(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: -)
الإجماع لابن المنذر - ت فؤاد - ط المسلم القسم: الفقه العام
الكتاب: الإجماع
المؤلف: محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري
تحقيق ودراسة: د. فؤاد عبد المنعم أحمد
الناشر: دار المسلم للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى لدار المسلم، 1425 هـ - 2004 م
تنبيه: سبق أن طبع المحقق هذا الكتاب لدى رئاسة المحاكم الشرعية بقطر الطبعة الأولى (عام 1400 هـ -1980 م)
عدد الصفحات: 135
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 رمضان 1440
আল-ইজমা ইবনুল মুনযির - সম্পা. ফুয়াদ - প্রকাশনা: আল-মুসলিম বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আল-ইজমা
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুনযির আন-নিশাবুরি
সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনিম আহমদ
প্রকাশক: দার আল-মুসলিম প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: দার আল-মুসলিমের প্রথম সংস্করণ, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
সতর্কবার্তা: ইতিপূর্বে সম্পাদক কাতারস্থ শরীয়াহ আদালতসমূহের প্রধান কার্যালয় থেকে বইটির প্রথম সংস্করণ (১৪০০ হিজরি -১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশ করেছিলেন।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ রমজান ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১)
الإجماع
للإمام محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري
تحقيق ودراسة: د. فؤاد عبد المنعم أحمد
دار المسلم للنشر والتوزيع
الطبعة: الطبعة الأولى 1425 هـ/ 2004 مـ
আল-ইজমা
ইমাম মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আল-মুনজির আন-নাইসাবুরীর রচিত
সম্পাদনা ও গবেষণা (تحقيق ودراسة): ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমদ
দারুল মুসলিম প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি/ ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২)
ইজমা (الإجماع)
ইবনুল মুনযির
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
الإجماع
للإمام ابن المنذر النيسابوري
المتوفى سنة 318 هـ
تحقيق ودراسة: د. فؤاد عبد المنعم أحمد
خبير البحوث الإسلامية
আল-ইজমা
ইমাম ইবনে আল-মুনজির আন-নাইসাবুরির
মৃত্যু ৩১৮ হিজরি
সম্পাদনা ও অধ্যয়ন: ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনয়িম আহমদ
ইসলামি গবেষণা বিশেষজ্ঞ
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
دار المسلم للنشر والتوزيع، 1424 هـ
الطبعة الأولى
1425 هـ/ 2004 م
دار المسلم للنشر والتوزيع
2.ب 17365 - الرياض 11484 - المملكة العربية السعودية
هاتف: 4055039 - جوال: 0504237687
www.dar.-almuslim.com
جميع الحقوق محفوظة
দার আল-মুসলিম প্রকাশনা ও বিতরণ, ১৪২৪ হিজরি
প্রথম সংস্করণ
১৪২৫ হিজরি/ ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
দার আল-মুসলিম প্রকাশনা ও বিতরণ
২.পি.ও. বক্স ১৭৩৬৫ - রিয়াদ ১১৪৮৪ - সৌদি আরব রাজ্য
টেলিফোন: ৪০৫৫০৩৯ - মোবাইল: ০৫০৪২৩৭৬৮৭
www.dar.-almuslim.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيق:نتناول في هذه المقدمة دراسة عن:
- المؤلف: ابن المنذر
- معالم حياته.
- مصنفاته العلمية.
- ثناء الأئمة عليه.
- الكتاب: الإجماع
- نسبة الكتاب إلى ابن المنذر.
- مضمون الكتاب.
- الكتب المصنفة في هذا الفن.
- مقارنة بين كتاب الإجماع لابن المنذر، ومراتب الإجماع لابن حزم.
نسخ الكتاب ومنهجنا في التحقيق
- تلبيسات الدكتور سزكين في مخطوطات كتاب الإجماع.
- حقيقة مخطوطة جار الله "رقم 567".
- اعتمادنا على مخطوطة آيا صوفيا "رقم 1011"، ووصفها.
- منهج التحقيق.
- كلمة شكر.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সম্পাদনা ভূমিকা:আমরা এই ভূমিকায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব:
- লেখক: ইবনুল মুনজির
- তাঁর জীবনীর উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ।
- তাঁর ইলমি রচনাবলি।
- তাঁর প্রশংসায় ইমামগণের উক্তি।
- কিতাব: আল-ইজমা
- ইবনুল মুনজিরের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়া।
- কিতাবের বিষয়বস্তু।
- এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থাবলি।
- ইবনুল মুনজিরের আল-ইজমা এবং ইবনে হাজমের মারাতীবুল ইজমা গ্রন্থের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা।
কিতাবের পাণ্ডুলিপিসমূহ এবং আমাদের সম্পাদনা পদ্ধতি
- আল-ইজমা কিতাবের পাণ্ডুলিপি বিষয়ে ডক্টর সেজগিনের বিভ্রান্তিকর তথ্যসমূহ।
- জারুল্লাহ পাণ্ডুলিপির (নং ৫৬৭) প্রকৃত অবস্থা।
- আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপির (নং ১০১১) ওপর আমাদের নির্ভরতা এবং এর বিবরণ।
- সম্পাদনা পদ্ধতি।
- কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
1 - المؤلف: ابن المنذر (1).
معالم حياته:
هو: محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري (2)، ويكنى أبا بكر بن المنذر ومشهور بابن المنذر.
حدد الزركلي مولده في (242) هـ، وإن كانت معظم المصادر التي بين أيدينا لم تحدد تاريخ مولده، ويبدو لنا تحديد الزركلي جاء تقريبيا، فقد قال مؤرخ الإسلام الإمام الذهبي: ولد في حدود موت أحمد بن حنبل، ولم يذكره الحاكم في تاريخه فلعله نسيه، ولا هو في تاريخ بغداد، ولا تاريخ دمشق؛ فإنه ما دخلهما (3).
ويبدو لنا أن أُسرته شغلها طلب الرزق عن طلب العلم، فلم يثبت لنا أن أحد أصوله اشتغل بالعلم، أو اشتهر به (4).
--------------------------------------------
১ - লেখক: ইবনে আল-মুনজির (১)।
তাঁর জীবনের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির আন-নাইসাবুরি (২), তাঁর কুনিয়াহ (উপনাম) হলো আবু বকর বিন আল-মুনজির এবং তিনি ইবনে আল-মুনজির নামেই প্রসিদ্ধ।
আল-জিরিকলি তাঁর জন্ম সাল (২৪২) হিজরি নির্ধারণ করেছেন, যদিও আমাদের হাতে থাকা অধিকাংশ উৎসই তাঁর জন্ম তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। আমাদের কাছে মনে হয় জিরিকলির এই নির্ধারণটি ছিল আনুমানিক। ইসলামের ইতিহাসবিদ ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি আহমদ বিন হাম্বলের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইমাম আল-হাকিম তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেননি, সম্ভবত তিনি তা ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁর কথা তারিখ বাগদাদ কিংবা তারিখ দিমাশক-এও নেই; কারণ তিনি এই শহর দুটিতে প্রবেশ করেননি (৩)।
আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর পরিবার ইলম (জ্ঞান) অর্জনের চেয়ে জীবিকা অন্বেষণে বেশি ব্যস্ত ছিল। তাই আমাদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ ইলম চর্চায় লিপ্ত ছিলেন বা এর জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
رحل ابن المنذر إلى مصر طلبا للحديث والفقه، والتقى بالربيع بن سليمان "المتوفى (270) هـ"، صاحب الشافعي وتلميذه، فوقف على كتب الشافعي التي صنفها في مصر (1).
وتيسرت لابن المنذر التلمذة على يد أعلم فقهاء عصره بأقوال الصحابة والتابعين: الإمام محمد بن عبد الله بن الحكم، الذي وصل إلى منصب مفتي الديار المصرية، ومات في سنة (268) هـ (2).
وسمع ابن المنذر الحديث من قاضي مصر ومحدثها: بكار بن قتيبة المتوفى سنة (270) هـ (3)، كما سمع الحديث في نيسابور من إمامها ومفتيها: الحافظ محمد بن يحيى الذهلي؛ الذي مات شهيدا في شوال سنة سبع وستين ومائتين هجرية (4).
