(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: -)
شركات العقد في الشرع الإسلامي القسم: مسائل فقهية
الكتاب: شركات العقد في الشرع الإسلامي
المؤلف: صالح بن زابن المرزوقي البقمي
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض
الطبعة: الأولى، 1444 هـ
عدد الصفحات: 218
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 صفر 1445
ইসলামি শরিয়তে চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্ব বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: ইসলামি শরিয়তে চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্ব
লেখক: সালেহ বিন জাবেন আল-মারজুকি আল-বুকামি
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ সফর ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإهداء إلى روح والدي الكريم، الذي طوقني بحنانه، ورعاني بعطفه، ودفعني بتشجيعه للاستزادة من معين المعرفة، ووجهني لأعذب مناهلها- دراسة الشريعة الإسلامية - وكان يتمنى أن يراني، وقد بلغت درجة علمية مرموقة، ولكنه انتقل إلى الرفيق الأعلى، وقد شارفت على بلوغ الأمل؛ فإلى روحه الطاهرة أهدي باكورة نتاجي، رحمه الله رحمة واسعة، وأسكنه الفردوس الأعلى من الجنة.
উৎসর্গআমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতার রুহের প্রতি, যিনি আমাকে তাঁর মমতা দিয়ে বেষ্টন করে রেখেছিলেন, স্নেহ দিয়ে লালন-পালন করেছেন এবং জ্ঞানের প্রস্রবণ থেকে উত্তরোত্তর জ্ঞান আহরণের জন্য স্বীয় অনুপ্রেরণার মাধ্যমে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি আমাকে এর সবচেয়ে সুপেয় উৎস—ইসলামি শরিয়াহ অধ্যয়নের—দিকে পরিচালিত করেছিলেন। তাঁর ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষা ছিল আমাকে একটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক স্তরে আসীন দেখার, কিন্তু যখন আমি সেই আশা পূরণের দ্বারপ্রান্তে উপনীত, তখনই তিনি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন। তাঁর সেই পবিত্র রুহের প্রতি আমি আমার গবেষণালব্ধ এই প্রথম ফসল উৎসর্গ করছি। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকামে স্থান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৯)
شكر وتقدير شكراً لله القائل: {و لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ} (إبراهيم: 7). أشكره سبحانه على نعمه التي لا تحصى، وأجلها نعمة الإسلام، وأشكره على تيسيره وتوفيقه؛ حيث منّ علىّ بإتمام هذه الرسالة.
ثم الشكر للرجال المخلصين الذين سعوا في تأسيس هذا الصرح العلمي الشامخ - الدراسات العليا الشرعية - بكلية الشريعة والدراسات الإسلامية، في مكة المكرمة.
وعلى رأسهم باني مجدنا ومؤسس نهضتنا جلالة الملك فيصل بن عبد العزيز طيب الله ثراه، وجعل الفردوس مقره ومأواه، وذلك لما قام به من تأسيس دعائم هذا القسم، وأشكر لخليفته المعظم جلالة الملك خالد بن عبد العزيز أيده الله وسدد خطاه
(1).
وإذا كان من الوفاء علىّ أن أقدم الشكر، فإنني أقدم خالص شكري وعظيم تقديري لشيخي الفاضل، وأستاذي القدير، فضيلة العلامة الأستاذ الدكتور أحمد فهمي أبو سنة، أقدم له شكري، وإن كان الشكر لا يفي بحقه، ولكنه جهد المقل، فجزاه الله عنا خير الجزاء، وذلك امتثالاً لقول المصطفى عليه أفضل الصلاة وأتم التسليم «مَنْ صنع إليكمْ معرُوفًا فكافِئوه فإنْ لم تَجِدُوا ما تُكافِئوه فادعوا له حتَّى ترَوْا أنَّكُمْ قَدْ كافأتموهُ «
(2)مكارمه كثيرة، وعلمه وافر، وخلقه عظيم، وصدره رحب.
--------------------------------------------
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি ইরশাদ করেছেন: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব} (ইব্রাহিম: ৭)। আমি মহান পবিত্র সত্তার শুকরিয়া আদায় করছি তাঁর অগণিত নেয়ামতের জন্য, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ইসলামের নেয়ামত। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর সহজীকরণ ও তাওফিকের জন্য; যেহেতু তিনি আমাকে এটি সমাপ্ত করার অনুগ্রহ দান করেছেন।
এরপর আমি সেই সকল একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা মক্কা মুকাররমার শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের এই সুউচ্চ জ্ঞানগৃহ—উচ্চতর শরীয়াহ শিক্ষা বিভাগ—প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন।
যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন আমাদের গৌরবের নির্মাতা ও জাগরণের প্রতিষ্ঠাতা মহামান্য কিং ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ; আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর আবাসস্থল ও ঠিকানা করুন। কেননা তিনি এই বিভাগের ভিত্তি স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া আমি তাঁর মহান উত্তরসূরি মহামান্য কিং খালিদ বিন আব্দুল আজিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন এবং তাঁর পদক্ষেপসমূহ সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
(1)কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে আমি আমার শ্রদ্ধেয় শায়খ ও বিজ্ঞ উস্তাদ, ফযীলাতুশ শায়খ আল্লামা প্রফেসর ড. আহমদ ফাহমি আবু সুন্নাহ-এর প্রতি আমার আন্তরিক শুকরিয়া ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যদিও কেবল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তাঁর পাওনা আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়; তবুও এটি আমার পক্ষ থেকে সামান্য প্রচেষ্টামাত্র। আল্লাহ তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর অনুকরণে, যাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম: "তোমাদের প্রতি কেউ সদাচরণ করলে তোমরা তার প্রতিদান দাও; আর যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য দোয়া করো, যতক্ষণ না তোমরা অনুভব করো যে তাকে তোমরা যথার্থ প্রতিদান দিয়েছো।"
(2)তাঁর মহত্ব অনেক, তাঁর জ্ঞান অগাধ, তাঁর চরিত্র সুমহান এবং তাঁর হৃদয় প্রশস্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১০)
وإذا كان الخير يذكر لأهله، ويشكرون عليه فإنني أتقدم بجزيل الشكر ووافر العرفان، لصاحب الفضيلة شيخي الأستاذ الدكتور محمد أمين المصري، لقاء ما قام به من خدمات جليلة للإسلام والمسلمين، ممثلة في الجهود العظيمة التي بذلها عندما دعا وخطط لإنشاء قسم الدراسات الإسلامية العليا، فكان فاتحة خير، تلته دراسات عليا في فروع مختلفة، وبرنامج للدكتوراه، اقتدت به كثير من الجامعات السعودية.
وإلى كل من ساعدني شكري وتقديري.
আর যদি সুকীর্তি তার উপযুক্ত ব্যক্তিদের অনুকূলে উল্লেখ করা হয় এবং তারা সেজন্য প্রশংসিত হন, তবে আমি আমার শায়খ, শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আমিন আল-মিসরির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এটি ইসলাম ও মুসলিমদের তরে তাঁর ঐ সকল মহান সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ, যা উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠার আহ্বান ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যয়িত মহতী প্রচেষ্টায় প্রতিফলিত হয়েছে। এটি ছিল কল্যাণের এক শুভ দ্বারোদঘাটন, যার পথ ধরে পরবর্তীতে বিভিন্ন বিভাগে উচ্চতর শিক্ষা এবং ডক্টরেট প্রোগ্রাম চালু হয় এবং সৌদি আরবের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় একে অনুসরণ করে।
আর যারা আমাকে সাহায্য করেছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلامة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين؛ نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، وبعد:
فقد جاء الدين الإسلامي الحنيف بتشريع كامل، يفي بحاجات المجتمع في جميع شؤونه؛ من عبادات، ومعاملات، وجنايات، وأحكام للأسرة، ومن أحكام المعاملات التي سنها هذا التشريع السماوي أحكام الشركات؛ فأباحها، بل رغب فيها عند الحاجة إليها، وباركها، وهذه الشركات (العنان، والوجوه، والأبدان، والمضاربة، والمفاوضة) ذكرها الفقهاء السابقون في كتبهم، وتعامل بها المسلمون زمناً طويلاً، وما زال بعضهم يتعامل بها.
وبعد التخلف الفكري الذي شمل الأمة الإسلامية، وبعد اتصالها بالحضارة الغربية، وتقليدها إياها في معظم شؤونها، استعاضت هذه الأمة في كثير من بلاد الإسلام عن أحكام شرعها بقوانين وضعية من صنع البشر، وقد عرف العالم الإسلامي - مما عرف - أنواعاً من الشركات المجلوبة، تم تطبيقها، وعم انتشارها، مع أن في شرعنا الإسلامي الحنيف كنوزاً تغني المسلمين عما سواها؛ حيث إن التشريع الإسلامي هو المشهود له بالسبق والشمول والعدالة والدقة، في تقرير الأحكام، وحسبك أنه رباني، وما عداه؛ فهو من صنع البشر.
أما أهل هذه البلاد؛ المملكة العربية السعودية فينعمون ولله الحمد بتطبيق شرع الله القويم، ويعضون عليه بالنواجذ؛ سواء في العبادات، أو المعاملات، أو الجنايات، أو أحكام الأسرة، أو في غير ذلك.
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সকল নবী ও রাসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই একনিষ্ঠ ইসলামি দ্বীন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান নিয়ে এসেছে, যা সমাজের সকল বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে; চাই তা ইবাদত, লেনদেন, দণ্ডবিধি বা পারিবারিক বিধিবিধান হোক। এই খোদায়ি বিধান কর্তৃক প্রবর্তিত লেনদেন সংক্রান্ত বিধিবিধানের অন্যতম হলো অংশীদারি কারবার সংক্রান্ত বিধান। ইসলাম একে বৈধ ঘোষণা করেছে, বরং এর প্রয়োজনীয়তার সময় একে উৎসাহিত করেছে এবং এতে বরকত দান করেছে। এই অংশীদারি কারবারসমূহ (যেমন: আল-ইনান, আল-উজুহ, আল-আবদান, মুদারাবা এবং মুফাওয়াদা) পূর্ববর্তী ফকিহগণ তাদের কিতাবসমূহে উল্লেখ করেছেন এবং দীর্ঘকাল ধরে মুসলিমগণ এর মাধ্যমে লেনদেন করে আসছেন এবং আজও তাদের কেউ কেউ এর ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালনা করছেন।
মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক অনগ্রসরতা ছড়িয়ে পড়ার পর এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার সংস্পর্শে এসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের অন্ধ অনুকরণের ফলে, অনেক মুসলিম দেশ নিজেদের শরয়ি বিধানের পরিবর্তে মানুষের তৈরি করা মানব রচিত আইনের আশ্রয় নিয়েছে। মুসলিম বিশ্ব আমদানি করা কিছু প্রকারের অংশীদারি কারবারের সাথে পরিচিত হয়েছে যা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ আমাদের একনিষ্ঠ ইসলামি শরিয়তে এমন সব রত্নভাণ্ডার রয়েছে যা মুসলিমদের অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। কারণ ইসলামি আইন বা বিধানই বিধিবিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর অগ্রগামিতা, ব্যাপকতা, ইনসাফ ও সূক্ষ্মতার জন্য স্বীকৃত। আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে এটি আল্লাহপ্রদত্ত, আর এটি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা মানুষের তৈরি।
পক্ষান্তরে এই ভূখণ্ডের অধিবাসী অর্থাৎ সৌদি আরব রাজ্যের জনগণ আল্লাহর শুকরিয়া যে, আল্লাহর সুপ্রতিষ্ঠিত শরয়ি বিধানের প্রয়োগের নেয়ামত ভোগ করছেন এবং তারা একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন; চাই তা ইবাদত, লেনদেন, দণ্ডবিধি, পারিবারিক বিধান বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولكل ما سبق اخترت «شركات العقد في الشرع الإسلامي» موضوعاً لرسالة الماجستير، لأبين في هذه الرسالة أن أحكام الشرع الحنيف وافية وكافية لحاجات المجتمع، وأنها صالحة للتطبيق في كل مكان وزمان، وأن أحكام شرع الله تغنينا عن غيرها؛ إذ فيها الغناء كل الغناء.
كما أنه قد بدت حاجة المملكة ملحة إلى وضع نظام شامل للشركات، يوضح الأحكام واجبة الاتباع في تأسيس الشركات، وفي مزاولتها لنشاطها، ويبين مدى صلاحيات وزارة التجارة والصناعة في مراقبتها والإشراف عليها حفاظاً للصالح العام، ومحافظة لما تحت يد تلك الشركات من أموال الأفراد، وقد نص في النظام، أنه عند وضعه اعتمد فيه على ما استقر في العمل من القواعد التي أثبتت التجربة صلاحيتها، وجرت بين الأفراد مجرى العرف، مع الأخذ بالصالح من أحكام أنظمة الدول الأخرى، وذلك بعد استبعاد ما يتعارض من هذه الأحكام، وتلك القواعد مع الشرع الحنيف، وأمر بأن أحكام الشرع أصل لا يجوز الخروج عنه.
