(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: -)
الموسوعة في صحيح السيرة النبوية - العهد المكي   (محمد إلياس الفالوذة)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الموسوعة في صحيح السيرة النبوية

(العهد المكي) (دراسة موثقة لما جاء عنها في القرآن الكريم والأحاديث الصحيحة والروايات التاريخية المعتمدة علمياً مرتبة على أعوام عمر النبي صلى الله عليه وسلم)

المؤلف: أبو إبراهيم، محمد بن إلياس الفالوذة [ت 1440 هـ]

الناشر: مطابع الصفا - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1423 هـ

عدد الصفحات: 529

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1435

সহীহ সীরাতে নববীর বিশ্বকোষ - মক্কী যুগ   (মুহাম্মাদ ইলিয়াস আল-ফালুজা)

বিভাগ: সীরাতে নববী


গ্রন্থ: সহীহ সীরাতে নববীর বিশ্বকোষ

(মক্কী যুগ) (পবিত্র কুরআন, সহীহ হাদীস এবং বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহে এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার একটি প্রামাণিক অধ্যয়ন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের বছর অনুযায়ী বিন্যস্ত)

লেখক: আবু ইব্রাহীম, মুহাম্মাদ ইবনে ইলিয়াস আল-ফালুজা [মৃত্যু ১৪৪০ হিজরি]

প্রকাশক: মাতাবিউস সাফা - মক্কা মুকাররমা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশনার তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة الموسوعة في صحيح السيرة النبوية

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره. ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له. وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102] {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1]، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد؛ فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدى هدى محمَّد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

إن لكل مؤرخ منهج يسير عليه لكتابة السيرة النبوية، ومنهجي هو ترتيب أحداث السيرة النبوية حسب التسلسل الزمني مع التركيز على ذكر المكان والزمان باليوم والشهر والعام إن أمكن.
সহীহ সীরাতুন নবী বিশ্বকোষের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসসমূহের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২] {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করে থাকো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১)} [নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল (৭১)} [আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর; নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

নিশ্চয়ই প্রত্যেক ঐতিহাসিকের সীরাতুন নবী (রাসূলের জীবনী) রচনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি থাকে। আমার কর্মপদ্ধতি হলো সীরাতুন নবীর ঘটনাবলিকে কালানুক্রমিক ধারা অনুযায়ী সাজানো এবং সম্ভব হলে দিন, মাস ও বছর উল্লেখপূর্বক স্থান ও সময়ের বর্ণনার ওপর গুরুত্বারোপ করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২)
وهو منهج قديم سار عليه مؤرخو السيرة قديمًا إلا أنني في دراستي هذه ركزت على تطابق الأعوام الهجرية مع الميلادية تطابقًا فصليًا مبينًا فيه شهور الشتاء والربيع والصيف والخريف.

حيث أنني وجدت اختلافا كبيرًا بين أحداث السيرة النبوية بالأشهر الميلادية مما جعلني أقوم بدراستها دراسة شاملة استغرقت سنين، حتى عرفت سبب الخلاف ونشرت ذلك في مقالات عديدة في جريدة المدينة المنورة. وخير مثال على ذلك هو غزوة تبوك فإنها كانت في حر شديد نص على ذلك القرآن الكريم بينما هي في كتاب التوفيقات الإلهامية في مقارنة التواريخ الهجرية بالسنين الإفرنكية والقبطية تأليف اللواء محمَّد مختار باشا تقع في شهر نوفمبر وهو شهر خريفي بارد.

من أجل ذلك قمت بدراسة السيرة النبوية من كتب المسانيد والجوامع والصحاح والسنن والأجزاء والفوائد المطبوعة منها. واستخرجت الأحاديث المتعلقة بالسيرة النبوية وكثير منها فات على المؤرخين والإخباريين تقييدها فقيدت ذلك في الموسوعة ثم قارنتها مع بعضها لإظهار الحديث التام المعنى الذي ينص على الحدث التاريخي إن أمكن وإلا كتبت الأحاديث كلها التي تدور حول الحدث التاريخي وذلك لإعطاء القارئ صورة متكاملة عن الحدث وخير مثال على ذلك أحاديث الإسراء والمعراج.

ثم درست الروايات التاريخية في مصادرها الأولى حتى القرن الخامس الهجري ووثقتها بالأحاديث النبوية.

وكذلك قمت بمقارنة الروايات التاريخية المتعددة مع بعضها لإظهار الرواية التامة المعنى والصحيحة المعنى القائمة على المنهج العلمي في النقد والتحقيق للحديث التاريخي وإن لم أجد ذكرت الروايات كلها التي تدور حوله إن كان في ذكرها علم وفائدة.

ذكرت بعض الأحاديث النبوية الضعيفة السند والصحيحة المعنى التي تتمم الحدث ولا تخل بالعقيدة والشرع وثوابت الدين كعادات العرب وتقاليدهم وحضارتهم في الجاهلية.
এটি একটি প্রাচীন পদ্ধতি যা অতীতে সীরাত ঐতিহাসিকগণ অনুসরণ করতেন; তবে আমি আমার এই গবেষণায় হিজরি বছরের সাথে ঈসায়ী বছরের ঋতুভিত্তিক সামঞ্জস্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি, যেখানে শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎকাল স্পষ্ট করা হয়েছে।

যেহেতু আমি ঈসায়ী মাসের হিসেবে সীরাত-উন-নবীর ঘটনাবলির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য খুঁজে পেয়েছি, যা আমাকে এটি নিয়ে একটি ব্যাপক গবেষণা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লেগেছে, যতক্ষণ না আমি এই পার্থক্যের কারণ জানতে পেরেছি এবং তা মদিনা মুনাওয়ারা পত্রিকার বেশ কিছু প্রবন্ধে প্রকাশ করেছি। এর সর্বোত্তম উদাহরণ হলো তাবুক যুদ্ধ; কেননা এটি প্রচণ্ড গরমের সময়ে সংঘটিত হয়েছিল যা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। অথচ মেজর জেনারেল মুহাম্মদ মুখতার পাশা রচিত 'আত-তাওফিকাতুল ইলহামিয়্যাহ ফি মুকারানাতিত তাওয়ারিখিল হিজরিয়্যাহ বিস-সুনীনিল ইফরানকিয়্যাহ ওয়াল কিবতিয়্যাহ' গ্রন্থে এটি নভেম্বর মাসে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি শীতল শরতের মাস।

এই কারণেই আমি মুদ্রিত মাসানিদ, জাওয়ামি', সিহাহ, সুনান, আজযা এবং ফাওয়ায়িদ গ্রন্থসমূহ থেকে সীরাত-উন-নবী নিয়ে গবেষণা করেছি। আমি সীরাত-উন-নবী সংক্রান্ত হাদিসগুলো সংকলন করেছি, যার অনেকগুলোই ঐতিহাসিক ও সংবাদদাতাগণ লিপিবদ্ধ করতে পারেননি; তাই আমি সেগুলোকে এই বিশ্বকোষে লিপিবদ্ধ করেছি। অতঃপর আমি সেগুলোকে একে অপরের সাথে তুলনা করেছি যাতে সম্ভব হলে ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনাকারী পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক হাদিসটি তুলে ধরা যায়। অন্যথায় আমি ঐতিহাসিক ঘটনা সংশ্লিষ্ট সকল হাদিস উল্লেখ করেছি যাতে পাঠককে ঘটনাটি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করা যায়, আর এর সর্বোত্তম উদাহরণ হলো ইসরা ও মিরাজ সংক্রান্ত হাদিসগুলো।

এরপর আমি হিজরি পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত মূল উৎসগুলো থেকে ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো অধ্যয়ন করেছি এবং সেগুলোকে নববী হাদিসের মাধ্যমে প্রামাণ্য রূপ দিয়েছি।

একইভাবে আমি একাধিক ঐতিহাসিক বর্ণনার মধ্যে তুলনা করেছি যাতে ঐতিহাসিক হাদিসের সমালোচনা ও পর্যালোচনার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক অর্থবোধক বর্ণনাটি তুলে ধরা যায়। আর যদি তা না পাওয়া যায়, তবে আমি সংশ্লিষ্ট সকল বর্ণনা উল্লেখ করেছি যদি তা উল্লেখ করার মধ্যে জ্ঞান ও উপকারিতা থাকে।

আমি এমন কিছু দুর্বল সনদের কিন্তু সঠিক অর্থবোধক নববী হাদিস উল্লেখ করেছি যা ঘটনাকে পূর্ণতা দান করে এবং আকিদা, শরিয়ত ও দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো ক্ষতি করে না, যেমন জাহেলি যুগে আরবদের আচার-আচরণ, ঐতিহ্য ও সভ্যতা।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩)
أما عن تصحيح الأحاديث النبوية وبيان درجتها فإني اعتمدت على تصحيح العلماء الحفّاظ في القديم.

أما في العصر الحديث اعتمدت على تصحيح الشيخ محمَّد ناصر الدين الألباني رحمه الله والشيخ شعيب الأرناؤوط والشيخ حسين سليم أسد وغيرهم.

كما أنني اعتمدت على كتاب [عظيم قدره صلى الله عليه وسلم ورفعة مكانته عند ربه عز وجل]. وكتاب [محبة الرسول صلى الله عليه وسلم وطاعته بين الإنسان والجماد] للدكتور خليل إبراهيم ملا خاطر [والخصائص النبوية الكبرى للسيوطي] تهذيب وتخريج وتعليق الشيخ عبد الله التليدي حفظه الله وذلك في كتابة فضائل الرسول صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وفضائل أمته رحمهم الله تعالى.

واعتمدت كذلك على كتاب [سير أعلام النبلاء للذهبي] في تراجم الصحابة المولودين في زمن النبوة رضوان الله تعالى عليهم.

وفي الختام أقدم جزيل شكري وامتناني لكل من ساعدني في دراسة السيرة النبوية جزاهم الله عني خير الجزاء وأثابهم بمنه وكرمه إنه جواد كريم.

كتبه

أبو إبراهيم محمَّد بن إلياس الفالوذه
নবুওয়তী হাদীসসমূহের বিশুদ্ধকরণ এবং সেগুলোর মান বর্ণনার বিষয়ে আমি প্রাচীন হাফেজ আলেমদের তাহকীকের ওপর নির্ভর করেছি।

আর বর্তমান যুগে আমি শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত, শেখ হুসাইন সেলিম আসাদ এবং অন্যদের তাহকীকের ওপর নির্ভর করেছি।

একইভাবে আমি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর বর্ষিত হোক) এবং তাঁর উম্মতের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন) শ্রেষ্ঠত্বসমূহ লেখার ক্ষেত্রে [আযীমু কাদরিহী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া রিফআতু মাকানাতিহী ইনদা রাব্বিহী আযযা ওয়া জাল্লা], ডক্টর খলিল ইব্রাহিম মোল্লা খাতিরের গ্রন্থ [মাহাব্বাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া তাআতুহু বাইনাল ইনসানি ওয়াল জামাদ] এবং শেখ আবদুল্লাহ আল-তালিদী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) কর্তৃক পরিমার্জিত, তাহকীককৃত ও টীকাযুক্ত [সুয়ুতির আল-খাসায়েস আল-কুবরা] গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।

আর নবুওয়াতের যুগে জন্মগ্রহণকারী সাহাবীগণের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি যাহাবীর [সিয়ারু আলামিন নুবালা] গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি।

পরিশেষে, যারা আমাকে নবুওয়তী সীরাত অধ্যয়নে সাহায্য করেছেন তাঁদের সবার প্রতি আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তাঁদের আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁদের পুরস্কৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।

লিখেছেন

আবু ইব্রাহিম মুহাম্মদ বিন ইলিয়াস আল-ফালুজাহ
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌فضائل رسول الله (صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم) وفضائل أمته رحمهم الله
আল্লাহর রাসুল (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন)-এর ফজিলতসমূহ এবং তাঁর উম্মত (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন)-এর ফজিলতসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌فضل الله عليه وعلى أمته صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال تعالى منوها بفضله على رسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم: {وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا} (1).

وقال تعالى منوها بفضله على أمة محمَّد صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم: {فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدُهُمْ مِنْ فَضْلِهِ} (2).

