(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: -)
التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم   (المقدمي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم

المؤلف: محمد بن أحمد بن محمد، أبو عبد الله المقدمي (ت 301هـ)

المحقق: محمد بن إبراهيم اللحيدان

الناشر: دار الكتاب والسنة

الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1994 م

عدد الصفحات: 209

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1435

ইতিহাস এবং মুহাদ্দিসগণের নাম ও উপনাম   (আল-মুকাদ্দামী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: ইতিহাস এবং মুহাদ্দিসগণের নাম ও উপনাম

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ، আবু আব্দুল্লাহ আল-মুকাদ্দামী (মৃত্যু ৩০১ হিজরী)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-লুহাইদান

প্রকাশক: দারুল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৫ হিজরী - ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١)
سلسة كتب التواريخ والتراجم (1)

 

كتاب التاريخ

وأسماء المحدثين وكناهم

 

تأليف

أبي عبد الله محمد بن أحمد بن محمد بن أبي بكر المقدمي القاضي

رضي الله عنه

المتوفى سنة 301هـ

 

دراسة وتحقيق

محمد بن إبراهيم اللحيدان

 

دار الكتاب والسنة
ইতিহাস ও জীবনী গ্রন্থমালা (১)

 

ইতিহাস গ্রন্থ

এবং মুহাদ্দিসগণের নাম ও উপনামসমূহ

 

রচনা

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর আল-মুকাদ্দামি আল-কাদি

রাদিয়াল্লাহু আনহু

মৃত্যু ৩০১ হিজরি

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-লুহাইদান

 

দারুল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢)
الرقم: 10100168/ 94 - 15/ RR

اسم الكتاب: كتاب التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم

المؤلف: مقدمي -أبو عبد الله محمَّد بن أحمد بن محمَّد بن أبي بكر آل

المحقق: لحيدان - محمَّد بن إبراهيم آل

الناشر: دار الكتاب والسنة - باكستان (كراتشي)

المشرف الفني: مغل - أبو سلطان

صف تصويري: عبد الرحمن - آل عبد الحميد
নম্বর: ১০১০০১৬৮/ ৯৪ - ১৫/ আরআর

গ্রন্থের নাম: কিতাবুত তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসিন ওয়া কুনা-হুম

লেখক: মুকাদ্দামি - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আল

সম্পাদক: লুহাইদান - মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল

প্রকাশক: দারুল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ - পাকিস্তান (করাচি)

কারিগরি তত্ত্বাবধায়ক: মুঘল - আবু সুলতান

অক্ষরবিন্যাস: আবদুর রহমান - আল আবদুল হামিদ
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٤)
حقوق الطبع محفوظة

 

الطبعة الأولى

1415هـ - 1994م

 

دار الكتاب والسنة

P.O.Box 11106 Karachi 75300

Pakistan
সবস্বত্ব সংরক্ষিত

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ

পোস্ট বক্স নং ১১১০৬ করাচি ৭৫৩০০

পাকিস্তান
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم. أما بعد:

فإنه لا يخفى تميز هذه الأمة بالسند الذي حفظ الله به الدين وميز به الخبيث من الطيب، قال الإمام عبد الله بن المبارك: "الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء"، وقد اعتنى علماء الأمة أهل الحديث بالسند اعتناءًا تامًا. وأولوه اهتمامهم في صور كثيرة، وكان من تلك الصور البحث عن أسماء المحدثين وكناهم حتى تتميز ولا تختلط وحتى يكشف فيها عما قد يلحقها من اشتباه. وقد أكثر أهل الحديث من التصنيف في هذا الباب (باب الأسماء والكنى). تفصيلًا وإجمالًا. ومن تلك المصنفات كتاب التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم لأبي عبد الله محمَّد بن أحمد بن محمَّد المقدَّمي المتوفى سنة 301هـ. وقد يسر الله إخراجه والتعليق عليه مع ما تقدم ذلك من دراسة اشتملت على ثلاثة فصول هي:

الأول: نبذة عن علم الأسماء والكنى بينت فيها المقصود بهذا العلم، والمراد من البحث فيه وأهمية بحثه وفوائد ذلك العلم، وفروع وأقسام الأسماء والكنى، والمؤلفات فيه عن المتقدمين والمتأخرين.

الثاني: في ترجمة مؤلف هذا الكتاب أبي عبد الله محمَّد بن أحمد بن محمَّد المقدَّمي. ببيان اسمه ونسبه، وأقوال من ترجموا له فيه، وذكر مؤلفاته.

الثالث: في دراسة كتاب التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم، وذلك ببيان موضوعه ونسخه، ونسبته لمؤلفه، وفوائده؛

فإلى بيان ذلك:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই এটি গোপন নয় যে, এই উম্মত সনদের মাধ্যমে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যার দ্বারা আল্লাহ দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং অপবিত্র থেকে পবিত্রকে পৃথক করেছেন। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেছেন: "সনদ হলো দ্বীনের অংশ, আর যদি সনদ না থাকত তবে যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলত।" উম্মতের আলেমগণ বিশেষত মুহাদ্দিসগণ সনদের প্রতি পূর্ণ যত্ন নিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন আঙ্গিকে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। সেসব আঙ্গিকের একটি ছিল মুহাদ্দিসগণের নাম ও উপনাম (কুনিয়াত) নিয়ে অনুসন্ধান করা, যাতে তাঁদের পরিচয় স্বতন্ত্র থাকে এবং একজনের সাথে অন্যের সংমিশ্রণ না ঘটে, এবং যাতে এর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা দেখা দিলে তা উন্মোচন করা যায়। মুহাদ্দিসগণ এই অধ্যায়ে (নাম ও উপনামের অধ্যায়) বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্তাকারে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেই সকল রচনার মধ্যে অন্যতম হলো ৩০১ হিজরীতে ইন্তেকালকারী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দামী রহ.-এর রচিত 'কিতাবুত তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুন্যাহুম'। আল্লাহ এই গ্রন্থটি প্রকাশ করা এবং এর ওপর টীকা প্রদান সহজ করে দিয়েছেন, যার সাথে পূর্ববর্তী একটি গবেষণা যুক্ত রয়েছে যা তিনটি অধ্যায় সম্বলিত, সেগুলো হলো:

