(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: -)
السلفيون والأئمة الأربعة - رضي الله عنهم - القسم: كتب عامة
الكتاب: السلفيون والأئمة الأربعة - رضي الله عنهم -
المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الخالق اليوسف
الناشر: الدار السلفية، الكويت
الطبعة: الثانية، 1398 هـ - 1978 م
عدد الصفحات: 52
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাফিগণ এবং চার ইমাম - আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন - বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
বই: সালাফিগণ এবং চার ইমাম - আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন -
লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল খালিক আল-ইউসুফ
প্রকাশক: আদ-দার আস-সালাফিয়্যাহ, কুয়েত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৮ হিজরি - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: -)
السلفيون والأئمة الأربعة
رضي الله عنهم
সালাফিগণ এবং চার ইমাম
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، أحمده سبحانه، وأشهد أن لا إله إلا هو، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، الداعي إلى صراط ربه، والذي قال [تركتكم على البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك] (رواه ابن ماجة 43، وأحمد (126: 4)) وأسأله تعالى، أن يهدينا الصراط المستقيم، صراط الذين أنعم عليهم، من النبيين، والصديقين، والشهداء، والصالحين. .
وبعد، فإن المسلمين اليوم، في أمس الحاجة إلى الاجتماع على كلمة واحدة، ولا يمكن أن يحصل لهم ذلك إلا إذا اجتمعت كلمتهم على الكتاب والسنة عقيدة وتشريعاً وسلوكاً وإن الدعوة إلى الكتاب والسنة، تصطدم بتحجر المقلدين، الذين يظنون أن في الدعوة إلى الكتاب والسنة، وتوحيد الفقه والتشريع، تنقيصاً من شأن الأئمة الأربعة رضي الله عنهم أو انتقاصاً لهم، ولذلك يقومون بالتشويش على دعوة الكتاب والسنة، زاعمين أنها دعوة لإلغاء الفقه، وفتح باب التخرصات في الدين، وهذه الرسالة الميسرة المباركة -إن شاء الله- بيان لحقيقة الدعوة
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি তাঁর প্রতিপালকের সরল পথের দিকে আহ্বানকারী এবং যিনি বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল ও শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি যার রাতও দিনের ন্যায় পরিষ্কার। আমার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না।" (ইবনে মাজাহ ৪৩, আহমাদ ৪:১২৬)। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন; তাঁদের পথ যাঁদের ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ (صديقين), শহীদগণ এবং সৎকর্মশীল (صالحين) বান্দাগণ।
অতঃপর, বর্তমান সময়ে মুসলমানগণ এক আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চরম মুখাপেক্ষী। আর এটি ততক্ষণ অর্জন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আকিদাহ (عقيدة), শরিয়ত ও আচরণের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর তাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর দাওয়াত সেই সব অন্ধ অনুসারীদের গোঁড়ামির সম্মুখীন হচ্ছে, যারা ধারণা করে যে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানানো এবং ফিকহ ও আইন ব্যবস্থাকে একক মূলনীতির ওপর সংহত করা চার ইমামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদাহানি বা তাঁদের অবমাননার শামিল। এ কারণেই তারা কুরআন ও সুন্নাহর দাওয়াতের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং দাবি করে যে এটি ফিকহ শাস্ত্রকে বিলুপ্ত করার এবং দ্বীনের ব্যাপারে অনুমাননির্ভর মনগড়া কথা বলার পথ উন্মুক্ত করার একটি দাওয়াত। ইনশাআল্লাহ, এই সহজবোধ্য ও বরকতময় পুস্তিকাটি সেই দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৬)
السلفية في أمر الاجتهاد والتشريع، وبيان موقف السلفيين الحق من الأئمة الأربعة رضي الله عنهم، والله نسأل أن ينفع بها إخواننا المسلمين وأن يتقبلها منا إنه هو السميع العليم.
عبد الرحمن عبد الخالق
الكويت 11من رجب سنة 1397هـ
ইজতিহাদ (اجتهاد) ও শরিয়ত প্রণয়নের (تشريع) বিষয়ে সালাফিয়াত এবং চার ইমামের (رضي الله عنهم) প্রতি প্রকৃত সালাফিদের অবস্থানের বর্ণনা; আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে আমাদের মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আব্দুর রহমান আব্দুল খালিক
কুয়েত, ১১ই রজব, ১৩৯৭ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৭)
حاجتنا إلى الاجتهاديقسم العلماء العلم الذي جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم من ربه إلى ثلاثة أقسام: قسم إخباري وهو يتعلق بأمور الغيب والآخرة كصفات الله سبحانه وأعماله، والرسالات والملائكة، والجنة والنار والحساب وغير ذلك مما يدخل في مسائل الغيب والإيمان.
وقسم يتعلق بالأعمال وهو التشريع والأعمال التي كلفنا بها فمنها ما يتعلق بالصلة بين العبد وربه فتسمى العبادات وأعظمها الصلاة والصوم والزكاة والحج، ومنها ما يتعلق بين الناس بعضهم مع بعض كالزواج والطلاق والبيع، والهبة والميراث وهكذا كافة الشئون المالية والسياسية. . الخ، وقسم آخر يتعلق بالكمال الإنساني وهو الأخلاق والتزكية وهذا القسم يتعلق بكلا القسمين الآنفين فهو من ناحية عمل قلبي، فسلامة الصدر من الغل والحسد خلق، وهو من ناحية ثانية عمل ظاهري تشريعي، فالسماحة والبذل والشجاعة وإكرام الضيف وما إلى ذلك أعمال ظاهرية.
والقسم الأول العقائد لا يدخله التغيير ولا التبديل ولا
ইজতিহাদের (اجتهاد) প্রয়োজনীয়তারাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবের পক্ষ থেকে যে ইলম (علم) নিয়ে এসেছেন, উলামায়ে কেরাম তাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: একটি হলো সংবাদমূলক (إخباري) বিভাগ, যা অদৃশ্য (غيب) ও পরকাল সংক্রান্ত বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন: মহান আল্লাহর গুণাবলী (صفات) ও তাঁর কার্যাবলী, রিসালাত (رسالات), ফেরেশতাগণ (ملائكة), জান্নাত, জাহান্নাম, হিসাব এবং ঈমান (إيمان) ও গায়িবের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয়াদি।
দ্বিতীয়টি আমল বা কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা হলো শরীয়াহ (تشريع) এবং ঐসব কার্যাবলী যা পালনের জন্য আমাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিষয় বান্দা ও তার রবের মধ্যকার সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট, যাকে ইবাদত (عبادات) বলা হয়; যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নামাজ (صلاة), রোজা (صوم), যাকাত (زكاة) এবং হজ (حج)। আর কিছু বিষয় মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন: বিবাহ (زواج), তালাক (طلاق), ক্রয়-বিক্রয় (بيع), দান (هبة) এবং উত্তরাধিকার (ميراث); এভাবেই যাবতীয় আর্থিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি ইত্যাদি। অন্য একটি বিভাগ মানবীয় পূর্ণতা সংশ্লিষ্ট, যা হলো চরিত্র (أخلاق) ও আত্মশুদ্ধি (تزكية)। এই বিভাগটি পূর্বোক্ত উভয় বিভাগের সাথেই সম্পর্কযুক্ত। কেননা এটি একদিক থেকে অন্তরের আমল (عمل قلبي); যেমন বিদ্বেষ ও হিংসা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখা একটি চরিত্র। আবার অন্যদিক থেকে এটি বাহ্যিক শরয়ী আমল (عمل ظاهري) হিসেবে গণ্য; যেমন উদারতা, দানশীলতা, সাহসিকতা, মেহমানদারি ও এজাতীয় অন্যান্য বাহ্যিক কার্যাবলী।
প্রথম বিভাগটি হলো আকীদা (عقائد), যাতে কোনো পরিবর্তন (تغيير) বা পরিমার্জন (تبديل) প্রবেশ করতে পারে না এবং...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৮)
الزيادة أو النقص فهو ثابت في الرسالات جميعها وعلى لسان الأنبياء جميعاً.
وأما القسم الثاني فهو خاضع للظروف والملابسات والزمان والمكان بل هو في حركة دائمة كما قال سبحانه وتعالى: {لكل جعلنا منكم شرعة ومنهاجاً} (المائدة: 48) ولذلك اختلفت شرائع الأنبياء بعضهم عن بعض، ولا يعني هذا الاختلاف من جميع الوجوه بل أصول الشرائع أيضاً متفقة.
وبالرغم من أن شريعة الإسلام قد كملت بوفاة النبي صلى الله عليه وسلم فإن المسلمين في تاريخهم الطويل قد احتاجوا إلى أن يستنبطوا من هذه الشريعة أحكاماً لقضاياهم ومشكلاتهم المتجددة بتجدد الزمان والمكان والحوادث. ولذلك كان التشريع للحياة حركة متجددة بتجدد الحياة. وهذا يعني أيضاً أو وقف التشريع للوقائع المتغيرة هو عزل للشريعة عن حياة الناس لأن الحياة مستمرة. والتشريع ضوابط لهذه الحياة والحركة المستمرة، فإذا تخلفت هذه الضوابط انفلت الناس إلى شرائع أخرى وقوانين جديدة وهذا ما حدث تماماً بالنسبة للشريعة الإسلامية حيث عزلت عن حياة الناس وعن التقنين لهم بجمود الحركة الفقهية التشريعية أولاً ثم بالعزل السياسي والاجتماعي للتشريع الإسلامي.
وأما الأخلاق فبالرغم من ثباتها من حيث المبادئ والأصول،
বৃদ্ধি বা হ্রাস—এটি সকল আসমানি রিসালাতের (رسالات) ক্ষেত্রে এবং সকল নবীদের যবানে সুপ্রতিষ্ঠিত ও অপরিবর্তনীয়।
আর দ্বিতীয় অংশটি পরিস্থিতি, পারিপার্শ্বিকতা এবং কাল ও স্থানের ওপর নির্ভরশীল; বরং এটি এক চিরন্তন গতিশীলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত (شرعة) ও স্পষ্ট পথ (منهاجاً) নির্ধারণ করেছি" (আল-মায়িদাহ: ৪৮)। এই কারণেই নবীদের শরিয়তসমূহ একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়েছে; তবে এই ভিন্নতার অর্থ এই নয় যে তা সকল দিক থেকেই আলাদা, বরং শরিয়তসমূহের মূলনীতিগুলোও (أصول) পরস্পর এক ও অভিন্ন।
যদিও নবী (সা.)-এর ওফাতের মাধ্যমে ইসলামি শরিয়ত পূর্ণতা লাভ করেছে, তবুও মুসলিমগণ তাদের দীর্ঘ ইতিহাসে কাল, স্থান ও ঘটনার পরিবর্তনের সাথে সাথে উদ্ভূত নতুন নতুন সমস্যা ও বিষয়ের সমাধানকল্পে এই শরিয়ত থেকে বিধানসমূহ (أحكاماً) উদ্ঘাটন বা ইস্তিনবাত (يستنبطوا) করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন। এই কারণেই জীবনের তাগিদে আইন প্রণয়ন বা তাশরি (التشريع) হলো জীবনের নবায়নের সাথে সাথে এক নবায়নযোগ্য গতিশীল প্রক্রিয়া। এর অর্থ হলো, পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির জন্য বিধান প্রণয়ন বন্ধ করে দেওয়া মানে মানুষের জীবন থেকে শরিয়তকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া; কারণ জীবন প্রবহমান। আর আইন প্রণয়ন হলো এই জীবন ও নিরবচ্ছিন্ন গতির জন্য এক প্রকার নিয়ন্ত্রণকারী মূলনীতি (ضوابط)। যখন এই নিয়ন্ত্রণকারী মূলনীতিগুলো অনুপস্থিত থাকে, তখন মানুষ অন্য মতবাদ ও নতুন নতুন আইনের দিকে ধাবিত হয়। ইসলামি শরিয়তের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটিই ঘটেছে; যেখানে প্রথমে ফিকহী ও আইনি গবেষণার স্থবিরতার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ইসলামি আইনকে বর্জন করার মাধ্যমে একে মানুষের জীবন ও আইনি কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
আর নৈতিকতার (الأخلاق) ক্ষেত্রে বলা যায়, মূলনীতি ও ভিত্তিগত দিক থেকে এটি অপরিবর্তনীয় হওয়া সত্ত্বেও,
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৯)
فالجانب العملي فيها يتغير تبعاً للظروف والملابسات، فالصبر والشجاعة والكرم وإن كان المعنى الأصلي فيها ثابتاً باقياً إلا أن المواقف التي تقتضي ذلك متغيرة أيضاً.
