(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: -)
السلسبيل النقي في تراجم شيوخ البيهقي   (أبو الطيب نايف المنصوري)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: السَّلسَبِيلُ النَّقِي في تَرَاجِمِ شيُوخ البَيِهَقِيّ

المؤلف: أبو الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري

قَدَّمَ لَهُ: الأستَاذ الدكتور أحمَد معَبَد عَبْد الكَريِم

والشيخ أبو الحسن مصطفى بن إسماعيل السُّليماني

الناشر: دَارُ العَاصِمَة للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 733

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رجب 1435

আস-সালসাবীল আন-নাকী ফী তারাজিমি শুয়ুখিল বায়হাকী   (আবু তাইয়্যিব নায়েফ আল-মানসূরী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাজিমি শুয়ুখিল বায়হাকী

লেখক: আবু তাইয়্যিব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসূরী

উপস্থাপনা করেছেন: প্রফেসর ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল কারীম

এবং শায়খ আবু আল-হাসান মুস্তফা বিন ইসমাইল আস-সুলায়মানী

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ প্রকাশনী ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩৩

[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ই রজব ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلَةُ تَقريبِ رِوَاةِ السُّنَّةِ بَينَ يَدَي الأُمَّةِ

المجمُوَعة الأولى: (إِعلَام الثّقَاتِ بتَرَاجِمِ المَشْيَخَاتِ) (2)

 

السَّلسَبِيلُ النَّقِي في تَرَاجِمِ شيُوخ البَيِهَقِيّ

تأليف

أبي الطَّيِّب نَايف بن صَلَاح بن علي المَنصُوري

قَدَّمَ لَهُ

فَضيلَةُ الشَّيخ الأستَاذ الدكتور أحمَد معَبَد عَبْد الكَريِم

وَقَدَّمَ له وَلخَّصَ أحْكَامَه

فَضِيلَة الشَّيخ أَبُو الحسن مُصطَفَي بن إِسمَاعِيل السُّلَيمَاني

دَارُ العَاصِمَة

للنشر والتوزيع
উম্মাহর নিকট সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের পরিচিতি সহজীকরণ ধারাবাহিকতা

প্রথম সংকলন: (মাশায়েখগণের জীবনীর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের জ্ঞাতকরণ) (২)

 

আস-সালসাবিলুন নাকি: ইমাম বাইহাকীর উস্তাদগণের জীবনী

রচনা

আবু তাইয়্যেব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরী

ভূমিকা প্রদান করেছেন

ফযীলাতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর আহমদ মুয়াব্বাদ আব্দুল কারীম

ভূমিকা লিখেছেন এবং এর সিদ্ধান্তসমূহ সংক্ষেপ করেছেন

ফযীলাতুশ শাইখ আবুল হাসান মুস্তাফা বিন ইসমাইল আস-সুলাইমানী

দারুল আসিমা

প্রকাশনা ও বিতরণী
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣)
السَّلسَبِيلُ النَّقِي في تَرَاجِمِ شيُوخ البَيِهَقِيِّ
ইমাম বায়হাকীর শায়খগণের জীবনী সংক্রান্ত স্বচ্ছ প্রস্রবণ।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٤)
ح دار العاصمة للنشر والتوزيع، 1431 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

المنصوري، نايف صلاح علي

السلسبيل النقي في تراجم شيوخ البيقهي./ نايف صلاح علي

المنصوري.- الرياض، 1431 هـ

734 ص،17 × 24 سم

ردمك 9 - 20 - 8057 - 603 - 978

1 - البيهقي، أحمد بن الحسين. ت 458 هـ 2 - الحديث تراجم الرواة

أ- العنوان

ديوي 6، 234 - 2714/ 1431

رقم الإيداع: 2714/ 1413

ردمك: 9 - 20 - 8057 - 603 - 978

جَمِيعُ الحُقُوق محَفُوظَةٌ

الطبعَةُ الأولى

1432 هـ - 2011 م

دار العاصمة

المملكة العربية السعودية

الرياض - ص ب: 42507 - الرمز البريدي: 11551

المركز الرئيسي: شارع السويدي العام

هاتف: 4497224 / فاكس: 4497225
© দার আল-আসিমা প্রকাশনা ও বিতরণী, ১৪৩১ হিজরি

প্রকাশনা কালীন কিং ফাহদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং

আল-মানসুরি, নায়েফ সালাহ আলি

আস-সালসাবিল আন-নাকি ফি তারাযিমি শুয়ুখিল বাইহাকি।/ নায়েফ সালাহ আলি

আল-মানসুরি.- রিয়াদ, ১৪৩১ হিজরি

৭৩৪ পৃষ্ঠা, ১৭ × ২৪ সেমি

আইএসবিএন ৯ - ২০ - ৮০৫৭ - ৬০৩ - ৯৭৮

১ - আল-বাইহাকি, আহমদ বিন আল-হুসাইন। মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি ২ - হাদিস বর্ণনাকারীদের জীবনী

ক- শিরোনাম

ডিউই ৬, ২৩৪ - ২৭১৪ / ১৪৩১

জমা নম্বর: ২৭১৪ / ১৪১৩

আইএসবিএন: ৯ - ২০ - ৮০৫৭ - ৬০৩ - ৯৭৮

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

দার আল-আসিমা

সৌদি আরব কিংডম

রিয়াদ - পি.ও. বক্স: ৪২৫০৭ - পোস্টাল কোড: ১১৫৫১

প্রধান কার্যালয়: আস-সুওয়াইদি জেনারেল স্ট্রিট

টেলিফোন: ৪৪৯৭২২৪ / ফ্যাক্স: ৪৪৯৭২২৫
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٥)
تقديم فضيلة الأستاذ الكبير أحمد مِعْبَد عبد الكريم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمَّد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

فإن معرفة رجال الأسانيد وأحوالهم، جرحًا وتعديلاً، من أهم ركائز معرفة درجات مروياتهم قبولاً أو ردًّا.

وقد وفق الله عز وجل كثيراً من أهل الحديث الذين تأخرت وفاتهم عن سنة 300 هـ للالتزام بالرواية بأسانيدهم لما يوردونه في مؤلفاتهم، عن شيوخهم فمن فوقهم في الإسناد، إلى الرسول صلى الله عليه وسلم فمن دونه من صحابة أو تابعين أو من دونهم.

ومع التزام هؤلاء بالرواية بالإسناد هكذا، إلا أنهم لم يلتزموا دائماً ببيان درجات جميع مروياتهم هذه، من الصحة وغيرها.

ثم هيأ الله عز وجل للسنة النبوية وعلومها في الآونة الأخيرة، من يحرص على إحياء نصوصها، بالتحقيق والتخريج، وتمييز الصحيح من غيره، ولا سيما ما لم تُبين درجته في مصدره الأصلي، وهو كثير، مع مسيس الحاجة إلى ذلك.

لكن توقف الجميع حائرين أمام عدد غير قليل من رجال الأسانيد المتأخرين عن سنة 300 هـ؛ لأن التواريخ التي عنيت بتراجم هؤلاء
বিশিষ্ট উস্তাদ আল্লামা আহমাদ মাবাদ আব্দুল কারীমের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই সনদের বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং জারহ ও তা’দীল (সমালোচনা ও গুণগান) অনুযায়ী তাদের অবস্থা জানা হলো তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ গ্রহণ বা বর্জনের মানদণ্ড নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ৩০০ হিজরীর পরে ইন্তেকালকারী অনেক হাদিস বিশারদকে তাওফিক দান করেছেন যাতে তারা তাদের গ্রন্থসমূহে তাদের উস্তাদদের থেকে শুরু করে সনদের ঊর্ধ্বতন সূত্রের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত কিংবা তাঁর নিচের সাহাবী, তাবিঈ বা অন্যদের থেকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তা সনদের সাথে উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নবান হন।

যদিও তারা এভাবে সনদসহ বর্ণনার নীতি মেনে চলেছেন, কিন্তু তারা তাদের এসকল বর্ণিত হাদিসগুলোর সহিহ হওয়া বা না হওয়ার স্তর বর্ণনার ক্ষেত্রে সবসময় দায়বদ্ধ থাকেননি।

অতঃপর সাম্প্রতিক সময়ে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সুন্নাহ ও তার জ্ঞানবিজ্ঞানের জন্য এমন একদল মানুষকে তৈরি করেছেন, যারা তাহকীক (গবেষণা) ও তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) এবং সহিহ ও অশুদ্ধের মাঝে পার্থক্য করার মাধ্যমে সুন্নাহর মূল পাঠগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী। বিশেষ করে যার মান মূল উৎসে বর্ণনা করা হয়নি—যার সংখ্যা অনেক—অথচ সেটির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র।

কিন্তু ৩০০ হিজরীর পরবর্তী অনেক সনদের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সকলেই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে থেমে গিয়েছেন; কারণ যেসব ইতিহাস গ্রন্থ এসকল ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে রচিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٦)
المتأخرين قد فقد الكثير منها كليًا، أو فقد بعضه، وتفرق البعض الآخر في بطون مؤلفاقط أخرى، بحسب ما أتيح لكل مؤلف الحصول عليه من تلك التواريخ، رغم الشتات، والضياع، والحرق، والغرق، الذي تعرض له التراث الإِسلامي، كما هو معروف لأهل العلم والاختصاص.

وأذكر أنني أول ما سجلت رسالتي العالمية (الدكتوراة) عام 1971 م كانت بعنوان: "منهج الإِمام البيهقي في السنن الكبرى، مقارنًا بالسنن الأربعة"، وعملت في جمع المادة العلمية لذلك وتنسيقها لمدة عام كامل، فلما أردت الدخول في فحص أسانيد البيهقي في "السنن"، استعصى الأمر عليَّ بسبب مصادر تراجم شيوخ الإِمام البيهقي وشيوخ شيوخه، وذهبت إلى الشيخ الحافظ التيجاني رحمه الله في مقره بحي الغورية بالأزهر لمشورته في الأمر، وبمجرد أن ذكرت له عنوان الموضوع، قال لي: إنه موضوع جيد؛ لكن الوقوف على تراجم شيوخ البيهقي وشيوخ شيوخمه، أمر عسير الآن، فخرجت من عنده، وقررت تغيير الموضوع إلى "الحافظ العراقي وأثره في السنة"، لكَن الله تعالي هيأ عزائم كثيرين غيري من أفاضل شيوخي، وأهل عصري، لجمع ما أمكنهم من تراجم رجال ونساء هذه الأسانيد المتأخرة، وبيان ما تيسر من أحوالهم:

وأذكر الآن أنه عندما كنت أدرِّس مادتي التخريج ودراسة الأسانيد في قسم السنة وعلومها بكلية أصول الدين بالرياض، منذ أكثر من عشرين سنة، اقترح أعضاء القسم أن يكون من ضمن النشاط الطلابي، جمع رجال "سنن الدارقطني" المتوفى سنة 385 هـ غير المترجمين في "تهذيب التهذيب"،
পরবর্তী যুগের লেখকদের অনেক গ্রন্থই সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে, অথবা আংশিক বিলুপ্ত হয়েছে এবং অন্য কিছু অংশ বিভিন্ন রচনার গভীরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যা সেই ইতিহাসগুলো থেকে প্রত্যেক লেখকের কাছে যা লভ্য ছিল তার ওপর ভিত্তি করে। এটি হয়েছে সেই বিক্ষিপ্ততা, বিনাশ, অগ্নিকাণ্ড এবং নিমজ্জনের কারণে, যার সম্মুখীন ইসলামী ঐতিহ্য হয়েছিল, যেমনটি বিদগ্ধ আলেম ও বিশেষজ্ঞদের নিকট সুবিদিত।

আমার মনে পড়ছে, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে আমি যখন প্রথম আমার ডক্টরেট থিসিস নিবন্ধন করি, যার শিরোনাম ছিল: "আস-সুনানুল কুবরা-তে ইমাম বায়হাকীর মানহাজ, চার সুনান গ্রন্থের সাথে তুলনামূলক আলোচনা"। আমি এর জন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করার কাজে পূর্ণ এক বছর ব্যয় করি। এরপর যখন আমি "সুনান" গ্রন্থে বায়হাকীর সনদসমূহ পর্যালোচনায় প্রবেশ করতে চাইলাম, তখন বিষয়টি আমার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল। এর কারণ ছিল ইমাম বায়হাকীর শিক্ষকবৃন্দ এবং তাঁর শিক্ষকদের শিক্ষকদের জীবনী সংবলিত উৎসের অভাব। আমি এ বিষয়ে পরামর্শের জন্য আল-আজহারের আল-গুরিয়া মহল্লায় শায়খ আল-হাফেজ তিজানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বাসভবনে গেলাম। আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করার সাথে সাথেই তিনি আমাকে বললেন: "এটি একটি উত্তম বিষয়; কিন্তু বর্তমানে বায়হাকীর শায়খদের এবং তাঁদের শায়খদের জীবনী খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ।" ফলে আমি তাঁর নিকট থেকে ফিরে এলাম এবং বিষয়টি পরিবর্তন করে "আল-হাফেজ আল-ইরাকী এবং সুন্নাহর ওপর তাঁর প্রভাব" নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তবে মহান আল্লাহ আমার অনেক শ্রেষ্ঠ উস্তাদ এবং সমসাময়িকদের সংকল্পকে সুদৃঢ় করে দিয়েছিলেন যাতে তাঁরা এই পরবর্তী যুগের সনদসমূহের বর্ণনাকারী নারী ও পুরুষদের জীবনী যতটুকু সম্ভব সংগ্রহ করতে পারেন এবং তাদের অবস্থা যতটুকু সম্ভব বর্ণনা করতে পারেন:

আমার এখন মনে পড়ছে যে, বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে আমি যখন রিয়াদের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিনের সুন্নাহ ও উলুমুল হাদিস বিভাগে তাখরিজ এবং আসানিদ পর্যালোচনা বিষয় দুটি পড়াতাম, তখন বিভাগের সদস্যগণ প্রস্তাব করেছিলেন যে, ছাত্র-কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩৮৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইমাম দারাকুতনীর "সুনান" গ্রন্থের সেই বর্ণনাকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হোক, যাদের জীবনী "তাহজিবুত তাহজিব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٧)
والترجمة لكل منهم، وقام الطلاب فعلاً بخطوات عملية في ذلك، وعُمِلَتْ مئات البطاقات ودون في كل منها ترجمته للراوي المطلوب، بما في ذلك شيوخ الإِمام الدارقطني، وذلك من خلال المصادر التي كانت متاحة آنذاك من المطبوع، ولكن توقف العمل -للأسف- قبل أن يتم، ولم يخرج المنجز منه إلى النور.

