(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: -)
المدخل إلي جامع الترمذي القسم: علوم الحديث
الكتاب: المدخل إلي جامع الترمذي
(وهو: الجامع المختصر من السنن عن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ومعرفة الصحيح والمعلول وما عليه العمل)
المؤلف: عبد الله بن عبد الرحمن السعد
الناشر: دار المحدث - الرياض، دار الأوراق - جدة
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 هـ
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 صفر 1445
জামে তিরমিযীর ভূমিকা বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: জামে তিরমিযীর ভূমিকা
(আর তা হলো: আল্লাহর রাসূল - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের সংক্ষেপিত সংকলন এবং সহিহ ও ত্রুটিযুক্ত হাদিসের পরিচয় এবং যার ওপর আমল করা হয়)
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সাদ
প্রকাশক: দারুল মুহাদ্দিস - রিয়াদ، দারুল আওরাক - জেদ্দা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ সফর ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد:
فهذا كتاب "المدخل إلى جامع الترمذي"، جمعته لنفسي ولمن أراد أن يستفيد منه، وهو
مقدمة لكتابي "الغيث الوسمي في شرح جامع الترمذي"، أسأل المولى عز وجل أن يعينني على تمامه.
وقد جعلته في ثلاثة أبواب:
الباب الأول: وفيه فصول حول الترمذي.
الباب الثاني: وفيه فصول حول كتاب "الجامع".
الباب الثالث: وفيه فصول في تفسير مصطلحات الترمذي في الحكم على الأحاديث.
ولا يخفى أنه وقع اضطراب في معرفة مقصده من مصطلحاته، فادى عدم تحريرها إلى نسبته إلى التساهل في أحكامه، هذا فضلا عن البعد عن مقصوده منها، وعلى رأسها ما اشتهر به من استعماله لمصطلح "حسن صحيح"، حتى أن الحافظ ابن حجر عندما أراد أن يبين هذا المصطلح ذكر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
এটি হলো "আল-মাদখাল ইলা জামি' আত-তিরমিজি" কিতাব, যা আমি নিজের জন্য এবং যারা এ থেকে উপকৃত হতে চায় তাদের জন্য সংকলন করেছি। এটি আমার "আল-গাইসুল ওয়াসমি ফি শারহি জামি' আত-তিরমিজি" নামক কিতাবের একটি
উপস্থাপনা , আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন এটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেন।
আমি একে তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: এতে ইমাম তিরমিজি সম্পর্কিত কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে "জামি" কিতাবটি সম্পর্কিত কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়: এতে হাদিসের মান নির্ণয়ে ইমাম তিরমিজির ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা সংক্রান্ত কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
এটি অস্পষ্ট নয় যে, তাঁর পরিভাষাগুলোর উদ্দেশ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিভ্রান্তি ঘটেছে। ফলে সেগুলো যথাযথভাবে বিশ্লেষণ না করার কারণে তাঁকে তাঁর হুকুমের ক্ষেত্রে শিথিলতার দিকে নিসবত করা হয়েছে। অধিকন্তু তাঁর পরিভাষাগুলোর মূল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার বিষয়টি তো রয়েছেই, যার শীর্ষে রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত অতি পরিচিত পরিভাষা "হাসান সহিহ"। এমনকি হাফেজ ইবনে হাজার যখন এই পরিভাষাটি স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি উল্লেখ করেছেন-
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৬)
قولا في غاية البعد
(1) عن مراد أبي عيسى، فقال في "النخبة"
(2): (فإن جُمِعا فللتردد في الناقل حيث التفرد، وإلا فباعتبار إسنادين).
ويعني بذلك أن الخبر إذا كان له أكثر من إسناد، فيكون أحدها صحيحا، والثاني حسنا، وأما إذا لم يكن له إلا إسناد واحد، فحينئذ يكون الترمذي قد تردد في حكمه.
وقد سبقه إلى بعض ذلك ابن الصلاح في "مقدمته"
(3)، وهذا غير صحيح، لذا قال الذهبي: (وأجيب عن هذا بشيء لا ينهض أبدا
… الخ)
(4)، وسوف يأتي بيان الصواب في ذلك.
وأكبر من هذا تحرير مصطلحه في الحديث "الحسن"، مع أن الحسن قد وقع في حده اضطراب غير قليل، لذا قال الذهبي: (ثم لا تطمع بأن للحسن قاعدة تندرج كل الأحاديث الحسان فيها، فأنا على إياس من ذلك!)
(5).
والسبب في ذلك أن بعض أهل العلم - كأبي عيسى - يكون له اصطلاح خاص، فيأتي من يفسر هذا المصطلح باصطلاح غيره، فيقع في الخطأ، ومثله من يريد أن يفسر مصطلحات المتقدمين بالحدود التي وضعها
--------------------------------------------
আবু ঈসার উদ্দেশ্যের চেয়ে এটি অত্যন্ত দূরবর্তী একটি কথা
(১)। তিনি 'নুখবাহ'
(২) গ্রন্থে বলেছেন: (যদি এই দুটি পরিভাষা একত্রিত করা হয়, তবে যেখানে একক সূত্র থাকে সেখানে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সন্দেহের কারণে, অন্যথায় দুটি সনদের বিবেচনায়)।
এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, হাদীসের যদি একাধিক সনদ থাকে, তবে তার একটি সহীহ এবং দ্বিতীয়টি হাসান হতে পারে। আর যদি তার একটির বেশি সনদ না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে তিরমিযী তার হুকুমের ব্যাপারে দ্বিধায় ছিলেন।
ইবনুস সালাহ তার 'মুকাদ্দিমা'য়
(৩) এ বিষয়ের কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন, তবে এটি সঠিক নয়। এজন্যই যাহাবী বলেছেন: (এর উত্তরে এমন কিছু বলা হয়েছে যা একেবারেই টেকে না... ইত্যাদি)
(৪)। এর সঠিক ব্যাখ্যা সামনে আসবে।
এর চেয়েও বড় বিষয় হলো 'হাসান' হাদীসের ক্ষেত্রে তার পরিভাষার বিশ্লেষণ, যদিও হাসানের সংজ্ঞায় বেশ কিছুটা অস্থিরতা বা মতভেদ রয়েছে। এ কারণেই যাহাবী বলেছেন: (অতঃপর হাসান হাদীসের জন্য এমন কোনো মূলনীতির আশা করবেন না যার অধীনে সব হাসান হাদীস অন্তর্ভুক্ত হবে; আমি এ ব্যাপারে নিরাশ!)
(৫)।
এর কারণ হলো, কিছু আহলে ইলম বা আলেম—যেমন আবু ঈসা—তাদের নিজস্ব বিশেষ পরিভাষা থাকে। পরে এমন কেউ আসেন যিনি এই পরিভাষাকে অন্যের পরিভাষা দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, ফলে তিনি ভুলের শিকার হন। তেমনিভাবে যারা পূর্বসূরিদের পরিভাষাকে নিজেদের তৈরি করা সংজ্ঞা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৭)
المتأخرون، وهذا خلاف الصواب، بل الواجب الرجوع إلى تصرفاتهم وتتبع كلامهم
(1).
ولأجل هذا حرصت على تتبع كلام أبي عيسى وتصرفاته في بيان مصطلحاته، وخاصة فيما بَيَّن مقصوده فيه، وقد تبين لي بحمد الله كثير من مقاصده من هذه المصطلحات، وعلمت دقة أحكامه، وأنَّه ينبغي الوثوق بها إلا إذا دل الدليل على خلاف ذلك.
بل إن طالب العلم إذا أراد أن يتمكن من الصناعة الحديثية بفنونها فعليه أن يكثر من النظر في هذا الكتاب، ويحرص على فَهْم عبارات مؤلفه،
--------------------------------------------
পরবর্তীকালীন আলিমগণ [এর মতো ব্যাখ্যা করেছেন], আর এটি সঠিক নয়। বরং আবশ্যক হলো তাদের (পূর্ববর্তী আলিমদের) কর্মপদ্ধতির দিকে ফিরে যাওয়া এবং তাদের কথাগুলো অনুসরণ করা
(১)।
এ কারণেই আমি আবু ইসা (ইমাম তিরমিযী)-র পরিভাষাগুলোর বর্ণনায় তাঁর কথা ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণে সচেষ্ট হয়েছি, বিশেষ করে যে বিষয়গুলোতে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। আল্লাহর প্রশংসায় তাঁর এসকল পরিভাষার অনেক উদ্দেশ্যই আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। আমি তাঁর হুকুম প্রদানের সূক্ষ্মতা সম্পর্কে জেনেছি এবং এটিও জেনেছি যে, অন্য কোনো দালিলিক প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর এই সিদ্ধান্তগুলোর ওপর আস্থা রাখা উচিত।
বরং একজন ইলম অন্বেষী যদি হাদিস শাস্ত্রের শিল্পকলায় পারদর্শী হতে চান, তবে তাঁর উচিত এই কিতাবটি অধিক অধ্যয়ন করা এবং এর লেখকের বর্ণনাভঙ্গি বোঝার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وتتبع كلامه على الأحاديث تصحيحا وتضعيفا؛ فإنه سوف يحصل له مراده بإذن الله تعالى؛ لأن أبا عيسى قد استعمل في هذا الكتاب كل المصطلحات التي ذكرها أهل العلم، بل وزاد عليها مصطلحات كثيرة لم تذكر، وكل ذلك مقرون بالناحية العملية، والأمثلة التطبيقية، لذا كان هذا الكتاب جديرا بالعناية من قبل طلبة العلم، هذا فضلا عما فيه من الصناعة الفقهية، فهو قد احتوى على هاتين الصناعتين، وقد بينت شيئا من ذلك في أثناء هذا "المدخل".
وهذا ليس خاصا بأبي عيسى، بل غيره من الأئمة؛ ينبغي تتبع كلامهم، ودراسة مناهجهم، والاحتفاء بأحكامهم، ومن هذا: سكوت أبي داود والنسائي والبيهقي عن الحديث بعد تخريجه، وعدم تعليل الخبر بعد إيراده، فإنه يفيد صحته عندهم -غالبا-، كما نص أبو داود على ذلك، وعُلم هذا من تصرفات النَّسَائِي، وأما البيهقي فقد ذكر أنه لا يسكت عن حديث ضعيف
(1)، وكذلك إخراج أحمد للحديث في "مسنده" يدل على قوته
--------------------------------------------
হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত; কারণ এতে আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর উদ্দেশ্য অর্জিত হবে। কেননা আবু ঈসা এই কিতাবে ইলম অর্জনকারীগণের উল্লেখ করা সমস্ত পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, বরং তিনি এমন অনেক পরিভাষা যোগ করেছেন যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়নি। আর এই সব কিছুই ব্যবহারিক দিক এবং প্রায়োগিক উদাহরণের সাথে সম্পৃক্ত, তাই এই কিতাবটি ইলম অন্বেষণকারীদের বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে ফিকহশাস্ত্রীয় দক্ষতা; ফলে এটি এই উভয় শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আমি এই "ভূমিকা" চলাকালীন এর কিছু অংশ ব্যাখ্যা করেছি।
আর এটি কেবল আবু ঈসার জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং অন্যান্য ইমামগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; তাঁদের কথা অনুসরণ করা, তাঁদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি অধ্যয়ন করা এবং তাঁদের সিদ্ধান্তসমূহকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা উচিত। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: আবু দাউদ, নাসাঈ এবং বায়হাকী কর্তৃক হাদিস উদ্ধৃত করার পর সেই সম্পর্কে নীরব থাকা এবং বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর তাতে কোনো ত্রুটি বর্ণনা না করা; কেননা এটি তাঁদের নিকট—সাধারণত—হাদিসটি সহীহ হওয়ার প্রমাণ বহন করে, যেমনটি আবু দাউদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং নাসাঈর কর্মপদ্ধতি থেকেও এটি জানা যায়। আর বায়হাকীর বিষয়ে কথা হলো, তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি কোনো দুর্বল হাদিসের ব্যাপারে নীরব থাকেন না
(১), অনুরূপভাবে আহমদ তাঁর "মুসনাদ"-এ কোনো হাদিস উদ্ধৃত করা সেটির শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৯)
عنده من حيث الجملة، لذا قال أبو العباس ابن تيمية: (شرط أحمد في "مسنده" أجود من شرط أبي داود في سننه)
(1).
لذا كان الأصل في أحاديث "السنن" الأربعة و"مسند" أحمد و"صحيحي" ابن خزيمة وابن حبان = الصحة، على تفاوت بينهم في ذلك.
وعندئذٍ سوف يجد المتأمل في ذلك فوائد عظيمة، ومسائل مهمة، كان غافلا عنها، لا يجدها في مكان آخر، وسوف يعلم سبب إطلاق الأئمة الصحة على كتابي أبي داود والنسائي، كما أنه سوف تزول بعض الإشكالات التي يجدها الباحث في بعض أحكامهم، وخاصة في تعليلهم للخبر الذي ظاهر إسناده الصحة، فلا يردها كما يفعل بعض المتأخرين، أو لا يحتفل بها كما هو شأن بعض المعاصرين.
وأيضا سوف يجد الناظر في فصول هذا "المدخل" شيئا من التكرار؛ بعضه يُحتاج إليه، وبعضه بسبب إملاء الكتاب في أوقات متباعدة، كما أن بعض هذه المباحث يحتاج إلى زيادة بسط، وهذا يحتاج إلى مزيد من الوقت، فاكتفيت ببعضه عن كله.
