(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
وسطية الإسلام القسم: كتب عامة
الكتاب: وسطية الإسلام
المؤلف: صالح حبيب الله (تشي شيوه ي) الصيني
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 20
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 28
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামের মধ্যপন্থা বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামের মধ্যপন্থা
লেখক: সালেহ হাবিবুল্লাহ (চি শিউই) আল-সিনি
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, কোনো তথ্য ছাড়াই
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত সংস্করণ) : ২০
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
وسطية الإسلام إعداد
صالح حبيب الله (تشي شيوه ي)
الصيني
بسم الله الرحمن الرحيم
مفهوم الوسطية الإسلامية الأساسي لقد تميزت الأمة الإسلامية بخاصية منفردة لم تكن لأمة من الأمم السابقة وهي ميزة الوسطية التي جعلها الله سبحانه وتعالى خصيصة لأمة محمد صلى الله عليه وسلم في القرآن الكريم في قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (سورة البقرة: 143) .
ولفظ " وسطا " يعبر عن معنى جديد في الأديان وخلق سام في الدين الإسلامي (1) .
وقد وردت كلمة الوسط ومشتقاتها في ذات المعنى تقريبا مرات عديدة في القرآن الكريم، منها: قوله تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} (سورة البقرة: 238) .
--------------------------------------------
ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية)
প্রস্তুতিতে: সালেহ হাবিবুল্লাহ (চি শিউ ই)
আল-সিনি
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
ইসলামি মধ্যপন্থার মৌলিক ধারণা
ইসলামি উম্মাহ এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মাহর ছিল না; আর তা হলো মধ্যপন্থা (وسطية)-র বৈশিষ্ট্য, যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী (وسطا) উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হও এবং রসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হন।" (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩)।
"ওয়াসাতান" (وسطا) শব্দটি ধর্মসমূহের ক্ষেত্রে এক নতুন অর্থ এবং ইসলামি শরীয়তে এক সুউচ্চ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় (১)।
পবিত্র কুরআনে 'আল-ওয়াসাত' (الوسط) শব্দ এবং এর ব্যুৎপন্ন রূপগুলো প্রায় একই অর্থে বহুবার এসেছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সকল সালাত ও বিশেষ করে মধ্যবর্তী (الوسطى) সালাতের প্রতি যত্নবান হও এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২)
ومن تفاسير هذه الآية أن المراد بالصلاة الوسطى هي صلاة العصر لأنها واقعة بين صلاتي النهار وصلاتي الليل. وقوله - تعالى - في كفارة اليمين: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} (سورة المائدة: 89) .
يفسر العلماء " أوسط الطعام " هنا بأنه لا مغالاة في جودته أو في رداءته، وكذلك في ثمنه ما بين غلو في الارتفاع أو نزول في الانخفاض.
وقوله تعالى: {قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُونَ} (سورة القلم:28) .
وأوسطهم أى: أعدلهم، ولفط الوسط لغة بمعنى أنه ما يكون بين طرفين، وسط الشيء ما بين طرفيه وأعدله (1) . والتوسط بين النقيضين، والأوسط بمعنى الاعتدال والأبعد عن الغلو، وكذلك يأتي بمعنى الأفضل، إذ الوسط بطبيعة الحال محمي من العوارض والآفات التي تأتي أطراف الشيء. ويستعمل الوسط في الفضائل ثم صار الوسط وصفا للمتصف بالفضائل. . . يقال: رجل وسط وأمة وسط.
--------------------------------------------
এই আয়াতের তাফসিরগুলোর মধ্যে একটি হলো 'সালাতুল উস্তা' (মধ্যবর্তী নামাজ) বলতে আসরের নামাজকে বোঝানো হয়েছে, কারণ এটি দিনের দুই নামাজ এবং রাতের দুই নামাজের মাঝে অবস্থিত। এবং শপথের কাফফারা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {তবে এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে খাবার দান করা, তোমাদের পরিবারকে তোমরা যা সাধারণ মানের খাবার খাওয়াও তার মধ্যম মানের (أوسط) খাবার থেকে, অথবা তাদের পোশাক দান করা কিংবা একজন দাস মুক্ত করা।} (সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯)।
আলেমগণ এখানে "মধ্যম মানের খাবার" (أوسط الطعام) এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, এর গুণগত মানে খুব বেশি উন্নত বা খুব বেশি নিম্নমানের হবে না, তেমনি এর দামের ক্ষেত্রেও খুব চড়া দাম বা খুব সস্তা দামের মাঝামাঝি হবে।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ (أوسطهم) ব্যক্তিটি বলল, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, তোমরা কেন তাসবিহ পাঠ করছ না?} (সূরা আল-কলম: ২৮)।
আর তাদের মধ্যে 'আওসাত' বলতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ (أعدلهم) ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। অভিধানে 'ওয়াসাত' (الوسط) শব্দটির অর্থ হলো যা দুই প্রান্তের মাঝে অবস্থিত। কোনো জিনিসের 'ওয়াসাত' হলো এর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী এবং সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ (أعدله) অংশ (১)। এটি দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের মধ্যবর্তী অবস্থান। আর 'আওসাত' (الأوسط) এর অর্থ হলো ভারসাম্য বা মধ্যপন্থা (الاعتدال) এবং চরমপন্থা (الغلو) থেকে সবচেয়ে দূরে থাকা। তেমনি এটি শ্রেষ্ঠ (الأفضل) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, কারণ কোনো জিনিসের মধ্যবর্তী অংশ স্বাভাবিকভাবেই সেসব আপদ ও ত্রুটি থেকে সুরক্ষিত থাকে যা তার প্রান্তগুলোতে আক্রমণ করে। 'ওয়াসাত' শব্দটি মহৎ গুণাবলির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, পরবর্তীতে 'ওয়াসাত' শব্দটি সেই ব্যক্তির গুণবাচক বিশ্লেষণে পরিণত হয় যে শ্রেষ্ঠ গুণাবলির অধিকারী। বলা হয়ে থাকে: ন্যায়পরায়ণ (وسط) ব্যক্তি এবং ন্যায়নিষ্ঠ (وسط) জাতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
ويقول الحافظ ابن كثير في تفسيره لقوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} أي إنما حولناكم إلى قبلة إبراهيم عليه السلام واخترناها لكم لنجعلكم خيار الأمم، لتكونوا يوم القيامة شهداء على الأمم لأن الجميع معترفون لكم بالفضل، والوسط هنا الخيار والأجود. . . ولما جعل الله هذه الأمة وسطا خصها بأكمل الشرائع وأقوم المناهج وأوضح المذاهب (1) .
ومعنى الأمة الوسط أنها أفضل الأمم وأعدلها وأكملها وأبعدها عن الغلو، فمثل هذه الأمة تحميها وسطيتها مما يلحق بأخواتها - إذا جانبت الوسطية- من النقائص والعيوب من جميع النواحي (2) .
ولن نعني بوسطية الإسلام أو وسطية الأمة الإسلامية وسطية تاريخية ولا جغرافية ولا ثقافية ولا عرقية لأن معيار الصلاح والتقوى هو المقياس الذي وضعه الإسلام منهجاً تقاس به أفضلية الأمم والأفراد وكمالها. قال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} (سورة الحجرات: 13) .
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে কাসির মহান আল্লাহর বাণী: "এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি (أمة وسطا) হিসেবে গঠন করেছি" -এর তাফসিরে বলেন: অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর কিবলার দিকে ফিরিয়েছি এবং তা তোমাদের জন্য মনোনীত করেছি যাতে তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি (خيار الأمم) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি; যাতে তোমরা কিয়ামত দিবসে অন্যান্য জাতির বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে পারো, কেননা সবাই তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে। এখানে মধ্যম (الوسط) বলতে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তমকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ যখন এই উম্মতকে মধ্যপন্থী (وسطا) করেছেন, তখন তিনি একে পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত, সবচেয়ে সুদৃঢ় পদ্ধতি এবং সুস্পষ্ট মতাদর্শ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন (১)।
মধ্যপন্থী জাতি (الأمة الوسط) হওয়ার অর্থ হলো, এটি সকল জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ (أفضل الأمم), অধিকতর ন্যায়পরায়ণ (أعدلها), সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং চরমপন্থা (الغلو) থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী। এই উম্মতের এই মধ্যপন্থা একে সেই সকল ত্রুটি ও দোষ থেকে রক্ষা করে যা অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে—যদি তারা মধ্যপন্থা থেকে বিচ্যুত হয়—সকল দিক থেকে (২)।
ইসলামের মধ্যপন্থা বা মুসলিম উম্মাহর মধ্যপন্থা বলতে আমরা কোনো ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক কিংবা জাতিগত মধ্যপন্থা বোঝাই না। কারণ, সদাচার ও তাকওয়া (التقوى) হলো সেই মানদণ্ড যা ইসলাম জাতি ও ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতা পরিমাপের পদ্ধতি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি (أتقاكم)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত" (সুরা আল-হুজুরাত: ১৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
والأمة الإسلامية لكونها أمة وسطاً وسط لها مسؤولية ربانية مكلفة بأن تحمل أكمل منهج وأقومه في العقيدة والأخلاق والتشريع إلى بقية المجتمعات الإنسانية، مكلفة بدعوة الأمم الأخرى إلى الصراط المستقيم، منهج الله الذي يضمن للإنسان والمجتمع الحق والخير ويحقق له السعادة.
