(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرعية المعاملات التي تقوم بها البنوك الإسلامية المعاصرة   (عبد الرحمن بن عبد الخالق)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: شرعية المعاملات التي تقوم بها البنوك الإسلامية المعاصرة

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الخالق اليوسف

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الخامسة عشر- رجب - شعبان - رمضان 1403 هـ

عدد الصفحات: 112

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমকালীন ইসলামি ব্যাংকসমূহ কর্তৃক পরিচালিত লেনদেনের শরয়ি বৈধতা   (আবদুর রহমান ইবনে আবদুল খালিক)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: সমকালীন ইসলামি ব্যাংকসমূহ কর্তৃক পরিচালিত লেনদেনের শরয়ি বৈধতা

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবদুল খালিক আল-ইউসুফ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

সংস্করণ: ১৫তম বর্ষ- রজব - শাবান - রমজান ১৪০৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
‌‌مدخل

…

شرعيَّة المعاملات

التي تقوم بها البنوك الإسلامية المعاصرة

للشيخ عبد الرحمن عبد الخالق

الكويت

* هذه كلمة من محب لكم ولأمتنا الإسلامية أسديها لكم تبرئة للذمة ونصحاً للأمة، وحساب الجميع على الله سبحانه وتعالى. ولأن موضوع البنوك الإِسلامية طويل ومتشعب، ولأنه لا يسدْى في هذه العجالة تفصيل هذا الأمر، فإنني سأضع بين أيديكم خطوطاً عريضة محددة لما يجب أن يدور عليه البحث ولما أحب أن ألفت نظركم إليه.
উপক্রমণিকা

…

লেনদেনের শরয়ি বৈধতা

যা সমকালীন ইসলামি ব্যাংকসমূহ পরিচালনা করে থাকে

শায়খ আবদুর রহমান আবদুল খালিক-এর পক্ষ থেকে

কুয়েত

* এটি আপনাদের এবং আমাদের মুসলিম উম্মাহর প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কিছু কথা, যা আমি আপনাদের সামনে পেশ করছি আমার দায়মুক্তির অভিপ্রায়ে এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনায়; আর সকলের হিসাব গ্রহণের ভার মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ওপর। যেহেতু ইসলামি ব্যাংকসংক্রান্ত বিষয়টি দীর্ঘ এবং বহুমুখী শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত, আর এই স্বল্প সময়ে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, তাই আমি আপনাদের সামনে গবেষণার জন্য অপরিহার্য কিছু সুনির্দিষ্ট ও মৌলিক রূপরেখা উপস্থাপন করব এবং সেই সব বিষয়ের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যা আমি সমীচীন মনে করি।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
‌‌أولاً: البنوك الإِسلامية غاية وهدف:

من تحصيل الحاصل الآن أن أذكر أن البنوك الإسلامية غاية إِسلامية وهدف وأمل لكل مسلم صادق وأن كل مسلم مطالب بأن يسعى إِلى إقامة هذه المصارف الإسلامية على النحو الذي يحقق للمسلم طيب المطعم والكسب، ولأمة الإسلام النصر والعزة، ولاشك أنه يبرأ من الإِسلام من يريد أن يحول بين المسلمين وبين إِقَامة نظام اقتصادهم وفق الشريعة ومن يريد تعطيل مسيرة البنوك الإسلامية لتطبيق شريعة الله.
প্রথমত: ইসলামি ব্যাংকসমূহ একটি ইসলামি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

বর্তমানে এটি বলা বাহুল্য যে, ইসলামি ব্যাংকসমূহ হলো প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ মুসলিমের জন্য একটি ইসলামি লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং আকাঙ্ক্ষা। প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য হলো এমনভাবে এই ইসলামি ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো, যা মুসলিমের জন্য পবিত্র আহার ও হালাল উপার্জন নিশ্চিত করে এবং ইসলামি উম্মাহর জন্য বিজয় ও সম্মান বয়ে আনে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই ব্যক্তি ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত, যে মুসলিমদের এবং শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর শরিয়াহ বাস্তবায়নের নিমিত্তে ইসলামি ব্যাংকগুলোর পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
‌‌ثانياً: نظرة إلى الوراء:

من جانب الحرص على المصارف الإسلامية كتبنا مقالات مطولة في عدم شرعية كثير من المعاملات الجارية الآن فيها، وقد كان لنا بحمد الله شرف الدعوة والعمل من أجل إِقامة هذه المصارف وذلك منذ عام 1966 مقتدين ومساعدين لأستاذنا في هذا الصدد الدكتور عيسى عبده رحمه الله الذي هو بحق رائد ومنشئ أول مصرف إسلامي فجزاه الله عن المسلمين خيراً وأفسح له في جنان الخلد.
দ্বিতীয়ত: অতীতের দিকে এক দৃষ্টি:

ইসলামী ব্যাংকগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণের জায়গা থেকে আমরা সেখানে বর্তমানে প্রচলিত অনেক লেনদেনের শরয়ি অবৈধতার বিষয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছি। আল্লাহর প্রশংসায়, ১৯৬৬ সাল থেকে এই ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাওয়াত প্রদান ও কাজ করার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের উস্তাদ ডক্টর ঈসা আবদু (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর অনুসারী ও সহযোগী ছিলাম, যিনি প্রকৃতপক্ষেই প্রথম ইসলামী ব্যাংকের অগ্রপথিক ও প্রতিষ্ঠাতা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং চিরস্থায়ী জান্নাতে তাঁর স্থান প্রশস্ত করুন।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
‌‌ثالثاً: الغاية التي من أجلها تنشأ المصارف الإِسلامية:

لا يخفى عليكم أن المصرف الإسلامي يختلف عن المصرف الربوي في شيء أساسي هو أن المصرف الإسلامي هو التاجر والصانع والزارع والمؤجر، والذي يعمل في الصيد واستخراج المعادن، وباختصار هو الذي يقوم بكل الأعمال المشروعة للكسب وهذا بعكس
তৃতীয়ত: যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ইসলামি ব্যাংকসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়:

আপনাদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, ইসলামি ব্যাংক একটি মৌলিক বিষয়ে সুদভিত্তিক ব্যাংক থেকে ভিন্নতর; আর তা হলো— ইসলামি ব্যাংক নিজেই ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক, চাষী ও ইজারাদাতা এবং এটি মৎস্য শিকার ও খনিজ সম্পদ আহরণের কাজ করে থাকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি উপার্জনের সকল বৈধ (مشروع) কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে এবং এটি এর বিপরীত...
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯৮)
البنك الربوي الذي يقوم بدور الوسيط فقط بين صاحب المال وبين صاحب المشروع الزراعي أو الصناعي أو التجاري. فالمصرف الربوي في حقيقته وكيل عن المودع في أنه يقرض ماله بالربا بفائدة معلومة دون أن يتحمل شيئا من الخسارة، وأما المصرف الإسلامي فإنه يأخذ المال من المودعين ليزرع هو، ويصنع هو، ويبنى هو، ويؤجر هو، وبالتالي يكسب أو يخسر ويشارك المودع في الربح والخسارة.

وليس بخاف على أحد اليوم أن المصارف الإسلامية جميعها لم تقم بشيء يذكر مما أسست من أجله فلم تفتح بنفسها زراعة أو صناعة أو تجارة أو صيداً أو استخرج معادن. اللهم إلا خمسة في المائة فقط من الأموال المودعة عندها ذهبت إِلى هذا الصدد وأما بقية الأموال المودعة فإنها تتعامل فيها بطريقة ربوية لا شبهة فيها بتاتاًَ أنها ربوبية تحايلية. وذلك فيما يسمون ببيع المرابحة، وكذلك في الإعتمادات المستندية.

ففي بيع المرابحة المزعوم يشترى المصرف الإسلامي في الظاهر لنفسه وفى الحقيقة للمشترى الذي تعاقد معه وباع له، والمصرف هنا ليس مشترياً حقيقة وإِنما هو وسيط ربوي ضامن للربح غير مخاطر بشيء فهو يبيع ويشترى في وقت واحد ويسلم البضاعة وهى ما زالت في مصانعها أوفى البحر أوفى مخازن التاجر البائع. وهذا تحايل صارخ على الربا وليس من البيع في شيء وقد فصلنا هذا الأمر بحمد الله في مقالات عديدة، ورددنا ردوداً شافية على كل الذين حاولوا الدفاع عن هذا البيع الزائف الذي يسمونه (بيع المرابحة) وما هو من بيع المرابحة المعروف في الإِسلام في شيء.

وأما الاعتمادات المستندية فهو نوع من ضمان وصول مستندات البيع إلى المشترى، وهو خدمة تتقاضى عليها البنوك أجراًَ وهذا جائز إلا أن البنوك الربوية إذا سددت عن عميلها وتأخر في السداد فإنها تحسب عليه فائدة ربوية على كل يوم تأخير، وأما المصارف الإِسلامية فقد وجدت من يتحايل لها أيضا ويضع نسبة تصاعدية على العميل المشتري فالذي يسدد في ثلاثة أشهر يدفع 5،ا % والذي يسدد في ستة أشهر يدفع 3% والذي يسدد في سنة يدفع 6% وهذا هو عن المداينة بربح معلوم، ولا يفيد هذا القول بأن الدين مختلط مع عقد آخر هو الوكالة عن المشترى في استلام المستندات، لأن أخذ الأجرة على تسليم المستند معلومة ويمكن فصلها عن المداينة. ولذلك فلا فرق بتاتاً بين ما تصنعه المصارف الإسلامية الآن في الإعتمادات المستندية. وما تصنعه البنوك الربوية. وهذه القضية أيضاً قد فصلناها في مذكرة ورفعناها إلى بيت التمويل الكويتي عندما طلب منا أحد العلماء إفتاءه فيها.
সুদভিত্তিক ব্যাংক কেবল অর্থের মালিক এবং কৃষি, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রকল্পের উদ্যোক্তার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। প্রকৃতপক্ষে, সুদভিত্তিক ব্যাংক আমানতকারীর একজন প্রতিনিধি (وكيل) হিসেবে কাজ করে, যেখানে সে আমানতকারীর অর্থ নির্দিষ্ট সুদে (الربا) ঋণ দেয় এবং নিজে কোনো ক্ষতির দায়ভার বহন করে না। অন্যদিকে, ইসলামি ব্যাংক আমানতকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে যাতে সে নিজেই কৃষি, শিল্প, নির্মাণ বা ইজারার কাজ করতে পারে এবং এর ফলে সে লাভ বা লোকসান করে এবং আমানতকারীকে লাভ ও লোকসানের অংশীদার করে।

আজ কারো কাছেই এটি গোপন নয় যে, ইসলামি ব্যাংকগুলোর কোনোটিই সেই উদ্দেশ্যগুলোর তেমন কিছুই করেনি যার জন্য তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; তারা নিজেরা কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, মৎস্য শিকার বা খনিজ উত্তোলনের কোনো কাজ শুরু করেনি। তবে আমানতকৃত অর্থের মাত্র পাঁচ শতাংশ এই খাতে ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বাকি আমানতকৃত অর্থ এমন এক সুদভিত্তিক পন্থায় পরিচালিত হয় যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে এটি একটি প্রতারণামূলক সুদ (الربا)। আর তা তারা তথাকথিত ‘বাই মুরবাহা’ (بيع المرابحة) এবং ‘ডকুমেন্টারি ক্রেডিট’ (الإعتمادات المستندية) বা ঋণপত্রের মাধ্যমে করে থাকে।