وقد رحل ابن المنذر إلى مكة، وسمع محدثها محمد بن إسماعيل الصائغ المتوفى سنة (276) هـ (5)، وطاب له المقام في مكة، فصنف، ودرس وأفتى، وعلا أمره، وارتفع مقامه حتى صار شيخ الحرم المكي؛ لأنه كان المفسر المدقق، والمحدث الثقة، والراوي لآثار الصحابة رضوان الله عليهم في الفقه، وآراء التابعين، والأئمة المجتهدين مع عرض أدلتهم والموازنة بينها، فترجحت له بالتحقيق الآراء، فلا يلتزم التقيد في الاختيار بمذهب أحد بعينه، ولا يتعصب لأحد ولا على أحد، على عادة أهل
--------------------------------------------
ইবনুল মুনজির হাদিস ও ফিকহ অর্জনের জন্য মিসর সফর করেন এবং ইমাম শাফিঈর সাথী ও তাঁর ছাত্র রাবী বিন সুলায়মানের (মৃত্যু ২৭০ হিজরি) সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি ইমাম শাফিঈর সেই কিতাবগুলো সম্পর্কে অবগত হন যা তিনি মিসরে থাকাকালীন সংকলন করেছিলেন (১)।
ইবনুল মুনজিরের জন্য তাঁর যুগের সাহাবি ও তাবেয়িদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাকামের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণের সুযোগ হয়েছিল। তিনি মিসরের মুফতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ২৬৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।
ইবনুল মুনজির মিসরের কাজি ও সেখানকার হাদিস বিশারদ (محدث) বাক্কার বিন কুতাইবা (মৃত্যু ২৭০ হিজরি) থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন (৩)। একইভাবে তিনি নিশাপুরের ইমাম ও মুফতি হাফেজ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলি থেকেও হাদিস শ্রবণ করেছেন; যিনি ২৬৭ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে শহিদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
ইবনুল মুনজির মক্কায় সফর করেন এবং সেখানকার হাদিস বিশারদ (محدث) মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সায়িগ (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি) থেকে হাদিস শ্রবণ করেন (৫)। মক্কায় তাঁর অবস্থান ফলপ্রসূ হয়, সেখানে তিনি গ্রন্থ রচনা করেন, পাঠদান করেন এবং ফতোয়া প্রদান করেন। তাঁর প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং মর্যাদা এতই উচ্চতায় পৌঁছায় যে তিনি মক্কার হারামের শায়খে পরিণত হন। কারণ তিনি ছিলেন একজন সূক্ষ্মদর্শী মুফাসসির (مفسر), নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাদিস বিশারদ (محدث), এবং ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সাহাবিদের (রা.) আছার (آثار), তাবেয়িদের মতামত ও মুজতাহিদ (مجتهد) ইমামদের মতামতের বর্ণনাকারী। পাশাপাশি তিনি তাঁদের দলিলসমূহ উপস্থাপন এবং সেগুলোর মধ্যে তুলনা করতেন। গবেষণার মাধ্যমে তাঁর নিকট সঠিক মতগুলো প্রাধান্য পেত। তাই তিনি মত নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতেন না এবং কারো প্রতি অন্ধ আনুগত্য বা কারো বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করতেন না, যা ছিল জ্ঞানীদের স্বভাব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
الخلاف، بل يدور مع ظهور الدليل، ودلالة السنة الصحيحة يقول بها مع من كانت (1).
مات بمكة المكرمة على تحقيق في سنة (318) هـ (2).
آثاره العلمية:
خلف ابن المنذر المصنفات الآتية:
1 - تفسير القرآن الكريم:
يبدو لنا أن تفسير ابن المنذر من أجل التفسيرات؛ فقد قوّمه الداودي في طبقات المفسرين، وصرح بأنه لم يصنف مثله (3).
وقد أشار ابن المنذر نفسه إلى تفسيره في كتابه الأوسط (4)، في كتاب التيمم عند الاستدلال بقوله تعالى: {وَلا جُنُباً إِلَاّ عَابِرِي سَبِيلٍ} (5)، ويبدو لنا أنه كان يفسر القران بما صح لديه من الحديث، وينقل لنا ما ثبت من أقوال الصحابة
--------------------------------------------
মতবিরোধের ক্ষেত্রে নয়, বরং তিনি দলিলের প্রাবল্যের অনুসারী ছিলেন এবং সহিহ (الصحيحة) সুন্নাহর নির্দেশনার প্রবক্তা ছিলেন, তা যার পক্ষেই হোক না কেন (১)।
সঠিক মতানুসারে তিনি ৩১৮ হিজরি সনে মক্কা মুকাররমায় ইন্তেকাল করেন (২)।
তাঁর ইলমি অবদানসমূহ:
ইবনুল মুনযির নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ রেখে গেছেন:
১ - তাফসিরুল কুরআনিল কারিম:
আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনুল মুনযিরের তাফসিরটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাফসির; আদ-দাউদি 'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন' গ্রন্থে এর মূল্যায়ন করেছেন এবং স্পষ্ট ব্যক্ত করেছেন যে, এর সমতুল্য আর কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি (৩)।
ইবনুল মুনযির স্বয়ং তাঁর 'আল-আওসাত' (৪) গ্রন্থের কিতাবুত তায়াম্মুম পর্বে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং অপবিত্র অবস্থায় নয়, যতক্ষণ না তোমরা পথ অতিক্রমকারী হও} (৫) এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার সময় তাঁর তাফসিরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁর নিকট হাদিস হিসেবে যা সহিহ (صح) সাব্যস্ত হতো তার মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামের বর্ণিত যে সকল উক্তি নির্ভরযোগ্য (ثبت) হিসেবে প্রমাণিত হতো তা বর্ণনা করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
والتابعين فيه، ويبدي رأيه في بعض الآيات التي تحتمل الاجتهاد؛ لكونه مجتهدا لا يقلد أحدا.
وقد وقف على تفسير ابن المنذر الإمام السيوطي (1)، واستند إليه كثيرا في تفسيره ترجمان القرآن (2)، والدر المنثور في التفسير بالمأثور (3)، وتوجد مخطوطة قديمة جداً من تفسير ابن المنذر للقرآن الكريم في "جوته" بألمانيا برقم (521)، تضمنت تفسير سور البقرة تقع في (198) ورقة، كما وصلت إلينا نصوص مأخوذة منه على هامش تفسير ابن أبي حاتم "آيا صوفيا رقم (17) في (205) ورقة، ونسخها سنة (784) هـ" (4).
2 - السنن المبسوط:
أشار ابن المنذر إلى هذا الكتاب في كتابه الأوسط أكثر من مرة (5)، مما يدل على أنه سابق عليه.
ويبدو لنا أن كتاب السنن المبسوط هو أكبر كتب ابن المنذر الفقهية، وقد أطلق عليه الذهبي "المبسوط في الفقه"، وقال: لم يصنف مثله (6)، وقد التبس الأمر على إسماعيل البغدادي، فعدد لابن المنذر: كتاب السنن وكتاب المبسوط في الفقه (7)، والحقيقة أنهما كتاب واحد هو: السنن المبسوط.
--------------------------------------------
এবং এতে তাবেয়ীগণের (تابعي) অভিমত বর্ণনা করেছেন। তিনি ইজতিহাদের (اجتهاد) অবকাশ রয়েছে এমন কিছু আয়াতের ব্যাপারে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন; কারণ তিনি একজন মুজতাহিদ (مجتهد) ছিলেন এবং কারও তাকলীদ (تقليد) করতেন না।
ইমাম সুয়ূতী ইবনে মুনজিরের তাফসির গ্রন্থটি সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন (১), এবং তিনি তাঁর 'তরজুমানুল কুরআন' (২) ও 'আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসিরিল মাসুর' (৩) নামক তাফসির গ্রন্থদ্বয়ে এর ওপর প্রচুর নির্ভর করেছেন। জার্মানির "গোথা"-তে ইবনে মুনজিরের কুরআনুল কারীমের তাফসিরের একটি অত্যন্ত প্রাচীন পাণ্ডুলিপি রয়েছে (নম্বর ৫২১), যাতে সূরা বাকারার তাফসির অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ১৯৮টি পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত। একইভাবে, ইবনে আবি হাতিমের তাফসিরের পার্শ্বটীকা হিসেবে এর থেকে নেওয়া কিছু উদ্ধৃতি আমাদের কাছে পৌঁছেছে (আয়া সোফিয়া নম্বর ১৭, যা ২০৫টি পৃষ্ঠায় এবং এটি ৭৮৪ হিজরি সনে অনুলিপি করা হয়েছিল) (৪)।
২ - আস-সুনান আল-মাবসুত:
ইবনে মুনজির তাঁর 'আল-আওসাত' গ্রন্থে এই কিতাবটির দিকে একাধিকবার ইঙ্গিত করেছেন (৫), যা প্রমাণ করে যে এটি সেই গ্রন্থের পূর্বে রচিত।
আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, 'আস-সুনান আল-মাবসুত' হলো ইবনে মুনজিরের ফিকহি (فقيه) বিষয়াবলী সম্বলিত সর্ববৃহৎ গ্রন্থ। ইমাম যাহাবী একে "আল-মাবসুত ফিল ফিকহ" নামে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন: এর মতো কোনো গ্রন্থ সংকলিত (تصنيف) হয়নি (৬)। তবে ইসমাইল আল-বাগদাদি বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন, তিনি ইবনে মুনজিরের দুটি পৃথক গ্রন্থ হিসেবে 'কিতাবুস সুনান' এবং 'কিতাবুল মাবসুত ফিল ফিকহ' গণনা করেছেন (৭), অথচ বাস্তবতা হলো এ দুটি মূলত একটিই কিতাব, আর তা হলো: আস-সুনান আল-মাবসুত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ويبدو لنا أن هذا الكتاب مفقود، فكتب فهرست المخطوطات التي بين أيدينا لا تكشف عن وجود نسخة منه.
