(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
التحفة المكية في توضيح أهم القواعد الفقهية   (محمد بن صالح الشاوي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: التحفة المكية في توضيح أهم القواعد الفقهية

المؤلف: محمد بن صالح الشاوي

الناشر: أوقاف الشيخ محمد بن صالح الشاوي

الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 340

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 محرم 1445

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যায় আল-তুহফাতুল মাক্কিয়াহ   (মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-শাওয়ী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ


বই: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যায় আল-তুহফাতুল মাক্কিয়াহ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-শাওয়ী

প্রকাশক: আওকাফে শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-শাওয়ী

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হি. - ২০২২ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রয়েছে]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ মহররম ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمةٌ مُوجَزةٌ للمؤلِّف (1)

‌‌اسمُه: محمَّدُ بنُ صالحِ بنِ عبد الله بنِ محمَّدِ بنِ عبد الله بنِ سُلَيمانَ بنِ محمَّدِ بنِ غانِمٍ الشاويُّ البَقْميُّ الأَزْديُّ.

‌‌مولدُه: وُلِدَ المؤلِّفُ في البُكَيْريَّةِ، بتاريخ: (23/ 9/ 1350 هـ)، الموافقِ: (31/ 1/ 1932 م).

‌‌نشأتُه: نشأ المؤلِّفُ في البُكَيْريَّةِ بين أبوَيْنِ محافِظَيْنِ ومتديِّنَيْن؛ فقد كان والده فضيلةُ الشيخِ صالحِ بنِ عبد الله الشاويِّ رحمه الله عالمًا مِنْ علماء البُكَيْرِيَّة، وكان مِنْ المُوسِرينَ، ولله الحمدُ والمِنَّة؛ ولذلك اعتذَرَ لمَّا كُلِّفَ بالقضاءِ مرَّتَيْن(2)؛ لأنَّ القضاءَ سوف يَشغَلُهُ عن الاستمرارِ في تحصيلِ العلم، وإلقاءِ الدروس، وعن أعمالِهِ التجاريَّة.

حَفِظَ المؤلِّفُ القرآنَ منذ نعومةِ أَظْفاره؛ حيثُ بدأ بالحفظِ على يد الشيخ عبد الله بن محمد الخُلَيفي رحمه الله، قبل أن يكونَ إمامًا للحرَمِ المكي، ثم أكمَلَ حِفْظَهُ على الشيخِ المقرئِ عبد الرحمن بن سالم الكريديس رحمه الله في مسجد تُرْكي(3).

 

‌‌طلبُهُ للعلم: وبعد أن حَفِظَ القرآنَ بدأ مسيرتَهُ في طلَبِ العلم؛ حيثُ اهتَمَّ به

--------------------------------------------

(1) هذه ترجمةٌ مختصَرةٌ كتَبْتُها عن الوالدِ حفظه الله، وهناك ترجمةٌ موسَّعةٌ جمَعْتُها مِنْ ذِكْرياتِهِ، ومِن الوثائقِ والمراسَلاتِ الموجودةِ لدَيْنا، ولعلَّ اللهَ أن ييسِّرَ لي طبعَها.

(2) حيثُ عيَّنه المَلِكُ عبد العزيز رحمه الله قاضيًا في القَصِيمِ، فامتنَعَ واستشفَعَ بالمشايخ، فسمَحَ له، ثم لمَّا تولَّى الملك سعود رحمه الله، عيَّنه قاضيًا في الجنوب، فأرسَلَ للمَلِكِ برقيَّةً قال فيها: (إنه بلَغَ سنَّ التقاعُد، وإنَّ ظروفَهُ الصحِّيَّةَ لا تَسمَحُ له)، فأُعفِيَ؛ رحمه الله رحمةً واسعة، وأسكَنَهُ فسيحَ جناته.

(3) هكذا يُسمَّى؛ نسبةً إلى مؤسِّسهِ تُرْكي بن منصور التركي رحمه الله. ينظر: مساجد البُكَيْريَّة (ص 61).

লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী (১)

তাঁর নাম: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মাদ বিন গানিম আশ-শাভী আল-বাকমী আল-আজদী।

তাঁর জন্ম: লেখক আল-বুকাইরিয়াহ-তে জন্মগ্রহণ করেন, তারিখ: (২৩/০৯/১৩৫০ হিজরি), যা (৩১/০১/১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তাঁর বেড়ে ওঠা: লেখক আল-বুকাইরিয়াহ-তে এক রক্ষণশীল ও ধর্মপ্রাণ দম্পতির মাঝে বড় হয়েছেন; তাঁর পিতা ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ বিন আবদুল্লাহ আশ-শাভী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন আল-বুকাইরিয়াহ-র আলেমদের মধ্যে অন্যতম একজন আলেম। তিনি স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ; এই কারণেই তিনি দুবার বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব অর্পণ করা হলে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন; কারণ বিচারকের দায়িত্ব তাঁকে ইলম অর্জন অব্যাহত রাখা, দরস প্রদান এবং তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্যুত করবে।

লেখক তাঁর শৈশব থেকেই কুরআন হিফজ করেন; তিনি শাইখ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-খুলাইফী (রাহিমাহুল্লাহ)-র নিকট হিফজ শুরু করেন, তিনি মক্কার হারামের ইমাম হওয়ার পূর্বের কথা। এরপর তিনি ক্বারী শাইখ আবদুর রহমান বিন সালিম আল-কুরাইদীস (রাহিমাহুল্লাহ)-র নিকট তুর্কি মসজিদে হিফজ সম্পন্ন করেন।

 

তাঁর ইলম অন্বেষণ: কুরআন হিফজ করার পর তিনি ইলম অন্বেষণের সফর শুরু করেন; যেখানে তিনি গুরুত্ব প্রদান করেন...

--------------------------------------------

(১) এটি একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী যা আমি আমার পিতা (হাফিজাহুল্লাহ) সম্পর্কে লিখেছি। এছাড়া তাঁর স্মৃতিচারণ, আমাদের নিকট থাকা নথিপত্র এবং চিঠিপত্রের ভিত্তিতে আমি একটি বিস্তারিত জীবনী সংগ্রহ করেছি, সম্ভবত আল্লাহ আমার জন্য তা মুদ্রণ করা সহজ করে দেবেন।

(২) যেহেতু বাদশাহ আবদুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে আল-কাসিমে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং মাশায়েখদের মাধ্যমে সুপারিশ করান, ফলে তিনি তাঁকে অব্যাহতি দেন। পরবর্তীতে যখন বাদশাহ সাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) ক্ষমতায় আসেন, তিনি তাঁকে দক্ষিণে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন। তখন তিনি বাদশাহর কাছে একটি টেলিগ্রাম পাঠিয়ে বলেন: "তিনি অবসরের বয়সে পৌঁছেছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা এর অনুমতি দিচ্ছে না।" ফলে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; আল্লাহ তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে স্থান দিন।

(৩) একে এই নামে ডাকা হয় এর প্রতিষ্ঠাতা তুর্কি বিন মনসুর আত-তুর্কি (রাহিমাহুল্লাহ)-র প্রতি সম্বন্ধ করে। দেখুন: মাসাজিদ আল-বুকাইরিয়াহ (পৃ. ৬১)।

(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
والدُهُ، وأحضَرَهُ إلى مجالسِ العلماء؛ ليتعلَّمَ ويستفيدَ منهم، وكان أوَّلُ ذلك عندما بلَغَ التاسعةَ من عُمُره؛ حيثُ كان يجلسُ مع طلبةِ العلمِ الذين يدرُسُونَ عند والدِهِ فضيلةِ الشيخ صالح بن عبد الله الشاوي رحمه الله؛ في كُتُبِ شيخِ الإسلام ابن تيميَّة، وكتبِ ابن القيِّم، وكتبِ التفسير، وكتبِ السِّيرةِ النبويَّة؛ ولهذا يُعتبَرُ والدُهُ هو شيخَهُ الأوَّلَ الذي تعلَّم عليه بعضَ العلوم الشرعية.

ولما بلَغَ الحاديةَ عَشْرةَ مِنْ عُمُرِه، رَغِبَ إليه والدُهُ أن ينضمَّ إلى الحَلْقةِ في المسجد الجامع الكبير في البُكَيْريَّة؛ ليدرُسَ على الشيخ محمَّد بن عبد الله السُّبَيِّلِ إمامِ الحرَمِ المكي، والشيخ عبد العزيز بن عبد الله السُّبَيِّل(1)، والشيخِ العلَّامة محمَّد بن مُقبِلِ المُقبِل، وغيرهم مِنْ علماء ذلك الزمان رحمهم الله.

وفي السنةِ الثالثةَ عَشْرةَ مِنْ عُمُرِهِ، سافر إلى الرياض، وانضمَّ مع طلبةِ العلمِ في مسجد الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ، وأخيه الشيخ عبد اللطيف بن إبراهيم، وغيرِهم من العلماء آنَذَاك رحمهم الله.

ولما قَدِمَ عبد الله ابنُ العمِّ الشيخِ محمَّد بن عثمان الشاوي رحمه الله مِنْ الطائف، أقنَعَهُ بالالتحاقِ بدارِ التوحيدِ في الطائف؛ فالتحَقَ ودرَسَ بها، وبعد أن أخَذَ شهادةَ المتوسِّطةِ مِنْ دار التوحيد، عاد إلى الرياض، وأكمَلَ الثانويةَ في المعهدِ العلميِّ بالرياض.

وفي عام (1372 هـ) التحَقَ بكلية الشريعة، والتي كانت تسمَّى آنَذَاكَ: «دارَ العُلُومِ الشرعيَّة»، واستمرَّ فيها حتى تخرُّجه عام (1376 هـ)، وكان مِنْ ضمن أوَّلِ دُفْعةٍ تخرَّجت في الكلية، وكان مِنْ مشايخِهِ وأساتذتِهِ الذين درَسَ عليهم في

--------------------------------------------

(1) وهو شقيقُ الشيخِ محمَّد بن عبد الله السُّبَيِّل إمامِ الحرَم المكي رحمه الله.

তাঁর পিতা তাঁকে আলেমদের মজলিসে নিয়ে আসতেন যাতে তিনি তাঁদের কাছ থেকে শিখতে ও উপকৃত হতে পারেন। এটি শুরু হয়েছিল যখন তাঁর বয়স নয় বছর ছিল; তখন তিনি সেই ইলম অন্বেষণকারীদের সাথে বসতেন যারা তাঁর পিতা ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাভী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থাবলি, তাফসীরের কিতাবসমূহ এবং সীরাতে নববী অধ্যয়ন করতেন। একারণেই তাঁর পিতাকেই তাঁর প্রথম শাইখ হিসেবে গণ্য করা হয়, যাঁর কাছে তিনি শরয়ী উলূমের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেছিলেন।

যখন তাঁর বয়স এগারো বছর হলো, তাঁর পিতা তাঁকে আল-বুখাইরিয়্যাহর বড় জামে মসজিদের হালকায় যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করলেন; যাতে তিনি মাসজিদুল হারামের ইমাম শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সুবাইল, শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ আস-সুবাইল(১), আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন মুকবিল আল-মুকবিল এবং সেই সময়ের অন্যান্য আলেমদের (রাহিমাহুল্লাহ) নিকট অধ্যয়ন করতে পারেন।

তাঁর তেরো বছর বয়সে তিনি রিয়াদে সফর করেন এবং শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম আল আশ-শাইখ ও তাঁর ভাই শাইখ আব্দুল লতিফ বিন ইব্রাহীম এবং তৎকালীন অন্যান্য আলেমদের (রাহিমাহুল্লাহ) মসজিদে ইলম অন্বেষণকারীদের সাথে যোগ দেন।

যখন তাঁর চাচাতো ভাই শাইখ মুহাম্মদ বিন উসমান আশ-শাভীর পুত্র আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তায়েফ থেকে আসলেন, তখন তিনি তাঁকে তায়েফের দারুত তাওহীদে ভর্তি হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন। অতঃপর তিনি সেখানে ভর্তি হন এবং পড়াশোনা করেন। দারুত তাওহীদ থেকে মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জনের পর তিনি পুনরায় রিয়াদে ফিরে আসেন এবং রিয়াদের মা'হাদ আল-ইলমীতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

১৩৭২ হিজরী সনে তিনি শরীয়াহ ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হন, যা তৎকালীন সময়ে «দারুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ» নামে পরিচিত ছিল। সেখানে তিনি ১৩৭৬ হিজরীতে স্নাতক সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি সেই ফ্যাকাল্টি থেকে স্নাতক হওয়া প্রথম ব্যাচের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর শাইখ ও শিক্ষকবৃন্দ, যাঁদের কাছে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) তিনি মাসজিদুল হারামের ইমাম শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সুবাইল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সহোদর ভাই।

(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الكلية: الشيخُ محمَّد الأمين الشِّنْقِيطي، مؤلِّفُ تفسيرِ (أضواء البيان)، والشيخُ عبد العزيز بن باز، والشيخُ عبد الرزَّاق عفيفي، وغيرهم من أهل العلم آنذاك رحمهم الله.

 

‌‌أعمالُه: وبعد تخرُّجه في كلية الشريعة عام 1376 هـ، تمَّ تعيينُهُ قاضيًا في المنطقة الشرقية في بَلْدةِ النُّعَيْريَّةِ بتاريخ: (15/ 2/ 1377 هـ)، وقام بتأسيسِ المحكمةِ الشرعيَّةِ فيها، وعُيِّنَ رئيسًا لها، واستمَرَّ عمَلُهُ في مَجَالِ القضاء حتى تاريخ: (16/ 8/ 1379 هـ).

وفي أثناء وجوده في النُّعَيْريَّةِ قاضيًا تولَّى إمامةَ جامع النُّعَيرِيَّة، وتولَّى الخَطَابةَ يوم الجمعةِ، وفي الأعياد والمناسَبات.

ومن المهامِّ التي تولَّاها أثناءَ عمله قاضيًا في النُّعَيْريَّة: تأسيسُ هيئاتِ الأمرِ بالمعروف، والنهيِ عن المنكَرِ فيها، ثم عُيِّنَ رئيسًا لها، وتولَّى أعمال الحِسْبةِ فيها لفترةٍ وجيزة، حتى تمَّ تعيينُ رئيسٍ مستقِلٍّ لها.

وبعد عامَيْنِ تقريبًا من عملِهِ في مجالِ القضاءِ: طلَبَ منه سماحة الشيخ محمدُ بنُ إبراهيم رحمه الله الانتقالَ إلى الرياض؛ لتأسيسِ وافتتاحِ كتابةِ العَدْل، والقيامِ بعملِ اللازمِ لها؛ حيثُ لم يكن هناك كتابةُ عَدْلٍ رسميَّةٌ بهذا الاسمِ قبل ذلك في منطقةِ الرياضِ والقَصِيم.

وبعد الانتهاءِ مِنْ عمليَّةِ تأسيسِ وافتتاحِ كتابةِ العَدْلِ: عُيِّنَ رئيسًا لها؛ فكان أوَّلَ رئيسٍ لكتابةِ العَدْلِ بالرياض، وقد رتَّب فضيلتُهُ ما يَلزَمُ لها مِنْ الأنظِمةِ والقوانينِ والموظَّفينَ، وباشَرَ العمَلَ فيها بتاريخ: (18/ 8/ 1379 هـ).

وخلالَ فَتْرةِ عملِهِ رئيسًا لكتابة العَدْلِ: كُلِّفَ بالعمَلِ عضوًا قضائيًّا احتياطيًّا بهيئةِ المنازَعاتِ التجاريَّةِ في الفترةِ المسائيَّةِ في حالةِ تغيُّبِ أحدِ أعضاء الهيئة،
অনুষদ: শেখ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শিনকিতি, যিনি তাফসিরে ‘আদওয়াউল বায়ান’-এর লেখক; শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ; শেখ আব্দুর রাজ্জাক আফিফি এবং তৎকালীন অন্যান্য আলেমগণ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।

 

তাঁর কর্মজীবন: ১৩৭৬ হিজরি সালে শরিয়াহ অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর, ১৫/২/১৩৭৭ হিজরি তারিখে তাঁকে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের নুআইরিয়া শহরে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সেখানে শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৬/৮/১৩৭৯ হিজরি তারিখ পর্যন্ত বিচার বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

নুআইরিয়ায় বিচারক হিসেবে অবস্থানকালে তিনি নুআইরিয়া জামে মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি জুমুআর দিন এবং দুই ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন।

নুআইরিয়ায় বিচারক থাকাকালীন তিনি যেসব দায়িত্ব পালন করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো: সেখানে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (হিসবাহ) সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা। পরবর্তীতে তিনি এর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রধান নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য সেখানে হিসবাহর কার্যাদি পরিচালনা করেন।

বিচার বিভাগে প্রায় দুই বছর কাজ করার পর, মান্যবর শেখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম (রহ.) তাঁকে রিয়াদে স্থানান্তরিত হওয়ার অনুরোধ জানান; যাতে সেখানে ‘কিতাবাতুল আদল’ (রেজিস্ট্রি অফিস) প্রতিষ্ঠা ও উদ্বোধন করা যায় এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পন্ন করা যায়। কারণ, এর আগে রিয়াদ ও কাসিম অঞ্চলে এই নামে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘কিতাবাতুল আদল’ ছিল না।

কিতাবাতুল আদল প্রতিষ্ঠা ও উদ্বোধনের কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁকে এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে তিনি ছিলেন রিয়াদের কিতাবাতুল আদলের প্রথম প্রধান। তিনি এর জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান, আইন ও জনবল বিন্যস্ত করেন এবং ১৮/৮/১৩৭৯ হিজরি তারিখে সেখানে কর্মজীবন শুরু করেন।

কিতাবাতুল আদলের প্রধান হিসেবে থাকাকালীন, তাঁকে সান্ধ্যকালীন সময়ে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থায় একজন সংরক্ষিত বিচার বিভাগীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল, যেন সংস্থার কোনো সদস্য অনুপস্থিত থাকলে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وذلك بتاريخ: (28/ 5/ 1389 هـ)، ثم صار بعد ذلك عضوًا رسميًّا، بعد أن طلَبَ أحدُ الأعضاءِ مِنْ الشيخِ محمَّد بن جُبَير رحمه الله إعفاءَهُ مِنْ الهيئة، للتفرُّغِ إلى عملِهِ الرسمي.