তথাকথিত ‘বাই মুরবাহা’-তে ইসলামি ব্যাংক বাহ্যত নিজের জন্য ক্রয় করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই ক্রেতার জন্য ক্রয় করে যার সাথে সে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং যার কাছে পণ্যটি বিক্রি করেছে। ব্যাংক এখানে প্রকৃত ক্রেতা নয়, বরং সে একটি সুদভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী মাত্র যে কোনো ঝুঁকি না নিয়েই মুনাফার নিশ্চয়তা পায়। সে একই সময়ে ক্রয় ও বিক্রয় করে এবং পণ্যটি হস্তান্তর করে যখন সেটি কারখানায়, সমুদ্রে অথবা বিক্রেতা ব্যবসায়ীর গুদামে থাকে। এটি সুদের (الربا) ওপর এক প্রকাশ্য প্রতারণা এবং এটি ক্রয়-বিক্রয়ের (البيع) অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা আল্লাহর প্রশংসায় বিভিন্ন প্রবন্ধে বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করেছি এবং যারা এই মিথ্যা ক্রয়-বিক্রয় বা ‘বাই মুরবাহা’ (بيع المرابحة) রক্ষার চেষ্টা করেছে তাদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছি। ইসলামের সুপরিচিত ‘বাই মুরবাহা’-র সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

আর ‘ডকুমেন্টারি ক্রেডিট’ (الإعتمادات المستندية) বা ঋণপত্র হলো ক্রেতার কাছে বিক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র পৌঁছানোর নিশ্চয়তা প্রদানের একটি মাধ্যম। এটি এমন একটি সেবা যার বিনিময়ে ব্যাংক পারিশ্রমিক গ্রহণ করে এবং এটি জায়েজ (جائز)। তবে সুদভিত্তিক ব্যাংক যদি তার গ্রাহকের পক্ষে অর্থ পরিশোধ করে এবং গ্রাহক তা পরিশোধে দেরি করে, তবে ব্যাংক প্রতিদিনের বিলম্বের জন্য তার ওপর সুদ (الربا) ধার্য করে। ইসলামি ব্যাংকগুলোও এমন লোক খুঁজে নিয়েছে যারা তাদের জন্য হিলা বা কৌশলের পথ বের করে দেয় এবং তারা ক্রেতা-গ্রাহকের ওপর একটি ক্রমবর্ধমান হার নির্ধারণ করে। যেমন: যে তিন মাসে পরিশোধ করবে সে ১.৫% দেবে, যে ছয় মাসে পরিশোধ করবে সে ৩% দেবে এবং যে এক বছরে পরিশোধ করবে সে ৬% দেবে। এটি মূলত নির্দিষ্ট মুনাফার বিনিময়ে ঋণ আদান-প্রদান (المداينة)। এই দাবি কোনো কাজে আসবে না যে, এই ঋণ অন্য কোনো চুক্তির সাথে মিশ্রিত, যেমন নথিপত্র গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্রেতার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব (الوكالة)। কারণ নথিপত্র হস্তান্তরের পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট এবং তা ঋণ আদান-প্রদান থেকে পৃথক করা সম্ভব। ফলে ইসলামি ব্যাংকগুলো বর্তমানে ‘ডকুমেন্টারি ক্রেডিট’-এর ক্ষেত্রে যা করছে এবং সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলো যা করছে তার মধ্যে বিন্দুমাত্র পার্থক্য নেই। আমরা একটি স্মারকলিপিতে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসে জমা দিয়েছি যখন একজন আলেম এ বিষয়ে ফতোয়া (إفتاء) চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
‌‌رابعاً: ليس المهم أن نرفع شعاراً إِسلامياً بل المهم أن تطبق الإِسلام الحقيقي:

أظن أنه ليست بخاف عليكم أنه ليس المهم أن يرفع المسلم شعاراً يقول أنه مسلم ثم يمارس بعد ذلك ما يحلو له، وإنما المهم الآن- والآن بالذات أن نظهر الإِسلام الحقيقي وأن نقدم الإسلام حقيقة للناس. وقد ذكرت في معرض ردودي السابقة عليه قضية (بيع المرابحة) أنه بهذا الطريق من التحايل نستطيع أن نزاول كل الربا الموجود في الأرض الآن عن طريق ما يسمى (بيع المرابحة) فهذا النوع من التعامل قد يسر إجراء أي معاملة ربوية على أي صورة عن طريق ما يسمى (بيع المرابحة) وهذا معناه أن لا يوجد الآن ربا في الأرض فقط بل أي معاملة ربوية نستطيع أن نجعلها (شرعية) إلا بأن نغير شكل الكتابة فقط، فبدلاً من أن أقول أخذت ديناً بفائدة كذا وكذا أقول إنني لست مشترياً ولا بائعاً وإنما أنا قد أسلفت نقودي لغيره بفائدة معلومة لزمن معلوم.
চতুর্থত: ইসলামি স্লোগান তোলা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, বরং প্রকৃত ইসলাম বাস্তবায়ন করাই হলো আসল কাজ:

আমি মনে করি আপনাদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, কোনো মুসলিমের কেবল 'আমি মুসলিম' বলে স্লোগান দেওয়া এবং অতঃপর নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করা বড় বিষয় নয়; বরং এখন—এবং এই মুহূর্তে বিশেষভাবে—আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইসলামের প্রকৃত রূপ ফুটিয়ে তোলা এবং মানুষের নিকট বাস্তব ইসলামকে উপস্থাপন করা। তার ওপর আমার পূর্ববর্তী উত্তরসমূহে আমি 'বাইউল মুরাবাহা' এর প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছি যে, এই ধরনের অপকৌশলের (تحايل) মাধ্যমে আমরা বর্তমানে পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল সুদ (ربا) চর্চা করতে পারি তথাকথিত 'বাইউল মুরাবাহা'র মাধ্যমে। কারণ লেনদেনের এই পদ্ধতিটি যেকোনো ধরনের সুদি কারবারকে যেকোনো আঙ্গিকে সম্পন্ন করা সহজ করে দিয়েছে এই 'বাইউল মুরাবাহা' নামক পদ্ধতির মাধ্যমে। এর অর্থ হলো, বর্তমানে পৃথিবীতে কেবল সুদই (ربا) বিদ্যমান নেই, বরং যেকোনো সুদি লেনদেনকে আমরা কেবল নথিপত্র বা লেখার ধরন পরিবর্তনের মাধ্যমে 'শরয়ি' (شرعية) রূপ দিতে পারি। যেমন—"আমি অমুক হারে সুদে ঋণ নিয়েছি" বলার পরিবর্তে আমি বলি যে, আমি ক্রেতা বা বিক্রেতা নই, বরং আমি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সুদে অন্যকে আমার অর্থ অগ্রিম প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
‌‌خامساً: انظروا عمن توقعون؟

وختاماً أقول للمجتمعين اليوم انظروا عمن توقعون. إنكم توقعون عن الله. فإن قلتم إن هذا حلال فإنكم تعنون أن الله قد حرم هذا، ولاشك أن تحليل الحرام كتحريم الحلال. وأن الربا إحدى وسبعون باباً أيسرها مثل أن ينكح الرجل أمه، وإن أربى الربا عرض الرجل المسلم. فانظروا أين تضعون أنفسكم، واعلموا أن الله سائلكم غداً عما ستوقعون عليه اليوم.

وفى الختام أذكر هذه الحادثة لأوضح لكم إلى أي مدي أنتم مسئولون: فقد سألت بعض القائمين على المصارف الإسلامية: لماذا لا تؤسسون مشروعات صناعية وزراعية وتجارية وهذه هي المهمة التي من أجلها أسست البنوك الإسلامية؟ فقال لي: لا نستطيع ذلك فقلت: شاركوا بعض الشركات القائمة اشتروا شركات ناجحة. فقال: لم نجد من نستأمنه؟ ونخاف أن نخاطر بأموال المودعين. فقلت له: هذه هي نفسها حجة المرابين. أنهم لا يريدون المخاطرة. ولكن أليس الذين أودعوا نقودهم عندكم من المسلمين الذين فروا من الربا. وأنهم دخلوا وأودعوا أموالهم عالمين أنها قد تتعرض للربح والخسارة؟ فلماذا تخافون إذن من المخاطرة؟. ولم أسمع لليوم جواباً.

فيا إخواني الأعزاء هذه مسئوليتكم: فإن وجهتم المصارف الإسلامية اليد إلى العمل الإسلامي الصحيح توجهت. وكان لكم الفضل بعد الله سبحانه وتعالى.، وإن أقررتم ما هو حاصل الآن من المعاملات الربوِية كرستم الظلم والغش والربا وكانت المصارف الإسلامية القائمة اليوم وجهاً جديداً تحايلياًَ للمصارف الربوية فاختاروا اليوم ما تشاءون واللهم هل بلغت. اللهم فأشهد.
পঞ্চম: আপনারা কার পক্ষ হতে স্বাক্ষর (توقيع) করছেন সে দিকে লক্ষ্য রাখুন?

পরিশেষে আজ এখানে সমবেতদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, আপনারা কার পক্ষ হতে স্বাক্ষর (توقيع) করছেন তা ভেবে দেখুন। আপনারা মহান আল্লাহর পক্ষ হতে স্বাক্ষর (توقيع) করছেন। কেননা আপনারা যখন বলেন যে এটি হালাল (حلال), তখন আপনারা বোঝাতে চান যে আল্লাহ এটিকে বৈধ করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো হারামকে (حرام) হালাল (حলাল) সাব্যস্ত করা কোনো হালালকে (حلال) হারাম (حرام) সাব্যস্ত করার মতোই। নিশ্চয়ই সুদের (ربا) একাত্তরটি শাখা (باباً) রয়েছে, যার মধ্যে ক্ষুদ্রতমটি হলো কোনো ব্যক্তির স্বীয় মায়ের সাথে ব্যভিচার করার সমতুল্য। আর সবচেয়ে বড় সুদ (ربا) হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্মানহানি করা। সুতরাং আপনারা নিজেদের কোথায় দাঁড় করাচ্ছেন তা লক্ষ্য করুন এবং জেনে রাখুন যে, আজ আপনারা যা স্বাক্ষর (توقيع) করছেন সে সম্পর্কে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহ আপনাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

পরিশেষে আমি এই ঘটনাটি উল্লেখ করছি আপনাদের দায়িত্বের পরিধি স্পষ্ট করার জন্য: আমি ইসলামী ব্যাংকের জনৈক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম— আপনারা কেন শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যিক প্রকল্পসমূহ গড়ে তুলছেন না? অথচ এই উদ্দেশ্যেই তো ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি আমাকে উত্তর দিলেন— আমরা তা করতে সক্ষম নই। আমি বললাম— তবে বর্তমানে বিদ্যমান কিছু কোম্পানির সাথে অংশীদারিত্ব (مشاركة) করুন অথবা সফল কোম্পানিগুলো কিনে নিন। তিনি বললেন— আমরা নির্ভরযোগ্য (من نستأمنه) কাউকে পাচ্ছি না এবং আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে ঝুঁকি (مخاطرة) গ্রহণ করতে আমরা শঙ্কিত। তখন আমি তাকে বললাম— এটি তো সুদখোরদেরই (مرابين) অজুহাত; তারাও ঝুঁকি (مخاطرة) নিতে চায় না। কিন্তু যারা আপনাদের নিকট অর্থ গচ্ছিত রেখেছে তারা কি সেই সব মুসলিম নয় যারা সুদ (ربا) থেকে পলায়ন করেছে? তারা তো জেনেই তাদের অর্থ জমা রেখেছে যে এতে লাভ (ربح) ও লোকসান (خسارة) উভয়ই হতে পারে। তবে কেন আপনারা ঝুঁকি (مخاطرة) নিতে ভয় পাচ্ছেন? আজ পর্যন্ত আমি এর কোনো সদুত্তর পাইনি।

হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, এটি আপনাদেরই দায়িত্ব: আপনারা যদি ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সঠিক ইসলামী কর্মপদ্ধতির দিকে পরিচালিত করেন, তবে তারা সেদিকেই ধাবিত হবে। আর মহান আল্লাহর পর এর সকল কৃতিত্ব হবে আপনাদেরই। কিন্তু বর্তমানে যা প্রচলিত আছে সেই সুদী লেনদেন (معاملات ربوية) গুলোকেই যদি আপনারা অনুমোদন প্রদান করেন, তবে আপনারা জুলুম (ظلم), প্রতারণা (غش) ও সুদকেই (ربا) সুসংহত করবেন। এমতাবস্থায় বর্তমানে বিদ্যমান ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদী ব্যাংকগুলোরই একটি নতুন প্রতারণামূলক (تحايلي) রূপ হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং আজ আপনারা যা ইচ্ছা তা বেছে নিন। হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০০)
‌‌متى يكون بيع المرابحة حلالاً ومتى يكون حراماً؟

من المعلوم قطعاً أن كل عمل محرم إذا ألبس الصورة الشرعية فإنه يبقى على تحريمه بل يزداد حرمة لأنه يأخذ صورة الحيلة للتوصل إلى ما حرمه الله سبحانه. ولا شك أن المقاصد والنيات لها دخل كبير في الحكم على العمل هل هو حرام أم حلال.

