(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: -)
شرح صفة الصلاة لابن القيم   (خالد المشيقح)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: شرح صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم

من (كتاب الصلاة) لابن قيم الجوزية (691 - 751 هـ)

شرح: أ د خالد بن علي بن محمد المشيقح

(أستاذ الفقه في كلية الشريعة بجامعة القصيم)

اعتنى بإخراجه: سهيل بن إبراهيم الطاسان

الناشر: دار ركائز - الكويت

الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 126

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ذو القعدة 1445

ইবনুল কাইয়্যিম রচিত সিফাতুস সালাত-এর ব্যাখ্যা   (খালিদ আল-মুশাইক্বিহ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতির ব্যাখ্যা

ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৯১ - ৭৫১ হিজরী) রচিত (কিতাবুস সালাত) হতে

ব্যাখ্যা: প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মুশাইক্বিহ

(কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক)

সম্পাদনায়: সুহাইল বিন ইব্রাহিম আল-তাসসান

প্রকাশক: দারু রাকাইয - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরী - ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ যুলকদ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحَمْدَ للهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، ونعوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فلا مضلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أن لَا إلَهَ إلا اللهُ وَحَدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُه، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى فَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ وَجِيهًا (69) يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} [الأحزاب: 70 71].

أما بعد:

فهذا الشرح أصله دروس ألقيتها في محافظة الرس في شهر صفر عام 1443 هـ، وقد قام أخونا الشيخ سهيل بن إبراهيم الطاسان بالعناية بإخراجها، وقد نظرت فيها بعد نسخها، وعدلت ما يحتاج إلى تعديل، وأشكر جمعية الدعوة والإرشاد وتوعية الجاليات في الرس على ترتيب هذا الدرس والتكفل بنسخه وطباعته وتوزيعه، فأسأل الله عز وجل أن ينفع بها ملقيها، وقائلها، والناظر فيها، وأن يبارك فيها، آمين؛ إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

د. خالد بن علي المشيقح
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} [আন নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা মুসাকে কষ্ট দিয়েছিল, অতঃপর তারা যা বলেছিল আল্লাহ তাকে তা থেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন এবং সে আল্লাহর নিকট অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিল। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো} [আল আহজাব: ৭০-৭১]।

অতঃপর:

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি মূলত সেই সব পাঠদানের সমষ্টি যা আমি ১৪৪৩ হিজরি সালের সফর মাসে আর-রাস জেলায় প্রদান করেছিলাম। আমাদের ভাই শাইখ সুহাইল বিন ইবরাহিম আত-তাসান এটি বিন্যাস ও প্রকাশের যত্ন নিয়েছেন। অনুলিপি প্রস্তুত হওয়ার পর আমি তা নিরীক্ষণ করেছি এবং প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করেছি। আমি আর-রাসের ‘জামিয়াতুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ ওয়া তউয়িয়াতুল জালিয়াতি’ সংস্থাকে এই দরসটি আয়োজন এবং এর প্রতিলিপি প্রস্তুতকরণ, মুদ্রণ ও বিতরণের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এর বক্তা, লেখক এবং পাঠককে উপকৃত করেন এবং এতে বরকত দান করেন। আমিন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৬)
أمسية طيبة ولحظاتٌ مباركة نقضيها في مدارسة كتاب الله وسنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم في أمرٍ يتعلق بأهمِّ أركان الإسلام بعد الشهادتين؛ ألا وهو ركن الصلاة، في مسألةٍ أيضًا تعتبر من أهم مسائل الصلاة وهي: معرفة الكيفية والهيئة والصفة التي ينبغي أن تكون عليها الصلاة كما جاء عن نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.

وهذه الصفة التي بين أيدينا كتبها عالمٌ جليل لا يخفى على أسماع أهل العلم، علمه معلوم وشهرته ذائعة؛ ألا وهو ابن القيم رحمه الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن القيم الجوزي، المولود سنة إحدى وتسعين وستمائة للهجرة، والمتوفى سنة إحدى وخمسين وسبعمئة للهجرة، وابن القيم رحمه الله لا يحتاج أن يُعرَّف به معروف لدى الجميع بعلمه الواسع الغزير في شتى فنون العلم، وهو أحد تلامذة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

هذه الصفة التي سطَّرها ابن القيم رحمه الله لخَّص فيها صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التكبير إلى التسليم، وهذه الصفة أوردها رحمه الله في كتابه كتاب الصلاة وحكم تاركها في آخر كتاب الصلاة، وقال: [فصلٌ: فهاك سياق صلاته صلى الله عليه وسلم من حين استقباله القبلة] إلى آخره كما سيأتينا إن شاء الله.

وكتاب الصلاة كسائر كتب ابن القيم رحمه الله تُعنى بالتقعيد والتأصيل ومراعاة الدليل والأخذ به، وإيراد مذاهب الأئمة والسلف وأدلتهم وما ورد عليها من مناقشة، ثم بعد ذلك ينتهي به السياق إلى ترجيح ما دلَّ عليه كتاب الله وسنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم.

وهذا الكتاب [كتاب الصلاة] الذي ذكر فيه ابن القيم رحمه الله هذا الفصل في صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم كتابٌ قيِّم، ساقه ابن القيم رحمه الله في الإجابة على عشرة أسئلة تتعلق بحكم الصلاة وحكم تاركها، تكلم عن حكم تارك الصلاة، وعن قتله،
একটি সুন্দর সন্ধ্যা এবং বরকতময় মুহূর্ত আমরা অতিবাহিত করছি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অধ্যয়নের মাধ্যমে। এটি ইসলামের শাহাদাতদ্বয়ের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ; আর তা হলো নামাজের রুকন (ركن) সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়। বিশেষ করে নামাজের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা, যা হলো: আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত নামাজের নিয়ম, পদ্ধতি ও স্বরূপ জানা।

আমাদের সামনে থাকা নামাজের এই পদ্ধতির বর্ণনাটি লিখেছেন একজন মহান আলেম, ইলম অন্বেষণকারীদের কাছে যাঁর নাম অপরিচিত নয়। তাঁর ইলম সুবিদিত এবং তাঁর খ্যাতি সুদূরপ্রসারী; তিনি হলেন ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ), মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজি। তিনি হিজরি ৬৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি ৭৫১ সালে ইন্তেকাল করেন। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর নতুন করে পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন শাস্ত্রের গভীর ও বিস্তৃত জ্ঞানের জন্য তিনি সর্বজনবিদিত। তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যতম ছাত্র ছিলেন।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) নামাজের যে পদ্ধতির বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন, তাতে তিনি তাকবীর থেকে শুরু করে সালাম পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজের পদ্ধতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন। তিনি এটি তাঁর কিতাবুস সালাত ওয়া হুকমু তারিকিহা গ্রন্থের শেষাংশে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: [পরিচ্ছেদ: কিবলামুখী হওয়ার সময় থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজের ধারাবাহিক বিবরণ নিচে দেওয়া হলো]—ইনশাআল্লাহ সামনে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যান্য গ্রন্থের মতো এই কিতাবুস সালাত গ্রন্থটিও মূলনীতি নির্ধারণ (تقعيد) ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের (تأصيل) প্রতি গুরুত্বারোপ করে এবং দলিলের প্রতি লক্ষ্য রেখে তা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এতে ইমামগণের ও সালাফদের মাযহাব, তাঁদের দলিলাদি এবং সেই সংক্রান্ত পর্যালোচনাসমূহ স্থান পেয়েছে। পরিশেষে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ যে বিষয়ের দিকে নির্দেশ করে, তাকেই অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) মাধ্যমে আলোচনা সমাপ্ত হয়েছে।

এই কিতাবুস সালাত গ্রন্থটি—যাতে ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজের পদ্ধতির ওপর এই পরিচ্ছেদটি উল্লেখ করেছেন—একটি অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) নামাজ এবং নামাজ ত্যাগকারীর বিধান সংক্রান্ত দশটি প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এটি সাজিয়েছেন। তিনি সেখানে নামাজ ত্যাগকারীর বিধান ও তাকে হত্যার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৭)
وهل يُقتَل مسلمًا أو كافرًا؟ وحكم صلاة الليل بالنهار، وحكم صلاة النهار بالليل، وحكم صلاة الجماعة، وحكم الصلاة في البيت، وما يتعلق بالتخفيف الذي أمر به النبي صلى الله عليه وسلم وما ضابطه، إلى آخره.

تكلم رحمه الله عن هذه المسائل، بعرض أقوال أهل العلم، ومذاهب الأئمة وسلف الأمة، وأدلتهم، ويُرجِّح ما يدل عليه الدليل، ثم بعد ذلك ختم هذا الكتاب القيم بهذه الصفة التي بين أيدينا.
এবং তাকে কি মুসলিম বা কাফির হিসেবে হত্যা করা হবে? দিনে রাতের সালাত আদায়ের বিধান (حكم), রাতে দিনের সালাত আদায়ের বিধান (حكم), জামাতে (جماعة) সালাত আদায়ের বিধান (حكم), ঘরে সালাত আদায়ের বিধান (حكم) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সংক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেই সংশ্লিষ্ট বিষয় ও তার মানদণ্ড (ضابط) কী হবে—এই সকল বিষয় সহ আরও অনেক কিছু।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আলেমগণের (أهل العلم) বক্তব্য, ইমামগণের মাযহাব ও উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف الأمة) পথ এবং তাঁদের দলীলসমূহ (أدلة) উপস্থাপনের মাধ্যমে এই মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। দলীল যে বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে তিনি সেটিকে অগ্রাধিকার (يرجح) দিয়েছেন। অতঃপর তিনি এই মূল্যবান কিতাবটি আমাদের সামনে থাকা এই পদ্ধতির (صفة) মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৯)
قال الإمام ابن القيم عليه رحمة الله في كتابه الصلاة:

فَصْلٌ

فهاك سياق صلاته صلى الله عليه وسلم من حين استقباله القبلة وقوله: «الله أكبر» إلى حين سلامه، كأنَّك تشاهده عيانًا، ثم اختر لنفسك بعدُ ما شئت.

قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قام إِلى الصلاة واستقبل القبلة


 

قوله: «فهاك» أي: اسم فعل أمر بمعنى خذ.

قوله: «سياق صلاته صلى الله عليه وسلم، من حين استقباله القبلة … » هنا أراد رحمه الله أن يُبيِّن صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم من التسليم إلى التكبير، وقد ذكر رحمه الله جملة صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم وإن كان هناك مسائل ما ذكرها رحمه الله إلا أنه من حيث العموم أتى على جملة صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم.

قوله: «ثم اختر لنفسك بعدُ ما شئت» يعني مع التنزّل أن الإنسان له الاختيار، وإلا فإن المسلم سيختار هدي النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن هذا هو الأصل في المسلم، أنه يأخذ بما دلَّ عليه الدليل، قال الله عز وجل: {وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ} [القصص: 65]، {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا} [النور: 51]، {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب: 36].

فقوله رحمه الله: «اختر لنفسك بعدُ ما شئت» يعني خُذْ بهدي النبي صلى الله عليه وسلم وليس مراده أنك تأخذ بقولٍ ولو خالف هدي النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه إنما قال ذلك؛ لأن الأصل في المسلم إنما يأخذ بما دلَّ عليه الدليل، وأن هذه الصفة التي كتبها على وفق هديه صلى الله عليه وسلم.

قوله رحمه الله: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قام إِلى الصَّلاة» القيام ركن من أركان
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর আস-সালাত গ্রন্থে বলেছেন:

পরিচ্ছেদ

সুতরাং, এই নাও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের ধারাবাহিক বিবরণ—তাঁর কিবলামুখী হওয়া এবং 'আল্লাহু আকবার' বলা থেকে শুরু করে সালাম ফিরানো পর্যন্ত—যেন তুমি তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করছ। এরপর তুমি নিজের জন্য যা ইচ্ছা পছন্দ করে নাও।

তিনি বলেছেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন এবং কিবলামুখী হতেন...


 

তাঁর উক্তি: «সুতরাং এই নাও» অর্থাৎ: এটি একটি নির্দেশসূচক ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যা "গ্রহণ করো" অর্থে ব্যবহৃত।

তাঁর উক্তি: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের ধারাবাহিক বিবরণ, তাঁর কিবলামুখী হওয়া থেকে... » এখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সালাম থেকে শুরু করে তাকবির পর্যন্ত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করতে চেয়েছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতির একটি সামগ্রিক বিবরণ উল্লেখ করেছেন; যদিও সেখানে এমন কিছু মাসআলা থাকতে পারে যা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেননি, তবে সামগ্রিক দিক থেকে তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতির ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনাই নিয়ে এসেছেন।

তাঁর উক্তি: «এরপর তুমি নিজের জন্য যা ইচ্ছা পছন্দ করে নাও» অর্থাৎ তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয়েছে যে মানুষের পছন্দ করার সুযোগ আছে, নতুবা একজন মুসলিম তো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকেই বেছে নেবে; কারণ একজন মুসলিমের জন্য এটাই হলো মূল নীতি যে, সে দলিল যা নির্দেশ করে তা গ্রহণ করবে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, ‘তোমরা রাসুলদেরকে কী উত্তর দিয়েছিলে?’} [কাসাস: ৬৫], {মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই—যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন—তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম’} [নূর: ৫১], {আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে অন্য কোনো ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) থাকে না} [আহজাব: ৩৬]।

সুতরাং তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) উক্তি: «এরপর তুমি নিজের জন্য যা ইচ্ছা পছন্দ করে নাও» এর অর্থ হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে গ্রহণ করো। তাঁর উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আপনি এমন কোনো মত গ্রহণ করবেন যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের পরিপন্থী। তিনি এ কথা এ কারণেই বলেছেন যে, একজন মুসলিমের মূল ভিত্তি হলো যা দলিল দ্বারা প্রমাণিত তা গ্রহণ করা, আর এই সালাতের পদ্ধতি যা তিনি বর্ণনা করেছেন তা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুযায়ী।

তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) উক্তি: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন» — দাঁড়ানো হলো সালাতের রুকনগুলোর মধ্যে একটি রুকন
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১০)
ووقف في مصلاه رفع يديه إِلى فروع أُذنيه»(1).


 

الصلاة في الفرض بالاتفاق، وفي النفل مستحب، قال الله عز وجل: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238]، ولحديث أبي هريرة مرفوعًا: «إذا قمت إلى الصلاة فأسبغ الوضوء، ثم استقبل القبلة فكبِّر»(2)، متفق عليه.

والحد الفاصل بين حد القيام وحد الركوع أنه متى انحنى، فكان إلى القيام أقرب منه إلى الركوع فهو في حد القيام.

قوله: «وَوَقف في مصلَّاه رفع يَدَيْهِ إِلى فروع أُذُنَيْه» رفع اليدين عند تكبيرة الإحرام سنَّة باتفاق الأئمة؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: «رأيت النبي صلى الله عليه وسلم إذا افتتح الصلاة رفع يديه حتى يُحاذي منكبيه»، متفق عليه.

وعن سعيد بن جبير: أنه سُئل عن رفع اليدين في الصلاة، فقال: هو شيء يزين به الرجل صلاته، كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يرفعون أيديهم في الافتتاح، وعند الركوع، وإذا رفعوا رؤوسهم، رواه البيهقي في السنن الكبرى(3). وإسناده صحيح.

وسيأتينا أن رفع الأيدي في الصلاة ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في أربعة مواضع فقط، أما الموضع الخامس: عند كل خفضٍ ورفع هذا موضع خلاف سنشير إليه وأضيق المذاهب في هذه المسألة هو مذهب الإمام أبي حنيفة رحمه الله.