ومِن الأعمالِ التي تولَّاها: قيامُهُ بعقودِ الأَنكِحةِ بين الناس؛ حيثُ عَمِل مأذونًا للأنكحة، وقد تم تعيينُهُ في هذا العمل بتاريخ: (5/ 4/ 1392 هـ)، بجانبِ عملِهِ في كتابةِ العَدْلِ بالرياض.

ومِن الأعمالِ التي تولَّاها أيضًا: تعيينُهُ عضوًا مؤسِّسًا في مؤسَّسةِ الجزيرةِ للصِّحَافةِ والطِّبَاعةِ والنَّشْر، ثم انتُخِبَ أيضًا مِنْ قِبَلِ زملائِهِ وعُيِّنَ عضوًا إداريًّا بتاريخ: (1/ 8/ 1398 هـ).

كلُّ ذلك بجانبِ عمَلِهِ في كتابة العَدْل.

ومِن الأعمالِ أيضًا: تعيينُهُ مستشارًا لمعالي وزيرِ العَدْلِ آنذاكَ الشيخ إبراهيم بن محمَّد بن إبراهيم آل الشيخ، بتاريخ: (15/ 3/ 1398 هـ)، وبعد فترةٍ وجيزةٍ مِنْ عمَلِهِ مستشارًا طلَبَ الإعفاءَ والتقاعُدَ المبكِّر، فتحقَّق له ما يريد؛ وذلك بتاريخ: (9/ 2/ 1399 هـ)؛ لأنه كان يريدُ إراحةَ نفسِهِ مِنْ الأعمالِ الرسميَّة، والتفرُّغَ لكتابةِ البحوث، والعبادةِ، وغير ذلك.

بعد التقاعُد: وبعد التقاعُدِ قرَّر الانتقالَ إلى مكَّةَ المكرَّمةَ حرَسَها الله، وسكَنَ بجوارِ الحرَمِ المكي، وكان يصلِّي فيه الصلواتِ الخمسَ، ويحضُرُ الدروسَ والمحاضَرات، وقد ساعَدَهُ ذلك على استعادةِ حِفْظِهِ لكتاب الله.

ولقد رأيتُ مِنْ الوالدِ حفظه الله أثناءَ إقامتِهِ في مكَّةَ عنايةً بكتاب الله؛ تلاوةً وحفظًا، وفهمًا وتدبُّرًا؛ حتى إنه ترَكَ لأبنائِهِ جميعَ أعمالِهِ وتجاراتِه، منذ رُبُعِ قَرْنٍ تقريبًا، وسكَنَ بجوارِ الحرَمِ المكي، حتى لا يَشغَلَهُ شيءٌ عن القرآنِ
এটি ছিল ২৮/৫/১৩৮৯ হিজরি তারিখে। এরপর তিনি এর একজন আনুষ্ঠানিক সদস্য হন, যখন একজন সদস্য শায়খ মুহাম্মদ বিন জুবাইর (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তাঁর দাপ্তরিক কাজের জন্য পূর্ণ সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পরিষদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন।

তিনি যেসকল দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁর মধ্যে অন্যতম হলো: মানুষের মাঝে বিবাহের আকদ সম্পাদন করা; যেখানে তিনি নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করেছেন। রিয়াদে বিচার মন্ত্রণালয়ের দলিল লেখক (কাতিবুল আদল) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ৫/৪/১৩৯২ হিজরি তারিখে তাঁকে এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

তাঁর দায়িত্ব পালনকৃত কাজের মধ্যে আরও ছিল: আল-জাজিরা সাংবাদিকতা, মুদ্রণ ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিযুক্তি। এরপর ১/৮/১৩৯৮ হিজরি তারিখে তিনি তাঁর সহকর্মীদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন এবং প্রশাসনিক সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন।

এই সব কিছুই ছিল বিচার মন্ত্রণালয়ের দলিল লেখক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের পাশাপাশি।

অন্যান্য কাজের মধ্যে আরও ছিল: ১৫/৩/১৩৯৮ হিজরি তারিখে তৎকালীন মাননীয় আইনমন্ত্রী শায়খ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আলুশ শায়খের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্তি। উপদেষ্টা হিসেবে অল্প সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি অব্যাহতি ও আগাম অবসরের আবেদন করেন এবং ৯/২/১৩৯৯ হিজরি তারিখে তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ হয়; কারণ তিনি সরকারি কাজ থেকে নিজেকে অবসর দিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ রচনা, ইবাদত এবং অন্যান্য বিষয়ের জন্য সময় দিতে চেয়েছিলেন।

অবসরের পর: অবসরের পর তিনি মক্কা মুকাররমায়—আল্লাহ একে হিফাজত করুন—স্থানান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মসজিদুল হারামের সন্নিকটে বসবাস শুরু করেন। তিনি সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং দরস ও লেকচারগুলোতে উপস্থিত হতেন। এটি তাঁকে আল্লাহর কিতাব পুনরায় মুখস্থ (হিফজ) করতে সাহায্য করেছিল।

মক্কায় অবস্থানের সময় আমি শ্রদ্ধেয় পিতার (হাফিজাহুল্লাহ) মাঝে আল্লাহর কিতাবের প্রতি বিশেষ যত্ন লক্ষ্য করেছি; তিলাওয়াত, হিফজ, অনুধাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে। এমনকি তিনি প্রায় পঁচিশ বছর আগে তাঁর সন্তানদের জন্য তাঁর যাবতীয় কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দিয়ে মসজিদুল হারামের সন্নিকটে বসবাস শুরু করেন, যাতে কোনো কিছুই তাঁকে কুরআন থেকে বিমুখ করতে না পারে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ومدارَسَتِه، وكان ولا يزال: يَختِمُ القرآنَ في كلِّ يومٍ مَرَّةً؛ لا يَثْنِيهِ عن ذلك إلا الضرورةُ القاهرة؛ هذا بخلافِ عباداتِهِ الأخرى مِنْ الصلاةِ والقيامِ والطواف، وحضورِ دروسِ الحرَمِ المكي.

 

‌‌مؤلَّفاتُه: لم يَشغَلِ الوالدُ نَفْسَهُ كثيرًا بالتأليف؛ لأنه كان مشغولًا في أوَّلِ حياتِهِ بالوظائفِ الحكوميَّةِ والخَطَابةِ وغيرِها مِنْ الأعمال، وبعد التقاعُدِ شُغِلَ كثيرًا بمجالِ الأعمالِ الحُرَّةِ والتجارةِ، مع الاهتمامِ بالعبادةِ، وغيرِها، ومع ذلك: لم يَغْفُلْ عن تدوينِ بعضِ البحوثِ والكتاباتِ المفيدةِ، والتي جمَعْناها في المؤلَّفات التالية:

1 - النَّفَحَاتُ المَكِّيَّةِ فِي تَفْسِيرِ كِتَابِ رَبِّ البَرِيَّةِ.

2 - دُرُوسٌ وقَبَساتٌ مِنْ الحرَمِ - فوائِدُ ووقَفَاتٌ مُنْتقاةٌ مِنْ دُرُوسِ الحرَمِ المكِّيِّ وغَيْرِهِ.

3 - نَفَحَاتٌ قرآنيَّة - تَعْلِيقٌ عَلَى بَعْضِ الآيَاتِ القُرآنيَّةِ.

4 - التُّحْفَةُ المَكِّيَّةُ فِي تَوْضِيحِ أَهَمِّ القَوَاعِدِ الفِقْهِيَّةِ.

5 - الَّلآلِئُ المَكِّيَّةُ مِنْ كَلَامِ خَيْرِ البَرِيَّةِ - شَرْحِ سَبْعُونَ حَدِيثًا نَبَوِيًّا صَحِيحًا.

6 - تَرَاجِمُ بَعْضِ عُلَمَاءِ الشَّاوِيِّ.

7 - خُطْبةُ المِنْبَر.

8 - رسالتانِ في القَدَرِ والرِّبا، ومقالاتٌ متنوِّعة.

9 - القَضَاءُ وَالقَدَرُ عِنْدَ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالجَمَاعَةِ.

10 - الرَّدُّ الوَارِف عَلَى مَنْ أَبَاحَ رِبَا المَصَارِف.
এবং এর অধ্যয়ন ও চর্চা। তিনি সর্বদা প্রতিদিন একবার কুরআন খতম করতেন; কোনো অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছুই তাঁকে এ থেকে বিরত রাখতে পারত না। এটি ছিল সালাত, কিয়াম, তাওয়াফ এবং মক্কী হারামের দরসসমূহে উপস্থিতির মতো তাঁর অন্যান্য ইবাদতসমূহের অতিরিক্ত।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি: আব্বাজান নিজেকে লেখালেখির কাজে খুব বেশি ব্যস্ত রাখেননি; কারণ তিনি তাঁর জীবনের শুরুর দিকে সরকারি চাকরি, খুতবা প্রদান ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অবসরের পর তিনি ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ব্যবসা ও স্বাধীন পেশার ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যয় করতেন। তা সত্ত্বেও তিনি কিছু উপকারী গবেষণা ও লেখা লিপিবদ্ধ করতে উদাসীন হননি, যা আমরা নিচের গ্রন্থাবলিতে সংকলন করেছি:

১ - সৃষ্টিজগতের প্রতিপালকের কিতাবের তাফসীরে মক্কী সুবাস।

২ - হারাম থেকে প্রাপ্ত দরস ও আলোকচ্ছটা - মক্কী হারাম ও অন্যান্য জায়গার দরস থেকে নির্বাচিত ফায়দা ও পর্যালোচনাসমূহ।

৩ - কুরআনী সুবাস - কুরআনের কিছু আয়াতের ওপর টীকা।

৪ - গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যায় মক্কী উপহার।

৫ - সর্বোত্তম সৃষ্টির বাণী থেকে মক্কী মুক্তাসমূহ - সত্তরটি সহীহ নববী হাদিসের ব্যাখ্যা।

৬ - শাউয়ি অঞ্চলের কিছু আলেমের জীবনী।

৭ - মিম্বরের খুতবা।

৮ - তাকদীর ও সুদ বিষয়ক দুটি পুস্তিকা এবং বিবিধ প্রবন্ধ।

৯ - আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট কাযা ও কদর (ভাগ্য ও ফয়সালা)।

১০ - যারা ব্যাংকিং সুদকে বৈধ করেছে তাদের খণ্ডনে পর্যাপ্ত জবাব।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
11 - قُطُوفٌ دَانِيَةٌ - مَقَالَاتٌ وَمَوْضُوعَاتٌ مُتَنَوِّعَةٌ.

12 - حِكَمٌ مُخْتَارَاتٌ مِنْ عُيُونِ الشِّعْرِ وَالأَدَبِ.

13 - أَيَّامٌ مِنْ حَيَاةِ الشَّيْخِ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ الشَّاوِيِّ - جَمَعَهُ وَرَتَّبَهُ ابْنُهُ صَالِحُ الشَّاوِي.

هذا؛ ونَسْألُ اللهَ أن يَجعَلَ هذه الأعمالَ خالصةً لوجهِهِ الكريم، وأن يَحفَظَ الوالد، ويُديمَ عليه الصِّحَّةَ والعافية.
১১ - নিকটবর্তী ফলসমূহ - বিবিধ প্রবন্ধ ও বিষয়াবলী।

১২ - কাব্য ও সাহিত্যের নির্যাস থেকে নির্বাচিত প্রজ্ঞাসমূহ।

১৩ - শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-শাভীর জীবনের দিনসমূহ - এটি সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করেছেন তাঁর পুত্র সালিহ আল-শাভী।

পরিশেষে; আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলসমূহকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এবং পিতাকে রক্ষা করেন ও তাঁর সুস্থতা ও নিরাপত্তা দীর্ঘস্থায়ী করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المقدمة

الحمد لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على خاتم النبيين والمرسلين، وقائد الغر المحجَّلين، نبينا محمد، وعلى آله وصحبه إلى يوم الدين.

أما بعد:

تعتبر القواعد الفقهية من العلوم المساعدة للفقيه في معرفة ما تشابه من المسائل والأحكام الفقهية، وربط ذلك بقواعد كلية تجمع شتاتها وتنظم منثورها.

وهذا العلم من العلوم النافعة التي أبدعها الفقهاء لضبط الأحكام الفقهية غير المتناهية، بتأليف قواعد مختصرة تشتمل على فروع كثيرة، فتسهل على الفقهاء ضبط الفروع المتزاحمة، واستنباط أحكام النوازل.

قال ابن رجب الحنبلي رحمه الله في مقدمة كتابه: تقرير القواعد وتحرير الفوائد(1): (فهذه قواعد مهمة، وفوائد جمة، تضبط للفقيه أصول المذهب، وتطلعه من مآخذ الفقه على ما كان عنه قد تغيب، وتنظم له منثور المسائل في سلك واحد، وتقيد له الشوارد، وتقرب عليه كل متباعد).

ولا يغني هذا العلم عن دراسة الفقه، وإنما غايته زيادة الملكة الفقهية لدى الفقيه بمعرفة الأشباه والنظائر لكل مسألة فقهية، ونظم ذلك في قواعد كلية منضبطة، فيعظم بذلك تصور الفقيه لمسائل الفقه، وهذا بلا شك يسهل حفظ الفروع ويغني العالم بالضوابط عن حفظ أكثر الجزئيات، ويساعد الفقيه على

--------------------------------------------

(1) ينظر: قواعد ابن رجب (ص 3).
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের পরিসমাপ্তিকারীর ওপর, জ্যোতির্ময় উম্মতের নেতার ওপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও কিয়ামত পর্যন্ত আগত তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর।

অতঃপর:

ফিকহী মূলনীতিসমূহ (আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ) একজন ফকীহর জন্য ফিকহী মাসআলা ও বিধানসমূহের সদৃশ বিষয়গুলো জানার ক্ষেত্রে সহায়ক জ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি সেই সমস্ত বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে এমন কিছু সামষ্টিক মূলনীতির সাথে যুক্ত করে, যা সেগুলোকে একত্রিত করে এবং বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে সুশৃঙ্খল করে।

আর এই ইলম বা জ্ঞান হলো সেই সকল উপকারী জ্ঞানের অন্যতম, যা ফকীহগণ অসীম ফিকহী বিধানসমূহকে সুসংহত করার জন্য উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা এমন কিছু সংক্ষিপ্ত মূলনীতি সংকলন করেছেন যা অনেক শাখাগত মাসআলাকে (ফুরু') অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে এটি ফকীহদের জন্য ভিড় জমানো শাখাগত মাসআলাসমূহকে আয়ত্ত করা এবং সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যার (নাওয়াযিল) বিধান উদ্ভাবন করা সহজ করে দেয়।

ইবনু রজব আল-হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাব 'তাকরীরুল কাওয়াইদ ওয়া তাহরীরুল ফাওয়াইদ'(১)-এর ভূমিকায় বলেছেন: (এগুলো হলো গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এবং সুপ্রচুর ফায়দা, যা একজন ফকীহর জন্য মাযহাবের মূলসূত্রগুলোকে সুসংহত করে এবং ফিকহী উৎসগুলো থেকে তাঁর কাছে যা অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করে তোলে। এটি তাঁর জন্য বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একটি সুতোয় গেঁথে দেয়, অবাধ্য বিষয়গুলোকে অনুগত করে এবং দূরবর্তী প্রত্যেকটি বিষয়কে তাঁর নিকটবর্তী করে দেয়)।

আর এই ইলম ফিকহ চর্চার বিকল্প নয়, বরং এর লক্ষ্য হলো প্রতিটি ফিকহী মাসআলার সদৃশ ও অনুরূপ উদাহরণগুলো জানার মাধ্যমে ফকীহর মাঝে ফিকহী প্রজ্ঞা বা সক্ষমতা (মালাকাহ) বৃদ্ধি করা এবং সেগুলোকে সুশৃঙ্খল সামষ্টিক মূলনীতিতে বিন্যস্ত করা। এর ফলে ফিকহী মাসআলা সম্পর্কে ফকীহর ধারণা সুগভীর হয়। নিঃসন্দেহে এটি শাখাগত মাসআলাসমূহ মুখস্থ করা সহজ করে দেয় এবং মূলনীতিসমূহ জানা থাকলে আলেমকে অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজন থেকে বিমুখ রাখে। এটি ফকীহকে সাহায্য করে...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: কাওয়াইদ ইবনু রজব (পৃষ্ঠা ৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فهم مناهج الفتوى ويطلعه على حقائق الفقه ومآخذه، ويمكنه من تخريج الفروع بطريقةٍ سليمة منهجية، ويجنبه التناقض الذي قد يترتب على التخريج اعتمادًا على المسائل الجزئية.

