(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: -)
شرح التصريف للثمانيني   (الثمانيني)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح التصريف

المؤلف: أبو القاسم عمر بن ثابت الثمانيني (ت 442هـ)

المحقق: د. إبراهيم بن سليمان البعيمي

الناشر: مكتبة الرشد

الطبعة: الأولى، 1419هـ-1999م

عدد الصفحات: 556

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 محرم 1436

শারহুত তাসরিফ লিস-সামানি   (আস-সামানি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: শারহুত তাসরিফ

লেখক: আবুল কাসেম ওমর বিন সাবিত আস-সামানি (মৃত্যু ৪৪২ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: ড. ইবরাহিম বিন সুলাইমান আল-বাইমি

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি-১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৬

আল-শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১শে মুহাররাম ১৪৩৬ হিজরি

(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯১)
بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم يسر برحمتك

قال الشيخ أبو القاسم عمر بن ثابت الثمانينيّ رحمه الله:

 

الكلامُ كلُّه ثلاثة أقسام: اسمٌ، وفعلٌ، وحرفٌ. فالحرف لا يوزن، لأنّ‌‌ الغرض بالوزن أن يعرف الأصليُّ من الزّائد، والحروفُ لا يُعْرَفُ لها اشتقاقٌ ولا أصلٌ أُخِذَتْ منه فتُرَدُّ إليه؛ فلأجل هذا لم توزن. ألفاتُها كلُّها أصولٌ كألف "ما" و"لا" و"إلّا" و"حتّى" و"أمّا" وما أشبه ذلك، ولا يُحْكَمُ على ألفاتِها بالانقلاب عن ياءٍ ولا واوٍ ولا همزةٍ، ولا بأنّها زائدةٌ للإلحاق أو للتأنيث، لأنّها لا يُعْرَفُ لها اشتقاق.

‌‌والذي يدخل في الوزن: هي الأسماءُ والأفعالُ، وإنّما دخلتا في الوزن، لأنّه يعرف اشتقاقهما وأصولهما والزيادة عليهما.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

হে আল্লাহ! আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন।

শাইখ আবু আল-কাসিম উমর বিন সাবিত আল-সামানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

 

সমগ্র কালাম বা বাক্য তিন প্রকার: বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। অব্যয় (حرف) ওজনে (وزن) আসে না; কারণ ওজনের (وزن) উদ্দেশ্য হলো অতিরিক্ত (زائد) বর্ণ থেকে মৌলিক (أصلي) বর্ণকে পৃথক করে চেনা। আর অব্যয়গুলোর (حروف) কোনো ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) বা এমন কোনো মূল (أصل) জানা নেই যেখান থেকে সেগুলো গৃহীত হয়েছে এবং যার দিকে সেগুলোকে প্রত্যাবর্তন করানো যায়। এই কারণেই এগুলোর ওজন করা হয় না। এগুলোর আলিফগুলো সবই মৌলিক (أصول), যেমন— "মা", "লা", "ইল্লা", "হাত্তা", "আম্মা" এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর আলিফ। এগুলোর আলিফ সম্পর্কে এমন কোনো সিদ্ধান্ত (حكم) দেওয়া হয় না যে, তা ইয়া (ياء), ওয়াও (واو) বা হামজাহ (همزة) থেকে পরিবর্তিত (انقلاب) হয়ে এসেছে; কিংবা এগুলো ইলহাক (إلحاق) বা স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث) করার জন্য অতিরিক্ত (زائد) হিসেবে যুক্ত হয়েছে। কারণ এগুলোর কোনো ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) জানা নেই।

যা ওজনের (وزن) অন্তর্ভুক্ত হয়: তা হলো বিশেষ্য (أسماء) এবং ক্রিয়া (أفعال)। এই দুই প্রকার শব্দ ওজনের (وزن) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হলো এগুলোর ব্যুৎপত্তি (اشتقاق), মূল (أصول) এবং এগুলোতে বর্ণাধিক্য (زيادة) সম্পর্কে জানা যায়।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯২)
والذي يوزن به الأسماء والأفعال هو: "الفاء والعين واللام".

 

‌‌والأفعال على ضربين: أصليٌّ وذو زيادةٍ، وهو أربعة أبنية: ثلاثةٌ للفاعل وواحدٌ للمفعول، فما كان للفاعل فهو على: "فَعِلَ" و"فَعَلَ" و"فَعُلَ"، فمثال فَعِلَ: "عَلِمَ" و"رَكِبَ"، ومثالُ فَعَلَ "ضَرَبَ" و"أَكَلَ"، ومثالُ فَعُلَ "ظَرُفَ" و"كَرُمَ".

فأمّا "فَعُلَ" فهو غير مُتَعَدٍّ إلى مفعول به، وأمّا "فَعَلَ" و"فَعِلَ" ففيهما متعدٍّ وفيهما لازمٌ وقد ذكرنا ذلك في النَّحْو وأمّا ما يختصُّ بالمفعول فهو: "فُعِلَ" نحو: "أُكِلَ" و"ضُرِبَ"، وهذا الذي يختصُّ بالمفعول أوَّلُهُ مضمومٌ في الماضي والمستقبل نحو: "أُكِلَ يُؤْكَلُ" و"ضُرِبَ يُضْرَبُ".

ولا يجوز أن يُكْسَرَ أوّلُه إلّا أن يكون ثانيه ياء أو يكون مضاعفًا
বিশেষ্য এবং ক্রিয়া যেটির মাধ্যমে ওজন (وزن) করা হয় তা হলো: "ফা (الفاء), আইন (العين) এবং লাম (اللام)"।

 

‌‌এবং ক্রিয়া দুই প্রকার (ضربين): মৌলিক (أصلي) এবং অতিরিক্ত বর্ণবিশিষ্ট (ذو زيادة), এবং এটি চারটি গঠনশৈলী (أبنية) সমৃদ্ধ: তিনটি কর্তার (فاعل) জন্য এবং একটি কর্মের (مفعول) জন্য। সুতরাং যা কর্তার (فاعل) জন্য তা: "ফা-ই-লা" (فَعِلَ), "ফা-আ-লা" (فَعَلَ) এবং "ফা-উ-লা" (فَعُلَ) ওজনের হয়। "ফা-ই-লা" (فَعِلَ) এর উদাহরণ হলো: "আলিমা" (عَلِمَ) এবং "রাকিবা" (رَكِبَ); "ফা-আ-লা" (فَعَلَ) এর উদাহরণ হলো: "দরাবা" (ضَرَبَ) এবং "আকালা" (أَكَلَ); এবং "ফা-উ-লা" (فَعُلَ) এর উদাহরণ হলো: "জরুফা" (ظَرُفَ) এবং "কারুমা" (كَرُمَ)।

আর "ফা-উ-লা" (فَعُلَ) ওজনের ক্রিয়াটি সকর্মক (متعد) হয় না। পক্ষান্তরে "ফা-আ-লা" (فَعَلَ) এবং "ফা-ই-লা" (فَعِلَ) ওজনের মধ্যে সকর্মক (متعد) এবং অকর্মক (لازم) উভয় প্রকারই রয়েছে, যা আমরা নাহু (النحو) শাস্ত্রে বর্ণনা করেছি। আর যা কর্মের (مفعول) সাথে সংশ্লিষ্ট তা হলো: "ফু-ই-লা" (فُعِلَ); যেমন: "উকিলা" (أُكِلَ) এবং "দুরিবা" (ضُرِبَ)। কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট এই রূপটির প্রথম বর্ণ অতীত (ماضي) এবং ভবিষ্যৎ (مستقبل) উভয় কালে পেশযুক্ত (مضموم) হয়; যেমন: "উকিলা-ইয়ু’কালু" (أُكِلَ يُؤْكَلُ) এবং "দুরিবা-ইয়ুদরাবু" (ضُرِبَ يُضْرَبُ)।

এবং এর প্রথম বর্ণকে জেরযুক্ত (مكسور) করা বৈধ নয়, যদি না এর দ্বিতীয় বর্ণটি ‘ইয়া’ (ياء) হয় অথবা শব্দটি দ্বিত্ববর্ণবিশিষ্ট (مضاعف) হয়।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
نحو: "قيل" وبيع ورِدَّ، وقد قُرِئَ بهما، والإشمام جائز فيما كُسِرَ من هذا النَّوْع وقد قُرِئَ بكلِّ ذلك وإن زاد الماضي على ثلاثة ضُمَّ أوَّلُه في الماضي والمستقبل نحو: "أُكْرِمَ يُكْرَمُ" و"اسْتُخْرِجَ يُسْتَخْرَجُ".

যেমন: "ক্বিলা" (قيل), "বী'আ" (بيع) এবং "রুদ্দা" (رِدَّ); আর এই উভয় পদ্ধতিতেই তিলাওয়াত করা হয়েছে। এই প্রকারের যে শব্দগুলোতে কাসরা (জের) প্রদান করা হয়েছে সেগুলোতে ইশমাম (الإشمام) করা বৈধ (جائز) এবং এ সব কয়টি নিয়মেই তিলাওয়াত করা হয়েছে। আর যদি মাজি (الماضي) তিন অক্ষরের অধিক হয়, তবে মাজি (الماضي) এবং মুস্তাকবিল (المستقبل) উভয় ক্ষেত্রে তার প্রথম অক্ষরে দম্মাহ (পেশ) প্রদান করা হবে; যেমন: "উকরিমা" (أُكْرِمَ) থেকে "ইউকরামু" (يُكْرَمُ) এবং "উসতুখরিজা" (اسْتُخْرِجَ) থেকে "ইউসতাখরাজু" (يُسْتَخْرَجُ)।

(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
وإذا كان الفعل على أربعة أحرفٍ جاز أن يكون أصولًا كلُّه، وجاز أن يكون ذا زيادة، فإذا كان أصولًا كلُّه قيل له رباعيٌّ وقيل له على أربعة أحرف نحو: "دحرجَ" و"قَرْطَسَ"، و"سَرْهَفَ"، وكلُّ رباعيٍّ فهو على أربعة أحرف، وليس كلّ ما يكون على أربعة أحرف يقال له رباعيّ، لأنّ‌‌ الرباعيَّ يختصّ به الأصليّ دون الزّائد فهو خاصٌّ لهذا المعنى، وعلى أربعة أحرف يشترك فيه الأصليُّ والزّائد فهو عامّ فيهما.

