(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفخري في الآداب السلطانية والدول الإسلامية القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: الفخري في الآداب السلطانية والدول الإسلامية
المؤلف: محمد بن علي بن طباطبا المعروف بابن الطقطقي (ت 709هـ)
المحقق: عبد القادر محمد مايو
الناشر: دار القلم العربي، بيروت
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 323
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফাখরি: রাজকীয় শিষ্টাচার ও ইসলামি রাষ্ট্রসমূহ প্রসঙ্গে বিভাগ: শরীয়াহ-ভিত্তিক রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: আল-ফাখরি: রাজকীয় শিষ্টাচার ও ইসলামি রাষ্ট্রসমূহ প্রসঙ্গে
লেখক: মুহাম্মদ বিন আলি বিন তুবাতুবা, যিনি ইবনে আল-তিকতাকা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭০৯ হিজরি)
সম্পাদক: আবদুল কাদির মুহাম্মদ মায়ু
প্রকাশক: দারুল কালাম আল-আরাবি, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المحققالحمد للَّه رب العالمين بالغ الفضل والإحسان، والصلاة والسلام على نبيّه الأمين محمد بن عبد الله خيرة الأخيار من بني عدنان، المرسل رحمة للعالمين، وبعد فقد من الله تعالى على عبده الفقير إلى كرمه وعفوه صاحب التحقيق فهداه إلى كتاب «الفخري في الآداب السلطانية والدول الإسلامية» ليخرج به من ظلمات القدم والغمرة إلى أنوار الحداثة والشهرة وهو من مقتتيات مكتبتي المتواضعة مذ كنت طالبا من طلاب كلية الآداب بالجامعة السورية بدمشق عام/ 1955/ م، وظلّ غائبا عن النظر حاضرا في الوجدان والفكر إلى أن برز لي فجأة كالصديق الموافي في ساعة الشدّة وأنا مشغول بالتصنيفات العديدة التي أصدرتها دار القلم العربيّ بحلب، واقترحت على صاحب الدار أن ننفض عن هذا المؤلف الجليل غبار الزمن فوافق في الحال لدى رؤية النسخة التي أملكها من الكتاب وتقع في مائتين وتسع وسبعين صفحة وليس بها من تاريخ ولا دليل على المحقّق سوى عبارة ذيّلت الغلاف بعد العنوان، وتقول العبارة التي هدفها التجارة: [يطلب من مكتب عزّ للتوريدات- مكتبة قومسيون- ميدان الأزهر بمصر] .
وقد بادرت منذ اضطلاعي بعبء تحقيق الكتاب إلى التماس طبعاته المختلفة في كلّ ما يقع تحت يدي ولكنني آثرت مؤخرا النموذج الّذي توفر بحوزتي لأنه قديم ولأنه بخلوه من الضبط والتشكيل والفهرسة والهوامش المضيئة، يسمح لي بالمزيد من التدخّل والاجتهاد في ترجيح وجوه الكلام بعضها على بعض فيكون لي دور المحقّق وإن لم أعتمد على الأصل المخطوط. وقد كان لي بتوفيق من الله وبإخلاص النية فضل ضبط النص التاريخي بالشكل وشرح غريب مفرداته بالإضافة إلى ترجمة الأعلام ترجمة موجزة كافية وبذلك المجهود ألحقت النص التاريخي بالنص الأدبي فائدة وأثرا متداولا. وما يهمني أن يعرفه القارئ لهذا الكتاب أن اعتمادي كان على أربع طبعات من طبعات الفخري بالرموز والتواريخ الآتية:
أوّلا: (عزّ) وهي المتوفّرة لدى المحقّق بلا تاريخ.
ثانيا: (ألما) وهي الطبعة الأولى بألمانيا عام/ 1858/ م.
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি অফুরন্ত অনুগ্রহ ও ইহসানের অধিকারী। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যিনি আদনান বংশের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি এবং বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত। অতঃপর, মহান আল্লাহ তাঁর করুণা ও ক্ষমার মুখাপেক্ষী এই নগণ্য বান্দার (সম্পাদকের) প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তাকে «আল-ফখরি ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ» গ্রন্থটির দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন, যাতে তিনি এটিকে প্রাচীনত্ব ও বিস্মৃতির অন্ধকার থেকে আধুনিকতা ও খ্যাতির আলোতে বের করে আনতে পারেন। এটি ১৯৫৫ সালে দামেস্কের সিরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদব অনুষদের ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকেই আমার সাধারণ পাঠাগারের সংগ্রহে ছিল। এটি দৃষ্টির অগোচরে থাকলেও মন ও চিন্তায় সর্বদা জাগ্রত ছিল, যতক্ষণ না এটি হঠাৎ করে আমার সামনে বিপদকালীন বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো আবির্ভূত হলো। সে সময় আমি আলেপ্পোর 'দারুল কালাম আল-আরাবি' থেকে প্রকাশিত অসংখ্য সংকলনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমি প্রকাশকের কাছে প্রস্তাব করলাম যে, এই মহান লেখকের কাজের ওপর থেকে সময়ের ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলা উচিত। আমার কাছে থাকা সংস্করণটি দেখার পর তিনি সাথে সাথেই রাজি হয়ে গেলেন। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ২৭৯। এতে কোনো তারিখ বা সম্পাদকের কোনো প্রমাণ ছিল না, কেবল শিরোনামের নিচে প্রচ্ছদের পাদদেশে একটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাক্য ছাড়া। বাক্যটি ছিল: [মিশরের আজহার চত্বরের কমিশন লাইব্রেরি-ইজ সাপ্লাই অফিস থেকে সংগ্রহযোগ্য]।
বইটির সম্পাদনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি হাতের কাছে আসা এর বিভিন্ন সংস্করণ তালাশ করতে শুরু করি। তবে শেষ পর্যন্ত আমি আমার কাছে থাকা সংস্করণটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি; কারণ এটি প্রাচীন এবং এতে হরকত, সূচিপত্র ও ব্যাখ্যাসম্বলিত টীকা না থাকায় এটি আমাকে পাঠ্যটির বিভিন্ন রূপের মধ্যে শ্রেষ্ঠতরটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর হস্তক্ষেপ ও ইজতিহাদের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর না করেও আমি সম্পাদকের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হই। আল্লাহর তৌফিক ও নিয়তের ইখলাসের মাধ্যমে আমি ঐতিহাসিক পাঠ্যটিতে হরকত প্রদান, কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত ও পর্যাপ্ত জীবনী যুক্ত করার সৌভাগ্য লাভ করেছি। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি ঐতিহাসিক পাঠ্যটিকে সাহিত্যিক পাঠ্যের মতো উপকারী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছি। এই বইটির পাঠকের জানা প্রয়োজন যে, আমি «আল-ফখরি»-র চারটি সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি, যেগুলোর প্রতীক ও তারিখ নিম্নরূপ:
প্রথম: (ইজ), যা সম্পাদকের নিকট সংরক্ষিত তারিখবিহীন সংস্করণ।
দ্বিতীয়: (আলমা), যা ১৮৫৮ সালে জার্মানিতে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثالثا: (رحما) وهي الصادرة عن المطبعة الرحمانية بمصر/ 1340/ هـ و/ 1921/ م.
رابعا: (بيروت) وهي الصادرة عن دار بيروت للطباعة والنشر/ 1385/ هـ و/ 1966/ م.
تقع طبعة (عزّ) كما ذكرنا في (279) صفحة من القطع المتوسط بورق أصفر.
وتقع طبعة (ألما) في (390) صفحة من القطع المتوسط، يقابلها تقديم ودراسة باللغة الألمانية بقلم المستشرق W.Ahlwardt. وتقع طبعة (رحما) في (253) صفحة من القطع فوق المتوسط مع مقدمة قصيرة للناشر محمود توفيق الكتبي.
وتقع طبعة بيروت في (340) صفحة عدا الفهارس بورق أبيض صقيل وهي الطبعة الأكثر حداثة وإتقانا.
وقبل استعراض الأوراق المذكورة يهمنا الإلمام بترجمة لحياة المؤلف: ابن طباطبا مع ملمح كلّي وموجز جدّا لكتاب الفخري ليكون ذلك عونا للقارئ في قطع المسافة بين أول الكتاب وآخره في ألفة ومحبّة للمادّة التاريخيّة وهي الغنيّة غنى غزيرا بالحكايا والطرائف.
أمّا المؤلّف فهو:
محمّد بن عليّ بن محمّد بن طباطبا العلويّ. كنيته أبو جعفر، وشهرته بابن الطّقطقيّ [1] على خلاف في ضبطها، وختامها بالياء أو الألف المقصورة.
كان أبوه نقيب الأشراف العلويّة بالحلّة والنجف وكربلاء، وقد خلف أباه في تلك
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: (রহমা) এটি মিশরের রহমানিয়া মুদ্রণালয় থেকে ১৩৪০ হিজরি এবং ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
চতুর্থত: (বৈরুত) এটি দার বৈরুত লি-ত্বিবায়া ওয়া আন-নাশর থেকে ১৩৮৫ হিজরি এবং ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
(ইয) সংস্করণটি যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, মাঝারি আকারের হলুদ কাগজে ২৭৯ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত।
(আলমা) সংস্করণটি মাঝারি আকারের ৩৯০ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত, যার বিপরীতে প্রাচ্যবিদ ডব্লিউ. আহলওয়ার্ডের (W.Ahlwardt) কলমে জার্মান ভাষায় একটি ভূমিকা ও পর্যালোচনা রয়েছে। (রহমা) সংস্করণটি মাঝারি থেকে বড় আকারের ২৫৩ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত, সাথে প্রকাশক মাহমুদ তাওফিক আল-কুতুবীর একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা রয়েছে।
বৈরুত সংস্করণটি সূচিপত্র ব্যতীত ৩৪০ পৃষ্ঠাব্যাপী মসৃণ সাদা কাগজে মুদ্রিত এবং এটি সবচেয়ে আধুনিক ও নির্ভুল সংস্করণ।
উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনার পূর্বে গ্রন্থকার ইবনে তাবাতাবার জীবনী সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; সেই সাথে 'আল-ফাখরি' গ্রন্থটির একটি সামগ্রিক ও অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত রূপরেখাও তুলে ধরা হবে। এটি পাঠককে বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক বিষয়বস্তুর প্রতি এক প্রকার হৃদ্যতা ও ভালোবাসার সাথে পথ অতিক্রম করতে সহায়তা করবে, যা বিভিন্ন কাহিনী ও কৌতুকপূর্ণ উপাদানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
গ্রন্থকারের পরিচয় হলো:
মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাবাতাবা আল-আলাউয়ী। তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু জাফর এবং তিনি ইবনে তিকতিকি [১] নামে পরিচিত, যদিও এর উচ্চারণ এবং শেষে 'ইয়া' হবে নাকি 'আলিফ মাকসুরা' হবে—তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
তাঁর পিতা হিল্লাহ, নাজাফ ও কারবালায় আলবি বংশীয় আশরাফগণের প্রধান (নকীব) ছিলেন এবং তিনি সেখানে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الرتبة.
تزوج بامرأة فارسية من خراسان وأقام بالموصل، وتقرّب إلى واليها فخر الدين عيسى بن إبراهيم بإهدائه كتاب «الفخري في الآداب السلطانية والدول الإسلامية» الّذي فرغ من تأليفه عام/ 701/ هـ، وجعل نسبته إليه باسم «الفخريّ» .
وقد عقد جلال الدين السيوطي في كتابه «تاريخ الخلفاء» فصلا في دولة بني طباطبا العلويّة الحسنيّة فقال: «وقام منهم بالخلافة أبو عبد الله محمد بن إبراهيم طباطبا في جمادى الأولى سنة تسع وتسعين ومائة [1] » . ويبدو أن المذكور هو الجدّ الّذي نسب إليه ابن طباطبا المؤرّخ، وله خبر مفصّل في كتاب الأعلام للزركلي ج 5 ص 293. ولم تمدّنا المراجع بتفصيلات عن حياة صاحب الفخري سوى أنه تزوج من فارسية وزار مراغة بأذربيجان واستقر بالموصل وتوفي فيها عام/ 709/ هـ. وقد أبدى انحيازا للمغول وتهيبا لسلطانهم ولمن حكموا تحت رايتهم بالإضافة إلى علوّيته.
أما كتاب «الفخري» فقد حوى جزأين هامّين: الأوّل، موضوعة الآداب العامة للسلاطين ومعاشريهم، وثانيهما التأريخ لثلاث من الدول: هي: دولة الخلفاء الراشدين، ودولة بني أميّة، والدولة العبّاسية، وقد تعرّض بذكر وجيز للدول العارضة على الكيان العبّاسي كالدولة العلوية المعروفة بالفاطمية مثلا.
وكانت خطته أن يذكر الخلفاء والسلاطين وأعمالهم ثم يثنّي بذكر من استوزره من الوزراء، ملمّا بطرائف الوقائع من الحكايات على وجه الاستطراد لدفع الملل عن القارئ.. وهذا ما يجعل كتاب «الفخري» أهلا للمطالعة من جهتين، جهة التاريخ، وجهة الطرائف والحكايات العجيبة. فهو كتاب تاريخ وكتاب أدب ومسامرة في آن معا، وقد تقلّد بقلادة الأشعار في كثير من صفحاته، وكأنّ الناثر العربيّ سواء أكان مؤرخا أو عالما أم فيلسوفا، لا يستغني عن الاغتراف من معين الشعر
--------------------------------------------
পদমর্যাদা।
তিনি খোরাসানের একজন পারসিক নারীকে বিবাহ করেন এবং মসুলে বসবাস শুরু করেন। তিনি সেখানকার ওয়ালি (গভর্নর) ফখরউদ্দীন ঈসা ইবনে ইবরাহিমের নৈকট্য লাভ করেন তাঁকে তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘আল-ফাখরি ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ’ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে। গ্রন্থটির রচনা তিনি ৭০১ হিজরি সনে সমাপ্ত করেন এবং ওয়ালির নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘আল-ফাখরি’।
জালালুদ্দীন সুয়ূতী তাঁর ‘তারিখুল খুলাফা’ গ্রন্থে আলবীয় হাসানি বনু তাবাতাবা রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন, সেখানে তিনি বলেন: “তাদের মধ্য থেকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম তাবাতাবা একশত নিরানব্বই হিজরির জুমাদাল উলা মাসে খিলাফত পরিচালনা করেন [১]।” মনে হয় উল্লিখিত ব্যক্তিই সেই পূর্বপুরুষ যাঁর দিকে ঐতিহাসিক ইবনে তাবাতাবার বংশপরম্পরা সম্পর্কিত এবং তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আল-জিরিকলির ‘আল-আ’লাম’ গ্রন্থের ৫ম খণ্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে। তথ্যসূত্রগুলো ‘আল-ফাখরি’র লেখকের জীবন সম্পর্কে বিশেষ কোনো বিস্তারিত তথ্য আমাদের প্রদান করে না, কেবল এতটুকু ছাড়া যে তিনি একজন পারসিক নারীকে বিবাহ করেছিলেন, আজারবাইজানের মারাগা ভ্রমণ করেছিলেন, মসুলে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং ৭০৯ হিজরি সনে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মঙ্গোলদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং তাদের শাসনের প্রতি সমীহ প্রদর্শন করেছিলেন, সেই সাথে যারা তাদের পতাকাতলে শাসন পরিচালনা করছিল তাদের প্রতিও; আর এর সাথে যুক্ত ছিল তাঁর আলবীয় বংশীয় পরিচয়।
পক্ষান্তরে ‘আল-ফাখরি’ গ্রন্থটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে গঠিত: প্রথমটি হলো সুলতান ও তাঁদের সহযোগীদের সাধারণ শিষ্টাচার সংক্রান্ত বিষয়াদি, এবং দ্বিতীয়টি হলো তিনটি রাষ্ট্রের ইতিহাস: অর্থাৎ খুলাফায়ে রাশেদীনের রাষ্ট্র, বনু উমাইয়া রাষ্ট্র এবং আব্বাসীয় রাষ্ট্র। আব্বাসীয় কাঠামোর মধ্যে উদ্ভূত অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহ, যেমন উদাহরণস্বরূপ ফাতিমি নামে পরিচিত আলবীয় রাষ্ট্র সম্পর্কেও তিনি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন।
তাঁর পদ্ধতি ছিল খলিফা ও সুলতানদের কথা এবং তাঁদের কার্যাবলি উল্লেখ করা, এরপর তাঁদের নিযুক্ত উজিরদের কথা বর্ণনা করা। পাঠকের একঘেয়েমি দূর করার জন্য তিনি প্রসঙ্গক্রমে বিভিন্ন চমকপ্রদ ঘটনা ও কাহিনীর অবতারণা করেছেন। আর এটিই ‘আল-ফাখরি’ গ্রন্থটিকে দুটি দিক থেকে পাঠযোগ্য করে তুলেছে—ইতিহাসের দিক থেকে এবং চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর কাহিনীর দিক থেকে। এটি একই সাথে একটি ইতিহাসের বই এবং আদব (সাহিত্য) ও সান্ধ্যকালীন বিনোদনের বই। এর অনেকগুলো পৃষ্ঠা কবিতার অলংকারে সজ্জিত, যেন আরব গদ্যকার—তিনি ঐতিহাসিক, আলেম বা দার্শনিক যাই হোন না কেন—কবিতার ঝরনাধারা থেকে রসদ গ্রহণ করা ব্যতিরেকে চলতে পারেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الّذي هو ديوان العرب.
ويذكر الأستاذ عبد الوهاب الصابوني في كتابه «عيون المؤلفات» أنّ عنده من كتاب «الفخري في الآداب السلطانية والدول الإسلامية» طبعتين الأولى تامّة ولكنها غير محققة طبعت في مصر/ 1927/ م، والثانية منقحة مصححة تاريخها/ 1938/ م وقد راجعها ونقّحها محمد عوض إبراهيم بك وعليّ الجارم بك، ولولا أنني قد اطلعت على هذه الحقيقة بعد فراغي من تحقيق طبعة (عزّ) المتوفرة لديّ لنظرت بشكل أو بآخر في هاتين الطبعتين. على أنني كنت قد بيّنت حرصي على الانفراد بالجهد في الطبعة غير المنقحة ليكون لي فضل الجدّة والابتكار في إخراج العمل شكلا ومضمونا.
ومهما يكن، فللقارئ العربيّ أن يغتنم في كتاب «الفخري» مرجعا مختصرا ومفيدا بين المراجع التاريخية الأخرى المستفيضة مثل «تاريخ الأمم والملوك» لمحمد بن جرير الطبري، أو «الكامل في التاريخ» لعليّ بن محمد المعروف بابن الأثير الجزري وغيرهما.. ورغم انحياز صاحب الفخري إلى علويّته وحملته على عديد من خلفاء الدولتين الأموية والعباسية يجد القارئ في الكتاب مرجعا هامّا في تاريخ العرب والإسلام وها هو الآن نصّ محقق من نصوص الأدب والطرائف..
اسأل الله تعالى أن يجعل لي فيه ذخرا ليوم الدين، وأن يجعل فيه مددا لطلاب المعرفة والعبرة التاريخية، وهو على كل شيء قدير وبالإجابة جدير.
