(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[مجموع فتاوى ورسائل فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين]ـ
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (المتوفى: 1421هـ)
جمع وترتيب: فهد بن ناصر بن إبراهيم السليمان
الناشر: دار الوطن - دار الثريا
الطبعة: الأخيرة - 1413 هـ
عدد الأجزاء: 26
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (المتوفى: 1421هـ)
جمع وترتيب: فهد بن ناصر بن إبراهيم السليمان
الناشر: دار الوطن - دار الثريا
الطبعة: الأخيرة - 1413 هـ
عدد الأجزاء: 26
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
মাজমু' ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ফাদ্বীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু: ১৪২১ হি.)
সংকলন ও বিন্যাস: ফাহাদ বিন নাসির বিন ইবরাহীম আস-সুলাইমান
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - দারুস সুরাইয়া
সংস্করণ: সর্বশেষ - ১৪১৩ হি.
খণ্ডের সংখ্যা: ২৬
[বইয়ের পৃষ্ঠাঙ্কন মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু: ১৪২১ হি.)
সংকলন ও বিন্যাস: ফাহাদ বিন নাসির বিন ইবরাহীম আস-সুলাইমান
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - দারুস সুরাইয়া
সংস্করণ: সর্বশেষ - ১৪১৩ হি.
খণ্ডের সংখ্যা: ২৬
[বইয়ের পৃষ্ঠাঙ্কন মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المقدمة
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساءً واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً} {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً} .
أما بعد:
فإن من أكبر نعم الله علينا أن حفظ هذا الدين برجاله المخلصين، وهم العلماء العاملون الذين كانوا أعلاماً يهتدى بهم وأئمة يقتدى بهم وأقطاباً تدور عليهم معارف الأمة، وأنواراً تتجلى بهم غياهب الظلمة، فهم السياج المتين الذي حال بين الدين وأعدائه، والنور المبين الذي تستنير به الأمة عند اشتباه الحق وخفائه، وهم ورثة الأنبياء في أممهم وأمناؤهم على دينهم، وهم شهداء الله في أرضه، فليس في الأمة كمثلهم ناصحاً مخلصاً، يعلمون أحكام الله ويعظون عباد الله ويقودون الأمة لما فيه الخير والصلاح، فهم القادة حقاً، وهم الزعماء المصلحون، وهم أهل الخشية {إنما يخشى اللهَ من عباده العلماءٌ} . لهذا وغيره، كان على الأمة أن تعرف حقهم وتدعو لهم وتقوم بما يجب لهم، ومن ذلك نشر علمهم بين الأمة حتى يستفيد العام والخاص منه، ومن هذا المنطلق استعنت بالله عز وجل على جمع فتاوي فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين حفظه الله تعالى.
وقد بدأت في جمعها مساء يوم الأربعاء الموافق 22/2/1407هـ، بعد أن أخذت الإذن والموافقة على ذلك من فضيلة الشيخ، وقد جمعتها من فتاوي نور على الدرب وفتاوي الحرم المكي لأعوام 1406، 1407، 1408 هـ، وكذلك من أشرطة فقه العبادات، وبعض المحاضرات، وما ينشر في الصحف والمجلات من الفتاوي وما يرسله إلي الشيخ من فتاوى بالإضافة إلى مصادر أخرى، وكنت أعرض ما أجمعه على فضيلة الشيخ فيقرؤه بنفسه ويصححه بعناية فائقة، وقد أعطى الشيخ
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساءً واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً} {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً} .
أما بعد:
فإن من أكبر نعم الله علينا أن حفظ هذا الدين برجاله المخلصين، وهم العلماء العاملون الذين كانوا أعلاماً يهتدى بهم وأئمة يقتدى بهم وأقطاباً تدور عليهم معارف الأمة، وأنواراً تتجلى بهم غياهب الظلمة، فهم السياج المتين الذي حال بين الدين وأعدائه، والنور المبين الذي تستنير به الأمة عند اشتباه الحق وخفائه، وهم ورثة الأنبياء في أممهم وأمناؤهم على دينهم، وهم شهداء الله في أرضه، فليس في الأمة كمثلهم ناصحاً مخلصاً، يعلمون أحكام الله ويعظون عباد الله ويقودون الأمة لما فيه الخير والصلاح، فهم القادة حقاً، وهم الزعماء المصلحون، وهم أهل الخشية {إنما يخشى اللهَ من عباده العلماءٌ} . لهذا وغيره، كان على الأمة أن تعرف حقهم وتدعو لهم وتقوم بما يجب لهم، ومن ذلك نشر علمهم بين الأمة حتى يستفيد العام والخاص منه، ومن هذا المنطلق استعنت بالله عز وجل على جمع فتاوي فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين حفظه الله تعالى.
وقد بدأت في جمعها مساء يوم الأربعاء الموافق 22/2/1407هـ، بعد أن أخذت الإذن والموافقة على ذلك من فضيلة الشيخ، وقد جمعتها من فتاوي نور على الدرب وفتاوي الحرم المكي لأعوام 1406، 1407، 1408 هـ، وكذلك من أشرطة فقه العبادات، وبعض المحاضرات، وما ينشر في الصحف والمجلات من الفتاوي وما يرسله إلي الشيخ من فتاوى بالإضافة إلى مصادر أخرى، وكنت أعرض ما أجمعه على فضيلة الشيخ فيقرؤه بنفسه ويصححه بعناية فائقة، وقد أعطى الشيخ
ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যেমন তাকে ভয় করা উচিত এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (সূরা আলে ইমরান: ১০২)
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দু'জন থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সর্বদা পর্যবেক্ষণকারী।} (সূরা নিসা: ১)
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহকে সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করে।} (সূরা আহযাব: ৭০-৭১)
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আমাদের উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় নেয়ামতসমূহের মধ্যে একটি হলো এই যে, তিনি এই দ্বীনকে তাঁর একনিষ্ঠ পুরুষদের (আলেমদের) মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছেন। আর তারা হলেন সেই আমলকারী উলামায়ে কেরাম, যারা ছিলেন এমন দিকনির্দেশক যাদের দ্বারা পথ খুঁজে পাওয়া যায়, এমন ইমাম যাদের অনুসরণ করা হয়, এবং এমন কেন্দ্রবিন্দু যাদেরকে ঘিরে উম্মাহর জ্ঞান আবর্তিত হয়। এবং এমন আলো যা দ্বারা অন্ধকারের গভীরতা দূর হয়। তারা হলেন সেই মজবুত বেষ্টনী যা দ্বীন ও তার শত্রুদের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং সেই সুস্পষ্ট আলো যা দ্বারা উম্মাহ আলোকিত হয় যখন সত্য অস্পষ্ট ও গোপন হয়ে যায়। তারা তাদের উম্মতের মধ্যে নবীদের ওয়ারিশ এবং তাদের দ্বীনের আমানতদার। তারা আল্লাহর জমিনে তাঁর সাক্ষী। সুতরাং উম্মাহর মধ্যে তাদের মতো এমন কোনো একনিষ্ঠ উপদেশদাতা নেই। তারা আল্লাহর বিধান শিক্ষা দেন, আল্লাহর বান্দাদের উপদেশ দেন এবং উম্মাহকে কল্যাণ ও সংশোধনের দিকে পরিচালিত করেন। তারাই প্রকৃত নেতা, তারাই সংস্কারক ও অগ্রগামী। আর তারাই আল্লাহকে ভয়কারী। {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমগণই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।} (সূরা ফাতির: ২৮)
এই কারণে এবং অন্যান্য কারণে, উম্মাহর উচিত তাদের অধিকার জানা, তাদের জন্য দু'আ করা এবং তাদের প্রতি যা ওয়াজিব তা পালন করা। এর মধ্যে একটি হলো উম্মাহর মাঝে তাদের জ্ঞান প্রচার করা, যাতে সাধারণ ও বিশেষ সকলেই তা থেকে উপকৃত হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছি ফাজিলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন)-এর ফাতাওয়া সংকলনের জন্য।
আমি এর সংকলন শুরু করি ১৪০৭ হিজরীর সফর মাসের ২২ তারিখ বুধবার সন্ধ্যায়, ফাজিলাতুশ শাইখের কাছ থেকে এর জন্য অনুমতি ও সম্মতি নেওয়ার পর। আমি এগুলো 'নূর আলাদ দারব' ফাতাওয়া এবং ১৪০৬, ১৪০৭, ১৪০৮ হিজরীর হারাম মাক্কীর ফাতাওয়া থেকে সংগ্রহ করেছি। এছাড়াও, ফিকহুল ইবাদাত-এর ক্যাসেটসমূহ, কিছু বক্তৃতা, পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ফাতাওয়াসমূহ এবং শাইখ আমার কাছে যে ফাতাওয়া পাঠাতেন, তা ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে। আমি যা কিছু সংগ্রহ করতাম, তা ফাজিলাতুশ শাইখের কাছে পেশ করতাম। তিনি নিজে তা পড়তেন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংশোধন করতেন। শাইখ দিয়েছেন
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যেমন তাকে ভয় করা উচিত এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (সূরা আলে ইমরান: ১০২)
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দু'জন থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সর্বদা পর্যবেক্ষণকারী।} (সূরা নিসা: ১)
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহকে সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করে।} (সূরা আহযাব: ৭০-৭১)
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আমাদের উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় নেয়ামতসমূহের মধ্যে একটি হলো এই যে, তিনি এই দ্বীনকে তাঁর একনিষ্ঠ পুরুষদের (আলেমদের) মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছেন। আর তারা হলেন সেই আমলকারী উলামায়ে কেরাম, যারা ছিলেন এমন দিকনির্দেশক যাদের দ্বারা পথ খুঁজে পাওয়া যায়, এমন ইমাম যাদের অনুসরণ করা হয়, এবং এমন কেন্দ্রবিন্দু যাদেরকে ঘিরে উম্মাহর জ্ঞান আবর্তিত হয়। এবং এমন আলো যা দ্বারা অন্ধকারের গভীরতা দূর হয়। তারা হলেন সেই মজবুত বেষ্টনী যা দ্বীন ও তার শত্রুদের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং সেই সুস্পষ্ট আলো যা দ্বারা উম্মাহ আলোকিত হয় যখন সত্য অস্পষ্ট ও গোপন হয়ে যায়। তারা তাদের উম্মতের মধ্যে নবীদের ওয়ারিশ এবং তাদের দ্বীনের আমানতদার। তারা আল্লাহর জমিনে তাঁর সাক্ষী। সুতরাং উম্মাহর মধ্যে তাদের মতো এমন কোনো একনিষ্ঠ উপদেশদাতা নেই। তারা আল্লাহর বিধান শিক্ষা দেন, আল্লাহর বান্দাদের উপদেশ দেন এবং উম্মাহকে কল্যাণ ও সংশোধনের দিকে পরিচালিত করেন। তারাই প্রকৃত নেতা, তারাই সংস্কারক ও অগ্রগামী। আর তারাই আল্লাহকে ভয়কারী। {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমগণই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।} (সূরা ফাতির: ২৮)
এই কারণে এবং অন্যান্য কারণে, উম্মাহর উচিত তাদের অধিকার জানা, তাদের জন্য দু'আ করা এবং তাদের প্রতি যা ওয়াজিব তা পালন করা। এর মধ্যে একটি হলো উম্মাহর মাঝে তাদের জ্ঞান প্রচার করা, যাতে সাধারণ ও বিশেষ সকলেই তা থেকে উপকৃত হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছি ফাজিলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন)-এর ফাতাওয়া সংকলনের জন্য।
আমি এর সংকলন শুরু করি ১৪০৭ হিজরীর সফর মাসের ২২ তারিখ বুধবার সন্ধ্যায়, ফাজিলাতুশ শাইখের কাছ থেকে এর জন্য অনুমতি ও সম্মতি নেওয়ার পর। আমি এগুলো 'নূর আলাদ দারব' ফাতাওয়া এবং ১৪০৬, ১৪০৭, ১৪০৮ হিজরীর হারাম মাক্কীর ফাতাওয়া থেকে সংগ্রহ করেছি। এছাড়াও, ফিকহুল ইবাদাত-এর ক্যাসেটসমূহ, কিছু বক্তৃতা, পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ফাতাওয়াসমূহ এবং শাইখ আমার কাছে যে ফাতাওয়া পাঠাতেন, তা ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে। আমি যা কিছু সংগ্রহ করতাম, তা ফাজিলাতুশ শাইখের কাছে পেশ করতাম। তিনি নিজে তা পড়তেন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংশোধন করতেন। শাইখ দিয়েছেন
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هذه الفتاوي الكثير من وقته الثمين حتى كانت ترافقه في أسفاره، فجزاه الله عني وعن المسلمين خير الجزاء. وقد بدأ الشيخ حفظه الله في المراجعة يوم الجمعة الموافق 29/10/1407 هـ.
ومما ينبغي التنبيه عليه أن بعض الأسئلة قد تتكرر وفي ذلك جملة من الفوائد لا تخفى، منها أن بعض الإجابات تكون مختصرة وبعضها متوسط وبعضها مطول، ولكلٍّ طالب، كما أن الأدلة تتنوع في تلك الفتاوى بحيث يجتمع لدى القارىء أكثر من دليل في المسألة الواحدة، إلى غير ذلك من المصالح. وقد أسميت ما جمعته ` مجموع فتاوي ورسائل فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين `. فوافق فضيلة الشيخ على هذه التسمية مشكوراً.
وفي ختام هذه الكلمة أحمد الله تعالى على ما من به ويسره من جمع هذه الفتاوي وأتقدم بالشكر الجزيل لفضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين، على ما بذله ويبذله من جهد عظيم لخدمة هذا المجموع، وأسال الله عز وجل له حسن المثوبة والدرجات العلا، كما أسأله تعالى أن يحسن لنا وله العاقبة في الأولى والآخرة، وأن يوفقنا جميعاً لما يحب ويرضى، وأن يجعل أعمالنا خالصة مقبولة عنده، نافعة لعباده، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
كتبه
فهد بن ناصر السليمان
غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين
ومما ينبغي التنبيه عليه أن بعض الأسئلة قد تتكرر وفي ذلك جملة من الفوائد لا تخفى، منها أن بعض الإجابات تكون مختصرة وبعضها متوسط وبعضها مطول، ولكلٍّ طالب، كما أن الأدلة تتنوع في تلك الفتاوى بحيث يجتمع لدى القارىء أكثر من دليل في المسألة الواحدة، إلى غير ذلك من المصالح. وقد أسميت ما جمعته ` مجموع فتاوي ورسائل فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين `. فوافق فضيلة الشيخ على هذه التسمية مشكوراً.
وفي ختام هذه الكلمة أحمد الله تعالى على ما من به ويسره من جمع هذه الفتاوي وأتقدم بالشكر الجزيل لفضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين، على ما بذله ويبذله من جهد عظيم لخدمة هذا المجموع، وأسال الله عز وجل له حسن المثوبة والدرجات العلا، كما أسأله تعالى أن يحسن لنا وله العاقبة في الأولى والآخرة، وأن يوفقنا جميعاً لما يحب ويرضى، وأن يجعل أعمالنا خالصة مقبولة عنده، نافعة لعباده، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
كتبه
فهد بن ناصر السليمان
غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين
এই ফাতওয়াগুলো তাঁর মূল্যবান সময়ের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল, এমনকি তাঁর সফরসঙ্গীও হতো। আল্লাহ তায়ালা আমার পক্ষ থেকে এবং সকল মুসলমানের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। শাইখ, আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন, ১৪০৭ হিজরীর ১০ই রবিউস সানি মাসের ২৯ তারিখ শুক্রবার এই ফাতওয়াগুলো পর্যালোচনা শুরু করেন।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কিছু প্রশ্ন বারবার আসতে পারে। এতে এমন কিছু সুস্পষ্ট উপকারিতা রয়েছে যা গোপন নয়। এর মধ্যে একটি হলো, কিছু উত্তর সংক্ষিপ্ত, কিছু মধ্যম এবং কিছু বিস্তারিত হয়, যা বিভিন্ন ধরনের পাঠকের জন্য উপযোগী। একইভাবে, এই ফাতওয়াগুলোতে প্রমাণাদিও বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যাতে পাঠক একটি মাসআলার জন্য একাধিক প্রমাণ জানতে পারেন। এছাড়াও আরও অনেক কল্যাণ রয়েছে।
আমি এই সংকলনের নাম দিয়েছি `মাজমু' ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ফাদ্বীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন`। ফাদ্বীলাতুশ শাইখ এই নামকরণে কৃতজ্ঞতার সাথে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
এই ভূমিকার সমাপ্তিতে, এই ফাতওয়াগুলো সংকলনের জন্য আল্লাহ তায়ালা যে অনুগ্রহ করেছেন এবং সহজ করে দিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করছি। ফাদ্বীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনকে এই সংকলনের সেবায় তিনি যে মহান প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং চালিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য উত্তম প্রতিদান ও উচ্চ মর্যাদা কামনা করছি। আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের এবং তাঁর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে শুভ পরিণতি দান করেন। তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফীক দেন এবং আমাদের আমলসমূহকে তাঁর কাছে একনিষ্ঠ ও মাকবুল (গৃহীত) করেন, যা তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর উপর ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।
লিখেছেন
ফাহাদ বিন নাসির আস-সুলাইমান
আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলমানকে ক্ষমা করুন।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কিছু প্রশ্ন বারবার আসতে পারে। এতে এমন কিছু সুস্পষ্ট উপকারিতা রয়েছে যা গোপন নয়। এর মধ্যে একটি হলো, কিছু উত্তর সংক্ষিপ্ত, কিছু মধ্যম এবং কিছু বিস্তারিত হয়, যা বিভিন্ন ধরনের পাঠকের জন্য উপযোগী। একইভাবে, এই ফাতওয়াগুলোতে প্রমাণাদিও বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যাতে পাঠক একটি মাসআলার জন্য একাধিক প্রমাণ জানতে পারেন। এছাড়াও আরও অনেক কল্যাণ রয়েছে।
আমি এই সংকলনের নাম দিয়েছি `মাজমু' ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ফাদ্বীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন`। ফাদ্বীলাতুশ শাইখ এই নামকরণে কৃতজ্ঞতার সাথে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
এই ভূমিকার সমাপ্তিতে, এই ফাতওয়াগুলো সংকলনের জন্য আল্লাহ তায়ালা যে অনুগ্রহ করেছেন এবং সহজ করে দিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করছি। ফাদ্বীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনকে এই সংকলনের সেবায় তিনি যে মহান প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং চালিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য উত্তম প্রতিদান ও উচ্চ মর্যাদা কামনা করছি। আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের এবং তাঁর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে শুভ পরিণতি দান করেন। তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফীক দেন এবং আমাদের আমলসমূহকে তাঁর কাছে একনিষ্ঠ ও মাকবুল (গৃহীত) করেন, যা তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর উপর ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।
লিখেছেন
ফাহাদ বিন নাসির আস-সুলাইমান
আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলমানকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التوحيد
(1) سئل فضيلة الشيخ - أعلى الله درجته في المهديين -: عن تعريف التوحيد وأنواعه.
فأجاب - حفظه الله - بقوله: التوحيد لغة: ` مصدر وحد يوحد، أي جعل الشيء واحدا ` وهذا لا يتحقق إلا بنفي وإثبات، نفي الحكم عما سوى المُوحد، وإثباته له، فمثلا نقول: إنه لا يتم للإنسان التوحيد حتى يشهد أن لا إله إلا الله فينفي الألوهية عما سوى الله عز وجل ويثبتها لله وحده، وذلك أن النفي المحض تعطيل محض، والإثبات المحض لا يمنع مشاركة الغير في الحكم، فلو قلت مثلا: ` فلان قائم ` فهنا أثبتَّ له القيام لكنك لم توحده به؛ لأنه من الجائز أن يشاركه غيره في هذا القيام، ولو قلت: ` لا قائم ` فقد نفيت محضا ولم تثبت القيام لأحد، فإذا قلت: ` لا قائم إلا زيد ` فحينئذ تكون وحدت زيدا بالقيام حيث نفيت القيام عمن سواه، وهذا هو تحقيق التوحيد في الواقع، أي أن التوحيد لا يكون توحيدا حتى يتضمن نفيا وإثباتا.
وأنواع التوحيد بالنسبة لله عز وجل تدخل كلها في تعريف عام وهو ` إفراد الله سبحانه وتعالى بما يختص به `.
وهي حسب ما ذكره أهل العلم ثلاثة:
الأول: توحيد الربوبية.
الثاني: توحيد الألوهية.
الثالث: توحيد الأسماء والصفات.
وعلموا ذلك بالتتبع والاستقراء والنظر في الآيات والأحاديث
(1) سئل فضيلة الشيخ - أعلى الله درجته في المهديين -: عن تعريف التوحيد وأنواعه.
فأجاب - حفظه الله - بقوله: التوحيد لغة: ` مصدر وحد يوحد، أي جعل الشيء واحدا ` وهذا لا يتحقق إلا بنفي وإثبات، نفي الحكم عما سوى المُوحد، وإثباته له، فمثلا نقول: إنه لا يتم للإنسان التوحيد حتى يشهد أن لا إله إلا الله فينفي الألوهية عما سوى الله عز وجل ويثبتها لله وحده، وذلك أن النفي المحض تعطيل محض، والإثبات المحض لا يمنع مشاركة الغير في الحكم، فلو قلت مثلا: ` فلان قائم ` فهنا أثبتَّ له القيام لكنك لم توحده به؛ لأنه من الجائز أن يشاركه غيره في هذا القيام، ولو قلت: ` لا قائم ` فقد نفيت محضا ولم تثبت القيام لأحد، فإذا قلت: ` لا قائم إلا زيد ` فحينئذ تكون وحدت زيدا بالقيام حيث نفيت القيام عمن سواه، وهذا هو تحقيق التوحيد في الواقع، أي أن التوحيد لا يكون توحيدا حتى يتضمن نفيا وإثباتا.
وأنواع التوحيد بالنسبة لله عز وجل تدخل كلها في تعريف عام وهو ` إفراد الله سبحانه وتعالى بما يختص به `.
وهي حسب ما ذكره أهل العلم ثلاثة:
الأول: توحيد الربوبية.
الثاني: توحيد الألوهية.
الثالث: توحيد الأسماء والصفات.