3 - السنن والإجماع والاختلاف:
هو أصل الأوسط وعنه اختصره، وقد أشار ابن المنذر إلى ذلك كثيرًا في كتابه الأوسط (1).
وقف عليه السبكي، واستند إليه، وقال عنه: إنه كتاب مبسوط حافل (2).
4 - الأوسط من السنن والإجماع، والاختلاف:
هو، مختصر لكتاب السنن والإجماع، والاختلاف كما أشار ابن المنذر نفسه في كتاب الإشراف (3)، ويصفه حاجي خليفة: أنه كتاب كبير الحجم في نحو خمسة عشر مجلداً عزيز الوجود (4)، والكتاب يعرض لمذاهب العلماء بأدلتهم، ويرجح بينها وفقًا للدليل.
ويوجد أجزاء منه في تركيا: ففي مكتبة آيا صوفيا، الجزء الأول ويقع في (309) ورقة، وبخط من القرن التاسع تحت 1034 (5)، وقفنا على نسخة أخرى للمجلد الأول برسم المحمودية، وتقع في ثمانين صفحة برقم (1034) آيا صوفيا، وبقيتها مصورات تحمل عنوان "اختلاف العلماء" (6)، وقد بين لنا أن مخطوطة اختلاف
--------------------------------------------
আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে এই বইটি হারিয়ে গেছে (مفقود), কারণ আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোর ক্যাটালগগুলো এর কোনো কপির অস্তিত্ব প্রকাশ করে না।
৩ - আস-সুনান ওয়াল-ইজমা ওয়াল-ইখতিলাফ:
এটি আল-আওসাত গ্রন্থের মূল উৎস এবং তা থেকেই তিনি এটি সংক্ষেপ করেছেন। ইবনুল মুনযির তার আল-আওসাত (১) গ্রন্থে বহুবার এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
আস-সুবকি এটি দেখেছেন এবং এর ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি এর সম্পর্কে বলেছেন: এটি একটি বিস্তৃত (مبسوط) ও সমৃদ্ধ গ্রন্থ (২)।
৪ - আল-আওসাত মিনাস সুনান ওয়াল-ইজমা ওয়াল-ইখতিলাফ:
এটি আস-সুনান ওয়াল-ইজমা ওয়াল-ইখতিলাফ গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত রূপ, যেমনটি ইবনুল মুনযির স্বয়ং আল-ইশরাফ (৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হাজি খলিফা একে বর্ণনা করেছেন যে: এটি প্রায় পনের খণ্ডের একটি বিশাল গ্রন্থ যা বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য (عزيز الوجود) (৪)। এই গ্রন্থটি ওলামায়ে কেরামের মাযহাবসমূহ তাদের দলীলসহ উপস্থাপন করে এবং দলীলের ভিত্তিতে সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য (ترجيح) প্রদান করে।
এর কিছু অংশ তুরস্কে পাওয়া যায়: আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে প্রথম অংশটি (৩০৯) পৃষ্ঠায় এবং নবম শতাব্দীর হস্তলিপিতে ১০৩৪ (৫) নম্বরের অধীনে রয়েছে। আমরা আল-মাহমুদিয়া নকশায় প্রথম খণ্ডের আরেকটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি, যা আয়া সোফিয়ার ১০৩৪ নম্বর অধীনে ৮০ পৃষ্ঠায় অবস্থিত। এর অবশিষ্টাংশগুলো ফটোকপি (مصورات) আকারে রয়েছে যার শিরোনাম "ইখতিলাফুল ওলামা" (৬)। এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছে যে ইখতিলাফ-এর পাণ্ডুলিপিটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
العلماء لابن المنذر بدار الكتب المصرية "برقم (37) حديث" هي الجزء الأول من كتاب الأوسط.
وقد أخطأ الزركلي إذ عده كتابا آخر غير الأوسط (1)، والمجلد الرابع من الأوسط بمكتبة أحمد الثالث بتركيا رقم (1110)، ويقع في (309) ورقة بخط في (864) هـ (2)، ويوجد بمكتبة المحمودية بالمدينة المنورة نسخة تحمل ذات العنوان برقم " (250) حديث"، وتاريخ نسخها (787) هـ (3)، وتبين لنا من الاطلاع عليها أنها الجزء الأخير من الأوسط يبدأ بأحكام السراق، وينتهي بنهاية كتاب المرتد.
وكانت توجد نسخة منه في (12) مجلدا بخط ابن كثير في المكتبة العامة بألمانيا (4).
5 - الإشراف:
يتضمن بيان المذاهب للأئمة والعلماء السابقين عليه، ويعد من أجل الكتب في الاختلافات الفقهية، اعتمد عليه الموافق له والمخالف (5).
وقد ذكر ابن عطية في فهرست الكتب التي اطلع عليها بعنوان "الإشراف على مذاهب أهل العلم في الاجتماع والاختلاف" (6).
--------------------------------------------
মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত ইবনুল মুনযিরের ‘আল-উলামা’ (৩৭ নম্বর হাদিস সংবলিত) পাণ্ডুলিপিটি মূলত তার ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড।
আয-যিরিকলি একে ‘আল-আওসাত’ থেকে ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করে ভুল করেছেন (১)। ‘আল-আওসাত’-এর চতুর্থ খণ্ডটি তুরস্কের আহমাদ সালিদ (আহমেত ৩) লাইব্রেরিতে ১১১০ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ৩০৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং এটি ৮৬৪ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছিল (২)। মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়্যাহ লাইব্রেরিতেও একই শিরোনামে একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে (হাদিস নম্বর ২৫০), যার অনুলিপির তারিখ ৭৮৭ হিজরি (৩)। এটি পর্যবেক্ষণ করে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি ‘আল-আওসাত’-এর শেষ অংশ, যা চোরদের বিধান (আহকামুস সাররাক) থেকে শুরু হয়ে ‘কিতাবুল মুরতাদ’-এর সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
জার্মানির পাবলিক লাইব্রেরিতে ইবনে কাসীরের হস্তলিখিত ১২ খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল (৪)।
৫ - আল-ইশরাফ:
এটি তার পূর্ববর্তী ইমাম ও আলেমগণের মাযহাবসমূহের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত এবং ফিকহী মতপার্থক্য বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। তার সাথে একমত পোষণকারী এবং ভিন্নমত পোষণকারী—উভয়ই এই গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন (৫)।
ইবনে আতিয়্যাহ তার পর্যবেক্ষণকৃত বইয়ের তালিকায় এটিকে ‘আল-ইশরাফ আলা মাযাহিবি আহলিল ইলম ফিল ইজতিমা ওয়াল ইখতিলাফ’ শিরোনামে উল্লেখ করেছেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد كانت توجد نسخة مخطوطة بيد السيوطي في المكتبة العامة بألمانيا، قبل أن تبيدها الحرب (1).
ويوجد الجزء الثاني من الكتاب بمكتبة سراي أحمد الثالث، وعدد أوراقه قرابة (349) ورقة بخط يرجع إلى القرن السابع الهجري، ويبدأ من كتاب النكاح إلى نهاية الكتاب.
كما يوجد نسخة بالمكتبة اليوسفية بمراكش برقم 514 (2).
6 - الإقناع:
قال صاحب كشف الظنون فيه: هو أحكام في الفروع مجردة من الدليل (3)، وقد حصلنا على نسخة مكتبة القرويين برقم (1167)، وعدد صفحاتها (114) ورقة، وتاريخها (625) هـ.
وقد تبين لنا من الاطلاع عليها أن قول حاجي خليفة محل نظر؛ فالكتاب موجز دقيق في الفقه، مدعم بالدليل من الكتاب والسنة، وإجماع أهل العلم ممن يحفظ عنهم ابن المنذر، ويبدو لنا أن الإقناع هو مختصر الإشراف، فقد أشار ابن المنذر إلى أن الإقناع هو اختصار لكتاب آخر له، لم يحدده (4).
7 - إثبات القياس:
لم يذكر هذا الكتاب سوى ابن النديم (5).