প্রথম অধ্যায়: নাম ও উপনাম (আসমা ওয়াল কুনা) শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়, যাতে এই শাস্ত্রের উদ্দেশ্য, এই বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্য ও গুরুত্ব এবং এই শাস্ত্রের উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়াও এতে নাম ও উপনামের শাখা ও প্রকারভেদ এবং এই বিষয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের রচিত গ্রন্থাবলী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এই গ্রন্থের লেখক আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দামী রহ.-এর জীবনী প্রসঙ্গে। এতে তাঁর নাম ও বংশপরিচয়, তাঁর সম্পর্কে জীবনীকারদের উক্তি এবং তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর উল্লেখ রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: 'কিতাবুত তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুন্যাহুম' গ্রন্থটির পর্যালোচনা প্রসঙ্গে, যা এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু, পাণ্ডুলিপি, লেখকের দিকে এর সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা এবং এর উপকারিতা বর্ণনার মাধ্যমে করা হয়েছে।

নিম্নে সেগুলোর বর্ণনা তুলে ধরা হলো:
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌الفصل الأول علم الأسماء والكنى

‌‌المقصود بها لغة واصطلاحًا:

يقسم علماء اللغة العَلَم إلى ثلاثة أقسام وهي: الاسم، والكنية، واللقب.

أما الاسم: فمأخوذ من السمو وهو العلو، أو من الوسم وهو العلامة. ويميزه النحويون بقولهم: ما ليس بكنية ولا بلقب (1).

وأما الكنية فيعرفونها بقولهم: ما كان في أوله أب أو أم كأبي عبد الله وأم عبد الله، وعلى هذا أجمع أهل اللغة. وهل يدخل في الكنى ما حدد بأخ أو أخت أو ابن أو بنت ونحو ذلك؟ رجح بعضهم دخول ذلك في مسمى الكنى.

وأما اللقب فيعنون به: ما أشعر بمدح أو ذم.

هذا كله فيما يخص هذه الكلمات لغة. وأما في اصطلاح المحدثين:

فالاسم: ما وضع علامة على المسمى، وأما الكنى فإنهم يقصدون به: ما صدر بأب أو أم وما سوى ذلك فإنهم يضعونه في أبواب أخرى خاصة. مثاله: ما صدر بأخ أو أخت أو ابن أو بنت فإنهم يضعونه في باب المبهمات أو غيرها.

 

‌‌المراد من البحث في الأسماء والكنى عند المحدثين:

أن نبحث عن أسماء من اشتهروا بكناهم وكنى من اشتهروا بأسمائهم إن وجد لهم كنى. ولذلك فعلم الأسماء والكنى شطران متكاملان فالعلم بالكنى من تمام العلم بالأسماء وكذا العكس (2).

--------------------------------------------

(1) انظر شرح ابن عقيل لألفية ابن مالك ج1 ص84 - مقدمة الأسماء والكنى لمسلم مطاع الطرابيشي ص 7 - 8 - شرح قصب السكر للصنعاني ص 144.

(2) مقدمة الأسماء والكنى لمسلم مطاع الطرابيشي ص 10.
প্রথম পরিচ্ছেদ: নাম ও উপনামের (কুনিয়া) জ্ঞান

‌এর শাব্দিক ও পারিভাষিক উদ্দেশ্য:

ভাষাবিদগণ নামকে (আলাম) তিন ভাগে ভাগ করেন: নাম (ইসম), উপনাম (কুনিয়া) এবং উপাধি (লাকাব)।

নামের (ইসম) ক্ষেত্রে বলা যায়: এটি 'সুমুউ' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ উচ্চতা, অথবা 'ওয়াসম' থেকে যার অর্থ চিহ্ন। ব্যাকরণবিদগণ একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেন: যা উপনাম (কুনিয়া) কিংবা উপাধি (লাকাব) নয় (১)।

আর উপনামের (কুনিয়া) সংজ্ঞা তাঁরা এভাবে দেন: যার শুরুতে 'আবু' (পিতা) অথবা 'উম্মু' (মাতা) থাকে, যেমন আবু আবদুল্লাহ এবং উম্মু আবদুল্লাহ। ভাষাবিদগণ এই বিষয়ে একমত। আর যেসব শব্দের শুরুতে ভাই, বোন, পুত্র অথবা কন্যা ইত্যাদি থাকে, তা কি উপনামের অন্তর্ভুক্ত হবে? তাঁদের কেউ কেউ একে উপনামের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

আর উপাধি বলতে তাঁরা বুঝিয়েছেন: যা দ্বারা প্রশংসা অথবা নিন্দা প্রকাশ পায়।

এই সব হলো শব্দগুলোর শাব্দিক বিষয়ের আলোচনা। আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়:

নাম (ইসম): যা নামধারী ব্যক্তির পরিচায়ক চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উপনাম (কুনিয়া) বলতে তাঁরা বুঝিয়েছেন: যা 'আবু' (পিতা) অথবা 'উম্মু' (মাতা) দিয়ে শুরু হয়। এছাড়া অন্য সব কিছুকে তাঁরা অন্যান্য বিশেষ পরিচ্ছেদে স্থান দেন। উদাহরণস্বরূপ: যা ভাই, বোন, পুত্র অথবা কন্যা শব্দ দিয়ে শুরু হয়, সেগুলোকে তাঁরা 'অস্পষ্ট বিষয়াবলি' (মুবহামাত) বা অন্যান্য পরিচ্ছেদে আলোচনা করেন।

 

‌মুহাদ্দিসগণের নিকট নাম ও উপনাম পর্যালোচনার উদ্দেশ্য:

তা হলো—যাঁরা তাঁদের উপনামের (কুনিয়া) মাধ্যমে প্রসিদ্ধ, তাঁদের নাম অনুসন্ধান করা এবং যাঁরা তাঁদের নামের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ, তাঁদের কোনো উপনাম থাকলে তা অনুসন্ধান করা। এই কারণে, নাম ও উপনামের জ্ঞান হলো পরস্পর পরিপূরক দুটি অংশ; উপনামের জ্ঞান অর্জন করা হলো নাম সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অংশ, আর নামের জ্ঞানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শারহ ইবনে আকীল', ১ম খণ্ড, পৃ. ৮৪; মুসলিম মুতা' আত-তরাবিশী রচিত 'আসমা ওয়াল কুনিয়া'র ভূমিকা, পৃ. ৭-৮; আস-সান'আনী রচিত 'শারহ কাসবুস সুক্কর', পৃ. ১৪৪।

(২) মুসলিম মুতা' আত-তরাবিশী রচিত 'আসমা ওয়াল কুনিয়া'র ভূমিকা, পৃ. ১০।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌أهمية بحث الأسماء والكنى والفائدة من ذلك:

إن معرفة أسماء ذوي الكنى والرواة وكنى ذوي الأسماء منهم مما تمس الحاجة إليه وذلك أن السند هو الطريق إلى المتن والسند إما اسم أو كنية أو لقب وقد يذكر المشهور بكنيته باسمه، أو المشهور باسمه بكنيته فيلتبس على الكثيرين ويتعسر معرفة الرواة، وتعيينهم فلذلك كان باب معرفة الأسماء والكنى بابًا مهمًا في علم الحديث وله فوائد تتلخص فيما يلي:

1 - التمييز بين الرواة ممن اتفقت أسمائهم يُميزَون بكناهم ومن اتفقت كناهم يميزون بأسمائهم خاصة فيمن اتفقت طبقاتهم.

2 - أن الرواي قد يذكر بكنيته دون اسمه طلبًا للإيجاز وقد يكون مشهورًا باسمه فيحتار فيه من لا يعرف كنيته فإذا عرفت الكنية زال هذا الإشكال.

3 - أن ذكر المشهور باسمه بكنيته أو المشهور بكنيته باسمه يقصد به أحيانًا التلبيس وتخفية أمر ذلك الراوي فمعرفة الأسماء والكنى يكشف التدليس.

4 - أنه ربما ذكر الراوي باسمه في موضع وبكنيته في موضع آخر فيتراءى لبعضهم أنه اثنان وهو واحد.

5 - أنه قد يذكر اسم الراوي ويذكر بعده كنتيه أو العكس فيتوهم البعض أنه راويان سقط بينهما "حدثنا" أو "عن" أو نحوهما.

6 - أن التعرف على أسماء الرواة وكناهم فيه البحث عمن انفرد باسم لم يشاركه فيه غيره أو بكنية لم يشاركه بها غيره (1).

--------------------------------------------

(1) شرح قصب السكر ص 144، الباعث الحثيث للسخاوي ج3 ص 219 - 222، مقدمة الأسماء والكنى لمسلم ص10.
নাম ও কুনিয়াহ (উপনাম) গবেষণার গুরুত্ব এবং এর থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা:

কুনিয়াহ-ধারীদের নাম এবং নাম-ধারীদের কুনিয়াহ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কারণ সনদ (সূত্র) হলো মতন (মূল পাঠ) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ। সনদে উল্লেখিত রাবী (বর্ণনাকারী) হয় তার নাম, না হয় কুনিয়াহ অথবা উপাধি দ্বারা পরিচিত হন। অনেক সময় যিনি কুনিয়াহ দ্বারা প্রসিদ্ধ তাকে তার নাম দিয়ে উল্লেখ করা হয়, আবার যিনি নাম দ্বারা প্রসিদ্ধ তাকে তার কুনিয়াহ দিয়ে উল্লেখ করা হয়; ফলে অনেকের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং বর্ণনাকারীদের চেনা ও নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একারণে নাম ও কুনিয়াহর জ্ঞান হাদীস শাস্ত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং এর উপকারিতাগুলো নিচে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:

১ - যাদের নাম একই রকম তাদের মধ্যে পার্থক্য করা। তাদের কুনিয়াহর মাধ্যমে আলাদা করা হয়। আবার যাদের কুনিয়াহ একই তাদের নামের মাধ্যমে আলাদা করা হয়, বিশেষ করে যাদের স্তর (তাবাকাহ) অভিন্ন।

২ - সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে অনেক সময় বর্ণনাকারীকে তার নাম বাদ দিয়ে শুধু কুনিয়াহ দিয়ে উল্লেখ করা হয়। অথচ তিনি হয়তো তার নামে প্রসিদ্ধ, ফলে যে ব্যক্তি তার কুনিয়াহ জানে না সে বিভ্রান্তিতে পড়ে। যখন কুনিয়াহ জানা থাকে তখন এই জটিলতা দূর হয়ে যায়।

৩ - যিনি নাম দ্বারা প্রসিদ্ধ তাকে কুনিয়াহ দ্বারা অথবা যিনি কুনিয়াহ দ্বারা প্রসিদ্ধ তাকে নাম দ্বারা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং ওই বর্ণনাকারীর পরিচয় গোপন করা হয়ে থাকে। তাই নাম ও কুনিয়াহর জ্ঞান তাদলীস (তথ্য গোপন করা) উন্মোচন করে দেয়।

৪ - হতে পারে বর্ণনাকারীকে এক স্থানে তার নাম দিয়ে এবং অন্য স্থানে তার কুনিয়াহ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে কারো কাছে মনে হতে পারে যে তারা দুইজন আলাদা ব্যক্তি, অথচ তারা মূলত একজনই।

৫ - অনেক সময় বর্ণনাকারীর নাম এবং তারপরে তার কুনিয়াহ উল্লেখ করা হয় অথবা এর উল্টোটা করা হয়, যার ফলে কেউ কেউ ধারণা করতে পারেন যে তারা দুইজন আলাদা বর্ণনাকারী যাদের মাঝখানে "হাদ্দাসানা" (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) অথবা "আন" (হতে) বা এই জাতীয় কোনো শব্দ বাদ পড়েছে।

৬ - বর্ণনাকারীদের নাম ও কুনিয়াহ সম্পর্কে জানার মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা সম্ভব হয় যারা এমন কোনো একক নাম বা কুনিয়াহর অধিকারী যাতে অন্য কেউ শরিক নেই (১)।

--------------------------------------------

(১) শারহু কাসাবিস সুক্কার, পৃষ্ঠা ১৪৪; সাখাভী প্রণীত আল-বা’ইসুল হাসীস, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৯ - ২২২; ইমাম মুসলিমের আল-আসমা ওয়াল কুনা-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌أنواع وأقسام الأسماء والكنى:

1 - من اشتهر باسمه دون كنيته أو عكس ذلك نحو طلحة بن عبيد الله وعبد الرحمن بن عوف والحسن بن علي وكنية كل واحد منهم أبو محمَّد ونحو أبي إدريس الخولاني اسمه عائذ الله وأبو إسحاق السبيعي اسمه عمرو.

2 - من اسمه كنيته نحو أبي بلال الأشعري وأبي حصين قال كل منهما: إسمي كنيتي.

3 - من اختلف في كنيته نحو أسامة بن زيد فقيل: أبو خارجة وقيل: أبو عبد الله وقيل: أبو محمَّد.

4 - من اختلف في اسمه مع اشتهاره بكنيته نحو أبو هريرة اختلف في اسمه على نحو من ثلاثين قولًا أشهرها عبد الرحمن بن صخر.

5 - من كثرت كناه نحو ابن جريج له كنيتان أبو خالد وأبو الوليد.

6 - من وافقت كنيته كنية زوجته نحو: أبي أيوب وأم أيوب الصحابيين.

7 - من وافقت كنيته اسم أبيه أو عكسه نحو أبما مسلم الأغر بن مسلم وأبي إسحاق الطالقاني بن إسحاق.

8 - من وافق اسم أبيه اسم شيخه نحو الربيع بن أنس عن أنس خادم النبي صلى الله عليه وسلم.

9 - من نسب إلى غير أبيه نحو المقداد بن الأسود نسب إلى الأسود بن عبد يغوث الزهري لأنه كان في حجره فتبناه وإنما هو المقداد بن عمرو بن ثعلبة الكندي.

10 - من نسب إلى أمه نحو بلال بن حمامه وشرحبيل بن حسنة وإسماعيل بن علية.

11 - من نسب إلى غير ما يتبادر إلى الذهن نحو خالد الحذاء كان يجالس الحذائيين وقيل: كان له زوجة في سوق الحذائين كان يختلف إليها، وسليمان التيمي
‌‌নাম ও কুনিয়ার প্রকারভেদ ও বিভাগসমূহ:

1 - যারা তাদের কুনিয়ার পরিবর্তে নিজ নামে প্রসিদ্ধ অথবা এর বিপরীত। যেমন: তালহা বিন উবায়দুল্লাহ, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং হাসান বিন আলী—তাদের প্রত্যেকের কুনিয়া হলো আবু মুহাম্মাদ। আবার যেমন: আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি, যার নাম আইযুল্লাহ; এবং আবু ইসহাক আস-সাবিঈ, যার নাম আমর।

2 - যাদের নামই তাদের কুনিয়া। যেমন: আবু বিলাল আল-আশআরি এবং আবু হুসাইন। তাদের প্রত্যেকেই বলেছেন: আমার নামই আমার কুনিয়া।

3 - যাদের কুনিয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যেমন: উসামা বিন যায়েদ। বলা হয়েছে: আবু খারিজাহ, আবার বলা হয়েছে: আবু আব্দুল্লাহ, আবার বলা হয়েছে: আবু মুহাম্মাদ।