وعلموا ذلك بالتتبع والاستقراء والنظر في الآيات والأحاديث
তাওহীদ
(১) সম্মানিত শাইখকে – আল্লাহ তাঁর মর্যাদা হেদায়েতপ্রাপ্তদের মধ্যে সমুন্নত করুন – তাওহীদের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
তিনি – আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন – উত্তরে বললেন:
তাওহীদ আভিধানিকভাবে: `ওয়াহহাদা-ইউওয়াহহিদু` ক্রিয়ার মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ `কোনো কিছুকে এক করা`। আর এটি `নাফি` (অস্বীকার) ও `ইসবাত` (প্রতিষ্ঠা) ব্যতীত অর্জিত হয় না। অর্থাৎ, মুওয়াহহিদ (যাকে এক করা হচ্ছে) ব্যতীত অন্যের থেকে বিধানকে অস্বীকার করা এবং তার জন্য তা প্রতিষ্ঠা করা। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলি: কোনো ব্যক্তির তাওহীদ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না সে `লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ` (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই) সাক্ষ্য দেয়। এর মাধ্যমে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল ব্যতীত অন্যের থেকে উলূহিয়্যাহ (ইবাদতের যোগ্যতা) অস্বীকার করে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য তা প্রতিষ্ঠা করে।
কারণ, নিছক অস্বীকার (নাফি মাহদ) নিছক বাতিলকরণ (তা'তীল মাহদ)। আর নিছক প্রতিষ্ঠা (ইসবাত মাহদ) অন্যের জন্য সেই বিধানে অংশীদারিত্বকে বাধা দেয় না। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি বলেন: `অমুক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে` – তাহলে এখানে আপনি তার জন্য দাঁড়ানোকে প্রতিষ্ঠা করলেন, কিন্তু তাকে এর দ্বারা একক করলেন না; কারণ, অন্য কেউও এই দাঁড়ানোর কাজে তার সাথে অংশীদার হতে পারে। আর যদি আপনি বলেন: `কেউ দাঁড়িয়ে নেই` – তাহলে আপনি নিছক অস্বীকার করলেন এবং কারো জন্য দাঁড়ানোকে প্রতিষ্ঠা করলেন না। কিন্তু যখন আপনি বলেন: `যায়েদ ব্যতীত কেউ দাঁড়িয়ে নেই` – তখন আপনি যায়েদকে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে একক করলেন, কারণ আপনি যায়েদ ব্যতীত অন্যের থেকে দাঁড়ানোকে অস্বীকার করলেন। আর বাস্তবে এটাই হলো তাওহীদের বাস্তবায়ন। অর্থাৎ, তাওহীদ ততক্ষণ পর্যন্ত তাওহীদ হয় না, যতক্ষণ না তা নাফি (অস্বীকার) ও ইসবাত (প্রতিষ্ঠা) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল-এর ক্ষেত্রে তাওহীদের প্রকারভেদগুলো একটি সাধারণ সংজ্ঞার অধীনে আসে, আর তা হলো: `আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট বিষয়াবলীতে একক সাব্যস্ত করা`।
আহলে ইলম (জ্ঞানীরা) যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী, এর প্রকারভেদ তিনটি:
প্রথম: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ।
দ্বিতীয়: তাওহীদে উলূহিয়্যাহ।
তৃতীয়: তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত।
আর তাঁরা (আহলে ইলম) আয়াত ও হাদীসসমূহের অনুসরণ, অনুসন্ধান (ইস্তিক্বরা) এবং গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি জানতে পেরেছেন।
(১) সম্মানিত শাইখকে – আল্লাহ তাঁর মর্যাদা হেদায়েতপ্রাপ্তদের মধ্যে সমুন্নত করুন – তাওহীদের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
তিনি – আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন – উত্তরে বললেন:
তাওহীদ আভিধানিকভাবে: `ওয়াহহাদা-ইউওয়াহহিদু` ক্রিয়ার মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ `কোনো কিছুকে এক করা`। আর এটি `নাফি` (অস্বীকার) ও `ইসবাত` (প্রতিষ্ঠা) ব্যতীত অর্জিত হয় না। অর্থাৎ, মুওয়াহহিদ (যাকে এক করা হচ্ছে) ব্যতীত অন্যের থেকে বিধানকে অস্বীকার করা এবং তার জন্য তা প্রতিষ্ঠা করা। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলি: কোনো ব্যক্তির তাওহীদ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না সে `লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ` (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই) সাক্ষ্য দেয়। এর মাধ্যমে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল ব্যতীত অন্যের থেকে উলূহিয়্যাহ (ইবাদতের যোগ্যতা) অস্বীকার করে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য তা প্রতিষ্ঠা করে।
কারণ, নিছক অস্বীকার (নাফি মাহদ) নিছক বাতিলকরণ (তা'তীল মাহদ)। আর নিছক প্রতিষ্ঠা (ইসবাত মাহদ) অন্যের জন্য সেই বিধানে অংশীদারিত্বকে বাধা দেয় না। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি বলেন: `অমুক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে` – তাহলে এখানে আপনি তার জন্য দাঁড়ানোকে প্রতিষ্ঠা করলেন, কিন্তু তাকে এর দ্বারা একক করলেন না; কারণ, অন্য কেউও এই দাঁড়ানোর কাজে তার সাথে অংশীদার হতে পারে। আর যদি আপনি বলেন: `কেউ দাঁড়িয়ে নেই` – তাহলে আপনি নিছক অস্বীকার করলেন এবং কারো জন্য দাঁড়ানোকে প্রতিষ্ঠা করলেন না। কিন্তু যখন আপনি বলেন: `যায়েদ ব্যতীত কেউ দাঁড়িয়ে নেই` – তখন আপনি যায়েদকে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে একক করলেন, কারণ আপনি যায়েদ ব্যতীত অন্যের থেকে দাঁড়ানোকে অস্বীকার করলেন। আর বাস্তবে এটাই হলো তাওহীদের বাস্তবায়ন। অর্থাৎ, তাওহীদ ততক্ষণ পর্যন্ত তাওহীদ হয় না, যতক্ষণ না তা নাফি (অস্বীকার) ও ইসবাত (প্রতিষ্ঠা) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল-এর ক্ষেত্রে তাওহীদের প্রকারভেদগুলো একটি সাধারণ সংজ্ঞার অধীনে আসে, আর তা হলো: `আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট বিষয়াবলীতে একক সাব্যস্ত করা`।
আহলে ইলম (জ্ঞানীরা) যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী, এর প্রকারভেদ তিনটি:
প্রথম: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ।
দ্বিতীয়: তাওহীদে উলূহিয়্যাহ।
তৃতীয়: তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত।
আর তাঁরা (আহলে ইলম) আয়াত ও হাদীসসমূহের অনুসরণ, অনুসন্ধান (ইস্তিক্বরা) এবং গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি জানতে পেরেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فوجدوا أن التوحيد لا يخرج عن هذه الأنواع الثلاثة فنوعوا التوحيد إلى ثلاثة أنواع:
الأول: توحيد الربوبية: وهو ` إفراد الله - سبحانه وتعالى - بالخلق، والملك، والتدبير ` وتفصيل ذلك:
أولا: بالنسبة لإفراد الله - تعالى - بالخلق: فالله - تعالى - وحده هو الخالق لا خالق سواه، قال الله - تعالى -:
{هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ} . وقال - تعالى - مبينا بطلان آلهة الكفار: {أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لَا يَخْلُقُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} . فالله - تعالى - وحده هو الخالق خلق كل شيء فقدره تقديرا، وخَلْقُهُ يشمل ما يقع من مفعولاته، وما يقع من مفعولات خلقه أيضا، ولهذا كان من تمام الإيمان بالقدر أن تؤمن بأن الله - تعالى - خالقٌ لأفعال العباد كما قال الله - تعالى -: {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} .
ووجه ذلك أن فعل العبد من صفاته، والعبد مخلوق لله، وخالق الشيء خالق لصفاته، ووجه آخر أن فعل العبد حاصل بإرادة جازمة وقدرة تامة، والإرادة والقدرة كلتاهما مخلوقتان لله - عز وجل - وخالق السبب التام خالق للمسبب.
فإن قيل: كيف نجمع بين إفراد الله - عز وجل - بالخلق مع أن الخلق قد يثبت لغير الله كما يدل عليه قول الله - تعالى -: {فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} . «وقول النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، في المصورين:
»
الأول: توحيد الربوبية: وهو ` إفراد الله - سبحانه وتعالى - بالخلق، والملك، والتدبير ` وتفصيل ذلك:
أولا: بالنسبة لإفراد الله - تعالى - بالخلق: فالله - تعالى - وحده هو الخالق لا خالق سواه، قال الله - تعالى -:
{هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ} . وقال - تعالى - مبينا بطلان آلهة الكفار: {أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لَا يَخْلُقُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} . فالله - تعالى - وحده هو الخالق خلق كل شيء فقدره تقديرا، وخَلْقُهُ يشمل ما يقع من مفعولاته، وما يقع من مفعولات خلقه أيضا، ولهذا كان من تمام الإيمان بالقدر أن تؤمن بأن الله - تعالى - خالقٌ لأفعال العباد كما قال الله - تعالى -: {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} .
ووجه ذلك أن فعل العبد من صفاته، والعبد مخلوق لله، وخالق الشيء خالق لصفاته، ووجه آخر أن فعل العبد حاصل بإرادة جازمة وقدرة تامة، والإرادة والقدرة كلتاهما مخلوقتان لله - عز وجل - وخالق السبب التام خالق للمسبب.
فإن قيل: كيف نجمع بين إفراد الله - عز وجل - بالخلق مع أن الخلق قد يثبت لغير الله كما يدل عليه قول الله - تعالى -: {فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} . «وقول النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، في المصورين:
»
তারা দেখতে পেলেন যে, তাওহীদ এই তিন প্রকারের বাইরে নয়। তাই তারা তাওহীদকে তিন প্রকারে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম প্রকার: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ: আর তা হলো `আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে সৃষ্টি, রাজত্ব ও পরিচালনায় একক সাব্যস্ত করা`। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হলো:
প্রথমত: সৃষ্টিতে আল্লাহ তা'আলাকে একক সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে: আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, তিনি ব্যতীত আর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সৃষ্টিকর্তা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।} [সূরা ফাতির: ৩] আর তিনি (আল্লাহ) তা'আলা কাফিরদের উপাস্যদের বাতিল হওয়া বর্ণনা করে বলেছেন: {যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি তার মতো, যে সৃষ্টি করে না? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [সূরা নাহল: ১৭] সুতরাং আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা; তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে পরিমাপ করেছেন। আর তাঁর সৃষ্টি অন্তর্ভুক্ত করে তাঁর নিজের কর্মসমূহকে এবং তাঁর সৃষ্টির কর্মসমূহকেও। আর এ কারণেই তাকদীরের প্রতি ঈমানের পূর্ণতার অংশ হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের কর্মসমূহেরও সৃষ্টিকর্তা, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো, তা সৃষ্টি করেছেন।} [সূরা সাফফাত: ৯৬]
আর এর কারণ হলো, বান্দার কর্ম তার গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত, আর বান্দা আল্লাহর সৃষ্টি, আর কোনো কিছুর সৃষ্টিকর্তা তার গুণাবলীরও সৃষ্টিকর্তা। আর আরেকটি কারণ হলো, বান্দার কর্ম একটি দৃঢ় ইচ্ছা ও পূর্ণ ক্ষমতা দ্বারা সংঘটিত হয়, আর ইচ্ছা ও ক্ষমতা উভয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সৃষ্টি, আর পূর্ণ কারণের সৃষ্টিকর্তা তার ফল বা কার্যেরও সৃষ্টিকর্তা।
যদি প্রশ্ন করা হয়: আমরা কীভাবে সৃষ্টিতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে একক সাব্যস্ত করার সাথে এই বিষয়টিকে সমন্বয় করব যে, সৃষ্টি করা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের জন্যও প্রমাণিত হয়, যেমন আল্লাহ তা'আলার এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত হয়: {সুতরাং আল্লাহ বরকতময়, তিনি শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টিকর্তা।} [সূরা মু'মিনুন: ১৪] এবং ছবি অঙ্কনকারীদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী:
প্রথম প্রকার: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ: আর তা হলো `আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে সৃষ্টি, রাজত্ব ও পরিচালনায় একক সাব্যস্ত করা`। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হলো:
প্রথমত: সৃষ্টিতে আল্লাহ তা'আলাকে একক সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে: আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, তিনি ব্যতীত আর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সৃষ্টিকর্তা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।} [সূরা ফাতির: ৩] আর তিনি (আল্লাহ) তা'আলা কাফিরদের উপাস্যদের বাতিল হওয়া বর্ণনা করে বলেছেন: {যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি তার মতো, যে সৃষ্টি করে না? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [সূরা নাহল: ১৭] সুতরাং আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা; তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে পরিমাপ করেছেন। আর তাঁর সৃষ্টি অন্তর্ভুক্ত করে তাঁর নিজের কর্মসমূহকে এবং তাঁর সৃষ্টির কর্মসমূহকেও। আর এ কারণেই তাকদীরের প্রতি ঈমানের পূর্ণতার অংশ হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের কর্মসমূহেরও সৃষ্টিকর্তা, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো, তা সৃষ্টি করেছেন।} [সূরা সাফফাত: ৯৬]
আর এর কারণ হলো, বান্দার কর্ম তার গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত, আর বান্দা আল্লাহর সৃষ্টি, আর কোনো কিছুর সৃষ্টিকর্তা তার গুণাবলীরও সৃষ্টিকর্তা। আর আরেকটি কারণ হলো, বান্দার কর্ম একটি দৃঢ় ইচ্ছা ও পূর্ণ ক্ষমতা দ্বারা সংঘটিত হয়, আর ইচ্ছা ও ক্ষমতা উভয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সৃষ্টি, আর পূর্ণ কারণের সৃষ্টিকর্তা তার ফল বা কার্যেরও সৃষ্টিকর্তা।
যদি প্রশ্ন করা হয়: আমরা কীভাবে সৃষ্টিতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে একক সাব্যস্ত করার সাথে এই বিষয়টিকে সমন্বয় করব যে, সৃষ্টি করা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের জন্যও প্রমাণিত হয়, যেমন আল্লাহ তা'আলার এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত হয়: {সুতরাং আল্লাহ বরকতময়, তিনি শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টিকর্তা।} [সূরা মু'মিনুন: ১৪] এবং ছবি অঙ্কনকারীদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী:
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
«` يقال لهم: أحيوا ما خلقتم `؟» .
فالجواب على ذلك: أن غير الله - تعالى - لا يخلق كخلق الله فلا يمكنه إيجاد معدوم، ولا إحياء ميت، وإنما خلق غير الله - تعالى - يكون بالتغيير وتحويل الشيء من صفة إلى صفة أخرى وهو مخلوق لله - عز وجل -، فالمصور مثلا، إذا صور صورة فإنه لم يحدث شيئا غاية ما هنالك أنه حول شيئا إلى شيء كما يحول الطين إلى صورة طير أو صورة جمل، وكما يحول بالتلوين الرقعة البيضاء إلى صورة ملونة فالمداد من خلق الله - عز وجل -، والورقة البيضاء من خلق الله - عز وجل -، هذا هو الفرق بين إثبات الخلق بالنسبة إلى الله - عز وجل - وإثبات الخلق بالنسبة إلى المخلوق، وعلى هذا يكون الله - سبحانه وتعالى - منفردا بالخلق الذي يختص به.
ثانيا: إفراد الله - تعالى - بالملك، فالله - تعالى - وحده هو المالك كما قال الله - تعالى -: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} .
وقال - تعالى -: {قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ} . فالمالك الملك المطلق العام الشامل هو الله - سبحانه وتعالى - وحده، ونسبة الملك إلى غيره نسبة إضافية فقد أثبت الله - عز وجل - لغيره الملك كما في قوله - تعالى -: {أَوْ مَا مَلَكْتُمْ مَفَاتِحَهُ} . وقوله: {إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} . إلى غير ذلك من النصوص الدالة على أن لغير الله - تعالى - ملكا لكن هذا الملك ليس كملك الله - عز وجل -
فالجواب على ذلك: أن غير الله - تعالى - لا يخلق كخلق الله فلا يمكنه إيجاد معدوم، ولا إحياء ميت، وإنما خلق غير الله - تعالى - يكون بالتغيير وتحويل الشيء من صفة إلى صفة أخرى وهو مخلوق لله - عز وجل -، فالمصور مثلا، إذا صور صورة فإنه لم يحدث شيئا غاية ما هنالك أنه حول شيئا إلى شيء كما يحول الطين إلى صورة طير أو صورة جمل، وكما يحول بالتلوين الرقعة البيضاء إلى صورة ملونة فالمداد من خلق الله - عز وجل -، والورقة البيضاء من خلق الله - عز وجل -، هذا هو الفرق بين إثبات الخلق بالنسبة إلى الله - عز وجل - وإثبات الخلق بالنسبة إلى المخلوق، وعلى هذا يكون الله - سبحانه وتعالى - منفردا بالخلق الذي يختص به.
ثانيا: إفراد الله - تعالى - بالملك، فالله - تعالى - وحده هو المالك كما قال الله - تعالى -: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} .
وقال - تعالى -: {قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ} . فالمالك الملك المطلق العام الشامل هو الله - سبحانه وتعالى - وحده، ونسبة الملك إلى غيره نسبة إضافية فقد أثبت الله - عز وجل - لغيره الملك كما في قوله - تعالى -: {أَوْ مَا مَلَكْتُمْ مَفَاتِحَهُ} . وقوله: {إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} . إلى غير ذلك من النصوص الدالة على أن لغير الله - تعالى - ملكا لكن هذا الملك ليس كملك الله - عز وجل -
«তাদেরকে কি বলা হয় যে, 'তোমরা যা সৃষ্টি করেছ, তাকে জীবিত করো'?»
এর জবাব হলো: আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কেউ আল্লাহর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে পারে না। সুতরাং, তার পক্ষে কোনো অস্তিত্বহীন বস্তুকে অস্তিত্বে আনা সম্ভব নয়, আর না কোনো মৃতকে জীবিত করা সম্ভব। বরং, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্যের সৃষ্টি হলো কোনো বস্তুকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন ও রূপান্তর করা। আর এই বস্তুটি নিজেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সৃষ্টি। উদাহরণস্বরূপ, একজন চিত্রশিল্পী যখন কোনো ছবি আঁকে, তখন সে নতুন কিছু সৃষ্টি করে না। তার কাজ কেবল একটি বস্তুকে অন্য বস্তুতে রূপান্তরিত করা, যেমন মাটি থেকে পাখি বা উটের আকৃতি তৈরি করা হয়, অথবা সাদা কাগজকে রঙ করে রঙিন ছবিতে পরিণত করা হয়। কারণ কালি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সৃষ্টি, এবং সাদা কাগজও আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সৃষ্টি। এটাই হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর ক্ষেত্রে সৃষ্টিকে সাব্যস্ত করা এবং সৃষ্টির ক্ষেত্রে সৃষ্টিকে সাব্যস্ত করার মধ্যে পার্থক্য। এর উপর ভিত্তি করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সেই সৃষ্টিতে একক ও অদ্বিতীয়, যা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা'আলাকে রাজত্বে (আল-মুলক) একক সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র মালিক, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {বরকতময় তিনি, যাঁর হাতে রয়েছে সর্বময় ক্ষমতা। আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।} (সূরা আল-মুলক ৬৭:১)
এবং তিনি (আল্লাহ) তা'আলা আরও বলেছেন: {বলো, 'কে সেই সত্তা যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব? আর তিনি আশ্রয় দেন, কিন্তু তাঁর উপর কেউ আশ্রয় দিতে পারে না?'} (সূরা আল-মু'মিনুন ২৩:৮৮)
সুতরাং, নিরঙ্কুশ, ব্যাপক ও সর্বাত্মক রাজত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। আর অন্যের প্রতি রাজত্বের সম্পর্ক স্থাপন করা হলো আপেক্ষিক সম্পর্ক। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল অন্যদের জন্য রাজত্ব (মালিকানা) সাব্যস্ত করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: {অথবা যার চাবি তোমাদের অধিকারে আছে} (সূরা আন-নূর ২৪:৬১)। এবং তাঁর বাণী: {তবে তাদের স্ত্রীগণ অথবা তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে নয়} (সূরা আল-মু'মিনুন ২৩:৬, আন-নূর ২৪:৩০)। এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্যদেরও মালিকানা রয়েছে, কিন্তু এই মালিকানা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর মালিকানার মতো নয়।
এর জবাব হলো: আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কেউ আল্লাহর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে পারে না। সুতরাং, তার পক্ষে কোনো অস্তিত্বহীন বস্তুকে অস্তিত্বে আনা সম্ভব নয়, আর না কোনো মৃতকে জীবিত করা সম্ভব। বরং, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্যের সৃষ্টি হলো কোনো বস্তুকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন ও রূপান্তর করা। আর এই বস্তুটি নিজেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সৃষ্টি। উদাহরণস্বরূপ, একজন চিত্রশিল্পী যখন কোনো ছবি আঁকে, তখন সে নতুন কিছু সৃষ্টি করে না। তার কাজ কেবল একটি বস্তুকে অন্য বস্তুতে রূপান্তরিত করা, যেমন মাটি থেকে পাখি বা উটের আকৃতি তৈরি করা হয়, অথবা সাদা কাগজকে রঙ করে রঙিন ছবিতে পরিণত করা হয়। কারণ কালি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সৃষ্টি, এবং সাদা কাগজও আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সৃষ্টি। এটাই হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর ক্ষেত্রে সৃষ্টিকে সাব্যস্ত করা এবং সৃষ্টির ক্ষেত্রে সৃষ্টিকে সাব্যস্ত করার মধ্যে পার্থক্য। এর উপর ভিত্তি করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সেই সৃষ্টিতে একক ও অদ্বিতীয়, যা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা'আলাকে রাজত্বে (আল-মুলক) একক সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র মালিক, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {বরকতময় তিনি, যাঁর হাতে রয়েছে সর্বময় ক্ষমতা। আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।} (সূরা আল-মুলক ৬৭:১)
এবং তিনি (আল্লাহ) তা'আলা আরও বলেছেন: {বলো, 'কে সেই সত্তা যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব? আর তিনি আশ্রয় দেন, কিন্তু তাঁর উপর কেউ আশ্রয় দিতে পারে না?'} (সূরা আল-মু'মিনুন ২৩:৮৮)
সুতরাং, নিরঙ্কুশ, ব্যাপক ও সর্বাত্মক রাজত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। আর অন্যের প্রতি রাজত্বের সম্পর্ক স্থাপন করা হলো আপেক্ষিক সম্পর্ক। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল অন্যদের জন্য রাজত্ব (মালিকানা) সাব্যস্ত করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: {অথবা যার চাবি তোমাদের অধিকারে আছে} (সূরা আন-নূর ২৪:৬১)। এবং তাঁর বাণী: {তবে তাদের স্ত্রীগণ অথবা তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে নয়} (সূরা আল-মু'মিনুন ২৩:৬, আন-নূর ২৪:৩০)। এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্যদেরও মালিকানা রয়েছে, কিন্তু এই মালিকানা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর মালিকানার মতো নয়।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
فهو ملك قاصر، وملك مقيد، ملك قاصر لا يشمل، فالبيت الذي لزيد لا يملكه عمرو، والبيت الذي لعمرو لا يملكه زيد، ثم هذا الملك مقيد بحيث لا يتصرف الإنسان فيما ملك إلا على الوجه الذي أذن الله فيه ولهذا نهى النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عن إضاعة المال، وقال الله - تبارك وتعالى -: {وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا} . وهذا دليل على أن ملك الإنسان ملك قاصر وملك مقيد، بخلاف ملك الله - سبحانه وتعالى - فهو ملك عام شامل وملك مطلق يفعل الله - سبحانه وتعالى - ما يشاء ولا يسأل عما يفعل وهم يسألون.
ثالثا: التدبير، فالله - عز وجل - منفرد بالتدبير فهو الذي يدبر الخلق ويدبر السماوات والأرض كما قال الله - سبحانه وتعالى -: {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} . وهذا التدبير شامل لا يحول دونه شيء ولا يعارضه شيء. والتدبير الذي يكون لبعض المخلوقات كتدبير الإنسان أمواله وغلمانه وخدمه وما أشبه ذلك هو تدبير ضيق محدود، ومقيد غير مطلق، فظهر بذلك صدق صحة قولنا: إن توحيد الربوبية هو ` إفراد الله بالخلق والملك، والتدبير `.
النوع الثاني: توحيد الألوهية وهو ` إفراد الله - سبحانه وتعالى - بالعبادة ` بأن لا يتخذ الإنسان مع الله أحدا يعبده ويتقرب إليه كما يعبد الله - تعالى - ويتقرب إليه. وهذا النوع من التوحيد هو الذي ضل فيه المشركون الذين قاتلهم النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، واستباح دماءهم وأموالهم وأرضهم وديارهم وسبى نساءهم وذريتهم، وهو الذي بعثت به الرسل
ثالثا: التدبير، فالله - عز وجل - منفرد بالتدبير فهو الذي يدبر الخلق ويدبر السماوات والأرض كما قال الله - سبحانه وتعالى -: {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} . وهذا التدبير شامل لا يحول دونه شيء ولا يعارضه شيء. والتدبير الذي يكون لبعض المخلوقات كتدبير الإنسان أمواله وغلمانه وخدمه وما أشبه ذلك هو تدبير ضيق محدود، ومقيد غير مطلق، فظهر بذلك صدق صحة قولنا: إن توحيد الربوبية هو ` إفراد الله بالخلق والملك، والتدبير `.
