(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: -)
رائد التجديد الإسلامي محمد بن العنابي   (أبو القاسم سعد الله)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: رائد التجديد الإسلامي محمد بن العنابي (المتوفى 1850 م) صاحب كتاب السعي المحمود في نظام الجنود

المؤلف: أبو القاسم سعد الله (ت 1435هـ)

الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان

الطبعة: الثانية، 1410هـ - 1990م

عدد الصفحات: 129

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رجب 1435

ইসলামী সংস্কারের অগ্রদূত মুহাম্মদ বিন আল-আন্নাবি   (আবু আল-কাসিম সাদ আল্লাহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: ইসলামী সংস্কারের অগ্রদূত মুহাম্মদ বিন আল-আন্নাবি (মৃত্যু ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ), 'আস-সা'য়ুল মাহমুদ ফী নিযামিল জুনুদ' গ্রন্থের রচয়িতা

লেখক: আবু আল-কাসিম সাদ আল্লাহ (মৃত্যু ১৪৩৫ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামী, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রজব ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১)
رائد التجديد الإسلامي

محمد بن العنابي

المتوفى 1850

صاحب كتاب

السعي المحمود في نظام الجنود

تأليف

أبو القاسم سعد الله

جامعة الجزائر

طبعة ثانية

مزيدة ومنقحة

دار الغرب الإسلامي
ইসলামি পুনর্জাগরণের অগ্রদূত

মুহাম্মদ বিন আল-আন্নাবী

মৃত্যু ১৮৫০

গ্রন্থকার

আস-সা‘য়ুল মাহমুদ ফী নিযামিল জুনূদ

রচনা

আবুল কাসেম সাদউল্লাহ

আলজিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়

দ্বিতীয় সংস্করণ

পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত

দারুল গারব আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১)
رائد التجديد الإسلامي

محمد بن العنابي

المتوفى 1850

صاحب كتاب

السعي المحمود في نظام الجنود

تأليف

أبو القاسم سعد الله

جامعة الجزائر

طبعة ثانية

مزيدة ومنقحة

دار الغرب الإسلامي
ইসলামি পুনর্জাগরণের অগ্রদূত

মুহাম্মদ বিন আল-আন্নাবি

মৃত্যু ১৮৫০

গ্রন্থকার

আস-সা’য়ুল মাহমুদ ফি নিজামিল জুনুদ (সৈন্যবিন্যাসে প্রশংসিত প্রচেষ্টা)

রচনা

আবুল কাসিম সাদুল্লাহ

আলজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

দ্বিতীয় সংস্করণ

পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত

দারুল গারব আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

1990
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

১৯৯০
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الطبعة الثانية

يسعدني أن تصدر هذه الطبعة فى المشرق ليتعرف إخواننا الباحثون والطلبة على شخصية فكرية سابقة لوقتها من علماء الجزائر. لقد صدرت الطبعة الأولى في الجزائر ولم توزع خارجها فحرم باحثو النهضة الإسلامية ودارسو الصحوة الإصلامية بمفهومها القديم والحديث، من معرفة الدور الذي قام به بعض الرواد في هذا المجال.

لقد دعا ابن العنابي إلى التجديد الإسلامي وإلى الصحوة منذ 1826 في كتاب ألفه في مصر بعنوان (السعي المحمود في نظام الجنود). ورجع بعد ذلك إلى وطنه الجزائر فإذا بهذا الوطن يقع فريسة للاحتلال الفرنسي (1830). وقد سارع الفرنسيون بنفي ابن العنابي من وطنه الأول فحل في وطنه الثاني (مصر) حيث قضى بقية حياته مفتيا في الاسكندرية إلى وفاته منة 1850 - 51. فهو ضحية فكره ومساعيه من أجل تحرير قومه من الخرافات والأوهام والتخلف، وهو أيضا ضحية الاحتلال الفرنس لبلاده.

كم من مؤلفات ألفت عن الطهطاوي والبستاني واليازجي والأفغاني إلخ ولكن إذا عرفنا أن هؤلاء جميعا ظهروا بعد ابن العنابي بفترة غير قصيرة، ندرك الإجحاب الذي وقع في حق هذا الرجل. ولعل السبب يعود إلى أن كتابه ظل مخطوطا فى مكتبات مصر وإسطنبول، وان الجزائريين كانوا محرومين من نعمة الحرية والعلم تحت الاستعمار الأجنبي، فبقي الرجل وبقي عمله غير معروفين للباحثين. وقد بدأت في تسليط الضوء على دور ابن العنابي منذ منتصف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই সংস্করণটি প্রাচ্যে প্রকাশিত হচ্ছে, যাতে আমাদের গবেষক ভাই ও ছাত্রগণ আলজেরিয়ার ওলামাদের মধ্য থেকে তাঁর সময়ের অগ্রগামী এক বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। প্রথম সংস্করণটি আলজেরিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল কিন্তু এর বাইরে বিতরণ করা হয়নি, ফলে ইসলামি রেনেসাঁ বা নবজাগরণের গবেষক এবং প্রাচীন ও আধুনিক উভয় অর্থেই ইসলামি জাগরণের শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগামীদের পালনকৃত ভূমিকা সম্পর্কে জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ইবনুল আন্নাবি ১৮২৬ সাল থেকে ইসলামি সংস্কার ও জাগরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন মিসরে লেখা তাঁর এক গ্রন্থে, যার শিরোনাম ছিল (আস-সা'য়ুল মাহমুদ ফী নিযামিল জুনুদ)। এরপর তিনি তাঁর স্বদেশ আলজেরিয়ায় ফিরে আসেন, তখন দেখা যায় এই স্বদেশ ফরাসি আগ্রাসনের শিকারে (১৮৩০) পরিণত হয়েছে। ফরাসিরা দ্রুত ইবনুল আন্নাবিকে তাঁর প্রথম স্বদেশ থেকে নির্বাসিত করে, ফলে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্বদেশ (মিসর) বেছে নেন এবং সেখানে তিনি তাঁর বাকি জীবন আলেকজান্দ্রিয়ায় মুফতি হিসেবে কাটান ১৮৫০-৫১ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত। তিনি তাঁর চিন্তা ও প্রচেষ্টার শিকার ছিলেন যা তাঁর জাতিকে কুসংস্কার, বিভ্রান্তি ও পশ্চাৎপদতা থেকে মুক্ত করার জন্য ছিল, এবং একই সাথে তিনি তাঁর দেশের ফরাসি আগ্রাসনেরও শিকার ছিলেন।

আত্ব-ত্বাহত্বাবী, আল-বুস্তানী, আল-ইয়াযিজী, আল-আফগানী প্রমুখদের নিয়ে কত গ্রন্থই না রচিত হয়েছে, কিন্তু যখন আমরা জানতে পারি যে এঁরা সবাই ইবনুল আন্নাবির বেশ কিছুকাল পরে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন আমরা এই ব্যক্তির প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায় ও অবমূল্যায়ন উপলব্ধি করতে পারি। সম্ভবত এর কারণ এই যে, তাঁর বইটি মিসর ও ইস্তাম্বুলের লাইব্রেরিগুলোতে পাণ্ডুলিপি হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল এবং আলজেরীয়রা বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে স্বাধীনতা ও জ্ঞানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত ছিল, ফলে এই ব্যক্তি এবং তাঁর কাজ গবেষকদের নিকট অজানাই থেকে গেছে। আমি গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে ইবনুল আন্নাবির ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা শুরু করেছি...
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
السبعينات حين ساهمت ببحث عنه فى ندوة بالقاهرة نظمتها جامعة عين شمس. ثم طبع كتابي عنه سنة 1978 بالجزائر حيث ظل حبيسا إلى أن قدر له الآن أن يعاد طبعه في المشرق.

إن هذه الطبعة الثانية تمتاز بزيادات كثيرة. أهمها الترجمة التي خصه بها معاصره فى مصر وهو عبد الحميد بيك فى كتابه الذي ما يزال مخطوطا. وقد لخصناها نحن في المدخل، وهي تلقي أضواء جديدة على حياته لم نكن قد اطلعنا عليها في الطبعة الاولى. أما الزيادة الثانية فتتمثل في اطلاعنا على كتابيه (التحقيقات الإعجازية) و (صيانة الرياسة) وكلاهما قدمناه ملخصا في قسم (آثاره)، بالإضافة إلى ذلك هناك إثراء واضح للنص بالتعاليق ونحوها، ومن ثمة إثراء للبيبلوغرافية أيضا.

ولذلك فإنه لا يسعني إلا أن أتقدم بالشكر إلى كل الذين أمدوني بالمعلومات المذكورة، ولا سيما الاستاذ فرج محمود فرج الذي بعث لي من مصر صورة من كتاب (التحقيقات) ونسخة باليد مما عثر عليه من (صيانة الرياسة). وإني لآمل أن يسد هذا الكتاب بعض النقص الذي تعاني منه حركة التواصل الفكري بين المغرب والمشرق العربيين. كما آمل أن يحظى ابن العنابي بما هو أهل له بين رواد الصحوة الإسلامية. والله من وراء القصد.

الجزائر في 4 أبريل 1990.

أبو القاسم سعد الله

جامعة الجزائر
সত্তর দশকের দিকে যখন আমি কায়রোতে আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত একটি সেমিনারে তাকে নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রদান করি। অতঃপর ১৯৭৮ সালে আলজেরিয়ায় তাকে নিয়ে আমার বইটি মুদ্রিত হয়, যেখানে এটি এতদিন আবদ্ধ অবস্থায় ছিল; অবশেষে এখন প্রাচ্যে এর পুনঃমুদ্রণ সম্ভব হয়েছে।

নিশ্চয়ই এই দ্বিতীয় সংস্করণটি অনেক নতুন সংযোজন দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই জীবনী, যা মিশরে তার সমসাময়িক আব্দুল হামিদ বেগ তার গ্রন্থে তাকে নিয়ে লিখেছেন, যা আজও পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়ে গেছে। আমরা ভূমিকার মধ্যে তার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছি, এবং এটি তার জীবনের ওপর এমন নতুন আলোকপাত করে যা প্রথম সংস্করণে আমাদের গোচরীভূত হয়নি। দ্বিতীয় সংযোজনটি হলো তার দুটি গ্রন্থ (আত-তাহকীকাত আল-ই'জাযিয়্যাহ) এবং (সিয়ানাতুর রিয়াসাহ) সম্পর্কে আমাদের অবগতি। আমরা এই উভয় কিতাবের সারসংক্ষেপ (তার রচনাবলি) অধ্যায়ে উপস্থাপন করেছি। এর পাশাপাশি টীকা-টিপ্পনী ইত্যাদির মাধ্যমে মূল পাঠ্যকে স্পষ্টভাবে সমৃদ্ধ করা হয়েছে এবং সেই সাথে গ্রন্থপঞ্জিও সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

তাই যারা আমাকে উল্লিখিত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানানো আমার কর্তব্য বলে মনে করি; বিশেষ করে উস্তাদ ফারাজ মাহমুদ ফারাজ, যিনি মিশর থেকে আমাকে (তাহকীকাত) কিতাবের একটি অনুলিপি এবং (সিয়ানাতুর রিয়াসাহ) থেকে যা খুঁজে পেয়েছেন তার একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি পাঠিয়েছেন। আমি আশা করি এই গ্রন্থটি আরব মাগরিব ও মাশরিকের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান কিছু ঘাটতি পূরণ করবে। আমি আরও আশা করি যে, ইবনুল আন্নাবি ইসলামি জাগরণের অগ্রদূতদের মাঝে তার যোগ্য মর্যাদা লাভ করবেন। আর আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের মূলে।

আলজেরিয়া, ৪ এপ্রিল ১৯৯০।

আবুল কাসিম সা'দাল্লাহ

আলজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الجديد عن ابن العنابي *

تختلف هذه الطبعة عن مابقتها في أمور كثيرة. ففيها إضافات هامة تلقي أضواء جديدة على شخصية ابن العنابي وعلى دوره في عصره وعلى مدى صلاحية أفكاره وبقائها. وتتمثل هذه الإضافات:

1 - في تنقيح الطبعة الأولى في ضوء ما عثرنا عليه من معلومات في مختلف المظان.

2 - في التعريف ببعض كتب ابن العنابي التي لم نطلع عليها من قبل مثل صيانة الرياسة، والتحقيقات الإعجازية.

3 - في ترجمة جديدة لحياته كتبها تلميذه ومعاصره عبد الحميد بك المصري، وضمنها كتابه الذي ما يزال مخطوطا، ولم نكن قد اطلعنا على هذه الترجمة عند كتابتنا هذا الكتاب أول مرة.

وإذا كانت التنقيحات مبثوثة ضمن الكتاب ومن السهولة أن يلاحظها القارىء في اماكنها من هذه الطبعة، فإننا قد عرفنا بكتب ابن العنابي الجديدة في القسم الثاني من هذا الكتاب وهو الذي عنوانه (آثاره). أما ترجمة عبد الحميد بك لابن العنابي فقد استفدنا منها في التنقيح، ولكنا فضلنا ذكر أهمها

--------------------------------------------

(*) كتب المؤلف هذا الدخل للطبعة الثانية من كتابه (المفتي الجزائري: ابن العنابي رائد التجديد الإسلامي)، ط: 1، 1978، وقد نشر المدخل في مجلة (حوليات جامعة الجزائر) - العدد الأول، 1987.
ইবনুল আননাবি সম্পর্কে নতুন তথ্য *

এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী সংস্করণ থেকে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংযোজন রয়েছে যা ইবনুল আননাবীর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সমকালীন সময়ে তাঁর ভূমিকা এবং তাঁর চিন্তাধারার উপযোগিতা ও স্থায়িত্বের ওপর নতুন আলোকপাত করে। এই সংযোজনগুলো নিম্নরূপ:

১ - বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে প্রথম সংস্করণের পরিমার্জন।

২ - ইবনুল আননাবীর এমন কিছু গ্রন্থের পরিচয় প্রদান যা আগে আমাদের নজরে আসেনি, যেমন 'সিয়ানাতুর রিয়াসাহ' এবং 'আত-তাহকীকাত আল-ইজাজিয়াহ'।

৩ - তাঁর জীবনের একটি নতুন জীবনী যা তাঁর ছাত্র ও সমসাময়িক আব্দুল হামিদ বেগ আল-মিসরি লিখেছেন এবং যা তাঁর একটি পাণ্ডুলিপি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত ছিল; প্রথমবার এই বইটি লেখার সময় আমাদের এই জীবনীটি দেখার সুযোগ হয়নি।

যেহেতু পরিমার্জনগুলো পুরো বইজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এবং পাঠক এই সংস্করণের নিজ নিজ স্থানে সেগুলো সহজেই লক্ষ্য করতে পারবেন, তাই আমরা এই গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশে ইবনুল আননাবীর নতুন বইগুলোর পরিচয় দিয়েছি, যার শিরোনাম হলো (তাঁর রচনাবলি)। ইবনুল আননাবি সম্পর্কে আব্দুল হামিদ বেগের লেখা জীবনী থেকে আমরা পরিমার্জনের ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছি, তবে আমরা এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উল্লেখ করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি।

--------------------------------------------

(*) লেখক এই ভূমিকাটি তাঁর (আল-মুফতি আল-জাজায়িরি: ইবনুল আননাবি রাইদুত তাজদীদ আল-ইসলামি) বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের জন্য লিখেছেন, ১ম সংস্করণ: ১৯৭৮; এই ভূমিকাটি ‘হাওলিয়াত জামিআতিল জাজায়ির’ (আলজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী) এর প্রথম সংখ্যায়, ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
في هذا المدخل لاختلافها نوعا ما عما عرفناه من ابن العنابي من قبل، ونود أن ننبه إلى أن في هذه الترجمة بعض الأخطاء الواضحة التي سنشير إليها في حينها غير أنها تظل هامة على أية حال. وتتضح أهميتها في أنها:

1 - تلقي أضواء على حياة ابن العنابي المبكرة في الجزائر ولا سيما عن تعليمه وتوليه بعض الوظائف الدينية والسياسية.

2 - تفيدنا عن دور ابن العنابي السياسي المبكر وعلاقته بحسين باشا ووجوده في مصر قبل احتلال الجزائر ((لأسباب سياسية)) على ما يبدو، وعن دوره أثناء الحملة الفرنسية على الجزائر وطريقة خروجه من الجزائر.

3 - تكشف عن دور ابن العنابي في مصر سواء قبل الحملة الفرنسية على بلاده حيث أقام بها حوالي تسع سنوات ((لأسباب سياسية)) شيخا من شيوخ الأزهر البارزين ومؤلفا لكتابه (السعي المحمود)، أو بعد نفيه من بلاده إثر الجملة الفرنسية على الجزائر، إذ أصبح مفتي الإسكندرية ومن المقربين لمحمد علي والي مصر، وهو بذلك قد أثار ضده غضب القضاة والمفتين الآخرين الذين تآمروا عليه واتهموه بالزندقة وبكونه من ((الخوارج))، حتى غضب عليه الخديوي الجديد عباس الذي خلف محمد علي وعزله من منصب الفتوى.

وهكذا تقدم لنا ترجمة عبد الحميد بك لابن العنابي صفحة جديدة من حياة هذا الرجل الذي جاء في وقته ففهمه البعض واستفادوا من فكره وتجاربه وعلمه، ولم يفهمه آخرون فرأوا فيه نشازا يقلق راحتهم فسخطوا عليه، فكان مصيره النفي من بلاده أولا والعزل من وظيفته في مصر ثانيا.