لكن بقيت الفكرة لها أهميتها والحاجة إليها ماثلة في أذهان الكثيرين، وكان شيخنا الشيخ حماد بن محمَّد الأنصاري الأستاذ بالجامعة الإِسلامية بالمدينة المنورة رحمه الله أول من أخرج الفكرة إلى حيز التنفيذ -حسب علمي- فألف كتابه المعروف في شيوخ الإِمام الطبراني المتوفى سنة 360هـ وسماه "بلغة القاصي والداني في تراجم شيوخ الطبراني"، وطبع الكتاب لأول مرة سنة 1415هـ وبلغ عدد من تُرجم لهم فيه (704) تراجم من الرجال والنساء.

ومع أن الشيخ لم يستوعب كل شيوخ الطبراني، ولا ادعى ذلك، إلا أن ما فاته قليل بالنسبة إلى ما ذكره، كما سيأتي، ويكفيه حيازة السبق الفعلي لتنفيذ الفكرة، ثم تتابعت الجهود العلمية من بعده، فعمل أحد طلابي بقسم السنة بكلية أصول الدين بالرياض، وهو الأخ الدكتور/ عبد الرحمن الخميسي، رسالته للعالمية (الدكتوراة) بعنوان: "زوائد رواة البيهقي في السنن الكبرى، على رواة الكتب العشرة، جمعًا ودراسة، من أول الكتاب إلى آخر باب الترغيب في الأذان، من كتاب الصلاة" سنة 1415هـ ولم تطبع هذه الرسالة حتى الآن -حسب علمي-، ولم يتقدم أحد بعد الدكتور
এবং তাঁদের প্রত্যেকের জীবনী। শিক্ষার্থীরা প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ে ব্যবহারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল এবং শত শত কার্ড তৈরি করা হয়েছিল, যার প্রতিটিতে কাঙ্ক্ষিত বর্ণনাকারীর জীবনী লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইমাম দারাকুতনীর শায়খগণও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সেই সময়ে মুদ্রিত আকারে সহজলভ্য উৎসগুলোর মাধ্যমে এটি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সমাপ্ত হওয়ার আগেই কাজটি থেমে যায় এবং যা কিছু সম্পন্ন হয়েছিল তা আলোর মুখ দেখেনি।

তবে এই ধারণার গুরুত্ব এবং এর প্রয়োজনীয়তা অনেকের মনেই বিদ্যমান ছিল। আমাদের শায়খ, মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমার জানা মতে প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি এই ধারণাটিকে বাস্তবে রূপদান করেন। তিনি ইমাম তাবারানী (মৃত্যু ৩৬০ হিজরী)-এর শায়খদের সম্পর্কে তাঁর সুপরিচিত গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এর নামকরণ করেন "বুলুগাতুল কাসি ওয়াদ দানি ফি তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানি"। গ্রন্থটি প্রথমবার ১৪১৫ হিজরীতে মুদ্রিত হয় এবং এতে জীবনী আলোচিত ব্যক্তিদের সংখ্যা ৭০৪ জন পুরুষ ও নারী পর্যন্ত পৌঁছায়।

যদিও শায়খ তাবারানীর সমস্ত শায়খদের পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি এবং তিনি এমন দাবিও করেননি, তবে যা তাঁর বাদ পড়েছে তা তাঁর উল্লিখিত বর্ণনার তুলনায় খুবই সামান্য, যেমনটি সামনে আসবে। ধারণাটি বাস্তবায়নে প্রথম অগ্রগামী ভূমিকা পালন করাই তাঁর জন্য যথেষ্ট। এরপর তাঁর পরবর্তী সময়ে ইলমী প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। রিয়াদের উসুলুদ্দীন অনুষদের সুন্নাহ বিভাগের আমার একজন ছাত্র ডক্টর আবদুর রহমান আল-খুমায়সী তাঁর পিএইচডি গবেষণাপত্র সম্পন্ন করেন যার শিরোনাম ছিল: "আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে ইমাম বায়হাকীর বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ, যা দশটি কিতাবের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়; সংগ্রহ ও পর্যালোচনা, কিতাবুস সালাতের আযানের উৎসাহ প্রদান অনুচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত"। এটি ১৪১৫ হিজরীতে সম্পন্ন হয়। আমার জানা মতে, এই গবেষণাপত্রটি এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি। এবং ডক্টরের পর আর কেউ এগিয়ে আসেননি...
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٨)
الخميسي لإكمال الموضوع. ثم أصدر فضيلة الشيخ/ مقبل الوادعي رحمه الله كتاب "رجال الحاكم في المستدرك" مما ليس في "تهذيب التهذيب"، وقد طبع في مجلدين، ثم أصدر الشيخ مقبل -أيضاً- مع بعض معاونيه كتاب "رجال الدارقطني"، وقد طبع في مجلد

ثم جاء في الأخ (شادي) أحد الطلاب الوافدين للدراسة في كلية أصول الدين بالمنصورة، وهو من المجدين في التحصيل العلمي، وعرض عليَّ مؤلَّفُ لم يكن مطبوعاً في شيوخ الإِمام ابن حبان، وطلب مني تقديمه، وبعد اطلاعي على مقدمة الكتاب ونماذج من تراجمه، أشرت عليه ببعض الأمور اليسيرة، ولعل الكتاب يطبع قريباً -إن شاء الله-.

أما مؤلف هذا الكتاب، وهو الأخ الشيخ/ نايف المنصوري، فله في هذا الباب نتاج متعدد، حيث طبع له كتاب "إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني" في مجلد.

وقد زاد فيه على ما في كتاب شيخنا الشيخ حماد رحمه الله زيادات، أبْرَزُها أنه زاد على ما ذكره شيخنا أكثر من ثلاثمائة ترجمته.

ثم أرسل الأخ نايف إليَّ مشكوراً - ثلاثة مؤلفات أخرى له هي: "الدليل المغني لشيوخ الإمام أبي الحسن الدارقطني"، وأفاد في مؤخراً أنه طبع، وكتاب "الروض الباسم في تراجم شيوخ الحاكم" صاحب "المستدرك"، وليس مطبوعاً، ثم هذا الكتاب وهو "السلسبيل النقي في تراجم شيوخ البيهقي" المتوفي سنة 458 هـ وقد طلب مني كتابة تقديم لهذا الكتاب، فكتبت هذه السطور، تلبية لطلبه، وتقديراً لجهوده هذه
আল-খামিসি বিষয়টি সম্পন্ন করার জন্য। অতঃপর ফযিলতুশ শাইখ মুকবিল আল-ওয়াদিয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) ‘রিজালুল হাকিম ফিল মুস্তাদরাক’ নামক গ্রন্থটি প্রকাশ করেন যা ‘তাহযীবুত তাহযীব’-এ নেই। এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এরপর শাইখ মুকবিল তাঁর কিছু সহযোগীর সাথে মিলে ‘রিজালুদ দারা কুতনি’ গ্রন্থটিও প্রকাশ করেন, যা এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

অতঃপর ভাই (শাদি) এলেন, যিনি মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিনে পড়াশোনার জন্য আগত বিদেশি ছাত্রদের একজন। তিনি জ্ঞান অর্জনে অত্যন্ত পরিশ্রমী। তিনি ইমাম ইবনে হিব্বানের শাইখদের জীবনী নিয়ে একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি আমার কাছে পেশ করেন এবং এর ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। গ্রন্থটির ভূমিকা এবং জীবনীগুলোর কিছু নমুনা দেখার পর, আমি তাকে কিছু সামান্য বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। আশা করা যায় অচিরেই গ্রন্থটি মুদ্রিত হবে - ইনশাআল্লাহ।

আর এই গ্রন্থের লেখক ভাই শাইখ নায়েফ আল-মানসুরি সম্পর্কে বলতে গেলে, এই ক্ষেত্রে তাঁর বহুমুখী অবদান রয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর ‘ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানি’ নামক গ্রন্থটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

আমাদের শাইখ, শাইখ হাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবে যা রয়েছে, তিনি এতে তার চেয়েও কিছু সংযোজন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, আমাদের শাইখ যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়েও তিনি তিনশ’র বেশি জীবনী এতে বৃদ্ধি করেছেন।

অতঃপর ভাই নায়েফ অনুগ্রহপূর্বক আমার কাছে তাঁর আরও তিনটি পাণ্ডুলিপি পাঠিয়েছেন: ‘আদ-দালিলুল মুগনি লি শুয়ুখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারা কুতনি’—যা তিনি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে মুদ্রিত হয়েছে; এবং ‘আর-রওদুল বাসিম ফি তারাজিমি শুয়ুখিল হাকিম’ (মুস্তাদরাক প্রণেতা), যা এখনও মুদ্রিত হয়নি; অতঃপর বর্তমান এই গ্রন্থটি, অর্থাৎ ‘আস-সালসাবিলুন নাকি ফি তারাজিমি শুয়ুখিল বাইহাকি’ (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)। তিনি আমাকে এই গ্রন্থটির জন্য একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তাই তাঁর অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং তাঁর এই প্রচেষ্টার মূল্যায়নে আমি এই কয়েক লাইন লিখলাম।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٩)
المتواصلة، والتي سيكون لنشرها مطبوعاً نفع عام -إن شاء الله-، للباحثين والدارسين لعلوم السنة النبوية، وبخاصة دراسة الأسانيد المتأخرة بعد سنة 300 هـ، كما قدمت.

وقد حظيت مؤلفاته السابقة بتقديم، ومراجعة، وتتميم كوكبة من أفاضل إخواني العلماء، وفي كل منهم الكفاية وزيادة، كما أن ما اطلعت عليه تفصيلاً من مؤلفاته السابق ذكرها، ومن كتاب "السلسبيل النقي" هذا، مما يشهد بالجهد المشكور للمؤلف في الحرص على التتبع والاستقصاء غاية وسعيه، وتنسيق ما توافر له من المواد العلمية في كل تر جمة، مع بيان الوقوف على ما قرر غيره أنه لم يجده، وتصويب ما وهم فيه غيره، وتمييز ما اشتبه على غيره، مع التسليم بأن مثل هذا لا يسلم منه أي جهد بشري، بما في ذلك جهد المؤلف نفسه، والكمال لله وحده.

كما لاحظت أن من لم يجد لهم تراجم في المصادر المتاحة له، أقل بكثير ممن ترجم لهم، وأن ممن لم يجدهم، من التمس لهم من القرائن والوسائل ما يرفع جهالتهم عيناً، بتعدد الرواة عنهم، أو حالاً بذكر ما وده من التعديل الفعلي بالتصحيح أو التحسين لبعض مروياتهم، أو وصف أحد الأسانيد المذكورين فيها بأن رجاله ثقات.

