(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأنساب - السمعاني - ط الهندية القسم: الأنساب
الكتاب: الأنساب
المؤلف: أبو سعد، عبد الكريم بن محمد بن منصور التميمي السمعاني (ت 562 هـ)
الناشر: مجلس دائرة المعارف العثمانية، حيدر آباد الدكن - الهند
عدد الأجزاء: 13 (نُشرت تِباعًا)
الطبعة: الأولى، (1382 هـ = 1962 م) - (1402 = 1982 م)
حققه وعلق عليه: جـ 1 - 6 (عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني [ت 1386 هـ])، جـ 7 - 12 (أبو بكر محمد الهاشمي [ت 1429 هـ])، جـ 13 (محمد ألطاف حسين)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আনসাব - আস-সামআনী - আল-হিন্দিয়া সংস্করণ বিভাগ: আল-আনসাব
গ্রন্থ: আল-আনসাব
লেখক: আবু সাদ, আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আত-তামিমী আস-সামআনী (মৃত্যু ৫৬২ হি.)
প্রকাশক: মজলিসু দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া, হায়দ্রাবাদ ডেকান - ভারত
খণ্ড সংখ্যা: ১৩ (পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত)
সংস্করণ: প্রথম, (১৩৮২ হি. = ১৯৬২ খ্রি.) - (১৪০২ = ১৯৮২ খ্রি.)
তাহকিক ও তালীক করেছেন: খণ্ড ১ - ৬ (আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী [মৃত্যু ১৩৮৬ হি.]), খণ্ড ৭ - ১২ (আবু বকর মুহাম্মদ আল-হাশিমী [মৃত্যু ১৪২৯ হি.]), খণ্ড ১৩ (মুহাম্মদ আলতাফ হুসাইন)
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الأنساب الحمد للَّه رب العالمين وأشهد أن لا إله الا اللَّه وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله، صلى اللَّه وسلم وبارك على خاتم أنبيائه محمد وآله وصحبه.
اما بعد فان كتاب (الأنساب) للحافظ الإمام أبى سعد عبد الكريم ابن محمد السمعاني كتاب جليل أدرك المستشرقون شأنه فسبقونا إلى طبعه منذ خمسين سنة اى سنة 1912 طبعوه بالزنكوغراف محافظة منهم على صورة النسخة التي ظفروا بها، ونعم ما صنعوا غير أن النسخة سقيمة جدا يكثر فيها السقط والتحريف، ومع ذلك فقد عزّ وجود نسخ تلك الطبعة وتقادم العهد بطبعها فبلى ورقها فصار الموجود منها عرضة للتلف:
فأهم رجال جمعية دائرة المعارف العثمانية بحيدرآباد الدكن امر هذا الكتاب، كيف لا وجمعيتهم هي حاملة لواء فن التراجم والسباقة إلى نشر كتبه والمتفردة بأكثرها فسعوا في تحصيل نسخ من الكتاب مخطوطة أو مصورة عنها فظفروا بثلاث نسخ غير المطبوعة - وسيأتي وصفها - فبادروا إلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল-আনসাব-এর ভূমিকা সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।
অতঃপর, হাফেজ ইমাম আবু সা’দ আব্দুল কারিম ইবনে মুহাম্মদ আস-সামআনি রচিত ‘আল-আনসাব’ (বংশপরিচয়) গ্রন্থটি একটি অতি মহান গ্রন্থ। প্রাচ্যবিদরা এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, ফলে তারা আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে অর্থাৎ ১৯১২ সালে আমাদের পূর্বেই এটি ছাপানোর কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। তারা এটি জিঙ্কোগ্রাফ পদ্ধতিতে ছেপেছিলেন যাতে তাদের হস্তগত হওয়া পাণ্ডুলিপিটির অবিকল রূপটি সংরক্ষিত থাকে। তারা যা করেছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, তবে সেই পাণ্ডুলিপিটি ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ, যাতে প্রচুর পরিমাণে বাদ পড়া অংশ ও বিকৃতি বিদ্যমান ছিল। তদুপরি সেই সংস্করণের কপির দুষ্প্রাপ্যতা দেখা দিয়েছিল এবং অনেক আগে ছাপানোর কারণে এর কাগজগুলো জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, ফলে বিদ্যমান কপিগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
তাই হায়দ্রাবাদ ডেকানের ‘জামঈয়াতু দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এই কিতাবটির বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন। আর কেনই বা করবেন না? কারণ তাদের এই সংস্থাটিই হলো জীবনী সাহিত্যের ঝাণ্ডাবাহী এবং এই বিষয়ক গ্রন্থসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ও অনন্য। ফলে তারা এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি বা তার প্রতিলিপি সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেন। মুদ্রিত কপি ব্যতিরেকে তারা আরও তিনটি পাণ্ডুলিপি লাভে সক্ষম হন—যার বর্ণনা সামনে আসবে। অতঃপর তারা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
استنساخ مسودة للكتاب ومقابلتها على النسخ وتقييد الاختلافات مع مراجعة بعض المراجع بنية تحقيق الكتاب فلم يكادوا يتوسطون مقدمة المؤلف حتى بدت لهم صعوبة العمل لكثرة الاختلافات وخفاء الصواب فبدا لفضلاء الدائرة - وعلى رأسهم مديرها الفاضل الدكتور محمد عبد المعيد خان - ان يضعوا ثقل العمل على عاتق زميل سابق لهم هو كاتب هذه الكلمة، فكتب الىّ الدكتور بذلك وأنه قرر أن يقوم فضلاء الدائرة بمقابلة المسودة على النسخ وتقييد الاختلافات وإرسال ما قوبل من المسودة مع بيان الاختلاف الىّ شيئا فشيئا لأحقق كل ما أرسل الىّ وأبعثه إليهم شيئا فشيئا لأنهم مضطرون إلى تعجيل طبع الكتاب لأسباب ذكرها.
هذا كله مع استعجالهم لي في تحقيق إكمال ابن ماكولا وبعث ما تم تحقيقه منه إليهم ومع اشتغالي بغير ذلك: وكثرة العمل والإسراع فيه مظنة اختلاله بل مئنته، وأنا اكره ذلك حتى انى أرى الغلطة في الكتاب الّذي طبع بتحقيقى فينالنى حزن غير هين لكن علمت تصميمهم على طبع الكتاب واستعجالهم فيه وأنى ان لم أجبهم إلى طلبهم فسيطبعونه بما تيسر لهم من التصحيح، وهو دون ما يتيسر لي، فلم يسعني الا اجابتهم إلى طلبهم وأرجو أن يرى أهل العلم ما يرضيهم.
بعد ان أتممت الجزء الأول وبعثت به إليهم وطبعوه حدث مصداق المثل (ضغث على ابّالة) كتب إلي الدكتور يلتمس منى كتابة مقدمة للأنساب، وأنا مع كثرة اشغالى استثقل كتابة المقدمات وأراها
বইটির একটি খসড়া প্রস্তুত করা, পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তা মিলিয়ে দেখা এবং পাঠভেদগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি গ্রন্থটি সম্পাদনার উদ্দেশ্যে কিছু তথ্যসূত্র পর্যালোচনার কাজ শুরু হলো। কিন্তু তারা লেখকের ভূমিকার মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই কাজের কঠিন প্রকৃতি তাদের সামনে প্রকাশ পেল; যার কারণ ছিল প্রচুর পাঠভেদ এবং সঠিক পাঠটি উদ্ধার করা দুরুহ হয়ে পড়া। তখন প্রতিষ্ঠানের (দাইরাতুল মাআরিফ) বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ—যাদের নেতৃত্বে ছিলেন এর সম্মানিত পরিচালক ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল মুঈদ খান—এই সিদ্ধান্ত নিলেন যে, কাজের গুরুভার তাদের একজন প্রাক্তন সহকর্মীর ওপর অর্পণ করবেন, যিনি এই কথাগুলো লিখছেন। ডক্টর আমাকে এই বিষয়ে পত্র লিখলেন এবং জানালেন যে, প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ খসড়াটি পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখবেন এবং পাঠভেদগুলো নথিভুক্ত করবেন। এরপর খসড়ার যে অংশটুকুর মোকাবিলা সম্পন্ন হবে, তা পাঠভেদসহ ধীরে ধীরে আমার কাছে পাঠাবেন যাতে আমি প্রেরিত অংশটুকু সম্পাদনা করে ক্রমান্বয়ে তাদের কাছে ফেরত পাঠাতে পারি। কারণ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে তারা বইটি দ্রুত মুদ্রণে বাধ্য ছিলেন।
এই সবকিছু ঘটছিল এমন এক সময়ে যখন তারা ইবনে মাকুলার 'আল-ইকমাল' গ্রন্থের সম্পাদনা শেষ করে দ্রুত পাঠানোর জন্য আমাকে তাগাদা দিচ্ছিলেন। পাশাপাশি আমি অন্যান্য কাজেও লিপ্ত ছিলাম। কাজের আধিক্য এবং তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা ত্রুটিবিচ্যুতির কারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বরং এটিই স্বাভাবিক। আমি বিষয়টি অপছন্দ করি, এমনকি আমার সম্পাদিত কোনো গ্রন্থে ভুল দেখলে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হই। কিন্তু আমি তাদের বইটি ছাপানোর দৃঢ় সংকল্প ও ক্ষিপ্রতা সম্পর্কে অবগত ছিলাম। আমি যদি তাদের অনুরোধ রক্ষা না করতাম, তবে তারা তাদের সাধ্যমতো সংশোধনের মাধ্যমেই তা ছেপে ফেলতেন, যা আমার দ্বারা সম্ভব হওয়া সংশোধনের তুলনায় নিম্নমানের হতো। তাই তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া ছাড়া আমার কোনো গত্যন্তর ছিল না। আমি আশা করি, বিজ্ঞ সমাজ এতে সন্তোষজনক কিছু খুঁজে পাবেন।
প্রথম খণ্ডটি সম্পন্ন করে তাদের কাছে পাঠানোর পর এবং তাদের সেটি মুদ্রণ করার পর সেই প্রবাদের সার্থকতা ফুটে উঠল—"বোঝার ওপর শাকের আঁটি"। ডক্টর আমাকে 'আল-আনসাব' গ্রন্থের জন্য একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখলেন। অথচ কাজের ব্যস্ততার কারণে ভূমিকা লেখা আমার কাছে বেশ শ্রমসাধ্য মনে হয় এবং আমি একে মনে করি...
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مما لا أحسنه، فأجبته بالاعتذار وبأن في وسعه هو أن يكتب مقدمة قد تكون أجود مما يمكنني، فأجاب بالإصرار على طلبه فلم يسعني الا الإجابة وعليه تبعة التقصير.
فن الأنساب والحاجة اليه يطلق «فن الأنساب» على ما يذكر فيه أصول القبائل وكيف تفرعت كنسب عدنان يذكر فيه أبناء عدنان ثم أبناؤهم وهلم جرا، ويطلق أيضا على جمع النسب اللفظية كالأسدى والمقدسي والنجار ونحو ذلك ويضبط كل منها ويبين معناها ويذكر بعض من عرف بها. وهذا الثاني هو موضوعنا. قال ابن الأثير في خطبة اللباب في ذكر هذا الفن «هو مما يحتاج طالب العلم اليه ويضطر الراغب في الأدب والفضل إلى التعويل عليه، وكثيرا ما رأيت نسبا إلى قبيلة أو بطن أو جد أو بلد أو صناعة أو مذهب أو غير ذلك وأكثرها مجهول عند العامة غير معلوم عند الخاصة فيقع في كثير منه التصحيف ويكثر الغلط والتحريف».
التأليف. فيهأول ما يمكن ان يعد من كتبه في الجملة كتاب (مختلف [أسماء] القبائل ومؤتلفها) لمحمد بن حبيب البغدادي (- 245) وقد ذكرته في مقدمة الإكمال، وهذا أول فصل منه «في الأزد حدان [بضم الحاء] بن شمس بن عمرو بن غنم بن غالب (في النسخة: خالد) ابن عثمان بن نصر بن زهران بن كعب بن الحارث بن كعب بن عبد اللَّه ابن مالك بن نصر بن الأزد. وفي تميم حدان [بفتح الحاء] بن قريع ابن عوف بن كعب بن سعد بن زيد مناة بن تميم. وفي ربيعة جدّان
যা আমি ভালোভাবে জানি না, তাই আমি অপারগতা প্রকাশ করে তাকে উত্তর দিলাম যে তিনি নিজেই একটি ভূমিকা লিখতে পারেন যা আমার লেখা ভূমিকার চেয়ে অধিকতর উত্তম হতে পারে। কিন্তু তিনি তাঁর অনুরোধে অটল থাকলেন, ফলে সাড়া দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় রইল না এবং অসম্পূর্ণতার দায়ভার তাঁরই ওপর বর্তাবে।
বংশবিদ্যা এবং এর প্রয়োজনীয়তা
«বংশবিদ্যা» (ফনুল আনসাব) শব্দটি সেই বিদ্যার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যাতে গোত্রসমূহের মূল এবং সেগুলো কীভাবে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে তা আলোচনা করা হয়; যেমন আদনানের বংশধারা, যেখানে আদনানের সন্তানদের এবং অতঃপর তাদের সন্তানদের এবং এভাবে পরবর্তী প্রজন্মের উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও এটি ভাষাগত সম্বন্ধসূচক নামসমূহ (নিসবাহ) যেমন আসাদী, মাকদিসী, নাজ্জার এবং এই জাতীয় নামগুলোর সমষ্টির ওপরও প্রয়োগ করা হয়, যেখানে এগুলোর প্রতিটি যথাযথভাবে বিন্যস্ত করা হয়, এদের অর্থ স্পষ্ট করা হয় এবং যারা এই নামে পরিচিত তাদের কয়েকজনকে উল্লেখ করা হয়। আর এই দ্বিতীয় বিষয়টিই হলো আমাদের আলোচ্য বিষয়। ইবনুল আসীর ‘আল-লুবাব’ গ্রন্থের ভূমিকায় এই বিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: «এটি এমন একটি বিষয় যা ইলম অন্বেষণকারীর প্রয়োজন হয় এবং সাহিত্য ও জ্ঞান-গৌরব অর্জনে আগ্রহীরা এর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। আমি প্রায়ই কোনো গোত্র, বংশ, পূর্বপুরুষ, শহর, পেশা, মাযহাব বা অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধিত হতে দেখেছি, যার অধিকাংশই সাধারণ মানুষের কাছে অজ্ঞাত এবং বিশিষ্টজনদের কাছেও পরিচিত নয়। ফলে এর অনেক ক্ষেত্রে শব্দগত বিকৃতি (তাসহিফ) ঘটে এবং ভুল ও বিকৃতির আধিক্য দেখা দেয়।»
এ বিষয়ে গ্রন্থনাসামগ্রিকভাবে এই বিষয়ের গ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রথম যা গণ্য করা যেতে পারে তা হলো মুহাম্মদ ইবনে হাবীব আল-বাগদাদী (মৃত্যু: ২৪৫ হি.) রচিত ‘মুখতালিফ [আসমাউল] কাবাইল ওয়া মুতালিফুহা’ কিতাবটি। আমি ‘আল-ইকমাল’-এর ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছি। এর প্রথম পরিচ্ছেদ হলো: «আযদ গোত্রে রয়েছে হুদ্দান [হা বর্ণে পেশ সহকারে] ইবনে শামস ইবনে আমর ইবনে গানাম ইবনে গালিব (পাণ্ডুলিপিতে: খালিদ) ইবনে উসমান ইবনে নাসর ইবনে যাহরান ইবনে কাব ইবনে হারিস ইবনে কাব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে নাসর ইবনে আযদ। আর তামীম গোত্রে রয়েছে হাদ্দান [হা বর্ণে যবর সহকারে] ইবনে কুরাই ইবনে আউফ ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে যায়েদ মানাত ইবনে তামীম। আর রাবীআহ গোত্রে রয়েছে জাদ্দান...»
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
[بفتح الجيم ودال مشددة] بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار. وفي أسد بن خزيمة خدّان [بخاء معجمة من فوق ودال مشددة] بن عامر ابن هر بن مالك بن الحارث بن سعد بن ثعلبة بن دودان بن أسد. وفي همدان ذو حدان [بفتح الحاء المهملة وضمها] بن شراحيل بن ربيعة بن جشم بن حاشد بن جشم بن خيوان بن نوف بن اوسلة وهو همدان» نعم ان هذا ليس على الطريقة التي عرفنا بها الفن لكنه يفيد في تصحيح النسب وإثباتها باستنباط قريب فمن عرفنا انه خدانى عرفنا انه ربعي وأسدى وغير ذلك، ومن عرفنا انه من أسد بن ربيعة ووجدنا في صفته «الجدانى» عرفنا ان الصواب «الخدانى» وإذا وجدنا في وصف رجل محققا «الجدانى» بالجيم أو «الخدانى» بالمعجمة أو «الحداني» بالمهملة ووجدنا في وصفه أيضا «الأسدي» فإننا نعلم في الأول ان «الأسدي» بفتح السين وأنها إلى أسد بن ربيعة، وفي الثاني بالفتح أيضا وأنها إلى أسد بن خزيمة، وفي الثالث بسكون السين وأنها نسبة إلى الأسد لغة في الأزد وقس على هذا، وعلى كل حال فإذا صح عده في كتب الفن فهو في ضرب خاص كما لا يخفى.
ثم تلاه الحافظ عبد الغنى بن سعيد الأزدي المصري (332 - 409) ألف فيه كتابه في مشتبه النسبة وهو ضرب خاص من هذا الفن أيضا وتلاه جماعة كما بينته في مقدمة الإكمال.
