(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: -)
خلاصة الأفكار شرح مختصر المنار   (ابن قطلوبغا)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: خلاصة الأفكار شرح مختصر المنار

المؤلف: زين الدين قاسم بن قطلوبغا الحنفي (ت 879 هـ)

حققه وعلق حواشيه: حافظ ثناء الله الزاهدي

الناشر: دار ابن حزم

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 189

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 محرم 1436

খুলাসাত আল-আফকার শারহ মুখতাসার আল-মানার   (ইবন কুতলুবুগা)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: খুলাসাত আল-আফকার শারহ মুখতাসার আল-মানার

লেখক: যয়নুদ্দীন কাসিম ইবন কুতলুবুগা আল-হানাফি (মৃ. ৮৭৯ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা সংযোজন: হাফিজ সানাউল্লাহ আল-যাহিদী

প্রকাশক: দার ইবন হাযম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৯

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতা আল-নুসসাখ দল, (মারকাজ আন-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২২ মুহাররাম ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ১)
خلاصة الأفكار

شرح مختصر المنار

 

تأليف

زين الدين قاسم بن قطلوبغا الحنفي

المتوفى عام 879هـ

 

حققه وعلق حواشيه

حافظ ثناء الله الزاهدي

 

دار ابن حزم
খুলাসাতুল আফকার

শারহু মুখতাসারিল মানার

 

রচনা

যায়নুদ্দিন কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি

মৃত্যু: ৮৭৯ হিজরি

 

তাহকিক ও টীকা প্রদান করেছেন

হাফেজ (حافظ) সানাউল্লাহ আয-যাহিদি

 

দার ইবনে হাযম
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৪৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

وبعد:

فإن الفقير إلى رحمة ربه الغني قاسم الحنفي يقول: قد قرأ عليّ الجناب العالي الفخري عثمان بن أغلبك الحلبي الحنفي «مختصر المنار» [في أصول الفقه] للشيخ الإمام طاهر بن الحسن بن عمر بن حبيب الحلبي، فأمليت عليه [أي شرحت «المختصر»] ما يحلّ ألفاظه وهو قوله:

 

‌‌[أصول الشرع]

(أصول الشرع) الأصول: جمع أصل، والأصل ما يبتني عليه
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই তাঁর অমুখাপেক্ষী প্রতিপালকের রহমতের ভিখারি কাসিম আল-হানাফী বলছেন: উচ্চমর্যাদাশীল ও গৌরবময় জনাব উসমান ইবনে আগলাবাক আল-হালাবি আল-হানাফি আমার নিকট শেখ ইমাম তাহির ইবনে হাসান ইবনে উমর ইবনে হাবিব আল-হালাবি রচিত [উসুলুল ফিকহ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক] ‘মুখতাসারুল মানার’ পাঠ করেছেন; অতঃপর আমি তাঁর নিকট এমন পাঠ প্রদান করেছি [অর্থাৎ ‘মুখতাসার’ গ্রন্থটির ব্যাখ্যা করেছি] যা এর শব্দাবলিকে বিশ্লেষণ করে; আর তা হলো তাঁর এই বাণী:

 

‌‌[শরীয়তের মূলনীতি (أصول الشرع)]

(শরীয়তের মূলনীতি (أصول الشرع)) উসুল (الأصول): এটি আসল (أصل) শব্দের বহুবচন, আর আসল (الأصل) হলো যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৪৮)
غيره، [والفرع ما يبتنى على غيره].

والمراد هنا الأدلة الشرعية لابتناء الأحكام عليها، والشرع بمعنى المشروع، والمراد به الأحكام المشروعة، والمراد من الحكم المحكوم به، وهو ما يثبت بالخطاب كالوجوب والحرمة وغيرهما.

كأنه قال: أدلة الأحكام المشروعة:

(الكتاب) قدمه؛ لأنه أصل من كل وجه

(والسنة) أخَّرها عن الكتاب؛ لتوقف حجيتها عليه،

(وإجماع الأمة) أخره عنهما لتوقف حجيته عليهما،

(والقياس) أخره؛ لأنه فرعٌ بالنسبة إلى الأدلة المتقدمة؛ لأن حكمَه مستفادٌ منها في كلِّ حادثة، بعدما ثبتَ حجَّيتُه بالكتاب والسنة، بخلاف الإجماع، فإنه لا يتوقَّف في كلِّ حادثة على ما تقدَّمه.
অন্য কিছু, [আর শাখা (فرع) হলো যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে]।

আর এখানে উদ্দেশ্য হলো শরয়ী দলীলসমূহ, কারণ বিধানসমূহ এগুলোর ওপরই প্রতিষ্ঠিত। এখানে 'শরয়' অর্থ হলো শরীয়তসম্মত বিষয়, এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরীয়তসম্মত বিধানসমূহ। আর 'হুকুম' (বিধান) বলতে 'আল-মাহকুম বিহি' (যাহার বিধান দেওয়া হয়েছে) উদ্দেশ্য, আর তা হলো যা সম্বোধনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়; যেমন আবশ্যকতা (وجوب), নিষিদ্ধতা (حرمة) এবং অন্যান্য।

যেন তিনি বলেছেন: শরীয়তসম্মত বিধানসমূহের দলীলসমূহ:

(আল-কিতাব) একে তিনি অগ্রগণ্য করেছেন; কারণ এটি সর্বদিক থেকেই মূল (أصل)।

(আস-সুন্নাহ) একে তিনি কিতাবের পরে স্থান দিয়েছেন; কারণ এর প্রামাণ্যতা (حجية) কিতাবের ওপর নির্ভরশীল।

(উম্মতের ঐক্যমত্য) একে তিনি উক্ত দুইটির পরে উল্লেখ করেছেন; কারণ এর প্রামাণ্যতা (حجية) সেই দুইটির ওপর নির্ভরশীল।

(আর কিয়াস) একে তিনি শেষে রেখেছেন; কারণ পূর্বোক্ত দলীলসমূহের তুলনায় এটি একটি শাখা (فرع); কেননা কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে এর প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়ার পর, প্রতিটি নতুন ঘটনার ক্ষেত্রে এর বিধান ঐ দলীলসমূহ থেকেই আহরিত হয়। ইজমার বিষয়টি ভিন্ন, কারণ প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে এটি তার পূর্ববর্তী দলীলসমূহের ওপর (সরাসরি) নির্ভরশীল নয়।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৪৯)
[الكتاب]

أما الكتاب الذي سبق ذكره (فالقرآن) وهو معروف عند كل أحد، فكان تعريفاً؛ لأنه بهذا أشتهر، إلا أنه يقال على الصفة القديمة، وعلى ما بين دفتي المصحف، واستدلال [أهل] الأصولي بالثاني.

فلذلك قال: (المنقول متواتراً)؛ ليخصَّ ما يستدلّ به بعد زمان الرسول صلى الله عليه وسلم

(وهو): أي القرآن (نظم): أي ألفاظ مرتَّبةٌ بعضُها على بعض، (ومعنى) مستفادٌ من ذلك النظم، ذكرَه لرفع وهم مَن توهَّم أنه عندنا اسم للمعنى فقط؛ لقول أبي حنيفة رحمه الله بجواز القراءة في الصلاة بالفارسية مع القدرة على العربية وهذا مرجوع عنه وقد علم الوجه في المطولات.
[আল-কিতাব]

পূর্বোল্লিখিত কিতাবটি হলো (আল-কুরআন), যা প্রত্যেকের নিকট সুপরিচিত। এর মাধ্যমেই এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে বলে একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তবে এটি আল্লাহর অনাদি গুণ (الصفة القديمة) এবং যা মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে বিদ্যমান—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। উসুলশাস্ত্রবিদগণ দলিল প্রদানের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অর্থটিই গ্রহণ করেন।

এ কারণেই তিনি বলেছেন: (যা নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত - متواتراً); যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরবর্তী সময়ের দলিলযোগ্য বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট করা যায়।

(তা হলো): অর্থাৎ কুরআন হলো (শব্দবিন্যাস): অর্থাৎ পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত শব্দাবলি, (এবং অর্থ) যা সেই শব্দবিন্যাস থেকে অর্জিত হয়। তিনি এটি উল্লেখ করেছেন সেই ভুল ধারণা দূর করার জন্য, যারা মনে করে যে আমাদের নিকট এটি কেবল অর্থের নাম; কারণ ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি আরবিতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নামাজে ফারসি ভাষায় কিরাত পাঠ বৈধ হওয়ার মত দিয়েছিলেন। তবে এ মতটি থেকে পরবর্তীতে ফিরে আসা হয়েছে এবং এর বিস্তারিত কারণসমূহ দীর্ঘ কলেবরের গ্রন্থগুলোতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫০)
(وأقسامها): أي النظم والمعنى (أربعة)، وهذا باعتبار ما يتعلَّق به الأحكام، وإلا فأقسامهما أكثر من ذلك؛ لأنه بحرٌ عميقٌ فيه علم التوحيد، والقصص، والأمثال، والحكم، وغير ذلك.

واختاروا هذا التقسيم لاستغراقه الاعتبارات من أول وضع الواضع إلى آخر فهم السامع؛ لأن أداء المعنى باللفظ الخارجي على قانون الوضع يستدعي وضع الواضع، ثم دلالته أي كونه بحيث يفهم منه المعنى، ثم استعماله، ثم فهم المعنى.

فللفظ بتلك الاعتبارات الأربع تقسيمات مربعة ـ إلا الثاني فإنه مثمن ـ تسمى أقسامهما:

وجوه النظم صيغة ولغة: أي صورة ومادة.

ووجوه البيان: أي إظهار المراد بحسب الدلالة الواضحة أو الخفية؛ لحكمة الابتلاء بأحد الوجهين.

ووجوه الاستعمال.

ووجوه الوقف: أي اطلاع السامع على مراد المتكلم ومعنى الكلام.

والمرجع في الحصر: الاستقراء.
(এবং এর প্রকারসমূহ): অর্থাৎ গঠনশৈলী এবং অর্থ (চারটি), আর এটি বিধিবিধানের (أحكام) সাথে সংশ্লিষ্টতার বিচারে; নতুবা এর প্রকারভেদ এর চেয়েও অনেক বেশি। কারণ এটি একটি গভীর সমুদ্র, যাতে তাওহিদ বিদ্যা, কাহিনীসমূহ, প্রবাদ-প্রবচন, হিকমত (حكم) এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে।

তারা এই বিভাজনটি পছন্দ করেছেন কারণ এটি আভিধানিক প্রবর্তনকারীর প্রবর্তন (وضع) থেকে শুরু করে শ্রোতার অনুধাবন পর্যন্ত সমস্ত দিককে পরিব্যাপ্ত করে। কারণ বাহ্যিক শব্দের মাধ্যমে অর্থের বহিঃপ্রকাশ প্রবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী প্রবর্তনকারীর প্রবর্তন (وضع) দাবি করে, অতঃপর তার নির্দেশক হওয়া (دلالة) অর্থাৎ এমন হওয়া যাতে তা থেকে অর্থ অনুধাবন করা যায়, এরপর তার ব্যবহার (استعمال) এবং পরিশেষে অর্থের অনুধাবন।

সেই চারটি বিবেচনার ভিত্তিতে শব্দের জন্য চারটি চতুর্মুখী বিভাজন রয়েছে—দ্বিতীয়টি ব্যতীত যা আটটি বিভাগ সম্বলিত—যাকে বলা হয়:

গঠনশৈলীর দিকসমূহ (وجوه النظم) রূপ ও ভাষা হিসেবে: অর্থাৎ অবয়ব ও উপাদানগতভাবে।

এবং বর্ণনার দিকসমূহ (وجوه البيان): অর্থাৎ সুস্পষ্ট (واضحة) অথবা অস্পষ্ট (خفية) নির্দেশনার ভিত্তিতে উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করা; দুই পদ্ধতির যে কোনো একটির মাধ্যমে পরীক্ষার রহস্য নিহিত থাকার কারণে।

এবং ব্যবহারের দিকসমূহ (وجوه الاستعمال)।

এবং উপলব্ধির দিকসমূহ (وجوه الوقف): অর্থাৎ বক্তার উদ্দেশ্য এবং বক্তব্যের অর্থের ওপর শ্রোতার অবগত হওয়া।

আর এই সীমাবদ্ধকরণের ভিত্তি হলো: অনুসন্ধান (استقراء)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌[أقسام الكلمة باعتبار وضعه للمعنى]

‌‌(1) الخاص

الأول: أي القسم الأول من الأقسام الأربعة (في وجوه) أي طرق (النظم) قيل: لا يناسب المقام إذ لا معنى لطريق النظم، ولعل الوجه بمعنى الجهة التي هي بمعنى الاعتبار، فكأنه قال: في اعتبارات النظم.

(وهو): أي القسم الأول: (الخاص) وهو (ما) أي لفظ (وضع لمعنى) أي واحد، احترازاً عن المهمل، فإنه لا معنى له، وعن المشترك، فإنه وضع لأكثر من معنى.

