(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: -)
وسائل الإرهاب الإلكتروني حكمها في الإسلام وطرق مكافحتها القسم: كتب عامة
الكتاب: وسائل الإرهاب الإلكتروني حكمها في الإسلام وطرق مكافحتها
المؤلف: د. عبد الرحمن بن عبد الله السند
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 35
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 58
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসের মাধ্যমসমূহ: ইসলামে এর বিধান ও তা দমনের উপায় বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসের মাধ্যমসমূহ: ইসলামে এর বিধান ও তা দমনের উপায়
লেখক: ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-সানাদ
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্মবিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৩৫
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১)
وسائل الإرهاب الإلكتروني حكمها في الإسلام وطرق مكافحتها إعداد
د. عبد الرحمن بن عبد الله السند
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء وأشرف المرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فإن الشريعة الإسلامية جاءت كاملة شاملة، صالحة لكل زمان ومكان محققة لسعادة البشرية في الآجل والعاجل فقد جاءت من عند الله سبحانه وتعالى خالق الناس، والعالم بما يصلحهم في دنياهم وأخراهم، قال الله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (1) .
وقال الله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (2) .
--------------------------------------------
ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমসমূহ: ইসলামে এর বিধান এবং তা মোকাবিলার পদ্ধতিসমূহ। উপস্থাপনায়:
ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সানাদ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসুলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইসলামী শরিয়ত পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, যা সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী এবং ইহকাল ও পরকালে মানবতার সুখ নিশ্চিতকারী। কারণ এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে এসেছে, যিনি মানুষের স্রষ্টা এবং তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে কিসে কল্যাণ রয়েছে সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আমরা কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি} (১)।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২)
لقد خلق الله الإنسان فأكرمه، قال الله سبحانه: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا} (1) أي فضلنا "بني آدم" بالعلم والنطق واعتدال الخلق وغير ذلك ومنه طهارتهم بعد الموت "وحملناهم في البر" على الدواب "والبحر" على السفن "ورزقناهم من الطيبات وفضلناهم على كثير ممن خلقنا" كالبهائم والوحوش "تفضيلا" فمن بمعنى ما أو على بابها وتشمل الملائكة والمراد تفضيل الجنس ولا يلزم تفضيل أفراده إذ هم أفضل من البشر غير الأنبياء (2) . ولقد ميز الله الإنسان بالعقل والفهم ليعمل على إسعاد نفسه وبيئته ويسعى في عمارة الكون بما يصلح الخلق والأرض، وإذا انحرف الإنسان عن هذه المهمة ونزع إلى الشر والفساد فهو مصادم للفطرة السليمة التي فطر الله الإنسان عليها، إن من أبرز مظاهر الانحراف عن الفطرة السليمة في هذا العصر الإرهاب ولاسيما استغلال الوسائل الحديثة في ذلك، ولعل من الصور الحديثة للإرهاب استخدام الوسائل الإلكترونية فيه، فكان هذا البحث لبيان (الإرهاب الإلكتروني وموقف الإسلام منه) وقد جعلته
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন: {আমি অবশ্যই আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং আমি তাদেরকে আমার অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এক বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বে।} (১) অর্থাৎ আমি ‘আদম সন্তান’কে জ্ঞান, বাকশক্তি, দৈহিক সুসামঞ্জস্যতা এবং অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি; যার অন্তর্ভুক্ত হলো মৃত্যুর পরেও তাদের পবিত্রতা। “আমি তাদেরকে স্থলে বাহন দান করেছি” চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে এবং “জলে” নৌযানে। “তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং আমি তাদেরকে আমার অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি” যেমন গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণী; এটি এক বিশেষ “শ্রেষ্ঠত্ব”। এখানে ‘মান’ শব্দটি ‘মা’ এর অর্থে অথবা তার নিজস্ব অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে যা ফেরেশতাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানবজাতির সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব, তবে এটি প্রতিটি ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে আবশ্যক করে না; কারণ তাঁরা (ফেরেশতারা) আম্বিয়া কিরাম ব্যতীত অন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (২)। আল্লাহ মানুষকে বিবেক ও বোধশক্তি দিয়ে স্বতন্ত্র করেছেন যাতে সে নিজের এবং তার পরিবেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে এবং সৃষ্টি ও জগতের সংস্কারের মাধ্যমে মহাবিশ্বের বিনির্মাণে সচেষ্ট হয়। যদি মানুষ এই দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয় এবং অনিষ্ট ও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয়, তবে তা সেই সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির পরিপন্থী হবে যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান যুগে সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি থেকে বিচ্যুতির অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশ হলো সন্ত্রাসবাদ, বিশেষ করে এক্ষেত্রে আধুনিক মাধ্যমগুলোর অপব্যবহার। সন্ত্রাসবাদের আধুনিক রূপগুলোর মধ্যে সম্ভবত ইলেকট্রনিক মাধ্যমগুলোর ব্যবহার অন্যতম। ফলে এই গবেষণাটি ‘ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসবাদ এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান’ স্পষ্ট করার জন্য করা হয়েছে এবং আমি একে বিন্যস্ত করেছি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
في المباحث الآتية:
تمهيد: المطلب الأول: المقصود بالإرهاب الإلكتروني.
المطلب الثاني: خطر الإرهاب الإلكتروني.
المبحث الأول: وسائل الإرهاب الإلكتروني
المطلب الأول: البريد الإلكتروني.
المطلب الثاني: إنشاء مواقع على الإنترنت.
المطلب الثالث: تدمير المواقع.
المبحث الثاني: طرق مكافحة الإرهاب الإلكتروني
المطلب الأول: ترشيح الدخول على الإنترنت.
المطلب الثاني: أنظمة التعاملات الإلكترونية.
المطلب الثالث: أنظمة الحماية من الاعتداءات الإلكترونية.
المبحث الثالث: جهود التصدي للإرهاب الإلكتروني
المطلب الأول: جهود المملكة العربية السعودية في التصدي للإرهاب الإلكتروني.
المطلب الثاني: الجهود الدولية في التصدي للإرهاب الإلكتروني.
الخاتمة.
নিম্নোক্ত গবেষণাসমূহে:
ভূমিকা: প্রথম পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাসের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাসের ঝুঁকি।
প্রথম অধ্যায়: সাইবার সন্ত্রাসের মাধ্যমসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক মেইল (ই-মেইল)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট নির্মাণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ওয়েবসাইট ধ্বংস করা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাইবার সন্ত্রাস দমনের পদ্ধতিসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ (ফিল্টারিং)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক লেনদেন ব্যবস্থা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা ব্যবস্থা।
তৃতীয় অধ্যায়: সাইবার সন্ত্রাস মোকাবিলায় গৃহীত প্রচেষ্টাসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাস মোকাবিলায় সৌদি আরব রাজ্যের প্রচেষ্টাসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাস মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাসমূহ।
উপসংহার।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
تمهيد
المطلب الأول: المقصود بالإرهاب الإلكترونيالإرهاب يعني في اللغات الأجنبية القديمة مثل اليونانية: حركة من الجسد تفزع الآخرين (1) .
وقد أطلق مجمع اللغة العربية في معجمه الوسيط على الإرهابيين أنه وصف يطلق على الذين يسلكون سبيل العنف لتحقيق أهدافهم (2) ، فكلمة إرهاب تستخدم للرعب أو الخوف الذي يسببه فرد، أو جماعة، أو تنظيم سواء كان لأغراض سياسية أو شخصية أو غير ذلك، فتطور ظاهرة الإرهاب جعلها لا تقتصر على الناحية السياسية فقط بل شملت نواحي قانونية، وعسكرية، وتاريخية، واقتصادية، واجتماعية. وقد وضع وزراء الداخلية والعدل العرب في الاتفاقية العربية لمكافحة الإرهاب الصادرة في القاهرة عام 1998م تعريفا للإرهاب بأنه: كل فعل من أفعال العنف أو التهديد أيًا كانت بواعثه وأغراضه يقع تنفيذًا لمشروع إجرامي فردي أو جماعي ويهدف إلى إلقاء الرعب بين الناس، أو ترويعهم بإيذائهم، أو تعريض حياتهم أو حريتهم أو أمنهم للخطر أو إلحاق الضرر بالبيئة أو بأحد المرافق أو الأملاك العامة أو الخاصة أو اختلاسها أو الاستيلاء عليها أو تعريض أحد الموارد الوطنية للخطر (3) .