فالشريعة تسوي بين المتماثلين في الأحكام الشرعية، وتلحق الشيء بنظيره، كما قال ابن القيم رحمه الله(1): (وأما أحكامه الأمرية الشرعية فكلُّها هكذا، تجدها مشتملة على التسوية بين المتماثلين، وإلحاق النظير بنظيره، واعتبار الشيء بمثله، والتفريق بين المختلفين، وعدم تسوية أحدهما بالآخر.

وشريعته سبحانه منزهة أن تنهى عن شيء لمفسدة فيه، ثم تبيح ما هو مشتمل على تلك المفسدة أو مثلها أو أزيد منها، فمن جوَّز ذلك على الشريعة فما عرفها حق معرفتها؛ ولا قدَّرها حق قدرِها، وكيف يُظن بالشريعة أنها تبيح شيئًا لحاجة المكلف إليه ومصلحته، ثم تحرم ما هو أحوج إليه والمصلحة في إباحته أظهر، وهذا من أمحل المحال.

وقد فطر الله سبحانه عباده على أن حكمَ النظير حكمُ نظيره، وحكمَ الشيء حكمُ مثله، وعلى إنكار التفريق بين المتماثلين، وعلى إنكار الجمع بين المختلفين، والعقل والميزان الذي أنزله الله سبحانه شرعًا وقدرًا يأبى ذلك).

والقواعد الفقهية هي التي تجمع بين المتماثلات، بحيث يستطيع الفقيه معرفة حكم الشيء من خلال أشباهه ونظائره من المسائل، وإن خفي عليه دليل الحكم الخاص في هذا الشيء بعينه، ولا يكون ذلك إلا للفقهاء الكبار الذين عرفوا مقاصد الشريعة، وتناسق أحكامها، وزادت ملكتهم الفقهية من خلال

--------------------------------------------

(1) (ينظر: إعلام الموقعين، ابن القيم (1/ 149).
এটি ফতোয়ার পদ্ধতিসমূহ বুঝতে সাহায্য করে এবং তাকে ফিকহের প্রকৃত তত্ত্ব ও উৎসের সাথে পরিচিত করে। এটি তাকে সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শাখা-প্রশাখাগুলোর মাসয়ালা উদ্ভাবনে (তাখরিজে) সক্ষম করে এবং আংশিক মাসয়ালার ওপর নির্ভর করে মাসয়ালা উদ্ভাবনের ফলে সৃষ্ট হতে পারে এমন স্ববিরোধিতা থেকে রক্ষা করে।

কেননা শরিয়ত শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে সমতা রক্ষা করে এবং কোনো বস্তুকে তার সদৃশ বস্তুর সাথে সংযুক্ত করে, যেমনটি ইবনুল কাইয়িম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন(১): "আর তাঁর শরয়ী আদেশমূলক বিধানগুলো সবই এমন; আপনি সেগুলোকে সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে সমতা বিধানকারী, সদৃশকে সদৃশের সাথে সংযুক্তকারী, এক বস্তুকে তার অনুরূপের ওপর কিয়াসকারী এবং বিসদৃশ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে পাবেন, যেখানে একটিকে অন্যটির সমান করা হয়নি।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শরিয়ত এ থেকে পবিত্র যে, তিনি কোনো অনিষ্টের কারণে কোনো কিছু নিষেধ করবেন, আবার সেই একই অনিষ্ট বা তার সমপরিমাণ অথবা তার চেয়ে বেশি অনিষ্ট রয়েছে এমন কিছুকে বৈধ করে দেবেন। সুতরাং যে ব্যক্তি শরিয়তের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করে, সে শরিয়তকে তার প্রকৃত পরিচয়ে চিনতে পারেনি এবং তাকে যথাযোগ্য মর্যাদাও দেয়নি। আর শরিয়ত সম্পর্কে এমন ধারণা কীভাবে করা যেতে পারে যে, তা মুকাল্লাফ ব্যক্তির প্রয়োজন ও কল্যাণের খাতিরে কোনো কিছুকে বৈধ করবে, আবার এমন কিছুকে হারাম করবে যার প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি এবং যার বৈধতার মাঝে কল্যাণ অধিকতর স্পষ্ট? এটি অসম্ভবতম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের এই স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন যে, সদৃশ বস্তুর বিধান তার সদৃশ বস্তুর বিধানের মতোই হবে এবং কোনো বস্তুর বিধান তার অনুরূপ বস্তুর বিধানের মতোই হবে। তিনি তাদের অন্তরে সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করা এবং বিসদৃশ বিষয়গুলোকে একত্রিত করার প্রতি অস্বীকৃতিবোধ তৈরি করে দিয়েছেন। আর বিবেক ও মানদণ্ড যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শরিয়ত ও তাকদির হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, তা একে প্রত্যাখ্যান করে।"

ফিকহি মূলনীতিগুলোই (কাওয়ায়েদ ফিকহিয়া) সমজাতীয় মাসয়ালাগুলোকে একত্রিত করে, যার ফলে একজন ফকিহ কোনো নির্দিষ্ট মাসয়ালার বিশেষ দলিল তার কাছে অস্পষ্ট থাকলেও তার সদৃশ ও অনুরূপ মাসয়ালাগুলোর মাধ্যমে সেই বিষয়ের বিধান জানতে সক্ষম হন। আর এটি কেবল সেই মহান ফকিহদের দ্বারাই সম্ভব যারা শরিয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) এবং এর বিধানাবলির পারষ্পরিক সামঞ্জস্য সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং যাদের ফিকহি প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পেয়েছে...

--------------------------------------------

(১) (দ্রষ্টব্য: ই'লামুল মুওয়াক্কি'ঈন, ইবনুল কাইয়িম (১/ ১৪৯)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
كثرة المطالعة في الفقه وأصوله، ومعرفة الأدلة من الكتاب والسنة، ومزاحمة العلماء بالركب.

وهذا الكتاب محاولة متواضعة لتقريب أهم القواعد الفقهية للمبتدئين، مع ذكر شيء من المسائل الفرعية التي تنتظمها كل قاعدة.

أسأل الله تعالى أن ينفع بهذا العمل، وأن يجعله خالصًا لوجهه، وأن يكتب لنا وكل من سعى في إخراجه الأجر والمثوبة، إنه خير مسؤول.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.

قاله وكتبه

محمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ عبد اللهِ الشَّاوِي

الخميس: 01/ 03/ 1443 هـ - الموافق: 07/ 10/ 2021 م
ফিকহ ও এর মূলনীতি (উসূল) অধিক অধ্যয়ন, কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ অনুধাবন এবং আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে জ্ঞান অন্বেষণ করা।

এই কিতাবটি নতুন শিক্ষার্থীদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী মূলনীতিসমূহ সহজবোধ্য করার একটি বিনীত প্রচেষ্টা মাত্র, যেখানে প্রতিটি মূলনীতির অধীনে বিন্যস্ত কিছু শাখাগত মাসআলাও আলোচনা করা হয়েছে।

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে ফলপ্রসূ করেন, একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমার ও যারা এর প্রকাশে পরিশ্রম করেছেন তাদের সকলের জন্য উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব নির্ধারণ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থনা কবুলকারী।

আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

এটি বলেছেন ও লিখেছেন

মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন আবদুল্লাহ আশ-শাওয়ী

বৃহস্পতিবার: ০১/ ০৩/ ১৪৪৩ হিজরি - মোতাবেক: ০৭/ ১০/ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمات بين يدي القواعد

‌‌أولاً: تعريف القواعد الفقهية:

القواعد: جمع: قاعدة.

والقاعدة لغة: الأساس، ومنه قواعد البناء وأساسه، قال الله تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة: 127](1).

والقاعدة في الاصطلاح: هي الأمر الكلي المنطبق على جميع جزئياته، وهي قضية كلية يدخل تحتها جزئيات كثيرة، وتحيط بالفروع والمسائل من الأبواب المتفرقة، وهي الأساس والأصل لما فوقها(2).

والفقهية: نسبة إلى الفقه.

والفقه لغة: فهم الشيء والعلم به(3).

والفقه في الاصطلاح: هو العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية(4).

--------------------------------------------

(1) ينظر: مقاييس اللغة، الرازي (5/ 108)، والصحاح، الفارابي (2/ 525)، والقاموس المحيط، الفيروزآبادي (ص 311)، ولسان العرب، ابن منظور (3/ 357)، ومختار الصحاح، الرازي (ص 257)، مادة: (قعد).

(2) ينظر: التعريفات، الجرجاني (ص 149)، والكليات، الكفوي (ص 702)،

(3) ينظر: مقاييس اللغة، الرازي (4/ 442)، والصحاح، الفارابي (6/ 2243)، والقاموس المحيط، الفيروزآبادي (ص 1250)، مادة: (فقه)، وينظر: القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة للتيسير، العبد اللطيف (1/ 33 - 40).

(4) ينظر: التعريفات، الجرجاني (ص 168)، والكليات، الكفوي (ص 690)،
‌‌মূলনীতিমালার উপক্রমণিকা

‌‌প্রথমত: ফিকহি নীতিমালাসমূহের (আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ) সংজ্ঞা:

আল-কাওয়াইদ: এটি ‘কায়েদাহ’ শব্দের বহুবচন।

আভিধানিক অর্থে কায়েদাহ হলো: ভিত্তি বা বুনিয়াদ; আর এর থেকেই কোনো ইমারতের ভিত্তি বা মূলস্তম্ভের নামকরণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল (এবং প্রার্থনা করছিল,) হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-বাকারা: ১২৭](১)।

পারিভাষিক অর্থে কায়েদাহ হলো: এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা তার অন্তর্গত সকল ক্ষুদ্রাংশের (জুযইয়্যাত) ওপর প্রযোজ্য হয়। এটি একটি সামগ্রিক মূলনীতি যার অধীনে অনেকগুলো শাখা বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং এটি বিভিন্ন অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাগুলোকে বেষ্টন করে রাখে। এটি তার পরবর্তী বা তদুপরি বিষয়গুলোর জন্য ভিত্তি ও মূল হিসেবে গণ্য হয়(২)।

আল-ফিকহিয়্যাহ: এটি ‘ফিকহ’ শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো: কোনো কিছু অনুধাবন করা এবং সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা(৩)।

পারিভাষিক অর্থে ফিকহ হলো: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ হতে অর্জিত আমলযোগ্য শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাকায়িসুল লুগাহ, রাযি (৫/১০৮); আস-সিহাহ, ফারাবি (২/৫২৫); আল-কামুসুল মুহিত, ফায়রোযাবাদি (পৃ. ৩১১); লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর (৩/৩৫৭); মুখতারুস সিহাহ, রাযি (পৃ. ২৫৭), মূলধাতু: (ক্ব-আ-দা)।

(২) দেখুন: আত-তারিফাত, জুরজানি (পৃ. ১৪৯); আল-কুল্লিয়াত, কাফওয়ি (পৃ. ৭০২)।

(৩) দেখুন: মাকায়িসুল লুগাহ, রাযি (৪/৪৪২); আস-সিহাহ, ফারাবি (৬/২২৪৩); আল-কামুসুল মুহিত, ফায়রোযাবাদি (পৃ. ১২৫০), মূলধাতু: (ফা-ক্ব-হা); আরও দেখুন: আল-কাওয়াইদ ওয়াদ-দাওয়াবিত আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাদাম্মিনাহ লিত-তায়সির, আল-আবদুল লতিফ (১/৩৩-৪০)।

(৪) দেখুন: আত-তারিফাত, জুরজানি (পৃ. ১৬৮); আল-কুল্লিয়াত, কাফওয়ি (পৃ. ৬৯০)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
والقاعدة إما أن تطبق على جميع الفروع التي تدخل تحتها، كما سبق في التعريف، وإما أن تشمل غالبَ الجزئيات أو أكثرها، ويخرج عنها بعض الفروع والجزئيات التي تعتبر استثناءات، وقد تطبق عليها قاعدة أخرى، ولذلك عرفها الحموي في حاشيته على الأشباه والنظائر بأنَّها: (حكم أغلبي ينطبق على معظم جزئياته)(1).

ومن اختار هذا التعريف اعترض على التعريف الأول من جهتين:

الأولى: أن القاعدة الفقهية أغلبية وليست كلية، لأن القاعدة الفقهية كثيرًا ما يندُّ عنها بعض فروعها وتستثنى منها.

والثانية: أن هذه التعريفات ليست فيها ما يحدد نوع الجزئيات الداخلة تحتها، فهي تعريفات للقاعدة عمومًا لا للقاعدة الفقهية خاصة(2).

ومن اختار التعريف الأول الذي يفيد انطباقَ القاعدةِ على جميع الجزئيات، رأى أن الأصل فيها أن تكون كذلك، وأن خروج بعض الفروع عنها لا يضرُّ ولا يؤثر، وتكون استثناء من القاعدة، لأن كل قاعدة أو مبدأ أو أصل له استثناء، وهذا الاستثناء لا يغير من حقيقة الأصل أو المبدأ(3).

 

‌‌ثانيًا: الفرق بين القواعد الفقهية والقواعد الأصولية:

سبق أن ذكرنا تعريف القاعدة الفقهية، وأنها: الأمر الكلي أو الأغلبي الذي ينطبق على جميع جزئياته أو معظمها.

--------------------------------------------

(1) ينظر: مجموعة الفوائد البهية، القحطاني (ص 19)، وشرح القواعد السعدية، الزامل (ص 8).

(2) ينظر: القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة للتيسير، العبد اللطيف (1/ 37).

(3) ينظر: القواعد الفقهية وتطبيقاتها في المذاهب، الزحيلي (1/ 22).
এবং নিয়মটি হয় এর অধীনে আসা সকল শাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যেমনটি সংজ্ঞায় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা এটি অধিকাংশ বা বেশির ভাগ খুটিনাটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর থেকে কিছু শাখা ও খুটিনাটি বিষয় বাদ পড়ে যায় যেগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার এগুলোর ওপর অন্য কোনো নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে। এই কারণে আল-হামাভি 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর'-এর ওপর তাঁর টীকায় এটিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: (এটি একটি সংখ্যাগুরুভিত্তিক বিধান যা এর অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়)(১).

যারা এই সংজ্ঞাটি পছন্দ করেছেন তারা প্রথম সংজ্ঞার ওপর দুই দিক থেকে আপত্তি জানিয়েছেন:

প্রথমত: ফিকহী মূলনীতি অধিকাংশ বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য, এটি সামগ্রিক বা নিরঙ্কুশ নয়; কারণ ফিকহী মূলনীতি থেকে প্রায়শই এর কিছু শাখা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেগুলো এর থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়।

দ্বিতীয়ত: এই সংজ্ঞাগুলোতে এমন কিছু নেই যা এর অধীনে আসা খুটিনাটি বিষয়ের ধরন নির্ধারণ করে। ফলে এগুলো সাধারণভাবে 'কায়েদাহ' বা নিয়মের সংজ্ঞা, বিশেষভাবে 'ফিকহী কায়েদাহ' বা ফিকহী মূলনীতির সংজ্ঞা নয়(২).

আর যারা প্রথম সংজ্ঞাটি গ্রহণ করেছেন যা সকল খুটিনাটি বিষয়ের ওপর নিয়মের প্রয়োগকে বুঝায়, তারা মনে করেন যে, নিয়মটির ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এটি এমনই হওয়া। আর এর থেকে কিছু শাখার বেরিয়ে যাওয়া কোনো ক্ষতি করে না বা প্রভাব ফেলে না, বরং তা মূলনীতি থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ প্রতিটি নিয়ম, মূলসূত্র বা ভিত্তিরই ব্যতিক্রম থাকে, আর এই ব্যতিক্রম মূল ভিত্তি বা সূত্রের প্রকৃত সত্তাকে পরিবর্তন করে দেয় না(৩).

 

‌‌দ্বিতীয়ত: ফিকহী মূলনীতি এবং উসূলী মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য:

আমরা ইতোপূর্বে ফিকহী মূলনীতির সংজ্ঞা উল্লেখ করেছি যে, এটি হলো: এমন একটি সামগ্রিক বা সংখ্যাগুরু বিষয় যা এর সকল বা অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুআতুল ফাওয়াইদ আল-বাহিয়্যাহ, আল-কাহতানি (পৃ. ১৯), এবং শারহুল কাওয়ায়েদ আস-সাদিয়্যাহ, আয-যামিল (পৃ. ৮)।

(২) দেখুন: আল-কাওয়ায়েদ ওয়াদ-দাওয়াবিত আল-ফিকহিয়্যাহ আল-মুতাদাম্মিনাহ লিত-তায়সীর, আল-আব্দুল লতিফ (১/ ৩৭)।

(৩) দেখুন: আল-কাওয়ায়েদ আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিব, আয-যুহায়লি (১/ ২২)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أما القاعدة الأصولية: فهي قضية أصولية كلية يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية.