النوع الثاني: توحيد الألوهية وهو ` إفراد الله - سبحانه وتعالى - بالعبادة ` بأن لا يتخذ الإنسان مع الله أحدا يعبده ويتقرب إليه كما يعبد الله - تعالى - ويتقرب إليه. وهذا النوع من التوحيد هو الذي ضل فيه المشركون الذين قاتلهم النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، واستباح دماءهم وأموالهم وأرضهم وديارهم وسبى نساءهم وذريتهم، وهو الذي بعثت به الرسل
এটি হলো সীমিত মালিকানা এবং শর্তাধীন মালিকানা। সীমিত মালিকানা ব্যাপক নয়। যেমন, যায়েদের বাড়ি আমরোর মালিকানাধীন নয়, আর আমরোর বাড়ি যায়েদের মালিকানাধীন নয়। এরপর এই মালিকানা শর্তাধীন, যার ফলে মানুষ তার মালিকানাধীন বস্তুতে কেবল সেই পদ্ধতিতেই হস্তক্ষেপ করতে পারে, যে পদ্ধতিতে আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পদ নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। আর আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আর তোমরা নির্বোধদেরকে তোমাদের সেই সম্পদ দিও না, যা আল্লাহ তোমাদের জীবন ধারণের অবলম্বন করেছেন} (সূরা নিসা: ৫)। এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের মালিকানা হলো সীমিত ও শর্তাধীন মালিকানা। এর বিপরীতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার মালিকানা হলো ব্যাপক, সর্বজনীন ও নিরঙ্কুশ মালিকানা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যা ইচ্ছা করেন, আর তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না, বরং তাদেরকেই জিজ্ঞাসা করা হবে।
তৃতীয়ত: تدبير (ব্যবস্থাপনা)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একক। তিনিই সৃষ্টিকে পরিচালনা করেন এবং আসমান ও যমীন পরিচালনা করেন, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: {জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ বরকতময়, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক} (সূরা আ'রাফ: ৫৪)। এই ব্যবস্থাপনা ব্যাপক, কোনো কিছুই এর পথে বাধা হতে পারে না এবং কোনো কিছুই এর বিরোধিতা করতে পারে না। আর কিছু সৃষ্টিজীবের যে ব্যবস্থাপনা থাকে, যেমন মানুষের তার সম্পদ, তার কর্মচারী ও সেবকগণের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি, তা হলো সংকীর্ণ ও সীমিত ব্যবস্থাপনা, যা শর্তাধীন, নিরঙ্কুশ নয়। এর মাধ্যমে আমাদের এই কথার সত্যতা ও বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হলো যে, তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ হলো `সৃষ্টি, মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা`।
দ্বিতীয় প্রকার: তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ। এটি হলো `ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে একক সাব্যস্ত করা`। অর্থাৎ, মানুষ যেন আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ না করে, যার ইবাদত করবে এবং যার নৈকট্য লাভ করবে, যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করে। এই প্রকারের তাওহীদেই মুশরিকরা পথভ্রষ্ট হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের রক্ত, সম্পদ, ভূমি ও বাসস্থানকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, আর তাদের নারী ও সন্তানদের বন্দী করেছিলেন। আর সকল রাসূলকে এর মাধ্যমেই প্রেরণ করা হয়েছিল।
তৃতীয়ত: تدبير (ব্যবস্থাপনা)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একক। তিনিই সৃষ্টিকে পরিচালনা করেন এবং আসমান ও যমীন পরিচালনা করেন, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: {জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ বরকতময়, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক} (সূরা আ'রাফ: ৫৪)। এই ব্যবস্থাপনা ব্যাপক, কোনো কিছুই এর পথে বাধা হতে পারে না এবং কোনো কিছুই এর বিরোধিতা করতে পারে না। আর কিছু সৃষ্টিজীবের যে ব্যবস্থাপনা থাকে, যেমন মানুষের তার সম্পদ, তার কর্মচারী ও সেবকগণের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি, তা হলো সংকীর্ণ ও সীমিত ব্যবস্থাপনা, যা শর্তাধীন, নিরঙ্কুশ নয়। এর মাধ্যমে আমাদের এই কথার সত্যতা ও বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হলো যে, তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ হলো `সৃষ্টি, মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা`।
দ্বিতীয় প্রকার: তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ। এটি হলো `ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে একক সাব্যস্ত করা`। অর্থাৎ, মানুষ যেন আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ না করে, যার ইবাদত করবে এবং যার নৈকট্য লাভ করবে, যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করে। এই প্রকারের তাওহীদেই মুশরিকরা পথভ্রষ্ট হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের রক্ত, সম্পদ, ভূমি ও বাসস্থানকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, আর তাদের নারী ও সন্তানদের বন্দী করেছিলেন। আর সকল রাসূলকে এর মাধ্যমেই প্রেরণ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأنزلت به الكتب مع أخويه توحيدي الربوبية، والأسماء والصفات، لكن أكثر ما يعالج الرسل أقوامهم على هذا النوع من التوحيد - وهو توحيد الألوهية - بحيث لا يصرف الإنسان شيئا من العبادة لغير الله - سبحانه وتعالى - لا لملك مقرب، ولا لنبي مرسل، ولا لولي صالح، ولا لأي أحد من المخلوقين؛ لأن العبادة لا تصح إلا لله - عز وجل -، ومن أخل بهذا التوحيد فهو مشرك كافر وإن أقر بتوحيد الربوبية، وبتوحيد الأسماء والصفات. فلو أن رجلا من الناس يؤمن بأن الله - سبحانه وتعالى - هو الخالق المالك المدبر لجميع الأمور، وأنه - سبحانه وتعالى - المستحق لما يستحقه من الأسماء والصفات لكن يعبد مع الله غيره لم ينفعه إقراره بتوحيد الربوبية والأسماء والصفات. فلو فرض أن رجلا يقر إقرارا كاملا بتوحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات لكن يذهب إلى القبر فيعبد صاحبه أو ينذر له قربانا يتقرب به إليه فإن هذا مشرك كافر خالد في النار، قال الله - تبارك وتعالى -: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} . ومن المعلوم لكل من قرأ كتاب الله - عز وجل - أن المشركين الذين قاتلهم النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، واستحل دماءهم، وأموالهم وسبى نساءهم، وذريتهم، وغنم أرضهم كانوا مقرين بأن الله - تعالى - وحده هو الرب الخالق لا يشكون في ذلك، ولكن لما كانوا يعبدون معه غيره صاروا بذلك مشركين مباحي الدم والمال.
النوع الثالث: توحيد الأسماء والصفات وهو ` إفراد الله - سبحانه وتعالى - بما سمى الله به نفسه، ووصف به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وذلك بإثبات ما أثبته من غير تحريف، ولا
النوع الثالث: توحيد الأسماء والصفات وهو ` إفراد الله - سبحانه وتعالى - بما سمى الله به نفسه، ووصف به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وذلك بإثبات ما أثبته من غير تحريف، ولا
এবং এর (তাওহীদে উলূহিয়্যাহ) সাথে এর অপর দুই প্রকার, তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতের সাথে কিতাবসমূহ নাযিল হয়েছে। কিন্তু রাসূলগণ তাঁদের কওমকে এই প্রকার তাওহীদ – অর্থাৎ তাওহীদে উলূহিয়্যাহ – এর উপরই বেশি দাওয়াত দিয়েছেন। এমনভাবে যে, মানুষ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য ইবাদতের কোনো অংশ ব্যয় করবে না – না কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতার জন্য, না কোনো প্রেরিত নবীর জন্য, না কোনো নেককার ওলীর জন্য, আর না কোনো সৃষ্টির জন্য। কারণ ইবাদত কেবল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্যই সহীহ হয়। আর যে ব্যক্তি এই তাওহীদে ত্রুটি করে, সে মুশরিক কাফির, যদিও সে তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতের স্বীকৃতি দেয়।
যদি কোনো ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা-ই সকল বিষয়ের সৃষ্টিকর্তা, মালিক ও পরিচালক এবং তিনিই (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) তাঁর জন্য উপযুক্ত সকল নাম ও গুণাবলীর অধিকারী, কিন্তু সে আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদত করে, তাহলে তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতের তার এই স্বীকৃতি তার কোনো উপকারে আসবে না। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কোনো ব্যক্তি তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতের পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু সে কবরের কাছে গিয়ে তার (কবরের) অধিবাসীর ইবাদত করে অথবা তার জন্য এমন কোনো কুরবানী মানত করে যার মাধ্যমে তার নৈকট্য লাভ করতে চায়, তাহলে এই ব্যক্তি মুশরিক, কাফির এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: "নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৭২)
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাব পাঠকারী প্রত্যেকের কাছেই এটি সুবিদিত যে, যে মুশরিকদের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ করেছেন, তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন, তাদের নারী ও সন্তানদের বন্দী করেছেন এবং তাদের ভূমি গণীমত হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল এবং স্বীকার করত যে, আল্লাহ তা'আলা একাই রব ও সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু যখন তারা তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদত করত, তখন তারা এর দ্বারা মুশরিক হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল হয়ে গিয়েছিল।
তৃতীয় প্রকার: তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত। আর তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে একক সাব্যস্ত করা সেই সকল নাম ও গুণাবলীতে যা দ্বারা তিনি নিজেকে তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে নামকরণ করেছেন বা বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো তিনি যা সাব্যস্ত করেছেন, তা কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরীফ) ছাড়া সাব্যস্ত করা, এবং না...
যদি কোনো ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা-ই সকল বিষয়ের সৃষ্টিকর্তা, মালিক ও পরিচালক এবং তিনিই (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) তাঁর জন্য উপযুক্ত সকল নাম ও গুণাবলীর অধিকারী, কিন্তু সে আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদত করে, তাহলে তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতের তার এই স্বীকৃতি তার কোনো উপকারে আসবে না। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কোনো ব্যক্তি তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতের পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু সে কবরের কাছে গিয়ে তার (কবরের) অধিবাসীর ইবাদত করে অথবা তার জন্য এমন কোনো কুরবানী মানত করে যার মাধ্যমে তার নৈকট্য লাভ করতে চায়, তাহলে এই ব্যক্তি মুশরিক, কাফির এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: "নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৭২)
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাব পাঠকারী প্রত্যেকের কাছেই এটি সুবিদিত যে, যে মুশরিকদের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ করেছেন, তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন, তাদের নারী ও সন্তানদের বন্দী করেছেন এবং তাদের ভূমি গণীমত হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল এবং স্বীকার করত যে, আল্লাহ তা'আলা একাই রব ও সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু যখন তারা তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদত করত, তখন তারা এর দ্বারা মুশরিক হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল হয়ে গিয়েছিল।
তৃতীয় প্রকার: তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত। আর তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে একক সাব্যস্ত করা সেই সকল নাম ও গুণাবলীতে যা দ্বারা তিনি নিজেকে তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে নামকরণ করেছেন বা বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো তিনি যা সাব্যস্ত করেছেন, তা কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরীফ) ছাড়া সাব্যস্ত করা, এবং না...
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
تعطيل، ومن غير تكييف، ولا تمثيل `. فلا بد من الإيمان بما سمى الله به نفسه ووصف به نفسه على وجه الحقيقة لا المجاز، ولكن من غير تكييف، ولا تمثيل، وهذا النوع من أنواع التوحيد ضل فيه طوائف من هذه الأمة من أهل القبلة الذين ينتسبون للإسلام على أوجه شتى:
منهم من غلا في النفي والتنزيه غلوّا يخرج به من الإسلام، ومنهم متوسط، ومنهم قريب من أهل السنة، ولكن طريقة السلف في هذا النوع من التوحيد هو أن يسمى الله ويوصف بما سمى ووصف به نفسه على وجه الحقيقة، لا تحريف ولا تعطيل، ولا تكييف، ولا تمثيل.
مثال ذلك: أن الله - سبحانه وتعالى - سمى نفسه بالحي القيوم فيجب علينا أن نؤمن بأن الحي اسم من أسماء الله - تعالى - ويجب علينا أن نؤمن بما تضمنه هذا الاسم من وصف وهي الحياة الكاملة التي لم تسبق بعدم ولا يلحقها فناء، وسمى الله نفسه بالسميع فعلينا أن نؤمن بالسميع اسما من أسماء الله - سبحانه وتعالى - وبالسمع صفة من صفاته، وبأنه يسمع وهو الحكم الذي اقتضاه ذلك الاسم وتلك الصفة، فإن سميعا بلا سمع أو سمعا بلا إدراك مسموع هذا شيء محال وعلى هذا فقس.
مثال آخر: قال الله - تعالى -: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنْفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ} . فهنا قال الله - تعالى -: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} فأثبت لنفسه يدين موصوفتين بالبسط وهو العطاء الواسع، فيجب علينا أن نؤمن بأن لله - تعالى - يدين اثنتين مبسوطتين بالعطاء والنعم، ولكن يجب علينا أن لا نحاول بقلوبنا تصورا، ولا بألسنتنا نطقا أن نكيف تلك اليدين ولا أن نمثلهما بأيدي
منهم من غلا في النفي والتنزيه غلوّا يخرج به من الإسلام، ومنهم متوسط، ومنهم قريب من أهل السنة، ولكن طريقة السلف في هذا النوع من التوحيد هو أن يسمى الله ويوصف بما سمى ووصف به نفسه على وجه الحقيقة، لا تحريف ولا تعطيل، ولا تكييف، ولا تمثيل.
مثال ذلك: أن الله - سبحانه وتعالى - سمى نفسه بالحي القيوم فيجب علينا أن نؤمن بأن الحي اسم من أسماء الله - تعالى - ويجب علينا أن نؤمن بما تضمنه هذا الاسم من وصف وهي الحياة الكاملة التي لم تسبق بعدم ولا يلحقها فناء، وسمى الله نفسه بالسميع فعلينا أن نؤمن بالسميع اسما من أسماء الله - سبحانه وتعالى - وبالسمع صفة من صفاته، وبأنه يسمع وهو الحكم الذي اقتضاه ذلك الاسم وتلك الصفة، فإن سميعا بلا سمع أو سمعا بلا إدراك مسموع هذا شيء محال وعلى هذا فقس.
مثال آخر: قال الله - تعالى -: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنْفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ} . فهنا قال الله - تعالى -: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} فأثبت لنفسه يدين موصوفتين بالبسط وهو العطاء الواسع، فيجب علينا أن نؤمن بأن لله - تعالى - يدين اثنتين مبسوطتين بالعطاء والنعم، ولكن يجب علينا أن لا نحاول بقلوبنا تصورا، ولا بألسنتنا نطقا أن نكيف تلك اليدين ولا أن نمثلهما بأيدي
তা'তীল (গুণাবলী অস্বীকার) ব্যতিরেকে, এবং তাকয়ীফ (স্বরূপ নির্ধারণ) ব্যতিরেকে, আর তামসীল (সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন) ব্যতিরেকে। সুতরাং, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের জন্য যে নামসমূহ রেখেছেন এবং যে গুণাবলী দ্বারা নিজেকে বিশেষিত করেছেন, সেগুলোর প্রতি প্রকৃত অর্থেই ঈমান আনা অপরিহার্য, রূপক অর্থে নয়। তবে কোনো প্রকার তাকয়ীফ (স্বরূপ নির্ধারণ) বা তামসীল (সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন) ব্যতিরেকে। তাওহীদের এই প্রকারটিতে এই উম্মাহর মধ্যে কিবলামুখী এমন অনেক দল পথভ্রষ্ট হয়েছে, যারা নিজেদেরকে ইসলামের অনুসারী বলে দাবি করে, বিভিন্ন পন্থায়:
তাদের মধ্যে কেউ কেউ 'নাফী' (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার) এবং 'তানযীহ' (আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যমুক্ত করা)-এর ক্ষেত্রে এমন বাড়াবাড়ি করেছে যা তাদেরকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ মধ্যপন্থী, এবং কেউ কেউ আহলুস-সুন্নাহর কাছাকাছি। কিন্তু তাওহীদের এই প্রকারটিতে সালাফদের পদ্ধতি হলো, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের জন্য যে নামসমূহ রেখেছেন এবং যে গুণাবলী দ্বারা নিজেকে বিশেষিত করেছেন, সেগুলোর প্রতি প্রকৃত অর্থেই ঈমান আনা, কোনো প্রকার 'তাহরীফ' (বিকৃতি), 'তা'তীল' (অস্বীকার), 'তাকয়ীফ' (স্বরূপ নির্ধারণ) বা 'তামসীল' (সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন) ব্যতিরেকে।
এর উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর নিজের নাম রেখেছেন 'আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম' (চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক)। সুতরাং, আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, 'আল-হাইয়্যু' আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি নাম। এবং আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো এই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণটির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, আর তা হলো সেই পূর্ণাঙ্গ জীবন যা অনস্তিত্ব দ্বারা পূর্ববর্তী ছিল না এবং যা বিলীনতা দ্বারা আক্রান্ত হবে না। আর আল্লাহ তাঁর নিজের নাম রেখেছেন 'আস-সামী' (সর্বশ্রোতা)। সুতরাং, আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো 'আস-সামী'কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নামসমূহের মধ্যে একটি নাম হিসেবে বিশ্বাস করা, এবং 'সামা' (শ্রবণ)-কে তাঁর গুণাবলীর মধ্যে একটি গুণ হিসেবে বিশ্বাস করা। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি শোনেন, যা এই নাম ও গুণের দাবি। কেননা, শ্রবণশক্তিবিহীন সর্বশ্রোতা হওয়া, অথবা শ্রুত বিষয় উপলব্ধিবিহীন শ্রবণশক্তি থাকা একটি অসম্ভব ব্যাপার। আর এর উপর ভিত্তি করে অন্যান্য বিষয় অনুমান করুন।
আরেকটি উদাহরণ: আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "আর ইহুদিরা বলে, 'আল্লাহর হাত বাঁধা।' তাদের হাতই বাঁধা হোক এবং তারা যা বলে তার জন্য তাদের প্রতি অভিশাপ বর্ষিত হোক। বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত; তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৪)। এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত," এর মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য দুটি হাত সাব্যস্ত করেছেন যা 'বাসত' (প্রসারিত হওয়া) দ্বারা বিশেষিত, আর তা হলো ব্যাপক দানশীলতা। সুতরাং, আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা'আলার দুটি হাত রয়েছে, যা দান ও নি'আমত দ্বারা প্রসারিত। কিন্তু আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো, আমরা যেন আমাদের অন্তরে সে দুটি হাতের কোনো রূপ কল্পনা করার চেষ্টা না করি, এবং আমাদের জিহ্বা দ্বারা সেগুলোর স্বরূপ বর্ণনা করার বা সেগুলোকে সৃষ্টির হাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করার চেষ্টা না করি।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ 'নাফী' (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার) এবং 'তানযীহ' (আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যমুক্ত করা)-এর ক্ষেত্রে এমন বাড়াবাড়ি করেছে যা তাদেরকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ মধ্যপন্থী, এবং কেউ কেউ আহলুস-সুন্নাহর কাছাকাছি। কিন্তু তাওহীদের এই প্রকারটিতে সালাফদের পদ্ধতি হলো, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের জন্য যে নামসমূহ রেখেছেন এবং যে গুণাবলী দ্বারা নিজেকে বিশেষিত করেছেন, সেগুলোর প্রতি প্রকৃত অর্থেই ঈমান আনা, কোনো প্রকার 'তাহরীফ' (বিকৃতি), 'তা'তীল' (অস্বীকার), 'তাকয়ীফ' (স্বরূপ নির্ধারণ) বা 'তামসীল' (সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন) ব্যতিরেকে।
এর উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর নিজের নাম রেখেছেন 'আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম' (চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক)। সুতরাং, আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, 'আল-হাইয়্যু' আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি নাম। এবং আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো এই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণটির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, আর তা হলো সেই পূর্ণাঙ্গ জীবন যা অনস্তিত্ব দ্বারা পূর্ববর্তী ছিল না এবং যা বিলীনতা দ্বারা আক্রান্ত হবে না। আর আল্লাহ তাঁর নিজের নাম রেখেছেন 'আস-সামী' (সর্বশ্রোতা)। সুতরাং, আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো 'আস-সামী'কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নামসমূহের মধ্যে একটি নাম হিসেবে বিশ্বাস করা, এবং 'সামা' (শ্রবণ)-কে তাঁর গুণাবলীর মধ্যে একটি গুণ হিসেবে বিশ্বাস করা। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি শোনেন, যা এই নাম ও গুণের দাবি। কেননা, শ্রবণশক্তিবিহীন সর্বশ্রোতা হওয়া, অথবা শ্রুত বিষয় উপলব্ধিবিহীন শ্রবণশক্তি থাকা একটি অসম্ভব ব্যাপার। আর এর উপর ভিত্তি করে অন্যান্য বিষয় অনুমান করুন।
আরেকটি উদাহরণ: আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "আর ইহুদিরা বলে, 'আল্লাহর হাত বাঁধা।' তাদের হাতই বাঁধা হোক এবং তারা যা বলে তার জন্য তাদের প্রতি অভিশাপ বর্ষিত হোক। বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত; তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৪)। এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত," এর মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য দুটি হাত সাব্যস্ত করেছেন যা 'বাসত' (প্রসারিত হওয়া) দ্বারা বিশেষিত, আর তা হলো ব্যাপক দানশীলতা। সুতরাং, আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা'আলার দুটি হাত রয়েছে, যা দান ও নি'আমত দ্বারা প্রসারিত। কিন্তু আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো, আমরা যেন আমাদের অন্তরে সে দুটি হাতের কোনো রূপ কল্পনা করার চেষ্টা না করি, এবং আমাদের জিহ্বা দ্বারা সেগুলোর স্বরূপ বর্ণনা করার বা সেগুলোকে সৃষ্টির হাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করার চেষ্টা না করি।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المخلوقين؛ لأن الله - سبحانه وتعالى - يقول: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} . ويقول: الله - تعالى -: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} . ويقول: - عز وجل -: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا} . فمن مثل هاتين اليدين بأيدي المخلوقين فقد كذب قول الله - تعالى -: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} . وقد عصى الله - تعالى - في قوله: {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ} . ومن كيفهما وقال: هما على كيفية معينة أيّا كانت هذه الكيفية فقد قال على الله ما لا يعلم وقفى ما ليس له به علم.
ونضرب مثالا ثانيا في الصفات: وهو استواء الله على عرشه فإن الله - تعالى - أثبت لنفسه أنه استوى على العرش في سبعة مواضع من كتابه كلها بلفظ (استوى) وبلفظ (على العرش) وإذا رجعنا إلى الاستواء في اللغة العربية وجدناه إذا عدي بعلى لا يقتضي إلا الارتفاع والعلو، فيكون معنى قوله - تعالى -: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} وأمثالها من الآيات: أنه علا على عرشه علوّا خاصا غير العلو العام على جميع الأكوان وهذا العلو ثابت لله - تعالى - على وجه الحقيقة فهو عالٍ على عرشه علوّا
ونضرب مثالا ثانيا في الصفات: وهو استواء الله على عرشه فإن الله - تعالى - أثبت لنفسه أنه استوى على العرش في سبعة مواضع من كتابه كلها بلفظ (استوى) وبلفظ (على العرش) وإذا رجعنا إلى الاستواء في اللغة العربية وجدناه إذا عدي بعلى لا يقتضي إلا الارتفاع والعلو، فيكون معنى قوله - تعالى -: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} وأمثالها من الآيات: أنه علا على عرشه علوّا خاصا غير العلو العام على جميع الأكوان وهذا العلو ثابت لله - تعالى - على وجه الحقيقة فهو عالٍ على عرشه علوّا
সৃষ্টিকুলের মতো নয়; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন: "তাঁর মতো কিছুই নেই এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" (সূরা আশ-শূরা: ১১)
এবং আল্লাহ তা'আলা বলেন: "বলো, আমার প্রতিপালক কেবল প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, পাপ, অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরীক করা হারাম করেছেন, যার জন্য তিনি কোনো প্রমাণ পাঠাননি, আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা হারাম করেছেন যা তোমরা জানো না।" (সূরা আল-আ'রাফ: ৩৩)
এবং তিনি - আযযা ওয়া জাল্লা - বলেন: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর – এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সূরা আল-ইসরা: ৩৬)
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর এই দুই হাতকে সৃষ্টিকুলের হাতের সাথে সাদৃশ্য দেয়, সে আল্লাহ তা'আলার এই বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো: "তাঁর মতো কিছুই নেই।" এবং সে আল্লাহ তা'আলার এই বাণী অমান্য করলো: "সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না।" (সূরা আন-নাহল: ৭৪) আর যে ব্যক্তি এগুলোর (আল্লাহর হাত) ধরণ বর্ণনা করে বললো: "এগুলো একটি নির্দিষ্ট ধরণে বিদ্যমান, সেই ধরণ যেমনই হোক না কেন," সে আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বললো যা সে জানে না এবং এমন কিছুর অনুসরণ করলো যার সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই।
আমরা সিফাত (গুণাবলী) সম্পর্কে দ্বিতীয় একটি উদাহরণ পেশ করছি: আর তা হলো আল্লাহর আরশের উপর ইস্তিওয়া (আরোহণ)। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবের সাতটি স্থানে নিজের জন্য আরশের উপর ইস্তিওয়া সাব্যস্ত করেছেন, যার সবকটিতেই 'ইস্তিওয়া' শব্দ এবং 'আলাল আরশ' (আরশের উপর) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আর যদি আমরা আরবি ভাষায় 'ইস্তিওয়া' শব্দের দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখবো যে, যখন এটি 'আলা' (উপর) অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হয়, তখন তা কেবল উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বকেই বোঝায়। সুতরাং আল্লাহ তা'আলার এই বাণী: "দয়াময় আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন" (সূরা ত্বাহা: ৫) এবং এর মতো অন্যান্য আয়াতের অর্থ হলো: তিনি তাঁর আরশের উপর এক বিশেষ উচ্চতায় আরোহণ করেছেন, যা সমস্ত সৃষ্টির উপর তাঁর সাধারণ উচ্চতা থেকে ভিন্ন। আর এই উচ্চতা আল্লাহ তা'আলার জন্য প্রকৃত অর্থেই সাব্যস্ত। সুতরাং তিনি তাঁর আরশের উপর এক উচ্চতায়...
