(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الصحيح من أحاديث السيرة النبوية   (محمد الصوياني)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الصحيِح من أحاديث السيرة النبوية

المؤلف: محمد الصوياني

الناشر: مدار الوطن للنشر، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 588

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رجب 1435

বিশুদ্ধ সিরাত-উন-নবি হাদিসসমূহ   (মুহাম্মদ আস-সুওয়ায়ানি)

বিভাগ: সিরাত-উন-নবি


গ্রন্থ: বিশুদ্ধ সিরাত-উন-নবি হাদিসসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ আস-সুওয়ায়ানি

প্রকাশক: মাদারুল ওয়াতান প্রকাশনী, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রজব ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
الصَّحيِحُ من أحاديث السّيرة النبوية

تأليف

محمَّد الصويَاني

مدار الوطن للنشر
সীরাতুন নববীর সহীহ হাদিসসমূহ

রচনা

মুহাম্মাদ আস-সুওয়ায়ানি

মাদার আল-ওয়াতান প্রকাশনী
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌إهداء وشكر إلى أساتذتي الكرام

فضيلة الشيخ الدكتور/ عادل بن علي الثدي

فضيلة الشيخ الدكتور/ أحمد بن عثمان المزيد

سعادة الأستاذ/ عبد الله بن عبد الرحمن الطلحة
আমার সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি উৎসর্গ ও কৃতজ্ঞতা

শ্রদ্ধেয় শায়খ ডক্টর আদিল বিন আলী আস-সাদী

শ্রদ্ধေয় শায়খ ডক্টর আহমদ বিন উসমান আল-মাযইয়াদ

মান্যবর অধ্যাপক আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আত-তালহা
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
الصَّحِيحُ من أحاديث السيرة النبوية
সীরাতে নববীর বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى

1432هـ/ 2011م

مدار الوطن للنشر

الدائري الشرقي - مخرج 15

الرياض -الملز- 2كم غرب أسواق المجد

ت: 009664792042 (5 خطوط) فاكس:009664723941

الموقع علي الإنترنت: www.madaralwatan.com

البريد الإلكترونى: pop@madaralwatan.com
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরী/ ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

মাদার আল-ওয়াতান প্রকাশনী

ইস্টার্ন রিং রোড - ১৫ নং এক্সিট

রিয়াদ - আল-মালাজ - আল-মাজদ মার্কেটের ২ কিমি পশ্চিমে

ফোন: ০০৯৬৬৪৭৯২০৪২ (৫টি লাইন) ফ্যাক্স: ০০৯৬৬৪৭২৩৯৪১

ওয়েবসাইট: www.madaralwatan.com

ইমেইল: pop@madaralwatan.com
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسوله محمَّد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

 

‌‌المقدمة

في حِسٍ نقدي رائع قال الميموني: "سمعت أحمد بن حنبل يقول: ثلاث كتب ليس لها أصول: المغازي، والملاحم، والتفسير" (1).

تلك الكلمات الصادرة من أحد كبار النقاد في علم الحديث وعلله، الإِمام الكبير أحمد بن حنبل تكشف مرحلة متقدمة من النقد لم تعرفها أمة من الأمم، فكل أمم الأرض تبتهج بمزع من تاريخها حتى ولو كانت تلك المزع أكذوبة أو أسطورة، فالفقر المدقع الذي يلف تاريخ الأمم يجعلها تبحث عن أي شيء داخل تلك الظلمة التاريخية، وفي وسط تلك العتمة يقف تاريخ واحد على خشبة مسرح الحياة، وحده يشرب الأضواء وحده يكتنز بالثراء وسط تلك العتمة، تاريخ الإِسلام، تاريخ النبي صلى الله عليه وسلم وسيرته تحت بؤرة الضوء تلك، وحول تلك الدائرة يبدأ التلاشي لتتسرب العتمة، وكأن نزول القرآن منح تلك الحقبة شيئًا من نوره، وبعد وفاة النبي ـ صلي الله عليه وسلم ـ يبدأ التاريخ بالذبول، وتلين الأسانيد كلما ابتعدنا عن دائرة الضوء. وتبقى تلك الدائرة ثابتة ومسافرة عبر التاريخ، لدرجة أننا نعرف عدد الشيب في لحية النبي عليه السلام وكل الأطعمة التي تناولها، بينما لا نعرف شيئًا من ذلك عن رئيس أو ملك مات بالأمس، أو ربما لا يزال حيًا، معجز ومذهل هذا القرآن الكريم، كيف منح ذلك النور لتلك الفترة حتى اليوم .. حتى المستقبل.

--------------------------------------------

(1) البرهان في علوم القرآن (2 - 156).
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

 

‌‌ভূমিকা

এক চমৎকার সমালোচনামূলক অনুধাবনে মাইমুনি বলেন: "আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: তিনটি শাস্ত্রের কোনো ভিত্তি নেই: মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), মালাহিম (মহাযুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী), এবং তাফসির।" (১)।

ইলমুল হাদিস এবং এর ত্রুটি-বিচ্যুতি (ইলাল) শাস্ত্রের অন্যতম মহান সমালোচক ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত এই কথাগুলো সমালোচনার এমন এক অগ্রবর্তী স্তরকে উন্মোচিত করে, যা অন্য কোনো জাতি কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। পৃথিবীর প্রতিটি জাতি তাদের ইতিহাসের সামান্য অংশ নিয়েও আনন্দিত হয়, যদিও সেই অংশটি কোনো মিথ্যা বা কাল্পনিক উপকথাও হয়। জাতিগুলোর ইতিহাসের ওপর ছেয়ে থাকা চরম রিক্ততা তাদের বাধ্য করে সেই ঐতিহাসিক অন্ধকারের মাঝে যা কিছু পাওয়া যায় তা-ই খুঁজে নিতে। আর সেই গভীর অন্ধকারের মাঝে জীবনের মঞ্চে এককভাবে একটি ইতিহাস দাঁড়িয়ে থাকে; অন্ধকার ভেদ করে একমাত্র সেই ইতিহাসই উজ্জ্বল আলোতে উদ্ভাসিত হয় এবং সমৃদ্ধিতে ভরপুর থাকে—আর তা হলো ইসলামের ইতিহাস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইতিহাস ও তাঁর সীরাত, যা সেই আলোকবৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। আর সেই বৃত্তের চারপাশ থেকে ম্লান হতে হতে অন্ধকার শুরু হয়। মনে হয় যেন কুরআনের অবতরণ সেই সময়কালকে নিজের নূর বা আলোর কিছু অংশ দান করেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর ইতিহাস ক্রমেই ম্লান হতে শুরু করে এবং আমরা সেই আলোকবৃত্ত থেকে যত দূরে সরে যাই, সূত্র বা সনদগুলো তত দুর্বল হতে থাকে। কিন্তু সেই আলোকবৃত্তটি ইতিহাসের পরিক্রমায় অবিচল ও চলমান থাকে; এমনকি আমরা নবী (আলাইহিস সালাম)-এর দাড়ি মোবারকের পাকা চুলের সংখ্যা এবং তাঁর গ্রহণ করা সকল খাবারের কথা পর্যন্ত জানি, অথচ গতকাল মারা যাওয়া বা বর্তমানে জীবিত কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজা সম্পর্কেও আমরা তেমন কিছুই জানি না। এই কুরআন মাজিদ কী অলৌকিক ও বিস্ময়কর! এটি কীভাবে সেই সময়কালকে এমন নূর দান করেছে যা আজও এবং ভবিষ্যতেও অম্লান।

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন (২/১৫৬)।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
لا فقر في تاريخ النبي عليه السلام، لكنه الثراء الذي جعل أحمد بن حنبل يصف معظم مرويات كتب المغازي بأنها لا أصل لها، ولو كنا أمة فقيرة التاريخ لما قال شيئًا من ذلك، ولا أصبح لدينا من النقد ما يعتد به، وإذا رأيت أمة تهتم بالنقد أكثر من اهتمامها بالجمع فهي أمة تعي ماضيها وتحترم حاضرها، وإذا رأيت أمة تغفل النقد وتجمع ما هب ودب، فهي لا تعي ولا تحترم شيئًا من الماضي ولا الحاضر.

أمتنا هي الوحيدة أمة السند، وكلمات ابن حنبل تعني بالتأكيد أن غالب مرويات تلك المواضيع ضعيفة السند، فالمتتبع لمرويات السيرة والمغازي وكتبها (موضوعنا) يجد أنها تحتوي على القليل من الصحيح مقارنة بمرويات الصحاح والسنن والمسانيد، كما يشعر بأهمية استخراج ما في تلك الكتب العظيمة من مرويات تهتم بالسير والمغازي.

وقد وظف المستشرقون والعلمانيون مرويات مكذوبة وضعيفة في السيرة للطعن في نبينا صلى الله عليه وسلم والطعن في رسالته، وجعلوها شوكة في خاصرة تاريخنا، يشوشون به على الدعاة والعلماء ويشوهون بها صورة الإسلام، وكانوا يستغلون كل حرف من حروف السيرة في ذلك، ونظرا لتعلق هذا التاريخ بالوحي والنبي صلى الله عليه وسلم حينئذ فمن المنتظر أن تبقى سيرته عليه السلام نقية كأحاديث الأحكام تمامًا؛ لأن القبول بالمرويات الضعيفة والمكذوبة يعني تشويها لتلك الفترة البيضاء.

لذا كان هذا البحث، والذي يمثل من ناحية الحجم جزعًا صغيرًا مقارنة بالمرويات الضعيفة الكثيرة، هذا البحث يمثل الحلقة الثانية من سلسلة تستهدف فرز المرويات الصحيحة من الضعيفة، بدأت بكتاب (السيرة النبوية كما جاءت في الأحاديث الصحيحة) والذي زاوجت فيه بين المرويات الصحيحية وربطها بأسلوب أدبي سدًا للفراغات خاصة في المرحلة المكية، نظرًا لكونها مرحلة عملية بالدرجة الأولى، تتكيء على تجذير العقيدة أكثر من الأمور التشريعية التي تتابعت
নবী (আলাইহিস সালাম)-এর ইতিহাসে কোনো দরিদ্রতা নেই, বরং এটি এমন এক প্রাচুর্য যা আহমাদ ইবনে হাম্বলকে মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক কিতাবসমূহের অধিকাংশ বর্ণনাকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা যদি ইতিহাস-দরিদ্র কোনো উম্মত হতাম, তবে তিনি এমন কিছু বলতেন না এবং আমাদের নিকট উল্লেখযোগ্য কোনো সমালোচনা-তত্ত্ব (নাকদ) গড়ে উঠত না। যখন আপনি দেখবেন যে কোনো জাতি সংগ্রহের চেয়ে সমালোচনার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে তারা তাদের অতীত সম্পর্কে সচেতন এবং বর্তমানকে মর্যাদা দানকারী। আর যখন দেখবেন কোনো জাতি সমালোচনাকে উপেক্ষা করে যা পায় তাই সংগ্রহ করছে, তবে তারা অতীত বা বর্তমান কোনো কিছুর প্রতিই সচেতন নয় এবং মর্যাদাবোধসম্পন্নও নয়।

আমাদের উম্মত হলো একমাত্র উম্মতে সনদ (সনদধারী জাতি)। ইবনে হাম্বলের বক্তব্যের অর্থ নিশ্চিতভাবেই এই যে, উক্ত বিষয়সমূহের অধিকাংশ বর্ণনার সনদই দুর্বল। সীরাত ও মাগাজি এবং এর কিতাবসমূহের (আমাদের আলোচ্য বিষয়) বর্ণনাসমূহ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সিহাহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহের বর্ণনার তুলনায় এতে সহীহ বর্ণনার পরিমাণ সামান্য। পাশাপাশি এই মহান গ্রন্থসমূহে সীরাত ও মাগাজি বিষয়ক যে বর্ণনাগুলো বিদ্যমান, তা উদ্ধার করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভূত হয়।

প্রাচ্যবিদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর রিসালাতের প্রতি অপবাদ আরোপের লক্ষ্যে সীরাতের মিথ্যা ও দুর্বল বর্ণনাসমূহকে ব্যবহার করেছে। তারা একে আমাদের ইতিহাসের পাঁজরে এক বিষাক্ত কাঁটা হিসেবে গেঁথে দিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা দাঈ ও আলেমদের বিভ্রান্ত করে এবং ইসলামের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করে। তারা সীরাতের প্রতিটি অক্ষরকে এই কাজে ব্যবহার করত। যেহেতু এই ইতিহাস ওহী এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই প্রত্যাশিত ছিল যে তাঁর সীরাত আহকামের হাদীসসমূহের মতোই সম্পূর্ণ নিষ্কলুষ থাকবে; কেননা দুর্বল ও মিথ্যা বর্ণনা গ্রহণ করার অর্থ হলো সেই প্রোজ্জ্বল যুগের বিকৃতি ঘটানো।

তাই এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে, যা আয়তনের দিক থেকে বিপুল সংখ্যক দুর্বল বর্ণনার তুলনায় একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। এই গবেষণাটি সেই ধারার দ্বিতীয় পর্ব যার লক্ষ্য হলো দুর্বল বর্ণনা থেকে সহীহ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করা। এটি শুরু হয়েছে 'সহীহ হাদীসের আলোকে সীরাতে নববী' নামক কিতাবটির মাধ্যমে, যেখানে আমি সহীহ বর্ণনাসমূহকে একত্রিত করেছি এবং সাহিত্যিক শৈলীর মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছি—বিশেষত মক্কী জীবনের শূন্যস্থানগুলো পূরণের জন্য। কেননা এটি ছিল মূলত একটি প্রায়োগিক পর্যায়, যা পরবর্তী বিধানগত বিষয়গুলোর চেয়ে আকিদাগত মূল ভিত্তি মজবুত করার ওপর অধিক নির্ভরশীল ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بعد قيام الدولة الإِسلامية في المدينة، وليس للأدب والإنشاء أي دور سوى الربط والتشويق لا أكثر.

ثم هذا الكتاب الذي بين يدي القارئ، ويتبعهما إن شاء الله الكتب التالية:

* صحيح سيرة ابن إسحاق.

* صحيح سيرة ابن هشام.

* صحيح سيرة ابن سعد.

* صحيح سيرة الطبري.

* صحيح سيرة ابن كثير.

وهي الكتب المتخصصة الأهم، نظرًا لثرائها بالأسانيد، ولكون ما أتى بعدها عالة عليها، وقد استبعدت ما كتبه ابن حزم وابن حبان وغيرهما في السيرة نظرًا لافتقارها إلى الأسانيد، لأختم المشروع بحول الله وقوته بموسوعة أحاديث السيرة، نظرًا للكم الهائل من المرويات الصحيحة والضعيفة خارج تلك الكتب السابقة.

والكتاب من ناحية التخريج ينقسم إلى قسمين:

قسم من مرويات الصحيحن أو أحدهما وأكتفي فيه بالعزو لهما.

وقسم خارج الصحيحين، وهو يشمل كل ما وقعت عليه من مرويات مسندة في السنن والمستدركات والمسانيد والمعاجم إضافة إلى ما في كتب السير، وهذا القسم خرجته كالتالي:

ذكرت درجته لمن يريد الاكتفاء بالحكم، ثم من رواه بالإضافة إلى صاحب المتن لمن يريد الاستزادة.
মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর, সাহিত্য ও রচনার সংযোগ স্থাপন ও আগ্রহ সৃষ্টি করা ছাড়া অন্য কোনো ভূমিকা নেই।

এরপর পাঠকের হাতে থাকা এই কিতাবটি, এবং ইনশাআল্লাহ এগুলোর পরে আসবে নিম্নোক্ত কিতাবসমূহ:

* সহীহ সীরাতে ইবনে ইসহাক।

* সহীহ সীরাতে ইবনে হিশাম।

* সহীহ সীরাতে ইবনে সাদ।

* সহীহ সীরাতে তাবারি।

* সহীহ সীরাতে ইবনে কাসির।

আর এগুলো হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত কিতাব, যা সনদসমূহে সমৃদ্ধ এবং পরবর্তী সব কিতাবই এগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ইবনে হাজম, ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা সীরাত বিষয়ে যা লিখেছেন তা সনদের অভাবের কারণে আমি বাদ দিয়েছি, যেন আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে পূর্বোক্ত কিতাবগুলোর বাইরে থাকা বিপুল পরিমাণ সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনা সম্বলিত সীরাত বিষয়ক হাদিসের বিশ্বকোষ রচনার মাধ্যমে আমি এই প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে পারি।

আর তাহরীজ বা সূত্র বিশ্লেষণের দিক থেকে কিতাবটি দুই ভাগে বিভক্ত:

একটি অংশ হলো সহীহাইন অথবা এ দুটির যেকোনো একটির বর্ণনা, এবং এ ক্ষেত্রে আমি কেবল সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

আর অন্য অংশটি হলো সহীহাইনের বাইরের বর্ণনা, যা সুনান, মুস্তাদরাক, মুসনাদ ও মু'জাম সমূহে বর্ণিত সনদযুক্ত বর্ণনা এবং সীরাত গ্রন্থসমূহে যা রয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই অংশের তাহরীজ আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে করেছি:

যারা কেবল হুকুম বা মানের ওপর নির্ভর করতে চান তাদের জন্য আমি এর মান উল্লেখ করেছি, আর যারা বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য মূল বর্ণনাদাতার পাশাপাশি বর্ণনাকারীর নামও উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم قمت بنقد السند أو المتن أو نقدهما معًا لمن يريد الاطمئنان إلى صحة الحديث والتأكد منه.

هذا وأسأل الله أن يرزقني الإخلاص لوجهه الكريم وأن ينفعني به يوم الدين إنه سميع مجيب، وأن يغفر لي إسرافي على نفسي وتقصيري إنه غفور رحيم، فإن أصبت فمن الله فله وحده الحمد والشكر من قبل ومن بعد، وإن أخطأت فمني ومن الشيطان، وأسأل الله العفو إنه عفو يحب العفو.

محمد الصوياني
অতঃপর যারা হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আশ্বস্ত হতে এবং তা নিশ্চিত করতে চান, তাদের জন্য আমি সনদ অথবা মতন কিংবা উভয়টিরই সমালোচনা ও বিশ্লেষণ পেশ করেছি।

পরিশেষে আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য ইখলাস দান করেন এবং বিচার দিবসে আমাকে এর দ্বারা উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আর তিনি যেন আমার নিজের প্রতি কৃত সীমালঙ্ঘন ও আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। সুতরাং যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই আগে ও পরে সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল তাঁরই। আর যদি আমি ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করা পছন্দ করেন।

মুহাম্মাদ আস-সুওয়াইয়ানি
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المولد

1 - قال الإمام مسلم (2 - 819): حدثنا محمد بن المثنى ومحمَّد بن بشار واللفظ لابن المثنى قالا حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن غيلان بن جرير سمع عبد الله بن معبد الزماني عن أبي قتادة الأنصاري رضي الله عنه: أن رسول. الله - صلي الله عليه وسلم - سئل عن صوم يوم الإثنين قال: "ذاك يوم ولدت فيه ويوم بعثت أو أنزل علي فيه".

2 - قال مسلم (3 - 1391): حدثني وحرملة قالا أخبرني ابن وهب أخبرني يونس عن بن شهاب عن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما فرغ من قتال أهل خيبر وانصرف إلى المدينة رد المهاجرون إلى الأنصار منائحهم التي كانوا منحوهم من ثمارهم، قال: فرد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أمي عذاقها، وأعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم أم أيمن مكانهن من حائطه".

[قال ابن شهاب: وكان من شأن أم أيمن أم أسامة بن زيد أنها كانت وصيفة لعبد الله بن عبد المطلب، وكانت من الحبشة، فلما ولدت آمنة رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ما توفي أبوه، فكانت أم أيمن تحضنه حتى كبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فأعتقها ثم أنكحها زيد بن حارثة ثم توفيت بعد ما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم بخمسة أشهر.

ملاحظة: الشاهد من الحديث غير موصول فقد أرسله الإِمام الزهري رحمه الله].

3 - قال ابن إسحاق حدثني: المطلب بن عبد الله بن قيس بن مخرمة عن أبيه عن جده قال: "ولدت أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل"، وسأل عثمان بن عفان قباث بن أشيم أخا بني يعمر بن ليث: أأنت أكبر أم رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: "رسول الله صلى الله عليه وسلم أكبر مني وأنا أقدم منه في الميلاد. ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل، ورفعت بي أمي على الموضع" قال: "ورأيت خذق الفيل أخضر محيلا"، قال: أبو عيسى: هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من حديث محمَّد بن إسحاق.

[درجته: حديثٌ حسنٌ وسنده ضعيف، رواه من طريق ابن إسحاق كل من الترمذيُّ (5 - 589) والحاكم (3 - 516) والطبرانيُّ في الكبير (18 - 342) والشيباني في الآحاد والمثاني (1 - 407)]
জন্ম বৃত্তান্ত

১ - ইমাম মুসলিম (২ - ৮১৯) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মদ ইবনে বাশার এবং শব্দগুলো ইবনুল মুসান্নার। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি গাইলান ইবনে জারীর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ আস-যামানি থেকে শুনেছেন, তিনি আবু কাতাদাহ আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারের রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "এটি সেই দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে অথবা যেদিন আমার ওপর ওহী নাযিল করা হয়েছে।"

২ - ইমাম মুসলিম (৩ - ১৩৯১) বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হারমালাহ, তাঁরা বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বারবাসীদের সাথে যুদ্ধ সমাপ্ত করে মদিনায় ফিরে আসলেন, তখন মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাদের প্রদত্ত ফলগাছগুলো (যা তাঁরা উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছিলেন) ফেরত দিলেন। তিনি (আনাস) বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাকে তাঁর খেজুর গাছগুলো ফেরত দিলেন এবং উম্মে আয়মানকে তার পরিবর্তে তাঁর নিজস্ব বাগান থেকে গাছ দান করলেন।"

[ইবনে শিহাব বলেন: উসামা ইবনে যায়েদের মা উম্মে আয়মানের অবস্থা এই ছিল যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের দাসী ছিলেন এবং তিনি হাবশার অধিবাসী ছিলেন। আমিনা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জন্ম দিলেন (তাঁর পিতার মৃত্যুর পর), তখন উম্মে আয়মান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লালন-পালন করতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি বড় হলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং যায়েদ ইবনে হারিসার সাথে তাঁর বিয়ে দিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পাঁচ মাস পর ইন্তেকাল করেন।

দ্রষ্টব্য: হাদিসের সাক্ষ্যদানকারী অংশটি নিরবচ্ছিন্ন (মাওসুল) নয়, বরং ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।]

৩ - ইবনে ইসহাক বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ইবনে মাখরামাহ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে (আমুল ফিল) জন্মগ্রহণ করেছি"। উসমান ইবনে আফফান বনী ইয়া'মুর ইবনে লাইস গোত্রের ভাই কুবাস ইবনে আশইয়ামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি বড় নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়? তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চেয়ে বড় (মর্যাদায়), আর আমি জন্মে তাঁর চেয়ে অগ্রগামী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর আমার মা আমাকে সেই হাতি আসার স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন।" তিনি বলেন: "আমি হাতির বিষ্ঠা দেখেছিলাম যা সবুজ ও বর্ণহীন হয়ে গিয়েছিল।" আবু ঈসা (ইমাম তিরমিযী) বলেন: এই হাদিসটি হাসান গরীব, এটি কেবল মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সূত্রেই আমরা জানতে পেরেছি।

[মান: হাদিসটি হাসান কিন্তু এর সনদ দুর্বল। এটি ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন তিরমিযী (৫ - ৫৮৯), হাকেম (৩ - ৫১৬), তাবারানী ‘আল-মু’জামুল কাবীর’-এ (১৮ - ৩৪২) এবং শায়বানী ‘আল-আহাদ ওয়াল মাসানি’-তে (১ - ৪০৭)]
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
هذا السند: ضعيف فابن إسحاق سمع هذا الحديث من شيخه كما عند الحاكم، لكن شيخه المطلب يحتاج إلي توثيق فلم يوثقه سوى ابن حبان ولذلك قال الحافظ رحمه الله: المطلب بن عبد الله بن قيس بن مخرمة المطلبي مقبول، تقريب التهذيب 534، لكن الشاهد من الحديث حسن بالروايات الأخرى انظر ما بعده].

4 - قال الضحاك في الآحاد والمثاني (2 - 183): حدثنا إبراهيم بن المنذر الحزامي نا عبد العزيز بن أبي ثابت نا الزبير بن موسى عن أبي الحويرث قال: سمعت عبد الملك بن مروان يقول لقباث بن أشيم الكناني رضي الله عنه: أنت أكبر أم رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: "رسول الله أكبر مني، وأنا أسن منه، ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل وتنبىء على رأس أربعين من الفيل".

[درجته: في سنده ضعف يسير لكنه حسن بما قبله، رواه: الحاكم 3 - 724 والطبرانيُّ في المعجم الكبير (19 - 37)]، هذا السند: فيه ضعف وهو من طرق عن الزبير بن موسى عن أبي الحويرث … وضعفه يسير من أجل الزبير بن موسى قال في تهذيب التهذيب (3 - 276): روى عنه ابن جريج والثوري وابن نجيح وعبد العزيز بن أبي ثابت قال بن نمير روى عنه الكبار القدماء وليس بقديم الموت، وذكره ابن حبان في الثقات لكن الحديث حسن بما قبله].

5 - قال ابن إسحاق 42: حدثني عبد الله بن أبي بكر بن حزم عن عمره ابنة عبد الرحمن بن أسعد ابن زرارة عن عائشة زوج النبي قالت: "لقد رأيت قائد الفيل وسائسه أعميين مقعدين يستطعمان بمكة".

[درجته: سنده صحيح، عبد الله بن أبي بكر بن محمَّد بن عمرو بن حزم الأنصاري المدني تابعي ثقة، تقريب التهذيب 297 وشيخته عمرة بنت عبد الرحمن بن سعد بن زرارة الأنصارية المدنية تابعية ثقة أكثرت عن عائشة].

 

‌‌الرضاع

1 - قال الإمام البخاري (5 - 1961): حدثنا الحكم بن نافع أخبرنا شعيب عن الزهري قال أخبرني عروة بن الزبير أن زينب بنت أبي سلمة أخبرته أن أم حبيبة بنت أبي سفيان أخبرتها أنها قالت: يا رسول الله انكح أختي بنت أبي سفيان فقال: "أو تحبين ذلك؟ " فقلت:
[এই সনদটি: দুর্বল, কারণ ইবনে ইসহাক তাঁর উস্তাদ থেকে এই হাদিসটি শুনেছেন যেমনটি হাকিমের নিকট রয়েছে। তবে তাঁর উস্তাদ আল-মুত্তালিবের নির্ভরযোগ্যতা (তাওসিক) প্রয়োজন, ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেননি। এই কারণে হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মুত্তালিব বিন আবদুল্লাহ বিন কাইস বিন মাখরামা আল-মুত্তালিবি 'মাকবুল' (গ্রহণযোগ্য), তাকরিবুত তাহজিব ৫৩৪। তবে হাদিসের শাহিদ (সাক্ষ্য) অন্যান্য বর্ণনার কারণে 'হাসান'; পরবর্তী অংশ দেখুন।]

৪ - আদ-দাহহাক 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' (২ - ১৮৩) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির আল-হিজামি, তিনি আবদুল আজিজ বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি জুবাইর বিন মুসা থেকে, তিনি আবু আল-হুবাইরিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল মালিক বিন মারওয়ানকে কুবাস বিন আশইয়াম আল-কিনানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: "আপনি বড় নাকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার চেয়ে বড় (মর্যাদায়), আর আমি তাঁর চেয়ে বয়সে প্রাচীন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তিবাহিনীর বছরে জন্মগ্রহণ করেন এবং হস্তিবাহিনীর ঘটনার ঠিক চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় নবুওয়াত প্রাপ্ত হন।"

[মান: এর সনদে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে তবে পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে এটি 'হাসান'। এটি বর্ণনা করেছেন: আল-হাকিম ৩ - ৭২৪ এবং তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবির' (১৯ - ৩৭) গ্রন্থে। এই সনদটি: এতে দুর্বলতা রয়েছে এবং এটি আবু আল-হুবাইরিস থেকে জুবাইর বিন মুসার সূত্রের অন্যতম পথ... জুবাইর বিন মুসার কারণে এর দুর্বলতা সামান্য। 'তাহজিবুত তাহজিব' (৩ - ২৭৬) গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁর থেকে ইবনে জুরাইজ, সাওরি, ইবনে নাজিহ এবং আবদুল আজিজ বিন আবি সাবিত বর্ণনা করেছেন। ইবনে নুমাইর বলেছেন, তাঁর থেকে প্রাচীন বড় পর্যায়ের ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি খুব আগের মৃত নন। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে হাদিসটি আগের বর্ণনার কারণে 'হাসান'।]

৫ - ইবনে ইসহাক (৪২) বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন হাজম, তিনি আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান বিন আসআদ বিন জুরারাহ থেকে, তিনি নবীর স্ত্রী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি হস্তিবাহিনীর চালক এবং তার রক্ষণাবেক্ষণকারীকে মক্কায় অন্ধ ও পঙ্গু অবস্থায় মানুষের কাছে খাবার ভিক্ষা করতে দেখেছি।"

[মান: এর সনদ 'সহিহ'। আবদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাজম আল-আনসারি আল-মাদানি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) তাবিঈ, তাকরিবুত তাহজিব ২৯৭। এবং তাঁর উস্তাদ আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান বিন সাদ বিন জুরারাহ আল-আনসারিয়া আল-মাদানিয়া একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) নারী তাবিঈ, যিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন।]

 

‌‌দুগ্ধপান (আর-রাযা)

১ - ইমাম বুখারি (৫ - ১৯৬১) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাকাম বিন নাফে বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, তিনি যুহরি থেকে, তিনি বলেন আমাকে উরওয়াহ বিন আল-জুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, জাইনাব বিনতে আবি সালামাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উম্মে হাবিবা বিনতে আবি সুফিয়ান তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি (উম্মে হাবিবা) বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন বিনতে আবি সুফিয়ানকে বিবাহ করুন।" তিনি বললেন: "তুমি কি তা পছন্দ করো?" আমি বললাম:
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
نعم لست لك بمخلية وأحب من شاركني في خير أختي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن ذلك لا يحل لي" قلت: فإنا نحدث أنك تريد أن تنكح بنت أبي سلمة، قال: "بنت أم سلمة؟ " قلت: نعم، فقال: "لو أنها لم تكن ربيبتي في حجري ما حلت لي، إنها لابنة أخي من الرضاعة، أرضعتني وأبا سلمة ثويبة فلا تعرضن علي بناتكن ولا أَخواتكن". قال عروة: (وثويبة مولاة لأبي لهب كان أبو لهب أعتقها فأرضعت النبي صلى الله عليه وسلم فلما مات أبو لهب أريه بعض أهله بشر حيبة قال له ماذا لقيت قال أبو لهب لم ألق أني سقيت في هذه بعتاقتي ثويبة).

[ملاحظة: ما بين الأقواس ليس على شرط البخاري فهو مرسل].

 

‌‌التسمية

1 - قال ابن سعد (1 - 104): أخبرنا أبو عامر العقدي واسمه عبد الملك بن عمرو أخبرنا زهير بن محمَّد عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن محمَّد بن علي يعني بن الحنفية أنه سمع علي بن أبي طالب عليه السلام يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سميت أحمد".

[درجته: سنده حسن، هذا السند: حسن من أجل عبد الله بن محمَّد بن عقيل وهو حسن الحديث إذا لم يخالف قال في التقريب: عبد الله بن محمَّد بن عقيل بن أبي طالب الهاشمي أبو محمَّد المدني أمه زينب بنت علي صدوق في حديثه لين ويقال تغير بأخرة وهو من رجال الشيخين تقريب التهذيب321، وشيخه تابعي كبير وثقة جليل وهو ابن علي بن أبي طالب (2 - 192)، أما زهير فحديثه حسن إلا إذا كان الراوي عنه شامي فقد حدث بالشام من حفظه فغلط، فرواية الشاميين عنه غير مستقيمة لكن هذه الرواية ليست رواية شامي، بل هي رواية بصري وقد قال الإمام أحمد بن حنبل وهو عراقي: ورواية أصحابنا عنه مستقيمة التهذيب (3 - 348) أما أبو عامر واسمه عبد الملك بن عمرو القيسي فثقة: التهذيب (6 - 409)].
হ্যাঁ, আমি আপনাকে এককভাবে পাওয়ার মতো অবস্থায় নেই এবং আমি যাদেরকে আমার সাথে কল্যাণে অংশীদার করতে পছন্দ করি তাদের মধ্যে আমার বোনই অগ্রগণ্য। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই তা আমার জন্য বৈধ নয়।" আমি বললাম: আমাদের কাছে আলোচনা করা হচ্ছে যে আপনি আবু সালামার কন্যাকে বিবাহ করতে চান। তিনি বললেন: "উম্মে সালামার কন্যাকে?" আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "যদি সে আমার কোলে লালিত-পালিত আমার সৎকন্যা নাও হতো, তবুও সে আমার জন্য বৈধ হতো না; কারণ সে দুধ-সম্পর্কের দিক থেকে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী। আমাকে এবং আবু সালামাকে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছে। অতএব তোমরা তোমাদের কন্যাদের বা তোমাদের বোনদের আমার কাছে (বিবাহের জন্য) পেশ করো না।" উরওয়াহ বলেন: (সুওয়াইবা ছিলেন আবু লাহাবের দাসী, আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল, এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুধ পান করান। যখন আবু লাহাব মারা যায়, তখন তার পরিবারের কেউ তাকে স্বপ্নে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দেখে তাকে জিজ্ঞেস করল: আপনি কীসের সম্মুখীন হয়েছেন? আবু লাহাব বলল: সুওয়াইবাকে মুক্ত করার কারণে আমি এই আঙ্গুলে সামান্য পানি পান করতে পেরেছি—এ ছাড়া আমি আরামদায়ক আর কিছুর দেখা পাইনি)।

[দ্রষ্টব্য: বন্ধনীভুক্ত অংশটি ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী নয়, বরং এটি মুরসাল]।

 

‌‌নামকরণ

১ - ইবনে সাদ (১ - ১০৪) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমির আল-আকাদি, যাঁর নাম আব্দুল মালিক ইবনে আমর; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুহাইর ইবনে মুহাম্মদ, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী অর্থাৎ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আলী ইবনে আবু তালিব আলাইহিস সালামকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার নাম আহমদ রাখা হয়েছে।"

[এর মান: এর সনদ হাসান। এই সনদটি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীলের কারণে হাসান। তিনি যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেন না, তখন তাঁর হাদীস হাসান হিসেবে গণ্য হয়। 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল ইবনে আবু তালিব আল-হাশিমী আবু মুহাম্মদ আল-মাদানী, তাঁর মাতা যয়নাব বিনতে আলী; তিনি তাঁর হাদীসের ক্ষেত্রে সত্যবাদী তবে তাঁর মধ্যে শিথিলতা রয়েছে এবং বলা হয় শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিশক্তি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছিল। তিনি শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের স্তরের ব্যক্তি, তাকরীবুত তাহযীব ৩২১। তাঁর উস্তাদ একজন বড় তাবিঈ এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, তিনি হলেন আলী ইবনে আবু তালিবের পুত্র (২ - ১৯২)। আর জুহাইরের হাদীস হাসান, তবে যদি তাঁর থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তি সিরীয় (শামী) হন, তবে সেক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে, কারণ তিনি সিরিয়ায় তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেছিলেন। ফলে সিরীয়দের বর্ণিত তাঁর রেওয়ায়েতগুলো সঠিক নয়; কিন্তু এই বর্ণনাটি সিরীয়দের নয়, বরং এটি একজন বসরী বর্ণনাকারীর রেওয়ায়েত। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, যিনি একজন ইরাকী, তিনি বলেছেন: আমাদের সাথীরা (ইরাকী/বসরীগণ) তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সঠিক, তাহযীব (৩ - ৩৪৮)। আর আবু আমির, যাঁর নাম আব্দুল মালিক ইবনে আমর আল-কায়সী, তিনি নির্ভরযোগ্য: তাহযীব (৬ - ৪০৯)]।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌شق الصدر

1 - قال مسلم (1 - 145): حدثنا شيبان بن فروخ حدثنا حماد بن سلمة حدثنا ثابت البناني عن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاه جبريل عليه السلام وهو يلعب مع الغلمان فأخذه فصرعه فشق عن قلبه، فاستخرج القلب فاستخرج منه علقة فقال: "هذا حظ الشيطان منك" ثم غسله في طست من ذهب بماء زمزم، ثم لأمه ثم أعاده في مكانه، وجاء الغلمان يسعون إلى أمه (يعني ظئره) فقالوا: إن محمدًا قد قتل، فاستقبلوه وهو منتقع اللون.

قال أنس: "وقد كنت أرى أثر ذلك المخيط في صدره".

2 - قال أحمد (4 - 184): حدثنا حيوة ويزيد بن عبد ربه قالا ثنا بقية حدثني بحير بن سعد عن خالد بن معدان عن بن عمرو السلمي عن عتبة بن عبد السلمي أنه حدثهم: أن رجلًا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: كيف كان أول شأنك يا رسول الله؟ قال: "كانت حاضنتي من بني سعد بن بكر فانطلقت أنا وبن لها في بهم لنا ولم نأخذ معنا زادًا، فقلت: يا أخي اذهب فأتنا بزاد من عند أمنا، فانطلق أخي ومكثت عند البهم فأقبل طيران أبيضان كأنهما نسران، فقال: أحدهما لصاحبه: أهو هو؟ قال: نعم، فأقبلا يبتدراني فأخذاني فبطحاني إلى القفا فشقا بطني، ثم استخرجا قلبي فشقاه فأخرجا منه علقتين سوداوين فقال: أحدهما لصاحبه -قال يزيد في حديثه: "ائتني بماء ثلج فغسلا به جوفي- ثم قال: ائتني بماء برد فغسلا به قلبي ثم قال: ائتني بالسكينة فذراها في قلبي ثم قال: أحدهما لصاحبه: حصه. فحاصه وختم عليه بخاتم النبوة، وقال حيوة في حديثه: حصه فحصه واختم عليه بخاتم النبوة فقال: أحدهما لصاحبه: اجعله في كفة واجعل ألفًا من أمته في كفة، فإذا أنا أنظر إلى الألف فوقي أشفق أن يخر علي بعضهم، فقال: لو أن أمته وزنت به لمال بهم، ثم انطلقا وتركاني وفرقت فرقًا شديدًا، ثم انطلقت إلى أمي فأخبرتها بالذي لقيته فأشفقت علي أن يكون البس بي، قالت: أعذك بالله. فرحلت بعيرًا لها فجعلتني. وقال يزيد:
বক্ষ বিদারণ

১ - ইমাম মুসলিম (১ - ১৪৫) বর্ণনা করেছেন: শায়বান ইবন ফাররুখ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাবিত আল-বুনানী আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বালকদের সাথে খেলছিলেন, তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে ধরলেন এবং মাটিতে শুইয়ে দিলেন, তারপর তাঁর বক্ষ বিদারণ করলেন। এরপর তিনি তাঁর কলব (হৃদপিণ্ড) বের করলেন এবং তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করে বললেন: "এটি তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ।" এরপর তিনি একটি স্বর্ণের পাত্রে যমযমের পানি দিয়ে সেটি ধৌত করলেন, অতঃপর তা জোড়া দিলেন এবং পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করলেন। বালকরা দৌড়ে তাঁর মায়ের (অর্থাৎ তাঁর ধাত্রী মা) কাছে গিয়ে বলল: মুহাম্মদকে হত্যা করা হয়েছে। তারা তাঁর দিকে এগিয়ে আসল এবং দেখল তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে আছে।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমি তাঁর বক্ষে সেই সেলাইয়ের চিহ্ন দেখতাম।"

২ - ইমাম আহমাদ (৪ - ১৮৪) বর্ণনা করেছেন: হায়ওয়াহ এবং ইয়াযীদ ইবন আবদ রাব্বিহি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন যে বাকিয়্যাহ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, বুহাইর ইবন সা’দ খালিদ ইবন মা’দান থেকে, তিনি ইবন আমর আস-সুলামী থেকে, তিনি উতবাহ ইবন আবদ আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নবুওয়াতের সূচনার বিষয়টি কেমন ছিল? তিনি বললেন: "আমার ধাত্রী মা ছিলেন বনু সা’দ ইবন বকর গোত্রের। আমি এবং তাঁর এক পুত্র আমাদের কিছু ভেড়া নিয়ে বের হলাম এবং আমাদের সাথে কোনো খাবার নিলাম না। আমি বললাম: হে ভাই, তুমি যাও এবং আমাদের মায়ের নিকট থেকে আমাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে এসো। আমার ভাই চলে গেল আর আমি ভেড়াগুলোর কাছে অবস্থান করলাম। তখন ঈগলের মতো দুটি সাদা পাখি উড়ে আসল। তাদের একজন অপরজনকে বলল: ইনিই কি সেই ব্যক্তি? সে বলল: হ্যাঁ। এরপর তারা ক্ষিপ্রতার সাথে আমার দিকে এগিয়ে এসে আমাকে ধরল এবং চিৎ করে শুইয়ে দিয়ে আমার পেট বিদীর্ণ করল। এরপর তারা আমার কলব বের করে তা বিদীর্ণ করল এবং তা থেকে দুটি কালো রক্তপিণ্ড বের করল। তাদের একজন অপরজনকে বলল -ইয়াযীদ তাঁর বর্ণনায় বলেন: 'আমার নিকট বরফের পানি নিয়ে এসো', ফলে তারা তা দিয়ে আমার ভেতরটা ধৌত করল- এরপর সে বলল: 'আমার নিকট শীতল পানি নিয়ে এসো', ফলে তারা তা দিয়ে আমার কলব ধৌত করল। এরপর সে বলল: 'আমার নিকট সাকীনাহ (প্রশান্তি) নিয়ে এসো', এরপর তারা তা আমার কলবে ছিটিয়ে দিল। এরপর তাদের একজন অপরজনকে বলল: এটি সেলাই করো। ফলে সে তা সেলাই করল এবং নবুওয়াতের মোহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত করে দিল। হায়ওয়াহ তাঁর বর্ণনায় বলেন: সে তা সেলাই করল এবং নবুওয়াতের মোহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত করে দিল। এরপর তাদের একজন অপরজনকে বলল: তাকে এক পাল্লায় রাখো এবং তার উম্মতের এক হাজার লোককে অন্য পাল্লায় রাখো। হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম যে এক হাজার লোক আমার উপরে এবং আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তাদের কেউ আমার ওপর পড়ে যাবে। তখন সে বলল: যদি তার উম্মতকে তার সাথে ওজন করা হয়, তবে সে-ই তাদের চেয়ে ভারী হবে। এরপর তারা চলে গেল এবং আমাকে রেখে গেল, আর আমি ভীষণ ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি আমার মায়ের নিকট গিয়ে তাঁকে যা ঘটেছিল তা জানালাম। তিনি আশঙ্কা করলেন যে আমার ওপর কোনো আসর হয়েছে। তিনি বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিচ্ছি। এরপর তিনি তাঁর একটি উট সাজালেন এবং আমাকে তাতে বসালেন।" এবং ইয়াযীদ বলেন:
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فحملتني على الرحل وركبت خلفي حتى بلغنا إلى أمي، فقالت: أو أديت أمانتي وذمتي؟ وحدثتها بالذي لقيت فلم يرعها ذلك فقالت: أني رأيت خرج مني نورًا أضاءت منه قصور الشام".

[درجته: حسن لغيره، رواه: الحاكم (2 - 673) وأحمدُ (4 - 184) والدارميُّ (1 - 20) ولطبرانيُّ في مسند الشاميين (2 - 198)، هذا السند: حسن بما بعده وهو من طرق عن بقية عن بحير عن خالد بن معدان ثنا عبد الرحمن بن عمرو السلمي عن عتبة بن عبد السلمي، وبقية مدلس لكنه صرح بالسماع من شيخه فانتفت شبهة التدليس، لكن يبقى فيه ضعف لجهالة عبد الرحمن السلمي قال الحافظ رحمه الله: مقبول. أي عند المتابعة (1 - 493) لكن الحديث حسن بما قبله وما بعده من الأحاديث].

3 - قال الدارمي (1 - 21): أخبرنا عبد الله بن عمران ثنا أبو داود ثنا جعفر بن عثمان القرشي عن عثمان بن عروة بن الزبير عن أبيه عن أبي ذر الغفاري قال: قلت: يا رسول الله كيف علمت أنك نبي حين استنبئت؟ فقال: "يا أبا ذر أتاني ملكان وأنا ببعض بطحاء مكة، فوقع أحدهما على الأرض وكان الآخر بين السماء والأرض، فقال أحدهما لصاحبه: أهو هو؟ قال: نعم. قال: فزنه برجل، فوزنت به فوزنته، ثم قال فزنه بعشرة فوزنت بهم فرجحتهم، ثم قال: زنه بمائة فوزنت بهم فرجحتهم، ثم قال: زنه بألف فوزنت بهم فرجحتهم، كأني انظر إليهم ينتثرون علي من خفة الميزان، قال: فقال أحدهما لصاحبه: لو وزنته بأمته لرجحها".

[درجته: حديثٌ حسنٌ بما قبله، رواه البزار (9 - 437) والطبريُّ في التاريخ (1 - 534) والدارميُّ (1 - 21)، من طرق عن أبي داود الطيالسي قال نا جعفر … به، هذا السند: فيه ضعف يسير من أجل عمر بن عبد الله بن عروة بن الزبير فهو وإن كان من رجال الشيخين إلا أنه لم يوثق توثيقًا يعتد به ولذلك لخص الحافظ رحمه الله أقوال العلماء فيه فقال: مقبول. أي عند المتابعة أما تلميذه فقد قال ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (2 - 482): وجعفر بن عبد الله بن عثمان بن حميد القرشي المخزومي الحجازي يقال له جعفر الحميدي روى عن عمر بن عبد الله بن عروة بن الزبير، روى عنه أبو داود وأبو عاصم وعبد الله بن داود سمعت أبى يقول ذلك حدثنا عبد الرحمن أنا عبد الله بن أحمد
অতঃপর তিনি আমাকে সওয়ারির পিঠে তুলে নিলেন এবং আমার পেছনে আরোহণ করলেন, যতক্ষণ না আমরা আমার মায়ের কাছে পৌঁছালাম। তিনি (মা) বললেন: তুমি কি আমার আমানত ও দায়িত্ব পালন করেছো? আমি যা যা ঘটেছিল তা তাঁকে জানালাম, কিন্তু এতে তিনি ঘাবড়ে গেলেন না। তিনি বললেন: আমি দেখেছি যে আমার থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার দ্বারা শামের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।

[মান: এটি হাসান লি-গাইরিহি; বর্ণনা করেছেন: আল-হাকিম (২ - ৬৭৩), আহমাদ (৪ - ১৮৪), আদ-দারিমি (১ - ২০) এবং আত-তাবারানি আল-মুসনাদুশ শামিয়্যিন-এ (২ - ১৯৮)। এই সনদটি: এর পরবর্তী বর্ণনার কারণে হাসান। এটি বাকিয়্যাহ-এর একটি সূত্র যা বুহাইর থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামি, তিনি উতবা ইবনে আবদ আস-সুলামি থেকে। বাকিয়্যাহ মুদাল্লিস ছিলেন, তবে তিনি তাঁর শায়খের থেকে সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ফলে তাদলীসের সংশয় দূর হয়েছে। তবে আব্দুর রহমান আস-সুলামি অপরিচিত (জাহালাত) হওয়ার কারণে এতে কিছুটা দুর্বলতা থেকে যায়। হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মাকবূল (গ্রহণযোগ্য), অর্থাৎ যখন মুতাবাআত (অন্য বর্ণনার সমর্থন) থাকে (১ - ৪৯৩)। তবে হাদীসটি এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী হাদীসসমূহের কারণে হাসান পর্যায়ে উন্নীত]।

৩ - আদ-দারিমি (১ - ২১) বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইমরান আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু দাউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে উসমান আল-কুরাশি উসমান ইবনে উরওয়াহ ইবনে আয-যুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু যার আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যখন নবুওয়াত প্রাপ্ত হলেন, তখন কীভাবে জানলেন যে আপনি নবী? তখন তিনি বললেন: "হে আবু যার! আমি মক্কার বাতাহা নামক উপত্যকার কোনো এক স্থানে থাকাকালীন আমার কাছে দুজন ফেরেশতা আসলেন। তাঁদের একজন জমিনে অবতরণ করলেন এবং অন্যজন আসমান ও জমিনের মাঝখানে ছিলেন। তাঁদের একজন তাঁর সঙ্গীকে বললেন: ইনিই কি তিনি? অপরজন বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাঁকে একজন মানুষের বিপরীতে ওজন করো। সুতরাং আমাকে তাঁর বিপরীতে ওজন করা হলো এবং আমি ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন: তাঁকে দশজনের বিপরীতে ওজন করো। সুতরাং আমাকে তাঁদের বিপরীতে ওজন করা হলো এবং আমি তাঁদের তুলনায় ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন: তাঁকে একশজনের বিপরীতে ওজন করো। সুতরাং আমাকে তাঁদের বিপরীতে ওজন করা হলো এবং আমি তাঁদের তুলনায় ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন: তাঁকে এক হাজার জনের বিপরীতে ওজন করো। সুতরাং আমাকে তাঁদের বিপরীতে ওজন করা হলো এবং আমি তাঁদের তুলনায় ভারী হলাম। পাল্লা হালকা হওয়ার কারণে যেন আমি তাঁদের আমার ওপর ছড়িয়ে পড়তে দেখছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাঁদের একজন তাঁর সঙ্গীকে বললেন: আপনি যদি তাঁকে তাঁর পুরো উম্মতের সাথেও ওজন করেন, তবুও তিনি তাঁদের চেয়ে ভারী হবেন"।

[মান: হাদীসটি এর পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাসান; বর্ণনা করেছেন আল-বাত্তার (৯ - ৪৩৭), আত-তাবারী তাঁর ইতিহাসে (১ - ৫৩৪) এবং আদ-দারিমি (১ - ২১); তাঁরা আবু দাউদ আত-তায়ালিসির বিভিন্ন সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাফর ... এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এই সনদে উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ ইবনে আয-যুবাইরের কারণে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে। যদিও তিনি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, তবুও নির্ভরযোগ্যতার সাথে তাঁকে বিশ্বস্ত (তওসিক) বলা হয়নি। এ কারণে হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে ওলামাদের বক্তব্য সংক্ষেপ করে বলেছেন: মাকবূল (গ্রহণযোগ্য), অর্থাৎ যখন মুতাবাআত (অন্যের সমর্থন) থাকে। আর তাঁর ছাত্র সম্পর্কে ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহ ওয়াত-তাদিল' গ্রন্থে (২ - ৪৮২) বলেছেন: জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে হুমাইদ আল-কুরাশি আল-মাখযুমি আল-হিজাজি, তাঁকে জাফর আল-হুমাইদি বলা হয়; তিনি উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ ইবনে আয-যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু দাউদ, আবু আসিম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ বর্ণনা করেছেন। আমি আমার পিতাকে তা বলতে শুনেছি। আব্দুর রহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের খবর দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ابن محمَّد بن حنبل فيما كتب إلى قال سألت أبى عن شيخ روى عنه أبو داود الطيالسي يقال له جعفر ابن عبد الله بن عثمان القرشي فقال أبى: جعفر ثقة .. وبعد فالحديث حسن بما قبله].

 

‌‌عناية عبد المطلب

قال الطبراني في المعجم الكبير (6 - 64): حدثنا علي بن عبد العزيز ثنا عمرو بن عون الواسطي (ح)، وحدثنا الحضرمي ثنا وهب بن بقية قالا ثنا خالد بن عبد الله عن داود بن أبي هند عن العباس بن عبد الرحمن عن كندير بن سعيد عن أبيه قال: حججت في الجاهلية فإذا أنا برجل يطوف بالبيت وهو يرجز وهو يقول:

ربي رد إلي راكبي محمدًا … رده رب إلي واصطنع عندي يدا

قلت: من هذا؟ قالوا: هذا عبد المطلب بن هاشم ذهبت إبل له فأرسل ابنه في طلبها فاحتبس عليه، ولم يرسله قط في حاجة إلا جاء بها قال: فما برحت أن جاء النبي صلى الله عليه وسلم وجاء بالإبل معه فقال: يا بني لقد حزنت عليك حزنًا لا تفارقني أبدًا.

[درجته: حديثٌ حسنٌ، رواه: الحاكم (2 - 659) وأبو يعلى (3 - 54) والبيهقيُّ في الدلائل (2 - 21) وابن عدي في الكامل في ضعفاء الرجال (2 - 67) من طرق عن خالد بن عبد الله عن داود بن أبي هند عن العباس بن عبد الرحمن عن كندير وله طريق آخر هو طريق البيهقي وابن عدي: بهز بن حكيم عن أبيه عن حيدة بن معاوية وهو جده أنه خرج معتمرًا في الجاهلية، هذا السند: أما الأول ففيه ضعف لجهالة كندير ولجهالة العباس الهاشمي، قال في الجرح والتعديل (6 - 211): عباس بن عبد الرحمن مولى بني هاشم روى عن أبي هريرة وابن عباس وذى مخبر وكندير بن سعيد روى عنه داود بن أبي هند سمعت أبى يقول ذلك، وقال الحافظ: مستور (2 - 397) أما السند الآخر فهو حسن مشهور ويشهد لما قبله].
মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল-এর পুত্র আমাকে যা লিখেছেন তাতে বলেছেন: আমি আমার পিতাকে এমন একজন শায়খ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যাঁর থেকে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, তাঁকে জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান আল-কুরাশি বলা হয়। আমার পিতা বললেন: জাফর নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।.. পরিশেষে, হাদিসটি তার পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাসান।

 

‌‌আব্দুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধান

তাবারানি আল-মু'জাম আল-কাবিরে (৬ - ৬৪) বলেছেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমর ইবনে আওন আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন (হ), এবং আমাদের নিকট আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই বলেন আমাদের নিকট খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি কুন্দাইর ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর পিতা বলেন: আমি জাহেলি যুগে হজ পালন করেছিলাম, তখন আমি এক ব্যক্তিকে কাবার চারদিকে তাওয়াফ করতে দেখলাম, তিনি রাজায (ছন্দ) আবৃত্তি করছিলেন এবং বলছিলেন:

হে আমার রব, আমার আরোহী মুহাম্মদকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন … হে রব, তাঁকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন এবং আমার জন্য একটি হাত (অনুগ্রহ) প্রদান করুন

আমি বললাম: ইনি কে? তারা বলল: ইনি আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম। তাঁর কিছু উট হারিয়ে গিয়েছিল, তাই তিনি তাঁর পুত্রকে (মুহাম্মদকে) সেগুলো খুঁজতে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর ফিরতে দেরি হচ্ছিল। তিনি তাঁকে কোনো প্রয়োজনে পাঠালে তিনি তা পূরণ না করে কখনও ফিরে আসতেন না। বর্ণনাকারী বলেন: আমি সেখান থেকে সরার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটগুলো সাথে নিয়ে চলে আসলেন। তখন তিনি (আব্দুল মুত্তালিব) বললেন: হে প্রিয় বৎস! আমি তোমার জন্য এমনভাবে শোকাতুর হয়েছিলাম যা আমার অন্তর থেকে কখনও মুছবে না।

[মান: হাদিসটি হাসান। এটি বর্ণনা করেছেন: হাকিম (২ - ৬৫৯), আবু ইয়া'লা (৩ - ৫৪), বায়হাকি আদ-দালাইল-এ (২ - ২১) এবং ইবনে আদি আল-কামিল ফি দুয়াফা-ইর রিজাল-এ (২ - ৬৭) বিভিন্ন সূত্রে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি কুন্দাইর থেকে। এর আরও একটি সূত্র রয়েছে যা বায়হাকি ও ইবনে আদির বর্ণিত সূত্র: বাহয ইবনে হাকিম তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা হায়দাহ ইবনে মুয়াবিয়া থেকে যে, তিনি জাহেলি যুগে উমরাহ করতে বের হয়েছিলেন। এই সনদটি সম্পর্কে বক্তব্য হলো: প্রথম সূত্রটিতে কুন্দাইর এবং আব্বাস আল-হাশিমির পরিচয় অজ্ঞাত (জাহালাত) হওয়ার কারণে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। আল-জারহ ওয়াত তা'দিল-এ (৬ - ২১১) বলা হয়েছে: আব্বাস ইবনে আব্দুর রহমান বনু হাশিমের মুক্তদাস, তিনি আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস, যি মিখবার এবং কুন্দাইর ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি আমার পিতাকে এমনটি বলতে শুনেছি। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: তিনি মাসতুর (২ - ৩৯৭)। তবে অন্য সনদটি হাসান ও মাশহুর এবং তা পূর্ববর্তী বর্ণনার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।]
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌عناية أبى طالب

قال ابن أبي شيبة (6 - 137): حدثنا قراد بن نوح قال ثنا يونس بن أبي إسحاق عن أبي بكر بن أبي موسى عن أبيه قال: خرج أبو طالب إلى الشام وخرج معه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأشياخ من قريش فلما أشرفوا على الراهب هبطوا فحلوا رحالهم فخرج إليهم الراهب وكانوا قبل ذلك يمرون به فلا يخرج إليهم ولا يلتفت إليهم قال فهم يحلون رحالهم فجعل يتخللهم حتى جاء فأخذ بيد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال هذا سيد العالمين هذا رسول رب العالمين هذا يبعثه الله رحمة للعالمين فقال له أشياخ من قريش ما علمك فقال إنكم حين أشرفتم من العقبة لم يبق شجر ولا حجر إلا خر ساجدًا ولا يسجد إلا لنبي.

[درجته: سنده قوي، لكن لا يُدرى ممّن سمعه أبو موسى. رواه: سنن الترمذيُّ (5 - 590) والحاكم (2 - 672) من طرق عن قراد، هذا السند: قوي، قراد ثقة واسمه عبد الرحمن بن غزوان 494 وشيخه حسن الحديث من رجال مسلم (2 - 384) وأبو بكر تابعي ثقة (2 - 400)].

 

‌‌رعي الغنم

قال البخاري (2 - 789): حدثنا أحمد بن محمَّد المكي حدثنا عمرو بن يحيى عن جده عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما بعث الله نبيًا إلا رعى الغنم". فقال أصحابه وأنت؟ فقال: "نعم كنت أرعاها على قراريط لأهل مكة"

 

‌‌مشاركة قومه

1 - قال أحمد (1 - 193): حدثنا إسماعيل ثنا ابن إسحاق يعني عبد الرحمن عن الزهري عن محمَّد بن جبير عن أبيه عن عبد الرحمن بن عوف قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:"شهدت غلامًا مع عمومتي حلف المطيبين فما أحب أن لي حمر النعم وإني أنكثه".

[درجته: سنده قوي، رواه: ابن حبان (10 - 216) وأبو يعلى (2 - 156) والبيهقيُّ في الكبرى (6 - 366) من طرق عن عبد الرحمن بن إسحاق عن الزهري عن محمَّد بن جبير بن مطعم … به، هذا
আবু তালিবের তত্ত্বাবধান

ইবনে আবি শায়বাহ (৬ - ১৩৭) বলেন: কুরাদ ইবনে নুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক আবু বকর ইবনে আবি মুসা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তালিব সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তাঁর সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাইশের কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ লোক বের হলেন। যখন তারা পাদ্রীর (রাহিবের) সন্নিকটে পৌঁছালেন, তখন তারা নিচে নামলেন এবং তাদের মালপত্র নামালেন। তখন পাদ্রী তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন। অথচ ইতিপূর্বে তারা যখনই তাঁর পাশ দিয়ে যেতেন, তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে আসতেন না এবং তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপও করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তারা যখন তাদের মালপত্র নামাচ্ছিলেন, তখন পাদ্রী তাদের মধ্যে বিচরণ করতে শুরু করলেন। অবশেষে তিনি আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত ধরলেন। এরপর তিনি বললেন, "ইনি হচ্ছেন বিশ্বজগতের সরদার, ইনি হচ্ছেন বিশ্বজগতের রবের রাসূল। আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করবেন।" তখন কুরাইশের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে বলল, "আপনার এই জ্ঞানের উৎস কী?" তিনি বললেন, "তোমরা যখন গিরিপথ থেকে অবতরণ করছিলে, তখন এমন কোনো গাছ বা পাথর অবশিষ্ট ছিল না যা সিজদায় লুটিয়ে পড়েনি; আর এরা নবী ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করে না।"

[মান: এর সনদ শক্তিশালী, তবে আবু মুসা এটি কার নিকট থেকে শুনেছেন তা জানা যায় না। এটি বর্ণনা করেছেন: সুনান আত-তিরমিজি (৫ - ৫৯০) এবং আল-হাকিম (২ - ৬৭২) কুরাদের সূত্রে। এই সনদটি শক্তিশালী; কুরাদ একজন বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী, তাঁর নাম হলো আব্দুর রহমান ইবনে গাযওয়ান ৪৯৪ এবং তাঁর উস্তাদ হাসানুল হাদিস স্তরের, ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত (২ - ৩৮৪)। আর আবু বকর একজন বিশ্বস্ত তাবেয়ি (২ - ৪০০)]।

 

ছাগল চরানো

আল-বুখারি (২ - ৭৮৯) বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে ইয়াহইয়া তাঁর দাদা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি ছাগল চরাননি।" তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন, "আর আপনি?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আমি মক্কাবাসীদের জন্য কয়েক কিরাতের বিনিময়ে ছাগল চরাতাম।"

 

নিজ কওমের সাথে অংশগ্রহণ

১ - আহমদ (১ - ১৯৩) বলেন: ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ইসহাক অর্থাৎ আব্দুর রহমান আমাদের নিকট যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কিশোর বয়সে আমার চাচাদের সাথে 'হিলফুল মুতাইয়্যাবীন' (সুগন্ধি মাখানোদের চুক্তি)-তে উপস্থিত ছিলাম; এর বিনিময়ে আমাকে লাল উট দেওয়া হলেও আমি তা পছন্দ করতাম না এবং আমি তা ভঙ্গ করতে চাই না।"

[মান: এর সনদ শক্তিশালী। এটি বর্ণনা করেছেন: ইবনে হিব্বান (১০ - ২১৬), আবু ইয়ালা (২ - ১৫৬) এবং আল-বায়হাকি আল-কুবরাতে (৬ - ৩৬৬) আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাকের সূত্রে যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে... এর মাধ্যমে। এটি...]
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
السند: قوي محمَّد بن جبير بن مطعم بن عدي بن نوفل النوفلي تابعي ثقة عارف بالنسب، تقريب التهذيب 471، وتلميذه إمام معروف وعبد الرحمن بن إسحاق المدني صدوق من رجال مسلم (1 - 472)].

2 - قال ابن حبان (10 - 216): أخبرنا الحسن بن سفيان حدثنا معلي بن مهدي حدثنا أبو عوانة عن عمر بن أبي سلمة عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:"ما شهدت من حلف قريش إلا حلف المطيبين، وما أحب أن لي حمر النعم".

[درجته: حديثٌ حسنٌ دون قوله:"ما"، رواه: البيهقي في الكبرى (6 - 366)، هذا السند: فيه معلي بن مهدي فيه كلام يسير قال الحافظ في لسان الميزان (6 - 65)]: "معلي بن مهدى سكن الموصل وحدث عن أبي عوانة وشريك وعنه أبو معلى وجماعة وهو بصرى وقال أبو حاتم: يأتى أحيانًا بالمناكير قلت هو من العباد الخيرة صدوق في نفسه مات سنة خمس وثلاثين ومائتين انتهى وقد تقدم له ذكر في ترجمة إبراهيم بن ثابت من قول العقيلي انه عندهم يكذب وذكره بن حبان في الثقات وكناه أبو يعلى" وعمر بن أبي سلمة حسن الحديث إذا لم يخالف وقد خالف ما قبله بقوله ما شهدت (2 - 56) ووالده أحد التابعين الثقات (2 - 430) ومع هذا فالحديث حسن بما قبله دون قوله ما وإلا].

3 - قال الطبري في التفسير (5 - 55): حدثنا بذلك أبو كريب قال ثنا وكيع عن شريك عن سماك عن عكرمة عن ابن عباس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:"لا حلف في الإِسلام وكل حلف كان في الجاهلية فلم يزده الإِسلام إلا شدة، وما يسرني أن لي حمر النعم وأنى نقضت الحلف الذي كان في دار الندوة".

[درجته: حديثٌ صحيحٌ، رواه: من طريق آخر فقال: وحدثنا أبو كريب قال ثنا مصعب بن المقدام عن إسرائيل بن يونس عن محمَّد بن عبد الرحمن مولى آل طلحة عن عكرمة عن ابن عباس، هذا السند: قوي، سماك بن حرب بن أوس بن خالد الذهلي البكري الكوفي أبو المغيرة صدوق وروايته عن عكرمة خاصة مضطربة وقد تغير بأخرة فكان ربما تلقن تقريب التهذيب 255، لكنه توبع في الطريق الأخرى والذي تابعه ثقة من رجال مسلم (2 - 184) وإسرائيل بن يونس بن أبي
সনদ: শক্তিশালী। মুহাম্মদ বিন জুবাইর বিন মুতয়িম বিন আদি বিন নাওফাল আন-নাওফালি; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) তাবেয়ি এবং বংশবিদ্যায় পারদর্শী, তাকরিবুত তাহজিব ৪৭১; এবং তার ছাত্র একজন প্রসিদ্ধ ইমাম এবং আবদুর রহমান বিন ইসহাক আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (সদুক), ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত (১ - ৪৭২)।]

২ - ইবনু হিব্বান (১০ - ২১৬) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন সুফিয়ান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুআল্লা বিন মাহদি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আওয়ানাহ, উমর বিন আবি সালামাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি কুরাইশদের কোনো চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম না কেবল মুতায়্যাবিনের চুক্তি (সুগন্ধি মাখানো ব্যক্তিদের চুক্তি) ব্যতীত, আর এর বিনিময়ে লাল উট পাওয়াও আমার নিকট পছন্দনীয় নয়।"

[মান: হাদীসটি হাসান, তবে "মা" (না বা ব্যতীত) শব্দটি ব্যতীত; এটি বর্ণনা করেছেন বায়হাকি আল-কুবরা গ্রন্থে (৬ - ৩৬৬)। এই সনদ: এতে মুআল্লা বিন মাহদি রয়েছেন যার ব্যাপারে সামান্য সমালোচনা রয়েছে। হাফিজ ইবনু হাজার লিসানুল মিজান গ্রন্থে (৬ - ৬৫) বলেছেন: "মুআল্লা বিন মাহদি মোসেলে বসবাস করতেন এবং তিনি আবু আওয়ানাহ ও শারিক থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তার থেকে আবু মুআল্লা এবং একদল লোক বর্ণনা করেছেন। তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি মাঝে মাঝে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা নিয়ে আসতেন। আমি (ইবনু হাজার) বলি: তিনি উত্তম ইবাদতগুজার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী ছিলেন, তিনি ২৩৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।" ইতিপূর্বে ইব্রাহিম বিন সাবিতের জীবনীতে উকাইলির উক্তি থেকে তার উল্লেখ গত হয়েছে যে, তাদের নিকট তিনি মিথ্যা বলতেন। ইবনু হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আবু ইয়ালা তাকে উপনাম দিয়েছেন।" উমর বিন আবি সালামাহ-এর হাদীস হাসান যদি তিনি বিরোধিতা না করেন। অথচ তিনি তার পূর্ববর্তী বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন "আমি উপস্থিত ছিলাম না" (মা শাহিত্তু) উক্তির মাধ্যমে (২ - ৫৬)। আর তার পিতা অন্যতম নির্ভরযোগ্য তাবেয়ি (২ - ৪৩০)। তবুও হাদীসটি তার পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাসান পর্যায়ের, তবে "মা" (না) এবং "ইল্লা" (ব্যতীত) শব্দগুলো বাদে।]

৩ - আত-তাবারী তার তাফসীর গ্রন্থে (৫ - ৫৫) বলেন: আমাদের নিকট আবু কুরাইব এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের ওকি' বর্ণনা করেছেন শারিক থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইসলামে (নতুন করে) কোনো জাহেলী চুক্তির সুযোগ নেই। জাহেলিয়াতের যুগে যেসব চুক্তি হয়েছিল, ইসলাম সেগুলোকে কেবল আরও শক্তিশালী করেছে। আর লাল উটের বিনিময়েও আমি এটা পছন্দ করব না যে, আমি দারুন নাদওয়ায় সম্পাদিত চুক্তিটি ভঙ্গ করি।"

[মান: হাদীসটি সহীহ। এটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি (তাবারী) বলেন: আমাদের আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের মুসআব বিন মিকদাম বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল বিন ইউনুস থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান থেকে—যিনি আল-তালহার মুক্তদাস—তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে। এই সনদটি শক্তিশালী। সিমাক বিন হারব বিন আউস বিন খালিদ আদ-দুহলি আল-বাকরি আল-কুফি আবু মুগীরা; তিনি সত্যবাদী (সদুক), তবে ইকরিমাহ থেকে তার বর্ণনা বিশেষভাবে অনির্ভরযোগ্য (মুজতারিব) এবং শেষ বয়সে তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল, ফলে কখনো কখনো তাকে তালকিন করা (ভুল শুধরে দেয়া) হতো, তাকরিবুত তাহজিব ২৫৫। কিন্তু অন্য সূত্রে তার সমর্থন (তাবে') পাওয়া গেছে এবং যিনি সমর্থন করেছেন তিনি ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ব্যক্তি (২ - ১৮৪)। আর ইসরাঈল বিন ইউনুস বিন আবি... (অসমাপ্ত বাক্য)]
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
إسحاق السبيعي الهمداني أبو يوسف الكوفي ثقة من رجال الشيخين تكلم فيه بلا حجة، تقريب التهذيب 104، ومصعب حسن الحديث من رجال مسلم (2 - 252)، وأبو كريب ثقة حافظ اسمه محمَّد بن العلاء (2 - 197) والحديث صحيح بطريقيه عن عكرمة].

 

‌‌عمل النبي صلى الله عليه وسلم في التجارة

1 - قال ابن أبي الدنيا في الصمت 107: حدثنا أحمد بن جميل أنبأنا عبد الله بن المبارك أنبأنا المسعودي حدثنا الأعمش عن مجاهد قال: حدثني مولاي عبد الله بن السائب قال: كنت شريك النبي صلى الله عليه وسلم في الجاهلية فلما قدمنا المدينة قال لي: "أتعرفني؟ " قلت: نعم كنت شريكي فنعم الشريك، كنت لا تداري ولا تماري.

[درجته: سنده قوي، رواه: أيضًا في الغيبة والنميمة 20 والطبرانيُّ في المعجم الأوسط (1 - 267) وأبو داود (2 - 676) وابن ماجه (2 - 768) وأحمدُ بن حنبل (3 - 425) والطبرانيُّ في المعجم الكبير (7 - 140) والبيهقيُّ في السنن الكبرى (6 - 78)]، هذا السند: قوي فشيخه أحمد بن جميل المروزي أبو يوسف نزيل بغداد روى عن بن المبارك ومعتمر بن سليمان وأبي نميلة وعنه يعقوب بن شيبة وعباس الدوري وابن أبي الدنيا وأبو يعلى وغيرهم، قال إبراهيم بن الجنيد عن بن معين: سمع من بن المبارك وهو غلام وقال عبد الخالق بن منصور عن بن معين: ثقة وقال يعقوب بن شيبة: صدوق لم يكن بالضابط وثقه عبد الله بن أحمد، وذكره بن حبان في الثقات لسان الميزان (1 - 147)، وشيخه عبد الله بن المبارك المروزي مولى بني حنظلة ثقة ثبت فقيه عالم جواد مجاهد جمعت فيه خصال الخير، تقريب التهذيب (320) أما المسعودي فالمشهور أنه عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود الكوفي المسعودي صدوق اختلط قبل موته وضابطه أن من سمع منه ببغداد فبعد الاختلاط تقريب التهذيب (1 - 344)، قال في تهذيب التهذيب (6 - 191): قال عبد الله بن أحمد عن أبيه: سماع وكيع من المسعودي قديم وأبو نعيم أيضًا وإنما اختلط المسعودي ببغداد ومن سمع منه بالكوفة والبصرة فسماعه جيد. ثم قال: وقال بن نمير: كان ثقة واختلط بآخره سمع منه بن مهدي ويزيد بن هارون أحاديث مختلطة ومما روى عنه الشيوخ فهو مستقيم. ثم وجدت أن المسعودي هو عبد الملك بن معن بن عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود الهذلي أبو عبيدة المسعودي ثقة تقريب التهذيب (365) فصح بذلك السند. كما أن المسعودي رحمه الله لم ينفرد فقد تابعه منصور بن
ইসহাক আস-সুবাইয়ি আল-হামদানি আবু ইউসুফ আল-কুফি, শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর রাবিদের অন্তর্ভুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার সমালোচনা করা হয়েছে, তাকরিবুত তাহজিব ১০৪; এবং মুসআব হাসানুল হাদিস, তিনি মুসলিমের রাবিদের অন্তর্ভুক্ত (২-২৫২); এবং আবু কুরাইব নির্ভরযোগ্য হাফেজ, তার নাম মুহাম্মদ বিন আল-আলা (২-১৯৭) এবং হাদিসটি ইকরিমা থেকে বর্ণিত হওয়ার উভয় সূত্রেই সহিহ।

 

‌‌ব্যাবসা-বাণিজ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মতৎপরতা

১ - ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আস-সামত' ১০৭-এ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন জামিল, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন আল-মাসউদি, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন: আমার মনিব আব্দুল্লাহ বিন আস-সাইব আমাকে বলেছেন: জাহেলিয়াত যুগে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অংশীদার (ব্যাবসায়িক পার্টনার) ছিলাম, যখন আমরা মদিনায় আসলাম, তিনি আমাকে বললেন: "তুমি কি আমাকে চেনো?" আমি বললাম: হ্যাঁ, আপনি আমার অংশীদার ছিলেন এবং কতই না উত্তম অংশীদার ছিলেন; আপনি না তো ছলচাতুরি করতেন, আর না তো ঝগড়া-বিবাদ করতেন।

[মান: এর সনদ শক্তিশালী। এটি আরও বর্ণিত হয়েছে: আল-গিবাহ ওয়ান নামিমাহ ২০, আত-তাবারানি আল-মুজামুল আওসাত (১ - ২৬৭), আবু দাউদ (২ - ৬৭৬), ইবনে মাজাহ (২ - ৭৬৮), আহমদ বিন হাম্বল (৩ - ৪২৫), আত-তাবারানি আল-মুজামুল কাবির (৭ - ১৪০) এবং আল-বাইহাকি আস-সুনানুল কুবরা (৬ - ৭৮)]। এই সনদটি শক্তিশালী; কেননা তার উস্তাদ আহমদ বিন জামিল আল-মারওয়াজি আবু ইউসুফ বাগদাদে বসবাস করতেন, তিনি ইবনুল মুবারক, মুতামির বিন সুলাইমান এবং আবু নুয়াইলা থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ইয়াকুব বিন শাইবা, আব্বাস আদ-দুরি, ইবনে আবিদ দুনিয়া, আবু ইয়ালা এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। ইবরাহিম বিন আল-জুনাইদ ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে কিশোর বয়সে শুনেছেন। আব্দুল খালিক বিন মনসুর ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য)। ইয়াকুব বিন শাইবা বলেছেন: তিনি সাদুক (সত্যবাদী) তবে তিনি দাবিত (স্মৃতিশক্তিতে অত্যন্ত মজবুত) ছিলেন না, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় (আস-সিকাত) উল্লেখ করেছেন, লিসানুল মিজান (১-১৪৭)। এবং তার উস্তাদ আব্দুল্লাহ বিন মুবারক আল-মারওয়াজি বনু হানজালার মুক্তদাস, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), অত্যন্ত সুদৃঢ়, ফকিহ, আলেম, দানবীর ও মুজাহিদ। তার মাঝে যাবতীয় কল্যাণের গুণাবলি একত্রিত হয়েছে, তাকরিবুত তাহজিব (৩২০)। আর মাসউদির ব্যাপারে প্রসিদ্ধ হলো যে, তিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আল-কুফি আল-মাসউদি। তিনি সত্যবাদী (সাদুক), তবে মৃত্যুর আগে তার স্মৃতিবিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটেছিল। এর মানদণ্ড হলো যারা তার নিকট থেকে বাগদাদে শ্রবণ করেছেন তা স্মৃতিবিভ্রমের পরের ঘটনা, তাকরিবুত তাহজিব (১-৩৪৪)। তাহজিবুত তাহজিব (৬-১৯১) এ বলা হয়েছে: আব্দুল্লাহ বিন আহমদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: মাসউদি থেকে ওকি-এর শ্রবণ অনেক পুরনো এবং আবু নুয়াইমের শ্রবণও তাই। মাসউদির কেবল বাগদাদে স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল, তাই যারা কুফা ও বসরায় তার থেকে শুনেছেন তাদের শ্রবণ সঠিক। এরপর তিনি বলেন: ইবনে নুমাইর বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন কিন্তু শেষ বয়সে স্মৃতিবিভ্রম ঘটে। ইবনে মাহদি এবং ইয়াজিদ বিন হারুন তার থেকে মিশ্রিত হাদিস শুনেছেন, আর শায়খগণ তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সঠিক। এরপর আমি পেয়েছি যে, এই মাসউদি হলেন আব্দুল মালিক বিন মান বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আল-হুজালি আবু উবাইদাহ আল-মাসউদি, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তাকরিবুত তাহজিব (৩৬৫)। এর মাধ্যমে সনদটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলো। এছাড়া মাসউদি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এটি বর্ণনায় একা নন, বরং মানসুর বিন... তার অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أبي الأسود حدثنا الأعمش في الغيبة والنميمة (20) والطبرانيُّ في المعجم الأوسط (1 - 267) ومنصور بن أبي الأسود الليثي الكوفي يقال اسم أبيه حازم صدوق رمي بالتشيع، تقريب التهذيب (546) كما تابعه أبو عبيدة في الآحاد والمثاني (2 - 33).

وقد يقال أن مجاهد لم يسمع من مولاه حيث رواه أبو داود وابن ماجه وأحمدُ بن حنبل والطبرانيُّ في المعجم الكبير والبيهقيُّ في الكبرى من طريق إبراهيم بن المهاجر عن مجاهد عن قائد السائب عن السائب، لكن يعكر على هذا القول ترجمة إبراهيم بن مهاجر قال الحافظ في تقريب التهذيب (94): "إبراهيم بن مهاجر بن جابر البجلي الكوفي صدوق لين الحفظ"].

 

‌‌الزواج بخديجة

1 - قال أحمد (1 - 312): حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا أبو كامل ثنا حماد بن سلمة عن عمار بن أبي عمار عن بن عباس فيما يحسب حماد: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر خديجة وكان أبوها يرغب أن يزوجه فصنعت طعامًا وشرابًا فدعت أباها وزمرًا من قريش فطعموا وشربوا حتى ثملوا فقالت خديجة لأبيها إن محمَّد بن عبد الله يخطبني فزوجني إياه فزوجها إياه فخلعته وألبسته حلة وكذلك كانوا يفعلون بالآباء فلما سرى عنه سكره نظر فإذا هو مخلق وعليه حلة فقال ما شأني ما هذا قالت زوجتني محمَّد بن عبد الله قال أنا أزوج يتيم أبي طالب لا لعمري فقالت خديجة: أما تستحي تريد أن تسفه نفسك عند قريش تخبر الناس أنك كنت سكران فلم تزل به حتى رضي.

[درجته: سنده جيد على شرط مسلم، رواه: الطبراني في الكبير (12 - 186) والبيهقيُّ في الكبرى (7 - 129) من طرق عن حماد قال أنا عمار بن أبي عمار عن بن عباس، هذا السند: جيد، عمار بن أبي عمار مولى بني هاشم أبو عمر ويقال أبو عبد الله صدوق ربما أخطأ وهو من رجال مسلم تقريب التهذيب 408، وتلميذه حماد إمام من رجال مسلم (1 - 197) والسند على شرط مسلم انظر صحيح مسلم (4 - 1827)].
আবি আল-আসওয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ 'আল-গিবা ওয়ান নামিমা' (২০) গ্রন্থে এবং আত-তাবারানি 'আল-মু'জাম আল-আওসাত' (১-২৬৭) গ্রন্থে। মানসুর বিন আবি আল-আসওয়াদ আল-লায়সি আল-কুফি, বলা হয় তার পিতার নাম হাজিম; তিনি সত্যবাদী (সাদুক), তবে তার বিরুদ্ধে শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, 'তাক্বরিব আত-তাহজিব' (৫৪৬)। যেমনটি আবু উবাইদাহ তাকে সমর্থন করেছেন 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' (২-৩৩) গ্রন্থে।

এবং বলা হতে পারে যে, মুজাহিদ তার মনিব থেকে শ্রবণ করেননি, কারণ আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ বিন হাম্বল, আত-তাবারানি 'আল-মু'জাম আল-কাবির' গ্রন্থে এবং আল-বাইহাকি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে ইব্রাহিম বিন আল-মুহাজিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি কাইদ আস-সাইব থেকে, তিনি আস-সাইব থেকে। কিন্তু এই বক্তব্যের পরিপন্থী হলো ইব্রাহিম বিন আল-মুহাজিরের জীবনী। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'তাক্বরিব আত-তাহজিব' (৯৪) গ্রন্থে বলেছেন: "ইব্রাহিম বিন মুহাজির বিন জাবীর আল-বাজালী আল-কুফী, সত্যবাদী (সাদুক), তবে মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বল (লাইয়্যিনুল হিফজ)]।"

 

‌‌খাদিজার সাথে বিবাহ

১ - আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১ - ৩১২): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু কামিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন আম্মার বিন আবি আম্মার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে—যেমনটি হাম্মাদ ধারণা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজার কথা উল্লেখ করেন। তার পিতা তাকে বিবাহ দিতে চাচ্ছিলেন, তাই তিনি (খাদিজা) খাবার ও পানীয় প্রস্তুত করেন এবং তার পিতাকে ও কুরাইশের একদল লোককে দাওয়াত দেন। তারা আহার করলেন ও পান করলেন এমনকি তারা নেশাগ্রস্ত (মাতাল) হয়ে গেলেন। তখন খাদিজা তার পিতাকে বললেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিচ্ছেন, সুতরাং আপনি আমাকে তার সাথে বিবাহ দিন। অতঃপর তিনি তাকে তার সাথে বিবাহ দিলেন। এরপর তিনি (খাদিজা) তাকে (পিতাকে) সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন এবং একটি মূল্যবান পোশাক পরালেন। আর তারা তাদের পিতাদের সাথে এরূপই করত। যখন তার নেশা কেটে গেল, তিনি লক্ষ্য করলেন যে তিনি সুগন্ধি মাখা অবস্থায় আছেন এবং তার গায়ে একটি মূল্যবান পোশাক। তিনি বললেন, আমার কী হয়েছে? এটা কী? খাদিজা বললেন, আপনি আমাকে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর সাথে বিবাহ দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি আবু তালিবের এতিমের সাথে বিবাহ দেব? না, আমার জীবনের কসম! তখন খাদিজা বললেন, আপনি কি লজ্জিত নন? আপনি কি কুরাইশদের নিকট নিজেকে নির্বোধ সাব্যস্ত করতে চান? আপনি কি মানুষকে জানিয়ে দেবেন যে আপনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন? এভাবে তিনি তাকে বুঝাতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি সন্তুষ্ট হলেন।

[মান: এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী উত্তম (জাইয়্যিদ)। এটি বর্ণনা করেছেন: আত-তাবারানি 'আল-কাবির' (১২-১৮৬) গ্রন্থে এবং আল-বাইহাকি 'আল-কুবরা' (৭-১২৯) গ্রন্থে হাম্মাদের একাধিক সূত্রে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আম্মার বিন আবি আম্মার, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। এই সনদটি: উত্তম (জাইয়্যিদ)। আম্মার বিন আবি আম্মার বনু হাশেমের মুক্তদাস, উপনাম আবু উমর, আবার বলা হয় আবু আব্দুল্লাহ; তিনি সত্যবাদী (সাদুক), তবে মাঝে মাঝে ভুল করতেন। তিনি ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের একজন, 'তাক্বরিব আত-তাহজিব' ৪০৮। এবং তার ছাত্র হাম্মাদ একজন ইমাম ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত (১-১৯৭)। এই সনদটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী, দেখুন: 'সহিহ মুসলিম' (৪-১৮২৭)]।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الزواج بعائشة وسودة

1 - قال الإمام أحمد بن حنبل (6 - 210): حدثنا محمَّد بن بشر قال حدثنا محمَّد بن عمرو قال ثنا أبو سلمة ويحيى قالا: لما هلكت خديجة جاءت خولة بنت حكيم امرأة عثمان بن مظعون قالت: يا رسول الله ألا تزوج، قال: "من؟ " قالت: إن شئت بكرًا وإن شئت ثيبًا، قال: "فمن البكر؟ " قالت: ابنة أحب خلق الله عز وجل إليك عائشة بنت أبي بكر، قال: "ومن الثيب؟ " قالت: سودة ابنة زمعة قد آمنت بك واتبعتك على ما تقول قال: "فاذهبي فاذكريهما علي" فدخلت بيت أبي بكر فقالت: يا أم رومان ماذا أدخل الله عز وجل عليكم من الخير والبركة، قالت: وما ذاك؟ قالت: أرسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم أخطب عليه عائشة، قالت: انتظري أبا بكر حتى يأتي، فجاء أبو بكر فقالت: يا أبا بكر ماذا أدخل الله عليكم من الخير والبركة، قال: وما ذاك؟ قالت: أرسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم أخطب عليه عائشة قال: وهل تصلح له إنما هي ابنة أخيه؟ فرجعت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت له ذلك قال:"ارجعي إليه فقولي له: أنا أخوك وأنت أخي في الإسلام وابنتك تصلح لي" فرجعت فذكرت ذلك له قال: انتظري: وخرج. قالت أم رومان: أن مطعم بن عدى قد كان ذكرها على ابنه، فوالله ما وعد وعدًا قط فأخلفه لأبي بكر. فدخل أبو بكر على مطعم بن عدى وعنده امرأته أم الفتى فقالت: يا ابن أبي قحافة لعلك مصب صاحبنا مدخله في دينك الذي أنت عليه أن تزوج إليك؟ قال أبو بكر للمطعم بن عدى: أقول هذه تقول إنها تقول ذلك. فخرج من عنده وقد أذهب الله عز وجل ما كان في نفسه من عدته التي وعده، فرجع فقال لخولة: ادعي لي رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعته فزوجها إياه وعائشة يومئذ بنت ست سنين، ثم خرجت فدخلت على سودة بنت زمعة فقالت: ماذا أدخل الله عليك من الخير والبركة. قالت: وما ذاك؟ قالت: أرسلني رسول الله صلى الله عليه وسلم أخطبك عليه. قالت: وددت أدخلي إلى أبي فاذكري ذاك له، وكان شيخًا كبيرًا قد أدركه السنن قد تخلف عن الحج فدخلت عليه فحيته بتحية الجاهلية فقال: من هذه؟ فقالت: خولة بنت حكيم، قال فما شأنك: قالت:
আয়েশা ও সাওদার সাথে বিবাহ

১ - ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (৬ - ২১০) বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু সালামাহ ও ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেন: যখন খাদিজা ইন্তেকাল করলেন, তখন উসমান ইবনে মাজউনের স্ত্রী খাওলা বিনতে হাকিম আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি বিবাহ করবেন না? তিনি বললেন: "কাকে?" তিনি বললেন: আপনি চাইলে কুমারী, আর চাইলে বিধবা। তিনি বললেন: "কুমারী কে?" তিনি বললেন: আল্লাহর মাখলুকের মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তির কন্যা আয়েশা বিনতে আবু বকর। তিনি বললেন: "আর বিধবা কে?" তিনি বললেন: সাওদা বিনতে জামআ; সে আপনার ওপর ঈমান এনেছে এবং আপনি যা বলেন সে ব্যাপারে আপনার অনুসরণ করেছে। তিনি বললেন: "তবে যাও এবং আমার পক্ষ থেকে তাদের নিকট প্রস্তাব পেশ করো।" এরপর তিনি আবু বকরের ঘরে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: হে উম্মে রুমান, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আপনাদের জন্য কী পরিমাণ কল্যাণ ও বরকত নিয়ে এসেছেন! তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছেন আয়েশাকে তাঁর জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিতে। তিনি বললেন: আবু বকর আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। এরপর আবু বকর আসলেন, তখন তিনি বললেন: হে আবু বকর, আল্লাহ আপনাদের জন্য কী পরিমাণ কল্যাণ ও বরকত নিয়ে এসেছেন! তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছেন আয়েশাকে তাঁর জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিতে। তিনি বললেন: সে কি তাঁর জন্য বৈধ হবে? সে তো তাঁর ভাইয়ের মেয়ে। এরপর তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফিরে গেলেন এবং তাঁকে তা জানালেন। তিনি বললেন: "তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো: আমি তোমার ভাই এবং তুমি ইসলামে আমার ভাই, আর তোমার কন্যা আমার জন্য বৈধ।" এরপর তিনি ফিরে গিয়ে তাকে তা জানালেন। তিনি (আবু বকর) বললেন: অপেক্ষা করো; এই বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন। উম্মে রুমান বললেন: মুতইম ইবনে আদি ইতিপূর্বে তার ছেলের জন্য আয়েশার কথা উল্লেখ করেছিল। আল্লাহর কসম, আবু বকর কখনও কোনো ওয়াদা দিয়ে তা ভঙ্গ করেননি। এরপর আবু বকর মুতইম ইবনে আদির নিকট গেলেন, তখন তার কাছে তার স্ত্রী উম্মুল ফাতা বসা ছিল। সে বলল: হে আবু কুহাফার পুত্র, হয়তো আপনি আমাদের এই সঙ্গীকে আপনার সেই দ্বীনে দীক্ষিত করতে চাইছেন যার ওপর আপনি আছেন, যদি সে আপনার সাথে আত্মীয়তা করে? আবু বকর মুতইম ইবনে আদিকে বললেন: এ যা বলছে, আপনিও কি তাই বলছেন? সে বলল: সে যা বলছে তা-ই। এরপর তিনি তার নিকট থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার মনে ওয়াদা সংক্রান্ত যে বাধ্যবাধকতা ছিল তা দূর করে দিলেন। এরপর তিনি ফিরে আসলেন এবং খাওলাকে বললেন: আমার জন্য আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডাকো। তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং তিনি আয়েশাকে তাঁর সাথে বিবাহ দিলেন। আয়েশা তখন ছয় বছর বয়সী ছিলেন। এরপর তিনি (খাওলা) বেরিয়ে গিয়ে সাওদা বিনতে জামআর নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: আল্লাহ তোমার জন্য কী পরিমাণ কল্যাণ ও বরকত নিয়ে এসেছেন! সে বলল: সেটি কী? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছেন তোমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিতে। সে বলল: আমি এটি পছন্দ করি; তুমি আমার পিতার কাছে যাও এবং তাঁর নিকট বিষয়টি বলো। তিনি ছিলেন একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি যার বয়স হয়ে গিয়েছিল এবং বার্ধক্যের কারণে তিনি হজ করতে পারতেন না। তিনি (খাওলা) তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং জাহিলি যুগের রীতিতে তাকে অভিবাদন জানালেন। তিনি বললেন: এ কে? তিনি বললেন: খাওলা বিনতে হাকিম। তিনি বললেন: তোমার বিষয় কী? তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أرسلني محمَّد بن عبد الله أخطب عليه سودة. قال: كفء كريم، ماذا تقول صاحبتك؟ قالت: تحب ذاك. قال: ادعها لي، فدعيتها قال: أي بنية إن هذه تزعم أن محمَّد بن عبد الله بن عبد المطلب قد أرسل يخطبك وهو كفء كريم، أتحبين أن أزوجك به؟ قالت: نعم، قال: ادعيه لي. فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم إليه فزوجها إياه، فجاءها أخوها عبد بن زمعة من الحج فجعل يحثي في رأسه التراب، فقال بعد أن أسلم: لعمرك إني لسفيه يوم أحثي في رأسي التراب أن تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم سودة بنت زمعة. قالت عائشة: فقدمنا المدينة فنزلنا في بني الحرث بن الخزرج في السنح قالت: فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخل بيتنا واجتمع إليه رجال من الأنصار ونساء، فجاءتني أمي وإني لفي أرجوحة بين عذقين ترجح بي فأنزلتني من الأرجوحة ولي جميمة ففرقتها ومسحت وجهي بشيء من ماء ثم أقبلت تقودني حتى وقفت بي عند الباب وإني لأنهج حتى سكن من نفسي، ثم دخلت بي فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم جالس على سرير في بيتنا وعنده رجال ونساء من الأنصار، فأجلستني في حجره ثم قالت: هؤلاء أهلك، فبارك الله لك فيهم وبارك لهم فيك، فوثب الرجال والنساء فخرجوا، وبنى بي رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيتنا، ما نحرت علي جزور ولا ذبحت علي شاة حتى أرسل إلينا سعد بن عبادة بجفنة كان يرسل بها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دار إلى نسائه وأنا يومئذ بنت تسع سنين.

[درجته: حديثٌ حسنٌ، رواه: الحاكم (2 - 181) والبيهقيُّ (7 - 129) والطبرانيُّ في المعجم الكبير (23 - 23) والآحاد والمثاني (5 - 389) من طرق عن محمَّد بن عمرو قال ثنا يحيى عن عائشة، هذا السند: إسناده حسن، وظاهره الإرسال لكنه جاء متصلًا عند الأئمه السابقين، حيث رفعه الثقات: يحيى بن سعيد وعبد الله بن إدريس و، ويحيي بن عبد الرحمن بن حاطب ممّن روى عنها وروى عن غيرها من الصحابة، بل إن سياق الحديث يدل على الاتصال، وسبب كون الإسناد حسنًا هو محمَّد بن عمرو بن علقمة فهو حسن الحديث].

2 - قال البخاري (5 - 1969): حدثنا مسدد حدثنا حماد بن زيد عن هشام عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: "رأيتك في المنام يجيء بك الملك في سرقة من
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন যেন আমি তাঁর পক্ষ থেকে সাওদার নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেই। তিনি (সাওদার পিতা/অভিভাবক) বললেন: "তিনি একজন যোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তি। তোমার সঙ্গিনী (সাওদা) কী বলে?" তিনি (খাওলা) বললেন: "তিনি এটি পছন্দ করেন।" তিনি বললেন: "তাকে আমার কাছে ডাকো।" আমি তাকে ডাকলাম। তিনি বললেন: "হে প্রিয় কন্যা, এই নারী দাবি করছেন যে, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তোমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, আর তিনি একজন যোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তি। তুমি কি চাও যে আমি তোমার সাথে তাঁর বিয়ে দেই?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাঁকে আমার কাছে ডাকো।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন এবং তিনি তাঁর সাথে তাঁর বিয়ে দিলেন। এরপর তাঁর ভাই আব্দ ইবনে জামআ হজ থেকে ফিরে আসলেন এবং নিজের মাথায় মাটি ছিটাতে লাগলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি বলতেন: "তোমার জীবনের শপথ, আমি অত্যন্ত নির্বোধ ছিলাম সেদিন যখন আমি নিজের মাথায় মাটি ছিটিয়েছিলাম এই কারণে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা বিনতে জামআকে বিয়ে করেছেন।" আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "অতঃপর আমরা মদিনায় আসলাম এবং আস-সুন্হ নামক স্থানে বনু হারিস ইবনুল খাযরাজ গোত্রে অবস্থান করলাম।" তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং আমাদের ঘরে প্রবেশ করলেন। আনসারদের পুরুষ ও মহিলারা তাঁর কাছে সমবেত হলেন। তখন আমার মা আমার কাছে আসলেন, আর আমি তখন দুই খেজুর গাছের ডালের মাঝখানে একটি দোলনায় দুলছিলাম। তিনি আমাকে দোলনা থেকে নামালেন। আমার মাথার চুলগুলো লম্বা ছিল, তিনি তা বিন্যস্ত করে দিলেন এবং সামান্য পানি দিয়ে আমার মুখ মুছে দিলেন। তারপর তিনি আমাকে টেনে নিয়ে চললেন এবং ঘরের দরজার কাছে দাঁড় করালেন। আমি তখন হাঁপাচ্ছিলাম, যতক্ষণ না আমার শ্বাস স্বাভাবিক হলো। তারপর তিনি আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরের একটি খাটের উপর বসা ছিলেন এবং তাঁর কাছে আনসারদের পুরুষ ও মহিলারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাকে তাঁর কোলে বসিয়ে দিলেন এবং বললেন: 'এরাই তোমার পরিবার, আল্লাহ তাদের মাঝে তোমাকে বরকত দান করুন এবং তোমার মাঝে তাদের বরকত দান করুন।' তখন পুরুষ ও মহিলারা উঠে চলে গেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরেই আমার সাথে বাসর করলেন। আমার বিয়ে উপলক্ষে কোনো উট বা বকরি জবাই করা হয়নি, যতক্ষণ না সা’দ ইবনে উবাদাহ আমাদের কাছে একটি বড় পাত্রে খাবার পাঠালেন, যা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের ঘরে পালাক্রমে থাকার সময় পাঠিয়ে থাকতেন। সেদিন আমি নয় বছর বয়সী বালিকা ছিলাম।"

[এর মান: হাদিসটি হাসান। এটি বর্ণনা করেছেন: হাকেম (২ - ১৮১), বায়হাকি (৭ - ১২৯), তাবারানি আল-মুজামুল কাবীর-এ (২৩ - ২৩) এবং আল-আহাদ ওয়াল মাছানি (৫ - ৩৮৯) গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে বিভিন্ন সূত্রে। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি: এর সনদ হাসান। বাহ্যিকভাবে এটি মুরসাল মনে হলেও পূর্ববর্তী ইমামগণের নিকট এটি মুত্তাসিল বা সংযুক্ত হিসেবে এসেছে, কারণ বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ এটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরিস এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাতিব—যিনি তাঁর (আয়েশা) থেকে এবং অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। বরং হাদিসের প্রাসঙ্গিকতাও এর সংযোগের (ইত্তিসাল) প্রমাণ দেয়। এই সনদটি হাসান হওয়ার কারণ হলো মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা, কেননা তিনি হাদিস বর্ণনায় হাসান পর্যায়ের।]

২ - ইমাম বুখারী (৫ - ১৯৬৯) বলেন: মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন: "আমি তোমাকে স্বপ্নে দেখেছি যে, একজন ফেরেশতা তোমাকে এক টুকরো রেশমি কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে আসছে..."
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
حرير فقال لي هذه امرأتك فكشفت عن وجهك الثوب فإذا هي أنت فقلت إن يك هذا من عند الله يمضه".

ورواه مسلم (1 - 1889).

 

‌‌بناء الكعبة

1 - قال عبد الرزاق (5 - 102): عن معمر عن عبد الله بن خثيم عن أبي الطفيل رضي الله عنه قال: كانت الكعبة في الجاهلية مبنية بالرضم ليس فيها مدر، وكانت قدر ما يقتحمها العناق وكانت غير مسقوفة، وإنما توضع ثيابها عليها ثم يسدل سدلًا عليها، وكان الركن الأسود موضوعًا على سورها باديًا، وكانت ذات ركنين كهيئة هذه الحلقة، فأقبلت سفينة من أرض الروم حتى إذا كانوا قريبًا من جدة انكسرت السفينة، فخرجت قريش ليأخذوا خشبها فوجدوا روميًا عندها، فأخذوا الخشب أعطاهم إياها، وكانت السفينة تريد الحبشة وكان الرومي الذي في السفينة نجارًا، فقدموا بالخشب وقدموا بالرومي، فقالت قريش: نبني بهذا الخشب بيت ربنا، فلما أن أرادوا هدمه إذا هم بحية على سور البيت مثل قطعة الجائز، سوداء الظهر بيضاء البطن فجعلت كلما دنا أحد من البيت ليهدمه أو يأخذ من حجارته سعت إليه فاتحة فاها، فاجتمعت قريش عند الحرم فعجوا إلى الله وقالوا: ربنا لم نرع، أردنا تشريف بيتك وترتيبه، فإن كنت ترضى بذلك وإلا فما بدا لك فافعل، فسمعوا خوارًا في السماء، فإذا هم بطائر أعظم من النسر أسود الظهر وأبيض البطن والرجلين فغرز مخالبه في قفا الحية ثم انطلق بها يجرها وذنبها أعظم من كذا وكذا ساقط، حتى انطلق بها نحو أجياد، فهدمتها قريش وجعلوا يبنونها بحجارة الوادي تحملها قريش على رقابها، فرفعوها في السماء عشرين ذراعًا، فبينا النبي صلى الله عليه وسلم يحمل حجارة من أجياد وعليه نمرة إذ ضاقت عليه النمرة، فذهب يضع النمرة على عاتقه فبدت عورته من صغر النمرة، فنودي: يا محمَّد خمر عورتك. فلم ير عريانًا بعد ذلك، وكان بين الكعبة وبين ما أنزل الله عليه خمس سنين، وبين مخرجه وبنائها خمس عشرة سنة.
রেশমের (কাপড়ে), তিনি আমাকে বললেন, 'এটি আপনার স্ত্রী।' আমি আপনার চেহারা থেকে কাপড়টি সরালাম এবং দেখলাম যে সেটি আপনিই। আমি বললাম, 'যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন।'

এবং এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১ - ১৮৮৯)।

 

‌‌কাবা নির্মাণ

১ - আবদুর রাজ্জাক (৫ - ১০২) বর্ণনা করেছেন: মা'মার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি আবু তুফায়েল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাহেলি যুগে কাবা পাথর স্তূপ করে নির্মিত ছিল, তাতে কোনো কাদা-মাটি ছিল না। এটি এতটাই নিচু ছিল যে একটি ছাগল তা ডিঙিয়ে যেতে পারত। এটি ছাদবিহীন ছিল; এর ওপর কেবল কাপড় রাখা হতো এবং সেগুলো ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) তার দেয়ালের ওপর উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা ছিল। এটি একটি বৃত্তের আকৃতির মতো দুটি কোণ বিশিষ্ট ছিল। অতঃপর রোম দেশ থেকে একটি জাহাজ এল, যখন তারা জেদ্দার কাছাকাছি পৌঁছাল তখন জাহাজটি ভেঙে গেল। কুরাইশরা এর কাঠ সংগ্রহের জন্য বের হলো এবং সেখানে একজন রোমানকে পেল। তারা কাঠগুলো নিল এবং সে তা তাদের দিয়ে দিল। জাহাজটি আবিসিনিয়ার (হাবশা) দিকে যাচ্ছিল এবং জাহাজে থাকা সেই রোমান ব্যক্তিটি ছিলেন একজন ছুতার। তারা কাঠ এবং সেই রোমান ব্যক্তিকে নিয়ে আসল। কুরাইশরা বলল: "আমরা এই কাঠ দিয়ে আমাদের রবের ঘর নির্মাণ করব।" যখন তারা এটি ভেঙে ফেলার ইচ্ছা করল, তখন হঠাৎ তারা ঘরের দেয়ালের ওপর একটি সাপ দেখতে পেল যা একটি বড় কড়ির মতো ছিল। এর পিঠ ছিল কালো এবং পেট ছিল সাদা। যখনই কেউ ঘরটি ভাঙার জন্য বা পাথর নেওয়ার জন্য কাছে আসত, সাপটি মুখ খুলে তার দিকে তেড়ে আসত। কুরাইশরা হারামের কাছে সমবেত হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল এবং বলল: "হে আমাদের রব, আমরা আতঙ্কিত হইনি। আমরা আপনার ঘরকে সম্মানিত করতে এবং সুবিন্যস্ত করতে চেয়েছি। আপনি যদি এতে সন্তুষ্ট থাকেন তবে তা হতে দিন, অন্যথায় আপনার যা ইচ্ছা হয় তাই করুন।" অতঃপর তারা আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেল। হঠাৎ তারা ঈগলের চেয়েও বড় একটি পাখি দেখতে পেল যার পিঠ কালো এবং পেট ও পা দুটি ছিল সাদা। পাখিটি সাপের ঘাড়ে তার নখ বসিয়ে দিল এবং তাকে টেনে নিয়ে চলে গেল। সাপের লেজটি ছিল অনেক বড় যা ঝুলে ছিল। পাখিটি তাকে নিয়ে আজইয়াদ নামক স্থানের দিকে চলে গেল। এরপর কুরাইশরা ঘরটি ভেঙে ফেলল এবং উপত্যকার পাথর দিয়ে তা নির্মাণ করতে শুরু করল। কুরাইশরা তাদের ঘাড়ে করে পাথর বহন করে আনছিল। তারা একে বিশ হাত উঁচু করল। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজইয়াদ থেকে পাথর বহন করছিলেন এবং তার গায়ে একটি ছোট চাদর ছিল, তখন চাদরটি তার জন্য ছোট হয়ে আসছিল। তিনি চাদরটি তার কাঁধের ওপর রাখতে গেলেন, ফলে চাদরটি ছোট হওয়ায় তার লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ল। তখন তাকে উদ্দেশ্য করে ডাক দেওয়া হলো: "হে মুহাম্মদ! তোমার লজ্জাস্থান আবৃত করো।" এরপর তাকে আর কখনও বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়নি। কাবা নির্মাণ এবং তাঁর ওপর ওহী নাযিল হওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল পাঁচ বছর। আর তাঁর নবুয়ত প্রকাশ এবং কাবা নির্মাণের ব্যবধান ছিল পনের বছর।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
[درجته: سنده صحيح، رواه: من طريقه إسحاق بن راهويه: (3 - 993)، هذا السند: صحيح لكن تبقى إشكالية سماع أبي الطفيل للقصة فهو صحابي صغير جدًا وتلميذه عبد الله بن خثيم ثقة حجة: التهذيب (5 - 314) وتلميذه أحد الأعلام الثقات (2 - 266)].

2 - قال البخاري (1 - 143): حدثنا مطر بن الفضل قال حدثنا روح قال حدثنا زكريا بن إسحاق حدثنا عمرو بن دينار قال سمعت جابر بن عبد الله يحدث: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ينقل معهم الحجارة للكعبة وعليه إزاره، فقال له العباس عمه: يا بن أخي لو حللت إزارك فجعلت على منكبيك دون الحجارة، قال فحله فجعله على منكبيه فسقط مغشيًا عليه فما رئي بعد ذلك عريانًا صلى الله عليه وسلم.

ورواه مسلم (1 - 268).

3 - قال البزار (4 - 124): حدثنا أحمد بن محمَّد بن سعيد صاحب الطيالسة قال: نا عبد الرحمن بن عبد الله الدشتكي قال: أنا عمرو بن أبي قيس قال: نا سماك عن عكرمة عن ابن عباس عن أبيه العباس بن عبد المطلب قال: كنا ننقل الحجارة إلى البيت حين بنت قريش البيت، وكان رجال ينقلون الحجارة فكانوا ينقلون رجلين رجلين، وكانت النساء تنقل الشيد، وكنت أنقل أنا وابن أخي فكنا نضع ثيابنًا تحت الحجارة، فإذا غشينا الناس اتزرنا قال: فبينا أنا أمشي ومحمَّد صلى الله عليه وسلم قدامي ليس عليه شيء فتأخر محمَّد صلى الله عليه وسلم فانبطح على وجه، فجئت أسعى وألقيت الحجرين وهو ينظر إلى شيء فوقه قلت: ما شأنك؟ فقام فأخذ إزاره وقال "نهيت أن أمشي عريانًا" قلت: اكتمها الناس. مخافة أن يقولوا: مجنون.

[درجته: حديثٌ حسنٌ، رواه: الضحاك في الآحاد والمثاني (1 - 271) حدثنا عثمان بن سعيد بن عمرو وكان ثقة من الصالحين إن شاء الله تعالى ثنا عبد الرحمن بن عبد الله الرازي نا عمرو بن أبي قيس، هذا السند: فيه ضعف رغم قول البزار رحمه الله: "وهذا الحديث لا نعلمه يروى عن العباس إلا بهذا الإسناد وعمرو بن أبي قيس مستقيم الحديث وروى عنه جماعة من أهل العلم ورواه عن سماك عن عكرمة عن ابن عباس عمرو بن أبي قيس وقيس بن الربيع فأما حديث قيس فحدثنا أحمد بن
[এর মান/মর্যাদা: এর সনদ সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন: তার সূত্রে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি: (৩ - ৯৯৩)। এই সনদটি: সহীহ, তবে আবু তুফায়েল কর্তৃক ঘটনাটি শোনার ক্ষেত্রে একটি জটিলতা থেকে যায়, কারণ তিনি ছিলেন অতি কনিষ্ঠ একজন সাহাবী। আর তাঁর ছাত্র আব্দুল্লাহ ইবনে খুসাইম একজন নির্ভরযোগ্য ও দলিলযোগ্য রাবী: আত-তাহযীব (৫ - ৩১৪) এবং তাঁর ছাত্র হলেন নির্ভরযোগ্য প্রখ্যাত ইমামগণের একজন (২ - ২৬৬)]।

২ - ইমাম বুখারী (১ - ১৪৩) বলেন: আমাদের নিকট মাতার ইবনুল ফাদল হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট রাওহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট যাকারিয়া ইবনে ইসহাক হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর ইবনে দীনার হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে কাবার জন্য পাথর বহন করছিলেন এবং তাঁর পরনে ছিল ইযার (নিচের চাদর)। তখন তাঁর চাচা আব্বাস তাঁকে বললেন: হে ভাতিজা! যদি তুমি তোমার ইযারটি খুলে পাথরের নিচে তোমার দুই কাঁধের ওপর রাখতে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তা খুললেন এবং তাঁর দুই কাঁধের ওপর রাখলেন, ফলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলেন। এরপর থেকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আর কখনও অনাবৃত অবস্থায় দেখা যায়নি।

এবং এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১ - ২৬৮)।

৩ - ইমাম বাযযার (৪ - ১২৪) বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ সাহেব আত-তায়ালিসি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাশতাকি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর ইবনে আবু কায়স সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সিমাক বর্ণনা করেছেন ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরাইশরা যখন কা'বা ঘর নির্মাণ করছিল তখন আমরা কা'বা ঘরের জন্য পাথর বহন করছিলাম। পুরুষরা পাথর বহন করছিল, তারা দুইজন দুইজন করে পাথর বহন করত। মহিলারা চুন বা সুরকি বহন করছিল। আমি এবং আমার ভাতিজা (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাথর বহন করছিলাম। আমরা আমাদের কাপড় পাথরের নিচে রাখতাম, আর যখন মানুষ আমাদের সামনে আসত তখন আমরা ইযার পরে নিতাম। তিনি বলেন: এমতাবস্থায় আমি হাঁটছিলাম আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সামনে ছিলেন এবং তাঁর শরীরে তখন ইযার ছিল না (তা কাঁধে ছিল)। অতঃপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনে পড়ে গেলেন এবং উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। আমি দৌড়ে এলাম এবং পাথর দুটি ফেলে দিলাম, এমতাবস্থায় তিনি উপরের কোন কিছুর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমি বললাম: তোমার কী হয়েছে? তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর ইযারটি ধরে নিলেন এবং বললেন, "আমাকে অনাবৃত অবস্থায় হাঁটতে নিষেধ করা হয়েছে।" আমি বললাম: মানুষের কাছে বিষয়টি গোপন রেখো, পাছে তারা তোমাকে পাগল বলে ফেলে।

[এর মান: হাদিসটি হাসান। এটি বর্ণনা করেছেন: আদ-দাহহাক আল-আহাদ ওয়াল মাসানি (১ - ২৭১) গ্রন্থে; আমাদের নিকট উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে আমর হাদিস বর্ণনা করেছেন—আর তিনি ইনশাআল্লাহ নেককারদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য রাবী ছিলেন—আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাযী হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর ইবনে আবু কায়স বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি: এতে দুর্বলতা রয়েছে, যদিও ইমাম বাযযার (রহ.) বলেছেন: "আমাদের জানামতে এই হাদিসটি আব্বাস (রা.) থেকে এই সনদ ছাড়া অন্য কোনোভাবে বর্ণিত হয়নি। আর আমর ইবনে আবু কায়স সঠিক হাদিস বর্ণনাকারী এবং একদল আলেম তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর এটি সিমাক থেকে, ইকরিমাহর সূত্রে, ইবনে আব্বাস থেকে আমর ইবনে আবু কায়স এবং কায়স ইবনে রাবী' বর্ণনা করেছেন। তবে কায়সের হাদিস প্রসঙ্গে আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عبدة قال أنا الحسين بن الحسن قال أنا قيس عن سماك عن عكرمة عن ابن عباس عن العباس عن النبي بنحوهم".

وقول البزار صحيح في عمرو بن أبي قيس الرازي الأزرق فهو حسن الحديث إذا لم يخالف قال في التقريب (426): كوفي نزل الري صدوق له أوهام. وهو هنا لم يخالف بل توبع تابعه كما روى البزار قيس بن الربيع وهو كما قال الحافظ في تقريب التهذيب (457): قيس بن الربيع الأسدي أبو محمَّد الكوفي صدوق تغير لما كبر وأدخل عليه ابنه ما ليس من حديثه فحدث به. وبعد فالعلة ليست هنا بل في شيخه، قال عنه في تقريب التهذيب (255): سماك بن حرب بن أوس بن خالد الذهلي أبو المغيرة الكوفي صدوق وروايته عن عكرمة خاصة مضطربة. وروايته هنا عن عكرمة فهي معلولة لذلك، لكن الحديث ليس بشديد ضعف السند، وهو حسن برواية الشيخين السابقة].

4 - قال البيهقي في شعب الإيمان (3 - 436): أخبرنا أبو نصر عمر بن قتادة أنا أبو الحسن محمَّد بن الحسن السراج نا أبو شعيب الحراني نا داود بن عمرو نا أبو الأحوص سلام بن سليم عن سماك بن حرب عن خالد عن خالد بن عرعرة قال: أتيت الرحبة فإذا أنا بنفر جلوس قريب من ثلاثين أو أربعين رجلًا فقعدت معهم، فخرج علينا علي بن أبي طالب رضي الله عنه فما رأيته أنكر أحدًا من القوم غيري، فقال: ألا رجل يسأل فينتفع وينفع جلساءه … (ثم ذكر قصة بناء إبراهيم للكعبة ثم قال: فمر عليه الدهر فانهدم فبنته العمالقة، قال فمر عليه الدهر فانهدم فبنته جرهم، فمر عليه الدهر فانهدم فبنته قريش ورسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ رجل شاب فلما أرادوا أن يرفع الحجر الأسود واختصموا فيه فقالوا: ويحكم بيننا أول رجل يخرج من هذه السكة، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أول من خرج عليهم فقضى بينهم أن يجعلوه في مرط ثم ترفعه جميع القبائل كلهم.

ثم قال البيهقي وروينا من وجه آخر عن سماك.

[درجته: سنده قوي، رواه: الحاكم (1 - 629)، هذا السند: قوي، خالد بن عرعرة تابعي ثقة قال العجلي في معرفة الثقات (1 - 330)، وقال الحافظ: كوفي تابعي ثقة روى عن علي وسماك
আবদাহ বলেছেন, আমাদের জানিয়েছেন হুসাইন ইবনুল হাসান, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন কাইস, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আব্বাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আমর ইবনে আবি কাইস আর-রাজি আল-আজরাক সম্পর্কে বাজ্জারের উক্তিটি সঠিক; সুতরাং তিনি হাসানুল হাদিস (হাদিস বর্ণনায় গ্রহণযোগ্য) যখন তিনি (অন্যদের) বিরোধিতা না করেন। ‘তাকরিব’ (৪২৬) গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি কুফি, রাই শহরে বসবাস করেছেন, সত্যবাদী তবে তার কিছু ভ্রম ছিল। আর এখানে তিনি বিরোধিতা করেননি বরং তাকে সমর্থন করা হয়েছে (তাবে’ করা হয়েছে), যেমনটি বাজ্জার বর্ণনা করেছেন কাইস ইবনুর রাবি’র মাধ্যমে। আর হাফেজ (ইবনে হাজার) যেমনটি ‘তাকরিবুত তাহজিব’ (৪৫৭) গ্রন্থে বলেছেন: কাইস ইবনুর রাবি আল-আসাদি আবু মুহাম্মদ আল-কুফি সত্যবাদী ছিলেন, তবে তিনি যখন বৃদ্ধ হলেন তখন তার স্মৃতিশক্তি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল এবং তার ছেলে তার হাদিসের মধ্যে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছিল যা তার হাদিস নয়, অতঃপর তিনি তা বর্ণনা করেছেন। সর্বোপরি, ত্রুটিটি এখানে নয় বরং তার উস্তাদের মধ্যে। ‘তাকরিবুত তাহজিব’ (২৫৫) গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে: সিমাক বিন হারব বিন আউস বিন خالد আদ-দুহলি আবু মুগিরা আল-কুফি সত্যবাদী, তবে ইকরিমাহ থেকে তার বর্ণনা বিশেষভাবে গোলযোগপূর্ণ। এখানে ইকরিমাহ থেকে তার বর্ণনাটি সেই কারণে ত্রুটিযুক্ত, তবে হাদিসটির সনদের দুর্বলতা খুব বেশি নয়, বরং শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে এটি হাসান পর্যায়ের।

৪ - বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’ (৩ - ৪৩৬) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর উমর ইবনে কাতাদাহ, আমাদের জানিয়েছেন আবু হাসান মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আস-সাররাজ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব আল-হাররানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আমর, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আহওয়াস সাল্লাম ইবনে সুলাইম, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আরআরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাহবাহ নামক স্থানে আসলাম এবং দেখলাম সেখানে প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ জন লোকের একটি দল বসে আছে। আমি তাদের সাথে বসলাম। তখন আমাদের নিকট আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) বের হয়ে আসলেন। আমি দেখলাম না যে তিনি আমি ছাড়া ওই মজলিসের অন্য কাউকে অপরিচিত মনে করেছেন। তিনি বললেন: এমন কি কেউ নেই যে প্রশ্ন করবে, যাতে সে নিজে উপকৃত হয় এবং তার মজলিসীদেরও উপকৃত করে? … (অতঃপর তিনি ইব্রাহিম কর্তৃক কাবা নির্মাণের কাহিনী উল্লেখ করে বললেন: অতঃপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো এবং তা ধসে পড়ল, এরপর আমালিকা সম্প্রদায় তা নির্মাণ করল। তিনি বললেন, পুনরায় দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো এবং তা ধসে পড়ল, অতঃপর জুরহুম সম্প্রদায় তা নির্মাণ করল। পুনরায় দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো এবং তা ধসে পড়ল, অতঃপর কুরাইশরা তা নির্মাণ করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন একজন যুবক ছিলেন। যখন তারা হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করতে চাইল এবং তা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হলো, তখন তারা বলল: আমাদের মধ্যে এই রাস্তা দিয়ে প্রথম যে ব্যক্তি বের হবে সে-ই ফয়সালা করবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাদের সামনে বের হয়ে আসলেন। তিনি তাদের মধ্যে এই ফয়সালা করলেন যে, তারা যেন পাথরটি একটি চাদরের মধ্যে রাখে এবং সব গোত্র মিলে তা উত্তোলন করে।

অতঃপর বায়হাকি বলেছেন, আমরা সিমাক থেকে অন্য একটি সূত্রেও এটি বর্ণনা করেছি।

[মান: এর সনদ শক্তিশালী, এটি বর্ণনা করেছেন হাকিম (১ - ৬২৯)। এই সনদটি শক্তিশালী; খালিদ ইবনে আরআরাহ একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ি, যেমনটি ইজলি ‘মা’রিফাতুস সিকাত’ গ্রন্থে (১ - ৩৩০) বলেছেন। আর হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: তিনি কুফি, নির্ভরযোগ্য তাবেয়ি, তিনি আলি এবং সিমাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
صدوق وروايته عن عكرمة مضطربة وهذه الرواية ليست منها (1 - 332) وسلام بن سليم ثقة متقن (1 - 342) وحماد إمام ثقة مر معنا كثيًرا].

5 - قال أحمد (3 - 425): حدثنا عبد الصمد ثنا ثابت يعني أبا زيد ثنا هلال يعني بن خباب عن مجاهد عن مولاه أنه حدثه أنه كان فيمن يبني الكعبة في الجاهلية قال: ولي حجر أنا نحته بيدي أعبده من دون الله تبارك وتعالى، فأجئ باللبن الخاثر الذي أنفسه على نفسي فأصبه عليه فيجيء الكلب فيلحسه ثم يشغر فيبول، فبنينا حتى بلغنا موضع الحجر وما يرى الحجر أحد فإذا هو وسط حجارتنا مثل رأس الرجل يكاد يتراءى منه وجه الرجل، فقال بطن من قريش: نحن نضعه، وقال آخرون: نحن نضعه، فقالوا: اجعلوا بينكم حكمًا. قالوا: أول رجل يطلع من الفج. فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: أتاكم الأمين. فقالوا له، فوضعه في ثوب ثم دعا بطونهم فأخذوا بنواحيه معه فوضعه هو صلى الله عليه وسلم.

