(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: -)
شهداء أحد الذين ذكرهم ابن إسحاق في مغازيه القسم: السيرة النبوية
الكتاب: شهداء أحد الذين ذكرهم ابن إسحاق في مغازيه
المؤلف: محمد بن عبد الله بن عبد القادر غبان الصبحي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة والثلاثون، العدد 124 - 1424هـ /2004م.
عدد الصفحات: 498
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উহুদ যুদ্ধের শহীদগণ যাদের কথা ইবনে ইসহাক তাঁর মাগাযি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: উহুদ যুদ্ধের শহীদগণ যাদের কথা ইবনে ইসহাক তাঁর মাগাযি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির গাব্বান আস-সুবহি
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ছত্রিশতম বর্ষ, সংখ্যা ১২৪ - ১৪২৪ হিজরি / ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬১)
ال
مقدمةإِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَاْ وَمِنْ سَيِّئَاْتِ أَعْمَاْلِنَاْ، مَنْ يَهْدِهِ اْللَّهُ فَلَا مُضِلَّ له وَمَنْ يُضْلِلْ َلَا هَاْدِيَ له، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اْللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ له، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدَاً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. {يَاْ أَيُّهَاْ اْلَّذِيْنَ آمَنُوْاْ اْتَّقُوْاْ اْللَّهَ حَقَّ تُقَاْتِهِ وَلَا تَمُوْتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُوْنَ} 1.
{يَاْ أَيُّهَاْ اْلنَّاْسُ اْتَّقُواْ رَبَّكُمُ اْلَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاْحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَاْ زَوْجَهَاْ وَبَثَّ مِنْهُمَاْرِجَاْلاً كَثِيرَاً وَنِسَاْءً وَاْتَّقُواْ اْللَّه اْلِّذي تَسَاْءَلُونَ بِهِ وَاْلَارْحَاْمَ إِنَّ اْللَّه كَاْنَ عَلَيْكُمْ رَقِيْبَاْ} 2.
{يَاْ أَيُّهَاْ اْلَّذِيْنَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اْللَّه وَقُوْلُواْ قَوْلاً سَدِيْدَاً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَاْلَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اْللَّه وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَاْزَ فَوْزَاً عَظِيمَاً} 3.
إنَّ خير الحديث كتاب اللَّه، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار4.
وبعد: فإن طلب العلم الشرعي والاشتغال بعلم الكتاب السنة والبحث والقراءة والاطلاع على كتب أهل العلم من أجلِّ الأعمال، وهو قربة إلى الله تعالى لمن أحسن النية والقصد، وهو أيضا مساهمة في خدمة العلم وطلابه، وقد أشار النووي إلى ضرورة وجود هذين الهدفين في الباحث قبل الإقدام على
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি বিভ্রান্ত করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} ১।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়দের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী} ২।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো; তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে} ৩।
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম ৪।
অতঃপর: নিশ্চয়ই শরয়ি ইলম অন্বেষণ করা, কিতাব ও সুন্নাহর ইলম নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং গবেষণাকর্ম, অধ্যয়ন ও আলিমদের কিতাবসমূহ দেখা সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম সেই ব্যক্তির জন্য যে তার নিয়ত ও উদ্দেশ্যকে সঠিক করেছে। এটি ইলম ও ইলম অন্বেষণকারীদের খিদমতে একটি অবদানও বটে। ইমাম নববী গবেষকের কোনো কাজে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে তাঁর মধ্যে এই দুটি উদ্দেশ্যের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬২)
البحث والكتابة والتصنيف فيقول في باب آداب المعلم: “وينبغي أن يعتني بالتصنيف إذا تأهل له1، فبه يطلع على حقائق العلم ودقائقه ويثبت معه لأنه يضطره إلى كثرة التفتيش والمطالعة والتحقيق والمراجعة والاطلاع على مختلف كلام الأئمة ومتفقه وواضحه من مشكله: وصحيحه من ضعيفه: وجزله من ركيكه، وما لا اعتراض عليه من غيره وبه يتصف المحقق بصفة المجتهد”.
ويقول: “وينبغي أن يكون اعتناؤه من التصنيف لما لم يسبق إليه أكثر، والمراد بهذا أن لا يكون هناك مصَنَّف يغني عن مصَنَّفِهِ في جميع أساليبه، فإن أغنى عن بعضها فليصنف من جنسه ما يزيد زيادات يحتفل بها مع ضم ما فاته من الأساليب وليكن تصنيفه فيما يعم به ويكثر الاحتياج إليه”2.
ويقول حاجي خليفة: “ثم إن التأليف على سبعة أقسام لا يؤلف عالم عاقل إلا فيها وهي: إما شيء لم يسبق إليه فيخترعه، أو شيء ناقص يتممه، أو شيء مغلق يشرحه، أو شيء طويل يختصره دون أن يخل بشيء من معانيه، أو شيء متفرق يجمعه، أو شيء مختلط يرتبه، أو شيء أخطأ فيه مصنفه فيصلحه”3.
وذكر ابن خلدون: “أن الناس حصروا مقاصد التأليف التي ينبغي اعتمادها وإلغاء ما سواها فعدوها سبعة وذكر منها: أن تكون مسائل قد وقعت غير مرتبة في أبوابها ولا منتظمة فيتقصد المطلع على ذلك أن يرتبها ويهذبها ويجعل كل مسئلة في بابها”4.
وحسب علمي فإن أحدا من المصنفين والمؤلفين لم يفرد شهداء أحد رضي
--------------------------------------------
গবেষণা, লিখন ও গ্রন্থ রচনা সম্পর্কে তিনি 'শিক্ষকের আদব' অধ্যায়ে বলেন: “যখন কেউ যোগ্য বিবেচিত হবে তখন তার উচিত গ্রন্থ রচনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া১, কারণ এর মাধ্যমে সে ইলমের হাকিকত ও সূক্ষ্ম বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং ইলম তার মাঝে দৃঢ় হয়। কারণ এটি তাকে অধিক অনুসন্ধান, অধ্যয়ন, তাহকিক, পর্যালোচনা এবং ইমামগণের বিভিন্ন বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হতে বাধ্য করে; তেমনিভাবে তা তাকে ইমামদের ঐক্যমত্যপূর্ণ বিষয়, অস্পষ্ট বিষয় থেকে স্পষ্ট বিষয়, সহিহ থেকে জয়িফ, সাবলীল থেকে দুর্বল এবং প্রশ্নাতীত বিষয়াদি থেকে অন্যদের বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে বাধ্য করে। এর মাধ্যমেই একজন মুহাক্কিক (গবেষক) মুজতাহিদের গুণাবলি লাভ করেন।”
তিনি বলেন: “গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তার উচিত এমন বিষয়ের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া যাতে আগে কাজ হয়নি। এর উদ্দেশ্য হলো, যেন এমন কোনো কিতাব না থাকে যা তার কিতাবের সকল পদ্ধতির অভাব পূরণ করে দেয়। তবে যদি কিছু ক্ষেত্রে অভাব পূরণ করে, তাহলে তার উচিত হবে সেই জাতীয় বিষয়ের ওপর এমন কিছু সংযোজন করা যা সমাদৃত হবে এবং যেসব পদ্ধতি বাদ পড়েছে তা যুক্ত করা। আর তার গ্রন্থ রচনা যেন এমন বিষয়ের ওপর হয় যা ব্যাপক উপকারী এবং যার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি২।”
হাজি খলিফা বলেন: “অতঃপর গ্রন্থ রচনা সাত প্রকারের হয়ে থাকে; একজন বুদ্ধিমান আলেম এই সাতটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কিতাব লিখেন না। সেগুলো হলো: হয় এমন কিছু যা আগে কেউ করেনি ফলে তিনি তা উদ্ভাবন করেন, অথবা কোনো অসম্পূর্ণ বিষয় যা তিনি পূর্ণ করেন, অথবা কোনো জটিল বিষয় যা তিনি ব্যাখ্যা করেন, অথবা কোনো দীর্ঘ বিষয় যা তিনি মূল অর্থের কোনো ক্ষতি না করে সংক্ষিপ্ত করেন, অথবা কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় যা তিনি একত্র করেন, অথবা কোনো এলোমেলো বিষয় যা তিনি বিন্যস্ত করেন, অথবা এমন কোনো বিষয় যাতে লেখক ভুল করেছেন ফলে তিনি তা সংশোধন করেন৩।”
ইবনে খালদুন উল্লেখ করেন: “নিশ্চয়ই বিজ্ঞজনগণ গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যসমূহকে সীমাবদ্ধ করেছেন যার ওপর নির্ভর করা উচিত এবং এছাড়া অন্য সব বাতিল গণ্য হবে। তাঁরা এগুলোকে সাতটি বলে গণ্য করেছেন এবং তার মধ্যে উল্লেখ করেছেন: এমন কিছু মাসয়ালা যা তার নির্দিষ্ট অধ্যায়ে বিন্যস্ত বা সুশৃঙ্খলভাবে নেই, ফলে পাঠক সেই বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দিয়ে তা সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করেন এবং প্রত্যেক মাসয়ালাকে তার নির্দিষ্ট অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করেন৪।”
আমার জানামতে, গ্রন্থকার ও লেখকদের মধ্যে কেউই উহুদ যুদ্ধের শহীদদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জন্য স্বতন্ত্রভাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৩)
الله عنهم بمؤلف خاص.
ولما كان هذا الموضوع لم يسبق إليه، ولا يوجد مصنف يغني عنه بجميع أساليبه، كما أن معلوماته متفرقة، وتحتاج إلى جمع وتصنيف.
استحق أن يصنف فيه، واتنطبقت عليه الشروط التي ذكرها العلماء المشار إليها آنفا للتأليف.
لذا: رأيت أن من المفيد القيام بهذا العمل لذكر أسماء هؤلاء الشهداء وسيرهم العظيمة؛ ولألقي شيئا من الضوء على مآثرهم وتضحياتهم بالمال والنفس في سبيل الله، وهو مساهمة في تمجيد ذكر هؤلاء الأبطال وإشهارهم والإشادة بهم؛ وذكر أعظم فضل لهم وهو الاستشهاد ليذكروا بذلك ويترحم ويترضى عليهم ويدعى لهم بالمغفرة، وهذا من أقل ما يستحقونه.
ولا يخفى على كل مسلم ما لصحابة رسول الله صلى الله عليه وسله من فضل على أمة محمد صلى الله عليه وسله، فقد جاهدوا من أجل نشر كلمة التوحيد، وفي سبيل ذلك لقوا أشد العذاب والأذى، فقدموا كل غال ونفيس: وضحوا بأموالهم وأوقاتهم بل وأرواحهم لإعلاء كلمة الله.
ومن أوائل هؤلاء الرجال الصادقين ثلة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسله الأولين وهم الذين استشهدوا في غزوة أحد التي وقعت في شهر شوال من السنة الثالثة من الهجرة النبوية.
وقد سرد أسماءهم: محمد بن إسحاق بن يسار المُطَّلِبي في كتابه السير ورتبهم على قبائلهم، فصدرهم بالمهاجرين ثم الأوس من الأنصار، ثم الخزرج منهم.
وكما هو معلوم فإن كتاب السير والمغازي لابن إسحاق مفقود إلا جزء يسير منه من رواية محمد بن سلمة عن محمد بن إسحاق ينتهي في أوائل غزوة أحد، بتحقيق الدكتور سهيل زكار، وأيضاً بتحقيق وتعليق الدّكتور محمّد حميد الله، وليس فيه قائمة شهداء أحد.
...আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, একটি বিশেষ গ্রন্থের মাধ্যমে।
যেহেতু এই বিষয়টি ইতিপূর্বে কেউ স্পর্শ করেননি এবং এমন কোনো গ্রন্থ নেই যা এর সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে এর অভাব পূরণ করতে পারে, পাশাপাশি এর তথ্যাদি বিক্ষিপ্ত এবং তা সংগ্রহ ও বিন্যাস করা প্রয়োজন।
তাই এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করা সমীচীন এবং ইতিপূর্বে আলেমগণ গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে যেসব শর্তাবলি উল্লেখ করেছেন, তা এর ওপর পূর্ণরূপে প্রযোজ্য হয়েছে।
অতএব: আমি এই সকল শহীদদের নাম ও তাঁদের মহান জীবনী আলোচনার জন্য এই কাজটি করাকে কল্যাণকর মনে করেছি; যেন আল্লাহর পথে তাঁদের কীর্তি এবং জান-মালের কোরবানি সম্পর্কে আলোকপাত করা যায়। এটি সেই সকল বীরদের মর্যাদাকে মহিমান্বিত করা, তাঁদের কথা প্রচার করা এবং তাঁদের প্রশংসা করার একটি প্রয়াস। পাশাপাশি তাঁদের শ্রেষ্ঠ ফযিলত অর্থাৎ শাহাদাত বরণের কথা উল্লেখ করা, যেন এর মাধ্যমে তাঁদের স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির দোয়া করা হয় এবং তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়; আর এটি তাঁদের প্রাপ্য নূন্যতম সম্মান।
উম্মতে মুহাম্মাদীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের যে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, তা কোনো মুসলিমের কাছে অস্পষ্ট নয়। তাঁরা তাওহীদের বাণী প্রচারের জন্য জিহাদ করেছেন এবং এই পথে চরম নিগ্রহ ও কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁরা তাঁদের মূল্যবান সব কিছু বিলিয়ে দিয়েছেন; আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করতে তাঁরা তাঁদের ধন-সম্পদ, সময় এমনকি জীবনকেও উৎসর্গ করেছেন।
সেই সকল সত্যবাদী ব্যক্তিদের অগ্রবর্তী একটি দল হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাথমিক যুগের সাহাবীগণ, যারা হিজরী তৃতীয় সনের শাওয়াল মাসে সংঘটিত উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছিলেন।
মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মুত্তালিবী তাঁর সিরাত গ্রন্থে তাঁদের নামগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন এবং গোত্র অনুযায়ী তাঁদের বিন্যস্ত করেছেন। তিনি প্রথমে মুহাজিরদের, এরপর আনসারদের মধ্য থেকে আওস গোত্রের এবং তারপর খাযরাজ গোত্রের শহীদদের নাম উল্লেখ করেছেন।
যেমনটি সুবিদিত যে, ইবনে ইসহাকের ‘আস-সিয়ার ওয়াল মাগাযী’ গ্রন্থটি হারিয়ে গেছে; কেবল মুহাম্মাদ বিন সালামাহ কর্তৃক মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণিত একটি সামান্য অংশ অবশিষ্ট আছে যা উহুদ যুদ্ধের শুরুর দিকে গিয়ে শেষ হয়েছে। এটি ডক্টর সুহাইল জাক্কার এবং ডক্টর মুহাম্মাদ হামিদুল্লাহর সম্পাদনা ও টীকাসহ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এতে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের তালিকা নেই।
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
ونقل لنا ابن هشام هذه القائمة في تهذيبه لسيرة ابن إسحاق وقد اعتمدت عليه فيها في بحثي هذا1.
وسرد ابن حزم قائمة بأسماء شهداء أحد2كما ذكر الذهبي3عقب ترجمة مصعب بن عمير رضي الله عنه في سير أعلام النبلاء قائمة بأسمائهم أيضا، ولم يذكر أنه اعتمد في ذكرها على ابن إسحاق إلا أنها تشبه إلى حد كبير قائمة ابن إسحاق التي ذكرها عنه ابن هشام في تهذيبه للسيرة؛ ووجه اختلاف قائمة الذهبي عن قائمة ابن إسحاق؛ أن الذهبي أسقط ذكر ثلاثة من الشهداء ممن ذكرهم ابن إسحاق، وأضاف سبعة.
فقد أضاف من الأوس: مالك بن أمية، وعوف بن عمرو، ومالك حليف سبيع بن حاطب، وعمير بن عدي، ومن الخزرج: إياس بن عدي، ومن بني الحرث بن الخزرج: عمرو بن إياس، ومالك بن إياس.
وأسقط: سعد بن الربيع، وثابت بن وقش، وأنيس بن قتادة.
وإضافته لـ: مالك بن أمية، وعوف بن عمرو وقعت عقب ذكره لحنظلة ابن أبي عامر، والذي يظهر لي أن الذهبي وهم في ذكر مالك هذا فإن صنيع ابن هشام يوهم أن مالك بن أمة ـ وليس أمية ـ ممن استشهد يوم أحد وسبب ذلك أن ابن هشام عقب على ابن إسحاق بالتعريف بجدِّ أبي سفيان بن الحارث وجدِّ حنظلة غسيل الملائكة.
والنص في تهذيب سيرة ابن إسحاق لابن هشام هكذا: “ومن بني عمرو بن عوف ثم من بني ضبيعة بن زيد: أبو سفيان بن الحارث بن قيس بن زيد،
--------------------------------------------
ইবনে হিশাম তাঁর ইবনে ইসহাকের সীরাতের পরিমার্জিত সংস্করণে (তাহযীব) আমাদের নিকট এই তালিকাটি বর্ণনা করেছেন এবং আমি আমার এই গবেষণায় তাঁর ওপরই নির্ভর করেছি১।
ইবনে হাযম উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের নামের একটি তালিকা বর্ণনা করেছেন২, যেমনটি আয-যাহাবীও৩ তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে মুসআব ইবনে উমাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী আলোচনার পর তাঁদের নামের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন। যদিও তিনি উল্লেখ করেননি যে এটি বর্ণনায় তিনি ইবনে ইসহাকের ওপর নির্ভর করেছেন, তবে এটি ইবনে হিশাম কর্তৃক তাঁর সীরাতের পরিমার্জিত সংস্করণে উল্লিখিত ইবনে ইসহাকের তালিকার সাথে অনেকাংশেই সাদৃশ্যপূর্ণ। আর ইবনে ইসহাকের তালিকার সাথে আয-যাহাবীর তালিকার পার্থক্যের দিকটি হলো; আয-যাহাবী ইবনে ইসহাক কর্তৃক উল্লিখিত তিনজন শহীদের নাম বাদ দিয়েছেন এবং সাতজন শহীদের নাম যুক্ত করেছেন।
তিনি আউস গোত্র থেকে যুক্ত করেছেন: মালিক ইবনে উমাইয়াহ, আওফ ইবনে আমর, সুবাই ইবনে হাতিবের মিত্র মালিক এবং উমাইর ইবনে আদি। আর খাজরাজ গোত্র থেকে: ইয়াস ইবনে আদি। এবং বনু হারিস ইবনুল খাজরাজ থেকে: আমর ইবনে ইয়াস এবং মালিক ইবনে ইয়াস।
এবং তিনি বাদ দিয়েছেন: সা'দ ইবনুর রাবী, সাবিত ইবনে ওয়াকশ এবং আনিস ইবনে কাতাদাহ।
মালিক ইবনে উমাইয়াহ এবং আওফ ইবনে আমরকে তিনি হানজালা ইবনে আবি আমিরের আলোচনার পরপরই যুক্ত করেছেন। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এই মালিকের ব্যাপারে আয-যাহাবী বিভ্রমে পতিত হয়েছেন। কেননা ইবনে হিশামের উপস্থাপনা এমন একটি ধারণার সৃষ্টি করে যে, মালিক ইবনে আমাহ—উমাইয়াহ নয়—তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এর কারণ হলো, ইবনে হিশাম ইবনে ইসহাকের বর্ণনার পর আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস এবং ফেরেশতাদের দ্বারা গোসলকৃত হানজালার পিতামহের পরিচয় উল্লেখ করেছেন।
ইবনে হিশাম কর্তৃক ইবনে ইসহাকের সীরাতের পরিমার্জিত সংস্করণের মূল পাঠটি নিম্নরূপ: "এবং বনু আমর ইবনে আওফ থেকে, অতঃপর বনু দাবিয়া ইবনে যাইদ থেকে: আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনে কাইস ইবনে যাইদ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৫)
وحنظلة بن أبي عامر بن صيفي بن نعمان بن مالك بن أمة، وهو غسيل الملائكة قتله شداد بن الأسود بن شعوب الليثي رجلان (قال ابن هشام: قيس بن زيد ابن ضبيعة، ومالك بن أمة بن ضبيعة) قال ابن إسحاق: ومن بني عبيد بن زيد.... الخ”.
فمن جعل مالك بن أمة ممن استشهد في أحد ظن أن قوله: (ومالك بن أمة ابن ضبيعة) إنما هو من استدراكات ابن هشام على ابن إسحاق في ذكر من استشهد بأحد، لكن ابن هشام لم يستدرك أحدا من الشهداء في ثنايا كلام ابن إسحاق، إنما جعل استدراكاته بعد فراغ ابن إسحاق من ذكرهم، ومداخلات ابن هشام اقتصرت على التوضيح والتعريف فقط.
وهذه منها فإن ابن هشام في مداخلته هذه إنما يعرف بجدِّ أبي سفيان: (قيس) وجدَّ حنظلة: (مالك بن أمة) وأنهما ابنا ضبيعة حيث أورد ابن إسحاق هذين الصحابيين رضي الله عنهما فيمن استشهد من بني ضبيعة فأراد ابن هشام زيادة في الربط والتوضيح بأنهما وصل نسبهما إلى ضبيعة.
وليس في الصحابة أحد باسم: مالك بن أمة؛ وفيهم: مالك بن أمية واحد فقط وهو:”مالك بن أمية بن عمرو السلمي من حلفاء بني أسد بن خزيمة شهد بدرا واستشهد يوم اليمامة”1، كما أنه لا يوجد في الصحابة أحد باسم: عوف بن عمرو.
وسرد أسماء شهداء أحد ابن سيد الناس المتوفى سنة 734? في كتابه السيرة النبوية المسمى: (عيون الأثر في فنون المغازي والشمائل والسير) 2.
وممن سرد أسماء شهداء أحد من الباحثين المعاصرين: حسين أحمد الباكري3في
--------------------------------------------
এবং হানজালা বিন আবি আমির বিন সাইফি বিন নুমান বিন মালিক বিন আম্মাহ, তিনি হলেন ফেরেশতাদের দ্বারা ধৌত ব্যক্তি (গাসিলুল মালাইকা), যাকে শাদ্দাদ বিন আসওয়াদ বিন শু'উব আল-লাইসি হত্যা করেছিলেন। দুইজন ব্যক্তি (ইবনে হিশাম বলেন: কাইস বিন যাইদ বিন দবিআ এবং মালিক বিন আম্মাহ বিন দবিআ)। ইবনে ইসহাক বলেন: এবং বনু উবাইদ বিন যাইদ থেকে.... ইত্যাদি।
সুতরাং যারা মালিক বিন আম্মাহ-কে উহুদে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তারা মনে করেছেন যে, তার উক্তি: (এবং মালিক বিন আম্মাহ বিন দবিআ) মূলত উহুদে শহীদদের বর্ণনায় ইবনে ইসহাকের ওপর ইবনে হিশামের একটি ইস্তিদরাক (সংযোজন)। কিন্তু ইবনে হিশাম ইবনে ইসহাকের আলোচনার মাঝখানে কোনো শহীদের নাম সংযোজন করেননি, বরং তিনি তার সংযোজনগুলো ইবনে ইসহাক কর্তৃক তাদের নাম উল্লেখ শেষ করার পর করেছেন। ইবনে হিশামের হস্তক্ষেপগুলো কেবল স্পষ্টীকরণ ও পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
এটিও তারই অংশ, কারণ ইবনে হিশাম তার এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আবু সুফিয়ানের দাদা: (কাইস) এবং হানজালার দাদা: (মালিক বিন আম্মাহ)-কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এবং এটি স্পষ্ট করেছেন যে তারা উভয়েই দবিআর সন্তান। যেহেতু ইবনে ইসহাক বনু দবিআ থেকে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এই দুই সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নাম উল্লেখ করেছেন, তাই ইবনে হিশাম তাদের বংশপরম্পরা যে দবিআ পর্যন্ত পৌঁছেছে তা স্পষ্ট করার এবং যোগসূত্র স্থাপনের বর্ধিত প্রয়াস হিসেবে এটি করেছেন।
আর সাহাবীদের মধ্যে ‘মালিক বিন আম্মাহ’ নামে কেউ নেই; বরং তাদের মধ্যে কেবল একজন ‘মালিক বিন উমাইয়াহ’ আছেন এবং তিনি হলেন: “মালিক বিন উমাইয়াহ বিন আমর আস-সুলামি, তিনি বনু আসাদ বিন খুজাইমাহর মিত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বদরে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন”১। ঠিক তেমনই সাহাবীদের মধ্যে ‘আউফ বিন আমর’ নামেও কেউ নেই।
আর ৭৩৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে সাইয়্যেদুন নাস তার সিরাতগ্রন্থ ‘উয়ুনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাজি ওয়াশ শামায়িলি ওয়াস সিয়ার’-এ উহুদের শহীদদের নামের তালিকা প্রদান করেছেন ২।
সমকালীন গবেষকদের মধ্যে যারা উহুদের শহীদদের নামের তালিকা প্রদান করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: হুসাইন আহমাদ আল-বাকরি ৩...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৬)
رسالته لنيل درجة الماجستير وعنوانها: (مرويات غزوة أحد جمع وتحقيق ودراسة) .
فقد أورد الشهداء الذين ذكرهم ابن إسحاق ولم يترجم لهم، إنما ذكر الاسم ومعلومات قليلة جدا عن الشهيد دون عزو للمعلومات إلى المصادر، ورتب الشهداء على حروف المعجم.
ولما جمعت أسماء الشهداء من كتب السيرة وتراجم الصحابة رضي الله عنهم زادوا على المائة، والثابت في صحيح البخاري وغيره أنهم سبعون وهو المشهور من كلام العلماء، فغالب من ذكروا زيادة على السبعين إنما ذكروا على سبيل الوهم أو الغلط.
وهؤلاء المختلف فيهم يحتاج كل واحد منهم لدراسة فاحصة دقيقة، ووضع منهج للترجيح بينهم، مما يطيل البحث ويشعب جوانبه؛ ويزيد في عدد صفحاته عن الرقم المحدد، مما لا يتناسب مع قواعد نشر البحوث في المجلات العلمية.