وقد فرق الإمام القرافي بين هذين العلمين، فقال(1): (فإن الشريعة المعظمة المحمدية -زاد الله تعالى منارها شرفًا وعلوًّا- اشتملت على أصول وفروع، وأصولها قسمان:

أحدهما: المسمى بأصول الفقه، وهو في غالب أمره ليس فيه إلا قواعد الأحكام الناشئة عن الألفاظ العربية خاصة، وما يعرض لتلك الألفاظ من النسخ والترجيح، ونحو الأمر للوجوب والنهي للتحريم، والصيغة الخاصة للعموم ونحو ذلك، وما خرج عن هذا النمط إلا كون القياس حجة، وخبر الواحد وصفات المجتهدين.

والقسم الثاني: قواعد كلية فقهية جليلة كثيرة العدد عظيمة المدد، مشتملة على أسرار الشرع وحكمه، لكل قاعدة من الفروع في الشريعة ما لا يحصى، ولم يذكر منها شيء في أصول الفقه. وإن اتفقت الإشارة إليه هنالك على سبيل الإجمال، فبقي تفصيله لم يتحصل).

وقد لخص بعض الباحثين الفرق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية، في النقاط التالية(2):

1 - أن قواعد الأصول: إنما تتعلق بالألفاظ ودلالاتها على الأحكام في غالب أحوالها.

--------------------------------------------

(1) ينظر: الفروق، القرافي (1/ 2).

(2) ينظر: الوجيز في إيضاح قواعد الفقه الكلية، البورنو (ص 20).
উসুলী মূলনীতি প্রসঙ্গে: এটি হলো একটি সামগ্রিক উসুলী বিধান, যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে ব্যবহারিক শরয়ী আহকাম আহরণ করা হয়।

আর ইমাম আল-কারাফী এই দুই শাস্ত্রের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং বলেছেন(১): (নিশ্চয়ই সুমহান মুহাম্মাদী শরীয়ত—আল্লাহ তাআলা এর মর্যাদাকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ও সমুন্নত করুন—মূলনীতি ও শাখাগত মাসআলা নিয়ে গঠিত। আর এর মূলনীতিসমূহ দুই প্রকার:

প্রথমটি: যা উসুলুল ফিকহ নামে পরিচিত। এর অধিকাংশ বিষয়ই হলো মূলত সেই আহকাম সংক্রান্ত মূলনীতি যা বিশেষভাবে আরবি শব্দাবলি থেকে উৎপন্ন হয়। আর সেসব শব্দের ক্ষেত্রে নসখ (রহিতকরণ) ও তারজীহ (প্রাধান্য নির্ধারণ) যা আপতিত হয় এবং যেমন—নির্দেশসূচক শব্দ ওয়াজিব হওয়া ও নিষেধসূচক শব্দ হারাম হওয়ার অর্থ প্রদান করা, সাধারণ বা ব্যাপক অর্থবোধক সুনির্দিষ্ট শব্দরূপ ইত্যাদি। এই ধারার বাইরে খুব সামান্য বিষয়ই আছে, যেমন—কিয়াসের দলিল হওয়া, খবরে ওয়াহিদ এবং মুজতাহিদগণের গুণাবলি।

আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: ফিকহী সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ, যা সংখ্যায় অনেক এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সহায়ক। এগুলো শরীয়তের নিগূঢ় রহস্য ও হিকমতের ওপর مشتمل। প্রতিটি মূলনীতির অধীনে শরীয়তের অসংখ্য শাখাগত মাসআলা রয়েছে। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে এসবের কিছুই আলোচনা করা হয়নি। যদিও সেখানে সংক্ষিপ্তভাবে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়ে থাকতে পারে, তবে এর বিস্তারিত বিবরণ সেখানে সংগৃহীত হয়নি)।

কতিপয় গবেষক উসুলী মূলনীতি ও ফিকহী মূলনীতির মধ্যকার পার্থক্য নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন(২):

১ - উসুলী মূলনীতিসমূহ: অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো শব্দাবলি এবং আহকামের ওপর সেসব শব্দের অর্থগত নির্দেশনার সাথে সংশ্লিষ্ট।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ফুরূক, আল-কারাফী (১/ ২)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-ওয়াজিজ ফী ঈযাহি কাওয়াইদিল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ, আল-বুরনো (পৃষ্ঠা ২০)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما قواعد الفقه: فتتعلق بالأحكام ذاتها.

2 - أن قواعد الأصول: إنما وضعت لتضبط للمجتهد طرق الاستنباط واستدلاله، وترسم للفقيه مناهج البحث والنظر في استخراج الأحكام الكلية من الأدلة الإجمالية.

وأما قواعد الفقه: فإنما تراد لتربط المسائل المختلفة الأبواب برباط متحد وحكم واحد، هو الحكم الذي سيقت القاعدة لأجله.

3 - إن قواعد الأصول: إنما تبنى عليها الأحكام الإجمالية، وعن طريقها يستنبط الفقيه أحكام المسائل الجزئية من الأدلة التفصيلية.

وأما قواعد الفقه: فإنما تعلل بها أحكام الحوادث المتشابهة وقد تكون أصلًا لها.

4 - إن قواعد الأصول: محصورة في أبواب الأصول ومواضعه ومسائله.

وأما قواعد الفقه: العام والفتوى عند جميع المذاهب ولم تجمع للآن في إطار واحد.

5 - إن قواعد الأصول: إذا اتفق على مضمونها لا يستثنى منها شيء؛ فهي قواعد كلية مطردة كقواعد العربية بلا خلاف.

وأما قواعد الفقه: فهي مع الاتفاق على مضمون كثير منها يستثنى من كل منها مسائل تخالف حكم القاعدة بسبب من الأسباب؛ كالاستثناء بالنص أو الإجماع أو الضرورة أو غير ذلك من أسباب الاستثناء، ولذلك يطلق عليها كثيرون بأنها قواعد أغلبية أكثرية لا كلية مطردة.

6 - ومع وضوح الفروق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية فقد نجد
পক্ষান্তরে ফিকহের মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদুল ফিকহিয়া): এগুলো খোদ বিধানাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট।

২ - উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদুল উসুলিয়া): এগুলো মূলত মুজতাহিদের জন্য বিধান আহরণ (ইস্তিম্বাত) ও দলীল পেশ করার পদ্ধতি সুশৃঙ্খল করতে প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এগুলো ফকীহের জন্য সামগ্রিক দলীলসমূহ থেকে সামগ্রিক বিধানাবলি আহরণের ক্ষেত্রে গবেষণা ও পর্যালোচনার পথ অঙ্কন করে দেয়।

পক্ষান্তরে ফিকহের মূলনীতিসমূহ: এগুলোর উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন অধ্যায়ের মাসআলাগুলোকে একটি অভিন্ন বন্ধন এবং একটি সাধারণ বিধানের মাধ্যমে যুক্ত করা; আর তা হলো সেই বিধান যার ওপর ভিত্তি করে মূলনীতিটি গঠন করা হয়েছে।

৩ - উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ: এগুলোর ওপর সামগ্রিক বিধানাবলি ভিত্তি লাভ করে এবং এগুলোর মাধ্যমেই ফকীহ বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে সুনির্দিষ্ট মাসআলাগুলোর বিধান আহরণ করেন।

পক্ষান্তরে ফিকহের মূলনীতিসমূহ: এগুলোর মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাবলির বিধানের যৌক্তিক কারণ বর্ণনা করা হয় এবং কখনো এগুলো সেগুলোর মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

৪ - উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ: এগুলো উসূলের অধ্যায়সমূহ, এর স্থান ও মাসআলাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

পক্ষান্তরে ফিকহের মূলনীতিসমূহ: এগুলো সকল মাযহাবের সাধারণ জ্ঞান ও ফতোয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং আজ পর্যন্ত এগুলোকে একক কোনো কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি।

৫ - উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ: এগুলোর বিষয়বস্তুর ওপর যখন ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা থেকে কোনো কিছুই ব্যতিক্রম করা হয় না। সুতরাং এগুলো কোনো প্রকার দ্বিমত ছাড়াই আরবী ব্যাকরণের নিয়মাবলির মতো সামগ্রিক ও অবিচ্ছিন্ন মূলনীতি।

পক্ষান্তরে ফিকহের মূলনীতিসমূহ: এগুলোর অনেকগুলোর বিষয়বস্তুর ওপর ঐক্যমত্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে প্রতিটি মূলনীতি থেকে এমন কিছু মাসআলা ব্যতিক্রম করা হয় যা মূলনীতির বিধানের পরিপন্থী; যেমন—নাস (কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট পাঠ), ইজমা, জরুরত (অপরিহার্যতা) বা অন্যান্য ব্যতিক্রমী কারণে সংগত ব্যতিক্রম। এ কারণেই অনেকে এগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন সামগ্রিক (কুল্লি মুত্তারিদাহ) মূলনীতি না বলে বরং সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে প্রযোজ্য (আগালাবিয়া বা আকসারিয়্যাহ) মূলনীতি বলে অভিহিত করেন।

৬ - উসূলে ফিকহের মূলনীতি এবং ফিকহি মূলনীতিসমূহের মধ্যে পার্থক্যের স্পষ্টতা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে—
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قواعد مشتركة بين العلمين، ولكن تختلف فيهما زاوية النظر، حيث إن القاعدة الأصولية ينظر إليها من حيث كونها دليلًا إجماليًّا يستنبط منه حكم كلي، والقاعدة الفقهية ينظر إليها من حيث كونها حكمًا جزئيًّا لفعل من أفعال المكلفين.

فمثلًا قاعدة: (الاجتهاد لا ينقض بمثله أو بالاجتهاد):

ينظر إليها الأصولي من حيث كونها دليلًا يعتمد عليه في بيان عدم جواز نقض أحكام القضاة وفتاوى المفتين إذا تعلقت بها الأحكام على سبيل العموم والإجمال.

وينظر إليها الفقيه من حيث تعليل فعل من أفعال المكلفين، فيبين حكمه من خلالها.

فإذا حكم حاكم أو قاض بنقض حكمٍ في مسألة مجتهَدٍ فيها؛ كالخلع هل هو فسخٌ للعقد أو طلاق، وقد كان حكم حاكم في مسألة بعينها بأن الخلع فسخ، وأجاز العقد على امرأة خالعها زوجها ثلاث مرات أو بعد طلقتين، ثم جاء حاكم آخر فأراد التفريق بين الزوجين؛ لأنه يرى أن الخلع طلاق فيقال له: لا يجوز ذلك؛ لأن الاجتهاد لا ينقض بمثله.

ولكن لك في مسألة أخرى متشابهة أن تحكم فيها باجتهادك لا أن تنقض حكمك أو حكم غيرك في مسألة اجتهادية لا نصية.

(فالقواعد الفقهية تشبه أصول الفقه من ناحية، وتخالفها من ناحية أخرى.

أما جهة المتشابه: فهي أن كلًّا منهما قواعد تندرج تحتها جزئيات.

وأما جهة الاختلاف: فهي أن قواعد الأصول عبارة عن المسائل التي تشملها أنواع من الأدلة التفصيلة، يمكن استنباط التشريع منها.
উভয় ইলমের মধ্যে কিছু অভিন্ন মূলনীতি রয়েছে, তবে উভয় ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। উসূলি মূলনীতিকে এমন একটি সামগ্রিক দলিল হিসেবে দেখা হয় যেখান থেকে একটি কুল্লি বা ব্যাপক বিধান আহরণ করা যায়। অন্যদিকে, ফিকহি মূলনীতিকে মুকাল্লাফদের কর্মের একটি আংশিক বিধান হিসেবে দেখা হয়।

উদাহরণস্বরূপ একটি মূলনীতি হলো: (ইজতিহাদ তার সমরূপ ইজতিহাদ বা অন্য কোনো ইজতিহাদ দ্বারা বাতিল হবে না):

উসূলবিদ একে এমন একটি দলিল হিসেবে দেখেন যার ওপর নির্ভর করে বিচারকদের রায় এবং মুফতিদের ফতোয়া বাতিল না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়, যখন বিধানগুলো সাধারণ এবং সামগ্রিকভাবে সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।

আর ফকিহ একে মুকাল্লাফদের কর্মসমূহের কোনো একটির কারণ বা যৌক্তিকতা বর্ণনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন এবং এর মাধ্যমে তিনি সেই কর্মের বিধান স্পষ্ট করেন।

সুতরাং যদি কোনো শাসক বা বিচারক কোনো ইজতিহাদী বিষয়ে পূর্বের রায় বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন; যেমন খোলার (খুলা) বিষয়টি—এটি কি বিবাহ বিচ্ছেদ (ফাসখ) নাকি তালাক? পূর্বের কোনো বিচারক একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় রায় দিয়েছিলেন যে খোলা হলো ফাসখ এবং তিনি এমন এক মহিলার সাথে পুনরায় বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন যার স্বামী তার সাথে তিনবার বা দুই তালাকের পর খোলা করেছেন। এরপর অন্য একজন বিচারক এসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলেন; কারণ তার মতে খোলা হলো তালাক। তখন তাকে বলা হবে: এটি বৈধ নয়; কারণ ইজতিহাদ তার সমরূপ ইজতিহাদ দ্বারা বাতিল হয় না।

তবে অন্য একটি সদৃশ বিষয়ে আপনি আপনার নিজস্ব ইজতিহাদ অনুযায়ী ফায়সালা দিতে পারেন, কিন্তু কোনো ইজতিহাদী বিষয়ে (যেখানে কোনো স্পষ্ট নাস বা দলিল নেই) নিজের বা অন্যের রায় বাতিল করতে পারবেন না।

(ফিকহি মূলনীতিসমূহ একদিক থেকে উসূলে ফিকহের সদৃশ এবং অন্যদিক থেকে তার ভিন্ন।

সাদৃশ্যের দিকটি হলো: উভয়ই এমন মূলনীতি যার অধীনে অনেক আংশিক বা শাখা-প্রশাখা মূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়।

আর পার্থক্যের দিকটি হলো: উসূলের মূলনীতিসমূহ এমন সব বিষয়ের সমষ্টি যা বিভিন্ন প্রকার বিস্তারিত দলিলের অন্তর্ভুক্ত এবং তা থেকে শরিয়তের বিধান আহরণ করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وأما قواعد الفقه: فهي عبارة عن المسائل التي تندرج تحتها أحكام الفقه نفسه، ليصل المجتهد إليها بناء على تلك القضايا المبينة في أصول الفقه، ثم إن الفقيه إن أوردها أحكامًا جزئية فليست قواعد، وإن ذكرها في صور قضايا كلية تندرج تحتها الأحكام الجزئية فهي القواعد.

وكل منهما -القواعد الكلية والأحكام الجزئية- داخل في مدلول الفقه على وجه الحقيقة، وكل منهما متوقف عند المجتهد على دراسة الأصول التي يبني عليها كل ذلك)(1).

 

‌‌ثالثا: أهمية القواعد الفقهية:

قال الإمام القرافي رحمه الله(2): (وهذه القواعد مهمة في الفقه، عظيمة النفع، وبقدر الإحاطة بها يعظم قدر الفقيه، ويشرف ويظهر رونق الفقه ويعرف، وتتضح مناهج الفتاوى وتكشف، فيها تنافس العلماء وتفاضل الفضلاء، وبرز القَارحُ على الجَذَعِ(3)، وحاز قصب السبق من فيها برع.

ومن جعل يُخَرج الفروع بالمناسبات الجزئية دون القواعد الكلية تناقضت عليه الفروع واختلفت، وتزلزلت خواطره فيها واضطربت، وضاقت نفسه لذلك وقنطت، واحتاج إلى حفظ الجزئيات التي لا تتناهى، وانتهى العمر ولم تقض نفسه من طلب مناها.

--------------------------------------------

(1) ينظر: المدخل إلى دراسة المذاهب الفقهية، عبد الوهاب (ص 332).

(2) ينظر: الفروق، القرافي (1/ 3).