--------------------------------------------
ভূমিকা
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাসবাদের তাৎপর্যপ্রাচীন বিদেশি ভাষাগুলোতে, যেমন গ্রিক ভাষায়, 'সন্ত্রাসবাদ' বলতে শরীরের এমন এক ধরনের নড়াচড়াকে বোঝায় যা অন্যদের আতঙ্কিত করে তোলে (১)।
আরবি ভাষা একাডেমি তাদের ‘আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত’ অভিধানে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটিকে এমন একটি বিশেষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহিংসতার পথ অবলম্বন করে (২)। সুতরাং, ‘সন্ত্রাস’ শব্দটি এমন আতঙ্ক বা ভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, চাই তা রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা অন্য যে কোনো উদ্দেশ্যেই হোক না কেন। সন্ত্রাসবাদ নামক এই বিষয়ের বিবর্তন একে কেবল রাজনৈতিক গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং এটি এখন আইনগত, সামরিক, ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দিকগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। ১৯৯৮ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে আরব কনভেনশন’-এ আরব দেশগুলোর স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীগণ সন্ত্রাসবাদের একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন, যা হলো: যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা হুমকির কাজ, এর উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য যাই হোক না কেন, যা একক বা যৌথ অপরাধমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংঘটিত হয় এবং যার উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া, অথবা ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে তাদের ভীত করা, কিংবা তাদের জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা, অথবা পরিবেশের ক্ষতি করা, অথবা সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতিসাধন করা, তা আত্মসাৎ করা, দখল করা কিংবা জাতীয় কোনো সম্পদকে বিপন্ন করা (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
ولعل من أفضل التعاريف الاصطلاحية للإرهاب من حيث الشمولية وتحديد سلوك الإرهاب ما توصل إليه مجمع الفقه الإسلامي التابع لرابطة العالم الإسلامي فقد عرف الإرهاب بأنه: العدوان الذي يمارسه أفراد أو جماعات أو دول بغيًا على الإنسان دينه، ودمه، وعقله، وماله، وعرضه، ويشمل صنوف التخويف والأذى والتهديد والقتل بغير حق وما يتصل بصور الحرابة، وإخافة السبيل، وقطع الطريق، وكل فعل من أفعال العنف أو التهديد، يقع تنفيذًا لمشروع إجرامي فردي أو جماعي ويهدف إلى إلقاء الرعب بين الناس، أو ترويعهم بإيذائهم، أو تعريض حياتهم أو حريتهم أو أمنهم أو أحوالهم للخطر، ومن صنوفه إلحاق الضرر بالبيئة أو المرافق العامة والأملاك الخاصة أو الموارد الطبيعية، فكل هذا من صور الفساد في الأرض التي نهى الله سبحانه وتعالى المسلمين عنها (1) . (2)
--------------------------------------------
সম্ভবত ব্যাপকতা এবং সন্ত্রাসবাদের আচরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের (الإرهاب) অন্যতম শ্রেষ্ঠ পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো সেটি, যা মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের অন্তর্ভুক্ত ইসলামি ফিকহ একাডেমি প্রদান করেছে। তারা সন্ত্রাসবাদকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে: এটি এমন একটি আগ্রাসন (عدوان) যা মানুষের দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ ও সম্মানের ওপর অন্যায় সীমালঙ্ঘন (بغيًا) করে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ভীতি প্রদর্শন, ক্ষতি সাধন, হুমকি এবং অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিভিন্ন ধরন; যা হিরাবাহ (حرابة), পথভীতি প্রদর্শন (إخافة السبيل) এবং পথরোধ (قطع الطريق) করার সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও এটি হলো সহিংসতা বা হুমকির প্রতিটি কাজ, যা কোনো ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত অপরাধমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয় এবং যার লক্ষ্য হলো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া, অথবা তাদের কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে ভীত-সন্ত্রস্ত করা, কিংবা তাদের জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা বা অবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এর বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পরিবেশ, জনকল্যাণমূলক স্থাপনা, ব্যক্তিগত সম্পদ বা প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি সাধনও অন্তর্ভুক্ত। এ সবই পৃথিবীতে বিপর্যয় (فساد) সৃষ্টির বিভিন্ন রূপ, যা থেকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুসলিমদের নিষেধ করেছেন (১) । (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد أصدر مجمع الفقه الإسلامي الدولي قرارًا في دورته الرابعة عشرة المعقودة في الدوحة في شهر ذي القعدة من عام 1423هـ ذكر فيه تعريف مصطلح الإرهاب بأنه: العدوان أو التخويف أو التهديد ماديًا أو معنويًا الصادر من الدول أو الجماعات أو الأفراد على الإنسان دينه، أو نفسه أو عرضه، أو عقله، أو ماله، بغير حق بشتى صنوفه وصور الإفساد في الأرض (1) .
من هذه التعاريف نتوصل إلى أن الإرهاب الإلكتروني هو: العدوان أو التخويف أو التهديد ماديًا أو معنويًا باستخدام الوسائل الإلكترونية الصادر من الدول أو الجماعات أو الأفراد على الإنسان دينه، أو نفسه، أو عرضه، أو عقله، أو ماله، بغير حق بشتى صنوفه وصور الإفساد في الأرض.
--------------------------------------------
আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি ১৪২৩ হিজরি সনের জিলকদ মাসে দোহায় অনুষ্ঠিত তাদের চতুর্দশ অধিবেশনে একটি সিদ্ধান্ত জারি করেছে, যেখানে 'সন্ত্রাসবাদ' পরিভাষার সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে যে: এটি হলো রাষ্ট্র, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক কোনো মানুষের ধর্ম, জীবন, সম্মান, বুদ্ধি বা সম্পদের ওপর অন্যায়ভাবে পরিচালিত যেকোনো ধরনের বস্তুগত বা মানসিক আক্রমণ, ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি, যা পৃথিবীতে নানাবিধ বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত (১)।
এই সংজ্ঞাসমূহ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসবাদ হলো: ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্র, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক কোনো মানুষের ধর্ম, জীবন, সম্মান, বুদ্ধি বা সম্পদের ওপর অন্যায়ভাবে পরিচালিত যেকোনো ধরনের বস্তুগত বা মানসিক আক্রমণ, ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি, যা পৃথিবীতে নানাবিধ বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
المطلب الثاني: خطر الإرهاب الإلكترونيلقد أدى ظهور الحاسبات الآلية إلى تغيير شكل الحياة في العالم، وأصبح الاعتماد على وسائل تقنية المعلومات الحديثة يزداد يومًا بعد يوم، سواء في المؤسسات المالية، أو المرافق العامة، أو المجال التعليمي، أو الأمني أو غير ذلك، إلا أنه وإن كان للوسائل الإلكترونية الحديثة ما يصعب حصره من فوائد، فإن الوجه الآخر والمتمثل في الاستخدامات السيئة والضارة لهذه التقنيات الحديثة ومنها الإرهاب الإلكتروني أصبح خطرًا يهدد العالم بأسره، إن خطر الإرهاب الإلكتروني يكمن في سهولة استخدام هذا السلاح مع شدة أثره وضرره، فيقوم مستخدمه بعمله الإرهابي وهو في منزله، أو مكتبه، أو في مقهى، أو حتى من غرفته في أحد الفنادق.
إن أكثر الأنظمة التقنية تقدمًا وأسرعها تطورًا هي الأنظمة الأمنية، وعلى رغم سرعة تطورها إلا أنها أقل الأنظمة استقرارًا وموثوقية، نظرًا لتسارع وتيرة الجرائم الإلكترونية وأدواتها والثغرات الأمنية التي لا يمكن أن يتم الحد منها على المدى الطويل، فمجال أمن المعلومات في الإنترنت آخذ في التطور بشكل كبير تماشيًا مع التطور في الجريمة الإلكترونية.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিকম্পিউটার বা স্বয়ংক্রিয় গণনাকারী যন্ত্রের আবির্ভাব বিশ্বের জীবনযাত্রার ধরনে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জনসেবামূলক স্থাপনা, শিক্ষা ক্ষেত্র কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবক্ষেত্রেই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমের ওপর নির্ভরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আধুনিক ইলেকট্রনিক মাধ্যমগুলোর যেমন অগণিত সুফল রয়েছে, তেমনি এর নেতিবাচক দিক তথা এই আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ক্ষতিকর প্রয়োগ—যার অন্যতম হলো সাইবার সন্ত্রাসবাদ—বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের জন্য এক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সাইবার সন্ত্রাসবাদের মূল ঝুঁকি নিহিত রয়েছে এই মারণাস্ত্র ব্যবহারের সহজলভ্যতা এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও ক্ষতির মাঝে। একজন ব্যবহারকারী নিজ ঘরে, অফিসে, ক্যাফেতে এমনকি হোটেলের কক্ষে বসেই তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উন্নত এবং দ্রুত বিবর্তনশীল হলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে এত দ্রুত বিবর্তন সত্ত্বেও এই ব্যবস্থাগুলোই সবচেয়ে কম স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য (ثقة); কারণ সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান গতি, এর সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা ছিদ্রসমূহ দীর্ঘমেয়াদে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলে সাইবার অপরাধের প্রসারের সাথে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেটে তথ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রটিও ব্যাপকভাবে বিকশিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
لقد أصبح الإرهاب الإلكتروني هاجسا يخيف العالم الذي أصبح عرضة لهجمات الإرهابيين عبر الإنترنت الذين يمارسون نشاطهم التخريبي من أي مكان في العالم، وهذه المخاطر تتفاقم بمرور كل يوم، لأن التقنية الحديثة وحدها غير قادرة على حماية الناس من العمليات الإرهابية الإلكترونية والتي سببت أضرارًا جسيمة على الأفراد والمنظمات والدول. ولقد سعت العديد من الدول إلى اتخاذ التدابير والاحترازات لمواجهة الإرهاب الإلكتروني، إلا أن هذه الجهود قليلة ولا نزال بحاجة إلى المزيد من هذه الجهود المبذولة لمواجهة هذا السلاح الخطير.
ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসবাদ বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি আতঙ্কে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্ব আজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই সব সন্ত্রাসীদের হামলার শিকারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যারা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। এই ঝুঁকিগুলো দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে, কারণ আধুনিক প্রযুক্তি এককভাবে মানুষকে ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসী তৎপরতা থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম নয়, যা ব্যক্তি, সংস্থা ও রাষ্ট্রসমূহের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। অনেক রাষ্ট্র এই ইলেকট্রনিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সচেষ্ট হয়েছে; তবে এসব প্রচেষ্টা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং এই বিপজ্জনক অস্ত্রটি মোকাবিলায় আমাদের আরও অধিকতর প্রচেষ্টার আবশ্যকতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول وسائل الإرهاب الإلكتروني
المطلب الأول: البريد الإلكترونيالبريد الإلكتروني خدمة تسمح بتبادل الرسائل والمعلومات مع الآخرين عبر شبكة للمعلومات، وتعد هذه الخدمة من أبرز الخدمات التي تقدمها شبكة الإنترنت، لما تمثله من سرعة في إيصال الرسالة وسهولة الإطلاع عليها في أي مكان، فلا ترتبط الرسالة الإلكترونية المرسلة بمكان معين، بل يمكن الاطلاع عليها وقراءتها في أي مكان من العالم.
وعلى الرغم من أن البريد الإلكتروني (E-mail) أصبح أكثر الوسائل استخدامًا في مختلف القطاعات، وخاصة قطاع الأعمال لكونه أكثر سهولة وأمنا وسرعة لإيصال الرسائل إلا أنه يعد من أعظم الوسائل المستخدمة في الإرهاب الإلكتروني، من خلال استخدام البريد الإلكتروني في التواصل بين الإرهابيين وتبادل المعلومات بينهم، بل إن كثيرًا من العمليات الإرهابية التي حدثت في الآونة الأخيرة كان البريد الإلكتروني فيها وسيلة من وسائل تبادل المعلومات وتناقلها بين القائمين بالعمليات الإرهابية والمخططين لها.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমসমূহ
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমেইলইমেইল হলো এমন একটি পরিষেবা যা একটি তথ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যদের সাথে বার্তা ও তথ্য বিনিময়ের অনুমতি দেয়। এই পরিষেবাটি ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রদত্ত অন্যতম প্রধান পরিষেবা হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি দ্রুত বার্তা পৌঁছে দেয় এবং যেকোনো স্থান থেকে তা সহজে দেখার সুযোগ করে দেয়। প্রেরিত ইলেকট্রনিক বার্তা কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তা দেখা ও পড়া সম্ভব।
যদিও ইমেইল (E-mail) বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ব্যবসায়িক খাতে বার্তা প্রেরণের জন্য অধিক সহজ, নিরাপদ ও দ্রুততর হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাধ্যমে পরিণত হয়েছে, তবুও এটি সাইবার সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। সন্ত্রাসীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং তথ্য বিনিময়ে ইমেইল ব্যবহৃত হয়। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অনেক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ইমেইল ছিল হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও স্থানান্তরের অন্যতম মাধ্যম।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكذلك يقوم الإرهابيون باستغلال البريد الإلكتروني في نشر أفكارهم والترويج لها والسعي لتكثير الأتباع والمتعاطفين معهم عبر المراسلات الإلكترونية.
ومما يقوم به الإرهابيون أيضًا اختراق البريد الإلكتروني للآخرين وهتك أسرارهم والاطلاع على معلوماتهم وبياناتهم والتجسس عليها لمعرفة مراسلاتهم ومخاطباتهم والاستفادة منها في عملياتهم الإرهابية.
لقد نهى الله جل جلاله عن التجسس، فقال سبحانه: {وَلَا تَجَسَّسُوا} (1) ، ونهت الشريعة الإسلامية عن الاطلاع على أسرار الناس وهتك حرماتهم، ففي الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إنك إن اتبعت عورات المسلمين أفسدتهم أو كدت أن تفسدهم» (2) ، واختراق البريد الإلكتروني هو خرق لخصوصية الآخرين وهتك لحرماتهم وتجسس على معلوماتهم وبياناتهم التي لا يرغبون أن يطلع عليها غيرهم، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: «ولا تحسسوا ولا تجسسوا» (3) .
--------------------------------------------
একইভাবে, সন্ত্রাসীরা তাদের চিন্তাধারা প্রচার ও প্রসার করতে এবং ইলেকট্রনিক পত্রালাপের মাধ্যমে অনুসারী ও সহানুভূতিশীলদের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় ইমেল ব্যবহার করে।
সন্ত্রাসীরা অন্যদের ইমেল হ্যাক করা, তাদের গোপনীয়তা ফাঁস করা, তাদের তথ্য ও উপাত্ত দেখা এবং তাদের পত্রালাপ ও যোগাযোগ জানার জন্য সেগুলোর ওপর গোয়েন্দাগিরি করার কাজও করে থাকে, যাতে তারা এগুলোকে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করতে পারে।
মহান আল্লাহ গোয়েন্দাগিরি করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা গোয়েন্দাগিরি করো না} (১)। ইসলামি শরিয়ত মানুষের গোপন বিষয় দেখা এবং তাদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি যদি মুসলমানদের গোপন ত্রুটিগুলো অনুসন্ধান করতে থাকো, তবে তুমি তাদের ধ্বংস করে দেবে অথবা তাদের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে” (২)। আর ইমেল হ্যাক করা হলো অন্যদের ব্যক্তিগত বিষয়ের লঙ্ঘন, তাদের গোপনীয়তা নষ্ট করা এবং তাদের এমন তথ্য ও উপাত্তের ওপর গোয়েন্দাগিরি করা যা তারা চান না যে অন্য কেউ দেখুক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমরা একে অপরের দোষ খুঁজো না এবং গোয়েন্দাগিরি করো না” (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
فالشريعة الإسلامية كفلت حفظ الحقوق الشخصية للإنسان وحرمت الاعتداء عليها بغير حق، وهؤلاء الذين يعتدون على بيانات الآخرين ومعلوماتهم عبر اختراق رسائلهم البريدية الإلكترونية آثمون لمخالفة أمر الشارع الحكيم ومستحقون للعقاب التعزيري الرادع لهم، ولا بد من إشاعة هذا الحكم بين الناس وتوعية المتعاملين بشبكة المعلومات العالمية (الإنترنت) بخطورة انتهاك خصوصية الآخرين وحكم ذلك في الشريعة الإسلامية، وأن هذا الأمر مما استقرت الشريعة على تحريمه والنهي عنه، وقد تضافرت نصوص الكتاب والسنة على حفظ حقوق الآخرين وعدم انتهاكها، بل قد تنادت الدول إلى تجريم مخترقي البريد الإلكتروني لما فيه من ضياع للحقوق واعتداء على خصوصيات الآخرين وأسرارهم، ولاسيما إذا كان ذلك لاستغلالها في الجرائم الإرهابية والعدوان على الآخرين.
ইসলামী শরীয়ত মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে এবং কোনো সংগত কারণ ছাড়া সেই অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করাকে হারাম করেছে। আর যারা অন্যদের ইলেকট্রনিক মেইল (ই-মেইল) হ্যাক করার মাধ্যমে তাদের উপাত্ত ও তথ্যের ওপর হস্তক্ষেপ করে, তারা প্রজ্ঞাময় বিধানদাতার আদেশ লঙ্ঘনের কারণে পাপিষ্ঠ এবং তারা কঠোর সংশোধনমূলক শাস্তির (عقاب تعزيري) যোগ্য যা অন্যদের জন্য প্রতিরোধক হবে। মানুষের মাঝে এই বিধানটি প্রচার করা এবং বিশ্বব্যাপী তথ্য আদান-প্রদান নেটওয়ার্ক (ইন্টারনেট) ব্যবহারকারীদের অন্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ভয়াবহতা ও ইসলামী শরীয়তের বিধান সম্পর্কে সচেতন করা অপরিহার্য। প্রকৃতপক্ষে শরীয়ত এ বিষয়টি হারাম ও নিষিদ্ধ করার ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে। কিতাব (الكتاب) ও সুন্নাহর (سنة) অকাট্য ভাষ্যসমূহ (نصوص) অন্যদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তা লঙ্ঘন না করার ব্যাপারে পরস্পর সমর্থিত হয়েছে। এমনকি বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ এখন ই-মেইল হ্যাকারদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানাচ্ছে; কারণ এতে অধিকার হরণ এবং অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও গোপন তথ্যের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়, বিশেষত যখন তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অন্যের ওপর আগ্রাসন চালানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
واستثناء من ذلك فقد يكون التجسس مشروعًا في أحوال معينة كالتجسس على المجرمين، فقد لا يعرفون إلا بطريق التجسس، وقد أجاز الفقهاء التجسس على اللصوص وقطاع الطريق، وطلبهم بطريق التجسس عليهم وتتبع أخبارهم (1) ، وكذلك يجوز التجسس في حال الحرب بين المسلمين وغيرهم لمعرفة أخبار جيش الكفار وعددهم وعتادهم ومحل إقامتهم وما إلى ذلك.