قال المؤلف رحمه الله: «إِلى فروع أُذُنَيْه» يعني ترفع إلى فروع أذنيك، أعلى

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (737)، ومسلم (391).

(2) أخرجه: البخاري رقم (10) ومسلم رقم (4).

(3) السنن الكبرى (2/ 75).
এবং তিনি নিজের সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন, তাঁর দুই হাত কানের লতি পর্যন্ত তুললেন»(১).


 

ফরজ সালাতে (দাঁড়ানো) ঐকমত্যের ভিত্তিতে (আবশ্যক), আর নফল সালাতে মুস্তাহাব। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তোমরা আল্লাহর সামনে একনিষ্ঠভাবে দাঁড়াও} [বাকারা: ২৩৮], এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত মারফু (مرفوعًا) হাদিসের কারণে: «যখন তুমি সালাতে দণ্ডায়মান হও তখন পূর্ণরূপে ওজু করো, অতঃপর কিবলামুখী হও এবং তাকবির দাও»(২), এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

কিয়াম (দণ্ডায়মান অবস্থা) এবং রুকুর সীমানার মধ্যকার পার্থক্যকারী রেখা হলো—যখন কেউ অবনত হয়, তখন যদি সে রুকুর তুলনায় কিয়ামের অধিক নিকটবর্তী থাকে, তবে সে কিয়ামের সীমানায় গণ্য হবে।

লেখকের উক্তি: «এবং তিনি নিজের সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন, তাঁর দুই হাত কানের লতি পর্যন্ত তুললেন» তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত তোলা ইমামগণের ঐকমত্যে সুন্নাহ; ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: «আমি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাঁর হাত দুটি কাঁধ বরাবর তুলতেন», এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) থেকে বর্ণিত: তাঁকে সালাতে হাত তোলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি এমন বিষয় যার দ্বারা মানুষ তার সালাতকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ সালাত শুরু করার সময়, রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় হাত তুলতেন। এটি বায়হাকি সুনানুল কুবরা-তে বর্ণনা করেছেন(৩) এবং এর সনদটি সহিহ (صحيح)।

আমাদের সামনে আসবে যে, সালাতে হাত তোলা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কেবল চারটি স্থানে প্রমাণিত। আর পঞ্চম স্থানটি হলো—প্রত্যেকবার উঠা ও নামার সময়; এটি মতভেদের একটি স্থান যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব। এই বিষয়ে সবচেয়ে সংকীর্ণ মাযহাব হলো ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাব।

লেখক (রহ.) বলেন: «তাঁর কানের লতি পর্যন্ত» অর্থাৎ আপনি আপনার দুই হাত কানের লতি বা উপরিভাগ পর্যন্ত তুলবেন...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৭৩৭) ও মুসলিম (৩৯১) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(২) এটি বুখারি নং (১০) ও মুসলিম নং (৪) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(৩) সুনানুল কুবরা (২/ ৭৫)।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

الأذنين، ورفع الأيدي ورد فيه صفتان:

الصفة الأولى: إلى فروع الأذنين؛ لما روى مالك بن الحويرث رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا كبر رفع يديه حتى يُحاذي بهما أذنيه، وإذا ركع رفع حتى يحاذي بهما أذنيه، وإذا رفع رأسه من الركوع فقال: «سمع الله لمن حمده» فعل مثل ذلك، رواه مسلم(1)، وفي

 

لفظ: حتى يُحاذي بهما فروع أذنيه، رواه مسلم.

وعن وائل بن حجر رضي الله عنه قال: قدمت المدينة، فقلت: لأنظرن إلى صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، قال: فكبر ورفع يديه حتى رأيت إبهاميه قريبًا من أذنيه(2).

الصفة الثانية: إلى حذو المنكبين؛ لما رواه البخاري قال أبو حميد الساعدي رضي الله عنه: أنا كنت أحفظكم لصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، رأيته إذا كبر جعل يديه حذاء منكبيه.

ولحديث ابن عمر رضي الله عنهما: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة رفع يديه حتى يكونا حذو منكبيه ثم يكبر(3). متفق عليه.

وعن نافع، أن ابن عمر رضي الله عنهما كان يُكبر بيديه حين يستفتح، وحين يركع، وحين يقول: سمع الله لمن حمده، وحين يرفع رأسه من الركوع، وحين يستوي قائمًا. قلت لنافع: كان ابن عمر يجعل الأولى أرفعهن؟ قال: لا. مصنف عبد الرزاق، وجزء رفع اليدين للبخاري. وإسناده صحيح.

فهاتان صفتان، والصفات الواردة على وجوه متنوعة، للعلماء في ذلك مسلكان:

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (391).

(2) أخرجه مسلم (401)، وأحمد (18850) واللفظ لأحمد.

(3) رواه البخاري (735)، ومسلم (390).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

কানদ্বয়; আর হস্তদ্বয় উত্তোলনের (رفع اليدين) বিষয়ে দুটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে:

প্রথম পদ্ধতি: কানের লতি পর্যন্ত; যা মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকবির দিতেন তখন তাঁর হাত দুটি কান বরাবর উত্তোলন করতেন, যখন রুকু করতেন তখনও কান বরাবর হাত উত্তোলন করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন ও ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন, তখনও তদ্রূপ করতেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন(১); আর একটি

 

পাঠে (لفظ): কানের উপরিভাগ পর্যন্ত হাত তুলতেন, এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এবং ওয়াইল বিন হুজর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মদিনায় আসলাম এবং বললাম, আমি অবশ্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত প্রত্যক্ষ করব। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাকবির দিলেন এবং হাত তুললেন, এমনকি আমি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয়কে কানের নিকটবর্তী দেখলাম(২)।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: কাঁধ বরাবর; যা বুখারি বর্ণনা করেছেন, আবু হুমায়িদ আস-সা’ঈদি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি আপনাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। আমি তাঁকে দেখেছি যখন তিনি তাকবির দিতেন, তখন তাঁর উভয় হাত কাঁধ বরাবর রাখতেন।

এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের কারণে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন, তখন তাঁর উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন, অতঃপর তাকবির দিতেন(৩)। সর্বসম্মত (متفق عليه)।

নাফি’ থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন সালাত শুরু করতেন, যখন রুকু করতেন, যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন, যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন এবং যখন (দ্বিতীয় রাকাত শেষে) দাঁড়িয়ে সোজা হতেন, তখন হাত তুলে তাকবির দিতেন। আমি নাফি’-কে বললাম: ইবনে উমর কি প্রথমবার হাত তোলাকে অন্যগুলোর চেয়ে বেশি উঁচু করতেন? তিনি বললেন: না। এটি মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক এবং বুখারির জুয রাফউল ইয়াদাইন-এ বর্ণিত হয়েছে। আর এর বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহিহ (صحيح)।

সুতরাং এই দুটি পদ্ধতি; আর বিভিন্নভাবে বর্ণিত সুন্নাহর পদ্ধতিসমূহের ক্ষেত্রে আলেমদের দুটি পন্থা রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (৩৯১) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম (৪০১) এবং আহমদ (১৮৮৫০) এটি বর্ণনা করেছেন, আর শব্দবিন্যাস আহমদের।

(৩) বুখারি (৭৩৫) এবং মুসলিম (৩৯০) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

* مسلك الجمع.

* ومسلك الترجيح.

فمسلك الترجيح: يذهب إليه كثير من الأئمة، فتجد أن بعض الأئمة يرجح هذه الصفة ويختارها، ويُرجِّح هذا الذكر ويختاره … إلخ.

والمسك الثاني: مسلك الجمع، ويختاره شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: وهو مسلك الجمع، وهو العمل بجميع أنواع العبادات الواردة في سنَّة النبي صلى الله عليه وسلم، وقد تطرق ابن رجب رحمه الله إلى هذا في كتابه [القواعد].

* ومسلك ابن تيمية رحمه الله هو الصواب لما في ذلك من العمل بكل سنَّة النبي صلى الله

 

عليه وسلم، هذه فائدة.

* والفائدة الثانية: حفظ العلم.

* والفائدة الثالثة: حضور القلب، القلب يحضر إذا كنت في هذه الصلاة تطبِّق هذه السنَّة، والصلاة التالية تطبِّق هذه السنَّة، ففي ذلك حفظ العلم، وفيه أيضًا حضور القلب، وفيه أيضًا العمل بكل السنَّة الواردة عن النبي صلى الله عليه وسلم.

فَرع: زمن الرفع: يرفع يديه أولًا فإذا استقرتا في موضع المحاذاة كبر؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام للصلاة رفع يديه حتى تكونا حذو منكبيه، ثم كبَّر، رواه مسلم. لكن لفظه عند البخاري: فرفع يديه حين يكبر، ولفظ مسلم أكثر رواة.

وفي حديث أبي حميد مرفوعاً: يرفع يديه حتى يحاذي بهما منكبيه، ثم يكبر، أبو داود، إسناده صحيح.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

* সমন্বয়ের পদ্ধতি (مسلك الجمع)।

* এবং অগ্রাধিকার প্রদানের পদ্ধতি (مسلك الترجيح)।

অগ্রাধিকার প্রদানের পদ্ধতি (مسلك الترجيح): অনেক ইমাম এই মতের দিকে গিয়েছেন। আপনি লক্ষ্য করবেন যে, কোনো কোনো ইমাম বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দেন এবং সেটি বেছে নেন, আবার কোনো কোনো জিকিরকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দেন এবং সেটি বেছে নেন … ইত্যাদি।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো: সমন্বয়ের পদ্ধতি (مسلك الجمع), যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) পছন্দ করেছেন। এটি হলো সমন্বয়ের পদ্ধতি (مسلك الجمع), আর তা হলো নবী (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة)-তে বর্ণিত সকল প্রকার ইবাদতের ওপর আমল করা। ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-কাওয়ায়িদ' গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

* ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর পদ্ধতিটিই সঠিক, কারণ এতে নবী (সা.)-এর প্রতিটি সুন্নাহ (سنة)-এর ওপর আমল করা নিশ্চিত হয়। এটি একটি উপকারিতা।

 

এটি হলো প্রথম উপকারিতা।

* দ্বিতীয় উপকারিতা: ইলম বা জ্ঞান সংরক্ষণ করা।

* তৃতীয় উপকারিতা: অন্তরের উপস্থিতি। অন্তর তখনই উপস্থিত থাকে যখন আপনি এই নামাজে এই সুন্নাহ (سنة) প্রয়োগ করেন এবং পরবর্তী নামাজে অন্য আরেকটি সুন্নাহ (سنة) প্রয়োগ করেন। এর মাধ্যমে ইলম বা জ্ঞান সংরক্ষিত হয়, অন্তরের একাগ্রতা অর্জিত হয় এবং নবী (সা.) থেকে বর্ণিত প্রতিটি সুন্নাহ (سنة)-এর ওপর আমল করাও সম্পন্ন হয়।

শাখা মাসআলা: হাত তোলার সময়: প্রথমে হাত তুলবে, যখন হাত কাঁধ বরাবর স্থির হবে তখন তাকবির বলবে; ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের প্রেক্ষিতে: রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নামাজের জন্য দাঁড়াতেন, তখন হাত তুলতেন যতক্ষণ না তা তাঁর দুই কাঁধ বরাবর হতো, তারপর তাকবির বলতেন; এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তবে বুখারির শব্দ হলো: ‘তিনি তাকবির বলার সময় হাত তুলতেন’, আর মুসলিমের শব্দগুলো অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারী (رواة) বর্ণনা করেছেন।

এবং আবু হুমাইদ বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসে এসেছে: তিনি তাঁর দুই হাত তুলতেন যতক্ষণ না তা তাঁর দুই কাঁধের বরাবর হতো, তারপর তাকবির বলতেন; আবু দাউদ, এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
واستقبل بأصابعه القبلة ونشرها، وقال: الله أكبر ولم يكن يقول قبل ذلك: نَوَيْتُ أُصلِّي كذا وكذا، مستقبل القبلة، أَربع ركعاتٍ، فريضة الوقت، أداءً لله تعالى، إمامًا أو مأمومًا! ولا كلمةً واحدةً من ذلك في مجموع صلاته من أوَّلها إلى آخرها؛ فقد نَقَل عنه أصحابه حركاته وسكناته وهيئاته، حتى اضطراب لحيته في الصَّلاة، حتى إنَّه حَمَل بنت ابنته مرَّةً في الصَّلاة، فنقلوه ولم يهملوه. فكيف يتَّفق مَلَؤُهُم من أوَّلهم إلى آخرهم على ترْك نقل هذا المهمِّ، الذي شِعَار الدُّخول في الصَّلاة؟! ولعمر الله لو ثبت عنه من هذا كلِّه


 

قوله: «وقال: «الله أكبر»» هذا متواتر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يفتتح صلاته بالتكبير، وهذا ما عليه عامة أهل العلم رحمهم الله خلافًا لأبي حنيفة، فهو يقول: يصح كل ذكرٍ دالٍّ على التعظيم.

 

قوله: «ولم يكن يقول قبل ذلك: نَوَيْتُ أُصلِّي كذا وكذا، مستقبل القبلة، أَربع ركعاتٍ، فريضة الوقت، أداءً لله تعالى، إمامًا .... » أي: لم يكن من هدي النبي صلى الله عليه وسلم أنه يتلفَّظ ب‌‌النية، وذلك أن النية من أعمال القلوب وليست من أعمال الجوارح، والعبادات توقيفية، ولأن الذي يتلفظ بالنية كأنه يُعلِم الله عز وجل بما سيعمله، والله سبحانه وتعالى يعلم السر وأخفى، وهذا خلاف ما عليه متأخرو الفقهاء؛

* فمتأخرو الفقهاء يقولون: يُستحب أن يتلفظ بالنية.

* الحنابلة يقولون: يتلفظ بها سرًّا.

* الشافعية أوسع من هذا يقولون: يستحب أن ينطق بها.