والمَعْني: بالمعنى: المدلول، لا ما يقابل العين؛ ليتناول قسمي الخاص الحقيقي: كزيد، والاعتباري: كإنسان ورجل على ما سيأتي.

(معلوم) خرج به على المجمل؛ لأن معناه غير معلوم للسامع.

(على الانفراد):أي من حيث هو واحد، مع قطع النظر عن أن يكون أفراد أوْ لا.

واحترز به عن العام: كالمسلمين فإنه موضوع لمعنى واحد شامل لأفراد، ولا يخفى أن ترك هذا أولى بالاختصار.

(جنساً) كان الخاص كإنسان فإن معناه واحد معلوم، وهو
‌[শব্দের প্রকারভেদ (أقسام الكلمة) অর্থের জন্য নির্ধারিত হওয়ার বিবেচনায়]

‌‌(১) সুনির্দিষ্ট (الخاص)

প্রথম: অর্থাৎ চারটি প্রকারের প্রথম প্রকার (শব্দবিন্যাসের পদ্ধতির (وجوه النظم) ক্ষেত্রে)। বলা হয়েছে যে: এটি এই প্রসঙ্গের সাথে মানানসই নয়, কেননা শব্দবিন্যাসের পদ্ধতির কোনো অর্থ হয় না। সম্ভবত 'ওয়াজহ' (الوجه) শব্দটি 'দিক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা 'বিবেচনা' (الاعتبار) অর্থ প্রদান করে; ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ালো যে: শব্দবিন্যাসের বিবেচনার ক্ষেত্রে।

(তা হলো): অর্থাৎ প্রথম প্রকার: সুনির্দিষ্ট (الخاص)। এটি হলো এমন (শব্দ) যা (একটি নির্দিষ্ট অর্থের জন্য নির্ধারিত (وضع لمعنى))। এখানে 'একটি নির্দিষ্ট' বলার মাধ্যমে নিরর্থক (المهمل) শব্দ থেকে বিরত থাকা হয়েছে, কেননা তার কোনো অর্থ নেই; এবং একাধিক অর্থবোধক (المشترك) শব্দ থেকেও বিরত থাকা হয়েছে, কেননা তা একাধিক অর্থের জন্য নির্ধারিত হয়ে থাকে।

আর এখানে 'অর্থ' (المعنى) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যা নির্দেশিত হয়েছে (المدلول), তা 'সত্তা' বা 'বস্তুর' (العين) বিপরীত কোনো বিষয় নয়; যাতে এটি প্রকৃত সুনির্দিষ্ট (الخاص الحقيقي) —যেমন: যায়েদ— এবং বিবেচনাপ্রসূত সুনির্দিষ্ট (الاعتباري) —যেমন: মানুষ ও পুরুষ— এই উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যেমনটি সামনে আসছে।

(সুবিদিত (معلوم)): এর মাধ্যমে অস্পষ্ট (المجمل) শব্দকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ তার অর্থ শ্রোতার নিকট সুবিদিত নয়।

(এককভাবে (على الانفراد)): অর্থাৎ এটি এক হওয়ার দিক থেকে, তার অধীনে আরও অনেক ব্যক্তি বা সদস্য আছে কি নেই সে বিষয়টিকে বিবেচনায় না নিয়ে।

এবং এর দ্বারা সাধারণ (العام) থেকে বিরত থাকা হয়েছে: যেমন 'মুসলিমগণ', কারণ এটি এমন একটি অর্থের জন্য নির্ধারিত যা অনেক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি স্পষ্ট যে, সংক্ষিপ্তকরণের খাতিরে এটি বর্জন করাই অধিক উত্তম ছিল।

(শ্রেণিগত (جنساً)) সুনির্দিষ্ট হোক, যেমন 'মানুষ'; কারণ এর অর্থ এক এবং সুবিদিত, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫২)
الحيوان الناطق.

(أو نوعاً) كرجل فإن معناه واحد معلوم، وهو إنسان ذكر جاوز حد الصغر.

(أو عيناً) كزيد، فإن معناه واحد معلوم، وهو ذات مشخصة.

(وحكمه) أي حكم الخاص وهو الأثر الثابت به (تناول المخصوص)، وهو مدلول الخاص (قطعاً) أي تناولاً قاطعاً إرادة غيره عنه،
বাকশক্তি সম্পন্ন জীব (الحيوان الناطق)।

(অথবা প্রকার হিসেবে (نوعاً)) যেমন পুরুষ; কেননা এর অর্থ এক ও সুবিদিত, আর তা হলো এমন এক মানব পুরুষ যে শৈশবকাল অতিক্রম করেছে।

(অথবা ব্যক্তি হিসেবে (عيناً)) যেমন জায়েদ; কেননা এর অর্থ এক ও সুবিদিত, আর তা হলো একটি নির্দিষ্ট সত্তা।

(আর এর বিধান (حكمه)) অর্থাৎ 'খাস' (সুনির্দিষ্ট)-এর বিধান, আর তা হলো এর দ্বারা সাব্যস্ত প্রভাব (সুনির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা (تناول المخصوص)), যা 'খাস'-এর নির্দেশিত অর্থ; (অকাট্যভাবে (قطعاً)) অর্থাৎ এমন অকাট্যভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যা এর থেকে অন্য কিছু উদ্দেশ্য হওয়াকে নাকচ করে দেয়,
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وهذا عند مشايخ العراق خلافاً لمشايخ سمرقند، ومذهبهم مردود باتفاق العرف، حيث لا يعتبرون احتمالاً لا عن دليل أصلاً، فلا يفرون من جدار لا شق فيه ويعدون الخائف منه مجنوناً.

(بلا احتمال بيان): أي بيان التفسير، لينفي زعم مَن قال: الخاص يحتمل البيان؛ لأن بيانه إما إثبات الثابت، أو إزالة الزائل، وكلاهما فاسد.
এটি ইরাকের মাশায়েখদের নিকট স্বীকৃত মত, যা সমরকন্দের মাশায়েখদের মতের বিপরীত। তাদের অভিমতটি সামাজিক প্রথা (عرف) অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ তারা এমন কোনো সম্ভাবনাকে আমলে নেন না যার মূলে কোনো দলিল নেই। তারা এমন দেয়াল থেকে পলায়ন করেন না যাতে কোনো ফাটল নেই এবং যে ব্যক্তি তা দেখে ভীত হয় তাকে তারা উন্মাদ গণ্য করেন।

(ব্যাখ্যার সম্ভাবনা ব্যতিরেকে): অর্থাৎ ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা (بيان التفسير), যাতে সেই ব্যক্তির দাবি খণ্ডন করা যায় যে বলে: খাস (خاص) বা নির্দিষ্ট পরিভাষাটি ব্যাখ্যার সম্ভাবনা (احتمال البيان) রাখে; কারণ এর ব্যাখ্যা প্রদান হয় সাব্যস্ত বিষয়কে পুনরায় সাব্যস্ত করা, নতুবা বিদ্যমান কোনো কিছুকে অপসারিত করা, আর উভয়টিই অশুদ্ধ (فاسد)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫৫)
[أقسام الخاص]

الأمر

(ومنه): أي من الخاص (الأمر)، وهو قول القائل لمَن دونه افعل، مراداً به الطلب.

(ويختص): أي مدلول الأمر (بصيغة) فلا يعرف بدونها (لازمة) أي مختصة به، كما هو مختص بها.

(فلا يكون الفعل موجباً)؛ لأن الوجوب بالأمر، والأمر مختص بصيغته.
[খাস (الخاص)-এর প্রকারভেদ]

আদেশ (الأمر)

(এবং এর মধ্য থেকে): অর্থাৎ খাস (الخاص)-এর অন্তর্ভুক্ত হলো আদেশ (الأمر); আর তা হলো কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তির তার নিম্নস্থ কাউকে ‘তুমি করো’ বলা, যার দ্বারা কোনো কিছু তলব করা বা চাওয়া উদ্দেশ্য হয়।

(এবং এটি নির্দিষ্ট): অর্থাৎ আদেশের (الأمر) প্রতিপাদ্য বিষয় একটি নির্দিষ্ট শব্দ কাঠামোর (صيغة) সাথে সংশ্লিষ্ট, যা ব্যতীত তা পরিজ্ঞাত হয় না; এটি এর জন্য একটি অপরিহার্য (لازمة) বিষয়, অর্থাৎ এটি যেমন সেই শব্দ কাঠামোর জন্য নির্দিষ্ট, তেমনি সেই শব্দ কাঠামোও এর জন্য নির্দিষ্ট।

(ফলে কেবল কোনো কাজ করা নিজে থেকে আবশ্যকতা প্রদানকারী (موجب) হয় না); কারণ আবশ্যকতা (وجوب) আদেশের (الأمر) মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, আর আদেশ (الأمر) তার নির্দিষ্ট শব্দ কাঠামোর (صيغة) সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫৭)
(وموجبه): أي الذي يوجبه الأمر المطلق هو (الوجوب) أي لزوم الإتيان بالمأمور به؛ لقوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ}، وقوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}.

وسواء كان الأمر (بعد الحظر): أي المنع نحو: قوله تعالى: {فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ}.

(أو قبله)؛ لأن المقتضى للوجوب، وهو الصيغة قائم في الحالين، وما جاء للإباحة بعد الحظر فلدليل غير الصيغة.
(আর এর অপরিহার্য দাবি (وموجبه)): অর্থাৎ নিরঙ্কুশ নির্দেশ (الأمر المطلق) যা সাব্যস্ত করে তা হলো (অপরিহার্যতা (الوجوب)), যার অর্থ হলো আদিষ্ট বিষয় (المأمور به) পালন করা আবশ্যক হওয়া; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ করার অবকাশ থাকে না", এবং মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।"

আর নির্দেশটি (নিষেধাজ্ঞার পরে (بعد الحظر)) হোক—অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা (المنع) এর পর আসা, যেমন: মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যখন সম্মানিত মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো।"

(অথবা তার পূর্বে) হোক; কারণ অপরিহার্যতার (الوجوب) দাবিদার তথা শব্দরূপ (الصيغة) উভয় অবস্থাতেই বিদ্যমান। আর নিষিদ্ধতার পর যা বৈধতা (الإباحة) বোঝাতে আসে, তা মূলত শব্দরূপ (الصيغة) এর অতিরিক্ত অন্য কোনো দলিলের কারণে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫৮)
(ولا يقتضي): أي لا يوجب الأمر المطلق (التكرار): أي تكرار المأمور به، وهو أن يفعله ثم يعود إليه، وهكذا (ولا يحتمله) أي لا يكون التكرار محتملاً من محتملات الأمر، يحمل عليه بالقرينة (سواء تعلق) الأمر (بشرط) نحو قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُباً فَاطَّهَّرُوا} (أو اختص بوصف) نحو قوله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا}؛ لأن مدلول صيغة الأمر طلب حقيقة الفعل، والمرّة والتكرار بالنسبة إلى الحقيقة أمر خارجي، والخروج عن عهدة المأمور به بالمرة بحصول الحقيقة، لا أنها من مدلول الصيغة، وما تكرر من العبادات فبتكرر أسبابها عند الجمهور، وقال بعض بتكرر المأمورات بتكرر الأوامر.

وإذا لم يقتض التكرار ولا يحتمله، (فيقع) أي يقع الأمر فيما للمأمور به أفراد (على أقل جنسه): أي أقل جنس المأمور وهو الفرد الحقيقي
(এবং এটি দাবি করে না (ولا يقتضي)): অর্থাৎ নিঃশর্ত নির্দেশ (الأمر المطلق) (পুনরাবৃত্তি (التكرار)) দাবি করে না: অর্থাৎ আদিষ্ট বিষয়ের (المأمور به) পুনরাবৃত্তি করা, আর তা হলো—ব্যক্তি কাজটি সম্পাদন করবে এবং পুনরায় তাতে ফিরে আসবে, এভাবেই চলতে থাকবে। (এবং এটি তা বহনও করে না (ولا يحتمله)): অর্থাৎ পুনরাবৃত্তি নির্দেশের সম্ভাব্য অর্থসমূহের এমন কোনো অংশ নয় যা কোনো অনুষঙ্গ (القرينة) দ্বারা এর ওপর আরোপ করা যেতে পারে। (চাই তা সংশ্লিষ্ট হোক) নির্দেশটি (কোনো শর্তের সাথে (بشرط)), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে পবিত্রতা অর্জন করো}; (অথবা কোনো বৈশিষ্ট্যের সাথে নির্দিষ্ট হোক (أو اختص بوصف)), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে কশাঘাত করো}; কারণ নির্দেশের রূপের (صيغة الأمر) অর্থ হলো কোনো কাজের প্রকৃত সত্তা তলব করা। আর সত্তার নিরিখে একবার করা বা পুনরাবৃত্তি করা একটি বাহ্যিক বিষয়। আদিষ্ট কাজের দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় একবার সম্পাদনের মাধ্যমে মূল সত্তা অর্জিত হওয়ার দ্বারা; এটি নির্দেশের রূপের (صيغة الأمر) নিজস্ব অর্থ নয়। আর ইবাদতসমূহের মধ্যে যা পুনরাবৃত্তি হয়, তা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের (الجمهور) মতে সেসবের কারণসমূহ (الأسباب) পুনরাবৃত্তি হওয়ার কারণে হয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, নির্দেশের (الأوامر) পুনরাবৃত্তির ফলে আদিষ্ট বিষয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

আর যখন তা পুনরাবৃত্তি দাবি করে না এবং তা বহনও করে না, (তখন তা কার্যকর হবে (فيقع)): অর্থাৎ যে আদিষ্ট বিষয়ের একাধিক একক রয়েছে সেক্ষেত্রে নির্দেশটি কার্যকর হবে (তার শ্রেণির ন্যূনতম অংশের ওপর (على أقل جنسه)): অর্থাৎ আদিষ্ট বিষয়ের ন্যূনতম শ্রেণি, যা হলো প্রকৃত একক (الفرد الحقيقي)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৫৯)
(ويحتمل كله): أي كل الجنس باعتبار معنى الفردية، لا باعتبار معنى العدد، فصار من حيث هو جنساً واحداً، وإن كان له أفراد (على الصحيح) احترازاً من قول زفر: أنه يحتمل العدد.

