(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المزدكية هي أصل الاشتراكية القسم: كتب عامة
الكتاب: المزدكية هي أصل الاشتراكية
المؤلف: عبد اللطيف بن علي بن أحمد بن محمد السلطاني القنطري الجزائري (ت 1404هـ)
الناشر: دار الكتاب، الدار البيضاء
الطبعة: الأولى، 1394 هـ - 1974 م
عدد الصفحات: 305
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 رجب 1435
মাজদাকবাদই সমাজতন্ত্রের উৎস বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: মাজদাকবাদই সমাজতন্ত্রের উৎস
লেখক: আব্দুল লতিফ বিন আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ সুলতানি আল-কানতারি আল-জাজায়েরি (মৃত ১৪০৪ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কিতাব, কাসাব্লাঙ্কা
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৪ হিজরি - ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৫
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি.
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রজব ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
عبد اللطيف بن علي السلطاني
المزدكية
هي أصل
الاشتراكية
(1394 - 1974)
আব্দুল লতিফ বিন আলী আল-সুলতানি
মজদকবাদ
হলো মূল উৎস
সমাজতন্ত্রের
(১৩৯৪ - ১৯৭৪)
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
عبد اللطيف بن علي السلطاني
المزدكية
هي أصل
الاشتراكية
1394 - 1974
আব্দুল লতিফ বিন আলী আল-সুলতানি
মাজদাকিয়াহ
হলো মূল ভিত্তি
সমাজতন্ত্রবাদ
১৩৯৪ - ১৯৭৪
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الطبعة الأولى 1394 - 1974
جميع الحقوق محفوظة للمؤلف
প্রথম সংস্করণ ১৩৯৪ - ১৯৭৪
সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الإهداءإلى روح من كان السبب - بعد الله - في خروجي إلى هذا العالم.
إلى روح من لم يمتعني الله بحنوه وحنانه.
إلى من لم يسعدني القدر بالتعرف على شخصه وملامحه، وإن كنت لمست آثار أعماله، ورأيت تأثيرها في أهل زمانه.
إلى روح الذي عاش داعيا إلى الله، ومحاربا للباطل وأنصاره، لا تأخذه في ذلك لومة لائم.
إلى روح الذي وهب كل حياته للعلم، بين التعلم والتعليم، حتى فارق هذه الحياة المملوءة بالأتعاب راضيا مرضيا عليه.
إلى روح والدي الشيخ علي ابن السلطاني أهدي كتابي هذا، مع الدعوات له بالعفو والرضوان، من رب واسع الرحمة كثير الغفران.
উৎসর্গসেই মহান আত্মার প্রতি, যিনি—আল্লাহর পরে—এই পৃথিবীতে আমার আগমনের মাধ্যম ছিলেন।
সেই বিদেহী আত্মার প্রতি, যাঁর স্নেহ ও মমতায় সিক্ত হওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহ আমাকে দেননি।
যাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনার এবং যাঁর অবয়ব দর্শনের সৌভাগ্য নিয়তি আমাকে দেয়নি, যদিও আমি তাঁর কর্মের নিদর্শনসমূহ অনুভব করেছি এবং তাঁর সমসাময়িকদের ওপর সেই কর্মের প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছি।
সেই আত্মার প্রতি, যিনি আজীবন আল্লাহর পথে আহ্বানকারী এবং বাতিল ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেছেন; এই পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার তাঁকে বিচলিত করতে পারেনি।
সেই মহান ব্যক্তির প্রতি, যিনি শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে নিজের পুরো জীবনকে ইলমের তরে উৎসর্গ করেছিলেন, পরিশেষে প্রশান্ত ও সন্তোষজনক (مرضي عنه) অবস্থায় তিনি এই শ্রমক্লান্ত পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
আমার পিতা শাইখ আলী ইবনুল সুলতানির বিদেহী আত্মার প্রতি আমি আমার এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি; সেই সাথে প্রশস্ত রহমত ও পরম ক্ষমাশীল রবের দরবারে তাঁর জন্য ক্ষমা ও সন্তুষ্টির প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم:الحمد لله الحي القيوم، الذي لا تأخذه سنة ولا نوم، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، تفرد بالربوبية الحقيقية، وتقدس عن الشرك والشركية، الخالق المدبر لكل شيء وحده، لا شريك له ولا معين، المتصرف في خلقه بما جرت به حكمته، وفق إرادته ومشيئته، نحمده على ما أنعم به علينا مخلصين، ونشكره بكل جوارحنا صادقين، والصلاة والسلام على خاتم رسله وأنبيائه محمد بن عبد الله أكرم رسله أجمعين، عليهم من ربنا أفضل الصلاة وأزكى التسليم، ورضوان الله عن صحابته الأبرار، وأهل بيته الأخيار، من المهاجرين والأنصار، {الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} وقفوا إلى جنبه وقفة صادقة، قضت على الشرك والضلال، واقتلعت جذور الوثنية والشر والفساد، ونشروا نور الهداية بين الأنام، وأوقفوا نفوسهم وباعوها لله وفي سبيل الله، وللدعوة للحق والهدي، فأعانوا على تثبيت قواعد الإسلام، بما بذلوه من نفوس أبية، وأموال زكية، وأوقات جليلة، كل ذلك بإيمان صادق، وعزم راسخ، لم يرجوا من وراء ذلك إلا الخير والسعادة لبني الإنسان - وخاصة - الذين: {اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَأَنْسَاهُمْ ذِكْرَ اللَّهِ} فجزاهم الله أحسن ما جازى به عباده العاملين آمين.
وبعد فيقول العبد المفتقر إلى رحمة الله الغني، عبد اللطيف بن علي بن أحمد ابن السلطاني القنطري، كان الله له وليا ونصيرا، وكان في عون العاملين المخلصين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা:যাবতীয় প্রশংসা সেই চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী আল্লাহর জন্য, যাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা কেবল তাঁরই এবং তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। তিনি তাঁর প্রকৃত প্রভুত্বে অনন্য এবং অংশীদারিত্ব ও শিরক থেকে পবিত্র। তিনি সব কিছুর একমাত্র স্রষ্টা ও পরিচালক, তাঁর কোনো অংশীদার বা সাহায্যকারী নেই। তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতে স্বীয় প্রজ্ঞা, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদন করেন। আমরা তাঁর নেয়ামতরাজির জন্য একনিষ্ঠভাবে তাঁর প্রশংসা করছি এবং কায়মনোবাক্যে তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ রসূল ও নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যিনি সকল রসূলের মধ্যে অধিক সম্মানিত। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের সবার ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক তাঁর পুণ্যবান সাহাবী এবং উত্তম আহলে বায়তের ওপর—যাঁরা মুহাজির ও আনসার ছিলেন, {যাঁরা সংকটের মুহূর্তে তাঁর অনুসরণ করেছিলেন, যখন তাদের মধ্যকার এক দলের অন্তর বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাদের তাওবা কবুল করেছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।} তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যা শিরক ও ভ্রষ্টতাকে দূরীভূত করেছিল এবং মূর্তিপূজা, অনিষ্ট ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করেছিল। তাঁরা মানবজাতির মাঝে হেদায়েতের আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর জন্য, আল্লাহর পথে এবং সত্য ও সুপথের দাওয়াতের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁরা ইসলামের ভিত্তি মজবুত করতে সহায়তা করেছিলেন নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল প্রাণ, পবিত্র সম্পদ ও মূল্যবান সময় ব্যয়ের মাধ্যমে। এ সব কিছুই ছিল অকৃত্রিম ঈমান ও দৃঢ় সংকল্পের সাথে। এর বিনিময়ে তাঁরা মানবজাতির জন্য কেবল কল্যাণ ও সৌভাগ্য কামনা করেছিলেন—বিশেষ করে তাদের জন্য {যাদের ওপর শয়তান প্রভাব বিস্তার করেছে এবং ফলে সে তাদের আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে।} আল্লাহ তাঁদের সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যা তিনি তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের দান করেন। আমিন।
অতঃপর, অভাবমুক্ত আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী বান্দা আব্দুল লতিফ বিন আলী বিন আহমদ ইবনুস সুলতানি আল-কানতারি বলছেন—আল্লাহ তাঁর অভিভাবক ও সাহায্যকারী হোন এবং তিনি একনিষ্ঠ কর্মীদের সহায় হোন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
على نشر الفضيلة ومحاربة الرذيلة - هاديا ودليلا: إن ما يطرأ في هذا العالم - بين الحين والآخر - من أحداث ومذاهب، قد يكون فيها الخير والشر، والصلاح والفساد، والرشد والغي، والنفع والضر، وقد يخفى شرها وفسادها وضرها وغيها على بعض الناس، ولا يفطن له إلا ذوو الأبصار والبصائر الحية، ومن أجل هذا رأينا الكثير من علماء المسلمين - في كل زمان ومكان - كانوا حراسا أمناء على هذا الدين، يقظين بالمرصاد لكل طارئ يطرأ، ممن يحاول العبث بدين الله، فنصحوا وبينوا، وكشفوا وأوضحوا، حتى لا يتجرأ مفتر زنديق على الأمانة التي هم مسؤولون عنها - أمام الله، وأمام التاريخ، وأمام أمتهم - فيسلبها منهم - شأن اللصوص الماهرين - وهم ينظرون إليه صامتين، فواجبهم الديني أن يكونوا مع الدين: حاملين وعاملين، داعين ومناصرين ومدافعين، إن كانوا من العلماء النزهاء العدول، الذين قال فيهم الرسول صلى الله عليه وسلم كما في الأثر -: ((يحمل هذا العلم من كل خلف عدوله، ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين)) يقولون الحق لله وللحق، في غير مطمع ولا مطمح، في دنيا أو جاه فأولئك هم العلماء الرجال، الذين لا يرضون - أبدا - أن يهان الإسلام وهم ينظرون، أو تعطل أحكامه وآدابه وأخلاقه وهم ساكتون لاهون.
وقد ظهرت في هذا العصر - في غير بلاد المسلمين - مذاهب ونزعات - أو إن شئت فقل نزغات - تخالف شرائع الله التي جاء بها الرسل الكرام، عليهم من الله الصلاة والسلام، ظهرت في غير بلاد الإسلام، وتسربت فدخلت إلى أرض المسلمين، فأفسدت على الضعفاء عقيدتهم، وعلى المحاويج دينهم، بدعاوى شيطانية، وأطماع دنيوية، ووعود لماعة، وأماني خلابة، وما هي في الواقع والحقيقة إلا: {كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاءً حَتَّى إِذَا جَاءَهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِنْدَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ}.
من هذه النزعات - بل النزغات - الشيوعية الملحدة الكافرة بالخالق وبالأديان والأخلاق الفاضلة، التي تسترت بستار وشعار (الاشتراكية) لتخفي على البسطاء مقاصدها وأهدافها، فضربت لهم على النغم الذي يحبونه، ويخلب عقول الضعفاء - بالخصوص - مدعية أنها رحمة جاءت لترحم المحرومين، ونعمة سابغة للمضطهدين، وما هي في الحقيقة إلا سم ناقع، وداء قتال يقتل - فيمن ابتلي به - الشعور بالكرامة الإنسانية، لهذا لم يقبل عليها ويتقبلها إلا النادر
সচ্চরিত্রের প্রসার এবং অসচ্চরিত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি এক পথপ্রদর্শক ও দিকনির্দেশক: এই পৃথিবীতে সময়ে সময়ে যেসব ঘটনা ও মতবাদের উদ্ভব ঘটে, তাতে কল্যাণ ও অকল্যাণ, সংশোধন ও বিশৃঙ্খলা, হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতা এবং উপকার ও অপকার বিদ্যমান থাকতে পারে। অনেক মানুষের কাছে এগুলোর মন্দ দিক, বিশৃঙ্খলা, ক্ষতিকর প্রভাব এবং পথভ্রষ্টতা গোপন থাকতে পারে; আর কেবল তীক্ষ্ণদৃষ্টিসম্পন্ন এবং জীবন্ত অন্তর্দৃষ্টির অধিকারীরাই তা অনুধাবন করতে পারেন। এই কারণেই আমরা দেখি যে, প্রত্যেক যুগে এবং প্রত্যেক স্থানে বহু মুসলিম আলেম এই দ্বীনের বিশ্বস্ত পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা আল্লাহর দ্বীন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাওয়া যেকোনো নতুন আপদ মোকাবিলায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ ছিলেন। তাঁরা নসিহত করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন, উন্মোচন করেছেন এবং সুস্পষ্ট করেছেন; যাতে কোনো মিথ্যাবাদী জিন্দিক (زنديق) সেই আমানতের ওপর ধৃষ্টতা দেখাতে না পারে যার জন্য তাঁরা আল্লাহ, ইতিহাস এবং তাঁদের উম্মতের কাছে দায়বদ্ধ। তাঁরা যাতে দক্ষ চোরদের মতো সেই আমানত ছিনিয়ে নিতে না পারে যখন তাঁরা নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকবেন। সুতরাং দ্বীনের সাথে থাকাই তাঁদের ধর্মীয় কর্তব্য: বাহক ও আমলকারী হিসেবে, দাওয়াতদানকারী, সাহায্যকারী ও প্রতিরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে; যদি তাঁরা হন সেই সব নিষ্কলুষ ও ন্যায়নিষ্ঠ (عدول) আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বর্ণনায় (أثر) বলেছেন: "প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়নিষ্ঠ (عدول) ব্যক্তিরাই এই ইলম বহন করবেন। তাঁরা একে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জাহেলদের অপব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখবেন।" তাঁরা দুনিয়া বা পদের কোনো প্রকার লোভ বা লালসা ছাড়াই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সত্য কথা বলেন। তাঁরাই হলেন সেই পৌরুষদীপ্ত আলেম, যাঁরা ইসলামকে অবমানিত হতে দেখে কখনোই সন্তুষ্ট হতে পারেন না, অথবা যখন ইসলামের বিধান, আদব ও আখলাক অকেজো করে দেওয়া হয়, তখন তাঁরা নিরব ও উদাসীন থাকেন না।
বর্তমান যুগে মুসলিম দেশগুলোর বাইরে এমন কিছু মতবাদ ও ঝোঁক—বা চাইলে বলতে পারেন শয়তানি প্ররোচনা—প্রকাশ পেয়েছে, যা সম্মানিত রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন তার পরিপন্থী। এগুলো অমুসলিম দেশগুলোতে প্রকাশ পেয়ে চুইয়ে চুইয়ে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। ফলে শয়তানি দাবি, দুনিয়াবি লোভ-লালসা, চাকচিক্যময় প্রতিশ্রুতি এবং মোহনীয় কল্পনার মাধ্যমে তা দুর্বলদের আকিদাহ এবং অভাবগ্রস্তদের দ্বীনকে কলুষিত করেছে। অথচ বাস্তবতা ও প্রকৃত সত্যে এগুলো কেবল: {মরুভূমির মরিচিকার মতো, পিপাসার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে, কিন্তু যখন সে তার কাছে যায়, তখন সেখানে সে কিছুই পায় না। বরং সেখানে সে আল্লাহকে পায়, অতঃপর আল্লাহ তার হিসাব পূর্ণ করে দেন; আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী}।
এইসব ঝোঁক—বরং প্ররোচনাগুলোর—মধ্যে অন্যতম হলো স্রষ্টা, ধর্ম এবং সচ্চরিত্র বিরোধী নাস্তিক্যবাদী সাম্যবাদ, যা সাধারণ মানুষের কাছে নিজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য গোপন রাখতে 'সমাজতন্ত্রের' পর্দা ও স্লোগান ব্যবহার করে। তারা সেই সুরেই সুর মেলায় যা মানুষ পছন্দ করে এবং বিশেষ করে দুর্বলদের মনকে মোহাবিষ্ট করে; তারা দাবি করে যে এটি বঞ্চিতদের প্রতি করুণার জন্য এক রহমত এবং নিপীড়িতদের জন্য এক অঢেল নেয়ামত হিসেবে এসেছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি প্রাণঘাতী বিষ এবং এক মরণব্যাধি যা এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মানবিক মর্যাদাবোধকে বিলুপ্ত করে। একারণেই অতি নগণ্য সংখ্যক লোক ছাড়া কেউই এটি গ্রহণ করেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
القليل - عن طواعية واختيار - وإن تبنتها وحمتها بعض الهيآت الحاكمة في بعض البلاد الإسلامية، واتخذتها منهاجا تسير عليه، فساء من أجل ذلك الحال، وانشرت الفوضى وسوء السلوك في الأعضاء الحساسة في هياكل الأمة - التي تسربت إليها - بالرغم من التمويه والتدليس على ضعفاء الأحلام، فقد فشلت ولم تنجح إلا في الضلال والتضليل، لهذا أخذت تتراجع عن أشياء كانت من مبادئها.
والدارس للتاريخ القديم يعلم - بالمقارنة - أن هذه (الشيوعية) أو (الاشتراكية) وليدة نزعة قديمة ظهرت في الأمه الفارسية قبل الإسلام، ظهرت من رجل اسمه: مزدق - أو مزدك - دعت الناس إلى ما تدعو إليه الاشتراكية الشيوعية اليوم، من إلحادية مضللة وإباحية فاجرة، فواجب على كل مسلم في دينه لرب العالمين، مؤمن بالله ألا يسكت عنها، فإن هدفها القضاء على الدين والأخلاق الكريمة، ويتأكد ذلك الواجب - بالخصوص - على علماء الدين الأحرار المخلصين، فهذا هو جهادهم المطالبون به، يتقدمون إلى ميدانه في شجاعة وصدق عزيمة ونزاهة، لا تأخذهم في قول الحق لومة لائم.
ومن المؤسف المحزن أننا رأينا بعض المنتسبين للعلم والذين كتبوا فيها، فمنهم الداعي والمؤيد لها، ومنهم المنتحل لها الأسباب الداعية إليها، وقليل منهم المنكرون لها، فبعضهم سماها إشتراكية الإسلام، وآخر أطلق عليها اشتراكية عمر بن الخطاب، ومنهم من سماها الاشتراكية العربية، ومنهم من نسبها إلى حزبه السياسي الخ كل ذلك ترضية للهيئة الحاكمة، أو طمعا في مال أو جاه أو منصب، وهنا ضاعت جوهرة الحقيقة في رمال الأطماع، وفي يوم الحساب يجد كل واحد جزاءه.