ولكن يجب عليك أن لا تكتفي بقراءة ما قاله عبد الحميد بك في ابن العنابي. فالرجل يقدم لنا عنه معلومات فيها أخطاء، ولكن فيها رأي، وهو لم يعايش ظروف ابن العنابي في الجزائر قبل الحملة الفرنسية وأثناءها حتى تكون أحكامه دقيقة. ويبدو أنه لم يرجع فيما كتب إلى وثائق دقيقة، ولكنه سمع من ابن العنابي نفسه أو من الجالية الجزائرية بالإسكندرية، فكانت اخباره مشوشة إلى حد كبير. ولذلك فإن هذه الترجمة لن تغنيك عن قراءة حياة ابن العنابي في
এই ভূমিকায় ইবনে আল-আন্নাবি সম্পর্কে আমাদের পূর্বের জানাশোনা থেকে কিছুটা ভিন্নতা থাকার কারণে, আমরা এ বিষয়টি লক্ষ্য করতে চাই যে, এই জীবনবৃত্তান্তটিতে কিছু স্পষ্ট ভুল রয়েছে যা আমরা যথাসময়ে উল্লেখ করব। তবে তা সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট হয়:

১ - এটি আলজেরিয়ায় ইবনে আল-আন্নাবির প্রাথমিক জীবনের ওপর আলোকপাত করে, বিশেষ করে তাঁর শিক্ষা এবং কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে।

২ - এটি আমাদের ইবনে আল-আন্নাবির প্রাথমিক রাজনৈতিক ভূমিকা, হুসাইন পাশার সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং আলজেরিয়া দখলের আগে মিশরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়, যা দৃশ্যত ((রাজনৈতিক কারণে)) ছিল। এছাড়া আলজেরিয়ায় ফরাসি অভিযানের সময় তাঁর ভূমিকা এবং আলজেরিয়া থেকে তাঁর প্রস্থানের পদ্ধতি সম্পর্কেও এটি আমাদের অবহিত করে।

৩ - এটি মিশরে ইবনে আল-আন্নাবির ভূমিকা উন্মোচন করে, তা তাঁর স্বদেশে ফরাসি অভিযানের আগের সময়কার হোক—যখন তিনি আল-আজহারের অন্যতম বিশিষ্ট শাইখ এবং তাঁর (আস-সা'য়ুল মাহমুদ) গ্রন্থের লেখক হিসেবে প্রায় নয় বছর মিশরে অবস্থান করেছিলেন ((রাজনৈতিক কারণে))—কিংবা আলজেরিয়ায় ফরাসি অভিযানের পর তাঁর স্বদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পরের সময়কার হোক। সে সময় তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার মুফতি এবং মিশরের ওয়ালী মুহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হন। এর মাধ্যমে তিনি অন্যান্য বিচারক ও মুফতিদের ক্ষোভের মুখে পড়েন, যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল এবং তাঁকে যিন্দিক ও ((খারেজি)) হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। শেষ পর্যন্ত মুহাম্মদ আলীর উত্তরসূরি নতুন খেদিভ আব্বাস তাঁর ওপর রাগান্বিত হন এবং তাঁকে ফতোয়া বিভাগ থেকে পদচ্যুত করেন।

এভাবে আব্দুল হামিদ বে-কর্তৃক লিখিত ইবনে আল-আন্নাবির জীবনী আমাদের সামনে এই ব্যক্তির জীবনের একটি নতুন অধ্যায় উপস্থাপন করে, যিনি তাঁর সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। কেউ কেউ তাঁকে বুঝতে পেরেছিলেন এবং তাঁর চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়েছিলেন; আবার অন্যরা তাঁকে বুঝতে পারেননি, বরং তাঁকে এমন এক বিজাতীয় হিসেবে দেখেছিলেন যা তাদের স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত করে, ফলে তারা তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। এর পরিণতি স্বরূপ প্রথমে তিনি তাঁর দেশ থেকে নির্বাসিত হন এবং পরবর্তীতে মিশরে তাঁর পদ থেকে অপসারিত হন।

কিন্তু ইবনে আল-আন্নাবি সম্পর্কে আব্দুল হামিদ বে যা বলেছেন, কেবল তা পড়েই আপনার সন্তুষ্ট থাকা উচিত হবে না। এই ব্যক্তিটি তাঁর সম্পর্কে এমন তথ্য প্রদান করেন যাতে ভুল রয়েছে, তবে তাতে মতামতও রয়েছে। তাঁর বিচার-বিশ্লেষণ নির্ভুল হওয়ার জন্য আলজেরিয়ায় ফরাসি অভিযানের পূর্বে ও চলাকালীন ইবনে আল-আন্নাবির পরিস্থিতির সাথে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। মনে হয় যে, তিনি যা লিখেছেন তাতে নির্ভুল কোনো নথিপত্রের সাহায্য নেননি, বরং তিনি খোদ ইবনে আল-আন্নাবির কাছ থেকে অথবা আলেকজান্দ্রিয়ার আলজেরীয় সম্প্রদায়ের কাছ থেকে শুনেছিলেন, তাই তাঁর বর্ণনাগুলো অনেকটা বিভ্রান্তিকর ছিল। সুতরাং এই জীবনবৃত্তান্তটি আপনাকে ইবনে আল-আন্নাবির জীবন পড়ার ক্ষেত্রে অমুখাপেক্ষী করবে না...
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
الصفحات التي كتبناها عنه والتي رجعنا فيها إلى مصادر معاصرة وغير معاصرة، من امثال (مرآة) حمدان خوجة، و (حوليات) ديرينو، ورسائل الكبابطي.

ولا بأس، بعد أن عرفت ذلك ان تقرأ هذه السطور التي كتبها عبد الحميد بك بمصطلحات عصره (1): فهو يقول عنه ما خلاصته: العلامة الشيخ محمد الجزائري الحنفي ابن السيد محمود بن محمد بن حسين بن مجمد أفندي الإزميلتي (2)، ولد بالجرائر سنة 1190 (3) وحضر بها المعقول والمنقول، على علماء العصر، كوالده محمود وابن الأمين علي (4)، والشيخ محمد جكيكن. وخلافهم من العلماء الأعلام، ((لم يحضرني أسماءهم (كذا)))، وبها نشأ وتخرج.

وفي سنة 1208 تولى بها (الجزائر) القضاء وهو ابن ثماني عشرة منة. وبقي فيه سنتين. ثم عزل نفسه منه لأمر مخالف للشرع (5)، ألزمه بفعله والي الجزائر

--------------------------------------------

(1) توفي عبد الحميد بك سنة 1280 (1863)، ولا نعرف أن كتابه قد نشر، كما لا نعرف عن حياته شيئا آخر سوى أن والده، خليل أفندي، كان من الروم إيلي، وعاش في إسطانبول، وأصبح صاحبا وصهرا لمحمد علي والي مصر، وتولى بها وظائف إدارية. وقد حصلنا نحن على كتابه (تاريخ عبد الحميد بك) من ليدن بشراء صورة شريطية منه (ميكرو فيلم)، وهو كتاب في تراجم أهل القرن 19م.

(2) كذا، ولعلها الإزميرلي (من إزمير)، وقد وجدت في مقامة (إعلام الأحبار) لأحمد ساسي البوني، ان عائلة العنابي تعود إلى جنينا الألبانية - بنسبما هكذا: الجنيني. فإذا صح هذا فإن أصول هذه العائلة وعائلة محمد علي واحدة، أي ألبانية. كذلك وجدنا نسبة أخرى لعائلة ابن العنابي، وهي التركماني. أنظر فقرة (أسرته) من هذا الكتاب: وكذلك كتابنا (تجارب في الأدب والرحلة) ص 94.

(3) أي بمدينة الجزائر، ولكن التاريخ غير مضبوط، فقد ضبطه ابن العنابي نفسه بسنة 1189. انظر إجازته لمحمد بيرم الرابع في هذا الكتاب.

(4) هو علي ابن الأمين وكان من أبرز مفتيي الجزائر أواخر العهد العثماني وقد توفي سنة 1236. وكثيرا ما ذكره ابن العنابي وذكر إجازته له.

(5) يقصد أن ابن العنابي قد استقال من وظيفته حتى لا يخالف حكم الشرع فإذا صح هذا فإن ابن العنابي يكون ذا شخصية قوية منذ صغره. ومن لنا بمثل هذا الموقف في عصر الخوف والطمع الذي أذل رقاب العلماء للحكام الظلمة؟.
আমরা তাঁর সম্পর্কে যে পৃষ্ঠাগুলো লিখেছি এবং যেগুলোতে আমরা সমসাময়িক ও অ-সমসাময়িক উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি, যেমন হামদান খোজার (মিরআত), ডেরিনোর (হাওলিয়াত) এবং কাবাবতির পত্রাবলি।

এটি জানার পর, আব্দুল হামিদ বে তাঁর সমকালের পরিভাষায় যে পংক্তিগুলো লিখেছেন তা পাঠ করাতে কোনো বাধা নেই (১): তিনি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আল-জাযায়িরি আল-হানাফি ইবন আস-সাইয়িদ মাহমুদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হুসাইন ইবন মুহাম্মদ এফেন্দি আল-ইজমিলতি (২), তিনি ১১৯০ হিজরিতে (৩) আলজেরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে সমকালীন উলামাদের নিকট আকলি (যৌক্তিক) ও নাকলি (ঐতিহ্যগত) জ্ঞান অর্জন করেন, যেমন তাঁর পিতা মাহমুদ এবং ইবনুল আমিন আলী (৪), এবং শায়খ মুহাম্মদ জাকিজাকান। এছাড়া অন্যান্য প্রথিতযশা উলামাদের নিকটও (যাঁদের নাম এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই (এরূপই মূল পাঠে রয়েছে)), সেখানেই তিনি লালিত-পালিত হন এবং শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

এবং ১২০৮ হিজরিতে তিনি সেখানে (আলজেরিয়ায়) বিচারকের দায়িত্ব (কাজা) গ্রহণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছর। তিনি তাতে দুই বছর বহাল ছিলেন। অতঃপর শরীয়ত বিরোধী একটি বিষয়ের কারণে তিনি নিজে থেকেই পদত্যাগ করেন (৫), যা পালনে আলজেরিয়ার গভর্নর তাঁকে বাধ্য করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল হামিদ বে ১২৮০ হিজরিতে (১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন। আমরা জানি না যে তাঁর বইটি প্রকাশিত হয়েছে কি না, এবং তাঁর জীবন সম্পর্কে আমরা অন্য কিছুও জানি না কেবল এটি ছাড়া যে, তাঁর পিতা খলিল এফেন্দি রুম ইলি-এর অধিবাসী ছিলেন এবং ইস্তাম্বুলে বসবাস করতেন। তিনি মিশরের গভর্নর মুহাম্মদ আলীর সঙ্গী ও জামাতা হয়েছিলেন এবং সেখানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমরা লাইডেন থেকে একটি মাইক্রোফিল্ম ক্রয়ের মাধ্যমে তাঁর গ্রন্থটি (তারিখ আব্দুল হামিদ বে) সংগ্রহ করেছি, যা উনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিদের জীবনী বিষয়ক একটি গ্রন্থ।

(২) মূল পাঠে এভাবেই আছে, সম্ভবত এটি আল-ইজমিরলি (ইজমির থেকে)। আমি আহমদ সাসি আল-বুনির 'ইলামুল আহবার' মাকামাতে পেয়েছি যে, আন্নাবি পরিবার আলবেনিয়ার জানিনা-এর সাথে সম্পৃক্ত—তাদের বংশপরিচয় এভাবে দেওয়া হয়েছে: আল-জানিনি। যদি এটি সঠিক হয়, তবে এই পরিবার এবং মুহাম্মদ আলীর পরিবারের উৎস এক, অর্থাৎ আলবেনীয়। একইভাবে আমরা ইবনুল আন্নাবি পরিবারের জন্য আরেকটি নিসবত (বংশীয় উপাধি) পেয়েছি, যা হলো আল-তুর্কমানি। এই গ্রন্থের 'তাঁর পরিবার' অনুচ্ছেদটি দেখুন; এবং আমাদের অন্য গ্রন্থ 'তাজারিব ফিল আদবি ওয়ার রিহলাহ', পৃষ্ঠা ৯৪।

(৩) অর্থাৎ আলজেরিয়া শহরে, তবে তারিখটি নির্ভুল নয়; ইবনুল আন্নাবি নিজেই এটি ১১৮৯ হিজরি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই গ্রন্থে মুহাম্মদ বাইরাম আল-রাবে-এর প্রতি তাঁর ইজাযতটি (অনুমতিপত্র) দেখুন।

(৪) তিনি হলেন আলী ইবনুল আমিন, যিনি উসমানীয় শাসনামলের শেষ দিকে আলজেরিয়ার অন্যতম প্রধান মুফতি ছিলেন এবং ১২৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনুল আন্নাবি প্রায়ই তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে দেওয়া তাঁর ইজাযতের কথা বর্ণনা করেছেন।

(৫) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, ইবনুল আন্নাবি তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন যাতে শরীয়তের বিধানের কোনো লঙ্ঘন না হয়। যদি এটি সঠিক হয়, তবে ইবনুল আন্নাবি শৈশব থেকেই অত্যন্ত দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ভয় এবং লোভের এই যুগে এমন অবস্থান নেওয়ার মতো আমাদের মাঝে আর কে আছে, যে যুগ জালিম শাসকদের সামনে আলেমদের শির নত করে দিয়েছে?
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
عندئد (6). وبعد أشهر ولي القضاء ثانية سنة 1210 وبقي فيه ثلاث سنوات. ولما مات مفتي الجزائر سنة 1213 (7) ولوه هو الفتوى فبقي في هذا المنصب يفتي على مذهب المالكية (8) إلى سنة 1236 حين عزم على الحج هو ووالده (9) مع محمد أفندي أخي حسين باشا والي الجزائر (10) وفي أثناء حضورهم في الطريق حصل بين والد ابن العنابي ومحمد أفندي تشاحن وخصام (11)، وحين وصلوا الإسكندرية بقي الشيخ ابن العنابي مع والده بها.

وبعد مدة لم يحددها عبد الحميد بك، توجه ابن العنابي من الإسكندرية إلى الجامع الأزهر. وقد أقام به يدرس ويفيد (12) وانتفع به علماء الأزهر فضلا عن طلابه وذلك خلال تسع سنوات (13) ومن الذين اخذوا عنه خلال ذلك:

إبراهيم السقا (14) والشيخ ممد الكتبي والشيخ أحمد التميمي الخليلي مفتي

--------------------------------------------

(6) والي الجزائر عندئد هو حسن باشا (1791 - 1797).

(7) مفتي الجزائر الحنفي عندئذ هو محمد بن عبد الرحمن الذي تولى سنة 1204.

(8) كذا، والظاهر ان هذا سبق قلم فقط، لأن ابن العنابي (وعائلته) كان حنفيا، وتولى الفتوى على مذهب أبي حنيفة سواء في مصر أو في الجزائر.

(9) يؤكد ابن العنابي حج والده سنة 1236 حين ذكر وفاته عند بحر السويس ودفنه بالقرب من بلد القصير عند منصرفه من الحج، ولم يذكر شيئا عن حجه هو معه ابو بمفرده.

(10) يفهم من هذا ومما يليه ان حج ابن العنابي كان ضمن وفد رسمي.

(11) لا ندري إن كان الخصام قد وقع اثناء الرجوع إلى الحج او العودة منه. والظاهر الاحتمال الأول لوفاة والد ابن العنابي اثناء الرجوع من الحج، كما سبق، عند السويس. ولكن كلام عبد الحميد بك الموالي يفهم منه العكس، وهو غير صحيح لأن والد ابن العنابي قد توفي قبل الوصول إلى الإسكندرية.

(12) هذه نقطة غامضة من حياة ابن العنابي. لماذا اختار الإقامة في مصر وقد جاء حاجا فقط، وكان في بلاده متوليا وظائف رسمية؟ هل كان خائفا من أمر يحدث في الجزائر لو رجع إليها؟ الظاهر هو ذلك كما يوضحه ما سيأتي من كون حسين باشا قد أرسل في طلبه واسترضاه. وهل أغرته حياة مصر ((المتفتحة)) عندئذ بالبقاء حيث وجد مجالا مناسبا لأفكاره أكثر من مجال بلاده ((المنغلقة))؟

(13) نعرف انه خلال هذه السنوات ألف كتابه (السعي المحمود)، وبالضبط سنة 1242.

(14) وهو الذي اختصر كتاب شيخه وسماه (بلوغ المقصود ..).
সেই সময়ে (৬)। কয়েক মাস পর তিনি ১২১০ হিজরিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিচারপতির পদ লাভ করেন এবং তিন বছর সেখানে বহাল থাকেন। যখন ১২১৩ হিজরিতে আলজেরিয়ার মুফতি মারা যান (৭), তারা তাকে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি এই পদে আসীন থেকে ১২৩৬ হিজরি পর্যন্ত মালিকি মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন (৮)। সেই বছর তিনি এবং তার পিতা হজে যাওয়ার সংকল্প করেন (৯)। তারা আলজেরিয়ার গভর্নর হুসাইন পাশার ভাই মুহাম্মদ এফেন্দির সাথে যাত্রা করেন (১০)। পথিমধ্যে ইবনুল আননাবির পিতা ও মুহাম্মদ এফেন্দির মধ্যে মনোমালিন্য ও বিবাদ সৃষ্টি হয় (১১)। তারা যখন আলেকজান্দ্রিয়া পৌঁছালেন, তখন শেখ ইবনুল আননাবি তার পিতার সাথে সেখানেই অবস্থান করেন।

আব্দুল হামিদ বেগ নির্দিষ্ট না করা একটি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, ইবনুল আননাবি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে জামে আজহারের দিকে গমন করেন। তিনি সেখানে অবস্থান করে পাঠদান করেন এবং জ্ঞান বিলিয়ে দেন (১২)। ছাত্ররা তো বটেই, আজহারের আলেমগণও নয় বছর ধরে তার কাছ থেকে উপকৃত হন (১৩)। এই সময়ে যারা তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

ইব্রাহিম সাক্কা (১৪), শেখ মুহাম্মদ আল-কুতুবি এবং খলিলের মুফতি শেখ আহমদ আত-তামিমি।

--------------------------------------------

(৬) তৎকালীন আলজেরিয়ার গভর্নর ছিলেন হাসান পাশা (১৭৯১ - ১৭৯৭)।

(৭) তৎকালীন আলজেরিয়ার হানাফি মুফতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান, যিনি ১২০৪ হিজরিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

(৮) মূল পাঠে এমনই আছে, তবে প্রতীয়মান হয় যে এটি নিছক একটি অনিচ্ছাকৃত লেখনী প্রমাদ (কলমের ভুল)। কারণ ইবনুল আননাবি (এবং তার পরিবার) হানাফি ছিলেন এবং তিনি মিসর ও আলজেরিয়া উভয় স্থানেই আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

(৯) ইবনুল আননাবি ১২৩৬ হিজরিতে তার পিতার হজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যখন তিনি সুয়েজ সাগরের নিকট তার পিতার মৃত্যু এবং হজ থেকে ফেরার পথে কুসাইর শহরের নিকট তাকে দাফন করার কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি নিজের হজের বিষয়ে সেখানে কিছুই উল্লেখ করেননি—পিতার সাথে হোক বা একা।

(১০) এটি এবং এর পরবর্তী বিষয়গুলো থেকে বোঝা যায় যে, ইবনুল আননাবির হজ ছিল একটি সরকারি প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত।

(১১) আমরা জানি না যে বিবাদটি হজে যাওয়ার সময় হয়েছিল নাকি ফেরার সময়। প্রতীয়মান হয় যে প্রথমটিই ঘটার সম্ভাবনা বেশি, কারণ ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, ইবনুল আননাবির পিতা হজ থেকে ফেরার পথে সুয়েজের নিকট ইন্তেকাল করেন। তবে আব্দুল হামিদ বেগের পরবর্তী বক্তব্য থেকে এর উল্টোটি বোঝা যায়, যা সঠিক নয়। কারণ ইবনুল আননাবির পিতা আলেকজান্দ্রিয়া পৌঁছানোর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন।

(১২) এটি ইবনুল আননাবির জীবনের একটি অস্পষ্ট অধ্যায়। তিনি কেন কেবল হজের উদ্দেশ্যে এসে মিসরে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিলেন, যেখানে তিনি নিজ দেশে সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন? তিনি কি আলজেরিয়ায় ফিরে গেলে কোনো বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন? পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ থেকে এমনটাই প্রতীয়মান হয়, যেখানে দেখা যায় হুসাইন পাশা তাকে নিতে লোক পাঠিয়েছিলেন এবং তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। অথবা তৎকালীন মিসরের "উন্মুক্ত" জীবন কি তাকে সেখানে থাকতে প্রলুব্ধ করেছিল, যেখানে তিনি তার চিন্তাধারার জন্য নিজ দেশের "বদ্ধ" পরিবেশের চেয়ে অধিক উপযোগী ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছিলেন?

(১৩) আমরা জানি যে এই বছরগুলোর মধ্যেই তিনি তার (আস-সা'য়ুল মাহমুদ) গ্রন্থটি রচনা করেন, যা নির্দিষ্টভাবে ১২৪২ হিজরির ঘটনা।

(১৪) ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি তার উস্তাদের কিতাবটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন (বুলুগুল মাকসুদ...)।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
القاهرة، والشيخ محمد البنا مفتي الإسكندرية (15) والشيخ علي البقلي، والشيخ خليل الرشيدي، وغيرهم. وأثناء إقامته بالأزهر حج ابن العنابي ثلاث مرات. وفي سنة 1245 أرسل حسين باشا يطلبه إلى الجزائر، وأرسل له سفينة مخصوصة فتوجه بها إليه (16) ولما وصل أراد الدخول على الباشا فصادف دخول مفتي الجزائر (17) فسبقه ابن العنابي في الدخول، فتغير منه المفتي وقال إنه خالف بذلك الرسوم، فبلغ ذلك الباشا فقال إنه يستحق التقدم عليه، وعزل المفتي وولاه هو مكانه، فأقام على ذلك سنة، وهي السنة التي كان فيها أيضا الشيخ مصطفى الكبابطي قاضيا (18).

وفي سنة 1246 احتل الفرنسيون الجزائر، وأثناء الحرب مع حسين باشا ولاه هذا رئيسا على عساكر الجزائر، فغزا ابن العنابي في الفرنسيين أياما (19) وبعد

--------------------------------------------

(15) سيأتي أن محمد البنا هو الذي خلف ابن العنابي في وظيفة الفتوى بالإسكندرية بعد أن غضب الخديوي عباس على ابن العنابي.