ولعزمي على نشر هذا البحث في مجلة الجامعة الإسلامية، ورغبة في أن يكون مناسبا من حيث الحجم رأيت أن أقتصر على من ذكرهم ابن إسحاق لأنه أقدم من وصلنا ذكره لأسماء شهداء أحد، ولإجماع كتب تراجم الصحابة التي طالعتها على استشهادهم في غزوة أحد.
وسأقوم بإذن الله بتخصيص بحث آخر أجمع فيه: “شهداء أحد الذين لم يذكرهم ابن إسحاق في كتابه المغازي”.
واعتمدت في ذكر أسماء الشهداء وترتيبهم على ما ذكره ابن إسحاق من خلال تهذيب سيرة ابن إسحاق لابن هشام، ثم ترجمت لكل شهيد منهم رضي الله عنهم من عدد من كتب التراجم، حتى خرجت بترجمة تعرِّف بالشهيد وتشمل: اسمه، ونسبه، وشيئا من سيرته رضي الله عنه، ثم ما يتعلق بشهوده غزوة أحد واستشهاده فيها، وقصة استشهاده إن وجدت.
وعلى ضوء ما تجود به المصادر من معلومات عن الصحابي الشهيد تتسع أو
তাঁর মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য প্রস্তুতকৃত থিসিস, যার শিরোনাম হলো: (উহুদ যুদ্ধের বর্ণনাগুলো: সংকলন, যাচাইকরণ এবং পর্যালোচনা)।
এতে তিনি ইবনে ইসহাক কর্তৃক উল্লিখিত সেইসব শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের জীবনী তিনি (ইবনে ইসহাক) বিস্তারিত বর্ণনা করেননি; বরং তিনি কেবল শহীদদের নাম এবং তাঁদের সম্পর্কে খুব সামান্য তথ্য উল্লেখ করেছেন, তথ্যের উৎস নির্দেশ না করেই। তিনি শহীদদের নাম বর্ণনানুক্রমে বিন্যস্ত করেছেন।
যখন আমি সিরাত গ্রন্থসমূহ এবং সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) জীবনীগ্রন্থ থেকে শহীদদের নাম সংগ্রহ করলাম, তখন দেখা গেল তাঁদের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ সহীহ বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে তাঁরা সত্তর জন এবং ওলামায়ে কেরামের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ মত। সুতরাং সত্তরের অতিরিক্ত যে নামগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ধারণা বা ভুলের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য নিবিড় ও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার প্রয়োজন এবং তাঁদের মধ্য থেকে সঠিকটি নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। এটি গবেষণাকে দীর্ঘায়িত করে এবং এর পরিধিকে বিস্তৃত করে দেয়, যা পৃষ্ঠাসংখ্যাকে নির্ধারিত সীমার বাইরে নিয়ে যায়। ফলে এটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকীগুলোতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।
এই গবেষণাটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে প্রকাশের সংকল্প এবং কলেবরের দিক থেকে এটিকে উপযুক্ত রাখার আকাঙ্ক্ষায় আমি কেবল ইবনে ইসহাক কর্তৃক উল্লিখিত শহীদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই সমীচীন মনে করেছি। কারণ তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর মাধ্যমে আমাদের নিকট উহুদ যুদ্ধের শহীদদের নাম পৌঁছেছে এবং আমি যে সকল জীবনীগ্রন্থ অধ্যয়ন করেছি সেগুলো উহুদ যুদ্ধে তাঁদের শাহাদাতের ব্যাপারে একমত।
আমি ইনশাআল্লাহ আরেকটি পৃথক গবেষণা উৎসর্গ করব যেখানে আমি সংকলন করব: “উহুদ যুদ্ধের সেই সকল শহীদ যাদের নাম ইবনে ইসহাক তাঁর আল-মাগাযী গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।”
শহীদদের নাম উল্লেখ এবং তাঁদের বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি ইবনে হিশাম কর্তৃক সম্পাদিত ইবনে ইসহাকের সীরাতের ওপর নির্ভর করেছি। অতঃপর আমি তাঁদের প্রত্যেকের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) জন্য বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থ থেকে জীবনী লিখেছি, যাতে একজন শহীদের পরিচয় ফুটে ওঠে এবং যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, তাঁর জীবনের কিছু ঘটনা (রাযিয়াল্লাহু আনহু), অতঃপর উহুদ যুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণ ও শাহাদাত বরণ সংক্রান্ত তথ্য এবং যদি তাঁর শাহাদাতের কোনো ঘটনা থাকে তবে সেটিও।
শহীদ সাহাবী সম্পর্কে উৎস গ্রন্থসমূহে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে তা বিস্তৃত হয় বা
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৭)
تضيق ترجمته، فبعضهم لم يصل إلى نصف صفحة، وبعضهم يزيد عن ذلك كثيرا.
ومن المصنفات التي اعتمدت عليها في الترجمة لهم:
كتاب الطبقات الكبرى لمحمد بن سعد، وكتاب الاستيعاب لابن عبد البر، وكتاب أسد الغابة في معرفة الصحابة لابن الأثير، وكتاب سير أعلام النبلاء للذهبي، وكتاب الإصابة في معرفة الصحابة للحافظ ابن حجر العسقلاني.
وراجعت مصادر أخرى فأضفت منها معلومات إلى تراجمهم كالكتب الستة وغيرها من كتب الحديث والتاريخ.
وحرصت على استيعاب معلومات الكتب التي ترجمت للصحابة، وسبكت منها ترجمة للشهيد، تضمنت ما احتوته من معلومات عنه، فخرجت بترجمة له أقرب إلى التكامل؛ حيث أن المصادر يكمل بعضها بعضا؛ فبعضهم يختصر في موضع يبسط فيه آخر.
ورتبت المصادر في الحاشية على وفياتهم ليعرف تسلسل الفكرة أو المعلومة، وأول من أوردها.
وراعيت الدقة بعزو كل ما أورده من معلومات في ترجمة الشهيد، وذلك في ذكر: اسمه، وأسماء أجداده، ونسبته، وقبيلته، وكنيته، ولقبه، وتحريت مزيدا في الدقة في ذلك.
مما يساعد للوصول إلى الحقيقة في الصحابة المختلف في استشهادهم في غزوة أحد لتشابه بينهم وبين أحد الشهداء في الاسم أو اسم الأب أو اسم الجد، أو النسب أو النسبة أو اللقب أو الكنية.
ولذلك كثرت الإحالات إلى الحاشية عند سرد نسب الصحابي، وهذا الصنيع وإن كان فيه تكرار في بعض الحواشي، إلا أنني رأيته ضروريا لإعطاء القارئ صورة أقرب لواقع محتويات ترجمة الصحابي في هذه المصنفات.
وتحاشيت طريقة العزو الإجمالي التي قد توهم أن المصادر المذكورة اتفقت
তাদের জীবনবৃত্তান্ত সংক্ষেপিত; তাদের কারোটি অর্ধেক পৃষ্ঠাও পৌঁছায়নি, আবার কারোটি তার চেয়ে অনেক বেশি।
তাদের জীবনবৃত্তান্ত সংকলনের ক্ষেত্রে আমি যেসব গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি:
মুহাম্মদ ইবনে সা’দ রচিত 'কিতাবুত তাবাকাতিল কুবরা', ইবনে আবদুল বার রচিত 'কিতাবুল ইসতিয়াব', ইবনুল আসির রচিত 'কিতাবু আসাদিল গাবাহ ফি মা’রিফাতিস সাহাবাহ', যাহাবি রচিত 'কিতাবু সিয়ারু আ’লামিন নুবালা' এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রচিত 'কিতাবুল ইসাবাহ ফি মা’রিফাতিস সাহাবাহ'।
আমি অন্যান্য উৎসেরও সাহায্য নিয়েছি এবং সেখান থেকে তাদের জীবনবৃত্তান্তে তথ্য যোগ করেছি, যেমন কুতুবে সিত্তা (ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ) এবং হাদিস ও ইতিহাসের অন্যান্য গ্রন্থাবলি।
সাহাবীদের জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর তথ্যসমূহ আয়ত্ত করতে আমি সচেষ্ট হয়েছি এবং সেখান থেকে প্রতিটি শহীদের জন্য একটি জীবনী প্রস্তুত করেছি, যা তার সম্পর্কে বিদ্যমান তথ্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে তার এমন একটি জীবনী বেরিয়ে এসেছে যা পূর্ণাঙ্গতার কাছাকাছি; কারণ উৎসগ্রন্থগুলো একটি অন্যটির পরিপূরক; কোনো কিতাবে যেখানে সংক্ষেপ করা হয়েছে, অন্যটিতে সেখানে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
আমি পাদটীকা বা হাশিয়ায় উৎসগ্রন্থগুলোকে রচয়িতাদের মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি, যাতে চিন্তা বা তথ্যের ধারাবাহিকতা এবং কে সর্বপ্রথম তা উল্লেখ করেছেন তা জানা যায়।
শহীদের জীবনীতে বর্ণিত প্রতিটি তথ্যের নির্ভুল উৎস নির্দেশ করার ক্ষেত্রে আমি সতর্কতা অবলম্বন করেছি, যেমন: তাঁর নাম, পূর্বপুরুষদের নাম, বংশপরিচয়, গোত্র, কুনিয়াত এবং লকব উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অধিকতর সূক্ষ্মতা ও নির্ভুলতা যাচাই করেছি।
এটি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া সাহাবীদের প্রকৃত পরিচয় উদঘাটনে সহায়ক হবে, যাদের শাহাদাত নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কারণ নাম, পিতার নাম, দাদার নাম, বংশীয় পরিচয়, লকব বা কুনিয়াত সদৃশ হওয়ার কারণে অন্য কোনো শহীদের সাথে তাদের নাম মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
একারণেই সাহাবীর বংশপরম্পরা বর্ণনার সময় পাদটীকা বা হাশিয়ায় উদ্ধৃতি প্রদানের আধিক্য ঘটেছে। যদিও এর ফলে কোনো কোনো পাদটীকায় পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, তবুও আমি একে প্রয়োজনীয় মনে করেছি যাতে পাঠক এই গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান সাহাবীর জীবনীর প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।
আমি ঢালাওভাবে বা একত্রে উৎস নির্দেশ করার পদ্ধতি পরিহার করেছি, যা এমন ভ্রম সৃষ্টি করতে পারে যে উল্লেখিত সকল উৎসই উক্ত তথ্যে একমত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৮)
جميعا على إيراد جميع المعلومات بجزئياتها، مع أن الحقيقة قد لا تكون كذلك، بل قد ينفرد أحد هذه المصادر بمعلومة واحدة فقط ولا يشارك بقية المصادر في باقي المعلومات.
وهي طريقة تشبه إلى حد كبير طريقة الإسناد الجمعي التي تجنبها المحدِّثون والرواة؛ عدا قلة منهم أمثال: ابن إسحاق في بعض رواياته، والواقدي الذي ينتهجها في كثير من رواياته، وتلميذه ابن سعد إلا أن استخدامه لها نادرا.
والرواية التي يَستخدم فيها المصنفُ الإسنادَ الجمعي تختلط متونها ببعض فإن كان في الرواة راوٍ لا يعتد به؛ فإن المتن كله يكون ضعيفا؛ حتى وإن كان باقي الرواة ثقات؛ وسبب ذلك اختلاط معلوماتهم بمعلومات الراو الضعيف وعدم تميزها.
وقسمت البحث إلى مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول:
ذكرت في المقدمة: أهمية البحث، والمصادر التي سبقت في تناول موضوع البحث، ومنهجي في البحث.
وتضمن التمهيد: عرضا مختصرا لغزوة أحد، وفضل شهداء أحد رضي الله عنهم.
وعنونت الفصل الأول: (من استشهد من المهاجرين في غزوة أحد) ذكرت فيه الاختلاف في عدد من استشهد في أحد من المهاجرين، ثم ترجمت لشهداء أحد الذين ذكرهم ابن إسحاق.
أما الفصل الثاني فعنوانه: (من استشهد من الأوس في غزوة أحد) مهدت له بالتعريف بالأوس وذكر قبائلهم ثم ترجمت لمن ذكرهم ابن إسحاق في شهداء أحد من الأوس.