--------------------------------------------
সাধারণভাবে তাঁর নিকট, এজন্যই আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (আহমাদের "মুসনাদ"-এর শর্ত আবু দাউদের তাঁর "সুনান"-এর শর্তের চেয়ে উৎকৃষ্ট)
(১)।
এজন্য চার "সুনান", আহমাদ-এর "মুসনাদ" এবং ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে হিব্বান-এর দুই "সহীহ" গ্রন্থের হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো = বিশুদ্ধতা (সহীহ হওয়া), যদিও এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।
আর তখনই যে ব্যক্তি এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তিনি এতে মহান অনেক উপকারিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক মাসআলা পাবেন যা থেকে তিনি গাফেল ছিলেন এবং অন্য কোথাও তা পাবেন না। তিনি আরও জানতে পারবেন কেন ইমামগণ আবু দাউদ ও নাসায়ীর কিতাব দুটির ওপর ‘বিশুদ্ধতা’ (সহীহ) শব্দ প্রয়োগ করেছেন। তেমনিভাবে গবেষক তাদের কিছু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যেসব অস্পষ্টতার সম্মুখীন হন তার কিছু দূরীভূত হবে; বিশেষ করে কোনো বর্ণনার ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনার ক্ষেত্রে যার বাহ্যিক সনদ সহীহ। ফলে তিনি সেই ত্রুটিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করবেন না যেমনটি পরবর্তী যুগের কিছু আলেম করেন, অথবা সেগুলোর প্রতি গুরুত্বহীন থাকবেন না যেমনটি কিছু সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
আরও পাঠক এই "মাদখাল" বা উপক্রমণিকার পরিচ্ছেদগুলোতে কিছুটা পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করবেন; যার কিছু অংশের প্রয়োজন ছিল, আর কিছু অংশ ঘটেছে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে কিতাবটি শ্রুতিলিখনের কারণে। তেমনিভাবে এই আলোচনার কিছু বিষয়ের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, আর তার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও সময়ের, তাই আমি পূর্ণাঙ্গ আলোচনার পরিবর্তে কিছু অংশের ওপরই সন্তুষ্ট থেকেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১০)
كما أنه قد كُتب عن الترمذي وكتابه الشيء الكثير فلم أرد إعادة ما ذكر واستقصاءه، وإنما أردت بيان بعض الأمور المهمة حول الترمذي وكتابه، والتي فيها إضافة على ما هو معروف ومشهور، مع التأكيد على بيان ذلك من خلال الكتاب نفسه، وبالله تعالى التوفيق.
وقد ساعدني في جمع المادة العلمية لهذا "المدخل" جمع من الإخوة، وعلى رأسهم: سامي بن محمد بن جاد الله، وعبد العزيز بن ناصر الخباني، وأَغْرون بن مِلَازم كرَاسنِيجى، وعبد العزيز بن زيد الشبانات، وعبد الحكيم الجبير، والدكتور فيحان بن نايف البصيص، ومعاذ بن محمد القعود، وعبد الرحمن الهليل، وإسلام بن محمد سلطان، وطارق بن عودة العنزي، ومحمود شحرور، فجزاهم الله خيرا، وبارك فيهم.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم، وينفع به كما نفع بأصله.
أملاه
عبد الله بن عبد الرحمن السعد
16/ 5/ 1441
ইমাম তিরমিযী এবং তাঁর কিতাব সম্পর্কে যেহেতু অনেক কিছুই লেখা হয়েছে, তাই যা ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি করা এবং এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া আমি পরিহার করেছি। বরং আমি তিরমিযী এবং তাঁর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করার সংকল্প করেছি, যা প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ তথ্যের অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। এর পাশাপাশি খোদ কিতাবটি থেকেই সেই বিষয়গুলো উপস্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি। আর মহান আল্লাহর নিকটই তাওফীক কামনা করি।
এই "ভূমিকা"র (মাদখাল) জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদানসমূহ সংগ্রহে একদল ভাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন, যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন: সামি বিন মুহাম্মদ বিন জাদুল্লাহ, আব্দুল আযীয বিন নাসির আল-খুবানী, আগ্রুন বিন মুলাযিম কারাসনীজী, আব্দুল আযীয বিন যায়েদ আশ-শাবানাত, আব্দুল হাকীম আল-জুবাইর, ডক্টর ফাইহান বিন নায়েফ আল-বাফীস, মুআয বিন মুহাম্মদ আল-কাউদ, আব্দুর রহমান আল-হুলাইল, ইসলাম বিন মুহাম্মদ সুলতান, তারিক বিন আউদা আল-আনাযী এবং মাহমুদ শাহরুর। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের ওপর বরকত নাযিল করুন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করেন, যেভাবে তিনি এর মূল কিতাব দ্বারা উপকৃত করেছেন।
শ্রুতলিখন:
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সা’দ
১৬/ ৫/ ১৪৪১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الباب الأول وفيه فصول حول الترمذيالفصل الأول: في اسمه ونسبه وكنيته وولادته ووفاته.
الفصل الثاني: في رحلاته.
الفصل الثالث: في شيوخه وتلاميذه.
الفصل الرابع: في أهم ما تميز به.
الفصل الخامس: في أنه حامل علم البخاري.
الفصل السادس: في ورعه في الجرح والتعديل.
الفصل السابع: في مؤلفاته.
প্রথম অধ্যায়: এতে ইমাম তিরমিযী সম্পর্কিত পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছেপ্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম, জন্ম এবং মৃত্যু প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানসফর প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবর্গ প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তিনি ইমাম বুখারীর ইলমের বাহক হওয়া প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: জারহ ও তাদীল-এর ক্ষেত্রে তাঁর তাকওয়া বা আল্লাহভীতি প্রসঙ্গে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأول في اسمه، ونسبه، وكنيته، وولادته، ووفاتهأما اسمه: فاختلف فيه على ثلاثة أقوال:
1 - محمد بن عيسى بن سَوْرَة
(1) بن موسى بن الضحاك.
كذا سماه تلميذه أبو العباس محمد بن أحمد المحبوبي
(2)، وهو المشهور
(3).
2 - محمد بن عيسى بن سَوْرَة بن شداد
(4).
3 - محمد بن عيسى بن يزيد بن سَوْرَة بن السَّكَن
(5).
* * *
وأما نسبته: القَيْسِيُّ السُّلَميُّ -بضم السين المهملة وفتح اللام-
(6).
أما القَيْسِيُّ، فنسبة إلى قيس عيلان بن مضر بن نزار بن معد بن
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম, জন্ম এবং মৃত্যু প্রসঙ্গেতাঁর নামের ব্যাপারে তিনটি ভিন্ন অভিমত রয়েছে:
১ - মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা
(১) বিন মুসা বিন আদ-দাহহাক।
তাঁর ছাত্র আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-মাহবুবি
(২) তাঁকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং এটিই প্রসিদ্ধ
(৩)।
২ - মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা বিন শাদ্দাদ
(৪)।
৩ - মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন ইয়াযিদ বিন সাওরা বিন আস-সাকান
(৫)।
* * *
আর তাঁর নিসবত (বংশীয় সম্পৃক্ততা) হলো: আল-কায়সি আস-সুলামি —সীন বর্ণে পেশ এবং লাম বর্ণে জবর সহকারে—
(৬)।
আল-কায়সি হলো কায়স আয়লান বিন মুদার বিন নিযার বিন মা'আদ বিন... এর দিকে নিসবত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عدنان، وإلى قيس تنتسب قبائل كثيرة، منها: غطفان وهوازن وباهلة وغيرهم، وقير هو أخو إلياس، وإليه تنتسب قريش وهذيل ومزينة وغيرهم.
وأما السُّلمي، فنسبة إلى سُليم بن منصور بن عكرمة بن خَصَفَة بن قيس
(1)، قبيلة مشهورة، حجازيةُ الإقليم، مساكنها بين مكة والمدينة منذ الجاهلية وإلى الآن، مع تغيرٍ بعضَ الشيء، وقد تفرَّق قسم منهم في البلاد، فمنهم من سكن الشام، ومنهم من سكن برقة وما حولها -أي: ليبيا الآن-، ولا زالوا يعرفون إلى الآن.
وقد خرج منها جَمْعٌ كبير من الصحابة والتابعين وهلمَّ جرًّا، فمن مشاهيرهم: عمرو بن عَبَسَة السلمي، وهو صحابي جليل قد تقدم إسلامه، فقد قال ابن سعد: (أخبرنا معن بن عيسى قال: حدثنا معاوية بن صالح، عن أبي يحيى سليم بن عامر، وضمرة، وأبي طلحة، أنهم سمعوا أبا أمامة الباهلي يحدث عن عمرو بن عبسة، قال: أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو نازل بعكاظ، قال: قلت: يا رسول الله، من معك في هذا الأمر؟ قال: "معي رجلان: أبو بكر وبلال"، قال: فأسلمت عند ذلك، قال: فلقد رأيتني ربع الإسلام، قال: فقلت: يا رسول الله، أمكث معك أم ألحق بقومي؟ قال: "الحق بقومك"، قال: "فيوشك الله تعالى أن يفي بمن ترى وبحيي الإسلام"، وهذا إسناد جيد.
ومنهم أيضا: الصحابي المشهور العرباض بن سارية السلمي، صاحب حديث: "عليكم بسنتي
… "، ومنهم: العباس بن مرداس السلمي، وغيرهم من الصحابة، وغيرهم كثير من التابعين وأتباعهم.
--------------------------------------------
আদনান, এবং কায়স-এর দিকে অনেক গোত্র সম্পৃক্ত, যাদের মধ্যে রয়েছে: গাতফান, হাওয়াযিন, বাহিলা এবং অন্যান্যরা। আর কায়স হলো ইলিয়াসের ভাই, এবং তার (ইলিয়াসের) দিকেই কুরাইশ, হুযাইল, মুযাইনা এবং অন্যান্যরা সম্পৃক্ত।
আর 'সুলামি' হলো সুলাইম ইবনে মানসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসাফা ইবনে কায়স
(১)-এর দিকে একটি নিসবত বা সম্বন্ধ। এটি একটি প্রসিদ্ধ গোত্র, হিজাজ অঞ্চলের অধিবাসী; জাহেলী যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের আবাসস্থল মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে, তবে বর্তমানে এর কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। তাদের একটি অংশ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে; কেউ শামে বসবাস করছে, আবার কেউ বারকাহ এবং তার আশপাশে—অর্থাৎ বর্তমান লিবিয়ায়—বসবাস করছে। তারা আজ অবধি সেখানে সুপরিচিত।
এই গোত্র থেকে সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী যুগের এক বিশাল জামাত বের হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন: আমর ইবনে আবাসা আস-সুলামি (রাযিআল্লাহু আনহু), তিনি একজন মহান সাহাবী যার ইসলাম গ্রহণ প্রাথমিক যুগেই ছিল। ইবনে সাদ বলেন: (মান ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুআবিয়া ইবনে সালিহ আবু ইয়াহইয়া সুলাইম ইবনে আমির, দামরাহ এবং আবু তালহা থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যে, তারা আবু উমামা আল-বাহিলিকে আমর ইবনে আবাসা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি উকাজে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, এই দ্বীনের পথে আপনার সাথে আর কে আছে? তিনি বললেন: "আমার সাথে দুইজন ব্যক্তি আছে: আবু বকর ও বিলাল।" তিনি বলেন: তখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। তিনি বলেন: আমি নিজেকে ইসলামের এক-চতুর্থাংশ (অর্থাৎ চতুর্থ মুসলমান) হিসেবে দেখতাম। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি আপনার সাথেই অবস্থান করব নাকি আমার কওমের সাথে গিয়ে মিলিত হব? তিনি বললেন: "তোমার কওমের সাথে গিয়ে মিলিত হও।" তিনি বললেন: "শীঘ্রই আল্লাহ তাআলা তোমার সামনে থাকা ব্যক্তিদের দ্বারা (দ্বীনকে) পূর্ণ করবেন এবং ইসলামকে বিজয়ী করবেন।" এর সনদটি উত্তম।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: প্রসিদ্ধ সাহাবী ইরবায ইবনে সারিয়া আস-সুলামি (রাযিআল্লাহু আনহু), যিনি "তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো..." হাদিসের বর্ণনাকারী। এছাড়াও রয়েছেন আব্বাস ইবনে মিরদাস আস-সুলামি (রাযিআল্লাহু আনহু) এবং অন্যান্য অনেক সাহাবী ও তাবেয়ী এবং তাদের অনুসারীগণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما بلاده: فهو ينسب البُوْغِيُّ التِّرمذي
(1).
البُوْغِيُّ: نسبة إلى بوغ، قال السمعاني: (بضم الباء الموحدة وسكون الواو وفي آخرها الغين المعجمة، هذه النسبة إلى "بوغ" وهي قرية من قرى "الترمذ" على ستة فراسخ)
(2).
التِّرْمِذِيُّ: نسبة إلى ترمذ، وقد اختلف في ضبطها على ثلاثة أقوال، قال السمعاني: (والناس مختلفون في كيفية هذه النسبة -أي: الترمذي-، بعضهم يقولون: بفتح التاء المنقوطة بنقطتين من فوق، وبعضهم يقولون: بضمها، وبعضهم يقولون: بكسرها، والمتداول على لسان أهل تلك البلدة -وكنت أقمت بها اثني عشر يوما- بفتح التاء وكسر الميم، والذي كنا نعرفه قديما فيه كسر التاء والميم جميعا، والّذي يقوله المتوقون وأهل المعرفة: بضم التاء والميم، وكل واحد يقول معنى لما يدعيه)
(3).
وقال مؤتمن الساجي: (سمعت عبد الله بن محمد الأنصاري -أبو إسماعيل الهروي- يقول: هو بضم التاء)
(4).
وقال ابن دقيق العيد: (وترمذ بالكسر، هو المستفيض على الألسنة حتى يكون كالمتواتر)
(5).
وقال أبو الفتح اليَعمُري: (ويقوله المتوقون وأهل المعرفة: بضم التاء والميم، والذي نعرفه بكسرها، وهي على نهر بلخ)
(6).
وقال الذهبي: (ترمذ: بفتح التاء، وقيل: بضمها، ويقال: بكسرها)
(7).