ورأيت أن أضع رسالتي هذه في موضوع الشركات، ليكون هذا سبيلاً فيما بعد - إن شاء الله - إلى دراسة نظام الشركات السعودي، ومقابلة أحكامه على آراء فقهاء الشريعة، ومعرفة مدى انطباقه عليها.
وهذه الرسالة عبارة عن دراسة فقهية مقارنة لشركات العقد؛ لدى المذاهب الفقهية الأربعة (الحنفي، والمالكي، والشافعي، والحنبلي)، وأحياناً كثيرة أذكر في بعض المسائل أراء فقهاء آخرين كالأئمة، ابن حزم، والليث بن سعد، وسفيان الثوري، وأبي ثور، والأوزاعي، وغيرهم.
উল্লিখিত সকল কারণে আমি আমার মাস্টার্স থিসিসের বিষয় হিসেবে ‘ইসলামি শরিয়তে চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্ব’ (شركات العقد) নির্বাচন করেছি, যাতে এই থিসিসের মাধ্যমে আমি স্পষ্ট করতে পারি যে, পবিত্র শরিয়তের বিধানসমূহ সমাজের সকল প্রয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটি প্রতিটি স্থান ও কালের জন্য উপযোগী এবং আল্লাহর শরিয়তের বিধানসমূহ আমাদের জন্য অন্য সবকিছুর বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট; কারণ এতেই রয়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রাচুর্য।
একইসাথে, কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সুসংহত নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে সৌদি আরবের জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা কোম্পানি গঠন এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় বিধানসমূহ স্পষ্ট করবে। সেইসাথে জনস্বার্থ রক্ষা এবং কোম্পানিগুলোর অধীনে থাকা সাধারণ মানুষের সম্পদ সংরক্ষণে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদারকি ও পর্যবেক্ষণের পরিধিও নির্ধারণ করবে। এই বিধিমালার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি প্রণয়নের সময় বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণিত ও কার্যকর নীতিমালা এবং মানুষের মধ্যে প্রচলিত প্রথার (العرف) ওপর ভিত্তি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের প্রচলিত আইনের কল্যাণকর দিকগুলোও গ্রহণ করা হয়েছে, তবে অবশ্যই সেইসব বিধান ও নীতিমালা বর্জন করার পর যা পবিত্র শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। এতে আরও ঘোষণা করা হয়েছে যে, শরিয়তের বিধানই হচ্ছে মূল ভিত্তি (أصل), যা থেকে বিচ্যুত হওয়া বৈধ নয়।
আমি মনে করেছি যে কোম্পানি বিষয়ক আমার এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করা উচিত, যাতে এটি ভবিষ্যতে—ইনশাআল্লাহ—সৌদি কোম্পানি আইন অধ্যয়ন করার এবং শরিয়ত বিশেষজ্ঞ ফকিহগণের মতামতের সাথে এর বিধানগুলোর তুলনা ও সামঞ্জস্যতা যাচাই করার একটি পথ হতে পারে।
এই থিসিসটি মূলত চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্ব (شركات العقد) সম্পর্কে চারটি ফিকহি মাজহাবের (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলি) আলোকে একটি তুলনামূলক ফিকহি বিশ্লেষণ। অনেক ক্ষেত্রে আমি কিছু মাসআলায় অন্যান্য প্রখ্যাত ফকিহগণের মতামতও উল্লেখ করেছি, যেমন: ইমাম ইবনে হাজম, লাইস বিন সাদ, সুফিয়ান সাওরি, আবু সাওর, আওজায়ি এবং আরও অনেকের।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد اعتمدت في بحثي، لنقل آراء المذاهب السابقة المصادر الأصيلة لهذه المذاهب، وكتب التفسير، والحديث الموثوق بها، واستفدت بما أمكنني الحصول عليه من كتب العلماء المعاصرين، سواء في الشركات، أو في غيرها.
وقد كانت طريقتي أثناء كتابة الموضوعات تقرير المسألة، وتحديد معالمها، وموضع الخلاف - إن كانت خلافية- ثم أذكر آراء العلماء، ثم أعرض أدلة الفقهاء في المسألة، وبعد الاستدلال من الجانبين والمناقشة أرجح ما أراه قوياً، مع بيان سبب الترجيح بعيداً عن التعصب المذهبي، مستهدياً بمقاصد الشريعة السمحة، والعرف الصحيح، ودرء المفاسد وجلب المصالح، على أن ترجيحي - هو صواب في نظري - يحتمل الخطأ، وقليلاً ما أدع الترجيح، وذلك عندما لا يتبين لي رجحان أحد الآراء.
ولا يخفى ما يواجهه الباحث من صعاب في تجميع مادة الرسالة، ومن تحقيق أقوال الفقهاء في المذاهب المختلفة، ومن وضع كل مسألة في موضعها المناسب لها، ومن الوقوف أمام بعض المسائل أيام وأيام دون أن يطمئن فيها إلى قرار، لا سيما أنه في فترة إعداد هذه الرسالة لم تتح لي الظروف للسفر إلى خارج البلاد للاطلاع على مزيد من المراجع، خاصة المراجع الفقهية الحديثة.
وقد جعلت هذه الرسالة بعد المقدمة في ثلاثة أبواب وخاتمة، وثبت للمراجع:
الباب الأول: في التعريف بالشركة، وأركانها، وشروطها، وأحكامها، وفيه أربعة فصول، وتحت كل فصل مباحث.
الباب الثاني: في أنواع شركات العقد، وأحكام كل نوع: وفيه ثلاثة فصول، وتحت كل فصل مباحث.
আমি আমার গবেষণায় পূর্ববর্তী মাযহাবসমূহের মতামত বর্ণনার ক্ষেত্রে উক্ত মাযহাবগুলোর মূল উৎসসমূহ, তাফসীর শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এবং নির্ভরযোগ্য (الموثوق بها) হাদিস শাস্ত্রের ওপর নির্ভর করেছি। এছাড়াও সমসাময়িক আলেমদের রচিত যেসকল গ্রন্থ আমি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি, চাই তা কোম্পানি (শারিকাহ) সংক্রান্ত হোক বা অন্য কোনো বিষয়ের হোক।
বিষয়গুলো রচনার সময় আমার পদ্ধতি ছিল—প্রথমে মাসয়ালাটি উপস্থাপন করা, এর স্বরূপ ও সীমানা নির্ধারণ করা এবং মতভেদপূর্ণ হলে বিরোধপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করা। এরপর আমি আলেমদের মতামত উল্লেখ করেছি, অতঃপর মাসয়ালাটিতে ফকীহগণের দলীলসমূহ পেশ করেছি। উভয় পক্ষের দলীলাদি ও পর্যালোচনার পর যে মতটি আমার কাছে শক্তিশালী (قوياً) বলে মনে হয়েছে, আমি তাকে প্রাধান্য (الترجيح) দিয়েছি এবং মাযহাবী গোঁড়ামিমুক্ত থেকে সেই প্রাধান্য প্রদানের কারণ ব্যাখ্যা করেছি। এক্ষেত্রে আমি উদার শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة), সঠিক প্রথা (العرف الصحيح) এবং ক্ষতি দূরীকরণ ও কল্যাণ সাধনের মূলনীতি থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছি। তবে আমার এই প্রাধান্য প্রদান বা সিদ্ধান্ত—যা আমার দৃষ্টিতে সঠিক—ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। খুব কম ক্ষেত্রেই আমি সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থেকেছি, আর তা কেবল তখনই যখন কোনো একটি মতের শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রাধান্য (رجحان) আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি।
গবেষণাপত্রের উপকরণ সংগ্রহ করা, বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহগণের বক্তব্য যাচাই-বাছাই (تحقيق) করা, প্রতিটি মাসয়ালাকে তার উপযুক্ত স্থানে বিন্যস্ত করা এবং কোনো কোনো মাসয়ালার সামনে দিনকে দিন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে থমকে দাঁড়ানোর মতো যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন একজন গবেষককে হতে হয়, তা কারো অজানা নয়। বিশেষত এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুতির সময় দেশের বাইরে সফর করে আরও অধিক তথ্যসূত্র, বিশেষ করে আধুনিক ফিকহী উৎসসমূহ দেখার সুযোগ আমার হয়নি।
আমি এই গবেষণাপত্রটিকে ভূমিকার পর তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহার এবং তথ্যসূত্র তালিকার বিন্যাসে সাজিয়েছি:
প্রথম অধ্যায়: কোম্পানি (শারিকাহ)-এর পরিচয়, এর রোকনসমূহ, শর্তাবলি ও বিধানসমূহ। এই অধ্যায়টি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে রয়েছে একাধিক উপ-পরিচ্ছেদ বা আলোচনা (مباحث)।
দ্বিতীয় অধ্যায়: চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি (শারিকাতুল আকদ)-এর প্রকারভেদ এবং প্রতিটি প্রকারের বিধানাবলী। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে একাধিক উপ-পরিচ্ছেদ বা আলোচনা (مباحث) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الباب الثالث: انفساخ الشركة وانقضائها وفيه فصلان.
الرموز والمصطلحات:
م: إذا جاء بعدها اسم فتعني مطبعة.
م: إذا جاء بعدها رقم فتعني مادة.
ط: إذا جاء بعدها رقم (1) مثلاً فتعني الطبعة الأول، وهكذا.
ق: تعني قاعدة.
إذا جاء 5/ 12/ 120، فالرقم الأول يعني المجلد، والرقم الثاني يعني الجزء، والرقم الثالث يعني الصفحة.
الشرح الكبير: إذا أطلق فالمراد به الشرح الكبير لابن قدامة.
تم أصله عام 1395 هـ
تم الفراغ من إعداده للطباعة يوم السبت 11/ ربيع الآخر/ 1444 هـ
الذي يوافقه 5/ نوفمبر/ 2022 م
তৃতীয় অধ্যায়: অংশীদারিত্বের বিলুপ্তি ও অবসান এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
সংকেত ও পরিভাষাসমূহ:
মীম (م): যদি এর পরে কোনো নাম আসে তবে তা ছাপাখানা (مطبعة) বোঝায়।
মীম (م): যদি এর পরে কোনো সংখ্যা আসে তবে তা ধারা (مادة) বোঝায়।
ত্বা (ط): যদি এর পরে কোনো সংখ্যা আসে (যেমন: ১) তবে তা প্রথম সংস্করণ (الطبعة), এবং একইভাবে পরবর্তীগুলো বোঝায়।
ক্বাফ (ق): এর অর্থ মূলনীতি (قاعدة)।
যদি ৫/ ১২/ ১২০ থাকে, তবে প্রথম সংখ্যাটি খণ্ড (المجلد), দ্বিতীয় সংখ্যাটি অংশ (الجزء) এবং তৃতীয় সংখ্যাটি পৃষ্ঠা (الصفحة) নির্দেশ করে।
আশ-শারহুল কাবীর: যদি সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়, তবে এর দ্বারা ইবনে কুদামার আশ-শারহুল কাবীর উদ্দেশ্য।
এর মূল পাণ্ডুলিপি ১৩৯৫ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছে।
মুদ্রণের প্রস্তুতির কাজ ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৪ হিজরি, শনিবার সমাপ্ত হয়েছে।
যা ৫ই নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দের সাথে সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الباب الأولفي التعريف بالشركة، وأركانها، وشروطها، وأحكامهاوفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: التعريف بالشركة.
الفصل الثاني: أركان الشركة وشروطها.
الفصل الثالث: أحكام الشركة بوجه عام.
الفصل الرابع: أحكام الشركة من حيث الجواز، أو اللزوم
প্রথম পরিচ্ছেদঅংশীদারিত্ব (شركة), এর রুকনসমূহ (أركان), শর্তসমূহ (شروط) ও বিধানসমূহ (أحكام) প্রসঙ্গেএতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অংশীদারিত্বের (شركة) পরিচয়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অংশীদারিত্বের (شركة) রুকনসমূহ (أركان) ও শর্তসমূহ (شروط)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে অংশীদারিত্বের (شركة) বিধানসমূহ (أحكام)।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: বৈধতা (جواز) বা অপরিহার্যতা (لزوم) বিবেচনায় অংশীদারিত্বের (شركة) বিধানসমূহ (أحكام)
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأولالتعريف بالشركةوفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف الشركة.
