(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: -)
السنن الصغير للبيهقي   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: السنن الصغير للبيهقي

المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458هـ)

المحقق: عبد المعطي أمين قلعجي

دار النشر: جامعة الدراسات الإسلامية، كراتشي ـ باكستان

الطبعة: الأولى، 1410هـ - 1989م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 صفر 1433

আস-সুনান আস-সাগীর লিল বাইহাকী   (আবু বকর আল-বাইহাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: আস-সুনান আস-সাগীর লিল বাইহাকী

লেখক: আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-খুসরাওজিরদী আল-খুরাসানী, আবু বকর আল-বাইহাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরী)

সম্পাদক: আবদুল মু'তী আমীন কালআজী

প্রকাশনী: জামিয়াতুদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ, করাচি — পাকিস্তান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরী - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مُقَدِّمَةٌ

بسم الله الرحمن الرحيم

صَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ

قَالَ الْحَافِظُ الْبَيْهَقِيُّ رحمه الله:

" الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، شُكْرًا لِنِعْمَتِهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، إِقْرَارًا بِرُبُوبِيَّتِهِ وَوَحْدَانِيَّتِهِ، وَالصَّلَاةُ عَلَى رَسُولِهِ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى سَهَّلَ عَلَيَّ تَصْنِيفَ كِتَابٍ مُخْتَصَرٍ، فِي بَيَانِ مَا يَجِبُ عَلَى الْعَاقِلِ الْبَالِغِ اعْتِقَادُهُ وَالْاعْتِرَافُ بِهِ فِي الْأُصُولِ، مُنْوًى بِذِكْرِ أَطْرَافِ أَدِلَّتِهِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى، وَسُنَّةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، وَمِنْ إِجْمَاعِ السَّلَفِ وَدَلَائِلِ الْمَنْقُولِ، ثُمَّ إِنِّي اسْتَخَرْتُ اللَّهً تَعَالَى فِي إِرْدَافِهِ بِتَصْنِيِفِ كِتَابٍ يَشْتَمِلُ عَلَى بَيَانِ مَا يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ مَذْهَبُهُ بَعْدَمَا صَحَّ اعْتِقَادُهُ فِي الْعِبَادَاتِ، وَالْمُعَامَلَاتِ، وَالْمُنَاكَحَاتِ، وَالْحُدُودِ، وَالسِّيَرِ، وَالْحُكُومَاتِ، لِيَكُونَ بِتَوْفِيقِ اللَّهِ عز وجل لِكِتَابِهِ، وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَّبِعًا، وَبِالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِهِ مُقْتَدِيًا، وَلِلَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ فِيمَا فَرَضَ عَلَيْهِ، وَنَدَبَ إِلَيْهِ نَصًّا أَوْ دِلَالَةً مًطِيعًا، وَعَمَّا زَجَرَ عَنْهُ مُنْزَجِرًا، وَيَكُونُ فِي حَالَتَيِ التَّوْقِيرِ وَالتَّقْصِيرِ مِمَّنْ يَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ، وَيَخْشَى عَذَابَهُ، وَأَيُّ عَبْدٍ عَبَدَهُ حَقَّ قَدْرِهِ؟ أَوْ قَامَ فِيمَا تَعَبَّدَهُ بِهِ بِوَاجِبِ أَمْرِهِ، وَاللَّهُ تَعَالَى بِجَزِيلِ إِنْعَامِهِ وَإِكْرَامِهِ، يُعِينُنَا عَلَى حُسْنِ عِبَادَتِهِ، وَبِفَضْلِهِ وَسِعَةِ رَحْمَتِهِ يَتَجَاوَزُ عَنَّا مَا قَصَّرْنَا فِيهِ مِنْ طَاعَتِهِ، وَيُوَفِّقُنِي لِإِتْمَامِ مَا نَوَيْتُهُ مِنْ بَيَانِ مَذْهَبِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ فِي اسْتِعْمَالِ الشَّرِيعَةِ عَلَى طَرِيقِ الِاخْتِصَارِ، وَيُعِينُنِي وَالنَّاظِرِينَ فِيهِ لِلِاسْتِشْعَارِ بِهِ، وَالِاقْتِدَاءِ فِي جَمِيعِ ذَلِكَ بِأَهْلِ الرُّشْدِ وَالْهِدَايَةِ، وَلِحُسْنِ عَاقِبَتِنَا فِي أُمُورِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، إِنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ، وَبِعَبَادِهِ رَءُوفٌ رَحِيمٌ"
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।