وألف الحافظ محمد بن طاهر المقدسي (448 - 507) كتاب (الأنساب 20 المتفقة في الخط المتماثلة في النقط) وقد طبع ولم أره وهو في ضرب
[জীম-এর যবর এবং দাল-এর তাশদীদ সহযোগে] ইবনে জাদীলা ইবনে আসাদ ইবনে রাবী'আ ইবনে নিযার। এবং আসাদ ইবনে খুযাইমাহ গোত্রে খাদ্দান [উপরে নুক্তাযুক্ত খা এবং দাল-এর তাশদীদ সহযোগে] ইবনে আমির ইবনে হার ইবনে মালিক ইবনে হারিস ইবনে সা'দ ইবনে সা'লাবাহ ইবনে দাওদান ইবনে আসাদ বিদ্যমান। এবং হামদান গোত্রে রয়েছে যু হাদ্দান [নুক্তাবিহীন হা-এর যবর অথবা পেশ সহযোগে] ইবনে শারাহিল ইবনে রাবী'আ ইবনে জাশম ইবনে হাশেদ ইবনে জাশম ইবনে খায়ওয়ান ইবনে নাওফ ইবনে আওসালাহ, আর সে-ই হামদান। হ্যাঁ, এটি এই শাস্ত্রের পরিচিত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত নয়, তবে এটি নিকটবর্তী অনুমানের মাধ্যমে বংশপরম্পরা সংশোধন ও প্রমাণের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ। সুতরাং যার সম্পর্কে আমরা জানলাম যে সে 'খাদ্দানী', আমরা বুঝতে পারলাম যে সে রাবী'ঈ এবং আসাদী ইত্যাদি। আর যার সম্পর্কে আমরা জানলাম যে সে আসাদ ইবনে রাবী'আ গোত্রের এবং তার পরিচয়ে 'আল-জাদ্দানী' পেলাম, তবে আমরা জানলাম যে সঠিক হলো 'আল-খাদ্দানী'। আর যদি আমরা কোনো ব্যক্তির সুনিশ্চিত পরিচয়ে জীম সহযোগে 'আল-জাদ্দানী' অথবা নুক্তাযুক্ত খা সহযোগে 'আল-খাদ্দানী' অথবা নুক্তাবিহীন হা সহযোগে 'আল-হাদ্দান' পাই এবং তার বর্ণনায় 'আল-আসাদী' শব্দটিও পাই, তবে আমরা প্রথম ক্ষেত্রে জানব যে 'আল-আসাদী' শব্দটি সীন-এর যবর সহযোগে এবং এটি আসাদ ইবনে রাবী'আ-এর সাথে সম্পর্কিত। দ্বিতীয় ক্ষেত্রেও সীন-এর যবর সহযোগে এবং এটি আসাদ ইবনে খুযাইমাহ-এর সাথে সম্পর্কিত। আর তৃতীয় ক্ষেত্রে সীন-এর সুকুন সহযোগে এবং এটি 'আল-আসাদ' শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত যা 'আল-আযদ' শব্দের একটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপ। এর ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য বিষয় অনুমান করে নিতে হবে। যাই হোক, যদি শিল্পতত্ত্বের গ্রন্থসমূহে একে গণ্য করা সঠিক হয়, তবে তা একটি বিশেষ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যা গোপন নয়।
অতঃপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন হাফেজ আবদুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আযদি আল-মিসরি (৩৩২ - ৪০৯ হিজরি); তিনি এতে বংশপরম্পরার সাদৃশ্য (মুশতাবিহুন নিসবাহ) বিষয়ে তাঁর গ্রন্থ রচনা করেন, যা এই শাস্ত্রের একটি বিশেষ শাখা। অতঃপর একদল আলেম তাঁর অনুসরণ করেন, যেমনটি আমি 'আল-ইকমাল'-এর ভূমিকায় বর্ণনা করেছি।
এবং হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি (৪৪৮ - ৫০৭ হিজরি) 'আল-আনসাব আল-মুত্তাফিকা ফিল খাত্তি আল-মুতামাছিলা ফিন নুকাত' (লেখায় অভিন্ন এবং নুক্তায় সাদৃশ্যপূর্ণ বংশনামসমূহ) নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এটি মুদ্রিত হয়েছে তবে আমি তা দেখিনি, এবং এটি একটি বিশেষ প্রকারের...
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
خاص أيضا وثم ضرب خاص رابع يذكره أهل المصطلح وهو (المنسوبون على خلاف الظاهر) اى مثل (التيمي) وليس من بنى تيم ولكنه جاورهم و (الحذاء) ولم يكن من الحذائين ولكن جالسهم ونحو ذلك وأول مؤلّف
(1) في مطلق النسبة أعلمه هو أبو محمد عبد اللَّه بن علي ابن عبد اللَّه الرشاطى (466 - 542) ألف كتابه (اقتباس الأنوار) توجد من مختصره لأبى محمد عبد اللَّه بن عبد الرحمن الإشبيلي نسخة ناقصة في مكتبة الأزهر، واختصره أيضا مجد الدين إسماعيل بن إبراهيم البلبيسي (728 - 802) وسمى مختصره (القبس) ثم جمع بين هذا المختصر وبين لباب ابن الأثير، وعندي نسخة مصورة من نسخة هذا الجامع وهي بخط مؤلفه وقد شرحت بعض حالها في مقدمة الإكمال، وفي خطبته «
… وبعد فانى لما اختصرت كتاب أبى محمد الرشاطى وسميته القبس
--------------------------------------------
এটিও বিশেষ প্রকারের এবং এরপর চতুর্থ একটি বিশেষ প্রকার রয়েছে যা পরিভাষা শাস্ত্রবিদগণ উল্লেখ করেছেন। তা হলো (প্রকাশ্য অবস্থার বিপরীতে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিগণ), অর্থাৎ যেমন (আত-তাইমী), অথচ তিনি বনু তাইম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তাদের প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করেছেন এবং (আল-হাজ্জা), অথচ তিনি পাদুকা প্রস্তুতকারকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, বরং তাদের সাথে বসতেন; এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। সাধারণভাবে সম্বন্ধ (নিসবাহ) বিষয়ে আমার জানা মতে প্রথম গ্রন্থকার
(১) হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ আল-রাশাতি (৪৬৬ - ৫৪২ হিজরি)। তিনি তাঁর (ইকতিবাস আল-আনওয়ার) গ্রন্থটি রচনা করেছেন। আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-ইশবিলী কর্তৃক প্রণীত এর একটি সংক্ষিপ্তসার আল-আযহার পাঠাগারে একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি হিসেবে বিদ্যমান আছে। মাজদুদ্দীন ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম আল-বিলবাইসিও (৭২৮ - ৮০২ হিজরি) এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং তার সংক্ষিপ্তসারটির নাম রেখেছেন (আল-কাবাস)। অতঃপর তিনি এই সংক্ষিপ্তসার এবং ইবনুল আসিরের লুবাব গ্রন্থটির মধ্যে সমন্বয় করেছেন। আমার নিকট এই সংকলনটির একটি ফটোকপি সংস্করণ রয়েছে যা স্বয়ং লেখকের হস্তলিপিতে লিখিত। আমি আল-ইকমাল গ্রন্থের ভূমিকায় এর কিছু অবস্থা বর্ণনা করেছি। এবং তাঁর ভূমিকার মধ্যে রয়েছে «
… অতঃপর, আমি যখন আবু মুহাম্মদ আল-রাশাতির গ্রন্থটি সংক্ষেপ করলাম এবং এর নাম রাখলাম আল-কাবাস
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
واستعنت على ضبط بعض الأسماء وأكثر الأنساب بكتاب اللباب لأبى الحسن ابن الأثير الجزري رحمهما اللَّه وجدتهما قد اجتمعا على تراجم، وانفرد كل منهما بآخر، وإذا اجتمعا على ترجمة تارة يتفقان على من سمى فيها وتارة يختلفان
… وكل من الكتابين محتاج اليه ومعول في هذا الفن عليه، فأحببت ان اجمع بينهما ليستغني الناظر في هذا الكتاب عن النظر في كتابين كبير حجمهما» هذا آخر الموجود من الخطبة وسقط باقيها من النسخة، ولم يذكر ما سمى به هذا الجامع وفي فهرس المخطوطات المصورة انه سماه (القبس) وأنا كذا اسميه على ما فيه.
أنساب السمعانيكتاب الأنساب لأبى سعد السمعاني هو بحق الكتاب الوحيد الجامع في هذا الفن جمع فيه عامة ما ظفر به من النسب مطلقا بل زاد فاستنبط عدة منها أطلقها على جماعة يصح ان تطلق عليهم لكنهم لم يعرفوا بها. وسترى الإشارة إلى ذلك في مواضع، وزاد أيضا جملة من الألقاب والأوصاف التي لا يسميها أهل العربية (نسبة) كما سترى ذلك في مواضعه ولم يقتصر في كل نسبة على ذكر شخص واحد تطلق عليه حيث وجد غيره بل يزيد على ذلك كثيرا. ولم يقتصر في ذكر الرجل على أقل تعريف به بل يسوق له ترجمة مفيدة قد تطول في كثير من المواضع.
وهذان الأمران هما اللذان سطا عليهما صاحب اللباب فأسقطهما من مختصره فذهب بمعظم فائدة الكتاب.
الكتب التي تلتهنعرف منها اللباب لأبى الحسن علي بن محمد بن محمد بن
আমি কিছু নাম এবং অধিকাংশ বংশপরম্পরা সঠিকভাবে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আবুল হাসান ইবনুল আসির আল-জাযারির—আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন—'আল-লুবাব' কিতাবের সাহায্য নিয়েছি। আমি দেখেছি যে তারা উভয় (লেখক) কিছু জীবনীর ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন এবং প্রত্যেকেই কিছু স্বতন্ত্র জীবনী উল্লেখ করেছেন। যখন তারা কোনো জীবনীর ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন, তখন কখনও কখনও সেখানে উল্লিখিত ব্যক্তিদের নামের ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং কখনও কখনও ভিন্নমত পোষণ করেছেন
… আর এই উভয় কিতাবই প্রয়োজনীয় এবং এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এগুলোর ওপরই নির্ভর করা হয়। তাই আমি উভয়কে একত্রিত করা পছন্দ করেছি, যাতে এই কিতাব পাঠকারীকে বড় আকারের দুটি কিতাব দেখার প্রয়োজন না হয়।" এটিই ভূমিকা থেকে প্রাপ্ত শেষ অংশ এবং পাণ্ডুলিপির বাকি অংশ হারিয়ে গিয়েছে। এই সংকলক এই কিতাবটির কী নাম রেখেছেন তা তিনি উল্লেখ করেননি, তবে ছবিযুক্ত পাণ্ডুলিপির তালিকায় দেখা যায় যে তিনি এর নাম রেখেছেন 'আল-কাবাস' এবং এর বিষয়বস্তু অনুযায়ী আমিও একে এই নামেই অভিহিত করছি।
সাম'আনির আনসাবআবু সা'দ আস-সাম'আনির 'আল-আনসাব' কিতাবটি প্রকৃতপক্ষে এই শাস্ত্রের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ কিতাব। এতে তিনি সাধারণভাবে প্রাপ্ত বংশপরম্পরার প্রায় সবকিছুই সংগ্রহ করেছেন। বরং তিনি আরও অগ্রসর হয়ে এমন কিছু বংশনাম উদ্ভাবন করেছেন এবং সেগুলোকে এমন এক জনগোষ্ঠীর ওপর প্রয়োগ করেছেন যাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হওয়া সঠিক ছিল, কিন্তু তারা সেসব নামে পরিচিত ছিল না। আপনি বিভিন্ন স্থানে এর ইঙ্গিত দেখতে পাবেন। এছাড়াও তিনি এমন কিছু উপাধি ও গুণাবলি যোগ করেছেন যেগুলোকে আরবি ভাষাবিদগণ 'নিসবত' (বংশীয় বা আঞ্চলিক সম্বন্ধ) বলেন না, যা আপনি স্ব-স্ব স্থানে দেখতে পাবেন। তিনি প্রতিটি নিসবতের ক্ষেত্রে কেবল একজন ব্যক্তির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি যাকে ওই নামে অভিহিত করা যায়, বরং যেখানে অন্য ব্যক্তি পাওয়া গেছে সেখানে তিনি আরও অধিক বর্ণনা যোগ করেছেন। আর তিনি কোনো ব্যক্তির বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবল ন্যূনতম পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তার জন্য একটি ফলপ্রসূ জীবনী উপস্থাপন করেছেন যা অনেক স্থানে দীর্ঘ হয়েছে। আর এই দুটি বিষয়ই 'আল-লুবাব' এর লেখক তার সংক্ষিপ্তসার থেকে বর্জন করেছেন, যার ফলে মূল কিতাবটির অধিকাংশ উপকারিতা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
পরবর্তী কিতাবসমূহএগুলোর মধ্যে আমরা আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন... এর 'আল-লুবাব' সম্পর্কে জানি।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأثير (555 - 630) وهو مختصر لكتاب السمعاني أسقط أكثر أسماء الأشخاص واختصر أكثر التراجم ونبه على الأوهام اليسيرة وزاد زيادات ليست بالكثيرة وسننبه على فوائده في التعليق على الأنساب ان شاء اللَّه وعندي منه النسخة المطبوعة ونسختان مخطوطتان في مكتبة الحرم المكيّ غير كاملتين، والقبس بمثابة نسخة رابعة.
ثم تلاه قطب الدين محمد بن محمد بن عبد اللَّه الخيضرى الدمشقيّ الشافعيّ (821 - 894) فألف (الاكتساب في تلخيص كتب الأنساب) قالوا «لخص فيه أنساب السمعاني وضم اليه ما عند ابن الأثير والرشاطى» يوجد منه الجزء الثالث فقط كما في فهرس المخطوطات المصورة.
اما لب السيوطي وما تلاه فحسبها هذه الإشارة. ومعجم البلدان لياقوت الحموي (577 تقديرا - 626) عظيم الفائدة في النسب إلى البلدان ومما ينبغي تحقيقه انه يكثر جدا موافقة لفظه في تلخيص عبارة الأنساب للفظ اللباب وعاش ياقوت شطر عمره الأخير في حلب وكان صاحب اللباب، يتردد إليها وكان ياقوت خبيرا بكتب أبى سعد فإنه ينقل من الأنساب كثيرا مما ليس في اللباب وينقل أيضا من التحبير وغيره وقد عاش مدة طويلة بجوار مكتبات السمعانيين وغيرها من مكتبات مرو وصرح بأن أكثر فوائد كتابه منها ويستوقف النظر من تلخيصهما انهما كثيرا ما يتوقيان ذكر الأسماء الغريبة وقد يكون ذلك مما يسميه العصريون التهرب من المشاكل وعلى كل حال فليس هناك ما يغنى عن كتاب
ابن السمعاني ولا يقارب.