--------------------------------------------
আর তার দেশের কথা হলো: তাকে আল-বুগি আত-তিরমিজি হিসেবে সম্বন্ধ করা হয়
(১)।
আল-বুগি: বুগ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সামআনি বলেন: (প্রথম বর্ণ 'বা'-এ পেশ এবং 'ওয়াও' সাকিন যুক্ত আর এর শেষে রয়েছে বর্ণ 'গাইন'। এই সম্বন্ধটি 'বুগ'-এর দিকে, যা 'তিরমিজ'-এর গ্রামগুলোর একটি; এটি ছয় ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত)
(২)।
আত-তিরমিজি: তিরমিজ-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এর উচ্চারণরীতিতে তিনটি অভিমত নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সামআনি বলেন: (মানুষ এই সম্বন্ধের উচ্চারণের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ তিরমিজি—ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের কেউ কেউ বলেন: ওপরের দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'তা' বর্ণে জবর (ফাতহা) দিয়ে, কেউ কেউ বলেন: পেশ (দম্মাহ) দিয়ে এবং কেউ কেউ বলেন: জের (কাসরা) দিয়ে। তবে সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের মুখে যা প্রচলিত—এবং আমি সেখানে বারো দিন অবস্থান করেছি—তাহলো 'তা' বর্ণে জবর এবং 'মিম' বর্ণে জের। আর আমরা প্রাচীনকাল থেকে যা জানতাম তা হলো 'তা' ও 'মিম' উভয় বর্ণেই জের। অন্যদিকে আল্লাহভীরু ও বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেন: 'তা' ও 'মিম' উভয় বর্ণে পেশ দিয়ে; আর প্রত্যেকেই তাদের দাবির সপক্ষে একটি অর্থ বর্ণনা করেন)
(৩)।
মুতামান আস-সাজি বলেন: (আমি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি—আবু ইসমাইল আল-হারাওয়ি—কে বলতে শুনেছি: এটি 'তা' বর্ণে পেশ দিয়ে উচ্চারিত)
(৪)।
ইবন দাকীক আল-ঈদ বলেন: (আর তিরমিজ জের-সহকারে; এটি মানুষের মুখে এতটাই প্রসিদ্ধ যে তা মুতাওয়াতির বা অকাট্য জনশ্রুতির পর্যায়ের)
(৫)।
আবুল ফাতহ আল-ইয়ামুরি বলেন: (আল্লাহভীরু ও বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেন: 'তা' ও 'মিম' উভয় বর্ণে পেশ দিয়ে; আর আমরা যা জানি তা হলো জের দিয়ে। এটি বালখ নদীর তীরে অবস্থিত)
(৬)।
যাহাবি বলেন: (তিরমিজ: 'তা' বর্ণে জবর দিয়ে, আবার বলা হয়েছে: পেশ দিয়ে এবং এও বলা হয়: জের দিয়ে)
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال ابن عبد الهادي: (وترمذ بالكسر هو المشهور)
(1).
قلت: الراجح أنها بكسر التاء والميم، وذلك لأمرين:
الأول: ما قاله السمعاني هنا: (والذي نعرفه فيه -يعني في هذه البلدة- كسر التاء والميم جميعا)، فعلى هذا تسمية أهل هذه البلدة لبلدهم ترمذ بفتح التاء وكسر الميم هو حادث، وأنَّه قديما كانت بكسر التاء والميم كما تقدم.
الثاني: ما قاله ابن دقيق العيد - كما سبق -: (ترمذ بالكسر، وهو المستفيض على الألسنة حتى يكون كالمتواتر)، وما قاله ابن عبد الهادي: (بالكسر، هو المشهور).
وأما من قال بضم التاء والميم، فهذا لم أقف على أحد قاله إلا أبو إسماعيل الهروي، ويجاب عن هذا بما تقدم من قول السمعاني: (والذي كنا نعرفه قديما فيه
… الخ).
والذي يظهر أن أجداد الترمذي رحلوا إلى هذه البلاد البعيدة لكونهم خرجوا في الجهاد، كما خرج غيرهم كثير لذلك، فأقاموا فيها، والله أعلم.
* * *
وأما كنيته: فأبو عيسى بالاتفاق.
وقال مغلطاي: (وزعم ابن دحية في الكتاب المسمى بـ "المستوفى في أخبار المصطفى صلى الله عليه وسلم " أنه يعرف - أي: الترمذي - بابن الدهان)
(2).
وهذا غريب، ولم أقف على من سبقه إلى ذلك، كما أنه لم يذكر من أين أخذ ذلك.
--------------------------------------------
এবং ইবনে আব্দুল হাদি বলেছেন: (আর তিরমিজ 'কাসরা' বা যের যোগে উচ্চারণ করাই প্রসিদ্ধ)
(১).
আমি বলছি: বিশুদ্ধ মত হলো তা 'তা' এবং 'মিম' বর্ণের নিচে কাসরা (যের) যোগে উচ্চারিত হবে, আর তা দুটি কারণে:
প্রথমত: সামআনি এখানে যা বলেছেন: (আর আমরা এই শহর সম্পর্কে যা জানি তা হলো -অর্থাৎ এই শহরের নামে- 'তা' এবং 'মিম' উভয় বর্ণে কাসরা বা যের হবে), সুতরাং এই শহরের অধিবাসীদের তাদের শহরকে 'তা' বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং 'মিম' বর্ণে কাসরা (যের) দিয়ে 'তারমিজ' হিসেবে নামকরণ করা একটি পরবর্তী বিষয়, আর প্রাচীনকালে এটি 'তা' এবং 'মিম' বর্ণে কাসরা (যের) দিয়েই উচ্চারিত হতো যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: ইবনে দাকীকুল ঈদ যা বলেছেন -যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে-: (তিরমিজ কাসরা বা যের যোগে উচ্চারিত হবে, আর এটিই মানুষের মুখে মুখে এমনভাবে বহুল প্রচলিত যে তা মুতাওয়াতির বা অকাট্য পর্যায়ের), এবং ইবনে আব্দুল হাদি যা বলেছেন: (কাসরা বা যের যোগে উচ্চারণ করাই প্রসিদ্ধ)।
আর যারা 'তা' এবং 'মিম' বর্ণে দম্মা (পেশ) দিয়ে উচ্চারণ করার কথা বলেছেন, আমি আবু ইসমাইল আল-হারাবি ব্যতীত অন্য কাউকে এ কথা বলতে দেখিনি, আর এর উত্তর সামআনির পূর্বে বর্ণিত উক্তি দ্বারা দেওয়া যায়: (আর আমরা প্রাচীনকালে এই শহর সম্পর্কে যা জানতাম... শেষ পর্যন্ত)।
আর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, ইমাম তিরমিজির পূর্বপুরুষরা এই দূরবর্তী ভূখণ্ডে হিজরত করেছিলেন কারণ তারা জিহাদে বের হয়েছিলেন, যেমনটি জিহাদের উদ্দেশ্যে আরও অনেকে বের হয়েছিলেন, অতঃপর তারা সেখানে বসবাস শুরু করেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
* * *
আর তার কুনিয়াত বা ডাকনাম হলো: সর্বসম্মতিক্রমে আবু ঈসা।
এবং মুগলতায় বলেছেন: (ইবনে দিহয়া "আল-মুস্তাউফা ফি আখবারিল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" নামক কিতাবে দাবি করেছেন যে, তিনি -অর্থাৎ তিরমিজি- 'ইবনুদ দাহহান' নামে পরিচিত ছিলেন)
(২).
আর এটি একটি অদ্ভুত বিষয়, এবং আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তার আগে এই কথা বলেছেন, তদুপরি তিনি এটি কোথা থেকে গ্রহণ করেছেন তাও উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما ولادته:فذكر ابن الأثير أنه: (ولد سنة تسع ومئتين)
(1)، وإن كان ابن الأثير لم يذكر دليله على ذلك، ولكن مثل ابن الأثير في مكانته العلمية لا يمكن أن يجزم بذلك إلا وقد وقف على نقل فيه، وأما قول الذهبي: (ولد سنة بضع ومئتين)
(2) فهذا تقدير منه على حسب وفيات شيوخه الذين سمع منهم، لذا قال في موضع آخر: (ولد في حدود سنة عشر ومئتين)
(3).
وكان مبصرا، قال أحمد بن عبد الله بن داود: (سمعت أبا عيسى الترمذي يقول: كنت في طريق مكة، وكنت قد كتبت جزأين من أحاديث شيخ، فمر بنا ذلك الشيخ فسألت عنه فقالوا: فلان، فرحت إليه وأنا أظن أن الجزأين معي وإنما حملت معي في محملي جزأين غيرهما شبههما، فلما ظفرت به سألته السماع فأجاب، وأخذ يقرأ من حفظه، ثم لمح فرأى البياض في يدي، فقال: ما تستحيى مني؟! فقصصت عليه القصة، وقلت له: إني أحفظه كله، فقال: اقرأ، فقرأته عليه على الولاء، فقال: هل استظهرت قبل أن تجيء إلي؟ قلت: لا، ثم قلت له: حدثني بغيره، فقرأ عليَّ أربعين حديثا من غرائب حديثه، ثم قال: هات، فقرأت عليه من أوله إلى آخره، فقال: ما رأيت مثلك!)
(4).
لذا قال يوسف بن أحمد البغدادي الحافظ: (أضرَّ أبو عيسى في آخر عمره)
(5).
وقال عمر بن عَلَّك: (بكى حتى عمي، وبقي ضريرا سنين)
(6).
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম প্রসঙ্গে:ইবনুল আসীর উল্লেখ করেছেন যে: (তিনি দুইশত নয় হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন)
(১)। যদিও ইবনুল আসীর এর স্বপক্ষে তাঁর দলিল উল্লেখ করেননি, তবে ইবনুল আসীর এর মতো উচ্চ পর্যায়ের একজন আলিম কোনো বর্ণনা না দেখে নিশ্চিতভাবে এমনটি বলতে পারেন না। আর আয-যাহাবীর বক্তব্য: (তিনি দুইশত কয়েক সালে জন্মগ্রহণ করেন)
(২); এটি মূলত তাঁর সেই সব শিক্ষকদের মৃত্যুর সময়ের ওপর ভিত্তি করে একটি অনুমান, যাঁদের থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন। একারণেই তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: (তিনি দুইশত দশ হিজরির কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন)
(৩)।
তিনি দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলেন। আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ বলেছেন: (আমি আবু ঈসা আত-তিরমিযীকে বলতে শুনেছি: আমি মক্কার পথে ছিলাম। আমি একজন শায়খের বর্ণিত হাদিসের দুই খণ্ড লিখেছিলাম। ঘটনাক্রমে সেই শায়খ আমাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল: তিনি অমুক। তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম এই মনে করে যে, সেই দুই খণ্ড আমার সাথেই আছে। অথচ আমি আমার হাওদায় সেই দুই খণ্ডের পরিবর্তে অন্য দুটি খণ্ড নিয়ে এসেছিলাম যা দেখতে একই রকম ছিল। যখন তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, আমি তাঁর কাছে হাদিস শোনার আবেদন করলাম এবং তিনি তাতে সাড়া দিলেন। তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে পাঠ করতে শুরু করলেন, অতঃপর লক্ষ্য করে আমার হাতে সাদা কাগজ দেখে বললেন: "তুমি কি আমাকে লজ্জা পাও না?!" তখন আমি তাঁকে পুরো ঘটনা খুলে বললাম এবং তাঁকে বললাম: "আমি এর পুরোটাই মুখস্থ করে ফেলেছি।" তিনি বললেন: "পড়ো।" আমি ধারাবাহিকভাবে তাঁর কাছে তা পাঠ করলাম। তিনি বললেন: "তুমি কি আমার কাছে আসার আগেই তা মুখস্থ করে এসেছিলে?" আমি বললাম: "না।" এরপর আমি তাঁকে বললাম: "আমাকে অন্য হাদিস শুনিয়ে দিন।" তখন তিনি তাঁর সংগৃহীত বিরল হাদিস থেকে চল্লিশটি হাদিস পড়ে শোনালেন। এরপর তিনি বললেন: "এখন শোনাও।" আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে তা পাঠ করলাম। তিনি বললেন: "আমি তোমার মতো কাউকে দেখিনি!")
(৪)।
একারণেই হাফিজ ইউসুফ ইবনে আহমদ আল-বাগদাদী বলেছেন: (আবু ঈসা তাঁর জীবনের শেষ দিকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন)
(৫)।
ওমর ইবনে আল্লাক বলেছেন: (তিনি কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং কয়েক বছর অন্ধ অবস্থায় ছিলেন)
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما وفاته:ففيها أربعة أقوال:
1 - سنة خمس وسبعين ومئتين. قاله السمعاني
(1).
2 - سنة نيف وسبعين ومئتين. قاله السمعاني
(2).
وهذان القولان ليس بينهما اختلاف كما هو معلوم، فتكون وفاته عند السمعاني سنة خمس وسبعين.
3 - ليلة الاثنين، لثلاث عشرة خلت من رجب، سنة تسع وسبعين ومئتين. كذا قال غنجار
(3)، وأبو العباس جعفر بن المعتز المستغفري
(4)، وابن ماكولا
(5)، واقتصر عليه المزي
(6)، وجزم به ابن الأثير
(7)، وصححه ابن كثير
(8).
وأنا أذهب إلى هذا، وما خالفه من الأقوال فليس بصحيح.
4 - مات بعد الثمانين ومئتين. قاله الخليلي
(9).
وأما مكان وفاته:فقال غنجار: (في ترمذ)
(10)، وقال السمعاني: (مات بقرية بوغ)
(11). ولا تعارض بينهما، فـ "بوغ" قرية من قرى "ترمذ".