حلب 10/ 2/ 1418 هـ 16/ 6/ 1997 م عبد القادر محمد مايو الحلبي القسطلي
যা আরবদের দিওয়ান (কাব্যসংকলন)।
উস্তাদ আবদুল ওয়াহহাব আস-সাবুনী তাঁর «উয়ুনুল মুআল্লাফাত» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কাছে «আল-ফাখরি ফিল আদাব আস-সুলতানিয়া ওয়াদ দুওয়াল আল-ইসলামিয়া» গ্রন্থের দুটি সংস্করণ রয়েছে: প্রথমটি পূর্ণাঙ্গ কিন্তু অসম্পাদিত, যা ১৯২৭ সালে মিশরে মুদ্রিত হয়েছিল; এবং দ্বিতীয়টি পরিমার্জিত ও সংশোধিত, যার তারিখ ১৯৩৮ সাল এবং এটি মুহাম্মদ আওয়াদ ইবরাহিম বেক ও আলী আল-জারিম বেক পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করেছেন। আমার কাছে উপলব্ধ (ইয) সংস্করণটির সম্পাদনা শেষ করার পর যদি আমি এই বিষয়টি জানতে না পারতাম, তবে আমি কোনো না কোনোভাবে এই দুটি সংস্করণ দেখে নিতাম। তা সত্ত্বেও, আমি অ-পরিমার্জিত সংস্করণে এককভাবে শ্রম দেওয়ার ব্যাপারে আমার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলাম, যাতে কর্মটি রূপ ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমার নতুনত্ব ও সৃজনশীলতার মর্যাদা থাকে।
যাই হোক না কেন, আরবি ভাষার পাঠকের জন্য «আল-ফাখরি» বইটি অন্যান্য বিস্তৃত ঐতিহাসিক তথ্যসূত্রের মাঝে একটি সংক্ষিপ্ত ও দরকারী উৎস হতে পারে, যেমন মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তাবারির «তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক» অথবা ইবনুল আসির আল-জাযারি হিসেবে পরিচিত আলী ইবনে মুহাম্মদের «আল-কামিল ফিত তারিখ» এবং অন্যান্য গ্রন্থ। যদিও আল-ফাখরি-এর লেখক তাঁর শিয়া মতাদর্শের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন এবং উমাইয়া ও আব্বাসীয় উভয় খিলাফতের অনেক খলিফার কঠোর সমালোচনা করেছেন, তবুও পাঠক এই বইটিতে আরব ও ইসলামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস খুঁজে পাবেন। আর এটি এখন সাহিত্য ও কৌতূহলোদ্দীপক বর্ণনার একটি সম্পাদিত পাঠ।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে আমার জন্য বিচার দিবসের পাথেয় করেন এবং জ্ঞান অন্বেষণকারী ও ঐতিহাসিক শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য একে সহায়ক করেন; তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং প্রার্থনা কবুল করার যোগ্য।
আলেপ্পো ১০/ ২/ ১৪১৮ হিজরি ১৬/ ৬/ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ আবদুল কাদির মুহাম্মদ মায়ো আল-হালাবি আল-কাসতালি
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفخري في الآداب السلطانية والدول الإسلامية
আল-ফাখরি: রাজকীয় শিষ্টাচার ও ইসলামি রাষ্ট্রসমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرّحمن الرّحيم 1 الحمد للَّه مسبّب الأسباب، ومفتّح الأبواب. مقدّر الأمور، ومدبّر الدهور.
واجب الوجود، وخالق الأخلاق والجود. مفيض العقل. وواهب الكلّ. أقرّ أنه المالك وأنّ الوجود مملوك لعظمته. وأشهد أنه الفاطر. وأن الغيب غير مستور لحكمته. وأعوذ بجلال عزّه من ذلّ الحجاب، وبفضل جوده من نقاش الحساب، وبخافي علمه ممّا في الكتاب من العذاب، وأصلي على النّفوس العلويّة المطهّرة من الأدناس، وعلى الأجسام الأرضيّة المنزّهة عن الأرجاس. وأخصّ من بينهم بأفضل الصلوات الزاكيات، وأكمل التحيّات الناميات، من نادى والألسن حداد، وأرشد والأكباد غلاظ والقلوب جلاد- محمّدا النبيّ الأميّ ذا التأييدات الإلهيّة، والتأكيدات الجلاليّة، وآله الطيّبين وأصحابه الصالحين، الذين كانوا صدّقوه وقد أرسل، ونصروه وقد خذل، ما سمح جواد ووري زناد.
وبعد، فإن أفضل ما نظر فيه خواصّ الملوك، وسلكوا إليه أفضل السّلوك بعد نظرهم في أمر الأمّة، وقيامهم فيما استودعوه بالحجّة، هو النظر في العلوم، والإقبال على الكتب التي صدرت عن شرائف الفهوم، فأمّا فضيلة العلم فظاهرة ظهور الشمس عريّة من الشّكّ واللّبس، فمما جاء من ذلك في التنزيل قوله تعالى:
هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ 39: 9 [1] ، وممّا جاء في الحديث- صلوات الله وسلامه على من نسب إليه-: «إن الملائكة لتضع [2] أجنحتها لطالب العلم» . وأما فضيلة الكتب فقد قالوا: إن الكتاب هو الجليس الّذي لا ينافق، ولا يملّ ولا يعاتبك إذا جفوته، ولا يفشي سرّك. وقال المهلّب [3] لبنيه: يا بنيّ: إذا
--------------------------------------------
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল কারণের কারণ এবং সকল দ্বার উন্মোচনকারী। সকল বিষয়ের নির্ধারণকারী এবং মহাকালের পরিচালক।
যাঁর অস্তিত্ব অপরিহার্য, এবং যিনি মহৎ চরিত্র ও বদান্যতার স্রষ্টা। বিবেচনা-শক্তির উৎস এবং সবকিছুর দানকারী। আমি স্বীকার করি যে তিনিই মালিক এবং সকল অস্তিত্ব তাঁর মহত্ত্বের নিকট মালিকানাধীন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনিই স্রষ্টা; এবং তাঁর প্রজ্ঞার নিকট অদৃশ্যের কিছুই আবৃত নয়। আমি তাঁর প্রতাপশালী সম্মানের উসিলায় পর্দার লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর বদান্যতার অনুগ্রহে হিসাবের কঠোরতা থেকে, এবং তাঁর গুপ্ত জ্ঞানের মাধ্যমে কিতাবে (লিপিবদ্ধ) থাকা আযাব থেকে। আমি কলুষতা থেকে পবিত্র উচ্চমার্গীয় আত্মাগুলোর ওপর এবং অপবিত্রতা থেকে মুক্ত পার্থিব দেহগুলোর ওপর সালাত পেশ করছি। তাদের মধ্য থেকে আমি বিশেষভাবে অতি উত্তম পবিত্র সালাত এবং পূর্ণাঙ্গ ক্রমবর্ধমান সালাম পেশ করছি সেই ব্যক্তির ওপর যিনি ডাক দিয়েছিলেন যখন ভাষা ছিল তীক্ষ্ণ, এবং যিনি পথপ্রদর্শন করেছিলেন যখন অন্তরসমূহ ছিল কঠিন ও হৃদয়সমূহ ছিল পাষাণ—উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি ঐশী সমর্থন এবং প্রতাপশালী নিশ্চয়তা প্রাপ্ত, এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও পুণ্যবান সাহাবীবৃন্দের ওপর, যাঁরা তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন যখন তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল, এবং তাঁকে সাহায্য করেছিলেন যখন অন্যরা তাঁকে ত্যাগ করেছিল; যতদিন দানশীল ব্যক্তি দান করবে এবং চকমকি পাথর আগুন জ্বালাবে।
অতঃপর, রাজন্যবর্গের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উম্মাহর বিষয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং আমানতকৃত দায়িত্ব দলীল-প্রমাণের সাথে পালন করার পর যে শ্রেষ্ঠ বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং যে শ্রেষ্ঠ পথে চলেন, তা হলো জ্ঞানসমূহ নিয়ে গবেষণা করা এবং সেই সকল কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করা যা উন্নত ধীশক্তি থেকে নিঃসৃত হয়েছে। জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব তো সূর্যের মতো স্পষ্ট, যা সন্দেহ ও অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত। এ বিষয়ে আসমানি কিতাবে আল্লাহ তাআলার বাণী এসেছে:
যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? ৩৯: ৯ [১], এবং হাদীসে যা এসেছে—যাঁর প্রতি এটি সম্বন্ধযুক্ত তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—: «নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়»। আর কিতাবসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তারা বলেছেন: নিশ্চয়ই কিতাব হলো এমন সহচর যা কপটতা করে না, ক্লান্ত করে না এবং তাকে উপেক্ষা করলে সে তিরস্কার করে না, আর সে তোমার গোপন রহস্য ফাঁস করে না। মুহাল্লাব [৩] তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন: হে বৎস! যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقفتم في الأسواق فلا تقفوا إلا على من يبيع السلاح، أو يبيع الكتب.
وكان الفتح بن خاقان [1] إذا كان جالسا في حضرة المتوكّل، وأراد أن يقوم إلى المتوضّأ، أخرج من ساق موزته كتابا لطيفا، فلا يزال يطالعه في ممرّه وعوده فإذا وصل إلى الحضرة أعاده إلى ساق موزته.
أرسل بعض الخلفاء في طلب بعض العلماء ليسامره، فلما جاء الخادم إليه وجده جالسا وحواليه كتب، وهو يطالع فيها: فقال له: إن أمير المؤمنين يستدعيك قال: قل له: عندي قوم من الحكماء أحادثهم، فإذا فرغت منهم حضرت. فلمّا عاد الخادم إلى الخليفة وأخبره بذلك، قال له: ويحك! من هؤلاء الحكماء الذين كانوا عنده؟ قال: والله يا أمير المؤمنين ما كان عنده أحد! قال: فأحضره الساعة كيف كان. فلما حضر ذلك العالم، قال له الخليفة: من هؤلاء الحكماء الذين كانوا عندك؟ قال: يا أمير المؤمنين:
لنا جلساء ما نملّ حديثهم
… أمينون مأمونون غيبا ومشهدا
يفيدوننا من علمهم علم ما مضى
… ورأيا وتأديبا ومجدا وسؤددا
فإن قلت: أموات. فلم تعد أمرهم
… وإن قلت: أحياء. فلست مفندا
(طويل) فعلم الخليفة أنه يشير بذلك إلى الكتب، ولم ينكر عليه تأخره.
وقال الجاحظ: دخلت على محمّد بن إسحاق [2] أمير بغداد، في أيام ولايته وهو جالس في الديوان، والناس مثول بين يديه كأن على رءوسهم الطير، ثم دخلت إليه بعد مدّة وهو معزول، وهو جالس في خزانة كتبه، وحواليه الكتب والدفاتر والمحابر والمساطر. فما رأيته أهيب منه في تلك الحال!.
وقال المتنبي:
أعزّ مكان في الدّنا سرج سابح
… وخير جليس في الزّمان كتاب
(طويل)
--------------------------------------------
তোমরা যখন বাজারে অবস্থান করবে, তখন অস্ত্র বিক্রেতা অথবা বই বিক্রেতা ছাড়া আর কারও কাছে থেমো না।
ফাতহ বিন খাকান [১] যখন খলীফা মুতাওয়াক্কিলের দরবারে বসে থাকতেন এবং অজুখানায় যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর মোজার ভেতর থেকে একটি ছোট বই বের করতেন। যাওয়া ও আসার পথে তিনি সেটি নিরবচ্ছিন্নভাবে পাঠ করতেন। অতঃপর যখন দরবারে পৌঁছাতেন, তখন সেটি পুনরায় তাঁর মোজার ভেতরে রেখে দিতেন।
জনৈক খলীফা কোনো একজন আলিমের কাছে তাঁর সাথে গল্পগুজব করার জন্য লোক পাঠালেন। যখন খাদেম তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন সে তাঁকে বসা অবস্থায় পেল এবং তাঁর চারপাশ বইয়ে ঘেরা ছিল, তিনি সেগুলো অধ্যয়ন করছিলেন। খাদেম তাঁকে বলল: আমীরুল মুমিনীন আপনাকে ডাকছেন। তিনি বললেন: তাঁকে গিয়ে বলো: আমার কাছে একদল প্রাজ্ঞ ব্যক্তি আছেন যাদের সাথে আমি কথা বলছি, তাদের থেকে অবসর হলে আমি উপস্থিত হব। যখন খাদেম খলীফার কাছে ফিরে গেল এবং তাঁকে এ সংবাদ দিল, তখন তিনি তাকে বললেন: তোমার সর্বনাশ হোক! এই প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা কারা যারা তাঁর কাছে ছিল? সে বলল: আল্লাহর কসম হে আমীরুল মুমিনীন! তাঁর কাছে কেউ ছিল না! খলীফা বললেন: তিনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, এখনই তাঁকে নিয়ে এসো। যখন সেই আলিম উপস্থিত হলেন, খলীফা তাঁকে বললেন: এই প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা কারা যারা আপনার কাছে ছিল? তিনি বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন:
আমাদের এমন কিছু সঙ্গী আছে যাদের আলাপনে আমরা ক্লান্ত হই না
… অনুপস্থিত বা উপস্থিত সব অবস্থায় তারা বিশ্বস্ত ও আমানতদার
তারা আমাদের তাদের ইলম থেকে অতীতকালের জ্ঞান প্রদান করে
… এবং প্রজ্ঞা, শিষ্টাচার, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের শিক্ষা দেয়
আপনি যদি বলেন তারা মৃত, তবে তাদের ব্যাপারে কোনো ভুল বলেননি
… আর যদি বলেন তারা জীবিত, তবে আপনি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবেন না
(তওয়ীল ছন্দ) তখন খলীফা বুঝতে পারলেন যে, তিনি এর মাধ্যমে বইয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছেন, ফলে তিনি তাঁর বিলম্ব করার জন্য কোনো আপত্তি করলেন না।
আল-জাহিজ বলেন: আমি বাগদাদের আমীর মুহাম্মদ বিন ইসহাক [২]-এর নিকট তাঁর শাসনকালে প্রবেশ করলাম। তিনি দিওয়ানে বসা ছিলেন এবং মানুষ তাঁর সামনে এমনভাবে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যেন তাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। এরপর বেশ কিছুদিন পর তিনি যখন পদচ্যুত হন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি তাঁর কুতুবখানায় বসা ছিলেন এবং তাঁর চারপাশে ছিল বই, পাণ্ডুলিপি, দোয়াত ও রুলার। আমি তাঁকে ঐ অবস্থার চেয়ে অধিক গাম্ভীর্যপূর্ণ আর কখনও দেখিনি!
আল-মুতানাব্বি বলেন:
জগতের সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ স্থান হলো দ্রুতগামী ঘোড়ার পিঠ
… আর মহাকালের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী হলো বই
(তওয়ীল ছন্দ)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والعلم يزيّن الملوك أكثر ممّا يزين السّوقة، وإذا كان الملك عالما صار العالم ملكا وأصلح ما نظر فيه الملوك ما اشتمل على الآداب السلطانيّة، والسّير التاريخية المطويّة على ظرائف الأخبار، وعجائب الآثار، على أنّ الوزراء كانوا قديما يكرهون أنّ الملوك يقفون على شيء من السّير والتواريخ، خوفا أن يتفطّن الملوك إلى أشياء لا يحبّ الوزراء أن يتفطّن لها الملوك.
طلب المكتفي [1] من وزيره كتبا يلهو بها؟ ويقطع بمطالعتها زمانه، فتقدم الوزير إلى النوّاب بتحصيل ذلك، وعرضه عليه قبل حمله إلى الخليفة، فحصلوا شيئا من كتب التاريخ، وفيها شيء مما جرى في الأيام السالفة من وقائع الملوك، وأخبار الوزراء ومعرفة التحيّل في استخراج الأموال، فلمّا رآه الوزير، قال لنوّابه والله إنكم أشدّ الناس عداوة لي، أنا قلت لكم: حصّلوا له كتبا يلهو بها، ويشتغل بها عنّي وعن غيري فقد حصّلتم له ما يعرّفه مصارع الوزراء، ويوجده الطريق إلى استخراج المال، ويعرّفه خراب البلاد من عمارتها! ردّوها، وحصّلوا له كتبا فيها حكايات تلهيه، وأشعار تطربه.
وكانوا يكرهون أيضا أن يكون في الخلفاء والملوك فطانة ومعرفة بالأمور ولما مات المكتفي، عزم وزيره على مبايعة عبد الله بن المعتزّ [2] ، وكان عبد الله فاضلا لبيبا محصلا، فخلا به بعض عقلاء الكتاب وقال له: أيّهذا الوزير: هذا الرأي الّذي قد رأيته في مبايعة ابن المعتز ليس بصواب، قال الوزير: كيف ذلك؟
قال: أيّ حاجة لك أن تجلس على سرير الخلافة من يعرف الذّراع والميزان والأسعار، ويفهم الأمور، ويعرف القبيح من الحسن، ويعرف دارك وبستانك وضيعتك؟ الرأي أن تجلس صبيّا صغيرا فيكون اسم الخلافة له، ومعناها لك، فتربّيه إلى أن يكبر، فإذا كبر عرف لك حقّ التربية، وتكون أنت قد قضيت أوطارك
--------------------------------------------
জ্ঞান রাজন্যবর্গকে সাধারণ প্রজাদের তুলনায় অধিক অলঙ্কৃত করে। যদি কোনো রাজা জ্ঞানী হন, তবে সেই জ্ঞানী ব্যক্তিই প্রকৃত রাজা হন। রাজাদের পাঠ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিষয় হলো রাজকীয় আদব-কায়দা এবং ইতিহাসের সেই পরিক্রমা যা চমৎকার সংবাদ ও বিস্ময়কর নিদর্শনাদিতে সমৃদ্ধ। তবে প্রাচীনকালের উজিরগণ রাজাদের ইতিহাস ও জীবনী পাঠ করা অপছন্দ করতেন। তাঁদের ভয় ছিল যে, রাজা হয়তো এমন কিছু বিষয় অনুধাবন করে ফেলবেন যা উজিররা চাইতেন না যে তিনি অনুধাবন করুন।
আল-মুক্তাফি [১] তাঁর উজিরের কাছে বিনোদনের জন্য এবং সময় কাটানোর জন্য কিছু বই চাইলেন। উজির তাঁর প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিলেন সেগুলো সংগ্রহ করতে এবং খলিফার কাছে পেশ করার আগে তাঁর কাছে প্রদর্শন করতে। তাঁরা ইতিহাসের কিছু কিতাব সংগ্রহ করলেন, যাতে বিগত দিনগুলোর রাজাদের ঘটনাবলি, উজিরদের সংবাদ এবং অর্থ আদায়ের কলাকৌশল সংক্রান্ত বিষয়াদি ছিল। উজির যখন তা দেখলেন, তখন তাঁর প্রতিনিধিদের বললেন, "আল্লাহর কসম! তোমরা আমার সবচেয়ে বড় শত্রু। আমি তোমাদের বলেছিলাম এমন বই সংগ্রহ করতে যা দিয়ে তিনি বিনোদনে মগ্ন থাকবেন এবং আমার ও অন্যদের ব্যাপারে উদাসীন থাকবেন। অথচ তোমরা এমন বই সংগ্রহ করেছ যা তাঁকে উজিরদের পতনের কারণসমূহ শেখাবে, অর্থ আদায়ের পথ বাতলে দেবে এবং জনপদের আবাদ ও বরবাদ হওয়ার পার্থক্য বুঝিয়ে দেবে! এগুলো ফেরত দাও এবং এমন বই নিয়ে এসো যাতে বিনোদনমূলক গল্প এবং আনন্দদায়ক কবিতা রয়েছে।"
তাঁরা খলিফা ও রাজাদের মধ্যে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিষয়াষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকাকেও অপছন্দ করতেন। যখন আল-মুক্তাফি মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাঁর উজির আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতাযের [২] হাতে বয়াত গ্রহণের সংকল্প করলেন। আব্দুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত গুণী, বুদ্ধিমান এবং সপ্রতিভ ব্যক্তি। তখন এক বুদ্ধিমান লেখক নির্জনে উজিরের সাথে দেখা করে বললেন, "হে উজির! ইবনুল মুতাযের বয়াত গ্রহণের ব্যাপারে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সঠিক নয়।" উজির জিজ্ঞেস করলেন, "তা কেন?"
তিনি বললেন, "আপনার এমন একজনকে খেলাফতের সিংহাসনে বসানোর কী প্রয়োজন, যে পরিমাপ, ওজন ও বাজারদর সম্পর্কে অবগত, যে বিষয়াদি বুঝতে পারে, ভালো-মন্দের পার্থক্য জানে এবং আপনার ঘরবাড়ি, বাগান ও স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে খবর রাখে? সঠিক সিদ্ধান্ত হলো কোনো অল্পবয়স্ক বালককে সিংহাসনে বসানো। খেলাফতের নাম হবে তার, আর কর্তৃত্ব থাকবে আপনার। আপনি তাকে লালন-পালন করবেন যতক্ষণ না সে বড় হয়। যখন সে বড় হবে, তখন সে আপনার লালন-পালনের হকের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে এবং ততদিনে আপনি আপনার উদ্দেশ্যসমূহ পূরণ করে নিতে পারবেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مدّة صغره، فشكره الوزير على ذلك، وعدل عن عبد الله بن المعتزّ إلى المقتدر، وعمره يومئذ ثلاث عشرة سنة.
وكان بدر الدين لؤلؤ [1] صاحب الموصل- رحمه الله أكثر ما يجري في مجلس أنسه إيراد الأشعار المطربة، والحكايات الملهية، فإذا دخل شهر رمضان أحضرت له كتب التواريخ والسّير، وجلس الزّين الكاتب وعزّ الدين المحدّث يقرءان عليه أحوال العالم.