(16) حسب مخطوط رقم 529 المكتبة الوطنية - تونس، إن ابن العنابي حل بتونس أواخر سنة 1244، وغادرها إلى الجزائر أوائل سنة 1245 وبذلك يكون تعبير عبد الحميد بك غير دقيق. وإذا صحت رواية عبد الحميد بك، فإن مكانة ابن العنابي لدى باشا الجزائر كانت مكانة سامية. ولعله بذلك يريد استرضاءه بعد ان بقى حوالي تسع سنوات في مصر غاضبا أو مغضوبا عليه سياسيا. وقد ثبت ان الباشا كان في حاجة إلى ابن العنابي كما سنرى.

(17) يقصد المفتي الحنفي بدليل ما سيأتي. وقد كان عندئذ (1245) هو الشيخ أحمد بن عمر ابن مصطفى. وليتأمل القارىء رأي حسين باشا في ابن العنابي.

(18) تولى مصطفى الكبابطي عدة وظائف منها القضاء والإفتاء المالكي زمن الفرنسيين ايضا. وقد نفوه فحل بالإسكندرية ضيفا على صديقه ومواطنه المنفي مثله: ابن العنابي، سنة 1843، وقد سعى له ابن العنابي لدى محمد علي فعين للكبابطي راتبا شهريا. أنظر دراستنا (قضية ثقافية بين الجزائر وفرنسا: موقف المفتي الكبابطي من اللغة والأوقاف) في كتابنا (أبحاث وآراء في تاريخ الجزائر) ج:2، 1985.

(19) لا شك ان ذلك كان لثقة حسين باشا في ابن العنابي. وكان تعيينه لرفع الروح المعنوية بالدعوة إلى الجهاد وليس كفاءته العسكرية، فهو قبل شيء رجل دين وفكر لا رجل حرب =
কায়রো, এবং আলেকজান্দ্রিয়ার মুফতি শেখ মুহাম্মদ আল-বান্না (১৫), শেখ আলী আল-বাকলি, শেখ খলিল আল-রাশিদি এবং অন্যান্যরা। আল-আযহারে অবস্থানকালে ইবনুল আনাবি তিনবার হজ পালন করেন। ১২৪৫ হিজরিতে হোসেন পাশা তাঁকে আলজেরিয়ায় ডেকে পাঠান এবং তাঁর জন্য একটি বিশেষ জাহাজ প্রেরণ করেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর কাছে গমন করেন (১৬)। তিনি যখন পৌঁছালেন, তখন পাশার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলেন, সেই সময় আলজেরিয়ার মুফতির প্রবেশের সময় হয়েছিল (১৭)। ফলে ইবনুল আনাবি তাঁর আগেই প্রবেশ করেন, এতে মুফতি ক্ষুব্ধ হন এবং বলেন যে তিনি এর মাধ্যমে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি পাশার কানে পৌঁছালে তিনি বলেন যে, তিনি তাঁর চেয়ে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। এরপর তিনি মুফতিকে বরখাস্ত করে ইবনুল আনাবিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনি এই পদে এক বছর অধিষ্ঠিত ছিলেন, এটি সেই বছর ছিল যখন শেখ মুস্তফা আল-কাবাবতিও বিচারক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন (১৮)।

১২৪৬ হিজরিতে ফরাসিরা আলজেরিয়া দখল করে। হোসেন পাশার সাথে যুদ্ধের সময় তিনি তাঁকে আলজেরীয় সেনাদের প্রধান নিযুক্ত করেন। ফলে ইবনুল আনাবি ফরাসিদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকদিন যুদ্ধ করেন (১৯) এবং পরে

--------------------------------------------

(১৫) সামনে আসবে যে, খেদিউ আব্বাস ইবনুল আনাৰির ওপর অসন্তুষ্ট হওয়ার পর মুহাম্মদ আল-বান্নাই আলেকজান্দ্রিয়ার ফতোয়া বিভাগে ইবনুল আনাবির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।

(১৬) তিউনিসিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগারের ৫২৯ নম্বর পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী, ইবনুল আনাবি ১২৪৪ হিজরির শেষদিকে তিউনিসিয়ায় আসেন এবং ১২৪৫ হিজরির শুরুতে আলজেরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফলে আব্দুল হামিদ বে-এর বর্ণনাটি সঠিক নয়। যদি আব্দুল হামিদ বে-এর বর্ণনা সঠিক হয়, তবে আলজেরিয়ার পাশার নিকট ইবনুল আনাবির মর্যাদা ছিল অনেক উঁচুতে। সম্ভবত এর মাধ্যমে তিনি তাঁকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন, যেহেতু তিনি প্রায় নয় বছর মিশরে রাগান্বিত অবস্থায় বা রাজনৈতিকভাবে অসন্তুষ্টির মধ্যে অতিবাহিত করেছিলেন। এটা প্রমাণিত যে পাশা ইবনুল আনাবির মুখাপেক্ষী ছিলেন, যা আমরা পরে দেখতে পাব।

(১৭) পরবর্তী আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে এখানে হানাফি মুফতিকে বোঝানো হয়েছে। তিনি তখন (১২৪৫ হিজরিতে) ছিলেন শেখ আহমদ বিন উমর ইবনে মুস্তফা। পাঠক যেন ইবনুল আনাবি সম্পর্কে হোসেন পাশার মতামতের প্রতি লক্ষ্য করেন।

(১৮) মুস্তফা আল-কাবাবতি ফরাসি শাসনের সময় বিচারকাজ ও মালিকি মাযহাবের ফতোয়া প্রদানসহ বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করেছেন। ফরাসিরা তাঁকে নির্বাসিত করলে ১৮৪৩ সালে তিনি তাঁর বন্ধু এবং তাঁর মতোই নির্বাসিত স্বদেশী ইবনুল আনাবির অতিথি হিসেবে আলেকজান্দ্রিয়ায় আসেন। ইবনুল আনাবি মুহাম্মদ আলীর কাছে তাঁর জন্য সুপারিশ করেন, ফলে তিনি আল-কাবাবতির জন্য একটি মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেন। দেখুন আমাদের গবেষণা (আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক ইস্যু: ভাষা ও ওয়াকফ বিষয়ে মুফতি আল-কাবাবতির অবস্থান) আমাদের বই (আলজেরিয়ার ইতিহাসে গবেষণা ও মতামত), খণ্ড: ২, ১৯৮৫।

(১৯) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি ছিল ইবনুল আনাবির ওপর হোসেন পাশার আস্থার ফল। জিহাদের আহ্বানের মাধ্যমে মানুষের মনোবল বৃদ্ধির জন্যই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাঁর সামরিক দক্ষতার জন্য নয়; কারণ তিনি সবকিছুর আগে একজন ধর্মতত্ত্ববিদ ও চিন্তাবিদ ছিলেন, কোনো যোদ্ধা ছিলেন না। =
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
دخول الفرنسيين مدينة الجزائر أقام ابن العنابي في بيته مطيعا لهم في الظاهر وفي باطن الامر كان يخاطب العربان والعربان يخاطبونه على إثارة الحرب من جديد، فبلغ ذلك الفرنسيين، فهجموا على داره. فلما استشعر الهجوم رمى بالأوراق في بيوت الخلا، ففتشوا فلم يجدوا شيئا، فتوقفوا عنه. ولكن ابن العنابي خاف مغبة الأمر بحيث يوشي به أحد مبغضيه إلى الفرنسيين أو يختلق رسالة يمسكونه بها فتوجه إلى الإسكندرية (20).

وعند حضور ابن العنابي الإسكندرية صادف وفاة مفتيها الشيخ خليل السعدان، فولاه محمد علي والي مصر فتوى الحنفية بدلا عنه. وقد بقي ابن العنابي على ذلك الحال إلى سنة 1266. ذلك أنه في أوائل هذه السنة نقم عليه عباس باشا والي مصر، وحفيد محمد علي، فعزله من الافتاء.

وسبب ذلك العزل أنه في آخر عهد محمد علي صارت أرباب الدعاوى تستفتي المفتيين الفتاوى، واذا ظهر الحق بيد من تكون معه الفتوى يستفتي المدعي عليه بفتوى أخرى على اختلاف أقوال المذاهب، وتعاد رؤية الدعوى، وهكذا. وقد كثر ذلك من أرباب الدعاوى في الفتوى وارتشاء المفتين. فمل من ذلك محمد علي وأحضر إليه ابن العنابي وأمره بتأليف كتاب يجمع فيه ما

--------------------------------------------

ومناورات عسكرية. وكان الأولى بحسين باشا الاستماع إلى آراء ابن العنابي في التجديد والنهضة والعمل بها قبل ذلك. الأوان. أما القائد الفعلي للجيش الجزائري عند الحرب مع الفرنسيين فهو الآغا إبراهيم الذي أثبتت كل المصادر عدم كفاءته العسكرية وكان مؤهله الوحيد هر مصاهرة الباشا.

(20) توضح هذه الرواية الدور الفعال الذي لعبه ابن العنابي اثناء الحملة. ولكن اليد الواحدة لا تصفق. والظاهر أن ابن العنابي كان يريد تنظيم ما نسميه اليوم المقاومة الشعبية ضد الفرنسيين بعد انهيار الجيش الرسمي. وهذا هو المقصود من عبارة (كان يخاطب العربان والعربان يخاطبونه على إثارة الحرب من جديد) أما خروجه من الجزائر فعبارة عبد الحميد بك توحي أن ابن العنابي قد اختار الهجرة بنفسه خوفا من العاقبة، ولكن المصادر الأخرى تؤكد ان كلوزيل هو الذي حكم بنفيه ولفق ضده تهمة تدينه. أنظر (المرآة) لحمدان خوجة. ترجمة محمد العربي الزبيري، الجزائر، 1975، ص 259.
ফরাসিরা আলজেরিয়া শহরে প্রবেশ করলে ইবনুল আননাবি বাহ্যিকভাবে তাদের প্রতি অনুগত হয়ে নিজের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে তিনি বেদুঈনদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং বেদুঈনরাও পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করছিল। ফরাসিরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর বাড়িতে অতর্কিত অভিযান চালায়। যখন তিনি অভিযানের বিষয়টি টের পেলেন, তখন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রগুলো শৌচাগারে নিক্ষেপ করলেন। ফলে তারা তল্লাশি চালিয়ে কিছুই পেল না এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকল। তবে ইবনুল আননাবি পরিণতির বিষয়ে ভীত ছিলেন যে, তাঁর কোনো শত্রু হয়তো ফরাসিদের কাছে তাঁর ব্যাপারে তথ্য ফাঁস করে দেবে অথবা কোনো জাল চিঠি তৈরি করবে যার মাধ্যমে তারা তাঁকে বন্দি করবে; ফলে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন (২০)।

ইবনুল আননাবি আলেকজান্দ্রিয়ায় উপস্থিত হওয়ার সময় সেখানকার মুফতি শেখ খলিল আস-সাদানের মৃত্যু হয়। তখন মিশরের ওয়ালি মুহাম্মদ আলী তাঁকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে হানাফিদের ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ১২৬৬ হিজরি পর্যন্ত ইবনুল আননাবি সেই পদে বহাল ছিলেন। ঘটনা হলো, উক্ত বছরের শুরুর দিকে মিশরের ওয়ালি এবং মুহাম্মদ আলীর নাতি আব্বাস পাশা তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাঁকে ফতোয়া প্রদানের পদ থেকে বরখাস্ত করেন।

উক্ত বরখাস্তের কারণ ছিল এই যে, মুহাম্মদ আলীর শাসনামলের শেষ দিকে মামলাবাজরা মুফতিদের কাছ থেকে ফতোয়া গ্রহণ করতে শুরু করেছিল। যখন ফতোয়া যার পক্ষে থাকত তার হাতে সত্য প্রকাশিত হতো, তখন বিবাদী বিভিন্ন মাযহাবের মতপার্থক্যের সুযোগ নিয়ে অন্য কোনো ফতোয়া সংগ্রহ করত এবং এভাবে মামলার পুনঃশুনানি চলত। ফতোয়ার ক্ষেত্রে মামলাবাজদের পক্ষ থেকে এমন আচরণ এবং মুফতিদের ঘুষ গ্রহণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। মুহাম্মদ আলী এতে বিরক্ত হলেন এবং ইবনুল আননাবিকে নিজের কাছে ডেকে পাঠান এবং তাঁকে এমন একটি কিতাব রচনার নির্দেশ দেন যাতে তিনি এমন সব বিষয় একত্রিত করবেন যা

--------------------------------------------

এবং সামরিক মহড়া। হোসেন পাশার উচিত ছিল এর পূর্বেই সংস্কার ও নবজাগরণ বিষয়ে ইবনুল আননাবির মতামত শোনা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা। পক্ষান্তরে, ফরাসিদের সাথে যুদ্ধের সময় আলজেরীয় সেনাবাহিনীর প্রকৃত সেনাপতি ছিলেন আগা ইব্রাহিম, যাঁর সামরিক অযোগ্যতা সমস্ত উৎস দ্বারা প্রমাণিত এবং তাঁর একমাত্র যোগ্যতা ছিল পাশার সাথে বৈবাহিক আত্মীয়তা।

(২০) এই বর্ণনাটি অভিযানের সময় ইবনুল আননাবির পালন করা কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি স্পষ্ট করে। তবে এক হাতে তালি বাজে না। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে, সরকারি বাহিনীর পতনের পর ইবনুল আননাবি ফরাসিদের বিরুদ্ধে বর্তমানে যাকে আমরা গণপ্রতিরোধ বলি, তা সংগঠিত করতে চেয়েছিলেন। ‘তিনি বেদুঈনদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং বেদুঈনরাও পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করছিল’—এই উক্তিটির উদ্দেশ্য এটাই। আলজেরিয়া থেকে তাঁর প্রস্থানের বিষয়ে আব্দুল হামিদ বে-এর উক্তি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইবনুল আননাবি পরিণতির ভয়ে নিজেই হিজরত করা বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু অন্যান্য উৎস নিশ্চিত করে যে, ক্লোজেলই তাঁর নির্বাসনের আদেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একটি সাজানো অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। দেখুন: হামদান খুজার ‘আল-মিরআত’। অনুবাদ: মুহাম্মদ আল-আরবি আয-যুবাইরি, আলজেরিয়া, ১৯৭৫, পৃষ্ঠা ২৫৯।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
رجح من أقوال المذاهب الأربعة ويوفق مع الأقوال قوانين السياسة، وتصير كل الأحكام على ذلك الكتاب، ويبطل الاستفتاء من بقية المذاهب الأربعة. وكان قصد محمد علي من ذلك قطع المشاكل على الأقوال الراجحة بلا اختلاف في أقوال المذاهب، فبدأ ابن العنابي في تأليف ذلك الكتاب (21).

ولما ولي عباس باشا سنة 1265 سعت المشائخ والمفتيون في إبطال هذا الكتاب وافهموا الوالي أن ذلك مما يوجب ضعف الديانة المحمدية واندراسها، وهذا لا يجوز (22) وأفهوه ايضا أن ابن العنابي رجل خارجي زنديق. وقصدهم من ذلك ارتزاقهم من الفتاوى على الاختلاف في المذاهب. وما زالوا به حتى نقم عليه وعزله في تلك السنة، وهي سنة 1266، وولى الفتوى الشيخ محمد البنا (23) مكانه.

وأقام ابن العنابي في بيته مبتعدا عن التداخل في الأمور المذكورة إلى أن توفي في ربيع الأول، سنة 1267 (24) وقد ((كان إماما فاضلا، عارفا بالعبادات والأحكام في المذاهب الأربعة على اختلافها واختلاف أقوالها والراجح منها والضعيف فيها، وعالما في باقي المنقول والعقول، والسياسات العمومية والخصوصية، الخارجية والداخلية)).

((وله أشعار وتقاريظ .. وله غير ذلك مما هو مشهور، وفضله يغني عن ثبت قريض أو إنشاء له)).

--------------------------------------------

(21) هو (صيانة الرياسة ببيان القضاء والسياسة) الذي كتب منه عشر كراسات. أنظر قائمة تآليفه.

(22) تلك شنشنة من يسمون برجال الدين في كل عصر، أولئك الذين يعميهم التخلف العقلي والطمع الدنيوي فيلبسون الحق بالباطل، والغريب اتهامهم ابن العنابي بالزندقة والخروج عن الدين، بينما أثبت أنه كان مجاهدا بقلمه وحتى بسيفه في سبيل الدين والأوطان.

(23) محمد البنا كان من تلاميذ ابن العنابي يوم كان مدرسا بالأزهر أثناء إقامته الأولى بمصر.

(24) عاش ابن العنابي 78 سنة تقريبا (1189 - 1267) ولا ندري إن كان لعزله السياسي من منصب الفتوى أثر على وفاته. فالمصادر لا تتحدث عن ذلك، وإنما تتحدث عن كونه قضى بقية أيامه في شرح كتاب التوحيد.
চার মাযহাবের মতসমূহের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য মতটিকে গ্রহণ করা হবে এবং রাজনৈতিক আইনের সাথে সেগুলোর সমন্বয় সাধন করা হবে। ফলে সকল বিচারকার্য সেই কিতাবের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হবে এবং অবশিষ্ট চার মাযহাব থেকে ফতোয়া গ্রহণ রহিত হয়ে যাবে। মুহাম্মদ আলীর উদ্দেশ্য ছিল মাযহাবগুলোর মতভেদ ব্যতিরেকে অগ্রগণ্য মতসমূহের ভিত্তিতে সমস্যাবলীর সমাধান করা। তাই ইবনুল আন্নাবী সেই কিতাবটি সংকলন করা শুরু করেন (২১)।

যখন ১২৬৫ হিজরিতে আব্বাস পাশা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন, তখন শাইখ ও মুফতিগণ এই কিতাবটি বাতিল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হলেন এবং তারা শাসককে বোঝালেন যে, এটি মুহাম্মদী ধর্মের দুর্বলতা ও বিলুপ্তির কারণ হবে, যা কোনোভাবেই জায়েজ নয় (২২)। তারা তাকে আরও বোঝালেন যে, ইবনুল আন্নাবী একজন খারেজী ও যিনদীক ব্যক্তি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মাযহাবি মতভেদের সুযোগ নিয়ে ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করা। তারা শাসকের নিকট তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেই থাকলেন, শেষ পর্যন্ত শাসক তার ওপর ক্ষুব্ধ হলেন এবং সেই বছর অর্থাৎ ১২৬৬ হিজরিতে তাকে বরখাস্ত করলেন। তার স্থলে শাইখ মুহাম্মদ আল-বান্নাকে (২৩) মুফতি পদে নিয়োগ দিলেন।

ইবনুল আন্নাবী উল্লিখিত বিষয়গুলো থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজ গৃহে অবস্থান করতে থাকেন, যতক্ষণ না ১২৬৭ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (২৪)। তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম; চার মাযহাবের ইবাদত ও বিধানসমূহ, তাদের মধ্যকার মতভেদ এবং সেগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য ও দুর্বল মত সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। এছাড়া তিনি অন্যান্য বর্ণিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্র এবং সাধারণ ও বিশেষ, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনীতিতে পণ্ডিত ছিলেন।

তার অনেক কবিতা ও প্রশংসা বাক্য রয়েছে... এ ছাড়াও তার অনেক প্রসিদ্ধ কাজ রয়েছে; তার শ্রেষ্ঠত্ব কোনো কাব্য বা গদ্য রচনার প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়।

--------------------------------------------

(২১) সেটি হলো (সিয়ানাতুর রিয়াসাহ বি-বায়ানিল কাদা ওয়াস-সিইয়াসাহ), যার তিনি দশটি পুস্তিকা লিখেছিলেন। তার গ্রন্থতালিকা দেখুন।

(২২) এটি সব যুগের তথাকথিত ধর্মব্যবসায়ীদের একটি চিরাচরিত স্বভাব; যারা মানসিক জড়তা ও পার্থিব লালসার কারণে অন্ধ হয়ে সত্যকে মিথ্যার আবরণে ঢেকে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো ইবনুল আন্নাবীর ওপর তাদের যিনদীক হওয়া এবং ধর্ম থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ আনা, অথচ এটি প্রমাণিত যে তিনি দ্বীন ও স্বদেশের পথে তার কলম এমনকি তরবারি দিয়েও জিহাদ করেছেন।

(২৩) মুহাম্মদ আল-বান্না ইবনুল আন্নাবীর ছাত্র ছিলেন, যখন তিনি মিশরে প্রথম অবস্থানের সময় আল-আযহারে শিক্ষকতা করতেন।

(২৪) ইবনুল আন্নাবী প্রায় ৭৮ বছর জীবিত ছিলেন (১১৮৯ - ১২৬৭)। মুফতি পদ থেকে তার রাজনৈতিক অপসারণ তার মৃত্যুর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না তা আমাদের জানা নেই। কারণ ঐতিহাসিক উৎসগুলো এ সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেনি, বরং তারা উল্লেখ করেছে যে তিনি তার জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা রচনায় ব্যয় করেছেন।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
ولابن العنابي تآليف عديدة ومتنوعة ذكرها مترجموه متفرقة، ونود أن نذكرها هنا مرتبة، حتى نعرف قدره وتخصصه ومساهمته (25) وهي:

1 - السعي المحمود في نظام الجنود (وهو الذي اعتمدناه أساس كتابنا هذا، لأنه يعكس تفكير ابن العنابي في التجديد الإسلامي. ألفه ستة 1242. وقد طبع نص هذا الكتاب بتحقيق محمد بن عبد الكريم، الجزائر 1985).