--------------------------------------------
আর তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে:এ বিষয়ে চারটি মত রয়েছে:
১ - ২৭৫ হিজরি সন। আস-সামআনী এটি বলেছেন
(১)।
২ - ২৭০-এর কিছু বেশি হিজরি সন। আস-সামআনী এটি বলেছেন
(২)।
যেমনটি সুবিদিত, এই দুই মতের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; সুতরাং আস-সামআনীর নিকট তাঁর মৃত্যু ২৭৫ হিজরি সনে।
৩ - ২৭৯ হিজরি সনের ১৩ই রজব অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিবাগত রাত। গুঞ্জার
(৩), আবু আল-আব্বাস জাফর ইবনুল মুতায আল-মুসতাগফিরী
(৪) এবং ইবনে মাকূলা
(৫) এভাবেই বলেছেন। আল-মিযযী
(৬) কেবল এই মতটিই উল্লেখ করেছেন, ইবনুল আসীর
(৭) এটি দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন এবং ইবনে কাসীর
(৮) একে সঠিক বলেছেন।
আমি এই মতটিই গ্রহণ করছি, আর এর বিপরীত মতগুলো সঠিক নয়।
৪ - তিনি ২৮০ হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেছেন। আল-খলীলী এটি বলেছেন
(৯)।
আর তাঁর মৃত্যুর স্থান সম্পর্কে:গুঞ্জার বলেছেন: (তিরমিযে)
(১০), এবং আস-সামআনী বলেছেন: (তিনি বাুগ গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন)
(১১)। এই দুইটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ "বাুগ" হলো "তিরমিয"-এর গ্রামগুলোর মধ্যে একটি গ্রাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الثاني في رحلاتهارتحل أبو عيسى في طلب الحديث إلى عدة بلدان، فسمع بخراسان والعراق والحرمين، ولم يرحل إلى مصر والشام، كما تفيده بعض كتب التراجم.
أولًا: بداية رحلته:في حاشية المزي عند ترجمته لأحمد بن عبيد الله بن سهيل أن رحلة الترمذي كانت بعد الأربعين ومئتين، قاد المزي: (ذكر أبو القاسم في "الشيوخ النبل" أن الترمذي روى عنه أيضا، وذلك وهم منه، إنما روى عن الذي بعده، وهو السليمي فإن رحلته كانت بعد الأربعين)
(1).
وهناك من تعقب المزي بأن للترمذي شيوخا قد توفوا قبل المائتين وأربعين، وبالتالي تكون رحلته قبل ذلك.
والجواب عن ذلك أن بعض من ذكر اختُلف في وفاته، وبعضهم ليس من شيوخه أصلا، كعلي بن الحسن بن سليمان الواسطي المتوفى سنة (237 هـ)، وأما البعض الآخر فإنهم وإن توفوا قبل المائتين وأربعين إلا أن بعضهم من (بلخ)، وبلخ قريبة من (ترمذ) فلا يكون الذهاب إليها رحلة منه، ويؤكد ذلك أنه لو رحل قبل الأربعين لسمع من جمع ممن توفي قبل ذلك، وليس الواحد أو الاثنين.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সফরসমূহআবু ঈসা হাদীস অন্বেষণে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি খুরাসান, ইরাক এবং হারামাইন (মক্কা ও মদীনা)-এ হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি মিশর ও সিরিয়া সফর করেননি, যেমনটি কোনো কোনো জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত: তাঁর সফরের সূচনা:আল-মিযযীর টীকায় আহমদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে সুহাইলের জীবনী আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিরমিযীর সফর ছিল ২৪০ হিজরীর পর। আল-মিযযী বলেছেন: (আবু আল-কাসিম "আশ-শুয়ূখ আন-নুবল" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিরমিযী তাঁর থেকেও বর্ণনা করেছেন, এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি ভুল। তিনি কেবল তাঁর পরবর্তী ব্যক্তি আস-সুলাইমী থেকে বর্ণনা করেছেন; কেননা তাঁর সফর ছিল ২৪০ হিজরীর পর)
(১)।
আল-মিযযীর এই বক্তব্য নিয়ে কেউ কেউ পর্যালোচনা করেছেন যে, তিরমিযীর এমন কিছু উস্তাদ ছিলেন যারা ২৪০ হিজরীর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন; সুতরাং তাঁর সফর এর আগেই হয়ে থাকবে।
এর উত্তর হলো, যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাদের কারো কারো মৃত্যুসন নিয়ে মতভেদ আছে, আর তাদের কেউ কেউ আদৌ তাঁর উস্তাদ নন, যেমন আলী ইবনুল হাসান ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতী (মৃত্যু ২৩৭ হি.)। আর অন্যদের ক্ষেত্রে কথা হলো, যদিও তারা ২৪০ হিজরীর আগে মারা গেছেন, তবে তাদের কেউ কেউ ছিলেন 'বলখ'-এর বাসিন্দা; আর বলখ 'তিরমিয'-এর নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে যাওয়া তাঁর পক্ষ থেকে সফর হিসেবে গণ্য হবে না। এই বিষয়টি এ দ্বারাও জোরালো হয় যে, তিনি যদি ২৪০ হিজরীর আগে সফর করতেন তবে উক্ত সময়ের আগে মৃত্যুবরণকারী এক বা দুজনের পরিবর্তে এক বিশাল জামাআতের কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২০)
نعم إسحاق بن إبراهيم بن راهويه من شيوخه المشهورين، وكانت وفاته قبل الأربعين، وكذلك أحمد بن محمد بن موسى السمسار المرُّوذي، فإن كان ثمة دليل على ما تقدم فهو هذا، ومع ذلك يبقى في النفس شيء لما تقدم، والله تعالى أعلم.
ثانيًا: البلدان التي رحل إليها:1 - بلخ: لأن جمعا من شيوخه منها.
2 - خراسان: قال ابن نقطة في ذكره لسماع الترمذي: (
… وبخراسان من علي بن حجر، ومحمد بن علي بن الحسن بن شقيق، وقتيبة بن سعيد، ومحمد بن يحيى النيسابوري، في خلق كثير)
(1).
ومن مدن خراسان:3 - مرو: لأن جمعا من شيوخه منها، كإسحاق بن راهويه، ومحمود بن غيلان.
4 - والري: قال ابن نقطة في ذكره لسماع الترمذي: (
… وبالري من أبي زرعة الرازي)
(2).
5 - بخارى: لإكثاره عن البخاري، وملازمته له.
6 - سمرقند: قرأ يوسف بن أحمد البغدادي بخط المؤتمن بن أحمد الساجي: (زاد أبو عيسى "العلل" بسمرقند)
(3).
وهذا ليس فيه دلالة على أنه ذهب إليها في رحلته.
7 - البصرة، وواسط، والكوفة، وبغداد، والحجاز: قال ابن نقطة:
--------------------------------------------
হ্যাঁ, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে রাহওয়াইহি তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের অন্যতম এবং তাঁর মৃত্যু (হিজরি) ২৪০ সালের আগে হয়েছিল। একইভাবে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-সিমসার আল-মারওয়াযী। যদি পূর্বে যা বলা হয়েছে তার পক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে, তবে সেটি হলো এটি। তা সত্ত্বেও যা উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়ে মনে কিছুটা সংশয় থেকে যায়, আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
দ্বিতীয়ত: যেসব দেশ বা শহরে তিনি সফর করেছেন:১ - বালখ: কারণ তাঁর শিক্ষকদের একটি বিশাল অংশ সেখান থেকে ছিলেন।
২ - খুরাসান: ইবনুন নুকতাহ তিরমিযীর হাদিস শ্রবণের বর্ণনায় বলেন: ( ... খুরাসানে আলি ইবনে হুজর, মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক, কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-নিশাপুরী থেকে বহুসংখ্যক লোকের সান্নিধ্যে তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন।)
(১)।
খুরাসানের শহরসমূহের মধ্যে:৩ - মারওয়: কারণ তাঁর শিক্ষকদের একটি দল সেখান থেকে ছিলেন, যেমন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং মাহমুদ ইবনে গাইলান।
৪ - রাই: ইবনুন নুকতাহ তিরমিযীর হাদিস শ্রবণের বর্ণনায় বলেন: ( ... আর রাই শহরে আবু যুরআহ আর-রাযী থেকে।)
(২)।
৫ - বুখারা: ইমাম বুখারী থেকে প্রচুর পরিমাণে হাদিস গ্রহণ এবং তাঁর দীর্ঘ সান্নিধ্যে থাকার কারণে।
৬ - সমরকন্দ: ইউসুফ ইবনে আহমদ আল-বাগদাদী মুতামান ইবনে আহমদ আল-সাউজি-এর হস্তলিপিতে পাঠ করেছেন: (আবু ঈসা সমরকন্দে থাকাকালীন "আল-ইলাল" বৃদ্ধি করেছেন)
(৩)।
তবে এটি তিনি তাঁর সফরে সেখানে গিয়েছিলেন এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ বহন করে না।
৭ - বসরা, ওয়াসিত, কুফা, বাগদাদ এবং হিজায: ইবনুন নুকতাহ বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২১)
(سمع بالحجاز من محمد بن يحيى بن أبي عمر العدني، وبالبصرة من محمد بن بشار بندار، ومحمد بن المثنى، وعمرو بن علي بن بحر بن كثير الفلاس وغيرهم، وبواسط من أبي الشعثاء علي بن الحسن، وبالكوفة من أبي كريب، ومحمد بن عثمان بن كرامة، وعبيد بن أسباط، وعلي بن المنذر الطريقي، في آخرين، وببغداد من الحسن بن الصياح، وأحمد بن حسان بن ميمون، وأحمد بن منيع، ومحمد بن إسحاق الصاغاني)
(1).
ثالثًا: ما ذكر من البلدان التي لم يدخلها:1 - مصر والشام: قال الذهبي: (ارتحل، فسمع بخراسان، والعراق، والحرمين، ولم يرحل إلى مصر، والشام)
(2).
2 - بغداد: قال أحمد شاكر: (لا أظنه دخل بغداد، إذ لو دخلها لسمع من سيد المحدثين وزعيمهم: الإمام أحمد بن حنبل، ولترجم له الحافظ أبو بكر الخطيب في تاريخ بغداد)
(3).
ورد هذا الأستاذ أكرم ضياء العمري، وجزم بأن الترمذي دخل بغداد، واستدل على ذلك بقول ابن نقطة السابق، بالإضافة إلى روايته عن (ثمانية وثلاثين) شيخا من بغداد، وذكر أن كونه لم يرو عن الإمام أحمد فهذا لا يدل على عدم دخوله بغداد
(4)، بل يدل على أن دخوله بغداد كان بعد وفاة الإمام أحمد، ويؤكد هذا أن كل من روى عنهم الترمذي من بغداد - وهم
--------------------------------------------
(তিনি হিজাজে মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবু উমর আল-আদানি-এর নিকট থেকে, এবং বসরায় মুহাম্মাদ বিন বাশশার বুন্দার, মুহাম্মাদ বিন আল-মুসান্না, আমর বিন আলী বিন বাহর বিন কাসীর আল-ফাল্লাস ও অন্যদের নিকট থেকে, এবং ওয়াসিতে আবুশ শা’সা আলী বিন আল-হাসানের নিকট থেকে, এবং কুফায় আবু কুরাইব, মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন কারামাহ, উবাইদ বিন আসবাত, আলী বিন আল-মুনজির আত-তারিকী ও অন্যদের নিকট থেকে, এবং বাগদাদে আল-হাসান বিন আস-সায়্যাহ, আহমাদ বিন হাসান বিন মাইমুন, আহমাদ বিন মানী' এবং মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস-সাগানি-এর নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন)
(১).
তৃতীয়ত: সেই শহরগুলোর আলোচনা যেগুলোতে তিনি প্রবেশ করেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে:১ - মিসর ও শাম: ইমাম যাহাবী বলেন: (তিনি সফর করেছেন এবং খোরাসান, ইরাক ও হারামাইন (মক্কা ও মদীনা)-এ ইলম অর্জন করেছেন, কিন্তু তিনি মিসর ও শামে সফর করেননি)
(২).
২ - বাগদাদ: আহমাদ শাকির বলেন: (আমি মনে করি না তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেছেন, কারণ তিনি যদি সেখানে প্রবেশ করতেন তবে মুহাদ্দিসদের নেতা ও প্রধান ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের নিকট থেকে হাদিস শুনতেন, এবং হাফেজ আবু বকর আল-খতিব ‘তারিখে বাগদাদ’-এ তাঁর জীবনী উল্লেখ করতেন)
(৩).
অধ্যাপক আকরাম জিয়া আল-উমারী এই মতকে খণ্ডন করেছেন এবং দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে তিরমিযী বাগদাদে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি এর প্রমাণ হিসেবে ইবনে নুকতাহ-এর পূর্বোক্ত বক্তব্য এবং বাগদাদের (আটত্রিশ জন) শিক্ষকের নিকট থেকে তিরমিযীর হাদিস বর্ণনার বিষয়টি পেশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ থেকে হাদিস বর্ণনা না করা তিনি বাগদাদে প্রবেশ না করার প্রমাণ নয়
(৪), বরং এটি প্রমাণ করে যে তাঁর বাগদাদে প্রবেশ ছিল ইমাম আহমাদের ইন্তেকালের পরে। এটি আরও সুনিশ্চিত হয় যে, তিরমিযী বাগদাদের যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন - তাঁরা হলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثمانية وثلاثون - ليس فيهم من توفي سنة (241 هـ)، بل أقدم من روى عنهم من البغداديين توفوا سنة (243 هـ)، ويؤكده أيضا أن كل من توفي من البغدادين سنة (240 هـ) فإنه روى عنهم بواسطة، وعددهم ثمانية.