أما الجاسوس الذي يتجسس على المسلمين فقد ذهب الحنفية إلى أن يوجع عقوبة ويطال حبسه حتى يحدث توبة (2)
، وذهب المالكية إلى أنه يقتل ولا يستتاب ولا دية لورثته كالمحارب لإضراره بالمسلمين وسعيه بالفساد في الأرض، وقيل: يجلد نكالًا ويطال حبسه وينفى من الموضع الذي كان فيه، وقيل: يقتل إلا أن يتوب، وقيل: يقتل إلا أن يعذر بجهل، وقيل: يقتل إن كان معتادًا لذلك (3) . وذهب الشافعية (4) إلى أن الجاسوس المسلم يعزر ولا يجوز قتله، وإن كان ذا هيئة - أي سلف كريم في خدمة الإسلام- عفي عنه لحديث حاطب بن أبي بلتعة رضي الله عنه (5) ، وذهب الحنابلة إلى أن الجاسوس يقتل لضرره على المسلمين (6) .
--------------------------------------------
এর ব্যতিক্রম হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে গোয়েন্দাগিরি করা বৈধ হতে পারে, যেমন অপরাধীদের ওপর নজরদারি করা; কারণ গোয়েন্দাগিরি ছাড়া তাদের শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফকিহগণ চোর এবং ডাকাতদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করা এবং সংবাদ সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের অনুসন্ধান ও নজরদারি করার অনুমতি দিয়েছেন (১)। একইভাবে মুসলিম ও অন্যদের মধ্যে যুদ্ধাবস্থায় কাফের বাহিনীর সংবাদ, তাদের সংখ্যা, যুদ্ধাস্ত্র, অবস্থান এবং এই জাতীয় বিষয়াদি জানার জন্য গোয়েন্দাগিরি করা বৈধ।
পক্ষান্তরে যে গোয়েন্দা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করে, হানাফি মাযহাবের মতে তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে এবং তওবা (توبة) না করা পর্যন্ত তার কারাবাস দীর্ঘায়িত করা হবে (২)
মালিকি মাযহাবের মতে তাকে হত্যা করা হবে এবং তার তওবা তলব করা হবে না। মুসলিমদের ক্ষতিসাধন এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির অপচেষ্টার কারণে একজন মুহারিব বা যোদ্ধার ন্যায় তার উত্তরাধিকারীদের কোনো রক্তপণ দেওয়া হবে না। আরও বলা হয়েছে: তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করা হবে, কারাবাস দীর্ঘ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে নির্বাসিত করা হবে। কেউ কেউ বলেছেন: তওবা (توبة) না করলে তাকে হত্যা করা হবে। আবার বলা হয়েছে: অজ্ঞতার কারণে সে ক্ষমার অযোগ্য হলে তাকে হত্যা করা হবে। অন্যমতে: সে যদি এই কাজে অভ্যস্ত হয়ে থাকে তবে তাকে হত্যা করা হবে (৩)। শাফিঈ মাযহাবের (৪) মতে, মুসলিম গোয়েন্দাকে তাজির (تعزير) প্রদান করা হবে এবং তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। আর যদি সে মর্যাদাবান ব্যক্তি হন—অর্থাৎ ইসলামের সেবায় তার কোনো গৌরবোজ্জ্বল অতীত থাকে—তবে হাতিব বিন আবি বালতাআ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের (৫) ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করা হবে। হাম্বলি মাযহাবের মতে, মুসলিমদের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কায় গোয়েন্দাকে হত্যা করা হবে (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكذلك يجوز اختراق البريد الإلكتروني للمجرمين المفسدين في الأرض واللصوص وقطاع الطريق، لتتبعهم ومعرفة خططهم وأماكن وجودهم، لقطع شرهم ودفع ضررهم عن المسلمين وهذا موافق لمقاصد الشريعة الإسلامية التي جاءت بحفظ الدين والعرض والمال والنفس والعقل.
অনুরূপভাবে, পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টিকারী অপরাধী, চোর এবং ডাকাতদের ইমেইল হ্যাক করা বৈধ, যাতে তাদের অনুসরণ করা যায় এবং তাদের পরিকল্পনা ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়; যেন তাদের অনিষ্ট নির্মূল করা যায় এবং মুসলিমদের থেকে তাদের ক্ষতি প্রতিহত করা যায়। এটি ইসলামি শরিয়তের সেই উদ্দেশ্যসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ, যা দ্বীন, সম্মান, সম্পদ, জীবন ও বুদ্ধি সংরক্ষণের বিধান নিয়ে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المطلب الثاني: إنشاء مواقع على الإنترنتيقوم الإرهابيون بإنشاء وتصميم مواقع لهم على شبكة المعلومات العالمية الإنترنت لنشر أفكارهم والدعوة إلى مبادئهم، بل تعليم الطرق والوسائل التي تساعد على القيام بالعمليات الإرهابية، فقد أنشئت مواقع لتعليم صناعة المتفجرات، وكيفية اختراق وتدمير المواقع، وطرق اختراق البريد الإلكتروني، وكيفية الدخول على المواقع المحجوبة، وطريقة نشر الفيروسات وغير ذلك.
والموقع هو: معلومات مخزنة بشكل صفحات، وكل صفحة تشتمل على معلومات معينة تشكلت بواسطة مصمم الصفحة باستعمال مجموعة من الرموز تسمى لغة تحديد النص الأفضل Hyper text mark up language (HTML) . ولأجل رؤية هذه الصفحات يتم طلب استعراض شبكة المعلومات العنكبوتية (WWW Browser) ويقوم بحل رموز (HTML) وإصدار التعليمات لإظهار الصفحات المتكونة. (1)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট তৈরি করাসন্ত্রাসীরা তাদের চিন্তাধারা প্রচার এবং তাদের মতাদর্শের দিকে আহ্বান জানাতে বৈশ্বিক তথ্য নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটে নিজস্ব সাইট তৈরি ও ডিজাইন করে থাকে। শুধু তাই নয়, বরং তারা এমন সব পদ্ধতি ও উপায় শিক্ষা দেয় যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়তা করে। ইতোমধ্যেই বিস্ফোরক তৈরির শিক্ষা, ওয়েবসাইট হ্যাক ও ধ্বংস করার কৌশল, ইমেইল হ্যাক করার পদ্ধতি, ব্লক করা বা নিষিদ্ধ সাইটগুলোতে প্রবেশের উপায় এবং ভাইরাস ছড়ানোর পদ্ধতিসহ আরও নানাবিধ বিষয়ের ওপর ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে।
ওয়েবসাইট হলো: পৃষ্ঠা আকারে সংরক্ষিত কিছু তথ্য; যেখানে প্রতিটি পৃষ্ঠায় নির্দিষ্ট কিছু তথ্য থাকে যা পৃষ্ঠার ডিজাইনার কর্তৃক কিছু সংকেত বা প্রতীকের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়, যাকে হাইপার টেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ (HTML) বলা হয়। আর এই পৃষ্ঠাগুলো দেখার জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্রাউজারের (WWW Browser) সাহায্য নেওয়া হয়, যা মূলত (HTML) কোড বা সংকেতগুলোর পাঠোদ্ধার করে এবং প্রস্তুতকৃত পৃষ্ঠাগুলো প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وتسعى الجهات الرسمية، والمؤسسات، والشركات، وحتى الأفراد إلى إيجاد مواقع لهم حتى وصل عدد المواقع على الإنترنت في شهر 10 / 2000م إلى أكثر من 22مليون موقع. (1) /50 إن الشبكة العنكبوتية (World Wide Web) أو نظام الويب الذي ابتكره العالم الإنجليزي تم بيرنرس عام 1989م، يرتكز على فكرة تخزين معلومات مع القدرة على إقامة صلات وعلاقات ترابطية مباشرة فيما بينها على غرار الترابط الحاصل في نسيج الشبكة التي يصنعها العنكبوت، ومن هنا أطلقت تسمية الويب على هذا البرنامج الذي وزعه مبتكره مجانًا عبر شبكة الإنترنت في عام 1991م، واعتمد في المرحلة الأولى عام 1993م، من خلال برامج التصفح.
