَلَيْهِ، قَالَ: ((إِنِّي خُيِّرْتُ فَاخْتَرْتُ، لَوْ أَعْلَمُ أَنِّي إِنْ زِدْتُ عَلَى السَّبْعِينَ يُغْفَرُ لَهُ لَزِدْتُ عَلَيْهَا)) قَالَ: فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ انْصَرَفَ، فَلَمْ يَمْكُثْ إِلَّا يَسِيرًا، حَتَّى نَزَلَتِ الآيَتَانِ مِنْ بَرَاءَةٌ: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ} [التوبة: 84]، فَعَجِبْتُ بَعْدُ مِنْ جُرْأَتِي عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ، وَاللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ)) (2).

--------------------------------------------

(1) رواه البزَّار في البحر الزخار (214) والفريابي في دلائل النبوة (42) وابن خزيمة في صحيحه (101) والطبراني في المعجم الأوسط (3292) والحاكم في المستدرك (566) والبيهقي في السنن الكبرى (19641) ودلائل النبوة: 5/ 231

(2) رواه البخاري في صحيحه (1366) والنسائي في السنن (1966) وابن حبان في صحيحه =
আকাশ নুয়ে পড়ল এবং ছায়া দিল, তারপর বারিবর্ষণ করল। ফলে তারা তাদের সাথে থাকা পাত্রগুলো পূর্ণ করল। এরপর আমরা গিয়ে দেখতে লাগলাম, কিন্তু দেখলাম না যে বৃষ্টি সেনাদলকে অতিক্রম করেছে। (১)।

 

‌‌[১২] আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুলের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাযার নামাজ সম্পর্কে তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কিছু কথা

((যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল মারা গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার জানাযার নামাজ পড়ানোর জন্য ডাকা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দাঁড়ালেন, আমি দ্রুত তাঁর দিকে গিয়ে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইবনে উবাইয়ের জানাযার নামাজ পড়াবেন, অথচ সে অমুক দিন এই এই কথা বলেছিল? আমি তাঁর কাছে তার কথাগুলো একে একে উল্লেখ করতে লাগলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন: ((হে ওমর, আমার থেকে সরে দাঁড়াও।)) যখন আমি তাঁর কাছে অধিক পীড়াপীড়ি করলাম, তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই আমাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে এবং আমি তা গ্রহণ করেছি। যদি আমি জানতাম যে সত্তর বারের বেশি (ক্ষমা প্রার্থনা) করলে তাকে ক্ষমা করা হবে, তবে আমি অবশ্যই তার চেয়ে বেশি করতাম।)) তিনি বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার নামাজ পড়ালেন এবং ফিরে গেলেন। এরপর তিনি সামান্য সময় অতিবাহিত হতেই সূরা বারাআতের এই দুই আয়াত নাযিল হলো: {আর তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার ওপর জানাযার নামাজ পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে এবং ফাসেক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।} [আত-তাওবা: ৮৪]। এরপর আমি সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আমার ধৃষ্টতার জন্য অবাক হলাম। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক অবগত।)) (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-বজ্জার আল-বাহরুজ যাখখার (২১৪), আল-ফিরইয়াবী দালাইলুন নুবুওয়াহ (৪২), ইবনে খুজাইমা তাঁর সহীহ (১০১), তাবারানী আল-মু'জামুল আওসাত (৩২৯২), আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক (৫৬৬) এবং বায়হাকী আস-সুনানুল কুবরা (১৯৬৪১) ও দালাইলুন নুবুওয়াহ: ৫/২৩১ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারী তাঁর সহীহ (১৩৬৬), নাসাঈ আস-সুনান (১৯৬৬) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌[13] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

وقد رأى النبي صلى الله عليه وسلم مسجّى في بيته بعد وفاته

((وَاغَشْيَاهْ مَا أَشَدُّ غَشْيَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم))، فقال له المغيرة بن شعبة: يَا عُمَرُ! مَاتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فقال عمر: ((كَذَبْتَ بَلْ أَنْتَ رَجُلٌ تَحُوسُكَ فِتْنَةٌ (1). إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَمُوتُ حَتَّى يُفْنِيَ اللهُ عز وجل الْمُنَافِقِينَ)) (2).