وهذا التقرير يستدعي شرح حال: وذلك أنّي حين أحلّني حكم القضاء بالموصل الحدباء، حللتها غير متعرض لوبلها أو طلّها، ودخلتها كما قال عزّ من قائل: وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلى حِينِ غَفْلَةٍ من أَهْلِها 28: 15 [2] ، وكنت بنيت عزمي على المقام فيها بقدر ما ينكسر البرد، ثم التوجّه بعد ذلك إلى تبريز، فحين استقررت بالموصل، بلغني من عدّة جهات مختلفة، ومن ذوي آراء غير مؤتلفة، غزارة فضل صاحبها الأعظم المولى المخدوم الملك المعظّم، أفضل الملوك وأعظمهم، وأكرم الحكماء وأحلمهم، فخر الملّة والدين، الممنوح بخصائص لو كانت للدهر لما شكا صرفه حر ولما مسّ أحدا منه ضرّ، ولو كانت للبحر لما كان ماؤه ملحا أجاجا، ولا خاف راكبه منه أمواجا، ولو ظفرت بها الأقمار، لما لحقها السّرار، عيسى [3] الّذي أحيا ميت الفضائل، ونشر طيّ الفواضل، وأقام سوق المكارم في عصر كسدت فيه سوقها وأنهض مقعدات المحاسن بعد ما عجزت عن حمل أجسامها سوقها، وذبّ عن الأحرار في زمان هم فيه أقلّ من القليل، وملأ أيديهم من عطائه بأياد واضحة الغرّة والتّحجيل وأفاء عليهم ظلّ رأفة لا ينتقل، وخفض لهم جناح رحمة فما بيني يتفضّل عليهم ويتطوّل، كلّما ازداد دولة وتمكينا
--------------------------------------------
তাঁর অল্পবয়স হওয়া সত্ত্বেও উজির এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানালেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুতাজকে ছেড়ে আল-মুক্তাদিরের দিকে মনোনিবেশ করলেন, যার বয়স তখন ছিল তেরো বছর।
আর মউসুলের অধিপতি বদরুদ্দিন লুলু [১]—আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন—তাঁর বিনোদন মজলিসগুলোতে বেশিরভাগ সময় আনন্দদায়ক কবিতা এবং আমোদপ্রমোদপূর্ণ কাহিনী আলোচিত হতো। কিন্তু যখন রমজান মাস আসত, তাঁর কাছে ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থসমূহ উপস্থিত করা হতো এবং লেখক জাইন ও মুহাদ্দিস ইজ্জুদ্দিন বসে তাঁর সামনে বিশ্বের ঘটনাবলি পাঠ করতেন।
আর এই বিবৃতির জন্য পরিস্থিতির ব্যাখ্যা প্রয়োজন: তা হলো, যখন ভাগ্যের লিখন আমাকে কুঁজো মউসুলে (আল-হাদবা) নিয়ে এল, আমি সেখানে তার প্রবল বৃষ্টি বা শিশিরবিন্দুর তোয়াক্কা না করেই উপস্থিত হলাম। আমি সেখানে প্রবেশ করলাম যেভাবে মহান সত্তা বলেছেন: "আর সে শহরে প্রবেশ করল যখন তার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক।" ২৮: ১৫ [২], এবং আমি সেখানে শীতের তীব্রতা কমা পর্যন্ত অবস্থানের সংকল্প করেছিলাম, তারপর তাবরিজের দিকে যাত্রা করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু যখন আমি মউসুলে থিতু হলাম, তখন বিভিন্ন দিক থেকে এবং ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী লোকদের কাছ থেকে এর মহান অধিপতি, সেবক ও সম্মানিত মালিকের শ্রেষ্ঠত্বের কথা জানতে পারলাম। তিনি রাজাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মহান, প্রজ্ঞাবানদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ও ধৈর্যশীল, মিল্লাত ও দ্বীনের গৌরব। তাঁকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা যদি মহাকালের থাকত তবে তার আবর্তন কোনো উত্তাপের অভিযোগ করত না এবং তার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। যদি তা সমুদ্রের থাকত, তবে তার পানি অতিরিক্ত লবণাক্ত ও তিক্ত হতো না এবং তার আরোহী ঢেউয়ের ভয় পেত না। আর যদি চাঁদ তা লাভ করত, তবে তাকে অমাবস্যার অন্ধকার স্পর্শ করত না। তিনি হলেন ঈসা [৩], যিনি মৃতপ্রায় গুণাবলিকে পুনর্জীবিত করেছেন, বিলুপ্তপ্রায় শ্রেষ্ঠত্বকে প্রসারিত করেছেন এবং এমন এক যুগে মহত্ত্বের বাজার কায়েম করেছেন যখন তার বাজার ছিল মন্দা। তিনি সৌন্দর্যের পঙ্গু অঙ্গগুলোকে পুনরুত্থিত করেছেন যখন তাদের পাগুলো শরীর বহনে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। তিনি এমন এক সময়ে স্বাধীনচেতাদের রক্ষা করেছেন যখন তারা সংখ্যায় ছিল অতি নগণ্য। তিনি তাদের হাতকে তাঁর দান-দক্ষিণা দিয়ে পূর্ণ করেছেন যা অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুপ্রসিদ্ধ। তিনি তাদের ওপর এক অটল মমতার ছায়া বিস্তার করেছেন এবং তাদের প্রতি করুণার ডানা অবনমিত করেছেন, ফলে তিনি সর্বদা তাদের ওপর কৃপা ও অনুগ্রহ বর্ষণ করতে থাকেন, যতবারই তাঁর রাষ্ট্র ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
زاد تواضعا ولينا، وكلّما بلغ من الملك غاية، رفع للكرم راية ابن إبراهيم أعزّ الله نصره، وأنفذ نهيه وأمره، الّذي أنسى ذكر الأجواد، ورزانة الأطواد وشجاعة الآساد:
للشّمس فيه وللرّياح وللسحاب
… وللبحار وللأسود شمائل
(كامل) الّذي هو في جبهة هذا الدهر غرّة، وفي قلادته درّة لا تدانيها في الدنيا درّة الّذي صدّق أخبار الماضين، وحقق ما نسخ من مآثر الأوّلين.
وقد قال ابن الرومي:
أظنّ بأنّ الدهر ما زال هكذا
… وأنّ حديث الجود ليس له أصل
وهب أنّه كان الكرام كما حكوا
… أما كان فيهم واحد وله نسل؟!
(طويل) فلو شاهد لصدّق ما سمع من أخبار أهل الكرم، ولما اختلجت بين جنبيه عوارض التّهم، الحاكم الّذي إذا سلّط ذهنه الشريف، وفكره اللطيف، على القضايا الديوانيّة، والأمور السلطانية ذلّت له الصعاب، ولانت له الصّم الصّلاب، وظهرت له الخفايا، وتعذّر أن يقال: في الزوايا خبايا.
أما قوّة العدل عنده فسليمة، قواعدها لديه قويمة، فلا تجزعنّك هيبته المرهوبة فإنّ وراءها رأفة بالضعيف، ورقة على الفقير، وجبرا للكسير.
وله من الصّفح الجميل عوائد
… أسر الطليق بها، وفكّ العاني [1]
(كامل) ولقد حضرت يوما مجلسه الرفيع وكان يوم غيث، وقد تقدم بصيانة الباب فلما كثر الغيث، قال للحجّاب: من حضر الباب وله حاجة فعرّفونا بها، ثم قال:
إن أحدا لا يحضر في مثل هذا الوقت إلّا لضرورة، ولا يجوز أن يردّ خائبا، فباللَّه هل يأتي في هذا الكتاب الّذي يريد أن يكون مشتملا على محاسن الآثار، إلا ما هو
--------------------------------------------
তাঁর বিনয় ও কোমলতা বৃদ্ধি পেয়েছে; যখনই তিনি রাজত্বের চরম শিখরে পৌঁছেছেন, মহত্বের ঝাণ্ডা আরও উচ্চে তুলে ধরেছেন। তিনি ইবরাহিমের পুত্র—আল্লাহ তাঁর বিজয়কে শক্তিশালী করুন এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধকে কার্যকর করুন—যিনি দানশীলদের আলোচনা, পাহাড়ের অটলতা এবং সিংহদের সাহসিকতাকে বিস্মৃত করে দিয়েছেন:
তাঁর মধ্যে সূর্যের তেজ, বায়ুর গতি, মেঘের বদান্যতা
… সমুদ্রের বিশালতা এবং সিংহের শৌর্য বিদ্যমান।
(কামিল ছন্দ) যিনি এই মহাকালের ললাটে এক উজ্জ্বল তিলক এবং এর কণ্ঠহারে এমন এক মুক্তা, পৃথিবীতে যার সমতুল্য কোনো মুক্তা নেই; যিনি পূর্ববর্তীদের সংবাদসমূহকে সত্য প্রমাণিত করেছেন এবং প্রাচীনদের কীর্তিগাথা থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা বাস্তবে রূপদান করেছেন।
ইবনুর রুমি বলেছেন:
আমি মনে করি যে কালচক্র এভাবেই চলমান রয়েছে
… এবং দানশীলতার কাহিনীর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তাদের বর্ণনামতে অতীতে মহানুভব ব্যক্তিরা ছিলেন
… তবে তাঁদের মধ্যে কি এমন কেউ ছিলেন না যার কোনো বংশধর বা উত্তরসূরি রয়েছে?!
(তবিল ছন্দ) যদি তিনি প্রত্যক্ষ করতেন তবে দানশীল ব্যক্তিদের সংবাদ যা তিনি শুনেছেন তা অবশ্যই বিশ্বাস করতেন এবং তাঁর অন্তরে সন্দেহের কোনো উদ্রেক হতো না। তিনি এমন এক শাসক যে, যখন তিনি তাঁর মহৎ মেধা ও সূক্ষ্ম চিন্তাশক্তিকে প্রশাসনিক কার্যাবলি এবং রাষ্ট্রীয় বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করেন, তখন সমস্ত কঠিন কাজ তাঁর কাছে সহজ হয়ে যায়, কঠোর পাষাণও তাঁর জন্য নরম হয়ে যায়, গোপন রহস্যসমূহ তাঁর কাছে উন্মোচিত হয় এবং তখন আর বলার সুযোগ থাকে না যে: "কোণায় কোণায় গুপ্তধন লুকিয়ে আছে।"
তাঁর নিকট ন্যায়বিচারের শক্তি নিষ্কলঙ্ক এবং এর ভিত্তি সুদৃঢ়। অতএব, তাঁর প্রকম্পিত প্রভাব যেন আপনাকে আতঙ্কিত না করে, কারণ এর পেছনে রয়েছে দুর্বলের প্রতি মমতা, দরিদ্রের প্রতি কোমলতা এবং ভগ্নহৃদয়কে জোড়া দেওয়ার মানসিকতা।
চমৎকার ক্ষমা প্রদর্শন তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে
… যার মাধ্যমে তিনি মুক্ত মানুষকে অনুগত করেন এবং বন্দীদের মুক্তি দেন [১]।
(কামিল ছন্দ) একদিন আমি তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন মজলিসে উপস্থিত ছিলাম এবং দিনটি ছিল বৃষ্টির দিন। ইতিপূর্বেই তিনি দ্বার রক্ষণের আদেশ দিয়েছিলেন। যখন বৃষ্টির বেগ বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি দ্বাররক্ষীদের বললেন: "যারা দরজায় উপস্থিত হয়েছে এবং যাদের কোনো প্রয়োজন আছে, তাদের কথা আমাদের জানাও।" অতঃপর তিনি বললেন:
এমন সময়ে কেউ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া উপস্থিত হয় না, আর কাউকে ব্যর্থ মনোরথ করে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আল্লাহর কসম, এই গ্রন্থে যা উত্তম নিদর্শনাবলিকে ধারণ করতে চায়, তাতে কি এমন কিছু আসবে যা কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من جنس هذه الحكاية؟.
وأما قوة السّياسة عنده فعظيمة، لم تعترضها هضيمة [1] ، فلا تغرنكم رقته وابتسامه، فإنّ وراء ذلك صرامة يخضع لها الأسود، وشهامة يحذرها السيّد والمسود.
هو البحر غص فيه إذا كان ساكنا
… على الدّرّ، واحذره إذا كان مزبدا
(طويل) وأما قوّة الذكاء والتيقّظ فهو فيها كما قال المتنبّي:
تعرف في عينه حقيقته
… كأنه بالذكاء مكتحل
أشفق عند اتقاد فكرته
… عليه منها، أخاف يشتعل
(منسرح) وأمّا قوّة العقل الغزير، والتمييز الصحيح، فإنّي لأظنّ أنّ عقلاء الملوك الماضين لو عاشوا وشاهدوه لتعلّموا منه كيف يساس الجمهور، وكيف تدبّر الأمور وأما قوّة الكرم الّذي تجاوز الحدّ وخرج، فحدّث عن البحر ولا حرج، فلو عاش الكرام الذين ضربت بهم الأمثال وعدمت لهم النظراء والأمثال، لتعلّموا منه غوامض الكرم ولتلقّفوا منه محاسن الشيم، ولو أنصفت لتركت وصف هذه القوّة من قواه عجزا عن الإحاطة بكنه وصفها، وقصورا عن القيام بواجب وصفها، ولكنّي أقول بحسب الجهد والطاقة: إن احتقاره للدنيا احتقار الأولياء، واستصغاره لها استصغار الزّهاد:
فلو جاد بالدنيا وثنّى بضعفها
… لظنّ من استصغاره أنّه ضنّا
(طويل) يعطي عطاء من يبقى الذّكر ويحييه، وينفد المال ويفنيه.
أعاذل، إنّ الجود ليس بمهلكي
… ولا يخلد النفس الشحيحة لومها [2]
وتذكر أخلاق الفتى، وعظامه
… مغيّبة في التّرب بال رميمها
(طويل)
--------------------------------------------
এই কাহিনীর অনুরূপ কি কিছু আছে?
আর তাঁর শাসন-নৈপুণ্য অত্যন্ত মহান, যার মধ্যে কোনো যুলুম বা দুর্বলতা প্রবেশ করতে পারেনি। তাঁর কোমলতা ও মৃদুহাসি যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে, কারণ এর আড়ালে এমন কঠোরতা রয়েছে যার সামনে সিংহও নতি স্বীকার করে, এবং এমন বীরত্ব রয়েছে যা থেকে নেতা ও অনুসারী সকলেই সতর্ক থাকে।
তিনি এক সমুদ্র, যখন তা শান্ত থাকে তখন মুক্তো আহরণের জন্য তাতে ডুব দাও; আর যখন তা উত্তাল হয় তখন তা থেকে সতর্ক থাকো।
(তবিল) আর প্রখর মেধা ও বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে তিনি ঠিক তেমনই, যেমনটি মুতানাব্বি বলেছেন:
তাঁর চোখের মাঝেই তাঁর সত্যতা চেনা যায়, মনে হয় যেন তিনি দু'চোখে বুদ্ধিমত্তার সুরমা মেখেছেন।
তাঁর চিন্তাশক্তির প্রখরতা দেখে আমি তাঁর ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়ি, ভয় হয় পাছে তা জ্বলে না ওঠে।
(মুনসারিহ) আর তাঁর গভীর বুদ্ধি ও সঠিক বিচারক্ষমতার কথা বলতে গেলে—আমি মনে করি অতীতের জ্ঞানী রাজাগণ যদি আজ জীবিত থাকতেন এবং তাঁকে দেখতেন, তবে তাঁরা তাঁর নিকট থেকে শিখতেন কীভাবে প্রজাসাধারণকে শাসন করতে হয় এবং কীভাবে বিষয়াদি পরিচালনা করতে হয়। আর তাঁর সীমাহীন দানশীলতার যে শক্তি, সে সম্পর্কে সমুদ্রের মতো স্বচ্ছন্দে বর্ণনা করো, তাতে কোনো দ্বিধা নেই। যদি সেইসব দাতা ব্যক্তিরা আজ জীবিত থাকতেন যাদের উদাহরণ দেওয়া হয় এবং যাদের কোনো সমকক্ষ নেই, তবে তাঁরা তাঁর নিকট থেকে দানশীলতার নিগূঢ় রহস্য শিখতেন এবং তাঁর কাছ থেকে উত্তম চরিত্রের গুণাবলি গ্রহণ করতেন। যদি আমি ন্যায়বিচার করতাম, তবে তাঁর এই গুণটি বর্ণনা করা ছেড়ে দিতাম; কারণ এর প্রকৃত রূপ ফুটিয়ে তোলা আমার সাধ্যের বাইরে এবং এর যথার্থ বর্ণনার হক আদায় করতে আমি অক্ষম। তবুও আমি আমার সাধ্যমতো বলছি: দুনিয়ার প্রতি তাঁর তুচ্ছজ্ঞান আউলিয়াদের মতো এবং এর প্রতি তাঁর অবজ্ঞা যাহিদদের মতো:
তিনি যদি সমগ্র দুনিয়া দান করে দেন এবং এর দ্বিগুণও দিয়ে দেন, তবে একে তিনি এতই ক্ষুদ্র মনে করেন যে মনে হবে যেন তিনি কৃপণতা করেছেন।
(তবিল) তিনি এমনভাবে দান করেন যা সুখ্যাতিকে চিরস্থায়ী ও জীবন্ত রাখে, অথচ ধন-সম্পদকে নিঃশেষ ও বিলীন করে দেয়।
হে তিরস্কারকারী! দানশীলতা আমাকে ধ্বংস করবে না, আর কৃপণতা কোনো কৃপণ আত্মাকে অমর করে রাখবে না।
যুবকের সচ্চরিত্রের কথাই স্মরণ করা হয়, অথচ তখন তার হাড়গুলো মাটির নিচে জীর্ণ ও চূর্ণ-বিচূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে।
(তবিল)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بهمة نالت السماء، وجاوزت الجوزاء، ومن هناك حصل له الأنس بعلم النجوم فإنه أخذ علمها بالارتقاء إليها والاقتراب، لا بالحساب والأصطرلاب [1] ، بلغ السماء علوّا فشافهته بأسرارها كواكبها، وفرع [2] الأفلاك سموّا فحدثته بأخبارها، مشارقها ومغاربها:
له همم لا منتهى لكبارها
… وهمّته الصّغرى أجلّ من الدّهر
(طويل) لا تستقرّ في خزائنه نفائس أمواله، وليس لها بيت يحفظها سوى بيوت سؤّاله [3] :
إنا إذا اجتمعت يوما دراهمنا
… ظلّت إلى طرق العلياء تستبق
لا يألف الدّرهم المنقوش صرّتنا
… لكن يمرّ عليها وهو منطلق
(بسيط) لا يفعل السّكر في كرمه إلا كما يفعل الصّحو في إمطار ديمه [4]
يعيد عطايا سكره عند صحوه
… ليعلم أنّ الجود منه على علم
ويسلم في الإحسان من قول قائل
… تكرّم لمّا خامرته [5] ابنة الكرم
(طويل) ومن أسرار كرمه أنّه منزّه عن التّبذير، وإن كان أكثر من الكثير لأنه موضوع في أجلّ مواضعه، وواقع في أفضل مواقعة، فمتى تعرّض آمل أو عنّ سائل [6] ، بادر إلى إرفاده (7) مبادرة السيل إلى وهاده.