[درجته: سنده قوي، هذا السند: قوي هلال بن خباب تابعي صغير وهو ثقة وليس صدوقًا فقط كما قال الحافظ رحمه الله (2 - 323) وأبو زيد ثابت بن يزيد الأحول ثقة ثبت من رجال الشيخين (1 - 118) وشيخ أحمد عبد الصمد بن عبد الوارث صدوق من رجال الشيخين (1 - 507)].

 

‌‌مفارقة معتقدات قومه

1 - قال الحاكم (3 - 238): حدثنا أبو العباس محمَّد بن يعقوب من أصل كتابه ثنا الحسن بن علي بن عفان ثنا أبو أسامة ثنا محمَّد بن عمرو عن أبي سلمة ويحيى بن عبد الرحمن بن حاطب عن أسامة بن زيد عن زيد بن حارثة رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مردفي [إلى نصب من الأنصاب فذبحنا له] شاة، ووضعناها في التنور حتى إذا نضجت استخرجناها فجعلناها في سفرتنا، ثم أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم يسير وهو مردفي في أيام الحر من أيام مكة، حتى إذا كنا بأعلى الوادي لقي فيه زيد بن عمرو بن نفيل فحيا أحدهما الآخر بتحية الجاهلية، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما لي أرى قومك قد شنفوك؟ قال: أما والله إن ذلك لتغير ثائرة كانت مني إليهم، ولكني أراهم على ضلالة، قال
[তিনি সত্যবাদী এবং ইকরিমা থেকে তাঁর বর্ণনা অসংলগ্ন, তবে এই বর্ণনাটি তার অন্তর্ভুক্ত নয় (১ - ৩৩২)। সালাম বিন সুলাইম নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ (১ - ৩৪২)। হাম্মাদ একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, যাঁর কথা আমাদের সামনে বারবার এসেছে]।

৫ - আহমাদ (৩ - ৪২৫) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাবিত অর্থাৎ আবু যাইদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিলাল অর্থাৎ ইবনে খাব্বাব, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি তাঁর মুক্তদাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাহেলিয়াত যুগে কাবার নির্মাণকাজে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন। তিনি বললেন: আমার একটি পাথর ছিল যা আমি নিজ হাতে খোদাই করেছিলাম। আমি বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহকে ছাড়া সেটির ইবাদত করতাম। আমি দই নিয়ে আসতাম যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করতাম, এরপর তা সেটির ওপর ঢেলে দিতাম। তখন কুকুর আসত এবং তা চেটে খেত, এরপর এক পা তুলে প্রস্রাব করে দিত। আমরা নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলাম যতক্ষণ না আমরা (হাজরে আসওয়াদের) পাথরের স্থানে পৌঁছালাম, কিন্তু পাথরটি কেউ দেখতে পাচ্ছিল না। হঠাৎ দেখা গেল সেটি আমাদের পাথরগুলোর মাঝে মানুষের মাথার মতো দেখা যাচ্ছে, যাতে মানুষের চেহারা প্রতিবিম্বিত হওয়ার উপক্রম হয়। তখন কুরাইশদের এক গোত্র বলল: আমরা এটি স্থাপন করব। অন্যরা বলল: আমরা এটি স্থাপন করব। তারা বলল: তোমাদের মাঝে একজন বিচারক নির্ধারণ করো। তারা বলল: এই গিরিপথ দিয়ে প্রথম যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তারা বলল: তোমাদের কাছে আল-আমিন (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) এসেছেন। তারা তাঁকে বিষয়টি জানাল। তিনি সেটি একটি কাপড়ে রাখলেন, এরপর তাদের গোত্রগুলোকে ডাকলেন। তারা তাঁর সাথে কাপড়ের প্রান্তগুলো ধরল এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তা যথাস্থানে স্থাপন করলেন।

[মান: এর সনদ শক্তিশালী। এই সনদটি: শক্তিশালী, হিলাল বিন খাব্বাব একজন ছোট তাবেয়ী এবং তিনি নির্ভরযোগ্য, কেবল সত্যবাদীই নন যেমনটি হাফেজ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন (২ - ৩২৩)। আবু যাইদ সাবিত বিন ইয়াযিদ আল-আহওয়াল শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় রাবী (১ - ১১৮)। আহমাদের উস্তাদ আবদুস সামাদ বিন আবদুল ওয়ারিস শাইখাইনের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত সত্যবাদী রাবী (১ - ৫০৭)]।

 

‌‌নিজ জাতির আকিদা-বিশ্বাস বর্জন

১ - আল-হাকিম (৩ - ২৩৮) বলেন: আমাদের কাছে তাঁর মূল কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী বিন আফফান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর, তিনি আবু সালামাহ এবং ইয়াহইয়া বিন আবদুর রহমান বিন হাতিব থেকে, তিনি উসামা বিন যাইদ থেকে, তিনি যাইদ বিন হারিসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং আমি তাঁর পেছনে সওয়ার ছিলাম। [আমরা একটি মূর্তির উদ্দেশ্যে] একটি বকরী জবাই করলাম এবং সেটি চুলায় রাখলাম। যখন সেটি রান্না হয়ে গেল, আমরা তা বের করে আমাদের দস্তরখানে রাখলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার তপ্ত দিনগুলোর এক দিনে পথ চলতে থাকলেন এবং আমি তাঁর পেছনে সওয়ার ছিলাম। যখন আমরা উপত্যকার উপরিভাগে পৌঁছালাম, সেখানে যাইদ বিন আমর বিন নুফাইলের সাথে দেখা হলো। তাঁরা একে অপরকে জাহেলিয়াত যুগের প্রথায় অভিবাদন জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: কী ব্যাপার, আমি দেখছি তোমার জাতি তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট? সে বলল: আল্লাহর শপথ, এটি আমার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি এক প্রকার অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল। তবে আমি তাদের পথভ্রষ্টতার ওপর দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন-
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فخرجت أبتغي هذا الدين حتى قدمت على أحبار يثرب فوجدتهم يعبدون الله ويشركون به، فقلت: ما هذا بالدين الذي أبتغي، فخرجت حتى أقدم على أحبار أيلة، فوجدتهم يعبدون الله ولا يشركون به، فقلت: ما هذا بالدين الذي أبتغي، فقال لي حبر من أحبار الشام: إنك تسأل عن دين ما نعلم أحدًا يعبد الله به إلا شيخًا بالجزيرة، فخرجت حتى قدمت إليه فأخبرته الذي خرجت له، فقال: إن كل من رأيته في ضلالة، إنك تسأل عن دين هو دين الله ودين ملائكته وقد خرج في أرضك نبي أو هو خارج يدعو إليه، ارجع إليه وصدقه وأتبعه وآمن بما جاء به، فرجعت فلم أحسن شيئًا بعد، فأناخ رسول الله صلى الله عليه وسلم البعير الذي كان تحته ثم قدمنا إليه السفرة التي كان فيها الشواء [فقال: "ما هذه؟ " فقلنا: هذه شاة ذبحناها لنصب كذا وكذا، فقال: "إني لا آكل ما ذبح لغير الله"] وكان صنمًا من نحاس يقال له أساف ونائلة يتمسح به المشركون إذا طافوا، فطاف رسول الله صلى الله عليه وسلم وطفت معه، فلما مررت مسحت به فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تمسه" قال زيد: فطفنا فقلت في نفسي لأمسنه حتى أنظر ما يقول، فمسحته فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ألم تنه؟ " قال زيد: فوالذي أكرمه وأنزل عليه الكتاب ما استلمت صنمًا حتى أكرمه الله بالذي أكرمه، وأنزل عليه الكتاب، ومات زيد بن عمرو بن نفيل قبل أن يبعث فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتي يوم القيامة أمة وحده.

[درجته: سنده جيد وما بين المعقوفين من الألفاظ ضعيف، رواه: والنسائيُّ في فضائل الصحابة (1 - 26) والسنن الكبرى (5 - 54) من طرق عن أبي أسامة ثنا محمَّد بن عمرو عن أبي سلمة ويحيي بن عبد الرحمن بن حاطب عن أسامة بن زيد عن أبيه، هذا السند: حسن من أجل محمَّد بن عمرو بن علقمة فهو حسن الحديث إذا لم يخالف وما بين المعقوفين منكر لمخالفته للأحاديث الصحيحة التي وردت عن مخالفته عليه السلام لكل مظاهر الجاهلية قبل النبوة، انظر رواية البخاري تحت عنوان (الغرباء)].

2 - قال ابن إسحاق [السيرة النبوية (2 - 27)]:حدثني عبد الله بن أبي بكر بن محمَّد بن عمرو بن حزم عن عثمان ابن أبي سليمان بن جبير بن مطعم عن عمه نافع بن جبير عن أبيه جبير بن مطعم
আমি এই দ্বীনের সন্ধানে বের হলাম, এমনকি আমি ইয়াসরিবের পণ্ডিতদের কাছে পৌঁছালাম। আমি তাদের পেলাম যে তারা আল্লাহর ইবাদত করছে কিন্তু তাঁর সাথে শিরকও করছে। তখন আমি বললাম: এটি সেই দ্বীন নয় যা আমি খুঁজছি। অতঃপর আমি আইলার পণ্ডিতদের কাছে যাওয়ার জন্য বের হলাম এবং সেখানে তাদের পেলাম তারা আল্লাহর ইবাদত করছে এবং তাঁর সাথে শিরক করছে না। আমি বললাম: এটি সেই দ্বীন নয় যা আমি খুঁজছি। তখন সিরিয়ার পণ্ডিতদের মধ্যে থেকে একজন পণ্ডিত আমাকে বললেন: তুমি এমন এক দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ যার মাধ্যমে আল্লাহকে ইবাদত করে এমন কাউকে আমরা চিনি না, কেবল জাজিরাতুল আরবের এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ছাড়া। এরপর আমি বের হয়ে তাঁর কাছে পৌঁছালাম এবং আমি যার খোঁজে বের হয়েছি তা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন: তুমি যাদের দেখেছ তারা সবাই পথভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে। তুমি এমন এক দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ যা আল্লাহর দ্বীন এবং তাঁর ফেরেশতাদের দ্বীন। তোমার নিজ ভূমিতে একজন নবী আত্মপ্রকাশ করেছেন অথবা তিনি অচিরেই আত্মপ্রকাশ করবেন এবং সেই দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেবেন। তুমি তাঁর কাছে ফিরে যাও, তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করো, তাঁর অনুসরণ করো এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান আনো। অতঃপর আমি ফিরে এলাম, এর পর আমি আর কিছুই ভালো মনে করলাম না। এরপর আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর নিচে থাকা উটটিকে বসালেন। অতঃপর আমরা তাঁর সামনে দস্তরখান পেশ করলাম যাতে ভাজা মাংস ছিল। [অতঃপর তিনি বললেন: "এটি কী?" আমরা বললাম: এটি একটি বকরি যা আমরা অমুক অমুক মূর্তির উদ্দেশ্যে যবাই করেছি। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি সেই পশু ভক্ষণ করি না যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য যবাই করা হয়েছে"]। সেখানে তামার তৈরি মূর্তি ছিল যাদের ইসাফ ও নায়েলা বলা হতো, মুশরিকরা তাওয়াফ করার সময় সেগুলো স্পর্শ করত। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাওয়াফ করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে তাওয়াফ করলাম। আমি যখন সেটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম তখন আমি তা স্পর্শ করলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: "একে স্পর্শ করো না।" যায়েদ বললেন: আমরা তাওয়াফ করছিলাম, তখন আমি মনে মনে বললাম, আমি একে অবশ্যই স্পর্শ করব যেন দেখতে পাই তিনি কী বলেন। এরপর আমি তা স্পর্শ করলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: "তোমাকে কি নিষেধ করা হয়নি?" যায়েদ বললেন: সেই সত্তার শপথ যিনি তাঁকে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব নাযিল করেছেন, আল্লাহ তাঁকে যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন তার মাধ্যমে সম্মানিত করার এবং তাঁর ওপর কিতাব নাযিল করার আগ পর্যন্ত আমি আর কোনো মূর্তি স্পর্শ করিনি। যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: কিয়ামতের দিন সে একাই একটি উম্মত হিসেবে উপস্থিত হবে।

[মান: এর সনদ উত্তম এবং বন্ধনীভুক্ত শব্দগুলো দুর্বল। এটি বর্ণনা করেছেন: নাসায়ী 'ফাযায়িলুস সাহাবা' (১-২৬) এবং 'সুনানুল কুবরা' (৫-৫৪) গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে আবু উসামা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ ও ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাতিব থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। এই সনদটি হাসান, মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলক্বামার কারণে; কারণ তিনি হাসান হাদিসের বর্ণনাকারী যখন তিনি অন্য বর্ণনার বিরোধিতা করেন না। আর বন্ধনীভুক্ত অংশটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য), কারণ এটি নবুওয়াতের পূর্বে জাহিলিয়াতের সমস্ত নিদর্শনের প্রতি রাসূলুল্লাহর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বিরোধিতার সহীহ হাদিসসমূহের পরিপন্থী। দেখুন: বুখারীর বর্ণনা 'আল-গুরাবা' শিরোনামের অধীনে।]

2 - ইবনে ইসহাক বলেন [আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ (২ - ২৭)]: আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবু সুলাইমান ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর চাচা নাফে ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে।
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال: لقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن ينزل عليه الوحي، وإنه لواقف على بعير له بعرفات مع الناس من بين قومه حتى يدفع معهم منها توفيقًا من الله له صلى الله عليه وسلم تسليمًا كثيرًا.

[درجته: سنده صحيح، رواه: من طريقه أحمد (4 - 82) وابن خزيمة (4 - 353) والطبرانيُّ (2 - 136) والبيهقيُّ في الدلائل (1 - 318)]، سنده: ابن إسحاق قال حدثني عبد الله بن أبي بكر بن محمَّد بن عمرو بن حزم الأنصاري عن عثمان بن أبي سليمان بن جبير بن مطعم عن عمه نافع بن جبير بن مطعم عن أبيه].

[هذا السند: صحيح عبد الله بن أبي بكر بن محمَّد بن عمرو بن حزم الأنصاري المدني القاضي تابعي ثقة، تقريب التهذيب (297) وشيخه عثمان بن أبي سليمان بن جبير بن مطعم القرشي النوفلي المكي ثقة، تقريب التهذيب (384) ونافع بن جبير بن مطعم النوفلي أبو محمَّد وأبو عبد الله المدني تابعي ثقة فاضل، تقريب التهذيب (558)].

3 - قال ابن إسحاق في سيرته (2 - 56): حدثني محمَّد بن عبد الله بن قيس بن مخرمة عن الحسن بن محمَّد بن علي بن أبي طالب عن أبيه عن جده علي بن أبي طالب قال: سمعت رسول الله يقول: "ما هممت بشيء مما كان أهل الجاهلية يهمون به من النساء إلا ليلتين، كلتاهما عصمني الله عز وجل فيهما، قلت ليلة لبعض فتيان مكة ونحن في رعاية غنم أهلنا فقلت لصاحبي: تبصر لي غنمي حتى أدخل مكة فأسمر فيها كما يسمر الفتيان؟ " فقال علي: قال: "فدخلت حتى إذا جئت أول دار من دور مكة سمعت عزفًا بالغرابيل والمزامير، فقلت ما هذا؟ فقيل: تزوج فلان فلانة فجلست أنظر، وضرب الله عز وجل على أذني، فوالله ما أيقظني إلا مس الشمس، فرجعت إلى صاحبي فقال: ما فعلت؟ فقلت: ما فعلت شيئًا ثم أخبرته".

[درجته: حديثٌ حسنٌ بما بعده، رواه: من طريقه الحاكم (4 - 273) وابن حبان (14 - 169) والبيهقيُّ (1 - 315) وأبو نعيم (142)، هذا السند: في سنده ضعف من أجل ابن قيس فهو وإن كان من رجال الشيخين إلا أنه لم يوثق توثيقًا معتبرًا لذلك قال الحافظ إنه مقبول: أي عند المتابعة (179) لكن الحديث حسن بما بعد].
তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার আগে দেখেছি যে, তিনি আরাফাতের ময়দানে তাঁর কওমের লোকদের সাথে নিজের একটি উটের ওপর অবস্থান করছেন, যতক্ষণ না তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাওফীক অনুযায়ী তাদের সাথেই সেখান থেকে প্রস্থান করেন। তাঁর ওপর আল্লাহর অসংখ্য রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

[মান: এর সনদ সহীহ, এটি বর্ণনা করেছেন: তাঁর সূত্র থেকে আহমাদ (৪ - ৮২), ইবনে খুজাইমা (৪ - ৩৫৩), তাবারানি (২ - ১৩৬) এবং বায়হাকি ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে (১ - ৩১৮)। এর সনদ: ইবনে ইসহাক বলেন, আমার কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম আল-আনসারি বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনে আবি সুলাইমান ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর চাচা নাফি ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে, আর তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।]

[এই সনদটি সহীহ: আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম আল-আনসারি আল-মাদানি আল-কাযি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) তাবেয়ি, তাকরিবুত তাহযিব (২৯৭); তাঁর শায়খ উসমান ইবনে আবি সুলাইমান ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম আল-কুরাশি আন-নাওফালি আল-মাক্কি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী, তাকরিবুত তাহযিব (৩৮৪); এবং নাফি ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম আন-নাওফালি আবু মুহাম্মদ ও আবু আবদুল্লাহ আল-মাদানি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ও ফযিলতপূর্ণ তাবেয়ি, তাকরিবুত তাহযিব (৫৫৮)।]

৩ - ইবনে ইসহাক তাঁর ‘সিরাত’ গ্রন্থে (২ - ৫৬) বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে মাখরামা আমার কাছে হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আবি তালিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি তাঁর দাদা আলি ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "জাহেলি আমলের লোকেরা নারীদের ব্যাপারে যেসব সংকল্প করত, আমি মাত্র দুই রাত ছাড়া কখনো সেসবের কোনো সংকল্প করিনি। সেই উভয় রাতেই মহান আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন। এক রাতে আমি মক্কার জনৈক কিশোরকে বললাম—তখন আমরা আমাদের পরিবারের ছাগল চরাচ্ছিলাম—আমি আমার সঙ্গীকে বললাম: তুমি কি আমার ছাগলগুলো একটু দেখে রাখবে যাতে আমি মক্কায় প্রবেশ করে অন্য যুবকদের মতো সেখানে রাতের আড্ডায় শরিক হতে পারি?" আলী (রা.) বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "অতঃপর আমি মক্কায় প্রবেশ করলাম। যখন মক্কার প্রথম ঘরটির কাছে পৌঁছালাম, তখন দফ ও বাঁশির শব্দ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কী? বলা হলো: অমুক ব্যক্তি অমুক নারীকে বিবাহ করছে। তখন আমি সেখানে বসে তা দেখতে লাগলাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আমার কানে পর্দা ফেলে দিলেন (আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন)। আল্লাহর কসম, সূর্যের তাপ না লাগা পর্যন্ত আমার ঘুম ভাঙেনি। এরপর আমি আমার সঙ্গীর কাছে ফিরে গেলাম। সে জিজ্ঞেস করল: আপনি কী করলেন? আমি বললাম: আমি কিছুই করিনি, তারপর তাকে পুরো ঘটনা জানালাম।"

[মান: হাদীসটি পরবর্তী বর্ণনার কারণে হাসান, এটি বর্ণনা করেছেন: তাঁর সূত্র থেকে হাকীম (৪ - ২৭৩), ইবনে হিব্বান (১৪ - ১৬৯), বায়হাকি (১ - ৩১৫) এবং আবু নুয়াইম (১৪২)। এই সনদ: ইবনে কাইসের কারণে এই সনদে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, কারণ যদিও তিনি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর রাবী, তবুও তাঁকে সেভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে শক্তিশালী সত্যায়ন (তাওসিক) করা হয়নি। এ কারণেই হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন যে তিনি ‘মাকবুল’ (গ্রহণযোগ্য), অর্থাৎ মুতাবাআত বা সমর্থনমূলক বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (১৭৯); তবে পরবর্তী বর্ণনার কারণে হাদীসটি হাসান হিসেবে গণ্য।]
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
4 - قال الطبراي في المعجم الصغير (2 - 138): حدثنا محمَّد بن إسحاق بن إبراهيم بن شاذان الفارسي أبو علي أبو يعلى شيران حدثنا أبي حدثنا سعد بن الصلت حدثنا مسعر بن كدام عن العباس بن خديج عن زياد بن عبد الله العامري عن عمار بن ياسر قال: قلت: يا رسول الله هل قارفت شيئًا مما قارف أهل الجاهلية قال: "لا وقد كنت على موعدين أما أحدهما فغلبتني عيني وأما الآخر فشغلتني عنه سامر القوم" لم يروه عن مسعر إلا سعد تفرد به شاذان ولا يروى عن عمار إلا بهذا الإسناد.