 

‌‌فضائل أسمائه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن جبير بن مطعم رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم: "لي خمسة أسماء: أنا محمَّد وأنا أحمد وأنا الماحي الذي يمحو الله بي الكفر وأنا الحاشر الذي يحشر الناس على قدمي وأنا العاقب [والعاقب: الذي ليس بعده نبي] وقد سماه الله رؤوفا رحيما" (3).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم قال: "أن مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بنيانا فأحسنه وأجمله، إلا موضع لبنة من زاوية من زواياه، فجعل الناس يطوفون به ويعجبون له ويقولون: هلا وضعت هذه اللبنة؟ قال: فأنا اللبنة وأنا خاتم النبيين" (4).

وقال صلى الله عليه وسلم: "أنا محمَّد وأحمدُ والمقفى والحاشر ونبي التوبة ونبي الرحمة ونبي الملحمة" (5).

--------------------------------------------

(1) سورة النساء (173).

(2) سورة النساء (175).

(3) أخرجه البخاريُّ ومسلمٌ 6/ 404 ومسلمٌ 2354.

(4) رواه البخاري ومسلمٌ 6/ 408 في الأنبياء ومسلمٌ في الفضائل.

(5) أخرجه مسلمٌ في الفضائل 2355.
তাঁর ওপর এবং তাঁর উম্মতের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম)

মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর তাঁর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেন: {আর আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল অতি মহান} (১)।

মহান আল্লাহ মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতের ওপর তাঁর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেন: {অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তিনি তাদের পাওনা পুরোপুরি দেবেন এবং আপন অনুগ্রহে আরও বেশি দেবেন} (২)।

 

‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) নামসমূহের ফযীলতসমূহ

জুবাইর ইবনে মুতইম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পাঁচটি নাম রয়েছে: আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহি (বিমোচনকারী) যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফর দূরীভূত করেন, আমি আল-হাশির (একত্রকারী) যার পায়ের কাছে মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং আমি আল-আকিব (সর্বশেষ আগত) [আর আল-আকিব হলো সেই ব্যক্তি যার পরে আর কোনো নবী নেই] এবং আল্লাহ তাঁকে 'রাউফ' (পরম স্নেহশীল) ও 'রাহীম' (দয়ালু) হিসেবে অভিহিত করেছেন" (৩)।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার ও আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে একটি দালান নির্মাণ করল এবং তাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কেবল তার এক কোণের একটি ইটের স্থান ছাড়া। অতঃপর মানুষ তার চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগল এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: কেন এই ইটটি স্থাপন করা হলো না? তিনি বললেন: আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী" (৪)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "আমি মুহাম্মাদ, আহমাদ, আল-মুকাফফা (সবার শেষে আগমনকারী), আল-হাশির, তাওবার নবী, রহমতের নবী এবং যুদ্ধের নবী" (৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা (১৭৩)।

(২) সূরা আন-নিসা (১৭৫)।

(৩) বুখারী ও মুসলিম ৬/৪০৪ এবং মুসলিম ২৩৫৪ কর্তৃক সংকলিত।

(৪) বুখারী এবং মুসলিম ৬/৪০৮ 'নবীদের অধ্যায়'-এ এবং মুসলিম 'ফযীলতসমূহ' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(৫) মুসলিম 'ফযীলতসমূহ' অধ্যায়ে ২৩৫৫ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌كنيته صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نجمع بين اسمه وكنيته. وقال: أنا أبو القاسم. والله يعطي وأنا أقسم" (1).

 

‌‌اسمه ونسبه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

ذكر البخاري رحمة الله عليه في مبعث النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "هو محمَّد رسول الله صلى الله عليه وسلم بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان" (2).

وكان رسول الله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم من بني هاشم من قريش من كنانة من مضر من العرب من ولد إسماعيل ابن إبراهيم خليل الله.

عن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم" (3).

عن كليب بن وائل رضي الله عنه قال: قلت لزينب بنت أبى سلمة (هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم من مضر؟ قالت: ممّن كان، إلا من مضر؟ من بني النضر بن كنانة" (4).

--------------------------------------------

(1) الترمذيُّ 41 كتاب الأدب.

(2) أخرجه البخاريُّ 7/ 125، 124 باب مبعث النبي.

(3) أخرجه مسلمٌ رقم 2276 باب فضل نسب النبي صلى الله عليه وسلم.

(4) أخرجه البخاريُّ 6/ 383، 384 في الأنبياء باب المناقب.
‌‌তাঁর উপনাম (কুনিয়া), আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নাম এবং উপনাম একত্রে মেলাতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবুল কাসিম। আল্লাহ দান করেন এবং আমি বন্টন করি" (১)।

 

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়, আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন

ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি অধ্যায়ে উল্লেখ করে বলেন: "তিনি হলেন মুহাম্মদ, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ইবনে আবদুল্লাহ, ইবনে আবদুল মুত্তালিব, ইবনে হাশিম, ইবনে আবদে মানাফ, ইবনে কুসাই, ইবনে কিলাব, ইবনে মুররাহ, ইবনে কাব, ইবনে লুওয়াই, ইবনে গালিব, ইবনে ফিহর, ইবনে মালিক, ইবনে আন-নাদর, ইবনে কিনানাহ, ইবনে খুযায়মাহ, ইবনে মুদরিকাহ, ইবনে ইলিয়াস, ইবনে মুদার, ইবনে নিযার, ইবনে মা'আদ, ইবনে আদনান" (২)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্র থেকে, যারা কিনানাহ, অতঃপর মুদার, অতঃপর আরব এবং আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈলের বংশধর।

ওয়াসিলা বিন আল-আসকা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন" (৩)।

কুলাইব বিন ওয়াইল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যয়নব বিনতে আবু সালামাকে জিজ্ঞেস করলাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি মুদার বংশীয় ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি মুদার ব্যতীত আর কার বংশীয় হতে পারেন? তিনি ছিলেন আন-নাদর বিন কিনানাহর বংশধর" (৪)।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী ৪১, আদব অধ্যায়।

(২) বুখারী ৭/ ১২৫, ১২৪, নবীজির নবুওয়াত প্রাপ্তি অধ্যায়।

(৩) মুসলিম, নং ২২৭৬, নবীজির বংশের শ্রেষ্ঠত্ব অধ্যায়।

(৪) বুখারী ৬/ ৩৮৩, ৩৮৪, আম্বিয়া অধ্যায়, মানাকিব অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌فضل قبيلته صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم على سائر القبائل

عن المطلب بن أبي وداعة رضي الله عنه، قال: "جاء العباس رضي الله عنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكأنه سمع شيئًا، فقام النبي صلى الله عليه وسلم على المنبر، فقال: من أنا؟ قالوا: أنت رسول الله، عليك السلام، قال: أنا محمَّد بن عبد الله بن عبد المطلب، إن الله خلق الخلق فجعلني في خيرهم، ثم جعلهم فرقتين فجعلني في خيرهم، ثم جعلهم قبائل فجعلني في خيرهم قبيلة، ثم جعلهم بيوتا فجعلني في خيرهم بيتا وخيرهم نفسا" (1).

 

‌‌فضل قريش وذكر اسمها في القرآن دون غيرها من القبائل

قال تعالى: {لإِيلَافِ قُرَيْشٍ (1) إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ (2) فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ (3) الَّذِي أَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَآمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ (4)} (2).

عن الزبير بن العوام قال: (فضل الله قريشًا بسبع خصال، فضلهم بأنهم عبدوا الله عشر سنين، لا يعبد الله إلا قريش، وفضلهم بأنهم نصرهم يوم الفيل، وهم مشركون، وفضلهم بأنه نزلت فيهم سورة من القرآن لم يدخل فيها أحد من العالمين وهي {لإِيلَافِ قُرَيْشٍ} وفضلهم بأن فيهم النبوة، والخلافة، والحجابة، والسقاية" (3).

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد 1/ 210 والترمذيُّ في المناقب رقم 3375.

(2) سورة قريش.

(3) الصحيحة 1944 البيهقي، ابن عساكر.
‌‌অন্যান্য গোত্রের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম-এর গোত্রের শ্রেষ্ঠত্ব

মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদাআ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, মনে হচ্ছিল তিনি (অন্যদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তিজনক) কিছু শুনেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন: আমি কে? তারা বললেন: আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি বললেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। আল্লাহ তাআলা মাখলুকাত বা সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের উত্তম ভাগের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এরপর তিনি তাদেরকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম পরিবার ও সর্বোত্তম সত্তার অধিকারী করেছেন" (১)।

 

‌কুরাইশ বংশের শ্রেষ্ঠত্ব এবং অন্যান্য গোত্রের পরিবর্তে কুরআনে তাদের নাম উল্লেখ হওয়া

আল্লাহ তাআলা বলেন: {কুরাইশদের আসক্তির কারণে (১) আসক্তি তাদের শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সফরের (২) অতএব তারা যেন এই ঘরের (কাবার) রবের ইবাদত করে (৩) যিনি তাদেরকে ক্ষুধা থেকে অন্ন দিয়েছেন এবং ভয়ভীতি থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন (৪)} (২)।

জুবায়ের ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলা কুরাইশদেরকে সাতটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এই কারণে যে, তারা দশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছে যখন কুরাইশরা ছাড়া আর কেউ আল্লাহর ইবাদত করেনি। তিনি তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এই কারণে যে, হস্তীবাহিনীর দিনে তিনি তাদেরকে সাহায্য করেছিলেন যখন তারা মুশরিক ছিল। তিনি তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এই কারণে যে, তাদের সম্পর্কে কুরআনের এমন একটি সূরা নাজিল হয়েছে যাতে বিশ্বজগতের আর কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, আর তা হলো {কুরাইশদের আসক্তির কারণে}। আর তিনি তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এই কারণে যে, তাদের মধ্যেই নবুওয়াত, খিলাফত, হাজাবা (কাবার চাবি রক্ষণাবেক্ষণ) এবং সিকায়া (হাজিদের পানি পান করানো) বিদ্যমান রয়েছে) (৩)।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ ১/২১০ এবং তিরমিজি, আল-মানাকিব অধ্যায়, হাদিস নং ৩৩৭৫।

(২) সূরা কুরাইশ।

(৩) আস-সহিহাহ ১৯৪৪, বায়হাকি, ইবনে আসাকির।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌كتبه الله في النبيين منذ خلق آدم صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن الربيع عن جابر عن الشعبي عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قيل يا رسول الله متى كتبت نبيا؟ قال: "وآدم بين الروح والجسد" (1).

أخرج بن سعد عن قتادة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كنت أول الناس (2) في الخلق وأخرهم في البعث" (3).

 

‌‌طيب مخرج أجداده وجداته آلائي ولدنه من لدن آدم حتى مولده صلى الله عليه وسلم

عن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "خرجت من نكاح، ولم أخرج من سفاح، من لدن آدم إلى أن ولدني أبي وأمي، لم يصبني من سفاح الجاهلية شيء" (4).

 

‌‌فضل يوم مولده صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن أبي قتادة رضي الله عنه أنه صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم الاثنين فقال: "فيه ولدت وفيه أنزل علي" (5).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تعرض الأعمال يوم الاثنين والخميس فأحب أن يعرض عملي وأنا صائم" (6).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البزار 1/ 217.

(2) أول الناس: يعني أول الأنبياء.

(3) ابن سعد ج1 ص 149.

(4) الإرواء 1914.

(5) رواه مسلم ص 820 ح 198 ج 2.

(6) رواه النسائي.
আদম সৃষ্টির সময় থেকেই আল্লাহ তাঁকে নবীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেছেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম)

রাবি থেকে, জাবির থেকে, শাবি থেকে এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কখন নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছেন? তিনি বললেন: "যখন আদম রূহ এবং দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন" (১)।

ইবনে সাদ কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি সৃষ্টিতে মানুষের মধ্যে প্রথম ছিলাম (২) এবং প্রেরণের দিক থেকে তাদের সর্বশেষ" (৩)।

 

‌আদম থেকে শুরু করে তাঁর জন্ম পর্যন্ত তাঁর পবিত্র বংশধারা এবং তাঁর পূর্বপুরুষ ও পূর্বনারীদের মর্যাদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছি, ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়; আদম থেকে শুরু করে আমার পিতা-মাতার আমাকে জন্ম দেওয়া পর্যন্ত জাহেলিয়াতের কোনো ব্যভিচার আমাকে স্পর্শ করেনি" (৪)।

 

‌তাঁর জন্মের দিনের শ্রেষ্ঠত্ব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম)

আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনে আমার ওপর ওহী নাযিল করা হয়েছে" (৫)।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়, তাই আমি পছন্দ করি যে রোজা রাখা অবস্থায় আমার আমল পেশ করা হোক" (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন, ১/২১৭।

(২) মানুষের মধ্যে প্রথম: অর্থাৎ নবীদের মধ্যে প্রথম।

(৩) ইবনে সাদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৯।

(৪) আল-ইরওয়া, ১৯১৪।

(৫) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা ৮২০, হাদিস নং ১৯৮, খণ্ড ২।

(৬) নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৯)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تفتح أبواب الجنة يوم الاثنين ويوم الخميس فيغفر فيها لكل عبد لا يشرك بالله شيئًا إلا رجلًا كانت بينه وبين أخيه شحناء فيقال انظروا هذين حتى يصطلحا" (1).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "خلق الله التربة يوم السبت وخلق فيها الجبال يوم الأحد وخلق الشجر يوم الاثنين" (2).