وهذا كله ليس عليه دليل، والصحيح ما ذكر المؤلف رحمه الله هو أن التلفظ بالنية غير مشروع، وهذا ما ذهب إليه ابن تيمية، وما عليه المحققون؛ لما ذكر
এবং তিনি তাঁর আঙুলসমূহ কিবলার অভিমুখী করতেন ও সেগুলো প্রসারিত রাখতেন এবং বলতেন: আল্লাহু আকবার। তিনি এর পূর্বে বলতেন না: ‘আমি অমুক অমুক সালাত আদায়ের নিয়ত করছি, কিবলামুখী হয়ে, চার রাকাত, ওয়াক্তের ফরজ, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করছি, ইমাম হিসেবে অথবা মুক্তাদি হিসেবে!’ তাঁর সালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর একটি শব্দও বর্ণিত হয়নি। তাঁর সাহাবীগণ তাঁর নড়াচড়া, স্থিরতা ও অঙ্গভঙ্গিগুলো বর্ণনা করেছেন, এমনকি সালাতে তাঁর দাড়ি নড়ার বিষয়টি পর্যন্ত; এমনকি তিনি একবার সালাতরত অবস্থায় তাঁর নাতনিকে বহন করেছিলেন, তাঁরা সেটিও বর্ণনা করেছেন এবং কোনো কিছু বাদ দেননি। এমতাবস্থায় সালাতে প্রবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনটি বর্ণনা না করার ব্যাপারে তাঁদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলে কীভাবে একমত হতে পারেন?! আল্লাহর কসম, যদি তাঁর থেকে এর কোনো কিছু প্রমাণিত হতো—


 

তাঁর উক্তি: ‘এবং তিনি বলতেন: আল্লাহু আকবার’: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) ভাবে বর্ণিত যে, তিনি তাকবিরের মাধ্যমে সালাত শুরু করতেন। ইমাম আবু হানিফার মতের বিপরীতে অধিকাংশ ইলম অন্বেষী ও আলিমগণ (রহিমাহুল্লাহ) এই মতের ওপর রয়েছেন। তিনি (আবু হানিফা) বলেন: সম্মান প্রদর্শন বুঝায় এমন যেকোনো জিকির দ্বারা সালাত শুরু করা শুদ্ধ হবে।

 

তাঁর উক্তি: ‘এবং তিনি এর পূর্বে বলতেন না: আমি অমুক অমুক সালাত আদায়ের নিয়ত করছি...’: অর্থাৎ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল না যে তিনি মুখে নিয়ত উচ্চারণ করবেন। এর কারণ হলো, নিয়ত অন্তরের কাজের অন্তর্ভুক্ত, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ নয়। আর ইবাদতসমূহ ওহি-নির্ভর (তাওকিফিয়্যাহ)। এছাড়া যে ব্যক্তি মুখে নিয়ত উচ্চারণ করে সে যেন মহান আল্লাহকে তার কাজ সম্পর্কে অবগত করছে, অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা গোপন ও অতি গোপন সব বিষয়ই জানেন। এটি পরবর্তী যুগের ফকিহদের অবস্থানের বিপরীত;

* পরবর্তী যুগের ফকিহগণ বলেন: মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)।

* হাম্বলিগণ বলেন: মনে মনে বা নিভৃতে নিয়ত উচ্চারণ করবে।

* শাফেয়িগণ এ বিষয়ে আরও প্রশস্ত কথা বলেন; তাঁরা বলেন: এটি মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব।

আর এই সবকিছুর সপক্ষে কোনো দলিল নেই। সঠিক (صحيح) মত হলো যা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা শরিয়তসম্মত নয়। এটিই ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং গবেষক আলিমগণের অভিমত; যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই কারণে।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
كلمة واحدة لكُنَّا أول من اقتدى به فيها، وبادر إليها ثم كان يمسك شماله بيمينه، فيضعها عليها فوق المِفْصَل،


 

المؤلف رحمه الله من الدليل أنه لم يُنقَل عن النبي صلى الله عليه وسلم، وأما ما ورد في الحج من قوله صلى الله عليه وسلم في

 

حديث أنس رضي الله عنه: «لبيك عمرة وحجًّا»(1)، رواه مسلم إلى آخره، فهذا تلفُّظٌ بالمنوي وليس تلفظًا بالنية.

 

قوله: «ثم كان يمسك شماله بيمينه، فيضعها عليها فوق المِفْصَل» وضع اليد اليمنى على اليد اليسرى هذا ما عليه عامة أهل العلم، وعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: «من أخلاق النبيين وضع اليمين على الشمال في الصلاة»(2)، رواه ابن أبي شيبة، وابن المنذر في الأوسط. وإسناده صحيح.

وروى ابن القاسم عن الإمام مالك كراهة وضع اليمنى على اليسرى في الفرض، وجوازه في النفل. وذكر القرافي أن المشهور عن مالك هو القبض، وذكر عبد الوهاب: أنه المذهب، وابن العربي: أنه الصحيح، وابن رشد: أنه الأظهر.

وروى ابن نافع، وعبد الملك، ومطرف عن مالك أنه قال: «توضع اليمنى على اليسرى في الصلاة في الفريضة والنافلة».

وأما صفة وضع اليمين على الشمال، ففيها صفتان:

الصفة الأولى: يضع كف يده اليمنى على كوع اليسرى، وهذا المذهب عند الحنابلة؛ وحجته حديث وائل بن حجر رضي الله عنه قال: «فكبَّر ورفع يديه حتى حاذتا أذنيه، ثم وضع يده اليمنى على ظهر كفه اليسرى والرسغ والساعد»، رواه أحمد،

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (1232).

(2) ابن أبي شيبة (1/ 342/ رقم 3936).
...একটি শব্দ হতো, তবে আমরাই সর্বপ্রথম তা অনুসরণ করতাম এবং সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হতাম। অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন এবং কবজির ওপর স্থাপন করতেন।


 

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) দলিলের ভিত্তিতে বলেছেন যে, এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (منقول) হয়নি। আর হজের ক্ষেত্রে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «লাব্বাইকা ওমরাতান ওয়া হাজ্জান»(১), যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন শেষ পর্যন্ত; এটি মূলত যা সংকল্প করা হয়েছে তা মুখে উচ্চারণ করা, নিয়ত উচ্চারণ করা নয়।

 

তাঁর উক্তি: «অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন এবং কবজির ওপর স্থাপন করতেন» বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা—এটিই অধিকাংশ আলেমগণের অভিমত। আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «সালাতে বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা নবীদের আখলাকের অন্তর্ভুক্ত»(২), এটি ইবনে আবি শায়বাহ এবং ইবনুল মুনযির আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ বিশুদ্ধ (صحيح)।

ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে ফরজ সালাতে বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখাকে অপছন্দনীয় (كراهة) এবং নফল সালাতে তা বৈধ (جواز) বলে বর্ণনা করেছেন। আল-কারাফি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক থেকে প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত হলো হাত বাঁধা (কবয)। আব্দুল ওয়াহহাব উল্লেখ করেছেন যে, এটিই মাযহাব। ইবনুল আরাবি বলেছেন যে, এটিই সঠিক (صحيح)। ইবনে রুশদ বলেছেন যে, এটিই অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر)।

ইবনে নাফে, আব্দুল মালিক এবং মুতাররিফ ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «সালাতে ফরজ ও নফল উভয় ক্ষেত্রেই বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা হবে»।

আর বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখার পদ্ধতির ক্ষেত্রে দুটি নিয়ম রয়েছে:

প্রথম পদ্ধতি: ডান হাতের তালু বাম হাতের কবজির ওপর রাখা; এটি হাম্বলি মাযহাবের অভিমত। এর স্বপক্ষে দলিল হলো ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস, তিনি বলেন: «তিনি তাকবির দিলেন এবং তাঁর হাত দুটি কান বরাবর উত্তোলন করলেন, অতঃপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কবজি ও বাহুর ওপর রাখলেন», এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১২৩২)।

(২) ইবনে আবি শায়বাহ (১/ ৩৪২/ নম্বর ৩৯৩৬)।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

وأبو داود، والنسائي، وصحَّحه ابن حبان، والحديث في مسلم عن وائل بن حجر رضي الله عنه: «أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم رفع يديه حين دخل في الصلاة كبر وصف همام حيال أذنيه ثم التحف بثوبه، ثم وضع يده اليمنى على اليسرى»، وليس فيه ذكر الرسغ والساعد. تفرد به زائد بن قدامة، والمحفوظ: «أخذ شماله بيمينه».

ولحديث سهل بن سعد رضي الله عنه: «كان الناس يُؤمرون أن يضع الرجل اليد اليمنى

 

على ذراعه اليسرى في الصلاة»(1)، رواه البخاري، وتحمل على الوضع على الكف والرسغ.

وفي البخاري معلقًا بصيغة الجزم: «ووضع علي رضي الله عنه كفه على رسغه الأيسر، إلا أن يحك جلدًا أو يصلح ثوبًا».

وعن جرير الضبي، عن أبيه، قال: «رأيت عليًّا يمسك شماله بيمينه على الرُّسغ فوق السرة» رواه أبو داود.

وعند ابن أبي شيبة، والطحاوي في شرح معاني الآثار عن جرير الضبي قال: «كان علي رضي الله عنه إذا قام في الصلاة وضع يمينه على رسغه، فلا يزال كذلك حتى يركع مثل ما ركع إلا أن يصلح ثوبه»، وإسناده صحيح.

الصفة الثانية: يقبض بيده اليمنى على كوع يسراه، وبعض ساعدها ورسغها، وهو المشهور من مذهب الشافعية؛ لحديث وائل قال: «قلت: لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يُصلي، قال: فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستقبل القبلة فكبر، فرفع يديه حتى حاذتا أذنيه، ثم أخذ شماله بيمينه، فلما أراد أن يركع

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (745).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

এবং আবু দাউদ ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صحَّحه) বলেছেন। ওয়াইল বিন হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মুসলিম-এর হাদিসে রয়েছে: «তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন যে, তিনি যখন নামাজে প্রবেশ করলেন তখন তাকবির বলে হাত উত্তোলন করলেন - হাম্মাম বর্ণনা করেছেন কানের লতি পর্যন্ত - তারপর নিজের কাপড়ে নিজেকে আবৃত করলেন এবং নিজের ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখলেন», আর এতে কবজি (رسغ) ও বাহুর (ساعد) উল্লেখ নেই। যায়েদ বিন কুদামা এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرد به), তবে সংরক্ষিত (المحفوظ) বর্ণনা হলো: «তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন»।

সহল বিন সাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে: «লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যেন নামাজে ব্যক্তি তার ডান হাত বাম বাহুর (ذراعه) ওপর রাখে»(১), এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাতের তালু ও কবজির (رسغ) ওপর হাত রাখার অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে।

বুখারিতে মুআল্লাক (معلقًا) হিসেবে সুনিশ্চিতভাবে (بصيغة الجزم) বর্ণিত হয়েছে: «আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর হাতের তালু বাম হাতের কবজির ওপর রাখতেন, কেবল চামড়া চুলকানো বা কাপড় ঠিক করা ব্যতীত»।

জরির আদ-দাব্বি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নাভির ওপরে কবজির (الرُّسغ) কাছে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরে থাকতে দেখেছি», এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শায়বা এবং তাহাবি-র শরহু মাআনিল আসার-এ জরির আদ-দাব্বি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন তাঁর ডান হাত কবজির (رسغه) ওপর রাখতেন; রুকু করার আগ পর্যন্ত তিনি এভাবেই থাকতেন, যদি না কাপড় ঠিক করার প্রয়োজন হতো», আর এর সনদ সহিহ (إسناده صحيح)।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কবজির হাড় (كوع), বাহুর (ساعدها) কিয়দাংশ এবং কবজি (رسغها) আঁকড়ে ধরা; শাফিঈ মাযহাবে এটিই প্রসিদ্ধ। ওয়াইল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: «আমি বললাম: আমি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাজের প্রতি লক্ষ্য করব যে তিনি কীভাবে নামাজ পড়েন। তিনি বললেন: এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং কিবলামুখী হয়ে তাকবির বললেন, এরপর তাঁর হাত দুটি কানের লতি বরাবর তুললেন, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরলেন। এরপর যখন তিনি রুকু করতে চাইলেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (৭৪৫)।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
ثم يضعهما على صَدْرِه صلى الله عليه وسلم


 

رفعهما مثل ذلك، ثم وضع يديه على ركبتيه، فلما رفع رأسه من الركوع رفعهما مثل ذلك، فلما سجد وضع رأسه بذلك المنزل من بين يديه، ثم جلس فافترش رجله اليسرى ووضع يده اليسرى على فخذه اليسرى وحد مرفقه الأيمن على فخذه اليمنى وقبض ثنتين وحلق حلقة، ورأيته يقول هكذا، وحلق بشر الإبهام والوسطى وأشار بالسبابة»(1). رواه أحمد، والبخاري في رفع اليدين، وأبو داود، وابن ماجه، والترمذي. قال الترمذي: «هذا حديث حسن صحيح».

وأصله في مسلم، ولفظه: «ثم يضع يده اليمنى على اليسرى»(2). ويمكن أن تحمل رواية الوضع على رواية القبض، فتكون صفة واحدة.

ويحتمل صفتان:

 

الصفة الأولى: القبض بيده اليمنى على رسغ اليسرى كما في حديث وائل.

الصفة الثانية: الوضع على كفه اليسرى كما في حديث سهل.

وقد سبق أن العبادة الواردة على وجوه، يفعل هذا الوجه تارة، والآخر تارة أخرى.

 

قوله: «ثم يضعهما على صَدْرِه» يعني الوضع للكفين على الصدر؛ لحديث سهل بن سعد رضي الله عنه في البخاري معلًّقًا بصيغة الجزم: «كان الناس يؤمرون أن يضع الرجل يده اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة»، فإذا وضع يده اليمنى على ذراعه اليسرى فإنه سيكون ذلك على صدره.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (957)، والنسائي (3/ 37)، والترمذي (292).

(2) سبق تخرجه.
এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দু’টিকে তাঁর বুকের ওপর রাখতেন।


 

তিনি অনুরূপভাবে হাত তুলতেন, তারপর তাঁর দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখতেন। এরপর যখন তিনি রুকু থেকে তাঁর মাথা তুলতেন, তখনও অনুরূপভাবে হাত তুলতেন। যখন তিনি সিজদা করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাতের মাঝখানে সেই স্থানেই মাথা রাখতেন। তারপর তিনি বসতেন এবং তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং তাঁর বাম হাত বাম উরুর ওপর রাখতেন, আর তাঁর ডান কনুই ডান উরুর ওপর স্থির করতেন এবং দুটি আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ (قبض) করতেন ও একটি বৃত্ত (حلقة) তৈরি করতেন। আমি তাঁকে এরূপ করতে দেখেছি। বিশর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমাঙ্গুলি দিয়ে একটি বৃত্ত (حلقة) তৈরি করেন এবং তর্জনী দিয়ে ইশারা করেন।(1) এটি আহমাদ, বুখারি ‘রাফউল ইয়াদাইন’-এ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: «এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)»।

এর মূল অংশ মুসলিমে রয়েছে এবং এর শব্দ হলো: «অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতেন»(2)। রাখা (الوضع) সংক্রান্ত বর্ণনাটিকে ধরা (القبض) সংক্রান্ত বর্ণনার ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব, ফলে তা একই পদ্ধতি (صفة) হিসেবে গণ্য হবে।

তবে দুটি পদ্ধতির (صفتان) সম্ভাবনা রয়েছে:

 

প্রথম পদ্ধতি (الصفة): ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরা (القبض), যেমনটি ওয়াইলের হাদিসে এসেছে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি (الصفة): বাম হাতের তালুর ওপর রাখা (الوضع), যেমনটি সাহল-এর হাদিসে এসেছে।

ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, যে ইবাদতগুলো বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণিত হয়েছে, তা কখনও এই পদ্ধতিতে আবার কখনও অন্য পদ্ধতিতে পালন করতে হয়।

 

তাঁর উক্তি: «এরপর তিনি সে দু’টিকে তাঁর বুকের ওপর রাখতেন» অর্থাৎ দুই হাতের তালু বুকের ওপর রাখা; কেননা বুখারিতে সাহল বিন সাদ (রা.) এর হাদিসে দৃঢ়তাপূর্ণ ভঙ্গিতে (بصيغة الجزم) মুআল্লাক (معلق) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: «লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যেন সালাতে ব্যক্তি তার ডান হাত বাম বাহুর ওপর রাখে»। অতএব, যদি সে তার ডান হাত বাম বাহুর ওপর রাখে, তবে সেটি তার বুকের ওপরই হবে।

--------------------------------------------

(1) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৯৫৭), নাসায়ি (৩/৩৭) এবং তিরমিজি (২৯২)।

(2) এর তাখরিজ (تخريج) আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

ولحديث وائل بن حجر رضي الله عنه قال: «صليتُ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ووضع يده اليمنى على يده اليسرى على صدره»، رواه ابن خزيمة وصحَّحه، والبيهقي. والحديث تفرد مؤمل بن إسماعيل، وهو سيء الحفظ، وخالفه الثقات من أصحاب سفيان الثوري مثل: وكيع، وعبد الرزاق، ويحيى بن آدم، وأبو نعيم، ومحمد بن يوسف الفريابي، وعبد الله بن الوليد، لم يذكروا: «على صدره»، فهي شاذة، والحديث في مسلم دون قوله: «على صدره».