وتظهر ثمرة الخلاف فيمن قال لزوجته: طلِّقي نفسك، فإن لها أن تطلق نفسها واحدة، وإن نوى الزوج الثلاث، فطلَّقت نفسها ثلاثاً وقعن، وإن نوى الزوج ثنتين، فطلقت نفسها ثنتين، لم يقع شيء عندنا.

وقال زفر: يقع ثنتان.

لنا: إن العدد ليس بموجب ولا محتمل، فلا تصح نيِّته، إلا أن تكون المرأة أمة؛ لأن ذلك جنس طلاقها.

(وحكمه): أي حكم الأمر يعني الثابت به، وهو الإتيان بالمأمور به (نوعان) بالقسمة الأولية.

(أداء: وهو إقامة الواجب): أي إخراجه إلى الوجود على حسبه، واللام للعهد: أي الذي وجب بالأمر ابتداءً.

(وقضاء: وهو تسليم مثله): أي مثل الواجب (به): أي بالأمر إشارة إلى أن المراد منه أفعال الجوارح، لا ما في الذمة وهو نفس الوجوب؛ لأن ذلك بالسبب لا بالأمر.
(এবং তা এর পূর্ণ অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে): অর্থাৎ এককত্বের অর্থের বিচারে পূর্ণ শ্রেণী (الجنس) হিসেবে, সংখ্যার অর্থের বিচারে নয়। ফলে তা একটি একক শ্রেণীতে পরিণত হয়, যদিও এর একাধিক অংশ বা ব্যক্তি রয়েছে (বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে)। এটি ইমাম যুফারের অভিমত থেকে সতর্কতা স্বরূপ; কেননা তিনি মনে করেন এটি সংখ্যাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

আর এই মতভিন্নতার ফলাফল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় যে তার স্ত্রীকে বলে: "তুমি নিজেকে তালাক দাও।" এমতাবস্থায় স্ত্রীর অধিকার রয়েছে নিজেকে এক তালাক দেওয়ার। যদি স্বামী তিন তালাকের নিয়ত (النية) করে এবং স্ত্রী নিজেকে তিন তালাক প্রদান করে তবে তা কার্যকর হবে। কিন্তু স্বামী যদি দুই তালাকের নিয়ত (النية) করে এবং স্ত্রী নিজেকে দুই তালাক দেয়, তবে আমাদের নিকট কিছুই কার্যকর হবে না।

ইমাম যুফার বলেন: দুই তালাক কার্যকর হবে।

আমাদের দলিল: সংখ্যা এখানে আদেশের মূল দাবি নয় এবং এর সম্ভাব্য অর্থও নয়। তাই এর নিয়ত (النية) সঠিক হবে না, যদি না স্ত্রী দাসী হয়; কারণ দুই তালাকই তার তালাকের পূর্ণ শ্রেণী (الجنس)।

(আর এর বিধান (الحكم)): অর্থাৎ আদেশের (الأمر) বিধান যা এর দ্বারা সাব্যস্ত হয়, আর তা হলো আদিষ্ট বিষয়টি পালন করা (দুই প্রকার) প্রাথমিক বিভাজন অনুযায়ী।

(আদা (أداء): যা ওয়াজিব (الواجب) পালন করা): অর্থাৎ ওয়াজিবকে তার যথাযথ রূপে অস্তিত্বে আনা। আর 'লাম' বর্ণটি নির্দিষ্টকরণের জন্য: অর্থাৎ যা আদিতে আদেশের মাধ্যমে ওয়াজিব হয়েছে।

(এবং কাযা (قضاء): যা তার সদৃশ আদায় করা): অর্থাৎ ওয়াজিবের সদৃশ বিষয় প্রদান করা (এর দ্বারা): অর্থাৎ আদেশের (الأمر) মাধ্যমে। এটি একটি ইঙ্গিত যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যাবলি, যিম্মায় বা দায়বদ্ধতায় যা রয়েছে তা নয়—যা মূলত ওয়াজিব হওয়া (الوجوب) নিজেই; কারণ সেটি সাব্যস্ত হয় কারণের (السبب) মাধ্যমে, আদেশের (الأمر) মাধ্যমে নয়।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬০)
(ويتبادلان): أي الأداء والقضاء فيقال: هذا مكان هذا (مجازاً) فيحتاج إلى قرينة كما يقال: أدى ما عليه من الدين، فقوله: من الدين؛ قرينة يفهم منها القضاء؛ لأن أداء حقيقة الدين محال، والجامع في ما كل منهما من التسليم.

(ويؤدّيان): أي الأداء والقضاء (بنيَّتهما)، فيؤدي القضاء بنية الأداء وبالعكس، إلا أنه يحتاج إلى القرينة كما يقال: نويت أن أؤدي ظهر الأمس، وأن أقضي ظهر اليوم (في الصحيح) احترازاً عن قول فخر الإسلام أنه يسمِّي الأداء قضاءً من غير قرينة.

(ويجبان): أي الأداء والقضاء (بسبب واحد)، وهو الأمر الذي وجب به الأداء (عند الجمهور).

وقال العراقيون من مشايخنا: يجبُ القضاء بنصّ مقصود غير الأمر الذي وجب به الأداء، ففي الصوم وجب القضاء بقوله تعالى: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ}، وفي الصلاة

وجب بقوله صلى الله عليه وسلم: ((مَن نَسِيَ صلاةً فليصلها إذا ذكرها)) متفق عليه، ولمسلم ((إذا رقد أحدُكم عن الصلاة أو غَفِلَ عنها فليصلها إذا ذكرها)).
(তারা পরস্পর বিনিময়যোগ্য): অর্থাৎ অদা (أداء) এবং কাজা (قضاء); ফলে একটিকে অন্যটির স্থলে (রূপকভাবে - مجازاً) ব্যবহার করা হয়। এমতাবস্থায় একটি প্রাসঙ্গিক সূত্রের (قرينة) প্রয়োজন হয়, যেমন বলা হয়: সে তার ঋণের হক আদায় করেছে। এখানে 'ঋণ থেকে' কথাটি একটি প্রাসঙ্গিক সূত্র (قرينة), যা থেকে কাজা (قضاء) উদ্দেশ্য বলে বোঝা যায়; কারণ ঋণের হাকিকত বা প্রকৃত সত্তা অদা (أداء) করা অসম্ভব। আর উভয়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অর্পণ করা বা বুঝিয়ে দেওয়া।

(এবং উভয়টি সম্পাদিত হয়): অর্থাৎ অদা (أداء) এবং কাজা (قضاء) (উভয়ের নিয়তের - بنيتهما) মাধ্যমে। ফলে কাজা (قضاء) আদায় করা হয় অদার (أداء) নিয়তে (نية) এবং এর বিপরীতটিও হতে পারে। তবে এর জন্য প্রাসঙ্গিক সূত্রের (قرينة) প্রয়োজন হয়। যেমন বলা হয়: আমি গতকল্যের জোহরের অদা (أداء) করার নিয়ত (نية) করেছি, অথবা আজকের জোহরের কাজা (قضاء) করার নিয়ত (نية) করেছি। (বিশুদ্ধ মতানুসারে - في الصحيح), যা ফখরুল ইসলামের মতের বিপরীতে সতর্কতা স্বরূপ বলা হয়েছে; কারণ তিনি কোনো প্রাসঙ্গিক সূত্র (قرينة) ছাড়াই অদা (أداء)-কে কাজা (قضاء) বলে অভিহিত করেছেন।

(এবং উভয়টি ওয়াজিব হয়): অর্থাৎ অদা (أداء) এবং কাজা (قضاء) (একটি মাত্র কারণে - بسبب واحد), আর তা হলো সেই নির্দেশ যার মাধ্যমে অদা (أداء) ওয়াজিব হয়েছিল (অধিকাংশ আলেমের নিকট - عند الجمهور)।

আমাদের মাশায়েখদের মধ্যে ইরাকিগণ বলেছেন: কাজা (قضاء) ওয়াজিব হয় এমন একটি সুনির্দিষ্ট দলিলের (نص) মাধ্যমে যা অদা (أداء) ওয়াজিব হওয়ার নির্দেশ থেকে ভিন্ন। যেমন রোজার ক্ষেত্রে কাজা (قضاء) ওয়াজিব হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করতে হবে"। আর নামাজের ক্ষেত্রে

ওয়াজিব হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে: "যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায়, সে যেন তা মনে পড়ার সাথে সাথে পড়ে নেয়।" এটি বুখারি ও মুসলিমের সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিস। আর মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কেউ যদি নামাজ থেকে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা থেকে গাফেল হয়ে যায়, তবে সে যেন তা মনে পড়ার সাথে সাথে পড়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬১)
وللجمهور: إن المستحقَّ لا يسقط على المستحق عليه إلا بإسقاط مَن له الحقّ، أو بتسليم المستحق، ولم يوجد منهما فبقي مضموناً عليه، وسقط فضل الوقت للعجز، وهذا النصوص لطلب تفريغ الذمّة عمَّا وَجَبَ بالأمر وتعريفِ أن الواجب لم يسقط.

وفي عبارة فخر الإسلام ما يشير إلى أن ثمرة الاختلاف في المنذورات المتعيّنة من الصلاة والصوم والاعتكاف إذا فاتت عن وقتها، لكن قال أبو اليسر: لو نذر صوماً أو صلاة في يوم معيَّن ولم يفِ به يجب القضاء بالإجماع بين الفريقين، سواء كان عدم إيفاؤها بالفوات أو بالتفويت، وعلى هذا فالخلاف في إسناد وجوب القضاء بماذا؟ فالجمهور للسبب الأول في الكلّ، وعند هؤلاء للنصّ في الصوم والصلاة، وللفوات أو التفويت في المنذورات.

(وأنواع الأداء ثلاثة) أداء (كامل: وهو ما يؤدَّى كما شرع): أي مع توفير حقّه من الواجبات والسنن والآداب، كأداء الصلاة في الجماعة من المكتوبات والوتر في رمضان، وإنما ذكر الأداء وفسِّر بالمؤدى؛ لأن الفعل لا وجود له في الوجود.

(وقاصر: وهو الناقص عن صفته) التي قدمناها كصلاة المنفرد.
জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে: যার ওপর কোনো হক বা প্রাপ্য বর্তায়, তা থেকে সে দায়মুক্ত হয় না যতক্ষণ না হকের মালিক তা মওকুফ করে দেয় অথবা সে প্রাপ্যটি অর্পণ করে দেয়। এই দুটির কোনোটিই এখানে পাওয়া যায়নি, ফলে তা তার জিম্মায় দায়বদ্ধ (مضمون) হিসেবে রয়ে গেছে। তবে অক্ষমতার কারণে সময়ের ফজিলতটি বিলুপ্ত হয়েছে। আর এই নসসমূহ (نصوص) নির্দেশিত বিষয়ের মাধ্যমে জিম্মাকে দায়মুক্ত করার দাবি জানায় এবং এটি জানিয়ে দেয় যে ওয়াজিব (واجب) রহিত হয়নি।

ফখরুল ইসলামের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই মতভেদের ফলাফল সুনির্দিষ্ট মানতসমূহের ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়, যেমন নামাজ, রোজা ও ইতিকাফ যদি তার নির্ধারিত সময় থেকে অতিক্রান্ত হয়ে যায়। তবে আবুল ইয়াসার বলেন: যদি কেউ নির্দিষ্ট দিনে রোজা বা নামাজের মানত করে এবং তা পালন না করে, তবে উভয় পক্ষের ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী তার কাজা (قضاء) করা আবশ্যক; চাই তা অনিচ্ছাকৃতভাবে সময় অতিবাহিত (فوات) হওয়ার কারণে হোক কিংবা স্বেচ্ছায় সময় নষ্ট (تفويت) করার কারণে হোক। এই ভিত্তিতে মতভেদটি হলো কাজা (قضاء) ওয়াজিব হওয়ার কারণ নির্ণয় নিয়ে। জমহুরের (جمهور) মতে সকল ক্ষেত্রে কাজা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো প্রথম সবব বা মূল হেতুটিই বহাল থাকা। আর অন্যপক্ষের মতে রোজা ও নামাজের ক্ষেত্রে নস (نص)-এর কারণে এবং মানতসমূহের ক্ষেত্রে সময় অতিবাহিত হওয়া (فوات) বা নষ্ট করার (تفويت) কারণে কাজা ওয়াজিব হয়।

(আদায়ের প্রকারভেদ তিনটি) পূর্ণাঙ্গ (كامل) আদায়: (যা শরয়ি বিধান অনুযায়ী আদায় করা হয়): অর্থাৎ ওয়াজিবসমূহ (واجبات), সুন্নাতসমূহ (سنن) ও আদবসমূহ যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা; যেমন ফরজ নামাজসমূহ জামাতের সাথে আদায় করা এবং রমজান মাসে বিতর নামাজ আদায় করা। এখানে ‘আদায়’ শব্দ উল্লেখ করে তার ব্যাখ্যা ‘আদায়কৃত কাজ’ দ্বারা করা হয়েছে; কারণ অস্তিত্ব জগতে কর্মের কোনো স্থায়ী স্থায়িত্ব নেই।

(এবং অপূর্ণাঙ্গ (قاصر) আদায়: যা তার গুণাবলির ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত) যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, যেমন একাকী নামাজ পড়া।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬২)
(وشبيه بالقضاء) كفعل اللاحق، وهو الذي فاته بعض الصلاة بعد إدراك بعضها بعد فراغ الإمام من الصلاة،

ففعلُهُ باعتبار الوقت أداءٌ، وباعتبار أنه يتدارك ما التزم أداؤه مع الإمام قضاءٌ، فهو أداءٌ شبيهٌ بالقضاء.