আল-আসির (৫৫৫ - ৬৩০), যা আল-সাম'আনির গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ; তিনি এতে অধিকাংশ ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়েছেন এবং অধিকাংশ জীবনী সংক্ষিপ্ত করেছেন। তিনি সামান্য ভুলত্রুটিগুলো সম্পর্কে সচেতন করেছেন এবং খুব বেশি নয় এমন কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন। ইনশাআল্লাহ 'আল-আনসাব'-এর ওপর টীকায় আমরা এর উপকারিতাগুলো উল্লেখ করব। আমার কাছে এর একটি মুদ্রিত কপি এবং মক্কার হারম লাইব্রেরিতে দুটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি রয়েছে, আর 'আল-কাবাস' চতুর্থ পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য।
অতঃপর কুতুবুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খাইদারি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি (৮২১ - ৮৯৪) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং 'আল-ইকতিসাব ফি তালখিস কুতুবিল আনসাব' রচনা করেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে, 'তিনি এতে আল-সাম'আনির আনসাবকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এতে ইবনুল আসির ও আর-রাশাতির সংগৃহীত তথ্যসমূহ যুক্ত করেছেন।' চিত্রিত পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগ অনুযায়ী এর কেবল তৃতীয় খণ্ডটি বিদ্যমান।
আর সুয়ুতির 'লুব্ব' এবং এর পরবর্তী কাজগুলোর জন্য এই ইঙ্গিতটুকুই যথেষ্ট। ইয়াকুত আল-হামাভির (আনুমানিক ৫৭৭ - ৬২৬) 'মু'জামুল বুলদান' দেশভিত্তিক বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ। একটি বিষয় যা যাচাই করা প্রয়োজন তা হলো, 'আল-আনসাব'-এর বর্ণনা সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে এর শব্দাবলি প্রায়শই 'আল-লুবাব'-এর শব্দের সাথে হুবহু মিলে যায়। ইয়াকুত তাঁর জীবনের শেষ অর্ধাংশ হালাবে অতিবাহিত করেছেন এবং 'আল-লুবাব'-এর লেখক সেখানে যাতায়াত করতেন। ইয়াকুত আবু সা'দের কিতাবসমূহ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ছিলেন, কারণ তিনি 'আল-আনসাব' থেকে এমন অনেক কিছু উদ্ধৃত করেছেন যা 'আল-লুবাব'-এ নেই। এছাড়াও তিনি 'আত-তাহবির' ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি মার্ভের সাম'আনি পরিবার ও অন্যান্য লাইব্রেরির সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর গ্রন্থের অধিকাংশ তথ্যভাণ্ডার সেখান থেকেই সংগৃহীত। তাঁদের উভয়ের সংক্ষিপ্তকরণ প্রক্রিয়ায় একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, তাঁরা প্রায়শই অপরিচিত নামগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন; আধুনিক গবেষকরা সম্ভবত একে 'ঝামেলা এড়িয়ে চলা' হিসেবে অভিহিত করবেন। তবে যাই হোক না কেন, এমন কোনো কিতাব নেই যা বিকল্প হতে পারে
ইবনে আল-সাম'আনির কিতাবের, আর কোনো কিতাব এর সমকক্ষও নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ابن السمعانيينبغي ان نقدم هنا ذكر سلفه وحسبي ان أسوق ما قاله هو في رسم (السمعاني) من الأنساب قال: «السّمعانيّ - بفتح السين المهملة وسكون الميم وفتح العين المهملة وفي آخرها النون، وهو اسم لبعض أجداد المنتسب اليه، وأما سمعان الّذي ننتسب اليه فهو بطن من تميم، هكذا سمعت سلفي يذكرون ذلك فأول من حدث من سلفنا
… ثم القاضي الإمام أبو منصور محمد بن عبد الجبار بن أحمد بن محمد بن جعفر بن أحمد بن عبد الجبار بن الفضل بن الربيع بن مسلم بن عبد اللَّه السمعاني التميمي، كان اماما فاضلا ورعا متقنا، احكم العربية واللغة وصنف فيها التصانيف المفيدة
… وولداه: أبو القاسم على وأبو المظفر منصور - جدي، اما أبو القاسم علي بن محمد بن عبد الجبار السمعاني [الحنفي] فكان فاضلا عالما ظريفا كثير المحفوظ. خرج إلى كرمان وحظي عند ملكها وصاهر الوزير بها ورزق الأولاد، وكان قد سمع مع والده من شيوخه، ولما انتقل اخوه جدنا الإمام أبو المظفر من مذهب أبى حنيفة إلى مذهب الشافعيّ رحمهما اللَّه هجره اخوه أبو القاسم وأظهر الكراهة وقال: خالفت مذهب الوالد وانتقلت عن مذهبه! فكتب كتابا إلى أخيه وقال: ما تركت المذهب الّذي كان عليه والدي رحمه الله في الأصول بل انتقلت عن مذهب القدرية فان أهل مرو صاروا في أصول اعتقادهم إلى رأى أهل القدر، وصنف كتابا يزيد على عشرين جزءا في الرد على القدرية وهداه اليه فرضى عنه وطاب قلبه ونفّذ ابنه ابا العلاء علي بن علي السمعاني اليه للتفقه
ইবনুল সামআনিএখানে তার পূর্বসূরিদের আলোচনা পেশ করা সমীচীন হবে এবং 'আল-আনসাব' গ্রন্থে 'সামআনি' শব্দের সংজ্ঞায় তিনি যা বলেছেন তা উদ্ধৃত করাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেছেন: «সামআনি - সীন বর্ণে ফাতহাহ (যবর), মীম বর্ণে সুকুন এবং আইন বর্ণে ফাতহাহ যোগে এবং এর শেষে নূন রয়েছে। এটি তার জনৈক পূর্বপুরুষের নাম যার দিকে তাকে সম্বন্ধ করা হয়। আর আমরা যে সামআনের বংশধর, সেটি তামীম গোত্রের একটি শাখা। এভাবেই আমি আমার পূর্বসূরিদের বলতে শুনেছি। আমাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন
… এরপর আল-কাদি আল-ইমাম আবু মানসুর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল জব্বার বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন আহমাদ বিন আব্দুল জব্বার বিন আল-ফাদল বিন আর-রাবি বিন মুসলিম বিন আব্দুল্লাহ আল-সামআনি আত-তামিমি। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ইমাম, পরহেজগার ও অত্যন্ত নিখুঁত পণ্ডিত। তিনি আরবি সাহিত্য ও ভাষাবিজ্ঞানে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন এবং এতে বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন
… তার দুই পুত্র ছিল: আবুল কাসিম আলী এবং আবুল মুজাফফর মানসুর - যিনি আমার দাদা। আবুল কাসিম আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল জব্বার আল-সামআনি [হানাফি] ছিলেন একজন বিদগ্ধ, জ্ঞানী ও মিষ্টভাষী পণ্ডিত এবং তার স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর। তিনি কিরমান সফর করেন এবং সেখানকার বাদশাহর নিকট বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। তিনি সেখানকার উজিরের জামাতা হন এবং তার সন্তানাদি হয়। তিনি তার পিতার সাথে তৎকালীন শায়খদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছিলেন। যখন তার ভাই আমাদের দাদা ইমাম আবুল মুজাফফর আবু হানীফার মাযহাব ছেড়ে ইমাম শাফিঈর মাযহাবে (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন) স্থানান্তরিত হলেন, তখন তার ভাই আবুল কাসিম তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন: 'তুমি পিতার মাযহাবের বিরোধিতা করলে এবং তার মাযহাব থেকে সরে গেলে!' তখন তিনি (আবুল মুজাফফর) তার ভাইয়ের নিকট একটি কিতাব লিখলেন এবং বললেন: 'আমি আকিদার মূলনীতিতে আমার পিতার (রহিমাহুল্লাহ) অনুসৃত পথ পরিত্যাগ করিনি, বরং আমি কাদারিয়াদের মতবাদ ত্যাগ করেছি। কারণ মার্ভের অধিবাসীরা তাদের বিশ্বাসের মূলনীতিতে কাদারিয়াদের মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল।' তিনি কাদারিয়াদের খণ্ডনে বিশ খণ্ডেরও অধিক একটি কিতাব রচনা করেন। এটি তাকে সঠিক পথের দিশা দেয় এবং এতে তার ভাই সন্তুষ্ট হন ও তার মন শান্ত হয়। অতঃপর তিনি তার পুত্র আবুল আলা আলী বিন আলী আল-সামআনিকে তার নিকট ইলম অর্জনের জন্য পাঠান।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
عليه فأقام عنده مدة يتعلم ويتدرس الفقه وسمع الحديث من أبى الخير محمد بن موسى بن عبد اللَّه الصفار المعروف بابن أبى عمران رواية صحيح البخاري عن أبي الهيثم الكشميهني ورجع إلى كرمان، ولما مات والده فوض اليه ما كان إلى والده من المدرسة وغيرها، ورزق أبو العلاء الأولاد وإلى الساعة له بكرمان ونواحيها أولاد فضلاء علماء وجدنا الإمام أبو المظفر منصور بن محمد بن عبد الجبار السمعاني امام عصره بلا مدافعة وعديم النظر في فنه ولا أقدر على أن أصف بعض مناقبه ومن طالع تصانيفه وأنصف عرف محلّه من العلم، صنف التفسير الحسن المليح الّذي استحسنه كل من طالعة، وأملى المجالس في الحديث وتكلم على كل حديث بكلام مفيد، وصنف التصانيف في الحديث مثل منهاج أهل السنة والانتصار والرد على القدرية وغيرها، وصنف في أصول الفقه القواطع وهو مغن عما صنّف في ذلك الفن وفي الخلاف البرهان وهو مشتمل على قريب من ألف مسألة خلافية والأوساط والمختصر الّذي سار في الآفاق والأقطار الملقب بالاصطلام، وردّ فيه على أبى زيد الدبوسي وأجاب عن الأسرار التي جمعها، وكان فقيها مناظرا، فانتقل بالحجاز في سنة اثنتين وستين وأربعمائة إلى مذهب الشافعيّ رحمه الله وأخفى ذلك وما أظهره إلى أن وصل إلى مرو، وجرى به في الانتقال محن ومخاصمات وثبت على ذلك ونصر ما اختاره، وكان مجالس وعظه كثير النكت والفوائد.
سمع الحديث. الكثير في صغره وكبره وانتشرت عنه الرواية وكثر أصحابه وتلامذته وشاع ذكره سمع بمرو أباه وأبا غانم أحمد بن علي بن
তাঁর নিকট তিনি একটি সময় অবস্থান করে ফিকহ শিক্ষা ও চর্চা করেন এবং আবু আল-খায়র মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে আব্দুল্লাহ আল-সাফফার—যিনি ইবনে আবি ইমরান নামে পরিচিত—তাঁর নিকট থেকে আবু আল-হাইসাম আল-কুশমিহানি সূত্রে বর্ণিত সহীহ বুখারীর শ্রবণ সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি কিরমানে ফিরে যান। যখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর পিতার পরিচালনাধীন মাদ্রাসা ও অন্যান্য বিষয়ের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়। আবু আল-আলা সন্তানাদি লাভ করেন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত কিরমান ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাঁর অনেক গুণী ও আলিম বংশধর রয়েছেন। আমরা ইমাম আবু আল-মুজাফফর মানসুর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-সামআনীকে পেয়েছি, যিনি ছিলেন কোনো প্রকার বিতর্ক ছাড়াই তাঁর যুগের ইমাম এবং আপন বিদ্যায় অনন্য। তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করার সামর্থ্য আমার নেই। যে ব্যক্তি তাঁর রচনাবলি পাঠ করবে এবং ইনসাফ করবে, সে ইলমের ময়দানে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার একটি তাফসীর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা প্রত্যেক পাঠকই পছন্দ করেছেন। তিনি হাদিসের মজলিস পরিচালনা করতেন এবং প্রত্যেক হাদিসের ওপর অত্যন্ত উপকারী আলোচনা পেশ করতেন। হাদিসের বিষয়ে তিনি 'মিনহাজু আহলিস সুন্নাহ', 'আল-ইনতিসার', 'আর-রাদ্দু আলাল কাদারিয়্যাহ' এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। উসুলে ফিকহ শাস্ত্রে তিনি 'আল-কাওয়াতি' রচনা করেছেন, যা এই বিষয়ে রচিত অন্যান্য গ্রন্থ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। ইখতিলাফী মাসআলার ওপর তিনি 'আল-বুরহান' রচনা করেছেন যা প্রায় এক হাজার ইখতিলাফী মাসআলা সম্বলিত। এছাড়া 'আল-আওসাত' এবং সেই সংক্ষিপ্তসার যা বিভিন্ন দিগন্ত ও জনপদে খ্যাতি লাভ করেছে এবং 'আল-ইসতিহলাম' নামে পরিচিত। এতে তিনি আবু যায়েদ আদ-দাব্বুসীকে খণ্ডন করেছেন এবং তিনি যে 'আল-আসরার' সংকলন করেছিলেন তার জবাব দিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ফকিহ ও দক্ষ তার্কিক। অতঃপর ৪৬২ হিজরি সনে হিজাজ ভূমিতে অবস্থানকালে তিনি শাফিঈ মাযহাব গ্রহণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এবং মার্ভে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তা প্রকাশ করেননি। এই মাযহাব পরিবর্তনের কারণে তাঁকে অনেক পরীক্ষা ও বিবাদের সম্মুখীন হতে হয়, কিন্তু তিনি তাতে অটল থাকেন এবং তাঁর মনোনীত মতাদর্শকে বিজয়ী করেন। তাঁর ওয়াযের মজলিসগুলো প্রচুর সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও উপকারে ভরপুর ছিল।
তিনি শৈশব ও বার্ধক্যে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তাঁর সঙ্গী ও ছাত্রদের সংখ্যা অনেক ছিল এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি মার্ভ শহরে তাঁর পিতা এবং আবু গানিম আহমদ ইবনে আলী ইবনে... এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحسين الكراعي وأبا بكر محمد بن عبد الصمد الترابي المعروف بابن أبى الهيثم وجماعة كثيرة بخراسان والعراق وجرجان والحجاز، وقد جمع الأحاديث الألف الحسان عن مسموعاته عن مائة شيخ له عن كل شيخ عشرة أحاديث، أدركت جماعة من أصحابه وتفقهت على صاحبيه أبى حفص عمر بن محمد بن علي السرخسي وأبي إسحاق إبراهيم بن أحمد بن محمد المروروذي - واللَّه يرحمهما. وروى لي عنه الحديث أبو نصر محمد بن محمد ابن يوسف الفاشانى بمرو وأبو القاسم الجنيد بن محمد بن علي القائني بهراة وأبو طاهر محمد بن أبي بكر السنجي ببلخ وأبو بكر أحمد بن محمد بن بشار الجزجردى بنيسابور وأبو البدر حسان بن كامل بن صخر القاضي بطوس وأبو منصور محمود بن أحمد بن عبد المنعم بن ماشاذة بأصبهان وجماعة كثيرة تزيد على خمسين نفرا، وكانت ولادته في ذي الحجة سنة ست وعشرين وأربعمائة، وتوفى يوم الجمعة الثالث والعشرين من شهر ربيع الأول سنة تسع وثمانين وأربعمائة ودفن بأقصى سجذان احدى مقابر مرو، ورزق من الأولاد خمسة: أبو بكر محمد - والدي، وأبو محمد الحسن، وأبو القاسم احمد، وابن رابع وبنت ماتا عقب موته بمدة يسيرة.
فأما والدي [الإمام] أبو بكر محمد بن منصور بن محمد بن عبد الجبار السمعاني رحمة اللَّه عليه ابن ابنه وكان والده يفتخر به ويقول على رؤوس الأشهاد في مجلس الإملاء: ابني محمد اعلم منى وأفضل منى، تفقه عليه وبرع في الفقه وقرأ الأدب على جماعة وفاق اقرانه وقرض الشعر المليح وغسله في آخر أيامه وشرع في عدة مصنف ما تمم شيئا منها
আল-হুসাইন আল-কারাঈ, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল সামাদ আল-তুরাবী (যিনি ইবনুল আবিল হাইসাম নামে পরিচিত) এবং খুরাসান, ইরাক, জুরজান ও হিজাজের এক বিশাল জামাত। তিনি তাঁর একশত শাইখের নিকট থেকে শ্রবণকৃত বর্ণনার মধ্য থেকে এক হাজার উত্তম হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন; প্রত্যেক শাইখ থেকে দশটি করে হাদিস। আমি তাঁর একদল সঙ্গীর সাক্ষাৎ পেয়েছি এবং তাঁর দুই সঙ্গী আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সারখাসি ও আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মারওয়ারুজি-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছি—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন। মার্ভে আবু নাসর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফাশানি, হেরাতে আবুল কাসিম আল-জুনায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-কায়িনি, বালখে আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আস-সানজি, নিশাপুরে আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বাশার আল-জুযাজারদি, তূসে আবু আল-বদর হাসসান ইবনে কামিল ইবনে সাখর আল-কাদি, আসফাহানে আবু মানসুর মাহমুদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদিল মুনইম ইবনে মাশাযাহ এবং পঞ্চাশ জনেরও বেশি এক বিশাল জামাত আমার নিকট তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল চারশত ছাব্বিশ হিজরি সনের জিলহজ মাসে, এবং তিনি চারশত উননব্বই হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের তেইশ তারিখ শুক্রবার মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মার্ভের অন্যতম কবরস্থান আকসা সাজযানে দাফন করা হয়। তিনি পাঁচজন সন্তান রেখে যান: আবু বকর মুহাম্মাদ—যিনি আমার পিতা, আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান, আবুল কাসিম আহমদ এবং চতুর্থ এক পুত্র ও এক কন্যা যারা তাঁর মৃত্যুর অল্পকাল পরেই মারা যান।
আর আমার পিতা [ইমাম] আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সামআনী (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), তিনি ছিলেন তাঁর পৌত্র (পুত্রের পুত্র)। তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেন এবং ইমলা মজলিসে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে উচ্চকণ্ঠে বলতেন: "আমার পুত্র মুহাম্মাদ আমার চেয়েও বেশি জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ।" তিনি তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তাতে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি একদল উস্তাদের নিকট সাহিত্য পাঠ করেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। তিনি চমৎকার কবিতা রচনা করতেন, তবে জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি তা ধুয়ে ফেলেন (বিনাশ করেন) এবং তিনি বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা শুরু করলেও তার কোনোটিই সম্পন্ন করতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لأنه لم يمتع بعمره واستأثر اللَّه تعالى بروحه وقد جاوز الأربعين بقليل، سافر إلى العراق والحجاز ورحل إلى أصبهان لسماع الحديث وأدرك الشيوخ والأسانيد العالية وحصل النسخ والكتب وأملى مائة وأربعين مجلسا في الحديث، من طالعها عرف ان أحدا لم يسبقه إلى مثلها، سمع بمرو أباه وأبا الخير بن أبي عمران الصفار وأبا سعيد الطاهري وبنيسابور أبا الحسن علي بن أحمد المؤذن المديني وبهمدان أبا الحسن فيد بن عبد الرحمن الشعراني وببغداد ابا المعالي ثابت بن بندار البقال وبالكوفة ابا البقاء المعمر ابن محمد بن علي الكوفي الحبال وبمكة ابا شاكر أحمد بن محمد بن عبد العزيز العثماني وبأصبهان أبا بكر أحمد بن محمد بن أحمد بن موسى بن مردويه الحافظ وجماعة كثيرة من هذه الطبقة، كتب لي الإجازة بجميع مسموعاته وشاهدت خطه بذلك، وحدث بهراة: وكانت ولادته في جمادى الأولى سنة ست وستين وأربعمائة، وتوفى يوم الجمعة الثالث من صفر سنة عشر وخمسمائة ودفن عند والده، وكان شيخنا أبو الفتح محمد بن علي النطنزي إذا ذكره انشد:
زين الشباب أبو فراس
… لم يمتع بالشباب
وعمى الأكبر أبو محمد الحسن بن أبي المظفر السمعاني، كان اماما زاهدا ورعا كثير العبادة والتهجد نظيفا منورا مليح الشيبة منقبضا عن الخلق قلّ ما يخرج عن داره الا في أيام الجمع للصلاة، تفقه على والده وكان تلو والدي ورحمهم اللَّه وسمع معه الحديث - وظني انه ولد بعده بستين - وأفاده والدي عن جماعة من الشيوخ، ورحل معه إلى نيسابور، وسمع
কারণ তিনি তাঁর দীর্ঘ আয়ু লাভ করতে পারেননি এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর রূহ কবজ করে নিয়েছেন, তখন তিনি চল্লিশ বছর মাত্র সামান্য অতিক্রম করেছিলেন। তিনি হাদিস শ্রবণের উদ্দেশ্যে ইরাক ও হিজাজে সফর করেন এবং ইসফাহানে গমন করেন। সেখানে তিনি প্রবীণ শায়খদের সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং উচ্চতর সনদসমূহ হাসিল করেন। তিনি বহু পাণ্ডুলিপি ও কিতাব সংগ্রহ করেন এবং হাদিসের একশত চল্লিশটি মজলিস ইমলা করিয়েছেন; যে ব্যক্তি তা পাঠ করবে সে বুঝতে পারবে যে, এর আগে কেউ এমন কাজে তাঁর অগ্রগামী হতে পারেনি। তিনি মার্ভে তাঁর পিতা, আবু আল-খায়ের বিন আবি ইমরান আস-সাফফার এবং আবু সাঈদ আত-তাহিরির নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। নিশাপুরে আবুল হাসান আলী বিন আহমদ আল-মুয়াযযিন আল-মাদিনির নিকট; হামাদানে আবুল হাসান ফায়দ বিন আব্দুর রহমান আশ-শা’রানির নিকট; বাগদাদে আবুল মাআলি সাবিত বিন বুন্দার আল-বাক্কালের নিকট; কুফায় আবুল বাকা আল-মুয়াম্মার ইবনে মুহাম্মদ বিন আলী আল-কুফি আল-হাব্বালের নিকট; মক্কায় আবু শাকির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-উসমানির নিকট এবং ইসফাহানে হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুসা বিন মারদাওয়াইহ এবং এই স্তরের আরও বিশাল এক জামাতের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি তাঁর শ্রুত সকল বিষয়ের ওপর আমাকে ইজাজত লিখে দিয়েছিলেন এবং আমি তাতে তাঁর স্বহস্তে লেখা দেখেছি। তিনি হেরাতে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর জন্ম ছিল চারশত ছেষট্টি হিজরির জমাদিউল উলা মাসে এবং তিনি পাঁচশত দশ হিজরির ৩রা সফর জুমাবার ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর পিতার পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। আমাদের শায়খ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন আলী আন-নাতানজি যখনই তাঁর কথা স্মরণ করতেন, তখন এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন:
যৌবনের অলঙ্কার আবু ফরাস
… যৌবনকে তিনি উপভোগ করতে পারেননি।
আর আমার বড় চাচা আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আবি আল-মুজাফফর আস-সামআনি ছিলেন একজন ইমাম, দুনিয়াবিমুখ, মুত্তাকি, অত্যন্ত ইবাদতকারী ও তাহাজ্জুদগুজার, পরিচ্ছন্ন ও নূরানি চেহারার অধিকারী এবং সুন্দর শ্মশ্রুমণ্ডিত। তিনি মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতেন এবং জুমার নামায ছাড়া সাধারণত ঘর থেকে বের হতেন না। তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তিনি ছিলেন আমার পিতার পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন—এবং তিনি তাঁর সাথে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আমার ধারণা, তিনি তাঁর ষাট বছর পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমার পিতা তাঁকে একদল শায়খের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে নিশাপুরে সফর করেন ও সেখানে হাদিস শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بمرو أباه وأبا سعيد عبد اللَّه بن أحمد الطاهري وأبا القاسم إسماعيل بن محمد بن أحمد الزاهريّ وأبا محمد كامكار بن عبد الرزاق الأديب وأبا الفرج المظفر بن إسماعيل التميمي الجرجاني وبنيسابور أبا الحسن علي بن أحمد ابن محمد المديني وأبا إبراهيم محمد بن الحسين البالوي وأبا سعيد عبد الواحد ابن أبي القاسم القشيري وأبا على نصر اللَّه بن أحمد الخشنامى وجماعة سواهم، سمعت منه الكثير وكان يكرمني ويحبني وقرأت عليه الكتب المصنفة مثل كتاب الجامع لمعمر بن راشد وكتاب التاريخ لأحمد بن سيار والأمالي والانتصار والأحاديث الألف لجدي بروايته عنه وأمالي أبى زكريا المزكي وأبى القاسم السراج بروايته عن أبي الحسن المديني وأبى العباس عبد الصمد وغير ذلك من الأجزاء والفوائد، ورزق ثواب الشهداء في آخر عمره ودخل عليه اللصوص لوديعة كانت لإنسان عند زوجته وخنقوه ليلة الاثنين … سنة احدى وثلاثين وخمسمائة - واللَّه تعالى يرحمه، وصل الىّ نعيه وأنا بأصبهان وولده - ابن عمى - أبو منصور محمد بن الحسن السمعاني، كان شابا فاضلا ظريفا، قرأ الأدب وبرع فيه، وكانت له يد باسطة في الشعر باللسانين غير أنه اشتغل مما لم يشتغل سلفه من الجلوس مع الشبان والجرى في ميدانهم وموافقتهم فيما هم فيه - واللَّه تعالى يتجاوز عنا وعنه، سمعت من شعره الكثير: وتوفى بعد والده بسنتين واخترمته المنية في حال شبابه وما استكمل الأربعين وذلك ليلة عرفة من سنة ثلاث وثلاثين وخمسمائة وعمى الآخر الأصغر أستاذي ومن أخذت عنه الفقه وعلقت عليه الخلاف وبعض
মার্ভে তিনি তাঁর পিতা, আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আত-তাহিরি, আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আজ-জহিরি, আবু মুহাম্মদ কামকার ইবনে আব্দুর রাজ্জাক আল-আদিব এবং আবুল ফারাজ আল-মুজাফফর ইবনে ইসমাইল আত-তামিমি আল-জুরজানি থেকে (হাদিস) শুনেছেন। আর নিশাপুরে আবু হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদিনি, আবু ইব্রাহিম মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-বালুয়ি, আবু সাঈদ আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আবুল কাসিম আল-কুশায়রি, আবু আলী নাসরুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-খুশনামি এবং তাঁদের ছাড়া আরও একদল লোকের নিকট থেকে শুনেছেন। আমি তাঁর থেকে অনেক কিছু শুনেছি; তিনি আমাকে সম্মান করতেন ও ভালোবাসতেন। আমি তাঁর কাছে বিভিন্ন সংকলিত গ্রন্থ পাঠ করেছি, যেমন মা’মার ইবনে রশিদের ‘কিতাবুল জামি’, আহমদ ইবনে সাইয়্যারের ‘কিতাবুত তারিখ’, আল-আমালি, আল-ইনতিসার এবং আমার দাদার বর্ণিত এক হাজার হাদিস। এছাড়া আবু জাকারিয়া আল-মুজাক্কি এবং আবুল কাসিম আস-সাররাজের ‘আমালি’ যা তিনি আবু হাসান আল-মাদিনি ও আবুল আব্বাস আব্দুস সামাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এর বাইরেও অন্যান্য সংকলন ও ফাওয়াইদ পাঠ করেছি। তিনি তাঁর জীবনের শেষ ভাগে শহীদদের সওয়াব লাভ করেন। তাঁর স্ত্রীর কাছে জনৈক ব্যক্তির গচ্ছিত রাখা একটি আমানতের লোভে চোরেরা তাঁর ঘরে প্রবেশ করে এবং সোমবার রাতে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে … পাঁচশত একত্রিশ হিজরি সনে—আল্লাহ তায়ালা তাঁকে রহম করুন। আমি যখন ইস্পাহানে ছিলাম তখন তাঁর মৃত্যুসংবাদ আমার নিকট পৌঁছে। তাঁর পুত্র—আমার চাচাতো ভাই—আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আস-সামআনি, তিনি একজন বিদগ্ধ ও রুচিশীল যুবক ছিলেন। তিনি সাহিত্য অধ্যয়ন করেছেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। উভয় ভাষায় কবিতা রচনায় তাঁর অবাধ বিচরণ (হাত) ছিল, তবে তিনি এমন কিছু বিষয়ে লিপ্ত হয়েছিলেন যা তাঁর পূর্বসূরিরা করেননি, যেমন যুবকদের সাথে উঠাবসা এবং তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা—আল্লাহ তায়ালা আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন। আমি তাঁর থেকে প্রচুর কবিতা শুনেছি। তিনি তাঁর পিতার দুই বছর পর ইন্তেকাল করেন এবং যৌবনকালেই মৃত্যু তাঁকে ছিনিয়ে নেয়; তিনি চল্লিশ বছর পূর্ণ করতে পারেননি। তাঁর মৃত্যু হয় পাঁচশত তেত্রিশ হিজরি সনের আরাফাতের রাতে। আর আমার অপর ছোট চাচা, আমার উস্তাদ এবং যাঁর নিকট থেকে আমি ফিকহ গ্রহণ করেছি ও ইখতিলাফী মাসায়েল এবং কিছু অংশ লিপিবদ্ধ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المذهب أبو القاسم أحمد بن منصور السمعاني، كان اماما فاضلا عالما مناظرا مفتيا واعظا مليح الوعظ شاعرا حسن الشعر، له فضائل جمة ومناقب كثيرة، وكان حييا وقورا ثابتا حمولا صبورا. تفقه على والدي - رحمهما اللَّه - وأخذ عنه العلم وخلفه بعده فيما كان مفوضا اليه، سمع بمرو أخاه - والدي - وأبا محمد كامكار بن عبد الرزاق الأديب وأبا نصر محمد ابن محمد بن محمد الماهاني وطبقتهم، انتخبت عليه أوراقا وقرأت عليه عن شيوخه وخرجت معه إلى سرخس وانصرفنا إلى مرو وخرجنا في شوال سنة تسع وعشرين إلى نيسابور وكان خروجه بسببي لأني رغبت في الرحلة لسماع حديث مسلم بن الحجاج القشيري فسمع معي الصحيح وعزم على الرجوع إلى الوطن وتأخرت عنه مختفيا لأقيم بنيسابور بعد خروجه فصبر إلى أن ظهرت ورجعت معه إلى طوس وانصرفت باذنه إلى نيسابور ورجع هو إلى مرو وأقمت انا بنيسابور سنة وخرجت منها إلى أصبهان ولم أره بعد ذلك، وكانت ولادته في سنة سبع وثمانين وأربعمائة، وتوفى في الثالث والعشرين من شوال سنة اربع وثلاثين وخمسمائة. وصل إلى نعيه وأنا ببغداد وعقدنا له العزاء بها وأمة اللَّه حرة أختي، امرأة صالحة عفيفة كثيرة الدرس للقرآن مديمة للصوم راغبة في الخير وأعمال البر، حصل لها والدي الإجازة عن أبي غالب محمد بن الحسن الباقلاني البغدادي، قرأت عليها أحاديث وحكايات بإجازتها عنه. وكانت ولادتها في رجب من سنة احدى وتسعين وأربعمائة.
فهذه الجماعة الذين حدثوا من بيتنا - واللَّه تعالى يرحمهم».
আল-মাযহাব আবুল কাসিম আহমাদ ইবন মানসুর আস-সামআনি; তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ইমাম, ফাজিল, আলিম, তার্কিক, মুফতি, ওয়াজকার, মিষ্টভাষী উপদেশদাতা এবং চমৎকার কবি। তাঁর অসংখ্য গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত লজ্জাশীল, গম্ভীর, অবিচল, ধৈর্যশীল ও সহনশীল। তিনি আমার পিতার নিকট—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন—ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন, তাঁর কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং পিতার পরবর্তীকালে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি মার্ভ শহরে তাঁর ভাই—আমার পিতা—এবং আবু মুহাম্মদ কামকার ইবন আবদুর রাজ্জাক আল-আদিব ও আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ আল-মাহানি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আমি তাঁর কাছে কিছু পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করেছিলাম এবং তাঁর শিক্ষকদের সূত্রে তাঁর নিকট পাঠ করেছি। আমি তাঁর সাথে সারাখস-এ গিয়েছিলাম এবং সেখান থেকে আমরা মার্ভ-এ ফিরে আসি। অতঃপর পাঁচশ উনত্রিশ হিজরির শাওয়াল মাসে আমরা নিশাপুরের উদ্দেশ্যে বের হই। তাঁর এই সফরটি মূলত আমার কারণেই ছিল, কারণ মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরির হাদিস শোনার জন্য সফর করার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। তিনি আমার সাথে ‘সহিহ’ (মুসলিম) শ্রবণ করেন এবং স্বদেশে ফেরার সংকল্প করেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আমি নিশাপুরে অবস্থান করার জন্য তাঁর কাছ থেকে আত্মগোপন করে পিছিয়ে পড়ি। আমি প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত তিনি ধৈর্য ধারণ করলেন, অতঃপর আমি তাঁর সাথে তুস-এ ফিরে যাই। পরে তাঁর অনুমতিক্রমে আমি পুনরায় নিশাপুরে ফিরে আসি এবং তিনি মার্ভ-এ চলে যান। আমি নিশাপুরে এক বছর অবস্থান করি এবং সেখান থেকে ইসফাহানের উদ্দেশ্যে রওনা হই; এরপর তাঁর সাথে আর আমার দেখা হয়নি। তাঁর জন্ম হয়েছিল চারশ সাতাশি হিজরিতে এবং তিনি পাঁচশ চৌত্রিশ হিজরির তেইশে শাওয়াল ইন্তেকাল করেন। আমি যখন বাগদাদে ছিলাম, তখন তাঁর মৃত্যুসংবাদ আমার কাছে পৌঁছায় এবং আমরা সেখানে তাঁর শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করি। আর আমাতুল্লাহ হুররাহ আমার বোন; তিনি ছিলেন একজন নেককার ও সচ্চরিত্রা নারী, অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াতকারী, সর্বদা রোজা পালনকারী এবং কল্যাণকর ও পুণ্যময় কাজে আগ্রহী। আমার পিতা তাঁর জন্য আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-বাকিলানি আল-বাগদাদির নিকট থেকে ইজাজত সংগ্রহ করেছিলেন। আমি তাঁর কাছে তাঁর ইজাজতের ভিত্তিতে কিছু হাদিস ও কাহিনী পাঠ করেছি। তাঁর জন্ম হয়েছিল চারশ একানব্বই হিজরির রজব মাসে।
এঁরাই হলেন সেই ব্যক্তিবর্গ যারা আমাদের পরিবার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن أحبّ الزيادة في اخبارهم فليراجع تراجمهم في طبقات الشافعية وغيرها.
اسمه ونسبه وكنيته ولقبههو عبد الكريم بن محمد بن منصور بن محمد بن عبد الجبار بن أحمد بن محمد بن جعفر بن أحمد بن عبد الجبار بن الفضل بن الربيع بن مسلم بن عبد اللَّه، أبو سعد تاج الإسلام السمعاني المروزي، وسياق النسب بعد (جعفر) أثبته أبو سعد نفسه كما تقدم في ذكر سلفه وكذا أثبته زميله ابن عساكر كما في تقييد ابن نقطة وغيره، وذكر ابن نقطة ان يحيى بن مندة وشيرويه ساقا النسب إلى جعفر ثم قالا «بن سمعان» ولم يزيدا. قال المعلمي: ليس هذا بخلاف وإنما نسبا جعفرا إلى الجد الأعلى وهو (سمعان) الّذي ذكر أبو سعد عن أهله انه بطن من تميم، وليس معنى هذا انه بطن قديم معروف في الجاهلية فان علماء النسب لا يعرفون ذلك، وإنما سمعان واللَّه اعلم تميمي كان هو أو ابنه في زمن الصحابة وكان فيمن غزا مرو واستوطنها وكثر بنوه فنسبوا اليه وبذلك صار بطنا من تميم.
مولده ونشأتهولد بمرو يوم الاثنين الحادي والعشرين من شعبان سنة ست وخمسمائة، ومع أن والده لم يجاوز عمره حينئذ أربعين سنة وأربعة أشهر تقريبا فأحسبه كان يشعر بقرب موته فإنه سارع بإدراج اسم ابنه في سجل المحدثين فكان يحضره وهو ابن سنتين أو نحوها مجالس المحدثين ويكتب له ما املوه أو قرئ عليهم وهو حاضر ويثبت ذلك ويصححه ليكون أصلا يرجع اليه ولده ويروى منه إذا كبر ويأخذ له
যারা তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী, তারা যেন 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থে তাদের জীবনী দেখে নেন।
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং উপাধিতিনি হলেন আব্দুল কারীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে ফাদল ইবনে রাবি' ইবনে মুসলিম ইবনে আব্দুল্লাহ, আবু সা'দ তাজুল ইসলাম আস-সামআনি আল-মারওয়াযি। 'জাফর'-এর পরবর্তী বংশপরম্পরা আবু সা'দ নিজেই সাব্যস্ত করেছেন যেমনটি ইতিপূর্বে তাঁর পূর্বপুরুষদের বর্ণনায় গত হয়েছে। একইভাবে তাঁর সহকর্মী ইবনে আসাকিরও তা সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি ইবনে নুকতাহ ও অন্যদের 'তাকয়ীদ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে নুকতাহ উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ এবং শিরওয়াইহি বংশপরম্পরা জাফর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন এবং এরপর 'ইবনে সামআন' বলেছেন, এর অতিরিক্ত আর কিছুই উল্লেখ করেননি। আল-মুআল্লিমি বলেন: এটি কোনো মতভেদ নয়, বরং তাঁরা জাফরকে তাঁর ঊর্ধ্বসূরি 'সামআন'-এর দিকে নিসবত করেছেন। আবু সা'দ তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সামআন সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তামীম গোত্রের একটি শাখা। এর অর্থ এই নয় যে, এটি জাহেলি যুগে পরিচিত কোনো প্রাচীন শাখা ছিল, কারণ বংশবিদগণ সে সম্পর্কে অবগত নন। বরং সামআন—আল্লাহই ভালো জানেন—ছিলেন একজন তামীমি ব্যক্তি, তিনি অথবা তাঁর পুত্র সাহাবায়ে কেরামের যুগে মারওয় অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। এরপর তাঁর বংশধর বৃদ্ধি পেলে তাঁদেরকে তাঁর দিকেই নিসবত করা হতে থাকে এবং এভাবেই এটি তামীম গোত্রের একটি শাখায় পরিণত হয়।
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠাতিনি ৫০৬ হিজরি সনের ২১শে শাবান সোমবার মারওয় শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তখন তাঁর পিতার বয়স প্রায় চল্লিশ বছর চার মাসের বেশি ছিল না, তবুও আমার মনে হয় তিনি হয়তো তাঁর মৃত্যুর নিকটবর্তী হওয়ার কথা অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি দ্রুত তাঁর ছেলের নাম মুহাদ্দিসদের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করতে সচেষ্ট হন। তাঁর ছেলের বয়স যখন দুই বছর বা এর কাছাকাছি ছিল, তখন থেকেই তিনি তাকে মুহাদ্দিসদের মজলিসে উপস্থিত করতেন এবং মুহাদ্দিসগণ যা ইমলা করাতেন বা যা তাঁদের সামনে পাঠ করা হতো, তা তিনি ছেলের উপস্থিতিতে লিখে রাখতেন। তিনি তা সংরক্ষণ ও সংশোধন করে রাখতেন যেন এটি একটি মূল পাণ্ডুলিপি হয় যা তাঁর ছেলে বড় হয়ে ব্যবহার করতে পারে এবং তা থেকে বর্ণনা করতে পারে এবং তার জন্য গ্রহণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مع ذلك إجازاتهم ولم يكتف ببلده بل رحل به وعمره نحو ثلاث سنوات إلى نيسابور وأحضره لدى كبار محدثيها وسمع له منهم وسيأتي تفصيل بعض ذلك في أسماء شيوخه.