ولما روى الإمام أحمد في مسنده عن قبيصة بن هلب، عن أبيه رضي الله عنه قال: «رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يضع يده على صدره». لكن قبيصة مجهول، وهو يروي عن سماك بن حرب، وكل من روى عن سماك وسفيان لم يذكروا وضع اليد على الصدر.

ولما روى ابن جرير الضبي عن أبيه أنه قال: «رأيت عليًّا رضي الله عنه يُمسك شماله بيمينه على الرسغ فوق السرة»(1). أخرجه أبو داود.

ودون قوله: «فوق السرة»، علَّقه البخاري في صحيحه أول كتاب العمل في الصلاة. ووصله الحافظ ابن حجر في تغليق التعليق.

وعن الإمام أحمد، وبه قال ابن قدامة، والمجد: إنه مخيّر؛ عملًا بمجموع الأدلة. قال أحمد كما في مسائل الكوسج: قلت: أين يضع يمينه على شماله؟ قال: كل هذا عندي واسع.

ولعل الأقرب: الرواية الثالثة، فيكون الأمر واسعًا.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود رقم (743).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি এবং তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রেখেছিলেন», এটি ইবনে খুজাইমা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صححه) বলে গণ্য করেছেন, এছাড়া বায়হাকিও এটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাদিসটি মুয়াম্মিল ইবনে ইসমাইল এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন, অথচ তিনি দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ)। সুফিয়ান আস-সাওরির শাগরিদদের মধ্যে যারা নির্ভরযোগ্য (الثقات) ছিলেন, যেমন: ওকি, আব্দুর রাজ্জাক, ইয়াহইয়া ইবনে আদম, আবু নুয়াইম, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়ালিদ—তারা তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা «বুকের উপর» কথাটি উল্লেখ করেননি। সুতরাং এই অংশটি বিচ্ছিন্ন (شاذة)। এছাড়া হাদিসটি মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে «বুকের উপর» কথাটি নেই।

ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ কাবিসাহ ইবনে হুলব থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর বুকের উপর হাত রাখতে দেখেছি।» কিন্তু কাবিসাহ একজন অপরিচিত (مجهول) বর্ণনাকারী। তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেন। সিমাক ও সুফিয়ান থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের কেউই বুকের উপর হাত রাখার কথা উল্লেখ করেননি।

ইবনে জারির আদ-দাব্বি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নাভির উপরে কবজির নিকট ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতে দেখেছি»(১)। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

«নাভির উপরে» শব্দগুলো ব্যতীত ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ-এর 'কিতাবুল আমাল ফিস সালাত'-এর শুরুতে এটিকে ঝুলন্ত বর্ণনা (علقه) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার 'তাগলিকুত তায়লিক'-এ এটি সনদ সহকারে বর্ণনা (وصله) করেছেন।

ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত রয়েছে—এবং ইবনে কুদামা ও মাজদ এই মত পোষণ করেছেন—যে ব্যক্তি সকল দলিলের আলোকে (হাত রাখার স্থানের বিষয়ে) পছন্দের এখতিয়ার রাখেন। আল-কাউসাজ-এর মাসাইল-এ যেমনটি উল্লেখ আছে, ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: ডান হাত বাম হাতের কোথায় রাখবে? তিনি বললেন: «আমার নিকট এর সবকটিই প্রশস্ত।»

সম্ভবত তৃতীয় বর্ণনাটিই অধিক নিকটবর্তী, ফলে বিষয়টি প্রশস্ত হিসেবেই গণ্য হবে।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (৭৪৩)।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثُمَّ يقول: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّك، ولا إله غيرك»(1). وكان أحيانًا يقول: «اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كما باعَدْت بين المشرق والمغرب، اللهم نَقِّنِي من خطايَاي كما يُنَقَّى الثوب الأبيض من الدَّنَس، اللَّهُمَّ اغسل خطايايَ بالماء والثَّلْج والبَرَد»(2). وكان يقول أحيانًا: «وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا، وما أنا من المشركين،


 

قوله: «ثم يقول: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّك، ولا إله غيرك»» أي: ثم يستفتح، وأضيق الناس في الاستفتاحات هم المالكية يُكره في الفرض، ويجوز في النفل، وكذلك أيضًا هم أضيق الناس في الاستعاذة، والبسملة، وأوسع الناس في هذا هم الشافعية.

وقوله: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ .... » كما في حديث أبي سعيد رضي الله عنه في مسند أحمد، وسنن أبي داود، وهو الوارد عن عمر رضي الله عنه موقوفاً رواه مسلم، وقد رجح ابن القيم رحمه الله في كتابه [زاد المعاد] هذا الاستفتاح من عشرة أوجه.

فالإمام أحمد رحمه الله يأخذ بهذا الاستفتاح، وكذا أبو حنيفة رحمه الله، وذكر المؤلف رحمه الله صيغًا من صيغ الاستفتاح.

قوله: «وكان أحيانًا يقول: «اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ … »» هذا الاستفتاح من حديث أبي هريرة في [الصحيحين].

قوله: «وكان يقول أحيانًا: «وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا، … » خرَّجه مسلم من حديث علي رضي الله عنه، وهذا اختيار الشافعي.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (775)، وَالتِّرْمِذِيّ (242)، وصححه الألباني في صحيح وضعيف أبي داود (775).

(2) أخرجه البخاري (744)، ومسلم (598).
এরপর তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার সপ্রশংস মহিমা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই»(১)। তিনি কখনো কখনো বলতেন: «হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন দূরত্ব আপনি বজায় রেখেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করে দিন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহকে পানি, বরফ ও শিলা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন»(২)। তিনি কখনো কখনো বলতেন: «আমি একনিষ্ঠভাবে সেই মহান সত্তার দিকে মুখ ফেরাচ্ছি যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই»,


 

লেখকের কথা: «এরপর তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার সপ্রশংস মহিমা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই»» অর্থাৎ: এরপর তিনি সানা (ইস্তিফতাহ) পাঠ করতেন। সানা পাঠের ক্ষেত্রে মালেকি মাযহাবের অনুসারীরা সবচেয়ে কঠোর; এটি ফরজ নামাজে অপছন্দনীয় এবং নফল নামাজে বৈধ। তেমনিভাবে আশ্রয় প্রার্থনা এবং বিসমিল্লাহ পাঠের ক্ষেত্রেও তারা সবচেয়ে কঠোর; আর এ বিষয়ে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীরা সবচেয়ে প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

এবং লেখকের কথা: «হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি...» যেমনটি আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে মুসনাদে আহমাদ এবং সুনানে আবু দাউদে। এটি উমর (রা.) থেকে মাওকুফ (موقوف) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর [যাদুল মাআদ] গ্রন্থে এই সানাকে দশটি দিক থেকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

সুতরাং ইমাম আহমাদ (রহ.) এই সানাটি গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম আবু হানিফাও (রহ.) তা-ই করেছেন। লেখক (রহ.) সানার বিভিন্ন রূপ বা শব্দবিন্যাস উল্লেখ করেছেন।

লেখকের কথা: «তিনি কখনো কখনো বলতেন: «হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মধ্যে...»» এই সানাটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে [সহীহাইন]-এ বর্ণিত হয়েছে।

লেখকের কথা: «তিনি কখনো কখনো বলতেন: «আমি একনিষ্ঠভাবে সেই মহান সত্তার দিকে মুখ ফেরাচ্ছি যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন...»» এটি ইমাম মুসলিম আলী (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই ইমাম শাফেয়ীর পছন্দ।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ (৭৭৫) ও তিরমিজি (২৪২) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহীহ ওয়া জয়ীফ আবু দাউদ (৭৭৫) গ্রন্থে।

(২) এটি বুখারী (৭৪৪) ও মুসলিম (৫৯৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
إن صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا أول المسلمين، اللهم أنت الملك، لا إله إلا أنت، أنت ربي وأنا عبدك، ظلمتُ نفسي، واعترفت بذنبي، فاغفر لي ذنوبي جميعًا، لا يغفر الذُّنوب إلَّا أنت، واهدني لأحسن الأخلاق، لا يهدي لأحسنها إلَّا أنت، واصرف عنِّي سيِّئَها، لا يصرِفُ عنِّي سيِّئَها إلَّا أنت، لبَّيْك وسَعْدَيْك، والخير كلُّه في يَدَيك، والشَّرُّ ليس إليك، أنا بك وإليك، تباركت وتعالَيْت، استغفرك وأتوب إليك»(1). ولكن هذا إنَّما حُفِظ عنه في صلاة اللَّيل. ربَّما كان يقول: «اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، الحمد لله كثيرًا، الحمد لله كثيرًا، وسبحان الله بكرةً وأصيلًا»(2).


 

لكن قال المؤلف رحمه الله: «ولكن هذا إنَّما حُفِظ عنه في صلاة اللَّيل»، وعندنا قاعدة: ما ثبت في صلاة النافل يثبت في صلاة الفرض إلا بدليل، والعكس بالعكس.

قوله: «ربَّما كان يقول: اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، … » خرجه أبو داود من حديث جبير بن المطعم رضي الله عنه، وفيه ضعف.

ولحديث ابن عمر رضي الله عنهما: «الله أكبر كبيرا، والحمد لله كثيرا، وسبحان الله وبحمده بكرة وأصيلا»، رواه مسلم.

والاستفتاحات ورد لها صيغ:

أحديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «اللهم باعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقِّني من خطاياي كما يُنقى الثوب الأبيض

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (771).

(2) أخرجه أبو داود (764)، وضعفه الألباني في صحيح وضعيف سنن أبي داود (764).
নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম। হে আল্লাহ! আপনিই অধিপতি, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমার প্রতিপালক এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং আমার অপরাধ স্বীকার করেছি। অতএব, আপনি আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া কেউ উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করতে পারে না। আর আমা হতে মন্দ চরিত্রগুলো দূর করে দিন, আপনি ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারে না। আমি আপনার ডাকে সাড়া দিচ্ছি ও আপনার আনুগত্যে ধন্য হচ্ছি। সকল কল্যাণ আপনার হাতে এবং অমঙ্গল আপনার দিকে সম্পৃক্ত নয়। আমি আপনার মাধ্যমেই টিকে আছি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি। আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি»(১)। তবে এটি কেবল রাতের সালাতের ক্ষেত্রে তাঁর থেকে সংরক্ষিত (حفظ) হয়েছে। তিনি হয়তো বলতেন: «আল্লাহু আকবার কাবিরা, আল্লাহু আকবার কাবিরা, আল্লাহু আকবার কাবিরা, আলহামদুলিল্লাহি কাসিরা, আলহামদুলিল্লাহি কাসিরা, সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলা»(২)।


 

কিন্তু লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তবে এটি কেবল রাতের সালাতের ক্ষেত্রে তাঁর থেকে সংরক্ষিত (حفظ) হয়েছে», আর আমাদের নিকট একটি মূলনীতি (قاعدة) রয়েছে: নফল সালাতের ক্ষেত্রে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তা ফরজ সালাতেও সাব্যস্ত হবে যতক্ষণ না কোনো দলিল পাওয়া যায়, এবং এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য।

তাঁর উক্তি: «তিনি হয়তো বলতেন: আল্লাহু আকবার কাবিরা...» এটি আবু দাউদ জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে: «আল্লাহু আকবার কাবিরা, আলহামদুলিল্লাহি কাসিরা, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বুকরাতান ওয়া আসিলা», এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

সালাত শুরুর দোয়ার (الاستفتاحات) ক্ষেত্রে বিভিন্ন শব্দ বর্ণিত হয়েছে:

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوعا) হাদিস: «হে আল্লাহ! আমার এবং আমার পাপসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব তৈরি করে দিন যেমনটি আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে পাপ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন যেমন সাদা কাপড়

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (৭৭১) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আবু দাউদ (৭৬৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী সহীহ ও যয়িফ সুনান আবু দাউদ (৭৬৪)-এ একে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

من الدنس، اللهم اغسلني من خطاياي بالماء والثلج والبرد»(1)، متفق عليه.

 

ب - ومنها: «سبحانك اللهم وبحمدك، وتبارك اسمك … »، وقد سبق من حديث أبي سعيد رضي الله عنه في أبي داود.

ج ومنها: حديث علي رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا قام إلى الصلاة قال: «وجهَّت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفًا وما أنا من المشركين، إن صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله ربِّ العالمين، لا شريك له، وبذلك أُمرت وأنا من المسلمين، اللهم أنت الملك لا إله إلا أنت، أنت ربي وأنا عبدك، ظلمت نفسي، واعترفت بذنبي، فاغفر لي فإنه لا يغفر الذنوب إلا أنت، واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت، واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت، لبيك وسعديك والخير كله في يديك، والشر ليس إليك، أنا بك وإليك، تباركت وتعاليت، أستغفرك وأتوب إليك»(2). أخرجه مسلم.

د ومنها: حديث عائشة رضي الله عنها قالت: «كان أي النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل افتتح صلاته: اللهم ربَّ جبرائيل وميكائيل وإسرافيل، فاطر السموات والأرض، عالم الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختُلِف فيه من الحق بإذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم»(3). أخرجه مسلم.

هـ ومنها: حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل

--------------------------------------------

(1) أخرجه: البخاري 2/ 227، (744). ومسلم 1/ 419، (5).

(2) أخرجه مسلم (771).

(3) أخرجه مسلم 2/ 185 ق.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

পঙ্কিলতা হতে। হে আল্লাহ! আপনি আমার পাপসমূহ পানি, বরফ ও শিলা দ্বারা ধৌত করে দিন»(১), এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

 

খ - এবং তার মধ্যে রয়েছে: «হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসা সহকারে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, বরকতময় আপনার নাম … », এটি ইতিপূর্বে আবু দাউদে আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসে অতিবাহিত হয়েছে।

গ - এবং তার মধ্যে রয়েছে: আলী (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস যে, তিনি যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন: «আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরালাম যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই, আমি এ কাজের জন্যই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। হে আল্লাহ! আপনিই অধিপতি, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমার রব এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের নফসের ওপর জুলুম করেছি এবং আমার অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া অন্য কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। আর আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া অন্য কেউ সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করতে পারে না। আর আমার থেকে মন্দ চরিত্রকে দূর করে দিন, আপনি ছাড়া অন্য কেউ তা দূর করতে পারে না। আমি আপনার দরবারে হাজির ও আপনার আনুগত্যে উন্মুখ এবং সমস্ত কল্যাণ আপনার দুই হাতে নিহিত। আর অকল্যাণ আপনার দিকে সম্বন্ধযুক্ত নয়। আমি আপনার মাধ্যমেই টিকে আছি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনশীল। আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি»(২)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

ঘ - এবং তার মধ্যে রয়েছে: আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: «নবী (সা.) যখন রাতে (সালাতের জন্য) দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাঁর সালাত শুরু করতেন এভাবে: হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তার ফয়সালা করে দেবেন। যে সত্য বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে তাতে আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সঠিক পথ দেখান। নিশ্চয়ই আপনি যাকে চান সরল পথের দিকে হেদায়েত দান করেন»(৩)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

ঙ - এবং তার মধ্যে রয়েছে: ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: «নবী (সা.) যখন রাতে দাঁড়াতেন...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه): বুখারি ২/ ২২৭, (৭৪৪) এবং মুসলিম ১/ ৪১৯, (৫)।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (৭৭১)।

(৩) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه) ২/ ১৮৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

يتهجد قال: اللهم لك الحمد، أنت قَيِّمُ السموات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد، لك ملك السموات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت نور السموات، ولك الحمد أن مَلِك السموات والأرض، ولك الحمد أنت الحق، ووعدك الحق، ولقاؤك حق، وقولك حق، والجنة حق، والنار حق، والنبيون حق، ومحمد صلى الله عليه وسلم حق، والساعة حق، اللهم لك أسلمت، وبك آمنت، وعليك توكلت، وإليك أنبت، وبك خاصمت، وإليك حاكمت، فاغفر لي ما قدّمت وما أخّرت، وما أسرّرت وما أعلنت، أنت

 

المقدم وأنت المؤخر، لا إله إلا أنت أو لا إله غيرك»(1). أخرجه البخاري، ومسلم.