এবং আল্লাহ তা'আলা বলেন: "বলো, আমার প্রতিপালক কেবল প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, পাপ, অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরীক করা হারাম করেছেন, যার জন্য তিনি কোনো প্রমাণ পাঠাননি, আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা হারাম করেছেন যা তোমরা জানো না।" (সূরা আল-আ'রাফ: ৩৩)
এবং তিনি - আযযা ওয়া জাল্লা - বলেন: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর – এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সূরা আল-ইসরা: ৩৬)
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর এই দুই হাতকে সৃষ্টিকুলের হাতের সাথে সাদৃশ্য দেয়, সে আল্লাহ তা'আলার এই বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো: "তাঁর মতো কিছুই নেই।" এবং সে আল্লাহ তা'আলার এই বাণী অমান্য করলো: "সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না।" (সূরা আন-নাহল: ৭৪) আর যে ব্যক্তি এগুলোর (আল্লাহর হাত) ধরণ বর্ণনা করে বললো: "এগুলো একটি নির্দিষ্ট ধরণে বিদ্যমান, সেই ধরণ যেমনই হোক না কেন," সে আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বললো যা সে জানে না এবং এমন কিছুর অনুসরণ করলো যার সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই।
আমরা সিফাত (গুণাবলী) সম্পর্কে দ্বিতীয় একটি উদাহরণ পেশ করছি: আর তা হলো আল্লাহর আরশের উপর ইস্তিওয়া (আরোহণ)। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবের সাতটি স্থানে নিজের জন্য আরশের উপর ইস্তিওয়া সাব্যস্ত করেছেন, যার সবকটিতেই 'ইস্তিওয়া' শব্দ এবং 'আলাল আরশ' (আরশের উপর) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আর যদি আমরা আরবি ভাষায় 'ইস্তিওয়া' শব্দের দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখবো যে, যখন এটি 'আলা' (উপর) অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হয়, তখন তা কেবল উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বকেই বোঝায়। সুতরাং আল্লাহ তা'আলার এই বাণী: "দয়াময় আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন" (সূরা ত্বাহা: ৫) এবং এর মতো অন্যান্য আয়াতের অর্থ হলো: তিনি তাঁর আরশের উপর এক বিশেষ উচ্চতায় আরোহণ করেছেন, যা সমস্ত সৃষ্টির উপর তাঁর সাধারণ উচ্চতা থেকে ভিন্ন। আর এই উচ্চতা আল্লাহ তা'আলার জন্য প্রকৃত অর্থেই সাব্যস্ত। সুতরাং তিনি তাঁর আরশের উপর এক উচ্চতায়...
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يليق به - عز وجل - لا يشبه علو الإنسان على السرير، ولا علوه على الأنعام، ولا علوه على الفلك الذي ذكره الله في قوله: {وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ} . فاستواء المخلوق على شيء لا يمكن أن يماثله استواء الله على عرشه؛ لأن الله ليس كمثله شيء.
وقد أخطأ خطأ عظيما من قال: إن معنى استوى على العرش استولى على العرش؛ لأن هذا تحريف للكلم عن مواضعه، ومخالف لما أجمع عليه الصحابة - رضوان الله عليهم - والتابعون لهم بإحسان، ومستلزم للوازم باطلة لا يمكن لمؤمن أن يتفوه بها بالنسبة لله - عز وجل -. والقرآن الكريم نزل باللغة العربية بلا شك كما قال الله - سبحانه وتعالى -: {إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} . ومقتضى صيغة ` استوى على كذا ` في اللغة العربية العلو والاستقرار، بل هو معناها المطابق للفظ. فمعنى استوى على العرش أي: علا عليه علوّا خاصا يليق بجلاله وعظمته، فإذا فسر الاستواء بالاستيلاء فقد حرف الكلم عن مواضعه حيث نفى المعنى الذي تدل عليه لغة القرآن وهو العلو وأثبت معنى آخر باطلا.
ثم إن السلف والتابعين لهم بإحسان مجمعون على هذا المعنى إذ لم يأت عنهم حرف واحد في تفسيره بخلاف ذلك، وإذا جاء اللفظ في القرآن والسنة ولم يرد عن السلف تفسيره بما يخالف ظاهره فالأصل أنهم أبقوه على ظاهره واعتقدوا ما يدل عليه.
وقد أخطأ خطأ عظيما من قال: إن معنى استوى على العرش استولى على العرش؛ لأن هذا تحريف للكلم عن مواضعه، ومخالف لما أجمع عليه الصحابة - رضوان الله عليهم - والتابعون لهم بإحسان، ومستلزم للوازم باطلة لا يمكن لمؤمن أن يتفوه بها بالنسبة لله - عز وجل -. والقرآن الكريم نزل باللغة العربية بلا شك كما قال الله - سبحانه وتعالى -: {إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} . ومقتضى صيغة ` استوى على كذا ` في اللغة العربية العلو والاستقرار، بل هو معناها المطابق للفظ. فمعنى استوى على العرش أي: علا عليه علوّا خاصا يليق بجلاله وعظمته، فإذا فسر الاستواء بالاستيلاء فقد حرف الكلم عن مواضعه حيث نفى المعنى الذي تدل عليه لغة القرآن وهو العلو وأثبت معنى آخر باطلا.
ثم إن السلف والتابعين لهم بإحسان مجمعون على هذا المعنى إذ لم يأت عنهم حرف واحد في تفسيره بخلاف ذلك، وإذا جاء اللفظ في القرآن والسنة ولم يرد عن السلف تفسيره بما يخالف ظاهره فالأصل أنهم أبقوه على ظاهره واعتقدوا ما يدل عليه.
যা তাঁর (আল্লাহর) জন্য শোভনীয় - তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত। তা মানুষের বিছানার উপর আরোহণ, অথবা চতুষ্পদ জন্তুর উপর আরোহণ, অথবা নৌযানের উপর আরোহণের মতো নয়, যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {আর তিনি তোমাদের জন্য নৌকা ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা সেগুলোর উপর আরোহণ করতে পারো। অতঃপর যখন তোমরা সেগুলোর উপর স্থির হবে, তখন তোমাদের রবের অনুগ্রহ স্মরণ করবে এবং বলবে: পবিত্র ও মহান সেই সত্তা, যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা এগুলোকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।} সুতরাং, কোনো সৃষ্টির কোনো কিছুর উপর স্থির হওয়া (আরোহণ করা) আল্লাহর আরশের উপর ইস্তিওয়া-এর সমতুল্য হতে পারে না; কারণ আল্লাহর মতো কিছুই নেই।
যে ব্যক্তি বলে যে, 'ইস্তাওয়া আলাল আরশ' (عرش-এর উপর ইস্তাওয়া) এর অর্থ হলো 'আরশ দখল করা' (استولى على العرش), সে এক বিরাট ভুল করেছে। কারণ এটি শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করা, এবং সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ও তাদের অনুসারী তাবেঈনদের (যারা উত্তমভাবে তাদের অনুসরণ করেছেন) ইজমা'র পরিপন্থী। এর দ্বারা এমন বাতিল ও ভ্রান্ত বিষয়াদি আবশ্যক হয়, যা কোনো মুমিনের পক্ষে আল্লাহ তায়ালার (পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) ক্ষেত্রে উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। আর পবিত্র কুরআন নিঃসন্দেহে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমরা এটিকে আরবি কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।} আর আরবি ভাষায় 'ইস্তাওয়া আলা কাযা' (استوى على كذا - অমুকের উপর ইস্তাওয়া) এই শব্দবন্ধের দাবি হলো উচ্চতা (উর্ধ্বে হওয়া) এবং স্থিরতা। বরং এটিই শব্দটির হুবহু অর্থ। সুতরাং, 'ইস্তাওয়া আলাল আরশ' এর অর্থ হলো: তিনি আরশের উপর এমন এক বিশেষ উচ্চতায় আরোহণ করেছেন যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য শোভনীয়। অতএব, যদি 'ইস্তিওয়া'কে 'দখল করা' (استيلاء) দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করা হলো; কারণ এর দ্বারা কুরআনের ভাষা যা নির্দেশ করে, অর্থাৎ 'উচ্চতা' (علو), তা অস্বীকার করা হয় এবং একটি বাতিল অর্থ সাব্যস্ত করা হয়।
তাছাড়া, সালাফ ও তাদের উত্তমভাবে অনুসরণকারী তাবেঈনগণ এই অর্থের উপর ইজমা' করেছেন (ঐকমত্য পোষণ করেছেন), কারণ তাদের থেকে এর ব্যাখ্যায় এর বিপরীত একটি শব্দও আসেনি। আর যখন কুরআন ও সুন্নাহতে কোনো শব্দ আসে এবং সালাফ থেকে এর বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া না যায়, তখন মূলনীতি হলো যে, তারা সেটিকে তার বাহ্যিক অর্থের উপরই রেখেছেন এবং এর দ্বারা যা নির্দেশিত হয়, তা বিশ্বাস করেছেন।
যে ব্যক্তি বলে যে, 'ইস্তাওয়া আলাল আরশ' (عرش-এর উপর ইস্তাওয়া) এর অর্থ হলো 'আরশ দখল করা' (استولى على العرش), সে এক বিরাট ভুল করেছে। কারণ এটি শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করা, এবং সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ও তাদের অনুসারী তাবেঈনদের (যারা উত্তমভাবে তাদের অনুসরণ করেছেন) ইজমা'র পরিপন্থী। এর দ্বারা এমন বাতিল ও ভ্রান্ত বিষয়াদি আবশ্যক হয়, যা কোনো মুমিনের পক্ষে আল্লাহ তায়ালার (পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) ক্ষেত্রে উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। আর পবিত্র কুরআন নিঃসন্দেহে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমরা এটিকে আরবি কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।} আর আরবি ভাষায় 'ইস্তাওয়া আলা কাযা' (استوى على كذا - অমুকের উপর ইস্তাওয়া) এই শব্দবন্ধের দাবি হলো উচ্চতা (উর্ধ্বে হওয়া) এবং স্থিরতা। বরং এটিই শব্দটির হুবহু অর্থ। সুতরাং, 'ইস্তাওয়া আলাল আরশ' এর অর্থ হলো: তিনি আরশের উপর এমন এক বিশেষ উচ্চতায় আরোহণ করেছেন যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য শোভনীয়। অতএব, যদি 'ইস্তিওয়া'কে 'দখল করা' (استيلاء) দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করা হলো; কারণ এর দ্বারা কুরআনের ভাষা যা নির্দেশ করে, অর্থাৎ 'উচ্চতা' (علو), তা অস্বীকার করা হয় এবং একটি বাতিল অর্থ সাব্যস্ত করা হয়।
তাছাড়া, সালাফ ও তাদের উত্তমভাবে অনুসরণকারী তাবেঈনগণ এই অর্থের উপর ইজমা' করেছেন (ঐকমত্য পোষণ করেছেন), কারণ তাদের থেকে এর ব্যাখ্যায় এর বিপরীত একটি শব্দও আসেনি। আর যখন কুরআন ও সুন্নাহতে কোনো শব্দ আসে এবং সালাফ থেকে এর বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া না যায়, তখন মূলনীতি হলো যে, তারা সেটিকে তার বাহ্যিক অর্থের উপরই রেখেছেন এবং এর দ্বারা যা নির্দেশিত হয়, তা বিশ্বাস করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فإن قال قائل: هل ورد لفظ صريح عن السلف بأنهم فسروا استوى بـ (علا) ؟
قلنا: نعم ورد ذلك عن السلف، وعلى فرض أن لا يكون ورد عنهم صريحا فإن الأصل فيما دل عليه اللفظ في القرآن الكريم والسنة النبوية أنه باق على ما تقتضيه اللغة العربية من المعنى فيكون إثبات السلف له على هذا المعنى.
أما اللوازم الباطلة التي تلزم من فسر الاستواء بالاستيلاء فهي:
أولا: أن العرش قبل خلق السماوات والأرض ليس ملكا لله - تعالى - لأن الله - تعالى - قال: ` {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} .
وعلى هذا فلا يكون الله مستوليا على العرش قبل خلق السماوات ولا حين خلق السماوات والأرض.
ثانيا: أنه يصح التعبير بقولنا: إن الله استوى على الأرض، واستوى على أي شيء من مخلوقاته وهذا بلا شك ولا ريب معنى باطل لا يليق بالله - عز وجل -.
ثالثا: أنه تحريف للكلم عن مواضعه.
رابعا: أنه مخالف لإجماع السلف الصالح رضوان الله عليهم.
وخلاصةُ الكلام في هذا النوع - توحيد الأسماء والصفات - أنه يجب علينا أن نثبت لله ما أثبته لنفسه أو أثبته له رسوله من الأسماء والصفات على وجه الحقيقة من غير تحريف، ولا تعطيل، ولا تكييف، ولا تمثيل.
قلنا: نعم ورد ذلك عن السلف، وعلى فرض أن لا يكون ورد عنهم صريحا فإن الأصل فيما دل عليه اللفظ في القرآن الكريم والسنة النبوية أنه باق على ما تقتضيه اللغة العربية من المعنى فيكون إثبات السلف له على هذا المعنى.
أما اللوازم الباطلة التي تلزم من فسر الاستواء بالاستيلاء فهي:
أولا: أن العرش قبل خلق السماوات والأرض ليس ملكا لله - تعالى - لأن الله - تعالى - قال: ` {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} .
وعلى هذا فلا يكون الله مستوليا على العرش قبل خلق السماوات ولا حين خلق السماوات والأرض.
ثانيا: أنه يصح التعبير بقولنا: إن الله استوى على الأرض، واستوى على أي شيء من مخلوقاته وهذا بلا شك ولا ريب معنى باطل لا يليق بالله - عز وجل -.
ثالثا: أنه تحريف للكلم عن مواضعه.
رابعا: أنه مخالف لإجماع السلف الصالح رضوان الله عليهم.
وخلاصةُ الكلام في هذا النوع - توحيد الأسماء والصفات - أنه يجب علينا أن نثبت لله ما أثبته لنفسه أو أثبته له رسوله من الأسماء والصفات على وجه الحقيقة من غير تحريف، ولا تعطيل، ولا تكييف، ولا تمثيل.
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: সালাফদের থেকে কি সুস্পষ্ট শব্দে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা 'ইস্তাওয়া' (استوى) শব্দটির ব্যাখ্যা 'আলা' (عলা) দ্বারা করেছেন?
আমরা বলব: হ্যাঁ, সালাফদের থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, তাদের থেকে সুস্পষ্টভাবে তা বর্ণিত হয়নি, তাহলে কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহ নববীতে যে শব্দের উপর প্রমাণ করে, তার মূলনীতি হলো তা আরবি ভাষার অর্থ অনুযায়ী বহাল থাকবে। সুতরাং সালাফদের পক্ষ থেকে এর অর্থ এই অনুযায়ীই সাব্যস্ত করা হয়েছে।
কিন্তু যারা 'ইস্তাওয়া' (استوى)-এর ব্যাখ্যা 'ইস্তীলা' (استيلاء) দ্বারা করে, তাদের জন্য যে বাতিল বিষয়গুলো অনিবার্য হয়ে ওঠে, তা হলো:
প্রথমত: আসমান ও যমীন সৃষ্টির পূর্বে আরশ আল্লাহর মালিকানাধীন ছিল না – সুবহানাহু ওয়া তা'আলা –। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: `নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন।`
আর এই অনুযায়ী, আল্লাহ আসমান সৃষ্টির পূর্বে এবং আসমান ও যমীন সৃষ্টির সময়েও আরশের উপর 'মুস্তাওলি' (নিয়ন্ত্রণকারী) ছিলেন না।
দ্বিতীয়ত: আমাদের এই কথা বলা সঠিক হবে যে, আল্লাহ যমীনের উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন এবং তাঁর যেকোনো সৃষ্টির উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন। আর এটি নিঃসন্দেহে একটি বাতিল অর্থ, যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর জন্য শোভনীয় নয়।
তৃতীয়ত: এটি শব্দগুলোকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করা।
চতুর্থত: এটি সালাফে সালেহীন – আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন – এর ইজমার পরিপন্থী।
আর এই প্রকারের আলোচনার সারসংক্ষেপ – অর্থাৎ তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত – হলো: আমাদের উপর আবশ্যক হলো আল্লাহর জন্য সেই সকল নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করা, যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে (হাকীকী অর্থে) কোনো বিকৃতি (তাহরীফ), অস্বীকার (তা'তীল), ধরণ নির্ধারণ (তাকয়ীফ) বা সাদৃশ্য স্থাপন (তামসীল) ব্যতীত।
আমরা বলব: হ্যাঁ, সালাফদের থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, তাদের থেকে সুস্পষ্টভাবে তা বর্ণিত হয়নি, তাহলে কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহ নববীতে যে শব্দের উপর প্রমাণ করে, তার মূলনীতি হলো তা আরবি ভাষার অর্থ অনুযায়ী বহাল থাকবে। সুতরাং সালাফদের পক্ষ থেকে এর অর্থ এই অনুযায়ীই সাব্যস্ত করা হয়েছে।
কিন্তু যারা 'ইস্তাওয়া' (استوى)-এর ব্যাখ্যা 'ইস্তীলা' (استيلاء) দ্বারা করে, তাদের জন্য যে বাতিল বিষয়গুলো অনিবার্য হয়ে ওঠে, তা হলো:
প্রথমত: আসমান ও যমীন সৃষ্টির পূর্বে আরশ আল্লাহর মালিকানাধীন ছিল না – সুবহানাহু ওয়া তা'আলা –। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: `নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন।`
আর এই অনুযায়ী, আল্লাহ আসমান সৃষ্টির পূর্বে এবং আসমান ও যমীন সৃষ্টির সময়েও আরশের উপর 'মুস্তাওলি' (নিয়ন্ত্রণকারী) ছিলেন না।
দ্বিতীয়ত: আমাদের এই কথা বলা সঠিক হবে যে, আল্লাহ যমীনের উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন এবং তাঁর যেকোনো সৃষ্টির উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন। আর এটি নিঃসন্দেহে একটি বাতিল অর্থ, যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর জন্য শোভনীয় নয়।
তৃতীয়ত: এটি শব্দগুলোকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করা।
চতুর্থত: এটি সালাফে সালেহীন – আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন – এর ইজমার পরিপন্থী।
আর এই প্রকারের আলোচনার সারসংক্ষেপ – অর্থাৎ তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত – হলো: আমাদের উপর আবশ্যক হলো আল্লাহর জন্য সেই সকল নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করা, যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে (হাকীকী অর্থে) কোনো বিকৃতি (তাহরীফ), অস্বীকার (তা'তীল), ধরণ নির্ধারণ (তাকয়ীফ) বা সাদৃশ্য স্থাপন (তামসীল) ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(2) وسئل فضيلة الشيخ: هل الإيمان هو التوحيد؟
فأجاب - حفظه الله - بقوله: التوحيد: ` إفراد الله - عز وجل - بما يختص به ويجب له `. والإيمان هو ` التصديق المتضمن للقبول والإذعان `.
وبينهما عموم وخصوص فكل موحد مؤمن، وكل مؤمن موحد بالمعنى العام.
ولكن أحيانا يكون التوحيد أخص من الإيمان، والإيمان أخص من التوحيد. والله أعلم.
(3) وسئل فضيلته: عن شرك المشركين الذين بعث فيهم النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟
فأجاب قائلا: بالنسبة لشرك المشركين الذين بعث فيهم النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فإنه ليس شركا في الربوبية؛ لأن القرآن الكريم يدلُّ على أنهم إنما كانوا يشركون في العبادة فقط.
أما في الربوبية فيؤمنون بأن الله وحده هو الربٌّ، وأنه مُجيبُ دعوة المضطرين، وأنه هو الذي يكشف السوء إلى غير ذلك مما ذكر الله عنهم من إقرارهم بربوبية الله - عز وجل - وحده.
ولكنهم كانوا مشركين بالعبادة يعبدون غير الله معه، وهذا شرك مخرج عن الملة؛ لأن التوحيد هو عبارة - حسب دلالة اللفظ - عن جعل الشيء واحدا، والله - تبارك وتعالى - له حقوق يجب أن يفرد بها وهذه الحقوق تنقسم إلى ثلاثة أقسام:
1 - حقوق ملك.
2 - حقوق عبادة.
فأجاب - حفظه الله - بقوله: التوحيد: ` إفراد الله - عز وجل - بما يختص به ويجب له `. والإيمان هو ` التصديق المتضمن للقبول والإذعان `.
وبينهما عموم وخصوص فكل موحد مؤمن، وكل مؤمن موحد بالمعنى العام.
ولكن أحيانا يكون التوحيد أخص من الإيمان، والإيمان أخص من التوحيد. والله أعلم.
(3) وسئل فضيلته: عن شرك المشركين الذين بعث فيهم النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟
فأجاب قائلا: بالنسبة لشرك المشركين الذين بعث فيهم النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فإنه ليس شركا في الربوبية؛ لأن القرآن الكريم يدلُّ على أنهم إنما كانوا يشركون في العبادة فقط.
أما في الربوبية فيؤمنون بأن الله وحده هو الربٌّ، وأنه مُجيبُ دعوة المضطرين، وأنه هو الذي يكشف السوء إلى غير ذلك مما ذكر الله عنهم من إقرارهم بربوبية الله - عز وجل - وحده.
ولكنهم كانوا مشركين بالعبادة يعبدون غير الله معه، وهذا شرك مخرج عن الملة؛ لأن التوحيد هو عبارة - حسب دلالة اللفظ - عن جعل الشيء واحدا، والله - تبارك وتعالى - له حقوق يجب أن يفرد بها وهذه الحقوق تنقسم إلى ثلاثة أقسام:
1 - حقوق ملك.
2 - حقوق عبادة.
