(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
المدخل في تاريخ السنة   (هانى فقيه)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المدخل في تاريخ السنة

تاريخ موجز للسُّنَّة النبوية منذ العصر النبوي وحتى العصر الحديث، وبيان جهود العلماء في خدمتها والتعريف بأشهر مصنَّفاتها

المؤلف: د هاني أحمد فقيه

الناشر: (الناشر المتميز - الرياض)، (دار النصيحة - المدينة النبوية)

الطبعة: الثالثة، 1444 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 209

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 صفر 1445

সুন্নাহর ইতিহাসের প্রবেশিকা   (হানি ফাকিহ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: সুন্নাহর ইতিহাসের প্রবেশিকা

নবিযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত নববীয় সুন্নাহর (السنة النبوية) একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, এবং সুন্নাহর (السنة) খিদমতে আলেমদের প্রচেষ্টার বিবরণ ও এর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের পরিচিতি

লেখক: ড. হানি আহমাদ ফাকিহ

প্রকাশক: (আন-নাশির আল-মুতামায়্যিজ - রিয়াদ), (দারুন নাসিহা - মদিনা মুনাওয়ারা)

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৪৪ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ সফর ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

الحمد لله، والصلاة والسلام على خير خلْق الله، نبينا محمّد وعلى آله وصحبه ومن والاه .. وبعد: فهذه هي الطبعة الثانية من كتابي: "المَدْخَل في تاريخ السُّنَّة"، بعد أن قاربتْ طبعته الأولى على النفاد(1). وقد احتوتْ هذه الطبعة على جملةٍ من التصويبات والتصحيحات، مع إضافات مهمّة في بابها، وتعميق البحث في عدد من القضايا، نسأل الله عز وجل أن ينفع بها كما نفع بسابقتها، والحمد لله ربّ العالمين.

 

المؤلِّف

المدينة المنورة

--------------------------------------------

(1) وهذه هي الطبعة الثالثة بحمد الله تعالى من الكتاب، وتشتمل على صحيحات وإضافات عديدة.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সহচরবৃন্দ ও তাঁর অনুসারীদের প্রতি। অতঃপর: এটি আমার রচিত "আল-মাদখাল ফি তারিখিস সুন্নাহ" গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ, এর প্রথম মুদ্রণ নিঃশেষ হওয়ার উপক্রম হওয়ার পর এটি প্রকাশিত হলো(১)। এই সংস্করণটিতে একগুচ্ছ সংশোধনী ও পরিমার্জন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংযোজন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেইসাথে বেশ কিছু বিষয়ে গবেষণাকে আরও সুগভীর করা হয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন যেমনটি তিনি এর পূর্ববর্তী সংস্করণের মাধ্যমে করেছিলেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

লেখক

মদিনা মুনাওয়ারা

--------------------------------------------

(১) আল্লাহর প্রশংসায় এটি কিতাবটির তৃতীয় সংস্করণ এবং এটি অসংখ্য সংশোধনী ও সংযোজন সম্বলিত।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌فاتحة الكتاب

الحمد لله ربّ العالمين، وأُصَلّي وأُسَلّم على المبعوث رحمة للعالمين، سيّدنا ونبيّنا محمّد وعلى آله وصحابته الطيبين الطاهرين .. وبعد:

فهذه مقدّمات مختصرة في تاريخ السُّنَّة النبوية المشرّفة، تبحث في المراحل والأدوار التي مرتْ بها السُّنَّة النبوية، منذ صدروها عن النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن وصلتْ إلينا في العصر الحديث، مع إلقاء الضوء على الجهود التي بذلها العلماء في جمْعها وتدوينها، والتعريف بأهم أنواع الكتب والمصنَّفات التي أُلِّفت في خدْمتها وصيانتها.

إن معرفة التاريخ الصحيح للسُّنَّة النبوية، سوف يُسهم في ردّ كثير من الشبهات والمطاعن، التي أثارها المستشرقون وأذنابهم، للتشكيك في السُّنَّة النبوية، وإضعاف مصداقيتها. فبمعرفة تاريخ السُّنَّة الصحيح سوف يسقطُ تاريخ السُّنَّة المشوّه، الذي حاول المستشرقون الترويج له في العصور المتأخرة.

هذا وقد حرصتُ قدر الإمكان على أن تكون مفردات الكتاب مطابقة لتوصيف مادة: "تاريخ السُّنَّة"، المقرر تدريسها على طلبة كلية الحديث الشريف، بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، ووفق معايير الجودة المعتمدة.
গ্রন্থের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও পবিত্র ও পুণ্যবান সাহাবীগণের প্রতি... অতঃপর:

এগুলো সুন্নাহর ইতিহাসের ওপর কিছু সংক্ষিপ্ত উপক্রমনিকা, যা নবি (সা.) থেকে সুন্নাহ নিঃসৃত হওয়ার সময়কাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগে আমাদের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত এর বিভিন্ন পর্যায় ও ধাপসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। সেই সাথে এটি সুন্নাহ সংগ্রহ ও সংকলন (تدوين)-এর ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টার ওপর আলোকপাত করে এবং সুন্নাহর সেবা ও সুরক্ষায় রচিত প্রধান প্রধান কিতাব ও গ্রন্থসমূহের পরিচয় করিয়ে দেয়।

সুন্নাহর সঠিক (صحيح) ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের উত্থাপিত অনেক সংশয় (الشبهات) ও অপবাদের (مطاعن) জবাব দিতে সহায়ক হবে, যা তারা সুন্নাহর বিষয়ে সন্দেহ তৈরি করতে এবং এর নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য ছড়িয়েছে। সুন্নাহর সঠিক (صحيح) ইতিহাস জানার মাধ্যমে সেই বিকৃত ইতিহাস ধসে পড়বে, যা প্রাচ্যবিদরা পরবর্তী যুগে প্রচার করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি যেন এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ‘সুন্নাহর ইতিহাস’ বিষয়ের পাঠ্যসূচি এবং অনুমোদিত মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
والله أسأل أن ينفع بالكتاب كاتبه وقارئه، والحمد لله أولاً وآخراً.

 

وكتبه/ أ. د هاني بن أحمد فقيه

أستاذ الحديث وعلومه بكلية الحديث الشريف بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা এর লেখক ও পাঠককে উপকৃত করেন; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে।

 

এটি লিখেছেন/ প্রফেসর ড. হানি বিন আহমদ ফকিহ

হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) অধ্যাপক, হাদিস অনুষদ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفَصْل الأول

مبادئ في تاريخ السُّنَّة
প্রথম পরিচ্ছেদ

সুন্নাহর ইতিহাসের মূলনীতিসমূহ
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول

التعريف بالسُّنَّة وبتاريخها

‌‌أولاً: تعريف السُّنَّة لغة واصطلاحاً:

السُّنَّة لغة هي: الطريقة والسِّيْرة والعادة، حَسَنةً كانت أو قبيحة(1).

ومنه حديث أنس بن مالك رضي الله عنه: أنَّ نفراً من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم سألوا أزواج النبي صلى الله عليه وسلم عن عَمَلِه في السرّ؟ فقال بعضهم: لا أتزوّج النساء، وقال بعضهم: لا آكل اللحم، وقال بعضهم: لا أنام على فراش، فحمد الله وأثنى عليه. فقال: «ما بال أقوامٍ قالوا كذا وكذا؟ لكنّي أصلّي وأنام، وأصوم وأفطر، وأتزوّج النساء، فمن رغب عن سنَّتي فليس منّي»(2).

قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "المراد: مَنْ ترك طريقتي، وأخذ بطريقة غيري، فليس منّي"(3).

ومنه قوله صلى الله عليه وسلم في حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: «لتتبِعُنَّ سَنَنَ من قبلكم، شبراً بشبر، وذراعاً بذراع»(4).

--------------------------------------------

(1) "تاج العروس" 35/ 230.

(2) "صحيح البخاري» (5063)، "صحيح مسلم» (1401)، واللفظ لمسلم.

(3) "فتح الباري» 9/ 105.

(4) "صحيح البخاري» (3456)، "صحيح مسلم» (2669). واللفظ للبخاري.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

সুন্নাহ (سنة) ও এর ইতিহাসের পরিচিতি

‌‌প্রথমত: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে সুন্নাহর (سنة) সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ (سنة) হলো: পথ, জীবনপদ্ধতি ও অভ্যাস; তা ভালো হোক কিংবা মন্দ(১)।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে তাঁর নিভৃত আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তাদের কেউ বললেন: আমি বিয়ে করব না; কেউ বললেন: আমি গোশত খাব না; আবার কেউ বললেন: আমি বিছানায় ঘুমাব না। এরপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন: "সেইসব লোকদের কী হলো যারা এমন এমন কথা বলেছে? অথচ আমি সালাত আদায় করি ও ঘুমাই, রোজা রাখি ও ভঙ্গ করি এবং আমি নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنة) থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়"(২)।

হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর উদ্দেশ্য হলো: যে আমার পথ ত্যাগ করল এবং অন্য কারো পথ অবলম্বন করল, সে আমার দলভুক্ত নয়"(৩)।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি (سنن) অনুসরণ করবে, প্রতি বিঘত এবং প্রতি হাত মেপে"(৪)।

--------------------------------------------

(১) "তাজুল আরুস" ৩৫/ ২৩০।

(২) "সহিহ বুখারি" (৫০৬৩), "সহিহ মুসলিম" (১৪০১), এবং শব্দাবলি মুসলিমের।

(৩) "ফাতহুল বারি" ৯/ ১০৫।

(৪) "সহিহ বুখারি" (৩৪৫৬), "সহিহ মুসলিম" (২৬৬৯)। এবং শব্দাবলি বুখারির।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
قال ابن حجر: "سَنَنَ من كان قبلكم، بفتح أوله أي: طريقهم"(1).

والسُّنَّة اصطلاحاً هي: كلّ ما أُثر عن النبي صلى الله عليه وسلم، من قَوْل أو فِعْل أو تقرير، أو صفة خِلقية أو خُلقية.

وهي بهذا المعنى مرادفةٌ للحديث النبوي الشريف، عند الأكثر(2).

 

‌‌ثانياً: تعريف "تاريخ السُّنَّة":

عَرَّفَ بعض العلماء "تاريخ السُّنَّة النبوية" بأنه: عِلْمٌ يتحدَّث عن المراحل والأطوار التي مرتْ بها السُّنَّة النبوية، من لدن صدورها عن النبي صلى الله عليه وسلم، إلى أن وصلتْ إلينا، من حفظها في الصدور، وتدوينها في الصُّحُف، وجمْعٍ لمنثورها، ونفي لما اندسّ فيها، واستنباط من عيونها، وشرْح لغامضها … ، إلى غير ذلك مما يعرفه القائمون على خدْمتها، والعاملون على نشْر رايتها(3).

* * * *

--------------------------------------------

(1) "فتح الباري» 1/ 134.

(2) وهناك تعريفات أخرى للسُّنَّة تختلف باختلاف التخصصات، فالسُّنَّة عند علماء الأصول، غيرها عند الفقهاء، غيرها عند علماء العقيدة، ينظر: "السُّنَّة قبل التدوين» ص 16.

(3) "مفتاح السُنَّة»، للخولي ص 5 - 6 بتصرف.
ইবনে হাজার বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি (سنن), এর প্রথম বর্ণের ওপর ফাতহা (যবর) যোগে, অর্থাৎ: তাদের পথ।"(১).