وهذا صنيع مفيد قد لا يلتفت إليه بعض المشتغلين بدراسة الأسانيد، وتحديد أحوال الرواة، وبخاصة المتأخرين عن سنة 300 هـ، رغم أن هذا متفق مع القواعد النقدية لبيان أحوال الرواة. وقد سبق للمؤلف مثل هذا الصنيع في مؤلفاته الأخرى التي حظيت بتقديم وثناء إخواني العلماء الذين
নিরবচ্ছিন্ন, যা মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করা—ইনশাআল্লাহ—সুন্নাহ নববীর ইলম অন্বেষণকারী গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ উপকারে আসবে, বিশেষ করে ৩০০ হিজরি পরবর্তী সনদসমূহের অধ্যয়নের ক্ষেত্রে, যেমনটি আমি আগে উল্লেখ করেছি।

তার পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলো আমার একদল বরেণ্য আলেম ভাইদের ভূমিকা, পর্যালোচনা এবং পরিপূরক সংযোজন লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছে, যাদের প্রত্যেকেই এই কাজের জন্য যথেষ্ট এবং তার চেয়েও বেশি। একইভাবে, তার উল্লিখিত পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ এবং এই "আস-সালসাবীলুন নাকি" গ্রন্থটি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত যা অবগত হয়েছি, তা প্রতিটি জীবনীর ক্ষেত্রে লেখকের অন্বেষণ ও অনুসন্ধানে তার সর্বোচ্চ পর্যায়ের একাগ্রতা এবং তার কাছে লভ্য ইলমী উপকরণগুলোর সুবিন্যস্তকরণের এক প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার সাক্ষ্য বহন করে। পাশাপাশি তিনি অন্যদের খুঁজে না পাওয়া বিষয়গুলো প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন, অন্যের ভ্রান্তি সংশোধন করেছেন এবং অন্যদের কাছে যা অস্পষ্ট ছিল তা পৃথক করে স্পষ্ট করেছেন। তবে এটি স্বীকার্য যে, মানুষের কোনো প্রচেষ্টাই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়, এমনকি লেখকের নিজের প্রচেষ্টাও; আর পূর্ণতা কেবল একমাত্র আল্লাহর জন্যই।

আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, তার নিকট লভ্য উৎসগুলোতে যাদের জীবনী তিনি খুঁজে পাননি, তাদের সংখ্যা যাদের জীবনী তিনি উল্লেখ করেছেন তাদের তুলনায় অনেক কম। আর যাদের তিনি খুঁজে পাননি, তাদের ক্ষেত্রে তিনি এমন কিছু আলামত ও মাধ্যম অনুসন্ধান করেছেন যা তাদের ব্যক্তি-অজ্ঞতা (জাহালাতুল আইন) দূর করে—তাদের থেকে বর্ণনাকারীর আধিক্যের মাধ্যমে; অথবা তাদের অবস্থা-অজ্ঞতা (জাহালাতুল হাল) দূর করে—তাদের কোনো কোনো বর্ণনার সহিহ বা হাসান হওয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রায়োগিক নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখ করে, অথবা যে সনদে তাদের নাম এসেছে তার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বলে বর্ণনা করার মাধ্যমে।

এটি একটি অত্যন্ত উপকারী পদ্ধতি যার প্রতি সনদ পর্যালোচনা ও বর্ণনাকারীদের অবস্থা নির্ধারণে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ—বিশেষ করে যারা ৩০০ হিজরি পরবর্তী বর্ণনাকারীদের নিয়ে কাজ করেন—হয়তো লক্ষ্য করেন না, যদিও এটি বর্ণনাকারীদের অবস্থা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অনুসৃত যাচাই-বাছাইয়ের মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। লেখকের অন্যান্য গ্রন্থেও ইতিপূর্বে এরূপ পদ্ধতির প্রতিফলন ঘটেছে, যা আমার আলেম ভাইদের ভূমিকা ও প্রশংসা লাভ করেছে যারা...
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٠)
لهم مكانتهم العلمية وخبرتهم المتميزة - كما لا يخفى.

وقد أشرت على فضيلة المؤلف ببعض الأمور اليسيرة في ورقة منفصلة، بما يجعل عمله أكمل، وأكثر فائدة -إن شاء الله-، وأسأل الله تعالي لي وله ولإخواننا في العلم مزيداً من التوفيق والسداد .. آمين.

وكتب الفقير إلى الله:

أحمد معبد عبد الكريم

أستاذ الحديث وعلومه بجامعة الأزهر

وبجامعة الإِمام محمَّد بن سعود الإِسلامية (سابقاً)

في 26 شعبان 1428 هـ.
তাদের জ্ঞানগত মর্যাদা এবং সুনিপুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে - যা অবিদিত নয়।

আমি মুহতারাম লেখকের নিকট একটি পৃথক কাগজে সামান্য কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যা ইনশাআল্লাহ তাঁর কাজটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ এবং অধিকতর উপকারী করে তুলবে। আমি মহান আল্লাহর নিকট আমার জন্য, তাঁর জন্য এবং ইলমের পথে আমাদের ভাইদের জন্য উত্তরোত্তর তাওফিক ও সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করছি.. আমীন।

আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক লিখিত:

আহমদ মা'বাদ আব্দুল কারীম

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রের অধ্যাপক

এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রাক্তন)

২৬ শাবান ১৪২৮ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١١)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم فضيلة الشيخ الوالد أبو الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني

الحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد:

فهذا الإصدار الرابع بتوفيق الله عز وجل من هذه السلسلة المباركة: (سلسلة تقريب رواة السنة بين يدي الأمة) لأخينا المبارك/ أبي الطيب نايف بن صلاح المنصوري -حفظه الله تعالي-، وهذا الإصدار تحت عنوان: "السلسبيل النقي في تراجم شيوخ البيهقي"، وكما سبق التنبيه في الإصدارات السابقة على أن الجهد المبذول في هذه السلسلة جهد لا يقدر قدره إلا من كان من أهل هذا الشأن، والحمد لله الذي أبقى هذه الهمم والعزائم في هذه الأمة المباركة، حتى تخدم دينها وتراثها، وتقرب ما بعد من الخير، وتدك صخور الطريق المعثرة للسير، وتطوي الطريق طيًا، أمام طلاب هذا العلم الشريف، وقد قمت بتلخيص ما أورده المؤلف في الترجمة، وحكمت على المترجم له بحكم مختصر، يوضح مكانته ورتبة حديثه، كما سبق في الإصدارات التي قبل هذا، وقد امتاز هذا الإصدار على غيره مما صدر من هذه السلسلة -وفي كلٍ خير- بعدة مميزات منها:

أ - أن المؤلف ذكر في مقدمته ترجمته ضافية للإمام البيهقي رحمه الله، قسمها إلى فصول وأبواب في أكثر من مائة ورقة، وأسماها: (معارج الرقي في ترجمة البيهقي)، وبهذا تكون هذه المقدمة مرجعًا حافلًا للباحثين في ترجمة هذا العالم الفذ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌শ্রদ্ধেয় পিতা শায়খ আবু আল-হাসান মুস্তফা ইবনে ইসমাইল আল-সুলাইমানীর উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

আল্লাহর তৌফিকে বরকতময় এই সিরিজের এটি চতুর্থ প্রকাশনা: (উম্মতের সামনে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের নিকটবর্তী করার সিরিজ) যা আমাদের বরকতময় ভাই আবু আল-তাইয়িব নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরীর—আল্লাহ তাআলা তাকে হেফজ করুন—কর্তৃক রচিত। এই প্রকাশনাটির শিরোনাম হলো: "বায়হাকীর শায়খদের জীবনীতে স্বচ্ছ সালসাবিল"। ইতিপূর্বের প্রকাশনাগুলোতে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সিরিজে যে শ্রম ব্যয় করা হয়েছে তার সঠিক মূল্যায়ন কেবল এই শাস্ত্রের পারদর্শীরাই করতে পারবেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এই বরকতময় উম্মতের মধ্যে এমন হিম্মত ও সংকল্প অবশিষ্ট রেখেছেন, যাতে তারা তাদের দ্বীন ও ঐতিহ্যের সেবা করতে পারে, দূরবর্তী কল্যাণকে নিকটবর্তী করতে পারে, চলার পথের বাধাগুলো চূর্ণ করতে পারে এবং এই মহান ইলমের তালিবে ইলমদের জন্য পথকে সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে। আমি লেখক জীবনবৃত্তান্তগুলোতে যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ করেছি এবং বর্ণিত ব্যক্তির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত হুকুম প্রদান করেছি, যা তার মর্যাদা এবং তার বর্ণিত হাদিসের স্তর স্পষ্ট করে, যেমনটি এই সিরিজের পূর্ববর্তী প্রকাশনাগুলোতেও করা হয়েছে। এই প্রকাশনাটি সিরিজের অন্যগুলোর তুলনায়—যদিও সবগুলোর মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে—বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, যার মধ্যে রয়েছে:

ক - লেখক তাঁর ভূমিকায় ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বিস্তারিত জীবনী উল্লেখ করেছেন, যা তিনি একশটিরও বেশি পৃষ্ঠায় বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: (বায়হাকীর জীবনীতে উন্নতির সোপান)। এর ফলে এই ভূমিকাটি এই অনন্য মনীষীর জীবনী নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য একটি সমৃদ্ধ উৎসে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٢)
ب - حرص المؤلف -حفظه الله- على استيعاب شيوخ وتلامذة المترجم له من شيوخ البيهقي، مع مراعاة ترتيبهم على حروف المعجم، ليسهل البحث عن أحدهم كما لا يخفى.

ج - كما اعتنى المؤلف بضبط أسماء البلدان، وموقعها الجغرافي في هذه الأزمان، فكشف بذلك عن أمر مبهم، وسبيل معتم أمام الطالب، ولا شك أن معرفة بلد الراوي لها فائدة عند المحدثين والناظرين في كلام أئمة الجرح والتعديل.

د - كما اعتنى المؤلف بذكر أسماء الكتب التي أخرج البيهقي للمترجم له فيها، وذلك عندما يذكر المؤلف أسماء تلامذة الراوي.

هـ - كما اهتم بنقل بعض الحكايات والأشعار في الترجمة، ليروح على الناظر في كتابه وليعرف بشيء من أحوال المترجم له من خلال كلماته وأشعاره، هذا وقدر نفع الله عز وجل بمؤلفات أخينا أبي الطيب طيَّب الله ذكره، وأسأل الله أن ينفع بهذا وغيره من نتاجه العلمي الرائع الفريد، وأن يقينا وإياه مصارع السوء والهلكة، وأن يختم للجميع بالحسنى.

إنه جواد كريم،،،

وصلى الله على نبينا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلم،،،

كتبه:

أبو الحسن السليماني

1/ ربيع أول/ 1430 هـ
খ - লেখক -আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন- আল-বায়হাকীর শাইখদের মধ্য হতে যাঁর জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাঁর শাইখ ও ছাত্রগণের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দিতে সচেষ্ট হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানোর প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, যাতে তাদের কাউকে খুঁজে বের করা সহজ হয়, যা কারো কাছেই অজানা নয়।

গ - একইভাবে লেখক দেশসমূহের নামের শুদ্ধ রূপ এবং বর্তমান সময়ে সেগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয় করার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীর সামনে একটি অস্পষ্ট বিষয় এবং অন্ধকার পথকে উন্মোচিত করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাবীর দেশ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা মুহাদ্দিসগণের নিকট এবং জারহ ও তা'দীল ইমামগণের বক্তব্য পর্যালোচনাকারীদের নিকট অত্যন্ত উপকারী।

ঘ - লেখক বর্ণনাকারীর ছাত্রদের নাম উল্লেখ করার সময় আল-বায়হাকী যে সমস্ত কিতাবে উক্ত রাবীর হাদীস বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর নাম উল্লেখ করার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

ঙ - লেখক জীবনীর মধ্যে কিছু ঘটনা ও কবিতা উদ্ধৃত করার প্রতিও মনোনিবেশ করেছেন, যাতে তাঁর কিতাব পাঠকারীর চিত্তবিনোদনের কারণ হয় এবং তাঁর কথা ও কবিতার মাধ্যমে জীবনীকারের অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়। আল্লাহ তা'আলা আমাদের ভাই আবু আত-তয়্যিবের -আল্লাহ তাঁর আলোচনাকে সুন্দর করুন- রচনার মাধ্যমে প্রভূত কল্যাণ দান করেছেন। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে এবং তাঁর অন্যান্য চমৎকার ও অনন্য ইলমী গবেষণার মাধ্যমে উপকার সাধন করেন, আর আমাদের ও তাঁকে মন্দ মৃত্যু ও ধ্বংস থেকে রক্ষা করেন এবং সকলের সমাপ্তি যেন কল্যাণের সাথে করেন।

নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও দয়ালু।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীসাথীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন:

আবুল হাসান আস-সুলাইমানী

১লা রবিউল আউয়াল, ১৪৩০ হিজরী।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌كلمة شكر

عملًا بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الّذي أخرجه أبو داود في سننه (2/ 295) (1) عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: "لا يشكر الله من لا يشكر النَّاس" فإني أشكر الله عز وجل على ما أسبغ وأنعم علي من آلاء عظيمة، فله الحمد أوَّلًا وآخرًا، وظاهرًا وباطنًا، ولا يفوتني أنّ أقدم الشكر الجزيل لشيخنا المفضال وأستاذنا الكبير المبجل فضيلة الدكتور/ أحمد معبد عبد الكريم، على ما تفضل به علي من وقت وجهد رغم كثرة مشاغله وارتباطاته العلمية، وعلى ما أبداه لي من نصح وإفادة وتوجيه وإشارة، فجزاه الله عني خير الجزاء، ونفع به وبعلمه، وبارك فيه وفي ماله وأهله وأولاده، إنّه سبحانه ولي ذلك والقادر عليه.

كما أني أيضًا أكرر شكري وتقديري لوالدي وشيخي المبارك أبي الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني، -حفظه الله تعالى-، على جهوده المتواصلة، ونصحه وتوجيهه الدؤوب، تجاه هذه السلسلة المباركة (سلسلة تقريب رواة السُّنَّة بين يدي الأُمَّة)، وغير ذلك، فكم له علي من إحسان وإفضال، وإكرام وإنعام، فما أنا وكثير من إخواني إِلَّا حسنة من حسناته، فالله أسأل أنّ يرفع قدره في الدَّارين، وأن يلبسه لباس الصِّحَّة والعافية المتكاملين، وأن يبارك لنا فيه، ويحفظه وأهله وأولاده وماله بحفظه الّذي لا يرام، ويكلؤه بعينه الّتي لا تنام، آمين آمين، والحمد لله رب العالمين.