4 - যারা কুনিয়া দ্বারা প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যাদের নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যেমন: আবু হুরাইরাহ। তাঁর নাম নিয়ে প্রায় ৩০টি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো আবদুর রহমান বিন সাখর।

5 - যাদের কুনিয়া একাধিক। যেমন: ইবনে জুরাইজ। তাঁর দুটি কুনিয়া ছিল: আবু খালিদ ও আবু আল-ওয়ালিদ।

6 - যাদের কুনিয়া তাদের স্ত্রীর কুনিয়ার সাথে মিলে যায়। যেমন: সাহাবী আবু আইয়ুব ও উম্মে আইয়ুব।

7 - যাদের কুনিয়া তাদের পিতার নামের সাথে মিলে যায় অথবা এর বিপরীত। যেমন: আবু মুসলিম আল-আগার বিন মুসলিম এবং আবু ইসহাক আত-তালিকানি বিন ইসহাক।

8 - যাদের পিতার নাম তাদের শায়খের (শিক্ষকের) নামের সাথে মিলে যায়। যেমন: রাবী বিন আনাস, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাদেম আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

9 - যাদেরকে তাদের পিতা ছাড়া অন্যের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। যেমন: মিকদাদ বিন আসওয়াদ। তাকে আসওয়াদ বিন আব্দ ইয়াগুস আল-যুহরী’র দিকে সম্বন্ধ করা হয়, কারণ তিনি তার লালন-পালনে ছিলেন এবং তিনি তাকে দত্তক নিয়েছিলেন। অথচ তিনি মূলত মিকদাদ বিন আমর বিন সা’লাবা আল-কিন্দি।

10 - যাদেরকে তাদের মায়ের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। যেমন: বিলাল বিন হামামাহ, শুরাহবিল বিন হাসানাহ এবং ইসমাইল বিন উলাইয়াহ।

11 - যাদেরকে এমন কিছুর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে যা বাহ্যত মনে আসে না। যেমন: খালিদ আল-হাযযা (চর্মকার); তিনি মূলত চর্মকারদের সাথে বসতেন। বলা হয়ে থাকে যে, চর্মকারদের বাজারে তাঁর একজন স্ত্রী ছিল যার কাছে তিনি যাতায়াত করতেন। এবং সুলাইমান আত-তাইমি।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٢)
نزل في تيم وليس منهم.

12 - من اتفق اسمه واسم أبيه واسم جده نحو الحسن بن الحسن بن الحسن بن علي بن أبي طالب.

13 - من اتفق اسمه واسم شيخه وشيخ شيخه نحو: عمران عن عمران عن عمران فالأول هو المعروف بالقصير والثاني هو أبو رجاء العطاردي والثالث هو عمران بن حصين الصحابي.

14 - من وافق اسم شيخه اسم من أسند إليه الحديث أي الراوي عنه نحو مسلم عن البخاري عن مسلم فالأول هو مسلم صاحب الصحيح والثاني هو مسلم ابن إبراهيم الأزدي الفراهيدي مولاهم فقد يظن من لا يعرف ذلك أن هذا إسناد مقلوب أو فيه تكرار وليس كذلك.

15 - من اتفق اسمه وكنيته نحو الحافظ بن الطيلسان الأندلسي اسمه القاسم وكنيته أبو القاسم وفائدته نفي الغلط عمن ذكره بأحدهما.

16 - من اتفق اسمه ونسبه نحو حميري بن بشير الحميري تابعي روى عن جندب البجلي وأبي الدرداء وغيرهما (1).

 

‌‌المؤلفات في الأسماء والكنى:

المؤلفات في موضوع الأسماء والكنى كثيرة سواء ما كان منها عن المتقدمين أو عن المتأخرين وإن كانت كتب المتأخرين أشمل لجمعها ما حوت المصادر المتقدمة، وأضبط لتمييزها وترجيحها بين الأقوال وتحقيقها في ذلك وهنا سأذكر شيئًا من هذه المؤلفات ما كان منها عن المتقدمين أو المتأخرين فمنها:

1 - كتاب الكنى لهشام بن محمَّد الكلبي ت204 هـ ذكره ابن خلكان في ترجمته من الوفيات 6/ 83.

--------------------------------------------

(1) التقريب للنووي ص 91 - 92، شرح قصب السكر ص 146.
তিনি তিম গোত্রে বসবাস করতেন কিন্তু তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

১২ - যার নাম, তার পিতার নাম এবং তার দাদার নাম একই; যেমন: হাসান বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব।

১৩ - যার নাম, তার শায়খের নাম এবং তার শায়খের শায়খের নাম একই; যেমন: ইমরান, ইমরানের সূত্রে, তিনি ইমরানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এখানে প্রথমজন 'আল-কাসীর' নামে পরিচিত, দ্বিতীয়জন আবু রাজা আল-আতারিদী এবং তৃতীয়জন হলেন সাহাবী ইমরান বিন হুসাইন।

১৪ - যার শায়খের নাম তার থেকে হাদিস বর্ণনাকারীর (অর্থাৎ তার ছাত্রের) নামের সাথে মিলে যায়; যেমন: মুসলিম, বুখারীর সূত্রে, তিনি মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এখানে প্রথমজন হলেন 'সহীহ' গ্রন্থের সংকলক ইমাম মুসলিম এবং দ্বিতীয়জন হলেন মুসলিম বিন ইব্রাহিম আল-আজদী আল-ফারাহিদী, যিনি তাদের মুক্তদাস। যে ব্যক্তি এই বিষয়টি জানে না সে মনে করতে পারে যে এই সনদটি উল্টে গেছে অথবা এতে পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