আর পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (أثر) যাবতীয় কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير), অথবা তাঁর শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

অধিকাংশের মতে, এই অর্থে এটি হাদিসে নববীর সমার্থক(২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: "সুন্নাহর ইতিহাস"-এর সংজ্ঞা:

কোনো কোনো আলেম "সুন্নাহর ইতিহাস"-কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: এটি এমন একটি শাস্ত্র (علم), যা সুন্নাহর অতিক্রান্ত বিভিন্ন পর্যায় ও ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর জারি হওয়া থেকে শুরু করে আমাদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত; যার মধ্যে রয়েছে অন্তরে সংরক্ষণ করা, পাণ্ডুলিপিতে সংকলন (تدوين) করা, এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করা, এতে অনুপ্রবিষ্ট জাল বিষয়গুলো দূর করা, এর মূল উৎস থেকে মাসয়ালা নির্যাস বের করা (استنباط) এবং এর জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা … , এছাড়াও আরও অন্যান্য বিষয় যা এই শাস্ত্রের সেবায় নিয়োজিত এবং এর ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট ব্যক্তিগণ অবগত আছেন(৩)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) "ফাতহুল বারী", ১/১৩৪।

(২) সুন্নাহর আরও কিছু সংজ্ঞা রয়েছে যা বিষয়ের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। উসুলশাস্ত্রবিদদের (علماء الأصول) নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞা ফকিহদের (فقهاء) থেকে ভিন্ন, আবার আক্বিদাশাস্ত্রবিদদের (علماء العقيدة) নিকটও এর সংজ্ঞা ভিন্ন। দ্রষ্টব্য: "আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদউইন", পৃষ্ঠা ১৬।

(৩) "মিফতাহুস সুন্নাহ", আল-খুলি, পৃষ্ঠা ৫-৬, পরিমার্জিত (بتصرف)।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبحث الثاني

أهميّة العلم بتاريخ السُّنَّة

تبرز أهميّة عِلْم "تاريخ السُّنَّة" من خلال التالي:

1 - إن أهميّة هذا العلم أنه فرع عن أهميّة السُّنَّة النبوية، فالسُّنَّة النبوية هي المصدر الثاني من مصادر التشريع في الإسلام، فالعلم بتاريخها وما مرَّتْ به من أطوارٍ ومراحل له أهميّة كبرى.

2 - إن هذا العلم يشرح ويوضِّح كيفية توثيق السُّنَّة النبوية، ونقلها من حين صدورها عن النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن دوّنتْ، واستقرتْ في المصنَّفات الحديثية المعروفة.

3 - إن هذا العلم يُعرّف بجهود علماء الإسلام رحمهم الله في خدمة السُّنَّة، وجمْعها وتوثيقها، والذبّ عنها.

4 - إن هذا العلم يُعرّف بأنواع المصنَّفات المؤلَّفة في السُّنَّة النبوية، من صحاح وجوامع، وسنُنَ ومسانيد، وموطآت ومستدركات، ومستخرجات ومعاجم، إلى غير ذلك، فتاريخ السُّنَّة يعرّفنا بهذه المصادر ويلقي الضوء عليها.

5 - إن العلم بتاريخ السُّنَّة وسيلة مهمة لردّ كثير من الشبهات والمطاعن، التي أثارها المستشرقون ومن تأثر بهم، حول السُّنَّة النبوية، والتشكيك في مصداقيتها. فكثير من هذه الشبهات ستسقط حالَ معرفتنا الصحيحة بتاريخ
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সুন্নাহর ইতিহাস বিষয়ক ইলমের গুরুত্ব

"সুন্নাহর ইতিহাস" বিষয়ক ইলমের গুরুত্ব নিচের বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:

১ - এই ইলমের গুরুত্ব মূলত সুন্নাহর গুরুত্বেরই একটি শাখা। কেননা সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়তের বিধান প্রণয়নের দ্বিতীয় উৎস। সুতরাং এর ইতিহাস এবং এটি যেসব পর্যায় ও স্তর পার করে এসেছে, সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২ - এই ইলম সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ (توثيق) পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহ প্রকাশের সময় থেকে শুরু করে এর সংকলন এবং পরিচিত হাদিস গ্রন্থসমূহে স্থির হওয়া পর্যন্ত কীভাবে তা স্থানান্তরিত হয়েছে, তা এই ইলম বর্ণনা করে।

৩ - এই ইলম সুন্নাহর খিদমত, তা সংগ্রহ ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ (توثيق) এবং এর হিফাজতে মুসলিম মনীষীদের (রহিমাহুমুল্লাহ) প্রচেষ্টা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়।

৪ - এই ইলম সুন্নাহর ওপর রচিত বিভিন্ন প্রকারের গ্রন্থসমূহ (المصنفات) সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। যেমন: সহিহ (صحاح), জামি (جوامع), সুনান, মুসনাদসমূহ, মুয়াত্তাসমূহ, মুস্তাদরাকসমূহ, মুস্তাকরাজসমূহ এবং মুজামসমূহ ইত্যাদি। সুন্নাহর ইতিহাস আমাদের এই উৎসগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং এগুলোর ওপর আলোকপাত করে।

৫ - সুন্নাহর ইতিহাস বিষয়ক জ্ঞান প্রাচ্যবিদ ও তাদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের উত্থাপিত নানাবিধ সংশয় ও অভিযোগ খণ্ডন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা তারা সুন্নাহর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে এবং এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরির জন্য উত্থাপন করে থাকে। সুন্নাহর ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকলে এই সংশয়গুলোর অধিকাংশই নিরসন হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
السُّنَّة وتدوينها، دون الحاجة إلى مناقشات مطوَّلة.

6 - إن هذا العلم يُعَدُّ من العلوم المبتكرة الحديثة، والعلماء المتقدمون وإن كانوا قد تكلَّموا عن تاريخ السُّنَّة وتدوينها ونشأتها، إلا أن كلامهم جاء مجملاً ومتناثراً في الكتب، وقد اعتنى هذا العلم في العصر الحديث بجمع شتات أقوالهم وتبويبه وتحريره وشرْحه، مع الزيادة عليه.

* * * *
সুন্নাহ (السنة) এবং এর সংকলন (تدوين), দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন ছাড়াই।

6 - এই ইলম বা জ্ঞান আধুনিক উদ্ভাবিত বিজ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয়। পূর্ববর্তী (متقدمون) বিদ্বানগণ যদিও সুন্নাহর ইতিহাস, এর সংকলন (تدوين) এবং এর উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তবে তাঁদের সেই আলোচনা ছিল সংক্ষিপ্ত (مجمل) এবং গ্রন্থসমূহে বিক্ষিপ্ত অবস্থায়। আধুনিক যুগে এই ইলম বা বিজ্ঞান তাঁদের সেই বিক্ষিপ্ত উক্তিগুলোকে একত্র করা, অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস, সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি আরও নতুন তথ্য সংযোজন করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

* * * *
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الثالث

أهمّ المؤلفات في "تاريخ السُّنَّة"

سبق القول: بأن المتقدمين من أهل العلم لم يفردوا "تاريخ السُّنَّة" بمؤلَّفات مستقلّة، وإن كانوا قد تناولوا كثيراً من مباحثه في كتاباتٍ متناثرة، وفي مناسباتٍ مختلفة.

وإنما بدأتْ عناية العلماء بإفراد "تاريخ السُّنَّة" بمؤلَّفات مستقلّة في عصرنا الحديث، خلال المائة عام الفائتة.

وكان دافعهم للتأليف في هذا النوع من العِلْم هو الحاجة إلى ذلك، بعدما أخذ المستشرقون ومن تأثر بهم يبثُّون كتاباتٍ مغرضة في الطعن في السُّنَّة النبوية، والتشكيك في مصداقيتها، وإثارة الشبهاتِ حولها وحول تاريخها.

فأراد علماءُ الإسلام المعاصرون أن يبينوا التاريخ الصحيح المشرق للسُنَّة النبوية، من باب ردّ الحقّ إلى نصابه.

هذه بعض الأسباب في إفراد المعاصرين لهذا النوع من التأليف، وإن كانت حركة تطور العلوم والكتابة قد أَدَّتْ دوراً في ذلك أيضاً.

ونحن نذكرُ في هذا المبحث بعض أهم ما أُلِّف في "تاريخ السُّنَّة"، دون قصد التقصي أو الاستيعاب، فمن ذلك:

1 - كتاب "مفتاح السُنَّة" أو "تاريخ فنون الحديث النبوية"، للشيخ محمد بن عبد العزيز الخولي، من علماء مصر (ت: 1349 هـ) رحمه الله تعالى.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

"সুন্নাহ (سنة)-র ইতিহাস" বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলি

ইতিপূর্বে বলা হয়েছে যে: আহলে ইলমদের মধ্যে যারা পূর্বসূরি (متقدمون), তাঁরা "সুন্নাহ (سنة)-র ইতিহাস" নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি; যদিও তাঁরা এর অনেক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত লেখনীতে এবং ভিন্ন ভিন্ন উপলক্ষে আলোচনা করেছেন।

মূলত বিগত একশ বছরের এই আধুনিক যুগে আলেমদের মধ্যে "সুন্নাহ (سنة)-র ইতিহাস" নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগের সূচনা হয়েছে।

এই শাস্ত্র নিয়ে গ্রন্থ রচনার পেছনে মূল প্রেষণা ছিল এর প্রয়োজনীয়তা; কেননা প্রাচ্যবিদ এবং তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিরা সুন্নাহ (سنة) নববীর সমালোচনা, এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখনী প্রচার শুরু করেছিল।

ফলে সমসাময়িক ইসলামি পণ্ডিতগণ সত্যকে তার সঠিক স্থানে ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে সুন্নাহ (سنة) নববীর সঠিক (صحيح) ও উজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

বর্তমান সময়ের লেখকদের এ জাতীয় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এগুলোই ছিল কিছু কারণ, যদিও বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং লিখন পদ্ধতির বিবর্তনও এতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

আমরা এই পরিচ্ছেদে "সুন্নাহ (سنة)-র ইতিহাস" বিষয়ে রচিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থের উল্লেখ করব, তবে এটি কোনো বিস্তারিত অনুসন্ধান বা পূর্ণাঙ্গ তালিকার উদ্দেশ্যে নয়। যেমন:

1 - মিসরের প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খুলি (মৃত্যু: ১৩৪৯ হিজরি) রহিমাহুল্লাহু তাআলা রচিত "মিফতাহুস সুন্নাহ" অথবা "তারিখু ফুনুনিল হাদিস আন-নাবাবিয়্যাহ" গ্রন্থটি।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولعلَّ هذا المصنَّف يُعَدُّ أول محاولة للكتابة في هذا الفنّ، وقد عرض مؤلِّفُه لتاريخ تدوين السُّنَّة النبوية، وتحدَّث عن مناهج المحدثين في مصنَّفاتهم، وطرق ترتيبهم لها. لكن فاتته كثير من المباحث والمسائل، شأن كلّ من يفتتح التصنيف في عِلْم جديد غالباً. والكتاب مطبوع.

2 - كتاب "الحديث والمحدثون" أو "عناية الأمة الإسلامية بالسُّنَّة النبوية"، للشيخ محمد محمد أبو زهو (ت: 1403 هـ) رحمه الله تعالى.

ذكر فيه جهود العلماء في خدمة الحديث الشريف، ودَرَسَ عصر الصحابة والتابعين فمن بعدهم إلى عصر التدوين، وناقش كثيراً من الشبهات والمطاعن الباطلة التي أُثيرت حول السُّنَّة المشرَّفة، وعرَّف بكثير من مصادرها الأصلية والفرعية. والكتاب مطبوع في نحو (500) صفحة.

3 - كتاب "السُّنَّة قبل التدوين"، للدكتور محمد عجاج الخطيب (ت: 1443 هـ) رحمه الله تعالى.