2 - صيانة الرياسة ببيان القضاء والسياسة. كتب منه عشر كراسات. وهو في جمع الراجح من الأحكام طبقا للمذاهب الأربعة وطبقا لمصالح السياسة الدنيوية، ليكون عمدة لدى القضاة والمفتيين، كتبه بطلب من محمد علي، والي مصر. ولا نعرف تاريخ تأليفه بالضبط.

3 - بلوغ المقاصود في اختصار السعي المحمود، وهو تلخيص للكتاب الأول، قام به أحد تلاميذ ابن العنابي، وهو إبراهيم السقا، بطلب من محمد علي، والي مصر.

4 - شرح كتاب الدر المختار، في الفقه الحنفي، وصل فيه إلى نحو ثلثيه. ألفه قبل سنة 1244. (ويبدو أن هذا الكتاب هو الذي ترجمه زائد أفندي إلى التركية بتوجيه من محمد علي. انظر قسم - آثاره - هامش).

5 - التحقيقات الإعجازية بشرح نظم العلاقات المجازية. وهو عمل في البلاغة والأدب، أكمله سنة 1231.

6 - العقد الفريد في التجويد. وقد أكمله، وذكرت له عدة عناوين.

7 - لمعان البيان في بيان أخذ الأجرة على القرآن.

8 - شرح متن البركوي في التوحيد (لم يتمه - آخر عمل كان يقوم به قبل وفاته).

9 - ثماني عشرة رسالة في وقف العقار.

10 - مجموعة فتاوى في مسائل مختلفة. منها (الفتح القيومي بجواب أسئلة

--------------------------------------------

(25) أنظر حديثنا عن بعض هذه الكتب في القسم الثاني من هذا الكتاب.
ইবনুল আন্নাবীর অসংখ্য এবং বৈচিত্র্যময় রচনা রয়েছে যা তার জীবনীকারগণ বিচ্ছিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন। আমরা এখানে সেগুলো ক্রমানুসারে উল্লেখ করতে চাই, যাতে আমরা তাঁর মর্যাদা, বিশেষত্ব এবং অবদান (২৫) সম্পর্কে জানতে পারি এবং সেগুলো হলো:

১ - আস-সা‘য়ুল মাহমুদ ফি নিজামিল জুনুদ বা সৈন্যবাহিনীর শৃঙ্খলায় প্রশংসিত প্রচেষ্টা (এটিই সেই গ্রন্থ যাকে আমরা আমাদের এই বইয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ এটি ইসলামি সংস্কারে ইবনুল আন্নাবীর চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে। তিনি এটি ১২৪২ হিজরিতে রচনা করেন। এই বইটির পাঠ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিমের সম্পাদনায় ১৯৮৫ সালে আলজেরিয়ায় মুদ্রিত হয়েছে)।

২ - সিয়ানাতুর রিয়াসাহ বি-বায়ানিল কাজা ওয়াস-সিয়াসা বা বিচার বিভাগ ও রাজনীতি বর্ণনার মাধ্যমে নেতৃত্বের সুরক্ষা। তিনি এর দশটি পুস্তিকা লিখেছেন। এটি চার মাযহাব অনুযায়ী এবং পার্থিব রাজনীতির স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ অগ্রগণ্য বিধানসমূহ সংগ্রহের বিষয়ে রচিত, যাতে এটি বিচারক ও মুফতিদের নিকট একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হতে পারে। তিনি মিশরের ওয়ালি মুহাম্মদ আলীর অনুরোধে এটি লিখেছিলেন। আমরা এর সঠিক রচনাকাল জানি না।

৩ - বুলুগুল মাকসুদ ফি ইখতিসারিস সা‘য়িল মাহমুদ, যা প্রথম বইটির একটি সারসংক্ষেপ। এটি ইবনুল আন্নাবীর অন্যতম ছাত্র ইবরাহিম আস-সাক্কা মিশরের ওয়ালি মুহাম্মদ আলীর অনুরোধে প্রস্তুত করেছিলেন।

৪ - হানাফি ফিকহের গ্রন্থ 'আদ-দুররুল মুখতার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এতে তিনি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এটি তিনি ১২৪৪ হিজরির পূর্বে রচনা করেন। (প্রতীয়মান হয় যে, এটি সেই বই যা জায়েদ এফেন্দি মুহাম্মদ আলীর নির্দেশনায় তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। দেখুন বিভাগ - তাঁর রচনাবলি - পাদটীকা)।

৫ - আত-তাহকিকাতুল ই‘জাযিয়্যাহ বি-শারহি নাজমিল আলাকাতিল মাজাযিয়্যাহ। এটি অলঙ্কারশাস্ত্র এবং সাহিত্যের একটি কাজ, যা তিনি ১২৩১ হিজরিতে সম্পন্ন করেন।

৬ - আল-ইকদুল ফারিদ ফিত-তাজবিদ। তিনি এটি সম্পন্ন করেছেন এবং এর জন্য বেশ কয়েকটি শিরোনামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৭ - লামআনুল বায়ান ফি বাইয়ানি আখজিল উজরাতি আলাল কুরআন (কুরআনের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বর্ণনায় প্রোজ্জ্বল ব্যাখ্যা)।

৮ - তাওহিদ বিষয়ে ইমাম বারকাভির মূলপাঠের (মতন) ব্যাখ্যাগ্রন্থ (তিনি এটি সমাপ্ত করেননি - এটিই ছিল তাঁর মৃত্যুর আগে শেষ কাজ)।

৯ - স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করার বিষয়ে আঠারোটি রিসালাহ বা পুস্তিকা।

১০ - বিভিন্ন মাসআলার ওপর ফতোয়ার সংকলন। এর মধ্যে রয়েছে (আল-ফাতহুল কাইয়্যুমি বি-জাওয়াবি আসইলাহ...)

--------------------------------------------

(২৫) এই বইয়ের দ্বিতীয় অংশে এসব বইয়ের কোনো কোনোটি সম্পর্কে আমাদের আলোচনা দেখুন।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الرومي) والفتوى التي أجاب بها الشيخ خليل الغزلات في اعتماد أو عدم اعتاد الخط والختم شرعا. وأجوبته على آداب مجلس قراءة القرآن وأجوبته على مسألة في التوحيد وأخرى في الموقف الخ.

11 - مجموعة أشعار وتقاريظ ونصوص أدبية، مثل تقريظه لترجمة كتاب (كلستان) لسعدي الشيرازي، من الفارسية إلى العربية، نثرا وشعرا. وشعره في آل بيرم بتونس. وقد ذكر مترجمه عبد الحميد بك بأن له (أشعار وتقاريظ).

12 - ثبت الجزائري، وهو إجازته لإبراهم السقا. وقد أثبت فيه شيوخه ومروياته.

13 - مجموعة إجازات، وهي كثيرة، نعرف بعضها مثل إجازته لعبد القادر الرافعي ومحمد بيرم الرابع ومحمد الطحاوي. وقد قال عن نفسه انه كان يقلد شيخه ابن الأمين في منح الإجازة لكل من أدرك حياته (26). 14 - خاتمة في التوحيد وضعها بمناسبة ختمه لدرس عقيدة التوحيد للسنوسي (موجود بمكتبه خاصة).

15 - المقتطف من الحديث اقتطفه من صحيح ابن حبان.

16 - كتاب آخر في الحديث سماه المنتقى، وقد انتقاه من الصحاح، وهو موجود بخطه في إحدى مكتبات إسطانبول. 17 - رسالة له خاصة بالمرأة (27).

وقد تظهر الأيام اعمالا أخرى لابن العنابي. فقد عرفنا أنه كان رجل علم وسياسة ودين وقضاء، وكان قد حج عدة مرات. ترى هل ترك رحلة شأن علماء عصره من المغاربة؟ أما رسائله فلا شك أنها بعدد كبير.

ومهما حاولنا أن نلقي من أضواء على هذه الشخصية فإنها تظل متأبية

--------------------------------------------

(26) ترجمة ابن العنابي في كتاب (تاريخ عبد الحميد بك) وردت على الصفحات التالية: 57، 58،59،60. أنظر أيضا ص 64 منه.

(27) الأعمال الأربعة الأخيرة. ذكرها له الشيخ عبد الرحمن الجلالي في تاريخ الجزائر العام 4/ 141، 142.
আল-রুমি) এবং শেখ খলিল আল-গাযালাত কর্তৃক শরীয়তের দৃষ্টিতে হস্তাক্ষর ও মোহরের নির্ভরযোগ্যতা বা অনির্ভরযোগ্যতা বিষয়ে প্রদত্ত ফতোয়া। এবং কুরআন পাঠের মজলিসের শিষ্টাচার সংক্রান্ত তাঁর উত্তরসমূহ এবং তাওহীদ ও মাওকিফ (পরকালীন অবস্থান) সংক্রান্ত একটি মাসআলার উত্তরসমূহ ইত্যাদি।

১১ - কবিতা, প্রশংসামূলক ভূমিকা এবং সাহিত্যিক পাঠ্যের একটি সংকলন; যেমন সাদি শিরাজি-র 'গুলিস্তান' গ্রন্থের ফারসি থেকে আরবিতে করা অনুবাদের ওপর তাঁর গদ্য ও পদ্যে রচিত প্রশংসামূলক ভূমিকা। এবং তিউনিসিয়ার বায়রাম পরিবার সম্পর্কে তাঁর কবিতা। তাঁর জীবনীকার আব্দুল হামিদ বে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর (কবিতা ও প্রশংসামূলক ভূমিকা) রয়েছে।

১২ - সাবাত আল-জাযাইরি, যা ইব্রাহিম আল-সাক্কাকে প্রদান করা তাঁর ইজাজত। এতে তিনি তাঁর শায়েখদের নাম ও তাঁর বর্ণিত বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন।

১৩ - ইজাজতনামা বা অনুমতিপত্রের একটি সংকলন, যা সংখ্যায় অনেক। আমরা এগুলোর মধ্য হতে কিছু সম্পর্কে জানি, যেমন আব্দুল কাদির আল-রাফেয়ি, মুহাম্মদ বায়রাম চতুর্থ এবং মুহাম্মদ আল-তাহাউয়িকে প্রদান করা তাঁর ইজাজত। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি তাঁর শায়েখ ইবনুল আমিনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর জীবদ্দশায় যাঁকেই পেয়েছেন তাঁদের প্রত্যেককেই ইজাজত প্রদান করতেন (২৬)। ১৪ - তাওহীদ বিষয়ে একটি উপসংহার যা তিনি সানুসি-র তাওহীদ বিষয়ক আকিদার পাঠ সমাপ্ত করার উপলক্ষে রচনা করেছিলেন (এটি একটি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে)।

১৫ - আল-মুক্তাতাফ মিনাল হাদিস, যা তিনি সহিহ ইবনে হিব্বান থেকে চয়ন করেছেন।

১৬ - হাদিস শাস্ত্রের আরেকটি কিতাব যার নাম তিনি দিয়েছেন 'আল-মুনতাকা', এটি তিনি সহিহ গ্রন্থসমূহ থেকে চয়ন করেছেন। এটি ইস্তাম্বুলের একটি গ্রন্থাগারে তাঁর নিজ হাতের লেখায় বিদ্যমান। ১৭ - নারীদের বিষয়ে তাঁর একটি বিশেষ রিসালাহ (২৭)।

ভবিষ্যতে ইবনুল আন্নাবির আরও কাজ প্রকাশ পেতে পারে। কেননা আমরা জানতে পেরেছি যে তিনি ইলম, রাজনীতি, ধর্ম ও বিচারব্যবস্থার সাথে যুক্ত এক মহান ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি বেশ কয়েকবার হজ পালন করেছিলেন। তাঁর সমসাময়িক মাগরেবি আলেমদের মতো তিনিও কি কোনো ভ্রমণকাহিনী (রিহলাহ) রেখে গেছেন? আর তাঁর চিঠিপত্রগুলো যে সংখ্যায় অনেক হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আমরা এই মহান ব্যক্তিত্বের ওপর যতোই আলোকপাত করার চেষ্টা করি না কেন, তিনি সর্বদা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান।

--------------------------------------------

(২৬) 'তারিখ আব্দুল হামিদ বে' গ্রন্থে ইবনুল আন্নাবির জীবনী নিম্নোক্ত পৃষ্ঠাগুলোতে এসেছে: ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০। আরও দেখুন উক্ত গ্রন্থের ৬৪ পৃষ্ঠা।

(২৭) শেষোক্ত চারটি কাজ। শেখ আব্দুর রহমান আল-জিলানি 'তারিখ আল-জাযাইর আল-আম' গ্রন্থের ৪/১৪১, ১৪২ পৃষ্ঠায় এগুলো তাঁর বলে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
علينا، وتظل تطاردها العتمة. فنحن كلما تعمقنا في دراسته ازداد اتاعا وبعدا. فقد عاش في لحظات حرجة من تاريخ الجزائر وتاريخ المشرق الإسلامي، وهو النصف الأول من القرن الثالث عشر (19 م). وها قد رأيناه يتنقل بين أجزاء هذا العالم الإسلامي (المريض) يحاول إيجاد الدواء كما يتنقل الطبيب بين مرضاه.

فكان تارة في الجزائر وتارة في مصر، تارة في المغرب الأقصى، وأخرى في إسطانبول، ومرة الحجاز، وأخرى في تونس. فكان ينصح الحكام فينتصح له البعض ويشيح عنه آخرون، حتى إذا أدركهم الغرق (مثل حسين باشا) استنجدوا به وولوه قيادة جيش مهزوم وأعطوه سيفا مفلولا ليحارب به أقوى جيش في العالم عندئذ. يا للسخرية برجال الفكر والدين وبمصائر الشعوب!

ترى من من العلماء المسلمين عندئذ جاهد بقلمه ولسانه وسيفه جهاد ابن العنابي؟ إننا لن نجيب على هذا السؤال، وحسبك أيها القارىء أن تستعرض أسماء المصلحين من علماء المسلمين لتعرف أن ادعاءنا الريادة لابن العنابي ليس محض خيال.
আমাদের ওপর, এবং অন্ধকার তাকে তাড়া করে ফিরছে। আমরা যতই তার জীবন ও কর্ম অধ্যয়নে গভীরভাবে প্রবেশ করি, তা ততই বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী হতে থাকে। তিনি আলজেরিয়া এবং মুসলিম প্রাচ্যের ইতিহাসের এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে বসবাস করেছিলেন, যা ছিল ত্রয়োদশ হিজরি শতকের প্রথমার্ধ (১৯শ শতাব্দী)। আমরা তাকে এই (অসুস্থ) মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মাঝে বিচরণ করতে দেখেছি; একজন চিকিৎসক যেমন তার রোগীদের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন, তিনিও তেমনি এর নিরাময় ও প্রতিকার খুঁজে বেড়াতেন।

তিনি কখনো আলজেরিয়ায়, কখনো মিশরে, কখনো দূর মাগরিবে, আবার কখনো ইস্তাম্বুলে, কখনো হিজাজে এবং কখনো তিউনিসিয়ায় অবস্থান করতেন। তিনি শাসকদের উপদেশ দিতেন; কেউ কেউ তার উপদেশ গ্রহণ করত, আবার অন্যেরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত। পরিশেষে যখন তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতো (যেমন হুসাইন পাশা), তখন তারা তার শরণাপন্ন হতো এবং তাকে একটি পরাজিত বাহিনীর নেতৃত্বভার অর্পণ করত। সেই সময়কার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তার হাতে তুলে দেওয়া হতো একটি ভোঁতা তলোয়ার। চিন্তাবিদ ও ধর্মতত্ত্ববিদদের নিয়ে এবং জাতিসমূহের নিয়তি নিয়ে কী নির্মম পরিহাস!

আপনি কি মনে করেন সেই সময়ের মুসলিম আলেমদের মধ্যে ইবনে আল-আন্নাবীর মতো আর কে তার কলম, জিহ্বা এবং তলোয়ার দিয়ে এমন জিহাদ করেছিলেন? আমরা এই প্রশ্নের উত্তর দেব না; বরং হে পাঠক, আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আপনি মুসলিম আলেমদের মধ্য থেকে সংস্কারকদের নামগুলো একবার পর্যালোচনা করে দেখুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন যে, ইবনে আল-আন্নাবীর ক্ষেত্রে আমাদের এই নেতৃত্বের দাবি কোনো অলীক কল্পনা নয়।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى

يعتبر ابن العنابي (1189 هـ - 1267 م) من أوائل علماء المسلمين الذين طرحوا قضية التجديد في النظم الإسلامية أوائل القرن التاسع عشر الميلادي (الثالث عشر هجري). وهو لذلك من أوائلهم أيضا الذين طرقوا باب الاجتهاد الذي ظل مقفلا عدة قرون نتيجة التأخر العقلي الذي كان عليه العالم الإسلامي. كما عالج أيضا قضايا العصر في كتبه وفي فتاويه التي كان يصدرها طبقا لمصالح المسلمين، وفي إجازاته التي كان يمنحها لطلابه والعلماء الذين يطلبونها منه. ولم يكن ابن العنابي متفرجا على أحوال عصره، كما كان جل علماء. المسلمين في وقته، بل إنه تولى المناصب الدينية العليا (القضاء والإفتاء)، في بلاده الجزائر وفي بلاده الثانية مصر، وتولى التدريس ومنح الإجازات في مصر أيضا وفي تونس وفي الجزائر وغيرها، وسافر في مهمات سياسية إلى المغرب الأقصى وإلى اسطانبول وقابل وناقش حكام تونس ومصر، وحج وساح عدة مرات. وقد عاصر أحداثا كبيرة جرت في المشرق وفي المغرب مثل الحملة الفرنسية على مصر، وحروب الدولة العثمانية في البلقان، واصلاحات السلطان محمود الثاني، وصعود محمد علي باشا في مصر، والاحتلال الفرنسي للجزائر. ويكاد يكون لابن العنابي رأي أو موقف من كل هذه الأحداث.