وذلك بالأساليب والطرق الحكيمة الرشيدة التي أرشدها الله سبحانه وتعالى في قوله: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} (سورة النحل: 125) .
وكذلك بالقدوة بأن يصبح المجتمع الإسلامي مجتمعا سليما يحقق لأهله وللبشر جميعا الحق والخير والسعادة والاستقرار، خصوصا في الأوقات والظروف التي يزداد فيها الانحراف والبعد عن المنهج الرباني ويكثر فيها العنف والتطرف وتشويه صورة الإسلام الحقيقية والنيل منه (1) .
--------------------------------------------
মুসলিম উম্মাহ একটি মধ্যমপন্থী (وسطاً) জাতি হওয়ার কারণে এর ওপর এক মহান ঐশ্বরিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব হলো—আকীদা (عقيدة), নৈতিকতা ও শরীয়াহর (تشريع) ক্ষেত্রে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও সুদৃঢ় আদর্শকে অবশিষ্ট মানবসমাজের নিকট পৌঁছে দেওয়া। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে আহ্বান করার গুরুভারও এই উম্মাহর ওপর ন্যস্ত; যা আল্লাহর এমন এক জীবনবিধান, যা ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সত্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করে এবং সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।
আর এটি সম্পাদিত হতে হবে সেই সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সঠিক পন্থায়, যার নির্দেশনা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর এই বাণীতে প্রদান করেছেন: "আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত (حكمة) ও উত্তম উপদেশের (موعظة حسنة) মাধ্যমে আহ্বান করুন" (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
একইভাবে আদর্শ (قدوة) হওয়ার মাধ্যমেও তা করতে হবে, যাতে মুসলিম সমাজ একটি সুস্থ সমাজে পরিণত হয় যা তার নিজ সদস্যদের এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য সত্য, কল্যাণ, সুখ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। বিশেষত এমন এক সময়ে ও পরিস্থিতিতে যখন বিচ্যুতি ও ঐশ্বরিক জীবনবিধান থেকে বিমুখতা বৃদ্ধি পায় এবং সহিংসতা, চরমপন্থা ও ইসলামের প্রকৃত রূপ বিকৃত করার অপচেষ্টা ও এর মর্যাদাহানি করার প্রবণতা প্রকট হয়ে ওঠে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
ولله در القائل: ضاع هذا الدين (أي الإسلام) بين الغالي فيه والجافي عنه، هذه المقولة تفصح عن خطورة الابتعاد عن الوسطية التي هي أبرز سمات الأمة الإسلامية، الإسلام وسط فلا إفراط ولا تفريط، وسط فلا طغيان ولا نقصان، وسط فلا تشدد ولا ترخص، وسط بين رعاية حقوق الفرد على حساب الجماعة، أو العناية بمصالح الجماعة على حساب الفرد، فالوسطية تعنب العدل، فلا يظلم جانب على حساب جانب آخر، والوسطية تعني التوازن فلا يختل أمر على حساب آخر (1) ويريد الله سبحانه وتعالى للمسلمين أن يحملوا للعالم رسالة الحب والخير والعدل لتحقيق وسطية هذه الأمة، وكذلك يريد منهم أن يزيلوا الظلم والطغيان، فلم يحمل المسلمون السيف في وجه الجاهلية إلا لأنها طغت وتجبرت ووقفت في وجه الدعوة الإسلامية، ولم يشن المسلمون حربهم ضد الفرس والرومان والغدر اليهودي إلا بتجنيهم على القيم الإنسانية العالية التي يعتز بها بنو البشر (2) .
فالإسلام دين وسط واسع الأفق قابل لكل تجديد في سبيل الرقي والتقدم والبناء ويرفض الجمود والتعصب والعنف والهدم.
--------------------------------------------
কতই না চমৎকার বলেছেন সেই প্রবক্তা: এই দ্বীন (অর্থাৎ ইসলাম) অতিরঞ্জনকারী এবং এর প্রতি বিমুখদের মাঝে পড়ে হারিয়ে গেছে। এই উক্তিটি মধ্যপন্থা (الوسطية) থেকে দূরে সরে যাওয়ার ভয়াবহতা প্রকাশ করে, যা মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গুণ। ইসলাম হলো মধ্যপন্থী; এখানে নেই অতিরঞ্জন (إفراط), তেমনি নেই শিথিলতা (تفريط)। এটি মধ্যপন্থী; এখানে নেই সীমালঙ্ঘন, নেই কোনো ঘাটতি। এটি মধ্যপন্থী; এখানে নেই কঠোরতা, নেই কোনো শিথিলতা। এটি ব্যক্তির অধিকার রক্ষার নামে সমষ্টির অধিকার খর্ব করা অথবা সমষ্টির স্বার্থ রক্ষার নামে ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ করার মাঝে এক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান। সুতরাং মধ্যপন্থা (الوسطية) মানেই হলো ন্যায়বিচার, যাতে এক পক্ষের খাতিরে অন্য পক্ষের ওপর জুলুম না করা হয়। আর মধ্যপন্থা (الوسطية) মানেই হলো ভারসাম্য, যাতে এক বিষয়ের চাপে অন্য বিষয়ের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয় (১)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চান যে, মুসলিমরা এই উম্মাহর মধ্যপন্থা (الوسطية) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্বের নিকট ভালোবাসা, কল্যাণ ও ন্যায়ের বার্তা পৌঁছে দিক। একইভাবে তিনি তাদের থেকে এটিও চান যে তারা যেন জুলুম ও পাপাচার নির্মূল করে। মুসলিমরা জাহেলিয়াতের মোকাবিলায় তলোয়ার ধরেনি, কেবল তখনই ধরেছে যখন তারা সীমালঙ্ঘন ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে এবং ইসলামের দাওয়াতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পারসিক, রোমান এবং ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে মুসলিমরা তখনই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল যখন তারা সেই উচ্চতর মানবিক মূল্যবোধের অবমাননা করেছিল যা মানবজাতির জন্য অহংকারস্বরূপ (২)।
সুতরাং ইসলাম একটি উদার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যপন্থী দ্বীন যা উন্নতি, অগ্রগতি ও বিনির্মাণের পথে প্রতিটি ইতিবাচক সংস্কার গ্রহণে সক্ষম এবং এটি স্থবিরতা, গোঁড়ামি, সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
فوسطية الإسلام تسعى إلى تحقيق منهج في الحياة لإيجاد التوازن في حياة الإنسان الروحية والمادية وفق فطرة الله التي فطر الناس عليها، منهج يلتقي فيه عالم الشهادة بعالم الغيب، لأن الإسلام دين عقيدة ترتكز على المادة والروح معا.
فتلك وسطية اكتملت أصولها في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم كما رسمها القرآن الكريم، ولم تحدث ظاهرة زيادة شيء جديد لها من بعد، وليس فيها سر ولا نقصان ولا ما يصدم العقل أو العلم أو الفطرة. فالوسطية مزية فريدة للإسلام حتى يطمع كثير من الناس أن تحقق للبشرية عملا مهمًا، يقول هاملتون جب: أؤمن بأن الإسلام لا تزال له رسالة يؤديها إلى الإنسانية جمعاء حيث يقف وسطا بين الشرق والغرب، وإنه أثبت أكثر مما أثبت أي نظام سواه مقدرة على التوفيق والتأليف بين الأجناس المختلفة، فإذا لم يكن بدّ من وسيط يسوي ما بين الشرق والغرب من نزاع وخصام فهذا الوسيط هو الإسلام (1)
--------------------------------------------
ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية) মানবজীবনের এমন এক কর্মপদ্ধতি অর্জনে সচেষ্ট হয়, যা আল্লাহর সেই সহজাত প্রকৃতি (فطرة) অনুযায়ী মানুষের আধ্যাত্মিক ও জাগতিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এটি এমন এক জীবনপদ্ধতি যেখানে দৃশ্যমান জগতের সাথে অদৃশ্য জগতের সমন্বয় ঘটে, কারণ ইসলাম এমন এক আকিদাহ (عقيدة) যা বস্তু ও আত্মা—উভয়ের ওপরই দণ্ডায়মান।
এটি সেই মধ্যপন্থা (وسطية) যার মূলনীতি (أصول) সমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে পূর্ণতা লাভ করেছে যেভাবে পবিত্র কুরআন তা নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী সময়ে এতে নতুন কোনো কিছু সংযোজনের ঘটনা ঘটেনি এবং এতে কোনো রহস্যময়তা কিংবা অপূর্ণতা নেই, আর এমন কিছুও নেই যা বিবেক, বিজ্ঞান বা মানুষের সহজাত প্রকৃতির (فطرة) সাথে সাংঘর্ষিক। সুতরাং মধ্যপন্থা (وسطية) ইসলামের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা অনেক মানুষকে এই আশা জোগায় যে এটি মানবতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করবে। হ্যামিল্টন গিব বলেন: "আমি বিশ্বাস করি যে, সমগ্র মানবতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো ইসলামের এখনও একটি বার্তা রয়েছে, যেখানে এটি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মাঝে মধ্যবর্তী অবস্থানে বিদ্যমান। এটি অন্য যেকোনো ব্যবস্থার চেয়ে বিভিন্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে সমন্বয় ও সম্প্রীতি স্থাপনে অধিকতর সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। সুতরাং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মধ্যকার বিবাদ ও সংঘাত মিটিয়ে ফেলার জন্য যদি কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হয়, তবে সেই মধ্যস্থতাকারী হলো ইসলাম।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
مضامين الوسطية الإسلامية ف
وسطية الإسلام تستلزم الابتعاد عن الإفراط والتفريط في كل شيء، لأن الزيادة على المطلوب في الأمر إفراط، والنقص عنه تفريط، وكل من الإفراط والتفريط خروج عن جادة الطريق.