والفصل الثالث عنوانه: (من استشهد من الخزرج في غزوة أحد) مهدت له أيضا بالتعريف بالخزرج وذكرت قبائلهم ثم ترجمت لمن ذكرهم ابن إسحاق في
একইসাথে সকল তথ্য তার খুঁটিনাটিসহ উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে, যদিও বাস্তবতা হয়তো এমন নয়; বরং সম্ভবত এসব উৎসের কোনো একটি কেবল একটি একক তথ্য প্রদান করে এবং বাকি তথ্যগুলোতে অন্যান্য উৎসের সাথে অংশগ্রহণ করে না।
এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বহুলাংশে 'ইসনাদে জাময়ি' (যৌথ সনদ) পদ্ধতির সদৃশ, যা মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীগণ পরিহার করে চলতেন; তবে তাঁদের মধ্যে অল্প কয়েকজন ব্যতিক্রম ছিলেন, যেমন: ইবনে ইসহাক তাঁর কিছু বর্ণনায়, ওয়াকিদি—যিনি তাঁর অধিকাংশ বর্ণনায় এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন—এবং তাঁর ছাত্র ইবনে সাদ, যদিও তাঁর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বিরল।
আর যে বর্ণনায় গ্রন্থকার 'ইসনাদে জাময়ি' ব্যবহার করেন, সেগুলোর পাঠ (মতন) একে অপরের সাথে মিশে যায়। ফলে বর্ণনাকারীদের মধ্যে যদি এমন কোনো বর্ণনাকারী থাকেন যাকে নির্ভরযোগ্য মনে করা হয় না, তবে পুরো পাঠটিই দুর্বল বলে গণ্য হয়; যদিও বাকি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য হন। এর কারণ হলো, তাঁদের তথ্যের সাথে দুর্বল বর্ণনাকারীর তথ্য মিশে যাওয়া এবং সেগুলো পৃথক করতে না পারা।
আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমনিকা এবং তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
আমি ভূমিকায় উল্লেখ করেছি: গবেষণার গুরুত্ব, গবেষণার বিষয়টি নিয়ে পূর্বে রচিত উৎসসমূহ এবং গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি।
উপক্রমনিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: উহুদ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং উহুদ যুদ্ধের শহীদদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদা।
আমি প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছি: (উহুদ যুদ্ধে মুহাজিরদের মধ্যে যারা শহীদ হয়েছেন)। এতে আমি উহুদ যুদ্ধে মুহাজির শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ উল্লেখ করেছি, অতঃপর ইবনে ইসহাক উহুদ যুদ্ধের যে সকল শহীদের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁদের জীবনী আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম হলো: (উহুদ যুদ্ধে আওস গোত্রের যারা শহীদ হয়েছেন)। আমি এই অধ্যায়ের শুরুতে আওস গোত্রের পরিচয় ও তাদের শাখা গোত্রসমূহ উল্লেখ করে উপক্রমণিকা সাজিয়েছি এবং পরবর্তীতে ইবনে ইসহাক আওস গোত্রের যে সকল উহুদ শহীদদের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁদের জীবনী তুলে ধরেছি।
আর তৃতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম হলো: (উহুদ যুদ্ধে খাযরাজ গোত্রের যারা শহীদ হয়েছেন)। এই অধ্যায়েও আমি খাযরাজ গোত্রের পরিচয় ও তাদের শাখা গোত্রসমূহ উল্লেখ করে উপক্রমণিকা তৈরি করেছি এবং পরবর্তীতে ইবনে ইসহাক যাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁদের জীবনী আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৯)
شهداء أحد من الخزرج.
ثم ختمت البحث بخاتمة، وذيلته بفهرس للمصادر والمراجع، وفهرس للموضوعات.
وفي ختام هذه المقدمة أحمد الله تعالى الذي منَّ عليَّ بنعمه الكثيرة التي لا تُعد ولا تُحصى، ومنها إتمام هذا البحث، الذي كان حلما منذ عامين فتحقق، فأشكره على فضله وعظيم إنعامه.
ولا أدعي أن البحث جاء على ما أريده تماما، وذلك لما يعتري البشر وأعمالهم من النقص، فقد وصفهم الله بالضعف فقال: {وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفاً} 1.
كتب عبد الرحيم البيساني إلى العماد الأصفهاني2 معتذرا عن كلام
--------------------------------------------
খাজরাজ গোত্রের ওহুদের শহীদগণ।
অতঃপর আমি একটি উপসংহারের মাধ্যমে গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি এবং এর শেষে উৎস ও তথ্যসূত্রের তালিকা এবং বিষয়সূচি সংযোজন করেছি।
আর এই ভূমিকার শেষে আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে তাঁর অসংখ্য ও অগণিত নেয়ামত দান করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা, যা দুই বছর আগে একটি স্বপ্ন ছিল এবং এখন তা বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই আমি তাঁর অনুগ্রহ এবং মহান দান-দক্ষিণের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি।
আমি দাবি করি না যে গবেষণাটি ঠিক তেমনই হয়েছে যেমনটি আমি চেয়েছিলাম; কারণ মানুষ এবং তাদের কাজের ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটা স্বাভাবিক। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুর্বলতা দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন, তিনি বলেছেন: "আর মানুষকে দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে।" ১।
আব্দুর রহিম আল-বাইসানি ইমাদ আল-আসফাহানি২-এর নিকট তাঁর কোনো কথার জন্য ক্ষমা চেয়ে লিখেছিলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭০)
استدركه عليه: “إنه قد وقع لي شيءٌ وما أدري أوقع لك أم لا؟ وها أنا أخبرك به وذلك أني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتابا في يومه إلا قال في غده:
“لو غير هذا لكان أحسن، ولو زيد لكان يستحسن، ولو قدم هذا لكان أفضل، ولو ترك هذا لكان أجمل”.
ثم علق البيساني بقوله: “وهذا من أعظم العبر، وهو دليل على استيلاء النقص على جملة البشر”1.
أسأل الله أن يرزقني حسن النية والعمل، وأن يجعله عملا صالحا متقبلا، وصلى على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
--------------------------------------------
তিনি তার ত্রুটি নির্দেশ করতে গিয়ে বলেন: “আমার মনে একটি বিষয় উদিত হয়েছে, আর আমি জানি না তা আপনার মনেও এসেছে কি না? আমি আপনাকে তা অবহিত করছি। আমি লক্ষ্য করেছি যে, কোনো মানুষ যখন একদিনে কোনো কিতাব লেখে, তখন পরের দিন সে অবশ্যই বলে:
“যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে আরও ভালো হতো; যদি এটি বৃদ্ধি করা হতো তবে আরও পছন্দনীয় হতো; যদি একে আগে আনা হতো তবে আরও উত্তম হতো; আর যদি এটি বর্জন করা হতো তবে আরও সুন্দর হতো।”
অতঃপর আল-বাইসানি মন্তব্য করে বলেন: “এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপদেশ, এবং এটি সমগ্র মানবজাতির ওপর ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতার আধিপত্যের একটি প্রমাণ।” ১।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে উত্তম নিয়ত ও আমল দান করেন, এবং এটিকে একটি কবুলযোগ্য নেক আমল হিসেবে কবুল করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭১)
التمهيد: غزوة أحد1 وفضل شهداء أحد
غزوة أحد إحدى مغازي النبي صلى الله عليه وسله، تنسب إلى جبل أحد وهو جبل يقع شمال المدينة النبوية، أخبر النبي صلى الله عليه وسله أنه من جبال الجنة فقد روى البخاري في صحيحه من حديث أبي حميد قال: أقبلنا مع النبي صلى الله عليه وسلم من غزوة تبوك، حتى إذا أشرفنا على المدينة قال: "هذه طابةُ وهذا أُحُدٌ جبلٌ يحبنا ونحبه" 2.
في سفح هذا الجبل وقبل أكثر من أربعة عشر قرنا، وبالتحديد في منتصف شوال من العام الثالث من الهجرة3 وقعت غزوة أحد بين فئتين من أهل ذاك العصر: فئة تؤمن بالله واليوم الآخر وهم: أصحاب النبي صلى الله عليه وسله الذين التفوا حوله بقلوبهم فهم المجتمع الإسلامي الصافي من كل الشوائب، وبين فئة كافرة بالله مشركة وهم: مشركو قريش ومن أطاعهم.
هذه الغزوة هي الغزوة الوحيدة التي قاتل فيها صلى الله عليه وسله بنفسه، وفيها ضرب أبي ابن خلف بحربة، وهي المرة الوحيدة التي يضرب بها أحداً من الناس بيده4.
--------------------------------------------
ভূমিকা: উহুদ যুদ্ধ এবং উহুদের শহীদগণের মর্যাদা
উহুদ যুদ্ধ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম যুদ্ধ, যা উহুদ পাহাড়ের সাথে সম্বন্ধিত। এটি মদীনা মুনাওয়ারার উত্তরে অবস্থিত একটি পাহাড়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি জান্নাতের পাহাড়সমূহের অন্যতম। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুমায়দ (রাযি.)-এর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরছিলাম, যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন তিনি বললেন: 'এটি তাবাহ এবং এটি উহুদ, এমন এক পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি'।"২
এই পাহাড়ের পাদদেশে চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় পূর্বে, নির্দিষ্টভাবে হিজরী তৃতীয় বর্ষের শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেই যুগের দুই দলের মধ্যে উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এক দল যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করত, তারা হলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, যারা অন্তর দিয়ে তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন এবং তাঁরা ছিলেন সর্বপ্রকার কলুষতামুক্ত এক পরিচ্ছন্ন ইসলামী সমাজ। আর অন্য দলটি ছিল আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী ও মুশরিক, তারা হলো: কুরাইশ মুশরিকরা এবং যারা তাদের আনুগত্য করেছিল।৩
এই যুদ্ধটিই একমাত্র যুদ্ধ যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সশরীরে লড়াই করেছিলেন। এতে তিনি উবাই ইবনে খালাফকে একটি বর্শা দ্বারা আঘাত করেছিলেন। এটিই একমাত্র সময় যখন তিনি নিজের হাত দিয়ে কোনো মানুষকে আঘাত করেছিলেন।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭২)
وسبب هذه الغزوة أن المشركين أرادوا أن يثأروا لقتلاهم في غزوة بدر التي وقعت قبل أحد بسنة وشهر1 وليخلصوا طرقهم التجارية إلى الشام من سيطرة المسلمين، وليستعيدوا مكانتهم عند العرب التي تأثرت لهزيمتهم في بدر2.
فقد أجمعت قريش لرسول الله صلى الله عليه وسله بأحابيشها ومن أطاعهم من قبائل: بني كنانة، وأهل تهامة3 وبلغ عددهم: ثلاثة آلاف رجل ومعهم مائتا فرس4 وثماني نسوة 5.
وقد رأى النبي صلى الله عليه وسله رؤيا تتعلق بالغزوة فقد روى البخاري في صحيحه عن أبي موسى الأشعري أن النبي صلى الله عليه وسله قال: “رأيت في رؤيايَ أني هززت سيفا فانقطع صدره فإذا هو ما أصيب من المؤمنين يوم أحد، ثم هززته أخرى فعاد أحسن ما كان، فإذا هو ما جاء به الله من الفتح واجتماع المؤمنين، ورأيت فيها بقْرا والله خير، فإذا هم المؤمنون يوم أحد” 6.
ولما علم المسلمون بقدوم المشركين لغزو المدينة شاور رسول الله صلى الله عليه وسله أصحابه في البقاء في المدينة والتحصن فيها أو الخروج لملاقاة جيش المشركين ولما استمع عليه الصلاة والسلام لآراء الصحابة وقد رأى بعضهم البقاء في المدينة ورأى آخرون الخروج منها لملاقاتهم خارجها، انطلق صلى الله عليه وسله فلبس لأمته، فتلاوم
--------------------------------------------
এই যুদ্ধের কারণ ছিল এই যে, মুশরিকরা বদর যুদ্ধে তাদের নিহতদের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল, যা উহুদ যুদ্ধের এক বছর এক মাস আগে সংঘটিত হয়েছিল। এছাড়া তারা সিরিয়া অভিমুখী তাদের বাণিজ্যিক পথগুলোকে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে এবং আরবদের নিকট তাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিল, যা বদরের পরাজয়ের ফলে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।
কুরাইশরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে তাদের মিত্র গোষ্ঠীসমূহ (আহাবীশ) এবং বনু কিনানা ও তিহামার অধিবাসী গোত্রগুলোর মধ্যে যারা তাদের আনুগত্য করেছিল, তাদের সবাইকে সমবেত করেছিল। তাদের সংখ্যা ছিল তিন হাজার পুরুষ, সাথে ছিল দুইশত ঘোড়া এবং আটজন নারী।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই যুদ্ধ সংক্রান্ত একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু মুসা আল-আশআরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একটি তলোয়ার নাড়ালাম এবং এর অগ্রভাগ ভেঙে গেল। এটি ছিল উহুদের দিনে মুমিনদের ওপর যে বিপদ এসেছিল তা। তারপর আমি তলোয়ারটি দ্বিতীয়বার নাড়ালাম এবং তা আগের চেয়ে উত্তম অবস্থায় ফিরে এল। এটি ছিল আল্লাহ প্রদত্ত বিজয় এবং মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আর আমি সেখানে কিছু গরু (জবাই হতে) দেখলাম এবং আল্লাহর ফয়সালাই উত্তম। তারা ছিল উহুদ দিবসের সেই মুমিনগণ (যারা শহীদ হয়েছিলেন)।”
যখন মুসলিমরা মদিনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে মুশরিকদের আগমনের খবর জানতে পারল, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় অবস্থান করে আত্মরক্ষা করা অথবা মুশরিক বাহিনীর মোকাবিলায় বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। যখন তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সাহাবীদের মতামত শুনলেন—যাদের কেউ কেউ মদিনায় অবস্থান করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন এবং অন্যরা তাদের মোকাবিলা করার জন্য বাইরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন—তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভেতরে গিয়ে তাঁর যুদ্ধের বর্ম পরিধান করলেন। তখন তারা (সাহাবীরা) পরস্পরকে তিরস্কার করতে লাগল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৩)
الصحابة وقالوا: عرض نبي الله صلى الله عليه وسله بأمر وعرضتم بغيره، وأرسلوا عمه حمزة بن عبد المطلب يعتذر عنهم ويقول له: أمرنا لأمرك تبع فلما أخبر حمزة رضي الله النبي صلى الله عليه وسله بذلك قال له عليه الصلاة والسلام: “إنه ليس لنبي إذا لبس لأمته أن يضعها حتى يناجز” 1.
