(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: -)
إتحاف المرتقي بتراجم شيوخ البيهقي   (محمود النحال)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: إِتْحَافُ المُرْتَقِي بِتَرَاجِمِ شُيُوخ البَيهَقِيّ

المؤلف: محمود بن عبد الفتاح النحال

قَدَّمَ لَهُ: الشَّيْخ مُصْطَفَى العَدَوِي

إشراف ومراجعة وضبط وتدقيق: الفريق العلمي لمشروع موسوعة جامع السنة

الناشر: دار الميمان للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 622

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رجب 1435

ইতহাফুল মুরতাকী বি-তারাজিমি শুয়ুখিল বায়হাকী (বায়হাকীর শাইখদের জীবনীসমূহ)   (মাহমুদ আন-নাহহাল)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: ইতহাফুল মুরতাকী বি-তারাজিমি শুয়ুখিল বায়হাকী

লেখক: মাহমুদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ আন-নাহহাল

ভূমিকা লিখেছেন: শাইখ মুস্তফা আল-আদাউই

তত্ত্বাবধান, পর্যালোচনা, বিন্যাস ও যাচাইকরণ: জামিউস সুন্নাহ বিশ্বকোষ প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক দল

প্রকাশক: দারুল মাইমান প্রকাশনী ও পরিবেশনী

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রজব ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌تقديم: بقلم فضيلة الشيخ مصطفى العدوي

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد فهذا كتاب جمع تراجم مشائخ الإِمام البيهقي رحمه الله تعالى قام بإعداده الأخ/ محمود بن عبد الفتاح حفظه الله تعالى وجزاه الله خيرًا على ما قدَّم؛ فالمكتبة الإِسلامية -خاصة مكتبة الحديث والرجال- في حاجةٍ ماسة إلى مثل هذا الكتاب الغني يجمع شيوخ الإِمام البيهقي رحمه الله تعالى، وذلك حتى يتسنى ويتيسر للباحثين الحكم على ما تفرد به الإِمام البيهقي خاصة، فضلًا عما وراء ذلك من النفع إن شاء الله.

هذا، ولما كان الكتاب إنما يعتمد مؤلفه على نقل التراجم، فهو يحتاج من ثمَّ إلى أمانة علمية ودينية للنقل، وأخونا -ولا أزكيه على الله- أحسبه أمينًا.

هذا، ولما كان من الشاق والعسير عليَّ مراجعة تراجم الرواة الذين أوردهم، ومطابقة ما ذكر لما هو موجود في تراجمهم؛ فقد عهدت إلى بعض الأفاضل من أخواني بعشرة تراجم متفرقة، كلٌّ يتعهد بترجمة، وذلك لمطابقة ما صنع والتدقيق في أمانة النقل، وكان مجمل ما ذكروه حفظهم الله أن العمل في جملته جيد ونافع إلى حدٍّ كبير؛ فجزاه الله خيرًا.

هذا، ولكونه بشرًا يقع فيما يقع فيه البشر من أخطاء وسهوٍ، ولأن الناقد بصير،
ভূমিকা: মান্যবর শায়খ মুস্তফা আল-আদাউয়ীর কলমে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহর ওপর বর্ষিত হোক। অতঃপর, এটি ইমাম বায়হাকী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর শায়খদের জীবনচরিত সংবলিত একটি গ্রন্থ, যা সংকলন করেছেন ভাই মাহমুদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন)। তিনি যা পেশ করেছেন তার জন্য আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। কেননা ইসলামী পাঠাগার—বিশেষ করে হাদীস ও রিজাল শাস্ত্রের পাঠাগার—ইমাম বায়হাকী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর শায়খদের একত্রিতকারী এ ধরনের সমৃদ্ধ গ্রন্থের অত্যন্ত মুখাপেক্ষী। যাতে করে গবেষকদের জন্য বিশেষ করে ইমাম বায়হাকী যেসব বর্ণনায় একক হয়েছেন সেগুলোর ওপর হুকুম লাগানো সহজ ও সম্ভব হয়, এছাড়া এর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আরও অন্যান্য বহু উপকারিতা তো রয়েছেই।

এই গ্রন্থটি যেহেতু জীবনচরিত বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল, তাই এর জন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় আমানতদারিতার প্রয়োজন। আর আমাদের ভাই—আমি আল্লাহর সামনে কারও পবিত্রতা ঘোষণা করছি না—আমি তাঁকে আমানতদার বলেই মনে করি।

লেখক যেসব রাবীর জীবনী উল্লেখ করেছেন সেগুলো পর্যালোচনা করা এবং তাদের মূল জীবনীর সাথে তা মিলিয়ে দেখা আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ও কঠিন ছিল। তাই আমি আমার কিছু গুণী ভাইকে দশটি বিচ্ছিন্ন জীবনচরিত যাচাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলাম, যেখানে প্রত্যেকে একটি করে জীবনী যাচাইয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন; যাতে করে লেখকের কাজ মিলিয়ে দেখা যায় এবং বর্ণনার আমানতদারিতা সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা যায়। তারা (আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন) সংক্ষেপে যা উল্লেখ করেছেন তার সারকথা হলো—সামগ্রিকভাবে এই কাজটি বেশ ভালো এবং অনেকখানি উপকারী। সুতরাং আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।

তবে মানুষ হওয়ার কারণে তাঁর ক্ষেত্রেও ভুল ও বিচ্যুতি হওয়া স্বাভাবিক যা সচরাচর মানুষের হয়ে থাকে, আর যেহেতু সমালোচকের দৃষ্টি প্রখর হয়,
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٦)
فقد أورد إخواني حفظهم الله بعض الملاحظات مجملها أن الأخ الكريم عمد دون قصد -فيما يبدو- إلى أنه جعل "روى عن فلان" بمثابة "سمع فلانا"، فكان يذكر في ترجمة الرجل: سمع من فلان وفلان، وكل من ورد أنه روى عنهم، وكلمة سمع من فلان تختلف بلا شك عن روى عن فلان عند أهل الحديث والمعرفة به، وذلك لأن روى عن فلان تحتمل أنه سمع منه مباشرة أو سمع منه بواسطة.

فلما كان ذلك رُدَّ الكتاب للأخ الكريم فقام بتعديل ما قد ذُكر وتصحيحه(1)، وإن لم تسعفنا مراجعته لكنه، ولله الحمد نحسبه أمينًا، ولا نزكي على الله أحدًا.

هذا، وقد اعترى بعض تراجم الرواة بعض التصوفات والمسائل العقائدية التي فيها خلل، وهذه ليست عهدتنا ولا عهدة الأخ محمود، ولكن كان ينبغي قدر الاستطاعة التعقيب في الحواشي على مثل هذه، وذلك كقولهم في فلان: إنه كان يتبرك بقبره ويستسقى به. وهذا بلا شك خطأ فادح ينبغي التنبيه عليه، وقد بذل الأخ ما في وسعه في ذلك الصدد، فأسأل الله أن يجازيه خيرًا.

هذا، وأحيانًا يكون هناك اشتباه في اسمين ولا يُدرى مَنْ المعنيّ فيجتهد الأخ في أن الأَوْلى واحد منها هذا.

وأسأل الله أن ينفع به وبكتابه وأن يوفقه لمواصلة العلم الشرعي، والدعوة إلى الله. وصل اللَّهم على نبينا محمَّد وسلم والحمد لله رب العالمين.

كتبه: أبو عبد الله مصطفى بن العدوي

16 محرم 1429 هـ

--------------------------------------------

(1) يراعى مع تغيير هذه الصيغة. عند ورود أسماء شيوخ شيوخ البيهقي وأقرانه، أنه قد يذكر مكان السماع، فهو المكان الذي سمع منه شيخ البيهقي من شيخه أو قرينه (المؤلف).
আমার ভাইগণ (আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন) কিছু পর্যবেক্ষণ পেশ করেছেন যার সারসংক্ষেপ হলো—সম্মানিত ভাই অনিচ্ছাকৃতভাবে (যেমনটি প্রতীয়মান হয়) 'অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন' কথাটিকে 'অমুকের নিকট থেকে শুনেছেন' এর সমার্থক বানিয়ে ফেলেছেন। ফলে তিনি ব্যক্তির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: 'অমুক ও অমুক থেকে শুনেছেন', অথচ তাঁদের ক্ষেত্রে কেবল বর্ণনা করার বিষয়টিই উদ্ধৃত হয়েছিল। আর মুহাদ্দিস ও এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞদের নিকট 'অমুক থেকে শুনেছেন' কথাটি 'অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন' কথাটি থেকে নিঃসন্দেহে ভিন্ন। কেননা 'অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন' কথাটি সরাসরি শোনার সম্ভাবনা যেমন রাখে, তেমনি কোনো মাধ্যম মারফত শোনার সম্ভাবনাও রাখে।

যখন এটি পরিলক্ষিত হলো, তখন বইটি সম্মানিত ভাইয়ের নিকট ফেরত দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি যা উল্লেখ করা হয়েছিল তা সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন(১)। যদিও আমাদের পক্ষে পুনরায় তা পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি, তবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে আমরা তাঁকে আমানতদার মনে করি, আর আল্লাহর সামনে আমরা কাউকে (নিশ্চিতভাবে) পবিত্র বলে ঘোষণা করি না।

অধিকন্তু, বর্ণনাকারীদের কিছু জীবনীতে সুফিবাদী প্রভাব এবং আকিদাগত এমন কিছু মাসআলা প্রকাশ পেয়েছে যাতে বিচ্যুতি রয়েছে। এগুলো আমাদের বা ভাই মাহমুদের বক্তব্য নয়, তবে সাধ্যানুসারে টীকা-টিপ্পনীতে এ জাতীয় বিষয়গুলোর উপর মন্তব্য করা প্রয়োজন ছিল। যেমন জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে তাদের এই উক্তি: "তাঁর কবরের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা হতো এবং তাঁর অসিলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করা হতো।" এটি নিঃসন্দেহে একটি মারাত্মক ভুল যে বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক। ভাই এ বিষয়ে তাঁর সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, তাই আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।

এছাড়া কখনো কখনো দুটি নামের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হয় এবং কাকে নির্দিষ্টভাবে উদ্দেশ্য করা হয়েছে তা বুঝা যায় না, এমতাবস্থায় ভাই গবেষণালব্ধ মত দিয়েছেন যে দুটির মধ্যে কোনটি অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর দ্বারা এবং তাঁর এই কিতাব দ্বারা উপকার দান করেন এবং তাঁকে শরয়ি জ্ঞান অর্জন ও আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করেন। হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর রহমত ও সালাম বর্ষণ করুন এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন: আবু আব্দুল্লাহ মোস্তফা বিন আল-আদাওয়ী

১৬ মুহররম ১৪২৯ হিজরি

--------------------------------------------

(১) এই পরিভাষা পরিবর্তনের সাথে সাথে এটিও লক্ষ্যণীয় যে, ইমাম বায়হাকীর উস্তাদদের উস্তাদ এবং তাঁর সমসাময়িকদের নাম আসার ক্ষেত্রে অনেক সময় শ্রবণের স্থানটিও উল্লেখ করা হয়; অর্থাৎ এটি সেই স্থান যেখানে ইমাম বায়হাকীর উস্তাদ তাঁর উস্তাদ বা সমসাময়িক ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন (লেখক)।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌المقدمة

عرف تراثنا العربي والإِسلامي فرعا من فروع التاريخ أطلق عليه اسم التراجم، وقد قام هذا العلم على فحص سير الأشخاص لمعرفة مدى عدالتهم وضبطهم، كما كان هذا العمل وسيلة للاطمئنان إلى مروياتهم من نصوص الحديث النبوي والتفسير ونصوص التاريخ … وكذلك للاطمئان إلى سلامة أحكامهم في القضايا المطروحة في كل من هذه المجالات في ظروف كان فيها النقل الشفاهي هو الغالب.

ومع تطاول الأيام افتقر المحدثون وغيرهم ممّن يعنون بالتراجم إلى معاجم تضم تراجم الرواة لمعالجة هذه الأهداف منعا لتضارب الأقوال، ومن هنا جاءت كتب التراجم الكثيرة جدًا، والتي حملت عناوين مثل: الطبقات، أو المعاجم، أو السير، وهي كلمات تضاف عادة إلى كلمات أخرى تخصصها، فيقال: "طبقات المحدثين"، "طبقات الفقهاء"، "طبقات الشعراء"، "طبقات الحنابلة"، وكذلك يقال: "معجم الصحابة"، معجم شيوخ فلان (إشارة لعالم من العلماء) … وهكذا.

وقد عُرفت الكتب التي تناولت رواة الحديث بصفة خاصة بكتب الجرح والتعديل.

ومن هنا نشأ علمُ تراجم الرجال وسيرهم بدءًا من سيرة النبي الكريم صلى الله عليه وآله وسلم وتراجم الجيل الأول من حمَلَة النور، وانتهاء بطبقات متأخري العلماء.
ভূমিকা

আমাদের আরব ও ইসলামি ঐতিহ্য ইতিহাসের একটি শাখাকে চিনেছে যাকে 'তরাজিম' (জীবনী সাহিত্য) নাম দেওয়া হয়েছে। এই শাস্ত্রটি ব্যক্তিদের জীবনী পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যাতে তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও মুখস্থ রাখার নির্ভুলতা সম্পর্কে জানা যায়। ঠিক তেমনিভাবে এই কাজটি ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হাদিস, তাফসির এবং ইতিহাসের বর্ণনাসমূহ নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম … একইভাবে এমন এক পরিস্থিতিতে যেখানে মৌখিক বর্ণনা প্রাধান্য পাচ্ছিল, সেখানে এই সকল ক্ষেত্রে উত্থাপিত বিষয়সমূহে তাদের সিদ্ধান্তের সঠিকতা নিশ্চিত করারও এটি ছিল একটি উপায়।

কালপরিক্রমায় মুহাদ্দিসগণ এবং জীবনী সাহিত্য নিয়ে চর্চাকারী অন্যান্যরা এমন অভিধানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যেখানে বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলিত থাকবে, যাতে মতবিরোধ এড়ানোর মাধ্যমে এই উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করা যায়। আর এখান থেকেই জীবনী বিষয়ক প্রচুর কিতাবের সৃষ্টি হয়েছে, যেগুলোর শিরোনাম ছিল: 'তাবাকাত', 'মু'জাম', কিংবা 'সিয়ার' এর মতো। এই শব্দগুলো সাধারণত অন্য কোনো শব্দের সাথে যুক্ত করে নির্দিষ্ট করা হয়, যেমন বলা হয়: "তাবাকাতুল মুহাদ্দিসিন", "তাবাকাতুল ফুকাহা", "তাবাকাতুশ শুয়ারা", "তাবাকাতুল হানাবিলা"। একইভাবে বলা হয়: "মু'জামুস সাহাবা", অমুকের উস্তাদদের তালিকা (কোনো নির্দিষ্ট আলেমের প্রতি ইশারা করে) … এবং এইরকম আরও অনেক কিছু।

বিশেষভাবে হাদিসের বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত কিতাবসমূহ 'জারহ ও তা’দিল' (দোষ-গুণ বিচার) এর কিতাব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এখান থেকেই ব্যক্তিগণের জীবনী ও জীবনচরিত সংক্রান্ত শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে, যার শুরু ছিল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সীরাত এবং আলোর বাহক প্রথম প্রজন্মের জীবনী থেকে, আর সমাপ্তি ঘটেছে পরবর্তী যুগের আলেমদের স্তরবিন্যাসে।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٨)
وقد اتخذ التأليفُ في التراجم صورًا عدّة؛ فهناك التأليف المرتبط بالزمن كالتأليف في أهل زمن معين؛ مثل الكتب التي تناولت تراجم الصحابة ككتاب "الاستيعاب في معرفة الأصحاب" لابن عبد البر (ت 368 هـ)، و"أسد الغابة في معرفة الصحابة" لابن الأثير (ت 630 هـ)، و"الإصابة في تمييز الصحابة" لابن حجر العسقلاني (852 هـ).

ومن الكتب التي تدخل في هذه الصورة كتاب "الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة" لابن حجر أيضًا، وكتاب "البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع" للشوكاني (ت 1250 هـ)، و"خلاصة الأثر في أعيان القرن الحادي عشر) للمحبي (1111 هـ) وكتاب "سلك الدرر في أعيان القرن الثاني عشر" للمرادي (1223 هـ) وغيرها كثير.

وهناك التأليف في التراجم المرتبط بالمكان، كتواريخ البلدان والمدن مثل "تاريخ واسط" لبحشل (292 هـ) و"تاريخ دمشق" لابن عساكر (ت 571)، فقد اشتملت مثل هذه التواريخ على تراجم كم هائل من أهل البلد التي خصص الكتاب من أجلها.