 

‌‌فضل بلده وبلد هجرته ومسجده صلى الله عليه وسلم

عن ابن الزبير رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "صلاة بمسجدي هذا أفضل من ألف صلاة فيما سواه من الساجد إلا المسجد الحرام وصلاة في المسجد الحرام أفضل من صلاة في مسجدي هذا بمائة صلاة" (3).

وعن عبد الله بن عدي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لمكة: "والله إنك لخير أرض الله وأحب أرض الله إلى الله ولولا أني أخرجت منك ما خرجت" (4).

وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ليس من بلد إلا سيطؤه الدجال إلا مكة والمدينة" (5).

وعن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنها طيبة تنفي الخبث كما تنفي النار خبث الفضة" (6).

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم ص 1987 ح36 كتاب البر والصلة.

(2) رواه مسلم وصححه الألباني.

(3) رواه أحمد 4/ 5 بإسناد صحيح.

(4) رواه أحمد 4/ 305، والترمذيُّ رقم 3681، وابن حبان رضي 1025، وابن ماجه رقم 3108 وحسنه الترمذيُّ وصححه.

(5) رواه البخاري في الحج باب حرمة المدينة، ومسلمٌ في الفتن 18/ 85 من شرح النووي مطولا.

(6) متفق عليه [رواه البخاري ومسلم].
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, অতঃপর আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে না এমন প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়; কিন্তু সেই ব্যক্তি ব্যতীত যার ও তার ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে। তখন বলা হয়: এই দুইজনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা আপস-মীমাংসা করে।" (১)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ শনিবার মাটি সৃষ্টি করেছেন, রবিবার তাতে পাহাড় সৃষ্টি করেছেন এবং সোমবার গাছপালা সৃষ্টি করেছেন।" (২)।

 

‌‌তাঁর (সা.) শহর, হিজরতের ভূমি এবং তাঁর মসজিদের ফজিলত

ইবনুল জুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সকল মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম। আর মসজিদুল হারামে এক ওয়াক্ত সালাত আমার এই মসজিদের একশত সালাতের চেয়ে উত্তম।" (৩)।

আবদুল্লাহ ইবনে আদি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কাকে সম্বোধন করে বলেছেন: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর জমিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না।" (৪)।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে দাজ্জাল পদার্পণ করবে না।" (৫)।

জাইদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি (মদিনা) তাইবা, যা কলুষতা দূর করে দেয় যেভাবে আগুন রুপার ময়লা দূর করে দেয়।" (৬)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, পৃ. ১৯৮৭, হা/৩৬, সদ্ব্যবহার ও সদাচার অধ্যায়।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ বলেছেন।

(৩) আহমাদ ৪/৫ বর্ণনা করেছেন, সহিহ সনদসহ।

(৪) আহমাদ ৪/৩০৫, তিরমিযী নং ৩৬৮১, ইবনে হিব্বান ১০২৫, ইবনে মাজাহ নং ৩১০৮ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে হাসান ও সহিহ বলেছেন।

(৫) বুখারী বর্ণনা করেছেন ‘হজ’ অধ্যায়ে ‘মদিনার পবিত্রতা’ অনুচ্ছেদে, এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন ‘ফিতনা’ অধ্যায়ে ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ ১৮/৮৫ তে বিস্তারিতভাবে।

(৬) মুত্তাফাকুন আলাইহি [বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১০)
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "صلاة في مسجدي هذا أفضل من ألف صلاة فيما سواه من المساجد إلا المسجد الحرام، فإني آخر الأنبياء، وإن مسجدي آخر المساجد" (1).

 

‌‌صفة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وجمال خلقته

سألت خالي هند بن أبي هالة، وكان وصافا، عن حلية النبي صلى الله عليه وسلم، وأنا أشتهي أن يصف لي منها شيئًا، فقال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم فخمًا مفخمًا. يتلأللأ وجهه تلألؤ القمر ليلة البدر، أطول من المربوع، وأقصر من المشذب (2). عظم الهامة (3). رجل الشعر (4). إن انفرقت عقيقته (5) فرق، وإلا فلا يجاوز شعره شحمة أذنيه إذا هو وفره، أزهر اللون. واسع الجبين. أزج الحواجب. سوابغ في غير قرن، بينهما عرق يدره الغضب. أقني العرنين، له نور يعلوه، يحسبه من لم يتأمله أشم، كث (6) اللحية، سهل الخدين، ضليع (7) الفم مفلج (8) الأسنان دقيق المسربة (9) كأن عنقه جيد (10) دمية، في صفاء الفضة. معتدل الخلق بادن (11) متماسك. سواء البطن والصدر عريض الصدر. بعيد ما بين المنكبين. ضخم الكراديس (12). أنور المتجرد. موصل ما بين

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم والنسائيُّ.

(2) أقصر من المشذب: هو الطويل البائن الطول مع نقص في لحمه.

(3) الهامة: هي الرأس.

(4) رجل الشعر ليس بالجعد ولا بالسبط.

(5) العقيقة أي الشعر وسمي عقيقة تشبها بشعر المولود (النهاية)، والوفرة: ما جاوز شحم الأذنين. أزج الحواجب: مقوسها، مع طول. من غير قرن، بينهما عرق يدره الغضب هذا العرق يمتلئ عند الغضب، العرنين: أعلى الأنف، أشم: مرتفع الأنف.

(6) كثير شعرها.

(7) قوي الفم.

(8) مفرق الأسنان: أى متباعدة عن بعضها قليلًا.

(9) شعر ما بين صدره إلى سرته.

(10) الجيد: هو العنق، والدمية: اللعبة ويريد الحسناء، لونه في صفاء الفضة.

(11) بادن: أي بدين ليس بالهزيل. متماسك قوي معتدل الجسم. سواء البطن والصدر أي صدره بارزًا على بطنه: لا بطنه بارز على صدره بل هما سواء.

(12) الكراديس: رؤوس الأعضاء كالكتف والركبة والمرفق.
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার এই মসজিদে এক সালাত আদায় করা মসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সকল মসজিদে এক হাজার সালাত আদায়ের চেয়েও উত্তম। কেননা আমিই শেষ নবী এবং আমার এই মসজিদই হলো শেষ মসজিদ" (১)।

 

‌‌আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামের শারীরিক গুণাবলি ও তাঁর সৃষ্টিগত সৌন্দর্য

আমি আমার মামা হিন্দ বিন আবি হালাকে—যিনি ছিলেন চমৎকার বর্ণনাকারী—আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবয়ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি চাচ্ছিলাম যে তিনি আমার কাছে তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মহান। পূর্ণিমার চাঁদের মতো তাঁর চেহারা উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় হতো। তিনি মাঝারি গড়নের চেয়ে কিছুটা লম্বা ছিলেন, কিন্তু অতি দীর্ঘ ও শীর্ণকায় ছিলেন না (২)। তাঁর মাথা ছিল বড় (৩)। চুল ছিল ঢেউখেলানো (৪)। যদি তাঁর চুলের সিঁথি স্বাভাবিকভাবে আলাদা হতো তবে তিনি আলাদা রাখতেন (৫), অন্যথায় যখন তিনি চুল বড় রাখতেন তখন তা কানের লতি অতিক্রম করত না। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল বর্ণের, প্রশস্ত কপালের অধিকারী। তাঁর ভ্রুদ্বয় ছিল ঘন ও প্রলম্বিত। ভ্রুদ্বয় ছিল পূর্ণ কিন্তু একে অপরের সাথে মিলিত ছিল না, তাদের মাঝখানে একটি রগ ছিল যা রাগের সময় ফুটে উঠত। তাঁর নাক ছিল খাড়া ও তীক্ষ্ণ, সেটির ওপর একটি নূর বা আভা চমকাত; যে ব্যক্তি গভীরভাবে লক্ষ্য করত না সে মনে করত তাঁর নাকটি অনেক উঁচু। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন (৬), গাল ছিল মসৃণ। তাঁর মুখ ছিল প্রশস্ত (৭), দাঁতগুলো ছিল সুবিন্যস্ত ও মাঝখানে কিছুটা ফাঁক বিশিষ্ট (৮)। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা ছিল (৯)। তাঁর ঘাড় ছিল সুঠাম ও লাবণ্যময় (১০), যেন তা রূপার মতো স্বচ্ছ। তিনি ছিলেন সুষম দৈহিক গঠনের অধিকারী, হৃষ্টপুষ্ট (১১) ও সুদৃঢ়। বুক ও পেট ছিল সমান এবং বুক ছিল প্রশস্ত। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল বিস্তৃত। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড় (১২)। তাঁর দেহের অনাবৃত অংশগুলো ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত অংশটি ছিল...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

(২) অতি দীর্ঘ ও শীর্ণকায় অপেক্ষা খাটো: মুশাযযাব হলো সেই ব্যক্তি যে অত্যন্ত লম্বা এবং যার শরীরে মাংসের অভাব বা কৃশতা রয়েছে।

(৩) হমা: অর্থ হলো মাথা।

(৪) রাজিলুশ শা’র: এমন চুল যা পুরোপুরি কোঁকড়ানো নয় আবার একদম সোজা বা ঝুলে থাকাও নয়।

(৫) আকিকা অর্থাৎ চুল; নবজাতকের চুলের সাথে সাদৃশ্য রেখে একে আকিকা বলা হয়েছে (আন-নিহায়া)। ওয়াফরা: যা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে। আযাজ্জুল হাওয়াজিব: দীর্ঘ ও ধনুকাকৃতি ভ্রু। তাদের মাঝে একটি রগ ছিল যা রাগের সময় ফুটে উঠত: অর্থাৎ এই রগটি রাগের সময় রক্তে পূর্ণ হয়ে ফুলে উঠত। আরনীন: নাকের উপরিভাগ। আশাম: উন্নত বা খাড়া নাক।

(৬) দাড়ির পশম বেশি হওয়া।

(৭) শক্তিশালী ও প্রশস্ত মুখ।

(৮) দাঁতগুলোর মাঝে দূরত্ব: অর্থাৎ একে অপরের থেকে সামান্য আলাদা থাকা।

(৯) বুক থেকে নাভি পর্যন্ত লম্বা পশম।

(১০) জীদ: অর্থ ঘাড়। দুময়া: অর্থ খেলনা বা প্রতিমা, এখানে লাবণ্য ও সৌন্দর্য বোঝানো হয়েছে; তাঁর ঘাড়ের রঙ ছিল রূপার মতো স্বচ্ছ।

(১১) বাদিন: অর্থাৎ হৃষ্টপুষ্ট বা মাংসল, তবে তা স্থূল বা শিথিল নয়। মুতামাসিক: সুদৃঢ় ও সুষম দেহ। বুক ও পেট সমান হওয়ার অর্থ হলো: তাঁর বুক পেটের ওপর সামান্য উঁচু ছিল, পেট বুকের চেয়ে বেরিয়ে থাকা অবস্থায় ছিল না বরং তারা সমান ছিল।

(১২) কারাদিস: অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়া বা সংযোগস্থল যেমন কাঁধ, হাঁটু ও কনুই।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১১)
اللبة (1) والسرة. بشعر يجرى كالخط، عاري الثديين والبطن مما سوى ذلك، أشعر (2) الذراعين والمنكبين، وأعالي الصدر. طويل الزندين. رحب الراحة (3) شثن الكفين. سائل الأطراف. أو قال شامل الأطراف. خمصان الأخمصين (4). مسيح (5) القدمين، ينبو عنهما الماء، إذا زال زال تقلعا، يخطو تكفئا (6)، ويمشى هونا، ذريع المشية، إذا مشى كأنما ينحط من صبب (7)، فإذا التفت التفت جميعًا (8). خافض الطرف، نظره إلى الأرض أطول من نظره إلى السماء، جل نظره الملاحظة (9)، يسوق أصحابه (10)، يبدر من لقي بالسلام (11)) (12).

