(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: -)
مراتب الإجماع   (ابن حزم)

القسم: الفقه العام


الكتاب : مراتب الإجماع في العبادات والمعاملات والاعتقادات

المؤلف : أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الأندلسي القرطبي الظاهري (المتوفى : 456هـ)

الناشر : دار الكتب العلمية - بيروت

عدد الصفحات: 178

فائدة : أضيفت تعقبات ابن تيمية في كتابه (نقد مراتب الإجماع) في مواضعها من هامش هذه النسخة الإلكترونية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মারাতিতিবুল ইজমা   (ইবনে হাজম)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ : মারাতিতিবুল ইজমা ফিল ইবাদাতি ওয়াল মুয়ামালাতি ওয়াল ইতিকাদাত

লেখক : আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাজম আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আল-জাহিরি (মৃত্যু : ৪৫৬ হিজরি)

প্রকাশক : দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৮

জ্ঞাতব্য : এই ইলেকট্রনিক কপির মার্জিন থেকে ইবনে তাইমিয়ার তাঁর ‘নাকদু মারাতিতিবিল ইজমা’ গ্রন্থে করা পর্যালোচনাগুলো (تعقبات) যথাস্থানে যুক্ত করা হয়েছে।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১)
-[مَرَاتِب الْإِجْمَاع]-

الكتاب: مراتب الإجماع في العبادات والمعاملات والاعتقادات

المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الأندلسي القرطبي الظاهري (المتوفى: 456هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

فائدة: أضيفت تعقبات ابن تيمية في كتابه (نقد مراتب الإجماع) في مواضعها من هامش هذه النسخة الإلكترونية.

وقد نُقلت تعقبات ابن تيمية من [ط دار ابن حزم، بيروت، الطبعة الأولى، 1419هـ - 1998م بعناية حسن أحمد إسبر] وهي طبعة تحتوي على الكتابين: «مراتب الإجماع» و «نقد مراتب الإجماع» ، إلا أن المنقول هنا - في الحواشي - هو كتاب ابن تيمية فقط.، وذكرنا قبل كل تعليق رقم الصفحة (من ط حسن إسبر) التي ورد فيها هذا التعليق

فليُنتبه إلى أن جميع الحواشي في هذه النسخة الإلكترونية هي من إضافة مُعِدِّ الكتاب للشاملة وليست في أصل النسخة الورقية
-[মারাতিবুল ইজমা]-

গ্রন্থ: ইবাদত, লেনদেন এবং আকিদার ক্ষেত্রে ইজমার স্তরসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আল-জাহিরি (মৃত্যু: ৪৫৬ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ - বৈরুত

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

--------------------------------------------

জ্ঞাতব্য: এই ডিজিটাল কপির সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের পার্শ্বটীকায় ইবনে তাইমিয়ার তাঁর 'নাকদু মারাতিবিল ইজমা' গ্রন্থে প্রদত্ত পর্যালোচনাগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

ইবনে তাইমিয়ার পর্যালোচনাগুলো [দার ইবনে হাজম, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ, হাসান আহমদ ইসবরের সম্পাদনায় প্রকাশিত] সংস্করণ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই সংস্করণটিতে ‘মারাতিবুল ইজমা’ এবং ‘নাকদু মারাতিবিল ইজমা’ উভয় গ্রন্থই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; তবে এখানে টীকাসমূহে শুধুমাত্র ইবনে তাইমিয়ার গ্রন্থটিই উদ্ধৃত করা হয়েছে। প্রতিটি মন্তব্যের পূর্বে আমরা (হাসান ইসবর সংস্করণের) পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।

সতর্কতার সাথে লক্ষ্য করুন যে, এই ডিজিটাল সংস্করণের সকল পাদটীকা শামেলার জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারীর পক্ষ থেকে সংযোজন করা হয়েছে এবং এগুলো মূল মুদ্রিত কপির অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَمَا توفيقي إلا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت

قَالَ الْفَقِيه الأجل الإمام أَبُو مُحَمَّد عَليّ بن أَحْمد بن سعيد بن حزم رَحْمَة الله عَلَيْهِ الْحَمد لله الَّذِي لَا معقب لحكمه وَلَا راد لقضائه الَّذِي {لَا يسْأَل عَمَّا يفعل وهم يسْأَلُون} وَصلى الله على مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله وَخَاتم أنبيائه وَخيرته من نوع الْإِنْسَان وَسلم بَعثه إلى جَمِيع الْجِنّ والإنس من مبعثه إلى انْقِضَاء هَذَا الْعَالم وَقيام السَّاعَة نسخ بملته الْملَل وَلَا نَاسخ لملته وَلَا حول وَلَا قُوَّة إلا بِاللَّه الْعَظِيم

أما بعد فَإِن الْإِجْمَاع قَاعِدَة من قَوَاعِد الْملَّة الحنيفية يرجع إليه ويفزع نَحوه وَيكفر من خَالفه إذا قَامَت عَلَيْهِ الْحجَّة بأنه إجماع وأنا أملنا بعون الله عز وجل أَن نجمع الْمسَائِل الَّتِي صَحَّ فِيهَا الإجماع ونفردها من الْمسَائِل الَّتِي وَقع فِيهَا الْخلاف بَين الْعلمَاء فَإِن الشَّيْء إذا ضم إلى شكله وَقرن بنظيره سهل حفظه وَأمكن طلبه وَقرب متناوله ووضح خطأ من خَالف الْحق بِهِ وَلم يتعن المختصمون فِي الْبَحْث عَن مَكَانَهُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। আমার সামর্থ্য কেবল আল্লাহর সাহায্যে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি।

মহান ফকিহ, অত্যন্ত মর্যাদাবান ইমাম আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর হুকুমের কোনো রদবদলকারী নেই এবং যাঁর ফয়সালার কোনো প্রতিরোধকারী নেই; 'যিনি যা করেন সে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না, বরং তাদেরকেই (সৃষ্টিকে) জিজ্ঞাসা করা হবে।' এবং আল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন মুহাম্মাদের ওপর, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর নবীদের সিলমোহর এবং মানবজাতির মধ্যে তাঁর শ্রেষ্ঠ পছন্দ। তাঁকে তাঁর নবুওয়াত লাভের সূচনা থেকে এই জগতের সমাপ্তি এবং কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত সকল জিন ও ইনসানের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। তাঁর ধর্মের মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী ধর্মসমূহকে রহিত করেছেন, আর তাঁর ধর্মের কোনো রহিতকারী (ناسخ) নেই। মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

অতঃপর, নিশ্চয়ই ঐকমত্য (إجماع) হলো হানিফি মিল্লাতের অন্যতম ভিত্তি, যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং যার আশ্রয় গ্রহণ করা হয়। যখন কারও সামনে এটি যে ঐকমত্য (إجماع) তার অকাট্য প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হবে, তারপরও যে এর বিরোধিতা করবে তাকে কাফির গণ্য করা হবে। আমরা মহান আল্লাহর সাহায্যে এমন সব মাসয়ালা একত্রিত করার সংকল্প করেছি যেগুলোতে ঐকমত্য (إجماع) বিশুদ্ধ (صحيح) হয়েছে এবং সেগুলোকে আলেমদের মতভেদী মাসয়ালাগুলো থেকে পৃথক করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। কেননা, কোনো বিষয়কে যখন তার সমজাতীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত করা হয় এবং তার সদৃশ বিষয়ের সাথে মেলানো হয়, তখন তা মুখস্থ করা সহজ হয়, তা অন্বেষণ করা সম্ভবপর হয়, তা সহজে আয়ত্ত করা যায় এবং এর মাধ্যমে হকের বিরুদ্ধাচরণকারীর ভুল স্পষ্ট হয়ে ওঠে; ফলে বিবাদমান পক্ষগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়টি খুঁজে বের করার পরিশ্রম লাঘব হয়।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৮)
عِنْد تنازعهم فِيهِ ورجونا بذلك جزيل الْأجر من الله عز وجل فَإِن الْمَنْفَعَة بِجمع هَذِه الْمسَائِل جليلة جدا

وَوجدنَا الإجماع يقتسم طرفِي الأقوال فِي الْأَغْلَب وَالْأَكْثَر من الْمسَائِل وَبَين هذَيْن الطَّرفَيْنِ وسائط فِيهَا كثر التَّنَازُع وَفِي بحرها سبح المخالفون فأحد الطَّرفَيْنِ هُوَ مَا اتفق جَمِيع الْعلمَاء على وُجُوبه أَو على تَحْرِيمه أَو على أَنه مُبَاح لَا حرَام وَلَا وَاجِب فسمينا هَذَا الْقسم الإجماع اللَّازِم

والطرف الثَّانِي هُوَ مَا اتّفق جَمِيع الْعلمَاء على أَن من فعله أَو اجتنبه فقد أدّى مَا عَلَيْهِ من فعل أَو اجْتِنَاب أَو لم يَأْثَم فسمينا هَذَا الْقسم الإجماع المجازي عبارَة اشتققناها لكل صنف من صفته الْخَاصَّة بِهِ ليقرب بهَا التفاهم بَين الْمعلم والمتعلم والمناظرين على سَبِيل طلب الْحَقِيقَة إن شَاءَ الله وَمَا توفيقنا إلا بِاللَّه

وَبَين هذَيْن الطَّرفَيْنِ أَشْيَاء قَالَ بعض الْعلمَاء هِيَ حرَام وَقَالَ آخَرُونَ مِنْهُم لَيست حَرَامًا لَكِنَّهَا حَلَال وَقَالَ قوم مِنْهُم هِيَ وَاجِبَة وَقَالَ آخَرُونَ مِنْهُم لَيست بواجبة لَكِنَّهَا مُبَاحَة وكرهها بَعضهم واستحبها بَعضهم فَهَذِهِ مسَائِل من الأحكام والعبادات لَا سَبِيل إلى وجود مُسَمّى الإجماع لَا فِي جوامعها وَلَا فِي أفرادها

وَنحن ممثلون مِنْهَا مِثَالا وَذَلِكَ مثل زَكَاة الْفطر فَإِن قوما قَالُوا هِيَ فرض وَقوم
তাদের মতবিরোধের সময় এতে আমরা মহান আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদানের আশা করেছি, কারণ এই মাসআলাগুলো একত্রিত করার উপকারিতা অত্যন্ত সুমহান।

আমরা অধিকাংশ ও বেশিরভাগ মাসআলার ক্ষেত্রে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে (الإجماع) মতামতের দুই প্রান্তে বিভক্ত পেয়েছি। এই দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানে অনেক মাধ্যম রয়েছে যেখানে মতবিরোধ প্রচুর এবং এর গভীর সমুদ্রে বিরোধিতাকারীরা বিচরণ করছে। এর মধ্যে এক প্রান্ত হলো এমন বিষয় যাতে সকল আলেম এর ওয়াজিব হওয়া (وجوبه), অথবা এর হারাম হওয়া (تحريمه), অথবা এটি মুবাহ (مباح)—যা হারামও নয় আবার ওয়াজিবও নয়—এমন হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। আমরা এই অংশটির নামকরণ করেছি আবশ্যকীয় ইজমা (الإجماع اللازم)।

আর দ্বিতীয় প্রান্ত হলো সেই বিষয় যাতে সকল আলেম একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তা করল বা তা বর্জন করল, সে তার দায়িত্ব পালন করল অথবা সে পাপী হলো না। আমরা এই অংশটির নামকরণ করেছি রূপক ইজমা (الإجماع المجازي); এটি এমন একটি পরিভাষা যা আমরা প্রত্যেক প্রকারের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গ্রহণ করেছি যাতে ইনশাআল্লাহ সত্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিতার্কিকদের মধ্যে পারস্পরিক অনুধাবন সহজ হয়। আর আমাদের সাফল্য কেবল আল্লাহর সাহায্যেই।

এই দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে কোনো কোনো আলেম বলেছেন সেগুলো হারাম (حرام), আবার অন্য আলেমগণ বলেছেন সেগুলো হারাম নয় বরং হালাল (حلال)। একদল আলেম বলেছেন সেগুলো ওয়াজিব (واجبة), অন্যরা বলেছেন সেগুলো ওয়াজিব নয় বরং মুবাহ (مباحة)। কেউ কেউ সেগুলোকে অপছন্দ (كرهها) করেছেন এবং কেউ কেউ সেগুলোকে পছন্দনীয় (استحبها) বলেছেন। এগুলো বিধান ও ইবাদত সংক্রান্ত এমন সব মাসআলা যেখানে সামগ্রিকভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে 'ইজমা' শব্দটির প্রয়োগের কোনো অবকাশ নেই।

আমরা এর মধ্য থেকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি, তা হলো যাকাতুল ফিতর। একদল আলেম বলেছেন এটি ফরজ (فرض) এবং অন্য একদল...
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৯)
قَالُوا لَيست فرضا وَقَالَ قوم هِيَ مَنْسُوخَة وَمثل زَكَاة الْعرُوض المتخذة للتِّجَارَة فَإِن قوما قَالُوا الزَّكَاة فِيهَا وَاجِبَة وَقَالَ آخَرُونَ لَا زَكَاة فِيهَا ثمَّ اخْتلف وجوب الزَّكَاة فِيهَا أَيْضا اخْتِلَافا لَا سَبِيل إلى الْجمع بَينهم فِيهِ فَقَالَ بَعضهم يخرج من أثمانها وَقَالَ آخَرُونَ يخرج من أعيانها وَمثل هَذَا كثير فَمَا كَانَ من هَذَا النَّوْع فَلَيْسَ هَذَا الْكتاب مَكَان ذكره وَفِي مَوَاضِع أخر إن أعاننا الله بِقُوَّة من قبله وتأييد وأمدنا بعمر وفراغ فستجمع كل صنف مِنْهَا فِي مَكَان هُوَ أملك بِهِ إن شَاءَ الله وَمَا توفيقنا إلا بِاللَّه

وَهَهُنَا نَحْو من أنحاء الإجماع لَيْسَ هَذَا الْمَكَان مَكَان ذكره وَهُوَ أَن يخْتَلف الْعلمَاء فِي مَسْأَلَة مَا فيبيحها قوم ويحظرها آخَرُونَ أَو يُوجِبهَا قوم وَلَا يُوجِبهَا آخَرُونَ وَلَا بُد أَن يكون الْحق فِي قَول أحدهم وسائرهم مبطلون ببرهان سَمْعِي أو برهَان عَقْلِي شرطي إذا تقصيت أَقسَام الْمقَالة على اسْتِيعَاب وثقة وَصِحَّة فَيكون حِينَئِذٍ إجماع الْمُحَقِّقين فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة إجماعا صَحِيحا مرجوعا إليه مستصحبا فِيمَا اخْتلف فِيهِ مِنْهَا مَا لم يمْنَع من شَيْء من ذَلِك نَص وَذَلِكَ كإجماع الْقَائِلين بالمساقاة والمزارعة على إباحة شَيْء من فروعها فَيُوقف عِنْده

فَهَذِهِ وُجُوه الإجماع الَّتِي لَا إجماع سواهَا وَلَا تقوم حجَّة من الإجماع فِي غَيرهَا الْبَتَّةَ وَقد أَدخل قوم فِي الإجماع مَا لَيْسَ فِيهِ:

- فقوم عدوا قَول الأكثر إجماعا

- وَقوم عدوا مَا لَا يعْرفُونَ فِيهِ خلافًا إجماعا وان لم يقطعوا على أَنه لَا خلاف فِيهِ

- وَقوم عدوا قَول الصاحب الْمَشْهُور الْمُنْتَشِر إذا لم يعلمُوا لَهُ من الصَّحَابَة مُخَالفا

তারা বলেছেন যে এটি ফরজ নয় এবং একদল লোক বলেছেন এটি রহিত (منسوخة)। আর ব্যবসার উদ্দেশ্যে সংগৃহীত পণ্যদ্রব্যের যাকাতের বিষয়টিও তদ্রূপ; কেননা একদল লোক বলেছেন এতে যাকাত ওয়াজিব, আবার অন্যান্যেরা বলেছেন এতে যাকাত নেই। এরপর এতে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পদ্ধতি নিয়েও এমন মতভেদ হয়েছে যেখানে উভয়ের মাঝে সমন্বয় করার কোনো পথ নেই। সুতরাং তাদের কেউ কেউ বলেছেন এর মূল্য থেকে যাকাত বের করা হবে, আবার অন্যান্যেরা বলেছেন মূল পণ্য থেকে বের করা হবে। এই জাতীয় বিষয় অনেক রয়েছে, যা আলোচনার উপযুক্ত স্থান এই কিতাব নয়। অন্য স্থানে—যদি আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে শক্তি ও সাহায্য দ্বারা আমাদের সহায়তা করেন এবং আমাদেরকে দীর্ঘ জীবন ও অবসর দান করেন—তবে আমি এই জাতীয় প্রতিটি বিষয়কে তার উপযুক্ত স্থানে একত্রিত করব, ইনশাআল্লাহ। আর আমাদের তাওফিক তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

আর এখানে ইজমার (ঐক্যমত্যের) এমন একটি ধরণ রয়েছে যা উল্লেখ করার স্থান এটি নয়; আর তা হলো কোনো একটি মাসআলায় আলেমদের মধ্যে মতভেদ হওয়া, যেখানে একদল লোক একে বৈধ বলেন এবং অন্যান্যেরা অবৈধ বলেন, অথবা একদল একে ওয়াজিব বলেন এবং অন্যান্যেরা ওয়াজিব বলেন না। এমতাবস্থায় অবশ্যই কোনো একজনের বক্তব্য সত্য হবে এবং অন্যদের বক্তব্য ভ্রান্ত প্রমাণিত হবে—চাই তা শ্রুত দালিলিক প্রমাণের মাধ্যমে হোক বা যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে, যখন আপনি পূর্ণাঙ্গতা, নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও শুদ্ধতার (صحة) সাথে মতামতের সকল দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করবেন। তখন সেই মাসআলায় গবেষকদের ঐক্যমত্য একটি সঠিক (صحيح) ইজমা হিসেবে গণ্য হবে যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে এবং মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে তার ওপর ভিত্তি করা হবে যতক্ষণ না কোনো স্পষ্ট প্রমাণ (নস) এর বিপরীতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এটি মুসাকাত ও মুজারাআ প্রবক্তাদের এদের বিভিন্ন উপশাখার বৈধতার ওপর ঐকমত্যের মতো, যা সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে।

এগুলিই হলো ইজমার সেই রূপসমূহ যা ব্যতীত আর কোনো ইজমা নেই, এবং এগুলি ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে ইজমা থেকে দলিল বা হুজ্জাত প্রতিষ্ঠিত হয় না। অথচ একদল লোক ইজমার অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়কেও এর মধ্যে দাখিল করেছেন:

- একদল লোক সংখ্যাগুরু বা সংখ্যধিক্যের মতকে ইজমা হিসেবে গণ্য করেছেন।

- একদল লোক এমন বিষয়কে ইজমা গণ্য করেছেন যে বিষয়ে তারা কোনো মতভেদ সম্পর্কে অবগত নন, যদিও তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত নন যে সেখানে কোনো মতভেদ নেই।

- একদল লোক সাহাবীর প্রসিদ্ধ ও প্রচারিত বক্তব্যকে ইজমা গণ্য করেছেন যখন তারা অন্য কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে এর কোনো বিরোধী মত জানতে পারেন না।

(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১০)
وان وجد الْخلاف من التَّابِعين فَمن بعدهمْ فعدوه إجماعا

- وَقوم عدوا قَول الصاحب الَّذِي لَا يعْرفُونَ لَهُ مُخَالفا من الصَّحَابَة رضي الله عنهم وَإِن لم يشْتَهر وَلَا انْتَشَر إجماعا

- وَقوم عدوا قَول أهل الْمَدِينَة إجماعا

- وَقوم عدوا قَول أهل الْكُوفَة إجماعا

- وَقوم عدوا اتِّفَاق الْعَصْر الثَّانِي على أحد قَوْلَيْنِ أَو أَكثر كَانَت للعصر الَّذِي قبله إجماعا

وكل هَذِه آراء فَاسِدَة ولنقضها مَكَان آخر وَيَكْفِي من فَسَادهَا أَنهم نجدهم يتركون فِي كثير من مسائلهم مَا ذكرُوا أَنه إجماع وإنما نَحوا إلى تَسْمِيَة مَا ذكرنَا إجماعا عنادا مِنْهُم وشغبا عِنْد اضطرار الْحجَّة والبراهين لَهُم إلى ترك اختياراتهم الْفَاسِدَة

وأيضا فَإِنَّهُم لَا يُكَفِّرون من خالفهم فِي هَذِه الْمعَانِي وَمن شَرط الإجماع الصَّحِيح أَن يُكَفَّر من خَالفه بِلَا اخْتِلَاف بَين أحد من الْمُسلمين فِي ذَلِك فَلَو كَانَ مَا ذَكرُوهُ إجماعا لكُفِّر مخالفوهم بل لكُفِّروا هم لأَنهم يخالفونها كثيرا (1) ولبيان كل هَذَا مَكَان آخر وَلَا حول ولا قوة إلا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 286:

أهل العلم والدين لا يعاندون، ولكن قد يعتقد أحدهم إجماعا ما ليس بإجماع، لكون الخلاف لم يبلغه، وقد يكون هناك إجماع لم يعلمه، فهم في الاستدلال بذلك كما هم في الاستدلال بالنصوص: تارة يكون هناك نص لم يبلغ أحدهم، وتارة يعتقد أحدهم وجود نص، ويكون ضعيفا أو منسوخا.

وأيضا فما وصفهم هو به قد اتصف هو به، فإنه يترك في بعض مسائله ما قد ذكر في هذا الكتاب أنه إجماع.

وكذلك ما ألزمهم إياه من تكفير المخالف غير لازم؛ فإن كثيرا من العلماء لا يكفرون مخالف الإجماع.

وقوله: " إن مخالف الإجماع يكفر بلا اختلاف من أحد المسلمين " هو من هذا الباب، فلعله لم يبلغه الخلاف في ذلك، مع أن الخلاف في ذلك مشهور مذكور في كتب متعددة، والنَّظَّامُ نفسه المخالف في كون الإجماع حجة لا يكفره ابن حزم والناس أيضا. فمن كفَّر مخالفَ الإجماع إنما يكفره إذا بلغه الإجماع المعلوم، وكثير من الإجماعات لم تبلغ كثيرا من الناس، وكثير من موارد النزاع بين المتأخرين يَدَّعي أحدهما الإجماع في ذلك، إما أنه ظني ليس بقطعي، وإما أنه لم يبلغ الآخر، وإما لاعتقاده انتفاء شروط الإجماع.