**(২) সম্মানিত শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ঈমান কি তাওহীদ?**
**তিনি - আল্লাহ তাঁর হিফাজত করুন - উত্তরে বললেন:** তাওহীদ হলো: `আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ও ওয়াজিব বিষয়সমূহে একক সাব্যস্ত করা।` আর ঈমান হলো: `এমন সত্যায়ন যা গ্রহণ ও আনুগত্যকে অন্তর্ভুক্ত করে।`
এ দু'টির মাঝে 'আম ও খাস (সাধারণ ও বিশেষ) সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং প্রত্যেক তাওহীদবাদী মুমিন, এবং প্রত্যেক মুমিন সাধারণ অর্থে তাওহীদবাদী। তবে কখনো কখনো তাওহীদ ঈমানের চেয়ে অধিক খাস (বিশেষ) হয়, আবার ঈমান তাওহীদের চেয়ে অধিক খাস হয়। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
**(৩) তাঁর (শাইখের) কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছিলেন, সেই মুশরিকদের শিরক সম্পর্কে?**
**তিনি উত্তরে বললেন:** নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছিলেন, সেই মুশরিকদের শিরকের ক্ষেত্রে, তা রুবুবিয়্যাতের শিরক ছিল না; কারণ পবিত্র কুরআন প্রমাণ করে যে, তারা কেবল ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক করত।
কিন্তু রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে তারা বিশ্বাস করত যে, আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র রব, এবং তিনিই বিপদগ্রস্তদের দোয়া কবুলকারী, এবং তিনিই অকল্যাণ দূরকারী, এছাড়াও আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা থেকে প্রমাণিত হয় যে, তারা একমাত্র আল্লাহর রুবুবিয়্যাতকে স্বীকার করত।
কিন্তু তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে মুশরিক ছিল, তারা আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদত করত। আর এটি এমন শিরক যা মিল্লাত (ইসলাম) থেকে বের করে দেয়; কারণ তাওহীদ হলো - শব্দের আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী - কোনো কিছুকে একক সাব্যস্ত করা। আর আল্লাহ তা'আলার এমন কিছু অধিকার রয়েছে যা তাঁর জন্য এককভাবে নির্দিষ্ট করা ওয়াজিব। এই অধিকারগুলো তিন ভাগে বিভক্ত:
১ - মালিকানার অধিকার (হুকুকুল মুলক)।
২ - ইবাদতের অধিকার (হুকুকুল ইবাদাহ)।
**তিনি - আল্লাহ তাঁর হিফাজত করুন - উত্তরে বললেন:** তাওহীদ হলো: `আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ও ওয়াজিব বিষয়সমূহে একক সাব্যস্ত করা।` আর ঈমান হলো: `এমন সত্যায়ন যা গ্রহণ ও আনুগত্যকে অন্তর্ভুক্ত করে।`
এ দু'টির মাঝে 'আম ও খাস (সাধারণ ও বিশেষ) সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং প্রত্যেক তাওহীদবাদী মুমিন, এবং প্রত্যেক মুমিন সাধারণ অর্থে তাওহীদবাদী। তবে কখনো কখনো তাওহীদ ঈমানের চেয়ে অধিক খাস (বিশেষ) হয়, আবার ঈমান তাওহীদের চেয়ে অধিক খাস হয়। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
**(৩) তাঁর (শাইখের) কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছিলেন, সেই মুশরিকদের শিরক সম্পর্কে?**
**তিনি উত্তরে বললেন:** নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছিলেন, সেই মুশরিকদের শিরকের ক্ষেত্রে, তা রুবুবিয়্যাতের শিরক ছিল না; কারণ পবিত্র কুরআন প্রমাণ করে যে, তারা কেবল ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক করত।
কিন্তু রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে তারা বিশ্বাস করত যে, আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র রব, এবং তিনিই বিপদগ্রস্তদের দোয়া কবুলকারী, এবং তিনিই অকল্যাণ দূরকারী, এছাড়াও আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা থেকে প্রমাণিত হয় যে, তারা একমাত্র আল্লাহর রুবুবিয়্যাতকে স্বীকার করত।
কিন্তু তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে মুশরিক ছিল, তারা আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদত করত। আর এটি এমন শিরক যা মিল্লাত (ইসলাম) থেকে বের করে দেয়; কারণ তাওহীদ হলো - শব্দের আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী - কোনো কিছুকে একক সাব্যস্ত করা। আর আল্লাহ তা'আলার এমন কিছু অধিকার রয়েছে যা তাঁর জন্য এককভাবে নির্দিষ্ট করা ওয়াজিব। এই অধিকারগুলো তিন ভাগে বিভক্ত:
১ - মালিকানার অধিকার (হুকুকুল মুলক)।
২ - ইবাদতের অধিকার (হুকুকুল ইবাদাহ)।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3 - حقوق أسماء وصفات.
ولهذا قسم العلماء التوحيد إلى ثلاثة أقسام: توحيد الربوبية، وتوحيد الأسماء والصفات، وتوحيد العبادة.
فأما توحيد الربوبية: فهو إفراد الله - تبارك وتعالى - بالخلق والملك والأمر، كما قال الله - تعالى -: {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ} . فالخلق والأمر - وهو التدبير - هو الربوبية وهو مختص بالله - عز وجل - فلا خالق إلا الله ولا مالك ولا مدبر إلا الله - عز وجل -.
وأمَّا توحيد الأسماء والصفات: فهو إفراد الله - تبارك وتعالى - بأسمائه وصفاته بحيث يؤمن العبد بما أثبت الله لنفسه في كتابه أو أثبته له رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، من الأسماء والصفات على الوجه الذي أراد الله ورسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وعلى الوجه اللائق به من غير إثبات مثيل له؛ لأن إثبات المثيل لله - تعالى - شرك به.
وأما توحيد العبادة: فهو إفراد الله - تبارك وتعالى - بالعبادة، بمعنى أن تعبد الله مخلصا له الدين، لقوله - تعالى -: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ} . فالمشركون إنما أشركوا في هذا القسم، قسم العبادة حيث كانوا يعبدون مع الله غيره، وقد قال الله - تبارك وتعالى -: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} أي في عبادته.
وقال - تعالى -: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} .
ولهذا قسم العلماء التوحيد إلى ثلاثة أقسام: توحيد الربوبية، وتوحيد الأسماء والصفات، وتوحيد العبادة.
فأما توحيد الربوبية: فهو إفراد الله - تبارك وتعالى - بالخلق والملك والأمر، كما قال الله - تعالى -: {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ} . فالخلق والأمر - وهو التدبير - هو الربوبية وهو مختص بالله - عز وجل - فلا خالق إلا الله ولا مالك ولا مدبر إلا الله - عز وجل -.
وأمَّا توحيد الأسماء والصفات: فهو إفراد الله - تبارك وتعالى - بأسمائه وصفاته بحيث يؤمن العبد بما أثبت الله لنفسه في كتابه أو أثبته له رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، من الأسماء والصفات على الوجه الذي أراد الله ورسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وعلى الوجه اللائق به من غير إثبات مثيل له؛ لأن إثبات المثيل لله - تعالى - شرك به.
وأما توحيد العبادة: فهو إفراد الله - تبارك وتعالى - بالعبادة، بمعنى أن تعبد الله مخلصا له الدين، لقوله - تعالى -: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ} . فالمشركون إنما أشركوا في هذا القسم، قسم العبادة حيث كانوا يعبدون مع الله غيره، وقد قال الله - تبارك وتعالى -: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا} أي في عبادته.
وقال - تعالى -: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} .
৩. আসমা ও সিফাতের অধিকার।
আর এ কারণেই উলামায়ে কেরাম তাওহীদকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত এবং তাওহীদে ইবাদাহ।
প্রথমত, তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ: তা হলো আল্লাহ তা'আলাকে সৃষ্টি, রাজত্ব ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই।} সুতরাং সৃষ্টি ও নির্দেশ – যা হলো সকল কিছুর ব্যবস্থাপনা (تدبير) – এটাই হলো রুবুবিয়্যাহ। আর এটা একমাত্র আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্যই নির্দিষ্ট। সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যতীত কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই, কোনো মালিক নেই এবং কোনো ব্যবস্থাপকও নেই।
আর তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত: তা হলো আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীতে একক সাব্যস্ত করা। এভাবে যে, বান্দা আল্লাহ তা'আলা নিজের জন্য তাঁর কিতাবে যা সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, সেই নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনবে – আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে চেয়েছেন এবং তাঁর জন্য যা শোভনীয়, সেই পন্থায় – তাঁর কোনো সাদৃশ্য বা দৃষ্টান্ত সাব্যস্ত করা ব্যতীত; কারণ আল্লাহ তা'আলার জন্য সাদৃশ্য সাব্যস্ত করা তাঁর সাথে শিরক করা।
আর তাওহীদে ইবাদাহ: তা হলো আল্লাহ তা'আলাকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা। এর অর্থ হলো, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {বলো, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি, তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।} সুতরাং মুশরিকরা এই প্রকারেই শিরক করেছে, অর্থাৎ ইবাদাতের প্রকারেই, যেখানে তারা আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদাত করত। আর আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করো না।} অর্থাৎ তাঁর ইবাদাতে।
আর তিনি (আল্লাহ) তা'আলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।}
আর এ কারণেই উলামায়ে কেরাম তাওহীদকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত এবং তাওহীদে ইবাদাহ।
প্রথমত, তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ: তা হলো আল্লাহ তা'আলাকে সৃষ্টি, রাজত্ব ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই।} সুতরাং সৃষ্টি ও নির্দেশ – যা হলো সকল কিছুর ব্যবস্থাপনা (تدبير) – এটাই হলো রুবুবিয়্যাহ। আর এটা একমাত্র আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্যই নির্দিষ্ট। সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যতীত কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই, কোনো মালিক নেই এবং কোনো ব্যবস্থাপকও নেই।
আর তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত: তা হলো আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীতে একক সাব্যস্ত করা। এভাবে যে, বান্দা আল্লাহ তা'আলা নিজের জন্য তাঁর কিতাবে যা সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, সেই নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনবে – আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে চেয়েছেন এবং তাঁর জন্য যা শোভনীয়, সেই পন্থায় – তাঁর কোনো সাদৃশ্য বা দৃষ্টান্ত সাব্যস্ত করা ব্যতীত; কারণ আল্লাহ তা'আলার জন্য সাদৃশ্য সাব্যস্ত করা তাঁর সাথে শিরক করা।
আর তাওহীদে ইবাদাহ: তা হলো আল্লাহ তা'আলাকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা। এর অর্থ হলো, তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {বলো, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি, তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।} সুতরাং মুশরিকরা এই প্রকারেই শিরক করেছে, অর্থাৎ ইবাদাতের প্রকারেই, যেখানে তারা আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদাত করত। আর আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করো না।} অর্থাৎ তাঁর ইবাদাতে।
আর তিনি (আল্লাহ) তা'আলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।}
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال - تعالى -: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} .
وقال - تعالى -: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} .
وقال - تعالى - في سورة الإخلاص: {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ} .
وقولي: في سورة الإخلاص يعني إخلاص العمل فهي سورة إخلاص العمل وإن كانت تسمى سورة الكافرون لكنها في الحقيقة سورة إخلاص عملي كما أن سورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} سورة إخلاص علمي وعقيدة. والله الموفق.
وقال - تعالى -: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} .
وقال - تعالى - في سورة الإخلاص: {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ} .
وقولي: في سورة الإخلاص يعني إخلاص العمل فهي سورة إخلاص العمل وإن كانت تسمى سورة الكافرون لكنها في الحقيقة سورة إخلاص عملي كما أن سورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} سورة إخلاص علمي وعقيدة. والله الموفق.
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না, আর এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন।}
তিনি আরও বলেছেন: {আর তোমাদের রব বলেছেন, 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত থেকে অহংকার করে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে'।"}
আল্লাহ তা'আলা সূরা ইখলাসে (অর্থাৎ সূরা কাফিরুনে) বলেছেন: {বলো, 'হে কাফিরগণ! তোমরা যার ইবাদত করো, আমি তার ইবাদত করি না। আর আমি যার ইবাদত করি, তোমরা তার ইবাদতকারী নও। আর তোমরা যার ইবাদত করেছ, আমি তার ইবাদতকারী নই। আর আমি যার ইবাদত করি, তোমরা তার ইবাদতকারী নও। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আর আমার জন্য আমার দ্বীন'।"}
আর আমার এই উক্তি যে, 'সূরা ইখলাসে' (অর্থাৎ সূরা কাফিরুনকে ইখলাস বলা হয়েছে), এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কর্মের একনিষ্ঠতা (ইখলাসুল আমল)। সুতরাং এটি হলো কর্মের একনিষ্ঠতার সূরা। যদিও এর নাম 'সূরা কাফিরুন', কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কর্মগত একনিষ্ঠতার সূরা। যেমনভাবে সূরা {ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ} হলো জ্ঞানগত একনিষ্ঠতা (ইখলাসুল ইলম) ও আকীদার সূরা। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
তিনি আরও বলেছেন: {আর তোমাদের রব বলেছেন, 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত থেকে অহংকার করে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে'।"}
আল্লাহ তা'আলা সূরা ইখলাসে (অর্থাৎ সূরা কাফিরুনে) বলেছেন: {বলো, 'হে কাফিরগণ! তোমরা যার ইবাদত করো, আমি তার ইবাদত করি না। আর আমি যার ইবাদত করি, তোমরা তার ইবাদতকারী নও। আর তোমরা যার ইবাদত করেছ, আমি তার ইবাদতকারী নই। আর আমি যার ইবাদত করি, তোমরা তার ইবাদতকারী নও। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আর আমার জন্য আমার দ্বীন'।"}
আর আমার এই উক্তি যে, 'সূরা ইখলাসে' (অর্থাৎ সূরা কাফিরুনকে ইখলাস বলা হয়েছে), এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কর্মের একনিষ্ঠতা (ইখলাসুল আমল)। সুতরাং এটি হলো কর্মের একনিষ্ঠতার সূরা। যদিও এর নাম 'সূরা কাফিরুন', কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কর্মগত একনিষ্ঠতার সূরা। যেমনভাবে সূরা {ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ} হলো জ্ঞানগত একনিষ্ঠতা (ইখলাসুল ইলম) ও আকীদার সূরা। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مصادر التلقي
জ্ঞানের উৎস
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(4) وسئل فضيلة الشيخ - حفظه الله -: عمن يرى أن أحاديث الآحاد لا تثبت بها العقيدة؟
فأجاب بقوله: جوابنا على من يرى أن أحاديث الآحاد لا تثبت بها العقيدة لأنها تفيد الظن، والظن لا تبنى عليه العقيدة أن نقول:
هذا رأي غير صواب لأنه مبني على غير صواب وذلك من عدة وجوه:
1 - القول بأن حديث الآحاد لا يفيد إلا الظن ليس على إطلاقه، بل في أخبار الآحاد ما يفيد اليقين إذا دلت القرائن على صدقه، كما إذا تلقته الأمة بالقبول مثل حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه «إنما الأعمال بالنيات» فإنه خبر آحاد ومع ذلك فإننا نعلم أن النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قاله وهذا ما حققه شيخ الإسلام ابن تيمية والحافظ ابن حجر وغيرهما.
2 - أن النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يرسل الآحاد بأصول العقيدة شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإرساله حجة ملزمة، كما بعث معاذا إلى اليمن واعتبر بعثه حجة ملزمة لأهل اليمن بقبوله.
3 - إذا قلنا بأن العقيدة لا تثبت بأخبار الآحاد أمكن أن يقال: والأحكام العملية لا تثبت بأخبار الآحاد؛ لأن الأحكام العملية يصحبها عقيدة أن الله - تعالى - أمر بهذا أو نهى عن هذا، وإذا قبل هذا القول تعطل كثير من أحكام الشريعة، وإذا رد هذا القول فليرد القول بأن
فأجاب بقوله: جوابنا على من يرى أن أحاديث الآحاد لا تثبت بها العقيدة لأنها تفيد الظن، والظن لا تبنى عليه العقيدة أن نقول:
هذا رأي غير صواب لأنه مبني على غير صواب وذلك من عدة وجوه:
1 - القول بأن حديث الآحاد لا يفيد إلا الظن ليس على إطلاقه، بل في أخبار الآحاد ما يفيد اليقين إذا دلت القرائن على صدقه، كما إذا تلقته الأمة بالقبول مثل حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه «إنما الأعمال بالنيات» فإنه خبر آحاد ومع ذلك فإننا نعلم أن النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قاله وهذا ما حققه شيخ الإسلام ابن تيمية والحافظ ابن حجر وغيرهما.
2 - أن النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يرسل الآحاد بأصول العقيدة شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإرساله حجة ملزمة، كما بعث معاذا إلى اليمن واعتبر بعثه حجة ملزمة لأهل اليمن بقبوله.
3 - إذا قلنا بأن العقيدة لا تثبت بأخبار الآحاد أمكن أن يقال: والأحكام العملية لا تثبت بأخبار الآحاد؛ لأن الأحكام العملية يصحبها عقيدة أن الله - تعالى - أمر بهذا أو نهى عن هذا، وإذا قبل هذا القول تعطل كثير من أحكام الشريعة، وإذا رد هذا القول فليرد القول بأن
(৪) ফযীলতপূর্ণ শাইখকে - আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন - জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে, যে মনে করে যে, আহাদ হাদীস দ্বারা আকীদা প্রমাণিত হয় না?
তিনি উত্তরে বললেন: ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আমাদের উত্তর, যে মনে করে যে, আহাদ হাদীস দ্বারা আকীদা প্রমাণিত হয় না, কারণ এগুলি কেবল ধারণার (যান্ন) জন্ম দেয়, আর ধারণার উপর আকীদা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, আমরা বলি:
এই মতটি সঠিক নয়, কারণ এটি ভুল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:
১ - এই কথাটি যে, আহাদ হাদীস কেবল ধারণার জন্ম দেয়, তা সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়। বরং আহাদ হাদীসের মধ্যে এমনও আছে যা নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকীন) প্রদান করে, যদি তার সত্যতার উপর প্রমাণাদি (কারাইন) নির্দেশ করে। যেমন যখন উম্মাহ এটিকে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে, যেমন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল»। এটি একটি আহাদ খবর হওয়া সত্ত্বেও আমরা জানি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি বলেছেন। আর এই বিষয়টি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, হাফিয ইবনে হাজার এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরামও নিশ্চিত করেছেন।
২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকীদার মূলনীতিসমূহ, যেমন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল) এর সাক্ষ্য প্রদানের জন্য একক ব্যক্তিকে (আহাদ) প্রেরণ করতেন। আর তাঁর এই প্রেরণ ছিল একটি বাধ্যতামূলক প্রমাণ (হুজ্জাতুল মুলযিমাহ)। যেমন তিনি মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর এই প্রেরণকে ইয়ামেনবাসীদের জন্য গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
৩ - যদি আমরা বলি যে, আহাদ খবর দ্বারা আকীদা প্রমাণিত হয় না, তাহলে এমনও বলা যেতে পারে যে: আমলী আহকামও (ব্যবহারিক বিধানাবলী) আহাদ খবর দ্বারা প্রমাণিত হয় না। কারণ আমলী আহকামের সাথে এই আকীদা জড়িত থাকে যে, আল্লাহ তা'আলা এটি আদেশ করেছেন অথবা এটি নিষেধ করেছেন। আর যদি এই কথাটি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শরীয়তের অনেক বিধান অকার্যকর হয়ে পড়বে। আর যদি এই কথাটি প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে এই কথাটিও প্রত্যাখ্যান করা উচিত যে...
তিনি উত্তরে বললেন: ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আমাদের উত্তর, যে মনে করে যে, আহাদ হাদীস দ্বারা আকীদা প্রমাণিত হয় না, কারণ এগুলি কেবল ধারণার (যান্ন) জন্ম দেয়, আর ধারণার উপর আকীদা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, আমরা বলি:
এই মতটি সঠিক নয়, কারণ এটি ভুল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:
১ - এই কথাটি যে, আহাদ হাদীস কেবল ধারণার জন্ম দেয়, তা সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়। বরং আহাদ হাদীসের মধ্যে এমনও আছে যা নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকীন) প্রদান করে, যদি তার সত্যতার উপর প্রমাণাদি (কারাইন) নির্দেশ করে। যেমন যখন উম্মাহ এটিকে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে, যেমন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল»। এটি একটি আহাদ খবর হওয়া সত্ত্বেও আমরা জানি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি বলেছেন। আর এই বিষয়টি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, হাফিয ইবনে হাজার এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরামও নিশ্চিত করেছেন।
২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকীদার মূলনীতিসমূহ, যেমন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল) এর সাক্ষ্য প্রদানের জন্য একক ব্যক্তিকে (আহাদ) প্রেরণ করতেন। আর তাঁর এই প্রেরণ ছিল একটি বাধ্যতামূলক প্রমাণ (হুজ্জাতুল মুলযিমাহ)। যেমন তিনি মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর এই প্রেরণকে ইয়ামেনবাসীদের জন্য গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
৩ - যদি আমরা বলি যে, আহাদ খবর দ্বারা আকীদা প্রমাণিত হয় না, তাহলে এমনও বলা যেতে পারে যে: আমলী আহকামও (ব্যবহারিক বিধানাবলী) আহাদ খবর দ্বারা প্রমাণিত হয় না। কারণ আমলী আহকামের সাথে এই আকীদা জড়িত থাকে যে, আল্লাহ তা'আলা এটি আদেশ করেছেন অথবা এটি নিষেধ করেছেন। আর যদি এই কথাটি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শরীয়তের অনেক বিধান অকার্যকর হয়ে পড়বে। আর যদি এই কথাটি প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে এই কথাটিও প্রত্যাখ্যান করা উচিত যে...
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العقيدة لا تثبت بخبر الآحاد إذ لا فرق كما بينا.
4 - أن الله - تعالى - أمر بالرجوع إلى قول أهل العلم لمن كان جاهلا فيما هو من أعظم مسائل العقيدة وهي الرسالة. فقال - تعالى -: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ} . وهذا يشمل سؤال الواحد والمتعدد.
والحاصل أن خبر الآحاد إذا دلت القرائن على صدقه أفاد العلم وثبتت به الأحكام العملية والعلمية، ولا دليل على التفريق بينهما، ومن نسب إلى أحد من الأئمة التفريق بينهما فعليه إثبات ذلك بالسند الصحيح عنه، ثم بيان دليله المستند إليه.
(5) سئل الشيخ: هل يجوز للمسلم أن يقتني الإنجيل ليعرف كلام الله لعبده ورسوله عيسى عليه الصلاة والسلام؟
فأجاب فضيلته بقوله: لا يجوز اقتناء شيء من الكتب السابقة على القرآن من إنجيل أو توراة أو غيرهما لسببين:
السبب الأول: أن كل ما كان نافعا فيها فقد بينه الله - سبحانه وتعالى - في القرآن الكريم.
السبب الثاني: أن في القرآن ما يغني عن كل هذه الكتب لقوله - تعالى -: {نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ} . وقوله - تعالى -: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ} . فإن ما في الكتب السابقة من
4 - أن الله - تعالى - أمر بالرجوع إلى قول أهل العلم لمن كان جاهلا فيما هو من أعظم مسائل العقيدة وهي الرسالة. فقال - تعالى -: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ} . وهذا يشمل سؤال الواحد والمتعدد.
والحاصل أن خبر الآحاد إذا دلت القرائن على صدقه أفاد العلم وثبتت به الأحكام العملية والعلمية، ولا دليل على التفريق بينهما، ومن نسب إلى أحد من الأئمة التفريق بينهما فعليه إثبات ذلك بالسند الصحيح عنه، ثم بيان دليله المستند إليه.
(5) سئل الشيخ: هل يجوز للمسلم أن يقتني الإنجيل ليعرف كلام الله لعبده ورسوله عيسى عليه الصلاة والسلام؟
فأجاب فضيلته بقوله: لا يجوز اقتناء شيء من الكتب السابقة على القرآن من إنجيل أو توراة أو غيرهما لسببين:
السبب الأول: أن كل ما كان نافعا فيها فقد بينه الله - سبحانه وتعالى - في القرآن الكريم.
السبب الثاني: أن في القرآن ما يغني عن كل هذه الكتب لقوله - تعالى -: {نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ} . وقوله - تعالى -: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ} . فإن ما في الكتب السابقة من
আক্বীদা খবরে ওয়াহিদ দ্বারা সাব্যস্ত হয় না, কারণ যেমনটি আমরা ব্যাখ্যা করেছি, উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
৪ - আল্লাহ তাআলা - সম্মানিত ও সুমহান - অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য জ্ঞানীদের মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন এমন বিষয়ে যা আক্বীদার অন্যতম মহান মাসআলা, আর তা হলো রিসালাত (নবুওয়াত ও রিসালাত)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনার পূর্বেও আমরা পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি আমরা ওহী প্রেরণ করতাম। সুতরাং তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা করো সুস্পষ্ট প্রমাণ ও কিতাবসমূহ সহকারে।} (সূরা নাহল: ৪৩)। আর এটি একজন এবং একাধিক উভয়কে জিজ্ঞাসা করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সারকথা হলো, খবরে ওয়াহিদ যদি তার সত্যতার উপর প্রমাণাদি (ক্বারীনাহ) নির্দেশ করে, তবে তা জ্ঞান (ইলম) প্রদান করে এবং এর দ্বারা আমলী (ব্যবহারিক) ও ইলমী (তাত্ত্বিক) উভয় প্রকারের বিধান সাব্যস্ত হয়। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার কোনো প্রমাণ নেই। আর যে ব্যক্তি কোনো ইমামের দিকে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার কথা সম্বন্ধ করে, তার উপর আবশ্যক হলো সহীহ সনদ সহকারে তা প্রমাণ করা, অতঃপর তার নির্ভর করা দলীল বর্ণনা করা।
(৫) শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হলো: মুসলিমের জন্য ইঞ্জিল রাখা কি জায়েজ, যাতে সে আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসূল ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর প্রতি নাযিলকৃত কালাম জানতে পারে?
তাঁর ফযীলতপূর্ণ শাইখ উত্তরে বললেন: কুরআনের পূর্ববর্তী কোনো কিতাব, যেমন ইঞ্জিল, তাওরাত বা অন্য কোনো কিতাব রাখা জায়েজ নয়, দুটি কারণে:
প্রথম কারণ: তাতে যা কিছু উপকারী ছিল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় কারণ: কুরআনে এমন কিছু আছে যা এই সকল কিতাব থেকে যথেষ্ট করে দেয় (অর্থাৎ, এই সকল কিতাবের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়)। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {তিনি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী।} (সূরা আলে ইমরান: ৩)। এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {আর আমরা আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর উপর তত্ত্বাবধায়ক। সুতরাং আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন।} (সূরা মায়েদা: ৪৮)। কারণ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যা কিছু রয়েছে...