--------------------------------------------
সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি এবং এমনকি ব্যক্তিবর্গও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ২০০০ সালের ১০ম মাসে ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের সংখ্যা ২২ মিলিয়নেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। (১) /৫০ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web) বা ওয়েব ব্যবস্থা যা ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স ১৯৮৯ সালে উদ্ভাবন করেছেন, এটি তথ্য সংরক্ষণের এমন একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যেখানে মাকড়সার জালের বুননের ন্যায় তথ্যাদির মধ্যে সরাসরি সংযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকেই এই প্রোগ্রামের নাম রাখা হয়েছে 'ওয়েব', যা এর উদ্ভাবক ১৯৯১ সালে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিতরণ করেন এবং ১৯৯৩ সালে ব্রাউজিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে তা গৃহীত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إذا كان التقاء الإرهابيين والمجرمين في مكان معين لتعلم طرق الإرهاب والإجرام، وتبادل الآراء والأفكار والمعلومات صعبا في الواقع فإن الإنترنت تسهل هذه العملية كثيرًا، إذ يمكن أن يلتقي عدة أشخاص في أماكن متعددة في وقت واحد، ويتبادلوا الحديث والاستماع لبعضهم عبر الإنترنت، بل يمكن أن يجمعوا لهم أتباعًا وأنصارًا عبر إشاعة أفكارهم ومبادئهم من خلال مواقع الإنترنت، ومنتديات الحوار، وما يسمى بغرف الدردشة، فإذا كان الحصول على وسائل إعلامية كالقنوات التلفزيونية والإذاعية صعبا، فإن إنشاء مواقع على الإنترنت، واستغلال منتديات الحوار وغيرها لخدمة أهداف الإرهابيين غدا سهلًا ممكنًا، بل تجد لبعض المنظمات الإرهابية آلاف المواقع، حتى يضمنوا انتشارًا أوسع، وحتى لو تم منع الدخول على بعض هذه المواقع أو تعرضت للتدمير تبقى المواقع الأخرى يمكن الوصول إليها.
لقد وجد الإرهابيون بغيتهم في تلك الوسائل الرقمية في ثورة المعلوماتية، فأصبح للمنظمات الإرهابية العديد من المواقع على شبكة المعلومات العالمية الإنترنت، فغدت تلك المواقع من أبرز الوسائل المستخدمة في الإرهاب الإلكتروني.
যদি নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধের কলাকৌশল শিক্ষা করা এবং মতবিনিময়, চিন্তাধারা ও তথ্যের আদান-প্রদান করা বাস্তবে কঠিন হয়, তবে ইন্টারনেট এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। কারণ একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত একাধিক ব্যক্তি ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরস্পর মিলিত হতে পারে এবং একে অপরের কথা শুনতে ও কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে। বরং তারা ওয়েবসাইট, আলোচনার ফোরাম এবং তথাকথিত 'চ্যাট রুম' সমূহের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তাধারা ও আদর্শ প্রচার করে অনুসারী ও সমর্থকদের একত্রিত করতে সক্ষম হয়। টেলিভিশন চ্যানেল বা রেডিওর মতো গণমাধ্যমগুলোর নাগাল পাওয়া যদি কঠিনও হয়, তবে ওয়েবসাইট নির্মাণ করা এবং আলোচনার ফোরামসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোকে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করা বর্তমানে সহজ ও সম্ভবপর হয়ে পড়েছে। এমনকি কোনো কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের হাজার হাজার ওয়েবসাইট দেখা যায়, যাতে তারা অধিকতর ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করতে পারে; আর যদি এই সাইটগুলোর কয়েকটিতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয় কিংবা সেগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তবুও অন্যান্য সাইটগুলোর নাগাল পাওয়া সম্ভব থেকে যায়।
সন্ত্রাসীরা তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবে এই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর মাঝে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তথ্যজাল তথা ইন্টারনেটে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে এবং এই সাইটগুলো সাইবার সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا شك أن إنشاء المواقع للعدوان وتضليل الآخرين ونشر الأفكار الهدامة محرم ولا يجوز يقول سماحة مفتي عام المملكة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله آل الشيخ: (شبكة الإنترنت من وسائل الاتصالات الحديثة السريعة في إيصال المعلومات الواسعة من حيث الانتشار وسهولة الوصول إليها وهي إن استغلت في الخير والدعوة إلى الله ونشر دين الله في أصقاع الأرض من قبل الأفراد والمؤسسات الإسلامية المختلفة، فلا شك أنها من الجهاد في سبيل الله بالبيان واللسان ويجب على المسلمين استغلالها وتسخيرها لهذا الغرض الخير، أما المواقع الفاسدة المخلة والمضرة بعقائد المسلمين من خلال التلبيس والتشكيك والمضرة بأخلاقهم كذلك من خلال ما يعرض فيها من الدعوة إلى الفساد وتيسير طرقه وتعليم الناشئة لهذه الأمور، وتربيتهم عليها من خلال ما يعرض فيها. . . فلا ريب أن هذا من أعظم المنكرات التي يجب التصدي لها وإنكارها وفق قواعد إنكار المنكر التي جاء بها النص من الكتاب والسنة، وبينها وفصلها علماء الأمة، والله تعالى يقول: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} (1) . وقال
--------------------------------------------
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শত্রুতা পোষণ, অন্যদের বিভ্রান্ত করা এবং ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা প্রচারের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করা হারাম এবং তা জায়েয নয়। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-শাইখ বলেন: (ইন্টারনেট হলো আধুনিক দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অন্যতম, যা তথ্যের ব্যাপক বিস্তার এবং তা সহজে লাভের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। যদি এটি ব্যক্তি বা বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কল্যাণকর কাজে, আল্লাহর দিকে আহ্বানে এবং পৃথিবীর আনাচে-কানাচে আল্লাহর দীন প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে এটি লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহর পথে জিহাদ করার অন্তর্ভুক্ত। আর মুসলমানদের উচিত এই কল্যাণকর উদ্দেশ্যে একে ব্যবহার করা এবং একে নিয়োজিত করা। পক্ষান্তরে সেইসব কলুষিত ওয়েবসাইট, যা বিভ্রান্তি ও সংশয় তৈরির মাধ্যমে মুসলমানদের আকীদার ক্ষতিসাধন করে এবং অশ্লীলতার আহ্বান, এর পথ সহজ করা এবং কিশোর ও তরুণদের এসব বিষয়ে শিক্ষিত করা ও অভ্যস্ত করার মাধ্যমে তাদের নৈতিক চরিত্রের অপকার করে... তবে নিঃসন্দেহে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বর্জনীয় বা গর্হিত (منكر) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা প্রতিরোধ করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর দলীলে বর্ণিত 'মুনকার' বা মন্দ কাজ প্রতিরোধের নীতিমালা অনুযায়ী একে প্রতিহত করা আবশ্যক, যা উম্মতের উলামায়ে কেরাম বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ বা বর্জনীয় (منكر) কাজ হতে নিষেধ করবে} (১)। এবং তিনি বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
صلى الله عليه وسلم كما في الحديث الذي رواه أبو سعيد الخدري رضي الله عنه: «من رأى منكم منكرًا فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان» (1) . (2)
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেমনটি আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: «তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো গর্হিত কাজ (منكر) দেখবে, সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে সক্ষম না হয় তবে যেন তার জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে); আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয় তবে যেন তার অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে), আর এটিই হলো ঈমানের দুর্বলতম (أضعف) স্তর» (১) । (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الثالث: تدمير المواقعتدمير المواقع يقصد به: الدخول غير المشروع على نقطة ارتباط أساسية أو فرعية متصلة بالإنترنت من خلال نظام آلي (PC-Server) أو مجموعة نظم مترابطة شبكيًا (Intranet) بهدف تخريب نقطة الاتصال أو النظام.