المبحث الثاني: مشروعيتها.
المبحث الثالث: أقسامها.
প্রথম অধ্যায়অংশীদারিত্বের পরিচয়এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: অংশীদারিত্বের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর বৈধতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأولتعريف الشركة
(أ) تعريفها لغة:الشركة بفتح فكسر، أو فتح فسكون
(1)، وفي هامش تهذيب اللغة ما نصه: «ضبطت في الأصول (يعني الشركة) بكسر الشين وتسكين الراء لغة تميم، وفتح الشين، وكسر الراء لغة الحجاز»
(2).
وقال صاحب تاج العروس: «الضم لغة فاشية في الشام، لا يكادون ينطقون بغيرها».
والشريك المشارك جمعه أشراك، وشركاء، مثل شريف، وأشراف، وشرفاء
(3) قال تعالى: {وَلَا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ} يونس: 71.
والشرك النصيب قال تعالى: {وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ} سبأ: 22. أي نصيب
(4).
وذكر لها في اللغة ثلاثة معان: قال أهل اللغة: الشركة مخالطة الشريكين
(5).
- وقال المحدثون، وبعض الفقهاء: الشركة لغة الاختلاط
(6).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদঅংশীদারিত্বের (الشركة) সংজ্ঞা
(ক) আভিধানিক (لغة) সংজ্ঞা:অংশীদারিত্ব (الشركة) শব্দটি 'শিন' বর্ণে ফাতহাহ (জবর) ও 'রা' বর্ণে কাসরা (জের), অথবা 'শিন' বর্ণে ফাতহাহ ও 'রা' বর্ণে সুকুন (জজম) সহকারে পঠিত হয়
(১)। তহজিবুল লুগাহ গ্রন্থের টীকায় বর্ণিত হয়েছে যে: "মূল গ্রন্থসমূহে (الأصول) (অর্থাৎ 'শারিকাহ' শব্দটি) তামিমি উপভাষা (لغة) অনুযায়ী 'শিন' বর্ণে কাসরা ও 'রা' বর্ণে সুকুন এবং হিজাজি উপভাষা (لغة) অনুযায়ী 'শিন' বর্ণে ফাতহাহ ও 'রা' বর্ণে কাসরা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে"
(২)।
তাজুল আরুস প্রণেতা বলেন: "'শিন' বর্ণে পেশ (الضم) সিরিয়া অঞ্চলে প্রচলিত একটি ভাষা (لغة), তারা সাধারণত এটি ছাড়া অন্যভাবে শব্দটির উচ্চারণ করে না।"
'শারিক' (অংশীদার) বলতে অংশগ্রহণকারীকে বোঝায়, এর বহুবচন হলো 'আশরাক' এবং 'শুরাকা'; যেমন 'শরিফ' শব্দের বহুবচন 'আশরাফ' এবং 'শুরাফা' হয়ে থাকে
(৩)। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের সিদ্ধান্ত এবং তোমাদের শরিকদের (অংশীদারদের) একত্রিত করো} ইউনুস: ৭১।
আর 'শিরক' মানে হলো অংশ। মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের উভয়ের (আসমান ও জমিন) মধ্যে তাদের কোনো অংশ (شِرْك) নেই} সাবা: ২২। অর্থাৎ কোনো হিস্যা বা ভাগ
(৪)।
অভিধানে এর তিনটি অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে: ভাষাবিদগণ বলেন: অংশীদারিত্ব (الشركة) হলো দুই অংশীদারের পারষ্পরিক মেলামেশা বা সংমিশ্রণ
(৫)।
- মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) এবং কিছু ফকিহ (الفقهاء) বলেন: আভিধানিক (لغة) অর্থে অংশীদারিত্ব (الشركة) হলো সংমিশ্রণ (الاختلاط)
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২০)
- وعرفها الكمال ابن الهمام، علاء الدين الحصكفي، وتابعهما بعض الكتاب المعاصرين: بأنها خلط أحد المالين، أو أحد النصيبين
(1).
وأضيف كلمة: بالآخر، ليصبح التعريف: خلط أحد المالين، أو أحد النصيبين بالآخر.
هذه العبارات المتقاربة- المخالطة، والخلط، والاختلاط- كل منها له معنى خاص.
فالمخالطة مفاعلة تدل على خلط من كل من الشريكين، والخلط يدل على جوده من أحدهما، والاختلاط هو أثر الخلط، سواءً تم بصنع الشريكين، أو بدون صنعهما، بأن اختلط المالان بعامل خارج عن إرادتهما.
قال الكمال ابن الهمام: الشركة هي فعل الإنسان، وفعله الخلط، وأما الاختلاط فصفة تثبت للمال عن فعلهما
(2).
فمن عبر بالاختلاط لاحظ أثره، لكن لما كانت الشركة تحصل تارة في رأس المال، وتارة في الربح كان التعبير بالاختلاط أعم، لأنه يشمل ما حصل بخلط، أو بدونه، كالحاصل في ربح المضاربة، وشركة الأبدان، وهو أيضاً شامل للشركة في المباحات المفهومة من قوله صلى الله عليه وسلم: «الناسُ شركاءُ في ثلاثٍ في الماءِ والكلأِ والنارِ
… »
(3). فإنه لم يحصل فيها خلط.
--------------------------------------------
- আল-কামাল ইবনুল হুমাম এবং আলাউদ্দীন আল-হাসকাফী এর সংজ্ঞা দিয়েছেন, এবং সমসাময়িক কিছু লেখক তাঁদের অনুসরণ করেছেন যে: এটি হলো দুটি মালের কোনো একটিকে অথবা দুটি অংশের কোনো একটিকে মিশ্রিত করা (خلط)
(১)।
এর সাথে ‘অন্যটির সাথে’ শব্দগুচ্ছ যোগ করা হয়েছে, যাতে সংজ্ঞাটি এভাবে পূর্ণ হয়: দুটি মালের কোনো একটিকে অথবা দুটি অংশের কোনো একটিকে অন্যটির সাথে মিশ্রিত করা (خلط)।
পরস্পর নিকটবর্তী এই শব্দাবলি—পারস্পরিক সংমিশ্রণ (المخالطة), মিশ্রণ (الخلط) এবং মিশ্রিত হওয়া (الاختلاط)—এদের প্রত্যেকটির বিশেষ অর্থ রয়েছে।
পারস্পরিক সংমিশ্রণ (المخالطة) হলো ‘মুফায়া’লাহ’ (مفاعلة) ওজনের শব্দ যা উভয় অংশীদারের পক্ষ থেকে মিশ্রণ হওয়াকে বুঝায়; আর মিশ্রণ (الخلط) দ্বারা তাদের যেকোনো একজনের পক্ষ থেকে তা ঘটা বুঝায়; এবং মিশ্রিত হওয়া (الاختلاط) হলো মিশ্রণ প্রক্রিয়ার ফলাফল, তা চাই অংশীদারদের কর্মের মাধ্যমে হোক বা তাদের কর্ম ছাড়াই হোক—যেমন কোনো বাহ্যিক কারণে যদি মাল দুটি মিশ্রিত হয়ে যায়।
আল-কামাল ইবনুল হুমাম বলেন: অংশীদারিত্ব (شركة) হলো মানুষের একটি কাজ, আর তার কাজ হলো মিশ্রণ (الخلط); পক্ষান্তরে মিশ্রিত হওয়া (الاختلاط) হলো সম্পদের একটি গুণ যা তাদের কাজের ফলে সাব্যস্ত হয়
(২)।
সুতরাং যারা ‘মিশ্রিত হওয়া’ (الاختلاط) শব্দ দ্বারা এর সংজ্ঞা দিয়েছেন তারা মূলত এর ফলাফল বা প্রভাবকে বিবেচনা করেছেন। কিন্তু যেহেতু অংশীদারিত্ব (شركة) কখনো মূলধনে আবার কখনো লভ্যাংশে হয়ে থাকে, তাই ‘মিশ্রিত হওয়া’ (الاختلاط) শব্দটি ব্যবহার করাই অধিক ব্যাপক। কারণ এটি মিশ্রণের মাধ্যমে হওয়া বা মিশ্রণ ছাড়াই হওয়া—উভয় অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন মুদারাবাহ (مضاربة) এর লভ্যাংশ এবং শারীরিক শ্রমে অংশীদারিত্বের (شركة الأبدان) ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এটি এমন সব বৈধ বস্তুর ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বকেও (شركة) অন্তর্ভুক্ত করে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী থেকে বোঝা যায়: «মানুষ তিনটি বিষয়ে অংশীদার: পানি, চারণভূমি এবং আগুন...»
(৩)। কেননা এখানে কোনো সক্রিয় মিশ্রণ (خلط) সংঘটিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২১)
(ب) تعريفها اصطلاحاً:عرف الفقهاء الشركة بتعريفات مختلفة، فمنهم من عرف الشركة الشاملة لجميع أقسامها، ومنهم من عرف شركة العقد فقط، ومنهم من اقتصر في تعريفه على بعض أنواع شركة العقد، لأنهم لا يرون جواز غير ما تناوله تعريفهم
(1).
وقد اخترت تعريفاً يشمل أنوع الشركات، وهو:
الشركة هي: اجتماع في استحقاق، أو تصرف للكسب
(2). وهذا تعريف الحنابلة بزيادة قيد عليه هو قولنا: للكسب، وتأتي فائدة هذا القيد.
وقد اخترت هذا التعريف، لظني أنه أكثرها شمولاً، لأنواع الشركات، وأقربها تصويراً لحقيقتها.
والمراد بالاستحقاق ثبوت الحق لصاحبه، والمراد بالتصرف ما صدر عن الإنسان ورتب الشارع عليه حكماً، سواءً أكان قولياً، أم فعلياً، وسواءً أكان عقداً، أو غيره، وقولنا للكسب بيان للغرض الذي تعقد الشركة من أجله، وهو طلب الكسب.
وقد أرادوا بالاجتماع في الاستحقاق شركة الملك، سواءً:
(1) كان الملك في الأعيان، والمنافع: كأن يكون بين الرجلين أرض، أو بهائم، ملكوها بالإرث، أو الشراء، أو الهبة، أو الوصية.
(2) أم ملكوا الأعيان دون المنافع، مثل أن يوصي رجل لآخر بمنفعة أرضه، أو داره؛ فيموت ويخلف ورثة؛ فإن رقبة الأرض تكون موروثة للورثة دون المنفعة.
--------------------------------------------
(খ) পারিভাষিক সংজ্ঞা:ফকিহগণ (فقهاء) অংশীদারিত্বের (شركة) বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ অংশীদারিত্বের (شركة) এমন সংজ্ঞা দিয়েছেন যা এর সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, আবার কেউ কেবল চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্বের (شركة العقد) সংজ্ঞা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ তাঁদের সংজ্ঞাকে চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্বের (شركة العقد) কিছু প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, কারণ তাঁরা তাঁদের সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর বৈধতা (جواز) স্বীকার করেন না।
(১)আমি এমন একটি সংজ্ঞা নির্বাচন করেছি যা অংশীদারিত্বের (شركة) সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা হলো:
অংশীদারিত্ব (شركة) হলো: স্বত্বাধিকার (استحقاق) কিংবা লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালনার (تصرف) ক্ষেত্রে একত্রিত হওয়া।
(২) এটি হাম্বলি মাযহাবের সংজ্ঞা, যাতে একটি শর্ত (قيد) বৃদ্ধি করা হয়েছে, আর তা হলো আমাদের বক্তব্য: 'লাভের উদ্দেশ্যে'; এই শর্তের উপযোগিতা সামনে স্পষ্ট হবে।
আমি এই সংজ্ঞাটি বেছে নিয়েছি কারণ আমার ধারণা মতে এটি অংশীদারিত্বের (شركة) প্রকারভেদগুলোর ক্ষেত্রে সর্বাধিক পরিব্যাপ্ত এবং এর প্রকৃত রূপ চিত্রায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকটবর্তী।
এখানে স্বত্বাধিকার (استحقاق) বলতে মালিকের জন্য অধিকার সাব্যস্ত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর পরিচালনা (تصرف) বলতে মানুষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এমন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যার ওপর শরিয়তপ্রণেতা (شارع) কোনো বিধান (حكم) আরোপ করেছেন—তা মৌখিক হোক বা ব্যবহারিক, এবং তা কোনো চুক্তি (عقد) হোক বা অন্য কিছু। আর আমাদের 'লাভের উদ্দেশ্যে' কথাটি অংশীদারিত্ব (شركة) যে উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা হয় তার বর্ণনা, যা হলো মুনাফা অর্জন।
তাঁরা 'স্বত্বাধিকারের ক্ষেত্রে একত্রিত হওয়া' বলতে মালিকানাভিত্তিক অংশীদারিত্ব (شركة الملك) বুঝিয়েছেন, চাই তা:
(১) মূল সম্পদ (أعيان) ও উপযোগ (منافع)—উভয় ক্ষেত্রে মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া: যেমন দুই ব্যক্তির মাঝে কোনো জমি বা গবাদি পশু থাকা, যার মালিকানা তারা উত্তরাধিকার (إرث), ক্রয় (شراء), দান (هبة) বা অসিয়তের (وصية) মাধ্যমে লাভ করেছে।
(২) অথবা তারা কেবল মূল সম্পদের (أعيان) মালিক হওয়া, উপযোগের (منافع) নয়: যেমন কোনো ব্যক্তি অন্য কারো অনুকূলে তার জমি বা ঘরের উপযোগ অসিয়ত (وصية) করল; অতঃপর সে মারা গেল এবং উত্তরাধিকারী রেখে গেল। এক্ষেত্রে জমির মূল মালিকানা (رقبة) উত্তরাধিকারীরা লাভ করবে, কিন্তু তার উপযোগ (منفعة) নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২২)
(3) أم كان الاشتراك في ملك المنافع دون الأعيان، مثل أن يوصي بمنفعة سيارته لجماعة.