--------------------------------------------
এমন এক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে তিনি আকাশ স্পর্শ করেছেন এবং জাওযা (মিথুন রাশি) অতিক্রম করেছেন। সেখান থেকেই নক্ষত্রবিজ্ঞানের সাথে তাঁর হৃদ্যতা তৈরি হয়েছে; কেননা তিনি সেই জ্ঞান অর্জন করেছেন সেগুলোর দিকে আরোহণ ও নৈকট্য লাভের মাধ্যমে, হিসাব-নিকাশ কিংবা আসরলাব (অ্যাস্ট্রোল্যাব) [১] দিয়ে নয়। তিনি উচ্চতায় আসমানে পৌঁছেছিলেন, ফলে নক্ষত্ররাজি তাদের রহস্য নিয়ে তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছিল; আর তিনি শ্রেষ্ঠত্বে আকাশমণ্ডলীর চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন [২], ফলে তার উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহ তাদের সংবাদ নিয়ে তাঁর সাথে বাক্যালাপ করেছিল:
তাঁর এমন সব উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে যার মহত্ত্বের কোনো সীমা নেই,
… আর তাঁর ক্ষুদ্রতম সংকল্পটিও মহাকালের চেয়ে অধিক মহান।
(তবিল) তাঁর ধনভাণ্ডারে মূল্যবান সম্পদ স্থিতু হয় না, আর তাঁর অনুগ্রহপ্রার্থীদের [৩] ঘর ছাড়া সেগুলো সংরক্ষণ করার মতো কোনো ঘর নেই:
কোনো একদিন যদি আমাদের দিরহামগুলো একত্রিত হয়,
… তবে সেগুলো শ্রেষ্ঠত্বের পথে ধাবিত হতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
খোদাই করা দিরহাম আমাদের থলের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে না,
… বরং তা মুক্ত অবস্থায় এর ওপর দিয়ে কেবল অতিক্রম করে যায়।
(বাসিত) তাঁর উদারতার ক্ষেত্রে মদমত্ততা কেবল তেমনই কাজ করে, যেমনটি করে মেঘমালা থেকে বৃষ্টি বর্ষণের [৪] ক্ষেত্রে তাঁর সচেতনতা।
তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেওয়া দানগুলো সচেতন অবস্থায় পুনরায় প্রদান করেন,
… যাতে এটি জানা যায় যে, তাঁর পক্ষ থেকে এই দান সুচিন্তিত।
আর তিনি সদাচরণের ক্ষেত্রে কোনো সমালোচকের এই কথা থেকে নিরাপদ থাকেন যে—
… 'আঙুর-কন্যা (মদ) যখন তাঁর বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করল [৫], তখন তিনি দানশীল হয়ে উঠলেন'।
(তবিল) তাঁর মহত্ত্বের অন্যতম রহস্য হলো যে, এটি অপব্যয় থেকে পবিত্র—যদিও তা প্রচুরের চেয়েও অধিক হয়ে থাকে। কারণ তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থানে ব্যয়িত হয় এবং সর্বোত্তম ক্ষেত্রে নিপতিত হয়। সুতরাং যখনই কোনো আশাবাদী ব্যক্তি সামনে আসে বা কোনো অভাবী হাজির হয় [৬], তিনি তাকে সাহায্য করতে (৭) এমনভাবে দ্রুত ধাবিত হন যেমন কোনো ঢল নিচু ভূমির দিকে ধাবিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عشق المكارم فاستهام بذكرها
… والمكرمات قليلة العشّاق
وأقام سوقا للثناء، ولم تكن
… سوق الثناء تعدّ في الأسواق
فاذكر صنائعه فلسن صنائعا
… لكنهنّ قلائد الأعناق
والثم أنامله فلسن أناملا
… لكنّهن مفاتح الأرزاق
(كامل) وكأني بك أيها الناظر في هذا الكتاب قد استعظمت ما سمعت، فإن عرض لك الشّكّ فانظر أعيان هذا العصر، تجدهم يناقشون على الذرّة [1] ، وتجده لا يلتفت إلى الدّرّة، وتجدهم يحرصون على اقتناء الذّخائر، وتجده لا يحرص إلّا على الذكر السّائر والصيّت الطائر، وتجدهم قد شغفتهم محبّة الأولاد، وتجده قد شغفته محبّة السؤّال والقصّاد، وتجدهم يهربون من المغارم [2] وتجده يعدّها من أفضل المغانم ثمّ ارجع البصر تجد المدائح عندهم كاسدة، وتجدها عنده نافقة، وتأمّل تبصر المكارم لديهم جامدة وتبصرها لديه دافقة، وانظر بابه تجده عامرا بوفود الثناء غاصّا بالأدباء والشّعراء والفضلاء والفصحاء.
يسقط الطير حيث يلتقط الحبّ
… وتغشى منازل الكرماء [3]
(خفيف) وتاللَّه ما الدنيا إلا دنياه، ولا العيش إلا عيشه الّذي أعطاه الله.
ما العيش أنّ يمسي الفتى
… متشبّعا ضخم الجزاره
العيش أنّ يشجي الفتى
… أعداءه، ويعزّ جاره
حتى يخاض [4] ويرتجى
… ويرى له نشب وإ
ويروح إمّا للكتابة
… سعيه، أو للإماره
--------------------------------------------
তিনি মহানুভবতাকে ভালোবেসেছেন এবং এর চর্চায় মত্ত হয়েছেন
… অথচ মহানুভবতার প্রেমিকের সংখ্যা অতি নগণ্য।
তিনি প্রশংসার এক বাজার বসিয়েছেন, অথচ প্রশংসার সেই বাজার
… সাধারণ বাজারগুলোর মধ্যে গণ্য হতো না।
তাঁর অবদানসমূহ স্মরণ করুন, কারণ সেগুলো কেবল সাধারণ অবদান নয়
… বরং সেগুলো গ্রীবার কণ্ঠহারস্বরূপ।
তাঁর আঙুলগুলো চুম্বন করুন, কারণ সেগুলো কেবল সাধারণ আঙুল নয়
… বরং সেগুলো জীবিকার চাবিকাঠিসমূহ।
(কামিল) হে এই কিতাবের পাঠক, আমার মনে হয় আপনি যা শুনলেন তা আপনার কাছে অত্যন্ত বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। যদি আপনার মনে কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়, তবে এই যুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিকে তাকান। আপনি দেখবেন তারা সামান্য ধূলিকণার [১] জন্যও কৃপণতা ও বিবাদে লিপ্ত হয়, অথচ তাকে দেখবেন তিনি মহামূল্যবান মুক্তার প্রতিও ভ্রূক্ষেপ করেন না। আপনি দেখবেন তারা ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত করতে ব্যতিব্যস্ত, অথচ তাকে দেখবেন তিনি কেবল সুখ্যাতি এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া সুনামের জন্যই ব্যাকুল। আপনি দেখবেন সন্তানদের ভালোবাসা তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে, আর তাকে দেখবেন সাহায্যপ্রার্থী ও অভ্যাগতদের ভালোবাসা আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আপনি দেখবেন তারা আর্থিক দায়ভার [২] থেকে পলায়ন করে, আর তিনি সেটিকে সর্বোত্তম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করেন। এরপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করলে দেখবেন, তাদের কাছে স্তুতিবাক্য মন্দাক্রান্ত, কিন্তু তাঁর কাছে তা অত্যন্ত জমজমাট। চিন্তা করলে দেখবেন, তাদের কাছে মহানুভবতা স্থবির হয়ে আছে, কিন্তু তাঁর কাছে তা প্রবাহমান। তাঁর দরজার দিকে তাকান, দেখবেন তা প্রশংসার কাফেলায় আবাদ হয়ে আছে এবং সাহিত্যিক, কবি, গুণীজন ও বাগ্মীদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ।
পাখি সেখানেই অবতরণ করে যেখানে সে খাদ্যকণা খুঁজে পায়
… আর এভাবেই মহানুভব ব্যক্তিদের আবাসস্থল লোকে লোকারণ্য থাকে। [৩]
(খফীফ) আল্লাহর শপথ! দুনিয়া তো কেবল তাঁরই দুনিয়া, আর জীবন তো কেবল তাঁরই জীবন যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন।
জীবন এটি নয় যে, একজন যুবক সন্ধ্যা অতিবাহিত করবে
… উদরপূর্তি করে অত্যন্ত স্থূলকায় অবস্থায়।
প্রকৃত জীবন হলো, যুবক তার শত্রুদের
… ব্যথিত করবে এবং তার প্রতিবেশীকে সম্মানিত করবে।
এমনকি তাঁর অভিমুখী হওয়া হবে [৪] এবং তাঁর কাছে প্রত্যাশা রাখা হবে
… এবং তাঁর সহায়-সম্পদ ও প্রতিপত্তি দেখা যাবে...
তার প্রচেষ্টা ব্যয় হবে হয় জ্ঞানচর্চায় (বা রাষ্ট্রীয় দপ্তরে)
… অথবা প্রশাসনিক নেতৃত্বে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رجعنا إلى حكاية الحال، وإتمام المقال: فلفقت المقادير أن جرى ذكري بين يديه وعرض شيء من أمري عليه فلمح بذكاء قلبه، وصحّة حدسه من تلك الأنباء حقيقة حالي قبل اللّقاء، وتقدّم بالحضور في خدمته، فلما حضرت راعني ما شاهدت من كمال هيئته وراقني ما عاينت من جمال صورته، وشريف سيرته فكان أوّل ما أنشدته قول المتنبي:
وما زلت حتى قادني الشوق نحوه
… يسايرني في كلّ ركب له ذكر
وأستعظم الأخبار قبل لقائه
… فلما التقينا صغّر الخبر الخبر [1]
(طويل) ثمّ تابع من ألطافه ما غرس به ودّا، وجنى منه ثناء وحمدا، فرأيت أن أخدم حضرته بتأليف هذا الكتاب، ليكون تذكرة له، وتذكرة لي عنده، يذكرني به إذا غبت عن عالي جنابه، وانفصلت عن فسيح رحابه.
وهذا كتاب تكلّمت فيه على أحوال الدّول وأمور الملك، وذكرت فيه ما استظرفته من أحوال الملوك الفضلاء، واستقريته من سير الخلفاء والوزراء وبنيته على فصلين [2] :
فالفصل الأول تكلّمت فيه على الأمور السلطانية والسّياسات الملكيّة وخواص الملك التي يتميّز بها عن السّوقة [3] ، والتي تجب أن تكون موجودة أو معدومة فيه وما يجب له على رعيته وما يجب لهم عليه، ورصعت الكلام فيه بالآيات القرآنية والأحاديث النبويّة، والحكايات المستطرفة والأشعار المستحسنة.
والفصل الثاني: تكلّمت فيه على دولة من مشاهير الدول التي كانت طاعتها عامّة، ومحاسنها تامّة، ابتدأت فيه بدولة الأربعة: أبي بكر، وعمر، وعثمان
--------------------------------------------
আমরা অবস্থার বর্ণনায় এবং আলোচনার পরিসমাপ্তিতে ফিরে আসছি: তকদিরের লিখনে এমনটি ঘটল যে, তাঁর সম্মুখে আমার উল্লেখ করা হলো এবং আমার কিছু বিষয় তাঁর নিকট পেশ করা হলো। তিনি তাঁর হৃদয়ের প্রখরতা এবং সঠিক অনুমানের মাধ্যমে সেই সংবাদসমূহ থেকে সাক্ষাতের পূর্বেই আমার প্রকৃত অবস্থা আঁচ করতে পারলেন। তিনি তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর যখন আমি উপস্থিত হলাম, তাঁর অবয়বের পূর্ণতা দেখে আমি বিমোহিত হলাম এবং তাঁর রূপের সৌন্দর্য ও মহান চরিত্র প্রত্যক্ষ করে আনন্দিত হলাম। আমি তাঁর সামনে সর্বপ্রথম আল-মুতানাব্বির এই কবিতাটি আবৃত্তি করলাম:
আমি বিরামহীন পথ চলছিলাম যতক্ষণ না তাঁর প্রতি অনুরাগ আমাকে তাঁর দিকে নিয়ে চলল
… প্রতিটি কাফেলায় তাঁর সুখ্যাতি আমার সঙ্গী ছিল
তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্বে আমি তাঁর সম্পর্কে শোনা সংবাদগুলোকেই অতি মহান মনে করতাম
… কিন্তু যখন আমাদের সাক্ষাৎ হলো, তখন প্রত্যক্ষ দর্শনের কাছে শোনা কথাগুলো তুচ্ছ হয়ে গেল [১]
(তবিল ছন্দ) অতঃপর তাঁর অনুগ্রহসমূহ পর্যায়ক্রমে বর্ষিত হতে লাগল যার দ্বারা তিনি ভালোবাসার বীজ বপন করলেন এবং এর মাধ্যমে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা অর্জন করলেন। ফলে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এই গ্রন্থটি রচনার মাধ্যমে আমি তাঁর খিদমত করব, যাতে এটি তাঁর জন্য একটি স্মারক হয় এবং তাঁর নিকট আমার জন্য একটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকে; যার মাধ্যমে তিনি আমাকে স্মরণ করবেন যখন আমি তাঁর সুউচ্চ সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকব এবং তাঁর প্রশস্ত আঙিনা থেকে বিচ্ছিন্ন হব।
এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমি বিভিন্ন রাষ্ট্রের অবস্থা এবং রাজকার্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে আমি গুণী রাজন্যবর্গের অবস্থা থেকে যা চমৎকার মনে করেছি এবং খলিফা ও উজিরদের জীবনী থেকে যা সংগ্রহ করেছি তা উল্লেখ করেছি। আমি গ্রন্থটিকে দুটি পরিচ্ছেদে [২] বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি সুলতানি বিষয়াদি, রাজকীয় রাজনীতি এবং রাজার সেই সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছি যার দ্বারা তিনি সাধারণ প্রজা [৩] থেকে পৃথক হন। এছাড়া যেসব গুণাবলি তাঁর মধ্যে থাকা আবশ্যক কিংবা বর্জনীয়, এবং প্রজাদের ওপর তাঁর পাওনা অধিকার ও তাঁর ওপর প্রজাদের পাওনা অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমি এই আলোচনাকে কুরআনের আয়াত, নববী হাদিস, চমৎকার উপাখ্যান এবং পছন্দনীয় কবিতা দ্বারা অলঙ্কৃত করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি প্রখ্যাত সেই সব রাষ্ট্র সম্পর্কে আলোচনা করেছি যাদের আনুগত্য ছিল সর্বব্যাপী এবং যাদের কল্যাণ ছিল পরিপূর্ণ। আমি এতে চার খলিফার রাষ্ট্র দিয়ে শুরু করেছি: আবু বকর, উমর, উসমান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وعليّ- رضي الله عنهم على الترتيب الّذي وقع، ثمّ بالدولة التي تسلّمت الملك منها وهي الدولة الأمويّة، ثم بالدولة التي تسلّمت الملك منها وهي الدولة الأموية، ثم بالدولة التي تسلمت الملك منها، وهي الدولة العبّاسيّة ثمّ بالدول التي وقعت في أثناء الدّول الكبار، كدولة بني بويه، وكدولة بني سلجوق وكدولة الفاطميين بمصر على وجه الإيجاز، فإنّها دول وقعت في أثناء دولة بني العبّاس ولكنها لم تكن طاعتها عامة، فأتكلّم على دولة دولة بمجموع ما حصل في ذهني من الهيئة الاجتماعية التي أفادتنيها مطالعة السّير والتواريخ، فأذكر كيف كان ابتداؤها وانتهاؤها، وطرفا ممتعا من محاسن ملوكها، وأخبار سلاطينها، فإن شذّ شيء من أحوالها عن ذهني، واحتجت إلى إثباته: من حكاية ظريفة، أو بيت شعر نادر، أو آية أو حديث نبوي، أخذته من مظانّه، ثم إذا ذكرت دولة فدولة تكلّمت على كلّيات أمورها، ثم ذكرت واحدا واحدا من ملوكها، وما جرى في أيّامه من الوقائع المشهورة والحوادث المأثورة، فإذا انقضت أيّام ذلك الملك، ذكرت وزراءه واحدا واحدا وظرائف ما جرى لهم، فإذا انقضت أيام الملك ووزرائه ابتدأت بالملك الّذي بعده وبما جرى في أيّامه، وبسير وزرائه كذلك، إلى آخر الدّولة العبّاسية.
والتزمت فيه أمرين: أحدهما: ألّا أميل فيه إلّا مع الحقّ، ولا أنطق فيه إلّا بالعدل، وأن أعزل سلطان الهوى، وأخرج من حكم المنشأ والمربى، وأفرض نفسي غريبا منهم، وأجنبيّا بينهم. وثانيهما: أن أعبّر عن المعاني بعبارات واضحة تقرب من الأفهام لينتفع بها كلّ أحد، عادلا عن العبارات المستصعبة التي يقصد فيها إظهار الفصاحة، وإثبات البلاغة، فطالما رأيت مصنّفي الكتب قد اعترضتهم محبّة إظهار الفصاحة والبلاغة فخفيت أغراضهم، واعتاصت معانيهم، فقلّت الفائدة بمصنّفاتهم من ذلك كتاب القانون في الطبّ لأبي عليّ الحسين [1] بن سينا البخاريّ، فإنّه حشاه بالعبارات الغامضة، والتّراكيب المستغلقة، فبطل غرضه من
--------------------------------------------
এবং আলী - আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন - যে ক্রম অনুসারে তা ঘটেছে, এরপর সেই রাষ্ট্র যা তাঁর কাছ থেকে রাজত্ব গ্রহণ করেছে আর তা হলো উমাইয়া রাষ্ট্র, এরপর সেই রাষ্ট্র যা তার কাছ থেকে রাজত্ব গ্রহণ করেছে আর তা হলো উমাইয়া রাষ্ট্র, এরপর সেই রাষ্ট্র যা তার কাছ থেকে রাজত্ব গ্রহণ করেছে, আর তা হলো আব্বাসী রাষ্ট্র, অতঃপর সেই সব রাষ্ট্রসমূহ যা বড় বড় রাষ্ট্রসমূহের শাসনকালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে, যেমন বনু বুয়াইহ রাষ্ট্র, বনু সেলজুক রাষ্ট্র এবং মিশরের ফাতেমীয় রাষ্ট্র, সংক্ষিপ্ত আকারে; কেননা এগুলি এমন সব রাষ্ট্র যা আব্বাসী রাষ্ট্রের শাসনকালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল, কিন্তু তাদের আনুগত্য সার্বজনীন ছিল না। অতএব আমি প্রতিটি রাষ্ট্র সম্পর্কে আলোচনা করব সেই সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোর ভিত্তিতে যা আমার মনে জীবনী এবং ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। আমি উল্লেখ করব কীভাবে সেগুলোর শুরু এবং শেষ হয়েছিল, এবং তাদের রাজাদের গুণাবলির মনোরম অংশ ও তাদের সুলতানদের সংবাদসমূহ। যদি তাদের অবস্থা সংক্রান্ত কোনো কিছু আমার স্মৃতি থেকে বাদ পড়ে যায় এবং তা সাব্যস্ত করার প্রয়োজন হয়—যেমন কোনো কৌতুকপূর্ণ কাহিনী, বা কোনো বিরল কাব্য পঙক্তি, অথবা কোনো আয়াত কিংবা নববী হাদিস—তবে আমি তা তার মূল উৎস থেকে গ্রহণ করেছি। অতঃপর যখন আমি একে একে রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করব, তখন আমি তার মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব, এরপর আমি তার রাজাদের একে একে উল্লেখ করব এবং তাঁর সময়ে সংঘটিত প্রসিদ্ধ ঘটনাবলী ও বর্ণিত বিষয়সমূহ বর্ণনা করব। যখন সেই রাজার দিনগুলো শেষ হবে, তখন আমি তাঁর উজিরদের একে একে এবং তাঁদের সাথে ঘটে যাওয়া চমৎকার বিষয়গুলো উল্লেখ করব। যখন রাজা এবং তাঁর উজিরদের সময়কাল সমাপ্ত হবে, তখন আমি তাঁর পরবর্তী রাজা এবং তাঁর সময়ে যা ঘটেছে এবং একইভাবে তাঁর উজিরদের জীবনী শুরু করব, আব্বাসী রাষ্ট্রের শেষ পর্যন্ত।
এবং আমি এতে দুটি বিষয় আবশ্যক করে নিয়েছি: প্রথমটি হলো, আমি সত্য ছাড়া অন্য কোনো দিকে ঝুঁকব না, এবং ন্যায় ছাড়া অন্য কিছু উচ্চারণ করব না; প্রবৃত্তির প্রভাবকে দূরে রাখব এবং জন্ম ও বেড়ে ওঠার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসব, আর নিজেকে তাদের মাঝে একজন প্রবাসী ও অপরিচিত হিসেবে গণ্য করব। দ্বিতীয়টি হলো: আমি বিষয়গুলোকে এমন স্পষ্ট বাক্যে ব্যক্ত করব যা সহজে বোধগম্য হয় যাতে প্রত্যেকে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে, আমি সেই সব কঠিন বাক্য বর্জন করেছি যেগুলোর মাধ্যমে বাগ্মিতা প্রকাশ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের পাণ্ডিত্য প্রমাণের উদ্দেশ্য থাকে। কেননা আমি প্রায়ই দেখেছি যে গ্রন্থকারগণ বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র প্রদর্শনের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন, ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং তাঁদের অর্থসমূহ জটিল হয়ে পড়ে, যার ফলে তাঁদের গ্রন্থগুলোর উপযোগিতা কমে যায়। এর উদাহরণ হলো আবু আলী আল-হুসাইন [১] ইবনে সিনা আল-বুখারীর 'আল-কানুন ফিত তিব' গ্রন্থটি, কারণ তিনি এটিকে অস্পষ্ট বাক্য এবং জটিল বাক্যগঠনে পূর্ণ করেছেন, ফলে তাঁর উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الانتفاع بكتابه، ولذلك ترى عامّة الأطباء قد عدلوا عن كتابه إلى «الملكي» السّهل العبارة، المفهم الإشارة.