وأيضا: فقد تنازع الناس في كثير من الأنواع: هل هي إجماع يُحتج به؟ كالإجماع الإقراري، وإجماعِ الخلفاء الأربعة، وإجماعِ العصر الثاني على أحد القولين للعصر الأول، والإجماعِ الذي خالف فيه بعضُ أهله قبل انقراض عصرهم، فإنه مبني على انقراض العصر، بل هو شرط في الإجماع، وغيرِ ذلك.

فتنازعُهم في بعض الأنواع، هل هو من الإجماع الذي يجب اتباعهم فيه، كتنازعهم في بعض أنواع ⦗ص: 287⦘ الخطاب، هل هو مما يحتج به، كالعموم المخصوص، ودليل الخطاب، والقياس، وغير ذلك. فهذا ونحوه مما يتبين به بعض أعذار العلماء.
আর যদি তাবিঈন এবং তাদের পরবর্তীগণের পক্ষ থেকে মতভেদ পাওয়া যায়, তবে তারা সেটাকেও সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন।

- এবং একদল এমন সাহাবীর বক্তব্যকে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন যার কোনো বিরোধিতাকারী সাহাবী (আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) সম্পর্কে তারা অবগত নন, যদিও তা প্রসিদ্ধি লাভ করেনি কিংবা ছড়িয়ে পড়েনি।

- এবং অন্য একদল মদিনাবাসীদের বক্তব্যকে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন।

- আবার একদল কুফাবাসীদের বক্তব্যকে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন।

- আরেক দল দ্বিতীয় যুগের ব্যক্তিবর্গের এমন কোনো একটি বা একাধিক মতের ওপর একমত হওয়াকে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য করেছেন, যা পূর্ববর্তী যুগে বিদ্যমান ছিল।

এগুলো সবই ভ্রান্ত মত। এগুলো খণ্ডন করার উপযুক্ত স্থান ভিন্ন। তাদের এই মতের অসারতা প্রমাণের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, অনেক মাসআলার ক্ষেত্রে আমরা তাদের এমন বিষয় ত্যাগ করতে দেখি যা তারা নিজেরাই সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। মূলত আমরা যা উল্লেখ করেছি সেগুলোকে তারা সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) নামকরণ করার দিকে ধাবিত হয়েছেন কেবল হঠকারিতা এবং বিতণ্ডার বশবর্তী হয়ে, যখন অকাট্য দলিল ও প্রমাণাদি তাদেরকে তাদের ভ্রান্ত পছন্দগুলো ত্যাগ করতে বাধ্য করে।

তাছাড়া, যারা এই বিষয়গুলোতে তাদের বিরোধিতা করে তাদেরকে তারা কাফির আখ্যা দেন না। অথচ সঠিক সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হওয়ার শর্ত হলো, এর বিরোধিতাকারীকে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই কাফির আখ্যা দেওয়া হবে। সুতরাং তারা যা উল্লেখ করেছেন তা যদি প্রকৃতই সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হতো, তবে এর বিরোধিতাকারীরা কাফির হতো; বরং তারা নিজেরাই কাফির সাব্যস্ত হতো কারণ তারা নিজেরাই অনেক ক্ষেত্রে এর বিরোধিতা করে থাকে (১)। এই সবকিছুর আলোচনার স্থান ভিন্ন। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ (নাগদ মারাতিব আল-ইজমা), পৃষ্ঠা ২৮৬-এ বলেছেন:

ইলম ও দ্বীনদার ব্যক্তিগণ হঠকারিতা করেন না, তবে তাদের কেউ কেউ এমন কিছুকে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) বলে বিশ্বাস করতে পারেন যা আসলে ঐকমত্য নয়; কারণ হয়তো সেই বিষয়ে বিদ্যমান মতভেদ তার কাছে পৌঁছায়নি। আবার এমন কোনো সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) থাকতে পারে যা তিনি জানেন না। এই ক্ষেত্রে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা ঠিক সেরকমই যেমনটি তারা নস বা মৌলিক পাঠ (نص) দিয়ে দলিল পেশ করার সময় করেন: কখনও কোনো নস বা মৌলিক পাঠ (نص) তাদের কারো কাছে পৌঁছায় না, আবার কখনও কেউ কোনো নস বা মৌলিক পাঠ (نص) এর অস্তিত্ব আছে বলে বিশ্বাস করেন কিন্তু সেটি দুর্বল (ضعيف) কিংবা রহিত (منسوخ) হয়ে থাকে।

আবার তিনি তাদের যে গুণে গুণান্বিত করেছেন, তা তাঁর নিজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; কেননা তিনিও তাঁর কিছু মাসআলায় এমন বিষয় ত্যাগ করেন যা তিনি এই কিতাবে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তেমনিভাবে, বিরোধিতাকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার যে বিষয়টি তিনি তাদের ওপর আবশ্যক করেছেন তা অপরিহার্য নয়; কারণ অনেক আলিমই সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع)-এর বিরোধিতাকারীকে কাফির আখ্যা দেন না।

আর তাঁর এই বক্তব্য যে, "সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع)-এর বিরোধিতাকারীকে কোনো মুসলিমের দ্বিমত ছাড়াই কাফির বলা হয়"—এটিও এই পর্যায়ভুক্ত; সম্ভবত এই বিষয়ে বিদ্যমান মতভেদ তাঁর নিকট পৌঁছেনি। অথচ এই বিষয়ে মতভেদ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং বিভিন্ন কিতাবে তা উল্লেখ রয়েছে। এমনকি স্বয়ং আন-নাজ্জাম, যিনি সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) দলিল বা প্রমাণ (حجة) হওয়ার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন, ইবনে হাজম বা অন্য কেউ তাকে কাফির বলেননি। সুতরাং যে ব্যক্তি সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع)-এর বিরোধিতাকারীকে কাফির বলেন, তিনি তখনই তা করেন যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সেই সুনিশ্চিত ঐকমত্যের খবর পৌঁছেছে। অথচ অনেক ঐকমত্যের বিষয় অনেক মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। পরবর্তী যুগের আলিমদের মতভেদের অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাদের একজন সেখানে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) দাবি করছেন, অথচ তা হয় ধারণাপ্রসূত (ظني), অকাট্য (قطعي) নয়; অথবা সেটি অন্যজনের কাছে পৌঁছেনি, কিংবা তিনি মনে করেন যে সেখানে ঐকমত্যের শর্তাবলি অনুপস্থিত।

আবার, মানুষ অনেক প্রকারের ঐকমত্য নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে: সেগুলো কি এমন সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) যা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হবে? যেমন স্বীকৃতিমূলক ঐকমত্য (إجماع إقراري), চার খলিফার ঐকমত্য, প্রথম যুগের দুটি মতের কোনো একটির ওপর দ্বিতীয় যুগের ঐকমত্য, এবং এমন ঐকমত্য যার এক পক্ষ যুগের অবসানের পূর্বেই ভিন্নমত পোষণ করেছে—কারণ এটি যুগের অবসান (انقراض العصر)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, বরং এটি ঐকমত্যের একটি শর্ত, ইত্যাদি।

সুতরাং কোনো কোনো প্রকারের ক্ষেত্রে তাদের এই বিবাদ কি সেই সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع)-এর অন্তর্ভুক্ত যা অনুসরণ করা ওয়াজিব? যেমন তারা ভাষ্যের কোনো কোনো প্রকার নিয়ে বিবাদ করেছেন যে তা দলিল বা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে কি না, যেমন ⦗পৃষ্ঠা: ২৮৭⦘ সুনির্দিষ্ট সাধারণ শব্দ (العموم المخصوص), ভাষ্যলব্ধ প্রমাণ (دليل الخطاب), অনুমান বা কিয়াস (قياس), এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এগুলো এবং এই জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমেই আলিমদের কিছু ওজর বা সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১১)
وَقوم قَالُوا الإجماع هُوَ إجماع الصَّحَابَة رضي الله عنهم فَقَط

وَقوم قَالُوا إجماع كل عصر إجماع صَحِيح إذا لم يتَقَدَّم قبله فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة خلاف وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح لإجماع الْأمة عِنْد التَّفْصِيل عَلَيْهِ واحتجاجهم بِهِ وَترك مَا أصلوه لَهُ

وَلَا خلاف بَين أحد فِي أَن انْتِظَار جَمِيع الْقُرُون الَّتِي لم تخلق بعد لتعرف أَقْوَالهم بَاطِل لَا معنى لَهُ وإنما اخْتلفُوا على الْقَوْلَيْنِ اللَّذين قدمنَا

وَقوم أخرجُوا من الإجماع مَا هُوَ إجماع صَحِيح فَقَالُوا لَو اجْتمع أهل الْعَصْر كلهم على قَول مَا ثمَّ بدا لأحد مِنْهُم فِيهِ فَلهُ ذَلِك وَله براهين وَاضِحَة لَهَا مَكَان آخر إن
একদল লোক বলেছেন যে, ঐকমত্য (إجماع) কেবল সাহাবীগণের (صحابة) - আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন - ঐকমত্য (إجماع) হওয়াকেই বোঝায়।

অন্য একদল বলেছেন যে, প্রত্যেক যুগের ঐকমত্যই (إجماع) একটি বিশুদ্ধ (صحيح) ঐকমত্য (إجماع), যদি সেই মাসআলায় ইতিপূর্বে কোনো মতভেদ (خلاف) না থেকে থাকে। আর এটিই হলো সঠিক (صحيح) মত; কারণ বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع), এটি দ্বারা তাদের দলিল পেশ করা এবং এর জন্য তাদের নির্ধারিত মূলনীতিসমূহ এই মতকেই সমর্থন করে।

এ বিষয়ে কারও মধ্যে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই যে, অনাগত সকল প্রজন্মের মতামত জানার জন্য অপেক্ষা করা বাতিল (باطل) এবং অর্থহীন। তারা কেবল আমাদের পূর্বে উল্লেখ করা দুটি মতের ওপরই মতবিরোধ করেছেন।

আবার একদল লোক যা মূলত বিশুদ্ধ (صحيح) ঐকমত্য (إجماع) তাকে ঐকমত্যের (إجماع) পর্যায় থেকে বাদ দিয়েছেন; তারা বলেছেন: যদি কোনো এক যুগের সকল লোক কোনো একটি মতের ওপর একমত হন এবং পরবর্তীতে তাদের কারও কাছে ভিন্ন কিছু প্রতিভাত হয়, তবে তার জন্য সেটি করার সুযোগ রয়েছে। এর সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে যা ভিন্ন কোনো স্থানে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১২)
شَاءَ الله بل إذا صَحَّ الإجماع فقد بَطل الْخلاف وَلَا يبطل ذَلِك الإجماع أبدا

وَقوم قَالُوا من أَصْحَابنَا الإجماع لَا يكون إلا من تَوْقِيف من النَّبِي صلى الله عليه وسلم

وَقوم قَالُوا الإجماع قد يكون من قِيَاس وَهَذَا بَاطِل

وَقوم قَالُوا الإجماع يكون من وَجْهَيْن إما من تَوْقِيف مَنْقُول إلينا مَعْلُوم وإما من دَلِيل من تَوْقِيف مَنْقُول إلينا مَعْلُوم وَلَكِن إذا صَحَّ الإجماع فَلَيْسَ علينا طلب الدَّلِيل إذ الْحجَّة بالإجماع قد لَزِمت وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح

وَقوم من أَصْحَابنَا قَالُوا إذا اتّفقت طَائِفَة على مَسْأَلَتَيْنِ فصح قَوْلهم فِي إحداهما بِدَلِيل وَجب أَن الأخرى صَحِيحَة وَهَذَا غير ظَاهر وَلَيْسَ لَهُ فِي الإجماع طَرِيق لما بَينته فِي غير هَذَا الْمَكَان

وَصفَة الإجماع هُوَ مَا تَيَقّن أَنه لَا خلاف فِيهِ بَين أحد من عُلَمَاء الإسلام ونعلم ذَلِك من حَيْثُ علمنَا الأخبار الَّتِي لَا يتخالج فِيهَا شكّ مثل أَن الْمُسلمين خَرجُوا من الْحجاز واليمن ففتحوا الْعرَاق وخراسان ومصر وَالشَّام وَأَن بني أُميَّة ملكوا دهرا طَويلا ثمَّ ملك بَنو الْعَبَّاس وَأَنه كَانَت وقْعَة صفّين والحرة وَسَائِر ذَلِك مِمَّا يعلم بِيَقِين وضرورة (1)

وإنما نعني بقولنَا الْعلمَاء من حفظ عَنهُ الْفتيا من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وتابعيهم وعلماء الْأَمْصَار وأئمة أهل الحَدِيث وَمن تَبِعَهُمْ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 287:

وقال ابن حزم أيضا في آخر كتابه (كتاب الإجماع) : هذا كل ما كتبنا، فهو يقين لا شك فيه، مُتَيَقَّنٌ لا يَحِلُّ لِأَحدٍ خلافُه البتة

قلت (أي ابن تيمية) : فقد اشترط في الإجماع ما يشترطه كثير من أهل الكلام والفقه كما تقدم:

وهو العلم بنفي الخلاف، وأن يكون العلم بالإجماع تواترا.

وجعل العلم بالإجماع من العلوم الضرورية، كالعلم بعلوم الأخبار المتواترة عند الأكثرين.

ومعلوم أن كثيرا من الإجماعات ⦗ص: 288⦘ التي حكاها ليست قريبةً من هذا الوصف، فضلا عن أن تكون منه، فكيف وفيها ما فيه خلاف معروف! وفيها ما هو نفسه ينكر الإجماع فيه ويختار خلافَه من غير ظهورِ مخالف!.
আল্লাহ চাহেন তো, বরং যখন ইজমা (إجماع) বিশুদ্ধ (صح) প্রমাণিত হয়, তখন মতভেদ বাতিল হয়ে যায় এবং সেই ইজমা (إجماع) কখনোই বাতিল হয় না।

আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে একদল বলেছেন যে, ইজমা (إجماع) কেবল নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট বিধান (توقيف) থেকেই হতে পারে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, ইজমা (إجماع) কিয়াস (قياس) থেকেও হতে পারে, তবে এটি বাতিল (باطل)।

অন্য একদল বলেছেন যে, ইজমা (إجماع) দুইভাবে হতে পারে: হয় আমাদের কাছে বর্ণিত কোনো জানা সুনির্দিষ্ট বিধান (توقيف) থেকে, অথবা আমাদের কাছে বর্ণিত কোনো জানা সুনির্দিষ্ট বিধানের (توقيف) দলিল (دليل) থেকে। কিন্তু যখন ইজমা (إجماع) বিশুদ্ধ (صح) প্রমাণিত হয়, তখন আমাদের জন্য দলিল (دليل) অনুসন্ধান করা আবশ্যক নয়; কারণ ইজমা (إجماع) দ্বারা হুজ্জাত (حجة) সাব্যস্ত হয়ে গেছে। আর এটিই সঠিক (الصحيح)।

আমাদের সাথীদের একদল বলেছেন যে, যখন একটি গোষ্ঠী দুটি মাসআলার বিষয়ে একমত হয় এবং কোনো দলিল (دليل) দ্বারা তাদের একটি বক্তব্য বিশুদ্ধ (صح) প্রমাণিত হয়, তখন অন্যটিও বিশুদ্ধ (صح) হওয়া আবশ্যক। তবে এটি স্পষ্ট নয় এবং ইজমা (إجماع) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি কোনো পদ্ধতি নয়, যা আমি অন্য স্থানে বর্ণনা করেছি।

আর ইজমা (إجماع)-এর স্বরূপ হলো তা-ই, যার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ইসলামের কোনো আলিমের মধ্যে এতে কোনো মতভেদ নেই। আমরা এটি সেভাবে জানি যেভাবে আমরা এমন সব সংবাদ (الأخبار) সম্পর্কে জানি যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই; যেমন—মুসলিমরা হিজাজ ও ইয়ামেন থেকে বের হয়ে ইরাক, খোরাসান, মিসর ও শাম জয় করেছেন, বনু উমাইয়া দীর্ঘকাল রাজত্ব করেছে, এরপর বনু আব্বাস শাসন করেছে, এবং সিফফিন ও হাররার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে—এমন সব বিষয় যা নিশ্চিত ও অকাট্যভাবে (ضرورة) জানা যায়। (১)

আর আমাদের বক্তব্যের 'উলামা' বলতে আমরা তাঁদের উদ্দেশ্য করি, যাঁদের থেকে ফতোয়া সংরক্ষিত হয়েছে—অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ, তাবি-তাবিঈ, বিভিন্ন অঞ্চলের আলিমগণ, আহলে হাদিসের ইমামগণ এবং তাঁদের অনুসারীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ 'নাকদু মারাতিবিল ইজমা' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৮৭) বলেছেন:

ইবনে হাজমও তাঁর 'কিতাবুল ইজমা' গ্রন্থের শেষে বলেছেন: "আমরা যা কিছু লিখেছি, তা নিশ্চিত এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি সুনিশ্চিত যে কারো জন্য এর বিরোধিতা করা মোটেও বৈধ নয়।"

আমি (অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়্যাহ) বলছি: তিনি ইজমা (إجماع)-এর ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করেছেন যা কালামশাস্ত্রবিদ ও ফকিহদের অনেকে শর্ত হিসেবে দিয়েছেন, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে:

আর তা হলো—মতভেদ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা এবং ইজমা (إجماع) সম্পর্কে জ্ঞানটি মুতাওয়াতির (تواترا) হওয়া।

তিনি ইজমা (إجماع) সংক্রান্ত জ্ঞানকে অকাট্য জ্ঞান (العلوم الضرورية) হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমনটি অধিকাংশের মতে মুতাওয়াতির (المتواترة) সংবাদ (الأخبار) সংক্রান্ত জ্ঞানের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

এটি সর্বজনবিদিত যে, তিনি যেসব ইজমা (إجماع) ⦗পৃষ্ঠা: ২৮৮⦘ বর্ণনা করেছেন তার অনেকগুলোই এই বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছিও নয়, এই পর্যায়ভুক্ত হওয়া তো দূরের কথা। বিশেষ করে যখন সেগুলোর মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যাতে সুপরিচিত মতভেদ বিদ্যমান! আবার এমন বিষয়ও আছে যেখানে তিনি নিজেই ইজমা (إجماع) অস্বীকার করেন এবং কোনো স্পষ্ট বিরুদ্ধবাদী (مخالف) না থাকা সত্ত্বেও এর বিপরীত মত গ্রহণ করেন!
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولسنا نعني أَبَا الْهُذيْل وَلَا ابْن الأصم وَلَا بشر بن الْمُعْتَمِر وَلَا إبراهيم بن سيار وَلَا جَعْفَر
আর আমরা আবু আল-হুজাইল, ইবনুল আসম্ম, বিশর ইবনুল মুতামির, ইবরাহিম ইবনে সাইয়্যার কিংবা জাফরকে উদ্দেশ্য করছি না।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১৪)
ابْن حَرْب وَلَا جَعْفَر بن مُبشر وَلَا ثُمَامَة وَلَا أبا غفار وَلَا الرقاشِي وَلَا الأزارقة والصفرية وَلَا جهال الإباضية وَلَا أهل الرَّفْض
ইবনে হারব নন, জাফর ইবনে মুবাশশির নন, সুমামাহ নন, আবু গাফফার নন, আর-রাক্কাশি নন, আযারিরা (الأزارقة) নন, সুফরিয়া (الصفرية) নন, ইবাদিয়াদের (الإباضية) মূর্খরা নন এবং রাফেযি মতাবলম্বীরাও (أهل الرفض) নন।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَإِن هَؤُلَاءِ لم يتعنوا من تثقيف الْآثَار وَمَعْرِفَة صحيحها من سقيمها وَلَا الْبَحْث عَن أَحْكَام الْقُرْآن لتمييز حق الْفتيا من باطلها بِطرف مَحْمُود بل اشتغلوا عَن ذَلِك بالجدال فِي أصُول الاعتقادات وَلكُل قوم علمهمْ

وَنحن وان كُنَّا لَا نكفر كثيرا مِمَّن ذكرنَا وَلَا نفسق كثيرا مِنْهُم بل نتولى جَمِيعهم حاشا من أَجمعت الْأمة على تكفيره مِنْهُم فَإنَّا تركناهم لأحد وَجْهَيْن إما لجهلهم بحدود الْفتيا والْحَدِيث والْآثَار وإما لفسق ثَبت عَن بَعضهم فِي أَفعاله ومجونه فَقَط كَمَا نَفْعل نَحن بِمن كَانَ قبلنَا من أهل نحلتنا جَاهِلا أَو مَاجِنًا وَلَا فرق وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

ولسنا نخرج من جملَة الْعلمَاء من ثبتَتْ عَدَالَته وبحثه عَن حُدُود الْفتيا وإن كَانَ مُخَالفا لنحلتنا بل نعتد بِخِلَافِهِ كَسَائِر الْعلمَاء وَلَا فرق كعمرو بن عبيد وَمُحَمّد بن إسحق وَقَتَادَة بن دعامة السدُوسِي وشبابة بن سوار وَالْحسن بن حييّ وَجَابِر بن زيد ونظرائهم وإن كَانَ فيهم القدري والشيعي والإباضي والمرجيء لأَنهم كَانُوا أهل علم وَفضل وَخير واجتهاد رحمهم الله وَغلط هَؤُلَاءِ بِمَا خالفونا فِيهِ كغلط سَائِر الْعلمَاء فِي التَّحْرِيم والتحليل وَلَا فرق
কারণ এঁরা বর্ণনা (آثار) সমূহের সংস্কার এবং সেগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) আলাদাভাবে চেনার ক্ষেত্রে, কিংবা ফতোয়া (فتيا) প্রদানের সঠিক ও ভুল পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য করার লক্ষ্যে কুরআনের বিধানাবলি অনুসন্ধানে প্রশংসনীয় কোনো শ্রম ব্যয় করেননি; বরং তারা এর পরিবর্তে বিশ্বাসের মূলনীতিসমূহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত থেকেছেন। আর প্রতিটি জাতিরই নিজস্ব বিশেষায়িত জ্ঞান রয়েছে।

আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের অনেককেই যদিও আমরা কাফির বলি না এবং তাদের অনেককেই পাপাচারী (فسق) সাব্যস্ত করি না, বরং তাদের সকলের সাথেই আমরা সম্পৃক্ত থাকি—কেবলমাত্র তারা ব্যতীত যাদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে উম্মাহর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মূলত দুটি কারণের যেকোনো একটির জন্য তাদের বর্জন করেছি: হয় ফতোয়া (فتيا), হাদিস ও বর্ণনা (آثار) সমূহের সীমারেখা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে, অথবা তাদের কার্যাবলি ও নির্লজ্জতার মাধ্যমে কেবল পাপাচার (فسق) প্রমাণিত হওয়ার কারণে। ঠিক যেমনটি আমরা আমাদের পূর্ববর্তী সেই সব লোকদের ক্ষেত্রে করি যারা আমাদেরই মতাদর্শের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও মূর্খ বা নির্লজ্জ ছিল; এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

আমরা আলেমদের কাতার থেকে এমন কাউকে বহিষ্কার করি না যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং ফতোয়া (فتيا) প্রদানের নীতিমালা নিয়ে গবেষণা করা প্রমাণিত হয়েছে, যদিও সে আমাদের মতাদর্শের বিরোধী হয়। বরং অন্যান্য আলেমদের মতো আমরা তার ভিন্নমতকেও গুরুত্ব দেই; যেমন—আমর ইবন উবাইদ, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, কাতাদাহ ইবন দিয়ামাহ আস-সাদুসি, শাবাবাহ ইবন সাওয়ার, হাসান ইবন হাই, জাবির ইবন যায়দ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। যদিও তাদের মধ্যে কাদারি, শিয়া, ইবাদি এবং মুরজিয়া মতাবলম্বী ছিলেন, তবুও তারা ইলম, মর্যাদা, কল্যাণ এবং ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অধিকারী ছিলেন—আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন। আমাদের সাথে তারা যে সকল বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন, সেগুলোতে তাদের ভুলগুলো হালাল ও হারাম নির্ধারণ সংক্রান্ত অন্যান্য আলেমদের ভুলের মতোই; এতে কোনো তফাৎ নেই।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وإنما ندخل فِي هَذَا الْكتاب الإجماع التَّام الَّذِي لَا مُخَالف فِيهِ الْبَتَّةَ الَّذِي يعلم كَمَا يعلم أَن الصُّبْح فِي الْأَمْن وَالْخَوْف رَكْعَتَانِ وَأَن شهر رَمَضَان هُوَ الَّذِي بَين شَوَّال وَشَعْبَان وَأَن الَّذِي فِي الْمَصَاحِف هُوَ الَّذِي أَتَى بِهِ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَأخْبر أَنه وَحي من الله وَأَن فِي خمس من الإبل شَاة وَنَحْو ذَلِك وَهِي ضَرُورَة تقع فِي نفس الباحث عَن الْخَبَر المشرف على وُجُوه نَقله إذا تتبعها الْمَرْء من نَفسه فِي كل مَا يمر بِهِ من أَحْوَال دُنْيَاهُ وَأهل زَمَانه وجده ثَابتا مُسْتَقرًّا فِي نَفسه (1) وَمَا توفيقنا إلا بِاللَّه

 

‌‌كتاب الطَّهَارَة

أَجمعت الْأمة على أَن اسْتِعْمَال المَاء الَّذِي لم يبل فِيهِ وَلَا كَانَ سُؤْر حَائِض وَلَا كَافِر وَلَا جنب وَلَا من شراب وَلَا من غير ذَلِك وَلَا سُؤْر حَيَوَان غير النَّاس وَغير مَا يُؤْكَل لَحْمه وَلَا خالطته نَجَاسَة وان لم تظهر فِيهِ أَو ظَهرت على اخْتلَافهمْ فِيمَا

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 287:

وقال ابن حزم أيضا في آخر كتابه (كتاب الإجماع) : هذا كل ما كتبنا، فهو يقين لا شك فيه، مُتَيَقَّنٌ لا يَحِلُّ لِأَحدٍ خلافُه البتة

قلت (أي ابن تيمية) :فقد اشترط في الإجماع ما يشترطه كثير من أهل الكلام والفقه كما تقدم:

وهو العلم بنفي الخلاف، وأن يكون العلم بالإجماع تواترا.

وجعل العلم بالإجماع من العلوم الضرورية، كالعلم بعلوم الأخبار المتواترة عند الأكثرين.

ومعلوم أن كثيرا من الإجماعات ⦗ص: 288⦘ التي حكاها ليست قريبةً من هذا الوصف، فضلا عن أن تكون منه، فكيف وفيها ما فيه خلاف معروف! وفيها ما هو نفسه ينكر الإجماع فيه ويختار خلافَه من غير ظهورِ مخالف!.

আমরা এই গ্রন্থে কেবল সেই পূর্ণ ঐক্যমত্য (الإجماع) অন্তর্ভুক্ত করব, যাতে কোনোভাবেই কোনো ভিন্নমত নেই; যা এমনভাবে জানা যায় যেমন জানা যায় যে, শান্তি ও ভয়ের অবস্থায় ফজরের নামাজ দুই রাকাত, রমজান মাস হলো শাওয়াল ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী মাস এবং মাসহাফসমূহে যা রয়েছে তা-ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে এসেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি, এবং পাঁচটি উটের জাকাতে একটি বকরি দিতে হয় এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি। এটি এমন এক আবশ্যিক জ্ঞান (ضرورة) যা সংবাদের (الخبر) অনুসন্ধানকারী এবং এর বর্ণনার পথসমূহের ওপর দৃষ্টিদানকারীর অন্তরে উদিত হয়। যদি কোনো ব্যক্তি তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং তার সমসাময়িকদের অবস্থার মধ্যে এটি অনুসন্ধান করে, তবে সে এটিকে তার অন্তরে সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত পাবে। (১) আমাদের সকল তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

 

‌‌পবিত্রতা বিষয়ক অধ্যায়

উম্মাহ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, সেই পানি ব্যবহার করা বৈধ যাতে কেউ প্রস্রাব করেনি, যা কোনো ঋতুবতী নারী, কাফির, অপবিত্র ব্যক্তি (جنب), পানীয় বা অন্য কিছুর উচ্ছিষ্ট নয়, এবং যা মানুষ ও ভক্ষণযোগ্য পশু ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণীর উচ্ছিষ্ট নয়, এবং যাতে কোনো অপবিত্রতা মিশ্রিত হয়নি। আর যদি তাতে অপবিত্রতা মিশ্রিত হয়, তবে তা দৃশ্যমান হোক বা না হোক—এই বিষয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ নাকদ মারাতিব আল-ইজমা গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৮৭) বলেছেন:

ইবনে হাজম তার গ্রন্থের (কিতাব আল-ইজমা) শেষে আরও বলেছেন: "আমরা যা কিছু লিখেছি তার প্রতিটিই এমন নিশ্চিত বিষয় যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি সুনিশ্চিত এবং কারো জন্যই এর বিরোধিতা করা মোটেই বৈধ নয়।"

আমি (অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়্যাহ) বলছি: তিনি ঐক্যমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে এমন শর্ত আরোপ করেছেন যা কালাম শাস্ত্র ও ফিকহ শাস্ত্রের অনেক বিশেষজ্ঞই ইতিপূর্বে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন:

আর তা হলো ভিন্নমত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং ঐক্যমত্যের (الإجماع) জ্ঞানটি যেন অবিচ্ছিন্নভাবে (تواترا) প্রাপ্ত হয়।

তিনি ঐক্যমত্যের (الإجماع) জ্ঞানকে 'আবশ্যিক জ্ঞানের' অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমনটি অধিকাংশের মতে অবিচ্ছিন্ন সংবাদসমূহের (الأخبار المتواترة) মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান হয়ে থাকে।

এটা সুপরিচিত যে, তিনি যে অসংখ্য ঐক্যমত্য (الإجماعات) উল্লেখ করেছেন তার অনেকগুলোই এই বর্ণনার কাছাকাছিও নয়, একে সেই পর্যায়ে গণ্য করা তো দূরের কথা! সুতরাং কীভাবে এটি সম্ভব, যেখানে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যাতে সুপরিচিত মতভেদ বিদ্যমান! আবার এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যেখানে তিনি নিজেই ঐক্যমত্য (الإجماع) অস্বীকার করেন এবং কোনো বিরোধী মতের প্রকাশ ছাড়াই এর বিপরীতে অন্যটি বেছে নেন।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১৭)
ينجس من حَيَوَان أَو ميت وَلَا كَانَ آجنا متغيرا من ذَاته وان لم يكن من شَيْء حلّه ولا مات فِيهِ ضفدع ولا حوت وَلَا كَانَ فضل متوضئ من حدث أَو مغتسل من وَاجِب وَلَا اسْتعْمل بعد وَلَا تَوَضَّأت مِنْهُ امْرَأَة وَلَا تطهرت مِنْهُ وَلم يشمس وَلَا سخن وَلم يُؤْخَذ من بَحر وَلَا غصب وَلَا أَدخل فِيهِ الْقَائِم من نَومه يَده قبل أَن يغسلهَا ثَلَاثًا وَلَا حل فِيهِ شَيْء طَاهِر فخالطه غير تُرَاب عنصره فَظهر فِيهِ وَلَا بل فِيهِ خبز وَلَا توضأ فِيهِ وَلَا بِهِ انسان وَلَا اغْتسل وَلَا وضأ شَيْئا من أَعْضَائِهِ بِهِ فِيهِ الْوضُوء وَالْغسْل حلوا كَانَ أَو مرا أَو ملحا أَو زعاقا فَفرض على الصَّحِيح الَّذِي يجده وَيقدر على اسْتِعْمَاله مَا لم يكن بِحَضْرَتِهِ نَبِيذ وَهَذَا فِي المَاء غير الْجَارِي

فَأَما الْجَارِي فاتفقوا على جَوَاز اسْتِعْمَاله مَا لم تظهر فِيهِ نَجَاسَة (1)

وَاتَّفَقُوا أَن المَاء الراكد إذا كَانَ من الْكَثْرَة بِحَيْثُ إذا حرك وَسطه لم يَتَحَرَّك طرفاه وَلَا شَيْء مِنْهُمَا فانه لَا يُنجسهُ شَيْء إلا مَا غير لَونه أَو طعمه أَو رَائِحَته

وَأَجْمعُوا أَنه لَا يجوز وضوء بِشَيْء من الْمَائِعَات وَغَيرهَا حاشا المَاء والنبيذ (2)

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 288

الشافعي في الجديد من قوليه، وأحد القولين في مذهب أحمد: أن الجاري كالراكد في اعتبار القلتين، فينجس ما دون القلتين بوقوع النجاسة فيه، وإن لم تظهر فيه.

 

(2) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 288

قد قال: إنما نعني بقولنا العلماء من حُفظ عنه الفتيا.

وقال: وأجمعوا أنه لا يجوز التوضؤ بشيء من المائعات وغيرها، حاشا الماء والنبيذ.

قلت (أي ابن تيمية) : وقد ذكر العلماء عن ابن أبي ليلى - وهو مِن أَجَلِّ من يحكي ابنُ حزمٍ قولَه - أنه يجزئ الوضوء بالمعتصَر، كماء الورد ونحوه، كما ذكروا ذلك عن الأصَمِّ، لكنَّ الأصَمَّ ليس مِمَّن يَعُدُّه ابنُ حزمٍ في الإجماع.
(যা) কোনো প্রাণী বা মৃতদেহ দ্বারা অপবিত্র (نجس) হয়নি, যা নিজে থেকেই পচে পরিবর্তিত হয়ে যায়নি—যদিও তাতে বাইরে থেকে কিছু পতিত না হয়, যাতে কোনো ব্যাঙ বা মাছ মারা যায়নি, যা হদস (حدث) থেকে ওযুকারী বা ফরজ গোসলকারীর অতিরিক্ত পানি নয়, যা ইতিপূর্বে ব্যবহৃত (مستعمل) হয়নি, যাতে কোনো নারী ওযু বা পবিত্রতা অর্জন করেনি, যা রোদে উত্তপ্ত (مشمش) করা হয়নি বা (অন্যভাবে) গরম করা হয়নি, যা সমুদ্র থেকে নেওয়া হয়নি, যা জবরদখল (غصب) করা হয়নি, ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি হাত তিনবার ধোয়ার আগে যাতে হাত ডুবিয়ে দেয়নি, যাতে কোনো পবিত্র বস্তু পতিত হয়ে এর মূল উপাদান মাটি ব্যতীত অন্য কিছু এতে মিশে প্রকাশ পায়নি, যাতে কোনো রুটি ভিজানো হয়নি এবং কোনো মানুষ যাতে বা যা দ্বারা ওযু বা গোসল করেনি কিংবা ওযুর উদ্দেশ্যে শরীরের কোনো অঙ্গ তাতে ধৌত করেনি—এমন পানি মিষ্টি, তিতকুটে, লোনা বা কটু যাই হোক না কেন, তা (পবিত্রতা অর্জনের জন্য) ব্যবহার করা সেই সুস্থ (صحيح) ব্যক্তির ওপর ফরজ, যে তা খুঁজে পায় এবং ব্যবহারের সামর্থ্য রাখে, যতক্ষণ না তার নিকট নাবিদ (نبيذ) উপস্থিত থাকে; আর এটি প্রবাহমান নয় এমন স্থির পানির ক্ষেত্রে।

পক্ষান্তরে প্রবাহমান পানির ক্ষেত্রে তাঁরা (ওলামায়ে কেরাম) এর ব্যবহারের বৈধতার ওপর একমত (اتفاق) হয়েছেন, যতক্ষণ না তাতে কোনো নাপাকি প্রকাশ পায়। (১)

তাঁরা এ বিষয়েও একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, স্থির পানি যদি পরিমাণে এত বেশি হয় যে তার মাঝখানে নাড়া দিলে উভয় প্রান্ত বা কোনো এক প্রান্ত নড়ে না, তবে কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র (نجس) করবে না, যতক্ষণ না তা পানির রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়।

তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, পানি এবং নাবিদ (نبيذ) (২) ব্যতীত অন্য কোনো তরল বা বস্তু দ্বারা ওযু করা জায়েজ নয়।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়া 'নাকদু মারাতিবিল ইজমা' গ্রন্থে বলেছেন (পৃ. ২৮৮):

ইমাম শাফিঈর নতুন (جديد) অভিমত এবং ইমাম আহমদের মাযহাবের দুই বর্ণনার একটি হলো: প্রবাহমান পানি দুই কুল্লা (قلتين) বিবেচনার ক্ষেত্রে স্থির পানির মতোই; সুতরাং দুই কুল্লার কম প্রবাহমান পানিতে নাপাকি পতিত হলে তা অপবিত্র (نجس) হয়ে যাবে, যদিও নাপাকির আলামত প্রকাশ না পায়।

 

(২) ইবনে তাইমিয়া 'নাকদু মারাতিবিল ইজমা' গ্রন্থে বলেছেন (পৃ. ২৮৮):

তিনি (ইবনে হাজম) বলেছেন: আমরা 'উলামা' (علماء) বলতে কেবল তাঁদেরকেই বুঝিয়েছি যাঁদের ফতোয়া সংরক্ষিত আছে।

তিনি আরও বলেছেন: তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, পানি এবং নাবিদ (نبيذ) ব্যতীত অন্য কোনো তরল বা বস্তু দ্বারা ওযু করা জায়েজ নয়।

আমি (ইবনে তাইমিয়া) বলছি: ওলামায়ে কেরাম ইবনে আবি লায়লা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন—যিনি ইবনে হাজমের উদ্ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ—যে তিনি নিংড়ানো রস (المعتصر), যেমন গোলাপ জল বা এই জাতীয় কিছু দ্বারা ওযু করা বৈধ মনে করতেন। যেমনটি তাঁরা আসম্ম (الأصم) থেকেও বর্ণনা করেছেন, তবে আসম্ম এমন ব্যক্তি নন যাঁকে ইবনে হাজম ইজমার (إجماع) ক্ষেত্রে গণ্য করেন।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَاخْتلفُوا هَل يُجزئ أَن يتَوَضَّأ الرجل وَالْمَرْأَة مَعًا أم لَا يُجزئ ذَلِك

وَاتَّفَقُوا فِي جَوَاز توضئ الرجلَيْن والمرأتين مَعًا

وَأَجْمعُوا أَن من تَوَضَّأ وتطهر بِالْمَاءِ كَمَا وَصفنَا وإن كَانَ بِحَضْرَتِهِ نَبِيذ تمر فقد أدّى ما عليه

وَاتَّفَقُوا على أَن الْمَرِيض الَّذِي يتَأَذَّى بِالْمَاءِ وَلَا يجد المَاء مَعَ ذَلِك أَن التَّيَمُّم لَهُ بدل الْوضُوء وَالْغسْل

وَاتَّفَقُوا على أَن الْمُسَافِر سفرا تقصر فِيهِ الصَّلَاة إذا لم يقدر على مَاء أصلا وَلَيْسَ بِقُرْبِهِ مَاء أصلا أَن لَهُ أَن يتَيَمَّم بدل الْوضُوء للصَّلَاة فَقَط

وَاتَّفَقُوا على أَن من غسل يَدَيْهِ ثلاثا ثمَّ مضمض ثَلَاثًا ثمَّ استنشق ثَلَاثًا ثمَّ استنثر ثَلَاثًا ثمَّ غسل وَجهه كُله على مَا نصفه بعد هَذَا وخلل شعره ولحيته بِالْمَاءِ وَغسل أُذُنَيْهِ باطنهما وظاهرهما وَجَمِيع شعره حَيْثُ انْتهى وَنوى الْوضُوء للصَّلَاة قبل دُخُوله فِيهِ وَمَعَ دُخُوله فِيهِ وسمى الله وَلم يقدم مُؤَخرا كَمَا ذكرنَا وَلَا فرق بَين غسل شَيْء من ذَلِك وَنقل المَاء بِيَدِهِ إلى جَمِيع الْأَعْضَاء الَّتِي ذكرنَا محددا لكل عُضْو مِنْهَا أَنه قد أدّى مَا عَلَيْهِ فِي الأعضاء الْمَذْكُورَة

وَاتَّفَقُوا على أَن من غسل الْوَجْه من أصل منابت الشّعْر فِي الحاجبين إلى أصُول الأذنين إلى آخر الذقن فرض على من لَا لحية لَهُ

وَاتَّفَقُوا على أَن من عَلَيْهِ غسل من ذَوي اللحى وَجهه من أصُول منابت الشّعْر فِي أَعلَى الْجَبْهَة فَكَمَا ذكرنَا فِيمَن لَا لحية لَهُ وخلل جَمِيع لحيته بِالْمَاءِ وَأمر المَاء على جَمِيعهَا حَيْثُ بلغت وَغسل بَاطِن أُذُنَيْهِ وظاهرهما أَنه قد غسل وَجهه وَأدّى مَا عَلَيْهِ فِيهِ

وَاتَّفَقُوا أَن غسل الذراعين إلى مشد الْمرْفقين فرض فِي الْوضُوء (1)

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 288

قال ابن حزم: واتفقوا على أن غسلَ الذراعين إلى منتهى المرفقين فرضٌ في الوضوء.