كما ارتبط التأليفُ في التراجم بالعلوم والفنون، فنجد تراجمَ للأطباء، والحكماء، والقُرّاء والمفسرين، والمتكلمين، والفرسان(1)، والخطاطين(2)، وطبقات المُعَبّرين(3)، والنحاة، والأدباء، والشعراء، والفقهاء.

كما اهتم مؤرخو المذاهب بترجمة رجالهم، فهناك طبقات للحنفية والمالكية

--------------------------------------------

(1) ألف أبو عبيدة معمر بن المثنى (ت 210) في طبقات الفرسان.

(2) أشار صاحب كشف الظنون إلى مؤلفين للسيوطي وللقالي في طبقات الخطاطين.

(3) لحسن بن الحسين بن الخلال كتاب في طبقات المعبرين.
জীবনী সাহিত্য (তরাজিম) রচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হয়; যেমন সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট রচনা, যা নির্দিষ্ট কোনো সময়ের ব্যক্তিদের নিয়ে রচিত। যেমন সাহাবীগণের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, যেমন ইবনে আবদুল বার (মৃত্যু ৩৬৮ হিজরি) রচিত "আল-ইসতিআব ফি মা’রিফাতিল আসহাব", ইবনুল আসীর (মৃত্যু ৬৩০ হিজরি) রচিত "উসুদুল গাবাহ ফি মা’রিফাতিস সাহাবাহ" এবং ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত "আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ"।

এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু গ্রন্থ হলো ইবনে হাজারেরই "আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মিয়াতিস সামিনাহ" (অষ্টম শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ), শাওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি) রচিত "আল-বাদরুত তালি’ বি-মাহাসিনি মান বা’দাল কারনিস সাবি’", মুহিব্বি (মৃত্যু ১১১১ হিজরি) রচিত "খুলাসাতুল আসার ফি আয়ানিল কারনিল হাদি আশার" এবং মুরাদি (মৃত্যু ১২২৩ হিজরি) রচিত "সিলকুদ দুরার ফি আয়ানিল কারনিস সানি আশার" ইত্যাদি।

আবার স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট জীবনী সাহিত্যও রয়েছে, যেমন বিভিন্ন দেশ ও শহরের ইতিহাস গ্রন্থ। যেমন বাহশাল (মৃত্যু ২৯২ হিজরি) রচিত "তারিখে ওয়াসিত" এবং ইবনে আসাকির (মৃত্যু ৫৭১ হিজরি) রচিত "তারিখে দিমাস্ক"। এই ধরণের ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশাল সংখ্যক মানুষের জীবনী স্থান পেয়েছে যাদের উদ্দেশ্যে গ্রন্থটি নিবেদিত।

একইভাবে জীবনী সাহিত্য বিজ্ঞান ও শিল্পের সাথেও যুক্ত হয়েছে। আমরা চিকিৎসক, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব (হাকিম), ক্বারী, মুফাসসির, ইলমে কালামবিদ (মুতাকাল্লিম), অশ্বারোহী বীর(১), ক্যালিগ্রাফার বা লিপিকার(২), স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের স্তরসমূহ (তাবাকাতুল মুয়াব্বিরিন)(৩), ভাষাবিদ (নাহুবিদ), সাহিত্যিক, কবি এবং ফকীহগণের জীবনী দেখতে পাই।

মাযহাবের ইতিহাসবিদগণও তাদের মাযহাবের ব্যক্তিদের জীবনী রচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন হানাফি ও মালিকি মাযহাবের অনুসারীদের জীবনী গ্রন্থ বা স্তরসমূহ (তাবাকাত) রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনুল মুসান্না (মৃত্যু ২১০) অশ্বারোহী বীরদের স্তর (তাবাকাতুল ফুরসান) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

(২) কাশফুয যুনুন প্রণেতা লিপিকারদের স্তর (তাবাকাতুল খাত্তাতিন) বিষয়ে সুয়ূতী ও কালীর রচনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

(৩) হাসান বিন হুসাইন বিন আল-খাল্লাল স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের স্তর (তাবাকাতুল মুয়াব্বিরিন) বিষয়ে একটি গ্রন্থ লিখেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٩)
والشافعية والحنابلة، وربما خَصّص بعضُهم هذا المعيارَ فألّف في طبقات مجتهدي أهل مذهبه كـ"طبقات المجتهدين في مذهب الحنفية" لابن كمال باشا (ت 940)، أو في متأخري أهل مذهبه ككتاب "الجوهر المنَضَّد في طبقات متأخري أصحاب أحمد" ليوسف بن حسن بن أحمد الحنبلي المقدسي، وهذا الكتاب ذيل على كتاب "ذيل طبقات الحنابلة" الذي ألّفه ابن رجب الحنبلي (ت 795) ذيلا على كتاب "طبقات الحنابلة" لابن أبي يعلى الفراء (ت 526).

ومن المصنفين في تراجم الفقهاء مَن نحى منحًى جُغرافيًّا، فترجم لفقهاء بلد معين، ككتاب "طبقات فقهاء اليمن ورؤساء الزمن" لابن سمرة الجعدي اليمني (ت 586).

كما شمل التأليف في هذا الفن الاتجاهات الكلامية، فصارت هناك كتب لتراجم أصحاب الفرق المختلفة كـ "فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة" للقاضي عبد الجبار (ت 415)، و"المقالات" للبلخي (219 هـ)، و"أعيان الشيعة" لمحسن ابن عبد الكريم الأمين (1371 هـ).

وثمة فرع من فروع التراجم يقوم على جمع تراجم شيوخ عالم من العلماء، كما نرى ذلك في "معجم شيوخ الصدفي" للقاضي عياض (544 هـ)، و"مشيخة ابن الجوزي" (597 هـ) و"معجم شيوخ ابن الأبار" (658 هـ) وغيرها.

ويأتي هذا الكتاب -الذي بين أيدينا- ليجمع شيوخ عالم من علماء الحديث، وهو الإِمام البيهقي، كما سيأتي الحديث عنه، إن شاء الله.
শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ; এবং সম্ভবত তাদের কেউ কেউ এই মানদণ্ডটিকে আরও নির্দিষ্ট করেছেন। ফলে তারা নিজ মাযহাবের মুজতাহিদগণের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন ইবনে কামাল পাশা (মৃত্যু ৯৪০ হি.) রচিত ‘তাবাকাতুল মুজতাহিদীন ফী মাযহাবিল হানাফিয়্যাহ’। অথবা নিজ মাযহাবের পরবর্তী যুগের আলেমদের নিয়ে লিখেছেন, যেমন ইউসুফ বিন হাসান বিন আহমদ আল-হাম্বলী আল-মাকদিসী রচিত ‘আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ ফী তাবাকাতি মুতাআখখিরি আসহাবি আহমাদ’। এই বইটি ইবনে রজব হাম্বলী (মৃত্যু ৭৯৫ হি.) রচিত ‘যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ’র একটি পরিশিষ্ট, যা আবার ইবনে আবী ইয়ালা আল-ফাররা (মৃত্যু ৫২৬ হি.) রচিত ‘তাবাকাতুল হানাবিলাহ’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে লিখিত।

ফকীহদের জীবনী রচয়িতাদের মধ্যে কেউ কেউ ভৌগোলিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। ফলে তারা কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ফকীহদের জীবনী সংকলন করেছেন, যেমন ইবনে সামরা আল-জা'দী আল-ইয়ামানী (মৃত্যু ৫৮৬ হি.) রচিত ‘তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান ওয়া রুয়াসায়িয যামান’।

জীবনী সাহিত্যের এই ধারাটি কালাম শাস্ত্রীয় মতবাদগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে বিভিন্ন ফিরকার অনুসারীদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেমন কাযী আব্দুল জব্বার (মৃত্যু ৪১৫ হি.) রচিত ‘ফাদলুল ইতিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলাহ’, আল-বালখী (মৃত্যু ২১৯ হি.) রচিত ‘আল-মাকালাত’ এবং মুহসিন বিন আব্দুল কারীম আল-আমীন (মৃত্যু ১৩৭১ হি.) রচিত ‘আ'ইয়ানুশ শিয়া’।

জীবনী সাহিত্যের আরও একটি শাখা রয়েছে যা কোনো একজন নির্দিষ্ট আলেমের উস্তাদ বা শায়খদের জীবনী সংকলনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেমনটি আমরা দেখতে পাই কাযী ইয়ায (মৃত্যু ৫৪৪ হি.) রচিত ‘মু'জামু শুয়ুখিস সাদাফী’, ইবনুল জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হি.) রচিত ‘মাশইয়াহাতু ইবনিল জাওযী’ এবং ইবনুল আব্বার (মৃত্যু ৬৫৮ হি.) রচিত ‘মু'জামু শুয়ুখি ইবনিল আব্বার’ সহ অন্যান্য গ্রন্থে।

আমাদের সামনে থাকা এই গ্রন্থটি হাদীস শাস্ত্রের একজন মহান ইমাম, তথা ইমাম বায়হাকীর উস্তাদদের জীবনী সংকলনের উদ্দেশ্যে রচিত। ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌بين يدي الكتاب

الحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، والصلاة والسلام على أشرف خلقه محمَّد صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم. وبعد:

لما كان الإسناد ضرورة دينية -ولا سيما مع ظهور البدع والمحدثات المضلة- لئلا يُعتمد في النقل على أحد هؤلاء المبتدعة فينسب إلى الشرع ما ليس منه؛ كان التفتيش عن أحوال الرواة والبحث عن مراتبهم جرحًا أو تعديلًا من الأهمية بمكان عند المتقدمين والمتأخرين من أهل العلم. كما ورد عن محمَّد بن سيرين رحمه الله أنه قال: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سَمُّوا لنا رجالكم. فيُنظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، ويُنظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم(1).

وقال أيضًا: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم(2).

وقال سفيان الثوري: الإسناد سلاح المؤمن، فمن لم يكن له سلاح فبأي شيء يقاتل(3).

وقد تضافرت أقوال الأئمة للتأكيد على هذا المعنى بين الحين والآخر، الأمر الذي أدى إلى وجود سجلات -بالمعنى المعاصر- عن هؤلاء الرواة، فما عاد من

--------------------------------------------

(1) مقدمة صحيح مسلم (1/ 15).

(2) مقدمة صحيح مسلم (1/ 14).

(3) سير أعلام النبلاء (7/ 273).
গ্রন্থের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়; আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লামের ওপর। অতঃপর:

যেহেতু ইসনাদ (সনদ) একটি ধর্মীয় অপরিহার্যতা—বিশেষ করে বিভ্রান্তিকর বিদআত ও নবউদ্ভত বিষয়াবলির আবির্ভাবের কারণে—যাতে করে বর্ণনার ক্ষেত্রে এসকল বিদআতপন্থীদের ওপর নির্ভর করা না হয় এবং যা শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত নয় তা যেন শরীয়তের দিকে সম্বন্ধিত না করা হয়; তাই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণের নিকট বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং জারহ ও তাদিলের (দোষগুণ বিচার) মাধ্যমে তাদের মান অনুসন্ধান করা অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে। যেমনটি মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "তারা ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তারা বলতে লাগলেন: 'তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো।' অতঃপর আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতপন্থীদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না"(১)।

তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ"(২)।

সুফিয়ান সাওরী বলেছেন: "ইসনাদ হলো মুমিনের অস্ত্র; যার কাছে অস্ত্র নেই, সে কী দিয়ে লড়াই করবে?"(৩)।

ইমামগণের উক্তিগুলো সময়ের ব্যবধানে এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করার জন্য একত্রিত হয়েছে, যার ফলে এই বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে—আধুনিক পরিভাষায়—রেকর্ড বা তথ্যপঞ্জি তৈরি হয়েছে। ফলে এটি আর কোনো

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম (১/ ১৫)।

(২) মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম (১/ ১৪)।

(৩) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/ ২৭৩)।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٢)
راوٍ إلا وترجم له الأئمة في كتبهم سوى النذر اليسير، وذكروا الأحاديث التي رواها، وحاله من حيث الجرح أو التعديل.

وعلى الرغم من المكانة العلمية التي يحظى بها البيهقي بين أهل الحديث، فهو صاحب التصانيف الفريدة التي ليس لأحد مثلها، وهو أيضًا علّامة فقيه، ثبت ثقة، واحد زمانه، وفرد أقرانه، وحافظ أوانه، وقد بلغت تصانيفه الكثير حتى قيل: إنها بلغت الألف، فقد بورك له في مروياته، وحسن تصرفه فيها، بما له من حذق وخبرة بالأبواب والرجال.

وعلى الرغم أيضًا من اتجاه أنظار العلماء والباحثين للغوص والاستفادة منها، فلا يحصى كم محقق لها ومعتن ومفهرس لها ودارس

أقول: على الرغم من هذا وتلك - إلا أنه بقي فضلة لم تنلها أيدي الباحثين ألا وهي الاعتناء بتراجم شيوخ الإِمام البيهقي، وجمعها في مجلد واحد، فاستعنت بالله لحمل هذه المهمة.

ويمكن سرد أهم الدوافع التي كان لها الدور الفعال في المشروع في هذا العمل:

عدم وجود مصنف مستقل في هذا الجانب

لا يخفى على الممارس لهذا الفن ما يلاقيه المعتنون بالأسانيد من الجهد والمشقة في سبيل الوقوف على تراجم مشايخ أصحاب الكتب المتأخرة خاصة شيوخ البيهقي بسبب تفنن البيهقي في ذكر أسمائهم، فيتفنن في اسم الشيخ الواحد بأكثر من طريقة، مرة باسمه كاملا أو بجزء منه، ومرة بكنيته، وأخرى بلقبه، وأحيانا بحرفته، حتى وصل الأمر في بعض الأحيان إلى أكثر من عشر صور للاسم الواحد، مما جعل المشتغلين بهذا العلم في أحيان كثيرة يعجزون عن تحديد أصحاب هذه الأسماء، خصوصا وأن كتب التراجم لم تأت بترجمتهم على الصيغة التي أوردها البيهقي في
সামান্য কিছু বাদে প্রায় প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জীবনীই ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে সংকলন করেছেন এবং তাঁরা তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহ ও জারহ বা তা’দীল (সমালোচনা ও গুণাগুণ) এর ভিত্তিতে তাঁদের অবস্থার বর্ণনা করেছেন।

হাদীস বিশারদদের নিকট ইমাম বায়হাকীর সুউচ্চ ইলমী মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও—কেননা তিনি এমন অনন্য কিতাবসমূহের রচয়িতা যার সমতুল্য কারো নেই, এবং তিনি একজন আল্লামা, ফকীহ, প্রামাণিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব, স্বীয় সময়ের অদ্বিতীয়, সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য এবং নিজ যুগের হাফেজ—তাঁর রচনাবলী সংখ্যায় এতো বেশি যে বলা হয় তা এক হাজারে পৌঁছেছে। তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহে বরকত দান করা হয়েছে এবং পরিচ্ছেদ ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তাঁর বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতার কারণে সেগুলোর বিন্যাসে তিনি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

একইভাবে আলিম ও গবেষকদের দৃষ্টি এগুলোর গভীরে প্রবেশ করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার দিকে নিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও—কেননা কতজন যে এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদন করেছেন, যত্ন নিয়েছেন, সূচিপত্র তৈরি করেছেন এবং গবেষণা করেছেন তার ইয়ত্তা নেই—

আমি বলছি: এই সবকিছুর পরেও এমন একটি অবশিষ্টাংশ থেকে গেছে যা গবেষকদের হাতের নাগালে আসেনি, আর তা হলো ইমাম বায়হাকীর উস্তাদদের জীবনী সংকলন করা এবং তা একটি খণ্ডে একত্রিত করা। তাই এই দায়িত্ব পালনের জন্য আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি।

এই কাজে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে সেগুলো এভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে:

এই বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থের অনুপস্থিতি।

এই শাস্ত্রের চর্চাকারীদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, পরবর্তী যুগের কিতাবসমূহের রচয়িতাদের উস্তাদদের জীবনী জানার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বায়হাকীর উস্তাদদের বিষয়ে, সনদ নিয়ে কাজ করা গবেষকদের কতটা পরিশ্রম ও কষ্ট পোহাতে হয়। এর কারণ হলো ইমাম বায়হাকী তাঁদের নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য অবলম্বন করেছেন। তিনি একজন উস্তাদের নাম বিভিন্নভাবে উল্লেখ করেন; কখনো তাঁর পূর্ণ নামে বা নামের অংশবিশেষ দিয়ে, কখনো কুনিয়াত (উপনাম) দিয়ে, কখনো লকব (উপাধি) দিয়ে, আবার কখনো তাঁর পেশার মাধ্যমে। এমনকি কখনো কখনো এক ব্যক্তির নামের দশটিরও বেশি রূপ দেখা যায়। ফলে এই শাস্ত্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক সময় এই নামগুলোর প্রকৃত ব্যক্তি নির্ধারণে অপারগ হয়ে পড়েন, বিশেষ করে যেহেতু জীবনীগ্রন্থগুলোতে বায়হাকীর বর্ণিত রূপ অনুযায়ী তাঁদের জীবনী উল্লেখ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
كتبه، مما يتطلب جهودًا مضنية من الباحثين، ومعرفة عميقة بطرق البيهقي في تسميته شيوخه حتى يتمكنوا من الوصول إلى ترجماتهم.