خرج المسلمون من المدينة رافعين راية سوداء، وثلاثة ألوية: لواء للمهاجرين يحمله مصعب بن عمير، ولواء الأوس يحمله أسيد بن حضير، ولواء الخزرج يحمله الحباب بن المنذر، وقد اجتمع تحت هذه الألوية: جيش تعداده ألف نفس كانوا في بادىء الأمر خليطا فيهم: مسلمون صادقون، وفيهم متظاهرون بالإسلام من أتباع عبد الله بن أبي بن سلول، منهم مئتا دارع، ومعهم فرسان فقط.
--------------------------------------------
সাহাবীগণ বললেন: আল্লাহর নবী (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) একটি বিষয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং আপনারা অন্য প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা তাঁর চাচা হামযাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকে তাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে পাঠালেন এবং তাকে বললেন: আমাদের সিদ্ধান্ত আপনার সিদ্ধান্তের অনুগামী। যখন হামযাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নবী (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-কে তা জানালেন, তখন তিনি (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) তাকে বললেন: “কোনো নবীর জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, যখন তিনি যুদ্ধের পোশাক পরিধান করবেন, তখন যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা খুলে ফেলবেন।” ১।
মুসলিমগণ মদিনা থেকে বের হলেন একটি কালো পতাকা এবং তিনটি সেনাপতাকা উত্তোলন করে: মুহাজিরদের একটি পতাকা যা বহন করছিলেন মুসআব ইবনে উমায়ের, আউস গোত্রের একটি পতাকা যা বহন করছিলেন উসাইদ ইবনে হুযাইর এবং খাযরাজ গোত্রের একটি পতাকা যা বহন করছিলেন হুবাব ইবনে মুনযির। এই পতাকাগুলোর নিচে এক হাজার সদস্যের একটি বাহিনী সমবেত হয়েছিল, যারা শুরুতে মিশ্র প্রকৃতির ছিল: তাদের মধ্যে একনিষ্ঠ মুসলিমও ছিলেন, আবার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের অনুসারী কিছু ছদ্মবেশী মুসলিমও ছিল। তাদের মধ্যে দুইশত জন ছিলেন বর্মধারী এবং তাদের সাথে ছিল মাত্র দুইজন অশ্বারোহী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৪)
ولبس رسول الله صلى الله عليه وسله درعين، وخرج الجيش متجها إلى أحد، وبالقرب من موقع المعركة، ولما كان الفريقان يرى بعضهم بعضا؛ انسحب رأس المنافقين عبد الله بن أبي بن سلول بثلث الجيش، وذلك إنما هو تصفية وتنقية لجيش المسلمين قال تعالى: {مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيزَ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ} ، وقال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيَعْلَمَ الْمُؤْمِنِينَ وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوا وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ادْفَعُوا قَالُوا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالاً لَاتَّبَعْنَاكُمْ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيمَانِ يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُونَ} .
ورأى بعض الصحابة قتال المنافقين أتباع رأس المنافقين الذين انسحبوا من الجيش قال تعالى: {فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُمْ بِمَا كَسَبُوا} .
وهمَّ بعض المسلمين بالعودة إلى المدينة ولكن الله تولاهم فقاوموا الضعف الذي ألم بهم قال تعالى: {إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلا وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا} .
ولما وصل جيش المسلمين ميدان المعركة: تفقد النبي صلى الله عليه وسله جيش المسلمين واستعرض صغار الصحابة الذين لا طاقة لهم بالقتال فلم يجزهم، ونظم عليه الصلاة والسلام صفوف الجيش وجعل ظهورهم إلى جبل أحد ووجوههم تستقبل المدينة، وجعل خمسين من الرماة بقيادة عبد الله بن جبير رضي الله عنهم فوق جبل عينين المقابل لجبل أحد من جهة الجنوب لحماية المسلمين من التفاف المشركين عليهم وإحاطتهم بهم، وشدد عليه الصلاة والسلام على هؤلاء الصحابة بألا يبرحوا مكانهم مهما تغيرت الظروف فقال لهم: “لا تبرحوا، إن رأيتمونا ظهرنا عليهم فلا تبرحوا، وإن رأيتموهم ظهروا علينا فلا تعينون” 1.
التقى الفريقان واشتد القتال بين المسلمين والمشركين، وأبدى المسلمون رغم قلة العدة والعدد بطولة فائقة حتى قتلوا من المشركين وجرحوا وتراجع
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুইটি বর্ম পরিধান করলেন এবং বাহিনী উহুদ অভিমুখে রওয়ানা হলো। যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি পৌঁছালে, যখন উভয় দল একে অপরকে দেখতে পাচ্ছিল, তখন মুনাফিকদের প্রধান আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সুলুল বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ সৈন্য নিয়ে পিছু হটল। এটি ছিল মূলত মুসলিম বাহিনীকে পরিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ করার একটি প্রক্রিয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা যে অবস্থায় আছ, আল্লাহ মুমিনদেরকে সে অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করে দেন।} এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা আল্লাহর অনুমতিক্রমেই হয়েছিল, এবং যাতে তিনি মুমিনদের জেনে নেন। আর যাতে তিনি তাদেরও জেনে নেন যারা মুনাফিকি করেছে। তাদের বলা হয়েছিল, 'এসো, আল্লাহর পথে লড়াই করো অথবা প্রতিরোধ করো।' তারা বলেছিল, 'যদি আমরা জানতাম যুদ্ধ হবে, তবে অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম।' সেদিন তারা ঈমানের চেয়ে কুফরিরই বেশি নিকটবর্তী ছিল। তারা তাদের মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আর তারা যা গোপন করে আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।}
কতিপয় সাহাবী সেইসব মুনাফিকদের সাথে যুদ্ধ করার মত পোষণ করলেন যারা মুনাফিক প্রধানের অনুসারী হয়ে বাহিনী থেকে সরে পড়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের কী হলো যে তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়লে? অথচ তাদের কৃতকর্মের কারণে আল্লাহ তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন।}
কোনো কোনো মুসলিম মদিনায় ফিরে যাওয়ার সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিভাবক হলেন, ফলে তারা তাদের ওপর জেঁকে বসা দুর্বলতা কাটিয়ে উঠলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যখন তোমাদের মধ্য থেকে দুই দল সাহস হারাবার উপক্রম করেছিল, অথচ আল্লাহ ছিলেন তাদের অভিভাবক।}
মুসলিম বাহিনী যখন যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছাল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিম বাহিনীর তদারকি করলেন এবং অল্পবয়স্ক সাহাবীদের পর্যবেক্ষণ করলেন যাদের যুদ্ধ করার সামর্থ্য ছিল না, তাই তিনি তাদের অনুমতি দিলেন না। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সৈন্যদলকে সুশৃঙ্খল করলেন এবং তাদের পিঠ উহুদ পাহাড়ের দিকে ও মুখ মদিনার দিকে রাখলেন। দক্ষিণ দিক থেকে উহুদ পাহাড়ের বিপরীতে অবস্থিত আইনাইন পাহাড়ের ওপর আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নেতৃত্বে পঞ্চাশজন তীরন্দাজকে নিযুক্ত করলেন, যাতে মুশরিকরা মুসলিমদের ঘিরে ফেলে পেছন থেকে আক্রমণ করতে না পারে। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এই সাহাবীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দিলেন যেন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তারা তাদের স্থান ত্যাগ না করেন। তিনি তাদের বললেন: “তোমরা এই স্থান ত্যাগ করবে না। যদি তোমরা দেখ যে আমরা তাদের ওপর জয়লাভ করেছি, তবুও তোমরা স্থান ত্যাগ করবে না। আর যদি দেখ যে তারা আমাদের ওপর জয়লাভ করেছে, তবে আমাদের সাহায্য করতে আসবে না।” ১।
উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলো এবং মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ শুরু হলো। লোকবল ও সরঞ্জাম কম থাকা সত্ত্বেও মুসলিমরা অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করলেন, এমনকি তারা মুশরিকদের অনেককে হত্যা ও আহত করলেন এবং তারা পিছু হটতে শুরু করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৫)
المشركون وانهزموا، فلما رأى الرماة هزيمة المشركين قالوا لأميرهم عبد الله بن جبير: الغنيمة الغنيمة ظهر أصحابكم فما تنتظرون، فقال عبد الله بن جبير: أنسيتم ما قال لكم رسول الله صلى الله عليه وسله؟ قالوا: والله لنأتين الناس فلنصيبن من الغنيمة ثم انطلقوا يجمعون الغنائم1.
وبعد نزول الرماة وانكشاف ظهور المسلمين: رأى خالد بن الوليد وكان على خيالة المشركين الفرصة سانحة فالتف حول المسلمين، وشجع ذلك المشركين فعادوا للقتال من جديد وأحاطوا بالمسلمين من جهتين وفقد المسلمون مواقعهم الأولى وأخذوا يقاتلون دون تخطيط فأخذوا يتساقطون شهداء في ميدان المعركة في سفح جبل أحد.
وهؤلاء الشهداء استحقوا أفضل ما يجزى به شهيد لأنهم شهداء غزوة من غزوات النبي صلى الله عليه وسله، وأضافوا إلى ذلك فضل صحبة النبي صلى الله عليه وسله وغير ذلك من فضائل الصحابة رضوان الله عليهم الكثيرة.
ولشهداء أحد رضي الله عنهم فضل ومزيّة على غيرهم من شهداء الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، فقد وردت آيات وأحاديث في فضلهم رضوان الله عليهم، فمما نزل فيهم من القرآن: قوله تعالى: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً} 2.
نزلت هذه الآية في شهداء أحد عامة 3 أو في أحدهم وهو أنس بن النضر رضي الله عنه، لما رواه البخاري عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: ترى هذه الآية نزلت في أنس بن النضر الخزرجي: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ
--------------------------------------------
মুশরিকরা পরাজিত হয়ে পলায়ন করল। যখন তীরন্দাজরা মুশরিকদের পরাজয় দেখল, তারা তাদের সেনাপতি আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরকে বলল: "গনিমত, গনিমত! আপনাদের সাথীরা বিজয়ী হয়েছে, আপনারা কিসের অপেক্ষা করছেন?" আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাদের যা বলেছিলেন, তা কি আপনারা ভুলে গেছেন?" তারা বলল: "আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই মানুষের কাছে যাব এবং গনিমত সংগ্রহ করব।" এরপর তারা গনিমত সংগ্রহের জন্য রওনা হলো১।
তীরন্দাজদের নেমে আসা এবং মুসলিমদের পিছন দিক উন্মুক্ত হওয়ার পর: খালিদ বিন ওয়ালিদ, যিনি মুশরিকদের অশ্বারোহী বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন, সুযোগটি লুফে নিলেন এবং মুসলিমদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললেন। এটি মুশরিকদের উৎসাহিত করল, ফলে তারা নতুন করে যুদ্ধে ফিরে এল এবং মুসলিমদের দুই দিক থেকে ঘিরে ফেলল। মুসলিমরা তাদের প্রাথমিক অবস্থান হারিয়ে ফেলল এবং কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই যুদ্ধ করতে শুরু করল। ফলে ওহুদ পাহাড়ের পাদদেশে যুদ্ধক্ষেত্রে তারা একে একে শহীদ হতে লাগল।
এই শহীদগণ একজন শহীদের প্রাপ্য সর্বোত্তম প্রতিদানের অধিকারী হলেন, কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধসমূহের মধ্য থেকে একটি যুদ্ধের শহীদ। এর সাথে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যের মর্যাদা এবং সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর আরও অনেক ফযিলত অর্জন করেছেন।
ওহুদের শহীদদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অন্যান্য শহীদ সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) তুলনায় বিশেষ ফযিলত ও মর্যাদা রয়েছে। তাদের ফযিলত সম্পর্কে আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাদের সম্পর্কে কুরআনের যে আয়াত নাযিল হয়েছে তা হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি}২।
এই আয়াতটি সাধারণভাবে ওহুদের শহীদদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে৩ অথবা তাদের একজনের সম্পর্কে, যিনি হলেন আনাস ইবনে নাদর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। যেমনটি ইমাম বুখারি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মনে করি এই আয়াতটি আনাস ইবনে নাদর আল-খাযরাজির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৬)
عَلَيْهِ 1} 2، ونزل فيهم أيضا قوله جل وعلا: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَفَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ. يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ} 3.
قال ابن كثير: “يخبر تعالى عن الشهداء بأنهم وإن قتلوا في هذه الدار فإن أرواحهم حية مرزوقة في دار القرار”4.