 

أصل هذا الكتاب: رسالة ماجستير من كلية دار العلوم بجامعة القاهرة. تحدَّث فيه مؤلِّفه عن مكانة السُّنَّة المطهرة وعلاقتها بالقرآن الكريم، ودفع عنها كثيراً من المطاعن التي وُجّهت إليها، وتحدَّث عن الوضع في الحديث وأسبابه، وعن جهود الصحابة والتابعين في مقاومته، وبيّن فضل الصحابة الكرام وعدالتهم، وحرصهم على العمل بالسُّنَّة وصيانتها، إلى غير ذلك من المباحث المهمّة التي اشتمل عليها هذا الكتاب النفيس. وكانت طبعته الأولى سنة: 1383 هـ، في (652) صفحة.

4 - كتاب "دراسات في الحديث النبوي وتاريخ تدوينه"، للدكتور محمد مصطفى الأعظمي (ت: 1439 هـ) رحمه الله تعالى.
সম্ভবত এই গ্রন্থটি এই বিদ্যায় রচনার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। এর লেখক সুন্নাহ সংকলনের (تدوين) ইতিহাস উপস্থাপন করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণের তাঁদের গ্রন্থে ব্যবহৃত কর্মপদ্ধতি ও বিন্যাস রীতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তবে এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মাসআলা বাদ পড়েছে, যেমনটি সাধারণত কোনো নতুন বিষয়ে প্রথম রচনার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। বইটি মুদ্রিত আকারে পাওয়া যায়।

২ - শেখ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু জাহু (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি) রহিমাহুল্লাহু তাআলা রচিত "আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন" অথবা "ইনায়াতুল উম্মাতিল ইসলামিয়া বিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়া" গ্রন্থটি।

এতে তিনি হাদিস শরীফের সেবায় ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা উল্লেখ করেছেন এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের যুগ থেকে শুরু করে সংকলন (تدوين) কাল পর্যন্ত পরবর্তী প্রজন্মগুলোর অবস্থা অধ্যয়ন করেছেন। তিনি সুন্নাহকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অনেক সংশয় ও ভিত্তিহীন অভিযোগ খণ্ডন করেছেন এবং এর অনেক মূল ও আনুষঙ্গিক উৎস সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। বইটি প্রায় (৫০০) পৃষ্ঠায় মুদ্রিত।

৩ - ডক্টর মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতিব (মৃত্যু: ১৪৪৩ হিজরি) রহিমাহুল্লাহু তাআলা রচিত "আস-সুন্নাহ ক্ববলাত তাদওয়ীন" গ্রন্থটি।

 

এই বইটির মূল হলো কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের একটি মাস্টার্স থিসিস। এতে লেখক পবিত্র সুন্নাহর মর্যাদা এবং পবিত্র কুরআনের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি সুন্নাহর বিরুদ্ধে পরিচালিত অনেক অভিযোগ প্রতিহত করেছেন। তিনি হাদিস জালকরণ (الوضع) এবং এর কারণসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এটি প্রতিরোধে সাহাবী ও তাবিঈগণের প্রচেষ্টা তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তিনি সম্মানিত সাহাবীগণের মর্যাদা ও তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার প্রতি তাঁদের আগ্রহ এবং তা সংরক্ষণের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। এ জাতীয় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই অমূল্য গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর প্রথম সংস্করণ ১৩৮৩ হিজরিতে, (৬৫২) পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।

৪ - ডক্টর মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আজামি (মৃত্যু: ১৪৩৯ হিজরি) রহিমাহুল্লাহু তাআলা রচিত "দিরাসাত ফিল হাদিস আন-নাবাবি ওয়া তারিখু তাদওয়িনিহি" গ্রন্থটি।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهو كتاب قيّم، يقع في مجلدين، ناقش فيه كثيراً من شُبهات المستشرقين حول السُّنَّة النبوية، وتحدَّث بإسهاب عن مسألة تدوين الحديث وكتابته.

5 - كتاب "بحوث في تاريخ السُّنَّة المشرّفة"، للدكتور أكرم ضياء العُمري حفظه الله تعالى.

وقد تطرق فيه مؤلِّفه لمباحث مختلفة في السُّنَّة النبوية، ككتابة الحديث في العهد النبوي، وفي جيل الصحابة والتابعين، وعَرَض نماذج من صحفهم التي دونوها في السُّنَّة، وعرَّف بالكثير من المصادر الحديثية التي وثّقت السُّنَّة.

وجميع هذه الكتب مطبوعة ومتداولة، والحمد لله تعالى.

* * * *
এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ যা দুই খণ্ডে সমাপ্ত, লেখক এতে সুন্নাহ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের অনেক সংশয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং হাদিস সংকলন (تدوين) ও তা লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি অত্যন্ত বিশদভাবে ব্যক্ত করেছেন।

৫ - ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারি (হাফিযাহুল্লাহু তা'আলা) রচিত "বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ" নামক গ্রন্থ।

এর লেখক এতে সুন্নাহর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন, যেমন—নবীজির যুগে এবং সাহাবী ও তাবিঈদের প্রজন্মে হাদিস লিপিবদ্ধকরণ। তিনি সুন্নাহর সেই সকল সহীফা বা পাণ্ডুলিপির (صحف) নমুনা তুলে ধরেছেন যা তাঁরা সংকলন করেছিলেন এবং সুন্নাহর প্রামাণ্যতা ও বিশুদ্ধতা সংরক্ষণকারী (وثقت) অনেক হাদিস-উৎস সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।

এই সকল গ্রন্থই বর্তমানে মুদ্রিত ও সুলভ, আলহামদুলিল্লাহ।

* * * *
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المبحث الرابع

مكانة السُّنَّة النبوية في التشريع

أفاض علماءُ الإسلام قديماً وحديثاً في الكلام على حجيَّة السُّنَّة النبوية، ومكانتها العظيمة في الإسلام، وبعضهم أفرد كتباً مستقلّة في ذلك. لذلك أجدني مضطراً إلى الإيجاز الشديد، واختصار الكلام في الموضوع، فأقول: إن علماء الأمة قاطبة قديماً وحديثاً(1) على أن السُّنَّة النبوية هي أحد المصادر الرئيسة في التشريع الإسلامي، وأنها المصدر الثاني بعد القرآن الكريم، وأنها وحي غير متلو من قِبَلِ الله عز وجل.

وقد دلَّ على حجيتها ووجوب الأخذ بها: الكتاب والسُّنَّة والإجماع.

 

* ف‌‌من نصوص الكتاب الدالة على حجية السُّنَّة النبوية:

قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النساء: 59].

وقوله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80].

وقوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7].

وقوله تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (65)} [النساء: 65].

وقوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ

--------------------------------------------

(1) إلا بعض الطوائف الشاذة.
‌‌চতুর্থ আলোচনা

শরীয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর গুরুত্ব ও মর্যাদা

প্রাচীন ও আধুনিক যুগের ইসলামি পণ্ডিতগণ সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) এবং ইসলামে এর মহান মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন। তাই আমি এই বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্তসার এবং বিষয়টির সারসংক্ষেপ তুলে ধরতে সচেষ্ট হচ্ছি। আমি বলব: প্রাচীন ও আধুনিক কালের উম্মাহর সকল আলেম(১) এই মর্মে একমত যে, সুন্নাহ হলো ইসলামি শরীয়ত প্রণয়নের অন্যতম প্রধান উৎস। এটি কুরআন মাজীদের পর দ্বিতীয় উৎস এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি অপঠিত ওহি (وحي غير متلو)।

সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) এবং তা গ্রহণ করার আবশ্যকতা কুরআন, সুন্নাহ এবং সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত।

 

* ‌‌কুরআন মাজীদের যে সকল বাণী সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) নির্দেশ করে:

আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো।} [আন-নিসা: ৫৯]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} [আন-নিসা: ৮০]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে; অতঃপর আপনি যা ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা আসবে তাদের ওপর...}

--------------------------------------------

(১) তবে কিছু বিচ্যুত (شاذة) দল ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63].

وقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} [الأنفال: 24].

 

*‌‌ ومن الأحاديث النبوية الدالة على حجّية السُّنَّة:

1 - ما رواه أبو رافع رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: «لا أَلْفَيَنّ أحدكم متكئاً على أريكته يأتيه أمرٌ مما أَمرتُ به أو نهيتُ عنه، فيقول: لا أدري، ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه»(1).

2 - ما رواه المقدام بن معدي كرب رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أنه قال: «ألا إني أُوتيتُ الكتابَ ومثلَه معه، ألا يوشكُ رجلٌ شبعانٌ على أريكته يقول عليكم بهذا القرآن، فما وجدتم فيه من حلال فأحلّوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرّموه»(2).

3 - ما رواه العِرْباض بن سارية رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: «عليكم بسنّتي وسُنَّة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسّكوا بها، وعَضُّوا عليها بالنَّواجذ»(3).

4 - ما رواه مالك في موطئه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: «تركتُ فيكم أمرين، لن تضلّوا ما تمسَّكتم بهما، كتاب الله وسُنَّة نبيه»(4).

--------------------------------------------

(1) "سنن أبي داود" (4605) و"سنن الترمذي" (2663)، وقال: "حديث حسن"، وصححه الألباني، وقال: عبد القادر الأرناؤوط وشعيب الأرناؤوط: "إسناده صحيح".

(2) "سنن أبي داود" (4604)، وصححه الألباني وشعيب الأرناؤوط وعبدالقادر الأرناؤوط وغيرهم.

(3) "سنن أبي داود" (4607)، "سنن الترمذي" (2676)، وقال: "حديث حسن صحيح"، وصححه الألباني وشعيب الأرناؤوط وعبد القادر الأرناؤوط وغيرهم.

(4) رواه مالك في "الموطأ" 2/ 899 بلاغاً، وله شاهد من حديث ابن عباس عند الحاكم في "المستدرك" 1/ 93 بسند حسن، فيتقوى به.
ব্যথাযুক্ত শাস্তি।} [আন-নূর: ৬৩]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহবানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে।} [আল-আনফাল: ২৪]।

 

*‌‌ সুন্নাহর প্রামাণিকতার (حجية) দলীলস্বরূপ কতিপয় নববী হাদিস:

১ - আবু রাফে (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে এবং তার নিকট আমার আদেশ বা নিষেধ সম্বলিত কোনো বিষয় আসলে সে বলে: ‘আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করব’»(১)।

২ - মিকদাম বিন মাদি কারিব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «জেনে রেখো! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো তৃপ্ত ব্যক্তি তার আসনে হেলান দিয়ে বলবে, ‘তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাই হালাল মনে করবে এবং এতে যা হারাম পাবে কেবল তাই হারাম জানবে’»(২)।

৩ - ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক; তোমরা তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো»(৩)।

৪ - ইমাম মালেক তার মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় ছেড়ে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে ধরে থাকবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না; আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ»(৪)।

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ (৪৬০৫) এবং সুনান তিরমিযী (২৬৬৩); তিনি বলেছেন: "হাসান (حسن) হাদিস", আলবানী একে সহিহ (صححه) বলেছেন, এবং আব্দুল কাদির আরনাউত ও শুয়াইব আরনাউত বলেছেন: "এর সনদ সহিহ (إسناده صحيح)"।

(২) সুনান আবু দাউদ (৪৬০৪); আলবানী, শুয়াইব আরনাউত, আব্দুল কাদির আরনাউত এবং অন্যান্যরা একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(৩) সুনান আবু দাউদ (৪৬০৭), সুনান তিরমিযী (২৬৭৬); তিনি বলেছেন: "হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস", এবং আলবানী, শুয়াইব আরনাউত, আব্দুল কাদির আরনাউত ও অন্যান্যরা একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(৪) মালেক এটি মুয়াত্তা ২/ ৮৯৯ গ্রন্থে সনদবিহীন (بلاغاً) বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম এর আল-মুস্তাদরাক ১/ ৯৩ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি হাসান (حسن) সনদে এর সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে, যার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
*‌‌ ومن نصوص الإجماع على حجيَّة السُّنَّة النبوية:

1 - قول الإمام الشافعي رحمه الله (ت 204 هـ): "أجمع المسلمون على أن من استبانتْ له سُنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لم يكن له أن يَدَعَها لقول أحدٍ من الناس"(1).