وليس هناك وسيلة تقنية أو تنظيمية يمكن تطبيقها وتحول تمامًا دون تدمير المواقع أو اختراق المواقع بشكل دائم، فالمتغيرات التقنية، وإلمام المخترق بالثغرات في التطبيقات والتي بنيت في معظمها على أساس التصميم المفتوح لمعظم الأجزاء Open source)) سواء كان ذلك في مكونات نقطة الاتصال أو النظم أو الشبكة أو البرمجة، جعلت الحيلولة دون الاختراقات صعبة جدًا، إضافة إلى أن هناك منظمات إرهابية يدخل من ضمن عملها ومسؤولياتها الرغبة في الاختراق وتدمير المواقع ومن المعلوم أن لدى المؤسسات من الإمكانات والقدرات ما ليس لدى الأفراد.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ওয়েবসাইট ধ্বংস করাওয়েবসাইট ধ্বংস করা বলতে বোঝায়: কোনো সংযোগস্থল বা সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা (PC-Server) বা নেটওয়ার্কযুক্ত সিস্টেম সমষ্টির (Intranet) মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত কোনো প্রাথমিক বা মাধ্যমিক সংযোগস্থলে অবৈধভাবে প্রবেশ করা।
এমন কোনো কারিগরি বা সাংগঠনিক পদ্ধতি নেই যা প্রয়োগ করে ওয়েবসাইট ধ্বংস করা বা স্থায়ীভাবে সাইট হ্যাকিং পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব। মূলত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর দুর্বলতা সম্পর্কে হ্যাকারের জ্ঞান—যার বেশিরভাগই মুক্ত উৎসের নকশার (Open source) ভিত্তিতে তৈরি, তা সংযোগস্থলের উপাদান, সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা প্রোগ্রামিং যাই হোক না কেন—অনুপ্রবেশ বা হ্যাকিং প্রতিরোধ করাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া এমন কিছু সন্ত্রাসী সংগঠন রয়েছে যাদের কাজ ও দায়িত্বের অংশ হলো হ্যাকিং এবং ওয়েবসাইট ধ্বংস করার লালসা; আর এটি সর্বজনবিদিত যে, ব্যক্তিবর্গের তুলনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও সামর্থ্য অনেক বেশি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
يستطيع قراصنة الحاسب الآلي (Hackers) التوصل إلى المعلومات السرية والشخصية واختراق الخصوصية وسرية المعلومات بسهولة، وذلك راجع إلى أن التطور المذهل في عالم الحاسب الآلي يصحبه تقدم أعظم في الجريمة المعلوماتية وسبل ارتكابها، ولا سيما وأن مرتكبيها ليسوا مستخدمين عاديين، بل قد يكونون خبراء في مجال الحاسب الآلي. (1)
إن عملية الاختراق الإلكتروني تتم عن طريق تسريب البيانات الرئيسة والرموز الخاصة ببرامج شبكة الإنترنت، وهي عملية تتم من أي مكان في العالم دون الحاجة إلى وجود شخص المخترق في الدولة التي اخترقت فيها المواقع فالبعد الجغرافي لا أهمية له في الحد من الاختراقات الإلكترونية ولا تزال نسبة كبيرة من الاختراقات لم تكتشف بعد بسبب التعقيد الذي يتصف به نظام تشغيل الحاسب الآلي. (2)
--------------------------------------------
কম্পিউটার হ্যাকাররা (Hackers) অত্যন্ত সহজেই গোপনীয় ও ব্যক্তিগত তথ্য লাভ করতে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের সুরক্ষা বিনষ্ট করতে সক্ষম। এর কারণ হলো, কম্পিউটার জগতের বিস্ময়কর বিবর্তনের সাথে সাথে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ এবং তা সংঘটনের কলাকৌশলের ক্ষেত্রেও ব্যাপকতর উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। বিশেষত, এ সকল অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কেবল সাধারণ ব্যবহারকারী নন, বরং তারা কম্পিউটার বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞও হতে পারেন। (১)
ইলেকট্রনিক অনুপ্রবেশ বা হ্যাকিং প্রক্রিয়াটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন সফটওয়্যারের মূল উপাত্ত ও বিশেষ সংকেতসমূহ পাচারের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সম্পাদন করা সম্ভব, যেখানে আক্রান্ত রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে হ্যাকারের সশরীরে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। ইলেকট্রনিক হ্যাকিং প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়। তদুপরি, কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের জটিল প্রকৃতির কারণে হ্যাকিংয়ের একটি বড় অংশ এখনও অজানাই থেকে যায়। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
يمكن لمزود خدمات الإنترنت (ISP) من الناحية النظرية أن يكتشف كل أفعال مستخدم الإنترنت عندما يتصل بالشبكة، ويشمل ذلك: عناوين المواقع التي زارها، ومتى كان ذلك، والصفحات التي اطلع عليها، والملفات التي جلبها، والكلمات التي بحث عنها، والحوارات التي شارك فيها، والبريد الإلكتروني الذي أرسله أو استقبله، وفواتير الشراء للسلع التي طلب شراءها، والخدمات التي شارك فيها، لكن تختلف من الناحية الفعلية كمية المعلومات التي يجمعها مزود خدمات الإنترنت عن مستخدم الشبكة باختلاف التقنيات والبرمجيات التي يستخدمها، فإذا لم يكن مزود الخدمة يستخدم مزودات (بروكسي) تتسلم وتنظم كل الطلبات، ويستخدم برامج تحسس الرقم الخاص (IP) التي تحلل حركة المرور بتفصيل كبير، فقد لا يسجل سوى البيانات الشخصية للمستخدم، وتأريخ وزمن الاتصال والانفصال عن الشبكة، وبعض البيانات الأخرى، إن معرفة البيانات التفصيلية للمستخدم تجعل الإقدام على الاعتداء الإلكتروني أقل، وذلك لأن بعض الذين يحصل منهم الاعتداء الإلكتروني يتم منهم ذلك بسبب ظنهم أن بياناتهم التفصيلية لا يمكن الاطلاع عليها، فيظن أنه بمجرد دخوله على الشبكة باسم
তাত্ত্বিকভাবে একজন ইন্টারনেট সেবাদানকারী (আইএসপি) যখন কোনো ব্যবহারকারী নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হন, তখন তার সমস্ত কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে সক্ষম। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তার পরিদর্শিত ওয়েবসাইটের ঠিকানাসমূহ, পরিদর্শনের সময়কাল, পঠিত পাতাসমূহ, সংগৃহীত ফাইলসমূহ, অনুসন্ধানকৃত শব্দাবলি, অংশগ্রহণকৃত সংলাপসমূহ, প্রেরিত বা প্রাপ্ত ইমেইলসমূহ, ক্রয়কৃত পণ্যের ইনভয়েস এবং যেসব সেবায় তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। তবে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে, একজন ইন্টারনেট সেবাদানকারী কর্তৃক ব্যবহারকারীর থেকে সংগৃহীত তথ্যের পরিমাণ তার ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারের ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। যদি সেবাদানকারী এমন কোনো প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার না করেন যা সমস্ত অনুরোধ গ্রহণ ও বিন্যস্ত করে, এবং যদি আইপি (IP) নম্বর শনাক্তকরণ প্রোগ্রাম ব্যবহার না করেন যা ট্র্যাফিকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে, তবে তিনি কেবল ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, নেটওয়ার্কে সংযোগ ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার তারিখ ও সময় এবং অন্য কিছু সাধারণ তথ্য রেকর্ড করতে পারেন। ব্যবহারকারীর বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকা সাইবার আক্রমণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়; কারণ যারা সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই ধারণার বশবর্তী হয়ে তা করে যে, তাদের বিস্তারিত তথ্য কারো পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। তারা মনে করে যে, শুধুমাত্র একটি ছদ্মনামে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهمي تصبح بياناته غير معلومة، وهذا خطأ. (1)
إن من الوسائل المستخدمة لتدمير المواقع ضخ مئات الآلاف من الرسائل الإلكترونية (e-mails) من جهاز الحاسوب الخاص بالمدمر إلى الموقع المستهدف للتأثير على السعة التخزينية للموقع، فتشكل هذه الكمية الهائلة من الرسائل الإلكترونية ضغطًا يؤدي في النهاية إلى تفجير الموقع العامل على الشبكة وتشتيت البيانات والمعلومات المخزنة في الموقع فتنتقل إلى جهاز المعتدي، أو تمكنه من حرية التجول في الموقع المستهدف بسهولة ويسر، والحصول على كل ما يحتاجه من أرقام ومعلومات وبيانات خاصة بالموقع المعتدى عليه. (2)
وفي الواقع إن هناك أسبابًا لوقوع عملية تدمير المواقع ومن هذه الأسباب ما يأتي:
1- ضعف الكلمات السرية فبعض مستخدمي الإنترنت يجد أن بعض الكلمات أو الأرقام أسهل في الحفظ فيستخدمها، مما يسهل عملية كسر وتخمين الكلمات السرية من المخترق.
2- عدم وضع برامج حماية كافية لحماية الموقع من الاختراق أو التدمير وعدم التحديث المستمر لهذه البرامج والتي تعمل على التنبيه عند وجود حالة اختراق للموقع.
--------------------------------------------
কাল্পনিক (وهمي), এর উপাত্তসমূহ অজ্ঞাত (غير معلومة) হয়ে যায় এবং এটি একটি ভুল (خطأ)। (১)
ওয়েবসাইট ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত মাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি হলো ধ্বংসকারীর নিজস্ব কম্পিউটার থেকে লক্ষ্যবস্তু ওয়েবসাইটে লক্ষ লক্ষ ই-মেইল (e-mails) প্রেরণ করা, যাতে সাইটের ধারণক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলা যায়। এই বিপুল পরিমাণ ই-মেইল এমন একটি চাপ সৃষ্টি করে যা শেষ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে সচল ওয়েবসাইটটিকে অকেজো করে দেয় এবং সাইটে সংরক্ষিত তথ্য ও উপাত্তসমূহকে বিচ্ছিন্ন (تشتيت) করে ফেলে, ফলে সেগুলো আক্রমণকারীর ডিভাইসে স্থানান্তরিত হয়। অথবা এটি তাকে লক্ষ্যবস্তু সাইটে অতি সহজে চলাফেরা করার এবং আক্রান্ত সাইটের বিশেষ নম্বর, তথ্য ও উপাত্ত থেকে তার যা প্রয়োজন তা সংগ্রহ করার সুযোগ করে দেয়। (২)
প্রকৃতপক্ষে ওয়েবসাইট ধ্বংসের প্রক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে এবং সেই কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- পাসওয়ার্ডের দুর্বলতা (ضعف): ইন্টারনেটের কিছু ব্যবহারকারী মনে করেন যে কিছু শব্দ বা সংখ্যা মুখস্থ রাখা সহজ, তাই তারা সেগুলো ব্যবহার করেন; যা হ্যাকারের জন্য পাসওয়ার্ড ভাঙা বা অনুমান করা সহজ করে তোলে।
২- ওয়েবসাইটকে অনুপ্রবেশ বা ধ্বংস থেকে রক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা প্রোগ্রাম না রাখা এবং এই প্রোগ্রামগুলো নিয়মিত আপডেট না করা, যা সাইটে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলে সতর্ক সংকেত প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3- استضافة الموقع في شركات غير قادرة على تأمين الدعم الفني المستمر، أو تستخدم برامج وأنظمة غير موثوقة أمنيًا ولا يتم تحديثها باستمرار.
