(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: -)
مختصر القدوري   (القدوري)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: مختصر القدوري في الفقه الحنفي

المؤلف: أبو الحسين أحمد بن محمد بن أحمد بن جعفر القدوري الحنفي البغدادي (ت 428 هـ)

المحقق: كامل محمد محمد عويضة

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 249

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 محرم 1436

মুখতাসারুল কুদুরি   (আল-কুদুরি)

বিভাগ: হানাফি ফিকহ


গ্রন্থ: হানাফি ফিকহ শাস্ত্রের মুখতাসারুল কুদুরি

গ্রন্থকার: আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জাফর আল-কুদুরি আল-হানাফি আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি)

মুহাক্কিক: কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ উওয়াইদাহ

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৯

শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২১ মহররম ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌1 - كتاب الطهارة

قال الله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وأيديكم إلى المرافق وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم إلى الكعبين}

ففرض الطهارة:

غسل الأعضاء الثلاثة ومسح الرأس والمرفقان والكعبان يدخلان في الغسل والمفروض في مسح الرأس مقدار الناصية لما روى المغيرة بن شعبة [أن النبي صلى الله عليه وسلم أتى سباطة قوم فبال وتوضأ ومسح على ناصيته وخفيه]

وسنن الطهارة:

وغسل اليدين قبل إدخالها إذا استيقظ المتوضئ من نومه وتسمية الله تعالى في ابتداء الوضوء

والسواك والمضمضة والأستنشاق ومسح الأذنين وتخليل اللحية والأصابع وتكرار الغسل إلى الثلاث

ويستحب للمتوضئ أن ينوي الطهارة ويستوعب رأسه بالمسح ويرتب الوضوء فيبدأ بما بدأ الله تعالى بذكره وبالميامن

والمعاني الناقضة للوضوء:

كل ما خرج من السبيلين والدم والقيح والصديد إذا خرج من البدن فتجاوز إلى موضع يلحقه حكم التطهير والقيء إذا كان ملء الفم والنوم مضطجعا أو متكئا أو مستندا إلى شيء لو أزيل عنه لسقط والغلبة على العقل بالإغماء
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌১ - পবিত্রতা অধ্যায়

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)}

পবিত্রতার ফরজসমূহ:

তিনটি অঙ্গ ধৌত করা এবং মাথা মাসেহ করা। কনুই ও টাখনু ধৌত করার অন্তর্ভুক্ত হবে। মাথা মাসেহের ক্ষেত্রে ফরজের পরিমাণ হলো কপালের সম্মুখভাগের চুল পরিমাণ; কেননা মুগীরা ইবনে শু'বা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, [নবী করীম (সা.) কোনো এক কওমের আবর্জনা ফেলার স্থানে আসলেন, অতপর তিনি পেশাব করলেন এবং অজু করলেন ও তাঁর কপালের সম্মুখভাগের চুল এবং মোজার ওপর মাসেহ করলেন]

পবিত্রতার সুন্নতসমূহ:

ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর অজুকারী পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে দুই হাত ধৌত করা এবং অজুর শুরুতে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করা

এবং মেসওয়াক করা, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, উভয় কান মাসেহ করা, দাড়ি ও আঙুল খিলাল করা এবং ধৌত করার কাজগুলো তিনবার করে সম্পন্ন করা

অজুকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো পবিত্রতার নিয়ত করা, সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা এবং অজুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যা দিয়ে শুরু করেছেন তা দিয়ে শুরু করা এবং ডান দিক থেকে আরম্ভ করা

অজু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ:

মল-মূত্রের উভয় পথ দিয়ে যা কিছু বের হয়; রক্ত, পুঁজ ও পিত্ত যদি শরীর থেকে বের হয়ে এমন কোনো স্থানে প্রবাহিত হয় যার ওপর পবিত্রতার বিধান প্রযোজ্য হয়; মুখভর্তি বমি; কাৎ হয়ে, হেলান দিয়ে কিংবা কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো যা সরিয়ে নিলে ব্যক্তি পড়ে যেত এবং মূর্ছা যাওয়ার ফলে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১২)
والجنون والقهقهة في كل صلاة ذات ركوع وسجود

وفرض الغسل: المضمضة والاستنشاق وغسل سائر البدن

وسنة الغسل:

أن يبدأ المغتسل يديه وفرجه ويزيل النجاسة إن كانت على بدنه ثم يتوضأ وضوءه للصلاة إلا رجليه ثم يفيض الماء على رأسه وسائر جسده ثلاثا ثم يتنحى عن ذلك المكان فيغتسل رجليه

وليس على المرأة أن تنقض ضفائرها في الغسل إذا بلغ الماء أصول الشعر

والمعاني الموجبة للغسل:

إنزال المني

على وجه الدفق والشهوة من الرجل والمرأة والتقاء الختانين من غير إنزال والحيض والنفاس

وسن رسول الله صلى الله عليه وسلم الغسل للجمعة والعيدين والإحرام

وليس في المذي والودي غسل وفيهما الوضوء

والطهارة من الأحداث جائزة بماء السماء والأودية والعيون والآبار وماء البحار ولا تجوز بما اعتصر من الشجر والثمر ولا بماء غلب عليه غيره وأخرجه عن طبع الماء

كالأشربة والخل وماء الورد وماء الباقلاء والمرق وماء الزردج

وتجوز الطهارة بماء خالطة شيء طاهر فغير أحد أوصافه كماء المد والماء الذي يختلط به الأشنان والصابون والزعفران

وكل ماء وقعت فيه نجاسة لم يجز اوضوء به قليلا أو كثيرا [لأن النبي عليه الصلاة والسلام أمر بحفظ الماء من النجاسة فقال لا يبولن
এবং উন্মাদনা ও অট্টহাসি প্রতিটি রুকু ও সেজদাবিশিষ্ট নামাযে (ওযু ভঙ্গকারী)।

গোসলের ফরযসমূহ হলো: কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং সমস্ত শরীর ধৌত করা।

গোসলের সুন্নতসমূহ:

গোসলকারী প্রথমে তার উভয় হাত ও লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং শরীরে কোনো নাপাকি থাকলে তা দূর করবে, অতঃপর নামাযের ওযুর ন্যায় ওযু করবে তবে দুই পা ধৌত করবে না, এরপর নিজের মাথায় ও সমস্ত শরীরে তিনবার পানি প্রবাহিত করবে, অতঃপর সেই স্থান থেকে সরে গিয়ে তার উভয় পা ধৌত করবে।

গোসলের সময় নারীর জন্য তার চুলের বেণী খোলা আবশ্যক নয় যদি পানি চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ:

বীর্যপাত হওয়া,

পুরুষ ও নারীর পক্ষ থেকে প্রবল বেগে ও কামভাবের সাথে (বীর্যপাত হওয়া), বীর্যপাত ছাড়াই দুই খতনাস্থানের মিলন (সহবাস), হায়েয ও নিফাস।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন, দুই ঈদ এবং ইহরামের জন্য গোসল করাকে সুন্নাত সাব্যস্ত করেছেন।

মযী ও ওদী নির্গত হলে গোসল নেই, তবে এগুলোতে ওযু করতে হয়।

অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা আকাশ, উপত্যকা, ঝর্ণা, কূপ এবং সমুদ্রের পানি দিয়ে বৈধ। তবে গাছ বা ফল থেকে নিংড়ানো রস দিয়ে এবং এমন পানি দিয়ে বৈধ নয় যার ওপর অন্য কিছু প্রবল হয়ে তাকে পানির প্রকৃতি থেকে বের করে দিয়েছে।

যেমন পানীয় দ্রব্য, সিরকা, গোলাপ জল, শিম সেদ্ধ পানি, ঝোল এবং কুসুম ফুলের পানি।

এমন পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ যাতে কোনো পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হওয়ার ফলে তার কোনো একটি গুণ পরিবর্তিত হয়ে গেছে, যেমন বন্যার ঘোলা পানি এবং এমন পানি যার সাথে উশনান, সাবান ও জাফরান মিশ্রিত হয়েছে।

এবং এমন প্রতিটি পানি যাতে নাপাকি পতিত হয়েছে, তা দিয়ে ওযু করা জায়েয নয়, চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি [কেননা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম পানিকে নাপাকি থেকে রক্ষা করার নির্দেশ প্রদান করেছেন, ফলে তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই প্রস্রাব না করে
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১৩)
أحدكم في الماء الدائم ولا يغتسلن فيه من الجنابة] و [قال عليه الصلاة والسلام: إذا استيقظ أحدكم من منامه فلا يغمسن يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثا فإنه لا يدري أين باتت يده]

وأما الماء الجاري

إذا وقعت فيه نجاسة جاز الوضوء منه إذا لم ير لها أثر لا تستقر مع جريان الماء والغدير العظيم الذي لا يتحرك أحد طرفيه بتحريك الطرف الآخر

إذا وقعت نجاسة في أحد جانبيه جاز الوضوء من الجانب الآخر لأن الظاهر أن النجاسة لا تصل إليه

وموت ما ليس له نفس سائلة في الماء لا ينجسه كالبق والذباب والزنابير والعقارب وموت ما يعيش في الماء فيه لا يفسده كالسمك والضفدع والسرطان

والماء المستعمل لا يجوز استعماله في طهارة الأحداث

والمستعمل: كل ماء أزيل به حدث أو استعمل في البدن على وجه القربة

وكل إهاب دبغ فقد ظهر وجازت الصلاة فيه والوضوء منه إلا جلد الخنزير والآدمي

وشعر الميتة

وعظمها
(তোমাদের কেউ যেন) বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে এবং তাতে জানাবাত থেকে গোসল না করে] এবং [তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন পাত্রে নিজের হাত না ডুবায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কারণ সে জানে না তার হাতটি কোথায় রাত যাপন করেছে]

আর প্রবহমান পানির বিধান হলো:

যদি তাতে কোনো অপবিত্রতা পতিত হয়, তবে তা থেকে ওজু করা বৈধ হবে যতক্ষণ না তাতে অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন (রঙ, স্বাদ বা গন্ধ) প্রকাশ পায় যা পানির প্রবাহের কারণে স্থির থাকে না। আর বিশাল জলাশয় যার এক প্রান্ত নড়ালে অন্য প্রান্ত নড়ে না—

যদি তার এক পার্শ্বে অপবিত্রতা পতিত হয়, তবে অন্য পার্শ্ব থেকে ওজু করা বৈধ; কারণ প্রবল ধারণা এই যে, অপবিত্রতা সেখানে পৌঁছাবে না।

যেসব প্রাণীর প্রবাহিত রক্ত নেই, পানিতে তাদের মৃত্যু পানিকে অপবিত্র করে না; যেমন ছারপোকা, মাছি, ভিমরুল ও বিচ্ছু। আর যেসব প্রাণী পানিতেই বাস করে, পানিতে তাদের মৃত্যু পানিকে দূষিত করে না; যেমন মাছ, ব্যাঙ ও কাঁকড়া।

ব্যবহৃত পানি (মা-এ মুস্তামাল) অশুচিতা (হাদাস) থেকে পবিত্রতা অর্জনের কাজে ব্যবহার করা বৈধ নয়।

ব্যবহৃত পানি হলো: এমন প্রত্যেক পানি যা দ্বারা কোনো অশুচিতা দূর করা হয়েছে অথবা ইবাদতের উদ্দেশ্যে শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে।

যে কোনো পশুর চামড়া যখন দাবাগাত (পরিশোধন) করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায় এবং তাতে নামাজ আদায় করা ও তা দ্বারা ওজু করা বৈধ হয়; তবে শূকর ও মানুষের চামড়া এর ব্যতিক্রম।

মৃত প্রাণীর লোম

এবং তার হাড়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعصبها وحافرها وقرنها طاهر

وإذا وقعت في البئر نجاسة نزحت وكان نزح ما فيها من الماء طهارة لها

فإن ماتت فيها فأرة أو عصفورة أو صعوة أو سوادنية أو سام أبرص نزح منها ما بين عشرين دلوا إلى ثلاثين دلوا

بحسب كبر الحيوان وصغره

وإن ماتت فيها حمامة أو دجاجة أو سنور نزح منها ما بين أربعين دلوا إلى ستين

وإن مات فيها كلب أو شاة أو آدمي نزح جميع ما فيها من الماء

وإن انتفخ الحيوان فيها أو تفسخ نزح جميع ما فيها من الماء صغر الحيوان أو كبر

وعدد الدلاء يعتبر بالدلو الوسط المستعمل للآبار في البلدان فإن نزح منها بدلو عظيم قدر ما يسع عشرين دلوا من الدلو الوسط احتسب به

وإن كانت البئر معينا لا تنزح ما فيها من الماء أخرجوا مقدار ما كان فيها من الماء وقد روي عن محمد بن الحسن رحمه الله عليه أنه قال: ينزح منها مائتا دلو إلى ثلاثمائة دلو