وومنها حديث أنس صلى الله عليه وسلم: أن رجلًا جاء فدخل الصف وقد حَفَزه النفس، فقال: «الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه»، وفيه: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقد رأيت اثني عشر ملكًا يبتدرونها أيهم يرفعها»(2). أخرجه مسلم.

ز ومنها حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: «بينما نحن نصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ قال رجل من القوم: الله أكبر كبيرًا، والحمد لله كثيرًا، وسبحان الله بكرة وأصيلًا، وفيه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عجبت لها فُتِحت لها أبواب السماء»(3)، أخرجه مسلم.

ح ومنها: حدث حذيفة رضي الله عنه أنه رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم يُصلي من الليل، فكان يقول: «الله أكبر ثلاثًا، ذو الملكوت والجبروت والكبرياء والعظمة»، ثم استفتح فقرأ البقرة … »(4)، أخرجه الإمام أحمد، وأبو داود.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1120)، ومسلم (769).

(2) أخرجه مسلم (600).

(3) أخرجه مسلم (601).

(4) أخرجه أبو داود (874)، والنسائي (2/ 199 200)، والترمذي في الشمائل (270).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

তিনি যখন তাহাজ্জুদ পড়তেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এর মধ্যস্থিত সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী; আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আসমানসমূহ ও জমিন এবং এর মধ্যস্থিত সবকিছুর রাজত্ব আপনারই; আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমানসমূহের নূর; আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমানসমূহ ও জমিনের অধিপতি; আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, আপনার বাণী সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনার নিকটেই আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি, আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি, আপনার সাহায্যেই বিতর্ক করেছি এবং আপনার নিকটেই বিচার সোপর্দ করেছি। অতএব আমার পূর্বের ও পরের এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আপনিই

 

অগ্রগামী করেন এবং আপনিই পশ্চাৎগামী করেন, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই অথবা আপনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই»(১)। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

তন্মধ্যে আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস হলো: একজন লোক এল এবং কাতারে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে তার দম ফেটে যাচ্ছিল, সে বলল: «আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহ (আল্লাহর জন্য অনেক অনেক পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা)», তাতে আরও রয়েছে: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি বারোজন ফেরেশতাকে দেখলাম যারা এটি নিয়ে প্রতিযোগিতা করছিল যে, তাদের মধ্যে কে এটি উপরে উঠাবে»(২)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্যে ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসও রয়েছে, তিনি বলেন: «একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করছিলাম, হঠাৎ কওমের এক ব্যক্তি বলে উঠল: আল্লাহু আকবার কাবীরা, ওয়ালহামদুলিল্লাহি কাসীরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসীলা। তাতে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি এর জন্য বিস্মিত হয়েছি, এ বাক্যগুলোর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে»(৩), এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

তন্মধ্যে আরও রয়েছে: হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতে সালাত আদায় করতে দেখেছেন, তিনি বলতেন: «আল্লাহু আকবার (তিনবার), তিনি রাজত্ব, প্রতাপ, অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী», অতঃপর তিনি তিলাওয়াত শুরু করে সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন … »(৪), এটি ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (১১২০) ও মুসলিম (৭৬৯) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম (৬০০) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি মুসলিম (৬০১) বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি আবু দাউদ (৮৭৪), নাসায়ি (২/ ১৯৯-২০০) এবং তিরমিজি আশ-শামাইল (২৭০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২২)
ورُبَّما كان يقول: «الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلَّا أنت، لا إله إلَّا أنت، سبحان الله وبحمده، سبحان الله وبحمده، سبحان الله وبحمده». ثُمَّ يقول: «أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»(1)


 

ط ومنها: ما رواه عاصم بن حميد قال: سألت عائشة رضي الله عنها: بأي شيء كان يفتتح رسول الله صلى الله عليه وسلم قيام الليل؟ فقالت: «كان إذا كبَّر كبَّر عشرًا، وحمد الله عشرًا، وسبَّح عشرًا، وهلَّل عشرًا، واستغفر عشرًا، وقال: «اللهم اغفر لي، واهدني، وارزقني»، ويتعوذ من ضيق المقام يوم القيامة». أخرجه أحمد، وأبو داود، والنسائي، وابن ماجه.

فالخلاصة في ذلك: أن الإنسان ينوّع بين الاستفتاحات، لكن الاستفتاحات الطويلة هذه إنما تكون في صلاة الليل كما جاء عن الإمام أحمد، وإن أتى بها في صلاة الفرض فإن هذا جائز؛ لما ذكرنا أن ما ثبت في الفرض يكون في النفل، وما ثبت في النفل يكون في الفرض.

قوله: «ورُبَّما كان يقول: الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر، … » لما روى أبو أمامة الباهلي رضي الله عنه يقول: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل في الصلاة من الليل كبر ثلاثا، وسبح ثلاثا، وهلل ثلاثا، ثم يقول: اللهم إني أعوذ بك من الشيطان الرجيم من همزه ونفخه وشركه»، رواه أحمد، وفيه إبهام الراوي له عن أبي أمامة رضي الله عنه.

 

قوله: «ثُمَّ يقول: أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيم» أي: ثم يستعيذ و‌‌الاستعاذة سنَّة خلافًا للمالكية تُكره في الفرض، وتجوز في النفل.

--------------------------------------------

(1) أخرج أحمد في مسنده مسند (22179) عن أبي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ قال: كَانَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ كَبَّرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ»، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، «وَسُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ»، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: «أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ».

(
এবং মাঝেমধ্যে তিনি বলতেন: «আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি»। অতঃপর বলতেন: «আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম»(1)


 

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আসিম ইবনে হুমাইদ যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসুলুল্লাহ (সা.) কিসের মাধ্যমে রাতের সালাত শুরু করতেন? তিনি বললেন: «তিনি যখন তাকবির দিতেন, তখন দশবার তাকবির দিতেন, দশবার আল্লাহর প্রশংসা করতেন, দশবার তাসবিহ পাঠ করতেন, দশবার তাহলিল পাঠ করতেন এবং দশবার ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করতেন এবং বলতেন: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন’, আর কিয়ামত দিবসের সংকীর্ণ স্থান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন»। এটি আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

এ বিষয়ে সারকথা হলো: মানুষ বিভিন্ন প্রকার প্রারম্ভিক দোয়ার (ইস্তিফতাহ) মধ্যে বৈচিত্র্য রক্ষা করবে। তবে এই দীর্ঘ প্রারম্ভিক দোয়াগুলো কেবল রাতের সালাতে পড়ার জন্য, যেমনটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি কেউ তা ফরজ সালাতে পাঠ করে তবে তা বৈধ (جائز); কারণ আমরা উল্লেখ করেছি যে, যা ফরজ সালাতে সাব্যস্ত তা নফল সালাতেও প্রযোজ্য এবং যা নফল সালাতে সাব্যস্ত তা ফরজ সালাতেও প্রযোজ্য।

তাঁর উক্তি: «এবং মাঝেমধ্যে তিনি বলতেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, … » এটি আবু উমামা আল-বাহিলি (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন রাতের সালাতে প্রবেশ করতেন, তখন তিনবার তাকবির দিতেন, তিনবার তাসবিহ পাঠ করতেন, তিনবার তাহলিল পাঠ করতেন, অতঃপর বলতেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা, অহংকার ও কুমন্ত্রণা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি», এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা (إبهام) বিদ্যমান।

 

তাঁর উক্তি: «অতঃপর বলতেন: আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম» অর্থাৎ: অতঃপর তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আর এই আশ্রয় প্রার্থনা (ইস্তিআজা) করা সুন্নাহ (سنة), তবে মালিকি মাযহাবের ভিন্নমত অনুযায়ী এটি ফরজ সালাতে অপছন্দনীয় (مكروه) এবং নফল সালাতে বৈধ (جائز)।

--------------------------------------------

(1) আহমাদ তাঁর মুসনাদ (২২১৭৯)-এ আবু উমামা আল-বাহিলি হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর নবি (সা.) যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তিনবার তাকবির দিতেন, অতঃপর তিনবার বলতেন: «লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ», তিনবার বলতেন: «সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি», অতঃপর বলতেন: «আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম—তার প্ররোচনা, অহংকার ও কুমন্ত্রণা হতে»।

(
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
ورُبَّما قال: «أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، مِنْ نَفْخِهِ وَنَفْثِهِ وَهَمْزِهِ»(1)، ورُبَّما قال: «اللَّهُمَّ إنِّي أعوذ بك من الشَّيطان الرَّجيم، وهَمْزٍه ونفْخِه ونفْثِه»(2).


 

والاستعاذة ذكر لها المؤلف رحمه الله صيغتها قال: (ثم يقول: أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ) ودليلها قول الله عز وجل: {فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (98)} [النحل: 98].

قال: «ورُبَّما قال: أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، مِنْ نَفْخِهِ وَنَفْثِهِ وَهَمْزِهِ، … » هذه صيغة ثانية؛ لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: «كان رسول الله رضي الله عنه إذا قام إلى الصلاة بالليل كبَّر … ، ثم يقول: أعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم من همزه ونفخه ونفثه»، رواه أبو داود، والترمذي، والنسائي، وورد من طرق وشواهد يُقوي بعضها بعضًا. قال عبد الله بن أحمد: «لم يحمد أبي إسناده».

وعن ابن مسعود رضي الله عنه: «أنه كان يتعوذ في الصلاة من الشيطان الرجيم من نفخه ونفثه وهمزه»، رواه الطيالسي في مسنده، وعبد الرزاق. وإسناده حسن.

الصيغة الثالثة: لم يذكرها المؤلف رحمه الله أن يقول: «أَعُوذُ بالله السميع العليم مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»؛ قال الله عز وجل: {وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [فصلت: 36].

وعن ابن عمر رضي الله عنهما أنه كان يتعوذ أعوذ بالله من الشيطان الرجيم، أو أعوذ بالله

--------------------------------------------

(1) 4) أخرجه أحمد (22179).

(2) أخرجه ابن ماجه (807)، وضعفه الألباني.
এবং কখনো কখনো তিনি বলতেন: «আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি—তার অহংকার, জাদুটোনা এবং প্ররোচনা থেকে»(১), এবং কখনো বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি—তার প্ররোচনা, অহংকার এবং জাদুটোনা থেকে»(২)।


 

আর ইস্তিয়াজা (আশ্রয় প্রার্থনা) সম্পর্কে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এর শব্দাবলী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: (অতঃপর বলবে: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি) এবং এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো} [আন-নাহল: ৯৮]।

তিনি বলেন: «এবং কখনো বলতেন: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি—তার অহংকার, জাদুটোনা এবং প্ররোচনা থেকে... » এটি দ্বিতীয় রূপ; আবু সাইদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন রাতে সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবির দিতেন... অতঃপর বলতেন: আমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা, অহংকার ও জাদুটোনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি», এটি আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। এটি বিভিন্ন সূত্র (طرق) ও সমর্থক বর্ণনা (شواهد) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা একে অপরকে শক্তিশালী করে। আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: «আমার পিতা এর সনদ (إسناد)-এর প্রশংসা করেননি (অর্থাৎ একে শক্তিশালী মনে করেননি)»।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «তিনি সালাতে বিতাড়িত শয়তানের অহংকার, জাদুটোনা এবং প্ররোচনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন», এটি তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে এবং আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।

তৃতীয় রূপ: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এটি উল্লেখ করেননি, তা হলো: «আমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি»; মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [ফুসসিলাত: ৩৬]।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইস্তিয়াজা করতেন—আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অথবা আমি আল্লাহর কাছে...

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ (২২১৭৯) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি ইবনে মাজাহ (৮০৭) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে দুর্বল (ضعيف) আখ্যা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم يقرأ فاتحة الكتاب،


 

السميع العليم من الشيطان الرجيم، رواه ابن أبي شيبة، وعبد الرزاق. وإسناده صحيح.

وفائدة الاستعاذة: ليكون الشيطان بعيدًا عن قلب المصلي حتى يكون حاضر القلب في صلاته في قيامه وركوعه وسجوده، حاضر القلب وهو يتلو كتاب الله حتى يحصل له بذلك تدبر القرآن وتفهم معانيه، والانتفاع به؛ إذ ليس لك من صلاتك إلا ما عقلت منها.

قوله: «ثم يقرأ فاتحة الكتاب» ثم بعد ذلك يقرأ فاتحة الكتاب، وليت المؤلف قدم البسملة

 

على الفاتحة، وفاتحة الكتاب ركن من أركان الصلاة، ويدل لذلك حديث عُبادة بن الصامت في [الصحيحين] أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ»(1).

وأيضًا حديث أبي هريرة في [صحيح مسلم] أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بفاتحةِ الكِتَابِ فَهِي خِدَاجٌ»، والخداج: فُسِّر بالشيء الناقص، وفُسِّر بالشيء الفاسد.

والمصلي لا يخلو من أمرين:

الأمر الأول: أن يكون غير مأموم كما لو كان إمامًا أو منفردًا، فهذا يجب عليه أن يقرأ الفاتحة في كل ركعة جهرية كانت الصلاة أو سرية فريضة أو نافلة.

 

الأمر الثاني: أن يكون مأمومًا، فهذا موضع خلاف طويل بين أهل العلم رحمهم الله؛ هل الإمام يتحمل عن المأموم‌‌ قراءة الفاتحة أو لا يتحملها؟ هذا فيه خلاف وأُفرد

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (394).
অতঃপর তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন।


 

সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা (আল্লাহর কাছে) বিতাড়িত শয়তান থেকে (আশ্রয় চাচ্ছি)। এটি ইবনে আবি শায়বাহ এবং আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

আর ইস্তিয়াজার (আশ্রয় প্রার্থনা) উপকারিতা হলো: যাতে শয়তান মুসল্লির অন্তর থেকে দূরে থাকে এবং সে যেন তার সালাতে—দাঁড়ানো, রুকু ও সিজদায়—একাগ্রচিত্ত থাকতে পারে। সে যখন আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে তখন যেন সে উপস্থিত চিত্তে থাকে, যাতে এর মাধ্যমে তার পক্ষে কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, এর অর্থ অনুধাবন করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব হয়। কারণ, তোমার সালাতের ততটুকুই তোমার প্রাপ্য যতটুকু তুমি তা থেকে অনুধাবন করেছ।

লেখকের উক্তি: «অতঃপর তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন» অর্থাৎ এরপর তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। লেখক যদি সূরা ফাতিহার পূর্বে বিসমিল্লাহকে অগ্রাধিকার দিতেন তবে ভালো হতো। আর সূরা ফাতিহা হলো সালাতের রোকনগুলোর একটি। এর প্রমাণ হলো উবাদাহ ইবনে সামিত বর্ণিত হাদিস যা [সহিহাইন]-এ রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার সালাত হয় না»(১)।

অনুরূপভাবে [সহিহ মুসলিম]-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা-এর হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা হয় না, তা খিদাজ (অসম্পূর্ণ)»; আর 'খিদাজ'-এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে অসম্পূর্ণ বস্তু হিসেবে, আবার বাতিল বস্তু হিসেবেও এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আর মুসল্লি দুই অবস্থার যেকোনো একটিতে থাকেন:

প্রথম অবস্থা: মুক্তাদি (مأموم) না হওয়া; যেমন তিনি যদি ইমাম হন অথবা একাকী সালাত আদায়কারী হন। এমতাবস্থায় প্রত্যেক রাকাতে তার ওপর সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব, সালাতটি উচ্চস্বরে পাঠের (جهرية) হোক বা নিভৃতে পাঠের (سرية) হোক, ফরজ হোক বা নফল।

 

দ্বিতীয় অবস্থা: মুক্তাদি (مأموم) হওয়া। এটি আলেমদের (রহিমাহুমুল্লাহ) মধ্যে দীর্ঘ মতপার্থক্যের একটি বিষয়; ইমাম কি মুক্তাদির (مأموم) পক্ষ থেকে সূরা ফাতিহা পাঠের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, নাকি করবেন না? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে এবং এটি স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩৯৪)।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

في مؤلفات مستقلة. المذهب، ومذهب المالكية: لا يجب على المأموم قراءة الفاتحة في الصلاة السرية ولا الجهرية، ويتحملها عنه الإمام، لكن يستحب للمأموم أن يقرأ في إسرار إمامه في الصلاة السرية، وفي سكوته في الصلاة الجهرية.

وعند أبي حنيفة: لا يجب على المأموم أن يقرأ لا في السرية ولا الجهرية، بل القراءة خلف الإمام مكروهة كراهة تحريم.

وعند الشافعية، وابن حزم، وهو رواية عن الإمام أحمد: يجب على المأموم قراءة الفاتحة مطلقًا في السرية والجهرية.

وقيل: تجب القراءة فيما يسر به الإمام دون ما يجهر به.

واستدل من قال بعدم وجوب القراءة على المأموم بأدلة، منها:

1 قوله تعالى: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا}، قال الإمام أحمد كما في مسائل أبي داود: «أجمع الناس أن هذه الآية في الصلاة».

2 حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «إنما جُعِل الإمام ليؤتم به، فإذا كبّر فكبّروا، وإذا قرأ فأنصتوا»، رواه الإمام أحمد، وأبو داود، والنسائي، وابن ماجه، قال مسلم في صحيحه: «وهو صحيح عندي». وعن ابن أبي حاتم قال: سمعت أبي ..... وذكر هذا الحديث، فقال أبي: «ليست هذه الكلمة محفوظة، هي من تخاليط ابن عجلان».

3 حديث جابر رضي الله عنه مرفوعًا: «من كان له إمام فقراءة الإمام له قراءة». رواه أحمد، وابن ماجه، وهو في الموطأ من قول جابر رضي الله عنه، وصححه البيهقي.

4 حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم انصرف من صلاة جهر فيها
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

স্বতন্ত্র রচনায়। মাজহাব এবং মালেকি মাজহাবের অভিমত হলো: সরি (গোপন) বা জেহরি (সশব্দ) কোনো সালাতেই মুক্তাদির জন্য সুরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব নয় এবং ইমামই তার পক্ষ থেকে তা বহন করবেন। তবে মুক্তাদির জন্য ইমামের সরি সালাতে এবং জেহরি সালাতের নীরবতার সময় কিরাত পাঠ করা মুস্তাহাব।

আবু হানিফার মতে: সরি বা জেহরি কোনো সালাতেই মুক্তাদির জন্য কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব নয়, বরং ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ করা মাকরুহে তাহরিমি।

শাফেয়ি মাজহাব, ইবনে হাজম এবং ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা অনুযায়ী: সরি ও জেহরি উভয় সালাতেই মুক্তাদির ওপর সুরা ফাতিহা পাঠ করা নিঃশর্তভাবে ওয়াজিব।

আবার বলা হয়েছে: ইমাম যা নিম্নস্বরে পাঠ করেন তাতে কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব, যা উচ্চস্বরে পাঠ করেন তাতে নয়।

যারা মুক্তাদির ওপর কিরাত ওয়াজিব নয় বলে মত দিয়েছেন, তারা বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১. মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো এবং চুপ থাকো}। ইমাম আহমদ 'মাসায়েলু আবি দাউদ'-এ যেমনটি বর্ণিত হয়েছে তাতে বলেছেন: «আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এই আয়াতটি সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য»।

২. আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوعًا) হাদিস: «ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্যই; সুতরাং তিনি যখন তাকবির বলেন তোমরাও তাকবির বলো, আর তিনি যখন কিরাত পাঠ করেন তখন তোমরা নীরব থাকো»। এটি ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: «এটি আমার নিকট সহিহ (صحيح)»। ইবনে আবি হাতিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি... এরপর তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করলেন এবং আমার পিতা বললেন: «এই শব্দটি সংরক্ষিত (محفوظة) নয়, এটি ইবনে আজলানের সংমিশ্রণের (ভ্রান্তি) অন্তর্ভুক্ত»।

৩. জাবির (রাযি.) থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوعًا) হাদিস: «যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাত তার কিরাত হিসেবেই গণ্য হবে»। এটি আহমদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এটি মুয়াত্তা-এ জাবির (রাযি.)-এর উক্তি হিসেবে বর্ণিত এবং বায়হাকি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।

৪. আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি জেহরি সালাত শেষ করলেন
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

بالقراءة، فقال: «هل قرأ معي أحد منكم آنفًا؟»، فقال رجل: نعم يا رسول الله، قال: «إني أقول ما لي أُنازع القرآن؟!»، قال: فانتهى الناس عن القراءة فيما يجهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم، رواه أحمد، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، وقال الترمذي: «حسن صحيح»، وانفرد به أكيمة الليثي وهو مجهول، وأيضا أُعل بأن قوله: «فانتهى الناس عن القراءة .. » مدرج من الزهري.

5 حديث ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم: «يكفيك قراءة الإمام خافت أو قرأ»، رواه الدارقطني. قال الإمام أحمد لما سُئِل عن هذا الحديث: «هذا منكر».

6 عن ابن عمر رضي الله عنها قال: «من صلى وراء الإمام كفاه قراءة الإمام» رواه البيهقي في السنن.

واستدل من قال بالوجوب بأدلة، منها:

1 حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب»، متفق عليه.

2 حديث أبي هريرة مرفوعًا: «من صلى صلاة لم يقرأ فيها بأم القرآن فهي خداج ثلاثًا غير تمام»، فقيل لأبي هريرة: «إنا نكون وراء الإمام، فقال: اقرأ بها في نفسك»، رواه مسلم.

 

3 حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال للمسيء صلاته: «إذا قمت إلى الصلاة فكبر، ثم اقرأ ما تيسر معك من القرآن، ثم اركع حتى تطمئن راكعًا … ، ثم افعل ذلك في صلاتك كلها» متفق عليه، وهذا يشمل الإمام والمأموم والمنفرد.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

কিরাত পাঠ শেষে তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কি এইমাত্র আমার সাথে কিরাত পাঠ করেছ?», এক ব্যক্তি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «আমি তো মনে মনে ভাবছিলাম, কেন কুরআনের কিরাত নিয়ে আমার সাথে সংঘাত (বিভ্রাট) সৃষ্টি হচ্ছে?!», বর্ণনাকারী বলেন: এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব নামাজে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করতেন, সেসব নামাজে লোকেরা কিরাত পাঠ করা থেকে বিরত হলো। এটি আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি একে «হাসান সহিহ (حسن صحيح)» বলেছেন। তবে এটি কেবল আকিমা আল-লাইসি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি অজ্ঞাত (مجهول)। এছাড়া হাদিসটি এই কারণে ত্রুটিযুক্ত (أُعل) বলে গণ্য করা হয়েছে যে, «অতঃপর লোকেরা কিরাত পাঠ থেকে বিরত হলো...» অংশটি যুহরির পক্ষ থেকে প্রক্ষিপ্ত (مدرج)।

৫. ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে: «ইমাম উচ্চস্বরে পাঠ করুন কিংবা নিম্নস্বরে, তার কিরাত পাঠই তোমার জন্য যথেষ্ট।» এটি দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদকে যখন এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: «এটি মুনকার (منكر)»।

৬. ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে নামাজ পড়ে, তার জন্য ইমামের কিরাত পাঠই যথেষ্ট।» এটি বায়হাকি সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

যারা (সুরা ফাতিহা পাঠ) ওয়াজিব হওয়ার পক্ষপাতি, তারা বেশ কিছু দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১. উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার নামাজ হয় না।» হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوعًا) হাদিস: «যে ব্যক্তি এমন কোনো নামাজ পড়ল যাতে উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) পাঠ করল না, তবে তা অসম্পূর্ণ» —একথাটি তিনি তিনবার বললেন— «তা অপূর্ণাঙ্গ।» তখন আবু হুরায়রাকে বলা হলো: «আমরা তো ইমামের পেছনে থাকি। তিনি বললেন: তুমি তা মনে মনে (নিভৃতে) পাঠ করো।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলভাবে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিকে বলেছিলেন: «যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবির দেবে, এরপর কুরআন থেকে তোমার জন্য যা সহজ হয় তা পাঠ করবে, এরপর রুকু করবে যতক্ষণ না স্থিরভাবে রুকু সম্পন্ন হয় … , অতঃপর তোমার পুরো নামাজেই এরূপ করবে।» হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। আর এই নির্দেশ ইমাম, মুক্তাদি এবং একাকী নামাজ আদায়কারী সকলের জন্যই প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

4 حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: كنا خلف النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الفجر فثقلت عليه القراءة، فلما فرغ قال: «لعلكم تقرؤون خلف إمامكم؟»، قلنا: نعم، قال: «لا تفعلوا إلا بفاتحة الكتاب، فإنه لا صلاة لمن لم يقرأ بها»، رواه الإمام أحمد، وأبو داود، والترمذي، وغيرهم، وفيه ابن إسحاق، وقد صرَّح بالتحديث، وصححه أبو داود، والترمذي، والدارقطني، وابن حبان، والحاكم، والبيهقي.

لكن ضعّفه الإمام أحمد، وذكر شيخ الإسلام: أن الحديث الصحيح قول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا صلاة إلا بأم القرآن»، ورواه الزهري عن محمود بن الربيع عن عبادة، وأما هذا الحديث فغلط فيه بعض الشاميين، وأصله أن عبادة كان يؤم ببيت المقدس، فقال هذا، فاشتبه عليهم المرفوع بالموقوف على عبادة.

5 وعن ابن عمر بقال: «إني لأستحيي من رب هذه البنية أن أُصلي صلاة لا أقرأ فيها بأم القرآن» رواه البيهقي في السنن.

واستدل من أوجب القراءة في السرية دون الجهرية: بحمل أدلة القائلين بالوجوب على الصلاة السرية، وحمل أدلة القائلين بعدم الوجوب على الصلاة الجهرية.

والأقرب في هذا: أنه لا يتحمل الإمام عن المأموم في الركعات التي يُسِر بها الإمام، مثل صلاة الظهر والعصر، وكالركعتين الأخريين من صلاة العشاء إلى آخره، المهم:

* الركعات التي يُسِر فيها الإمام لا يتحملها يجب على المأموم أن يقرأ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

৪. উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমরা ফজরের সালাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে ছিলাম, তখন তাঁর জন্য কিরাত পাঠ করা কঠিন হয়ে পড়ল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তিনি বললেন: «সম্ভবত তোমরা তোমাদের ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ করো?», আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তোমরা সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কিছু পাঠ করো না, কারণ যে ব্যক্তি তা পাঠ করে না তার সালাত হয় না», ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। এতে ইবনে ইসহাক রয়েছেন, এবং তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনার কথা ব্যক্ত করেছেন (صرَّح بالتحديث)। আবু দাউদ, তিরমিজি, দারাকুতনি, ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং বায়হাকি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

কিন্তু ইমাম আহমাদ একে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন। শায়খুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে: সহিহ (صحيح) হাদিসটি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ছাড়া কোনো সালাত নেই», এটি জুহরি মাহমুদ ইবনে রাবি’র সূত্রে উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই হাদিসটির ক্ষেত্রে কিছু শামি বর্ণনাকারী ভুল করেছেন। এর মূল উৎস হলো, উবাদাহ বায়তুল মুকাদ্দাসে ইমামতি করতেন, তখন তিনি এটি বলেছিলেন; ফলে মারফু (المرفوع) এবং উবাদাহর ওপর মাওকুফ (الموقوف)-এর মধ্যে তাদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

৫. এবং ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি এই ঘরের (কাবা) রবের নিকট লজ্জা বোধ করি এমন কোনো সালাত আদায় করতে যাতে আমি উম্মুল কুরআন পাঠ করি না», বায়হাকি এটি সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

যারা সশব্দে কিরাত পাঠের সালাত (জাহরি) বাদ দিয়ে নিঃশব্দে কিরাত পাঠের সালাতে (সিররি) কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলিল দিয়েছেন, তারা ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তাদের দলিলগুলোকে সিররি সালাতের ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং ওয়াজিব না হওয়ার প্রবক্তাদের দলিলগুলোকে জাহরি সালাতের ওপর প্রয়োগ করেছেন।

এ বিষয়ে অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো: ইমাম যেসব রাকাতে কিরাত নিঃশব্দে পাঠ করেন, সেই রাকাতগুলোতে মুক্তাদির পক্ষ থেকে ইমাম কিরাত বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। যেমন— জোহর ও আসরের সালাত, এবং এশার সালাতের শেষ দুই রাকাত ইত্যাদি। মূল কথা হলো:

* যেসব রাকাতে ইমাম নিঃশব্দে কিরাত পাঠ করেন, তা তিনি বহন করবেন না; বরং মুক্তাদির জন্য কিরাত পাঠ করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
فإنْ كانت الصَّلاة جهرية أسْمَعَهُم القراءة، ولم يُسْمِعهم: بسم الله الرحمن الرحيم، فربُّه أعلم هل كان يقرؤها أم لا؟


 

والركعات التي يجهر بها الإمام يتحملها عنه الإمام، يتحملها عن المأموم، وبهذا تجتمع الأدلة.

 

وقوله: «فإنْ كانت الصَّلاة جهرية أسْمَعَهُم القراءة» وهذا بالاتفاق، وهو متواتر عن النبي صلى الله عليه وسلم.

قوله: «ولم يُسْمِعهم: بسم الله الرحمن الرحيم، فربُّه أعلم هل كان يقرؤها أم لا؟» تستحب البسملة؛ لما رواه نعيم المجمر قال: «صليتُ وراء أبي هريرة، فقرأ بسم الله الرحمن الرحيم، ثم قرأ بأم القرآن … وفيه: والذي نفسي بيده إني لأشبهكم صلاة برسول الله صلى الله عليه وسلم»، رواه النسائي، وابن خزيمة، وابن حبان، وصحَّحه ابن خزيمة. ورواه البخاري ومسلم من طريق أبي سلمة، عن أبي هريرة، وليس فيه ذكر قراءة البسملة والجهر بها.

وعن أم سلمة رضي الله عنها قالت: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قرأ يُقَطِّع قراءته آية آية: بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين … »، رواه أحمد، وأبو داود، والدارقطني، والحاكم، وابن خزيمة. وصحَّحه الدارقطني، والحاكم على شرطهما.

وعن ابن عمر رضي الله عنهما «أنه كان لا يدعُ (بسم الله الرحمن الرحيم) لأم القرآن وللسورة التي بعدها». أخرجه الشافعي في مسنده واللفظ له، وعبد الرزاق في المصنف. وإسناده صحيح.