ومن المعلوم قطعاً أيضًا كون البيع مباحاً ولكن هذه الإباحة ليست على إطلاقها فإن ثمة شروطاًَ لابد من توافرها ليكون البيع حلالاً وثمة موانع تمنع صحة البيع لابد من الابتعاد عنها.

وقد أجاز فقهاؤنا الأقدمون نوعاً من البيع سموه بيع المرابحة ولكنه اتخذ في بعض المعاملات الجارية والحادثة الآن صورة شرعية زائفة لعمل ربوي صريح.

فبيع المرابحة المشروع هو أن يقول البائع للمشترى اشتريت هذه السلعة بكذا وأربحني فيها كذا وأبيعك إياها سواءً باعه هذه السلعة حاضراً أم بأجل وهذا لا خلاف في مشروعيته بين الفقهاء. ومازال المسلمون يتعاملون في أسواقهم بمثل هذا البيع، فكثيراً ما يقول لك التاجر "هذه السلعة وقفت علي بكذا أربحني كذا وأبيعك إياها ".

والبيع هنا صحيح سواء كذب البائع أو صدق فكذبه هنا حرام عليه لا يمنع صحة البيع وإن كان في هذا إثم عظيم لقوله صلى الله عليه وسلم:"ثلاثة لا يكلمهم الله ولا ينظر إليهم يوم القيامة: وذكر منهم رجل بايع رجلاً بسلعة بعد العصر فحلف له لقد اشتراها بكذا وكذا وإذا وهو على غير ذلك " رواه البخاري.

ولكن الصورة المحرمة من صور المرابحة والتي لاشك أنها تحايل على الربا، هو ما يصنعه الكثيرون ممن يلجأون إلى المصارف الإسلامية، أو الممولين فيقولون لهم "اشتر لي الأرض الفلانية أو السيارة الفلانية وأنا أشتريها منك " وهولا يلجأ إلى المصرف أو الممول إلا من أجل أن يبيعه مؤجلاً ومن أجل الحصول على المال، فبدلا من أن يقترض بربا ويشترى السلعة يلجأ إلى هذه الحيلة فيأخذ الممول أو المصرف وسيطاً لا من أجل الشراء وإنما من أجل الحصول على المال. والبنك الإسلامي لا يشترى السلعة لنفسه وإنما من أجل أن يبيعها لذلك المشترى، فالمقاصد هنا معلومة قطعاً وصورة الشراء الأول والبيع الثاني ما هي إلا غطاء شرعي زائف لعمل غير مشروع يقيناً وهو الربا. ومن أجل ذلك تتهم البنوك الربوية المتعاملين بمثل هذا البيع مع البنوك الإسلامية بأنه لا فرق بين عمل هذه البنوك وتلك، وإن كان في البنوك الربوية صريحاً والبنوك اَلِإسلامية ملفوفاً.
মুরাবাহা (مرابحة) ক্রয়-বিক্রয় কখন হালাল এবং কখন হারাম হয়?

এটি নিশ্চিতভাবে পরিচিত যে, প্রতিটি হারাম কাজকে যখন শরয়ি রূপ দেওয়া হয়, তখন সেটি হারামের পর্যায়েই থেকে যায়; বরং এর হারাম হওয়ার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। কারণ, এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা হারাম করেছেন তা অর্জনের জন্য একটি কূটকৌশল (حيلة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো কাজ হারাম না হালাল—তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও নিয়তের বিশাল প্রভাব রয়েছে।

এটিও নিশ্চিতভাবে জানা যে, ক্রয়-বিক্রয় বৈধ; তবে এই বৈধতা নিঃশর্ত নয়। বরং ক্রয়-বিক্রয় হালাল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ হওয়া অপরিহার্য এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বিশুদ্ধতা (صحة) বিনষ্টকারী কিছু প্রতিবন্ধক রয়েছে যা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

আমাদের পূর্ববর্তী ফকিহগণ এক প্রকারের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন যার নাম দিয়েছেন মুরাবাহা (مرابحة)। কিন্তু বর্তমানের কিছু চলমান ও নতুন লেনদেনে এটি প্রকাশ্য সুদি কারবারের জন্য একটি কৃত্রিম শরয়ি রূপ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

শরিয়তসম্মত (مشروع) মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয় হলো বিক্রেতা ক্রেতাকে বলবে যে, "আমি এই পণ্যটি এত দামে ক্রয় করেছি এবং এতে আমাকে এত টাকা লাভ দিন, আমি এটি আপনার কাছে বিক্রি করব।" বিক্রেতা পণ্যটি নগদ মূল্যে বিক্রি করুক বা বাকিতে—এর শরিয়তসম্মত (مشروع) হওয়ার ব্যাপারে ফকিহদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। মুসলিমরা তাদের বাজারে এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় সব সময় করে আসছেন। অনেক সময় বিক্রেতা আপনাকে বলে থাকেন, "এই পণ্যটি আমার এত টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে, আমাকে এত টাকা লাভ দিন এবং আমি এটি আপনার কাছে বিক্রি করব।"

এখানে ক্রয়-বিক্রয়টি বিশুদ্ধ (صحيح) হবে, বিক্রেতা মিথ্যা বলুক বা সত্য। তার মিথ্যা বলা এখানে তার জন্য হারাম হবে, যা ক্রয়-বিক্রয়ের বিশুদ্ধতাকে (صحة) বাধাগ্রস্ত করবে না, যদিও এতে মহাপাপ রয়েছে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না: ...তাদের মধ্যে একজন ওই ব্যক্তি যে আসরের পর কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করল এবং আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলল যে সে এটি এত দামে কিনেছে, অথচ সে তা অন্য কোনো দামে কিনেছিল।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু মুরাবাহার হারাম রূপটি—যা সুদের প্রতি একটি কূটকৌশল (حيلة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই—তা হলো সেই পদ্ধতি যা অনেকে ইসলামি ব্যাংক বা অর্থায়নকারীদের কাছে গিয়ে করে থাকেন। তারা তাদের বলেন, "আমার জন্য অমুক জমি বা অমুক গাড়িটি কিনে দিন এবং আমি তা আপনার থেকে কিনে নেব।" সে ব্যাংক বা অর্থায়নকারীর কাছে কেবল বাকি মূল্যে কেনা এবং অর্থ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যেই যায়। তাই সুদের ওপর ঋণ নিয়ে পণ্যটি কেনার পরিবর্তে সে এই কূটকৌশলের (حيلة) আশ্রয় নেয়। ফলে সে অর্থায়নকারী বা ব্যাংককে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করে, যা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে নয় বরং অর্থ পাওয়ার উদ্দেশ্যে। ইসলামি ব্যাংক পণ্যটি নিজের জন্য কেনে না, বরং কেবল সেই ক্রেতার কাছে বিক্রির জন্য কেনে। ফলে এখানে উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবেই জানা এবং প্রথম ক্রয় ও দ্বিতীয় বিক্রয়ের রূপটি একটি নিশ্চিত অবৈধ কাজ অর্থাৎ সুদের একটি কৃত্রিম শরয়ি আবরণ মাত্র। এ কারণেই সুদি ব্যাংকগুলো ইসলামি ব্যাংকের সাথে এ ধরনের লেনদেনকারীদের অভিযুক্ত করে যে, এই দুই ব্যাংকের কাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; যদিও সুদি ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট এবং ইসলামি ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা মোড়কজাত।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০১)
وعليه فإننا نقول في الحلال فسحة وأبواب الرزق المشروعة أكبر وأعظم من أبواب الرزق المحرمة. ولا يجوز تحليل هذه المعاملة لأنها تحايل واضح على الربا يتم في صورة البيع. ولا علاج لذلك إلا بأن يشترى البنك الإسلامي لنفسه ثم يبيع لمن شاء دون أن يكون هنا اتفاق أو وعد سابق على الشراء والبيع قطعا لمادة الربا، وبعدا عن الشبهات، والحلال بين والحرام بين، ولاشك أن بيع المرابحة بهذه الصورة من الحرام البين الذي لا يحتاج إلى كبير بيان.

সুতরাং আমরা বলব যে, হালালের (الحلال) পরিধি অত্যন্ত প্রশস্ত এবং উপার্জনের বৈধ (المشروعة) পথসমূহ নিষিদ্ধ পথসমূহের তুলনায় অনেক বড় ও মহান। আর এই লেনদেনকে বৈধ করা জায়েজ নয়; কারণ এটি সুদের (الربا) ওপর একটি স্পষ্ট অপকৌশল যা কেনাবেচার আবরণে সম্পন্ন হয়। এর একমাত্র সমাধান হলো, ইসলামি ব্যাংক নিজের জন্য পণ্য ক্রয় করবে এবং পরবর্তীতে যার কাছে ইচ্ছা বিক্রি করবে; সুদের (الربا) পথ রুদ্ধ করতে এবং সংশয় (الشبهات) থেকে দূরে থাকতে সেখানে ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে কোনো পূর্বচুক্তি বা প্রতিশ্রুতি থাকা চলবে না। আর হালাল (الحلال) সুস্পষ্ট এবং হারামও (الحرام) সুস্পষ্ট। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পদ্ধতিতে মুরাবাহা (المرابحة) ক্রয়-বিক্রয় একটি সুস্পষ্ট হারামের (الحرام) অন্তর্ভুক্ত, যার জন্য অধিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌القول الفصل في بيع المرابحة: أولا: بيع المرابحة المشروع

…

أولاً- صفة بيع المرابحة (المشروع) :

بيع المرابحة الشرعي هو أن يذكر البائع للمشترى الثمن الذي اشترى به السلعة فيقول وقفت علي بكذا ربحني فيها كذا وأنا أبيعك إياها: وفي هذا يقول ابن قدامة في المغنى: "معنى بيع الرابحة هو البيع برأس المال وربح معلوم ويشترط علمهما برأس المال فيقول رأس مالي فيه. أو هو علي بمائة (مثلاً) بعتك بها وربح عشرة فهذا جائز لا خلاف فيه ولا نعلم فيه عند أحد كراهة " (ا. هـ) .

ويقول صاحب بدائع الصنائع (فقه حنفي) هو أن يبيع بمثل الثمن الأول مع زيادة ربح. (ص 22 ج 5 ط أولى) وهذا البيع مازال معمولا به في أسواق المسلمين جميعاً إلى اليوم فأنت تأتى إلى التاجر فيقول لك هذه الشاة مثلاً اشتريتها بخمسين ديناراً ربحني فيها خمسة دنانير وأنا أبيعك إياها.
মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: প্রথমত: বৈধ (مشروع) মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়

...