 

‌‌طيب رائحة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن أنسى رضي الله عنه قال: (دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: عندنا، فعرق وجاءت أمي بقارورة، فجعلت تسلت العرق، فاستيقظ النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا أم سليم، ما هذا الذي تصنعين؟ قالت: عرقك نجعله لطيبنا، وهو أطيب الطيب) (13).

--------------------------------------------

(1) اللبة: هي من الصدر موضع الطوق.

(2) كثير شعر الذراعين والمنكبين.

(3) الراحة: الكف واسع الكف ضخم الكفين أهـ.

(4) الأخمص: من القدم الموضع الذي لا يلصق بالأرض منها عند الوطء والخمصان المبالغ منه (النهاية) أي أن ذلك الموضع من أسفل قدميه شديد التجافي عن الأرض.

(5) أي ملساوان لينتان ليس فيهما تكسر ولا شقاق (النهاية) والشقاق تشقق الجلد وهو من الأدواء كالسعال والزكام (نهاية).

(6) كيمشي تقلعا يخطو تكفئا: مائلًا قليلا إلى الأمام.

(7) من صبب: من مكان عال: أي سريع المشي.

(8) التفت جميعًا: بكل جسده.

(9) أكثر نظره الملاحظة أي يلحظ بعينه لحظًا، وهذا من حسن الأدب يجلب الهيبة والوقار.

(10) يمشون أمامه ويمشي خلفهم.

(11) يسبق بالسلام من لقيه.

(12) أخرجه الترمذيُّ في الشمائل برقم (7) إلى قوله: (يبدر من لقيه بالسلام)، وبرقم (225)، وأبو نعيم في الدلائل مطولًا (227) وابن سعد في الطبقات (1/ 422) وزاد السيوطي في الجامع الصغير (الطبراني في المعجم الكبير والبيهقيُّ في شعب الإيمان) والبغويُّ في شرح السُّنَّة (3705) ودلائل النبوة للبيهقي ص 286/ 1.

(13) رواه مسلم بطريقين في الفضائل ص 1815.
কণ্ঠনালীর নিম্নভাগ (১) থেকে নাভি পর্যন্ত সুতার মতো সরু পশমের একটি রেখা প্রলম্বিত ছিল। বুক ও পেটের অন্য কোনো স্থানে পশম ছিল না। উভয় হাত, কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগে পশম ছিল (২)। হাতের প্রকোষ্ঠদ্বয় ছিল দীর্ঘ। হাতের তালু ছিল প্রশস্ত (৩), আর হাতের কবজি ও আঙুল ছিল মাংসল ও সুঠাম। আঙুলগুলো ছিল দীর্ঘ (অথবা তিনি বলেছেন সুবিন্যস্ত)। পায়ের পাতার মধ্যভাগ ছিল বেশ ফাঁপা (৪)। উভয় পা ছিল মসৃণ (৫), যার উপর পানি স্থির হতো না। যখন তিনি পথ চলতেন তখন সজোরে পা ফেলতেন, সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পথ চলতেন (৬), ধীরস্থিরভাবে হাঁটতেন, কিন্তু তাঁর হাঁটা ছিল দ্রুত। যখন তিনি হাঁটতেন, মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন (৭)। যখন তিনি কারো দিকে ফিরে তাকাতেন, তখন পূর্ণভাবে শরীর ফিরিয়ে তাকাতেন (৮)। তিনি সর্বদা দৃষ্টি নিচু রাখতেন, আকাশের চেয়ে জমিনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি দীর্ঘ হতো। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল আড়চোখে পর্যবেক্ষণমূলক (৯)। তিনি তাঁর সঙ্গীদের আগে পাঠিয়ে নিজে পেছনে চলতেন (১০)। যার সাথেই দেখা হতো, তাকে আগে সালাম দিতেন (১১) (১২)।

 

‌‌আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামের সুগন্ধি

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন এবং দুপুরে বিশ্রাম নিলেন। তখন তিনি ঘামছিলেন। আমার মা একটি শিশি নিয়ে আসলেন এবং তাঁর ঘাম জমা করতে লাগলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জেগে উঠলেন এবং বললেন: হে উম্মে সুলাইম, তুমি একি করছো? তিনি বললেন: এটি আপনার ঘাম, আমরা এটি আমাদের সুগন্ধিতে মেশাবো, আর এটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ সুগন্ধি) (১৩)।

--------------------------------------------

(১) লাব্বাহ: এটি বুকের উপরিভাগ যেখানে হাড় বা অলঙ্কার থাকে।

(২) উভয় হাত ও কাঁধে অধিক পশম থাকা।

(৩) রাহাহ: হাতের তালু; প্রশস্ত তালু এবং স্থুল বা বলিষ্ঠ হাতের পাতা।

(৪) আখমাস: পায়ের নিচের ওই অংশ যা হাঁটার সময় মাটিতে লাগে না। আর 'খামসান' বলতে এর আধিক্য বোঝায় (আন-নিহায়া), অর্থাৎ তাঁর পায়ের পাতার ওই অংশটি মাটি থেকে বেশ উপরে থাকত।

(৫) অর্থাৎ পা দুটি ছিল মসৃণ ও কোমল, যাতে কোনো ফাটা বা খসখসে ভাব ছিল না (আন-নিহায়া)। চামড়া ফেটে যাওয়া এক প্রকার ব্যাধি যেমন সর্দি বা কাশি (নিহায়া)।

(৬) সজোরে পা ফেলে এবং সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পথ চলা।

(৭) উঁচু স্থান থেকে নামার মতো: অর্থাৎ দ্রুত হাঁটা।

(৮) পূর্ণভাবে ফেরা: অর্থাৎ পুরো শরীর ঘুরিয়ে।

(৯) তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল আড়চোখে লক্ষ্য করা। এটি উত্তম আদবের অন্তর্ভুক্ত, যা গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

(১০) সঙ্গীরা তাঁর সামনে হাঁটতেন এবং তিনি তাদের পেছনে চলতেন।

(১১) যার সাথে দেখা হতো তাকে আগে সালাম দিতেন।

(১২) তিরমিযী এটি 'শামাইল' গ্রন্থে (৭) নং-এ 'সালাম প্রদান' পর্যন্ত এবং (২২৫) নং-এ বর্ণনা করেছেন। আবু নুআইম 'দালাইল' গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে (২২৭) এবং ইবনে সাদ 'তাবাকাত' গ্রন্থে (১/৪২২) বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী 'জামেউস সগীর' গ্রন্থে (তাবারানীর 'মুজামুল কবীর' এবং বায়হাকীর 'শুআবুল ঈমান' থেকে) এটি যুক্ত করেছেন। বাগভী 'শারহুস সুন্নাহ' (৩৭০৫) এবং বায়হাকী 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' (১/২৮৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(১৩) মুসলিম এটি 'ফাযায়েল' অধ্যায়ে ১৮১৫ পৃষ্ঠায় দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১২)
وفي رواية من وجه أخر: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يأتي أم سليم، فيقيل عندها، فتبسط له نطعا، فيقيل عليه (1)، وكان كثير العرق، فكانت تجمع عرقه فتجعله في الطيب والقوارير، فقال: يا أم سليم، ما هذا؟ قالت: عرقك أدوف* به طيبي).

وعن أنس رضي الله عنه أيضًا قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أزهر اللون، كأن عرقه اللؤلؤ، إذا مشى تكافأ، ولا مسست ديباجه ولا حريرة ألين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا شممت مسكة ولا عنبرًا أطيب من رائحة رسول الله صلى الله عليه وسلم (2).

 

‌‌كرم أخلاقه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال الله تعالى: {ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ (1) مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ (2) وَإِنَّ لَكَ لَأَجْرًا غَيْرَ مَمْنُونٍ (3) وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} (3).

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: (كان خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم القرآن ثم، قالت: أتقرؤون سورة [المؤمنون]؟ قال: قلنا: نعم، قالت: اقرأ قال: فقرأت: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (1) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ (2) وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ (3) وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ (4) وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ} (4)

فقالت: هكذا كان خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم) (5).

--------------------------------------------

(1) فيقيل: أي ينام عندها في وقت القيلولة وهو وسط النهار.

* أي أخلطه بطيبي.

(2) رواه مسلم في الفضائل 15/ 85، 86 والترمذيُّ والدارميُّ رقم (62).

(3) سورة القلم (1 - 4).

(4) سورة المؤمنون (1 - 5).

(5) أخرجه الحاكم في المستدرك 2/ 392 وصححه ووافقه الذهبي.
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইমের নিকট আসতেন এবং সেখানে দুপুরবেলা বিশ্রাম নিতেন। উম্মে সুলাইম তাঁর জন্য একটি চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি তার ওপর বিশ্রাম নিতেন (১)। তাঁর প্রচুর ঘাম হতো, আর তিনি (উম্মে সুলাইম) তাঁর ঘাম সংগ্রহ করে সুগন্ধি ও শিশিতে ভরে রাখতেন। তিনি (নবী) জিজ্ঞেস করলেন: হে উম্মে সুলাইম, এটি কী? তিনি বললেন: আপনার ঘাম, যা আমি আমার সুগন্ধির সাথে মিশিয়ে নিই।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উজ্জ্বল বর্ণের অধিকারী ছিলেন, তাঁর ঘাম যেন ছিল মুক্তার মতো। যখন তিনি হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে দ্রুতপদে চলতেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালুর চেয়ে নরম কোনো রেশম বা সিল্ক স্পর্শ করিনি, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরের ঘ্রাণ অপেক্ষা উত্তম কোনো মিশক বা আম্বরের সুবাস আমি কখনও আঘ্রাণ করিনি (২)।

 

‌‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের মহান চরিত্র

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নূন, শপথ কলমের এবং তারা যা লিখে তার। আপনার রবের অনুগ্রহে আপনি উন্মাদ নন। আর আপনার জন্য অবশ্যই রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। এবং আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন} (৩)।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র ছিল আল-কুরআন। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি সূরা [আল-মুমিনুন] পাঠ করো? বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: পাঠ করো। তিনি বলেন: তখন আমি পাঠ করলাম: {নিশ্চয় মুমিনরা সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী, যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে, যারা জাকাত প্রদানে সক্রিয় এবং যারা তাদের যৌনাঙ্গ হিফাজত করে} (৪)

অতঃপর তিনি বললেন: এমনই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র (৫)।

--------------------------------------------

(১) তিনি দুপুরবেলা বিশ্রাম নিতেন: অর্থাৎ দিনের মধ্যভাগে তাঁর নিকট কাইলুলা বা বিশ্রাম নিতেন।

* অর্থাৎ আমি এটি আমার সুগন্ধির সাথে মিশ্রিত করি।

(২) মুসলিম এটি ফাদায়িল অধ্যায়ে ১৫/ ৮৫, ৮৬-এ এবং তিরমিযী ও দারেমি (হাদীস নং ৬২) বর্ণনা করেছেন।

(৩) সূরা আল-কালাম (১-৪)।

(৪) সূরা আল-মুমিনুন (১-৫)।

(৫) হাকেম এটি আল-মুস্তাদরাক ২/ ৩৯২-এ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تواضعه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم فإنما أنا عبد فقولوا عبد الله ورسوله) (1).

وعن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنه قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكثر الذكر ويقل اللغو ويطيل الصلاة ويقصر الخطبة ولا يأنف أن يمشي مع الأرملة والمسكين فيقضى له الحاجة) (2).

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: (ما ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئًا قط بيده ولا امرأة ولا خادما إلا أن يجاهد في سبيل الله، وما نيل منه شيء قط فينتقم من صاحبه إلا أن ينتهك شيء من محارم الله فينتقم لله عز وجل) (3).

 

‌‌تواضعه في بيته صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن عائشة رضي الله عنها أنها سئلت هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعمل في بيته فقالت: (نعم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخصف نعله ويخيط ثوبه ويعمل في بيته كما يعمل أحدكم في بيته) (4).