فوسطية الإسلام تقتضى إيجاد شخصية إسلامية متزنة تقتدي بالسلف الصالح في شمول فهمهم واعتدال منهجهم وسلامة سلوكهم من الإفراط والتفريط، والتحذير من الشطط في أي جانب من جوانب الدين، والتأكيد على النظرة المعتدلة المنصفة والموقف المتزن من المؤسسات والأشخاص في الجرح والتعديل (1) .
فوسطية الإسلام تلزم الأمة الإسلامية بمقاومة الغلو والتطرف في الدين، ورد الغلاة إلى منهج الاعتدال والحكمة، ورعاية حقوق نفسه وحقوق غيره، وحينما نتحدث عن وسطية الإسلام يتبادر إلى أذهاننا ما يقابلها من كلمة سائدة على ألسنة الناس اليوم وهي التطرف الديني، فالإسلام يدعو إلى الوسطية ويحذر من التطرف بجميع صوره وأشكاله.
وقد ألف فضيلة الشيخ الدكتور يوسف القرضاوي كتابا في هذا الصدد تحت عنوان: " الصحوة الإسلامية بين الجحود والتطرف "، وبين فيه حقيقة التطرف وأسبابه وسبل العلاج منه، وسنذكر نبذة ملخصة مما قال.
--------------------------------------------
ইসলামি মধ্যপন্থা (الوسطية)-এর বিষয়বস্তু ও
ইসলামের মধ্যপন্থা (الوسطية) প্রতিটি বিষয়ে বাড়াবাড়ি (الإفراط) ও ছাড়াছাড়ি (التفريط) থেকে দূরে থাকাকে অপরিহার্য করে কারণ কোনো বিষয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত করা হলো বাড়াবাড়ি (الإفراط), আর প্রয়োজনের চেয়ে কম করা হলো ছাড়াছাড়ি (التفريط); আর বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি উভয়ই মূল পথ থেকে বিচ্যুতি।
ইসলামের মধ্যপন্থা (الوسطية) একটি ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামি ব্যক্তিত্ব গঠনের দাবি রাখে, যা তাদের ব্যাপক বুঝ, ভারসাম্যপূর্ণ মূলনীতি (المنهজ) এবং বাড়াবাড়ি (الإফراط) ও ছাড়াছাড়ি (التفريط) থেকে মুক্ত আচরণের ক্ষেত্রে নেককার পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) অনুসরণ করবে। এটি দ্বীনের যেকোনো বিষয়ে সীমালঙ্ঘন থেকে সতর্ক করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচারের (الجرح والتعديل) (১) ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী ও ন্যায়নিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
ইসলামের মধ্যপন্থা (الوسطية) মুসলিম উম্মাহর ওপর দ্বীনের ক্ষেত্রে চরমপন্থা (الغلو) ও উগ্রপন্থা (التطرف)-কে প্রতিরোধ করা এবং চরমপন্থীদের মধ্যপন্থা (الاعتدال) ও প্রজ্ঞার (الحكمة) পথে ফিরিয়ে আনা এবং নিজের ও অন্যের অধিকার রক্ষার বিষয়টি আবশ্যক করে। যখনই আমরা ইসলামের মধ্যপন্থা (الوسطية) নিয়ে কথা বলি, তখনই আমাদের মনে এর বিপরীতে বর্তমান যুগে মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ ভেসে ওঠে, আর তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা (التطرف)। ইসলাম মূলত মধ্যপন্থা (الوسطية)-এর দিকে আহ্বান জানায় এবং উগ্রপন্থা (التطرف)-এর সকল রূপ ও ধরন থেকে সতর্ক করে।
মর্যাদাবান শায়খ ডক্টর ইউসুফ আল-কারজাভি এই বিষয়ে "ইসলামি জাগরণ: অস্বীকৃতি ও উগ্রপন্থার মাঝে" শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেখানে তিনি উগ্রপন্থা (التطرف)-এর বাস্তবতা, এর কারণসমূহ এবং তা থেকে প্রতিকারের উপায় বর্ণনা করেছেন। আমরা তার বক্তব্যের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ উল্লেখ করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
فالنصوص الإسلامية تدعو إلى الاعتدال وتحذر من التطرف، وتعبر عنه بعدة ألفاظ منها: الغلو والتنطع والتشديد، فمن خلال تلك النصوص أصبح من الواضح الجلي أن الإسلام ينفر أشد النفور من هذا الغلو ويحذر منه أشد التحذير.
قال تعالى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} (سورة المائدة 77) .
وقال تعالى: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} (سورة النساء: 171) .
- عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إياكم والغلو في الدين، فإنما هلك من قبلكم بالغلو في الدين» (1) .
ويقول شيخ الإسلام ابن تيمية: قوله «إياكم والغلو في الدين» عام في جميع أنواع الغلو في الاعتقادات والأعمال.
- عن ابن مسعود قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «" هلك المتنطعون " قالها ثلاثا» (2) .
أي المتعمقون المجاوزون الحدود في أقوالهم وأفعالهم. "
--------------------------------------------
ইসলামী মূলপাঠসমূহ মধ্যপন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানায় এবং চরমপন্থা থেকে সতর্ক করে। একে বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: বাড়াবাড়ি (الغلو), চুলচেরা বিশ্লেষণ (التنطع) এবং কঠোরতা (التشديد)। এই পাঠ্যসমূহের মাধ্যমে এটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, ইসলাম এই বাড়াবাড়ি (الغلو) থেকে তীব্রভাবে অনীহা প্রকাশ করে এবং তা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি (تغلوا) করো না এবং এমন কওমের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, আর তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।} (সূরা আল-মায়েদাহ: ৭৭)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনে বাড়াবাড়ি (تغلوا) করো না এবং আল্লাহর শানে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না।} (সূরা আন-নিসা: ১৭১)।
- ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি (الغلو) করা থেকে সতর্ক থাকো, কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি (الغلو) করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে» (১)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: তাঁর বাণী «তোমরা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি (الغلو) করা থেকে সতর্ক থাকো» বিষয়টি আকিদাগত ও আমলগত সকল প্রকার বাড়াবাড়ির (الغلو) ক্ষেত্রে ব্যাপক।
- ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «“চুলচেরা বিশ্লেষণকারী বা কঠোরতা অবলম্বনকারীরা (المتنطعون) ধ্বংস হয়েছে।” কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন» (২)।
অর্থাৎ যারা নিজেদের কথা ও কাজে অতি-গভীরতা অন্বেষণকারী এবং সীমা লঙ্ঘনকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
- عن أنس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لاتشددوا على أنفسكم، فيشدد عليكم، فإن قوما شددوا على أنفسهم فشدد عليهم. . .»
قال تعالى: {يَابَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} (سورة الأعراف: 31- 32) .
وقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} (سورة المائدة:87) .
وقد اتضح من النصوص الشرعية المذكورة وغيرها أن الإسلام منهج وسط في كل شيء، في التصور والاعتقاد والتعبد والتنسك والأخلاق والسلوك والمعاملة والتشريع، وينهى عن الغلو والتطرف.
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন: «তোমরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করো না, অন্যথায় তোমাদের ওপর কঠোরতা করা হবে। কারণ এক সম্প্রদায় নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করেছিল, ফলে তাদের ওপর কঠোরতা করা হয়েছে। . .»