প্রথমত- বৈধ (مشروع) মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়ের বৈশিষ্ট্য:

শরয়ি মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয় হলো বিক্রেতা ক্রেতার নিকট সেই মূল্যের কথা উল্লেখ করবে যে মূল্যে সে পণ্যটি ক্রয় করেছে। অতঃপর সে বলবে, এটি ক্রয় করতে আমার এতো ব্যয় হয়েছে, আমাকে এতে এতো পরিমাণ মুনাফা দিন এবং আমি আপনার কাছে এটি বিক্রি করছি। এই প্রসঙ্গে ইবনে কুদামা আল-মুগনি গ্রন্থে বলেন: "মুরাবাহা বিক্রয়ের অর্থ হলো মূলধন এবং একটি নির্দিষ্ট মুনাফার বিনিময়ে বিক্রয় করা। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই মূলধন সম্পর্কে অবগত থাকা শর্ত। বিক্রেতা বলবে, এতে আমার মূলধন এতো। অথবা এটি আমার একশত (উদাহরণস্বরূপ) টাকা ব্যয় হয়েছে, আমি আপনার কাছে তা এবং আরও দশ টাকা মুনাফায় বিক্রি করলাম। এটি বৈধ (جائز), এতে কোনো মতভেদ নেই এবং কারো নিকট এটি অপছন্দনীয় (كراهة) বলে আমাদের জানা নেই।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

বাদায়েউস সানায়ে (হানাফি ফিকহ) এর লেখক বলেন, এটি হলো পূর্বের মূল্যের সমপরিমাণ মূল্যে মুনাফা বৃদ্ধিসহ বিক্রয় করা। (পৃষ্ঠা ২২, খণ্ড ৫, ১ম সংস্করণ)। এই ক্রয়-বিক্রয় আজ অবধি সকল মুসলিম বাজারে প্রচলিত রয়েছে। যেমন আপনি একজন ব্যবসায়ীর কাছে আসলেন এবং সে আপনাকে বলল, উদাহরণস্বরূপ এই ভেড়াটি আমি পঞ্চাশ দিনারে ক্রয় করেছি, আমাকে এতে পাঁচ দিনার মুনাফা দিন এবং আমি আপনার নিকট এটি বিক্রি করছি।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌ثانياً- صفة (بيع المرابحة) المعمول بها في بعض البنوك الإسلامية:

وأما المعاملة التي يسمونها في البنوك الإسلامية بيع مرابحة فهي تختلف عما قدمنا شكلاً وموضوعاً ونية وقصداً، فإن البنك لا يملك السلعة والمشتري الذي يلجأ إلى البنك لا يقصد خدمة البنك في أن يشتري له وإنما يلجأ إلى البنك من أجل المال لأنه ليس لديه مال حاضر وهو يريد شراء سلعة ما (أرضاً مثلاً أو سيارة) فيأتي إلى صاحب الأرض (البائع الحقيقي) ويتفق معه على السعر ثم يذهب إلى البنك الإسلامي ويقول له اشتروا لي هذه الأرض الفلانية ويوقع معهم عقدا يسمونه (وعد بالشراء) . ثم يذهب موظفوا البنك ويحضرون البائع ويتفقون معه على أن يبيعوا له بثمن أكثر نسيئة أعنى إلى أجل ويسمون هذه (الدورة الطويلة) بيع مرابحة.
দ্বিতীয়ত- কিছু ইসলামি ব্যাংকে প্রচলিত ‘বায়ু মুরবাহা’ বা লাভভিত্তিক বিক্রয়ের (بيع المرابحة) প্রকৃতি:

আর ইসলামি ব্যাংকগুলোতে যে লেনদেনকে তারা ‘বায়ু মুরবাহা’ (بيع مرابحة) বলে অভিহিত করে, তা আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করেছি তা থেকে আকার-আকৃতি, বিষয়বস্তু, নিয়ত ও উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে ভিন্ন। কারণ ব্যাংক পণ্যটির মালিক নয়, আর যে ক্রেতা ব্যাংকের দ্বারস্থ হয় সে ব্যাংকের সেবা করা বা ব্যাংকের হয়ে ক্রয় করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসে না। বরং সে অর্থের প্রয়োজনেই ব্যাংকের কাছে যায়, কারণ তার নিকট তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ নেই। সে কোনো একটি পণ্য (যেমন জমি বা গাড়ি) কিনতে চায়, তাই সে জমির মালিকের (প্রকৃত বিক্রেতা) নিকট গিয়ে তার সাথে দাম নির্ধারণ করে। অতঃপর সে ইসলামি ব্যাংকে গিয়ে বলে যে, আমার জন্য অমুক জমিটি ক্রয় করে দিন এবং সে তাদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে যাকে তারা ‘ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি’ (وعد بالشراء) বলে অভিহিত করে। এরপর ব্যাংকের কর্মকর্তারা গিয়ে বিক্রেতাকে নিয়ে আসেন এবং তার সাথে একমত হন যে, তারা পণ্যটি তার নিকট অধিক মূল্যে বাকিতে (نسيئة), অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে (إلى أجل) বিক্রয় করবেন। আর তারা এই ‘দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে’ (الدورة الطويلة) ‘বায়ু মুরবাহা’ (بيع مرابحة) বা লাভভিত্তিক বিক্রয় বলে নামকরণ করে।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০২)
‌‌أوجه تحريم هذه المعاملة: قصد الربا

…

أوجه تحريم هذه المعاملة:

(أ) قصد الربا:

ولا شك أن هذه المعاملة ليست من البيع والشراء في شيء فإن المشتري الحقيقي ما لجأ إلى البنك إلا من أجل المال، والبنك أيضاً لم يشتر هذه السلعة بقصد أن يبيعها بأجل إلى المشترى وهذه المقاصد لا يستطيع أحد أن يكابر فيها.
এই লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়ার দিকসমূহ: সুদের (ربا) উদ্দেশ্য

…

এই লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়ার দিকসমূহ:

(ক) সুদের (ربا) উদ্দেশ্য:

নিঃসন্দেহে এই লেনদেনটি কোনোভাবেই ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা প্রকৃত ক্রেতা কেবল অর্থের জন্যই ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়েছে, আর ব্যাংকও এই পণ্যটি ক্রেতার কাছে বাকিতে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করেনি। এই উদ্দেশ্যগুলোর ব্যাপারে কেউ কোনো তর্কে লিপ্ত হতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০২)
(ب) بيع ما لا يملك.

ولاشك أيضاً أن البنك الإسلامي عند ما يأتيه مشتر ويقول: اشتر لي السلعة الفلانية فإن البنك يساومه على البيع ويشترط عليه إذا اشتراها له أن يشتريها بربح كذا وكذا، وهنا يكون البنك قد باع ما ليس عنده. وقد جاءت النصوص بتحريم ذلك بل إجماع الأمة كلها على هذا كما قال ابن قدامة في المغنى: "ولا يجوز أن يبيع عيناًَ لا يملكها ليمضي ويشتريها ويسلمها رواية واحدة" أحمد بن حنبل "وهو قول الشافعي، ولا نعلم فيه مخالفاً لأن حكيم بن حزام قال للنبي صلى الله عليه وسلم:" إن الرجل يأتيني فيلتمس من البيع ما ليس عندي فأمضي إلى السوق فأشتريه ثم أبيعه منه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تبع ما ليس عندك " (ا. هـ ص 155 ج 4 المغنى) .

ومعلوم يقيناًَ أن البنك يبيع ما ليس عنده باتفاقه مع المشتري الذي يسمونه وعداً بالبيع، والحال أنه تعهد مكتوب موقع عليه يلتزم به المسلم على الأقل أخلاقياًَ وأدبياًَ ولا يجوز للمسلم أن يخلف وعده حقاًَ إن البنك لا يقاضي من يتخلف عن هذا الوعد ويطالبه أمام المحاكم بإنجاز ما وعد1 ولكنه يكبله بتوقيع ووعد يلزمه أخلاقياًَ على الأقل أن يشتري، وهل هناك بيع أظهر من هذا وأوضح.
(খ) মালিকানায় নেই এমন বস্তু বিক্রয়।

এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, যখন কোনো ইসলামি ব্যাংকের নিকট একজন ক্রেতা এসে বলে: "আমার জন্য অমুক পণ্যটি ক্রয় করুন", তখন ব্যাংক তার সাথে সেই বিক্রয় নিয়ে দরদাম করে এবং এই শর্তারোপ করে যে, ব্যাংক যদি তার জন্য পণ্যটি ক্রয় করে, তবে সে যেন তা নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভে ব্যাংকের নিকট থেকে ক্রয় করে নেয়। এমতাবস্থায় ব্যাংক এমন কিছু বিক্রয় করল যা তার নিকট নেই। এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার স্বপক্ষে দালিলিক পাঠ (نصوص) বিদ্যমান, বরং এ বিষয়ে উম্মতের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) রয়েছে; যেমনটি ইবনে কুদামা আল-মুগনিতে উল্লেখ করেছেন: "এমন কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বিক্রয় করা জায়েজ নেই যা বিক্রেতার মালিকানায় নেই, যাতে সে গিয়ে তা ক্রয় করে এনে ক্রেতাকে সরবরাহ করে—এটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত একক বর্ণনা (رواية واحدة)"। "এটিই ইমাম শাফিঈ-র মত এবং এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো ভিন্নমত নেই। কেননা হাকিম ইবনে হিযাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: 'জনৈক ব্যক্তি আমার কাছে আসে এবং এমন জিনিস বিক্রয় করতে চায় যা আমার নিকট নেই, অতঃপর আমি বাজারে গিয়ে তা ক্রয় করি এবং তার নিকট বিক্রয় করি।' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তোমার নিকট যা নেই তা বিক্রয় করো না'।" (আল-মুগনি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৫৫)।

আর এটি নিশ্চিতভাবে জানা যে, ব্যাংক ক্রেতার সাথে সম্মতির মাধ্যমে এমন বস্তু বিক্রয় করে যা তার নিকট নেই, যাকে তারা বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি (وعداً بالبيع) বলে অভিহিত করে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি স্বাক্ষরিত লিখিত অঙ্গীকার যা পালন করা একজন মুসলিমের জন্য অন্তত নৈতিক ও আদর্শিক দিক থেকে অপরিহার্য; আর কোনো মুসলিমের জন্য তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করা বৈধ নয়। যদিও ব্যাংক এই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে না কিংবা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আদালতের আশ্রয় নেয় না, কিন্তু ব্যাংক তাকে স্বাক্ষর ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে যা তাকে অন্তত নৈতিকভাবে ক্রয় করতে বাধ্য করে। এর চেয়ে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য বিক্রয় আর কী হতে পারে?
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০২)
(جـ)‌‌ بيعتين في بيعة:

هذه المعاملة التي يتبايعون فيها في البنوك الإِسلامية هي بيعتان في بيعة. وقد جاءت النصوص وكلام السلف بالنهي عن ذلك فقد صح أن النبي صلى الله عليه وسلم قد نهى عن بيعتين في بيعة. قال الإِمام ابن تيمية: "وفي السنن عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لمن باع بيعتين في بيعة "فله أوكسهما أو الربا " وهذا إن تواطأ على أن يبيع ثم يبتاع فما له إلا الأوكس وهو الثمن الأقل أو الربا" أ. هـ فتاوى ج 29 ص 447 ولاشك أن الشراء الأول للبنك ثم البيع ما هما إلا عمليتان اثنتان في صفقة واحدة قصد بها التحايل على الربا.

--------------------------------------------

1عندما كتبنا ذلك كان الأمر كذلك. أما الآن فإن العقود الجديدة تنص على التقاضي أمام المحاكم إذا أخل أي طرف بهذا الوعد.
(গ)‌‌ এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় (بيعتين في بيعة):

ইসলামি ব্যাংকগুলোতে যে লেনদেন করা হয়, তা হলো এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় (بيعتان في بيعة)। এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত দলিলসমূহ (نصوص) ও সালাফদের (السلف) বক্তব্য এসেছে। এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় (بيعتين في بيعة) করতে নিষেধ করেছেন। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন: "সুনান গ্রন্থসমূহে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এমন ব্যক্তির সম্পর্কে বলেছেন যে এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় (بيعتين في بيعة) করে: 'তার জন্য দুটির মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যটি প্রাপ্য নতুবা তা সুদ (الربا) হবে'। আর এটি তখনই ঘটে যখন তারা এ বিষয়ে একমত হয় যে সে বিক্রয় করবে এবং পরে পুনরায় ক্রয় করবে, এমতাবস্থায় তার জন্য অপেক্ষাকৃত কম মূল্যটিই প্রাপ্য নতুবা তা সুদ (الربا) হিসেবে গণ্য হবে।" সমাপ্ত, ফাতাওয়া, ২৯তম খণ্ড, ৪৪৭ পৃষ্ঠা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ব্যাংকের প্রথম ক্রয় এবং তারপরের বিক্রয় মূলত একটি চুক্তির (صفقة) অধীনে দুটি প্রক্রিয়া মাত্র, যার উদ্দেশ্য হলো সুদের (الربا) ব্যাপারে কূটকৌশল (التحايل) অবলম্বন করা।

--------------------------------------------

১. যখন আমরা এটি লিখেছিলাম তখন বিষয়টি এমনই ছিল। কিন্তু বর্তমানে নতুন চুক্তিসমূহ কোনো পক্ষ এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আদালতে মামলা করার বিধান রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৩)
(د)‌‌ القضية كلها تحايل لأخذ الربا:

وهذه المسألة برمتها ما هي إلا دورة طويلة، القصد منها التوصل إلى الربا بغطاء شرعي. ولهذا قال ابن قدامة بعد أن ساق بعض المعاملات التي ظاهرها الشرع وباطنها التوصل إلى محرم: قال: "والحيل كلها محرمة غير جائزة في شيء من الدين وهو أن يظهر عقداً مباحاًَ يريد به محرماً مخادعة، وتوسلاً إلى فعل ما حرم الله، واستباحة محظوراته أو إسقاط واجب، أو دفع حق، ونحو ذلك، قال أيوب السختيانى: "إنهم ليخادعون الله كما يخادعون صبياً، لو كانوا يأتون الأمور على وجهه كان أهون علي " أهـ.