هذه الحركة المتغيرة الدائبة للتشريع الإسلامي تقتضي أن يكون لدينا في كل العصور وعلى مدار التاريخ رجال علماء أكفاء يضبطون حياة الناس ويوجهونها وفق الإسلام. وهؤلاء العلماء لا يجوز فقط أن يكونوا في موقف الإفتاء فقط، بل أيضاً في موقع التنفيذ والقضاء، ولذلك اشترط المسلمون للإمام العام أن يكون مجتهداً وذلك أنه يحتاج في كل يوم أن يتخذ من المواقف والأحكام مع المسلمين وغيرهم من الأعداء المحاربين، والمسالمين والمستأمنين والمعاهدين ما يتفق مع الدين الذي أنزله الله سبحانه وتعالى وهذا يحتاج إلى الاجتهاد، وكذلك اشترط في القاضي أيضاً أن يكون مجتهداً لأن الوقائع والمشاكل التي تعرض على القضاء ليست متماثلة بما وقع في صدر الإسلام وفي عهد التشريع من كل وجه، بل في كل يوم يواجه القضاء مشكلات جديدة وحيلاً شتى ووقائع متغيرة، وما لم يكن القاضي فقيهاً مجتهداً فإنه لا بد وأن يحكم بالجهل ويقع في الظلم.
لهذه الأسباب فالمسلمون يحتاجون في كل يوم بل في كل ساعة إلى اجتهاد فقهي جديد: اجتهاد في الإفتاء، واجتهاد في القضاء، واجتهاد لتنفيذ الأحكام وتطبيق الشريعة وفق مقتضيات
এর ব্যবহারিক দিকটি পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়। সুতরাং ধৈর্য, সাহসিকতা ও বদান্যতার মূল অর্থ স্থির ও অপরিবর্তিত থাকলেও, যেসব ক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োগ আবশ্যিক হয়ে পড়ে সেই প্রেক্ষাপটগুলোও পরিবর্তনশীল।
ইসলামী বিধান প্রণয়নের (تشريع) এই নিরন্তর পরিবর্তনশীল গতিশীলতা দাবি করে যে, ইতিহাসের প্রতিটি যুগে আমাদের এমন যোগ্য আলেম সমাজ থাকবেন, যারা মানুষের জীবনধারা সুশৃঙ্খল করবেন এবং ইসলামের আলোকে তা পরিচালনা করবেন। এই আলেমদের কেবল ফতোয়া প্রদানের (إفتاء) অবস্থানে থাকলেই চলবে না, বরং তাদের নির্বাহী এবং বিচারিক (قضاء) অবস্থানেও থাকতে হবে। এই কারণেই মুসলিমগণ ইমামে আম বা রাষ্ট্রের প্রধানের জন্য মুজতাহিদ (مجتهد) হওয়া শর্ত করেছেন; কেননা তাকে প্রতিদিন মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে যুদ্ধরত শত্রু, শান্তিকামী পক্ষ, নিরাপত্তা লাভকারী (مستأمن) এবং চুক্তিবদ্ধদের (معاهد) সাথে এমন সব অবস্থান ও বিধান গ্রহণ করতে হয় যা মহান আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ দ্বীনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আর এই কাজের জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রয়োজন। একইভাবে বিচারকের (قاضي) ক্ষেত্রেও মুজতাহিদ (مجتهد) হওয়া শর্ত করা হয়েছে। কারণ বিচার বিভাগের নিকট উপস্থাপিত ঘটনাবলি ও সমস্যাসমূহ ইসলামের প্রাথমিক যুগ এবং বিধান প্রণয়নের (تشريع) সময়ের পরিস্থিতির সাথে সর্বতোভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। বরং প্রতিদিন বিচার বিভাগ নতুন নতুন সমস্যা, বিবিধ কৌশল এবং পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সম্মুখীন হয়। বিচারক যদি ফকিহ (فقيه) ও মুজতাহিদ (مجتهد) না হন, তবে তিনি অনিবার্যভাবেই অজ্ঞতার ভিত্তিতে ফয়সালা দেবেন এবং জুলুম বা অন্যায়ে লিপ্ত হবেন।
এই সকল কারণে মুসলমানদের প্রতিদিন—বরং প্রতি মুহূর্তে—নতুন ফিকহি ইজতিহাদের (اجتهاد فقهي) প্রয়োজন হয়: ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد), বিচারিক ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং বিধি-বিধান বাস্তবায়ন ও সমকালীন চাহিদাগুচ্ছ (مقتضيات) অনুযায়ী শরিয়ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحال وتغير المشكلات. ولنضرب على هذا أمثلة من واقعنا السياسي: -
*
سياسياً: المسلمون اليوم في حاجة ماسة إلى خلافة راشدة فكيف توجد الآن وما هو الطريق لها وفق الكتاب والسنة؟ ! يحتاج هذا إلى اجتهاد ودعوة. . نقابل اليوم أعداء كثيرين فاليهود تحتل أرضنا وتشرد رجالنا ونساءنا وأطفالنا، فما هو الواجب اليوم معهم؟ هل الواجب الحرب أم العهد أم السلام والصلح؟ ! وإذا كان الحرب فكيف؟ ! وإذا كان العهد فما هي مواصفاته وشروطه؟ ! ! وإذا كان السلام فما أيضاً مواصفاته وشروطه؟ !
*
إقتصادياً: هل يجوز أن نودع أموالنا في بلاد الغرب؟ ! وإذا كان جائزاً فهل يجوز وضع هذا المال بالفوائد أم بدونها؟ وإذا لم يكن جائزاً فما الحل؟ . . هذا إلى عشرات ومئات المشكلات الاقتصادية في العمل، والشركات، والتأمين، والتجارة، وتحويل المال و. . وكل هذا يحتاج إلى علماء أعلام يفهمون الحياة ونظم المال الحاضرة ويفتون المسلمين بما يجب عليهم في كل هذا.
وهكذا مشكلاتنا الاجتماعية والخلقية والنفسية، ومشكلات التطبيق للشريعة الإسلامية في العصر الراهن ومشكلات المسلمين
বর্তমান পরিস্থিতি এবং সমস্যাবলির পরিবর্তন। আসুন আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরি: -
*
রাজনৈতিকভাবে: বর্তমান সময়ে মুসলিমদের একজন সঠিক পথপ্রাপ্ত খলিফার (خلافة راشدة) একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে তা কীভাবে সম্ভব এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর পথ কী? এর জন্য প্রয়োজন গবেষণা ও ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং দাওয়াতের। আজ আমরা বহু শত্রুর সম্মুখীন; ইহুদিরা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে এবং আমাদের পুরুষ, নারী ও শিশুদের বাস্তুচ্যুত করছে। এমতাবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে আজ আমাদের কর্তব্য কী? যুদ্ধ করা, নাকি চুক্তি (عهد), নাকি শান্তি ও সন্ধি (صلح)? আর যদি যুদ্ধই হয়, তবে তা কীভাবে? যদি চুক্তি হয়, তবে তার বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলি কী হবে? আবার যদি শান্তি হয়, তবে তারও বৈশিষ্ট্য ও শর্তসমূহ কী হবে?
*
অর্থনৈতিকভাবে: পশ্চিমা দেশগুলোতে আমাদের অর্থ জমা রাখা কি বৈধ? যদি বৈধ হয়, তবে কি এই অর্থ সুদের (فوائد) ভিত্তিতে রাখা যাবে নাকি সুদ ছাড়াই? আর যদি বৈধ না হয়, তবে এর সমাধান কী? কর্মক্ষেত্র, কোম্পানি, বিমা (تأمين), ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থ স্থানান্তরসহ আরও শত শত অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে। আর এই সবকিছুর জন্য এমন বিজ্ঞ আলেমদের প্রয়োজন যারা জীবন এবং বর্তমান অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন এবং এই সকল বিষয়ে মুসলিমদের করণীয় সম্পর্কে ফতোয়া (يفتون) প্রদান করতে পারেন।
একইভাবে আমাদের সামাজিক, চারিত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাসমূহ, বর্তমান যুগে ইসলামি শরিয়াহ (شريعة) বাস্তবায়নের সমস্যা এবং মুসলিমদের সমস্যাবলি।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১১)
في بلاد الكفار إلى آلاف المشكلات وكلها تحتاج إلى اجتهاد وحلول.
باختصار، المسلمون اليوم في حاجة ماسة إلى حركة اجتهادية تجديدية لا تكتفي فقط بإصدار الفتوى ولكن أيضاً بمواكبة العمل بالإسلام في إطار الفرد والجماعة والدولة. وهذه الحركة الاجتهادية التجديدية هي التي تميز للمسلمين طريق العمل بالإسلام في الوقت الحاضر وتأخذ بخطاهم خطوة خطوة نحو تحكيم الشريعة في جميع شئون الحياة، وبدون هذه الحركة التجديدية الاجتهادية الكاملة ستبقى الشريعة الإسلامية بمعزل عن حياة الناس وواقع التطبيق كما هو حادث الآن.
কাফেরদের ভূখণ্ডে হাজার হাজার সমস্যা বিদ্যমান এবং এগুলোর সবকটির জন্যই ইজতিহাদ ও সমাধানের প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, বর্তমান সময়ে মুসলিমদের একটি ইজতিহাদভিত্তিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলনের তীব্র প্রয়োজন, যা কেবল ফতোয়া প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে ইসলামের বিধান পালনের সাথে সংগতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে। আর এই ইজতিহাদভিত্তিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলনই বর্তমান সময়ের মুসলিমদের জন্য ইসলামের ওপর আমল করার পথকে সুস্পষ্ট করবে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই পূর্ণাঙ্গ সংস্কারমূলক ও ইজতিহাদভিত্তিক আন্দোলন ব্যতীত ইসলামী শরিয়ত মানুষের জীবন ও প্রায়োগিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই থাকবে, যেমনটি বর্তমানে ঘটছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১২)
كيف نجتهدعرف العلماء الاجتهاد الشرعي بأنه بذل الجهد للوصول إلى ظن بحكم شرعي. وهذا يعني أن المجتهد يبذل جهده ليعرف مراد الله سبحانه وتعالى في قضية ما. فإما أن نعرف الحكم من نص قرآني أو حديث نبوي أو إجماع للصحابة رضوان لله عليهم.
وأما أن يعرف هذا باستنباط وفهم من آية أو حديث وهذا الفهم يصيب ويخطئ، ولذلك كان الاجتهاد الذي ينبني على الفهم والاستنباط ظنياً لأن الفهم والاستنباط غير معصوم ولذلك قال الإمام مالك رحمه الله: كل رجل يؤخذ من قوله ويرد عليه إلا صاحب هذا القبر. يعني النبي صلى الله عليه وسلم (إرشاد السالك (227: 1)) .
والذي يعمل عقله وفهمه لمعرفة حكم ما لا بد بالطبع أن يكون أهلاً لذلك، ولذلك وضع العلماء شروطاً للاجتهاد أعدلها: أن يكون المجتهد على علم بالقرآن والسنة وفهم لغة العرب وفهم الحادثة والواقعة المراد التشريع لها ومعرفة النصوص الخاصة في شأن مثل هذه الواقعة. وهذا العلم بحمد الله متيسر
আমরা কীভাবে ইজতিহাদ করবআলেমগণ শরয়ি ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি হলো কোনো শরয়ি বিধান (حكم شرعي) সম্পর্কে প্রবল ধারণা (ظن) লাভের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যয় করা। এর অর্থ হলো, মুজতাহিদ (المجتهد) কোনো একটি বিষয়ে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার উদ্দেশ্য জানার জন্য তাঁর প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। সুতরাং আমরা হয় কোনো কুরআনি নস (نص) অথবা নববী হাদিস অথবা সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বা ইজমা (إجماع) থেকে বিধানটি জানতে পারি।
অথবা কোনো আয়াত বা হাদিস থেকে গবেষণালব্ধ নির্যাস বা ইসতিনবাত (استنباط) এবং অনুধাবনের মাধ্যমে এটি জানা যায়; আর এই অনুধাবন সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। এই কারণেই অনুধাবন ও ইসতিনবাতের ওপর ভিত্তি করে যে ইজতিহাদ করা হয় তা জন্নী বা প্রবল ধারণাপ্রসূত (ظني); কেননা অনুধাবন ও ইসতিনবাত ভুলত্রুটিমুক্ত বা মাসুম (معصوم) নয়। এই জন্যই ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন: "এই কবরের অধিবাসী—অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)—ব্যতীত প্রতিটি মানুষের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে" (ইরশাদুস সালিক ১:২২৭)।
যিনি কোনো বিধান জানার জন্য নিজের বুদ্ধি ও অনুধাবন শক্তি প্রয়োগ করেন, স্বভাবতই তাঁকে এর যোগ্য হতে হবে। এ কারণে আলেমগণ ইজতিহাদের জন্য কিছু শর্তাবলি (شروط) নির্ধারণ করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো: মুজতাহিদকে কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, আরবি ভাষা বুঝতে পারা, যে ঘটনা বা পরিস্থিতির জন্য বিধান প্রণয়ন করতে হবে তা অনুধাবন করা এবং উক্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট নস (نص) সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এই জ্ঞান অর্জন করা বর্তমানে সহজসাধ্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لكل من بذل في هذا جهداً مناسباً كما قال تعالى: {ولقد يسرنا القرآن للذكر فهل من مدكر} (القمر: 17) ، وقال صلى الله عليه وسلم: [بعثت بالحنيفية السمحة] (أخرجه أحمد (266: 5) والطبراني (7868) وهو حديث حسن) ، وقال: [إن هذا الدين يسر، ولن يشاد الدين أحد إلا غلبه] (أخرجه البخاري (93: 1) ، ويسر الإسلام ليس في العمل فقط بل في الفهم أيضاً. ولذلك لم يخل تاريخ المسلمين في كل عصورهم -بحمد الله- وتوفيقه من رجال أكفاء كانوا على مستوى الاجتهاد والفهم العام لدين الله سبحانه وتعالى وتعليم الأمة وتوجيه مسارها إلى ما يرضي الله سبحانه وتعالى.