ومن القضايا التي استرعت نظره بكثرة جمود عقلية علماء المسلمين امام تقدم العقل الأروبي، وتخلف الجيش الإسلامي أمام زحف الجيوش الأروبية، وقد عالج القضية الأولى في عدة مناسبات من آثاره ولم يفردها بتألف، ولكنها
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

ইবনুল আন্নাবিকে (১১৮৯ হিজরি - ১২৬৭ খ্রিস্টাব্দ) ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে (ত্রয়োদশ হিজরি) ইসলামী ব্যবস্থায় সংস্কার বা তাজদিদ-এর বিষয়টি উত্থাপনকারী প্রথম সারির মুসলিম আলেমদের অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কারণে তিনি সেইসব আলেমদেরও অন্যতম অগ্রপথিক, যারা ইজতিহাদের দ্বার উন্মোচন করেছিলেন, যা মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক অনগ্রসরতার ফলে কয়েক শতাব্দী ধরে রুদ্ধ ছিল। এছাড়াও তিনি তাঁর গ্রন্থাবলিতে এবং মুসলমানদের স্বার্থ ও কল্যাণের ভিত্তিতে প্রদত্ত তাঁর ফতোয়াসমূহে সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান প্রদান করেছেন। পাশাপাশি তাঁর নিকট ইজাজত প্রার্থী ছাত্র ও আলেমদের তিনি যেসব ইজাজত প্রদান করতেন, তাতেও এই বিষয়গুলো আলোচনা করতেন। ইবনুল আন্নাবি তাঁর যুগের অধিকাংশ মুসলিম আলেমের মতো নিজ সময়ের পরিস্থিতির কেবল দর্শক ছিলেন না, বরং তিনি তাঁর স্বদেশ আলজেরিয়া এবং তাঁর দ্বিতীয় আবাসভূমি মিশরে উচ্চতর ধর্মীয় পদে (বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদান) অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি মিশর, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও অন্যান্য স্থানে শিক্ষকতা করেছেন এবং ইজাজত প্রদান করেছেন। তিনি মরক্কো ও ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক মিশনে সফর করেছিলেন এবং তিউনিসিয়া ও মিশরের শাসকদের সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেছিলেন। তিনি একাধিকবার হজ পালন করেছেন এবং দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেছেন। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ঘটে যাওয়া বড় বড় ঘটনার সাক্ষী ছিলেন; যেমন মিশরে ফরাসি অভিযান, বলকানে উসমানীয় সাম্রাজ্যের যুদ্ধসমূহ, সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের সংস্কার কার্যক্রম, মিশরে মুহাম্মদ আলী পাশার উত্থান এবং আলজেরিয়ায় ফরাসি দখলদারিত্ব। এসকল প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ইবনুল আন্নাবির কোনো না কোনো মতামত বা অবস্থান ছিল।

যে বিষয়গুলো তাঁর দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির বিপরীতে মুসলিম আলেমদের চিন্তাধারার স্থবিরতা এবং ইউরোপীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রার মুখে মুসলিম সেনাবাহিনীর পশ্চাৎপদতা। তিনি তাঁর রচনাবলির বিভিন্ন স্থানে প্রথম বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যদিও এর জন্য তিনি স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি; তবে এটি...
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
تكاد تكون هي المحرك له فيما كتب وقال واتخذ من مواقف. أما القضية الثانية فقد أفردها بكتاب ما يزال مخطوطا سماه (السعي المحمود في نظام الجنود) وهو الكتاب الذي يعتبر من أوائل (إن لم نقل الأول) الكتب العربية التي عالجت موضوع التجديد في النظم الإسلامية عامة والنظام العسكري خاصة، أو إذا شئت فقل عالج فيه موضوع تقليد المسلمين للأروبيين في مبتكراتهم الحديثة. وقد ناقش ابن العنابي كل ذلك في ضوء الشريعة الإسلامية من جهة وفي ضوء حاجة المجتمع الإسلامي إلى التطور من جهة أخرى، فإذا عرفنا أن ابن العنابي كان مفتي الحنفية أو شيخ الإسلام وأن وقت تأليفه للكتاب هو سنة 1242 هـ 1826 م) أدركنا ما للكتاب من قيمة تاريخية وحضارية، وما لآراء صاحبه من أهمية.

إن آثار ابن العنابي ما زالت لم تدرس ولم تعرف كلها. وقد تمكنا من تناول بعضها في مناسبات علمية فكتبنا بحثا عنه وعن كتابه (السعي المحمود) للندوة التي نظمها تلاميذ وأصدقاء الأستاذ الدكتور أحمد عزت عبد الكريم في جامعة عين الشمس بمصر احتفالا بمرور خمسة وعشرين عاما على إنشاء (سمنار) التاريخ الحديث سنة 1975 وقد نشر ذلك البحث سنة 1976 في الكتاب الذي جمع وقائع الندوة.

كما تمكنا من الاطلاع على بعض آثار ابن العنابي في تونس بفضل المساعدة القيمة التي قدمها لنا صديقنا الأستان عبد الحفيظ منصور رئيس قسم المخطوطات بالمكتبه القومية التونسية. وقد جمعنا ما وجدناه في تونس ودرسناه فإذا هو زاوية أخرى هامة من حياة وآثار ابن العنابي التي لم تعالج من قبل وبالإضافة إلى ذلك قادنا البحث إلى العثور على وثائق أخرى عنه وعن أسرته في مكتبة جامع البرواقية بولاية المدية (الجزائر) وهي بقايا مكتبة العالم الجزائري الشهير عبد القادر المجاوي. وقد تفضل إمامها الشيخ علي طوبال وابنه الشيخ فضيل طوبال فتركاني أطلع وأطالع ما في هذه المكتبة عن ابن العنابي. - وإنه لا يسعني إلا أن أغتنم هذه الفرصة فأتقدم بالشكر إلى جميع هؤلاء الذين كان رائدهم خدمة العلم والبحث.
এটিই সম্ভবত তাঁর লেখালেখি, কথা এবং অবস্থানের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল। আর দ্বিতীয় বিষয়টি তিনি একটি বইয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন যা এখনও পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন (আস-সা'য়ুল মাহমুদ ফি নিজামিল জুনুদ)। এটি সেই বই যা প্রথম দিকের (যদি প্রথম না বলি) আরবি বইগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত, যেখানে সাধারণভাবে ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং বিশেষভাবে সামরিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। অথবা চাইলে আপনি বলতে পারেন যে, এতে তিনি আধুনিক উদ্ভাবনগুলোতে মুসলমানদের ইউরোপীয়দের অনুকরণের বিষয়টি আলোচনা করেছেন। ইবনুল আননাবি এই সমস্ত কিছু একদিকে ইসলামি শরিয়তের আলোকে এবং অন্যদিকে ইসলামি সমাজের উন্নতির প্রয়োজনের আলোকে আলোচনা করেছেন। আমরা যখন জানি যে ইবনুল আননাবি ছিলেন হানাফি মাজহাবের মুফতি বা শায়খুল ইসলাম এবং এই বইটি রচনার সময়কাল ছিল ১২৪২ হিজরি (১৮২৬ খ্রিস্টাব্দ), তখন আমরা বইটির ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত মূল্য এবং এর লেখকের মতামতের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি।

ইবনুল আননাবির কর্মসমূহ এখনও পুরোপুরি অধ্যয়ন করা হয়নি এবং এর সবটুকু পরিচিতি পায়নি। আমরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বা গবেষণামূলক অনুষ্ঠানে এর কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর বই (আস-সা'য়ুল মাহমুদ) নিয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছিলাম সেই সেমিনারের জন্য, যা মিশরের আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ডক্টর আহমদ ইজ্জাত আব্দুল কারিমের ছাত্র ও বন্ধুরা ১৯৭৫ সালে 'আধুনিক ইতিহাস সেমিনার' প্রতিষ্ঠার পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করেছিলেন। সেই গবেষণা প্রবন্ধটি ১৯৭৬ সালে সেমিনারের কার্যক্রম সংবলিত বইয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।

এর পাশাপাশি আমরা তিউনিসিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি বিভাগের প্রধান আমাদের বন্ধু উস্তাদ আব্দুল হাফিজ মানসুরের মূল্যবান সহায়তায় তিউনিসিয়ায় ইবনুল আননাবির কিছু কর্ম দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমরা তিউনিসিয়ায় যা পেয়েছি তা সংগ্রহ করেছি এবং অধ্যয়ন করেছি, যা ইবনুল আননাবির জীবন ও কর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে যা আগে আলোচিত হয়নি। এর সাথে সাথে, গবেষণাটি আমাদের আলজেরিয়ার মেদিয়া প্রদেশের বিরুয়াকিয়া জামে মসজিদের লাইব্রেরিতে তাঁর এবং তাঁর পরিবার সম্পর্কে আরও কিছু নথিপত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। এটি ছিল বিখ্যাত আলজেরীয় আলেম আব্দুল কাদির আল-মাজাভির লাইব্রেরির অবশিষ্টাংশ। সেখানকার ইমাম শায়খ আলী তুবাল এবং তাঁর ছেলে শায়খ ফুদাইল তুবাল সদয়ভাবে আমাকে এই লাইব্রেরিতে ইবনুল আননাবি সম্পর্কে যা আছে তা দেখার ও অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছেন। পরিশেষে, আমি এই সুযোগটি গ্রহণ করছি এবং সেই সকল ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি যাদের মূল লক্ষ্য ছিল জ্ঞান ও গবেষণার সেবা করা।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومهما يكن الأمر فقد رأيت أن أجمع ما عثرت عليه عن ابن العنابي وأقدمه إلى القراء والباحثين عساهم أن يساعدوني في البحث عنه انطلاقا من هذه الدراسة. وقد أضفت بعض النصوص القصيرة إلى هذه الدراسة وجعلتها في شكل ملاحق حتى يتمكن القراء من معرفة موضوعاته وتذوق أسلوبه وعمق نظراته.

والواقع إنني بعد أن درست ابن العنابي تأكدت أنه يحق للجزائر الحديثة أن تفتخر به وبأمثاله كحمدان خوجة الذين سبقوا علماء العربية والإسلام في طرح قضية التجديد والإصلاح الاجتماعي والسياسي قبل أن يطرحها أمثال الطهطاوي والأفغاني ومحمد عبده. فليس للجزائر أن تفتخر إلا بقائمة الشهداء الطويلة لأن لها أيضا في قائمة العلماء والمثقفين مفخرة وأي مفخرة! ابن عكنون (الجزائر) 2 نوفمبر 1976.

أبو القاسم سعد الله معهد العلوم الاجتماعية. جامعة الجزائر

الجزائر
বিষয় যাই হোক না কেন, আমি ইবনুল আন্নাবি সম্পর্কে যা কিছু পেয়েছি তা সংগ্রহ করার এবং পাঠক ও গবেষকদের সামনে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যেন তারা এই গবেষণার সূত্র ধরে তার সম্পর্কে অনুসন্ধানে আমাকে সহায়তা করতে পারেন। আমি এই গবেষণায় কিছু সংক্ষিপ্ত পাঠ্য সংযোজন করেছি এবং সেগুলোকে পরিশিষ্ট আকারে বিন্যস্ত করেছি, যাতে পাঠকরা তার আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তার রচনাশৈলী ও দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেন।

প্রকৃতপক্ষে, ইবনুল আন্নাবিকে অধ্যয়ন করার পর আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, আধুনিক আলজেরিয়ার জন্য এটি গৌরবের বিষয় যে তিনি এবং হামদান খুজার মতো ব্যক্তিরা জন্মেছেন, যারা আল-তাহতাওয়ি, আল-আফগানি এবং মুহাম্মদ আবদুহদের মতো ব্যক্তিদেরও আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার এবং আধুনিকায়নের বিষয়টি আরব ও ইসলামের আলেমদের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। সুতরাং আলজেরিয়া কেবল তার শহীদদের দীর্ঘ তালিকার জন্যই গর্ব করবে না, বরং তার আলেম ও বুদ্ধিজীবীদের তালিকার মধ্যেও রয়েছে চরম গৌরবের উপাদান! ইবনে আকনুন (আলজেরিয়া), ২ নভেম্বর ১৯৭৬।

আবুল কাসেম সাদুল্লাহ, সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট। আলজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

আলজেরিয়া
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌القسم الأول: حياته

1 - عصره.

2 - أسرته.

3 - ثقافته.

4 - وظائفه.

5 - علاقته بالفرنسيين غداة احتلال الجزائر.

6 - إجازاته وتلاميذه.

7 - مؤلفاته.

8 - اختصار كتابه (السعي المحمود).

9 - مراسلاته.

10 - شخصيته.
প্রথম বিভাগ: তাঁর জীবন

১ - তাঁর যুগ।

২ - তাঁর পরিবার।

৩ - তাঁর জ্ঞান ও সংস্কৃতি।

৪ - তাঁর কর্মজীবন।

৫ - আলজেরিয়া দখলের অব্যবহিত পরে ফরাসিদের সাথে তাঁর সম্পর্ক।

৬ - তাঁর ইজাজতসমূহ ও ছাত্রবৃন্দ।

৭ - তাঁর রচনাবলি।

৮ - তাঁর কিতাব (আস-সা’য়ুল মাহমুদ)-এর সারসংক্ষেপ।

৯ - তাঁর পত্রাবলি।

১০ - তাঁর ব্যক্তিত্ব।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌عصره:

عاش ابن العنابي عمرا حافلا بالإنتاج العلمي والاضطراب السياسي. فقد ولد سنة 1189 هـ (1775 م) حسبما أكده بنفسه في إجازته للشيخ محمد بيرم التونسي سنة 1245 هـ (1) وتوفي بإجماع الباحثين في الإسكندرية (بمصر) سنة 1267 هـ (1851 م) (2).

وهذه الفترة الطويلة التي تتوزع على القرنين الثاني عشر والثالث عشر (18 و19 م) تعد من أحرج الفترات التاريخية لا في الجزائر فحسب ولكن في الدولة العثمانية والعالم الإسلامي قاطبة. فقد عاصر الثورة الفرنسية وما نتج عنها من أحداث مست جوانب متعددة من الحضارة الإسلامية، وعاصر في بلاده (الجزائر) حروبا خارجية ضد الإنكليز والأمريكان والفرنسيين والإسبان والتونسيين وغيرهم، وحروبا داخلية كثورة الطريقة الدرقاوية وثورة ابن الأحرش، والتنازع على السلطة بين الطائفة التركية نفسها سواء على مستوى السلطة المركزية في مدينة الجزائر أو على مستوى الأقاليم. وكان ضحية كل هذه الحروب (الخارجية والداخلية، هو

--------------------------------------------

(1) مخطوط رقم 7451 ص 39 ظهرا، المكتبة الوطنية - تونس. والظاهر أنه ولد بمدية الجزائر رغم أن ذلك لم يذكره أحد.

(2) على ذلك بروكلمان، ملحق 2، ص 739، والأعلام للزركلي، 7، ص 311. وشذ محمد ابن عبد الكريم فذكر أن ابن العنابي تولى الإفتاء في الإسكندرية سنة 1267 (1851) وتوفي بها سنة 1269 (1853) _ أنظر حمدان بن عثمان خوجة ومذكراته، بيروت 1972، ص 161، هامش 2.
‌তাঁর যুগ:

ইবনুল আন্নাবি ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভরপুর এক দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি ১১৮৯ হিজরিতে (১৭৭৫ খ্রি.) জন্মগ্রহণ করেন, যা তিনি নিজেই ১২৪৫ হিজরিতে শেখ মুহাম্মাদ বাইরাম আল-তিউনিসিকে দেওয়া তাঁর ইজাজতনামায় নিশ্চিত করেছেন (১)। এবং গবেষকদের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি ১২৬৭ হিজরিতে (১৮৫১ খ্রি.) (মিসরের) আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন (২)।

দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর (১৮ ও ১৯ খ্রি.) বিস্তৃত এই দীর্ঘ সময়টি কেবল আলজেরিয়াতেই নয়, বরং উসমানীয় রাষ্ট্র এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম সংকটময় সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি ফরাসি বিপ্লব এবং এর ফলে সৃষ্ট সেই সব ঘটনাবলির সাক্ষী ছিলেন যা ইসলামী সভ্যতার বহুমুখী দিককে স্পর্শ করেছিল। তিনি নিজ দেশ আলজেরিয়ায় ইংরেজ, আমেরিকান, ফরাসি, স্প্যানিশ, তিউনিসীয় এবং অন্যদের বিরুদ্ধে বৈদেশিক যুদ্ধের সম্মুখীন হন। পাশাপাশি দারকাওয়িয়া তরীকার বিদ্রোহ এবং ইবনুল আহরাশের বিদ্রোহের মতো অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ এবং আলজিয়ার্স শহরের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কিংবা প্রাদেশিক পর্যায়ে তুর্কি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্বও তিনি প্রত্যক্ষ করেন। আর এই সমস্ত যুদ্ধের (অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক) শিকার ছিলেন

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি নং ৭৪৫১, পৃষ্ঠা ৩৯ (পিঠ), ন্যাশনাল লাইব্রেরি - তিউনিসিয়া। প্রতীয়মান হয় যে তিনি আলজিয়ার্স শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যদিও কেউ তা উল্লেখ করেননি।

(২) ব্রোকলম্যান, পরিশিষ্ট ২, পৃষ্ঠা ৭৩৯, এবং আলাম লিয-যিরিকলি, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১১-তে এই বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়েছে। তবে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারিম ভিন্নমত পোষণ করে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল আন্নাবি ১২৬৭ (১৮৫১) সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় ইফতা’র দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেখানেই ১২৬৯ (১৮৫৩) সালে মৃত্যুবরণ করেন — দেখুন: হামদান বিন উসমান খোজা ও তাঁর স্মৃতিকথা, বৈরুত ১৯৭২, পৃষ্ঠা ১৬১, পাদটীকা ২।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
الرجل العادي من الفلاحين وأصحاب الحرف والتجار، لأنه هو الدافع للضرائب وهو وقود الفتن.

وبالإضافة إلى ذلك عاصر ابن العنابي، الذي تولى عدة وظائف رسمية كما سنرى، بداية عهد التنظيمات في الدولة العثمانية من جهة وأخذ محمد علي والي مصر عندئذ بمبادىء التمدن الغربية من جهة أخرى. وسنرى أن هذه التنظيمات هي التي دفعته إلى كتابة كتابه (السعي المحمود) الذي سنتحدث عنه.

أما في الجزائر حيث كان يعمل فإننا لا نجد هذه الظاهرة قد وجدت لها مكانا. حقا إن الإنكشارية قد تدهورت كنظام وأصبحت عاملا سلبيا في الحياة السياسية والاقتصادية، بل أصبحت مثار فتنة واضطراب في البلاد، ولعل ذلك هو ما جعل الداي علي خوجة يحاول التخلص منهم سنة 1817 (3) بطريقة سبق بها السلطان محمود الثاني معهم. ولكن علي خوجة قد مات بالوباء (4) وفشل فيما رامه وعاد بعده الإنكشارية إلى صولتهم. ولعل ذلك هو ما ساعد على الاحتلال الفرنسي للجزائر بعد حوالي عشر سنوات من وفاته.

 

أسرته:

اسه الكامل هو محمد بن محمود بن محمد بن حيين الجزائري (5) وشهرته العنابي أو ابن العنابي (6) وكان على مذهب الحنفية. وأسرته قديمة في

--------------------------------------------

(3) انظر الطريقة التي استعملها لضربهم في (مذكرات الحاج أحمد الشريف الزهار) تحقيق ونشر أحمد توفيق المدني الجزائر، 1974، ص 132 - 134.

(4) عن هذا الوباء انظر نفس المصدر، ص 141، 151 وقد مات منه خلق كثير، دام حوالي سبع سنوات. وتوقف بسببه أداء فريضة الحج فترة.

(5) لا ندري كيف ولا متى لصقت به هذه النسبة أولا لأن المؤلف يتوقف عنده. وقد كنا نرجح أن المؤلف أخذ هذه النسبة بعد خروجه من الجزائر لولا وجودها في اسمه في نص قديم يعود إلى سنة 1811 (1226 هـ) عندما كان في الجزائر ولولا وجودها مع أسماء أخرى من عائلته.