وهذا كتاب يحتاج إليه من يسوس الجمهور، ويدبّر الأمور، وإن أنصفه النّاس أخذوا أولادهم بتحفظه، وتدبّر معانيه، بعد أن يتدبّروه هم، فما الصغير بأحوج إليه من الكبير، ولا الملك العامّ الطاعة، بأحوج إليه من ملك مدينة ولا ذوو الملك بأحوج إليه من ذوي الأدب، فإنّ من ينصّب نفسه لمفاوضة الملوك، ومجالستهم ومذاكرتهم، يحتاج إلى أكثر ممّا في هذا الكتاب، فعلى أقلّ الأقسام لا يسعه تركه.
وهذا الكتاب إن نظر بعين الإنصاف رئي أنفع من «الحماسة» التي لهج الناس بها، وأخذوا أولادهم بحفظها فإنّ «الحماسة» [1] لا يستفاد منها أكثر من الترغيب في الشّجاعة والضّيافة وشيء يسير من الأخلاق في الباب المسمّى بباب الأدب، والتأنّس بالمذاهب الشّعرية. وهذا الكتاب يستفاد منه هذه الخصال المذكورة ويستفاد منه قواعد السياسة، وأدوات الرّئاسة. فهذا فيه ما في «الحماسة» ، وليس في الحماسة، ما فيه. وإنّه ليفيد العقل قوّة، والذّهن حدّة، والبصيرة نورا، وهو للخاطر الذكيّ بمنزلة المسنّ الجيّد للفولاذ، وهو أيضا أنفع من «المقامات» [2] التي الناس فيها معتقدون، وفي تحفّظها راغبون، إذ «المقامات» لا يستفاد منها سوى التمرّن على الإنشاء، والوقوف على مذاهب النظم والنثر. نعم، وفيها حكم وحيل وتجارب، إلّا أنّ ذلك ممّا يصغّر الهمّة، إذ هو مبنيّ على السّؤال والاستجداء والتحيّل القبيح على النّزر الطفيف، فإن نفعت من جانب، ضرت من جانب وبعض الناس تنبهوا على هذا من المقامات الحريرية والبديعيّة، فعدل ناس إلى «نهج البلاغة» من كلام أمير المؤمنين علي بن أبي طالب- عليه السلام
--------------------------------------------
তাঁর কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া; এই কারণেই আপনি দেখবেন যে সাধারণ চিকিৎসকগণ তাঁর কিতাব পরিহার করে সহজবোধ্য অভিব্যক্তি ও ইঙ্গিতপূর্ণ ‘আল-মালাকি’ কিতাবের দিকে ঝুঁকেছেন।
আর এটি এমন এক কিতাব যার প্রয়োজন তাদের জন্য যারা জনমত পরিচালনা করে এবং বিষয়সমূহ তদারকি করে। মানুষ যদি এর প্রতি সুবিচার করত, তবে নিজেরা এটি অনুধাবন করার পর তাদের সন্তানদের এটি মুখস্থ করাতে এবং এর মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করতে নিয়োজিত করত। কেননা বড়দের তুলনায় ছোটদের এর প্রয়োজন যেমন কম নয়, তেমনি এক নগরের অধিপতির তুলনায় সার্বভৌম রাজারও এর প্রয়োজনীয়তা কম নয়; আবার সাহিত্যিকদের তুলনায় রাজন্যবর্গের এর প্রয়োজনীয়তাও সামান্য নয়। কারণ, যে ব্যক্তি নিজেকে রাজন্যবর্গের সাথে আলাপ-আলোচনা, তাদের মজলিসে অংশগ্রহণ এবং পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত করে, তার জন্য এই কিতাবে যা রয়েছে তার চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন। সুতরাং অন্ততপক্ষে এটি বর্জন করা তার জন্য সম্ভব নয়।
আর এই কিতাবটি যদি ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখা হয়, তবে দেখা যাবে যে এটি ‘আল-হামাসাহ্’ অপেক্ষা অধিক উপকারী, যা নিয়ে মানুষ মুখর এবং যা তাদের সন্তানদের মুখস্থ করায়। কেননা ‘আল-হামাসাহ্’ থেকে বীরত্ব ও আতিথেয়তায় উৎসাহ প্রদান এবং ‘বাবুল আদব’ নামক অধ্যায়ে নৈতিকতার অতি সামান্য কিছু অংশ এবং কাব্যশৈলীর সাথে পরিচিত হওয়া ছাড়া বিশেষ কোনো উপকার লাভ করা যায় না। কিন্তু এই কিতাবটি থেকে উল্লিখিত গুণাবলির পাশাপাশি রাজনীতির নিয়মকানুন এবং নেতৃত্বের উপকরণসমূহ অর্জন করা যায়। অতএব, এতে তা সবই আছে যা ‘আল-হামাসাহ্’-তে বিদ্যমান, কিন্তু ‘আল-হামাসাহ্’-তে তা নেই যা এতে রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি বুদ্ধিবৃত্তিকে শক্তি, মেধাকে প্রখরতা এবং অন্তর্দৃষ্টিকে জ্যোতি দান করে। এটি তীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তির অধিকারী ব্যক্তির জন্য ইস্পাতের শানপাথরের মতো। তদুপরি এটি ‘আল-মাকামাত’ অপেক্ষাও অধিক উপকারী যার প্রতি মানুষ আস্থাশীল এবং যা মুখস্থ করতে তারা আগ্রহী। কারণ ‘আল-মাকামাত’ থেকে রচনাশৈলীর অনুশীলন এবং গদ্য ও পদ্যের ধারাগুলো উপলব্ধি করা ছাড়া আর কিছু অর্জিত হয় না। হ্যাঁ, এতে প্রজ্ঞা, কৌশল ও অভিজ্ঞতা রয়েছে বটে, তবে তা উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সংকুচিত করে। কেননা এর ভিত্তি হলো যাচ্ঞা করা, ভিক্ষাবৃত্তি এবং সামান্য তুচ্ছ জিনিসের জন্য কদর্য কৌশল অবলম্বন। সুতরাং এটি একদিক থেকে উপকার করলেও অন্যদিক থেকে ক্ষতি করে। হারিরি ও বাদিয়্যাহ-র ‘মাকামাত’ থেকে কিছু মানুষ এটি উপলব্ধি করেছেন এবং এ কারণে তারা আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী সংকলন ‘নাহজুল বালাগাহ্’-র দিকে ঝুঁকেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فإنه الكتاب الّذي يتعلّم منه الحكم والمواعظ، والخطب والتوحيد والشجاعة والزهد وعلوّ الهمّة، وأدنى فوائده الفصاحة والبلاغة، وعدل الناس إلى «اليمني» للعتبي [1] ، وهو كتاب صنفه مؤلفه ليمين الدولة محمود بن سبكتكين [2] يشتمل على سير جماعة من الملوك بالبلاد الشرقية، عبر فيه بعبارات حظها من الفصاحة وافر وصاحبها إن لم يكن ساحرا فهو كاتب ماهر، والعجم مشغوفون به مجدّون في طلبه وهو لعمري كتاب يشتمل على ظرائف حكم، وبدائع سير، مع ما فيه من فنون البلاغة، وأنواع الفصاحة، ولعلّ قائلا أن يقول: لقد بالغ في وصف كتابه، وحشا ما شاء في جرابه، والمرء مفتون بابنه وشعره، فإن اعتراه ريب فليتأمّل الكتب المصنّفة في هذا الفنّ، فلعله لا يرى فيها كتابا أجمع للمعنى الّذي قصد به من هذا الكتاب.
وهو أعزّ الله نصره [3] ، وسر بدوام السعادة سرّه، قد أغناه الله بالذّهن القاهر والفضل الباهر، عن هذا الكتاب وعن أمثاله، ولكنّ مهامّه الشّريفة ربّما أضجرته وأنسته، فإذا روّح فكره الشريف بالنظر فيه دفع به الملال، وتذكّر به ما أنسته الأشغال.
ومن ألطاف الله تعالى أسأل ألّا يخلي هذا الكتاب من فائدتين، إحداهما تخصّني: وهي أن يقع عنده بموقع الاستصواب، فأبرأ من عهدة الخجل، والأخرى تخصّه: وهي ألا يعدمه الانتفاع به في القول والعمل، إنه ولي كلّ نعمة ومسدي [4] كلّ عارفة.
--------------------------------------------
কেননা এটি এমন একটি কিতাব যা থেকে প্রজ্ঞা, উপদেশ, ভাষণ, তাওহিদ, সাহসিকতা, দুনিয়াবিমুখতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেখা যায়। এর সামান্যতম উপকারিতা হলো বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র। মানুষ উতবির 'আল-ইয়ামিনি' কিতাবের দিকে ঝুঁকেছে; এটি এমন একটি কিতাব যা এর লেখক ইয়ামিনুদ দাওলা মাহমুদ বিন সবুক্তগিনের জন্য রচনা করেছেন। এতে পূর্বাঞ্চলীয় দেশসমূহের একদল সম্রাটের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি এতে এমন সব শব্দ চয়ন করেছেন যার বাগ্মিতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ, আর এর লেখক যদি জাদুকর নাও হন তবে অন্তত একজন দক্ষ সাহিত্যিক। অনারবগণ এর প্রতি আসক্ত এবং এটি সংগ্রহের জন্য সচেষ্ট। আমার জীবনের শপথ, এটি এমন একটি কিতাব যা সূক্ষ্ম প্রজ্ঞা ও চমৎকার জীবনবৃত্তান্ত ধারণ করে, সেই সাথে এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের নানা কলাকৌশল ও বাগ্মিতার বিভিন্ন প্রকার বিদ্যমান। সম্ভবত কোনো সমালোচক বলতে পারেন: তিনি নিজের কিতাবের বর্ণনায় অত্যুক্তি করেছেন এবং নিজের ঝোলায় যা ইচ্ছা তাই ভরেছেন; কেননা মানুষ তার সন্তান ও নিজের কবিতার প্রতি মুগ্ধ থাকে। যদি কারো মনে কোনো সংশয় জাগে, তবে সে যেন এই শাস্ত্রে রচিত অন্যান্য কিতাবগুলো পর্যবেক্ষণ করে; তবে সম্ভবত সে এগুলোতে এমন কোনো কিতাব পাবে না যা উদ্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে এই কিতাবের মতো সামগ্রিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
আর তিনি—আল্লাহ তাঁর সাহায্যকে শক্তিশালী করুন এবং চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের মাধ্যমে তাঁর অন্তরকে আনন্দিত রাখুন—আল্লাহ তাঁকে প্রখর মেধা ও উজ্জ্বল শ্রেষ্ঠত্ব দান করে এই কিতাব এবং এর সমতুল্য কিতাবাদি থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন। তবে তাঁর রাজকীয় গুরুদায়িত্বসমূহ তাকে কখনো শ্রান্ত করে দেয় এবং ভুলিয়ে দেয়; তাই যখন তিনি এর দিকে দৃষ্টিপাত করে তাঁর উন্নত চিন্তা ও মনকে বিশ্রাম দেন, তখন এর মাধ্যমে ক্লান্তি দূর হয় এবং ব্যস্ততার কারণে যা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন তা স্মরণ হয়।
আর আমি আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কিতাবকে দুটি উপকারিতা থেকে শূন্য না রাখেন। একটি আমার সাথে সম্পৃক্ত: আর তা হলো এটি যেন তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে, ফলে আমি লজ্জার গ্লানি থেকে নিষ্কৃতি পাই। অন্যটি তাঁর সাথে সম্পৃক্ত: আর তা হলো কথা ও কাজে তিনি যেন এর উপকারিতা থেকে বঞ্চিত না হন। নিশ্চয়ই তিনি সকল নেয়ামতের অধিপতি এবং সকল অনুগ্রহের দাতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الأول في الأمور السّلطانيّة والسّياسات الملكيّةأمّا الكلام على أصل الملك وحقيقته، وانقسامه إلى رياسات دينية ودنيوية، من خلافة وسلطنة، وإمارة وولاية، وما كان من ذلك على وجه الشرع وما لم يكن ومذاهب أصحاب الآراء في الإمامة، فليس هذا الكتاب موضوعا للبحث عنه، وإنّما هو موضوع للسّياسات والآداب التي ينتفع بها في الحوادث الواقعة، والوقائع الحادثة، وفي سياسة الرعيّة وتحصين المملكة، وفي إصلاح الأخلاق والسّيرة.
فأوّل ما يقال: إن الملك الفاضل هو الّذي اجتمعت فيه خصال وعدمت فيه خصال، فأمّا الخصال التي يستحبّ أن توجد فيه: فمنها العقل: وهو أصلها وأفضلها وبه تساس الدّول بالملك، وفي هذا الوصف كفاية.
ومنها العدل: وهو الّذي تستغزر به الأموال، وتعمر به الأعمال، وتستصلح به الرّجال:
ولما فتح السّلطان «هولاكو» [1] بغداد في سنة ستّ وخمسين وستّمائة، أمر أن يستفتي العلماء، أيّهما أفضل، السلطان الكافر العادل، أم السلطان المسلم الجائر؟ ثمّ جمع العلماء بالمستنصريّة [2] لذلك، فلما وقفوا على الفتيا أحجموا عن الجواب، وكان رضيّ الدين عليّ بن طاووس [3] حاضرا هذا المجلس، وكان مقدّما، فلما رأى إحجامهم تناول الفتيا، ووضع خطّه فيها بتفضيل العادل الكافر على المسلم الجائر فوضع الناس خطوطهم بعده.
ومنها العلم: وهو ثمرة العقل، وبه يستبصر الملك فيما يأتيه ويذره ويأمن الزلل في قضاياه وأحكامه، وبه يتزيّن الملك في عيون العامّة ويصير به معدودا في خواص الملوك.
--------------------------------------------
রাজকীয় বিষয়াবলি এবং শাসনতান্ত্রিক নীতিমালার বর্ণনায় প্রথম পরিচ্ছেদরাজত্বের মূল উৎস ও তার স্বরূপ এবং খিলাফত, সুলতানাত, ইমারত ও বেলায়েতের মতো ধর্মীয় ও পার্থিব নেতৃত্বে তার বিভাজন, আর এর মধ্যে কোনটি শরয়ি পদ্ধতি অনুযায়ী এবং কোনটি নয়, এবং ইমামত সম্পর্কে মতাদর্শীদের মাযহাবসমূহ—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য এই গ্রন্থটি রচিত হয়নি। বরং এটি সেই সকল রাজনীতি ও শিষ্টাচার বিষয়ে রচিত হয়েছে যা বিদ্যমান ঘটনাবলি ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবং প্রজাপালনে, রাজ্য রক্ষায় এবং চরিত্র ও জীবনধারা সংশোধনে উপকারে আসে।
সর্বপ্রথম যা বলা যায় তা হলো: শ্রেষ্ঠ বাদশাহ তিনি যার মধ্যে কিছু গুণের সমাবেশ ঘটে এবং কিছু গুণের অভাব থাকে। যে সকল গুণ তার মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো: আকল বা বুদ্ধি। এটিই হলো মূল ও শ্রেষ্ঠ গুণ এবং এর মাধ্যমেই রাজত্বের দ্বারা রাষ্ট্রসমূহ পরিচালিত হয়। এই গুণের অধিকারী হওয়াই যথেষ্ট।
অন্যটি হলো ন্যায়বিচার: যার মাধ্যমে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়, কর্মতৎপরতা আবাদ হয় এবং ব্যক্তিদের সংশোধন করা হয়।
যখন সুলতান ‘হালাকু খান’ [১] ৬৫৬ হিজরি সনে বাগদাদ জয় করলেন, তখন তিনি আলেমদের কাছে ফতোয়া চাওয়ার নির্দেশ দিলেন যে, কোনজন শ্রেষ্ঠ—ন্যায়পরায়ণ কাফের সুলতান, নাকি জালেম মুসলিম সুলতান? অতঃপর আলেমদের এই উদ্দেশ্যে মুস্তানসিরিয়্যাহ [২] মাদরাসায় একত্রিত করা হলো। যখন তারা ফতোয়াটি দেখলেন, তখন উত্তর দিতে ইতস্তত করলেন। রযিউদ্দীন আলী ইবন তাউস [৩] এই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন। যখন তিনি তাদের ইতস্তত করা দেখলেন, তখন তিনি ফতোয়াটি হাতে নিলেন এবং জালেম মুসলিম সুলতানের চেয়ে ন্যায়পরায়ণ কাফের সুলতানকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাতে নিজের স্বাক্ষর প্রদান করলেন। তার অনুসরণে অন্য লোকেরাও তাতে স্বাক্ষর করলেন।
আরেকটি গুণ হলো জ্ঞান: যা হলো বুদ্ধির ফল। এর মাধ্যমেই বাদশাহ তাঁর বর্জনীয় ও গ্রহণীয় বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন এবং তাঁর বিচার ও হুকুম আহকামে বিচ্যুতি থেকে নিরাপদ থাকেন। এর মাধ্যমেই জনসাধারণের দৃষ্টিতে বাদশাহ সুশোভিত হন এবং বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন বাদশাহদের অন্তর্ভুক্ত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال بعض الحكماء: الملك إذا كان خلوا من العلم كان كالفيل الهائج، لا يمرّ بشيء إلا خبطه، ليس له زاجر من عقل، ولا رادع من علم.
واعلم أنّه ليس المراد بالعلم في الملوك هو تصوّر المسائل المشكلة، والتبحّر في غوامض العلوم، والإغراق في طلبها، قال معاوية: ما أقبح بالملك أن يبالغ في تحصيل علم من العلوم! وإنّما المراد من العلوم في الملك، هو ألا يكون له أنس بها إلا بحيث يمكنه أن يفاوض أربابها فيها، مفاوضة يندفع بها الحال الحاضر ولا ضرورة في ذلك إلى التدقيق.
كان مؤيّد الدين محمّد بن العلقميّ وزير المستعصم [1]- وهو آخر وزراء الدّولة العبّاسية- يفاوض كلّ من يدخل عليه من العلماء مفاوضة عاقل لبيب محصّل ولم يكن له بالعلوم ملكة، ولا كان مرتاضا بها رياضة طائلة.
كان بدر الدين لؤلؤ صاحب الموصل، لكثرة مجالسة الأفاضل وخوضه في الأشعار والحكايات، يستنبط المعاني الحسنة على النّكت اللطيفة، مع أنه كان أمّيا لا يكتب ولا يقرأ.