(3) القارح من الخيل: ما أكمل خمس سنين، والجَذَع من الخيل: ما استكمل أربعة أعوام ودخل في الخامسة، والمعنى: غلب القوي الضعيف، ويقابله في المعنى: البازل من الإبل: ما أكمل خمس سنين، والجَذَع من الإبل: ما استكمل أربعة أعوام ودخل في الخامسة. ينظر: تاج العروس، الزبيدي (7/ 47)، معجم متن اللغة، أحمد رضا (4/ 523).
আর ফিকহের মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ) হলো এমন সব বিষয়ের সমষ্টি যার অধীনে স্বয়ং ফিকহের আহকাম বা বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়, যাতে মুজতাহিদ ফিকহের উসূল বা মূলনীতিশাস্ত্রে বর্ণিত সেই সব বিষয়ের ভিত্তিতে উক্ত আহকামে পৌঁছাতে পারেন। অতঃপর ফকিহ যদি সেগুলোকে আংশিক বিধান হিসেবে উপস্থাপন করেন তবে সেগুলো মূলনীতি নয়; আর যদি সেগুলোকে এমন সমষ্টিক বিষয়ের আকারে উল্লেখ করেন যার অধীনে আংশিক বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সেগুলোই হলো মূলনীতি।

এবং এই উভয়ই—সমষ্টিক মূলনীতিসমূহ ও আংশিক বিধানসমূহ—প্রকৃতপক্ষে ফিকহের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর মুজতাহিদের নিকট এই উভয় বিষয়ই সেই উসূল বা মূলনীতিগুলো অধ্যয়নের ওপর নির্ভরশীল যার ওপর এই সবকিছু নির্মিত হয়।(১).

 

‌‌তৃতীয়ত: ফিকহি মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব:

ইমাম কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন(২): (আর এই মূলনীতিগুলো ফিকহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত উপকারী। এগুলো আয়ত্ত করার মাত্রার ওপর ভিত্তি করেই একজন ফকিহের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তিনি সম্মানিত হন এবং ফিকহের সৌন্দর্য ও ঔজ্জ্বল্য প্রকাশিত ও পরিচিত হয়। এর মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের পদ্ধতিসমূহ স্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়। এই মূলনীতিগুলো নিয়েই ওলামায়ে কেরাম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন এবং গুণীজনদের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। এর মাধ্যমেই অভিজ্ঞ ও পূর্ণ বয়স্করা অল্পবয়স্ক বা নবীনদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং যে এতে পারদর্শিতা অর্জন করে সে সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করে।

আর যে ব্যক্তি সমষ্টিক মূলনীতির পরিবর্তে কেবল আংশিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখা (ফুরু) উদ্ঘাটন করতে যায়, তার নিকট সেই শাখা-প্রশাখাগুলো স্ববিরোধী ও বৈচিত্র্যময় হয়ে পড়ে, এ ব্যাপারে তার চিন্তাচেতনা অস্থির ও দ্বিধান্বিত হয়ে যায় এবং তার মন সংকীর্ণ ও হতাশ হয়ে পড়ে। তখন সে অগণিত আংশিক বিষয়গুলো মুখস্থ করার মুখাপেক্ষী হয়, আর এভাবে তার জীবন শেষ হয়ে গেলেও তার মনের বাসনা পূর্ণ হয় না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাজাহিব আল-ফিকহিয়্যাহ, আব্দুল ওয়াহহাব (পৃ. ৩৩২)।

(২) দেখুন: আল-ফুরুক, আল-কারাফি (১/ ৩)।

(৩) ঘোড়ার ক্ষেত্রে 'ক্বারিহ' হলো যার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে; আর ঘোড়ার ক্ষেত্রে 'জাযা' হলো যার চার বছর পূর্ণ হয়ে পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছে। এর অর্থ হলো: দুর্বলের ওপর সবলের বিজয়। উটের ক্ষেত্রে এর সমার্থক হলো: 'বাযিল' যার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং 'জাযা' যার চার বছর পূর্ণ হয়ে পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছে। দেখুন: তাজুল আরুস, আজ-জাবিদি (৭/ ৪৭), মু'জাম মাতনুল লুগাহ, আহমাদ রিদা (৪/ ৫২৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ومن ضبط الفقه بقواعده استغنى عن حفظ أكثر الجزئيات لاندراجها في الكليات، واتحد عنده ما تناقض عند غيره وتناسب، وأجاب الشاسع البعيد وتقارب، وحصَّل طِلْبتَه في أقرب الأزمان، وانشرح صدره لما أشرق فيه من البيان، فبين المقامين شأوٌ بعيد(1)، وبين المنزلتين تفاوتٌ شديد).

وقد لخص بعض الباحثين أهمية دراسة القواعد الفقهية في النقاط التالية(2):

(أولاً: أنها تضبط المسائل الفقهية المنتشرة المتعددة، وتنظمها في سلك واحد مما يمكِّن من إدراك الروابط والصفات الجامعة بين الجزيئات المتفرقة، فهي كما قال ابن رجب رحمه الله(3):

(فهذه قواعد مهمة وفوائد جمة، تضبط للفقيه أصول المذهب، وتطلعه من مآخذ الفقه على ما كان عنه قد تغيَّب، وتنْظم له منثور المسائل في سلك واحد، وتقيد له الشوارد، وتقرب عليه كل متباعد).

ثانيًا: أن ضبطها يُيَسِّر على الفقيه ضبط الفقه بأحكامه، ويغنيه عن حفظ أكثر الجزئيات؛ إذ إن حفظ جزئيات الفقه وفروعه يستحيل أن يقدر عليه إنسان خلافًا للقواعد، فإن حفظها وإن كَثُرَت داخلٌ تحت الإمكان؛ ولذا قال القرافي يرحمه الله: (من ضبط الفقه بقواعده، استغنى عن حفظ أكثر الجزئيات؛ لاندراجها في الكليات).

--------------------------------------------

(1) الشأو: الغاية والأمد والطموح والهمة. ينظر: الصحاح، الفارابي (6/ 2388)، تهذيب اللغة، الهروي (11/ 305).

(2) ينظر: مجموعة الفوائد البهية، القحطاني (ص 6).

(3) ينظر: القواعد لابن رجب (ص 3).
যে ব্যক্তি ফিকহকে তার মূলনীতিসমূহ দ্বারা আয়ত্ত করে, সে অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয় মুখস্থ করা থেকে অব্যাহতি পায়; কারণ সেগুলো সামগ্রিক মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। অন্যের কাছে যা পরস্পরবিরোধী মনে হয়, তার কাছে তা সুসংহত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং দূরবর্তী বিষয়সমূহ নিকটবর্তী হয়। ফলে সে স্বল্পতম সময়ে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করে এবং তার হৃদয়ে যে বর্ণনার জ্যোতি উদ্ভাসিত হয় তাতে তার বক্ষ প্রশস্ত হয়। সুতরাং এই দুই অবস্থানের মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে(১) এবং এই দুই মর্যাদার মাঝে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত।

জনৈক গবেষক ফিকহি মূলনীতিসমূহ অধ্যয়নের গুরুত্ব নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন(২):

(প্রথমত: এটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অগণিত ফিকহি মাসআলাসমূহকে সুসংহত করে এবং সেগুলোকে একটি সূত্রে গেঁথে দেয়, যা বিচ্ছিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর মধ্যকার যোগসূত্র এবং সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ উপলব্ধি করতে সক্ষম করে। এটি তেমন যেমনটি ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন(৩):

(এগুলো গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এবং অঢেল ফায়দা সম্পন্ন বিষয়, যা ফকিহ-এর নিকট মাযহাবের মূল ভিত্তিগুলোকে সুসংহত করে এবং ফিকহশাস্ত্রের নিগুঢ় উৎসসমূহের এমন সব বিষয় তাকে অবগত করে যা থেকে সে ইতিপূর্বে অনবহিত ছিল। এটি তার জন্য বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একই সূত্রে গেঁথে দেয়, অনিয়ন্ত্রিত বিষয়গুলোকে শৃঙ্খলিত করে এবং প্রতিটি দূরবর্তী বিষয়কে তার নিকটবর্তী করে দেয়)।

দ্বিতীয়ত: এগুলো আয়ত্ত করা ফকিহ-এর জন্য ফিকহকে তার বিধানসহ আয়ত্ত করা সহজ করে দেয় এবং অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে তাকে মুক্তি দেয়। কেননা ফিকহের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় এবং এর শাখা-প্রশাখা মুখস্থ করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব, যা মূলনীতির ক্ষেত্রে ভিন্ন; কারণ মূলনীতিসমূহ সংখ্যায় বেশি হলেও তা মুখস্থ করা সাধ্যাতীত নয়। এই কারণেই কারাফি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (যে ব্যক্তি ফিকহকে তার মূলনীতিসমূহ দ্বারা আয়ত্ত করে, সে অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয় মুখস্থ করা থেকে রেহাই পায়; কারণ সেগুলো সামগ্রিক নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত)।

--------------------------------------------

(১) আশ-শাও: লক্ষ্য, সময়সীমা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সাহস। দেখুন: আস-সিহাহ, আল-ফারাবি (৬/২৩৮৮), তাহযিবুল লুগাহ, আল-হারায়ি (১১/৩০৫)।

(২) দেখুন: মাজমুআতুল ফাওয়ায়েদ আল-বাহিয়্যাহ, আল-কাহতানি (পৃ. ৬)।

(৩) দেখুন: আল-কাওয়াইদ লি ইবনে রজব (পৃ. ৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ثالثًا: أن دراستها تُكَوِّن عند المرء ملكة فقهية تنير أمامه الطريق لدراسة أبواب الفقه الواسعة والمتعددة، ومعرفة الأحكام الشرعية، واستنباط الحلول للوقائع المتجددة والمسائل النازلة؛ ولذا أصبحت القواعد معينا ثَرًّا للفقهاء، ومبعث حركة دائمة ونشاط متجدد، يُبعد الفقه عن أن تتحجر مسائله وتتجمد قضاياه.

قال الإمام السيوطي رحمه الله(1): (اعلم أن فن الأشباه والنظائر فن عظيم، به يُطَّلع على حقائق الفقه ومداركه، ومآخذه وأسراره، ويتمهّد في فهمه واستحضاره، ويقتدر على الإلحاق والتخريج، ومعرفة أحكام المسائل التي ليست بمسطورة، والحوادث والوقائع التي لاتنقضي على مَرّ الزمان).

رابعًا: أنها تمكن الفقيه من تخريج الفروع بطريقة سَوِيَّة، وتبعده عن التخبط والتناقض الذي قد يترتب على التخريج من المناسبات الجزئية.

وقد نقل تاج الدين السبكي عن والده قوله(2): (وكم من آخر مستكثر في الفروع ومداركها قد أفرغ جمامَ ذهنه فيها، غفل عن قاعدة كلية، فتخبطت عليه تلك المدارك وصار حيران، ومن وفقه الله بمزيد من العناية جمع بين الأمرين، فيرى الأمر رأي العين).

خامسًا: إدراك مقاصد الشريعة وأسرارها وحكمها.

سادسًا: اكتساب ملكة التقعيد والتأصيل والاستنباط والتخريج بإدمان النظر في الفروع لمعرفة الأمر الجامع بينها، مما أدى إلى استنباط القاعدة.

--------------------------------------------

(1) ينظر: الأشباه والنظائر (ص 6).

(2) ينظر: الأشباه والنظائر (1/ 309).
তৃতীয়ত: এর অধ্যয়ন ব্যক্তির মধ্যে এমন এক ফিকহি যোগ্যতা তৈরি করে যা তার সামনে ফিকহের বিশাল ও বহুমুখী অধ্যায়গুলো অধ্যয়নের পথকে আলোকিত করে, শরয়ি বিধানসমূহ জানতে সাহায্য করে এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সমকালীন মাসআলাগুলোর সমাধান আহরণে পথ দেখায়; এ কারণেই মূলনীতিসমূহ ফকিহদের জন্য এক সমৃদ্ধ উৎস এবং নিরন্তর গতিশীলতা ও নবায়িত কর্মতৎপরতার সঞ্চারে পরিণত হয়েছে, যা ফিকহকে এর মাসআলাসমূহ স্থবির হওয়া এবং এর বিষয়গুলো জমে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

ইমাম সুয়ূতি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন(১): (জেনে রাখুন যে, 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর' শাস্ত্রটি একটি মহান শাস্ত্র, এর মাধ্যমে ফিকহের হাকিকত বা প্রকৃত রহস্য, এর উপলব্ধির ক্ষেত্রসমূহ, উৎস ও গোপন রহস্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। এটি ফিকহ অনুধাবন ও তা উপস্থিত রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হয় এবং এর মাধ্যমে ইলহাক বা সদৃশ মাসআলাকে যুক্ত করা, তাখরিজ বা মাসআলা উদ্ভাবন এবং যেসব মাসআলা কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই এবং যেসব ঘটনা ও পরিস্থিতি সময়ের পরিক্রমায় শেষ হয় না, সেগুলোর বিধান জানার সক্ষমতা অর্জিত হয়)।

চতুর্থত: এটি ফকিহকে সঠিক পদ্ধতিতে ফুরু বা শাখা-প্রশাখা থেকে মাসআলা উদ্ভাবনে সক্ষম করে এবং তাকে এমন বিভ্রান্তি ও বৈপরীত্য থেকে দূরে রাখে যা আংশিক ও বিচ্ছিন্ন সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে মাসআলা উদ্ভাবনের ফলে সৃষ্টি হতে পারত।

তাজুদ্দিন সুবকী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন(২): (এমন অনেক পরবর্তী আলেম রয়েছেন যারা ফুরু বা শাখা-প্রশাখা এবং এর উৎসসমূহ সম্পর্কে অনেক পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন এবং এতে তাদের মেধার পূর্ণ নির্যাস ঢেলে দিয়েছেন, কিন্তু তারা কোনো একটি সার্বিক মূলনীতি সম্পর্কে গাফেল ছিলেন; ফলে সেই উৎসগুলো তাদের কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে এবং তারা দিশেহারা হয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে অধিক অনুগ্রহ দানে ধন্য করেছেন, তিনি উভয় বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করেন, ফলে তিনি বিষয়টি স্বচক্ষে দেখার মতো স্পষ্ট দেখতে পান)।

পঞ্চমত: শরিয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহ, এর রহস্য এবং হিকমতসমূহ অনুধাবন করা।

ষষ্ঠত: শাখা-প্রশাখাগুলোর ওপর গভীর ও নিরন্তর পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যকার সাধারণ যোগসূত্র খুঁজে বের করার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে মূলনীতি গঠন, মূল ভিত্তি নির্ধারণ, বিধান আহরণ এবং মাসআলা উদ্ভাবনের যোগ্যতা অর্জন করা, যা শেষ পর্যন্ত মূলনীতি উদ্ভাবনের দিকে নিয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা ৬)।

(২) দেখুন: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর (১/ ৩০৯)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في مجموع الفتاوى(1): (لا بد أن يكون مع الإنسان أصول كلية ترد إليها الجزئيات ليتكلم بعلم وعدل، ثم يعرف الجزئيات كيف وقعت؟، وإلا فيبقى في كذب وجهل في الجزئيات، وجهل وظلم في الكليات، فيتولد فساد عظيم).

 

‌‌رابعًا: خصائص القواعد الفقهية:

للقواعد الفقهية خصائص تتمّيز بها دون قواعد أصول الفقه، وهي:

1 - الحفظ والضبط للمسائل الكثيرة المتناظرة، بحيث تكون القاعدة وسيلة لمعرفة الأحكام المندرجة تحتها.

2 - تدل على أن الأحكامَ المتحدة العلة مع اختلافها محققةٌ لجنس واحد من العلل، محققةٌ لجنس واحد من المصالح.

3 - إن معظم مسائل أصول الفقه لا ترجع إلى خدمة حكمة الشريعة ومقصدها، ولكنها تدور حول محور استنباط الأحكام من ألفاظ الشارع بواسطة قواعد يتمكن العارف بها من انتزاع الفروع منها.

وعلى العكس القواعد الفقهية، فإنها تخدم المقاصد الشرعية العامة والخاصة، وتمهد الطريق للوصول إلى الأحكام وحكمها.

وهذا التفصيل يعطينا فكرة كاملة عن الموضوع، ويكشف عن الفروق الأساسية بين المصطلحين(2).

--------------------------------------------

(1) ينظر: مجموع الفتاوى (19/ 203).

(2) ينظر: المدخل إلى دراسة المذاهب الفقهية، عبد الوهاب (ص 333).
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) মাজমুউল ফাতাওয়া(১)-তে বলেছেন: (মানুষের নিকট এমন কিছু মৌলিক মূলনীতি থাকা আবশ্যক যার দিকে খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে ফিরিয়ে আনা যায়, যাতে সে জ্ঞান ও ন্যায়ের সাথে কথা বলতে পারে। অতঃপর সে জানবে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কীভাবে সংঘটিত হয়েছে? অন্যথায় সে খুঁটিনাটি বিষয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যা ও অজ্ঞতার মধ্যে এবং মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা ও অবিচারের মধ্যে নিমজ্জিত থাকবে, ফলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে)।

 

‌‌চতুর্থ: ফিকহি কায়দাহ বা মূলনীতিসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ফিকহি কায়দাহর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে এটি উসুলে ফিকহ-এর কায়দাহ থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করে, আর সেগুলো হলো:

১ - বহুসংখ্যক সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাসমূহ মুখস্থ রাখা ও আয়ত্ত করা, যাতে এই কায়দাহটি তার অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহ জানার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

২ - এটি প্রমাণ করে যে, ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও অভিন্ন কারণ (ইল্লত) বিশিষ্ট বিধানসমূহ একই প্রকারের কারণ এবং একই প্রকারের জনকল্যাণ বা মাসলাহাত নিশ্চিত করে।

৩ - উসুলে ফিকহ-এর অধিকাংশ মাসআলা শরিয়তের হিকমত ও মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যের সেবার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়, বরং সেগুলো বিধানদাতার শব্দাবলি থেকে কায়দাহর সাহায্যে বিধান উদ্ঘাটনের মূল প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যার মাধ্যমে পারদর্শী ব্যক্তিরা শাখা-প্রশাখাগুলো আহরণ করতে সক্ষম হন।

পক্ষান্তরে ফিকহি কায়দাহসমূহ সাধারণ ও বিশেষ শরিয়তি উদ্দেশ্যসমূহের (মাকাসিদ) সেবা করে এবং বিধান ও তার অন্তর্নিহিত হিকমত বা প্রজ্ঞা পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ সুগম করে।

এই বিস্তারিত আলোচনা আমাদের বিষয়টি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রদান করে এবং পরিভাষা দুটির মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ উন্মোচন করে(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/ ২০৩)।

(২) দেখুন: আল-মাদখাল ইলা দিরাসাতিল মাজাহিবিল ফিকহিয়্যাহ, আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা ৩৩৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌خامسًا: مميزات القواعد الفقهية:

تمتاز القواعد الفقهية بمميزات منها:

الميزة الأولى: كثرتها حيث إنها غير محصورة بعدد بل تعدُّ بالآلاف، وهي منثورة في بطون كتب الفقه والأحكام، ولا ينتظمها كتاب واحد.