قلت (أي ابن تيمية) : وزفر يخالف في وجوب غسل المرفقين، وحُكي ذلك عن داود وبعضِ المالكية، اللهم إلا أن يعني بمنتهى المرفقين منتهاهما من جهة الكف.
পুরুষ ও নারী একত্রে অজু করলে তা যথেষ্ট (يُجزئ) হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ (اختلاف) করেছেন।

দুজন পুরুষ অথবা দুজন নারী একত্রে অজু করার বৈধতার (جواز) ব্যাপারে তাঁরা ঐক্যমত (اتفاق) পোষণ করেছেন।

তাঁরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) নিয়েছেন যে, কেউ যদি আমাদের বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী পানি দিয়ে অজু ও পবিত্রতা অর্জন করে—এমনকি তার সামনে খেজুরের নাবীজ (نبيذ تمر) থাকা সত্ত্বেও—তবে সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।

তাঁরা এই বিষয়ে একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, যে অসুস্থ ব্যক্তি পানি ব্যবহারে কষ্ট পায় এবং সেই সঙ্গে পানি পায় না, তার জন্য অজু ও গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম (تيمم) করা বৈধ।

তাঁরা এই বিষয়ে একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, কসর (قصر) করার মতো দূরত্বের সফরে থাকা মুসাফির যদি মোটেও পানি না পায় এবং তার আশেপাশেও কোনো পানি না থাকে, তবে তার জন্য কেবল নামাজের উদ্দেশ্যে অজুর পরিবর্তে তায়াম্মুম (تيمم) করা বৈধ।

তাঁরা এই বিষয়ে একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তার দুই হাত তিনবার ধৌত করল, এরপর তিনবার কুলি করল (مضمضة), এরপর তিনবার নাকে পানি দিল (استنشاق), এরপর তিনবার নাক ঝাড়ল (استنثار), এরপর আমাদের পরবর্তী বর্ণনা অনুযায়ী তার পূর্ণ মুখমন্ডল ধৌত করল এবং পানি দিয়ে তার চুল ও দাড়ি খিলাল (تخليل) করল, এবং কানের ভেতর ও বাহির এবং তার সমস্ত চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ধৌত করল, আর নামাজে প্রবেশের আগে বা প্রবেশের সময় অজুর নিয়ত (نية) করল এবং আল্লাহর নাম নিল (তাসমিয়া), আর আমাদের উল্লেখ অনুযায়ী ধারাবাহিকতায় কোনো পরিবর্তন করল না, তবে এই অঙ্গগুলো ধোয়ার ক্ষেত্রে হাত দিয়ে পানি পৌঁছানো হোক বা প্রতিটি নির্দিষ্ট অঙ্গে পানি পৌঁছানো হোক—সে ওই অঙ্গগুলোর ক্ষেত্রে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।

তাঁরা এই বিষয়ে একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, যার দাড়ি নেই তার জন্য ভ্রুর উপরিভাগের চুলের গোড়া থেকে দুই কানের গোড়া এবং চিবুকের শেষ পর্যন্ত মুখমন্ডল ধৌত করা ফরজ (فرض)।

তাঁরা এই বিষয়ে একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, দাড়ি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কপালে চুলের গোড়া থেকে মুখমন্ডল ধৌত করা—যেমনটি দাড়িহীনদের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে—এবং পুরো দাড়ি পানি দিয়ে খিলাল (تخليل) করা ও দাড়ির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পানি প্রবাহিত করা এবং কানের ভেতর ও বাহির ধৌত করার মাধ্যমে তার মুখমন্ডল ধোয়া সম্পন্ন হবে এবং সে তার দায়িত্ব পালন করেছে।

তাঁরা একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করা অজুর মধ্যে ফরজ (فرض)। (১)

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়া নাকদু মারাতিবিল ইজমা গ্রন্থের ২৮৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

ইবনে হাজম বলেছেন: তাঁরা কনুইয়ের শেষ সীমা পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করা অজুর মধ্যে ফরজ (فرض) হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (اتفاق) পোষণ করেছেন।

আমি (অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়া) বলছি: যুফার কনুই ধৌত করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং এটি দাউদ ও কিছু মালিকি আলিম থেকেও বর্ণিত হয়েছে; তবে ইবনে হাজম যদি কনুইয়ের শেষ সীমা বলতে হাতের তালুর দিক থেকে তার শেষ প্রান্ত বুঝিয়ে থাকেন (তবে ভিন্ন কথা)।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَاتَّفَقُوا على أَنه إن غسلهمَا وَغسل مرفقيه وخلل أَصَابِعه بِالْمَاءِ وَمَا تَحت الْخَاتم فقد تمّ مَا عَلَيْهِ فِي الذراعين

وَاتَّفَقُوا أَن مسح بعض الرَّأْس بِالْمَاءِ غير معِين لذَلِك الْبَعْض فرض

وَاتَّفَقُوا أَن من مسح جَمِيع رَأسه فَأقبل وَأدبر وَمسح أُذُنَيْهِ وَجَمِيع شعره فقد أدّى مَا عَلَيْهِ

وَاتَّفَقُوا أَن إمساس الرجلَيْن المكشوفتين المَاء لمن تَوَضَّأ فرض وَاخْتلفُوا أتمسح أم تغسل

وَاتَّفَقُوا على أَن الْوضُوء مرّة مرّة مسبغة فِي الْوَجْه والذراعين وَالرّجلَيْنِ يُجزئ وَاتَّفَقُوا على أَن الزِّيَادَة على الثَّلَاث لَا معنى لَهَا

وَاتَّفَقُوا على أَن إمساس الْجلد كُله وَالرَّأْس فِي الْغسْل مِمَّا يُوجب الْغسْل على اخْتلَافهمْ فِيمَا يُوجِبهُ بِالْمَاءِ على مَا ذكرنَا اتِّفَاقهم على إيجاب الْوضُوء عَلَيْهِ وبتلك الصّفة من المَاء فرض ثمَّ اخْتلفُوا أبدلك أم بصب أَو غمس

وَاتَّفَقُوا أَن من اغْتسل لأمر يُوجب الْغسْل فَتَوَضَّأ على حسب مَا ذكرنَا من الْوضُوء الَّذِي ذكرنَا الِاتِّفَاق على أَنه يُجزئ ثمَّ صب المَاء الَّذِي ذكرنَا أَنه يُجزئ على جَمِيع جسده وَرَأسه وأصول شعر ودلك كل ذَلِك أَوله عَن آخِره وَلم يتْرك من كل ذَلِك مَكَان شَعْرَة فَمَا فَوْقهَا وَلم يحدث شَيْئا ينْقض الْوضُوء قبل تَمام جَمِيع غسله وَنوى الْغسْل لما أوجب عَلَيْهِ فقد أَجزَأَهُ

وَاتَّفَقُوا على أن المَاء الَّذِي حلت فِيهِ نجاسة فأحالت لَونه أَو طعمه فان شربه لغير ضَرُورَة وَالطَّهَارَة بِهِ على كل حَال لَا يجوز سيء من ذَلِك على عَظِيم اخْتلَافهمْ فِي النَّجَاسَات

وَاتَّفَقُوا على أَن بَوْل ابْن آدم إذا كَانَ كثيرا وَلم يكن كوؤس الإبر وغائطه نجس وَاتَّفَقُوا على أَن الْكثير من الدَّم أَي دم كَانَ حاشا دم السّمك وَمَا لَا يسيل دَمه نجس

وَاخْتلفُوا فِي حد الْكثير من الظفر إلى نصف الثَّوْب

وَاتَّفَقُوا على أَن أكل النَّجَاسَة وشربها حرَام حاشا النَّبِيذ الْمُسكر
তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি কেউ উভয় হাত ও তার উভয় কনুই ধৌত করে এবং পানির মাধ্যমে আঙ্গুলের খিলাল করে ও আংটির নিচের অংশে পানি পৌঁছায়, তবে তার উভয় বাহুর ক্ষেত্রে যা করণীয় ছিল তা পূর্ণ হলো।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মাথার কোনো অংশ নির্দিষ্ট না করেই তার কিছু অংশ পানি দিয়ে মাসেহ করা ফরজ (فرض)।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার সমস্ত মাথা মাসেহ করল—মাথার সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত হাত নিল ও পুনরায় ফিরিয়ে আনল—এবং তার উভয় কান ও সমস্ত চুল মাসেহ করল, সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, অজুকারীর অনাবৃত উভয় পায়ে পানি পৌঁছানো ফরজ (فرض); তবে তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, পা মাসেহ করা হবে নাকি ধৌত করা হবে।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মুখমণ্ডল, উভয় বাহু ও উভয় পায়ে একবার করে পরিপূর্ণভাবে পানি পৌঁছানো যথেষ্ট; এবং তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিনবারের অধিক ধৌত করার কোনো সার্থকতা নেই।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যেসব কারণে গোসল ওয়াজিব হয় সেক্ষেত্রে সমস্ত চামড়া ও মাথায় পানি পৌঁছানো একটি ফরজ (فرض) বিধান—যেমনটি আমরা অজুর ক্ষেত্রে পানি পৌঁছানো ফরজ হওয়ার বিষয়ে তাদের ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছি; তবে তারা মতভেদ করেছেন যে, এটি ঘর্ষণ করার মাধ্যমে হতে হবে, নাকি কেবল পানি ঢেলে দেওয়া বা ডুব দেওয়ার মাধ্যমেই হবে।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি গোসল ওয়াজিব হওয়ার কোনো কারণে গোসল করল এবং আমরা অজুর যে পদ্ধতির ব্যাপারে যথেষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী অজু করল, অতঃপর তার সমস্ত শরীর, মাথা ও চুলের গোড়ায় পানি ঢালল এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঘর্ষণ করল এবং একটি চুলের সমপরিমাণ বা তার বেশি জায়গাও অবশিষ্ট রাখল না, আর গোসল সম্পন্ন করার আগে অজু ভঙ্গকারী কোনো কাজ করল না এবং ওয়াজিব গোসলের নিয়ত করল, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে পানিতে নাজাতাস (نجاسة) পতিত হয়ে তার রং অথবা স্বাদ পরিবর্তন করে দিয়েছে, তবে জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত তা পান করা এবং যেকোনো অবস্থায় তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ নেই; যদিও নাজাতাস (نجاسة) সমূহের সংজ্ঞার বিষয়ে তাদের মাঝে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মানুষের প্রস্রাব যদি পরিমাণে বেশি হয় এবং তা সুঁইয়ের অগ্রভাগের ছিদ্রের মতো সামান্য না হয়, তবে তা এবং মানুষের মল অপবিত্র (نجس)। তারা আরও ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মাছের রক্ত এবং যেসব প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত হয় না সেগুলো ব্যতীত যেকোনো ধরনের রক্ত যদি পরিমাণে বেশি হয়, তবে তা অপবিত্র (نجس)।

তারা 'বেশি পরিমাণের' সীমানা নির্ধারণে মতভেদ করেছেন, যার ব্যাপ্তি নখের পরিমাণ থেকে শুরু করে কাপড়ের অর্ধেক পর্যন্ত।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নেশাজাতীয় নবীজ ব্যতীত অন্য সকল অপবিত্র (نجاسة) বস্তু ভক্ষণ করা বা পান করা হারাম (حرام)।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২০)
وَاتَّفَقُوا على أَن مَا لم يكن بولا وَلَا رجيعا حاشا مَا خرج من برغوث أَو نحل أَو ذُبَاب وَلَا خمرًا وَلَا مَا تولد مِنْهَا ولامسه وَلَا مَا أَخذ مِنْهَا وَلَا مَا أَخذ من حَيّ حاشا الصُّوف والوبر وَالشعر مِمَّا يُؤْكَل لَحْمه وَلَا كَلْبا وَلَا حَيَوَانا لَا يُؤْكَل لَحْمه من سبع أَو غَيره وَلَا لعاب مَا لَا يُؤْكَل وَلَا صديدا ولا قيئا ولا قيحا ولا دما ولا بصاقا ولا مخاطا ولا قلسا وَلَا مَا مَسّه شَيْء من كل مَا ذكرنَا فانه طَاهِر

وَاتَّفَقُوا على أَن الاستنجاء بِالْحِجَارَةِ وَبِكُل طَاهِر مَا لم يكن طَعَاما أَو رجيعا أَو نجسا أَو جلدا أَو عظما أَو فحما أَو حممة جَائِز (1)

وَاتَّفَقُوا على أَن كل من صلى قبل تَمام فرض وضوئِهِ أَو تيَمّمه إن كَانَ من أهل التَّيَمُّم أَن صلَاته بَاطِلَة نَاسِيا كَانَ أَو عَامِدًا إذ أسقط عضوا كَامِلا

وَاخْتلفُوا فِيمَن أسقط بعض عُضْو نَاسِيا أينصرف من صلَاته ويقضيها أم لَا

وَاتَّفَقُوا على أَن الْبَوْل من غير المستنكح بِهِ وَأَن الفسو والضراط إذا خرج كل ذَلِك من الدبر وَأَن إيلاج الذّكر فِي فرج الْمَرْأَة بِاخْتِيَار المولج ينْقض الْوضُوء بنسيان كَانَ ذَلِك أَو بعمد وَكَذَلِكَ ذهَاب الْعقل بسكر أَو إغماء أَو جُنُون

وَاتَّفَقُوا على أَن مَا عدا مَا ذكرنَا وَمَا عدا مس الْمَرْأَة الرجل وَالرجل الْمَرْأَة بِأَيّ عُضْو تماسا وكيفما تماسا وَمَا عدا مس الْفرج والدبر وَالذكر والإبط وَمَسّ الصَّلِيب وَمَسّ الإبط والأوثان والكلمة القبيحة ونظرة الشَّهْوَة وَخُرُوج الدَّم حَيْثُمَا خرج وَذبح الْحَيَوَان وَمَاء الْمدَّة والقيئ والقلس والقيح وَقلع الضرس وإنشاد الشّعْر والضحك فِي الصَّلَاة وقرقرة الْبَطن فِي الصَّلَاة وَأكل مَا مست النَّار أَو شربه

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 288:

في جواز الاستجمار بغير الأحجار قولان معروفان، هما روايتان عن أحمد: إحداهما: لا يجزئ إلا بالحجر، وهي اختيار أبي ⦗ص: 289⦘ بكر بن المنذر، وأبي بكر عبد العزيز.
তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যা প্রস্রাব বা মল (رجيع) নয় (বড়শি-পোকা, মৌমাছি বা মাছি থেকে যা নির্গত হয় তা ছাড়া), এবং যা মদ নয়, কিংবা যা থেকে কোনো কিছু তৈরি হয়নি বা যা তাকে স্পর্শ করেনি, কিংবা যা থেকে কিছু নেওয়া হয়নি, এবং কোনো জীবিত প্রাণী থেকে যা নেওয়া হয়নি (যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার পশম, লোম ও চুল ছাড়া), এবং কুকুর নয়, এবং এমন কোনো প্রাণী নয় যার গোশত খাওয়া হয় না (তা হিংস্র প্রাণী হোক বা অন্য কিছু), এবং অখাদ্য প্রাণীর লালা নয়, এবং পচা রক্ত, বমি, পুঁজ, রক্ত, থুতু, শ্লেষ্মা, মুখভর্তি বমি (قلس) নয় এবং আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনো কিছু যা স্পর্শ করেছে তা নয়—নিশ্চয়ই তা পবিত্র (طاهر)।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, পাথর দিয়ে এবং প্রতিটি পবিত্র (طاهر) বস্তু দিয়ে ইস্তিনজা করা—যতক্ষণ না তা খাদ্য, মল (رجيع), অপবিত্র (نجس), চামড়া, হাড়, কয়লা বা পোড়া কাঠ হয়—তা বৈধ (جائز)। (১)

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার অজুর ফরজসমূহ বা তায়াম্মুম (যদি সে তায়াম্মুমের উপযুক্ত হয়) পূর্ণ করার আগে সালাত আদায় করে, তার সালাত বাতিল (باطلة); চাই তা ভুলবশত হোক বা ইচ্ছাকৃত হোক, যদি সে পূর্ণ একটি অঙ্গ বাদ দিয়ে থাকে।

আর যারা ভুলবশত কোনো অঙ্গের কিয়দংশ বাদ দিয়েছে তাদের ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন যে, সে কি তার সালাত থেকে ফিরে আসবে এবং তা পুনরায় আদায় করবে নাকি করবে না।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এমন ব্যক্তির প্রস্রাব যে প্রস্রাব আটকে রাখতে অক্ষম নয়, এবং মলদ্বার থেকে শব্দহীন ও সশব্দ বায়ু নির্গত হওয়া, এবং পুরুষের লিঙ্গ নারীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করানো—যদি তা প্রবেশকারীর ইচ্ছায় হয়—অজু ভঙ্গ করে; তা ভুলে হোক বা ইচ্ছাকৃত। অনুরূপভাবে নেশা, মূর্ছা যাওয়া বা উন্মাদনার ফলে বুদ্ধি লোপ পেলেও একই হুকুম।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত এবং কোনো নারী পুরুষকে বা পুরুষ নারীকে শরীরের যে কোনো অঙ্গ দিয়ে যেভাবে স্পর্শ করুক না কেন তা ব্যতীত, এবং লজ্জাস্থান, মলদ্বার, লিঙ্গ ও বগল স্পর্শ করা ব্যতীত, এবং ক্রুশ স্পর্শ করা, বগল ও মূর্তিসমূহ স্পর্শ করা, কটু কথা বলা, কামভাব নিয়ে তাকানো, রক্ত যেখান থেকেই বের হোক তা বের হওয়া, পশু জবাই করা, ক্ষতের পানি, বমি, মুখভর্তি বমি (قلس), পুঁজ, দাঁত তোলা, কবিতা আবৃত্তি করা, সালাতে অট্টহাসি দেওয়া, সালাতে পেটের গড়গড় শব্দ হওয়া এবং আগুনের স্পর্শে তৈরি কোনো কিছু খাওয়া বা পান করা (অজু ভঙ্গ করে না)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ 'নাকদ মারাতিল আল-ইজমা' (পৃষ্ঠা ২৮৮) গ্রন্থে বলেছেন:

পাথর ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ইস্তিজমার বৈধতার (جواز) ব্যাপারে দুটি প্রসিদ্ধ অভিমত রয়েছে, যা আহমাদ থেকে দুটি বর্ণনা হিসেবে এসেছে: তার একটি হলো, পাথর ছাড়া অন্য কিছুতে তা যথেষ্ট হবে না; এবং এটি আবু বকর বিন আল-মুনজির এবং আবু বকর আব্দুল আজিজের পছন্দ।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২১)
وَلُحُوم الإبل وكل شَيْء مِنْهَا وَالنَّوْم والمذي والودي أَو لمسا على ثوب أَو غير ثوب لشَهْوَة أَو شَيْئا خرج من أحد المخرجين من دود أَو حَصى أَو غير ذَلِك أَو شَيْء قطر فيهمَا أَو أَدخل أَو رجيعا أَو بولا أَو منيا خرج من غير مخرجه الْمَعْهُود أَو حلق شعره أَو قصّ ظفر أَو خلع خف مسح عَلَيْهِ أَو عِمَامَة كَذَلِك أَو كلمة عوراء أَو أَذَى مُسلم أَو حمل ميت أَو وَطْء نَجَاسَة رطبَة فانه لَا يُوجب وضُوءًا

وَاتَّفَقُوا على أَن خُرُوج الْجَنَابَة فِي نوم أَو يقظة من الذّكر بلذة لغير مغلوب باستنكاح أَو مَضْرُوب وَقبل أَن يغْتَسل للجنابة فانه يوجب غسل جَمِيع الرَّأْس والجسد

وَاتَّفَقُوا على أَن الدَّم الْأسود الْخَارِج فِي أَيَّام الْحيض من فرج الْمَرْأَة الَّتِي من كَانَت فِي مثل مِنْهَا حَاضَت يُوجب الْغسْل على الْمَرْأَة

وَاتَّفَقُوا على أَن مَا عدا الإمنَاء والإيلاج فِي فرج أَو دبر من انسي أو بَهِيمَة وَمَسّ الإبط والاستحداد وَدخُول الْحمام وَدخُول الْمَنِيّ فِي فرج الْمَرْأَة أَو خُرُوجه من فرجهَا بعد وُقُوعه والإمذاء وَالْحيض والاستحاضة وَالدَّم كُله والصفرة والكدرة وَالْحَدَث فِي تضاعيف الْغسْل قبل تَمَامه مِمَّا لَو كَانَ فِي غير غسل لنقض الْوضُوء فَقَط والحجامة والإسلام وَغسل الْمَيِّت ومواراته والإحرام وَيَوْم الْجُمُعَة لا يوجب غسلا

وَاتَّفَقُوا على أَن المَاء الَّذِي وَصفنَا فِي أول هَذَا الْبَاب إذا جمع تِلْكَ الصِّفَات وَلم يكن راكدا فان الْغسْل بِهِ جَائِز

وَاتَّفَقُوا أَن من وطئ مرَارًا امْرَأَة وَاحِدَة فَغسل وَاحِد يُجزئهُ

وَاتَّفَقُوا إن اجْتمع عَلَيْهِ أمران كل وَاحِد مِنْهُمَا يُوجب الْغسْل فاغتسل لكل وَاحِد مِنْهُمَا غسلا ينويه بِهِ ثمَّ للْآخر مِنْهُمَا كَذَلِك أَنه قد طهر وَأدّى مَا عَلَيْهِ بِخِلَاف قَوْلهم فِي الأحداث الْمُخْتَلفَة

وَاتَّفَقُوا على أَن الْغسْل فِي الإجناب من الزِّنَا وَاجِب كوجوبه من وَطْء الْحَلَال

وَاتَّفَقُوا على أَن من احْتَلَمَ فَرَأى المَاء من الرِّجَال وَالنِّسَاء أَو حَاضَت من النِّسَاء بعد أَن تتجاوز خَمْسَة عشر ويستكملا فِي قدهما سِتَّة أشبار وهما عاقلان فقد لزمتهما
উটের গোশত এবং এর প্রতিটি অংশ, নিদ্রা, মযী, ওদী, কামবশত কাপড় বা অন্য কিছু স্পর্শ করা, মলদ্বার বা মূত্রদ্বার দিয়ে নির্গত কৃমি বা পাথর বা অনুরূপ কিছু, উক্ত দুই পথে কোনো কিছু প্রবেশ করানো বা ফোঁটা আকারে পড়া, কিংবা অস্বাভাবিক কোনো পথ দিয়ে নির্গত বিষ্ঠা, প্রস্রাব বা বীর্য, চুল কাটা, নখ ছাঁটা, মাসাহকৃত মোজা খোলা অথবা একইভাবে পাগড়ি খোলা, কিংবা কটু কথা বলা, কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া, মৃতদেহ বহন করা অথবা কোনো আর্দ্র নাপাকির ওপর পা রাখা—এসব কিছুই ওজু (وضوء) আবশ্যক করে না।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, নিদ্রা বা জাগ্রত অবস্থায় কামোত্তেজনার সাথে লিঙ্গ থেকে বীর্যপাত বা জানাবাত (جنابة) হলে—যা কোনো রোগ বা আঘাতের কারণে জবরদস্তিমূলক নয়—এমতাবস্থায় গোসলের (غسل) পূর্বে সম্পূর্ণ মাথা ও শরীর ধৌত করা আবশ্যক (واجب)।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ঋতুস্রাবের (حيض) দিনগুলোতে কোনো নারীর যোনিপথ দিয়ে নির্গত কালো রক্ত, যা তার সমবয়সী নারীদের ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হয়, তা ঐ নারীর ওপর গোসল (غسل) আবশ্যক (واجب) করে।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বীর্যপাত ও মানুষ বা পশুর যোনি বা পায়ুপথে লিঙ্গপ্রবেশ ছাড়া অন্য সব কিছু, যেমন—বগল স্পর্শ করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, হাম্মামে প্রবেশ করা, বীর্য নারীর যোনিপথে প্রবেশ করা অথবা পরে তা যোনিপথ থেকে নির্গত হওয়া, মযী, ঋতুস্রাব (حيض), ইস্তিহাযা (استحاضة), সব ধরণের রক্ত, হলদেটে স্রাব (صفرة), মেটে স্রাব (كدرة), এবং গোসল সম্পন্ন হওয়ার আগে তার মধ্যবর্তী সময়ে ঘটা কোনো অপবিত্রতা (حدث)—যা গোসল ছাড়া অন্য অবস্থায় কেবল ওজু (وضوء) ভঙ্গ করত, সিঙা লাগানো, ইসলাম গ্রহণ করা, মৃতদেহ ধৌত করা ও দাফন করা, ইহরাম বাঁধা এবং জুমার দিন—এগুলো গোসল (غسل) আবশ্যক করে না।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এই অধ্যায়ের শুরুতে আমরা পানির যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছি, সেই পানি যদি ঐ সকল গুণাগুণ সম্পন্ন হয় এবং তা আবদ্ধ না হয়, তবে তা দিয়ে গোসল (غسل) করা বৈধ (جائز)।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কেউ যদি একই স্ত্রীর সাথে একাধিকবার সহবাস করে, তবে তার জন্য একবার গোসল (غسل) করাই যথেষ্ট।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যদি কারো ওপর এমন দুটি কারণ একত্রিত হয় যার প্রতিটিই গোসল (غسل) আবশ্যক (واجب) করে, অতঃপর সে প্রত্যেকটির নিয়ত করে দুবার গোসল করে, তবে সে পবিত্র (طاهر) হয়ে গেল এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল; এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকারের অপবিত্রতার (حدث) বিষয়ে তাঁদের ভিন্ন মতের বিষয়টি স্বতন্ত্র।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ব্যভিচারের (زنا) ফলে জানাবাত (جنابة) তথা বীর্যপাতের কারণে গোসল (غسل) করা তেমনি আবশ্যক (واجب), যেমনটি বৈধ সহবাসের কারণে আবশ্যক (واجب) হয়।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কোনো পুরুষ বা নারীর স্বপ্নদোষ হওয়ার পর বীর্য পরিলক্ষিত হলে, কিংবা কোনো নারীর বয়স পনেরো বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঋতুস্রাব (حيض) শুরু হলে, আর তাদের উচ্চতা যদি ছয় বিঘত পূর্ণ হয় এবং তারা বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন হয়, তবে তাদের ওপর শরীয়তের বিধিবিধান পালন করা আবশ্যক হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২২)
الأحكام وَجَرت عَلَيْهِمَا إن كَانَا مُسلمين الْحُدُود ولزمتهما الْفَرَائِض وَأَنه بُلُوغ صَحِيح