وفي حقوق العباد: رد عين المغصوبِ على الوجه الذي وقع عليه الغصب أداء كامل.

ورد العبد المغصوب بعد جناية جناها عند الغاصب أداء قاصر.

وتسليم عبدٍ كان تزوجها عليه ولم يكن في ملكه وقت التزوج ثم اشتراه، فتسليمه أداء من حيث أنه المسمّى، شبيه بالقضاء من حيث إنّ تبدَّلَ الملك يوجب تبدَّل العين حكماً.

(وأنواع القضاء ثلاثة) أيضاً كالأداء:

قضاء (بمثل معقول): كالصلاة للصلاة والصوم للصوم.

(وقضاء بمثل غير معقول): أي يقصر العقل عن إدراك المماثلة فيه؛ لأن العقل ينفيه كالفدية للصوم عند العجز المستدام، كما في حق الشيخ الفاني، فإنه لا مماثلة تدرك بين الصوم والفدية، فالصوم وصف، والفدية عين.

(وقضاء بمعنى الأداء) كتكبير مَن أدرك الإمام في العيد راكعاً في الركوع، فمن حيث إنه فات عن موضعه، وهو القيام كان قضاءً، ومن حيث إن الفرق بين القائم والقاعد انتصاب النصف الأسفل كان الركوع شبيه القيام، فالإتيان بالتكبير فيه قضاء بمعنى الأداء،
(এবং কাজার (قضاء) সদৃশ) যেমন লাহেকের (اللاحق) কাজ; লাহেক ঐ ব্যক্তি, যার ইমামের সাথে সালাতের একাংশ পাওয়ার পর বাকি অংশ ইমামের সালাত সমাপ্তির পর সম্পন্ন করতে হয়।

সময়ের বিবেচনায় তার এই কাজটি হলো আদায় (أداء), আর ইমামের সাথে যা আদায় করার বাধ্যবাধকতা ছিল তা পূরণ করার বিবেচনায় তা হলো কাজা (قضاء)। সুতরাং এটি হলো কাজার (قضاء) সদৃশ আদায় (أداء)।

বান্দার হকের ক্ষেত্রে: আত্মসাৎকৃত বস্তু হুবহু সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া যে অবস্থায় তা আত্মসাৎ করা হয়েছিল, তা হলো পূর্ণাঙ্গ আদায় (أداء كامل)।

আত্মসাৎকারীর নিকট থাকা অবস্থায় কোনো অপরাধ সংঘটনের পর আত্মসাৎকৃত দাসকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো অপূর্ণাঙ্গ আদায় (أداء قاصر)।

এবং এমন একজন দাসকে মোহর হিসেবে হস্তান্তর করা যাকে বিয়ে করার সময় মোহর হিসেবে ধার্য করা হয়েছিল অথচ সে তখন তার মালিকানায় ছিল না, পরবর্তীতে সে তাকে ক্রয় করল। এক্ষেত্রে তাকে হস্তান্তর করা এই দিক থেকে আদায় (أداء) যে, সে নির্দিষ্টকৃত (المسمى) ব্যক্তি; আবার তা কাজার (قضاء) সদৃশ এই দিক থেকে যে, মালিকানা পরিবর্তন হওয়া শরয়ী বিধানে মূল বস্তু পরিবর্তনেরই নামান্তর।

(এবং কাজার (قضاء) প্রকারভেদও তিনটি) আদায়ের ন্যায়:

বুদ্ধিগ্রাহ্য সমরূপ বিনিময় দ্বারা কাজা (قضاء بمثل معقول): যেমন সালাতের পরিবর্তে সালাত এবং সিয়ামের পরিবর্তে সিয়াম।

(এবং বুদ্ধি-অগম্য সমরূপ বিনিময় দ্বারা কাজা (قضاء بمثل غير معقول)): অর্থাৎ যার মধ্যে সমরূপতা উপলব্ধি করতে বুদ্ধি অক্ষম; কারণ যুক্তি একে নাকচ করে দেয়। যেমন স্থায়ী অক্ষমতার সময় সিয়ামের পরিবর্তে ফিদিয়া (فدية), যেমনটি অতি বৃদ্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা সিয়াম ও ফিদিয়ার মধ্যে কোনো সমরূপতা উপলব্ধি করা যায় না; কারণ সিয়াম হলো একটি গুণগত ইবাদত, আর ফিদিয়া হলো একটি বস্তুগত সম্পদ।

(এবং আদায়ের অর্থবোধক কাজা (قضاء بمعنى الأداء)): যেমন ঐ ব্যক্তির তাকবির যে ঈদের সালাতে ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল এবং রুকুতেই তাকবির পাঠ করল। যেহেতু এটি তার নির্ধারিত স্থান অর্থাৎ কিয়াম (قيام) থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাই এটি কাজা (قضاء); আবার দণ্ডায়মান ও উপবিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য যেহেতু শরীরের নিম্নভাগ সোজা রাখা, তাই রুকু হলো কিয়ামের (قيام) সদৃশ। সুতরাং রুকুতে তাকবির পাঠ করা হলো আদায়ের (أداء) অর্থবোধক কাজা (قضاء)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وهذا على قول أبي حنيفة ومحمد (رحمهما الله) خلافاً لأبي يوسف.

وفي حقوق العباد: ضمان المغصوب المثلي بالمثلي قضاء كامل.

وضمانه بالقيمة عند انقطاع المثل قضاء قاصر، لفوات الصورة.

وضمان النفس والأطراف بالمال في الخطأ، قضاء بمثل غير معقول.

وتسليم قيمة عبد وسط لامرأته التي تزوجها على عبد بغير عينه، قضاء؛ لأنه خلاف المسمّى، بمعنى الأداء من حيث أن المجهولَ الوصف لا يعرف إلا بالقيمة فصارت أصلاً.

 

(والحسنُ لازمٌ للمأمور به)؛ لأن الآمر حكيم، فلا يأمر بشيء إلا لحسنه، والعقل آلة تدرك بها حسن بعض الأشياء وقبحها.

فحسن المأمور به (إما لمعنى) حاصل (في عينه، وهو) بالنظر إلى حكمه (نوعان:

أحدهما) حسن (لمعنى في وصفه) كالإيمان بمعنى التصديق، حسن فمعنى في وصفه، وهو شكر المنعم، وهذا حاصل في ذات التصديق، وهذا النوع لا يقبل السقوط أصلاً، لا بعذر الإكراه ولا بغيره، والصلاة حسنت للتعظيم، والتعظيم حاصل في ذاتها، إلا أنها تقبل السقوط في بعض الأحوال.

(والآخر): أي النوع الآخر (ملحق بهذا القسم) الذي حسن لمعنى في عينه (مشابه للحسن لمعنى في غيره): كالزكاة فإنها تنقيص المال، حسنت لدفع حاجة الفقير، فبهذا صارت مشابهة للذي حسن لمعنى في غيره، إلا أن حاجة الفقير لما كانت بخلق الله تعالى لا صنع للعبد فيها، صارت كلا واسطة، فألحقت بهذا القسم.
এটি ইমাম আবু হানিফা এবং মুহাম্মদ (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর অভিমত অনুযায়ী, যা আবু ইউসুফ-এর মতের বিপরীত।

আর বান্দার হকের (حقوق العباد) ক্ষেত্রে: সমজাতীয় আত্মসাৎকৃত (المغصوب المثلي) বস্তুর ক্ষতিপূরণ অনুরূপ বস্তুর মাধ্যমে প্রদান করা হলো পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান (قضاء كامل)।

আর অনুরূপ বস্তু না পাওয়া গেলে মূল্যের মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলো ত্রুটিযুক্ত প্রতিদান (قضاء قاصر), কারণ এতে বাহ্যিক রূপটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আর অনিচ্ছাকৃত ভুলের (الخطأ) ক্ষেত্রে জান এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিপূরণ মালের মাধ্যমে প্রদান করা হলো বুদ্ধি-অগোচর অনুরূপ প্রতিদান (قضاء بمثل غير معقول)।

এবং যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো দাস উল্লেখ না করে কেবল দাসের বিনিময়ে বিবাহ করেছে, তার স্ত্রীকে একটি মধ্যম মানের দাসের মূল্য প্রদান করা হলো একটি প্রতিদান (قضاء); কারণ এটি নামোল্লেখিত বিষয়ের বিপরীত, যা আদায়ের (الأداء) অর্থে গণ্য, যেহেতু গুণাগুণ অজ্ঞাত (مجهول الوصف) বস্তুকে মূল্য ছাড়া নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, ফলে সেটিই মূল হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

 

(এবং আদিষ্ট বিষয়ের (المأمور به) জন্য সৌন্দর্য (الحسن) অপরিহার্য); কারণ আদেশদাতা মহাপ্রজ্ঞাবান, তিনি কোনো বিষয়ের আদেশ দেন না তার মধ্যকার সৌন্দর্য (حسن) ব্যতিরেকে, আর বুদ্ধি হলো এমন এক যন্ত্র যার মাধ্যমে কিছু বিষয়ের সৌন্দর্য (حسن) ও কদর্যতা (قبح) অনুধাবন করা যায়।

সুতরাং আদিষ্ট বিষয়ের (المأمور به) সৌন্দর্য (حسن) (হয়তো কোনো অর্থের কারণে) যা (তার সত্তাগতভাবে (عينه) বিদ্যমান, আর তা) তার বিধানের বিবেচনায় (দুই প্রকার (نوعان):

প্রথমটি হলো) সৌন্দর্য (حسن) (তার গুণগত (وصفه) কোনো বিষয়ের কারণে) যেমন তাসদিক (التصديق) বা বিশ্বাসের অর্থে ঈমান (الإيمان), যা তার গুণগত (وصفه) কারণে সুন্দর (حسن), আর তা হলো নেয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এটি মূলত বিশ্বাসের (التصديق) মধ্যেই নিহিত। এই প্রকারটি কোনোভাবেই রহিত (السقوط) হওয়া গ্রহণ করে না, জবরদস্তিমূলক ওজরের (إكراه) কারণেও নয় কিংবা অন্য কোনো কারণেও নয়। আর সালাত সুন্দর (حسنت) হয়েছে তার মধ্যকার সম্মান প্রদর্শনের গুণের কারণে, এবং এই সম্মান প্রদর্শন তার সত্তাগতভাবে (ذاتها) বিদ্যমান, তবে এটি বিশেষ কিছু অবস্থায় রহিত (السقوط) হওয়া গ্রহণ করে।

(এবং অপরটি): অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রকারটি (এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (ملحق بهذا القسم)) যা তার সত্তাগত (عينه) সৌন্দর্যের কারণে সুন্দর (حسن) (তবে তা অন্য কোনো কারণে সুন্দরের (الحسن لمعنى في غيره) সদৃশ): যেমন যাকাত (الزكاة), যা মূলত সম্পদের হ্রাস ঘটানো, কিন্তু তা অভাবীর প্রয়োজন পূরণের জন্য সুন্দর (حسنت) হয়েছে। এই দিক থেকে তা অন্য কোনো কারণে সুন্দরের (حسن لمعنى في غيره) সদৃশ হয়েছে, তবে যেহেতু অভাবীর অভাব আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মাধ্যমে হয়েছে এবং এতে বান্দার কোনো হাত নেই, তাই এটি মাধ্যমবিহীন বিষয়ের মতো হয়ে গেছে এবং এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬৪)
(وحكم النوعين واحد) وهو أن لا يسقط إلا بالأداء أو باعتراض ما يسقطه.