 

‌‌فضل جوده وشجاعته وحياءه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس وكان أجود الناس وكان أشجع الناس) (5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاريُّ في الأنبياء.

(2) أخرجه النسائي في الجمعة.

(3) أخرجه مسلم في الفضائل برقم 2328.

(4) أخرجه الإمام أحمد في المسند 6/ 121.

(5) أخرجه البخاري في الجهاد.
‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম) বিনয়

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (তোমরা আমার অতিরঞ্জিত প্রশংসা করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা ইবনে মারিয়ামের অতিরঞ্জিত প্রশংসা করেছে। আমি কেবল একজন বান্দা মাত্র। সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।) (১)।

আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধিক পরিমাণে জিকির করতেন, অনর্থক কথা কম বলতেন, সালাত দীর্ঘ করতেন এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন। আর বিধবা ও মিসকীনদের সাথে চলতে এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করে দিতে তিনি সংকোচ বোধ করতেন না।) (২)।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও তাঁর হাত দিয়ে কাউকে আঘাত করেননি—কোনো নারী কিংবা সেবককে নয়; তবে আল্লাহর পথে জিহাদ করার সময় ব্যতীত। আর তাঁর সাথে কৃত কোনো আচরণের জন্য তিনি কখনও ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতেন না, তবে আল্লাহর পবিত্র বিধানসমূহ লঙ্ঘিত হলে তিনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন।) (৩)।

 

‌‌নিজ ঘরে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম) বিনয়

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তাঁর ঘরে কাজ করতেন? তিনি বললেন: (হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের জুতা মেরামত করতেন, নিজের কাপড় সেলাই করতেন এবং তাঁর ঘরে কাজ করতেন যেমনটি তোমরা তোমাদের ঘরে কাজ করে থাকো।) (৪)।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম) দানশীলতা, বীরত্ব ও লজ্জাশীলতার মর্যাদা

আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বোত্তম, মানুষের মাঝে সবচাইতে দানশীল এবং মানুষের মাঝে সবচাইতে সাহসী।) (৫)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি ‘আম্বিয়া’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(২) নাসাঈ এটি ‘জুমুআহ’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(৩) মুসলিম এটি ‘ফাদায়িল’ অধ্যায়ে ২৩২৮ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।

(৪) ইমাম আহমাদ এটি ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ৬/১২১।

(৫) বুখারী এটি ‘জিহাদ’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৪)
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: (ما رأيت أحدًا أجود ولا أنجد ولا أشجع ولا أرضى من رسول الله صلى الله عليه وسلم) (1).

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه يقول: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أشد حياءً من العذراء في خدرها) (2).

 

‌‌بعثه الله ليتمم مكارم الأخلاق صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم: "إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق" (3).

 

‌‌أخذ له الميثاق قبل أن يخلقه في الدنيا صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال عز وجل: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ} (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو الشيخ برقم 88.

(2) مسلم حديث 2320.

(3) رواه أحمد في 2/ 381.

(4) سورة آل عمران (81).
আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক দানশীল, অধিক সাহায্যকারী, অধিক সাহসী এবং অধিক সন্তুষ্ট আর কাউকে দেখিনি।" (১)।

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পর্দানশীন কুমারী কন্যার চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন।" (২)।

 

‌‌উত্তম চরিত্রসমূহ পূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)

আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি উত্তম চরিত্রসমূহকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।" (৩)।

 

‌‌দুনিয়াতে তাঁকে সৃষ্টি করার পূর্বেই তাঁর পক্ষ থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, এরপর যখন তোমাদের কাছে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী হিসেবে একজন রাসূল আসবেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলে?’ তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ তিনি বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।’" (৪)।

--------------------------------------------

(১) আবুশ শাইখ এটি ৮৮ নং হাদীসে বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম, হাদীস নং ২৩২০।

(৩) আহমদ ২/৩৮১ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।

(৪) সূরা আলে ইমরান (৮১)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌فضله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وفضل أمته قبل أن يخلقهم

قال جَلَّ ثناؤه: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ …} (1).

 

‌‌بشرت به الأنبياء قبل أن يبعث صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

عن العرباض بن سارية رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إني عند الله خاتم النبيين، وإن آدم لمنجدل في طينته، وسأخبركم عن ذلك، دعوة أبي إبراهيم، وبشارة عيسى، ورؤيا أمي التي رأت وكذلك أمهات النبيين يرين وإن أم رسول الله صلى الله عليه وسلم رأت حين وضعته نورًا أضاءت له قصورا الشام" (2).

قوله: (لمنجدل: أي مطروح على وجه الأرض. صورة من طين، لم يجر فيه الروح بعد).

ودعوة إبراهيم عليه السلام: هي قوله تعالى: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (3).

--------------------------------------------

(1) سورة الفتح (29).

(2) رواه أحمد وابن حبان والحاكم وغيرهم وسنده صحيح عند أحمد في طريق له، وله شواهد عن خالد بن معدان عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم. وسيأتي، وعن أبي أمامه رواه الطيالسي رقم 2315 وأحمدُ والطبراني.

(3) سورة البقرة (129).
‌সৃষ্টির পূর্বেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর উম্মতের মর্যাদা

মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়াশীল। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের চিহ্ন তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত এমন এক চারাগাছের মতো যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্ত হয়, এরপর তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের উপর উঠে যায়, যা কৃষকদের আনন্দ দেয়, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তরজ্বালা সৃষ্টি করেন …} (১)।

 

‌তাঁর প্রেরিত হওয়ার পূর্বেই নবীগণ তাঁর সুসংবাদ দিয়েছেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম)

ইরবাদ বিন সারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট শেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম যখন আদম তখনও তাঁর কাদামাটিতে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলেন। আমি তোমাদেরকে এর বিবরণ প্রদান করব: তা হলো আমার পিতা ইব্রাহীমের দু'আ, ঈসার সুসংবাদ এবং আমার মাতার সেই স্বপ্ন যা তিনি দেখেছিলেন; আর নবীগণের মাতাগণ এমনই স্বপ্ন দেখে থাকেন। আর আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাতা তাঁর ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় এমন এক নূর দেখেছিলেন যার দ্বারা শামের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল” (২)।

তাঁর উক্তি: (মুনজাদিল: অর্থাৎ জমিনের ওপর পড়ে থাকা। কাদার তৈরি এক অবয়ব, যাতে তখনও রুহ সঞ্চারিত হয়নি)।

ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর দু'আ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {হে আমাদের রব! আপনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফাতহ (২৯)।

(২) আহমাদ, ইবনে হিব্বান, হাকিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ-এর একটি সূত্রে এর সনদ সহীহ। খালিদ বিন মা'দান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের সূত্রে এর স্বপক্ষে আরও বর্ণনা রয়েছে যা সামনে আসবে। আবু উমামা থেকে এটি তায়ালিসি (২৩১৫), আহমাদ ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ (১২৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وبشارة عيسى عليه السلام: هي قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ} (1).

 

‌‌هو صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم رحمة للعالمين وهدية الله إلى خلقه

قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} (2).

وقال صلى الله عليه وسلم كما في حديث أبي هريرة رضي الله عنه: "يا أيها الناس إنما أنا رحمة مهداة" (3).

 

‌‌رفع ذكره في الدنيا والآخرة صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال تعالى: {أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ (1) وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ (2) الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ (3) وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} (4).

--------------------------------------------

(1) سورة الصف (6).

(2) سورة الأنبياء (107).

(3) رواه الحاكم وصححه على شرطهما واللفظ له، والطبرانيُّ والبزار برجال الصحيح.

(4) سورة الشرح (1 - 4).
এবং ঈসা আলাইহিস সালামের সুসংবাদ: তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {স্মরণ করো, যখন মারইয়াম-তনয় ঈসা বলেছিল, 'হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন তাঁর সুসংবাদ দানকারী।' অতঃপর তিনি যখন স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা বলল, 'এটি তো এক স্পষ্ট জাদু।'} (১)।

 

‌‌তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর উপহার

মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।} (২)।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদিসে যেমন বলেছেন: "হে লোকসকল, নিশ্চয়ই আমি এক উপহার স্বরূপ রহমত" (৩)।

 

‌‌দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত করা হয়েছে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম

মহান আল্লাহ বলেন: {আমি কি আপনার জন্য আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি? (১) এবং আমি আপনার থেকে আপনার সেই বোঝা অপসারিত করেছি, (২) যা আপনার পিঠ ভেঙে দিচ্ছিল, (৩) আর আমি আপনার মর্যাদা সমুন্নত করেছি।} (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আস-সাফ (৬)।

(২) সূরা আল-আম্বিয়া (১০৭)।

(৩) হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ বলেছেন আর শব্দসমূহ তাঁরই, এছাড়া তাবারানি এবং বাজ্জার নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

(৪) সূরা আশ-শারহ (১ - ৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌فضل محبة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وأن الإيمان بالله مرتبطًا بمحبته صلى الله عليه وسلم فكلما ازداد الإنسان محبة له ازداد إيمانًا بالله والعكس صحيح

عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده والناس أجمعين" (1).

وعن عبد الله بن هشام رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو آخذ بيد عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال له عمر: يا رسول الله، لأنت أحب إلي من كل شيء إلا من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا والذي نفسي بيده حتى أكون أحب إليك من نفسك" فقال له عمر: فإنه الآن والله لأنت أحب إلي من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "الآن يا عمر" (2).

وعن عبد المطلب بن ربيعه رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "والذي نفسي بيده لا يدخل قلب رجل الإيمان حتى يحبكم لله ورسوله" (3).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، متى الساعة؟ قال: "وما أعددت للساعة؟ " قال: حب الله ورسوله، قال: "فإنك مع من أحببت".

قال أنس: فما فرحنا بعد الإِسلام فرحًا أشد من قول النبي صلى الله عليه وسلم: "فإنك مع من أحببت".

قال أنس: فأنا أحب الله ورسوله، وأبا بكر وعمر، فأرجو أن أكون معهم، وإن لم أعمل بأعمالهم (4).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في الإيمان 1/ 65 من فتح الباري، ومسلمٌ 2/ 15 من شرح النووي، كذا النسائي 8/ 100 في الإيمان ونحوه أبي هريرة رواه البخاري في الإيمان 1/ 64.

(2) رواه البخاري في باب كيف كانت يمين النبي عليه السلام من الأيمان والنذر 14/ 329، 330 من فتح الباري، وانظر المناقب 8/ 54.

(3) رواه الترمذيُّ في المناقب رقم 3524 وحسنه وصححه ورواه أيضا أحمد والطيالسي والحاكم 3/ 333 وسنده حسن.

(4) متفق عليه -البخاري ومسلمٌ- واللفظ لمسلم.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসার মর্যাদা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান যে তাঁর ভালোবাসার সাথে সম্পৃক্ত, সেই আলোচনা; কেননা মানুষ তাঁকে যত বেশি ভালোবাসবে, আল্লাহর প্রতি তার ঈমান তত বৃদ্ধি পাবে এবং এর বিপরীতটিও সত্য।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই" (১)।

আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাত ধরেছিলেন। তখন উমর তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণ ছাড়া অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "না, যাঁর হাতে (অর্থাৎ আল্লাহর হাতে) আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর কসম, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।" তখন উমর তাঁকে বললেন: আল্লাহর কসম, এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের চেয়েও অধিক প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে উমর, এখন (তোমার ঈমান পূর্ণ হলো)" (২)।

আবদুল মুত্তালিব ইবনে রাবিআ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যাঁর হাতে (অর্থাৎ আল্লাহর হাতে) আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর কসম, কোনো ব্যক্তির অন্তরে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের ভালোবাসবে" (৩)।

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: "তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?" সে বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি যার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো।"

আনাস বলেন: ইসলাম গ্রহণের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণী—"নিশ্চয়ই তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো"—এর চেয়ে বেশি খুশি আমরা আর কোনো কিছুতে হইনি।

আনাস বলেন: সুতরাং আমি আল্লাহকে ভালোবাসি, তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি এবং আবু বকর ও উমরকে ভালোবাসি; আর আমি আশা করি যে আমি তাঁদের সাথেই থাকব, যদিও আমি তাঁদের আমলের মতো আমল করতে পারিনি (৪)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি ঈমান অধ্যায়ে (১/৬৫, ফাতহুল বারী) এবং মুসলিম (২/১৫, শরহুন নববী) বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে নাসায়ী (৮/১০০) ঈমান অধ্যায়ে এবং আবু হুরায়রা থেকে বুখারী (১/৬৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন ‘শপথ ও মানত’ অধ্যায়ের ‘নবী আলাইহিস সালামের শপথ কেমন ছিল’ অনুচ্ছেদে (১৪/৩২৯, ৩৩০, ফাতহুল বারী); আরও দেখুন ‘মানাকিব’ (৮/৫৪)।

(৩) তিরমিযী এটি ‘মানাকিব’ অধ্যায়ে (হাদিস নং ৩৫২৪) বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান ও সহীহ বলেছেন। এটি আহমাদ, তায়ালিসি এবং হাকিম (৩/৩৩৩) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান।

(৪) মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম) এবং মূল পাঠ মুসলিমের।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌فضل حياته ومماته صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

كما في حديث ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "حياتي خير لكم، تحدثون ويحدث لكم، ووفاتي خير لكم، تعرض عليَّ أعمالكم، فما رأيت من خير حمدت الله عليه، وما رأيت من شر استغفرت الله لكم" (1).