وَأَجْمعُوا أَن من تجَاوز تسع عشرَة سنة من الرِّجَال وَالنِّسَاء وَهُوَ عَاقل وَلم يَحْتَلِم وَلَا حَاضَت فإنهما بالغان بلوغا صَحِيحا

وَأَجْمعُوا أَن الْمُسَافِر سفرا يكون ثَلَاثَة أَيَّام فَصَاعِدا وَلَا يجد مَاء وَلَا نبيذا فان التَّيَمُّم لَهُ بِالتُّرَابِ الطَّاهِر جَائِز فِي الْوضُوء للصَّلَاة الْفَرِيضَة خَاصَّة

وَأَجْمعُوا أَنه إن تيَمّم لكل صَلَاة فقد صلاهَا بِطَهَارَة

وَأَجْمعُوا أَن الْمَرِيض الَّذِي يُؤْذِيه المَاء وَلَا يجده مَعَ ذَلِك أَن لَهُ التَّيَمُّم

وَاخْتلفُوا فِي أَن من تَوَضَّأ فَلهُ أَن يُصَلِّي مَا لم ينْتَقض وضوؤه فروينا عَن إبراهيم النَّخعِيّ أَنه لَا يُصَلِّي بِوضُوء وَاحِد أَكثر من خمس صلوَات وروينا عَن عبيد بن عُمَيْر الْوضُوء لكل صَلَاة وَاحْتج بِالْآيَةِ

وَأَجْمعُوا أَن مسح بعض الْوَجْه غير معِين وَبَعض الْكَفَّيْنِ كَذَلِك بضربة وَاحِدَة فِي التَّيَمُّم فرض

وَأَجْمعُوا أَن من مسح جَمِيع وَجهه وخلل لحيته فِي التَّيَمُّم بِتُرَاب لم يزل من أرضه وَذَلِكَ التُّرَاب طَاهِر وَمسح جَمِيع بدنه وذراعيه وعضديه إلى مَنْكِبَيْه وخلل أَصَابِعه بضربة وَاحِدَة ثمَّ أعَاد مسح الْوَجْه والذراعين كَذَلِك بضربة أُخْرَى من التُّرَاب فقد أدّى مَا عَلَيْهِ وَاخْتلفُوا فِي تَقْدِيم الْوَجْه على الْيَدَيْنِ بِمَا لَا سَبِيل إلى جمعه

واختلفوا أيمس الْمُتَيَمم الْمُصحف ويؤم الْمُتَوَضِّئ أم لَا وَهل يتَيَمَّم بِتُرَاب نجس أم لَا

وَاتَّفَقُوا إن تيَمّم كَمَا ذكرنَا بعد دُخُول الْوَقْت وَطلب المَاء فَلهُ أَن يُصَلِّي صَلَاة وَاحِدَة وَاخْتلفُوا فِي أَكثر وَفِي النَّافِلَة وفيمن يتَيَمَّم قبل الْوَقْت ليَكُون على طَهَارَة أَن لَهُ أَن يُصَلِّي بِمَا شَاءَ من الْفَرَائِض والنوافل حاشا الْخلاف الَّذِي ذكرنَا

واتفقوا أن من اجْتمع عَلَيْهِ غسلان كحائض أجنبت أَو نَحْو ذَلِك فاغتسل أَو اغْتَسَلت غسلين فقد أديا مَا عَلَيْهِمَا

وَأَجْمعُوا أَن من أَيقَن بِالْحَدَثِ وَشك فِي الْوضُوء أَو أَيقَن أَنه لم يتَوَضَّأ
বিধি-বিধানসমূহ (الأحكام) এবং তাদের উভয়ের ওপর দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর হবে যদি তারা মুসলিম হয়; তাদের ওপর ফরয (الفرائض) কার্যাবলি আবশ্যক হবে এবং এটি সঠিক (صحيح) সাবালগত্ব হিসেবে গণ্য হবে।

তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, পুরুষ ও নারীদের মধ্য থেকে যারা উনিশ বছর অতিক্রম করেছে এবং সে বিবেকবান কিন্তু তার স্বপ্নদোষ হয়নি এবং ঋতুস্রাবও হয়নি, তারা সঠিক (صحيح) সাবালগত্বের মাধ্যমে সাবালগ হয়েছে।

তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, তিন দিন বা তার অধিক সময়ের সফরের মুসাফির ব্যক্তি যদি পানি এবং নাবীজ না পায়, তবে বিশেষ করে ফরয (الفريضة) নামাজের ওযুর জন্য পবিত্র (طاهر) মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা তার জন্য বৈধ (جائز)।

তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যদি সে প্রত্যেক নামাজের জন্য তায়াম্মুম করে তবে সে পবিত্রতার (طهارة) সাথেই নামাজ আদায় করল।

তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, অসুস্থ ব্যক্তি যাকে পানি কষ্ট দেয় এবং সে পানি পায়ও না, তার জন্য তায়াম্মুম করার অনুমতি রয়েছে।

তারা এ বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) করেছেন যে, যে ব্যক্তি ওযু করেছে সে কি ততক্ষণ নামাজ পড়তে পারবে যতক্ষণ না তার ওযু ভঙ্গ হয়? আমরা ইবরাহিম আন-নাখায়ি থেকে বর্ণনা (روينا) করেছি যে, তিনি এক ওযুতে পাঁচ ওয়াক্তের বেশি নামাজ পড়তেন না। আর আমরা উবাইদ বিন উমাইর থেকে বর্ণনা (روينا) করেছি যে, তিনি প্রত্যেক নামাজের জন্য ওযু করার কথা বলতেন এবং আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করতেন।

তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, তায়াম্মুমে এক আঘাতে চেহারার অনির্দিষ্ট কিছু অংশ এবং একইভাবে উভয় হাতের তালুর কিছু অংশ মাসেহ করা ফরয (فرض)।

তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার পুরো চেহারা মাসেহ করল এবং নিজ ভূমির পবিত্র (طاهر) মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করার সময় দাড়ি খিলাল করল এবং এক আঘাতেই তার পুরো শরীর, দুই বাহু ও ঘাড় পর্যন্ত কনুই মাসেহ করল এবং আঙুলসমূহ খিলাল করল, অতঃপর অন্য আঘাতের মাটি দিয়ে একইভাবে চেহারা ও দুই বাহু মাসেহ করল, সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল। আর তারা দুই হাতের আগে চেহারা মাসেহ করার ব্যাপারে এমনভাবে মতভেদ (اختلاف) করেছেন যা নিরসনের কোনো পথ নেই।

তারা মতভেদ (اختلاف) করেছেন যে, তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি কি কুরআন (মুসহাফ) স্পর্শ করতে পারবে এবং ওযুকারীর ইমামতি করতে পারবে কি না এবং অপবিত্র (نجس) মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা যাবে কি না।

তারা এ ব্যাপারে একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, যদি কেউ উল্লিখিত পদ্ধতিতে ওয়াক্ত প্রবেশের পর এবং পানির অনুসন্ধান করার পর তায়াম্মুম করে, তবে সে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে তারা এর অধিক নামাজ এবং নফল (النافلة) নামাজের বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) করেছেন। আর যে ব্যক্তি ওয়াক্তের আগেই পবিত্র (طهارة) থাকার জন্য তায়াম্মুম করে, সে ফরয (الفرائض) ও নফল (النوافل) নামাজের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা আদায় করতে পারবে কি না, তা নিয়ে উল্লিখিত মতভেদ ব্যতীত তারা দ্বিমত করেছেন।

তারা এ ব্যাপারে একমত (اتفاق) হয়েছেন যে, যার ওপর দুটি গোসল একত্র হয়েছে, যেমন ঋতুবতী নারী যার জানাবাত (গোসল) ফরয হয়েছে বা এই জাতীয় কিছু, সে যদি দুইবার গোসল করে তবে তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল।

তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি অপবিত্রতা বা হাদাস (حدث) সম্পর্কে নিশ্চিত এবং ওযুর ব্যাপারে সন্দিহান, অথবা নিশ্চিত যে সে ওযু করেনি...
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَإِن الْوضُوء عَلَيْهِ وَاجِب

وَاتَّفَقُوا أَن لحم الْميتَة وشحمها وودكها وغضروفها ومخها وَأَن لحم الْخِنْزِير وشحمه وودكه وغضروفه ومخه وعصبه حرَام كُله وكل ذَلِك نجس

وَاتَّفَقُوا أَن مَا عدا التُّرَاب والرمل وَالْحِجَارَة والجدران والأرض كلهَا والمعادن والثلج والنبات لَا يجوز التَّيَمُّم بِهِ

وَاتَّفَقُوا أَن جلد مَا يُؤْكَل لَحْمه إذا ذكي طَاهِر جَائِز استعماله وَبيعه

واجمعوا على أَن جلد الإنسان لا يحل سلخه وَلَا اسْتِعْمَاله

وَاتَّفَقُوا أَن كل إناء مَا لم يكن فضَّة وَلَا ذَهَبا وَلَا صفرا وَلَا نُحَاسا وَلَا رصاصا وَلَا مَغْصُوبًا وَلَا إناء كتابي وَلَا جلد ميتَة وَلَا جلد مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه وإن ذكي فان الْوضُوء مِنْهُ والأكل وَالشرب جَائِز (1)

وَاتَّفَقُوا على أَن الْحيض لَا يكون أَزِيد من سَبْعَة عشر يَوْمًا ذكر احْمَد وَغَيره أَنهم سمعُوا ذَلِك فِي نسَاء الْمَاجشون وَغَيرهم

وَاتَّفَقُوا على أَن الدَّم الأسود المحتوم حيض فصيح إذا ظهر فِي أَيَّام الْحيض وَلم يتَجَاوَز سَبْعَة أَيَّام وَلم ينقص من ثَلَاثَة أَيَّام

وَاتَّفَقُوا على أَن الْمَرْأَة إذا وضعت آخر ولد فِي بَطنهَا فان ذَلِك الدَّم الظَّاهِر مِنْهَا بعد خُرُوج ذَلِك الْوَلَد الآخر دم نِفَاس لَا شكّ فِيهِ تجتنب فِيهِ الصَّلَاة وَالصِّيَام وَالْوَطْء

وَاتَّفَقُوا على أَن الْحَائِض لَا تصلي وَلَا تَصُوم أَيَّام حَيْضهَا وَلَا يَطَؤُهَا زَوجهَا فِي فرجهَا وَلَا فِي دبرهَا واتفقوا أن لَهُ مؤاكلتها ومشاربتها

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 289:

الآنية الثمينة التي تكون أغلى من الذهب والفضة - كالياقوت ونحوه - فيها قولان للشافعي. وفي مذهب مالك قولان.
সুতরাং তার জন্য অজু (وضوء) করা আবশ্যক (واجب)।

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, মৃত পশুর মাংস, চর্বি, ঝোল, তরুণাস্থি ও মজ্জা এবং শূকরের মাংস, চর্বি, ঝোল, তরুণাস্থি, মজ্জা ও স্নায়ু—সবই হারাম (حرام) এবং এই সবই অপবিত্র (نجس)।

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, মাটি, বালু, পাথর, দেয়াল, সমগ্র ভূমি, খনিজ দ্রব্য, বরফ ও উদ্ভিদ ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে তায়াম্মুম (تيمم) করা বৈধ নয়।

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, ভক্ষণযোগ্য পশুর চামড়া যদি শরিয়াহসম্মত উপায়ে জবেহ করা হয়, তবে তা পবিত্র (طاهر) এবং তা ব্যবহার ও বিক্রি করা বৈধ।

এবং তাঁরা এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, মানুষের চামড়া ছাড়ানো এবং তা ব্যবহার করা বৈধ নয়।

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, প্রতিটি পাত্র—যতক্ষণ না তা রূপা, সোনা, পিতল, তামা, সিসা, অপহৃত বা জোরপূর্বক দখলকৃত, আহলে কিতাবদের পাত্র, মৃত পশুর চামড়া অথবা অভক্ষণযোগ্য পশুর চামড়া (যদিও জবেহ করা হয়) না হয়—তা থেকে অজু (وضوء) করা এবং তাতে পানাহার করা বৈধ। (১)

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, ঋতুস্রাব (حيض) সতেরো দিনের বেশি হয় না। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা আল-মাজিশুন গোত্রের এবং অন্যান্য নারীদের ক্ষেত্রে এমনটি শুনেছেন।

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, ঘন কালো রক্ত সুস্পষ্ট ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য হবে যখন তা মাসিকের দিনগুলোতে প্রকাশ পায় এবং সাত দিনের বেশি অতিক্রম না করে ও তিন দিনের কম না হয়।

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, কোনো নারী যখন তার গর্ভস্থ শেষ সন্তান প্রসব করে, তখন সেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার থেকে নির্গত রক্ত নিঃসন্দেহে নিফাস (نفاس); এই অবস্থায় সে নামাজ, রোজা এবং সহবাস থেকে বিরত থাকবে।

এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে, ঋতুবর্তী নারী তার মাসিকের দিনগুলোতে নামাজ পড়বে না এবং রোজা রাখবে না। তার স্বামী তার সাথে যোনিপথে বা পায়ুপথে সহবাস করবে না। তবে তাঁরা একমত হয়েছেন যে, স্বামী তার সাথে একত্রে পানাহার করতে পারবে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘নাকদু মারাতিবিল ইজমা’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৮৯) বলেছেন:

অত্যন্ত মূল্যবান পাত্র যা সোনা ও রূপার চেয়েও দামী—যেমন ইয়াকুত ও সমজাতীয় পাথর—এ ব্যাপারে শাফেয়ি মাজহাবে দুটি মত রয়েছে। মালেকি মাজহাবেও দুটি মত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَاتَّفَقُوا أَن دم النّفاس إذا دَامَ سَبْعَة أَيَّام فَهُوَ نِفَاس تجتنب بِهِ مَا ذكرنَا

وَاتَّفَقُوا أَنه إن اتَّصل أَزِيد من خَمْسَة وَسبعين يَوْمًا فَلَيْسَ دم نِفَاس

وَاتَّفَقُوا أَن الْقِصَّة الْبَيْضَاء الْمُتَّصِلَة شهرا غير يَوْم طهر صَحِيح

وَاتَّفَقُوا على أَن من وطئ من بز الدَّم الأسود مَا بَين ثَلَاثَة أَيَّام إلى سَبْعَة أيام فِي أَيَّام الْحيض المعهود ولم تَرَ بعد ذَلِك شَيْئا غَيره فقد وطئ حَرَامًا

وَاتَّفَقُوا أَن من لا ترى دَمًا ولا كدرة ولا صفرة ولا استحاضة ولا غير ذَلِك بعد أَن تَغْتَسِل كلهَا بِالْمَاءِ فوطؤها حَلَال لمن هِيَ فرَاش لَهُ مَا لم يكن هُنَالك مَانع من صَوْم أَو اعْتِكَاف أَو إحرام أَو ظِهَار

وأجمعوا أن الْحَائِض إذا رَأَتْ الطُّهْر مَا لم تغسل فرجهَا أَو تتوضأ فوطؤها حرَام (1)

واجمعوا أَن من غسل أثر الْكَلْب وَالْخِنْزِير والهر سبع مَرَّات بِالْمَاءِ وَالثَّامِنَة بِالتُّرَابِ فقد طهر

وَأَجْمعُوا أَن من غسل مَوضِع النَّجَاسَات مُتبعا بِالْمَاءِ حَتَّى لَا يبْقى لَهَا أثر وَلَا ريح فقد أنقى وطهر وَاتَّفَقُوا أَن من غسل أثر السنور فقد طهر

 

‌‌كتاب الصَّلَاة

اتَّفقُوا على أَن الصَّلَوَات الْخمس فَرَائض

وَاتَّفَقُوا على أَن صَلَاة الصُّبْح للخائف والآمن رَكْعَتَانِ فِي السّفر والحضر

وعَلى أَن صَلَاة الْمغرب للخائف والآمن فِي السّفر والحضر ثَلَاث رَكْعَات

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 289:

أبو حنيفة يقول: إذا انقطع دمها لأكثرِ الحيض، أو مرَّ عليها وقت صلاةٍ جازَ وطؤُها وإن لم تغتسل ولم تتوضأ ولم تغسل فرجها.
তারা একমত হয়েছেন যে, নিফাসের রক্ত যদি সাত দিন স্থায়ী হয়, তবে তা নিফাস এবং এর মাধ্যমে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা বর্জন করতে হবে।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, যদি তা পঁচাত্তর দিনের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা নিফাসের রক্ত নয়।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, একদিন কম এক মাস পর্যন্ত শ্বেতস্রাব নির্গত হওয়া একটি সঠিক (صحيح) পবিত্রতা।

এবং তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, নির্ধারিত মাসিক ঋতুর দিনগুলোতে তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত কালো রক্ত নির্গত হওয়ার সময় যে ব্যক্তি সহবাস করল এবং এরপর সেই নারী অন্য কিছু না দেখে, তবে সে নিষিদ্ধ কাজ করল।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, পানি দিয়ে সম্পূর্ণ গোসল করার পর যার রক্ত, ঘোলাটে স্রাব, হলদেটে স্রাব, ইস্তিহাজা বা অন্য কিছু দেখা যায় না, তার স্বামীর জন্য তার সাথে সহবাস করা হালাল; যতক্ষণ না সেখানে রোজা, ইতিকাফ, ইহরাম বা যিহারের মতো কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ঋতুবতী নারী যখন পবিত্রতা দেখে, যতক্ষণ না সে তার লজ্জাস্থান ধৌত করে অথবা অজু করে, ততক্ষণ তার সাথে সহবাস করা হারাম (১)।

তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি কুকুর, শুকর এবং বিড়ালের চিহ্ন সাতবার পানি দিয়ে এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে ধৌত করল, সে পবিত্র হয়ে গেল।

তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি নাপাকির স্থানটি পানি দিয়ে এমনভাবে ধৌত করল যাতে তার কোনো চিহ্ন বা গন্ধ অবশিষ্ট না থাকে, তবে সে পরিষ্কার ও পবিত্র হলো; এবং তারা একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি বিড়ালের চিহ্ন ধৌত করল সে পবিত্র হলো।

 

‌নামাজ অধ্যায়

তারা একমত হয়েছেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, ভীত ও নিরাপদ উভয় ব্যক্তির জন্য সফর ও আবাস উভয় অবস্থায় ফজরের নামাজ দুই রাকাত।

এবং সফর ও আবাস উভয় অবস্থায় ভীত ও নিরাপদ ব্যক্তির জন্য মাগরিবের নামাজ তিন রাকাত।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ 'নাক্বদ মারাতিব আল-ইজমা' গ্রন্থে বলেছেন, পৃষ্ঠা ২৮৯:

আবু হানিফা বলেন: যদি ঋতুর সর্বোচ্চ মেয়াদের পর রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, অথবা এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়, তবে তার সাথে সহবাস করা জায়েজ, যদিও সে গোসল না করে, অজু না করে এবং লজ্জাস্থান ধৌত না করে।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَاتَّفَقُوا على أَن صَلَاة الظّهْر وَالْعصر وَالْعشَاء للمقيم الآمن أَربع رَكْعَات

وَاتَّفَقُوا على أَن من حج أو اعْتَمر أو جَاهد الْمُشْركين أَو كَانَت مُدَّة سَفَره ثَلَاثَة أَيَّام فَصَاعِدا فصلى الظّهْر وَالْعصر رَكْعَتَيْنِ فقد أدّى مَا عَلَيْهِ

وَاخْتلفُوا فِي الْعَتَمَة روينَا عَن ابْن عَبَّاس فِي حَدِيث شعبه ما يدل على انه كَانَ لَا يقصرها

وَلم يتفقوا فِي أقل صَلَاة الْخَوْف على شَيْء يُمكن ضَبطه لَان جمَاعَة من التَّابِعين يرَوْنَ الْفَرْض فِي صَلَاة الْخَوْف يُجزئ بتكبيرة وَاحِدَة فَقَط وَأَبُو حنيفَة لَا يرى التَّكْبِير فرضا وان أقل فرض ذَلِك عِنْده رَكْعَتَانِ وان لم يكن فيهمَا تَكْبِير أصلا

وَاتَّفَقُوا أَن الصَّلَاة لَا تسْقط وَلَا يحل تَأْخِيرهَا عمدا عَن وَقتهَا عَن الْبَالِغ الْعَاقِل بِعُذْر أصلا وَأَنَّهَا تُؤدِّي على حسب طَاقَة الْمَرْء من جُلُوس أَو اضطجاع بإيماء أَو كَيْفَمَا أمكنه (1)

وَاتَّفَقُوا أَن من أدْرك الإمام وَقد رفع رَأسه من الرُّكُوع واعتدل وَرفع كل من وَرَاءه رؤوسهم واعتدلوا قيَاما فقد فَاتَتْهُ الرَّكْعَة وَأَنه لَا يعْتد بتينك السَّجْدَتَيْنِ اللَّتَيْنِ أدْرك

وَاتَّفَقُوا أَن من جَاءَ والإمام قد مضى من صلَاته شَيْء قل أَو كثر وَلم يبْق إلا السَّلَام فانه مَأْمُور بِالدُّخُولِ مَعَه وموافقته على تِلْكَ الْحَال الَّتِي يجده عَلَيْهَا مَا لم يجْزم

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 289:

النزاع معروف في صور:

منها: حال المسايفة: فأبو حنيفة يوجب التأخير، وأحمد في إحدى الروايتين يجوزه. ومنها: المحبوس في مصر.