ولا يشترط بالضرورة أن يكون كل من قال قولاً في الدين أن يكون قوله صواباً موافقاً للحق بل كل من اجتهد في هذا الدين بعد رسول الله وإلى يومنا هذا قد أصاب وقد أخطأ وقد رد على غيره ورد غيره عليه كما قال الإمام مالك أيضاً: ما منا إلا قد رد ورد عليه.
فهذا عمر بن الخطاب يرد عليه الصحابة في وقائع كثيرة جداً كالتيمم وتقسيم السواد، وتحديد المهور، وكذلك عثمان
যারা এই কাজে যথাযথ শ্রম ব্যয় করেছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য (সুসংবাদ), যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" (আল-ক্বামার: ১৭)। এবং আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: [আমি সহজ ও একনিষ্ঠ দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছি] (এটি ইমাম আহমাদ (৫:২৬৬) এবং তবারানি (৭৮৬৮) বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস)। তিনি আরও বলেছেন: [নিশ্চয়ই এই দ্বীন সহজ, আর যে কেউ দ্বীন নিয়ে কঠোরতা করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে] (এটি বুখারি (১:৯৩) বর্ণনা করেছেন)। আর ইসলামের সহজতা কেবল কর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বুঝার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর সে কারণেই মুসলমানদের ইতিহাসে প্রতিটি যুগে—আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফিকে—এমন যোগ্য ব্যক্তিদের অভাব ঘটেনি যারা ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং মহান আল্লাহর দ্বীনের সাধারণ বুঝের স্তরে আসীন ছিলেন এবং উম্মাহকে শিক্ষা দান ও তাদের পথনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করেছেন।
আর এটি আবশ্যিক নয় যে, দ্বীনের বিষয়ে কেউ কোনো কথা বললে তার সেই কথাটি সর্বদা সঠিক ও সত্যের অনুকূল হতে হবে। বরং আল্লাহর রাসূলের পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা এই দ্বীন নিয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন, তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন আবার কখনো ভুল করেছেন। তারা যেমন অন্যদের মতের প্রত্যাখ্যান (رد) করেছেন, তেমনি অন্যরাও তাদের মতের প্রত্যাখ্যান (رد) করেছেন; যেমনটি ইমাম মালিক বলেছিলেন: "আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কথা প্রত্যাখ্যান (رد) করা হয়নি অথবা সে অন্যের কথা প্রত্যাখ্যান (رد) করেনি।"
এই তো উমর ইবনুল খাত্তাব, যাঁর অনেক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সাহাবীগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন; যেমন: তায়াম্মুম (تيمم), সাওয়াদ (ইরাকের বিজিত ভূমি) বণ্টন এবং মোহরানা সুনির্দিষ্ট করার বিষয়গুলো। তদ্রূপ উসমানের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৪)
رضي الله عنه رد عليه الصحابة في وقائع كثيرة من العبادات والمعاملات، وعلي خالفه الصحابة في كثير من القضايا الفقهية والسياسية. . الخ (انظر أعلام الموقعين لابن القيم) .
فكيف بغيرهم من العلماء والفقهاء؟ ! !
ومهما كان الأمر فإن الله سبحانه وتعالى الذي ضمن لنا حفظ هذا الدين لم يضمن حفظ نصوصه فقط بل ضمن سبحانه وتعالى تطبيقه وفهمه في الأمة وإلى قيام الساعة، فلا يزال قائم لله بحجة فرداً. كان أو جماعة حتى يأتي الدجال كما قال صلى الله عليه وسلم: [لا تزال طائفة من أمتي على الحق لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك] (اخرجه البخاري (164: 1) ومسلم (1524: 3) وهو حديث متواتر) .
وهذه الطائفة التي تقوم بالحق لا شك أنه يعترضها كل يوم من المشكلات والأقضيات والحوادث ما لم يكن في زمن الصدر الأول ولا شك أن هذه الطائفة محتاجة دائماً إلى اجتهاد دائم ينير طريقها وفق كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم. وهذا الاجتهاد الدائم المتجدد للحوادث المتجددة هو ما نحتاجه دائماً. وهو ما يقع فيه الخطأ والصواب.
والإسلام منذ أنزله الله سبحانه وتعالى على رسوله صلى الله عليه وسلم قد راعى ذلك، فالرسول الموحى إليه علم الله أنه لن يبقى في الأمة إلى نهاية الدنيا وأنه سيخلفه الخلفاء
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, ইবাদত ও মুয়ামালাতের বহু ঘটনায় সাহাবীগণ তাঁর প্রতিবাদ করেছিলেন। আর আলীর সাথেও সাহাবীগণ বহু ফিকহী ও রাজনৈতিক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন... ইত্যাদি (দেখুন: ইবনুল কায়্যিমের ‘আলামুল মুওয়াক্কিয়ীন’)।
তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে, যেমন আলেম ও ফকিহগণের বিষয়ে কী ধারণা হতে পারে? ! !
বিষয়টি যাই হোক না কেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যিনি আমাদের জন্য এই দ্বীন সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তিনি কেবল এর মূল পাঠ (নصوص) সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেননি, বরং কিয়ামত পর্যন্ত এই উম্মতের মাঝে এর প্রয়োগ ও উপলব্ধির নিশ্চয়তাও দান করেছেন। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণাদিসহ (তার দ্বীন প্রতিষ্ঠায়) সদা তৎপর এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সবসময় থাকবে, এমনকি দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: [আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর অটল থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা সে অবস্থাতেই থাকবে] (বুখারি (১: ১৬৪) ও মুসলিম (৩: ১৫২৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন ধারায় বর্ণিত (متواتر) হাদিস)।
আর এই দলটি যারা হকের ওপর অটল থাকবে, নিঃসন্দেহে তাদের প্রতিদিন এমন সব সমস্যা, বিচার্য বিষয় এবং নতুন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় যা ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দলটির জন্য সর্বদা এমন একটি ধারাবাহিক গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) প্রয়োজন যা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী তাদের পথকে আলোকিত করবে। আর নিত্যনতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই যে প্রবহমান ও নবায়নযোগ্য গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد), এটাই আমাদের সর্বদা প্রয়োজন। আর এখানেই ভুল বা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ইসলাম যখন থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল করেছেন, তখন থেকেই এই বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখেছেন। কারণ ওহীপ্রাপ্ত রাসূল সম্পর্কে আল্লাহ জানতেন যে, তিনি দুনিয়ার শেষ পর্যন্ত এই উম্মতের মাঝে অবস্থান করবেন না এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন খলিফাগণ।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وسينقطع الوحي من السماء ويبقى لهم الفهم والاستنباط والاجتهاد، وعلم الرب تبارك وتعالى أيضاً أنهم سيتعرضون للخطأ والصواب ولذلك لم يكلفهم شططاً بالوصول إلى الصواب في كل رأي وفي كل اجتهاد لأن هذا تكليف بما لا يطاق ولذلك قال صلى الله عليه وسلم: [إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران وإذا اجتهد فأخطأ فله أجر] (رواه البخاري ومسلم وأحمد) ، ووقعت حوادث بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم اقتضت الاجتهاد واجتمع الصحابة فيها أحياناً على رأي واحد واختلفوا أحياناً إلى آراء كثيرة. وكان من هذه المشكلات: الخلافة لمن؟ وهل ينفذ جيش أسامة وقد ارتد العرب أم يحارب المرتدون؟ وهل مانعوا الزكاة مرتدون يجب قتالهم أم مسلمون لا يجوز سفك دمائهم؟ وهل يحارب فارس والروم أم لا؟ وهل عمر بن الخطاب يستحق الخلافة بالعهد أم لا؟ ومن يتولى بعد عمر هل بعهد كما فعل أبو بكر أم بترك الأمر للمسلمين كما فعل رسول الله؟ واقترح عمر النفر الستة الذين توفى الرسول وهو عنهم راض ونظم نظاماً فريداً لاختيار رجل منهم. ومئات المشكلات في خلافة عثمان ومثلها في خلافة علي بن أبي طالب هذا إلى مئات من المشكلات الاجتماعية التي كان للخليفة رأي مخالف لرأي الناس نحو مشكلة اسكان سبى الفرس وصناعهم بالمدينة النبوية: رأى عمر أن تطهر المدينة منهم ورأى العباس
আকাশ থেকে ওহি (وحي) বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের জন্য অবশিষ্ট থাকবে অনুধাবন, মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) গ্রহণ করার ক্ষমতা। মহান আল্লাহ তায়ালা এও জানতেন যে, তারা ভুল ও সঠিক উভয় অবস্থার সম্মুখীন হবে। তাই তিনি প্রতিটি মত ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য তাদের ওপর সাধ্যাতীত কোনো কঠোরতা আরোপ করেননি; কেননা এটি সামর্থ্যের বাইরের কোনো বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার শামিল। এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: [যখন কোনো বিচারক গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) মাধ্যমে কোনো ফয়সালা করেন এবং তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব; আর যদি তিনি গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) মাধ্যমে ফয়সালা করতে গিয়ে ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব] (বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম ও আহমাদ)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল যা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) দাবি রাখত। সাহাবীগণ কখনো এসব বিষয়ে একমতে পৌঁছাতেন, আবার কখনো অনেক মতে বিভক্ত হয়ে পড়তেন।
এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম ছিল: খিলাফত কার প্রাপ্য? আরবের কিছু লোক ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়ে যাওয়ার পর উসামার সেনাবাহিনী কি পাঠানো হবে নাকি ধর্মত্যাগীদের (مرتدون) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে? যারা জাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল তারা কি ধর্মত্যাগী (مرتدون) যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ওয়াজিব, নাকি তারা মুসলিম যাদের রক্তপাত করা বৈধ নয়? পারস্য ও রোমের বিরুদ্ধে কি যুদ্ধ করা হবে কি না? ওমর ইবনুল খাত্তাব কি জনসম্মুখে উত্তরাধিকার মনোনয়নের (عهد) মাধ্যমে খিলাফতের যোগ্য কি না? ওমরের পর কে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন? আবু বকর যেভাবে করেছিলেন সেভাবে কি মনোনয়নের (عهد) মাধ্যমে হবে, নাকি রাসূলুল্লাহ যেভাবে করেছিলেন সেভাবে বিষয়টি মুসলিমদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে? ওমর এমন ছয়জন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছিলেন যাদের ওপর রাসূলুল্লাহ ইন্তেকাল পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচনের জন্য একটি অনন্য পদ্ধতি প্রণয়ন করেছিলেন।
উসমানের খিলাফতকালে শত শত সমস্যা এবং আলী ইবনে আবি তালিবের খিলাফতকালেও অনুরূপ সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এর পাশাপাশি ছিল শত শত সামাজিক সমস্যা যেখানে খলিফার মতামত জনগণের মতামতের বিপরীতে ছিল। যেমন মদীনায় পারস্যের যুদ্ধবন্দী ও কারিগরদের বসবাসের সমস্যা: ওমর মনে করেছিলেন মদীনাকে তাদের থেকে মুক্ত রাখা উচিত, পক্ষান্তরে আব্বাস মনে করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وابنه عبد الله أنه لا بأس بهذا وكان رأي الخليفة الراشد عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن يمنعوا من سكنى المدينة.
هذه المشكلات وغيرها كثير جداً احوجت المسلمين إلى اجتهاد، وإذا جئت تعدد مشكلاتنا اليوم في كل ناحية من نواحي الحياة لوجدت أننا في حاجة ماسة إلى جهود عظيمة واجتهاد بالغ وفهم عميق للكتاب والسنة لنستطيع أن نسير حياتنا وفق منهج الله سبحانه وتعالى.
এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর অভিমত ছিল যে, এতে কোনো বাধা নেই; আর খলিফায়ে রাশেদ ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর অভিমত ছিল যে, তাঁদেরকে মদীনায় বসবাস করা থেকে বিরত রাখা হোক।
এই সমস্যাগুলো এবং এ জাতীয় আরও অনেক সমস্যা মুসলিমদেরকে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর প্রতি মুখাপেক্ষী করে তুলেছে। আর আপনি যদি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের আজকের সমস্যাগুলো গণনা করতে যান, তবে দেখবেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার মানহাজ (منهج) অনুযায়ী আমাদের জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হওয়ার জন্য আমরা মহান প্রচেষ্টা, গভীর ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং কুরআন ও সুন্নাহর গভীর উপলব্ধির তীব্র মুখাপেক্ষী।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هل يوجد المجتهد المطلق؟
أنزل الله سبحانه دينه ليسع الناس جميعاً. وليسع الأرض جميعاً، وليسع الزمان جميعاً من لدن محمد صلى الله عليه وسلم وإلى قيام الساعة.
وهذه السعة في الزمان والمكان والخلق على تعدد المشكلات واختلاف النيات وكثرة الاحتمالات لا يسعها عقل مهما أوتي من قدر في الحفظ والذكاء. والدين الذي أنزله سبحانه وتعالى ليس شأناً واحداً من شئون الناس، وإنما هو شئونهم جميعاً: حياتهم وموتهم، وعبادتهم ومعاملاتهم، وأخلاقهم. فما من شأن من شئونهم إلا وهو في إطار الدين وجوباً أو إباحة أو ندباً أو تحريماً أو كراهة، فقلوب الناس يجب صياغتها وفق عقائد هذا الدين وموازينه، وأخلاق الناس يجب تقويمها وفق أخلاق هذا الدين ومثالياته، ومعاملات الناس -على تعدد هذه المعاملات- قد وضع لها أصول وقواعد وضوابط لتحقيق العدل والسعادة، وتحت كل باب من هذه الأبواب فروع كثيرة جداً، وهذه الفروع تكثر بكثرة المشكلات وتتجدد بتجددها.
فلو جئت إلى باب العقائد ومسائل الإيمان -مثلاً- لعلمت
নিরঙ্কুশ ইজতিহাদকারী (المجتهد المطلق) কি বিদ্যমান আছেন?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর দ্বীন নাযিল করেছেন যেন তা সকল মানুষকে ব্যাপ্ত করে, সমগ্র পৃথিবীকে ব্যাপ্ত করে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সকল কালকে ব্যাপ্ত করে।
কাল, স্থান এবং সৃষ্টিজগতের এই ব্যাপকতা—সমস্যার বহুমুখিতা, নিয়তের ভিন্নতা এবং অগণিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও—তা কোনো মানুষের বিচারবুদ্ধির পক্ষে ধারণ করা সম্ভব নয়, তাকে যত প্রখর মুখস্থশক্তি বা মেধা দান করা হোক না কেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যে দ্বীন নাযিল করেছেন তা মানুষের বিষয়াবলীর মধ্য থেকে কেবল একটি বিষয় নয়, বরং এটি তাদের সকল বিষয়: তাদের জীবন ও মৃত্যু, তাদের উপাসনা (عبادة) ও লেনদেন (معاملات) এবং তাদের নৈতিকতা। মানুষের এমন কোনো বিষয় নেই যা দ্বীনের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়, হোক তা আবশ্যিকতা (وجوب), বৈধতা (إباحة), পছন্দনীয়তা (ندب), নিষিদ্ধতা (تحريم) কিংবা অপছন্দনীয়তা (كراهة)। অতএব মানুষের অন্তরসমূহকে এই দ্বীনের বিশ্বাস (عقائد) ও মানদণ্ড অনুযায়ী গঠন করা অপরিহার্য এবং মানুষের চরিত্রকে এই দ্বীনের নৈতিকতা ও আদর্শের আলোকে সংশোধন করা আবশ্যক। আর মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে—তার বিচিত্র ধরণ থাকা সত্ত্বেও—ন্যায়বিচার ও সুখ নিশ্চিত করার জন্য কিছু মূলনীতি (أصول), নীতিমালা (قواعد) এবং নিয়মাবলি (ضوابط) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অধ্যায়গুলোর প্রতিটির অধীনে অসংখ্য উপ-শাখা (فروع) রয়েছে এবং সমস্যার আধিক্যের সাথে সাথে এই শাখাগুলো বৃদ্ধি পায় এবং সমস্যার নতুনত্বের সাথে সাথে এগুলোও নতুন রূপ পায়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বিশ্বাস (عقائد) এবং ঈমানের মাসআলা (مسائل) সংক্রান্ত অধ্যায়ের দিকে তাকান, তবে আপনি জানতে পারবেন—
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أنك تستطيع أن تلم بعقائد الإسلام وعلومه في الغيب في وقت يسير، ولكن إذا أردت تصحيح عقائد الناس وفقاً للعقيدة الإسلامية لوجدت أنك أمام بحر متلاطم من المشكلات والحوادث والباطل الذي يحتاج إلى ردود وتفنيد، ولو وجدت أيضاً أنك أمام شبهات حول الدين تكاد لا تدع فرعية من فرعيات هذه الدين إلا وشوهت صورتها وطمست معالمها، وكل هذا يحتاج إلى رد وإبطال. وهكذا فالحركة بهذا الدين تحتاج إلى جهد جهيد وجهاد طويل لا يقف عند حد، وكذلك الشأن في جميع أبواب علوم الإسلام التي تنظم حياة الناس جميعاً. ولما كانت هذه العلوم جميعها لا يستوعبها عقل، ولا يحيط بها فكر كان القيام بالدين جهاداً وعملاً ودعوة وقضاء وسياسة أمر متعذر لا يمكن أن نرى المجتهد المطلق الذي يعلم كل شيء ويفتي في كل شيء ويحكم على كل شيء، لأنه إن كان يوجد عالم على هذا النحو فليس إلا الله وحده العليم بكل شيء سبحانه وتعالى. وأما البشر فمهما أوتوا من سعة العلم، وسعة الأقوال وحدة الذكاء فلن يستطيعوا أن يحيطوا من الدين إلا بجوانب منه تضيق وتتسع بما ينعم الله سبحانه وتعالى على من يشاء منهم.
ولذلك لا يجوز بتاتاً أن نتصور المجتهد المطلق في أي
আপনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইসলামের আকিদা এবং এর অতীন্দ্রিয় বিষয়সমূহ আয়ত্ত করতে পারেন, কিন্তু যখন আপনি ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মানুষের বিশ্বাসসমূহ সংশোধন করতে চাইবেন, তখন দেখবেন আপনি সমস্যা, উদ্ভূত ঘটনাপ্রবাহ এবং বাতিলের এক উত্তাল সমুদ্রের মুখোমুখি হয়েছেন, যার জন্য প্রয়োজন যুক্তিপূর্ণ জবাব ও খণ্ডন। আপনি আরও দেখতে পাবেন যে, আপনি দ্বীন সম্পর্কে এমন সব সংশয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন যা দ্বীনের প্রায় প্রতিটি শাখাকেই বিকৃত করেছে এবং এর মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহকে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। আর এই সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন প্রতিবাদ ও বাতুলতা প্রমাণ করা। এভাবে এই দ্বীনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন নিরলস সাধনা ও দীর্ঘ সংগ্রাম যা কোনো সীমায় গিয়ে থেমে থাকে না; মানুষের জীবনকে সুসংগঠিতকারী ইসলামের সকল শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যেহেতু এই সকল জ্ঞান কোনো একক মস্তিষ্ক দ্বারা আয়ত্ত করা সম্ভব নয় এবং কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি তা পুরোপুরি পরিবেষ্টন করতে পারে না, তাই জিহাদ, আমল, দাওয়াত, বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করা এমন এক দুঃসাধ্য বিষয় যে, আমরা এমন কোনো স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (المجتهد المطلق) পাব না যিনি সবকিছু জানেন, সব বিষয়ে ফতোয়া দেন এবং সব বিষয়ে ফয়সালা করেন। কারণ, যদি এমন কোনো আলিম থেকে থাকেন, তবে তিনি একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, যিনি সর্বজ্ঞ। পক্ষান্তরে মানুষ, তাকে যতই প্রশস্ত জ্ঞান, পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং প্রখর মেধা দেওয়া হোক না কেন, তারা দ্বীনের কেবল নির্দিষ্ট কিছু দিকই আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়; যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে যতটুকু ইচ্ছা দান করেন তার ওপর ভিত্তি করে প্রশস্ত বা সংকীর্ণ হয়।
আর এই কারণেই, কোনো অবস্থাতেই আমাদের পক্ষে কোনো ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (المجتهد المطلق) কল্পনা করা বৈধ নয় যা...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৯)
حقبة من حقب التاريخ لهذا الدين: خليفة كان أو إماماً أو قاضياً أو مفتياً بل يجب أن نتصور دائماً أن سعة الدين أكبر من سعة الفرد. وأنه لا يسع الدين كله إلا الجماعة ولذلك أصبحنا نحتاج في دراسة الإسلام إلى أمرين هامين: -
أولاً: المعرفة الكلية العامة للدين، وهذه المعرفة الكلية لا بد وأن تشمل أساسيات هذا الدين من إيمان وعبادات ومعاملات وأخلاق ليأخذ كل فرد التصور العام للدين بمجموعه لا بتفصيلاته.
ثانياً: المعرفة الجزئية التخصصية لأبواب هذا الدين وفرعياته. فيحتاج المسلمون دائماً إلى متخصصين في علوم القرآن وفي علوم الحديث وأصول الفقه، والفقه، والمعاملات والسياسات، وإلى متخصصين في الدعوة والجهاد بالكلمة والرد على شبهات الخصوم. وهكذا وبمجموع هؤلاء المتخصصين يستطيع المسلمون أن يثبتوا في وجه الزحف الجاهلي الذي يريد اقتلاع حضارتهم ودينهم. وكذلك نحتاج من هؤلاء المتخصصين إلى المجتهدين الماهرين لا إلى المقلدين الجامدين الذين يعيشون على مستوى الأحداث فهماً ومواجهة وتفاعلاً. . فهماً للأحداث الجارية، ومواجهة للباطل من هذه الأحداث بما تقتضيه هذه المواجهة، وتفاعلاً مع هذه الأحداث على النحو
এই দ্বীনের ইতিহাসের কোনো এক পর্যায়: চাই তিনি খলিফা হোন কিংবা ইমাম অথবা বিচারক অথবা মুফতি; বরং আমাদের সর্বদা এটি কল্পনা করতে হবে যে, দ্বীনের ব্যাপকতা একজন ব্যক্তির সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। আর সমগ্র দ্বীনকে কেবল জামাআত বা দলবদ্ধ জনসমষ্টি ব্যতীত অন্য কেউ ধারণ করতে পারে না। এ কারণেই ইসলাম অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি: -
প্রথমত: দ্বীনের সামগ্রিক জ্ঞান যা সাধারণ পর্যায়ের; আর এই সামগ্রিক জ্ঞানের মধ্যে অবশ্যই এই দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি—যেমন ঈমান, ইবাদত, মুয়ামালাত এবং আখলাক—অন্তর্ভুক্তি আবশ্যক, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি দ্বীনের বিস্তারিত খুটিনাটির পরিবর্তে এর সামগ্রিক রূপটি গ্রহণ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত: আংশিক জ্ঞান যা এই দ্বীনের বিভিন্ন অধ্যায় ও শাখা-প্রশাখা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের জ্ঞান। তাই মুসলমানদের সর্বদা প্রয়োজন উলুমুল কুরআন, উলুমুল হাদিস, উসুলুল ফিকহ, ফিকহ, মুয়ামালাত এবং রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণের। সেই সাথে দাওয়াত, লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে জিহাদ এবং বিরোধীদের পক্ষ হতে উত্থাপিত সংশয়সমূহের খণ্ডনের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। এভাবেই এই সকল বিশেষজ্ঞের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মুসলমানরা সেই জাহেলি আগ্রাসনের মুখে অটল থাকতে সক্ষম হবে, যা তাদের সভ্যতা ও দ্বীনকে সমূলে উৎপাটন করতে চায়। তেমনিভাবে এই বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে আমাদের প্রয়োজন দক্ষ মুজতাহিদগণের, স্থবির মুকাল্লিদদের নয়; যারা সমসাময়িক ঘটনাবলি অনুধাবন, মোকাবিলা এবং মিথস্ক্রিয়ার স্তরে বসবাস করেন। অর্থাৎ চলমান ঘটনাবলির সঠিক উপলব্ধি, সেই সকল ঘটনা থেকে উদ্ভূত বাতিলের মোকাবিলা—যেমনটি সেই মোকাবিলার দাবি—এবং এই ঘটনাবলির সাথে এমনভাবে মিথস্ক্রিয়া করা যা...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২০)
الذي يثري أمة الإسلام في أفرادها وعلومها ويحقق لها عزتها ومكانتها.