৪ - আল্লাহ তাআলা - সম্মানিত ও সুমহান - অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য জ্ঞানীদের মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন এমন বিষয়ে যা আক্বীদার অন্যতম মহান মাসআলা, আর তা হলো রিসালাত (নবুওয়াত ও রিসালাত)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনার পূর্বেও আমরা পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছিলাম, যাদের প্রতি আমরা ওহী প্রেরণ করতাম। সুতরাং তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা করো সুস্পষ্ট প্রমাণ ও কিতাবসমূহ সহকারে।} (সূরা নাহল: ৪৩)। আর এটি একজন এবং একাধিক উভয়কে জিজ্ঞাসা করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সারকথা হলো, খবরে ওয়াহিদ যদি তার সত্যতার উপর প্রমাণাদি (ক্বারীনাহ) নির্দেশ করে, তবে তা জ্ঞান (ইলম) প্রদান করে এবং এর দ্বারা আমলী (ব্যবহারিক) ও ইলমী (তাত্ত্বিক) উভয় প্রকারের বিধান সাব্যস্ত হয়। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার কোনো প্রমাণ নেই। আর যে ব্যক্তি কোনো ইমামের দিকে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার কথা সম্বন্ধ করে, তার উপর আবশ্যক হলো সহীহ সনদ সহকারে তা প্রমাণ করা, অতঃপর তার নির্ভর করা দলীল বর্ণনা করা।
(৫) শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হলো: মুসলিমের জন্য ইঞ্জিল রাখা কি জায়েজ, যাতে সে আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসূল ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর প্রতি নাযিলকৃত কালাম জানতে পারে?
তাঁর ফযীলতপূর্ণ শাইখ উত্তরে বললেন: কুরআনের পূর্ববর্তী কোনো কিতাব, যেমন ইঞ্জিল, তাওরাত বা অন্য কোনো কিতাব রাখা জায়েজ নয়, দুটি কারণে:
প্রথম কারণ: তাতে যা কিছু উপকারী ছিল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় কারণ: কুরআনে এমন কিছু আছে যা এই সকল কিতাব থেকে যথেষ্ট করে দেয় (অর্থাৎ, এই সকল কিতাবের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়)। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {তিনি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী।} (সূরা আলে ইমরান: ৩)। এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {আর আমরা আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর উপর তত্ত্বাবধায়ক। সুতরাং আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন।} (সূরা মায়েদা: ৪৮)। কারণ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যা কিছু রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
خير موجود في القرآن.
أما قول السائل إنه يريد أن يعرف كلام الله لعبده ورسوله عيسى، فإن النافع منه لنا قد قصه الله في القرآن فلا حاجة للبحث في غيره، وأيضا فالإنجيل الموجود الآن محرف، والدليل على ذلك أنها أربعة أناجيل يخالف بعضها بعضا وليست إنجيلا واحدا، إذن فلا يعتمد عليه.
أما طالب العلم الذي لديه علم يتمكن به من معرفة الحق من الباطل فلا مانع من معرفته لها لرد ما فيها من الباطل وإقامة الحجة على معتنقيها.
(6) وسئل فضيلته: عن أصول أهل السنة والجماعة في العقيدة وغيرها من أمور الدين؟
فأجاب بقوله: قاعدة أهل السنة والجماعة في العقائد وغيرها من أمور الدين، هو التمسك التام بكتاب الله وسنة رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وما عليه الخلفاء الراشدون من هدي وسنة، لقول الله - تعالى -: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} . ولقوله - تعالى -: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} . ولقول الله - تعالى -: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} . وهذا وإن كان في قسمة الغنائم فهو في الأمور الشرعية من باب أولى، ولأن النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كان يخطب الناس يوم الجمعة، فيقول: «أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، صلى الله عليه»
أما قول السائل إنه يريد أن يعرف كلام الله لعبده ورسوله عيسى، فإن النافع منه لنا قد قصه الله في القرآن فلا حاجة للبحث في غيره، وأيضا فالإنجيل الموجود الآن محرف، والدليل على ذلك أنها أربعة أناجيل يخالف بعضها بعضا وليست إنجيلا واحدا، إذن فلا يعتمد عليه.
أما طالب العلم الذي لديه علم يتمكن به من معرفة الحق من الباطل فلا مانع من معرفته لها لرد ما فيها من الباطل وإقامة الحجة على معتنقيها.
(6) وسئل فضيلته: عن أصول أهل السنة والجماعة في العقيدة وغيرها من أمور الدين؟
فأجاب بقوله: قاعدة أهل السنة والجماعة في العقائد وغيرها من أمور الدين، هو التمسك التام بكتاب الله وسنة رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وما عليه الخلفاء الراشدون من هدي وسنة، لقول الله - تعالى -: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} . ولقوله - تعالى -: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} . ولقول الله - تعالى -: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} . وهذا وإن كان في قسمة الغنائم فهو في الأمور الشرعية من باب أولى، ولأن النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كان يخطب الناس يوم الجمعة، فيقول: «أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، صلى الله عليه»
কুরআনে যা আছে তাই যথেষ্ট।
প্রশ্নকারী ঈসা (আ.)-এর প্রতি আল্লাহর বাণী জানতে চাওয়ার বিষয়ে যা বলেছেন, তার মধ্যে আমাদের জন্য যা উপকারী, তা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং অন্য কিছুতে খোঁজার প্রয়োজন নেই। উপরন্তু, বর্তমানে বিদ্যমান ইঞ্জিল বিকৃত (পরিবর্তিত)। এর প্রমাণ হলো, এটি চারটি ইঞ্জিল, যার একটি অন্যটির সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি কোনো একক ইঞ্জিল নয়। অতএব, এর উপর নির্ভর করা যাবে না।
তবে যে জ্ঞান অন্বেষণকারীর এমন জ্ঞান আছে যা দ্বারা সে সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করতে পারে, তার জন্য তা (ইঞ্জিল) জানা জায়েজ আছে, তাতে বিদ্যমান বাতিলকে খণ্ডন করার জন্য এবং এর অনুসারীদের উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য।
(৬) তাঁর মহিমান্বিত শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আকীদা এবং দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহ কী কী?
তিনি উত্তরে বললেন: আকীদা এবং দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতি হলো, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে পূর্ণরূপে আঁকড়ে ধরা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন যে হেদায়েত ও সুন্নাহর উপর ছিলেন, তার অনুসরণ করা। এর দলীল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলো, 'যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন...'} (সূরা আলে ইমরান: ৩১)।
এবং তাঁর (আল্লাহর) বাণী: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, তবে আমরা তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠাইনি।} (সূরা নিসা: ৮০)।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো; আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো।} (সূরা হাশর: ৭)।
যদিও এই আয়াতটি গনীমতের বণ্টন প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে, তবে শরীয়তের অন্যান্য বিষয়ে তা অধিকতর প্রযোজ্য।
আর কারণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন এবং বলতেন: «অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব, এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ।»
প্রশ্নকারী ঈসা (আ.)-এর প্রতি আল্লাহর বাণী জানতে চাওয়ার বিষয়ে যা বলেছেন, তার মধ্যে আমাদের জন্য যা উপকারী, তা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং অন্য কিছুতে খোঁজার প্রয়োজন নেই। উপরন্তু, বর্তমানে বিদ্যমান ইঞ্জিল বিকৃত (পরিবর্তিত)। এর প্রমাণ হলো, এটি চারটি ইঞ্জিল, যার একটি অন্যটির সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি কোনো একক ইঞ্জিল নয়। অতএব, এর উপর নির্ভর করা যাবে না।
তবে যে জ্ঞান অন্বেষণকারীর এমন জ্ঞান আছে যা দ্বারা সে সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করতে পারে, তার জন্য তা (ইঞ্জিল) জানা জায়েজ আছে, তাতে বিদ্যমান বাতিলকে খণ্ডন করার জন্য এবং এর অনুসারীদের উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য।
(৬) তাঁর মহিমান্বিত শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আকীদা এবং দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহ কী কী?
তিনি উত্তরে বললেন: আকীদা এবং দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতি হলো, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে পূর্ণরূপে আঁকড়ে ধরা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন যে হেদায়েত ও সুন্নাহর উপর ছিলেন, তার অনুসরণ করা। এর দলীল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলো, 'যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন...'} (সূরা আলে ইমরান: ৩১)।
এবং তাঁর (আল্লাহর) বাণী: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, তবে আমরা তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠাইনি।} (সূরা নিসা: ৮০)।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো; আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো।} (সূরা হাশর: ৭)।
যদিও এই আয়াতটি গনীমতের বণ্টন প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে, তবে শরীয়তের অন্যান্য বিষয়ে তা অধিকতর প্রযোজ্য।
আর কারণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন এবং বলতেন: «অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব, এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ।»
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
«وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار» .
ولقوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،: «عليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» . والنصوص في هذا كثيرة، فطريق أهل السنة والجماعة ومنهاجهم هو التمسك التام بكتاب الله وسنة رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعده، ومن ذلك أنهم يقيمون الدين ولا يتفرقون فيه امتثالا لقول الله - تعالى -: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} . وهم وإن حصل بينهم من الخلاف ما يحصل مما للاجتهاد فيه مساغ، فإن هذا الخلاف لا يؤدي إلى اختلاف قلوبهم بل تجدهم متآلفين متحابين، وإن حصل منهم هذا الاختلاف الذي طريقه الاجتهاد.
ولقوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،: «عليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» . والنصوص في هذا كثيرة، فطريق أهل السنة والجماعة ومنهاجهم هو التمسك التام بكتاب الله وسنة رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعده، ومن ذلك أنهم يقيمون الدين ولا يتفرقون فيه امتثالا لقول الله - تعالى -: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} . وهم وإن حصل بينهم من الخلاف ما يحصل مما للاجتهاد فيه مساغ، فإن هذا الخلاف لا يؤدي إلى اختلاف قلوبهم بل تجدهم متآلفين متحابين، وإن حصل منهم هذا الاختلاف الذي طريقه الاجتهاد.
এবং সালাম। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ। প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো। আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" এ বিষয়ে বহু নস (প্রমাণ) বিদ্যমান।
সুতরাং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ ও পদ্ধতি হলো আল্লাহ তাআলার কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত এবং তাঁর পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে পূর্ণাঙ্গভাবে আঁকড়ে ধরা। এরই অংশ হলো যে, তারা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করে না। এটি তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণী পালনার্থে করে থাকেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই দিয়েছেন, যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, আর যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।}
তাদের মাঝে ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে এমন বিষয়ে মতপার্থক্য (ইখতিলাফ) হলেও, এই মতপার্থক্য তাদের অন্তরের বিভেদের কারণ হয় না। বরং তুমি তাদের পাবে পরস্পর সুসম্পর্কযুক্ত ও ভালোবাসাপূর্ণ, যদিও তাদের মাঝে ইজতিহাদভিত্তিক এই মতপার্থক্য ঘটে থাকে।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো। আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" এ বিষয়ে বহু নস (প্রমাণ) বিদ্যমান।
সুতরাং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ ও পদ্ধতি হলো আল্লাহ তাআলার কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত এবং তাঁর পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে পূর্ণাঙ্গভাবে আঁকড়ে ধরা। এরই অংশ হলো যে, তারা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করে না। এটি তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণী পালনার্থে করে থাকেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই দিয়েছেন, যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, আর যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।}
তাদের মাঝে ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে এমন বিষয়ে মতপার্থক্য (ইখতিলাফ) হলেও, এই মতপার্থক্য তাদের অন্তরের বিভেদের কারণ হয় না। বরং তুমি তাদের পাবে পরস্পর সুসম্পর্কযুক্ত ও ভালোবাসাপূর্ণ, যদিও তাদের মাঝে ইজতিহাদভিত্তিক এই মতপার্থক্য ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أهل السنة والجماعة
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
(7) سئل فضيلة الشيخ - رفع الله درجته في المهديين - من هم أهل السنة والجماعة؟
فأجاب - حفظه الله تعالى - بقوله: أهل السنة والجماعة هم الذين تمسكوا بالسنة، واجتمعوا عليها، ولم يلتفتوا إلى سواها، لا في الأمور العلمية العقدية، ولا في الأمور العملية الحكمية، ولهذا سموا أهل السنة، لأنهم متمسكون بها، وسموا أهل الجماعة، لأنهم مجتمعون عليها.
وإذا تأملت أحوال أهل البدعة وجدتهم مختلفين فيما هم عليه من المنهاج العقدي أو العملي، مما يدل على أنهم بعيدون عن السنة بقدر ما أحدثوا من البدعة.
(8) وسئل - حفظه الله تعالى - عن افتراق أمة النبي محمد، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بعد وفاته؟
فأجاب بقوله: أخبر النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فيما صح عنه أنَّ «اليهود افترقوا على إحدى وسبعين فرقة، والنصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وَأَنَّ هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين فرقة، وهذه الفرق كلها في النار إلا واحدة، وهي ما كان على مثل ما كان عليه النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وأصحابه،» وهذه الفرقة هي الفرقة الناجية التي نجت في الدنيا من البدع، وتنجو في الآخرة من النار، وهي الطائفة المنصورة إلى قيام الساعة التي لا تزال ظاهرة قائمة بأمر الله - عز وجل -.
وهذه الفرق الثلاث والسبعون التي واحدة منها على الحق والباقي
فأجاب - حفظه الله تعالى - بقوله: أهل السنة والجماعة هم الذين تمسكوا بالسنة، واجتمعوا عليها، ولم يلتفتوا إلى سواها، لا في الأمور العلمية العقدية، ولا في الأمور العملية الحكمية، ولهذا سموا أهل السنة، لأنهم متمسكون بها، وسموا أهل الجماعة، لأنهم مجتمعون عليها.
وإذا تأملت أحوال أهل البدعة وجدتهم مختلفين فيما هم عليه من المنهاج العقدي أو العملي، مما يدل على أنهم بعيدون عن السنة بقدر ما أحدثوا من البدعة.
(8) وسئل - حفظه الله تعالى - عن افتراق أمة النبي محمد، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بعد وفاته؟
فأجاب بقوله: أخبر النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فيما صح عنه أنَّ «اليهود افترقوا على إحدى وسبعين فرقة، والنصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وَأَنَّ هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين فرقة، وهذه الفرق كلها في النار إلا واحدة، وهي ما كان على مثل ما كان عليه النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وأصحابه،» وهذه الفرقة هي الفرقة الناجية التي نجت في الدنيا من البدع، وتنجو في الآخرة من النار، وهي الطائفة المنصورة إلى قيام الساعة التي لا تزال ظاهرة قائمة بأمر الله - عز وجل -.
وهذه الفرق الثلاث والسبعون التي واحدة منها على الحق والباقي
(৭) সম্মানিত শাইখকে – আল্লাহ তাঁর মর্যাদা হেদায়েতপ্রাপ্তদের মধ্যে উন্নীত করুন – সায়াল করা হলো: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ কারা?
তিনি উত্তর দিলেন – আল্লাহ তা'আলা তাঁকে হেফাযত করুন – তাঁর এই উক্তি দ্বারা: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ তারাই যারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন, এর উপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং এর বাইরে অন্য কিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি; না ইলমী আকীদাগত বিষয়ে, আর না আমলী হুকুমগত বিষয়ে। আর এ কারণেই তাঁদেরকে 'আহলুস সুন্নাহ' নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁরা সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী। এবং তাঁদেরকে 'আহলুল জামা'আহ' নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁরা এর উপর ঐক্যবদ্ধ।
আর যখন আপনি বিদ'আতপন্থীদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন দেখবেন যে, তারা তাদের আকীদাগত বা আমলী কর্মপদ্ধতিতে পরস্পর ভিন্নমত পোষণকারী। যা প্রমাণ করে যে, তারা সুন্নাহ থেকে ততটুকু দূরে, যতটুকু তারা বিদ'আত উদ্ভাবন করেছে।
(৮) এবং তাঁকে সায়াল করা হলো – আল্লাহ তা'আলা তাঁকে হেফাযত করুন – নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর তাঁর উম্মতের বিভেদ সম্পর্কে?
তিনি উত্তর দিলেন তাঁর এই উক্তি দ্বারা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, «ইয়াহুদীরা একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর নাসারারা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। এই দলগুলোর সবগুলোই জাহান্নামে যাবে, একটি ব্যতীত। আর সেটি হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে পথের উপর ছিলেন, তার অনুরূপ হবে।» আর এই দলটিই হলো 'ফিরকাতুন নাজিয়াহ' (মুক্তিপ্রাপ্ত দল), যারা দুনিয়াতে বিদ'আত থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। আর এটিই হলো 'ত্বাইফাতুল মানসূরাহ' (সাহায্যপ্রাপ্ত দল) যা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্য ও প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
আর এই তিয়াত্তরটি দলের মধ্যে একটি দল হকের উপর থাকবে এবং বাকিগুলো...
তিনি উত্তর দিলেন – আল্লাহ তা'আলা তাঁকে হেফাযত করুন – তাঁর এই উক্তি দ্বারা: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ তারাই যারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন, এর উপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং এর বাইরে অন্য কিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি; না ইলমী আকীদাগত বিষয়ে, আর না আমলী হুকুমগত বিষয়ে। আর এ কারণেই তাঁদেরকে 'আহলুস সুন্নাহ' নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁরা সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী। এবং তাঁদেরকে 'আহলুল জামা'আহ' নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁরা এর উপর ঐক্যবদ্ধ।
আর যখন আপনি বিদ'আতপন্থীদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন দেখবেন যে, তারা তাদের আকীদাগত বা আমলী কর্মপদ্ধতিতে পরস্পর ভিন্নমত পোষণকারী। যা প্রমাণ করে যে, তারা সুন্নাহ থেকে ততটুকু দূরে, যতটুকু তারা বিদ'আত উদ্ভাবন করেছে।
(৮) এবং তাঁকে সায়াল করা হলো – আল্লাহ তা'আলা তাঁকে হেফাযত করুন – নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর তাঁর উম্মতের বিভেদ সম্পর্কে?
তিনি উত্তর দিলেন তাঁর এই উক্তি দ্বারা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, «ইয়াহুদীরা একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর নাসারারা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। এই দলগুলোর সবগুলোই জাহান্নামে যাবে, একটি ব্যতীত। আর সেটি হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে পথের উপর ছিলেন, তার অনুরূপ হবে।» আর এই দলটিই হলো 'ফিরকাতুন নাজিয়াহ' (মুক্তিপ্রাপ্ত দল), যারা দুনিয়াতে বিদ'আত থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। আর এটিই হলো 'ত্বাইফাতুল মানসূরাহ' (সাহায্যপ্রাপ্ত দল) যা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্য ও প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
আর এই তিয়াত্তরটি দলের মধ্যে একটি দল হকের উপর থাকবে এবং বাকিগুলো...
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
على الباطل، قد حاول بعض الناس أن يعددها، وشعّب أهل البدع إلى خمس شعب، وجعل من كل شعبة فروعا ليصلوا إلى هذا العدد الذي عينه النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ورأى بعض الناس أن الأولى الكف عن التعداد لأن هذه الفرق ليست وحدها هي التي ضلت بل قد ضل أناس ضلالا أكثر مما كانت عليه من قبل، وحدثت بعد أن حصرت هذه الفرق باثنتين وسبعين فرقة، وقالوا: إن هذا العدد لا ينتهي ولا يمكن العلم بانتهائه إلا في آخر الزمان عند قيام الساعة، فالأولى أن نجمل ما أجمله النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ونقول: إن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة، ثم نقول: كل من خالف ما كان عليه النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وأصحابه فهو داخل في هذه الفرق، وقد يكون الرسول، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أشار إلى أصول لم نعلم منها الآن إلا ما يبلغ العشرة وقد يكون أشار إلى أصول تتضمن فروعا كما ذهب إليه بعض الناس فالعلم عند الله - عز وجل -.
(9) وسئل الشيخ: عن أبرز خصائص الفرقة الناجية؟ وهل النقص من هذه الخصائص يخرج الإنسان من الفرقة الناجية؟
فأجاب فضيلته بقوله: أبرز الخصائص للفرقة الناجية هي التمسك بما كان عليه النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، في العقيدة، والعبادة، والأخلاق، والمعاملة، هذه الأمور الأربعة تجد الفرقة الناجية بارزة فيها:
ففي العقيدة تجدها متمسكة بما دل عليه كتاب الله، وسنة رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، من التوحيد الخالص في ألوهية الله، وربوبيته، وأسمائه وصفاته.
وفي العبادات تجد هذه الفرقة متميزة في تمسكها التام وتطبيقها لما
(9) وسئل الشيخ: عن أبرز خصائص الفرقة الناجية؟ وهل النقص من هذه الخصائص يخرج الإنسان من الفرقة الناجية؟
فأجاب فضيلته بقوله: أبرز الخصائص للفرقة الناجية هي التمسك بما كان عليه النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، في العقيدة، والعبادة، والأخلاق، والمعاملة، هذه الأمور الأربعة تجد الفرقة الناجية بارزة فيها:
ففي العقيدة تجدها متمسكة بما دل عليه كتاب الله، وسنة رسوله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، من التوحيد الخالص في ألوهية الله، وربوبيته، وأسمائه وصفاته.
وفي العبادات تجد هذه الفرقة متميزة في تمسكها التام وتطبيقها لما
বাতিলের উপর। কিছু লোক এই দলগুলোকে গণনা করার চেষ্টা করেছে এবং বিদআতিদেরকে পাঁচটি প্রধান শাখায় বিভক্ত করেছে, আর প্রতিটি শাখা থেকে উপ-শাখা তৈরি করেছে, যাতে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারে। কিছু লোক মনে করেন যে, এই দলগুলোকে গণনা করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। কারণ, এই দলগুলোই কেবল পথভ্রষ্ট হয়নি, বরং এর আগেও বহু লোক পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং বাহাত্তরটি দলে সীমাবদ্ধ করার পরেও নতুন নতুন দল সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেছেন: এই সংখ্যা শেষ হওয়ার নয় এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এর শেষ সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। সুতরাং, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন, আমরাও তা সংক্ষিপ্তভাবে বলাই উত্তম। আর আমরা বলব: এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, তাদের মধ্যে একটি ব্যতীত বাকি সব জাহান্নামে যাবে। অতঃপর আমরা বলব: যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে পথের উপর ছিলেন, তার বিরোধিতা করবে, সে এই দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো এমন কিছু মূলনীতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার মধ্যে আমরা এখন দশটির বেশি জানি না। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি এমন মূলনীতিগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা শাখা-প্রশাখা ধারণ করে, যেমনটি কিছু লোক মনে করেন। চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহ তাআলার কাছেই।
(৯) শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নাজাতপ্রাপ্ত দলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী? আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনোটিতে ঘাটতি থাকলে কি কোনো ব্যক্তি নাজাতপ্রাপ্ত দল থেকে বেরিয়ে যাবে?
তাঁর ফযীলতপূর্ণ শাইখ উত্তরে বললেন: নাজাতপ্রাপ্ত দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকীদা, ইবাদত, আখলাক ও মুআমালাত (লেনদেন) এর ক্ষেত্রে যে পথের উপর ছিলেন, তার উপর অবিচল থাকা। এই চারটি বিষয়ে নাজাতপ্রাপ্ত দলকে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়:
আকীদার ক্ষেত্রে, আপনি তাদেরকে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ যা নির্দেশ করে, তার উপর অবিচল দেখতে পাবেন। অর্থাৎ, আল্লাহর উলুহিয়্যাত (ইবাদতের ক্ষেত্রে একত্ব), রুবুবিয়্যাত (প্রতিপালকত্বের ক্ষেত্রে একত্ব) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীতে খাঁটি তাওহীদ (একত্ববাদ) এর উপর।
আর ইবাদতের ক্ষেত্রে, আপনি এই দলটিকে সম্পূর্ণভাবে অবিচল থাকা এবং তা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র দেখতে পাবেন, যা
(৯) শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নাজাতপ্রাপ্ত দলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী? আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনোটিতে ঘাটতি থাকলে কি কোনো ব্যক্তি নাজাতপ্রাপ্ত দল থেকে বেরিয়ে যাবে?