--------------------------------------------

(1) انظر الصحيحة رقم (416)
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদিসের ওপর আমলস্বরূপ, যা আবু দাউদ তার 'সুনান' (২/২৯৫) (১) গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।" অতএব, আমি মহান আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি সেই মহান নেয়ামতসমূহের জন্য যা তিনি আমার ওপর অঝোরে বর্ষণ করেছেন। সুতরাং প্রথম ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁরই জন্য। আমি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় মহান উস্তাদ ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল করীমের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা পেশ করতে ভুলে যাচ্ছি না; তিনি তাঁর ব্যাপক ব্যস্ততা ও ইলমি কর্মতৎপরতা সত্ত্বেও আমাকে যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন এবং আমাকে যে নসিহত, উপকারিতা, দিকনির্দেশনা ও ইশারা প্রদান করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করুন এবং তাঁর সম্পদে, পরিবারে ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র সত্তা এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

অনুরূপভাবে আমি আমার পিতা ও বরকতময় শাইখ আবু আল-হাসান মুস্তফা বিন ইসমাঈল আস-সুলাইমানী—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন—এর প্রতি পুনরায় কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি; এই বরকতময় সিলসিলা (সিলসিলাতু তাকরিব রুওয়াত আস-সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ) এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা, নসিহত ও নিরলস দিকনির্দেশনার জন্য। আমার প্রতি তাঁর কতই না অনুগ্রহ, মহানুভবতা, সম্মান ও নেয়ামত রয়েছে! আমি এবং আমার অনেক ভাইয়েরা তাঁর অসংখ্য নেক আমলের মধ্যে একটি নেক আমল ছাড়া আর কিছুই নই। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন উভয় জাহানে তাঁর মর্যাদা উচ্চকিত করেন এবং তাঁকে পূর্ণ সুস্থতা ও নিরাপত্তার পোশাকে আবৃত করেন। তিনি যেন আমাদের জন্য তাঁর মাঝে বরকত দান করেন এবং তাঁর এমন হিফাযতের মাধ্যমে তাঁকে, তাঁর পরিবারকে, সন্তান-সন্ততিকে ও সম্পদকে রক্ষা করেন যা কখনো নস্যাৎ হয় না, এবং তাঁর সেই নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাঁকে দেখাশোনা করেন যা কখনো নিদ্রাচ্ছন্ন হয় না। আমীন, আমীন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আস-সহীহাহ, নং (৪১৬)
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أنّ لا إله إِلَّا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمدًا عبده ورسوله:

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أمّا بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمَّد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.

وبعد: فهذه هي المجموعة الرّابعة من "سلسلة تقريب رواة السُّنَّة بين يدي الأُمَّة"، يسعدني ويسرني أنّ أقدمها لإخواني الأفاضل الأماثل من محبي العلم الشريف، والباحثين عن رواة الحديث.

وليس من الخفي -كما يقول الإمام النووي-: لا إنَّ من أَهمِّ أنواع العلّوم معرفة علم الأسانيد: أعني معرفة حال رواتها، وصفاتهم المعتبرة، وضبط أنسابهم، ومواليدهم، ووفياتهم، وجرحهم، وتعديلهم، وغير ذلك من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন নিসা: ১] {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।

অতঃপর: এটি হচ্ছে "সিলসিলাতু তাকরীবু রুওয়াতিল সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ" (উম্মাহর নিকট সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের পরিচয় নিকটবর্তী করার ধারাবাহিকতা)-এর চতুর্থ সংকলন। ইলমে শরীফের অনুরাগী এবং হাদীস বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অনুসন্ধানকারী আমার সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ ভাইদের নিকট এটি পেশ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও প্রীত।

আর এটি কোনো গোপন বিষয় নয়—যেমনটি ইমাম নববী বলেছেন—: নিশ্চয়ই ইলমের গুরুত্বপূর্ণ প্রকারগুলোর অন্যতম হলো সনদ সংক্রান্ত ইলম অর্জন করা: অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের অবস্থা, তাদের গ্রহণযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ, তাদের বংশপরিচয়, জন্ম ও মৃত্যু তারিখ নিশ্চিত করা, তাদের জারাহ (ত্রুটি) ও তাদীল (নির্ভরযোগ্যতা) এবং এই সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়সমূহ জানা।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٦)
الصفات" (1).

ويقول الإمام أبو بكر محمَّد بن محمَّد بن علي خميس في مقدمة كتابه "تاريخ مالقة": "إنَّ أحسن ما يجب أنّ يُعْتنى به، وُيلَمُّ بجانبه، بعد الكتاب والسُّنَّة معرفة الأخبار، وتقييد المناقب والآثار، ففيها تذكرة بتقلب الدهر بأبنائه، وإعلام بما طرأ في سالف الأزمان من عجائبه وأبنائه، وتنبيه على أهل العلم الذين يجب أنّ تُتبع آثارهم، وتُدَوَّن مناقبهم وأخبارهم، ليكونوا كأنّهم ماثلون بين عينيك مع الرجال، ومتصرفون ومخاطبون لك في كلّ حال، ومعروفون بما هم به متصفون، فيتلو سُوْرهم من لم يعاين صورهم، ويشاهد محاسنهم من لم يعطه السِّن أنّ يعاينهم، فيعرف بذلك مراتبهم ومناصبهم، ويعلم المتصرف منهم في المنقول والمفهوم، والمتميز في المحسوس والمرسوم، ويتحقق منهم من كَسَته الآداب حُليّها، وأرضعته الرياسة ثديها، فيجِدَّ في الطلب ليلحق بهم، ويتمسك بسببهم (2).

ويقول العلّامة المعلمي: إنَّ معرفة أحوال الرجال هي نفسُها من أَهمِّ فروع التاريخ (3).

فمشاركة في تقريب حملة هذا العلم، وبيان مناقبهم ومآثرهم السامية، فإني قد جمعت في هذه المجموعة -الّتي أسميتها "السلسبيل النقي في تراجم شيوخ البَيْهقي "- مشيخة أحد شيوخ الإسلام، وأئمته الأعلام،

--------------------------------------------

(1) "ما تمس إليه حاجة القاري" ص (16).

(2) "الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التارريخ" ص (49).

(3) "علم الرجال وأهميته" ص (17).
সিফাতসমূহ" (১)।

ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী খামিস তাঁর "তারিখে মালাকা" গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "নিশ্চয়ই কিতাব ও সুন্নাহর পরে যে বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং যার প্রতি মনোনিবেশ করা সবচেয়ে বেশি আবশ্যক, তা হলো ইতিহাস ও সংবাদের জ্ঞান এবং গুণাবলি ও পদাঙ্কসমূহ লিপিবদ্ধ করা। কারণ এর মধ্যে যুগের বিবর্তনে মানুষের অবস্থার পরিবর্তনের স্মারক রয়েছে, এবং অতীতকালে ঘটে যাওয়া বিস্ময়কর ঘটনাবলি ও মানুষের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর এটি সেইসব আলিমগণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা আবশ্যক এবং যাদের গুণাবলি ও সংবাদ লিপিবদ্ধ করা উচিত, যাতে তারা আপনার চোখের সামনে বিদ্যমান ব্যক্তিদের মতোই সজীব থাকেন এবং সর্বাবস্থায় আপনার সাথে বিচরণকারী ও সম্বোধনকারী হিসেবে প্রতীয়মান হন। তারা তাদের গুণের মাধ্যমেই সুপরিচিত হন; ফলে যে ব্যক্তি তাদের চাক্ষুষ দেখেনি সে তাদের জীবনী পাঠ করে এবং যাকে সময় তাদের দেখার সুযোগ দেয়নি সে তাদের সৌন্দর্য অবলোকন করে। এর মাধ্যমে তাদের মর্তবা ও পদমর্যাদা সম্পর্কে জানা যায় এবং তাদের মধ্যে কে বর্ণনাভিত্তিক ও বোধগম্য জ্ঞানে পারদর্শী এবং কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও প্রথাগত বিষয়ে শ্রেষ্ঠ তা অবগত হওয়া যায়। আর তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিকে সুনিশ্চিতভাবে চেনা যায় যাকে শিষ্টাচার স্বীয় অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করেছে এবং নেতৃত্ব যাকে লালন-পালন করেছে। ফলে সে যেন তাদের স্তরে পৌঁছানোর জন্য অন্বেষণে ব্রতী হয় এবং তাদের আদর্শকে ধারণ করে (২)।

আল্লামা মুআল্লিমী বলেন: নিশ্চয়ই রিজাল বা বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা (৩)।

এই ইলমের বাহকদের কাছাকাছি নিয়ে আসার এবং তাদের সুউচ্চ গুণাবলি ও মহান কীর্তিসমূহ বয়ান করার প্রয়াস হিসেবে আমি এই সংকলনে - যার নাম আমি দিয়েছি "আস-সালসাবিলুন নাকি ফী তারাজিমি শুয়ুখিল বায়হাকী" - শাইখুল ইসলাম ও প্রখ্যাত ইমামগণের মধ্য হতে একজনের উস্তাদদের তালিকা একত্রিত করেছি,

--------------------------------------------

(১) "মা তামাসসু ইলাইহি হাজাতুল ক্বারী" পৃষ্ঠা (১৬)।

(২) "আল-ই'লান বিত-তাওবীখ লিমান জাম্মাত তারিখ" পৃষ্ঠা (৪৯)।

(৩) "ইলমুর রিজাল ওয়া আহাম্মিয়াতুহু" পৃষ্ঠা (১৭)।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٧)
الجامعين بين علم الحديث والأحكام، أعني ذاك العلم الشامخ الهمام؛ أبا بكر أحمد بن الحسين البَيْهقي الحافظ الإمام، قمت بجمع ذلك من كتبه المطبوعة الّتي بلغت سبعةً وعشرين مصنِّفًا مُوثقًا ذلك بالعزو إليها عند ذكري له، وفي أول مصادر التّرجمة، فإن لم أجده فيها ونص إمام على روايته عنه ذكرته؛ مع بيان ذلك عند ذكرى له، والعهدة في ذلك على من نصّ على ذلك، ومصنفاته المطبوعة الّتي وقفت عليها هي:

"السنن الكبرى" الطبعة الحجرية، و"السنن الصغرى" مع شرح الأعظمي مكتبة الرشد، و"الجامع لشعب الإيمان" مكتبة الرشد، و"مناقب الشّافعيّ" دار التراث القاهرة، و"معرفة السنن والآثار" دار الكتب العلمية، و"الزهد الكبير" مؤسسة الكتب الثقافية، و"القضاء والقدر" مكتبة الرشد، و"الاعتقاد" دار الفضيلة، و"الأسماء والصفات" مكتبة السوادي للتوزيع، و"فضائل الأوقات" مكتبة المنارة، و"الآداب" مؤسسة الكتب الثقافية، و"بيان خطأ من أخطأ على الشّافعيّ" مؤسسة الرسالة، و"الخلافيات" دار الصميعي، و"دلائل النبوة" دار الكتب العلمية، و"المدخل إلى السنن" أضواء السلف، و"إثبات عذاب القبر" مكتبة التراث الإِسلامي، و"المدخل إلى دلائل النبوة" مطبوع ضمن "الدلائل"، و"البعث والنشور" مؤسسة الكتب الثقافية، و"القراءة خلف الإمام" دار الكتب العلمية، و"أحكام القرآن" دار إحياء العلوم، و"الدعوات الكبير" منشورات مركز المخطوطات والتراث والوثائق، و"رسالة إلى أبي محمَّد الجويني"، و"رسالة إلى عميد الملك" وهما ضمن ترجمته من "طبقات الشّافعيّة الكبرى"، والأولى طبعت مستقلة، بتحقيق أبي عبيد الله فراس بن خليل مشعل، الناشر: دار
হাদীস বিজ্ঞান এবং বিধানের (আহকাম) সমন্বয়কারী, আমি সেই সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও মহান ব্যক্তিত্বকে বুঝাচ্ছি; যিনি হলেন আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাকী, আল-হাফিজ আল-ইমাম। আমি তাঁর সাতাশটি প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে এগুলি সংগ্রহ করেছি এবং আমার বর্ণনার সময় সংশ্লিষ্ট গ্রন্থের প্রতি সম্বন্ধ করার মাধ্যমে তা তথ্যসূত্রসহ প্রামাণ্য করেছি। আর জীবনীর উৎসসমূহের শুরুতে [তা উল্লেখ করেছি], যদি আমি সেখানে তা না পাই কিন্তু কোনো ইমাম তাঁর থেকে সেটি বর্ণিত হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট বর্ণনা করেন, তবে আমি তা উল্লেখ করেছি; এবং তা বর্ণনার সময় বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছি, আর এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা সেই ব্যক্তির ওপর যিনি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ যেগুলোর ওপর আমি অবগত হয়েছি সেগুলো হলো:

"আস-সুনানুল কুবরা" লিথোগ্রাফিক সংস্করণ, এবং "আস-সুনানুস সুগরা" আল-আজমী-র ব্যাখ্যাসহ মাকতাবাতুর রুশদ, এবং "আল-জামি লি শুআবুল ঈমান" মাকতাবাতুর রুশদ, এবং "মানাকিবুশ শাফিয়ী" দারুত তুরাস কায়রো, এবং "মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার" দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, এবং "আয-যুহদুল কাবীর" মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ, এবং "আল-কাদা ওয়াল কাদার" মাকতাবাতুর রুশদ, এবং "আল-ইতিকাদ" দারুল ফাদিলাহ, এবং "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" মাকতাবাতুস সাওয়াদী লিত-তাওজি, এবং "ফাদাইলুল আওকাত" মাকতাবাতুল মানারাহ, এবং "আল-আদাব" মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ, এবং "বায়ানু খতায়ি মান আখতায়া আলাশ শাফিয়ী" মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, এবং "আল-খিলাফিয়াত" দারুস সুমাইয়ি, এবং "দালাইলুন নুবুওয়াহ" দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, এবং "আল-মাদখাল ইলাস সুনান" আদওয়াউস সালাফ, এবং "ইসবাতু আজাবিল কবর" মাকতাবাতুত তুরাসিল ইসলামি, এবং "আল-মাদখাল ইলা দালাইলিন নুবুওয়াহ" যা "আদ-দালাইল" এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত, এবং "আল-বাস ওয়াল নুশুর" মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ, এবং "আল-কিরাত খালফাল ইমাম" দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, এবং "আহকামুল কুরআন" দারু ইহয়াইল উলুম, এবং "আদ-দাওয়াতুল কাবীর" পাণ্ডুলিপি, ঐতিহ্য ও দলিল কেন্দ্রের প্রকাশনা, এবং "রিসালা ইলা আবি মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি", এবং "রিসালা ইলা আমীদিল মুলক", আর এই উভয়টি "তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা"-তে তাঁর জীবনীর অধীনে রয়েছে, এবং প্রথমটি আবু উবাইদুল্লাহ ফিরাস ইবনে খলিল মিশআলের সম্পাদনায় স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে, প্রকাশক: দার...
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٨)
البشائر الإِسلامية، بيروت- سنة 1428هـ، و"حياة الأنبياء في قبورهم" مكتبة العلّوم والحكم، و"جز الجويباري في مسائل عبد الله بن سلام" ضمن أجزاء حديثية تحقيق مشهور، و"الرَّدِّ على الانتقاد على الشّافعيّة في اللُّغة"، دار البخاريّ للنشر والتوزيع، بريدة.