১৫ - যার নাম এবং কুনিয়াত (উপনাম) একই; যেমন: হাফিজ বিন আত-তাইলাসান আল-আন্দালুসী, যার নাম আল-কাসিম এবং কুনিয়াত আবু আল-কাসিম। এর উপকারিতা হলো, যদি কেউ কেবল একটির উল্লেখ করে তবে সেক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা।

১৬ - যার নাম এবং নিসবত (বংশীয় পরিচয়) একই; যেমন: হিময়ারী বিন বাশির আল-হিময়ারী। তিনি একজন তাবিঈ, যিনি জুনদুব আল-বাজালী, আবু দারদা এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।

 

‌‌নাম এবং কুনিয়াত (উপনাম) বিষয়ক রচনাবলী:

নাম এবং কুনিয়াত বিষয়ক গ্রন্থাদি অনেক, চাই তা পূর্বসূরীদের (মুতাকাদ্দিমুন) হোক বা উত্তরসূরীদের (মুতাআখখিরুন)। যদিও উত্তরসূরীদের গ্রন্থসমূহ অধিকতর ব্যাপক, কারণ তারা পূর্ববর্তী উৎসসমূহের তথ্যগুলো একত্রিত করেছেন এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে পার্থক্য করা, প্রাধান্য দেওয়া ও যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে অধিকতর নিখুঁত। এখানে আমি এ বিষয়ক কিছু গ্রন্থের উল্লেখ করব, যা পূর্বসূরী ও উত্তরসূরীদের দ্বারা রচিত; যেমন:

১ - হিশাম বিন মুহাম্মদ আল-কালবী (মৃত্যু ২০৪ হিজরী) রচিত 'কিতাবুল কুনা'। ইবনে খাল্লিকান তার জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন (আল-ওয়াফায়াত ৬/৮৩)।

--------------------------------------------

(১) নববীর আত-তাকরীীব পৃষ্ঠা ৯১-৯২, শারহু কাসাবিস সুক্কার পৃষ্ঠা ১৪৬।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٣)
2 - كنى الأشراف للهيثم بن عدي ت207 هـ وذكره ابن خلكان أيضًا في الوفيات 6/ 107.

3 - الكنى لعلي بن المديني ت 234 هـ ذكره السخاوي في شرح ألفية العراقي ج 3/ 220.

4 - التاريخ والأسماء والكنى لأبي بكر بن أبي شيبة ت 235 هـ ذكره السخاوي في شرح الألفية 3/ 220.

5 - الأسماء والكنى لأحمد بن حنبل ت 241 هـ رواية ابنه صالح وطبع بتحقيق يوسف الجديع سنة 1406 هـ.

6 - الكنى والأسماء لمسلم بن الحجاج صاحب الصحيح ت 261 هـ وهو منشور عن دار القلم.

7 - التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم لمحمد بن أحمد المقدمي ت 301 هـ وهو كتابنا هذا.

8 - الكنى لأحمد بن شعيب النسائي ت 303 هـ صاحب سنن النسائي رواية ابنه عبد الكريم عنه، وصفه الذهبي بأنه من أجل كتب الكنى وأطولها. مقدمة مسلم ص 13 وذكره السخاوي 3/ 220.

9 - الأسماء والكنى لعبد الله بن علي بن الجارود ت 307 هـ ذكره السخاوي في شرح الألفية 3/ 220.

10 - الكنى لابن أبي حاتم الرازي ت 327 هـ. ذكره السخاوي في شرح الألفية 3/ 220.

11 - الكنى لأبي أحمد الحاكم الكبير ت 378 هـ وهو كتاب ضخم محقق في رسائل جامعية من قبل طلاب جامعة الإمام محمَّد بن سعود الإِسلامية.

12 - فتح الباب في الكنى والألقاب لأبي عبد الله محمَّد بن إسحاق بن مندة ت 395 هـ.

13 - الاستغنا في معرفة الكنى لابن عبد البر ت 463 هـ ذكره السخاوي.
২ - হাইসাম ইবনে আদি (মৃত্যু ২০৭ হি.) রচিত 'কুনা আল-আশরাফ' এবং ইবনে খাল্লিকানও এটি 'আল-ওয়াফাইয়াত' ৬/১০৭-এ উল্লেখ করেছেন।

৩ - আলী ইবনুল মাদিনি (মৃত্যু ২৩৪ হি.) রচিত 'আল-কুনা'; সাখাভি এটি 'শারহু আলফিয়্যতিল ইরাকি' ৩/২২০-এ উল্লেখ করেছেন।

৪ - আবু বকর ইবনে আবি শাইবা (মৃত্যু ২৩৫ হি.) রচিত 'আত-তারিখ ওয়াল আসমা ওয়াল কুনা'; সাখাভি এটি 'শারহুল আলফিয়্যাহ' ৩/২২০-এ উল্লেখ করেছেন।

৫ - আহমাদ ইবনে হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.) রচিত 'আল-আসমা ওয়াল কুনা', যা তাঁর পুত্র সালেহ বর্ণনা করেছেন এবং ১৪০৬ হিজরিতে ইউসুফ আল-জুদাই'-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

৬ - সহিহ-এর সংকলক মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ২৬১ হি.) রচিত 'আল-কুনা ওয়াল আসমা' এবং এটি দারুল কলাম থেকে প্রকাশিত।