হাফিয আল-বাইহাকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক, তাঁর নিআমতের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তাঁর প্রভুত্ব ও একত্বের স্বীকৃতিরূপ। আর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর। অতঃপর: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করা সহজ করে দিয়েছেন, যেখানে দ্বীনের মূলনীতিসমূহে (উসূলে) একজন বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যা বিশ্বাস করা এবং স্বীকার করা ওয়াজিব, তা বর্ণনা করা হয়েছে। তাতে আল্লাহ তাআলার কিতাব, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ, সালাফদের ইজমা এবং বর্ণিত দলীলসমূহের সারাংশ উল্লেখ করার নিয়ত করা হয়েছে। অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি যাতে এরপর এমন একটি গ্রন্থ সংকলন করা যায়, যা এমন বিষয়গুলোর বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করবে, যা বিশ্বাস বিশুদ্ধ হওয়ার পর ইবাদত, লেনদেন, বিবাহ-শাদি, দণ্ডবিধি, যুদ্ধাভিযান ও শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির মাযহাব (কর্মপন্থা) হওয়া উচিত। যাতে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার তাওফিকে তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর অনুসারী হতে পারে এবং তাঁর নেককার বান্দাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী হতে পারে; আর আল্লাহ জাল্লা সানাউহু তার ওপর যা ফরয করেছেন এবং যে বিষয়ের প্রতি সুস্পষ্ট বর্ণনা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছেন, সেগুলোর অনুগত হতে পারে এবং যা থেকে তিনি বারণ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে পারে। আর যেন সে সম্মান ও ত্রুটি—উভয় অবস্থাতেই এমন ব্যক্তি হতে পারে যে তার প্রতিপালকের রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় পায়। কোন বান্দা কি তাঁকে তাঁর যথার্থ মর্যাদানুযায়ী ইবাদত করতে পেরেছে? অথবা তাঁর নির্দেশিত ইবাদতসমূহ পালনে তাঁর আদেশের হক পুরোপুরি আদায় করতে পেরেছে? আল্লাহ তাআলা তাঁর অঢেল অনুগ্রহ ও সম্মানের মাধ্যমে আমাদের তাঁর সুন্দর ইবাদত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করুন এবং তাঁর করুণা ও প্রশস্ত রহমতের উসিলায় আনুগত্যের ক্ষেত্রে আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা করুন। আর শরিয়তের প্রয়োগে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের কর্মপন্থা (মাযহাব) সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বর্ণনা করার যে নিয়ত আমি করেছি, তা পূর্ণ করার তাওফিক আমাকে দান করুন। এবং আমাকে ও এই কিতাব পাঠকারীদের এটি হৃদয়ঙ্গম করার এবং এ সব বিষয়ে সৎপথপ্রাপ্ত ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের অনুসরণ করার তাওফিক দিন, এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয়ে আমাদের পরিণাম যেন কল্যাণকর হয়। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, দুআ কবুলকারী এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু।"
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌بَابُ اسْتِعْمَالِ الْعَبْدِ الصِّدْقَ والنِّيَّةِ وَالْإِخْلَاصَ فِيمَا يَقُولُ وَيَعْمَلُ لِلَّهِ عز وجل عَلَى مُوَافَقَةِ السُّنَّةِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [البينة: 5]
বান্দার সত্যবাদিতা, নিয়ত এবং ইখলাস (নিষ্ঠা) অবলম্বন করা সেই সকল কথা ও কাজে যা সে সুন্নাহর অনুসরণে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য করে, সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।} [আল-বায়্যিনাহ: ৫]
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ وَأَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْمُزَكِّي قَالَا: نا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الشَّيْبَانِيُّ، أنا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْفَرَّاءُ، نا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، أنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ، رضي الله عنه يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ» ‌‌⦗ص: 8⦘

 

‌‌2 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الشَّيْبَانِيُّ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السَّعْدِيُّ، أنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، بِمِثْلِهِ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয এবং আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কি; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আশ-শায়বানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফাররা, আমাদের বর্ণনা করেছেন জা'ফর বিন আওন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তায়মি থেকে, তিনি আলকামা বিন ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।» ⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘

 

২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয এবং আবু যাকারিয়া বিন আবি ইসহাক; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আশ-শায়বানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সা'দি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযিদ বিন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, অনুরূপ হাদিস।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌3 - سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدَ بْنَ يَعْقُوبَ الْحَافِظَ يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ فَارِسٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ، يَقُولُ: قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ: «مَنْ أَرَادَ أَنْ يُصَنِّفَ كِتَابًا فَلْيَبْدَأْ بِحَدِيثِ الْأَعْمَالِ ‌‌⦗ص: 9⦘ بِالنِّيَّاتِ» وَقَدِ اسْتَعْمَلَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ رحمه الله فَبَدَأَ الْجَامِعَ الصَّحِيحَ بِحَدِيثِ الْأَعْمَالِ بِالنِّيَّاتِ وَاسْتَعْمَلْنَاهُ فِي هَذَا الْكِتَابِ فَبَدَأْنَا بِهِ ‌‌⦗ص: 10⦘

 

‌‌4 - وَكَانَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله يَقُولُ: «يَدْخُلُ فِي حَدِيثِ الْأَعْمَالِ بِالنِّيَّاتِ ثُلُثُ الْعِلْمِ»

 

‌‌5 - قُلْنَا: وَهَذَا لِأَنَّ كَسْبَ الْعَبْدِ إِنَّمَا يَكُونُ بِقَلْبِهِ وَلِسَانِهِ وَبَنَانِهِ، وَالنِّيَّةُ وَاحِدَةٌ مِنْ ثَلَاثَةِ أَقْسَامِ اكْتِسَابِهِ، ثُمَّ لِقَسْمِ النِّيَّةِ تَرْجِيحٌ عَلَى الْقَسْمَيْنِ الْآخَرَيْنِ؛ فَإِنَّ النِّيَّةَ تَكُونُ عِبَادَةً بِانْفِرَادِهَا، وَالْقَوْلُ الْعَارِي عَنِ النِّيَّةِ وَالْعَمَلُ الْخَالِي عَنِ الْعَقِيدَةِ لَا يَكُونَانِ عُبَادَةً بَأَنْفُسِهِمَا، وَلِذَلِكَ قِيلَ: «نِيَّةُ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ»؛ لِأَنَّ الْقَوْلَ وَالْعَمَلَ يَدْخُلُهُمَا الْفَسَادُ وَالرِّيَاءُ، وَالنِّيَّةُ لَا يَدْخُلُهَا وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ
৩ - আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন ফারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো গ্রন্থ রচনা করতে চায়, সে যেন নিয়ত সংক্রান্ত আমলের হাদিসটি দিয়ে তা শুরু করে» ⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ আর মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এটি প্রয়োগ করেছেন, ফলে তিনি আল-জামি আস-সহিহ শুরু করেছেন নিয়ত সংক্রান্ত আমলের হাদিসটি দিয়ে। আমরাও এই কিতাবে তা অনুসরণ করেছি এবং তা দিয়েই শুরু করেছি। ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘

 

৪ - আর শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: «জ্ঞানের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ত সংক্রান্ত আমলের হাদিসের অন্তর্ভুক্ত»

 

৫ - আমরা বলি: এটি একারণে যে, বান্দার উপার্জন মূলত তার অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আর নিয়ত হলো তার উপার্জনের তিনটি ভাগের একটি। অতঃপর অন্য দুটি ভাগের ওপর নিয়তের একটি অগ্রাধিকার বা প্রাধান্য রয়েছে; কেননা নিয়ত এককভাবেই ইবাদত হতে পারে, কিন্তু নিয়তহীন কথা এবং বিশ্বাসহীন কাজ স্বতন্ত্রভাবে ইবাদত হয় না। একারণেই বলা হয়েছে: «মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম»; কারণ কথা ও কাজের মধ্যে কলুষতা ও লৌকিকতা প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু নিয়তে তা প্রবেশ করে না। আল্লাহর নিকট হতেই তাওফিক আসে।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌6 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيُّ، أنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، نا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، نا أَبُو مُعَاوِيَةَ، نا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: كُنَّا نُحَدِّثُ مُنْذُ خَمْسِينَ سَنَةً أَنَّ الْأَعْمَالَ تُعْرَضُ عَلَى اللَّهِ عز وجل مَا كَانَ مِنْهَا لَهُ قَالَ: " هَذَا كَانَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَمَا كَانَ لِغَيْرِهِ قَالَ: اطْلُبُوا ثَوَابَ هَذَا مِمَّنْ عَمِلْتُمُوهُ لَهُ "
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-আসবাহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দান ইবন নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম আল-আহওয়াল, তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা বিগত পঞ্চাশ বছর যাবৎ আলোচনা করতাম যে, আমলসমূহ মহান আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়। তন্মধ্যে যা তাঁর জন্য নিবেদিত ছিল, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "এটি আমার জন্য ছিল এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।" আর যা অন্য কারো জন্য নিবেদিত ছিল, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "তোমরা এর সওয়াব তার নিকট তালাশ করো যার উদ্দেশ্যে তোমরা তা করেছিলে।"
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌7 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، نا بُكَيْرُ بْنُ الْحَدَّادِ الصُّوفِيُّ ‌‌⦗ص: 11⦘، بِمَكَّةَ، نا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ سَلَمَةَ، نا سَعِيدُ بْنُ زُنْبُورٍ، قَالَ: سَمِعْتُ فُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ، يَقُولُ: إِنَّ «اللَّهَ تَعَالَى مَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لهُ خَالِصًا وَلَا يَقْبَلُهُ إِذَا كَانَ خَالِصًا إِلَّا عَلَى السُّنَّةِ»
৭ - মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বুকাইর ইবনুল হাদ্দাদ আস-সুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘, মক্কায়, আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে যুনবুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুযাইল ইবনে ইয়াদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কোনো আমল কবুল করেন না যতক্ষণ না তা একমাত্র তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ হয়, আর তিনি তা কবুল করেন না যখন তা একনিষ্ঠ হয় যতক্ষণ না তা সুন্নাহ অনুযায়ী হয়।”
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌8 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُوسَى السُّلَمِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْحَسَنِ الْبَغْدَادِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ جَعْفَرًا، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْجُرَيْرِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ سَهْلًا، يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ التُّسْتَرِيَّ، يَقُولُ: «نَظَرَ الْأَكْيَاسُ فِي تَفْسِيرِ الْإِخْلَاصِ فَلَمْ يَجِدُوا غَيْرَ هَذَا أَنْ تَكُونَ حَرَكَاتُهُ وَسُكُونُهُ فِي سِرِّهِ وَعَلَانِيَتِهِ لِلَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَا يُمَازِجُهُ شَيْءٌ لَا نَفْسٌ وَلَا هَوًى وَلَا دُنْيَا»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুসা আস-সুলামী, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-বাগদাদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-জুরায়রীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সাহলকে, অর্থাৎ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ ইখলাসের ব্যাখ্যার ব্যাপারে অনুসন্ধান করেছেন, অতঃপর তারা এটি ছাড়া আর কিছুই পাননি যে—ব্যক্তির গোপনে ও প্রকাশ্যে সকল নড়াচড়া ও স্থিরতা হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য, যাঁর কোনো শরিক নেই; এর সাথে কোনো কিছুরই মিশ্রণ ঘটবে না—নফস (প্রবৃত্তি), খেয়াল-খুশি কিংবা দুনিয়া, কোনো কিছুরই নয়।»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌9 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِي جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ، حَدَّثَنِي الْجُنَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ السَّرِيَّ بْنَ الْمُغَلِّسِ، وَقَدْ ذُكِرَ النَّاسُ فَقَالَ: «لَا تَعْمَلْ لَهُمْ شَيْئًا وَلَا تَتْرُكْ لَهُمْ شَيْئًا وَلَا تُعْطِ لَهُمْ شَيْئًا، وَلَا تَكْشِفْ لَهُمْ شَيْئًا» ‌‌⦗ص: 12⦘ قَالَ الْجُنَيْدُ: يُرِيدُ بِهَذَا الْقَوْلِ كَوْنَ أَعْمَالِكَ لِلَّهِ وَحْدَهُ
9 - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নুসাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সারি ইবনুল মুগাল্লিসকে বলতে শুনেছি, যখন লোকজনের বিষয়ে আলোচনা করা হলো, তখন তিনি বললেন: "তাদের জন্য কোনো কাজ করো না, তাদের জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করো না, তাদের কোনো কিছু প্রদান করো না এবং তাদের নিকট কোনো কিছু প্রকাশ করো না।" ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ জুনাইদ বলেন: এই উক্তির মাধ্যমে তিনি উদ্দেশ্য করেছেন তোমার আমল যেন একমাত্র আল্লাহর জন্যই হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১২)
بَابُ تَحْسِينِ الْعَبْدِ عِبَادَةَ مَعْبُودِهِ حَتَّى كَأَنَّهُ يَرَاهُ وَيُشَاهِدُهُ فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ يَرَاهُ وَيَعْلَمُ سِرَّهُ وَعَلَانِيَتَهُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى} [العلق: 14] وَقَالَ: {يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُونَ} [الأنعام: 3].
পরিচ্ছেদ: বান্দার পক্ষ থেকে তার মাবুদের ইবাদতকে এমনভাবে সুন্দর করা যেন সে তাঁকে দেখছে ও প্রত্যক্ষ করছে; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাকে দেখছেন এবং তার গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় সম্পর্কে জানেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখছেন?" [আলাক: ১৪]। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা যা অর্জন করো তা-ও তিনি জানেন।" [আনআম: ৩]।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدِّلُ بِمَدِينَةِ السَّلَامِ، أنا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُنَادِي، نا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: قُلْتُ: لِابْنِ عُمَرَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّ قَوْمًا يَزْعُمُونَ لَيْسَ قَدَرٌ. قَالَ: هَلْ عِنْدَنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ عَنِّي إِذَا لَقِيتَهُمْ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ بَرِيءٌ إِلَى اللَّهِ مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ بُرَآءُ إِلَى اللَّهِ مِنْهُ، سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُنَاسٍ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ لَيْسَ عَلَيْهِ عَنَاءُ سَفَرٍ وَلَيْسَ مِنَ الْبَلَدِ يَتَخَطَّى حَتَّى وَرَّكَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا يَجْلِسُ أَحَدُنَا فِي الصَّلَاةِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رُكْبَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَامُ؟ فَقَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ وَتَعْتَمِرَ وَتَغْتَسِلَ مِنَ ‌‌⦗ص: 13⦘ الْجَنَابَةِ، وَتَتِمَّ الْوُضُوءَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ» قَالَ: فَإِنْ فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُسْلِمٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْمِيزَانِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ فَأَنَا مُؤْمِنٌ. قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُحْسِنٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ مَا الْمَسْئُولُ بِأَعْلَمَ بِهَا مِنَ السَّائِلِ» قَالَ: " إِنْ شِئْتَ أَنْبَأْتُكَ بِأَشْرَاطِهَا. قَالَ: أَجَلْ. قَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ الْعَالَةَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ وَكَانُوا مُلُوكًا» قَالَ: مَا الْعَالَةُ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ؟ قَالَ: «الْعَرَبَ» قَالَ: «وَإِذَا رَأَيْتَ الْأَمَةَ تَلِدُ رَبَّهَا وَرَبَّتَهَا فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ» قَالَ: صَدَقْتَ. ثُمَّ نَهَضَ فَوَلَّى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ» قَالَ: فَطَلَبْنَاهُ فَلَمْ نَقْدِرْ عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ تَدْرُونَ مَنْ هَذَا؟ هَذَا جِبْرِيلُ عليه السلام أَتَاكُمْ يُعَلِّمْكُمْ دِينَكُمْ فَخُذُوا عَنْهُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا شُبِّهَ عَلَيَّ مُنْذُ أَتَانِي قَبْلَ مُدَّتِي هَذِهِ وَمَا عَرَفْتُهُ حَتَّى وَلَّى»
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-মুআদ্দিল বাগদাদ শহরে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আল-মুনাদী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুতামির ইবনে সুলাইমান, তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বললাম, হে আবু আবদুর রহমান! নিশ্চয়ই একদল লোক ধারণা করে যে, তাকদীর বলতে কিছু নেই। তিনি বললেন: আমাদের আশেপাশে তাদের কেউ আছে কি? তিনি (ইয়াহইয়া) বলেন, আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন আমার পক্ষ থেকে তাদের জানিয়ে দিও যে, ইবনে উমর তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও ইবনে উমর থেকে মুক্ত। আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: একদা যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু লোকের মাঝে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন যার ওপর সফরের কোনো ক্লান্তি বা চিহ্ন ছিল না, অথচ তিনি এই এলাকার লোকও ছিলেন না। তিনি (মানুষের ভিড়) টপকে অগ্রসর হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন, যেভাবে আমাদের কেউ নামাজে বসে। অতঃপর তিনি তাঁর হাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, ইসলাম কী? তিনি বললেন: «ইসলাম হলো—তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তুমি সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, হজ ও ওমরাহ করবে, ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করবে, পূর্ণাঙ্গরূপে অজু করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে।» তিনি বললেন: আমি যদি এসব করি তবে কি আমি মুসলিম? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, ঈমান কী? তিনি বললেন: «ঈমান হলো—তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি; আর বিশ্বাস রাখবে জান্নাত, জাহান্নাম ও মিজানের (আমল মাপার পাল্লা) প্রতি; বিশ্বাস রাখবে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং বিশ্বাস রাখবে তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি।» তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুমিন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, ইহসান কী? তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।» তিনি বললেন: আমি যদি এটি করি তবে কি আমি মুহসিন (সদাচারী)? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নন।» তিনি বললেন: আপনি চাইলে আমি আপনাকে এর আলামতগুলো জানিয়ে দিতে পারি। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «যখন তুমি দেখবে যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন অভাবী লোকেরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে এবং তারা রাজা হয়ে গেছে।» তিনি বললেন: সেই নগ্নপদ, বস্ত্রহীন অভাবীরা কারা? তিনি বললেন: «আরব জাতি।» তিনি বললেন: «আর যখন দেখবে যে দাসী তার মনিব বা কর্ত্রীকে প্রসব করছে, তবে তা কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি উঠে চলে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো।» বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাকে খুঁজলাম কিন্তু তাকে পেলাম না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা কি জানো তিনি কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরীল আলাইহিস সালাম। তিনি তোমাদের দ্বীন শেখাতে তোমাদের নিকট এসেছিলেন; সুতরাং তোমরা তাঁর থেকে তা গ্রহণ করো। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, ইতিপূর্বে তিনি যতবারই আমার নিকট এসেছেন ততবারই আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, কিন্তু এবার তিনি চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌11 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَاتِمِيُّ الطُّوسِيُّ يَقُولُ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ حَسَّانَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْجُنَيْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يَقُولُ: وَسُئِلَ عَنْ أَوَّلِ مَقَامِ التَّوْحِيدِ فَقَالَ: قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَأَنَّكَ تَرَاهُ» إِلَخْ
‌১১ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাতিমি আত-তুসি বলছেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমি জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, তাঁকে তাওহীদের প্রথম স্তর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ» ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌12 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالُوا: نا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، أنا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ: سَمِعْتُ الضَّحَّاكَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ بِلَالَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: «عِبَادَ الرَّحْمَنِ إِنَّكُمْ تَعْمَلُونَ فِي أَيَّامٍ قِصَارٍ لِأَيَّامٍ طُوَالٍ وَفِي دَارِ زَوَالٍ ‌‌⦗ص: 15⦘ لِدَارِ مَقَامٍ وَفِي دَارِ نَصَبٍ لِدَارِ نَعِيمٍ وَخُلْدٍ فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ عَلَى يَقِينٍ فَلَا يَتَعَنَّى»
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি এবং আবু সাঈদ বিন আবি আমর, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ বিন মাযয়াদ, আমাকে আমার পিতা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আদ-দাহহাক বিন আব্দুর রহমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বিলাল বিন সাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «হে রহমানের বান্দাগণ! নিশ্চয়ই তোমরা দীর্ঘ দিনসমূহের জন্য এই স্বল্প দিনগুলোতে আমল করছো, এবং স্থায়ী আবাসের জন্য এই নশ্বর আবাসে ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ আমল করছো, এবং নেয়ামত ও অনন্তকালের আবাসের জন্য এই পরিশ্রমের আবাসে আমল করছো। সুতরাং যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে আমল করবে না, সে যেন নিজেকে কষ্ট না দেয়।»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌13 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ بْنِ أَحْمَدَ الْأَصْبَهَانِيُّ، أنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، نا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، نا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي الصَّيْفِ عَامَ الْأَوَّلِ وَالْعَهْدُ قَرِيبٌ: «سَلُوا اللَّهَ عز وجل الْيَقِينَ وَالْعَافِيَةَ»