وقد أدى هذا في بعض الأحيان إلى الخلط بين أسماء هؤلاء الرواة(1) مما أثر على الأحاديث ودقة الحكم عليها بالصحة والضعف.

وقد تطلب هذا عناية كبيرة بالرجوع إلى أمات كتب التراجم والكتب المؤلفة في تواريخ البلدان وغيرها؛ حتى تم -بحمد الله وتوفيقه- معالجة مثل هذا اللبس.

أهمية كتب البيهقي في ذكر نصوص كثير من المصادر المفقودة والتي لم تطبع بعد

فقد حفظ لنا البيهقي رحمه الله تعالى الكثير من المصادر المفقودة المتنوعة التي لم يصل إلينا منها شيء، إما بطريق الإجازة أو المكاتبة أو الوجادة، فأحسن النقل، حتى أصبحنا نأخذ النص وكأننا نرى المصدر الذي استُقِي منه، فمثلا الجامع الكبير لسفيان الثوري، رواية عبد الله بن الوليد العدني، يعد هذا الجامع من الكتب المفقودة التي لم يصلنا منها سوى اسمه، فقد اعتمد البيهقي عليه، وروى منه الكثير في كتبه من طريق شيخه أبي بكر الفارسي، وكذلك روى لنا مسند أحمد بن عبيد الصفار عن شيخه علي بن أحمد بن عبدان عن الصفار، وكذلك صحيح الإسماعيلي

--------------------------------------------

(1) حتى إن الإمام الذهبي رحمه الله عندما ترجم لبشر بن أحمد بن بشر بن محمود أبي سهل الإسفراييني المهرجاني الدهقان قال: حدث عنه: الحاكم، والعلاء بن محمَّد بن أبي سعيد، ومحمَّد بن حم الفقيه، ومحمَّد بن محمَّد بن أبي المعروف، وشريك بن عبد الملك المهرجاني، وهم من شيوخ البيهقي. انتهى. سير أعلام النبلاء (16/ 229)، تاريخ الإِسلام (8/ 319) رضي الله عن الذهبي ورحمه فإن محمَّد بن حم الفقيه، ومحمد بن محمد بن أبي المعروف واحد، والذي أوقع الذهبي رحمه الله في ذلك هو تفنن البيهقي رحمه الله في تسمية شيوخه. وقد أشرنا إلى غير ذلك من الأمثلة في ثنايا الكتاب.
তাঁর গ্রন্থসমূহ, যা গবেষকদের পক্ষ থেকে কঠোর পরিশ্রম এবং তাঁর শিক্ষকদের নামকরণের ক্ষেত্রে বায়হাকীর পদ্ধতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের দাবি রাখে, যাতে তাঁরা তাঁদের জীবনী পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এটি কখনও কখনও এই বর্ণনাকারীদের নামের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে, যা হাদিসসমূহ এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার ব্যাপারে নির্ভুল সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

আর এর জন্য জীবনী বিষয়ক মৌলিক গ্রন্থসমূহ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাসের ওপর রচিত গ্রন্থাদি ও অন্যান্য উৎসের শরণাপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক যত্নের প্রয়োজন হয়েছে; যাতে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফিকে এ জাতীয় অস্পষ্টতা নিরসন করা সম্ভব হয়।

বহু হারিয়ে যাওয়া এবং এখনও অপ্রকাশিত মূল উৎসসমূহের পাঠ উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে বায়হাকীর গ্রন্থাবলির গুরুত্ব

ইমাম বায়হাকী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের জন্য বিবিধ হারিয়ে যাওয়া অনেক উৎস সংরক্ষণ করেছেন, যেগুলোর কোনো অংশই আমাদের কাছে পৌঁছেনি। তিনি হয় ইজাযাহ, অথবা পত্রালাপ, অথবা প্রাপ্তি (ওয়াজাদাহ)-এর মাধ্যমে এগুলো সংরক্ষণ করেছেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তা নকল করেছেন, এমনকি আমরা এখন পাঠ্যটি এমনভাবে গ্রহণ করি যেন আমরা সেই মূল উৎসটিই দেখছি যেখান থেকে এটি সংগৃহীত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সুফিয়ান আস-সাওরীর 'আল-জামি আল-কাবীর', যা আবদুল্লাহ ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-আদানীর বর্ণনায় প্রাপ্ত; এই 'জামি'টি সেই সব হারিয়ে যাওয়া বইয়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর নাম ছাড়া আর কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছেনি। বায়হাকী এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং তাঁর শিক্ষক আবু বকর আল-ফারিসীর সূত্রে তাঁর গ্রন্থসমূহে এর থেকে অনেক বর্ণনা করেছেন। একইভাবে তিনি তাঁর শিক্ষক আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদান-এর সূত্রে আস-সাফফার থেকে আমাদের কাছে 'মুসনাদে আহমাদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার' বর্ণনা করেছেন, এবং একইভাবে 'সহীহ আল-ইসমাঈলী'ও বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এমনকি ইমাম আয-যাহাবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যখন বিশর ইবনে আহমাদ ইবনে বিশর ইবনে মাহমুদ আবু সাহল আল-ইসফরাইনী আল-মিহরাজানী আদ-দিহকানের জীবনী আলোচনা করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: "তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আল-হাকিম, আল-আলা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনে হুম আল-ফকিহ, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল মারুফ এবং শারিক ইবনে আবদুল মালিক আল-মিহরাজানী, আর তাঁরা বায়হাকীর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত।" সমাপ্ত। সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/২২৯), তারিখুল ইসলাম (৮/৩১৯)। আল্লাহ যাহাবীর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন; প্রকৃতপক্ষে মুহাম্মদ ইবনে হুম আল-ফকিহ এবং মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল মারুফ একই ব্যক্তি। ইমাম যাহাবীকে (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিভ্রান্তিতে ফেলার কারণ হলো বায়হাকীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর শিক্ষকদের নামকরণের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য প্রদর্শন। আমরা বইয়ের বিভিন্ন স্থানে এই ধরণের আরও উদাহরণের দিকে ইঙ্গিত করেছি।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٤)
الذي يرويه عن شيخه أبي عمرو الأديب عن الإسماعيلي، وسنن يوسف بن يعقوب القاضي، وأمالي أبي عبد الله الحافظ صاحب المستدرك، وتاريخ نيسابور له، وغير ذلك من الكتب التي نبهنا عليها في سياق الكتاب.

أهمية كتب البيهقي في ضبط نصوص كثير من المصادر المطبوعة

إلى جانب ما سبق فقد حفظ لنا الكثير من المصادر المطبوعة التي أعانت على ضبط كثير من النصوص، مثل: الكامل لابن عدي الذي يرويه البيهقي عن شيخه أبي سعد الماليني عن ابن عدي، وسنن الدارقطني الذي يرويه عن شيخه أبي بكر الحارثي عن الدارقطني، فرواية البيهقي لهما تعد نسخة ثانوية لضبط الكثير من نصوصهما، وهذا مثل لكثير من الكتب التي رواها البيهقي في كتبه، ككتاب مسند أبي داود الطيالسي؛ يرويه البيهقي عن شيخه ابن فورك، وكتاب سنن أبي داود السجستاني رواية اللؤلؤي؛ يرويه البيهقي من طريق شيخه أبي بكر محمَّد بن محمَّد الطوسي، وغيرها كثير.

اعتماد العلماء على البيهقي في أحكامه على الرواة

تعد كتب البيهقي غزيرة بالمادة النقدية على الرواة جرحًا وتعديلا وسماع بعضهم من بعض، فلا نكاد نجد صفحة من صفحات كتبه خالية من كلامه على رواة أحاديثه جرحًا وتعديلا وسماعا، حتى إن الحافظين الذهبي وابن حجر عندما ترجما لمحمد بن عبد الله الفلسطيني؛ الراوي عن جويبر وعنه أحمد بن عبد الله الجويباري، ذكرا كلام البيهقي فيه، وحاصله: أما محمَّد بن عبد الله الفلسطيني هذا فلست أعرفه ولست أجد اسمه في التواريخ التي عندي، وإنما هو شيخ مجهول، والجهالة عين الجرح عند أهل الحديث(1) … وأما أحمد بن عبد الله الجويباري

--------------------------------------------

(1) وهذه فائدة جليلة حيث اشتهر في الآونة الأخيرة بين طلبة الحديث سؤال وهو: هل الجهالة جرح أم لا؟.
যা তিনি তাঁর উস্তাদ আবু আমর আল-আদিব থেকে, তিনি আল-ইসমাঈলি থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাদীর 'সুনান'; 'আল-মুস্তাদরাক' প্রণেতা আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজের 'আমালি' ও তাঁর 'তারিখু নিসাপুর'; এবং অন্যান্য বই যেগুলোর ব্যাপারে আমরা কিতাবের প্রাসঙ্গিক অংশে আলোকপাত করেছি।

অনেক মুদ্রিত উৎসের পাঠ্য সংশোধন ও সংরক্ষণে ইমাম বায়হাকীর গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব

পূর্বোল্লেখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি, তিনি আমাদের জন্য অনেক মুদ্রিত উৎস সংরক্ষণ করেছেন যা বহু পাঠ্যের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে সহায়তা করেছে। যেমন: ইবনে আদীর 'আল-কামিল', যা বায়হাকী তাঁর উস্তাদ আবু সাদ আল-মালিনী থেকে, তিনি ইবনে আদী থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং 'সুনানে দারা কুতনী', যা তিনি তাঁর উস্তাদ আবু বকর আল-হারিছী থেকে, তিনি দারা কুতনী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকীর বর্ণনা এ দুটি কিতাবের পাঠ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি সহায়ক পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য হয়। এটি বায়হাকী তাঁর কিতাবসমূহে বর্ণনা করেছেন এমন অনেক গ্রন্থের উদাহরণ মাত্র। যেমন আবু দাউদ আল-তায়ালিসীর 'মুসনাদ', যা বায়হাকী তাঁর উস্তাদ ইবনে ফুরাক থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং লুলুয়ী বর্ণিত আবু দাউদ আস-সিজিস্তানীর 'সুনান', যা বায়হাকী তাঁর উস্তাদ আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তুসীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; এ রকম আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।

বর্ণনাকারীদের বিষয়ে ফয়সালা প্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম বায়হাকীর ওপর আলেমদের নির্ভরতা

ইমাম বায়হাকীর গ্রন্থসমূহ বর্ণনাকারীদের 'জারহ' ও 'তাদীল' এবং একে অপরের থেকে শ্রবণের (সামা') ব্যাপারে প্রচুর সমালোচনামূলক উপাদানে সমৃদ্ধ। তাঁর কিতাবসমূহের এমন কোনো পৃষ্ঠা পাওয়া দুষ্কর যেখানে তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহের রাবিদের জারহ-তাদীল ও শ্রবণ সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য নেই। এমনকি হাফেজ জাহাবী ও ইবনে হাজার যখন জুইবার থেকে বর্ণনাকারী এবং যাঁর থেকে আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুইবারী বর্ণনা করেছেন—সেই মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফিলিস্তিনীর জীবনী আলোচনা করেছেন, তখন তাঁরা তাঁর ব্যাপারে বায়হাকীর মন্তব্য উল্লেখ করেছেন। যার সারমর্ম হলো: "এই মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফিলিস্তিনীকে আমি চিনি না এবং আমার কাছে থাকা ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতেও তাঁর নাম খুঁজে পাই না। মূলত সে একজন অপরিচিত (মাজহুল) ব্যক্তি; আর হাদিস বিশারদদের মতে কোনো ব্যক্তি 'মাজহুল' বা অপরিচিত হওয়াটাই সরাসরি অযোগ্যতা (জারহ) হিসেবে গণ্য।"(১) … আর আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুইবারী সম্পর্কে—

--------------------------------------------

(১) এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনা। কেননা বর্তমান সময়ে হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি প্রশ্ন বহুল আলোচিত, তা হলো: কোনো বর্ণনাকারীর পরিচয় না থাকা বা 'জাহালাত' কি অযোগ্যতা (জারহ) হিসেবে গণ্য হবে কি না?।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٥)
فإني أعرفه حق المعرفة بوضع الحديث على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد وضع عليه أكثر من ألف حديث … انتهى(1).

يتميز كتب البيهقي بذكر الأحكام المتعلقة بدرجة الأحاديث

تتميز كتب البيهقي بالعناية الفائقة بنقد الأسانيد والمتون، والعمل على فحصها وتمحيصها، فالناظر في كتب البيهقي يقف على خبايا العلل والأوهام ودقائق الأخطاء التي يشير البيهقي إليها في سائر مصنفاته، كما قال شيخ الإِسلام: " … البيهقي ينقي الآثار ويميز بين صحيحها وسقيمها … "(2)

الإفادة من كتب البيهقي في معرفة بلدان الرواة وأماكنهم وأزمنة التحديث

فالناظر في كتب البيهقي يجد أثناء استعراض البيهقي للأسانيد أنه يذكر بلد الرجل، كأن يقول: حدثنا فلان القاضي بالكوفة، أو القاضي بالري. ويذكر كذلك أماكن سماعه منهم، مثل عبارات: حدثنا فلان قدما علينا نيسابور أو بيهق حاجًّا. أو: حدثنا فلان وهو في طريقه إلى بغداد. أو: حدثنا فلان على شط الفرات.

وكذلك في أزمنة السماع وهو يحدث عن شيخه ثم يضبط سنة السماع منه، ويراعي البيهقي ذلك في شيوخ شيوخه، ولا يخفى على ممارس هذا العلم أهمية ذلك في سرعة الترجمة للشيخ، فمثلا: لو قال البيهقي: حدثنا فلان ببيهق. فعلى الباحث أن يعمد إلى الكتب المؤلفة في مدينة بيهق ويطلب هذا الراوي، وكذلك في ذكر أماكن السماع والأزمنة، كل ذلك يفيد في رفع جهالة العين والحال عن الراوي، وهذه فوائد قلّ من يتنبه لها.

--------------------------------------------

(1) جزء الجُويباري (2/ 215) للبيهقي.

(2) مجموع الفتاوى 24/ 154.
নিশ্চয়ই আমি তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর হাদীস জাল করার বিষয়ে পূর্ণরূপে জানি, কারণ তিনি তাঁর ওপর এক হাজারেরও বেশি হাদীস জাল করেছেন … সমাপ্ত(১).