(4) أم كان الاشتراك في ملك حقوق الأبدان، مثل أن يرث جماعة قصاصاً، أو حد قذف.
(5) أم كان الاشتراك في حقوق الأموال، كأن يرث جماعة الشفعة، أو الرد بالعيب، أو خيار الشرط، وحقوق الرهن، ومرافق الطريق
(1).
وأرادوا بالاجتماع في التصرف شركة العقد بجميع أنواعها، وهي شركة العنان، والوجوه، والأبدان، والمضاربة، والمفاوضة، و (للكسب) قيد لبيان الغرض من شركة العقد بجميع أنواعها، وهو كسب المال، وقد احترزت به أيضاً عن الوكالة، فيما إذا وُكل وكلين في تصرف من التصرفات، فإنه يصدق عليه أنه اجتماع في تصرف؛ فيخرج بهذا القيد، لأن اجتماع الوكيلين في التصرف ليس لغرض الكسب، بل لغرض التعاون على إنجاز هذا التصرف.
مناقشة ورد:
ناقش الدكتور عبد العزيز الخياط تعريف الحنابلة هذا، وقال فيه: «إنه غير جامع، لأن شركة المضاربة ليست اجتماعاً على التصرف، لأن التصرف من المضارب»
(2).
وقوله: إنه غير جامع، لأنه لا يشمل شركة المضاربة غير مسلم له، لأن عقد الشركة هو اجتماع من الشركاء في التصرف، وتقديم المال من أحدهما، والعمل من الآخر هو تصرف أيضاً، لأن التصرف أعم من أن يكون قولاً، أو فعلاً.
--------------------------------------------
(3) অথবা যদি উপযোগের মালিকানায় (ملك المنافع) অংশীদারিত্ব হয় মূল সম্পদের (الأعيان) ক্ষেত্রে নয়, যেমন কোনো ব্যক্তি একদল লোকের জন্য তার গাড়ির উপযোগ অসিয়ত করল।
(4) অথবা যদি শারীরিক হকের (حقوق الأبدان) মালিকানায় অংশীদারিত্ব হয়, যেমন একদল ব্যক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে কিসাস (قصاص) কিংবা অপবাদের দণ্ড (حد قذف) প্রাপ্ত হওয়া।
(5) অথবা যদি আর্থিক হকের (حقوق الأموال) ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব হয়, যেমন একদল ব্যক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে অগ্রক্রয়াধিকার (الشفعة), অথবা ত্রুটির কারণে ফেরত দেওয়ার অধিকার (الرد بالعيب), অথবা শর্তের ইখতিয়ার (خيار الشرط), বন্ধকী অধিকার (حقوق الرهن) এবং রাস্তার সুবিধাদি (مرافق الطريق) প্রাপ্ত হওয়া
(1)।
এবং তারা 'পরিচালনায় সমবেত হওয়া' (الاجتماع في التصرف) বলতে চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্বের (شركة العقد) সকল প্রকারকে বুঝিয়েছেন; আর সেগুলো হলো ইনান অংশীদারিত্ব (شركة العنان), উজূহ (الوجوه), আবদান (الأبدان), মুদারাবাহ (المضاربة) এবং মুফাওয়াদাহ (المفاوضة)। আর 'উপার্জনের জন্য' (للكسب) শব্দটি চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্বের সকল প্রকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য একটি শর্ত (قيد), আর তা হলো সম্পদ উপার্জন করা। এর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব (الوكالة) বা ওকালতকেও বাদ দেওয়া হয়েছে; যখন কোনো একটি বিষয়ে দু’জন প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়, তখন সেখানেও এটি সত্য হয় যে এটি পরিচালনায় সমবেত হওয়া; তাই এই শর্তের মাধ্যমে তা সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়। কারণ পরিচালনায় দুই প্রতিনিধির সমবেত হওয়া উপার্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সেই কাজটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে হয়।
আলোচনা ও প্রত্যুত্তর:
ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-খাইয়াত হাম্বলি মাযহাবের এই সংজ্ঞাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এতে বলেছেন: "এটি অ-ব্যাপক (غير جامع), কারণ মুদারাবাহ অংশীদারিত্ব (شركة المضاربة) পরিচালনায় সমবেত হওয়া নয়, কেননা পরিচালনা কেবল মুদারিবের (المضارب) পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে"
(2)।
এবং তাঁর এই কথা যে: 'এটি অ-ব্যাপক (غير جامع), কারণ এটি মুদারাবাহ অংশীদারিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে না'—তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ অংশীদারিত্বের চুক্তি হলো অংশীদারদের পক্ষ থেকে পরিচালনায় সমবেত হওয়া; আর তাদের একজনের পক্ষ থেকে সম্পদ প্রদান এবং অন্যজনের পক্ষ থেকে কাজ করাও একটি পরিচালনা (تصرف), কারণ পরিচালনা শব্দটি কথা বা কাজ হওয়ার চেয়েও অধিক ব্যাপক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كما أن الدكتور الخياط قد ناقض نفسه مناقضة شديدة؛ حيث قال قبل قوله هذا بصفحات قلائل عند ما علق على هذا التعريف ما نصه: «وهو تعريف جامع يشمل جميع أنواع الشركات فقوله: الاجتماع في تصرف يشمل شركات العقود جميعاً سواءً أكانت شركات أموال، أو أعمال، أو وجوه، أو أموال وأعمال معاً، كشركات المضاربة»
(1).
--------------------------------------------
ডক্টর খাইয়াত নিজেকে চরমভাবে স্ববিরোধী করেছেন; কারণ তিনি তার এই বক্তব্যের মাত্র কয়েক পৃষ্ঠা আগে এই সংজ্ঞার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: «এটি একটি পূর্ণাঙ্গ (جامع) সংজ্ঞা যা সব ধরনের অংশীদারিত্বকে (شركات) অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তার উক্তি: 'পরিচালনার ক্ষেত্রে একত্র হওয়া' সমস্ত চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্বকে (شركات العقود) অন্তর্ভুক্ত করে, তা মূলধনী অংশীদারিত্ব (شركات أموال), শ্রমভিত্তিক অংশীদারিত্ব (شركات أعمال), সুনামের অংশীদারিত্ব (شركات وجوه), অথবা মূলধন ও শ্রমের যৌথ অংশীদারিত্বই হোক না কেন, যেমন মুদারাবা (المضاربة) অংশীদারিত্ব»
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثانيمشروعيتهاالشركة جائزة شرعاً، فقد وردت السنة النبوية بالتأييد والترغيب للشركاء في الشركة، لما في ذلك من تعاون، وتحقيق مصالح اجتماعية.
قال الشيخ علي الخفيف: «إنها مشروعة، وإنها فوق ذلك مطلوبة على وجه الندب عند الحاجة إليها، إذ جُعلت سبباً، ووسيلة لما يمنحه الله سبحانه وتعالى للشركين من معونة وتوفيق، لأن الله سبحانه وتعالى معهما، وما ظنك باثنين الله ثالثهما»
(1).
وقد جاءت الآيات القرآنية الكريمة، واستفاضت السنة النبوية المطهرة بما يفيد جواز هذا النوع من المعاملات المالية، وقد كانت الشركة معروفة لدى العرب قبل البعثة النبوية، كما كانت معروفة عند كثير من الأمم، فلما جاء الإسلام أقر هذا النوع من المعاملات، مع إلغاء كل ما يخالف الشريعة الإسلامية فيها، ثم تعامل المسلمون بها في مختلف عصورهم، وأجمع عليها العلماء، فهي ثابتة بالقرآن، والسنة، والاجماع.
أما القرآن: فمنه قوله تعالى: {وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ} ص: 24، والخلطاء هم الشركاء، وقوله تعالى: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَجُلًا فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} الزمر: 29. فقد دلت الآية على وجود الشركة في العبد، وهو دليل على جوازها، لأن الله تعالى ضرب هذا المثل، وذكر فيه اشتراك الشركاء في العبد دون أن ينكر عليهم هذه الشركة فيه، وإن وصفهم سبحانه بالمشاكسة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদএর বৈধতাঅংশীদারিত্ব (শারিকাহ) শরয়িভাবে বৈধ। অংশীদারদের পারস্পরিক সমর্থন ও উৎসাহিত করার ব্যাপারে নবীজির সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে; কারণ এতে সহযোগিতা এবং সামাজিক স্বার্থের প্রতিফলন ঘটে।
শায়খ আলী আল-খাফীফ বলেছেন: «এটি শরয়িভাবে বৈধ এবং তদুপরি এটি প্রয়োজনের সময় পছন্দনীয় (مندوب) হিসেবে কাম্য। কেননা একে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কর্তৃক দুই অংশীদারকে প্রদত্ত সাহায্য ও সফলতার (তাওফিকের) মাধ্যম ও উসিলা হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের উভয়ের সাথে থাকেন; আর আপনার ধারণা সেই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে কেমন হতে পারে যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?»
(1)।
পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ এবং নবীজির পবিত্র সুন্নাহর ব্যাপক প্রসিদ্ধ (مستفيضة) বর্ণনা এই ধরনের আর্থিক লেনদেনের বৈধতা প্রমাণ করে। নবুওয়াত-পূর্ব যুগেও আরবদের মাঝে অংশীদারিত্বের প্রথা প্রচলিত ছিল, যেমনটি অন্যান্য অনেক জাতির মাঝেও ছিল। অতঃপর যখন ইসলাম আসলো, তখন এই ধরনের লেনদেনকে অনুমোদন দান করল এবং এর মধ্যকার শরিয়াহ পরিপন্থী সকল বিষয় বাতিল করে দিল। পরবর্তীতে মুসলিমগণ বিভিন্ন যুগে এর চর্চা করেছেন এবং ওলামায়ে কেরাম এর ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। সুতরাং এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত।
কুরআনের দলীল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং নিশ্চয়ই অনেক অংশীদার একে অন্যের ওপর জুলুম করে} (সোয়াদ: ২৪)। এখানে 'খুলাতা' অর্থ হলো অংশীদারগণ। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ একটি উদাহরণ দিচ্ছেন: এক ব্যক্তি যার মালিকানায় রয়েছে পরস্পর বিরোধী একদল অংশীদার এবং আরেক ব্যক্তি যে কেবল একজনের অনুগত; এই দুই ব্যক্তির অবস্থা কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না} (আজ-জুমার: ২৯)। এই আয়াতটি দাসের মালিকানায় অংশীদারিত্বের বিদ্যমানতার প্রমাণ দেয়, যা এর বৈধতার দলীল। কেননা আল্লাহ তাআলা এই উদাহরণটি পেশ করেছেন এবং এতে অংশীদারদের দাসের মালিকানায় অংশীদার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাদের এই অংশীদারিত্বকে অস্বীকার করেননি, যদিও তিনি তাদের ঝগড়াটে হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأدلة من السنة:
تواترت السنة الشريفة قولاً، وتقريراً من الرسول صلى الله عليه وسلم بما يفيد جواز هذا النوع من المعاملات المالية، وفيما يلي بعض الأحاديث الدالة على ذلك:
(1) ما رواه أبو داود من حديث أبي هريرة قال قال: صلى الله عليه وسلم إن الله تعالى يقول: «أنا ثَالِثُ الشَرِيَكيْنِ ما لَمْ يَخُنْ أحدُهُما صاحِبَهُ؛ فإذا خانَ خَرَجْتُ من بَينِهِما»
(1)، وفي بعض النسخ من بينهم.