2 - وقال الإمام ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله: "السُّنَّة إذا ثبتتْ فإن المسلمين كلّهم متفقون على وجوب اتّباعها"(2).

3 - ويقول الإمام جلال الدين السيوطي (ت: 911 هـ) رحمه الله: "من أنكر كون حديث النبي صلى الله عليه وسلم قولاً كان أو فعلاً، بشرطه المعروف في الأصول حجّة، كفر وخرج عن دائرة الإسلام، وحُشِر مع اليهود والنصارى، أو مع من شاء الله من فِرَق الكفرة"(3).

4 - ويقول الإمام الشوكاني (ت: 1250 هـ) رحمه الله: "إن ثبوت حجيَّة السُّنَّة المُطهَّرة واستقلالها بتشريع الأحكام، ضرورةٌ دينية، ولا يخالف في ذلك إلا من لا حظَّ له في دين الإسلام"(4).

* * * *

--------------------------------------------

(1) "إعلام الموقعين" 2/ 11.

(2) "مجموع الفتاوى" 19/ 85 - 86.

(3) مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة للسيوطي ص 5.

(4) "إرشاد الفحول" 1/ 97.
সুন্নাহর প্রামাণিকতার (حجيَّة) ওপর সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) কিছু পাঠ নিম্নরূপ:

1 - ইমাম শাফিঈ (রহ.) (মৃ. ২০৪ হি.)-এর উক্তি: "মুসলিমরা এ ব্যাপারে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, যার নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নাহ (سنة) সুস্পষ্ট হয়েছে, অন্য কারো কথার কারণে তা বর্জন করা তার জন্য বৈধ নয়।"(1)

2 - ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) (মৃ. ৭২৮ হি.) বলেন: "সুন্নাহ (سنة) যখন প্রমাণিত (ثبتت) হয়, তখন সকল মুসলিম এর অনুসরণ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ব্যাপারে একমত (متفقون)।"(2)

3 - ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) (মৃ. ৯১১ হি.) বলেন: "যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস—তা কথা (قول) হোক বা কাজ (فعل)—উসুলে (أصول) বর্ণিত সুপরিচিত শর্তানুসারে দলিল (حجّة) হওয়াকে অস্বীকার করে, সে কাফির সাব্যস্ত হবে এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে; আর তার হাশর ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে হবে, অথবা কুফরি দলগুলোর মধ্যে আল্লাহ যার সাথে চান তার সাথে হবে।"(3)

4 - ইমাম শাওকানী (রহ.) (মৃ. ১২৫০ হি.) বলেন: "পবিত্র সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجيَّة) সাব্যস্ত হওয়া এবং বিধান (أحكام) প্রণয়নে এর স্বয়ংসম্পূর্ণতা একটি ধর্মীয় আবশ্যকতা (ضرورة دينية); ইসলাম ধর্মে যার বিন্দুমাত্র অংশ নেই, সে ব্যতীত কেউ এর বিরোধিতা করে না।"(4)

* * * *

--------------------------------------------

(1) "ইলামুল মুয়াক্কিঈন" ২/ ১১।

(2) "মাজমুউল ফাতাওয়া" ১৯/ ৮৫ - ৮৬।

(3) সুয়ূতী রচিত মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ৫।

(4) "ইরশাদুল ফুহুল" ১/ ৯৭।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الخامس

أقسام السُّنَّة النبوية وعلاقتها بالقرآن الكريم

‌‌1 - أقسام السُّنَّة النبوية:

ذهب جمهور العلماء إلى تقسيم السُّنَّة النبوية من حيث ذاتها(1) إلى ثلاثة أقسام(2)، وهي:

 

‌‌(أ) السُّنَّة القولية: وهي: كلّ ما صَدَرَ عن النبي صلى الله عليه وسلم من أقوال في مختلف الأغراض والمناسبات، كقوله صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيّات» (متفق عليه)، وقوله: «لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ» (متفق عليه)، وقوله: «الدِّيْن النصيحة» (رواه مسلم) .. إلى غير ذلك.

‌‌(ب) السُّنَّة الفعلية: وهي: كلّ ما نقله الصحابة رضوان الله عليهم من أفعاله صلى الله عليه وسلم على سبيل التشريع، ككيفية صلاته صلى الله عليه وسلم، وكيفية وضوئه، وكيفية حَجّه وعمرته، وقضائه بالشاهد مع اليمين، ونحو ذلك.

--------------------------------------------

(1) قلنا من حيث ذاتها حتى نخرج تقسيمات أخرى، كأقسام السُّنَّة من حيث ثبوتها، وأقسامها من حيث دلالاتها.

(2) "خبر الواحد وحجّيته" للشنقيطي ص 54.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ

সুন্নাহর প্রকারভেদ এবং পবিত্র কুরআনের সাথে এর সম্পর্ক

১ - সুন্নাহর প্রকারভেদ:

অধিকাংশ আলেম সুন্নাহর সত্তার বিচারে(১) একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন(২), আর সেগুলো হলো:

 

(ক) বাচনিক সুন্নাহ (السنة القولية): এটি হলো বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপটে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল কথা; যেমন তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল» (একমত হওয়া (متفق عليه)), এবং তাঁর বাণী: «তোমাদের কেউ অপবিত্র হলে ওযু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না» (একমত হওয়া (متفق عليه)), এবং তাঁর বাণী: «দীন হলো কল্যাণকামিতা» (মুসলিম বর্ণনা করেছেন) .. ইত্যাদি।

(খ) কর্মগত সুন্নাহ (السنة الفعلية): এটি হলো বিধান হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল কার্যাবলি যা সাহাবীগণ (রা.) বর্ণনা করেছেন; যেমন তাঁর সালাত আদায়ের পদ্ধতি, তাঁর ওযুর পদ্ধতি, তাঁর হজ ও ওমরার পদ্ধতি, কসমসহ একজন সাক্ষীর ভিত্তিতে তাঁর ফয়সালা প্রদান এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

--------------------------------------------

(১) আমরা ‘সত্তার বিচারে’ বলেছি যাতে অন্যান্য প্রকারভেদ—যেমন সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) বিচারে সুন্নাহর প্রকারভেদ এবং অর্থ নির্দেশকতার (دلالة) বিচারে সুন্নাহর প্রকারভেদগুলো আলাদা করা যায়।

(২) শানকিতী রচিত "খবারুল ওয়াহিদ ওয়া হুজ্জিয়াতুহু", পৃষ্ঠা ৫৪।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌(ج) السُّنَّة التقريرية: وهي: كلّ الأقوال والأفعال التي صَدَرَتْ من الناس أمام النبي صلى الله عليه وسلم أو بلغته فأقرَّها، أو سكتَ عنها، أو أظهر استحسانه لها، كإقراره صلى الله عليه وسلم لبعض الصحابة أَكْل الضبّ أمامه، دون أن ينكر عليهم، (متفق عليه)، وإقراره صلى الله عليه وسلم لَعِب الحبشة بالحِراب في المسجد (متفق عليه)، وإقراره السيدة عائشة رضي الله عنها اللَّعب بعرائس البنات (متفق عليه)، إلى غير ذلك.

‌‌2 - علاقة السُّنَّة النبوية بالقرآن الكريم:

قَسَّمَ العلماء علاقة السُّنَّة النبوية بالقرآن الكريم إلى أقسام ثلاثة(1):

القسم الأول: السُّنَّة الموافقة والمؤكدة لما جاء في القرآن الكريم، وذلك كوجوب الصلاة والصيام والزكاة والحج، وتحريم قتل النفس بغير حق، وعقوق الوالدين وشرب الخمر، فكلّ هذا ثابت بالكتاب وأكدته السُنَّة النبوية.

القسم الثاني: السُّنَّة المبيّنة والمفسّرة والمفصّلة لما أُجمل في القرآن الكريم، كالأحاديث الواردة في بيان كيفية صلاته صلى الله عليه وسلم، والأحاديث الواردة في كيفية حَجّه وعمرته صلى الله عليه وسلم. فالله عز وجل أمرنا بالصلاة وأمرنا بالحج في القرآن الكريم، لكنه ترك بيان كيفية ذلك وأحكامه التفصيلية إلى السُّنَّة النبوية.

ويدخل في ذلك تقييد المطلق في القرآن الكريم، كقوله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38]، حيث قيّدتْ السُّنَّة القطع من عند مفصل الكفّ.

كذلك يدخل فيه تخصيص العام في القرآن الكريم، كقوله تعالى: {حُرِّمَتْ

--------------------------------------------

(1) "خبر الواحد وحجيته" للشنقيطي ص 63.
‌‌(গ) মৌন সম্মতিসূচক সুন্নাহ (السنة التقريرية): এটি হলো: মানুষের পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে প্রকাশ পাওয়া এমন সকল কথা ও কাজ যা তিনি সমর্থন করেছেন, অথবা সে বিষয়ে নীরব থেকেছেন, অথবা সেটির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। যেমন—কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই তাঁর সামনে কোনো কোনো সাহাবীর গুঁইসাপ খাওয়ার প্রতি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌন সমর্থন (সর্বসম্মত (متفق عليه)), মসজিদে হাবশীদের বর্শা নিয়ে খেলার প্রতি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌন সমর্থন (সর্বসম্মত (متفق عليه)), এবং সাইয়িদা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পুতুল নিয়ে খেলার প্রতি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌন সমর্থন (সর্বসম্মত (متفق عليه)), ইত্যাদি।

‌‌২ - পবিত্র কুরআনের সাথে সুন্নাহ নববীর সম্পর্ক:

আলেমগণ পবিত্র কুরআনের সাথে সুন্নাহ নববীর সম্পর্ককে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন(১):

প্রথম ভাগ: সুন্নাহ যখন পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের সাথে একমত পোষণকারী এবং সেটির সমর্থক হয়। যেমন—সালাত, সিয়াম, জাকাত ও হজের আবশ্যকতা এবং অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া ও মদ পান হারাম হওয়া। এ সকল বিষয় কিতাব (কুরআন) দ্বারা সাব্যস্ত এবং সুন্নাহ নববী তা জোরালোভাবে সমর্থন করেছে।

দ্বিতীয় ভাগ: সুন্নাহ যখন পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যাকারী ও বিস্তারিত বর্ণনাকারী হয়। যেমন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি বর্ণনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ ও উমরা পালনের পদ্ধতি বর্ণনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা আমাদের পবিত্র কুরআনে সালাত ও হজের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সেগুলোর পদ্ধতি ও বিস্তারিত বিধিবিধান বর্ণনার বিষয়টি সুন্নাহ নববীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

পবিত্র কুরআনের নিঃশর্ত বিধানকে শর্তযুক্ত করা (تقييد المطلق) এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {চোর এবং চোরনি, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও} [আল-মায়িদাহ: ৩৮], যেখানে সুন্নাহ হাতের কবজি পর্যন্ত কাটার বিষয়টি নির্ধারণ করে বিধানটিকে শর্তযুক্ত (مقيد) করেছে।

অনুরূপভাবে পবিত্র কুরআনের ব্যাপক বিধানকে বিশেষিত করা (تخصيص العام) এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হারাম করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) শানকিতি রচিত "খবরুল ওয়াহিদ ওয়া হুজ্যিয়াতুহু", পৃষ্ঠা ৬৩।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} [المائدة: 3]، حيث خصَّصتْ السُّنَّة ذلك بحِلّ ميتة السمك والجراد في قوله صلى الله عليه وسلم: «أُحِلَّتْ لنا ميتتان، ودَمَان. فأما الميتتان: فالحوتُ والجرادُ، وأما الدَّمان: فالكبد والطِحَال»(1).