روى الإمام أحمد بإسناد حسن عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسله: "لما أصيب إخوانكم بأحد جعل الله عز وجل أرواحهم في أجواف طير خضر ترِد أنهار الجنة تأكل من ثمارها وتأوي إلى قناديل من ذهب في ظل العرش فلما وجدوا طيب مشربهم ومأكلهم وحسن مقيلهم قالوا: ياليت إخواننا يعلمون بما صنع الله لنا لئلا يزهدوا في الجهاد ولا ينكلوا عن الحرب فقال الله عز وجل أنا أبلغهم عنكم فأنزل الله عز وجل هؤلاء الآيات على رسوله: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ 5} 6.
وفي الحديث الصحيح عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه أنه قال: لقيني رسول الله صلى الله عليه وسله فقال "يا جابر مالي أراك منكسرا مهتما قلت يا رسول الله استشهد أبى وترك عيالا وعليه دين قال أفلا أبشرك بما لقي الله به أباك قلت بلى يا رسول الله قال إن الله أحيا أباك وكلمه كفاحا وما كلم أحدا قط إلا من
--------------------------------------------
তার ওপর ১} ২, এবং তাদের বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীও অবতীর্ণ হয়েছে: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের তুমি মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত, তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের জন্য তারা আনন্দ প্রকাশ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত ও অনুগ্রহের কারণে আনন্দ প্রকাশ করে এবং এই কারণে যে, আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান নষ্ট করেন না} ৩।
ইবনে কাসীর রহ. বলেন: “আল্লাহ তাআলা শহীদদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যদিও তারা এই দুনিয়ায় নিহত হয়েছেন, কিন্তু তাদের রূহসমূহ চিরস্থায়ী আবাসে জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত।” ৪।
ইমাম আহমাদ হাসান সনদে ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের ভাইয়েরা উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলেন, তখন মহান আল্লাহ তাদের রূহসমূহকে সবুজ পাখির উদরে স্থাপন করলেন। সেগুলো জান্নাতের ঝরনাধারায় বিচরণ করে, জান্নাতের ফলমূল আহার করে এবং আরশের ছায়ায় ঝুলন্ত স্বর্ণের প্রদীপসমূহে আশ্রয় নেয়। যখন তারা তাদের পানাহার ও বিশ্রামের মনোরম পরিবেশ প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা বলল: হায়! আমাদের ভাইয়েরা যদি জানত যে আল্লাহ আমাদের জন্য কী করেছেন, যাতে তারা জিহাদে বিমুখ না হয় এবং যুদ্ধে পিছিয়ে না যায়। তখন মহান আল্লাহ বললেন: আমি তোমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিচ্ছি। এরপর মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর এই আয়াতগুলো নাযিল করেন: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের তুমি মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত, তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত ৫} ৬।"
এবং সহীহ হাদীসে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন "হে জাবির! তোমাকে কেন বিষণ্ণ ও চিন্তিত দেখছি?" আমি বললাম "হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা শহীদ হয়েছেন এবং অনেক সন্তান ও ঋণ রেখে গেছেন।" তিনি বললেন "আল্লাহ তোমার পিতার সাথে যেভাবে সাক্ষাৎ করেছেন আমি কি তোমাকে সেই সুসংবাদ দেব না?" আমি বললাম "অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার পিতাকে জীবিত করেছেন এবং তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, অথচ তিনি ইতিপূর্বে কখনোই কারো সাথে কথা বলেননি তবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৭)
وراء حجاب فقال له يا عبدى تمنَّ أعطك قال يا رب تردنى إلى الدنيا فأقتل فيك ثانية فقال الرب تعالى ذكره إنه سبق مني أنهم إليها لا يرجعون قال يا رب فأبلغ من ورائي" فأنزل الله: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا
… الآية} 1.
وسيأتي في تراجم الشهداء أحاديث أخرى تدل على فضل شهداء أحد.
--------------------------------------------
...পর্দার আড়াল থেকে। তারপর তিনি তাকে বললেন, 'হে আমার বান্দা! তুমি আমার কাছে কোনো আকাঙ্ক্ষা করো, আমি তোমাকে তা দেব।' সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে দুনিয়াতে ফেরত পাঠান, যাতে আমি আপনার পথে দ্বিতীয়বার শহীদ হতে পারি।' তখন মহান প্রতিপালক বললেন, 'আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছে যে, তারা সেখানে আর ফিরে যাবে না।' সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! তবে আমার পেছনে যারা রয়েছে তাদের কাছে (আমার অবস্থা) পৌঁছে দিন।' তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {আর যারা নিহত হয়েছে তাদের তোমরা মনে করো না
… আয়াত} ১।
শহীদদের জীবনী আলোচনায় উহুদের শহীদদের শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশকারী আরও অন্যান্য হাদীস সামনে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৮)
الفصل الأول: من اشتسهد من المهاجرين في غزوة أحد
حمزة بن عبد المطلب…الفصل الأول: من استشهد من المهاجرين في غزوة أحد
اختلف في عدد من استشهد من المسلمين في غزوة أحد من المهاجرين فقيل: أربعة1 وحكى ابن سيد الناس عن موسى بن عقبة أنه زاد خامسا2 وقيل: ستة3كما ذكر ابن سيد الناس أن ابن سعد زاد على الخمسة الذين ذكرهم موسى بن عقبة ستة فجعلهم أحد عشر شهيدا من قريش وحلفائهم، وأن ابن عبد البر زادهم حتى جعلهم أربعة عشر4وفيما يأتي تراجم الأربعة الذين ذكرهم ابن إسحاق في كتاب المغازي:
1- حمزة بن عبد المطلب5:
حمزة بن عبد المطلب بن هاشم6بن عبد مناف القرشي الهاشمي أبوعمارة7، وأمه: هالة بنت وهيب بن عبدمناف بن زهرة، عم النبي صلى الله عليه وسله 8،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধে মুহাজিরদের মধ্য থেকে যারা শহীদ হয়েছেনহামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব…প্রথম পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধে মুহাজিরদের মধ্য থেকে যারা শহীদ হয়েছেন
উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের মধ্য থেকে কতজন মুহাজির শহীদ হয়েছেন সেই সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: চারজন। ইবনে সাইয়্যিদুন নাস মুসা ইবনে উকবা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি পঞ্চম একজনের কথা যোগ করেছেন। আবার বলা হয়েছে: ছয়জন। যেমনটি ইবনে সাইয়্যিদুন নাস উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে সাদ মুসা ইবনে উকবা উল্লিখিত পাঁচজনের সাথে আরও ছয়জন যোগ করেছেন, ফলে তিনি কুরাইশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্য থেকে মোট এগারোজন শহীদ নির্ধারণ করেছেন। আর ইবনে আব্দুল বার তাদের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে চৌদ্দজন পর্যন্ত গণ্য করেছেন। নিচে ইবনে ইসহাক তার 'কিতাবুল মাগাজি'-তে যে চারজনের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের জীবনী তুলে ধরা হলো:
১- হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব:
হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আল-কুরাইশি আল-হাশেমি, আবু উমারা। তাঁর মাতা: হালা বিনতে উহাইব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে জুহরা। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
وأخوه من الرضاعة1 وقريبه من جهة أمه2.
ولد رضي الله عنه قبل النبي صلى الله عليه وسله بسنتين وقيل بأربع3 وأسلم في السنة الثانية من البعثة4وقيل بل كان إسلامه بعد دخول النبي صلى الله عليه وسله دار الأرقم في السنة السادسة من مبعثه صلى الله عليه وسله 5ولما أسلم حمزة علمت قريش أن رسول الله صلى الله عليه وسله قد امتنع، وأن حمزة سيمنعه فكفوا عن بعض ما كانوا ينالون منه6ولازم حمزة رضي الله عنه نصر رسول الله صلى الله عليه وسله وهاجر معه، وآخى النبي صلى الله عليه وسله بينه وبين زيد بن حارثة 7.
--------------------------------------------
এবং তাঁর দুধভাই ও মাতৃকুল থেকে তাঁর নিকটীয়।
১
তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের দুই বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন, কারো মতে চার বছর আগে।
৩ তিনি নবুওয়াতের দ্বিতীয় বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন,
৪ কারো মতে তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দারুল আরকামে প্রবেশের পর নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছরে।
৫ যখন হামযা ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন কুরাইশরা বুঝতে পারল যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শক্তিশালী হয়েছেন এবং হামযা তাঁকে রক্ষা করবেন। ফলে তারা নবীজির ওপর যে সব নির্যাতন চালাত তার কিছুটা থেকে বিরত থাকল।
৬ হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করার কাজে অবিচল থাকেন এবং তাঁর সাথে হিজরত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং যায়েদ ইবনে হারিসার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করে দেন।
৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮০)
كان يقال له: أسد رسوله، ويكنى: أبا عمارة، وأبا يعلى بابنيه: عمارة، ويعلى1 رُوِيَ أن النبي صلى الله عليه وسله لقبه: أسد الله2وسيد الشهداء3أو: خير الشهداء4، وعقد له رسول الله صلى الله عليه وسله لواء وأرسله في سرية فكان ذلك أول لواء عقد في الإسلام في قول المدائني5.
شهد رضي الله عنه بدرا وأبلى فيها بلاء حسنا مشهورا: فقد قتل شيبة ابن ربيعة، وشارك في قتل عتبة بن ربيعة أو بالعكس على اختلاف في ذلك، وقتل: طعيمة بن عدي6 وقيل إنه قتل: سباعا الخزاعي يومئذ؛ وقيل: بل قتله يوم أحد قبل أن يقتل7.
شهد رضي الله عنه أحدا وقَتل أكثر من ثلاثين نفسا من المشركين قبل أن يُقتل8 قتله رجل يقال له وحشي مولى لجبير بن مطعم، وكان جبير بن مطعم قد قال لمولاه وحشي: إن قتلت حمزة بعمي فأنت حر، فتربص وحشي لحمزة رضي الله عنه حتى قتله9.
فقد كان حمزة يقاتل في أحد بين يدي النبي صلى الله عليه وسله بسيفين فقال قائل: أي
--------------------------------------------
তাকে 'তাঁর রাসূলের সিংহ' বলা হতো। তাঁর দুই পুত্র উমারা ও ইয়া'লার নামানুসারে তাঁর উপনাম ছিল আবু উমারা ও আবু ইয়া'লা। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে 'আল্লাহর সিংহ' এবং 'শহীদদের নেতা' অথবা 'সেরা শহীদ' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য একটি পতাকা বেঁধে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে একটি অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন; মাদায়েনীর মতে এটিই ছিল ইসলামে প্রস্তুতকৃত প্রথম পতাকা।
তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ ও সুবিখ্যাত অবদান রেখেছিলেন: তিনি শাইবা ইবনে রাবিয়াকে হত্যা করেন এবং উতবা ইবনে রাবিয়াকে হত্যায় অংশগ্রহণ করেন (অথবা এর বিপরীতটি বর্ণিত আছে)। তিনি তুআইমা ইবনে আদীকেও হত্যা করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, সেই দিন তিনি সিবাহ আল-খুজায়ীকে হত্যা করেছিলেন; আবার এমনও বলা হয় যে, তিনি তাকে ওহুদের দিনে নিজে শহীদ হওয়ার পূর্বে হত্যা করেছিলেন।
তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং শাহাদাত বরণের পূর্বে ত্রিশের অধিক মুশরিককে হত্যা করেছিলেন। জুবায়ের ইবনে মুতইমের ক্রীতদাস ওয়াহশী নামক এক ব্যক্তি তাঁকে শহীদ করেন। জুবায়ের ইবনে মুতইম তাঁর ক্রীতদাস ওয়াহশীকে বলেছিলেন: "যদি তুমি আমার চাচার প্রতিশোধ হিসেবে হামযাকে হত্যা করতে পারো, তবে তুমি মুক্ত।" ফলে ওয়াহশী হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহুর জন্য ওত পেতে ছিলেন এবং পরিশেষে তাঁকে শহীদ করেন।
হামযা ওহুদ যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে দুই তরবারি নিয়ে যুদ্ধ করছিলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮১)
أسد، فبينا هو كذلك إذا عثر عثرة وقع منها على ظهره، فانكشفت الدرع عن بطنه، فطعنه وحشي الحبشي بحربة أو برمح فأنفذه1.
وقد روى البخاري في صحيحه تفصيل قصة استشهاده من رواية القاتل نفسه فقد قال وحشي: إن حمزة قتل طُعَيمة بن عدي بن الخيار ببدر، فقال لي مولاي جبير بن مطعم: إن قتلت حمزة بعمي فأنت حر. قال: فلما أن خرج الناس عام عينين -وعينين جبل بحيال أحد بينه وبينه واد- خرجت مع الناس إلى القتال فلما اصطفوا للقتال خرج سِبَاع فقال: هل من مبارز؟ قال: فخرج إليه حمزة بن عبد المطلب فقال: يا سباع يا ابن أم أنمار مقطعة البظور أتحاد الله ورسوله صلى الله عليه وسله؟ قال: ثم شد عليه فكان كأمس الذاهب قال: وكمنت لحمزة تحت صخرة فلما دنا مني رميته بحربتي فأضعها في ثنته حتى خرجت من بين وركيه قال فكان ذاك العهد به.