وعن عن عمرو بن دينار، أن ابن عباس وابن عمر رضي الله عنهم كانا يفتتحان
যদি সালাত উচ্চৈঃস্বরে পাঠযোগ্য (جهرية) হয়, তবে তিনি তাদের কিরাত শোনাতেন, কিন্তু তাদের ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ শোনাতেন না; তাঁর রবই ভালো জানেন তিনি কি তা পাঠ করতেন নাকি করতেন না?


 

আর যে রাকাতগুলোতে ইমাম উচ্চৈঃস্বরে পাঠ (جهر) করেন, ইমাম তা মুক্তাদীর পক্ষ থেকে বহন করেন। আর এর মাধ্যমেই দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়।

 

তাঁর উক্তি: «যদি সালাত উচ্চৈঃস্বরে পাঠযোগ্য (جهرية) হয়, তবে তিনি তাদের কিরাত শোনাতেন» এটি সর্বসম্মত এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহুসূত্রে বর্ণিত (متواتر)।

তাঁর উক্তি: «আর তিনি তাদের ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ শোনাতেন না; তাঁর রবই ভালো জানেন তিনি কি তা পাঠ করতেন নাকি করতেন না?» বিসমিল্লাহ পাঠ করা মুস্তাহাব; কারণ নুআইম আল-মুজমির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর পেছনে সালাত আদায় করলাম, তিনি বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করলেন, অতঃপর উম্মুল কুরআন পাঠ করলেন … এবং তাতে আছে: সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আমার সালাতই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ», এটি নাসাঈ, ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমা একে সহিহ (صححه) বলেছেন। আর এটি বুখারি ও মুসলিম আবু সালামার সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে বিসমিল্লাহ পাঠ এবং তা উচ্চৈঃস্বরে পড়ার (الجهر بها) কোনো উল্লেখ নেই।

উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিরাত পাঠ করতেন, তখন তিনি তাঁর কিরাতকে আয়াত আয়াত করে আলাদা করতেন: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন … », এটি আহমাদ, আবু দাউদ, দারাকুতনি, হাকেম ও ইবনে খুজাইমা বর্ণনা করেছেন। আর দারাকুতনি এবং হাকেম একে তাঁদের শর্ত অনুযায়ী সহিহ (صححه) বলেছেন।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, «তিনি উম্মুল কুরআন এবং তার পরবর্তী সূরার জন্য (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম) পাঠ ত্যাগ করতেন না»। এটি শাফেয়ী তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, আর আব্দুর রাজ্জাক আল-মুসান্নাফে বর্ণনা করেছেন। এর সনদটি সহিহ (إسناده صحيح)।

আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রা.) তাঁরা উভয়ে শুরু করতেন
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

ب {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} .... ، رواه عبد الرزاق، إسناده صحيح.

وقوله: «ولم يسمعهم بسم الله الرحمن الرحيم» أي: لا يجهر بالبسملة؛ لحديث أنس بن مالك رضي الله عنه: «أن النبي صلى الله عليه وسلم وأبا بكر، وعمر رضي الله عنهما كانوا يفتتحون الصلاة ب {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]»، وفي مسلم: «لا يذكرون بسم الله الرحمن الرحيم في أول قراءة ولا آخرها».

 

وعند أحمد وابن خزيمة، وابن حبان، عن أنس، بلفظ: «صليت خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم وخلف أبي بكر، وعمر، وعثمان فكانوا لا يجهرون ببسم الله الرحمن الرحيم»، إسناده صحيح.

ولما روته عائشة رضي الله عنها قالت: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يستفتح الصلاة بالتكبير، والقراءة ب {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]»، رواه مسلم.

وذكر الدارقطني: «لا يصح في الجهر بالبسملة حديث مرفوع، وإنما يصح عن بعض الصحابة موقوفًا».

وعند الشافعية، ورواية عن أحمد: مشروعية الجهر بالبسملة. واستدلوا بأدلة:

1 ما رواه نعيم المجمر قال: «صليتُ وراء أبي هريرة رضي الله عنه، فقرأ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}، ثم قرأ بأم القرآن … »، وفيه: «والذي نفسي بيده إني لأشبهكم صلاة برسول الله صلى الله عليه وسلم»، وتقدم قريبًا. رواه البخاري ومسلم من طريق أبي سلمة، عن أبي هريرة رضي الله عنه، وليس فيه ذكر قراءة البسملة والجهر بها، وهو المحفوظ، مع تفرد نعيم دون أصحاب أبي هريرة رضي الله عنه.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

ب {বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম} .... এটি আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح)।

এবং তাঁর উক্তি: «আর তিনি তাঁদেরকে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম শোনাতেন না» অর্থাৎ: তিনি সশব্দে (جهر) বাসমালাহ পাঠ করতেন না; আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে: «নিশ্চয়ই নবী (সা.), আবু বকর এবং উমর (রা.) 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' [ফাতিহা: ২] দিয়ে নামাজ শুরু করতেন», এবং মুসলিমে রয়েছে: «তাঁরা কিরাতের শুরুতে বা শেষে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম উল্লেখ করতেন না।»

 

আহমদ, ইবনে খুজাইমা এবং ইবনে হিব্বানের নিকট আনাস (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: «আমি আল্লাহর রাসুল (সা.), আবু বকর, উমর এবং উসমানের পিছনে নামাজ পড়েছি, তাঁরা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম সশব্দে (جهر) পাঠ করতেন না», এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح)।

এবং আয়েশা (রা.) যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকবিরের মাধ্যমে নামাজ এবং 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' [ফাতিহা: ২] এর মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন», এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আদ-দারা কুতনি উল্লেখ করেছেন: «বাসমালাহ সশব্দে পাঠ করার বিষয়ে কোনো মারফু (مرفوع) হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) নয়, বরং এটি কেবল কোনো কোনো সাহাবীর থেকে মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) পাওয়া যায়।»

শাফেয়ি মাজহাবের নিকট এবং আহমদের একটি বর্ণনায়: সশব্দে (جهر) বাসমালাহ পাঠ করা বিধিবদ্ধ (مشروع)। তাঁরা নিম্নোক্ত দলিলগুলোর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন:

১. নুয়াইম আল-মুজমির যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর পিছনে নামাজ পড়েছি, তিনি পাঠ করলেন: {বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম}, অতঃপর তিনি উম্মুল কুরআন পাঠ করলেন … », এতে রয়েছে: «সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ নামাজের অধিকারী», এবং এটি নিকটেই অতিবাহিত হয়েছে। বুখারি ও মুসলিম এটি আবু সালামার সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে বাসমালাহ পাঠ করা এবং সশব্দে পাঠ করার কোনো উল্লেখ নেই; আর এটিই হলো সংরক্ষিত (محفوظ), যেখানে আবু হুরায়রা (রা.)-এর অন্যান্য সাথীদের বিপরীতে নুয়াইম এটি বর্ণনায় একক (تفرد) হয়ে পড়েছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وكان يقطِّع قراءته آيةً آيةً، ثُمَّ يقف على {رَبُّ الْعَالَمِينَ}، ثم يبتدئ {الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ}، ويقف، ثُمَّ يبتدئ {مَالِكِ يَوْمِ} على ترسُّلٍ وتمهُّلِ وترتيل، يمدُّ {الرَّحْمَنُ}، ويمُدُّ {الرَّحِيمُ} وكان يقرأ {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} بالألف


 

وقال أبو هريرة رضي الله عنه: «فما أعلن رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلناه لكم، وما أخفاه أخفيناكم لكم»، رواه مسلم. ونوقش: بأنه لا يمتنع أن يسمع منه حال الإسرار.

2 حديث أم سلمة رضي الله عنها قالت: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قرأ يُقَطِّع قراءته آية آية: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (3) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ}». تقدم قريبًا. وليس صريحًا أنه في الصلاة.

3 أنه ورد عن بعض الصحابة رضي الله عنهم: فروى ابن أبي شيبة «أن عمر رضي الله عنه جهر ب {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}». وتقدم عنه كما سبق عدم الجهر.

وأيضًا في مصنف ابن أبي شيبة «أن ابن الزبير جهر بها»، صحيح. وأيضًا روى عدم الجهر بها.

 

وفي سنن البيهقي «أن معاوية رضي الله عنه جهر بها».

وثبت عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه كان يجهر في صلاته بالبسملة.

وعند شيخ الإسلام، وابن القيم، وهو رواية عن أحمد: يُستحب الجهر أحيانًا للمصلحة، كتعليم السنة، أو التأليف كما لو صلى معه من يرى الجهر بالبسملة.

 

قوله: «وكان يقطِّع قراءته آيةً آيةً، ثُمَّ يقف على {رَبُّ الْعَالَمِينَ}، ثم يبتدئ {الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ}، ويقف، … » أي صفة قراءة النبي صلى الله عليه وسلم؛ أنه كان يقطِّع قراءته
এবং তিনি তাঁর তিলাওয়াতকে প্রতিটি আয়াতে আলাদা করতেন, এরপর {রব্বিল আলামিন}-এ থামতেন, তারপর {আর-রহমানির রহিম} শুরু করতেন এবং থামতেন, এরপর ধীরস্থিরভাবে, বিরতি দিয়ে ও স্পষ্টভাবে {মালিকি ইয়াওমি} শুরু করতেন। তিনি {আর-রহমান} এবং {আর-রহিম}-কে দীর্ঘ (مد) করতেন। আর তিনি {মালিকি ইয়াওমিদ্দিন} শব্দটি 'আলিফ' সহযোগে পাঠ করতেন।


 

এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা আমাদের নিকট উচ্চস্বরে (جهر) প্রকাশ করেছেন আমরা তা আপনাদের নিকট উচ্চস্বরে প্রকাশ করেছি, আর যা তিনি আমাদের নিকট গোপন বা নীরবে (إسرار) রেখেছেন আমরাও তা আপনাদের নিকট গোপন রেখেছি", এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এবং এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যে: নীরবে (إسرار) পাঠ করার অবস্থায় তাঁর থেকে তিলাওয়াত শুনতে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

২. উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তিলাওয়াত করতেন, তখন তিনি তাঁর তিলাওয়াতকে প্রতিটি আয়াতে আলাদা করতেন: {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম (১) আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন (২) আর-রহমানির রহিম (৩) মালিকি ইয়াওমিদ্দিন (৪)}।" এটি নিকটেই অতিবাহিত হয়েছে। তবে এটি সুস্পষ্ট নয় যে বিষয়টি নামাজের মধ্যে ছিল।

৩. এটি কিছু সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও বর্ণিত হয়েছে: ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন যে, "উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} উচ্চস্বরে (جهر) পাঠ করেছিলেন।" এবং তাঁর থেকে এর পূর্বে যেমনটি অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি উচ্চস্বরে পাঠ করতেন না।

এবং ইবনে আবি শায়বার মুসান্নাফ-এ আরও বর্ণিত আছে যে, "ইবনে আল-যুবাইর এটি উচ্চস্বরে (جهر) পাঠ করতেন", এটি সহিহ (صحيح)। এবং এটি উচ্চস্বরে পাঠ না করার বিষয়টিও বর্ণিত হয়েছে।

 

এবং সুনান আল-বায়হাকিতে রয়েছে যে, "মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এটি উচ্চস্বরে (جهر) পাঠ করতেন।"

এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি তাঁর নামাজে বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে (جهر) পাঠ করতেন।

এবং শাইখুল ইসলাম ও ইবনুল কায়্যিমের নিকট, এবং এটি আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية): কোনো কোনো সময় কল্যাণের (مصلحة) স্বার্থে উচ্চস্বরে (جهر) পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحب), যেমন সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়ার জন্য, অথবা অন্তর জয় করার জন্য যেমন কেউ যদি এমন ব্যক্তির পেছনে নামাজ পড়ে যে বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে (جهر) পাঠ করাকে আবশ্যক মনে করে।

 

তাঁর উক্তি: "এবং তিনি তাঁর তিলাওয়াতকে প্রতিটি আয়াতে আলাদা করতেন, এরপর {রব্বিল আলামিন}-এ থামতেন, তারপর {আর-রহমানির রহিম} শুরু করতেন এবং থামতেন, …" অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিলাওয়াতের পদ্ধতি; তা ছিল এই যে তিনি তাঁর তিলাওয়াতকে খণ্ড খণ্ড করে পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
وإذا ختم السُّورة قال: «آمين»، يجهر بها، ويمدُّ بها صوتَه، ويجهر بها مَنْ خلفه، حتى يرتجَّ المسجد.


 

كما جاء في حديث قتادة، قال: سئل أنس رضي الله عنه كيف كانت قراءة النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقال: «كانت مدًّا، ثم قرأ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] يمد ببسم الله، ويمد بالرحمن، ويمد بالرحيم».

وحديث أم سلمة رضي الله عنها في [المستدرَك]، و [سنن الدارقطني]: «يقطِّع قراءته آيةً آية، {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (3) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 2 4]»، إلى آخره.

قوله: «وإذا ختم السُّورة قال: «آمين»، يجهر بها، … » «آمين» معناها: اللهم استجب؛ لأن الفاتحة دعاء، في أولها ثناء على الله عز وجل، توسُّل بصفات الله عز وجل وأسمائه الحسنى، ثم دعاء؛ {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 5 7].

ومن فضل التأمين ما رواه ابن ماجه عن عائشة رضي الله عنها، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما حسدتكم اليهود على شيء ما حسدتكم على السلام والتأمين»، حسن.

وروى أبو هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أمّن الإمام فأمّنوا، فإنه من وافق تأمينه تأمين الملائكة غُفِر له ما تقدم من ذنبه»، متفق عليه.

قوله: «يجهر بها ويمد بها صوته، ويجهر بها من خلفه حتى يرتجَّ المسجد»؛ لما تقدم من حديث أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أمّن الإمام فأمّنوا، فإنه من وافق تأمينه تأمين الملائكة غُفِر له ما تقدم من ذنبه» متفق عليه، فعلَّق تأمينهم على تأمين الإمام، ولو لم يجهر به لما علق تأمين المأموم عليه.
যখন তিনি সূরা শেষ করতেন, তখন বলতেন: «আমীন», এটি উচ্চৈঃস্বরে বলতেন এবং এতে নিজের আওয়াজ দীর্ঘ করতেন। আর তাঁর পেছনের লোকেরাও এটি উচ্চৈঃস্বরে বলতেন, এমনকি মসজিদ প্রকম্পিত হয়ে উঠত।


 

যেমনটি কাতাদাহ বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিরাত কেমন ছিল? তিনি বললেন: «তা ছিল দীর্ঘায়িত», এরপর তিনি পড়লেন: {পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} [ফাতিহা: ১]। তিনি 'বিসমিল্লাহ'-তে দীর্ঘ করতেন, 'আর-রাহমান'-এ দীর্ঘ করতেন এবং 'আর-রাহিম'-এ দীর্ঘ করতেন।

আর উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস যা [আল-মুস্তাদরাক] এবং [সুনান আদ-দারাকুতনী]-তে রয়েছে: «তিনি তাঁর কিরাত প্রতিটি আয়াত আলাদা আলাদা করে পড়তেন, {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক (২) পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু (৩) বিচার দিবসের মালিক (৪)} [ফাতিহা: ২-৪]», শেষ পর্যন্ত।

তাঁর বক্তব্য: «যখন তিনি সূরা শেষ করতেন, তখন বলতেন: «আমীন», এটি উচ্চৈঃস্বরে বলতেন, … » «আমীন»-এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! কবুল করুন; কারণ সূরা ফাতিহা হলো একটি দোয়া, যার শুরুতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রশংসা রয়েছে এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলি ও তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করা হয়েছে, এরপর রয়েছে দোয়া; {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬) তাদের পথ যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন, যাদের ওপর আপনার ক্রোধ নেই এবং যারা পথভ্রষ্টও নয় (৭)} [ফাতিহা: ৫-৭]।

আর আমীন বলার ফজিলত সম্পর্কে ইবনে মাজাহ আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «ইয়াহুদিরা তোমাদের অন্য কোনো বিষয়ে ততটা ঈর্ষা করে না, যতটা তারা সালাম এবং আমীন বলার ওপর ঈর্ষা করে», হাসান (حسن)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন ইমাম আমীন বলেন, তখন তোমরাও আমীন বলো। কেননা যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে», সর্বসম্মত (متفق عليه)।

তাঁর বক্তব্য: «তিনি উচ্চৈঃস্বরে এটি বলতেন এবং এতে নিজের আওয়াজ দীর্ঘ করতেন। আর তাঁর পেছনের লোকেরাও এটি উচ্চৈঃস্বরে বলতেন, এমনকি মসজিদ প্রকম্পিত হয়ে উঠত»; এর কারণ পূর্বে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস, যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন ইমাম আমীন বলেন, তখন তোমরাও আমীন বলো। কেননা যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে» সর্বসম্মত (متفق عليه)। এখানে তিনি তাদের আমীন বলাকে ইমামের আমীন বলার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন; আর যদি ইমাম উচ্চৈঃস্বরে না বলতেন, তবে মুক্তাদির আমীন বলাকে ইমামের ওপর নির্ভরশীল করা হতো না।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

ولما روى وائل بن حجر رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قرأ {وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] قال: آمين، ورفع بها صوته». رواه أحمد، وأبو داود، والترمذي وحسّنه، وصحَّحه الحافظ.