মহান আল্লাহ বলেন: {হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো, আর আহার করো ও পান করো এবং অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না} {বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিযিক বের করেছেন, তা কে হারাম করেছে?} (সূরা আল-আরাফ: ৩১-৩২)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যা পবিত্র ও হালাল করেছেন, সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না এবং সীমা লঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} (সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৭)।
উল্লিখিত শরয়ী দলিলসমূহ (النصوص الشرعية) এবং অন্যান্য উৎস থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলাম প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি মধ্যপন্থা (منهج وسط); তা চিন্তা-চেতনা, আকিদা-বিশ্বাস, ইবাদত-বন্দেগি, আত্মনিবেদন, নৈতিকতা, আচরণ, পারস্পরিক লেনদেন এবং আইন প্রণয়ন—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর ইসলাম চরমপন্থা (الغلو) ও উগ্রবাদ (التطرف) নিষিদ্ধ করে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولكن يجب علينا أن نفهم فهما صحيحاً ما معنى التطرف الديني؟
وما المقصود به الآن؟ ومتى يكون المرء متطرفا دينيا؟
فكلمة " التطرف الديني " أصبحت تشغل بال الغيورين على هذه الأمة، وما يدبر لها من مكائد الأعداء خاصة من صنع أعداء الإسلام الذين يعمدون إلى بعض المظاهر الشاذة فيضعونها تحت المجاهر ويوجهون إليها الأنظار ويغرون بها الحكام والمنفذين بهدف إيجاد حالة من الرعب والإرهاب الفكري لشل حركة الدعوة إلى الله والتشكيك بوسائلها، وأصبحت هي كلمة حق أُريد بها باطل، ويعدون مجرد الالتزام بأوامر الله ونواهيه تطرفا دينيا. وكثير ممن غزته الأفكار والتقاليد الأجنبية يرى الذين يتمسكون بآداب الإسلام في المأكل والمشرب والملبس والزينة ونحوها غاية في التطرف والتعصب. وحتى هناك من يعد إطلاق اللحية من الفتى أو التزام الحجاب من الفتاة تطرفاً في الدين.
وقد فصل فضيلة الدكتور يوسف القرضاوي بعض مظاهر التطرف، منها:
1. التعصب للرأي وعدم الاعتراف بالرأي الأخر.
2. إلزام جمهور الناس بما لم يلزمهم الله به.
3. التشديد في غير محله.
4. الغلظة في التعامل والخشونة في الأسلوب والفظاظة في الدعوة.
কিন্তু আমাদের সঠিকভাবে বুঝতে হবে যে ধর্মীয় চরমপন্থা (التطرف الديني)-এর সঠিক অর্থ কী?
এবং বর্তমানে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নেওয়া হচ্ছে? আর কখন একজন ব্যক্তি ধর্মীয়ভাবে চরমপন্থী (متطرف) হিসেবে গণ্য হন?
"ধর্মীয় চরমপন্থা (التطرف الديني)" শব্দবন্ধটি এখন এই উম্মাহর প্রতি দরদী ব্যক্তিদের এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যে সকল ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তিত করে তুলছে। বিশেষ করে ইসলামের শত্রুরা পরিকল্পিতভাবে কিছু বিচ্ছিন্ন (شاذة) বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে, সেগুলোকে বড় করে দেখায় এবং শাসক ও নীতিনির্ধারকদের প্ররোচিত করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পথে দাওয়াতের গতি স্তব্ধ করতে এবং এর পদ্ধতি সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করতে বুদ্ধিবৃত্তিক সন্ত্রাস ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা। এটি এমন এক সত্য শব্দে পরিণত হয়েছে যার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করা হয়; এমনকি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করাকেও তারা ধর্মীয় চরমপন্থা (تطرفا دينيا) বলে গণ্য করছে। বিদেশি চিন্তা ও সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত অনেক মানুষ পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জার ক্ষেত্রে যারা ইসলামি শিষ্টাচার মেনে চলেন, তাদের চরম চরমপন্থী (التطرف) ও গোঁড়া (التعصب) মনে করে। এমনকি এমন লোকও রয়েছে যারা যুবকের দাড়ি রাখা বা যুবতীর হিজাব পরিধান করাকেও ধর্মে চরমপন্থা (تطرفاً) হিসেবে গণ্য করে।
বিশিষ্ট আলেম ডক্টর ইউসুফ আল-কারজাভি চরমপন্থার কিছু বহিঃপ্রকাশ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১. নিজের মতের প্রতি গোঁড়ামি (التعصب) এবং অন্যের মতকে স্বীকার না করা।
২. সাধারণ মানুষের ওপর এমন বিষয় চাপিয়ে দেওয়া যা আল্লাহ তাদের ওপর আবশ্যক করেননি।
৩. অপ্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে কঠোরতা (التشديد) অবলম্বন করা।
৪. আচরণে রূঢ়তা, পন্থায় রুক্ষতা এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে কর্কশতা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
5. سوء الظن بالناس والنظر إليهم من خلال منظار أسود والغرور بالنفس وازدراء الآخرين.
6. السقوط في هاوية التكفير (1) .
--------------------------------------------
5. মানুষের প্রতি কুধারণা পোষণ করা, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের বিচার করা, আত্মগরিমা এবং অন্যদের অবজ্ঞা করা।
6. তাকফির (تكفير) বা কাফির সাব্যস্ত করার গহ্বরে নিপতিত হওয়া (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
فالوسطية الإسلامية ترفض لأمتها وأفرادها تلك المظاهر وتحذر منها أشد التحذير، وتدعو إلى معاني العدل والاعتدال والاستقامة والتوازن واحترام الآخر التي يدعو إليها الإسلام، وتدعو إلى نبذ صور العنف والقسوة والغضب والانتقام والإرهاب.
فهي وسطية في التصور والاعتقاد، لا تغلو في التجرد الروحي ولا الارتكاس المادي (1) . وسطية في التنظيم والتنسيق، لا تدع الحياة كلها للمشاعر والضمائر، ولا تدعها كذلك للتشريع والتأديب.
وسطية في العقيدة، قال تعالى: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} (سورة النساء: 171) .
وسطية في الأخلاق والسلوك، قال تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} (سورة الفرقان: 67) .
وسطية في التشريع، قال تعالى: {وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ} (سورة النحل:126) .
--------------------------------------------
ইসলামী মধ্যপন্থা তার উম্মত ও ব্যক্তিদের জন্য এজাতীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এবং এগুলো থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করে। এটি ইসলাম কর্তৃক নির্দেশিত ন্যায়বিচার, পরিমিতিবোধ, ঋজুতা, ভারসাম্য এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি এটি সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা, ক্রোধ, প্রতিশোধ এবং সন্ত্রাসবাদের সকল রূপ বর্জনের ডাক দেয়।
এটি চিন্তা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে একটি মধ্যপন্থা; যা আধ্যাত্মিক বিমূর্তায়নের ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি (غلو) করে না এবং বস্তুগত অবক্ষয়েও নিমজ্জিত হয় না (১)। এটি সংগঠন ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা; যা সমগ্র জীবনকে কেবল আবেগ ও বিবেকের ওপর ছেড়ে দেয় না, আবার কেবল আইন ও শৃঙ্খলার ওপরও সীমাবদ্ধ রাখে না।
আকিদাহর ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা; মহান আল্লাহ বলেন: {হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অতিশয়োক্তি (غلو) করো না এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলো না} (সূরা আন-নিসা: ১৭১)।
চরিত্র ও আচরণের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা; মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তারা এ দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে} (সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)।
বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা; মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো, তবে ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করো যতটুকু তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, তবে ধৈর্যশীলদের জন্য সেটিই উত্তম} (সূরা আন-নাহল: ১২৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وسطية في العبادات، وكانت قصة نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة من أصحابه عن الغلو في العبادة مشهورة، ظنا منهم أن أفضلية العبادة وعظم ثوابها لا تحصل إلا بالمشقة البالغة وحرمان أنفسهم من طيبات الدنيا، وقد صحح النبي صلى الله عليه وسلم فهمهم الخاطئ وأرشدهم منهج وسطية العبادة في الإسلام.
فكمال الوسطية أو وسطية الكمال قد وضع الله سبحانه وتعالى لها منهجا ربانيا شاملا وسعى رسول الله صلى الله عليه وسلم في حياته وسيرته إلى التطبيق الكامل لهذه الوسطية، فهذه الوسطية خصيصة الأمة الإسلامية بمفهومها الإسلامي المتمثل في لغة القرآن ومعانيه ومواقفه، كما أورده القرآن الكريم وطبقه رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم، فهي تختلف تمام الاختلاف عن مفهوم الوسطية عند غير المسلمين. فالوسطية الإسلامية لا تهدف إلى الجمع بين المتضادين أو المتعارضين أو التوسط بين النقيضين أو إرضاء الطرفين واتخاد موقف محايد، وإنما الهدف من الوسطية الإسلامية هو الوصول إلى الحق.