الميزة الثانية: أنها تمتاز بإيجاز عباراتها، مع عموم معناها، وسعة استيعابها للمسائل الجزئية، إذ تصاغ القاعدة في جملة مفيدة مكونة من كلمتين أو بضع كلمات من ألفاظ العموم، مثل قاعدة: (العادة مُحكَّمة)، وقاعدة: (الأعمال بالنيات)، أو (الأمور بمقاصدها)، وقاعدة: (المشقة تجلب التيسير).

فكل من هذه القواعد تعتبر من جوامع الكلم، إذ يندرج تحت كل منها ما لا يحصى من المسائل الفقهية المختلفة.

الميزة الثالثة: أن لكلًّ منها ضابطًا يضبط فروع الأحكام العملية، ويربط بينها برابطة تجمعها وإن اختلفت موضوعاتها وأبوابها، قال الأستاذ مصطفى الزرقا: لولا هذه القواعد لبقيت الأحكام الفقهية فروعًا مشتتةً، قد تتعارض ظواهرها دون أصول تمسك بها، وتبرز من خلالها العلل الجامعة(1).

 

‌‌سادسًا: القواعد الخمس الكبرى:

ذكرنا أن القواعد الفقهية غير منحصرة لكثرتها، إلا أن هناك قواعد خمس كبرى، تعدُّ أشهر تلك القواعد الكلية، وأعظمها نفعًا، إذ يتخرج عليها ما لا ينحصر من الصور الجزئية، وهي مما اتفق عليه الفقهاء، واعتنى به الفضلاء قديمًا وحديثًا.

--------------------------------------------

(1) ينظر: الوجيز في إيضاح قواعد الفقه الكلية، البورنو (ص 23).
‌‌পঞ্চম: ফিকহি মূলনীতিসমূহের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ফিকহি মূলনীতিসমূহ বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথম বৈশিষ্ট্য: এগুলোর আধিক্য; কেননা এগুলো কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং হাজার হাজার হিসেবে গণ্য হয়। এগুলো ফিকহ ও আহকামের কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং কোনো একটি একক কিতাব এগুলোকে বেষ্টন করতে পারে না।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: এগুলো বাক্যের সংক্ষিপ্ততা, অর্থের ব্যাপকতা এবং আংশিক মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশস্ততার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। কেননা একটি মূলনীতি দু’টি বা কয়েকটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ দ্বারা গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যের মাধ্যমে রূপায়িত হয়। যেমন: ‘অভ্যাস বিচার্য’ মূলনীতি, ‘কার্যাবলি নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ মূলনীতি অথবা ‘বিষয়সমূহ উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল’ মূলনীতি, এবং ‘কষ্ট সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে’ মূলনীতি।

এই মূলনীতিগুলোর প্রত্যেকটি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন ফিকহি মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: এগুলোর প্রত্যেকটির একটি মানদণ্ড রয়েছে যা ব্যবহারিক আহকামের শাখা-প্রশাখাগুলোকে সুশৃঙ্খল করে এবং এগুলোর মধ্যে এমন এক সেতুবন্ধন তৈরি করে যা সেগুলোকে একত্রিত রাখে, যদিও সেগুলোর বিষয়বস্তু ও অধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন হয়। উস্তাদ মুস্তাফা আয-যারকা বলেন: যদি এই মূলনীতিগুলো না থাকত, তবে ফিকহি আহকামসমূহ বিচ্ছিন্ন শাখা-প্রশাখা হিসেবেই থেকে যেত; এগুলোর বাহ্যিক রূপগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিত, এমন কোনো মূলনীতি থাকত না যা সেগুলোকে ধরে রাখবে এবং যেগুলোর মাধ্যমে সমন্বিত কারণসমূহ পরিস্ফুট হবে(১)।

 

‌‌ষষ্ঠ: পাঁচটি বড় মূলনীতি:

আমরা উল্লেখ করেছি যে, ফিকহি মূলনীতিসমূহ অধিক হওয়ার কারণে সীমাবদ্ধ নয়; তবে পাঁচটি বড় মূলনীতি রয়েছে যা সর্বজনীন মূলনীতিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং উপকারের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ। কেননা এগুলোর ওপর ভিত্তি করে অসংখ্য আংশিক মাসআলা বের করা হয়। এগুলো এমন বিষয় যার ওপর ফকিহগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালের বিশিষ্ট বিদ্বানগণ এগুলোর প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ওয়াজিজ ফি ইদাহি কাওয়াইদিল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ, আল-বুরনো (পৃষ্ঠা ২৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذه القواعد هي:

القاعدة الأولى: (الأمورُ بمقاصدها).

القاعدة الثانية: (اليقينُ لا يزول بالشك).

القاعدة الثالثة: (المشقةُ تجلب التيسير).

القاعدة الرابعة: (الضررُ يزال).

القاعدة الخامسة: (العادةُ مُحَكَّمة).
আর এই নীতিগুলো হলো:

প্রথম নীতি: (সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল)।

দ্বিতীয় নীতি: (নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না)।

তৃতীয় নীতি: (কষ্ট সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে)।

চতুর্থ নীতি: (ক্ষতি দূরীভূত করতে হবে)।

পঞ্চম নীতি: (প্রথা বা রীতি বিচার্য বিষয়)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌القاعدة الأولى: الأمورُ بمقاصدها

أو: (العبرة للمقصود لا للتبع).

أو: (العبرة للمقاصد دون الصور).

فيدخل في ذلك العبادات والمعاملات، وتحريمُ الحيل المحرمةِ مأخوذٌ من هذا الأصل، وانصراف ألفاظ الكنايات والمحتملات إلى الصرائح من هذا الأصل، وصورها كثيرة جدًّا(1).

والأمور: بمعنى: الأحكام الشرعية العملية المتعلقة بالمكلف، وتشمل: العبادات والمعاملات.

معنى هذه القاعدة:

أن الأحكام الشرعية تتعلق بمقاصدها، من حيث الصحة والبطلان، أو النفوذ والاعتداد، فلا تصح العبادة إلا بالنية، ولا يؤخذ في كثير من الأحكام التكليفية بما يصدر عن النائم والناسي من الخطأ؛ لعدم القصد.

ودليل هذه القاعدة: قوله صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى»(2). رواه البخاري ومسلم.

وفي الصحيح من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه: «إنك لن تنفق نفقةً تبتغي بها وجهَ الله إلا أُجرت عليها، حتى ما تجعل في فيِّ امرأتِك»(3).

--------------------------------------------

(1) ينظر: رسالة لطيفة جامعة في أصول الفقه المهمة، السعدي (ص 103).

(2) أخرجه البخاري برقم (1)، ومسلم برقم (1907)، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

(3) أخرجه البخاري برقم (56)، ومسلم برقم (1628).
প্রথম নীতি: বিষয়সমূহ তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী (বিবেচিত হয়)

অথবা: (বিবেচনা করা হয় উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে, অনুষঙ্গের ভিত্তিতে নয়)।

অথবা: (বিবেচনা করা হয় উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে, বাহ্যিক রূপের ভিত্তিতে নয়)।

ইবাদত এবং মুআমালাত (লেনদেন) এর অন্তর্ভুক্ত। হারাম হিলা-বাহানা নিষিদ্ধ হওয়া এই মূলনীতি থেকেই গৃহীত। রূপক এবং দ্ব্যর্থবোধক শব্দের অর্থকে সুস্পষ্ট অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াও এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত এবং এর প্রায়োগিক উদাহরণ অনেক বেশি(১)।

'উমুর' (বিষয়সমূহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মুকাল্লাফ (শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য অনুযায়ী শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক শরয়ি বিধানসমূহ; এর মধ্যে ইবাদত ও মুআমালাত উভয়ই শামিল।

এই নীতিটির অর্থ:

শরয়ি বিধানগুলো সহিহ হওয়া, বাতিল হওয়া অথবা কার্যকর ও ধর্তব্য হওয়ার দিক থেকে তাদের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত সহিহ হবে না এবং অনেক তাকলিফি বিধানের ক্ষেত্রে ঘুমন্ত ব্যক্তি ও বিস্মৃত ব্যক্তির ভুল ধর্তব্য হয় না; কারণ সেখানে কোনো সংকল্প বা উদ্দেশ্য থাকে না।

এই নীতির দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন(২)।

সহিহ (গ্রন্থদ্বয়)-এ সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা কিছুই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে অবশ্যই তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দাও, তার জন্যও"(৩)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: রিসালা লাতিফাহ জামিআ ফি উসুলিল ফিকহ আল-মুহিম্মাহ, আস-সাদি (পৃ. ১০৩)।

(২) বুখারি এটি ১ নং হাদিসে এবং মুসলিম ১৯০৭ নং হাদিসে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারি এটি ৫৬ নং হাদিসে এবং মুসলিম ১৬২৮ নং হাদিসে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن حديث ابن عباس رضي الله عنهما: «لا هجرةَ بعد الفتح، ولكن جهادٌ ونيةٌ، وإذا استُنفرتم فانفروا»(1).

وهذه القاعدة من أهم القواعد الفقهية وأكثرها استخدامًا، وهي إحدى القواعد الخمس الكبرى التي يدور عليها الفقه الإسلامي.

قال السيوطي رحمه الله(2): (اعلم أنه قد تواتر النقل عن الأئمة في تعظيم قدر حديث النية، وقال أبو عبيدة: ليس في أخبار النبي صلى الله عليه وسلم شيء أجمع وأغنى وأكثر فائدة منه.

واتفق الإمام الشافعي، وأحمد بن حنبل، وابن مهدي، وابن المديني، وأبو داود، والدارقطني وغيرهم على أنه ثلث العلم، ومنهم من قال: ربعه.

ووجه البيهقي كونه ثلث العلم: بأن كسب العبد يقع بقلبه ولسانه وجوارحه، فالنية أحد أقسامها الثلاثة وأرجحها، لأنها قد تكون عبادة مستقلة، وغيرها يحتاج إليها، ومن ثم ورد: «نية المؤمن خير من عمله»(3).

وكلام الإمام أحمد يدل على أنه أراد بكونه ثلث العلم، أنه أحد القواعد الثلاث التي ترد إليها جميع الأحكام عنده؛ فإنه قال: أصول الإسلام على ثلاثة أحاديث: حديث «الأعمال بالنية»، وحديث: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد»(4)، وحديث: «الحلال بين والحرام بين»(5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري برقم (2783)، ومسلم برقم (1353).

(2) ينظر: الأشباه والنظائر، السيوطي (ص 9).

(3) سبق تخريجه.

(4) أخرجه البخاري برقم (2697)، ومسلم برقم (1718)، عن عائشة رضي الله عنها.

(5) أخرجه البخاري برقم (52)، ومسلم برقم (1599)، عن النعمان بن بشير رضي الله عنه.
এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীস থেকে: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত বাকি রয়েছে; আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের জন্য ডাক দেওয়া হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে"(১)।

আর এই মূলনীতিটি ফিকহী মূলনীতিসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি মূলনীতি। এটি সেই পাঁচটি প্রধান মূলনীতির একটি যেগুলোর ওপর ইসলামী ফিকহ আবর্তিত হয়।

ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন(২): (জেনে রাখুন, নিয়ত সংক্রান্ত হাদীসের মাহাত্ম্য বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমামগণের পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির বর্ণনা এসেছে। আবু উবাইদাহ বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহের মধ্যে এর চেয়ে অধিক অর্থবহ, সমৃদ্ধ এবং অধিক উপকারী আর কিছুই নেই।

ইমাম শাফিঈ, আহমদ বিন হাম্বল, ইবনে মাহদী, ইবনুল মাদীনী, আবু দাউদ, দারাকুতনী এবং অন্যান্যগণ একমত হয়েছেন যে, এটি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে এক-চতুর্থাংশ বলেছেন।

বায়হাকী এটি এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার কারণ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে: বান্দার উপার্জন বা আমল তার অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সুতরাং নিয়ত হলো এই তিন প্রকারের একটি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত হতে পারে, আর অন্যান্য কাজ এর মুখাপেক্ষী। এখান থেকেই বর্ণিত হয়েছে: "মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম"(৩)।

ইমাম আহমদের কথা একথাই প্রমাণ করে যে, এটি ইলমের এক-তৃতীয়াংশ বলার দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, এটি এমন তিনটি মূলনীতির একটি যার দিকে তাঁর নিকট সমস্ত আহকাম বা বিধানসমূহ প্রত্যাবর্তন করে। তিনি বলেছেন: ইসলামের ভিত্তি তিনটি হাদীসের ওপর: "আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদীসটি, "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে নতুন কিছুর উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত" হাদীসটি(৪) এবং "হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট" হাদীসটি(৫)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদীস নং (২৭৮৩); মুসলিম, হাদীস নং (১৩৫৩)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর, সুয়ূতী (পৃ. ৯)।

(৩) এর তথ্যসূত্র পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৪) বুখারী, হাদীস নং (২৬৯৭); মুসলিম, হাদীস নং (১৭১৮), আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত।

(৫) বুখারী, হাদীস নং (৫২); মুসলিম, হাদীস নং (১৫৯৯), নুমান বিন বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال الشيخ سعد الشثري(1): (للنية أثر كبير على أعمال المكلف، ومن هنا قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى»(2)، والنية توضح المراد بالأيمان، وبألفاظ الكنايات، وتعين نوع العبادة المؤداة هل هي مثلًا صلاة الظهر أو نافلتها.

وعلى النية يترتب الثواب والعقاب، فمن فعل الحرام غير قاصد له فلا عقاب له، ومن فعل الطاعة بقصد التقرب إلى الله لنيل الثواب الأخروي استحق الثواب، وكذلك المباحات إذا قصد المكلف بها التقوى على طاعة الله استحق الثواب عليها).

وفي هذه القاعدة: أن الأمور تتبع المقاصد حُسنًا وقبحًا، فإن كان القصد من الطاعة حسنًا كان العمل حسنًا، وإن كان قبيحًا كان قبيحًا، والمكلف مأمور بإخلاص العمل لله وحده، وترك الرياء، وأن يكون عمله وفق ما أراد الله تبارك وتعالى منه.

وقد تكون صورة العمل حسنة، إلا أن سوء القصد يجعله سيئًا خبيثًا، وقد تكون صورة العمل سيئة إلا أن حسن القصد يجعله حسنًا مأذونًا فيه، كما ذكر الله تعالى ذلك في سورة الكهف في قصة نقب السفينة وقتل الغلام وإقامة الجدار.

وانظر إلى هذا الرجل الذي ذكره النبي صلى الله عليه وسلم، فيما أخرجه الشيخان عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «قال رجل: لأتصدقن الليلة بصدقة، فخرج بصدقته فوضعها في يد زانية، فأصبحوا يتحدثون تُصُدِّق الليلة على زانية،

--------------------------------------------

(1) ينظر: القواعد الأصولية والفقهية المتعلقة بالمسلم غير المجتهد، الشثري (ص 52).