ومنها: عادم الماء والتراب: فمذهب أبي حنيفة، وأحدُ القولين في مذهب مالك أنه لا يصلي، رواه مَعنٌ عن مالك، وهو قول أصبغ، وحكي ذلك قولا للشافعي، ورواية عن أحمد.

وهؤلاء في الإعادة لهم قولان، هما روايتان في مذهب مالك وأحمد، والقضاء قول أبي حنيفة.
তারা সর্বসম্মত হয়েছেন যে, নিরাপদ মুকিম (নিবাসে অবস্থানকারী) ব্যক্তির জন্য জোহর, আসর এবং এশার নামাজ চার রাকাত।

তারা এ বিষয়েও সর্বসম্মত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি হজ বা ওমরাহ পালন করেন, অথবা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন, অথবা যার সফরের সময়সীমা তিন দিন বা তার বেশি হয়, তিনি যদি জোহর ও আসর নামাজ দুই রাকাত আদায় করেন, তবে তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে তারা এশার নামাজের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। আমরা ইবনে আব্বাস থেকে শু'বাহ বর্ণিত একটি হাদিস রেওয়ায়াত (رواية) করেছি যা নির্দেশ করে যে তিনি তা (সফরে) কসর করতেন না।

সালাতুল খাওফের (ভীতিপ্রদ অবস্থার নামাজ) ন্যূনতম পদ্ধতির বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেননি। কারণ তাবেয়ীদের একটি দল মনে করেন যে, সালাতুল খাওফের ক্ষেত্রে ফরজ আদায় হতে শুধু একটি তাকবিরই যথেষ্ট। অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা তাকবিরকে ফরজ মনে করেন না, বরং তার মতে এর ন্যূনতম ফরজ হলো দুই রাকাত, যদিও তাতে একেবারেই তাকবির না থাকে।

তারা সর্বসম্মত হয়েছেন যে, কোনো ওজরের কারণেই প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তির ওপর থেকে নামাজ রহিত হয় না এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করা বৈধ নয়। বরং সাধ্য অনুযায়ী বসে অথবা শুয়ে ইশারার মাধ্যমে যেভাবে সম্ভব নামাজ আদায় করতে হবে (১)।

তারা সর্বসম্মত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু থেকে মাথা উঠানো ও সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং তার পেছনের সকল মুক্তাদিও মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় পেল, তার ওই রাকাতটি ছুটে গেছে এবং সে যে দুটি সিজদা পেল তা গণ্য হবে না।

তারা সর্বসম্মত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এমন সময় উপস্থিত হলো যখন ইমামের নামাজের সামান্য বা বেশি অংশ অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং শুধু সালাম ফেরানো বাকি আছে, তাকে ওই অবস্থাতেই ইমামের সাথে নামাজে শামিল হতে এবং তাকে অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তিনি নামাজ শেষ করেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়াহ নাকদে মারাতিবুল ইজমা, পৃষ্ঠা ২৮৯-এ বলেছেন:

এই মতভেদ কয়েকটি সুপরিচিত ক্ষেত্রে রয়েছে:

তার মধ্যে একটি হলো: সম্মুখ যুদ্ধের অবস্থা: এক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা নামাজ বিলম্বিত করা ওয়াজিব মনে করেন, আর ইমাম আহমাদ তার দুটি রেওয়ায়াত (رواية)-এর একটিতে এটি জায়েজ বলেছেন। অন্যটি হলো: শহরে বন্দি থাকা ব্যক্তি।

আরেকটি হলো: পানি ও মাটি উভয় সংকটে থাকা ব্যক্তি: এমতাবস্থায় ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং ইমাম মালিকের মাযহাবের দুই মতের একটি হলো সে নামাজ পড়বে না; এটি মা'ন ইমাম মালিক থেকে রেওয়ায়াত (رواية) করেছেন এবং এটি আসবাগের বক্তব্য। ইমাম শাফেয়ীর একটি অভিমত এবং ইমাম আহমাদের একটি রেওয়ায়াত (رواية) হিসেবেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

আর পুনরায় নামাজ আদায় করার ব্যাপারে তাদের দুটি মত রয়েছে, যা ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদের মাযহাবের দুটি রেওয়ায়াত (رواية), আর কাজা করার বিষয়টি ইমাম আবু হানিফার অভিমত।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২৬)
بادراك الْجَمَاعَة فِي مَسْجِد آخر

وَاتَّفَقُوا أَن من فعل مَا يَفْعَله الإمام من رُكُوع وَسُجُود وَقيام بعد أَن فعله الإمام لَا مَعَه وَلَا قبله فقد أصَاب

وَاتَّفَقُوا أَن اسْتِقْبَال الْقبْلَة لَهَا فرض لمن يعاينها أَو عرف دلائلها مَا لم يكن مُحَاربًا وَلَا خَائفًا

وَاتَّفَقُوا على أَن الْقيام فِيهَا فرض لمن لَا عِلّة بِهِ وَلَا خوف وَلَا يصلى خلف أمام جَالس وَلَا فِي سفينة

وَاتَّفَقُوا على أَن الرُّكُوع فِيهَا فرض وان السُّجُود سَجْدَتَانِ فِي كل فرض

وَاتَّفَقُوا أَن مَا بَين زَوَال الشَّمْس إلى كَون ظلّ كل شَيْء مثله بعد طرح ظلّ الزَّوَال وَقت الظّهْر

وَاخْتلفُوا فِي وَقت الْجُمُعَة فروينا عَن مُجَاهِد أَنه قَالَ كل عيد للْمُسلمين فَهُوَ قبل الزَّوَال وَاخْتلفُوا فِي دُخُول وَقت الْعَصْر مِمَّا لَا سَبِيل إلى جمعه لِأَن أَبَا حنيفَة يَقُول لَا يدْخل وَقت الْعَصْر إلا إذا صَار ظلّ كل شَيْء مثلَيْهِ وَقَالَ الشَّافِعِي حِينَئِذٍ يخرج وَقت الْعَصْر الْمَحْمُود

وَاتَّفَقُوا أَن الشَّمْس إذا غربت كلهَا فقد خرج وَقت الدُّخُول فِي الظّهْر وَالْعصر لغير من يَقْضِيهَا وَاتَّفَقُوا أَن الشَّمْس إذا غربت فانه وَقت لصَلَاة الْمغرب

وَاتَّفَقُوا أَن مغيب الشَّفق الأبيض الَّذِي هُوَ آخر الشفقين وَقت لصَلَاة الْعَتَمَة إلى انقضاء ثلث اللَّيْل الأول

وَاخْتلفُوا أَنه إذا طلع الْفجْر الْمُعْتَرض أخرج وَقت الدُّخُول فِي الْمغرب لغير من لَا يَقْضِيهَا أم لَا وروى عَن عَطاء أَن وَقت الْمغرب وَالْعَتَمَة حَتَّى النَّهَار

وَاتَّفَقُوا على أَن طُلُوع الْفجْر الْمَذْكُور إلى طُلُوع قرص الشَّمْس وَقت للدخول فِي صَلَاة الصُّبْح لغير من يَقْضِيهَا

وَاتَّفَقُوا أَن من بلغ أَو أسلم وَأمكنهُ الظّهْر وَقد بَقِي من آخر وَقت الْعَصْر على اخْتلَافهمْ فِي آخر مِقْدَار رَكْعَة فانه يُصَلِّي الْعَصْر وَالْمغْرب ثمَّ الْعَتَمَة أَنه قد أدّى مَا عَلَيْهِ
অন্য কোনো মসজিদে জামাতে শরিক হওয়ার মাধ্যমে।

তারা একমত হয়েছেন যে, ইমাম রুকু, সাজদাহ ও কিয়াম করার পর যে ব্যক্তি ইমামের অনুকরণে তা সম্পাদন করে—ইমামের সাথে বা ইমামের আগে নয়—সে সঠিক কাজ করেছে।

তারা একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কিবলা সরাসরি দেখতে পায় অথবা এর দিক-নির্ণয়কারী আলামতসমূহ চেনে, তার জন্য কিবলামুখী হওয়া ফরজ (فرض)—যদি সে যুদ্ধাবস্থায় বা ভীত না থাকে।

তারা একমত হয়েছেন যে, যার কোনো শারীরিক অক্ষমতা বা ভয় নেই, তার জন্য নামাজে কিয়াম করা ফরজ (فرض)। তবে বসে থাকা ইমামের পেছনে কিংবা নৌকায় (কিয়াম ব্যতিরেকে) নামাজ পড়া যাবে না।

তারা একমত হয়েছেন যে, নামাজে রুকু করা ফরজ (فرض) এবং প্রত্যেক ফরজ (فرض) নামাজে সাজদাহ হলো দুটি।

তারা একমত হয়েছেন যে, সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে কোনো বস্তুর মূল ছায়া ব্যতিরেকে তার ছায়া সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু জোহরের ওয়াক্ত।

জুমার ওয়াক্ত নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন। আমাদের নিকট মুজাহিদ থেকে বর্ণিত (روينا) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: মুসলমানদের প্রতিটি ঈদই সূর্য ঢলে পড়ার আগে। তারা আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া নিয়েও মতভেদ করেছেন, যা সমন্বয় করার কোনো অবকাশ নেই; কারণ আবু হানিফা বলেন, কোনো বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ না হওয়া পর্যন্ত আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় না। আর ইমাম শাফিঈ বলেন, সেই সময় আসরের পছন্দনীয় সময় শেষ হয়ে যায়।

তারা একমত হয়েছেন যে, সূর্য যখন সম্পূর্ণ অস্তমিত হয়, তখন জোহর ও আসর ওয়াক্তে প্রবেশের সময় শেষ হয়ে যায়—যারা কাজা আদায়কারী নয় তাদের জন্য। তারা আরও একমত হয়েছেন যে, সূর্য যখন অস্ত যায়, তখন তা মাগরিব নামাজের ওয়াক্ত।

তারা একমত হয়েছেন যে, শাফাক আল-আবয়ায (সাদা আভা) অদৃশ্য হওয়া—যা দুই শাফাকের মধ্যে শেষটি—তা হলো রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত এশার নামাজের ওয়াক্ত।

তারা মতভেদ করেছেন যে, যখন সুবহে সাদিক উদিত হয়, তখন যারা কাজা আদায়কারী নয় তাদের জন্য মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় কি না। আতা থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, মাগরিব ও এশার ওয়াক্ত দিন হওয়া পর্যন্ত বাকি থাকে।

তারা একমত হয়েছেন যে, উল্লিখিত ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যের চাকতি উদিত হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু হলো সুবহে সাদিকের নামাজের ওয়াক্ত—যারা কাজা আদায়কারী নয় তাদের জন্য।

তারা একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হলো অথবা ইসলাম গ্রহণ করল এবং তার জন্য জোহর আদায় করা সম্ভব হলো, এমতাবস্থায় আসরের ওয়াক্ত শেষ হতে (তাদের মতভেদ অনুযায়ী) এক রাকাত পরিমাণ সময় বাকি আছে, তবে সে আসর, মাগরিব ও এরপর এশা নামাজ আদায় করবে; এর মাধ্যমে সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَاتَّفَقُوا أَن من أذن بعد دُخُول الْوَقْت فَقَالَ الله أكبر الله أكبر أشهد أَن لَا اله إلا الله مرَّتَيْنِ أشهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله مرَّتَيْنِ ثمَّ رفع فَقَالَ أشهد أَن لَا اله إلا الله مرَّتَيْنِ أشهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله مرَّتَيْنِ حَيّ على الصَّلَاة مرَّتَيْنِ حَيّ على الْفَلاح مرَّتَيْنِ الله اكبر الله اكبر لَا اله إلا الله وَزَاد فِي صَلَاة الصُّبْح وَالْعَتَمَة الصَّلَاة خير من النّوم مرَّتَيْنِ فقد أدّى الْأَذَان حَقه من الْكَلِمَات الَّتِي ذكرنا خاصة على أَنا قد روينَا عَن ابْن عمر رضي الله عنهما الأذان ثَلَاث وانه كَانَ يَقُول فِي أَذَانه حَيّ على خير الْعَمَل

وَاتَّفَقُوا أَن قَول الله أكبر مرَّتَيْنِ أشهد أَن لَا اله إلا الله مرَّتَيْنِ أشهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله مرَّتَيْنِ حَيّ على الصَّلَاة مرَّتَيْنِ حَيّ على الْفَلاح مرَّتَيْنِ لَا اله إلا الله مرّة وَاحِدَة يَنْبَغِي ذكره فِي الإقامة

وَاتَّفَقُوا انه إن كرر الله اكبر اشْهَدْ أَن لَا اله إلا الله اشْهَدْ أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله حَيّ على الصَّلَاة حَيّ على الْفَلاح مرَّتَيْنِ مرَّتَيْنِ كل وَاحِدَة من الألفاظ الْمَذْكُورَة وفيهَا وَقد قَامَت الصَّلَاة مرَّتَيْنِ وَالله أكبر مرَّتَيْنِ بعد ذَلِك ثمَّ لَا اله إلا الله مرّة فقد أدّى الإقامة

وَاتَّفَقُوا على أَن الْكَلَام فِي الصَّلَاة عمدا مَعَ غير الإمام فِي إصلاح الصَّلَاة وَفِي رد الإمام أَو مَا نابه وَبعد موت النَّبِي صلى الله عليه وسلم ينْقض الصَّلَاة إلا أننا روينَا عَن الشّعبِيّ فِي الصَّلَاة بني وان تكلم

وَاتَّفَقُوا أن الأكل والقهقهة وَالْعَمَل الطَّوِيل بِمَا لم يُؤمر بِهِ فِيهَا ينقضها إذا كَانَ تعمد ذَلِك كُله وَهُوَ ذَاكر لِأَنَّهُ فِي صَلَاة

وَاتَّفَقُوا أن الْمَرْأَة لَا تؤم الرِّجَال وهم يعلمُونَ أنها امْرَأَة فان فعلوا فصلاتهم فَاسِدَة بإجماع وروى عَن أشهب أَنه من ائتم بِامْرَأَة وَهُوَ لَا يدْرِي حَتَّى خرج
তারা একমত হয়েছেন যে, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যে ব্যক্তি আজান দিল এবং বলল: ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দুইবার, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ দুইবার; অতঃপর পুনরায় উচ্চস্বরে বলল: ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দুইবার, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ দুইবার, ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ দুইবার, ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ দুইবার, ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’; এবং ফজরের সালাত ও রাতের অন্ধকারের সালাতে (এশায়) ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ দুইবার যোগ করল, তবে সে বিশেষভাবে আমাদের উল্লিখিত শব্দগুলোর মাধ্যমে আজানের হক আদায় করল। যদিও আমরা ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা (روينا) করেছি যে, আজান তিনবার এবং তিনি তাঁর আজানে ‘হাইয়্যা আলা খাইরিল আমাল’ বলতেন।

তারা একমত হয়েছেন যে, ‘আল্লাহু আকবার’ দুইবার, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দুইবার, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ দুইবার, ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ দুইবার, ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ দুইবার এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ একবার বলা ইকামতে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়।

তারা একমত হয়েছেন যে, যদি কেউ ‘আল্লাহু আকবার’, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’, ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’, ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’—এর প্রত্যেকটি শব্দ দুইবার দুইবার করে পুনরাবৃত্তি করে এবং তাতে ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ দুইবার বলে, এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ দুইবার ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ একবার বলে, তবে সে ইকামতের হক আদায় করল।

তারা একমত হয়েছেন যে, সালাত সংশোধনের উদ্দেশ্যে ইমামের সাথে কথা বলা কিংবা ইমামকে ভুল সংশোধন করে দেওয়া বা তাঁর কোনো প্রয়োজনে কথা বলা ব্যতীত, অন্য কারো সাথে সালাতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর তা সালাতকে নষ্ট করে দেয়। তবে আমরা আশ-শাবি থেকে বর্ণনা (روينا) করেছি যে, সালাত সহীহ হবে যদিও সে কথা বলে।

তারা একমত হয়েছেন যে, সালাতের মধ্যে পানাহার করা, অট্টহাসি (القهقهة) এবং দীর্ঘ কাজ (العمل الطويل) যা করতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি—সালাতকে নষ্ট করে দেয়, যদি সে সচেতন অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করে যেহেতু সে সালাতরত অবস্থায় আছে।

তারা একমত হয়েছেন যে, নারী পুরুষদের ইমামতি করবে না যখন তারা জানবে যে সে একজন নারী। যদি তারা এমনটি করে তবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী তাদের সালাত বাতিল (فاسدة)। আশহাব থেকে বর্ণিত (روى) আছে যে, যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় নারীর অনুসরণ করল যে সে জানত না এবং সালাত শেষ করা পর্যন্ত সে তা বুঝতে পারেনি (তবে তার সালাত হয়ে যাবে)।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২৮)
الْوَقْت ثمَّ علم فَصلَاته تَامَّة وَكَذَا من ائتم بِكَافِر (1) وَقد قَالَ قوم من أهل الظَّاهِر أن الْكَافِر إذا ابْتَدَأَ الصَّلَاة بِقوم مُسلمين فانه إسلام مِنْهُ يقتل إن رَاجع الْكفْر

وَاتَّفَقُوا أَن القهقهة تبطل الصَّلَاة على أننا روينَا عَن الشّعبِيّ من ضحك فِي الصَّلَاة فَلَا شَيْء عَلَيْهِ

وَاخْتلفُوا فِي التبسم والأنين والنفخ وَفِي الْقِرَاءَة فِي الْمُصحف وَفِي الِاعْتِمَاد على الْيَد فِيهَا وَفِي زجر الصَّبِي يخَاف عَلَيْهِ أَن يهوى ودفاع الظَّالِم والإصلاح بَين المتقاتلين والمتضاربين وَفِي عد الْآي فِي الصَّلَاة

وَاخْتلفُوا فِي شرب المَاء قصدا فِي صَلَاة التَّطَوُّع أينقضها أم لَا وَفِي مُرُور الْكَلْب والسنور وَالْحمار وَالْكَافِر وَالْمَرْأَة بَين يَدي الْمُصَلِّي أتنقض صلَاته أم لَا

وَاتَّفَقُوا أَن أَقرَأ الْقَوْم إذا كَانَ فَاضلا فِي دينه ومعتقده سَالم الأعضاء كلهَا صَحِيح الْجِسْم فصيحا صَحِيح النّسَب حرا لَا يَأْخُذ على الصَّلَاة أجرا فَقِيها وَلم يكن أَعْرَابِيًا يؤم مُهَاجِرين وَلَا أعجميا يؤم عربا وَلَا متيمما يؤم متوضئين فان الصَّلَاة وَرَاءه جَائِزَة

وَاتَّفَقُوا على أَن من تحول عَن الْقبْلَة عمدا لغير قتال أَو لغير غسل حدث غَالب أَو بنسيان الْوضُوء لَهُ أَو لغير غسل رُعَاف أَو لغير مَا افْترض على الْمَرْء من أمر بِمَعْرُوف أَو إصلاح بَين النَّاس أَو إطفاء نَار أَو إمساك شَيْء فَائت من مَاله أو لغير إكراه فان صلَاته فَاسِدَة

وَاتَّفَقُوا أَن ستر الْعَوْرَة فِيهَا لمن قدر على ثوب مُبَاح لِبَاسه لَهُ فرض

وَاتَّفَقُوا على أَن من لبس ثوبا طَاهِرا مُبَاحا لِبَاسه كثيفا وَاحِدًا فَغطّى سرته

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 290:

ائتمام الرجال الأميين بالمرأة القارئة في قيام رمضان يجوز في المشهور عن أحمد، وفي سائر التطوع روايتان.
নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর যদি বিষয়টি অবগত হয়, তবে তার সালাত পূর্ণাঙ্গ হবে। অনুরূপ হুকুম তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যে কোনো কাফিরের ইক্তেদা করেছে। আহলে জাহেরের (প্রকাশ্যবাদী) একদল মনে করেন যে, কোনো কাফির যদি মুসলিমদের নিয়ে সালাত শুরু করে, তবে তা তার পক্ষ থেকে ইসলাম গ্রহণ হিসেবে গণ্য হবে; এরপর সে পুনরায় কুফরিতে ফিরে গেলে তাকে হত্যা করা হবে।

তাঁরা এ ব্যাপারে একমত যে, অট্টহাসি সালাত বাতিল করে দেয়; যদিও আমরা শা'বি থেকে বর্ণনা (روينا) করেছি যে, যে ব্যক্তি সালাতে হাসবে তার ওপর কোনো দায় নেই।

তাঁরা মতভেদ করেছেন মুচকি হাসি, যন্ত্রণায় কাতরানি, ফুঁ দেওয়া, মুসহাফ দেখে কিরাত পাঠ করা, সালাতের মধ্যে হাতের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো, পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুকে ধমক দেওয়া, অত্যাচারীকে প্রতিহত করা, বিবাদমান ও মারামারিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মীমাংসা করা এবং সালাতের মধ্যে আয়াত গণনার বিষয়ে।

তাঁরা মতভেদ করেছেন নফল সালাতে ইচ্ছাকৃতভাবে পানি পান করার বিষয়ে—তা সালাত ভঙ্গ করবে কি না। এবং সালাতরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে কুকুর, বিড়াল, গাধা, কাফির ও নারীর যাতায়াতের বিষয়ে—তা সালাত ভঙ্গ করবে কি না।

তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কওমের মধ্যে যে ব্যক্তি কিরাতে সবচেয়ে দক্ষ—যদি তিনি দ্বীন ও আকিদায় শ্রেষ্ঠ হন, শারীরিক ও অঙ্গগতভাবে ত্রুটিমুক্ত হন, প্রাঞ্জলভাষী হন, বিশুদ্ধ বংশমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাধীন হন, সালাতের জন্য বিনিময় গ্রহণ না করেন, ফকিহ হন এবং তিনি যদি এমন কোনো বেদুইন না হন যিনি মুহাজিরদের ইমামতি করছেন, কিংবা কোনো অনারব যিনি আরবদের ইমামতি করছেন, অথবা তায়াম্মুমকারী যিনি ওযুকারীদের ইমামতি করছেন—তবে তাঁর পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ।

তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি যুদ্ধ বা প্রবল অশুচিতা (حدث) থেকে পবিত্র হওয়ার গোসল ব্যতীত, অথবা ওযুর কথা ভুলে যাওয়ার কারণে পুনরায় ওযু করা ব্যতীত, অথবা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণে ধোয়া ব্যতীত, অথবা মানুষের ওপর অর্পিত কোনো আবশ্যিক দায়িত্ব যেমন—সৎকাজের আদেশ, বিবাদ মীমাংসা, আগুন নেভানো কিংবা সম্পদ রক্ষা করা ব্যতীত, অথবা বাধ্য হওয়া ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে কিবলা থেকে বিমুখ হয়, তবে তার সালাত বাতিল (فاسدة) হবে।