(6) الذي كان يكتبه بنفسه هو (العنابي) و (ابن العنابي) ولكن بعض المؤلفين، ومنهم
সাধারণ মানুষ—কৃষক, কারিগর ও ব্যবসায়ী—কেননা তারাই কর প্রদানকারী এবং তারাই ফিতনার ইন্ধন।

অধিকন্তু, ইবনুল আন্নাবি, যিনি আমরা দেখতে পাব যে বেশ কিছু সরকারি পদে নিয়োজিত ছিলেন, একদিকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ‘তানজিমাত’ বা সংস্কার যুগের সূচনালগ্ন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং অন্যদিকে মিশরের তৎকালীন ওয়ালি মুহাম্মদ আলী পাশার পশ্চিমা সভ্যতার নীতিসমূহ গ্রহণের সমসাময়িক ছিলেন। আমরা দেখব যে, এই সংস্কারগুলোই তাকে তার গ্রন্থ ‘আস-সাঈ আল-মাহমুদ’ রচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যা সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব।

অন্যদিকে আলজেরিয়ায়, যেখানে তিনি কর্মরত ছিলেন, আমরা এই প্রবণতার কোনো স্থান খুঁজে পাই না। সত্য বলতে, জানিসারি (ইনকিশারিয়া) বাহিনী একটি ব্যবস্থা হিসেবে অধঃপতিত হয়েছিল এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে একটি নেতিবাচক উপাদানে পরিণত হয়েছিল, বরং তা দেশে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার উৎসে পরিণত হয়েছিল। সম্ভবত এ কারণেই দাই আলী খোজা ১৮১৭ সালে (৩) এমন এক পদ্ধতিতে তাদের থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যে ক্ষেত্রে তিনি সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের চেয়েও অগ্রগামী ছিলেন। কিন্তু আলী খোজা মহামারীতে (৪) মৃত্যুবরণ করেন এবং তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হন, আর তার মৃত্যুর পর জানিসারিরা তাদের পূর্বের দাপটে ফিরে আসে। সম্ভবত এটিই তার মৃত্যুর প্রায় দশ বছর পর আলজেরিয়ায় ফরাসি দখলের পথ সুগম করতে সাহায্য করেছিল।

 

তাঁর পরিবার:

তাঁর পূর্ণ নাম হলো মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়্যিন আল-জাযাইরি (৫) এবং তাঁর খ্যাতি ছিল আল-আন্নাবি বা ইবনুল আন্নাবি (৬) নামে। তিনি হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তাঁর পরিবার ছিল প্রাচীন...

--------------------------------------------

(৩) তাদের দমন করার জন্য তিনি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন তা দেখার জন্য দেখুন: (মুযাক্কিরাতুল হাজ আহমাদ আশ-শরিফ আয-যাহার), সম্পাদনা ও প্রকাশনা: আহমাদ তাওফিক আল-মাদানি, আলজেরিয়া, ১৯৭৪, পৃ. ১৩২-১৩৪।

(৪) এই মহামারী সম্পর্কে দেখুন একই উৎস, পৃ. ১৪১, ১৫১। এতে বহু সৃষ্টি (মানুষ) মৃত্যুবরণ করেছিল, যা প্রায় সাত বছর স্থায়ী হয়েছিল। এর ফলে সাময়িকভাবে হজ পালন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

(৫) আমরা জানি না কখন বা কীভাবে এই উপাধিটি (নিসবাহ) প্রথম তাঁর নামের সাথে যুক্ত হয়েছিল, কারণ লেখক এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। লেখক আলজেরিয়া ত্যাগের পর এই উপাধিটি গ্রহণ করেছিলেন বলে আমরা ধারণা করতাম, যদি না ১৮১১ সালের (১২২৬ হিজরি) একটি প্রাচীন নথিতে তাঁর নামের সাথে এটি পাওয়া যেত যখন তিনি আলজেরিয়াতে ছিলেন, এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামের সাথেও যদি এটি পাওয়া না যেত।

(৬) তিনি নিজে যা লিখতেন তা হলো (আল-আন্নাবি) এবং (ইবনুল আন্নাবি), তবে কিছু লেখক, যাদের মধ্যে
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
تاريخ الجزائر (7) ولكنها ظهرت فيما يبدو بعد مجيء العثمانيين. فنحن نجد اسم جده الأعلى (حسين بن محمد بن العنابي) في قائمة المفتيين الأحناف في الجزائر سنة 1148 هـ (1735 م). والمفتي الحنفي في الجزائر العثمانية هو (شيخ الإسلام) الذي لا يفوقه في المنزلة والاعتبار سوى (الداي) أو رئيس الدولة.

وكان حسين العنابي، فيما يبدو، عالما واسع المعرفة بعلوم الشريعة، وله تفسير للقرآن الكريم ينقل عنه حفيده، موضوع هذا البحث، في كتابه (السعي المحمود) عدة مرات وفي غيره من فتاويه وكتاباته. وهو يشير إليه بهذه العبارة: ((قال مولانا الجد الأكبر حسين بن محمد رحمه الله في تفسيره)) (8) وتذكر بعض المصادر أن حسين ابن العنابي قد تولى الفتوى أربع مرات، وتوفي سنة 1150 هـ (1737) (9).

وقد اشتهر من أسرة ابن العنابي عالم آخر تولى عدة وظائف وترك بعض الإنتاج، ولذلك نعرف عنه بعض الأمور التي لا تتوفر لغيره، ونعني به مصطفى

--------------------------------------------

= بروكلمان يكتفون (بالعنابي) فقط. وهي شهرته، وهو قد استعملها كذلك في جوابه على مسألة التوحيد الذي يعود إلى سنة 1811 فقال بعد ذكر اسمه (المدعو بابن العنابي) ويستعل بعض المؤلفين عبارة (الشهير بابن العنابي) وقد استعمل الزهار، المعاصر له، مرة ابن العنابي ومرة العنابي فقط أما خوجة، المعاصر له أيضا، فقد استعمل العنابي، بخلاف ديرينو الذي استعمل ابن العنابي وهكذا. وهي في الواقع شهرة جده الأعلى أيضا، حسين بن محمد بن العنابي. ولكننا إذا أخذنا ما كتبه مصطفى بن رمضان العنابي الآتي في الاعتبار فان عبارة (العنابي) تصبح نسبة إلى عنابة (مدينة بالجزائر). انظر ما يأتي.

(7) رسالة الشيخ المهدي البوعبدلي إلى المؤلف بتاريخ 27 مايو 1975.

(8) فصول 8، 7، 6. انظر ايضا مخطوط رقم 9732 بالمكتبة الوطنية (تونس) المتضمن جملة من أجوبة له في الفقه.

(9) انظر ديفوكس، نقلا عن ابن المفتي، في المجلة الإفريقية R.A سنة 1867 ص 392.

وجدناه مذكورا في عدة تواريخ أخرى بالأرشيف العثماني، وكان يسكن دار سوكالي المحاذية لجامع خضر باشا بالجرائر، وهذه التواريخ هي: 1129 ،1145 ،1148 انظر رقم (184) 1 - 32 M 228 بدار الوثائق الوطنية الفرنسية.
আলজেরিয়ার ইতিহাস (৭) তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এটি উসমানীয়দের আগমনের পর প্রকাশ পেয়েছে। আমরা ১১৪৮ হিজরিতে (১৭৩৫ খ্রিস্টাব্দ) আলজেরিয়ার হানাফি মুফতিদের তালিকায় তার উর্ধ্বতন পিতামহ (হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-আন্নাবী)-এর নাম দেখতে পাই। উসমানীয় আলজেরিয়ায় হানাফি মুফতিই ছিলেন (শায়খুল ইসলাম), যার পদমর্যাদা ও গুরুত্বের দিক থেকে (দে) বা রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়া আর কেউ শ্রেষ্ঠ ছিল না।

হুসাইন আল-আন্নাবী আপাতদৃষ্টিতে শরিয়াহ বিজ্ঞানে ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী একজন আলেম ছিলেন এবং আল-কুরআনুল কারীমের ওপর তাঁর একটি তাফসির ছিল, যেখান থেকে তাঁর পৌত্র—যিনি এই গবেষণার মূল বিষয়—তাঁর (আস-সা’য়ুল মাহমুদ) গ্রন্থে কয়েকবার এবং তাঁর অন্যান্য ফতোয়া ও রচনাবলিতে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি এই বাক্যের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন: ((আমাদের মহান পিতামহ হুসাইন বিন মুহাম্মদ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর তাফসির গ্রন্থে বলেছেন)) (৮)। কিছু উৎস উল্লেখ করে যে, হুসাইন ইবনুল আন্নাবী চারবার ফতোয়ার দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ১১৫০ হিজরিতে (১৭৩৭ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন (৯)।

ইবনুল আন্নাবী পরিবার থেকে অন্য একজন আলেমও প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, যিনি বেশ কিছু পদে নিয়োজিত ছিলেন এবং কিছু রচনাবলি রেখে গেছেন, আর সে কারণে আমরা তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় জানি যা অন্যদের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না; আমরা এখানে মোস্তফা সম্পর্কে বলতে চাচ্ছি

--------------------------------------------

= ব্রোকেলম্যানরা কেবল (আল-আন্নাবী) নামেই সন্তুষ্ট থাকেন। এটিই তাঁর প্রসিদ্ধি, এবং ১৮১১ সালের তাওহীদ সংক্রান্ত একটি মাসআলার উত্তরেও তিনি এটি ব্যবহার করেছেন, যেখানে নিজের নাম উল্লেখ করার পর তিনি বলেছেন (যিনি ইবনুল আন্নাবী নামে পরিচিত)। কিছু লেখক (ইবনুল আন্নাবী নামে খ্যাত) বাক্যটি ব্যবহার করেন। তাঁর সমসাময়িক আয-যাহার একবার ইবনুল আন্নাবী এবং একবার কেবল আল-আন্নাবী ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে তাঁর আরেক সমসাময়িক খোজা আল-আন্নাবী ব্যবহার করেছেন, দেরিনোর বিপরীতে যিনি ইবনুল আন্নাবী ব্যবহার করেছেন, এভাবেই চলেছে। বাস্তবে এটি তাঁর উর্ধ্বতন পিতামহ হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-আন্নাবীরও উপাধি ছিল। তবে সামনে আসা মোস্তফা বিন রামাদান আল-আন্নাবীর লেখাগুলো যদি আমরা বিবেচনায় নিই, তবে (আল-আন্নাবী) শব্দটি আন্নাবা (আলজেরিয়ার একটি শহর)-এর সাথে সম্পৃক্ত হয়। সামনে দেখুন।

(৭) ২৭ মে ১৯৭৫ তারিখে লেখকের প্রতি শায়খ মাহদী আল-বুয়াবদালীর পত্র।

(৮) ফাসল ৮, ৭, ৬। এছাড়া তিউনিসিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগারের ৯৭৩২ নম্বর পাণ্ডুলিপিটি দেখুন, যেখানে তাঁর ফিকহ বিষয়ক একগুচ্ছ উত্তর রয়েছে।

(৯) ইবনুল মুফতির বরাতে ডিভোক্স দেখুন, মাজাল্লাতুল ইফরীকিয়্যাহ R.A, ১৮৬৭ সাল, পৃষ্ঠা ৩৯২।

আমরা তাঁকে উসমানীয় নথিপত্রে আরও বেশ কিছু ইতিহাসে উল্লিখিত পেয়েছি; তিনি আলজেরিয়ার খিজির পাশা মসজিদের সংলগ্ন সুকালি বাড়িতে বসবাস করতেন। এই তারিখগুলো হলো: ১১২৯, ১১৪৫, ১১৪৮। ফরাসি জাতীয় নথিপত্র কেন্দ্রের নং (১৮৪) ১ - ৩২ M 228 দেখুন।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن رمضان، قريب المفتي حسين، الجد الأعلى لابن العنابي. فإذا أمعنا النظر في المعلومات التي لدينا عنه توصلنا إلى عدة أمور، منها أنه أصلا من مدينة عناية الجزائرية، وإنه ولد بها، ثم انتقل منها إلى مدينة الجزائر طلبا للجاه والحظوة، وتزوج بها وتثقف وعاش إلى سنة 1130 م. وأنه كان أيضا على مذهب الحنفية. وأنه كان يدعى (العنابي) وليس (ابن العنابي). فقد جاء في مقدمة أحد كتبه (يقول مصطفى بن رمضان الحنفي البوني العنابي المنشأ الجزائري الدار. وبعد فإنه لما انتقلت من بلدي، بلد العناب، دار القرابة والأحباب:

بلاد بها نيطت علي تمائمي … وأول أرض مس جلدي ترابها

واستوطنت الجزائر، المعجبة لكل زائر، بلدة قال فيها الشاعر:

وما الحسن ما ضم العراق وإنما … هو الحسن ما انضمت عليه الجزائر

بلاد بها الخيرات حلت وخيمت … وأول قصد الحر فيها وآخر) (10)

فهذم الشهادة لا تدع مجالا للشك في أن مصطفى بن رمضان من بلدة عنابة (خصوصا وقد أكدها بالبوني) وأن أسرته وأقاربه أيضا من هناك (وقد أكد ذلك بعبارة دار القرابة والأحباب)، وأنه قد انتقل منها إلى الجزائر ذات الجمال والرونق التي كان يطمح إليها كل زائر، لا سيما خلال القرن السابع عشر الميلادي الذي بلغت فيه شهرتها قمتها، ولعل الشيخ مصطفى قد توجه إلى مدينة الجزائر طمعا في تولي منصب هام كالقضاء، أو الفتيا وهو المنصب الذي كان يتنافس عليه علماء وقته كما أن مذهبه الحنفى يجعله مرشحا دون غيره لهذا

--------------------------------------------

(10) من كتاب له مخطوط بجامع البرواقية، سنتعرض له، رقم 15.

ومما يؤكد نسبته إلى عنابة ما جاء في مقامة صديقه وبلديه، أحمد البوني، من مدح ووصف له بالعنابي ثم الجزيري (الجزائري) وبأنه قضاء حوائج. والمقامة مكتوبة سنة 1106 مما يدل أيضا على أن مصطفى العنابي كان قد انتقل الى الجزائر قبل هذا التاريخ. انظر هذه المقامة في كتابنا (تجارب في الأدب والرحلة)، الجزائر، 1984 م.
ইবনে রমাদান, মুফতি হুসাইনের নিকটাত্মীয়, তিনি ছিলেন ইবনে আল-আন্নাবির ঊর্ধ্বতন পিতামহ। তার সম্পর্কে আমাদের কাছে যে তথ্যগুলো রয়েছে তা যদি আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করি, তবে আমরা বেশ কিছু বিষয়ে উপনীত হতে পারি। তার মধ্যে একটি হলো—মূলত তিনি আলজেরিয়ার আন্নাবা শহরের লোক ছিলেন এবং সেখানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রতিপত্তি ও উচ্চ মর্যাদার আশায় তিনি সেখান থেকে আলজিয়ার্স শহরে চলে আসেন, সেখানে বিবাহ করেন, শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১১৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তিনি হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তাকে 'আল-আন্নাবি' বলা হতো, 'ইবনে আল-আন্নাবি' নয়। তার একটি বইয়ের ভূমিকায় এসেছে: (মোস্তফা ইবনে রমাদান আল-হানাফি আল-বুনি বলছেন—যার জন্মস্থান আন্নাবা এবং বর্তমান নিবাস আলজিয়ার্স। অতঃপর, যখন আমি আমার শহর আন্নাবা থেকে প্রস্থান করলাম, যা আমার আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের আবাসভূমি ছিল:

এমন এক শহর যেখানে আমার শৈশবের কবজগুলো বাঁধা হয়েছিল … এবং এটিই প্রথম ভূমি যার মাটি আমার দেহ স্পর্শ করেছিল।

এবং আমি আলজিয়ার্সে বসতি স্থাপন করলাম, যা প্রত্যেক দর্শনার্থীর কাছে বিস্ময়কর এক শহর, যে শহর সম্পর্কে কবি বলেছেন:

সৌন্দর্য কেবল ইরাকের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয় … বরং আলজিয়ার্স যা ধারণ করে আছে, সৌন্দর্য তো সেটিই।

এমন এক দেশ যেখানে কল্যাণ অবতীর্ণ হয়েছে এবং আস্তানা গেড়েছে … আর সেখানে প্রবেশ করাই যে কোনো স্বাধীন মানুষের প্রথম ও শেষ লক্ষ্য) (১০)

এই সাক্ষ্যটি এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে, মোস্তফা ইবনে রমাদান আন্নাবা শহরের লোক ছিলেন (বিশেষ করে তিনি 'আল-বুনি' শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন) এবং তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনও সেখান থেকেই এসেছিলেন (যা তিনি 'আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের আবাসভূমি' বাক্যাংশের মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন)। তিনি সেখান থেকে রূপ ও লাবণ্যে ঘেরা আলজিয়ার্সে স্থানান্তরিত হন, যার প্রতি প্রত্যেক দর্শনার্থীর আকাঙ্ক্ষা থাকত; বিশেষ করে সপ্তদশ শতাব্দীতে যখন এর খ্যাতি তুঙ্গে পৌঁছেছিল। সম্ভবত শায়খ মোস্তফা বিচার বিভাগ (কাজা) বা ফতোয়া প্রদানের মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভের আশায় আলজিয়ার্স শহরে গিয়েছিলেন। এটি এমন এক পদ ছিল যা নিয়ে তৎকালীন আলেমদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলত। তাছাড়া তার হানাফি মাযহাবের অনুসারী হওয়া তাকে অন্যদের তুলনায় এই পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী করে তুলেছিল।

--------------------------------------------

(১০) জামে আল-বারওয়াকিয়ায় সংরক্ষিত তার একটি পাণ্ডুলিপি থেকে, যার কথা আমরা পরে উল্লেখ করব, নম্বর ১৫।

আন্নাবার প্রতি তার সম্পৃক্ততাকে আরও দৃঢ় করে তার বন্ধু ও সমদেশী আহমদ আল-বুনির 'মাকামা'-তে বর্ণিত বিবরণ। সেখানে তার প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাকে 'আল-আন্নাবি' ও পরবর্তীতে 'আল-জাজাইরি' (আলজেরীয়) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং তাকে অভাবগ্রস্তদের প্রয়োজন পূরণকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই 'মাকামা'টি ১১০৬ সালে রচিত হয়েছিল, যা থেকে আরও প্রমাণিত হয় যে, মোস্তফা আল-আন্নাবি এই সময়ের আগেই আলজিয়ার্সে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। দেখুন: আমাদের গ্রন্থ 'তাজারিব ফিল আদাব ওয়ার রিহলা' (সাহিত্য ও ভ্রমণে অভিজ্ঞতা), আলজিয়ার্স, ১৯৮৪ খ্রি.।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
المنصب، وقد عرفنا أن قريبه الجد الأعلى لابن العنابي كان قد تولى الفتيا عدة مرات في مدينة الجزائر.

وتثقف مصطفى بن رمضان العنابي بثقافة عصره في عنابة ومدينة الجزائر، وفي الأخيرة درس على العالم الجزائري المغربي محمد بن محمد بن شقرون ابن أحمد المقري التلمساني ولازمه أكثر من اثني عشر سنة. ومما درس عليه كتب الحديث (شمائل الترمذي، وصحيح البخاري) والتوحيد، والمنطق، والأصول وعلم التصوف، وغير ذلك. وفي آخر المطاف، وعند بلوغ شيخه سن التقاعد طلب منه الإجازة، على العالة الجارية عندئذ، فأجازه الشيخ محمد بن شقرون، سنة 1087 هـ (11).

وممن أجازوا مصطفى بن رمضان أيضا محمد الطيب بن عبد القادر الفاسي عند مجيئه إلى الجزائر في الوفد المغربي سنة 1103 هـ وقد سماه الفاسي (الفقيه النبيه العلامة الدراكة المشارك النحرير أبو الخير مصطفى بن رمضان الحنفي الشهير بالعنابي) وتبلغ الأرجوزة التي أجازم بها حوالي سبعين بيتا، وقد جاء فيها:

أقول مجيبا مفصحا بلساني … أجزت الفقيه المصطفى التركماني (12)

ونستنتج من هذه الإجازة أن المجاز كان مشهورا (بالعنابي) نسبة إلى عنابة كما اشتهر صاحب كتاب السعي المحمود بعد ذلك (بابن العناب) كما نستنتج منها أن مصطفى بن رمضان كان من أصل تركماني أو (تركي). وقد اشتهر مصطفى بن رمضان، الذي يرد اسمه كثيرا بين علماء الجزائر

--------------------------------------------

(11) الإجازة وخبرها موجودان في المخطوط رقم 15 بجامع البرواقية، وقد أرخ مصطفى العنابي لوفاة شيخه بعام 1087 وقال إنه توفي بعد أن كتب ورقتين من المسوة ودفن بمدينة الجزائر خارج باب الواد. غير أن ابن العنابي ذكر في إجازته لمحمد بيرم الرابع أن ابن شقرون قد توفي سنة 1084 (أنظر الإجازة في آخر الكتاب).