القسم الثالث: السُّنَّة الاستقلالية، أو الزائدة على ما في القرآن، كتحريم أكل لحوم الحُمُر الأهلية، وتحريم أكل كلّ ذي ناب من السِّبَاع، وكلّ ذي مِخْلب من الطير، وتحريم الجمع بين المرأة وعمَّتها، وبين المرأة وخالتها في الزواج، وتحريم لبس الذهب والحرير على الرجال، ونحو ذلك، فهذه أحكامٌ سكتَ عنها القرآن الكريم، وبيَّنتها السُّنَّة النبوية.

* * * *

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في "المسند" (5723) وغيره، وحسنه شعيب الأرناؤوط، وصححه الألباني وأحمد شاكر بمجموع طرقه وشواهده.
{তোমাদের জন্য মৃত (জন্তু) হারাম করা হয়েছে} [আল-মায়িদাহ: ৩], যেখানে সুন্নাহ মাছ ও পঙ্গপালের মৃতদেহ হালাল হওয়ার মাধ্যমে এই বিধানকে বিশেষায়িত করেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী অনুযায়ী: «আমাদের জন্য দুটি মৃতদেহ এবং দুটি রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃতদেহ দুটি হলো মাছ ও পঙ্গপাল; আর রক্ত দুটি হলো কলিজা ও প্লীহা»(১).

তৃতীয় প্রকার: স্বতন্ত্র সুন্নাহ (السنة الاستقلالية), যা কুরআনে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত। যেমন—গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণ হারাম করা, শিকারি দাঁতবিশিষ্ট প্রতিটি হিংস্র পশু এবং নখরবিশিষ্ট প্রতিটি পাখি ভক্ষণ হারাম করা, বিবাহে কোনো নারীকে তার ফুফু কিংবা খালার সাথে একত্রে রাখা হারাম করা, পুরুষদের জন্য সোনা ও রেশম পরিধান হারাম করা ইত্যাদি। এগুলো এমন সব বিধান যে বিষয়ে পবিত্র কুরআন নীরব ছিল এবং সুন্নাহ তা বর্ণনা করেছে।

* * * *

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ তাঁর মুসনাদ (৫৭২৩) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। শুয়াইব আল-আরনাউত একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং আলবানী ও আহমাদ শাকির এর সকল সূত্র (طرق) এবং সাক্ষ্যমূলক বর্ণনার (شواهد) সমষ্টির ভিত্তিতে একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفَصْل الثاني

السُّنَّة في العهد النبويِّ وعهدِ الخلفاء الراشدين
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

নববী যুগ ও খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে সুন্নাহ
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الأول

هَدي النبي صلى الله عليه وسلم وأساليبه في التعليم
(1)

لقد كان نبينا محمد صلى الله عليه وسلم أعظم معلّم للبشرية، وقد أثبت القرآن الكريم له هذه الصفة الكريمة في قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2)} [الجمعة: 2].

وجاء في حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: «إن الله لم يبعثني معنتاً ولا متعنتاً(2)، ولكن بعثني معلّماً ميسراً»(3).

وكان النبي صلى الله عليه وسلم كثيراً ما يرغّب أصحابه في العلم، ويحضّهم عليه، كما صَحَّ في أحاديث كثيرة منها:

قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة: إلا من صدقة جارية، أو عِلْم يُنتفع به، أو ولد صالح يدعو له»(4).

وقوله صلى الله عليه وسلم: «من سلَكَ طريقاً يلتمس فيه علماً، سَهَّلَ الله له به طريقاً إلى الجنّة»(5).

--------------------------------------------

(1) ينظر: "أصول الحديث" لمحمد عجاج الخطيب ص 53.

(2) أي لا أشقّ على الناس ولا أطلب العسر لهم.

(3) "صحيح مسلم» (1478).

(4) "صحيح مسلم» (1631).

(5) "صحيح مسلم» (2699).
‌প্রথম পরিচ্ছেদ

শিক্ষা দানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ও তাঁর পদ্ধতিসমূহ
(১)

নিশ্চয়ই আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। পবিত্র কুরআন তাঁর এই মহান বৈশিষ্ট্যটি আল্লাহর এই বাণীতে সাব্যস্ত করেছে: {তিনিই উম্মীদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।} [আল-জুমুআহ: ২]।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে কষ্টদাতা বা কঠোরতা প্রদর্শনকারী হিসেবে পাঠাননি, বরং তিনি আমাকে সহজকারী শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছেন»(২)।(৩)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়শই তাঁর সাহাবীদের ইলমের প্রতি আগ্রহী করে তুলতেন এবং এর জন্য অনুপ্রাণিত করতেন, যেমনটি অনেক হাদিসে সঠিক প্রমাণিত (صح) হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি মাধ্যম ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়াহ, অথবা এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে»(৪)।

এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন»(৫)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতিব রচিত "উসুলুল হাদিস", পৃষ্ঠা ৫৩।

(২) অর্থাৎ আমি মানুষের ওপর কঠোরতা করি না এবং তাদের জন্য কাঠিন্য কামনা করি না।

(৩) সহিহ মুসলিম (১৪৭৮)।

(৪) সহিহ মুসলিম (১৬৩১)।

(৫) সহিহ মুসলিম (২৬৯৯)।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقوله صلى الله عليه وسلم: «فَضْلُ العالمِ على العابد كفضلي على أدناكم، وإن الله وملائكته وأهلَ السموات والأرضين حتى النملةَ في جحرها، وحتى الحوتَ، ليصلّون على معلّم الناس الخيرَ»(1)، إلى غير ذلك من النصوص الواردة في الباب.

وقد كان هَديُ النبي صلى الله عليه وسلم في التعليم أكملَ الهدي وأعظمه وأجلّه، وكان له صلى الله عليه وسلم أساليب كثيرة ومتنوعة في التعليم. فكان يختار منها أحسنها وأفضلها وأوقعها في نفس المخاطب، وأقربها إلى فهمه وعقله وإدراكه.

وإنه لمن الصعوبة بمكان تقصّي هذه الأساليب جميعاً، أو محاولةاستيعابها، لذلك سنكتفي بذكر بعضها، وحسب ك من القلادة ما أحاط بالعُنُق. فمن أساليبه صلى الله عليه وسلم في التعليم:

 

‌‌1 - التعليم بالقدوة الطيِّبة والأسوة الحسنة:

وهذه كانت أجلّ أساليبه صلى الله عليه وسلم في التعليم والتبليغ، فكان صلى الله عليه وسلم لا يأمر بأمر إلا كان أول من يأخذ به، ولا ينهى عن شيء إلا كان أول من ينتهي عنه، حتى إن السيدة عائشة رضي الله عنها وصفتْ خُلُقُه صلى الله عليه وسلم، فقالتْ: «إن خُلُقَ نبي الله صلى الله عليه وسلم كان القرآن»(2).

ولذلك جعله الله عز وجل أسوة حسنة لعباده المؤمنين، وذلك في قول الله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الْأَحْزَابِ: 21]. ولا ريب أن التعليم بالقدوة الحسنة أوقعُ في النفس، وأبلغُ في التأثير وأدعى إلى التأسي.

--------------------------------------------

(1) "سنن الترمذي" (2685)، وقال: حسن صحيح غريب، وصححه الألباني وعبد القادر الأرناؤوط وغيرهما.

(2) "صحيح مسلم» (746).
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «একজন ইবাদতকারীর ওপর একজন আলেমের মর্যাদা তোমাদের মধ্যে সাধারণ স্তরের ব্যক্তির ওপর আমার মর্যাদার সমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, আসমান ও যমীনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং মাছ পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির জন্য কল্যাণ প্রার্থনা (দোয়া) করে, যে মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেয়»(১), এই অধ্যায়ে বর্ণিত এ জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা ও দলীলাদি।

শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ছিল সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ, মহান ও শ্রেষ্ঠ। শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক এবং বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি ছিল। তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে সুন্দর, শ্রেষ্ঠ এবং যা সম্বোধিত ব্যক্তির হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তার অনুধাবন, জ্ঞান ও উপলব্ধির নিকটতর হয়, তা-ই নির্বাচন করতেন।

এই সকল পদ্ধতির পূর্ণ অনুসন্ধান করা বা সবটুকু আয়ত্ত করার চেষ্টা করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। তাই আমরা এর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব; আর গলার হারের জন্য ততটুকুই যথেষ্ট যা গলাকে পরিবেষ্টন করে থাকে। শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখযোগ্য কিছু পদ্ধতি হলো:

 

‌‌১ - উত্তম আদর্শ ও সুন্দর অনুকরণের মাধ্যমে শিক্ষা দান:

এটি ছিল তাবলীঘ ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কাজের আদেশ করলে নিজে সবার আগে তা পালন করতেন এবং কোনো বিষয়ে নিষেধ করলে নিজেই তা থেকে সবার আগে বিরত থাকতেন। এমনকি সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র ছিল আল-কুরআন»(২)।

এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য উত্তম আদর্শ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহযাব: ২১]। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উত্তম আদর্শের মাধ্যমে শিক্ষা দান মনে অধিকতর রেখাপাত করে, প্রভাব বিস্তারে অনেক বেশি কার্যকর এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিক অনুপ্রেরণাদায়ক।

--------------------------------------------

(১) "সুনান তিরমিযী" (২৬৮৫), এবং তিনি বলেছেন: হাসান (حسن), সহিহ (صحيح), গরিব (غريب)। শায়খ আলবানী ও আব্দুল কাদির আল-আরনাউত এবং অন্যান্যরা একে সহিহ (صححه) বলে আখ্যায়িত করেছেন।

(২) "সহিহ মুসলিম" (৭৪৬)।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌2 - مراعاة سُنَّة التدرج:

فقد كان صلى الله عليه وسلم يقدّم في التعليم الأهمّ على المهم، والأكبر على الأصغر، والأصول على الفروع، والواجبات على السُّنَن.

ومن أمثلة ذلك: ما ورد في الصحيحين، عن ابن عباس رضي الله عنهما، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لمَّا بعثَ معاذاً إلى اليمن، قال: «إنك تقدُم على قوم أهل كتاب، فليكن أول ما تدعوهم إليه: عبادة الله عز وجل، فإذا عرفوا الله، فأخبرهم أن الله فرض عليهم خمس صلوات في يومهم وليلتهم، فإذا فعلوا، فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم زكاة، تُؤخذ من أغنيائهم فتردّ على فقرائهم، فإذا أطاعوا بها، فخذ منهم، وتوقّ كرائم أموالهم»(1).

وما من شك أن مطالبة المسلم الجديد بجميع الشرائع مرة واحدة، قد توجب نفرته، وإلقاء جميع العلوم على المتعلم دفعة واحدة، قد تفضي إلى تضييعه العلم كلّه، فلا بد من مراعاة سُنَّة التدرج.

وقد جاء في صحيح البخاري تعليقاً على قول الله تعالى: {كُونُوا رَبَّانِيِّينَ} [آل عمران: 79]: "يقال: الربّاني: الذي يربّي الناس بصغار العلم قبل كباره"(2). قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "والمراد بصغار العلم ما وَضَحَ من مسائله، وبكباره ما دقّ منها"(3).

 

‌‌3 - اختيار الأوقات المناسبة مع القصْد والاعتدال:

ومن أمثلة ذلك: ما ثبت في الصحيحين، عن أبي وائل شقيق بن سلمة،

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري» (7372)، "صحيح مسلم» (31)، واللفظ لمسلم.

(2) "صحيح البخاري"، كتاب العلم، باب العلم قبل القول والعمل 1/ 25.

(3) "فتح الباري» 1/ 162.
২ - পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির (سنة التدرج) অনুসরণ:

নিশ্চয়ই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে, অপেক্ষাকৃত ছোট বিষয়ের ওপর বড় বিষয়কে, শাখা-প্রশাখার (فروع) ওপর মূলনীতিকে (أصول) এবং সুন্নাতসমূহের (سنن) ওপর ওয়াজিবসমূহকে (واجبات) প্রাধান্য দিতেন।

এর উদাহরণ হলো যা সহীহাইন গ্রন্থে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআযকে ইয়েমেনে পাঠালেন, তখন বললেন: «নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয়: মহান আল্লাহর ইবাদত। যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ (فرض) করেছেন। যখন তারা তা পালন করবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর জাকাত ফরজ (فرض) করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে। যখন তারা এতে আনুগত্য করবে, তখন তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ করবে এবং তাদের উৎকৃষ্ট মানের ধন-সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে»(১)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন নতুন মুসলিমকে একবারে সমস্ত শরয়ি বিধান পালনের দাবি জানালে তা তার মধ্যে অনীহা সৃষ্টি করতে পারে। তদ্রূপ শিক্ষার্থীর ওপর সমস্ত জ্ঞান একসাথে ঢেলে দিলে তা তার পুরো জ্ঞানকেই নষ্ট করে দেওয়ার কারণ হতে পারে। অতএব, পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির (سنة التدرج) অনুসরণ অপরিহার্য।

সহীহ বুখারিতে আল্লাহ তাআলার বাণী—{তোমরা রব্বানী হও} [আল-ইমরান: ৭৯]—এর ব্যাখ্যায় এসেছে: "বলা হয়ে থাকে: রব্বানী সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষকে বড় বড় জটিল বিষয়ের আগে ছোট ছোট সহজ বিষয়গুলোর মাধ্যমে জ্ঞান দান করে গড়ে তোলেন"(২)। হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেছেন: "জ্ঞানের ছোট ছোট বিষয় বলতে যা সুস্পষ্ট তা বোঝানো হয়েছে, আর বড় বড় বিষয় বলতে সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়সমূহকে বোঝানো হয়েছে"(৩)।

 

‌‌৩ - পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্য রক্ষার সাথে সাথে উপযুক্ত সময় নির্বাচন:

এর উদাহরণ হলো যা সহীহাইন গ্রন্থে আবু ওয়াইল শাকীক ইবনে সালামা থেকে প্রমাণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারি (৭৩৭২), সহীহ মুসলিম (৩১), এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

(২) সহীহ বুখারি, ইলম অধ্যায়, কথা ও কাজের আগে ইলম অর্জন পরিচ্ছেদ ১/২৫।

(৩) ফাতহুল বারী ১/১৬২।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال: كان عبد الله يعني ابن مسعود يذكّر الناس في كلّ خميس، فقال له رجلٌ: يا أبا عبد الرحمن لوددتُ أنك ذكّرتنا كلّ يوم؟ قال: أما إنه يمنعني من ذلك أني أكره أن أُمِلَّكم، وإني أتخوَّلكم بالموعظة، كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يتخوَّلنا بها، مخافة السآمة(1) علينا"(2).

قال النووي رحمه الله: "في هذا الحديث الاقتصاد في الموعظة، لئلا تَمَلَّها القلوبُ، فيفوتُ مقصودها"(3).

ويلحق بالموعظة غيرها من العبادات؛ كصلاة النوافل، وتعلّم العلم، فينبغي الاقتصاد فيها وترك التطويل، واختيار الوقت المناسب.

 

‌‌4 - مراعاة الفروق الفردية بين المتعلمين:

فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يخاطب كلّ إنسان بما يناسب عقله، وعلى مقدار ما يستوعبه فهمه، حتى لا تَشْتَبه عليه الأمور، فيذهب في معناها إلى غير ما أُريد بها.

وقد عقد الإمام البخاري رحمه الله في صحيحه لهذا المعنى باباً عظيماً، فقال: "باب من خَصَّ بالعلم قوماً دون قوم، كراهية أن لا يفهموا"، ثم أورد تحته حديث أنس بن مالك رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم، ومعاذ رديفه على الرَّحل، قال: «يا معاذ بن جبل»، قال: لبيكَ يا رسول الله وسعديك، قال: «يا معاذ»، قال: لبيك يا رسول الله وسعديك ثلاثاً، قال: «ما من أحدٍ يشهدُ أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، صِدْقَاً من قلبه، إلا حرَّمه الله على

--------------------------------------------

(1) السآمة بالمد: الملل والضجر والنفور.

(2) "صحيح البخاري» (70)، "صحيح مسلم» (2821)، واللفظ للبخاري.

(3) "شرح النووي على صحيح مسلم» 17/ 164.
তিনি (রাবী) বললেন: আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ প্রতি বৃহস্পতিবার মানুষকে নসিহত করতেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: হে আবু আবদুর রহমান, আমার আকাঙ্ক্ষা যে আপনি যদি আমাদের প্রতিদিন নসিহত করতেন! তিনি বললেন: আমাকে এটি করা থেকে যা বিরত রাখে তা হলো, আমি তোমাদের বিরক্ত করতে অপছন্দ করি। আর আমি নসিহত করার ক্ষেত্রে তোমাদের বিরতির খেয়াল রাখি (মাঝেমধ্যে করি), ঠিক যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিরক্তি আসার ভয়ে আমাদের প্রতি সময়ের খেয়াল রাখতেন(১)"(২).

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই হাদিসে নসিহতের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের কথা বলা হয়েছে, যাতে অন্তরসমূহ বিরক্ত না হয়, ফলে এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়"(৩).

নসিহতের সাথে অন্যান্য ইবাদতও সম্পৃক্ত; যেমন নফল সালাত এবং ইলম অর্জন। সুতরাং এগুলোর ক্ষেত্রেও পরিমিতিবোধ বজায় রাখা, দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা এবং উপযুক্ত সময় নির্বাচন করা উচিত।

 

‌‌৪ - শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মানুষের সাথে তার বুদ্ধিবৃত্তি অনুযায়ী এবং তার অনুধাবন ক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী কথা বলতেন, যাতে বিষয়গুলো তার কাছে অস্পষ্ট না হয়ে যায় এবং সে এর অর্থ এমন কিছু না বুঝে যা উদ্দেশ্য ছিল না।

ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই বিষয়ে একটি মহান অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "অধ্যায়: যারা বুঝতে পারবে না এমন অপছন্দনীয়তায় কোনো এক সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ইলম প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট করা।" এরপর তিনি এর অধীনে আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারিতে বসা ছিলেন এবং মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন: «হে মুয়াজ ইবনে জাবাল», তিনি উত্তর দিলেন: 'লাব্বাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া সাদাইক' (আমি আপনার দরবারে উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল এবং আমি আপনার আজ্ঞাবহ), তিনি বললেন: «হে মুয়াজ», তিনি উত্তর দিলেন: 'লাব্বাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া সাদাইক' — এভাবে তিনবার হলো। তিনি বললেন: «যে ব্যক্তিই অন্তরের সত্যতা থেকে সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ অবশ্যই তার ওপর...»

--------------------------------------------

(১) 'আস-সাআমা' দীর্ঘ স্বরযোগে: বিরক্তি, ক্লান্তি এবং বিমুখতা।

(২) সহিহ বুখারি (৭০), সহিহ মুসলিম (২৮২১), এবং শব্দবিন্যাস বুখারির।

(৩) শরহু নববী আলা সহিহ মুসলিম ১৭/১৬৪।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
النار»، قال يا رسول الله: أفلا أخبر به الناس فيستبشروا؟ قال: «إذاً يتكلوا»، فأخبر بها معاذٌ عند موته تأثماً(1).

قال العيني رحمه الله وهو يعدد فوائد الحديث: "فيه أنه يجبُ أن يُخَصَّ بالعلم قومٌ فيهم الضبط وصحة الفهم، ولا يبذل المعنى اللطيف لمن لا يستأهله من الطلبة، ومن يخاف عليه الترخص والاتكال، لتقصير فهمه"(2).

 

‌‌5 - التعليم بأسلوب الحوار والسؤال:

وهذا له نظائر في السُّنَّة، منها: ما ثبت في صحيح مسلم، عن أبي هريرة رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: «أتدرون ما المفْلس؟» قالوا: المفْلس فينا من لا درهم له ولا متاع، فقال: «إن المفْلس من أمتي يأتي يوم القيامة بصلاة، وصيام، وزكاة، ويأتي قد شَتَمَ هذا، وقَذَفَ هذا، وأَكَلَ مال هذا، وسَفَكَ دَمَ هذا، وضَرَبَ هذا، فيُعطى هذا من حسناته، وهذا من حسناته، فإن فنيتْ حسناته قبل أن يُقضى ما عليه، أُخذ من خطاياهم فطُرِحَتْ عليه، ثم طُرِحَ في النار»(3).

وما من شك أن أسلوب الحوار والسؤال في التعليم يثيرُ انتباه السامعين، ويشوّقُ نفوسهم، ويحضّهم على إعمال الفكر والعقل.

 

‌‌6 - التعليم بالتشبيه وضَرْب الأمثال:

ولهذا الأسلوب نظائر كثيرة في السُّنَّة المطهرة(4)، منها: ما ثبت في الصحيحين، عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: «مثلُ

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري» (128)، "صحيح مسلم» (53).

(2) "عمدة القاري" للعيني 2/ 208.

(3) "صحيح مسلم» (2581).

(4) حتى إن من أهل العلم من أفرد الأمثال النبوية في مصنَّفات مستقلة، كأبي الحسن علي بن سعيد العسكري (ت: 310 هـ)، والحسن بن عبد الرحمن الرامهرمزي (ت: 360 هـ) وغيرهما، ينظر "الرسالة المستطرفة" ص 55.
জাহান্নাম [হারাম করে দিয়েছেন]।" তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না যাতে তারা আনন্দিত হয়? তিনি বললেন: "তবে তারা এর ওপরই ভরসা (يتكلوا) করে বসে থাকবে।" তাই মুয়াজ (রা.) তাঁর মৃত্যুর সময় গুনাহের আশঙ্কায় (تأثماً)(১) এটি বর্ণনা করেন।

আল্লামা আইনি (রহ.) হাদিসের শিক্ষাগুলো গণনা করতে গিয়ে বলেন: "এতে [প্রমাণ] রয়েছে যে, বিশেষ জ্ঞান কেবল এমন একদল মানুষকে দেওয়া উচিত যাদের মধ্যে ধারণক্ষমতা (الضبط) ও সঠিক বুঝ রয়েছে। আর সূক্ষ্ম অর্থ এমন শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয় যারা এর যোগ্য নয় এবং যাদের বুঝের ঘাটতির কারণে শিথিলতা ও অতি-নির্ভরতার (الاتكال) আশঙ্কা রয়েছে"(২)।

 

‌‌৫ - সংলাপ ও প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান:

সুন্নাহর মধ্যে এর অনেক নজির রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যা সহিহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (ثبت) হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে?» তারা বললেন: আমাদের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যার কোনো দিরহাম বা আসবাবপত্র নেই। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে সেই প্রকৃত নিঃস্ব, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সে একে গালি দিয়েছে, একে অপবাদ (قذف) দিয়েছে, এর সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, এর রক্তপাত করেছে এবং একে প্রহার করেছে। ফলে একে তার নেক আমল থেকে দেওয়া হবে এবং তাকে তার নেক আমল থেকে দেওয়া হবে। এরপর যদি তার দেনা পরিশোধের পূর্বেই নেক আমল শেষ হয়ে যায়, তবে তাদের গুনাহসমূহ নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে»(৩)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সংলাপ ও প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, তাদের মনে আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তাদের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় উৎসাহিত করে।

 

‌‌৬ - উপমা ও উদাহরণ পেশ করার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান:

পবিত্র সুন্নাহর মধ্যে এই পদ্ধতির বহু নজির রয়েছে(৪)। তার মধ্যে একটি হলো যা সহিহাইন (الصحيحين)-এ আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত (ثبت) হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: «উপমা হলো...