(2) سبق تخريجه.
এবং শায়খ সাদ আল-শাথরি(১) বলেছেন: (মুকাল্লাফ বা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির আমলের ওপর নিয়তের বিশাল প্রভাব রয়েছে, আর এখান থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে»(২)। নিয়ত শপথের উদ্দেশ্য এবং পরোক্ষ শব্দাবলির অর্থকে স্পষ্ট করে। তেমনিভাবে এটি আদায়কৃত ইবাদতের ধরন নির্ধারণ করে দেয়—যেমন এটি কি যোহরের সালাত নাকি নফল সালাত।

আর নিয়তের ওপরই সওয়াব ও আজাব নির্ভরশীল। সুতরাং যে ব্যক্তি উদ্দেশ্যহীনভাবে কোনো হারাম কাজ করে ফেলে, তার জন্য কোনো শাস্তি নেই। আর যে ব্যক্তি পরকালীন সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে কোনো ইবাদত করে, সে সওয়াবের অধিকারী হয়। অনুরূপভাবে মুবাহ বা বৈধ কাজগুলোতেও যদি মুকাল্লাফ ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের ওপর শক্তি অর্জনের নিয়ত করে, তবে সে তাতে সওয়াব লাভ করবে।)

আর এই মূলনীতির ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো: ভালো ও মন্দের বিচারে বিষয়সমূহ উদ্দেশ্যের অনুসারী হয়। ইবাদতের উদ্দেশ্য যদি ভালো হয় তবে আমলটিও ভালো হয়, আর যদি উদ্দেশ্য মন্দ হয় তবে আমলটিও মন্দ হয়ে যায়। মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একমাত্র আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করার এবং রিয়া বা লোক-দেখানো আমল বর্জন করার। আর তার আমল যেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তার কাছে যা চেয়েছেন সে অনুযায়ী হয়।

কখনও কখনও আমলের বাহ্যিক রূপটি সুন্দর হতে পারে, কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্য তাকে মন্দ ও নিকৃষ্ট করে তোলে। আবার কখনও আমলের বাহ্যিক রূপটি মন্দ হতে পারে, কিন্তু সৎ উদ্দেশ্য তাকে উত্তম ও অনুমোদিত করে তোলে, যেমন আল্লাহ তাআলা সূরা আল-কাহফে নৌকা ছিদ্র করা, বালককে হত্যা করা এবং প্রাচীর সংস্কার করার ঘটনার মাধ্যমে তা উল্লেখ করেছেন।

আর সেই ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করুন যার কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন, যা শাইখাইন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি বলল: আমি আজ রাতে অবশ্যই কিছু দান করব। অতঃপর সে তার সদকা নিয়ে বের হলো এবং তা একজন ব্যভিচারিণীর হাতে দিয়ে দিল। পরদিন সকালে লোকজন বলাবলি করতে লাগল যে, গত রাতে একজন ব্যভিচারিণীকে সদকা দেওয়া হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-কাওয়াইদুল উসুলিয়্যাহ ওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকা বিল-মুসলিম গাইরিল মুজতাহিদ, শাথরি (পৃ. ৫২)।

(২) এর তাখরিজ আগে গত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال: اللهم، لك الحمد على زانية. لأتصدقن بصدقة، فخرج بصدقته فوضعها في يد غني، فأصبحوا يتحدثون: تُصُدِّق على غني، قال: اللهم، لك الحمد على غني. لأتصدقن بصدقة، فخرج بصدقته فوضعها في يد سارقٍ، فأصبحوا يتحدثون: تُصُدِّق على سارق، فقال: اللهم، لك الحمد على زانية، وعلى غني، وعلى سارق، فأتي فقيل له: أما صدقتك فقد قُبلت؛ أما الزانية فلعلها تستعف بها عن زناها، ولعل الغني يعتبر فينفق مما أعطاه الله، ولعل السارق يستعف بها عن سرقته»(1).

فهذا الرجل أعطى صدقته لغير مستحقيها، ومع ذلك فقد تقبل الله صدقته لإخلاصه وحسن قصده ورغبته في الخير.

ومن فروع هذه القاعدة:

تمييز العبادات من العادات بالقصد، كالجلوس في المسجد، فإنه يتردد بين الجلوس للاعتكاف والجلوس للاستراحة، وكالوضوء والغسل يتردد بين التبرد والتنظيف والقربة، فلولا النية لما تميزت العبادة عن غيرها ولا حصلت(2).

وكذلك تمييز مراتب العبادات بالقصد، لأن القصد النية شرط صحة في العبادات المحضة، وشرط لحصول الثواب في جميع الأعمال.

ومنه أن المعاملات بالكنايات، لا بد لها من نية.

ومنه أن جميع المباحات تتميز عن المعاصي والقربات بالنية(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري برقم (1421)، ومسلم برقم (1022).

(2) ينظر: الأشباه والنظائر، السبكي (1/ 57).

(3) ينظر: الغيث الهامع شرح جمع الجوامع، أبي زرعة العراقي (ص 660).
তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা একজন ব্যভিচারিণীর জন্য। আমি অবশ্যই দান করব। অতঃপর তিনি তার দান নিয়ে বের হলেন এবং তা একজন ধনী ব্যক্তির হাতে প্রদান করলেন। সকালে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল: এক ধনী ব্যক্তিকে দান করা হয়েছে। তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা একজন ধনীর জন্য। আমি পুনরায় দান করব। অতঃপর তিনি বের হয়ে তার দান একজন চোরের হাতে প্রদান করলেন। সকালে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল: এক চোরকে দান করা হয়েছে। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা ব্যভিচারিণী, ধনী এবং চোরের জন্য। অতঃপর তাকে (স্বপ্নে) এসে বলা হলো: তোমার দান কবুল করা হয়েছে। ব্যভিচারিণীর বিষয়টি হলো, হতে পারে সে এর মাধ্যমে তার ব্যভিচার থেকে বিরত থাকবে; ধনীর বিষয়টি হলো, হতে পারে সে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে ব্যয় করবে; আর চোরের বিষয়টি হলো, হতে পারে সে এর মাধ্যমে তার চুরি থেকে বিরত থাকবে(১).

এই ব্যক্তিটি তার দান এর অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রদান করেছিলেন, তা সত্ত্বেও আল্লাহ তার একনিষ্ঠতা, উত্তম উদ্দেশ্য এবং কল্যাণের আকাঙ্ক্ষার কারণে তার দান কবুল করে নিয়েছেন।

এই মূলনীতির অন্যতম শাখাসমূহ হলো:

উদ্দেশ্যের মাধ্যমে ইবাদতকে অভ্যাসগত কাজ থেকে পৃথক করা। যেমন মসজিদে বসা; কারণ এটি ইতিকাফের জন্য বসা এবং বিশ্রামের জন্য বসার মধ্যে দোদুল্যমান থাকে। তদ্রূপ অজু এবং গোসল; যা শরীর শীতল করা, পরিষ্কার হওয়া এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মধ্যে দোদুল্যমান থাকে। সুতরাং নিয়ত না থাকলে ইবাদত অন্য কাজ থেকে পৃথক হতো না এবং তা সম্পাদিত হতো না(২).

অনুরূপভাবে উদ্দেশ্যের মাধ্যমে ইবাদতের স্তরসমূহকে পৃথক করা হয়। কারণ স্রেফ ইবাদতের ক্ষেত্রে সংকল্প বা নিয়ত হলো শুদ্ধ হওয়ার শর্ত এবং সমস্ত কর্মের সওয়াব লাভের শর্ত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো, রূপক শব্দের মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেন বা চুক্তিতে অবশ্যই নিয়ত থাকতে হবে।

এর আরও অন্তর্ভুক্ত হলো, নিয়তের মাধ্যমেই সমস্ত বৈধ (মুবাাহ) কাজসমূহ গুনাহ এবং ইবাদত থেকে পৃথক হয়ে থাকে(৩).

--------------------------------------------

(১) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নম্বর (১৪২১); মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নম্বর (১০২২)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির, আস-সুবকি (১/ ৫৭)।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-গাইসুল হামে’ শারহু জামউল জাওয়ামি’, আবু যুরআ আল-ইরাকি (পৃষ্ঠা ৬৬০)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ويتفرع من هذه القاعدة ثلاث قواعد:

1 - لا ثواب إلا بنية.

2 - النية شرط لصحة الأعمال.

3 - العبرة في العقود بالمقاصد والمعاني لا بالألفاظ والمباني.

قال ابن القيم رحمه الله في إعلام الموقعين(1): (فالنية روح العمل ولبُّه وقوامه، وهو تابع لها يصح بصحتها ويفسد بفسادها، والنبي صلى الله عليه وسلم قد قال كلمتين كفتا وشفتا وتحتهما كنوز العلم، وهما قوله: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى»(2).

فبين في الجملة الأولى أن العمل لا يقع إلا بالنية، ولهذا لا يكون عمل إلا بنية، ثم بين في الجملة الثانية أن العامل ليس له من عمله إلا ما نواه، وهذا يعم العبادات والمعاملات والأيمان والنذور وسائر العقود والأفعال، وهذا دليل على أن من نوى بالبيع عقد الربا حصل له الربا، ولا يعصمه من ذلك صورة البيع.

وأن من نوى بعقد النكاح التحليل كان محلِّلا، ولا يخرجه من ذلك صورة عقد النكاح؛ لأنه قد نوى ذلك، «وإنما لكل امرئ ما نوى»؛ فالمقدمة الأولى معلومة بالوجدان، والثانية معلومة بالنص.

وعلى هذا فإذا نوى بالعصْر حصول الخمر كان له ما نواه، ولذلك استحق اللعنة، وإذا نوى بالفعل التحيلَ على ما حرمه الله ورسولُه كان له ما نواه؛ فإنه قصد المحرم وفعل مقدورَه في تحصيله).

--------------------------------------------

(1) ينظر: إعلام الموقعين، ابن القيم (4/ 522).

(2) سبق مرارًا.
এই মূলনীতি থেকে তিনটি শাখা মূলনীতি নির্গত হয়:

১ - নিয়ত ছাড়া কোনো সওয়াব নেই।

২ - আমল সঠিক হওয়ার জন্য নিয়ত একটি শর্ত।

৩ - চুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থই মূল বিবেচ্য বিষয়, শব্দ ও বাহ্যিক কাঠামো নয়।

ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন'(১) গ্রন্থে বলেছেন: (নিয়ত হলো আমলের রূহ, এর নির্যাস ও ভিত্তি; আমল নিয়তের অনুসারী—নিয়ত সঠিক হলে আমল সঠিক হয় এবং নিয়ত কলুষিত হলে আমলও কলুষিত হয়ে যায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দুটি বাক্য বলেছেন যা যথেষ্ট ও আরোগ্যদায়ক এবং যার গভীরে জ্ঞানের ভাণ্ডার নিহিত রয়েছে; বাক্য দুটি হলো তাঁর এই বাণী: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে»(২)।

তিনি প্রথম বাক্যে স্পষ্ট করেছেন যে, আমল নিয়ত ছাড়া সম্পাদিত হয় না, এ কারণে নিয়ত ছাড়া কোনো আমল হতে পারে না। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় বাক্যে স্পষ্ট করেছেন যে, আমলকারীর জন্য তার আমল থেকে কেবল তা-ই অর্জিত হবে যার সে নিয়ত করেছে। আর এটি ইবাদত, লেনদেন, শপথ, মানত এবং অন্যান্য সকল চুক্তি ও কার্যাবলীকে শামিল করে। এটি একথার প্রমাণ যে, যে ব্যক্তি বিক্রয় চুক্তির ছদ্মবেশে সুদের চুক্তির নিয়ত করবে, তার জন্য সুদই সাব্যস্ত হবে; কেনাবেচার বাহ্যিক রূপ তাকে তা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

আর যে ব্যক্তি বিবাহ চুক্তির মাধ্যমে হালালা করার নিয়ত করবে, সে হালালাকারী হিসেবে গণ্য হবে; বিবাহের বাহ্যিক রূপ তাকে সেই হুকুম থেকে বের করবে না; কারণ সে সেটিরই নিয়ত করেছে, আর «প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে»; সুতরাং প্রথম বিষয়টি বোধশক্তি দ্বারা জ্ঞাত এবং দ্বিতীয়টি সরাসরি নস বা দলীল দ্বারা জ্ঞাত।

এর ভিত্তিতে, যদি কেউ রস নিংড়ানোর সময় মদ তৈরির নিয়ত করে, তবে সে যা নিয়ত করেছে তা-ই তার জন্য সাব্যস্ত হবে এবং এ কারণে সে অভিশাপের যোগ্য হবে। আর যদি কেউ কোনো কার্যের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা অর্জনের অপকৌশলের নিয়ত করে, তবে সে যা নিয়ত করেছে তা-ই হবে; কারণ সে হারামের ইচ্ছা পোষণ করেছে এবং তা অর্জনে নিজের সাধ্যমতো কাজ করেছে)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ইবনুল কাইয়্যিম (৪/ ৫২২)।

(২) ইতিপূর্বে একাধিকবার অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال أيضًا(1): (أما العبادات فتأثير النيات في صحتها وفسادها أظهر من أن يحتاج إلى ذكره؛ فإن القُرُبات كلها مَبْنَاها على النيات، ولا يكون الفعل عبادة إلا بالنية والقَصْد، ولهذا لو وقع في الماء ولم ينو الغسل، أو دخل الحمام للتنظيف، أو سَبَحَ للتبرُّد لم يكن غسله قربة ولا عبادة بالاتفاق، فإنه لم ينو العبادة فلم تحصل له. ولو أمْسَكَ عن المُفْطِّرات عادة واشتغالًا ولم ينو القربة لم يكن صائمًا. ولو دار حول البيت يلتمس شيئًا سقط منه لم يكن طائفًا.

ولو أعطى الفقير هبةً أو هدية ولم ينو الزكاة لم تحتسب زكاة. ولو جلس في المسجد ولم ينو الاعتكاف لم يحصل له ثوابُه.

وهذا كما أنه ثابت في الإجزاء والإمتثال فهو ثابت في الثواب والعقاب؛ ولهذا لو جامع أجنبيةً يظنها زوجتَه أو أمَتُه لم يأثم بذلك وقد يُثاب بنيته. ولو جامع في ظُلمةٍ من يظنُّها أجنبية فبانت زوجتُه أو أمَتُه أثم على ذلك بقصده ونيته للحرام.

ولو أكل طعامًا حرامًا يظنّثه حلالًا لم يأثم به، ولو أكله وهو حلال يظنه حرامًا وقد أقدم عليه أثِم بنيته. وكذلك لو قتل مَنْ يظنه مسلمًا معصومًا فَبَانَ كافرًا حربيًّا أثم بنيته. ولو رمى صيدًا فأصاب معصومًا لم يأثم، ولو رمى معصومًا فأخطأه وأصاب صيدًا أثِم، ولهذا كان القاتل والمقتول من المسلمين في النار(2) لنية كل واحد منهما قتل صاحبه).

--------------------------------------------

(1) ينظر: إعلام الموقعين، ابن القيم (3/ 90).

(2) يشير إلى حديث الأحنف بن قيس رضي الله عنه، قال: ذهبت لأنصر هذا الرجل -يعني: علي بن أبي طالب رضي الله عنه، فلقيني أبو بكرة فقال أين تريد؟ قلت: أنصر هذا الرجل، قال: ارجع فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا التقى المسلمان بسيفيهما فالقاتل والمقتول في النار»، فقلت: يا رسول الله هذا القاتل فما بال المقتول؟، قال: «إنه كان حريصًا على قتل صاحبه»، أخرجه البخاري برقم (31)، ومسلم برقم (2888).
তিনি আরও বলেন(১): (ইবাদতের ক্ষেত্রে, এর বিশুদ্ধতা ও অসারতার ওপর নিয়তের প্রভাব এতই স্পষ্ট যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না; কারণ সকল নৈকট্যমূলক কাজের ভিত্তি হলো নিয়ত। এবং নিয়ত ও সংকল্প ছাড়া কোনো কাজ ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না। এই কারণে, যদি কেউ পানিতে পড়ে যায় এবং গোসলের (পবিত্রতার) নিয়ত না করে, অথবা পরিষ্কার হওয়ার জন্য গোসলখানায় প্রবেশ করে, কিংবা শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য সাঁতার কাটে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তার এই গোসল নৈকট্য বা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা সে ইবাদতের নিয়ত করেনি, ফলে তা তার জন্য অর্জিত হয়নি। আর যদি কেউ অভ্যাসগতভাবে বা অন্য কোনো কাজে নিমগ্ন থাকার কারণে পানাহার থেকে বিরত থাকে কিন্তু নৈকট্যের নিয়ত না করে, তবে সে রোজা পালনকারী হবে না। এবং যদি কেউ বায়তুল্লাহর চারদিকে হারানো কোনো বস্তু খোঁজার জন্য ঘোরে, তবে সে তাওয়াফকারী বলে গণ্য হবে না।

যদি কেউ দরিদ্র ব্যক্তিকে দান বা উপহার দেয় কিন্তু জাকাতের নিয়ত না করে, তবে তা জাকাত হিসেবে গণ্য হবে না। আর যদি কেউ মসজিদে অবস্থান করে কিন্তু ইতিকাফের নিয়ত না করে, তবে সে তার সওয়াব পাবে না।

এটি যেমন পর্যাপ্ততা ও আনুগত্য পালনের ক্ষেত্রে প্রমাণিত, তেমনি সওয়াব ও শাস্তির ক্ষেত্রেও প্রমাণিত; এই কারণে, যদি কেউ কোনো পরনারীর সাথে এই মনে করে সহবাস করে যে সে তার স্ত্রী বা দাসী, তবে সে এতে গুনাহগার হবে না এবং তার নিয়তের কারণে সে সওয়াব পেতে পারে। আর যদি সে অন্ধকারে এমন কারো সাথে সহবাস করে যাকে সে পরনারী মনে করেছিল, কিন্তু পরে দেখা গেল সে তার স্ত্রী বা দাসী ছিল, তবে হারামের ইচ্ছা ও নিয়তের কারণে সে গুনাহগার হবে।

যদি কেউ হারাম খাদ্য হালাল মনে করে আহার করে, তবে সে গুনাহগার হবে না। কিন্তু যদি সে হালাল খাদ্য হারাম মনে করে আহার করে এবং তা খাওয়ার সংকল্প করে, তবে সে তার নিয়তের কারণে গুনাহগার হবে। অনুরূপভাবে, কেউ যদি এমন ব্যক্তিকে হত্যা করে যাকে সে নিরাপদ মুসলিম মনে করেছিল, কিন্তু পরে দেখা গেল সে হারবি কাফির, তবে সে তার নিয়তের কারণে গুনাহগার হবে। আর যদি কেউ শিকারের উদ্দেশ্যে তীর ছুঁড়ে কিন্তু তা কোনো নিরাপদ মানুষের গায়ে লাগে, তবে সে গুনাহগার হবে না। পক্ষান্তরে যদি সে কোনো নিরাপদ মানুষকে লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়ে কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কোনো শিকারের গায়ে লাগে, তবে সে গুনাহগার হবে। এই কারণেই মুসলিমদের মধ্য থেকে হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামে যাবে(২), কারণ তাদের প্রত্যেকের নিয়ত ছিল তার সঙ্গীকে হত্যা করা)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ইবনুল কাইয়্যিম (৩/ ৯০)।

(২) এটি আহনাফ ইবনে কাইস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে, তিনি বলেন: আমি এই ব্যক্তিকে—অর্থাৎ আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে—সাহায্য করার জন্য বের হলাম। তখন আবু বাকরাহ আমার সাথে দেখা করে বললেন, তুমি কোথায় যাচ্ছ? আমি বললাম: আমি এই ব্যক্তিকে সাহায্য করতে চাই। তিনি বললেন: ফিরে যাও, কারণ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যখন দুই মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামে যাবে।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই তো হত্যাকারী, কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ? তিনি বললেন: «সেও তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।» এটি বুখারি (হাদিস নং ৩১) ও মুসলিম (হাদিস নং ২৮৮৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وذكر الشيخ ابن عثيمين رحمه الله بعض المسائل التي تتبع هذه القاعدة، ومن ذلك أفعال شارب الخمر، قال(1): (واختلف العلماء في فعله، هل يؤاخذ به أم لا؟ والصواب أن فعله كفعل المخطئ، لا كفعل المتعمِّد.