হাদীসের মান সম্পর্কিত বিধানসমূহ উল্লেখের মাধ্যমে বায়হাকীর গ্রন্থসমূহ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে

সনদ ও মতনের সমালোচনায় এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে বায়হাকীর গ্রন্থসমূহ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ফলে বায়হাকীর গ্রন্থসমূহের পাঠক সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত), কাল্পনিক ধারণা এবং ভুলের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারেন, যা বায়হাকী তাঁর অন্যান্য সকল রচনায় ইঙ্গিত করেছেন। যেমনটি শাইখুল ইসলাম বলেছেন: " … বায়হাকী বর্ণনাগুলোকে পরিচ্ছন্ন করেন এবং সেগুলোর মধ্য থেকে সহীহ ও যয়ীফকে পৃথক করেন … "(২)

বর্ণনাকারীদের শহর, অবস্থান এবং হাদীস বর্ণনার সময়কাল জানার ক্ষেত্রে বায়হাকীর গ্রন্থসমূহ থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা

বায়হাকীর গ্রন্থসমূহের পাঠক তাঁর সনদগুলো পর্যালোচনার সময় দেখতে পাবেন যে, তিনি বর্ণনাকারীর শহরের নাম উল্লেখ করেন, যেমন তিনি বলেন: আমাদের নিকট কুফার কাজী অমুক বর্ণনা করেছেন, অথবা রাই শহরের কাজী। তিনি তাদের থেকে হাদীস শোনার স্থানসমূহও উল্লেখ করেন, যেমন এই বাক্যগুলো: হজ উপলক্ষে নিশাপুর বা বায়হাক-এ আমাদের নিকট আসা অমুক ব্যক্তি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। অথবা: বাগদাদ যাওয়ার পথে অমুক ব্যক্তি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। অথবা: ফোরাত নদীর তীরে অমুক ব্যক্তি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে হাদীস শোনার সময়ের ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণনা করার সময় তাঁর থেকে হাদীস শোনার বছর নির্দিষ্ট করে দেন। বায়হাকী তাঁর উস্তাদের উস্তাদদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি লক্ষ্য রাখেন। এই শাস্ত্রের চর্চাকারীদের নিকট কোনো শাইখের জীবনী দ্রুত খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অস্পষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ: বায়হাকী যদি বলেন: 'অমুক ব্যক্তি বায়হাক-এ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন', তবে গবেষকের উচিত বায়হাক শহর কেন্দ্রিক রচিত গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হওয়া এবং সেই বর্ণনাকারীকে অনুসন্ধান করা। একইভাবে হাদীস শোনার স্থান ও সময় উল্লেখ করার বিষয়টিও বর্ণনাকারীর সত্তাগত বা অবস্থাগত পরিচয়হীনতা (জাহালাত) দূর করতে সাহায্য করে; আর এগুলো এমন সব উপকারিতা যার প্রতি খুব কম লোকই লক্ষ্য করেন।

--------------------------------------------

(১) বায়হাকী রচিত জুযউল জুইবারী (২/ ২১৫)।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া ২৪/ ১৫৪।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٦)
يتميز كتب البيهقي بذكر بعض الكنى والأنساب لكثير من الرواة التي خلت كتب التراجم منها

تتميز كتب البيهقي بذكر كنى وأنساب الرواة التي لم يقف المترجمون لهم عليها، وهو أمر ملاحظ في كثير من الرواة خاصة في طبقة شيوخه، فإن دل ذلك فإنما يدل على سعة علم البيهقي بمعرفة أنساب الرواة وكناهم، ولا يخفى على الباحثين فائدة ذلك.

التعيين لكثير من الرواة المبهمين والمهملين في الأسانيد

كما تتميز كتب البيهقي بالكشف عما أبهم في الإسناد، وكما هو معلوم أن هذا الأمر ليس من الأمور الهينة الميسورة؛ فهذا يتطلب اطلاعا واسعا واستحضارًا جيدًا، ومعرفة بالرواة وشيوخهم وتلاميذهم وطبقاتهم، ومن الأمثلة العويصة لبعض المبهمات التي كشف البيهقي عنها ما أخرجه في السنن الكبرى(1) عن رجل من بني عقيل عن عمه، قال البيهقي معلقا عليه: هو إبراهيم العقيلي، وعمه ثور بن قدامة، رواه الثوري عنه. انتهى.

وكذلك مما تتميز به كتب البيهقي في تعيين بعض الرواة المهملين الذين يأتون بكناهم فقط، أو يأتون بأسمائهم مع اشتراكهم مع كثير من رواة هذه الطبقة في هذا الاسم أو تلك الكنية، ولهذا العمل فوائد جليلة، منها: دفع توهم من لا خبرة له بهذا الشأن من الخلط بينه وبين راوٍ آخر في نفس الطبقة أو يشترك معه في الشيوخ والتلاميذ، وهذا العمل يتطلب جهدا كبيرا ومعرفة واسمعة بالرجال حتى يتمكن من القيام به على الوجه الأتم.

--------------------------------------------

(1) (4/ 269).
ইমাম বায়হাক্বীর গ্রন্থসমূহ অনেক বর্ণনাকারীর এমন কিছু উপনাম এবং বংশপরিচয় উল্লেখ করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, যা জীবনীগ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না।

বায়হাক্বীর কিতাবসমূহ বর্ণনাকারীদের এমন সব উপনাম ও বংশপরিচয় বর্ণনার মাধ্যমে বিশেষায়িত হয়েছে যা জীবনীকারগণ খুঁজে পাননি। বিশেষ করে তাঁর শিক্ষকদের স্তরের অনেক বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি লক্ষ্যণীয়। এটি যদি কিছু প্রমাণ করে, তবে তা বর্ণনাকারীদের বংশপরিচয় ও উপনাম সম্পর্কে বায়হাক্বীর ইলমের ব্যাপকতাকেই প্রমাণ করে; আর গবেষকদের নিকট এর উপকারিতা গোপন নয়।

সনদসমূহের অনেক অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট বর্ণনাকারীকে সুনির্দিষ্টকরণ

একইভাবে বায়হাক্বীর গ্রন্থসমূহ সনদের অস্পষ্টতা উন্মোচনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, এই বিষয়টি কোনো সহজসাধ্য কাজ নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক অধ্যয়ন, প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং বর্ণনাকারীগণ, তাঁদের শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁদের স্তরসমূহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। বায়হাক্বী যেসব জটিল অস্পষ্টতা উন্মোচন করেছেন তার একটি উদাহরণ হলো ‘আস-সুনান আল-কুবরা’(১) গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদিস, যা তিনি ‘বনু উক্বায়ল গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন’ সূত্রে উল্লেখ করেছেন। বায়হাক্বী এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: তিনি হলেন ইব্রাহিম আল-উক্বায়লী, আর তাঁর চাচা হলেন সাওর ইবনে কুদামাহ, আস-সাওরী তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।

একইভাবে বায়হাক্বীর গ্রন্থসমূহ এমন কিছু অনির্দিষ্ট বর্ণনাকারীকে সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে অনন্য, যাঁদের কেবল উপনাম উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা কেবল নাম উল্লেখ করা হয়েছে অথচ ওই স্তরের অনেক বর্ণনাকারীর একই নাম বা উপনাম রয়েছে। এই কাজের মহান কিছু উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: যাদের এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেই, তাদের মনে একই স্তরের বা একই শিক্ষক ও ছাত্রের অধিকারী অন্য কোনো বর্ণনাকারীর সাথে গুলিয়ে ফেলার যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তা দূর করা। আর এই কাজটি সম্পন্ন করতে প্রচুর পরিশ্রম এবং বর্ণনাকারী শাস্ত্র সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞানের প্রয়োজন, যাতে তা যথাযথভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়।

--------------------------------------------

(১) (৪/ ২৬৯)।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٧)
كذلك من الدوافع التي تدفع الباحثين إلى القيام على خدمة كتب البيهقي تنوعها واشتمالها على أكثر من فن

حيث تعد كتب البيهقي من الكتب المتنوعة في سائر العلوم، فمنها ما هو في الفقه والعقائد والتربية والسلوك والرقائق والزهد والسيرة واللغة، وغير ذلك، كما هو ظاهر جلي لمن يطالعها.

يضاف إلى ذلك تميزها من ناحية إتقانها وكثرة فوائدها مع تفردها بأشياء كثيرة نافعة لم يسبق إليها، كما كان لهذه المؤلفات أكبر الأثر في إثراء المذهب الشافعي.

كل ذلك كان داعيا لتأليف هذا الكتاب والذي سميته إتحاف المرتقي بتراجم شيوخ البيهقي، وأرجو أن يجعله الله تحفة للباحثين وطلاب العلم إذا أرادوا الارتقاء في هذا الميدان لأسباب كثيرة، منها ما ذكرته في هذه المقدمة، ومنها ما سيلمسه الباحث عمليًّا عند مطالعة الكتاب.
একইভাবে, গবেষকদের বায়হাকীর গ্রন্থসমূহের খিদমতে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম কারণ হলো এগুলোর বৈচিত্র্য এবং একাধিক শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।

কেননা বায়হাকীর গ্রন্থসমূহকে সকল ইলমের অন্তর্ভুক্ত বৈচিত্র্যময় কিতাব হিসেবে গণ্য করা হয়। এগুলোর মধ্যে কোনটি ফিকহ, কোনটি আকায়েদ, তরবিয়াত ও সুলূক, রাকায়েক ও যুহদ, সীরাত এবং ভাষা বিষয়ক। এছাড়া আরও অন্যান্য বিষয়েও রয়েছে, যা পাঠক মাত্রই স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেন।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে এগুলোর নিখুঁত উপস্থাপনা ও প্রচুর ফায়দা এবং এমন অনেক উপকারী বিষয়ের একক সমাবেশ, যা ইতিপূর্বে আর ঘটেনি। তদুপরি শাফেয়ী মাযহাবকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই রচনাবলির বিশাল প্রভাব রয়েছে।

এই সবকিছুই এই কিতাবটি রচনার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে, যার নামকরণ করেছি 'ইতহাফুল মুরতাক্বী বি-তারাজিমি শুয়ুখিল বায়হাকী'। আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি একে গবেষক ও ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য একটি বিশেষ উপহার হিসেবে কবুল করবেন, যদি তারা অনেক কারণে এই ময়দানে উন্নতি করতে চান। এর কিছু কারণ আমি এই ভূমিকায় উল্লেখ করেছি এবং কিছু বিষয় গবেষক কিতাবটি অধ্যয়ন করার সময় বাস্তবিকভাবে অনুধাবন করতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌منهج العمل في الكتاب

‌‌أولًا: جمع الكتب:

1 - قمت بجمع جميع كتب البيهقي، وذلك عن طريق البحث والتفتيش وسؤال أهل المعرفة عن مطبوعاته رحمه الله تعالى، حتى اجتمع عندي سبعة وعشرون كتابا من كتب البيهقي.

2 - جمع كل ما ظهر من طبعات كتب البيهقي.

3 - توخيت الدقة في اختيار أفضل طبعات هذه الكتب، مع الاستعانة ببقية الطبعات عند الحاجة.

4 - قمت بالرجوع إلى أكثر من طبعة في حالة الشك في وجود تصحيف أو تحريف أو سقط؛ لتقويم النص.

5 - الاستعانة بالكتب التي استقت مادتها من كتب البيهقي خاصة تاريخ دمشق للحافظ ابن عساكر.

6 - الرجوع أحيانا إلى النسخ الخطية إذا دعت الحاجة إلى ذلك.

 

‌‌ثانيا: استقراء الشيوخ:

1 - استقراء ما تجمع عندي من الكتب لتجميع شيوخ البيهقي.

2 - وضع كل شيخ في بطاقة خاصة به.
গ্রন্থে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি

প্রথমত: গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ:

১ - আমি ইমাম বায়হাকীর সকল গ্রন্থ সংগ্রহ করেছি। এটি সম্ভব হয়েছে অনুসন্ধান, তলাশ এবং তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসার মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত বায়হাকীর সাতাশটি গ্রন্থ আমার নিকট একত্রিত হয়েছে।

২ - ইমাম বায়হাকীর গ্রন্থসমূহের প্রকাশিত সকল সংস্করণ সংগ্রহ করা।

৩ - এই গ্রন্থগুলোর সর্বোত্তম সংস্করণ নির্বাচনে আমি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছি এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য সংস্করণেরও সহায়তা নিয়েছি।

৪ - মূল পাঠ্য সংশোধনের উদ্দেশ্যে শব্দবিন্যাসের ভুল, বিকৃতি বা কোনো অংশ বাদ পড়ার সন্দেহের ক্ষেত্রে আমি একাধিক সংস্করণের শরণাপন্ন হয়েছি।

৫ - বিশেষত হাফেজ ইবনে আসাকিরের 'তারীখে দিমাশক' সহ সেই সকল গ্রন্থের সাহায্য গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলো তাদের উপাদান ইমাম বায়হাকীর গ্রন্থসমূহ থেকে গ্রহণ করেছে।

৬ - প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝেমধ্যে পাণ্ডুলিপিসমূহের শরণাপন্ন হওয়া।

 

দ্বিতীয়ত: শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন:

১ - ইমাম বায়হাকীর শিক্ষকদের নাম একত্রিত করার জন্য আমার নিকট সংগৃহীত গ্রন্থসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা।

২ - প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য একটি স্বতন্ত্র তথ্য-কার্ড বা তালিকা প্রস্তুত করা।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
3 - استقصاء شيوخ شيوخ البيهقي الذين لهم رواية عنهم في كتب البيهقي.

 

‌‌ثالثا: الترجمة للشيوخ:

1 - حرصت على ذكر اسم الشيخ بالصور الواردة عند البيهقي، مع مراعاة تفنن البيهقي في تسمية شيوخه على أكثر من وجه مثلا: أحمد بن الحسن بن أحمد أبو بكر القاضي الحيري الحرشي، تارة يسميه: أحمد بن أبي علي الحرشي، ومرة: أبو بكر القاضي، وأخرى: أبو بكر الحيري، ومرة: أبو بكر الحرشي، فأذكر كل هذه التسميات في الترجمة.

2 - قمت بالترجمة لهم من خلال الاعتماد على كتب التراجم، واتبعت في ترجمتي لهم المنهج الآتي:

أ - ذكرت اسم الشيخ كاملًا بالرجوع إلى كتب الرجال.

ب- وضعت جميع مصادر ترجمته التي يسر الله لي الوقوف عليها ككتب تواريخ البلدان، مثل: مختصر تاريخ نيسابور للحاكم، والمنتخب من كتاب السياق لتاريخ نيسابور، وتأريخ بيهق، وتاريخ بغداد، والعقد الثمين في تاريخ مكة … إلخ، وكتب تراجم اللغويين والشعراء، مثل: بغية الوعاة للسيوطي، وكتاب يتيمة الدهر للثعالبي، ودمية القصر للباخرزي … إلخ.

كما رجعت لكتب الوفيات مثل: تاريخ الإِسلام للذهبي، والوافي بالوفيات للصفدي، ووفيات الأعيان لابن خلكان … إلخ.

كما رجعت أيضًا إلى كتب الأنساب مثل: الأنساب للسمعاني،
৩ - বায়হাকীর সেই সকল শায়খদের শায়খদের অনুসন্ধান করা, বায়হাকীর গ্রন্থসমূহে যাদের থেকে বর্ণনা রয়েছে।

 

‌‌তৃতীয়ত: শায়খদের জীবনী:

১ - আমি শায়খদের নাম বায়হাকীর নিকট যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই উল্লেখ করতে সচেষ্ট হয়েছি। এক্ষেত্রে বায়হাকী তাঁর শায়খদের নামকরণের ক্ষেত্রে যে বৈচিত্র্য দেখিয়েছেন সেটিও লক্ষ্য রেখেছি। উদাহরণস্বরূপ: আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ আবু বকর আল-কাজী আল-হাইরী আল-হিরাশী—কখনও তিনি তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন: আহমদ বিন আবূ আলী আল-হিরাশী, কখনও: আবু বকর আল-কাজী, অন্য সময়: আবু বকর আল-হাইরী এবং কখনও: আবু বকর আল-হিরাশী। ফলে আমি জীবনী অংশে এই সকল নামই উল্লেখ করেছি।

২ - আমি জীবনীগ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করে তাঁদের জীবনী প্রস্তুত করেছি এবং জীবনী রচনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

ক - রিজাল (বর্ণনাকারী বিষয়ক) গ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়ে শায়খদের পূর্ণ নাম উল্লেখ করেছি।

খ- আল্লাহ আমাকে যেসব জীবনীমূলক উৎসের সন্ধান পাওয়ার তাওফিক দিয়েছেন, আমি সেগুলোর সব উল্লেখ করেছি। যেমন বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাসের কিতাবসমূহ—উদাহরণস্বরূপ: হাকিম রচিত 'মুখতাসার তারিখ নিশাপুর', 'আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লি-তারিখি নিশাপুর', 'তারিখে বায়হাক', 'তারিখে বাগদাদ', 'আল-ইকদুজ সামিন ফি তারিখি মক্কা' … ইত্যাদি। এবং ভাষাবিদ ও কবিদের জীবনীগ্রন্থসমূহ—যেমন: সুয়ূতী রচিত 'বুগইয়াতুল উয়াত', সায়ালিবীর 'ইয়াতীমাতুদ দাহর', বাখারযীর 'দুমইয়াতুল কাসর' … ইত্যাদি।

তদ্রূপ আমি মৃত্যু তারিখ সম্পর্কিত গ্রন্থসমূহের দিকেও প্রত্যাবর্তন করেছি, যেমন: যাহাবীর 'তারিখুল ইসলাম', সাফাদীর 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত', ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' … ইত্যাদি।

এছাড়াও আমি বংশতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়েছি, যেমন: সামআনীর 'আল-আনসাব'।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢١)
ولباب الأنساب لعلي بن زيد البيهقي، واللباب في تهذيب الأنساب لابن الجزري … إلخ.

رجعت كذلك لكتب الطبقات، مثل: كتاب طبقات الشافعية الكبرى للسبكي، وطبقات ابن قاضي شهبة وطبقات الفقهاء للشيرازي … إلخ، وكتب الفهارس، مثل: كشف الظنون، وهدية العارفين، وفهرست ابن خير الإشبيلي … وغيرها من كتب التراجم.