ومع أنه كان للأب اخوان عالمان فاضلان فلم يكتف عنده ما أحس بالموت بأن يدع ابنه إليهما بل أوصى به إلى أفضل عالم من أصحابه وسيأتي ذكره في مشايخه، توفى الأب ثالث شهر صفر من سنة عشر وخمسمائة وعمر أبى سعد حينئذ ثلاث سنين وخمسة أشهر وثلاثة عشر يوما. ولا اعرف الآن شيئا من حال والدة أبى سعد.
كفل ابا سعد وصيه وعماه وكلهم من خيار العلماء، والبيئة صالحة فاضلة رجالها ونساؤها، وفي ذلك ما يغنى عن الكلام في تنشئة أبى سعد في أوائل عمره ولا سيما مع العلم بما صار اليه من امره.
وبالجملة فإنه حفظ القرآن وتعلم الفقه والعربية والأدب وصار يسمع الحديث مع عميه ثم بعد أن قارب العشرين صار يسمع بنفسه غير أنهم لم يسمحوا له بالرحلة الا بأخرة.
رحلتهألح عليهم ان يأذنوا له بالرحلة إلى نيسابور ليسمع صحيح مسلم من المتفرد به المعمر الثقة الفاضل أبى الفضل الفراوي الّذي طال عمره وأصبح يتوقع كل يوم موته وإذا مات ولم يسمع منه أبو سعد كانت حسرة في قلبه لا تندمل فلم يأذنوا له حتى جاوز عمره الثانية والعشرين من السنين ولم يسمحوا له بالسفر وحده بل سافر معه أحد عميه.
وضاق صدر أبى سعد بتلك العناية الحبيبة الكريهة، فلما أتم سماع صحيح
তা সত্ত্বেও তাদের ইজাজাতসমূহ এবং তিনি কেবল নিজ জনপদ নিয়ে তুষ্ট থাকেননি, বরং তাকে নিয়ে নিসাবুরে সফর করেছেন যখন তার বয়স ছিল প্রায় তিন বছর। তিনি তাকে সেখানকার বরেণ্য মুহাদ্দিসদের মজলিসে উপস্থিত করেন এবং তাদের নিকট থেকে তাকে হাদিস শ্রবণ করান। এর কিছু বিস্তারিত বিবরণ তার শাইখদের নামসমূহের আলোচনায় আসবে।
পিতার দুজন আলেম ও বিদগ্ধ ভাই থাকা সত্ত্বেও যখন তিনি মৃত্যুর পদধ্বনি অনুভব করলেন, তখন তিনি তার পুত্রকে কেবল তাদের নিকট ন্যস্ত করেই সন্তুষ্ট হননি, বরং তার বন্ধুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আলেমের কাছে তার ব্যাপারে অসিয়ত করে গেছেন; তার উল্লেখ তার মাশায়েখদের আলোচনায় আসবে। পিতা ৫১০ হিজরি সনের ৩রা সফর ইন্তেকাল করেন এবং তখন আবু সা’দের বয়স ছিল তিন বছর পাঁচ মাস তেরো দিন। বর্তমানে আবু সা’দের মাতার অবস্থা সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।
আবু সা’দের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করেন তার অসি (যাকে অসিয়ত করা হয়েছিল) এবং তার দুই চাচা; তারা সকলেই ছিলেন বরেণ্য ও শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। পরিবেশ ছিল পুণ্যময় ও মহৎ, পুরুষ ও নারী সকলেই ছিলেন যোগ্য। আবু সা’দের প্রাথমিক জীবনের লালন-পালন সম্পর্কে আলোচনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, বিশেষ করে তিনি পরবর্তী জীবনে যে সুউচ্চ স্তরে উপনীত হয়েছিলেন তা জানার পর।
সারকথা হলো, তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং ফিকহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা করেন। তিনি তার দুই চাচার সাথে হাদিস শ্রবণ করতে শুরু করেন। অতঃপর যখন তার বয়স বিশের কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে হাদিস শ্রবণ করতে থাকেন, তবে তারা তাকে অনেক পর ছাড়া সফরের অনুমতি দেননি।
তার সফরতিনি নিসাবুরে সফরের অনুমতির জন্য তাদের কাছে অনেক পীড়াপীড়ি করেন, যাতে তিনি সহিহ মুসলিম শ্রবণ করতে পারেন সেই ব্যক্তির কাছ থেকে যিনি একক উচ্চ সনদের অধিকারী ছিলেন—দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত, নির্ভরযোগ্য ও ফাযেল আবু আল-ফজল আল-ফারাওয়ী। তার বয়স অনেক হয়েছিল এবং প্রতিদিন তার মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছিল। যদি তিনি ইন্তেকাল করতেন আর আবু সা’দ তার কাছ থেকে শ্রবণ করতে না পারতেন, তবে এটি তার অন্তরে এমন এক চিরস্থায়ী আক্ষেপ হয়ে থাকত যা কখনো নিরাময় হতো না। তারা তার বয়স বাইশ বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অনুমতি দেননি এবং তাকে একা সফরেরও সুযোগ দেননি, বরং তার সাথে তার এক চাচা সফর করেছিলেন।
আবু সা’দের মন এই ভালোবাসা মিশ্রিত অথচ বিরক্তির উদ্রেককারী অতি-যত্নে সংকুচিত হয়ে উঠেছিল। অতঃপর যখন তিনি সহিহ শ্রবণ সম্পন্ন করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مسلم في نيسابور أراد عمه أن يرجع به إلى وطنه فلم يسبع ابا سعد الا ان يختبئ املا ان يمل عمه الانتظار فيذهب ويدعه يطوف في مراكز العلم كما يحب، لكن العم كان اصبر منه لزم نيسابور حتى مل أبو سعد الاختباء فظهر وطاوع عمه في الرجوع معه وكأنه بقي يحاج عمه ويوضح له انه مضطر إلى الرحلة وأنه لا داعي لمنعه من الغربة وحده، ويمكن ان يكون كاتب عمه الآخر والوصي فعاد جوابهما بالإذن له، نعم إذن له عمه وهما بطوس فرجع هو إلى نيسابور وأقام بها سنة كما تقدم شرح ذلك في ذكره عمه في جملة أهله. ثم ذهب يطوف في مراكز العلم في الدنيا عدة سنوات واتسعت رحلته فعمت بلاد خراسان وأصبهان وما وراء النهر والعراق والحجاز والشام وطبرستان وزار بيت المقدس وهو بأيدي النصارى وحج مرتين. ومات عماه والوصي عليه بمرو وهو في الرحلة.
رجوعه إلى وطنهفي طبقات الشافعية «وعاد إلى وطنه بمرو سنة ثمان وثلاثين [وخمسمائة] فتزوج وولد له أبو المظفر عبد الرحيم
…قال المعلمي: ارخ ابن نقطة وغيره مولد عبد الرحيم «في ذي القعدة من سنة سبع وثلاثين وخمسمائة» فاما ان يكون أبو سعد انما رجع إلى مرو أوائل سنة سبع وثلاثين وستمائة، وإما ان يكون تزوج وولد له عبد الرحيم في الرحلة.
حاله بعد رجوعهفي طبقات الشافعية عقب ما مر «فرحل به (يعنى بعبد الرحيم) إلى نيسابور ونواحيها وبلخ وسمرقند وبخارا وخرج له
নিসাবুরে থাকাকালীন তার চাচা চাইলেন তাকে নিয়ে স্বদেশে ফিরে যেতে। তখন আবু সা’দ আত্মগোপন করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখলেন না, এই আশায় যে তার চাচা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে চলে যাবেন এবং তাকে তার পছন্দমতো জ্ঞানকেন্দ্রগুলোতে বিচরণ করার জন্য ছেড়ে দেবেন। কিন্তু চাচা ছিলেন তার চেয়েও বেশি ধৈর্যশীল। তিনি নিসাবুরে অবস্থান করতে লাগলেন যতক্ষণ না আবু সা’দ আত্মগোপন করে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি আত্মপ্রকাশ করলেন এবং চাচার সাথে ফিরে যেতে তার অনুগত হলেন। মনে হচ্ছিল তিনি চাচার সাথে বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাকে বুঝিয়ে বলছিলেন যে তিনি সফর করতে বাধ্য এবং তাকে একা প্রবাসে থাকতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। সম্ভবত তিনি তার অন্য চাচা এবং অভিভাবককে (ওসী) পত্র লিখেছিলেন, ফলে তাদের পক্ষ থেকে অনুমতির উত্তর এলো। হ্যাঁ, তারা যখন তুস-এ ছিলেন তখন তার চাচা তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। ফলে তিনি নিসাবুরে ফিরে গেলেন এবং সেখানে এক বছর অবস্থান করলেন, যেমনটি ইতিপূর্বে তার পরিবারের বর্ণনায় তার চাচার প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর পৃথিবীর বিভিন্ন জ্ঞানকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করতে বের হলেন এবং তার সফর আরও বিস্তৃত হলো। তিনি খোরাসান, আসফাহান, মা-ওয়ারাউন নাহার, ইরাক, হিজাজ, শাম এবং তবরিস্থান অঞ্চলগুলো পরিভ্রমণ করলেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস সফর করেন যখন তা খ্রিস্টানদের দখলে ছিল এবং তিনি দুইবার হজ সম্পাদন করেন। তিনি যখন সফরে ছিলেন, তখনই মার্ভে তার দুই চাচা এবং তার অভিভাবক মৃত্যুবরণ করেন।
স্বদেশে প্রত্যাবর্তনতাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ-তে বর্ণিত হয়েছে: “এবং তিনি পাঁচশত আটত্রিশ হিজরি সনে মার্ভে তার স্বদেশে ফিরে আসেন, এরপর বিয়ে করেন এবং তার পুত্র আবু আল-মুজাফফর আব্দুর রহীম জন্মগ্রহণ করেন
…আল-মুয়াল্লিমী বলেন: ইবনু নুকতাহ এবং অন্যরা আব্দুর রহীমের জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন ‘পাঁচশত সাঁইত্রিশ হিজরি সনের জিলকদ মাসে’। সুতরাং হয় আবু সা’দ পাঁচশত সাঁইত্রিশ হিজরির শুরুর দিকে মার্ভে ফিরেছিলেন, অথবা তিনি ভ্রমণের সময়ই বিবাহ করেছিলেন এবং সফরকালেই আব্দুর রহীমের জন্ম হয়েছিল।
প্রত্যাবর্তনের পর তার অবস্থাতাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ-তে পূর্বোক্ত বর্ণনার পরেই রয়েছে: “অতঃপর তিনি তাকে (অর্থাৎ আব্দুর রহীমকে) নিয়ে নিসাবুর ও তার আশপাশ, বলখ, সমরকন্দ ও বুখারা সফর করেন এবং তার জন্য হাদিস সংকলন করেন (তাখরিজ করেন)...
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
معجما ثم عاد به إلى مرو وألقى عصا السفر بعد ما شق الأرض شقا وأقبل على التصنيف والإملاء والوعظ والتدريس
… عاد بعد ما دوخ الأرض سفرا إلى بلدة مرو وأقام مشتغلا بالجمع والتصنيف والتحديث والتدريس بالمدرسة العميدية ونشر العلم.
بعض شيوخهقد تقدم ذكره لأبيه وعميه وأخته ونذكر طائفة من غيرهم.
1 - أبو بكر عبد الغفار بن محمد بن الحسين الشيروى النيسابورىّ (414 - 510) ذكر أبو سعد في رسم (الشيروى) من الأنساب وقال «سمعت منه بنيسابور وأحضرنى الإمام والدي رحمه الله وشكر سعيه وسمعني منه».
2 - أبو العلاء عبيد بن محمد بن عبيد القشيري التاجر النيسابورىّ (417 - 512).
3 - أبو القاسم سهل بن إبراهيم السبعي المسجدي النيسابورىّ (- 522) ذكره أبو سعد في رسم (السبعي) وقال «سمع منه جماعة من شيوخنا وأدركته وأحضرنى والدي عليه بنيسابور وقرأ لي عليه جزءا».
4 - أبو عبد اللَّه محمد بن الفضل الفراوي (441 - 530) وإليه على الأخص رحل أبو سعد مع عمه سنة 529 كما تقدم في ذكر أهله، وكان الفراوي مع جلالته قد تفرد بصحيح مسلم بسند عال جليل ولم يكن بينه وبين مسلم الا ثلاثة مع أن بين وفاتيهما نحو مائتين وسبعين سنة.
5 - أبو القاسم تميم بن أبي سعيد الجرجاني مسند هراة (- 531).
একটি মু’জাম নিয়ে তিনি মার্ভে ফিরে আসলেন এবং পৃথিবী চষে বেড়ানোর দীর্ঘ সফরের সমাপ্তি ঘটিয়ে সেখানে থিতু হলেন। এরপর তিনি গ্রন্থ রচনা, পাণ্ডুলিপি তৈরি, ওয়াজ-নসিহত ও শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করলেন
… দীর্ঘ সফরের মাধ্যমে পৃথিবী ভ্রমণ শেষে তিনি মার্ভ শহরে প্রত্যাবর্তন করেন এবং আল-মাদরাসা আল-আমিদিয়া-তে হাদিস সংগ্রহ, গ্রন্থ প্রণয়ন, হাদিস বর্ণনা, শিক্ষকতা ও ইলম প্রসারের কাজে নিয়োজিত থাকেন।
তাঁর কয়েকজন শিক্ষকইতিপূর্বে তাঁর পিতা, দুই চাচা এবং বোনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; এখন আমরা তাঁদের বাইরে একদল শিক্ষকের কথা উল্লেখ করছি।
১ - আবু বকর আব্দুল গাফফার ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-হুসাইন আশ-শিরাওয়ি আন-নাইসাবুরি (৪১৪ - ৫১০ হিজরি)। আবু সা’দ ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থে ‘আশ-শিরাওয়ি’ শিরোনামের অধীনে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, “আমি নিশাপুরে তাঁর থেকে হাদিস শুনেছি। আমার পিতা ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন) আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং আমার মাধ্যমে তাঁর থেকে শ্রবণের ব্যবস্থা করেছিলেন।”
২ - আবুল আলা উবাইদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন উবাইদ আল-কুশাইরি আল-তাজির আন-নাইসাবুরি (৪১৭ - ৫১২ হিজরি)।
৩ - আবুল কাসিম সাহল ইবন ইবরাহিম আস-সাব’ঈ আল-মাসজিদি আন-নাইসাবুরি (- ৫২২ হিজরি)। আবু সা’দ ‘আস-সাব’ঈ’ শিরোনামে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “আমাদের শিক্ষকদের একটি দল তাঁর থেকে হাদিস শুনেছেন। আমি তাঁকে পেয়েছিলাম এবং আমার পিতা নিশাপুরে আমাকে তাঁর নিকট নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি আমার জন্য তাঁর নিকট একটি জুজ (পুস্তিকা) পাঠ করেছিলেন।”
৪ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আল-ফাদল আল-ফারওয়ি (৪৪১ - ৫৩০ হিজরি)। বিশেষ করে তাঁর কাছেই আবু সা’দ তাঁর চাচার সাথে ৫২৯ হিজরিতে সফর করেছিলেন, যেমনটি ইতিপূর্বে তাঁর পরিবারের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আল-ফারওয়ি তাঁর মহান মর্যাদার পাশাপাশি একটি উচ্চতর সনদে ‘সহিহ মুসলিম’ বর্ণনায় অনন্য ছিলেন। তাঁর এবং ইমাম মুসলিমের মাঝে মাত্র তিনজন বর্ণনাকারী ছিলেন, যদিও তাঁদের উভয়ের ইন্তেকালের মাঝে প্রায় দুইশ সত্তর বছরের ব্যবধান ছিল।
৫ - আবুল কাসিম তামিম ইবন আবি সাঈদ আল-জুরজানি, হেরাতের মুসনিদ (- ৫৩১ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
6 - أبو الفرج سعيد بن أبي الرجاء الأصبهاني (440 تقديرا - 532).
7 - أبو المظفر عبد المنعم بن عبد الكريم القشيري النيسابورىّ (445 - 532).
8 - أبو نصر أحمد بن عمر بن محمد الغازي الأصبهاني (448 - 532).
ذكره أبو سعد في رسم (الغازي) وقال «ثقة حافظ ما رأيت في شيوخي أكثر رحلة منه».