وأما كون الخطيب البغدادي لم يترجم له فإن الأغلب أنه ترجم له، ولكن ترجمته سقطت من الطبعة الحالية كما سقطت تراجم أخرى
(1).
--------------------------------------------
আটত্রিশ জন - তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি (২৪১ হিজরি) সনে ইন্তেকাল করেছেন, বরং বাগদাদবাসীদের মধ্যে যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে প্রাচীনতম ব্যক্তিগণ (২৪৩ হিজরি) সনে ইন্তেকাল করেছেন। বিষয়টি এ দ্বারাও সুনিশ্চিত হয় যে, (২৪০ হিজরি) সনে যে সকল বাগদাদবাসী মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনি তাদের সকলের নিকট থেকে মধ্যস্থতার মাধ্যমেই বর্ণনা করেছেন, এবং তাদের সংখ্যা হলো আট জন।
আর আল-খতিব আল-বাগদাদি কর্তৃক তাঁর জীবনী সংকলিত না হওয়ার বিষয়টি হলো, প্রবল ধারণা এই যে তিনি তাঁর জীবনী লিখেছিলেন, কিন্তু বর্তমান মুদ্রণ থেকে তাঁর জীবনীটি বাদ পড়ে গেছে যেমনভাবে অন্যান্য কিছু জীবনীও বাদ পড়েছে
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثالث في شيوخه وتلاميذهسمع أبو عيسى من جمع كبير، وقد أحصى بعض الباحثين شيوخه الذين روى عنهم فبلغوا أكثر من مائتين، ولا يخفى أنه لا يلزم من ذلك أن يكون فقط هؤلاء الذين سمع منهم، فقد قال ابن حبان: (ولعلنا قد كتبنا عن أكثر من ألفي شيخ من إسبيجاب إلى الإسكندرية، ولم نرو في كتابنا هذا إلا عن مائة وخمسين شيخا أقل أو أكثر، ولعل معول كتابنا يكون على نحو من عشرين شيخا ممن أدرنا السنن عليهم، واقتنعنا برواياتهم عن رواية غيرهم)
(1).
قال المزي: (طاف -يعني: أبا عيسى- البلاد، وسمع خلقا كثيرا من الخراسانيين، والعراقيين، والحجازيين، وغيرهم، وقد سميناهم في مواضعهم من كتابنا هذا)
(2). ولم يذكرهم في ترجمته، وقد أفردهم بعض أهل العلم، ومنهم أبو محمد عبد العزيز بن محمد بن معاوية الأنصاري الدّروقي الأطروش، له جزء في تسمية شيوخ أبي عيسى التّرمذي في مصنّفه.
نقل ابن الأبَّار نصًّا نادرا من كتاب أبي محمد الدروقي في تسمية شيوخ الترمذي، أثناء الكلام عن شيخ للترمذي اسمه (عيسى بن أحمد)، قال الحافظ الدَّرَوْقِي الأطروش: (عيسى بن أحمد بن وردان، أبا يحيى البلخي، كذا سمَّاه أبو أحمد الحاكم في "الكنى" له، في باب أبي يحيى،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রগণের বর্ণনায়আবু ঈসা এক বিশাল জামাত থেকে (হাদীস) শ্রবণ করেছেন। কোনো কোনো গবেষক তাঁর ঐ সকল উস্তাদদের গণনা করেছেন যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, ফলে তাঁদের সংখ্যা দুইশতেরও অধিক হয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, এর অর্থ এই নয় যে কেবল তাঁরাই ছিলেন যাদের থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: (সম্ভবত আমরা ইসফিজাব থেকে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত দুই হাজারেরও অধিক উস্তাদের নিকট থেকে লিখেছি, অথচ আমাদের এই কিতাবে আমরা কেবল কম-বেশি একশত পঞ্চাশ জন উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছি। সম্ভবত আমাদের কিতাবের নির্ভরতা সেই বিশজন উস্তাদের ওপর যাদের ওপর ভিত্তি করে আমরা সুনানসমূহ আবর্তিত করেছি এবং অন্যদের বর্ণনার পরিবর্তে তাঁদের বর্ণনায় সন্তুষ্ট থেকেছি)
(১)।
মিযযী বলেন: (তিনি—অর্থাৎ আবু ঈসা—দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করেছেন এবং খোরাসানি, ইরাকি, হিজাজি ও অন্যদের এক বিশাল গোষ্ঠী থেকে (হাদীস) শ্রবণ করেছেন। আমাদের এই কিতাবের স্ব-স্ব স্থানে আমরা তাঁদের নাম উল্লেখ করেছি)
(২)। তিনি তাঁর জীবনীতে তাঁদের উল্লেখ করেননি। তবে কোনো কোনো আলিম তাঁদের জন্য পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আজীজ বিন মুহাম্মাদ বিন মুআবিয়া আল-আনসারী আদ-দারুকী আল-আতরূশ। তাঁর সংকলিত গ্রন্থে আবু ঈসা আত-তিরমিযীর উস্তাদগণের নাম উল্লেখ করে তাঁর একটি পুস্তিকা (জুয) রয়েছে।
ইবনুল আব্বার তিরমিযীর উস্তাদগণের নাম নির্ধারণে আবু মুহাম্মাদ আদ-দারুকীর কিতাব থেকে একটি দুর্লভ পাঠ উদ্ধৃত করেছেন। এটি তিরমিযীর জনৈক উস্তাদ 'ঈসা বিন আহমাদ' সম্পর্কে আলোচনার সময় এসেছে। হাফেজ আদ-দারুকী আল-আতরূশ বলেছেন: (ঈসা বিন আহমাদ বিন ওয়ারদান, আবু ইয়াহইয়া আল-বালখী; আবু আহমাদ আল-হাকিম তাঁর 'আল-কুনা' গ্রন্থের আবু ইয়াহইয়া পরিচ্ছেদে তাঁকে এভাবেই নামকরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أخبرني به أبو علي الصدفي)
(1) قلتُ: (عيسى بن أحمد) من شيوخ الترمذي روى عنه في موضعين من "جامعه" برقم: (1413) (2077). يقول في كليهما: حدثنا عيسى بن أحمد قال: حدثنا ابن وهب.
وهؤلاء الشيوخ -كما سوف يأتي- فيهم الحفاظ الكبار، وفيهم من دون ذلك، وفيهم الفقهاء الأعلام، وفيهم من سوى ذلك، وإليك التفصيل في هذا:
أولا: أجلّ شيوخه: إسحاق بن راهويه، وقتيبة بن سعيد، وأبو حفص الفلاس، والدارمي، والبخاري، ومحمد بن يحيى الذهلي، وأبو زرعة الرازي، ومسلم بن الحجاج (روى له حديثا واحدا في كتابه "الجامع"، وسيأتي)، وأبو داود السجستاني - وهو من أقرانه، فليس بين ولادتيهما إلا بضع سنوات، ولكن أبا داود بكَّر بالسماع قبل أبي عيسى - (روى له في ثلاثة مواضع، أحدها مكرر، كما سيأتي).
ثانيا: شيوخه الذين استفاد منهم أكثر من غيرهم:وهؤلاء يمكن أن يقسموا إلى قسمين من حيث الاستفادة:
الأول: الذين استفاد منهم بالإكثار من روايته عنهم، والسماع منهم، وسوف يأتي الكلام عنهم.
والثاني: الذين استفاد منهم في الصناعة الحديثية والنقد، وتخرج بهم، وعلى رأسهم البخاري والدارمي وأبو زرعة، وقد قال في "العلل الصغير": (وما كان فيه -أي: كتاب "الجامع"- من ذكر العلل في الأحاديث والرجال والتاريخ فهو ما استخرجته من كتاب "التاريخ"، وأكثر ذلك ما ناظرت به محمد بن إسماعيل، ومنه ما ناظرت به عبد الله بن عبد الرحمن، وأبا
--------------------------------------------
আবু আলী আস-সাস্তাফি আমাকে এটি অবহিত করেছেন।
(১) আমি বলছি: (ঈসা ইবনে আহমাদ) ইমাম তিরমিযীর অন্যতম শিক্ষক। তিনি তাঁর "জামি" গ্রন্থের দুটি স্থানে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যার নম্বর: (১৪১৩) (২০৭৭)। উভয় স্থানেই তিনি বলেন: ঈসা ইবনে আহমাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন।
আর এই শিক্ষকগণ—যেমনটি সামনে আসবে—তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহান হাফেজগণ, রয়েছেন তাঁদের তুলনায় নিম্নস্তরের ব্যক্তিগণ, রয়েছেন প্রথিতযশা ফকীহগণ এবং আরও অনেকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
প্রথমত: তাঁর সবচেয়ে মহান শিক্ষকগণ: ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আবু হাফস আল-ফাল্লাস, আদ-দারিমি, আল-বুখারী, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলি, আবু যুরআ আর-রাযি, এবং মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ (তিনি তাঁর "জামি" গ্রন্থে তাঁর থেকে মাত্র একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা সামনে আসবে), এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি—যিনি তাঁর সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের উভয়ের জন্মসালের মধ্যে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধান ছিল, কিন্তু আবু দাউদ আবু ঈসার পূর্বেই হাদীস শ্রবণ শুরু করেছিলেন—(তিনি তাঁর থেকে তিনটি স্থানে বর্ণনা করেছেন, যার একটি পুনরাবৃত্তি, যা সামনে আসবে)।
দ্বিতীয়ত: সেই শিক্ষকগণ যাঁদের থেকে তিনি অন্যদের তুলনায় বেশি উপকৃত হয়েছেন:উপকারের দিক থেকে তাঁদের দুই ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে:
প্রথমত: যাঁদের থেকে তিনি প্রচুর বর্ণনার মাধ্যমে এবং হাদীস শ্রবণের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।
দ্বিতীয়ত: যাঁদের থেকে তিনি হাদীস শাস্ত্রের প্রায়োগিক জ্ঞান ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (নাকদ) ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছেন এবং যাঁদের সান্নিধ্যে থেকে পারদর্শী হয়েছেন। তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন বুখারী, দারিমি এবং আবু যুরআ। তিনি তাঁর "আল-ইলাল আস-সাগীর" গ্রন্থে বলেছেন: (আর এতে—অর্থাৎ "জামি" গ্রন্থে—হাদীসের ত্রুটি, বর্ণনাকারী এবং ইতিহাসের যা কিছু উল্লেখ রয়েছে, তা আমি "আত-তারীখ" গ্রন্থ থেকে চয়ন করেছি। এর অধিকাংশ বিষয় নিয়ে আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের সাথে আলোচনা করেছি এবং কিছু বিষয় আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ও আবু...-এর সাথে আলোচনা করেছি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
زرعة، وأكثر ذلك عن محمد، وأقل شيء فيه عن عبد الله وأبي زرعة).
وأكثر من استفاد منه محمد بن إسماعيل، وقد قال: (ولم أر أحدا بالعراق، ولا بخراسان، في معنى العلل والتاريخ ومعرفة الأسانيد كبير أحد أعلم من محمد بن إسماعيل)
(1).
وسوف يأتي فصل خاص بذلك.
واستفادته من هؤلاء الثلاثة تدل على أمرين:الأول: أنه يرى أن هؤلاء الثلاثة من أعلم الناس بالصناعة الحديثية في عصرهم، وقد نص على هذا بالنسبة للبخاري.
الثاني: أن هذا يفيد كثرة ملازمته لهم، واختصاصه بهم.
ويلاحظ أنه اجتمع بغيرهم من كبار الحفاظ، ولكن لم يذكر أنه ذاكرهم في الصناعة الحديثية، كأبي حفص الفلاس، ومحمد بن يحيى الذهلي - وقد أكثر عنه، والجوزجاني، نعم روى عن أبي حفص الفلاس خبرا عن يحيى بن سعيد القطان، فقال: (حدثنا أبو حفص عمرو بن علي، قال: حدثني يحيى بن سعيد القطان، قال: أنبأنا المغيرة بن أبي قرة السدوسي، قال: سمعت أنس بن مالك، يقول: قال رجل: يا رسول الله أعقلُها وأتوكل، أو أطلقها وأتوكل؟ قال: "اعقلها وتوكل". قال عمرو بن علي: قال يحيى: وهذا عندي حديث منكر)
(2).
ويلاحظ أنه مع اختصاصه بأبي زرعة لم يذكر أنه سمع من أبي حاتم الرازي، وكذلك لم يرو عن أبي بكر الأثرم، ولا يعقوب بن شيبة، ولا محمد بن مسلم بن وارة، وأحمد ابن أبي خيثمة، وغيرهم، مع أنهم من كبار الحفاظ.
