(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: -)
المقدمة الجزولية في النحو   (الجزولي، أبو موسى)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: المقدمة الجزولية في النحو

المؤلف: عيسى بن عبد العزيز بن يَلَلْبَخْت الجزولي البربري المراكشي، أبو موسى (ت 607هـ)

المحقق: د. شعبان عبد الوهاب محمد

راجعه: د حامد أحمد نيل - د فتحي محمد أحمد جمعة

طبع ونشر: مطبعة أم القرى

جمع تصويري: دار الغد العربي

عدد الصفحات: 323

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 محرم 1436

আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু   (আল-জাযুলি, আবু মুসা)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু

গ্রন্থকার: ঈসা বিন আব্দুল আজিজ বিন ইলালবাখত আল-জাযুলি আল-বারবারি আল-মাররাকুশি, আবু মুসা (মৃত্যু ৬০৭ হিজরি)

সম্পাদক: ড. শাবান আব্দুল ওয়াহহাব মুহাম্মদ

পর্যবেক্ষণ: ড. হামিদ আহমদ নীল - ড. ফাতহি মুহাম্মদ আহমদ জুমুআহ

মুদ্রণ ও প্রকাশনা: মাতবাআতু উম্মিল কুরা

ফটোকম্পোজিশন: দারুল গাদ আল-আরাবি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৩

শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ-এর তত্ত্বাবধানে রাবিতাতুন নুসসাখ দল

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ মুহররম ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১)
المقدمة‌‌ الجزولية

في النحو

تصنيف أبي موسى عيسى بن عبد العزيز الجزولي

المتوفى بأزمور سنة 607هـ

تحقيق وشرح

الدكتور شعبان عبد الوهاب محمد

الأستاذ المشارك بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

كلية اللغة العربية والعلوم الاجتماعية بأبها

راجعه

الدكتور حامد أحمد نيل - الأستاذ بكلية اللغة العربية

الدكتور فتحي محمد أحمد جمعة - المدرس بكلية دار العلوم

جامعة الأزهر الشريف - جامعة القاهرة
আল-মুকাদ্দিমাতুল‌‌ জাজুলিয়্যাহ

নাহু শাস্ত্র বিষয়ক

আবু মুসা ঈসা বিন আব্দুল আজিজ আল-জাজুলির সংকলন

আযমুরে ইন্তেকাল করেছেন ৬০৭ হিজরি সনে

সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা

ডক্টর শাবান আব্দুল ওয়াহাব মুহাম্মদ

ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক

আভার আরবি ভাষা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ

নিরীক্ষণ করেছেন

ডক্টর হামিদ আহমদ নীল - আরবি ভাষা অনুষদের অধ্যাপক

ডক্টর ফাতহি মুহাম্মদ আহমদ জুমুআ - দারুল উলুম অনুষদের প্রভাষক

আল-আজহার আল-শরীফ বিশ্ববিদ্যালয় - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الكلام

هو اللفظ المركب المفيد بالوضع

كل جنس قسم إلى أنواعه أو إلى أشخاص أنواعه أو نوع قُسم إلى أشخاصه فاسم المقسوم يصدق على الأنواع وعلى أشخاص الأنواع، وإلا فليست الأنواع أنواعا له، ولا الأشخاص أشخاصا لتلك الأنواع.

الاسم: كل كلمة تدل على معنى في نفسها ولا تتعرض لزمان وجود ذلك المعنى.
কালাম (الكلام)

তা হলো এমন যৌগিক শব্দ (اللفظ المركب), যা অর্থবহ (المفيد) এবং যা সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত রীতি অনুযায়ী (بالوضع) গঠিত।

প্রতিটি শ্রেণি (جنس) যদি তার বিভিন্ন প্রকার (أنواع) অথবা প্রকারসমূহের ব্যক্তিবর্গ (أشخاص أنواعه)-এ বিভক্ত হয়, অথবা কোনো প্রকার (نوع) যদি তার ব্যক্তিবর্গে (أشخاص) বিভক্ত হয়, তবে যা বিভক্ত করা হয়েছে (المقسوم) তার নাম সেই প্রকারসমূহের ওপর এবং প্রকারসমূহের ব্যক্তিবর্গের ওপরও প্রযোজ্য হবে। অন্যথায় প্রকারগুলো তার প্রকার হিসেবে গণ্য হবে না এবং ব্যক্তিবর্গও সেই প্রকারসমূহের ব্যক্তিবর্গ হিসেবে পরিগণিত হবে না।

বিশেষ্য (الاسم): এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বতন্ত্রভাবে নিজের অর্থ প্রকাশ করে এবং সেই অর্থের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে কোনো কালের (زمان) সাথে সংশ্লিষ্ট হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪)
الفعل: كل كلمة تدل على معنى في نفسها وتتعرض لزمان وجود ذلك المعنى.

الحرف: كل كلمة لا تدل على معنى في نفسها ولكن في غيرها.

الحرف يأتي لثمانية معان: معنى في الاسم خاصة وفي الفعل خاصة، أو رابطا بين اسمين أو بين فعلين أو بين اسم وفعل أو بين جملتين أو داخلا على جملة تامة قالبا لمعناها أو مؤكدا لها أو مغيرا لها أو زائدا لمجرد التوكيد.
ক্রিয়া (الفعل): এমন প্রতিটি শব্দ যা নিজস্ব সত্তায় কোনো অর্থের নির্দেশ করে এবং সেই অর্থের অস্তিত্বের সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।

অব্যয় (الحرف): এমন প্রতিটি শব্দ যা নিজস্ব সত্তায় কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, বরং অন্য শব্দের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে।

অব্যয় (الحرف) আটটি অর্থের (বা ব্যবহারের) জন্য আসে: বিশেষত বিশেষ্য (الاسم)-এর ক্ষেত্রে এবং বিশেষত ক্রিয়া (الفعل)-এর ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থ প্রদানের জন্য; অথবা দুটি বিশেষ্য (الاسم)-এর মাঝে, অথবা দুটি ক্রিয়া (الفعل)-এর মাঝে, অথবা একটি বিশেষ্য (الاسم) ও একটি ক্রিয়া (الفعل)-এর মাঝে, অথবা দুটি বাক্যের (جملة) মাঝে সংযোগকারী হিসেবে; অথবা একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যের (جملة) শুরুতে প্রবেশ করে তার অর্থকে উল্টে দেওয়ার জন্য, কিংবা অর্থের ওপর তাকিদ বা নিশ্চয়তা (مؤكد) প্রদানের জন্য, কিংবা অর্থ পরিবর্তনের জন্য, অথবা কেবল তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত (زائد) হিসেবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫)
الفاعل: كل اسم أسند إليه فعل أو اسم في معنى الفعل وقدما عليه أبدا على طريقة فعَل أو يفعل أو فاعل أو افعلْ.