 

‌‌14 - وَرُوِّينَا عَنْ أَوْسَطَ الْبَجَلِيِّ، سَمِعَ أَبَا بَكْرٍ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: مَعْنَاهُ وَزَادَ: «فَإِنَّهُ مَا أُعْطِيَ الْعَبْدُ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرًا مِنَ الْعَافِيَةِ»
১৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন আহমাদ আল-আসবাহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবন মুহাম্মাদ ইবনাস সাব্বাহ আয-যা’ফরানী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ, আমর ইবন দীনার থেকে, ইয়াহইয়া ইবন জা’দাহ থেকে, তিনি বলেন: আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রথম বছরের গ্রীষ্মকালে বলতে শুনেছি যখন সময়টি নিকটবর্তী ছিল: "তোমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) ও আফিয়াত (সুস্থতা) প্রার্থনা করো।"

 

১৪ - এবং আমাদের নিকট আওসাত আল-বাজালী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি আবু বকর থেকে শুনেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: অনুরূপ অর্থ এবং তিনি আরও বৃদ্ধি করেছেন: "কেননা নিশ্চয়ই ইয়াকীনের পর বান্দাকে আফিয়াতের চেয়ে উত্তম আর কিছু প্রদান করা হয়নি।"
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌15 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ، أنا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، نا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، ثنا الْحَسَنُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ النَّاسَ لَمْ يُؤْتَوْا فِي الدُّنْيَا خَيْرًا مِنَ الْيَقِينِ وَالْعَافِيَةِ فَاسْأَلُوهُمَا اللَّهَ» ‌‌⦗ص: 16⦘