(2) ما رواه أبو داود، وابن ماجة، والإمام أحمد والحاكم «من حديث السائب ابن أبي السائب قال للنبي صلى الله عليه وسلم: كنتَ شَرِيكِي في الجاهلِيَّةِ، فكنتَ خيرَ شريكٍ؛ لا تُدَارِيِني وَلَا تُمَارِيِنِي»
(2).
وعند أبي داود «لا تداري، ولا تماري» قال الحاكم هذا صحيح الإسناد ولم يخرجاه.
--------------------------------------------
সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও মৌনসম্মতি দ্বারা সুন্নাহে এ জাতীয় আর্থিক লেনদেন বৈধ হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা পরম্পরায় সুপ্রতিষ্ঠিত (متواتر) ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। নিম্নে এর স্বপক্ষে কিছু হাদিস উল্লেখ করা হলো:
(১) আবু দাউদ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আমি ততক্ষণ পর্যন্ত অংশীদারদ্বয়ের তৃতীয়জন থাকি যতক্ষণ তাদের একজন অন্যজনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে। যখন কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমি তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে যাই’।”
(১) কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'তাদের মধ্য থেকে' শব্দবন্ধটি রয়েছে।
(২) আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইমাম আহমদ এবং হাকেম সায়েব ইবনে আবি সায়েব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: “জাহেলি যুগে আপনি আমার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন; আপনি ছিলেন সর্বোত্তম অংশীদার, আপনি আমার সাথে বিরোধ করতেন না এবং বিতর্কও করতেন না।”
(২).
আবু দাউদ-এর বর্ণনায় রয়েছে: “লা তুদারি, ওয়া লা তুমারি (বিরোধ করতে না, বিতর্কও করতে না)।” হাকেম বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد) কিন্তু তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) তা বর্ণনা করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(3) ومن ذلك ما أخرجه الإمام أحمد، والبخاري، ومسلم عن أبي المنهال قال: (اشتريت أنا، وشريك لي شيئاً يداً بيد، ونسيئة؛ فجاءنا البراء بن عازب فسألناه فقال: (فعلت أنا، وشريكي زيد بن أرقم، وسألنا النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال: «ما كان يداً بيد فخذوه، وما كان نسيئة فردوه»
(1).
وفيه إقراره صلى الله عليه وسلم للبراء بن عازب وزيد بن أرقم المذكورين على الاشتراك، وقد ترجم البخاري لهذا الحديث في صحيحه بقوله: (باب الاشتراك في الذهب والفضة).
(4) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أعْتَقَ شِقْصًا له مِنْ عَبْدٍ، أوْ شِرْكًا، أوْ قالَ: نَصِيبًا، وكانَ له ما يَبْلُغُ ثَمَنَهُ بقِيمَةِ العَدْلِ فَهو عَتِيقٌ، وإلَّا فقَدْ عَتَقَ منه ما عَتَقَ»
(2).
وقد ثبت نحوه في الصحيح عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه التصريح منه صلى الله عليه وسلم بالاشتراك في الرقيق.
وقد ترجم البخاري رحمه الله في صحيحه، لحديث ابن عمر، وأبي هريرة المذكورين بقوله: (باب الشركة في الرقيق).
قال صاحب فتح القدير: (ولا شك أن مشروعيتها أظهر ثبوتاً؛ إذ التواتر، والتعامل بها من لدن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهلم جرا متصل، لا يحتاج فيه، لإثبات حديث بعينه
(3).
--------------------------------------------
(৩) এর মধ্যে রয়েছে যা ইমাম আহমাদ, বুখারি এবং মুসলিম আবু আল-মিনহাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমি এবং আমার এক অংশীদার হাতে হাতে এবং বাকিতে কিছু পণ্য ক্রয় করেছিলাম। অতঃপর আমাদের নিকট বারা ইবনে আযিব আসলেন এবং আমরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: (আমি এবং আমার অংশীদার জায়েদ ইবনে আরকাম এটি করেছিলাম এবং আমরা এ ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: «যা হাতে হাতে হয় তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা বাকিতে হয় তা ফিরিয়ে দাও»
(১)।
এতে উল্লিখিত বারা ইবনে আযিব এবং জায়েদ ইবনে আরকামের অংশীদারিত্বের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৌন সম্মতি (إقرار) রয়েছে। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই হাদিসের জন্য অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এই বলে: (স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের অধ্যায়)।
(৪) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো দাসের মধ্য হতে তার নিজের অংশ বা ভাগ মুক্ত করে দেয়—অথবা তিনি বলেছেন: অংশ মুক্ত করে দেয়—আর তার কাছে যদি দাসের নায্য মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ থাকে, তবে সে সম্পূর্ণ মুক্ত বলে গণ্য হবে। অন্যথায় যতটুকু অংশ মুক্ত হয়েছে ততটুকুই মুক্ত হবে»
(২)।
সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এতে ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ব্যাপারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহিহ গ্রন্থে উল্লিখিত ইবনে উমর ও আবু হুরায়রার হাদিসের জন্য শিরোনাম দিয়েছেন: (ক্রীতদাসের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের অধ্যায়)।
ফাতহুল কাদির-এর লেখক বলেন: (নিঃসন্দেহে এর বৈধতা প্রমাণের দিক থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্ট; কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এর সুপ্রসিদ্ধ বর্ণনা (تواتر) এবং এর ওপর আমল প্রচলিত রয়েছে, যার কারণে এর প্রমাণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো একক হাদিসের প্রয়োজন নেই
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الإجماع:
أما الإجماع: فقد حكاه جمهرة من العلماء؛ إذ كان الناس يتعاملون بالشركة من لدن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا من غير نكير
(1). قال ابن قدامة: أجمع المسلمون على جواز الشركة في الجملة)
(2). ولم ينكروها - أي إجماع سكوتي - وأن أحداً من العلماء، لم يخالف في جوازها
(3).
--------------------------------------------
ঐক্যমত (إجماع):
ঐক্যমতের (إجماع) বিষয়টি একদল আলেম বর্ণনা করেছেন; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই অংশীদারি কারবার পরিচালনা করে আসছে
(১)। ইবন কুদামা বলেন: “মুসলিমগণ সামগ্রিকভাবে অংশীদারি কারবারের বৈধতার ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন”
(২)। তারা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি—অর্থাৎ এটি একটি মৌন ঐক্যমত (إجماع سكوتي)—এবং আলেমদের কেউ এর বৈধতার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেননি
(৩)。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثالثأقسام الشركةالشركة تنقسم إلى ثلاثة أقسام هي:
شركة الإباحة، وشركة الملك، وشركة العقد.
أولا: شركة الإباحة: وهي إذن من الشارع في امتلاك أعيان أو منافع المباحات.
وقد شرعها الله تعالى بين الناس في الأمور العامة، التي لا يستغنى عنها، وهي مستفادة من الحديث الشريف «الناس شركاء في ثلاث الماء، والنار، والكلأ»
(1).
ومعنى شركة الإباحة في الحديث هو أن المسلم يمكنه الامتلاك، أو الانتفاع بالأشياء المذكورة في الحديث، بمعنى أن المسلم يملك أن يملك ويملك أن ينتفع.
ومن أنواع الاشتراك في الانتفاع بالمباحات العامة، الاشتراك في الماء، والكلأ، وهو الحشيش والعشب، والنار، والملح، ونحوها، وكذلك الاشتراك في الانتفاع بالمرافق العامة، كالطريق، والمسيل، والمساجد، والأسواق، والحدائق العامة، وغير ذلك.
وشرط الاشتراك في المباحات هو انفكاكها عن الاختصاص.
ثانيا: شركة الملك:ومعناها: أن يملك اثنان فأكثر مالاً، أو منفعة، أو حقاً؛ كحق الشفعة، والقصاص، وحقوق الارتفاق، والخيارات، بسبب من أسباب التملك؛ كالشراء والهبة، والوصية، والإرث، أو اختلاط الأموال بصورة لا تقبل التمييز.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদঅংশীদারিত্বের প্রকারভেদঅংশীদারিত্ব তিন প্রকার, সেগুলো হলো:
অনুমোদিত অংশীদারিত্ব, মালিকানাধীন অংশীদারিত্ব এবং চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্ব।
প্রথমত: অনুমোদিত অংশীদারিত্ব: এটি হলো শরিয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের জন্য বৈধ কোনো বস্তুর মূল সত্তা বা উপযোগের মালিকানা লাভের অনুমতি।
আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে এমন সব সাধারণ ও অপরিহার্য বিষয়ে এটি বিধিবদ্ধ করেছেন যা ছাড়া তাদের জীবন যাপন সম্ভব নয়। এটি এই হাদিস থেকে গৃহীত হয়েছে: «মানুষ তিনটি বিষয়ে অংশীদার: পানি, আগুন ও চারণভূমি»
(১)।
হাদিসে ‘অনুমোদিত অংশীদারিত্ব’-এর অর্থ হলো, একজন মুসলিম হাদিসে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মালিকানা অর্জন করতে পারে বা তা থেকে উপকৃত হতে পারে। অর্থাৎ একজন মুসলিমের সেগুলো নিজের মালিকানায় নেওয়ার এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
সাধারণ অনুমোদিত বিষয়গুলোর উপযোগ লাভে অংশীদারিত্বের প্রকারগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি, চারণভূমি (অর্থাৎ লতাগুল্ম ও ঘাস), আগুন, লবণ এবং এই জাতীয় বিষয়ের অংশীদারিত্ব। একইভাবে জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা যেমন রাস্তা, নালা, মসজিদ, বাজার, পাবলিক পার্ক বা উদ্যান ইত্যাদি থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব।
সাধারণ অনুমোদিত বিষয়গুলোতে অংশীদারিত্বের শর্ত হলো সেগুলো ব্যক্তিগত বিশেষাধিকার থেকে মুক্ত থাকা।
দ্বিতীয়ত: মালিকানাধীন অংশীদারিত্ব:এর অর্থ হলো: দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো সম্পদ, উপযোগ বা অধিকারের মালিক হওয়া; যেমন: প্রাক-ক্রয় করার অধিকার, কিসাস, ব্যবহারের অধিকার এবং পছন্দের অধিকারের (ইখতিয়ার) মালিক হওয়া। এটি মালিকানা লাভের যেকোনো একটি কারণের মাধ্যমে হতে পারে; যেমন: ক্রয়, দান, অসিয়ত, উত্তরাধিকার অথবা সম্পদ এমনভাবে মিশে যাওয়া যা পৃথক করা সম্ভব নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أقسامها:ذهب جمهور الفقهاء إلى أن شركة الملك تنقسم إلى قسمين:
(1) شركة اختيار.
(2) وشركة جبر.
أما شركة الملك الاختيارية فضابطها «أن يرضى الشريكان، أو الشركاء بالشركة»
(1) مثل أن يشتريا شيئاً ليقتسماه، أو ليقتنياه، أي ليس الغرض من الشراء بيعه والاتجار بثمنه، وكأن يوهب لهما، أو يوصى لهما، أو يتصدق عليهما فيقبلا، أو يستوليا على مال، أو يخلطا ماليهما برضاهما
(2).
وأما شركة الجبر فهي: «التي تحصل بغير فعل الشركاء»
(3)، وهذا النوع قد يكون سببه الوراثة؛ كالشركة التي بين الورثة في المال الموروث، وقد يكون سببه الوصية في بعض صورها التي لا تتوقف على القبول؛ كالوصية لحمل انفصل اثنين، وقد يكون سببه اختلاط ماليهما بغير فعلهما.
وفي جميع ذلك كل واحد منهما أجنبي في نصيب الآخر، لا يتصرف فيه، إلاّ بالإذن
(4).
ثالثاً: شركة العقد:شركة العقد: هي إيجاب وقبول بين اثنين، أو أكثر على الاشتراك: أما في المال وربحه، وهذه شركة العنان.
ومثالها: أن يتعاقد اثنان، أو أكثر على أن يدفع كل منهم مقداراً معيناً من المال، لتكوين رأس مال يتجرون فيه، على أن يكون ما ينتج من ربح بينهم على نسبة معينة يتفقون عليها، على أساس مال كل منهم وعمله.