ومن العلماء - الصادقين - من كتب فيها بصدق وإخلاص ونزاهة وأمانة، فأظهر حقيقتها مكشوفة كما هي، فأدى الأمانة - أمانة العلم والدين - ونصح لله رب العالمين، غير راغب ولا راهب - من المخلوق شيئا - عملا بقول الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم: ((الدين النصيحة، قلنا: لمن؟ قال: لله، ولكتابه، ولرسوله، ولأئمة المسلمين، وعامتهم)) (1).
--------------------------------------------
অল্প কিছু লোক - স্বেচ্ছায় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে - যদিও কিছু মুসলিম দেশের শাসকগোষ্ঠী একে গ্রহণ করেছে এবং সুরক্ষা দিয়েছে, এবং একে একটি অনুসরণযোগ্য আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং জাতির কাঠামোর সংবেদনশীল অঙ্গগুলোতে বিশৃঙ্খলা ও অসদাচরণ ছড়িয়ে পড়েছে—যেখানে এটি অনুপ্রবেশ করেছে—দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্নদের ওপর সত্য গোপন ও প্রতারণা (تدليس) করা সত্ত্বেও। এটি ব্যর্থ হয়েছে এবং পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া আর কোনো সাফল্য পায়নি। এই কারণেই এটি তার কিছু মূলনীতি থেকে পিছিয়ে আসতে শুরু করেছে।
প্রাচীন ইতিহাসের ছাত্র তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারবেন যে, এই (কমিউনিজম) বা (সমাজতন্ত্র) হলো ইসলাম-পূর্ব পারস্য জাতিগোষ্ঠীর মাঝে উদ্ভূত একটি প্রাচীন প্রবণতার ফসল। এটি মজদাক নামক এক ব্যক্তির হাত ধরে আবির্ভূত হয়েছিল, যে মানুষকে সেদিকেই আহ্বান করত যেদিকে আজকের সমাজতান্ত্রিক কমিউনিজম আহ্বান করে—বিভ্রান্তিকর নাস্তিক্যবাদ এবং পাপাচারপূর্ণ বল্গাহীনতার দিকে। তাই রাব্বুল আলামীনের দ্বীনের অনুসারী ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব যে তারা এ বিষয়ে চুপ থাকবে না; কারণ এর লক্ষ্য হলো ধর্ম ও উন্নত নৈতিকতাকে নির্মূল করা। এই কর্তব্যটি বিশেষ করে স্বাধীনচেতা ও একনিষ্ঠ আলেমদের ওপর আরও জোরালোভাবে অর্পিত হয়। এটিই হলো তাদের কাঙ্ক্ষিত জিহাদ; তারা সাহসিকতা, দৃঢ় সংকল্প এবং সততার সাথে এর ময়দানে এগিয়ে আসবে, সত্য বলার ক্ষেত্রে তারা কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবে না।
এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিতাপের বিষয় যে, আমরা ইলম বা জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে এ বিষয়ে লিখতে দেখেছি। তাদের মধ্যে কেউ এর প্রবক্তা ও সমর্থক, কেউ এর সপক্ষে কৃত্রিম কারণ উদ্ভাবনকারী, আর খুব অল্প সংখ্যকই এর প্রতিবাদকারী। তাদের কেউ একে 'ইসলামি সমাজতন্ত্র' নাম দিয়েছে, কেউ একে 'উমর ইবনুল খাত্তাবের সমাজতন্ত্র' বলে অভিহিত করেছে, কেউ একে 'আরব সমাজতন্ত্র' বলেছে, আবার কেউ একে নিজের রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত করেছে—এসবই করা হয়েছে শাসকগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার জন্য অথবা সম্পদ, প্রভাব বা পদের লোভে। আর এভাবেই লোভের বালুচরে সত্যের মণি-মুক্তা হারিয়ে গেছে। বিচার দিবসে প্রত্যেকেই তার প্রতিফল পাবে।
তবে সত্যনিষ্ঠ (صادق) আলেমদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা সততা, একনিষ্ঠতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততার সাথে এ বিষয়ে লিখেছেন এবং এর প্রকৃত রূপটি যেমন, ঠিক তেমনই উন্মোচিত করেছেন। ফলে তারা আমানত—ইলম ও দ্বীনের আমানত—আদায় করেছেন এবং রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য উপদেশ দিয়েছেন; তারা সৃষ্টির কারো কাছে কোনো কিছুর প্রত্যাশা করেননি এবং কাউকেও ভয় পাননি। তারা সত্যনিষ্ঠ (صادق) ও সত্যপ্রত্যায়িত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুযায়ী আমল করেছেন: "দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা। আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের নেতাদের জন্য এবং সাধারণ জনগণের জন্য।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وسأذكر في هذا الكتاب الذي أسميته ـ[المزدكية هي أصل الاشتراكية]ـ بحول الله وقوته أصل هذه النحلة القديمة - المزدكية - وأذكر أقوال المؤرخين النزهاء من المسلمين وغيرهم فيها، ثم أقابل ذلك - في مناقشة - بما شاع في وقتنا هذا وما هو جار في مجتمعنا الإسلامي - مما له صلة وثيقة بها - وبالمقارنة وذكر الأهداف والغايات يظهر لذوي العقول النيرة أن هذه الاشتراكية ما هي إلا فرع عن تلك المزدكية القديمة، فقد طلعت علينا بأحداث ووقائع كشفت عن المستور من النيات، والمخبوء من المقاصد والغايات.
والله المسؤول أن يوفقنا لما يحب ويرضى، ويسدد خطانا في سبيل الحق والصلاح، وهو من وراء القصد: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ}.
القبة (الجزائر) في 3 جمادى الأولى عام 1393 هـ الموافق لـ 4 جوان سنة 1973 م.
আমি এই গ্রন্থে, যার নাম আমি রেখেছি ‘[মাজদাকবাদই সমাজতন্ত্রের উৎস]’, আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে এই প্রাচীন মতবাদ—মাজদাকবাদ—এর উৎস বর্ণনা করব এবং এ বিষয়ে মুসলিম ও অন্যান্য নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকগণের বক্তব্য উল্লেখ করব। অতঃপর একটি আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সময়ে যা বহুল প্রচলিত এবং আমাদের ইসলামি সমাজে যা বিদ্যমান—যার সাথে এর নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে—তার সাথে বিষয়টির তুলনা করব। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের তুলনা ও আলোচনার মাধ্যমে প্রাজ্ঞ ও আলোকিত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, এই সমাজতন্ত্র সেই প্রাচীন মাজদাকবাদেরই একটি শাখা মাত্র। এটি এমন কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছে যা অন্তরের গোপন অভিপ্রায় এবং লুকায়িত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহকে উন্মোচিত করে দিয়েছে।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের তাঁর পছন্দ ও সন্তোষ অনুযায়ী কাজ করার তাওফিক দান করেন এবং সত্য ও কল্যাণের পথে আমাদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর তিনিই মূল উদ্দেশ্যের সফলতাদানকারী: “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দেবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা।”
আল-কুব্বাহ (আলজেরিয়া), ৩ জুমাদাল উলা, ১৩৯৩ হিজরি মোতাবেক ৪ জুন, ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الأولتمهيد:
1 - ما هي المزدكية؟
2 - من ابتدعها؟
3 - أين نبتث شجرتها؟
4 - ما هو هدفها؟
প্রথম পরিচ্ছেদভূমিকা:
১ - মজদকবাদ (المزدكية) কী?
২ - কে এটি উদ্ভাবন করেছেন?
৩ - কোথায় এর বৃক্ষ অঙ্কুরিত হয়েছিল?
৪ - এর লক্ষ্য কী?
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول:ما هي المزدكية؟
المزدكية هي نحلة من النحل - أو مذهب من المذاهب - البشرية، والأحرى دعوة تدعو الناس إلى ما دعا إليه إبليس من قبل، فهي تتزعم حركة (إصلاحية) كما قال صاحبها
… المقصود منها - حسب قوله أيضا - نشر الأمن والسلام في الأرض - كما يدعي - وهي إلى جانب هذا تلزم أتباعها ومعتنقيها العاملين بها وبمبادئها: بأن يزيلوا من بينهم جميع الفروق وأنواع الاختصاص، فلا فرق فيما بينهم، ولا يختص الواحد منهم على أخيه فيها بأي شيء من أنواع الاختصاص حتى في المخصصات الفطرية، كالعرض والشرف، فلا شرف عند المزدكيين، ولا عرض ولا غيرة - والغيرة غريزة حتى عند الحيوانات التي لا تعقل - مثلما هو معروف عند شرفاء النفوس.
وسأعمل - ما استطعت - بإذن الله على توضيحها، وتوضيح شقيقتها العصرية (الاشتراكية الشيوعية) فإنها نبتت من بذرتها وأصلها، واتحدت معها في المبادئ والغايات، فهما كما قال القائل القديم:
فإن لم تكنه أو يكنها فإنه
… أخوها غذته أمه بلبانها
سأعمل على توضيح ذلك حتى يدرك الواقف على هذا الكتاب مدى شرورها وآثامها، ومفاسدها ومكائدها، وما نشرته في زمانها من فوضى في الأموال والأعراض، الأمر الذي تألم منه العقلاء في وقتها، ولم يتنفسوا الصعداء، ولم يستريحوا من كيدها إلا بعد أن قضي عليها، فطهرت الأرض من رجسها، بعد أن دنست بأفعال (مزدك وجماعته) الفظيعة والمنكرة، وسأدعم مما أقوله بأقوال السابقين، من العلماء والمؤرخين الذين كتبوا عنها وعن الطوائف والنحل الأخرى، كي يتبين خطرها وشرها للعقلاء منا، فإن المتقدمين كشفوها للناس،
প্রথম পরিচ্ছেদ:মজদকবাদ কী??
মজদকবাদ হলো মানুষের উদ্ভাবিত বিভিন্ন মতবাদ বা আদর্শগুলোর মধ্যে একটি; বরং এটি এমন এক দাওয়াত যা মানুষকে ইবলিসের সেই আহ্বানের দিকেই ডাকে যা সে ইতিপূর্বে দিয়েছিল। এটি একটি (সংস্কারবাদী) আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়, যেমনটি এর প্রবর্তক বলেছেন
... তার বর্ণনা মতে এর উদ্দেশ্য হলো—তার দাবি অনুযায়ী—পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা ছড়িয়ে দেওয়া। এর পাশাপাশি এটি তার অনুসারী ও এর মূলনীতিতে বিশ্বাসী ও অনুসারীদের এ বিষয়ে বাধ্য করে যে: তারা যেন নিজেদের মধ্য থেকে সকল প্রকার ভেদাভেদ ও বিশেষত্বের অবসান ঘটায়। ফলে তাদের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকবে না এবং তাদের কেউ অন্য ভাইয়ের ওপর কোনো প্রকার বিশেষ সুবিধা পাবে না, এমনকি সহজাত বিশেষত্ব—যেমন সম্ভ্রম ও সম্মানের ক্ষেত্রেও নয়। সুতরাং মজদকবাদীদের নিকট কোনো সম্ভ্রম নেই, নেই কোনো সম্মান কিংবা আত্মমর্যাদাবোধ—অথচ আত্মমর্যাদাবোধ এমন এক সহজাত প্রবৃত্তি যা এমনকি অবোধ প্রাণীদের মাঝেও বিদ্যমান—যেমনটি উচ্চমনা ব্যক্তিদের নিকট সুপরিচিত।
আমি ইনশাআল্লাহ যথাসাধ্য এর স্বরূপ এবং এর সমসাময়িক সহোদরা (সমাজতান্ত্রিক কমিউনিজম)-এর স্বরূপ স্পষ্ট করার চেষ্টা করব। কেননা এটি সেই বীজ ও মূল থেকেই অঙ্কুরিত হয়েছে এবং এর মূলনীতি ও লক্ষ্যের ক্ষেত্রে উভয়েই অভিন্ন। তারা ঠিক যেন প্রাচীন কবির সেই বাণীর মতো:
যদি তা এটি না হয় বা এটি তা না হয়, তবে অবশ্যই এটি তার
... ভ্রাতা, যাকে তার জননী স্বীয় দুগ্ধে লালন করেছেন
আমি এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে সচেষ্ট হব যাতে এই কিতাব পাঠকারী এর অনিষ্টতা, পাপাচার, ধ্বংসযজ্ঞ ও ষড়যন্ত্রের গভীরতা অনুধাবন করতে পারে এবং এটি তার সমসাময়িককালে সম্পদ ও সম্ভ্রমের ক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়েছিল তা বুঝতে পারে। তৎকালীন বিবেকবান মানুষেরা এতে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন এবং একে নির্মূল করার আগে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেননি কিংবা এর চক্রান্ত থেকে রেহাই পাননি। অতঃপর পৃথিবী এর অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হয়, যা (মজদক ও তার অনুসারীদের) জঘন্য ও নিন্দনীয় (منكرة) কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কলুষিত হয়েছিল। আমি আমার আলোচনার সমর্থনে পূর্ববর্তী আলেম ও ঐতিহাসিকগণের বক্তব্য পেশ করব যারা এই দল ও অন্যান্য মতবাদ সম্পর্কে লিখেছেন, যাতে আমাদের মধ্যকার সচেতন ব্যক্তিদের নিকট এর বিপদ ও অনিষ্টতা স্পষ্ট হয়। কেননা পূর্ববর্তীগণ মানুষের সামনে একে উন্মোচিত করে গিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فهتكوا سترها الذي تسترت به، وفضحوا حيلها ومكائدها، وحذروا بذلك عقلاء الناس من أمرها، حتى لا ينخدعوا بدعوتها التي جعلتها وسيلة لنيل مرادها وما ترمي إليه، من إلحاد في الدين وفساد للعقيدة، وشر في الأرض.
إذن ما هي إشتراكية مزدك
… ؟
تعتمد (المزدكية) أو إشتراكية مزدك على عنصرين اثنين هامين في حياة الفرد والأمة، هما عنصر المال، وعنصر المرأة، لهذا نجده - كما نجد من سلك سبيله - فتح ثلمتين في حصن الفرد والأمة، نفذ منهما إلى قلب الفرد والأمة، ومن استولى على المال والمرأة
… فقد استولى على كل شيء، وسخر كل شيء في سبيل أغراضه ومطامحه، واتبعه لذلك أكثر الناس، لأن الأكثرية من الناس تقدم - في الاعتبار - هذين العنصرين على ما سواهما.
هذا هو الأساس الذي أرسى عليه (مزدك) بنيان دعوته إلى اشتراكيته.
الفصل الثاني: من ابتدعها؟
مبتدع هذه النحلة، أو الدعوة، أو المذهب - بل مجددها لأنها قديمة - رجل مجوسي من مجوسيي الفرس ادعى النبوة، وجاء بهذه النحلة أو المذهب، على أنها شريعة من الله أرسلها إلى عباده بواسطته هو، واسم هذا الرجل (مزدق بن بامداذ) والفرس يبدلون القاف كافا، فينطقون به (مزدك)، وادعى أن الله أمره هو ومن اتبعه بالعمل بها، فإذا عملوا بشريعته كان لهم الثواب الكثير والأجر العظيم.
هذا (النبي) صاحب هذه الشريعة هو مزدك كما قلنا آنفا، وإليه تنسب نحلته فيقال لها: (المزدكية).
متى ظهرت هذه النحلة؟
ظهرت هذه النحلة - حسبما ذكره المؤرخون - سنة (484) ميلادية. ومزدك هذا إذا قلت أنه شيطان، بل هو من أكبر شياطين الإنس لم أكن - حقا - من المبالغين أو المخطئين، فهو شيطان - ذكي - علم أن الناس ينقادون إليه بيسر، ويقبلون على شريعته برغبة، ويعملون بها بسرعة وبدون تردد، إذا هو جاءهم بشريعة توافق ما تميل إليه النفس البشرية، فتبيح لهم الشهوات
তারা তার সেই আবরণ উন্মোচন করে দিয়েছেন যার মাধ্যমে সে নিজেকে আবৃত রেখেছিল এবং তার চক্রান্ত ও কূটকৌশলসমূহ ফাঁস করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে তার কার্যকলাপ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, যাতে তারা তার সেই দাওয়াতের মাধ্যমে প্রতারিত না হয় যেটিকে সে তার স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম বানিয়েছিল। তার লক্ষ্য ছিল দ্বীনের মধ্যে ধর্মহীনতা (إلحاد), আকিদার (عقيدة) বিপর্যয় এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করা।
তাহলে মজদকের সমাজতন্ত্র কী
… ?
মজদকবাদ (المزدكية) বা মজদকের সমাজতন্ত্র ব্যক্তি ও জাতির জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপর নির্ভরশীল; তা হলো সম্পদ এবং নারী। একারণেই আমরা তাকে দেখি—যেমনটি তার পথ অনুসরণকারীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়—সে ব্যক্তি ও জাতির দুর্গে দুটি ফাটল সৃষ্টি করেছে এবং সেই ছিদ্রপথে উভয়ের হৃদয়ে প্রবেশ করেছে। যে ব্যক্তি সম্পদ ও নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে
… সে যেন সবকিছুর ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং সবকিছুকে তার উদ্দেশ্য ও লালসার বশীভূত করেছে। এই কারণেই অধিকাংশ মানুষ তার অনুসরণ করেছে, কেননা অধিকাংশ মানুষ অন্য সবকিছুর তুলনায় এই দুটি উপাদানকেই অধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।
এটিই সেই ভিত্তি যার ওপর মজদক তার সমাজতান্ত্রিক দাওয়াতের ইমারত নির্মাণ করেছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কে এটি উদ্ভাবন (ابتدع) করেছেন?এই ভ্রান্ত মতবাদ (نحلة), দাওয়াত বা মাযহাবের উদ্ভাবক (مبتدع) —বরং এর পুনর্জীবনদানকারী কারণ এটি অনেক প্রাচীন—ছিলেন পারস্যের অগ্নিপূজকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি যিনি নবুওয়তের দাবি করেছিলেন। তিনি এই ভ্রান্ত মতবাদ (نحلة) বা মাযহাবকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি প্রেরিত একটি শরীয়ত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন যা তার মাধ্যমে প্রেরিত হয়েছে। এই লোকটির নাম ছিল মজদক বিন বামদাদ এবং পারস্যবাসীরা ‘ক্বাফ’ বর্ণকে ‘কাফ’ দ্বারা পরিবর্তন করে উচ্চারণ করে, ফলে তারা তাকে ‘মজদক’ বলে ডাকত। সে দাবি করত যে, আল্লাহ তাকে এবং তার অনুসারীদের এই বিধান অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন; যদি তারা তার শরীয়ত অনুযায়ী আমল করে, তবে তাদের জন্য প্রচুর সওয়াব ও মহা প্রতিদান রয়েছে।
এই শরীয়তের প্রবক্তা এই (নবী) হলেন মজদক, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বলেছি। তার নামানুসারেই এই মতবাদটির নামকরণ করা হয়েছে মজদকবাদ (المزدكية)।
এই ভ্রান্ত মতবাদটি (نحلة) কখন আত্মপ্রকাশ করেছিল?
ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই ভ্রান্ত মতবাদটি (نحلة) ৪৮৪ খ্রিস্টাব্দে আবির্ভূত হয়েছিল। এই মজদক সম্পর্কে যদি আমি বলি যে সে একজন শয়তান, বরং সে মানব শয়তানদের মধ্যে অন্যতম বড় শয়তান, তবে আমি মোটেও অত্যুক্তি বা ভুল করব না। সে ছিল একজন চতুর শয়তান—সে জানত যে মানুষ খুব সহজেই তার অনুগত হবে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার শরীয়ত গ্রহণ করবে এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা পালন করবে, যদি সে তাদের কাছে এমন কোনো শরীয়ত নিয়ে আসে যা মানুষের প্রবৃত্তির সাথে মিলে যায় এবং তাদের জন্য কামলিপ্সাকে বৈধ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والملذات، بل ويرضى عنهم الله تعالى - حسب دعواه - ويثيبهم على أفعالهم تلك إذا هم اتبعوا شريعة مزدك.
وشريعة (مزدك) كما تقدم مبنية على عنصرين هامين في الحياة البشرية:
(1) عنصر المال و (2) عنصر المرأة، أما العنصر الأول وهو (المال) فهو قدر مشترك بين أتباع هذه الشريعة، فلا يختص أي واحد منهم بأي شيء من المال، فكل الأتباع فيه شركاء، فلا يتميز واحد منهم بدار، أو ببستان، وهكذا فأين وجد الواحد من أتباعه دارا أو غيرها أخذها ودخلها واستولى عليها، لأن شريعة مزدك تبيح له ذلك.
وأما العنصر الثاني - في المزدكية - وهو (النساء) فقد أباحت شريعته لأتباعها جميع النساء، فلا يختص رجل بامرأة، ولا تختص امرأة برجل معين، فكل المزدكيين شركاء في نسائهم.
هذه خلاصة شريعة (مزدك) المجوسي الذي كان يعيش في الربع الأخير من القرن الخامس وبداية القرن السادس المسيحي، أي قبل ولادة الرسول محمد صلى الله عليه وسلم، كما مر قريبا.
توضيح دعوته:
قال هذا النبي الفاجر الكذاب: (رأيت الناس إنما تكون بينهم الخصومات والأحقاد، بل وحتى القتال والحروب - من أجل الأموال والنساء - لهذا رأيت أن أزيل من بينهم الأسباب التي تؤدي بهم إلى الخلاف والخصام والعداوة والقتال. من أجل هذا يجب أن نزيل الأسباب حتى لا تكون المسببات، ومن العداوة والخصام تكون الحروب بين الناس، من أجل ذلك يجب أن يعيش الناس كلهم في اتفاق وأخوة وسلام.
فشريعته كما رأيناها من خلال دعوته فكرة شيطانية، تفسد المجتمع الذي تطبق فيه، فتفسد أخلاقه وتجعله مجتمعا إباحيا حيوانيا كسولا، لا قيمة له بين الشعوب في الأرض، بل إن شريعته على العكس مما قال، تقوي العداوة بين الناس لا أنها تزيلها وتقضي عليها كما زعم زعيمها.
وقد وجد أصحاب الشهوات البهيمية في هذه الشريعة الإباحية، والكسالى الذين لا يحبون أن يعملون ليكسبوا كما يعمل غيرهم ويكسب، كما وجد
এবং ভোগবিলাস, বরং আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন - তার দাবি অনুযায়ী - এবং তিনি তাদের এই সকল কাজের জন্য পুরস্কৃত করবেন যদি তারা মজদকের শরিয়ত অনুসরণ করে।
আর মজদকের (মজদক) শরিয়ত ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি মানবজীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:
(১) সম্পদের উপাদান এবং (২) নারীর উপাদান। প্রথম উপাদান অর্থাৎ (সম্পদ) এই শরিয়তের অনুসারীদের মাঝে একটি সাধারণ অংশীদারিত্বের বিষয়। তাদের কেউ কোনো বিশেষ সম্পদের মালিক হবে না, বরং সমস্ত অনুসারী এতে অংশীদার। তাদের কেউ বাড়ি বা বাগানের মাধ্যমে বিশেষত্ব লাভ করবে না। একইভাবে তার অনুসারীদের কেউ যেখানেই কোনো বাড়ি বা অন্য কিছু পাবে, সেটি সে গ্রহণ করবে, তাতে প্রবেশ করবে এবং দখল করে নিবে; কারণ মজদকের শরিয়ত তাকে এর অনুমতি দেয়।
আর দ্বিতীয় উপাদান—মজদকবাদে—তা হলো (নারী)। তার শরিয়ত অনুসারীদের জন্য সকল নারীকে বৈধ করে দিয়েছে। সুতরাং কোনো পুরুষ কোনো নির্দিষ্ট নারীর জন্য নির্দিষ্ট থাকবে না, এবং কোনো নারী কোনো নির্দিষ্ট পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে না। বরং সমস্ত মজদকপন্থী তাদের নারীদের ক্ষেত্রে অংশীদার।
এটি ছিল অগ্নিউপাসক মজদকের শরিয়তের সারসংক্ষেপ, যে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশ এবং ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুতে জীবিত ছিল। অর্থাৎ রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের কিছুকাল আগে, যেমনটি সম্প্রতি উল্লেখ করা হয়েছে।
তার দাওয়াতের ব্যাখ্যা:
এই পাপাচারী ও চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) নবী দাবিদার বলেছিল: (আমি দেখেছি যে মানুষের মধ্যে বিবাদ ও বিদ্বেষ, এমনকি লড়াই ও যুদ্ধ কেবল সম্পদ এবং নারীর জন্যই হয়ে থাকে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তাদের মধ্য থেকে সেই সব কারণ দূর করে দেব যা তাদের মতভেদ, বিবাদ, শত্রুতা ও লড়াইয়ের দিকে নিয়ে যায়। এ জন্য আমাদের কারণগুলো দূর করতে হবে যাতে ফলাফলগুলো প্রকাশ না পায়। আর শত্রুতা ও বিবাদ থেকেই মানুষের মধ্যে যুদ্ধ সৃষ্টি হয়, এ কারণে সমস্ত মানুষের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তিতে বসবাস করা উচিত।
সুতরাং তার শরিয়ত, যেমনটি আমরা তার দাওয়াতের মাধ্যমে দেখেছি, একটি শয়তানি চিন্তা। এটি যে সমাজে বাস্তবায়িত হয় তাকে কলুষিত করে, তার চরিত্র নষ্ট করে এবং তাকে একটি অবাধ যৌনাচারী, পশুতুল্য ও অলস সমাজে পরিণত করে, যার পৃথিবীর জাতিসমূহের মাঝে কোনো মূল্য থাকে না। বরং তার শরিয়ত সে যা বলেছে তার ঠিক উল্টো; এটি মানুষের মধ্যে শত্রুতাকে আরও শক্তিশালী করে, তা দূর বা নির্মূল করে না যেমনটি এর নেতা দাবি করেছিল।
পাশবিক লালসার অধিকারী ব্যক্তিরা এবং অলসরা—যারা অন্যদের মতো কাজ করে উপার্জন করতে পছন্দ করে না—তারা এই অবাধ শরিয়তের মধ্যে অবকাশ খুঁজে পেয়েছে, যেমনটি খুঁজে পেয়েছে
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فيها الفجار والفساق - ضالتهم المنشودة - وجد كل هؤلاء بغيتهم وما تشتهيه نفوسهم الخبيثة في هذه الشريعة الخبيثة.
فالرجل لا يتعب نفسه في كسب المال والكد من أجل تحصيله، فالناس يتعبون وهو يجد ما يريد من غير تعب، كذلك لا يكلف نفسه نفقة الزوجة والأولاد، بل يكفيه أن يتبع (مزدك) فكل امرأة تعلقت رغبته بها فهي مباحة له حلال عليه - حسب شريعة مزدك - فكانت دعوته إلى شريعته مقبولة عند السفهاء والفساق والفجار، وعند الكسالى والعاطلين، فانتشرت دعوته بسرعة - لأنها شيطانية - وكثر أتباعه كثرة عظيمة، حتى اضطر ملك البلاد (كسرى) كما يلقب الفرس الساسانيون ملوكهم بهذا اللقب - إلى أتباعه خوفا على ضياع كرسيه، واسم كسرى هذا الذي آمن بـ (مزدك) واتبعه فيما دعا إليه: (قباذ بن فيروز) - بضم القاف، وأجبر على اتباعه لأنه بقي في قلة من أهل الشرف والمروءة والأنفة والحمية، ذلك أن مزدك هدده وتوعده بالخلع عن كرسيه وإبعاده عن العرش الكسروي إذا هو لم يؤمن به ويتبع شريعته، فاتبعه، الملك مضطرا، وذلك سنة (488) م وصارت الشريعة المزدكية شريعة الملك - بدخوله فيها وقبوله لها - معترفا بها من قبل القصر الكسروي، فلحق الناس منها عار عظيم لم يمح بقتل مزدك كما سيأتي، بل بقي مكتوبا ومسجلا في التاريخ إلى يوم الناس.
الفصل الثالث: أين نبتت شجرتها؟
ظهر مما ذكر آنفا أن الأرض التي نبتت فيها هذه الشجرة الخبيثة كانت أرض الفرس - بلاد العجم - وسكانها كانوا وثنيين، لهم معبودات شتى من بيوت النار وغيرها، كما كانت لهم شرائع يدينون بها كشريعة (زرادشت) وغيرها، واستمر عملهم بهذه الشرائع أحقابا طويلة إلى أن أنقذهم الله من وثنيتهم تلك بشريعة الإسلام، شريعة التوحيد الخالص، ففتحت أرضهم ودخلها الإسلام في خلافة الفاروق عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ولا زالت إلى الآن دار إسلام كسائر بلاد الإسلام.
فبعد أن عرفنا شيئا عن هذه النحلة، نرى لزاما علينا أن نأتي هنا بما قاله علماء التاريخ الذين قصوا علينا أخبار هذه الفرقة الضالة، وتتبعوا في جميع مراحلها وأطوارها، كي نزداد بها وبأختها (الاشتراكية) معرفة، ومنها فرارا ويقظة وحذرا.
পাপাচারী ও দুরাচারীরা সেখানে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছিল - এই অপবিত্র শরিয়তের মাঝে তারা তাদের উদ্দেশ্য এবং তাদের কলুষিত আত্মার কামনা-বাসনা খুঁজে নিয়েছিল।
ফলে একজন ব্যক্তিকে অর্থ উপার্জনে নিজেকে ক্লান্ত করতে হতো না বা তা অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো না; যেখানে সাধারণ মানুষ পরিশ্রম করে, সেখানে সে বিনা পরিশ্রমে তার যা প্রয়োজন তা পেয়ে যেত। একইভাবে তাকে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নিতে হতো না। বরং তার জন্য (মজদক)-এর অনুসরণ করাই যথেষ্ট ছিল; যে নারীর প্রতিই তার আসক্তি জন্মাত, মজদকের শরিয়ত অনুযায়ী সে নারী তার জন্য বৈধ ও হালাল ছিল। ফলে তার এই শরিয়তের দাওয়াত নির্বোধ, পাপাচারী ও দুরাচারী এবং অলস ও বেকারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিল। এভাবে তার দাওয়াত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে - কারণ এটি ছিল শয়তানি চাল - এবং তার অনুসারীদের সংখ্যা বিপুলভাবে বৃদ্ধি পায়। এমনকি দেশের রাজা (কিসরা) - সাসানীয় পারসিকরা তাদের রাজাদের এই উপাধিতে ডাকত - তার সিংহাসন হারানোর ভয়ে তার অনুসরণ করতে বাধ্য হন। মজদকের প্রতি ঈমান আনয়নকারী এবং তার দাওয়াতের অনুসারী এই কিসরার নাম ছিল: (কুবাদ বিন ফিরোজ) - ক্বাফ অক্ষরে পেশ যোগে। তিনি মজদকের অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন কারণ সম্ভ্রান্ত, পৌরুষদীপ্ত, আত্মমর্যাদাশীল এবং তেজোদীপ্ত মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত কমে গিয়েছিল। উপরন্তু মজদক তাকে হুমকি দিয়েছিল যে, যদি সে ঈমান না আনে এবং তার শরিয়ত অনুসরণ না করে, তবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে এবং কিসরাীয় সিংহাসন থেকে বিতাড়িত করা হবে। ফলস্বরূপ, রাজা বাধ্য হয়ে ৪৮৮ খ্রিস্টাব্দে মজদকের অনুসরণ করেন এবং মজদকী শরিয়ত রাজকীয় শরিয়তে পরিণত হয় - রাজার এতে দীক্ষিত হওয়া ও গ্রহণের মাধ্যমে - যা কিসরাীয় রাজপ্রাসাদ কর্তৃক স্বীকৃত হয়। এর ফলে জনগণের ওপর এক চরম লজ্জা নেমে আসে, যা মজদকের হত্যার মাধ্যমেও মুছে যায়নি, বরং তা ইতিহাসের পাতায় আজও লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত হয়ে আছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই বৃক্ষটি কোথায় জন্মলাভ করেছিল?উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যে ভূমিতে এই অপবিত্র বৃক্ষটি জন্ম নিয়েছিল তা ছিল পারস্য ভূমি - অনারব দেশ - এবং এর অধিবাসীরা ছিল মূর্তিপূজারি। তাদের আগুনের উপাসনালয়সহ বিভিন্ন উপাস্য ছিল। তাদের নিজস্ব কিছু শরিয়তও ছিল যার তারা অনুসরণ করত, যেমন: (জরথুস্ত্র)-এর শরিয়ত ইত্যাদি। তারা দীর্ঘকাল ধরে এই সব বিধান মেনে আসছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাদের সেই মূর্তিপূজা থেকে ইসলামের শরিয়ত তথা বিশুদ্ধ তাওহিদের বিধানের মাধ্যমে উদ্ধার করেন। ফলে তাদের দেশ বিজিত হয় এবং ফারুক উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে সেখানে ইসলামের প্রবেশ ঘটে। আজও তা অন্যান্য মুসলিম দেশের ন্যায় দারুল ইসলাম হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।
এই গোষ্ঠী সম্পর্কে কিছু জানার পর, আমরা এখন ইতিহাসবিদদের বর্ণনা এখানে উল্লেখ করা জরুরি মনে করছি, যারা এই বিভ্রান্ত (ضالة) দলের সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এর প্রতিটি পর্যায় ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন; যাতে আমরা এই গোষ্ঠী এবং এর ভগিনী মতবাদ (সমাজতন্ত্র) সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান লাভ করতে পারি এবং এ থেকে পলায়ন, সজাগ ও সতর্ক থাকতে পারি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الباب الثانيأقوال علماء التاريخ في المزدكية وفي دعوتها
দ্বিতীয় অধ্যায়মজদাকবাদ এবং এর দাওয়াত সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের অভিমতসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأول:1 - تعريف الشهرستاني لمزدك ونحلته.
جاء في كتاب (الملل والنحل) للشهرستاني عند الكلام على هذه النحلة قوله:
(هو مزدك الذي ظهر في أيام - قباذ والد أنوشروان - ودعا قباذ إلى مذهبه فأجابه، واطلع أنوشروان على خزيه وافترائه فطلبه فوجده فقتله) وجاء فيه أيضا: (وكان مزدك ينهي الناس عن المخالفة والمباغضة والقتال، ولما كان أكثر ذلك إنما يقع بسبب النساء والأموال، فأحل النساء وأباح الأموال، وجعل الناس شركة فيهما كاشتراكهم في الماء والنار والكلاء (1).
2 - تعريف المسعودي:
ورد في كتاب (مروج الذهب ومعادن الجوهر) للمسعودي عند كلامه على ملوك الفرس قوله: (ثم ملك قباذ بن فيروز، وفي أيامه ظهر (مزدك) الزنديق، وإليه تنسب (المزدكية) وله أخبار مع قباذ، وما أحدثه في العامة من النواميس والحيل، إلى أن قتله أنوشروان في ملكه) وزاد على ما تقدم فقال: (ولما ملك أنوشروان قتل مزدك وأتبعه بثمانين ألفا من أصحابه) (2) وسيأتي بيان أوسع من هذا يوضح كيف قبل الملك (قباذ) الدخول في مذهبه، وكيف توصل كسرى أنوشروان بن قباذ إلى قتل هذا الزنديق المفسد.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়:১ - মজদক এবং তার মতবাদ সম্পর্কে শাহরাস্তানির সংজ্ঞা।
শাহরাস্তানি রচিত (আল-মিলাল ওয়ান নিহাল) গ্রন্থে এই মতবাদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে:
(তিনি হলেন সেই মজদক, যিনি আনুশিরওয়ানের পিতা কুবাদ-এর শাসনামলে আবির্ভূত হন এবং কুবাদকে তার মতবাদের দিকে আহ্বান জানান। কুবাদ তাতে সাড়া দেন। পরবর্তীতে আনুশিরওয়ান তার অপকর্ম ও মিথ্যাচার সম্পর্কে জানতে পেরে তাকে খোঁজ করেন এবং খুঁজে পেয়ে তাকে হত্যা করেন।) তাতে আরও বলা হয়েছে: (মজদক মানুষকে বিরোধ, বিদ্বেষ এবং লড়াই-সংগ্রাম থেকে নিষেধ করতেন। যেহেতু এসবের অধিকাংশ ঘটনা নারী ও সম্পদের কারণে ঘটে থাকে, তাই তিনি নারীদের অবাধ ব্যবহার এবং সম্পদকে বৈধ করে দেন। তিনি এ দুটিতে মানুষের অংশীদারত্বকে পানি, আগুন ও তৃণাচ্ছাদিত ভূমিতে তাদের অংশীদারত্বের মতো সাব্যস্ত করেন (১)।
২ - মাস'উদির সংজ্ঞা:
মাস'উদি রচিত (মুরুজুজ জাহাব ওয়া মা'আদিনুল জাওহার) গ্রন্থে পারস্য সম্রাটদের সম্পর্কে আলোচনার সময় বর্ণিত হয়েছে: (অতঃপর কুবাদ বিন ফিরুজ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার শাসনামলে জিন্দিক (زنديق) মজদকের আবির্ভাব ঘটে এবং তার নামানুসারেই মজদকিয়া (المزدكية) মতবাদটির নামকরণ করা হয়েছে। কুবাদের সাথে তার অনেক ঘটনা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি যেসব নীতি ও কৌশল চালু করেছিলেন তাও আলোচিত হয়েছে। অবশেষে আনুশিরওয়ান তার রাজত্বকালে তাকে হত্যা করেন।) তিনি পূর্বের আলোচনার সাথে যোগ করে আরও বলেন: (যখন আনুশিরওয়ান ক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি মজদককে হত্যা করেন এবং তার সাথে তার আশি হাজার অনুসারীকেও হত্যা করেন) (২)। সামনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বিবরণ আসবে, যা স্পষ্ট করবে যে কীভাবে রাজা কুবাদ তার মতবাদে প্রবেশ করতে রাজি হয়েছিলেন এবং কীভাবে কিসরা আনুশিরওয়ান বিন কুবাদ এই ফাসাদ সৃষ্টিকারী জিন্দিককে (زنديق) হত্যার পথ খুঁজে পেয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
معنى أنوشروان:
ولما قتل كسرى أنوشروان (مزدك) وأراح منه ومن شره البلاد والعباد، اجتمع الكهان وخلعوا على الملك هذا اللقب (أنوشروان) شكرا له وتقديرا لما فعل بمزدك وجماعته المفسدين في الأرض، ومن ذلك الوقت صار يدعى (كسرى أنوشروان) ومعناه بالعربية - الروح الخالدة، أو مجدد الملك - لأنه أعاد للأمة الفارسية - ذات الحضارة القديمة - ما كانت أضاعته من أراضيها في أيام الملوك المتقدمين عليه، فجمع ملكها الكبير بعد شتات استمر أزمانا.
3 - ما قاله المؤرخ الطبري:
وذكر المؤرخ الطبري - مبينا دعوة مزدك - ما يلي: (قال مزدك وأصحابه إن الله إنما جعل الأرزاق في الأرض ليقسمها العباد بينهم بالتآسي، ولكن الناس تظالموا فيها، وزعموا - يقصد مزدك وجماعته - أنهم يأخذون للفقراء من الأغنياء، ويردون من المكثرين على المقلين، وأنه من كان عنده فضل من الأموال والنساء والأمتعة فليس هو بأولى به من غيره، فافترص السفلة (1) ذلك واغتنموه، وكانفوا (2) مزدك وأصحابه وشايعوهم، فابتلي الناس بهم وقوي أمرهم، حتى كانوا يدخلون على الرجل في داره فيغلبونه على منزله، ونسائه، وأمواله، لا يستطيع الامتناع منهم، وحملوا قباذ على ذلك، وتوعدوه بخلعه، فلم يلبثوا إلا قليلا حتى صاروا لا يعرف الرجل منهم ولده، ولا المولود أباه، ولا يملك الرجل شيئا مما يتسع به، وصيروا قباذ في مكان لا يصل إليه أحد سواهم) (3).
وهكذا في كل زمان ومكان من قديم الزمان إلى يومنا هذا، إذا أحاطت حاشية السوء والفساق بالملوك - ومن كان في منزلتهم - فإنهم يحولون
--------------------------------------------
আনুশিরওয়ান শব্দের অর্থ:
যখন কিসরা আনুশিরওয়ান মাজদাককে হত্যা করলেন এবং দেশ ও জনগণকে তার এবং তার অনিষ্ট থেকে মুক্তি দিলেন, তখন পুরোহিতগণ সমবেত হলেন এবং মাজদাক ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী তার দলের বিরুদ্ধে রাজার গৃহীত পদক্ষেপের কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই 'আনুশিরওয়ান' উপাধিতে ভূষিত করলেন। সেই সময় থেকেই তিনি 'কিসরা আনুশিরওয়ান' নামে অভিহিত হতে থাকেন, আরবিতে যার অর্থ হলো—'অমর আত্মা' অথবা 'সাম্রাজ্যের পুনর্জীবক'। কারণ তিনি প্রাচীন সভ্যতাসমৃদ্ধ পারস্য জাতির হারিয়ে যাওয়া সেইসব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছিলেন যা তাঁর পূর্বসূরি রাজাদের আমলে হাতছাড়া হয়েছিল; ফলে দীর্ঘকাল বিচ্ছিন্ন থাকার পর তিনি বিশাল সাম্রাজ্যকে পুনরায় একত্রিত করেছিলেন।
৩ - ঐতিহাসিক তাবারী যা বলেছেন:
ঐতিহাসিক তাবারী মাজদাকের আহ্বানের স্বরূপ বর্ণনা করে যা উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ: (মাজদাক ও তার সঙ্গীরা বলেছিল যে, আল্লাহ জমিনে রিজিক দান করেছেন যাতে বান্দারা সমতার ভিত্তিতে তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়, কিন্তু মানুষ এক্ষেত্রে একে অপরের ওপর জুলুম করেছে। মাজদাক ও তার অনুসারীরা দাবি করত—যেহেতু তারা দরিদ্রদের জন্য ধনীদের থেকে সম্পদ গ্রহণ করছে এবং অভাবীদের জন্য প্রাচুর্যশালীদের থেকে সম্পদ ফিরিয়ে দিচ্ছে—যে ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত সম্পদ, নারী বা আসবাবপত্র রয়েছে, সে অন্য মানুষের চেয়ে সেগুলোর অধিক হকদার নয়। এই সুযোগটি নিম্নশ্রেণীর (১) লোকেরা গ্রহণ করল এবং তারা মাজদাক ও তার সঙ্গীদের সাথে একাত্মতা (২) পোষণ করে তাদের সমর্থন দিল। ফলে মানুষ তাদের দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হলো এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, তারা কোনো ব্যক্তির ঘরে ঢুকে তার বাড়ি, নারী ও সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করত এবং সেই ব্যক্তির তাদের বাধা দেওয়ার কোনো ক্ষমতা থাকত না। তারা রাজা কুব্বাদকেও এ কাজে বাধ্য করল এবং তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করার হুমকি দিল। অল্প কিছুকাল যেতে না যেতেই অবস্থা এমন হলো যে, কোনো ব্যক্তি তার সন্তানকে চিনত না এবং কোনো সন্তান তার পিতাকে চিনত না। কোনো ব্যক্তির মালিকানায় জীবনধারণের মতো কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকল না। এমনকি তারা কুব্বাদকে এমন এক স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখল যেখানে তারা ছাড়া আর কেউ পৌঁছাতে পারত না) (৩)।
এভাবেই প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিটি যুগে ও স্থানে যখনই মন্দ পারিষদবর্গ এবং পাপাচারীগণ (فساق) রাজা-বাদশাহ ও তাঁদের সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ঘিরে ধরে, তখন তারা পরিস্থিতি বদলে দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بينهم وبين ذوي الحاجات من عامة الناس، فلا يصل إليهم مظلوم ليرفع ظلامته إليهم كي ينصفوه من ظالمه.
4 - تعريف صاحب المنجد في الأدب والعلوم لمزدك:
جاء في منجد العلوم ما يلي: (مزدق رجل إيراني، دعا إلى مذهب غايته نزع الخلاف بين الناس، بجعل الحق في الأموال والنساء مشاعا بينهم، قد نجح سعيه على أيام الملك (قباذ) (488 - 531) مات قتيلا) (1).
كيف اتبع الملك قباذ مزدك؟ ولماذا؟
فقباذ لم يستجب لـ (مزدك) وجماعته إلا بعد أن توعده وهدده بخلعه وإزالته عن عرشه وكرسيه إذا هو لم يتبعهم ويتركهم يعبثون بأموال الناس ونسائهم كما يشاؤون ويبتغون، فقبل - مكرها - واتبعهم على مذهبهم، وبهذا صار المذهب المزدكي مذهب الملك (كسرى) فاكتسب بذلك قوة، وهكذا قوي الباطل باتباع أهل الرأي الصائب له، ولكن إلى حين.
نعود مرة أخرى إلى المؤرخ ابن جرير الطبري، فنجده ذكر في مكان آخر من تاريخه نبذة من أقوال وأفعال هذا الزنديق الذي نشر الفساد والعار في الأرض، فقال: (وكان مما أمر به الناس وزينه لهم وحثهم عليه:
التآسي (2) في أموالهم وأهليهم، وذكر أن ذلك من البر الذي يرضاه الله ويثيب عليه أحسن الثواب، وإنه لو لم يكن الذي أمرهم به وحثهم عليه من الدين كان مكرمة في الفعال، ورضا في التفاوض، فحض بذلك السفلة على العلية، واختلط له أجناس اللؤماء بعناصر الكرماء، وسهل السبيل للغصبة إلى الغصب، وللظلمة إلى الظلم، وللعهار إلى قضاء نهمتهم، والوصول إلى الكرائم اللائي لم يكونوا يطمعون فيهن، وشمل الناس بلاء عظيم لم يكن لهم عهد بمثله (3).
فقد رأينا من خلال هذا التوضيح، أن الفاحشة وانتهاك الحرمات والاعتداء
--------------------------------------------
তাদের এবং সাধারণ মানুষের অভাবী ও দুস্থদের মাঝে (প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো), ফলে কোনো অত্যাচারিত ব্যক্তি তার ওপর ঘটা অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য তাদের পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না যাতে তারা তাকে জালেমের হাত থেকে ইনসাফ পাইয়ে দিতে পারে।
৪ - মাজদাক সম্পর্কে 'আল-মুঞ্জিদ ফিল আদাব ওয়াল উলূম'-এর লেখকের বর্ণনা:
মুঞ্জিদ আল-উলূম-এ নিম্নোক্ত বর্ণনা এসেছে: (মাজদাক ছিলেন একজন ইরানি ব্যক্তি, তিনি এমন এক মতবাদের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন যার লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যকার বিবাদ নিরসন করা; আর তা ছিল সম্পদ ও নারীদের ওপর অধিকারকে সবার মাঝে উন্মুক্ত ও অংশীদারিত্বমূলক করার মাধ্যমে। রাজা কুবাদ (৪৮৮ - ৫৩১)-এর শাসনামলে তার এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছিল। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে মারা যান) (১)।
রাজা কুবাদ কীভাবে এবং কেন মাজদাকের অনুসারী হয়েছিলেন?
কুবাদ (মাজদাক) ও তার দলের আহ্বানে সাড়া দেননি যতক্ষণ না তাকে এই বলে সতর্ক ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, যদি সে তাদের অনুসরণ না করে এবং সাধারণ মানুষের ধন-সম্পদ ও নারীদের নিয়ে তাদের ইচ্ছামতো ছিনিমিনি খেলতে না দেয়, তবে তাকে তার রাজসিংহাসন ও ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত করা হবে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে তা গ্রহণ করেন এবং তাদের মতবাদের অনুসারী হন। এভাবেই মাজদাকি মতবাদ রাজা (কিসরা)-এর মতবাদে পরিণত হয় এবং এর মাধ্যমে তা শক্তি অর্জন করে। এভাবেই সঠিক বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুসরণের মাধ্যমে বাতিল শক্তি শক্তিশালী হয়, তবে তা কেবল কিছু সময়ের জন্য।
আমরা পুনরায় ঐতিহাসিক ইবনে জারির তাবারির বর্ণনার দিকে ফিরে যাই। আমরা দেখতে পাই তিনি তার ইতিহাসের অন্য এক স্থানে এই জিন্দিক (زنديق)-এর কথা ও কাজের কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন, যে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও কলঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন: (তিনি মানুষকে যেসব বিষয়ে আদেশ দিতেন, যা তাদের সামনে সুশোভিত করতেন এবং যে বিষয়ে উৎসাহিত করতেন তার মধ্যে ছিল:
নিজেদের ধন-সম্পদ ও পরিবারের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমতা (২) বজায় রাখা। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, এটি এমন এক পুণ্য কাজ যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং এর বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদান দেবেন। তিনি আরও বলতেন যে, তিনি যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন ও উৎসাহিত করেছেন তা যদি ধর্মের অংশ নাও হতো, তবুও তা কর্মের দিক থেকে হতো মহত্ত্বের এবং পারস্পরিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে সন্তোষজনক। এর মাধ্যমে তিনি নিম্নবিত্তদের উচ্চবিত্তদের বিরুদ্ধে উসকে দেন এবং এর ফলে নিচ প্রকৃতির লোকদের সাথে উচ্চবংশীয়দের সংমিশ্রণ ঘটে। এটি দখলদারদের জন্য জবরদখলের পথ সহজ করে দেয়, জালেমদের জন্য জুলুমের পথ প্রশস্ত করে এবং পাপাচারীদের জন্য তাদের লালসা চরিতার্থ করার ও এমন সব মহীয়সী নারীদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয় যাদের পাওয়ার আশা তারা আগে কখনও করেনি। এর ফলে মানুষের ওপর এমন এক ভয়াবহ বিপদ নেমে আসে যার নজির তাদের আগে কখনও জানা ছিল না (৩)।
আমরা এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেখতে পেলাম যে, অশ্লীলতা, পবিত্রতার অবমাননা এবং সীমালঙ্ঘন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
على كرامة وحرمة الحرائر المصونات، هذا كله يعد قربة وطاعة لله في المذهب المزدكي الشيطاني!!! يا لها من وقاحة وبهتان.
فإذا كانت الفواحش قربة وطاعة فهي - في الحقيقة - للشيطان، فهو الذي يأمر أتباعه بالفواحش ويزينها لهم، ويدعوهم إليها، أما الخالق الحكيم مرسل الرسل الصادقين بالشرائع السماوية الطاهرة حاملة معها قوانين إصلاح البشر وإسعادهم، مبينة لهم الحدود التي لا يجوز للإنسان أن يتعداها ويجاوزها إلى ما وراءها - قلنا أما الخالق الحكيم فحاشاه أن يأمر بالفواحش أو يثيب عليها وهو القائل: {قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} (1).
5 - ما قاله ابن النديم في المزدكية والخرمية:
وهذا ابن النديم يقص علينا في كتابه "الفهرست" عن محمد بن إسحاق من خبر هذا الشيطان المارد ودعوته الخبيثة الفاسدة المفسدة للمجتمع وأخلاقه - تحت عنوان "مذهب الخرمية والمزدكية" - ما يلي: (وهؤلاء أهل مجوس في الأصل، ثم حدث مذهبهم، وهم ممن يعرف بـ "اللقطية"، وصاحبهم مزدك القديم، أمرهم بتناول اللذات والانعكاف على بلوغ الشهوات، والأكل والشرب والمواساة، والاختلاط وترك الاستبداد بعضهم على بعض، ولهم مشاركة في الحرم والأهل، لا يمتنع الواحد منهم من حرمة الآخر، ولا يمنعه، ومع هذه الحال فيرون أفعال الخير، وترك القتل، وإدخال الآلام على النفوس، ولهم مذهب في الضيافات ليس هو لأحد من الأمم، إذا أضافوا الإنسان لم يمنعوه من شيء يلتمسه كائنا ما كان، وعلى هذا المذهب (مزدك الأخير) الذي ظهر في أيام قباذ بن فيروز، وقتله أنوشروان وقتل أصحابه، وخبره مشهور معروف (2).
فالمفهوم مما ذكره ابن النديم أن اسم مزدك سمي به رجلان، أولهما مزدك القديم والثاني مزدك هذا الذي ظهر في أيام الملك (قباذ بن فيروز) والذي قتله أنوشروان بن قباذ عندما ورث عرش أبيه، وسيمر بنا قريبا - إن شاء الله -
--------------------------------------------
সতী-সাধ্বী স্বাধীন নারীদের মর্যাদা ও পবিত্রতার ওপর আঘাত হানা—এই সবকিছুই শয়তানি মজদকি মতবাদে আল্লাহর নৈকট্য ও আনুগত্য হিসেবে গণ্য হয়!!! কী চরম ধৃষ্টতা ও অপবাদ।
যদি অশ্লীলতা আল্লাহর নৈকট্য ও আনুগত্য লাভের মাধ্যম হয়, তবে প্রকৃতপক্ষে তা শয়তানের জন্যই; কারণ সেই তার অনুসারীদের অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়, তাদের সামনে তা সুশোভিত করে এবং তাদের সেদিকে আহ্বান করে। পক্ষান্তরে প্রজ্ঞাবান স্রষ্টা, যিনি সত্যবাদী রাসুলদের পবিত্র আসমানি শরিয়তসহ প্রেরণ করেছেন—যাতে মানবজাতির সংশোধন ও সৌভাগ্যের আইন নিহিত রয়েছে এবং তাদের জন্য সেই সীমারেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যা অতিক্রম করা মানুষের জন্য বৈধ নয়—আমরা বলি, সেই প্রজ্ঞাবান স্রষ্টা অশ্লীলতার নির্দেশ দেওয়া কিংবা তাতে সওয়াব প্রদান করা থেকে পবিত্র। তিনি বলেছেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলছ যা তোমরা জানো না} (১)।
৫ - মজদকি ও খুররামি মতবাদ সম্পর্কে ইবনে নাদিম যা বলেছেন:
ইবনে নাদিম তাঁর "আল-ফিহরিস্ত" গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে এই অবাধ্য শয়তানের সংবাদ এবং সমাজ ও তার নৈতিকতাকে কলুষিতকারী তার নিকৃষ্ট ও ভ্রষ্ট দাওয়াত সম্পর্কে—"খুররামি ও মজদকি মতবাদ" শিরোনামে—যা বর্ণনা করেছেন তা নিম্নরূপ: (এরা মূলত অগ্নিপূজক ছিল, পরে তাদের এই মতবাদের উদ্ভব ঘটে। এদেরকে 'লাকতিয়াহ' নামেও অভিহিত করা হয়। তাদের গুরু প্রাচীন মজদক তাদের ভোগবিলাসে মত্ত হতে, নফসের লালসা পূরণ করতে, পানাহারে লিপ্ত হতে এবং পারস্পরিক সমমর্মিতা, মেলামেশা ও একে অপরের ওপর আধিপত্য ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। নারী ও পরিবারের ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্ব ছিল; তাদের একজন অন্যজনের অন্তঃপুর বা নারীদের ভোগ করতে বাধা দিত না এবং সে নিজেও বাধাগ্রস্ত হতো না। এই অবস্থা সত্ত্বেও তারা নেক কাজ করা, হত্যা পরিহার করা এবং আত্মাকে কষ্ট না দেওয়াকে সঠিক মনে করে। মেহমানদারির ক্ষেত্রে তাদের এমন এক রীতি আছে যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে নেই; তারা যখন কাউকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করে, সে যা কিছু চায় তারা তাকে তা থেকে বাধা দেয় না। এই মতবাদের ওপরই ছিল (পরবর্তী মজদক), যে কুবাজ বিন ফিরোজের আমলে আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং আনুশিরওয়ান তাকে ও তার সঙ্গীদের হত্যা করেছিল। তার কাহিনী প্রসিদ্ধ (مشهور) ও সুবিদিত) (২)।
ইবনে নাদিমের আলোচনা থেকে এটিই স্পষ্ট হয় যে, মজদক নামে দুইজন ব্যক্তি ছিলেন। প্রথমজন হলেন প্রাচীন মজদক এবং দ্বিতীয়জন হলেন সেই মজদক যে রাজা (কুবাজ বিন ফিরোজের) আমলে আবির্ভূত হয়েছিল, যাকে কুবাজের পুত্র আনুশিরওয়ান তার পিতার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়ে হত্যা করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমরা সে সম্পর্কে জানতে পারব—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
زيادة بيان لهذه النقطة، أما دعوتهما فواحدة في هدفها وما ترمي إليه، لم تختلف حسبما أوضحه المؤرخون.
ما هي الخرمية؟
أما الخرمية (1) التي جاءت في عنوان ابن النديم مع المزدكية فقد بينها وأوضح أهدافها الكثيرون ممن كتبوا عن الطوائف والفرق، ونكتفي هنا بما ذكره العالم المستشرق الألماني (يوليوس فلهوزن)، وهو باحث محقق في التاريخ العربي واليهودي والمسيحي، لأنه كان ابن قسيس، وقد درس المسيحية وأجيز فيها.
6 - ما قاله (فلهوزن) في الخرمية والمزدكية:
قال: (أما الخرمية فلم تكن حزبا، بل كانت نزعة إباحية عامة وكان الخرمية - كما يزعمون - لا يرضون عما في الإسلام من نزعة يهودية، أعني أنهم كانوا يعترضون على روح التطهر والتشدد الحزينة في ذلك، فكانوا يريدون أن يجعلوا للطبيعة وللمرح مكانهما في الدين، وهم في ذلك يصلون مذهبهم بالديانة الوثنية التي كانت في بلاد العجم من قبل، ويجوز أنهم كانوا إلى جانب ذلك متأثرين بمبادئ اجتماعية، كانت تلائم ما يطمح إليه الموالي أحسن ملاءمة، ويروى أن الخرمية، والراوندية، قد جددوا الدعوة إلى الشيوعية في النساء، وهي الشيوعية التي كان مزدك قد دعا إليها من قبل) (2).
فقد اتضح من هذا الرأي الذي أبداه العالم الألماني (يوليوس فلهوزن) أمران: 1) أن الشيوعية متفقة مع الخرمية في مقاصدها وأهدافها
--------------------------------------------
এই বিষয়ের আরও বিশদ ব্যাখ্যা হলো, ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী তাদের উভয়ের দাওয়াত বা আহ্বান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে অভিন্ন ছিল এবং তাতে কোনো পার্থক্য ছিল না।
খুররামিয়্যাহ কী?
ইবনে নাদিমের শিরোনামে মাজদাকিয়্যাহর সাথে যে খুররামিয়্যাহ (১) এর উল্লেখ এসেছে, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও উপদল (الطوائف والفرق) সম্পর্কে লেখকগণের অনেকেই তার পরিচয় ও উদ্দেশ্যসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা এখানে জার্মান প্রাচ্যবিদ (ইউলিউস ভেলহাউসেন)-এর বক্তব্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব। তিনি আরব, ইহুদি ও খ্রিস্টান ইতিহাসের একজন অনুসন্ধানী গবেষক (باحث محقق), কারণ তিনি ছিলেন একজন পাদ্রীর পুত্র এবং তিনি খ্রিস্টধর্ম অধ্যয়ন করেছিলেন ও তাতে অনুমতিপ্রাপ্ত (أجيز) হয়েছিলেন।
6 - খুররামিয়্যাহ ও মাজদাকিয়্যাহ সম্পর্কে (ভেলহাউসেন) যা বলেছেন:
তিনি বলেন: (খুররামিয়্যাহ কোনো নির্দিষ্ট দল ছিল না, বরং তা ছিল একটি সাধারণ ভোগবাদী (إباحية) প্রবণতা। খুররামিয়্যাহরা—তাদের দাবি অনুযায়ী—ইসলামের মধ্যে বিদ্যমান ইহুদি সুলভ কঠোরতা পছন্দ করত না; অর্থাৎ তারা ইসলামের পবিত্রতা ও কঠোরতার বিষাদময় চেতনার প্রতি আপত্তি জানাত। তারা ধর্মের মধ্যে প্রকৃতি ও আমোদ-প্রমোদের স্থান নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। এই ক্ষেত্রে তারা তাদের মতবাদকে অনারব ভূখণ্ডে ইতিপূর্বে প্রচলিত পৌত্তলিক ধর্মের সাথে যুক্ত করে। হতে পারে তারা এর পাশাপাশি এমন কিছু সামাজিক আদর্শ দ্বারাও প্রভাবিত ছিল, যা মাওয়ালি (الموالي) দের আকাঙ্ক্ষার সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে গিয়েছিল। বর্ণিত আছে যে, খুররামিয়্যাহ ও রাওয়ান্দিয়াহরা নারীদের ক্ষেত্রে সাম্যবাদের দাবি নতুন করে উত্থাপন করেছিল, যা ইতিপূর্বে মাজদাক প্রচার করেছিলেন) (২)।
জার্মান পন্ডিত (ইউলিউস ভেলহাউসেন) প্রদত্ত এই অভিমত থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: ১) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে সাম্যবাদ খুররামিয়্যাহর সাথে সংগতিপূর্ণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهي الشيوعية في النساء، - 2 - أن الخرمية - أخت للشيوعية. وهما لا يحبان التطهر والتدين، ويريدان أن يجعلا للطبيعة وللمرح مكانهما في الدين، ومن أجل هذا رأينا في البلاد الاشتراكية والشيوعية عناية كبرى بالغناء والرقص بجميع أصنافهما، وصارت الأموال تنفق عليهما من خزينة الدولة بغير حساب مع مسيس الحاجة إلى تلك الأموال لصرفها في المشاريع المفيدة للأمة، فهذه الفرق - الفنية - الكثيرة يؤتى بها من كل مكان لتقيم الحفلات الساهرة في الليالي العديدة، في المناسبات وفي غير المناسبات - تطبيقا وعملا بهذا المبدأ الذي أشار إليه العالم الألماني - وصار للفن الماجن الخليع انتشار كبير مذهل، وصاروا يلقبون صاحب المجون حامل رسالة، وللفن الفاجر رسالة .. فإن كان الفن الخليع رسالة، وحامله رسولا، فذلك للشيطان، كما صار لهذا الفن، مكانته في وزارات الأخبار والثقافة، وصارت كلمة - الثقافة - تطلق على الرقص والمجون، وما ينشأ عنهما، والأمة في حاجة أكيدة إلى المدارس والجامعات والمستشفيات والمساكن وغير هذا من المشاريع الهامة والنافعة لأبناء الأمة المحرومين من كثير من وسائل الحياة الكريمة.
فالمال الذي ينفق على جلب فرق الرقص والغناء الخليع والماجن ربما يفوق - كثرة - أو يساوي ما ينفق على جلب العلماء لتعليم أبناء الأمة ما يعود عليهم بالنفع والفائدة، من شتى أصناف العلوم والصناعات جاء في المثل العربي (خَرْقَاءُ وَجَدَتْ صُوفًا).
وقد رآى النظارة بواسطة التلفزة الجزائرية - في أيام أسبوع العلم - الذي يقام - عادة - بمناسبة ذكرى وفاة العالم الكبير، والمصلح الجزائري الشيخ (عبد الحميد ابن باديس) - نعمه الله بنعيمه الدائم - الذي لا يستطيع أحد أن ينكر علمه وفضله وورعه وصلاحه وطهارة نفسه، والذي بذل كل جهوده وطاقاته في سبيل بعث الأمة الجزائرية من جديد - وقد أنجح الله جهوده - بواسطة علمه وتقواه لربه وإخلاصه في عمله - أقول رآى النظارة في أسابيع العلم تلك ما يمجه الذوق السليم، وينكره الضمير الحي، وينبذه العقل الواعي، وخاصة في أسبوع هذه السنة - من 16 أفريل 1973 إلى 22 منه، فقد مر الأسبوع معظمه - إن لم نقل كله - بسهراته في الرقص الخليع، بل شاهد
এটি হলো নারীদের মাঝে সাম্যবাদ (কমিউনিজম); ২- আর খুররামিয়্যাহ হলো সাম্যবাদেরই এক ভগিনীস্বরূপ। তারা উভয়ই পবিত্রতা ও ধার্মিকতা পছন্দ করে না এবং ধর্মের মাঝে প্রকৃতিবাদ ও আমোদ-প্রমোদকে স্থান দিতে চায়। এই কারণেই আমরা সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী দেশগুলোতে সকল প্রকার গান ও নাচের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে দেখি। জাতির জন্য উপকারী প্রকল্পগুলোতে ব্যয়ের তীব্র প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই দুই খাতে হিসাবহীন অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে এই অসংখ্য 'সাংস্কৃতিক' দলগুলোকে বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা হয় অনেক রাতব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য—তা বিভিন্ন উপলক্ষে হোক বা বিনাউপলক্ষে—যা মূলত সেই জার্মান আলেম কর্তৃক ইঙ্গিতকৃত নীতিরই বাস্তব প্রয়োগ। এভাবে অশ্লীল ও বেহায়া সংস্কৃতির এক বিস্ময়কর প্রসার ঘটেছে এবং তারা এখন লম্পট ব্যক্তিকে 'বার্তাবাহক' এবং পাপাচারী শিল্পকে 'বার্তা' (মিশন) হিসেবে আখ্যায়িত করছে। যদি অশ্লীল শিল্পই 'বার্তা' হয় এবং তার বাহকই হয় 'বার্তাবাহক', তবে তা হবে শয়তানের জন্য। একইভাবে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়গুলোতেও এই শিল্পের একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং 'সংস্কৃতি' শব্দটি এখন নাচ, লম্পটতা এবং তা থেকে উদ্ভূত বিষয়গুলোর ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। অথচ উম্মাহর জন্য স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, আবাসন এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নানাবিধ উপকরণ থেকে বঞ্চিত জাতির সন্তানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী প্রকল্পগুলোর একান্ত প্রয়োজন রয়েছে।
অশ্লীল নাচ ও গানের দলগুলোকে আনার পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়, তা সম্ভবত জাতির সন্তানদের বিভিন্ন প্রকার বিজ্ঞান ও শিল্পকলা যা তাদের জন্য উপকারী তা শেখানোর জন্য আলেমদের আনার ব্যয়ের চেয়ে অধিক অথবা সমান। আরবি প্রবাদে যেমন বলা হয়েছে: (একজন মূর্খ নারী পশম খুঁজে পেয়েছে)।
দর্শকরা আলজেরীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে 'বিজ্ঞান সপ্তাহ' চলাকালীন দেখেছেন—যা সাধারণত মহান আলেম ও আলজেরীয় সংস্কারক শায়খ আব্দুল হামিদ বিন বাদিস—আল্লাহ তাকে চিরস্থায়ী নেয়ামত দান করুন—যার ইলম (علم), মর্যাদা, পরহেজগারি (ورع), নিষ্ঠা (صلاح) এবং আত্মার পবিত্রতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়। যিনি আলজেরীয় জাতির পুনর্জাগরণের পথে তার সমস্ত প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করেছেন—এবং আল্লাহ তার ইলম (علم), তাকওয়া (تقوى) এবং কর্মে ইখলাসের (إخلاص) মাধ্যমে তার প্রচেষ্টাকে সফল করেছেন। আমি বলছি, দর্শকরা সেই বিজ্ঞান সপ্তাহগুলোতে এমন কিছু দেখেছেন যা সুস্থ রুচিকে পীড়া দেয়, জাগ্রত বিবেক যা প্রত্যাখ্যান করে এবং সচেতন বুদ্ধিবৃত্তি যা বর্জন করে; বিশেষ করে এই বছরের সপ্তাহে—১৬ এপ্রিল ১৯৭৩ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। কেননা সপ্তাহের অধিকাংশ সময়—পুরোটাই না বললেও—অশ্লীল নাচের রাত্রিকালীন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, বরং তারা দেখেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
النظارة حتى رقصة البالي - وهي كما يعرف الجميع من كشف وتهتك - وكان أسبوع هذه السنة أكثر خلاعة ومجونا من أسابيع السنوات الماضية، ففيه تدرج إلى ما لا يليق بالعلم، وعلماء الدين بالخصوص.
فهل هذا وفاء وبرور بالعلم، وعالم الجزائر العظيم
… ؟؟؟ أو هو عقوق لهما من أقبح وأشنع أنواع العقوق؟ وما هذا في الحقيقة إلا تطبيق للنزعة الخرمية والاشتراكية الشيوعية، التي تعمل - جاهدة - على تلهية الأمة بشتى أنواع اللهو، ولو كان لا يوافق طبيعة الأمة والذوق السليم، كما شاهد الجزائريون سنة (1967) حتى الفرق اليهودية الصهيونية (1) التي جيء بها للغرض نفسه، وقد يكون ذلك في ليالي الشهر المبارك - شهر رمضان المعظم من المؤمنين - بعنوان - إحياء ليالي رمضان - وهذا أمر غريب عن الشريعة الإسلامية، فليالي رمضان إنما يكون إحياؤها بما جاء في شريعة الله، لا بما جاء في شريعة الشيطان، فهؤلاء كما قال العالم الألماني: (يريدون أن يجعلوا للطبيعة وللمرح مكانهما في الدين).
اللهم هب لنا عقولا مدركة صافية من كل ما يكدرها
… وبمناسبة الكلام على الفن وفرقه أقول:
إن الوقت الذي يقضيه المسلم في الاستماع إلى هذه الفرق الفنية التي تبث في أوساطها ما لا يليق بالمسلم سماعه وقت ضائع لا خير فيه، زيادة عن كونه يبعث في الناس الكسل - وخاصة الشبان - وما لا يليق من الأخلاق، والأمة
--------------------------------------------
দর্শক উপস্থিতি থেকে শুরু করে এমনকি ব্যালে নাচ পর্যন্ত—যা সকলের জানামতে দেহপ্রদর্শন ও আব্রুহীনতার নামান্তর—আর এই বছরের সপ্তাহটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় অধিক অশ্লীলতা ও কামাচারে লিপ্ত ছিল। এতে এমন সব পর্যায় অবলম্বন করা হয়েছে যা ইলম (علم) এবং বিশেষ করে দ্বীনি আলেমদের (علماء) জন্য মোটেই শোভনীয় নয়।
তবে কি এটি ইলম (علم) এবং আলজেরিয়ার মহান আলেমের প্রতি কোনো আনুগত্য ও সদাচার
… ??? নাকি এটি উভয়ের প্রতি এক অতি কুৎসিত ও জঘন্য অবাধ্যতা? প্রকৃতপক্ষে এটি খুররামীয় প্রবণতা এবং সাম্যবাদী সমাজতন্ত্রের একটি প্রয়োগ মাত্র, যা জাতিকে বিভিন্ন ধরণের আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; যদিও তা জাতির প্রকৃতি ও সুস্থ রুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেমনটি আলজেরীয়রা ১৯৬৭ সালে প্রত্যক্ষ করেছিল, এমনকি ইহুদি জায়নবাদী দলগুলোকেও (১) একই উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল। আর এটি মুমিনদের নিকট অতি সম্মানিত বরকতময় মাস রমজানের রাতগুলোতেও ঘটে থাকে—'রমজানের রাতগুলোর পুনরুজ্জীবন' শিরোনামে। এটি ইসলামি শরিয়ত (شريعة)-এর নিকট এক অদ্ভুত বিষয়। কারণ রমজানের রাতগুলোর পুনরুজ্জীবন তো আল্লাহর দেওয়া শরিয়ত (شريعة) অনুযায়ী হওয়া উচিত, শয়তানের শরিয়ত (شريعة) অনুযায়ী নয়। তারা যেন সেই জার্মান আলেমের কথার প্রতিচ্ছবি: (তারা প্রকৃতি ও আমোদ-প্রমোদের জন্য দ্বীনের ভেতর একটি স্থান করে দিতে চায়)।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এমন স্বচ্ছ ও সজাগ বিবেক দান করুন যা সকল কলুষতা থেকে মুক্ত থাকবে
… শিল্পকলা ও তার দলসমূহ নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে আমি বলি:
একজন মুসলমান এই ধরণের শিল্পকলা দলগুলোর গান বা পরিবেশনা শোনার পেছনে যে সময় ব্যয় করে—যাদের মাধ্যমে এমন সব বিষয় প্রচারিত হয় যা একজন মুসলমানের শোনার উপযোগী নয়—তা একটি অপচয়কৃত সময় যাতে কোনো কল্যাণ নেই। তদুপরি এটি মানুষের মাঝে—বিশেষ করে যুবকদের মাঝে—অলসতা এবং অশোভন আচরণের জন্ম দেয়। আর জাতি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التي تكثر منه ومن فرقه لا تستطيع أن تواجه خصومها في ميادين الحياة والجد، لأنها أضاعت أوقاتها في الهزل واللعب، ولربما يقضي ذلك عليها كأمة بين الأمم فهل نسينا أن الفن والغناء هما العامل القوي الذي عجل بضياع الأندلس - الفردوس المفقود -؟ فقد كان الغناء وما جر إليه هو الشغل الشاغل للأمراء وقادة الجيوش وبيوت العظماء وذوي الثراء منهم، فاشتغلوا به وأعرضوا عن النظر في شؤون الدولة وشؤونهم، وهم أمام أعدائهم، فلم ينتبهوا من سكر الفن حتى داهمهم الشر والعدو من كل جانب، فالحياة حياة جد وعمل، لا حياة هزل وكسل.
وكضياع الوقت بلا طائل ضياع المال الذي ينفق على الفن، فهو مال ضائع إذ لا فائدة تعود منه، فلا يستفيد منه إلا المحترف له، وقد صار الفنانون - وخاصة المغنون منهم - من أغنى طبقات الشعوب، لما يملكون من عمارات وغيرها، ولهم أرصدة مدخرة في المصارف، وقد يبلغ كراء المقعد الواحد في حفلة غنائية مائة دينار جزائري، أي عشرة جنيهات أو أكثر، وهذا يدل على السفه وسوء التدبير، ولعل البعض منا لا يعجبه هذا الكلام، ويعده صادرا من رجل متأخر - حسبما يرى - ومع هذا فهو الحقيقة، والحقيقة لا تخفى على أحد، ولبعض المغنين تطأطأ الرؤوس، فقد رأيت مرة رئيس جمهورية ذهب إلى المطار لملاقاة أحد المغنين المشهورين.
نعود - بفكرنا - لما تقدم لنرى أن المذهب المزدكي - وما تفرع منه - ذلك المذهب الذي يحمل لأهله وأتباعه كل أنواع الخزي والعار - لم يدع إليه ويحث عليه أي عاقل من البشر، حتى الوثنيون، فقد كانت عندهم أخلاق وعادات حسنة، وغيرة وأنفة على الحرمات، فما هو إلا مذهب من المذاهب الحيوانية البهيمية، وقد بان مما ذكرناه هنا وفيما سبق - أن الشيوعية والاشتراكية اللتين انتشرتا - حديثا - إنما هما تجديد وامتداد للمزدكية.
7 - رأي أحمد أمين في مذهب مزدك:
قال المرحوم أحمد أمين بعد أن نقل كلام ابن جرير الطبري، وما أمر به - مزدك - أتباعه ما يلي: (فترى من هذا أن تعاليمه - يعني مزدك - إشتراكية من أسبق الاشتراكيات في العالم.) (1).
--------------------------------------------
যে সমাজ এবং তার বিভিন্ন দলগুলো আমোদ-প্রমোদে মত্ত থাকে, তারা জীবন ও সংগ্রামের ময়দানে তাদের শত্রুদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয় না; কারণ তারা কৌতুক ও ক্রীড়া-কৌতুকের মাধ্যমে তাদের সময় নষ্ট করেছে। আর সম্ভবত এটিই জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবার থেকে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা কি ভুলে গেছি যে, শিল্পকলা এবং সংগীতই ছিল সেই প্রবল শক্তিশালী কারণ যা 'আন্দালুস'—সেই হারানো জান্নাত—এর পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল? সংগীত এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোই ছিল রাজপুত্র, সেনাপতি, অভিজাত পরিবার এবং বিত্তবানদের প্রধান মগ্নতার বিষয়। তারা এগুলো নিয়ে মেতে ছিল এবং শত্রুর মুখোমুখি থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ও নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি তদারকি করা থেকে বিমুখ হয়েছিল। তারা শিল্পকলার মত্ততা থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত সচেতন হয়নি, যতক্ষণ না অকল্যাণ এবং শত্রু তাদের চারপাশ থেকে আক্রমণ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে জীবন হলো একনিষ্ঠতা ও কর্মতৎপরতার জীবন, কৌতুক ও অলসতার জীবন নয়।
নিষ্ফলভাবে সময় নষ্ট করার মতোই শিল্পকলার পেছনে ব্যয় করা অর্থও একটি অপচয়। এটি এমন এক নষ্ট সম্পদ যা থেকে কোনো উপকার অর্জিত হয় না। যারা এ বিষয়ে পেশাদার তারা ছাড়া আর কেউ এর দ্বারা উপকৃত হয় না। বর্তমানে শিল্পীরা—বিশেষ করে সংগীতশিল্পীরা—জনগণের সবচেয়ে ধনী শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে; তাদের বিশাল অট্টালিকা ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে এবং ব্যাংকে গচ্ছিত আছে প্রচুর অর্থ। এমনকি কোনো একটি সংগীতানুষ্ঠানের একটি আসনের ভাড়া ১০০ আলজেরীয় দিনার পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা ১০ পাউন্ড বা তারও বেশি। এটি নির্বুদ্ধিতা ও অব্যবস্থাপনার পরিচায়ক। আমাদের মধ্যে অনেকের হয়তো এই কথাগুলো ভালো লাগবে না এবং তার দৃষ্টিতে তিনি একে একজন সেকেলে মানুষের বক্তব্য হিসেবে গণ্য করবেন; কিন্তু তা সত্ত্বেও এটাই ধ্রুব সত্য, আর সত্য কারো কাছে গোপন থাকে না। কিছু সংগীতশিল্পীর সামনে তো মাথা নত হয়ে যায়; আমি একবার দেখেছি যে, এক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি একজন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন।
আমরা পুনরায় আমাদের চিন্তাধারাকে পূর্বের আলোচনায় ফিরিয়ে নিয়ে যাই এবং দেখতে পাই যে, মাজদাকি মতবাদ (مذهب)—এবং তা থেকে যা কিছু শাখা-প্রশাখা বের হয়েছে—এমন এক মতবাদ যা তার অনুসারীদের জন্য সব ধরনের লাঞ্ছনা ও অবমাননা বয়ে আনে। কোনো বিবেকবান মানুষ এমনকি মূর্তিপূজকরাও এর প্রতি আহ্বান জানায়নি বা উৎসাহিত করেনি; কারণ তাদের মধ্যেও উন্নত চরিত্র, উত্তম রীতি এবং পবিত্র বিষয়গুলোর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মমর্যাদাবোধ ও তেজস্বিতা ছিল। সুতরাং এটি কেবল একটি জান্তব ও পশুতুল্য মতবাদ (مذهب)। আমরা এখানে এবং এর পূর্বে যা আলোচনা করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, আধুনিককালে যে সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্র বিস্তৃত হয়েছে, তা মূলত মাজদাকিবাদেরই নবায়ন ও সম্প্রসারণ।
৭ - মাজদাকি মতবাদ (مذهب) সম্পর্কে আহমদ আমীনের অভিমত:
মরহুম আহমদ আমীন ইবনে জারীর তাবারীর বক্তব্য এবং মাজদাক তার অনুসারীদের যে নির্দেশ দিয়েছিল তা উদ্ধৃত করার পর নিম্নোক্ত মন্তব্য করেছেন: (এর মাধ্যমে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, তার—অর্থাৎ মাজদাকের—শিক্ষা ছিল বিশ্বের প্রাচীনতম সমাজতন্ত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত।) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
8 - ما قاله المفكر الكبير العلامة ابن خلدون:
وشبيه بهذا ما ذكره العلامة ابن خلدون في تاريخه (كتاب العبر) حيث قال:
(وسورة الخبر - يريد نزاع ملوك الفرس - أن مزدك الزنديق كان إباحيا، وكان يقول باستباحة أموال الناس، وأنها فيء - أي غنيمة - وأنه ليس لأحد ملك شيء ولا حجزه، (وهذا هو نفسه ما تدعو إليه الاشتراكية الشيوعية)، والأشياء كلها ملك لله مشاع بين الناس، ولا يختص به أحد دون أحد، وهو لمن اختاره، فعثر الناس منه على متابعة مزدك في هذا الاعتقاد) (1).
فظاهر من قول ابن خلدون (والأشياء كلها ملك لله مشاع بين الناس) ومما تقدم من قول الشهرستاني في كتابه (الملل والنحل) عند الكلام على مزدك والمزدكية وهو قوله: (فأحل النساء وأباح الأموال، وجعل الناس شركة فيهما كاشتراكهم في الماء، والنار، والكلاء) أن المزدكية هي نفس الشيوعية والاشتراكية اليوم فيما ترميان إليه من إلحاد وكفر وزندقة وفجور، واستيلاء على أموال الناس، بدعوى ردها إلى الفقراء، وكما رأينا ذلك - أيضا - في كلام المؤرخ الألماني (فلهوزن) حيث قال: (ويروى أن الخرمية، والراوندية، قد جددوا الدعوة إلى الشيوعية في النساء، وهي الشيوعية التي كان مزدك قد دعا إليها من قبل ..).
فهذه الفرق الأعجمية الضالة: المانوية، والمزدكية، والخرمية، والراوندية وغيرها - كالشيوعية، والاشتراكية- هي التي بلبلت أفكار ضعفاء العقول وأصحاب المطامع والشهوات.
فبان من هذه الأقوال كلها أن (الشيوعية) و (الاشتراكية) اللتين ظهرتا في عصرنا هذا هما صنوان - أختان - لشيوعية واشتراكية (مزدك) المجوسي، فالجميع من فصيلة واحدة كما قال القائل الحكيم:
(فإن لم تكنه أو يكنها فإنه
… أخوها غذته أمه بلبانها)
بل - هما هي وهي هما - وإن اختلفت أسماء هذه الاشتراكيات بحسب البلدان التي ابتليت بها وبحسب ما يناسب جو أهل البلد والوطن الذي طبقت فيه، فكل بلد سماها ونعتها بما يوافق هواءها أو هواها، كما تقدت الإشارة إليه من قبل.
--------------------------------------------
8 - মহান চিন্তাবিদ আল্লামা ইবনে খালদুন যা বলেছেন:
এর অনুরূপ কথা আল্লামা ইবনে খালদুন তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ কিতাবুল ইবারে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
(আর সংবাদের বিবরণ হলো—তিনি পারস্য সম্রাটদের মধ্যকার বিবাদের কথা বুঝিয়েছেন—যে ধর্মত্যাগী (زنديق) মাজদাক ছিল এক ভোগবাদী (إباحي); সে মানুষের ধন-সম্পদ ভোগ করাকে বৈধ ঘোষণা করত এবং বলত যে এগুলো ফাই (فيء) —অর্থাৎ গনিমত—আর কারও ব্যক্তিগত মালিকানা বা কোনো কিছু আটকে রাখার অধিকার নেই, (এটি ঠিক তাই যা সমাজতান্ত্রিক সাম্যবাদ প্রচার করে), এবং সমস্ত বস্তু আল্লাহর মালিকানাধীন যা মানুষের মাঝে সমানভাবে বন্টিত, কেউ কারও চেয়ে এতে বিশেষ সুযোগ পাবে না, বরং যে তা বেছে নেবে তারই হবে; ফলে মানুষ এই বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মাজদাকের অনুসরণ করতে শুরু করে।) (১)।
ইবনে খালদুনের কথা (সমস্ত বস্তু আল্লাহর মালিকানাধীন যা মানুষের মাঝে সমানভাবে বন্টিত) এবং এর আগে শাহরাস্তানি তাঁর কিতাবুল মিলাল ওয়ান নিহাল গ্রন্থে মাজদাক ও মাজদাকীয় মতবাদ সম্পর্কে যা বলেছেন—যেখানে তিনি বলেন: (সে নারীদের হালাল করেছিল এবং ধন-সম্পদ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল, আর মানুষকে এসবের অংশীদার বানিয়েছিল যেমন তারা পানি, আগুন এবং তৃণভূমির ক্ষেত্রে অংশীদার থাকে)—তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান সময়ের সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্র তাদের নাস্তিকতা (إلحاد), কুফর (كفر), ধর্মহীনতা (زندقة) ও পাপাচার এবং দরিদ্রদের ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে মানুষের ধন-সম্পদ জবরদখল করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, মাজদাকীয় মতবাদও ঠিক তাই। যেমনটি আমরা জার্মান ঐতিহাসিক ফ্লেহোজেনের বক্তব্যেও দেখেছি, যেখানে তিনি বলেন: (বর্ণিত আছে যে, খুররামিয়া ও রাওয়ানদিয়ারা নারীদের ক্ষেত্রে সাম্যবাদের দাওয়াতকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিল, যে সাম্যবাদের দাওয়াত মাজদাক এর আগে দিয়েছিলেন...)
অতএব, এই পথভ্রষ্ট (ضالة) অনারব দলগুলো (فرق): মানুয়িয়া, মাজদাকিয়া, খুররামিয়া, রাওয়ানদিয়া এবং সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের মতো অন্যান্য দলগুলো—বিবেচনাহীন দুর্বল মনা এবং লোভ ও লালসা চরিতার্থ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের চিন্তা-চেতনাকে বিভ্রান্ত করেছে।
সুতরাং এই সব বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হলো যে, আমাদের যুগে আবির্ভূত (সাম্যবাদ) ও (সমাজতন্ত্র) হলো অগ্নিপূজক (مجوسي) মাজদাকের সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের যমজ (صنوان) —অর্থাৎ দুই বোন—স্বরূপ। তারা সবাই একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি এক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন:
(যদি তা সরাসরি সেটিই না হয়, তবে অবশ্যই সেটি তার ভ্রাতা, যাকে তাদের মাতা একই দুগ্ধ পান করিয়েছেন)
বরং তারা একে অন্যেরই অনুরূপ—যদিও আক্রান্ত দেশভেদে এই সমাজতান্ত্রিক মতবাদগুলোর নাম ভিন্ন হতে পারে এবং যেখানে এগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে সেখানকার পরিবেশ ও জনগণের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব প্রবৃত্তি অনুযায়ী এর নামকরণ ও বিশেষায়িত করেছে, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فنرى وجه الشبه والاتفاق موجودا فيها كلها، وخاصة في الملك الفردي الخاص، وما عطف عليه مما يقبح التصريح به والتعرض له، فمبدأ الجميع واحد - كل شيء على الشياع لا يختص به أحد دون آخر - ومن أجل هذا الحلم اللذيذ أقبل عليها الذين وجدوا في دعوتها ما يوافق أهواءهم وغرائزهم، فاعتنقوها ودعوا إليها وهم يعلمون أنها لا تتوافق ولا تتلاقى مع تعاليم الشرائع الإلهية، التي أنزلها الخالق العليم بحسب ما يصلح مخلوقاته، فاعتنقوها واتخذوها دينا لهم ومذهبا، بدلا من دين الله، ومذهب الحق والعدل، وأخذوا يزينونها ويزينون مبدأها للأغرار وضعفاء العقول، وأرباب الأطماع والشهوات، ويذيعون فيهم ذلك بواسطة أجهزة الإعلام الحكومية، من شركات الأخبار، والصحافة، والإذاعة، والتلفزة، وغير ذلك من وسائل الإعلام.
وَقَدِيماً مَالَأَ مُزْدَكَ ضُعَفَاءُ الْعُقُولِ وَأَصْحَابُ الشَّهَوَاتِ وَالْكُسَالَى وَشِرَارُ النَّاسِ.
لهذا أحب الاستيلاء على أموال الناس، أولئك الذين لم يستطيعوا أن يعملوا - كما عمل غيرهم - لمركب النقص الذي هو فيهم، فلم يعملوا كما عمل غيرهم، حتى يملكوا ما يعود عليهم بالنفع والفائدة، فاتخذوا مذهب الشيوعية والاشتراكية وسيلة للاستحواذ على أموال الناس وأخذها، وبعد ما تعب أصحابها ونصبوا في العمل والكد توصلوا إلى امتلاك شيء قد ينفعهم عند الحاجة إليه، وقد كان استحواذهم عليها بواسطة التسلط بالقوة، وبدون حق شرعي، أو قانون عادل - تماما - كما فعل مزدك وأصحابه، ولو حاول محاول انتزاع كراسيهم منهم لقتلوه
…كما اتبع المزدكية - أيضا - ضعاف النفوس وشرار الناس من الفجرة والفسقة، لأن شريعة الحق والعدل - شريعة الله - لا تبيح للناس أن يستبيحوا أعراض النساء، ولا أن يأخذوا أموال الغير بغير رضاه وبدون موجب شرعي مقبول، فكل من اتبع المذاهب والقوانين البشرية - مثل المزدكية القديمة والجديدة - وأعرض عن القوانين الدينية والشرعية فإنه إنما اتبعها وعمل بها من أجل شيء واحد لا غير، هو مصلحته العاجلة وإشباع شهواته بواسطتها، فراح يبحث عن شريعة الشيطان يتبعها ويدعو إليها، لأنها
আমরা এই সবগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য এবং ঐকমত্যের প্রতিফলন দেখতে পাই, বিশেষ করে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা প্রকাশ করা বা যার মুখোমুখি হওয়া অশোভন; সুতরাং সবকিছুর মূলনীতি এক—সবকিছুই হবে সামষ্টিক মালিকানাধীন, যা একজনের জন্য অন্যজনকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট হবে না। আর এই মনোরম স্বপ্নের কারণেই যারা এর আহ্বানের মাঝে নিজেদের খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তির অনুকূল বিষয় খুঁজে পেয়েছে, তারা এর প্রতি ধাবিত হয়েছে। তারা এটি গ্রহণ করেছে এবং এর দিকে দাওয়াত দিয়েছে, অথচ তারা জানে যে এটি ঐশী শরয়ি বিধানের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তার সাথে সংগতিপূর্ণও নয়, যা সর্বজ্ঞাত স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টিজীবের সংশোধনের উপযোগী হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। তারা একে গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর দ্বীন এবং সত্য ও ন্যায়ের মতাদর্শের পরিবর্তে একেই নিজেদের ধর্ম ও মতাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা একে এবং এর মূলনীতিকে অনভিজ্ঞ, নির্বোধ, লোভী ও কামনার দাসদের নিকট সুশোভিত করে উপস্থাপন করতে শুরু করেছে এবং সরকারি তথ্যমাধ্যম যেমন সংবাদ সংস্থা, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে তাদের মাঝে তা প্রচার করছে।
আর অতীতেও নির্বোধ, কুপ্রবৃত্তির অনুসারী, অলস এবং সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা মজদকের পক্ষাবলম্বন করেছিল।
এই কারণেই তারা মানুষের সম্পদ কুক্ষিগত করাকে পছন্দ করেছে—ঐসব লোক যারা অন্যদের মতো কাজ করতে সক্ষম ছিল না—তাদের মধ্যে বিদ্যমান হীনম্মন্যতার কারণে। তারা অন্যদের মতো পরিশ্রম করেনি যাতে তারা এমন কিছুর মালিক হতে পারে যা তাদের উপকার ও কল্যাণ বয়ে আনে। ফলে তারা মানুষের সম্পদ জবরদখল ও তা আত্মসাৎ করার মাধ্যম হিসেবে কমিউনিজম ও সমাজতন্ত্রের মতাদর্শকে বেছে নিয়েছে। অথচ এর প্রকৃত মালিকরা পরিশ্রম ও হাড়ভাঙা খাটুনির মাধ্যমে এমন কিছু অর্জনে সক্ষম হয়েছিল যা প্রয়োজনের সময় তাদের উপকারে আসত। তাদের এই সম্পদ দখল ছিল শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে এবং কোনো শরয়ি (شرعي) অধিকার বা ন্যায়সংগত আইন ছাড়াই—ঠিক যেমনটি মজদক ও তার সঙ্গীরা করেছিল। যদি কেউ তাদের থেকে তাদের ক্ষমতার মসনদ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করত, তবে তারা তাকে হত্যা করত
…একইভাবে মজদকবাদ অনুসরণ করেছিল দুর্বল চিত্তের অধিকারী এবং পাপাচারী (فجرة) ও ফাসেক (فسقة) শ্রেণির নিকৃষ্ট লোকেরা; কারণ সত্য ও ন্যায়ের শরয়ি বিধান—আল্লাহর শরয়ি বিধান—মানুষের জন্য নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠন বৈধ করে না এবং অন্যের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত ও গ্রহণযোগ্য কোনো শরয়ি (شرعي) কারণ ছাড়া গ্রহণ করাকেও অনুমোদন দেয় না। সুতরাং যে কেউ মানব রচিত মতাদর্শ ও আইন অনুসরণ করে—যেমন প্রাচীন ও নব্য মজদকবাদ—এবং ধর্মীয় ও শরয়ি (شرعية) আইন থেকে বিমুখ হয়, সে কেবল একটি লক্ষ্যেই তা অনুসরণ করে ও তদানুযায়ী আমল করে, আর তা হলো তার তাৎক্ষণিক স্বার্থসিদ্ধি এবং এর মাধ্যমে নিজের কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করা। ফলে সে শয়তানের শরয়ি বিধানের সন্ধান করে, তা অনুসরণ করে এবং তার দিকে দাওয়াত দেয়, কারণ এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تعينه على بلوغ أغراضه، فاعتنقها وشرع يزينها للناس، بل ويحثهم على العمل بها.