وقد ذكرت بين يدي هذه المجموعة من هذه السلسلة المباركة -إن شاء الله تعالي- ترجمته موسعة (1) لصاحب "المشيخة" أبي بكر البَيْهقي -رحمه الله تعالى- اشتملت على ثلاثة فصول:

الفصل الأوّل: سيرته العلّمية، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأوّل: هويته.

--------------------------------------------

(1) وقد أشار على بعض إخواني به. فرادها في رسالة مستقلة، وقد كنت استحسنت ذلك، وأسميتها "معارج الرقي في ترجمته البَيْهَقِيِّ"، ثمّ رأيت أنّ ذكرها في مقدمة هذا "المعجم" أنسب، ومعرفة ما فيها فيه أوفق، لما تضمنته من بيان لمنزلة هذا الإمام، الّذي جُمِعَ له في عصره أئمة الإسلام، فتنور بعلومهم، واستضاء بفهومهم، واتبع رسومهم، حتّى صار علمًا يقتدي به، وإمامًا يرجع إليه، فرحمه الله ورضي عنه.

تنبيه ذكر العلّامة السخاوي في كتابه "وجيز الكلام في الذيل على دول الإسلام" (3/ 1197) أنّ له مصنفًا في ترجمة البَيْهقي بعنوان: "القول المُرْتقي في ترجمة البَيْهقي"، وقد أشار إليه -أيضًا - في "إرشاد الغاوي"، و"الضوء اللامع"، فقال في "إرشاد الغاوي": منها الجزء الّذي أفردته في ترجمته البَيْهقي. وفي موضع آخر قال: كترجمة البَيْهقي الّتي أفردتها بالتأليف. وذكره إسماعيل الباشا، والكتاني. انظر: "فهرس الفهارس" (2/ 990)، و"إيضاح المكنون" (2/ 253)، و"الحافظ السخاوي وجهوده في الحديث وعلومه" ص (306).

وللدكتور نجم عبد الرّحمن خلق رسالة بعنوان: "الإمام البيهقي شيخ الفقه والحديث وصاحب السنن الكبرى" استلها من كتابه "الصناعة الحديثية"، وقد طبعت في دار القلم، دمشق سنة 1414هـ.
আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত- ১৪২৮ হিজরী, এবং "হায়াতুল আম্বিয়া ফি কুবুরিহিম" (কবরে নবীদের জীবন), মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, এবং মাশহুর কর্তৃক সম্পাদিত হাদিস সংকলনের অন্তর্ভুক্ত "জুযউল জুইবারী ফি মাসায়িলি আবদিল্লাহ বিন সালাম", এবং "আর-রাদ্দু আলাল ইনতিকাদ আলাশ শাফিইয়্যাহ ফিল লুগাহ" (ভাষা বিষয়ে শাফেয়ীগণের ওপর সমালোচনার জবাব), দারুল বুখারী প্রকাশনা ও পরিবেশনা, বুরাইদাহ।

আমি এই বরকতময় ধারাবাহিকের এই সংকলনের শুরুতে —ইনশাআল্লাহ তাআলা— "আল-মাশইয়াখাহ" গ্রন্থের লেখক আবু বকর আল-বায়হাকী —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— এর একটি বিস্তারিত জীবনী (১) উল্লেখ করেছি, যা তিনটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:

প্রথম অধ্যায়: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিচয়।

--------------------------------------------

(১) আমার জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ফলে আমি তা একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় বিন্যস্ত করি। আমি বিষয়টি পছন্দ করেছিলাম এবং এর নামকরণ করেছিলাম "মাআরিজুর রুক্বি ফি তারজামাতি আল-বায়হাকী" (আল-বায়হাকীর জীবনীতে উন্নতির সোপান)। অতঃপর আমি দেখলাম যে, এই "মু'জাম"-এর ভূমিকায় তা উল্লেখ করা অধিকতর সঙ্গতিপূর্ণ এবং এতে যা বর্ণিত হয়েছে তা অবগত হওয়া অধিকতর উপযোগী। কারণ এতে এই ইমামের সুউচ্চ মর্যাদার বিবরণ রয়েছে, যাঁর যুগে ইসলামের ইমামগণ তাঁর নিকট সমবেত হয়েছিলেন; ফলে তিনি তাঁদের জ্ঞানের দ্বারা আলোকিত হয়েছেন, তাঁদের প্রজ্ঞার মাধ্যমে আলোকবর্তিকা লাভ করেছেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, এমনকি তিনি এমন এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন যাঁকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করা হয় এবং এমন এক ইমামে পরিণত হয়েছেন যাঁর দিকে সকলে প্রত্যাবর্তন করে। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

সতর্কতা: আল্লামা সাখাবী তাঁর "ওয়াজিজুল কালাম ফিজ জাইলি আলা দুওয়ালিল ইসলাম" (৩/১১৯৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল-বায়হাকীর জীবনীতে তাঁর একটি রচনা রয়েছে যার শিরোনাম: "আল-কাওলুল মুরতাকী ফি তারজামাতি আল-বায়হাকী"। তিনি এর প্রতি "ইরশাদুল গাভী" এবং "আদ-দাওউল লামি" গ্রন্থেও ইঙ্গিত করেছেন। তিনি "ইরশাদুল গাভী"-তে বলেছেন: "তার মধ্য হতে সেই অংশটি যা আমি আল-বায়হাকীর জীবনীর জন্য স্বতন্ত্র করেছি।" অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন: "যেমন আল-বায়হাকীর জীবনী যা আমি স্বতন্ত্রভাবে রচনা করেছি।" ইসমাইল পাশা এবং কাত্তানিও এটি উল্লেখ করেছেন। দেখুন: "ফিহরিসুল ফাহারিস" (২/৯৯০), "ঈজাহুল মাকনুন" (২/২৫৩), এবং "আল-হাফিজ আস-সাখাবী ওয়া জুহুদুহু ফিল হাদিসি ওয়া উলুমিহি" পৃষ্ঠা (৩০৬)।

ড. নাজমু আবদুর রহমান খালাফ-এর একটি পুস্তিকা রয়েছে যার শিরোনাম: "আল-ইমাম আল-বায়হাকী শায়খুল ফিকহি ওয়াল হাদিসি ওয়া সাহিবুস সুনানিল কুবরা" (ইমাম বায়হাকী: ফিকহ ও হাদিসের শায়খ এবং সুনানে কুবরার রচয়িতা)। এটি তিনি তাঁর "আস-সিনাআতুল হাদিসিয়্যাহ" গ্রন্থ থেকে চয়ন করেছেন; যা ১৪১৪ হিজরীতে দামেস্কের দারুল কলাম থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٩)
1 - اسمه ونسبه.

2 - كنيته.

3 - لقبه.

4 - نسبته.

5 - ولادته.

6 - أسرته.

7 - طبقته.

8 - تاريخ وفاته، ومكأنّها.

9 - رثاؤه.

المبحث الثّاني: بعض أخلاقه وسجاياه:

1 - عبادته وزهده وورعه وتقواه.

2 - ذكاؤه وحفظه وإتقانه.

3 - بعض أشعاره.

4 - رؤيته رب العزة عز وجل في. النوم.

المبحث الثّالث: مذهبه الاعتقادي والفقهي:

1 - مذهبه الاعتقادي.

2 - مذهبه الفقهي.

* سبب اختياره لمذهب الشّافعيّ.

* خدمته لمذهب الشّافعيّ ونصرته له.

* أول من جمع نصوص الشّافعيّ.

الفصل الثّاني: سيرته العلمية، وفيه خمسة مباحث:
১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

২ - তাঁর উপনাম (কুনিয়াত)।

৩ - তাঁর উপাধি (লাকাব)।

৪ - তাঁর নিসবত (ভৌগোলিক বা পারিবারিক সম্পর্ক)।

৫ - তাঁর জন্ম।

৬ - তাঁর পরিবার।

৭ - তাঁর স্তর (তাবাকাহ)।

৮ - তাঁর মৃত্যুর তারিখ ও স্থান।

৯ - তাঁর শোকগাথা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর কিছু চরিত্র ও গুণাবলি:

১ - তাঁর ইবাদত, দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ), পরহেজগারি ও তাকওয়া।

২ - তাঁর মেধা, প্রখর স্মৃতিশক্তি ও পারদর্শিতা।

৩ - তাঁর কিছু কবিতা।

৪ - স্বপ্নে মহান প্রতিপালককে দর্শন করা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদাগত ও ফিকহি মাযহাব:

১ - তাঁর আকিদাগত মাযহাব।

২ - তাঁর ফিকহি মাযহাব।

* শাফেয়ি মাযহাব গ্রহণ করার কারণ।

* শাফেয়ি মাযহাবের সেবা এবং এর সপক্ষে তাঁর সাহায্য।

* ইমাম শাফেয়ি-র মূল বক্তব্যসমূহ সর্বপ্রথম সংগ্রহকারী।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনী, এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
المبحث الأوّل: بداية طلحة للعلم وسماعه الحديث.

المبحث الثّاني: نشأته العلمية.

المبحث الثّالث: رحلاته.

(1) رحلته إلى بلاد خراسان.

(أ) نيسابور.

(ب) طوس.

(ج) الدامغان.

(د) إسفرايين.

(2) رحلته إلى العراق.

(3) رحلته الأولى إلى الحجاز.

(4) رحلته الثّانية إلى الحجاز، والعراق.

(5) رحلته إلى بلاد الجبال، ويقال: الجبل.

(أ) همذان.

(ب) أسداباذ.

(ج) قِرْمِيْسِيْن.

(د) ساوة.

(هـ) الرَّي.

المبحث الرّابع: شيوخه، وفيه فوائد:

الفائد؛ الأولى: فيما يتعلّق بذكر ما قيل في عددهم.

الفائد؛ الثّانية: فيما يتعلّق بذكر من أفردهم أو ترجم لهم.

الفائد؛ الثّالثة: في ذكر أبرز المؤثرين من شيوخه في مجرى حياته
প্রথম পরিচ্ছেদ: তালহার জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা এবং তাঁর হাদিস শ্রবণ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সফরসমূহ।

(১) খোরাসান ভূখণ্ডে তাঁর সফর।

(ক) নিশাপুর।

(খ) তুস।

(গ) দামগান।

(ঘ) ইসফারায়িন।

(২) ইরাকে তাঁর সফর।

(৩) হিজাজে তাঁর প্রথম সফর।

(৪) হিজাজ ও ইরাকে তাঁর দ্বিতীয় সফর।

(৫) জিবাল ভূখণ্ডে তাঁর সফর, যাকে ‘আল-জাবাল’ও বলা হয়।

(ক) হামাদান।

(খ) আসাদাবাদ।

(গ) কিরমিসিন।

(ঘ) সাওয়াহ।

(ঙ) রায়।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ, এবং এতে কিছু জ্ঞাতব্য বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: তাঁদের সংখ্যা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সেই সংক্রান্ত বিবরণ।

দ্বিতীয় বিষয়: যাঁরা তাঁদের নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে লিখেছেন অথবা তাঁদের জীবনী বর্ণনা করেছেন সেই সংক্রান্ত বিবরণ।

তৃতীয় বিষয়: তাঁর জীবনপ্রবাহে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে প্রভাববিস্তারকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢١)
وتكوينه العلّمي.

الفائدةُ الرّابعة: في ذكر أكبر شيوخه.

الفائدةُ الخامسة: في ذكر الشيوخ الذين روى عنهم الحاكم والبَيْهقي معًا.

الفائدةُ السّادسة: في ذكر بعض مصنفات الحديث الّتي لم تقع له.

المبحث الخامس: تلاميذه:

الفصل الثّالث: علومه وآثاره العلمية ومكانته بين العلماء، وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأوّل: نبذة عن بعض العلوم الّتي برز فيها.

المبحث الثّاني: آثاره ومصنفاته:

(1) بداية تصنيفه.