৭ - মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-মুকাদ্দামি (মৃত্যু ৩০১ হি.) রচিত 'আত-তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসিন ওয়া কুনা-হুম' এবং এটিই আমাদের এই কিতাব।

৮ - সুনান আন-নাসায়ি-এর সংকলক আহমাদ ইবনে শুয়াইব আন-নাসায়ি (মৃত্যু ৩০৩ হি.) রচিত 'আল-কুনা', যা তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আব্দুল কারিম বর্ণনা করেছেন; যাহাবি এটিকে কুনা শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও দীর্ঘতম কিতাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (দেখুন:) মুকাদ্দিমা মুসলিম পৃষ্ঠা ১৩ এবং সাখাভি এটি ৩/২২০-এ উল্লেখ করেছেন।

৯ - আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনুল জারুদ (মৃত্যু ৩০৭ হি.) রচিত 'আল-আসমা ওয়াল কুনা'; সাখাভি এটি 'শারহুল আলফিয়্যাহ' ৩/২২০-এ উল্লেখ করেছেন।

১০ - ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি (মৃত্যু ৩২৭ হি.) রচিত 'আল-কুনা'; সাখাভি এটি 'শারহুল আলফিয়্যাহ' ৩/২২০-এ উল্লেখ করেছেন।

১১ - আবু আহমাদ আল-হাকিম আল-কাবির (মৃত্যু ৩৭৮ হি.) রচিত 'আল-কুনা'; এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের গবেষণাপত্র (থিসিস) হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে।

১২ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মান্দাহ (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) রচিত 'ফাতহুল বাব ফিল কুনা ওয়াল আলকাব'।

১৩ - ইবনে আব্দুল বার (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) রচিত 'আল-ইস্তিগনা ফি মা'রিফাতিল কুনা'; সাখাভি এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٤)
14 - مباح المنى في إيضاح الكنى لشميم الحلّي ت 601 هـ ذكره مطاع الطرابيشي في تقديمه للأسماء والكنى لمسلم ص 15.

15 - المقتنى في سرد الكنى للذهبي ت 748 هـ اختصره من كتاب الحاكم ورتبه وزاد عليه. ذكر في تقديم الأسماء والكنى لمسلم أنه سجل رسالة في كلية أصول الدين في جامعة الإمام.

16 - المنى في الكنى لجلال الدين السيوطي ت 911 هـ (1).

--------------------------------------------

(1) سردها مطاع الطرابيشي في تقديمه للأسماء والكنى لمسلم ص 15 - 16 وذكر أيضًا غيرها.
১৪ - শামিম আল-হিল্লি (মৃত্যু ৬০১ হিজরি) রচিত ‘মুবাহুল মুনা ফি ইদাহিল কুনা’। মুতাউত তরাবিশি মুসলিমের ‘আল-আসমা ওয়াল কুনা’ গ্রন্থের ভূমিকায় ১৫ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।

১৫ - আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) রচিত ‘আল-মুকতানা ফি সারদিল কুনা’। তিনি এটি আল-হাকিমের কিতাব থেকে সংক্ষেপ করেছেন, বিন্যস্ত করেছেন এবং এতে পরিবর্ধন করেছেন। মুসলিমের ‘আল-আসমা ওয়াল কুনা’ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদে এর ওপর একটি গবেষণাপত্র নিবন্ধিত হয়েছে।

১৬ - জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত ‘আল-মুনা ফিল কুনা’ (১)।

--------------------------------------------

(১) মুতাউত তরাবিশি মুসলিমের ‘আল-আসমা ওয়াল কুনা’ গ্রন্থের ভূমিকায় ১৫ - ১৬ পৃষ্ঠায় এগুলো তালিকাভুক্ত করেছেন এবং এগুলো ছাড়াও অন্যান্য কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌الفصل الثاني المؤلف

‌‌اسمه ونسبه:

محمد بن أحمد بن محمد بن أبي بكر بن علي بن عطاء بن مقدَّم أبو عبد الله القاضي المقدَّمي -مولى ثقيف- البغدادي.

 

‌‌شيوخه:

سمع من أبيه أحمد بن محمد المقدمي وعمرو بن علي الفلاس ومحمد بن خالد بن خداش ومحمد بن يحيى القطيعي ومقدم بن محمد المقدمي ويعقوب بن إبراهيم الدورقي ومحمد بن بشار بندار ومحمد بن المثنى وزيد بن أخرم.

 

‌‌تلامذته:

محمد بن يحيى الصولي ومحمد بن الجعابي وأحمد بن عبد الرحمن المقرئ المعروف بالولي وأبو حفص بن الزيات، وأبو زكريا يزيد بن محمد الأزدي الموصلي راوي هذا الكتاب عنه.

 

‌‌تراجم بعض أفراد أسرته الذين اشتهروا بطلب الحديث:

1 - منهم والده أحمد بن محمد بن أبي بكر بن علي بن عطاء بن مقدم المقدمي أبو عثمان المقدمي -مولى ثقيف- من أهل البصرة، سكن بغداد وحدث بها عن أبي همام محمد بن حبيب الخاركي ومسلم بن إبراهيم وحجاج بن منهال وأبيه محمد بن أبي بكر المقدمي وعلي بن المديني.

وروى عنه ابنه محمد صاحب هذا الكتاب، وأبو بكر بن أبي الدنيا ومحمد بن محمد الباغندي ويحيى بن محمد صاعد وغيرهم. قال فيه ابن أبي حاتم: سمعت منه بمكة وهو صدوق ت سنة 263هـ وقيل 264هـ. صحح ذلك الخطيب في تاريخه (الجرح 2/ 73 تاريخ بغداد 4/ 398).