وإذا وجد في البئر أو غيرها ولا يدرون متى وقعت ولم تنتفخ ولم تتفسخ أعادوا صلاة يوم وليلة إذا كانوا توضئوا منها وغسلوا كل شيء أصابه ماءها

وإن كانت انتفخت أو تفسخت أعادوا صلاة ثلاثة أيام ولياليها في قول أبي حنيفة رحمه الله وقال أبو يوسف ومحمد رحمهما الله: ليس عليهم إعادة شيء حتى يتحققوا متى وقعت

وسؤر الآدمي وما يؤكل لحمه طاهر وسؤر الكلب والخنزير وسباع البهائم نجس وسؤر الهرة والدجاجة المخلاة وسباع الطير وما يسكن في البيوت مثل الحية والفأرة مكروه

وسؤر الحمار والبغل مشكوك فيهما فإن لم يجد غيرهما توضأ بهما وتيمم بأيهما بدأ جاز
এবং তার স্নায়ু, খুর ও শিং পবিত্র।

যদি কূপে কোনো অপবিত্রতা পতিত হয় তবে তা সেচে ফেলা হবে এবং তার ভেতরের পানি সেচে ফেলাই কূপটির পবিত্রতা স্বরূপ।

যদি তাতে ইঁদুর, চড়ুই, বুলবুলি, সুওয়াদানিয়া অথবা টিকটিকি মরে পড়ে থাকে, তবে বিশ থেকে ত্রিশ বালতি পর্যন্ত পানি সেচে ফেলা হবে।

প্রাণীর ছোট বা বড় হওয়ার ধরন অনুযায়ী বালতির সংখ্যা নির্ধারিত হবে।

আর যদি তাতে কবুতর, মুরগি অথবা বিড়াল মরে পড়ে থাকে, তবে চল্লিশ থেকে ষাট বালতি পর্যন্ত পানি সেচে ফেলা হবে।

আর যদি তাতে কুকুর, ছাগল অথবা কোনো মানুষ মারা যায়, তবে তার সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে।

যদি প্রাণীটি তার মধ্যে ফুলে ওঠে অথবা পচে যায়, তবে তার সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে, চাই প্রাণীটি ছোট হোক বা বড়।

বালতির সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনপদে কূপের জন্য ব্যবহৃত মাঝারি আকারের বালতি বিবেচিত হবে। সুতরাং যদি বড় কোনো বালতি দ্বারা পানি তোলা হয় যাতে মাঝারি বিশটি বালতির সমপরিমাণ পানি ধরে, তবে তা সেই হিসেবেই গণ্য হবে।

যদি কূপটি প্রবহমান ঝরনা সদৃশ হয় যার পানি সেচে শেষ করা সম্ভব নয়, তবে তাতে বিদ্যমান পানির সমপরিমাণ পানি বের করে ফেলা হবে। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: তা থেকে দুইশ থেকে তিনশ বালতি পানি সেচে ফেলা হবে।

যদি কূপে বা অন্য কোথাও কোনো মৃত প্রাণী পাওয়া যায় এবং সেটি কখন পড়েছে তা জানা না থাকে এবং তা যদি ফুলে না ওঠে বা পচে না যায়, তবে তারা যদি সেই পানি দিয়ে অজু করে থাকে, তবে একদিন এক রাতের নামাজ পুনরায় পড়বে এবং সেই পানি যা কিছু স্পর্শ করেছে তা ধুয়ে ফেলবে।

আর যদি সেটি ফুলে ওঠে অথবা পচে যায়, তবে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে তারা তিন দিন তিন রাতের নামাজ পুনরায় পড়বে। পক্ষান্তরে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা বলেছেন: প্রাণীটি কখন পড়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো নামাজ পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই।

মানুষের এবং যার গোশত খাওয়া হয় এমন প্রাণীর উচ্ছিষ্ট পানি পবিত্র। কুকুর, শূকর এবং হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট অপবিত্র। বিড়াল, ছেড়ে রাখা মুরগি, শিকারি পাখি এবং ঘরে বসবাসকারী প্রাণী যেমন সাপ ও ইঁদুরের উচ্ছিষ্ট মাকরুহ।

গাধা ও খচ্চরের উচ্ছিষ্ট পানি সন্দেহযুক্ত। সুতরাং এই পানি ছাড়া অন্য কিছু না পাওয়া গেলে তা দিয়ে অজু করবে এবং তায়াম্মুমও করবে; এ দুটির মধ্যে যেটি দিয়েই শুরু করুক না কেন, তা জায়েজ হবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌باب التيمم

ومن لم يجد الماء وهو مسافر أو خارج المصر بينه وبين المصر نحو الميل أو أكثر

أو كان يجد الماء إلا أنه مريض فخاف إن استعمل الماء اشتد مرضه أو خاف الجنب إن غسل بالماء أن يقتله البرد أو يمرضه فإنه يتيمم بالصعيد

والتيمم ضربتان:

يمسح بإحداهما وجهه وبالأخرى يديه إلى المرفقين والتيمم من الجنابة والحدث سواء

ويجوز التيمم عند أبي حنيفة ومحمد بكل ما كان من جنس الأرض كالتراب والرمل والحجر والجص والنورة والكحل والزرنيخ

وقال أبو يوسف رحمه الله: لا يجوز إلا بالتراب والرمل خاصة

والنية فرض في التيمم مستحبة في الوضوء

وينقض التيمم كل شيء ينقض الوضوء وينقضه أيضا رؤية الماء إذا قدر على
তায়াম্মুম অধ্যায়

যে ব্যক্তি পানি পায় না, এমতাবস্থায় যে সে মুসাফির অথবা লোকালয়ের বাইরে অবস্থান করছে এবং তার ও লোকালয়ের মাঝখানে প্রায় এক মাইল বা তার বেশি দূরত্ব রয়েছে

অথবা সে পানি পায় কিন্তু সে অসুস্থ, ফলে সে আশঙ্কা করে যে পানি ব্যবহার করলে তার রোগ বৃদ্ধি পাবে, অথবা অপবিত্র (জুনুবী) ব্যক্তি আশঙ্কা করে যে পানি দিয়ে গোসল করলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সে মারা যাবে কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়বে, তবে সে পবিত্র ভূপৃষ্ঠের মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে

তায়াম্মুম হলো দুইবার হাত মারা:

একবার হাত মেরে তা দিয়ে মুখমণ্ডল মাসাহ করবে এবং দ্বিতীয়বার হাত মেরে তা দিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত মাসাহ করবে। বড় নাপাকি (জানাবাত) ও ছোট নাপাকি (হাদাস) উভয় ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করার নিয়ম অভিন্ন

ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মতে মাটির জাতীয় সকল বস্তু যেমন—মাটি, বালু, পাথর, জিপসাম, চুন, সুরমা ও হারতাল দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েয

ইমাম আবূ ইউসুফ (র.) বলেন: কেবল মাটি ও বালু ব্যতীত তায়াম্মুম জায়েয নয়

তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে নিয়ত করা ফরজ, আর অজুর ক্ষেত্রে তা মুস্তাহাব

অজু ভঙ্গকারী প্রতিটি বিষয়ই তায়াম্মুমকে ভঙ্গ করে। এছাড়া পানি ব্যবহারের সক্ষমতা থাকা অবস্থায় পানি দেখতে পাওয়াও তায়াম্মুম ভঙ্গ করে দেয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১৬)
استعماله ولا يجوز التيمم إلا بصعيد طاهر

ويستحب لمن لا يجد الماء وهو يرجو أن يجده في آخر الوقت أن يؤخر الصلاة إلى آخر الوقت فإن وجد الماء توضأ به وصلى وإلا تيمم

ويصلي بتيممه ما شاء من الفرائض والنوافل

ويجوز التيمم للصحيح في المصر إذا حضرت جنازة والولي غيره فخاف إن اشتغل بالطهارة أن تفوته الصلاة فإنه يتيمم ويصلي وكذلك من حضر العيد فخاف إن اشتغل بالطهارة أن تفوته صلاة العيدين فإنه يتيمم ويصلي وإن خاف من شهد الجمعة إن اشتغل بالطهارة أن تفوته صلاة الجمعة لم يتيمم ولكنه يتوضأ فإن أدرك الجمعة صلاها وإلا صلى الظهر أربعا وكذلك إذا ضاق الوقت فخشي إن توضأ قات الوقت لم يتيمم ولكنه يتوضأ ويصلي فائتة

والمسافر إذا نسي الماء في رحله فتيمم وصلى ثم ذكر الماء في الوقت لم يعد الصلاة عند أبي حنيفة ومحمد رحمهما الله

وقال أبو يوسف: يعيدها

وليس على المتيمم إذا لم يغلب على ظنه أن بقربه ماء أن يطلب الماء فإن غلب على ظنه أن هناك ماء لم يجز له أن يتيمم حتى يطلبه وإن كان مع رفيقه ماء طلبه منه قبل أن يتيمم فإن منعه منه تيمم وصلى
...এর ব্যবহার, আর পবিত্র মাটি ব্যতীত তায়াম্মুম করা বৈধ নয়।

যে ব্যক্তি পানি পায় না অথচ ওয়াক্তের শেষ সময়ে তা পাওয়ার আশা রাখে, তার জন্য নামাযকে শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব। অতঃপর যদি সে পানি পায় তবে তা দিয়ে উযু করবে এবং নামায পড়বে, অন্যথায় তায়াম্মুম করবে।

সে তার সেই তায়াম্মুমের মাধ্যমে ইচ্ছামতো ফরয ও নফল নামায আদায় করতে পারবে।

শহরের কোনো সুস্থ ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম করা জায়েয, যদি সেখানে জানাযার নামায উপস্থিত হয় এবং অভিভাবক (ইমাম) ব্যতীত অন্য কেউ হয়, আর সে আশঙ্কা করে যে যদি সে পবিত্রতা অর্জনে লিপ্ত হয় তবে জানাযার নামায ছুটে যাবে, তবে সে তায়াম্মুম করবে এবং নামায পড়বে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ঈদের নামাযে উপস্থিত হয় এবং আশঙ্কা করে যে পবিত্রতা অর্জনে লিপ্ত হলে দুই ঈদের নামায ছুটে যাবে, তবে সে তায়াম্মুম করবে এবং নামায পড়বে। আর জুমুআর উপস্থিত ব্যক্তি যদি আশঙ্কা করে যে পবিত্রতা অর্জনে লিপ্ত হলে জুমুআর নামায ছুটে যাবে, তবে সে তায়াম্মুম করবে না, বরং উযু করবে। যদি সে জুমুআ পায় তবে তা আদায় করবে, অন্যথায় যোহরের চার রাকাত পড়বে। অনুরূপভাবে যদি ওয়াক্ত সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং সে আশঙ্কা করে যে উযু করলে ওয়াক্ত পার হয়ে যাবে, তবে সে তায়াম্মুম করবে না, বরং উযু করবে এবং (পরবর্তীতে) কাযা নামায পড়বে।

মুসাফির ব্যক্তি যদি তার আসবাবপত্রের মধ্যে পানি থাকার কথা ভুলে গিয়ে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নেয়, অতঃপর ওয়াক্তের মধ্যেই তার পানির কথা স্মরণ হয়, তবে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর মতে তাকে নামায পুনরায় পড়তে হবে না।

ইমাম আবূ ইউসুফ (রহ.) বলেছেন: সে নামাযটি পুনরায় পড়বে।

তায়াম্মুমকারীর যদি প্রবল ধারণা না হয় যে তার সন্নিকটে পানি আছে, তবে তার জন্য পানি খোঁজা আবশ্যক নয়। কিন্তু যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে সেখানে পানি আছে, তবে খোঁজা ব্যতীত তার জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ হবে না। আর যদি তার সঙ্গীর কাছে পানি থাকে তবে তায়াম্মুম করার পূর্বে তার নিকট পানি চাইবে; সে যদি দিতে অস্বীকার করে তবে তায়াম্মুম করবে এবং নামায পড়বে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌باب المسح على الخفين

المسح على الخفين جائز بالسنة من كل حدث موجب للوضوء إذا لبس الخفين على طهارة كاملة ثم أحدث

فإن كان مقيما مسح يوما وليلة وإن كان مسافرا مسح ثلاثة أيام ولياليها وابتداؤها عقيب الحدث

والمسح على الخفين على ظاهرهما خطوطا بالأصابع يبدأ من رؤوس أصابع الرجل إلى الساق

وفرض ذلك مقدار ثلاث أصابع من أصغر أصابع اليد

ولا يجوز المسح على خف فيه خرق كبير يبين منه مقدار ثلاث أصابع من أصابع الرجل وإن كان أقل من ذلك جاز