ولما روى نعيم المجمر قال: «صليتُ وراء أبي هريرة، فقرأ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}، ثم قرأ بأم القرآن حتى بلغ {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 7]، قال: آمين، وقال الناس: آمين … ثم قال: والذي نفسي بيده إني لأشبهكم صلاة برسول الله صلى الله عليه وسلم»، رواه النسائي، وابن خزيمة، وابن حبان، وصحَّحه ابن خزيمة.

وما رواه عطاء قال: «آمين دعاء، أمّن ابن الزبير ومن بعده حتى إن للمسجد للَجَّة»، رواه البخاري معلقًا مجزومًا به، وعبد الرزاق، وابن أبي شيبة.

وما رواه عطاء قال: «أدركتُ مائتين من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في هذا المسجد إذا قال الإمام: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} سَمِعْتُ لهم رَجَّة بآمين» رواه البيهقي في الكبرى.

وقال نافع: «كان ابن عمر رضي الله عنه إذا ختم أم القرآن قال: آمين. لا يدع أن يؤمّن إذا ختمها. ويحضُّهم على قولها» رواه البخاري معلقًا مجزومًا به، وعبد الرزاق.

وروى البخاري معلقًا بصيغة الجزم، قال أبو عبد الله: «وكان أبو هريرة ينادي الإمام لا تفتني بآمين».

وهل المأموم يؤمِّن مع الإمام أو يؤمِّن بعد الإمام؟ للعلماء رأيان:

الرأي الأول: أن المأموم يؤمِّن مع الإمام وعليه الأكثر؛ يعني الإمام يؤمن
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

ওয়াইল ইবন হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন {ওয়ালাদ-দ্বল্লীন} পাঠ করতেন, তখন 'আমীন' বলতেন এবং এর মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বর উচ্চ করতেন»। এটি আহমাদ এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; তিরমিযী একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং হাফেজ (الحافظ) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

নুআইম আল-মুজমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি {বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম} পাঠ করলেন, এরপর উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করলেন যতক্ষণ না {গয়িরিল মাগদূবি আলাইহিম} পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন: 'আমীন' এবং উপস্থিত লোকেরাও বলল: 'আমীন' … এরপর তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে সালাতের দিক থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ»। এটি নাসাঈ, ইবন খুযায়মাহ এবং ইবন হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং ইবন খুযায়মাহ একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «'আমীন' হলো একটি দুআ। ইবনুল যুবায়ের এবং তাঁর পরবর্তীগণ আমীন বলতেন, এমনকি মসজিদে উচ্চশব্দ বা গুঞ্জন তৈরি হতো»। এটি বুখারি মুআল্লাক (معلقًا) এবং দৃঢ়তাসূচক (مجزومًا به) শব্দে বর্ণনা করেছেন; এছাড়াও আবদুর রাজ্জাক এবং ইবন আবি শায়বাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি এই মসজিদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুইশত সাহাবীকে পেয়েছি, যখন ইমাম {গয়িরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ-দ্বল্লীন} বলতেন, তখন আমি তাঁদের আমীন বলার উচ্চশব্দ শুনতাম»। এটি বায়হাকী তাঁর আল-কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

নাফি বলেন: «ইবন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন উম্মুল কুরআন শেষ করতেন তখন বলতেন: 'আমীন'। এটি শেষ করার পর তিনি আমীন বলা ছাড়তেন না এবং অন্যদেরও তা বলতে উৎসাহিত করতেন»। এটি বুখারি মুআল্লাক (معلقًا) এবং দৃঢ়তাসূচক (مجزومًا به) শব্দে বর্ণনা করেছেন; এছাড়াও আবদুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারি মুআল্লাক (معلقًا) এবং দৃঢ়তাসূচক শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারি) বলেন: «আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইমামকে ডেকে বলতেন, আমীন বলার সওয়াব থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না»।

মুক্তাদি কি ইমামের সাথে আমীন বলবে নাকি ইমামের পরে? এ বিষয়ে আলেমদের দুটি মত রয়েছে:

প্রথম মত: মুক্তাদি ইমামের সাথেই আমীন বলবে এবং অধিকাংশের মত এটিই; অর্থাৎ ইমাম আমীন বলবেন
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

والمأموم يؤمن كما هو حالنا الآن، وهو مذهب الشافعية، والحنابلة؛ لما رواه أبو هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أمّن الإمام، فأمّنوا، فإنه من وافق تأمينه تأمين الملائكة، غُفِر

 

له ما تقدّم من ذنبه» متفق عليه.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا قال الإمام: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] فقولوا: آمين، فإنه من وافق قوله قول الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه» رواه البخاري ومسلم.

وعند أحمد، والنسائي: «إذا قال الإمام: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] فقولوا: آمين، فإن الملائكة تقول: آمين، وإن الإمام يقول آمين، فمن وافق تأمينه تأمين الملائكة غُفِر له ما تقدم من ذنبه»، قال الدارقطني في العلل: «وذلك وهم من معمر، والمحفوظ: إذا أمن الإمام فأمنوا».

فالنبي صلى الله عليه وسلم جعل موافقة التأمين لتأمين الملائكة سببًا لمغفرة ما تقدم من الذنوب، فينبغي أن يقع تأمين الإمام والمأموم والملائكة دفعة واحدة.

ولحديث بلال أنه قال للنبي صلى الله عليه وسلم: «لا تسبقني بآمين». رواه أحمد، وعبد الرزاق، والحاكم، والبيهقي، وقد رجَّح أبو حاتم في العلل، والدارقطني وغيرهما إرساله.

وعند بعض الحنابلة: السنة أن يُؤمن المأموم بعد تأمين الإمام؛ لحديث أبي هريرة: «إذا أمن الإمام فأمنوا» متفق عليه. وهو محمول على أن المراد إذا أراد التأمين؛ بدليل قوله صلى الله عليه وسلم في الرواية الثانية: «إذا قال الإمام: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] فقولوا: آمين» متفق عليه.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

এবং মুক্তাদি আমিন বলবে যেমনটি আমাদের বর্তমান অবস্থা, এটি শাফেঈ ও হাম্বলি মাজহাবের অভিমত। এর সপক্ষে দলিল হলো আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী (সা.) বলেছেন: "যখন ইমাম আমিন বলেন, তখন তোমরাও আমিন বলো। কারণ যার আমিন বলা ফেরেশতাদের আমিন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" এটি সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত (متفق عليه)।

 

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বল্লিন’ বলবেন, তখন তোমরা আমিন বলো। কারণ যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ও নাসায়িতে বর্ণিত হয়েছে: "ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বল্লিন’ বলবেন, তখন তোমরা আমিন বলো। কারণ ফেরেশতারাও আমিন বলেন এবং ইমামও আমিন বলেন। সুতরাং যার আমিন বলা ফেরেশতাদের আমিন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" দারা কুতনি আল-ইলাল গ্রন্থে বলেন: "এটি মা'মার-এর পক্ষ থেকে একটি ভ্রম (وهم), আর সংরক্ষিত (المحفوظ) পাঠ হলো: 'যখন ইমাম আমিন বলেন, তখন তোমরাও আমিন বলো'।"

সুতরাং নবী (সা.) আমিন বলার বিষয়টি ফেরেশতাদের আমিন বলার সাথে মিলে যাওয়াকে পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অতএব, ইমাম, মুক্তাদি এবং ফেরেশতাদের আমিন বলা একই সময়ে হওয়া উচিত।

বিলাল (রা.)-এর হাদিসের কারণেও এটি সমর্থিত যে তিনি নবী (সা.)-কে বলেছিলেন: "আমিন বলার ক্ষেত্রে আমাকে পেছনে ফেলে দেবেন না (অর্থাৎ আমার আগেই আমিন বলে ফেলবেন না)।" এটি আহমাদ, আবদুর রাজ্জাক, হাকেম ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম আল-ইলাল গ্রন্থে এবং দারা কুতনি ও অন্যান্যরা হাদিসটিকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

কোনো কোনো হাম্বলি ফকিহের মতে: সুন্নত হলো ইমামের আমিন বলার পর মুক্তাদি আমিন বলা; এর সপক্ষে দলিল হলো আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস: "যখন ইমাম আমিন বলেন, তখন তোমরাও আমিন বলো।" এটি সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত (متفق عليه)। তবে একে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো—যখন ইমাম আমিন বলার ইচ্ছা করেন; যার প্রমাণ দ্বিতীয় বর্ণনায় নবী (সা.)-এর বাণী: "ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বল্লিন’ বলবেন, তখন তোমরা আমিন বলো।" এটি সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) শারহু সিফাতিস সালাতি লি ইবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
واختلفت الرِّواية عنه، هل كان يسكت بين الفاتحة وقراءة السُّورة، أم كانت سكتته بعد القراءة كلِّها؟ فقال يونس، عن الحسن، عن سمرة: «حَفِظْتُ سكتتين، سكتةً إذا كبَّر الإمام حتى يقرأ، وسكتةً إذا فرغ من فاتحة الكتاب وسورة عند الركوع»، وصدَّقَهُ أُبَيُّ بن كعبٍ على ذلك(1). ووافق يونسَ: أشعثُ الحمراني، عن الحسن فقال: «سكتة إذا استفتح، وسكتة إذا فرغ من القراءة كلِّها»(2). وخالفهما قتادة، فقال: عن الحسن، أنَّ سمرة بن جندب وعمران بن الحصين تذاكرا، فحدَّث سمرة أنَّه حفظ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم سكتتين، سكتة إذا كبَّر، وسكتة إذا فرغ من قراءة: {الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} فقط، فحفظ ذلك سمرة، وأنكر عليه عمران بن حصين، فكتبا في ذلك إلى أُبَيِّ بن كعب، فكان في كتابه إليهما: «أنَّ سمرة قد حفظ»(3).


 

قوله: «واختلفت الرِّواية عنه، هل كان يسكت بين الفاتحة وقراءة السُّورة، أم كانت سكتته بعد القراءة كلِّها؟ … »، تكلم في هذه الجملة عن السكتات في الصلاة: الذي ثبت سكتة الاستفتاح ما بين تكبيرة الإحرام وقراءة الفاتحة من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، أبو هريرة رضي الله عنه قال للنبي صلى الله عليه وسلم: «أرأيت سكوتك بين التكبير والقراءة ما تقول فيه؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ» في [الصحيحين]؛ فهذه السكتة بمقدار الاستفتاح.

بقي سكتتان مختلف فيهما:

سكتة بعد قراءة الفاتحة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (779)، وضعفه الألباني.

(2) أخرجه أبو داود (777، 778)، وضعفه الألباني.

(3) أخرجه أبو داود (779)، وابن ماجه (844)، وضعفه الألباني.
তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনায় (الرواية) ভিন্নতা রয়েছে যে, তিনি কি সুরা ফাতিহা এবং পরবর্তী সুরা পাঠের মাঝে নীরব থাকতেন, নাকি তাঁর এই নীরবতাটি ছিল সম্পূর্ণ কিরাআত শেষ করার পর? ইউনুস হাসান থেকে এবং তিনি সামুরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: «আমি দুটি নীরবতা মুখস্থ রেখেছি; একটি নীরবতা যখন ইমাম তাকবীর দেন কিরাআত শুরু করা পর্যন্ত, আর অন্য একটি নীরবতা যখন তিনি সুরা ফাতিহা এবং একটি সুরা পাঠ শেষ করেন রুকুর প্রাক্কালে», আর উবাই ইবনে কাব (রা.) এটি সত্যায়ন করেছেন(১)। ইউনুসের সাথে একমত হয়েছেন আশআছ আল-হুমরানি, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন: «একটি নীরবতা যখন তিনি নামায শুরু করেন এবং একটি নীরবতা যখন তিনি সম্পূর্ণ কিরাআত শেষ করেন»(২)। কাতাদাহ তাঁদের উভয়ের বিরোধিতা করে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সামুরাহ ইবনে জুনদুব এবং ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) পরস্পর আলোচনা করছিলেন, তখন সামুরাহ (রা.) বর্ণনা করেন যে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুটি নীরবতা মুখস্থ করেছেন; একটি নীরবতা যখন তিনি তাকবীর দিতেন এবং একটি নীরবতা যখন তিনি কেবল {যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়} পাঠ শেষ করতেন। সামুরাহ এটি মুখস্থ রেখেছিলেন, কিন্তু ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) এটি অস্বীকার করেন। অতঃপর তাঁরা এ বিষয়ে উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর নিকট পত্র লিখলেন, তাঁদের প্রতি প্রেরিত তাঁর পত্রে লিখিত ছিল: «নিশ্চয়ই সামুরাহ মুখস্থ রেখেছে»(৩)।


 

তাঁর উক্তি: «তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনায় (الرواية) ভিন্নতা রয়েছে, তিনি কি সুরা ফাতিহা এবং পরবর্তী সুরা পাঠের মাঝে নীরব থাকতেন, নাকি তাঁর নীরবতাটি ছিল সম্পূর্ণ কিরাআত শেষ করার পর? … », তিনি এই বাক্যে নামাযের নীরবতাগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন: যা সাব্যস্ত হয়েছে তা হলো তাকবীরে তাহরিমা এবং সুরা ফাতিহা পাঠের মধ্যবর্তী প্রারম্ভিক নীরবতা, যা আবু হুরাইরাহ (রা.)-এর হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়েছে। আবু হুরাইরাহ (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: «তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী সময়ে আপনার নীরবতা সম্পর্কে আমাকে বলুন, সেখানে আপনি কী পাঠ করেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার পাপসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব তৈরি করে দিন যেমনটি আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছেন» এটি [সহীহাইন]-এ রয়েছে; সুতরাং এই নীরবতা হলো প্রারম্ভিক দুআ পাঠের সমপরিমাণ।

বাকি দুটি নীরবতা সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে:

সুরা ফাতিহা পাঠের পর একটি নীরবতা।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (৭৭৯) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।

(২) আবু দাউদ (৭৭৭, ৭৭৮) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।

(৩) আবু দাউদ (৭৭৯) ও ইবনে মাজাহ (৮৪৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।