4- عدم القيام بالتحديث المستمر لنظام التشغيل والذي يتم في كثير من الأحيان اكتشاف المزيد من الثغرات الأمنية فيه، ويستدعي ضرورة القيام بسد تلك الثغرات من خلال ملفات برمجية (1) تصدرها الشركات المنتجة لها لمنع المخربين من الاستفادة منها.
5- عدم القيام بالنسخ الاحتياطي للموقع (Backup) للملفات والمجلدات الموجودة فيه، وعدم القيام بنسخ قاعدة البيانات الموجودة بالموقع مما يعرض جميع المعلومات في الموقع للضياع وعدم إمكانية استرجاعها، ولذلك تبرز أهمية وجود نسخة احتياطية للموقع ومحتوياته خاصة مع تفاقم مشكلة الاختراقات في الآونة الأخيرة، ويعد عام 2002م من أكثر الأعوام اختراقًا، فقد تضاعفت حالات الاختراق والتدمير بسبب اكتشاف المزيد من الثغرات الأمنية في أنظمة التشغيل والبرامج المستخدمة في مزودات الإنترنت وانتشار كثير من الفيروسات. (2)
حكم تدمير المواقع:
--------------------------------------------
৩- এমন সব কোম্পানিতে ওয়েবসাইট হোস্ট করা যা নিরবচ্ছিন্ন কারিগরি সহায়তা প্রদানে অক্ষম, অথবা এমন সব প্রোগ্রাম ও সিস্টেম ব্যবহার করা যা নিরাপত্তার দিক থেকে নির্ভরযোগ্য (موثوقة) নয় এবং নিয়মিত আপডেট করা হয় না।
৪- অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট না করা; যার ফলে প্রায়শই এতে অধিক নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ে। এর ফলে ধ্বংসাত্মক ব্যক্তিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যু করা সফটওয়্যার ফাইলের (১) মাধ্যমে সেই ত্রুটিগুলো সংশোধন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
৫- ওয়েবসাইটের ফাইল ও ফোল্ডারগুলোর ব্যাকআপ (Backup) না রাখা এবং ডাটাবেসের অনুলিপি সংরক্ষণ না করা, যা ওয়েবসাইটের সকল তথ্য হারিয়ে যাওয়ার এবং তা পুনরুদ্ধারের পথ রুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণেই ওয়েবসাইটের একটি ব্যাকআপ কপি থাকার গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে হ্যাকিংয়ের সমস্যা প্রকট হওয়ার প্রেক্ষাপটে। ২০০২ সালকে হ্যাকিংয়ের সবচেয়ে আলোচিত বছরগুলোর একটি মনে করা হয়; কারণ অপারেটিং সিস্টেম ও ইন্টারনেট সার্ভারে ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলোতে অধিক নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়া এবং ভাইরাসের বিস্তারের ফলে হ্যাকিং ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ঘটনা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। (২)
ওয়েবসাইট ধ্বংস করার বিধান (حكم):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لقد جاءت الشريعة الإسلامية بحفظ حقوق الآخرين وصيانتها، قال الله عز وجل في النهي عن الاعتداء: {وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} (1) ، فنهى الله عز وجل عن الاعتداء، وإن المواقع على شبكة المعلومات العالمية حق للآخرين لا يجوز الاعتداء عليه بأي وجه من الاعتداء، وتدمير المواقع نوع اعتداء فهو محرم ولا يجوز، وقد صدر قرار مجمع الفقه الإسلامي في دورته الخامسة سنة 1409هـ بأن حقوق التأليف والاختراع أو الابتكار مصونة شرعًا، ولأصحابها حق التصرف فيها ولا يجوز الاعتداء عليها (2) .
فالاعتداء على مواقع الإنترنت ممنوع شرعًا من باب أولى، فإذا كان حق الاختراع والابتكار مصونًا شرعًا، فكذلك الموقع على شبكة الإنترنت مصون شرعًا ولا يجوز الاعتداء عليه.
ويعتبر تدمير الموقع من باب الإتلاف وعقوبته أن يضمن ما أتلفه، فيحكم عليه بالضمان.
--------------------------------------------
ইসলামি শরিয়ত অন্যের অধিকার সংরক্ষণ ও সুরক্ষার বিধান নিয়ে এসেছে। সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না" (১)। অতএব, মহান আল্লাহ সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছেন। বিশ্বব্যাপী তথ্য জালের (ইন্টারনেট) ওয়েবসাইটসমূহ অন্যের অধিকারভুক্ত; কোনোভাবেই তার ওপর সীমালঙ্ঘন করা বৈধ নয়। ওয়েবসাইট ধ্বংস করা এক প্রকার সীমালঙ্ঘন, তাই এটি নিষিদ্ধ (محرم) এবং অবৈধ। ১৪০৯ হিজরি সনে ইসলামি ফিকহ একাডেমির পঞ্চম অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, গ্রন্থস্বত্ব, আবিষ্কার বা উদ্ভাবনের অধিকারসমূহ শরয়িভাবে সংরক্ষিত; এগুলোর মালিকদের এতে হস্তক্ষেপ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা বৈধ নয় (২)।
সুতরাং ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটের ওপর সীমালঙ্ঘন করা শরয়িভাবে আরও জোরালোভাবে নিষিদ্ধ। যদি আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের অধিকার শরয়িভাবে সংরক্ষিত হয়, তবে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটও শরয়িভাবে সংরক্ষিত এবং এর ওপর কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন বৈধ নয়।
ওয়েবসাইট ধ্বংস করাকে বিনষ্টকরণের (إتلاف) অন্তর্ভুক্ত বিবেচনা করা হয় এবং এর শাস্তি হলো যা নষ্ট করা হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ (ضمان) দেওয়া; সুতরাং তার ওপর ক্ষতিপূরণের বিধান কার্যকর হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثاني طرق مكافحة الإرهاب الإلكتروني المطلب الأول: ترشيح الدخول على الإنترنت
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাইবার সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার পদ্ধতিসমূহ প্রথম অনুচ্ছেদ: ইন্টারনেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফিল্টারিং
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لا يمكن لأي بلد في هذا العصر أن يعيش معزولًا عن التطورات التقنية المتسارعة، والآثار الاقتصادية، والاجتماعية، والأمنية الناجمة عنها. وفي ظل الترابط الوثيق بين أجزاء العالم عبر تقنيات المعلومات والاتصالات والتطبيقات التي سمحت بانسياب الأموال والسلع والخدمات والأفكار والمعلومات بين مستخدمي تلك التقنيات، بات من الضروري لكل بلد حماية أفراده ومؤسساته ومقدراته وحضارته من آثار هذا الانفتاح، ومع إدراك الجميع اليوم للفوائد الجمة لتقنية المعلومات، فإن المخاطر الكامنة في تغلغل هذه التقنية في بيوتنا ومؤسساتنا تتطلب من المجتمع والدولة جميعًا الحيلولة دون حصول تلك المخاطر بشتى أنواعها، ومن أهم ما يجب توفيره في هذا الصدد حجب المواقع الضارة والتي تدعو إلى الفساد والشر، ومنها المواقع التي تدعو وتعلم الإرهاب والعدوان والاعتداء على الآخرين بغير وجه حق، فهذا الأسلوب يعد من الأساليب المجدية والنافعة، فالإنسان لا يعرض نفسه للفتن والشرور، بل المسلم يسأل ربه أن يحفظه من التعرض للفتن، والله عز وجل يقول عن يوسف عليه السلام: {قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ
বর্তমান যুগে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষেই দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রযুক্তিগত বিবর্তন এবং এর ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রভাবসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা সম্ভব নয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে গড়ে ওঠা নিবিড় আন্তঃসম্পর্কের ফলে প্রযুক্তির ব্যবহারকারীদের মধ্যে অর্থ, পণ্য, সেবা, চিন্তা ও তথ্যের যে অবাধ প্রবাহ তৈরি হয়েছে—সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য তার নাগরিক, প্রতিষ্ঠান, জাতীয় সক্ষমতা ও সভ্যতাকে এই উন্মুক্ততার নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষা প্রদান করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির সুদূরপ্রসারী উপকারিতা সম্পর্কে সর্বজনীন স্বীকৃতি থাকলেও, আমাদের ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানসমূহে এই প্রযুক্তির প্রসারের গভীরে যে নানাবিধ ঝুঁকি নিহিত রয়েছে, তা প্রতিরোধে সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়কেই সম্মিলিতভাবে সচেষ্ট হতে হবে। এই বিষয়ে যা নিশ্চিত করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন তা হলো—ক্ষতিকর ওয়েবসাইটসমূহ বন্ধ করে দেওয়া, যা মূলত বিপর্যয় ও অনিষ্টের দিকে ধাবিত করে। এর মধ্যে রয়েছে সেইসব ওয়েবসাইট যা সন্ত্রাসবাদ, শত্রুতা এবং অন্যের ওপর অন্যায়ভাবে আক্রমণের শিক্ষা দেয় ও উস্কানি প্রদান করে। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কল্যাণকর পন্থা হিসেবে বিবেচিত। কেননা, মানুষ নিজেকে ফিতনা ও অনিষ্টের সম্মুখীন করে না, বরং একজন মুসলিম তার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করে যেন তিনি তাকে ফিতনার সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা করেন। মহান আল্লাহ ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে ইরশাদ করেন: {তিনি বললেন: হে আমার রব! তারা আমাকে যার দিকে আহ্বান করছে, তার চেয়ে কারাগারই আমার নিকট অধিক প্রিয়...}
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُنْ مِنَ الْجَاهِلِينَ} (1) .