وعن أوس بن أوس الثقفي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة، ففيه خلق آدم، وفيه قبض، وفيه النفخة، وفيه الصعقة، فأكثروا عليَّ من الصلاة فيه فإن صلاتكم معروضة عليَّ"، قالوا يا رسول الله: وكيف تعرض عليك صلاتنا وقد أرمت؟ -يعني بليت- فقال: "إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء" (2).

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن لله ملائكة في الأرض سياحين يبلغوني من أمتي السلام" (3).

 

‌‌هو صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم أمنة لأمته من العذاب

قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ}. نزلت عندما قال أبو جهل: [اللَّهم إن كان هذا هو الحق من عندك فأمطر علينا حجارة من السماء أو ائتنا بعذاب أليم] (4)

--------------------------------------------

(1) رواه البزار ورجاله رجال الصحيح.

(2) رواه أحمد 4/ 8 وأبو داود، رقم 1047، والنسائيُّ 3/ 75 وابن ماجه رقم 1085، وابن حبان رقم 550 كلهم في الجمعة وكذا رواه إسماعيل القاضي في فضل الصلاة على النبي ص11 وسنده عندهم صحيح، ورواه أيضا الحاكم وصححه على شرطهما ووافقه الذهبي.

(3) رواه أحمد 1/ 387.

(4) سورة الأنفال، كما في حديث أنس المتفق عليه عند الشيخين.
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম) জীবন ও মৃত্যুর ফযীলত

যেমন ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তোমরা (আমাকে জিজ্ঞেস করে) কথা বলো এবং তোমাদের কাছে (ওয়াহীর মাধ্যমে) কথা বলা হয়। আর আমার মৃত্যুও তোমাদের জন্য কল্যাণকর; তোমাদের আমলগুলো আমার কাছে পেশ করা হবে। সুতরাং আমি যা ভালো দেখব তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করব, আর যা মন্দ দেখব তার জন্য তোমাদের পক্ষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব" (১)।

আউস ইবনে আউস আস-সাকাফী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিনটি সর্বোত্তম। এ দিনেই আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছে, এ দিনেই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে এবং এ দিনেই সবাই বেহুঁশ হয়ে পড়বে। অতএব এই দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।" সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আপনার কাছে আমাদের দরুদ পেশ করা হবে অথচ আপনি জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে যাবেন? -অর্থাৎ আপনার শরীর মিশে যাবে- তিনি বললেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন" (২)।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় জমিনে আল্লাহর একদল পরিভ্রমণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, যারা আমার কাছে আমার উম্মতের সালাম পৌঁছে দেন" (৩)।

 

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য আযাব থেকে নিরাপত্তাস্বরূপ

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তাদের আযাব দেবেন এবং আল্লাহ তাদের আযাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে}। এটি তখন অবতীর্ণ হয় যখন আবু জেহেল বলেছিল: [হে আল্লাহ! যদি এটিই আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন অথবা আমাদের কাছে কোনো যন্ত্রণাদায়ক আযাব নিয়ে আসুন] (৪)

--------------------------------------------

(১) আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ (গ্রন্থের) বর্ণনাকারী।

(২) আহমাদ ৪/ ৮ এবং আবু দাউদ, নং ১০৪৭, এবং নাসায়ী ৩/ ৭৫ এবং ইবনে মাজাহ নং ১০৮৫, এবং ইবনে হিব্বান নং ৫৫০; তাঁরা সকলেই জুমুআ অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইসমাঈল আল-কাজী 'ফাদলুস সালাতি আলান নবী' পৃ. ১১-তে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের নিকট এর সনদ সহীহ। হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

(৩) আহমাদ ১/ ৩৮৭ বর্ণনা করেছেন।

(৪) সূরা আল-আনফাল; যেমনটি দুই শায়খ (বুখারী ও মুসলিম) এর নিকট আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال صلى الله عليه وسلم -كما في حديث أبي موسى رضي الله عنه: " … النجوم أمنة السماء، فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعد، وأنا أمنة لأصحابي، فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون، وأصحابي أمنة لأمتي فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما ما يوعدون" (1).

 

‌‌أسري به صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم إلى المسجد الأقصى وعرج به إلى السماء وهو يقظان بجسده وروحه

قال تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (2).

 

‌‌المتبع لرسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم يكون محبوبًا لله سبحانه وتعالى

قال الله عز وجل: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (3).

وقد أخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف تكون محبة الله لعبده فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الله إذا أحب عبدًا دعا جبريل فقال: (إني أحب فلانا فأحبه)، قال: فيحبه جبريل، ثم ينادي في السماء فيقول:

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم كتاب فضائل الصحابة.

(2) سورة الإسراء (1).

(3) سورة آل عمران (31).
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন - যেমনটি আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে এসেছে: " … নক্ষত্ররাজি আসমানের জন্য নিরাপদ রক্ষক, সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, তখন আসমানের ওপর যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা চলে আসবে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপদ রক্ষক, যখন আমি চলে যাব তখন আমার সাহাবীদের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা চলে আসবে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপদ রক্ষক, সুতরাং যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন তখন আমার উম্মতের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা চলে আসবে" (১)।

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লামকে মাসজিদুল আকসায় নৈশভ্রমণ করানো হয়েছে এবং সশরীরে ও সজ্ঞানে তাঁকে আসমানে আরোহণ করানো হয়েছে

আল্লাহ তাআলা বলেন: "পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার নিদর্শনাদি দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" (২)।

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রিয় হবেন

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্ল বলেন: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" (৩)।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা কেমন হয়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈলকে ডেকে বলেন: (আমি অমুককে ভালোবাসি, তাই তুমিও তাকে ভালোবাসো), তিনি বলেন: তখন জিবরাঈল তাকে ভালোবাসেন, এরপর তিনি আসমানে ঘোষণা করে বলেন:

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়।

(২) সূরা আল-ইসরা (১)।

(৩) সূরা আল-ইমরান (৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২০)
(إن الله يحب فلانا فأحبوه)، فيحبه أهل السماء، قال: ثم يوضع له القبول في الأرض … " (1).

 

‌‌يكون المطيع لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم معه في الجنة

قال الله عز وجل: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا (69) ذَلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ عَلِيمًا} (2).

عن جابر رضي الله عنه قال: جاءت ملائكة إلى النبي صلى الله عليه وسلم -وهو نائم- فقال بعضهم: إنه نائم، وقال بعضهم: إن العين نائمة، والقلب يقظان، فقالوا: إن لصاحبكم هذا مثلا، قال: فاضربوا له مثلًا فقال بعضهم: إنه نائم، وقال بعضهم: إن العين نائمة، والقلب يقظان، فقالوا: مثله كمثل رجل بنى دارا، وجعل فيها مأدبة، وبعث داعيا، فمن أجاب الداعي دخل الدار، وأكل من المأدبة، ومن لم يجب الداعي لم يدخل الدار، ولم يأكل من المأدبة، فقالوا: أولوها له يفقهها، فقال بعضهم: إنه نائم، وقال بعضهم: إن العين نائمة والقلب يقظان، فقالوا: فالدار الجنة، والداعي محمَّد صلى الله عليه وسلم، فمن أطاع محمدًا صلى الله عليه وسلم فقد أطاع الله، ومن عصى محمدًا صلى الله عليه وسلم فقد عصى الله، ومحمَّد صلى الله عليه وسلم[فَرَّق] وفي رواية [فرْقٌ] بين الناس (3).

وفي رواية الحاكم والترمذيُّ: (فالله هو الملك، والدار الإِسلام، والبيت الجنة، وأنت يا محمَّد رسول، من أجابك دخل الإِسلام، ومن دخل الإِسلام دخل الجنة، ومن دخل الجنة أكل منها) (4).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري ومسلمٌ (كتاب بدء الخلق) ومسلمٌ (كتاب البر والصلة).

(2) سورة النساء (69 - 70).

(3) صحيح البخاري: كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة: باب الاقتداء بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

(4) سنن الترمذيّ: كتاب الأمثال: باب ما جاء في مثل الله لعباده رقم 2860.
"(নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো), তখন আকাশের অধিবাসীরাও তাকে ভালোবাসে। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: অতঃপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়..." (১)।

 

‌‌আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুগত ব্যক্তি জান্নাতে তাঁর সাথেই থাকবেন

মহান আল্লাহ বলেন: "আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম! (৬৯) এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ; আর পরিজ্ঞাত হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট (৭০)।" (২)।

জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ফেরেশতা নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এলেন যখন তিনি ঘুমন্ত ছিলেন। তখন তাদের কেউ বললেন: নিশ্চয়ই তিনি ঘুমন্ত। আবার অন্যজন বললেন: চোখ ঘুমন্ত থাকলেও হৃদয় জাগ্রত। তারা বললেন: তোমাদের এই সঙ্গীর জন্য একটি উদাহরণ রয়েছে। তারা বললেন: তোমরা তাঁর জন্য একটি উদাহরণ পেশ করো। তখন তাদের কেউ বললেন: তিনি ঘুমন্ত। অন্যজন বললেন: চোখ ঘুমন্ত থাকলেও হৃদয় জাগ্রত। তারা বললেন: তাঁর উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করেছে এবং সেখানে ভোজের আয়োজন করেছে এবং একজন আহ্বানকারী পাঠিয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল সে ঘরে প্রবেশ করল এবং ভোজ থেকে আহার করল। আর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল না সে ঘরে প্রবেশ করল না এবং ভোজ থেকেও আহার করল না। তারা বললেন: এর ব্যাখ্যা তাঁর কাছে ব্যক্ত করো যেন তিনি তা বুঝতে পারেন। তখন তাদের কেউ বললেন: তিনি ঘুমন্ত। অন্যজন বললেন: চোখ ঘুমন্ত থাকলেও হৃদয় জাগ্রত। তারা বললেন: ঘরটি হলো জান্নাত এবং আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। অতএব যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল এবং যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবাধ্য হলো সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন মানুষের মাঝে পার্থক্যকারী। (৩)।

হাকিম ও তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে: (আল্লাহ হলেন অধিপতি, ঘর হলো ইসলাম এবং গৃহটি হলো জান্নাত। হে মুহাম্মাদ, আপনি হলেন রাসূল; যে আপনার আহ্বানে সাড়া দিল সে ইসলামে প্রবেশ করল, আর যে ইসলামে প্রবেশ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে জান্নাতে প্রবেশ করল সে সেখান থেকে আহার করল) (৪)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী ও মুসলিম (সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়) এবং মুসলিম (সদাচরণ ও আত্মীয়তা অধ্যায়) বর্ণনা করেছেন।

(২) সূরা আন-নিসা (৬৯ - ৭০)।

(৩) সহীহ বুখারী: কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।

(৪) সুনানে তিরমিযী: উপমা অধ্যায়: বান্দাদের জন্য আল্লাহর দেওয়া উদাহরণ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নং ২৮৬০।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২১)
وعن عائشة قالت: (جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم فقال: يا رسول الله إنك لأحب إلي من نفسي وإنك لأحب إلي من ولدي وإني لأكون في البيت فأذكرك فما أصبر حتى آتي فأنظر إليك وإذا ذكرت موتي وموتك عرفت أنك إذا دخلت الجنة رفعت مع النبيين وإني إذا دخلت خشيت أن لا أراك فلم يرد عليه النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم شيئًا حتى نزل جبريل عليه السلام بهذه الآية: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} (2)} (3).