‌‌فأمّا ذو الزّيادة من الأربعة فـ"فَعُلَ وفاعَلَ وأفْعَلَ" نحو: "كَسَّرَ"، و"قاتَلَ"، و"أكْرَمَ".

وما زاد على الأربعة فلا يكون إلّا بزيادةٍ.

 

‌‌وأمّا الخماسيّ فما كان على "افْتَعَلَ" و"انْفَعَلَ" و"افْعَلَّ" نحو "انطلقَ
যখন কোনো ক্রিয়া চারটি বর্ণের হয়, তখন এর সবগুলো বর্ণই মূল (أصولًا) হওয়া সম্ভব, আবার তাতে অতিরিক্ত (زيادة) বর্ণ থাকাও সম্ভব। যদি সবগুলো বর্ণই মূল হয়, তবে তাকে চতুর্মূল বিশিষ্ট (رباعي) বলা হয় এবং চার বর্ণবিশিষ্টও বলা হয়, যেমন: 'দাহরাজা', 'কারতাসা' এবং 'সারহাফা'। প্রতিটি চতুর্মূল বিশিষ্ট (رباعي) শব্দই চার বর্ণবিশিষ্ট হয়, কিন্তু প্রতিটি চার বর্ণবিশিষ্ট শব্দকেই চতুর্মূল বিশিষ্ট (رباعي) বলা হয় না। কারণ চতুর্মূল বিশিষ্ট (الرباعي) শব্দটি কেবল মূল বর্ণের (الأصلي) জন্যই নির্দিষ্ট, অতিরিক্তের (الزائد) জন্য নয়; তাই এটি এই অর্থের জন্য নির্দিষ্ট (خاص)। আর 'চার বর্ণবিশিষ্ট' কথাটি মূল এবং অতিরিক্ত উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, তাই এটি উভয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ (عام)।

আর চার বর্ণের মধ্যে যা অতিরিক্ত বর্ণবিশিষ্ট (ذو الزيادة) তা হলো: 'ফায়্যালা', 'ফা-আলা' এবং 'আফআলা'; যেমন: 'কাসসারা', 'কাতলা' এবং 'আকরামা'।

আর যা চার বর্ণের অতিরিক্ত, তা কেবল অতিরিক্ত (زيادة) বর্ণ যোগেই হতে পারে।

 

আর পঞ্চমূল বিশিষ্ট (الخماسي) হলো যা 'ইফতাআলা', 'ইনফাআলা' এবং 'ইফআল্লা' ওজনে আসে, যেমন: 'ইনতালাকা'।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
واحْتَمَلَ واحْمَرَّ" والسُّداسيُّ نحو: "احمارَّ" و"استخرج" و"اغْدَوْدَنَ" و"اطْمأنَّ" و"اقْشَعَرَّ" وأمثلتُه كثيرة.

 

فأمّا الثلاثيُّ من الأفعال إذا كان الفعل مبنيًا لفاعله فحرفُ مضارعته مفتوحٌ من "فَعُلَ" بغير خلافٍ عن العرب، وإذا كان الماضي على "فَعِلَ" أو في أوَّلِه ألفُ وصلٍ فالعرب تختلف في حرف المضارعة منه،‌‌ فأفصحُ اللغاتِ فيه الفتحُ نحو "عَلِمَ يَعلمُ" و"اسْتَخْرَجَ يَسْتخرجُ" فهؤلاء يفتحون جميع حروف المضارعة من الهمزة والنون والتّاء والياء فيقولون: أنا "أعلم" وأنت "تعلمُ" ونحن "نَعْلمُ" وهو "يَعْلَمُ" وأنا "أسْتَخْرِجُ" ونحن "نَسْتخرِجُ" وأنت
‘ইহতামালা’ এবং ‘ইহমাররা’ এবং ষড়াক্ষরবিশিষ্ট (سداسي) যেমন: ‘ইহমাররা’, ‘ইস্তাখরাজা’, ‘ইগদাওদানা’, ‘ইতমায়ান্না’ এবং ‘ইকশা’আররা’ এবং এর উদাহরণ অনেক।

 

আর ক্রিয়াসমূহের মধ্যে ত্রিাক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যখন ক্রিয়াটি কর্তৃবাচ্য (مبني لفاعله) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন আরবদের মধ্যে কোনো দ্বিমত ছাড়াই ‘ফাউলা’ (فَعُلَ) ওজন থেকে এর বর্তমান কালসূচক বর্ণ (حرف مضارعة) জবরযুক্ত (مفتوح) হয়। আর যদি অতীতকালটি ‘ফাইলা’ (فَعِلَ) ওজনের হয় অথবা তার শুরুতে সংযোগকারী আলিফ (ألف وصل) থাকে, তবে আরবরা এর বর্তমান কালসূচক বর্ণ (حرف مضارعة)-এর ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম (أفصح) ভাষাভঙ্গি হলো জবর (فتح) প্রদান করা; যেমন: ‘আলিমা ইয়া’লামু’ এবং ‘ইস্তাখরাজা ইয়াস্তাখরিজু’। তারা হামজাহ (الهمزة), নুন (النون), তা (التّاء) এবং ইয়া (الياء)—এই সকল বর্তমান কালসূচক বর্ণ (حرف مضارعة)-কে জবর প্রদান করেন। ফলে তারা বলেন: আমি ‘আ’লামু’, তুমি ‘তা’লামু’, আমরা ‘না’লামু’, সে ‘ইয়া’লামু’, এবং আমি ‘আস্তাখরিজু’, আমরা ‘নাস্তাখরিজু’ এবং তুমি...
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
"تَسْتخرِجُ" وهو "يَستخرجُ"، وهذه أفصح اللغات، وهو الأصل لجميع اللغات.

 

‌‌والمذهب الثاني: نقيض هذا المذهب وهو أن يكسروا جميع حروف المضارعة، وإن كانت الكسرة في الياء ثقيلة فإنّهم يتحمّلونها فيقولون: أنا
"তাসতাখরিজু" (تَسْتخرِجُ) এবং এটি হলো "ইয়াসতাখরিজু" (يَستخرجُ); এটি ভাষার সর্বাধিক প্রাঞ্জল রূপ (أفصح اللغات) এবং এটিই সকল ভাষার মূল ভিত্তি (الأصل)।

 

‌‌وদ্বিতীয় মতটি (المذهب الثاني) হলো: এই মতের বিপরীত; আর তা হলো তাঁরা মুদারে (مضارعة) এর সকল বর্ণে কাসরা (كسرة) প্রদান করেন। যদিও 'ইয়া' (الياء) বর্ণের ক্ষেত্রে কাসরা (كسرة) ভারী (ثقيلة), তবুও তাঁরা তা গ্রহণ করেন এবং বলেন: আমি (أنا)
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
"إِعْلَمُ" ونحن "نِعْلَمُ" وأنتَ "تِعْلَمُ" وهو "يِعْلَمُ" وأنا "إسْتَخْرِجُ" ونحن "نِسْتَخْرِجُ" وهو "يِسْتَخْرِجُ"، وقد قُرِئَ بذلك كُلّه.‌‌ والمذهب الثالث: قومٌ من العرب يكسرون الهمزة والنون والتاء ويفتحون الياء فيقولون: أنا "إعْلَمُ" ونحن "نِعْلَمُ" وأنت "تِعْلَمُ" وهو "يَعْلَمُ" بفتح الياء، لأنهم يستثقلون الكسرة في الياء.

فإذا كان في أوّله واوٌ نحو "وَجِلَ يَوْجَلُ" اختلف أهل الكسر فيه فكان قومٌ يكسرون حروف المضارعة فتنقلب الواو ياء لسكونها
"ই’লামু", এবং আমরা "নি’লামু", এবং তুমি "তি’লামু", এবং সে "য়ি’লামু", এবং আমি "ইস্তাখরিজু", এবং আমরা "নিস্তাখরিজু", এবং সে "য়িস্তাখরিজু"—এই সবভাবেই পাঠ করা হয়েছে। এবং তৃতীয় মতটি হলো: আরবদের একটি গোষ্ঠী হামযা, নূন এবং তা বর্ণে কাসরা প্রদান করেন এবং ইয়া বর্ণে ফাতহা প্রদান করেন। তারা বলেন: আমি "ই’লামু", আমরা "নি’লামু", তুমি "তি’লামু" এবং সে "ইয়া’লামু" (ইয়া বর্ণে ফাতহা সহযোগে); কেননা তারা ইয়া বর্ণের ওপর কাসরা হওয়াকে অত্যন্ত ভারী মনে করেন।

আর শব্দের শুরুতে যদি 'ওয়াও' থাকে যেমন "ওয়াজিলা ইয়াওজালু", তবে যারা কাসরা প্রদান করেন তাদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। একদল মুযারি’র বর্ণগুলোতে কাসরা প্রদান করেন, ফলে সাকিন হওয়ার কারণে 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
وانكسار ما قبلها فقالوا "يِيجَلُ" و"نِيجَلُ".

وقومٌ من العرب يكسرون الهمزة والنون والتاء ويفتحون الياء فيقولون هو "يَوْجَلُ"، وقومٌ ممن يكسرون الهمزة والنون والتاء يقلبون من الواو ألفًا فيقولون هو "ياجَلُ"، وهذا قلب على غير قياس، لأنّ الواو الساكنة لا تقلب ألفًا، وهم يقلبونها مع جميع حروف المضارعة ويفتحون لها ما قبلها فيقولون أنا "آجَلُ" ونحن "ناجَلُ" وأنت "تاجَلُ" وهو "ياجَلُ"، لأنّهم يَفِرُّون من ثقل الواو إلى خفَّة الألف.
...এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণের কাসরাহ্ হওয়ার কারণে তারা ‘য়িজালু’ ও ‘নিজালু’ বলতেন।

আরবদের একদল হামযাহ, নূন এবং তা বর্ণে কাসরাহ্ প্রদান করেন এবং ইয়া বর্ণে ফাতহাহ প্রদান করেন, ফলে তারা বলেন ‘ইয়াওজালু’। আবার যারা হামযাহ, নূন ও তা বর্ণে কাসরাহ্ প্রদান করেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ ‘ওয়াও’ বর্ণকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করেন এবং বলেন ‘য়াজালু’। এটি একটি নিয়মবহির্ভূত (غير قياس) রূপান্তর; কারণ সাকিনযুক্ত ওয়াও (الواو الساكنة) সাধারণত আলিফে রূপান্তরিত হয় না। তারা বর্তমানকালীন ক্রিয়ার সকল বর্ণের (حروف المضارعة) সাথেই একে পরিবর্তন করেন এবং এর পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহাহ প্রদান করেন। ফলে তারা বলেন— আমি ভয় পাচ্ছি ‘আ-জালু’, আমরা ভয় পাচ্ছি ‘না-জালু’, তুমি ভয় পাচ্ছো ‘তা-জালু’ এবং সে ভয় পাচ্ছে ‘য়া-জালু’। কারণ তারা ‘ওয়াও’ বর্ণের ভারাক্রান্ততা থেকে বাঁচতে আলিফ বর্ণের লঘুতার দিকে ধাবিত হন।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
وإذا كان الماضي على ثلاثة أحرف فتحوا منه حرف المضارعة نحو: "يَضْرِبُ" و"يَعْلَمُ" لأن الثلاثيَّ خفَّ على ألسنتهم وكثر استعمالهم له فاختاروا له الفتحة، لأنّها أخفُّ الحركات وأكثرها في الاستعمال.

فأمّا الذين كسروا حرف المضارعة فإنّهم أرادوا أن يدلّوا على أنّ الفعل الماضيَ مكسورُ العين أو في أوّله همزةٌ فلمّا أرادوا أن يدُلّوا على هذا لم يخلوا أن يكسروا حرف المضارعة أو فاء الفعل أو عينه أو لامه [ولم يجز أن يكسروا لامه] لأنّه حرف الإعراب ولو ألزموها الكسر لبطل أن يدخلها إعرابٌ، ولم يجز أن يكسروا عينه، لأنّ بحركة العين يُفْصَلُ بين الأبنية من "يفْعُلُ" و"يَفْعِلُ" و"يَفْعَلُ"، لو ألزموها الكسر لبطل هذا الفرق، ولم يجز أن يكسروا فاء الفعل لئلا يتوالى في اللفظ أربع حركات ليس بينها حاجز في اللفظ ولا في التقدير، فلم يبق إلّا حرف المضارعة فكسروه.

وإذا كان الماضي على أربعة أحرف ضمُّوا حرف المضارعة من مستقبله نحو: "أكرم يُكْرِمُ" و"كَسَّرَ يُكَسِّرُ" و"دَحْرَجَ يُدَحْرِجُ" و"قاتل يُقاتل"، وإنّما اختاروا له الضَّمَّة، لأنّ الفتحة قد غلب عليها الثلاثيُّ فلم يبق له إلّا أن يُضَمَّ
যখন অতীতকাল তিন অক্ষরবিশিষ্ট হয়, তখন তারা এর বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন আলামত (আলামতে মুদারে) থেকে ফাতহা প্রদান করেন, যেমন: ‘ইয়াদরিবু’ এবং ‘ইয়া‘লামু’। কারণ ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দগুলো তাদের কাছে সহজসাধ্য ছিল এবং এগুলোর ব্যবহার ছিল অধিক; তাই তারা এর জন্য ফাতহাকেই নির্বাচন করেছেন, যেহেতু এটি স্বরচিহ্ন বা হরকতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা এবং ব্যবহারে সর্বাধিক প্রচলিত।

আর যারা আলামতে মুদারেতে কাসরা প্রদান করেছেন, তারা মূলত এটি নির্দেশ করতে চেয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট অতীতকালীন ক্রিয়াটির দ্বিতীয় মূল অক্ষর (আইন কালেমা) কাসরাযুক্ত অথবা এর শুরুতে একটি হামযা রয়েছে। যখন তারা বিষয়টি নির্দেশ করার সংকল্প করলেন, তখন আলামতে মুদারে, ক্রিয়ার প্রথম মূল অক্ষর (ফা কালেমা), দ্বিতীয় মূল অক্ষর (আইন কালেমা) অথবা শেষ মূল অক্ষরে (লাম কালেমা) কাসরা প্রদান করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। [আর এর শেষ অক্ষরে কাসরা প্রদান করা বৈধ ছিল না] কারণ এটি হলো ব্যাকরণিক পরিবর্তনের (ইরাব) স্থান; যদি তারা সেখানে কাসরা আবশ্যক করে দিতেন, তবে শব্দটিতে ইরাব প্রবেশের সুযোগ বিলুপ্ত হয়ে যেত। আবার এর দ্বিতীয় মূল অক্ষরে কাসরা প্রদান করাও জায়েজ ছিল না, কারণ দ্বিতীয় মূল অক্ষরের হরকতের মাধ্যমেই ‘ইয়াফউলু’, ‘ইয়াফইলু’ এবং ‘ইয়াফআলু’ কাঠামোগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হয়; যদি তারা সেখানে কাসরা আবশ্যক করতেন তবে এই পার্থক্যটি বিলুপ্ত হয়ে যেত। আর ক্রিয়ার প্রথম মূল অক্ষরে কাসরা প্রদান করাও জায়েজ ছিল না, যাতে উচ্চারণে বিরতিহীনভাবে চারটি হরকত একত্রিত না হয়—যার মাঝে দৃশ্যত বা পরোক্ষ কোনো প্রতিবন্ধক নেই। ফলে আলামতে মুদারে ব্যতীত আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না, তাই তারা সেখানে কাসরা প্রদান করেছেন।

যখন অতীতকাল চার অক্ষরবিশিষ্ট হয়, তখন তারা এর মুদারে বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপে আলামতে মুদারেতে দম্মা প্রদান করেন, যেমন: ‘আকরামা-ইউকরিমু’, ‘কাসসারা-ইউকাসসিরু’, ‘দাহরাজা-ইউদাহরিজু’ এবং ‘কাতলা-ইউকাতিলু’। তারা এর জন্য দম্মা নির্বাচন করেছেন কারণ ফাতহা তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে সুনির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল, ফলে দম্মা ব্যতীত অন্য কোনো পথ অবশিষ্ট ছিল না।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০০)
أو يُكْسَرَ، ولم يجز أن يُكْسَرَ لئلّا يُلْبَسَ بلغة الذين يكسرون حرف المضارعة فخُلِّصت له الضمَّة دون غيرها.

فأمّا ما زاد على الأربعة كالخُماسيّ والسُّداسيِّ نحو: "انطلق" و"استخرج" وما كان على وزنهما فإنّهم فتحوا فيهما حرف المضارعة نحو: "يَنطلقُ" و"يَسْتخرج"، وإنّما اختاروا لهما الفتح لأمرين:

أحدهما: أنّه قد كثرت حروفهما فلم يجمعوا عليهما كثرة الحروف وثقل الضمّة.

والوجه الثاني: أنّ أكثر ما يكون الخماسيُّ والسداسيُّ من الثُّلاثيِّ وقلّما يكون من الرباعيّ فلم يحفلوا بما كان منهما من الرباعيِّ لقلّته، وحملوا الزائد على الأصليِّ فأعطوْه الفتح، لأنّ الثلاثيَّ هو الأصلُ.

 

‌‌وحكى قومٌ الضمَّ في الخماسيّ والسُّداسيِّ كأنّهم حملوه على ذوات الأربعة، وهذا شاذٌّ لا يؤخذ بمثله.

وأقلُّ ما يكون عليه الفعلُ الثَّلاثةُ وأكثرُ ما تبلغه الزيادةُ السِّتَّة.
অথবা একে কাসরা প্রদান করা; কিন্তু কাসরা প্রদান করা বৈধ নয় যাতে এটি সেই সম্প্রদায়ের ভাষার সাথে অস্পষ্ট না হয়ে যায় যারা মুদারে-এর বর্ণকে কাসরা প্রদান করে। ফলে এর জন্য অন্য কিছুর পরিবর্তে কেবল দম্মাহকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

আর যা চারের অধিক, যেমন পঞ্চবর্ণবিশিষ্ট এবং ষড়বর্ণবিশিষ্ট, যেমন: "ইনতালাকা" এবং "ইসতাখরাজা" এবং যেগুলি এই ওজনের হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে তারা মুদারে-এর বর্ণে ফাতহা প্রদান করেছেন। যেমন: "ইয়ানতালিকু" এবং "ইয়াসতাখরিজু"। তারা এই দুই প্রকারের জন্য দুইটি কারণে ফাতহাকে নির্বাচন করেছেন:

প্রথমটি: এই শব্দগুলোর বর্ণের সংখ্যা অনেক। ফলে তারা বর্ণের আধিক্য এবং দম্মাহর ভারকে একত্রে জমা করেননি।

দ্বিতীয় কারণটি হলো: অধিকাংশ পঞ্চবর্ণবিশিষ্ট এবং ষড়বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়া মূলত তিন বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়া থেকে গঠিত হয় এবং চতুর্বর্ণবিশিষ্ট থেকে এগুলো খুব কমই আসে। তাই তারা চতুর্বর্ণবিশিষ্ট থেকে আগতগুলোর স্বল্পতার কারণে সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেননি। তারা অতিরিক্ত বর্ণবিশিষ্ট শব্দগুলোকে মূলের সাথে তুলনা করে ফাতহা প্রদান করেছেন, কারণ তিন বর্ণবিশিষ্ট শব্দই হলো মূল।

 

‌‌একটি গোষ্ঠী পঞ্চবর্ণবিশিষ্ট এবং ষড়বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ায় দম্মাহ হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন, যেন তারা একে চতুর্বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ার সাথে তুলনা করেছেন। আর এটি বিচ্যুত (شاذ), যার অনুরূপ কোনো কিছু গ্রহণ করা হয় না।

একটি ক্রিয়া সর্বনিম্ন তিন বর্ণবিশিষ্ট হয় এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে এটি সর্বোচ্চ ছয় বর্ণ পর্যন্ত পৌঁছায়।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০১)
‌‌فأمّا الأسماء فالأصول منها ثلاثة أقسام: ثلاثيّ، ورباعيّ، وخماسيّ، وأكثر ما تبلغه بالزيادة السبعة نحو: "احميرار" و"اطمئنان" وذلك أن غاية الأصل في الأسماء هو الخمسة، وغاية الأصل في الفعل الأربعة فلمّا زاد غاية الاسم في الأصل على غاية الفعل حرفًا جاز في الزيادة غاية الاسم على غاية الفعل، فصار انتهاء الاسم بالزّيادة سبعةٌ وانتهاء الفعل بالزيادة ستّةٌ.

وأمّا ما يتركَّبُ من "ف ع ل" من الأسماء والصِّفات بغير خلافٍ فهي عشرةُ أبنيةٍ "فَعْلٌ: كَعْبٌ"، "فَعَلٌ: قلمٌ"، "فَعِلٌ: كَتِفٌ"، "فَعُلٌ: عَضُدٌ"، هذا مع فتح الفاء.

"فُعْلٌ: قُفْلٌ"، "فُعُلٌ: طُنُبٌ"، و"فُعَلٌ: نُغَرٌ" هذا مع ضمِّ الفاء. فأمّا "فُعِل" نحو "ضُرِب" و"شُتِم" فهو بناء يختصُّ بالفعل، وقد حكى
বিশেষ্যসমূহের ক্ষেত্রে মূল রূপগুলো তিন প্রকার: তিন অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي), চার অক্ষরবিশিষ্ট (رباعي) এবং পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট (خماسي)। অতিরিক্ত (زيادة) অক্ষর যোগে এগুলো সর্বোচ্চ সাত অক্ষর পর্যন্ত পৌঁছায়; যেমন: "ইহমিরার" এবং "ইতমিনান"। এর কারণ হলো বিশেষ্যের ক্ষেত্রে মূল অক্ষরের সর্বোচ্চ সীমা হলো পাঁচটি এবং ক্রিয়ার (فعل) ক্ষেত্রে মূল অক্ষরের সর্বোচ্চ সীমা চারটি। যেহেতু বিশেষ্যের মূল অক্ষরের সীমা ক্রিয়ার মূল অক্ষরের সীমার চেয়ে এক অক্ষর বেশি, তাই অতিরিক্ত অক্ষর যোগ করার ক্ষেত্রেও বিশেষ্যের সীমা ক্রিয়ার চেয়ে বেশি হওয়া অনুমোদিত। ফলে অতিরিক্ত অক্ষরসহ বিশেষ্যের শেষ সীমা সাত এবং অতিরিক্ত অক্ষরসহ ক্রিয়ার (فعل) শেষ সীমা ছয়।

আর বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ ছাড়াই "ফা-আইন-লাম" (ف ع ل) এর সমন্বয়ে গঠিত রূপগুলো দশটি কাঠামো (أبنية) বিশিষ্ট। (সেগুলো হলো:) "ফাল্: কাবুন্", "ফায়াল্: কলামুন্", "ফাইল্: কাতিফুন্", "ফাউল্: আদুদুন্" - এগুলো ফা-অক্ষরে ফাতহা (فتح) যোগে গঠিত।

"ফুল্: কুফলুন্", "ফুউল্: তুনুবুন্" এবং "ফুয়াল্: নুগারুন্" - এগুলো ফা-অক্ষরে দাম্মাহ (ضم) যোগে গঠিত। পক্ষান্তরে "ফুইলা" কাঠামোটি, যেমন: "দুরিবা" এবং "শুতিমা", এটি এমন একটি গঠনশৈলী (بناء) যা কেবল ক্রিয়ার (فعل) জন্যই নির্দিষ্ট। বর্ণিত আছে যে...
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০২)
الأخفشُ بناء حادي عشر وهو "فُعِلٌ" "دُئِلٌ" وهو اسم دويْبَة، قال الشاعر:

جاءوا بجيشٍ لو قيس مَعْرَسُهُ … ما كان إلّا كمَعْرَسِ الدُئِلِ
আল-আখফাশ একাদশতম একটি গঠনরীতি উল্লেখ করেছেন যা হলো ‘ফুয়িল’ ‘দুয়িল’। এটি একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর নাম। কবি বলেছেন:

তারা এমন এক বিশাল বাহিনী নিয়ে এসেছিল যে, তাদের যাত্রাবিরতির স্থান যদি পরিমাপ করা হতো … তবে তা কেবল ‘দুয়িল’ প্রাণীর বিশ্রামস্থলের মতোই হতো।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০৩)
وقال قومٌ إنّما سُمِّيت بالفعل يقال "دُئِلَ" في هذا الموضع كما يقال "عُدِيَ" فيه. فأمّا "دُئِلُ" اسم قبيلة أبي الأسود فقال قوم سُمِّيت باسم الدُّوَيْبَةِ، وقال قوم بل سُمِّيَتْ بالفعل.

و"فعلٌ: جِذْعُ" و"فِعَلٌ: ضِلَعٌ" و"فِعِلٌ: إبلٌ".
একদল অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এর নামকরণ মূলত ক্রিয়াপদ অনুসারেই হয়েছে; এই ক্ষেত্রে 'দুয়িলা' বলা হয় যেমন এখানে 'উদিয়া' বলা হয়ে থাকে। আর আবু আল-আসওয়াদের গোত্রের নাম 'দুয়িল' প্রসঙ্গে একদল বলেছেন যে, একে একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর নামে নামকরণ করা হয়েছে, আবার অন্য একদল বলেছেন যে, বরং এটি ক্রিয়াপদ থেকেই নামকরণ করা হয়েছে।

এবং "ফি'লুন: বৃক্ষকাণ্ড", "ফি'আলুন: পাঁজর" ও "ফি'ইলুন: উট"।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০৪)
وبقي "فِعُل" وهو بناء ليس في الأسماء ولا في الأفعال فأمّا من قال "ضِئْبُل" و "إِصْبُع" فلا يقاس على لغته.

فقد صار بناء الثلاثيِّ عشرة بغير خلاف، والحادي عشر فيه الخلاف، وقد مضى تمثيله.

وإنّما كثرت أبنية الثّلاثيّ، لأنّه لما قلّتْ حروفُه كثر استعمالهم له فكثَّروا أبنيته والتصرُّفَ فيه.
আর বাকি রইল "ফিয়ুল" (فِعُل) কাঠামোটি, যা বিশেষ্য (اسم) কিংবা ক্রিয়া (فعل) কোনোটিতেই বিদ্যমান নেই। সুতরাং যারা "দি'বুল" (ضِئْبُل) এবং "ইসবু" (إِصْبُع) শব্দদ্বয় উচ্চারণ করেন, তাদের ভাষাকে কিয়াস (قياس) বা ভাষাতাত্ত্বিক মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।

এভাবে ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي) মূল শব্দের গঠনশৈলী (بناء) কোনো প্রকার মতভেদ (خلاف) ছাড়াই দশটি সাব্যস্ত হলো, আর একাদশতম কাঠামোটির বিষয়ে মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান রয়েছে, যার উদাহরণ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

মূলত ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي) শব্দের গঠনশৈলী (بناء) অধিক হওয়ার কারণ হলো, এর বর্ণ সংখ্যা কম হওয়ায় এর ব্যবহারের প্রাচুর্য ছিল; ফলে তারা এর গঠন এবং এর রূপান্তর (تصرف) প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত ও অধিক করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০৫)
‌‌فأمّا الرّباعيُّ فله خمسة أبنيةٍ، لم يختلفوا فيها، ثلاثةٌ بكسر الفاء، وواحدٌ بضمِّها، وواحدٌ بفتحها.

فأمّا المكسور الفاء فـ "فِعْلِلٌ" مثاله: "زِبْرِجٌ" و"فِعْلَلٌ" مثاله: "دِرْهَمٌ"، و"فِعَلٌّ" مثاله: "قِمَطْرٌ".
পক্ষান্তরে চতুরাক্ষর বিশিষ্ট শব্দের (الرباعي) ক্ষেত্রে পাঁচটি গঠনরীতি (أبنية) রয়েছে, এ বিষয়ে তাঁরা কোনো মতভেদ করেননি; যার তিনটি প্রথম বর্ণে কাসরা (بكسر الفاء) বিশিষ্ট, একটি যম্মাহ (بضمها) বিশিষ্ট এবং একটি ফাতহাহ (بفتحها) বিশিষ্ট।

প্রথম বর্ণে কাসরা বিশিষ্ট রূপগুলো হলো: "ফিবলিলুন" (فِعْلِلٌ), এর উদাহরণ: "যিবরিজুন" (زِبْرِجٌ); "ফিবলালুন" (فِعْلَلٌ), এর উদাহরণ: "দিরহামুন" (دِرْهَمٌ); এবং "ফিবআল্লুন" (فِعَلٌّ), এর উদাহরণ: "কিমাতরুন" (قِمَطْرٌ)।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০৬)
والمفتوح الفاء "فَعْلَلٌ" مثاله "جَعْفَرٌ" والمضمومُ: "فُعْلُل" مثاله "بُرْثُنٌ".

وهذه الأمثلة تكون أسماء وتكون صفات. وقد زاد الأخفش بناء سادسًا وهو "فُعْلَلٌ" ومثاله: "جُؤْذَرٌ" و"بُرْقَعٌ". وهذا بناء لم يحكه
এবং 'ফা' বর্ণটি জবরযুক্ত (مفتوح الفاء) কাঠামো 'ফায়লাল' (فَعْلَلٌ), এর উদাহরণ হলো 'জা'ফর' (جَعْفَرٌ); আর পেশযুক্ত (مضموم) কাঠামো হলো 'ফুলুল' (فُعْلُلٌ), যার উদাহরণ হলো 'বুরসুন' (بُرْثُنٌ)।

এই উদাহরণগুলো বিশেষ্য (أسماء) এবং বিশেষণ (صفات) উভয়ই হতে পারে। আর আল-আখফাশ একটি ষষ্ঠ কাঠামো (بناء) বৃদ্ধি করেছেন যা হলো 'ফুল্লাল' (فُعْلَلٌ), এর উদাহরণ: 'জু’যার' (جُؤْذَرٌ) এবং 'বুরকা' (بُرْقَعٌ)। এটি এমন একটি কাঠামো যা তিনি (অন্যদের থেকে) বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০৭)
سيبويه ولا أصحابه وإنّما قلّت أبنية الرباعيّ، لأنّه لما زاد حرفًا على الثلاثيّ خرج عن الاعتدال، لأنّ أعدل الأسماء هو الثلاثيّ فقلّ تصرُّفهم فيما زاد عليه فقلَّلوا أبنيته.