باختصار، لم يوجد المجتهد المطلق في تاريخ الإسلام ولن يوجد هذا المجتهد المطلق حتى قيام الساعة، وإنما هناك العلماء الذين يأخذ كل منهم من العلم بقدر استيعابه وفهمه فيخطئ ويصيب، وتبقى الأمة بمجموعها معصومة عن الخطأ (إشارة إلى قوله صلى الله عليه وسلم:
[إن الله لا يجمع أمتي على ضلالة] وهو حديث صحيح لطرقه. رواه الترمذي وغيره) ، ويبقى الصواب موزعاً بين أفراد هذه الأمة، والصواب فضل الله، يؤتيه من يشاء، ولا يمكن ولا يجوز أن يحتكر رجل من الرجال بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم الصواب كله أبداً وأن تكون أقواله كلها قرآناً ووحياً منزلاً لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه.
যা ইসলামি উম্মাহকে এর সদস্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ করে এবং তার জন্য গৌরব ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইসলামের ইতিহাসে কোনো 'নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ' (المجتهد المطلق) ছিলেন না এবং কিয়ামত পর্যন্ত এমন 'নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ' (المجتهد المطلق) আর আসবেনও না। বরং সেখানে রয়েছেন এমন আলেমগণ, যাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ মেধা ও উপলব্ধির স্তর অনুযায়ী জ্ঞান আহরণ করেন, ফলে তাঁরা ভুলও করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীতও হন। আর সামগ্রিকভাবে এই উম্মত ভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত (معصومة) থাকে (এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর প্রতি ইঙ্গিত:
[নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতকে বিভ্রান্তির ওপর একত্রিত করবেন না]। এটি এর বিভিন্ন সূত্রের (طرق) কারণে একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস। এটি তিরমিজি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন)। আর সঠিক বিষয়টি এই উম্মতের সদস্যদের মাঝে বণ্টিত থাকে। সঠিক সিদ্ধান্ত আল্লাহরই অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে অন্য কোনো মানুষের পক্ষে সমস্ত সত্যকে চিরতরে একচেটিয়া করে রাখা সম্ভব নয় এবং তা জায়েজও নয়। এবং তাঁর সমস্ত কথা কুরআন কিংবা অবতীর্ণ ওহির মতো হওয়া সম্ভব নয়, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল বা মিথ্যা আসতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২১)
الثابت والمتغير في الدينأصاب المسلمين ضرر عظيم من فهم بعضهم الخاطئ لقوله تعالى: {اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام ديناً} (المائدة: 3) ، هذه الآية من القرآن وما يشهد لمعناها من الحديث كقوله صلى الله عليه وسلم: [من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد] (أخرجه البخاري ومسلم وابن ماجة) ، وحكموا على كل إضافة في الدين بالبطلان والرد، وبذلك عطلوا باباً من أعظم أبواب الإسلام وهو باب الإجتهاد التطبيقي، ووقفوا جامدين أمام مشكلات التطبيق وتغير الأحوال.
وقام بإزاء هؤلاء طائفة أخرى زعموا أن كل قول في الدين صدر عن إمام أو عالم فهو حق لأنه من الدين، وقد يكون مستنداً إلى الدليل. وبذلك أصبح الدين عند أولئك واسع سعة كل الفتاوى والآراء والأقوال التي صدرت عن مجتهدين، ووسع هؤلاء الاجتهاد أيضاً حتى شمل العقائد والعبادات والأخلاق وبذلك صار الدين عند هؤلاء مسخاً مشوهاً لا تناسق فيه بأي وجه من الوجوه بل في كل قضية رأيان وثلاثة
দ্বীনের অপরিবর্তনীয় ও পরিবর্তনীয় বিষয়সমূহমহান আল্লাহর বাণী: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম" (আল-মায়িদাহ: ৩)—এর প্রতি কারো কারো ভুল উপলব্ধির কারণে মুসলমানদের বিরাট ক্ষতি হয়েছে। কুরআনের এই আয়াত এবং এর অর্থের স্বপক্ষে হাদিসের যেসব প্রমাণ রয়েছে, যেমন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)" (এটি বুখারি, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন); তারা দ্বীনের মধ্যে প্রতিটি সংযোজনকে বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত (رد) বলে রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা ইসলামের অন্যতম মহৎ একটি দ্বার অর্থাৎ প্রায়োগিক ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং প্রয়োগিক সমস্যা ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সামনে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
এদের বিপরীতে অন্য একদল দাঁড়িয়েছে যারা দাবি করে যে, কোনো ইমাম বা আলিমের পক্ষ থেকে দ্বীন বিষয়ে আসা প্রতিটি বক্তব্যই সত্য, কারণ তা দ্বীনেরই অংশ এবং তা হয়তো কোনো দলিলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের কাছে দ্বীন মুজতাহিদদের পক্ষ থেকে আসা সকল ফতোয়া, মতামত ও বক্তব্যের মতো বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। তারা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর পরিধিকেও প্রসারিত করেছে যা আক্বিদা, ইবাদত ও আখলাক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ফলে তাদের কাছে দ্বীন এক বিকৃত রূপ ধারণ করেছে যাতে কোনো দিক দিয়েই কোনো সামঞ্জস্য নেই, বরং প্রতিটি বিষয়েই দুই বা তিনটি করে মত বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২২)
وعند هؤلاء أن كل هذه الأقوال صواب يجوز للمسلم أن يأخذ رأياً منها وأن يعمل به.
وبين الفئة الأولى التي وقفت عند النصوص فقط بلا فهم ولا وعي لمتطلبات تطبيقها والتي جعلت أبواب الدين كلها باباً واحداً لا يجوز الزيادة فيه والاجتهاد وبين الفئة الثانية التي جعلت كل رأي صدر من عالم ما يجوز العمل به. أقول: بين هاتين الفئتين قامت المعارك الكلامية والمناقشات واستخدمت الآيات والأحاديث وأولت تأويلاً بعيداً وشغل المسلمون وما زالوا مشغولين. . وقد غاب عن هؤلاء وهؤلاء بعض القواعد والموازين التي تضع الحق في نصابه، وهذه القواعد تتلخص في وجوب التفريق بين الثابت والمتغير من أمور الدين وهاك هذه القواعد:
أولاً: الله سبحانه وتعالى هو الحق وكل ما صدر عنه من خبر فهو صدق، وكل ما صدر عنه من حكم فهو عدل كما قال تعالى: {وتمت كلمة ربك صدقاً وعدلاً} (الأنعام: 115) ، و " كلمة " مفرد مضاف إلى معرفة فتعم أي كلمات، و " صدقاً " أي في الأخبار و " عدلاً " أي في الأحكام. فالكتاب الموحى به للنبي صلى الله عليه وسلم والسنة الموحى بها إليه أيضاً كلها حق. ومن ظن غير ذلك فقد كفر، وهذه أول الثوابت.
এবং তাদের মতে এই সকল বক্তব্যই সঠিক; একজন মুসলিমের জন্য এর মধ্য থেকে যেকোনো একটি মত গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা বৈধ।
প্রথম শ্রেণি—যারা অনুধাবন বা প্রয়োগিক বাস্তবতার সচেতনতা ছাড়াই কেবল ধর্মীয় ভাষ্যের (نصوص) ওপর সীমাবদ্ধ থাকে এবং যারা দ্বীনের সকল বিষয়কে এমন এক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে কোনো সংযোজন বা গবেষণার (اجتهاد) সুযোগ নেই—এবং দ্বিতীয় শ্রেণি—যারা কোনো আলিমের পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি মতামতকেই অনুসরণযোগ্য বলে সাব্যস্ত করেছে—এই দুই শ্রেণির মাঝে তাত্ত্বিক লড়াই ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আয়াত ও হাদিসসমূহকে সুদূরপ্রসারী ব্যাখ্যার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে মুসলিমরা বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। অথচ উভয় পক্ষই এমন কিছু মূলনীতি (قواعد) ও মানদণ্ড (موازين) থেকে বিমুখ হয়েছে যা সত্যকে তার সঠিক অবস্থানে নিরূপণ করে। আর এই মূলনীতিগুলো দ্বীনের বিষয়াবলির মধ্যে যা অপরিবর্তনীয় (ثابت) এবং যা পরিবর্তনশীল (متغير) তার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের অপরিহার্যতা তুলে ধরে। মূলনীতিগুলো হলো:
প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন পরম সত্য এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি সংবাদ (خبر) সত্য এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি বিধান (حكم) ন্যায়সংগত; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে} (আল-আনআম: ১১৫)। এখানে ‘বাণী (كلمة)’ শব্দটি একবচন যা একটি নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (معرفة) সাথে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হওয়ার কারণে তা সমস্ত বাণীর ক্ষেত্রে ব্যাপক অর্থ প্রদান করে। আর ‘সত্য’ দ্বারা সংবাদসমূহের (أخبار) সত্যতা এবং ‘ন্যায়’ দ্বারা বিধানসমূহের (أحكام) কথা বোঝানো হয়েছে। সুতরাং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি অবতীর্ণ কিতাব এবং সুন্নাহ—যার উভয়ই প্রত্যাদেশকৃত (وحي)—সবই সত্য। যে ব্যক্তি এর অন্যথা মনে করবে সে কুফরি করল; আর এটিই হলো অপরিবর্তনীয় বিষয়সমূহের (ثوابت) মধ্যে প্রথম।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثانياً: القرآن نزل بلسان عربي، والسنة نقلت إلينا باللسان العربي، وللعرب تصريف بليغ في كلامهم ودلالات الألفاظ مختلفة أحياناً. والمعاني تختلف أيضاً باختلاف صيغ التراكيب من التقديم والتأخير والحذف. وأفانين القول العربي واستخدامه لأنواع من الكنايات والتشبيهات والاستعارات كل هذا يجعل الحذق والفهم للنصوص القرآنية والحديثية متفاوتاً عند الأفراد، ولا يقول عاقل أن فهم الناس جميعاً لنصوص الكتاب والسنة بدرجة واحدة وهو يشاهد ثقافتهم واستيعابهم وفهمهم لأساليب اللغة وتراكيب الكلام وأفانين القول ولهذين السببين تفاوت الناس في الفهم، هذا مع العلم أن الأصل واحد والحق واحد لا يتعدد وهذه ثانية، الفهم متغير بتغير الأفراد والحق واحد لا يتغير بل الفرد الواحد يتغير فهمه في النص الواحد بتغير الزمان والوقت فأنت قد تفهم الآن آية على نحو ما، ثم تفهمها على نحو مخالف تماماً في وقت آخر. وقد تقرأ آية دهراً من عمرك ثم ينشأ لك فيها فهم جديد ما خطر ببالك قط. وهذا عمر ما كاد يسمع قول الله من فم أبي بكر الصديق: {إنك ميت وإنهم ميتون} (الزمر: 30) ، حتى قال: والله لكأني ما سمعتها إلا الساعة. والحوادث في هذا الباب كثيرة وليراجع كل منا نفسه في هذا. والشاهد: أن الفهم يتغير ويختلف باختلاف الأفراد والحالات والحق في ذلك كله واحد لا يتعدد. والموفق إلى الحق من
দ্বিতীয়ত: কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং সুন্নাহ আমাদের নিকট আরবি ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। আরবদের বাকভঙ্গিতে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও অলংকারপূর্ণ বিন্যাস রয়েছে এবং শব্দের অর্থগত দ্যোতনা ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্নতর হয়ে থাকে। বাক্য কাঠামোর রূপভেদ যেমন—শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস কিংবা কোনো অংশ বিলোপ করার কারণেও অর্থের পরিবর্তন ঘটে। আরবি বর্ণনার নানাবিধ শৈলী এবং রূপক, উপমা ও অলংকারের বিবিধ প্রয়োগ—এই সবকিছুই কুরআন ও হাদিসের ভাষ্যসমূহ (نصوص) অনুধাবন ও উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের মাঝে তারতম্য সৃষ্টি করে। কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই বলবেন না যে, কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ (نصوص) বুঝতে সব মানুষ একই স্তরের; অথচ তিনি ভাষাশৈলী, বাক্যের গঠন ও বর্ণনার বৈচিত্র্য সম্পর্কে মানুষের সাংস্কৃতিক উপলব্ধি, আত্মস্থ করার ক্ষমতা ও বোধগম্যতার ভিন্নতা প্রত্যক্ষ করছেন। মূলত এই দুই কারণেই অনুধাবনের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; অথচ এ কথা সর্বজনবিদিত যে, মূল উৎস এক এবং সত্যও এক যা একাধিক হয় না। এটি দ্বিতীয় বিষয়: ব্যক্তিদের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনুধাবনের পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু সত্য এক এবং তা অপরিবর্তনীয়। এমনকি একই ব্যক্তি সময় ও কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে একই ভাষ্য (نص) থেকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ অনুধাবন করতে পারে। আপনি হয়তো এখন একটি আয়াতকে একভাবে বুঝলেন, কিন্তু অন্য সময়ে সেটির সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ অনুধাবন করলেন। কিংবা আপনি আপনার জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে একটি আয়াত পাঠ করছেন, অথচ হঠাৎ করে আপনার মাঝে এমন এক নতুন বোধোদয় হলো যা আগে কখনও আপনার মনে উদিত হয়নি। আর এই তো উমর (রা.), তিনি যখন আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর মুখ থেকে আল্লাহর বাণী—"নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে" (সূরা যুমার: ৩০)—শুনলেন, তখনই বলে উঠলেন: "আল্লাহর কসম! মনে হচ্ছে যেন আমি এইমাত্র আয়াতটি শুনলাম।" এই প্রসঙ্গে অসংখ্য ঘটনা রয়েছে এবং আমাদের প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে নিজেকে যাচাই করা উচিত। সারকথা হলো: ব্যক্তি ও পরিস্থিতির ভিন্নতায় অনুধাবন পরিবর্তিত ও ভিন্নতর হয়, তবে এই সবকিছুর মূলে সত্য এক এবং তা বহু নয়। আর সত্যের তাওফিকপ্রাপ্ত সেই ব্যক্তিই, যে...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وفقه الله تعالى.