(وإما) أن يكون الحسن (لمعنى في غيره): أي في غير المأمور به، وهذا عطف على قوله: إما لمعنى في عينه.

(وهو) أي ذلك الغير الذي حسن المأمور به لأجله (نوعان أيضاً:

أحدهما: ما لا يؤدَّى ذلك الغير بالمأمور به.

كالوضوء، فإنه حسن للتمكن من الصلاة به، والصلاة لا تتأدّى به، وإنما تتأدّى بأركانها المعلومة.

(و) النوع (الآخر ما يؤدى) الغير الذي حسن المأمور به لأجله (به) كالجهاد حسن لإعلاء كلمة الله تعالى، وذلك يتأدَّى به.

(وحكمهما واحد أيضاً) وهو بقاء الوجوب ببقاء الغير، وسقوطه بسقوطه.

وترك المصنف النوع الجامع، وهو ما حَسُنَ لِحُسْن في شرطه وهو القدرة، وإنما سمي جامعاً لمعنى في عينه أو في غيره بأنواعهما يصير كلٌ حسناً لمعنى في شرطه وهو القدرة، فالإيمان حسن لمعنى في عينه ولشرطه وهو كونه مقدوراً، والوضوء حسن لمعنى في غيره، وحسن لشرطه وهو كونه مقدوراً أيضاً.

والقدرة نوعان: ما يتمكّن به العبد من أداء ما لزمه، والشرط توهمها، وهذه العبادات البدنية، أو ما يتسر به الأداء، والشرط تحققها حتى كانت صفة، وهذه للمالية إلا صدقة الفطر.
(উভয় প্রকারের হুকুম (الحكم) অভিন্ন) আর তা হলো, আদায় (الأداء) করার মাধ্যমে অথবা আদায় রহিতকারী কোনো বাধার উপস্থিতিতে ব্যতিরেকে তা রহিত হবে না।

(এবং হয়) হাসান (الحسن) বা সৌন্দর্য হবে (অন্য কোনো কারণে): অর্থাৎ নির্দেশিত বিষয়ের (المأمور به) বহির্ভূত কোনো বিষয়ের কারণে। এটি তার উক্তি ‘হয় সত্তাগত কোনো সৌন্দর্যের কারণে (إما لمعنى في عينه)’-এর ওপর সংযোজন।

(আর তা) অর্থাৎ সেই অন্য বিষয়টি যার কারণে নির্দেশিত বিষয়টি সুন্দর হয়েছে, তাও (দুই প্রকার:

প্রথমটি: এমন বিষয় যা নির্দেশিত বিষয়ের মাধ্যমে আদায় (الأداء) হয় না।

যেমন অযু; কেননা এটি সুন্দর হয়েছে এর মাধ্যমে সালাত আদায়ের সামর্থ্য অর্জনের জন্য, অথচ এর মাধ্যমে সালাত আদায় হয় না। সালাত তো কেবল তার নির্ধারিত রুকনসমূহের (الأركان) মাধ্যমেই আদায় হয়।

(এবং) অন্য প্রকারটি হলো (যা আদায় হয়) অর্থাৎ সেই অন্য বিষয়টি যার জন্য নির্দেশিত বিষয়টি সুন্দর হয়েছে, তা ওই নির্দেশিত বিষয়ের মাধ্যমেই (আদায় হয়)। যেমন জিহাদ; এটি আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার জন্য সুন্দর হয়েছে, আর তা জিহাদের মাধ্যমেই আদায় হয়।

(এবং এই দুইয়ের হুকুমও (الحكم) অভিন্ন) আর তা হলো, সেই অন্য বিষয়টি অবশিষ্ট থাকার কারণে ওয়াজিব (الوجوب) হওয়া বা বাধ্যবাধকতা অবশিষ্ট থাকে এবং সেটি বিলুপ্ত হলে এটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়।

গ্রন্থকার ‘সামষ্টিক প্রকার’ (النوع الجامع) আলোচনা করা ছেড়ে দিয়েছেন; আর তা হলো যা তার শর্তের (الشرط) সৌন্দর্যের কারণে সুন্দর হয়েছে, আর সেই শর্ত হলো সক্ষমতা (القدرة)। একে সামষ্টিক বলা হয় এ কারণে যে, সত্তাগত সৌন্দর্যের (المعنى في عينه) কারণে হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে সুন্দরের (المعنى في غيره) প্রকারভেদের মাধ্যমে—প্রত্যেকটিই তার শর্ত তথা সক্ষমতা (القدرة) থাকার কারণে সুন্দর হয়। সুতরাং ঈমান তার সত্তাগত সৌন্দর্যের (المعنى في عينه) কারণে সুন্দর, আবার তার শর্ত তথা সাধ্যের ভেতরে হওয়ার কারণেও সুন্দর। আর অযু অন্য বিষয়ের সৌন্দর্যের কারণে (المعنى في غيره) সুন্দর, আবার তার শর্ত তথা সাধ্যের ভেতরে হওয়ার কারণেও সুন্দর।

সক্ষমতা (القدرة) দুই প্রকার: এমন সক্ষমতা যার মাধ্যমে বান্দা তার ওপর আবশ্যক হওয়া বিষয় আদায় (الأداء) করতে সমর্থ হয় এবং এক্ষেত্রে শর্ত হলো সক্ষমতার ধারণা (توهمها) থাকা; এটি হলো শারীরিক ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে। অথবা এমন সক্ষমতা যার মাধ্যমে আদায় সহজ হয় এবং এক্ষেত্রে শর্ত হলো সক্ষমতা নিশ্চিত হওয়া (تحققها), এমনকি তা একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়; এটি হলো আর্থিক ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে, সদকাতুল ফিতর ব্যতিরেকে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬৫)
(ثم الأمر نوعان): نوع (مطلق عن الوقت) بأن لا يذكر له وقت محدود على وجه يفوت الأداء بفواته، كالأمر بالزكاة، وصدقة الفطر، (فلا يوجب الأداء على الفور)، وهو الإتيان بالمأمور به عَقِيب ورود الأمر (في الصحيح) خلافاً للكرخي (، فإن المطلق عنده على الفور.

لنا: إن الأمر لطلب الفعل فقط، والأزمنة في صلاحية حصول الفعل فيه على حد سواء.

(و) نوع (مقيّد به) أي بالوقت بحيث يفوت الأداء بفواته (وهو) أي المقيد بالوقت (أنواع) أربعة:

الأول: أن يكون الوقت ظرفاً للمؤدى، وشرطاً للأداء، وسبباً للوجوب، وهو وقت الصلاة.

ومن حكمه اشتراط نية التعيين، فلا يسقط بضيق الوقت، ولا يتعين إلا بالأداء، كالحانث.

والثاني: أن يكون الوقت معياراً له، وسبباً لوجوبه، كشهر رمضان.

(الأول) منها: (أن يكون الوقت ظرفاً للمؤدى) وهو الواجب (وشرطاً للأداء) وهو إخراج الواجب إلى الوجود، (وسبباً للوجوب) أي يثبت به، (وهو) أي الذي يكون ظرفاً وشرطاً وسبباً (وقت الصلاة).

أما إنه ظرف: فلأنه يفضل عن الأداء، وكل ما يفضل من الأوقات عن الأداء فهو ظرف، أما الأولى فلأنه إذا صلَّى فاكتفى بمقدار الفرض انقضى المؤدى قبل فراغ الوقت، وأما الثانية فلأن المراد بالظرف أن لا يكون الفعل مقدراً به.

وأما أنه شرط: فلأن الأداء يفوت بفوته، وكل ما يفوت الأداء بفوته شرط، فهذا الوقت شرط
(অতঃপর আদেশ দুই প্রকার): এক প্রকার হলো (সময় থেকে মুক্ত [مطلق]), যেখানে এমন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ থাকে না যার অতিবাহিত হওয়ার ফলে আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যেমন যাকাত ও সদকাতুল ফিতরের নির্দেশ। (ফলে এটি অবিলম্বে আদায় করাকে আবশ্যক করে না [على الفور]), আর তা হলো নির্দেশ আসার পরপরই আদিষ্ট বিষয়টি পালন করা। এটিই (বিশুদ্ধ [الصحيح]) মত অনুযায়ী সঠিক, আল-কারখির ভিন্নমতের বিপরীতে; কারণ তাঁর মতে নিরঙ্কুশ (مطلق) নির্দেশ অবিলম্বে পালন করা জরুরি।

আমাদের দলীল হলো: আদেশের উদ্দেশ্য কেবল কাজটি তলব বা প্রার্থনা করা, আর কাজটি সংঘটিত হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে সকল সময় সমান।

(এবং) দ্বিতীয় প্রকার হলো (সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ [مقيّد]), অর্থাৎ সময়ের সাথে এমনভাবে সংশ্লিষ্ট যার অতিবাহিত হওয়ার ফলে আদায় করাও ছুটে যায়। আর এই (সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ [مقيّد]) বিষয়টি চার (প্রকার):

প্রথমটি: সময়টি আদিষ্ট কাজের জন্য পাত্র (ظرف) হবে, আদায়ের জন্য শর্ত (شرط) হবে এবং ওয়াজিব হওয়ার জন্য কারণ (سبب) হবে; আর তা হলো নামাজের সময়।

এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত হলো নির্দিষ্ট করার নিয়ত করা শর্ত হওয়া; ফলে সময়ের সংকীর্ণতার কারণে তা রহিত হয় না এবং তা আদায়ের মাধ্যমেই কেবল নির্দিষ্ট হয়, যেমন কসম ভঙ্গকারীর ক্ষেত্রে হয়।

দ্বিতীয়টি: সময়টি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য মানদণ্ড (معيار) হবে এবং তা ওয়াজিব হওয়ার কারণ (سبب) হবে, যেমন রমজান মাস।

তন্মধ্যে (প্রথমটি): (সময়টি আদিষ্ট বিষয়ের জন্য পাত্র [ظرف] হবে) আর তা হলো ওয়াজিব; (আদায়ের জন্য শর্ত [شرط] হবে) আর তা হলো ওয়াজিব বিষয়টিকে বাস্তবে রূপদান করা; এবং (ওয়াজিব হওয়ার জন্য কারণ [سبب] হবে) অর্থাৎ যার মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হয়। (আর সেটি) যা পাত্র, শর্ত ও কারণ হিসেবে গণ্য হয় তা হলো (নামাজের সময়)।

এটি 'পাত্র' (ظرف) হওয়ার কারণ হলো: এটি আদায়ের সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত থাকে। আর সময়ের যে অংশ আদায়ের অতিরিক্ত হয় তাকেই পাত্র (ظرف) বলা হয়। প্রথমত, যখন কেউ নামাজ পড়ে এবং শুধু ফরজ পরিমাণ আদায় করেই ক্ষান্ত হয়, তখন সময় শেষ হওয়ার আগেই আদায় সম্পন্ন হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, পাত্র (ظرف) বলতে উদ্দেশ্য হলো কাজটির পরিমাণ যেন সময়ের সমান না হয়।

আর এটি 'শর্ত' (شرط) হওয়ার কারণ হলো: সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে আদায়ও হাতছাড়া হয়ে যায়। আর যার অনুপস্থিতিতে আদায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তা-ই শর্ত (شرط)। সুতরাং এই সময়টি শর্ত।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬৬)
أما الأولى فلأن الوقت إذا خرج كان الإتيان بها قضاء، وأما الثانية فبالقياس على سائر شروط الصلاة: كالطهارة، وستر العورة، واستقبال القبلة، والنية.

وأما إنه سبب فلأن الأداء يختلف باختلاف صفته، وكلّ ما يتغيّر الواجب بتغيره فهو سبب؛ لأن المسبب يثبت على وفق سببه.

(ومن حكمه): أي من حكم هذا النوع الذي جعل الوقت ظرفاً له وشرطاً وسبباً (اشتراط نيّة التعيين) يعني تعيين فرض الوقت؛ لأن الوقت لَمّا كان ظرفاً كان المشروع فيه متعدداً، فيشترط تمييز بعض الأفراد عن بعض، وذا بالنيّة، حيث لزم التعيين، (فلا يسقط بضيق الوقت): أي بأن ضاق الوقت بحيث لا يسع غير الواجب، (ولا يتعين) بعض أجزاء الوقت للسببية بشيء من القصد ولا من القول، كأن ينوي أن هذا الجزء هو السبب، أو يقول: عيّنْتُ هذا الجزء للسبب (إلا بالأداء) فيه، فإنه يتعيَّن حينئذٍ (كالحانث): أي كما أن الحانثَ في اليمين له أن يختار في الكفارة أحد الأمور: الإعتاق أو الكسوة أو الإطعام، ولو عيّن أحدَها لا يتعيّن، وله أن يفعل غيره ما لم يُكفِّر به، فإن كَفَّرَ به تعيَّن.

(و) النوع (الثاني: أن يكون الوقت معياراً): أي مقداراً (له): أي للمؤدَّى (وسبباً لوجوبه): أي يثبت الوجوب به، (كشهر رمضان).