[درجته: سنده ضعيف وهو حسن بما قبله، رواه: المعجم الأوسط (7 - 319) والخطيب في تاريخ بغداد (10 - 280)، من طريق آخر عن إسحاق بن إبراهيم شاذان حدثنا جدي سعد بن الصلت، هذا السند: ضعيف من أجل سعد بن الصلت وهو لم يوثق لكن قال في الجرح والتعديل (4 - 86): "سعد بن الصلت وهو بن الصلت بن برد بن أسلم مولى جرير بن عبد الله البجلي روي عن الأعمش والثوري ومسعر ومطرف بن طريف وإسماعيل بن أبي خالد وجعفر بن محمَّد وعمرو بن قيس الملائي ويحيي بن سعيد الأنصاري وهشام بن عروة وعبيد الله بن عمر العمرى وأبان بن تغلب ومعروف بن خربوذ ومحمَّد بن عمرو بن علقمة وأبى طيبة الجرجاني روى عنه محمَّد بن عبد الله الأنصاري ويحيى الحماني وابن ابنته إسحاق بن إبراهيم المعروف بشاذان الفارسي قاضى فارس وزياد بن البجلي فيه جهالة" وإسحاق صدوق قال ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (2 - 211): "إسحاق بن إبراهيم بن محمَّد بن عبد الله بن عمر بن زيد النهشلي المعروف بشاذان الفارسي بن ابنة سعد بن الصلت قاضى فارس روى عن جده أبى أمه سعد بن الصلت وأبى داود الطيالسي والأسود بن عامر كتب إلى أبى وإلى وهو صدوق" ولكن الحديث حسن بما قبله].

 

‌‌مقدمات النبوة

1 - قال مسلم (4 - 1782): حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا يحيى بن أبي بكير عن إبراهيم بن طهمان حدثني سماك بن حرب عن جابر بن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إني لأعرف حجرًا بمكة كان يسلم علي قبل أن أبعث إني لأعرفه الآن".

2 - قال الإِمام أحمد (1 - 312): حدثنا أبو كامل وحسن بن موسى قالا ثنا حماد قال أنا عمار بن أبي عمار قال حسن عن عمار قال حماد وأظنه عن بن عباس ولم يشك فيه حسن قال قال بن عباس قال
৪ - তাবারানী 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' (২ - ১৩৮) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন শাযান আল-ফারিসী আবু আলী আবু ইয়ালা শিরান, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সা'দ বিন আস-সালত, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মিস'আর বিন কিদাম, তিনি আব্বাস বিন খাদীজ থেকে, তিনি যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আমিরী থেকে, তিনি আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, জাহেলিয়াত আমলের লোকেরা যা করত আমি কি তার কোনো কিছু করেছি? তিনি বললেন: "না, তবে আমি দুইবার প্রতিশ্রুতির (সুযোগের) মুখে ছিলাম; প্রথমবার আমার চোখ আমার উপর বিজয়ী হয়েছিল (আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম), আর দ্বিতীয়বার আমি লোকদের গল্পগুজবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।" এটি মিস'আর থেকে একমাত্র সা'দ বর্ণনা করেছেন, শাযান এতে একক হয়ে গেছেন এবং আম্মার থেকে এই সানাদ (সূত্র) ছাড়া এটি বর্ণিত হয়নি।

[মান: এর সানাদ দুর্বল, তবে এটি পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাসান (উত্তম)। এটি বর্ণনা করেছেন: 'আল-মু'জাম আল-আওসাত' (৭ - ৩১৯) এবং আল-খাতিব 'তারিখ বাগদাদ' (১০ - ২৮০) গ্রন্থে, ইসহাক বিন ইব্রাহিম শাযান থেকে অন্য সূত্রে; তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার দাদা সা'দ বিন আস-সালত। এই সানাদটি সা'দ বিন আস-সালতের কারণে দুর্বল, তিনি নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত নন। তবে 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' (৪ - ৮৬) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সা'দ বিন আস-সালত, তিনি হলেন ইবনুল সালত বিন বারদ বিন আসলাম, জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালীর আযাদকৃত গোলাম। তিনি আমাশ, সাওরী, মিস'আর, মুতাররিফ বিন তারিফ, ইসমাঈল বিন আবি খালিদ, জাফর বিন মুহাম্মদ, আমর বিন কায়েস আল-মুলাই, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারী, হিশাম বিন উরওয়াহ, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-উমারী, আবান বিন তাগলিব, মা'রুফ বিন খারবুয, মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলকামা এবং আবু তাইবা আল-জুরজানীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তার নিকট থেকে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, ইয়াহইয়া আল-হিম্মানী এবং তার মেয়ের ছেলে ইসহাক বিন ইব্রাহিম (যিনি শাযান আল-ফারিসী নামে পরিচিত ও পারস্যের বিচারক ছিলেন) বর্ণনা করেছেন। আর যিয়াদ বিন বাজালী এর মধ্যে অজ্ঞাত রয়েছেন।" আর ইসহাক হলেন সাদুক (সত্যবাদী), ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' (২ - ২১১) গ্রন্থে বলেছেন: "ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন যাইদ আন-নাহশালী, যিনি শাযান আল-ফারিসী নামে পরিচিত, তিনি সা'দ বিন আস-সালতের নাতি (মেয়ের ছেলে) এবং পারস্যের বিচারক ছিলেন। তিনি তার মাতামহ সা'দ বিন আস-সালত, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এবং আসওয়াদ বিন আমির থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমার পিতা ও আমার কাছে লিখেছেন এবং তিনি সাদুক (সত্যবাদী)।" তবে হাদীসটি এর পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাসান।]

 

‌‌নবুওয়াতের প্রাক্-নিদর্শনসমূহ

১ - মুসলিম (৪ - ১৭৮২) বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শায়বাহ, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন তাহমান থেকে, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি জাবির বিন সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আমাকে সালাম দিত; আমি এখনো সেটিকে চিনি।"

২ - ইমাম আহমাদ (১ - ৩১২) বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কামিল এবং হাসান বিন মুসা, তারা উভয়ে বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, তিনি বলেন, আম্মার বিন আবি আম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বলেন—এবং আমার ধারণা তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, আর হাসান এ ব্যাপারে সন্দেহ করেননি—তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أبي، وثنا عفان ثنا حماد عن عمار بن أبي عمار مرسل ليس فيه بن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لخديجة، فذكر عفان الحديث وقال أبو كامل وحسن في حديثهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لخديجة: "إني أرى ضوءًا وأسمع صوتًا وأني أخشى أن يكون بي جنن؟ " قالت: لم يكن الله ليفعل ذلك بك يا بن عبد الله، ثم أتت ورقة بن نوفل فذكرت ذلك له فقال: إن يك صادقًا فإن هذا ناموس مثل ناموس موسى فإن بعث وأنا حي فسأعززه وأنصره وأؤمن به.

[درجته: سنده صحيح، رواه: الطبراني في الكبير (12 - 186) و (23 - 15) وابن سعد (1 - 195)، هذا السند: صحيح فالذين أسندوه هم يحيي بن عباد وعفان وأبو كامل وحسن بن موسى، أما عفان فقد أرسله وأسنده وعفان ثقة ثبت ربما وهم فلعل ذلك من أوهامه كما أنه تغير آخر عمره: التهذيب (2 - 25)، أما أبو كامل واسمه مظفر بن مدرك فهو ثقة (2 - 255) وكذلك الحسن بن موسى فهو ثقة من رجال الشيخين (1 - 171) ويحيي بن عباد صدوق من رجال الشيخين (2 - 350)].

3 - قال البخاري (1 - 4): حدثنا يحيى بن بكير قال حدثنا الليث عن عقيل عن بن شهاب عن عروة بن الزبير عن عائشة أم المؤمنين أنها قالت: أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء وكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه وهو التعبد الليالي ذوات العدد قبل أن ينزع إلى أهله ويتزود لذلك، ثم يرجع إلى خديجة فيتزود لمثلها حتى جاءه الحق وهو في غار حراء.

ورواه مسلم (1 - 140).

 

‌‌الغرباء

‌‌زيد بن عمرو بن نفيل

1 - قال البخاري (3 - 1391): حدثني محمَّد بن أبي بكر حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة حدثنا سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم لقي زيد بن عمرو بن نفيل بأسفل بلدح قبل أن ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم الوحي فقدمت إلى النبي صلى الله عليه وسلم -
আমার পিতা, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান, তিনি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ থেকে, তিনি আম্মার ইবনে আবি আম্মার থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যাতে ইবনে আব্বাস নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাকে বললেন, অতঃপর আফফান হাদিসটি উল্লেখ করলেন। আবু কামিল এবং হাসান তাদের বর্ণিত হাদিসে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাকে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি আলো দেখতে পাই এবং শব্দ শুনতে পাই, আর আমি আশঙ্কা করছি যে আমার কোনো উম্মাদনা (জিন গ্রস্ততা) হচ্ছে না তো?" তিনি বললেন: আল্লাহ আপনার সাথে কখনো এমন করবেন না হে আব্দুল্লাহর পুত্র। অতঃপর তিনি ওরাকা ইবনে নাওফালের নিকট আসলেন এবং তার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি (ওরাকা) বললেন: যদি তিনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন তবে এটি সেই একই বার্তাবাহক (নামুস) যেমনটি মুসার নিকট এসেছিল। যদি তিনি প্রেরিত হন আর আমি জীবিত থাকি, তবে আমি তাকে শক্তিশালী করব, সাহায্য করব এবং তার ওপর ঈমান আনব।

[এর মান: এর সনদ সহিহ। এটি বর্ণনা করেছেন: তাবারানি আল-কাবিরে (১২-১৮৬) ও (২৩-১৫) এবং ইবনে সাদ (১-১৯৫)। এই সনদটি সহিহ, কারণ যারা এটি বর্ণনা করেছেন তারা হলেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ, আফফান, আবু কামিল এবং হাসান ইবনে মুসা। আফফান একে মুরসাল এবং মুসনাদ উভয়ভাবেই বর্ণনা করেছেন। আফফান নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ছিলেন, তবে মাঝে মাঝে তিনি দ্বিধা বা ভ্রমের শিকার হতেন, সম্ভবত এটি তার কোনো একটি ভ্রম। এছাড়াও জীবনের শেষ ভাগে তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল: আত-তাহজিব (২-২৫)। আবু কামিল, যার নাম মুজাফফর ইবনে মুদরিক, তিনি নির্ভরযোগ্য (২-২৫৫)। তেমনি হাসান ইবনে মুসা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ও নির্ভরযোগ্য (১-১৭১)। ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ সত্যবাদী এবং শাইখাইন-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত (২-৩৫০)]।

৩ - ইমাম বুখারি (১-৪) বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি আকিল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি মুমিনদের জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত হতো। অতঃপর নির্জনতা তার নিকট প্রিয় করে দেওয়া হলো। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে থাকতেন এবং সেখানে পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে আসার পূর্বে কয়েক রাত একাধারে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য পাথেয় নিয়ে যেতেন। অতঃপর তিনি আবার খাদিজার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পাথেয় নিয়ে যেতেন। এভাবে তার কাছে সত্য (ওহী) আসলো যখন তিনি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন।

এটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন (১-১৪০)।

 

‌‌আল-গুরাবা (অপরিচিত বা প্রবাসীগণ)

‌‌জায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল

১ - ইমাম বুখারি (৩-১৩৯১) বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি ফুদাইল ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ‘বালদাহ’ নামক স্থানের নিম্নভূমিতে জায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইলের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পেশ করা হলো-
(খণ্ড: ১) আস-সহীহ মিন আহাদীসিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
سفرة فأبى أن يأكل منها، ثم قال زيد: إني لست آكل مما تذبحون على أنصابكم، ولا آكل إلا ما ذكر اسم الله عليه، وأن زيد بن عمرو كان يعيب على قريش ذبائحهم، ويقول الشاة خلقها الله وأنزل لها من السماء الماء وأنبت لها من الأرض ثم تذبحونها على غير اسم الله إنكارًا لذلك وإعظامًا له.

2 - قال البخاري (3 - 1392): وقال الليث كتب إلى هشام عن أبيه عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها قالت: رأيت زيد بن عمرو بن نفيل قائمًا مسندًا ظهره إلى الكعبة يقول يا معاشر قريش، والله ما منكم على دين إبراهيم غيري، وكان يحيى الموؤودة يقول للرجل إذا أراد أن يقتل ابنته: لا تقتلها أنا أكفيكها مؤونتها فيأخذها، فإذا ترعرعت قال لأبيها: إن شئت دفعتها إليك وإن شئت كفيتك مؤونتها.

3 - قال البخاري (3 - 1391): قال موسى حدثني سالم بن عبد الله ولا أعلمه إلا تحدث به عن ابن عمر: أن زيد بن عمرو بن نفيل خرج إلى الشام يسأل عن الدين ويتبعه، فلقي عالمًا من اليهود فسأله عن دينهم فقال: إني لعلي أن أدين دينكم فأخبرني، فقال: لا تكون على ديننا حتى تأخذ بنصيبك من غضب الله، قال زيد: ما أفر إلا من غضب الله ولا أحمل من غضب الله شيئًا أبدًا وأنى أستطيعه فهل تدلني على غيره؟ قال: ما أعلمه إلا أن يكون حنيفا قال زيد وما الحنيف؟ قال: دين إبراهيم لم يكن يهوديًا ولا نصرانيًا ولا يعبد إلا الله. فخرج زيد فلقي عالمًا من النصارى فذكر مثله فقال لن تكون على ديننا حتى تأخذ بنصيبك من لعنة الله قال ما أفر إلا من لعنة الله ولا أحمل من لعنة الله ولا من غضبه شيئًا أبدًا وأنى أستطيع، فهل تدلني على غيره؟ قال ما أعلمه إلا أن يكون حنيفا قال: وما الحنيف؟ قال دين إبراهيم لم يكن يهوديًا ولا نصرانيًا ولا يعبد إلا الله. فلما رأى زيد قولهم في إبراهيم عليه السلام خرج، فلما برز رفع يديه فقال: اللَّهم إني أشهد أني على دين إبراهيم.

4 - قال محمَّد بن عثمان بن أبي شيبة [البداية والنهاية (2 - 239)]: حدثنا أحمد بن طارق الوابشي ثنا عمرو بن عطية عن أبيه عن ابن عمر عن زيد بن عمرو بن نفيل أنه كان يتأله في الجاهلية فانطلق حتى أتى رجلًا من اليهود فقال له أحب أن تدخلني معك في دينك؟ فقال
একটি দস্তরখান পেশ করা হলো কিন্তু তিনি তা থেকে খেতে অস্বীকার করলেন। এরপর যায়িদ বললেন: নিশ্চয়ই আমি তা থেকে খাই না যা তোমরা তোমাদের মূর্তির বেদীতে জবেহ করো, আর আমি কেবল তাই খাই যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে। আর যায়িদ বিন আমর কুরাইশদের জবেহ করা পশুর নিন্দা করতেন এবং বলতেন: এই বকরিটি আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, এর জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন এবং জমিন থেকে ঘাস উৎপন্ন করেছেন, এরপর তোমরা একে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে জবেহ করছ? তিনি তাদের এই কাজের প্রতিবাদ জানাতে এবং আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনা করার উদ্দেশ্যে এটি বলতেন।

২ - ইমাম বুখারী (৩ - ১৩৯২) বলেন: লাইস বলেছেন, হিশাম তার পিতার সূত্রে আসমা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করে আমার কাছে লিখেছেন, তিনি বলেন: আমি যায়িদ বিন আমর বিন নুফাইলকে কাবার দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তিনি বলতেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আল্লাহর কসম, আমি ছাড়া তোমাদের মাঝে আর কেউ ইব্রাহিমের দ্বীনের উপর নেই। আর তিনি জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তানদের জীবন রক্ষা করতেন। যখন কোনো ব্যক্তি তার কন্যাকে হত্যা করার ইচ্ছা করত, তিনি তাকে বলতেন: একে হত্যা করো না, এর ভরণপোষণের ভার আমিই নিচ্ছি। অতঃপর তিনি তাকে নিয়ে নিতেন। যখন মেয়েটি বড় হতো, তিনি তার পিতাকে বলতেন: তুমি চাইলে আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব, আর চাইলে আমিই তার ভরণপোষণ চালিয়ে যাব।

৩ - ইমাম বুখারী (৩ - ১৩৯১) বলেন: মূসা বলেছেন, সালেম বিন আবদুল্লাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন—আমি মনে করি তিনি এটি ইবনে উমর থেকেই বর্ণনা করেছেন—যে যায়িদ বিন আমর বিন নুফাইল দ্বীনের অনুসন্ধানে এবং তার অনুসরণের উদ্দেশ্যে শামের দিকে বের হলেন। সেখানে তিনি ইহুদিদের এক পণ্ডিতের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: সম্ভবত আমি তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করব, তাই আমাকে এ সম্পর্কে অবহিত করুন। সে বলল: তুমি আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না আল্লাহর ক্রোধের মধ্য থেকে তোমার অংশ গ্রহণ করবে। যায়িদ বললেন: আমি আল্লাহর ক্রোধ থেকেই পলায়ন করছি, আর আমি কখনোই আল্লাহর ক্রোধের কোনো কিছু বহন করতে পারব না; আমি কীভাবে তা করতে সক্ষম হব? আপনি কি আমাকে অন্য কিছুর পথ দেখাবেন? সে বলল: আমি অন্য কিছু জানি না তবে ‘হানিফ’ হতে পারো। যায়িদ বললেন: হানিফ কী? সে বলল: ইব্রাহিমের দ্বীন; তিনি ইহুদি বা খ্রিস্টান ছিলেন না এবং তিনি আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করতেন না। অতঃপর যায়িদ বের হয়ে একজন খ্রিস্টান পণ্ডিতের দেখা পেলেন এবং অনুরূপ কথা আলোচনা করলেন। সে বলল: তুমি আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না আল্লাহর লানতের (অভিশাপের) মধ্য থেকে তোমার অংশ গ্রহণ করবে। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর লানত থেকেই পলায়ন করছি, আর আমি কখনোই আল্লাহর লানত বা তাঁর ক্রোধের কোনো কিছু বহন করতে পারব না; আমি কীভাবে তা করতে সক্ষম হব? আপনি কি আমাকে অন্য কিছুর পথ দেখাবেন? সে বলল: আমি অন্য কিছু জানি না তবে ‘হানিফ’ হতে পারো। তিনি বললেন: হানিফ কী? সে বলল: ইব্রাহিমের দ্বীন; তিনি ইহুদি বা খ্রিস্টান ছিলেন না এবং আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করতেন না। যখন যায়িদ ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তাদের বক্তব্য দেখলেন, তখন তিনি বেরিয়ে আসলেন। এরপর যখন তিনি উন্মুক্ত স্থানে আসলেন, তখন তিনি হাত উঠিয়ে বললেন: হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি ইব্রাহিমের দ্বীনের উপর আছি।

৪ - মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন আবি শাইবা [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২ - ২৩৯)] বলেন: আহমাদ বিন তারিক আল-ওয়াবশি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমর বিন আতিয়্যা তার পিতার সূত্রে ইবনে উমর থেকে, তিনি যায়িদ বিন আমর বিন নুফাইল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি জাহেলিয়াত যুগে ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর তিনি রওয়ানা হয়ে এক ইহুদি ব্যক্তির কাছে আসলেন এবং তাকে বললেন: আমি পছন্দ করি যে আপনি আমাকে আপনার সাথে আপনার দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন। সে বলল...