ثالثاً: علوم الإسلام تنقسم إلى قسمين بوجه عام، قسم نستطيع أن نسميه القسم الثابت الذي لا يقبل التطوير ولا الاجتهاد ولا الإضافة وهذا القسم هو العقائد " مسائل الإيمان " والعبادات " أركان الإسلام الأربعة " والأخلاق " مجموعة الفضائل الخلقية كالصدق والإحسان والشجاعة و. . الخ " هذه الأمور هي الثوابت في الدين ولا يجوز أن نجري عليها قط أمور الاجتهاد والإضافة. فصفات الله سبحانه وتعالى والملائكة والجنة والنار واليوم الآخر وعذاب القبر، وغير ذلك من مسائل الغيب لا وجه في هذا مطلقاً لأي إضافة جديدة لأنه لا وصول إلى علم جديد في هذا إلا بالوحي، ولا وحي بعد الرسول صلى الله عليه وسلم، وهذا هو خلافنا الأساسي مع المتصوفة. فالمتصوفة قد ركزوا ترهاتهم وخزعبلاتهم وكشوفاتهم المزعومة في كشف حقائق هذه الأشياء في ظنهم ولذلك يقول قائلهم: اطلعنا على الجنة والنار ورأينا كذا وكذا مما لم يخبر به الرسول. ويقول الآخر: أصعدني الله إلى سماواته فرأيت كذا وكذا، ويقول الآخر: التقيت بالملائكة وشاهدت كذا وكذا ويقول الآخر: نزلت الأرض السفلى ورأيت وسمعت. . الخ هذه الافتراءات والخزعبلات، وهذا الباب الغيبي لا يفتح أصلاً إلا بالوحي، ولا وحي بعد الرسول صلى الله عليه وسلم.
আল্লাহ তাআলা তাকে তাওফিক দান করুন।
তৃতীয়ত: ইসলামি জ্ঞানসমূহ সাধারণভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগকে আমরা 'অপরিবর্তনীয় অংশ' হিসেবে অভিহিত করতে পারি, যা কোনো উন্নয়ন, ইজতিহাদ কিংবা নতুন কোনো সংযোজন গ্রহণ করে না। এই অংশটি হলো আকিদা তথা "ঈমানের বিষয়াবলি", ইবাদত তথা "ইসলামের চারটি রুকন" এবং আখলাক তথা "সততা, ইহসান, বীরত্ব ইত্যাদির মতো চারিত্রিক গুণাবলির সমষ্টি"। এই বিষয়গুলো হলো দ্বীনের সুনিশ্চিত বিষয় এবং এগুলোর ওপর কোনো অবস্থাতেই ইজতিহাদ বা নতুন সংযোজনের প্রক্রিয়া চালানো বৈধ নয়। সুতরাং মহান আল্লাহর গুণাবলি, ফেরেশতাকুল, জান্নাত, জাহান্নাম, পরকাল, কবরের আজাব এবং গায়েবের অন্যান্য বিষয়াবলির ক্ষেত্রে নতুন কোনো কিছু সংযোজনের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। কারণ ওহি ব্যতীত এসব বিষয়ে নতুন কোনো জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আর কোনো ওহি নেই। সুফিদের সাথে আমাদের মৌলিক বিরোধের জায়গা এখানেই। সুফিরা তাদের ধারণা অনুযায়ী এসব বিষয়ের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে তাদের অসার কথা, ভিত্তিহীন গালগল্প এবং তথাকথিত কাশফের ওপর নির্ভর করেছে। একারণেই তাদের কেউ কেউ বলে থাকে: "আমরা জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং এমন এমন সব বিষয় দেখেছি যা রাসূলুল্লাহ জানাননি।" অন্য কেউ বলে: "আল্লাহ আমাকে তাঁর আসমানসমূহে আরোহণ করিয়েছেন এবং আমি সেখানে অমুক অমুক বিষয় দেখেছি।" আবার অন্য কেউ বলে: "আমি ফেরেশতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং এমন এমন দৃশ্য অবলোকন করেছি।" আরও কেউ বলে: "আমি নিম্নতম জমিনে অবতরণ করেছি এবং দেখেছি ও শুনেছি..." ইত্যাদি সব মিথ্যা অপবাদ ও গালগল্প। অথচ গায়েবের এই দরজা ওহি ব্যতীত অন্য কোনোভাবে খোলা সম্ভব নয়, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কোনো ওহি নেই।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما العبادات أيضاً فلا يجوز الإضافة فيها لأن الإضافة فيها مبطلة، فالصلوات من فرائض ونوافل لا يجوز الزيادة فيها على المشروع، فركعة مضافة على الركعات الأربع يبطل الصلاة واستحداث نافلة لم تكن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم يصدق عليها قوله صلى الله عليه وسلم: [من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد] (أخرجه البخاري ومسلم وابن ماجة) ، وكذلك إضافة هيئات جديدة أو صور جديدة لأي نوع من أنواع العبادة.
باختصار، لا جديد في الصلاة والصوم والحج وفي فرضيات الزكاة ويجب أن يبقى كل ذلك على الصورة والنحو المشروع.
كذلك الأخلاق وتربية النفس لا يجوز تغير هذه الموازين وإلا اختل نظام الأخلاق وأصبح الحق باطلاً والباطل حقاً.
هذه الأمور الثلاثة هي من قسم الثوابت في الدين وكل إضافة فيها تدخل في أبواب الابتداع وإن كان هناك ثم اجتهاد فيها فهو اجتهاد في الأخطاء والضرورات التي تقع لبعض الأفراد كمن نسي ففعل كذا أو أخطأ ففعل كذا أو اضطر ففعل كذا، ففي هذه الأبواب من الخطأ والنسيان والضرورة ينحصر اجتهاد المجتهدين وكل ذلك في هذه الأبواب الثلاثة: " العقائد، والعبادات، والأخلاق ".
আর ইবাদতের ক্ষেত্রেও কোনো কিছু বৃদ্ধি করা বৈধ নয়, কারণ এতে সংযোজন করা ইবাদতকে বাতিলকারী (مبطلة)। সুতরাং ফরজ ও নফল সালাতের ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত পদ্ধতির অতিরিক্ত কিছু যোগ করা বৈধ নয়; যেমন চার রাকাতের সাথে অতিরিক্ত এক রাকাত যোগ করা সালাতকে বাতিল (باطل) করে দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ছিল না এমন কোনো নতুন নফল ইবাদত উদ্ভাবন করাও তাঁর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: [যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد)]। (এটি বুখারি, মুসলিম এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন)। একইভাবে ইবাদতের যেকোনো পদ্ধতিতে নতুন কোনো রূপ বা কাঠামো যুক্ত করাও এর আওতাভুক্ত।
সংক্ষেপে, নামাজ, রোজা, হজ এবং জাকাতের ফরজ বিধানসমূহে নতুনত্বের কোনো সুযোগ নেই এবং এই সবকিছুই শরিয়তসম্মত পদ্ধতি ও কাঠামোর ওপর অটল থাকা আবশ্যক।
একইভাবে চরিত্র এবং আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রেও এই মানদণ্ডগুলো পরিবর্তন করা বৈধ নয়; অন্যথায় নৈতিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এবং সত্য মিথ্যায় ও মিথ্যা সত্যে পরিণত হবে।
এই তিনটি বিষয় দ্বীনের অপরিবর্তনীয় মূলনীতি (ثوابت)-এর অন্তর্ভুক্ত। এতে যেকোনো সংযোজন বিদআত বা নব-উদ্ভাবন (ابتداع)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি এই ক্ষেত্রে কোনো ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে থাকে, তবে তা কেবল ভুলভ্রান্তি এবং বিশেষ জরুরত (ضرورة)-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। যেমন—কেউ ভুলে গিয়ে কিছু করল, বা ভুলবশত কিছু করল অথবা নিরুপায় (اضطر) হয়ে কিছু করল। সুতরাং ভুল, বিস্মৃতি এবং জরুরত (ضرورة)-এর এই ক্ষেত্রগুলোতেই মুজতাহিদগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) সীমাবদ্ধ। আর এ সকল বিষয় উল্লিখিত তিনটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান: "আকিদা (عقائد), ইবাদত (عبادات) এবং আখলাক (أخلاق)"।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৬)
رابعاً: " الإنسان مدني بالطبع " هذه الكلمة التي أطلقها ابن خلدون تصف حقيقة بشرية وهي أن البشر يحتاجون أن يعيشوا في مدن وفي تجمعات. ومع اجتماع البشر وتكاثرهم ونماؤهم تتعدد معاملاتهم وتعظم مشكلاتهم، وينشأ أحياناً الصراع بينهم بدلاً من التعاون في سبيل حفاظهم على ذواتهم أو حبهم لها ووسط هذا التعاون الضروري والصراع الدائم تتشابك المعاملات وتختلف المصالح، ولو خلى الله بين البشر وأنفسهم لأكل بعضهم بعضاً، ولساد قانون الغاب، ولكن الله من رحمته أرسل الرسل معلمين وهادين ومرشدين وأنزل الكتب ليقوم الناس بالقسط، والموازين التي أنزلها الله قاضية بالعدل بين الناس، وقد أكمل الله أصول هذا العدل في كتابه القرآن وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم ولذلك نزل ما ينظم علاقة الرجل بالمرأة، والمسلم بأخيه من بيع وهبة والحاكم بالمحكوم، والمجتمع بالمجرم الخارج عليه. وكل ذلك في نظام بديع لو أقامه الناس لأقاموا سعادتهم على الأرض.
والنصوص القرآنية والحديثية التي نزلت في هذه المعاملات كانت بمثابة الضوابط والأصول العامة والإطار الذي يضيء للمسلمين الطريق ويسمح لهم أن يشرعوا لأنفسهم على هديه كلما جد لهم جديد مع أنفسهم أو مع أعدائهم. وهذا هو
চতুর্থত: "মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক জীব" — ইবনে খালদুন কর্তৃক প্রচলিত এই কথাটি একটি মানবীয় বাস্তবতা বর্ণনা করে, আর তা হলো—মানুষের জনসমষ্টি ও নগরে বসবাস করা প্রয়োজন। মানুষের একত্র হওয়া, বংশবৃদ্ধি এবং বিকাশের সাথে সাথে তাদের পারস্পরিক লেনদেন বহুবিধ হয় এবং তাদের সমস্যাগুলোও প্রকট আকার ধারণ করে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা বা আত্মপ্রীতির তাগিদে সহযোগিতার পরিবর্তে মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং চিরস্থায়ী সংঘাতের মাঝে লেনদেনগুলো জটিল হয়ে ওঠে এবং স্বার্থের ভিন্নতা দেখা দেয়। আর আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের নিজেদের খেয়াল-খুশির ওপর ছেড়ে দিতেন, তবে একে অপরকে গ্রাস করত এবং সেখানে জঙ্গল আইন রাজত্ব করত। কিন্তু আল্লাহ তাঁর রহমত স্বরূপ রাসূলগণকে শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং সঠিক পথের দিশারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। আল্লাহ প্রেরিত মানদণ্ডসমূহ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার ফয়সালাকারী। আল্লাহ এই ন্যায়বিচারের মূলনীতি (أصول) সমূহ তাঁর কিতাব কুরআন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানিতে পূর্ণাঙ্গ করেছেন। সেই কারণেই পুরুষ ও নারীর সম্পর্ক, ক্রয়-বিক্রয় ও হেবা তথা দান এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক এবং সমাজের সাথে সমাজচ্যুত অপরাধীর সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী বিধানসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে। এই সবকিছুই এক অপূর্ব ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষ যদি কায়েম করত, তবে পৃথিবীতে তারা নিজেদের সুখ নিশ্চিত করতে পারত।
এই লেনদেনগুলোর বিষয়ে অবতীর্ণ কুরআনি এবং হাদিসবিষয়ক নস (نصوص) সমূহ ছিল সাধারণ নিয়ন্ত্রণবিধি (ضوابط) ও মূলনীতি (أصول) এবং এমন একটি কাঠামোর মতো যা মুসলিমদের জন্য পথ আলোকিত করে এবং তাদের এই সুযোগ দেয় যে, নিজেদের মধ্যে বা শত্রুদের সাথে যখনই নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তখনই যেন তারা এর হেদায়েতের আলোকে নিজেদের জন্য আইন প্রণয়ন করতে পারে। আর এটিই হলো
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أعظم المتغيرات في هذا الدين ولكنه ليس متغيراً مطلقاً ولكنه متغير وفق ثوابت من القواعد العامة والحدود الفاصلة بين الحلال والحرام والمطلوب والممنوع.