9 - ما قاله بروكلمان في المزدكية وأصلها وما تولد منها:
ونضيف إلى ما سبق ما قاله العالم الألماني والمستشرق الكبير (كارل بروكلمان) في كتابه "تاريخ الشعوب الإسلامية" ما نصه: (وفي فترة الفوضى التي عقبت هزيمة الملك (فيروز) ومصرعه في المعركة التي خاضها ضد الهون البيض (1) سنة 484 م ظهر معلم ديني آخر هو (مزدك) الذي واصل فعل ماني من قبل النزعة (الغنوسية) (2) في إيران، لكن تعاليمه أدت عند التطبيق إلى الاشتراكية في الزوجات والأموال، وقد اعتنق الملك الجديد (قباذ) الأول مذهب مزدك سنة 488).
وقال - أيضا - بعد الذي تقدم ذكره: (حتى إذا خلفه ابنه كسرى الأول جعل "الزرادشتية الرشيدة" مذهب الدولة الرسمي من جديد، فخلع عليه كهانها الشاكرون لصنيعه لقب (أنوشروان) أي الروح الخالدة (3).
فالعالم الألماني سمى النحلة المزدكية "الاشتراكية في الزوجات والأموال" كما سبق لزميله (فلهوزن)، وهذان العالمان الألمانيان معروفان بالتحليل والتدقيق.
10 - ما قاله النويري في المزدكية وأصحابها، وما فعله كسرى أنوشروان بهم:
ولزيادة التوضيح والبيان أو الدراسة التحليلية لهذا المذهب الباطل نورد هنا ما ذكره العلامة شهاب الدين (النويري) في كتابه "نهاية الأرب في فنون الأدب" عند كلامه على ملك أنوشروان وإبطاله لملة (زرادشت) الثاني ومزدك ما يلي: (وكان أول ما بدأ به أن أبطل ملة (زرادشت) الثاني الذي كان من
--------------------------------------------
যা তাকে তার উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়তা করত; তাই তিনি এটি গ্রহণ করেন এবং মানুষের সামনে একে সুশোভিত করতে শুরু করেন, এমনকি তিনি তাদেরকে তা পালনের জন্য উৎসাহিতও করতে থাকেন।
৯ - মাজদাকবাদ, এর মূল এবং এ থেকে উদ্ভূত বিষয়গুলো সম্পর্কে ব্রোকেলম্যানের বক্তব্য:
ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার সাথে আমরা প্রখ্যাত জার্মান পণ্ডিত ও বিশিষ্ট প্রাচ্যবিদ (কার্ল ব্রোকেলম্যান) তাঁর ‘তারিখুশ শুউব আল-ইসলামিয়্যাহ’ (ইসলামী জাতিসমূহের ইতিহাস) গ্রন্থে যা বলেছেন, তা হুবহু যোগ করছি: (৪৮৪ খ্রিস্টাব্দে শ্বেত হুনদের (১) বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাজা (ফিরোজ)-এর পরাজয় ও মৃত্যুর পর যে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সময়ে ইরানে (মাজদাক) নামক একজন ধর্মীয় শিক্ষকের আবির্ভাব ঘটে, যিনি মানির প্রবর্তিত (গনোস্টিক) (২) ধারার অনুসারী ছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্ত্রী ও সম্পদে অংশীদারিত্বের বা সমাজতন্ত্রের রূপ লাভ করে। নতুন রাজা (প্রথম ক্বাবাদ) ৪৮৮ খ্রিস্টাব্দে মাজদাকবাদ গ্রহণ করেন)।
উপরোক্ত আলোচনার পর তিনি আরও বলেন: (পরবর্তীতে যখন তাঁর পুত্র প্রথম খসরু তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তিনি পুনরায় ‘রক্ষণশীল জরথুষ্ট্রবাদকে’ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ধর্মে পরিণত করেন। তাঁর এই কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পুরোহিতরা তাঁকে (আনোশিরওয়ান) উপাধিতে ভূষিত করেন, যার অর্থ হলো চিরন্তন আত্মা (৩)।
সুতরাং এই জার্মান পণ্ডিত মাজদাকবাদকে "স্ত্রী ও সম্পদের সমাজতন্ত্র" হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেমনটি তাঁর সহকর্মী (ওয়েলহাউসেন) ইতিপূর্বে করেছিলেন। এই দুই জার্মান পণ্ডিত বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার জন্য সুপরিচিত।
১০ - মাজদাকবাদ ও এর অনুসারীদের সম্পর্কে এবং খসরু আনোশিরওয়ান তাদের সাথে কী আচরণ করেছিলেন সে সম্পর্কে নুওয়াইরির বক্তব্য:
এই ভ্রান্ত (باطل) মতবাদটির (مذهب) আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনার জন্য আমরা এখানে আল্লামা শিহাবুদ্দিন (নুওয়াইরি) তাঁর ‘নিহায়াতুল আরাব ফি ফুনুনিল আদাব’ গ্রন্থে আনোশিরওয়ানের রাজত্ব এবং দ্বিতীয় (জরথুষ্ট্র) ও মাজদাকের ধর্মাদর্শ (ملة) বাতিল করার প্রসঙ্গে যা উল্লেখ করেছেন তা উদ্ধৃত করছি: (তিনি প্রথমে যে কাজ দিয়ে শুরু করেছিলেন তা হলো দ্বিতীয় (জরথুষ্ট্রের) ধর্মাদর্শ (ملة) বাতিল করা, যিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أهل (فسا)، وأبطل ملة المزدكية، وقتل على ذلك خلقا كثيرا وسفك من الدماء بسبب أبطال هذين المذهبين ما لا يحصى كثرة، وقتل قوما من المانوية) (1).
وزاد النويري بعد الذي تقدم ذكره بقليل قوله: (وأما تدبيره - يعني به أنوشروان - في أمر المزدكية وإبطال ما فعلوه، فإنه ضرب أعناق رؤسائهم وقسم أموالهم في أهل الحاجة، وقتل جماعة كثيرة ممن عرف من الذين كانوا يدخلون على الناس في بيوتهم، ويشاركونهم في أموالهم وأهاليهم، ورد الأموال إلى أربابها، وأمر بكل مولود اختلف فيه أن يلحق بمن هو في سيمائه، وأمر بكل امرأة غلب عليها أن يؤخذ الغالب عليها حتى يغرم لها مهر مثلها، ثم تخير المرأة بين البقاء عنده وبين تزويج غيره، إلا أن يكون لها زوج أول فترد إليه، وأمر بكل من أضر برجل في ماله، أو ظلمه أن يؤخذ منه الحق، ويعاقب الظالم بعد ذلك بقدر جرمه) (2).
وكان النويري قد ذكر قبل هذا كلاما يشبه في معناه ما قاله المؤرخ ابن جرير الطبري، مع شيء من التفصيل نورده هنا: (وفي أيام قباذ ظهر مزدق ويقال فيه مزدك، وتفسيره حديد الملك، وإليه تنسب المزدكية، ويقال لهم "العدلية" وقال: إن الله تعالى إنما جعل الأرزاق في الأرض مبسوطة ليقسمها عباده بينهم بالسوية، ولكن الناس يظلمون، واستأثر بعضهم على بعض، فانضم إليه جماعة وقالوا: نحن نقسم بين الناس بالسوية، ونرد على الفقراء حقوقهم من الأغنياء، ومن عنده فضل من المال، والقوت، والنساء، والمتاع وغير ذلك فليس هو له، ولا أولى به من غيره، فافترص السفلة ذلك واغتنموه واتبعوا مزدك وأصحابه، فقوي أمرهم حتى كانوا يدخلون على الرجل في داره فيغلبونه على ما فيها من ماله ونسائه، ولا يستطيع أن يردهم عنه ولا يدافعهم، ورآى الملك قباذ رأي مزدك وأصحابه وتابعهم، فازداد قوة، فلم يلبث الناس إلا قليلا حتى صار الأب لا يعرف ولده، ولا الولد يعرف والده، ولا يملك أحد شيئا، وصيرت العدلية قباذ في مكان لا يصل إليه غيرهم، فاجتمعت الفرس على خلع قباذ من الملك، ففعلوا ذلك) (3).
--------------------------------------------
(ফাসা)-এর অধিবাসীগণ এবং তিনি মজদকি মতবাদ বাতিল করেন। এ কারণে তিনি অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেন এবং এই দুই মতবাদ বাতিলের লক্ষ্যে প্রচুর রক্তপাত করেন, যা গণনাতীত। এছাড়া তিনি মানুবী সম্প্রদায়ের একদল লোককেও হত্যা করেন। (১)।
আর নুওয়াইরি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার কিছুক্ষণ পরেই এই উক্তিটি যোগ করেন: (আর মজদকিদের বিষয়ে তার—অর্থাৎ আনুশিরওয়ান—গৃহীত ব্যবস্থা এবং তাদের কার্যক্রম বাতিল করা সম্পর্কে তিনি তাদের নেতাদের শিরশ্ছেদ করেন এবং তাদের ধন-সম্পদ অভাবী লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। আর যারা মানুষের ঘরে ঢুকে তাদের সম্পদ ও পরিবারে অংশীদার হতো, এমন পরিচিত এক বিশাল দলকে তিনি হত্যা করেন। তিনি সম্পদগুলো তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেন। আর তিনি নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক সন্তান যার বংশপরিচয় নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে, তাকে যেন তার আকৃতি বা চেহারার সাথে মিল থাকা ব্যক্তির সাথে যুক্ত করা হয়। আর তিনি নির্দেশ দেন যে, কোনো নারীর ওপর যদি কেউ জোরপূর্বক প্রভাব বিস্তার করে থাকে, তবে সেই ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হবে যতক্ষণ না সে ওই নারীর সমপরিমাণ মোহর পরিশোধ করে। এরপর ওই নারীকে তার কাছে থাকা বা অন্য কাউকে বিয়ে করার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া হবে, যদি না তার আগের কোনো স্বামী থাকে; সে ক্ষেত্রে তাকে পূর্বের স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর তিনি নির্দেশ দেন যে, যে ব্যক্তি কোনো মানুষের সম্পদের ক্ষতি করেছে বা তার ওপর জুলুম করেছে, তার কাছ থেকে যেন হক আদায় করা হয় এবং এরপর ওই জালেমকে তার অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়)। (২)।
আর নুওয়াইরি এর আগে ঐতিহাসিক ইবনে জারির তাবারির বক্তব্যের অনুরূপ কিছু কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার বিস্তারিত বিবরণ আমরা এখানে তুলে ধরছি: (আর কুবাজ-এর শাসনামলে মজদাক-এর আবির্ভাব ঘটে—তাকে মজদকও বলা হয় এবং এর অর্থ হলো ‘রাজ্যের লোহা’। তার দিকেই মজদকি মতবাদকে সম্বন্ধ করা হয়, যাদেরকে ‘আদলিয়্যাহ’ বলা হয়। তিনি বলেন: মহান আল্লাহ জমিনে রিজিক অবারিত রেখেছেন যেন তাঁর বান্দারা তা নিজেদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে নেয়, কিন্তু মানুষ জুলুম করে এবং একে অপরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে একদল লোক তার সাথে যোগ দেয় এবং বলে: আমরা মানুষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করব এবং ধনীদের কাছ থেকে গরিবদের অধিকার ফিরিয়ে দেব। যার কাছে অতিরিক্ত সম্পদ, খাদ্য, নারী ও আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিস রয়েছে, তা কেবল তারই নয় এবং অন্যের চেয়ে এতে তার অধিকার বেশি নয়। ফলে নিচু শ্রেণির লোকেরা এই সুযোগটি লুফে নেয় এবং একে গনিমতের মাল হিসেবে গণ্য করে মজদাক ও তার সঙ্গীদের অনুসরণ করতে শুরু করে। ফলে তাদের শক্তি এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, তারা কোনো ব্যক্তির ঘরে প্রবেশ করে তার সম্পদ ও নারীদের ওপর বিজয়ী হতো, আর সে ব্যক্তি তাদেরকে বাধা দেওয়ার বা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখত না। আর রাজা কুবাজ মজদাক ও তার সঙ্গীদের মতাদর্শ গ্রহণ করেন এবং তাদের অনুসরণ করেন, ফলে তাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, পিতা তার সন্তানকে চিনত না, আর সন্তান তার পিতাকে চিনত না। কেউ কোনো কিছুর মালিক থাকত না। আর আদলিয়্যাহরা কুবাজকে এমন এক স্থানে বন্দি করে রাখে যেখানে তারা ছাড়া আর কেউ পৌঁছাতে পারত না। ফলে পারস্যবাসীরা কুবাজকে রাজপদ থেকে অপসারণ করার ব্যাপারে একমত হয় এবং তারা তা কার্যকর করে)। (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ففي هذا الكلام تفصيل لأعمال فرقة المجرمين (المزدكية) ولما لاقته من جزاء عادل - لأنها سمت نفسها العدلية - على إجرامها، استأصلها وقطع دابرها واقتلع عروق شجرتها الخبيثة، هذه الفرقة التي ابتليت بها أمة الفرس ذات التاريخ القديم والحضارة الأصيلة، وذلك في الربع الأخير من القرن الخامس من ميلاد المسيح عليه السلام، كما مرت الإشارة إليه سابقا، ومن الغريب المضحك أنها نسبت نفسها للعدل وهي الظالمة، فالأسماء لا تغطي الأفعال، إذا كانت الأفعال تخالف الأسماء، فالإعتداء على الناس في أموالهم وأعراضهم لا يسمى عدلا.
11 - ما قاله ابن نبالة المصري في هذه الفرقة الشريرة:
وذكر ابن نباتة المصري في شرحه المسمى "سرح العيون شرح رسالة ابن زيدون" عند الكلام على كسرى، وعند قول ابن زيدون: (وكسرى حمل غاشيتك) قال: (إن هذا الاسم لقب لملك الفرس، والمراد هنا كسرى أنوشروان، فإنه أشهر ملوك الفرس، وأحسنهم سيرة وأخبارا، وهو كسرى أنوشروان بن قباذ بن فيروز، وفي أيامه ولد النبي صلى الله عليه وسلم، وقال: (ولدت في زمن الملك العادل) (1) يعني كسرى، وكان ملكا جليلا محببا للرعايا تام التدبير، فتح الأمصار العظيمة في الشرق، وأطاعه الملوك، وتزوج ابنة خاقان ملك الترك، وقتل مزدك وأصحابه، وذلك أن أباه قباذ قد بايع رجلا زنديقا يسمى مزدك، أحدث مقالات في إباحة الفروج والأموال، وقال: إنما الناس فيها سواء، وكان لا يسفك الدم.
ولا يأكل اللحم، وأنه دخل يوما على قباذ وعنده زوجته أم كسرى أنوشروان، وكانت من أحسن النساء، وعليها حلي عظيم، فأعجبته، فقال لقباذ: إني أريد أن أنكحها، لأن في صلبي نبيا يكون منها، فأطاعه قباذ - لقوله بمقالته - فلما هم مزدك بها - وكان كسرى صغيرا - قبل قدميه وتضرع له في أن لا يفعل، فوهبها له. فأول ما ولي كسرى بعد موت أبيه قتل مزدك وأصحابه، فعظم في أعين الفرس (2).