وذكر صاحب المغنى أمثلة للحيل في أبواب الربا منها قوله: "وهكذا لو أقرضه شيئاً وباعه سلعة بأكثر من قيمتها توسلاً إلى أخذ عوض عن القرض فكل ما كان من هذا على وجه الحيلة فهو خبيث محرم "ا. هـ " واستطرد ابن قدامة قائلاً: "وقال أبو حنيفة والشافعي ذلك كله وأشباهه جائز إذا لم يكن مشروطاً في العقد " لكن، قال بعض أصحاب الشافعي: "يكره أن يدخلا في البيع على ذلك لأن ما كل ما لا يجوز شرطه في العقد يكره أن يدخلا عليه" ثم عقب ابن قدامة على آراء الشافعي وأبي حنيفة هذه بقوله:"ولنا أن الله تعالى عذب أمة بحيلة احتالوها فمسخهم قردة وخنازير وسماهم معتدين وجعل ذلك نكالاً وموعظة للمتقين ليتعظوا بها ويمتنعوا عن مثل أفعالهم وقال بعض المفسرين في قوله تعالى {وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ} أي لأمة محمد صلى الله عليه وسلم فروي أنهم (أي بنى إسرائيل) كانوا ينصبون شباكهم للحيتان يوم الجمعة ويتركونها إلى يوم الأحد، ومنهم من كان يحفر حفائر ويجعل إليها المجاري فيفتحها يوم الجمعة فإذا جاء السمك يوم السبت جرى مع الماء في المجاري فيقع في الحفائر فيدعها إلى يوم الأحد ثم يأخذها ويقول: ما اصطدت يوم السبت ولا اعتديت فيه فهذه حيلة". (أ. هـ.)

وقال ابن عباس أيضاً فمن يشتري بنقد (حاضر) ومقصوده البيع نسيئة (أي إلى أجل) قال: "إذا استقمت بنقد ثم بعت بنقد فلا بأس، وإذا استقمت بنقد ثم بعت بنسيئة فتلك دراهم بدراهم " قال ابن تيمية تعقيباً على كلام ابن عباس هذا: "ومعنى كلامه إذا استقمت، إذا قومت يعني إذا قومت السلعة بنقد وابتعتها إلى أجل فإنما مقصودك دراهم بدراهم " (الفتاوى ص 442 ج 29) وعقب الإمام ابن تيمية ناصحاً من يتبع بعض الأقوال الضعيفة لأهل العلم ويستحل مثل هذه الحيل قال: "عليهم إذا سمعوا العلم أن يقولوا عن هذه المعاملات الربوية، ولا يصلح أن يقلد فيها أحداً فمن يفتي بالجواز تقليداً لبعض العلماء فإن تحريم هذه المعاملات ثابت بالنصوص والآثار ولم تختلف الصحابة في تحريمها وأصول الشريعة شاهدت بتحريمها، والمفاسد التي لأجلها حرم الله الربا موجودة في هذه
(ঘ)‌‌ পুরো বিষয়টিই সুদ (الربا) গ্রহণের একটি অপকৌশল মাত্র:

এই পুরো মাসয়ালাটি একটি সুদীর্ঘ আবর্ত ছাড়া আর কিছুই নয়, যার উদ্দেশ্য হলো শারয়ি আবরণে সুদ (الربا) পর্যন্ত পৌঁছানো। একারণেই ইবনে কুদামা এমন কিছু লেনদেনের বিবরণ দেওয়ার পর—যার বাহ্যিক রূপ শারয়ি মনে হলেও অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য হলো হারামের দিকে ধাবিত হওয়া—বলেন: "সব ধরণের কূটকৌশল বা হিলা নিষিদ্ধ (محرم) এবং দ্বীনের কোনো বিষয়েই তা বৈধ নয়। আর তা হলো এমন যে, কোনো ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কোনো হারাম কাজ করার উদ্দেশ্যে একটি বৈধ (مباح) চুক্তি প্রকাশ করে, এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা করার উসিলা হিসেবে একে গ্রহণ করে, কিংবা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ করে নেয়, অথবা কোনো ওয়াজিব (واجب) বিলোপ করে, কিংবা কোনো প্রাপ্য অধিকার প্রতিহত করে ইত্যাদি।" আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি বলেন: "তারা আল্লাহর সাথে এমনভাবে প্রতারণা করে যেমনটি তারা কোনো শিশুর সাথে করে থাকে; তারা যদি বিষয়টি সোজাসুজি করত তবে তা আমার কাছে সহজতর মনে হতো।" সমাপ্ত।

আল-মুগনি গ্রন্থের লেখক সুদের (الربا) অধ্যায়সমূহে কূটকৌশলের কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম: "অনুরূপভাবে, যদি সে তাকে কোনো কিছু ঋণ দেয় এবং সেই ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করার উসিলা হিসেবে তার কাছে কোনো পণ্য তার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে, তবে এই ধরণের কূটকৌশলের মাধ্যমে করা সবকিছুই নিকৃষ্ট ও নিষিদ্ধ (محرم)।" সমাপ্ত। ইবনে কুদামা আরও বলেন: "আবু হানিফা ও শাফেয়ি বলেছেন যে, এই সব এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো বৈধ (جائز), যদি চুক্তিতে তা শর্তযুক্ত না থাকে।" কিন্তু শাফেয়ি মাযহাবের কোনো কোনো অনুসারী বলেছেন: "এই ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হওয়া অপছন্দনীয় (يكره), কারণ যে বিষয়টির শর্ত চুক্তিতে উল্লেখ করা বৈধ নয় (لا يجوز), তার ভিত্তিতে চুক্তিতে লিপ্ত হওয়াও অপছন্দনীয় (يكره)।" এরপর ইবনে কুদামা শাফেয়ি ও আবু হানিফার এই মতামতের ওপর মন্তব্য করে বলেন: "আমাদের দলিল হলো, আল্লাহ তাআলা একটি জাতিকে তাদের করা একটি কূটকৌশলের কারণে শাস্তি দিয়েছিলেন, ফলে তাদের বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করেছিলেন এবং তাদের সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। আর তিনি একে আল্লাহভীরুদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও উপদেশ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যাতে তারা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং তাদের অনুরূপ কাজ থেকে বিরত থাকে।" কোনো কোনো মুফাসসিরগণ (المفسرين) মহান আল্লাহর বাণী {মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ} সম্পর্কে বলেছেন: অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য। বর্ণিত আছে যে, তারা (অর্থাৎ বনী ইসরাঈল) শুক্রবারের দিন মাছ ধরার জন্য জাল পাতত এবং সেগুলো রবিবার পর্যন্ত রেখে দিত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গর্ত খুঁড়ত এবং সেগুলোর দিকে নালা তৈরি করত, অতঃপর জুমার দিনে সেগুলো খুলে দিত। ফলে শনিবার যখন মাছ আসত, তখন সেগুলো পানির সাথে নালা দিয়ে গর্তে গিয়ে পড়ত। তারা সেগুলো রবিবার পর্যন্ত রেখে দিত এবং পরে তা গ্রহণ করে বলত: আমরা তো শনিবার শিকার করিনি এবং এতে কোনো সীমালঙ্ঘনও করিনি; অথচ এটি ছিল একটি কূটকৌশল।" সমাপ্ত।

ইবনে আব্বাসও বলেন, যে ব্যক্তি নগদ মূল্যে ক্রয় করে এবং তার উদ্দেশ্য হলো বাকিতে বিক্রয় করা, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "যদি তুমি নগদে মূল্য নির্ধারণ করো এবং নগদে বিক্রয় করো তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তুমি নগদে মূল্য নির্ধারণ করো এবং বাকিতে বিক্রয় করো, তবে তা হলো দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম।" ইবনে আব্বাসের এই কথার ওপর মন্তব্য করে ইবনে তাইমিয়া বলেন: "তাঁর কথার অর্থ হলো যখন তুমি পণ্যের মূল্য নগদে নির্ধারণ করলে এবং তা বাকিতে ক্রয় করলে, তখন তোমার উদ্দেশ্য হলো দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম।" (আল-ফাতাওয়া, খণ্ড ২৯, পৃষ্ঠা ৪৪২)। ইমাম ইবনে তাইমিয়া সেই ব্যক্তিদের উপদেশ দিয়ে মন্তব্য করেছেন যারা আলিমদের কিছু দুর্বল (الضعيفة) উক্তি অনুসরণ করে এবং এই ধরণের কূটকৌশলকে হালাল মনে করে। তিনি বলেন: "যখন তারা ইলম শ্রবণ করবে, তখন তাদের উচিত এই সুদী (الربوية) লেনদেনগুলো বর্জন করা। এ বিষয়ে কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা সমীচীন নয়। সুতরাং যারা কোনো কোনো আলিমের তাকলিদ (تقليداً) করে এর বৈধতার (الجواز) ফতোয়া দেয়, তাদের জানা উচিত যে এই লেনদেনগুলোর নিষিদ্ধতা (تحريم) নসসমূহ (النصوص) এবং আসার (الآثار) দ্বারা প্রমাণিত। সাহাবীগণ এর নিষিদ্ধতার (تحريم) বিষয়ে মতভেদ করেননি এবং শরীয়তের মূলনীতিসমূহ এর নিষিদ্ধতার (تحريم) সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ যে সকল ক্ষতিকর কারণে সুদ (الربا) হারাম করেছেন, তা এখানেও বিদ্যমান।"
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৪)
المعاملات مع زيادة مكر وخداع، وتعب وعذاب فإنهم يكلفون من الرؤية والصفة والقبض وغير ذلك من أمور يحتاج إليها في البيع المقصود، وهذا البيع ليس مقصوداً لهم وإنما المقصود أخذ دراهم بدراهم فيطول عليهم الطريق التي يؤمرون بها فيحصل لهم الربا فهم من أحل الربا المعذبين في الدنيا قبل الآخرة وقلوبهم تشهد بأن هذا الذي يفعلونه مكر وخداع وتلبيس ولهذا قال أيوب السختيانى: "يخادعون الله كما يخادعون الصبيان فلو أتوا بالأمر على وجهه لكان أهون علي" انتهى فتاوى ص 445 ج 29.

লেনদেনসমূহ অতিরিক্ত চাতুরি ও প্রবঞ্চনা এবং ক্লান্তি ও যন্ত্রণার সাথে সংশ্লিষ্ট; কারণ তাদের ওপর পর্যবেক্ষণ, গুণাগুণ বর্ণনা এবং হস্তগতকরণ (قبض) ও এর অনুরূপ এমন সব বিষয়ের দায়ভার অর্পণ করা হয় যা কেবল প্রকৃত বিক্রয়ের লক্ষ্যেই প্রয়োজন হয়। অথচ এই বিক্রয় তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম গ্রহণ করা। ফলে যে পথ অবলম্বনের জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয় তা তাদের জন্য দীর্ঘতর হয়ে যায় এবং পরিণামে তাদের ক্ষেত্রে সুদ (ربا) সংঘটিত হয়। সুতরাং তারা সুদের (ربا) কারবারকে হালাল বা বৈধকারী হিসেবে আখিরাতের পূর্বেই দুনিয়াতে শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের অন্তর সাক্ষ্য দেয় যে, তারা যা করছে তা নিছক চাতুরি, প্রবঞ্চনা ও প্রতারণামূলক সত্য গোপন (تلبيس)। এই কারণেই আইয়ুব আল-সাখতিয়ানী বলেছেন: "তারা আল্লাহর সাথে তেমন প্রতারণা করে যেমন তারা শিশুদের সাথে করে থাকে। যদি তারা বিষয়টিকে তার প্রকৃত রূপ অনুসারে সম্পাদন করত, তবে তা আমার নিকট অধিক সহনীয় হতো।" সমাপ্ত, ফাতাওয়া, পৃষ্ঠা ৪৪৫, খণ্ড ২৯।

(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৪)
‌‌الخلاصة:

وخلاصة الأمر أن هذا البيع الذي يسمونه في بعض البنوك الإسلامية ببيع المرابحة ليس هو بيع المرابحة في شيء، واعتمادهم هو قول للشافعي رحمه الله في هذه المسألة لا يحل لهم ذلك لأمرين:

الأول: أن الشافعي يفترض في هذا حسن النية وعدم التحايل على الربا قطعاً.

والثاني: أن الشافعي رحمه الله يرى جواز ما يماثل هذه الحيلة وهو بيع العينة كما قال:

"وان اشترى رجل طعاماً إلى أجل فقبضه فلا بأس أن يبيعه ممن اشتراه منه دون غيره بنقد والى أجل" (أهـ ص 39 ج 3) وهم لا يقولون بجواز مثل هذا البيع لأنه تحايل فكذا يجب أن يقولوا ذلك في مثيله (أهـ) .
সারসংক্ষেপ:

সারকথা হলো, কিছু ইসলামি ব্যাংক যে ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতিকে মুরাবাহা (المرابحة) নামে অভিহিত করে, তা প্রকৃতপক্ষে কোনোভাবেই মুরাবাহা (المرابحة) নয়। এই মাসআলায় তাদের প্রধান ভিত্তি হলো ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর একটি অভিমত; তবে দুটি কারণে তাদের জন্য এটি করা বৈধ (حلال) নয়:

প্রথমত: ইমাম শাফেঈ (রহ.) এক্ষেত্রে অবশ্যই সৎ উদ্দেশ্য এবং সুদের (الربا) বিষয়ে কোনো প্রকার অপকৌশল (التحايل) না থাকাকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।

দ্বিতীয়ত: ইমাম শাফেঈ (রহ.) এই ধরনের অপকৌশলের (الحيلة) সদৃশ 'বায়-উল-ঈনাহ' (بيع العينة)-কে বৈধ (جواز) মনে করেন, যেমনটি তিনি বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদে কোনো খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে তা হস্তগত (قبض) করে, তবে সে যার কাছ থেকে তা ক্রয় করেছিল তার কাছেই নগদ মূল্যে বা মেয়াদি মূল্যে তা পুনরায় বিক্রয় করলে কোনো দোষ নেই।" (প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, ৩৯ পৃষ্ঠা)। অথচ তারা এ জাতীয় বিক্রয়কে বৈধ বলেন না কারণ এটি একটি অপকৌশল (تحايل); সুতরাং এই সদৃশ মাসআলাতেও তাদের একই কথা বলা উচিত। (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৪)
‌‌كلمة أخيرة:

وعلى كل حال فليس مقصوداً في هذا والله يعلم. الطعن في البنوك الإسلامية، والتشويش عليها، كما ادعى بعض الناس سامحهم الله. بل مقصوداً هو النصح والتقويم وخاصة إن هذه معاملة قد استشرت في الناس ويعلم العامة قبل الخاصة أنها تحايل صريح على الربا، والبنوك الإسلامية لم تبدأ عملها بعد وما زالت في أول الطريق وعملها يبدأ عندما تكون هي الزارع والصانع والتاجر والشريك الحقيقي الذي يتحمل في الربح والخسارة، والمضارب الذي يمول غيره ويتحمل في الربح والخسارة، وهنا فقط يبدأ عمل البنك الإسلامي والطريق طويل ونسأل الله العون كل العون للقائمين عليها. ونصيحتي للمودعين أن لا ينتظروا الربح السريع من أول الطريق بل علينا التضحية ولن يضير البنك الإسلامي إذا مكث سنة أو سنتين أو أكثر يؤسس شركات حقيقية، ويشارك هو حقيقة ويبنى اقتصاداً إسلامياً حقيقياً، ولو أنه في سبيل ذلك لم يحقق لزبائنه هذه النسبة المرتفعة من الأرباح.
‌‌সর্বশেষ কথা:

যাই হোক, এতে কোনোভাবেই—আল্লাহই ভালো জানেন—ইসলামি ব্যাংকগুলোর সমালোচনা করা বা সেগুলোর ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানো উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি কিছু লোক দাবি করেছেন (আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন)। বরং এর উদ্দেশ্য হলো নসিহত ও সংশোধন করা; বিশেষ করে যেহেতু এই লেনদেনটি মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই জানেন যে, এটি সুদের ওপর একটি প্রকাশ্য কৌশল। ইসলামি ব্যাংকগুলো এখনো তাদের প্রকৃত কার্যক্রম শুরু করেনি এবং তারা এখনো পথের শুরুতেই রয়েছে। তাদের কাজ তখনই শুরু হবে যখন তারা নিজেরাই হবে কৃষক, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী এবং এমন এক প্রকৃত অংশীদার যারা লাভ ও লোকসান উভয়ই বহন করে; এবং এমন মুদারিব হবে যারা অন্যদের অর্থায়ন করে এবং লাভ ও লোকসানের ঝুঁকি গ্রহণ করে। আর এখানেই কেবল ইসলামি ব্যাংকের প্রকৃত কাজ শুরু হয়। পথ অনেক দীর্ঘ এবং আমরা এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর নিকট সর্বাত্মক সাহায্য কামনা করি। আমানতকারীদের প্রতি আমার নসিহত হলো যে, তারা যেন শুরু থেকেই দ্রুত মুনাফার প্রত্যাশা না করেন, বরং আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ইসলামি ব্যাংক যদি এক, দুই বা তার চেয়ে বেশি বছর প্রকৃত কোম্পানি প্রতিষ্ঠায় ব্যয় করে, ব্যবসায়িকভাবে সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং একটি বাস্তবসম্মত ইসলামি অর্থনীতি গড়ে তোলে, তবে তাতে ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হবে না; যদিও সেই প্রক্রিয়ায় তারা তাদের গ্রাহকদের জন্য মুনাফার এই উচ্চ হার নিশ্চিত করতে সক্ষম না হয়।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৫)
‌‌البنوك الإسلامية بين النظرية والتطبيق:

يعقد حالياً في الكويت المؤتمر الثاني للمصارف الإسلامية، وذلك لمناقشة شرعية المعاملات التي تمارسها المصارف الإِسلامية، وحتى يدرك الجميع الحقائق التي تواجهها هذه المؤسسات، ويعرف الناس ما يدور بداخلها نحب أن نضع الجميع أمام هذه الحقائق لتصل المصارف الإسلامية إلى التطبيق الصحيح للإسلام ولتكون مصارف إسلامية حقيقية وليست مجرد غطاء إسلامي لواقع ربوي.
ইসলামী ব্যাংক: তত্ত্ব ও প্রয়োগের প্রেক্ষাপট:

বর্তমানে কুয়েতে ইসলামী ব্যাংকসমূহের দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইসলামী ব্যাংকগুলো যেসব লেনদেন পরিচালনা করে সেগুলোর শরয়ি বৈধতা নিয়ে আলোচনা করা। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছে তা যেন সকলে উপলব্ধি করতে পারে এবং এর অভ্যন্তরে কী ঘটছে তা যেন মানুষ জানতে পারে, সেজন্য আমরা সকলকে এই বাস্তবতার মুখোমুখি করতে চাই; যাতে ইসলামী ব্যাংকগুলো ইসলামের সঠিক (صحيح) প্রয়োগের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং কেবল সুদী বাস্তবতার ওপর একটি ইসলামী আবরণ না হয়ে বরং প্রকৃত ইসলামী ব্যাংকে পরিণত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৫)
‌‌أولاً: الفارق الأساسي بين البنك الربوي والمصرف الإسلامي:

كثيرون لا يدركون الفارق الأساسي بين المصرف الإسلامي والبنك الربوي والفارق باختصار يتمثل فيما يأتي:

- البنك الربوي يقوم نظامه وعمله الأساسي على تجميع أموال المستثمرين، ومن ثم اقتراضها بفائدة ثابتة للتجار والمؤسسات والمصانع والحكومات والأفراد المحتاجين، وهذا يعنى في المحصلة أن البنك الربوي وكيل عن المودع في أقراض أمواله بفائدة ثابتة ثم هو أعنى البنك الربوي يتقاسم الفائدة بينه وبين المودع.وهذا يعنى أيضاًَ أن البنك الربوي لا يخاطر بالأموال وإنما يقرضها بفائدة ثابتة. وما يتحصله من فوائد يتقاسمه المودعين فيه.

- وأما المصرف الإسلامي فإنه يجمع أموال المودعين لا ليؤجرها أو يقرضها للغير وإنما ليعمل هو بها من خلال مؤسساته الخاصة- يعمله بها في الزراعة والتجارة والصناعة وشراء العقار وتأجيره وسائر أوجه الكسب المشروع وبالتالي فالمصرف الإسلامي مخاطر بأموال المودعين لأنه قد يكسب ويربح عند ممارسته لهذه الأعمال وقد يخسر وبالتالي فإنه لا يعطي فائدة ثابتة وإنما يتقاسم الربح والخسارة مع المودعين (المستثمرين) هذا هو الفارق الأساسي بعين البنك الربوي والمصرف الإسلامي.
প্রথমত: সুদভিত্তিক (ربوي) ব্যাংক ও ইসলামি (إسلامي) ব্যাংকের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য:

অনেকেই ইসলামি (إسلامي) ব্যাংক ও সুদভিত্তিক (ربوي) ব্যাংকের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য অনুধাবন করেন না। সংক্ষেপে সেই পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো:

- সুদভিত্তিক (ربوي) ব্যাংকের ব্যবস্থা ও মূল কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের অর্থ সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। অতঃপর তারা ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, সরকার এবং অভাবী ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সুদের বিনিময়ে সেই অর্থ ঋণ প্রদান করে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সুদভিত্তিক (ربوي) ব্যাংক আমানতকারীর অর্থ নির্দিষ্ট সুদে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধি (وكيل) হিসেবে কাজ করে। এরপর ব্যাংক সেই সুদের অংশ নিজের এবং আমানতকারীর মধ্যে বণ্টন করে নেয়। এর আরও অর্থ হলো, সুদভিত্তিক (ربوي) ব্যাংক অর্থের কোনো ঝুঁকি গ্রহণ করে না, বরং নির্দিষ্ট সুদে তা ঋণ দেয়। অর্জিত সুদের অংশ তারা আমানতকারীদের সাথে ভাগ করে নেয়।

- পক্ষান্তরে ইসলামি (إسلامي) ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ সংগ্রহ করে তা অন্যকে ভাড়া দেওয়ার জন্য কিংবা ঋণ দেওয়ার জন্য নয়, বরং নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বিনিয়োগ করার জন্য— তারা এই অর্থ কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় ও ভাড়া প্রদানসহ উপার্জনের অন্যান্য বৈধ (مشروع) পন্থায় কাজে লাগায়। ফলে ইসলামি (إسلامي) ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থের ঝুঁকি গ্রহণ করে; কারণ এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সময় লাভও হতে পারে আবার লোকসানও হতে পারে। তাই তারা কোনো নির্দিষ্ট সুদ প্রদান করে না, বরং আমানতকারীদের (বিনিয়োগকারী (مستثمرين)) সাথে লাভ ও লোকসান উভয়ই ভাগ করে নেয়। সুদভিত্তিক (ربوي) ব্যাংক ও ইসলামি (إسلامي) ব্যাংকের মধ্যে এটাই হলো মৌলিক পার্থক্য।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৫)
‌‌ثانياً- الواقع الفعلي للمصارف الإِسلامية:

ولكن للأسف فان هذا المفروض الذي بيناه آنفاً غير مطبق في المصارف الإِسلامية الآن- اللهم إلا بنسبة ضئيلة جداًَ لا تتعدى خمسة في المائة 5% من الأموال المودعة فيها. وأما بقية أعمال المصارف الإِسلامية الحالية فإنها تعمل بطريقة ربوية خالصة وذلك على النحو التالي:

البنوك الربوية تقرض التجار الذين لا يملكون نقوداً حاضرة (سيولة) في مقابل فائدة
দ্বিতীয়ত- ইসলামী ব্যাংকসমূহের বাস্তব অবস্থা:

কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, ইতিপূর্বে আমরা যে বিষয়টিকে আবশ্যকীয় হিসেবে বর্ণনা করেছি, বর্তমানে তা ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বাস্তবায়িত হচ্ছে না—তবে সেখানে জমাকৃত অর্থের অতি সামান্য অংশ, যা পাঁচ শতাংশের (৫%) বেশি নয়, তার কথা ভিন্ন। আর বর্তমান ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবশিষ্ট কার্যক্রমগুলো বিশুদ্ধ সুদী (ربوية) পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, যা নিম্নরূপ:

সুদী ব্যাংকগুলো সেই সকল ব্যবসায়ীদের সুদের (فائدة) বিনিময়ে ঋণ প্রদান করে যাদের নিকট তাৎক্ষণিক নগদ (سيولة) অর্থ নেই।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
ثابتة. وهذا من الربا الصريح الواضح وأما المصارف الإسلامية، فإنها تصنع مع التجار نفس الصنيع ولكن عن طريق دورة طويلة من الإجراءات التي لا داعي لها. فالتاجر الذي يأتيها يريد (سيولة) نقوداً حاضرة تقول له نحن لا نقرضك مالاً (لأننا بنك إسلامي) . ولكن ما هي البضاعة التي تريدها أرنا إياها ونحن نشتريها ثم نبيعها لك. بشرط أن تتكفل أنت بجميع مصاريف الشحن والتأمين وجميع الالتزامات الأخرى التي تترتب على نقل هذه البضاعة ونأخذ منك عشرة في المائة. هذه هي صورة معاملة البنك الإسلامي مع التاجر الذي لجأ إليه من أجل (السيولة) النقود وهكذا يكون البنك الإسلامي ضامناًَ للربح غير مخاطر بشيء- فهو يوهم نفسه ويوهم الناس أنه يتاجر والحال أنه مقرض بفائدة وما قضية الشراء والبيع إلا تمثيلية وقد يسأل سائل وما الحرام في ذلك والجواب أن الحرام يتأتى من أن البنك الإسلامي في هذه الحال يبيع ما ليست عنده وما لا يملك وهذا لا يجوز في الشريعة، ويبيع البضاعة ولم يتسلمها بعد ولم ينقلها إلى مخازنه وقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الطعام قبل قبضه (كما في صحيح مسلم) وكذلك سائر البضائع والتجارات وكذلك فالبنك هنا ليست تاجراً وإنما هو مقرض فقط فهو لا يشتري لنفسه وإنما يشتري لغيره، ولا يلتزم بشيء بتاتاًَ نحو تجارته فلا هو ملزم بنفقات نقلها، ولا بضمانها إذا هلكت بل وهو أيضاً غير ملتزم بتسليمها إلى المشتري وإنما يسلمه المستندات وهو يذهب لاستلام بضاعته التي تكون مازالت في عرض البحر. ولذلك فالتاجر يكون في جانب المخاطرة والبنك الإسلامي يكون في جانب الأمان التام شأنه في ذلك شأن البنك الربوي تماماً إلا أن البنك الربوي وصل إلى مقصوده دون لف ودوران والبنك الإسلامي لا يصل إلى مقصوده إلا بزيادة عناء ولف ودوران. وهكذا تكون (الشريعة الإسلامية) على هذا النحو مزيداًَ في التعقيد والتطويل مع فعل نفس الأمر الذي حرمه الله سبحانه وتعالى.
সুনিশ্চিত (ثابتة)। আর এটি হলো স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ সুদ। আর ইসলামি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তারা ব্যবসায়ীদের সাথে একই কাজ করে, তবে তা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যে ব্যবসায়ী তাদের কাছে আসে এবং নগদ অর্থের (তারল্যের) প্রয়োজন বোধ করে, তাকে তারা বলে, "আমরা আপনাকে অর্থ ঋণ দেই না (যেহেতু আমরা একটি ইসলামি ব্যাংক)। কিন্তু আপনি কোন পণ্যটি চাচ্ছেন তা আমাদের দেখান, আমরা সেটি ক্রয় করব এবং এরপর আপনার কাছে বিক্রয় করব।" তবে শর্ত থাকে যে, আপনি সেই পণ্য পরিবহনের সকল খরচ, বীমা এবং পণ্যটি স্থানান্তরের ফলে উদ্ভূত অন্যান্য সকল দায়-দায়িত্ব বহন করবেন এবং আমরা আপনার নিকট থেকে দশ শতাংশ গ্রহণ করব। নগদ অর্থের (তারল্যের) প্রয়োজনে তাদের শরণাপন্ন হওয়া ব্যবসায়ীদের সাথে ইসলামি ব্যাংকের লেনদেনের রূপরেখাটি এমনই। এভাবে ইসলামি ব্যাংক কোনো প্রকার ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়াই মুনাফার বিষয়টি নিশ্চিত করে—সে নিজে এবং মানুষকে এটি বিশ্বাস করাতে চায় যে সে ব্যবসা করছে, অথচ প্রকৃত অবস্থা হলো সে সুদের বিনিময়ে ঋণ প্রদানকারী মাত্র। আর ক্রয়-বিক্রয়ের এই বিষয়টি একটি নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো প্রশ্নকারী হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে, এতে হারামের কী আছে? উত্তর হলো, হারাম হওয়ার বিষয়টি এই কারণে আসে যে, ইসলামি ব্যাংক এক্ষেত্রে এমন কিছু বিক্রয় করছে যা তার কাছে নেই এবং যার মালিক সে হয়নি; আর শরিয়তে এটি বৈধ নয়। সে পণ্যটি হস্তগত করার পূর্বে এবং তা নিজের গুদামে স্থানান্তরের পূর্বেই বিক্রয় করে দেয়। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যদ্রব্য হস্তগত করার পূর্বে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন (যেমনটি সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে), আর অন্যান্য সকল পণ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। তদুপরি, ব্যাংক এখানে কোনো ব্যবসায়ী নয় বরং সে কেবল একজন ঋণদাতা; কেননা সে নিজের জন্য পণ্য ক্রয় করে না বরং অন্যের জন্য ক্রয় করে। সে তার এই ব্যবসার বিষয়ে কোনো প্রকার দায়বদ্ধতা গ্রহণ করে না; না সে পণ্য পরিবহনের খরচ বহন করতে বাধ্য, না পণ্যটি ধ্বংস হয়ে গেলে তার দায়ভার গ্রহণে বাধ্য। এমনকি সে ক্রেতার নিকট পণ্যটি হস্তান্তরেও দায়বদ্ধ থাকে না, বরং সে কেবল নথিপত্র বুঝিয়ে দেয়, আর ক্রেতা নিজে গিয়ে তার পণ্যটি গ্রহণ করে যা তখনও মাঝ সমুদ্রে থাকে। এই কারণে ব্যবসায়ী ঝুঁকির মধ্যে থাকে আর ইসলামি ব্যাংক পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে থাকে, এক্ষেত্রে তার অবস্থা ঠিক একটি সুদি ব্যাংকের মতোই। তবে পার্থক্য হলো সুদি ব্যাংক কোনো প্রকার চাতুরি বা প্যাঁচানো পথ ছাড়াই তার লক্ষ্য অর্জন করে, আর ইসলামি ব্যাংক অতিরিক্ত কষ্ট ও চাতুরি ছাড়া তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। এভাবে (ইসলামি শরিয়াহকে) এই পদ্ধতিতে কেবল জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়, অথচ মূলত সেই কাজটিই করা হয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হারাম করেছেন।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
‌‌ثالثاً- الدعاوى لا تغير الحقائق:

وقد استباح القائمون على البنوك الإسلامية لأنفسهم مثل هذه المعاملة التي بيناها آنفاً من باب أنهم عندما يأتيهم العميل فلأَنهم لا يبيعونه وإنما يعدونه وعداً غير ملزم بأن يبيعوا له إذا اشتروا السلعة. فإذا اشتروها لأنفسهم قاموا بعد ذلك ببيعها للعميل وهذا الكلام أيضاً غير صحيح بدليل ما يأتي:

ا- لا يوجد شيء في الشريعة يسمى وعداً غير ملزم إذ المؤمن مطالب شرعاً بإنفاذ ما وعد وإلا كان على شعبة من نفاق
তৃতীয়ত- দাবি সত্যকে পরিবর্তন করতে পারে না:

ইসলামী ব্যাংকগুলোর পরিচালকরা নিজেদের জন্য এই ধরণের লেনদেনকে বৈধ করে নিয়েছেন যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। তাদের যুক্তি হলো, যখন কোনো গ্রাহক তাদের কাছে আসে, তখন তারা তার কাছে সরাসরি পণ্য বিক্রি করেন না, বরং তারা তাকে পণ্যটি ক্রয়ের পর তার কাছে বিক্রি করার একটি অ-বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি (وعد غير ملزم) দেন। অতঃপর যখন তারা পণ্যটি নিজেদের জন্য ক্রয় করেন, তখন তারা তা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করেন। এই কথাটিও সঠিক নয় এবং তার প্রমাণ নিম্নরূপ:

১- শরিয়তে অ-বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি (وعد غير ملزم) বলে কিছু নেই। কেননা একজন মুমিন তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে শরয়ীভাবে আদিষ্ট, অন্যথায় সে মুনাফেকির (نفاق) একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর অবস্থানকারী হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
2- كيف يكون وعد الشراء هذا غير ملزم وقد نصوا فيه على ما يأتي كما جاء نص العقد المعنون بـ (رغبة ووعد بالشراء) ففي المادة الرابعة منه: يتحمل الطرق الذي يخل بهذا الوعد الضرر الفعلي الذي يلحق بالطرف الآخر ما لم يكن الإخلال لأسباب قاهرة أهـ.

فكيف إذن يكون الوعد غير ملزم إذا كان الطرف الذي سيخل بهذا الوعد سيتحمل الضرر الناشئ من الإخلال بالوعد؟

ولعل قائلاً يقول إن الأمر لن يصل إلى أن يتقدم البنك الإسلامي بطلب محاكمة العميل الذي يتخلف عن إنفاذ وعده للبنك وإنما هذا مجرد تهديد وتخويف وأقول هذا أيضاً خطأ لأن المادة الخامسة من هذا الوعد تنص على ما يأتي فهي تقول بالنص: "عند نشوء أي خلاف بين الطرفين بشأن هذا الوعد يصعب عليهما حله ودياًَ يعرض على محكمين ملتزمين بالشريعة الإسلامية (هكذا) يتم اختيارها على الوجه التالي:

- حكم يختاره الطرف الأول.

- حكم يختاره الطرف الثاني.

- وحكم يختاره غرفة تجارة وصناعة الكويت.

ويتم الفصل في النزاع وفقاً للقوانين والأعراف التجارية السائدة بدولة الكويت وبما لا يتعارض مع أحكام الشريعة الإسلامية (عجباً) ويكون حكمها سواء صدر بالإجماع أو بالأغلبية ملزماً للطرفين وغير قابل للطعن فيه بالمعارضة أو الاستئناف وإذا اعتذرت غرفة التجارة والصناعة عن ترشيح الحكم الثالث يقوم الحكمان المختاران من قبل الطرفين باختياره، فإذا تعذر ذلك تقوم المحكمة الكلية بتعيينه وفقاً لأحكام قانون المرافعات المدنية والتجارية الكويتي) .

وبعد…0

أنظرتم يا إخواني إلى مفهوم الوعد غير الملزم في نظر البنوك الإسلامية إنه وعد يجرك جراً إلى محاكمة لا استئناف فيها ولا طعن فأي إلزام وأي دكتاتورية أبلغ من هذا…؟ إن هذه الالتزامات المترتبة على هذا الوعد بالشراء (غير الملزم) لهي أبلغ من كل الالتزامات التي تترتب على الإخلال بعقد بيع حقيقي. ولذلك قلنا إن الادعاء بأن وعد الشراء غير ملزم أكذوبة كبيرة وإيهام كبير.
2- এই ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি কীভাবে অ-বাধ্যতামূলক হতে পারে, অথচ তারা এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে? যেমনটি 'ক্রয়ের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতি' শিরোনামের চুক্তিনামায় এসেছে। এর চতুর্থ ধারায় বলা হয়েছে: "যে পক্ষ এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে অপর পক্ষের ওপর আপতিত প্রকৃত ক্ষতির দায়ভার বহন করবে, যদি না এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কোনো অনিবার্য কারণে হয়।" (সমাপ্ত)।

তাহলে এই প্রতিশ্রুতি কীভাবে অ-বাধ্যতামূলক হতে পারে, যদি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী পক্ষকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির দায়ভার বহন করতে হয়?

সম্ভবত কেউ বলতে পারেন যে, বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে না যেখানে ইসলামী ব্যাংক তার প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করবে; বরং এটি কেবল একটি ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি মাত্র। আমি বলব, এটিও একটি ভুল ধারণা। কারণ, এই প্রতিশ্রুতির পঞ্চম ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "এই প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এমন কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে যা আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করা কঠিন, তবে তা নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচিত এবং ইসলামী শরিয়াহর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ সালিশকারীদের (এরূপই বলা হয়েছে) নিকট পেশ করা হবে:

- প্রথম পক্ষ কর্তৃক মনোনীত একজন সালিশকারী।

- দ্বিতীয় পক্ষ কর্তৃক মনোনীত একজন সালিশকারী।

- এবং কুয়েত চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক মনোনীত একজন সালিশকারী।

উক্ত বিরোধের নিষ্পত্তি কুয়েত রাষ্ট্রে প্রচলিত বাণিজ্যিক আইন ও প্রথা অনুযায়ী এবং ইসলামী শরিয়াহর বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে (আশ্চর্যের বিষয়!) সম্পন্ন করা হবে। এই সালিশি রায় সর্বসম্মতিক্রমে হোক কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে হোক, তা উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হবে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি বা আপিল করা যাবে না। যদি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তৃতীয় সালিশকারী মনোনীত করতে অপারগ হয়, তবে উভয় পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুই সালিশকারী তাকে নির্বাচন করবেন; আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে কুয়েতের দেওয়ানি ও বাণিজ্যিক কার্যবিধি আইনের বিধান অনুযায়ী সিভিল কোর্ট তাকে নিয়োগ প্রদান করবে।"

অতঃপর…০

হে আমার ভাইয়েরা! আপনারা কি ইসলামী ব্যাংকগুলোর দৃষ্টিতে 'অ-বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতির' স্বরূপ লক্ষ্য করেছেন? এটি এমন এক প্রতিশ্রুতি যা আপনাকে টেনে এমন এক বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করবে যেখানে কোনো আপিল বা আপত্তির সুযোগ নেই। এর চেয়ে বড় বাধ্যবাধকতা বা একনায়কত্ব আর কী হতে পারে...? এই (অ-বাধ্যতামূলক) ক্রয়ের প্রতিশ্রুতির ফলে যে সকল দায়বদ্ধতা তৈরি হয়, তা একটি প্রকৃত বিক্রয় চুক্তি ভঙ্গের ফলে সৃষ্ট দায়বদ্ধতার চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর। তাই আমরা বলেছি যে, ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি অ-বাধ্যতামূলক হওয়ার দাবিটি একটি প্রকাণ্ড মিথ্যা ও চরম বিভ্রান্তি মাত্র।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
‌‌رابعاً- نناشدكم الله العودة إلى الحق والصواب

للأسباب السابقة كتبنا مراراً وتكراراً مناشدين القائمين على البنوك الإِسلامية الله- أن يعودوا إلى الحق والصواب وأن لا تصبح الشريعة الإِسلامية ألعوبة في أيديهم فإن الدنيا
চতুর্থত—আল্লাহর দোহাই দিয়ে আমরা আপনাদের নিকট সত্য ও সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি

পূর্বোক্ত কারণসমূহের প্রেক্ষিতে আমরা বারবার লিখেছি এবং ইসলামি ব্যাংকগুলোর দায়িত্বশীলদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে এই আহ্বান জানিয়েছি যেন তারা সত্য ও সঠিক পথে ফিরে আসেন এবং ইসলামি শরিয়াহ যেন তাদের হাতে ক্রীড়নক না হয়ে ওঠে; কেননা পার্থিব জীবন
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
لا تغني من الآخرة شيئاً، ومصير الجميع غداً بين يدي سبحانه وتعالى وهو سائل كل إنسان منا على ما اكتسبه بلسانه وقلمه ويده.

ولذلك قلنا إن المؤتمر الحالي للبنوك الإسلامية مفترق طرق فيما أن تتحول البنوك الإسلامية إلى مزاولة عملها وفق الشريعة حقيقة وذلك بأن تفتح هي وكالات تجارية وتمارس التجارة الفعلية حقيقة، وكذلك تقوم هي بالزراعة والصناعة والبناء، والمقاولات بشركاتها وعماله وصناعها، وإما أن تأخذ البنوك الإسلامية من المجتمعين صكاً شرعياً لتزاول ما تزاول من أعمال ربوية تحت غطاء هذا الصك الشرعي.

فماذا أنتم فاعلون أيها المجتمعون اليوم؟
এগুলো আখিরাতে কোনো উপকারে আসবে না এবং আগামীকাল সকলের প্রত্যাবর্তন হবে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দরবারে। তিনি আমাদের প্রত্যেককে তার জবান, কলম এবং হাতের মাধ্যমে যা কিছু সে অর্জন করেছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

আর এই কারণেই আমরা বলেছি যে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর বর্তমান সম্মেলনটি একটি সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে; হয় ইসলামী ব্যাংকগুলো তাদের কার্যাবলিকে প্রকৃতপক্ষে শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালনার দিকে মোড় নেবে—যার পদ্ধতি হলো তারা বাণিজ্যিক এজেন্সি গঠন করবে এবং প্রকৃত ব্যবসা পরিচালনা করবে, পাশাপাশি তাদের নিজস্ব কোম্পানি, শ্রমিক ও কারিগরদের দ্বারা কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও ঠিকাদারি কাজ আঞ্জাম দেবে; অথবা এই ইসলামী ব্যাংকগুলো সমবেত ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে একটি শরয়ি সনদ (صك شرعي) গ্রহণ করবে যেন এই শরয়ি আবরণের আড়ালে তারা তাদের সুদভিত্তিক (ربوية) কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

অতএব, হে আজকের সমাবেশে উপস্থিত সুধীবৃন্দ! এখন আপনারা কী করবেন?
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
‌‌الفرق بين التاجر والمرابي

من المقطوع به في الشريعة أن الله سبحانه وتعالى قد أباح البيع، وحرم الربا ، ومقالنا هذا مخصص وموجه لوضع الفروق بين البيع المشروع والربا المحرم.
ব্যবসায়ী ও সুদখোরের মধ্যে পার্থক্য

শরীয়তের অকাট্যভাবে প্রমাণিত (المقطوع به) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। আমাদের এই প্রবন্ধটি মূলত বৈধ ব্যবসা এবং নিষিদ্ধ সুদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো উপস্থাপনের নিমিত্তে নিবেদিত ও পরিচালিত।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
‌‌تعريف البيع وشروط صحة عقده:

البيع معروف لدى جميع الناس تقريباً وهو استبدال نقود بسلع، أو سلع بسلع أخرى كاستبدال أرز بنفط مثلا، ويشترط له الصدق وعدم كتمان العيب، وخيار المجلس (ولهذا شرح في مقام آخر إن شاء الله تعالى) والتسليم، ومن شروطه الهامة التي تخفى على كثير من الناس وجوب حيازة التاجر للسلعة قبل بيعها للمشتري ومعنى هذا أن التاجر لا يجوز له أن يبيع ما ليس عنده، وأنه يجب عليه أولاً أن يشتري السلعة ويحوزها ثم بعد ذلك يشرع في بيعها.
বিক্রয় (البيع) এবং এর চুক্তির (عقد) শুদ্ধতার শর্তাবলির সংজ্ঞা:

বিক্রয় (البيع) প্রায় সকল মানুষের নিকট সুপরিচিত। এটি হলো অর্থের বিনিময়ে পণ্য বিনিময়, অথবা পণ্যের বিনিময়ে অন্য কোনো পণ্য বিনিময়, যেমন উদাহরণস্বরূপ চালের বিনিময়ে তেলের বিনিময়। এর জন্য শর্ত হলো সততা, ত্রুটি (العيب) গোপন না করা, মজলিসের ইখতিয়ার (خيار المجلس) (ইনশাআল্লাহ অন্য এক স্থানে এর ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে) এবং অর্পণ (التسليم)। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যা অনেক মানুষের নিকট অস্পষ্ট, তা হলো ক্রেতার নিকট বিক্রয়ের পূর্বে ব্যবসায়ীর পণ্যটি দখল (حيازة) করা আবশ্যক। এর অর্থ হলো, ব্যবসায়ীর জন্য যা তার নিকট বিদ্যমান নেই তা বিক্রয় করা বৈধ (يجوز) নয়। বরং তার ওপর কর্তব্য হলো প্রথমে পণ্যটি ক্রয় করা ও তা হস্তগত করা, অতঃপর তা বিক্রয়ের কাজ শুরু করা।
(খণ্ড: ১) শরঈয়াতুল মুআমালাতিল্লাতি তাকুমু বিয়াহাল বুনুকুল ইসলামিয়্যাতুল মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
‌‌حكمة مشروعية البيع:

ولا يخفى حكمة مشروعية البيع وجواز الربح من ورائه وذلك لما يأتي:

(1) البائع خادم للناس لأنه يجلب البضاعة ويتعهدها، ويعرضها لمن يشتري ويوفر على الناس كثيرا من الجهد والتعب، ومعنى هذا أنه يقوم بخدمة حقيقية لغيره.

(2) البائع مخاطر فهو يشتري السلعة بماله ويخاطر في طلب الربح وقد تربح تجارته وقد تكسد وتبور. ولذلك فهو يبتغي فضل الله كما فسر العلماء قول الله تبارك وتعالى {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ} قالوا هو التجارة لأن الله نهى عنها
কেনাবেচা বৈধ হওয়ার হিকমত:

কেনাবেচা বৈধ হওয়ার তাৎপর্য এবং এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের বৈধতা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়, আর তা নিম্নোক্ত কারণসমূহের জন্য:

(১) বিক্রেতা মানুষের সেবক, কারণ সে পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং যারা ক্রয় করতে চায় তাদের নিকট তা উপস্থাপন করে। এভাবে সে মানুষের অনেক পরিশ্রম ও কষ্ট লাঘব করে; এর অর্থ হলো সে অন্যের জন্য প্রকৃত সেবা প্রদান করে।

(২) বিক্রেতা একজন ঝুঁকি গ্রহণকারী, কেননা সে নিজের অর্থ দিয়ে পণ্য ক্রয় করে এবং মুনাফার সন্ধানে ঝুঁকি গ্রহণ করে। তার ব্যবসায় কখনো লাভ হতে পারে, আবার কখনো পণ্য অবিক্রীত থেকে তা অচল বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই সে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করে, যেমনটি আলেমগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেছেন— {অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো}। তাঁরা বলেন, এটি হলো ব্যবসা; কারণ আল্লাহ তা থেকে নিষেধ করেছেন।