أما إنه معيار؛ فلأن الصوم قدر بأيامه، حتى ازداد بزيادتها وانتقص بنقصانها.
প্রথমটি এই কারণে যে, সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তা আদায় করা কাজা (قضاء) হিসেবে গণ্য হয়; আর দ্বিতীয়টি নামাজের অন্যান্য শর্তাবলির (شروط) ওপর কিয়াসের মাধ্যমে: যেমন পবিত্রতা, সতর ঢাকা, কিবলামুখী হওয়া এবং নিয়ত।

আর এটি কারণ (سبب) হওয়ার বিষয়টি এই জন্য যে, আদায় (أداء) তার বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আর যা কিছুর পরিবর্তনের ফলে ওয়াজিব (واجب) পরিবর্তিত হয়, তা-ই কারণ (سبب); কেননা কারণের (سبب) অনুষঙ্গেই কার্যকারণ (مسبب) সাব্যস্ত হয়।

(এবং এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত): অর্থাৎ এমন প্রকারের বিধানের (حكم) অন্তর্ভুক্ত যেখানে সময়কে তার জন্য আধার (ظرف), শর্ত (شرط) এবং কারণ (سبب) সাব্যস্ত করা হয়েছে— (নির্দিষ্টকরণের নিয়ত শর্ত হওয়া - اشتراط نية التعيين), অর্থাৎ সময়ের ফরজকে (فرض) নির্দিষ্ট করা; যেহেতু সময় যখন আধার (ظرف) হয়, তখন তাতে শরয়ি বিধান অনুযায়ী পালনীয় বিষয় (المشروع) একাধিক থাকে। তাই একটির থেকে অন্যটিকে পৃথক করা শর্ত হয়ে পড়ে এবং তা নিয়তের মাধ্যমেই সম্ভব, যেখানে নির্দিষ্টকরণ (التعيين) আবশ্যক। (অতএব সময়ের সংকীর্ণতার কারণে তা রহিত হয় না): অর্থাৎ সময় এতটাই সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া যে তাতে উক্ত ওয়াজিব (واجب) ব্যতীত অন্য কিছুর অবকাশ থাকে না। (এবং নির্দিষ্ট হয় না) সময়ের কোনো অংশ কারণ হওয়া (سببية) বুঝাতে কোনো সংকল্প বা কথার মাধ্যমে, যেমন কেউ নিয়ত করল যে এই অংশটিই কারণ (سبب), অথবা বলল: আমি এই অংশটিকে কারণের (سبب) জন্য নির্দিষ্ট করলাম; (কেবলমাত্র আদায়ের - أداء) মাধ্যমেই তা নির্দিষ্ট হয়। কেননা তখন সেটি নির্দিষ্ট হয়ে যায় (শপথ ভঙ্গকারীর মতো - كالحانث): অর্থাৎ শপথ ভঙ্গকারী ব্যক্তির (الحانث) যেমন কাফফারার (كفارة) ক্ষেত্রে যেকোনো একটি বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে: দাস মুক্তি, বস্ত্র দান অথবা খাদ্য দান। যদি সে কোনো একটি নির্দিষ্ট করেও নেয় তবুও তা নির্ধারিত হয়ে যায় না; বরং যতক্ষণ পর্যন্ত সে কাফফারা আদায় না করছে ততক্ষণ তার জন্য অন্যটি করার সুযোগ থাকে। কিন্তু যদি সে তা দ্বারা কাফফারা আদায় করে ফেলে, তবে সেটিই নির্ধারিত (تعين) হয়ে যায়।

(এবং) দ্বিতীয় প্রকার (النوع الثاني): (সময় পরিমাপক - معيار হওয়া): অর্থাৎ আদায়কৃত আমলের (المؤدى) জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (এবং তা ওয়াজিব হওয়ার কারণ - سبباً لوجوبه): অর্থাৎ যার দ্বারা ওয়াজিব হওয়া (وجوب) সাব্যস্ত হয়, (যেমন রমজান মাস)।

আর এটি পরিমাপক (معيار) হওয়ার কারণ হলো; রোজা (صوم) তার দিনগুলোর মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছে, এমনকি দিন বৃদ্ধির সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পায় এবং দিন হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে তা হ্রাস পায়।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وأما إنه سبب لوجوبه: فلأنه يضاف إليه، والإضافة تدلّ على الاختصاص، وأقوى وجوهه السببية وسيأتي.

(ومن حكمه): أي من حكم هذا النوع الذي جعل الوقت معياراً له وسبباً (نفي غيره): أي غير المؤدى (فيه): أي في الوقت ضرورة كونه معياراً، وإذا انتفى غيره، (فيصاب): أي يتأدى (بمطلق الاسم)، وهو الصوم بأن يقول: نويتُ أن أصوم، (و) يتأدّى (مع الخطأ في الوصف): أي في وصف الصوم، بأن ينوي صوم القضاء، أو النذر، أو النفل؛ لأن الوقت لا يقبل الوصف، فلغت نيّته وبقيت نية أصل الصوم، وبها يتأدّى.

(إلا في المسافر ينوي واجباً آخر) المستثنى منه محذوف، يعني يصاب فرض الوقت مع الخطأ في الوصف في حق كل أحد إلا في حق المسافر، فإن الصوم لا يصاب في حقّه مع الخطأ في وصفه، بل يقع عمَّا نوى (عند أبي حنيفة رحمه الله.

وقال أبو يوسف ومحمد: المسافر والمقيم سواء في هذا؛ لأن السبب وهو شهود الشهر تحقَّق في حقِّهما، إلا أن الشرع أثبت له الترخص، فإذا ترك الترخص كان المسافر والمقيم سواء، فيقع عن الفرض.

ولأبي حنيفة [رضي الله عنه]: إن وجوب الأداء لَمَّا سقط عنه صار رمضان في حقِّ أدائه كشعبان، فيقع عمَّا نوى.

(وفي النفل عنه): أي عن أبي حنيفة ((روايتان):

في رواية: إذا نوى النفل يكون صائماً عن الفرض، وهذا هو الأصح.
আর এটি যে আবশ্যিকতা (وجوب) হওয়ার কারণ: তার দলিল হলো—একে এর (সময়ের) দিকে সম্বন্ধ করা হয়, আর সম্বন্ধ নির্দিষ্টতাকে নির্দেশ করে; আর এর সবলতম দিক হলো কারণ হওয়া (সাবাবিয়্যাত), যা সামনে আলোচিত হবে।

(আর এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত হলো): অর্থাৎ এই প্রকারের বিধান—যাতে সময়কে পরিমাপক ও কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে—তা হলো (অন্য কিছুকে নাকচ করা): অর্থাৎ সময়ের মধ্যে যা আদায়যোগ্য তা ব্যতীত অন্য কিছুকে (নাকচ করা), সময়টি পরিমাপক হওয়ার অনিবার্য প্রয়োজনে। আর যখন অন্য কিছু নাকচ হয়ে গেল, (তখন তা আদায় হবে): অর্থাৎ (সাধারণ নামের মাধ্যমে) আদায় হয়ে যাবে, আর তা হলো রোজা; যেমন এই বলা যে—আমি রোজা রাখার নিয়ত করলাম। (এবং) তা আদায় হয়ে যাবে (বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া সত্ত্বেও): অর্থাৎ রোজার গুণ বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল হলে, যেমন কাজা, মানত বা নফল (نفل) রোজার নিয়ত করা; কারণ সময়টি অন্য কোনো গুণ গ্রহণ করে না, ফলে তার নিয়তটি বাতিল হয়ে গেল এবং মূল রোজার নিয়ত অবশিষ্ট থাকল, আর তার মাধ্যমেই রোজা আদায় হয়ে যাবে।

(তবে মুসাফির ব্যতীত যে অন্য কোনো আবশ্যিক (واجب) বিষয়ের নিয়ত করে)। এখানে মুসতাসনা মিনহু (ব্যতিক্রমের উৎস) উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ মুসাফির ব্যতীত প্রত্যেকের ক্ষেত্রে গুণ বর্ণনায় ভুল থাকা সত্ত্বেও সময়ের ফরজটি আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মুসাফিরের ক্ষেত্রে বর্ণনার ভুলের সাথে রোজা আদায় হবে না, বরং ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, সে যা নিয়ত করেছে তার পক্ষ থেকেই তা আদায় হবে।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন: এ বিষয়ে মুসাফির ও মুকিম (নিবাসী) সমান; কেননা এর কারণ অর্থাৎ মাসের উপস্থিতি উভয়ের ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। তবে শরিয়ত মুসাফিরের জন্য শিথিলতা প্রদান করেছে, আর যখন সে সেই শিথিলতা বর্জন করল, তখন মুসাফির ও মুকিম সমান হয়ে গেল; ফলে তা ফরজ হিসেবেই গণ্য হবে।

আর ইমাম আবু হানিফা [রাদিআল্লাহু আনহু]-এর দলিল হলো: যেহেতু তার ওপর থেকে আদায়ের আবশ্যিকতা (وجوب) রহিত হয়ে গেছে, তাই রোজা আদায়ের ক্ষেত্রে রমজান মাস তার জন্য শাবান মাসের মতো হয়ে গেছে। ফলে সে যা নিয়ত করবে তা-ই আদায় হবে।

(এবং নফল (نفل) সম্পর্কে তার থেকে): অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফা থেকে (দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে):

এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: যখন সে নফল (نفل) নিয়ত করবে, তখন তা ফরজ হিসেবেই আদায় হবে; আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ (الأصح)।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وفي رواية: يكون صائماً عن النفل، وجه هذه ما تقدم.

ووجه الأولى: إن الترخص شرع نظراً له، ولا نظر له في النفل.

(ويقع صوم المريض) إذا نوى واجباً آخر أو نفلاً (عن الفرض في الصحيح)

، وهو مختار فخر الإسلام وشمس الأئمة؛ لأن رخصتَه متعلّقة بحقيقة العجز، فإذا صام فات سبب الرخصة في حقّه، فالتحق بالصحيح، بخلاف المسافر، فإن رخصتَه متعلِّقة بعجزِ مقدَّر باعتبار سبب ظاهر قائم مقام العجز، وهو السفر، فلا يظهر بفعل الصوم فوات سبب الرخصة، ومق .. الصحيح ما عليه أكثر مشايخ بخارى أن المريض كالمسافر؛ لأن رخصتَه متعلّقة بخوف زيادة المرض وصحح هذا في ((المفيد والمزيد)).

(و) النوع (الثالث: أن يكون) الوقت (معياراً) له (لا سبباً) لوجوبه (كقضاء رمضان).

أما إنه معيار فظاهر، وأما إنه ليس بسبب؛ فلأن سبب القضاء هو سبب الأداء، وهو شهود الشهر على ما علم، فلم يكن زمن القضاء سبباً.

(ويشترط فيه): أي في هذا النوع الذي يكون الوقت فيه معياراً لا سبباً فيه (التعيين)؛ لأن هذا الصوم ليس بوظيفة الوقت، ولا هو متعيّن فيه، فيصير له مزاحماً، وإذا ازدحمت العبادات في وقت واحد فلا بُدَّ لذلك من التعيين،
একটি বর্ণনায় রয়েছে: সে নফল (نفل) রোজা পালনকারী হবে, এর যৌক্তিকতা তা-ই যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

আর প্রথম মতটির কারণ হলো: তার প্রতি লক্ষ্য রেখে ছাড় (ترخص) প্রদান বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, অথচ নফল (نفل) ইবাদতে তার জন্য এমন কোনো বিশেষ বিবেচনার প্রয়োজন নেই।

(এবং অসুস্থ ব্যক্তির রোজা সম্পন্ন হবে) যদি সে অন্য কোনো ওয়াজিব (واجب) বা নফলের (نفل) নিয়ত করে (তবে তা সহিহ (صحيح) মতানুসারে ফরজ (فرض) হিসেবেই গণ্য হবে)।

আর এটিই ফখরুল ইসলাম ও শামসুল আইম্মাহর পছন্দকৃত মত; কেননা তার ছাড় (رخصة) পাওয়ার বিষয়টি প্রকৃত অক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং সে যখন রোজা রাখল, তখন তার ক্ষেত্রে ছাড়ের কারণটি বিলুপ্ত হয়ে গেল, ফলে সে সুস্থ ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত হলো। মুসাফিরের বিষয়টি এর বিপরীত, কেননা তার ছাড়ের বিষয়টি এমন এক আনুমানিক অক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত যা অক্ষমতার স্থলাভিষিক্ত একটি প্রকাশ্য কারণ অর্থাৎ সফরের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। তাই রোজা রাখার মাধ্যমে ছাড়ের কারণটি বিলুপ্ত হওয়া প্রকাশ পায় না। আর সহিহ (صحيح) মতের বিপরীতে বুখারার অধিকাংশ মাশায়েখদের অভিমত হলো, অসুস্থ ব্যক্তি মুসাফিরের মতো; কারণ তার ছাড় (رخصة) পাওয়ার বিষয়টি অসুস্থতা বৃদ্ধির আশঙ্কার সাথে সম্পৃক্ত এবং المفيد والمزيد (আল-মুফিদ ওয়াল মাজিদ) গ্রন্থে একেই সঠিক (صحح) বলা হয়েছে।

(এবং) তৃতীয় (প্রকার হলো: সময়টি হবে) তার জন্য (মানদণ্ড) কিন্তু তার ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার (কারণ নয়), (যেমন রমজানের কাজা (قضاء) রোজা)।

এটি যে মানদণ্ড তা তো সুস্পষ্ট, আর এটি যে কারণ নয় তার হেতু হলো, কাজা (قضاء) এর কারণ এবং আদায় (أداء) এর কারণ অভিন্ন, আর তা হলো মাসের উপস্থিতি যেমনটি জানা আছে; সুতরাং কাজা করার সময়টি কারণ হিসেবে গণ্য নয়।

(এবং এতে শর্ত করা হয়): অর্থাৎ এই প্রকারের ক্ষেত্রে যেখানে সময় মানদণ্ড হয় কিন্তু কারণ নয়, তাতে (নির্দিষ্টকরণ বা তায়্যিন (تعيين) শর্ত করা হয়); কারণ এই রোজাটি সময়ের নির্ধারিত কর্তব্য নয় এবং এটি সেই সময়ের সাথে সুনির্দিষ্টও নয়, ফলে এটি সময়ের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। আর যখন একই সময়ে একাধিক ইবাদত ভিড় করে, তখন সেটিকে পৃথক করার জন্য নির্দিষ্টকরণ (تعيين) করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৬৯)
والتعيين إنما يحصل بنيّة، ويشترط أن يكون من الليل لينعقد الإمساك من أول النهار لمحتمل الوقت وهو القضاء، (ولا يحتمل) هذا النوع (الفوات)؛ لأن وقته العمر، بخلاف النوعين الأولين؛ لأن وقتهما محدود بحد يفوت الأداء بفوته.