তাঁর ফযীলতপূর্ণ শাইখ উত্তরে বললেন: নাজাতপ্রাপ্ত দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকীদা, ইবাদত, আখলাক ও মুআমালাত (লেনদেন) এর ক্ষেত্রে যে পথের উপর ছিলেন, তার উপর অবিচল থাকা। এই চারটি বিষয়ে নাজাতপ্রাপ্ত দলকে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়:
আকীদার ক্ষেত্রে, আপনি তাদেরকে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ যা নির্দেশ করে, তার উপর অবিচল দেখতে পাবেন। অর্থাৎ, আল্লাহর উলুহিয়্যাত (ইবাদতের ক্ষেত্রে একত্ব), রুবুবিয়্যাত (প্রতিপালকত্বের ক্ষেত্রে একত্ব) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীতে খাঁটি তাওহীদ (একত্ববাদ) এর উপর।
আর ইবাদতের ক্ষেত্রে, আপনি এই দলটিকে সম্পূর্ণভাবে অবিচল থাকা এবং তা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র দেখতে পাবেন, যা
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
كان عليه النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، في العبادات في أجناسها، وصفاتها، وأقدارها، وأزمنتها، وأمكنتها، وأسبابها، فلا تجد عندهم ابتداعا في دين الله، بل هم متأدبون غاية الأدب مع الله ورسوله لا يتقدمون بين يدي الله ورسوله في إدخال شيء من العبادات لم يأذن به الله.
وفي الأخلاق تجدهم كذلك متميزين عن غيرهم بحسن الأخلاق كمحبة الخير للمسلمين، وانشراح الصدر، وطلاقة الوجه، وحسن المنطق والكرم والشجاعة إلى غير ذلك من مكارم الأخلاق ومحاسنها.
وفي المعاملات تجدهم يعاملون الناس بالصدق، والبيان اللذين أشار إليهما النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، في قوله: «البيعان بالخيار ما لم يتفرقا فإن صدقا وبينا بورك لهما في بيعهما، وإن كذبا وكتما محقت بركة بيعهما» .
والنقص من هذه الخصائص لا يخرج الإنسان عن كونه من الفرقة الناجية لكن لكل درجات مما عملوا، والنقص في جانب التوحيد ربما يخرجه عن الفرقة الناجية مثل الإخلال بالإخلاص، وكذلك في البدع ربما يأتي ببدع تخرجه عن كونه من الفرقة الناجية.
أما في مسألة الأخلاق والمعاملات فلا يخرج الإخلال بهما من هذه الفرقة وإن كان ذلك ينقص مرتبته.
وقد نحتاج إلى تفصيل في مسألة الأخلاق فإن من أهم ما يكون من الأخلاق اجتماع الكلمة، والاتفاق على الحق الذي أوصانا به الله - تعالى - في قوله: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} .
وفي الأخلاق تجدهم كذلك متميزين عن غيرهم بحسن الأخلاق كمحبة الخير للمسلمين، وانشراح الصدر، وطلاقة الوجه، وحسن المنطق والكرم والشجاعة إلى غير ذلك من مكارم الأخلاق ومحاسنها.
وفي المعاملات تجدهم يعاملون الناس بالصدق، والبيان اللذين أشار إليهما النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، في قوله: «البيعان بالخيار ما لم يتفرقا فإن صدقا وبينا بورك لهما في بيعهما، وإن كذبا وكتما محقت بركة بيعهما» .
والنقص من هذه الخصائص لا يخرج الإنسان عن كونه من الفرقة الناجية لكن لكل درجات مما عملوا، والنقص في جانب التوحيد ربما يخرجه عن الفرقة الناجية مثل الإخلال بالإخلاص، وكذلك في البدع ربما يأتي ببدع تخرجه عن كونه من الفرقة الناجية.
أما في مسألة الأخلاق والمعاملات فلا يخرج الإخلال بهما من هذه الفرقة وإن كان ذلك ينقص مرتبته.
وقد نحتاج إلى تفصيل في مسألة الأخلاق فإن من أهم ما يكون من الأخلاق اجتماع الكلمة، والاتفاق على الحق الذي أوصانا به الله - تعالى - في قوله: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} .
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবাদতের প্রকার, বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, সময়, স্থান ও কারণসমূহে যা অনুসরণ করতেন, তারা (অর্থাৎ মুক্তিপ্রাপ্ত দল) তাই অনুসরণ করে। সুতরাং, তাদের মধ্যে আল্লাহর দ্বীনে কোনো বিদ'আত (নবপ্রবর্তন) দেখতে পাবে না। বরং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে সর্বোচ্চ আদব রক্ষা করে চলে। আল্লাহ যে ইবাদতের অনুমতি দেননি, তা দ্বীনের মধ্যে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রসর হয় না।
আর আখলাকের (চরিত্রের) ক্ষেত্রেও তুমি তাদের অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র দেখতে পাবে উত্তম চরিত্রের কারণে, যেমন মুসলিমদের জন্য কল্যাণ কামনা, প্রশস্ত হৃদয়, হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সুন্দর কথা, উদারতা ও সাহস ইত্যাদি মহৎ ও সুন্দর চরিত্র।
আর মু'আমালাতের (লেনদেনের) ক্ষেত্রে তুমি তাদের দেখতে পাবে মানুষের সাথে সততা ও স্পষ্টতার সাথে আচরণ করতে, যার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এই বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন: «ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার (পছন্দ) থাকে। যদি তারা সত্য বলে এবং স্পষ্ট করে, তবে তাদের বেচাকেনায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং গোপন করে, তবে তাদের বেচাকেনার বরকত মুছে ফেলা হয়»।
এই বৈশিষ্ট্যসমূহের কোনোটিতে ত্রুটি মানুষকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের করে দেয় না, তবে প্রত্যেকের জন্য তাদের আমল অনুযায়ী স্তর রয়েছে। আর তাওহীদের (একত্ববাদের) ক্ষেত্রে ত্রুটি সম্ভবত তাকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের করে দেয়, যেমন ইখলাসের (একনিষ্ঠতার) ক্ষেত্রে ত্রুটি। একইভাবে, বিদ'আতের ক্ষেত্রেও এমন বিদ'আত থাকতে পারে যা তাকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের করে দেয়।
কিন্তু আখলাক ও মু'আমালাতের মাসআলায় এ দুটিতে ত্রুটি এই দল থেকে (অর্থাৎ মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে) বের করে দেয় না, যদিও তা তার মর্যাদা কমিয়ে দেয়।
আর আখলাকের মাসআলায় আমাদের বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, আখলাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঐকবদ্ধতা এবং সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যার উপদেশ আল্লাহ তা'আলা আমাদের দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান দিয়েছেন, যার উপদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, আর যার উপদেশ আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।}
আর আখলাকের (চরিত্রের) ক্ষেত্রেও তুমি তাদের অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র দেখতে পাবে উত্তম চরিত্রের কারণে, যেমন মুসলিমদের জন্য কল্যাণ কামনা, প্রশস্ত হৃদয়, হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সুন্দর কথা, উদারতা ও সাহস ইত্যাদি মহৎ ও সুন্দর চরিত্র।
আর মু'আমালাতের (লেনদেনের) ক্ষেত্রে তুমি তাদের দেখতে পাবে মানুষের সাথে সততা ও স্পষ্টতার সাথে আচরণ করতে, যার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এই বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন: «ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার (পছন্দ) থাকে। যদি তারা সত্য বলে এবং স্পষ্ট করে, তবে তাদের বেচাকেনায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং গোপন করে, তবে তাদের বেচাকেনার বরকত মুছে ফেলা হয়»।
এই বৈশিষ্ট্যসমূহের কোনোটিতে ত্রুটি মানুষকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের করে দেয় না, তবে প্রত্যেকের জন্য তাদের আমল অনুযায়ী স্তর রয়েছে। আর তাওহীদের (একত্ববাদের) ক্ষেত্রে ত্রুটি সম্ভবত তাকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের করে দেয়, যেমন ইখলাসের (একনিষ্ঠতার) ক্ষেত্রে ত্রুটি। একইভাবে, বিদ'আতের ক্ষেত্রেও এমন বিদ'আত থাকতে পারে যা তাকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের করে দেয়।
কিন্তু আখলাক ও মু'আমালাতের মাসআলায় এ দুটিতে ত্রুটি এই দল থেকে (অর্থাৎ মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে) বের করে দেয় না, যদিও তা তার মর্যাদা কমিয়ে দেয়।
আর আখলাকের মাসআলায় আমাদের বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, আখলাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঐকবদ্ধতা এবং সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যার উপদেশ আল্লাহ তা'আলা আমাদের দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান দিয়েছেন, যার উপদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, আর যার উপদেশ আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।}
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وأخبر أن الذين فرقوا دينهم وكانوا شيعا أن محمدا، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، برئ منهم فقال الله - عز وجل -: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} . فاتفاق الكلمة وائتلاف القلوب من أبرز خصائص الفرقة الناجية - أهل السنة والجماعة - فهم إذا حصل بينهم خلاف ناشئ عن الاجتهاد في الأمور الاجتهادية لا يحمل بعضهم على بعض حقدا، ولا عداوة، ولا بغضاء بل يعتقدون أنهم إخوة حتى وإن حصل بينهم هذا الخلاف، حتى إن الواحد منهم ليصلي خلف من يرى أنه ليس على وضوء ويرى الإمام أنه على وضوء، مثل أن الواحد منهم يصلي خلف شخص أكل لحم إبل، وهذا الإمام يرى أنه لا ينقض الوضوء، والمأموم يرى أنه ينقض الوضوء فيرى أن الصلاة خلف ذلك الإمام صحيحة، وإن كان هو لو صلاها بنفسه لرأى أن صلاته غير صحيحة، كل هذا لأنهم يرون أن الخلاف الناشئ عن اجتهاد فيما يسوغ فيه الاجتهاد ليس في الحقيقة بخلاف؛ لأن كل واحد من المختلفين قد تبع ما يجب عليه اتباعه من الدليل الذي لا يجوز له العدول عنه، فهم يرون أن أخاهم إذا خالفهم في عمل ما اتباعا للدليل هو في الحقيقة قد وافقهم؛ لأنهم هم يدعون إلى اتباع الدليل أينما كان، فإذا خالفهم موافقة لدليل عنده، فهو في الحقيقة قد وافقهم؛ لأنه تمشى على ما يدعون إليه ويهدون إليه من تحكيم كتاب الله وسنة رسول الله، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ولا يخفى على كثير من أهل العلم ما حصل من الخلاف بين الصحابة في مثل هذه الأمور، حتى في عهد النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ولم يعنف أحدا منهم، فإنه عليه الصلاة والسلام لما رجع من غزوة الأحزاب وجاءه جبريل وأشار
এবং আল্লাহ তা'আলা জানিয়েছেন যে, যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের থেকে মুক্ত। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তুমি কোনো বিষয়েই তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।" (সূরা আন'আম: ১৫৯)
সুতরাং, কথার ঐক্য ও হৃদয়ের সংহতি নাজাতপ্রাপ্ত দল – আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ – এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কারণ, তাদের মধ্যে যখন ইজতিহাদী বিষয়ে ইজতিহাদ-প্রসূত কোনো মতপার্থক্য দেখা দেয়, তখন তারা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ, শত্রুতা বা ঘৃণা পোষণ করে না। বরং তারা বিশ্বাস করে যে, এই মতপার্থক্য সত্ত্বেও তারা ভাই ভাই। এমনকি তাদের কেউ এমন ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করে, যাকে সে বে-ওযু মনে করে, অথচ ইমাম নিজেকে ওযু অবস্থায় মনে করেন। যেমন, তাদের কেউ এমন ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করে যে উটের গোশত খেয়েছে, আর এই ইমাম মনে করেন যে, উটের গোশত ওযু ভঙ্গ করে না, কিন্তু মুক্তাদী মনে করে যে, তা ওযু ভঙ্গ করে। তবুও সে ঐ ইমামের পেছনে সালাতকে সহীহ মনে করে, যদিও সে নিজে যদি ঐ অবস্থায় সালাত আদায় করত, তবে তার সালাতকে সহীহ মনে করত না। এই সবকিছুর কারণ হলো, তারা মনে করে যে, যে বিষয়ে ইজতিহাদ জায়েজ, তাতে ইজতিহাদ-প্রসূত মতপার্থক্য আসলে কোনো মতপার্থক্যই নয়; কারণ, মতপার্থক্যকারী প্রত্যেকেরই এমন দলীল অনুসরণ করা ওয়াজিব, যা থেকে সরে যাওয়া তার জন্য জায়েজ নয়। সুতরাং, তারা মনে করে যে, তাদের ভাই যদি কোনো আমলে দলীল অনুসরণ করে তাদের বিরোধিতা করে, তবে সে আসলে তাদের সাথে একমত হয়েছে; কারণ, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, দলীল অনুসরণের দিকেই আহ্বান করে। সুতরাং, যদি সে তার কাছে থাকা দলীল অনুযায়ী তাদের বিরোধিতা করে, তবে সে আসলে তাদের সাথে একমত হয়েছে; কারণ, সে আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে বিচারক মানার যে দিকে তারা আহ্বান করে এবং পথ দেখায়, সে পথেই চলেছে। অনেক জ্ঞানীর কাছেই অজানা নয় যে, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এ ধরনের বিষয়ে কী পরিমাণ মতপার্থক্য হয়েছিল, এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগেও, এবং তিনি তাদের কাউকে তিরস্কার করেননি। কারণ, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন গাযওয়াতুল আহযাব থেকে ফিরে এলেন এবং জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে এসে ইশারা করলেন...
সুতরাং, কথার ঐক্য ও হৃদয়ের সংহতি নাজাতপ্রাপ্ত দল – আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ – এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কারণ, তাদের মধ্যে যখন ইজতিহাদী বিষয়ে ইজতিহাদ-প্রসূত কোনো মতপার্থক্য দেখা দেয়, তখন তারা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ, শত্রুতা বা ঘৃণা পোষণ করে না। বরং তারা বিশ্বাস করে যে, এই মতপার্থক্য সত্ত্বেও তারা ভাই ভাই। এমনকি তাদের কেউ এমন ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করে, যাকে সে বে-ওযু মনে করে, অথচ ইমাম নিজেকে ওযু অবস্থায় মনে করেন। যেমন, তাদের কেউ এমন ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করে যে উটের গোশত খেয়েছে, আর এই ইমাম মনে করেন যে, উটের গোশত ওযু ভঙ্গ করে না, কিন্তু মুক্তাদী মনে করে যে, তা ওযু ভঙ্গ করে। তবুও সে ঐ ইমামের পেছনে সালাতকে সহীহ মনে করে, যদিও সে নিজে যদি ঐ অবস্থায় সালাত আদায় করত, তবে তার সালাতকে সহীহ মনে করত না। এই সবকিছুর কারণ হলো, তারা মনে করে যে, যে বিষয়ে ইজতিহাদ জায়েজ, তাতে ইজতিহাদ-প্রসূত মতপার্থক্য আসলে কোনো মতপার্থক্যই নয়; কারণ, মতপার্থক্যকারী প্রত্যেকেরই এমন দলীল অনুসরণ করা ওয়াজিব, যা থেকে সরে যাওয়া তার জন্য জায়েজ নয়। সুতরাং, তারা মনে করে যে, তাদের ভাই যদি কোনো আমলে দলীল অনুসরণ করে তাদের বিরোধিতা করে, তবে সে আসলে তাদের সাথে একমত হয়েছে; কারণ, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, দলীল অনুসরণের দিকেই আহ্বান করে। সুতরাং, যদি সে তার কাছে থাকা দলীল অনুযায়ী তাদের বিরোধিতা করে, তবে সে আসলে তাদের সাথে একমত হয়েছে; কারণ, সে আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে বিচারক মানার যে দিকে তারা আহ্বান করে এবং পথ দেখায়, সে পথেই চলেছে। অনেক জ্ঞানীর কাছেই অজানা নয় যে, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এ ধরনের বিষয়ে কী পরিমাণ মতপার্থক্য হয়েছিল, এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগেও, এবং তিনি তাদের কাউকে তিরস্কার করেননি। কারণ, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন গাযওয়াতুল আহযাব থেকে ফিরে এলেন এবং জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে এসে ইশারা করলেন...
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪১)
إليه أن يخرج إلى بني قريظة الذين نقضوا العهد فندب النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أصحابه فقال: «لا يصلين أحد منكم العصر إلا في بني قريظة» . فخرجوا من المدينة إلى بني قريظة وأرهقتهم صلاة العصر فمنهم من أخر صلاة العصر حتى وصل إلى بني قريظة بعد خروج الوقت لأن النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قال: «لا يصلين أحد منكم العصر إلا في بني قريظة» . ومنهم من صلى الصلاة في وقتها، وقال: إن الرسول، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أراد منا المبادرة إلى الخروج ولم يرد منا أن نؤخر الصلاة عن وقتها - وهؤلاء هم المصيبون - ولكن مع ذلك لم يعنف النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أحدا من الطائفتين، ولم يحمل كل واحد على الآخر عداوة، أو بغضاء بسبب اختلافهم في فهم هذا النص، لذلك أرى أن الواجب على المسلمين الذين ينتسبون إلى السنة أن يكونوا أمة واحدة، وأن لا يحصل بينهم تحزب، هذا ينتمي إلى طائفة، والآخر إلى طائفة أخرى، والثالث إلى طائفة ثالثة، وهكذا، بحيث يتناحرون فيما بينهم بأسنة الألسن، ويتعادون ويتباغضون من أجل اختلاف يسوغ فيه الاجتهاد، ولا حاجة إلى أن أخص كل طائفة بعينها، ولكن العاقل يفهم ويتبين له الأمر.
فأرى أنه يجب على أهل السنة والجماعة أن يتحدوا حتى وإن اختلفوا فيما يختلفون فيه فيما تقتضيه النصوص حسب أفهامهم فإن هذا أمر فيه سعة ولله الحمد، والمهم ائتلاف القلوب واتحاد الكلمة ولا ريب أن أعداء المسلمين يحبون من المسلمين أن يتفرقوا سواء كانوا أعداء يصرحون بالعداوة، أو أعداء يتظاهرون بالولاية للمسلمين، أو للإسلام وهم ليسوا كذلك، فالواجب أن نتميز بهذه الميزة التي هي ميزة للطائفة الناجية وهي الاتفاق على كلمة واحدة.
فأرى أنه يجب على أهل السنة والجماعة أن يتحدوا حتى وإن اختلفوا فيما يختلفون فيه فيما تقتضيه النصوص حسب أفهامهم فإن هذا أمر فيه سعة ولله الحمد، والمهم ائتلاف القلوب واتحاد الكلمة ولا ريب أن أعداء المسلمين يحبون من المسلمين أن يتفرقوا سواء كانوا أعداء يصرحون بالعداوة، أو أعداء يتظاهرون بالولاية للمسلمين، أو للإسلام وهم ليسوا كذلك، فالواجب أن نتميز بهذه الميزة التي هي ميزة للطائفة الناجية وهي الاتفاق على كلمة واحدة.
তাঁর প্রতি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নির্দেশ এলো যে, তিনি বনু কুরাইযার দিকে বের হবেন, যারা চুক্তি ভঙ্গ করেছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে উৎসাহিত করলেন এবং বললেন: "তোমাদের কেউ যেন আসরের সালাত আদায় না করে, বনু কুরাইযাতে পৌঁছার আগে।" অতঃপর তারা মদীনা থেকে বনু কুরাইযার দিকে রওয়ানা হলেন এবং আসরের সালাতের সময় তাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে এলো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আসরের সালাত বিলম্বিত করলেন, এমনকি বনু কুরাইযাতে পৌঁছলেন সময়ের পর (অর্থাৎ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর)। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "তোমাদের কেউ যেন আসরের সালাত আদায় না করে, বনু কুরাইযাতে পৌঁছার আগে।" আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ সালাত আদায় করলেন তার ওয়াক্তেই এবং বললেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের থেকে দ্রুত বের হওয়া চেয়েছিলেন, সালাতকে তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করা চাননি। - আর এরাই ছিলেন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। - কিন্তু এতদসত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় দলের কাউকেই তিরস্কার করেননি এবং এই নসের (কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট নির্দেশ) ব্যাখ্যায় তাদের মতপার্থক্যের কারণে একে অপরের প্রতি শত্রুতা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করেননি।
এই কারণে আমি মনে করি যে, সুন্নাহর অনুসারী মুসলিমদের জন্য ওয়াজিব হলো একটি উম্মাহ হিসেবে থাকা এবং তাদের মধ্যে যেন কোনো দলবাজি না হয়। যেমন, একজন এক দলের অন্তর্ভুক্ত, অন্যজন অন্য দলের, তৃতীয়জন তৃতীয় দলের, এবং এভাবেই। যার ফলে তারা নিজেদের মধ্যে কথার তীর দিয়ে একে অপরের সাথে যুদ্ধ করে এবং এমন মতপার্থক্যের কারণে একে অপরের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে, যেখানে ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে। প্রতিটি দলকে নির্দিষ্ট করে বলার প্রয়োজন নেই, তবে বুদ্ধিমান ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পারবে এবং তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
সুতরাং আমি মনে করি যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া ওয়াজিব, এমনকি যদি তারা এমন বিষয়ে মতপার্থক্য করে, যা তাদের বুঝ অনুযায়ী নসের (কুরআন-সুন্নাহর) দাবি। কারণ এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রশস্ততা রয়েছে, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এবং গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্তরের ঐক্য ও কথার একতা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের শত্রুরা চায় যে মুসলিমরা যেন বিভক্ত হয়ে যায়। তারা প্রকাশ্য শত্রু হোক, অথবা এমন শত্রু হোক যারা মুসলিমদের বা ইসলামের প্রতি বন্ধুত্ব প্রকাশ করে অথচ তারা তা নয়। সুতরাং আমাদের জন্য ওয়াজিব হলো এই বৈশিষ্ট্য দ্বারা স্বতন্ত্র হওয়া, যা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য, আর তা হলো একটি কথার উপর ঐক্যবদ্ধ থাকা।
এই কারণে আমি মনে করি যে, সুন্নাহর অনুসারী মুসলিমদের জন্য ওয়াজিব হলো একটি উম্মাহ হিসেবে থাকা এবং তাদের মধ্যে যেন কোনো দলবাজি না হয়। যেমন, একজন এক দলের অন্তর্ভুক্ত, অন্যজন অন্য দলের, তৃতীয়জন তৃতীয় দলের, এবং এভাবেই। যার ফলে তারা নিজেদের মধ্যে কথার তীর দিয়ে একে অপরের সাথে যুদ্ধ করে এবং এমন মতপার্থক্যের কারণে একে অপরের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে, যেখানে ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে। প্রতিটি দলকে নির্দিষ্ট করে বলার প্রয়োজন নেই, তবে বুদ্ধিমান ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পারবে এবং তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
সুতরাং আমি মনে করি যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া ওয়াজিব, এমনকি যদি তারা এমন বিষয়ে মতপার্থক্য করে, যা তাদের বুঝ অনুযায়ী নসের (কুরআন-সুন্নাহর) দাবি। কারণ এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রশস্ততা রয়েছে, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এবং গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্তরের ঐক্য ও কথার একতা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের শত্রুরা চায় যে মুসলিমরা যেন বিভক্ত হয়ে যায়। তারা প্রকাশ্য শত্রু হোক, অথবা এমন শত্রু হোক যারা মুসলিমদের বা ইসলামের প্রতি বন্ধুত্ব প্রকাশ করে অথচ তারা তা নয়। সুতরাং আমাদের জন্য ওয়াজিব হলো এই বৈশিষ্ট্য দ্বারা স্বতন্ত্র হওয়া, যা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য, আর তা হলো একটি কথার উপর ঐক্যবদ্ধ থাকা।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪২)
(10) وسئل - جزاه الله عن الإسلام والمسلمين خيرا - عن المراد بالوسط في الدين؟
فأجاب بقوله: الوسط في الدين أن لا يغلو الإنسان فيه فيتجاوز ما حد الله - عز وجل - ولا يقصر فيه فينقص عما حد الله - سبحانه وتعالى -.
الوسط في الدين أن يتمسك بسيرة النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، والغلو في الدين أن يتجاوزها، والتقصير أن لا يبلغها.