--------------------------------------------
এর প্রকারভেদ:অধিকাংশ ফকিহ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মালিকানাভিত্তিক অংশীদারিত্ব দুই ভাগে বিভক্ত:
(১) ঐচ্ছিক অংশীদারিত্ব।
(২) এবং বাধ্যতামূলক অংশীদারিত্ব।
ঐচ্ছিক মালিকানাভিত্তিক অংশীদারিত্বের মানদণ্ড হলো «উভয় অংশীদার বা সকল অংশীদার এই অংশীদারিত্বে সম্মত হওয়া»
(১); যেমন তারা কোনো বস্তু ক্রয় করল তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেওয়ার জন্য অথবা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে—অর্থাৎ এই ক্রয়ের উদ্দেশ্য তা বিক্রয় করা বা এর মূল্য দিয়ে ব্যবসা করা নয়। অথবা যেমন তাদের কোনো কিছু দান করা হলো, কিংবা তাদের অনুকূলে অসিয়ত করা হলো, অথবা তাদের সদকা প্রদান করা হলো এবং তারা তা গ্রহণ করল; অথবা তারা কোনো সম্পদের মালিকানা লাভ করল কিংবা নিজেদের সম্মতিতে উভয়ের সম্পদ মিশ্রিত করল
(২)।
আর বাধ্যতামূলক অংশীদারিত্ব হলো: «যা অংশীদারগণের কোনো কাজ ছাড়াই অর্জিত হয়»
(৩)। এই প্রকারের কারণ হতে পারে উত্তরাধিকার; যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদে ওয়ারিশদের মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর কারণ হতে পারে অসিয়ত, যা কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে কবুল বা গ্রহণের ওপর নির্ভর করে না; যেমন গর্ভস্থ সন্তানের জন্য অসিয়ত করার পর যদি যমজ সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। আবার অংশীদারগণের কাজ ছাড়াই উভয়ের সম্পদ সংমিশ্রিত হয়ে যাওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।
এই সকল ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকেই অন্যের অংশের ব্যাপারে একজন ভিন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে, তাই অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ তাতে কোনো রূপ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না
(৪)।
তৃতীয়ত: চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্ব:চুক্তিবদ্ধ অংশীদারিত্ব: এটি হলো অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ): হয় মূলধন ও মুনাফার ক্ষেত্রে, আর একেই ইনান অংশীদারিত্ব বলা হয়।
এর উদাহরণ হলো: দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হওয়া যে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে একটি মূলধন গঠনের জন্য যাতে তারা ব্যবসা করতে পারে, এই শর্তে যে এর থেকে অর্জিত মুনাফা তাদের প্রত্যেকের মূলধন ও শ্রমের ভিত্তিতে তাদের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأما على الاشتراك فيما يشترى ويباع وفي ربحه، دون أن يكون هناك رأس مال يتجرون فيه، وهذه هي شركة الوجوه. فشركة الوجوه لا تعتمد على رأس مال معين، إنما يتفق شخصان أو أكثر على أن يأخذوا من التجار بضائع دون أن يدفعوا قيمتها، ثم يبيعوا هذه البضائع على أن يكون الربح من هذه التجارة بينهم.
وهذا النوع من الشركة يعتمد على وجاهة هؤلاء الشركاء، وثقة التجارة بهم، ولذا سميت شركة الوجوه.
وأما أن تكون على الاشتراك في أجر العمل، وتسمى شركة الأعمال، أو الأبدان، أو شركة الصنائع، أو التقبل، مثل أن يتفق أهل حرفة من الحرف، كنجارين على فتح منجرة، لعمل الأبواب ونحوها، وبيعها، وما رزقهم الله فهو بينهم.
وأما أن تكون على الاشتراك في الربح دون الاشتراك في رأس المال، وهذه الشركة تسمى مضاربة، أو قراضاً.
ومثالها: أن يدفع شخص إلى آخر مبلغاً من المال يتجر له فيه، على أن ما يحصل من الربح بينهما حسب ما يشترطانه، كأن يكون لكل واحد منهما النصف، أو لأحدهما الثلث، وللآخر الثلثان، وهكذا أما الخسارة فعلى رأس المال، ولا يتحمل المضارب منها شيئاً.
وأما أن يجمعا بين نوعين، أو أكثر من أنواع الشركة السابقة، ويطلق تصّرف كل شريك فيها من قبل الشركاء الآخرين، وهذه تسمى مفاوضة، مثل أن يجمعوا بين شركة العنان والوجوه، والأبدان.
আর ক্রয়-বিক্রয় এবং এর লভ্যাংশের ক্ষেত্রে এমন অংশীদারিত্ব, যেখানে বিনিয়োগ করার মতো কোনো মূলধন থাকে না, তাকে সামাজিক পরিচিতিনির্ভর অংশীদারিত্ব (شركة الوجوه) বলা হয়। এই সামাজিক পরিচিতিনির্ভর অংশীদারিত্ব (شركة الوجوه) কোনো নির্দিষ্ট মূলধনের ওপর নির্ভর করে না; বরং দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এই মর্মে একমত হন যে, তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো মূল্য পরিশোধ ছাড়াই পণ্য গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তীতে সেই পণ্যগুলো বিক্রয় করবেন, আর এই ব্যবসার লভ্যাংশ তাদের নিজেদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
এই ধরনের অংশীদারিত্ব মূলত এই অংশীদারদের সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের আস্থার ওপর নির্ভর করে, এজন্যই একে সামাজিক পরিচিতিনির্ভর অংশীদারিত্ব (شركة الوجوه) নামকরণ করা হয়েছে।
আর যদি অংশীদারিত্ব কাজের পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে হয়, তবে তাকে শ্রমভিত্তিক অংশীদারিত্ব (شركة الأعمال), দৈহিক শ্রমভিত্তিক অংশীদারিত্ব (الأبدان), কারিগরি অংশীদারিত্ব (شركة الصنائع) অথবা কাজ গ্রহণভিত্তিক অংশীদারিত্ব (التقبل) বলা হয়। যেমন কোনো নির্দিষ্ট পেশার কারিগরগণ—ধরা যাক দুজন কাঠমিস্ত্রি—দরজা বা এই জাতীয় জিনিস তৈরি ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একটি কাঠের দোকান দেওয়ার ব্যাপারে একমত হলেন; এমতাবস্থায় আল্লাহ তাদের যা রিযিক দান করবেন, তা তাদের নিজেদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
আবার কখনো অংশীদারিত্ব কেবল লভ্যাংশের ক্ষেত্রে হয় কিন্তু মূলধনে কোনো অংশীদারিত্ব থাকে না; এই ধরনের অংশীদারিত্বকে মুনাফাভিত্তিক বিনিয়োগ (مضاربة) অথবা কিরাদ (قراض) বলা হয়।
এর উদাহরণ হলো: এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে ব্যবসায় খাটানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করলেন এই শর্তে যে, যা লভ্যাংশ অর্জিত হবে তা তাদের উভয়ের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বণ্টিত হবে। যেমন—উভয়ের জন্য অর্ধেক করে, অথবা একজনের জন্য এক-তৃতীয়াংশ এবং অন্যজনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ইত্যাদি। তবে লোকসান হলে তা মূলধনের ওপর বর্তাবে এবং বিনিয়োগকারী (مضارب) এর কোনো দায়ভার বহন করবেন না।
আবার কখনো পূর্বোক্ত দুই বা ততোধিক প্রকারের অংশীদারিত্ব একত্রিত হতে পারে এবং অন্য অংশীদারদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক অংশীদারকে স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়; একে পূর্ণ কর্তৃত্বভিত্তিক অংশীদারিত্ব (مفاوضة) বলা হয়। যেমন তারা আংশিক পুঁজি ও শ্রমভিত্তিক অংশীদারিত্ব (شركة العنان), সামাজিক পরিচিতিনির্ভর অংশীদারিত্ব (شركة الوجوه) এবং দৈহিক শ্রমভিত্তিক অংশীদারিত্ব (الأبدان) একত্রিত করল।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الثانيأركان الشركة وشروطهاوفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: العاقدان.
المبحث الثاني: الصيغة.
المبحث الثالث: المحل.
المبحث الرابع: شروط الشركة.
দ্বিতীয় অধ্যায়অংশীদারিত্বের রুকন ও শর্তাবলিএতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সিগাহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চুক্তির বিষয়বস্তু।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অংশীদারিত্বের শর্তাবলি।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أركان شركة العقد ثلاثة:
العاقدان، والصيغة، والمحل.
فالعاقدان ركن واحد، والمراد بهما طرفا العقد، أي الموجب والقابل، وإن تعدد الموجب، أو تعدد القابل.
والصيغة: هي الإيجاب والقبول.
والمحل: هو المعقود عليه سواء أكان من المال والعمل، أم كان من العمل فقط، وقد تابعت فيما ذهبت إليه ما ذهب إليه بعض المالكية والشافعية في أركان الشركة؛ حيث قالوا أركان الشركة ثلاثة، العاقدان، والصيغة، والمحل
(1).
وقال بعض المالكية أركان الشركة أربعة: العاقدان، والصيغة، والمحل، فلما ذكروا الثلاثة الأولى باعتبارهم أن العاقدين ركنين اثنين، اتبعوها بالرابع؛ وهو المحل؛ وهو المال، أو العمل
(2)، أو المال والعمل.
وقال بعض الشافعية أركانها خمسة: عاقدان، ومعقود عليه، وعمل، وصيغة
(3).
وقال الحنفية للشركة ركن واحد، وهو الصيغة.
والذي أرتضيه هو ما قدمته أولاً؛ فلم أعدد أركان الشركة بتعدد العاقد؛ فالعاقدان، أو العاقدون ركن واحد. والذين جعلوا العاقدين ركنين يلزمهم أن يجعلوا أركان الشركة ألف ركن إذا كان الشركاء ألف شريك، وهلم جرا.
ومن جعل محل الشركة ركنين (المال، والأعمال) كالشافعية يتخلف قولهم هذا في الشركات التي محلها واحد كشركة الأبدان؛ حيث إن محلها العمل فقط،
--------------------------------------------
চুক্তিভিত্তিক অংশীদারিত্বের (شركة العقد) রুকনসমূহ (أركان) তিনটি:
চুক্তিকারীদ্বয় (العاقدان), শব্দবিন্যাস (الصيغة) এবং বিষয়বস্তু (المحل)।
চুক্তিকারীদ্বয় মূলত একটি রুকন (ركن); এর দ্বারা চুক্তির দুই পক্ষ উদ্দেশ্য, অর্থাৎ প্রস্তাবকারী (الموجب) ও গ্রহণকারী (القابل), যদিও প্রস্তাবকারী বা গ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি হয় না কেন।
শব্দবিন্যাস (الصيغة) হলো: প্রস্তাব (الإيجاب) ও গ্রহণ (القبول)।
বিষয়বস্তু (المحل) হলো: যার ওপর চুক্তি সম্পাদিত হয় (المعقود عليه), তা সম্পদ (المال) ও শ্রম (العمل) উভয়ই হোক কিংবা কেবল শ্রম (العمل) হোক। আমি অংশীদারিত্বের রুকনসমূহের ক্ষেত্রে মালিকি ও শাফিঈ মাজহাবের কতিপয় ফকিহর মত অনুসরণ করেছি; যেখানে তাঁরা বলেছেন যে অংশীদারিত্বের রুকন (أركان) তিনটি: চুক্তিকারীদ্বয় (العاقدان), শব্দবিন্যাস (الصيغة) এবং বিষয়বস্তু (المحل)
(১)।
কোনো কোনো মালিকি ফকিহ বলেছেন যে অংশীদারিত্বের রুকন (أركان) চারটি: চুক্তিকারীদ্বয় (العاقدان), শব্দবিন্যাস (الصيغة) এবং বিষয়বস্তু (المحل)। তাঁরা প্রথম তিনটি উল্লেখ করার সময় চুক্তিকারীদ্বয়কে দুটি রুকন (ركنين) হিসেবে বিবেচনা করেছেন, অতঃপর চতুর্থটি যোগ করেছেন; যা হলো বিষয়বস্তু (المحل)—অর্থাৎ সম্পদ (المال) অথবা শ্রম (العمل)
(২) অথবা সম্পদ ও শ্রম উভয়ই।
জনৈক শাফিঈ ফকিহ বলেছেন এর রুকনসমূহ (أركان) পাঁচটি: চুক্তিকারীদ্বয় (عاقدان), যার ওপর চুক্তি সম্পাদিত হয় (معقود عليه), শ্রম (عمل) এবং শব্দবিন্যাস (صيغة)
(৩)।
হানাফি ফকিহগণ বলেছেন অংশীদারিত্বের রুকন (ركن) মাত্র একটি, আর তা হলো শব্দবিন্যাস (الصيغة)।
আমি যা পছন্দ করি তা হলো যা আমি প্রথমে উল্লেখ করেছি; কেননা আমি চুক্তিকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে অংশীদারিত্বের রুকন নির্ধারণ করিনি; বরং দুই বা ততোধিক চুক্তিকারী মূলত একটি রুকন (ركن)। যারা চুক্তিকারীদ্বয়কে দুটি রুকন হিসেবে গণ্য করেন, অংশীদার এক হাজার জন হলে তাদের মতে অংশীদারিত্বের রুকনও এক হাজারটি হতে হবে, আর এভাবেই বিষয়টি চলতে থাকবে।
আর যারা শাফিঈদের মতো অংশীদারিত্বের বিষয়বস্তুকে দুটি রুকন (সম্পদ ও শ্রম) হিসেবে গণ্য করেন, তাদের এই কথাটি সেই সব অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না যেখানে বিষয়বস্তু কেবল একটি, যেমন শারীরিক অংশীদারিত্ব (شركة الأبدان); কেননা সেখানে বিষয়বস্তু কেবল শ্রম (العمل)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ويعتذر لهم بأنهم لا يجيزون شركة الأبدان، فلا يرد عليهم هذا الإيراد، ولكن يقال للشافعية إن كلاً من المال والعمل معقود عليه في شركة العنان التي حصرتم الشركة الجائزة فيها؛ فلا وجه عندكم لاعتبار العمل ركناً لوحده؛ إذ لا يتأتى ذلك في أي شركة تجيزونها. ولكنه ركن لوحده في شركة الأبدان عند من يجيزها.