--------------------------------------------
যুদ্ধ তা ধ্বংস করার পূর্বে জার্মানির পাবলিক লাইব্রেরিতে আস-সুয়ুতির হস্তলিখিত একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল (১)।
গ্রন্থটির দ্বিতীয় খণ্ড সারায় আহমেদ ৩য় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় ৩৪৯ পাতা এবং এর লিপি সপ্তম হিজরি শতকের। এটি 'কিতাবুন নিকাহ' (বিবাহ অধ্যায়) থেকে শুরু হয়ে গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
মরক্কোর মারাক্কেশস্থ ইউসুফিয়া লাইব্রেরিতে ৫১৪ নম্বরেও একটি কপি বিদ্যমান (২)।
৬ - আল-ইকনা:
'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক এটি সম্পর্কে বলেন: এটি দলীল (دليل) বর্জিত কেবল শাখা-প্রশাখা (فروع) সংক্রান্ত বিধানের (أحكام) সংকলন (৩)। আমরা কারাওয়িন লাইব্রেরিতে ১১৬৭ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১৪ এবং এর লিপিকাল ৬২৫ হিজরি।
এটি পর্যালোচনার পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, হাজি খলিফার উক্তিটি প্রশ্নসাপেক্ষ; কারণ গ্রন্থটি ফিকহ শাস্ত্রের একটি সূক্ষ্ম সংক্ষিপ্তসার, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইবনে আল-মুনযির যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন সেই সকল আলেমদের ঐক্যমত (إجماع)-এর দলীল (دليل) দ্বারা সমৃদ্ধ। আমাদের কাছে মনে হয় যে, আল-ইকনা হলো আল-ইশরাফ-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ইবনে আল-মুনযির ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আল-ইকনা তাঁর অন্য একটি গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার, তবে তিনি সেটি নির্দিষ্ট করেননি (৪)।
৭ - ইসবাতুল কিয়াস:
ইবনে আন-নাদীম (৫) ছাড়া আর কেউ এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويبدو لنا أن هذا الكتاب يتعرض للاجتهاد، وشروطه، وأركانه، وأنواعه، مع التركيز على أقيسة الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة.
8 - تشريف الغني على الفقير:
أشار إلى هذا الكتاب ابن حجر العسقلاني، وقال: رد عليه أبو سعيد بن الإعرابي بكتاب "تشريف الفقير على الغني" (1). ولم نقف على نسخ منه.
9 - جامع الأذكار:
أسنده حاجي خليفة إلى ابن المنذر (2)، وتابعه البغدادي (3)، وقد استند إليه الإمام الغزالي في كتابه إحياء علوم الدين، وقال: إنه أدعية مأثورة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وعن الصحابة رضي الله عنهم محذوفة الأسانيد (4)، وأشار إليه طاش كبرى زادة في مفتاح السعادة (5)، وكانت توجد منه نسخة بألمانيا (6).
زيادات على مختصر المزني:
نسب الدكتور فؤاد سزكين هذا لابن المنذر.
وقد تبين لنا أن كتاب "زيادات على مختصر المزني" هو لابن زياد، وكامل اسمه: عبد الله بن محمد بن زياد بن ميمون، ويكنى أبا بكر النيسابروي، وقد توفي سنة (324) هـ (7)، ولعل الاشتراك في الكنية بينهما هو الذي ألبس الأمر على سزكين.
--------------------------------------------
আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এই গ্রন্থটি ইজতিহাদ (اجتهاد), এর শর্তাবলি, রোকনসমূহ এবং এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণের কিয়াস (أقيسة) সমূহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
8 - তাশরিফুল গনি আলাল ফাকির:
ইবনে হাজার আল-আসকালানি এই গ্রন্থটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি 'তাশরিফুল ফাকির আলাল গনি' (১) নামক গ্রন্থের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমরা এর কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাইনি।
9 - জামিউল আজকার:
হাজি খলিফা একে ইবনুল মুনজিরের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (أسنده) করেছেন (২) এবং আল-বাগদাদি তাঁর অনুসরণ করেছেন (৩)। ইমাম গাজালি তাঁর ইহয়াউ উলুমিদ্দিন গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং বলেছেন: এটি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত (مأثورة) দোয়া যার সনদসমূহ বিলুপ্ত (محذوفة الأسانيد) (৪)। তাশ কুবরা জাদাহ মিফতাহুস সাআদাহ (৫) গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং জার্মানিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল (৬)।
যিয়াদাতুন আলা মুখতাসারিল মুজানি:
ডক্টর ফুয়াদ সেজকিন একে ইবনুল মুনজিরের প্রতি নিসবত (نسب) করেছেন।
আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, 'যিয়াদাতুন আলা মুখতাসারিল মুজানি' গ্রন্থটি মূলত ইবনে জিয়াদের। তাঁর পূর্ণ নাম হলো: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনে মাইমুন এবং তাঁর উপনাম (يكنى) হলো আবু বকর আন-নিশাপুরি। তিনি ৩২৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৭)। সম্ভবত উভয়ের উপনাম বা কুনিয়াতে মিল থাকার কারণে সেজকিনের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثناء الأئمة على ابن المنذر:
إن قيمة كل إنسان تحدد فيما نرى بما يتحلى به من أخلاق حميدة، وما يقدمه من خير لأمته، فإن لكل إنسان غاية في الحياة، ويبدو لنا أن ابن المنذر كانت غاية العمل الصالح، والعلم النافع، فبذل كل طاقته في سبيل ذلك، وأخلص النية لله، فنفع الله بعلمه، وكان محل تقدير أعلام الإسلام وثنائهم.
قال مؤرخ الإسلام الإمام الذهبي، عن ابن المنذر: "شيخ الحرم، وصاحب الكتب التي لم يصنف مثلها، ككتاب المبسوط في الفقه، وكتاب الإشراف في اختلاف العلماء، وكتاب الإجماع وغير ذلك، وكان غاية في معرفة الاختلاف والدليل، وكان مجتهداً لا يقلد أحداً" (1).
وقال فيه الإمام السبكي: "أحد أعلام هذه الأمة، وأحبارها، كان إماما مجتهداً، حافظاً ورعاً
… وله التصانيف المفيدة السائرة" (2).
وقال ابن حجر العسقلاني فيه: "عدل صادق فيما علمت
… وقد اعتمد على ابن المنذر جماعة من الأئمة فيما صنفه من الخلافيات" (3).
وقال فيه ابن شهبة: "أحد الأئمة الأعلام، وممن يقتدى بنقله في الحلال والحرم .. صنف كتبا معتبرة عند أئمة الإسلام" (4)، وقال ابن قطان: "كان ابن المنذر محدثا ثقة" (5).
--------------------------------------------
ইবনে আল-মুনজিরের প্রতি ইমামগণের প্রশংসা:
আমাদের দৃষ্টিতে প্রত্যেক মানুষের মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার ভূষিত চারিত্রিক গুণাবলি এবং উম্মাহর কল্যাণে তার অবদানের মাধ্যমে। নিশ্চয়ই জীবনে প্রতিটি মানুষের একটি লক্ষ্য থাকে; আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে আল-মুনজিরের লক্ষ্য ছিল নেক আমল এবং উপকারী ইলম। তাই তিনি এই পথে তাঁর সমস্ত শক্তি ব্যয় করেছেন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিয়তকে খাঁটি করেছেন। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইলমের মাধ্যমে উপকার সাধন করেছেন এবং তিনি ইসলামের বিশিষ্ট মনীষীদের নিকট সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছেন।
ইসলামের ইতিহাসবিদ ইমাম আয-যাহাবি ইবনে আল-মুনজির সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন হারাম শরীফের শায়খ এবং এমন সব কিতাবের লেখক যার সমতুল্য কোনো কিতাব সংকলিত হয়নি। যেমন: ফিকহ শাস্ত্রের আল-মাবসুত, আলেমদের মতভেদ বিষয়ক আল-ইশরাফ, আল-ইজমা এবং আরও অন্যান্য কিতাব। তিনি মতভেদ ও দলিলের জ্ঞানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন এবং তিনি ছিলেন একজন স্বাধীন গবেষক (مجتهداً), যিনি কারো অনুকরণ (يقلد) করতেন না।" (১)।
ইমাম আস-সুবকি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি এই উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ও আলিমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, স্বাধীন গবেষক (مجتهداً), মুখস্থকারী (حافظاً) ও আল্লাহভীরু (ورعاً)
… এবং তাঁর অনেক উপকারী ও প্রচলিত গ্রন্থ রয়েছে।" (২)।
ইবনে হাজার আল-আসকালানি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমার জানা মতে তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও সত্যবাদী (صادق)
… এবং ইমামদের একটি দল মতভেদ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর রচিত কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন।" (৩)।
ইবনে শুহবাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি অন্যতম প্রধান ইমামদের একজন, এবং হালাল-হারামের বর্ণনার ক্ষেত্রে যাঁদের অনুসরণ করা হয়... তিনি ইসলামের ইমামদের নিকট গ্রহণযোগ্য কিতাবসমূহ রচনা করেছেন।" (৪)। ইবনে কাত্তান বলেছেন: "ইবনে আল-মুনজির ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাদিস বিশারদ (محدثاً)।" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال السيوطي عن ابن المنذر: "من المتضلعين في الحديث، والباحثين عن فقهه ومعانيه، الذاكرين لأقوال العلماء، ومذاهبهم من غير تقيد" (1).