--------------------------------------------
জুরাআ, এবং এর অধিকাংশই মুহাম্মাদ থেকে, আর এর মধ্যে সবচেয়ে সামান্য অংশ আব্দুল্লাহ ও আবু জুরাআ থেকে)।
আর তিনি যার থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল, এবং তিনি বলেছেন: (আমি ইরাক কিংবা খোরাসানে ইলল (হাদিসের ত্রুটি), ইতিহাস এবং সনদ চেনার ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ বিন ইসমাইলের চেয়ে বড় কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তিকে দেখিনি)
(১)।
এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ সামনে আসবে।
এই তিনজনের থেকে তাঁর উপকৃত হওয়া দুটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে:প্রথমত: তিনি মনে করেন যে, এই তিনজন তাঁদের যুগের হাদিস শাস্ত্রের শিল্পকলায় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন এবং বুখারির ব্যাপারে তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়ত: এটি তাঁদের সাথে তাঁর দীর্ঘ সান্নিধ্য এবং তাঁদের সাথে তাঁর বিশেষ সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রমাণ করে।
লক্ষ্যণীয় যে, তিনি অন্যান্য বড় হাফিযদের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন, কিন্তু তিনি হাদিস শাস্ত্রের শিল্পকলা নিয়ে তাঁদের সাথে আলোচনা করেছেন বলে উল্লেখ করেননি, যেমন আবু হাফস আল-ফাল্লাস এবং মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলি—যাঁর থেকে তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন—এবং আল-জুযজানি। তবে হ্যাঁ, তিনি আবু হাফস আল-ফাল্লাস থেকে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কত্তান-এর সূত্রে একটি বর্ণনা রেওয়ায়েত করেছেন, তিনি বলেছেন: (আমাদের কাছে আবু হাফস আমর বিন আলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কত্তান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন মুগিরা বিন আবু কুররাহ আস-সাদূসি, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি এটি (উট) বাঁধব এবং তাওয়াক্কুল করব, নাকি ছেড়ে দেব এবং তাওয়াক্কুল করব? তিনি বললেন: "এটি বাঁধো এবং তাওয়াক্কুল করো"। আমর বিন আলি বলেন: ইয়াহইয়া বলেছেন: এটি আমার কাছে একটি মুনকার হাদিস)
(২)।
আরও লক্ষ্যণীয় যে, আবু জুরাআর সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি আবু হাতিম আর-রাজি থেকে শুনেছেন বলে উল্লেখ করেননি। তেমনিভাবে তিনি আবু বকর আল-আছরাম, ইয়াকুব বিন শায়বাহ, মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বিন ওয়ারাহ, আহমাদ ইবনে আবু খায়সামাহ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেননি, যদিও তাঁরা বড় হাফিযদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولم يرو كذلك عن العجلي، ولعل السبب في عدم روايته عنه أنه في فتنة خلق القرآن رحل إلى المغرب.
ثالثًا: أقدم شيوخه وفاةً:والفائدة من ذلك معرفة متى بدأ أبو عيسى بالسماع هل بكر أو تأخر في طلبه للعلم، وغير ذلك من الفوائد كما سوف يأتي، مع ملاحظة أنه لا يلزم من قدم وفاة الشيخ أن يكون أكبر شيوخه، أو أول من سمع منه؛ لأنَّه قد تتقدم وفاة الشخص، ولا يكون كبيرا، وقد يعمر فتتأخر، وقد يبكر في السماع من أناس وتتأخر وفاتهم، وبالعكس فقد يتأخر سماعه من آخرين، وتتقدم وفاتهم.
1 - صالح بن عبد الله بن ذكوان الترمذي (ت 231 هـ أو بعدها كما سوف يأتي).
2 - أحمد بن محمد بن موسى السمسار المروزي (قيل توفي 235 هـ، وقيل بعد ذلك)
(1).
3 - محمد بن عمرو السواق البلخي (ت 236 هـ).
4 - إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، المعروف بابن راهويه (ت 238 هـ).
5 - محمود بن غيلان المروزي (ت 239 هـ)، وقيل: سنة (249 هـ)، والخلاف قوي، فإذا قيل: إن الأول هو قول الجمهور، وإن البخاري والنسائي قد نصا على أن وفاته كانت في رمضان من سنة (تسع وثلاثين ومئتين)، فإن الثاني وإن كان تفرد به محمد بن حمدويه المروزي إلا أنه ذكر تفصيلا يدل على تأكده مما قال، ثم هو بلديه أيضا، فقال: (خرج محمود إلى الحج سنة ست وأربعين، ثم انصرف إلى مرو، وتوفي لعشر بقين من ذي القعدة سنة تع وأربعين ومائتين).
--------------------------------------------
তেমনিভাবে তিনি ইজলি থেকেও বর্ণনা করেননি, সম্ভবত তার থেকে বর্ণনা না করার কারণ হলো তিনি কুরআন সৃষ্টির ফিতনার সময় মাগরিবে চলে গিয়েছিলেন।
তৃতীয়ত: তাঁর শাইখদের মধ্যে যারা আগে ইন্তেকাল করেছেন:এর উপকারিতা হলো আবু ঈসা কখন হাদিস শোনা শুরু করেছিলেন তা জানা, তিনি কি ইলম অর্জনে দ্রুত ছিলেন নাকি দেরি করেছিলেন, এছাড়াও অন্যান্য উপকারিতা রয়েছে যা সামনে আসবে। তবে এটি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, শাইখের ইন্তেকাল আগে হওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি তাঁর সবচেয়ে বড় শাইখ বা তাঁর থেকে তিনি সবার আগে শ্রবণ করেছেন; কারণ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু আগে হতে পারে কিন্তু তিনি বড় নাও হতে পারেন, আবার কোনো ব্যক্তির দীর্ঘ হায়াত হতে পারে এবং মৃত্যু পরে হতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি আগে কারো থেকে শ্রবণ করতে পারেন কিন্তু সেই শাইখ পরে মারা যান, এবং এর বিপরীতও হতে পারে যে তিনি দেরিতে কারো কাছে শুনেছেন কিন্তু সেই শাইখ আগে মারা গেছেন।
১ - সালিহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যাকওয়ান আত-তিরমিযী (ওফাত ২৩১ হিজরী বা তারপরে যেমনটি সামনে আসবে)।
২ - আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আস-সিমসার আল-মারওয়াযী (বলা হয় তিনি ২৩৫ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন, আবার বলা হয় এর পরে)
(১)।
৩ - মুহাম্মাদ ইবনে আমর আস-সাউওয়াক আল-বালখী (ওফাত ২৩৬ হিজরী)।
৪ - ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হানজালী, ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত (ওফাত ২৩৮ হিজরী)।
৫ - মাহমুদ ইবনে গাইলান আল-মারওয়াযী (ওফাত ২৩৯ হিজরী), এবং বলা হয়: (২৪৯ হিজরী)। এ বিষয়ে মতভেদ জোরালো। যদি বলা হয় যে প্রথমটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত, এবং ইমাম বুখারী ও নাসাঈ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর মৃত্যু ছিল দুইশত উনচল্লিশ হিজরীর রমজান মাসে; তবে দ্বিতীয় মতটি যদিও মুহাম্মাদ ইবনে হামদুয়াহ আল-মারওয়াযী এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তথাপি তিনি এমন বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন যা তাঁর কথার সুনিশ্চিত হওয়ার প্রমাণ দেয়। তদুপরি তিনি তাঁর দেশীও ছিলেন; তিনি বলেন: (মাহমুদ ২৪৬ হিজরীতে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হন, অতঃপর মার্ভ-এ ফিরে আসেন এবং দুইশত উনপঞ্চাশ হিজরীর যিলকদ মাসের দশ দিন বাকি থাকতে ইন্তেকাল করেন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
6 - يحيى بن موسى البلخي (ت 240 هـ).
7 - محمد بن نجيح السندي، ابن أبي معشر (ت 247 هـ)، وهو معمر لأنَّه قد قارب المئة عندما توفي
(1).
أما صالح بن عبد الله بن ذكوان الترمذي فقد ذكر ابن حبان أنه توفي سنة (231 هـ)، ومثله عبد الباقي بن قانع، ولكن خالفهما من هو أولى منهما، فقد قال البخاري: (مات سنة بضع وثلاثين ومائتين أو نحوه بمكة)، وقال البغوي: (مات سنة تسع وثلاثين ومائتين)، ومثله أحمد بن محمد بن بكر.
وأما القول بأن محمد بن جعفر السمناني هو أقدمهم وفاةً، وأنَّه توفي سنة (220 هـ) فهذا اعتمادا على ما ذكره ابن حجر في "التقريب"، ويظهر أنه سبق قلم من الحافظ ابن حجر؛ لأنَّه موجود بخطه كذلك، لذا لما ترجم له في "تهذيب التهذيب" لم يذكر وفاته، ومثله المزي في "تهذيب الكمال"، وذكره الذهبي في "تاريخ الإسلام" فيمن توفي ما بين (241 هـ) وبين (250 هـ).
والخلاصة أن أقدمهم وفاة هو محمد بن عمرو السواق البلخي؛ لأن أحمد بن محمد السمسار مختلف في وفاته كما تقدم، بخلاف السواق.
وبناء على ما تقدم فالذي يظهر أن الترمذي قد تأخر طلبه للعلم، وذلك لتأخر وفاة كبار شيوخه، بخلاف شيخه البخاري، فإنه بدأ بالطلب وعمره نحو عشر سنوات، فقد روى الخطيب البغدادي من طريق الفربري، عن محمد بن أبي حاتم الوراق، قال: قلت لأبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري: (كيف كان بدء أمرك في طلب الحديث؟ قال: ألهمت
--------------------------------------------
6 - ইয়াহইয়া ইবনে মুসা আল-বালখি (ওফাত ২৪০ হিজরি)।
7 - মুহাম্মদ ইবনে নাজিহ আস-সিন্দি, ইবনে আবি মাশার (ওফাত ২৪৭ হিজরি), আর তিনি দীর্ঘজীবী ছিলেন কারণ মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স প্রায় একশ বছর হয়েছিল
(১)।
আর সালেহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাকওয়ান আত-তিরমিজির ব্যাপারে ইবনে হিব্বান উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আবদুল বাকি ইবনে কানিও একই কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁদের উভয়ের বিরোধিতা করেছেন এমন ব্যক্তি যিনি তাঁদের চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য। ইমাম বুখারি বলেছেন: (তিনি মক্কায় দুইশ ত্রিশের কোঠার কোনো এক বছর বা এর কাছাকাছি সময়ে মারা গেছেন)। আর বাগাউয়ি বলেছেন: (তিনি দুইশ উনচল্লিশ হিজরিতে মারা গেছেন), এবং আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বকরও অনুরূপ বলেছেন।
আর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আস-সামনানি ওফাতের দিক থেকে তাঁদের মাঝে সবচেয়ে অগ্রবর্তী এবং তিনি ২২০ হিজরিতে মারা গেছেন—এই বক্তব্যটি ইবনে হাজার 'তাকরিবুত তাহজিব' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে। আর এটা প্রতীয়মান হয় যে, এটি হাফেজ ইবনে হাজারের একটি লেখনীগত ভুল; কারণ তাঁর স্বহস্তেও এটি এভাবেই বিদ্যমান। এই কারণে যখন তিনি 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তখন তাঁর মৃত্যুর সাল উল্লেখ করেননি। আল-মিজ্জিও 'তাহজিবুল কামাল' গ্রন্থে অনুরূপ করেছেন। আর আজ-জাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে তাঁর নাম ঐ ব্যক্তিদের মাঝে উল্লেখ করেছেন যারা ২৪১ হিজরি থেকে ২৫০ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে মারা গেছেন।
সারকথা হলো, তাঁদের মধ্যে ওফাতের দিক থেকে সবচেয়ে অগ্রবর্তী হলেন মুহাম্মদ ইবনে আমর আস-সাওয়াক আল-বালখি; কারণ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সিমসারের মৃত্যুর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে, যা আস-সাওয়াকের ক্ষেত্রে নেই।
উপরে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম তিরমিজির ইলম অর্জন বিলম্বে শুরু হয়েছিল, আর এর কারণ হলো তাঁর বড় শায়খদের ওফাত বিলম্বে হওয়া; যা তাঁর শায়খ ইমাম বুখারির ক্ষেত্রে বিপরীত ছিল। কেননা তিনি (বুখারি) ইলম অর্জন শুরু করেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় দশ বছর। খতিব বাগদাদি আল-ফিরাবরির সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতেম আল-ওয়াররাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারিকে জিজ্ঞাসা করলাম: (হাদিস অন্বেষণে আপনার শুরুর বিষয়টি কেমন ছিল? তিনি বললেন: আমার অন্তরে ঢেলে দেওয়া হয়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حفظ الحديث وأنا في الكتاب، قال: وكم أتى عليك إذ ذاك؟ فقاد: عشر سنين أو أقل، ثم خرجت من الكتاب بعد العشر، فجعلت أختلف إلى الداخلي وغيره، وقال يوما فيما كان يقرأ للناس: سفيان، عن أبي الزبير، عن إبراهيم. فقلت له: يا أبا فلان، إن أبا الزبير لم يروه عن إبراهيم، فانتهرني، فقلت له: ارجع إلى الأصل إن كان عندك، فدخل ونظر فيه، ثم خرج، فقال لي: كيف هو يا غلام؟ قلت: هو الزبير بن عدي عن إبراهيم، فأخذ القلم مني وأحكم كتابه، فقال: صدقت. فقال له بعض أصحابه: ابن كم كنت إذ رددت عليه؟ فقال: ابن إحدى عشرة)
(1).
ومثله أبو داود السجستاني، فإنه قد قال: (وصليت على عفان ببغداد سنة عشرين، وسمعت من أبي عمر الضرير مجلسا واحدا، ودخلت البصرة وهم يقولون: مات أمس عثمان المؤذن، وسمعت من سعدويه مجلسا واحدا، ومن عاصم بن علي مجلسا واحدا، وتبعت عمر بن حفص بن غياث إلى منزله ولم أسمع منه شيئا)
(2)، لذا كان من أقدم شيوخه مسلم بن إبراهيم الأزدي (ت 224 هـ).
وإذا تقرر ذلك فقد يستفاد منه أنه لم يكن أحد من أسرته كان من أهل العلم، كأبيه أو إخوته - مثلا - ممن هم أكبر منه، وإلا لبكر في طلب العلم - والله تعالى أعلم -.
رابعًا: أكبر شيوخه سنا:عبد الله بن معاوية الجمحي، قال موسى بن هارون: توفي سنة (243 هـ).
وقال ابن حبان: (مات سنة أربعين ومائتين، أو قبلها بقليل، أو بعدها بقليل).