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি (১২৮), সহিহ মুসলিম (৫৩)।

(২) আইনি রচিত "উমদাতুল কারি" ২/২০৮।

(৩) সহিহ মুসলিম (২৫৮১)।

(৪) এমনকি একদল আলেম নববী উদাহরণসমূহকে স্বতন্ত্র গ্রন্থ (مصنَّفات) হিসেবে সঙ্কলিত করেছেন, যেমন—আবু হাসান আলী বিন সাইদ আল-আসকারি (মৃত্যু: ৩১০ হি.), হাসান বিন আব্দুর রহমান আর-রামাহুরমুজি (মৃত্যু: ৩৬০ হি.) এবং অন্যান্যরা। দ্রষ্টব্য: "আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফা", পৃষ্ঠা ৫৫।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الجليس الصالح، والجليس السوء، كحامل المسك، ونافخ الكير، فحامل المسك: إما أن يحذيك، وإما أن تبتاع منه، وإما أن تجد منه ريحاً طيَّبة، ونافخ الكير: إما أن يحرق ثيابك، وإما أن تجد منه ريحاً خبيثة»(1).

ومنه: حديث النعمان بن بشير رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثلُ المؤمنين في توادّهم، وتراحمهم، وتعاطفهم مثلُ الجَسَدِ، إذا اشتكى منه عضوٌ تداعى له سائر الجَسَدِ بالسهر والحمَّى»(2).

وما من شك أن ضرْب الأمثال: يقرّب المعاني البعيدة، ويصوّرها في ذهن المتلقي بأمور حسيّة يعرفها.

 

‌‌7 - التعليم بالرَّسْم على الأرض والتراب:

ومن أمثلة ذلك: ما أخرجه أحمد في المسند، عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: خطّ لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطاً، ثم قال: «هذا سبيل الله»، ثم خطَّ خطوطاً عن يمينه وعن شماله، ثم قال: «هذه سُبُل متفرقة على كلّ سبيل منها شيطان يدعو إليه»، ثم قرأ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (153)} [الأنعام: 153](3).

وما من شك أن وسيلة الرَّسْم هي إحدى الوسائل المعتمدة قديماً وحديثاً، في مناهج التعليم، ولها تأثيرٌ قوي في إيصال المعلومة إلى عقل المتلقي.

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري» (5534)، "صحيح مسلم» (2628).

(2) "أخرجه البخاري» (6011)، و"مسلم» (2586) واللفظ له.

(3) "مسند أحمد" (4142)، وحسن إسناده شعيب الأرناؤوط.
"সৎ সঙ্গী এবং অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো আতর বিক্রেতা এবং কামারের হাপর সঞ্চালনকারীর মতো। আতর বিক্রেতা: হয় সে তোমাকে কিছু উপহার দেবে, নতুবা তুমি তার থেকে তা ক্রয় করবে, অথবা অন্তত তার থেকে সুগন্ধ লাভ করবে। আর কামারের হাপর সঞ্চালনকারী: হয় সে তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দেবে, নতুবা তুমি তার থেকে দুর্গন্ধ পাবে।"(১).

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: নুমান ইবনে বশির (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ হলো একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো দেহ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়।"(২).

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উদাহরণ পেশ করা দূরবর্তী অর্থসমূহকে নিকটবর্তী করে এবং শ্রোতার মস্তিষ্কে তা পরিচিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মাধ্যমে চিত্রায়িত করে।

 

‌‌৭ - জমিন ও মাটির ওপর রেখা অঙ্কনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান:

এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: যা ইমাম আহমাদ মুসনাদ-এ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের জন্য একটি রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন: "এটি আল্লাহর পথ", এরপর তিনি তার ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: "এগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথে একটি করে শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে", অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো। (১৫৩)} [আল-আনআম: ১৫৩](৩).

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, চিত্র অঙ্কন পদ্ধতিটি প্রাচীন ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতিতে একটি স্বীকৃত মাধ্যম এবং গ্রহীতার মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি (৫৫৩৪), সহিহ মুসলিম (২৬২৮)।

(২) এটি বুখারি (৬০১১) এবং মুসলিম (২৫৮৬) বর্ণনা করেছেন, এবং শব্দাবলি তাঁর (মুসলিমের)।

(৩) মুসনাদ আহমাদ (৪১৪২), এবং শুআইব আল-আরনাউত এর সনদ (إسناد)-কে হাসান (حسن) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهناك أساليب أخرى، يمكن للباحث الوقوف عليها بالتأمل والنظر في نصوص السُّنَّة النبوية والسيرة المصطفوية، وما هذا الذي ذكرناه إلا غيضٌ من فيض، والله الموفق.

* * * *
এছাড়া আরও অন্যান্য পদ্ধতি রয়েছে, যা একজন গবেষক সুন্নাহ (السنة) এবং সীরাতে মুস্তাফার (السيرة) ভাষ্যসমূহের ওপর গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে অনুধাবন করতে পারেন। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা তো কেবল এক বিশাল সমুদ্রের ক্ষুদ্র এক বিন্দুর ন্যায়; আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

* * * *
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌المبحث الثاني

الجمْع بين الأحاديث الواردة في النهي عن كتابة السُّنَّة والإذن فيها

1 - من المقرر عند العلماء: أن القرآن الكريم كان يُكتب ويُدوَّن في العهْد النبوي أولاً بأول. وكان للنبي صلى الله عليه وسلم جماعةٌ من الصحابة يُسَمَّون: "كتَّاب الوحي"، عددهم نحو الأربعين(1). فلم يكن صلى الله عليه وسلم ينزلُ عليه شيءٌ من القرآن حتى يدعو بعض هؤلاء الكتَّاب، ويأمرهم بكتابته، ويرشدهم إلى موضعه بين السور.

لذلك لم يلتحق النبي صلى الله عليه وسلم بالرفيق الأعلى إلا وقد كان القرآن الكريم كلّه مكتوباً ومدوَّناً، إلى جانب استظهار الصحابة له، وحفظهم إياه في صدورهم(2).

أمَّا السُّنَّة النبوية فكانت بخلاف ذلك، فلم تُكتب في زمنِ النبي صلى الله عليه وسلم على النحو الذي كُتب به القرآن الكريم، ولم يأمر النبي صلى الله عليه وسلم بكتابتها كما أَمَرَ بكتابة القرآن الكريم، ولم يكن لها كتبةٌ يختصُّون بها كما كان للقرآن الكريم.

2 - بل لقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم في بداية الأمر عن كتابة غير القرآن، كما في حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: «لا تكتبوا عنّي،

--------------------------------------------

(1) أوصلهم الحافظ العراقي في ألفيته في السيرة ص 123 إلى اثنين وأربعين كاتباً.

(2) "مناهل العرفان في علوم القرآن" 1/ 247.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সুন্নাহ লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞা ও এ বিষয়ে অনুমতির হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় (الجمع)

১ - আলেমগণের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে: পবিত্র কুরআন নবীযুগে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ ও সংকলন করা হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী ছিলেন যাদের "ওহী লেখক" বলা হতো, তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় চল্লিশ জন(১)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর কুরআনের কোনো অংশ অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই তিনি এই লেখকদের কাউকে ডাকতেন, তাদের তা লিখে রাখার আদেশ দিতেন এবং সুরাসমূহের মাঝে এর নির্দিষ্ট স্থান নির্দেশ করে দিতেন।

ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, ততক্ষণে পবিত্র কুরআন পূর্ণাঙ্গভাবে লিখিত ও সংকলিত হয়ে গিয়েছিল; পাশাপাশি সাহাবীগণ তা মুখস্থ করেছিলেন এবং তাদের অন্তরে তা সংরক্ষণ করেছিলেন(২)।

তবে সুন্নাহর বিষয়টি ছিল ভিন্ন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কুরআন যেভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, সুন্নাহ সেভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহ লিখে রাখার জন্য সেভাবে আদেশ দেননি যেভাবে কুরআন লেখার আদেশ দিয়েছিলেন। আর সুন্নাহর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট লেখকও নিযুক্ত ছিল না, যেমনটি কুরআনের জন্য ছিল।

২ - বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরুর দিকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। যেমন আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার থেকে (কুরআন ছাড়া কিছু) লিখো না...

--------------------------------------------

(১) হাফেজ (الحافظ) ইরাকি তার সীরাত বিষয়ক আলফিয়্যাহ গ্রন্থের ১২৩ পৃষ্ঠায় লেখকদের সংখ্যা বিয়াল্লিশ জন পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন।

(২) "মানাহিলুল ইরফান ফি উলুমিল কুরআন" ১/ ২৪৭।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومن كَتَبَ عنّي غير القرآن فليمْحه، وحدِّثوا عنّي ولا حَرَج، ومن كَذَبَ عليّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار»(1).

3 - بَيْدَ أن علماء السُّنَّة بينوا أن هذا الحديث منسوخ، وأنه كان في بداية نالإسلام، وأن النهي عن كتابة الحديث إنَّما كان خشية أن تختلط السُّنَّةُ بالقرآن الكريم، فحتى لا يقع الاشتباه والالتباس بين الآيات والأحاديث، وحتى لا يلحق بالقرآن ما ليس منه، وحتى يُوصَد الباب في وجه أي تحريف أو تبديل طارئ، فقد مَنَعَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم في بداية الأمر من كتابة السُّنَّة وتدوين الأحاديث.

لكنْ لمَّا أَلِفَ الصحابةُ الكرام أسلوب القرآن الكريم، وعرفوا طريقته، واستقرَّ في نفوسهم، ونزل أكثره، وحفظه كثيرٌ منهم، زال خطر الالتباس والاشتباه، وأَذِنَ النبي صلى الله عليه وسلم وقتها بكتابة سنّته وأحاديثه لمن شاء أن يكتب.

4 - هذا هو التوجيه الأقرب لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، كما قرره كثيرٌ من أهل العِلْم، كالإمام الرامهرمزي (ت: 360 هـ)، والإمام الخطابي (ت: 388 هـ)، والإمام البغوي (ت: 516 هـ)، والحافظ ابن حجر(2) (ت: 852 هـ)، وغيرهم رحمهم الله تعالى.

يقول الإمام الخطابي: "يُشبه أن يكون النهي متقدماً وآخر الأمرين الإباحة"(3).

ويقول الرامهرمزي: "أحسبُ أنه كان محفوظاً في أول الهجرة، وحين كان

--------------------------------------------

(1) "صحيح مسلم» (3004).