ج- نبهت على التصحيفات والتحريفات الواقعة في أسماء شيوخ البيهقي، وهذه من الفوائد النفيسة التي يحرص عليها طلبة العلم؛ لأن التصحيف سُوس الكتب التي يطمس بهاءها ويحول دون الاستفادة منها(1) فمثلا: (عبد الله بن الحسن الطبري)، صوابه: (هبة الله بن الحسن الطبري).

و (محمَّد بن إبراهيم) صوابه: (يحيى بن إبراهيم).

و (أبو أحمد الجرجاني) صوابه: (أبو أحمد المهرجاني).

وذكرتها في أماكنها من الترتيب الهجائي، فمثلا: (أبو الحسن محمَّد بن محمَّد الفقيه)، تصحف إلى: (الحسن بن محمَّد بن محمد الفقيه).

و (أحمد بن علي الحافظ) تصحف إلى: (أحمد بن عدي الحافظ).

--------------------------------------------

(1) (انظر كلامًا ماتعًا في هذا الشأن للعلامة محمود محمَّد الطناحي -برد الله مضجعه- في كتابه مدخل إلى تاريخ نشر التراث، حيث ألحق به محاضرة عن التصحيف والتحريف) ..
আলী ইবনে যায়েদ আল-বায়হাক্বীর 'লুবাবুল আনসাব' এবং ইবনুল জাযারীর 'আল-লুবাব ফি তাহযীবিল আনসাব' … ইত্যাদি।

একইভাবে আমি তবাক্বাত (শ্রেণীভিত্তিক জীবনী) গ্রন্থসমূহেরও সাহায্য নিয়েছি, যেমন: সুবকীর 'তবাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা', ইবনে ক্বাযী শুহবার 'তবাক্বাত' এবং শিরাজীর 'তবাক্বাতুল ফুকারহা' … ইত্যাদি। আরও সাহায্য নিয়েছি সূচিপত্র বিষয়ক গ্রন্থসমূহের, যেমন: 'কাশফুজ জুনুন', 'হাদিয়াতুল আরিফীন', এবং ইবনে খাইর আল-ইশবিলীর 'ফিহরিস্ত' … ও অন্যান্য জীবনীগ্রন্থের।

গ- বায়হাক্বীর শিক্ষকদের নামে যেসব তাসহিফ (অক্ষর বিভ্রাট) ও তাহরিফ (শব্দ বিকৃতি) ঘটেছে, আমি সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এটি এমন এক মূল্যবান তাত্ত্বিক নির্যাস যা অর্জনে ইলম অন্বেষণকারীরা উন্মুখ থাকেন; কারণ তাসহিফ হলো কিতাবের জন্য উইপোকা স্বরূপ, যা এর সৌন্দর্যকে বিলীন করে দেয় এবং কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়(১) উদাহরণস্বরূপ: (আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান আত-তাবারী), এর সঠিক রূপ হলো: (হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান আত-তাবারী)।

এবং (মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম), এর সঠিক রূপ হলো: (ইয়াহইয়া বিন ইবরাহীম)।

এবং (আবু আহমাদ আল-জুরজানী), এর সঠিক রূপ হলো: (আবু আহমাদ আল-মিহরাজানী)।

আমি এগুলোকে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী নিজ নিজ স্থানে উল্লেখ করেছি। যেমন: (আবু হাসান মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ফাক্বীহ), এটি তাসহিফ বা ভুলবশত হয়ে গিয়েছিল: (হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ফাক্বীহ)।

এবং (আহমাদ বিন আলী আল-হাফিয), এটি ভুলবশত হয়ে গিয়েছিল: (আহমাদ বিন আদী আল-হাফিয)।

--------------------------------------------

(১) (এই বিষয়ে আল্লামা মাহমুদ মুহাম্মাদ আত-তানাহীর—আল্লাহ তাঁর কবরকে শীতল করুন—তাঁর 'মাদখাল ইলা তারিখি নাশরিল তুরাস' গ্রন্থে একটি চমৎকার আলোচনা দেখুন, যেখানে তিনি তাসহিফ ও তাহরিফ বিষয়ক একটি বক্তৃতাও যুক্ত করেছেন) ..
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
و (أبو العباس الفضل بن علي) تصحف إلى: (أبو العباس عن الفضل بن علي).

و (أبو علي الحسين بن محمَّد الروذباري) تصحف إلى: (أبو الحسين بن محمَّد الروذباري).

و (أبو سعيد بن أبي عمرو) تصحف إلى: (أبو عبد الله بن أبي عمرو).

وقد ذكرت هذه التصحيفات حتى يقف طالب الترجمة على صوابها، فيصحح ما وقع في نسخته، ويقف على ترجمة الشيخ، وما توفيقي إلا بالله.

د - ثم ذكرت أسماء شيوخ شيوخ البيهقي -الذين وقعت لهم رواية في كتبه- كاملة، ورتبتهم على حروف المعجم لتيسير الوقوف على تراجمهم، وعدم الوقوع في تكرار الأسماء، ورفعا للالتباس عنهم، مثال: محمَّد بن يعقوب، ومحمَّد بن يعقوب، الأول الأصم، والثاني الشيباني الأخرم، ويشتركا مع كثير من شيوخ البيهقي، وبشر بن أحمد بن بشر الإسفراييني يأتي: بشر بن أبي يحيى، فيتعذر الوقوف عليه، ومحمَّد بن يعقوب الأصم يأتي: أبو العباس المعقلي، وهذا يتطلب من الباحث عناءً شديدًا لمعرفته.

هـ - ثم ذكرت تلاميذهم (أقران البيهقي)، ورتبتهم على حروف المعجم، وعلى رأسهم البيهقي، وذكرت طريقة التحمل التي أخذ البيهقي بها منه، فمثلا: إذا كانت إملاء أو إجازة أو كتابة، مع ذكره المكان الذي سمع منه به، فمثلا: بيهق، أو نيسابور، أو بغداد، أو الكوفة، وغير ذلك من البلدان التي رحل البيهقي إليها، وسمع من مشايخها، وهذا متبع أيضًا في شيوخ البيهقي وتلاميذ شيوخه.
এবং (আবু আব্বাস আল-ফাদল বিন আলী)-কে ভুলবশত লিখা হয়েছে: (আবু আব্বাস হতে আল-ফাদল বিন আলী)।

এবং (আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আর-রূদবারী)-কে ভুলবশত লিখা হয়েছে: (আবু আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আর-রূদবারী)।

এবং (আবু সাঈদ বিন আবি আমর)-কে ভুলবশত লিখা হয়েছে: (আবু আব্দুল্লাহ বিন আবি আমর)।

আমি এই ভুল রূপান্তরসমূহ (তাশহিফ) উল্লেখ করেছি যাতে জীবনী অনুসন্ধানকারী শিক্ষার্থী এগুলোর সঠিক রূপ সম্পর্কে জানতে পারে এবং তার কপিতে থাকা ভুলটি সংশোধন করতে পারে, এবং শায়খের জীবনী খুঁজে পেতে পারে। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

ঘ - অতঃপর আমি বায়হাকীর উস্তাদদের উস্তাদগণের পূর্ণ নাম উল্লেখ করেছি—যাঁদের বর্ণনা তাঁর কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে—এবং তাঁদের জীবনী খুঁজে বের করা সহজ করার জন্য, নামের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং তাঁদের ব্যাপারে সংশয় দূর করার জন্য বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি। উদাহরণস্বরূপ: মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব; প্রথমজন হলেন আল-আসাম্ম এবং দ্বিতীয়জন আশ-শায়বানী আল-আখরাম। তাঁরা বায়হাকীর অনেক উস্তাদের সাথে একই নামে সাদৃশ্যপূর্ণ। আবার বিশর বিন আহমদ বিন বিশর আল-ইসফারায়িনী কখনো 'বিশর বিন আবি ইয়াহইয়া' নামে আসেন, যার ফলে তাঁর পরিচয় উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম 'আবু আব্বাস আল-মাকালি' নামে আসেন, যার সঠিক পরিচয় জানতে একজন গবেষককে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

ঙ - এরপর আমি তাঁদের ছাত্রদের (বায়হাকীর সমসাময়িকদের) নাম উল্লেখ করেছি এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি, যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন বায়হাকী। বায়হাকী তাঁদের নিকট থেকে যে পদ্ধতিতে হাদিস গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেছি; উদাহরণস্বরূপ: সেটি কি শ্রুতলিখন (ইমলা), অনুমতি (ইজাযাহ) নাকি লিখিত (কিতাবাত) ছিল, এবং কোন স্থানে তিনি তাঁদের থেকে শ্রবণ করেছেন তাও উল্লেখ করেছি। যেমন: বায়হাক, নিশাপুর, বাগদাদ, কুফা অথবা অন্য যেসব জনপদে বায়হাকী ভ্রমণ করেছেন এবং সেখানকার শায়খদের থেকে শ্রবণ করেছেন। এই পদ্ধতি বায়হাকীর উস্তাদদের ক্ষেত্রে এবং তাঁদের উস্তাদদের ছাত্রদের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
و- قمت بالتنبيه على الكتب التي رواها البيهقي عن شيخه، مثل: كتاب مسند أبي داود الطيالسي؛ يرويه البيهقي من طريق ابن فورك، عن عبد الله بن جعفر الأصبهاني، عن يونس بن حبيب، عن الطيالسي، وكتاب سنن أبي داود السجستاني روايةَ ابن داسة؛ يرويه البيهقي من طريق أبي علي الرُّوذباريِّ، عن ابن داسة، عن أبي داود.

والكتب التي تحمَّلها من طريقه، مثل: كتاب موطأ الإِمام مالك من طريق أبي أحمد المهرجاني، عن محمَّد بن جعفر البستي، عن محمَّد بن إبراهيم البوشنجي، عن ابن بكير، عن مالك، سواء في ذلك ما هو مطبوع متداول بين الناس وطلبة العلم، مثل:

كتاب سنن أبي داود رواية اللؤلئي، ومسند علي بن الجعد، ومصنف عبد الرزاق، والخَرَاج ليحيى بن آدم.

أو ما هو في عداد المفقود ككتاب: تاريخ نيسابور للحاكم، ومعجم الحاكم، والجامع الكبير لسفيان الثوري الذي يرويه البيهقي من طريق شيخه أبي بكر الفارسي، عن أبي نصر العراقي، عن سفيان بن محمَّد، عن علي بن الحسن، عن عبد الله ابن الوليد العدني، عن الثوري. ومسند أحمد بن عبيد الصفار الذي يرويه البيهقي عن شيخه علي بن أحمد بن عبدان عن الصفار، كما بينا ذلك من قبل.

ز- ثم تتبعتُ أقوال أهل العلم من مظانها في بطون الكتب، آخذا سبيل الدقة والتمحيص في الكشف عن كل علم من الأعلام، وتعيينه تعيينا دقيقا، مع إِتْبَاعِ ذلك كله بخلاصة أقوال أهل العلم فيه توثيقا وتجريحا، حتى يكون بين يدي طالب العلم مَنْهَلٌ عذبٌ
চ- আমি সেই সব কিতাব সম্পর্কে সতর্কতা প্রদান করেছি যা ইমাম বায়হাকি তাঁর শিক্ষকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন: কিতাব মুসনাদ আবি দাউদ আত-তায়ালিসি; বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে ফুরাকের সূত্রে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আল-আসবাহানি থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে হাবিব থেকে, তিনি আত-তায়ালিসি থেকে। এবং কিতাব সুনান আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি ইবনে দাসার বর্ণনা অনুযায়ী; বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন আবু আলি আর-রুজবারির সূত্রে, তিনি ইবনে দাসা থেকে, তিনি আবু দাউদ থেকে।

এবং সেই সব কিতাব যা তিনি তাঁর (শিক্ষকের) সূত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন, যেমন: আবু আহমাদ আল-মিহরাজানির সূত্রে ইমাম মালিকের মুয়াত্তা কিতাবটি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-বুসতি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-বুশানজি থেকে, তিনি ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে বর্তমানে মুদ্রিত ও সর্বসাধারণ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে প্রচলিত কিতাবগুলোও অন্তর্ভুক্ত, যেমন:

আল-লুলুয়ি-এর বর্ণনায় কিতাব সুনান আবি দাউদ, মুসনাদ আলি ইবনে আল-জাদ, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক এবং ইয়াহইয়া ইবনে আদমের আল-খারাজ।

অথবা সেই সব কিতাব যা বর্তমানে বিলুপ্ত বা হারিয়ে যাওয়া কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: হাকিমের তারিখু নিসাবুর, হাকিমের মুজাম, এবং সুফিয়ান আস-সাওরির আল-জামি আল-কাবির—যা ইমাম বায়হাকি তাঁর শিক্ষক আবু বকর আল-ফারসির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু নাসর আল-ইরাকি থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আলি ইবনে আল-হাসান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-আদানি থেকে, তিনি আস-সাওরি থেকে। আরও রয়েছে মুসনাদ আহমদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার, যা ইমাম বায়হাকি তাঁর শিক্ষক আলি ইবনে আহমদ ইবনে আবদান থেকে এবং তিনি আস-সাফফার থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি।

ছ- অতঃপর আমি আলেমগণের বক্তব্যের উৎসস্থলসমূহ কিতাবসমূহের গভীর থেকে অনুসরণ করেছি। আমি প্রত্যেক বরেণ্য ব্যক্তিত্বের পরিচয় উদঘাটনে এবং তাঁদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও গভীর বিশ্লেষণের পথ অবলম্বন করেছি। এর পাশাপাশি প্রত্যেক বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (তাউসিক) ও অযোগ্যতা (তাজরিহ) বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ প্রদান করেছি, যাতে ইলম অন্বেষণকারীর সামনে একটি নির্মল ও স্বচ্ছ প্রস্রবণ বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ميسورٌ يرده متى شاء بفضل الله تبارك وتعالى، بدلا من البحث في الأوراق المتتابعة، والكتب المتفرقة، والمواضع المتعددة.

ح - تخريج الآيات والأحاديث الواردة في الكتاب والحكم على الأحاديث بما قاله أهل الفن من علماء الحديث الكرام رضي الله عنهم.

ط - ضبط الكثير من الأسماء والأنساب الْمُشْكِلة، والتعريف بالكثير من الكتب والأماكن الواردة في الكتاب.

ي - صناعة فهرس للكنى تسهيلا للقارئ؛ لأن كثيرا من مشايخ الإِمام البيهقي يذكرون في مدارج كتبه بالكنى لا بالأسماء، تَفَنُّنًا منه رحمه الله، وتبجيلا لمشايخه، وإظهارًا لبراعته في هذا الفن العظيم؛ علم الرجال والطبقات.

ك - عمل فهرس بالتصحيفات والتحريفات الواقعة في شيوخ البيهقي.

ل - عمل ملحق بتراجم شيوخ البيهقي الذين ذكر أنه روى عنهم ولم نجد رواية له عنهم في كتبه المطبوعة.

م - عمل فهرس بالتصحيفات والتحريفات والأخطاء المطبعية الواقعة في المصادر والمراجع ليقوم القاري بتصحيح نسخته.

ن - صناعة جريدة للمصادر والمراجع التي تم الاعتماد عليها في صناعة هذا الكتاب.

س - عمل ترجمة للإمام البيهقي رحمه الله تعالى.

 

‌‌تنبيهات للقارئ:

1 - قمت بترتيب شيوخ البيهقي على حروف المعجم مع ترقيمهم، وأما ما
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার অনুগ্রহে এটি এমন এক সহজলভ্য বিষয় যা যখন ইচ্ছা পাওয়া সম্ভব, একের পর এক পাতা, বিক্ষিপ্ত গ্রন্থ এবং বহুবিধ স্থানে অনুসন্ধান করার পরিবর্তে।

জ - গ্রন্থে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসসমূহের উৎসনির্দেশ (তাখরিজ) করা এবং হাদিস বিশারদ তথা সম্মানিত হাদিসবিদগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্য অনুযায়ী হাদিসগুলোর মান নির্ধারণ করা।

ঝ - অনেক জটিল নাম ও বংশপরিচয় সঠিকভাবে নিরূপণ করা এবং গ্রন্থে উল্লিখিত অনেক গ্রন্থ ও স্থানের পরিচয় প্রদান করা।

ঞ - পাঠকের সুবিধার্থে কুনিয়াত বা উপনামসমূহের একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করা; কেননা ইমাম বায়হাকি (রহিমাহুল্লাহ) বৈচিত্র্য আনয়ন, উস্তাদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ইলমুর রিজাল ও তাবাকাত নামক এই মহান বিদ্যায় তাঁর পারদর্শিতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে তাঁর অনেক উস্তাদকে নামের পরিবর্তে উপনামের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন।

ট - ইমাম বায়হাকির উস্তাদদের নামের ক্ষেত্রে সংঘটিত ভুল লিখন (তাসহিফ) ও বিকৃতিসমূহের (তাহরিফ) একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করা।

ঠ - ইমাম বায়হাকির ঐ সকল উস্তাদদের জীবনীর একটি পরিশিষ্ট তৈরি করা, যাদের নিকট থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ থাকলেও তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থসমূহে তাঁদের কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি।

ড - তথ্যসূত্র ও মূল উৎসসমূহে সংঘটিত ভুল লিখন, বিকৃতি ও মুদ্রণজনিত ত্রুটিসমূহের একটি তালিকা তৈরি করা যাতে পাঠক নিজের কপিটি সংশোধন করে নিতে পারেন।

ঢ - এই গ্রন্থটি সংকলনে যে সকল উৎস ও তথ্যসূত্রের ওপর নির্ভর করা হয়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করা।

ণ - ইমাম বায়হাকি (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি জীবনী প্রস্তুত করা।

 

‌‌পাঠকের জন্য বিশেষ দ্রষ্টব্য:

১ - আমি ইমাম বায়হাকির উস্তাদদের নাম বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি এবং তাঁদের ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি, আর যা...
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
كان فيه تصحيف أو تحريف فقد أحلتُ القارئ على ذكره اسمه مُصَحَّحًا.