তাঁরা এ মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার পরিধানের যোগ্য বৈধ কাপড় সংগ্রহের সামর্থ্য আছে, সালাতে তার সতর ঢাকা ফরয।

তাঁরা এ মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি একটি পবিত্র, পরিধানযোগ্য ও পুরু কাপড় পরিধান করে তার নাভি ঢেকে নিল—

--------------------------------------------

(1) ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর নাকদ মারাতবি আল-ইজমা (পৃষ্ঠা ২৯০) গ্রন্থে বলেন:

রমযানের কিয়ামুল লাইলে (তারাবিহ) নিরক্ষর পুরুষদের জন্য কিরাতে পারদর্শী নারীর ইক্তেদা করা ইমাম আহমাদের প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী জায়েজ। আর অন্যান্য নফল সালাতের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ২৯)
وركبته وَمَا بَينهمَا وَطرح مِنْهُ على عَاتِقه أَن صلَاته فِيهِ تُجزئه

وَاتَّفَقُوا على أَن الْفرج والدبر عَورَة

وَاتَّفَقُوا أَن الفكرة فِي أُمُور الدُّنْيَا لَا تفْسد الصَّلَاة (1)

وَاتَّفَقُوا على أَن شعر الْحرَّة وجسمها حَشا وَجههَا ويدها عَورَة

وَاخْتلفُوا فِي الْوَجْه وَالْيَدَيْنِ حَتَّى أظفارهما أعورة هِيَ أم لَا

وَاتَّفَقُوا أَن الْأمة إن سترت فِي صلَاتهَا شعرهَا وَجَمِيع جَسدهَا فقد أدَّت صلَاتهَا وَقد روينَا عَن عَائِشَة أم الْمُؤمنِينَ رضي الله عنها لَا يَنْبَغِي للْمَرْأَة أَن تصلي إلا وَفِي عُنُقهَا قلادة أَو خيط أَو سير أَو شَيْء

وَاتَّفَقُوا على جَوَاز الصَّلَاة فِي كل مَكَان مَا لم يكن جَوف الْكَعْبَة أَو الْحجر أَو ظهر الْكَعْبَة أَو معاطن الْإِبِل أَو مَكَانا فِيهِ نَجَاسَة أَو حَماما أَو مَقْبرَة أَو إلى قبر أَو عَلَيْهِ أَو مَكَانا مَغْصُوبًا يقدر على مُفَارقَته أَو مَكَانا يستهزأ فِيهِ بالإسلام أَو مَسْجِدا لِضِرَار أَو بِلَاد ثَمُود لمن لم يدخلهَا باكيا (2)

وَاتَّفَقُوا على جَوَاز الصَّلَاة فِي كل ثوب مَا لم يكن حَرِيرًا أَو فِيهِ حَرِير أَو مَغْصُوبًا أَو معصفرا أَو فِيهِ نَجَاسَة أَو جلد ميتَة أَو ثوب مُشْتَرك

وَاتَّفَقُوا على أَن مَا عدا الْكَلْب وَالْمَرْأَة وَالْحمار والهر والمشرك لَا يقطع الصَّلَاة

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 290:

إذا كانت هي الأغلب ففيها نزاعٌ معروف، والبطلان اختيار أبي عبد الله بن حامد، وأبي حامد الغزالي.

 

(2) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 290:

الصلاة في المجزرة والمزبلة وقارعة الطريق لا تصح في المشهور عند كثير من أصحاب أحمد، بل أكثرهم.

والصلاة في الحش كذلك عند جمهورهم، وإن صلى في مكان طاهر منه.
...এবং তার হাঁটু ও এর মধ্যবর্তী স্থান এবং পোশাকের কিছু অংশ তার কাঁধের ওপর রাখা, যাতে তার নামায এতে আদায় হয়ে যায় (পর্যাপ্ত হয়)।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, সম্মুখপথ ও পশ্চাৎপথ সতর।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, পার্থিব বিষয়ে চিন্তা নামায নষ্ট করে না (১)।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, স্বাধীন মহিলার চুল ও তার দেহ—তার মুখমন্ডল ও হাত ব্যতীত—সতর।

এবং তারা মুখমন্ডল ও দুই হাত, এমনকি তাদের নখ পর্যন্ত সতর কি না, সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, দাসী যদি তার নামাযে তার চুল ও সমস্ত শরীর ঢেকে রাখে, তবে সে তার নামায আদায় করেছে। আর আমরা মুমিন জননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছি যে, কোনো মহিলার জন্য নামায পড়া উচিত নয় যদি না তার গলায় হার, সুতো, চামড়ার ফিতা অথবা অন্য কিছু থাকে।

এবং তারা সব জায়গায় নামায বৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, যতক্ষণ না সেটি কাবার অভ্যন্তর, হিজর (হাতিম), কাবার ছাদ, উট বাঁধার স্থান, অপবিত্র স্থান, গোসলখানা, কবরস্থান, কবরের দিকে মুখ করে বা কবরের ওপর, জবরদখলকৃত স্থান যা ছেড়ে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, যেখানে ইসলাম নিয়ে উপহাস করা হয় এমন স্থান, ক্ষতির উদ্দেশ্যে নির্মিত মসজিদ (মসজিদে দ্বিরার) অথবা সামূদ জাতির এলাকা—যারা কান্নাকাটি করা অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করেনি—হয় (২)।

এবং তারা সব পোশাকে নামায বৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, যতক্ষণ না সেটি রেশম হয়, বা তাতে রেশম থাকে, বা জবরদখলকৃত হয়, বা উসফুর দ্বারা রঞ্জিত হয়, বা তাতে অপবিত্রতা থাকে, বা মৃত পশুর চামড়া হয় অথবা যৌথ মালিকানাধীন পোশাক হয়।

এবং তারা একমত হয়েছেন যে, কুকুর, নারী, গাধা, বিড়াল এবং মুশরিক ব্যতীত অন্য কিছু নামায ভঙ্গ করে না।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়াহ (নাক্বদ মারাতীব আল-ইজমা), পৃষ্ঠা ২৯০-এ বলেছেন:

যদি এটিই (পার্থিব চিন্তা) নামাযের অধিকাংশ সময় জুড়ে থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে সুপরিচিত মতভেদ রয়েছে। আর নামায বাতিল হওয়ার বিষয়টি আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদ এবং আবু হামিদ আল-গাজালীর পছন্দ (মত)।

 

(২) ইবনে তাইমিয়াহ (নাক্বদ মারাতীব আল-ইজমা), পৃষ্ঠা ২৯০-এ বলেছেন:

কসাইখানা, আবর্জনা ফেলার স্থান এবং রাস্তার মোড়ে নামায পড়া আহমদ (বিন হাম্বল)-এর অনেক অনুসারীর মতে, বরং তাদের অধিকাংশের মতে প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত অনুযায়ী সঠিক নয়।

অনুরূপভাবে, তাদের জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশের মতে শৌচাগারে নামায পড়ার বিধানও একই, যদিও সেখানে কোনো পবিত্র স্থানে নামায পড়া হয়।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَاتَّفَقُوا أَن مَا مر من ذَلِك كُله وَرَاء الستْرَة وَهِي ارْتِفَاع قدر آخِرَة الرحل وَفِي حلَّة الرمْح أَنه لَا يقطع الصَّلَاة

وَاتَّفَقُوا على أَن من قرب من سترته مَا بَين ممر الشَّاة إلى ثَلَاثَة أَذْرع فقد أدّى مَا عَلَيْهِ وَاتَّفَقُوا على كَرَاهِيَة الْمُرُور بَين الْمُصَلِّي وسترته وان فَاعل ذَلِك آثم

وَاتَّفَقُوا على أَن من استنجى بِمَا يجوز الِاسْتِنْجَاء بِهِ على الْوتر من ثَلَاثَة أشخاص مُخْتَلفَة الأجرام فَصَاعِدا حَتَّى ينقي مَا هُنَالك ثمَّ تَوَضَّأ بِمَاء كَمَا ذكرنَا وَفِي إناء كَمَا وَصفنَا وضُوءًا كَمَا نعتنا ثمَّ لم يَأْتِ شَيْئا مِمَّا ذكرنَا أَن مَا عداهُ لَا ينْقض الْوضُوء وَلَا مس شَيْئا من جلده بريقه وَعَلِيهِ ثوب كَمَا شرطنا قَامَ فِي جمَاعَة وَنوى فِي تِلْكَ الصَّلَاة وَهُوَ كَمَا حددنا وَهِي راضية بِهِ فِي مَكَان مسَاوٍ لوقوفهم لَيْسَ أَعلَى مِنْهُ ووقف أمامهم بِغَيْر محرات فَكبر وَنوى فِي تكبيره وَقبل تَكْبِير مُتَّصِلا بتكبيرة تِلْكَ الصَّلَاة الَّتِي يصلى بِعَينهَا فَقَالَ الله أكبر وَرفع يَدَيْهِ وتعوذ بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم وَقَرَأَ بِأم الْقُرْآن يفتتحها بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم ثمَّ قَرَأَ سُورَة وجهر حَيْثُ يَنْبَغِي الْجَهْر وَأسر حَيْثُ يَنْبَغِي الاسرار ثمَّ كبر وَركع فاطمأن فِي رُكُوعه حَتَّى اسْتَقَرَّتْ أعضاؤه كلهَا وَقَالَ وَهُوَ رَاكِع سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيم وَلم يقْرَأ شَيْئا من الْقُرْآن فِي حَال رُكُوعه ثمَّ قَالَ سمع الله لمن حَمده رَبنَا وَلَك الْحَمد ثمَّ اطْمَأَن قَائِما حَتَّى اعتدلت اعضاؤه كلهَا ثمَّ كبر وخر سَاجِدا وجافي يَدَيْهِ عَن ذِرَاعَيْهِ وفخذيه وَوضع جَبهته وَأَنْفه مكشوفين وَيَديه وَرجلَيْهِ (1) على مَا هُوَ عَلَيْهِ قَائِم مِمَّا يحل افتراشه فِي الصَّلَاة وَهُوَ نَحْو مَا يحل لِبَاسه وَقَالَ فِي سُجُوده سُبْحَانَ رَبِّي الأعلى ثَلَاثًا واطمأنت أعضاؤه كلهَا وَلم يقْرَأ فِي سُجُوده شَيْئا من الْقُرْآن ثمَّ كبر وَجلسَ معتدلا ثمَّ كبر وَسجد أُخْرَى كَالَّتِي وَصفنَا وَلَا فرق فِي كل مَا قُلْنَا فِيهَا ثمَّ قَامَ مكبرا ثمَّ عمل هَكَذَا فِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة فان كَانَت صَلَاة غير الصُّبْح جلس بعد الثَّانِيَة وَتشهد وَلَا نقدر على إجماع فِيمَا يفعل فِي الْجُلُوس فَقَالَ الشّعبِيّ لَا يزِيد على التَّشَهُّد وَقَالَ الشَّافِعِي وَيُصلي على مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله ثمَّ يعود فَيقوم ثمَّ قَامَ مكبرا يفعل كَمَا قُلْنَا فِي الرَّكْعَة الأولى فِي كل مَا قُلْنَا فِيهَا من

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 8:

قال (أي ابن حزم) : واتفقوا على أن وضعَ الرأس في الأرض والرجلين في السجود فرضٌ.

قلت (أي ابن تيمية) : المنقول عن أبي حنيفة: أنه لا يجب السجود إلا على الوجه، وهو قول الشافعي، ورواية عن أحمد. ويقتضي هذا أنه لو سجد على يديه ووجهه وركبتيه أجزأه.
তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এর সবটুকুই সুতরাহ-এর (سترة) আড়ালে হতে হবে—যার উচ্চতা হবে সওয়ারীর পিঠের হেলান দেওয়ার কাঠের সমপরিমাণ—আর বল্লমের ফলার মতো চিকন বস্তুর ক্ষেত্রেও তারা একমত যে, এটি সালাত বিচ্ছিন্ন করে না।

তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার সুতরাহ-এর (سترة) এতটুকু নিকটে দাঁড়াল যা একটি বকরী চলাচলের পথ থেকে শুরু করে তিন হাত পর্যন্ত বিস্তৃত, সে তার দায়িত্ব পালন করল। তারা আরও ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, মুসল্লি ও তার সুতরাহ-এর (سترة) মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করা মাকরূহ (كراهية) এবং এই কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তি গুনাহগার।

তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি বৈধ বস্তু দ্বারা বিজোড় (وتر) সংখ্যায় অন্তত তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে শৌচকার্য (استنجاء) সম্পাদন করল যতক্ষণ না স্থানটি পরিচ্ছন্ন হয়, অতঃপর আমাদের বর্ণিত পদ্ধতিতে পানি দিয়ে এবং আমাদের বর্ণিত পাত্রে ও পদ্ধতিতে অজু (وضوء) করল; এরপর এমন কোনো কাজ করল না যা অজু ভঙ্গ করে এবং তার থুথু শরীরের কোথাও স্পর্শ করল না; এরপর আমাদের বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী পোশাক পরিহিত অবস্থায় জামাতে দাঁড়াল এবং সেই সালাতের নির্দিষ্ট নিয়ত (نوى) করল; সে ইমাম হিসেবে এমন অবস্থানে দাঁড়াল যেখানে মুসল্লিরা তার ওপর সন্তুষ্ট এবং তাদের দাঁড়ানোর স্থান ও ইমামের স্থান সমান অর্থাৎ ইমামের জায়গাটি উঁচু নয়; সে মেহরাব ব্যতীত তাদের সামনে দাঁড়াল এবং তাকবির (تَكْبِير) দিল এবং তাকবিরের সাথে সাথে সালাতের নির্দিষ্ট নিয়ত (نوى) করল এবং তাকবিরটি সালাতের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত করে বলল 'আল্লাহু আকবার'; এরপর দুই হাত তুলল এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা (تعوذ) করল; এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করল যা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' দিয়ে শুরু করল; এরপর একটি সূরা পাঠ করল এবং সশব্দে (جهر) পাঠের স্থানে সশব্দে এবং নিঃশব্দে (إسرار) পাঠের স্থানে নিঃশব্দে পাঠ করল; এরপর তাকবির (تَكْبِير) দিয়ে রুকু (ركوع) করল এবং রুকুতে এমনভাবে স্থিরতা (اطمأنان) বজায় রাখল যাতে তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির হয়; সে রুকু অবস্থায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম' বলল এবং রুকু অবস্থায় কুরআনের কিছু পাঠ করল না; এরপর 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' বলে সোজা হয়ে দাঁড়াল এবং স্থিরতা (اطمأنان) বজায় রাখল যাতে তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির ও সোজা হয়; এরপর তাকবির (تَكْبِير) দিয়ে সাজদাহ-এ (سجود) লুটিয়ে পড়ল এবং তার দুই হাতকে বাহু ও উরু থেকে পৃথক রাখল; সে তার কপাল ও নাক অনাবৃত অবস্থায় রাখল এবং তার দুই হাত ও দুই পা (১) এমন অবস্থায় রাখল যা সালাতে বিছানো বা পরিধান করা হালাল; সে সাজদাহ-এ (سجود) তিনবার 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' বলল এবং তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির হলো; সাজদাহ-এ (سجود) সে কুরআনের কিছু পাঠ করল না; এরপর তাকবির (تَكْبِير) দিয়ে সোজা হয়ে বসল; এরপর পুনরায় তাকবির (تَكْبِير) দিয়ে পূর্বের ন্যায় দ্বিতীয় সাজদাহ (سجود) করল এবং এতে পূর্বোক্ত নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম করল না; এরপর তাকবির (تَكْبِير) দিয়ে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাতে প্রথম রাকাতের অনুরূপ কাজগুলো সম্পাদন করল; যদি সালাতটি সুবহে সাদিকের (ফজর) সালাত না হয়, তবে দ্বিতীয় রাকাতের পর বসল এবং তাশাহহুদ (تشهد) পাঠ করল; বসা অবস্থায় কী করতে হবে সে বিষয়ে আমরা কোনো সর্বসম্মত ঐকমত্যের (ইজমা) বর্ণনা দিতে পারছি না; কেননা ইমাম শাবি বলেছেন: তাশাহহুদ (تشهد)-এর বেশি কিছু পড়বে না, আর ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল মুহাম্মদের ওপর দরুদ পাঠ করবে; এরপর তাকবির (تَكْبِير) দিয়ে দাঁড়িয়ে প্রথম রাকাতের ন্যায় কাজগুলো সম্পাদন করল...

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়াহ 'নাকদ মারাতিব আল-ইজমা' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৮) বলেন:

তিনি (অর্থাৎ ইবনে হাজম) বলেছেন: তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সাজদাহ-এর (سجود) সময় মাথা ও দুই পা জমিনে রাখা ফরজ (فرض)।

আমি (ইবনে তাইমিয়াহ) বলছি: ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মুখমণ্ডল ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর সাজদাহ (سجود) ওয়াজিব (واجب) নয়; এটি ইমাম শাফেয়ীরও একটি মত এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা। এর দাবি অনুযায়ী, যদি কেউ তার দুই হাত, মুখমণ্ডল ও দুই হাঁটুর ওপর সাজদাহ (سجود) করে, তবে তা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৩১)
قِرَاءَة سُورَة مَعَ أم الْقُرْآن وتعوذ وبسملة وَغير ذَلِك فان كَانَت غير الْمغرب وَالصُّبْح فركعتان كَمَا قُلْنَا وَلَا فرق حَتَّى إذا جلس فِي آخر صلَاته تشهد التَّشَهُّد الْمَرْوِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من طَرِيق ابْن مَسْعُود وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهما ثمَّ يُصَلِّي على مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم الصَّلَاة المروية عَنهُ عليه السلام إذ سَأَلَهُ بشير ابْن سعد الأنصاري ثمَّ سلم عَن يَمِينه وَعَن شِمَاله تسليمتين السَّلَام عَلَيْكُم وَرَحْمَة الله السَّلَام عَلَيْكُم وَهُوَ فِي مَوضِع لَيْسَ من الْمَوَاضِع الَّتِي ذكرنَا أَن مَا عداهُ مُبَاح الصَّلَاة عَلَيْهِ وَلم ينْفخ وَلَا بَكَى وَلَا ضحك وَلَا تَبَسم وَلَا الْتفت وَلَا سَهَا وَلَا تخنصر وَلَا كفت شعرًا وَلَا ثوبا وَلَا فرقع أَصَابِعه وَلَا شبكها ولامر أَمَامه شَيْء مِمَّا ذكرنَا أَن مَا عداهُ مُتَّفق عَلَيْهِ أَنه لَا يقطع الصَّلَاة وَلَا صلت إلى جنبه امْرَأَة وَلَا دَعَا بِغَيْر مَا يشبه الْقُرْآن فِيهَا وَلَا تختم فِي ابهام أَو سبابة أَو وسطى وَلَا قَالَ الْحَمد لله فِي عطاس ان كَانَ مِنْهُ وَلَا سبح مرِيدا مُخَاطبَة انسان فقد أدّى الصَّلَاة وأتمها كَمَا أَمر على اننا روينَا عَن عَطاء كَرَاهِيَة السُّجُود على غير التُّرَاب والبطحاء والحصى

واتفقواعلى أَن من فعل كَمَا ذكرنَا وَهُوَ مُنْفَرد وَلم يجد من يؤمه وَلَا من يأتم بِهِ أَو كَانَ مَعْذُورًا فِي صلَاته مُنْفَردا وَقت تِلْكَ الصَّلَاة قَائِم بعد أَو كَانَ قد نَسِيَهَا أَو قَامَ عَنْهَا وان خرج وَقتهَا مَا لم يكن بعد صَلَاة الصُّبْح إلى ابيضاض الشَّمْس أَو حِين استوائها أَو بعد الْعَصْر إلى غُرُوبهَا وَلم يكن عبدا آبقا فقد ادى صلَاته كَمَا أَمر وَلَا سَبِيل إلى إجماع جَازَ فِي الْمَأْمُوم أصلا

وَاتَّفَقُوا على أَن من قرأوهو فِي الصَّلَاة سَجْدَة من سَجدَات الْقُرْآن فَخر لَهَا سَاجِدا ثمَّ عَاد إلى صلَاته أَن صلَاته لَا تنْتَقض

وَاتَّفَقُوا أَنه ان سجد فِيهَا عَامِدًا ذَاكِرًا لأنه فِي صَلَاة غير السُّجُود الْمَأْمُور بِهِ وَغير هَذَا السُّجُود وَغير سُجُود السَّهْو فان صلَاته تفْسد

وَاتَّفَقُوا انه لَيْسَ فِي الْقُرْآن أَكثر من خمس عشرَة سَجْدَة

وَاتَّفَقُوا مِنْهَا على عشر وَاخْتلفُوا فِي الَّتِي فِي ص وَفِي الْآخِرَة الَّتِي فِي الْحَج وَفِي
উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা)-এর সাথে অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করা এবং তাআউউয, তাসমিয়াহ ও অন্যান্য বিষয়সমূহ পালন করা; যদি তা মাগরিব ও সুবহে সাদিকের সালাত না হয়, তবে আমাদের বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং এতে কোনো পার্থক্য নেই। এমনকি যখন সালাতের শেষ বৈঠকে বসবে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (المروي) তাশাহহুদ পাঠ করবে, যা ইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণিত (مروي) হয়েছে। অতঃপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে যেমনটি তাঁর থেকে বর্ণিত (المروية) হয়েছে যখন বাশির ইবনে সাদ আল-আনসারী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। এরপর তিনি ডানে এবং বামে দুইবার সালাম প্রদান করবেন: 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম'। তিনি এমন অবস্থায় থাকবেন যা আমরা উল্লেখ করেছি যে এর বাইরে সালাত আদায় করা বৈধ। তিনি ফুঁ দেননি, কাঁদেননি, হাসেননি, মুচকি হাসেননি, এদিক-ওদিক তাকাননি, ভুল করেননি, কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াননি, চুল বা কাপড় গুটিয়ে রাখেননি, আঙুল ফুটাননি বা আঙুলের মাঝে আঙুল ঢুকিয়ে জালিকা করেননি। এবং তাঁর সামনে দিয়ে এমন কিছু অতিক্রম করেনি যা আমরা উল্লেখ করেছি যে তা ব্যতীত অন্য কিছু সালাত ভঙ্গ করে না সে বিষয়ে ঐকমত্য (متفق عليه) রয়েছে। তাঁর পাশে কোনো মহিলা সালাত আদায় করেনি এবং তিনি সালাতের মধ্যে কুরআনের সদৃশ নয় এমন কোনো দুআ করেননি। তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী বা মধ্যমা আঙুলে আংটি পরিধান করেননি। হাঁচি দিলে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলেননি এবং কোনো মানুষের সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যে তাসবিহ পাঠ করেননি। এমতাবস্থায় তিনি সালাত আদায় করেছেন এবং নির্দেশিত পদ্ধতিতে তা পূর্ণ করেছেন। যদিও আমরা আতা থেকে বর্ণনা (روينا) করেছি যে, মাটি, বালু বা কঙ্কর ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর সিজদা করা অপছন্দনীয় (كراهية)।