وكان عزّ الدين عبد العزيز بن جعفر النّيسابوريّ [2]رضي الله عنه لمجالسة أهل الفضل، ولكثرة معاشرتهم له، يتنبّه على معان حسنة، ويحلّ الألغاز المشكلة أسرع منهم، ولم يكن له حظّ من علم، وما كان يظهر للناس إلا أنّه رجل فاضل وخفي ذلك حتّى على الصّاحب علاء الدين، فإن ابن الكبّوش الشاعر البصري عمل بيتين في الصاحب ونسبهما إلى عبد العزيز وهما:
عطا ملك عطاؤك ملك مصر
… وبعض عبيد دولتك العزيز
تجازي كلّ ذي ذنب بعفو
… ومثلك من يجازي أو يجيز
(وافر)
--------------------------------------------
কোনো কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: রাজা যখন জ্ঞানশূন্য হন, তখন তিনি এক উন্মত্ত হাতির মতো হয়ে যান; যা কিছুর পাশ দিয়েই তিনি যান, তাকেই পদদলিত করেন। তাকে নিবৃত্ত করার মতো কোনো বুদ্ধি নেই, আর তাকে বাধা দেওয়ার মতো কোনো জ্ঞানও নেই।
জেনে রাখুন, রাজাদের ক্ষেত্রে জ্ঞান বলতে জটিল মাসয়ালাসমূহের ধারণা রাখা, বিজ্ঞানের রহস্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করা বা জ্ঞানার্জনে মগ্ন হওয়াকে বোঝানো হয়নি। মুআবিয়াহ (রা.) বলেছেন: "রাজার জন্য কোনো একটি বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জনে বাড়াবাড়ি করা কতই না কদর্য বিষয়!" বরং রাজার ক্ষেত্রে জ্ঞানের উদ্দেশ্য হলো—বিদ্যার প্রতি তার অনুরাগের মাত্রা এমন হওয়া যাতে তিনি এর ধারক-বাহকদের (পণ্ডিতদের) সাথে আলোচনা করতে পারেন; এমন এক আলোচনা যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অবস্থা পরিচালনা করা যায় এবং এতে সূক্ষ্ম চুলচেরা বিশ্লেষণের কোনো প্রয়োজন নেই।
মুসতাসিমের উজির মুয়াইয়িদুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল আলকামি [১]—যিনি আব্বাসীয় আমলের সর্বশেষ উজির ছিলেন—তার কাছে আসা প্রত্যেক আলেমের সাথে একজন বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ও জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তির মতো আলোচনা করতেন। অথচ বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে তার কোনো সহজাত দক্ষতা ছিল না এবং তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ কোনো সাধনাও করেননি।
মোসুলের শাসক বদরুদ্দীন লুলু গুণী ব্যক্তিদের সাহচর্যে অধিক সময় কাটানোর ফলে এবং কবিতা ও কিসসা-কাহিনীর আলোচনায় মগ্ন থাকার কারণে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো থেকে সুন্দর অর্থসমূহ উদ্ধার করতে পারতেন। অথচ তিনি ছিলেন একজন নিরক্ষর মানুষ, যিনি লিখতেও পারতেন না এবং পড়তেও পারতেন না।
আর ইজ্জুদ্দীন আব্দুল আজিজ ইবনে জাফর আন-নিশাপুরী [২] (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) গুণীজনদের মজলিসে বসা এবং তাদের সাথে অধিক মেলামেশার কারণে সুন্দর অর্থসমূহ অনুধাবন করতে পারতেন এবং তাদের চেয়েও দ্রুত জটিল ধাঁধার সমাধান করতে পারতেন। অথচ জ্ঞানের ক্ষেত্রে তার কোনো বিশেষ অংশ ছিল না। মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন গুণী ব্যক্তি হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করতেন। এমনকি সাহেব আলাউদ্দিনের কাছেও বিষয়টি গোপন ছিল। কেননা বসরার কবি ইবনুল কাব্বুশ সাহেবকে নিয়ে দুটি কবিতা রচনা করেছিলেন এবং সেগুলো আব্দুল আজিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছিলেন। কবিতা দুটি হলো:
তোমার দান হলো বাদশাহী দান, যেমনটি ছিল মিসরের রাজত্ব
… আর তোমার রাষ্ট্রের গোলামদের একজন হলো আজিজ
তুমি প্রতিটি অপরাধীকে ক্ষমার মাধ্যমে প্রতিদান দাও
… আর তোমার মতোই কেউ পারে প্রতিদান দিতে বা অনুমতি প্রদান করতে
(ওয়াফির ছন্দ)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فأنشدهما عبد العزيز بحضرة الصاحب وادّعاهما، وخفي الأمر على الصّاحب وما أدري من أيّهما أعجب؟! أمن الصّاحب كيف خفي عنه حال عبد العزيز مع أنه السنين الطويلة يعاشره في سفر وحضر، وجدّ وهزل؟ أم من عبد العزيز كيف رضي لنفسه مثل هذه الرّذيلة، وأقدم على مثل هذا مع الصاحب وما خاف من تنبّه الصاحب واسترذاله لفعله.
وتختلف علوم الملوك باختلاف آرائهم، فأمّا ملوك الفرس: فكانت علومهم حكما ووصايا، وآدابا وتواريخ، وهندسة وما أشبه ذلك. وأما علوم ملوك الإسلام فكانت علوم اللسان، كالنّحو واللّغة، والشّعر والتواريخ، حتّى إنّ اللحن كان عندهم من أفحش عيوب الملك، وكانت منزلة الإنسان تعلو عندهم بالحكاية الواحدة وبالبيت الواحد من الشّعر، بل باللفظة الواحدة من اللغة. وأما في الدولة المغوليّة:
فرفضت تلك العلوم كلّها، ونفقت فيها علوم أخر: وهي علم السياقة والحساب لضبط المملكة وحصر الدّخل والخرج، والطّب لحفظ الأبدان والأمزجة، والنجوم لاختيار الأوقات وما عدا ذلك من العلوم والآداب فكاسد عندهم، وما رأيته نافقا إلا بالموصل في أيام ملكها المشار إليه، مدّ الله ظلّه ونشر فضله.
ومنها الخوف من الله تعالى، وهذه الخصلة هي أصل كلّ بركة، فإن الملك متى خاف الله أمنه عباد الله روي أن عليّا أمير المؤمنين- عليه السلام استدعى بصوته بعض عبيده فلم يجبه، فدعاه مرارا فلم يجبه، فدخل عليه رجل، وقال: يا أمير المؤمنين إنّه بالباب واقف، وهو يسمع صوتك ولا يكلّمك! فلمّا حضر العبد عنده، قال: أما سمعت صوتي؟ قال: بلى، قال: فما منعك من إجابتي؟ قال: أمنت عقوبتك، قال عليّ عليه السلام: الحمد للَّه الّذي خلقني ممّن يأمنه خلقه. وما أحسن قول أبي نواس [1] لهارون الرشيد:
--------------------------------------------
আব্দুল আজিজ সাহেব (As-Sahib)-এর উপস্থিতিতে সেই কবিতা দুটি আবৃত্তি করলেন এবং সেগুলো নিজের বলে দাবি করলেন। আর বিষয়টি সাহেবের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেল। আমি জানি না এই দুজনের মধ্যে কার ব্যাপারে আমি অধিক বিস্মিত হব?! সাহেবের ব্যাপারে, যে কীভাবে আব্দুল আজিজের অবস্থা তাঁর নিকট গোপন থাকল? অথচ তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ সফরে ও অবস্থানে, গুরুত্ব ও কৌতুকের সাথে তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেছেন। নাকি আব্দুল আজিজের ব্যাপারে, যে কীভাবে তিনি নিজের জন্য এমন হীনতা পছন্দ করলেন? আর সাহেবের সামনে তিনি এমন দুঃসাহস দেখালেন এবং সাহেবের বিষয়টি বুঝতে পারা ও তাঁর এই কার্যের কারণে তাঁকে ঘৃণা করার ভয় পেলেন না।
রাজাদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে তাঁদের অর্জিত জ্ঞানের বিষয়গুলোও ভিন্ন হতো। পারস্যের রাজাদের জ্ঞান ছিল প্রজ্ঞা, উপদেশ, শিষ্টাচার, ইতিহাস, জ্যামিতি এবং এই জাতীয় বিষয় কেন্দ্রিক। আর ইসলামের রাজাদের জ্ঞান ছিল ভাষাগত জ্ঞান, যেমন: ব্যাকরণ, অভিধান, কবিতা ও ইতিহাস। এমনকি ব্যাকরণগত ভুল (লাহন) করা তাঁদের নিকট একজন রাজার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ত্রুটি হিসেবে গণ্য হতো। তাঁদের নিকট একজন মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পেত একটিমাত্র কাহিনী, কবিতার একটিমাত্র পঙক্তি এমনকি ভাষার একটিমাত্র শব্দের ব্যবহারের মাধ্যমে। আর মঙ্গোলীয় শাসনের সময়:
সেই পূর্বোক্ত সকল জ্ঞান পরিত্যক্ত হলো এবং অন্য কিছু বিষয়ের প্রচলন ঘটল: তা হলো—পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান যাতে রাজ্যের শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা যায়। শরীরের সুস্থতা ও মেজাজ ঠিক রাখার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সময় নির্বাচনের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান। এ ছাড়া অন্যান্য জ্ঞান ও শিষ্টাচার তাঁদের নিকট গুরুত্বহীন ছিল। আমি এর কদর হতে দেখিনি কেবল মওসেল ব্যতীত, যেখানে উল্লেখিত রাজার শাসনামলে তা প্রচলিত ছিল, আল্লাহ তাঁর ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ বিচ্ছুরিত করুন।
আর তার মধ্যে একটি গুণ হলো মহান আল্লাহকে ভয় করা। এই গুণটিই হলো সকল বরকতের মূল। কেননা রাজা যখন আল্লাহকে ভয় করেন, তখন আল্লাহর বান্দারা তাঁর নিকট থেকে নিরাপত্তা লাভ করে। বর্ণিত আছে যে, আমিরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম) তাঁর এক গোলামকে ডাকলেন কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না। তিনি বারবার তাকে ডাকলেন তবুও সে সাড়া দিল না। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, সে তো দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, সে আপনার আওয়াজ শুনছে অথচ আপনার সাথে কথা বলছে না! গোলামটি যখন তাঁর নিকট উপস্থিত হলো, তিনি বললেন: তুমি কি আমার আওয়াজ শোনোনি? সে বলল: হ্যাঁ শুনেছি। তিনি বললেন: তবে আমার ডাকে সাড়া দিতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? সে বলল: আমি আপনার শাস্তির হাত থেকে নিরাপদ ছিলাম। তখন আলী (আলাইহিস সালাম) বললেন: সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি আমাকে এমন ব্যক্তি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন যার নিকট তাঁর মাখলুক নিরাপদ বোধ করে। হারুনুর রশীদের উদ্দেশ্যে আবু নুওয়াসের [১] উক্তিটি কতই না চমৎকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قد كنت خفتك ثم آمنني
… من أن أخافك خوفك الله
(كامل) ولم يكن الرّشيد يخاف الله، وأفعاله بأعيان آل عليّ، وهم أولاد بنت نبيّه لغير جرم، تدلّ على عدم خوفه من الله تعالى، ولكنّ أبا نواس جرى في قوله على عادة الشّعراء.
ومنها العفو. عن الذنوب، وحسن الصفح عن الهفوات: وهذه أكبر خصال الخير وبها تستمال القلوب، وتصلح النيات، فمما جاء في التنزيل من الحثّ على ذلك قوله تعالى شأنه: وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ الله لَكُمْ 24: 22 [1] ، وكان المأمون حليما حسن الصّفح معروفا بذلك، هجاه دعبل الشاعر بأشعار كثيرة من جملتها:
إنّي من القوم الذين سيوفهم
… قتلت أخاك وشرّفتك بمقعد
شادوا بذكرك بعد طول خموله
… واستنقذوك من الحضيض الأوهد
فلما بلغه هذا القول لم يزد على أن قال: قاتله الله ما أشدّ بهتانه، متى كنت خاملا وفي حجر الخلافة نشأت وبدرّها أرضعت؟! ولمّا بلغه أن دعبلا قد هجاه قال من أقدم على هجاء وزيري أبي عباد [2] ، كيف لا يقدم على هجائي؟! وهذا الكلام ظاهره غير مستقيم، وهو يحتاج إلى تأويل، فإنّه عكس المعهود، قد كان ينبغي أن يقول الوزير: من أقدم على هجاء الخليفة كيف لا يقدم على هجائي ومعنى قول المأمون: أنّ من أقدم على هجاء أبي عباد مع حدّته وهوجه وتسرّعه- وكان أبو عباد كذلك- كيف لا يقدم عليّ في حلمي وصفحي؟!.
ولولا خوف الإطالة لذكرت جماعة من حلماء الملوك في هذا الموضع، ولكن ليس هذا الفصل موضوعا للسّمر وسيرد من ذلك ما يمنع- إن شاء الله- في الفصل الثاني.
--------------------------------------------
আমি আপনাকে ভয় পেতাম, অতঃপর আপনার আল্লাহভীতি আমাকে আপনার ভয় হতে নিরাপদ করেছে
… আল্লাহ আপনাকে ভয় করার তাওফিক দিন।
(কামিল ছন্দ) হারুনুর রশীদ আল্লাহকে ভয় করতেন না; নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও আলী (রা.)-এর বংশধরদের প্রতি—যারা তাঁর নবীর কন্যার সন্তান—তাঁর আচরণসমূহ মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর নির্ভীকতারই প্রমাণ দেয়। তবে আবু নুওয়াস তাঁর উক্তিতে কবিদের প্রচলিত রীতিই অনুসরণ করেছেন।
আর তার অন্তর্ভুক্ত হলো পাপ ক্ষমা করা এবং ভুলত্রুটি সুন্দরভাবে মার্জনা করা: এগুলো হলো সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলি, যার মাধ্যমে অন্তরসমূহ জয় করা যায় এবং নিয়তসমূহ সংশোধিত হয়। এ বিষয়ে উৎসাহিত করে অবতীর্ণ বাণীতে মহান আল্লাহ বলেন: “তারা যেন ক্ষমা করে এবং মার্জনা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন?” (সূরা আন-নূর, ২৪: ২২) [১]। মামুন ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও ক্ষমাশীল এবং এ গুণের জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। কবি দি’বিল তাঁকে নিয়ে অনেক ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে:
আমি সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যাদের তরবারি
… আপনার ভাইকে হত্যা করেছে এবং আপনাকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে বসিয়েছে।
দীর্ঘ বিস্মৃতির পর তারা আপনার নামকে উচ্চকিত করেছে
… এবং আপনাকে গভীর নিম্নদেশ থেকে উদ্ধার করেছে।
যখন তাঁর কাছে এই উক্তি পৌঁছাল, তখন তিনি কেবল এটুকু বললেন: “আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, তার অপবাদ কতই না চরম! আমি কখন অখ্যাত ও বিস্মৃত ছিলাম? অথচ আমি খিলাফতের কোলে লালিত-পালিত হয়েছি এবং এর স্তন্যদুগ্ধ পান করে বড় হয়েছি!” আর যখন তাঁর কাছে খবর পৌঁছাল যে দি’বিল তাঁকে উপহাস করেছে, তখন তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি আমার উজির আবু আব্বাদের [২] নিন্দা করার দুঃসাহস দেখায়, সে কেন আমার নিন্দা করার দুঃসাহস দেখাবে না?!” এই কথাটি বাহ্যত অসংগতিপূর্ণ মনে হয় এবং এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এটি প্রচলিত রীতির বিপরীত। সাধারণত উজিরের ক্ষেত্রে বলা উচিত ছিল: “যে ব্যক্তি খলিফার নিন্দা করার দুঃসাহস দেখায়, সে কেন আমার নিন্দা করবে না?” কিন্তু মামুনের কথার অর্থ হলো: “আবু আব্বাদের মতো উগ্র মেজাজী, অস্থির ও ত্বরান্বিত ব্যক্তির নিন্দা করতে যে পিছপা হয় না—আর আবু আব্বাদ এমনই ছিলেন—সে আমার মতো ধৈর্যশীল ও ক্ষমাশীল ব্যক্তির নিন্দা কেন করবে না?!”
দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকলে আমি এই স্থানে একদল ধৈর্যশীল রাজার কথা উল্লেখ করতাম। কিন্তু এই পরিচ্ছেদটি কাহিনী বর্ণনার জন্য নয়। ইনশাআল্লাহ, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে এমন কিছু আসবে যা যথেষ্ট হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومنهم من يرى أنّ الحقد خصلة محمودة في الملك، قال بزرجمهر [1] :
يجب أن يكون الملك أحقد من جمل، وأنا أناظره في هذا القول فأقول: كيف يقال كذلك والملك متى كان حقودا فسدت نيته لرعيّته فمقتهم، وقلّل الالتفات إليهم بالشفقة عليهم ومتى أحسّوا بذلك تغيّرت نياتهم له، وفسدت بواطنهم، وهل يتمكّن الملك مما يريده من مهمّات مملكته، وبلوغ أغراضه كما في نفسه، إلّا بصفاء قلوب رعيّته؟ وأيّ حكمة في ذلك؟ وهل فيه سوى تنغيص عيش الملك وتبغيض رعيّته إليه، وإيحاشهم منه؟ قال شاعر العرب [2] :
ولا أحمل الحقد القديم عليهم
… وليس رئيس القوم من يحمل الحقدا
(طويل) خصوصا والناس مركّبون على الخطأ، ومجبولون على تشمير الطباع، فما أكثر ما تصدر منهم موجبات الحقد! فلا يزال الملك طول دهره يعاني من الغيظ والحقد عليهم، ما ينغّص عليه لذّته، ويشغله عن كثير من مهام مملكته، وما أكثر ما رأينا الرعيّة أو الجند قد وثبوا على ملوكهم، فسلبوهم رداء المملكة بل رداء الحياة! فابتدئ من عمر بن الخطاب، وقد وثب عليه لؤلؤة [3] عبد المغيرة بن شعبة فقتله، ثم ثنّ بعثمان بن عفان- رضي الله عنه وانظر كيف اجتمع عليه رعيّته من كلّ جانب، فحاصروه في داره أيّاما ثم دخلوا عليه فقتلوه، والمصحف في حجره حتى قطرت قطرات من دمه على المصحف، ثم ثلث بعليّ بن أبي طالب- عليه السلام وقد ضربه عبد الرحمن بن ملجم- لعنه الله- بسيفه على أمّ رأسه
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, বিদ্বেষ পোষণ করা রাজার জন্য একটি প্রশংসনীয় গুণ। বুজুর্জমেহর [১] বলেছেন:
একজন রাজাকে উটের চেয়েও বেশি বিদ্বেষপরায়ণ হতে হবে। আমি তাঁর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলছি: এমন কথা কীভাবে বলা যায়? রাজা যখনই বিদ্বেষপরায়ণ হবেন, তখন তাঁর প্রজাদের প্রতি তাঁর নিয়ত কলুষিত হয়ে যাবে এবং তিনি তাদের ঘৃণা করতে শুরু করবেন। তাদের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার দৃষ্টি কমিয়ে দেবেন। আর যখন প্রজারা এটি অনুভব করবে, তখন তাঁর প্রতি তাদের নিয়তও বদলে যাবে এবং তাদের অন্তর কলুষিত হবে। প্রজাদের হৃদয়ের স্বচ্ছতা ছাড়া কি কোনো রাজা তাঁর রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে এবং নিজের মনের উদ্দেশ্য হাসিল করতে সক্ষম হন? এর মধ্যে কী প্রজ্ঞা আছে? এতে কি রাজার জীবন অতিষ্ঠ হওয়া এবং প্রজাদের কাছে তাঁকে অপ্রিয় করে তোলা ও তাদের মনে ভীতি সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু আছে? আরব কবি [২] বলেছেন:
আর আমি তাদের প্রতি কোনো পুরনো বিদ্বেষ পুষে রাখি না... কেননা গোত্রপতি বা নেতা তিনি নন, যিনি বিদ্বেষ পোষণ করেন।
(তবিল ছন্দ) বিশেষ করে মানুষ যখন ভুল করার ওপর সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের স্বভাবের অস্থিরতার ওপর গড়ে উঠেছে। তাদের কাছ থেকে বিদ্বেষ সৃষ্টির কত কারণই না প্রকাশিত হয়! ফলে রাজা সারা জীবন তাদের প্রতি ক্ষোভ ও বিদ্বেষে ভুগতে থাকেন, যা তাঁর জীবনের আনন্দকে নষ্ট করে দেয় এবং তাঁকে রাজ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিমুখ রাখে। আমরা কতবার দেখেছি যে, প্রজারা অথবা সৈন্যরা তাদের রাজাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তাদের কাছ থেকে রাজত্বের পোশাক, এমনকি জীবনের পোশাকও কেড়ে নিয়েছে! শুরু করুন উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, যাঁর ওপর মুগীরা ইবনে শু'বাহর গোলাম লুলু [৩] আক্রমণ করে তাঁকে হত্যা করেছিল। দ্বিতীয়ত, উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা দেখুন, কীভাবে চারদিক থেকে প্রজারা তাঁর বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছিল, কয়েক দিন যাবত তাঁকে তাঁর ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল এবং শেষ পর্যন্ত ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে হত্যা করেছিল; তখন পবিত্র কুরআন তাঁর কোলে ছিল, এমনকি তাঁর রক্তের ফোঁটা কুরআনের ওপর পড়েছিল। তৃতীয়ত, আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর কথা দেখুন, যাঁকে আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম (আল্লাহর লানত তার ওপর হোক) তার তলোয়ার দিয়ে মাথার উপরিভাগে আঘাত করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بالكوفة فقتله، وكان ابن ملجم من الخوارج، هذا في الصدر الأول والناس ناس والدين دين، ثم تنقّل دولة فدولة، وأياما، فأياما، إلى أواسط دولة بني العبّاس، فانظر منذ عهد المتوكل إلى عهد المقتفي ما جرى على واحد واحد من الخلفاء من القتل والخلع والنهب، بسبب تغيّر نيات جنده ورعيّته. فهذا سمل [1] ، وذاك قتل، والآخر عزل. ثم اسرح طرفك في الدولتين البويهية والسلجوقية تر من هذا الباب عجبا. ثم ارجع البصر إلى أونكخان ملك الترك، كيف لما تنكّرت نيّته على جنكزخان [2] ، وحقد عليه أشياء عرضها عليه عنده حساده، وأراد الوقيعة به وأعلمه بذلك الصبيان فرحل من ليلته، ثم حشد وجمع ووثب على أونكخان فقتله وملك ممالكه- تعلم أن الحقد من أضرّ الأشياء للملك، وأن أوفق الأشياء له الصفح والعفو والغفران والتناسبي. وما أحسن قول القائل:
اقبل من الناس ما تيسّر
… ودع من الناس ما تعسر
فإنّما النّاس من زجاج
… إن لم ترفق به تكسّر
(منسرح) وقد مدح بعض الشعراء الحقد، ولم يسمع بمن مدح الحقد غير هذا، فقال:
وما الحقد إلا توأم الشّكر في الفتى
… وبعض السجايا ينتسبن إلى بعض
فحيث ترى حقدا على ذي إساءة
… فثمّ ترى شكرا على سالف الفرض
إذا الأرض أدّت ريع ما أنت زارع
… من البذر فهي ناهيك من أرض
(طويل) هذا قول لا يعرج عليه. وإن عرّج عليه أحد فليعرّج عليه غير الملك، فإنّ الملك أحوج الخلق إلى استصلاح النيّات، واستصفاء القلوب.