ولا يجوز المسح على الخفين لمن وجب عليه الغسل

ونقض المسح ما ينقض الوضوء وينقضه أيضا نزع الخف ومضي المدة فإذا مضت المدة نزع خفيه وغسل رجليه وصلى وليس عيه إعادة بقيه الوضوء

ومن ابتدأ المسح وهو مقيم فسافر قبل تمام يوم وليلة مسح ثلاثة أيام ولياليها ومن ابتدأ المسح وهو مسافر ثم أقام فإن كان مسح يوما وليلة أو أكثر لزمه نزع خفيه وغسل رجليه وإن كان مسح أقل من يوم وليلة تمم مسح يوم وليلة

ومن لبس الجرموق فوق الخف مسح عليه

ولا يجوز المسح على الجوربين عند أبي حنيفة رحمه الله
মোজার উপর মাসেহ করার পরিচ্ছেদ

মোজার উপর মাসেহ করা সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত এবং এমন প্রতিটি অপবিত্রতার ক্ষেত্রে জায়েয যা ওজু ওয়াজিব করে, যদি পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর মোজা পরিধান করা হয় এবং পরবর্তীতে ওজু ভঙ্গ হয়।

যদি সে ব্যক্তি মুকিম হয় তবে একদিন ও একরাত মাসেহ করবে, আর মুসাফির হলে তিন দিন ও তিন রাত মাসেহ করবে; আর এর সময় গণনা শুরু হবে ওজু ভঙ্গের পর থেকে।

মোজার উপর মাসেহ করার নিয়ম হলো হাতের আঙুল দ্বারা মোজার উপরিভাগে রেখা টেনে পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ থেকে শুরু করে গোড়ালির দিকে টেনে নেওয়া।

এতে মাসেহ-এর ফরজের পরিমাণ হলো হাতের তিনটি ক্ষুদ্রতম আঙুলের সমপরিমাণ স্থান।

এমন মোজার উপর মাসেহ করা জায়েয নয় যাতে বড় ধরনের ছেঁড়া থাকে যার মাধ্যমে পায়ের তিন আঙুল পরিমাণ জায়গা দেখা যায়; তবে যদি ছেঁড়ার পরিমাণ এর চেয়ে কম হয় তবে তা জায়েয।

যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছে তার জন্য মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েয নয়।

যেসব বিষয় ওজু ভঙ্গ করে সেগুলো মাসেহ-কেও ভঙ্গ করে। এছাড়া মোজা খুলে ফেলা এবং মাসেহ-এর নির্ধারিত সময়কাল অতিবাহিত হওয়াও মাসেহ ভঙ্গকারী। সুতরাং যখন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাবে, তখন সে মোজা খুলে তার উভয় পা ধৌত করবে এবং নামাজ আদায় করবে; তার জন্য ওজুর অবশিষ্ট অংশ পুনরায় করার প্রয়োজন নেই।

যদি কেউ মুকিম অবস্থায় মাসেহ শুরু করে এবং একদিন-একরাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সফরে বের হয়, তবে সে তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত মাসেহ করবে। আর যদি কেউ মুসাফির অবস্থায় মাসেহ শুরু করার পর মুকিম হয়ে যায়, এমতাবস্থায় সে যদি একদিন-একরাত বা তার বেশি সময় মাসেহ করে থাকে তবে মোজা খুলে পা ধৌত করা তার জন্য আবশ্যক। আর যদি সে একদিন-একরাতের কম সময় মাসেহ করে থাকে, তবে সে একদিন-একরাত পূর্ণ করবে।

যে ব্যক্তি মোজার ওপর জারমুক (চামড়ার ওপর পরিহিত অতিরিক্ত মোজা) পরিধান করবে, সে তার ওপর মাসেহ করতে পারবে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে জাওরাবাইন বা সাধারণ মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েয নয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১৮)
إلا أن يكونا منعلين أو مجلدين وقال أبو يوسف ومحمد رحمهما الله: يجوز المسح على الجوربين إذا كانا ثخينين لا يشفان الماء

ولا يجوز المسح على العمامة والقلنسوة والبرقع والقفازين

ويجوز المسح على الجبائر وإن شدها على غير وضوء فإن سقطت عن غير برء لم يبطل المسح وإن سقطت عن برء بطل المسح
তবে যদি সেগুলো তলাযুক্ত হয় কিংবা চামড়া দ্বারা আবৃত হয়। আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন: মোজার ওপর মাসাহ করা জায়েয যদি তা এমন পুরু হয় যা পানি চুইয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না।

পাগড়ি, টুপি, নেকাব এবং দস্তানার ওপর মাসাহ করা জায়েয নয়।

আর জখমের পটির ওপর মাসাহ করা জায়েয, যদিও তা অযুহীন অবস্থায় বাঁধা হয়ে থাকে। অতঃপর যদি তা আরোগ্য লাভের পূর্বেই পড়ে যায়, তবে মাসাহ বাতিল হবে না; কিন্তু যদি তা আরোগ্য লাভের কারণে পড়ে যায়, তবে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب الحيض

أقل الحيض ثلاثة أيام ولياليها

وما نقض عن ذلك فليس بحيض وهو استحاضة

وأكثر الحيض عشرة أيام ولياليها وما زاد على ذلك فهو استحاضة

وما تراه المرأة من الحمرة والصفرة والكدرة في أيام الحيض فهو حيض حتى ترى البياض الخالص

والحيض يسقط عن الحائض الصلاة ويحرم عليها الصوم وتقضي الصوم ولا تضي الصلاة ولا تدخل المسجد ولا تطوف بالبيت ولا يأتيها زوجها

ولا يجوز لحائض ولا جنب قراءة القرآن

ولا يجوز لمحدث مس المصحف إلا أن يأخذه بغلافه

وإذا انقطع دم الحيض لأقل من عشرة أيام لم يجز وطؤها حتى تغتسل أو يمضي عليها وقت صلاة كامل فإن انقطع دمها لعشرة أيام جاز وطؤها قبل الغسل

والطهر إذا تخلل بين الدمين في مدة الحيض فهو كالدم الجاري

وأقل الطهر خمسة عشر يوما ولا غاية لأكثره

ودم الإستحاضة هو ما تراه المرأة أقل من ثلاثة أيام أو أكثر من عشرة أيام فحكمه حكم الرعاف الدائم: لا يمنع الصوم ولا الصلاة ولا الوطء

وإذا زاد الدم على عشرة أيام وللمرأة عادة
ঋতুস্রাব অধ্যায়

ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন সময়সীমা তিন দিন ও তিন রাত।

এর চেয়ে কম যা কিছু দেখা যাবে তা ঋতুস্রাব নয়, বরং তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব)।

ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ সময়সীমা দশ দিন ও দশ রাত এবং এর অতিরিক্ত যা কিছু হবে তা ইস্তিহাযা।

ঋতুকালীন দিনগুলোতে নারী লাল, হলুদ বা ঘোলাটে যে রঙই দেখুক না কেন, তা ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে, যতক্ষণ না সে স্বচ্ছ সাদা রঙ দেখতে পায়।

ঋতুস্রাব ঋতুবতী নারীর ওপর থেকে নামায রহিত করে দেয় এবং তার জন্য রোযা রাখা হারাম করে; সে রোযার কাযা করবে কিন্তু নামাযের কাযা করবে না। সে মসজিদে প্রবেশ করবে না, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে না এবং তার স্বামী তার নিকটবর্তী হবে (সহবাস করবে) না।

ঋতুবতী এবং অপবিত্র (জুনুবি) ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়।

অজুহীন ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়, তবে পৃথক জিলদ বা আবরণের সাহায্যে তা ধরা যাবে।

যদি দশ দিনের কম সময়ে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তবে গোসল করা অথবা এক ওয়াক্ত নামাযের পূর্ণ সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তার সাথে সহবাস বৈধ হবে না। আর যদি দশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত বন্ধ হয়, তবে গোসলের পূর্বেই সহবাস বৈধ হবে।

ঋতুস্রাবের মেয়াদের ভেতরে দুই রক্তের মধ্যবর্তী পবিত্রতা প্রবহমান রক্তের ন্যায় গণ্য হবে।

পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ পনেরো দিন এবং এর সর্বোচ্চ সীমার কোনো নির্ধারিত সময় নেই।

ইস্তিহাযার রক্ত হলো যা নারী তিন দিনের কম অথবা দশ দিনের বেশি সময় দেখে থাকে; এর বিধান হলো নিরবচ্ছিন্ন নাক দিয়ে রক্ত পড়ার বিধানের ন্যায়: এটি রোযা, নামায কিংবা সহবাসে প্রতিবন্ধক হবে না।

যদি রক্ত দশ দিনের বেশি অতিক্রান্ত হয় এবং নারীর নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২০)
معروفة ردت إلى أيام عادتها وما زاد على ذلك فهو استحاضة وإن ابتدأت مع البلوغ مستحاضة فيحضها عشرة أيام من كل شهر والباقي استحاضة

والمستحاضة ومن به سلس البول والرعاف الدائم والجرح الذي لا يزقلأ يتوضئون لوقت كل صلاة فيصلون بذلك الوضوء في الوقت ما شاءوا من الفرائض والنوافل فإذا خرج الوقت بطل وضوءهم وكان عليهم استئناف الوضوء لصلاة أخرى

والنفاس: هو الدم الخارج عقيب الولادة والدم الذي تراه الحامل وما تره المرأة في حال ولادتها قبل خروج الولد استحاضة

وأقل النفاس لا حد له وأكثره أربعون يوما وما زاد على ذلك فهو استحاضة وإذا تجاوز الدم الأربعين وقد كانت هذه المرأة ولدت قبل ذلك ولها عادة في النفاس ردت إلى أيام عادتها وإن لم لها عادة فابتدأ نفاسها أربعون يوما ومن ولدت ولدين في بطن واحد

فنفاسها ما خرج من الدم عقيب الولد الأول عند أبي حنيفة وأبي يوسف وقال محمد وزفر: نفاسها ما خرج من الدم عقيب الولد الثاني
(অভ্যাস) জানা থাকলে সে তার অভ্যাসের দিনগুলোর দিকে ফিরে যাবে এবং এর অতিরিক্ত যা হবে তা ইস্তিহাযা। আর যদি বালেগা হওয়ার শুরু থেকেই ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়, তবে প্রতি মাসে দশ দিন তার ঋতুস্রাব গণ্য হবে এবং বাকি দিনগুলো ইস্তিহাযা।

ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী এবং যার প্রস্রাব ঝরা, স্থায়ীভাবে নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং এমন ক্ষত রয়েছে যা থেকে রক্তপাত বন্ধ হয় না—তারা প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তের জন্য অজু করবে। অতঃপর তারা সেই অজুর মাধ্যমে ওই ওয়াক্তের মধ্যে যত ইচ্ছা ফরজ ও নফল নামাজ আদায় করতে পারবে। যখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তখন তাদের অজু বাতিল হয়ে যাবে এবং অন্য নামাজের জন্য পুনরায় অজু করা তাদের জন্য আবশ্যক হবে।

নিফাস হলো সন্তান প্রসবের পরবর্তী রক্ত। আর গর্ভবতী নারী যা দেখে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বে প্রসবকালীন অবস্থায় নারী যে রক্ত দেখে তা ইস্তিহাযা।

নিফাসের সর্বনিম্ন মেয়াদের কোনো সীমা নেই, আর এর সর্বোচ্চ মেয়াদ চল্লিশ দিন। এর অতিরিক্ত যা হবে তা ইস্তিহাযা। যদি রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করে এবং এই নারীর ইতিপূর্বে সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা ও নিফাসের অভ্যাস থাকে, তবে সে তার অভ্যাসের দিনগুলোর দিকে ফিরে যাবে। আর যদি তার কোনো অভ্যাস না থাকে, তবে তার নিফাস চল্লিশ দিন গণ্য হবে। আর যে নারী একই গর্ভে দুটি সন্তান প্রসব করেছে—

ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে, তার নিফাস হলো প্রথম সন্তান প্রসবের পর নির্গত রক্ত। আর ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম জুফার বলেছেন: তার নিফাস হলো দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের পর নির্গত রক্ত।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌باب الأنجاس

تطهير النجاسة واجب من بدن المصلي وثوبه

والمكان الذي يصلي عليه

ويجوز تطهير النجاسة بالماء وبكل مائع طاهر يمكن إزالتها به كالخل وماء الورد

وإذا أصابت الخف نجاسة ولها جرم فجفت فدلكه بالأرض جاز

والمني نجس يجب غسل رطبه فإذا جف على الثوب أجزأ فيه الفرك

والنجاسة إذا أصابت المرآة أو السيف اكتفي بمسحهما

وإذا أصابت الأرض نجاسة فجفت بالشمس وذهب أثرها جازت الصلاة بمكانها ولا يجوز التيمم منها