2 - ذكرت استطرادًا بعض شيوخ شيوخ البيهقي، الذين لشيوخه رواية عنهم خارج كتب البيهقي، وذلك لوجود بعض الفوائد المترتبة على ذلك، كما نبهتُ من قبل.

3 - قد لا يجد القاري شيوخا لبعض شيوخ البيهقي وذلك لأن البيهقي قد يكون نقل عن شيخه بعض الأقوال في تفسير آية، أو قول في جرح راوٍ أو تعديله، أو يكون أنشد عن شيخه شعرًا أو غير ذلك، وقد التزمت بسند البيهقي رحمه الله وعلى القاري أن يعرج على كتب التراجم المثبتة في ترجمتهم وينظر ذكر العلماء لشيوخهم.

4 - استقصيت جميع روايات الشيوخ المقلين الذين روى عنهم البيهقي، وذكرت الكتب التي وقعت رواياتهم فيها، وعزوتها بالجزء والصفحة.

5 - قد ترد بعض أسماء شيوخ شيوخ البيهقي مُصَحَّفَةً، أو يكون ثمَّ سقط بين شيخ البيهقي وشيخه، فقمت بذكرهم على حالتهم، وذكرهم على الصواب أيضًا في مكانهم من الترتيب، ونبهتُ على الصواب في الحاشية، مع تقييد ذلك بمصطلح: وليس بمحفوظ.

6 - استثنيتُ ذكر شيوخ الحاكم، وكذلك ذِكر بعض شيوخ السلمي؛ لكثرتهم، على أنني قد استقصيت ترجمتهم في كتابي رجال البيهقي، يسر الله إتمامه.

7 - قد ترد بعض الزيادات في الأسماء في أسانيد البيهقي، فقمت بوضعها في الاسم حتى تعم الفائدة، لأنه من خلال تتبع ذكر البيهقي لأسماء شيوخه وشيوخ شيوخه يتبين أنه على دراية ومعرفة تامة بأسمائهم وأنسابهم، كما ذكرت من قبل.
যদি তাতে কোনো বর্ণবিকৃতি বা শব্দবিকৃতি থেকে থাকে, তবে আমি পাঠককে তার সঠিক নামের দিকে নির্দেশ করেছি।

2 - আমি প্রসঙ্গক্রমে বায়হাক্বীর শাইখদের শাইখদের মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছি, যাঁদের থেকে তাঁর শাইখগণ বায়হাক্বীর কিতাবসমূহের বাইরে বর্ণনা করেছেন। এর কারণ হলো এতে কিছু সংশ্লিষ্ট উপকারিতা রয়েছে, যেমনটি আমি পূর্বে সতর্ক করেছি।

3 - পাঠক বায়হাক্বীর কিছু শাইখের শাইখদের না-ও পেতে পারেন; কারণ বায়হাক্বী কখনও কখনও তাঁর শাইখের থেকে কোনো আয়াতের তাফসীর সংক্রান্ত কিছু উক্তি, অথবা কোনো বর্ণনাকারীর জারহ (সমালোচনা) বা তা'দীল (প্রশংসা) সংক্রান্ত উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, কিংবা তাঁর শাইখের থেকে কোনো কবিতা বা অন্য কিছু আবৃত্তি করেছেন। আমি বায়হাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সনদের প্রতি অনুগত থেকেছি এবং পাঠকের উচিত হবে বর্ণিত জীবনী গ্রন্থসমূহে তাঁদের জীবনীর দিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং তাঁদের শাইখদের সম্পর্কে আলেমদের বর্ণনা লক্ষ্য করা।

4 - বায়হাক্বী যেসব স্বল্প-বর্ণনাকারী শাইখদের থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁদের সকল বর্ণনা অনুসন্ধান করেছি এবং যেসব কিতাবে তাঁদের বর্ণনা এসেছে তা উল্লেখ করেছি এবং খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ তার উৎস নির্দেশ করেছি।

5 - বায়হাক্বীর শাইখদের শাইখদের কোনো কোনো নাম বর্ণবিকৃত অবস্থায় থাকতে পারে, অথবা বায়হাক্বীর শাইখ এবং তাঁর শাইখের মাঝে কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়ে থাকতে পারে। এমতাবস্থায় আমি তাঁদেরকে সেই অবস্থাতেই উল্লেখ করেছি এবং বর্ণনানুক্রম অনুযায়ী সঠিক স্থানে তাঁদের সঠিক নামটিও উল্লেখ করেছি। আমি পাদটীকায় সঠিক বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করেছি এবং একে 'এটি সংরক্ষিত নয়' পরিভাষা দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছি।

6 - আমি আল-হাকেমের শাইখদের এবং আস-সুলামীর কিছু শাইখদের উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি তাঁদের আধিক্যের কারণে; তবে আমি আমার 'রিজালুল বায়হাক্বী' গ্রন্থে তাঁদের জীবনী সবিস্তারে বর্ণনা করেছি, আল্লাহ এটি সম্পন্ন করা সহজ করে দিন।

7 - বায়হাক্বীর সনদসমূহে নামগুলোর ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত তথ্য থাকতে পারে, আমি তা নামের অন্তর্ভুক্ত করেছি যাতে উপকারিতা ব্যাপক হয়। কারণ বায়হাক্বী কর্তৃক তাঁর শাইখদের এবং তাঁদের শাইখদের নাম উল্লেখ করার বিষয়টি অনুসরণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি তাঁদের নাম এবং বংশপরিচয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ও অবগতি রাখতেন, যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
8 - عدم التطرق إلى ترجمة شيوخ الإِمام البيهقي الذين روى عنهم -على ندرة ذلك- في كتبه المخطوطة كانت أو المفقودة والتقيد بالكتب المطبوعة.

9 - الكتب التي اعتمدت فيها على أكثر من طبعة ذكرت ما اعتمدته من طبعاتها، وأشرت إلى الطبعة المغايرة التي استفدت منها في موضع الإفادة.

10 - في تعيين أسانيد السنن الكبرى -الطبعة الهندية- وجدت تصحيفات وتحريفات وسقطًا كثيرًا جدًا، فكلما أعياني شيء رجعت إلى نسخة جمعية المكنز الإِسلامي -وهي نسخة جيدة جدًا، ومحققة على أكثر من نسخة خطية- فوجدت فيها بغيتي، ذكرت هذا اعترافا لهم بالسبق والإفادة، وتنبيها للباحثين على قيمتها.

11 - قد يلاحظ القاري في ذكر سنة الوفاة لبعض الشيوخ ورود قول المترجم: تُوُفِّي. ثم لا يذكر سنة الوفاة، ويرجع هذا إلى أن المترجم عندما يتعرض لترجمة الشيخ أو الراوي، قد لا يكون عنده خبرٌ عن سنة وفاته، فيُبَيّضُ له، تاركا ذكر تاريخ وفاته، إلى أن يقف على سنة وفاة يدونه فيها، وهذه المسألة كثيرة جدًا في فتح الباري للحافظ ابن حجر، والله أعلم.

12 - اعلم أيها القاري الكريم أن الشرع الحنيف قد حض المسلمين إذا نزلت بهم ملمة أو طاردتهم حاجة أن يلجئوا إلى الله تعالى بالدعاء ليكشف الله عنهم ذلك، وأن المسلم مطالب بملازمة الدعاء؛ فهو أصل عظيم من أصول العبادة، وإفراد رب البرية بتوحيد القصد والإرادة، وقد تطالع في بعض التراجم عبارات من نحو: وقبره يزار، ويستجاب عنده الدعوات، وما من صاحب حاجة يذهب هناك ويدعو
৮ - ইমাম বাইহাকীর সেই সকল উস্তাদ বা শাইখদের জীবনী আলোচনা না করা—যদিও তা বিরল—যাঁদের থেকে তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপি বা বর্তমানে হারানো গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন, বরং শুধুমাত্র মুদ্রিত গ্রন্থসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা।

৯ - যেসব কিতাবের ক্ষেত্রে আমি একাধিক সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি, সেখানে আমি কোন সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি তা উল্লেখ করেছি এবং অন্য সংস্করণ থেকে যেখানে উপকৃত হয়েছি, সেই স্থানে তা নির্দেশ করেছি।

১০ - 'আস-সুনানুল কুবরা'-এর ভারতীয় সংস্করণের সনদসমূহ নির্ধারণ করার সময় আমি প্রচুর বানান বিভ্রাট, বিকৃতি এবং বাদ পড়া অংশ খুঁজে পেয়েছি। যখনই আমি কোনো সমস্যায় পড়েছি, তখনই 'জামঈয়াতুল মাকনায আল-ইসলামী'-এর সংস্করণের শরণাপন্ন হয়েছি—যা অত্যন্ত উৎকৃষ্ট একটি সংস্করণ এবং একাধিক পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত—সেখানে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেয়েছি। তাদের অগ্রগামিতা ও উপকারের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং গবেষকদের নিকট এর গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য আমি এটি উল্লেখ করেছি।

১১ - কোনো কোনো শাইখের মৃত্যুসন বর্ণনার ক্ষেত্রে পাঠক লক্ষ্য করতে পারেন যে, জীবনীকার লিখেছেন: 'তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন', কিন্তু মৃত্যুর সাল উল্লেখ করেননি। এর কারণ হলো, জীবনীকার যখন কোনো শাইখ বা রাবীর জীবনী লিখতেন, তখন হয়তো তাঁর কাছে মৃত্যুসন সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকত না। ফলে তিনি সেই জায়গাটি ফাঁকা রাখতেন যাতে পরবর্তীতে মৃত্যুসন খুঁজে পেলে সেখানে লিখে রাখা যায়। হাফেয ইবনে হাজার-এর 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে এ বিষয়টি অনেক বেশি দেখা যায়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

১২ - হে সম্মানিত পাঠক, জেনে রাখুন যে, এই সুমহান শরীয়ত মুসলমানদের উৎসাহিত করেছে যখনই তারা কোনো বিপদে পড়বে কিংবা কোনো প্রয়োজনে পড়বে, তারা যেন আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়ার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করে যাতে আল্লাহ তাদের থেকে সেই বিপদ দূর করে দেন। একজন মুসলিম দোয়ার সাথে সংলগ্ন থাকতে আদিষ্ট; কারণ দোয়া ইবাদতের এক মহান মূলনীতি এবং সৃষ্টির রবকে উদ্দেশ্য ও সংকল্পের তাওহীদের মাধ্যমে একক সাব্যস্ত করা। আপনি হয়তো কোনো কোনো জীবনীতে এমন বাক্য দেখতে পাবেন যেমন: "তাঁর কবর যিয়ারত করা হয়", "সেখানে দোয়া কবুল হয়", "কোনো অভাবী সেখানে গিয়ে দোয়া করলে..."
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
إلا استجاب الله له، وقبره يزار ويستسقى به!

وقد ذكر الشرع أسباب الإجابة، ومواطنها وصيغ الدعاء المحبوبة عند رب العالمين تبارك وتعالى، مثل:

- قوله صلى الله عليه وسلم: "ادعوا الله وأنتم موقنون بالإجابة، واعلموا أن الله لا يستجيب دعاء من قلب غافل لاهٍ"(1).

- وقوله صلى الله عليه وسلم: "إن ربكم تبارك وتعالى حيي كريم، يستحيي من عبده إذا رفع يديه إليه أن يردهما صفرا"(2).

وغير ذلك من الأحاديث والآثار المستفيضة عن سيدنا أبي القاسم صلى الله عليه وسلم.

ولم ينص الشرع الحنيف في كتاب ولا سنة، ولا قول أحد من الصحابة أو من أئمة الحديث والأثر؛ أهل السنة والجماعة، الذين أضاءوا الأرض بنور التوحيد أنّ من هذه الأسباب قصدَ القبر للدعاء عنده، ولا شك أن هناك صحابة ماتوا في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يقل لهم: ائتوا قبر فلان؛ فإن الدعاء عنده مجاب، والنبي صلى الله عليه وسلم لم يقل لأصحابه: إذا قُبرتُ فأتوا قبري؛ فإن الدعاء عنده مجاب! ولم يجعل الشرع ذلك سببا لإجابة الدعاء، بل نص بعض الأئمة على نكارة ذلك:

قال شيخ الإِسلام أبو عبد الله ابن قيم الجوزية رحمه الله تعالى: "قال شيخنا قدس الله روحه: وهذه الأمور المبتدعة عند القبور مراتب .. الرابعة: أن يَظُنَّ أن الدعاء عند قبره مستجاب، أو أنه أفضل من الدعاء في المسجد، فيقصد زيارته والصلاة عنده لأجل طلب حوائجه، فهذا أيضًا من المنكرات المبتدعة باتفاق

--------------------------------------------

(1) صحيح أخرجه الترمذيُّ (3479) وغيره، وصححه الشيخ الألباني في السلسلة الصحيحة حديث رقم (594).

(2) صحيح أخرجه أبو داود (1488) وغيره، وصححه الشيخ الألباني في صحيح سنن أبي داود.
আল্লাহ অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেন, এবং তার কবর যিয়ারত করা হয় এবং তার মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়!

শরীয়ত দো’য়া কবুলের কারণসমূহ, দো’য়া কবুলের ক্ষেত্রসমূহ এবং রব্বুল আলামীন তাবারাকা ওয়া তা’আলার নিকট প্রিয় দো’য়ার বাক্যসমূহ উল্লেখ করেছে, যেমন:

- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা কবুল হওয়ার সুনিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর নিকট দো’য়া করো, এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ কোনো গাফেল ও অমনোযোগী হৃদয়ের দো’য়া কবুল করেন না"(১).

- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের রব তাবারাকা ওয়া তা’আলা অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। যখন তাঁর কোনো বান্দা তাঁর দিকে হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি তা শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন"(২).

এবং আমাদের নেতা আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই ধরণের আরও অসংখ্য হাদীস ও আসার বিদ্যমান।

পবিত্র শরীয়তে কিতাব বা সুন্নাহর কোথাও, কিংবা কোনো সাহাবী অথবা হাদীস ও আছারের ইমামগণ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আত—যারা তাওহীদের নূর দিয়ে জমিনকে আলোকিত করেছেন—তাদের কারো কথাতেই এটি বর্ণিত হয়নি যে, দো’য়া কবুলের একটি কারণ হলো কবরের নিকট গিয়ে দো’য়া করার উদ্দেশ্য করা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এমন অনেক সাহাবী ছিলেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেছিলেন, কিন্তু তিনি জীবিতদের বলেননি যে: অমুকের কবরের কাছে যাও, কারণ সেখানে দো’য়া কবুল হয়। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের একথাও বলেননি যে: যখন আমাকে দাফন করা হবে, তখন তোমরা আমার কবরের কাছে এসো; কেননা সেখানে দো’য়া কবুল হয়! শরীয়ত একে দো’য়া কবুলের কোনো কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেনি, বরং কোনো কোনো ইমাম একে গর্হিত কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন:

শাইখুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ তা’আলা বলেন: "আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বলেছেন: কবরের নিকট এই বিদ’আতী কাজগুলো বিভিন্ন স্তরের... চতুর্থ স্তর: এই ধারণা পোষণ করা যে, কবরের নিকট দো’য়া কবুল হয় অথবা তা মসজিদে দো’য়া করার চেয়ে উত্তম; ফলে সে নিজের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে কবর যিয়ারত ও সেখানে সালাত আদায়ের সংকল্প করে। এটিও সর্বসম্মতভাবে গর্হিত বিদ’আতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"

--------------------------------------------

(১) সহীহ, তিরমিযী (৩৪৭৯) ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আলবানী সিলসিলাতুস সহীহাহ-এর ৫৯৪ নং হাদীসে একে সহীহ বলেছেন।

(২) সহীহ, আবু দাউদ (১৪৮৮) ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আলবানী সহীহ সুনানে আবু দাউদ-এ একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
المسلمين، وهي محرمة، وما علمتُ في ذلك نزاعا بين أئمة الدين، وإن كان كثير من المتأخرين يفعل ذلك، ويقول بعضهم: قبر فلان ترياق مجرب. والحكاية المنقولة عن الشافعي أنه كان يقصد الدعاء عند قبر أبي حنيفة من الكذب الظاهر"(1).