(و) النوع (الرابع: أن يكون) الوقت (مشكلاً) يشبه المعيار ويشبه الظرف (كالحج) يشبه وقته المعيار من جهة أنه لا يصح منه في عام واحد إلا حجّة واحدة، فكان كالنهار في الصوم، ويشبه الظرف من حيث أن أركانَه لا تستغرق جميع الوقت، فكان كوقت الصلاة.

(ومن حكمه: تعيّن): أي لزوم (أدائه): أي الحج (في أشهره) من أول سني الإمكان، فإذا فعل ارتفع الإثم، وعند محمد لا يأثم إلا إذا لم يؤده مدة عمره.

ويتأدّى الحجُ بمطلق النيّة بأن يقول: اللهم إنّي أريد الحجّ، وإن كان الوقت قابلاً للنفل، لدلالة الحال، وهي أن الظاهرَ من حال المسلم أن لا يتحمّل المشاق للنفل، والفرضُ باقٍ عليه، ولو نوى النفل يقع عنه؛ لأن الصريح مقدّم على دلالة الحال.
এবং নির্দিষ্টকরণ (تعيين) কেবল নিয়ত (نية) এর মাধ্যমেই অর্জিত হয়। শর্ত হলো এটি রাত থেকেই হতে হবে যেন দিনের শুরু থেকে বিরত থাকা (إمساك) কার্যকর হয় সেই সম্ভাব্য সময়ের জন্য যা হলো কাজা (قضاء)। এই প্রকারটি অতিক্রান্ত হওয়া (الفوات) এর অবকাশ রাখে না; কারণ এর সময় হলো আজীবন। এটি প্রথম দুই প্রকারের বিপরীত; কারণ তাদের সময় এমন সীমানায় সীমাবদ্ধ যার অতিক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে আদায় (أداء) ও অতিক্রান্ত হয়ে যায়।

(এবং) চতুর্থ (প্রকার: যে) সময়টি (জটিল বা অস্পষ্ট (مشكلاً)) হবে যা মানদণ্ড (المعيار) এবং আধার (الظرف) উভয়ের সদৃশ (যেমন হজ)। হজের সময়টি মানদণ্ড (المعيار) এর সদৃশ এই দিক থেকে যে, এক বছরে কেবল একটি হজের বেশি সঠিক হয় না, ফলে এটি রোজার দিনের মতো। আর এটি আধার (الظرف) এর সদৃশ এই দিক থেকে যে, এর রুকনগুলো পুরো সময়কে ব্যাপ্ত করে না, ফলে এটি নামাজের ওয়াক্তের মতো।

(এবং এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হলো: সুনির্দিষ্ট হওয়া (تعيين)): অর্থাৎ সক্ষমতার প্রথম বছর থেকেই হজের মাসগুলোতে (তার আদায় (أداء)): অর্থাৎ হজ সম্পাদন করা আবশ্যক হওয়া। সুতরাং যদি সে তা পালন করে তবে গুনাহ মিটে যাবে। ইমাম মুহাম্মদের মতে, সে ততক্ষণ পর্যন্ত গুনাহগার হবে না যতক্ষণ না সে তার জীবনভর তা আদায় (أداء) না করে।

হজ কেবল সাধারণ নিয়ত (نية) এর মাধ্যমেই আদায় (أداء) হয়ে যায়, যেমন এভাবে বলা: হে আল্লাহ! আমি হজের ইচ্ছা করছি। যদিও সময়টি নফল (النفل) এর উপযোগী হয়, তবুও অবস্থার নির্দেশনা (دلالة الحال) অনুযায়ী তা আদায় হয়ে যাবে। আর তা হলো একজন মুসলমানের বাহ্যিক অবস্থা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তার ওপর ফরজ (الفرض) বাকি থাকা অবস্থায় সে নফল (النفل) এর জন্য কষ্ট সহ্য করবে না। তবে যদি সে নফল (النفل) এর নিয়ত (نية) করে তবে তা নফল হিসেবেই গণ্য হবে; কারণ স্পষ্ট (الصريح) বক্তব্য অবস্থার নির্দেশনা (دلالة الحال) এর ওপর অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৭০)
فصل

والكفار مخاطبون بالإيمان): أي يتناولهم الأمر بالإيمان.

قال الله سبحانه وتعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعا} إلى قوله: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} (بناء على العهد الماضي بإجماع الفقهاء) كذا قال، وليس مراد علمائنا رحمهم الله تعالى، وإنما مرادهم ما ذكرت.

و (لا) يخاطبون (بأداء ما يحتمل السقوط من العبادات) كالصلاة والصوم والحج؛ لأن الكفار ليسوا بأهل لأداء العبادات؛ لأن أداءَها سبب لاستحقاق الثواب، وهو ليس

بأهل للثواب؛ لأن ثوابه الجنة، وإذا لم يكن أهلاً للأداء لا يخاطب بالأداء؛ لأن الخطاب بالعمل للعمل.

فأما ما لا يحتمل السقوط كالإيمان، فإنهم مخاطبون به على ما تقدم.
পরিচ্ছেদ

আর কাফিরগণ ইমানের (الإيمان) নির্দেশ প্রাপ্ত: অর্থাৎ ইমান (الإيمان) আনার নির্দেশ তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {বলুন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের কাছে আল্লাহর রাসুল...} তার এই বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ইমান (الإيمان) আনো} পর্যন্ত (ফকিহগণের (الفقهاء) ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে পূর্ববর্তী অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে); তিনি এরূপই বলেছেন, তবে এটি আমাদের আলেমদের (রহিমাহুমুল্লাহ তায়ালা) উদ্দেশ্য নয়, বরং আমি যা উল্লেখ করেছি সেটিই তাদের উদ্দেশ্য।

আর তারা ইবাদাতসমূহের (العبادات) মধ্য থেকে যা রহিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে—যেমন নামাজ, রোজা ও হজ—তা পালনের জন্য আদিষ্ট (নয়); কারণ কাফিরগণ ইবাদাত (العبادات) পালনের যোগ্য নয়; কারণ তা পালন করা সওয়াব (الثواب) প্রাপ্তির কারণ, আর সে

সওয়াব (الثواب) পাওয়ার যোগ্য নয়; কারণ এর সওয়াব (الثواب) হলো জান্নাত, আর যখন সে আমল পালনের যোগ্য নয়, তখন তাকে আমল পালনের নির্দেশ দেওয়া হয় না; কারণ আমলের নির্দেশ দেওয়া হয় আমল সম্পন্ন করার জন্যই।

পক্ষান্তরে যা রহিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না যেমন ইমান (الإيمان), তারা পূর্বেই উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী তার জন্য আদিষ্ট।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৭১)
وهذا (في الصحيح) وهو قول مشايخ ما وراء النهر.

وعند العراقيين: يخاطبون بجميع أوامر الله تعالى ونواهيه من حيث الاعتقاد والأداء في حقّ المؤاخذة في الآخرة، فيعاقبون على ترك ذلك لقوله تعالى: {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ. قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ}. فأخبروا أنهم استحقوا ذلك بترك الصلاة، ولم يُرَدَّ عليهم.

وأجيب: بأن الصلاة تذكر ويراد اعتقاد حقيتها لا فعلها، قال تعالى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ}، حيث يخلي سبيله إذا آمن قبل فعل الصلاة، وإذا كان محتملاً لا يحتج به في موضع القطع.
এবং এটি বিশুদ্ধ (صحيح) মতের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মা ওয়ারাউন নাহরের মাশায়েখদের অভিমত।

আর ইরাকিদের মতে: আকিদাগত বিশ্বাস এবং পালনের দিক থেকে তারা মহান আল্লাহর সকল আদেশ ও নিষেধের সম্বোধিত হওয়ার যোগ্য, যাতে পরকালে তাদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন করা যায়। সুতরাং এগুলো বর্জন করার কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে; কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের কিসে সাকার-এ (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে: আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না}। এখানে তারা সংবাদ দিয়েছে যে, তারা নামাজ বর্জন করার কারণে শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে এবং তাদের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়নি।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে: এখানে নামাজ উল্লেখ করে তার সত্যতায় বিশ্বাস স্থাপন করাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, কেবল তার বাহ্যিক সম্পাদন নয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর তারা যদি তওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও}। এখানে দেখা যাচ্ছে যে, নামাজ আদায়ের পূর্বেই যদি কেউ ঈমান আনে, তবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। আর যখন বিষয়টি একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে, তখন অকাট্য (قطعي) প্রমাণের ক্ষেত্রে তা দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৭২)
النهي

(ومنه) أي من الخاص (النهي) وهو قول القائد لغيره: لا تفعل، وإنما كان من الخاص لما تقدَّم في الأمر.

(وينقسم) النهي (في) اقتضائه (صفة القبح كالأمر): أي كانقسام الأمر (في اقتضائه) لصفة (الحُسُن) للمأمور به.

فالقسم (الأول) من المنهي عنه (ما قبح لمعنى في عينه وضعاً) كالكفر وضع لمعنى قبيح في ذاته وهو كفران النعم، (أو شرعاً) كبيع الحرّ عُلِمَ من الشرع قبحه لا من العقل، ونصب وضعاً وشرعاً على التمييز؛ لأن قبح الشيء يكون باعتبار أمور.

وحكم هذا النوع أن المنهيَ عنه غير مشروع أصلاً.

(و) القسم (الثاني: ما قبح لمعنى في غيره) أي في غير المنهي عنه (وصفاً) قائماً بالمنهي عنه لا يقبل الانفكاك، كصوم يوم النحر، فإنه إمساك لله تعالى، فلم يقبح باعتبارها، بل باعتبار وصفه وهو الإعراض عن ضيافة الرب في هذا اليوم.