ইবাদতের ক্ষেত্রে ভারসাম্য; এবং ইবাদতে বাড়াবাড়ি থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর তিন সাহাবীকে নিষেধ করার ঘটনাটি মশহুর (مشهور)। তাদের ধারণা ছিল যে, ইবাদতের শ্রেষ্ঠত্ব ও এর বিশাল সওয়াব কেবল চরম কষ্ট এবং দুনিয়ার পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এই ভুল ধারণা সংশোধন করেছেন এবং ইসলামে ইবাদতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ মানহাজের দিকে তাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
ভারসাম্যের পূর্ণতা বা পূর্ণতার ভারসাম্যের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একটি ব্যাপক রব্বানি মানহাজ নির্ধারণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবন ও সীরাতে এই ভারসাম্যের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। এই ভারসাম্যই হলো মুসলিম উম্মাহর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা কুরআনের ভাষা, অর্থ ও অবস্থানের মাধ্যমে ফুটে ওঠা ইসলামি ধারণার আলোকে প্রকাশিত, যেমনটি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রয়োগ করেছেন। এটি অমুসলিমদের ভারসাম্যের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলামি ভারসাম্যের উদ্দেশ্য দুই বিপরীত বা পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সমন্বয় সাধন, কিংবা দুই বৈপরীত্যের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন অথবা উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করা নয়; বরং ইসলামি ভারসাম্যের মূল লক্ষ্য হলো সত্যে উপনীত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فلذلك وسطية الإسلام ليست خصيصة مميزة فحسب، بل هي من أعظم حقوق الأمة الإسلامية التي سماها الله " أمة وسطا " والتي يجب الدفاع عنها كلما حدث في المجتمع الإسلامي أي انحراف عنها فكريا أو سلوكيا، وكما يجب على الأمة الوسط الدفاع عن وسطيتها في العقيدة والأخلاق والتشريع والسلوك ضد كل غلو أو تطرف (1) . ويجب التحذير من الإفراط والتفريط والتسرع في تبديع أو تفسيق أو تكفير المسلمين، ولا سيما الدعاة لمجرد خطأ وقعوا فيه، وكذلك التحذير من أهل الغلو في الجرح في زماننا الذين لم يسلم من لسانهم أحد من الصالحين (2) .
--------------------------------------------
فلذلك ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية) কেবল একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যই নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম মহান অধিকার যাকে আল্লাহ "মধ্যপন্থী জাতি" (أمة وسطا) হিসেবে নামকরণ করেছেন। যখনই মুসলিম সমাজে চিন্তা বা আচরণের ক্ষেত্রে এই মধ্যপন্থা থেকে কোনো বিচ্যুতি ঘটে, তখনই একে রক্ষা করা আবশ্যক। ঠিক তেমনি এই মধ্যপন্থী জাতির জন্য তাদের আকিদা, নৈতিকতা, শরীয়াহ এবং আচরণের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অতিরঞ্জন (غلو) বা উগ্রপন্থা (تطرف) এর বিরুদ্ধে নিজেদের মধ্যপন্থা (وسطية) রক্ষা করা আবশ্যক (১)। আর অতিশয়তা (إفراط) ও শিথিলতা (تفريط) এবং মুসলিমদের, বিশেষ করে দাঈদের সামান্য কোনো ভুলের কারণে দ্রুত বিদআতি সাব্যস্ত করা (تبديع), ফাসেক সাব্যস্ত করা (تفسيق) বা কাফের সাব্যস্ত করা (تكفير) এর বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক। একইভাবে বর্তমান সময়ের জরাহ বা সমালোচনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জনকারীদের (أهل الغلو في الجرح) ব্যাপারেও সতর্ক করতে হবে, যাদের জিহ্বা থেকে নেককার বান্দাদের কেউই রেহাই পান না (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وكان منهج السلف في الأمور كلها سواء كانت الأمور اعتقادية أو منهجية أو سلوكية منهجا وسطيا، ويتمثل ذلك في منهج التعامل مع الحكام ودعوتهم إلى الله وأمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر بقصد اتباع السنة وترك البدعة والبعد عن الشطط وإيثار المصالح العامة على المصالح الفردية. ويقول الإمام ابن القيم في تقرير الأصول الاعتقادية: "والسمع والطاعة لأئمة المسلمين وكل من ولي أمر المسلمين عن رضى أو عن غلبة واشتدت وطأته من برأو فاجر فلا يخرج عليه جار أو عدل ونغزو معه العدو ونحج معه البيت، ودفع الصدقات إليهم مجزية إذا طلبوها، ونصلي خلفهم الجمعة والعيدين (1) . . .
--------------------------------------------
সালাফদের (السلف) কর্মপন্থা (منهج) সকল ক্ষেত্রে—চাই তা আকিদাগত (اعتقادية), পদ্ধতিগত (منهجية) কিংবা আচরণগত (سلوكية) বিষয় হোক—ছিল একটি মধ্যমপন্থা (منهج وسطي)। এটি শাসকদের সাথে আচরণের পদ্ধতি, আল্লাহর দিকে তাঁদের দাওয়াত প্রদান এবং সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ ও বিদআত (بدعة) বর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁদের সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) প্রদান, অতিরঞ্জন (شطط) পরিহার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপর জনকল্যাণকে (المصالح العامة) অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আকিদাগত মূলনীতিসমূহ (الأصول الاعتقادية) বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "মুসলিমদের ইমাম এবং যারা মুসলিমদের শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন, চাই তা জনগণের সন্তুষ্টির মাধ্যমে হোক বা বিজয়ী হয়ে এবং তাঁর শাসন কঠোর হোক, চাই তিনি পুণ্যবান (بر) হোন বা পাপাচারী (فاجر)—তাঁদের কথা শোনা ও আনুগত্য করা (السمع والطاعة) আবশ্যক। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করা যাবে না, তিনি জালেম হোন বা ন্যায়পরায়ণ। আমরা তাঁর সাথে মিলে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব এবং তাঁর সাথে হজ্জ পালন করব। তাঁরা সদকা (صدقات) দাবি করলে তাঁদের তা প্রদান করা যথেষ্ট হবে এবং আমরা তাঁদের পেছনে জুমুআ ও দুই ঈদের নামাজ আদায় করব (১)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذه الوسطية تميز المسلم عن غيره بمنهج حياته، ويقف صامدا ثابتا أمام تحديات العصر وتيارات مجريات الأحداث، ولا يكون حائرا مترددا على مفترق الطرق، ولا تذوب هويته في أمواج الأفكار المتعارضة، ولا يميل نحو الشرق ولا نحو الغرب، ولا يكون متساهلا مفّرطا حتى يكون علمانيا ولا متطرفا مكفرا أو مفسقا فيأتي إلى استخدام أساليب القسوة والعنف، وبهذه الوسطية أصبح الإسلام أسمى من النظم المدنية كلها، لأنه يشمل الحياة كلها ويهتم اهتماما متساوياً بالدنيا والأخرة وبالنفس والجسد معا، وبالفرد والمجتمع على المستوى الواحد. . . إنه لا يحملنا على طلب المحال ولكنه يهدينا إلى أن نستفيد أحسن الاستفادة مما فينا من استعداد وإلى أن نصل إلى مستوى أسمى من الحقيقة حيث لا نفاق ولا عداء بين الرأي وبين العمل (1) .
إن الإسلام ليس دينا كسائر الأديان، ولكنه شامل الجوانب: الاعتقاد والمجتمع والدولة ومختلف نظم الاقتصاد والسياسة والاخلاق، وإن ميزة الإسلام أنه نظرة كلية شاملة، وأنه لم يجزئ الحياة بل نظر إليها نظرة كلية كما نظر إلى الإنسان على أنه وحدة نفسية وجسمية لا تنفصل (2) .
--------------------------------------------
এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান (الوسطية) মুসলিমকে তার জীবনপদ্ধতির মাধ্যমে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করে। সে সমসাময়িক যুগের চ্যালেঞ্জ এবং ঘটনাপ্রবাহের স্রোতের সামনে অবিচল ও দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে। সে জীবনের মোড়ে মোড়ে বিভ্রান্ত বা দ্বিধাগ্রস্ত হয় না এবং পরস্পরবিরোধী চিন্তাধারার তরঙ্গে তার আত্মপরিচয় বিলীন হয়ে যায় না। সে প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্য—কোনো দিকেই ঝুঁকে পড়ে না। সে অতি-শিথিলতা প্রদর্শনকারী (مفرطا) হয়ে সেক্যুলার বা ধর্মহীন হয় না, আবার এমন চরমপন্থীও হয় না যে অন্যদের কাফির সাব্যস্তকারী (مكفرا) বা ফাসিক সাব্যস্তকারী (مفسقا) হিসেবে কঠোরতা ও সহিংসতার পথ অবলম্বন করবে। এই ভারসাম্যের (الوسطية) কারণেই ইসলাম সকল নাগরিক ব্যবস্থার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে; কারণ এটি মানবজীবনের সকল দিককে পরিব্যাপ্ত করে এবং দুনিয়া ও আখিরাত, আত্মা ও দেহ এবং ব্যক্তি ও সমাজ—উভয় স্তরেই সমান গুরুত্ব প্রদান করে। এটি আমাদের সাধ্যাতীত কোনো কিছুর পেছনে ছুটতে বাধ্য করে না, বরং আমাদের মাঝে বিদ্যমান যোগ্যতার সর্বোত্তম ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেয় এবং সত্যের এমন এক উচ্চতর স্তরে নিয়ে যায় যেখানে চিন্তাধারা ও কর্মের মাঝে কোনো কপটতা বা শত্রুতা থাকে না (১)।
নিশ্চয়ই ইসলাম অন্যান্য সাধারণ ধর্মের মতো নিছক কোনো ধর্ম নয়, বরং এটি জীবনের সকল ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত: বিশ্বাস (الاعتقاد), সমাজ, রাষ্ট্র এবং অর্থনীতি, রাজনীতি ও নৈতিকতার বিভিন্ন ব্যবস্থা। ইসলামের বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি এবং এটি জীবনকে খণ্ডিত করে না, বরং একে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখে; ঠিক যেমন এটি মানুষকে একটি অবিচ্ছেদ্য মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الوسطية الإسلامية منهج اجتماعي ففي العصر الحديث تعرض العالم الإسلامي للاحتلال الدائم والغزو الشامل من المستعمرين الغربيين، فبالرغم من أن كثيراً من بلدان العالم الإسلامي قد تخلصت من الاستعمار وحققت الاستقلال، غير أنهم في الحقيقة خرجوا من باب ودخلوا في باب آخر من أبواب الاستعمار التي دبرتها أعداء الإسلام، وقد فرضت عليهم الدول الغربية القوة العسكرية والوكالة السياسية والهيمنة الاقتصادية، الأمر الذي جعل العالم الإسلامي دائما تحت أزمات ومشكلات داخلية وخارجية، وتدهورت الأوضاع وفقد التوازن في السياسة والاقتصاد والاجتماع والثقافة، وتعد حقا هذه الفترة من الزمن في التاريخ الإسلامي تاريخ الهوان والذل والمقاومة، وتحت مثل هذه الظروف الصعبة القاسية لم تستطع وسطية الإسلام أن تبرز خاصيتها، بل تكاد تفقد صورتها أمام تحديات التيارات والأفكار المناقضة، ومنها التطرف.