9 - أبو الحسن محمد بن عبد الملك بن محمد بن عمر الكرجي الفقيه الشافعيّ (458 - 532) ذكره أبو سعد في رسم (الكرجي) قال «فكتبت بالكرج عن الإمام أبى الحسن محمد بن أبي طالب عبد الملك بن محمد الكرجي وكان اماما متقنا مكثرا من الحديث» وكان هذا الكرجي شافعيا ويخالف منصوص المذهب حيث يقوى الدليل عنده، من ذلك أنه كان لا يقنت في الصبح. وكان سلفي العقيدة له في ذلك كتاب الفصول عن الأئمة الفحول. وفي ترجمة الكرجي من طبقات الشافعية 4/ 81 ثناء عاطر من أبى سعد (كأنه في التحجير) على الكرجي، ومنه «إمام عالم ورع عاقل فقيه مفت محدث شاعر أديب مجموع حسن أفنى طول عمره في جمع العلوم ونشرها» وان ابا سعد قال «وله قصيدة بائية في السنة شرح فيها اعتقاده واعتقاد السلف تزيد على مائتي بيت قرأتها عليه في داره بالكرج» وذكر ابن السبكي أبياتا من القصيدة وفيها التصريح بالعلو الذاتي وغير ذلك وذم للأشعرى فراح ابن السبكي يتشكك ويشكك ويزعم أن ابن السمعاني اشعرى وأن ذلك يقتضي أحد أمور اما ان لا تكون تلك القصيدة هي
৬ - আবু আল-ফারাজ সাঈদ বিন আবি আল-রাজা আল-আসবাহানি (আনুমানিক ৪৪০ - ৫৩২)।
৭ - আবু আল-মুজাফফর আবদুল মুনইম বিন আবদুল কারীম আল-কুশাইরি আল-নিশাপুরি (৪৪৫ - ৫৩২)।
৮ - আবু নাসর আহমদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-গাজি আল-আসবাহানি (৪৪৮ - ৫৩২)।
আবু সাদ (আল-গাজি) শিরোনামে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য হাফেজ ছিলেন; আমার উস্তাদদের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি সফরকারী আর কাউকে দেখিনি।"
৯ - আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-কারজি, শাফেয়ি ফকিহ (৪৫৮ - ৫৩২)। আবু সাদ (আল-কারজি) শিরোনামে তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন, "আমি কারজে ইমাম আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আবি তালিব আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ আল-কারজির নিকট হাদিস লিপিবদ্ধ করেছি। তিনি একজন পারদর্শী ইমাম ছিলেন এবং প্রচুর হাদিসের অধিকারী ছিলেন।" এই আল-কারজি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তবে দলীল শক্তিশালী মনে হলে তিনি মাযহাবের প্রতিষ্ঠিত মতের বিরোধিতা করতেন। এর উদাহরণ হলো, তিনি ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন না। তিনি সালাফি আকিদার অনুসারী ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁর 'আল-ফুসুল আনিল আইম্মাতিল ফুহুল' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' (৪/৮১) গ্রন্থে আল-কারজির জীবনীতে আবু সাদের পক্ষ থেকে (সম্ভবত 'আত-তাহজির' গ্রন্থে) তাঁর অকুন্ঠ প্রশংসা বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, "তিনি ছিলেন একজন ইমাম, আলিম, মুত্তাকি, বুদ্ধিমান, ফকিহ, মুফতি, মুহাদ্দিস, কবি ও সাহিত্যিক। এক অনন্য গুণের অধিকারী মানুষ যিনি তাঁর সারাজীবন ইলম অর্জন ও তা প্রচারের কাজে ব্যয় করেছেন।" আবু সাদ আরও বলেন, "সুন্নাহর বিষয়ে তাঁর একটি বা-ছন্দীয় কবিতা রয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর নিজের এবং সালাফদের আকিদা ব্যাখ্যা করেছেন। এটি দু’শতেরও বেশি পংক্তি বিশিষ্ট। আমি কারজে তাঁর নিজ বাড়িতে তাঁর কাছে এটি পাঠ করেছি।" ইবনুস সুবকি এই কবিতার কিছু পংক্তি উল্লেখ করেছেন, যেখানে আল্লাহর সত্তাগত উচ্চতা এবং অন্যান্য বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে এবং আশআরির নিন্দা করা হয়েছে। ফলে ইবনুস সুবকি নিজে সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেন এবং অন্যদের মাঝেও সংশয় ছড়াতে থাকেন। তিনি দাবি করেন যে, ইবনে সামআনি ছিলেন আশআরি আকিদার, আর এটি কয়েকটি বিষয়কে অনিবার্য করে তোলে— হয় এই কবিতাটি সেই কবিতা নয় যা...
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التي عناها أبو سعد، وإما ان يكون الأبيات التي تخالف مذهب الأشعري وتذمه مدسوسة منها، وإما ان يكون ذكر القصيدة وسماعها مدسوسا في كتاب أبى سعد، والظاهر سقوط هذه الاحتمالات وإن ابا سعد سلفي العقيدة فان شيوخه الذين يبلغ في الثناء عليهم سلفيون ولم أر في الأنساب ما هو بين في خلاف ذلك وقد حاول ابن الجوزي الحنبلي في المنتظم ان يعيب زميله ابا سعد وجهد في ذلك ولم يذكر ما يدل على أنه اشعرى، نعم زعم أن ابا سعد «كان يتعصب على مذهب احمد ويبالغ» ومعنى هذا انه شافعيّ. ولو أراد انه اشعرى لقال: كان يتعصب على أهل السنة، أو كان يتعصب لأهل البدع، أو نحو ذلك ومع هذا حاول ابن الجوزي ان يقيم شهادة على دعواه فلم يصنع شيئا كما يأتي، نعم لم يكن أبو سعيد يتصدى لعيب الأشعرية والطعن فيهم بل إذا اتفق له ذكر أحد منهم اثنى عليه بما فيه من المحاسن أو حكى ثناء غيره وكذلك الحنفية الذين آذوا جده أبلغ أذية، تراه يسوق تراجمهم ويبلغ في الثناء عليهم. وقوله في بعضهم انه كان يتعصب لمذهبه، حكاية للواقع مع أنه في نظر الحنفية كلمة مدح ولذلك تراهم ينقلونها مبتهجين بها وهم عالة على أبى سعد في أكثر طبقاتهم.
10 - أبو محمد هبة اللَّه بن سهل بن عمر بن محمد بن الحسين السيدي البسطامي ثم النيسابورىّ (445 - 533) ذكره أبو سعد في رسم (السيدي) وقال «كان من أهل العلم وبيت الإمامة. سمع جماعة كثيرة مثل أبى الحسين عبد الغافر الفارسي (توفى عبد الغافر سنة 448)
…سمعت منه الكثير».
আবু সা'দ যা উদ্দেশ্য করেছেন, অথবা এমন হতে পারে যে আশ'আরি মাযহাবের বিরোধী এবং এর নিন্দাসূচক পংক্তিগুলো এতে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে, কিংবা কাসিদাটির উল্লেখ ও শ্রবণ আবু সা'দ-এর কিতাবে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে। দৃশ্যত এই সম্ভাবনাগুলো অসার, এবং আবু সা'দ ছিলেন সালাফি আকিদাদর্শের অনুসারী; কেননা তাঁর সেই সব শাইখ বা শিক্ষকগণ যাদের তিনি অত্যধিক প্রশংসা করেছেন, তাঁরা সকলেই ছিলেন সালাফি। আমি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে এমন কিছু দেখিনি যা এর বিপরীতে স্পষ্ট কিছু নির্দেশ করে। হাম্বলি ইবনুল জাওযী 'আল-মুন্তাজাম' গ্রন্থে তাঁর সহকর্মী আবু সা'দকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছেন এবং সে ব্যাপারে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেছেন, অথচ তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেননি যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তিনি আশ'আরি ছিলেন। হ্যাঁ, তিনি দাবি করেছেন যে আবু সা'দ "আহমাদের মাযহাবের বিরুদ্ধে গোঁড়ামি করতেন এবং বাড়াবাড়ি করতেন," আর এর অর্থ হলো তিনি ছিলেন শাফেয়ি। তিনি যদি তাকে আশ'আরি বুঝাতে চাইতেন তবে বলতেন: তিনি আহলুস সুন্নাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন, অথবা তিনি বিদআতপন্থীদের পক্ষাবলম্বন করতেন, বা এই জাতীয় কিছু। এতদসত্ত্বেও ইবনুল জাওযী তাঁর দাবির পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু কিছুই করতে পারেননি, যা সামনে আসবে। হ্যাঁ, আবু সা'দ আশ'আরিদের দোষ খুঁজে বেড়ানো বা তাদের প্রতি কটাক্ষ করার পেছনে লিপ্ত হতেন না, বরং যখনই তাদের কারো উল্লেখ করার সুযোগ আসত, তিনি তাদের গুণের কারণে তাদের প্রশংসা করতেন অথবা অন্যের করা প্রশংসা বর্ণনা করতেন। একইভাবে হানাফিগণও, যারা তাঁর দাদাকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছিলেন, দেখা যায় যে তিনি তাদের জীবনী বর্ণনা করছেন এবং অত্যন্ত প্রশংসা করছেন। তাদের কারো ব্যাপারে তাঁর এই কথা যে "তিনি স্বীয় মাযহাবের প্রতি গোঁড়া ছিলেন", এটি মূলত বাস্তবতার বর্ণনা মাত্র, যদিও হানাফিদের দৃষ্টিতে এটি একটি প্রশংসাসূচক শব্দ; এ কারণেই তাদের দেখা যায় যে তারা এই কথাটি অত্যন্ত আনন্দের সাথে উদ্ধৃত করে থাকে এবং তারা তাদের অধিকাংশ স্তরের জীবনী রচনার ক্ষেত্রে আবু সা'দ-এর ওপর নির্ভরশীল।
১০ - আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ বিন সাহল বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সাইয়িদি আল-বিস্তামি অতঃপর আন-নিশাপুরি (৪৪৫ - ৫৩৩), আবু সা'দ (আস-সাইয়িদি) পরিচয়ে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "তিনি ছিলেন ইলম এবং ইমামতের গৃহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবুল হুসাইন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি (আব্দুল গাফির ৪৪৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন)-এর মতো বহু সংখ্যক লোকের নিকট থেকে শুনেছেন
…আমি তাঁর নিকট থেকে অনেক কিছু শুনেছি।"
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
11 - أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي النيسابورىّ (450 تقديرا - 533).
12 - الإمام أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن محمد بن علي بن محمد بن عطاء المروروذي (453 - 533) في طبقات الشافعية 4/ 199 «حدث عنه ابن السمعاني وقال سمعت منه الكثير، قال وكان اماما متقنا مصيبا ومناظرا ورعا محتاطا في المأكول والملبوس حاد الخاطر حسن المحاورة كثير المحفوظ ذا رأى ونباهة وإصابة في التدبير، وكان الأكابر يصادقونه ويستضيئون برأيه ويزورونه، قال: وكان والدي لما توفى فوض النظر في مصالحي ومصالح أخي (كذا) اليه وجعله وصيا. قال: وكان إذا دخل مدرستنا لا يشرب الماء في زاويتنا ولا في دارنا ويحتاط في ذلك».
13 - أبو محمد عبد الجبار بن محمد بن أحمد الخواريّ (455 تقديرا - 534) ذكره أبو سعد في رسم (الخواريّ) وقال «كان اماما فاضلا مفتيا متواضعا
… كتبت عنه الكثير بنيسابور وقرأت عليه الكتب».
14 - أبو بكر محمد بن عبد الباقي بن محمد الأنصاري البغدادي (442 - 535).
15 - أبو منصور عبد الرحمن بن محمد بن عبد الواحد القزاز البغدادي (450 تقديرا - 535).
16 - أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل التيمي الأصبهاني. كان يقال له (جوزي) (457 - 535) وهو فيما أرى أجل شيوخ أبى سعد،
১১ - আবুল কাসিম জাহির বিন তাহির আশ-শাহহামি আন-নিসাবুরি (আনুমানিক ৪৫০ - ৫৩৩)।
১২ - ইমাম আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আতা আল-মারওয়ারুজি (৪৫৩ - ৫৩৩); তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ৪/১৯৯ গ্রন্থে বর্ণিত আছে: "ইবনুল সামআনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি তাঁর নিকট থেকে অনেক কিছু শুনেছি। তিনি বলেন, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত দক্ষ ও নির্ভুল ইমাম, একজন ধর্মপ্রাণ তার্কিক, পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদে অত্যন্ত সাবধানী, প্রখর বুদ্ধিমান, চমৎকার আলাপচারী, প্রচুর মুখস্থ জ্ঞানের অধিকারী এবং সঠিক সিদ্ধান্ত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী। উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখতেন, তাঁর মতামত থেকে আলোকবর্তিকা গ্রহণ করতেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন। তিনি আরও বলেন: আমার পিতা যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি আমার ও আমার ভাইয়ের (মূল পাঠে এভাবেই আছে) যাবতীয় কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন এবং তাঁকে অসি (অভিভাবক) নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন: তিনি যখন আমাদের মাদরাসায় প্রবেশ করতেন, তখন আমাদের নির্দিষ্ট স্থানে কিংবা আমাদের বাড়িতে পানি পান করতেন না এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন।"
১৩ - আবু মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-খাওয়ারি (আনুমানিক ৪৫৫ - ৫৩৪); আবু সা'দ 'আল-খাওয়ারি' শিরোনামের অধীনে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ইমাম, মুফতি ও বিনয়ী... আমি নিশাপুরে তাঁর নিকট থেকে প্রচুর ইলম লিখে নিয়েছি এবং তাঁর কাছে কিতাবাদি পাঠ করেছি।"
১৪ - আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি bin মুহাম্মাদ আল-আনসারি আল-বাগদাদি (৪৪২ - ৫৩৫)।
১৫ - আবু মানসুর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-কাযযায আল-বাগদাদি (আনুমানিক ৪৫০ - ৫৩৫)।
১৬ - আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল আত-তাইমি আল-আসবাহানি। তাঁকে 'জাওযি' বলা হতো (৪৫৭ - ৫৩৫); আমার মতে তিনি আবু সা'দের শ্রেষ্ঠ উস্তাদদের অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ذكره في رسم (الجوزي) وقال «استأذنا وشيخنا وإمامنا
… كان اماما في فنون العلم في التفسير والحديث واللغة والأدب حافظا متقنا كبير الشأن جليل القدر عارفا بالمتون والأسانيد
… املى بجامع أصبهان قريبا من ثلاثة آلاف مجلس
… وفي مدة مقامي ما فاتنى من أماليه شيء، وكان يملى عليّ في كل أسبوع يوما مجلسا خاصا في داره وأقرأ عليه في كل أسبوع يومين».
عدد شيوخه ومعاجمهذكر ابن خلكان وغيره ان عدد شيوخ أبى سعد يزيد على أربعة آلاف. وقال ابن النجار «سمعت من يذكر ان عدد شيوخه سبعة آلاف شيخ» وهذا غير بعيد إذا عددنا كل من حكى عنه أبو سعد حكاية شيخا له، وقد جمع هو تراجم شيوخه في معاجمه، فمن مؤلفاته (معجم البلدان). احسبه بناه على أسماء البلدان التي دخلها في رحلته، يذكر البلدة ويذكر شيوخه من أهلها أو بعضهم.
و (معجم الشيوخ) كأنه رتبه على أسماء الشيوخ فاما ان يكون اختصر على من أكثر عنه منهم وإما ان يكون ذكرهم باختصار. و (التحبير في المعجم الكبير) استوعب فيه شيوخه وتراجمهم. قال الذهبي في التذكرة «ذكر في التحبير تراجم شيوخه فأفاد وأجاد. طالعته» ولا علاقة له بالمعجم الكبير للطبراني.
ثناء أهل العلم عليهقال زميله الحافظ أبو القاسم ابن عساكر كما نقله ابن نقطة وغيره «كان متصونا
(1) عفيفا حسن الأخلاق
… وهو
--------------------------------------------
তিনি এটি (জাওজি)-এর জীবনী বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «আমাদের উস্তাদ ও আমাদের ইমাম
… তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখা যেমন—তাফসীর, হাদীস, ভাষা এবং সাহিত্যে একজন ইমাম ছিলেন। তিনি একজন প্রাজ্ঞ হাফেজ, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, অতিশয় সম্মানিত এবং মূলপাঠ (মতন) ও বর্ণনাসূত্র (সনদ) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন
… তিনি ইসফাহানের জামে মসজিদে প্রায় তিন হাজার মজলিসে ইলম শিক্ষা দিয়েছেন
… আমি সেখানে অবস্থানকালীন তাঁর কোনো মজলিসই আমার বাদ পড়েনি। তিনি প্রতি সপ্তাহে একদিন তাঁর বাড়িতে আমার জন্য একটি বিশেষ মজলিসে পাঠদান করতেন এবং আমি প্রতি সপ্তাহে দুই দিন তাঁর নিকট পাঠ করতাম»।
তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা এবং তাঁর সংকলনসমূহইবনে খাল্লিকান এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, আবু সা'দ-এর উস্তাদদের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। ইবনে নাজ্জার বলেছেন, «আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা সাত হাজার উস্তাদ»। যদি আমরা আবু সা'দ যার কাছ থেকেই কোনো একটি বর্ণনা করেছেন তাকেই তাঁর উস্তাদ হিসেবে গণ্য করি, তবে এটি অসম্ভব কিছু নয়। তিনি তাঁর সংকলন (মু'জাম) সমূহে তাঁর উস্তাদদের জীবনী একত্রিত করেছেন। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো (মু'জামুল বুলদান)। আমার ধারণা, তিনি এটি তাঁর সফরের শহরগুলোর নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন; সেখানে তিনি শহরগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন এবং সেখানকার অধিবাসী তাঁর উস্তাদদের অথবা তাঁদের কয়েকজনকে উল্লেখ করেছেন।
এবং (মু'জামুশ শুয়ুখ), মনে হয় তিনি এটি উস্তাদদের নামের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করেছেন; হয় তিনি তাঁদের মধ্যে যাঁদের থেকে বেশি বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, অথবা তাঁদের কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। আর (আত-তাহবীর ফিল মু'জামিল কাবীর) গ্রন্থে তিনি তাঁর উস্তাদদের এবং তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে এসেছেন। আয-যাহাবী 'তাজকিরা' গ্রন্থে বলেছেন, «তিনি তাহবীর গ্রন্থে তাঁর উস্তাদদের জীবনী উল্লেখ করেছেন, যা অত্যন্ত তথ্যবহুল ও চমৎকার হয়েছে। আমি এটি পাঠ করেছি»। তাবারানীর 'আল-মু'জামুল কাবীর'-এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসাতাঁর সহকর্মী হাফেজ আবু কাসিম ইবনে আসাকির বলেছেন, যা ইবনে নুকতাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: «তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল
(১), পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ও সচ্চরিত্রবান ছিলেন
… এবং তিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الآن شيخ خراسان غير مدافع عن صدق ومعرفة وكثرة سماع لأجزاء وكتب مصنفة، واللَّه يبقيه لنشر السنة ويوفقه لأعمال أهل الجنة».