(2) "فتح الباري» 1/ 208، وهناك توجيهات أخرى للحديث أشار إليها ابن حجر تركتها لضعفها.

(3) "معالم السنن" 4/ 184.
"এবং আমার নিকট থেকে কুরআন ব্যতিরেকে অন্য কিছু লিখে থাকলে সে যেন তা মুছে ফেলে। আর তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।"(১).

৩ - তবে সুন্নাহর আলেমগণ স্পষ্ট করেছেন যে, এই হাদিসটি রহিত (منسوخ)। এটি ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। হাদিস লিপিবদ্ধ করার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ছিল মূলত সুন্নাহ কুরআনের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কায়, যাতে আয়াত ও হাদিসের মধ্যে কোনো প্রকার সংশয় বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয় এবং কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু যেন এর সাথে যুক্ত হতে না পারে। আর যেকোনো প্রকার বিকৃতি বা পরিবর্তনের পথ রুদ্ধ করার লক্ষ্যে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুরুর দিকে সুন্নাহ ও হাদিস সংকলন করতে নিষেধ করেছিলেন।

কিন্তু যখন সম্মানিত সাহাবিগণ কুরআনের শৈলীর সাথে অভ্যস্ত হলেন, এর পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হলেন এবং তা তাঁদের অন্তরে গেঁথে গেল, অধিকন্তু এর অধিকাংশ অবতীর্ণ হয়ে গেল এবং তাঁদের অনেকে তা হিফজ করলেন, তখন বিভ্রান্তি ও সংশয়ের আশঙ্কা দূরীভূত হলো। সেই সময়ে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যারা লিখতে ইচ্ছুক তাদের জন্য সুন্নাহ ও হাদিস লিখে রাখার অনুমতি প্রদান করলেন।

৪ - আবু সাইদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের এটিই সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যাখ্যা, যা অনেক আলেম সাব্যস্ত করেছেন; যেমন: ইমাম রামাহুরমুজি (ওফাত: ৩৬০ হিজরি), ইমাম খাত্তাবি (ওফাত: ৩৮৮ হিজরি), ইমাম বাগাভি (ওফাত: ৫১৬ হিজরি), হাফিজ ইবনে হাজার(২) (ওফাত: ৮৫২ হিজরি) এবং অন্যান্যগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ)।

ইমাম খাত্তাবি বলেন: "সম্ভবত নিষেধাজ্ঞাটি পূর্ববর্তী সময়ের এবং উভয় বিষয়ের মধ্যে সর্বশেষটি ছিল বৈধতা (الإباحة)।"(৩)

রামাহুরমুজি বলেন: "আমি মনে করি এটি হিজরতের শুরুতে সংরক্ষিত ছিল, এবং যখন

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম (৩০০৪)।

(২) ফাতহুল বারি ১/২০৮। সেখানে হাদিসটির অন্যান্য ব্যাখ্যাও রয়েছে যেগুলোর দিকে ইবনে হাজার ইঙ্গিত করেছেন, তবে দুর্বল (ضعيف) হওয়ার কারণে আমি সেগুলো বাদ দিয়েছি।

(৩) মাআলিমুস সুনান ৪/১৮৪।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
لا يُؤْمَن الاشتغال به عن القرآن"(1).

ويقول الإمام البغوي: "والنهي يُشبه أن يكون متقدماً، ثم أباحه وأَذِنَ فيه"(2).

وأما ما ذكره ابن قتيبة (ت: 276 هـ) رحمه الله من أن سبب منْع الصحابة من الكتابة أن عامتهم كانوا أُميين لا يحسنون الكتابة ولا التهجي، فخشي النبي صلى الله عليه وسلم عليهم الغلط إن كتبوا(3)!!

فهذا توجيهٌ غير سليم، بدليل أن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يكتبون القرآن الكريم أولاً بأول، وتقدَّم أنه كان منهم جماعةُ يُسَمَّون: كتّابَ الوحي، قد جاوزوا الأربعين كاتباً.

5 - وقد ورد حديثٌ آخر في النهي عن كتابة الحديث، عن زيد بن ثابت رضي الله عنه: أنه "دخل على معاوية بن أبي سفيان، فسأله معاوية عن حديث، وأمر إنساناً أن يكتبه، فقال له زيدٌ: «إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرنا أن لا نكتب شيئاً من حديثه»، فمحاه"(4). لكنْ أجاب العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلّمي عن هذا الحديث بأنه ضعيف باتفاق العلماء(5)، فلا يحتجّ به.

6 - وإذن فالأحاديث الواردة في النهي عن كتابة السُّنَّة إنما هما حديثان فحسب، أحدهما منسوخ عند أكثر علماء السُّنَّة، والآخر متفق على ضعفه.

--------------------------------------------

(1) "المحدث الفاصل" ص 386.

(2) "شرح السُنَّة" 1/ 294.

(3) "تأويل مختلف الحديث" ص 412.

(4) أخرجه أبو داود في "سننه" (3647).

(5) "الأنوار الكاشفة" للمعلمي ص 34.
"এতে নিমগ্ন থাকা কুরআন থেকে বিমুখ হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়"(১)।

ইমাম বাগউই বলেন: "নিষেধাজ্ঞাটি সম্ভবত প্রাথমিক সময়ের ছিল, এরপর তিনি এটিকে বৈধ করেছেন এবং এর অনুমতি দিয়েছেন"(২)।

আর ইবনে কুতাইবাহ (মৃত: ২৭৬ হিজরি) রহ. যা উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবায়ে কিরামকে হাদিস লিখতে নিষেধ করার কারণ ছিল যে, তাঁদের সাধারণ মানুষ উম্মী বা নিরক্ষর ছিলেন, যারা ভালো করে লিখতে বা বানান করতে জানতেন না; তাই তারা যদি লিখতেন তবে তাতে ভুল হতে পারে বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছিলেন!!(৩)

এই ব্যাখ্যাটি সঠিক নয়, কারণ এর প্রমাণ হলো সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম ধারাবাহিকভাবে কুরআন কারীম লিখে রাখতেন; আর ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁদের মধ্যে একটি দল ছিল যাদের 'অহি লেখক' বলা হতো, এবং তাঁদের সংখ্যা চল্লিশের অধিক ছিল।

৫ - হাদিস লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জায়েদ বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অন্য একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি "মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের নিকট প্রবেশ করেন, তখন মুয়াবিয়া তাঁকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং একজনকে তা লিখতে নির্দেশ দেন। তখন জায়েদ তাঁকে বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাঁর হাদিসের কোনো কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন», ফলে তিনি তা মুছে ফেলেন"(৪)। কিন্তু আল্লামা আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি এই হাদিসের উত্তরে বলেছেন যে, এটি আলেমদের ঐক্যমতে দুর্বল (ضعيف)(৫), তাই এটি দলিল হিসেবে পেশ করা যায় না।

৬ - অতএব, সুন্নাহ লিখে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিস মূলত মাত্র দুটি; যার একটি অধিকাংশ সুন্নাহর আলেমদের মতে রহিত (منسوخ), আর অন্যটি দুর্বল (ضعيف) হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত।

--------------------------------------------

(১) "আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল" পৃষ্ঠা ৩৮৬।

(২) "শারহুস সুন্নাহ" ১/ ২৯৪।

(৩) "তাওয়ীলু মুখতালিফিল হাদিস" পৃষ্ঠা ৪১২।

(৪) এটি আবু দাউদ তাঁর "সুনান" (৩৬৪৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৫) আল-মুআল্লিমির "আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ" পৃষ্ঠা ৩৪।
(খণ্ড: ১) আল মাদখালু ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وإذن فما شَغّبَ به بعض المستشرقين وأذنابهم، من أنه قد جاءت أحاديث صحيحة كثيرة في النهي عن كتابة السُنَّة!، قول باطل مخالف للواقع(1).

• من شواهد كتابة السُّنَّة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم:

ومما يؤكد نسخَ حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، أنه قد صحَّ عن النبي صلى الله عليه وسلم إذنُه للصحابة بكتابة سُنَّته، في غير ما حديث، وكذلك أمره صلى الله عليه وسلم بكتابة أكثر من كتاب.

ومن شواهد ذلك: أَمْرُهُ صلى الله عليه وسلم بكتابة خطبته يوم فتح مكة، لرجلٍ من أهل اليمن، يقال له: أبو شاه، فبعد أن فَرَغَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم من الخطبة، قال أبو شاه: اكتبْ لي يا رسول الله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اكتبوا لأبي شاه»(2).

قال عبد الله بن الإمام أحمد: "ليس يروى في كتابة الحديث شيء أصحّ من هذا الحديث"(3).

ومن الشواهد أيضاً: أمْرُهُ صلى الله عليه وسلم بكتابة الكُتُب إلى عمّاله وأمرائه فيما يتعلَّق بتدبير شؤون الدولة، وبيان الأحكام، ومقادير الزكاة، ككتابه صلى الله عليه وسلم في الصدقات، الوارد في حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، قال: «كتب رسولُ الله صلى الله عليه وسلم كتاب الصدقة، فلم يخرجه إلى عمّاله حتى قُبض، فعمل به أبو بكر حتى قُبض، ثم عمل به عمرُ حتى قُبض .. الحديث».

وفي رواية عن الزهري قال: "هذه نسخة كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذي كتبه

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص 34.

(2) "صحيح البخاري» (2434)، "صحيح مسلم» (1355).

(3) "مسند أحمد" (7242).
সুতরাং, কিছু প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারীরা সুন্নাহ লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনেক সহিহ (صحيحة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে বলে যে হট্টগোল সৃষ্টি করেছে, তা একটি অসার কথা এবং বাস্তবের পরিপন্থী(১).

• নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার কিছু প্রমাণ:

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার বিষয়টি যা দ্বারা নিশ্চিত হয় তা হলো—একাধিক হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাহাবায়ে কেরামকে তাঁর সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার অনুমতি প্রদানের বিষয়টি সহিহ (صحَّ) বলে প্রমাণিত হয়েছে, পাশাপাশি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক কিতাব লিখে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এর অন্যতম প্রমাণ হলো: মক্কা বিজয়ের দিন ইয়েমেনের অধিবাসী আবু শাহ নামক এক ব্যক্তির জন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা লিখে দেওয়ার নির্দেশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা শেষ করার পর আবু শাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, এটি কি আমার জন্য লিখে দেবেন? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও»(২)।

ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ বলেন: "হাদিস লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে এই হাদিসটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصحّ) আর কোনো কিছু বর্ণিত (يروى) হয়নি"(৩)।

আরও একটি প্রমাণ হলো: রাষ্ট্রীয় বিষয় পরিচালনা, বিধি-বিধানের বর্ণনা এবং জাকাতের পরিমাণ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কর্মকর্তাদের নিকট পত্র লিখে দেওয়ার জন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ। যেমন সদকা সংক্রান্ত তাঁর পত্রটি, যা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাকাতের বিধান সংবলিত একটি পত্র লিখেছিলেন, কিন্তু তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাননি। অতঃপর আবু বকর তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সে অনুযায়ী আমল করেন এবং তারপর ওমর তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সে অনুযায়ী আমল করেন... হাদিস।»

যুহরি (রহ.) থেকে বর্ণিত (رواية) এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: "এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লিখিত পত্রের অনুলিপি, যা তিনি লিখেছিলেন

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩৪।

(২) সহিহ বুখারি (২৪৩৪), সহিহ মুসলিম (১৩৫৫)।

(৩) মুসনাদে আহমদ (৭২৪২)।