ইসলামি মধ্যপন্থা (الوسطية) একটি সামাজিক জীবনপদ্ধতি আধুনিক যুগে মুসলিম বিশ্ব পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্ব এবং সর্বাত্মক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। যদিও মুসলিম বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি লাভ করেছে এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তবুও বাস্তবে তারা একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে ইসলামের শত্রুদের পরিকল্পিত উপনিবেশবাদের অন্য একটি দরজায় প্রবেশ করেছে। পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ তাদের ওপর সামরিক শক্তি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং অর্থনৈতিক আধিপত্য চাপিয়ে দিয়েছে; যার ফলে মুসলিম বিশ্ব সর্বদা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকট ও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ইসলামি ইতিহাসের এই সময়কালটি প্রকৃতপক্ষে লাঞ্ছনা, অবমাননা এবং প্রতিরোধের ইতিহাস হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির চাপে ইসলামের মধ্যপন্থা (الوسطية) তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়নি, বরং চরমপন্থা (التطرف)-সহ বিভিন্ন বিজাতীয় ধারা ও চিন্তাধারার চ্যালেঞ্জের মুখে এটি প্রায় তার স্বরূপ হারিয়ে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي أواخر القرن العشرين، خصوصا بعد الحرب الباردة بذل العالم الغربي جهودا لدعاية ونشر فكرة إرهابية أو تهديدية الإسلام وفكرة صدام أو صراع الحضارات، وقد فرض القطب الأوحد هيمنته السياسية على العالم الإسلامي، وظهرت أشكال مختلفة من التطرف وصور متنوعة من الإرهاب، وتمركزت الحروب والنزاعات والصراعات كلها في الشرق الأوسط، وأمام تحديات العولمة من كل الجهات، تحت هذه الظروف القاسية يعيش العالم الإسلامي تحت أجواء مظلمة ومحزنة. فمن الناس من يعتزل أمام التحديات، ومنهم من خرج ليواجه التحديات، وفي أثناء ذلك أبرزت الوسطية الإسلامية خصيصتها المتفردة لمواجهة تطور الأحداث والأوضاع بشكل إيجابي، وكثير من البلدان الإسلامية والمفكرين والعلماء والقادة من مختلف القطاعات ينادون بوسطية الإسلام وضرورتها (1) .
--------------------------------------------
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে, বিশেষ করে শীতল যুদ্ধের পর, পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামকে একটি সন্ত্রাসী বা হুমকিস্বরূপ ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন এবং ‘সভ্যতা সমূহের সংঘাত’ বা ‘সভ্যতা সমূহের দ্বন্দ্ব’ এর ধারণা প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এই সময়ে একক মেরুর শক্তি মুসলিম বিশ্বের ওপর তার রাজনৈতিক আধিপত্য চাপিয়ে দিয়েছে এবং চরমপন্থার বিভিন্ন রূপ ও সন্ত্রাসের বিচিত্র চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সকল যুদ্ধ, বিবাদ ও সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হয়েছে। সর্বমুখী বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জের মুখে এবং এই কঠোর পরিস্থিতির অধীনে মুসলিম বিশ্ব এক তমসাসচ্ছন্ন ও বিষাদময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। ফলে একদল মানুষ এই চ্যালেঞ্জের মুখে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে, আবার অন্য একদল তা মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে। এমতাবস্থায়, ঘটনাপ্রবাহ ও পরিস্থিতির ইতিবাচক বিবর্তনের প্রেক্ষিতে ইসলামী মধ্যপন্থা তার অনন্য বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছে। বর্তমানে বহু মুসলিম দেশ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের চিন্তাবিদ, আলেম ও নেতৃবৃন্দ ইসলামের মধ্যপন্থা ও এর প্রয়োজনীয়তার আহ্বান জানাচ্ছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وبعد أحداث الحادي عشر من سبتمبر قد أحس العالم الإسلامي بحاجة ملحة إلى أهمية دعوة السلام والوسطية وضرورتها التي يدعو الإسلام إلى تحقيقها ونشرها بين الناس بالطريق الصحيح، واتضحت جليا واقعية الوسطية الإسلامية لمواجهة مجريات الأحداث مما جعل الوسطية الإسلامية من الأساليب الضرورية لحماية الهوية الإسلامية ومواجهة تحديات العصر في الوقت نفسه، لأنها بديل في حل المشكلات العويصة، وسطية تشمل الشريعة والمجتمع والسياسة والاقتصاد والثقافة والتربية.
وسطية تدعو إلى الالتزام بالمبادئ لا تفريط ولا إفراط.
وسطية تدعو إلى نبذ التطرف بكل أشكاله والتمسك بالقيم الأخلاقية والجمالية.
وسطية تدعو إلى الوحدة والائتلاف وتكوين أمة وسط بغض النظر عن اختلاف الألوان والألسنة وبعد المسافات بهدف سامٍ موحد مشترك.
وسطية تقوم على توحيد الله سبحانه وتعالى في ربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته، وأي انحراف أو غلو هو من باب التطرف.
১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাবলির পর মুসলিম বিশ্ব শান্তি ও মধ্যপন্থা (الوسطية)-র দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করেছে, যা ইসলাম সঠিক পদ্ধতিতে মানুষের মাঝে বাস্তবায়ন ও প্রসারের আহ্বান জানায়। ঘটনার প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় ইসলামী মধ্যপন্থার বাস্তবতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা ইসলামী মধ্যপন্থাকে (الوسطية) ইসলামী পরিচয় রক্ষা এবং একই সাথে যুগের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলার একটি অপরিহার্য পদ্ধতিতে পরিণত করেছে। কারণ এটি জটিল সমস্যা সমাধানের একটি বিকল্প; এমন এক মধ্যপন্থা (وسطية) যা শরীয়াহ, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষাকে পরিবেষ্টন করে।
এমন এক মধ্যপন্থা (وسطية) যা মূলনীতির প্রতি অবিচল থাকার আহ্বান জানায়; যেখানে নেই কোনো শিথিলতা (تفريط) আর নেই কোনো অতিরঞ্জন (إفراط)।
এমন এক মধ্যপন্থা (وسطية) যা সব ধরনের চরমপন্থা (التطرف) বর্জন এবং নৈতিক ও নান্দনিক মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানায়।
এমন এক মধ্যপন্থা (وسطية) যা ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানায় এবং বর্ণ, ভাষা ও ভৌগোলিক দূরত্ব নির্বিশেষে এক মহৎ ও অভিন্ন লক্ষ্যে একটি মধ্যপন্থী জাতি (أمة وسط) গঠনের ডাক দেয়।
এমন এক মধ্যপন্থা (وسطية) যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রুবুবিয়াত (ربوبية), উলুহিয়াত (ألوهية) এবং নাম ও গুণাবলির (أسماء وصفات) তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত; আর যেকোনো বিচ্যুতি বা অতিরঞ্জন (غلو) চরমপন্থা (التطرف)-রই অংশ।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وسطية تقوم على المنهج الإلهي، والجمع بين المادة والروح، والقضاء والقدر، والدنيا والآخرة، والإنسانية والعلوم، والفرد والجماعة، والأسرة والمجتمع، والحقوق والمسؤولية، والتوازن فيما بينها بلا إفراط ولا تفريط، ولا ترجيح جانب من الجوانب دون الآخر. وأما العزلة والانفراد أو الانهماك في ملذات الدنيا واتباع الهوى فكل ذلك من التطرف.