وقال ابن النجار «كان مليح التصانيف كثير النشوار والأناشيد لطيف المزاح ظريفا حافظا واسع الرحلة ثقة صدوقا دينا، سمع منه مشايخه وأقرانه وحدثنا عنه جماعة» وقال الذهبي في التذكرة «الحافظ البارع العلامة
… وكان ذكيا فهما سريع الكتابة مليحها، درس وأفتى ووعظ وأملى وكتب عمن دب ودرج. وكان ثقة حافظا حجة واسع الرحلة عدلا دينا جميل السيرة حسن الصحبة كثير المحفوظ» وقال في ترجمة ابن ناصر بعد ان ذكر تجنى ابن الجوزي على زميله أبى سعد في قوله في شيخهما ابن ناصر انه كان يحب الطعن في الناس. قال الذهبي يخاطب ابن الجوزي «لا ريب ان ابن ناصر متعصب في الحط على بعض الشيوخ فدع الانتصار فأبو سعد اعلم بالتأريخ وأحفظ منك ومن شيخك وقد قال في ابن ناصر انه ثقة حافظ دين متقن ثبت لغويّ عارف بالمتون والأسانيد كثير الصلاة والتلاوة غير أنه يحب ان يقع في الناس وهو صحيح القراءة والنقل» قال المعلمي وكلام ابن الجوزي تجز محض أوقعه فيه افراط غبطته لزميله المتفوق عليه غفر اللَّه للجميع.
بعض الآخذين عنه1 - الحافظ أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة اللَّه ابن عساكر الدمشقيّ (499 - 571).
2 - أبو محمد القاسم بن علي بن الحسن بن عساكر (527 - 600).
3 - أبو الفتوح يوسف بن المبارك الخفاف البغدادي (- 601).
এখন তিনি সত্যবাদিতা, জ্ঞান এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র সংকলন ও গ্রন্থ শ্রবণের আধিক্যের ক্ষেত্রে খোরাসানের অবিসংবাদিত শায়খ। আল্লাহ তাঁকে সুন্নাহর প্রসারের জন্য দীর্ঘজীবী করুন এবং তাঁকে জান্নাতীদের আমল করার তাওফিক দান করুন।
ইবনুন নাজ্জার বলেন, "তাঁর রচনাশৈলী ছিল চমৎকার, তিনি প্রচুর গদ্য ও কবিতা বর্ণনা করতেন, রসিকতা ছিল মার্জিত, তিনি ছিলেন সুরুচিসম্পন্ন, হাফেজ (হাদিস বিশারদ), দেশ-বিদেশে ভ্রমণকারী, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও ধর্মপ্রাণ। তাঁর নিকট থেকে তাঁর শিক্ষক ও সমসাময়িকগণ হাদীস শুনেছেন এবং একদল বর্ণনাকারী তাঁর সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।" আয-যাহাবী 'আত-তাযকিরা' গ্রন্থে বলেন, "তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ হাফেজ ও আল্লামা... তিনি ছিলেন প্রখর মেধাবী, বিচক্ষণ এবং দ্রুত ও সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী। তিনি পাঠ দান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন, ওয়াজ করেছেন, শ্রুতিলিপি দিয়েছেন এবং সমকালীন সকল স্তরের আলেমদের থেকে ইলম সংগ্রহ করেছেন। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য হাফেজ, অকাট্য দলিল, দেশ-বিদেশে ভ্রমণকারী, ন্যায়নিষ্ঠ, ধর্মপ্রাণ, সুন্দর জীবনচরিত্রের অধিকারী, উত্তম সঙ্গী এবং প্রচুর স্মৃতিশক্তির অধিকারী।" তিনি ইবনু নাসিরের জীবনীতে ইবনুল জাওযীর তাঁর সহকর্মী আবু সা’দের ওপর আনীত ভিত্তিহীন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন—যেখানে ইবনুল জাওযী তাঁদের উভয়ের উস্তাদ ইবনু নাসির সম্পর্কে বলেছিলেন যে, তিনি মানুষের নিন্দা করতে পছন্দ করতেন—যাহাবী ইবনুল জাওযীকে সম্বোধন করে বলেন, "নিঃসন্দেহে ইবনু নাসির কিছু শায়খের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কঠোর ছিলেন, তবে আপনি পক্ষালম্বন বর্জন করুন। কারণ আবু সা’দ ইতিহাস সম্পর্কে আপনার এবং আপনার শায়খের চেয়েও অধিক জ্ঞাত এবং বড় হাফেজ। তিনি ইবনু নাসির সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য হাফেজ, ধর্মপ্রাণ, সুনিপুণ, সুদৃঢ়, ভাষাবিদ, মতন (মূল পাঠ) ও আসনাদ (বর্ণনা সূত্র) বিশেষজ্ঞ, প্রচুর সালাত ও তিলাওয়াতকারী; তবে তিনি মানুষের দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করতেন। আর তিনি পঠন ও বর্ণনার ক্ষেত্রে ছিলেন নির্ভুল।" আল-মুয়াল্লিমী বলেন, "ইবনুল জাওযীর বক্তব্য ছিল নিছক পক্ষপাতদুষ্ট ও অবিচারমূলক, যা তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সহকর্মীর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ঈর্ষার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করুন।"
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রগণ১ - হাফেজ আবুল কাসেম আলী বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকী (৪৯৯ - ৫৭১)।
২ - আবু মুহাম্মদ আল-কাসেম বিন আলী বিন হাসান বিন আসাকির (৫২৭ - ৬০০)।
৩ - আবু ফুতুহ ইউসুফ বিন আল-মুবারক আল-খাফফাফ আল-বাগদাদী (- ৬০১)।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
4 - أبو أحمد عبد الوهاب بن أحمد (ابن سكينة) البغدادي (519 - 607).
5 - أبو محمد عبد العزيز بن معالي بن غنيمة (ابن منينا) البغدادي (525 - 612).
6 - أبو هاشم عبد المطلب بن الفضل العباسي الحلبي (536 - 616).
7 - أبو روح عبد المعز بن محمد بن أبي الفضل الهروي (522 - 618).
8 - أبو المظفر عبد الرحيم بن عبد الكريم ابن السمعاني (537 - 617).
وهو ابن أبي سعد، له ترجمة في تقييد ابن نقطة قال فيها «سمعه أبوه من جماعة من شيوخ خراسان، منهم أبو الأسعد هبة الرحمن بن عبد الواحد القشيري، وعبد الأول بن عيسى السجزي وأبو طاهر السنجي، سمع مسند الهيثم بن كليب من مسعود بن محمد الغانمى: قال أنا أبو القاسم الخليلي، ومسند الدارميّ من عبد الأول: وكتاب الصحيح للبخاريّ من أبى الفتح عبد الرحمن الكشميهني قال أنا أبو الخير محمد بن أبي عمران موسى الصفار ثنا أبو الهيثم محمد بن المكيّ، وكتاب الصحيح لأبى عوانة من عبد اللَّه بن محمد ابن الفراوي، وسمع مسند الشافعيّ ومسند عبد اللَّه بن وهب من أبى طاهر محمد بن محمد السنجي: ثنا نصر اللَّه بن أحمد النيسابورىّ أنا أبو بكر أحمد بن الحسن الحيريّ: وكان واسع الرواية. اعتنى به أبوه وسمعه الكثير وأثبت له مسموعاته في جزء كبير (يأتي بيانه في مؤلفات أبى سعد):
مولده في ذي القعدة من سنة سبع وثلاثين وخمسمائة وانقطعت عنا اخباره من سنة سبع عشرة وستمائة وظهور الترك (التتر) بخراسان» وفي
৪ - আবু আহমদ আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আহমদ (ইবনে সাকিনা) আল-বাগদাদি (৫১৯ - ৬০৭)।
৫ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে মাআলি ইবনে গনিমা (ইবনে মুনাইনা) আল-বাগদাদি (৫২৫ - ৬১২)।
৬ - আবু হাশিম আব্দুল মুত্তালিব ইবনুল ফাদল আল-আব্বাসি আল-হালাবি (৫৩৬ - ৬১৬)।
৭ - আবু রুহ আব্দুল মুইয ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল ফাদল আল-হারাউয়ি (৫২২ - ৬১৮)।
৮ - আবু মুজাফফর আব্দুর রহিম ইবনে আব্দুল করিম ইবনে আস-সামআনি (৫৩৭ - ৬১৭)।
তিনি হলেন আবু সা’দ-এর পুত্র। ইবনে নুকতাহ-র ‘তাকয়িদ’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: “তাঁর পিতা তাঁকে খুরাসানের একদল শায়েখের নিকট থেকে শ্রবণা করিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবু আল-আসআদ হিবাতুর রহমান ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-কুশায়রি, আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজি এবং আবু তাহের আস-সানজি। তিনি মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গানিমির নিকট থেকে হায়সাম ইবনে কুলাইবের ‘মুসনাদ’ শ্রবণ করেছেন; তিনি বলেন: আমাকে আবু আল-কাসিম আল-খলিলি সংবাদ দিয়েছেন। আর আব্দুল আউয়াল থেকে ‘মুসনাদ আদ-দারিমি’ শ্রবণ করেছেন; এবং আবু আল-ফাতহ আব্দুর রহমান আল-কুশমিহানি থেকে বুখারির ‘সহিহ’ কিতাবটি শ্রবণ করেছেন; তিনি বলেন: আমাকে আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে আবি ইমরান মুসা আস-সাফফার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল হায়সাম মুহাম্মদ ইবনে মাক্কি বর্ণনা করেছেন। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফারাউয়ি থেকে আবু আওয়ানার ‘সহিহ’ কিতাবটি; আর আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সানজি থেকে ‘মুসনাদ আশ-শাফিয়ি’ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের ‘মুসনাদ’ শ্রবণ করেছেন: তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাসরুল্লাহ ইবনে আহমদ আন-নিশাপুরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান আল-হাইরি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিলেন। তাঁর পিতা তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন এবং তাঁকে প্রচুর শ্রবণা করিয়েছিলেন এবং একটি বড় খণ্ডে তাঁর শ্রুত বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করে দিয়েছিলেন (আবু সা’দ-এর রচনাবলির বর্ণনায় এর বিবরণ আসবে):
তাঁর জন্ম ৫৩৭ হিজরির জিলকদ মাসে এবং ৬১৭ হিজরি সাল থেকে তাঁর সংবাদ আমাদের কাছে আসা বন্ধ হয়ে যায়, যখন খুরাসানে তুর্কিদের (তাতারদের) আবির্ভাব ঘটেছিল।” এবং
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الشذرات 5/ 76 «خرج له أبوه معجما في ثمانية عشر جزءا، وكان مفتيا عارفا بالمذهب وروى الكثير ورحل الناس اليه وسمع منه الحافظ أبو بكر الحازمي ومات قبله بدهر، وحدث عنه الأئمة ابن الصلاح والضياء المقدسي والزكي البرزالي والمحب ابن النجار وخرج لنفسه أربعين حديثا وانتهت اليه رئاسة الشافعية ببلده وختم به البيت السمعاني، عدم في دخول التتار».
مؤلفات أبى سعدنقل ابن النجار أسماءها ومقاديرها عن خط أبى سعد فنسوقها على ترتيبه.
1 - ذيل تاريخ بغداد للخطيب - أربعمائة طاقة. وقال ابن خلكان «نحو خمسة عشر مجلدا» ألفه وسمعه الناس منه ببغداد أثناء رحلته كما ذكره ابن عساكر.
2 - تاريخ مرو - خمسمائة طاقة. وقال ابن خلكان «يزيد على عشرين مجلدا».
3 - طراز الذهب في أدب الطلب - مائة وخمسون طاقة.
4 - الإسفار عن الأسفار - خمس وعشرون طاقة.
5 - الإملاء والاستملاء
(1) - خمس عشرة طاقة.
6 - التذكرة والتبصرة - مائة وخمسون طاقة. (سقط ذكره من تذكرة الحفاظ).
7 - معجم البلدان - خمسون طاقة.
8 - معجم الشيوخ - ثمانون طاقة.
9 - تحفة المسافر - مائة وخمسون طاقة.
--------------------------------------------
আশ-শাযারাত ৫/ ৭৬ «তাঁর পিতা তাঁর জন্য আঠারো খণ্ডে একটি মু'জাম (অভিধান/সংকলন) বের করেছিলেন। তিনি মুফতি ও মাযহাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং প্রচুর বর্ণনা করেছেন। মানুষ তাঁর কাছে সফর করে আসত এবং হাফিয আবু বকর আল-হাযিমি তাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর অনেক আগে ইন্তেকাল করেন। ইমাম ইবনুস সালাহ, যিয়া আল-মাকদিসি, আয-যাকি আল-বিরযালি এবং আল-মুহিব্ব ইবনুন নাজ্জার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজের জন্য চল্লিশটি হাদীস (আরবাঈন) সংকলন করেছিলেন এবং নিজ শহরে শাফি'য়ী মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর কাছেই সমাপ্ত হয়েছিল। সাম'আনি বংশের ইতি তাঁর মাধ্যমেই ঘটে। তাতারীদের প্রবেশের সময় তিনি নিখোঁজ হন।»
আবু সা'দ-এর রচনাবলিইবনুন নাজ্জার আবু সা'দ-এর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে এগুলোর নাম ও পরিধি নকল করেছেন; আমরা তাঁর বিন্যাস অনুযায়ী তা পেশ করছি।
১ - খতিব (বাগদাদী)-এর তারীখে বাগদাদের পরিশিষ্ট (যাইল) - চারশ তাকা। ইবনু খাল্লিকান বলেছেন, «প্রায় পনেরো খণ্ড»। ইবনু আসাকির যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি রচনা করেছেন এবং তাঁর সফরকালে বাগদাদে লোকজন তাঁর থেকে এটি শ্রবণ করেছে।
২ - তারীখে মারওয় - পাঁচশ তাকা। ইবনু খাল্লিকান বলেছেন, «বিশ খণ্ডেরও অধিক»।
৩ - তিরাজুয যাহাব ফী আদাবিত তলাব - একশ পঞ্চাশ তাকা।
৪ - আল-ইসফার আনিল আসফার - পঁচিশ তাকা।
৫ - আল-ইমলা ওয়াল ইসতিমলা
(১) - পনেরো তাকা।
৬ - আত-তাযকিরা ওয়াত তাবসিরা - একশ পঞ্চাশ তাকা। (তাযকিরাতুল হুফফায-এ এর উল্লেখ বাদ পড়েছে)।
৭ - মু'জামুল বুলদান - পঞ্চাশ তাকা।
৮ - মু'জামুশ শুয়ূখ - আশি তাকা।
৯ - তুহফাতুল মুসাফির - একশ পঞ্চাশ তাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
10 - التحف والهدايا - خمس وعشرون طاقة.
11 - عز العزلة - سبعون طاقة.
12 - الأدب في استعمال الحسب - خمس طاقات.
13 - المناسك - ستون طاقة.
14 - الدعوات الكبير - أربعون طاقة.
15 - الدعوات المروية عن الحضرة النبويّة - خمس عشرة طاقة.
16 - الحث على غسل اليدين - خمس طاقات.
17 - أفانين البساتين - خمس عشرة طاقة.
18 - دخول الحمام - خمس عشرة طاقة، قال ابن السبكي «وكان هذب به كتاب أبيه أبى بكر في دخول الحمام».
19 - فضائل صلاة التسبيح - عشر طاقات.
إلى هنا يتفق ترتيب تذكرة الحفاظ وترتيب طبقات الشافعية وقد يزيد أحدهما الكلمة أو يقع اختلاف فأثبت ما هو الأصح والأوضح ومن هنا ترتيب تذكرة الحفاظ وراجعت في الكتابة ما في طبقات الشافعية للتصحيح والتوضيح.
20 - التحايا [والهدايا]- ست طاقات.
21 - تحفة العيد في الطبقات «العيدين» - ثلاثون طاقة.
22 - فضل الديك - خمس طاقات.
23 - الرسائل والوسائل - خمس عشرة طاقة [لم تكمل].
24 - صوم [الأيام] البيض - خمس عشرة طاقة.
১০ - উপঢৌকন ও উপহারসমূহ - পঁচিশ তাকা।
১১ - নির্জনতার সম্মান - সত্তর তাকা।
১২ - বংশমর্যাদা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার - পাঁচ তাকা।
১৩ - হজের নিয়মাবলী - ষাট তাকা।
১৪ - বৃহৎ দোয়ার ভাণ্ডার - চল্লিশ তাকা।
১৫ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সান্নিধ্য থেকে বর্ণিত দোয়াসমূহ - পনেরো তাকা।
১৬ - দুই হাত ধৌত করার প্রতি উৎসাহ প্রদান - পাঁচ তাকা।
১৭ - উদ্যানসমূহের শাখা-প্রশাখা - পনেরো তাকা।
১৮ - গোসলখানায় প্রবেশ - পনেরো তাকা; ইবনে সুবকী বলেন, "তিনি এর মাধ্যমে গোসলখানায় প্রবেশ বিষয়ে তার পিতা আবু বকরের কিতাবটিকে পরিমার্জিত করেছিলেন।"
১৯ - সালাতুত তাসবীহ-এর ফজিলত - দশ তাকা।
এখান পর্যন্ত 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' এবং 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ'-এর বিন্যাস অভিন্ন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো একটি গ্রন্থে একটি শব্দ বেশি থাকতে পারে অথবা কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হতে পারে; এমতাবস্থায় আমি যা অধিকতর সঠিক ও স্পষ্ট তা-ই সাব্যস্ত করেছি। এখান থেকে 'তাযকিরাতুল হুফফাজ'-এর বিন্যাস অনুসরণ করা হয়েছে এবং আমি তা অনুলিপি করার সময় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণের জন্য 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ'-এর পাণ্ডুলিপিও পর্যালোচনা করেছি।
২০ - অভিবাদন [ও উপহারসমূহ] - ছয় তাকা।
২১ - ঈদের উপঢৌকন; 'তাবাকাত' গ্রন্থে রয়েছে 'দুই ঈদের উপঢৌকন' - ত্রিশ তাকা।
২২ - মোরগের ফজিলত - পাঁচ তাকা।
২৩ - পত্রাবলী ও মাধ্যমসমূহ - পনেরো তাকা [অসমাপ্ত]।
২৪ - [আইয়ামে] বিয-এর রোজা - পনেরো তাকা।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - سلوة الأحباب [ورحمة الأصحاب]- خمس طاقات.