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমি মক্তবে থাকাকালীন হাদীস মুখস্থ করতাম। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: দশ বছর বা তার কম। এরপর দশ বছর বয়সের পর আমি মক্তব থেকে বের হয়ে আসলাম এবং আদ-দাখিলি ও অন্যদের নিকট যাতায়াত শুরু করলাম। একদিন তিনি (আদ-দাখিলি) লোকজনের সামনে পাঠদানকালে বলছিলেন: সুফিয়ান, আবু যুবাইর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন। তখন আমি তাকে বললাম: হে আবু অমুক, আবু যুবাইর তো ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেননি। তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাকে বললাম: আপনার কাছে যদি মূল পাণ্ডুলিপি থাকে তবে তা দেখে নিন। তিনি ভেতরে গেলেন এবং তা দেখলেন, এরপর বেরিয়ে এসে আমাকে বললেন: হে বালক, তবে সঠিকটি কী? আমি বললাম: তিনি হলেন যুবাইর ইবনুল আদী, যিনি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন। তখন তিনি আমার থেকে কলমটি নিলেন এবং তার কিতাবটি সংশোধন করলেন এবং বললেন: তুমি সত্য বলেছ। তার এক সাথী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি যখন তাকে ভুল শুধরে দিয়েছিলেন তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: এগারো বছর।
(১).
আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিও তেমনই ছিলেন, তিনি বলেন: (আমি দুইশ বিশ হিজরিতে বাগদাদে আফফানের জানাযার সালাত পড়েছি, এবং আবু উমর আদ-দারীরের নিকট এক মজলিসে হাদীস শুনেছি। আমি বসরায় প্রবেশ করলাম যখন তারা বলছিল: মুআযযিন উসমান গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি সাদওয়াইহ-এর নিকট এক মজলিসে এবং আসিম বিন আলীর নিকট এক মজলিসে হাদীস শুনেছি। আমি উমর বিন হাফস বিন গিয়াসকে তার ঘর পর্যন্ত অনুসরণ করেছিলাম কিন্তু তার থেকে কিছুই শুনতে পাইনি)। তাই তার প্রাচীনতম শিক্ষকদের একজন ছিলেন মুসলিম বিন ইবরাহীম আল-আযদী (মৃত ২২৪ হিজরি)।
আর যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন তা থেকে এও বুঝা যায় যে, তার পরিবারের কেউ—যেমন তার পিতা বা ভাইয়েরা যারা তার চেয়ে বড় ছিলেন—ইলম চর্চাকারী ছিলেন না। অন্যথায় তিনি আরও আগেই ইলম অর্জনে সচেষ্ট হতেন।—আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—।
চতুর্থত: বয়সে তার সবচেয়ে বড় শিক্ষকগণ:আব্দুল্লাহ বিন মুআবিয়া আল-জুমাহি। মুসা বিন হারুন বলেন: তিনি ২৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ইবনে হিব্বান বলেন: (তিনি দুইশ চল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, অথবা তার কিছু আগে বা পরে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال أبو عيسى الترمذي: (هو رجل صالح)، وقال: (وقال لنا عباس العنبري: اكتبوا عنه فإنه ثقة)
(1).
وقال الحسن بن أحمد بن الليث: (رأيت عبد الله بن معاوية الجمحي وكانت له مائة سنة، وزيادة على عشرة)
(2).
قلت: وهذا يفيد أنه ولد بعد سنة ثلاثين ومائة، والأقرب عندي أنه ولد نحو سنة أربعين ومائة أو بعدها؛ لأني لم أقف على أحد من شيوخه مات قبل الستين ومائة، وإنما بعدها، فلو ولد بعد الثلاثين ومائة لكان روى عمن مات قبل الستين ومائة، وإن كان هذا ليس بلازم، والله تعالى أعلم.
فهذا قد يكون أكبر شيوخ أبي عيسى سنًّا.
ومثله علي بن حجر السعدي، مات سنة أربع وأربعين ومائتين، وقد قارب المائة أو جاوزها، وعلى هذا تكون ولادته بعد الأربعين ومائة، ولكن قيل: إنه ولد سنة مائة وأربعة وخمسين، والله تعالى أعلم.
خامسًا: الشيوخ الذين أكثر من الرواية عنهم:
منهم: ابن أبي عمر، ومحمد بن بشار، وأحمد بن منيع، وعلي بن حجر المروزي، وإسحاق بن موسى الأنصاري.
ودون هؤلاء طبقة ثانية، منهم: محمد بن يحيى الذهلي، وعبد الله بن سعيد الأشج، وأبو كريب، ومحمد بن عبد الملك بن أبي الشوارب، وأحمد بن محمد بن موسى السمسار، وأبو عمار الحسين بن حريث، ونصر بن علي الجهضمي.
--------------------------------------------
আবু ঈসা আত-তিরমিযী বলেন: (তিনি একজন সৎ ব্যক্তি), এবং তিনি আরও বলেন: (আব্বাস আল-আনবারী আমাদের বলেছেন: তোমরা তাঁর থেকে [হাদীস] লিখে নাও, কেননা তিনি নির্ভরযোগ্য)
(১)।
হাসান বিন আহমাদ বিন আল-লাইস বলেন: (আমি আব্দুল্লাহ বিন মুআবিয়া আল-জুমাহীকে দেখেছি, তাঁর বয়স ছিল একশ দশ বছরেরও অধিক)
(২)।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি নির্দেশ করে যে, তিনি ১৩০ হিজরীর পর জন্মগ্রহণ করেছেন। আমার মতে অধিকতর সঠিক হলো, তিনি আনুমানিক ১৪০ হিজরী বা তার পরে জন্মগ্রহণ করেছেন; কারণ আমি তাঁর এমন কোনো উস্তাদের সন্ধান পাইনি যিনি ১৬০ হিজরীর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন, বরং সবাই তার পরেই মারা গেছেন। যদি তিনি ১৩০ হিজরীর পর জন্মগ্রহণ করতেন, তবে তিনি এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করতেন যারা ১৬০ হিজরীর পূর্বে মারা গেছেন, যদিও এটি হওয়া অপরিহার্য নয়। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
সুতরাং তিনি আবু ঈসার উস্তাদদের মধ্যে বয়সে জ্যেষ্ঠতম হতে পারেন।
অনুরূপভাবে আলী বিন হুজর আস-সাদী, তিনি ২৪৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শতবর্ষের কাছাকাছি বা তা অতিক্রম করেছিলেন। সেই হিসেবে তাঁর জন্ম ১৪০ হিজরীর পরে হতে পারে। তবে বলা হয়েছে যে, তিনি ১৫৪ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
পঞ্চম: যেসব উস্তাদ থেকে তিনি অধিক বর্ণনা করেছেন:
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে আবু উমর, মুহাম্মাদ বিন বাশার, আহমাদ বিন মানী‘, আলী বিন হুজর আল-মারওয়াযী এবং ইসহাক বিন মুসা আল-আনসারী।
তাঁদের নিচের স্তরে রয়েছেন দ্বিতীয় পর্যায়ের উস্তাদগণ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী, আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-আশাজ্জ, আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন আবুশ শাওয়ারিব, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা আস-সিমসার, আবু আম্মার আল-হুসাইন বিন হুরাইস এবং নাসর বিন আলী আল-জাহদামী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ودون هؤلاء طبقة ثالثة، منهم: الدارمي، وسفيان بن وكيع، ويحيى بن موسى، والحسن بن علي الخلال، ومحمد بن المثنى، ومحمد بن حميد الرازي.
سادسًا: شيوخه الذين روى عنهم في كتابه "الجامع" وهم من أصحاب الكتب الخمسة:على رأسهم البخاري، وقد روى عنه أحاديث عديدة.
وروى عن مسلم حديثا واحدا، فقال في باب ما جاء في إحصاء هلال شعبان لرمضان: (حدثنا مسلم بن حجاج، قال: حدثنا يحيى بن يحيى، قال: حدثنا أبو معاوية، عن محمد بن عمرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة: قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "أحصوا هلال شعبان لرمضان")
(1).
وروى عن أبي داود ثلاثة أحاديث:
1 - قال رحمه الله: (وروى مبارك بن فضالة، عن ثابت البناني، عن أنس، أن رجلا قال: يا رسول الله إني أحب هذه السورة: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}. فقال: "إن حبك إياها يدخلك الجنة".
حدثنا بذلك أبو داود سليمان بن الأشعث، قال: حدثنا أبو الوليد، قال: حدثنا مبارك بن فضالة بهذا)
(2).
2 - وقال أيضا: (حدثنا أبو داود سليمان بن الأشعث السجزي، قال: حدثنا قطن البصري، قال: حدثنا جعفر بن سليمان، عن ثابت، عن أنس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ليسأل أحدكم ربه حاجته كلها، حتى يسأل شسع نعله إذا انقطع")
(3).
--------------------------------------------
এদের নিচে একটি তৃতীয় স্তর রয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আদ-দারিমি, সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি, ইয়াহইয়া ইবনে মুসা, আল-হাসান ইবনে আলী আল-খাল্লাল, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসান্না এবং মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আর-রাজি।
ষষ্ঠত: তাঁর শিক্ষকগণ যাঁদের থেকে তিনি তাঁর কিতাব "আল-জামি"-এ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা 'পাঁচ কিতাবের' (আল-কুতুব আল-খামসাহ) রচয়িতাদের অন্তর্ভুক্ত:তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন আল-বুখারি, এবং তিনি তাঁর থেকে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি মুসলিম থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি 'রমজানের উদ্দেশ্যে শাবানের চাঁদ গণনা করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে' অধ্যায়ে বলেছেন: (আমাদের কাছে মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।")
(১)।
এবং তিনি আবু দাউদ থেকে তিনটি হাদিস বর্ণনা করেছেন:
১ - তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (মুবারক ইবনে ফাদালা সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই সূরাটিকে ভালোবাসি: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক}। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এর প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।"
আমাদের কাছে এটি আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আল-আশআস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আবুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে মুবারক ইবনে ফাদালা এটি বর্ণনা করেছেন।)
(২)।
২ - এবং তিনি আরও বলেছেন: (আমাদের কাছে আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আল-আশআস আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে কুতান আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে জাফর ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার রবের কাছে তার সমস্ত প্রয়োজনের জন্য প্রার্থনা করে, এমনকি তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও যেন তা চায়।")
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - وقال أيضا: (حدثنا أبو داود سليمان بن الأشعث، قال: حدثنا يحيى بن معين، قال: حدثنا هشام بن يوسف، عن عبد الله بن سليمان النوفلي، عن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، عن أبيه، عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أحبوا الله لما يغذوكم من نعمه، وأحبوني بحب الله، وأحبوا أهل بيتي بحبي")
(1).
وأما من بقي وهما النَّسَائِي وابن ماجه فلم يرو عنهما شيئا؛ لأن النَّسَائِي أصغر منه، وأما ابن ماجه فقد ولد في نفس السنة التي ولد فيها أبو عيسى فهو من أقرانه.
سابعًا: جمعه بين قتيبة وهناد:كثيرا ما يجمع أبو عيسى بين قتيبة بن سعيد وهناد بن السري، (ينظر حديث: 3، 5، 17، 38، 42، 46، 48، 49، 70، 74، 86، 99، 353، 513)، والحديث الأول ساقه أولًا عن قتيبة عن أبي عوانة، ثم ساقه عن هناد عن وكيع عن إسرائيل، كلاهما (أبو عوانة وإسرائيل) عن سماك به.
ثامنًا: شيوخه من ترمذ وبلخ:وفائدة ذلك معرفة متى بداية سماعه الحديث، وطلبه للعلم. لأنَّه من المعلوم أن الشخص أول ما يبدأ بالسماع من أهل بلده، ثم من يليهم، كما أن كثرة شيوخه من بلده وما حوله يدل على اهتمامه بطلب العلم.
شيوخه من ترمذ: صالح بن عبد الله بن ذكوان الترمذي، والجارود بن معاذ السلمي، وأحمد بن الحسن بن الجنيدب الترمذي، وموسى بن حزام الترمذي، وهريم بن مسعر الأزدي الترمذي، ومحمد بن أحمد بن الحسين بن مدويه، ومحمد بن إسماعيل بن يوسف الترمذي، ومكتوم بن العباس أبو الفضل المروزي، ويقال: الترمذي.
--------------------------------------------
৩ - তিনি আরও বলেছেন: (আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআথ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আন-নাওফালি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো কারণ তিনি তোমাদের তাঁর নিয়ামতসমূহ দিয়ে লালনপালন করেন, আর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে আমাকে ভালোবাসো এবং আমার প্রতি ভালোবাসার কারণে আমার পরিবারবর্গকে ভালোবাসো।")
(১).
আর যারা বাকি রইলেন, অর্থাৎ আন-নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ, তিনি তাঁদের থেকে কিছুই বর্ণনা করেননি; কারণ নাসায়ি তাঁর চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন। আর ইবনে মাজাহ-র কথা হলো, তিনি ঠিক সেই বছরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন যে বছর আবু ঈসা জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই তিনি তাঁর সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সপ্তম: কুতাইবাহ ও হান্নাদ-কে একত্রে উল্লেখ করা:আবু ঈসা প্রায়শই কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ এবং হান্নাদ ইবনে সাররি-কে একত্রে উল্লেখ করেন, (দ্রষ্টব্য হাদিস: ৩, ৫, ১৭, ৩৮, ৪২, ৪৬, ৪৮, ৪৯, ৭০, ৭৪, ৮৬, ৯৯, ৩৫৩, ৫১৩), এবং প্রথম হাদিসটি তিনি প্রথমে কুতাইবাহ থেকে আবু আওয়ানাহ-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তারপর হান্নাদ থেকে ওয়াকি-র সূত্রে ইসরাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই (আবু আওয়ানাহ ও ইসরাইল) সিমাক-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
অষ্টম: তিরমিয ও বালখ-এর তাঁর শিক্ষকগণ:এর উপকারিতা হলো তিনি কখন হাদিস শ্রবণ এবং জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছিলেন তা জানতে পারা। কারণ এটি সুপরিচিত যে, একজন ব্যক্তি প্রথমে তার নিজ শহরের অধিবাসীদের থেকে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন, তারপর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে। একইভাবে নিজ শহর ও তার আশপাশের শিক্ষকদের আধিক্য জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের প্রমাণ দেয়।
তিরমিয-এর শিক্ষকগণ: সালিহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যাকওয়ান আত-তিরমিযি, আল-জারুদ ইবনে মুআয আস-সুলামি, আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনুল জুনাইদাব আত-তিরমিযি, মুসা ইবনে হিযাম আত-তিরমিযি, হুরাইম ইবনে মিসআর আল-আযদি আত-তিরমিযি, মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মাদাওয়াইহ, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইউসুফ আত-তিরমিযি এবং মাকতুম ইবনুল আব্বাস আবুল ফজল আল-মারওয়াযি, যাঁকে তিরমিযি-ও বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
شيوخه من بلخ: محمد بن عمرو السواق البلخي، وأبو داود سليمان بن سلم البلخي، ومحمد بن أبان البلخي، وعبد الرحيم بن حازم البلخي، والحسين بن محمد الجريري البلخي.