ولقد جاء في بعض الدراسات أن الدول التي تفرض قوانين صارمة في منع المواقع الضارة والهدامة تنخفض فيها نسبة الجرائم، ولذلك سعت مدينة الملك عبد العزيز للعلوم والتقنية إلى حجب المواقع الإباحية عن مستخدمي الإنترنت في المملكة العربية السعودية حفاظًا على الأخلاق وصيانة للأمة من عبث العابثين وإفساد المجرمين، فقد صدر في عام 1417هـ قرار مجلس الوزراء رقم (163) الذي أناط بمدينة الملك عبد العزيز للعلوم والتقنية مهمة إدخال خدمة الإنترنت العالمية للمملكة، وتولي جميع الإجراءات اللازمة بما في ذلك ترشيح المحتوى.
ولقد سعت بعض الدول إلى حجب المواقع الضارة، ففي تركيا قررت شركة الاتصالات التركية التي تزود جميع أنحاء البلاد بخدمات الإنترنت حجب بعض المواقع الضارة على شبكة المعلومات العالمية الإنترنت، ولذلك عمدت إلى تركيب الأجهزة والأدوات التي تقوم بتنقية المواقع وحجب المواقع الضارة ومنع ظهورها (2) ، وهناك دول عدة إسلامية وغير إسلامية تعمد إلى ترشيح شبكة الإنترنت وحجب المواقع التي ترى أنها ضارة أخلاقيًا أو فكريًا.
--------------------------------------------
{...আর আপনি যদি আমার থেকে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হব।} (১) .
বিভিন্ন গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, যেসব দেশ ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক ওয়েবসাইটগুলো প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগ করে, সেখানে অপরাধের হার হ্রাস পায়। সেই লক্ষ্যেই কিং আব্দুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সৌদি আরবের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য অশ্লীল সাইটসমূহ ব্লক করার প্রয়াস চালিয়েছে, যেন নৈতিকতা রক্ষা পায় এবং উম্মাহকে অপরাধীদের অনিষ্ট ও অনর্থক অপতৎপরতা থেকে সুরক্ষা প্রদান করা যায়। এর প্রেক্ষিতে ১৪১৭ হিজরি সনে মন্ত্রিসভার ১৬৩ নম্বর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা কিং আব্দুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সেবা প্রবর্তন এবং বিষয়বস্তু ফিল্টারিং (ترشيح المحتوى) সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করে।
অনেক দেশই ক্ষতিকর ওয়েবসাইটসমূহ ব্লক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেমন তুরস্কে, তুর্কি টেলিকম কোম্পানি—যা সমগ্র দেশে ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ করে—বিশ্বব্যাপী তথ্য নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটে বিদ্যমান কিছু ক্ষতিকর সাইট ব্লক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ উদ্দেশ্যে তারা এমন কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম স্থাপন করেছে যা ওয়েবসাইটগুলো পরিশোধন (تنقية) করে, ক্ষতিকর সাইটসমূহ ব্লক করে এবং সেগুলোর প্রদর্শন প্রতিরোধ করে (২)। এ ছাড়াও অনেক মুসলিম ও অমুসলিম রাষ্ট্র ইন্টারনেট ফিল্টারিং (ترشيح) করে থাকে এবং এমন সব ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় যা তাদের দৃষ্টিতে নৈতিক বা চিন্তাগতভাবে ক্ষতিকর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلب الثاني: أنظمة التعاملات الإلكترونيةمع التوجه المتنامي نحو تقنية المعلومات، تبرز بوضوح الحاجة الملحة إلى إيجاد أنظمة لضبط التعاملات الإلكترونية بشتى صورها، فعلى الرغم من محدودية ما أنجز في هذا السياق فإن الجهات التي تضطلع بهذه المهام تعاني من البطء الشديد في إنجاز هذه الأنظمة لكثرة الجهات الممثلة في لجان الصياغة، وتعدد الجهات المرجعية التي تقوم بمراجعة الأنظمة واعتمادها، لذا فلا بد من إعداد الأنظمة اللازمة لتحقيق الاستفادة القصوى من تقنية المعلومات، وحماية المتعاملين من المخاطر التي تنطوي عليها تلك التقنيات، ولقد أظهرت استبانة أجريت للتعرف على مدى الحاجة إلى وجود تنظيمات ولوائح تحكم قضايا تقنية المعلومات أن 70% يرون الحاجة إلى ذلك (1) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলেকট্রনিক লেনদেন ব্যবস্থাতথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রসারের সাথে সাথে ইলেকট্রনিক লেনদেনের সকল রূপ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনি কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও এই প্রেক্ষাপটে এ পর্যন্ত সম্পাদিত কাজের পরিধি অত্যন্ত সীমিত, তবুও যে সকল কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত তারা এই আইনি ব্যবস্থাগুলো চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চরম ধীরগতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো খসড়া প্রণয়ন কমিটিতে বহু সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব এবং আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে একাধিক রেফারেন্স কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা। অতএব, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং এই প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা প্রদান করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও নীতিমালা প্রস্তুত করা অপরিহার্য। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য প্রবিধান ও বিধিমালার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৭০% অংশগ্রহণকারী এর আবশ্যকতা অনুভব করেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল ইরহাবিল ইলিকতুরুনি হুকমুহা ফিল ইসলামি ওয়া তুরুকু মুকাফাহাতিহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إن المخاطر الكامنة في تغلغل تقنية المعلومات الحديثة في واقعنا تتطلب من المجتمع والدول جميعًا الحيلولة دون حصول تلك المخاطر بشتى أنواعها، ومن أهم ما يجب توفيره في هذا الصدد الأحكام والأنظمة واللوائح المنظمة لسلوك الأفراد والمؤسسات حيال التعامل مع تقنية المعلومات مهما كان نوع التعامل وأيًا كانت مقاصده، دون تقييد لحرية المجتمع عن الاستثمار البناء لتلك التقنية، فحسب دراسة أجراها مشروع الخطة الوطنية لتقنية المعلومات على ما يزيد عن 700 شخص في المملكة العربية السعودية، اتضح أن 9% من أفراد العينة يقومون بمحاولات اختراق مواقع وأجهزة الأفراد والمؤسسات ، بالإضافة إلى ما يقرب من 7% يقومون بهذا العمل بشكل نادر، وهذه النسبة عالية بكل المقاييس، وتزيد هذه النسبة في نوع آخر من المخالفات كإغراق أجهزة الخادمات بالرسائل البريدية، حيث وصلت النسبة إلى ما يزيد عن 15% بالإضافة إلى 12% من أفراد العينة يقومون بهذا العمل بشكل نادر (أي سبق أن قاموا به) .
আমাদের বাস্তব জীবনে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অনুপ্রবেশের ফলে যে সকল অন্তর্নিহিত ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাজ ও রাষ্ট্র—উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন উপায়ে সেই ঝুঁকিগুলো প্রতিরোধের দাবি রাখে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন তা হলো, তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী আইনি বিধান (الأحكام), নিয়মাবলী ও প্রবিধানসমূহ; ব্যবহারের ধরন যা-ই হোক এবং তার উদ্দেশ্য (مقاصد) যা-ই হোক না কেন। তবে এটি অবশ্যই তথ্যপ্রযুক্তির গঠনমূলক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমাজের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ না করে হতে হবে। সৌদি আরবের ‘জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পরিকল্পনা’ প্রকল্পের অধীনে ৭০০-রও বেশি ব্যক্তির ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, নমুনার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯% ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং ডিভাইস হ্যাক করার চেষ্টা করে। এর পাশাপাশি প্রায় ৭% মানুষ কদাচিৎ এই কাজ করে থাকে। সকল মানদণ্ডেই এই হার অনেক বেশি। অন্যান্য ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এই হার আরও বৃদ্ধি পায়, যেমন সার্ভারগুলোতে অতিরিক্ত ইমেইল পাঠিয়ে অচল করে তোলা; এক্ষেত্রে এই হার ১৫% এর বেশি এবং এর সাথে আরও ১২% ব্যক্তি রয়েছে যারা কদাচিৎ এই কাজ করে থাকে (অর্থাৎ তারা ইতিপূর্বে এটি করেছে)।