ومن الخصال التي يستحبّ أن تكون في الملك، الكرم: وهو الأصل في استمالة القلوب، وتحصيل النصائح من العالم، واستخدام الأشراف. قال الشاعر:
--------------------------------------------
কুফায়, তিনি তাকে হত্যা করেন। ইবনে মুলজাম ছিলেন খারিজিদের অন্তর্ভুক্ত। এটি ছিল ইসলামের প্রথম যুগে যখন মানুষ ছিল অকৃত্রিম এবং দ্বীন ছিল বিশুদ্ধ। এরপর সময়ের আবর্তনে এক রাষ্ট্র থেকে অন্য রাষ্ট্র এলো, দিন অতিবাহিত হলো, এভাবে বনী আব্বাসীয় খেলাফতের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত পৌঁছাল। লক্ষ্য করুন, আল-মুতাওয়াক্কিলের শাসনামল থেকে আল-মুকতাফীর সময় পর্যন্ত খলিফাদের একের পর এক হত্যাকাণ্ড, পদচ্যুতি এবং লুণ্ঠনের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর দিকে, যা তাদের সৈন্য ও প্রজাদের মানসিকতা পরিবর্তনের কারণে ঘটেছিল। ফলে কারো চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল [১], কাউকে হত্যা করা হয়েছিল, আবার কাউকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। এরপর বুওয়াইহি ও সেলজুক সাম্রাজ্য দুটির দিকে দৃষ্টিপাত করুন, সেখানে আপনি এই বিষয়ে আশ্চর্যজনক সব ঘটনা দেখতে পাবেন। এরপর তুর্কি রাজা ওংক খানের দিকে লক্ষ্য করুন; কীভাবে যখন তার মনে চেঙ্গিস খানের [২] প্রতি কুমতলব দানা বাঁধল এবং ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিরা তার কাছে যেসব বিষয় উপস্থাপন করেছিল তার কারণে তার মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি হলো, ফলে সে তাকে বিপদে ফেলার সংকল্প করল। বালকেরা যখন চেঙ্গিস খানকে এ বিষয়ে অবহিত করল, তখন তিনি সেই রাতেই প্রস্থান করলেন। এরপর তিনি সৈন্যবাহিনী জড়ো ও একত্রিত করলেন এবং ওংক খানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তাকে হত্যা করলেন এবং তার রাজ্যগুলো দখল করলেন। আপনি জেনে রাখুন যে, বিদ্বেষ পোষণ করা একজন রাজার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয়গুলোর অন্যতম। আর তার জন্য সবচেয়ে উপযোগী কাজ হলো মার্জনা, ক্ষমা, ক্ষমাশীলতা এবং সহমর্মিতা। কবির এ উক্তিটি কতই না সুন্দর:
মানুষের পক্ষ থেকে যা সহজসাধ্য তা গ্রহণ করো
… আর যা দুঃসাধ্য তা বর্জন করো
কেননা মানুষ তো কাঁচের মতো
… যদি তার প্রতি কোমল না হও তবে সে ভেঙে যাবে
(মানসারীহ ছন্দ) কোনো কোনো কবি আবার বিদ্বেষের প্রশংসাও করেছেন, যদিও তিনি ব্যতীত অন্য কারো কথা শোনা যায়নি যিনি বিদ্বেষের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন:
বিদ্বেষ তো যুবকের নিকট কৃতজ্ঞতারই যমজ ভাই
… এবং কিছু স্বভাব অন্য স্বভাবের সাথে সম্পৃক্ত
তাই যেখানে আপনি কোনো অপকারীর প্রতি বিদ্বেষ দেখবেন
… সেখানেই আপনি অতীতের উপকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখতে পাবেন
যদি ভূমি আপনার বপন করা বীজের ফসল উৎপন্ন করে
… তবে সেই ভূমি হিসেবে আপনার জন্য যথেষ্ট
(তাবীল ছন্দ) এটি এমন এক বক্তব্য যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। আর যদি কেউ এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেও চায়, তবে সে যেন রাজা ব্যতীত অন্য কেউ হয়। কেননা নিয়তের সংশোধন এবং অন্তরকে কলুষমুক্ত করার প্রয়োজন সৃষ্টিজগতের মধ্যে রাজারই সবচেয়ে বেশি।
রাজার যেসব গুণাবলি থাকা পছন্দনীয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো বদান্যতা: এটিই মানুষের অন্তর জয় করার, জ্ঞানীদের কাছ থেকে সদুপদেশ লাভের এবং অভিজাত ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর মূল ভিত্তি। কবি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إذا ملك لم يكن ذا هبه [1]
… فدعه فدولته ذاهبه
(متقارب) ومما جاء في الحديث النبوي- صلوات الله على صاحبه- «تجاوزوا عن ذنب السخيّ، فإنّ الله آخذ بيده كلّما عثر، وفاتح عليه كلّما افتقر» . وقال عليّ- عليه السلام «: الجود حارس الأعراض» . واعلم أنه لم تتضمّن سيرة من حكايات الجود مثل ما نقل عن قان العادل (وهو أوكتاي بن جنكزخان) ، فإنه غبّر [2] في وجوه جميع كرام الملوك.
مناقب تفتق ما رقعتم
… من جود كعب [3] وسماح حاتم
(رجز) ومن الاتفاقات الحسنة، وجوده في عصر المستنصر باللَّه. وكان المستنصر أكرم من الريح، ولكن أين يقع جوده من جودقان؟ ومن أين للمستنصر [4] مال يفي بعطايا قان؟.
ومنها الهيبة: وبها يحفظ نظام المملكة، ويحرس من أطماع الرعيّة. وقد كان الملوك يبالغون في إقامة الهيبة والناموس، حتى بارتباط الأسود والفيلة والنمور، وبضرب البوقات الكبار كبوق النفير، والدّباب [5] والقصع، ورفع السّناجق [6] وخفق الألوية على رءوسهم. كلّ ذلك لإثبات الهيبة في صدور الرعية، ولإقامة ناموس المملكة. كان عضد الدولة إذا جلس على سريره أحضرت الأسود والفيلة والنمور في السلاسل، وجعلت في حواشي مجلسه، تهويلا بذلك على الناس، وترويعا لهم.
--------------------------------------------
যদি রাজা দানশীল না হন [১]
… তবে তাকে বর্জন করো, কারণ তার রাজত্ব বিলীয়মান।
(মুতাকারিব ছন্দ) এবং নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক— "তোমরা দানবীরের ত্রুটি ক্ষমা করে দাও; কেননা যখনই সে হোঁচট খায়, আল্লাহ তাঁর হাত ধরেন এবং যখনই সে অভাবগ্রস্ত হয়, আল্লাহ তাঁর জন্য (জীবিকার পথ) খুলে দেন।" আলী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "দানশীলতা হলো সম্মানের রক্ষক।" এবং জেনে রেখো যে, দানশীলতার ইতিহাসে ক্বানিল আদিল (যিনি চেঙ্গিস খানের পুত্র ওকতাঈ) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তেমনটি আর কারো জীবনীতে পাওয়া যায় না। তিনি সকল দানশীল রাজার চেহারায় ধুলো উড়িয়ে দিয়েছেন [২] (অর্থাৎ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন)।
এমন গুণাবলি যা তোমাদের তালি দেওয়া অংশকে বিদীর্ণ করে
… কাব-এর দানশীলতা [৩] এবং হাতেমের বদান্যতা থেকে।
(রাজায ছন্দ) এবং একটি সুন্দর কাকতালীয় বিষয় হলো মুস্তানসির বিল্লাহর যুগে তাঁর বর্তমান থাকা। মুস্তানসির বাতাসের চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন, কিন্তু ক্বানের দানশীলতার কাছে তাঁর দানশীলতার স্থান কোথায়? আর মুস্তানসিরের [৪] এমন সম্পদই বা কোথায় ছিল যা ক্বানের দানসমূহ পূর্ণ করতে পারে?
তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রতাপ: এর মাধ্যমেই সাম্রাজ্যের শৃঙ্খলা রক্ষিত হয় এবং প্রজাদের লোভ-লালসা থেকে তা সংরক্ষিত থাকে। রাজন্যবর্গ প্রতাপ ও গরিমা প্রতিষ্ঠায় বাড়াবাড়ি করতেন, এমনকি সিংহ, হাতি ও চিতাবাঘ বাঁধার মাধ্যমে, নফিরের মতো বড় শিঙা বাজানোর মাধ্যমে, বড় ঢোল [৫] ও কাসার ঘণ্টার মাধ্যমে এবং তাদের মাথার ওপর ঝাণ্ডা [৬] ও পতাকা উড্ডীন করার মাধ্যমে। এই সবকিছুর উদ্দেশ্য ছিল প্রজাদের অন্তরে প্রতাপ গেঁথে দেওয়া এবং সাম্রাজ্যের গরিমা বজায় রাখা। আদুদুদ্দৌলা যখন তাঁর সিংহাসনে বসতেন, তখন সিংহ, হাতি ও চিতাবাঘদের শিকলবদ্ধ অবস্থায় আনা হতো এবং তাঁর মজলিশের চারপাশে রাখা হতো, যেন মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি হয় এবং তারা আতঙ্কিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنها السّياسة: وهي رأس مال الملك، وعليها التّعويل في حقن الدماء، وحفظ الأموال، ومنع الشّرور، وقمع الدعّار [1] والمفسدين، والمنع من التظالم المؤدّي إلى الفتنة والاضطراب.
ومنها الوفاء بالعهد: قال تعالى سلطانه: وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كانَ مَسْؤُلًا 17: 34 [2] . وهو الأصل في تسكين القلوب، وطمأنينة النفوس، ووثوق الرعيّة بالملك إذا طلب الأمان منه خائف، أو أراد المعاهدة منه معاهد.
ومنها الاطّلاع على غوامض أحوال المملكة ودقائق أمور الرعيّة، ومجازاة المحسن على إحسانه والمسيء على إساءته. كان أردشير [3] الملك يقول لمن شاء من أشراف رعيّته وأوضاعهم: كان البارحة من حالك كيت وكيت حتّى صار يقال إنّ أردشير يأتيه ملك من السّماء يخبره بالأمور. وما ذاك إلا لتيقظه وتصفّحه.
فهذه عشر خصال من خصال الخير، من كنّ فيه استحقّ الرئاسة الكبرى.
ولو نظر أصحاب الآراء والمذاهب حقّ النظر، وتركوا الهوى، لكانت هذه الشرائط هي المعتبرة في استحقاق الإمامة، وما عداها فغير طائل. وقال بزرجمهر [4] . ينبغي أن يكون الملك كالأرض في كتمان سرّه وصبره، وكالنار على أهل الفساد وكالماء في لينه لمن لاينه، وينبغي أن يكون أسمع من فرس، وأبصر من عقاب، وأهدى من قطاة، وأشدّ حذرا من غراب، وأعظم إقداما من الأسد، وأقوى وأسرع وثوبا من الفهد وينبغي للملك ألا يستبدّ برأيه وأن يشاور في الملمّات خواصّ الناس وعقلاءهم ومن يتفرّس فيه الذكاء والعقل وجودة الرّأي، وصحّة التمييز ومعرفة الأمور. ولا ينبغي أن تمنعه عزّة الملك من إيناس المستشار به وبسطه، واستمالة قلبه حتى يمحضه النّصيحة فإن أحدا لا ينصح بالقسر ولا يعطي نصيحته إلا بالرّغبة، وما أحسن قول الشاعر في هذا المعنى:
--------------------------------------------
এগুলোর মধ্যে একটি হলো রাজনীতি (সিয়াসাত): এটি হলো বাদশাহর মূলধন, এবং রক্তপাত বন্ধ করা, সম্পদ রক্ষা করা, অনিষ্ট প্রতিরোধ করা, প্রকাশ্য পাপাচারী ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের দমন করা এবং ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার দিকে পরিচালিত করে এমন পারস্পরিক জুলুম প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করা হয়।
এগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো প্রতিশ্রুতি পালন করা: মহান আল্লাহ বলেন, "তোমরা প্রতিশ্রুতি পালন করো, নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে" (১৭: ৩৪)। এটিই হলো অন্তর প্রশান্ত করার, আত্মার স্থিরতা আনয়নের এবং বাদশাহর ওপর প্রজাদের আস্থার মূল ভিত্তি; যখন কোনো ভীত ব্যক্তি তাঁর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করে অথবা কোনো চুক্তিকারী তাঁর সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে চায়।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের গোপন অবস্থাসমূহ এবং প্রজাদের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সৎকর্মশীলকে তার ভালো কাজের জন্য প্রতিদান দেওয়া ও মন্দ কাজ করা ব্যক্তিকে তার মন্দ কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া। বাদশাহ আরদাশির তাঁর প্রজাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করতেন—চাই সে উচ্চবংশীয় হোক বা সাধারণ—তাকে বলতেন: "গত রাতে তোমার অবস্থা এমন এমন ছিল।" ফলে মানুষ বলাবলি করতে লাগল যে, আকাশ থেকে কোনো ফেরেশতা আরদাশিরের কাছে এসে তাকে খবরাখবর দিয়ে যান। আর এটি তাঁর সতর্কতা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধিৎসার কারণেই সম্ভব হতো।
এগুলি হলো উত্তম গুণাবলির মধ্যকার দশটি বৈশিষ্ট্য; যার মধ্যে এগুলি বিদ্যমান থাকবে, সে বৃহৎ নেতৃত্বের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
যদি চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মতাবলম্বীরা সঠিকভাবে লক্ষ্য করতেন এবং কুপ্রবৃত্তি ত্যাগ করতেন, তবে ইমামতের (নেতৃত্বের) যোগ্যতার ক্ষেত্রে এই শর্তগুলোকেই বিবেচনাযোগ্য মনে করা হতো এবং এগুলি ছাড়া অন্য কিছু ফলপ্রসূ হতো না। বুযুর্জমেহর বলেছেন: বাদশাহর উচিত হবে গোপনীয়তা রক্ষা এবং ধৈর্যের ক্ষেত্রে ভূমির মতো হওয়া, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ওপর আগুনের মতো হওয়া এবং যে তাঁর সাথে নম্র ব্যবহার করে তার প্রতি পানির মতো কোমল হওয়া। তাঁর জন্য ঘোড়ার চেয়েও প্রখর শ্রবণশক্তি সম্পন্ন হওয়া, ঈগলের চেয়েও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া, কাতা পাখির চেয়েও অধিক পথ চেনার পারদর্শী হওয়া, কাকের চেয়েও অধিক সতর্ক থাকা, সিংহের চেয়েও বড় সাহসী হওয়া এবং চিতার চেয়েও শক্তিশালী ও দ্রুত আক্রমণকারী হওয়া উচিত। বাদশাহর জন্য উচিত হবে না নিজের মতে অনড় থাকা; বরং কঠিন পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বুদ্ধিমান এবং যাদের মধ্যে মেধা, প্রজ্ঞা, উন্নত মতামত, সঠিক বিচারক্ষমতা ও বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান পরিলক্ষিত হয়, তাদের সাথে পরামর্শ করা। বাদশাহর আভিজাত্য যেন তাকে পরামর্শদাতার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে, তাকে আশ্বস্ত করতে এবং তার মন জয় করতে বাধা না দেয়, যাতে সে অকপটে উপদেশ প্রদান করতে পারে। কারণ, কাউকে বাধ্য করে তার থেকে সুপরামর্শ পাওয়া যায় না, বরং তা কেবল আগ্রহ ও আন্তরিকতার মাধ্যমেই পাওয়া যায়। এই বিষয়ে কবির কথাটি কতই না চমৎকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أهان وأقصى ثم يستنصحونني
… ومن ذا الّذي يعطي نصيحته قسرا؟!
(طويل) قال الله تعالى: وَشاوِرْهُمْ في الْأَمْرِ 3: 159 وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشاور أصحابه دائما.
لمّا كانت وقعة بدر [1] خرج- صلى الله عليه وسلم من المدينة في جماعة من المسلمين، فلما وصلوا بدرا نزلوا على غير ماء، فقام إليه رجل [2] من أصحابه وقال: يا رسول الله: نزولك ها هنا شيء أمرك الله به أو هو من عند نفسك قال: بل هو من عند نفسي، قال يا رسول الله: إن الصّواب أن ترحل وتنزل على الماء فيكون الماء عندنا، فلا نخاف العطش، وإذا جاء المشركون لا يجدون ماء، فيكون ذلك معينا لنا عليهم، قال رسول الله، صدقت، ثم أمر بالرحيل، ونزل على الماء، واختلف المتكلّمون في كون الله تعالى أمر رسوله بالاستشارة، مع أنه أيّده ووفّقه، وفي ذلك أربعة وجوه: أحدها: أنّه- عليه السلام أمر بمشاورة الصحابة استمالة لقلوبهم وتطييبا لنفوسهم. والثاني: أنه أمر بمشاورتهم في الحرب ليستقرّ له الرأي الصحيح فيعمل عليه. والثالث: أنه أمر بمشاورتهم لما فيها من النفع والمصلحة. والرابع: أنه إنما أمر بمشاورتهم ليقتدي به الناس، وهذا عندي أحسن الوجوه وأصلحها. قالوا: الخطأ مع المشورة، أصلح من الصواب مع الانفراد والاستبداد، وقال صاحب كليلة ودمنة [3] :
لا بدّ لملك من مستشار مأمور يفضي إليه بسرّه، ويعاونه على رأيه، فإن المستشير- وإن كان أفضل من المستشار وأكمل عقلا وأصحّ رأيا- قد يزداد برأي المشير رأيا، كما تزداد النار بالدّهن ضوءا ونورا، قال الشاعر:
--------------------------------------------
লাঞ্ছিত হলাম এবং দূরে সরিয়ে দেওয়া হলো, এরপর তারা আমার নিকট পরামর্শ চায়
… আর এমন কে আছে যে জোরপূর্বক তার নসিহত প্রদান করে?!