وبلخ ليست بالبعيدة عن ترمذ، وقد كانتا من حواضر العلم.
تاسعًا: شيوخه المتكلم فيهم:الغالب على شيوخ أبي عيسى أنهم ثقات، ولكنه قد روى عن بعض من تُكلِّم فيه، والسبب في تخريجه لهم أنه لم يقتصر في هذا الكتاب على الصحيح، وإنما أراد أن يبين المشهور من الغريب، والصحيح من المعلول، فلذا خرّج لهؤلاء الشيوخ، كما أنه خرّج لرواة قد اتهموا بالكذب، وأحاديث معلوم أنها باطلة، وكل ذلك داخل في مقصده من هذا الكتاب، وقد بين ذلك بيانا واضحا، فأبرأ ذمته، بخلاف النَّسَائِي مثلا؛ فإن كل شيوخه ثقات، وغالب أسانيده صحيحة؛ لأنَّه إنما قصد الصحيح.
وعلى رأس شيوخ أبي عيسى المتكلّم فيهم:1 - محمد بن حميد الرازي، وقد خرّج له في نحو من عشرين موضعا، وهو من الحفاظ، ولكنه قد اتُّهم:
أ - فكان يدّعي سماع ما لم يسمع.
ب - كما أنه كان يركب الأسانيد، نعم لم يضع متونا.
ج - وكان يكون في كتابه شيء منقول، فإذا قيل له: ليس هو هكذا، غَيَّره على ما قيل له.
والراجح في حاله أنه لا يحتج به، وأمره لم يخفَ على أبي عيسى، فقد قال: (وحين رأيته - يعني: البخاري - كان حسن الرأي في محمد بن حميد الرازي، ثم ضعفه بعد)
(2).
--------------------------------------------
বালখ থেকে তাঁর শাইখগণ: মুহাম্মদ বিন আমর আস-সাউওয়াক আল-বালখি, আবু দাউদ সুলাইমান বিন সালাম আল-বালখি, মুহাম্মদ বিন আবান আল-বালখি, আব্দুর রহিম বিন হাযিম আল-বালখি এবং আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-জারিরি আল-বালখি।
বালখ তিরমিয থেকে খুব বেশি দূরে নয়, এবং উভয় শহরই ইলমের অন্যতম কেন্দ্র ছিল।
নবম: তাঁর এমন শাইখগণ যাঁদের সমালোচনা করা হয়েছে:আবু ঈসার অধিকাংশ শাইখই নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), কিন্তু তিনি এমন কিছু রাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁদের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। তাঁর গ্রন্থে তাঁদের বর্ণনা সংকলনের কারণ হলো, তিনি এই কিতাবটিকে কেবল সহিহ হাদিসের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং তিনি প্রসিদ্ধ (মাশহুর) বর্ণনা থেকে অপরিচিত (গারিব) বর্ণনা এবং সঠিক (সহিহ) থেকে ত্রুটিপূর্ণ (মা’লুল) বর্ণনাগুলো পৃথক করে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। এ কারণেই তিনি এসকল শাইখদের থেকে বর্ণনা সংকলন করেছেন। এমনকি তিনি এমন রাবিদের থেকেও বর্ণনা করেছেন যাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে এবং এমন হাদিসও এনেছেন যা বাতিল বলে পরিচিত। এ সমস্ত কিছুই তাঁর এই কিতাবের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তিনি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, ফলে তিনি তাঁর দায়মুক্ত হয়েছেন। এটি ইমাম নাসায়ি-এর পদ্ধতির বিপরীত; কারণ নাসায়ি-এর সকল শাইখ নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর অধিকাংশ সনদ সহিহ, কেননা তিনি কেবল সহিহ বর্ণনারই সংকল্প করেছিলেন।
আবু ঈসার সেইসব শাইখদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হলেন যাঁদের সমালোচনা করা হয়েছে:১ - মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আর-রাযি। তাঁর থেকে তিনি প্রায় বিশটি স্থানে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাফেযদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে:
ক - তিনি যা শোনেননি তা শুনেছেন বলে দাবি করতেন।
খ - তেমনি তিনি সনদ পরিবর্তন করে বসাতেন, তবে তিনি হাদিসের মূল পাঠ (মতন) জাল করতেন না।
গ - তাঁর কিতাবে কোনো উদ্ধৃত বিষয় থাকত, আর যখন তাঁকে বলা হতো যে এটি এমন নয়, তখন তিনি তা পরিবর্তন করে লোকে যা বলত সে অনুযায়ী ঠিক করে নিতেন।
তাঁর অবস্থার ব্যাপারে প্রাধান্যযোগ্য মত হলো তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন। তাঁর এই বিষয়টি আবু ঈসার কাছে গোপন ছিল না। তিনি বলেছেন: (আমি যখন তাঁকে —অর্থাৎ বুখারিকে— দেখেছি, তখন তিনি মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আর-রাযির ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করতেন, পরে তিনি তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন)
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لذا لم يصحح شيئا مما خرّجه له من أحاديث، بل استغربها كلها، مع قوله في بعضها: (حسن)
(1)، سوى حديثين أطلق الحكم بحسنهما، فقال: (حدثنا محمد بن حميد الرازي، والعباس بن محمد الدوري، قالا: حدثنا أبو عبد الرحمن المقرئ، عن سعيد بن أبي أيوب، قال: حدثني أبو مرحوم، عن سهل بن معاذ، عن أبيه، أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الحبوة يوم الجمعة والإمام يخطب.
قال أبو عيسى: وهذا حديث حسن)
(2).
ويلاحظ في هذا الخبر أنه قرن محمد بن حميد بالعباس الدوري، وهو ثقة حافظ.
وقال أيضا: (حدثنا محمد بن حميد، قال: حدثنا أبو داود الطيالسي، عن عباد بن منصور، عن عكرمة، عن ابن عباس، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اكتحلوا بالإثمد؛ فإنه يجلو البصر، وينبت الشعر"، وزعم أن النبي صلى الله عليه وسلم كانت له مكحلة يكتحل بها كل ليلة، ثلاثة في هذه، وثلاثة في هذه.
حدثنا علي بن حجر ومحمد بن يحيى، قالا: حدثنا يزيد بن هارون، عن عباد بن منصور نحوه.
وفي الباب عن جابر، وابن عمر.
حديث ابن عباس حديث حسن، لا نعرفه على هذا اللفظ، إلا من حديث عباد بن منصور)
(3).
قلت: وهذا قد توبع عليه؛ ولكنها متابعة قاصرة.
وهناك حديث ثالث نقل قول البخاري فيه بأنه حسن، فقال: (حدثنا
--------------------------------------------
এজন্য তিনি তার থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসকে সহীহ বলেননি, বরং সেগুলোর সবগুলিকেই অপ্রসিদ্ধ (গারীব) সাব্যস্ত করেছেন, যদিও কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: (হাসান)
(১), তবে কেবল দুটি হাদিস ব্যতীত যেগুলোর ব্যাপারে তিনি স্পষ্টভাবে হাসান হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: (আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন হুমাইদ আর-রাজি এবং আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ আদ-দাওরি, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, সাঈদ ইবন আবি আইয়ুব থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মারহুম, সাহল ইবন মুয়াজ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে ইমাম যখন খুতবা দেন তখন হাঁটু গেড়ে বসা (হাবওয়া) থেকে নিষেধ করেছেন।
আবু ঈসা বলেন: এটি একটি হাসান হাদিস)
(২)।
এই বর্ণনায় লক্ষ্যণীয় যে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন হুমাইদকে আব্বাস আদ-দাওরির সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন, আর তিনি (আব্বাস) একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ।
তিনি আরও বলেন: (আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন হুমাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আব্বাদ ইবন মানসুর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ইসমদ (এক প্রকার সুরমা) ব্যবহার করো; কারণ এটি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে", এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সুরমাদানি ছিল যা দিয়ে তিনি প্রতি রাতে সুরমা লাগাতেন, এই চোখে তিনবার এবং ওই চোখে তিনবার।
আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আলী ইবন হুজর এবং মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন, আব্বাদ ইবন মানসুর থেকে অনুরূপভাবে।
এ বিষয়ে জাবির এবং ইবন উমর থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
ইবন আব্বাসের হাদিসটি হাসান, আমরা এই শব্দে এটি কেবল আব্বাদ ইবন মানসুরের হাদিস থেকেই চিনি)
(৩)।
আমি বলছি: এর জন্য একটি সমার্থক বর্ণনা (মুতাবায়াত) পাওয়া গিয়েছে; তবে এটি একটি অসম্পূর্ণ সমার্থক বর্ণনা।
এখানে একটি তৃতীয় হাদিস রয়েছে যাতে তিনি বুখারির উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যে সেটি হাসান। তিনি বলেছেন: (আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাদখাল ইলা জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
محمد بن حميد الرازي، قال: حدثنا جرير، عن محمد بن إسحاق، عن الصلت بن عبد اللّه بن نوفل، قال: رأيت ابن عباس يتختم في يمينه ولا إخاله إلا قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتختم في يمينه.
قال محمد بن إسماعيل: حديث محمد بن إسحاق، عن الصلت بن عبد الله بن نوفل حديث حسن)
(1).
قلت: هذا الحديث لم يتفرد به محمد بن حميد، لذا قال البخاري: حديث محمد بن إسحاق
… الخ.
وفي بعض ما استغربه ليست الغرابة منه، إلا في خبرٍ نصَّ صراحة أنه تفرد به، فقال: (حدثنا محمد بن حميد، قال: حدثنا إبراهيم بن المختار، عن شعبة، عن أبي بلج، عن عمرو بن ميمون، عن ابن عباس، قال: أول من صلى علي.
هذا حديث غريب من هذا الوجه، لا نعرفه من حديث شعبة، عن أبي بلج إلا من حديث محمد بن حميد)
(2).
2 - سفيان بن وكيع الرؤاسي، وهو صدوق، ولكنه ابتلي بوراق كان يدخل في حديثه ما ليس منه، فتُكلم فيه من أجل هذا
(3)، وقد أكثر عنه في كتابه "الجامع"، حتى بلغ ما روى عنه نحو خمسين - أو ثلاثة وخمسين - حديثا، وقد تتبعت بعض هذه المرويات فوجدت بعضها مستقيما، لذا صحح أبو عيسى جزءا منها، والبعض الآخر العلة ليست منه، وهذا يفيد أن أبا عيسى كان ينتقي حديث شيوخه، لذا لم يخرّج عنه فيما يظهر إلا ما كان من حديثه، والله أعلم.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আর-রাজি বলেন: আমাদের নিকট জারীর বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি সালত ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নাওফাল থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে তাঁর ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি এবং আমার মনে হয় তিনি এও বলেছিলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি।
মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের হাদিস, যা তিনি সালত ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তা একটি হাসান হাদিস।)
(১)।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ এই হাদিসটি বর্ণনায় একক নন, এজন্যই বুখারি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের হাদিস... ইত্যাদি।
আর তিনি যে বিষয়গুলোকে বিরল (গারিব) বলেছেন তার মধ্যে কিছু বিষয়ের বিরলতা তাঁর পক্ষ থেকে নয়, কেবল সেই সংবাদের ক্ষেত্রে যা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি তাতে একক। তিনি বলেছেন: (আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনুল মুখতার বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি আবু বালজ থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি বলেছেন: আলী হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি সালাত আদায় করেছেন।
এই হাদিসটি এই সূত্রে বিরল (গারিব), শু'বাহ থেকে আবু বালজের সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদের বর্ণনা ছাড়া আমরা এটি জানি না।)
(২)।
২ - সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি' আর-রুয়াসি, তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী (সাদুক), তবে তিনি এমন একজন অনুলিপিকারক (ওয়াররাক) দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছিলেন যিনি তাঁর হাদিসের মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করিয়ে দিতেন যা তাঁর নয়। এই কারণে তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে
(৩)। তিনি (তিরমিজি) তাঁর "আল-জামি" গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, এমনকি তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ বা তিপ্পান্নটিতে পৌঁছেছে। আমি এই বর্ণনাগুলোর কিছু অনুসন্ধান করেছি এবং দেখেছি যে সেগুলোর কিছু সঠিক। এই কারণে আবু ঈসা (তিরমিজি) সেগুলোর একাংশকে সহিহ বলেছেন। আর অন্যগুলোর ক্ষেত্রে ত্রুটি তাঁর পক্ষ থেকে নয়। এটি প্রমাণ করে যে আবু ঈসা তাঁর শিক্ষকদের হাদিস নির্বাচন করতেন। তাই আপাতদৃষ্টিতে তিনি তাঁর থেকে কেবল সেই হাদিসগুলোই গ্রহণ করেছেন যা প্রকৃতপক্ষে তাঁরই বর্ণনা ছিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------