(12) رسالة البوعبدلي الى المؤلف.
পদমর্যাদা; আর আমরা জেনেছি যে ইবনুল আননাবীর নিকটাত্মীয় তথা তাঁর ঊর্ধ্বতন পিতামহ আলজিয়ার্স শহরে বেশ কয়েকবার ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আর মোস্তফা বিন রমজান আল-আননাবী আননাবা এবং আলজিয়ার্স শহরে তাঁর সমসাময়িক শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে শিক্ষিত হন। শেষোক্ত শহরে তিনি আলজেরীয়-মরক্কো বংশোদ্ভূত আলেম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন শাকরুন ইবনে আহমদ আল-মাক্বরী আত-তিলিমসানির কাছে পাঠ গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। তিনি তাঁর কাছে হাদিসের কিতাবসমূহ (শামায়েলে তিরমিজি ও সহিহ বুখারি), তাওহিদ, যুক্তিবিদ্যা, উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্র, তাসাউফ শাস্ত্র এবং আরও অনেক কিছু অধ্যয়ন করেন। অবশেষে, যখন তাঁর শায়খ অবসরের বয়সে পৌঁছান, তখন তিনি তৎকালীন প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাঁর কাছে ইজাজত বা সনদ প্রার্থনা করেন। ফলে শায়খ মুহাম্মদ বিন শাকরুন ১০৮৭ হিজরি সনে (১১) তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন।

মোস্তফা বিন রমজানকে ইজাজত প্রদানকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ আত-তাইয়িব বিন আব্দুল কাদির আল-ফাসিও ছিলেন, যখন তিনি ১১০৩ হিজরি সনে মরক্কো প্রতিনিধি দলের সাথে আলজেরিয়ায় আসেন। আল-ফাসি তাঁকে ‘সুচতুর ফকিহ, বিজ্ঞ আল্লামা, গভীর জ্ঞানের অধিকারী, বহু শাস্ত্রবিদ, দক্ষ পণ্ডিত আবুল খায়ের মোস্তফা বিন রমজান আল-হানাফি, যিনি আল-আননাবী নামে পরিচিত’ হিসেবে অভিহিত করেন। যে উরজুজা বা ছন্দোবদ্ধ কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছিলেন, তা প্রায় সত্তর চরণের। তাতে বর্ণিত হয়েছে:

আমি স্পষ্টভাবে উত্তর দিতে গিয়ে আমার জবান দিয়ে বলছি … আমি ফকিহ মোস্তফা তুর্কমানিকে ইজাজত প্রদান করলাম (১২)

এই ইজাজত থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, ইজাজতপ্রাপ্ত ব্যক্তি আননাবার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে (আল-আননাবী) নামে পরিচিত ছিলেন, ঠিক যেভাবে ‘আস-সাইউল মাহমুদ’ কিতাবের লেখক পরবর্তীতে (ইবনুল আননাব) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। আমরা এখান থেকে আরও জানতে পারি যে, মোস্তফা বিন রমজান তুর্কমানি বা (তুর্কি) বংশোদ্ভূত ছিলেন। আর মোস্তফা বিন রমজান আলজেরিয়ার আলেমদের মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিলেন, যাঁর নাম তাঁদের মধ্যে প্রায়ই উচ্চারিত হয়।

--------------------------------------------

(১১) ইজাজত ও এর বিবরণ বারওয়াকিয়া জামে মসজিদের ১৫ নম্বর পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান। মোস্তফা আল-আননাবী তাঁর শায়খের মৃত্যুর তারিখ ১০৮৭ হিজরি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি খসড়ার দুই পৃষ্ঠা লেখার পর ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে আলজিয়ার্স শহরের বাবুল ওয়াদ এলাকার বাইরে দাফন করা হয়। তবে ইবনুল আননাবী মুহাম্মদ বাইরাম চতুর্থকে প্রদত্ত তাঁর ইজাজতনামায় উল্লেখ করেছেন যে, বিন শাকরুন ১০৮৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (গ্রন্থের শেষে ইজাজতটি দেখুন)।

(১২) লেখকের প্রতি আল-বুআবদাল্লির পত্র।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
عندئذ، بعلوم الفقه والتأليف فيها. ومن تآليف التي وصلت إلينا (أرجوزة) في الفقه الحنفي (الفرائض) بدأها بقوله:

يقول راجي رحمة الوهاب … الحنفي مصطفى العنابي (13)

ومنها كتاب غريب الاسم والموضوع وهو (الروض البهيج بالنظر في أمور العزوبة والتزويج). وأصل الكتاب حسبما ذكره بنفسه في المقدمة، أنه لما انتقل إلى مدينة الجزائر طمعا في الراحة والأنس عزم على الزواج ولكن زواجه كان غير ناجح فطلق زوجته وألف هذا الكتاب الذي حذر فيه من الزواج وحبائله. فقد جاء في المقدمة عن الجزائر (فلما أعجبني بحسنها الرائق، وجمالها الفائق، تزوجت بها عرس (كذا) كي يحصل لي بها الأنس، فإذا الأمر بالعكس، وبليت بعد السرور بالنحس، ألفت عمد الطلاق، هذه الأوراق، جعلتها تذكرة لنفسي، ولمن هو مثلي من أبناء جنسي) فدافعه لتأليف هذا الكتاب إذن هو الصدمة النفسية التي حصلت له بعد فشله في الزواج. وقد رتب الكتاب على بابين:

الباب الأول: في حكم النكاح.

الباب الثاني: في التحذير منه.

وقسم كل باب إلى فصول. ولكن النسخة التي اطلعنا عليها مبتورة الآخر، ولذلك لا نعرف عنه إلا ما كتبه عن حكم الزواج وما جاء فيه من الأحاديث والآثار. أما الباب الثاني فلا وجود له في هذه النسخة (14) ومع ذلك فإن عنوان الكتاب يظل دليلا على أنه يفضل العزوبة على الزواج الفاشل، ويؤكد ذلك

--------------------------------------------

(13) مخطوط البرواقية. وممن تتلمذ على الشيخ مصطفى بن رمضان العنابي الشيخ أحمد بن مصطفى برناز التونسي أثناء زيارته لمدينة الجزائر، انظر (بشائر أهل الإيمان بفتوحات آل عثمان) لحسين خوجة. المكتبة الوطنية. الجزائر. كما تتلمذ عليه قريبه (محمد بن حسين) الجد الأدنى لابن العنابي موضوع حديثنا.

(14) نفس المصدر. ويذكر البوعبدلي في رسالته إلى المؤلف أنه رأى له بعض التآليف في مكتبة الأوقاف بطرابلس الغرب، ولعلها هي التآليف التي ذكرناها.
সেই সময় ফিকহ শাস্ত্র ও তাতে গ্রন্থ রচনার সাথে (যুক্ত হন)। আমাদের নিকট পৌঁছেছে এমন রচনাবলির মধ্যে একটি হলো হানাফি ফিকহ (ফারায়েজ) বিষয়ক একটি কাব্যগ্রন্থ (উরজুযা), যা তিনি শুরু করেছেন এই কথা বলে:

ওয়াহহাবের (মহা দাতা) রহমতের আশাবাদী... হানাফি মুস্তফা আল-আন্নাবি বলছেন (১৩)

তার রচনাবলির মধ্যে নাম ও বিষয়ের দিক থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি গ্রন্থ হলো 'আর-রাওদ আল-বাহিজ বিন-নাযারি ফি উমুরিল উযূবাতি ওয়াত-তাযউইজ' (অবিবাহিত থাকা ও বিবাহের বিষয়াবলি পর্যালোচনায় প্রফুল্লিত উদ্যান)। গ্রন্থটির মূল প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি নিজে ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, যখন তিনি প্রশান্তি ও স্বস্তির আশায় আলজিয়ার্স শহরে স্থানান্তরিত হন, তখন তিনি বিয়ের সংকল্প করেন; কিন্তু তার বিয়ে সফল হয়নি। ফলে তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দেন এবং এই গ্রন্থটি রচনা করেন, যেখানে তিনি বিবাহ ও এর ফাঁদসমূহ থেকে সতর্ক করেছেন। ভূমিকার আলজেরিয়া অংশে এসেছে: (যখন এর নির্মল সৌন্দর্য ও অনুপম রূপ আমাকে বিমোহিত করল, আমি সেখানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম যাতে এর মাধ্যমে আমার স্বস্তি অর্জিত হয়। কিন্তু বিষয়টি উল্টো হয়ে দাঁড়াল, এবং আনন্দের পর আমি দুর্ভাগ্যে নিপতিত হলাম। তালাকের সংকল্প করে আমি এই পাতাগুলো রচনা করলাম; একে নিজের জন্য এবং আমার মতো স্বজাতীয়দের জন্য একটি স্মারক বানালাম)। সুতরাং এই গ্রন্থটি রচনার পেছনে মূল কারণ ছিল বিবাহে ব্যর্থতার পর তার ওপর আসা মানসিক অভিঘাত। তিনি গ্রন্থটিকে দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন:

প্রথম অধ্যায়: বিবাহের বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বিবাহ থেকে সতর্কীকরণ প্রসঙ্গে।

তিনি প্রতিটি অধ্যায়কে কয়েকটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন। কিন্তু আমরা যে পাণ্ডুলিপিটি দেখেছি তার শেষ অংশ বিচ্ছিন্ন, তাই বিবাহের বিধান সম্পর্কে তিনি যা লিখেছেন এবং তাতে যেসব হাদিস ও আছার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) এসেছে, তা ছাড়া অন্য কিছু আমরা জানতে পারিনি। আর দ্বিতীয় অধ্যায়টির এই পাণ্ডুলিপিতে কোনো অস্তিত্ব নেই (১৪)। তা সত্ত্বেও গ্রন্থের শিরোনামটি এই বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে অবশিষ্ট থাকে যে, তিনি ব্যর্থ বিবাহের চেয়ে অবিবাহিত থাকাকেই শ্রেয় মনে করেন, এবং এটি নিশ্চিত করে যে

--------------------------------------------

(১৩) বারওয়াকিয়া পাণ্ডুলিপি। আর শেখ মুস্তফা বিন রমজান আল-আন্নাবির কাছে যারা শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন তিউনিসিয়ার শেখ আহমদ বিন মুস্তফা বারনাজ, তিনি যখন আলজিয়ার্স শহর ভ্রমণে এসেছিলেন; দেখুন হুসাইন খুজার 'বাশাইরু আহলিল ইমান বি-ফুতুহাতি আলি উসমান'। জাতীয় গ্রন্থাগার, আলজেরিয়া। এছাড়া তার কাছে তার আত্মীয় (মুহাম্মদ বিন হুসাইন) শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন, যিনি আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ইবনুল আন্নাবির নিকটতম পূর্বপুরুষ।

(১৪) একই উৎস। আল-বুআবদালি লেখকের কাছে পাঠানো তার পত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি লিবিয়ার ত্রিপোলির আওকাফ লাইব্রেরিতে তার কিছু রচনা দেখেছেন, সম্ভবত সেগুলো সেই রচনাবলিই যা আমরা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
بالباب الثاني من الكتاب. وعسى أن تكشف الأيام عن بقية هذا الكتاب لنعرف رأي المؤلف الكامل في الموضوع كما نتعرف على رأي قطب من أقطاب أسرة العنابي الشهيرة بأبحاثها في الفقه الحنفي والتشريع الإسلامي عامة. ومهما يكن الأمر فإن مصطفى بن رمضان قد توفي في سنة 1130 هـ، ويغلب على الظن أن وفاته كانت بمدية الجزائر (14م).

وقد أطلنا في الحديث عن مصطفى بن رمضان العنابي لسببين: الأول إننا لا نعرف إلا القليل عن الجد الأعلى لابن العنابي (صاحب هذه الدراسة) الذي طالما جاء بكلامه في التفسير ونحوه، والثاني إننا أردنا أن نعوض هذا النقص بالمعلومات التي وجدناها عن قريب ومعاصر لجده لنعرف أصول هذه الأسرة العنابية التي يبدو أنها استقرت نهائيا في مدينة الجزائر وبقيت تتوارث المناصب الفقهية في الجزائر العثمانية (15).

أما الجد الأدنى لابن العنابي فهو الشيخ محمد بن حسين الذي اشتهر أيضا بالعلم والجاه. أما العلم فيدل عليه ما قرأه على عمه ابن أم أبيه مصطفى ابن رمضان العنابي السابق الذكر، كما يدل عليه ما أخذه عنه حفيده محمد بن محمود (الذي نحن بصدد الترجمة له) من معارف. فقد جاء في إجازة الأخير

--------------------------------------------

(14 مكرر) ورد اسم مصطفى العنابي في الأرشيف العثماني عدة مرات وبتواريخ مختلفة. وكان يسكن بدار سوكالي (أوسكالي) القريبة من جامه خضر باشا، وكان كراؤها من أوقاف مكة والمدية. وهذه بعض التواريخ: 1123، 1129، 1141. انظر الأرشيف المذكور رقم (184) 32 - 1 m 228 بدار الوثائق الوطنية بفرنسا.

(15) تذكر بعض المصادر أن هناك عنابيا آخر قد ألف كتابا سماه (كشف البضائع) ولكننا لا ندري الآن هل هو من أسرة العنابي التي نتحدث عنها. كما أننا لم نطلع على هذا الكتاب. وقد جاء في بعض الماصادر أن أسرة العنابي (الحنفية) كانت تنافس أسرة قدورة (المالكي). ومن ذلك أن مصطفى العنابي وأخاه كانا يقفان ضد أحمد قدورة، وهو المفتي الذي حكم عليه الداي سنة 1118 بالإعدام بعد سجنه لتدخله في السياسة. انظر

R.A (1866) ص 293. انظر تفاصيل ذلك في كتابنا (تاريخ الجزائر الثقافي) ج 1 الجزائر، 1985، ط2 ص 167.
গ্রন্থে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে। আশা করা যায় যে, দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এই গ্রন্থের অবশিষ্টাংশ উন্মোচিত হবে, যাতে আমরা এই বিষয়ে লেখকের পূর্ণাঙ্গ অভিমত জানতে পারি, যেমনটা আমরা হানাফী ফিকহ এবং সাধারণ ইসলামি আইন গবেষণার জন্য সুখ্যাত আল-আন্নাবী পরিবারের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বের অভিমত সম্পর্কে জানতে পারি। যাই হোক না কেন, মোস্তফা বিন রমজান ১১৩০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং প্রবল ধারণা এই যে, তাঁর মৃত্যু আলজেরিয়ার মিডিয়া নামক স্থানে হয়েছিল (১৪ম)।

আমরা মোস্তফা বিন রমজান আল-আন্নাবী সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছি দুটি কারণে: প্রথমত, ইবনুল আন্নাবীর (এই গবেষণার লেখক) ঊর্ধ্বতম পিতামহ সম্পর্কে আমরা খুব অল্পই জানি, যাঁর বক্তব্য তিনি তাফসীর ও এই জাতীয় বিষয়ে প্রায়শই উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত, আমরা তাঁর পিতামহের নিকটাত্মীয় ও সমসাময়িক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তথ্য পেয়েছি তা দিয়ে এই অভাব পূরণ করতে চেয়েছি, যাতে এই আন্নাবী পরিবারের উৎস সম্পর্কে জানা যায়। প্রতীয়মান হয় যে, এই পরিবারটি স্থায়ীভাবে আলজিয়ার্স শহরে বসবাস শুরু করেছিল এবং উসমানীয় আলজেরিয়ায় বংশপরম্পরায় ফিকহ বিষয়ক পদসমূহ অলংকৃত করে আসছিল (১৫)।

আর ইবনুল আন্নাবীর নিকটতম পিতামহ হলেন শায়খ মুহাম্মদ বিন হুসাইন, যিনি ইলম এবং মর্যাদা উভয় ক্ষেত্রেই প্রসিদ্ধ ছিলেন। ইলমের ব্যাপারে প্রমাণ হলো সেই পাঠ যা তিনি তাঁর চাচার (পিতার মায়ের দিকের ভাই) ইতিপূর্বে উল্লিখিত মোস্তফা বিন রমজান আল-আন্নাবীর কাছে গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া তাঁর পৌত্র মুহাম্মদ বিন মাহমুদ (যাঁর জীবনী আমরা আলোচনা করছি) তাঁর কাছ থেকে যে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন তাও এর প্রমাণ। শেষোক্ত ব্যক্তির ইজাজতে উল্লেখ করা হয়েছে যে:

--------------------------------------------

(১৪ পুনশ্চ) উসমানীয় আর্কাইভে বিভিন্ন তারিখে কয়েকবার মোস্তফা আন্নাবীর নাম পাওয়া যায়। তিনি খিজির পাশা জামে মসজিদের নিকটবর্তী সোঁকালি (বা ওসকালি) বাড়িতে বসবাস করতেন এবং তার ভাড়া মক্কা ও মিডিয়ার ওয়াকফ থেকে প্রদান করা হতো। এখানে কিছু তারিখ উল্লেখ করা হলো: ১১২৩, ১১২৯, ১১৪১। দেখুন উক্ত আর্কাইভ নম্বর (১৮৪) ৩২ - ১ এম ২২৮, ফ্রান্সের জাতীয় নথিপত্রাগার।

(১৫) কিছু উৎস উল্লেখ করে যে, অন্য একজন আন্নাবীও ছিলেন যিনি (কাশফুল বাদায়ি) নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু আমরা বর্তমানে জানি না যে তিনি আমাদের আলোচিত এই আন্নাবী পরিবারের সদস্য কি না। এছাড়া আমরা এই গ্রন্থটি দেখার সুযোগ পাইনি। কোনো কোনো সূত্রে এসেছে যে, আন্নাবী পরিবার (হানাফী) কাদ্দূরা পরিবারের (মালিকী) প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। এর একটি উদাহরণ হলো মোস্তফা আন্নাবী ও তাঁর ভাই আহমদ কাদ্দূরার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। আহমদ কাদ্দূরা ছিলেন সেই মুফতি যাঁকে ১১১৮ সালে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের দায়ে কারাবরণের পর আলজেরিয়ার 'দে' (শাসক) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। দেখুন আর.এ (১৮৬৬) পৃষ্ঠা ২৯৩। এর বিস্তারিত বিবরণ দেখুন আমাদের রচিত গ্রন্থ (তারিখে আলজেরিয়া আস-সাকাফী), খণ্ড ১, আলজেরিয়া, ১৯৮৫, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৬৭।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
لمحمد بيرم التونسي أنه سمع عن جده محمد بن حسين (قطعة من أول كتاب فضائل القرآن ووقعت لي منه إجازة تتضمنه) (16) وأما الجاه فقد جاءه من توليه منصب قاضي الحنفية بالجرائر، وهو منصب بالغ الأهمية في عصره يجعل صاحبه في واجهة الأحداث والمجتمع. وقد توفي محمد بن حسين سنة 1203 م بمصر.

وكان والد ابن العنابي، محمود بن محمد، من طبقة العلماء أيضا، ولكننا لا نجده يتصدر للفتوى أو القضاء (حسب المعلومات التي لدينا). وكان ابنه (صاحب الترجمة) حريصا على أن يذكر مع كل اسم من الأسرة الوظائف التي تقلدها صاحبه، ولكنه بالنسبة لأبيه لم يذكره مقرونا بوظيفة رسمية. فقد اقتصر على قوله عنه إنه درس جل دروسه في صحيح البخاري على والده (وقعت لي رواية صحيح البخاري من طرق عديدة لكن طريق سماعي وقراءتي إنما هي على والدي المرحوم أبي الثتاء محمود بن محمد). وقد أضاف معلومات أخرى عن والده وهي أنه توفي سنة 1236 م عند منصرقه من الحج، وذلك ببحر السويس، وأنه قد دفن على ساحل ذلك البحر بالقرب من بلد القصير (17).