أما الحنفية فقد اقتصروا على الصيغة اعتقاداً منهم بأن كلاً من العاقدين والمحل يفهم بطريق الالتزام، ولكن الالتزام لا يكفي في مقام بيان الأركان، على أن صاحب البدائع من الحنفية صرح بهذه الأركان في عقد البيع.
فالراجح أن الصيغة إحدى الأركان، وليست هي وحدها الركن.
তাদের পক্ষ থেকে এই ওজর পেশ করা হয় যে, তারা শারীরিক শ্রমের অংশীদারিত্ব (شركة الأبدان) বৈধ মনে করেন না; তাই তাদের বিরুদ্ধে এই আপত্তি উত্থাপিত হয় না। তবে শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলা হয় যে, মূলধন ও শ্রম—উভয়ই ইনান অংশীদারিত্বের (شركة العنان) চুক্তিকৃত বিষয়, যার মধ্যে আপনারা বৈধ অংশীদারিত্বকে সীমাবদ্ধ করেছেন। সুতরাং আপনাদের নিকট শ্রমকে এককভাবে রোকন (ركن) হিসেবে গণ্য করার কোনো অবকাশ নেই; কারণ আপনারা যে সকল অংশীদারিত্ব বৈধ করেন, তার কোনোটিতেই এটি সম্ভব নয়। তবে যারা শারীরিক শ্রমের অংশীদারিত্ব (شركة الأبدان) বৈধ মনে করেন, তাদের নিকট এটি একটি স্বতন্ত্র রোকন (ركن)।
অন্যদিকে হানাফি মাজহাবের অনুসারীরা কেবল প্রস্তাব ও কবুলের (الصيغة) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এই বিশ্বাসে যে, চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয় এবং চুক্তির বিষয়বস্তু—উভয়ই আবশ্যিক অনুধাবনের (الالتزام) মাধ্যমে বোঝা যায়। কিন্তু রোকনসমূহ (الأركان) বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবল আবশ্যিক অনুধাবনই (الالتزام) যথেষ্ট নয়; যদিও হানাফিদের মধ্যে বাদায়িউস সানায়ে গ্রন্থের লেখক ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে এই রোকনসমূহ (الأركان) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং অগ্রগণ্য মত (الراجح) হলো, প্রস্তাব ও কবুল (الصيغة) রোকনসমূহের অন্যতম একটি, এবং এটিই একমাত্র রোকন (الركن) নয়।
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المبحث الأولالعاقدانذكرنا أن الركن الأول لعقد الشركة هو (العاقدان) الموجب والقابل، ويمكن أن يكون أطراف الشركة أكثر من اثنين، وشرط العاقدين الأهلية.
الأهلية:
لكي يمكن للإنسان أن يباشر عقد الشركة بدون حاجة إلى إذن الولي، يجب أن تتوفر له أهلية الأداء الكاملة.
وأهلية الأداء (هي صلاحية الإنسان لصدور الأفعال، والأقوال منه على وجه يعتد به شرعاً) وتتوقف عليها سائر المعاملات القولية، والتكاليف الشرعية
(1).
وقد اتفق الفقهاء على أن الشروط في أهلية عاقد الشركة هي أن يملك أهلية التوكيل والتوكل، لأن كلاً منهما وكيل عن الآخر
(2).
وزاد الحنفية في شركة المفاوضة، أن يكون للشركاء أهلية الكفالة
(3). وأهلية الوكالة تتحقق عند الحنابلة والمالكية، والشافعية، والحنفية بصحة التصرف؛ فكل من صحح تصرفه في شيء بنفسه صح، أن يوكل فيه
(4). ولكن صحة التصرف تختلف عند الشافعية عن غيرهم من المذاهب الأخرى.
والشروط التي يجب توفرها في عاقد الشركة، لكي يكون أهلاً لذلك، هي ما يلي:
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদচুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়আমরা উল্লেখ করেছি যে, অংশীদারিত্ব চুক্তির প্রথম স্তম্ভ বা রুকন হলো 'চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়' (العاقدان)—অর্থাৎ যারা প্রস্তাব ও গ্রহণ সম্পন্ন করে। অংশীদারিত্বের পক্ষসমূহ দুইয়ের অধিক হওয়া সম্ভব এবং চুক্তি সম্পাদনকারীদ্বয়ের শর্ত হলো সক্ষমতা (أهلية)।
সক্ষমতা (أهلية):
কোনো ব্যক্তির জন্য অভিভাবকের (ওলি) অনুমতি ব্যতিরেকে অংশীদারিত্বের চুক্তিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করা সম্ভব হওয়ার জন্য তার পূর্ণ কর্মসম্পাদনের যোগ্যতা (أهلية الأداء) থাকা আবশ্যক।
আর কর্মসম্পাদনের যোগ্যতা (أهلية الأداء) হলো— মানুষের এমন সক্ষমতা যার ফলে তার কাজ ও কথা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য পন্থায় প্রকাশিত হয়। এর ওপর যাবতীয় বাচনিক লেনদেন এবং শরয়ি বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা (তাকলিফ) নির্ভরশীল
(১)।
ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, অংশীদারিত্বের চুক্তি সম্পাদনকারীর যোগ্যতার ক্ষেত্রে শর্ত হলো— তার প্রতিনিধিত্ব প্রদান (توكيل) এবং প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ (توكل)-এর সক্ষমতা থাকা; কারণ তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের প্রতিনিধি (وكيل)
(২)।
হানাফিগণ মুফাওয়াদাহ অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত দিয়েছেন যে, অংশীদারদের জামিনদার হওয়ার যোগ্যতা (أهلية الكفالة) থাকতে হবে
(৩)। হাম্বলি, মালিকি, শাফেয়ি এবং হানাফিদের মতে প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা (أهلية الوكالة) বৈধ ব্যবস্থাপনার (صحة التصرف) মাধ্যমে অর্জিত হয়; সুতরাং যে ব্যক্তির নিজের কোনো বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো কাজ পরিচালনা করা বৈধ, সে বিষয়ে তার জন্য অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করাও বৈধ
(৪)। তবে শাফেয়ি মাযহাবে বৈধ ব্যবস্থাপনার (صحة التصرف) বিষয়টি অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় ভিন্ন।
অংশীদারিত্বের চুক্তিতে সম্পাদনকারী হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হওয়ার জন্য যে শর্তগুলো থাকা আবশ্যক, তা নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
أولاً: العقل:
يشترط في العاقد، أن يكون صحيح العقل؛ فعقد المجنون لا يصح بالإجماع.
المعتوه:
اختلوا في تفسير المعتوه، وأحسن ما قيل فيه: هو من كان قليل الفهم مختلط الكلام، فاسد التدبير، إلاّ أنه لا يضرب، ولا يشتم كما يفعل المجنون، وحكم المعتوه حكم الصبي المميز كما يأتي
(1).
ثانياً: البلوغ:
اتفق الفقهاء على أنه يشترط في أهلية الشريك، لمباشرته عقد الشركة، ولنفاذ ذلك العقد دون إذن ولي، أن يكون العاقد بالغاً
(2)، أما إذا لم يكن بالغاً، لكنه مميز؛ فقد ذهب الجمهور أبو حنفية، ومالك، وأحمد إلى أن عقده صحيح إلاّ أنه يشترط لنفاذه إذن الولي
(3)، واستثنى الحنفية شركة المفاوضة؛ فلم يجيزوا عقده لها؛ حيث إنها مبنية عندهم على الكفالة والوكالة، والصبي ليس من أهل الكفالة
(4).
وقال الشافعية: لا يصح شيء من تصرفاته، إلاّ بعد البلوغ
(5)، أما الصبي الذي لم يميز؛ فقد اتفق الفقهاء على أن عقده غير صحيح.
--------------------------------------------
প্রথমত: বুদ্ধি:
চুক্তি সম্পাদনকারীর জন্য সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া শর্ত; কারণ উন্মাদের চুক্তি সর্বসম্মতিক্রমে সহিহ (صحيح) হয় না।
নির্বোধ:
‘মাতুহ’ বা নির্বোধের সংজ্ঞায় আলেমগণ মতভেদ করেছেন, এবং এই বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম যা বলা হয়েছে তা হলো: সে এমন ব্যক্তি যার বোধশক্তি সামান্য, কথাবার্তা অসংলগ্ন এবং ব্যবস্থাপনা ত্রুটিপূর্ণ, তবে সে উন্মাদের মতো মারধর বা গালিগালাজ করে না। নির্বোধের বিধান হলো সমঝদার শিশুর বিধানের ন্যায়, যা সামনে আসছে
(1)।
দ্বিতীয়ত: বালেগ হওয়া:
ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, অংশীদারিত্বের চুক্তিতে সরাসরি অংশগ্রহণের যোগ্যতার জন্য এবং অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত সেই চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য চুক্তি সম্পাদনকারীকে বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হতে হবে
(2)। তবে যদি সে বালেগ না হয় কিন্তু সমঝদার হয়, তবে জুমহুর আলেম তথা আবু হানিফা, মালিক এবং আহমদ এই মত পোষণ করেছেন যে, তার চুক্তি সহিহ (صحيح) হবে, তবে তা কার্যকর হওয়ার জন্য অভিভাবকের অনুমতি শর্ত
(3)। হানাফীগণ ‘শিরকাতে মুফাওয়াদা’-কে এর ব্যতিক্রম ধরেছেন; তারা শিশুর জন্য এই চুক্তিকে বৈধ বলেননি, কারণ তাদের নিকট এই চুক্তি জামিনদারি ও প্রতিনিধিত্বের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, আর শিশু জামিনদার হওয়ার যোগ্য নয়
(4)।
শাফেয়ীগণ বলেছেন: বালেগ হওয়ার পূর্বে তার কোনো লেনদেনই সহিহ (صحيح) হবে না
(5)। আর যে শিশু সমঝদার নয়, তার চুক্তি যে সহিহ (صحيح) নয়, সে ব্যাপারে ফকিহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثالثاً: الرشد:
البلوغ وحده لا يكفي لمباشرة البالغ عقد الشركة بنفسه؛ فيجب أن يضاف إلى ذلك شرط آخر هو كون العاقد رشيداً، قال تعالى: {حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} النساء: 6.
والرشد: ضد السفه، «وهو الصلاح في المال لا غير»
(1)، وهو قول جمهور العلماء، وقال بعض الشافعية: «هو الصلاح في المال والدين»
(2)، والمختار هو رأي جمهور العلماء، لقوله تعالى: {فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} النساء: 6، قال ابن عباس رضي الله عنه: «يعني صلاحاً في أموالهم»
(3).
والرشيد: هو من يتصرف تصرفاً لا يغبن فيه غالباً، مع تدبير ماله بحكمة وسداد، ووضع الأمور في مواضعها.
ويمكن معرفة الرشد بالتمرين على البيع والشراء؛ فإذا عرفت مهارته؛ فهو رشيد، وهذا هو الاختبار المذكور في الآية الكريمة بالابتلاء {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى}.