والمهم أن باب المعاملات باب عظيم من أبواب الاجتهاد وذلك لاتساع شئون المعاملات وتعددها وتغيرها بتغير الزمان والمكان والناس، ونستطيع أن نقول أن هذا الباب إذا عرفت أصوله وحدوده المنصوص عليها في الكتاب والسنة واستطعنا أن نستوعب حاجة المسلمين ومشكلاتهم اليومية في شئون حياتهم المختلفة من سياسية، واقتصادية، واجتماعية استطعنا أن نصل إلى اجتهاد سليم وإلى رقي دائم وسير سليم في ظل نظام الإسلام وقانونه. وهذه مشكلة المشكلات أيضاً وذلك أن الثابت من أبواب الإسلام العلمية " العقائد، والعبادات، والأخلاق "، لا يشكل مشكلة لأنه واضح قريب الفهم قليل الاختلاف فيه. وأما شئون المعاملات والسياسة والاقتصاد والاجتماع فهو مع ثبات أصوله متغير تغيراً عظيماً جداً، فأحوالنا السياسية تتغير كل يوم وتحتاج إلى اجتهاد جديد مع هذا التغير وكذلك معاملاتنا الاقتصادية، فنحن لا نعيش في العالم بمفردنا بل يشاركنا فيه أمم وشعوب كثيرة ولها معاملاتها ولهم ضغوطهم علينا فما الواجب معهم؟ أكتب هذه الرسالة وهذه مشكلة البترول قائمة ومنا من يقول يجب إدخال البترول في المعركة
এই দ্বীনের মধ্যে এটি অন্যতম মহান পরিবর্তনশীল বিষয়, তবে এটি কোনো পরম পরিবর্তনশীল নয়; বরং এটি সাধারণ নীতিমালা এবং হালাল-হারাম ও কাঙ্ক্ষিত-নিষিদ্ধের মধ্যবর্তী বিভাজনকারী সীমারেখাসমূহ বা ধ্রুবকগুলোর আলোকে পরিবর্তনশীল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুয়ামালাত (লেনদেন) অধ্যায়টি ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অন্যতম একটি বিশাল ক্ষেত্র। কারণ, লেনদেনের বিষয়াবলি অত্যন্ত বিস্তৃত, বহুবিধ এবং সময়, স্থান ও মানুষের পরিবর্তনের সাথে সাথে এটি পরিবর্তনশীল। আমরা বলতে পারি যে, যদি এই অধ্যায়ের মূলনীতিসমূহ এবং কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত এর সীমারেখাগুলো জানা থাকে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের প্রয়োজন ও দৈনন্দিন সমস্যাগুলো উপলব্ধি করা সম্ভব হয়, তবে আমরা ইসলামের ব্যবস্থা ও আইনের অধীনে একটি সঠিক ইজতিহাদ (اجتهاد), স্থায়ী উন্নতি ও সঠিক পথে অগ্রসর হতে সক্ষম হব। এটিও সমস্যাবলির মধ্যে একটি বড় সমস্যা। কারণ, ইসলামের ইলমি বিষয়গুলোর মধ্যে যা অপরিবর্তনীয়—যেমন: আকিদা, ইবাদাত ও আখলাক—তা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না; কারণ তা স্পষ্ট, সহজবোধ্য এবং তাতে মতভেদও খুব সামান্য। কিন্তু লেনদেন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয়াবলির মূলনীতিগুলো স্থির থাকলেও তা অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের সাথে নতুন ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। একইভাবে আমাদের অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। আমরা এই বিশ্বে একা বাস করি না, বরং আমাদের সাথে বহু জাতি ও গোষ্ঠী শরিক রয়েছে; তাদের নিজস্ব লেনদেন পদ্ধতি রয়েছে এবং আমাদের ওপর তাদের চাপও রয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের সাথে আমাদের করণীয় কী? আমি যখন এই রিসালাহটি লিখছি, তখন পেট্রোল সমস্যা বিদ্যমান এবং আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন যে, পেট্রোলকে যুদ্ধের ময়দানে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومنعه عن الدول التي تساعد إسرائيل ويقول آخرون لو منعناه انتهت الحضارة ودمرنا العالم وهذا إفساد في الأرض والله لا يحب الفساد ويقول آخرون بل لو منعناه حاربنا الأعداء واستولوا عليه وخسرناه. . الخ وكل هذا يحتاج من علماء المسلمين وإن لم يكن لهم اليوم في تصريف شئون بلادهم شيء يذكر - إلى اجتهاد ومشاركة لأنه من باب النصح للأمة كما قال رسول الله: [الدين النصيحة] ثلاثاً. قلنا: لمن؟ قال: [لله ولرسوله ولكتابه ولأئمة المسلمين وعامتهم] (رواه مسلم) .
فمن النصح لعامة المسلمين تقديم النصح لحلول هذه المشكلات الذي لا تصيب واحداً منا فقط بل تقع على الأمة كلها. وهذه المشكلة واحدة من آلاف المشكلات الاقتصادية التي نواجهها الآن وكل هذه المشكلات تحتاج من المسلمين إلى فهم وعلم واجتهاد. وهذا الفهم كما أسلفنا القول مراراً يجب أن يكون في إطار النصوص والقواعد والحق الذي أنزله الله سبحانه وتعالى. وهذا الاجتهاد في هذه الأمور " المعاملات " هو أعظم المتغيرات في هذا الدين. وهو بالطبع متغير يخضع إلى الثابت الذي أنزله الله سبحانه وتعالى وتكلم به رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ইসরায়েলকে সাহায্যকারী দেশগুলোর ওপর এটি (সম্পদ) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। আবার অনেকে বলেন, যদি আমরা এটি বন্ধ করে দেই তবে সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে এবং আমরা বিশ্বকে ধ্বংস করব; অথচ এটি পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার শামিল, আর আল্লাহ বিপর্যয় বা ফাসাদ পছন্দ করেন না। অন্যরা বলেন, বরং যদি আমরা এটি বন্ধ করি তবে শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, এটি দখল করে নেবে এবং আমরা তা হারাব... ইত্যাদি। আর এই সবকিছুর জন্য মুসলিম আলেমদের পক্ষ থেকে—যদিও বর্তমানে নিজ দেশের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা নেই—গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কারণ এটি উম্মাহর প্রতি শুভানুধ্যায়িতার (النصح) অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "দীন হলো শুভানুধ্যায়িতা (النصيحة)" (তিনবার)। আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, মুসলিমদের শাসকবর্গ এবং সাধারণ জনগণের জন্য" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
সাধারণ মুসলিমদের প্রতি শুভানুধ্যায়িতার (النصح) অন্তর্ভুক্ত হলো এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য পরামর্শ প্রদান করা, যা কেবল আমাদের কোনো একজনকে আক্রান্ত করে না বরং পুরো উম্মাহর ওপর আপতিত হয়। এই সমস্যাটি বর্তমানে আমরা যে হাজার হাজার অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি তার একটি এবং এই সকল সমস্যার জন্য মুসলিমদের পক্ষ থেকে সঠিক উপলব্ধি, জ্ঞান ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهাদ) প্রয়োজন। আর এই উপলব্ধি, যেমনটি আমরা বারবার উল্লেখ করেছি, অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নাযিলকৃত মূল পাঠ (النصوص), মূলনীতি (القواعد) এবং সত্যের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে। আর এসব বিষয় অর্থাৎ "লেনদেন" (المعاملات)-এর ক্ষেত্রে এই গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) হলো এই দীনের অন্যতম বৃহৎ পরিবর্তনশীল বিষয়। তবে এটি অবশ্যই সেই অপরিবর্তনীয় বিধানের (الثابت) অনুগত পরিবর্তনশীল বিষয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নাযিল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مشكلات تعترض طريقنابالرغم من حاجتنا الماسة إلى العلماء المجتهدين العاملين المخلصين وإلى سواد الأمة الذي يخلع ربقة التقليد ويطالب بالدليل ويسير خلف العلماء على بصيرة فيطالبهم بالحجة ويناقشهم الرأي ولا يسير خلفهم كالسائمة. أقول: بالرغم من هذه الحاجة الملحة لتخرج الأمة من سباتها الطويل، وتبعيتها الطويلة للمفسدين في الأرض من حكام السوء الذين أذلوها بسوط الطغيان، وحكموها بشريعة الشيطان، بالرغم من كل ذلك فإن هناك عقبات تقف في طريقنا، وأهم هذه العقبات ما يلي: -
أولاً: الانفصال الذي حدث في الأمة بين الحكم والشريعة. فمنذ سقوط الخلافة العثمانية -وإن كانت في آخر أيامها حكماً ظاهرياً بالإسلام- والبلاد الإسلامية تحكم بقوانين وضعية منافية لحكم الله، وبالرغم من أن هذا التبديل لم يمر عليه غير نصف قرن فقط، فإنه قد نشأ جيل جديد من أبناء المسلمين يعادي الإسلام أو على الأقل يجهل شريعته. وهذه الخمسون سنة الأخيرة قد أحدثت آثاراً مدمرة في البشرية جميعاً، فالتحولات
আমাদের পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী সমস্যাসমূহএকনিষ্ঠ, আমলকারী ও মুজতাহিদ (مجتهد) আলেমদের প্রতি এবং উম্মাহর সেই সাধারণ জনসমষ্টির প্রতি আমাদের তীব্র প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও, যারা অন্ধ অনুকরণের (تقليد) শৃঙ্খল ভেঙে ফেলবে, দলিলের (دليل) দাবি জানাবে এবং দূরদর্শিতার সাথে আলেমদের অনুসরণ করবে; ফলস্বরূপ তারা আলেমদের নিকট প্রমাণ (حجة) দাবি করবে, তাদের সাথে মতামতের বিষয়ে আলোচনা করবে এবং গবাদি পশুর ন্যায় তাদের পেছনে ছুটবে না। আমি বলছি: উম্মাহকে তার দীর্ঘ নিদ্রা এবং যমীনের ফাসাদ সৃষ্টিকারী সেই মন্দ শাসকদের প্রতি দীর্ঘকালীন আনুগত্য—যারা উম্মাহকে শোষণের কশাঘাতে লাঞ্ছিত করেছে এবং শয়তানের আইন দিয়ে শাসন করেছে—থেকে বের করে আনার এই জরুরি প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও আমাদের পথে কিছু বাধা দাঁড়িয়ে আছে। আর এই বাধাগুলোর মধ্যে প্রধান হলো:-
প্রথমত: উম্মাহর শাসনব্যবস্থা ও শরীয়তের (شريعة) মধ্যে সংঘটিত বিচ্ছেদ। কেননা উসমানীয় খিলাফতের পতনের পর থেকে—যদিও তার শেষ দিনগুলোতে শাসনব্যবস্থা বাহ্যিকভাবে ইসলামি ছিল—মুসলিম দেশগুলো আল্লাহর বিধান বিরোধী মানবরচিত আইন দ্বারা শাসিত হচ্ছে। যদিও এই পরিবর্তনের পর মাত্র আধা শতাব্দী পার হয়েছে, তবুও মুসলিম সন্তানদের মধ্যে এমন এক নতুন প্রজন্মের উদ্ভব ঘটেছে যারা ইসলামের বিরোধিতা করে অথবা অন্ততপক্ষে এর শরীয়ত (شريعة) সম্পর্কে অজ্ঞ। আর এই বিগত পঞ্চাশ বছর সমগ্র মানবজাতির ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে; ফলে রূপান্তরগুলো...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الاجتماعية والسياسية والعقائدية سريعة جداً فقد حدث في هذه الحقبة حربان عالميتان اندثرت فيها دول وحضارات وقامت دول أخرى، وتبدلت القوانين والأخلاق والعقائد تبدلاً كاملاً في كل ناحية من نواحي الأرض تقريباً.