--------------------------------------------
এবং সুয়ূতী ইবনুল মুনযির সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি হাদিস শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী (متضلع), এর ফিকহ (فقه) ও মর্মার্থ নিয়ে গবেষণাকারী এবং কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আলেমদের বক্তব্য ও তাদের মাযহাব (مذهب) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2 - الكتاب:نسبة كتاب الإجماع لابن المنذر:
إن كتاب الإجماع غير مشكوك في نسبته إلى ابن المنذر، وقد أسندته المصادر التالية إليه:
1 - النووي: تهذيب الأسماء واللغات، الجزء الثاني من القسم الأول ص 197، والمجموع "1: 5".
2 - ابن خلكان: وفيات الأعيان، الجزء الرابع، ص 207.
3 - الذهبي: تذكره الحفاظ جـ 4 ص 782.
4 - السبكي: طبقات الشافعية الكبرى "3: 102".
5 - الأسنوي: طبقات الشافعية: "2: 374".
6 - الصفدي: الوافي بالوفيات "1: 336".
7 - السيوطي: طبقات المفسرين 91.
8 - الداودي: طبقات المفسرين "2: 51".
9 - الحسيني: طبقات الشافعية 59، 245.
وقد توثق لدينا الكتاب، وتأكد لابن المنذر بما ورد من نصوصه في كتب ابن المنذر الأخرى: الأوسط، الإشراف، الإقناع، وكتب الفقه الإسلامي التي اعتمدت
২ - গ্রন্থ:ইবনে মুনজিরের প্রতি ‘কিতাবুল ইজমা’ গ্রন্থের সম্পৃক্ততা:
নিঃসন্দেহে ‘কিতাবুল ইজমা’ গ্রন্থটি ইবনে মুনজিরের প্রতি সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি সংশয়মুক্ত, এবং নিম্নোক্ত উৎসসমূহ একে তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত (أسندت) করেছে:
১ - আন-নববী: তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত, প্রথম অংশের দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯৭; এবং আল-মাজমু' "১: ৫"।
২ - ইবনে খাল্লিকান: ওফায়াতুল আইয়ান, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৭।
৩ - আয-যাহাবি: তাজকিরাতুল হুফফাজ, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৮২।
৪ - আস-সুবকি: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা "৩: ১০২"।
৫ - আল-আসনাবি: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: "২: ৩৭৪"।
৬ - আস-সাফাদি: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত "১: ৩৩৬"।
৭ - আস-সুয়ুতি: তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ৯১।
৮ - আদ-দাউদি: তাবাকাতুল মুফাসসিরিন "২: ৫১"।
৯ - আল-হুসাইনি: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৫৯, ২৪৫।
আমাদের নিকট গ্রন্থটি নির্ভরযোগ্য (توثق) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, এবং ইবনে মুনজিরের অন্যান্য গ্রন্থ যেমন: আল-আওসাত, আল-ইশরাফ ও আল-ইকনা এবং ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থ যা এর ওপর নির্ভর করে রচিত হয়েছে, তাতে বর্ণিত উদ্ধৃতির মাধ্যমে এটি ইবনে মুনজিরের রচনা হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عليه كالمجموع للنووي (1)، والمغني لابن قدامة، والجامع لأحكام القرآن للقرطبي، وفتح الباري لابن حجر العسقلاني، ونيل الأوطار للشوكاني، وسبل السلام للصنعاني.
مضمون الكتب:
يتضمن كتاب الإجماع لابن المنذر: المسائل الفقهية عليها بين أكثر علماء المسلمين، ولم يتعرض ابن المنذر في هذا الكتاب لتعريف الإجماع (2)، وإن كان البين من مسائله أنه لا يقدح في الإجماع لديه انفراد
واحد أو اثنين، ولم ينفرد ابن المنذر هذا الرأي بل يؤيده معاصر له هو الإمام
الطبري المتوفى سنة (310) هـ، ومن بعده أبو بكر الرازي الجصاص المتوفى سنة (370) هـ (3).
ويبدو لنا أن الإمام أحمد رحمه الله قد أومأ إليه، ووجه إلى أن مخالفة الواحد شذوذ (4)، وقد نهي عن الشذوذ، وقال الرسول صلى الله عليه وسلم: "عليكم بالسواد الأعظم" (5).
--------------------------------------------
এর ওপর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে নববীর আলমাজমুউ (১), ইবনে কুদামার আল-মুগনি, কুরতুবীর আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, ইবনে হাজার আসকালানির ফাতহুল বারী, শাওকানির নায়লুল আওতার এবং সানআনির সুবুলুস সালাম।
বইসমূহের বিষয়বস্তু:
ইবনে মুনযিরের কিতাবুল ইজমা ঐকমত্য হওয়া ফিকহি মাসয়ালাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে যা অধিকাংশ মুসলিম আলেমদের মধ্যে স্বীকৃত। ইবনে মুনযির এই বইটিতে ঐকমত্য (الإجماع) এর সংজ্ঞার অবতারণা করেননি (২), যদিও তার বর্ণিত মাসয়ালাগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, তার নিকট একজনের বা দুইজনের ভিন্নমত পোষণ করা ঐকমত্য (الإجماع) এর ক্ষেত্রে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করে না। ইবনে মুনযির এই মতের ক্ষেত্রে একাকী নন, বরং তাঁর সমসাময়িক ইমাম তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.) তাঁকে সমর্থন করেন এবং তাঁর পরে আবু বকর আল-রাজি আল-জাসসাস (মৃত্যু ৩৭০ হি.) তাঁকে সমর্থন করেছেন (৩)।
আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, একজনের ভিন্নমত পোষণ করা হলো বিচ্যুতি (شذوذ) (৪), এবং এমন বিচ্যুতি (شذوذ) থেকে নিষেধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর (السواد الأعظم) সাথে থাকো" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد عددنا المسائل التي أوردها ابن المنذر في كتابه، فوصلت إلى (765) مسألة، معظمها له أصل من كتاب أو سنة وبعضها غير قاطع الدلالة على المعنى، والإجماع المستند إلى كتاب والسنة يعتمد، ويقبل تبعاً لا استقلالًا؛ لكون أقوال الناس تدور على حسب الأدلة فهي يحتج لها، ولا تحتج بها إلا في سبيل التقوية والاعتضاد لا الاعتماد، إذ العمدة النصّ من الكتاب والسنة (1).
والمسائل المجمع عليها التي أوردها ابن المنذر، والتي تعتمد على نصوص قطعية الثبوت، والدلالة من الكتاب والسنة هي حجة قطعية، وهي كما يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: إن الإجماع المعلوم يكفر مخالفه كما يكفر مخالف النص بتركه، ولكن هذا لا يكون إلا فيما علم ثبوت النص به (2).
الكتب المصنفة في الإجماع (3):
يبدو لنا أنه لم تفد كتبٌ في الإجماع في مسائل الفروع إلا ثلاث فيما نعلم:
1 - كتاب الإجماع لابن المنذر، وهو محل التحقيق والدراسة.
2 - مراتب الإجماع "في العبادات والمعاملات والاعتقادات" لابن حزم الأندلسي المتوفى (456) هـ، وقد نشره حسام الدين المقدسي رحمه الله وعليه
--------------------------------------------
وقদ عددنا المسائل التي أوردها ابن المنذر في كتابه، فوصلت إلى (765) مسألة، معظمها له أصل من كتاب أو سنة وبعضها غير قاطع الدلالة على المعنى، والإجماع المستند إلى كتاب والسنة يعتمد، ويقبل تبعاً لا استقلالًا؛ لكون أقوال الناس تدور على حسب الأدلة فهي يحتج لها، ولا تحتج بها إلا في سبيل التقوية والاعتضاد لا الاعتماد، إذ العمدة النصّ من الكتاب والسنة (1).
والمسائل المجمع عليها التي أوردها ابن المنذر، والتي تعتمد على نصوص قطعية الثبوت، والدلالة من الكتاب والسنة هي حجة قطعية، وهي كما يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: إن الإجماع المعلوم يكفر مخالفه كما يكفر مخالف النص بتركه، ولكن هذا لا يكون إلا فيما علم ثبوت النص به (2).
الكتب المصنفة في الإجماع (3):
يبدو لنا أنه لم تفد كتبٌ في الإجماع في مسائل الفروع إلا ثلاث فيما نعلم:
1 - كتاب الإجماع لابن المنذر، وهو محل التحقيق والدراسة.
2 - مراتب الإجماع "في العبادات والمعاملات والاعتقادات" لابن حزم الأندلسي المتوفى (456) هـ، وقد نشره حسام الدين المقدسي رحمه الله وعليه
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
نقد مراتب الإجماع لابن تيمية، وصدر سنة (1357) هـ، وقد صور الكتاب في بيروت حديثا.
3 - تشنيف الأسماع بمسائل الإجماع "في الفروع" للشيخ جلال الدين عبد الرحمن السيوطي " (911) هـ (1) "، وهو مفقود.
مقارنة بين كتاب الإجماع لابن المنذر، ومراتب الإجماع لابن حزم:
يمكن أن نوجز المقابلة بين الكتابين فيما يلي:
1 - إن المسائل التي عرضها ابن المنذر لا يخرق الإجماع عليها انفراد واحد، أو اثنين، فالإجماع لديه يفهم بأنه اتفاق أكثر أهل العلم ممن يحفظ عنهم، بينما ابن حزم يذكر أن المسائل التي أوردها مما تيقن أنه لا خلاف فيه بين أحد من علماء الإسلام (2)، وكان ذلك محل نقد من شيخ الإسلام ابن تيمية (3).
2 - اقتصر ابن المنذر في المسائل التي عرضها على العبادات والمعاملات، ولم يعرض للاعتقادات، وقد بلغ عددها -كما سبق أن ذكرنا- (765) مسألة، وهو عدد معقول ومقبول (4)، بينما ابن حزم فقد أحصينا المسائل التي أوردها في العبادات، والمعاملات، فبلغت (1067) بخلاف ما أورده في الاعتقادات.
3 - يعد كتاب الإجماع لابن المنذر من أوثق الكتب في فنه، ومحل تقدير وثناء جُلِّ العلماء، بينما مراتب الإجماع لابن حزم كان محلًّا لنقد بعض العلماء، وفى مقدمتهم شيخ الإسلام ابن تيمية.
--------------------------------------------
ইবনে তাইমিয়া রচিত 'নাকদ মারাতিবুল ইজমা', যা ১৩৫৭ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছে এবং সম্প্রতি বৈরুতে বইটির অনুলিপি করা হয়েছে।
৩ - শেখ জালালুদ্দিন আবদুর রহমান আস-সুয়ুতি (৯১১ হিজরি) রচিত 'তাশনিফুল আসমা বি মাসাইলিল ইজমা ফিল ফুরু' (১), যা বর্তমানে বিলুপ্ত।
ইবনুল মুনযির রচিত 'কিতাবুল ইজমা' এবং ইবনে হাজম রচিত 'মারাতিবুল ইজমা'-এর মধ্যে একটি তুলনা:
বই দুটির মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১ - ইবনুল মুনযির যেসব মাসআলা উপস্থাপন করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে এক বা দুইজনের ভিন্নমত ইজমাকে ক্ষুণ্ণ করে না। তাঁর মতে, ইজমা বলতে ইলমওয়ালাদের মধ্যে যাদের বর্ণনা সংরক্ষিত আছে, তাদের অধিকাংশের ঐকমত্য বোঝায়। অন্যদিকে, ইবনে হাজম উল্লেখ করেন যে, তিনি যে মাসআলাগুলো বর্ণনা করেছেন সেগুলোর ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত যে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে কারো কোনো দ্বিমত নেই (২); যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার সমালোচনার বিষয় ছিল (৩)।
২ - ইবনুল মুনযির তাঁর উপস্থাপিত মাসআলাগুলোকে ইবাদত ও মুয়ামালাতের (লেনদেন) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন এবং আকিদাগত বিষয়গুলো আলোচনা করেননি। তাঁর বর্ণিত মাসআলার সংখ্যা -যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি- ৭৬৫টি, যা একটি যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য (৪) সংখ্যা। অপরদিকে, ইবনে হাজম ইবাদত ও মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে যেসব মাসআলা বর্ণনা করেছেন তার সংখ্যা আমরা ১০৬৭টি পেয়েছি, যা আকিদাগত মাসআলাগুলো ব্যতীত।
৩ - ইবনুল মুনযিরের 'কিতাবুল ইজমা' তার শাস্ত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বই হিসেবে বিবেচিত এবং অধিকাংশ আলেমদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত ও প্রশংসিত। অন্যদিকে ইবনে হাজমের 'মারাতিবুল ইজমা' কিছু আলেমের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, যাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - نسخ الكتاب ومنهجنا في التحقيق:تلبيسات الدكتور سزكين في مخطوطات كتاب الإجماع:
أشار الدكتور سزكين إلى كتاب الإجماع في موسوعته عن تاريخ التراث العربي بعنوان: "كتاب الإجماع في اختلاف العلماء" بآيا صوفيا برقم (1011)، وأومأ إلى أنه ناقص، فقال: قطعة في (21) ورقة، ونسخ (576) هـ، وأشار إلى نسخة دار الكتب المصرية، حديث (37) بعنوان "اختلاف العلماء" "جزء (133) ورقة، في القرن السادس الهجري"، وقد سبق أن أشرنا إلى أن كتاب اختلاف العلماء لابن المنذر هو الأوسط، وليس الإجماع، كما أشار إلى كتاب بعنوان "إجماع الأمُة" جار الله (567) "ناقص من الأول (100) ورقة، (853) هـ" (1).
ولذلك فقد استقر بين الباحثين أن كتاب الإجماع يعد ناقصا، بل إن البعض اعتبره مفقودا (2).
وقد استقر في ذهننا وصف ابن خلكان لكتاب "الإجماع" أنه صغير، مما يدل على أنه قد اطلع عليه، وقد تابعه صاحب الوافي بالوفيات.
وقد صورنا نسختي جار الله، وآيا صوفيا.
--------------------------------------------
৩ - গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ এবং আমাদের সম্পাদনা পদ্ধতি:কিতাবুল ইজমা-এর পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে ডক্টর সেজগিনের বিভ্রান্তিকর তথ্য:
ডক্টর সেজগিন তার 'তারিখুত তুরাস আল-আরাবি' (আরবি ঐতিহ্যের ইতিহাস) নামক বিশ্বকোষে 'কিতাবুল ইজমা' সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে ১০১১ নম্বরে রক্ষিত গ্রন্থটিকে 'কিতাবুল ইজমা ফি ইখতিলাফিল উলামা' শিরোনামে অভিহিত করেছেন এবং এটি যে অসম্পূর্ণ (ناقص) সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "এটি ২১ পৃষ্ঠার একটি অংশ (قطعة), যা ৫৭৬ হিজরিতে প্রতিলিপি করা হয়েছে।" তিনি মিশরের দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত 'ইখতিলাফুল উলামা' শিরোনামের 'হাদিস' (৩৭) নম্বর পাণ্ডুলিপিটির প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: "এটি ১৩৩ পৃষ্ঠার একটি অংশ (جزء), যা ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর।" ইতিপূর্বেই আমরা উল্লেখ করেছি যে, ইবনুল মুনযিরের 'ইখতিলাফুল উলামা' গ্রন্থটি হলো মূলত 'আল-আওসাত', 'কিতাবুল ইজমা' নয়। তদ্রূপ তিনি 'ইজমাউল উম্মাহ' শিরোনামের একটি গ্রন্থের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন, যা জারুল্লাহ লাইব্রেরিতে ৫৬৭ নম্বরে রয়েছে এবং বলেছেন: "এর প্রথম দিকের ১০০ পৃষ্ঠা নেই (ناقص), এটি ৮৫৩ হিজরির পাণ্ডুলিপি" (১)।
এর ফলে গবেষকদের মাঝে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কিতাবুল ইজমা একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) গ্রন্থ; এমনকি কেউ কেউ এটিকে বিলুপ্ত (مفقود) বলেও গণ্য করেছেন (২)।
ইবনে খাল্লিকান কর্তৃক 'কিতাবুল ইজমা'-কে 'ছোট' হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি আমাদের মনে গেঁথে আছে, যা নির্দেশ করে যে তিনি গ্রন্থটি দেখেছেন। 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' গ্রন্থের লেখকও এক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন।
আমরা জারুল্লাহ এবং আয়া সোফিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি দুটির ছবি সংগ্রহ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
حقيقة مخطوطة جار الله:
تبين لنا من الاطلاع على المخطوطة أن العنوان الذي أُعطي لها هو "إجماع الأئمة في الفقه"، من قبل قسم المخطوطات في تركيا، ونسب الكتاب إلى ابن المنذر، وقد تابعهم معهد المخطوطات العربية.
وقد تبين لنا أن المخطوطة ناقصة من الأول، وبالفحص الموضعي اتضح أنها ليست الإجماع لابن المنذر، ففي الكتاب في أكثر من موضوع، قال الوزير: وتبين لنا بمطابقتها بالجزء المطبوع من كتاب الإفصاح الذي يتضمن شرحًا لحديث: "من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين"، أنها تمثل الشق الخاص بالعبادات، وتنتهي عند بداية كتاب البيوع من الإفصاح، ويبدو لنا أن الذي قاد مسئول المخطوطات بمكتبة جار الله إلى ذلك، هو اتفاق السطر الأول في كتاب الطهارة لابن هبيرة مع السطر الأول من كتاب الوضوء لابن المنذر.