 

‌‌[14] وَمِنْ خطْبَةٍ لَهُ رضي الله عنه

بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم
-

((إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَمُتْ، وَلَكِنَّ رَبَّهُ أَرْسَلَ إِلَيْهِ كَمَا أَرْسَلَ إِلَى مُوسَى، فَمَكَثَ عَنْ قَوْمِهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً، وَاللهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ يَعِيشَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى يَقْطَعَ أَيْدِي رِجَالٍ مِنَ الْمُنَافِقِينَ وَأَلْسِنَتَهُمْ يَزْعُمُونَ،

--------------------------------------------

= (3176) بزيادة (فَعَجَبًا لِجُرْأَتِي عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَاللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، فَلَمَّا قَالَ لِي ذَلِكَ، انْصَرَفْتُ عَنْهُ، فَصَلَّى عَلَيْهِ، ثُمَّ مَشَى مَعَهُ، فَقَامَ عَلَى حُفْرَتِهِ حَتَّى دُفِنَ، ثُمَّ انْصَرَفَ، فَوَاللهِ مَا لَبِثَ إِلَّا يَسِيرًا حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ جَلَّ وَعَلَا: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} [التوبة: 84] فَمَا صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مُنَافِقٍ بَعْدَ ذَلِكَ، وَلَا قَامَ عَلَى قَبْرِهِ).

(1) أَي: تُخالِطُك وتَحُثك عَلَى ركُوبها. وَكُلُّ مَوضع خالَطْتَه ووطِئْته فَقَدْ حُسْتَهُ وجُسْتَه. (النهاية لابن الأثير - (حَوَسَ)).

(2) رواه أحمد في المسند (25841) وإسحاق بن راهويه في المسند (1333).
[১৩] তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একটি বক্তব্য থেকে

যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর ঘরে চাদরাবৃত অবস্থায় দেখেছিলেন

((হায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মূর্ছা যাওয়া কতই না প্রবল!)), তখন মুগীরা ইবনে শু'বা তাঁকে বললেন: হে উমর! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন। উমর বললেন: ((তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি এমন এক ব্যক্তি যাকে ফিতনা বিভ্রান্ত করেছে (১)। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করবেন না যতক্ষণ না আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুনাফিকদের নির্মূল করেন)) (২)।

 

[১৪] তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একটি ভাষণ থেকে

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর
-

((নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেননি, বরং তাঁর প্রতিপালক তাঁর নিকট (দূত) পাঠিয়েছেন যেমন তিনি মূসার নিকট পাঠিয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁর কওম থেকে চল্লিশ রাত অনুপস্থিত ছিলেন। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই আশা করি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেঁচে থাকবেন, এমনকি তিনি সেই মুনাফিকদের হাত ও জিহ্বা কেটে দেবেন যারা দাবি করে (যে তিনি মারা গেছেন)...

--------------------------------------------

= (৩১৭৬) এই বর্ধিতাংশ সহ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমার ধৃষ্টতায় আমি নিজেই অবাক হচ্ছিলাম, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি যখন আমাকে এটি বললেন, আমি তাঁর নিকট থেকে ফিরে আসলাম। এরপর তিনি তাঁর জানাজা পড়লেন, অতঃপর তাঁর সাথে হাঁটলেন এবং তাঁর কবরের পাশে দাঁড়ালেন যতক্ষণ না তাঁকে দাফন করা হলো। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন। আল্লাহর কসম, এরপর সামান্য সময়ও অতিবাহিত হয়নি যতক্ষণ না আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা অবতীর্ণ করলেন: {তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাজা পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না} [আত-তাওবাহ: ৮৪]। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোনো মুনাফিকের জানাজা পড়েননি এবং তাদের কবরের পাশেও দাঁড়াননি)।