وحكمه: أن المنهي عنه بعد النهي مشروع بأصله غير مشروع بوصفه، فيصح النذر به، وإذا فعله يخرج عن العهدة.
নিষেধ (النهي)

(তার অংশ) অর্থাৎ বিশেষ (الخاص) এর অন্তর্ভুক্ত হলো নিষেধ (النهي); আর তা হলো কোনো নির্দেশদাতার পক্ষ থেকে অন্যকে বলা: "তুমি করো না"। এটি বিশেষ (الخاص) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হলো আদেশ (الأمر) এর ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে।

(এবং বিভক্ত হয়) নিষেধ (النهي), (তার) দাবি করার ক্ষেত্রে (মন্দ (القبح) গুণের দিক থেকে আদেশের মতো): অর্থাৎ আদিষ্ট বিষয়টির ক্ষেত্রে আদেশের (তার দাবি করার ক্ষেত্রে) ভালো (الحسن) গুণের দিকে বিভক্ত হওয়ার ন্যায়।

সুতরাং নিষিদ্ধ বিষয় (المنهي عنه) এর (প্রথম) প্রকার হলো (যা তার সত্তাগত কোনো অর্থের কারণে মন্দ (القبح) হিসেবে গণ্য হয় মৌলিক সংজ্ঞার বিচারে (وضعاً)), যেমন কুফর; যা তার নিজের মধ্যেই একটি মন্দ অর্থের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, আর তা হলো নেয়ামতের অস্বীকার করা। (অথবা শরয়ি বিচারে (شرعاً)), যেমন স্বাধীন মানুষ বিক্রি করা; যার মন্দ হওয়া শরিয়ত থেকে জানা গেছে, বিবেক থেকে নয়। এখানে 'আভিধানিক বা মৌলিক সংজ্ঞার বিচারে (وضعاً)' এবং 'শরয়ি বিচারে (شرعاً)' শব্দ দুটি 'তাময়িজ' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ কোনো বিষয়ের মন্দ হওয়া বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।

আর এই প্রকারের হুকুম হলো, নিষিদ্ধ বিষয় (المنهي عنه) মূলগতভাবেই বিধিবদ্ধ (مشروع) নয়।

(এবং) (দ্বিতীয়) প্রকার: (যা অন্য কোনো অর্থের কারণে মন্দ (القبح) হিসেবে গণ্য হয়) অর্থাৎ নিষিদ্ধ বিষয় (المنهي عنه) ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ের কারণে, যা (গুণগতভাবে (وصفاً)) নিষিদ্ধ বিষয়টির সাথে এমনভাবে লেগে থাকে যা পৃথক করা সম্ভব নয়। যেমন ঈদুল আযহার দিনে রোজা রাখা; কেননা এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা, তাই এই মূল কাজের বিচারে তা মন্দ নয়; বরং তা মন্দ হয়েছে তার একটি গুণের কারণে, আর তা হলো এই দিনে রবের আতিথেয়তা থেকে বিমুখ হওয়া।

আর এর হুকুম হলো: নিষিদ্ধ হওয়ার পর নিষিদ্ধ বিষয় (المنهي عنه) তার মূল সত্তার বিচারে বিধিবদ্ধ (مشروع) কিন্তু তার গুণের বিচারে তা বিধিবদ্ধ (مشروع) নয়। সুতরাং এর মানত করা সঠিক (صحيح) হবে, আর যদি কেউ তা পালন করে তবে সে দায়মুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৭৩)
(ومجاوراً) أي مصاحباً ومقارناً في الجملة: كالبيع وقت النداء، قبحه للاشتغال بالبيع عن السعي، وهو مجاور للبيع قابل للانفكاك عنه، كما إذا باع في حالة السعي في الطريق فلا يكره.

(والنهي عن الأفعال الحسية) وهي التي تعرف بالحس ولا يتوقّف وجودها على الشرع، كالقتل والزنا وشرب الخمر (من) القسم (الأول) وهو القبيح لعينه وضعاً.

(و) النهي (عن) الأمور (الشرعية)، وهي التي يتوقف تحقيقها على الشرع، كالصلاة والصوم والبيع والإجارة (من) القسم (الثاني) وهو القبيح لغيره وصفاً؛ لأن النهي تصرف في المخاطب بالمنع عن الفعل، فلا بدّ أن يكون الفعل متصوّراً للمخاطب، وتصوره هذا موقوف على الشرع، فيكون مشروعاً بأصله غير مشروع بوصفه، ففي العبادات يصح التزامها، وفي المعاملات تفيد الملك عند اتصال القبض.

(وقد اختلف العلماء) [رضي الله عنهم] في الأمر والنهي في حقّ الضدّ، (فقال بعضهم: الأمر بالشيء نهي عن ضده) من جهة اللفظ، فيكون لفظ الأمر موجباً للنهي عن ضده.
(এবং সংশ্লিষ্ট - مجاوراً) অর্থাৎ সাধারণভাবে কোনো বিষয়ের সহগামী বা তুলনাযোগ্য হওয়া: যেমন আজানের সময় ক্রয়-বিক্রয় করা, এর মন্দত্ব (কুবহ - قبحه) হলো ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে গমনে বিঘ্ন ঘটা। এটি ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট (মুজাবির - مجاور) যা তা থেকে পৃথকযোগ্য; যেমন যদি কেউ গমনের পথ চলা অবস্থায় ক্রয়-বিক্রয় করে, তবে তা অপছন্দনীয় (মাকরূহ - مكروه) হবে না।

(এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কার্যাবলি সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা - والنهي عن الأفعال الحسية) যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয় এবং যার অস্তিত্ব শরয়ি বিধানের ওপর নির্ভরশীল নয়, যেমন হত্যা, ব্যভিচার ও মদ্যপান; এটি (প্রথম - الأول) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং তা সত্তাগতভাবে মন্দ (কাবিহ লি-আইনিহি - القبيح لعينه)।

(এবং) শরয়ি (শরঈয়্যাহ - الشرعية) বিষয়সমূহ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা, যার বাস্তবতা শরয়ি বিধানের ওপর নির্ভরশীল, যেমন সালাত, সাওম, ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারা; এটি (দ্বিতীয় - الثاني) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং তা গুণগত কারণে মন্দ (কাবিহ লি-গাইরিহি - القبيح لغيره)। কারণ নিষেধাজ্ঞা (নাহি - النهي) হলো সম্বোধিত ব্যক্তিকে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা, তাই কাজটি সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট বোধগম্য হওয়া আবশ্যক। আর এর বোধগম্যতা শরয়ি বিধানের ওপর নির্ভরশীল, ফলে তা মূলগতভাবে বৈধ (মাশরু - مشروع) কিন্তু গুণগতভাবে অবৈধ। অতএব ইবাদতের ক্ষেত্রে তা পালন করা শুদ্ধ হয় এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে হস্তান্তরের (কাবজ - القبض) সময় মালিকানা সাব্যস্ত হয়।

(এবং উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন) [আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন] বিপরীত বিষয়ের ক্ষেত্রে আদেশ (আমর - الأمر) ও নিষেধ (নাহি - النهي) সংক্রান্ত বিধানে, (তাদের কেউ কেউ বলেছেন: কোনো বিষয়ে আদেশ প্রদান করা তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করা - الأمر بالشيء نهي عن ضده) শাব্দিক দিক থেকে, ফলে আদেশের শব্দটি তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করাকে আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৭৪)
وقال بعضهم: من جهة الدلالة على أنه لا يجوز له فعل المنافي له في وقت وجوبه.

(وبالعكس): أي وقالوا: النهي عن شيء يكون أمراً بضده، وهذا إذا كان له ضد واحد عند قوم، ومطلقاً عند آخرين.

(والمختار: أنه) أي الأمر بالشيء (يقتضي) أي يثبت ضرورة (كراهة ضده) أي ضد المأمور به،

والمراد الضدّ الذي يفوت المأمور به بالاشتغال به؛ لأن هذا النهي لَمَّا لم يكن بالنصّ، وإنما هو بالضرورة فيثبت بقدر ما تندفع [به الضرورة، والضرورة تندفع] بالأدنى، وهو جعل الضدّ مكروهاً.
এবং তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি এই দিক থেকে নির্দেশ করে যে, ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার সময় তার পরিপন্থী কোনো কাজ করা ব্যক্তির জন্য বৈধ নয়।

(এবং এর বিপরীতে): অর্থাৎ তাঁরা বলেছেন: কোনো বিষয়ে নিষেধ (نهي) করা তার বিপরীত বিষয়ের জন্য আদেশ (أمر) হিসেবে গণ্য হয়। এটি তখন প্রযোজ্য যখন একদলের মতে তার মাত্র একটি বিপরীত থাকে এবং অন্যদের মতে এটি সাধারণভাবে (مطلق) প্রযোজ্য।

(এবং পছন্দনীয় মত হলো এই যে:) কোনো বিষয়ে আদেশ (أمر) প্রদান করা অনিবার্যভাবে (ضرورة) সাব্যস্ত করে (তার বিপরীত বিষয়ের অপছন্দনীয়তা (كراهة)); অর্থাৎ যা আদেশ করা হয়েছে তার বিপরীত বিষয়টির।

আর এখানে সেই বিপরীত উদ্দেশ্য, যাতে লিপ্ত হওয়ার কারণে আদেশকৃত বিষয়টি পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে; কারণ এই নিষেধ (نهي) যেহেতু সরাসরি নস (نص) দ্বারা প্রমাণিত নয়, বরং তা অনিবার্যভাবে (بالضرورة) প্রমাণিত, তাই তা ততটুকুই সাব্যস্ত হবে যতটুকু দ্বারা প্রয়োজন পূরণ হয়। আর এই প্রয়োজন নিম্নতম স্তরের মাধ্যমে পূরণ হয়ে যায়, আর তা হলো বিপরীত বিষয়টিকে অপছন্দনীয় (مكروه) সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৭৫)
[فالمأمور بالقيام في الصلاة إذا قعد ثم قام، لا تبطل لكنه يكره.

(و) يقتضي أن يكون (ضد النهي) أي ضد المنهي عنه] (كسنة واجبة) أي مؤكدة قريبة من الواجب، لما قلنا في الأمر؛ [ولهذا قلنا: إن المُحْرِم لَمَّا نُهِيَ عن لُبْس المخيط كان من السنة لبس الإزار والرداء].

وهنا انتهى القسم الأول من القسم الأول ثم عطف عليه بقوله:
[সালাতে দণ্ডায়মান থাকার জন্য আদিষ্ট ব্যক্তি যদি বসে পড়ে এবং এরপর পুনরায় দাঁড়ায়, তবে তা বাতিল হবে না কিন্তু তা মাকরূহ (يكره) হবে।

(এবং) এটি দাবি করে যে তা হবে (নিষেধের বিপরীত (ضد النهي)) অর্থাৎ যা থেকে নিষেধ (المنهي عنه) করা হয়েছে তার বিপরীত] (ওয়াজিব পর্যায়ের সুন্নাহর (سنة واجبة) মতো) অর্থাৎ সুন্নতে মুয়াক্কাদা (مؤكدة) যা ওয়াজিবের (الواجب) নিকটবর্তী, আমরা নির্দেশের (الأمر) ক্ষেত্রে যা বলেছি সেই কারণে; [আর একারণেই আমরা বলেছি: ইহরাম গ্রহণকারী (المحرم) ব্যক্তিকে যখন সেলাই করা পোশাক পরিধান করতে নিষেধ (نهي) করা হয়েছে, তখন লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করা সুন্নাহ (السنة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।]

আর এখানেই প্রথম প্রকারের প্রথম অংশ সমাপ্ত হলো, অতঃপর তিনি এর ওপর পরবর্তী কথাটি সংযোজন করেছেন:
(খণ্ড: ১) খুলাসাতুল আফকার শারহু মুখতাসারিল মানার (পৃষ্ঠা: ৭৬)
‌‌(2) العام

(والعام): أي والقسم الثاني: العام: (وهو ما): أي لفظ (تناول أفراداً) فخرج الخاص.

(متفقة الحدود) احترازاً عن المشترك، فإنه يتناول أفراداً ولكنها مختلفة الحدود.

وقوله: (على سبيل الشمول): أي لا على سبيل البدل، واحترز به عن اسم الجنس نحو رجل، فإنه يتناول أفراداً متفقة الحدود لكن على سبيل البدل.

(وحكمه): أي الأثر الثابت به (إيجاب الحكم): أي إثبات الحكم المستفاد ممَّا ذكر معه بمتعلقه (فيما يتناوله): أي في مدلوله (قطعاً) ـ تمييزٌ أو صفة مصدر محذوف ـ أي تناولاً قاطعاً إرادة البعض،

وهذا مذهب أكثر الأصحاب (كقوله تعالى: {فَاقْتُلُوا
‌(২) সাধারণ (العام)

(এবং সাধারণ (العام)): অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রকার: সাধারণ (العام): (তা হলো এমন কিছু): অর্থাৎ এমন শব্দ (যা একাধিক সত্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে), যার ফলে বিশেষ (الخاص) পরিভাষাটি বহির্ভূত হয়ে গেল।

(অভিন্ন সংজ্ঞাসম্পন্ন (متفقة الحدود)): এটি অনেকার্থক (المشترك) শব্দ থেকে সতর্কতাস্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ তা একাধিক সত্তাকে অন্তর্ভুক্ত করলেও সেগুলোর সংজ্ঞা বা সীমা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

এবং তাঁর উক্তি: (ব্যাপকতার ভিত্তিতে (على سبيل الشمول)): অর্থাৎ বিকল্প (البدل) হিসেবে নয়; এর মাধ্যমে তিনি জাতিবাচক নাম যেমন ‘পুরুষ’ শব্দটিকে বাদ দিয়েছেন, কারণ তা অভিন্ন সংজ্ঞাসম্পন্ন একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করলেও তা কেবল বিকল্প (البدل) হিসেবে করে থাকে।

(এবং এর বিধান (وحكمه)): অর্থাৎ এর দ্বারা সাব্যস্ত হওয়া প্রভাব (বিধানকে আবশ্যক করা (إيجاب الحكم)): অর্থাৎ এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে যে বিধান লাভ করা হয় তা সাব্যস্ত করা (তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে (فيما يتناوله)): অর্থাৎ তার অর্থের পরিসরে (অকাট্যভাবে (قطعاً)) — এটি একটি তাময়িজ অথবা উহ্য মাসদারের বিশেষণ — অর্থাৎ এর অন্তর্ভুক্তিকরণ আংশিক উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনাকে অকাট্যভাবে (قطعاً) নাকচ করে দেয়।

আর এটিই অধিকাংশ ইমাম ও সহচরদের মাযহাব (যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তোমরা হত্যা করো...