(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: -)
شرح حديث ابن عباس في الفرائض   (عبد المحسن بن محمد المنيف)

القسم: الفرائض والوصايا


الكتاب: شرح حديث ابن عباس في الفرائض

المؤلف: عبد المحسن بن محمد المنيف

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الخامسة والثلاثون. العدد الواحد والعشرون بعد المائة. (1424هـ) / 2004م

عدد الصفحات: 157

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফারায়েজ বিষয়ে ইবনে আব্বাসের হাদিসের ব্যাখ্যা   (আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-মুনিফ)

বিভাগ: ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) ও অসিয়ত


বই: ফারায়েজ বিষয়ে ইবনে আব্বাসের হাদিসের ব্যাখ্যা

লেখক: আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-মুনিফ

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারাহ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: পঁয়ত্রিশতম বর্ষ। একশত একুশতম সংখ্যা। (১৪২৪ হিজরি) / ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ৯৩)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1 {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2 {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.

أما بعد: فإن الله سبحانه وتعالى بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بجوامع الكلم 4، وخصه ببدائع الحكم5، فعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بعثت بجوامع الكلم " 6.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران الآية102

2 سورة النساء الآية1

3 سورة الأحزاب الآية 70-71

4 جوامع الكلم هو إيجاز اللفظ مع تناوله المعاني الكثيرة جدا. انظر شرح صحيح مسلم للنووي13/170.

5 انظر جامع العلوم والحكم1/5.

6 أخرجه البخاري في كتاب الجهاد باب قول النبي صلى الله عليه وسلم "نصرت بالرعب مسيرة شهر" 6/128 ط مع الفتح، ومسلم بنحوه في أول كتاب المساجد ومواضع الصلاة1/371، 372.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

১. হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। ২. হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। ৩. হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।

অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাওয়ামেউল কালিম (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) সহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে চমৎকার প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে জাওয়ামেউল কালিম সহ প্রেরণ করা হয়েছে।"

--------------------------------------------

১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

২. সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।

৩. সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০-৭১।

৪. জাওয়ামেউল কালিম হলো শব্দের সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও তা অত্যন্ত ব্যাপক অর্থ বহন করা। দেখুন: শরহে সহীহ মুসলিম লিন-নববী ১৩/১৭০।

৫. দেখুন: জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম ১/৫।

৬. বুখারী এটি জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "আমাকে এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী ভীতির মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে" ৬/১২৮ (ফাতহুল বারী সহ মুদ্রিত সংস্করণ); এবং মুসলিমও এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন সালাতের মসজিদ ও স্থানসমূহ অধ্যায়ের শুরুতে ১/৩৭১, ৩৭২।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ৯৪)
ومن الأحاديث الجوامع للكلم حديث عبد الله بن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولى رجل ذكر " كما ذكر ذلك الحافظ ابن رجب في مقدمته لكتاب " جامع العلوم والحكم " حيث قال رحمه الله: " لأنه الجامع لقواعد الفرائض التي هي نصف العلم "1.

فرغبت شرح هذا الحديث مع بيان الأحكام الفرضية المستنبطة منه وقد جمعت ما يتعلق بهذا الحديث من كتب المحدثين والفقهاء والفرضيين التي تيسر لي الوقوف عليها وقد كان من أسباب اختياري لشرح هذا الحديث غير ما ذكر ما يأتي:-

1- بيان كلام أهل العلم في الحكمة في تقييد الرسول صلى الله عليه وسلم الرجل يكونه ذكرا.

2- جمع ما تفرق من الأحكام المستنبطة من هذا الحديث في مكان واحد.

3- رغبة المساهمة في جمع ما يتعلق بهذا الحديث: رواية ودراية حيث إني لم أجد حسب اطلاعي القاصر من قام بذلك.

وقد رتبته على تمهيد وخمسة مباحث وخاتمة.

التمهيد: في التعريف بعلم الفرائض، ويشتمل على ثلاثة مطالب:-

المطلب الأول: تعريف الفرائض لغة واصطلاحا

المطلب الثاني: أهمية علم الفرائض في الكتاب والسنة

المطلب الثالث: أقسام الإرث

المبحث الأول: ألفاظ الحديث وتخريجها

--------------------------------------------

1 جامع العلوم والحكم1/9
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক হাদিসসমূহের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত এই হাদিসটি অন্যতম, যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তাদের হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।" যেমনটি হাফেজ ইবনে রজব তাঁর "জামি' উল-উলূম ওয়াল-হিকাম" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "কারণ এটি উত্তরাধিকারের সেই মূলনীতিগুলোকে ধারণ করে যা জ্ঞানের অর্ধেক।" ১।

তাই আমি এই হাদিসটির ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি এর থেকে উদ্ভাবিত উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধানগুলো বর্ণনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমি হাদিস বিশারদ, ফকিহ এবং উত্তরাধিকার বিশেষজ্ঞদের কিতাবসমূহ থেকে এই হাদিস সংশ্লিষ্ট যা কিছু আমার পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তা একত্রিত করেছি। উল্লিখিত কারণ ছাড়াও এই হাদিসটির ব্যাখ্যার জন্য আমার নির্বাচনের পেছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো রয়েছে:-

১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষকে 'পুরুষত্ব' (ذكر) গুণের সাথে কেন বিশিষ্ট করেছেন, সে বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য ও এর হিকমত বর্ণনা করা।

২- এই হাদিস থেকে উদ্ভাবিত বিক্ষিপ্ত বিধানগুলোকে এক স্থানে একত্রিত করা।

৩- এই হাদিসটির বর্ণনা (রেওয়ায়েত) এবং অনুধাবন (দেরায়েত) সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংকলনে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা; কারণ আমার সীমিত জ্ঞান অনুযায়ী আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন।

আমি এই গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা, পাঁচটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

ভূমিকা: ইলমুল ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার শাস্ত্রের পরিচিতি, যা তিনটি প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে:-

প্রথম প্রসঙ্গ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ফারায়েজের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইলমুল ফারায়েজের গুরুত্ব।

তৃতীয় প্রসঙ্গ: উত্তরাধিকারের প্রকারভেদ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের শব্দাবলি এবং এর সূত্র যাচাই (তাখরিজ)।

--------------------------------------------

১ জামি' উল-উলূম ওয়াল-হিকাম ১/৯
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ৯৫)
المبحث الثاني: معاني مفردات الحديث

المبحث الثالث: المعنى الإجمالي للحديث

المبحث الرابع: الحكمة في تقييد الرجل بكونه ذكرا

المبحث الخامس: الأحكام المستنبطة من الحديث

وفيه ثلاثة مطالب:-

المطلب الأول: الأحكام المتفق عليها بين الأئمة الأربعة.

المطلب الثاني: الأحكام الراجحة من الحديث

المطلب الثالث: الأحكام المرجوحة من الحديث

الخاتمة في نتائج البحث

وسرت على المنهج الآتي:-

1- قمت بجمع المادة العلمية، ثم ترتيبها على حسب ما أراه مناسبا.

2- رجعت إلى الكتب المعتمدة في جمع ما يتعلق بهذا الحديث سواء من كتب الحديث أو الفقه أو الفرائض، وحاولت النقل من المصدر الأقدم في الغالب.

3- سلكت في الأحكام المستنبطة من الحديث الطريقة الآتية:-

أ - إذا كان الحكم متفق عليه بين الأئمة الأربعة، فإني أقتصر على ذكر من حكى الاتفاق فقط.

ب - إذا كان الحكم المستنبط من الحديث هو القول الراجح، فإني أذكر من قال بهذا القول من العلماء، ثم أذكر من خالف في ذلك من العلماء المشهورين مع ذكر دليلين لما استدلوا به والجواب عنهما.

ج - إذا كان الحكم المستنبط من الحديث هو: القول المرجوح، فإني أذكر من قال بهذا القول من العلماء المشهورين، ثم أذكر القول الراجح ومن
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের শব্দাবলির অর্থ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের সামগ্রিক মর্ম

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পুরুষ হওয়ার শর্তারোপের হিকমত

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হাদিস থেকে আহরিত বিধানাবলি

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:-

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: চার ইমামের নিকট সর্বসম্মত বিধানাবলি।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: হাদিস হতে প্রাপ্ত রাজেহ বা অগ্রগণ্য বিধানাবলি

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: হাদিস হতে প্রাপ্ত মারজুহ বা অপ্রধান বিধানাবলি

উপসংহার: গবেষণার ফলাফল

আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:-

১- আমি গবেষণার উপকরণ সংগ্রহ করেছি, অতঃপর তা আমার নিকট যথোপযুক্ত মনে হওয়া অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।

২- এই হাদিস সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হয়েছি—তা হাদিস, ফিকহ কিংবা ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) যাই হোক না কেন। এবং আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাচীনতম উৎস হতে তথ্য উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেছি।

৩- হাদিস হতে বিধান আহরণের ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি:-

ক - যদি কোনো বিধান চার ইমামের মধ্যে সর্বসম্মত হয়, তবে আমি কেবল ঐকমত্যের বর্ণনাকারী উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

খ - যদি হাদিস হতে আহরিত বিধানটি রাজেহ বা অগ্রগণ্য মত হয়, তবে আলেমদের মধ্য হতে যাঁরা এই মত পোষণ করেছেন আমি তাঁদের কথা উল্লেখ করেছি। অতঃপর প্রসিদ্ধ আলেমদের মধ্যে যাঁরা এর বিরোধিতা করেছেন তাঁদের কথা উল্লেখ করেছি এবং তাঁদের উপস্থাপিত দুটি দলিল ও তার জবাব প্রদান করেছি।

গ - যদি হাদিস হতে আহরিত বিধানটি মারজুহ বা অপ্রধান মত হয়, তবে আমি প্রসিদ্ধ আলেমদের মধ্যে যাঁরা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের কথা উল্লেখ করেছি। অতঃপর আমি অগ্রগণ্য মতটি উল্লেখ করেছি এবং যাঁরা...
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ৯৬)
قال به من العلماء المشهورين، وذكر ما تيسر من أدلتهم، ثم الجواب عن الاستدلال بهذا الحديث.

3- قمت بعزو الآيات إلى سورها مع بيان رقم الآية.

4- قمت بتخريج الأحاديث الواردة في البحث، فإذا كان الحديث في الصحيحين فإني اكتفي بذلك، وإذا كان في أحدهما فإني أضم إلى ذلك تخريجه من السنن الأربعة ومسند الإمام أحمد، وإذا كان في غيرهما فإني أخرجه من السنن الأربعة، وأذكر ما وقفت عليه من كلام المحدثين حول الحديث صحة أو ضعفا.

5- قمت بتوضيح الكلمات الغريبة.

هذا ما تيسر لي بحثه، مع اعترافي بالتقصير لكني ولله الحمد والمنة بذلت ما في وسعي من بحث ووقت وجهد، فأسأل الله عز وجل أن ينفعني به، وينفع به من قرأه والله ولي التوفيق، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
বিখ্যাত আলেমদের মধ্যে যারা এটি বলেছেন তাদের নাম উল্লেখ করেছি এবং তাঁদের দলীলসমূহ থেকে যা সহজসাধ্য হয়েছে তা বর্ণনা করেছি, অতঃপর এই হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করার উত্তর প্রদান করেছি।

৩- আমি আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং আয়াত নম্বর স্পষ্ট করেছি।

৪- আমি গবেষণায় বর্ণিত হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছি; যদি হাদীসটি সহীহায়নে থাকে তবে আমি তাতেই ক্ষান্ত হয়েছি, আর যদি তা কেবল একটিতে থাকে তবে আমি তার সাথে চার সুনান গ্রন্থ ও ইমাম আহমদের মুসনাদ থেকে তাখরীজ যুক্ত করেছি। আর যদি এগুলোর বাইরে অন্য কোথাও থাকে, তবে আমি চার সুনান গ্রন্থ থেকে তা বের করেছি এবং হাদীসটির বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের যে বক্তব্য আমার নজরে এসেছে তা উল্লেখ করেছি।

৫- আমি কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা দিয়েছি।

এই হলো আমার গবেষণার সারসংক্ষেপ যা আমার পক্ষে করা সম্ভব হয়েছে; আমি আমার ত্রুটি স্বীকার করছি তবে আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে আমি আমার সাধ্যমতো গবেষণা, সময় ও শ্রম ব্যয় করেছি। আমি মহামহিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং যারা এটি পাঠ করবেন তাদেরও উপকৃত করেন। আল্লাহই তাওফীক দাতা। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
‌‌التمهيد

‌‌المطلب الأول تعريف الفرائض لغة واصطلاحا

…

التمهيد

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: تعريف الفرائض لغة واصطلاحا

المطلب الثاني: أهمية علم الفرائض في الكتاب والسنة

المطلب الثالث: أقسام الإرث
ভূমিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ফরায়েজের সংজ্ঞা

…

ভূমিকা

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ফরায়েজের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফরায়েজ শাস্ত্রের গুরুত্ব

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মিরাসের প্রকারভেদ
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ৯৮)
المطلب الأول: تعريف الفرائض لغة واصطلاحا

الفرائض لغة: جمع فريضة مأخوذة من الفرض، والفرض له معان كثيرة منها ما يأتي:

1- الحز، ومنه فرض القوس وهو الحز الذي في طرفه حيث يوضع الوتر.

2- القطع، ومنه قولك فرضت لفلان كذا من المال أي قطعت له.

3- الوجوب، تقول: فرضت الشيء أفرضه فرضا أي أوجبته، ومنه قوله تعالى {سُورَةٌ أَنْزَلْنَاهَا وَفَرَضْنَاهَا} 1 أي ألزمناكم العمل بما فرض فيها.

4- التبيين، ومنه قوله تعالى {قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُم} 2 أي بين لكم ما تتحللون به من الأيمان التي عقدتموها.

5- الفرض الهبة، يقال ما أعطاني فرضا ولا قرضا.

6- المفروض المقتطع المحدود، ومنه قوله تعالى {نَصِيباً مَفْرُوضاً} 3 أي نصيبا محددا ومقطوعا.

7- الفريضة ما فرض من السائمة من الصدقة، والفريضة الهرمة المسنة 4.

وأما تعريف الفرائض في الاصطلاح فلها عدة تعاريف، وسأقتصر على بعض تعريفات الفرضيين لها.

التعريف الأول:

فقه المواريث، وعلم الحساب الموصل لمعرفة ما يخص كل ذي حق من التركة.

--------------------------------------------

1 سورة النور الآية 1

2 سورة التحريم الآية 2

3 سورة النساء الآية7

4 انظر: الصحاح 3/1097، 1098، ولسان العرب 7/202 – 206، والقاموس المحيط 2/ 339، 340، وتاج العروس 18/ 475-488.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ফারাইজের সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে ফারাইজ: ফরিদা শব্দের বহুবচন, যা ফর্দ শব্দ থেকে গৃহীত। ফর্দ শব্দের অনেকগুলো অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

১- খাঁজ বা গর্ত। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ধনুকের খাঁজ, যা ধনুকের প্রান্তভাগে থাকে যেখানে ছিলা বা গুণ রাখা হয়।

২- কর্তন করা। যেমন আপনার কথা: 'আমি অমুকের জন্য এই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছি' অর্থাৎ আমি তার জন্য তা নির্দিষ্ট বা কেটে আলাদা করেছি।

৩- আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়া। আপনি যখন বলেন: 'আমি বিষয়টি ফরজ করেছি', এর অর্থ হলো আমি একে আবশ্যক করেছি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {এটি একটি সূরা যা আমরা নাযিল করেছি এবং একে ফরজ করেছি} ১ অর্থাৎ এতে যা ফরজ করা হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করা আমরা তোমাদের জন্য আবশ্যক করেছি।

৪- বর্ণনা করা বা স্পষ্ট করা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের শপথ থেকে মুক্তি লাভের উপায় বর্ণনা করেছেন} ২ অর্থাৎ তোমরা যেসব শপথ করেছ তা থেকে তোমরা কীভাবে মুক্তি লাভ করবে, তা তিনি তোমাদের জন্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

৫- ফর্দ বা ফরজ অর্থ হলো উপহার। বলা হয়ে থাকে, 'তিনি আমাকে কোনো উপহার (ফর্দ) বা ঋণ (কর্জ) দেননি'।

৬- কর্তিত ও নির্ধারিত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {নির্ধারিত অংশ} ৩ অর্থাৎ এমন অংশ যা সুনির্দিষ্ট ও আলাদা করা।

৭- ফরিদা বলা হয় চারণপশুর যাকাত হিসেবে যা নির্ধারণ করা হয় তাকে। এছাড়া ফরিদা অতি বৃদ্ধ বা বয়স্ক পশুকেও বলা হয় ৪।

আর পারিভাষিক অর্থে ফারাইজের বেশ কিছু সংজ্ঞা রয়েছে, আমি এখানে ফারাইজ শাস্ত্রবিদদের প্রদত্ত কিছু সংজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।

প্রথম সংজ্ঞা:

উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জ্ঞান এবং গাণিতিক বিদ্যা, যা মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে প্রত্যেক হকদারের প্রাপ্য অংশ জানার মাধ্যম হয়।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নূর, আয়াত ১

২ সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ২

৩ সূরা আন-নিসা, আয়াত ৭

৪ দেখুন: আস-সিহাহ ৩/১০৯৭, ১০৯৮; লিসানুল আরব ৭/২০২-২০৬; আল-কামূসুল মুহীত ২/৩৩৯, ৩৪০; তাজুল আরূস ১৮/৪৭৫-৪৮৮।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
وهذا التعريف للشيخ العلامة الفرضي أحمد بن محمد بن الهائم، والشيخ العلامة الفرضي عبد الله بن محمد الشنشوري، والشيخ العلامة الفرضي عبد القادر بن أحمد بن بدران من الحنابلة1.

التعريف الثاني:

فقه المواريث، وما ضم إلى ذلك من حسابها.

وهذا التعريف للشيخ العلامة الفرضي صالح بن حسن البهوتي، وتبعه عليه كل من الشيخ إبراهيم بن عبد الله بن سيف، والشيخ عبد الرحمن ابن محمد بن قاسم، والشيخ عبد العزيز بن ناصر الرشيد، وسماحة شيخنا الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز2.

التعريف الثالث:

معرفة من يرث، ومن لا يرث، ومن يحجب، ومن لا يحجب

وهذا تعريف الأخضري من المالكية3.

التعريف الرابع:

علم بأصول من فقه وحساب، تعرف حق كل من التركة

وهذا تعريف الشيخ عبد الملك البتني من الحنفية4.

وفي النظر في هذه التعاريف أجد أن التعريف الأول، والثاني، والرابع تعاريف جامعة تشمل على فقه الفرائض وعلى حساب الفرائض بخلاف التعريف الثالث فإنه

--------------------------------------------

1 انظر كفاية الحفاظ مع شرحها نهاية الهداية1/104؛ وفتح القريب المجيب شرح كتاب الترتيب1/5؛ والبدرانية في شرح الفارضية ص7،8.

2 انظر عمدة كل فارض مع شرحها العذب الفائض1/12؛ وحاشية الرحبية ص9؛ وعدة الباحث ص3، والفوائد الجلية في المباحث الفرضية ص5.

3 انظر شرح الدرة البيضاء ص41

4 انظر شرح خلاصة الفرائض ص4،5
এবং এই সংজ্ঞাটি দিয়েছেন শাইখ আল্লামা আল-ফারজি আহমাদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল হায়িম, শাইখ আল্লামা আল-ফারজি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শানশুরি এবং হাম্বলি মাযহাবের শাইখ আল্লামা আল-ফারজি আবদুল কাদির বিন আহমাদ বিন বদরান১।

দ্বিতীয় সংজ্ঞা:

উত্তরাধিকার বিষয়ক ফিকহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট গাণিতিক হিসাব।

এই সংজ্ঞাটি শাইখ আল্লামা আল-ফারজি সালিহ বিন হাসান আল-বাহুতি প্রদান করেছেন এবং শাইখ ইবরাহিম বিন আবদুল্লাহ বিন সাইফ, শাইখ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ বিন কাসিম, শাইখ আবদুল আজিজ বিন নাসির আর-রাশিদ এবং আমাদের সম্মানিত শাইখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ ২ তাঁকে অনুসরণ করেছেন।

তৃতীয় সংজ্ঞা:

কে উত্তরাধিকারী হবে আর কে হবে না এবং কে বঞ্চিত হবে আর কে হবে না, তা জানা।

এটি মালিকি মাযহাবের আল-আখদারি-র প্রদানকৃত সংজ্ঞা৩।

চতুর্থ সংজ্ঞা:

ফিকহ ও গাণিতিক হিসাব সংক্রান্ত এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ওপর প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে জানা যায়।

এটি হানাফি মাযহাবের শাইখ আব্দুল মালিক আল-বাতানি-র প্রদানকৃত সংজ্ঞা৪।

এই সংজ্ঞাসমূহ পর্যালোচনা করলে আমি দেখতে পাই যে, প্রথম, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সংজ্ঞাগুলো হলো সামগ্রিক সংজ্ঞা, যা ফারায়েজ ফিকহ এবং ফারায়েজ গণিত উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তৃতীয় সংজ্ঞাটি এর ব্যতিক্রম, কেননা তা—

--------------------------------------------

১ দেখুন কিফায়াতুল হাফফাজ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নিহায়াতুল হিদায়াহ ১/১০৪; ফাতহুল কারিবিল মুজিব শারহু কিতাবিত তারতিব ১/৫; এবং আল-বাদরানিয়্যাহ ফি শারহিল ফারজিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৭, ৮।

২ দেখুন উমদাতু কুল্লি ফারিজ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-আযবুল ফায়িজ ১/১২; হাশিয়া আর-রাহবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৯; উদদাতুল বাহিস পৃষ্ঠা ৩ এবং আল-ফাওয়ায়িদুল জালিয়্যাহ ফিল মাবাহিসিল ফারজিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৫।

৩ দেখুন শারহুত দুররাতিল বায়দা পৃষ্ঠা ৪১

৪ দেখুন শারহু খুলাসাতিল ফারায়েজ পৃষ্ঠা ৪, ৫
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০০)
تعريف غير جامع حيث لا يشتمل على حساب الفرائض.

وأجد كذلك أن التعريف الثاني مشابه للتعريف الأول إلا أن الجزء الثاني من التعريف الثاني يعتبر مختصرا من الجزء الثاني من التعريف الأول، وهذا الاختصار غير مخل للمقصود من التعريف.
এটি একটি অ-ব্যাপক সংজ্ঞা, যেহেতু এটি ফারায়েজের হিসাবকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

আমি একইভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি প্রথম সংজ্ঞার সদৃশ, তবে দ্বিতীয় সংজ্ঞার দ্বিতীয় অংশটি প্রথম সংজ্ঞার দ্বিতীয় অংশের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়; এবং এই সংক্ষিপ্তকরণ সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্যের কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০০)
‌‌المطلب الثاني: أهمية علم الفرائض في الكتاب والسنة

أهمية الفرائض في الكتاب تتضح مما يأتي:

1- فصل الله سبحانه وتعالى الفرائض ثلاث آيات من كتابه أكثر من غيرها مثل الصلاة فهي مجملة في كتاب الله وبينها رسول الله صلى الله عليه وسلم بيانا شافيا1. ولهذا: ذكر الحافظ ابن كثير: إن علم الفرائض مستنبط من هذه الآيات الثلاث وهي الآية الحادية عشرة، والآية الثانية عشرة والآية الأخيرة من سورة النساء2.

2- أن الله سبحانه تولى قسمة الفرائض بنفسه فلم يكلها إلى ملك مقرب، ولا إلى نبي مرسل، بل بينها سبحانه في محكم كتابه3.

3- أن الله عز وجل جعل هذا التقسيم فريضة كما قال تعالى في آخر الآية الأولى من آيات الفرائض {آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعاً فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيماً حَكِيماً} 4.

--------------------------------------------

1 انظر التحقيقات المرضية ص12

2 انظر تفسير ابن كثير1/457.

3 انظر فقه المواريث1/11

4 سورة النساء الآية 11
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফারায়েজ শাস্ত্রের গুরুত্ব

কুরআনে ফারায়েজ বা মিরাস শাস্ত্রের গুরুত্ব নিচের বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট হয়:

১- মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবের অন্য সব বিষয়ের তুলনায় মিরাসের বিধানকে তিনটি আয়াতে অধিক বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন সালাত, যা আল্লাহর কিতাবে সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন১। এই কারণেই হাফেজ ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন যে: ফারায়েজ শাস্ত্র এই তিনটি আয়াত থেকেই আহরিত হয়েছে, আর সেগুলো হলো সূরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াত, ১২ নম্বর আয়াত এবং সর্বশেষ আয়াত২।

২- মহান আল্লাহ নিজেই মিরাস বন্টনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি এটি কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা কিংবা প্রেরিত কোনো নবীর ওপর ন্যস্ত করেননি, বরং তিনি স্বয়ং তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন৩।

৩- আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই বন্টন পদ্ধতিকে একটি ‘ফারিদাহ’ (অপরিহার্য বিধান) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। যেমনটি তিনি ফারায়েজ সংক্রান্ত প্রথম আয়াতের শেষে ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তান—তোমরা জানো না উপকারের দিক থেকে তাদের মধ্যে কে তোমাদের বেশি নিকটবর্তী। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি বিধান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} ৪।

--------------------------------------------

১ আত-তাহকিকাতুল মারদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১২ দেখুন।

২ তাফসিরে ইবনে কাসির ১/৪৫৭ দেখুন।

৩ ফিকহুল মাওয়ারিস ১/১১ দেখুন।

৪ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০১)
4 - أن الله سبحانه وتعالى وعد من أطاعه في تقسيم الفرائض على وجهها الشرعي دخول الجنة، وهذا فضل عظيم يدل على أهمية الفرائض. قال تعالى بعد أن ذكر الآية الأولى والثانية من آيات الفرائض {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 1.

5- أن الله سبحانه وتعالى توعد من لم يطعه أو لم يطع رسوله عليه الصلاة والسلام، وتعدى حدود الله عز وجل؛ وذلك بأن لم ينفذ فرائضه ومنها تقسيم الفرائض على الوجه الشرعي بدخول النار. قال تعالى {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} 2.

ولهذا قال الحافظ ابن كثير في تفسير هاتين الآيتين ما نصه: " أي هذه الفرائض، والمقادير التي جعلها الله للورثة - بحسب قربهم من الميت واحتياجهم إليه وفقدهم له عند عدمه - هي: حدود الله فلا تعتدوها، ولا تجاوزوها؛ ولهذا قال {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَه} أي فلم يزد بعض الورثة ولم ينقص بعضها بحيلة ووسيلة، بل تركهم على حكم الله وفريضته وقسمته {يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} 3 أي لكونه غير ما حكم الله به، وضاد الله في حكمه، وهذا إنما يصدر عن عدم الرضا بما قسم الله وحكم به، ولهذا يجازيه بالإهانة في العذاب الأليم " 4.

وأما أهمية الفرائض في السنة فتتضح في الآتي:

--------------------------------------------

1 سورة النساء الآية 13

2 سورة النساء الآية14

3 سورة النساء آية 13،14

4 تفسير ابن كثير1/461.
4 - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁর নির্দেশিত শারয়ী পদ্ধতি অনুসরণকারীদের জান্নাতে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি একটি মহান অনুগ্রহ যা ফরায়েজ বা উত্তরাধিকার আইনের গুরুত্ব নির্দেশ করে। মহান আল্লাহ ফরায়েজ সংক্রান্ত প্রথম ও দ্বিতীয় আয়াতের বর্ণনার পর বলেন, {এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই মহাসাফল্য।} ১।

5- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঐ ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুনের ভয় দেখিয়েছেন যে তাঁর অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অবাধ্য হয় এবং মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে; আর তা হলো তাঁর নির্দেশিত বিধানসমূহ বাস্তবায়ন না করার মাধ্যমে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো শারয়ী পদ্ধতিতে উত্তরাধিকার বণ্টন না করা। মহান আল্লাহ বলেন, {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরকাল থাকবে; আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} ২।

এই কারণেই হাফিজ ইবনু কাসীর এই আয়াত দুটির তাফসিরে যা বলেছেন তার মূলপাঠ হলো: "অর্থাৎ এই ফরায়েজ এবং নির্ধারিত অংশগুলো যা আল্লাহ ওয়ারিশদের জন্য নির্ধারণ করেছেন—মৃত ব্যক্তির সাথে তাদের নিকটাত্মীয়তা, তাদের অভাব এবং মৃত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে—সেগুলো হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং তোমরা তা অতিক্রম করো না এবং লঙ্ঘন করো না। এই কারণেই তিনি বলেছেন {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে} অর্থাৎ কোনো প্রকার কৌশল বা উপায়ের মাধ্যমে উত্তরাধিকারীদের কারও অংশ বৃদ্ধি করবে না অথবা কারও অংশ হ্রাস করবে না, বরং তাদের আল্লাহর হুকুম, নির্ধারিত ফরায়েজ এবং বণ্টনের ওপর ছেড়ে দেবে {আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই মহাসাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরকাল থাকবে; আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} ৩ অর্থাৎ আল্লাহর দেওয়া ফয়সালাকে পরিবর্তন করা এবং তাঁর হুকুমের বিরোধিতা করার কারণে এমনটি হবে। আর এটি কেবল আল্লাহর বণ্টন ও ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টির কারণেই প্রকাশ পায়, বিধায় তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মাধ্যমে লাঞ্ছিত করার প্রতিদান দেবেন।" ৪।

সুন্নাহর আলোকে ফরায়েজের গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৩

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৪

৩ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৩, ১৪

৪ তাফসিরে ইবনু কাসীর ১/৪৬১।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০২)
1- أن الرسول صلى الله عليه وسلم أمر بتنفيذ الفرائض على وجهها الشرعي كما في أول هذا الحديث الذي أنا بصدد شرحه.

2- أن الرسول صلى الله عليه وسلم بين بعض أحكام الفرائض ومنه آخر هذا الحديث الذي أنا بصدد شرحه حين وضح الرسول صلى الله عليه وسلم مصرف التركة بعد أصحاب الفرائض. ومنه ميراث الجدة فقد ثبت بالسنة النبوية الصحيحة، فعن قبيصة بن ذؤيب أنه قال جاءت الجدة إلى أبي بكر الصديق رضي الله عنه تسأله ميراثها، فقال: مالك في كتاب الله شيء وما علمت لك في سنة رسول الله شيئا، فارجعي حتى أسأل الناس فسأل الناس فقال المغيرة بن شعبة حضرت رسول الله صلى الله عليه وسلم أعطاها السدس، فقال أبو بكر: هل معك غيرك؟ فقام محمد بن مسلمة الأنصاري فقال مثلما قال المغيرة، فأنفذه لها أبو بكر الصديق1.

3- أن الرسول صلى الله عليه وسلم روي عنه عدة أحاديث في فضل علم الفرائض وفي الحث على تعلمها وسأقتصر على حديثين مما اشتهر عند علماء الفرائض.

الحديث الأول:

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله عليه وسلم " يا أبا هريرة تعلموا الفرائض وعلموها فإنه نصف العلم وهو ينسى وهو أول

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود في كتاب الفرائض باب ميراث الجدة3/316-317، والترمذي في أبواب الفرائض باب ميراث الجدة4/419-420، وابن ماجه في كتاب الفرائض باب ميراث الجدة2/909-910، والإمام مالك في الموطأ في كتاب الفرائض باب ميراث الجدة2/513، وقال الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير3/82 " إسناده صحيح لثقة رجاله إلا أن صورته مرسل فإن قبيصة لا يصح له سماع من الصديق ولا يمكن شهوده للقصة قاله ابن عبد البر بمعناه ".
১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাস বা ফরায়েজকে তার শরয়ী পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি এই হাদীসের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে যা আমি ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি।

২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরায়েজের কিছু বিধান বর্ণনা করেছেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই হাদীসের শেষ অংশ যা আমি ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ধারিত অংশের হকদারদের (আসহাবুল ফুরুজ) পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তির বণ্টন স্পষ্ট করেছেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো দাদীর মিরাস, যা সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। কাবিলাহ ইবনে যুয়াইব থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: একজন দাদী আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে তার মিরাস দাবি করলেন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য আমি কিছুই পাচ্ছি না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতেও তোমার জন্য কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। সুতরাং তুমি ফিরে যাও যতক্ষণ না আমি অন্য লোকদের জিজ্ঞাসা করি। এরপর তিনি লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুগীরাহ ইবনে শু'বাহ বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম যখন তিনি তাকে (দাদীকে) এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন। আবু বকর বললেন: তোমার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তখন মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ আল-আনসারী দাঁড়িয়ে মুগীরাহ যা বলেছিলেন তার অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন। অতঃপর আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু তা তার (দাদীর) জন্য কার্যকর করলেন।১

৩- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ফরায়েজ শাস্ত্রের মর্যাদা এবং তা শেখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমি ফরায়েজ শাস্ত্রের আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ দুটি হাদীসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।

প্রথম হাদীস:

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "হে আবু হুরায়রা! তোমরা ফরায়েজ শিক্ষা করো এবং তা অন্যদের শিক্ষা দাও। কারণ এটি অর্জিত ইলমের অর্ধেক, আর এটিই বিস্মৃত হয়ে যাবে এবং এটিই প্রথম বস্তু যা আমার উম্মত থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে।"

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ 'কিতাবুল ফরায়েজ', অনুচ্ছেদ: দাদীর মিরাস ৩/৩১৬-৩১৭; তিরমিযী 'আবওয়াবুল ফরায়েজ', অনুচ্ছেদ: দাদীর মিরাস ৪/৪১৯-৪২০; ইবনে মাজাহ 'কিতাবুল ফরায়েজ', অনুচ্ছেদ: দাদীর মিরাস ২/৯০৯-৯১০; এবং ইমাম মালিক 'মুওয়াত্তা'-এর 'কিতাবুল ফরায়েজ', অনুচ্ছেদ: দাদীর মিরাস ২/৫১৩। হাফিজ ইবনে হাজার 'আত-তালখীসুল হাবীর' (৩/৮২)-এ বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য হওয়ার কারণে এর সনদ সহীহ, তবে এর রূপটি মুরসাল। কারণ কাবিলাহ-এর জন্য আবু বকর সিদ্দিক থেকে সরাসরি শ্রবণ প্রমাণিত নয় এবং তার পক্ষে এই ঘটনার সাক্ষী হওয়াও সম্ভব নয়—ইবনে আবদিল বারও অনুরূপ অর্থ প্রকাশ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৩)
شيء ينزع من أمتي " 1.

الحديث الثاني:

عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: " تعلموا القرآن وعلموه الناس، وتعلموا الفرائض وعلموه الناس فإني امرؤ مقبوض وإن العلم سيقبض وتظهر الفتن حتى يختلف الاثنان في الفريضة لا يجدان من يقضي بها " 2.

--------------------------------------------

1 أخرجه ابن ماجه في كتاب الفرائض باب الحث على تعليم الفرائض2/908، والدارقطني4/67، والحاكم في مستدركه4/332، وسكت عنه ولم يوافقه الذهبي حيث قال: قلت حفص واه بمرة. والبيهقي في السنن الكبرى6/209، وقال تفرد به حفص بن عمر وليس بالقوي، والعقيلي في الضعفاء1/271، في ترجمة حفص بن عمر وقال: "ولا يتابع عليه لا يعرف إلا به"، وابن حبان في المجروحين1/255، في ترجمة حفص بن عمر وقال: "لا يجوز الاجتجاج به بحال "، وابن عدي في الكامل2/791 في ترجمة حفص بن عمر، وقال: "وحديثه كما ذكر البخاري منكر الحديث". والخطيب البغدادي في تاريخ بغداد 3/319، وابن الجوزي في العلل المتناهية في الأحاديث الواهية1/128-129، وقال: "هذا حديث لا يصح عن رسول الله صلى الله عليه سلم، والمتهم به حفص بن عمر بن أبي العلاف قال البخاري هو منكر الحديث رماه يحيى النيسابوري بالكذب"، والمزي في تهذيب الكمال7/4، وقال الحافظ بن حجر في التلخيص الحبير3/79: ومداره على حفص بن عمر بن أبي العطاف وهو متروك والحديث مشهور عند الفرضيين، وقد حسن سند ابن ماجه سبط المارديني في شرحه على المنظومة الرحبية ص 23، وحكم عليه الشيخ محمد بن عبد الباقي الزرقاني في كتابه مختصر المقاصد الحسنة ص 86 بقوله حسن لغيره.

2 أخرجه النسائي في السنن الكبرى في كتاب الفرائض باب الأمر بتعليم الفرائض4/64 وأشار إليه الترمذي في كتاب الفرائض باب ما جاء في تعليم الفرائض /414 حيث ذكر سنده ولم يذكر لفظه، والحاكم في مستدركه4/333 واللفظ له وقال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه، وأخرجه البيهقي في السنن الكبرى 6/208، والمزي بسنده العالي في تهذيب الكمال11/378، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد4/223، رواه أبو يعلى، والترمذي وفي إسناده من لم أعرفه وفي سنده سليمان ابن جابر الهجري، قال الذهبي في ميزان الاعتدال2/198: "شيخ … ولا يعرف سليمان "، وقال الحافظ بن حجر في التقريب1/322 مجهول وهذا الحديث مشهور عند الفرضيين وقد قال سبط المارديني في شرحه على المنظومة الرحبية ص23 "وحسنه المتأخرون ".

দ্বিতীয় হাদিস:

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কুরআন শেখো এবং মানুষকে তা শেখাও, এবং মিরাস (উত্তরাধিকার আইন) শেখো এবং মানুষকে তা শেখাও; কেননা আমি একজন মরণশীল মানুষ এবং অচিরেই ইলম (জ্ঞান) তুলে নেওয়া হবে এবং ফিতনা প্রকাশ পাবে, এমনকি দুজন ব্যক্তি মিরাসের বিধান নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হবে কিন্তু তারা এর ফয়সালা করে দেওয়ার মতো কাউকেই খুঁজে পাবে না।" ২.

--------------------------------------------

১ এটি ইবনে মাজাহ তাঁর কিতাবুল ফারায়িদ-এর 'মিরাস শিক্ষার প্রতি উৎসাহ প্রদান' পরিচ্ছেদে (২/৯০৮), দারাকুতনি (৪/৬৭) এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক-এ (৪/৩৩২) বর্ণনা করেছেন। হাকেম এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, তবে জাহাবি তাঁর সাথে একমত হননি; তিনি বলেছেন: আমি বলছি হাফস অত্যন্ত দুর্বল। বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা-তে (৬/২০৯) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে হাফস বিন উমর এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি শক্তিশালী নন। উকায়লি আদ-দুয়াফা গ্রন্থে (১/২৭১) হাফস বিন উমরের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তার এই বর্ণনার কোনো অনুসরণ নেই এবং এটি সে ছাড়া আর কারো মাধ্যমে পরিচিত নয়"। ইবনে হিব্বান আল-মাজরুহীন গ্রন্থে (১/২৫৫) হাফস বিন উমরের জীবনীতে বলেছেন: "কোনো অবস্থাতেই তার দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়"। ইবনে আদি আল-কামিল গ্রন্থে (২/৭৯১) হাফস বিন উমরের জীবনীতে বলেছেন: "এবং তার হাদিস ইমাম বুখারি যেমন উল্লেখ করেছেন মুনকারুল হাদিস"। খতিব বাগদাদি তারিখু বাগদাদ-এ (৩/৩১৯) এবং ইবনুল জাওজি আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়া গ্রন্থে (১/১২৮-১২৯) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ নয়। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন হাফস বিন উমর বিন আবিল আল্লাফ; বুখারি বলেছেন তিনি মুনকারুল হাদিস এবং ইয়াহইয়া আন-নিসাবুরি তাকে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন"। মিযযি তাহযিবুল কামাল-এ (৭/৪) এবং হাফেজ ইবনে হাজার আত-তালখিস আল-হাবির-এ (৩/৭৯) বলেছেন: এই হাদিসটির কেন্দ্রবিন্দু হাফস বিন উমর বিন আবিল আতাফ এবং তিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত)। তবে হাদিসটি মিরাস বিশারদদের নিকট প্রসিদ্ধ। সিবত আল-মারদিনি আর-রাহবিয়্যাহ মানজুমার শারহে (পৃষ্ঠা ২৩) ইবনে মাজাহর সনদকে হাসান বলেছেন এবং শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি আজ-জুরকানি তাঁর মুখতাসার আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৮৬) এটিকে 'হাসান লি-গাইরিহি' বলে হুকুম দিয়েছেন।

২ নাসায়ি আস-সুনান আল-কুবরা-র কিতাবুল ফারায়িদ-এর 'মিরাস শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ' পরিচ্ছেদে (৪/৬৪) এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি কিতাবুল ফারায়িদ-এর 'মিরাস শিক্ষা দেওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে' পরিচ্ছেদে (৪১৪) এটির দিকে ইশারা করেছেন, যেখানে তিনি এর সনদ উল্লেখ করলেও মূল পাঠ উল্লেখ করেননি। হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক-এ (৪/৩৩৩) বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁর বর্ণনা থেকেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ সহিহ কিন্তু তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। জাহাবি তাঁর তালখিস-এ এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা-তে (৬/২০৮) এবং মিযযি তাঁর উচ্চতর সনদে তাহযিবুল কামাল-এ (১১/৩৭৮) এটি বর্ণনা করেছেন। হায়সামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এ (৪/২২৩) বলেছেন: এটি আবু ইয়ালা এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে এমন বর্ণনাকারী আছেন যাকে আমি চিনি না। এর সনদে সুলাইমান ইবনে জাবির আল-হিজরি রয়েছেন। জাহাবি মীযানুল ইতিদাল-এ (২/১৯৮) বলেছেন: "একজন শাইখ... এবং সুলাইমান পরিচিত নন"। হাফেজ ইবনে হাজার আত-তাকরিব-এ (১/৩২২) তাকে মাজহুল (অজ্ঞাত) বলেছেন। তবে হাদিসটি মিরাস বিশারদদের নিকট প্রসিদ্ধ। সিবত আল-মারদিনি আর-রাহবিয়্যাহ মানজুমার শারহে (পৃষ্ঠা ২৩) বলেছেন: "পরবর্তী যুগের আলেমগণ একে হাসান বলেছেন"।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৪)
‌‌المطلب الثالث أقسام الإرث

‌‌إرث بالفرض

…

المطلب الثالث: أقسام الإرث

الإرث ينقسم إلى قسمين:

القسم الأول: إرث بالفرض.

القسم الثاني: إرث بالتعصيب.

* فالقسم الأول: الإرث بالفرض.

والفروض المقدرة ستة في كتاب الله، والسابع ثلث الباقي ثبت بالاجتهاد، وإليك ملخص ذلك:

1- أصحاب النصف وهم ستة:

أ - الزوج ويستحقه بشرط واحد وهو: عدم الفرع الوارث الذي هو الابن وابن الابن وإن نزل بمحض الذكور، والبنت وبنت الابن وإن نزل أبوها بمحض الذكور.

ب - البنت وتستحقه بشرطين وهما: عدم المعصب وهو أخوها؛ لأن وجود الابن ينقلها إلى التعصيب. وعدم المشارك وهو أختها؛ لأن وجود بنت أخرى تنتقل هي وإياها إلى الثلثين.

ج - بنت الابن وتستحقه بثلاثة شروط وهي: عدم المعصب وهو ابن الابن. وعدم المشارك وهي بنت الابن الأخرى. وعدم الفرع الوارث الذي هو أعلا منها من ابن فيحجبها وبنت فتنقلها إلى السدس تكملة للثلثين.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মিরাসের প্রকারভেদ

নির্ধারিত অংশের মাধ্যমে মিরাস

...

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মিরাসের প্রকারভেদ

মিরাস দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ভাগ: নির্ধারিত অংশের মাধ্যমে মিরাস (আল-ফারদ)।

দ্বিতীয় ভাগ: আসাবার মাধ্যমে মিরাস (আত-তাসীব)।

* প্রথম ভাগ: নির্ধারিত অংশের মাধ্যমে মিরাস।

আল্লাহর কিতাবে নির্ধারিত অংশসমূহ হলো ছয়টি, আর সপ্তমটি হলো অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ যা ইজতিহাদের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। নিম্নে এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

১- অর্ধেক (নিসফ) অংশের অধিকারীগণ এবং তারা হলেন ছয় জন:

ক - স্বামী: তিনি একটি শর্তে এই অংশের অধিকারী হন, আর তা হলো: মিরাস পাওয়ার যোগ্য কোনো বংশধর না থাকা, অর্থাৎ পুত্র এবং পুত্রের পুত্র—পর্যায়ক্রমে নিচে যতদূরই যাক (শুধুমাত্র পুরুষ বংশধারায়)—এবং কন্যা ও পুত্রের কন্যা—তার পিতা পর্যায়ক্রমে নিচে যতদূরই যাক (শুধুমাত্র পুরুষ বংশধারায়)।

খ - কন্যা: তিনি দুটি শর্তে এই অংশের অধিকারী হন, আর শর্ত দুটি হলো: আসাবা প্রদানকারী কেউ না থাকা, অর্থাৎ তার ভাই; কেননা পুত্রের উপস্থিতি তাকে আসাবার অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। এবং কোনো অংশীদার না থাকা, অর্থাৎ তার বোন; কেননা অন্য কোনো কন্যার উপস্থিতিতে সে এবং তার বোন উভয়ে দুই-তৃতীয়াংশের দিকে স্থানান্তরিত হয়।

গ - পুত্রের কন্যা: তিনি তিনটি শর্তে এই অংশের অধিকারী হন, আর শর্তগুলো হলো: আসাবা প্রদানকারী কেউ না থাকা, অর্থাৎ পুত্রের পুত্র। এবং কোনো অংশীদার না থাকা, অর্থাৎ অন্য কোনো পুত্রের কন্যা। এবং তার চেয়ে উচ্চস্তরের কোনো মিরাসযোগ্য বংশধর না থাকা, যেমন পুত্র—যে তাকে বঞ্চিত (হাজব) করে দেয়, অথবা কন্যা—যে তাকে দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করার নিমিত্তে এক-ষষ্ঠাংশ (সুদুস) প্রাপ্তির দিকে স্থানান্তরিত করে।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৫)
د - الأخت الشقيقة وتستحقه بأربعة شروط وهي: عدم المعصب، وهو الأخ الشقيق. وعدم المشارك وهي الأخت الشقيقة الأخرى، وعدم الفرع الوارث، وعدم الأصل من الذكور الوارث من أب أو جد.

هـ - الأخت لأب وتستحقه بخمسة شروط وهي: عدم المعصب وهو الأخ لأب، وعدم المشارك وهي الأخت لأب الأخرى. وعدم الفرع الوارث، وعدم الأصل من الذكور الوارث من أب أو جد، وعدم الأخ الشقيق والأخت الشقيقة.

2- أصحاب الربع وهم اثنان:

أ - الزوج ويستحقه بشرط واحد وهو: وجود الفرع الوارث وهم الأولاد وأولاد الأبناء.

ب - الزوجة وتستحقه بشرط واحد وهو: عدم الفرع الوارث.

3- صاحب الثمن وهو واحد:

الزوجة وتستحقه بشرط واحد وهو وجود الفرع الوارث.

4- أصحاب الثلثين وهم أربعة:

أ - البنات ويستحقنه بشرطين: أن يكن اثنتين فأكثر، وعدم المعصب.

ب - بنات الابن ويستحقنه بثلاثة شروط وهي: أن يكن اثنتين فأكثر، وعدم المعصب، وعدم الفرع الوراث الذي هو أعلا منهن.

ج - الأخوات الشقيقات ويستحقنه بأربعة شروط وهي: أن يكن اثنتين فأكثر، وعدم الفرع الوارث، وعدم الأصل من الذكور الوارث.

د- الأخوات لأب ويستحقنه بخمسة شروط وهي: أن يكن اثنتين فأكثر، وعدم المعصب، وعدم الفرع الوارث، وعدم الأصل من الذكور الوارث، وعدم الأخ الشقيق والأخت الشقيقة.
ঘ - আপন বোন; সে এটি লাভের অধিকারী হয় চারটি শর্তে, সেগুলো হলো: আসাবা প্রদানকারী অর্থাৎ আপন ভাই না থাকা; অংশীদার অর্থাৎ অন্য কোনো আপন বোন না থাকা; কোনো ওয়ারিশি উত্তরসূরি না থাকা; এবং পিতা বা দাদার মতো কোনো উত্তরাধিকারী পুরুষ মূল না থাকা।

ঙ - বৈমাত্রেয় বোন; সে এটি লাভের অধিকারী হয় পাঁচটি শর্তে, সেগুলো হলো: আসাবা প্রদানকারী অর্থাৎ বৈমাত্রেয় ভাই না থাকা; অংশীদার অর্থাৎ অন্য কোনো বৈমাত্রেয় বোন না থাকা; কোনো ওয়ারিশি উত্তরসূরি না থাকা; পিতা বা দাদার মতো কোনো উত্তরাধিকারী পুরুষ মূল না থাকা; এবং কোনো আপন ভাই ও আপন বোন না থাকা।

২- এক-চতুর্থাংশ গ্রহণকারীগণ হলেন দুইজন:

ক - স্বামী; সে এটি পাওয়ার অধিকারী হয় একটি শর্তে, তা হলো: ওয়ারিশি উত্তরসূরির উপস্থিতি, অর্থাৎ সন্তান এবং পুত্রের সন্তানাদি।

খ - স্ত্রী; সে এটি পাওয়ার অধিকারী হয় একটি শর্তে, তা হলো: ওয়ারিশি উত্তরসূরির অনুপস্থিতি।

৩- এক-অষ্টমাংশ গ্রহণকারী হলেন একজন:

স্ত্রী; সে এটি পাওয়ার অধিকারী হয় একটি শর্তে, তা হলো ওয়ারিশি উত্তরসূরির উপস্থিতি।

৪- দুই-তৃতীয়াংশ গ্রহণকারীগণ হলেন চারজন:

ক - কন্যারা; তারা এটি পাওয়ার অধিকারী হয় দুইটি শর্তে: তারা সংখ্যায় দুইজন বা ততোধিক হওয়া এবং আসাবা প্রদানকারী কেউ না থাকা।

খ - পৌত্রীরা; তারা এটি পাওয়ার অধিকারী হয় তিনটি শর্তে, সেগুলো হলো: তারা সংখ্যায় দুইজন বা ততোধিক হওয়া, আসাবা প্রদানকারী না থাকা এবং তাদের চেয়ে উচ্চস্তরের কোনো ওয়ারিশি উত্তরসূরি না থাকা।

গ - আপন বোনেরা; তারা এটি পাওয়ার অধিকারী হয় চারটি শর্তে, সেগুলো হলো: তারা সংখ্যায় দুইজন বা ততোধিক হওয়া, আসাবা প্রদানকারী না থাকা, কোনো ওয়ারিশি উত্তরসূরি না থাকা এবং কোনো উত্তরাধিকারী পুরুষ মূল না থাকা।

ঘ - বৈমাত্রেয় বোনেরা; তারা এটি পাওয়ার অধিকারী হয় পাঁচটি শর্তে, সেগুলো হলো: তারা সংখ্যায় দুইজন বা ততোধিক হওয়া, আসাবা প্রদানকারী না থাকা, কোনো ওয়ারিশি উত্তরসূরি না থাকা, কোনো উত্তরাধিকারী পুরুষ মূল না থাকা এবং কোনো আপন ভাই ও আপন বোন না থাকা।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
5- أصحاب الثلث وهما اثنان:

أ - الأم وتستحقه بثلاثة شروط وهي: عدم الفرع الوارث، وعدم الجمع من الإخوة مطلقا، وعدم كون المسألة إحدى الغراوين.

ب - الإخوة لأم ويستحقونه بثلاثة شروط وهي: وجود المشارك، وعدم الفرع الوارث، وعدم الأصل من الذكور الوارث.

6 - أصحاب السدس وهم سبعة:

أ - الأم وتستحقه بشرط واحد وهو: وجود الفرع الوارث أو وجود الجمع من الإخوة.

ب- الأب ويستحقه بشرط واحد وهو: وجود الفرع الوارث.

ج- الجد ويستحقه بشرطين وهما: عدم الأب، ووجود الفرع الوارث.

د- بنت الابن فأكثر وتستحقه بشرطين وهما: عدم المعصب، وعدم الفرع الوارث الذي هو أعلى منها سوى صاحبة النصف من بنت أو بنت ابن أعلى منها فإنها لا تستحق السدس إلا معها تكملة للثلثين.

هـ- الأخت لأب فأكثر وتستحقه بشرطين وهما: عدم المعصب، وكونها مع أخت شقيقة مستحقة للنصف فرضا.

و ولد الأم وهو الأخ لأم أو الأخت لأم ويستحقه بثلاثة شروط وهي: عدم المشارك، وعدم الفرع الوارث، وعدم الأصل من الذكور الوارث.

ز- الجدة وتستحقه بشرط واحد وهو: عدم الأم.

وأما ثلث الباقي فتستحقه الأم في المسألتين الغراوين وهما: زوج، وأم، وأب، أو زوجة، وأم، وأب.
৫- এক-তৃতীয়াংশের (১/৩) অধিকারী হলেন দুইজন:

ক - মাতা; তিনি তিনটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: ওয়ারিশ নিম্নগামী উত্তরসূরির (সন্তান বা সন্তানের সন্তান) অনুপস্থিতি, সাধারণভাবে একাধিক ভাই-বোনের অনুপস্থিতি এবং মাসআলাটি ‘গাররাওয়াইন’ এর একটি না হওয়া।

খ - বৈপিত্রেয় ভাই-বোন; তারা তিনটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: অংশীদার (একাধিক ব্যক্তি) থাকা, ওয়ারিশ নিম্নগামী উত্তরসূরির অনুপস্থিতি এবং ওয়ারিশ পুরুষ ঊর্ধ্বতন উত্তরসূরির অনুপস্থিতি।

৬ - এক-ষষ্ঠাংশের (১/৬) অধিকারী হলেন সাতজন:

ক- মাতা; তিনি একটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: ওয়ারিশ নিম্নগামী উত্তরসূরির উপস্থিতি অথবা একাধিক ভাই-বোনের উপস্থিতি।

খ- পিতা; তিনি একটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: ওয়ারিশ নিম্নগামী উত্তরসূরির উপস্থিতি।

গ- পিতামহ; তিনি দুইটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: পিতার অনুপস্থিতি এবং ওয়ারিশ নিম্নগামী উত্তরসূরির উপস্থিতি।

ঘ- পুত্রের কন্যা (এক বা একাধিক); তিনি দুইটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: ‘আসিব’ (উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে আসাবা বানাতে পারে এমন পুরুষ) না থাকা এবং তার চেয়ে উচ্চস্তরের কোনো ওয়ারিশ নিম্নগামী উত্তরসূরি না থাকা; তবে যদি তার চেয়ে উচ্চস্তরের একজন কন্যা বা পুত্রের কন্যা থাকে যে নির্ধারিত অংশ হিসেবে অর্ধেক (১/২) পায়, তবে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) পূর্ণ করার জন্য তার সাথে সে এক-ষষ্ঠাংশ পাওয়ার যোগ্য হবে।

ঙ- বৈমাত্রেয় বোন (পিতার দিক থেকে বোন, এক বা একাধিক); তিনি দুইটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: ‘আসিব’ না থাকা এবং একজন সহোদরা বোনের সাথে থাকা যিনি নির্ধারিত অংশ হিসেবে অর্ধেক (১/২) পাওয়ার যোগ্য।

চ- মায়ের সন্তান (অর্থাৎ বৈপিত্রেয় ভাই বা বৈপিত্রেয় বোন); তিনি তিনটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: অংশীদার না থাকা (একাকী হওয়া), ওয়ারিশ নিম্নগামী উত্তরসূরির অনুপস্থিতি এবং ওয়ারিশ পুরুষ ঊর্ধ্বতন উত্তরসূরির অনুপস্থিতি।

ছ- দাদী বা নানী; তিনি একটি শর্তে এটি পাওয়ার যোগ্য হন: মাতার অনুপস্থিতি।

আর অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশের (১/৩) ক্ষেত্রে, মাতা দুই ‘গাররাওয়াইন’ মাসআলায় এর অধিকারী হন। মাসআলা দুটি হলো: (১) স্বামী, মাতা ও পিতা; অথবা (২) স্ত্রী, মাতা ও পিতা।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
* وأما القسم الثاني فهو ال‌‌إرث بالتعصيب.

والتعصيب ينقسم إلى قسمين:
* আর দ্বিতীয় প্রকার হলো আসাবার মাধ্যমে উত্তরাধিকার。

আর আসাবা দুই ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
القسم الأول وهو العصبة بالنسب.

القسم الثاني وهو العصبة بالسبب.

فالقسم الأول: العصبة بالنسب ينقسم إلى أنواع ثلاثة:

1- عصبة بالنفس، وأصنافهم اثنا عشر وهم على الترتيب الآتي:

الابن، ثم ابن الابن، ثم الأب، ثم الجد، ثم الأخ الشقيق، ثم الأخ لأب، ثم ابن الأخ الشقيق، ثم ابن الأخ لأب، ثم العم الشقيق، ثم العم لأب، ثم ابن العم الشقيق، ثم ابن العم لأب.

2- عصبة بالغير وأصنافهم أربعة:

أ - البنت فأكثر مع الابن فأكثر.

ب - بنت الابن فأكثر مع ابن الابن فأكثر.

ج - الأخت الشقيقة مع الأخ الشقيق فأكثر.

د - الأخت لأب مع الأخ لأب فأكثر.

3- عصبة مع الغير وهما صنفان:

أ - الأخت الشقيقة فأكثر مع البنت، أو بنت الابن فأكثر.

ب - الأخت لأب فأكثر مع البنت، أو بنت الابن فأكثر.

والقسم الثاني من العصبة عصبة السبب أي الولاء وهم المعتق أو المعتقة، ثم عصبتهما المتعصبون بأنفسهم وهم الذكور فقط، وحصرهم وارد كما في القسم الأول من العصبة.

وما ذكرته هو ملخص الورثة واستحقاقهم، ومن أراد التفصيل مع التمثيل فهو موجود في كتب الفرضيين1.

--------------------------------------------

1 انظر فتح القريب المجيب1/17-31، والعذب الفائض1/46-93، والفوائد الجلية ص9-16.
প্রথম প্রকার: বংশীয় আসাবা।

দ্বিতীয় প্রকার: কারণগত আসাবা।

প্রথম প্রকার: বংশীয় আসাবা তিন ভাগে বিভক্ত:

১- নিজে নিজে আসাবা; তাদের শ্রেণী হলো বারোটি এবং তারা নিম্নোক্ত ক্রম অনুযায়ী:

পুত্র, অতঃপর পুত্রের পুত্র, অতঃপর পিতা, অতঃপর দাদা, অতঃপর সহোদর ভাই, অতঃপর বৈমাত্রেয় ভাই, অতঃপর সহোদর ভাইয়ের পুত্র, অতঃপর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের পুত্র, অতঃপর সহোদর চাচা, অতঃপর বৈমাত্রেয় চাচা, অতঃপর সহোদর চাচার পুত্র, অতঃপর বৈমাত্রেয় চাচার পুত্র।

২- অন্যের মাধ্যমে আসাবা; তাদের শ্রেণী হলো চারটি:

ক - এক বা একাধিক কন্যা, এক বা একাধিক পুত্রের সাথে।

খ - এক বা একাধিক পুত্রের কন্যা, এক বা একাধিক পুত্রের পুত্রের সাথে।

গ - সহোদর বোন, এক বা একাধিক সহোদর ভাইয়ের সাথে।

ঘ - বৈমাত্রেয় বোন, এক বা একাধিক বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সাথে।

৩- অন্যের সাথে আসাবা; তারা দুই শ্রেণীর:

ক - এক বা একাধিক সহোদর বোন, এক বা একাধিক কন্যা অথবা পুত্রের কন্যার সাথে।

খ - এক বা একাধিক বৈমাত্রেয় বোন, এক বা একাধিক কন্যা অথবা পুত্রের কন্যার সাথে।

আসাবার দ্বিতীয় বিভাগ হলো কারণগত আসাবা অর্থাৎ 'ওয়ালা' (মুক্তির সম্পর্ক); তারা হলো দাস মুক্তিদানকারী পুরুষ বা মুক্তিদানকারী নারী। অতঃপর তাদের ঐ সকল আসাবা যারা নিজে নিজেই আসাবা হয় এবং তারা কেবল পুরুষ। তাদের সীমাবদ্ধতা প্রথম প্রকারের আসাবার বর্ণনার মতোই।

আমি যা উল্লেখ করেছি তা উত্তরাধিকারী এবং তাদের প্রাপ্যাধিকারের সংক্ষিপ্ত সার। আর যারা উদাহরণসহ বিস্তারিত বিবরণ চান, তা ফরায়েজ শাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান রয়েছে।১

--------------------------------------------

১ দেখুন: ফাতহুল কারীবিল মুজীব ১/১৭-৩১, আল-আযবুল ফায়িদ ১/৪৬-৯৩ এবং আল-ফাওয়ায়েদুল জালিয়া, পৃষ্ঠা ৯-১৬।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
‌‌المبحث الأول: ألفاظ الحديث وتخريجها

والحديث له لفظان وإليك تخريجهما:

اللفظ الأول:

عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " ألحقوا لفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولى رجل ذكر" أخرجه البخاري في كتاب الفرائض باب ميراث الولد من أبيه وأمه1، وفي باب ميراث ابن الابن إذا لم يكن ابن2، وفي باب ميراث الجد مع الأب والإخوة3، وفي باب ابني عم أحدهما أخ للأم والآخر زوج4.

وأخرجه مسلم في كتاب الفرائض باب ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولى رجل ذكر5.

وأخرجه الترمذي في كتاب الفرائض باب في ميراث العصبة6، وأخرجه النسائي في السنن الكبرى في كتاب الفرائض باب ابنة الأخ مع أخت لأب وأم7

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري12/11 ط مع الفتح.

2 صحيح البخاري12/16

3 صحيح البخاري12/18

4 صحيح البخاري12/27

5 صحيح مسلم3/1233

6 سنن الترمذي4/418

7 سنن النسائي الكبرى4/71
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের শব্দাবলি ও এর উৎস নির্দেশ (তাখরিজ)

হাদিসটির শব্দবিন্যাস দুই প্রকারের, নিচে এর তাখরিজ প্রদান করা হলো:

প্রথম শব্দবিন্যাস:

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো (ফারায়েজ) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, আর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন মিরাস অধ্যায়ে, 'পিতা ও মাতার নিকট থেকে সন্তানের মিরাস' পরিচ্ছেদে১, এবং 'পুত্র না থাকলে পৌত্রের মিরাস' পরিচ্ছেদে২, এবং 'পিতা ও ভাইদের সাথে দাদার মিরাস' পরিচ্ছেদে৩, এবং 'এমন দুই চাচাতো ভাই যাদের একজন বৈপিত্রীয় ভাই এবং অন্যজন স্বামী' পরিচ্ছেদে৪।

এবং ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মিরাস অধ্যায়ে, 'নির্ধারিত অংশগুলো হকদারদের প্রদান করো, এরপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য' পরিচ্ছেদে৫।

এবং ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন মিরাস অধ্যায়ে, 'আসবাহ-এর মিরাস সংক্রান্ত' পরিচ্ছেদে৬, এবং ইমাম নাসাঈ এটি সুনানে কুবরার মিরাস অধ্যায়ে, 'সহোদরা বোনের সাথে ভ্রাতুষ্পুত্রীর মিরাস' পরিচ্ছেদে৭ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ সহিহ বুখারি ১২/১১, ফাতহুল বারীসহ সংস্করণ।

২ সহিহ বুখারি ১২/১৬

৩ সহিহ বুখারি ১২/১৮

৪ সহিহ বুখারি ১২/২৭

৫ সহিহ মুসলিম ৩/১২৩৩

৬ সুনানে তিরমিজি ৪/৪১৮

৭ সুনানে নাসাঈ আল-কুবরা ৪/৭১
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১০৯)
اللفظ الثاني:

عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " أقسموا المال بين أهل الفرائض على كتاب الله فما تركت الفرائض فلأولى رجل ذكر "

أخرجه مسلم في كتاب الفرائض باب ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فلأولى رجل ذكر1.

وأخرجه أبو داود في كتاب الفرائض باب في ميراث العصبة2.

وأخرجه ابن ماجه في كتاب الفرائض باب ميراث العصبة3.

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم3/1234

2 سنن أبي داود3/319

3 سنن ابن ماجه2/915
দ্বিতীয় পাঠ:

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফারায়েযের (নির্ধারিত অংশের) হকদারদের মধ্যে সম্পদ বন্টন করো, অতঃপর ফারায়েযের অংশ প্রদানের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।"

এটি মুসলিম ‘কিতাবুল ফারায়েয’ (উত্তরাধিকার বন্টন অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: ফারায়েযকে তার হকদারদের সাথে যুক্ত করো, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য—এ সংকলন করেছেন১।

এটি আবু দাউদ ‘কিতাবুল ফারায়েয’, পরিচ্ছেদ: আসাবার (উত্তরাধিকারের অবশিষ্টাংশ ভোগী) উত্তরাধিকার—এ সংকলন করেছেন২।

এটি ইবনে মাজাহ ‘কিতাবুল ফারায়েয’, পরিচ্ছেদ: আসাবার উত্তরাধিকার—এ সংকলন করেছেন৩।

--------------------------------------------

১ সহীহ মুসলিম ৩/১২৩৪

২ সুনান আবু দাউদ ৩/৩১৯

৩ সুনান ইবনে মাজাহ ২/৯১৫
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১০)
‌‌المبحث الثاني: معاني مفردات الحديث

ألحقوا: بفتح الهمزة وكسر الحاء أي أوصلوا1.

الفرائض: الألف واللام للعهد وهي الأنصباء المقدرة في كتاب الله وهي النصف، والربع، والثمن، والثلثان، والثلث، والسدس2.

بأهلها: من يستحقها بنص كتاب الله عز وجل3.

اقسموا: فعل أمر من القسم وهو فرز المال إلى أجزاء4.

المال: المراد بالمال هنا هو ما خلفه الميت.

أهل الفرائض: أي الأنصباء المقدرة في كتاب الله، والمراد بأهلها المستحقون لها بنص القرآن5.

على كتاب الله: أي على وفق ما نزل في كتابه6.

فما بقي: أي فضل بعد إعطاء ذوي الفروض فروضهم المقدرة لهم7.

فلأولى رجل ذكر: أقرب رجل ذكر، فلأولى بفتح الهمزة واللام وبينهما واو ساكنة، أفعل تفضيل مأخوذة من الولي بسكون اللام على وزن الرمي، وهو

--------------------------------------------

1 انظر مرقاة المفاتيح6/229

2 انظر إحكام الأحكام4/15، وإكمال إكمال المعلم5/560، وفتح الباري12/11

3 انظر فتح الباري12/11.

4 انظر المصباح المنير2/503

5 انظر عون المعبود شرح سنن أبي داود8/104

6 انظر فتح الباري12/11

7 انظر إحكام الأحكام شرح أصول الأحكام3/230
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের শব্দগুলোর অর্থ

পৌঁছে দাও (আলহিকু): হামযাহ-এর ফাতহাহ (যবর) এবং হা-এর কাসরাহ (যের) সহকারে, অর্থাৎ পৌঁছে দাও।১

ফারায়েয (আল-ফারায়েয): এখানে ‘আলিফ’ এবং ‘লাম’ সুনির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর তা হলো আল্লাহর কিতাবে নির্ধারিত অংশসমূহ, যথা: অর্ধেক, এক-চতুর্থাংশ, এক-অষ্টমাংশ, দুই-তৃতীয়াংশ, এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-ষষ্ঠাংশ।২

তার হকদারদের নিকট: যারা মহান আল্লাহর কিতাবের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে এর অধিকারী।৩

বণ্টন করো (ইকসিমু): এটি ‘আল-কাসম’ থেকে নির্গত একটি আদেশসূচক ক্রিয়া, যার অর্থ হলো সম্পদকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা।৪

সম্পদ (আল-মাল): এখানে সম্পদ বলতে মৃত ব্যক্তি যা রেখে গেছেন তাকে বোঝানো হয়েছে।

ফারায়েযের অধিকারীগণ: অর্থাৎ আল্লাহর কিতাবে নির্ধারিত অংশসমূহ; আর ‘অধিকারী’ বলতে এখানে কুরআনের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে যারা এর প্রাপ্য, তাদের বোঝানো হয়েছে।৫

আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী: অর্থাৎ তাঁর কিতাবে যা অবতীর্ণ হয়েছে সেই মোতাবেক।৬

অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে: অর্থাৎ নির্ধারিত অংশের অধিকারীদের তাদের নির্দিষ্ট পাওনা প্রদানের পর যা অতিরিক্ত থাকে।৭

সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ লোকের জন্য: নিকটতম পুরুষ আত্মীয়। এখানে ‘আওলা’ শব্দটি হামযাহ ও লামের ফাতহাহ (যবর) এবং উভয়ের মাঝে ‘ওয়াও’ সাকিন যোগে গঠিত। এটি একটি আধিক্যবোধক বিশেষণ (আফয়ালুত তাফদীল) যা ‘আল-ওয়ালি’ (লামের সাকিন সহকারে, আর-রামি শব্দের ওজনে) শব্দ থেকে গৃহীত, যা হলো...

--------------------------------------------

১ দেখুন: মিরকাতুল মাফাতিহ, ৬/২২৯।

২ দেখুন: ইহকামুল আহকাম, ৪/১৫; ইকমালু ইকমালিল মুয়াল্লিম, ৫/৫৬০; এবং ফাতহুল বারী, ১২/১১।

৩ দেখুন: ফাতহুল বারী, ১২/১১।

৪ দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনীর, ২/৫০৩।

৫ দেখুন: আওনুল মাবুদ শরহ সুনানে আবু দাউদ, ৮/১০৪।

৬ দেখুন: ফাতহুল বারী, ১২/১১।

৭ দেখুন: ইহকামুল আহকাম শরহ উসুলিল আহকাম, ৩/২৩০।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১১)
القرب أي لمن يكون أقرب في النسب. وليس المراد بأولى هنا أحق بخلاف قولهم الرجل أولى بماله؛ لأنه لو حمل هنا على أحق لخلي عن الفائدة؛ لأنا لا ندري من هو الأحق1.

--------------------------------------------

1 انظر معالم السنن4/97، وشرح النووي على صحيح مسلم11/53، وفتح الباري 12/11، والعذب الفائض1/79.
নিকটবর্তিতা অর্থাৎ যে বংশীয় দিক থেকে অধিক নিকটবর্তী। এখানে 'আওলা' (অধিকতর হকদার) দ্বারা 'অধিক যোগ্য' উদ্দেশ্য নয়, যা মানুষের এই কথার বিপরীত যে—'ব্যক্তি তার সম্পদের ক্ষেত্রে অধিক হকদার'; কারণ এখানে যদি 'অধিক যোগ্য' অর্থ গ্রহণ করা হয়, তবে তা কোনো উপকার দেবে না বা নিরর্থক হয়ে পড়বে; কেননা আমরা জানি না কে অধিক যোগ্য১।

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাআলিমুস সুনান ৪/৯৭, সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা ১১/৫৩, ফাতহুল বারী ১২/১১ এবং আল-আযবুল ফায়িদ ১/৭৯।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১২)
‌‌المبحث الثالث: المعنى الإجمالي للحديث

اختلف شراح الحديث في المعنى الإجمالي لهذا الحديث على قولين:

القول الأول: وهو المشهور عند كثير من شراح الحديث، وممن ذكر ذلك الخطابي، وابن بطال، والبغوي، وابن دقيق العيد، والحافظ ابن حجر، والعيني، والصنعاني، والشوكاني، وعبد العظيم آبادي1، ونص عليه من الفرضيين الشيخ عبد الله الشنشوري، والشيخ إبراهيم الباجوري، والشيخ العلامة صالح بن فوزان 2.

ويتلخص معنى هذا الحديث على هذا القول: اعطوا الفرائض المقدرة لمن سماها الله لهم فما بقي بعد هذه الفروض، فيستحقه أولى الرجال أي لأقرب رجل ذكر.

القول الثاني: ذكره الحافظ ابن رجب واختاره: أن المراد بقوله عليه الصلاة والسلام " ألحقوا الفرائض بأهلها " وقوله عليه الصلاة والسلام " اقسموا المال بين أهل الفرائض " جملة من سماه الله في كتابه من أهل المواريث من ذوي الفروض والعصبات كلهم فإن كل ما يأخذه الورثة فهو فرض فرضه الله لهم سواء كان مقدرا أو غير مقدر كما قال بعد ذكر ميراث الوالدين، والأولاد {فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ} 2 وفيهم ذو فرض وعصبة، وكما قال {لِلرِّجَالِ

--------------------------------------------

1 انظر: معالم السنن 4/97؛ وشرح صحيح البخاري لابن بطال 8/348، وشرح السنة 8/326؛ وإحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام 4/16؛ وفتح الباري 12/11؛ وعمدة القارئ شرح صحيح البخاري 23/326؛ وسبل السلام 3/149، 150؛ ونيل الأوطار 5/170، وعون المعبود 8/104.

2 سورة النساء الآية 11
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদীসের সামগ্রিক মর্ম

হাদীসের ব্যাখ্যাকারগণ এই হাদীসের সামগ্রিক মর্মের ব্যাপারে দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: এটি অনেক হাদীস ব্যাখ্যাকারদের নিকট প্রসিদ্ধ মত। যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন খাত্তাবী, ইবন বাত্তাল, বাগাবী, ইবনু দাকীকিল ঈদ, হাফিয ইবনে হাজার, আইনী, সানআনী, শাওকানী এবং আব্দুল আযীম আবাদী১। আর ফরায়েজ শাস্ত্রবিদদের মধ্যে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন শায়খ আব্দুল্লাহ আশ-শানশুরী, শায়খ ইবরাহীম আল-বাজুরী এবং প্রাজ্ঞ শায়খ সালিহ বিন ফাওযান ২।

এই মতানুসারে হাদীসটির মর্মকথা সংক্ষেপে হলো: নির্ধারিত অংশসমূহ (ফারায়েয) তাদের প্রদান করো যাদের জন্য আল্লাহ তাআলা তা সুনির্দিষ্ট করেছেন; অতঃপর এই নির্ধারিত অংশসমূহ প্রদানের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তার হকদার হলো নিকটতম পুরুষ ব্যক্তি, অর্থাৎ নিকটতম পুরুষ আত্মীয়।

দ্বিতীয় মত: হাফিয ইবনে রজব এটি উল্লেখ করেছেন এবং পছন্দ করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "নির্ধারিত অংশসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও" এবং তাঁর বাণী "উত্তরাধিকারীদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করো" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহ তাঁর কিতাবে মিরাসের হকদারদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের সমষ্টি, চাই তারা নির্ধারিত অংশের অধিকারী (যাবিল ফুরুয) হোক কিংবা আসাবা (অবশিষ্টাংশভোগী) হোক। কেননা ওয়ারিশগণ যা কিছুই গ্রহণ করে, তা আল্লাহ কর্তৃক তাদের জন্য নির্ধারিত অংশ, চাই তা পরিমাপকৃত হোক বা না হোক। যেমনটি আল্লাহ পিতা-মাতা ও সন্তানদের মিরাস বর্ণনার পর বলেছেন— {এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান} ২, অথচ তাদের মধ্যে নির্ধারিত অংশের অধিকারী ও আসাবা উভয়ই রয়েছে। যেমনটি তিনি বলেছেন— {পুরুষদের জন্য...

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাআলিমুস সুনান ৪/৯৭; ইবন বাত্তাল কৃত শারহু সহীহিল বুখারী ৮/৩৪৮; শারহুস সুন্নাহ ৮/৩২৬; ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম ৪/১৬; ফাতহুল বারী ১২/১১; উমদাতুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী ২৩/৩২৬; সুবুলুস সালাম ৩/১৪৯, ১৫০; নাইলুল আওতার ৫/১৭০; আওনুল মাবুদ ৮/১০৪।

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১৩)
نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَفْرُوضاً} 1.

وهذا يشمل العصبات وذوي الفروض فذلك قوله " اقسموا الفرائض بين أهلها على كتاب الله " يشمل قسمته بين ذوي الفروض والعصبة على ما في كتاب الله، فإن قسم على ذلك، ثم فضل منه شيء فتخص الفاضل أقرب الذكور من الورثة، ولذلك إذا لم يوجد في كتاب الله تصريح بقسمته بين من سماه الله من الورثة فيكون المال حينئذ لأولى رجل ذكر منهم، فهذا الحديث مبين لكيفية قسمة المواريث المذكورة في كتاب الله بين أهلها، ومبين لقسمة ما فضل من المال عن تلك القسمة مما لم يصرح به في القرآن من أحوال أولئك الورثة، وأقسامهم، ومبين أيضا لكيفية توريث بقية العصبات الذين لم يصرح بتسميتهم في القرآن. فإذا ضم هذا الحديث إلى آيات القرآن انتظم ذلك كله معرفة قسمة المواريث بين جميع ذوي الفروض والعصبات، وذكر هذا المعنى الحافظ ابن رجب واختاره 2. وأشار إليه ابن قيم الجوزية وهو مقتضى ما ذهب عليه الطحاوي، وابن التين 2.

والفرق بين المعنيين أنه على المعنى الأول فالحديث دخله التخصيص حيث خص منه العصبة بالغير، والعصبة مع الغير. وعلى المعنى الثاني فالحديث ليس فيه تخصيص؛ لأن أول الحديث " ألحقوا الفرائض بأهلها " يدخل فيه الفروض المقدرة في كتاب الله، والعصبة بالغير، والعصبة مع الغير، والمراد بآخر الحديث بقية العصبات، والله أعلم بالصواب.

--------------------------------------------

1 سورة النساء الآية 7

2 انظر جامع العلوم والحكم3/256-276.
পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে নারীদেরও অংশ রয়েছে; তা অল্প হোক কিংবা বেশি—এ এক নির্ধারিত অংশ।} ১.

এটি আসাবা (অবশিষ্টাংশভোগী) এবং যাউইল ফুরুয (নির্ধারিত অংশভোগী) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তাঁর এই বাণী, "আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত অংশসমূহ তার হকদারদের মধ্যে বণ্টন করো," আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী যাউইল ফুরুয ও আসাবাদের মধ্যে বণ্টনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। যদি সেই অনুযায়ী বণ্টন করা হয় এবং তারপর কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে সেই অবশিষ্ট অংশ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য নির্ধারিত হবে। এই কারণেই যদি আল্লাহর কিতাবে আল্লাহ কর্তৃক নামোল্লিখিত উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টনের সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকে, তবে সেক্ষেত্রে সম্পদ তাদের মধ্যে নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির প্রাপ্য হবে। অতএব, এই হাদিসটি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত উত্তরাধিকারীদের মাঝে মীরাস বণ্টনের পদ্ধতি বর্ণনা করে এবং সেই বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পদের বণ্টনের নিয়মও স্পষ্ট করে—যাদের অবস্থা ও অংশের বিষয়ে কুরআনে সুস্পষ্ট বর্ণনা নেই। এছাড়াও এটি কুরআনে স্পষ্টভাবে নাম উল্লেখ করা হয়নি এমন অন্যান্য আসাবাদের উত্তরাধিকার প্রাপ্তির নিয়মও বর্ণনা করে। সুতরাং যখন এই হাদিসটিকে কুরআনের আয়াতের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন তা সমস্ত যাউইল ফুরুয এবং আসাবাদের মধ্যে মীরাস বণ্টনের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সুসংবদ্ধ করে তোলে। হাফিজ ইবনে রজব এই অর্থটি উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে গ্রহণ করেছেন ২। ইবনে কায়্যিম আল-জাওজিয়াও এ দিকে ইশারা করেছেন এবং এটিই ইমাম তাহাবি ও ইবনে আত-তীন-এর অভিমতের সারকথা ২।

উভয় অর্থের মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথম অর্থ অনুযায়ী হাদিসটি 'তাখসিস' বা নির্দিষ্টকরণের অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে 'আসাবা বিল গাইর' (অন্যের মাধ্যমে আসাবা) এবং 'আসাবা মা'আল গাইর' (অন্যের সাথে আসাবা)-কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী হাদিসটিতে কোনো নির্দিষ্টকরণ নেই; কারণ হাদিসের প্রথম অংশ "নির্ধারিত অংশসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও"-এর মধ্যে আল্লাহর কিতাবে নির্ধারিত অংশসমূহ, আসাবা বিল গাইর এবং আসাবা মা'আল গাইর অন্তর্ভুক্ত। আর হাদিসের শেষাংশ দ্বারা অবশিষ্ট আসাবাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৭।

২. দেখুন: জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম ৩/২৫৬-২৭৬।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১৪)
‌‌المبحث الرابع الحكمة في تقييد الرجل كونه ذكرا

…

المبحث الرابع: الحكمة في تقييد الرجل بكونه ذكرا

اختلف العلماء في الحكمة في تقييد الرجل بكونه ذكرا على عدة أقوال إليك بيانها:-

القول الأول:

أنه لما كان الرجل يطلق في مقابلة المرأة، والصبي، جاءت الصفة لبيان أنه في مقابلة المرأة. وممن ذكر ذلك الشيخ زكريا الأنصاري، والشيخ منصور البهوتي، والشيخ إبراهيم بن سيف1.

القول الثاني:

أنه قد يطلق الرجل ويراد به الشخص، مثل قول الرسول صلى الله عليه وسلم " من أدرك ماله بعينه عند رجل، أو إنسان قد أفلس فهو أحق به من غيره " 2، ولا فرق بين أن يجده عند رجل، أو امرأة فتقييده بالذكر ينفي هذا الاحتمال، وتخلصه للذكر دون الأنثى وهو المقصود. وممن ذكر ذلك الحافظ ابن رجب3.

--------------------------------------------

1 انظر فتح العلام بشرح الإعلام بأحاديث الأحكام للشيخ زكريا الأنصاري ص499، ونهاية الهداية شرح كفاية الحفاظ1/203، 204، وكشاف القناع4/471؛ والعذب الفائض1/79.

2 أخرجه البخاري في كتاب الاستقراض باب إذا وجد ماله عند مفلس في البيع والقرض والوديعة فهو أحق به5/62، ومسلم في كتاب المساقاة باب من أدرك ما باعه عند المشتري وقد أفلس فله الرجوع منه3/1193.

3 انظر جامع العلوم والحكم3/276.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: 'পুরুষ' শব্দটিকে পুরুষ লিঙ্গ হওয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ করার হিকমত

…

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: 'পুরুষ' শব্দটিকে পুরুষ লিঙ্গ হওয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ করার হিকমত

আলেমগণ 'পুরুষ' শব্দটিকে পুরুষ লিঙ্গ হওয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ করার হিকমত বা রহস্য সম্পর্কে একাধিক মতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, নিচে আপনার জন্য তার বিবরণ তুলে ধরা হলো:-

প্রথম মত:

যেহেতু 'পুরুষ' শব্দটি নারী ও শিশুর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে এই গুণ বা বৈশিষ্ট্যটি এটি স্পষ্ট করার জন্য এসেছে যে, এটি নারীর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে। যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ জাকারিয়া আনসারী, শেখ মনসুর আল-বাহুতি এবং শেখ ইব্রাহিম বিন সাইফ১।

দ্বিতীয় মত:

কখনো কখনো 'পুরুষ' (রাজুল) শব্দ দ্বারা সাধারণ কোনো ব্যক্তি বোঝানো হয়ে থাকে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো দেউলিয়া হয়ে যাওয়া পুরুষ বা মানুষের কাছে তার মূল সম্পদটি অবিকল অবস্থায় পায়, তবে সে অন্যদের তুলনায় সেটির অধিক হকদার" ২। এখানে সম্পদটি কোনো পুরুষের কাছে পাওয়া যাক কিংবা নারীর কাছে—তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; তাই একে 'পুরুষ লিঙ্গ' (যাকার) দ্বারা সীমাবদ্ধ করা সেই (সাধারণ ব্যক্তি হওয়ার) সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয় এবং একে নারীর পরিবর্তে কেবল পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়, আর এটাই উদ্দেশ্য। হাফেজ ইবনে রজব এটি উল্লেখ করেছেন৩।

--------------------------------------------

১ দেখুন: শেখ জাকারিয়া আনসারী রচিত ফাতহুল আল্লাম বি-শারহিল ই’লাম বি-আহাদিসিল আহকাম, পৃষ্ঠা ৪৯৯; নিহায়াতুল হিদায়াহ শারহু কিফায়াতিল হাফিজ, ১/২০৩, ২০৪; কাশশাফুল কিনা, ৪/৪৭১; এবং আল-আযবুল ফায়িদ, ১/৭৯।

২ ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল ইসতিকরাদ'-এ, পরিচ্ছেদ: যদি কেউ বিক্রয়, ঋণ ও আমানতের ক্ষেত্রে দেউলিয়া ব্যক্তির নিকট তার সম্পদ খুঁজে পায় তবে সে-ই তার অধিক হকদার, ৫/৬২; এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল মুসাকাত'-এ, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ক্রেতার নিকট নিজের বিক্রিত পণ্য পায় এমতাবস্থায় যে সে দেউলিয়া হয়ে গেছে, তবে তার সেটি ফেরত নেওয়ার অধিকার রয়েছে, ৩/১১৯৩।

৩ দেখুন: জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, ৩/২৭৬।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১৫)
القول الثالث:

التنبيه على سبب استحقاقه وهو الذكورة التي هي سبب العصوبة، وسبب الترجيح في الإرث، ولهذا جعل للذكر مثل حظ الأنثيين. وممن ذكر ذلك الشيخ محمد المازري، والقاضي عياض، والنووي1.

القول الرابع:

لبيان أن الإحاطة بالميراث إنما يكون للذكر دون الإناث إجماعا، والذي يقول ترث الابنة جميع المال النصف بالميراث، والنصف بالرد إنما هو شيئان في كل واحد منهما لا يحيط بالميراث، وإنما تكون الإحاطة بالسبب الواحد، وليس ذلك إلا للذكر فلأجل هذا نبه عليه بكونه ذكرا. وممن ذكر ذلك ابن العربي2.

القول الخامس:

إنما كرر للبيان في نعته بالذكورة؛ ليعلم أن العصبة إذا كان عما أو ابن عم مثلا، وكان معه عمة أو بنت عم أنها لاترث، ولا يكون المال بينهما للذكر مثل حظ الأنثيين. وممن ذكر ذلك الخطابي3.

القول السادس:

أنه للتأكيد، وبه قال ابن التين والصنعاني4.

القول السابع:

أنه احتراز من الخنثى؛ لأن الخنثى لا يحوز المال إذا انفرد، نقله جمع منهم

--------------------------------------------

1 انظر المعلم بفوائد مسلم2/221، وإكمال المعلم بفوائد مسلم5/328، 329، وشرح صحيح مسلم للنووي11/53، وانظر فتح الباري12/13

2 انظر عارضة الأحوذي8/246، 247.

3 نقله عنه الحافظ ابن حجر في الفتح12/12.

4 انظر فتح الباري12/12، وسبل السلام3/149
তৃতীয় মত:

তার প্রাপ্য হওয়ার কারণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা, আর তা হলো পুরুষত্ব যা 'আসাবাহ' হওয়ার কারণ এবং মিরাসের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের কারণ; এ কারণেই পুরুষের জন্য দুই নারীর সমপরিমাণ অংশ রাখা হয়েছে। যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মুহাম্মদ আল-মাযিরী, কাজী আয়াদ এবং ইমাম নববী১।

চতুর্থ মত:

এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, উত্তরাধিকারের পূর্ণ সম্পদ অর্জন কেবল পুরুষের জন্যই হয়, নারীদের জন্য নয়—এ বিষয়ে ঐক্যমত (ইজমা) রয়েছে। আর যে ব্যক্তি বলে যে, কন্যা সব সম্পদ পাবে—অর্ধেক নির্ধারিত মিরাস হিসেবে এবং অর্ধেক 'রাদ' (উদ্বৃত্ত ফেরত) হিসেবে—তা মূলত দুটি ভিন্ন বিষয় যার কোনটিই এককভাবে মিরাসকে পূর্ণ বেষ্টন করে না। পূর্ণ মিরাস কেবল একক কারণের মাধ্যমেই অর্জিত হয় এবং তা কেবল পুরুষের জন্যই প্রযোজ্য; একারণেই তাকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়েছে। যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল আরাবী২।

পঞ্চম মত:

এটি কেবল তার পুরুষত্বের গুণের বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে; যাতে জানা যায় যে, আসাবাহ যদি উদাহরণস্বরূপ চাচা বা চাচার ছেলে হয় এবং তার সাথে ফুফু বা চাচার মেয়ে থাকে, তবে সে (নারী) মিরাস পাবে না এবং তাদের মধ্যে সম্পদ 'পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পাবে'—এই নীতিতে বণ্টন হবে না। যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-খাত্তাবী৩।

ষষ্ঠ মত:

এটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য; ইবনে তীন এবং আস-সানআনী এই কথা বলেছেন৪।

সপ্তম মত:

এটি খুন্‌সা (উভলিঙ্গ) থেকে সতর্ক করার জন্য; কারণ খুন্‌সা ব্যক্তি একা থাকলে পুরো সম্পদ লাভ করতে পারে না। এটি তাদের একদল ফকীহ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-মু'লিম বি ফাওয়ায়িদি মুসলিম ২/২২১, ইকমালুল মু'লিম বি ফাওয়ায়িদি মুসলিম ৫/৩২৮, ৩২৯, এবং ইমাম নববী রচিত শারহু সহীহ মুসলিম ১১/৫৩, এবং ফাতহুল বারী ১২/১৩।

২ দেখুন: আরিযাতুল আহওয়াযী ৮/২৪৬, ২৪৭।

৩ হাফেজ ইবনে হাজার এটি তার থেকে ফাতহুল বারী ১২/১২-তে বর্ণনা করেছেন।

৪ দেখুন: ফাতহুল বারী ১২/১২ এবং সুবুলুস সালাম ৩/১৪৯।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
ابن الأثير، والحافظ ابن حجر1.

القول الثامن:

أنه لبيان أن العاصب يرث صغيرا كان أو كبيرا بخلاف عادة الجاهلية إذ لا يورثون إلا الرجل الكبير. وممن نقل ذلك الشيخ محمد حبيب الله الشنقيطي، والشيخ عبد الرحمن بن محمد بن قاسم2.

القول التاسع:

فقوله أولى رجل ذكر يريد القريب في النسب الذي قرابته من قبل رجل وصلب لا من قبل بطن رحم، فالأولى هنا هو ولي الميت فهو مضاف إليه في المعنى دون اللفظ، وهو في اللفظ مضاف إلى النسب وهو الصلب، فعبر عن الصلب بقوله: " أولى رجل "؛ لأن الصلب لا يكون إلا رجلا فأفاد بقوله:" لأولى رجل " نفي الميراث عن الأولى الذي هو من قبل الأم كالخال، وأفاد بقوله:" ذكر" نفي الميراث عن النساء، وإن كن من المدلين إلى الميت من قبل صلب، لأنهن إناث3. وإليه ذهب السهيلي رحمه الله وقرر في كتابه كتاب الفرائض وشرح آيات الوصية أن ما ذكره يزيل الإشكال الوارد على الحديث، ثم قال رحمه الله: وسبب الإشكال من وجهين: أحدهما أنه لما كان مخفوضا ظن نعتا لرجل، ولو كان مرفوعا لم يشكل، كأن يقال فوارثه أولى رجل ذكر. والثاني: أنه جاء بلفظ أفعل، وهذا الوزن إذا أريد به التفضيل كان بعض ما يضاف إليه كفلان أعلم إنسان فمعناه أعلم الناس فتوهم أن المراد بقوله " أولى رجل " أولى الرجال وليس كذلك، وإنما هو أولى الميت بإضافة

--------------------------------------------

1 انظر النهاية في غريب الحديث2/164، وفتح الباري12/12.

2 انظر فتح المنعم ببيان ما احتيج إليه من زاد المسلم1/50، وأحكام الأحكام شرح أصول الأحكام3/230.

3 انظر كتاب الفرائض وشرح آيات الوصية ص85، 86
ইবনুল আসীর এবং হাফেজ ইবনে হাজার১।

অষ্টম মত:

এটি একারণে যে, আসাবা উত্তরাধিকারী হবে চাই সে ছোট হোক বা বড় হোক; যা জাহেলিয়াতের যুগের প্রথার বিপরীত, কারণ তারা কেবল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদেরই উত্তরাধিকার প্রদান করত। এটি যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আশ-শানকিতী এবং শায়খ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসেম২।

নবম মত:

তাঁর বাণী "সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ ব্যক্তি" দ্বারা সেই বংশীয় নিকটাত্মীয়কে বোঝানো হয়েছে যার আত্মীয়তা পুরুষের মাধ্যমে এবং যারা সরাসরি বংশজাত (সুলব), মাতৃকুলের মাধ্যমে নয়। সুতরাং এখানে "আওলা" বা "সবচেয়ে নিকটবর্তী" বলতে মৃত ব্যক্তির অভিভাবককে বোঝানো হয়েছে, যা শব্দের দিক থেকে নয় বরং অর্থের দিক থেকে তার সাথে সম্পর্কিত। আর শব্দগতভাবে এটি বংশ বা সুলবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাই সুলব বা সরাসরি বংশধারাকে তিনি "সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি" শব্দ দ্বারা প্রকাশ করেছেন; কারণ সুলব কেবল পুরুষই হয়ে থাকে। সুতরাং "সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তির জন্য" একথার মাধ্যমে তিনি এমন নিকটাত্মীয়দের মিরাস বা উত্তরাধিকার নাকচ করেছেন যারা মায়ের দিক থেকে আত্মীয়, যেমন মামা। আর "পুরুষ" শব্দটির মাধ্যমে তিনি নারীদের উত্তরাধিকার নাকচ করেছেন, যদিও তারা মৃত ব্যক্তির সরাসরি বংশোদ্ভূত (সুলব) হয়ে থাকে, কারণ তারা নারী৩। এটিই সুহায়লী (রহিমাহুল্লাহ)-এর অভিমত এবং তিনি তাঁর গ্রন্থ "কিতাবুল ফারায়েদ ওয়া শারহু আয়াতিল ওসিয়্যাহ"-তে এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা এই হাদিসের ওপর আসা সংশয় নিরসন করে। অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সংশয়ের কারণ দুটি: প্রথমটি হলো, এটি মাজরুর (জেরবিশিষ্ট) হওয়ায় ধারণা করা হয়েছে যে এটি "ব্যক্তি" (রজুল) শব্দের গুণবাচক বিশেষণ (নাত), যদি এটি মারফু (পেশবিশিষ্ট) হতো তবে সংশয় থাকত না, যেমন যদি বলা হতো "তার ওয়ারিশ হলো সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ ব্যক্তি"। দ্বিতীয়টি হলো: এটি "আফআলু" ওজনে এসেছে, আর এই ওজনের শব্দটি যখন শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয় তখন এটি যার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় তার অংশ হিসেবে গণ্য হয়, যেমন: "অমুক ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী", যার অর্থ হলো সে মানুষের অন্তর্ভুক্ত। ফলে ধারণা করা হয়েছে যে "সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ ব্যক্তি" বলতে পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী কাউকে বোঝানো হয়েছে, অথচ বিষয়টি এমন নয়। বরং এটি মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়া বুঝিয়েছে...

--------------------------------------------

১ দেখুন: আন-নিহায়াহ ফী গারিবিল হাদিস ২/১৬৪; এবং ফাতহুল বারী ১২/১২।

২ দেখুন: ফাতহুল মুনইম বি-বায়ানি মা উহতাইজা ইলাইহি মিন যাদিল মুসলিম ১/৫০; এবং আহকামুল আহকাম শারহু উসুলিল আহকাম ৩/২৩০।

৩ দেখুন: কিতাবুল ফারায়েদ ওয়া শারহু আয়াতিল ওসিয়্যাহ পৃ. ৮৫, ৮৬।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১৭)
النسب وأولى صلب بإضافته كما تقول: هو أخوك أخو الرخاء لا أخو البلاء. قال: فالأولى في الحديث كالولي1.

الموازنة بين هذه الأقوال

في النظر في هذه الأقوال أجد ما يأتي:

1- أنه ورد على القول الخامس ما ذكره الحافظ ابن حجر بقوله: وتعقب بأن هذا ظاهر من التعبير بقوله " رجل " والإشكال باق إلا أن كلامه بنحل إلى أنه للتأكيد2.

2- أنه ورد على القول السادس ما ذكره القرطبي بما خلاصته: " قيل للتأكيد اللفظي ورد بأن العرب إنما تؤكد حيث يفيد فائدة إما تعين المعنى في النفس وإما رفع توهم المجاز، وليس ذلك موجودا هنا "3.

3- ورد على القول التاسع ما قاله الحافظ ابن رجب حيث بقول: " وللسهيلي كلام على هذا الحديث فيه تكلف وتعسف شديد ولا طائل تحته وقد رده عليه جماعة ممن أدركناهم والله أعلم "4.

وقال الحافظ ابن حجر بعد ذكره كلام السهيلي ما نصه: " ولا يخلو من استغلاق " 5.

وقال أيضا: "وقد أوردته كما وجدته ولم أحذف منه إلا أمثلة أطال بها وكلمات طويلة تبجح بها بسبب ما ظهر له من ذلك والعلم عند الله تعالى"6.

--------------------------------------------

1 انظر كتاب الفرائض وشرح آيات الوصية ص86، وفتح الباري12/12.

2 فتح الباري12/12.

3 انظر المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم4/565، 566، وفتح الباري12/12.

4 جامع العلوم والحكم3/276.

5 انظر فتح الباري12/12.

6 فتح الباري 12/13.
বংশীয় সম্পর্ক এবং সরাসরি বংশধর হওয়ার বিষয়টি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য, যেমন আপনি বলেন: সে আপনার ভাই, সুখের সময়ের ভাই, বিপদের সময়ের নয়। তিনি বলেন: হাদীসে বর্ণিত 'আওলা' (অগ্রগণ্য) শব্দটি 'ওয়ালি' (অভিভাবক) এর মতোই।১

এই উক্তিগুলোর মধ্যকার পর্যালোচনা

এই উক্তিগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দেখতে পাই:

১- পঞ্চম উক্তির বিপক্ষে হাফেয ইবনে হাজার যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: এর সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, "পুরুষ" শব্দটি দ্বারা প্রকাশ্য অর্থটিই ফুটে ওঠে এবং সমস্যাটি থেকেই যায়; তবে তার বক্তব্যটিকে তাকীদ (দৃঢ়তা প্রদানকারী) হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।২

২- ষষ্ঠ উক্তির বিপক্ষে ইমাম কুরতুবী যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: "বলা হয়েছে যে এটি শাব্দিক তাকীদ, তবে এটি প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে যে, আরবরা কেবল তখনই তাকীদ করে যখন তা কোনো উপকারে আসে—হয় অন্তরে অর্থটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য, অথবা রূপক অর্থের সন্দেহ দূর করার জন্য। অথচ এখানে তার কোনোটিই বিদ্যমান নেই।"৩

৩- নবম উক্তির বিপক্ষে হাফেয ইবনে রাজাব যা বলেছেন তা হলো: "এই হাদীস সম্পর্কে সুহাইলীর এমন এক বক্তব্য রয়েছে যাতে চরম কৃত্রিমতা ও অসংলগ্নতা রয়েছে এবং এর পেছনে কোনো সারবত্তা নেই। আমরা যাদের দেখা পেয়েছি, তাদের মধ্য থেকে একদল আলেম তাঁর এই বক্তব্যটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"৪

হাফেয ইবনে হাজার সুহাইলীর বক্তব্য উল্লেখ করার পর নিম্নোক্ত পাঠটি বর্ণনা করেছেন: "এটি দুর্বোধ্যতামুক্ত নয়।"৫

তিনি আরও বলেন: "আমি এটি যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই বর্ণনা করেছি এবং কেবল সেই উদাহরণগুলো বাদ দিয়েছি যা তিনি দীর্ঘায়িত করেছেন এবং সেই দীর্ঘ বাক্যগুলো যা তিনি নিজের উপলব্ধির কারণে গর্বভরে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহর নিকট।"৬

--------------------------------------------

১. কিতাবুল ফারায়েয ওয়া শারহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৮৬; এবং ফাতহুল বারী ১২/১২ দেখুন।

২. ফাতহুল বারী ১২/১২।

৩. আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখীসি কিতাবি মুসলিম ৪/৫৬৫, ৫৬৬; এবং ফাতহুল বারী ১২/১২ দেখুন।

৪. জামি'উল উলূমি ওয়াল হিকাম ৩/২৭৬।

৫. ফাতহুল বারী ১২/১২ দেখুন।

৬. ফাতহুল বারী ১২/১৩।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১৮)
4- قلت: يرد على القول السابع ما ورد على القول الخامس؛ لأن كلمة رجل يخرج بها الخنثى، والله أعلم بالصواب.

5- أن القول الثالث والرابع بينهما تقارب من جهة أن كلا من القولين يدل على التنبيه على سبب استحقاقه وهو كونه ذكرا؛ ولهذا فإنه إذا انفرد حاز جميع المال دون الإناث.

6- أن القول الأول يدل على نفي أن يكون الرجل في مقابلة الصبي، وهذا هو مضمون القول الثامن.

7- أن القول الثاني يدل على نفي أن يكون المراد بالرجل الشخص فلا تدخل المرأة في مضمون كلمة رجل.

وبهذا ظهر لي رجحان ما ذهب إليه أصحاب القول الأول والثاني والثالث والرابع. وعلى هذا تتلخص الحكمة في تقييد الرجل بكونه ذكرا في حكم ثلاث:

الحكمة الأولى: أنه لما كان الرجل يطلق في مقابلة المرأة والصبي، جاءت الصفة لبيان أنه في مقابلة المرأة وأنه لا فرق بين الصبي والبالغ، وهذا هو القول الأول وهو مضمون القول الثامن.

الحكمة الثانية: أنه قد يطلق الرجل ويراد به الشخص فيدخل في مضمونه المرأة فتقييده بالذكر ينفي هذا الاحتمال ويخلصه للذكر دون الأنثى، وهذا هو القول الثاني.

الحكمة الثالثة: التنبيه على سبب استحقاقه وهو الذكورية التي هي سبب العصوبة وسبب الترجيح في الإرث، ولهذا جعل للذكر مثل حظ الأنثيين، وأيضا التنبيه على أن الإحاطة بالميراث إنما يكون للذكر دون الإناث، وهذا هو مضمون القول الثالث والرابع. هذا ما ظهر لي، والعلم عند الله عز وجل.
4- আমি বলছি: সপ্তম মতটির বিরুদ্ধে সেই আপত্তিই উত্থাপিত হয় যা পঞ্চম মতের বিরুদ্ধে হয়েছিল; কারণ 'পুরুষ' শব্দটি হিজড়াকে (খুনসা) এর অন্তর্ভুক্ত করা হতে বাদ দিয়ে দেয়। আর আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সম্যক অবগত।

5- তৃতীয় ও চতুর্থ মত দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এই দিক থেকে যে, উভয় মতই তার পাওনাদার হওয়ার কারণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, আর তা হলো তার পুরুষ হওয়া; এই কারণেই সে যখন একা থাকে, তখন নারীদের বাদ দিয়ে সমস্ত সম্পদ লাভ করে।

6- প্রথম মতটি এটি নাকচ করার ওপর দালালত করে যে, 'পুরুষ' শব্দটি এখানে বালকের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে; আর এটিই অষ্টম মতের মূল বক্তব্য।

7- দ্বিতীয় মতটি এটি নাকচ করার ওপর দালালত করে যে, 'পুরুষ' দ্বারা উদ্দেশ্য কোনো সাধারণ ব্যক্তি; ফলে 'পুরুষ' শব্দের অর্থের পরিসরে নারী অন্তর্ভুক্ত হবে না।

এর মাধ্যমে আমার কাছে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ মতের প্রবক্তাদের অভিমতের প্রাধান্য স্পষ্ট হয়েছে। সে অনুযায়ী 'পুরুষ' শব্দটিকে 'পুংলিঙ্গ' হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করার হেকমত বা রহস্য তিনটি বিষয়ে সারসংক্ষেপ করা যায়:

প্রথম হেকমত: যেহেতু 'পুরুষ' শব্দটি নারী ও বালকের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, তাই এই বৈশিষ্ট্যটি এটি বর্ণনা করতে এসেছে যে শব্দটি নারীর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে বালক ও প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটিই প্রথম মত এবং অষ্টম মতের সারকথা।

দ্বিতীয় হেকমত: কখনো কখনো 'পুরুষ' শব্দটির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করা হয়, যার ফলে এর অন্তর্ভুক্তিতে নারীও প্রবেশ করে। তাই একে 'পুংলিঙ্গ' দ্বারা সীমাবদ্ধ করা সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয় এবং একে নারীর পরিবর্তে কেবল পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। এটিই দ্বিতীয় মত।

তৃতীয় হেকমত: তার পাওনাদার হওয়ার কারণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা, আর তা হলো তার পুরুষত্ব যা আসাবা হওয়ার কারণ এবং মিরাছের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার হেতু। এ কারণেই পুরুষের অংশকে দুই নারীর অংশের সমান করা হয়েছে। এছাড়াও এটি নির্দেশ করে যে, মিরাছের পূর্ণ অংশ লাভ করা কেবল পুরুষের পক্ষেই সম্ভব, নারীদের জন্য নয়। এটিই তৃতীয় ও চতুর্থ মতের সারকথা। আমার কাছে এটিই প্রতীয়মান হয়েছে, আর প্রকৃত জ্ঞান কেবল মহান আল্লাহর নিকটেই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু হাদীসি ইবনু আব্বাস ফিল ফারিদ (পৃষ্ঠা: ১১৯)
‌‌المبحث الخامس الأحكام المستنبطة من الحديث

‌‌مدخل

…

المبحث الخامس: الأحكام المستنبطة من الحديث

تقدم في المقدمة أن هذا الحديث جامع لقواعد الفرائض التي هي نصف العلم. وحيث إن كثيرا من العلماء قد استنبطوا من هذا الحديث أحكاما كثيرة في علم الفرائض، وحيث إن الأحكام المستنبطة قد تكون محل اتفاق بين الأئمة الأربعة، وبعضها محل خلاف بين العلماء رأيت تقسيمها إلى ثلاثة أقسام وجعلت كل قسم مطلبا وذلك على النحو التالي:

المطلب الأول: الأحكام المتفق عليها بين الأئمة الأربعة من الحديث.

المطلب الثاني: الأحكام الراجحة من الحديث.

المطلب الثالث: الأحكام المرجوحة من الحديث.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হাদিস থেকে উদ্ভূত বিধানসমূহ

ভূমিকা

…

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হাদিস থেকে উদ্ভূত বিধানসমূহ

ভূমিকায় ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই হাদিসটি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহের সংকলক, যা ইলমের অর্ধেক। যেহেতু অনেক আলেম এই হাদিস থেকে ফারায়েজ শাস্ত্রের অনেক বিধান উদ্ঘাটন করেছেন, এবং যেহেতু উদ্ঘাটিত এই বিধানগুলোর কিছু চার ইমামের মধ্যে ঐকমত্যপূর্ণ, আর কিছু আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যপূর্ণ, তাই আমি এগুলোকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা এবং প্রতিটি ভাগকে একটি অনুচ্ছেদ হিসেবে সাব্যস্ত করা সমীচীন মনে করেছি। তা নিম্নরূপ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: হাদিস থেকে চার ইমামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বিধানসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিস থেকে প্রাপ্ত রাজীহ (অগ্রগণ্য) বিধানসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিস থেকে প্রাপ্ত মারজুহ (দুর্বল) বিধানসমূহ।