(১) অর্থাৎ: তা তোমার মাঝে মিশে গেছে এবং তোমাকে তাতে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করছে। আর যে কোনো স্থানে তুমি বিচরণ করেছ এবং পদদলিত করেছ, তাকেই তুমি ‘হুসতাহু’ এবং ‘জুসতাহু’ করেছ। (ইবনুল আসীরের আন-নিহায়াহ - (হাওয়াসা))।

(২) এটি আহমাদ তাঁর মুসনাদে (২৫৮৪১) এবং ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ তাঁর মুসনাদে (১৩৩৩) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَوْ قَالَ: يَقُولُونَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ مَاتَ)) (1).

وكان عمر يقول بعدها ذاكراً تلك الخطبة: وَاللهِ مَا كَانَ يَقَعُ فِي نَفْسِي إِلَّا ذَاكَ (2).

فجاء أبو بكر - وقد كان حين وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بِالسُّنْحِ - فكشف عن وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم فَقَبَّلَهُ، وقال: (بأبي أنتَ وأُمِّي، طِبت حيَّاً ومَيِّتاً، والذي نفسي بيده، لا يُذيقك اللهُ الموتَتَين أبداً).

ثُمَّ خرج وقال لعمر وقد سَمِعه يَحلِفُ بالله أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم لم يمت، فقال: أَيُّهَا الحَالِفُ عَلَى رِسْلِكَ.

ثمَّ وقف في الناس خطيباً فقال في خطبته المسدَّدة: (أَمَّا بَعْدُ؛ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ، وَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ اللهَ فَإِنَّ اللهَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ، قَالَ اللهُ: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ} [آل عمران: 144]).

--------------------------------------------

(1) رواه ابن ماجه في السنن (1627) وأحمد في المسند (13028) واللفظ له، وابن أبي شيبة في المصنف (38191) وعبد بن حميد كما في المنتخب من مسنده (1161) وابن حبان في صحيحه (6620).

(2) رواه البخاري في صحيحه (3667) واللالكائي في شرح أصول الاعتقاد (2438) والبيهقي في السنن الكبرى (16536) والاعتقاد: ص346.
অথবা তিনি বলেন: তারা বলছে: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন (১)।

উমর (রা.) পরবর্তীতে সেই খুতবার কথা স্মরণ করে বলতেন: আল্লাহর কসম, আমার মনে কেবল এটাই উদিত হয়েছিল (২)।

অতঃপর আবু বকর (রা.) আসলেন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সময় তিনি 'সুন্‌হ' নামক স্থানে ছিলেন—তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডল উন্মোচন করলেন এবং তাঁকে চুম্বন করলেন। এরপর তিনি বললেন: (আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থাতেই পবিত্র ছিলেন। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম—আল্লাহ আপনাকে কখনোই দুইবার মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাবেন না)।

এরপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং উমর (রা.)-কে বললেন—ততক্ষণে তিনি উমর (রা.)-কে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে শুনেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা যাননি—অতঃপর তিনি বললেন: হে শপথকারী, তুমি শান্ত হও।

তারপর তিনি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং তাঁর সঠিক ও বলিষ্ঠ খুতবায় বললেন: (অতঃপর, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদত করতে, তবে নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ ইন্তেকাল করেছেন। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করতে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জীব, যাঁর কোনো মৃত্যু নেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুহাম্মাদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছুই নন, তাঁর পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। সুতরাং যদি তিনি মারা যান বা নিহত হন, তবে কি তোমরা তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি তার পেছনের দিকে ফিরে যায়, সে আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আর অচিরেই আল্লাহ কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন} [আলে ইমরান: ১৪৪])।

--------------------------------------------

(১) ইবনু মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১৬২৭), আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (১৩০২৮)—এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই, ইবনু আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (৩৮১৯১), আবদ ইবনু হুমাইদ তাঁর মুসনাদের সংকলন আল-মুন্তখাব গ্রন্থে (১১৬১) এবং ইবনু হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৬৬২০) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩৬৬৭), লালকায়ী 'শারহু উসূলিল ইতিকাদ' গ্রন্থে (২৪৩৮), বায়হাকী 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে (১৬৫৩৬) এবং 'আল-ইতিকাদ' গ্রন্থে (পৃ. ৩৪৬) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
فقال عمر: ((وَاللهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ تَلَاهَا فَعَقِرْتُ (1)، حَتَّى مَا تُقِلُّنِي (2) رِجْلَايَ، وَحَتَّى أَهْوَيْتُ إِلَى الأَرْضِ حِينَ سَمِعْتُهُ تَلَاهَا، عَلِمْتُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ مَاتَ (3))) (4).

 

‌‌[15] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

في بيعة السقيفة

((كُنْتُ أَرْجُو أَنْ يَعِيشَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَدْبُرَنَا - يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنْ يَكُونَ آخِرَهُمْ - فَإِنْ يَكُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم قَدْ مَاتَ، فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى قَدْ جَعَلَ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ نُورًا تَهْتَدُونَ بِهِ، بِمَا هَدَى اللهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، وَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ثَانِيَ اثْنَيْنِ، فَإِنَّهُ أَوْلَى المُسْلِمِينَ بِأُمُورِكُمْ، فَقُومُوا فَبَايِعُوهُ)) (5).

--------------------------------------------

(1) العَقَر بفَتْحتين: أَنْ تُسْلِمَ الرجُلَ قوائمُه مِنَ الخَوف. وَقِيلَ: هُوَ أَنْ يفْجَأه الرَّوعُ فَيدْهشَ وَلَا يستطيعَ أَنْ يتقدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ. (النهاية لابن الأثير - (عَقَرَ)).

(2) أي تحملني.

(3) قالت أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها كما في حديث البخاري (3667) - في التعليق على خطبتي أبي بكر وعمر رضي الله عنهما رغم اختلافهما: (فَمَا كَانَتْ مِنْ خُطْبَتِهِمَا مِنْ خُطْبَةٍ إِلَّا نَفَعَ اللهُ بِهَا، لَقَدْ خَوَّفَ عُمَرُ النَّاسَ، وَإِنَّ فِيهِمْ لَنِفَاقًا فَرَدَّهُمُ اللهُ بِذَلِكَ).

(4) رواه البخاري في صحيحه (4454) وابن سعد في الطبقات الكبرى: 2/ 270 وأبو نعيم في حلية الأولياء: 1/ 29.

(5) رواه البخاري في صحيحه (7219) وابن سعد في الطبقات الكبرى: 2/ 270 وعبد الرزاق في المصنف (9756) وابن حبان في صحيحه (6875) والبغوي في شرح السنة (2489) والبيهقي في دلائل النبوة: 7/ 216 - 217.
ওমর (রা.) বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি যখনই আবু বকরকে সেটি তেলাওয়াত করতে শুনলাম, তখনই আমি নিস্তেজ হয়ে পড়লাম (১), এমনকি আমার পা দুটি (২) আর আমাকে ধরে রাখতে পারছিল না এবং আমি যখনই তাঁকে তা পাঠ করতে শুনলাম, তখনই মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। আমি জানলাম যে নবী (সা.) নিশ্চিতভাবেই ইন্তেকাল করেছেন (৩)" (৪)।

 

‌‌[১৫] সকিফাহর বায়আত উপলক্ষে তাঁর (রা.) ভাষণের অংশবিশেষ

((আমি আশা করছিলাম যে আল্লাহর রাসূল (সা.) জীবিত থাকবেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের বিষয়াবলি গুছিয়ে দিয়ে যান—এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে তিনি যেন তাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি হন—তবে মুহাম্মদ (সা.) যদি ইন্তেকাল করে থাকেন, তবে আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাঝে এমন এক আলো দান করেছেন যার মাধ্যমে তোমরা সঠিক পথ লাভ করবে, যা দ্বারা আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে পথ প্রদর্শন করেছিলেন। আর নিশ্চয়ই আবু বকর আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সঙ্গী, দুইজনের দ্বিতীয়জন। তিনিই তোমাদের বিষয়াবলি পরিচালনার জন্য মুসলমানদের মধ্যে অধিক হকদার। সুতরাং তোমরা দাঁড়াও এবং তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করো)) (৫)।

--------------------------------------------

(১) 'আল-আকর' (উভয় অক্ষরে জবরসহ): ভয়ের কারণে মানুষের পা অবশ হয়ে যাওয়া। বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো হঠাৎ আতঙ্কিত হওয়া, ফলে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং সামনে এগোতে বা পেছনে হটতে সক্ষম হয় না। (আন-নিহায়াহ লি ইবনিল আসীর - (আ-কা-রা))।

(২) অর্থাৎ আমাকে বহন করছিল।

(৩) মুমিনদের জননী আয়েশা (রা.) বলেন, যেমনটি বুখারি শরিফের হাদিসে (৩৬৬৭) এসেছে—আবু বকর ও ওমর (রা.)-এর দুই ভাষণের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে, যদিও তাঁদের ভাষণের প্রকৃতি ভিন্ন ছিল: (তাঁদের ভাষণের প্রত্যেকটিই ছিল এমন যা দ্বারা আল্লাহ উপকার দান করেছেন। ওমর মানুষকে ভীত করেছিলেন, কারণ তাদের মাঝে মুনাফিকি ছিল, ফলে আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁদের সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন)।

(৪) ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪৪৫৪), ইবনে সাদ আত-তাবাকাতুল কুবরা-তে (২/২৭০) এবং আবু নুআইম হিলইয়াতুল আউলিয়া-তে (১/২৯) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৭২১৯), ইবনে সাদ আত-তাবাকাতুল কুবরা-তে (২/২৭০), আবদুর রাজ্জাক আল-মুসান্নাফ-এ (৯৭৫৬), ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৬৮৭৫), বাগাওয়ি শারহুস সুন্নাহ-তে (২৪৮৯) এবং বায়হাকি দালাইলুন নুবুওয়াহ-তে (৭/২১৬-২১৭) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
‌‌[16] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

لأبي بكر رضي الله عنه
-

((أَنْتَ سَيِّدُنَا، وَخَيْرُنَا، وَأَحَبُّنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم)) (1).

 

‌‌[17] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه -

لمَّا اخْتَلَفَ الناسُ فِي لَّحْدِ أو شَّقِّ قبر النبي صلى الله عليه وسلم حتى عَلَت أصواتهم:

((لَا تَصْخَبُوا (2) عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَيًّا وَلَا مَيِّتًا)) (3).

 

‌‌[18] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

لأبي بكر الصدّيق رضي الله عنه وقد عزم على قتال مانعي الزكاة

((كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ؟ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا الله، فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ، إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى الله، فَقَالَ أبو بكر: وَاللهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ المَالِ، وَاللهِ لَوْ

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه (3667) والترمذي في سننه (3656) وابن أبي عاصم في السنة (1166) والحاكم في المستدرك (4421) واللالكائي في شرح أصول الاعتقاد (2437) وأبو نعيم في فضائل الخلفاء الراشدين (185).

(2) وفي نُسخة للسنن كما في حاشية السندي: 1/ 472: ((لَا تَضِجُّوا) بِكَسْرِ الضَّادِ الْمُعْجَمَةِ وَتَشْدِيدِ الْجِيمِ أَيْ لَا تَصِيحُوا).

(3) رواه ابن ماجه في السنن (1558).
[১৬] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বাণী থেকে

আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর উদ্দেশে
-

((আপনি আমাদের নেতা, আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমাদের সবচেয়ে প্রিয়)) (১)।

 

[১৭] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বাণী থেকে -

যখন মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের জন্য লাহদ (পার্শ্ব-খাত) নাকি শাক্ক (মধ্য-খাত) খনন করা হবে তা নিয়ে মতভেদ করছিল, এমনকি তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গিয়েছিল:

((তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শোরগোল করো না, তাঁর জীবদ্দশায়ও নয় এবং তাঁর ইন্তেকালের পরেও নয়)) (৩)।

 

[১৮] তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বাণী থেকে

আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর উদ্দেশে, যখন তিনি যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করেছিলেন

((আপনি কীভাবে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে আমার থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ রক্ষা করে নিল, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন, আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়। তখন আবু বকর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে; কেননা যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর শপথ! যদি...

--------------------------------------------

(১) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩৬৬৭), তিরমিযী তাঁর সুনান গ্রন্থে (৩৬৫৬), ইবনে আবী আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে (১১৬৬), হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে (৪৪২১), লালকাঈ 'শারহু উসূলিল ই’তিকাদ' গ্রন্থে (২৪৩৭) এবং আবু নুআইম 'ফাদাইলুল খুলাফাউর রাশিদীন' গ্রন্থে (১৮৫) বর্ণনা করেছেন।

(২) সুনানের একটি পাণ্ডুলিপিতে সিন্দীর টীকা (১/৪৭২) অনুযায়ী এসেছে: ((লা তাদজিজ্জু) ‘দাদ’ বর্ণে কাসরা এবং ‘জীম’ বর্ণে তাশদীদসহ, অর্থাৎ তোমরা চিৎকার করো না)।

(৩) ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১৫৫৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুল উমারিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
مَنَعُونِي عِقَالًا كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللهَ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ، فَقَالَ عُمَرُ: ((فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ اللهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الحَقُّ)) (1).

 

‌‌[19] وَمِنْ كَلَامٍ لَهُ رضي الله عنه

وهي أول خطبة له حين تولى الخلافة

((أَمَّا بَعْدُ، فَقَدِ ابْتُلِيتُ بِكُمْ وَابْتُلِيتُمْ بِي، وَخَلَفْتُ فِيكُمْ بَعْدَ صَاحِبِي، فَمَنْ كَانَ بِحَضْرَتِنَا بَاشَرْنَاهُ بِأَنْفُسِنَا، وَمَهْمَا غَابَ عَنَّا وَلَّيْنَا أَهْلَ الْقُوَّةِ وَالْأَمَانَةِ، فَمَنْ يُحْسِنْ نَزِدْهُ حُسْنًا، وَمَنْ يُسِئْ نُعَاقِبْهُ، وَيَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُم)) (2).

 

‌‌[20] وَفي أَوَّلِ خطْبَةٍ لَهُ رضي الله عنه

الليلة التي دفن فيها أبو بكر رضي الله عنه
-

((إنَّ اللهَ نَهَجَ سَبيلَهُ، وَكَفانا برسُولِهِ، فلَمْ يَبْقَ إلا الدُّعَاءُ والاقْتِدَاءُ، فالحَمْدُ للهِ الذي ابْتَلانِي بِكُمْ وابتَلاكُمْ بِي، والحمْدُ للهِ الذَي أَبقاني فِيكُمْ بَعْدَ صَاحِبيَّ كَنَفَرٍ ثَلاثةٍ اغْتَرَبُوا الطِيَّةَ (3)؛ فَأَخَذَ أحدُهُمْ مُهْلَةً إلى دارِهِ وَقَرارَهِ، فسلَكَ أَرضاً مُضِلَّةً، فَتَشَابَهَتِ الأَسبابُ

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في صحيحه (7284) ومسلم في صحيحه (20) وأبو داود في السنن (1556) والترمذي في السنن (2607) والنسائي في السنن (2443) وأحمد في المسند (117) و (239) و (335).