(2) مكانته في التنصنيف.

(3) عدد مصنفاته.

(4) تنافس العلماء وطلبة العلم على تحصيل كتبه وسماعها.

(5) شرطه في مصنفاته.

(6) مسرد عام بمصنفاته.

المبحث الثّالث: مكانته بين العلماء.

المبحث الرّابع: موقعه بين أئمة الجرح والتعديل.

وأمّا منهجي في هذه المجموعة فقد رتبتها على حروف المعجم، وسلكت في ذلك ما سلكته في المجموعة السابقة المتعلّقة بشيوخ أبي عبد الله الحاكم، المسماه ب "الروض الباسم في تراجم شيوخ الحاكم"، وأنبه هنا على أمور:
এবং তাঁর ইলমি গঠন।

চতুর্থ ফায়দা: তাঁর শ্রেষ্ঠ উস্তাদগণের বর্ণনায়।

পঞ্চম ফায়দা: সেইসব উস্তাদগণের বর্ণনায় যাদের থেকে হাকেম ও বায়হাকি উভয়ে বর্ণনা করেছেন।

ষষ্ঠ ফায়দা: হাদিসের সেই সব কিতাবসমূহের বর্ণনায় যা তিনি পাননি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর জ্ঞানসমূহ, ইলমি অবদান এবং উলামাদের মাঝে তাঁর মর্যাদা, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সেই সব জ্ঞানসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যাতে তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর অবদান ও রচনাবলি:

(১) তাঁর রচনার সূচনা।

(২) গ্রন্থ রচনায় তাঁর মর্যাদা।

(৩) তাঁর রচনাবলির সংখ্যা।

(৪) তাঁর কিতাবসমূহ সংগ্রহ ও শ্রবণ করার ক্ষেত্রে আলেম ও তালিবে ইলমদের প্রতিযোগিতা।

(৫) তাঁর রচনাবলির ক্ষেত্রে তাঁর শর্ত।

(৬) তাঁর রচনাবলির সাধারণ তালিকা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উলামাদের মাঝে তাঁর মর্যাদা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জারাহ ও তা’দিলের ইমামদের মাঝে তাঁর অবস্থান।

আর এই সংকলনে আমার কর্মপদ্ধতি হলো, আমি একে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি এবং এক্ষেত্রে আমি সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি যা আবু আব্দুল্লাহ হাকেমের উস্তাদগণের জীবনী সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সংকলনে অনুসরণ করেছিলাম, যার নাম "আর-রাওদুল বাসিম ফি তারাজিমি শুয়ুখিল হাকেম", আর আমি এখানে কিছু বিষয়ে সতর্ক করতে চাই:
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
(1) لقد حاولت أنّ أذكر في هذه المجموعة جميع شيوخ المترجم له، وجميع الرواة عنه، ناسبًا لهم، ومرتبًا ذلك على حروف المعجم، قال العلّامة عبد الرّحمن بن يحيى المعلمي -وهو يتحدث عن طريقتهم في وضع التراجم-: ثمّ يذكرون مشايخه والرواة عنه، ولذلك فوائد كثيرة:

منها: معرفة مقدار طلبه للعلّم ونشره له.

ومنها: دفع شبهة التكرار.

ومنها: التنبيه على السقط، والزيادة، والتصحيف، والتحريف، والتقديم والتأخير.

ومنها: أنّ يعرف تاريخ ولادة صاحب التّرجمة، وتاريخ وفاته تقريبًا إذا لم يُعرف تحقيقًا.

وهناك فوائد أخرى، وبذلك يُعلمُ حُسْنُ صنيع المزي في "تهذيب الكمال، فإنّه يحُاول أنّ يذكر في ترجمته الرَّجل جميع شيوخه، وجميع الرواة عنه، ولنِعْمَ ما صَنَعَ (1).

(2) ضبطت المشتبه من أسماء الأماكن والبلدان -عند أول موضع ذُكِرَت فيه- بالحروف، مع بيان موقعها في العصر الحديث.

(3) حرصت على جمع ما تفرق وتناثر من كلام الإمام الحجة أبي بكر البَيْهقي في شيوخه هؤلاء الذين أودعتهم هذه المجموعة، سواء ما كان له تعلّق بالجرح والتعديل، أو كان له تعلّق ببيان موضع السماع، وكيفيته، وتاريخه، ونحو ذلك من الفوائد الّتي لا تخفى أهميتها على المبتغي حكمًا كليًا على التّرجمة، وقد أوردت ذلك كله عند ذكري لرواية البَيْهقي عنه.

--------------------------------------------

(1) "معرفة علم الرجال وأهميته" ص (67 - 74).
(1) আমি এই সংকলনে জীবনীকার ব্যক্তিটির সকল শায়খ এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারী সকল বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি, তাঁদের বংশপরিচয় প্রদান করে এবং বর্ণানুক্রমে তা সাজিয়ে। আল্লামা আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি—জীবনচরিত রচনার ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতির বর্ণনা দিতে গিয়ে—বলেছেন: অতঃপর তাঁরা তাঁর শায়খদের এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করেন, আর এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে:

তন্মধ্যে একটি হলো: তাঁর ইলম অন্বেষণ এবং তা প্রচার-প্রসারের পরিমাণ সম্পর্কে জানা।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো: পুনরাবৃত্তির সন্দেহ দূর করা।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো: বাদ পড়া, সংযোজন, লেখনী বিভ্রাট, বিকৃতি এবং আগে-পিছে হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা।

তন্মধ্যে আরও একটি হলো: যাঁর জীবনী রচিত হচ্ছে, তাঁর সঠিক জন্ম ও মৃত্যু তারিখ নিশ্চিতভাবে জানা না থাকলে অন্তত তার একটি আনুমানিক সময় জানা যায়।

এছাড়া আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। এর মাধ্যমেই ‘তহযীবুল কামাল’ গ্রন্থে মিযযীর কাজের মাহাত্ম্য অনুধাবন করা যায়, কেননা তিনি কোনো ব্যক্তির জীবনীতে তাঁর সকল শায়খ এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারী সকল বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করার চেষ্টা করেছেন; আর তিনি কতই না চমৎকার কাজ করেছেন! (১)।

(2) স্থান ও জনপদসমূহের নামের ক্ষেত্রে যেখানে বিভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আমি সেগুলো—যেখানে প্রথমবার উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে—বর্ণানুসারে স্পষ্ট করে দিয়েছি এবং বর্তমান যুগে সেগুলোর অবস্থান বর্ণনা করেছি।

(3) ইমাম হুজ্জাহ আবু বকর আল-বায়হাকী এই সংকলনে উল্লিখিত তাঁর এই শায়খদের সম্পর্কে যে সমস্ত বিক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা সংগ্রহ করার বিষয়ে আমি সচেষ্ট ছিলাম। চাই তা ‘জারাহ ও তাদীল’ (দোষ ও গুণ বিচার) সংক্রান্ত হোক, কিংবা শ্রবণের স্থান, পদ্ধতি ও তারিখ বর্ণনা সংক্রান্ত হোক, অথবা এজাতীয় অন্যান্য উপকারিতা হোক—যার গুরুত্ব কোনো জীবনীর ওপর সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রত্যাশী ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট নয়। ইমাম বায়হাকী তাঁর থেকে যে বর্ণনাটি করেছেন, তা উল্লেখ করার সময় আমি এই সবকিছুই সেখানে সন্নিবেশিত করেছি।

--------------------------------------------

(১) "মা'রিফাতু ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতুহু" পৃষ্ঠা (৬৭ - ৭৪)।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
(4) إذا كان الشّيخ قد تُرجم له في الكتاب الآخر "الروض الباسم في تراجم شيوخ الحاكم"، فإني لا أكتفي بالإحالة إليه فحسب، كما فعلت ذلك فيه، وفي "مشيخته" الدارقطني قبله، بل أذكر التّرجمة برمتها.

(5) اعتنيت بعمل فهارس فنية متكاملة، تدل الباحث على بغيته ممّا أودعته هذه المجموعة بأسهل وسيلة وأقرب طريقة.

هذا ما أردت بيانه في هذه المقدِّمة، والله أسأل أنّ يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن يوفقني لإتمام ما تبقى من هذه السلسلة المباركة -إن شاء الله تعالى- خدمة لسنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، والله ولي التوفيق.

كتبه الفقير إلى عفو ربه:

أبو الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري

بمكتبة دار الحديث الخيرية بمأرب -حرسها الله-

والقائمين عليها من كلّ سوء ومكروه

ليلة الأحد 29/ رجب/ 1428 هـ

هاتف: 777863561
(4) যদি শায়খের জীবনী অন্য গ্রন্থ "আর-রওদুল বাসিম ফি তারাজিমি শুয়ুখিল হাকিম"-এ বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি কেবল তার উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হইনি, যেমনটি আমি উক্ত গ্রন্থে এবং তার আগে দারাকুতনীর "মাশইয়াহাত"-এ করেছি; বরং আমি এখানে পূর্ণ জীবনীটিই উল্লেখ করেছি।

(5) আমি একটি পূর্ণাঙ্গ ও শৈল্পিক নির্ঘণ্ট তৈরির যত্ন নিয়েছি, যা গবেষককে এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে অত্যন্ত সহজ পন্থায় ও নিকটতম উপায়ে পথপ্রদর্শন করবে।

এই ভূমিকায় আমি এ বিষয়গুলোই স্পষ্ট করতে চেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমতে এই বরকতময় সিলসিলার অবশিষ্ট অংশ সমাপ্ত করার তাওফীক দান করেন—ইনশাআল্লাহ তাআলা। আল্লাহই সফলতার মালিক।

তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী কর্তৃক লিখিত:

আবু তাইয়্যেব নায়েফ ইবনে সালাহ ইবনে আলী আল-মানসুরি

মারেবের দারুল হাদীস আল-খাইরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে—আল্লাহ একে রক্ষা করুন—

এবং এর পরিচালকদের সকল প্রকার অনিষ্ট ও অপছন্দনীয় বিষয় থেকে রক্ষা করুন

রবিবার রাত ২৯শে রজব, ১৪২৮ হিজরি

ফোন: ৭৭৭৮৬৩৫৬১
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌ترجمة الإمام البَيْهقي

‌‌الفصل الأوّل: سيرته العلمية

‌‌المبحث الأوّل: هويته

‌‌(1) اسمه ونسبه:

هو أحمد بن الحسين بن علي بن عبد الله بن موسى.

كذا نسبه غير واحد، منهم: عبد الغافر الفارسي في "السياق" كما في "المنتخب" ص (231)، وابن الجوزي في "المنتظم" (16/ 97)، وابن عساكر في "التبيين" ص (266)، وعلي بن المفضل المقدسي في "الأربعين" ص (511)، وياقوت الحموي في "معجم البلدان" (1/ 639)، وابن الصلاح في "طبقاته" (1/ 332)، وابن خلكان في "وفيات الأعيان" (1/ 75)، والسبكي في "طبقاته" (4/ 8)، وابن كثير في "البداية" (16/ 9)، وغيرهم.

وأمّا السمعاني في "الأنساب" (1/ 461)، وابن الأثير في "اللباب" (1/ 202)، فقد قَدَّما وأخرا في نسبه فقالا: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى بن عبد الله، وقد رجح ما ذهبا إليه الشّيخ مشهور بن حسن آل سلمان
ইমাম বায়হাক্বীর জীবনী

প্রথম অধ্যায়: তাঁর ইলমি জীবন

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিচয়

(১) তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা।

একাধিক মনীষী তাঁর বংশপরিচয় এভাবেই উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল গাফির আল-ফারিসি "আস-সিয়াক" গ্রন্থে যেমনটি "আল-মুনতাখাব" (পৃ. ২৩১)-এ এসেছে, ইবনুল জাওযি "আল-মুনতাযাম" (১৬/৯৭) গ্রন্থে, ইবনে আসাকির "আত-তাবয়ীন" (পৃ. ২৬৬) গ্রন্থে, আলী বিন আল-মুফাদ্দাল আল-মাকদিসি "আল-আরবাঈন" (পৃ. ৫১১) গ্রন্থে, ইয়াকুত আল-হামাভি "মু'জামুল বুলদান" (১/৬৩৯) গ্রন্থে, ইবনুস সালাহ "তাবাকাত" (১/৩৩২) গ্রন্থে, ইবনে খাল্লিকান "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" (১/৭৫) গ্রন্থে, আস-সুবকি "তাবাকাত" (৪/৮) গ্রন্থে, ইবনে কাসির "আল-বিদায়া" (১৬/৯) গ্রন্থে এবং আরও অনেকে।

পক্ষান্তরে আস-সামআনি "আল-আনসাব" (১/৪৬১) গ্রন্থে এবং ইবনুল আসির "আল-লুবাব" (১/২০২) গ্রন্থে তাঁর বংশপরম্পরায় নামের বিন্যাস আগে-পিছে করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা বিন আব্দুল্লাহ। আর শেখ মশহুর বিন হাসান আল সালমান তাঁদের এই মতটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
في مقدمة "الخلافيات"، بيد أنّ د. نايف الدعيس قال في مقدمة كتاب "خطأ من أخطأ على الشّافعيّ": تقديم موسى على عبد الله خطأ ظاهر.