ومن أصابه من النجاسة المغلظة كالدم والبول والغائط والخمر مقدار الدرهم فما دونه جازت الصلاة معه فإن زاد لم تجز وإن أصابته نجاسة مخففة كبول ما يؤكل لحمه

جازت الصلاة معه ما لم يبلغ ربع الثوب

وتطهير النجاسة التي يجب غسلها على وجهين:

فما كان له منها مرئية زوال عينها إلا أن يبقى من أثرها ما يشق إزالته وما ليس له عني مرئية فطهارتها أن يغسل حتى يغلب على ظن الغاسل أنه قد طهر

والاستنجاء سنة يجزي فيها الحجر وما يقوم مقامه يمسحه حتى ينقه وليس فيه عدد مسنون وغسله بالماء أفضل فإن تجاوزت النجاسة مخرجها لم يجز فيه إلا الماء ولا يستنجي بعظم ولا بروث ولا بطعام ولا
অপবিত্রতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

সালাত আদায়কারীর শরীর, পোশাক এবং যে স্থানে সে সালাত আদায় করে, তা অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করা ওয়াজিব।

এবং যে স্থানে সে সালাত আদায় করে।

পানি এবং এমন প্রতিটি পবিত্র তরল পদার্থ দ্বারা অপবিত্রতা দূর করা জায়েজ যা দ্বারা তা অপসারণ করা সম্ভব, যেমন সিরকা ও গোলাপ জল।

যদি চামড়ার মোজায় (খুফ) কোনো দৃশ্যমান ঘন অপবিত্রতা লাগে এবং তা শুকিয়ে যায়, তবে তা মাটিতে ঘষে নিলেই তা যথেষ্ট হবে।

বীর্য অপবিত্র; এর আর্দ্র অবস্থা ধৌত করা ওয়াজিব। আর যদি তা কাপড়ে শুকিয়ে যায়, তবে তা রগড়ে ফেলাই যথেষ্ট হবে।

যদি আয়না বা তরবারিতে অপবিত্রতা লাগে, তবে তা মুছে ফেলাই যথেষ্ট।

যদি জমিনে অপবিত্রতা লাগে এবং তা রোদে শুকিয়ে যায় ও তার চিহ্ন বিলীন হয়ে যায়, তবে ওই স্থানে সালাত আদায় করা জায়েজ, কিন্তু সেখান থেকে তায়াম্মুম করা জায়েজ হবে না।

রক্ত, প্রস্রাব, মল ও মদের ন্যায় গুরুতর অপবিত্রতা (নাজাসাতে মুগাল্লাজাহ) যদি দিরহাম পরিমাণ বা তার কম হয়, তবে তা থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করা জায়েজ। যদি তার বেশি হয় তবে জায়েজ হবে না। আর যদি হালকা অপবিত্রতা (নাজাসাতে মুখাফফাফাহ) লাগে, যেমন ভক্ষণযোগ্য পশুর প্রস্রাব,

তবে তা কাপড়ের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত তা নিয়ে সালাত আদায় করা জায়েজ হবে।

যে অপবিত্রতা ধৌত করা ওয়াজিব, তা পবিত্র করার পদ্ধতি দুই প্রকার:

যদি অপবিত্রতা দৃশ্যমান হয়, তবে তার মূল অস্তিত্ব দূর করাই হলো পবিত্রতা, তবে যদি এমন কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে যা দূর করা দুঃসাধ্য (তবে তা দোষণীয় নয়)। আর যা দৃশ্যমান নয়, তার পবিত্রতা হলো তা ততক্ষণ ধৌত করা যতক্ষণ ধৌতকারীর প্রবল ধারণা জন্মে যে এটি পবিত্র হয়েছে।

ইস্তিনজা করা সুন্নাত; এতে পাথর ও তার স্থলাভিষিক্ত বস্তু ব্যবহার করা যথেষ্ট হবে, যা দ্বারা পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত মুছতে হবে। এতে কোনো মাসনুন সংখ্যা নির্ধারিত নেই। তবে পানি দ্বারা ধৌত করা অধিক উত্তম। যদি অপবিত্রতা নির্গমন পথ অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ে, তবে পানি ব্যতীত অন্য কিছু জায়েজ হবে না। হাড়, গোবর এবং খাদ্যবস্তু দ্বারা ইস্তিনজা করা যাবে না এবং...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২২)
بيمينه إلا بعذر
কোনো ওজর ব্যতীত ডান হাত দ্বারা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌2 - كتاب الصلاة

أول وقت الصبح إذا طلع الفجر الثاني وهو البياض المعترض في الأفق وآخر وقتها ما لت تتطلع الشمس وأول وقت الظهر إذا زالت الشمس وآخر وقتها عند أبي حنيفة إذا صار ظل كل شيء مثليه سوي فيء الزوال

وقال أبو يوسف ومحمد: إذا صار ظل كل شيء مثله

وأول وقت العصر إذا خرج وقت الظهر على القولين وآخر وقتها ما لم تغرب الشمس

وأول وقت المغرب إذا فربت الشمس وآخر وقتها ما لم يغب الشفق وهو البياض الذي ف الأفق بعد الحمرة

عند أبي حنيفة وقال أبو يوسف ومحمد: هو الحمرة وأول وقت العشاء إذا غاب الشفق وآخر وقتها ما لم يطلع الفجر وأول وقت الوتر بعد العشاء وآخر وقتها ما لم يطلع الفجر

ويستحب الإسفار بالفجر

والإبراد بالظهر في الصيف وتقديمها في الشتاء وتأخير العصر ما لم تتغير الشمس وتعجيل
২ - সালাত (নামাজ) অধ্যায়

ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন দ্বিতীয় ফজর উদিত হয়, যা মূলত দিগন্তে আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত শুভ্রতা; আর এর শেষ ওয়াক্ত হলো সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। যুহরের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে, আর ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর মতে এর শেষ ওয়াক্ত হলো যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া—মধ্যাহ্নের মূল ছায়া ব্যতীত—তার দ্বিগুণ হয়।

ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেছেন: যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হয়।

আর আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় উভয় বর্ণনা মতে যুহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর, আর এর শেষ ওয়াক্ত হলো সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য অস্ত যায়, আর এর শেষ ওয়াক্ত হলো যতক্ষণ না শাফাক অদৃশ্য হয়; আর শাফাক হলো লালিমার পর দিগন্তে বিদ্যমান শুভ্রতা—

ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর মতে। তবে ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেছেন: তা হলো লালিমা। এশার ওয়াক্ত শুরু হয় শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পর এবং এর শেষ ওয়াক্ত হলো ফজর উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। বিতরের ওয়াক্ত শুরু হয় এশার পর থেকে এবং এর শেষ ওয়াক্ত হলো ফজর উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

ফজর ফর্সা করে (ইসফার) আদায় করা মুস্তাহাব।

গ্রীষ্মকালে যুহর ঠান্ডা করে (ইবরাদ) আদায় করা এবং শীতকালে তা ওয়াক্তের শুরুতে আদায় করা মুস্তাহাব। আসর বিলম্ব করে আদায় করা মুস্তাহাব যতক্ষণ না সূর্যের রং পরিবর্তিত হয়, এবং দ্রুত আদায় করা...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২৪)
المغرب وتأخير العشاء إلى ما قبل ثلث الليل ويستحب في الوتر لمن يألف صلاة الليل أن يؤخر الوتر إلى آخر الليل فإن لم يثق بالانتباه أوتر قبل النوم
মাগরিব এবং এশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিলম্ব করা; আর বিতর সালাতের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো—যিনি রাতের শেষভাগে সালাত আদায়ে অভ্যস্ত, তিনি যেন বিতরকে রাতের শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করেন। তবে যদি তিনি জাগ্রত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারেন, তবে যেন ঘুমানোর পূর্বেই বিতর আদায় করে নেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌باب الأذان

الأذان سنة للصلوات الخمس والجمعة

دون ما سواها

وصفة الأذان: أن يقول: الله أكبر الله أكبر - إلى آخره ولا ترجيع فيه ويزيد في أذان الفجر بعد الفلاح: الصلاة خير من النوم مرتين

والإقامة مثل الأذان إلا أنه يزيد فيها بعد الفلاح: قد قامت الصلاة مرتين

ويترسل في الأذان ويحدر في الإقامة ويستقبل بهما القبلة فإذا بلغ إلى الصلاة والفلاح حول وجهه يمينا وشمالا

ويؤذن للفائتة ويقيم فإن فاتته صلوات أذن للأولى وأقام وكان مخيرا في الباقية: إن شاء أذن وأقام وإن شاء اقتصر على الإقامة

وينبغي أن يؤذن ويقيم على طهر فإن أذن على غير وضوء جاز ويكره أن يقيم على غير وضوء أو يؤذن وهو جنب ولا يؤذن لصلاة قبل دخول وقتها
আযান অধ্যায়

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও জুমুআর জন্য আযান প্রদান করা সুন্নাত

এগুলো ব্যতীত অন্য কোনো নামাযের জন্য নয়

আযানের পদ্ধতি হলো: সে বলবে: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার - শেষ পর্যন্ত। এতে কোনো তারজি (নিচু স্বরে শাহাদাতাইন পাঠ) নেই। আর ফজরের আযানে 'হাইয়া আলাল ফালাহ'-এর পর দুইবার 'আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম' বৃদ্ধি করবে

ইকামত আযানের মতোই, তবে এতে 'হাইয়া আলাল ফালাহ'-এর পর 'কাদ কামাতিস সালাত' বাক্যটি দুইবার বৃদ্ধি করবে

আযানে শব্দের মাঝে বিরতি দিয়ে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করবে এবং ইকামতে দ্রুততা বজায় রাখবে। উভয়টির ক্ষেত্রে কিবলামুখী হবে। যখন 'হাইয়া আলাস সালাহ' ও 'হাইয়া আলাল ফালাহ' বলবে, তখন নিজের চেহারা ডানে ও বামে আবর্তন করবে

কাজা হয়ে যাওয়া সালাতের জন্যও আযান ও ইকামত দিবে। যদি একাধিক সালাত কাজা হয়, তবে প্রথমটির জন্য আযান ও ইকামত দিবে এবং অবশিষ্টগুলোর ক্ষেত্রে সে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত থাকবে: চাইলে আযান ও ইকামত দিবে, আর চাইলে কেবল ইকামতের ওপর ক্ষান্ত হবে

পবিত্র অবস্থায় আযান ও ইকামত দেওয়া উচিত। যদি অজুহীন অবস্থায় আযান দেয় তবে তা বৈধ, তবে অজু ছাড়া ইকামত দেওয়া কিংবা অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় আযান দেওয়া মাকরূহ। আর ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে সালাতের জন্য আযান প্রদান করা যাবে না
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌باب شروط الصلاة التي تتقدمها

يجب على المصلي أن يقدم الطهارة من الأحداث والأنجاس على ما قدمناه ويستر عورته والعورة من الرجل: ما تحت السرة إلى الركبة والركبة من العورة

وبدن المرأة الحرة كله عورة إلا وجهها وكفيها وقدميها وما كان عورة من الرجل فهو عروة من الأمة وبطنها وظهرها عورة وما سوى ذلك من بدنها فليس بعورة

ومن لم يجد ما يزل به النجاسة صلى معها ولم يعد الصلاة

ومن لم يجد ثوبا صلى عريانا قاعدا يومئ بالركوع والسجود فإن صلى قائما أجزاه والأول أفضل وينوي الصلاة التي يدخل فيها بنية لا يفصل بينها وبين

التحريمة بعمل ويستقبل القبلة إلا أن يكون خائفا فيصلي إلى أي جهة قدر فإن اشتبهت عليه القبلة وليس بحضرته من يسأله عنها اجتهد وصلى

فإن علم أنه أخطأ بإخبار بعد ما صلى فلا إعادة عليه وإن علم ذلك وهو في الصلاة استدار إلى القبلة وبنى عليها
সালাতের পূর্বশর্তসমূহের পরিচ্ছেদ

মুসল্লির জন্য আবশ্যক হলো ইতিপূর্বে আমাদের বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী অপবিত্রতা ও নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জন করা এবং সতর আবৃত করা। পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং হাঁটুও সতরের অন্তর্ভুক্ত।

স্বাধীন নারীর পুরো শরীরই সতর, তবে তার মুখমণ্ডল, উভয় হাতের কবজি ও উভয় পদযুগল ব্যতীত। পুরুষের জন্য যা সতর, দাসীর ক্ষেত্রেও তা-ই সতর এবং অতিরিক্ত হিসেবে তার পেট ও পিঠও সতরের অন্তর্ভুক্ত; এছাড়া তার শরীরের অবশিষ্টাংশ সতর নয়।