 

‌‌هو أولى بالمؤمنين من أنفسهم وأزواجه أمهاتهم صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال تعالى: {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ …} (4). وقال صلى الله عليه وسلم: كما في حديث أبى هريرة رضي الله عنه: "أنا أولى بالمؤمنين من أنفسهم" (5).

وفي رواية لهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أيضًا -واللفظ للبخاري- قال صلى الله عليه وسلم: "ما من مؤمن إلا وأنا أولى به في الدنيا والآخرة، واقرؤوا إن شئتم {النَّبِيُّ أَوْلَى (6) بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ}.

--------------------------------------------

(2) سورة النساء (69 - 70).

(3) أخرجه الضياء المقدس في المختارة وحسنه.

(4) سورة الأحزاب (6).

(5) رواه البخاري ومسلمٌ.

(6) أولى: بمعنى أحق.
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় এবং আমার কাছে আমার সন্তানের চেয়েও বেশি প্রিয়। আমি যখন ঘরে থাকি তখন আপনার কথা মনে করি, তখন আর ধৈর্য ধরতে পারি না যতক্ষণ না আপনার কাছে এসে আপনাকে দেখি। আর যখন আমার মৃত্যু ও আপনার মৃত্যুর কথা চিন্তা করি, তখন বুঝতে পারি যে আপনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন তখন আপনাকে নবীদের সাথে উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হবে, আর আমি যদি জান্নাতে প্রবেশ করিও তবে আশঙ্কা করি যে আপনাকে দেখতে পাব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম তাকে কোনো উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এই আয়াত নিয়ে অবতীর্ণ হলেন: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম} (২)} (৩)।

 

‌‌তিনি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

মহান আল্লাহ বলেন: {নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা...} (৪)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে এসেছে: "আমি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ" (৫)।

এবং তাঁদের (বুখারি ও মুসলিম) অন্য এক বর্ণনায় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—এবং শব্দাবলি বুখারির—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো মুমিন নেই যার জন্য আমি দুনিয়া ও আখিরাতে তার নিজের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ নই; তোমরা চাইলে পাঠ করো: {নবী মুমিনদের নিকট (৬) তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ}।

--------------------------------------------

(২) সূরা আন-নিসা (৬৯ - ৭০)।

(৩) জিয়া আল-মাকদিসি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন।

(৪) সূরা আল-আহজাব (৬)।

(৫) বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) 'আওলা' (أولى): অর্থাৎ অধিক হকদার।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২২)
فأيما مؤمن ترك مالًا فليرثه عصبته من كانوا وإن ترك دينا أو ضياعًا فليأتني فأنا مولاه" (1) ولمسلم -من حديث جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنا أولى بكل مؤمن من نفسه" (2).

 

‌‌هو صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وأمته أولى الناس بالأنبياء من أممهم

قال الله عز وجل: {إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ} (3).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنا أولى الناس بعيسى ابن مريم في الدنيا والآخرة … " (4).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فوجد اليهود يصومون يوم عاشوراء، فسئلوا عن ذلك، فقالوا: هذا اليوم أظهر الله فيه موسى وبني إسرائيل على فرعون، فنحن نصومه تعظيمًا له، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "نحن أولى بموسى منكم".

وفي لفظ: "نحن أحق وأولى بموسى منكم" وفي لفظ: "أنا أولى بموسى منهم" (5).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري ومسلمٌ واللفظ للبخاري.

(2) رواه مسلم.

(3) سورة آل عمران (68).

(4) اللفظ للبخاري صحيح البخاري، كتاب أحاديث الأنبياء: باب {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا} وصحيح مسلم: كتاب الفضائل: باب فضائل عيسى ابن مريم عليه السلام رقم 143.

(5) صحيح البخاري: كتاب مناقب الأنصار: باب إيتان اليهود النبي صلى الله عليه وسلم حين قدم المدينة، وصحيح مسلم: كتاب الصيام: باب صوم يوم عاشوراء رقم 127، 128.
"যে মুমিনই কোনো ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে তার আসাবা (রক্তসম্পর্কীয় উত্তরাধিকারীগণ) যেন তার উত্তরাধিকারী হয়, তারা যারাই হোক না কেন। আর যদি সে কোনো ঋণ বা অসহায় পরিবার রেখে যায়, তবে সে যেন আমার কাছে আসে, কারণ আমি তার অভিভাবক" (১)। আর মুসলিমের বর্ণনায়—জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি প্রতিটি মুমিনের জন্য তার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী" (২)।

 

‌‌তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর উম্মত নবীগণের নিজ উম্মতদের চেয়ে তাঁদের অধিক হকদার

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ইবরাহিমের সবচেয়ে নিকটবর্তী তারাই যারা তাঁর অনুসরণ করেছে এবং এই নবী ও যারা ঈমান এনেছে। আর আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক} (৩)।

এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "দুনিয়া ও আখেরাতে আমি মারইয়াম পুত্র ঈসার সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ … " (৪)।

এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমন করে ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখলেন। সে সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলল: "এটি এমন এক দিন যাতে আল্লাহ মুসা ও বনী ইসরাঈলকে ফেরাউনের ওপর বিজয় দান করেছিলেন, তাই আমরা তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে রোজা রাখি।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমাদের চেয়ে মুসার বিষয়ে আমরাই অধিক হকদার।"

অন্য শব্দে এসেছে: "তোমাদের চেয়ে আমরা মুসার বিষয়ে অধিক যোগ্য ও হকদার।" অন্য শব্দে এসেছে: "তাদের চেয়ে আমি মুসার বিষয়ে অধিক হকদার" (৫)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ বুখারির।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

(৩) সূরা আল-ইমরান (৬৮)।

(৪) শব্দসমূহ বুখারির; সহিহ বুখারি, কিতাব আহাদিসিল আম্বিয়া: অনুচ্ছেদ: {এবং কিতাবে মারইয়ামের কথা আলোচনা করো যখন সে তার পরিবার থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল} এবং সহিহ মুসলিম: কিতাবুল ফাযায়িল: অনুচ্ছেদ: মারইয়াম পুত্র ঈসা আলাইহিস সালামের মর্যাদা, নং ১৪৩।

(৫) সহিহ বুখারি: কিতাব মানাকিবিল আনসার: অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমনের পর ইহুদিদের তাঁর নিকট আসা, এবং সহিহ মুসলিম: কিতাবুস সিয়াম: অনুচ্ছেদ: আশুরার দিনের রোজা, নং ১২৭, ১২৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌هو صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم أول المسلمين

قال تعالى: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ (11) وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ} (1).

 

‌‌هو صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم نبي الإِسلام

قال تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} (2).

قال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (3).

وحيث أنه أول المسلمين فهو نبي للإسلام والمسلمين وأمته صلى الله عليه وسلم أمة الإِسلام:

قال تعالى: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ} (4).

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر (11 - 12).

(2) سورة آل عمران (19).

(3) سورة آل عمران (85).

(4) سورة الحج (78).
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম হলেন প্রথম মুসলিম

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, আমি আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে (১১) আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি প্রথম মুসলিম হই} (১)।

 

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম হলেন ইসলামের নবী

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} (২)।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (৩)।

যেহেতু তিনি প্রথম মুসলিম, তাই তিনি ইসলাম ও মুসলিমদের নবী এবং তাঁর উম্মত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলো ইসলামের উম্মত:

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি; এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও মানবজাতির ওপর। সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক; কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী!} (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুমার (১১ - ১২)।

(২) সূরা আলে ইমরান (১৯)।

(৩) সূরা আলে ইমরান (৮৫)।

(৪) সূরা আল-হাজ্জ (৭৮)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌كونه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم منة يمتن به الله على عباده

قال تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} (1).

عن معاوية رضي الله عنه قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج على حلقة من أصحابه فقال: "ما أجلسكم؟ " قالوا: جلسنا نذكر الله ونحمده على ما هدانا للإسلام ومنَّ (2) به علينا قال: "آلله ما أجلسكم إلا ذاك؟ " قالوا: والله ما أجلسنا إلا ذاك قال: "أما أني لم أستحلفكم تهمة لكم ولكنه أتاني جبريل فأخبرني أن الله عز وجل يباهي (3) بكم الملائكة" (4).

 

‌‌أقسم الله بحياته لفضله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال تعالى: {لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ} (5).

 

‌‌أقسم الله ببلده ما دام هو فيه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال تعالى: {لَا أُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ (1) وَأَنْتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ} (6)

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران (164).

(2) المنة: هي صنائع المعروف.

(3) المباهاة: هي إظهار المحاسن والمعنى يظهر فضلكم للملائكة ويريهم حسن عملكم.

(4) رواه مسلم برقم 2701 ص 2075.

(5) سورة الحجر (72).

(6) سورة البلد (1 - 2).
আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম-এর সত্তা একটি অনুগ্রহ হওয়া

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা এর আগে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মাঝে নিমজ্জিত ছিল} (১)।

মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের একটি মজলিসে এসে বললেন: "তোমাদের কিসে বসিয়েছে (অর্থাৎ কেন বসেছ)?" তারা বলল: "আমরা আল্লাহকে স্মরণ করতে এবং তিনি আমাদের ইসলামের পথ দেখিয়েছেন ও এর মাধ্যমে আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ (২) করেছেন, সেজন্য তাঁর প্রশংসা করতে বসেছি।" তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ! কেবল এ কারণেই কি তোমরা বসেছ?" তারা বলল: "আল্লাহর শপথ! আমরা কেবল এ কারণেই বসেছি।" তিনি বললেন: "জেনে রেখো, আমি তোমাদের অভিযুক্ত করার জন্য শপথ করতে বলিনি; বরং জিবরীল আমার কাছে এসে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব (৩) করছেন" (৪)।

 

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আল্লাহ তাঁর জীবনের শপথ করেছেন

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার জীবনের শপথ! নিশ্চয়ই তারা তাদের উন্মত্ততায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল} (৫)।

 

আল্লাহ তাঁর শহরের শপথ করেছেন যতক্ষণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) তাতে অবস্থান করছেন

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি এই শহরের শপথ করছি (১) যখন আপনি এই শহরের অধিবাসী} (৬)

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান (১৬৪)।

(২) আল-মিন্নাহ: এটি হচ্ছে কোনো ভালো কাজ বা অনুগ্রহ করা।

(৩) আল-মুবাহাত: এটি হলো সৌন্দর্য বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা। এর অর্থ হলো আল্লাহ ফেরেশতাদের নিকট তোমাদের মর্যাদা প্রকাশ করছেন এবং তাদের তোমাদের নেক আমল দেখাচ্ছেন।

(৪) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৭০১, পৃষ্ঠা ২০৭৫।

(৫) সূরা আল-হিজর (৭২)।

(৬) সূরা আল-বালাদ (১ - ২)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌أقسم الله له صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال تعالى: {وَالضُّحَى (1) وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَى (2) مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى (3) وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَكَ مِنَ الْأُولَى (4) وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى} (1).

 

‌‌أرسله الله للناس كافة عربًا وعجمًا وللأسود والأبيض منهم

قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (2).

وقال صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم -كما في حديث جابر رضي الله عنه: "أعطيت خمسًا لم يعطهن أحد" -زاد البخاري في روايته (من الأنبياء) - قبلي: "كان كل نبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى كل أبيض وأسود -عند البخاري: وبعثت إلى الناس عامة- وأحلت ليَّ الغنائم، ولم تحل لأحد قبلي، وجعلت لي الأرض طيبة طهورًا ومسجدًا، فأيما رجل أدركته الصلاة صلى حيث كان، ونصرت بالرعب بين يدي مسيرة شهر، وأعطيت الشفاعة" (3).

 

‌‌لم يناده باسمه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم إجلالًا له

فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ} (4).

وقال سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ} (5)

--------------------------------------------

(1) سورة الضحى (1 - 5).

(2) سورة سبأ (38).

(3) روه البخاري ومسلمٌ واللفظ لمسلم.

(4) سورة الماندة (67).