قال مقيده -أمده الله بتوفيقه-: ورد اسمه ونسبه في سند كتاب "الآداب"، و"الشعب"، و"الدعوات الكبير"، و"الزهد الكبير"، وغيرها من مصنفاته: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى. وبهذا ذكره ابن نقطة في "التقييد" ص (137)، وابن عبد الهادي في "طبقاته" (3/ 329)، والذهبي في غير ما كتاب من كتبه.

 

‌‌(2) كنيته:

أمّا كنيته فهي "أبو بكر" ولم أعثر على ذكرٍ لولد له بهذا الاسم في كتب التراجم والتواريخ الّتي اطلعت عليها.

 

‌‌(3) لقبه:

لقب رحمه الله بـ "الحافظ"، و"الإمام"، و"شيخ السُّنَّة"، و"شيخ الإسلام"، و"ناصر السُّنَّة"، و"شمس الدِّين"، و"مُنَظْم السُّنة".

فأمّا تلقيبه بـ "الحافظ"، و"الإمام" فكما في سائر الكتب الّتي ترجمت له.

وأمّا تلقيبه بـ "شيخ السُّنَّة" فلقب لقبه به غير واحد من الرواة عنه كابنه إسماعيل، كما في "التبيين" ص (266)، وزاهر بن طاهر الشحامي كما في سند كتاب "الشعب" (1/ 83).

وأمّا "شيخ الإسلام" فقد لقبه به الذهبي في "النُّبَلاء" (18/ 163).

وأمّا "ناصر السُّنَّة" فقد لقبه به السخاوي في "فتح المغيث" (1/ 47).

وأمّا "شمس الدِّين" فقد تفرد به حاجي خليفة في "كشف الظنون" (1/ 53).
"আল-খিলাফিয়াত"-এর ভূমিকায়; তবে ড. নায়েফ আদ-দুয়াইস "খাতা মান আখতা আলাশ শাফিঈ" গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: আব্দুল্লাহর পূর্বে মুসার নাম উল্লেখ করা একটি স্পষ্ট ভুল।

এর সংকলক—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিয়ে সাহায্য করুন—বলেছেন: "আল-আদাব", "আশ-শুআব", "আদ-দাওয়াতুল কাবির", "আয-যুহদুল কাবির" এবং তাঁর অন্যান্য রচনাবলির সনদে তাঁর নাম ও বংশপরিচয় এভাবে বর্ণিত হয়েছে: আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা। ইবনু নুকতাহ "আত-তাকয়িদ" (পৃ. ১৩৭), ইবনু আব্দুল হাদি তাঁর "তাবাকাত" গ্রন্থে (৩/৩২৯) এবং আয-যাহাবি তাঁর একাধিক গ্রন্থে তাঁকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌(২) তাঁর কুনিয়াত:

তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) হলো "আবু বকর"। আমি যেসব জীবনী ও ইতিহাসের গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করেছি, সেগুলোতে এই নামে তাঁর কোনো সন্তানের উল্লেখ খুঁজে পাইনি।

 

‌‌(৩) তাঁর লকব:

তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—"আল-হাফিজ", "আল-ইমাম", "শায়খুস সুন্নাহ", "শায়খুল ইসলাম", "নাসিরুস সুন্নাহ", "শামসুদ্দীন" এবং "মুনাত্তিমুস সুন্নাহ" উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

"আল-হাফিজ" এবং "আল-ইমাম" হিসেবে তাঁর প্রসিদ্ধি তাঁর জীবনী সংক্রান্ত অন্যান্য সকল গ্রন্থের মতোই।

আর "শায়খুস সুন্নাহ" হিসেবে তাঁকে তাঁর একাধিক ছাত্র ও বর্ণনাকারী আখ্যায়িত করেছেন, যেমন—তাঁর পুত্র ইসমাইল, যা "আত-তাবয়ীন" (পৃ. ২৬৬)-এ বর্ণিত হয়েছে এবং যাহির বিন তাহির আশ-শাহামি, যা "আশ-শুআব" (১/৮৩) গ্রন্থের সনদে পাওয়া যায়।

"শায়খুল ইসলাম" উপাধিতে আয-যাহাবি তাঁকে "আন-নুবালা" (১৮/১৬৩)-তে ভূষিত করেছেন।

"নাসিরুস সুন্নাহ" হিসেবে আস-সাখাভি তাঁকে "ফাতহুল মুগিস" (১/৪৭)-এ উল্লেখ করেছেন।

আর "শামসুদ্দীন" উপাধিটি কেবল হাজি খলিফা তাঁর "কাশফুয যুনুন" (১/৫৩) গ্রন্থে ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وأمّا "مُنَظْم السُّنة" فقد لقبه به الأستاذ السَّيِّد أحمد صقر في مقدمة تحقيقه لـ "دلائل النبوة" (1/ 7).

 

‌‌(4) نسبته:

تعددت نسبة الإمام البَيْهقي رحمه الله تعالي- فقيل له: "الخُراساني"، و"النَّيْسابُوري"، و"البَيْهقي"، و"الخُسْرُوْجِرْدي".

فأمّا "الخُراساني" فبضم الخاء المعجمة وفتح الراء والسين المهملتين، وفي آخرها النون نسبة إلى بلاد كبيرة، يقع منها اليوم جزء في أفغانستان، وجزء في إيران، وجزء في جمهورية تركمانتسان. وقد نسبه إليها الذهبي في "النُّبَلاء" (18/ 164).

وأمّا "النَّيْسابُوري" فبفتح النون، وسكون الياء المنقوطة من تحتها باثنتين، وفتح السين المهملة وبعد الألف جاء منقوطة بواحدة، وفي آخرها الراء، وهي أحسن مدن خراسان وأجمعها، وتقع حاليًا في إيران، على بُعْدِ (90) كيلًا من مدينة مَشْهد، عاصمة خراسان الحالية، انظر: "أطلس تاريخ الإسلام" ص (430)، وقد نسبه إليها: الحافظ ابن عساكر في "التبيين" ص (265)، وعلي بن المفضل المقدسي في "الأربعين" ص (511)، والسبكي في "طبقاته" (4/ 8).

وأمّا "البَيْهقي" فبفتح الباء، وتقديم الياء الساكنة على الهاء، ناحية عظيمة من نواحي نيسابور، على يومين منها، وتقع حاليًا في الاتحاد السوفيتي جمهورية تركمانستان، انظر: "بلدان الخلافة" ص (432)، و"أطلس العالم" ص (70، 71)، ونسبته إليها مشهورة.

وأمّا "الخُسْرُوْجِرْدي" فبضم الخاء المعجمة، وسكون السين المهملة،
আর 'মুনাজ্জিমুস সুন্নাহ' উপাধিটি তাঁকে প্রদান করেছেন উস্তাদ সাইয়্যেদ আহমদ সাকর, তাঁর সম্পাদিত 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' (১/৭) গ্রন্থের ভূমিকায়।

 

‌‌(৪) তাঁর ভৌগোলিক সম্বন্ধ (নিসবাত):

ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর নিসবাত বা সম্বন্ধ বহুবিধ। তাঁকে 'খুরাসানী', 'নায়সাবুরী', 'বায়হাকী' এবং 'খুসরুজিরদী' বলা হয়।

আর 'খুরাসানী' শব্দটি নুকতাযুক্ত 'খা' বর্ণে পেশ এবং 'রা' ও নুকতাহীন 'সীন' বর্ণে জবর সহকারে গঠিত, যার শেষে 'নুন' রয়েছে। এটি একটি বিশাল ভূখণ্ডের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যার একটি অংশ বর্তমানে আফগানিস্তানে, একটি অংশ ইরানে এবং একটি অংশ তুর্কমেনিস্তান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত। ইমাম যাহাবী 'আন-নুবালা' (১৮/১৬৪) গ্রন্থে তাঁকে এই নিসবতে উল্লেখ করেছেন।

আর 'নায়সাবুরী' শব্দটি 'নুন' বর্ণে জবর, নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট 'ইয়া' বর্ণে সুকুন এবং নুকতাহীন 'সীন' বর্ণে জবর সহকারে গঠিত; এরপর আলিফের পরে একটি নুকতাযুক্ত বর্ণ এবং শেষে 'রা' রয়েছে। এটি খুরাসানের সবচেয়ে সুন্দর ও সমৃদ্ধ শহর এবং বর্তমানে এটি ইরানে অবস্থিত, যা খুরাসানের বর্তমান রাজধানী মাশহাদ শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দেখুন: 'আতলাসুত তারিখিল ইসলামী' পৃষ্ঠা (৪৩০)। হাফিজ ইবনু আসাকির 'আত-তাবয়ীন' পৃষ্ঠা (২৬৫), আলী বিন মুফাদ্দাল আল-মাকদিসী 'আল-আরবাঈন' পৃষ্ঠা (৫১১) এবং সুবকী তাঁর 'তাবাকাত' (৪/৮) গ্রন্থে তাঁকে এই নিসবতে উল্লেখ করেছেন।

আর 'বায়হাকী' শব্দটি 'বা' বর্ণে জবর এবং 'হা' বর্ণের পূর্বে সুকুনযুক্ত 'ইয়া' সহকারে গঠিত। এটি নায়সাবুরের একটি বিশাল এলাকা, যা সেখান থেকে দুই দিনের দূরত্বে অবস্থিত। বর্তমানে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের তুর্কমেনিস্তান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত। দেখুন: 'বুলদানুল খিলাফাহ' পৃষ্ঠা (৪৩২) এবং 'আতলাসুল আলাম' পৃষ্ঠা (৭০, ৭১)। এই নিসবতেই তিনি প্রসিদ্ধ।

আর 'খুসরুজিরদী' শব্দটি নুকতাযুক্ত 'খা' বর্ণে পেশ এবং নুকতাহীন 'সীন' বর্ণে সুকুন সহকারে,
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وفتح الراء -وقيل بضمها-، وسكون الواو، وكسر الجيم، وفي آخرها قال مهملة وهي قرية بناحية بيهق، كانت قصبتها سابقًا، وقد نسبه إليها: عبد الغافر الفارسي في "السياق" كما في "المنتخب" ص (153)، وابن الصلاح في "طبقاته" (1/ 332)، وابن خلكان في "وفيات الأعيان" (1/ 75).

 

‌‌(5) ولادته:

قال علي بن زيد البَيْهقي في "تاريخ بيهق" ص (345): كان أصله من شامكان ونوبهار، وكان أسلافه ينتسبون إلى شاهكان، أمّا هو فكانت ولادته ببيهق في خُسْرُوجردوأباري. وذلك في شعبان سنة أربع وثمانين وثلاثمائة، كذا نصّ عليه ابنه إسماعيل كما في "التبيين" ص (166)، وتكاد كتب التراجم تجمع على ذلك، إِلَّا أنّ ابن الأثير انفرد في "كامله" بقوله: ومولده سنة سبع وثمانين وثلاثمائة. وقد أخطأ في ذلك، كما أنّ الخوانساري قد وهم -أيضًا - عند أنّ نقل في "روضات الجنات" (1/ 251) عن ابن خلكان أنّه ذكر أنّ ولادته كانت سنة اثنتين وثمانين وثلاثمائة، فإن الّذي في "وفيات الأعيان" (1/ 76): كان مولده في شعبان سنة أربع وثمانين وثلاثمائة. وتصحف تاريخ ولادته في "مختصر الجرجاني" كما في "ظفر الأماني" ص (520) إلى أربع وثلاثين وثلاثمائة.

 

‌‌(6) أسرته:

لم تتحفنا المصادر الموجودة لدينا عن أسرته وقرابته بشيء سوى أنّها ذكرت أنّ له ثلاثة من الأبناء أخذوا العلم عن أبيهم، وحفيدًا أخذ عن جده - أيضًا -، فأمّا أبناؤه فهم:

(أ) أبو علي إسماعيل بن أحمد بن الحسين البَيْهقي الملقب بشيخ
'রা' বর্ণে ফাতাহ (যবর) — এবং বলা হয়েছে পেশ (জম্মাহ) সহকারে —, 'ওয়াও' বর্ণে সুকুন (জযম), 'জিম' বর্ণে কাসরা (যের), এবং এর শেষে একটি নুক্তাবিহীন 'দাল' রয়েছে। এটি বায়হাক অঞ্চলের একটি গ্রাম, যা ইতিপূর্বে তার প্রধান কেন্দ্র ছিল। আব্দুল গাফির আল-ফারিসি 'আস-সিয়াক'-এ তাকে এর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন যেমনটি 'আল-মুনতাখাব' (পৃষ্ঠা ১৫৩)-এ রয়েছে, এবং ইবনুস সালাহ তাঁর 'তাবাকাত' (১/৩৩২)-এ এবং ইবনু খাল্লিকান তাঁর 'ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান' (১/৭৫)-এ তাঁকে এভাবেই সম্বন্ধ করেছেন।

 

‌‌(৫) তাঁর জন্ম:

আলী ইবনে যাইদ আল-বায়হাকি 'তারিখে বায়হাক' (পৃষ্ঠা ৩৪৫)-এ বলেছেন: তাঁর আদি উৎস ছিল শামকান ও নওবাহার থেকে এবং তাঁর পূর্বপুরুষরা শাহকানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হতেন। তবে তাঁর নিজের জন্ম হয়েছিল বায়হাকের খুসরুজির্দ ও আবারি-তে। আর তা ছিল ৩৮৪ হিজরি সালের শাবান মাসে। তাঁর পুত্র ইসমাইল এ কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যেমনটি 'আত-তাবয়িন' (পৃষ্ঠা ১৬৬)-এ রয়েছে। জীবনীগ্রন্থগুলো প্রায় এ ব্যাপারে একমত, তবে ইবনুল আসির তাঁর 'কামিল' গ্রন্থে এককভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম ৩৮৭ হিজরি সালে। তিনি এ ক্ষেত্রে ভুল করেছেন, যেমনটি খাওয়ারানসারিও বিভ্রান্ত হয়েছেন যখন তিনি 'রওজাতুল জান্নাত' (১/২৫১)-এ ইবনু খাল্লিকান থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তাঁর জন্ম ৩৮২ হিজরি সালে হয়েছিল; অথচ 'ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান' (১/৭৬)-এ যা রয়েছে তা হলো: তাঁর জন্ম ছিল ৩৮৪ হিজরি সালের শাবান মাসে। আর 'যাফারুল আমানি' (পৃষ্ঠা ৫২০)-তে বর্ণিত 'মুখতাসার আল-জুরজানি'-তে তাঁর জন্ম তারিখটি ভুলবশত ৩৩৪ হিজরি হিসেবে লিখিত হয়েছে।

 

‌‌(৬) তাঁর পরিবার:

আমাদের নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহ তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য প্রদান করে না, কেবল এতটুকুই উল্লেখ করে যে, তাঁর তিনজন পুত্র ছিল যারা তাঁদের পিতার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন এবং একজন নাতিও ছিল যে তার দাদার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিল। তাঁর পুত্রগণ হলেন:

(ক) আবু আলী ইসমাইল ইবনে আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বায়হাকি, যাঁর উপাধি ছিল শাইখ...
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
القضاة، ولد سنة ثمان وعشرين وأربعمائة، وتوفي في جمادى الآخرة سنة سبع وخمسمائة، ترجمه علي بن زيد البَيْهقي في "تاريخ بيهق" ص (393)، والذهبي في "النُّبَلاء" (19/ 313)، وغيرهما.