--------------------------------------------
এই বক্তব্যে অপরাধী দল 'মজদকিয়া' (المزدكية)-র কর্মকাণ্ড এবং তাদের অপরাধের কারণে তারা যে ন্যায্য শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিল—কেননা তারা নিজেদের 'আদলিয়া' (العدلية) বা ন্যায়নিষ্ঠ বলে দাবি করত—তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। তিনি তাদের নির্মূল করেছিলেন, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলেছিলেন এবং তাদের সেই অশুভ বৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করেছিলেন। এটি এমন এক দল, যার মাধ্যমে প্রাচীন ইতিহাস ও মৌলিক সভ্যতার অধিকারী পারস্য জাতি পরীক্ষায় পতিত হয়েছিল। এটি ছিল ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মের পঞ্চম শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশের ঘটনা, যেমনটি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক ও হাস্যকর বিষয় হলো যে, তারা চরম জালিম হওয়া সত্ত্বেও নিজেদেরকে ন্যায়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করত; অথচ নাম কখনো কর্মকে আড়াল করতে পারে না যদি সেই কর্ম নামের পরিপন্থী হয়। মানুষের ধন-সম্পদ ও সম্মানহানিকে কখনো 'আদল' বা ন্যায়বিচার বলা যায় না।
11 - এই দুষ্ট দল সম্পর্কে ইবনে নুবাতা আল-মিসরি যা বলেছেন:
ইবনে নুবাতা আল-মিসরি তাঁর 'সরহুল উয়ুন শারহু রিসালাতি ইবনি যাইদুন' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে কিসরা সম্পর্কে আলোচনার সময় এবং ইবনে যাইদুনের এই উক্তির ব্যাখ্যায়—"এবং কিসরা তোমার শিবিকা বহন করেছে"—বলেছেন: "এই নাম বা উপাধিটি পারস্য সম্রাটদের জন্য ব্যবহৃত হতো। এখানে কিসরা আনুশিরওয়ান উদ্দেশ্য, কারণ তিনি ছিলেন পারস্য সম্রাটদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং জীবনচরিত ও সংবাদের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম। তিনি ছিলেন কুবাজ ইবনে ফিরুজের পুত্র কিসরা আনুশিরওয়ান। তাঁর সময়েই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি (নবীজী) বলেছেন: 'আমি ন্যায়পরায়ণ সম্রাটের যুগে জন্মগ্রহণ করেছি' (১)—অর্থাৎ কিসরা। তিনি ছিলেন এক মহান সম্রাট এবং প্রজাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও সুনিপুণ পরিকল্পনাকারী। তিনি প্রাচ্যের বিশাল বিশাল শহর জয় করেছিলেন এবং রাজন্যবর্গ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেছিলেন। তিনি তুর্কি সম্রাট খাকানের কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন এবং মজদক ও তার অনুসারীদের হত্যা করেছিলেন। কারণ তাঁর পিতা কুবাজ একজন জিন্দিক (زنديق) ব্যক্তির বায়আত গ্রহণ করেছিলেন, যার নাম ছিল মজদক। সে নারী ও সম্পদের অবাধ ব্যবহারের মতো নতুন মতবাদের প্রবর্তন করেছিল এবং বলেছিল যে, মানুষ এগুলোতে সমান অংশীদার। তবে সে রক্তপাত করত না।
এবং গোশত আহার করত না। একদিন সে কুবাজের নিকট প্রবেশ করল যখন সেখানে কুবাজের স্ত্রী তথা কিসরা আনুশিরওয়ানের মা উপস্থিত ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী এবং তাঁর অঙ্গে প্রচুর অলঙ্কার ছিল। মজদক তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে কুবাজকে বলল: 'আমি তাকে বিবাহ করতে চাই, কারণ আমার ঔরসে একজন নবী জন্মগ্রহণ করবেন যিনি তার গর্ভ থেকে আসবেন।' কুবাজ তার মতবাদে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তার আনুগত্য করল। যখন মজদক তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল—তখন কিসরা ছোট ছিলেন—তিনি মজদকের পা জড়িয়ে ধরলেন এবং এমনটি না করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানালেন। ফলে মজদক তাকে ছেড়ে দিল। অতঃপর কুবাজের মৃত্যুর পর কিসরা ক্ষমতা গ্রহণ করেই সর্বপ্রথম মজদক ও তার অনুসারীদের হত্যা করেন এবং এর ফলে পারস্যবাসীদের নিকট তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إن هذا الملك العظيم (كسرى أنوشروان) قد أظهر من حسن التدبير والعدل في سياسة الملك ما جعله محبوبا عند أمته - زيادة عما فعله بالمزدكية المفسدة - وصار يضرب بعدله الأمثال - وإن كان مشركا - وفي هذه القصة التي أقصها هنا ما يؤيد ذلك:
جاء في كتاب "مروج الذهب" للمسعودي عند الكلام على ملك أنوشروان الملك العادل قوله: (وانصرف أنوشروان إلى العراق، ووفدت عليه رسل الملوك وهداياها والوفود من الممالك، وكان فيمن وفد إليه رسول لملك الروم قيصر بهدايا وألطاف، فنظر الرسول إلى إيوانه (1) وحسن بنيانه، واعوجاج في ميدانه، فقال: كان يحتاج هذا الصحن أن يكون مربعا، فقيل له: إن عجوزا لها منزل من جانب الاعوجاج منه، وإن الملك أرادها على بيعه وأرغبها فأبت، فلم يكرهها الملك وبقي الاعوجاج من ذلك على ما ترى، فقال الرومي: هذا الاعوجاج الآن أحسن من الاستواء
…) (2).
فرسول قيصر ملك الروم أعجبه عدل الملك، وفضله على استواء الميدان لو أخذ الملك دار العجوز منها بالغصب والقوة - وهو قادر على ذلك - ولكنه العدل. والعدل وحده هو الذي وقف بينه وبين الظلم. سقت هذه القصة لنرى من خلالها عدل الملوك في الأزمنة الغابرة.
12 - ما قاله الملك المؤيد في المزدكية، وكيف لقيت جزاءها:
وفيما ذكره الملك المؤيد أبو الفداء زيادة بيان لأعمال هذه الفرقة الخاسرة، فقد ذكر في تاريخه المسمى: "المختصر في أخبار البشر" عند كلامه على ملوك الفرس ما يلي: (وفي أيام قباذ المذكور ظهر مزدك الزنديق، وادعى النبوة، وأمر الناس بالتساوي في الأموال، وأن يشتركوا في النساء لأنهم إخوة لأب وأم - آدم حواء - ودخل قباذ في دينه، فهلك الناس وعظم ذلك عليهم، أجمعوا على خلع قباذ، وخلعوه). ثم زاد أبو الفداء الموضوع بسطة على ما تقدم ذكره فقال: (ثم ملك بعد قباذ ابنه أنوشروان
--------------------------------------------
এই মহান সম্রাট (কিসরা আনুশিরওয়ান) রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন চমৎকার বিচক্ষণতা ও ইনসাফ (عدل) এর পরিচয় দিয়েছিলেন, যা তাকে তার জাতির কাছে প্রিয় করে তুলেছিল - ফাসাদ সৃষ্টিকারী (المفسدة) মাজদাকি সম্প্রদায়ের প্রতি তার কঠোর পদক্ষেপ ছাড়াও - এবং তার ন্যায়পরায়ণতা প্রবাদে পরিণত হয়েছে - যদিও তিনি একজন মুশরিক (مشرك) ছিলেন। আমি এখানে যে গল্পটি বর্ণনা করছি, তাতে এর সপক্ষেই প্রমাণ রয়েছে:
আল-মাসউদী রচিত "মুরুজুয যাহাব" কিতাবে ইনসাফগার সম্রাট আনুশিরওয়ানের রাজত্ব সম্পর্কে আলোচনায় বলা হয়েছে: (আনুশিরওয়ান ইরাকের দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং বিভিন্ন রাজ্যের রাজদূত ও তাদের উপহার সামগ্রী এবং প্রতিনিধিদল তার কাছে উপস্থিত হল। আগতদের মধ্যে রোম সম্রাট কায়সারের একজন দূতও ছিল, যে উপহার ও উপঢৌকন নিয়ে এসেছিল। দূতটি তার আইওয়ান (১) ও তার চমৎকার নির্মাণশৈলী এবং এর প্রাঙ্গণে থাকা একটি বক্রতার দিকে তাকাল। সে বলল: এই চত্বরটি বর্গাকার হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাকে বলা হলো: এই বক্রতার দিকে এক বৃদ্ধার বাড়ি আছে। সম্রাট এটি ক্রয় করতে চেয়েছিলেন এবং তাকে প্রলুব্ধও করেছিলেন, কিন্তু সে তা অস্বীকার করে। ফলে সম্রাট তাকে বাধ্য করেননি এবং এ কারণেই বক্রতাটি আপনি যেমন দেখছেন তেমন রয়ে গেছে। তখন রোমান দূত বলল: এই বক্রতাটি এখন সরলতার চেয়েও অধিক সুন্দর...) (২)।
রোম সম্রাট কায়সারের দূত সম্রাটের ইনসাফ (عدل) এ মুগ্ধ হলেন এবং একে প্রাঙ্গণের সমান্তরাল হওয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করলেন - যদি সম্রাট জোরপূর্বক ও ক্ষমতার জোরে বৃদ্ধার ঘরটি কেড়ে নিতেন, অথচ তিনি তাতে সক্ষম ছিলেন - কিন্তু এটিই হলো ইনসাফ (عدل)। আর ইনসাফ (عدل) ই কেবল তাকে জুলুম (ظلم) থেকে বিরত রেখেছে। আমি এই গল্পটি উল্লেখ করেছি যাতে আমরা এর মাধ্যমে প্রাচীনকালের রাজাদের ইনসাফ (عدل) সম্পর্কে জানতে পারি।
১২ - মাজদাকি সম্প্রদায় সম্পর্কে সম্রাট আল-মুয়াইয়াদ যা বলেছেন এবং তারা কীভাবে তাদের সাজা পেয়েছিল:
সম্রাট আল-মুয়াইয়াদ আবুল ফিদা এই ক্ষতিগ্রস্ত (الخاسرة) দলের কার্যকলাপের আরও বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি "আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার" নামক তার ইতিহাসে পারস্য সম্রাটদের আলোচনায় নিম্নোক্ত বিষয় উল্লেখ করেছেন: (উল্লিখিত কুবাদ-এর শাসনামলে জিন্দিক (زنديق) মাজদাকের আবির্ভাব ঘটে। সে নবুওয়তের দাবি করে এবং মানুষকে ধন-সম্পদে সাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। আর সে বলে যে, তারা যেন নারীদের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বজায় রাখে, কারণ তারা সকলেই এক পিতা-মাতার - আদম ও হাওয়া - সন্তান। কুবাদ তার ধর্মে দিক্ষীত হন, ফলে মানুষ ধ্বংস হতে থাকে এবং তাদের উপর বিপদ ঘনীভূত হয়। তারা কুবাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ব্যাপারে একমত হয় এবং তাকে অপসারণ করে)। এরপর আবুল ফিদা পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার উপর আরও বিস্তারিত আলোকপাত করে বলেন: (এরপর কুবাদের পর তার পুত্র আনুশিরওয়ান রাজত্ব লাভ করেন...)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাযদাকিয়্যাহ হিয়া আসলুল ইশতিরাকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ابن قباذ بن فيروز) ثم استرسل في سرد النسب إلى أن قال: (وملك أنوشروان ثمانيا وأربعين سنة، ولما تولى الملك كان صغيرا، فلما استقل بالملك وجلس على السرير قال لخواصه: إني عاهدت الله - إن صار الملك إلي - على أمرين: أحدهما أني أعيد آل المنذر إلى الحيرة، وأطرد الحارث عنها، وأما الأمر الثاني فهو قتل المزدكية الذين أباحوا نساء الناس وأموالهم، وجعلوهم مشتركين في ذلك، بحيث لا يختص أحد بامرأة ولا بمال، حتى اختلط أجناس اللؤماء بعناصر الكرماء، وتسهيل سبيل العاهرات إلى قضاء نهمتهن، واتصلت السفلة (1) إلى النساء الكرائم التي ما كان أولئك يتجاسرون على أن يملؤوا أعينهم منهن إذا رأوهن في الطريق، فقال له مزدك - وهو قائم إلى جنب السرير -: هل تستطيع أن تقتل الناس جميعا؟ هذا فساد في الأرض، والله ولاك لتصلح لا لتفسد
…فقال له أنوشروان: يا ابن الخبيثة أتذكر وقد سألت قباذ أن يأذن لك في المبيت عند أمي فأذن لك؟ فمضيت نحو حجرتها فلحقت بك وقبلت رجلك، وإن نتن جواربك ما زال في أنقي منذ ذلك إلى الآن، وسألتك حتى وهبتها لي ورجعت؟؟ قال: نعم
…).
الفصل الثاني:أنوشروان يأمر بقتل مزدك وإحراق جثته، ثم يتبعه بقتل أصحابه.
(فأمر حينئذ أنوشروان بقتل مزدك، فقتل بين يديه، وأحرقت جيفته، ونادى بإباحة دماء المزدكية، فقتل منهم في ذلك اليوم عالم كثير، وأباح دماء المانوية أيضا، فقتل منهم خلقا كثيرا) إلى أن قال مبينا ذلك: (وقسم أموال المزدكية على الفقراء، ورد الأموال التي لها أصحاب إلى أصحابها، وكل مولود اختلف فيه ألحقه بالشبه، وإن كان ولدا للمزدكية المقتولة جعله عبدا لزوج المرأة التي حبلت به من المزدكية، وأمر بكل امرأة غلبت على نفسها أن تعطى من مال المزدكي الذي غلبها بقدر مهرها، وأمر بنساء المعروفين اللائي مات من يقوم عليهن، أو تبرأ منهن أهلهن لفرط الغيرة والأنفة أن يجعلن في وضع أفرده لهن وأجرى عليهن ما يمونهن
--------------------------------------------
(ইবনে কুবাজ বিন ফিরোজ) এরপর তিনি বংশপরম্পরা বর্ণনায় নিবিষ্ট হলেন এবং এক পর্যায়ে বললেন: (আনুশিরওয়ান আটচল্লিশ বছর রাজত্ব করেন। যখন তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন। যখন তিনি পূর্ণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন এবং সিংহাসনে আরোহণ করলেন, তখন তিনি তাঁর পারিষদবর্গকে বললেন: আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছি—যদি রাজত্ব আমার হস্তগত হয়—তবে আমি দুটি কাজ অবশ্যই করব: তার একটি হলো, আমি আল-মুনজির বংশকে হিরা-তে পুনর্বহাল করব এবং আল-হারিসকে সেখান থেকে বিতাড়িত করব। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো মুজদাকিদের (المزدكية) হত্যা করা, যারা মানুষের নারী ও সম্পদকে সর্বসাধারণের জন্য অবাধ করে দিয়েছিল এবং সেগুলোতে অংশীদারিত্ব কায়েম করেছিল; ফলে কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট নারী বা সম্পদের একক মালিকানা দাবি করতে পারত না। এমনকি এর মাধ্যমে নীচ বংশীয়দের রক্ত অভিজাতদের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল এবং ব্যভিচারিণীদের কামবাসনা চরিতার্থ করার পথ সুগম হয়েছিল। এমনকি ইতর শ্রেণির (السفلة) (১) লোকেরা এমন সব অভিজাত ও মহীয়সী নারীদের নিকট পৌঁছে গিয়েছিল যাদের দিকে রাস্তায় দেখা হলেও তারা চোখ তুলে তাকাতে সাহস পেত না। তখন মাজদাক—যে সিংহাসনের পাশেই দণ্ডায়মান ছিল—তাকে বলল: আপনি কি সব মানুষকে হত্যা করতে পারবেন? এটি তো পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা। আল্লাহ আপনাকে রাজত্ব দিয়েছেন সংশোধন ও সংস্কারের জন্য, বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য নয়...
অতঃপর আনুশিরওয়ান তাকে বললেন: ওরে দুশ্চরিত্রার সন্তান! তোর কি মনে আছে, তুই যখন কুবাজের কাছে আমার মায়ের সাথে রাত্রিযাপনের অনুমতি চেয়েছিলি এবং সে তোকে অনুমতি দিয়েছিল? এরপর তুই যখন তাঁর কক্ষের দিকে যাচ্ছিলি, আমি তোর পিছু নিয়েছিলাম এবং তোর পায়ে চুম্বন করেছিলাম? তোর মোজার সেই দুর্গন্ধ আজ অবধি আমার নাকে লেগে আছে। আমি তোর কাছে অনুনয়-বিনয় করেছিলাম যতক্ষণ না তুই তাঁকে আমার কাছে সমর্পণ করলি এবং ফিরে গেলি? সে (মাজদাক) বলল: হ্যাঁ...।)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:আনুশিরওয়ান মাজদাককে হত্যার আদেশ ও তার মৃতদেহ ভস্মীভূতকরণ, অতঃপর তার অনুসারীদের হত্যার নির্দেশ।
(তখন আনুশিরওয়ান মাজদাককে হত্যার আদেশ দিলেন, ফলে তাঁর সামনেই তাকে হত্যা করা হলো এবং তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হলো। তিনি মুজদাকিদের রক্তপাতকে বৈধ ঘোষণা করলেন, ফলে সেদিন তাদের এক বিশাল জনগোষ্ঠী নিধন করা হলো। তিনি মানুবিদের (المانوية) রক্তপাতও বৈধ ঘোষণা করলেন এবং তাদেরও অসংখ্য লোক হত্যা করা হলো)। এক পর্যায়ে এই বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন: (তিনি মুজদাকিদের সম্পদ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন এবং যে সম্পদের প্রকৃত মালিক বর্তমান ছিল, তা তাদের ফিরিয়ে দিলেন। আর পিতৃপরিচয় নিয়ে অস্পষ্টতা থাকা প্রতিটি নবজাতককে তিনি চেহারার সাদৃশ্যের (الشبه) ভিত্তিতে কারো সাথে সংশ্লিষ্ট করে দিলেন। যদি কোনো নবজাতক নিহত কোনো মুজদাকির সন্তান হয়ে থাকে, তবে তাকে সেই নারীর স্বামীর দাসে পরিণত করলেন যে নারী ঐ মুজদাকির মাধ্যমে গর্ভবতী হয়েছিল। আর যে নারীর ওপর জবরদস্তি করা হয়েছিল, তাকে ঐ বলপ্রয়োগকারী মুজদাকির সম্পদ থেকে তার মোহরানা পরিমাণ অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এছাড়া সম্ভ্রান্ত পরিবারের সেই সব নারী যাদের অভিভাবক মারা গিয়েছিল কিংবা যাদের পরিবার অতিমাত্রায় আত্মমর্যাদাবোধ ও লজ্জার কারণে বর্জন করেছিল, তাদের জন্য তিনি একটি পৃথক আবাসের ব্যবস্থা করলেন এবং তাদের জীবনধারণের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন।
--------------------------------------------