 

‌‌16 - قَالَ الْحَسَنُ: «صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ، بِالْيَقِينِ طُلِبَتِ الْجَنَّةُ وَبِالْيَقِينِ هُرِبَ مِنَ النَّارِ وَبِالْيَقِينِ أُدِّيَتِ الْفَرَائِضُ وَبِالْيَقِينِ صُبِرَ عَلَى الْحَقِّ وَفِي مُعَافَاةِ اللَّهِ خَيْرٌ كَثِيرٌ، قَدْ وَاللَّهِ رَأَيْنَاهُمْ يَتَقَرَّبُونَ فِي الْعَافِيَةِ فَإِذَا نَزَلَ الْبَلَاءُ تَفَارَقُوا»
‌‌১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন বিন বিশরান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন বিন সাফওয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবিল দুনইয়া, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান আল-ইজলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, জারির বিন হাজিম থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান (আল-বাসরি), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মানুষকে পৃথিবীতে ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) এবং আফিয়াত (সুস্থতা ও নিরাপত্তা) অপেক্ষা উত্তম আর কিছু প্রদান করা হয়নি। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছে এই দুটি প্রার্থনা করো।» ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘

 

‌‌১৬ - হাসান (আল-বাসরি) বলেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। ইয়াকিনের মাধ্যমেই জান্নাত অন্বেষণ করা হয়, ইয়াকিনের মাধ্যমেই জাহান্নাম থেকে পলায়ন করা হয়, ইয়াকিনের মাধ্যমেই ফরজ বিধানসমূহ আদায় করা হয় এবং ইয়াকিনের মাধ্যমেই সত্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করা হয়। আর আল্লাহর দেয়া আফিয়াতের মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি তাদের দেখেছি যে তারা সুস্থতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের অবস্থায় (আল্লাহর) নৈকট্য লাভ করার চেষ্টা করে, কিন্তু যখন বিপদ নেমে আসে তখন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌17 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ الْحَنَّاطَ يَقُولُ: سَمِعْتُ ذَا النُّونِ، يَقُولُ: ثَلَاثَةٌ مِنْ أَعْلَامِ الْيَقِينِ: «النَّظَرُ إِلَى اللَّهِ فِي كُلِّ شَيْءٍ، وَالرُّجُوعُ إِلَيْهِ فِي كُلِّ شَيْءٍ، وَالِاسْتِعَانَةُ بِهِ فِي كُلِّ حَالٍ»
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আমি আবু উসমান আল-হান্নাতকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: ইয়াকীনের (সুনিশ্চিত বিশ্বাসের) নিদর্শনসমূহের মধ্যে তিনটি হলো: «প্রতিটি জিনিসের মধ্যে আল্লাহর দিকে দৃষ্টি রাখা, প্রতিটি বিষয়ে তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন করা এবং সকল অবস্থায় তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করা»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌بَابُ اسْتِعَانَةِ الْعَبْدِ بِمَعْبُودِهِ عَلَى حُسْنِ عِبَادَتِهِ عِلْمًا مِنْهُ بِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُ ذَلِكَ إِلَّا بِمَعُونَتِهِ

قَالَ اللَّهُ عز وجل: فِيمَا عَلِمْنَا {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] يَعْنِي قُولُوا: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ، وَعَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَخْبَارٍ كَثِيرَةٍ أَنْ نَقُولَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ أَلَا بِاللَّهِ» يَعْنِي: لَا حَوْلَ عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ إِلَّا بِعِصْمَةِ اللَّهِ وَلَا قُوَّةَ عَلَى طَاعَةِ اللَّهِ إِلَّا بِعَوْنِ اللَّهِ.
বান্দা তার ইবাদত সুন্দরভাবে সম্পাদন করার জন্য তার মাবুদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা সংক্রান্ত অধ্যায়, এ জ্ঞান থেকে যে, তাঁর সাহায্য ব্যতীত তা সম্ভব নয়।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল আমাদের যা শিখিয়েছেন তাতে বলেছেন: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি" [আল-ফাতিহা: ৫]। অর্থাৎ তোমরা বলো: আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু বর্ণনায় আমাদের শিখিয়েছেন যেন আমরা বলি: "আল্লাহর তৌফিক ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই"। অর্থাৎ: আল্লাহর সুরক্ষা ব্যতীত তাঁর অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় নেই এবং আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত তাঁর আনুগত্য করার কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌18 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الطُّوسِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي مَسَرَّةَ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، نا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ التُّجِيبِيَّ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيُّ، عَنِ الصُّنَابِحِيّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِي يَوْمًا ثُمَّ قَالَ: «يَا مُعَاذُ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ» فَقَالَ مُعَاذٌ: بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَأَنَا أُحِبُّكَ. فَقَالَ: " أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ أَنْ تَقُولَ: «اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ» قَالَ: وَأَوْصَى بِذَلِكَ مُعَاذٌ الصُّنَابِحِيَّ وَأَوْصَى الصُّنَابِحِيُّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ وَأَوْصَى أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عُقْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ
১৮ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আত-তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আবি মাসাররাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আল-মুকরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উকবাহ বিন মুসলিম আত-তুজিবিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি আমার নিকট আস-সুনাবিহি থেকে, তিনি মুয়াজ বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: «হে মুয়াজ, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালোবাসি» তখন মুয়াজ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক, আর আমিও আপনাকে ভালোবাসি। তখন তিনি বললেন: "হে মুয়াজ, আমি তোমাকে অসিয়ত করছি যে, তুমি প্রত্যেক সালাতের শেষে এ কথাটি বলা ছেড়ে দিও না: «হে আল্লাহ, আপনার জিকির, আপনার শোকর এবং আপনার উত্তম ইবাদতের বিষয়ে আমাকে সাহায্য করুন»" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আর মুয়াজ এই অসিয়তটি আস-সুনাবিহিকে করেছিলেন, আস-সুনাবিহি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলিকে অসিয়ত করেছিলেন এবং আবু আবদুর রহমান উকবাহ বিন মুসলিমকে অসিয়ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌1 - كتاب الطهارة
‌১ - পবিত্রতা অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌جِمَاعُ أَبْوَابِ الطَّهَارَةِ
পবিত্রতার অধ্যায়সমূহের সংকলন
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌بَابُ لَا صَلَاةَ إِلَّا بِطَهُورٍ

قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} [المائدة: 6] إِلَى قَوْلِهِ {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا} [المائدة: 6]
অধ্যায়: পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত নেই

মহান ও মহিয়ান আল্লাহ বলেন: {যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {আর যদি তোমরা অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তবে পবিত্রতা অর্জন করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌19 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، نا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ الْعَامِرِيُّ، نا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ وَلَا صَلَاةً بِغَيْرِ طَهُورٍ»
১৯ - আমাদের অবহিত করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে আফফান আল-আমিরি, আমাদের বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে আলি আল-জুফি, তিনি জায়েদাহ থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আত্মসাৎকৃত সম্পদের কোনো সদকা গ্রহণ করেন না এবং পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত কবুল করেন না»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌بَابُ مَا يُوجِبُ الْوُضُوءَ

قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا} [المائدة: 6]

 

‌‌20 - قَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: سَمِعْتُ مَنْ أَرْضَى عِلْمَهُ بِالْقُرْآنِ يَزْعُمُ أَنَّهَا نَزَلَتْ فِي الْقَائِمِينَ مِنَ النَّوْمِ.

 

‌‌21 - وَهَذَا التَّفْسِيرُ قَدْ رَوَاهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ وَقَالَ فِي سِيَاقِ الْآيَةِ ‌‌⦗ص: 22⦘ (أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَمَسْتُمُ النِّسَاءَ) ، وَقُرِئَ {لَامَسْتُمُ} [النساء: 43].
উযু ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহের অধ্যায়

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমরা ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]

 

২০ - শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি এমন এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যার কুরআনের ইলমের প্রতি আমি আস্থাশীল, তিনি মনে করতেন যে এই আয়াতটি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।

 

২১ - আর এই তাফসীরটি মালিক ইবনে আনাস যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আয়াতের প্রসঙ্গের মধ্যে তিনি বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ (অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ শৌচাগার থেকে আসলে অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করলে), আর এটি {লামাসতুম} হিসেবেও পঠিত হয়েছে [আন-নিসা: ৪৩]।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌22 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمَشٍ الْفَقِيهُ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْقَطَّانُ، نا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، نا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: هَذَا مَا حَدَّثَنَاهُ أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَضَعْ يَدَهُ فِي الْوَضُوءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا إِنَّهُ لَا يَدْرِي أَحَدُكُمْ أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ»

 

‌‌23 - وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَعْقُوبَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَالَ: إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ النَّوْمِ إِلَى الْوَضُوءِ "

 

‌‌24 - وَرَوَاهُ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَجَمَاعَةٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَقَالُوا فِيهِ: ثَلَاثًا. فِي كُلِّ ذَلِكَ مَعَ الْآيَةِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّ «مَنْ قَامَ مِنْ نَوْمِهِ إِلَى الصَّلَاةِ تَوَضَّأَ»
22 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মাহমাশ আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-হুসাইন আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মামার, হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটি সেই হাদিস যা আমাদের নিকট আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন জাগ্রত হবে, তখন সে যেন অজুর পাত্রে হাত না ডুবায় যতক্ষণ না তা ধৌত করে; কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার হাত কোথায় রাত অতিবাহিত করেছে।»

 

23 - এবং এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে ইয়াকুব আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে অজুর জন্য উঠবে...»

 

24 - এবং এটি বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ও একদল বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা থেকে, এবং তারা এতে বলেছেন: «তিনবার»। এই সবকিছুর মধ্যে আয়াতের পাশাপাশি এই প্রমাণ রয়েছে যে, «যে ব্যক্তি ঘুম থেকে নামাজের জন্য উঠবে, সে যেন অজু করে।»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌25 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو الْقَاسِمِ زَيْدُ بْنُ أَبِي هَاشِمٍ الْعَلَوِيُّ وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي قَالُوا: أنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَبْسِيُّ، أنا وَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُنْذِرٍ أَبِي يَعْلَى، عَنِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً فَكُنْتُ أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَكَانِ ابْنَتِهِ، فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ ‌‌⦗ص: 24⦘ وَيَتَوَضَّأُ»

 