26 - التحبير في المعجم الكبير - ثلاثمائة طاقة. قال المعلمي: يظهر من هذا انه بقدر ستة أسباع الأنساب، وذكر ابن خلكان ان الأنساب نحو ثمان مجلدات، وذكره في ترجمة ابن الأثير فقال: في ثمان مجلدات.
وذكر أنه رآه مرة. وفي ترجمة أبى سعد من الشذرات «عمل معجم شيوخه في عشر مجلدات كبار» ومن التحبير نسخة ناقصة ذكرت في فهرس المخطوطات المصورة الجامعة الدول العربية ج 2 رقم 143، وفي الفهرس أيضا رقم 491 «معجم السمعاني
… نسخة كتبت سنة 647 بخط نسخ قليل الإعجام، احمد الثالث 953 م، 298 ف 21 س 18/ 24 سم» وسمعت من يذكر أن هذا هو التحبير أيضا، ولا أدرى
(1).
27 - فرط الغرام إلى ساكني الشام - خمس عشرة طاقة. قال المعلمي:
ذكره ابن عساكر في ترجمة أبى سعد قال: «وآخر ما ورد عليّ من اخباره كتاب كتبه بخطه وأرسل به الىّ سماه كتاب فرط الغرام إلى ساكني الشام. في ثمانية أجزاء كتبه سنة ستين وخمسمائة
… وضمنه قطعة من الأحاديث المسانيد وأودعه جملة من الحكايات والأناشيد» وبهذا يظهر أن الطاقة نصف جزء أو نحوه.
28 - مقام العلماء بين يدي الأمراء - احدى عشرة طاقة.
--------------------------------------------
২৫ - সালওয়াতুল আহবাব [ওয়া রাহমাতুল আসহাব] - পাঁচ তাকা।
২৬ - আত-তাহবীর ফিল মু'জামিল কাবীর - তিনশত তাকা। মুয়াল্লিমি বলেন: এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি 'আল-আনসাব' গ্রন্থের সাত ভাগের ছয় ভাগের সমান। ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন যে, 'আল-আনসাব' প্রায় আট খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি ইবনুল আসিরের জীবনীতে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: আট খণ্ডে।
এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি একবার দেখেছেন। আশ-শাযারাত গ্রন্থে আবু সা'দের জীবনীতে বলা হয়েছে, "তিনি তাঁর উস্তাদদের জীবনীগ্রন্থ (মু'জাম) দশটি বড় খণ্ডে রচনা করেছেন।" আর 'আত-তাহবীর'-এর একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপির কথা আরব লিগের চিত্রিত পাণ্ডুলিপি তালিকায় (খণ্ড ২, নম্বর ১৪৩) উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তালিকায় ৪৯১ নম্বরে আরও আছে: "সাম'আনির মু'জাম... ৬৪৭ হিজরিতে নাসেখ লিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি যাতে নুকতার ব্যবহার কম, আহমাদ আস-সালিহ ৯৫৩ এম, ২৯৮ পৃষ্ঠা, ২১ লাইন, ১৮/২৪ সেমি।" আমি কাউকে এটিকেও 'আত-তাহবীর' বলে উল্লেখ করতে শুনেছি, তবে আমি জানি না
(১)।
২৭ - ফরতুল গুরাম ইলা সাকিনিশ শাম - পনেরো তাকা। মুয়াল্লিমি বলেন:
ইবনে আসাকির আবু সা'দের জীবনীতে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "তাঁর খবরাখবরের মধ্যে সর্বশেষ যা আমার কাছে পৌঁছেছে তা হলো তাঁর স্বহস্তে লিখিত একটি কিতাব যা তিনি আমার কাছে পাঠিয়েছেন। এর নাম দিয়েছেন 'কিতাবু ফরতিল গুরাম ইলা সাকিনিশ শাম'। এটি আটটি অংশে বিভক্ত এবং তিনি এটি ৫৬০ হিজরিতে লিখেছেন... এতে তিনি মুসনাদ হাদীসের একটি অংশ এবং বেশ কিছু কাহিনী ও কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেছেন।" এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এক তাকা হলো অর্ধেক জুজ (অংশ) বা এর কাছাকাছি।
২৮ - মাক্বামুল উলামা বাইনা ইয়াদাইল উমারা - এগারো তাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
29 - المساواة والمصافحة - ثلاث عشرة طاقة. قال المعلمي: إذا كان حديث قد رواه الترمذي مثلا بسنده ووقع لأبى سعد مثلا عاليا بسند من جهة أخرى واستوى عدد رجال السندين إلى النبي صلى الله عليه وسلم فهي المساواة، وإن زاد سند أبى سعد واحدا فهي المصافحة، وقس على ذلك، وراجع كتب المصطلح قسم العالي والنازل.
30 - ذكرى حبيب رحل وبشرى مشيب نزل - عشرون طاقة.
31 - الأمالي الخمسمائة - مائتا طاقة، (ليس في الطبقات).
32 - فوائد الموائد - مائتا طاقة.
33 - فضل الهرة - ثلاث طاقات.
34 - الأخطار في ركوب البحار - سبع طاقات.
35 - الهريسة - ثلاث طاقات.
36 - تاريخ الوفاة للمتأخرين من الرواة - خمس عشرة طاقة.
37 - الأنساب - ثلاثمائة وخمسون طاقة. وقال ابن خلكان انه في ثمان مجلدات.
38 - الأمالي - ستون طاقة.
39 - بخار بخور البخاري - عشرون طاقة.
40 - تقديم الجفان إلى الضيفان - سبعون طاقة.
41 - صلاة الضحى - عشر طاقات.
42 - الصدق في الصداقة.
43 - الربح والخسارة في الكسب والتجارة.
29 - সমতা ও করমর্দন (আল-মুসাওয়াত ওয়াল-মুসাফাহাহ) - তেরটি তাকা। মুয়াল্লিমি বলেছেন: যদি কোনো হাদীস যেমন তিরমিযী তার নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেন এবং অন্য কোনো সূত্রে আবু সা'দের কাছে সেই হাদীসটি উচ্চতর সনদে পৌঁছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উভয় সনদের বর্ণনাকারীদের সংখ্যা সমান হয়, তবে তাকে 'সমতা' (মুসাওয়াত) বলা হয়; আর যদি আবু সা'দের সনদে একজন বর্ণনাকারী বেশি হয়, তবে তাকে 'করমর্দন' (মুসাফাহাহ) বলা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনুরূপভাবে অনুমান করে নিন। বিস্তারিত জানার জন্য হাদীস পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থসমূহের 'উচ্চ ও নিম্ন সনদ' (আলী ও নাযিল) অধ্যায়টি দেখুন।
30 - চলে যাওয়া প্রিয়জনের স্মৃতি ও বার্ধক্যের আগমনের সুসংবাদ - বিশটি তাকা।
31 - পাঁচশত আমালী (আল-আমালী আল-খামসামিয়াহ) - দুইশত তাকা, (এটি ত্বাবাকাত গ্রন্থে নেই)।
32 - দস্তরখানের উপকারিতা (ফাওয়ায়িদুল মাওয়ায়িদ) - দুইশত তাকা।
33 - বিড়ালের ফযীলত - তিনটি তাকা।
34 - সমুদ্রযাত্রার বিপদসমূহ - সাতটি তাকা।
35 - আল-হারীসাহ (একটি বিশেষ খাদ্য) - তিনটি তাকা।
36 - পরবর্তী যুগের বর্ণনাকারীদের মৃত্যু ইতিহাস - পনেরটি তাকা।
37 - বংশপরিচয় (আল-আনসাব) - তিনশত পঞ্চাশটি তাকা। ইবনে খাল্লিকান বলেছেন যে এটি আট খণ্ডে সমাপ্ত।
38 - আল-আমালী - ষাটটি তাকা।
39 - বুখারী শরীফের সুগন্ধির সুঘ্রাণ - বিশটি তাকা।
40 - অতিথিদের সামনে বড় খাদ্যপাত্র পরিবেশন - সত্তরটি তাকা।
41 - চাশত (দুহা) নামায - দশটি তাকা।
42 - বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সততা।
43 - উপার্জন ও ব্যবসায় লাভ ও লোকসান।
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
44 - رفع الارتياب عن كتابة الكتاب - اربع طاقات.
45 - النزوع إلى الأوطان [والنزاع إلى الإخوان
(1)]- خمس وثلاثون طاقة.
46 - حث الإمام على تخفيف الصلاة مع الإتمام - في طاقتين.
47 - لفتة المشتاق إلى ساكن العراق - اربع طاقات.
48 - السد والعد لمن اكتنى بأبي سعد
(2) - ثلاثون طاقة.
49 - فضائل الشام - في طاقتين.
50 - فضل يس - في طاقتين.
51 - كتاب الحلاوة. ذكر في الطبقات وليس في التذكرة.
52 - المعجم الّذي ألفه لابنه أبى المظفر وقد تقدم عن ابن نقطة انه في جزء كبير، وذكر ابن خلكان وصاحب الشذرات انه «في ثمانية عشر جزءا» فكلمة (جزء) في عبارة ابن نقطة بالمعنى اللغوي. ولم يذكر هذا وتاليه في سباق عدد مؤلفات أبى سعد.
53 - عوالي ابنه أبى المظفر خرجها أبو سعد لابنه أبى المظفر وفي تاريخ ابن خلكان انها «في مجلدين ضخمين».
مكاتب السمعانيينفي معجم البلدان رسم (مرو الشاهجان) وهي وطن السمعانيين ما لفظه «ولولا ما عرا من ورود التتر إلى تلك البلاد وخرابها لما فارقتها إلى الممات لما في أهلها من الرفد ولين الجانب وحسن العشرة وكثرة كتب الأصول المتقنة بها فانى فارقتها وفيها عشر خزائن للوقف
--------------------------------------------
৪৪ - কিতাব লিখন থেকে সংশয় নিরসন - চার তাফা।
৪৫ - স্বদেশের প্রতি আসক্তি [এবং ভাইদের প্রতি ব্যাকুলতা
(১)] - পঁয়ত্রিশ তাফা।
৪৬ - পূর্ণাঙ্গতা বজায় রেখে সালাত সংক্ষেপ করার প্রতি ইমামকে উৎসাহ প্রদান - দুই তাফায়।
৪৭ - ইরাকবাসীর প্রতি আসক্ত ব্যক্তির দৃষ্টিপাত - চার তাফা।
৪৮ - যারা আবু সা’দ উপনাম গ্রহণ করেছেন তাদের জন্য নির্ভুল বিবরণ ও গণনা
(২) - ত্রিশ তাফা।
৪৯ - শামের ফজিলতসমূহ - দুই তাফায়।
৫০ - ইয়াসিন-এর ফজিলত - দুই তাফায়।
৫১ - কিতাবুল হালাওয়াহ (মিষ্টতার কিতাব)। এটি ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ‘তাযকিরাহ’ গ্রন্থে নেই।
৫২ - আল-মু’জাম যা তিনি তাঁর পুত্র আবু মুজাফফরের জন্য সংকলন করেছেন। ইতিপূর্বে ইবনে নুকতাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে এটি একটি বড় খণ্ডে (জুয) সমাপ্ত। ইবনে খাল্লিকান এবং ‘শাযারাত’ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে এটি «আঠারোটি খণ্ডে» সমাপ্ত। সুতরাং ইবনে নুকতাহ-এর বক্তব্যে 'জুয' (খণ্ড) শব্দটি আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি এবং এর পরবর্তী কিতাবটি আবু সা’দের রচনাবলির সংখ্যার ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করা হয়নি।
৫৩ - তাঁর পুত্র আবু মুজাফফরের ‘আওয়ালী’ (উচ্চ সনদসমূহ), যা আবু সা’দ তাঁর পুত্র আবু মুজাফফরের জন্য সংকলন করেছেন। ইবনে খাল্লিকান-এর ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে এটি «দুইটি বিশাল খণ্ডে» রচিত।
সামআনিগণের কিতাবাগারসমূহ‘মু’জামুল বুলদান’ গ্রন্থে 'মার্ভ আশ-শাহজান' শিরোনামের বর্ণনায়—যা সামআনিগণের স্বদেশ—নিম্নোক্ত বক্তব্যটি রয়েছে: «যদি তাতারদের এই দেশগুলোতে আগমন ও সেখানকার ধ্বংসযজ্ঞের বিপদ না ঘটত, তবে মৃত্যু পর্যন্ত আমি তা ত্যাগ করতাম না। কারণ সেখানকার অধিবাসীদের দাক্ষিণ্য, নম্রতা, সদ্ব্যবহার এবং সেখানে নির্ভুল মূল কিতাবসমূহের প্রাচুর্য অতুলনীয়। আমি যখন তা ত্যাগ করি তখন সেখানে দশটি ওয়াকফকৃত কিতাবাগার ছিল...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আনসাব - আস-সামআনী - তাবা আল-হিন্দিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لم أر في الدنيا مثلها كثرة وجودة منها خزانتان في الجامع
… وخزانتان للسمعانيين وخزانة أخرى في المدرسة العميدية (التي كان أبو سعد يدرس بها)
… وأكثر فوائد هذا الكتاب وغيره مما جمعته فهو من تلك الخزائن».
وفاة أبى سعدقال ابن عساكر فيما نقله ابن نقطة في التقييد «ثنا أبو عبد اللَّه محمد بن عبد الرحمن بن محمد المسعودي الفقيه ان أبا سعد توفى بمرو في شهر ربيع الأول من سنة اثنتين وستين وخمسمائة» وفي تاريخ ابن خلكان «توفى بمرو في ليلة غرة ربيع الأول سنة اثنتين وستين وخمسمائة» وفي طبقات الشافعية «في الثلث الأخير من ليلة غرة (في النسخة: عشرة - خطأ) ربيع الأول
… » وفي تذكرة الحافظ «في ربيع الأول في أوله».
وخفي الأمر على ابن الجوزي فذكر ابا سعد في وفيات سنة ثلاث وستين وخمسمائة وقال «توفى ابن السمعاني ببلده في هذه السنة ووصل الخبر بذلك» وتبعه بعضهم وهو خطأ.
كتاب الأنسابسبق أوائل هذه المقدمة الإلماع إلى مكانة هذا الفن وشدة الحاجة إلى معرفته، وأن كتاب الأنساب للسمعاني هو بحق الكتاب الوحيد فيه، وأذكر الآن سبب تأليفه وبعض الثناء عليه، قال أبو سعد في خطبته «كنت في رحلتي أتتبع ذلك وأسأل الحفاظ عن الأنساب وكيفيتها وإلى اى شيء نسب كل أحد وأثبت ما كنت أسمعه، ولما اتفق الاجتماع مع شيخنا وإمامنا أبى شجاع عمر بن أبي الحسن البسطامي ذكره اللَّه بالخير بما وراء النهر فكان يحثني على نظم مجموع في الأنساب وكل نسبة إلى اى قبيلة أو بطن أو ولاء أو بلدة أو قرية
আমি দুনিয়াতে এর মতো প্রাচুর্য ও গুণগত মানে সমৃদ্ধ আর কোনো সংগ্রহশালা দেখিনি। তন্মধ্যে দুটি জামে মসজিদে
… দুটি সামআনিদের এবং অন্য একটি আমিদিয়া মাদরাসায় (যেখানে আবু সাদ শিক্ষকতা করতেন)
… আর এই কিতাব ও অন্যান্য যা কিছু আমি সংকলন করেছি, তার অধিকাংশ উপকারিতা ঐ সংগ্রহশালাগুলো থেকেই প্রাপ্ত।
আবু সাদের মৃত্যুইবনে আসাকির বর্ণনা করেন, যা ইবনে নুকতাহ ‘আত-তাকয়িদ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন: «আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মাসউদি আল-ফকিহ বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাদ পাঁচশত বাষট্টি হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে মার্ভ-এ মৃত্যুবরণ করেন।» আর ইবনে খাল্লিকানের ইতিহাসে রয়েছে: «তিনি পাঁচশত বাষট্টি হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম রাতে মার্ভ-এ ইন্তেকাল করেন।» আর ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’ গ্রন্থে রয়েছে: «রবিউল আউয়ালের প্রথম (মূল কপিতে আছে: দশম - যা ভুল) রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
… » এবং ‘তাযকিরাতুল হাফিজ’ গ্রন্থে রয়েছে: «রবিউল আউয়ালের শুরুতে।»
বিষয়টি ইবনুল জাওযির নিকট অস্পষ্ট ছিল, তাই তিনি আবু সাদকে পাঁচশত তেষট্টি হিজরির মৃত্যু তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «ইবনে সামআনি এই বছর নিজ শহরে ইন্তেকাল করেন এবং এই সংবাদটি পৌঁছেছে।» কেউ কেউ তাকে অনুসরণ করেছেন, যা একটি ভুল।
কিতাবুল আনসাবএই ভূমিকার শুরুতে এই শাস্ত্রের মর্যাদা এবং তা জানার তীব্র প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আর সামআনি রচিত ‘কিতাবুল আনসাব’ প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ের একমাত্র আকর গ্রন্থ। এখন আমি এর রচনার কারণ এবং এর ওপর কৃত কিছু প্রশংসা উল্লেখ করছি। আবু সাদ তার ভূমিকায় বলেন: «সফরকালীন আমি এই বিষয়ে অনুসন্ধান করতাম এবং হাফেজদের নিকট বংশপরিচয়, এর ধরন এবং কাকে কিসের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এবং যা শুনতাম তা লিপিবদ্ধ করতাম। যখন মাওরাউন্নাহরে আমাদের শায়খ ও ইমাম আবু শুজা উমর বিন আবুল হাসান আল-বিস্তামি (আল্লাহ তাকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করুন) এর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হলো, তখন তিনি আমাকে বংশপরম্পরা এবং প্রতিটি নিসবত কোন গোত্র, উপগোত্র, মৈত্রীচুক্তি, শহর বা গ্রামের দিকে তা নিয়ে একটি সুবিন্যস্ত সংকলন করার জন্য উৎসাহিত করতেন।