(2) رواه ابن سعد في الطبقات الكبرى: 3/ 274 والبلاذري في أنساب الأشراف: 10/ 306 وابن عساكر في تاريخ دمشق: 44/ 263.

(3) الطيَّة: النيّة، قال الخليل: ((الطيَّةُ تكون منزلاً وتكون منتأى. تقول منه: مضى لطيَّته أي لنيته التي انتواها (الصحاح 6/ 2415).
তারা যদি আমাকে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করত, তবে তা অস্বীকার করার কারণে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। অতঃপর উমর (রা.) বলেন: ((আল্লাহর কসম, আমি কেবল এটাই দেখেছি যে আল্লাহ যুদ্ধের জন্য আবু বকরের অন্তর প্রশস্ত করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সত্য)) (১)।

 

‌‌[১৯] তাঁর একটি ভাষণ থেকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)

এটি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর প্রথম ভাষণ

((অতঃপর, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের দ্বারা পরীক্ষায় পতিত হয়েছি এবং তোমরাও আমার দ্বারা পরীক্ষায় পতিত হয়েছ। আমি আমার সাথীর পর তোমাদের মাঝে স্থলাভিষিক্ত হয়েছি। সুতরাং যে আমাদের সামনে উপস্থিত থাকবে, আমরা সরাসরি তার বিষয়াবলি তদারকি করব। আর যে আমাদের থেকে অনুপস্থিত থাকবে, আমরা তাদের ওপর শক্তিশালী ও আমানতদার ব্যক্তিদের নিযুক্ত করব। অতএব, যে ব্যক্তি উত্তম কাজ করবে আমরা তার প্রতিদান বাড়িয়ে দেব, আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে আমরা তাকে শাস্তি দেব। আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদের ক্ষমা করুন)) (২)।

 

‌‌[২০] এবং তাঁর প্রথম ভাষণসমূহের অন্তর্ভুক্ত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)

যে রাতে আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে দাফন করা হয়েছিল
-

((নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর পথ স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর রাসুলের মাধ্যমে আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন। সুতরাং এখন কেবল দোয়া ও অনুসরণই অবশিষ্ট রয়েছে। অতএব, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে তোমাদের দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছেন এবং তোমাদেরকে আমার দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার দুই সাথীর পর আমাকে তোমাদের মাঝে অবশিষ্ট রেখেছেন, যেমন তিনজন ব্যক্তি যারা দূরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল (৩); অতঃপর তাদের একজন তার নিজ আবাসে ও চিরস্থায়ী ঠিকানায় পৌঁছানোর অবকাশ পেল এবং এক বিভ্রান্তিকর পথ ধরল, ফলে উপায়-উপকরণগুলো অস্পষ্ট হয়ে পড়ল...

--------------------------------------------

(১) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৭২৮৪), মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২০), আবু দাউদ সুনান গ্রন্থে (১৫৫৬), তিরমিজি সুনান গ্রন্থে (২৬০৭), নাসায়ি সুনান গ্রন্থে (২৪৪৩) এবং আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে (১১৭), (২৩৯) ও (৩৩৫) বর্ণনা করেছেন।

(২) ইবনে সাদ আত-তাবাকাতুল কুবরা গ্রন্থে: ৩/২৭৪, বালাজুরি আনসাবুল আশরাফ গ্রন্থে: ১০/৩০৬ এবং ইবনে আসাকির তারিখু দিমাশক গ্রন্থে: ৪৪/২৬৩ বর্ণনা করেছেন।

(৩) তিয়্যাহ: অর্থ নিয়ত বা সংকল্প। খলীল বলেছেন: ((তিয়্যাহ হলো মঞ্জিল বা গন্তব্যস্থল। এখান থেকে বলা হয়: সে তার তিয়্যাহ-র দিকে চলে গেছে অর্থাৎ সেই সংকল্পের দিকে যা সে করেছিল (আস-সিহাহ ৬/২৪১৫)।