المفعول: ما تضمنه الفعل من حدث وزمان، والتزمه الحدث من ماكن واستدعاء من محل وباعث ومصاحب.
কর্তা (الفاعل): এমন প্রত্যেকটি বিশেষ্য (اسم), যার প্রতি কোনো ক্রিয়া (فعل) অথবা ক্রিয়ার অর্থবোধক কোনো বিশেষ্যকে সম্বন্ধ (إسناد) করা হয়েছে এবং উক্ত ক্রিয়া বা বিশেষ্যটি সর্বদা ‘ফায়ালা’ (فَعَلَ), ‘ইয়াফআলু’ (يَفْعَلُ), ‘ফাইল’ (فَاعِل) অথবা ‘ইফআল’ (اِفْعَلْ) এর রীতি অনুযায়ী তার পূর্বে আসে।

কর্ম (المفعول): ক্রিয়া (فعل) যে ঘটনা (حدث) ও কালকে (زمان) অন্তর্ভুক্ত করে এবং ঘটনাটি স্থান (مكان), আধারের আবশ্যকতা (محل), কারণ (باعث) ও সহগামী (مصاحب) বিষয়ের যা দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৬)
الفعل: يدل على المصدر بنفسه ولذلك لا تختلف دلالته عليه عند اختلاف صيغته، ويدل على الزمان بصيغته، ولذلك قد تختلف دلالته عليه عند اختلاف صيغته.

الفعل: يقع على المعنى الصادر عن الفعل، ويقع على اللفظ الذي هو أحد الكلم الثلاث، والفعل الذي المصدر اسمه غير الذي اشتق منه.
ক্রিয়া (الفعل): এটি স্বয়ং মূল ধাতু (المصدر)-এর অর্থ নির্দেশ করে, আর এ কারণেই রূপ (صيغة) পরিবর্তনের ফলে তার নির্দেশনায় কোনো পার্থক্য হয় না; তবে এটি তার রূপের (صيغة) মাধ্যমে কাল (الزمان) নির্দেশ করে, ফলে রূপের পরিবর্তনের সাথে সাথে সময়ের নির্দেশে ভিন্নতা দেখা দেয়।

ক্রিয়া (الفعل): এটি ক্রিয়া থেকে সম্পাদিত অর্থের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার এটি সেই শব্দের (اللفظ) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা তিন প্রকার পদের একটি। আর যে ক্রিয়ার নাম তার মূল ধাতু (المصدر), তা সেই ক্রিয়া থেকে পৃথক যা এটি থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌باب الإعراب

الإعراب: تغير أواخر الكلم لاختلاف العوامل الداخلة عليها لفظا او تقديرا، وفائدته الدلالة على المعنى الحادث بالعامل.

والبناء: مثله في اللفظ وضده في المعنى، والفرق بينهما انتقال الإعراب ولزوم البناء.

وألقاب الإعراب أربعة: الضم والفتح والكسر والوقف.
ইরাব (إعراب) পরিচ্ছেদ

ইরাব (إعرাব): শব্দগতভাবে (لفظا) অথবা প্রচ্ছন্নভাবে (تقديرا) শব্দের শেষাংশের পরিবর্তন, যা তার ওপর প্রবেশকারী প্রভাবকসমূহের (عوامل) ভিন্নতার কারণে হয়ে থাকে। এর সার্থকতা হলো প্রভাবকের মাধ্যমে সৃষ্ট অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা।

আর বিনাহ (بناء): এটি উচ্চারণের দিক থেকে ইরাবের অনুরূপ হলেও অর্থের দিক থেকে তার বিপরীত। এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো ইরাবের পরিবর্তনশীলতা (انتقال) এবং বিনাহ-এর অপরিবর্তনশীলতা (لزوم)।

ইরাবের প্রকারসমূহ (ألقاب) চারটি: যম্মাহ (ضم), ফাতহাহ (فتح), কাসরাহ (كسر) এবং ওয়াকফ (وقف)।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৮)
وأصل الإعراب للأسماء؛ لأنها لا تتغير صيغتها لتغير المعاني عليها، وليست كذلك الأفعال.

وأصل البناء للأفعال؛ لأنها تتغير صيغتها لتغير المعاني عليها، وإنما أعرب نمها لمضارعته الاسم، ومضارعته له من ثلاثة أوجه: الإبهام والتخصيص ودخول لام الابتداء عليه.

والمعرب من الكلم صنفان: الاسم المتمكن والفعل المضارع ويشترك الاسم المتمكن والفعل المضارع في الرفع والنصب وينفرد الاسم المتمكن بالجر وينفرد المضارع بالجزم انفراد الاسم المتمكن بالجر لكون عامله لا يفيد معنى إلا فيه ويفهم منه انفراد الفعل المضارع بالجزم.

التنوين: نون ساكنة زائدة تلحق الاسم بعد كماله تفصله عما بعده وفائدته الدلالة على أن ما هو أصل في نفسه باق على أصالته، والفعل والحرف ليسا أصلين في أنفسهما فلا يدخلهما التنوين. كل اسم عرض فيه شبه الحرف فعلامته عدم الإعراب أصلا.
শব্দের রূপান্তরশীলতা (إعراب) মূলত বিশেষ্যের (أسماء) জন্য; কারণ অর্থের পরিবর্তনের কারণে এদের মূল রূপ পরিবর্তিত হয় না, কিন্তু ক্রিয়াসমূহ (أفعال) এমন নয়।

অপরিবর্তনীয়তা (بناء) মূলত ক্রিয়াসমূহের (أفعال) বৈশিষ্ট্য; কারণ অর্থের পরিবর্তনের ফলে এদের রূপ পরিবর্তিত হয়। আর ক্রিয়ার মধ্যে কেবল বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াকে (مضارع) রূপান্তরশীল (إعراب) করা হয়েছে বিশেষ্যের (اسم) সাথে এর সাদৃশ্যের কারণে। বিশেষ্যের সাথে এর এই সাদৃশ্য তিনটি দিক থেকে: অস্পষ্টতা (إبهام), নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) এবং এতে প্রারম্ভিক লাম (لام الابتداء) যুক্ত হওয়া।

শব্দাবলির মধ্যে রূপান্তরশীল (معرب) প্রকার হলো দুটি: সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الاسم المتمكن) এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع)। সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الاسم المتمكن) এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) উভয়েই পেশ (رفع) এবং জবর (نصب) গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অংশীদার। তবে সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الاسم المتمكن) এককভাবে জের (جر) গ্রহণ করার মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয় এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) এককভাবে জজম (جزم) গ্রহণ করার মাধ্যমে স্বতন্ত্র হয়। সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্যের (الاسم المتمكن) এককভাবে জের (جر) গ্রহণ করার কারণ হলো, এর আমিল বিশেষ্য ছাড়া অন্য কোথাও অর্থ প্রদান করে না, আর এ থেকেই বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (فعل مضارع) এককভাবে জজম (جزم) গ্রহণের বিষয়টি অনুধাবন করা যায়।

তানউইন (تنوين): এটি একটি অতিরিক্ত সাকিনযুক্ত নূন (نون ساكنة), যা বিশেষ্য (اسم) পূর্ণতা পাওয়ার পর তার শেষে যুক্ত হয় এবং তাকে পরবর্তী শব্দ থেকে পৃথক করে। এর উপযোগিতা হলো এটি প্রমাণ করা যে, যা আপন সত্তায় মূল, তা তার মৌলিকত্বের ওপর বহাল রয়েছে। আর ক্রিয়া (فعل) ও অব্যয় (حرف) আপন সত্তায় মূল নয়, তাই এদের মধ্যে তানউইন (تنوين) প্রবেশ করে না। প্রতিটি বিশেষ্য (اسم), যার মধ্যে অব্যয়ের (حرف) সাদৃশ্য সৃষ্টি হয়, তার আলামত বা লক্ষণ হলো তাতে মূলত কোনো রূপান্তরশীলতা (إعراب) না থাকা।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৯)
الألف واللام والنعت والتصغير إنما احتاج إليه الاسم ليختص فيفيد الإخبار عنه، والفعل والحرف لا يخبر عنهما فلا يحتاجان إلى تخصيص.

আলিফ-লাম (الألف واللام), বিশেষণ (النعت) এবং ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (التصغير)-এর প্রয়োজনীয়তা কেবল বিশেষ্য (الاسم)-এর জন্যই হয়ে থাকে, যাতে সেটি সুনির্দিষ্ট (تخصيص) হয় এবং তার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান (الإخبار) করা সম্ভব হয়। কিন্তু ক্রিয়া (الفعل) ও অব্যয় (الحرف) সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রদান করা হয় না, বিধায় সেগুলোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) প্রয়োজন নেই।

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১০)
المنادى: مفعول في المعنى، والفعل لا يكون مفعولا فلا يكون منادى.

التصرف: اختلاف الصيغ لاختلاف المعاني والتمكن يقابله وقول الزجاجي في الجمل: وإنما لم تجزم الأسماء لأنها متمكنة يلزمها التنوين والحركة، فلو جزمت لذهبت حركتها أي للجزم وتنوينه أي لالتقاء الساكنين، فكانت تختل أي ينتقص من معانيها ما أفاده كل واحد من الحركة والتنوين لذهابها، وقوله لا معنى للإضافة إلى الأفعال؛ لأنها لا تملك شيئا ولا تستحقه، والهاء من قوله تستحقه للشيء أو للملك المفهوم من قوله لا تملك شيئا ولا تستحقه والأحسن أن يكون للشيء لا للملك.
সম্বোধিত পদ (المنادى) হলো অর্থগতভাবে কর্ম (مفعول), আর ক্রিয়া যেহেতু কর্ম হতে পারে না, তাই তা সম্বোধিত পদও হতে পারে না।

রূপান্তরযোগ্যতা (التصرف) হলো: অর্থের ভিন্নতার কারণে শব্দের রূপের ভিন্নতা হওয়া; আর এর বিপরীত হলো শব্দের স্থিরতা বা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া (التمكن)। 'আল-জুমাল' গ্রন্থে আজ-জুজ্জাজির উক্তি: "বিশেষ্যসমূহ (الأسماء) জযম (جزم) যুক্ত হয় না কারণ সেগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত (متمكنة), যা সেগুলোর জন্য তানউইন (التنوين) ও হরকত (الحركة) গ্রহণ করাকে অপরিহার্য করে তোলে। ফলে যদি সেগুলোকে জযম প্রদান করা হতো, তবে জযমের কারণে তার হরকত বিলুপ্ত হতো এবং দুই সাকিনের মিলনের (التقاء الساكنين) ফলে তার তানউইন বিলুপ্ত হতো। এতে শব্দের গঠনগত সংহতি বিনষ্ট হতো, অর্থাৎ হরকত ও তানউইন বিলুপ্ত হওয়ার কারণে এগুলোর প্রতিটি যে অর্থ প্রদান করত তা হ্রাস পেত।" আর তাঁর উক্তি: "ক্রিয়ার দিকে সম্বন্ধ (الإضافة) করার কোনো সার্থকতা নেই; কারণ ক্রিয়া কোনো কিছুর মালিক হয় না এবং তার হকদারও হয় না।" এখানে 'তাজতাহিক্কুহু' (تستحقه) ক্রিয়াপদস্থিত সর্বনাম (الهاء) সেই 'বস্তু' এর দিকে অথবা 'মালিকানা' এর দিকে নির্দেশ করে, যা তাঁর উক্তি 'সে কোনো কিছুর মালিক হয় না এবং তার হকদারও হয় না' থেকে অনুধাবন করা যায়। তবে এটি 'বস্তু'র দিকে নির্দেশ করাই উত্তম, 'মালিকানা'র দিকে নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১)
التثنية: ضم واحد إلى مثله بشرط اتفاق اللفظين وأصلها العطف وفائدتها التكثير، وعدل عن الأصل إيجازا واختصارا، ولا يصح التكثير وضم الشيء إلى مثله إلا في الأشخاص والأنواع دون الأجناس، ومدلولات الأفعال أجناس فلا تصح فيها التثنية كما لا تكون في مدلولاتها.

الجمع: ضم واحد إلى أكثر منه بشرط اتفاق الألفاظ وفائدته التكثير وأصله العطف وعدل عن الأصل إيجازا ولا يصح ذلك إلا في الأنواع والأشخاص دون الأجناس ومدلولات الأفعال أجناس فلا تجمع الأفعال كما لا تجمع مدلولاتها.

وضع التأنيث في الأشخاص فيلحق ما هو ثان عنها دون الأجناس ومدلولات الأفعال أجناس فلا يكون فيها تأنيث كما لا يكون في مدلولاتها والتاء التي تلحق الفعل علامة لتأنيث الفعل لا لتأنيث الفعل.
দ্বিবচন (التثنية): শব্দদ্বয়ের ঐকমত্যের শর্তে একটিকে তার অনুরূপটির সাথে যুক্ত করা; এর মূল ভিত্তি হলো সংযোজন (العطف) এবং এর উপযোগিতা হলো সংখ্যাধিক্য (التكثير) জ্ঞাপন করা। সংক্ষিপ্তকরণ ও সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে মূল নিয়ম থেকে বিচ্যুত হয়ে এটি গঠন করা হয়েছে। সংখ্যাধিক্য এবং কোনো বস্তুকে তার অনুরূপের সাথে যুক্ত করা কেবল ব্যক্তি (الأشخاص) ও প্রকারের (الأنواع) ক্ষেত্রেই সঠিক হয়, শ্রেণীর (الأجناس) ক্ষেত্রে নয়। আর ক্রিয়াগুলোর অর্থগত বিষয়সমূহ মূলত শ্রেণীগত (الأجناس), তাই তাতে দ্বিবচন (التثنية) হওয়া শুদ্ধ নয়, যেমনটি এর অর্থগত বিষয়ের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

বহুবচন (الجمع): শব্দগুলোর ঐকমত্যের শর্তে একটিকে একের অধিকের সাথে যুক্ত করা; এর উপযোগিতা হলো সংখ্যাধিক্য (التكثير) এবং এর মূল হলো সংযোজন (العطف)। সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে মূল থেকে বিচ্যুত হয়ে এটি গঠিত। এটি কেবল প্রকার (الأنواع) ও ব্যক্তির (الأشخاص) ক্ষেত্রে সঠিক হয়, শ্রেণীর (الأجناس) ক্ষেত্রে নয়। আর ক্রিয়াগুলোর অর্থগত বিষয়সমূহ শ্রেণীগত (الأجناس), তাই ক্রিয়াগুলোর বহুবচন (الجمع) হয় না, যেমনটি এর অর্থগত বিষয়ের ক্ষেত্রে বহুবচন হয় না।

স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) এর বিধান মূলত ব্যক্তিসত্তার ক্ষেত্রে নির্ধারিত, ফলে যা তার পরবর্তী পর্যায়ের তার সাথে এটি যুক্ত হয়, শ্রেণীর (الأجناس) ক্ষেত্রে নয়। আর ক্রিয়াগুলোর অর্থগত বিষয়সমূহ শ্রেণীগত (الأجناس), তাই তাতে স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) হয় না, যেমনটি এর অর্থগত বিষয়ের ক্ষেত্রে হয় না। আর যে ‘তা’ (التاء) ক্রিয়ার শেষে যুক্ত হয় তা মূলত ক্রিয়ার স্ত্রীলিঙ্গত্ব (تأنيث الفعل) বুঝানোর চিহ্ন, ক্রিয়ার নিজস্ব স্ত্রীলিঙ্গত্ব (تأنيث الفعل) বুঝানোর জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
التذكير الشخصي لا يكون إلا في الآحاد دون الأجناس، ومدلولات الأفعال أجناس فلا يكون فيها تذكير شخصي كما لا يكون في مدلولاتها.

التنكير الذي تنفرد به الأسماء هو تنكير الآحاد دون الأجناس ومدلولات الأفعال أجناس فلا يقع فيها تنكير الآحاد كما لا يقع في مدلولاتها.

الإفراد الذي تنفرد به الأسماء هو إفراد الأشخاص والآحاد دون الأجناس ومدلولات الأفعال أجناس فلا يقع فيها الإفراد الشخصي كما لا تكون مدلولاتها.

الفاعل يخبر عنه بفعله والفعل لا يخبر عنه فلا يكون فاعلا.
ব্যক্তিগত সুনির্দিষ্টকরণ (التذكير الشخصي) কেবল একক সত্তার (الآحاد) ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে, সাধারণ শ্রেণীর (الأجناس) ক্ষেত্রে নয়। আর ক্রিয়াসমূহের অর্থ হলো সাধারণ শ্রেণী (الأجناس), তাই তাতে ব্যক্তিগত সুনির্দিষ্টকরণ (التذكير الشخصي) হয় না, ঠিক যেমনটা তাদের অর্থগত নির্দেশের ক্ষেত্রেও হয় না।

অনির্দিষ্টকরণ (التنكير) যা কেবল বিশেষ্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য, তা হলো একক সত্তার (الآحاد) অনির্দিষ্টকরণ, সাধারণ শ্রেণীর (الأجناس) নয়। আর ক্রিয়াসমূহের অর্থ হলো সাধারণ শ্রেণী (الأجناس), তাই তাতে একক সত্তার অনির্দিষ্টকরণ (تنكير الآحاد) ঘটে না, ঠিক যেমনটা তাদের অর্থগত নির্দেশের ক্ষেত্রেও ঘটে না।

একবচন হওয়া (الإفراد) যা কেবল বিশেষ্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য, তা হলো ব্যক্তি ও একক সত্তার (الآحاد) একত্ব, সাধারণ শ্রেণীর (الأجناس) নয়। আর ক্রিয়াসমূহের অর্থ হলো সাধারণ শ্রেণী (الأجناس), তাই তাতে ব্যক্তিগত একত্ব (الإفراد الشخصي) ঘটে না, ঠিক যেমনটা তাদের অর্থগুলোও এমন হয় না।

কর্তা (الفاعل) সম্পর্কে তার ক্রিয়া (الفعل) দ্বারা সংবাদ প্রদান করা হয়, কিন্তু ক্রিয়া (الفعل) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা যায় না, তাই ক্রিয়া (الفعل) কখনো কর্তা (فاعل) হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
المفعولية لا يصح معناها في الفعل فلا تكون مفعولا.

المبتدأ يخبر عنه والفعل لا يخبر عنه، فلا يكون مبتدأ.
ক্রিয়ার (الفعل) ক্ষেত্রে কর্মবাচকতার (المفعولية) অর্থ সঠিক হয় না, ফলে তা কর্ম (مفعولا) হতে পারে না।

উদ্দেশ্য (المبتدأ) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়, কিন্তু ক্রিয়া (الفعل) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয় না; সুতরাং তা উদ্দেশ্য (مبتدأ) হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌باب معرفة علامات الإعراب

الضمة: تكون علامة للرفع في الأسماء المتمكنة والأفعال المضارعة إذا سلمت من نوني التوكيد ونون جماعة المؤنث أو ضمير الثنية أو علامتها: وهو الألف، أو ضمير جماعة المذكرين العاقلين في الوضع أو علامتهم وهو الواو. أو ضمير الواحدة المخاطبة من المؤنث أو علامتها وهي الياء.
‌ইরাব (الإعراب)-এর চিহ্নসমূহ পরিচিতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

পেশ (الضمة): এটি রফ্ (الرفع)-এর চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয় মুতামাক্কিন বিশেষ্য (الأسماء المتمكنة) এবং মুজারে ক্রিয়া (الأفعাল المضارعة)-সমূহের ক্ষেত্রে, যখন তা তাকিদ-এর দুই নুন (نوني التوكيد) এবং স্ত্রীবাচক বহুবচনের নুন (نون جماعة المؤنث) হতে মুক্ত থাকে; অথবা দ্বিবচনের সর্বনাম (ضمير الثنية) কিংবা তার চিহ্ন—আলিফ (الألف) হতে; অথবা বিবেকসম্পন্ন পুরুষবাচক বহুবচনের সর্বনাম (ضمير جماعة المذكرين العاقلين) কিংবা তাদের চিহ্ন—ওয়াও (الواو) হতে; অথবা একক স্ত্রীবাচক সম্বোধনের সর্বনাম (ضمير الواحدة المخاطبة من المؤنث) কিংবা তার চিহ্ন—ইয়া (الياء) হতে মুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
وموضعها في الاسم المتمكن الواحد انصرف أو لم ينصرف، وفي جمع التكسير انصرف أو لم ينصرف، وفي جمع المؤنث السالم، فإن عرض في آخر الاسم ياء مكسور ما قبلها أو ألف، أو في آخر الفعل ياء أو واو حركة ما قبلها من جنسها أو ألف، قدرت الضمة في الياء والواو استثقالا وفي الألف تعذرا.

এবং এর (পেশ) প্রয়োগস্থল হলো একবচন বিশিষ্ট মুতামাক্কিন বিশেষ্য (ইসিম), চাই তা রূপান্তরযোগ্য (انصرف) হোক বা রূপান্তরযোগ্য না (لم ينصرف) হোক; এবং ভগ্ন বহুবচনের (জমা তাকসীর) ক্ষেত্রে, চাই তা রূপান্তরযোগ্য (انصرف) হোক বা না (لم ينصرف) হোক; এবং সঠিক স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের (জমা মুয়ান্নাস সালেম) ক্ষেত্রে। অতঃপর যদি বিশেষ্যের শেষে এমন 'ইয়া' আসে যার পূর্ববর্তী বর্ণ কাসরা (যের) যুক্ত হয় অথবা আলিফ আসে; কিংবা ক্রিয়ার শেষে 'ইয়া' অথবা 'ওয়াও' আসে এবং তার পূর্ববর্তী হরকতটি সমজাতীয় হয়, অথবা আলিফ আসে; তবে 'ইয়া' এবং 'ওয়াও'-এর ক্ষেত্রে পেশকে ভারাক্রান্ত হওয়ার (استثقالا) কারণে এবং আলিফের ক্ষেত্রে অসম্ভব হওয়ার (تعذرا) কারণে উহ্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
أخوك $ وأخواته الخمس ستتها إذا أضيفت إلى غير ياء المتكلم كانت بالواو رفعا، وبالألف نصبا وبالياء جرا، وإذا ضيفت إلى ياء المتكلم لزمها البناء على الكسر، فإذا أفردت حذفت لاماتها وجرت العينات بالحركات وكلها تفرد عن الإضافة إلا ذو، لما يلزم إن أفردت من بقائها على حرف واحد مع التنوين.
আপনার ভাই এবং এর অন্য পাঁচটি সহোদর—এই ছয়টি বিশেষ্য যখন ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম (ياء المتكلم) ব্যতীত অন্য কোনো শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হয়, তখন তা রফ (رفع) অবস্থায় ‘ওয়াও’ দ্বারা, নাসব (نصب) অবস্থায় ‘আলিফ’ দ্বারা এবং জার (جر) অবস্থায় ‘ইয়া’ দ্বারা গঠিত হয়। আর যখন এগুলো ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন এগুলোর কাসরাহ-এর ওপর ভিত্তি (بناء) করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। অতঃপর যদি এগুলোকে সম্বন্ধহীন (إفراد) রাখা হয়, তবে এগুলোর শেষ বর্ণগুলো (لامات) বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং মধ্যবর্ণগুলো (عينات) হরকতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ‘জু’ (ذو) ব্যতীত এগুলোর সবকটিই সম্বন্ধহীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে; কারণ ‘জু’ (ذو) শব্দটিকে যদি সম্বন্ধহীন করা হয়, তবে তানভীনসহ তা মাত্র একটি বর্ণের ওপর অবশিষ্ট থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولا يفرد فوك إلا معوضا من واوها ميم وليس بقياس فيفعل في ذو، وإنما هو مقصور على السماع. ووزن هذه الأسماء كلها فَعَل إلا فوك فوزنه فَعْل، وكلها لاماتهاواوات إلا فوك فلامه هاء بدلالة قولهم في

আপনার ‘ফুক’ শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয় না যতক্ষণ না এর ‘ওয়াও’ অক্ষরের পরিবর্তে ‘মীম’ প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি কোনো যৌক্তিক অনুমানের (قياس) বিষয় নয় যে ‘যু’ শব্দের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হবে; বরং এটি কেবল শ্রুতিনির্ভর (سماع) ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধ। এই বিশেষ্যগুলোর সবগুলোর ওজন (وزن) হলো ‘ফাআল’ (فَعَل), কেবল ‘ফুক’ ব্যতীত; কেননা এর ওজন (وزن) হলো ‘ফাল’ (فَعْل)। আর এই শব্দগুলোর সবগুলোর শেষ অক্ষর বা লাম-কালিমা (لام) হলো ‘ওয়াও’, কেবল ‘ফুক’ ব্যতীত; কারণ এর শেষ অক্ষর (لام) হলো ‘হা’, যার প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের উক্তিতে...

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
الجمع أفواه وفي التصغير فويه، وذو لامه ياء لتوسط الواو فيها لكن العرب جعلوا لها مزية على غيرها لكثرة لزومها الإضافة.

وفي حم خمس لغات: إحداها ما ذكرناه والأخرى أن يكون من باب دلو والأخرى أن يكون من باب يد والأخرى أن يكون من باب خبء والأخرى أن يجري على ما ذكر أنه أصله.

وهنوك فيه لغتان: الواحدة ما قدمناه والأخرى أن يكون من باب يد.
বহুবচন (الجمع) হলো 'আফওয়াহ' এবং ক্ষুদ্রার্থবাচক রূপ (التصغير) হলো 'ফুবাইহ'। এর 'লাম' বর্ণটি হলো 'ইয়া' (ياء), যেহেতু এর মধ্যভাগে 'ওয়াও' এর অবস্থান রয়েছে। তবে আরবরা একে অন্য সবকিছুর ওপর বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে, কারণ এর ক্ষেত্রে সম্বন্ধকরণ (الإضافة) অধিকতর অপরিহার্য।

'হাম' শব্দটির ক্ষেত্রে পাঁচটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপ (لغات) বিদ্যমান: একটি হলো যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি; দ্বিতীয়টি হলো এটি 'দালউ' এর বিন্যাস (باب) অনুযায়ী হওয়া; তৃতীয়টি হলো এটি 'ইয়াদ' এর বিন্যাস (باب) অনুযায়ী হওয়া; চতুর্থটি হলো এটি 'খাব' এর বিন্যাস (باب) অনুযায়ী হওয়া এবং পঞ্চমটি হলো এটি তার মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া।

'হানুক' শব্দটির ক্ষেত্রে দুটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপ (لغات) রয়েছে: একটি হলো যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি এবং অন্যটি হলো এটি 'ইয়াদ' এর বিন্যাস (باب) অনুযায়ী হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২০)
وفوك إذا عوض همن واوه ميم ففيه أربع لغات: فَم وفم وفُمٌّ وفُمٌ بالإتباع.

الاسم الذي يفهم منه الجمع قسمان: مجموع حقيقة وغير مجموع، وغيرُ المجموع قسمان: محصور وغير محصور فغير المحصور نحو نفر وبشر وقوم وأنام والمحصور المضمرات والمبهمات والموصولات وكل في التوكيد.
এবং আপনার মুখ (فوك), যখন এর ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘মীম’ দ্বারা পরিবর্তিত হয়, তখন তাতে চারটি ভাষাগত রূপ (لغة) পাওয়া যায়: ফাম (فَم), ফিম (فِم), ফুম্মুন (فُمٌّ) এবং অনুবর্তিতা (إتباع) অনুযায়ী ফুমুন (فُمٌ)।

যে বিশেষ্য (اسم) থেকে সমষ্টির অর্থ বুঝা যায় তা দুই প্রকার: প্রকৃত বহুবচন (مجموع حقيقة) এবং যা প্রকৃত বহুবচন নয়। যা প্রকৃত বহুবচন নয় তা আবার দুই প্রকার: সীমাবদ্ধ (محصور) এবং অসীমাবদ্ধ (غير محصور)। অসীমাবদ্ধ হলো যেমন নাফার (نفر), বাশার (বشر), কওম (قوم) এবং আনাম (أنام)। আর সীমাবদ্ধ হলো সর্বনামসমূহ (المضمرات), অস্পষ্ট বিশেষ্যসমূহ (المبهمات), সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যসমূহ (الموصولات) এবং তাকিদ (توكيد) প্রদানের ক্ষেত্রে ‘কুল্লুন’ (كل) শব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২১)
والمجموع حقيقة قسمان: مجموع جمع التكسير ومجموع جمع السلامة.

فجمع التكسير ما تغير فيه بناء الواحد من زيادة أو نقصان أو تغيير حركةوربما اجتمع ذلك في كلمة واحدة وربما جاء بعض ذلك في النية لا لفظا.

وجمع السلامة: ينقسم قسمين: جمع بالألف والتاء، وجمع هو في المذكر بمنزلة هذا في المؤنث.
বস্তুত সমষ্টি বা বহুবচন (مجموع) মূলত দুই প্রকার: ভগ্ন বহুবচনের সমষ্টি (مجموع جمع التكسير) এবং সুস্থ বহুবচনের সমষ্টি (مجموع جمع السلامة)।

সুতরাং ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير) হলো সেটি, যাতে একবচনের (الواحد) গঠন কোনো বৃদ্ধি (زيادة), হ্রাস (نقصান) অথবা হরকতের পরিবর্তনের (تغيير حركة) দ্বারা পরিবর্তিত হয়। কখনো কখনো একটি শব্দের মধ্যেই এই সকল বিষয়ের সমাবেশ ঘটে, আবার কখনো এর কিছু অংশ শাব্দিক উচ্চারণে (لفظا) প্রকাশ না পেয়ে কেবল মনে মনে (النية) নিহিত থাকে।

আর সুস্থ বহুবচন (جمع السلامة) দুই ভাগে বিভক্ত: আলিফ ও তা-এর মাধ্যমে গঠিত বহুবচন এবং এমন বহুবচন যা পুংলিঙ্গে (مذكر) সেই অবস্থানে থাকে যা এটি স্ত্রীলিঙ্গে (مؤنث) থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২২)
فالمجموع جمع السلامة من المذكر إما أن يكون جامدا أو صفة فإن كان جامدا اشترط فيه أربعة شروط: الذكورية والعلمية والعقل وخلوه من هاء التأنيث، وإن كان صفة اشترط فيه ثلاثة شروط: الذكورية والعقل وألا يمتنع مؤنثه من الجمع بالألف والتاء وتلحقه الواو رفعا والياء المكسور ما قبلها نصبا وجرا كلتاهما حرف الإعراب ونون في الأحوال الثلاثة عوضا من حركة الواحد؛ لأنها تثبت مع الألف واللام كما تثبت الحركة، وعوضا من التنوين لأنها تسقط مع الإضافة كما يسقط التنوين، وتحرك لالتقاء الساكنين وتفتح طلبا للتخفيف، أو فرقا بينها وبين نون التثنية، وربما جاء هذا الجمع فيما

সুতরাং পুংলিঙ্গবাচক অক্ষত বহুবচন (جمع المذكر السالم) হয় অনুদগত (جامد) হবে অথবা বিশেষণ (صفة) হবে। যদি তা অনুদগত (جامد) হয়, তবে তাতে চারটি শর্তারোপ করা হয়: পুংলিঙ্গত্ব (ذكورية), সংজ্ঞাবাচক নাম (علمية) হওয়া, বিবেকসম্পন্নতা (عقل) এবং স্ত্রীবাচক ‘হা’ (هاء التأنيث) থেকে মুক্ত হওয়া। আর যদি তা বিশেষণ (صفة) হয়, তবে তাতে তিনটি শর্তারোপ করা হয়: পুংলিঙ্গত্ব (ذكورية), বিবেকসম্পন্নতা (عقل) এবং এর স্ত্রীবাচক রূপটি আলিফ ও তা (الألف والتاء) যোগে বহুবচন হতে বাধাগ্রস্ত না হওয়া। রফউ (رفع) অবস্থায় এর শেষে ‘ওয়াও’ এবং নসব (نصب) ও জর (جر) অবস্থায় এর পূর্ববর্ণে জেরবিশিষ্ট ‘ইয়া’ যুক্ত হয়; এই উভয় বর্ণই হলো শব্দরুপান্তরের বর্ণ (حرف الإعراب)। আর তিন অবস্থাতেই একবচনের হারাকাতের (حركة) পরিবর্তে একটি ‘নুন’ যুক্ত হয়; কারণ এটি ‘আলিফ ও লাম’ এর সাথে বহাল থাকে ঠিক যেমন হারাকাত বহাল থাকে। এছাড়া এটি তানভিন (تنوين) এর স্থলাভিষিক্ত হয়; কারণ ইজাফত (إضافة) বা সম্বন্ধের সময় এটি বিলুপ্ত হয়ে যায় যেমনটি তানভিন বিলুপ্ত হয়। এটি দুই সুকুন বা স্থির বর্ণ একত্র হওয়ার কারণে হারাকাতযুক্ত হয় এবং উচ্চারণ সহজ করার নিমিত্তে অথবা দ্বিবচনের (تثنية) নুন থেকে পার্থক্য করার জন্য একে জবর বা ফাতহা প্রদান করা হয়। কখনো কখনো এই বহুবচন এমন ক্ষেত্রেও আসে যা...

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
لا يعقل، عوضا من نقص الكلمة لفظا أو توهما كسنين وإوزين
এটি বোধশক্তিহীন (لا يعقل), শব্দের উচ্চারণগত (لفظا) অথবা কাল্পনিক (توهما) ঘাটতির বিনিময় হিসেবে, যেমন 'সিনিন' এবং 'ইওয়াজিন'।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
الاسم الذي يفهم منه التثنية قسمان: مثنى حقيقة وغير مثنى حقيقة، فغير المثنى: المضمرات والموصولات والمبهمات وكلا في التوكيد.

وحقيقة المثنى ما ألحقته ألفا رفعا وياء مفتوحا ما قبلها نصبا وجرا كلتاما حرف الإعراب، ونونا في الأحوال الثلاثة عوضا عن حركة الواحد وتنوينه لأنها تثبت مع الألف واللام كما تثبت الحركة وتسقط للإضافة كما يسقط التنوين وتحرك لالتقاء الساكنين وتكسر على أصل التقائهما أو فرقا بينها وبين نون الجمع.
যে বিশেষ্য থেকে দ্বিবচন (تثنية) প্রতীয়মান হয় তা দুই প্রকার: প্রকৃত দ্বিবচন (مثنى حقيقة) এবং অপ্রকৃত দ্বিবচন (غير مثنى حقيقة)। অপ্রকৃত দ্বিবচনগুলো হলো: সর্বনামসমূহ (مضمرات), সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যসমূহ (موصولات), অস্পষ্ট বিশেষ্যসমূহ (مبهمات) এবং তাকিদ (توكيد)-এর ক্ষেত্রে 'কিলা' (كلا)।

প্রকৃত দ্বিবচনের স্বরূপ হলো তা, যার শেষে রফ (رفع) অবস্থায় আলিফ এবং নাসব (نصب) ও জার (جر) অবস্থায় তার পূর্বের অক্ষরে ফাতহাহ বিশিষ্ট 'ইয়া' যুক্ত হয়, যে দুটি বর্ণই হলো ইরাবের বর্ণ (حرف الإعرাব)। আর তিন অবস্থাতেই একবচনের হারাকাত (حركة) ও তানউইন (تنوين)-এর বিনিময় হিসেবে একটি নুন যুক্ত হয়; কারণ আলিফ-লাম থাকা সত্ত্বেও এই নুন বহাল থাকে যেমন হারাকাত বহাল থাকে, এবং ইদাফাত (إضافة)-এর কারণে তা বিলুপ্ত হয়ে যায় যেমন তানউইন বিলুপ্ত হয়। দুই স্থির বর্ণের মিলন (التقاء الساكنين)-এর কারণে এতে হারাকাত প্রদান করা হয় এবং দুই সাকিন বা স্থির বর্ণের মিলনের মূল নিয়ম অনুযায়ী অথবা বহুবচনের নুন (نون الجمع) থেকে পার্থক্য করার জন্য এতে কাসরাহ বা জের প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
(الأفعال الخمسة) كل فعل لحقه ضمير التثنية أو علامتها وهو الألف، أو ضمير جماعة المذكرين العاقلين في الوضع أو علامتهم وهو الواو أو ضمير الواحدة المخاطبة في المؤنث أو علامتها وهي الياء وسلم من نوني التوكيد ونون جماعة المؤنث، فعلامة الرفع فيه نون تقع بعد هذه العلامات تثبت رفعا وتحذف نصبا وجزما وتحرك لالتقاء الساكنين وتفتح مع الواو والياء طلبا للتخفيف أو حملا لها على نون
(পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة)) হলো এমন প্রতিটি ক্রিয়া যার সাথে দ্বিবচনের সর্বনাম (ضمير التثنية) বা এর চিহ্ন তথা আলিফ (الألف) যুক্ত হয়, অথবা মৌলিক গঠন (الوضع) অনুযায়ী বিবেকবান পুরুষবাচক বহুবচনের সর্বনাম (ضمير جماعة المذكرين العاقلين) বা তাদের চিহ্ন তথা ওয়াও (الواو) যুক্ত হয়, অথবা স্ত্রীবাচক (المؤنث) একবচন সম্বোধনের সর্বনাম (ضمير الواحدة المخاطبة) বা তার চিহ্ন তথা ইয়া (الياء) যুক্ত হয় এবং যা দৃঢ়তাসূচক নুনদ্বয় (نوني التوكيد) ও স্ত্রীবাচক বহুবচনের নুন (نون جماعة المؤنث) থেকে মুক্ত থাকে। এমতাবস্থায় এতে রাফ (رفع) হওয়ার চিহ্ন হলো একটি নুন (نون) যা এই চিহ্নগুলোর পরে আসে; এটি রাফ (رفع) অবস্থায় স্থির থাকে এবং নাসব (نصب) ও জাযম (جزم) অবস্থায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর দু'টি সাকিন বর্ণের মিলন (التقاء الساكنين) এড়াতে এতে হরকত প্রদান করা হয় (تحرك) এবং লাঘব করার উদ্দেশ্যে (طلبا للتخفيف) অথবা সাধারণ নুনের সাদৃশ্যে (حملا لها على نون) ওয়াও ও ইয়া-র ক্ষেত্রে এতে ফাতহা প্রদান করা হয় (تفتح)।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
الجمع، وتكسر بعد الألف على أصل التقاء الساكنين أو حملا على نون. $

الفتحة: تكون علامة النصب في كل موضع كانت الضمة فيه علامة الرفع إلا في جمع المؤنث السالم، وإذا استثقلت الضمة لم تستثقل الفتحة وإذا تعذرت تعذرت.
বহুবচন; এবং দুই সাকিনের মিলনের মূলনীতি অনুযায়ী অথবা ‘নূন’-এর ওপর কিয়াস করে আলিফের পরবর্তী বর্ণে কাসরা প্রদান করা হয়। $

ফাতহা: এটি এমন প্রতিটি স্থানে নসব-এর চিহ্ন হয় যেখানে দম্মা রফ-এর চিহ্ন ছিল, কেবল জমা মুয়ান্নাস সালেম ব্যতীত। আর যখন দম্মা উচ্চারণ করা গুরুভার মনে হয় তখন ফাতহা গুরুভার মনে হয় না; আর যেখানে দম্মা উচ্চারণ অসম্ভব হয় সেখানে ফাতহাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
لما كان منصوب جمع المذكر السالم محمولا على مجروره في الياء التي هي علامة الجر في الأصل، كان منصوب جمع المؤنث السالم محمولا على مجروره في الكسرة التي هي علامة الجر في الأصل قضاء بحق أصالة التذكير.

أصل الإعراب بالحركات والحروف عند من يرى الإعراب بها تبع، والحركات ثلاث وألقاب الإعراب أربعة: للرفع منها الضمة وتتبعها الواو، وللنصب منها الفتحة وتتبعها الألف، وللخفض منها الكسرة وتتبعها الياء، ثم النون تشبه الياء والواو ولذلك تدغم فيهما وتشبه الألف ولذلك تبدل منها ساكنة في الوقف، لكن يستحقها أسبق ألقاب الإعراب وقوعا وهو الرفع الذي لا يفتقر في وجوده إلى وجود فعل أو معنى فعل كالنصب أو إلى وجود فعل وحرف كالجر. فلما
যেহেতু সুস্থ পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع المذكر السالم)-এর কর্মকারকীয় অবস্থা (منصوب) তার সম্বন্ধীয় অবস্থার (مجرور) ওপর নির্ভরশীল 'ইয়া' অক্ষরের মাধ্যমে, যা মূলত সম্বন্ধীয় অবস্থার চিহ্ন (علامة الجر); ঠিক তেমনি সুস্থ স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন (جمع المؤنث السالم)-এর কর্মকারকীয় অবস্থা (منصوب) তার সম্বন্ধীয় অবস্থার (مجرور) ওপর কাসরা (الكسرة)-এর মাধ্যমে নির্ভরশীল, যা মূলত সম্বন্ধীয় অবস্থার চিহ্ন (علامة الجر)। এটি পুংলিঙ্গের মূলগত প্রাধান্যের অধিকার বিচারেই করা হয়েছে।

যাঁদের মতে অক্ষরের মাধ্যমে শব্দরূপ (الإعراب) প্রদান করা হয়, তাঁদের কাছে স্বরচিহ্নের (الحركات) মাধ্যমে শব্দরূপ প্রদান করাই হলো মূল ভিত্তি এবং অক্ষরের বিষয়টি তার অনুগামী। স্বরচিহ্ন তিনটি এবং শব্দরূপের (الإعرাব) উপাধি চারটি: কর্তৃকারকীয় অবস্থার (الرفع) জন্য রয়েছে যাম্মাহ (الضمة) এবং 'ওয়াও' একে অনুসরণ করে; কর্মকারকীয় অবস্থার (النصب) জন্য রয়েছে ফাতহাহ (الفتحة) এবং 'আলিফ' একে অনুসরণ করে; আর সম্বন্ধীয় অবস্থার (الخفض) জন্য রয়েছে কাসরা (الكسرة) এবং 'ইয়া' একে অনুসরণ করে। এরপর 'নূন' অক্ষরটি 'ইয়া' এবং 'ওয়াও'-এর সদৃশ হওয়ার কারণে সেগুলোতে সন্ধিভুক্ত (تدغم) হয় এবং এটি 'আলিফ'-এরও সদৃশ হওয়ার কারণে বিরতিকালে (الوقف) সাকিন অবস্থায় আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হয়। তবে এটি (নূন) শব্দরূপের সেই উপাধিটি লাভের অধিক যোগ্য যা সংঘটিত হওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী, আর সেটি হলো কর্তৃকারকীয় অবস্থা (الرفع); যার অস্তিত্ব কোনো ক্রিয়া অথবা কর্মকারকীয় অবস্থার (النصب) মতো ক্রিয়ার অর্থের ওপর নির্ভরশীল নয়, কিংবা তা সম্বন্ধীয় অবস্থার (الجر) মতো কোনো ক্রিয়া ও অব্যয়ের অস্তিত্বের ওপরও নির্ভরশীল নয়। সুতরাং যখন (فلما)
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
استغرقت هذه الألقاب الثلاثة الحركات والحروف المشبهة بها لم يبق للجزم حظ في الحركات ولا في الحروف بل حظه حذفها.

والأصل أن تكون نثتية الاسم وجمعه في المذكر السالم بالحروف التي تجانس الحركات التي أعرب بها المفرد فيقال مثلا: قام زيد والزيدان والزيدون ومررت بزيد وبالزيدَين وبالزيدِين ورأيت زيدا والزيدين والزيدين فيعرض اللبس بين التثنية والجمع، فيكون الفرق بين التثنية والجمع في الرفع بأمرين في الدرج وفي الوقف، وفي
এই তিনটি উপাধি (الألقاب) হরকত (الحركات) এবং এর সদৃশ হরফসমূহকে (الحروف) পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। ফলে জজম (الجزم) এর জন্য হরকত কিংবা হরফ—কোনোটির মধ্যেই কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকেনি, বরং এর বৈশিষ্ট্য হলো সেগুলোকে বিলোপ (حذف) করে দেওয়া।

আর মূল নিয়ম (الأصل) হলো, বিশেষ্যের দ্বিবচন (تثنية) এবং জমা মুজাক্কার সালেম (المذكر السالم) এমন হরফ দ্বারা গঠিত হওয়া যা ওই হরকতগুলোর সমজাতীয়, যার মাধ্যমে একবচন (المفرد) শব্দকে ইরাব (إعراب) প্রদান করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: 'ক্বামা যায়দুন ওয়া আল-যায়দানি ওয়া আল-যায়দুনা', 'মারারতু বি-যায়দিন ওয়া বি-আল-যায়দাইনি ওয়া বি-আল-যায়দীনা' এবং 'রায়াইতু যায়দান ওয়া আল-যায়দাইনি ওয়া আল-যায়দীনা'। এর ফলে দ্বিবচন (تثنية) এবং বহুবচন (الجمع) এর মধ্যে অস্পষ্টতা (اللبস) সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় রফা (الرفع) অবস্থায় দ্বিবচন ও বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য দুটি বিষয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়—কথার ধারাবাহিকতা (الدرج) এবং বিরতির (الوقف) ক্ষেত্রে; এবং...
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
حال الإضافة بأمر واحد، ولا يقع في النصب إلا بأمر واحد في حال الدرج لامتناع أن يكون ما قبل الألف غير مفتوح فطرحت الألف التي من أجلها طرأ اللبس، وحملت تثنية المنصوب وجمعه في المذكر على مثلها من اللقب الذي تشبهه في الافتقار إلى العامل اللفظي وهو الجر، فلما استعملت الضمة ومجانسها من الحروف، والكسرة ومجانسها والفتحة دون مجانسها أرادوا أن يوفوها حقها من الاستعمال فوضعوها موضع الواو المفتوح ما قبلها في الرفع لأن مثل هذه الواو قد تقلب ألفا في نحو يوجل.

ইযাফাত (إضافة) বা সম্বন্ধের অবস্থা একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। বাক্য প্রবাহের ক্ষেত্রে নসব (نصب) অবস্থায় এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট কারণেই ঘটে থাকে; কেননা আলিফের পূর্ববর্তী বর্ণটি জবর (فتحة) বিহীন হওয়া অসম্ভব। তাই সেই আলিফটি বিলুপ্ত করা হয়েছে যা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারত। আর মানসুব অবস্থার দ্বিবচন (تثنية) এবং পুংলিঙ্গ (مذكر) বহুবচনকে (جمع) সেই একই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার সাথে শাব্দিক আমিলের (عامل لفظي) প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে এর সাদৃশ্য রয়েছে, আর তা হলো জর (جر) অবস্থা। অতঃপর যখন পেশ (ضمة) ও তার সমগোত্রীয় বর্ণসমূহ এবং জের (كسرة) ও তার সমগোত্রীয় বর্ণসমূহ ব্যবহৃত হলো, কিন্তু জবর (فتحة) তার সমগোত্রীয় বর্ণ ছাড়াই রয়ে গেল, তখন তারা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর পূর্ণ দাবি পূরণ করতে চাইলেন। ফলে তারা একে রফ (رفع) অবস্থায় এমন 'ওয়াও'-এর স্থলাভিষিক্ত করলেন যার পূর্ববর্তী বর্ণটি জবর (فتحة) যুক্ত; কারণ এ ধরণের 'ওয়াও' কখনও আলিফে রূপান্তরিত হয়, যেমন 'ইউজালু' শব্দের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।

(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
الكسرة: تكون علامة للخفض في الاسم المتمكن، وهو الذي لم يشابه الحرف كالذي ولم يتضمن معناه مثل كيف، ولم يقع موقع المبني، ولا ضارع ما وقع موقع المبني، ولا هو اسم زمان أضيف إلى جملة.

وتكون منه في الاسم المتمكن الأمكن: وهو الذي فيه ألف ولام أو تنوين ظاهر أو أضيف إلى غير متكلم، وتستثقل الكسرة كما تستثقل الضمة وتتعذر كما تتعذر.
কাসরাহ (الكسرة): এটি মুতামাক্কিন বিশেষ্য (الاسم المتمكن)-এর ক্ষেত্রে খফদ (الخفض)-এর চিহ্ন হিসেবে গণ্য হয়। আর এটি (মুতামাক্কিন) হলো এমন বিশেষ্য যা অব্যয়ের সদৃশ নয় যেমন ‘আল্লাজি’, এবং অব্যয়ের অর্থ ধারণ করে না যেমন ‘কাইফা’, এবং অপরিবর্তনীয় (المبني) পদের স্থলাভিষিক্ত হয় না, এবং অপরিবর্তনীয় (المبني) পদের সদৃশ কোনো পদের স্থলাভিষিক্ত হয় না, এবং এটি এমন কালবাচক বিশেষ্য (اسم زمان) নয় যা কোনো বাক্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে।

এটি মুতামাক্কিন আমকান (الاسم المتمكن الأمكن) বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত: আর এটি হলো যাতে আলিফ এবং লাম অথবা স্পষ্ট তানভিন (تنوিন) রয়েছে অথবা বক্তা (متكلم) ব্যতীত অন্য কারও দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। দাম্মাহ (الضمة)-এর ন্যায় কাসরাহ (الكسرة)-কেও ক্ষেত্রবিশেষে শ্রুতিকটু বা ভারী (تستثقل) মনে করা হয় এবং দাম্মাহর ন্যায় এটিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা অসম্ভব (تتعذر) হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়্যাহ ফিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
الياء: تكون علامة الجر في الأسماء التي منها أخوك وفوك وفي التثنية والجمع على ما مضى عند ذكر علامات الرفع.

الفتحة: تكون علامة للخفض في كل اسم متمكن ليس فيه تنوين ظاهر ولا ما لا يجتمع مع التنوين إلا ظاهرا ولا مقدرا وهو الألف واللام والإضافة.

وكل فعل كانت الضمة في آخره فجزمه بالإسكان، وكل فعل كانت الضمة تقدر في آخره فجزمه بحذف الحرف الذي تقدر فيه الضمة.

وكل فعل كان رفعه بالنون فجزمه بحذفها وكذلك نصبه.
ইয়া (الياء): এটি 'জার' (الجر) এর চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন সব বিশেষ্যপদে যার অন্তর্ভুক্ত হলো 'আখুকা' ও 'ফুকা', এবং দ্বিবচন (التثنية) ও বহুবচন (الجمع) এর ক্ষেত্রে, যেমনটি 'রফ' (الرفع) এর চিহ্নসমূহের বর্ণনায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

ফাতহা (الفتحة): এটি প্রতিটি মুতামাক্কিন বিশেষ্যপদে (اسم متمكن) 'খাফদ' (الخفض) এর চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয় যাতে কোনো প্রকাশ্য তানউইন (تنوين) নেই, এবং এমন কিছু নেই যা প্রকাশ্য বা উহ্যভাবে তানউইনের সাথে একত্র হতে পারে না; আর তা হলো আলিফ ও লাম (الألف واللام) এবং ইদাফাত (الإضافة)।

আর প্রতিটি ক্রিয়া (فعل) যার শেষে দম্মাহ (الضمة) থাকে, তার জজম (الجزم) হয় সুকুন বা স্থিরতা (الإسكان) এর মাধ্যমে। এবং প্রতিটি ক্রিয়া (فعل) যার শেষে দম্মাহ (الضمة) উহ্য থাকে, তার জজম (الجزم) হয় সেই অক্ষরটি বিলোপ (حذف الحرف) করার মাধ্যমে যাতে দম্মাহ (الضمة) উহ্য ধরা হয়েছিল।

আর প্রতিটি ক্রিয়া (فعل) যার রফ (الرفع) নুন (النون) এর মাধ্যমে হয়, তার জজম (الجزم) হয় সেই নুন বিলোপ করার মাধ্যমে এবং একইভাবে তার নসব (النصب) সম্পন্ন হয়।