فإن قال قائل: إذا كان قصد الدعاء عند القبر لإجابته من المنكرات، فكيف يستجاب عندها الدعاء؟

الجواب: إن ما يتحصل عليه الداعي -من إجابة ما يطلب- وهو في هذه الحالة ليس لقيامه عند القبر؛ إذ لا خِصِّيصَةَ لتلك البقعة في الإجابة، بل لما يقوم بقلب الداعي من ذل، وخضوع، وأبتهال، وخشوع … إلخ.

وما ذكرناه بالكتاب إنما هو لأمانة النقل عن الأئمة فقط.

ولا يفوتني في ختام هذه المقدمة أن أتقدم إلى فضيلة الشيخ مصطفى العدوي، الذي تتلمذت على يديه، كما أن هذا الكتاب ثمرة من غرسه، فجزاه الله خير الجزاء وأوفاه.

كما أسجل أيضًا خالص الشكر وأصدقه إلى جميع العلماء والإخوة الكرام الذين أعانوني على إتمام هذا العمل، ولم يدخروا جهدا ولا علمًا ولا كتبا احتجت إليها إلا أَمَدُّوني بها، لا سيما أخونا خالد الشبل(2) حفظه الله تعالى، حيث أمدني بكتاب رد الانتقاد على ألفاظ الشافعي بعد أن أعياني البحث عنه.

فلا يسعني إلا أن أشكرهم، وأما الأجر فمن الله العلي القدير الذي يعلم مقادير الأعمال، فهو الغني ذو الرحمة.

--------------------------------------------

(1) إغاثة اللهفان ص 284، 285. ط. دار طيبة، تحقيق محمَّد بن عبد الله الطالبي، "الرد على البكري" لابن تيمية (1/ 146).

(2) من أهل المملكة العربية السعودية حرسها الله تعالى.
মুসলমানদের মাঝে, আর এটি হারাম। দ্বীনের ইমামগণের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো বিরোধ আছে বলে আমার জানা নেই, যদিও পরবর্তীকালের অনেকে এটি করে থাকেন এবং তাদের কেউ কেউ বলেন: অমুকের কবর একটি পরীক্ষিত প্রতিষেধক। আর ইমাম শাফেয়ীর পক্ষ থেকে বর্ণিত সেই কাহিনী যে, তিনি আবু হানিফার কবরের নিকট দুআ করার সংকল্প করতেন, তা একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা।(১)

যদি কেউ প্রশ্ন করে: যদি কবুল হওয়ার উদ্দেশ্যে কবরের নিকট দুআ করার সংকল্প করা গর্হিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সেখানে দুআ কবুল হয় কীভাবে?

উত্তর: দুআকারী তার প্রার্থিত বিষয়ের যে কবুলিয়ত লাভ করে, তা এই অবস্থায় কবরের নিকট দাঁড়ানোর কারণে নয়; কেননা দুআ কবুলের ক্ষেত্রে ঐ নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই। বরং এটি দুআকারীর অন্তরে জাগ্রত হওয়া হীনতা, বিনয়, আকুতি ও একাগ্রতা ইত্যাদির কারণে হয়ে থাকে... ইত্যাদি।

আমরা কিতাবে যা উল্লেখ করেছি, তা কেবল ইমামগণের থেকে বর্ণনার আমানতদারিতা রক্ষার স্বার্থেই করেছি।

এই ভূমিকার শেষে আমি সম্মানিত শায়খ মোস্তফা আল-আদাবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাঁর নিকট আমি শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছি। এমনকি এই কিতাবটি তাঁরই রোপণকৃত চারাগাছের ফলস্বরূপ। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।

আমি আরও আন্তরিক ও অকৃত্রিম শুকরিয়া জানাচ্ছি সেই সকল উলামায়ে কেরাম ও সম্মানিত ভাইদের প্রতি যাঁরা এই কাজটি সম্পন্ন করতে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমার প্রয়োজনীয় কোনো শ্রম, জ্ঞান বা কিতাব প্রদানে তাঁরা কোনো কার্পণ্য করেননি। বিশেষ করে আমাদের ভাই খালেদ আশ-শিবল(২) (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন), যিনি আমাকে 'রাদ্দুল ইনতিকাদ আলা আলফাযিশ শাফেয়ী' কিতাবটি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন যখন আমি এটি খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।

তাই আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; আর প্রতিদান তো সেই মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট যিনি আমলের পরিমাপ সম্পর্কে অবগত, আর তিনিই অভাবমুক্ত ও দয়াবান।

--------------------------------------------

(১) ইগাসাতুল লাহফান, পৃষ্ঠা ২৮৪, ২৮৫। দারু তাইবা সংস্করণ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তালিবীর সম্পাদনা; ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আর-রাদ্দু আলাল বাকরি' (১/১৪৬)।

(২) সৌদি আরব রাজ্যের অধিবাসী, আল্লাহ তাআলা একে হিফাযত করুন।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وبعد، فأحسب أن هذا البحث سيسد فراغا في المكتبة الإِسلامية عمومًا والحديثية خصوصًا، وبذلك نهدي إلى أمتنا وتراثنا شيئًا ولو يسيرًا، في زمان العقوق الذي تَنَكَّر فيه أبناؤها لها، وانصرفوا عنها إلا من رحم الله تبارك وتعالى.

والحمد لله أُزْجِيهِ ضارعا، منكسرا ذليلا، متوجهًا إليه أن ينعم علي بفضله بالقبول، والإخلاص وحسن الخاتمة.

المؤلف: أبو شذا محمود بن عبد الفتاح النحال

تل بني تميم -شبين القناطر- القليوبية
অতঃপর, আমি মনে করি যে এই গবেষণাটি সাধারণভাবে ইসলামি এবং বিশেষভাবে হাদিস সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাগারে একটি শূন্যতা পূরণ করবে। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের উম্মাহ এবং ঐতিহ্যের প্রতি সামান্য হলেও কিছু উপহার দিচ্ছি, এমন এক অবাধ্যতার যুগে যখন উম্মাহর সন্তানরা তাকে অস্বীকার করেছে এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত।

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যা আমি বিনীতভাবে, ভগ্নহৃদয়ে ও দীনতার সাথে নিবেদন করছি; তাঁরই নিকট নিবিষ্ট হয়ে প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাকে কবুলিয়ত, ইখলাস ও উত্তম পরিণাম দান করেন।

লেখক: আবু শাযা মাহমুদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ আন-নাহহাল

তাল বানি তামিম - শিবিন আল-কানাতের - কালইউবিয়াহ
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌ترجمة الإمام أبي بكر البيهقي (1)

‌‌اسمه ونسبه:

الإِمام العلامة الحافظ الجليل شيخ الشافعية أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي ابن موسى البيهقي(2) الخسروجردي(3).

 

‌‌مولده ونشأته:

تكاد تجمع كتب التراجم على أنه ولد في شعبان سنة أربع وثمانين وثلاثمائة (384 هـ)، إلا أن ابن الأثير انفرد بقوله: ومولده سنة سبع وثمانين وثلاثمائة.

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته: المنتخب من السياق لتاريخ نيسابور (رقم: 231) والإنساب (2/ 381) وتبيين كذب المفتري (265 - 267) والتقييد (1/ 147) والمنتظم (8/ 242) ومعجم البلدان (1/ 538 و 2/ 370) وطبقات علماء الحديث (3/ 329) والكامل في التاريخ (10/ 52) ووفيات الأعيان (1/ 75، 76) واللباب (1/ 202) وسير أعلام النبلاء (18/ 163) والعبر (2/ 308) وتذكرة الحفاظ (3/ 1132 - 1135) وتاريخ الإِسلام (10/ 95) والوافي بالوفيات (6/ 354) وطبقات الشافعية الكبرى (4/ 8 - 16) وغيرهم كثير …

(2) قال السمعاني في الأنساب (2/ 381): بفتح الباء المنقوطة بواحدة وسكون الياء المنقوطة باثنتين من تحتها وبعدها الهاء وفي آخرها القاف، هذه النسبة إلى بيهق وهي قرى مجتمعة بنواحي نيسابور على عشرين فرسخا منها.

(3) قال السمعاني في الأنساب (5/ 116): بضم الخاء المعجمة وسكون السين المهملة وفتح الراء وسكون الواو وكسر الجيم وسكون الراء وفي آخرها الدال المهملة، هذه النسبة إلى خسروجرد، وهي قرية من ناحية بيهق.
‌‌ইমাম আবু বকর আল-বায়হাকীর জীবনী (১)

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

ইমাম, আল্লামা, মহান হাফিজ, শাফেয়ী মাযহাবের শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুসা আল-বায়হাকী(২) আল-খসরুজিরদী(৩)।

 

‌‌তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

জীবনী গ্রন্থসমূহ প্রায় একমত যে, তিনি ৩৮৪ হিজরীর শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন; তবে ইবনুল আসীর এককভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম ৩৮৭ হিজরীতে।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: আল-মুনতাখাব মিনাস সিয়াক লি-তারীখি নিসাবুর (ক্রমিক: ২৩১), আল-আনসাব (২/৩৮১), তাবিঈনু কাযিবিল মুফতারী (২৬৫-২৬৭), আত-তাকয়ীদ (১/১৪৭), আল-মুনতাযাম (৮/২৪২), মুজামুল বুলদান (১/৫৩৮ এবং ২/৩৭০), তাবাকাতু উলামাইল হাদীস (৩/৩২৯), আল-কামিল ফিত তারীখ (১০/৫২), ওয়াফায়াতুল আ’য়ান (১/৭৫, ৭৬), আল-লুবাব (১/২০২), সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (১৮/১৬৩), আল-ইবার (২/৩০৮), তাযকিরাতুল হুফফায (৩/১১৩২-১১৩৫), তারীখুল ইসলাম (১০/৯৫), আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত (৬/৩৫৪), তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা (৪/৮-১৬) এবং আরও অনেকে...

(২) আস-সামআনী আল-আনসাব (২/৩৮১) গ্রন্থে বলেছেন: এক নুক্তা বিশিষ্ট 'বা' বর্ণে ফাতহা, নিচে দুই নুক্তা বিশিষ্ট 'ইয়া' বর্ণে সুকুন, অতঃপর 'হা' এবং শেষে 'কাফ'। এটি বায়হাক-এর দিকে সম্পৃক্ততা, যা নিশাপুরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কতগুলো গ্রামের সমষ্টি, যা সেখান থেকে বিশ ফারসাখ দূরে অবস্থিত।

(৩) আস-সামআনী আল-আনসাব (৫/১১৬) গ্রন্থে বলেছেন: নুক্তা বিশিষ্ট 'খা' বর্ণে যম্মাহ, নুক্তাবিহীন 'সিন' বর্ণে সুকুন, 'রা' বর্ণে ফাতহা, 'ওয়াও' বর্ণে সুকুন, 'জীম' বর্ণে কাসরা, 'রা' বর্ণে সুকুন এবং শেষে নুক্তাবিহীন 'দাল'। এটি খসরুজিরদ-এর দিকে সম্পৃক্ততা, যা বায়হাক অঞ্চলের একটি গ্রাম।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ولم تسعفنا كتب التراجم المتوفرة بين أيدينا بشيء ذي بال عن أسرة الإِمام البيهقي، لكن الذي نعلمه أنه بدأ طلب العلم وسماع الحديث منذ نعومة أظفاره وهو في سنن صغيرة حيث كان عمره خمس عشرة سنة(1)، أي في حدود سنة (399 هـ)، وهذا ينبئنا أن البيهقي قد نشأ في بيئة علمية، أو على الأقل نشأ بين أبوين محبين للعلم مما مكنه من سماع الحديث في هذه السنن الصغيرة، كذلك لا يعقل أن والد الإِمام البيهقي يذهب به لسماع الحديث قبل أن يكون قد حفظ القرآن الكريم وتعلم أصول العربية وأخذ شيئًا من بعض العلوم، كما هو متبع في ذلك الزمان.

ويحدثنا البيهقي نفسه عن نشأته فيقول في كتابه معرفة السنن والآثار (1/ 212):

"إني منذ نشأت وابتدأت في طلب العلم أكتب أخبار سيدنا المصطفى صلى الله عليه وسلم وعلى آله أجمعين، وأجمع آثار الصحابة الذين كانوا أعلام الدين، وأسمعها ممّن حملها، وأتعرف أحوال رواتها من حفاظها، وأجتهد في تمييز صحيحها من سقيمها، ومرفوعها من موقوفها، وموصولها من مرسلها، ثم أنظر في كتب هؤلاء الأئمة الذين قاموا بعلم الشريعة وبنى كل واحد منهم مذهبه على مبلغ علمه من الكتاب والسنة، فأرى كل واحد منهم رضي الله عنهم جمعيهم قصد قصد الحق فيما تكلف واجتهد في أداء ما كلف، وقد وعد رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديث صحيح عنه لمن اجتهد فأصاب أجرين، ولمن اجتهد فأخطأ أجرا واحدا، ولا يكون الأجر على الخطأ وإنما يكون على ما تكلف من الاجتهاد، ويرفع عنه إثم الخطأ بأنه إنما كلف الاجتهاد في الحكم على الظاهر دون الباطن، ولا يعلم الغيب إلا الله عز وجل، وقد نظر في القياس فأداه القياس إلى غير ما أدى إليه صاحبه كما يؤديه الاجتهاد في القبلة إلى غير ما يؤدي إليه صاحبه، فلا يكون المخطئ منهما عين المطلوب بالاجتهاد مأخوذا

--------------------------------------------

(1) ذكره الحافظ الذهبي في السير (18/ 164).
আমাদের নিকট লভ্য জীবনী গ্রন্থসমূহ ইমাম বায়হাকীর পরিবার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য প্রদান করে না, তবে আমরা যা জানি তা হলো তিনি তাঁর শৈশবের শুরু থেকেই জ্ঞান অন্বেষণ এবং হাদীস শ্রবণ শুরু করেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল খুবই অল্প, মাত্র পনেরো বছর(১), অর্থাৎ আনুমানিক ৩৯৯ হিজরি সালের দিকে। এটি আমাদের এই বার্তাই দেয় যে বায়হাকী একটি তাত্ত্বিক পরিবেশে বড় হয়েছেন, অথবা অন্তত এমন এক পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছেন যারা জ্ঞানানুরাগী ছিলেন, যা তাঁকে এই অল্প বয়সেই হাদীস শ্রবণের সক্ষমতা দান করেছিল। একইভাবে, এটি ভাবা যুক্তিহীন যে ইমাম বায়হাকীর পিতা তাঁকে কুরআন কারীম হিফজ করা, আরবির মৌলিক নিয়মাবলি শিক্ষা করা এবং বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে কিছু জ্ঞান অর্জন করার পূর্বেই হাদীস শ্রবণের জন্য নিয়ে যেতেন, যেমনটি সেই যুগে অনুসৃত হতো।

বায়হাকী স্বয়ং তাঁর বেড়ে ওঠা সম্পর্কে আমাদের বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার' (১/২১২) গ্রন্থে বলেন:

"আমি যখন থেকে বড় হয়েছি এবং জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছি, তখন থেকেই আমি আমাদের নেতা আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গের সংবাদসমূহ লিখছি, এবং সেই সকল সাহাবীগণের আসারসমূহ (বর্ণনা) সংগ্রহ করছি যাঁরা ছিলেন দ্বীনের আলোকবর্তিকা। আমি সেগুলো তাঁদের নিকট থেকে শ্রবণ করি যাঁরা তা বহন করেছেন, এবং হাদীস সংরক্ষণকারীদের নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হই। আমি বর্ণনাসমূহের মধ্যে সহীহ ও যয়ীফ, মারফু ও মাওকুফ এবং মাউসুল ও মুরসালের পার্থক্য নির্ণয়ে পরিশ্রম করি। অতঃপর আমি সেই সকল ইমামগণের কিতাবসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করি যাঁরা শরীয়তের জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই কিতাব ও সুন্নাহ হতে প্রাপ্ত জ্ঞানের পরিধি অনুযায়ী স্বীয় মাযহাব গড়ে তুলেছেন। আমি তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন—দেখতে পাই যে, তাঁরা যা দায়িত্বরূপে গ্রহণ করেছেন তাতে সত্যের উদ্দেশ্য পোষণ করেছেন এবং তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ইজতিহাদ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসে ওই ব্যক্তির জন্য দুটি প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, আর যে ইজতিহাদ করে ভুল করেছে তার জন্য একটি প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিদান ভুলের ওপর হয় না, বরং ইজতিহাদের কষ্টের ওপর হয়, এবং ভুলের পাপ তার থেকে মোচন করা হয়; কারণ তাকে কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ওপর হুকুম প্রদানে ইজতিহাদ করতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নয়। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল ছাড়া কেউ গায়েব জানেন না। তিনি কিয়াসের ওপর দৃষ্টি দিয়েছেন, ফলে কিয়াস তাকে এমন এক সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে গেছে যা তার সাথীর সিদ্ধান্তের চেয়ে ভিন্ন, ঠিক যেমন কিবলার অভিমুখে ইজতিহাদ করা একজনকে এমন দিকে নিয়ে যায় যা তার সাথীর দিক হতে ভিন্ন। ফলে ইজতিহাদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল লক্ষ্যের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার ভুলকারী ব্যক্তি পাকড়াওযোগ্য হবে না...