ويعد ذلك دليلًا على تأثر ابن هبيرة في الإفصاح بما أورده ابن المنذر، عن المسائل المجمع عليها.
العنوان الذي أعطي لمخطوطة جار الله.
জারুল্লাহ পাণ্ডুলিপির প্রকৃত স্বরূপ:
পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, তুরস্কের পাণ্ডুলিপি বিভাগ কর্তৃক এটিকে "ইজমাউল আইম্মাহ ফিল ফিকহ" শিরোনাম প্রদান করা হয়েছে এবং গ্রন্থটিকে ইবনুল মুনযিরের প্রতি নিসবত করা হয়েছে। আর ‘ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস’-ও তাদের অনুসরণ করেছে।
আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, পাণ্ডুলিপিটি শুরু থেকে অসম্পূর্ণ (ناقصة)। বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি ইবনুল মুনযিরের ‘আল-ইজমা’ নয়; কারণ গ্রন্থের একাধিক স্থানে উজির বলেছেন: আর "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন" হাদিসটির ব্যাখ্যা সম্বলিত কিতাব আল-ইফসাহ-এর মুদ্রিত অংশের সাথে পাণ্ডুলিপিটি মিলিয়ে আমাদের নিকট প্রতিভাত হয়েছে যে, এটি ইবাদত সংশ্লিষ্ট অংশটি উপস্থাপন করে এবং আল-ইফসাহ-এর ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের শুরুতে গিয়ে শেষ হয়েছে। আমাদের নিকট এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, জারুল্লাহ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিষয়ক কর্মকর্তাকে যে বিষয়টি এই সিদ্ধান্তের দিকে পরিচালিত করেছে তা হলো ইবনে হুবাইরার ‘কিতাবুত তাহারাহ’-এর প্রথম পঙক্তির সাথে ইবনুল মুনযিরের ‘কিতাবুল ওযু’-র প্রথম পঙক্তির হুবহু মিল।
এটি আল-ইফসাহ গ্রন্থে সর্বসম্মত বিষয়াবলি (المسائل المجمع عليها) বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনুল মুনযির যা উল্লেখ করেছেন তার দ্বারা ইবনে হুবাইরা প্রভাবিত হওয়ার একটি প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
জারুল্লাহ পাণ্ডুলিপির জন্য নির্ধারিত শিরোনাম।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الصفحة الأولى من مخطوطة جار الله.
الصفحة الأخيرة من مخطوطة جار الله.
জারুল্লাহ পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা।
জারুল্লাহ পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
اعتمادنا على مخطوطة آيا صوفيا:
تعد هذه النسخة فريدة، فلا نعلم وجود نسخة أخرى لكتاب الإجماع لابن المنذر في فهارس المخطوطات المطبوعة التي بين أيدينا.
وتحمل هذه النسخة البيانات التالية:
تضمنت الصفحة الأولى عنوان الكتاب الموسوم باسم "كتاب الإجماع"، وأسفلها جملة "تام متين".
ورقم هذه المخطوطات بمكتبة آيا صوفيا هو: (1011). وتضم من الأوراق (21) ورقة، وأسطرها (22) سطرا تقريبا، ومتوسط السطر (15) كلمة، وهي بخط مغربي دقيق، تخلو من التنقيط في غير قليل من المواضع، وثابت في وسط الصفحة الأولى الجملة التالية: "أوقف هذه النسخة الجليلة، سلطاننا الأعظم والخاقان المعظم مالك البرين والبحرين، وخادم الحرمين الشريفين، السلطان بن السلطان بن السلطان الغازي محمود خان (1)، وقفا صحيحا شرعيا لمن طالع وأفاد، وتعلم واستفاد، وأعظم الله أجره يوم التناد، حرره الفقير أحمد شيخ زادة المعين بأوقاف الحرمين الشريفين غفر لهما.
وعليها ختم السلطان المصدر بقوله تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ} "الأعراف الآية: (43) ".
وثابت في الورقة (21) من المخطوطة في نهايتها: "تم كتاب الإجماع بحمد الله وعونه، والحمد لله وحده والصلاة على من لا نبي بعده، وحسبي الله وحده".
وذلك يم السبت الثامن من شهر شعبان المكرم سنة ست وسبعين وخمسمائة، وبالله التوفيق.
--------------------------------------------
আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপির ওপর আমাদের নির্ভরতা:
এই অনুলিপিটি অনন্য হিসেবে বিবেচিত, কারণ আমাদের হাতে থাকা মুদ্রিত পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগগুলোতে ইবনুল মুনযিরের কিতাবুল ইজমা-এর আর কোনো অনুলিপির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা অবগত নই।
এই অনুলিপিটি নিম্নোক্ত তথ্যাদি বহন করছে:
প্রথম পৃষ্ঠায় "কিতাবুল ইজমা" শিরোনামে বইটির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এর নিচে "পূর্ণাঙ্গ ও সুদৃঢ়" বাক্যটি রয়েছে।
আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে এই পাণ্ডুলিপিটির নম্বর হলো: (১০১১)। এটি (২১)টি পাতা সম্বলিত, এর প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় (২২)টি লাইন রয়েছে এবং প্রতি লাইনে গড়ে (১৫)টি শব্দ রয়েছে। এটি সূক্ষ্ম মাগরিবী লিপিতে লিখিত, যা অনেক স্থানেই নুকতাহীন। প্রথম পৃষ্ঠার মাঝখানে নিম্নোক্ত বাক্যটি লিপিবদ্ধ আছে: "এই মর্যাদাপূর্ণ অনুলিপিটি আমাদের মহান সুলতান ও মহিমান্বিত খাকান, দুই ভূখণ্ড ও দুই সমুদ্রের অধিপতি এবং দুই পবিত্র হারামের সেবক, সুলতান ইবন সুলতান ইবন সুলতান আল-গাজী মাহমুদ খান (১) পাঠকারী ও গবেষক এবং শিক্ষার্থী ও জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য একটি সঠিক (صحيح) ও শরয়ী ওয়াকফ হিসেবে উৎসর্গ করেছেন। আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে মহাপুরস্কার দান করুন। এটি অনুলিখন করেছেন দুই পবিত্র হারামের ওয়াকফ তদারকিতে নিয়োজিত নিঃস্ব আহমাদ শেখ জাদাহ, আল্লাহ তাদের উভয়কে ক্ষমা করুন।"
এর ওপর সুলতানের সিলমোহর রয়েছে যা মহান আল্লাহর এই বাণী দিয়ে শুরু হয়েছে: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা পথ পেতাম না} "সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (৪৩)"।
পাণ্ডুলিপির (২১) নম্বর পৃষ্ঠার শেষে লিপিবদ্ধ আছে: "আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে কিতাবুল ইজমা সমাপ্ত হলো। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর এবং যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই তাঁর ওপর দরুদ বর্ষিত হোক। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।"
এটি ছিল ৫৭৬ হিজরি সনের ৮ই শাবান মুকাররম, শনিবার। আর আল্লাহর সাহায্যেই সকল কাজ সম্পন্ন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وغير ثابت اسم ناسخها، وقد يكون ذلك مدعاة للشك في تاريخها، وإن كان الخط وطريقة الكتابة تتناسب مع تاريخها، والقرن السادس الهجري، وثابت على جانب الصفحة الأخيرة أن بائع هذه المخطوطة هو: برهان الدين أبو الحسين المغربي المالكي الدوكالي بمصر المحروسة بجوار جمال الدين المقدم الكردي (1).
اللوحة رقم (1)
العنوان في مخطوطة آيا صوفيا برقم (1011)
--------------------------------------------
এর অনুলিপিকারীর নাম প্রমাণিত (ثابت) নয়, এবং এটি এর সময়কালের ব্যাপারে সন্দেহের কারণ হতে পারে; যদিও হস্তলিপি এবং লিখনশৈলী এর ইতিহাস এবং হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শেষ পৃষ্ঠার এক পার্শ্বে এটি প্রমাণিত (ثابت) রয়েছে যে, এই পাণ্ডুলিপিটির বিক্রেতা হলেন: বুরহানউদ্দিন আবু আল-হুসাইন আল-মাগরিবি আল-মালিকি আদ-দুকালি, সুরক্ষিত শহর মিশরে জামালউদ্দিন আল-মুকাদ্দাম আল-কুরদির পার্শ্ববর্তী স্থানে (১)।
ফলক নম্বর (১)
আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপিতে শিরোনাম, নম্বর (১০১১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اللوحة رقم "2"
الصفحة الأولى من مخطوطة آيا صوفيا
ফলক নম্বর "২"
আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
اللوحة رقم "3"
الصفحة الأخير من مخطوطات آيا صوفيا
ফলক নং "৩"
আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপিসমূহের শেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
منهج التحقيق:تم نسخ مخطوطة آيا صوفيا، ومراجعتها بدقة أكثر من مرة، حتى اطمأننا إلى صحة النقل وسلامته.