مثال ذلك، رجل قال: أنا أريد أن أقوم الليل ولا أنام كل الدهر؛ لأن الصلاة من أفضل العبادات فأحب أن أحيي الليل كله صلاة فنقول: هذا غال في دين الله وليس على حق، وقد وقع في عهد النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مثل هذا، «اجتمع نفر فقال بعضهم: أنا أقوم ولا أنام، وقال الآخر: أنا أصوم ولا أفطر، وقال الثالث: أنا لا أتزوج النساء، فبلغ ذلك النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فقال، عليه الصلاة والسلام: ` ما بال أقوامٍ يقولون كذا وكذا أنا أصوم وأفطر، وأقوم، وأنام، وأتزوج النساء، فمن رغب عن سنتي فليس مني `» فهؤلاء غلوا في الدين وتبرأ منهم الرسول، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لأنهم رغبوا عن سنته، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، التي فيها صوم وإفطار، وقيام ونوم، وتزوج نساء.
أما المقصر: فهو الذي يقول: لا حاجة لي بالتطوع فأنا لا أتطوع وآتي بالفريضة فقط، وربما أيضا يقصر في الفرائض فهذا مقصر.
والمعتدل: هو الذي يتمشى على ما كان عليه الرسول، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وخلفاؤه الراشدون.
مثال آخر: ثلاثة رجال أمامهم رجل فاسق، أحدهم قال: أنا لا أسلم على هذا الفاسق وأهجره وأبتعد عنه ولا أكلمه.
فأجاب بقوله: الوسط في الدين أن لا يغلو الإنسان فيه فيتجاوز ما حد الله - عز وجل - ولا يقصر فيه فينقص عما حد الله - سبحانه وتعالى -.
الوسط في الدين أن يتمسك بسيرة النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، والغلو في الدين أن يتجاوزها، والتقصير أن لا يبلغها.
مثال ذلك، رجل قال: أنا أريد أن أقوم الليل ولا أنام كل الدهر؛ لأن الصلاة من أفضل العبادات فأحب أن أحيي الليل كله صلاة فنقول: هذا غال في دين الله وليس على حق، وقد وقع في عهد النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مثل هذا، «اجتمع نفر فقال بعضهم: أنا أقوم ولا أنام، وقال الآخر: أنا أصوم ولا أفطر، وقال الثالث: أنا لا أتزوج النساء، فبلغ ذلك النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فقال، عليه الصلاة والسلام: ` ما بال أقوامٍ يقولون كذا وكذا أنا أصوم وأفطر، وأقوم، وأنام، وأتزوج النساء، فمن رغب عن سنتي فليس مني `» فهؤلاء غلوا في الدين وتبرأ منهم الرسول، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لأنهم رغبوا عن سنته، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، التي فيها صوم وإفطار، وقيام ونوم، وتزوج نساء.
أما المقصر: فهو الذي يقول: لا حاجة لي بالتطوع فأنا لا أتطوع وآتي بالفريضة فقط، وربما أيضا يقصر في الفرائض فهذا مقصر.
والمعتدل: هو الذي يتمشى على ما كان عليه الرسول، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وخلفاؤه الراشدون.
مثال آخر: ثلاثة رجال أمامهم رجل فاسق، أحدهم قال: أنا لا أسلم على هذا الفاسق وأهجره وأبتعد عنه ولا أكلمه.
(১০) প্রশ্ন করা হয়েছিল – আল্লাহ তায়ালা ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাকে উত্তম প্রতিদান দিন – দ্বীনের মধ্যে 'মধ্যপন্থা' (আল-ওয়াসাত) বলতে কী বোঝায়?
তিনি উত্তরে বললেন: দ্বীনের মধ্যে মধ্যপন্থা হলো মানুষ যেন তাতে বাড়াবাড়ি না করে, ফলে আল্লাহ তায়ালা যা নির্ধারণ করেছেন, তা অতিক্রম করে না যায়। আবার তাতে যেন ত্রুটিও না করে, ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যা নির্ধারণ করেছেন, তার চেয়ে কম না করে।
দ্বীনের মধ্যে মধ্যপন্থা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে (জীবনপদ্ধতি) আঁকড়ে ধরা। আর দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি হলো তা অতিক্রম করা, এবং ত্রুটি করা হলো তা পর্যন্ত না পৌঁছা।
এর একটি উদাহরণ হলো, এক ব্যক্তি বলল: "আমি সারা জীবন রাত জেগে ইবাদত করতে চাই এবং ঘুমাতে চাই না; কারণ সালাত সর্বোত্তম ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাই আমি পুরো রাত সালাতে কাটাতে পছন্দ করি।" তখন আমরা বলব: "এই ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনে বাড়াবাড়ি করছে এবং সে সঠিক পথে নেই।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। একদল লোক একত্রিত হয়ে তাদের মধ্যে কেউ বলল: "আমি রাত জেগে ইবাদত করব এবং ঘুমাব না," অন্যজন বলল: "আমি লাগাতার রোজা রাখব এবং ইফতার করব না," আর তৃতীয়জন বলল: "আমি নারীদের বিবাহ করব না।" এই খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে, তিনি, আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম, বললেন: "কিছু লোকের কী হয়েছে যে তারা এমন এমন কথা বলছে? আমি রোজা রাখি এবং ইফতারও করি, আমি রাত জেগে ইবাদত করি এবং ঘুমাইও, আর আমি নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" এরা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করেছিল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন, কারণ তারা তাঁর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছিল, যে সুন্নাহতে রোজা রাখা ও ইফতার করা, রাত জেগে ইবাদত করা ও ঘুমানো, এবং নারীদের বিবাহ করা সবই রয়েছে।
পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ত্রুটি করে: সে হলো সেই ব্যক্তি যে বলে: "আমার নফল ইবাদতের কোনো প্রয়োজন নেই, সুতরাং আমি নফল করব না এবং শুধু ফরযগুলোই আদায় করব।" এবং সম্ভবত সে ফরয আদায়েও ত্রুটি করে। তাহলে এই ব্যক্তিই হলো ত্রুটিকারী।
আর মধ্যপন্থী ব্যক্তি হলো: সে হলো সেই ব্যক্তি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীন যে পথে ছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করে চলে।
আরেকটি উদাহরণ: তিনজন ব্যক্তি তাদের সামনে একজন ফাসিক (পাপী) ব্যক্তিকে দেখল, তাদের মধ্যে একজন বলল: "আমি এই ফাসিককে সালাম দেব না, তাকে বর্জন করব, তার থেকে দূরে থাকব এবং তার সাথে কথা বলব না।"
তিনি উত্তরে বললেন: দ্বীনের মধ্যে মধ্যপন্থা হলো মানুষ যেন তাতে বাড়াবাড়ি না করে, ফলে আল্লাহ তায়ালা যা নির্ধারণ করেছেন, তা অতিক্রম করে না যায়। আবার তাতে যেন ত্রুটিও না করে, ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যা নির্ধারণ করেছেন, তার চেয়ে কম না করে।
দ্বীনের মধ্যে মধ্যপন্থা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে (জীবনপদ্ধতি) আঁকড়ে ধরা। আর দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি হলো তা অতিক্রম করা, এবং ত্রুটি করা হলো তা পর্যন্ত না পৌঁছা।
এর একটি উদাহরণ হলো, এক ব্যক্তি বলল: "আমি সারা জীবন রাত জেগে ইবাদত করতে চাই এবং ঘুমাতে চাই না; কারণ সালাত সর্বোত্তম ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাই আমি পুরো রাত সালাতে কাটাতে পছন্দ করি।" তখন আমরা বলব: "এই ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনে বাড়াবাড়ি করছে এবং সে সঠিক পথে নেই।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। একদল লোক একত্রিত হয়ে তাদের মধ্যে কেউ বলল: "আমি রাত জেগে ইবাদত করব এবং ঘুমাব না," অন্যজন বলল: "আমি লাগাতার রোজা রাখব এবং ইফতার করব না," আর তৃতীয়জন বলল: "আমি নারীদের বিবাহ করব না।" এই খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে, তিনি, আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম, বললেন: "কিছু লোকের কী হয়েছে যে তারা এমন এমন কথা বলছে? আমি রোজা রাখি এবং ইফতারও করি, আমি রাত জেগে ইবাদত করি এবং ঘুমাইও, আর আমি নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" এরা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করেছিল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন, কারণ তারা তাঁর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছিল, যে সুন্নাহতে রোজা রাখা ও ইফতার করা, রাত জেগে ইবাদত করা ও ঘুমানো, এবং নারীদের বিবাহ করা সবই রয়েছে।
পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ত্রুটি করে: সে হলো সেই ব্যক্তি যে বলে: "আমার নফল ইবাদতের কোনো প্রয়োজন নেই, সুতরাং আমি নফল করব না এবং শুধু ফরযগুলোই আদায় করব।" এবং সম্ভবত সে ফরয আদায়েও ত্রুটি করে। তাহলে এই ব্যক্তিই হলো ত্রুটিকারী।
আর মধ্যপন্থী ব্যক্তি হলো: সে হলো সেই ব্যক্তি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীন যে পথে ছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করে চলে।
আরেকটি উদাহরণ: তিনজন ব্যক্তি তাদের সামনে একজন ফাসিক (পাপী) ব্যক্তিকে দেখল, তাদের মধ্যে একজন বলল: "আমি এই ফাসিককে সালাম দেব না, তাকে বর্জন করব, তার থেকে দূরে থাকব এবং তার সাথে কথা বলব না।"
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
والثاني يقول: أنا أمشي مع هذا الفاسق وأسلم عليه وأبش في وجهه وأدعوه عندي وأجيب دعوته وليس عندي إلا كرجل صالح.
والثالث يقول: هذا الفاسق أكرهه لفسقه وأحبه لإيمانه ولا أهجره إلا حيث يكون الهجر سببا لإصلاحه، فإن لم يكن الهجر سببا لإصلاحه بل كان سببا لازدياده في فسقه فأنا لا أهجره.
فنقول: الأول مفرط غالٍ - من الغلو - والثاني مفرط مقصر، والثالث متوسط.
وهكذا نقول في سائر العبادات ومعاملات الخلق، الناس فيها بين مقصر وغال ومتوسط.
ومثال ثالث: رجل كان أسيرا لامرأته توجهه حيث شاءت لا يردها عن إثم ولا يحثها على فضيلة، قد ملكت عقله وصارت هي القوّامة عليه.
ورجل آخر عنده تعسف وتكبر وترفع على امرأته لا يبالي بها وكأنها عنده أقل من الخادم.
ورجل ثالث وسط يعاملها كما أمر الله ورسوله: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} «لا يفرك مؤمن مؤمنة إن كره منها خلقا رضي منها خلقا آخر» . فهذا الأخير متوسط والأول غالٍ في معاملة زوجته، والثالث مقصر. وقس على هذه بقية الأعمال والعبادات.
والثالث يقول: هذا الفاسق أكرهه لفسقه وأحبه لإيمانه ولا أهجره إلا حيث يكون الهجر سببا لإصلاحه، فإن لم يكن الهجر سببا لإصلاحه بل كان سببا لازدياده في فسقه فأنا لا أهجره.
فنقول: الأول مفرط غالٍ - من الغلو - والثاني مفرط مقصر، والثالث متوسط.
وهكذا نقول في سائر العبادات ومعاملات الخلق، الناس فيها بين مقصر وغال ومتوسط.
ومثال ثالث: رجل كان أسيرا لامرأته توجهه حيث شاءت لا يردها عن إثم ولا يحثها على فضيلة، قد ملكت عقله وصارت هي القوّامة عليه.
ورجل آخر عنده تعسف وتكبر وترفع على امرأته لا يبالي بها وكأنها عنده أقل من الخادم.
ورجل ثالث وسط يعاملها كما أمر الله ورسوله: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} «لا يفرك مؤمن مؤمنة إن كره منها خلقا رضي منها خلقا آخر» . فهذا الأخير متوسط والأول غالٍ في معاملة زوجته، والثالث مقصر. وقس على هذه بقية الأعمال والعبادات.
এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি বলে: আমি এই ফাসিকের (পাপীর) সাথে চলি, তাকে সালাম দেই, তার চেহারায় হাসি, তাকে আমার কাছে দাওয়াত দেই এবং তার দাওয়াত গ্রহণ করি। আমার কাছে সে একজন নেককার ব্যক্তি ছাড়া আর কিছু নয়।
আর তৃতীয় ব্যক্তি বলে: এই ফাসিককে আমি তার ফিসকের (পাপের) কারণে ঘৃণা করি এবং তার ঈমানের কারণে ভালোবাসি। আমি তাকে বর্জন (হিজরত) করি না, তবে কেবল তখনই যখন বর্জন তার সংশোধনের কারণ হয়। যদি বর্জন তার সংশোধনের কারণ না হয়, বরং তার ফিসক (পাপ) বৃদ্ধিতে কারণ হয়, তাহলে আমি তাকে বর্জন করি না।
সুতরাং আমরা বলি: প্রথম ব্যক্তি বাড়াবাড়িকারী (غالي - বাড়াবাড়ি থেকে), আর দ্বিতীয় ব্যক্তি ত্রুটিপূর্ণ (মুকাসসির), এবং তৃতীয় ব্যক্তি মধ্যমপন্থী।
আর এভাবেই আমরা অন্যান্য ইবাদত ও মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বলি, মানুষ এগুলোতে ত্রুটিপূর্ণ (মুকাসসির), বাড়াবাড়িকারী (غالي) এবং মধ্যমপন্থীর মাঝে থাকে।
এবং তৃতীয় উদাহরণ: একজন পুরুষ তার স্ত্রীর কাছে বন্দী ছিল। স্ত্রী তাকে যেখানে ইচ্ছা পরিচালিত করত। সে তাকে কোনো পাপ থেকে ফেরাত না এবং কোনো পুণ্যের প্রতি উৎসাহিত করত না। স্ত্রী তার বুদ্ধিকে বশীভূত করে ফেলেছিল এবং সে তার উপর কর্তৃত্বশীলা হয়ে গিয়েছিল।
আর অন্য একজন পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি কঠোরতা, অহংকার এবং ঔদ্ধত্য দেখায়। সে তার প্রতি কোনো পরোয়া করে না এবং যেন সে তার কাছে খাদেমের চেয়েও কম।
আর তৃতীয় একজন পুরুষ মধ্যমপন্থী। সে তার সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী আচরণ করে: "আর নারীদের জন্য রয়েছে তাদের উপর (পুরুষদের) যেমন অধিকার, তেমনি তাদেরও (পুরুষদের উপর) রয়েছে ন্যায়সঙ্গত অধিকার।" (সূরা বাকারা: ২২৮) এবং "কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে। যদি সে তার কোনো চরিত্র অপছন্দ করে, তবে অন্য কোনো চরিত্র তার পছন্দ হবে।" সুতরাং এই শেষোক্ত ব্যক্তি মধ্যমপন্থী। আর প্রথম ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে আচরণে বাড়াবাড়িকারী (غالي), এবং (উদাহরণে বর্ণিত) দ্বিতীয় ব্যক্তি ত্রুটিপূর্ণ (মুকাসসির)।
আর এর উপর ভিত্তি করে অন্যান্য কাজ ও ইবাদতকে পরিমাপ করো।
আর তৃতীয় ব্যক্তি বলে: এই ফাসিককে আমি তার ফিসকের (পাপের) কারণে ঘৃণা করি এবং তার ঈমানের কারণে ভালোবাসি। আমি তাকে বর্জন (হিজরত) করি না, তবে কেবল তখনই যখন বর্জন তার সংশোধনের কারণ হয়। যদি বর্জন তার সংশোধনের কারণ না হয়, বরং তার ফিসক (পাপ) বৃদ্ধিতে কারণ হয়, তাহলে আমি তাকে বর্জন করি না।
সুতরাং আমরা বলি: প্রথম ব্যক্তি বাড়াবাড়িকারী (غالي - বাড়াবাড়ি থেকে), আর দ্বিতীয় ব্যক্তি ত্রুটিপূর্ণ (মুকাসসির), এবং তৃতীয় ব্যক্তি মধ্যমপন্থী।
আর এভাবেই আমরা অন্যান্য ইবাদত ও মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বলি, মানুষ এগুলোতে ত্রুটিপূর্ণ (মুকাসসির), বাড়াবাড়িকারী (غالي) এবং মধ্যমপন্থীর মাঝে থাকে।
এবং তৃতীয় উদাহরণ: একজন পুরুষ তার স্ত্রীর কাছে বন্দী ছিল। স্ত্রী তাকে যেখানে ইচ্ছা পরিচালিত করত। সে তাকে কোনো পাপ থেকে ফেরাত না এবং কোনো পুণ্যের প্রতি উৎসাহিত করত না। স্ত্রী তার বুদ্ধিকে বশীভূত করে ফেলেছিল এবং সে তার উপর কর্তৃত্বশীলা হয়ে গিয়েছিল।
আর অন্য একজন পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি কঠোরতা, অহংকার এবং ঔদ্ধত্য দেখায়। সে তার প্রতি কোনো পরোয়া করে না এবং যেন সে তার কাছে খাদেমের চেয়েও কম।
আর তৃতীয় একজন পুরুষ মধ্যমপন্থী। সে তার সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী আচরণ করে: "আর নারীদের জন্য রয়েছে তাদের উপর (পুরুষদের) যেমন অধিকার, তেমনি তাদেরও (পুরুষদের উপর) রয়েছে ন্যায়সঙ্গত অধিকার।" (সূরা বাকারা: ২২৮) এবং "কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে। যদি সে তার কোনো চরিত্র অপছন্দ করে, তবে অন্য কোনো চরিত্র তার পছন্দ হবে।" সুতরাং এই শেষোক্ত ব্যক্তি মধ্যমপন্থী। আর প্রথম ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে আচরণে বাড়াবাড়িকারী (غالي), এবং (উদাহরণে বর্ণিত) দ্বিতীয় ব্যক্তি ত্রুটিপূর্ণ (মুকাসসির)।
আর এর উপর ভিত্তি করে অন্যান্য কাজ ও ইবাদতকে পরিমাপ করো।
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الإيمان والإسلام
ঈমান ও ইসলাম
(খণ্ড: ১)
মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
(11) وسئل فضيلة الشيخ: عن تعريف الإسلام والفرق بينه وبين الإيمان؟
فأجاب - حفظه الله - بقوله: الإسلام بالمعنى العام هو: ` التعبد لله - تعالى - بما شرعه من العبادات التي جاءت بها رسله، منذ أن أرسل الله الرسل إلى أن تقوم الساعة ` فيشمل ما جاء به نوح، عليه الصلاة والسلام، من الهدى والحق، وما جاء به موسى، وما جاء به عيسى، ويشمل ما جاء به إبراهيم، عليه الصلاة والسلام، إمام الحنفاء، كما ذكر الله - تبارك وتعالى - ذلك في آيات كثيرة تدل على أن الشرائع السابقة كلها إسلام لله - عز وجل -.
والإسلام بالمعنى الخاص بعد بعثة النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يختص بما بعث به محمد، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ لأن ما بعث به، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نسخ جميع الأديان السابقة فصار من اتبعه مسلما، ومن خالفه ليس بمسلم؛ لأنه لم يستسلم لله بل استسلم لهواه، فاليهود مسلمون في زمن موسى، عليه الصلاة والسلام، والنصارى مسلمون في زمن عيسى، عليه الصلاة والسلام، وأما حين بعث محمد، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فكفروا به فليسوا بمسلمين ولهذا لا يجوز لأحد أن يعتقد أن دين اليهود والنصارى الذي يدينون به اليوم دين صحيح مقبول عند الله مساو لدين الإسلام، بل من اعتقد ذلك فهو كافر خارج عن دين الإسلام؛ لأن الله
فأجاب - حفظه الله - بقوله: الإسلام بالمعنى العام هو: ` التعبد لله - تعالى - بما شرعه من العبادات التي جاءت بها رسله، منذ أن أرسل الله الرسل إلى أن تقوم الساعة ` فيشمل ما جاء به نوح، عليه الصلاة والسلام، من الهدى والحق، وما جاء به موسى، وما جاء به عيسى، ويشمل ما جاء به إبراهيم، عليه الصلاة والسلام، إمام الحنفاء، كما ذكر الله - تبارك وتعالى - ذلك في آيات كثيرة تدل على أن الشرائع السابقة كلها إسلام لله - عز وجل -.
والإسلام بالمعنى الخاص بعد بعثة النبي، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يختص بما بعث به محمد، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ لأن ما بعث به، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نسخ جميع الأديان السابقة فصار من اتبعه مسلما، ومن خالفه ليس بمسلم؛ لأنه لم يستسلم لله بل استسلم لهواه، فاليهود مسلمون في زمن موسى، عليه الصلاة والسلام، والنصارى مسلمون في زمن عيسى، عليه الصلاة والسلام، وأما حين بعث محمد، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فكفروا به فليسوا بمسلمين ولهذا لا يجوز لأحد أن يعتقد أن دين اليهود والنصارى الذي يدينون به اليوم دين صحيح مقبول عند الله مساو لدين الإسلام، بل من اعتقد ذلك فهو كافر خارج عن دين الإسلام؛ لأن الله
(১১) সম্মানিত শাইখকে জিজ্ঞাসা করা হলো: ইসলামের সংজ্ঞা এবং ঈমানের সাথে এর পার্থক্য সম্পর্কে?
তিনি - আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন - উত্তরে বললেন: ইসলামের সাধারণ অর্থ হলো: আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করা, তিনি যে ইবাদতসমূহ শরীয়তসম্মত করেছেন তা দ্বারা, যা তাঁর রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন, আল্লাহ তা'আলা রাসূল প্রেরণের শুরু থেকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত। সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত হলো নূহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যে হেদায়েত ও সত্য নিয়ে এসেছিলেন, এবং মূসা যা নিয়ে এসেছিলেন, এবং ঈসা যা নিয়ে এসেছিলেন, এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), যিনি একনিষ্ঠদের ইমাম, যা নিয়ে এসেছিলেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য আয়াতে তা উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি আত্মসমর্পণ (ইসলাম) ছিল।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির পর ইসলামের বিশেষ অর্থ হলো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার সাথে নির্দিষ্ট। কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তা পূর্ববর্তী সকল ধর্মকে রহিত (নসখ) করে দিয়েছে। সুতরাং যে তাঁর অনুসরণ করবে সে মুসলিম, আর যে তাঁর বিরোধিতা করবে সে মুসলিম নয়; কারণ সে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেনি, বরং তার প্রবৃত্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সুতরাং ইয়াহুদীরা মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যুগে মুসলিম ছিল, এবং নাসারারা ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যুগে মুসলিম ছিল। কিন্তু যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন, তখন তারা তাঁকে অস্বীকার (কুফরি) করায় তারা মুসলিম নয়। এ কারণেই কারো জন্য এটা বিশ্বাস করা জায়েজ নয় যে, ইয়াহুদী ও নাসারারা আজ যে ধর্ম পালন করে তা আল্লাহর কাছে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য ধর্ম এবং ইসলামের ধর্মের সমতুল্য। বরং যে ব্যক্তি এমন বিশ্বাস করবে সে কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে; কারণ আল্লাহ তা'আলা...
তিনি - আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন - উত্তরে বললেন: ইসলামের সাধারণ অর্থ হলো: আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করা, তিনি যে ইবাদতসমূহ শরীয়তসম্মত করেছেন তা দ্বারা, যা তাঁর রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন, আল্লাহ তা'আলা রাসূল প্রেরণের শুরু থেকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত। সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত হলো নূহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যে হেদায়েত ও সত্য নিয়ে এসেছিলেন, এবং মূসা যা নিয়ে এসেছিলেন, এবং ঈসা যা নিয়ে এসেছিলেন, এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), যিনি একনিষ্ঠদের ইমাম, যা নিয়ে এসেছিলেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য আয়াতে তা উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি আত্মসমর্পণ (ইসলাম) ছিল।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির পর ইসলামের বিশেষ অর্থ হলো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার সাথে নির্দিষ্ট। কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তা পূর্ববর্তী সকল ধর্মকে রহিত (নসখ) করে দিয়েছে। সুতরাং যে তাঁর অনুসরণ করবে সে মুসলিম, আর যে তাঁর বিরোধিতা করবে সে মুসলিম নয়; কারণ সে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেনি, বরং তার প্রবৃত্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সুতরাং ইয়াহুদীরা মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যুগে মুসলিম ছিল, এবং নাসারারা ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যুগে মুসলিম ছিল। কিন্তু যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন, তখন তারা তাঁকে অস্বীকার (কুফরি) করায় তারা মুসলিম নয়। এ কারণেই কারো জন্য এটা বিশ্বাস করা জায়েজ নয় যে, ইয়াহুদী ও নাসারারা আজ যে ধর্ম পালন করে তা আল্লাহর কাছে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য ধর্ম এবং ইসলামের ধর্মের সমতুল্য। বরং যে ব্যক্তি এমন বিশ্বাস করবে সে কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে; কারণ আল্লাহ তা'আলা...