‌‌26 - قُلْتُ: وَفِي مَعْنَى هَذَا كُلُّ مَا يَخْرُجُ مِنَ السَّبِيلَيْنِ فَإِنَّهُ حَدَثٌ يُوجِبُ الطَّهَارَةَ "
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আবু আল-কাসিম যায়িদ ইবনে আবি হাশিম আল-আলাভি এবং আবু বকর আহমাদ ইবনুল হাসান আল-কাদি; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে দুহাইম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আবসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি, আমাশ থেকে, মুনজির আবু ইয়ালা থেকে, ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে, আলী (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি এমন এক ব্যক্তি ছিলাম যার প্রচুর মজি নির্গত হতো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা আমার স্ত্রী হওয়ার কারণে আমি তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তাই আমি মিকদাদকে নির্দেশ দিলাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: "সে যেন তার লিঙ্গ ধৌত করে ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ এবং অজু করে।"

 

২৬ - আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এর অর্থ হলো, দুই পথ (মল ও মূত্রপথ) দিয়ে যা কিছু নির্গত হয় তা-ই ‘হাদাস’ (অশুচিতা), যা পবিত্রতা অর্জন করাকে আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، أنا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، نا أَبُو مُعَاوِيَةَ، نا الْأَعْمَشُ. وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ الْفَقِيهُ، نا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ، نا يَحْيَى، أنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، قَالَ: " بَالَ جَرِيرٌ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، فَقِيلَ لَهُ: تَفْعَلُ هَذَا وَقَدْ بُلْتَ؟ قَالَ: نَعَمْ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَالَ وَتَوَضَّأَ فَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ " قَالَ: إِبْرَاهِيمُ: وَكَانَ يُعْجِبُهُمْ هَذَا الْحَدِيثُ لِأَنَّ إِسْلَامَ جَرِيرٍ كَانَ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ "
‌২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন বিন বিশরান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সা’দান বিন নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আল-ফকিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "জারীর প্রস্রাব করলেন, অতঃপর ওযু করলেন এবং তাঁর মোজাদ্বয়ের ওপর মাসাহ করলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি প্রস্রাব করার পরও এমনটি করছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি প্রস্রাব করেছেন এবং ওযু করেছেন, অতঃপর তাঁর মোজাদ্বয়ের ওপর মাসাহ করেছেন।" ইব্রাহিম বলেন: "তাঁদের নিকট এই হাদিসটি অত্যন্ত পছন্দনীয় ছিল, কারণ জারীরের ইসলাম গ্রহণ ছিল সূরা আল-মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পর।"‌
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌28 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أنا أَبُو دَاوُدَ، نا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، نا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، عَنْ عِيسَى بْنِ حِطَّانَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ سَلَّامٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَتَوَضَّأْ، وَلْيُعِدْ صَلَاتَهُ»
২৮ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-রুজবারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবু শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ, আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি ঈসা ইবনে হিত্তান থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে সাল্লাম থেকে এবং তিনি আলী ইবনে তালক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন সালাতরত অবস্থায় বায়ু ত্যাগ করে, সে যেন ফিরে যায় এবং ওজু করে নেয়, আর সে যেন তার সালাত পুনরায় আদায় করে।»
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌29 - وَرُوِّينَا عَنْ مِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، «فِيمَنْ سَبَقَهُ الْحَدَثُ فِي الصَّلَاةِ يَسْتَأْنِفُ» وَقَوْلُهُ فِي ذَلِكَ أَشْبَهُ بِالْحَدِيثِ فَهُوَ أَوْلَى
২৯ - এবং আমাদের নিকট মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, “সালাত অবস্থায় যার অজু ভেঙে যায়, সে নতুন করে সালাত শুরু করবে।” আর এ বিষয়ে তাঁর এই বক্তব্যটি হাদিসের সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই এটিই অধিকতর অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌30 - وَحَدِيثُ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي «الْبِنَاءِ عَلَى الصَّلَاةِ بَعْدَ الْوُضُوءِ مُنْقَطِعٌ وَلَا يَثْبُتُ وَصْلُهُ»

 

‌‌31 - أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، نا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، أنا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، أنا الشَّافِعِيُّ، أنا مَالِكٌ
30 - এবং ইবনে জুরাইজ তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "ওজুর পর সালাতের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করা" সংক্রান্ত হাদিসটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) এবং এর সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়া সাব্যস্ত নয়।

 

31 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি ইবনে সুলাইমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফেঈ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালেক।
(খণ্ড: ১) আস-সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌31 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا، أنا أَبُو الْحَسَنِ الطَّرَائِفِيُّ، نا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، نا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، نا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: «قُبْلَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ وَجَسُّهَا بِيَدِهِ مِنَ الْمُلَامَسَةِ فَمَنْ قَبَّلَ امْرَأَتَهُ وَجَسَّهَا بِيَدِهِ فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ» ‌‌⦗ص: 26⦘

 

‌‌32 - وَرُوِّينَا عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ مَعْنَى قَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ
31 - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আত-তরাইফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘কোনো ব্যক্তির তার স্ত্রীকে চুম্বন করা এবং হাত দিয়ে তাকে স্পর্শ করা ‘মুলামাসাহ’ (স্পর্শ করা)-এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে চুম্বন করবে এবং তাকে হাত দিয়ে স্পর্শ করবে, তার ওপর অজু করা আবশ্যক।’ ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘

 

32 - এবং আমাদের নিকট উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের উক্তির অনুরূপ অর্থ বর্ণিত হয়েছে।