(5) سورة الأنفال (64).
আল্লাহ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম) সম্মানে শপথ করেছেন

মহান আল্লাহ বলেন: {শপথ পূর্বাহ্ণের (১) এবং শপথ রাতের যখন তা নিঝুম হয়ে যায় (২), আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি (৩)। আর অবশ্যই পরকাল আপনার জন্য ইহকাল অপেক্ষা শ্রেয় (৪)। আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে দান করবেন এবং আপনি সন্তুষ্ট হবেন (৫)} (১)।

 

আল্লাহ তাঁকে আরব-অনারব এবং তাদের মধ্য হতে সাদা ও কালো নির্বিশেষে সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন

মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না} (২)।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম বলেন -যেমনটি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে দান করা হয়নি" -বুখারী তাঁর বর্ণনায় (নবীদের মধ্য হতে) বৃদ্ধি করেছেন- "আমার পূর্বে: প্রত্যেক নবীকে কেবল তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট বিশেষভাবে প্রেরণ করা হতো, আর আমাকে প্রত্যেক সাদা ও কালোর নিকট প্রেরণ করা হয়েছে -বুখারীর বর্ণনায়: আর আমাকে সকল মানুষের নিকট সাধারণভাবে প্রেরণ করা হয়েছে- আর আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল করা হয়নি। আর আমার জন্য জমিনকে পবিত্র ও সিজদাহ করার স্থান করা হয়েছে; সুতরাং কোনো ব্যক্তির নিকট যেখানেই সালাতের সময় উপস্থিত হবে, সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়। আর আমাকে এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে এবং আমাকে শাফায়াত (সুপারিশ করার অধিকার) দান করা হয়েছে" (৩)।

 

তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ তিনি (আল্লাহ) তাঁকে নাম ধরে ডাকেননি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম)

অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন} (৪)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী, আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট} (৫)

--------------------------------------------

(১) সূরা আদ-দুহা (১ - ৫)।

(২) সূরা সাবা (৩৮)।

(৩) বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ মুসলিমের।

(৪) সূরা আল-মায়িদাহ (৬৭)।

(৫) সূরা আল-আনফাল (৬৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال جلّ شأنه: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ} (1).

وفي آيات كثيرات، بينما قال تعالى لأنبيائه: {يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ مِنَّا} (2)

وقال لآدم عليه السلام: {يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ} (3).

 

‌‌فضْلُ الكتاب الذي أنزل عليه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وإعجازه

قال الله تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} (4).

وقال الله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (23) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ} (5).

وقال الله تعالى: {فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ} (6).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما من الأنبياء من نبي إلا وقد أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيته وحيًا أوحاه الله إلي فأرجو أن أكون أكثرهم تبعًا" (7).

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة (41).

(2) سورة هود (48).

(3) سورة البقرة (35).

(4) سورة الإسراء (88).

(5) سورة البقرة (23).

(6) سورة البقرة (34).

(7) رواه البخاري ومسلمٌ.
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে রাসূল, যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়, তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে} (১)।

এবং আরও অনেক আয়াতে (এভাবে সম্বোধন করেছেন), পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ তাঁর অন্যান্য নবীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {হে নূহ, আমাদের পক্ষ থেকে সালামের সাথে অবতরণ করুন} (২)

এবং আদম (তাঁর ওপর সালাম বর্ষিত হোক)-কে বলেছেন: {হে আদম, আপনি এবং আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন} (৩)।

 

‌‌তাঁর ওপর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর বর্ষিত হোক) অবতীর্ণ কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব ও এর অলৌকিকত্ব

মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, যদি মানব ও জিন জাতি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (৪)।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি আমার দাসের ওপর যা নাযিল করেছি, তাতে যদি তোমরা সন্দেহের মধ্যে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো। (২৩) অতঃপর তোমরা যদি তা না করো—আর তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো} (৫)।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে তারা এর অনুরূপ কোনো কালাম নিয়ে আসুক} (৬)।

আবু হুরাইরা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাঁকে এমন কিছু নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার কাছে পাঠিয়েছেন। অতএব আমি আশা করি কিয়ামতের দিন তাঁদের তুলনায় আমার অনুসারীর সংখ্যাই বেশি হবে" (৭)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়েদাহ (৪১)।

(২) সূরা হুদ (৪৮)।

(৩) সূরা আল-বাক্বারাহ (৩৫)।

(৪) সূরা আল-ইসরা (৮৮)।

(৫) সূরা আল-বাক্বারাহ (২৩)।

(৬) সূরা আল-বাক্বারাহ (৩৪)।

(৭) বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌حفظه من التبديل والتحريف

قال الله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (1).

 

‌‌فضل تلاوته وتدبره

عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قرأ حرفًا من كتاب الله فله به حسنة والحسنة بعشر أمثالها لا أقول: {آلم} حرف ولكن ألف حرف ولام حرف، وميم حرف" (2).

 

‌‌قدم ذكره على الأنبياء عليهم وعلى نبينا أفضل الصلاة والسلام

قال الله تعالى: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَخَذْنَا مِنْهُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا} (3).

وقال سبحانه وتعالى: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا} (4).

وكل هؤلاء قبله عليه السلام، وهو خاتم رسله، ولكن فضل الله يؤتيه من يشاء.

--------------------------------------------

(1) سورة الحجر (9).

(2):رواه الترمذيُّ وقال الألباني حديث صحيح.

(3) سورة الأحزاب (7).

(4) سورة النساء (163).
বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে এর হিফাযত

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আমি এই উপদেশবাণী (যিকর) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (১)।

 

‌এটি তিলাওয়াত ও এর মর্ম অনুধাবন করার ফযীলত

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণের সমান। আমি বলছি না যে, {আলিফ-লাম-মীম} একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর" (২)।

 

‌অন্যান্য নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) ওপর তাঁর উল্লেখের অগ্রগণ্যতা এবং আমাদের নবীর প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও সালাম

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর স্মরণ করুন, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকে এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম পুত্র ঈসার কাছ থেকে; আমি তাদের কাছ থেকে এক সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম} (৩)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আমি আপনার নিকট ওহী পাঠিয়েছি যেমন ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের নিকট; এবং আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইউব, ইউনুস, হারুন ও সুলায়মানের নিকট; আর আমি দাউদকে যাবুর প্রদান করেছিলাম} (৪)।

এঁরা সবাই তাঁর (আলাইহিস সালাম) পূর্ববর্তী ছিলেন, আর তিনি হলেন তাঁর রাসূলগণের পরিসমাপ্তি, তবে আল্লাহর অনুগ্রহ তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হিজর (৯)।

(২): তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী বলেছেন এটি সহীহ হাদীস।

(৩) সূরা আল-আহযাব (৭)।

(৪) সূরা আন-নিসা (১৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌جعله الله نورًا صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال الله عز وجل: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (1).

وقال جَلَّ شأنه: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا (46) وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا} (2).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: (لما كان اليوم الذي دخل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة، أضاء من المدينة كل شيء، فلما كان اليوم الذي مات فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم أظلم من المدينة كل شيء، وما فرغنا من دفنه حتى أنكرنا قلوبنا" (3).

 

‌‌تولى الإجابة عنه ردًا على المشركين ودفاعًا عنه صلى الله عليه وسلم بينما الأنبياء والرسل كانوا هم الذين يدافعون عن أنفسهم عليهم أفضل الصلاة والتسليم.

قال الله تعالى عن نوح عليه السلام: {قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (60) قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (4).

وقال الله تعالى عن هود عليه السلام: {قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ (66) قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (5).

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة (15 - 16).

(2) سورة الأحزاب (45 - 47).

(3) رواه أحمد الترمذيُّ وابن حبان والحاكم وصححه ابن ماجه.

(4) سورة الأعراف (60 - 61).

(5) سورة الأعراف (66 - 67).
আল্লাহ তাঁকে নূর বানিয়েছেন, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। (১৫) এর মাধ্যমে আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যে তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তিনি স্বীয় নির্দেশে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।} (১)।

এবং সুমহান আল্লাহ বলেছেন: {হে নবী! আমি তো আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। (৪৫) এবং আল্লাহর নির্দেশে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। (৪৬) আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশাল অনুগ্রহ রয়েছে।} (২)।

আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় প্রবেশ করেন, সেদিন মদীনার সবকিছু আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। আর যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন, সেদিন মদীনার সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তাঁকে দাফন করে ফুরসত পাওয়ার আগেই আমরা আমাদের হৃদয়ে পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করলাম।" (৩)।

 

মুশরিকদের প্রতিবাদে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তর প্রদানের এবং তাঁর প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন, অথচ নবী ও রাসূলগণ নিজেরাই নিজেদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করতেন; তাঁদের ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক.

আল্লাহ তাআলা নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলেছিল, ‘আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে দেখছি।’ (৬০) তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো ভ্রান্তি নেই; বরং আমি তো বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল’।} (৪)।

আল্লাহ তাআলা হূদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {তাঁর সম্প্রদায়ের কাফের প্রধানগণ বলেছিল, ‘আমরা তো তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মধ্যে দেখছি এবং আমরা তোমাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি।’ (৬৬) তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই; বরং আমি তো বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল’।} (৫)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ (১৫ - ১৬)।

(২) সূরা আল-আহযাব (৪৫ - ৪৭)।

(৩) আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাজাহ একে সহীহ বলেছেন।

(৪) সূরা আল-আরাফ (৬০ - ৬১)।

(৫) সূরা আল-আরাফ (৬৬ - ৬৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মাওসূআতু ফী সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ - আল-আহদুল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৯)
بينما قال مدافعًا عن نبيه محمَّد صلى الله عليه وسلم: {وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ (22) وَلَقَدْ رَآهُ بِالْأُفُقِ الْمُبِينِ (23) وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ (24) وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَانٍ رَجِيمٍ (25) فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ (26) إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ} (1).

 

‌‌فضل الصلاة والسلام عليه صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (2).

وعن أبي طلحة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أتاني جبريل فقال: يا محمَّد أما يرضيك أن ربك عز وجل يقول: إنه لا يصلي عليك من أمتك أحد إلا صليت عليه بها عشرًا، ولا يسلم عليك أحد من أمتك تسليمة إلا سلمت عليه عشرًا، فقلت: بلى أي رب" (3).

 

‌‌غفر الله له ما تقدم من ذنبه وما تأخر صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم

قال الله تعالى: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا (1) لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا (2) وَيَنْصُرَكَ اللَّهُ نَصْرًا عَزِيزًا} (4).

--------------------------------------------

(1) سورة التكوير (22 - 27).

(2) سورة الأحزاب (56).

(3) رواه أحمد 4/ 30 والنسائيُّ.

(4) سورة الفتح (1 - 3).
এদিকে তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর পক্ষ সমর্থন করে বলেছেন: "আর তোমাদের সঙ্গী পাগল নন। (২২) আর অবশ্যই তিনি তাঁকে সুস্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন। (২৩) আর তিনি গায়েবের সংবাদ প্রদানে কৃপণ নন। (২৪) আর এটি বিতাড়িত শয়তানের কথা নয়। (২৫) সুতরাং তোমরা কোথায় যাচ্ছ? (২৬) এটি তো কেবল বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ।" (১)।

 

‌‌তাঁর ওপর রহমত ও শান্তির দোয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) পাঠ করার ফজিলত

আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন; হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি রহমত ও যথাযথভাবে শান্তির জন্য দোয়া করো।" (২)।

আবু তালহা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: "আমার কাছে জিবরাঈল এসে বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনার রব মহামহিমান্বিত আল্লাহ যা বলছেন তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট নন? তা হলো: আপনার উম্মতের কেউ আপনার প্রতি একবার রহমতের দোয়া করলে আমি তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করব, আর আপনার উম্মতের কেউ আপনার প্রতি একবার শান্তির দোয়া করলে আমি তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার শান্তি বর্ষণ করব। তখন আমি বললাম: অবশ্যই, হে আমার রব!" (৩)।

 

‌‌আল্লাহ তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) পূর্বের ও পরের সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন

আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি। (১) যাতে আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন এবং আপনার ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। (২) আর আল্লাহ আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য প্রদান করেন।" (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাকভীর (২২ - ২৭)।

(২) সূরা আল-আহযাব (৫৬)।

(৩) এটি আহমাদ ৪/৩০ এবং আন-নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।

(৪) সূরা আল-ফাতহ (১ - ৩)।