اعتمدنا في توثيق كتاب الإجماع لابن المنذر على الكتب الأُخرى لابن المنذر نفسه التي وصلت إلينا هي: كتاب الإقناع، والجزء الثاني من كتاب الإشراف الذي يبدأ بكتاب النكاح، وأجزاء متفرقة من الأوسط في السنن، والإجماع والاختلاف، وقد أعاننا ذلك في تصحيح النص، وتخليصه من شوائب التصحيف والتحريف، وقد تتبعنا النصوص التي أوردها ابن المنذر عن مسائل الإجماع في كتب الفقه الإسلامي التي عولت عليه، وأشارت في غير قليل من المواضع إليه، وأكثرها تأثرًا به المجموع للنووي، والمغني لابن قدامة، والجامع لأحكام القرآن للقرطبي، وفتح الباري لابن حجر العسقلاني، ونيل الأوطار للشوكاني.
رقمنا المسائل المجمع عليها فتسنى حصرها، واعتمدنا عليها في الفهارس الفنية للكتاب.
أشرنا إلى الورقة في المخطوطة ليتمكن من شاء الرجوع إليها للتحقيق منها، كما التزمنا ذلك بالنسبة لمخطوطات ابن المنذر الأُخرى في التحقيق.
خرجّنا شواهد الكتاب من الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية مع تشكيلها.
ترجمنا للأعلام التي وردت في الكتاب ترجمة مختصرة مع الإحالة إلى المصادر التي تناولت الترجمة.
كتبت الكلمات على حسب قواعد الإملاء المعروفة، والنطق السائد في اللغة المشتركة، وأعجمت ما أهمله الناسخ.
ضبطت بعض المفردات اللغوية، والاصطلاحات الفقهية.
عرضنا لبعض الشروح اليسيرة، والتعليقات اللازمة لتوضيح النصوص، وقد أسهم فيها شيخنا "عبد الله بن زيد آل محمود"، جزاه الله خيرًا، ونفع الله بعلمه.
সম্পাদনা পদ্ধতি:আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপিটি নকল করা হয়েছে এবং একাধিকবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এটি পর্যালোচনা করা হয়েছে, যতক্ষণ না আমরা এর পাঠের সঠিকতা (صحة) ও নির্ভুলতা (سلامة) সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।
ইবনুল মুনযিরের ‘কিতাবুল ইজমা’ গ্রন্থটির নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা তাঁরই অন্যান্য গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। সেগুলো হলো: কিতাবুল ইজনা, কিতাবুল ইশরাফ-এর দ্বিতীয় খণ্ড (যা বিবাহ অধ্যায় থেকে শুরু হয়েছে), আল-আওসাত ফিস সুনান-এর বিভিন্ন অংশ এবং আল-ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ। এটি আমাদের মূল পাঠ সংশোধন করতে এবং বর্ণবিকৃতি (تصحيف) ও অর্থবিকৃতি (تحريف) থেকে পাঠকে মুক্ত করতে সাহায্য করেছে। এছাড়াও আমরা ইবনুল মুনযির বর্ণিত ইজমা সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ পরবর্তী ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে অনুসরণ করেছি যা মূলত তাঁর ওপরই নির্ভর করেছে এবং বহু স্থানে তাঁর উদ্ধৃতি প্রদান করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইমাম নববীর আল-মাজমু, ইবনে কুদামার আল-মুগনী, কুরতুবীর আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, ইবনে হাজার আসকালানীর ফাতহুল বারী এবং শাওকানীর নাইলুল আওতার।
আমরা ইজমা সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ নম্বর দিয়ে সাজিয়েছি যাতে তা গণনা করা সহজ হয় এবং গ্রন্থের নির্ঘণ্ট তৈরির ক্ষেত্রে আমরা এর ওপর ভিত্তি করেছি।
আমরা পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি যাতে আগ্রহী পাঠক মূল পাণ্ডুলিপি দেখে তা যাচাই (تحقيق) করে নিতে পারেন; ইবনুল মুনযিরের অন্যান্য পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রেও আমরা এই নীতি অনুসরণ করেছি।
আমরা গ্রন্থের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত কুরআনের আয়াত ও হাদিসসমূহের সূত্র নির্দেশ (تخريج) করেছি এবং সেগুলোতে হরকত প্রদান করেছি।
গ্রন্থে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) পেশ করেছি এবং মূল সূত্রগ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছি যেখানে তাঁদের বিস্তারিত জীবনী আলোচনা করা হয়েছে।
প্রচলিত বানানরীতি ও মান্য উচ্চারণের নিয়ম অনুযায়ী শব্দগুলো লেখা হয়েছে এবং অনুলিপি প্রস্তুতকারক যেসব স্থানে নুকতা প্রদান (إعجام) করতে অবহেলা করেছিলেন, তা আমরা পূরণ করে দিয়েছি।
কিছু ভাষাতাত্ত্বিক শব্দ এবং ফিকহ শাস্ত্রীয় পারিভাষিক শব্দের সঠিক রূপ (ضبط) নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল পাঠের ব্যাখ্যার জন্য আমরা কিছু সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় টিকা সংযোজন করেছি। এতে আমাদের শায়খ ‘আবদুল্লাহ বিন যায়েদ আল-মাহমুদ’ অবদান রেখেছেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর ইলম দ্বারা মানুষকে উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كلمة شكر:
إذا كان الفضل يجب أن ينسب لذويه، فإني أرى لزاما على أن أُعبر عن تقديري، وشكري لكل من قدم العون في سبيل ظهور كتاب "الإجماع" لابن المنذر.
ونسأل الله التوفيق، وسواء السبيل، وأن يجعل عملنا خالصا لوجهه الكريم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، ، ،
د. فؤاد عبد المنعم أحمد.
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:
যদি কৃতিত্বের দাবিদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক হয়, তবে ইবনুল মুনযিরের "আল-ইজমা" গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জ্ঞাপন করা আমি আমার জন্য অপরিহার্য মনে করি।
আমরা আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি এবং কামনা করছি তিনি যেন আমাদের এই আমলকে একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো— সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমাদ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - তাহকীক ফুয়াদ - তাবা আল-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بسم الله الرحمن الرحيم "2/ أ"
صلى الله على محمد، وعلى آله، وسلم تسليما.
كتاب الوضوء (1):
ما أجمع عليه فقهاء الأمصار مما يوجب الوضوء من الحدث.
قال لنا أبو بكر محمد بن إبراهيم بن المنذر رحمه الله:
1 - أجمع أهل العلم على أن الصلاة لا تجزئ بطهارة إذا وجد المرء إليها السبيل (2).
2 - وأجمعوا على أن خروج الغائط من الدبر، وخروج البول من الذكر، وكذلك المرأة، وخروج المني (3)، وخروج الريح من الدبر، وزوال العقل بأي وجه زال العقل (4): أحداث ينقض كل واحد منها الطهارة، ويوجب الوضوء (5).
3 - وأجمعوا على أن دم الاستحاضة ينقض الطهارة، وانفراد ربيعة (6)، وقال: لا ينقض الطهارة (7).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "২/ ক"
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও পূর্ণ শান্তি বর্ষিত হোক।
অজু সংক্রান্ত অধ্যায় (১):
অপবিত্রতার (حدث) কারণে যা যা অজু ওয়াজিব করে, সে বিষয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহগণ যে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন।
আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহিম ইবনুল মুনজির (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের বলেছেন:
১ - আলেমগণ এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, পবিত্রতা অর্জনের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা ব্যতীত সালাত আদায় করলে তা যথেষ্ট হবে না (২)।
২ - এবং তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, মলদ্বার দিয়ে মল নির্গত হওয়া, লিঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব নির্গত হওয়া—তেমনিভাবে নারীর ক্ষেত্রেও—বীর্য নির্গত হওয়া (৩), মলদ্বার দিয়ে বায়ু নির্গত হওয়া এবং যে কোনোভাবে কাণ্ডজ্ঞান লোপ পাওয়া (৪): এগুলো এমন অপবিত্রতা (حدث) যার প্রতিটিই পবিত্রতা ভঙ্গ করে এবং অজু ওয়াজিব করে (৫)।
৩ - এবং তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, ইস্তিহাযার (استحاضة) রক্ত পবিত্রতা নষ্ট করে; তবে রাবিআহ (৬) এককভাবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি পবিত্রতা নষ্ট করে না (৭)।
--------------------------------------------