 

‌‌فأمّا الخماسيُّ فهو أربعة أبنية بلا خلاف بينهم تكون أسماء وصفاتٍ اثنان بفتح الفاء وواحدٌ بكسرها، وواحد بضمِّها فأمّا المكسور
সিবওয়াইহ এবং তাঁর অনুসারীদের মতানুসারে নয়, বরং চতুরক্ষর (الرباعيّ) শব্দের গঠন কাঠামো সীমিত হওয়ার কারণ হলো, যখন এটি ত্র্যক্ষর (الثلاثيّ) শব্দের ওপর একটি অতিরিক্ত অক্ষর বৃদ্ধি করে, তখন তা ভারসাম্য হতে বিচ্যুত হয়। কেননা বিশেষ্যগুলোর মধ্যে ত্র্যক্ষর (الثلاثيّ) শব্দই সর্বাধিক ভারসাম্যপূর্ণ। ফলে তারা (আরবরা) অতিরিক্ত বর্ণবিশিষ্ট শব্দের রূপান্তর কমিয়ে দিয়েছে এবং এর গঠন কাঠামোও সংকুচিত করেছে।

 

পক্ষান্তরে পঞ্চাক্ষর (الخماسيُّ) বিশিষ্ট শব্দ হলো তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ ব্যতিরেকেই চারটি গঠন কাঠামো সম্বলিত, যা বিশেষ্য ও বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে দুটি ফা-অক্ষরে ফাতহা (بفتح الفاء) বিশিষ্ট, একটি কাসরা (بكسرها) বিশিষ্ট এবং একটি দাম্মা (بضمِّها) বিশিষ্ট। অতঃপর কাসরাযুক্ত কাঠামোর ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০৮)
الفاء: فهو "فِعْلَلٌّ" مثاله "جِرْدَحْلٌ" والمضموم الفاء: "فُعَلِّلٌ" مثاله "قُذَعْمِلٌ" وأمّا المفتوح الفاء فهو "فَعَلَّلٌ" مثاله "سَفَرْجَلٌ" و"فَعْلَلِلٌ" مثاله "جَحْمَرِشٌ" وزاد ابن السّرّاج بناءً خامسًا وهو "فُعْلَلِلٌ" مثاله: "هُنْدَلِعٌ"
ফা-বর্ণ: এটি "ফিলাল্লুন" ওজনের, এর উদাহরণ হলো "জিরদাহলুন"। ফা-বর্ণে দম্মা (পেশ) যুক্ত ওজনটি হলো "ফুয়াল্লিলুন", এর উদাহরণ "কুযা’মিলুন"। আর ফা-বর্ণে ফাতহাহ (যবর) যুক্ত ওজনটি হলো "ফায়াল্লালুন", এর উদাহরণ "সাফারজালুন" এবং "ফায়লালিলুন", যার উদাহরণ "জাহমারিশুন"। ইবনে আস-সাররাজ একটি পঞ্চম গঠনরীতি সংযোজন করেছেন যা হলো "ফু’লালিলুন", এর উদাহরণ: "হুনদালিউন"।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২০৯)
فجملة الأبنية المتَّفق عليها في الأسماء تسعة عشر بناءً: عشرة في الثلاثيّ، وخمسةٌ في الرباعيِّ، وأربعة في الخماسيِّ، لأنّهم لمّا قلّ تصرُّفهم في الرُّباعيّ وهو آخِذٌ من الخماسيّ كانوا جُدَراءَ بأن يقلَّ تصرُّفهم في الخماسيّ لطوله وبعده عن الثُّلاثيّ.

وأمّا الأبنية الزّائدة فهي ثلاثة: واحد في الثلاثيّ وهو "فُعِلٌ"، وواحد في الرّباعيّ وهو "فُعْلَلٌ" وواحد في الخماسيّ وهو "فُعْلَلِلٌ". فصار جملة الأبنية اثنين وعشرين بناءً، فهذه جملة الأصول.

فأمّا سداسيٌّ وسباعيٌّ فإنما يكون بالزّيادة، فإذا لحق شيءٌ من الثّلاثيّ بالرّباعيّ فإنّما يلحق بزيادة حرف واحد، وإذا لحق شيءٌ من الرّباعيّ [بالخماسيّ] فإنّما يلحق بزيادة حرف، فإذا لحق شيء من الثلاثيّ بالخماسيّ فإنّما يلحق بزيادة حرفين، وينبغي أن يعتبر بكلّ واحد من الحرفين في الرباعيّ، فإن وجد له فيه معنًى عُلِم أنّه أُلْحِقَ بالرّباعيّ بذلك الحرف، ثمّ ألحق بالحرف الثاني بالخماسيّ على هذا التدريج، فإن لم يوجد له معنًى بالرباعيّ مع كلّ واحد من الحرفين الزائدين قطع على أنه ألحق بالخماسيّ بزيادة الحرفين في ضربة واحدة.
বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত শব্দকাঠামোর (بناء) সংখ্যা মোট উনিশটি: দশটি ত্রিমৌলিক (ثلاثي), পাঁচটি চতুর্মৌলিক (رباعي) এবং চারটি পঞ্চ-মৌলিক (خماسي) বিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত। কারণ যখন তাদের নিকট চতুর্মৌলিকের (رباعي) ব্যবহার ও রূপান্তর সংকুচিত হয়ে এল—যা মূলত পঞ্চ-মৌলিক (خماسي) থেকে গৃহীত—তখন দৈর্ঘ্যের আধিক্য এবং ত্রিমৌলিক (ثلاثي) থেকে দূরত্বের কারণে পঞ্চ-মৌলিকের (خماسي) রূপান্তর আরও হ্রাস পাওয়া অধিকতর সমীচীন ছিল।

পক্ষান্তরে অতিরিক্ত (زائد) শব্দকাঠামো (بناء) হলো তিনটি: একটি ত্রিমৌলিকের (ثلاثي) জন্য যা "فُعِلٌ"; একটি চতুর্মৌলিকের (رباعي) জন্য যা "فُعْلَلٌ"; এবং একটি পঞ্চ-মৌলিকের (خماسي) জন্য যা "فُعْلَلِلٌ"। ফলে শব্দকাঠামোর (بناء) সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বাইশটিতে; আর এগুলিই হলো মূল কাঠামোর (أصول) সমষ্টি।

ষড়মৌলিক (سداسي) এবং সপ্ত-মৌলিক (سباعي) শব্দ কেবল বর্ণ বৃদ্ধির (زيادة) মাধ্যমেই গঠিত হতে পারে। সুতরাং যদি কোনো ত্রিমৌলিক (ثلاثي) শব্দকে চতুর্মৌলিকের (رباعي) সমরূপ (إلحاق) করা হয়, তবে তা একটি বর্ণ বৃদ্ধির (زيادة) মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আর যদি কোনো চতুর্মৌলিক (رباعي) শব্দকে পঞ্চ-মৌলিকের (خماسي) সমরূপ (إلحاق) করা হয়, তবে তাও একটি বর্ণ বৃদ্ধির (زيادة) মাধ্যমেই হয়। তবে ত্রিমৌলিক (ثلاثي) শব্দকে যদি পঞ্চ-মৌলিকের (خماسي) সমরূপ (إلحاق) করা হয়, তবে তা দুটি বর্ণ বৃদ্ধির (زيادة) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে চতুর্মৌলিক (رباعي) রূপের মধ্যে ওই বর্ধিত বর্ণ দুটির প্রত্যেকটিকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা উচিত। যদি কোনোটির মাধ্যমে অর্থবোধকতা পাওয়া যায়, তবে প্রতীয়মান হবে যে ওই বর্ণের মাধ্যমে তা প্রথমে চতুর্মৌলিকে (رباعي) রূপান্তরিত (إلحاق) হয়েছে এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় বর্ণটির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে পঞ্চ-মৌলিকের (خماسي) রূপ পরিগ্রহ করেছে। আর যদি অতিরিক্ত (زائد) বর্ণদ্বয়ের কোনোটির দ্বারাই চতুর্মৌলিক (رباعي) পর্যায়ে কোনো অর্থ না পাওয়া যায়, তবে এটি নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া হবে যে শব্দটি একযোগেই দুটি বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পঞ্চ-মৌলিকের (خماسي) সমরূপ (إلحاق) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১০)
وأنا أذكر بعد هذا الفصل -إن شاء الله تعالى - أوّل التصريف، وبالله التوفيق.

 

‌‌التصريف في اللغة: إنّما هو الذّهاب والمجيء والحركة والسكون، ومنه قوله تعالى: (وتصريف الرياح) إنّما هو تدبيرها والتصرُّف فيها بأن يُهِبَّها مرة من جهة ومرّة من جهة أخرى، والتصريف في النّحو إنّما هو مُشَبّه بالتصريف في الأفعال.