والرشد ليست له سن معينة، ولكن لا يكون إلاّ بعد البلوغ؛ حيث إن المعاملات المالية المعاصرة، لا سيما الشركات أصبحت من الضخامة في رؤوس الأموال، وفي عدد الشركاء مع تعذر معرفة ما إذا كان الشريك رشيداً أم غير رشيد، مما يستدعى الاحتياط في معرفة رشد الشريك، ولا يتسنى ذلك إلا بوجود سن معينة يستأنس بها، لمعرفة الرشد إذا لم يتبين خلافه، وهذه السن يعتبر صاحبها رشيداً غالباً، ونرجح أن تكون الثامنة عشرة للذكر والأنثى، لما رأينا
--------------------------------------------
তৃতীয়: বিচক্ষণতা (رشد):
কেবলমাত্র সাবালকত্ব (بلوغ) একজন সাবালকের জন্য নিজে অংশীদারিত্বের চুক্তি (عقد الشركة) সম্পাদন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়; বরং এর সাথে অন্য একটি শর্ত যোগ করা আবশ্যক, তা হলো চুক্তি সম্পাদনকারীকে বিচক্ষণ (رشيد) হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়, অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিচক্ষণতা (رشد) লক্ষ্য করো, তবে তাদের সম্পদ তাদের নিকট সমর্পণ করো} সূরা আন-নিসা: ৬।
বিচক্ষণতা (رشد) হলো নির্বুদ্ধিতা (سفه)-এর বিপরীত, "তা কেবল সম্পদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জন করা"
(১), আর এটি জমহুর ওলামায়ে কেরামের (جمهور العلماء) অভিমত। জনৈক শাফেয়ী (شافعية) আলিম বলেন: "তা হলো সম্পদ ও দ্বীন উভয় ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া"
(২)। এক্ষেত্রে জমহুর ওলামায়ে কেরামের (جمهور العلماء) মতটিই গ্রহণযোগ্য (المختار), কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিচক্ষণতা (رشد) লক্ষ্য করো, তবে তাদের সম্পদ তাদের নিকট সমর্পণ করো} সূরা আন-নিসা: ৬। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "অর্থাৎ তাদের সম্পদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা"
(৩)।
বিচক্ষণ (رشيد) ব্যক্তি হলেন তিনি, যার লেনদেনে সাধারণত প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, এবং যিনি প্রজ্ঞা ও সঠিক লক্ষ্যসহকারে সম্পদ পরিচালনা করেন এবং বিষয়সমূহকে যথাস্থানে প্রয়োগ করেন।
ক্রয়-বিক্রয়ের অনুশীলনের মাধ্যমে বিচক্ষণতা (رشد) সম্পর্কে জানা সম্ভব। যখন তার দক্ষতা প্রতীয়মান হবে, তখন সে বিচক্ষণ (رشيد) হিসেবে গণ্য হবে। আর এটিই পবিত্র আয়াতে উল্লেখিত পরীক্ষা (ابتلاء)-এর বিষয়, যেখানে বলা হয়েছে: "আর তোমরা ইয়াতীমদের পরীক্ষা করো।"
বিচক্ষণতা (رشد)-এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, তবে তা অবশ্যই সাবালকত্বের (بلوغ) পরে হতে হবে। সমসাময়িক আর্থিক লেনদেনসমূহ (المعاملات المالية المعاصرة), বিশেষ করে অংশীদারিত্বের কারবারগুলো মূলধনের বিশালতা এবং অংশীদারদের আধিক্যের কারণে কোনো অংশীদার বিচক্ষণ (رشيد) কি না তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অংশীদারের বিচক্ষণতা (رشد) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আর এটি একটি নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করা ছাড়া সম্ভব নয়, যার মাধ্যমে বিচক্ষণতা (رشد) সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় যদি এর বিপরীত কিছু প্রকাশ না পায়। এই বয়সে উপনীত ব্যক্তিকে সাধারণত বিচক্ষণ (رشيد) হিসেবে গণ্য করা হয়। আমরা নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে আঠারো বছর বয়স হওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছি, যা আমরা দেখেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الغالب في كثير منهم الرشد والنضج في هذه السن، لا قبلها، وذلك بناءً على ما نشاهده في شباب المجتمع في هذا العصر
(1).
وإذا كان الشخص غير رشيد بأن بلغ وما زال سفيهاً، أو حكم عليه بالسفه، فلا ينفذ عقده ما دام كذلك حتى يؤنس منه الرشد، أو يحكم برشده، ولو كان شيخاً، وهذا هو رأي جمهور الفقهاء منهم الإمام أحمد، ومالك، وأبو يوسف، ومحمد
(2).
وقال الشافعي: لا يصح عقده ما دام صبياً، أو سفهياً
(3).
قال تعالى: {وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا} النساء: 5، وأضيفت الأموال إلى الأولياء، لأنهم قوامون عليها، وقال تعالى: {حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} النساء: 6، فيلزم من النهي عن دفع المال إليه قبل رشده عدم نفاذ تصرفاته، أو بطلانها على اختلاف الرأيين.
وقال أبو حنيفة: إذا بلغ السفيه خمساً وعشرين سنة رفع عنه الحجر، ونفذ تصرفه، لأنه أصبح جداً، ولأن في منعه من عقد العقود ضرراً معنوياً يفوق ضرره المادي
(4).
والراجح مذهب الجمهور لظاهر قوله تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ} النساء: 6، ولقوله تعالى: {وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ}.
--------------------------------------------
অনেকের ক্ষেত্রে এই বয়সে পরিপক্বতা (رشد) ও পূর্ণতা আসাটাই স্বাভাবিক, এর আগে নয়; আর এটি বর্তমান যুগের সমাজের যুবকদের মাঝে আমরা যা প্রত্যক্ষ করি তার ওপর ভিত্তি করে
(১)।
যদি কোনো ব্যক্তি অপরিণত হয় অর্থাৎ সে বয়ঃপ্রাপ্ত হলো অথচ তখনও নির্বোধ (سفيه) রয়ে গেল, অথবা তার ওপর নির্বুদ্ধিতার (سفه) রায় দেওয়া হলো, তবে সে যতক্ষণ এই অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ তার চুক্তি কার্যকর হবে না যতক্ষণ না তার মধ্যে পরিপক্বতা (رشد) পরিলক্ষিত হয় অথবা তার পরিপক্বতার (رشد) ফয়সালা দেওয়া হয়, যদিও সে বৃদ্ধ হয়। আর এটিই ইমাম আহমদ, মালিক, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদসহ অধিকাংশ ফকিহগণের মত
(২)।
ইমাম শাফিঈ বলেন: যতক্ষণ সে বালক অথবা নির্বোধ (سفيه) থাকে, ততক্ষণ তার চুক্তি বৈধ হবে না
(৩)।
মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা নির্বোধদের (سفهاء) হাতে তোমাদের সেই সম্পদ তুলে দিও না, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনযাত্রার অবলম্বন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন" (আন-নিসা: ৫)। এখানে সম্পদকে অভিভাবকদের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, কারণ তারাই এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকারী। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়; অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে পরিপক্বতা (رشد) লক্ষ্য করো, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে ফিরিয়ে দাও" (আন-নিসা: ৬)। সুতরাং পরিপক্বতা (رشد) আসার পূর্বে তাকে সম্পদ প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, তার কার্যাবলি কার্যকর হবে না অথবা বাতিল বলে গণ্য হবে—উভয় মতের ভিন্নতা অনুযায়ী।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: যখন কোনো নির্বোধ (سفيه) পঁচিশ বছরে পৌঁছাবে, তখন তার ওপর থেকে আইনি বিধি-নিষেধ (الحجر) প্রত্যাহার করা হবে এবং তার কার্যক্রম কার্যকর হবে; কারণ সে পিতামহ হওয়ার বয়সে পৌঁছেছে এবং তাকে চুক্তি সম্পাদনে বাধা দেওয়ার মধ্যে এমন মানসিক ক্ষতি রয়েছে যা তার আর্থিক ক্ষতির চেয়েও গুরুতর
(৪)।
আর অধিকাংশের মতটিই অগ্রগণ্য (الراجح), কারণ মহান আল্লাহর বাণীর প্রকাশ্য অর্থ: "আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়; অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে পরিপক্বতা (رشد) লক্ষ্য করো, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে ফিরিয়ে দাও" (আন-নিসা: ৬)। এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তোমরা নির্বোধদের (سفهاء) হাতে তোমাদের সম্পদ তুলে দিও না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারিকাতুল আকদি ফিশ শারইল ইসলামি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قوله تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى} معناه اختبروهم بالبيع والشراء، وغيرهما، وهو يدل على صحة عقودهم وتوقفها على إجازة الولي، ودليل عدم النفاذ قوله تعالى: {فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا} النساء: 6؛ فمفهومه عدم الدفع قبل إيناس الرشد، وهو يستلزم توقف التصرفات؛ إذا لو نفذت لما كانت هناك فائدة للمنع من دفع الأموال إليهم الثابت من هذه الآية بالمفهوم، والثابت بالمنطوق من قوله تعالى: {وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ}.
رابعاً: الحرية:
يشترط في عاقد الشركة أن يكون حراً، أو مأذوناً له، فعقد العبد لا ينفذ إلاّ بإذن سيده، وهو مذهب الأئمة الأربعة
(1).
خامساً: ألا يكون مفلساً:
يشترط في عاقد الشركة لنفاذ عقده، ألا يكون محكوماً عليه بالحجر للفلس.
والمفلس شرعاً: من لزمته ديون حالة لا يفي ماله بها
(2).
وقال الصاحبان: هو من دينه مساو لماله أو أزيد
(3). وسمي مفلساً وإن كان ذا مال، لأن ماله مستحق الصرف في جهة دينه، فكأنه معدوم، أو باعتبار ما يؤول إليه من أنه يصير لا مال له بعد وفاء دينه، وقيل بمعنى أن ماله أصبح فلوساً بعد أن كان ذا دراهم ودنانير، والفلوس جمع فلس، وهي أقل أنواع النقد قيمة كالهللة؛ والمليم، والبنس، والبيزة.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো} এর অর্থ হলো ক্রয়-বিক্রয় এবং অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে তাদের যাচাই করো। এটি তাদের চুক্তির বৈধতা এবং অভিভাবকের অনুমতির ওপর তা স্থগিত থাকার প্রমাণ বহন করে। চুক্তি কার্যকর (نفاذ) না হওয়ার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিবেচনাবোধ দেখতে পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের কাছে ফিরিয়ে দাও} (আন-নিসা: ৬); এর নিহিতার্থ (مفهوم) হলো সঠিক বুদ্ধি বা বিবেচনাবোধ পাওয়ার আগে সম্পদ ফিরিয়ে না দেওয়া, যা তাদের লেনদেন স্থগিত রাখাকে আবশ্যক করে; কারণ যদি তা কার্যকর (نفاذ) হতো, তবে এই আয়াতের নিহিতার্থ (مفهوم) থেকে সাব্যস্ত হওয়া এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সম্পদ তুলে দিও না} এর সুস্পষ্ট ভাষ্য (منطوق) থেকে প্রমাণিত তাদের কাছে সম্পদ হস্তান্তরের নিষেধাজ্ঞার কোনো কার্যকারিতা থাকত না।
চতুর্থত: স্বাধীনতা:
অংশীদারি চুক্তিতে অংশগ্রহণকারীর জন্য শর্ত হলো তাকে স্বাধীন হতে হবে অথবা অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে। সুতরাং দাসের চুক্তি তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত কার্যকর (نفاذ) হয় না এবং এটিই চার ইমামের মাযহাব
(১)।
পঞ্চমত: দেউলিয়া (مفلس) না হওয়া:
অংশীদারি চুক্তি কার্যকর (نفاذ) হওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীর ওপর শর্ত হলো, দেউলিয়া (فلس) হওয়ার কারণে তার ওপর যেন আইনি নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপ করা না হয়।
শরয়ি পরিভাষায় দেউলিয়া (مفلس) হলো এমন ব্যক্তি, যার ওপর এমন তাৎক্ষণিক ঋণ রয়েছে যা তার বিদ্যমান সম্পদ দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়
(২)।
সাহেবাইন (الصاحبان) বলেছেন: যার ঋণ তার সম্পদের সমান অথবা তার চেয়ে বেশি, সেই দেউলিয়া
(৩)। তাকে দেউলিয়া (مفلس) বলা হয় যদিও সে সম্পদের অধিকারী, কারণ তার সম্পদ ঋণের খাতে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত, ফলে তা যেন অবর্তমান। অথবা পরিণতির বিবেচনায় তাকে এই নাম দেওয়া হয়েছে যে, ঋণ পরিশোধের পর সে নিঃস্ব হয়ে যাবে। আবার বলা হয়েছে যে, তার অর্থ দিরহাম ও দিনার থাকার পর এখন তা তুচ্ছ মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ‘ফুলুস’ হলো ‘ফিলস’ (فلس) শব্দের বহুবচন, যা মুদ্রার সর্বনিম্ন মানকে বোঝায়; যেমন: হালালা, মালিম, পেন্স বা পয়সা।
--------------------------------------------