(তবিউল ছন্দ) আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘এবং তুমি কাজের বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করো’ (৩: ১৫৯)। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করতেন।
যখন বদরের যুদ্ধ [১] সংঘটিত হলো, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদল মুসলিমসহ মদিনা থেকে বের হলেন। যখন তারা বদরে পৌঁছালেন, তখন তারা পানির নাগালহীন এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলেন। তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি [২] দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এখানে আপনার অবস্থান করা কি এমন কিছু যার আদেশ আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন, নাকি এটি আপনার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধকৌশল? তিনি বললেন: বরং এটি আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধকৌশল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সঠিক কাজ হলো আপনি এখান থেকে যাত্রা করে পানির উৎসের নিকট গিয়ে অবস্থান করবেন, যাতে পানি আমাদের অধিকারে থাকে এবং আমাদের তৃষ্ণার ভয় না থাকে। আর যখন মুশরিকরা আসবে, তারা কোনো পানি পাবে না; ফলে এটি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের জন্য সহায়ক হবে। আল্লাহর রাসূল বললেন: তুমি সত্য বলেছো। অতঃপর তিনি সেখান থেকে যাত্রার আদেশ দিলেন এবং পানির নিকট অবস্থান নিলেন। আর মুতাকাল্লিমগণ (ধর্মতাত্ত্বিকগণ) আল্লাহ তাআলা কেন তাঁর রাসূলকে পরামর্শ করার আদেশ দিলেন সে বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন, অথচ তিনি তাঁকে সাহায্য ও তাওফিক দান করেছিলেন। এ ব্যাপারে চারটি দিক রয়েছে: প্রথমত: তাঁকে (আলাইহিস সালাম) সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের অন্তর জয় করার জন্য এবং তাদের মনকে প্রশান্ত করার জন্য। দ্বিতীয়ত: তাঁকে যুদ্ধে পরামর্শ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁর নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত স্থির হয় এবং তিনি সে অনুযায়ী আমল করতে পারেন। তৃতীয়ত: তাঁকে পরামর্শের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কারণ এতে কল্যাণ ও জনস্বার্থ নিহিত রয়েছে। চতুর্থত: তাঁকে পরামর্শের নির্দেশ কেবল এই জন্য দেওয়া হয়েছে যাতে মানুষ তাঁর অনুসরণ করে; আর আমার নিকট এটিই সবচেয়ে উত্তম ও সঠিক দিক। তাঁরা বলেন: পরামর্শসহ ভুল করা, একাকীত্ব ও স্বেচ্ছাচারিতার সাথে সঠিক হওয়ার চেয়েও উত্তম। আর ‘কালিলা ওয়া দিমনা’র [৩] রচয়িতা বলেন:
একজন রাজার জন্য এমন একজন আজ্ঞাবহ পরামর্শদাতার প্রয়োজন যার নিকট তিনি তাঁর গোপন রহস্য প্রকাশ করবেন এবং সে তাঁর সিদ্ধান্তে তাঁকে সহযোগিতা করবে। কেননা পরামর্শ গ্রহণকারী ব্যক্তি—যদি সে পরামর্শদাতার চেয়ে শ্রেষ্ঠও হয় এবং অধিক বুদ্ধিমান ও প্রাজ্ঞও হয়—তবুও পরামর্শদাতার মতামতের মাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত আরও শাণিত হয়; যেমন তেলের মাধ্যমে আগুনের আলো ও দীপ্তি বৃদ্ধি পায়। কবি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
إذا أعوز الرأي المشورة فاستشر
… برأي نصيح أو مشورة حازم [1]
(طويل) واعلم أنّ للملك أمورا تخصّه يتميز بها عن السوقة، فمنها: أنه إذا أحبّ شيئا أحبه الناس، وإذا أبغض شيئا أبغضه الناس، وإذا لهج بشيء لهج به الناس إمّا طبعا أو تطبّعا، ليتقربوا بذلك إلى قلبه، ولذلك قيل: الناس على دين ملوكهم فانظر كيف كان زيّ الناس في زمن الخلفاء، فلما ملكت هذه الدولة- أسبغ الله إحسانها وأعلى شأنها- غيّر الناس زيّهم في جميع الأشياء، ودخلوا في زيّ ملوكهم بالنطق واللباس، والآلات والرّسوم والآداب، من غير أن يكلّفوهم ذلك أو يأمروهم به أو ينهوهم عنه، ولكنهم علموا أن زيّهم الأوّل مستهجن في نظرهم، مناف لاختيارهم فتقرّبوا إليهم بزيّهم وما زال الملوك في كلّ زمان يختارون زيّا وفنّا، فيميل الناس إليه ويلهجون به، وهذا من خواصّ الدولة وأسرار الملك.
ومن خواصّ الملك: أن صحبته تورث التيه والكبر، وتقوّي القلب وتكبّر النفس وليس صحبة غير الملك تفعل ذلك، ومن خواصّه: أنه إذا أعرض عن إنسان وجد ذلك الإنسان في نفسه ضعفا، وإن لم ينله بمكروه، وإذا أقبل على إنسان وجد ذلك الإنسان في نفسه قوّة، وإن لم يصبه منه خير، بل مجرّد الإعراض، والإقبال يفعل ذلك، وليس أحد من الناس بهذه المنزلة غير السّلطان.
وأما الخصال التي يستحبّ أن تكون معدومة فيه: فقد ذكرها ابن المقفع في كلام له قال: ليس للملك أن يغضب، لأنّ القدرة من وراء حاجته، وليس له أن يكذب لأنه لا يقدر أحد على إلزامه بغير ما يريد، وليس له أن يبخل، لأنه أقل الناس عذرا في خوف الفقر، وليس له أن يكون حقودا، لأن قدره قد عظم عن المجازاة لأحد على إساءة صدرت منه، وليس له أن يحلف إذا حدّث، لأن الّذي يحمل الإنسان على اليمين في حديثه خلال: إمّا مهانة يجدها في نفسه واحتياج إلى
--------------------------------------------
যদি কোনো মত বা সিদ্ধান্তের জন্য পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তবে
... কোনো হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির মত অথবা কোনো দৃঢ়চেতা ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণ করো [১]
(তবিল ছন্দ) আর জেনে রেখো, শাসকের এমন কিছু বিশেষ বিষয় রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি সাধারণ প্রজা থেকে স্বতন্ত্র হন। তার মধ্যে একটি হলো: তিনি যখন কোনো কিছু পছন্দ করেন, মানুষও তা পছন্দ করতে শুরু করে; আর তিনি যখন কোনো কিছুকে ঘৃণা করেন, মানুষও তা ঘৃণা করতে থাকে। তিনি যখন কোনো বিষয়ে নিবিষ্ট হন, মানুষও স্বভাবজাতভাবে হোক কিংবা অনুকরণ করে হলেও তাতে নিবিষ্ট হয়, যাতে এর মাধ্যমে তারা তাঁর হৃদয়ের নিকটবর্তী হতে পারে। এই কারণেই বলা হয়েছে: "মানুষ তাদের রাজাদের আদর্শ অনুসরণ করে।" সুতরাং লক্ষ্য করো, খলিফাদের যুগে মানুষের বেশভূষা কেমন ছিল। অতঃপর যখন এই রাষ্ট্রের শাসনকাল শুরু হলো—আল্লাহ এর অনুগ্রহকে পূর্ণতা দান করুন এবং এর মর্যাদাকে উচ্চকিত করুন—তখন মানুষ সকল বিষয়ে তাদের বেশভূষা পরিবর্তন করে ফেলল। তারা কোনো বাধ্যবাধকতা, আদেশ বা নিষেধ ছাড়াই কথা, পোশাক, সরঞ্জাম, রীতিনীতি ও শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে তাদের রাজাদের শৈলী গ্রহণ করল। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে, তাদের পূর্ববর্তী বেশভূষা রাজাদের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় এবং তাঁদের অভিরুচির পরিপন্থী। তাই তারা রাজকীয় বেশভূষা অবলম্বনের মাধ্যমে তাঁদের নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করল। এভাবেই প্রতিটি যুগে রাজারা একটি বিশেষ শৈলী ও শিল্পধারা বেছে নেন এবং মানুষ সেদিকে ঝুঁকে পড়ে ও তা নিয়ে মেতে ওঠে। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং রাজতন্ত্রের একটি রহস্য।
রাজত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: রাজাদের সাহচর্য মনে বিভ্রম ও অহংকার সৃষ্টি করে, অন্তরকে শক্তিশালী করে এবং নফসকে বড় করে তোলে; যা অন্য কারো সাহচর্যে ঘটে না। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো: শাসক যদি কোনো ব্যক্তির প্রতি বিমুখ হন, তবে সেই ব্যক্তি নিজের মধ্যে দুর্বলতা অনুভব করে, যদিও তিনি তার কোনো অনিষ্ট না করেন। আবার তিনি যদি কারো প্রতি সদয় হন, তবে সেই ব্যক্তি নিজের মনে শক্তি পায়, যদিও তিনি তাকে কোনো বস্তুগত কল্যাণ দান না করেন। বরং কেবল বিমুখতা বা সদয় হওয়াই এমন প্রভাব সৃষ্টি করে। সুলতান বা শাসক ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের এই মর্যাদা নেই।
আর যে স্বভাবগুলো শাসকের মধ্যে না থাকাই বাঞ্ছনীয়: সে সম্পর্কে ইবনুল মুকাফফা তাঁর একটি বক্তব্যে বলেছেন: বাদশাহর জন্য রাগান্বিত হওয়া সাজে না, কারণ তাঁর প্রয়োজন মেটানোর জন্য তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিই যথেষ্ট। তাঁর জন্য মিথ্যা বলাও সমীচীন নয়, কারণ তিনি যা চান তা পালনে বাধ্য করার ক্ষমতা অন্য কারো নেই। তাঁর জন্য কৃপণ হওয়া অনুচিত, কারণ দারিদ্র্যের ভয়ে অজুহাত পেশ করার ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে কম অবকাশ রাখেন। তাঁর জন্য প্রতিহিংসাপরায়ণ হওয়াও ঠিক নয়, কারণ কারো কৃত অপকর্মের প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে তাঁর মর্যাদা অনেক উঁচুতে। কথা বলার সময় তাঁর শপথ করার প্রয়োজন নেই, কারণ মানুষকে কথা বলার সময় যে বিষয়গুলো শপথ করতে প্ররোচিত করে তা হলো: হয় সে নিজের মধ্যে হীনম্মন্যতা বোধ করছে অথবা তার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أن يصدّقه الناس، وإمّا عيّ وحصر وعجز عن الكلام، فيريد أن يجعل اليمين تتمة لكلامه أو حشوا فيه، وإما أن يكون قد عرف أنه مشهور عند الناس بالكذب، فهو يجعل نفسه بمنزلة من لا يصدّق ولا يقبل قوله إلّا باليمين، وحينئذ كلّما ازداد إيمانا ازداد الناس له تكذيبا، والملك بمعزل عن هذه الدنايا كلّها، وقدره أكبر من ذلك.
ومن الخصال التي يستحبّ أن تكون معدومة في الملك: الحدّة، فإنّها ربّما أصدرت عنه فعلا يندم عليه حين لا ينفع الندم، وأكثر ما ترى الحداد من الرّجال سريعي الرّجوع، ولذلك قال- عليه الصلاة والسلام: «خير أمّتي حدادها» . ومن الخصال التي يستحب عدمها في الملك: الضّجر والسّأم والملل، فذلك من أضرّ الأمور وأفسدها لحاله.
واعلم أنّ للملك على رعيّته حقوقا، وأنّ لهم عليه حقوقا، فأمّا الحقوق التي تجب للملك على رعيّته، فمنها الطاعة: وهي الأصل الّذي ينتظم به صلاح أمور الجمهور، ويتمكن به الملك من الإنصاف للضعيف من القويّ، والقسمة بالحقّ، وممّا جاء في التنزيل من الحثّ على ذلك- وهي الآية المشهورة في هذا المعنى- قوله تعالى: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا الله وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ 4: 59 [1] .
ومن أمثالهم: «لا إمرة لمن لا يطاع» [2] . ولم ينقل في تاريخ ولا تضمّنت سيرة من السير، أنّ دولة من الدول رزقت من طاعة جندها ورعاياها، ما رزقته هذه الدولة القاهرة المغوليّة [3] ، فإنّ طاعة جندها ورعاياها لها، طاعة لم ترزقها دولة من الدّول.
فأما الدّولة الكسرويّة [4] : فإنّها على عظمها وفخامتها، لم تبلغ ذلك، وقد
--------------------------------------------
মানুষ তাকে বিশ্বাস করুক, অথবা বাকজড়তা ও কথা বলতে অক্ষমতার কারণে সে শপথকে তার কথার পরিপূরক বা অনর্থক অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। অথবা সে হয়তো জানে যে সে মানুষের কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত, তাই সে নিজেকে এমন স্তরে নামিয়ে আনে যেখানে কেউ তাকে বিশ্বাস করে না এবং শপথ ছাড়া তার কথা গ্রহণ করা হয় না; এমতাবস্থায় সে যত বেশি শপথ করে, মানুষ তাকে তত বেশি মিথ্যাবাদী মনে করে। আর রাজা এই সকল নীচতা থেকে মুক্ত এবং তার মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।
রাজার মধ্যে যে সকল গুণের অনুপস্থিতি কাম্য, তার একটি হলো: মেজাজের তীব্রতা বা উগ্রতা। কারণ এটি সম্ভবত তাকে এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করে যার জন্য পরে তাকে অনুতপ্ত হতে হয়, যখন অনুতাপ কোনো কাজে আসে না। আপনি অধিকাংশ তীব্র মেজাজী মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে দেখবেন। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা হলো তাদের মধ্যে যারা সত্যের ব্যাপারে কঠোর বা তীব্র মেজাজী।" রাজার মধ্যে আরও যে সকল গুণের অনুপস্থিতি কাম্য তা হলো: বিরক্তি, ক্লান্তি ও অবসাদ। কারণ এগুলো তার অবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক বিষয়।
জেনে রাখুন যে, প্রজাদের ওপর রাজার অধিকার রয়েছে এবং রাজার ওপর প্রজাদের অধিকার রয়েছে। প্রজাদের ওপর রাজার যে সকল অধিকার ওয়াজিব, তার মধ্যে অন্যতম হলো আনুগত্য: এটিই সেই মূল ভিত্তি যার মাধ্যমে জনসাধারণের কল্যাণ সুসংগঠিত হয় এবং রাজা এর মাধ্যমে দুর্বলের ওপর প্রবলের জুলুম রোধ করে ইনসাফ কায়েম করতে এবং ন্যায়ের সাথে বণ্টন করতে সক্ষম হন। এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করে অবতীর্ণ হওয়া আল-কুরআনের আয়াতগুলোর মধ্যে বিখ্যাত আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর বা দায়িত্বশীলদের। (সূরা আন-নিসা ৪: ৫৯)।
তাদের প্রবাদগুলোর মধ্যে রয়েছে: "যার আনুগত্য করা হয় না, তার কোনো কর্তৃত্ব নেই।" কোনো ইতিহাসে বা কোনো জীবনীগ্রন্থে এটি বর্ণিত হয়নি যে, কোনো রাষ্ট্র তার সৈন্য ও প্রজাদের আনুগত্যের দিক থেকে ততটুকু সৌভাগ্যবান হয়েছে, যতটুকু এই বিজয়ী মঙ্গোল রাষ্ট্র হয়েছিল। কারণ তাদের সৈন্য ও প্রজাদের আনুগত্য ছিল এমন পর্যায়ের যা অন্য কোনো রাষ্ট্র কখনো লাভ করেনি।
অন্যদিকে পারস্য সম্রাট বা কিসরাদের রাষ্ট্র: এটি বিশালতা ও গাম্ভীর্য সত্ত্বেও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাখরী ফিল আদাবিস সুলতানিয়্যাহ ওয়াদ দুওয়ালিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
كان النّعمان بن المنذر [1] ملك الحيرة نائبا لكسرى على العرب، وبين الحيرة والمدائن التي كانت سرير ملك الأكاسرة فراسخ معدودة والنّعمان في كل أيّامه قد عصا على كسرى وإذا حضر مجلسه تبسّط وتجرّأ على مجاوبته، وكان متى أراد خلع طاعته دخل البرية فأمن شرّه.
وأمّا الدّول الإسلاميّة: فلا نسبة لها إلى هذه الدولة حتّى تذكر معها، فأمّا خلافة الأربعة الأوّل: وهم أبو بكر الصدّيق، وعمر بن الخطّاب، وعثمان بن عفّان- رضي الله عنهم وعليّ بن أبي طالب- عليه السلام فإنّها كانت أشبه بالرّتب الدينية من الرّتب الدنيوية في جميع الأشياء، كان أحدهم يلبس الثّوب من الكرباس الغليظ، وفي رجله نعلان من ليف، وحمائل سيفه ليف، ويمشي في الأسواق كبعض الرعيّة، وإذا كلّم أدنى الرعيّة أسمعه أغلظ من كلامه، وكانوا يعدّون هذا من الدين الّذي بعث به النبيّ صلوات الله عليه وسلامه، قيل إنّ عمر ابن الخطّاب جاءته برود من اليمن ففرّقها على المسلمين فكان نصيب كلّ رجل من المسلمين بردا واحدا، وكان نصيب عمر كنصيب واحد من المسلمين، قيل:
ففصّله عمر ثم لبسه، وصعد المنبر فأمر الناس بالجهاد فقام إليه رجل من المسلمين وقال: لا سمعا وطاعة، قال لم ذلك؟ قال: لأنّك استأثرت علينا، قال عمر: بأيّ شيء استأثرت؟ قال: إن الأبراد اليمنيّة لما فرّقتها حصل لكلّ واحد من المسلمين برد منها، وكذلك حصل لك، والبرد الواحد لا يكفيك ثوبا، وتراك قد فصّلته قميصا تامّا، وأنت رجل طويل، فلو لم تكن قد أخذت أكثر منه لما جاءك منه قميص فالتفت عمر إلى ابنه عبد الله وقال: يا عبد الله أجبه عن كلامه، فقام عبد الله ابن عمر وقال: إنّ أمير المؤمنين عمر لمّا أراد تفصيل برده لم يكفه، فناولته من بردي لأتمّمه له، فقال الرّجل: أمّا الآن فالسّمع والطاعة [2] .
وهذه السّير ليست من طرز ملوك الدنيا، وهي بالنّبوّات والأمور الأخرويّة أشبه.
--------------------------------------------
নুমান ইবনুল মুনযির [১] হিরার রাজা হিসেবে আরবদের ওপর কিসরার প্রতিনিধি ছিলেন। হিরা এবং মাদায়েনের—যা ছিল পারস্য সম্রাটদের রাজধানী—মধ্যবর্তী দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েক ফারসাখ। নুমান তাঁর শাসনামলের পুরোটা সময় কিসরার অবাধ্যতা করেছেন। যখন তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন, তখন তিনি বেশ সাবলীল থাকতেন এবং তাঁকে উত্তর দেওয়ার সাহস দেখাতেন। যখনই তিনি তাঁর আনুগত্য ত্যাগ করতে চাইতেন, তখন মরুভূমিতে প্রবেশ করতেন এবং এভাবে তাঁর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকতেন।
আর ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর কথা যদি বলা হয়, তবে এই (পারস্য) সাম্রাজ্যের সাথে সেগুলোর কোনো তুলনাই চলে না যে এর সাথে তার উল্লেখ করা হবে। বিশেষ করে প্রথম চার খলিফার খিলাফত: তারা হলেন আবু বকর সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—এবং আলী ইবনে আবি তালিব—তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—তাঁদের শাসনকাল সব দিক থেকে পার্থিব মর্যাদার চেয়ে ধর্মীয় মর্যাদার সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। তাঁদের কেউ মোটা সুতির কাপড় পরিধান করতেন, পায়ে থাকত খেজুরের আঁশের তৈরি জুতো এবং তলোয়ারের বেল্টও ছিল আঁশের তৈরি। তিনি সাধারণ প্রজাদের মতোই বাজারে চলাফেরা করতেন। এমনকি সাধারণ কোনো প্রজা যখন তাঁর সাথে কথা বলত, তখন সে তাঁর চেয়েও কঠোর ভাষায় কথা বলত। তাঁরা বিষয়টিকে সেই দ্বীনের অংশ মনে করতেন, যা নিয়ে নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—প্রেরিত হয়েছিলেন। বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে ইয়েমেন থেকে কিছু চাদর এসেছিল। তিনি সেগুলো মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। প্রত্যেক মুসলিমের ভাগে একটি করে চাদর পড়ল। উমরের ভাগও সাধারণ একজন মুসলমানের ভাগের মতোই ছিল। বর্ণিত আছে:
উমর সেটি কেটে সেলাই করলেন এবং পরিধান করলেন। অতঃপর মিম্বারে আরোহণ করে মানুষকে জিহাদের নির্দেশ দিলেন। তখন মুসলমানদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: আমরা শুনবও না, মানবোও না। উমর বললেন: কেন? সে বলল: কারণ আপনি আমাদের ওপর নিজের প্রাধান্য দিয়েছেন। উমর বললেন: আমি কোন বিষয়ে প্রাধান্য দিয়েছি? সে বলল: আপনি যখন ইয়েমেনি চাদরগুলো বণ্টন করেছিলেন, তখন প্রত্যেক মুসলমান একটি করে চাদর পেয়েছিল এবং আপনিও একটিই পেয়েছিলেন। কিন্তু একটি চাদর দিয়ে আপনার পোশাক হওয়ার কথা নয়, অথচ দেখা যাচ্ছে আপনি এটি দিয়ে একটি পূর্ণ জামা তৈরি করেছেন। আপনি একজন দীর্ঘদেহী মানুষ। আপনি যদি অতিরিক্ত না নিতেন, তবে এটি দিয়ে আপনার জামা হতো না। তখন উমর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর দিকে ফিরে বললেন: হে আবদুল্লাহ, ওর কথার উত্তর দাও। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উমর দাঁড়িয়ে বললেন: আমিরুল মুমিনিন উমর যখন তাঁর চাদরটি সেলাই করতে চাইলেন, তখন সেটি তাঁর জন্য যথেষ্ট হচ্ছিল না। তখন আমি তাঁকে আমার চাদরের অংশটি দিলাম যাতে তিনি এটি পূর্ণ করতে পারেন। তখন লোকটি বলল: এখন তবে শুনছি এবং মানছি [২]।
এই জীবনচরিতগুলো দুনিয়ার রাজাদের রীতির মতো নয়, বরং এগুলো নবুওয়াত এবং আখিরাতকেন্দ্রিক বিষয়াবলির সাথেই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
--------------------------------------------