وإذا كان الفعل يتعدّى إلى مفعول واشتققت للمفعول منه فعلاً بالنّفي أو الإثبات لتدلَّ على قبوله التأثير وتأتِّيه فيه، سَمَّيْتَ فعل المفعول مُطاوِعًا لفعل الفاعل، وإذا كان فعل المفعول مطاوِعًا لفعل الفاعل فمصدره مطاوِعٌ لمصدر فعل الفاعل تقول: كسرت القلمَ فانكسر، فـ"انكسر" مُطاوِعٌ لـ "كَسَرْتُ"، و"الانكسارُ" مُطاوِعٌ "للكسرِ"، كذلك تقول قطعتُ الحبلَ فانقطع، فـ"انقطع" مطاوِعٌ لـ"قطعْتُ"، و"الانقطاع" مطاوِعٌ "للقطع"،
আমি এই পরিচ্ছেদের পর—আল্লাহ তাআলা চাইলে—রূপান্তরবিদ্যার (التصريف) প্রারম্ভিক আলোচনা করব; আর আল্লাহর সাহায্যেই সামর্থ্য (التوفيق) লাভ হয়।

 

‌‌আভিধানিক অর্থে রূপান্তর (التصريف): এটি মূলত যাতায়াত, গতি ও স্থিতি। মহান আল্লাহর বাণী: "এবং বায়ুর রূপান্তর" এর অন্তর্ভুক্ত; যার অর্থ হলো এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ—অর্থাৎ একেকবার একেক দিক থেকে তা প্রবাহিত করা। আর ব্যাকরণশাস্ত্রে (النحو) রূপান্তর (التصريف) মূলত ক্রিয়ার (الفعل) রূপান্তরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

যখন কোনো ক্রিয়া (الفعل) কর্মের (المفعول) দিকে ধাবিত হয় এবং সেই কর্মের জন্য ক্রিয়াটি থেকে আপনি নঞর্থক বা সদর্থক এমন কোনো ক্রিয়া গঠন করেন যা ক্রিয়ার প্রভাব গ্রহণ করা ও তা প্রতিফলিত হওয়া বোঝায়, তখন কর্মের সেই ক্রিয়াকে আপনি কর্তার (الفاعل) ক্রিয়ার অনুগামী (مطاوع) বলবেন। আর যখন কর্মের ক্রিয়াটি কর্তার ক্রিয়ার অনুগামী (مطاوع) হয়, তখন তার ক্রিয়ামূলও (المصدر) কর্তার ক্রিয়ার ক্রিয়ামূলের (المصدر) অনুগামী (مطاوع) হয়। যেমন আপনি বলেন: "আমি কলমটি ভেঙেছি ফলে তা ভেঙে গেছে", এখানে "ভেঙে গেছে" (انكسر) শব্দটি "আমি ভেঙেছি" (كسرت) এর অনুগামী (مطاوع), এবং "ভেঙে যাওয়া" (الانكسار) ক্রিয়ামূলটি "ভাঙা" (الكسر) এর অনুগামী (مطاوع)। একইভাবে আপনি বলেন: "আমি রশিটি কেটেছি ফলে তা বিচ্ছিন্ন হয়েছে", এখানে "বিচ্ছিন্ন হয়েছে" (انقطع) শব্দটি "আমি কেটেছি" (قطعت) এর অনুগামী (مطاوع) এবং "বিচ্ছিন্ন হওয়া" (الانقطاع) ক্রিয়ামূলটি "কর্তন করা" (القطع) এর অনুগামী (مطاوع)।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১১)
وكذلك تقول شويتُ اللحمَ فانشوى واشتوى أي: قبل التّأثير. فـ "اشتوى وانشوى" جميعًا مُطاوعٌ لـ "شَوَيْتُ"، و"الاشتواءُ والانشواءُ" مطاوعٌ "للشَّيِّ"؛ لأنّك تقول: شوى يشوِي شَيًّا، وتقول في المطاوع: انشوى ينشوي انشواءً، واشتوى يشتوي اشتواءً وكذلك تقول: صَرَّفْتُهُ أُصَرِّفهُ تصريفًا، وتقول في مُطاوِعه: تصرَّف يتصرَّف تصرُّفًا، فـ "تصرَّف" مُطاوِعُ "صَرَّفْتُ"، و"التَّصَرُّف" مطاوِع "التَّصْريف"، فهذا معنى قولهم: الأفعال المطاوِعة.

 

‌‌والتَّصريف في النحو والتصرفُ فيه: هو أنْ تأتيَ إلى مثال من الحروف الأصول فتشتقَّ منه بزيادة أو بنقصٍ أمثلةً مختلفةً يدلُّ كلّ مثالٍ منها على معنًى لا يدلُّ عليه المثال الآخر. مثال ذلك أن تأتيَ إلى مثال " ض. ر. ب" فإن اشتققت منها فعلًا ماضيًا قلت: "ضرب"، وإن اشتققت منه فعلاً مسْتَقْبَلاً قلت "يَضْرِبُ"، وإن اشْتَقَقْتَ منه أمرًا قلت "اضْرِبْ"، وإن اشتققْتَ منه نهيًا قلت "لا تضربْ"، وإن اشتققت منه مصدرًا قلت "ضَرْبًا" و"مَضْرَبًا"، وإن اشتققت منه اسمًا للزّمان أو للمكان اللّذين يوقَعُ فيهما الفعل قلت: "مَضْرِبًا"، وإن اشتققت منه اسم الفاعل قلت: "ضارِبٌ"، وإن اشتققت منه اسم مفعول قلت: "مَضْرُوبٌ"، وإن اشتققت منه مثالاً ليَدُلَّ على التَّكثير والتَّكْرير قلت: "ضَرَّبَ"، وإن اشتققت منه مثالاً للمفعول الذي لم يُذْكَرْ فاعلُه قلت: "ضُرِبَ" فإن اشتققت منه مثالاً ليدلَّ على استدعائه
তেমনি আপনি বলেন, ‘আমি মাংস পুড়িয়েছি’ (শয়াইতু), ফলে তা পুড়েছে (ইনশাওয়া) বা পুড়ে গেল (ইশতাওয়া); অর্থাৎ এটি প্রভাব গ্রহণ করেছে। সুতরাং ‘ইশতাওয়া’ এবং ‘ইনশাওয়া’ উভয়ই ‘শয়াইতু’ ক্রিয়ার অনুবর্তী (مطاوع)। আর ‘আল-ইশতিওয়া’ ও ‘আল-ইনশিওয়া’ হলো ‘আশ-শাই’ (পোড়ানো) এর অনুবর্তী (مطاوع); কারণ আপনি বলেন: ‘শাওয়া-ইয়াশউই-শাইয়ান’, আর এর অনুবর্তী (مطاوع) রূপে বলেন: ‘ইনশাওয়া-ইয়ানশাউই-ইনশিওয়াআন’ এবং ‘ইশতাওয়া-ইয়াশতাউই-ইশতিওয়াআন’। তেমনি আপনি বলেন: ‘আমি একে রূপান্তরিত করেছি’ (সাররাফতুহু), ‘আমি একে রূপান্তর করি’ (উসাররিফুহু), ‘রূপান্তর করা’ (তাসরিফান)। আর এর অনুবর্তী (مطাوع) রূপে বলেন: ‘তা রূপান্তরিত হয়েছে’ (তাসাররাফা), ‘রূপান্তরিত হয়’ (ইয়াতাসাররাফু), ‘রূপান্তর গ্রহণ’ (তাসাররুফান)। সুতরাং ‘তাসাররাফা’ হলো ‘সাররাফতু’ এর অনুবর্তী (مطاوع), আর ‘আত-তাসাররুফ’ হলো ‘আত-তাসরিফ’ এর অনুবর্তী (مطاوع)। অনুবর্তী ক্রিয়াসমূহ (الأفعال المطاوعة) বলতে তারা এটাই বুঝিয়ে থাকেন।

 

‌‌ব্যাকরণশাস্ত্রে শব্দরূপান্তর (التصريف) এবং এর প্রয়োগ (التصرف): হলো মূল অক্ষরসমূহের (الحروف الأصول) একটি কাঠামো গ্রহণ করা, অতঃপর তা থেকে বৃদ্ধি বা হ্রাসের মাধ্যমে বিভিন্ন কাঠামো আহরণ (اشتقاق) করা, যেখানে প্রতিটি কাঠামো এমন অর্থের ওপর প্রমাণ (دلالة) বহন করে যা অন্য কাঠামোটি করে না। এর উদাহরণ হলো, আপনি ‘দ. র. ব.’ (ض. ر. ب) এর কাঠামোটি গ্রহণ করলেন। এরপর যদি আপনি তা থেকে অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘দরাবা’। যদি তা থেকে ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مستقبل) আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘ইয়াদরিবু’। যদি তা থেকে আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر) আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘ইদরিব’। যদি তা থেকে নিষেধসূচক ক্রিয়া (نهي) আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘লা তাদরিব’। যদি তা থেকে ক্রিয়ামূল (مصدر) আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘দারবান’ এবং ‘মাদরাবান’। যদি তা থেকে কাল বা স্থানের বিশেষ্য (اسم زمان أو مكان) আহরণ (اشتقاق) করেন যেখানে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়, তবে বলবেন: ‘মাদরিবান’। যদি তা থেকে কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل) আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘দারিবুন’। যদি তা থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘মাদরুবুন’। যদি তা থেকে আধিক্য ও পুনরাবৃত্তি (التكثير والتكرير) বোঝানোর জন্য কোনো রূপ আহরণ (اشتقاق) করেন, তবে বলবেন: ‘দাররাবা’। আর যদি তা থেকে এমন কর্মবাচক রূপ আহরণ (اشتقاق) করেন যার কর্তা উল্লিখিত হয়নি (المفعول الذي لم يذكر فاعله), তবে বলবেন: ‘দুরিবা’। আর যদি তা থেকে এমন রূপ আহরণ (اشتقاق) করেন যা কোনো কিছু প্রার্থনা বা তলব করা বোঝায়...
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১২)
الفعل قلت: "استضْرَبَ" وإن أردت أنّه فَعَلَ من الضَّرْب مثل ما فُعِلَ به على جهة المقابلة قلت: "ضاربَ زيدٌ عمرًا" فإن أردت أنّه فعل الضَّرْب في نفسه مع اختلاجٍ وحركة قلت: "اضطرب". فقد رأيت كيف تصرَّفْتَ في المثال الواحد بأن اشتققت منه هذه الأمثلة الكثيرة ودللت بكلِّ بناءٍ منها على معنًى لا يدلّ عليه الآخر.

فهذا هو التصريف في الكلام والتصرُّف فيه وسنبيِّن بعد هذا الفصل - إن شاء الله - الأصول من الزَّوائد.

 

‌‌والتَّصريف ينقسم ثلاثة أقسام وهي: الزّيادة والنَّقْصُ والبَدَلُ.

فأمّا الزيادة فتكون شيئين: إمّا زيادةُ حرف أو زيادة حركة فإذا قلت: "ضارِبٌ" فقد زدت حرفًا على الأصل وهو الألف، وإذا قلت "مُكْرِمٌ" فقد زدت حرفًا على الأصل وهو الميم، وإذا قلت "مَضْرُوبٌ" فقد زدت حرفين على الأصل وهما الميم والواو.

فأمّا زيادة الحركة فكلّ ساكنٍ حرّكته فقد زدت فيه حركةً لم تكن في أصله تقول في "نَهْرٍ": "نَهَرٌ"، وفي "شَمْعٍ" "شَمَعٌ"، وفي "صَخْرٍ"
ক্রিয়াপদ সম্পর্কে আমি বলি: "ইস্তাদরাবা"। আর যদি আপনি বুঝাতে চান যে, বিনিময়ের প্রেক্ষিতে সে আঘাত করার অনুরূপ কাজ করেছে, তবে আপনি বলবেন: "দ্বরবা যাইদুন আমরান"। আর যদি আপনি বুঝাতে চান যে, সে অস্থিরতা ও নড়াচড়ার সাথে নিজের মধ্যে আঘাতের ক্রিয়াটি সম্পাদন করেছে, তবে আপনি বলবেন: "ইদত্বরাবা"। আপনি দেখলেন কীভাবে একটি মাত্র উদাহরণকে বিভিন্ন রূপে পরিবর্তন করেছেন যে, তা থেকে এই বহুসংখ্যক উদাহরণ গঠন করেছেন এবং প্রতিটি গঠনের মাধ্যমে এমন এক অর্থ নির্দেশ করেছেন যা অন্যটি করে না।

এটিই হলো বাক্যের শব্দরূপান্তর এবং এতে শব্দের পরিবর্তন। আমরা এই পরিচ্ছেদের পর—ইনশাআল্লাহ—মূল বর্ণসমূহ ও অতিরিক্ত বর্ণসমূহ সম্পর্কে বর্ণনা করব।

 

‌‌শব্দরূপান্তর তিন ভাগে বিভক্ত আর সেগুলো হলো: বৃদ্ধি, হ্রাস ও পরিবর্তন।

বৃদ্ধির বিষয়টি দুই প্রকার হতে পারে: বর্ণের বৃদ্ধি অথবা স্বরচিহ্নের বৃদ্ধি। যখন আপনি বলেন: "দ্বরিবুন", তখন আপনি মূল শব্দের ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করেছেন এবং তা হলো আলিফ। যখন আপনি বলেন: "মুকরিমুন", তখন আপনি মূল শব্দের ওপর একটি বর্ণ বৃদ্ধি করেছেন এবং তা হলো মিম। আর যখন আপনি বলেন: "মাদরুবুন", তখন আপনি মূল শব্দের ওপর দুটি বর্ণ বৃদ্ধি করেছেন এবং সেগুলো হলো মিম ও ওয়াও।

আর স্বরচিহ্নের বৃদ্ধির বিষয়টি হলো, প্রতিটি স্থির বর্ণকে যখন আপনি স্বরযুক্ত করেন, তখন আপনি তাতে এমন এক স্বরচিহ্ন বৃদ্ধি করেছেন যা তার মূলে ছিল না। আপনি "নাহরুন" শব্দের ক্ষেত্রে বলেন: "নাহারুন", এবং "শামউন" এর ক্ষেত্রে "শামাউন", এবং "সাখরুন" এর ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১৩)
"صَخَرٌ"، فقد رأيت الأوسط زدت عليه حركة بعد أن كان ساكنًا، وقد قالوا في "رَكّ" "رَكَكٌ"، وهو اسم مكانٍ وقد جاء
"সাখর", আমি লক্ষ্য করেছি যে, মধ্যমাক্ষরটি সুকুনযুক্ত (ساكن) থাকার পর আমি সেটিতে একটি হরকত (حركة) যুক্ত করেছি। তারা "রাক্ক"-এর ক্ষেত্রে "রাকাক" শব্দটিও ব্যবহার করেছেন, যা একটি স্থানের নাম এবং এটি (বর্ণনায়) এসেছে।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১৪)
في شعر زهير:

… ... .... ماءٌ بشرقيِّ سلمى فَيْدٌ أو رَكَكُ

فأمّا النقصُ فهو نقص حرف أو حركة، فمثال ما نقص منه حرف
যুহাইর-এর কবিতায়:

… ... .... সালমার পূর্ব দিকে অবস্থিত কোনো এক জলাশয়; ফায়দ অথবা রাাকাক।

আর ঘাটতি (نقص) বলতে কোনো বর্ণ (حرف) অথবা হরকতের (حركة) ঘাটতিকে বোঝায়। সুতরাং যেখান থেকে একটি বর্ণ (حرف) কম হয়েছে তার উদাহরণ হলো-
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১৫)
قولك: "قاضٍ ومُعْطٍ" سقطت الياء لسكونها وسكون التنوين، وكذلك إذا قلت لم "يبع" ولم "يَقُلْ" ولم "يَخَفْ" و"قُلْ" و"بِعْ" و"خَفْ" أسقطت الياء من يبيعْ والواو من يقولْ والألف من يخافْ، لسكونها وسكون ما بعدها، وكذلك إذا قلت: "ارْمِ" و"ادْعُ" و"اسْعَ" حذفت الياء والواو والألف للوقف، وكذلك إذا قلت: لم "يَرْمِ" ولم "يَسْعَ" ولم "يَدْعُ" حذفتها للجزم، وإذا قلت: "مَقولٌ" و"مَبِيعٌ" فقد حذفت الياء من مَبيعٍ والواو من مَقولٍ لالتقاء الساكنين فهو في نِيّة الإثبات.
আপনার উক্তি: "ক্বাযিন (قاضٍ) এবং মুতিন (مُعْطٍ)"-এর ক্ষেত্রে 'ইয়া' বিলুপ্ত হয়েছে কারণ এটি সাকিন (سكون) এবং তানভীনও (تنوين) সাকিন। অনুরূপভাবে, যখন আপনি বলেন "লাম ইয়াবি' (لم يبع)", "লাম ইয়াকুল (لم يقل)", "লাম ইয়াখাফ (لم يخف)" এবং "কুল (قل)", "বি' (بع)", "খাফ (خف)", তখন আপনি 'ইয়াবিউ' থেকে 'ইয়া', 'ইয়াকুলু' থেকে 'ওয়াও' এবং 'ইয়াখাফু' থেকে 'আলিফ' বিলুপ্ত করেছেন, কারণ সেগুলো সাকিন (سكون) এবং তাদের পরবর্তী অক্ষরটিও সাকিন। একইভাবে যখন আপনি বলেন: "ইরমী (ارْمِ)", "উদউ (ادْعُ)" এবং "ইসআ (اسْعَ)", তখন আপনি বিরতির (وقف) কারণে 'ইয়া', 'ওয়াও' এবং 'আলিফ' বিলুপ্ত করেছেন। তেমনিভাবে যখন আপনি বলেন: "লাম ইয়ারমি (لم يَرْمِ)", "লাম ইয়াসআ (لم يَسْعَ)" এবং "লাম ইয়াদউ (لم يَدْعُ)", তখন আপনি জযম (جزم) প্রদানের কারণে সেগুলো বিলুপ্ত করেছেন। আর যখন আপনি বলেন: "মাকুলুন (مَقولٌ)" এবং "মাবীউন (مَبِيعٌ)", তখন আপনি দুই সাকিনের মিলন (التقاء الساكنين) হওয়ার কারণে 'মাবী' থেকে 'ইয়া' এবং 'মাকুল' থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করেছেন; সুতরাং তা মূলত সাব্যস্ত হওয়ার (إثبات) অর্থেই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১৬)
وأمّا ما نقص منه الحركة فقولك في "فَخِذٍ": "فَخْذٌ"، وفي "كَبِدٍ": "كَبْدٌ"، وفي "عَضُدٍ": "عَضْدٌ"، وفي "كَتِفٍ": "كَتْفٌ" فقد رأيت كيف نقصت الحركة من وسط الكلمة.

والإدغام من هذا الفصل، وهو أن يلتقي الحرفان المثلان أو المتقاربان من كلمة واحدة، أو من كلمتين فيثقلا على اللسان، فإن كانا مثلين أُسْقِطَتْ حركة الأوّل وأُدْغِمَ في الثّاني، تقول في "يَمْدُدُ": "يَمُدُّ"، وفي "يَعْضَضُ": "يَعَضُّ"، وفي "يَفْرِرُ": "يَفِرُّ"، وفي "عَضِضَ": "عَضَّ"، وفي "مَدَدَ": "مَدَّ"، وفي "شَمِمَ": "شَمَّ"، وفي "فَعَلَ لبيدٌ": "فَعَلَّبيدٌ".

وأمّا المتقاربان فهو أن تقلب الأوّل إلى جنس الثاني ثم تدغمه
আর যেক্ষেত্রে হরকত (حركة) হ্রাস পায় তা হলো আপনার 'ফখিজ' (فَخِذٍ)-কে 'ফখজ' (فَخْذٌ) বলা, 'কাবিদ' (كَبِدٍ)-কে 'কাবদ' (كَبْدٌ) বলা, 'আযুদ' (عَضُدٍ)-কে 'আযদ' (عَضْدٌ) বলা এবং 'কাতিফ' (كَتِفٍ)-কে 'কাতফ' (كَتْফٌ) বলা। আপনি লক্ষ্য করেছেন কীভাবে শব্দের মধ্যভাগ থেকে হরকত (حركة) হ্রাস পেয়েছে।

আর সন্ধি বা বিলীনকরণ (إدغام) এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত; তা হলো একই শব্দে কিংবা দুটি পৃথক শব্দে দুটি সমজাতীয় (مثلان) অথবা কাছাকাছি (متقاربان) মাখরাজের বর্ণ একত্রিত হওয়া, যা রসনার নিকট উচ্চারণে ভারি বা কষ্টকর মনে হয়। যদি বর্ণ দুটি সমজাতীয় (مثلان) হয়, তবে প্রথমটির হরকত (حركة) বিলুপ্ত করা হয় এবং দ্বিতীয়টির সাথে বিলীন (إدغام) করে দেওয়া হয়। যেমন আপনি 'ইয়ামদুদু' (يَمْدُدُ)-এর স্থলে 'ইয়ামুদ্দু' (يَمُدُّ), 'ইয়া'যযউ' (يَعْضَضُ)-এর স্থলে 'ইয়া'যযু' (يَعَضُّ), 'ইয়াফরিরু' (يَفْرِرُ)-এর স্থলে 'ইয়াফিররু' (يَفِرُّ), 'আযিযা' (عَضِضَ)-এর স্থলে 'আযযা' (عَضَّ), 'মাদাদা' (مَدَدَ)-এর স্থলে 'মাদ্দা' (مَدَّ), 'শামিমা' (শَمِمَ)-এর স্থলে 'শাম্মা' (শَمَّ) এবং 'ফাআলা লাবীদুন' (فَعَلَ لبيدٌ)-এর স্থলে 'ফাআল্লাবীদুন' (فَعَلَّبيدٌ) বলে থাকেন।

আর কাছাকাছি (متقاربان) মাখরাজের বর্ণের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো প্রথম বর্ণটিকে দ্বিতীয় বর্ণের সমজাতীয় বর্ণে রূপান্তরিত করা এবং এরপর সেটিকে বিলীন (إدغام) করা।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১৭)
فيه كقوله تعالى: (وإن تعجب فَّعجبٌ) (ومن لم يتب فأولئك) فإذا أردت الإدغام قلبت الباء فاءً، وأدغمت الفاء في الفاء، لأنّه لا يصحّ إلّا إدغام مثل في مثل، فلأجل هذا قلبت الأوّل إلى جنس الثاني فقلت: "وإن تعجفَّعجب" و"من لم يتُفَّأُولئك".

والقلب في الإدغام قياسٌ مُطَّرِدٌ لا ينكسر، ونذكر أحكامه ممّا يتعلَّقُ بالتَّصريف.

فأمّا القلب الذي يكون على غير قياسٍ فقول الشاعر:

لها أشاريرُ من لحم تُتَمِّرُه … من الثّعالي ووخزٌ من أرانيها
এতে (যেমন) মহান আল্লাহর বাণী: (আর আপনি যদি বিস্ময় বোধ করেন, তবে বিস্ময়কর হলো...) (এবং যারা তাওবা করে না, তারাই...)। সুতরাং আপনি যখন একীভবন (الإدغام) করতে চাইবেন, তখন আপনি 'বা' বর্ণটিকে 'ফা' বর্ণে রূপান্তরিত (القلب) করবেন এবং 'ফা' বর্ণটিকে 'ফা' বর্ণের মধ্যে একীভূত করবেন। কারণ সমজাতীয় বর্ণের সাথে সমজাতীয় বর্ণ ব্যতীত অন্য কোনো একীভবন (الإدغام) শুদ্ধ হয় না। এই কারণে আপনি প্রথম বর্ণটিকে দ্বিতীয় বর্ণের সমজাতীয় বর্ণে রূপান্তরিত করে বলবেন: "ওয়া ইন তা'জাফ-ফা'আযাব" এবং "ওয়া মাল লাম ইয়াতুফ-ফা উলাইকা" (অর্থাৎ মূল শব্দের 'বা' বর্ণটিকে 'ফা'-তে রূপান্তর করে সন্ধি করা)।

আর একীভবনের (الإدغام) ক্ষেত্রে এই রূপান্তর (القلب) একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি (قياس مطرد) যা লঙ্ঘিত হয় না। আমরা শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (التصريف) সংশ্লিষ্ট এর বিধানসমূহ উল্লেখ করব।

আর যে রূপান্তর (القلب) কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বহির্ভূতভাবে হয়ে থাকে, তার উদাহরণ হলো কবির পঙক্তি:

তার জন্য রয়েছে মাংসের টুকরো যা সে শুকিয়ে সংরক্ষণ করে … শেয়াল এবং খরগোশ শিকার থেকে।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১৮)
أراد من الثّعالب ومن أرانبها فقلب من الباء ياء ليستقيم له الوزن، وقال الآخر:

ولِضَفا ذي جَمِّهِ نقانِقُ

أراد لضفادع فقلب من العين ياءً ليستقيم وزن البيت. وقالوا: "تَضَنَّيْتُ" في تَضَنَّنْتُ فقلبوا من النون ياءً، وقالوا: "تَقَصَّيْتُ" أظفاري وهو تقصَّصْتُ فقلبوا من الصاد ياء، وقال الشاعر:

تقضِّيَ البازي إذا البازي كَسَرْ
তিনি শিয়াল (الثعالب) এবং খরগোশ (أرانب) শব্দদ্বয় বুঝাতে চেয়েছেন, তাই ছন্দের (الوزن) ভারসাম্য রক্ষার নিমিত্তে ‘বা’ (ب) বর্ণকে ‘ইয়া’ (ي) বর্ণে রূপান্তর (قلب) করেছেন। অন্য এক কবি বলেছেন:

এবং প্রচুর জলরাশি বিশিষ্ট জলাশয়ের ব্যাঙের ডাকের ন্যায়

তিনি ‘ব্যাঙ’ (ضفادع) শব্দটিকে বুঝাতে চেয়েছেন, ফলে চরণের ছন্দ (وزن البيت) ঠিক রাখার নিমিত্তে ‘আইন’ (ع) বর্ণকে ‘ইয়া’ (ي) বর্ণে রূপান্তর (قلب) করেছেন। তারা ‘তাযন্নানতু’ (تضننت)-এর স্থলে ‘তাযন্নাইতু’ (تضنيت) ব্যবহার করেছে; সেখানে তারা ‘নুন’ (ن) বর্ণকে ‘ইয়া’ (ي) বর্ণে রূপান্তর (قلب) করেছে। তারা নখ কাটার ক্ষেত্রে ‘তাকাসসাইতু’ (تقصيت) বলেছে, যা মূলত ছিল ‘তাকাসসাসতু’ (تقصصت); এখানে তারা ‘সাদ’ (ص) বর্ণকে ‘ইয়া’ (ي) বর্ণে রূপান্তর (قلب) করেছে। জনৈক কবি বলেছেন:

বাজপাখির ছোঁ মারার ন্যায়, যখন বাজপাখি তার ডানা সংকুচিত করে।
(খণ্ড: ১) শারহুত তাসরীফ লিস-সামানীনী (পৃষ্ঠা: ২১৯)
أراد تَقَضُّضَ فقلب من الضّاد ياء، وقال الله تعالى: (إلاّ مُكاءً وتصديةً) أراد وتصْدِدَةَ فقلب من الدّال الأخيرة ياء، وقال تعالى: (ثم ذهب إلى أهله يتمطّى) أراد يتمطَّط فقلب من الطّاء الأخيرة ياء، وقال تعالى: (وقد خاب من دسّاها) أراد من دَسَّسَها فقلب من السين الأخيرة ياء.

وهذا كله قلبٌ على غير قياس، وإنّما هو طلب للتخفيف.

 

‌‌الكلام في الأصلي والزائد

اعلم أن الأصليَّ عبارة عن الحروف التي تلزم الكلمة في جميع تصريفاتها، ولا يجوز سقوط شيء منها إلّا لعلّة توجب ذلك، وهو إذا سقط في اللفظ مقدَّر في النّية نحو: استخرج يستخرج استخراجًا وهو مُسْتَخْرٍجٌ. فحروفه: "خ ر ج"، لأنّها لازمة للفعل في جميع مُتَصرّفاته، وكذلك: اسْتَضْرَبَ إنّما حروفه: "ض ر ب"
তিনি 'তাকাদুদ' (تقضض) চেয়েছিলেন, তাই তিনি 'দ্বদ' বর্ণটিকে 'ইয়া' তে রূপান্তর করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (শব্দ ও তালি দেয়া ব্যতীত), এখানে মূল শব্দ ছিল 'তাসদিদাহ' (تصددة), যেখানে শেষ 'দাল' বর্ণটিকে 'ইয়া' তে রূপান্তর করা হয়েছে। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: (অতঃপর সে দম্ভভরে নিজ পরিবারের নিকট ফিরে গেল), এখানে মূল শব্দ ছিল 'ইয়াতামাততাত' (يتمطط), যেখানে শেষ 'ত্ব' বর্ণটিকে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: (এবং সে ব্যর্থ হলো যে তাকে কলুষিত করেছে), এখানে মূল ছিল 'দাসসাসাহা' (دسسها), যেখানে শেষ 'সিন' বর্ণটিকে 'ইয়া' দ্বারা রূপান্তর করা হয়েছে।

আর এ সবই হলো নিয়ম-বহির্ভূত রূপান্তর (قلব على غير قياس), যা মূলত উচ্চারণে সহজতা (تخفيف) আনার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

 

‌‌মূল (أصلي) এবং অতিরিক্ত (زائد) বর্ণ সম্পর্কে আলোচনা

জেনে রেখো যে, মূল (أصلي) বলতে এমন সব বর্ণকে বোঝায় যা শব্দের সমস্ত রূপান্তরের (تصريفات) মধ্যে বিদ্যমান থাকে এবং কোনো কারণ (علة) যা অনিবার্য করে তোলে তা ব্যতীত এগুলোর কোনোটি বিলুপ্ত হওয়া বৈধ নয়। আর যদি উচ্চারণের ক্ষেত্রে তা বিলুপ্তও হয়, তবে তা মনে মনে উহ্য রাখা হয়। যেমন: استخرج (সে বের করেছে), يستخرج (সে বের করছে), استخراجًا (বের করা) এবং وهو مُسْتَخْرٍجٌ (এবং সে বেরকারী)। এখানে মূল বর্ণগুলো হলো: "خ ر ج" (খ, র, জ); কারণ এগুলো ক্রিয়ার সকল রূপান্তরের ক্ষেত্রে অপরিহার্য। একইভাবে: اسْتَضْرَبَ এর মূল বর্ণগুলো হলো: "ض ر ب" (দ, র, ব)।