(ب) أبو عبد الله محمَّد بن أحمد بن الحسين البَيْهقي، وهو أكبر من إسماعيل، وقد كان من العلماء والمحدثين، ولد سنة إحدى وعشرين وأربعمائة، وتوفي في شعبان سنة اثنتين وثمانين وأربعمائة، ترجمه عبد الغافر الفارسي في "السياق" كما في "منتخبه" برقم (72)، وعلي بن زيد البَيْهقي في "تاريخ بيهق" ص (393).

(ج) أبو سعيد، كذا ذكره الزبيدي في "تاج العروس" (6/ 301). وأمّا الحفيد: فهو عبيد الله بن محمَّد بن أحمد بن الحسين البَيْهقي، توفي سنة ثلاث وعشرين وخمسمائة عن بضع وسبعين سنة، تر جمه الحافظ الذهبي في "الميزان" (3/ 15)، وغيره.

 

‌‌(7) طبقته:

ذكره ابن عبد الهادي في "طبقاته" في الطبقة الرّابعة عشرة، من أصل إحدى وعشرين طبقة، وكذا ذكره فيها الذهبي في "التذكرة" (3/ 1132)، وابن ناصر الدِّين الدمشقي في "بديعته" ص (191)، والسيوطي في "طبقات الحفاظ" برقم (981)، وذكره الذهبي في كتابه "المعين في طبقات المحدثين" ص (132) في الطبقة السابعة عشرة، من أصل ثمان وعشرين طبقة. وذكره في "النُّبَلاء، في "الطبقة الرّابعة والعشرين". وذكره في "تاريخ
বিচারকগণ, তিনি চারশত আটাশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচশত সাত হিজরির জমাদিউল আখের মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আলী বিন যায়েদ আল-বায়হাকী 'তারিখে বায়হাক' (পৃ. ৩৯৩) গ্রন্থে, আয-যাহাবী 'আন-নুবালা' (১৯/ ৩১৩) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা তার জীবনী আলোচনা করেছেন।

(খ) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকী, তিনি ইসমাইলের বড় ছিলেন। তিনি আলেম ও মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি চারশত একুশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশত বিরাশি হিজরির শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আব্দুল গাফির আল-ফারিসী 'আস-সিয়াক' গ্রন্থে (যেমনটি তার 'মুনতাখাব' এর ৭২ নং এ রয়েছে) এবং আলী বিন যায়েদ আল-বায়হাকী 'তারিখে বায়হাক' (পৃ. ৩৯৩) গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন।

(গ) আবু সাঈদ, এভাবেই আয-যাবীদী 'তাজুল আরুস' (৬/ ৩০১) গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করেছেন। আর নাতি হলেন: উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকী, তিনি পাঁচশত তেইশ হিজরিতে সত্তর বছরের কিছু বেশি বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। হাফেয আয-যাহাবী 'আল-মিজান' (৩/ ১৫) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা তার জীবনী আলোচনা করেছেন।

 

‌‌(৭) তার স্তর (তাবাকাত):

ইবনে আব্দুল হাদী তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে মোট একুশটি স্তরের মধ্যে চতুর্দশ স্তরে তাকে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আয-যাহাবী 'আত-তাযকিরাহ' (৩/ ১১৩২) গ্রন্থে, ইবনে নাসিরুদ্দীন আদ-দামিশকী তার 'বাদিআহ' (পৃ. ১৯১) গ্রন্থে এবং আস-সুয়ূতী 'তাবাকাতুল হুফফায' গ্রন্থে ৯৮১ নম্বর ক্রমিকে তাকে উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবী তার 'আল-মুঈন ফি তাবাকাতিল মুহাদ্দিসিন' (পৃ. ১৩২) গ্রন্থে মোট আটাশটি স্তরের মধ্যে সপ্তদশ স্তরে তাকে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি 'আন-নুবালা' গ্রন্থে 'চতুর্বিংশ স্তরে' তাকে উল্লেখ করেছেন। এবং তিনি 'তারিখে...
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الإسلام" في الطبقة السّادسة والأربعين. وذكره في رسالته "ذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل" ص (214) في الطبقة الثّالثة عشرة، من أصل اثنتين وعشرين طبقة.

 

‌‌(8) تاريخ وفاته، ومكأنّها:

اتفقت المصادر الّتي ترجم له فيها على أنّ وفاة الإمام البَيْهقي كانت بنيسابور، سنة ثمان وخمسين وأربعمائة (458 هـ)، ولم يخالف في ذلك إِلَّا ياقوت الحموي، فذكر في "معجم البلدان" (1/ 639) أنّه توفي سنة أربع وخمسين وأربعمائة (454 هـ)، وذكر هو وغيره من المترجمين أنّ وفاته كانت في جمادى الأولى، ولم يخالف في ذلك إِلَّا ابن الأثير كما في "كامله" (8/ 229)، وابن تغري بردي في "النجوم الزاهرة" (5/ 77)، فقد ذكرا أنّها كانت في جمادى الآخرة.

قال عبد الغافر الفارسي في "السياق" كما في "منتخبه" (104): وكانت وفاته بنيسابور، سنة ثمان وخمسين وأربعمائة في عاشر جمادى الأولى.

وقال أبو عبد الله الكُتُبيُّ الهروي كما في "طبقات ابن الصلاح" (1/ 335): وتوفي بنيسابور، ونقل تابوته إلى بيهق سنة ثمان وخمسين وأربعمائة.

وقال الذهبي في "النُّبَلاء" (18/ 169): ولما سمعوا منه بنيسابور ما أحبوا في قدمته الأخيرة، مرض، وحضرته المنية، فتو في في عاشر شهر جمادى الأولى، سنة ثمان وخمسين وأربعمائة، فغُسِّل وكُفِّنَ، وعُمِلَ له تابوت، فنُقِل ودفن ببيهق؛ وهي ناحية قصبتها خُسْرُوجرد، وهي محَتْدُهُ، وهي على يومين من نيسابور، وعاش أربعًا وسبعين سنة.
'আল-ইসলাম'-এর ছেচল্লিশতম স্তরে। এবং তিনি তাঁর 'যিকর মান ইউতামাদু কাওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তাদীল' নামক পুস্তিকায় ২১৪ নং পৃষ্ঠায় তেরোতম স্তরে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, যা মোট বাইশটি স্তরের অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌(৮) তাঁর মৃত্যু তারিখ ও স্থান:

ইমাম বাইহাকীর জীবনী সম্বলিত উৎসগ্রন্থগুলো এই বিষয়ে একমত যে, তাঁর মৃত্যু নিশাপুরে চারশত আটান্ন (৪৫৮ হিজরী) সনে হয়েছিল। ইয়াকুত আল-হামাবী ব্যতীত আর কেউ এতে দ্বিমত পোষণ করেননি; তিনি তাঁর 'মুজামুল বুলদান' (১/৬৩৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি চারশত চুয়ান্ন (৪৫৪ হিজরী) সনে মারা যান। তিনি এবং অন্যান্য জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর মৃত্যু জুমাদাল উলা মাসে হয়েছিল। তবে ইবনুল আসীর তাঁর 'আল-কামিল' (৮/২২৯) গ্রন্থে এবং ইবনু তাগরিবিরদী তাঁর 'আন-নুজুমুজ জাহিরা' (৫/৭৭) গ্রন্থে এর বিরোধিতা করেছেন; তারা উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর মৃত্যু জুমাদাল আখিরা মাসে হয়েছিল।

আবদুল গাফির আল-ফারিসী 'আস-সিয়াক' গ্রন্থে (যেমনটি এর সংক্ষেপিত রূপ 'আল-মুন্তাখাব' ১০৪-এ বর্ণিত হয়েছে) বলেন: তাঁর মৃত্যু নিশাপুরে ৪৫৮ হিজরী সনের দশই জুমাদাল উলা-তে হয়েছিল।

আবু আবদুল্লাহ আল-কুতুবী আল-হারাউয়ী 'তাবাকাত ইবনুস সালাহ' (১/৩৩৫) গ্রন্থে বলেন: তিনি নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন এবং চারশত আটান্ন হিজরী সনে তাঁর কফিন বাইহাক-এ স্থানান্তরিত করা হয়।

আয-যাহাবী 'আন-নুবালা' (১৮/১৬৯) গ্রন্থে বলেন: নিশাপুরবাসী তাঁর শেষ আগমনে তাঁর কাছ থেকে যা শুনতে পছন্দ করত তা শোনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর মুখোমুখি হন। অতঃপর তিনি চারশত আটান্ন হিজরী সনের দশই জুমাদাল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে গোসল ও কাফন পরানো হয় এবং তাঁর জন্য একটি কফিন তৈরি করা হয়। এরপর তাঁকে বাইহাক-এ স্থানান্তর করে দাফন করা হয়; এটি এমন একটি অঞ্চল যার প্রধান শহর হলো খুসরুজিরদ, যা তাঁর জন্মস্থান এবং এটি নিশাপুর থেকে দুই দিনের দূরত্বে অবস্থিত। তিনি চুয়াত্তর বছর জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সালসাবীলুন নাকী ফী তারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣١)
ولله در من قال:

وما نحن إِلَّا ركبُ موت إلى البِلى … تسير أيامُنا كرواجِلِ

قطعنا إلى نحو القبور مَراحِلًا … وما بقيت إِلَّا أقلُّ المراحلِ

وهذا سبيل العالمَيْن جميعهم … فما النَّاس إِلَّا راحل بعد راحِلِ

 

‌‌(9) رثاؤه:

قال أبو القاسم البَرْزَهِي البَيْهقي كما في "تاريخ بيهق"ص (346):

يا أحمدَ بن الحسين البَيْهقي لقد … دَوَّختَ أرض المساعي أيَّ تدويخ

أنت المليُّ بتقديمٍ وتكرمةٍ … أنت الحريُّ بتأميم وتشييخِ

هذا كتابٌ ولكن حشوُهُ حججٌ … يغادر الكفر ممنوًّا بتقليح

كدار بطيخ تحوي كلّ فاكهةٍ … وما اسمها الدهرَ إِلَّا دارُ بطيخِ
কতই না চমৎকার বলেছেন সেই বক্তা যিনি বলেছেন:

আমরা তো জরাজীর্ণতার পথে মৃত্যুর এক কাফেলা মাত্র … আমাদের দিনগুলো দ্রুতগামী উটের মতো অতিবাহিত হচ্ছে

কবরের দিকে আমরা অনেকগুলো মঞ্জিল পাড়ি দিয়েছি … এখন সামান্যতম পথ ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই

আর এটাই হলো উভয় জগতের সকলের পথ … মানুষ তো কেবল একের পর এক প্রস্থানকারী যাত্রী মাত্র

 

‌‌(৯) তাঁর শোকগাথা:

আবুল কাসেম আল-বারযাহি আল-বায়হাকি বলেন, যেমনটি 'তারিখে বায়হাক' পৃষ্ঠা (৩৪৬)-এ বর্ণিত হয়েছে:

হে আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকি! আপনি … মহৎ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রগুলোকে পুরোপুরি জয় করেছেন

আপনিই অগ্রগণ্যতা ও সম্মানের যোগ্য … আপনিই অনুকরণীয় হওয়া এবং শ্রেষ্ঠত্বের উপযুক্ত

এটি একটি গ্রন্থ, তবে এর ভেতরে রয়েছে অকাট্য সব প্রমাণ … যা কুফরকে লাঞ্ছিত ও পরাজিত অবস্থায় পর্যুদস্ত করে

এটি এমন এক তরমুজের ঘরের মতো যা সমস্ত ফলকে ধারণ করে … অথচ মহাকালের কাছে এর নাম কেবল 'তরমুজের ঘর' হিসেবেই রয়ে গিয়েছে