فلو قتل إنسانًا لم يُقتصّ منه؛ لأنه لا عقل له، ولكن تؤخذ منه الدية، إلا إذا علمنا أنه تناول المسكر لتنفيذ فعلِه، فإنه يؤاخذ به.

يعني: لو فرضنا أن هذا الرجل يريد أن يقتل شخصًا، فقال: إن قتلته وأنا عاقل قتلوني به، ولكن أشرب مسكرًا وأقتله، وأنا سكران، ففي هذه الحال نقول: إنه يقتل؛ لأنه سَكِرَ من أجل الوصول إلى العمل المحرم، والعبرة في الأمور بمقاصدها، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى»(2).

وقال صاحب تفسير المنار رحمه الله(3): (والقاعدة الطبيعية الشرعية أن الأمور بمقاصدها، ونحن نرى كثيرًا من الناس يقصدون قراء القرآن في ليالي رمضان أو في المآتم، ليستمعوا إلى فلان القارئ الحسن الصوت لغرض التلذذ بترتيله وتوقيع صوته أو بلاغته، ولا أحد منهم ينتفع بشيء من مواعظ القرآن ونُذُره، وحِكمه وعِبره، ولا عقائده وأحكامه، ومنهم المسلمون وغير المسلمين.

بل سمعت بأذني من غير المسلمين من يستمع القرآن ويعجب من شدة تأثيره وتغلغله في أعماق القلب وهو لا يؤمن به، ولهذا قال تعالى: {أَفَأَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ وَلَوْ كَانُوا لَا يَعْقِلُونَ} [يونس: 42]، هذا الاستفهام للإنكار، يعني: أن السماع

--------------------------------------------

(1) ينظر: الشرح الممتع، ابن عثيمين (14/ 443).

(2) سبق تخريجه.

(3) ينظر: تفسير المنار، رشيد رضا (11/ 314).
শেখ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) এই মূলনীতির অনুগামী কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো মদ্যপায়ীর কার্যাবলি। তিনি বলেন(১): (মদ্যপায়ীর কৃতকর্মের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, তাকে কি এর জন্য দায়ী করা হবে নাকি হবে না? সঠিক কথা হলো, তার কৃতকর্ম ভুলকারীর কাজের মতো গণ্য হবে, ইচ্ছাকৃতকারীর কাজের মতো নয়।

যদি সে কোনো মানুষকে হত্যা করে তবে তার থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ করা হবে না; কারণ তার হিতাহিত জ্ঞান নেই। কিন্তু তার থেকে দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণ করা হবে। তবে যদি আমরা জানতে পারি যে, সে তার অপরাধটি কার্যকর করার জন্যই নেশাদ্রব্য পান করেছে, তবে তাকে তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী করা হবে।

অর্থাৎ: যদি আমরা ধরে নিই যে, এই লোকটি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করতে চায়, তখন সে বলল: আমি যদি সুস্থ মস্তিষ্কে তাকে হত্যা করি তবে তারা আমাকে এর বিনিময়ে হত্যা করবে, তার চেয়ে বরং আমি নেশাদ্রব্য পান করি এবং মাতাল অবস্থায় তাকে হত্যা করি। এই অবস্থায় আমরা বলব: তাকে হত্যা করা হবে; কারণ সে হারাম কাজে পৌঁছানোর জন্যই মাতাল হয়েছে। আর বিষয়সমূহের বিবেচনা হয় সেগুলোর উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে, যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে»(২)।

তাফসীরে মানার-এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন(৩): (প্রাকৃতিক ও শরয়ি মূলনীতি হলো, বিষয়সমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল। আমরা অনেক মানুষকে দেখি যারা রমজানের রাতে অথবা শোক সভায় কুরআন তিলাওয়াতের ইচ্ছা পোষণ করে শুধুমাত্র অমুক সুমধুর কণ্ঠের ক্বারীর তিলাওয়াত শোনার উদ্দেশ্যে, যেন তার সুললিত কণ্ঠের সুর ও বাগ্মিতা উপভোগ করতে পারে। তাদের কেউই কুরআনের কোনো উপদেশ, ভীতি প্রদর্শন, হিকমত, শিক্ষা কিংবা এর আকিদা ও বিধানসমূহ দ্বারা উপকৃত হয় না। তাদের মধ্যে মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ই রয়েছে।

বরং আমি নিজের কানে অমুসলিমদের থেকে শুনেছি যারা কুরআন শোনে এবং এর প্রবল প্রভাব ও অন্তরের গভীরে বিঁধে যাওয়ার ক্ষমতা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়, অথচ তারা এর ওপর ঈমান রাখে না। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে কি তুমি বধিরকে শোনাবে, যদিও তারা কিছুই বোঝে না?} [ইউনুস: ৪২]। এই প্রশ্নটি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করার জন্য, অর্থাৎ শোনা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন (১৪/ ৪৪৩)।

(২) পূর্বে এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

(৩) দেখুন: তাফসীরে মানার, রশিদ রিদা (১১/ ৩১৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
النافع للمستمع هو ما عقل به ما يسمعه وفقهه وعمل بمقتضاه، فمن فقد هذا كان كالأصم الذي لا يسمع).

وقد ذكر السيوطي رحمه الله أن هذه القاعدة تجري أيضًا في علم العَروض، فإن الشعر عند أهله: كلام موزون مقصود به ذلك: أما ما يقع موزونًا اتفاقًا، لا عن قصد من المتكلم، فإنه لا يسمى شعرًا، وعلى ذلك خرج ما وقع في كلام الله تعالى كقوله تعالى: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92]، أو كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم كقوله: «هل أنتِ إلا إصبع دميتِ، وفي سبيل الله ما لقيتِ»(1).

وهذه القاعدة أيضًا من أهم قواعد الحنفية التي ذكروها في إبطال الشرك وإن سمي بغير اسمه، وفرعوا عليها عدة أحكام، وقالوا: إنما يبنى اللفظ على المقصود لا على ظاهر اللفظ.

فلما كان قصد القبورية من زياراتهم للقبور؛ الطواف بها، وأكل ترابها، والتمسح والتبرك بها، والنذر لها، ودعاء أهلها، وطلب الحوائج وكشف الكرب منهم، كان ذلك شركًا صريحًا، وإن تستروا بستار التوسل، والكرامة، والولاية، والزيارة، لأن الأمور بمقاصدها.

قال شيخ القرآن الفنجفيري رحمه الله في الرد على المبتدعة والقبورية(2): (وها أنا في زمان تبدلت الشريعة، وجعلوا العبادة ذريعة للمعيشة، ووضعوا الألفاظ الصحيحة للنية الردية، فاستحلوا الرشوة باسم الهدية، والقتل بالرهبة، والزنى بالنكاح، والربا بالمنافع، والمُغنِّي بالحادي، والمطرب بالقوَّال،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري برقم (2802)، ومسلم برقم (1796)، عن جندب بن سفيان رضي الله عنه.

(2) ينظر: جهود علماء الحنفية في إبطال عقائد القبورية، الأفغاني (2/ 618).
শ্রোতার জন্য উপকারী বিষয় হলো যা শোনার পর সে তা বুঝতে পারে, অনুধাবন করতে পারে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারে। যে ব্যক্তি এটি হারাল, সে যেন সেই বধিরের মতো যে শুনতে পায় না।

সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, এই নিয়মটি ইলমে আরুজ বা ছন্দশাস্ত্রেও কার্যকর হয়। কেননা ছন্দ বিশেষজ্ঞদের নিকট কবিতা হলো সেই ছন্দোবদ্ধ বাক্য যা সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বলা হয়। তবে যা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই ঘটনাক্রমে ছন্দোবদ্ধ হয়ে পড়ে, তাকে কবিতা বলা হয় না। এ কারণে মহান আল্লাহর বাণীতে যা ছন্দোবদ্ধ মনে হয় তা কবিতার সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো} [আল ইমরান: ৯২]। অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, যেমন তাঁর কথা: “তুমি তো কেবল একটি আঙ্গুল যা রক্তাক্ত হয়েছে, আর আল্লাহর পথেই তুমি যা ভোগ করার তা ভোগ করেছ”(১)।

এই নিয়মটি হানাফী ফকীহদেরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম যা তাঁরা শিরক বাতিলের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন, যদিও শিরককে অন্য নামে নামকরণ করা হয়। তাঁরা এর ওপর ভিত্তি করে অনেক বিধান নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: শব্দের হুকুম মূলত উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, কেবল শব্দের বাহ্যিক রূপের ওপর নয়।

সুতরাং কবরপূজারিদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য যখন হয় কবর তাওয়াফ করা, কবরের মাটি খাওয়া, সেখানে ঘষাঘষি করা ও বরকত নেওয়া, কবরের নামে মানত করা, কবরবাসীর নিকট দুআ করা এবং তাদের নিকট প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ দূর করার প্রার্থনা করা, তখন তা স্পষ্ট শিরক হিসেবে গণ্য হয়; যদিও তারা একে উসিলা, কারামত, বেলায়েত কিংবা যিয়ারতের আবরণে আড়াল করতে চায়। কারণ, সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।

শাইখুল কুরআন আল-পাঞ্জফিরী (রহিমাহুল্লাহ) বিদআতী ও কবরপূজারিদের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেন(২): (আজ আমি এমন এক যুগে বাস করছি যখন শরীয়ত বদলে গেছে। তারা ইবাদতকে জীবিকা অর্জনের উপায়ে পরিণত করেছে এবং অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য সঠিক শব্দের ব্যবহার করছে। ফলে তারা উপহারের নামে ঘুষকে, ভীতির নামে হত্যাকে, বিবাহের নামে ব্যভিচারকে, উপকারের নামে সুদকে, উষ্ট্রচালকের সংগীতের নামে গায়ককে এবং কাওয়ালির নামে গায়ক-বাদককে বৈধ করে নিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং ২৮০২; মুসলিম, হাদিস নং ১৭৯৬; জুনদুব বিন সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

(২) দ্রষ্টব্য: জুহুদু উলামাইল হানাফিয়্যাহ ফী ইবতালে আকাইদিল কুবুরিয়্যাহ, আল-আফগানি (২/৬১৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ ফী তাওদীহি আহম্মিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
والمداهن بالمصلح، والخداعة بالسياسة، والكتمان بالمصلحة، والشرك بالله العظيم بتعظيم الأولياء الكرام، والعبادة للقبور والشيوخ بالتعظيم لهم، والجحد لصفات الله تعالى بالتنزيه، وإثبات الصفات له تعالى بالتجسيم، والبدعة بالسنة، فبدلوا دين الله تعالى وشرائعه، وحرفوا الكلم عن مواضعه، {وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ} [الشعراء: 227]).

مجمل ما تدخل فيه هذه القاعدة من أبواب الفقه:

ذكر الشافعي رحمه الله أن النية تدخل في سبعين بابًا من الفقه، وعقب السيوطي رحمه الله على ذلك بقوله(1): (قلت: وهذا ذكر ما يرجع إليه من الأبواب إجمالًا:

من ذلك: ربع العبادات بكماله، كالوضوء، والغسل فرضًا ونفلًا، والتيمم، وإزالة النجاسة على رأي، وغسل الميت على رأي، والأواني في مسألة الضبة بقصد الزينة أو غيرها.

والصلاة بأنواعها: فرض عين وكفاية، وراتبة وسنة، ونفلا مطلقا، والقصر، والجمع، والإمامة والاقتداء وسجود التلاوة والشكر، وخطبة الجمعة على أحد الوجهين، والأذان على رأي.

وأداء الزكاة، واستعمال الحلي أو كنزه، والتجارة، والقنية، والخلطة على رأي، وبيع المال الزكوي، وصدقة التطوع.

والصوم فرضًا ونفلًا، والاعتكاف.

والحج والعمرة كذلك، والطواف فرضًا واجبًا وسنة، والتحلل للمحصر،

--------------------------------------------

(1) ينظر: الأشباه والنظائر (ص 9 - 11).
চাটুকারিতাকে সংশোধন হিসেবে, প্রতারণাকে রাজনীতি হিসেবে, সত্য গোপনকে জনকল্যাণ হিসেবে, মহান আল্লাহর সাথে শিরককে সম্মানিত অলিগণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হিসেবে, কবর ও মাশায়েখের ইবাদতকে তাদের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন হিসেবে, আল্লাহ তাআলার গুণাবলি অস্বীকার করাকে পবিত্রতা বর্ণনা হিসেবে, আল্লাহ তাআলার জন্য গুণাবলি সাব্যস্ত করাকে দেহবিশিষ্ট সাব্যস্ত করা হিসেবে এবং বিদআতকে সুন্নাহ হিসেবে নাম দিয়েছে। ফলে তারা আল্লাহ তাআলার দ্বীন ও তাঁর শরিয়তকে পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং শব্দসমূহকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে। {আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে যে, তারা কোন গন্তব্যে ফিরে যাবে} [সূরা আশ-শুআরা: ২২৭])।

ফিকহশাস্ত্রের যে সকল অধ্যায়ে এই নীতিটি অন্তর্ভুক্ত হয় তার সংক্ষিপ্ত সার:

ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, নিয়ত ফিকহশাস্ত্রের সত্তরটি অধ্যায়ে প্রবেশ করে। ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন(১): (আমি বলছি: এটি ঐ সকল অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ যাতে এটি প্রযোজ্য হয়:

এর মধ্যে রয়েছে: ইবাদত চতুর্থাংশের পুরোটি, যেমন ওযু, ফরয ও নফল গোসল, তায়াম্মুম, একটি মতানুসারে নাপাকি দূর করা, একটি মতানুসারে মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো এবং পাত্র মেরামতের মাসআলায় সৌন্দর্যের উদ্দেশ্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য।

এবং সকল প্রকার সালাত: ফরযে আইন ও ফরযে কিফায়া, রাতিবা ও সুন্নাহ, সাধারণ নফল, কসর, দুই সালাত একত্রে পড়া, ইমামতি ও ইকতিদা, তিলাওয়াত ও শোকরের সিজদা, দুই মতের একটি অনুযায়ী জুমার খুতবা এবং একটি মতানুসারে আযান।

এবং যাকাত প্রদান, অলঙ্কার ব্যবহার বা তা জমিয়ে রাখা, ব্যবসা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের সম্পদ, একটি মতানুসারে অংশীদারিত্ব, যাকাতযোগ্য সম্পদ বিক্রয় এবং নফল সাদাকা।

এবং ফরয ও নফল রোযা এবং ইতিকাফ।

এবং একইভাবে হজ্জ ও উমরাহ, ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাহ তওয়াফ এবং ইহরাম থেকে অবরুদ্ধ ব্যক্তির হালাল হওয়া,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর (পৃষ্ঠা ৯ - ১১)।