যে ব্যক্তি নাপাকি দূর করার মতো কিছু পাবে না, সে তা নিয়েই সালাত আদায় করবে এবং তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না।

যার নিকট কোনো পরিধেয় বস্ত্র নেই, সে উলঙ্গ অবস্থায় বসে রুকু ও সিজদার ইশারা করে সালাত আদায় করবে। আর যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তা যথেষ্ট হবে, তবে প্রথমোক্ত পদ্ধতিই উত্তম। আর সে যে সালাত শুরু করছে তার জন্য এমনভাবে নিয়ত করবে যেন নিয়ত ও তাহরিমার মধ্যে অন্য কোনো কর্মের ব্যবধান না থাকে। এবং কিবলামুখী হবে, তবে যদি সে ভীত অবস্থায় থাকে তবে যে কোনো দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে পারবে। যদি কিবলার দিক নির্ণয় করা তার জন্য সংশয়পূর্ণ হয় এবং তার কাছে এমন কেউ উপস্থিত না থাকে যাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা যায়, তবে সে সালাতের জন্য কিবলা নির্ধারণে চেষ্টা ও চিন্তা (ইজতিহাদ) করবে এবং সালাত আদায় করবে।

যদি সালাত শেষ করার পর সংবাদের ভিত্তিতে সে জানতে পারে যে ভুল করেছে, তবে তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না। আর যদি সালাতরত অবস্থায় তা জানতে পারে, তবে সে কিবলার দিকে ঘুরে যাবে এবং সালাতের অবশিষ্ট অংশ সম্পন্ন করবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌باب صفة الصلاة

فرائض الصلاة ستة:

التحريمة

والقيام والقرءة والركوع والسجود والقعدة الأخيرة مقدار التشهد

وما زاد على ذلك فهو سنة فإذا دخل الرجل في الصلاة كبر ورفع يديه مع التكبير حتى يحاذى بإبهاميه شحمتي أذنيه فإن قال بدلا من التكبير: الله أجل أو أعظم

أو الرحمن أكبر أجزأه عند أبي حنيفة ومحمد وقال أبو يوسف: لا يجزئه إلا بلفظ التكبير ويعتمد بيده اليمنى على اليسرى ويضعهما تحت سرته ثم يقول: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعلى جدك ولا إله غيرك ويستعيذ بالله من الشيطان الرجيم ويقرأ بسم الله الرحمن الرحيم ويسر بهما ثم يقرأ فاتحة الكتاب وسورة معها أو ثلاث آيات من أي سورة شاء وإذا قال الإمام {ولا الضالين} قال: آمين ويقولها ويخفونها ثم يكبر ويركع

ويعتمد بيديه على ركبتيه ويفرج أصابعه ويبسط ظهره ولا يرفع رأسه ولا ينكسه ويقول في ركوعه: سبحان ربي العظيم ثلاثا وذلك أذناه ثم يرفع رأسه ويقول: وسجد واعتمد بيديه على الأرض ووضع وجهه بين كفيه وسجد على أنفه وجبهته فإن اقتصر على أحدهما جاز عند أبي حنيفة

وقال أبو يوسف ومحمد: لا يجوز الاقتصار على الأنف إلا من عذر وإن سجد على كور عمامته أو فاضل ثوبه جاز ويبدي ضبعيه ويجافي بطنه عن فخذيه ويوجه أصابع رجليه نحو القبله ويقول في سجوده: سبحان ربي الأعلى ثلاثا وذلك أدناه ثم يرفع رأسه
নামাজের পদ্ধতির অধ্যায়

নামাজের ফরজ ছয়টি:

তাকবীরে তাহরিমা (উদ্বোধনী তাকবীর)

কিয়াম (দাঁড়ানো), কিরাআত (কুরআন পাঠ), রুকু, সেজদা এবং তাশাহহুদ পরিমাণ সময় শেষ বৈঠক করা।

এর অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা সুন্নাত। যখন কোনো ব্যক্তি নামাজে প্রবেশ করবে, তখন সে তাকবীর বলবে এবং তাকবীরের সাথে উভয় হাত উত্তোলন করবে যাতে তার বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কানের লতি বরাবর হয়। যদি সে তাকবীরের পরিবর্তে ‘আল্লাহু আজাল্ল’ (আল্লাহ অতি মহিমান্বিত) বা ‘আ’জম’ (আল্লাহ অতি মহান)

কিংবা ‘আর-রাহমান আকবার’ (করুণাময় অতি মহান) বলে, তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদের মতে তা যথেষ্ট হবে। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: ‘তাকবীর’ শব্দ (আল্লাহু আকবার) ব্যতীত অন্য কিছুতে নামাজ শুরু হবে না। সে তার ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখবে এবং তা নাভির নিচে স্থাপন করবে। অতঃপর পড়বে: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উচ্চ এবং আপনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই।’ এরপর বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়বে। এই উভয়টি সে নিঃশব্দে পড়বে। এরপর সূরা ফাতিহা এবং এর সাথে অন্য একটি সূরা অথবা যেকোনো সূরার অন্তত তিনটি আয়াত তিলাওয়াত করবে। যখন ইমাম ‘ওয়ালাদ্দল্লীন’ বলবেন, তখন সে বলবে ‘আমীন’। ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ই এটি বলবেন এবং তা নিঃশব্দে বলবেন। অতঃপর তাকবীর বলবে এবং রুকুতে যাবে।

রুকুতে সে তার হাত দুটির ওপর ভর দিয়ে হাঁটু ধরবে, আঙুলগুলো ফাঁকা রাখবে এবং পিঠ সোজা করে দেবে। মাথা উঁচিয়েও রাখবে না আবার নিচু করেও রাখবে না। রুকুতে সে বলবে: ‘আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি’ তিনবার; আর এটিই হলো সর্বনিম্ন পরিমাণ। অতঃপর সে তার মাথা তুলবে এবং সেজদা করবে। সেজদায় জমিনে হাতের ওপর ভর দিবে এবং নিজের চেহারা দুই হাতের তালুর মাঝে রাখবে। নাক ও কপাল উভয়টির ওপর সেজদা করবে। যদি কেবল যেকোনো একটির ওপর সেজদা করে তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তা জায়েজ হবে।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন: কোনো ওজর ব্যতীত কেবল নাকের ওপর সেজদা করা জায়েজ নয়। যদি সে তার পাগড়ির পেঁচ অথবা কাপড়ের বাড়তি অংশের ওপর সেজদা করে তবে তা জায়েজ হবে। সেজদাকালীন সময়ে সে তার বাহুদ্বয় পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখবে, পেট উরু থেকে আলাদা রাখবে এবং পায়ের আঙুলগুলো কিবলার দিকে মুখ করে রাখবে। সেজদায় বলবে: ‘আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি’ তিনবার; আর এটিই হলো সর্বনিম্ন পরিমাণ। অতঃপর সে তার মাথা তুলবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويكبر فإذا اطمأن جالسا كبر وسجد فإذا اطمأن ساجدا كبر واستوى قائما على صدور قدميه ولا يقعد ولا يعتمد بيديه على الأرض

ويفعل في الركعة الثانية مثل ما فعل في الأولى إلا أنه لا يستفتح ولا يتعوذ ولا يرفع يديه إلا في التكبير الأولى

فإذا رفع رأسه من السجدة الثانية في الركعة الثانية افترش رجله اليسرى فجلس عليها ونصب اليمنى نصبا ووجه أصابعه نحو القبله ووضع يديه على فخذيه وبسط أصابعة وتشهد

والتشهد أن يقول: التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله ولا يزيد على هذا في القعدة الأولى

ويقرأ في الركعتين الأخريين الكتاب خاصة فإذا جلس في آخر الصلاة جلس كما في الأولى وتشهد وصلى على النبي صلى الله عليه وسلم ودعا بما شاء بما يشبه ألفاظ القرآن والأدعيه المأثورة ولا يدعو بما يشبه كلام الناس ثم يسلم عن يمينه فيقول: السلام عليكم ورحمة الله وعن يساره مثل ذلك

ويجهز بالقرءة في الفجر والركعتين
এবং তিনি তাকবির বলবেন; অতঃপর যখন স্থির হয়ে বসবেন তখন তাকবির বলবেন এবং সিজদা করবেন। যখন সিজদাবনত অবস্থায় স্থির হবেন তখন তাকবির বলবেন এবং পায়ের অগ্রভাগের ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন। তিনি (বিশ্রামের জন্য) বসবেন না এবং হাত দিয়ে মাটির ওপর ভর দেবেন না।

তিনি দ্বিতীয় রাকাআতে তা-ই করবেন যা তিনি প্রথম রাকাআতে করেছিলেন; তবে তিনি প্রারম্ভিক প্রার্থনা (ছানা) পাঠ করবেন না, আউযুবিল্লাহ পড়বেন না এবং প্রথম তাকবির ব্যতীত হাত উত্তোলন করবেন না।

অতঃপর যখন তিনি দ্বিতীয় রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা তুলবেন, তখন তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে দেবেন ও তার ওপর বসবেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখবেন ও আঙুলগুলো কিবলার দিকে রুজু করে রাখবেন। তিনি তাঁর হাত দুটি উরুর ওপর রাখবেন, আঙুলগুলো প্রসারিত করবেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করবেন।

আর তাশাহহুদ হলো এই বলা: "সমস্ত সম্মানজনক সম্ভাষণ আল্লাহর জন্য এবং সমস্ত সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।" প্রথম বৈঠকে তিনি এর অতিরিক্ত কিছু পাঠ করবেন না।

তিনি শেষ দুই রাকাআতে বিশেষভাবে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। নামাজের শেষ বৈঠকে যখন তিনি বসবেন, তখন প্রথম বৈঠকের ন্যায় বসবেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করবেন ও নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করবেন। অতঃপর কুরআন ও বর্ণিত দোয়াগুলোর শব্দাবলির সদৃশ তাঁর যা ইচ্ছা প্রার্থনা করবেন; মানুষের কথার সদৃশ কোনো প্রার্থনা করবেন না। এরপর তিনি ডান দিকে সালাম ফেরাবেন এবং বলবেন: "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ", আর বাম দিকেও তদ্রূপ করবেন।

তিনি ফজর এবং (উচ্চস্বরে পাঠ্য সালাতসমূহের প্রথম) দুই রাকাআতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করবেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ২৯)
الأوليين من المغرب والعشاء إن كان إماما ويخفي القراءة فيما بعد الأوليين وإن كان منفردا فهو مخير: إن شاء جهر وأسمع نفسه وإن شاء خافت ويخفي الإمام القرءة في الظهر والعصر

والوتر:

ثلاث ركعات لا يفصل بينها بسلام

ويقنت في الثالثه قبل الركوع في جميع السنة ويقرأ في كل ركعة من الوتر بفاتحة الكتاب وسورة معها فإذا أراد أن يقنت كبر ورفع يديه ثم قنت

ولا يقنت في صلاة غيرها

وليس في شيء من الصلوات قراءة سورة بعينها لا يجزئ غيرها ويكره أن يتخذ سورة بعينها لصلاة لا يقرأ فيها غيرها

وأدنى ما يجزئ من القراءة في الصلاة ما يتناوله اسم القرآن عند أبي حنيفة

وقال يوسف ومحمد: لا يجزئ أقل من ثلاث آيات قصار أو آية طويلة

ولا يقرأ المؤتم خلف الإمام

ومن أراد الدخول في صلاة غيره يحتاج إلى نيتين: نية الصلاة ونية المتابعة

والجماعة: سنة مؤكدة

وأولى الناس بالإمامة أعلمهم

بالسنة فإن تساووا فأقرهم فإن تساووا فأورعهم فإن تساووا فأسنهم

ويكره تقديم العبد والأعرابي والفاسق والأعمى وولد الزنا فإن تقدموا جاز

وينبغي للإمام أن لا يطول بهم الصلاة

ويكره للنساء أن يصلين وحدهن جماعة فإن فعلن وقفت الإمام وسطهن

ومن صلى مع واحد أقامه عن يمينه

فإن كان اثنين تقدم عليهما

ولا يجوز للرجال أن يقتدوا بامرأة أو صبي

ويصف الرجال ثم الصبيان ثم النساء

فإن قامت امرأة إلى جنب رجل وهما مشتركان في صلاة واحدة فسدت صلاته

ويكره للنساء حضور الجماعة ولا بأس بأن تخرج العجوز في الفجر والمغرب والعشاء عند أبي حنيفة وقال أبو يوسف ومحمد يجوز خروج العجوز في كل
মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাআতে [কিরাত সশব্দে পড়বে] যদি সে ইমাম হয়। আর প্রথম দুই রাকাআতের পরবর্তী অংশে কিরাত নিঃশব্দে পড়বে। আর যদি সে একাকী নামাজ আদায়কারী হয়, তবে সে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত: চাইলে সে সশব্দে পড়বে এবং নিজেকে শোনাবে, আর চাইলে নিঃশব্দে পড়বে। আর ইমাম জোহর ও আসরের নামাজে কিরাত নিঃশব্দে পড়বে।

এবং বিতর:

এটি তিন রাকাআত, যার মাঝে সালামের মাধ্যমে বিচ্ছেদ করা হবে না।

আর সারা বছর তৃতীয় রাকাআতে রুকুর আগে কুনুত পড়বে। বিতরের প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অন্য একটি সূরা পড়বে। যখন সে কুনুত পড়ার ইচ্ছা করবে, তখন তাকবির বলবে এবং হাত উঠাবে, অতঃপর কুনুত পড়বে।

আর বিতর ছাড়া অন্য কোনো নামাজে কুনুত পড়বে না।

কোনো নামাজেই কিরাতের জন্য এমন কোনো সূরা নির্দিষ্ট নেই যা ছাড়া নামাজ হবে না। আর কোনো নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা নির্ধারণ করে নেওয়া মাকরূহ যেখানে অন্য কোনো সূরা পড়া হয় না।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে নামাজে কিরাতের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো যা 'কুরআন' নামের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন: তিনটি ছোট আয়াত অথবা একটি দীর্ঘ আয়াতের কম পড়লে নামাজ জায়েজ হবে না।

আর মুক্তাদি ইমামের পেছনে কিরাত পড়বে না।

আর যে ব্যক্তি অন্যের নামাজে শরিক হতে চায়, তার জন্য দুটি নিয়ত প্রয়োজন: নামাজের নিয়ত এবং অনুসরণের নিয়ত।

আর জামাআত হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

আর ইমামতির জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যোগ্য হলেন তাঁদের মধ্যে যিনি সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী।

যদি তারা সমান হন, তবে যিনি অধিক উত্তম কুরআন পাঠকারী; যদি তারা সমান হন, তবে যিনি অধিক পরহেজগার; যদি তারা সমান হন, তবে যিনি বয়সে বড়।

দাস, গ্রাম্য বেদুঈন, ফাসেক, অন্ধ এবং অবৈধ সন্তানকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা মাকরূহ; তবে তারা ইমামতি করলে তা জায়েজ হবে।

আর ইমামের জন্য উচিত হলো মুসল্লিদের নিয়ে নামাজ দীর্ঘ না করা।

মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে জামাআত করে নামাজ পড়া মাকরূহ; তবে যদি তারা তা করে, তবে তাদের ইমাম তাদের মাঝখানে দাঁড়াবে।

আর যে ব্যক্তি একজনের সাথে নামাজ পড়বে, সে তাকে নিজের ডান পাশে দাঁড় করাবে।

আর যদি দুইজন হয়, তবে সে তাদের সামনে দাঁড়াবে।

পুরুষদের জন্য কোনো মহিলা বা অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের ইক্তিদা করা বৈধ নয়।

প্রথমে পুরুষরা কাতারবদ্ধ হবে, তারপর বালকেরা এবং তারপর মহিলারা।

যদি কোনো মহিলা কোনো পুরুষের পাশে দাঁড়ায় এবং তারা উভয়ে একই নামাজে শরিক থাকে, তবে ঐ পুরুষের নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে।

মহিলাদের জন্য জামাআতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে বৃদ্ধা নারীর জন্য ফজর, মাগরিব ও এশার নামাজে বের হওয়াতে কোনো সমস্যা নেই। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন: বৃদ্ধা মহিলার জন্য সব নামাজে বের হওয়া জায়েজ।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩০)
صلاة ولا يصلي الطاهر خلف من به سلس البول ولا الطاهرات خلف المستحاضة ولا القارئ خلف الأمي ولا المكتسي خلف العريان ويجوز أن يؤم المتيمم المتوضئين والماسح على الخفين الغاسلين ويصلي القائم خلف القاعد ولا يصلي الذي يركع ويسجد خلف الموميء ولا يصلي المفترض خلف المتنقل ولا من يصلي فرضا خلف من يصلي فرضا آخر ويصلي المتنقل خلف المفترض

ومن اقتدى بإمام ثم علم أنه على غير وضوء

إعاد الصلاة

ويكره للمصلي أن يعبث بثوبه أو بجسدهن ولا يقلب الحصى إلا أن لا يمكنه السجود فيسويه مرة واحدة ولا يفرقع أصابعه ولا يتخصر ولا يسدل ثوبه ولا يعقص شعره ولا يكف ثوبه

ولا يلتفت ولا يقعي ولا يرد السلام بلسانه ولا بيده ولا يتربع إلا من عذر ولا يأكل ولا يشرب

فإن سبقه الحدث انصرف فإن كان إماما استخلف وتوضأ وبنى على صلاته والاستئناف أفضل

وإن نام فاحتلم أو جن أو أغمي عليه أو قهقه استأنف الوضوء والصلاة

وإن تكلم في صلاته عامدا أو ساهيا بطلت صلاته

وإن سبقه الحدث بعد التشهد توضأ وسلم وإن تعمد الحدث في هذه الحالة أو تكلم أو عمل عملا ينافي الصلاة تمت صلاته

وإن رأى المتيمم الماء في صلاته بطلب صلاته

وإن رآه بعدما قعد قدر التشهد أو كان ماسحا على الخفين فانقضت مدة مسحه أو خلع حفيه بعمل رفيق أو كان أميا فتعلم سورة أو عريانا فوجد ثوبا أو موميا فقدر على الركوع والسجود أو تذكر أن عليه صلاة قبل هذه الصلاة أو وقت العصر في الجمعة أو كان ماسحا على الجبيرة فسقطت عن برء أو كان صاحب عذر فانقطع عذره

بطلت صلاته في قول أبي حنيفة وقال أبو يوسف ومحمد: تمت صلاته
সালাত; কোনো পবিত্র ব্যক্তি প্রস্রাব ঝরা (সিলসিলুল বাওল) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না, কোনো পবিত্র নারী ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীর পিছনে সালাত আদায় করবে না, কিরাত পাঠে সক্ষম ব্যক্তি কিরাত পাঠে অক্ষম ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না এবং বস্ত্র পরিহিত ব্যক্তি বস্ত্রহীন ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। তায়াম্মুমকারী ব্যক্তির জন্য ওযুকারীদের ইমামতি করা বৈধ এবং মোজার ওপর মাসাহকারী ব্যক্তির জন্য পা ধৌতকারীদের ইমামতি করা বৈধ। দণ্ডায়মান ব্যক্তি উপবিষ্ট ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করতে পারবে। রুকু ও সিজদাকারী ব্যক্তি ইশারায় সালাত আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করবে না। ফরজ সালাত আদায়কারী নফল আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করবে না এবং এক ফরজ আদায়কারী অন্য ফরজ আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করবে না। তবে নফল আদায়কারী ব্যক্তি ফরজ আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করতে পারবে।

যদি কেউ কোনো ইমামের অনুসরণ করে এবং পরবর্তীতে জানতে পারে যে ইমাম ওযু অবস্থায় ছিলেন না,

তবে সে সালাত পুনরায় আদায় করবে।

সালাত আদায়কারীর জন্য নিজ বস্ত্র বা শরীর নিয়ে অনর্থক নাড়াচাড়া করা মাকরুহ। সে কঙ্কর নাড়াচাড়া করবে না, তবে যদি সিজদা করা সম্ভব না হয় তবে একবার সমান করে নিতে পারে। সে আঙুল ফুটাবে না, কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াবে না, কাপড় ঝালিয়ে রাখবে না, চুল বেঁধে রাখবে না এবং কাপড় গুটিয়ে রাখবে না।

সালাতে এদিক-সেদিক তাকাবে না, কুকুরের মতো পা খাড়া করে বসবে না, জিহ্বা বা হাত দিয়ে সালামের উত্তর দেবে না এবং ওজর ব্যতীত বাবু হয়ে বসবে না। সে কিছু আহার করবে না এবং পানও করবে না।

যদি সালাত অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ওযু ভেঙে যায় তবে সে ফিরে যাবে; যদি সে ইমাম হয় তবে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করবে এবং ওযু করে এসে সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে, তবে নতুন করে পড়া উত্তম।

যদি সালাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নদোষ হয়, কিংবা কেউ পাগল হয়ে যায়, কিংবা মূর্ছা যায়, অথবা অট্টহাসি দেয়, তবে সে ওযু ও সালাত নতুন করে শুরু করবে।

যদি সালাতে ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা ভুলবশত কথা বলে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

যদি তাশাহহুদ পরিমাণ বসার পর অনিচ্ছাকৃতভাবে ওযু ভেঙে যায়, তবে সে ওযু করে সালাম ফিরিয়ে নেবে। আর যদি এই অবস্থায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে ওযু ভঙ্গ করে, অথবা কথা বলে, কিংবা সালাত পরিপন্থী কোনো কাজ করে, তবে তার সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে।

যদি তায়াম্মুমকারী সালাত অবস্থায় পানি দেখতে পায়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

যদি তায়াম্মুমকারী তাশাহহুদ পরিমাণ বসার পর পানি দেখতে পায়, অথবা মোজার ওপর মাসাহকারীর মাসাহর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, অথবা সামান্য প্রচেষ্টায় মোজা খুলে যায়, অথবা কোনো অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তি কোনো সূরা শিখে ফেলে, অথবা বিবস্ত্র ব্যক্তি বস্ত্র পেয়ে যায়, অথবা ইশারায় সালাত আদায়কারী রুকু ও সিজদা করতে সক্ষম হয়, অথবা তার মনে পড়ে যে বর্তমান সালাতের পূর্বে তার অন্য কোনো সালাত অনাদায়ী রয়ে গেছে, অথবা জুমার সালাতের মধ্যে আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করে, অথবা জখমের ওপরের পট্টি আরোগ্য হওয়ার কারণে পড়ে যায়, কিংবা কোনো ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির ওজর বন্ধ হয়ে যায়,

তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন: তার সালাত পূর্ণ হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌باب قضاء الفوائت

ومن فاتته الصلاة قضاها إذا ذكرها وقدمها لزوما على صلاة الوقت إلا أن يخاف فوات صلاة الوقت فيقدم صلاة الوقت ثم يقضيها فإن فاتته صلوات رتبها في القضاء كما وجبت في الأصل إلا أن تزيد الفوائت على ست صلوات فيسقط الترتيب فيها
ছুটে যাওয়া নামাজসমূহ কাজা করার পরিচ্ছেদ

যার কোনো নামাজ ছুটে যায়, যখনই তার স্মরণ হবে সে তা কাজা করবে এবং আবশ্যিকভাবে সেটিকে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজের পূর্বে আদায় করবে; তবে যদি বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে সে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ আগে পড়বে, অতঃপর ছুটে যাওয়া নামাজ কাজা করবে। আর যদি একাধিক নামাজ ছুটে যায়, তবে কাজা করার ক্ষেত্রে সেগুলোর তারতিব (ক্রম) রক্ষা করবে—যেভাবে সেগুলো মূলত ফরজ হয়েছিল; কিন্তু যদি কাজা নামাজের সংখ্যা ছয় ওয়াক্তের বেশি হয়ে যায়, তবে সেক্ষেত্রে তারতিব বা ক্রম রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌باب الأوقات التي تكره فيها الصلاة

لا تجوز الصلاة عند طلوع الشمس ولا عند قيامها في الظهيرة ولا عند غروبها ولا يصلي على جنازة ولا يسجد للتلاوة إلا عصر يومه عند غروب الشمس

ويكره أن يتنفل بعد صلاة الفجر حتى تطلع الشمس وبعد صلاة العصر حتى تغرب الشمس ولا بأس بأن يصلي في هذين الوقتين الفوائت ويسجد للتلاوة ويصلي على الجنازة

ولا يصلي ركعتي الطواف

ويكره أن يتنقل بعد طلوع الفجر بأكثر من ركعتي الفجر ولا يتنقل قبل المغرب
যে সকল সময়ে নামায পড়া মাকরূহ সেই সম্পর্কিত অধ্যায়

সূর্যোদয়ের সময়, দ্বিপ্রহরে সূর্যের মধ্যগগনে অবস্থানের সময় এবং সূর্যাস্তের সময় নামায পড়া বৈধ নয়। এই সময়ে জানাযার নামায পড়া যাবে না এবং তিলাওয়াতের সিজদাও করা যাবে না; তবে কেবল সেই দিনের আসরের নামায সূর্যাস্তের সময় (আদায় করার) বিষয়টি এর ব্যতিক্রম।

ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নফল নামায পড়া মাকরূহ। তবে এই দুই সময়ে কাজা নামায আদায় করা, তিলাওয়াতের সিজদা প্রদান করা এবং জানাযার নামায পড়াতে কোনো অসুবিধা নেই।

তাওয়াফের দুই রাকাত নামাযও (এই সময়ে) আদায় করা যাবে না।

সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) ব্যতীত অতিরিক্ত নফল নামায পড়া মাকরূহ এবং মাগরিবের (ফরযের) পূর্বে নফল নামায পড়া যাবে না।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌باب النوافل

السنة في الصلاة أن يصلي ركعتين بعد طلوع الفجر وأربعا قبل الظهر وركعتين بعدها وأربعا قبل العصر وإن شاء ركعتين وركعتين بعد المغرب وأربعا قبل العشاء وأربعا بعدها وإن شاء ركعتين

ونوافل النهار إن شاء صلى ركعتين بتسليمة واحدة وإن شاء أربعا وتكره الزيادة على ذلك

فأما نافلة الليل فقال أبو حنيفة إن صلى ثمان ركعات بتسليمة واحدة جاز وتكره الزيادة على ذلك وقال أبو يوسف ومحمد: لا يزيد بالليل على ركعتين بتسليمة واحدة

والقراءة في الفرض واجبة في الركعتين الأوليين وهو مخير في الأخريين إن شاء قرأ وإن شاء سبح وإن شاء سكت

والقراءة واجبة في جميع ركعات النفل وفي جميل الوتر ومن دخل في صلاة النفل ثم أفسدها قضاها

فإن صلى أربع ركعات وقعد في الأوليين ثم أفسد الأخريين قضى ركعتين

ويصلي النافلة قاعدا مع القدرة على القيام وإن افتتحها قائما ثم قعد جاز عند أبي حنيفة

وقال أبو يوسف ومحمد: لا يجوز إلا من عذر

ومن كان خارج المصر يجوز أن ينتقل على دابته إلى أي جهة توجهت يومئ إيماء
নফল সালাত সংক্রান্ত অধ্যায়

সালাতের সুন্নাতসমূহ হলো—ফজর উদিত হওয়ার পর দুই রাকাত, যোহরের পূর্বে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, আসরের পূর্বে চার রাকাত (ইচ্ছা করলে দুই রাকাত), মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পূর্বে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত (ইচ্ছা করলে দুই রাকাত) সালাত আদায় করা।

দিনের বেলার নফল সালাতের ক্ষেত্রে মুসল্লি চাইলে এক সালামে দুই রাকাত পড়তে পারে, আবার চাইলে চার রাকাতও পড়তে পারে; তবে এর অতিরিক্ত করা মাকরূহ।

রাত্রিকালীন নফল সালাতের ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: যদি এক সালামে আট রাকাত পর্যন্ত পড়ে তবে তা জায়েজ, তবে এর চেয়ে অধিক করা মাকরূহ। আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন: রাতে এক সালামে দুই রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করবে না।

ফরজ সালাতের প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব। আর শেষ দুই রাকাতে মুসল্লি ইখতিয়ারপ্রাপ্ত; সে চাইলে কিরাত পড়তে পারে, চাইলে তাসবিহ পাঠ করতে পারে অথবা চাইলে নীরব থাকতে পারে।

নফল সালাতের সকল রাকাতে এবং বিতরের সকল রাকাতে কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি নফল সালাতে প্রবেশের পর তা ভঙ্গ করে ফেলে, তাকে তা কাজা করতে হবে।

যদি কেউ চার রাকাত সালাত আদায় করে এবং প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠকে বসে, অতঃপর শেষ দুই রাকাত নষ্ট করে ফেলে, তবে সে দুই রাকাত কাজা করবে।

দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নফল সালাত বসে আদায় করা জায়েজ। আর যদি কেউ দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করার পর বসে পড়ে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে তা জায়েজ।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন: ওজর ব্যতীত তা জায়েজ নয়।

যে ব্যক্তি লোকালয়ের বাইরে অবস্থান করে, তার জন্য নিজ সওয়ারির ওপর আরোহণ অবস্থায় সেটি যেদিকেই মুখ করুক না কেন, ইশারার মাধ্যমে নফল সালাত আদায় করা জায়েজ।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌باب السجود السهو

سجود السهو واجب في الزيادة والنقصان بعد السلام ثم يسجد سجدتين ثم يشهد ويسلم

والسهو يلزم إذا راد في صلاته فعلا من جنسها ليس منها أو ترك فعلا مسنونا أو ترك قراءة فاتحة الكتاب أو القنوت أو التشهد أو تكبيرات العيدين أو جهز الإمام فيما يخافت أو خافت فيما يجهر

وسهو الإمام يوجب على المؤتم السجودن فإن لم يسجد الإمام لم يسجد المؤتم وإن سها المؤتم لم يلزم الإمام ولا المؤتم السجود

ومن سها عن القعدة الأولى ثم تذكر وهو إلى حال القعود أقرب عاد فجلس وتشهد وإن كان إلى حال القيام أقرب لم يعد

ويسجد للسهو ومن سها عن القعدة الأخيرة فقام إلى الخامسة رجع إلى القعدة ما لم يسجد وألغى الخامسة ويسجد للسهو وإن قيد الخامسة بسجدة بطل فرضه وتحولت صلاته نفلا وكان عليه أن يضم إليها ركعة سادسة

وإن قعد في الرابعة قدر التشهد ثم قام ولم يسلم يظنها القعدة الأولى عاد إلى القعود ما لم يسجد في الخامسة ويسلم وإن قيد الخامسة بسجدة ضم
সহু সিজদা অধ্যায়

নামাজের মধ্যে কোনো কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণে সালামের পর সহু সিজদা ওয়াজিব হয়। অতঃপর দুইবার সিজদা করবে এবং পুনরায় তাশাহহুদ পাঠ করে সালাম ফেরাবে।

সহু সিজদা আবশ্যক হয় যখন কেউ নামাজের সমজাতীয় কোনো কাজ নামাজের মধ্যে বৃদ্ধি করে যা নামাজের অংশ নয়, অথবা কোনো সুন্নাত কাজ বর্জন করে, অথবা সুরা ফাতিহা পাঠ, কুনুত পাঠ, তাশাহহুদ পাঠ বা দুই ঈদের তাকবিরসমূহ বর্জন করে, কিংবা ইমাম যদি নিঃশব্দে পাঠের স্থলে সশব্দে পাঠ করেন অথবা সশব্দে পাঠের স্থলে নিঃশব্দে পাঠ করেন।

ইমামের ভুল হলে মুক্তাদির ওপরও সিজদা আবশ্যক হয়; কিন্তু ইমাম যদি সিজদা না করেন তবে মুক্তাদিও সিজদা করবে না। আর যদি কেবল মুক্তাদি ভুল করে, তবে ইমাম বা মুক্তাদি কারো ওপরই সিজদা আবশ্যক হবে না।

যদি কেউ প্রথম বৈঠক ভুলে যায় এবং বসার অবস্থানের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় তা স্মরণ হয়, তবে সে ফিরে গিয়ে বসবে এবং তাশাহহুদ পাঠ করবে। আর যদি দাঁড়ানোর কাছাকাছি পৌঁছে যায় তবে আর ফিরে আসবে না।

এমতাবস্থায় সে সহু সিজদা করবে। যদি কেউ শেষ বৈঠক ভুলে পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তবে পঞ্চম রাকাতের সিজদা না করা পর্যন্ত সে বৈঠকের দিকে ফিরে আসবে এবং পঞ্চম রাকাত বাতিল গণ্য করবে এবং সহু সিজদা করবে। আর যদি সে সিজদার মাধ্যমে পঞ্চম রাকাত পূর্ণ করে ফেলে, তবে তার ফরজ নামাজ বাতিল হয়ে যাবে এবং তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তার জন্য এর সাথে ষষ্ঠ রাকাত যুক্ত করে নেওয়া কর্তব্য।

যদি চতুর্থ রাকাতে তাশাহহুদ পরিমাণ বসার পর সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যায় এই ধারণা করে যে এটি প্রথম বৈঠক, তবে পঞ্চম রাকাতের সিজদা না করা পর্যন্ত সে বৈঠকের দিকে ফিরে আসবে এবং সালাম ফেরাবে। আর যদি সে সিজদার মাধ্যমে পঞ্চম রাকাত পূর্ণ করে ফেলে, তবে সে ষষ্ঠ রাকাত যুক্ত করবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
إليها ركعة أخرى ويسجد للسهو وقد تمت صلاته والركعتان له نافله

ومن شك في صلاته فلم يدر أثلاثا صلى أم أربعا وكان ذلك أول ما عرض له استأنف الصلاة فإن كان الشك يعرض له كثيرا بنى على غالب ظنه إن كان له ظن فإن لم يكن له ظن بنى على اليقين
এর সাথে আরও এক রাকাত যুক্ত করবেন এবং সাহু সিজদা করবেন, ফলে তাঁর সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং অতিরিক্ত দুই রাকাত তাঁর জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।

আর যে ব্যক্তি তার সালাতে সন্দেহ পোষণ করে এবং সে বুঝতে না পারে যে সে তিন রাকাত পড়েছে নাকি চার রাকাত, আর এটিই যদি তার প্রথমবার ঘটা ঘটনা হয় তবে সে সালাত নতুন করে শুরু করবে। কিন্তু যদি এই সন্দেহ তার ক্ষেত্রে প্রায়ই ঘটে থাকে, তবে সে তার প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করবে যদি তার প্রবল ধারণা থাকে। আর যদি তার কোনো প্রবল ধারণা না থাকে, তবে সে নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌باب صلاة المريض

إذا تعذر على المريض القيام صلى قاعدا يركع ويسجد فإن لم يستطع الركوع والسجود أومأ إيماء برأسه وجعل السجود أخفض من الركوع

ولا يرفع إلى وجهه شيئا يسجد عليه

فإن لم يستطع القعود استلقى على ظهره وجعل رجله إلى القبلة وأومأ بالركوع والسجود وإن استلقى على جنبه ووجهه إلى القبلة وأومأ جاز فإن لم يستطع الإيماء برأسه أخر الصلاة ولا يومئ بعينه ولا بقلبه ولا بحاجبيه فإن قدر على القيام ولم يقدر على الركوع والسجود لم يلزمه القيام

وجاز أن يصلي قاعدا يومئ إيماء فإن صلى الصحيح بعض صلاته قائما ثم حدث به مرض

أتمها قاعدا يركع ويسجد أو يومئ إن لم يستطع الركوع والسجود أو مستلقيا إن لم يستطع القعود فإن صلى بإيماء ثم قدر على الركوع والسجود استأنف الصلاة

ومن أغمي عليه خمس صلوات فما دونها قضاها إذا صح فإن فاتته بالإغماء أكثر من ذلك لم يقض
অসুস্থ ব্যক্তির সালাত পরিচ্ছেদ

যদি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দাঁড়ানো অসম্ভব হয়, তবে সে বসে রুকু ও সাজদাহর সাথে সালাত আদায় করবে। আর যদি সে রুকু ও সাজদাহ করতে সক্ষম না হয়, তবে মাথা দিয়ে ইশারা করবে এবং সাজদাহর ইশারা রুকুর ইশারার চেয়ে নিচু করবে।

সে সাজদাহ করার জন্য কোনো বস্তু নিজের চেহারার সামনে তুলে ধরবে না।

যদি সে বসার সামর্থ্য না রাখে, তবে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়বে এবং নিজের দুই পা কিবলার দিকে রাখবে এবং রুকু ও সাজদাহর জন্য ইশারা করবে। আর যদি পার্শ্বদেশের ওপর ভর করে কিবলার দিকে মুখ করে শোয় এবং ইশারা করে, তবে তাও বৈধ। যদি সে মাথা দিয়ে ইশারা করতে সক্ষম না হয়, তবে সালাত স্থগিত রাখবে; চোখ, অন্তর কিংবা ভ্রু দিয়ে ইশারা করবে না। আর যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় কিন্তু রুকু ও সাজদাহ করতে সক্ষম না হয়, তবে তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা আবশ্যক নয়।

এমতাবস্থায় বসে ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করা জায়েজ। যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তি সালাতের কিছু অংশ দাঁড়িয়ে আদায় করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে,

তবে সে বসা অবস্থায় রুকু ও সাজদাহর মাধ্যমে, অথবা রুকু-সাজদাহ করতে অক্ষম হলে ইশারার মাধ্যমে, অথবা বসতে সক্ষম না হলে শুয়ে সালাত পূর্ণ করবে। আর যদি সে ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করা অবস্থায় রুকু ও সাজদাহ করতে সক্ষম হয়ে যায়, তবে সে নতুন করে সালাত শুরু করবে।

যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত বা তার কম সময় পর্যন্ত বেহুঁশ থাকে, সে সুস্থ হওয়ার পর তার কাজা আদায় করবে। আর যদি বেহুঁশ থাকার কারণে এর চেয়ে অধিক সালাত ছুটে যায়, তবে সেগুলোর কাজা আদায় করতে হবে না।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌باب سجود التلاوة