--------------------------------------------

(১) হাফিজ আয-যাহাবী এটি 'আস-সিয়ার' (১৮/ ১৬৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
إن شاء الله بالخطأ، ويكون مأجورا إن شاء الله على ما تكلف من الاجتهاد. ونحن نرجو ألا يؤخذ على واحد منهم أنه خالف كتابا نصا ولا سنة قائمة ولا جماعة ولا قياسا صحيحا عنده، ولكن قد يجهل الرجل السنة فيكون له قول يخالفها لا أنه عمد خلافها، وقد يغفل المرء ويخطئ في التأويل، وهذا كله مأخوذ من قول الشافعي رحمه الله ومعناه".

وقال عبد الغافر الفارسي في المنتخب من السياق (صـ 103):

"كتب الحديث وحفظه من صباه إلى أن نشأ، وتفقه وبرع فيه، وشرع في الأصول، ورحل إلى العراق والجبال والحجاز".

 

‌‌رحلته في طلب العلم:

قام البيهقي رحمه الله برحلة طويلة في طلب العلم فسمع أولًا بمدن خراسان: نوقان، طوس، همدان، نيسابور، روذبار .... وغيرها من بلاد خراسان، ولما حوى ما في هذه البلاد من علم توجه إلى أداء الحج، فدخل مكة وسمع من علمائها، وتوجه إلى بغداد والكوفة وما حولها من بلدان كعادة جميع العلماء في الرحلة في طلب العلم، ولم تحدثنا الكتب التي ترجمت للبيهقي كثيرا عن رحلته، وبعد هذه الرحلات رجع إلى بيهق، قال الذهبي: وانقطع بقريته مقبلا على الجمع والتأليف(1).

 

‌‌مؤلفاته:

لقد كُتب كثيرا في ترجمة البيهقي وإحصاء مؤلفاته، واجتنابا للتكرار أذكر هنا الكتب المطبوعة للبيهقي فقط، والتي تم الاعتماد عليها في البحث:

--------------------------------------------

(1) السير (18/ 165).
আল্লাহর ইচ্ছায় ভুলবশত, এবং তিনি তাঁর ইজতিহাদের কষ্টের জন্য ইনশাআল্লাহ সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন। আমরা আশা করি তাদের কারোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হবে না যে, তিনি সুনির্দিষ্ট কিতাব, প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ, ঐক্যমত্য কিংবা তাঁর নিকট সঠিক কিয়াসের বিরোধিতা করেছেন। তবে হতে পারে কোনো ব্যক্তি সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকতে পারেন, যার ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য এর বিরোধী হয়ে যায়; এমন নয় যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এর বিরোধিতা করেছেন। আবার কখনো মানুষ অসতর্ক হতে পারে এবং ব্যাখ্যায় ভুল করতে পারে। এই পুরো বিষয়টি ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর উক্তি এবং এর মর্মার্থ থেকে গৃহীত।

এবং আব্দুল গাফির আল-ফারিসি 'আল-মুনতাখাব মিনাস সিয়াক' (পৃ. ১০৩) গ্রন্থে বলেছেন:

"তিনি শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন ও মুখস্থ করেছেন, এবং এতে ব্যুৎপত্তি ও পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তিনি উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র) চর্চা শুরু করেন এবং ইরাক, জিবাল ও হিজাজে সফর করেন।"

 

‌‌জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর সফর:

ইমাম বায়হাকি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে এক দীর্ঘ সফর করেন। তিনি প্রথমে খোরাসানের শহরগুলোতে হাদিস শ্রবণ করেন: নু্বকান, তুস, হামাদান, নিশাপুর, রূজবার... এবং খোরাসানের অন্যান্য শহর। যখন তিনি এসব অঞ্চলের জ্ঞান আয়ত্ত করলেন, তখন হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি মক্কায় প্রবেশ করেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। এরপর জ্ঞানান্বেষী আলেমদের প্রথা অনুযায়ী তিনি বাগদাদ, কুফা ও এর পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে গমন করেন। বায়হাকির জীবনীকারগণ তাঁর সফর সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি তথ্য দেননি। এসব সফরের পর তিনি বায়হাকে ফিরে আসেন। ইমাম যাহাবি বলেন: তিনি তাঁর গ্রামে নির্জনতা অবলম্বন করেন এবং সংকলন ও গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন(১)।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

বায়হাকির জীবনী এবং তাঁর গ্রন্থাবলির পরিসংখ্যান নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে। পুনরাবৃত্তি এড়াতে আমি এখানে কেবল বায়হাকির সেই মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করব, যেগুলোর ওপর এই গবেষণায় নির্ভর করা হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আস-সিয়ার (১৮/ ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
1 - إثبات عذاب القبر.

2 - أحكام القرآن.

3 - الآداب.

4 - الأربعون الصغرى.

5 - الأسماء والصفات.

6 - البعث والنشور.

7 - بيان خطأ من أخطأ على الشافعي.

8 - الجامع في الخاتم.

9 - الجامع في شعب الإيمان.

10 - حياة الأنبياء في قبورهم.

11 - الخلافيات.

12 - الدعوات الكبير.

13 - دلائل النبوة ومعرفة صاحب أحوال الشريعة.

14 - رسالة البيهقي إلى أبي محمَّد الجويني.

15 - رد الانتقاد على ألفاظ الشافعي.

16 - رسالة في حديث الجويباري.

17 - رسالة البيهقي إلى عميد الملك (طبعت ضمن طبقات الشافعية للسبكي).

18 - الزهد الكبير.
1 - কবরের আজাব সাব্যস্তকরণ।

2 - আহকামুল কুরআন।

3 - আল-আদাব।

4 - আল-আরবাউন আস-সুগরা।

5 - আল-আসমা ওয়াস-সিফাত।

6 - পুনরুত্থান ও হাশর।

7 - ইমাম শাফেয়ীর ওপর যারা ভুল করেছেন তাদের ভুলের বর্ণনা।

8 - আংটি বিষয়ক সংকলন।

9 - শুআবুল ঈমান (ঈমানের শাখা) সংকলন।

10 - কবরে নবীদের জীবন।

11 - আল-খিলাফিয়্যাত।

12 - আদ-দাওয়াতুল কাবীর।

13 - দালায়েলুন নুবুওয়াহ এবং শরীয়ত প্রণেতার অবস্থা পরিচিতি।

14 - আবু মুহাম্মদ আল-জুয়ায়নী বরাবর বাইহাকীর পত্র।

15 - ইমাম শাফেয়ীর শব্দাবলীর ওপর সমালোচনার খণ্ডন।

16 - জুয়ায়বারীর হাদীস সংক্রান্ত পুস্তিকা।

17 - আমীদুল মুলক বরাবর বাইহাকীর পত্র (সুবকীর তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)।

18 - আয-যুহদুল কাবীর।
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
19 - السنن الصغير.

20 - السنن الكبرى.

21 - فضائل الأوقات.

22 - القراءة خلف الإِمام.

23 - القضاء والقدر.

24 - الاعتقاد.

25 - المدخل إلى السنن الكبرى.

26 - معرفة السنن والآثار.

27 - مناقب الشافعي.

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

قال الحافظ ابن عساكر في تبيين كذب المفتري (266): "كتب إلي الشيخ أبو الحسن الفارسي قال: أحمد بن الحسين بن علي بن عبد الله بن موسى أبو بكر البيهقي الإِمام الحافظ الفقيه الأصولي، الدَّيِّن الوَرع، واحد زمانه في الحفظ، وفرد أقرانه في الإتقان والضبط، من كبار أصحاب الحاكم أبي عبد الله الحافظ والمكثرين عنه، ثم الزائد عليه في أنواع العلوم، كتب الحديث وحفظه من صباه إلى أن نشأ وتفقه، وبرع فيه، وشرع في الأصول".

قال السمعاني في الأنساب (2/ 381): "كان إمامًا فقيها حافظًا، جمع بين معرفة الحديث وفقهه، وكان تتبع نصوص الشافعي وجمع كتابا فيها سماه كتاب المبسوط، وكان أستاذه في الحديث الحاكم أبو عبد الله محمَّد بن عبد الله الحافظ،
১৯ - আস-সুনান আস-সাগীর।

২০ - আস-সুনান আল-কুবরা।

২১ - ফাযায়িলুল আওকাত।

২২ - আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম।

২৩ - আল-কাজা ওয়াল কদর।

২৪ - আল-ইতিকাদ।

২৫ - আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা।

২৬ - মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার।

২৭ - মানাকিবুশ শাফেয়ী।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

হাফেজ ইবনে আসাকির ‘তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী’ (২৬৬) গ্রন্থে বলেন: "শাইখ আবুল হাসান আল-ফারিসী আমার নিকট লিখেছেন যে, তিনি বলেছেন: আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসা আবু বকর আল-বাইহাকী হলেন ইমাম, হাফেজ, ফকীহ, উসুলবিদ, দ্বীনদার ও পরহেযগার। তিনি মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় এবং নিপুণতা ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য ছিলেন। তিনি হাফেজ হাকেম আবু আব্দুল্লাহর বড় পর্যায়ের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর থেকে অধিক বর্ণনাকারীদের একজন ছিলেন। অতঃপর তিনি বিভিন্ন জ্ঞানে তাঁর (হাকেমের) চেয়েও অগ্রগামী হন। তিনি শৈশব থেকেই হাদীস লিখেছেন এবং মুখস্থ করেছেন, বড় হয়ে ফিকহ শিখেছেন, তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং উসুল শাস্ত্রে মনোনিবেশ করেছেন।"

সামআনী ‘আল-আনসাব’ (২/৩৮১) গ্রন্থে বলেন: "তিনি ছিলেন একজন ইমাম, ফকীহ ও হাফেজ। তিনি হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান এবং এর ফিকহী প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি ইমাম শাফেয়ীর উক্তিগুলো (নস) অনুসন্ধান করতেন এবং এ বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘কিতাবুল মাবসুত’। হাদীস শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদ ছিলেন হাফেজ হাকেম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ।"
(খণ্ড: ১) ইতহাফুল মুরতাকী বিতারাঝিমি শুয়ুখিল বাইহাকী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وتفقه على أبي الفتح ناصر بن محمَّد العمري المروزي، وسمع الحديث الكثير وصنف فيه التصانيف التي لم يسبق إليها، وهي مشهورة موجودة في أيدي الناس".

قال الصفدي في الوافي (6/ 354): "أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الإِمام أبو بكر البيهقي الخسروجردي مصنف السنن الكبير، كان أوحد زمانه وفرد أقرانه، من كبار أصحاب أبي عبد الله الحاكم".

قال الحافظ الذهبي في السير (18/ 163): "الحافظ العلامة، المثبت، الفقيه، شيخ الإِسلام".

وقال أيضًا (18/ 168): "تصانيف البيهقي عظيمة القدر، غزيرة الفوائد، قل من جود تواليفه مثل الإِمام أبي بكر، فينبغي للعالم أن يعتني بهؤلاء سيما سننه الكبير".

وقال في تاريخ الإِسلام (10/ 95): "كان واحد زمانه، وفرد أقرانه، وحافظ أوانه، ومن كبار أصحاب أبي عبد الله الحاكم".

وقال في تذكرة الحفاظ (3/ 1132 - 1133): "لم يكن عنده سنن النسائي ولا جامع الترمذيّ ولا سنن ابن ماجه، بل كان عنده الحاكم فأكثر عنه، وعنده عوال ومسانيد، وبورك له في علمه لحسن قصده وقوة فهمه وحفظه".

قال عبد الغافر في تاريخه (ص 103): "الإِمام الحافظ الفقيه الأصولي الديِّن الوَرع، واحد زمانه في الحفظ، وفرد أقرانه في الإتقان والضبط، من كبار أصحاب الحاكم أبي عبد الله الحافظ والمكثرين عنه ثم الزائد عليه في أنواع العلوم".

وعن إمام الحرمين أبى المعالي قال: "ما من شافعي إلا وللشافعي عليه منة إلا أبا بكر البيهقي، فإن له المنة على الشافعي؛ لتصانيفه في نصرة مذهبه". السير (18/ 168).
আবু ফাতাহ নাসির বিন মুহাম্মদ আল-উমরি আল-মারওয়াজির নিকট তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন এবং এই বিষয়ে এমন সব কিতাব রচনা করেন যা আগে কেউ করেনি। সেগুলো অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং মানুষের কাছে বিদ্যমান রয়েছে।"

সাফাদি আল-ওয়াফি (৬/৩৫৪) গ্রন্থে বলেন: "আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলি বিন মুসা, ইমাম আবু বকর আল-বাইহাকি আল-খুসরাওজারদি, আস-সুনান আল-কুবরা গ্রন্থের প্রণেতা, তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অনন্য ও সমসাময়িকদের মধ্যে অদ্বিতীয়। তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের বড় ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"

হাফেজ আজ-জাহাবি আস-সিয়ার (১৮/১৬৩) গ্রন্থে বলেন: "হাফেজ, আল্লামা, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, ফকিহ এবং শায়খুল ইসলাম।"

তিনি আরও বলেন (১৮/১৬৮): "বাইহাকির রচনাগুলো অত্যন্ত উঁচু মানের এবং বিপুল কল্যাণকর। ইমাম আবু বকরের মতো সুনিপুণভাবে গ্রন্থ রচনা খুব কম ব্যক্তিই করতে পেরেছেন। তাই আলেমদের উচিত এই গ্রন্থগুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়া, বিশেষ করে তাঁর আস-সুনান আল-কুবরার প্রতি।"

তিনি তারিখুল ইসলাম (১০/৯৫) গ্রন্থে বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অদ্বিতীয়, সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য এবং সময়ের শ্রেষ্ঠ হাফেজ। তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের বড় ছাত্রদের একজন ছিলেন।"

তিনি তাজকিরাতুল হুফফাজ (৩/১১৩২-১১৩৩) গ্রন্থে বলেন: "তাঁর নিকট সুনানে নাসায়ি, জামে তিরমিজি এবং সুনানে ইবনে মাজাহ ছিল না। বরং তাঁর নিকট হাকিমের সংকলনগুলো ছিল যেখান থেকে তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট উচ্চ সনদসম্পন্ন বর্ণনা ও মুসনাদসমূহ ছিল। তাঁর সুন্দর উদ্দেশ্য, প্রখর মেধা এবং মুখস্থ শক্তির কারণে তাঁর ইলমে বরকত দান করা হয়েছিল।"

আবদুল গাফির তাঁর তারিখে (পৃষ্ঠা ১০৩) বলেন: "ইমাম, হাফেজ, ফকিহ, উসুলবিদ, দ্বীনদার ও পরহেজগার। হিফজের দিক থেকে তিনি তাঁর যুগের অদ্বিতীয় এবং নিখুঁত বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য। তিনি হাফেজ আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের বড় ছাত্রদের একজন এবং তাঁর নিকট থেকে অধিক বর্ণনাকারী ছিলেন, উপরন্তু বিভিন্ন বিদ্যায় তিনি তাঁকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।"

ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এমন কোনো শাফেয়ী অনুসারী নেই যার ওপর ইমাম শাফেয়ীর অনুগ্রহ নেই, কেবল আবু বকর আল-বাইহাকি ব্যতীত। বরং ইমাম শাফেয়ীর ওপরই তাঁর অনুগ্রহ রয়েছে; কারণ তিনি তাঁর মাজহাবের সমর্থনে অনেক কিতাব লিখেছেন।" আস-সিয়ার (১৮/১৬৮)।