وسطية تدعو إلى التيسير في أمور الدين، وإلى التسامح والرفق، وتحارب التطرف والتشدد بجميع صوره، وترى الجهل بمبادئ الإسلام وتأويل النصوص بالهوى والاستبداد بالرأي والابتداع والعصبية وسوء الظن بالآخرين والحسد والحقد كلها خروجا وانحرافا عن وسطية الإسلام، وذاك هو التطرف بعينه.
একটি মধ্যপন্থা (وسطية) যা ঐশী পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত; এটি বস্তু ও আধ্যাত্মিকতা, ফয়সালা (قضاء) ও নিয়তি (قدر), দুনিয়া ও আখেরাত, মানবতা ও বিজ্ঞান, ব্যক্তি ও সমষ্টি, পরিবার ও সমাজ এবং অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এটি এগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে কোনো প্রকার অতিরঞ্জন (إفراط) বা শিথিলতা (تفريط) ছাড়াই এবং কোনো এক দিককে অন্য দিকের তুলনায় অযৌক্তিক প্রাধান্য না দিয়ে। আর নির্জনতা ও একাকীত্ব অবলম্বন অথবা দুনিয়ার ভোগবিলাসে মগ্ন হওয়া এবং প্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ করা—এসবই চরমপন্থার অন্তর্ভুক্ত।
এমন একটি মধ্যপন্থা (وسطية) যা দ্বীনি বিষয়ে সহজীকরণের (تيسير) প্রতি এবং সহনশীলতা ও কোমলতার প্রতি আহ্বান জানায়। এটি সকল প্রকার চরমপন্থা ও কঠোরতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা, প্রবৃত্তির তাড়নায় দলিলের (نصوص) অপব্যাখ্যা (تأويل), নিজস্ব মতামতে একগুঁয়েমি, নব-উদ্ভাবন (الابتداع), গোঁড়ামি (العصبية), অন্যের প্রতি কুধারণা, হিংসা ও বিদ্বেষকে ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية) থেকে বিচ্যুতি ও লক্ষ্যভ্রষ্টতা হিসেবে গণ্য করে; আর এটিই হলো প্রকৃত চরমপন্থা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وسطية تنبه الناس أنها ليست تحارب التطرف الديني فحسب، بل تحارب أيضا التطرف في الأفكار والأمور الأخرى لأن مثل هذا النوع من التطرف قد أحدث كثيراً من المشكلات السياسية والاجتماعية والاقتصادية في العالم الإسلامي، فعلى سبيل المثال: التغريب هو النوع المثالي من أشكال التطرف، فكثير من الغربيين أو من دعاة التغريب يعدون مقاومة الثقافات الخليعة وأساليب الحياة الساقطة في العالم الإسلامي انتهاكا بحقوق الإنسان وتدخلا في حرية الآخرين، وهذه مؤامرة وكيد على الإسلام، وفي الحقيقة هؤلاء هم المتطرفون أنفسهم، وفعلهم هذا هو التطرف عينه.
একটি ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা (وسطية) মানুষকে এই মর্মে সতর্ক করে যে, এটি কেবল ধর্মীয় চরমপন্থার (تطرف) বিরুদ্ধেই সংগ্রাম করে না, বরং চিন্তা-চেতনা ও অন্যান্য বিষয়ের চরমপন্থার (تطرف) বিরুদ্ধেও লড়াই করে। কারণ, এই ধরনের চরমপন্থা (تطرف) মুসলিম বিশ্বে বহু রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার উদ্ভব ঘটিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: পাশ্চাত্যকরণ (تغريب) হলো চরমপন্থার (تطرف) একটি আদর্শ রূপ। অনেক পাশ্চাত্যবাসী বা পাশ্চাত্যকরণের প্রবক্তারা মুসলিম বিশ্বের অশ্লীল সংস্কৃতি ও কলুষিত জীবনধারার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করে। এটি মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল। প্রকৃতপক্ষে, তারাই হলো চরমপন্থী (متطرفون) এবং তাদের এই আচরণই হলো চরমপন্থার (تطرف) বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وسطية تحارب الإرهاب بكل صوره وأشكاله والهيمنة وسياسة القوة، وتؤكد الوسطية بأن أول ما يقدمه الإسلام للبشرية هو الأمن والسلام، فأي حركة تمارس الإرهاب أو تناصره باسم الإسلام تخالف رسالة الإسلام من حيث المبدأ والأساس، فكل ما يؤذي أو يهدد أمن الناس وأموالهم وحرية عقيدتهم وكرامتهم، سواء صدر ذلك من الفرد أو المنظمة أو الدولة كلها من التطرف والإرهاب، وأن الوسطية الإسلامية تحارب الإرهاب والتطرف بأشكاله وصوره، وتحارب ما تمارسه السلطة الصهيونية تجاه الشعب الفلسطيني من أعمال العنف والإرهاب، وتدعو الوسطية الإسلامية إلى إزاحة الإرهاب من مظاهره وأسبابه وجذوره من مصدره.
মধ্যপন্থা (وسطية) তার সমস্ত রূপ ও ধরনে সন্ত্রাসবাদ (إرهاب), আধিপত্য এবং শক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। মধ্যপন্থা (وسطية) এ কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করে যে, মানবজাতির প্রতি ইসলামের প্রথম উপহার হলো নিরাপত্তা ও শান্তি। সুতরাং ইসলামের নামে পরিচালিত যে কোনো আন্দোলন যা সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) চর্চা করে বা একে সমর্থন যোগায়, তা নীতিগত ও মৌলিকভাবে ইসলামের বার্তার পরিপন্থী। মানুষের জান-মাল, আকিদা (عقيدة) বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত বা হুমকির মুখে ফেলে এমন প্রতিটি কাজই—তা ব্যক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্র যে কারও পক্ষ থেকেই ঘটুক না কেন—উগ্রবাদ (تطرف) ও সন্ত্রাসবাদের (إرهاب) অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী মধ্যপন্থা (وسطية) তার সকল অবয়বে সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) ও উগ্রবাদকে (تطرف) প্রতিহত করে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর জায়নবাদী কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদী (إرهاب) কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করে। পরিশেষে, ইসলামী মধ্যপন্থা (وسطية) সন্ত্রাসবাদকে (إرهاب) তার বহিঃপ্রকাশ, কারণ এবং মূল উৎস থেকে সমূলে নির্মূল করার আহ্বান জানায়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وإن لظهور مظاهر التطرف والإرهاب في العالم الإسلامي أسبابا وعوامل سياسية واقتصادية واجتماعية دولية معقدة. فإزاحة الإرهاب من جذوره استئصاليا تقتضي وجوبا أوليا إزالة مصادر تلك الأسباب والعوامل من الوجود، ومن مصادر تلك الأسباب والعوامل عدم حل قضية فلسطين بصورة سلمية عادلة، واحتلال إسرائيل أراضي فلسطين، وما فعله الصهاينة في حق شعب فلسطين الأبرياء من أعمال العنف والعنجهية من قتل وإبادة، وفرض الحكومة الأمريكية هيمنتها وسياسة القوة على الدول العربية والإسلامية (1) . وعجز كثير من حكومات الدول الإسلامية، واضطرابات المجتمع الدائمة، وفقدان العدالة في التقسيم، وسعة الفرق بين الأغنياء والفقراء إلخ.
--------------------------------------------
মুসলিম বিশ্বে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বহিঃপ্রকাশের নেপথ্যে অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ ও প্রভাবকসমূহ নিহিত রয়েছে। সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটন করার জন্য প্রাথমিকভাবে সেই সকল কারণ ও প্রভাবকসমূহের উৎসগুলো অস্তিত্বহীন করা বা নির্মূল করা অপরিহার্য। ঐ সকল কারণ ও প্রভাবকসমূহের অন্যতম উৎস হলো—ফিলিস্তিন সংকটের কোনো শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সংগত সমাধান না হওয়া এবং ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রাখা; সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনের নিরপরাধ জনগণের ওপর জায়নবাদীদের চালানো সহিংসতা ও উদ্ধত কর্মকাণ্ড তথা হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যা এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোর ওপর মার্কিন সরকারের আধিপত্য ও শক্তিমত্তার রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়া (১)। এ ছাড়া অনেক মুসলিম দেশের সরকারের অক্ষমতা, সমাজে বিরাজমান দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা, সম্পদ বণ্টনে ন্যায়বিচারের অভাব এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বিশাল ব্যবধান বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদিও এর নেপথ্য কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وسطية تؤكد أن هناك اشكالا متنوعة من الإرهاب والعنف والتطرف باسم الدين، وصورا أخرى من الإرهاب تمارسها أصحابها بحجة كاذبة باسم حماية حقوق الإنسان أو الدفاع عن حرية الديمقراطية، وتنبه الوسطية الإسلامية وتحارب جميع الأعمال الإرهابية التي تمارسها الدولة أو الهيئة العسكرية تحت هتافات رنانة كاذبة خادعة من انتهاك حقوق الإنسان وإهانة كرامتهم وقتل الأبرياء، وإن الهيمنة وسياسة القوة إن لم تكن من صور الإرهاب فإنها من مصادر وأسباب حدوث الإرهاب على الأقل، لذلك يجب علينا أن نحارب الهيمنة وسياسة القوة في الوقت نفسه.