فلما رجع الناس رجعت معهم فأقمت بمكة حتى فشا فيها الإسلام ثم خرجت إلى الطائف فأرسلوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسله رسولا فقيل لي إنه لا يهيج الرسل قال فخرجت معهم حتى قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسله فلما رآني قال: "آنت وحشي؟ " قلت: نعم. قال: "أنت قتلت حمزة؟ " قلت: قد كان من الأمر ما بلغك. قال: "فهل تستطيع أن تغيب وجهك عني". قال: فخرجت فلما قبض رسول الله صلى الله عليه وسله فخرج مسيلمة الكذاب قلت: لأخرجن إلى مسيلمة لعلي أقتله فأكافئ به حمزة قال: فخرجت مع الناس فكان من أمره ما كان قال فإذا رجل قائم في ثلمة2جدار كأنه جمل أورق ثائر الرأس قال: فرميته بحربتي فأضعها بين ثدييه حتى خرجت من بين كتفيه قال: ووثب رجل من الأنصار فضربه بالسيف على هامته3.
--------------------------------------------
সিংহের মতো; এমতাবস্থায় তিনি হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পিঠের ওপর পড়ে গেলেন, ফলে তাঁর পেট থেকে বর্মটি সরে গেল। তখন ওয়াহশি আল-হাবাশি তাকে একটি ছোট বর্শা বা বল্লম দিয়ে আঘাত করলেন এবং তা তাঁর শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেল১।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর শাহাদাতের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা হত্যাকারীর নিজের জবানিতে উদ্ধৃত করেছেন। ওয়াহশি বলেন: হামযা (রা.) বদরের যুদ্ধে তুআইমা ইবনে আদি ইবনুল খিয়ারকে হত্যা করেছিলেন। তখন আমার মনিব জুবায়ের ইবনে মুতইম আমাকে বললেন: 'তুমি যদি আমার চাচার বিনিময়ে হামযাকে হত্যা করতে পারো, তবে তুমি মুক্ত।' তিনি বলেন: যখন মানুষ 'আইনাইন' এর বছর (উহুদ যুদ্ধের বছর) বের হলো—আইনাইন হলো উহুদ পাহাড়ের সম্মুখবর্তী একটি পাহাড় যার মাঝে একটি উপত্যকা রয়েছে—আমিও মানুষের সাথে যুদ্ধের জন্য বের হলাম। যখন তারা যুদ্ধের জন্য কাতারবদ্ধ হলো, তখন সিবা' নামক এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে এসে বলল: 'কোনো দ্বন্দ্বযোদ্ধা আছে কি?' তিনি বলেন: তখন হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তার দিকে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: 'হে সিবা'! হে উম্মে আনমার—যে খতনা করত—এর পুত্র! তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরোধিতা করছ?' এরপর তিনি তার ওপর আক্রমণ করলেন এবং তাকে বিগত দিনের মতো (সহজেই) নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। ওয়াহশি বলেন: আমি একটি পাথরের নিচে হামযার অপেক্ষায় ওত পেতে ছিলাম। যখন তিনি আমার নিকটবর্তী হলেন, আমি তাকে লক্ষ্য করে আমার ছোট বর্শাটি নিক্ষেপ করলাম এবং তা তাঁর তলপেটে বিদ্ধ করলাম, যা তাঁর দুই নিতম্বের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে গেল। তিনি বলেন: এটাই ছিল তাঁর শেষ সময়।
যখন মানুষ ফিরে গেল, আমিও তাদের সাথে ফিরে আসলাম এবং মক্কায় অবস্থান করলাম যতক্ষণ না সেখানে ইসলাম প্রসারিত হলো। এরপর আমি তায়েফে চলে গেলাম। তারা (তায়েফবাসী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন দূত পাঠালেন। আমাকে বলা হলো যে, তিনি দূতদের কোনো ক্ষতি করেন না। ওয়াহশি বলেন: আমি তাদের সাথে বের হলাম এবং অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম। যখন তিনি আমাকে দেখলেন, জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি ওয়াহশি?" আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তুমিই কি হামযাকে হত্যা করেছ?" আমি বললাম: বিষয়টি তেমনই যেমনটি আপনার কাছে পৌঁছেছে। তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার চেহারা আমার থেকে আড়ালে রাখতে পারবে?" ওয়াহশি বলেন: এরপর আমি বেরিয়ে গেলাম। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এবং মুসায়লামা কাযযাব আত্মপ্রকাশ করল, আমি মনে মনে বললাম: আমি অবশ্যই মুসায়লামার বিরুদ্ধে বের হবো, হয়তো আমি তাকে হত্যা করার মাধ্যমে হামযার (হত্যার) বদলা নিতে পারব। তিনি বলেন: আমি মানুষের সাথে বের হলাম এবং তার পরিণতির যা হওয়ার ছিল তা-ই হলো। হঠাৎ আমি একজনকে দেয়ালের একটি ফাটলে২ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম, যাকে দেখতে ধূসর বর্ণের উটের মতো লাগছিল এবং তার মাথার চুল ছিল উস্কোখুস্কো। ওয়াহশি বলেন: আমি তাকে লক্ষ্য করে আমার ছোট বর্শাটি নিক্ষেপ করলাম এবং তা তার বুকের মাঝখানে বিদ্ধ করলাম যা তার দুই কাঁধের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে গেল। তিনি বলেন: এরপর একজন আনসারী লোক তার দিকে লাফিয়ে পড়লেন এবং তরবারি দিয়ে তার মাথায়৩ আঘাত করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮২)
عاش رضي الله عنه دون الستين 1 ودفن هو وعبد الله بن جحش في قبر واحد2.
ورُوِيَ أن النبي صلى الله عليه وسله قال: لولا أن تجد صفية لتركت دفنه حتى يحشر من بطون الطير والسباع، وكان قد مثل به يومئذ فقد بقرت3هند بنت عتبة عن بطن حمزة رضي الله عنه فأخرجت كبده وجعلت تلوك4كبده ثم لفظتها فقال النبي صلى الله عليه وسله "لو دخل بطنها لم تدخل النار"، فلم يمثل بأحد ما مثل بحمزة، قطعت هند كبده وجدعت أنفه وقطعت أذنيه، وبقرت بطنه5.
وعلّق ابن عبد البر رواية من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسله وقف على حمزة حين استشهد" فبكى ولما رأى ما مُثِّل به: شهق، فلم ير منظرا كان أوجع لقلبه منه فقال: رحمك الله أي عم فلقد كنت وصولا للرحم فعولا للخيرات" 6.
ورثاه: كعب بن مالك - وقيل: عبد الله بن رواحة -بأبيات منها:
بكت عيني وحق لها بكاها
… وما يغني البكاء ولا العويل
على أسد الإله غداة قالوا
… لحمزة ذاكم الرجل القتيل
أصيب المسلمون به جميعا
… هناك وقد أصيب به الرسول
--------------------------------------------
তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু ষাট বছরের কম বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন ১ এবং তাঁকে ও আবদুল্লাহ ইবনে জাহশকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল ২।
বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি সাফিয়্যাহ কষ্ট না পেতেন, তবে আমি তাঁর দাফন করা ত্যাগ করতাম যেন তিনি পাখি ও বন্য জন্তুর পেট থেকে পুনরুত্থিত হন।” সে দিন তাঁর মরদেহের অঙ্গহানি করা হয়েছিল; হিন্দা বিনতে উতবাহ হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পেট চিরে ৩ তাঁর কলিজা বের করেছিল এবং সে তা চিবিয়েছিল ৪, অতঃপর তা মুখ থেকে ফেলে দিয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “যদি সেটি তার পেটে প্রবেশ করত, তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করত না।” হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মরদেহের মতো অন্য কারো মরদেহের সাথে ইতিপূর্বে কখনো এমন অঙ্গহানি করা হয়নি। হিন্দা তাঁর কলিজা কেটে নিয়েছিল, তাঁর নাক কর্তন করেছিল, তাঁর কান দুটি কেটে ফেলেছিল এবং তাঁর পেট চিরেছিল ৫।
ইবনে আবদিল বার আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামজা যখন শহীদ হন তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং কেঁদেছিলেন। যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর মরদেহের কী প্রকার অঙ্গহানি করা হয়েছে, তখন তিনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তিনি এর চেয়ে বেশি হৃদয়বিদারক দৃশ্য আর দেখেননি। অতঃপর তিনি বললেন: “হে চাচা! আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, কারণ আপনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী এবং কল্যাণমূলক কাজে অতিশয় অগ্রগামী ছিলেন” ৬।
কাব ইবনে মালিক—কারো মতে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা—তাঁর জন্য শোকগাথা রচনা করেছেন, যার কয়েকটি পঙক্তি হলো:
আমার চোখ দুটি ক্রন্দন করেছে এবং তাদের ক্রন্দন করাটাই সংগত ছিল
… তবে এই ক্রন্দন কিংবা বিলাপ কোনো উপকারে আসবে না
আল্লাহর সিংহের শোকে সেই প্রত্যুষে যখন তারা বলেছিল
… ওই যে হামজা, যিনি নিহত হয়েছেন
সকল মুসলিম তাঁর বিয়োগে সেখানে শোকাভিভূত হয়েছিল
… আর স্বয়ং রাসূলও তাঁর বিয়োগে ব্যথিত হয়েছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
أبا يعلى، لك الأركان هُدَّت
… وأنت الماجد البَرُّ الوصول
عليك سلام ربك في جنانٍ
… يخالطها نعيمٌ لا يزول
ألا يا هاشمَ الأخيار صبرا
… فكل فعالكم حسنٌ جميل
رسولُ الله مصْطَبرٌ كريم
… بأمر الله ينطق إذ يقول
إلى أن قال:
ألا يا هندُ لا تبدي شماتا
… بحمزة إنَّ عزكم ذليل
ألا يا هندُ فابكي لا تملي
… فأنت الواله العَبْرَى الثكولُ1
جاء في بعض الروايات: أن معاوية رضي الله عنه حفر العين في خلافته فكشفت بعض قبور شهداء أحد، فوجدوا أجسادهم رطابا يتثنون، وذلك على رأس أربعين سنة، وأصاب المر2 رجل حمزة فطار منها الدم3.
--------------------------------------------
হে আবু ইয়ালা! তোমার বিয়োগে স্তম্ভগুলো ভেঙে পড়েছে
… অথচ তুমি ছিলে মর্যাদাবান, পুণ্যবান ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী।
জান্নাতের মাঝে তোমার রবের সালাম তোমার ওপর বর্ষিত হোক
… যা এমন এক চিরস্থায়ী নিআমত দ্বারা পরিবেষ্টিত যা কখনো শেষ হবে না।
হে সর্বোত্তম হাশেমী বংশধরেরা! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো
… কেননা তোমাদের সকল কাজই কল্যাণময় ও সুন্দর।
আল্লাহর রাসূল ধৈর্যশীল ও সম্মানিত
… যখন তিনি কথা বলেন, আল্লাহর আদেশেই কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন:
হে হিন্দ! হামজার শাহাদাতের ওপর উপহাস করো না
… নিশ্চয়ই তোমাদের সম্মান আজ লাঞ্ছিত।
হে হিন্দ! তুমি ক্রন্দন করো এবং ক্লান্ত হয়ো না
… কেননা তুমি শোকাতুর, অশ্রুসিক্ত ও সন্তানহারা জননী।
কিছু বর্ণনায় এসেছে: মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খিলাফতকালে একটি ঝরনা খনন করেছিলেন, তখন উহুদ যুদ্ধের শহীদদের কিছু কবর উন্মোচিত হয়ে যায়। তারা তাঁদের শরীরগুলোকে সতেজ ও নমনীয় অবস্থায় দেখতে পান, আর এটি ছিল তাঁদের শাহাদাতের চল্লিশ বছর পরের ঘটনা। কোদাল হামজার পায়ে আঘাত করলে সেখান থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
2-
عبد الله بن جحش1:
عبد الله بن جحش بن رياب بن يعمر2 بن صبرة بن مرة بن كبير بن غَنْم ابن دودان بن أسد بن خزيمة3 الأسدي حليف بني عبد شمس4 ويكنى أبا
--------------------------------------------
২-
আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ১:
আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ ইবনে রিয়াব ইবনে ইয়ামুর ইবনে সাবরা ইবনে মুররা ইবনে কাবীর ইবনে গানম ইবনে দাউদান ইবনে আসাদ ইবনে খুজাইমা আল-আসাদি, তিনি বনু আবদু শামসের মিত্র ছিলেন এবং তার উপনাম ছিল আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৪)
محمد، وأمه: أميمة بنت عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي1.
أحد السابقين إلى الإسلام2 هاجر إلى الحبشة3 وعاد إلى مكة لما بلغ مهاجري الحبشة إسلام أهل مكة4 ذكره ابن إسحاق في أول من قدم المدينة من المهاجرين5 وفيمن شهد بدرا6 آخى النبي بينه وبين عاصم بن ثابت7.