سجود التلاوة في القرآن أربعة عشر: في

آخر الأعراف وفي الرعد والنحل وبني إسرائيل ومريم والأولى من الحج والفرقان والنمل و {الم * تنزيل} وص {حم} السجدة و {إذا السماء انشقت} و {اقرأ باسم ربك}

والسجود واجب في هذه المواضع كلها على التالي والسامع سواء قصد سماع القرآن أولم يقصد وإذا تلا الإمام آية السجدة سجدها وسجد المأموم معه وإن تلا المأموم لم يسجد الإمام ولا المأموم

وإن سمعوا وهم في الصلاة آية سجدة من رجل ليس معهم في الصلاة لم يسجدوها في الصلاة وسجدوها بعد الصلاة فإن سجدوها في الصلاة لم تجزهم

ولم فسد صلاتهم

ومن تلا آية سجدة فلم يسجدها حتى دخل في الصلاة فتلاها وسجد لها أجزأته السجدة عن التلاوتين وإن تلاها في غير الصلاة فسجد لها ثم دخل في الصلاة فتلاها سجد لها ولت تجزه السجدة الأولى ومن كرر تلاوة سجدة واحدة في مجلس واحد أجزأته سجدة واحدة

ومن أراد السجود كبر ولم يرفع يديه وسجد ثم كبر ورفع رأسه ولا تشهد عليه ولا سلام
সিজদায়ে তিলাওয়াত পরিচ্ছেদ

কুরআনে সিজদায়ে তিলাওয়াত মোট চৌদ্দটি:

সূরা আ'রাফের শেষে, রা'দ, নাহল, বনী ইসরাঈল, মারইয়াম, হাজ্জ-এর প্রথম স্থানে, ফুরকান, নামল, আলিফ-লাম-মীম তানযীল (আস-সাজদাহ), সোয়াদ, হা-মীম আস-সাজদাহ, 'ইযাস সামাউন্শাক্কাত' (ইনশিকাক) এবং 'ইকরা বিসমি রাব্বিকা' (আলাক) সূরায়।

এই সকল স্থানে তিলাওয়াতকারী এবং শ্রবণকারী উভয়ের ওপর সিজদা করা ওয়াজিব; চাই সে কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করুক বা না করুক। যদি ইমাম সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন, তবে তিনি সিজদা করবেন এবং তার সাথে মুক্তাদীও সিজদা করবে। আর যদি মুক্তাদী তিলাওয়াত করে, তবে ইমামও সিজদা করবেন না এবং মুক্তাদীও করবে না।

তারা যদি সালাতরত অবস্থায় এমন কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে সিজদার আয়াত শোনে যে তাদের সাথে সালাতে শরিক নেই, তবে তারা সালাতের মধ্যে সেই সিজদা করবে না; বরং সালাতের পর তা আদায় করবে। যদি তারা সালাতের মধ্যেই সেই সিজদা করে নেয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না।

তবে এতে তাদের সালাত নষ্ট হবে না।

কেউ যদি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে এবং সালাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত সিজদা না করে, অতঃপর সালাতে প্রবেশ করে সেই আয়াতটি পুনরায় তিলাওয়াত করে এবং তার জন্য সিজদা করে, তবে এই সিজদাটি উভয় তিলাওয়াতের জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি সে সালাতের বাইরে আয়াতটি তিলাওয়াত করে তার জন্য সিজদা করে ফেলে, তারপর সালাতে প্রবেশ করে পুনরায় তা তিলাওয়াত করে, তবে তাকে পুনরায় সিজদা করতে হবে; এক্ষেত্রে পূর্বের সিজদাটি যথেষ্ট হবে না। আর যে ব্যক্তি একই মজলিসে একই সিজদার আয়াত বারবার তিলাওয়াত করবে, তার জন্য একটি সিজদাই যথেষ্ট হবে।

যে ব্যক্তি সিজদা করার ইচ্ছা করবে, সে তাকবীর বলবে কিন্তু হাত উত্তোলন করবে না এবং সিজদা করবে। অতঃপর তাকবীর বলে মাথা তুলবে। এই সিজদায় কোনো তাশাহহুদ বা সালাম নেই।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌باب صلاة المسافر

السفر الذي تتغير به الأحكام:

أن يقصد الإنسان موضا بينه وبين ذلك الموضع مسيرة ثلاثة أيام ولياليها بسير الإبل ومشي الأقدام ولا يعتبر ذلك بالسير في الماء

وفرض المسافر عندنا: في كل صلاة رباعية ركعتان لا تجوز له الزيادة عليهما فإن صلى أربعا وقد قعد في الثانية مقدار التشهد أجزأته ركعتان عن فرضه وكانت الأخريان له نافلة وإن لم يقعد مقدار التشهد في الركعتين الأوليين بطلت صلاته

ومن خرج مسافرا صلى وكعتين إذا فارق بيوت المصر ولا يزال على حكم السفر حتى ينوي الإقامة في بلد خمسة عشر يوما فصاعدا فيلزمه الإتمام وإن نوى الإقامة أقل من ذلك لم يتم

ومن دخل بلدا ولم ينو أن يقيم فيه خمسة عشر يوما وإنما يقول غدا أخرج أو بعد غد أخرج حتى بقي على ذلك سنين صلى ركعتين

وإذا دخل العسكر أرض الحرب فنووا الإقامة بها خمسة عشر يوما لم يتموا الصلاة

وإذا دخل المسافر في صلاة المقيم مع بقاء الوقت أتم الصلاة

وإن دخل معه في فائتة لم تجز صلاته خلفه

وإذا صلى المسافر بالمقيمين ركعتين سلم ثم أتم المقيمون صلاتهم ويستحب له إذا سلم أن يقول: أتموا صلاتكم فإنا قوم سفر وإذا دخل المسافر مصرة أتم الصلاة وإن لم ينو الإقامة فيه

ومن كان له وطن فانتقل عنه واستوطن غيره ثم سافر فدخل وطنه الأول لم يتم الصلاة وإذا نوى المسافر أن يقيم بمكة ومنى خمسة عشر يوما لم يتم الصلاة

ومن فاتته صلاة في السفر قضاها في الحضر ركعتين

ومن فاتته صلاة في الحضر قضاها في السفر أربعا

والعاصي والمطيع في السفر في الرخصة سواء
‌মুসাফিরের সালাত পরিচ্ছেদ

যে সফরের কারণে শরয়ি বিধান পরিবর্তিত হয়:

তা হলো মানুষ এমন কোনো স্থানের উদ্দেশ্য করবে যার এবং তার বর্তমান অবস্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব উটের চলন ও পদব্রজে তিন দিন ও তিন রাতের পথ; আর পানির উপর ভ্রমণের ক্ষেত্রে এটি (দিনের হিসাব) বিবেচিত হবে না।

আমাদের মতে মুসাফিরের ফরজ হলো: প্রত্যেক চার রাকাআত বিশিষ্ট সালাতে দুই রাকাআত আদায় করা; তার জন্য এর অতিরিক্ত করা বৈধ নয়। যদি সে চার রাকাআত পড়ে এবং দ্বিতীয় রাকাআতে তাশাহহুদ পরিমাণ সময় বসে থাকে, তবে দুই রাকাআত তার ফরজের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে এবং শেষ দুই রাকাআত তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে প্রথম দুই রাকাআতে তাশাহহুদ পরিমাণ সময় না বসে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

যে ব্যক্তি সফরে বের হবে, সে যখন শহরের লোকালয় অতিক্রম করবে তখন থেকে দুই রাকাআত সালাত পড়বে। সে সফরের হুকুমের ওপর বহাল থাকবে যতক্ষণ না কোনো জনপদে পনেরো দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করে; তখন তার ওপর পূর্ণ সালাত আদায় করা আবশ্যক হবে। আর যদি এর চেয়ে কম সময় অবস্থানের নিয়ত করে, তবে পূর্ণ সালাত পড়বে না।

যে ব্যক্তি কোনো শহরে প্রবেশ করল কিন্তু সেখানে পনেরো দিন অবস্থানের নিয়ত করল না, বরং সে বলতে থাকল 'আগামীকাল চলে যাব' অথবা 'পরশু চলে যাব', এভাবে যদি বছরের পর বছরও অতিবাহিত হয়, তবুও সে দুই রাকাআত সালাত পড়বে।

সৈন্যবাহিনী যখন দারুল হরবে প্রবেশ করে সেখানে পনেরো দিন অবস্থানের নিয়ত করে, তখনও তারা সালাত পূর্ণ করবে না।

যদি মুসাফির ব্যক্তি ওয়াক্ত থাকাকালীন মুকিম (নিবাসী) ব্যক্তির সালাতে শরিক হয়, তবে সে সালাত পূর্ণ করবে।

আর যদি সে কাজা সালাতে মুকিমের পেছনে ইক্তিদা করে, তবে তার সালাত বৈধ হবে না।

মুসাফির যখন মুকিমদের নিয়ে সালাত আদায় করবে, তখন সে দুই রাকাআত পড়ে সালাম ফেরাবে, অতঃপর মুকিমরা তাদের সালাত পূর্ণ করবে। মুসাফিরের জন্য সালাম ফেরানোর পর এটি বলা মুস্তাহাব: "আপনারা আপনাদের সালাত পূর্ণ করুন, কেননা আমরা মুসাফির।" আর মুসাফির যখন তার নিজ শহরে প্রবেশ করবে, তখন সে সালাত পূর্ণ করবে, যদিও সে সেখানে অবস্থানের নিয়ত না করে।

যার কোনো স্বদেশ ছিল, অতঃপর সে সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য স্থানকে স্বদেশ হিসেবে গ্রহণ করল, এরপর সে সফরে বের হয়ে তার প্রথম স্বদেশে প্রবেশ করল, তবে সে সালাত পূর্ণ করবে না। আর যদি মুসাফির মক্কা ও মিনায় (মিলিতভাবে) পনেরো দিন অবস্থানের নিয়ত করে, তবে সে সালাত পূর্ণ করবে না।

সফরে থাকাকালীন যার কোনো সালাত কাজা হয়েছে, সে মুকিম অবস্থায় তা দুই রাকাআত হিসেবে কাজা করবে।

আর মুকিম অবস্থায় যার সালাত কাজা হয়েছে, সে সফরে তা চার রাকাআত হিসেবে কাজা করবে।

সফরের রুখসত বা বিশেষ সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে অবাধ্য পাপী এবং অনুগত ব্যক্তি সমান।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল কুদুরী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌باب صلاة الجمعة

لا تصح الجمعة إلا بمصر جامع أو في مصلى المصر

ولا تجوز في القرى ولا تجوز إقامتها إلا بالسطان أو من أمره السلطان

ومن شرائطها: الوقت فتصح في الوقت ولا تصح بعده

ومن شرائطها الخطبة قبل الصلاة يخطب الإمام خطبتين يفصل بينهما بقعدة ويخطب قائما على طهارة فإن اقتصر على ذكر الله تعالى جاز عند أبي حنيفة

وقال أبو يوسف ومحمد: لا بد من ذكر طويل يسمى خطبة وإن خطب قاعدا أو على غير طهارة جاز ويكره ومن شرائطها: الجماعة وأقلهم عند أبي حنيفة

ثلاثة سوى
জুমুআর সালাত অধ্যায়

বৃহৎ নগরী অথবা নগরীর ঈদগাহ (মুসাল্লা) ব্যতীত জুমুআ সহীহ হয় না।

এটি গ্রামগুলোতে জায়েয নয় এবং সুলতান (রাষ্ট্রপ্রধান) অথবা সুলতান কর্তৃক আদিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জুমুআ কায়েম করা বৈধ নয়।

এর শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াক্ত; সুতরাং ওয়াক্তের মধ্যেই তা সহীহ হবে, ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা সহীহ হবে না।

এর অন্যতম শর্ত হলো সালাতের পূর্বে খুতবা; ইমাম দুটি খুতবা দেবেন এবং উভয়ের মাঝে বসার মাধ্যমে বিরতি দেবেন। তিনি পবিত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে খুতবা দেবেন। যদি তিনি কেবল আল্লাহর জিকিরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে ইমাম আবু হানিফার নিকট তা জায়েয।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন: দীর্ঘ জিকির হওয়া আবশ্যক যাকে খুতবা বলা যায়। যদি কেউ বসে কিংবা অপবিত্র অবস্থায় খুতবা প্রদান করে তবে তা জায়েয হবে কিন্তু মাকরূহ হবে। এর অন্যতম শর্ত হলো জামায়াত এবং ইমাম আবু হানিফার মতে এর সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো ইমাম ব্যতীত তিনজন।