وتدل هذه الدراسة لبعض أفراد أسرة ابن العنابي أن مؤلف كتاب (السعي المحمود) كان ينتمي إلى أسرة جزائرية عريقة في العلم والوظائف الرسمية والفقه الحنفي.

 

‌‌ثقافته:

وتثقف ابن العنابي ثقافة واسعة بمفهوم عصره. ونحن نقول (بمفهوم عصره) لنمهد إلى القول بأن ثقافته تقليدية إذا ما حكمنا عليها من خلال كتابه

--------------------------------------------

(16) مخطوط رقم 7451، تونس.

(17) نفس المصدر. انظر أيضا إجازة ابن العنابي لتلمذيه إبراهيم السقا وعبد القادر الرافعي، وهي ما يعرف (بثبت الجزائري). وهي عندي. أما إجازته للأول فقد نسختها من نسخة للمرحوم نعيم النعيمي بداره بقسنطينة، بتاريخ 12 أبريل 1971، وأما إجازته للثاني فقد سلمني منها نسخة الأستاذ محمد بن عبد الكريم مشكورا.
মুহাম্মদ বায়রাম আল-তিউনিসির জন্য (বক্তব্যটি) যে, তিনি তার দাদা মুহাম্মদ ইবনে হুসাইনের নিকট হতে শ্রবণ করেছেন (কুরআনের ফযিলত বিষয়ক কিতাবটির শুরুর একটি অংশ এবং আমি তার কাছ থেকে একটি ইজাযাহ লাভ করেছি যাতে এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে) (১৬) আর প্রতিপত্তির কথা বললে, তা তার কাছে এসেছিল আলজেরিয়ায় হানাফী বিচারপতির (কাযী) পদ গ্রহণ করার মাধ্যমে; এটি তার সমসাময়িককালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ ছিল, যা এর অধিকারীকে ঘটনাবলি ও সমাজের সম্মুখভাগে নিয়ে আসত। মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনুল আন্নাবীর পিতা মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদও আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে ফতোয়া প্রদান বা বিচারকার্যের নেতৃত্বে আসীন হতে দেখি না (আমাদের কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী)। এবং তার পুত্র (যিনি এই জীবনীগ্রন্থের মূল আলোচ্য ব্যক্তি) পরিবারের প্রতিটি নামের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে যে পদে আসীন ছিলেন তা উল্লেখ করতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু নিজের পিতার ক্ষেত্রে তিনি তাকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদের সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করেননি। তিনি কেবল তার সম্পর্কে এতটুকু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন যে, তিনি সহীহ বুখারীর অধিকাংশ পাঠ তার পিতার নিকট গ্রহণ করেছেন (সহীহ বুখারীর বর্ণনা আমার কাছে অনেকগুলো সূত্রে পৌঁছেছে, কিন্তু আমার শ্রবণের এবং পাঠের সূত্রটি কেবল আমার মরহুম পিতা আবুল সানা মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদের মাধ্যমেই এসেছে)। তিনি তার পিতা সম্পর্কে আরও তথ্য যোগ করেছেন যে, তিনি ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে হজ থেকে ফেরার পথে সুয়েজ সাগরে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে সেই সাগরের তীরে আল-কুসাইর শহরের নিকটবর্তী স্থানে দাফন করা হয় (১৭)।

ইবনুল আন্নাবীর পরিবারের কিছু সদস্যদের এই গবেষণা থেকে বোঝা যায় যে, ‘আস-সা‘য়ুল মাহমুদ’ কিতাবের লেখক এমন এক সম্ভ্রান্ত আলজেরীয় পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা জ্ঞানচর্চা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং হানাফী ফিকহশাস্ত্রে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছিল।

 

‌‌তার জ্ঞান-সংস্কৃতি:

ইবনুল আন্নাবী তার সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের ধারণানুযায়ী ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। আমরা ‘তার সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের ধারণানুযায়ী’ কথাটি বলছি এই কথাটি বলার ভূমিকা হিসেবে যে, যদি আমরা তার কিতাবের মাধ্যমে বিচার করি তবে তার জ্ঞান-সংস্কৃতি ছিল ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত।

--------------------------------------------

(১৬) পাণ্ডুলিপি নং ৭৪৫১, তিউনিসিয়া।

(১৭) একই উৎস। আরও দেখুন ইবনুল আন্নাবীর ইজাযাহ যা তিনি তার দুই ছাত্র ইবরাহীম আল-সাক্কা এবং আব্দুল কাদির আল-রাফেয়ীকে দিয়েছিলেন, যা ‘সাবাতুল জাযায়িরী’ নামে পরিচিত। এটি আমার কাছে রয়েছে। প্রথমজনের ইজাযাহ আমি মরহুম নাঈম আল-নাঈমীর বাড়ি হতে কন্সটানটাইনে ১২ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে তার কাছে থাকা একটি অনুলিপি থেকে নকল করেছি। আর দ্বিতীয়জনের ইজাযাহর ক্ষেত্রে উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করে একটি অনুলিপি হস্তান্তর করেছেন।
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
المذكور وغيره من آثاره المكتوبة مثل فتاويه وثبته المعروف (بثبث الجزائري) (18)، فهو حافظ وناقل أكثر منه مفكرا ومجتهدا. ومهما يكن الأمر فقد تلقى العلم في وطنه على جده وعلى والده كما تلقاء على المفتي المالكي علي ابن مد القادر بن الأمين (19) وهؤلاء هم الذين ذكرهم في (ثبته) وهو يشير إلى روايته للحديث، وغيره. فقد قال إنه قرأ بعض صحيح البخاري على جده (يعني جده الأدنى) وأجازه ببقيته وبكتب الحديث، الستة الأخرى). أما عن والده فقد قرأ الفقه الحنفي وغيره من العلوم. وهو يروي البخاري: (بأعلى سند يوجد في الدنيا) عن شيخه علي بن عبد القادر المفتي المالكي المذكور. ويسميه تارة (شيخي أبي الحسن) وتارة (شيخنا ابن الأمين) وأحيانا يقول (صاحب شيخنا).

وقد بلغ به التأثر بابن الأمين أن قلده في منح الإجازات لمن أدرك حياته، فقال عنه (وقد أجاز جميع من أدرك حياته وفد اقتديت أنا به في ذلك فأجزت بكل ما أجازني به مشائخي جميع من أدرك حياتي (20) ولكننا إذا تأملنا في مصادر (السعي المحمود) وجدنا أن ابن العنابي كان عميق الثقافة، سواء منها تلك التي تمت بصلة إلى علوم الدين أو علوم الدنيا. أما في (الثبت) فهو يتحدث فقط عن روايته لمسلسلات الحديث الشريف وهي المعروفة (بالسند).

وقد كان في مدينة الجزائر علماء معاصرون له، نذكر منهم المفتي الشاعر محمد بن الشاهد (21)، والمفتي مصطفى بن الكبابطي (22)، والعالم محمد

--------------------------------------------

(18) الاعلام، 7، ص 311. ورسالة الشيخ البوعبدلي إلى المؤلف.

(19) توفي عن ثمانين سنة عام 1236 (1820). انظر (ثبت الجزائري).

(20) انظر مخطوط 7451، تونس.

(21) كان حيا سنة 1839 وكان بالإضافة إلى الشعر ينظم الموشحات وياحنها. ولا سيما في المولد النبوي وقد تولى الإفتاء عدة مرات. انظر مقالتنا عنه في كتابنا المذكور (تجارب في الأدب والرحلة).

(22) تولى الإفتاء زمن الفرنسيين ثم نفوه لمعارضته ضم الأوقاف الإسلامية إلى أملاك الدولة الفرنسية وقد استوطن الإسكندرية، وكان شاعرا رقيقا أيضا وله شعر في الحنين إلى الوطن، وهو دفين الإسكندرية. توفي سنة 1277 هـ. انظر بحثنا عنه في كتاينا المذكور =
উল্লিখিত এবং তাঁর অন্যান্য লিখিত কর্ম যেমন তাঁর ফতোয়া এবং তাঁর সুপরিচিত ‘ছাবাত’ (থাবাত আল-জাযাইরি) (১৮); তিনি একজন চিন্তাবিদ বা মুজতাহিদের চেয়ে একজন হাফেজ (সংরক্ষণকারী) এবং বর্ণনাকারী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। যা-ই হোক না কেন, তিনি নিজ দেশে তাঁর দাদা এবং পিতার নিকট জ্ঞান অর্জন করেন, যেমনটি তিনি অর্জন করেছিলেন মালিকি মুফতি আলী বিন আব্দুল কাদির বিন আল-আমিন (১৯)-এর নিকট থেকে। এরাই হলেন তারা যাদের কথা তিনি তাঁর ‘ছাবাত’-এ উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাঁর হাদিস বর্ণনা ও অন্যান্য বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি তাঁর দাদার (অর্থাৎ তাঁর নিকটতম দাদা) নিকট সহীহ বুখারীর কিছু অংশ পাঠ করেছেন এবং তিনি তাঁকে অবশিষ্ট অংশ ও অন্য ছয়টি হাদিস গ্রন্থের ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেন। আর তাঁর পিতার নিকট তিনি হানাফি ফিকহ এবং অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ উল্লিখিত মালিকি মুফতি আলী বিন আব্দুল কাদির থেকে ‘দুনিয়ার বুকে বিদ্যমান সর্বোচ্চ সনদে’ বুখারী বর্ণনা করেন। তিনি তাঁকে কখনও ‘আমার শায়খ আবুল হাসান’, কখনও ‘আমাদের শায়খ ইবনুল আমিন’ এবং কখনও ‘আমাদের শায়খের সাথী’ বলে সম্বোধন করেন।

ইবনুল আমিনের প্রতি তাঁর প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যারা তাঁর সমসাময়িক ছিল তাদের ইজাজত দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তাঁকে অনুকরণ করতেন। তাই তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি তাঁর সমসাময়িক সকলকে ইজাজত প্রদান করেছেন এবং আমি এ বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করেছি; ফলে আমার শায়খগণ আমাকে যা কিছুর ইজাজত দিয়েছেন, আমি আমার সমসাময়িক সকলকেই সেই সবের ইজাজত প্রদান করেছি (২০)’। কিন্তু আমরা যদি ‘আস-সা’য়ুল মাহমুদ’-এর উৎসগুলোর দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে ইবনুল আননাবি অত্যন্ত গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, তা দ্বীনি ইলম হোক কিংবা পার্থিব বিদ্যা। তবে ‘ছাবাত’-এ তিনি কেবল হাদীস শরীফের মুসালসালাত বর্ণনার কথা আলোচনা করেছেন যা ‘সনদ’ হিসেবে পরিচিত।

আলজেরিয়া শহরে তাঁর সমসাময়িক অনেক আলেম ছিলেন, যাদের মধ্যে আমরা মুফতি ও কবি মুহাম্মদ বিন শাহেদ (২১), মুফতি মুস্তফা বিন আল-কাবাবতি (২২) এবং আলেম মুহাম্মদ

--------------------------------------------

(১৮) আল-আলাম, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১১। এবং লেখকের প্রতি শেখ আল-বুআবদালির পত্র।

(১৯) তিনি ১২৩৬ হিজরি (১৮২০ খ্রিস্টাব্দ) সনে আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। দেখুন (ছাবাত আল-জাযাইরি)।

(২০) দেখুন পাণ্ডুলিপি ৭৪৫১, তিউনিসিয়া।

(২১) তিনি ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং কবিতার পাশাপাশি তিনি মুওয়াশশাহ রচনা ও সুরারোপ করতেন। বিশেষ করে ঈদে মিলাদুন্নবীর ক্ষেত্রে, এবং তিনি বেশ কয়েকবার ইফতা (ফতোয়া প্রদান) এর দায়িত্ব পালন করেন। আমাদের উল্লিখিত গ্রন্থ ‘তাজারিব ফিল আদব ওয়ার রিহলাহ’-তে তাঁর সম্পর্কে আমাদের নিবন্ধটি দেখুন।

(২২) তিনি ফরাসিদের আমলে ইফতা তথা প্রধান মুফতির দায়িত্ব পালন করেন, এরপর তারা তাঁকে নির্বাসিত করে কারণ তিনি ইসলামি ওয়াকফ সম্পত্তি ফরাসি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাস শুরু করেন এবং তিনি একজন কোমল হৃদয়ের কবি ছিলেন; স্বদেশপ্রেম নিয়ে তাঁর কবিতা রয়েছে। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় সমাহিত। তিনি ১২৭৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। আমাদের উল্লিখিত গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে আমাদের গবেষণাটি দেখুন =
(খণ্ড: ১) রায়েদুত তাজদীদিল ইসলামী মুহাম্মাদ বিন আল-আন্নাবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ابن مالك (23)، والكاتب السياسي حمدان خوجة (24). وجميع هؤلاء لعبوا أدوارا بارزة في بلادهم عندئذ.

ولعل الذي رشح ابن العنابي للوظائف الرسمية في الدولة هو مكانة أسرته ومنزلته العلمية. وقد عرفنا أن أسرته كانت ذات حظوة لدى دايات الجزائر منذ القرن الحادي عشر للهجرة (السابع عشر الميلادي). أما المنزلة العلمية فالظاهر أن ابن العنابي كان متمكنا في العلوم الشرعية خاصة، وأقدم نص وجدناه له يدل على ذلك. فقد عثرنا له على جواب أجاب به على مسألة في التوحيد بدأه هكذا (ورد علي سؤال نصه بعد عنوانه، إذا قيل حيث كان أهل الحق مطبقين على أن الحق تعالى يرى في الآخرة بالأبصار وأن الرؤية عبارة عن الإدراك المفسر بخلق الله تعالى فينا علما ضروريا عند ذلك فمتعلق هذا الإدراك نفس الذات العلية أم لا فأقول اعلم أولا أن المدركات تنقسم إلى ما يدخل في الخيال كالصور المتخيلة والأجسام المتلونة المتشكلة وإلى ما يدخل في الخيال كالذات العلية، وكل ما ليس بجسم كالعلم والقدرة والإرادة …) وعندما وصل في هذه المسألة إلى الفصل بين رأي المعتزلة وأهل السنة اختار ابن العنابي رأي أهل السنة قائلا عن رأي المعتزلة (ونحن لا نقول به لضيق مجاله فنسلمه لأربابه، سالكين مسلك الجمهور من أهل السنة لوضوح أدلتهم …) (25).

--------------------------------------------

= (تجارب في الأدب والرحلة)، وكذلك دراستنا الأخرى عنه في كتابنا (أبحاث آراء في تريخ الجزائر الجزء الثاني، الجزائر 1985.

(23) مذكرات، ص 81 ، 82 ، 91. وكان ابن مالك مدرسا وقاضيا للمالكيه وله تدخل في الأمور السياسية.

(24) له عدة مؤلفات سنذكر بعضها. وقد تزعم حركة معارضة ضد الفرنسيين فنفوه، وبعد إقامة قصيرة في باريس استوطن إسطانبول وتولى بها بعض الوظائف وبها توفي حوالي 1845.

(25) يقع النص في ورقتين ضمن مجموع ص 55 - 58. الخزانة العامة المغربية، ك 1089. والخط ليس خط المؤلف لأن نهاية النص هكذا: (انتهى ما نقل من خط المؤلف). وقد وقع اسمه هكذا: (قال هذا وكتبه بيده الفانية محمد بن محمود بن محمد بن حسين =
ইবনে মালিক (২৩) এবং রাজনৈতিক লেখক হামদান খুজা (২৪)। তখন তারা সকলেই নিজ নিজ দেশে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সম্ভবত যা ইবনুল আন্নাবিকে রাষ্ট্রের সরকারি পদসমূহের জন্য মনোনীত করেছিল তা হলো তাঁর পরিবারের মর্যাদা এবং তাঁর ইলমি অবস্থান। আমরা জেনেছি যে, হিজরি একাদশ শতাব্দী (সপ্তদশ খ্রিস্টাব্দ) থেকে আলজেরিয়ার দে-দের (শাসকদের) নিকট তাঁর পরিবারের বিশেষ প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। ইলমি অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনুল আন্নাবি বিশেষ করে শরয়ি জ্ঞান বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন এবং তাঁর প্রাপ্ত প্রাচীনতম পাঠ্যটি এরই প্রমাণ দেয়। আমরা তাওহিদের একটি মাসআলার ওপর তাঁর একটি উত্তর খুঁজে পেয়েছি যা তিনি এভাবে শুরু করেছিলেন (তার শিরোনামের পর প্রশ্নের পাঠটি আমার নিকট এভাবে এসেছে: যদি বলা হয় যে, যেহেতু সত্যপন্থী আহলে হকগণ একমত যে মহান আল্লাহকে আখিরাতে চাক্ষুষ দেখা যাবে এবং এই দর্শন হলো এমন এক অনুধাবন যা আল্লাহ তাআলা তখন আমাদের মধ্যে একটি জরুরি জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন, তাহলে এই অনুধাবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কি খোদ মহান সত্তা নাকি অন্য কিছু? জবাবে আমি বলব, প্রথমে জেনে রেখো যে অনুধাবনযোগ্য বিষয়গুলো দুই ভাগে বিভক্ত: যা কল্পনায় আসে যেমন কাল্পনিক ছবি এবং বর্ণিল ও আকৃতিবিশিষ্ট দেহসমূহ; আর যা কল্পনায় আসে না যেমন মহান সত্তা এবং যা কিছু দেহ নয় যেমন ইলম (জ্ঞান), কুদরত (ক্ষমতা) এবং ইরাদাহ (ইচ্ছা) …) এবং যখন তিনি এই মাসআলায় মুতাজিলা ও আহলে সুন্নতের মতামতের মধ্যে পার্থক্যের পর্যায়ে পৌঁছালেন, তখন ইবনুল আন্নাবি আহলে সুন্নতের মতকে গ্রহণ করে মুতাজিলাদের মত সম্পর্কে বলেন (আমরা এর সংকীর্ণতার কারণে এটি গ্রহণ করি না, বরং এটি এর প্রবক্তাদের ওপরই ছেড়ে দিই। আর আমরা আহলে সুন্নতের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের পথ অনুসরণ করি তাদের দলিলের সুস্পষ্টতার কারণে …) (২৫)।

--------------------------------------------

= (সাহিত্য ও ভ্রমণে অভিজ্ঞতা), এবং একইভাবে আমাদের বইয়ে তাঁর সম্পর্কে আমাদের অন্যান্য গবেষণা (আলজেরিয়ার ইতিহাসে মতামত সংক্রান্ত গবেষণা, দ্বিতীয় খণ্ড, আলজেরিয়া ১৯৮৫)।

(২৩) স্মৃতিকথা, পৃ. ৮১, ৮২, ৯১। ইবনে মালিক ছিলেন একজন শিক্ষক এবং মালিকি মাজহাবের বিচারক, এবং রাজনৈতিক বিষয়েও তাঁর প্রভাব ছিল।

(২৪) তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে যার কিছু আমরা উল্লেখ করব। তিনি ফরাসিদের বিরুদ্ধে একটি বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফলে তারা তাঁকে নির্বাসিত করে। প্যারিসে স্বল্পকাল অবস্থানের পর তিনি ইস্তাম্বুলে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানে কিছু পদে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেই আনুমানিক ১৮৪৫ সালের দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

(২৫) মূল পাঠ্যটি ৫৫-৫৮ পৃষ্ঠার একটি সংকলনের মধ্যে দুই পাতায় অবস্থিত। মরক্কোর সাধারণ গ্রন্থাগার, কে ১০৮৯। হাতের লেখাটি লেখকের নিজস্ব নয়, কারণ পাঠ্যের শেষে বলা হয়েছে: (লেখকের স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে যা নকল করা হয়েছে তা এখানেই শেষ)। তাঁর নাম সেখানে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: (এটি বলেছেন এবং স্বহস্তে লিখেছেন মরণশীল মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন =