(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: -)
نظرات استشرافية في فقه العلاقات الإنسانية بين المسلمين وغير المسلمين القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: نظرات استشرافية في فقه العلاقات الإنسانية بين المسلمين وغير المسلمين
المؤلف: د. حسن بن محمد سفر
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 24
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 39
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের ফিকহ বিষয়ক দূরদর্শী পর্যবেক্ষণ বিভাগ: সিয়াসা শারইয়্যাহ এবং বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের ফিকহ বিষয়ক দূরদর্শী পর্যবেক্ষণ
লেখক: ড. হাসান বিন মুহাম্মদ সফর
প্রকাশক: বইটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে
(মুদ্রিত বইয়ের) পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১)
نظرات استشرافية في فقه العلاقات الإنسانية بين المسلمين وغير المسلمين إعداد
د. حسن بن محمد سفر
أستاذ نظم الحكم الإسلامي والقضاء والمرافعات الشرعية المشارك
بجامعة الملك عبد العزيز بجدة
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء وسيد المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:
فإن أمتنا الإسلامية تشهد في هذه الفترة العصيبة من حياتها تكالب الأعداء والمغرضين ضد نظامها وأخلاقياتها حيث يصمونها وأهلها بالإرهاب والترويع والعنف والتطرف والفكر الانتحاري. وعلى الرغم من أن هذه الافتراءات والاختلاقات غير صحيحة وتحمل مخططاً لأهداف أخرى يدحضها ما يزخر به تراثها العريق وتشريعاتها العادلة بالأدلة الدامغة التي تنفي تلك الافتراءات والأكاذيب المغرضة.
ومن هذا المنطلق تقوم هذه الدراسة في توضيح المشكل والملتبس في الأذهان على أسس شرعية وأدلة ونصوص تكشف عن سماحة الإسلام ووسطيته، وعدله واتزانه، وتأكيد حواره الحضاري مع الآخرين.
মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে মানবিক সম্পর্কের ফিকহের ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা। প্রস্তুতকরণে:
ড. হাসান বিন মুহাম্মদ সাফার
সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামি শাসন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ ও শারয়ী আইনি কার্যবিধি বিভাগ
কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, জেদ্দা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং রাসূলগণের সরদার আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আমাদের মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে তাদের জীবনের এক কঠিন সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে, যেখানে শত্রু ও সংকীর্ণমনা গোষ্ঠীগুলো এর ব্যবস্থা এবং নৈতিকতার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। তারা এই উম্মাহ ও এর অনুসারীদের সন্ত্রাসবাদ, ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, চরমপন্থা এবং আত্মঘাতী চিন্তাধারার অপবাদে অভিযুক্ত করছে। যদিও এই অপবাদ এবং বানোয়াট বিষয়গুলো সঠিক নয় (غير صحيح) এবং এর পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীল নকশা রয়েছে, যা উম্মাহর সুপ্রাচীন ঐতিহ্য এবং ন্যায়নিষ্ঠ আইনমালার অকাট্য দালিলিক প্রমাণের সামনে ধোপে টেকে না। এই দলিলসমূহ (أدلة) সেই সব অপবাদ এবং উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচারকে প্রত্যাখ্যান করে।
এই প্রেক্ষাপট থেকেই বর্তমান গবেষণাটি জনমনে সৃষ্ট অস্পষ্ট (مشكل) ও সংশয়পূর্ণ বিষয়গুলো নিরসনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। এটি শারয়ী ভিত্তি, দলিলসমূহ (أدلة) ও মূল পাঠ (نصوص)-এর আলোকে ইসলামের উদারতা, মধ্যপন্থা (وسطية), ন্যায়বিচার ও ভারসাম্যপূর্ণ রূপটি উন্মোচন করে এবং অন্যদের সাথে এর সভ্যতাভিত্তিক সংলাপের গুরুত্ব নিশ্চিত করে।
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২)
وقد أحسنت جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية صنعاً عندما دعت إلى تنظيم مؤتمر عالمي عن (موقف الإسلام من الإرهاب) . ووجهت إلى انعقاده في عاصمتنا السياسية الرياض، لكون هذه الجامعة تحمل رسالة عظمى، وهي صرح علمي شامخ ذو أهداف تنويرية وتبصيرية لرسالة الإسلام، تهدف إلى تقديم الصورة الصحيحة والمثالية التي جاء بها التشريع الإسلامي رعاية وعدلاً، وتسامحاً وحواراً، ودعوة بالتي هي أحسن حكمة وموعظة.
لقد شُرفت بدعوة الجامعة الموقرة باشتراكي في تقديم بحث ضمن الأعمال العلمية لهذا المؤتمر، وفي ركب الكوكبة الخيّرة من العلماء الأجلاء، والمفكرين، وطلاب العلم.
بحثي الذي اخترت عنوانه هو (نظرات استشرافية في فقه العلاقات الإنسانية بين المسلمين وغير المسلمين) .
وقد اقتضت طبيعته العلمية أن أقسمه إلى الترتيب المنهجي العلمي الآتي:
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে যখন তারা (সন্ত্রাসবাদের প্রতি ইসলামের অবস্থান) বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক রাজধানী রিয়াদে এর আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি মহৎ বার্তা বহন করে এবং এটি একটি সুউচ্চ ইলমি প্রতিষ্ঠান যার লক্ষ্য ইসলামের বার্তার আলোকচ্ছটা এবং অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করা। এর উদ্দেশ্য হলো ইসলামী শরীয়াহ যে সঠিক ও আদর্শ রূপ নিয়ে এসেছে—যা যত্ন, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সংলাপ এবং প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠতর উপায়ে আহ্বানের ওপর প্রতিষ্ঠিত—তা উপস্থাপন করা।
এই সম্মেলনের ইলমি কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে অংশগ্রহণের জন্য সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। আমি এখানে বরেণ্য উলামায়ে কিরাম, চিন্তাবিদ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের এক কল্যাণময় কাফেলার সঙ্গী হতে পেরেছি।
আমার গবেষণার জন্য আমি যে শিরোনামটি নির্বাচন করেছি তা হলো (মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের ফিকহ বিষয়ে ভবিষ্যৎমুখী পর্যালোচনাসমূহ)।
এর ইলমি প্রকৃতির দাবি অনুযায়ী আমি এটিকে নিম্নলিখিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগত বিন্যাসে বিভক্ত করেছি:
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৩)
أولا: مصطلحات البحث ومفاهيمه الشرعية والقانونية جرت المنهجية العلمية عند أهل العلم أن يبدؤوا بتوضيح مفهوم ما يريدون التأليف والبحث فيه ومعناه من حيث المصطلح للعلم أو الموضوع الذي يكتبون فيه.
ومن هنا وجب إيضاح بعض مصطلحات البحث وهي:
العنففي اللغة ضد الرفق، وعنفوان الشيء أوله وهو في عنفوان شبابه أي قوته وعنفه مما يعني أن العنف ضد الرأفة متمثلاً في استخدام القوة ضد شخص آخر (1) .
--------------------------------------------
প্রথমত: গবেষণার পরিভাষা এবং এর শরয়ী ও আইনগত ধারণা বিদ্বানগণের অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো, তাঁরা যে বিষয়ে গ্রন্থ রচনা বা গবেষণা করতে চান, সংশ্লিষ্ট শাস্ত্র বা বিষয়ের পরিভাষাগত অর্থের আলোকে সেই ধারণার ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গবেষণার কিছু পরিভাষা স্পষ্ট করা আবশ্যক, যা নিম্নরূপ:
সহিংসতাভাষাগতভাবে এটি কোমলতার বিপরীত। কোনো বস্তুর 'উনফুওয়ান' বলতে তার শুরু বা প্রারম্ভকে বোঝায়। যেমন বলা হয়—সে তার যৌবনের প্রারম্ভে আছে, অর্থাৎ তার শক্তি ও তেজস্বিতার পূর্ণতায়। এর অর্থ হলো, সহিংসতা হলো দয়া বা কোমলতার বিপরীত, যা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৪)
التطرفلغة من الطرف وهو عدم الثبوت على مرعى واحد. واصطلاحاً هو مجاوزة الاعتدال في الأمر ولزوم طرفه بعيداً عن جمهور الأمة ومنهجها الوسط (1) .
--------------------------------------------
চরমপন্থা (التطرف)শাব্দিক অর্থে এটি ‘তরাফ’ (طرف) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ কোনো একটি নির্দিষ্ট চারণভূমিতে স্থির না থাকা। আর পারিভাষিক পরিভাষায় এটি হলো কোনো বিষয়ে ভারসাম্য বা মধ্যপন্থা (الاعتدال) অতিক্রম করা এবং উম্মাহর অধিকাংশ (جمهور) ও তাদের মধ্যমপন্থা (الوسط) থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রান্তিক পথ অবলম্বন করা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
الاعتداللغة التوسط في الأمر، واصطلاحاً هو لزوم التوسط في الأمر بعيداً عن الإفراط والتفريط (1) .
--------------------------------------------
ভারসাম্য (الاعتدال)আভিধানিক অর্থে এটি কোনো বিষয়ে মধ্যপন্থা (التوسط) অবলম্বন করা, আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো বাড়াবাড়ি (الإفراط) ও ছাড়াছাড়ি (التفريط) থেকে দূরে থেকে কোনো বিষয়ে মধ্যপন্থা (التوسط) বজায় রাখা (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৬)
التسامحهو التجاوز والعفو، وهو دعامة من دعائم العلاقات الإنسانية الإسلامية (1) . والتسامح في الفكر الغربي من المفاهيم والمصطلحات التي ولدت في عصور الإصلاح الديني التي أعقبت القرون الدموية (2) .
وتشير دائرة المعارف البريطانية إلى أن مفهوم التسامح مرتبط بالتعددية وقبول الاختلاف والسماح بحرية الرأي، ثم يؤدي بعد ذلك إلى العفو والتجاوز (3) .
--------------------------------------------
সহনশীলতা (التسامح)এটি হলো উপেক্ষা ও ক্ষমা প্রদর্শন করা, এবং এটি ইসলামি মানবিক সম্পর্কের অন্যতম একটি স্তম্ভ (১)। পাশ্চাত্য চিন্তাধারায় সহনশীলতা (التسامح) হলো সেই সকল ধারণা ও পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত যা রক্তক্ষয়ী শতাব্দীগুলোর পরবর্তী ধর্মীয় সংস্কারের যুগে উদ্ভূত হয়েছিল (২)।
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা উল্লেখ করেছে যে, সহনশীলতার (التسامح) ধারণাটি বহুত্ববাদ, মতভেদ গ্রহণ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার অনুমতির সাথে সম্পৃক্ত, যা পরবর্তীতে ক্ষমা ও উপেক্ষার দিকে ধাবিত করে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإرهابكلمة تستخدم للرعب أو الخوف الذي يسببه فرد أو جماعة أو تنظيم سواء كان ذلك لأغراض سياسية أو شخصية أو غيرها (1) .
وقد عرّف مجمع الفقه الإسلامي الإرهاب بأنه " العدوان الذي يمارسه أفراد أو جماعات أو دول بغياً على الإنسان: دينه، ودمه، وعقله، وماله، وعرضه. ويشمل صنوف التخويف والأذى، والتهديد، والقتل بغير حق، وما يتصل بصور الحرابة، وإخافة السبيل، وقطع الطريق. وكل فعل يهدف إلى إلقاء العنف أو التهديد والرعب بين الناس وترويعهم وإلحاق الضرر بالبيئة أو المرافق العامة والخاصة. وكل هذا من صور الفساد في الأرض التي نهى الله سبحانه وتعالى المسلمين عنها " (2) .
وهي لا شك تعريفات اجتهادية لكنها تؤدي إلى المفهوم العام للإرهاب.
--------------------------------------------
সন্ত্রাসবাদএটি এমন একটি শব্দ যা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠন কর্তৃক সৃষ্ট আতঙ্ক বা ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, চাই তা রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হোক না কেন (১)।
ইসলামী ফিকহ একাডেমি সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় বলেছে যে এটি হলো "সেই সীমালঙ্ঘন যা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র মানুষের দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ এবং সম্মানের বিরুদ্ধে পরিচালনা করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো বিভিন্ন প্রকার ভীতি প্রদর্শন, কষ্ট দেওয়া, হুমকি প্রদান এবং অন্যায়ভাবে হত্যা করা; আর যা হিরাবাহ (الحرابة), পথচারীদের আতঙ্কিত করা এবং পথরোধ করার সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়া মানুষের মধ্যে সহিংসতা, হুমকি বা ভীতি সঞ্চার করা, তাদের আতঙ্কিত করা এবং পরিবেশ বা সরকারি ও বেসরকারি সুযোগ-সুবিধার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রতিটি কাজই এর অন্তর্ভুক্ত। এই সব কিছুই জমিনে ফাসাদ (فساد) বা বিপর্যয় সৃষ্টির রূপ যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন" (২)।
এগুলো নিঃসন্দেহে ইজতিহাদলব্ধ (اجتهادية) সংজ্ঞা, তবে এগুলো সন্ত্রাসবাদের সাধারণ ধারণার দিকেই নিয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثانياً: الشمولية لأحكام الشريعة الإسلامية من المعلوم من أحكام الشريعة الإسلامية بالضرورة ومن خلال الاستقراء يتبين أن الهدف النهائي للإسلام هو هداية البشر إلى الصراط المستقيم والإيمان بالوحدانية والعمل الصالح. فقد أرسل صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق كما قال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ} (1) .
فإذا تحقق هدف الإيمان بالله وقرن بالعمل الصالح عم الخير والسعادة والسلام البشر أفراداً وجماعات، فإذا سادت شريعة السماء التي تحمل الحق والعدل والمساواة والحرية والكرامة وتقمع الظلم فإن الحرب والقتال والاشتباكات تكون استثناء. كما قال تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ} (2) .
وعلى هذا فلا يمكن أن يكون هذا الأمر البغيض هو الأصل في العلاقات بين أمم الأرض وشعوبه التي يطلبها ويقيمها الإسلام بينه وبين غيره من الأمم، إذ جميع من شملتهم رعاية الدولة الإسلامية من غير المسلمين تمتعوا بما حققته لهم الشريعة الإسلامية من مزايا وحقوق وحريات للمسلم دون تفضيل لبعضهم على الآخرين في الحقوق الأساسية الإنسانية.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ইসলামি শরিয়তের বিধানাবলির (أحكام الشريعة) ব্যাপকতা ইসলামি শরিয়তের বিধানাবলি থেকে অকাট্যভাবে জ্ঞাত এবং অনুসন্ধানের (استقراء) মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইসলামের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মানবজাতিকে সঠিক পথের দিশা দান, একত্ববাদে বিশ্বাস এবং নেক আমলের দিকে পরিচালিত করা। নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন" (১)।
যদি আল্লাহর প্রতি ঈমানের লক্ষ্য অর্জিত হয় এবং নেক আমলের সাথে তা সম্পৃক্ত হয়, তবে ব্যক্তি ও সমাজ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে কল্যাণ, সুখ ও শান্তি ছড়িয়ে পড়ে। যখন আসমানি শরিয়ত বিজয়ী হয়—যা সত্য, ন্যায়বিচার, সাম্য, স্বাধীনতা ও মর্যাদা বহন করে এবং জুলুমকে দমন করে—তখন যুদ্ধ, লড়াই ও সংঘাত একটি ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের ওপর লড়াই করাকে আবশ্যক করা (كتب) হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়" (২)।
এর ভিত্তিতে, এই অপছন্দনীয় বিষয়টি বিশ্বের জাতি ও গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হতে পারে না, যা ইসলাম অন্যান্য জাতির সাথে প্রত্যাশা করে ও স্থাপন করে। কারণ ইসলামি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা সকল অমুসলিম সেই সকল সুযোগ-সুবিধা, অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করেছেন যা ইসলামি শরিয়ত নিশ্চিত করেছে; মৌলিক মানবিক অধিকারের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ বা পক্ষপাত করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولهذا فإن العلاقة بين مختلف تجمعات الأمة الإسلامية وإن تعددت كياناتها السياسية هي السلام الذي تحققه مبادئ السماء وكفالة الإسلام لحقوق غير المسلمين. ويتجلى ذلك فيما يأتي:
আর একারণেই মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন জনসমষ্টির মধ্যকার সম্পর্ক—তাদের রাজনৈতিক সত্তা একাধিক হওয়া সত্ত্বেও—হলো শান্তি, যা আসমানি মূলনীতিসমূহ এবং অমুসলিমদের অধিকার রক্ষায় ইসলামের জামানতের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়:
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
أولاً: كفالة حقوق غير المسلمينجاء الإسلام الحنيف وفي جوهر مقاصده بقاء الإنسان ناهضاً بتبعاته يسعد بحياة آمنة لا يرى فيها ظلماً ولا هضماً. فالعدالة والإنصاف والقسطاس سمة الحياة في الإسلام، والاستقامة ورعاية الحقوق وأداء الواجبات هي الأمل والعمل والسبيل والهدف، وإن الإنسانية في مسيرتها عبر التاريخ في الزمان والمكان لم تعرف دعوة إلى العدل كما عرفتها في ظل الإسلام ليستقر المجتمع الدولي ويعيش في أمن وأمان (1) . وتحقيقاً لمفهوم الأمن الشامل كفل الإسلام المعاملة الحسنة والرعاية الكريمة لغير المسلمين الذين يقيمون في دار الإسلام (2) على أن يكون لهم ما للمسلمين من حقوق ورعاية واهتمام وحماية، وعليهم ما على المسلمين من واجبات (3) . فأصبح الأجنبي يتمتع بجميع الحقوق والأمان الذي يتمتع به المواطن المسلم، وأصبح الجميع متساوين وحقوقهم مصانة وفي مقدمة ذلك أنفسهم وممتلكاتهم وأعراضهم ودينهم (4) .
--------------------------------------------
প্রথমত: অমুসলিমদের অধিকারের নিশ্চয়তাপরিশুদ্ধ ইসলাম এমনভাবে এসেছে যে, তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সারকথা হলো মানুষের অস্তিত্বকে স্বীয় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রাখা, যেন সে এমন এক নিরাপদ জীবন নিয়ে সুখী হতে পারে যেখানে কোনো জুলুম বা অধিকার হরণ পরিলক্ষিত হবে না। ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও ভারসাম্যই হলো ইসলামের জীবনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য; আর সততা, অধিকার সংরক্ষণ ও কর্তব্য পালন হলো এর আশা, কর্ম, পথ ও লক্ষ্য। স্থান ও কালের দীর্ঘ পরিক্রমায় মানবজাতির ইতিহাস ন্যায়বিচারের প্রতি এমন কোনো আহ্বান প্রত্যক্ষ করেনি, যা সে ইসলামের ছায়াতলে প্রত্যক্ষ করেছে; যাতে আন্তর্জাতিক সমাজ স্থিতিশীল হয় এবং শান্তি ও নিরাপত্তার (১) মাঝে বসবাস করতে পারে। ব্যাপক নিরাপত্তার ধারণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলাম সেইসব অমুসলিমদের সাথে সদয় ব্যবহার ও সম্মানজনক আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছে যারা দারুল ইসলাম (دار الإسلام) (২)-এ বসবাস করে। তাদের জন্য ঠিক তেমনই অধিকার, যত্ন, মনোযোগ ও সুরক্ষা থাকবে যা মুসলমানদের জন্য রয়েছে, আর তাদের ওপর তেমনই কর্তব্য বর্তাবে যা মুসলমানদের ওপর রয়েছে (৩)। ফলে বিদেশি নাগরিকগণ সেই সকল অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করতে শুরু করেন যা একজন মুসলিম নাগরিক ভোগ করে থাকেন এবং সবাই সমান হিসেবে পরিগণিত হন। তাদের অধিকারসমূহ সংরক্ষিত হয়, যার শীর্ষে রয়েছে তাদের জীবন, সম্পদ, সম্মান ও ধর্ম (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثانياً: تميز الشريعة الإسلامية في كفالة حرية الاعتقادفي مجال العلاقات الدولية الإنسانية في شريعة الإسلام تميّزه في جعل حرية العقيدة لغير المسلمين أمراً مقرراً لأن الإسلام لا يكره أحداً على الدخول فيه ذلك لأن الله خلق الناس جميعاً مختلفين في أديانهم وألوانهم وعاداتهم وتقاليدهم ولا يزالون كذلك إلى يوم الدين يؤكد ذلك أن القرآن الكريم أنزل سورة كاملة تحتوي على هذا المفهوم الشامل. قال تعالى: {قُلْ يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ} {لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ} {وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ} {وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ} {وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ} {لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ} (1) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে ইসলামি শরিয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্যআন্তর্জাতিক মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অমুসলিমদের জন্য বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করা। কারণ ইসলাম কাউকে এই ধর্মে প্রবেশের জন্য বাধ্য করে না। এর কারণ হলো, আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে তাদের ধর্ম, বর্ণ, অভ্যাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তারা এমনই থাকবে। পবিত্র কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে এই ব্যাপক ধারণাটি সুনিশ্চিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, হে কাফিরগণ, আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা কর। এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি। আর আমি ইবাদতকারী নই তার যার ইবাদত তোমরা করেছ। আর তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثالثاً: التعايش مع الأديان الأخرىطالبنا الإسلام وفق أخلاقياته وسموّ نظرياته إلى معايشة الأديان الأخرى والتساكن معها مهما اختلفت لأن هذا الاختلاف بين الناس أمر حتمي قضى به خالق الناس لحكمة يعلمها هو جل وعلا. يؤكد ذلك قوله تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} (1) .
هذا وإن من السمات البارزة والمزايا الحميدة للإسلام أنه دين يعترف بالأديان السماوية الأخرى، وأن نبي الإسلام محمداً صلى الله عليه وسلم قد آمن بما أنزل على موسى وعيسى مما لم يحرفه اليهود ولا النصارى. كما قال تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ} (2) . كما أكد القرآن الكريم أن الذي أنزل على موسى وعيسى عليهما السلام هدى ونور للناس. قال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ} (3)
فأي تعايش وتساكن واعتراف أفضل مما جاءت به الشريعة الإسلامية (4) .
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: অন্যান্য ধর্মের সাথে সহাবস্থানইসলাম তার নৈতিকতা ও আদর্শের শ্রেষ্ঠত্বের নিরিখে আমাদের অন্যান্য ধর্মের সাথে সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে বসবাস করার আহ্বান জানিয়েছে, তাদের মধ্যে যে পার্থক্যই থাকুক না কেন। কেননা মানুষের মধ্যে এই মতপার্থক্য একটি অনিবার্য বিষয়, যা মানুষের স্রষ্টা তাঁর গূঢ় হিকমতের কারণে নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহর এই বাণী এটি নিশ্চিত করে: "আর তোমার প্রতিপালক যদি ইচ্ছে করতেন, তবে জমিনের বুকে যারা আছে তারা সকলেই ঈমান আনত। তবে কি তুমি মুমিন হওয়ার জন্য মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে?" (১)।
ইসলামের অন্যতম উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য ও প্রশংসনীয় গুণ হলো, এটি এমন একটি ধর্ম যা অন্যান্য আসমানি ধর্মসমূহকে স্বীকৃতি দেয়। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার প্রতি ঈমান এনেছিলেন, যা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মাধ্যমে বিকৃত হয়নি। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "রাসূল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছে" (২)। পবিত্র কুরআন আরও নিশ্চিত করেছে যে, মুসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা ছিল মানুষের জন্য হিদায়েত ও আলো। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়েত ও আলো" (৩)।
সুতরাং ইসলামী শরিয়াহ যে সহাবস্থান, শান্তিপূর্ণ বসবাস ও স্বীকৃতির কথা নিয়ে এসেছে, তার চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
رابعاً: تميز الحكم الإسلامي بصيانة الحقوق والحرياتتشير المعاملة الإسلامية لغير المسلمين في ظل دولة الإسلام الحق والقانون والحماية إلى تميز الحكم الإسلامي بصيانة الحقوق والأخلاق ودفع الظلم وإنجاز كل ما فيه خير للفرد والأمة في الحاضر والمستقبل. وبطبيعة الحال يشمل ذلك غير المسلمين، فجعل النظام السياسي الإسلامي الحكم أمانة (1) . يجب تحقيق مفهوم العدالة فيها تطبيقاً وتنفيذاً شرعياً كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} (2) .
ولا شك أن وجود السلطة القضائية المستقلة العادلة النزيهة (3) لهو أكبر الضمانات لمحاكمة تتوافر لها عوامل الحيدة والنزاهة والاستقلال (4) . ومن صور المساواة والعدالة في الحكومة التسوية في مجلس القضاء والاستماع إلى الخصم غير المسلم وعدم الضيق بهم والحنق عليهم (5) كما جاء ذلك في توجيهات النظم القضائية الإسلامية.
--------------------------------------------
চতুর্থত: অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষায় ইসলামি শাসনের অনন্য বৈশিষ্ট্যসত্য, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার রাষ্ট্র হিসেবে ইসলামি রাষ্ট্রের অধীনে অমুসলিমদের প্রতি ইসলামি আচরণ মূলত অধিকার ও নৈতিকতা সংরক্ষণ, জুলুম প্রতিরোধ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে ব্যক্তি ও জাতির জন্য কল্যাণকর প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনে ইসলামি শাসনের শ্রেষ্ঠত্বকেই নির্দেশ করে। স্বাভাবিকভাবেই এর অন্তর্ভুক্ত অমুসলিম নাগরিকগণও। ফলে ইসলামি রাজনৈতিক ব্যবস্থা শাসনক্ষমতাকে একটি আমানত (১) হিসেবে গণ্য করেছে। এতে ন্যায়বিচারের ধারণা বাস্তবায়ন ও এর শরয়ি প্রয়োগ নিশ্চিত করা আবশ্যক, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করবে, তখন ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করবে} (২)।
নিঃসন্দেহে একটি স্বাধীন, ন্যায়নিষ্ঠ ও কলঙ্কমুক্ত বিচার বিভাগের (৩) উপস্থিতিই হলো এমন একটি বিচারিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা, যেখানে নিরপেক্ষতা, সততা ও স্বাধীনতার উপাদানসমূহ বিদ্যমান থাকে (৪)। শাসনব্যবস্থায় সাম্য ও ন্যায়বিচারের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো বিচারিক মজলিসে সমতা রক্ষা করা, অমুসলিম বিবাদীর বক্তব্য শোনা এবং তাদের প্রতি সংকীর্ণমনা না হওয়া কিংবা তাদের ওপর ক্রুদ্ধ না হওয়া (৫), যেমনটি ইসলামি বিচার ব্যবস্থার নির্দেশনাসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فمما سبق يتضح لنا أن الشريعة الإسلامية أقرت مبدأ أصول العلاقات الإنسانية بين المسلمين والأمم الأخرى وترسيخ احترام الحريات وذلك منذ أربعة عشر قرنا وعدم التضييق على المخالفين وإرهابهم وترويعهم وبذلك تندحر المقولة المزعومة والتي يتشدق بها الأعداء الحاقدون على نظم الإسلامي مرددين مقولة: إن الإسلام انتشر بالسيف ذلك أن الإسلامي انتشر عن طريق الدعوة بالتي هي أحسن والمجادلة المقنعة والحوار الهادف البناء والتسامح في المعاملة، ولم يعرف السيف إلا دفاعاً عن حرماته ومقدساته من أن تنتهك أو تمتهن من قبل أعداء الإسلام لأن الجهاد في الإسلام على ضربين:
الأول: جهاد الدفع، حماية لمقدسات المسلمين وأوطانهم أن تسلب أو أن تهان أو أن تغتصب.
الثاني: جهاد الطلب كما حصل في الفتوحات الإسلامية في عهد أبي بكر الصديق وعمر بن الخطاب والخلفاء الراشدين.
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামি শরিয়াহ চৌদ্দশ বছর পূর্বেই মুসলিম ও অন্যান্য জাতির মধ্যে মানবিক সম্পর্কের মূলনীতির ভিত্তি অনুমোদন করেছে এবং স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সুদৃঢ় করেছে। এটি ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি কোনো প্রকার সংকীর্ণতা সৃষ্টি করা অথবা তাদের আতঙ্কিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত না করার নীতি গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সেই ভিত্তিহীন দাবিটি খণ্ডিত হয়ে যায়, যা ইসলামের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ শত্রুরা আস্ফালনের সাথে বলে থাকে যে: ইসলাম তরবারির মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছে। অথচ ইসলাম প্রসারিত হয়েছে সর্বোত্তম পন্থায় দাওয়াত (دعوة), সন্তোষজনক বিতর্ক, গঠনমূলক ও উদ্দেশ্যধর্মী সংলাপ এবং পারস্পরিক আচরণের সহনশীলতার মাধ্যমে। ইসলাম শত্রুদের পক্ষ থেকে এর মর্যাদা ও পবিত্র স্থানসমূহের অবমাননা বা লাঞ্ছনা রোধে আত্মরক্ষা ব্যতীত কখনও তরবারির ব্যবহার জানত না। কারণ ইসলামে জিহাদ (جهاد) দুই প্রকার:
প্রথম: আত্মরক্ষামূলক জিহাদ (جهاد الدفع), যা মুসলিমদের পবিত্র স্থান ও তাদের স্বদেশকে লুণ্ঠিত, লাঞ্ছিত বা জবরদখল হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য।
দ্বিতীয়: আক্রমণাত্মক জিহাদ (جهاد الطلب), যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে ইসলামি বিজয়াভিযানসমূহে সংঘটিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وكل هذا ليؤكد أن القواعد التشريعية الإسلامية في فقه العلاقات الدولية والتساكن والتعايش مع غير المسلمين قد سبقت كل قواعد القانون الدولي بأربعة عشر قرناً فيما يتعلق بالعلاقات الإسلامية (1) . ومن مظاهر التميز في صيانة الحقوق والأخلاق ما منحته الشريعة الإسلامية من مزايا وأمان للأجانب في ظل الدولة الإسلامية.
--------------------------------------------
এই সবকিছুই এটি নিশ্চিত করে যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ফিকহ (فقه) এবং অমুসলিমদের সাথে সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের ক্ষেত্রে ইসলামি আইনি নীতিমালাসমূহ (القواعد التشريعية) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আইনের সকল নীতিমালার চেয়ে চৌদ্দ শতাব্দী আগেই অগ্রগামী ছিল (১)। অধিকার ও নৈতিকতা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম একটি দিক হলো ইসলামি রাষ্ট্রের অধীনে বিদেশিদের জন্য ইসলামি শরিয়াহ (شريعة) প্রদত্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خامساً: تمتع الأجنبي بالأمانجاء الإسلام بشريعة عادلة ونظم إنسانية تحترم الإنسان وتكرمه وتمنحه الرعاية والحماية والأمان. وقد أبان الفقهاء أن الأمان للأجنبي يتمثل في تحقيق الدولة الإسلامية الأمن والحماية لمن لجأ إليها (1) . وقد عرّفه فقهاء المالكية بأنه " رفع استباحة دم الحربي، واسترقاقه وماله حين قتاله. مع استقراره تحت حكم الإسلام مدة ما " (2) . وقد ضرب الإسلام أروع الأمثلة في تمتع الأجنبي بالأمان. قال الإمام الحافظ ابن كثير رحمه الله في تفسيره لقوله تبارك وتعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْلَمُونَ} (3) . والغرض أن من قدم من دار الحرب إلى دار الإسلام في أداء رسالة أو تجارة أو طلب صلح أو مهادنة أو حمل جزية أو نحو ذلك من الأسباب وطلب من الإمام أو نائبه أماناً أعطي أماناً ما دام متردداً في دار الإسلام وحتى يرجع إلى داره ومأمنه ووطنه (4) .
--------------------------------------------
পঞ্চম: বিদেশীদের নিরাপত্তা ভোগ করাইসলাম এমন এক ন্যায়নিষ্ঠ শরিয়ত ও মানবিক ব্যবস্থা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে যা মানুষকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে এবং তাকে সেবা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান করে। ফকিহগণ (আইনবিদগণ) স্পষ্ট করেছেন যে, বিদেশীদের জন্য নিরাপত্তা বলতে বুঝায় ইসলামি রাষ্ট্র কর্তৃক সেই ব্যক্তির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছে (১)। মালিকি মাযহাবের ফকিহগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, "যুদ্ধরত অবিশ্বাসী (حربي)-র রক্ত প্রবাহিত করার বৈধতা, তাকে দাসত্বে নেওয়া এবং যুদ্ধের সময় তার সম্পদের বৈধতা স্থগিত করা; যতক্ষণ সে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইসলামের শাসনের অধীনে অবস্থান করে" (২)। ইসলাম বিদেশীদের নিরাপত্তা ভোগের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম দৃষ্টান্তসমূহ স্থাপন করেছে। ইমাম হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসির (রহ.) মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে বলেন: {আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এটা এ জন্য যে, তারা এমন এক জাতি যারা জানে না} (৩)। এর উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি কোনো বার্তা নিয়ে, ব্যবসার প্রয়োজনে, কিংবা সন্ধি বা যুদ্ধবিরতি প্রার্থনা অথবা জিজিয়া বহন কিংবা এজাতীয় কোনো কারণে দারুল হারব থেকে দারুল ইসলামে আগমন করে এবং ইমাম বা তার প্রতিনিধির কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করে, তাকে নিরাপত্তা প্রদান করা হবে যতক্ষণ সে দারুল ইসলামে অবস্থান করবে এবং যতক্ষণ না সে তার নিজ ঘর, নিরাপদ স্থান ও স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করবে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال الإمام القرطبي رحمه الله: " وقد كان المشركون يطلبون لقاء رسول الله صلى الله عليه وسلم لأجل الكلام في الصلح وغيره من مصالح دنياهم، وقد أجمع الفقهاء على أن من طلب الأمان لسماع كلام الله والتعرف على شرائع الإسلام يجب أن يعطاه ثم يرد إلى مأمنه للآية الكريمة، وإن حكمها باق مستمر إلى يوم القيامة، ولم يشرع الجهاد في الإسلام إلا لتمكين كل فرد من العالم من سماع كلام الله في أمن واطمئنان وحرية تامة " (1) . وقد قرر الإمام الفقيه الحسن البصري رحمه الله وكذا مجاهد رحمه الله أن هذه الآية من محكم آي الذكر الحكيم إلى يوم القيامة (2) .
ومن خلال هذه النصوص الشرعية والأقوال الفقهية يتضح كفالة الإسلام في تمتع المستأمن في المحافظة على نفسه وماله لكونه إنساناً ما دام محافظاً على الآداب والسلوك الإسلامي وفقه العلاقات الدولية وفهمه له ولم ينحرف عنه. ومما يزيد تمتع الأجنبي بالأمان في شريعة سيد الأنام صلى الله عليه وسلم أن الفقهاء رحمهم الله قالوا: إن المستأمن بمنزلة أهل الذمة في دارنا إجماعاً (3) .
--------------------------------------------
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মুশরিকরা শান্তি চুক্তি এবং তাদের দুনিয়াবী অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাতের আবেদন জানাত। ফকিহগণ (الفقهاء) এ ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, আল্লাহর বাণী শোনার এবং ইসলামের বিধানগুলো জানার উদ্দেশ্যে যদি কেউ নিরাপত্তা (الأمان) প্রার্থনা করে, তবে উক্ত মহিমান্বিত আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অবশ্যই তা প্রদান করতে হবে এবং পরবর্তীতে তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে হবে। আর এই বিধান কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ইসলামে জিহাদ (الجهاد) কেবল এজন্যই প্রবর্তন করা হয়েছে যাতে বিশ্বের প্রতিটি ব্যক্তি পূর্ণ নিরাপত্তা, প্রশান্তি এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে আল্লাহর বাণী শোনার সুযোগ পায়।" (১)। ফকিহ (الفقيه) ইমাম হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) এবং মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) সাব্যস্ত করেছেন যে, এই আয়াতটি কিয়ামত পর্যন্ত মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের একটি সুস্পষ্ট (محكم) আয়াত (২)।
এসকল শরয়ী দলীল (النصوص) এবং ফিকহি উক্তির মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, একজন মানুষ হিসেবে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা প্রার্থনাকারী (المستأمن) ইসলামী শিষ্টাচার ও আচরণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ফিকহ (الفقه) যথাযথভাবে মেনে চলে এবং তা থেকে বিচ্যুত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তার জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ইসলাম নিশ্চয়তা প্রদান করে। সৃষ্টির সেরা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরিয়তে একজন বিদেশীর নিরাপত্তা লাভের বিষয়টি আরও জোরালো হয় ফকিহগণের (الفقهاء) এই বক্তব্যের মাধ্যমে যে: "নিরাপত্তা প্রার্থনাকারী (المستأمن) আমাদের ভূখণ্ডে অবস্থানকালে সর্বসম্মতভাবে (إجماعاً) জিম্মিদের (أهل الذمة) পর্যায়ভুক্ত হবে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد أشار الإمام السرخسي [483 هـ ت] في المبسوط: " أن أموالهم صارت مضمونة بحكم الأمان فلا يمكن أخذها، ولا تقيد حريتهم في الاعتقاد والتنقل والمسكن، ولا يزج بهم في السجون وتجب رعاية هذا الأمان ما دام ساري المفعول " (1) .
ولا شك أن هذا التمتع إنما هو مصدر للرعاية الحقيقية التي منحتهم إياها الشريعة الإسلامية أكثر من القانون الدولي. وقد رتب الفقهاء على هذه الامتيازات أنه لا يجوز لدار الإسلام تسليم المستأمن إلى دولته دون الرجوع إليه ورضاه بذلك ولو على سبيل المبادلة بأسير مسلم (2) .
--------------------------------------------
ইমাম সারাখসি [৪৮৩ হিজরি] আল-মাবসুত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "নিরাপত্তার (الأمان) বিধান অনুযায়ী তাদের ধন-সম্পদ সুরক্ষিত হয়েছে, ফলে তা কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়; বিশ্বাস, চলাচল ও বাসস্থানের ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতা খর্ব করা যাবে না; তাদেরকে কারাগারে নিক্ষেপ করা যাবে না এবং এই নিরাপত্তা যতক্ষণ বলবৎ থাকে, ততক্ষণ তা রক্ষা করা আবশ্যক।" (১) ।
নিঃসন্দেহে এই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা মূলত সেই প্রকৃত যত্নেরই উৎস, যা ইসলামি শরিয়াহ তাদেরকে আন্তর্জাতিক আইনের তুলনায় অধিক প্রদান করেছে। ফকিহগণ এই বিশেষ অধিকারগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই নীতি নির্ধারণ করেছেন যে, ইসলামি রাষ্ট্রের (دار الإسلام) জন্য কোনো আশ্রয়গ্রহণকারীকে (المستأمن) তার অনুমতি ও সম্মতি ব্যতিরেকে তার নিজ রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা বৈধ নয়, এমনকি কোনো মুসলিম বন্দীর (أسير) বিনিময়ে হলেও (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كما تظهر لنا سماحة الإسلام بصورة تدعو على الإعجاب والإكبار لعظمة هذه الشريعة الإسلامية ذات النزعة الإنسانية إذا علمنا أنه يدعو ببر المستأمن، والرفق في معاملته؛ فهذا الفقيه الضليع الإمام الشيباني رحمه الله يقول: " لا بأس أن يصل المسلم الرجل المشرك قريباً كان أم بعيداً، محارباً كان أم ذمياً، لحديث «سلمة بن الأكوع. قال: صليت الصبح مع النبي صلى الله عليه وسلم فقال: هل أنت واهب لي ابنة أم قرفة؟ قلت: نعم، فوهبتها له، فبعث بها إلى خاله حزن بن أبي وهب وهو مشرك وهي مشركة» . «وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بخمسمائة دينار إلى مكة حين قحطوا، وأمر بدفعها إلى أبي سفيان بن حرب ليتولى توزيعها على المحتاجين من أهل مكة» (1) . فأي امتياز وتمتع للأجنبي في نظام أو قانون مثل الإسلام. فلم تكن نظرية بل كانت سلوكاً واقعياً في حياة المسلمين وفي صلاتهم وعلاقاتهم بغيرهم وهي جزء لا يتجزأ من العقيدة. وإن الخروج على العهود وعدم الالتزام (2) بها وتطبيقها يعد خيانة والله لا يحب الخائنين.
--------------------------------------------
ইসলামের ঔদার্য আমাদের সামনে এমন এক মহিমান্বিত রূপে প্রতিভাত হয় যা এই মানবিক ঝোঁকসম্পন্ন ইসলামী শরীয়তের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি প্রশংসা ও শ্রদ্ধার উদ্রেক করে। বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পারি যে, ইসলাম নিরাপত্তা প্রার্থনাকারী (مستأمن)-এর সাথে সদ্ব্যবহার এবং তার প্রতি নম্র আচরণের নির্দেশ দেয়। প্রথিতযশা ফকিহ ইমাম শায়বানি (রহ.) বলেন: "একজন মুসলিমের জন্য কোনো মুশরিক (مشرك) ব্যক্তির সাথে সদাচরণ বা সুসম্পর্ক রাখা দোষণীয় নয়, সে আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়, যুদ্ধরত (محارب) হোক বা জিম্মি (ذمي) নাগরিক।" কারণ সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.)-এর হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। তিনি বললেন: 'তুমি কি উম্মে কুরফার কন্যাকে আমাকে দান করবে?' আমি বললাম: 'হ্যাঁ'। অতঃপর আমি তাকে নবীজিকে দান করলাম। তিনি তাকে তার মামা হাযন ইবনে আবি ওয়াহবের নিকট পাঠিয়ে দিলেন; এমতাবস্থায় যে তিনি ছিলেন একজন মুশরিক (مشرك) এবং সেই নারীও ছিল মুশরিক (مشركة)।" "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় যখন দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল তখন সেখানে পাঁচশ দিনার পাঠিয়েছিলেন এবং আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের নিকট তা হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে তিনি মক্কার অভাবগ্রস্তদের মাঝে তা বণ্টনের দায়িত্ব পালন করেন" (১)। ইসলামের মতো কোনো জীবনব্যবস্থা বা আইনে একজন বিদেশির জন্য এমন বিশেষ মর্যাদা ও সুযোগ আর কোথায় আছে? এটি কেবল কোনো তাত্ত্বিক মতবাদ ছিল না, বরং মুসলিমদের বাস্তব জীবন এবং অন্যদের সাথে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের এক জীবন্ত প্রতিফলন ছিল, যা আকিদার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর অঙ্গীকার ভঙ্গ করা এবং তা রক্ষা (২) ও বাস্তবায়নে অবহেলা করা খেয়ানত হিসেবে গণ্য হয়; আর আল্লাহ খেয়ানতকারীদের ভালোবাসেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
سادساً: الموفدون والديبلوماسيينالديبلوماسية هي " فنون وأساليب التعاون والتعامل بين الدول لتنظيم علاقاتها المختلفة من سياسية، وتجارية، وثقافية، وعسكرية وعلمية ، ولتسوية ما قد يطرأ من أزمات أو فتور يشوب هذه العلاقات، صديقة كانت هذه الدول أم غير صديقة " (1) .
وعَرَف الإسلام منذ بداياته نوعاً من هذه العلاقات مع ما كان يحيط به من قبائل ومجتمعات (2) . وقد تطورت العلاقات الديبلوماسية في الدول الإسلامية واتخذت وجهاً أكثر إشراقاً وتطويراً، وأكثر رقياً بفضل ما وضعه لها النبي صلى الله عليه وسلم من قواعد وآداب وصور متعددة من الحماية والرعاية والمحافظة على الموفدين والديبلوماسيين. كما رافقت العلاقات الديبلوماسية بين الدولة الإسلامية والدول الأخرى صلات حضارية مهمة أسهمت في تقدم البشرية من مختلف الوجوه منها:
(1) الحماية للموفدين والديبلوماسيين:
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: প্রতিনিধি ও কূটনীতিকগণকূটনীতি হলো "রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে তাদের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং এই সম্পর্কগুলোতে কোনো সংকট বা শৈথিল্য দেখা দিলে তা নিরসনের লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আচরণের শিল্প ও পদ্ধতি, চাই রাষ্ট্রগুলো বন্ধুপ্রতিম হোক বা না হোক।" (১)
ইসলাম তার সূচনালগ্ন থেকেই পার্শ্ববর্তী গোত্র ও সমাজগুলোর সাথে এ ধরনের সম্পর্কের একটি রূপ প্রত্যক্ষ করেছে (২)। ইসলামি রাষ্ট্রসমূহে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয়েছে এবং তা আরও উজ্জ্বল, উন্নত ও মার্জিত রূপ পরিগ্রহ করেছে। এর মূলে ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত নীতিমালা, শিষ্টাচার এবং প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের সুরক্ষা, যত্ন ও সংরক্ষণের বহুবিধ কর্মপদ্ধতি। তেমনিভাবে ইসলামি রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতার যোগাযোগও বিদ্যমান ছিল, যা বিভিন্ন দিক থেকে মানবজাতির অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে। তার মধ্যে রয়েছে:
(১) প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের সুরক্ষা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
اعترف العرب بقدسية الموفدين والديبلوماسيين أي مبعوثي الأمم (1) الأخرى. ولما جاء الإسلام بنظامه العادل وتشريعاته القائمة على الاحترام، والمساواة، والكرامة الإنسانية شملت نظم الدولة الإسلامية الموفدين، والسفراء، والديبلوماسيين الوافدين إليها بالأمان والسلام طوال مدة بقائهم في بلادهم حتى يعودوا مطمئنين إلى أوطانهم. كما عرف عن الدولة الإسلامية منذ تأسيسها ونشأتها الحرص التام على تمتع الموفدين، والسفراء، والديبلوماسيين بما يعرف في الاصطلاح الحديث المعاصر للقانون الدولي العام بقاعدة الحصانة الشخصية (2) .
--------------------------------------------
আরবরা অন্যান্য জাতির (১) প্রতিনিধি ও কূটনীতিক তথা দূতদের পবিত্রতাকে স্বীকৃতি প্রদান করত। যখন ইসলাম তার ন্যায়নিষ্ঠ ব্যবস্থা এবং শ্রদ্ধা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত বিধানাবলি নিয়ে অবতীর্ণ হলো, তখন ইসলামি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো আগত প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের তাদের অবস্থানের পুরো সময় নিরাপত্তা ও শান্তির ছায়াতলে স্থান দিল, যতক্ষণ না তারা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যান। অনুরূপভাবে, ইসলামি রাষ্ট্র তার সূচনা ও প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সেই অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে পূর্ণ সচেষ্ট ছিল, যা বর্তমান আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের পরিভাষায় 'ব্যক্তিগত দায়মুক্তি' (২) নীতি হিসেবে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
إذ من المعلوم في الفقه الإسلامي أن ثبوت الأمان للموفد من قومه، أو دولته إلى بلاط الدولة الإسلامية نافذ المفعول بمجرد دخوله إلى الديار الإسلامية إذا ثبت أنه رسول موفد من قومه ولا يكلف إقامة البيّنة، لذا اكتفى الفقهاء بالعلامة وهي أن يكون معه كتاب من حاكم بلاده. فإذا أخرج الكتاب فالظاهر أنه صادق والبناء على الظاهر واجب فيما لا يمكن الوقوف على حقيقته، وهنا لا يتعرض لشخصه بسوء حتى يعود إلى بلاده، لأن أمر القتال والصلح لا يتم إلا بالرسل فلا بد من تحقيق الأمان لهم لتحقيق الغرض من إرسالهم. فقد جاء في كتاب " السير الكبير " للإمام الفقيه محمد بن الحسن الشيباني أن " الولاة إذا ما لقوا رسولاً يسألونه عن اسمه، فإن قال أنا رسول الملك بعثني إلى ملك العرب وهذا كتابه معي، وما معي من الدواب والمتاع والرقيق فهديه إليه فإنه يصدق ولا سبيل عليه، ولا يتعرض له، ولا لما معه من المتاع والسلاح والرقيق والمال. وكذلك لو أن المسلمين أسروا مركباً في البحر، وقال نفر من ركابها: نحن رسل بعثنا الملك فلا يتعرض لهم " (1) . وظاهر النص الفقهي أن الرسل سواء جاؤوا من البر أو البحر فهم آمنون مطمئنون لا يحسون بسوء
--------------------------------------------
যেহেতু ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে এটি সুপরিচিত যে, কোনো গোত্র বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসলামি রাষ্ট্রের দরবারে প্রেরিত দূতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তখনই কার্যকর হয়, যখনই তিনি ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন, যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি তার সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন দূত। এক্ষেত্রে তাকে কোনো (অতিরিক্ত) প্রমাণ উপস্থাপনের ভার প্রদান করা হয় না; তাই ফকিহগণ কেবল বাহ্যিক চিহ্নের ওপর নির্ভর করেছেন, আর তা হলো—তার কাছে নিজ দেশের শাসকের কোনো পত্র থাকা। যখন তিনি সেই পত্রটি উপস্থাপন করেন, তখন বাহ্যিকভাবে এটিই প্রতীয়মান হয় যে তিনি সত্যবাদী (صادق)। আর যে বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা উদ্ঘাটন করা সম্ভব নয়, সেখানে বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ওয়াজিব। এমতাবস্থায়, তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তাকে কোনো প্রকার কষ্ট বা ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না। কারণ, যুদ্ধ কিংবা শান্তির বিষয়গুলো দূতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, তাই তাদের প্রেরণের লক্ষ্য অর্জনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ইমাম ফকিহ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি-এর আস-সিয়ারুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, "শাসকগণ যখন কোনো দূতের দেখা পান, তখন তারা তাকে তার নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। যদি তিনি বলেন: আমি অমুক রাজার দূত, তিনি আমাকে আরবের রাজার কাছে পাঠিয়েছেন এবং এটি আমার কাছে তার পত্র; আর আমার সাথে যে চতুষ্পদ জন্তু, আসবাবপত্র ও দাস রয়েছে তা তার জন্য উপঢৌকন—তবে তাকে সত্যবাদী (صادق) বলে গণ্য করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। তার সাথে থাকা আসবাবপত্র, অস্ত্রশস্ত্র, দাস ও ধন-সম্পদের কোনোটিরই ক্ষতিসাধন করা যাবে না। অনুরূপভাবে, মুসলিমরা যদি সমুদ্রপথে কোনো জাহাজ আটক করে এবং আরোহীদের একদল বলে: আমরা রাজার প্রেরিত দূত, তবে তাদের ওপরও কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না।" (১)। ফকিহগণের এই বক্তব্যের নির্যাস হলো, দূতগণ স্থলপথ বা সমুদ্রপথ—যেভাবেই আসুক না কেন, তারা নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত থাকবেন এবং কোনো প্রকার অপদস্থ হবেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولا يتعرض لهم بأذى (1) .
(2) عصمة دم الموفدين والديبلوماسيين:
--------------------------------------------
এবং তাদের কোনো প্রকার কষ্ট বা ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না (১)।
(২) প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের প্রাণের নিরাপত্তা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد تناول الفقهاء رحمهم الله مفهوم الحماية والرعاية لهؤلاء فثبتت الأدلة الواضحة على العصمة لدماء الرسل والموفدين والديبلوماسيين وصيانة شخصيتهم من أي أذى حتى لو اختلفت وجهات النظر في المفاوضة معهم، وتكلم المبعوث الموفد والديبلوماسي القادم إلى أرض الدولة الإسلامية بكلام لا يتفق مع احترام عقائد المسلمين مما يوجب قتله أو فشل المبعوثين السياسيين في القيام بمهمتهم، فيظل لهم حق التمتع بالحماية والحصانة حتى يعودوا إلى بلادهم التي يأمنون فيها ولنا في رسول الله صلى الله عليه وسلم القدوة والأسوة الحسنة في المعاملة الكريمة والحماية والرعاية العظيمة إذ «لما قدم رسولا مسيلمة الكذاب ابن النواحة وابن أثال إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقد قال لهما: " أتشهدان بأني رسول الله؟ قالوا: نشهد أن مسيلمة رسول الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: آمنت بالله ورسوله، لو كنت قاتلا رسولاً لقتلتكما» (1) ، فمضت السُنة أن الرسل لا تقتل (2) ، وعلى هذا نهج الحكام المسلمين وولاة أمر الدولة الإسلامية على مر السنين والقرون مسترشدين في ذلك سُنة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
ফকিহগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) তাদের জন্য সুরক্ষা ও আশ্রয়ের ধারণাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফলে দূত, প্রতিনিধি এবং কূটনীতিকদের প্রাণের পবিত্রতা ও যেকোনো ধরনের ক্ষতি থেকে তাদের ব্যক্তিসত্তার নিরাপত্তার বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিলসমূহ সাব্যস্ত হয়েছে, এমনকি যদি তাদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে মতপার্থক্যও দেখা দেয়। ইসলামি রাষ্ট্রের ভূমিতে আসা কোনো প্রেরিত দূত বা কূটনীতিক যদি এমন কথা বলেন যা মুসলিমদের আকিদা বা বিশ্বাসের প্রতি সম্মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—যা সাধারণ অবস্থায় তাকে হত্যার উপযুক্ত করে তোলে—অথবা রাজনৈতিক প্রতিনিধিগণ যদি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন; তবুও তারা নিরাপদ নিজ ভূখণ্ডে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সুরক্ষা ও দায়মুক্তি লাভের অধিকার ভোগ করতে থাকবেন। আর মহান আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে আমাদের জন্য সম্মানজনক আচরণ এবং মহান সুরক্ষা ও আশ্রয়ের এক চমৎকার আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রয়েছে। কেননা যখন মসীলামা চরম মিথ্যাবাদী (الكذاب)-এর দুই দূত ইবনে আন-নাওয়াহাহ এবং ইবনে আছাল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাদের বললেন: "তোমরা কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসুল?" তারা বলল: "আমরা সাক্ষ্য দিই যে মসীলামা আল্লাহর রাসুল।" তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান এনেছি। যদি আমি কোনো দূতকে হত্যা করার লোক হতাম, তবে অবশ্যই তোমাদের দুজনকে হত্যা করতাম।" (১)। সুতরাং এই সুন্নাহ (السنة) সাব্যস্ত হয়েছে যে, দূতদের হত্যা করা যাবে না (২)। আর যুগ ও শতাব্দীকাল ধরে মুসলিম শাসক এবং ইসলামি রাষ্ট্রের অভিভাবকগণ এ পথই অনুসরণ করেছেন এবং এক্ষেত্রে তারা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (السنة) থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
«ويروى عن أبي رافع مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: " بعثتني قريش إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ألقي في قلبي الإسلام، فقلت: يا رسول الله، إني والله لا أرجع إليهم أبداً، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إني لا أخيس بالعهد أي لا أنقض العهد، ولا أحبس البرود أي الرسل، ولكن ارجع فإن كان في نفسك الذي في نفسك الآن فارجع» (1) . قال الإمام الشوكاني: معنى هذا الحديث دليل على أنه يجب الوفاء بالعهد للكفار يجب للمسلمين، لأن الرسالة تقتضي جواباً يصل على يد الرسل فكان ذلك بمنزلة عقد العهد، وحتى لا يؤول بأن الرسول صلى الله عليه وسلم قد حبس الرسول أو أن إسلام رسول قريش كان خوفاً على حياته (2) . ?
--------------------------------------------
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস আবু রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে (يروى) যে, তিনি বলেন: "কুরাইশরা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রেরণ করেছিল। অতঃপর যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, তখন আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হলো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম, আমি কখনোই তাদের নিকট আর ফিরে যাব না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'আমি অঙ্গীকার ভঙ্গ করি না অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি লঙ্গন করি না এবং দূতদের অর্থাৎ বার্তাবাহকদের আটকে রাখি না। তবে তুমি ফিরে যাও; এরপরও যদি তোমার হৃদয়ে এখন যা আছে তা অবশিষ্ট থাকে, তবে ফিরে এসো'» (১)। ইমাম শাওকানি বলেন: এই হাদিসের মর্মার্থ এ কথার দলীল (دليل) যে, কাফেরদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব (واجب); কেননা বার্তার দাবি হলো দূতদের মাধ্যমে উত্তর পৌঁছানো, যা একটি চুক্তি সম্পাদনের স্থলাভিষিক্ত। এছাড়া যাতে এমন কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) করার অবকাশ না থাকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো দূতকে বন্দি করেছিলেন অথবা কুরাইশ দূতের ইসলাম গ্রহণ করাটা ছিল প্রাণের ভয়ে (২)।?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد سار على هذا النهج المحمدي الإنساني خلفاء وسلاطين وملوك وأمراء وعظماء حكام المسلمين في المحافظة على حماية الموفدين والديبلوماسيين. قال التابعي الجليل سعيد بن جبير: " جاء رجل من المشركين إلى علي بن أبي طالب رضى الله عنه فقال: يا خليفة المسلمين، إن أراد الرجل منا أن يأتي بحاجة قتل، فقال علي رضى الله عنه: لا، لأن الله تبارك وتعالى يقول: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ} (1) .
فقد استدل الصحابي الجليل خليفة المسلمين علي رضى الله عنه بعدم جواز قتل المشرك القادم في حاجة إلى دار الإسلام بتلك الآية، ومن الحاجات التي يقدم إليها المشركون لدار الإسلام تبليغ الرسائل، ولقد نص الحنفية والشافعية والزيدية والحنابلة على أن الرسل لا تقتل (2) .
--------------------------------------------
এই মুহাম্মদী মানবিক আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই মুসলিম উম্মাহর খলীফাগণ, সুলতানগণ, বাদশাহগণ, আমীরগণ এবং মহান শাসকগণ দূত ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা প্রদানের ধারা বজায় রেখেছেন। মহান তাবিঈ (تابعي) সাঈদ ইবনে জুবায়ের বর্ণনা করেন: "মুশরিকদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বলল: হে মুসলিমদের খলীফা, আমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে আসতে চায়, তবে তাকে হত্যা করা হয়। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: না, কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর যদি মুশরিকদের কোনো একজন তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও।} (১) ।
মহান সাহাবী (صحابي) ও মুসলিমদের খলীফা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উক্ত আয়াতের মাধ্যমে কোনো প্রয়োজনে দারুল ইসলামে আসা মুশরিককে হত্যা করার অবৈধতা (عدم الجواز) সাব্যস্ত করার দলিল (دليل) পেশ করেছেন। মুশরিকগণ যেসব প্রয়োজনে দারুল ইসলামে আসে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বার্তা পৌঁছানো। হানাফী, শাফিঈ, যাইদী এবং হাম্বলী ফকীহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দূতদের হত্যা করা যাবে না (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وما يكشف عن نبل الإسلام وكريم أخلاق السياسة للدولة الإسلامية احترامها للوضع القانوني الخاص بمبعوثي الدول الأخرى، أنه في الوقت الذي كان يقابل فيه سفراء هذه الدول بالاحترام ويحاطون بالحماية الكاملة حتى ولو خرجوا على القواعد الدولية في مخاطبة رؤساء الدول كان سفراء الإسلام ورسل رسول السلام صلى الله عليه وسلم إلى الدول غير الدول الإسلامية يعاملون كقاعدة عامة أسوأ معاملة، من ذلك أن ملك الفرس خسرو قطع الخطاب الذي أرسله إليه الرسول صلى الله عليه وسلم وداسه بأقدامه ونجا حامله من القتل بأعجوبة، كما أن السفراء الذين أرسلهم الرسول صلى الله عليه وسلم إلى أميري الغساسنة عوملوا أسوأ معاملة، ومبعوث الرسول صلى الله عليه وسلم إلى حاكم باسورا الروماني قتل على يد هذا الأخير (1) .
--------------------------------------------
ইসলামের মহানুভবতা এবং ইসলামি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উৎকর্ষ যা থেকে পরিস্ফুট হয় তা হলো অন্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিদের বিশেষ আইনি মর্যাদার প্রতি এর সম্মান প্রদর্শন। বিষয়টি এমন যে, যখন অন্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হতো এবং পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করা হতো—এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে কথোপকথনের ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করলেও—সেখানে অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে প্রেরিত ইসলামের রাষ্ট্রদূত এবং শান্তির দূত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিনিধিদের সাথে সাধারণত অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হতো। উদাহরণস্বরূপ, পারস্য সম্রাট খসরু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত পত্রটি ছিঁড়ে ফেলে পদদলিত করেছিলেন এবং সেই পত্রবাহক অলৌকিকভাবে প্রাণনাশের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। তদ্রূপ, গাসসানি আমিরদ্বয়ের নিকট প্রেরিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাষ্ট্রদূতদের সাথেও নিকৃষ্টতম আচরণ করা হয়েছিল এবং রোমান বুসরার গভর্নরের নিকট প্রেরিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিনিধি উক্ত গভর্নরের হাতেই নিহত হয়েছিলেন (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي مقابل هذه المعاملة الوحشية والسلوك المشين أكرم الرسول صلى الله عليه وسلم مبعوث المقوقس عظيم القبط وقبل هداياه، وأكرم رسول هرقل. وقد أثرت هذه المعاملة الحسنة في بعض الرسل فدخلوا في الإسلام لما يرونه من حُسن المعاملة مما يدل على التسامح، والأمان والرعاية التي جاء بها الإسلام وشموله وعدالته ووفائه بالعهود واحترامه للمواثيق وتكريمه للإنسان (1) .
وقرر الإمام السرخسي أن " الرسل والمبعوثين لم تزل آمنة في الجاهلية والإسلام وهذا لأن أمر القتال والصلح لا يتم إلا بالرسل فلا بد من أمان الرسل لتوصل إلى ما هو المقصود " (2) . فتأمين الرسل ثابت في الشريعة الإسلامية ثبوتاً معلوماً.
--------------------------------------------
এই পাশবিক আচরণ ও কলঙ্কিত আচরণের বিপরীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিবতিদের মহান নেতা মুকাওকিসের প্রেরিত দূতকে সম্মানিত করেছেন এবং তার উপহার গ্রহণ করেছেন, একইভাবে তিনি হেরাক্লিয়াসের দূতকেও সম্মান প্রদর্শন করেছেন। এই মহানুভব আচরণ অনেক দূতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, ফলে তারা ইসলামের এই সুন্দর আচরণ দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এটি ইসলামের উদারতা, নিরাপত্তা এবং আশ্রয়ের পরিচায়ক; যা ইসলামের ব্যাপকতা, ন্যায়বিচার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই প্রতিফলন (১)।
ইমাম সারাখসি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, "জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগেই দূত ও প্রতিনিধিরা সর্বদা নিরাপদ ছিল। এর কারণ হলো যুদ্ধ কিংবা সন্ধির বিষয়গুলো দূত ছাড়া সম্পন্ন হয় না; তাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য দূতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য" (২)। সুতরাং ইসলামি শরিয়তে দূতদের নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত (ثابت)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাযারাতুন ইসতিশরাফিয়্যাহ ফি ফিকহিল আলাকাতিল ইনসানিয়্যাতি বাইনাল মুসলিমিনা ওয়া গাইরিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
سابعاً: الإخلال بالأمن القومي وعقوبته الشرعية والقانونيةفي مقابل ما منح الوافد والديبلوماسي من حقوق وحماية ورعاية وأمان وتكريم فإن إخلاله بالأمن القومي للدولة الإسلامية يترتب عليه تبعات عقابية قاسية. فالأمن القومي للدولة الإسلامية هو عبارة عن " مجموعة مصالحها الحيوية، فكل دولة تهتم بالحفاظ على تلك المصالح سواء أكانت سياسية أو اقتصادية، أو ثقافية، أو اجتماعية معنوية أو روحية أو أمنية، كما أن مفهوم الأمن القومي هو العمل على مقاومة كل من يحاول مخالفة قواعد الأنظمة المرعية والتشكيك في مبادئ الدول وقيّمها " (1) .
--------------------------------------------
সপ্তম: জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং এর শরয়ী ও আইনি শাস্তিআগন্তুক এবং কূটনীতিকদের যে অধিকার, সুরক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও সম্মান প্রদান করা হয়, তার বিপরীতে ইসলামি রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ফলে তাদের কঠোর শাস্তিমূলক পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়। কেননা ইসলামি রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা হলো মূলত তার "অপরিহার্য স্বার্থসমূহের সমষ্টি; প্রতিটি রাষ্ট্রই সেই স্বার্থসমূহ সংরক্ষণের ব্যাপারে যত্নশীল থাকে, চাই তা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক-নৈতিক, আধ্যাত্মিক কিংবা নিরাপত্তামূলক যে কোনো বিষয়ই হোক না কেন। অনুরূপভাবে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা হলো—প্রচলিত নিয়ম-নীতির বিরোধিতা এবং রাষ্ট্রের মূলনীতি ও মূল্যবোধের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের প্রতিহত করার লক্ষে কাজ করা।" (১)।
--------------------------------------------