উলামায়ে কেরাম একমত (اتفقوا) হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আমাদের বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী একাকী সালাত আদায় করল এবং সে এমন কাউকে পেল না যে তার ইমামতি করবে বা যার পেছনে সে ইক্তিদা করবে, অথবা সে একাকী সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে ওজরপ্রাপ্ত (معذورا) ছিল এবং সে সময় সালাতের ওয়াক্ত অবশিষ্ট ছিল, অথবা সে সালাত ভুলে গিয়েছিল অথবা সালাত ছেড়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল যদিও ওয়াক্ত পার হয়ে যায়—যতক্ষণ না সুবহে সাদিকের সালাতের পর সূর্য উজ্জ্বল হওয়া পর্যন্ত, অথবা দ্বিপ্রহরের সময়, অথবা আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় হয়—এবং সে পলায়নকৃত দাস ছিল না, তবে সে নির্দেশিত পদ্ধতিতে তার সালাত আদায় করেছে। আর কোনো ইজমা (إجماع) নেই যা মূলত মুক্তাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া বৈধ।

তাঁরা একমত (اتفقوا) হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় কুরআনের তিলাওয়াতের সিজদাহ পাঠ করল এবং সে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল, অতঃপর পুনরায় সালাতে ফিরে এল, তার সালাত বাতিল (تنتقض) হবে না।

তাঁরা একমত (اتفقوا) হয়েছেন যে, যদি কেউ সালাতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং সালাতরত থাকার কথা স্মরণে থাকা অবস্থায় এমন সিজদাহ করে যা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং তা তিলাওয়াতের সিজদাহ বা সাহু সিজদাহ (سجود السهو) না হয়, তবে তার সালাত নষ্ট (تفسد) হয়ে যাবে।

তাঁরা একমত (اتفقوا) হয়েছেন যে, কুরআনের মধ্যে পনেরটির বেশি তিলাওয়াতের সিজদাহ নেই।

তাঁরা এর মধ্যে দশটি সিজদাহর ব্যাপারে একমত (اتفقوا) হয়েছেন, তবে সূরা সা-দ এবং সূরা হজ্জের দ্বিতীয় সিজদাহর ব্যাপারে তারা মতভেদ (اختلفوا) করেছেন এবং...
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৩২)
الثَّلَاث اللواتي فِي الْمفصل وَاتَّفَقُوا على أَن الَّتِي فِي حم والم من عزائمها

وَاتَّفَقُوا على أَن قِرَاءَة الْقُرْآن لغير الْمُحدث وَالْجنب وَالْحَائِض وَفِيمَا عدا الْخَلَاء وَالْحمام حسن

وَاتَّفَقُوا على أَن من نَام عَن صَلَاة أَو نَسِيَهَا أَو سكر من خمر حَتَّى خرج وَقتهَا فَعَلَيهِ قَضَاؤُهَا أبدا

وَاتَّفَقُوا على أَن صَلَاة الْعِيدَيْنِ وكسوف الشَّمْس وَقيام ليَالِي رَمَضَان لَيست فرضا وَكَذَلِكَ التَّهَجُّد على غير رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (1)

وَاتَّفَقُوا أَن كل صَلَاة مَا عدا الصَّلَوَات الْخمس وَعدا الْجَنَائِز وَالْوتر وَمَا نَذره الْمَرْء لَيست فرضا (2)

وَاتَّفَقُوا أَن الصَّلَوَات الْمَفْرُوضَة وَالْغسْل الْمَفْرُوض وَالْوُضُوء لَهَا كل ذَلِك لَازم للْحرّ وَالْعَبْد وَالْأمة والحرة لُزُوما مستويا إذا بلغ كل من ذكرنَا وعقل وبلغه وجوب ذَلِك

وَاتَّفَقُوا على أَن مَا بعد صَلَاة الْعَتَمَة إلى طُلُوع الْفجْر آخر وَقت للوتر

وَاتَّفَقُوا أَن من صفاء الشَّمْس إلى زَوَالهَا وَقت لصَلَاة الْعِيدَيْنِ على أهل الأمصار

وَاتَّفَقُوا أَن صَلَاة الْعِيدَيْنِ رَكْعَتَانِ فِي الصَّحرَاء وَصَحَّ عَن عَليّ فِي الْجَامِع الْعِيد أَيْضا وَاخْتلفُوا إذا صليت فِي الْمصر فِي الْجَامِع فقوم قَالُوا رَكْعَتَانِ

وَاخْتلفُوا فِي الْكَلَام فِي الصَّلَاة فَقَالَت طَائِفَة بِجَوَازِهِ مَعَ الامام فِي اصلاح

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 291:

العيدان فرضٌ على الكفاية في ظاهر مذهب أحمد، وحكي عن أبي حنيفة: أنهما واجبان على الأعيان، وعن عبيدة السلماني: أنَّ قيامَ الليل واجبٌ كحلبِ شاةٍ، وهو قولٌ في مذهب أحمد.

 

(2) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 291:

في وجوب ركعتي الطواف نزاعٌ معروف، وقد ذُكر في وجوب المُعادَةِ مع إمام الحي وركعتي الفجر والكسوف.
মুফাসসালের তিনটি (সিজদাহ) এবং তারা একমত হয়েছেন যে, হা-মীম ও আলিফ-লাম-মীম সূরার অন্তর্ভুক্ত সিজদাহগুলো এর আবশ্যিক সিজদাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

তারা একমত হয়েছেন যে, অজুহীন, অপবিত্র (জানাবাতগ্রস্ত) ও ঋতুবতী নয় এমন ব্যক্তির জন্য শৌচাগার ও গোসলখানা ব্যতীত অন্য স্থানে কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম (حسن)।

তারা একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা ভুলে যায় অথবা মদ পানের কারণে মাতাল হয় এবং এভাবে সালাতের সময় পার হয়ে যায়, তবে তাকে সর্বদা সেই সালাত কাজা করতে হবে।

তারা একমত হয়েছেন যে, দুই ঈদের সালাত, সূর্যগ্রহণের সালাত এবং রমজানের রাতের কিয়াম (তারাবিহ) ফরজ নয়; একইভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্যদের ওপর তাহাজ্জুদও ফরজ নয়। (১)

তারা একমত হয়েছেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জানাজা, বিতর এবং মানত করা সালাত ব্যতীত অন্য কোনো সালাত ফরজ নয়। (২)

তারা একমত হয়েছেন যে, ফরজ সালাতসমূহ, ফরজ গোসল এবং তার জন্য অজু করা—এই সবই স্বাধীন পুরুষ, দাস, দাসী ও স্বাধীন নারীর ওপর সমানভাবে আবশ্যিক, যখন তাদের প্রত্যেকেই বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) ও বুদ্ধিমান হয় এবং তাদের কাছে এই বিধানের আবশ্যকতা পৌঁছায়।

তারা একমত হয়েছেন যে, এশার সালাতের পর থেকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত সময়টি বিতরের শেষ সময়।

তারা একমত হয়েছেন যে, সূর্য পরিষ্কারভাবে উদিত হওয়া থেকে শুরু করে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত সময়টি শহরের অধিবাসীদের জন্য দুই ঈদের সালাতের ওয়াক্ত।

তারা একমত হয়েছেন যে, ময়দানে দুই ঈদের সালাত দুই রাকাত এবং আলী (রা.) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে জামে মসজিদেও ঈদের সালাত (দুই রাকাত)। তবে শহরের জামে মসজিদে সালাত আদায় করা হলে কত রাকাত হবে সে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন; একদল বলেছেন এটি দুই রাকাত।

তারা সালাতের মধ্যে কথা বলা নিয়ে মতভেদ করেছেন; একদল ইমামের সাথে সালাত সংশোধনের উদ্দেশ্যে কথা বলা বৈধ বলে মত প্রকাশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ 'নাকদ মারাতিব আল-ইজমা' (পৃ. ২৯১) গ্রন্থে বলেছেন:

আহমদের মাযহাবের প্রকাশ্য মত অনুযায়ী দুই ঈদের সালাত ফরজে কিফায়া। আবু হানিফা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এগুলো ফরজে আইন। ওবায়দাহ আস-সালমানি থেকে বর্ণিত যে, রাতের কিয়াম (তাহাজ্জুদ) বকরী দোহানোর সময়ের মতো হলেও ওয়াজিব; এটি ইমাম আহমদের মাযহাবের একটি মত।

 

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ 'নাকদ মারাতিব আল-ইজমা' (পৃ. ২৯১) গ্রন্থে বলেছেন:

তওয়াফের দুই রাকাত সালাতের ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। এছাড়া পুনরায় আদায়কৃত সালাত (মুয়াদা) যা মহল্লার ইমামের সাথে পড়া হয়, ফজরের দুই রাকাত এবং সূর্যগ্রহণের সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الصَّلَاة وَقَالَت طَائِفَة ان الْكَلَام مَحْظُور حَتَّى فِي إفتاء الْمَأْمُوم الامام فِي الْقُرْآن إذا اخطأ وَقَالَ آخَرُونَ الْكَلَام عمدا ونسيانا يبطل الصَّلَاة

وَاتَّفَقُوا على أَن صَلَاة الظّهْر من يَوْم الْجُمُعَة فِي الْمصر الْجَامِع إذا أَمر بذلك الإِمَام الْوَاجِبَة طَاعَته وخطب الامام خطبتين قَائِما يجلس بَينهمَا جلْسَة وَكَانَ مِمَّن تجوز امامته وَحضر ذَلِك أَرْبَعُونَ رجلا فَصَاعِدا أَحْرَار مقيمون بالغون قد حَضَرُوا الْخطْبَة وَلم يلغ أحد مِنْهُم وَلَا شرب مَاء وَلَا زَالَ مِنْهُم أحد الا أَنهم اخْتلفُوا فِي الْوَقْت بِمَا لَا سَبِيل إلى جمعه إذ قد روينَا عَن شُعْبَة عَن الحكم عَن مُجَاهِد أَن كل عيد للْمُسلمين فَهُوَ قبل نصف النَّهَار وَرُوِيَ فِي الْجُمُعَة قبل الزَّوَال عَن أبي بكر وَغَيره الا أَنهم اجْمَعُوا على أَن الْجُمُعَة إذا جمعت على شُرُوطهَا رَكْعَتَانِ يجْهر فيهمَا

وَأَجْمعُوا ان من أسقط الجلسة الْوُسْطَى من صَلَاة الظّهْر وَالْعصر وَالْمغْرب وَالْعَتَمَة سَاهِيا أَن عَلَيْهِ سَجْدَتي السَّهْو (1)

وَاتَّفَقُوا أَن من أدْرك السَّهْو مَعَ امامه فانه يسْجد للسَّهْو وان لم يسه

ثمَّ اخْتلفُوا فِي كل من زَاد أَو نقص وفيمن أدْرك وترا من صَلَاة امامة وان لم يسه أيسجد للسَّهْو أم لَا

وَاتَّفَقُوا أَن الْقِرَاءَة فِي رَكْعَتي الصُّبْح والاوليين من الْمغرب وَالْعشَاء من جهر فيهمَا فقد أصَاب وَمن أسر فِي الْأُخْرَيَيْنِ من الْعَتَمَة وَفِي الثَّالِثَة من الْمغرب وَفِي جَمِيع الظّهْر وَالْعصر فقد أصَاب

وَلَيْسَ قولي فقد أصَاب مُوجب أَن من خَالف ذَلِك فَهُوَ عِنْدهم مُخطئ بل من خَالف ذَلِك مَوْقُوف على اخْتلَافهمْ فِيهِ

وَاتَّفَقُوا أَن النَّوَافِل من التَّهَجُّد والتطوع من شَاءَ جهر وَمن شَاءَ أسر

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 291:

الشافعي لا يوجب سجود السهو.
নামাজ প্রসঙ্গে একদল বলেছেন যে, ইমাম যদি কুরআনে ভুল করেন তবে মুক্তাদীর সংশোধনের ক্ষেত্রেও কথা বলা নিষিদ্ধ; অন্যেরা বলেছেন যে, ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত কথা বলা নামাজ বাতিল করে দেয়।

আর তারা একমত হয়েছেন যে, প্রধান শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার দিনের জোহরের নামাজ (জুমার নামাজ) আদায় করা; যখন এমন ইমাম তা আদায়ের নির্দেশ দেন যার আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং ইমাম দাঁড়িয়ে দুটি খুতবা প্রদান করেন যার মাঝে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন, এবং তিনি যদি ইমামতি করার যোগ্য হন এবং সেখানে খুতবায় উপস্থিত থাকেন চল্লিশ বা ততোধিক স্বাধীন, স্থায়ী বাসিন্দা এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং তাদের কেউ অনর্থক কাজে লিপ্ত না হয় বা পানি পান না করে এবং কেউ সেখান থেকে চলে না যায়। তবে তারা এর সময়ের ব্যাপারে এমনভাবে মতভেদ করেছেন যার সমন্বয়ের কোনো পথ নেই। কেননা আমরা শুবা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা (روينا) করেছি যে, মুসলমানদের প্রতিটি ঈদ দ্বিপ্রহরের আগে। আর জুমার ক্ষেত্রে জাওয়ালের (সূর্য ঢলে পড়া) পূর্বে আদায়ের বিষয়টি আবু বকর ও অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। তবে তারা এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জুমার নামাজ যখন তার শর্তাবলি অনুযায়ী আদায় করা হয়, তখন তা দুই রাকাত যাতে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করা হয়।

আর তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজে ভুলবশত মধ্যবর্তী বৈঠক (الجلسة الوسطى) ছেড়ে দেয়, তার উপর সাহু সিজদা (سجدتي السهو) ওয়াজিব। (১)

তারা একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তার ইমামের সাথে কোনো ভুল প্রত্যক্ষ করে, সে সাহু সিজদা (يسجد للسهو) করবে যদিও সে নিজে কোনো ভুল না করে।

অতঃপর তারা এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে নামাজে কিছু বাড়িয়েছে বা কমিয়েছে, এবং এমন ব্যক্তির ব্যাপারে যে ইমামের নামাজের বেজোড় রাকাতে শরিক হয়েছে যদিও সে নিজে কোনো ভুল করেনি—সে সাহু সিজদা (أيسجد للسهو) করবে কি না।

আর তারা একমত হয়েছেন যে, ফজরের দুই রাকাতে এবং মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাতে যে ব্যক্তি উচ্চস্বরে পাঠ করে সে সঠিক কাজ করেছে। আর যে ব্যক্তি এশার শেষ দুই রাকাতে, মাগরিবের তৃতীয় রাকাতে এবং জোহর ও আসরের সম্পূর্ণ নামাজে নিঃশব্দে পাঠ করে সে সঠিক কাজ করেছে।

আমার এই উক্তি যে "সে সঠিক কাজ করেছে" এর অর্থ এই নয় যে, যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম করবে সে তাদের নিকট ভুলকারী; বরং যারা এর বিপরীতে আমল করবে তাদের বিষয়টি ফকিহদের মতভেদের ওপর নির্ভরশীল।

আর তারা একমত হয়েছেন যে, তাহাজ্জুদ ও নফল (التطوع) নামাজের ক্ষেত্রে যে ইচ্ছা করবে সে উচ্চস্বরে পড়বে এবং যে ইচ্ছা করবে সে নিঃশব্দে পড়বে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ 'নাকদু মারাতিবিল ইজমা' (পৃষ্ঠা ২৯১) গ্রন্থে বলেছেন:

শাফেয়ী সাহু সিজদাকে (سجود السهو) আবশ্যক মনে করেন না।
(খণ্ড: ১) মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَاتَّفَقُوا على اسْتِحْبَاب رَكْعَتَيْنِ بعد طُلُوع الْفجْر وَقبل صَلَاة الصُّبْح

وَأَجْمعُوا أَن التَّطَوُّع بِالصَّلَاةِ حسن مَا لم يكن بَين طُلُوع الْفجْر وابيضاض الشَّمْس بِغَيْر الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ ذكرنَا

 

‌‌كتاب الْجَنَائِز

اتَّفقُوا على أَن مواراة الْمُسلم فرض

وَاتَّفَقُوا على أَن غسله وَالصَّلَاة عَلَيْهِ ان كَانَ بَالغا وتكفينه مَا لم يكن شَهِيدا أَو مقتولا ظلما فِي قصاص فرض

وَاتَّفَقُوا أَن من صلى عَلَيْهِ بِوضُوء فقد أصَاب

وَاخْتلفُوا فِي الْكَفَن والحنوط أَمن الثُّلُث أم من رَأس المَال وفيمن صلى عَلَيْهِ بِلَا وضوء وَلَا تيَمّم ايجوز ذَلِك أم لَا

 

‌‌كتاب الزَّكَاة

اتَّفقُوا على أَن فِي مِائَتي دِرْهَم بِوَزْن مَكَّة من الْوَرق الْمَحْض إذا أتمت عَاما كَامِلا قمريا مُتَّصِلا عِنْد مَالِكهَا الْحر الْبَالِغ الْعَاقِل الْمُسلم رجلا كَانَ أَو امْرَأَة بكرا أَو ذَات زوج أَو خلوا مِنْهُ لم تنْتَقل من ملكه عَن أَعْيَان الدَّرَاهِم وَلَا عَن شَيْء مِنْهَا زَكَاة خَمْسَة دَرَاهِم بِالْوَزْنِ الْمَذْكُور مَا لم يكن حلى امْرَأَة أَو حلية سيف أَو منْطقَة أَو مُصحفا أَو خَاتمًا (1)

وَاتَّفَقُوا على أَن فِي كل مِائَتي دِرْهَم من الْفضة الَّتِي اكتسبها الْمَرْء زَائِدَة على المائتي دِرْهَم الَّتِي كَانَت عِنْده حولا أَيْضا كَمَا ذكرنَا خَمْسَة دَرَاهِم أَيْضا

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية في (نقد مراتب الإجماع) ، ص 291:

النزاع في كل حلي مباح، أو حلي الخوذة، والران، وحمائل السيف، كالمنطقة في مذهب أحمد وغيره.

والذهبُ اليسيرُ المتصل بالثوب - كالطراز الذي لا يتجاوز أربعة أصابع - مباحٌ في إحدى الروايتين عنه.

وحلية السلاح كله كحلية السيف في إحدى الروايتين عنه.

وللعلماء نزاع في غير ذلك من الحلية.
সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর এবং ফজরের সালাতের পূর্বে দুই রাকাত আদায় করা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

তাঁরা এ বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, সুবহে সাদিক উদিত হওয়া থেকে শুরু করে সূর্য উজ্জ্বল হওয়া পর্যন্ত আমরা যে দুই রাকাতের কথা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত নফল (تطوع) সালাত আদায় করা উত্তম।

 

‌‌জানাজা অধ্যায়

মুসলিমকে দাফন করা ফরজ (فرض) হওয়ার বিষয়ে তাঁরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

তাঁরা এ বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, তাকে গোসল দেওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হলে জানাজার সালাত আদায় করা এবং কাফন পরানো ফরজ (فرض); যতক্ষণ না সে শহীদ হয় অথবা কিসাস স্বরূপ অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তি হয়।

তাঁরা একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ওজুসহ জানাজার সালাত আদায় করল, সে সঠিক কাজ করল।

কাফন ও সুগন্ধির ব্যয় কি সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে হবে নাকি মূল সম্পদ থেকে—এ বিষয়ে এবং ওজু বা তায়াম্মুম ব্যতীত জানাজার সালাত আদায় করা জায়েজ কি না সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন।

 

‌‌জাকাত অধ্যায়

তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মক্কার ওজন অনুযায়ী দুইশত দিরহাম বিশুদ্ধ রৌপ্য যদি একজন স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন মুসলিমের মালিকানায় এক পূর্ণ চান্দ্র বছর সময় থাকে—চাই তিনি পুরুষ হোন বা নারী, কুমারী হোন বা বিবাহিতা অথবা স্বামীহীনা এবং দিরহামের মূল অংশ বা তার কোনো অংশ তাঁর মালিকানা থেকে হাতবদল না হয়—তবে উল্লিখিত ওজনে পাঁচ দিরহাম জাকাত দেওয়া ফরজ (فرض); যতক্ষণ না তা নারীর অলঙ্কার অথবা তলোয়ারের কারুকাজ, কোমরবন্ধনী, কুরআন শরীফের কারুকাজ কিংবা আংটি হয় (১)।

তাঁরা এ বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, কারো কাছে থাকা পূর্ববর্তী দুইশত দিরহামের অতিরিক্ত আরও দুইশত দিরহাম রৌপ্য উপার্জিত হলে এবং তাতেও উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী বছর পূর্ণ হলে আরও পাঁচ দিরহাম জাকাত প্রদান করতে হবে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ 'নাকদু মারাতিবিল ইজমা' এর ২৯১ পৃষ্ঠায় বলেন:

আহমদ ও অন্যদের মাযহাবে সকল বৈধ অলঙ্কার অথবা শিরস্ত্রাণ, মোজা এবং তলোয়ারের হাতলের অলঙ্কার—কোমরবন্ধনীর ন্যায়—এগুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

পোশাকের সাথে যুক্ত সামান্য স্বর্ণ—যেমন চার আঙ্গুলের বেশি নয় এমন নকশা—তাঁর (ইমাম আহমদের) থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি অনুযায়ী বৈধ।

অস্ত্রের সকল কারুকাজ তলোয়ারের কারুকাজের মতোই (বৈধ); এটি তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি।

এছাড়া অন্যান্য অলঙ্কারের ক্ষেত্রেও আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।