মধ্যপন্থা এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও চরমপন্থার নানাবিধ রূপ বিদ্যমান। এছাড়া সন্ত্রাসবাদের এমন আরও কিছু চিত্র রয়েছে যা এর চর্চাকারীরা মানবাধিকার সুরক্ষা অথবা গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা রক্ষার মিথ্যা অজুহাতে প্রয়োগ করে থাকে। ইসলামি মধ্যপন্থা রাষ্ট্র বা সামরিক সংস্থা কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন, মানুষের মর্যাদাহানি এবং নিরীহ মানুষ হত্যার মতো চটকদার ও প্রতারণামূলক মিথ্যা স্লোগানের আড়ালে পরিচালিত সকল প্রকার সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্ক করে এবং তা প্রতিরোধ করে। আধিপত্যবাদ ও শক্তির রাজনীতি যদি সরাসরি সন্ত্রাসবাদের কোনো রূপ না-ও হয়, তবে তা অন্তত সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টির অন্যতম উৎস ও কারণ। অতএব, আমাদের একই সাথে আধিপত্যবাদ ও শক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وسطية تدعو إلى إقامة النظم الاجتماعية العادلة المتوازنة والشورى والعدالة الاجتماعية، ومحاربة الاستبداد، وترى الوسطية أن المفهوم الأساس للوسطية الإسلامية والتوازن هو تحقيق المساواة والعدالة، فلا وسطية ولا توازن إلا بالعدالة، يقول الله سبحانه وتعالى في القرآن الكريم: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} (سورة المائدة:8) ، ويقول تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} (سورة المائدة:2) .
ويقول تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ} (سورة النحل: 90) ، ويقول تعالى: {وَالسَّمَاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ} {أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ} {وَأَقِيمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيزَانَ} (سورة الرحمن: 7-9) .
এটি এমন এক মধ্যপন্থা যা সুষম ও ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, শুরা ও সামাজিক ন্যায়বিচার এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান জানায়। এই মধ্যপন্থা মনে করে যে, ইসলামি মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যের মূল ধারণা হলো সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা; কেননা ন্যায়বিচার ব্যতীত মধ্যপন্থা বা ভারসাম্য সম্ভব নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকো এবং কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} (সুরা আল-মায়িদাহ: ৮), এবং তিনি বলেন: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না} (সুরা আল-মায়িদাহ: ২)।
তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অপছন্দনীয় বিষয় (المنكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন} (সুরা আন-নাহল: ৯০), এবং তিনি বলেন: {তিনি আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং ভারসাম্য স্থাপন করেছেন} {যাতে তোমরা ভারসাম্যে সীমালঙ্ঘন না করো} {তোমরা ইনসাফের সাথে ওজন কায়েম করো এবং ওজনে কম দিও না} (সুরা আর-রহমান: ৭-৯)।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وسطية تدعو إلى إصلاح المجتمع والتكافل والتضامن الإجتماعي والعدالة الاجتماعية واختيار طريق يتفق وواقعية الدول الإسلامية، لا رأسمالية ولا اشتراكية بل طريقة إسلامية تؤكد ملكية الفرد ومصالح المجتمع، وسطية وتوازنية بين الإنتاج والاستهلاك، وتنمية الموارد وحماية البيئة، والتطور المستمر. وتنادي بحكم البلاد وإدارة شؤون المجتمع على أساس الشورى، وتحارب الاستبداد والفساد والاستغلال والظلم.
وسطية تدعو إلى الوحدة ونبذ الخلافات وإجراء حوار الحضارات وتقوية التبادل، وتبين أن النزاعات الداخلية قد أضعفت بكثير قوة الأمة الإسلامية وعرقلت تطورها وتقدمها، وإن تقوية الوحدة وتعزيز العلاقة أصبحت حاجة ماسة وواجبة للأمم، وليس في استطاعة الأمة أن تجابه تحديات العصر والعولمة إلاّ بالاتحاد والتعاون، فالوسطية الإسلامية تهدف إلى تنمية الوحدة والتعاون بين شعوب العالم الإسلامي انطلاقا من مبدأ " إنما المؤمنون إخوة "، لإجراء الحوارات فيما بينهم لتقوية التعاون وتعزيز العلاقة بينها.
এটি একটি মধ্যপন্থা (وسطية) যা সমাজ সংস্কার, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সংহতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আহ্বান জানায় এবং এমন এক পথ বেছে নেওয়ার কথা বলে যা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ; এটি পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র নয়, বরং একটি ইসলামী পদ্ধতি যা ব্যক্তির মালিকানা ও সমাজের স্বার্থকে সুনিশ্চিত করে। এটি উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা (وسطية), যা সম্পদের উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নিরন্তর অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করে। এটি পরামর্শের (شورى) ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা ও সমাজের বিষয়াবলি ব্যবস্থাপনার ডাক দেয় এবং স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।
এটি এমন এক মধ্যপন্থা (وسطية) যা ঐক্যের আহ্বান জানায়, বিবাদ বর্জন করে এবং সভ্যতার সংলাপ ও পারস্পরিক আদান-প্রদান জোরদার করে। এটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল মুসলিম উম্মাহর শক্তিকে বহুলাংশে দুর্বল করেছে এবং এর বিবর্তন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা জাতিসমূহের জন্য এক জরুরি প্রয়োজন ও অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐক্য ও সহযোগিতা ব্যতীত বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ ও বিশ্বায়নের মোকাবিলা করা উম্মাহর পক্ষে সম্ভব নয়। মূলত ইসলামী মধ্যপন্থা (وسطية)-র লক্ষ্য হলো "নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই"—এই মূলনীতির আলোকে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, যাতে তাদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সহযোগিতা শক্তিশালী ও সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وسطية تدعو إلى إجراء الحوارات بين مختلف الحضارات لتقريب التفاهم والتعارف، وتؤكد أهمية احترام الآخر، والإشادة بحوار الحضارات من خصائص الحضارة الإسلامية التاريخية، يقول الله تعالى في القرآن الكريم: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} (سورة الحجرات:13) ويدعو القرآن الكريم إلي إجراء الحوار مع أهل الكتاب، يقول تعالى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (سورة آل عمران: 64) ، ويقول تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَأُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} (سورة العنكبوت: 46) .
একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বিভিন্ন সভ্যতার মাঝে পারস্পরিক সমঝোতা ও পরিচয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংলাপ পরিচালনার আহ্বান জানায় এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব নিশ্চিত করে। সভ্যতার সংলাপের প্রশংসা করা ঐতিহাসিক ইসলামি সভ্যতার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: "হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো।" (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)। পবিত্র কুরআন আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপ পরিচালনার আহ্বান জানায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা এমন এক কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো, আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করি, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করি এবং আমাদের কেউ যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ না করি। এরপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা নিশ্চিতভাবেই মুসলিম।" (সূরা আল-ইমরান: ৬৪)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তোমরা আহলে কিতাবদের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তারা ব্যতীত। আর তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর। আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো একই এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী।" (সূরা আল-আনকাবুত: ৪৬)।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ويقول تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} (سورة النحل: 125) .
وسطية تسعى إلى إيجاد جو مناسب لحوار الحضارات انطلاقا من مبدأ "الناس سواسية " وتحقيق الأمن والاستقرار بين شعوب ودول متعددة الأديان والتبادل الودي بينها، وهذا هو المبدأ الأساس للتطور البشري والسلام العالمي الدائم، وأن ما ادعاه صموئيل هنتجتون من صدام الحضارات وفرض الدول المركزية صورا من أنماط الحياة والممارسات والعقائد والإرادات وشروطها السياسية والاقتصادية والثقافية على دول الهامش كل ذلك من أعمال الإرهاب والإفساد في الأرض والجاهلية وتعطيل الأمن والسلام العالميين.
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত (حكمة) ও উত্তম উপদেশের (موعظة حسنة) মাধ্যমে আহ্বান করো} (সূরা আন-নাহল: ১২৫) ।
এটি এমন এক মধ্যপন্থা (وسطية) যা "সকল মানুষ সমান" এই নীতির ভিত্তিতে সভ্যতাসমূহের সংলাপের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে এবং বহু-ধর্মীয় জাতি ও রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জন এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের প্রয়াস চালায়। এটিই মানবীয় উন্নয়ন এবং স্থায়ী বিশ্ব শান্তির মূল ভিত্তি। আর স্যামুয়েল হান্টিংটন যে 'সভ্যতার সংঘাত'-এর দাবি করেছেন এবং কেন্দ্রস্থিত রাষ্ট্রসমূহ যেভাবে প্রান্তিক রাষ্ট্রগুলোর ওপর জীবনযাত্রার ধরণ, চর্চা, আকিদাহ (عقيدة) ও ইচ্ছাশক্তি এবং তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শর্তাবলী চাপিয়ে দিচ্ছে, এ সবই সন্ত্রাসবাদ, পৃথিবীতে ফাসাদ (إفساد) বা বিপর্যয় সৃষ্টি, জাহিলিয়াত (جاهلية) এবং বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।