ولا يكاد الناس يلاحقون اليوم التحولات السياسية والعقائدية والفكرية، وهذه التحولات بالطبع يتبعها القانون والتشريع فما كان حراماً بالأمس أصبح مباحاً بل مستحباً اليوم والعكس بالعكس، ووسائل التأثير على الناس قد تطورت تطوراً سريعاً فأين " خطبة الجمعة المحدودة " من البث الإذاعي والتلفزيوني، وأين " الكتاب " من المدارس والجامعات التي تنشر المبادئ الجديدة، وأين المخطوطات القليلة التي كانت تتداولها الأيدي من الذي تقذف به المطابع اليوم من ملايين الأطنان من الصحف والكتب والنشرات، وعامة ما تقذف به يهدم العقائد القديمة والأخلاق والشرائع. هذا كله إلى سياسة عليا للدول تسير في اتجاه إلى المادية وصراع على البقاء. هذا العالم الذي نعيش فيه والذي يغير جلده مع مطلع كل شمس، ويغير عقائده ومناهجه وتشريعاته ونظمه وأخلاقه وسياساته كما يغير ألوان الملابس والسيارات أصبح عالماً سمته الأساسية التغيير، وليس نحو الأفضل وإنما التغيير للتغيير فليس هناك وقت للمفاضلة بين الفاضل والأفضل أو بين الجيد والرديء.
সামাজিক, রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তনসমূহ অত্যন্ত দ্রুতগামী; এই যুগে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে যাতে বহু রাষ্ট্র ও সভ্যতা বিলীন হয়েছে এবং নতুন নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তে আইন-কানুন, নৈতিকতা ও আকিদা-বিশ্বাসে আমূল পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমানে মানুষ এই রাজনৈতিক, আদর্শিক ও বুদ্ধিভিত্তিক রূপান্তরগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। আর এই রূপান্তরগুলো স্বাভাবিকভাবেই আইন ও বিধিব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে; ফলে গতকাল যা হারাম (حرام) ছিল, আজ তা বৈধ (مباح) এমনকি মুস্তাহাব (مستحب) হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর এর বিপরীতটিও ঘটছে। মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমগুলো অত্যন্ত দ্রুত বিকশিত হয়েছে। বেতার ও টেলিভিশন সম্প্রচারের যুগে সেই "সীমিত জুমার খুতবা" আর কোথায়? নতুন নতুন মূলনীতি প্রচারকারী স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিড়ে সেই একক "বই"-ই বা কোথায়? আর একসময় হাতে হাতে ঘোরা সেই সামান্য কিছু পাণ্ডুলিপির বিপরীতে বর্তমান ছাপাখানাগুলো থেকে প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ টন সংবাদপত্র, বই ও প্রচারপত্র নির্গত হচ্ছে, তার তুলনা কোথায়? যার সিংহভাগই প্রাচীন আকিদা-বিশ্বাস, নৈতিকতা ও শরিয়তকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রসমূহের উচ্চতর রাজনীতি, যা কেবল বস্তুবাদ ও টিকে থাকার লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি যা প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নিজের অবয়ব পরিবর্তন করে। পোশাক বা গাড়ির রঙের মতো এটি তার আকিদা, কর্মপন্থা, বিধিব্যবস্থা, পদ্ধতি, নৈতিকতা ও রাজনীতিকে বদলে ফেলে। পরিবর্তনই এখন এই জগতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই পরিবর্তন উন্নতির লক্ষ্যে নয়, বরং পরিবর্তনের জন্যই পরিবর্তন; ফলে ভালো (جيد) ও নিম্নমানের (رديء) মধ্যে পার্থক্য করার কিংবা উত্তম ও সর্বোত্তমের মাঝে যাচাই করার কোনো সময় আর অবশিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وعلماء الإسلام يجدون أنفسهم اليوم وسط هذه الدوامة المدمرة وليس في أيديهم من وسائل الاتصال بالناس إلا وسائل إعلامية محدودة كخطبة أو درس في مسجد أو صحيفة محدودة لا يقرؤها إلا نفر يسير، وقد حجب الناس عنهم بتلك الوسائل الإعلامية الضخمة التي يملكها الباطل وتسير في ركاب الشيطان. ثم وهؤلاء العلماء لا يجدون من الأوقات ما يتفرغون به في الرد على الشبهات أو ملاحقة ما يقذفه أهل الباطل من شكوك وظلمات ولذلك تعطلت فاعلة الاجتهاد وقل رجاله بل ندروا، وأصبح المجال مفتوحاً أمام رواد الباطل ومروجي الخرافات.
وهكذا أدى انفصال السياسة والحكم عن الدين إلى إنزواء علماء الشريعة ووضع شأنهم وانشغالهم بتحصيل عيشهم وقوت أولادهم عن النظر في الدين والعلم والحياة. فلا نجد عند أحدهم فرصة لقراءة صحيفة أو متابعة لأخبار الناس وتحولاتهم أو معرفة لعقائدهم وسلوكهم، وبذلك ظهر علماء الشريعة وكأنهم يعيشون في غير عصورهم ويتكلمون مع غير بني جنسهم.
ولو كانت السياسة والحكم تسير في ركاب الدين لكان لعلماء الشريعة شأن آخر، وذلك أنهم سيستشارون ويؤخذ رأيهم في مشكلات الأمة السياسية والاقتصادية والاجتماعية، وسيكون لهم شأن آخر، فسيطلعون على أحوال الناس ويشاركون في
ইসলামের আলিমগণ আজ নিজেদেরকে এক ধ্বংসাত্মক আবর্তের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন। তাঁদের হাতে মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্য জুমার খুতবা, মসজিদের দরস কিংবা সীমিত প্রচারসংখ্যার কিছু সংবাদপত্র ছাড়া আর কোনো মাধ্যম নেই, যা কেবল অতি সামান্য কিছু মানুষ পাঠ করে থাকে। বাতিল শক্তির করায়ত্ত এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসারী বিশাল সব প্রচারমাধ্যমের দ্বারা সাধারণ মানুষকে তাঁদের থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছে। তদুপরি, এই আলিমগণ সংশয়সমূহের জবাব দিতে কিংবা বাতিলপন্থীদের নিক্ষিপ্ত সন্দেহ ও অন্ধকার দূর করার কাজে নিবিষ্ট হওয়ার মতো অবসর পাচ্ছেন না। ফলে ইজতিহাদের কার্যকারিতা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং এর যোগ্য ব্যক্তিবর্গের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে, এমনকি তাঁরা আজ প্রায় দুর্লভ। এভাবে বাতিলের অগ্রপথিক ও কুসংস্কার প্রচারকদের জন্য ময়দান উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
এভাবেই রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা থেকে ধর্মের বিচ্ছেদ শরয়ি আলিমদের নিভৃতে চলে যাওয়া, তাঁদের মর্যাদার অবনমন এবং দ্বীন, ইলম ও জীবন নিয়ে গবেষণার পরিবর্তে নিজেদের ও সন্তানদের জীবিকা অন্বেষণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের কারও পক্ষে একটি সংবাদপত্র পড়ার, জনগণের খবরাখবর ও রূপান্তরসমূহ অনুসরণ করার কিংবা তাদের আকিদা ও আচরণ সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকছে না। এর ফলে শরয়ি আলিমগণ এমনভাবে দৃশ্যমান হচ্ছেন যেন তাঁরা তাঁদের নিজ যুগের বাইরের কোনো সময়ে বাস করছেন এবং ভিন্ন কোনো জাতির সাথে কথা বলছেন।
আর যদি রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা দ্বীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করত, তবে শরয়ি আলিমদের অবস্থান ভিন্নতর হতো। কারণ তখন উম্মাহর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাবলিতে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করা হতো এবং তাঁদের মতামতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হতো। তখন তাঁদের সামাজিক গুরুত্ব হতো অন্যরকম; তাঁরা জনগণের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবহিত থাকতেন এবং অংশগ্রহণ করতেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাফিয়্যূনা ওয়াল আইম্মাতুল আরবাআ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৩২)
توجيههم وإرشادهم، ولكن السياسة أهملتهم بل واحتقرتهم وازدرتهم، فهانوا على الناس ثم هانوا على أنفسهم وانشغلوا بتحصيل العيش. وانصرف الناس عنهم وجمدت بذلك عجلة الاجتهاد وهذه أولى مشكلاتنا ولا حل لها إلا برواد مخلصين من علماء الشريعة يهبطون إلى ميدان الدعوة ويصارعون الباطل بالحق والسياسة المنحرفة بالسياسة الشرعية، وذلك حتى تعلو كلمة الحق على كلمة الباطل، وفي جهادهم هذا وسعيهم هذا سيضطرون إلى الاجتهاد لمعرفة حكم الله في مشكلاتهم الحادثة، وبذلك يروج سوق الشريعة فهماً وعملاً وتطبيقاً واستنباطاً.
ثانياً: عندما انفصل الحكم عن الإسلام، وأصبح الحكم دنيوياً جبرياً يسعى أصحابه للبقاء فيه بكل وسيلة، ويسترضون الناس بكل طريق، ويبطشون بأعدائهم في غير رحمة، وكان مع ذلك سواد الشعب مسلمين يحبون الإسلام وإن كانوا يجهلونه فإن كل حاكم عمد إلى استئناس طائفة من أهل العلم بالشريعة فسلمهم مناصب دينية في دولته وسلطهم حرباً على كل داع بحق إلى نهضة إسلامية ترجع الشريعة إلى نصاب الحكم والحاكم إلى ميزان العدل. وعمد هؤلاء المستأنسون إلى حرب الداعين إلى الإسلام بحق فلم يجدوا من فرية يلصقونها بهم إلا أنهم خارجون على إجماع الأمة ومحاربون للأئمة،
তাদের দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শন করা উচিত ছিল, কিন্তু রাজনীতি তাদের অবজ্ঞা করেছে, এমনকি তুচ্ছজ্ঞান ও হেয় প্রতিপন্ন করেছে। ফলে তারা মানুষের দৃষ্টিতে মর্যাদাহীন হয়ে পড়েছে এবং নিজেদের কাছেও হীন গণ্য হয়েছে, আর তারা কেবল জীবন-জীবিকা নির্বাহের চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষও তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এর ফলে গবেষণা (اجتهاد)-এর চাকা স্থবির হয়ে গেছে। এটিই আমাদের প্রধান সমস্যা এবং শরীয়াহর বিজ্ঞ আলেমদের মধ্য থেকে এমন একনিষ্ঠ অগ্রগামীদের মাধ্যমেই কেবল এর সমাধান সম্ভব, যারা দাওয়াতের ময়দানে অবতীর্ণ হবেন এবং সত্যের মাধ্যমে মিথ্যার বিরুদ্ধে আর শরয়ি রাজনীতির মাধ্যমে পথভ্রষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবেন, যেন মিথ্যার বাণীর উপরে সত্যের বাণী সমুন্নত হয়। তাদের এই জিহাদ ও প্রচেষ্টায় উদ্ভূত সমস্যাবলিতে আল্লাহর বিধান জানার জন্য তারা গবেষণা (اجتهاد) করতে বাধ্য হবেন। আর এভাবেই অনুধাবন, আমল, প্রয়োগ এবং মাসয়ালা উদঘাটন (استنباط)-এর ক্ষেত্রে শরীয়াহর চর্চা পুনরায় প্রসার লাভ করবে।
দ্বিতীয়ত: যখন ইসলাম থেকে শাসনব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং রাষ্ট্রক্ষমতা জাগতিক ও স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করল, যেখানে শাসকরা যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সচেষ্ট হলো, যেকোনো পন্থায় জনগণকে তুষ্ট করার চেষ্টা করল এবং নিজেদের শত্রুদের ওপর নির্দয়ভাবে চড়াও হলো; এমতাবস্থায় সাধারণ জনগণের বিশাল অংশ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও এবং তারা ইসলামকে ভালোবাসা সত্ত্বেও যেহেতু তারা ছিল দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ, তাই প্রত্যেক শাসক শরীয়াহর একদল আলেমকে বশীভূত করার হীন চেষ্টা করল। শাসক তাদের রাষ্ট্রের বড় বড় ধর্মীয় পদে আসীন করল এবং যারা সত্যিকার অর্থে ইসলামী জাগরণ ও শরীয়াহকে পুনরায় শাসনব্যবস্থায় আসীন করার এবং শাসককে ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে ফিরিয়ে আনার দাওয়াত দিচ্ছিল, তাদের বিরুদ্ধে এই আলেমদের লেলিয়ে দিল। আর এই বশীভূত আলেমরা ইসলামের দিকে প্রকৃত আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হলো। তাদের বিরুদ্ধে আরোপ করার মতো তারা এমন কোনো মিথ্যা অপবাদই খুঁজে পেল না কেবল এই অপবাদ ছাড়া যে, তারা উম্মাহর সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) থেকে বিচ্যুত এবং ইমামগণের বিরোধী।