وبعثه في سرية8 وقال لأصحابها: “لأبعثن عليكم رجلا أصبركم على الجوع والعطش”، قال سعد رضي الله عنه: فبعث علينا عبد الله بن جحش فكان أول أمير في الإسلام9 ورايته في تلك السرية هي أول راية عقدت في الإسلام ـ على قول ـ 10 ونسبت إليه فيما بعد فسميت: (سرية: عبد الله بن جحش) .
رُوى أن رسول الله صلى الله عليه وسله يوم خرج إلى أحد نزل عند الشيخين11 فأصبح هناك فجاءته أم سلمة بكتف مشوية فأكلها ثم جاءته بنبيذ فشرب ثم أخذه
--------------------------------------------
মুহাম্মদ, এবং তাঁর মা: উমাইমা বিনতে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই।১
ইসলামের প্রথম দিকে গ্রহণকারীদের একজন।২ তিনি আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন৩ এবং যখন আবিসিনিয়ার মুহাজিরদের কাছে মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের খবর পৌঁছাল, তখন তিনি মক্কায় ফিরে আসেন।৪ ইবনে ইসহাক তাঁকে মদিনায় আগমনকারী প্রথম মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন৫ এবং যারা বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যেও।৬ নবী তাঁর এবং আসিম বিন সাবিতের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন।৭
এবং তিনি তাঁকে একটি ছোট অভিযানে প্রেরণ করেন৮ এবং এর সঙ্গীদের বলেছিলেন: “আমি তোমাদের জন্য এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাচ্ছি যে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল।” সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অতঃপর তিনি আমাদের ওপর আবদুল্লাহ বিন জাহশকে প্রেরণ করেন এবং তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম আমির৯ আর সেই অভিযানে তাঁর পতাকাটিই ছিল ইসলামের প্রথম পতাকা যা বাঁধা হয়েছিল—এক মতানুসারে—১০ এবং পরবর্তীতে এটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধিত করা হয় এবং নাম দেওয়া হয়: (সারিয়্যাহ: আবদুল্লাহ বিন জাহশ)।
বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেদিন ওহুদ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন, তিনি শাইখাইন নামক স্থানে অবতরণ করেন১১ এবং সেখানে ভোর অতিবাহিত করেন। অতঃপর উম্মে সালামাহ তাঁর কাছে একটি ঝলসানো শিনা (বাহু) নিয়ে আসেন, তিনি তা খেলেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে পানীয় (নাবিয) নিয়ে আসেন, তিনি তা পান করেন এবং এরপর তা গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
رجل من القوم فشرب منه ثم أخذه عبد الله بن جحش فعب1فيه فقال له رجل بعض شرابك أتدري أين تغدو قال نعم ألقى الله وأنا ريان أحب إلي من أن ألقاه وأنا ظمآن اللهم إني أسألك أن أستشهد وأن يمثل بي فتقول فيم صنع بك هذا فأقول فيك وفي رسولك2.
وقد دعا عبد الله بن جحش رضي الله عنه يوم أحد أن يرزقه الله الشهادة؛ فاستجيب له3 جاء في بعض الروايات: أن عبد الله بن جحش قال لسعد بن أبي وقاص يوم أحد: ألا تأتي فندعوا؟ قال سعد: فخلونا في ناحية فدعا سعد فقال: يا رب إذا لقينا القوم4 غدا فلَقِّني رجلا شديدا حرده5 أقاتله فيك ثم ارزقني الظفر عليه حتى أقتله وآخذ سلبه. قال: فأَمَّنَ عبد الله بن جحش، ثم قال عبد الله: اللهم ارزقني رجلا شديدا حرده أقاتله فيك حتى يأخذني فيجدع أنفي وأذني فإذا لقيتك قلت هذا فيك وفي رسولك فتقول صدقت. قال سعد: فكانت دعوة عبد الله خيرا من دعوتي فلقد رأيته آخر النهار وإن أنفه وأذنه لمعلق في خيط6.
وفي رواية أنه قال في دعائه إذ ذاك: اللهم إذا لاقوا هؤلاء غدا فإني أقسم عليك لما يقتلوني ويبقروا بطني ويجدعوني فإذا قلت لي لم فعل بك هذا فأقول
--------------------------------------------
সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি তা থেকে পান করলেন, এরপর আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ তা গ্রহণ করলেন এবং তাতে এক নিঃশ্বাসে পান করতে শুরু করলেন। এক ব্যক্তি তাকে বললেন, "আপনি আপনার পানীয়র কিছুটা অবশিষ্ট রাখুন; আপনি কি জানেন আগামীকাল আপনি কোথায় যাচ্ছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তৃষ্ণার্ত অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে তৃপ্ত অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা আমার কাছে অধিক প্রিয়। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন আমি শাহাদাত বরণ করি এবং আমার দেহকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়; তখন আপনি প্রশ্ন করবেন, তোমার সাথে এই আচরণ কেন করা হয়েছে? আর আমি বলব, আপনার সন্তুষ্টির জন্য এবং আপনার রাসূলের জন্য।"
ওহুদের যুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর কাছে শাহাদাত কামনা করে প্রার্থনা করেছিলেন; এবং তাঁর সেই প্রার্থনা কবুল করা হয়েছিল। কিছু বর্ণনায় এসেছে: ওহুদের দিন আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে বললেন, "আপনি কি আসবেন না যাতে আমরা একত্রে প্রার্থনা করি?" সা’দ বললেন, "অতঃপর আমরা নির্জনে একপাশে গেলাম। সা’দ প্রার্থনা করে বললেন: হে রব! আগামীকাল যখন আমরা শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হব, তখন আমার সামনে এমন এক শক্তিশালী ও দুর্দান্ত প্রতাপশালী ব্যক্তিকে হাজির করবেন যার সাথে আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করব, অতঃপর আমাকে তার ওপর বিজয় দান করবেন যেন আমি তাকে হত্যা করতে পারি এবং তার যুদ্ধের সরঞ্জামাদি গ্রহণ করতে পারি।" তিনি (সা’দ) বললেন, "তখন আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ ‘আমীন’ বললেন। অতঃপর আবদুল্লাহ প্রার্থনা করলেন: হে আল্লাহ! আমাকে এমন এক শক্তিশালী ও দুর্দান্ত প্রতাপশালী ব্যক্তি দান করুন যার সাথে আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করব, যতক্ষণ না সে আমাকে পাকড়াও করে আমার নাক ও কান কেটে ফেলে। অতঃপর যখন আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব, আপনি বলবেন, ‘এটি কেন করা হয়েছে?’ আমি বলব, ‘আপনার এবং আপনার রাসূলের জন্য।’ তখন আপনি বলবেন, ‘তুমি সত্য বলেছ’।" সা’দ বলেন, "আবদুল্লাহর প্রার্থনা আমার প্রার্থনার চেয়ে উত্তম ছিল। দিনের শেষভাগে আমি তাকে দেখলাম যে, তার নাক ও কান একটি সুতোয় লটকানো ছিল।"
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি সে সময় তাঁর প্রার্থনায় বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! তারা যখন আগামীকাল এদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন আমি আপনার নামে শপথ করছি যে তারা যেন আমাকে হত্যা করে, আমার পেট বিদীর্ণ করে এবং আমার অঙ্গহানি করে। অতঃপর যখন আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন, ‘কেন তোমার সাথে এমনটি করা হয়েছে?’ তখন আমি বলব—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৬)
اللهم فيك فلما التقوا فعلوا ذلك به وقال الرجل الذي سمعه أما هذا فقد استجيب له وأعطاه الله ما سأل في جسده في الدنيا وأنا أرجو أن يعطى ما سأل في الآخرة1.
قال الزبير: كان يقال له المجدع في الله وكان سيفه انقطع يوم أحد فأعطاه النبي صلى الله عليه وسله عرجونا2 فصار في يده سيفا فكان يسمى العرجون قال وقد بقي هذا السيف حتى بيع من بغاء التركي بمائتي دينار.
قتله أبوالحكم بن الأخنس بن شَريق3ودفن هو وحمزة في قبر واحد وكان له يوم قتل نيف وأربعون سنة4
--------------------------------------------
হে আল্লাহ, আপনার সন্তুষ্টির জন্যই [আমি এটি করছি]। এরপর যখন তারা [শত্রুপক্ষ] মুখোমুখি হলো, তখন তারা তার সাথে তেমনটিই করল। যে ব্যক্তি তার প্রার্থনা শুনেছিল সে বলল, "তার প্রার্থনা কবুল হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে তার শরীরের ব্যাপারে যা চেয়েছিলেন তা প্রদান করেছেন। আর আমি আশা করি আখেরাতেও তিনি তাকে তাই দিবেন যা তিনি চেয়েছিলেন।"১
জুবায়ের বলেন: তাকে "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অঙ্গ হারানো ব্যক্তি" বলা হতো। ওহুদ যুদ্ধের দিন তার তলোয়ারটি ভেঙে যায়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে একটি খেজুরের ডাল২ প্রদান করেন এবং তা তার হাতে তলোয়ারে পরিণত হয়। এরপর থেকে একে 'আল-আরজুন' (খেজুরের ডাল) বলা হতো। তিনি বলেন, এই তলোয়ারটি সংরক্ষিত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি তুর্কি বগার কাছে দুইশত দিনারে বিক্রি করা হয়েছিল।
তাকে আবু আল-হাকাম ইবনে আল-আখনাস ইবনে শারিক৩ হত্যা করে। তাকে এবং হামজাহকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল। যেদিন তিনি শহীদ হন সেদিন তার বয়স ছিল চল্লিশ বছরের কিছু বেশি।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৬)
3 -
مصعب بن عمير1:
مصعب بن عمير بن هاشم2 بن عبد مناف3 بن عبد الدار بن قصي4
--------------------------------------------
৩ -
মুসআব ইবন উমায়ের১:
মুসআব ইবন উমায়ের ইবন হাশিম২ ইবন আবদ মানাফ৩ ইবন আবদ আদ-দার ইবন কুসাই৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুহাদাউ উহুদ আল্লাযীনা যাকারাহুমুবনু ইসহাক ফী মাগাযীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৭)
ابن كلاب1بن مرة2 العبدري3 القرشي4 يكنى أبا محمد5، أبا عبد الله6 وأمه: خناس بنت مالك بن المضرب بن وهب بن عمرو بن حجير بن عبد بن معيص بن عامر بن لؤي، ويلقب: مصعب الخير، وزوجته: حمنة بنت جحش بن رباب بن يعمر بن صبرة بن مرة بن كثير بن غنم بن دودان ابن أسد ابن خزيمة7.
كان من جلة الصحابة وفضلائهم8 وكان فتى مكة شبابا وجمالا وسبيبا وكان أبواه يحبانه، وكانت أمه مليئة كثيرة المال تكسوه أحسن ما يكون من الثياب وأرقه وكان أعطر أهل مكة، يلبس الحضرمي من النعال، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكره ويقول: ما رأيت بمكة أحدا أحسن لمة ولا أرق حلة ولا أنعم نعمة من مصعب بن عمير9.
عن سعد بن أبي وقاص قال كان مصعب بن عمير أنعم غلام بمكة وأجوده حلة مع أبويه10 ثم جهد في الإسلام جهدا شديدا حتى إن جلده
--------------------------------------------
ইবনে কিলাব১ ইবনে মুররা২ আল-আবদারি৩ আল-কুরাশি৪, তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ৫ ও আবু আব্দুল্লাহ৬। তাঁর মা: খুন্নাস বিনতে মালিক ইবনুল মুদাররিব ইবনে ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে হুজাইর ইবনে আবদ ইবনে মাঈস ইবনে আমির ইবনে লুআই। তাঁর উপাধি ছিল: মুসআব আল-খাইর। তাঁর স্ত্রী: হামনাহ বিনতে জাহাশ ইবনে রিবাব ইবনে ইয়ামুর ইবনে সাবরা ইবনে মুররা ইবনে কাসীর ইবনে গানম ইবনে দুদান ইবনে আসাদ ইবনে খুযাইমাহ৭।
তিনি ছিলেন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের অন্যতম৮। তিনি যৌবন, সৌন্দর্য ও সুশ্রী অবয়বের কারণে মক্কার অনন্য যুবক ছিলেন। তাঁর পিতামাতা তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাঁর মা ছিলেন সম্পদশালী ও প্রচুর অর্থের মালিক; তিনি তাঁকে সর্বোত্তম ও সূক্ষ্ম কারুকাজের পোশাক পরিধান করাতেন। তিনি মক্কাবাসীদের মধ্যে সবচাইতে বেশি সুগন্ধি ব্যবহারকারী ব্যক্তি ছিলেন এবং হাযরামাউতি চর্মপাদুকা পরিধান করতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কথা উল্লেখ করে বলতেন: আমি মক্কায় মুসআব ইবনে উমায়েরের চেয়ে সুন্দর কেশরাশি বিশিষ্ট, অধিক পরিপাটি পোশাক পরিহিত এবং অধিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে লালিত-পালিত আর কাউকে দেখিনি৯।
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুসআব ইবনে উমায়ের তাঁর পিতামাতার সান্নিধ্যে মক্কার সবচাইতে সুখী ও উন্নত পোশাক পরিহিত যুবক ছিলেন১০। অতঃপর ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন করেন, এমনকি তাঁর চামড়া...
--------------------------------------------