2 - وجده وهو: محمد بن أبي بكر بن علي بن عطاء بم مقدم البصري -مولى ثقيف- أبو عبد الله البصري روى عمه عمر بن علي بن مقدم وحماد بن زيد وأبي عوانة ويزيد بن زريع وأبيه أبي بكر المقدمي.

وروى عنه الشيخان وإسماعيل القاضي وابن أبي عاصم وأبو يعلى وغيرهم
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখক

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আলি বিন আতা বিন মুকাদ্দাম আবু আব্দুল্লাহ আল-কাদি আল-মুকাদ্দামি -সাকীফ গোত্রের আযাদকৃত দাস- আল-বাগদাদি।

 

তাঁর শিক্ষকগণ:

তিনি তাঁর পিতা আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দামি, আমর বিন আলি আল-ফাল্লাস, মুহাম্মদ বিন খালিদ বিন খিদাশ, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-কাতিয়ি, মুকাদ্দাম বিন মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দামি, ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আদ-দাওরাকি, মুহাম্মদ বিন বাশশার বুন্দার, মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না এবং যাইদ বিন আখরামের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।

 

তাঁর ছাত্রগণ:

মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুলি, মুহাম্মদ বিন আল-জুয়াবি, আল-ওয়ালি নামে পরিচিত আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুকরি, আবু হাফস বিন আয-যাইয়াত এবং আবু যাকারিয়া ইয়াযিদ বিন মুহাম্মদ আল-আযদি আল-মাওসিলি, যিনি তাঁর থেকে এই কিতাবটি বর্ণনা করেছেন।

 

তাঁর পরিবারের কিছু সদস্যের জীবনী যাঁরা হাদিস অন্বেষণের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন:

১ - তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পিতা আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আলি বিন আতা বিন মুকাদ্দাম আল-মুকাদ্দামি আবু উসমান আল-মুকাদ্দামি -সাকীফ গোত্রের আযাদকৃত দাস- তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন। তিনি বাগদাদে বসবাস করেছেন এবং সেখানে আবু হাম্মাম মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-খারকি, মুসলিম বিন ইবরাহিম, হাজ্জাজ বিন মিনহাল, তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন আবি বকর আল-মুকাদ্দামি এবং আলি বিন আল-মাদিনির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (এই কিতাবের লেখক), আবু বকর বিন আবিদ দুনিয়া, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-বাগিন্দি, ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ সাঈদ প্রমুখ। ইবনে আবি হাতিম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আমি মক্কায় তাঁর নিকট থেকে শুনেছি এবং তিনি সত্যবাদী। তিনি ২৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ২৬৪ হিজরি। আল-খতিব তাঁর তারিখে এটি সঠিক বলে উল্লেখ করেছেন (আল-জারহ ২/৭৩, তারিখে বাগদাদ ৪/৩৯৮)।

২ - তাঁর দাদা: তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আলি বিন আতা বিন মুকাদ্দাম আল-বাসরি -সাকীফ গোত্রের আযাদকৃত দাস- আবু আব্দুল্লাহ আল-বাসরি। তিনি তাঁর চাচা উমর বিন আলি বিন মুকাদ্দাম, হাম্মাদ বিন যাইদ, আবু আওয়ানা, ইয়াযিদ বিন যুরাই এবং তাঁর পিতা আবু বকর আল-মুকাদ্দামির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম), ইসমাইল আল-কাদি, ইবনে আবি আসিম, আবু ইয়ালা প্রমুখ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٦)
وثقه يحيى وأبو زرعة وكانت وفاته سنة 234 هـ في أولها. (الجرح 7/ 213، تذكرة الحفاظ 2/ 468، التهذيب).

 

‌‌علمه وإتقانه ووفاته:

أبو عبد الله محمَّد بن أحمد بن محمَّد بن أبي بكر المقدمي كان قاضيًا ببغداد. قال ابن قانع: كان حسن الرواية للأخبار وقال الخطيب البغدادي: كان ثقة. ونقل عن ابن قانع سنة وفاته وأنها كانت سنة 301هـ.

 

‌‌مؤلفاته:

لم يذكر له من المؤلفات غير كتابه هذا وهو: "كتاب التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم" فما يدرى هل له مؤلفات فقدت ولم تصل؟! أو أنه كان من المقلين في باب التأليف وأن كتابه هذا مؤلفه الفرد (1)؟!. والله أعلم.

 

‌‌الفصل الثالث: دراسة الكتاب

‌‌موضوع الكتاب ونُسَخُه:

أما موضوع كتاب المقدمي فقد ذكرته في التقديم للكتاب وهو البحث في أسماء المحدثين وكناهم وفي الكتاب عدد لا يُستهان به قارب الألف وسيأتي مزيد إيضاح لذلك.

أما عن نسخ الكتاب فإن الظاهر أن كتاب التاريخ للمقدمي ليس له إلا نسخة واحدة لم يذكر غيرها من ذكر الكتاب وفهرس له في المخطوطات. كفؤاد سزكين في كتابه تاريخ التراث العربي (علوم القرآن والحديث ص 324) وفهرس المخطوطات لجامعة الإمام (علوم الحديث ص 135) وهي ضمن محفوظات المتحف البريطاني (الملحق 617)، مخطوطات شرقية (3619). وكنت قد اقتنيت صورة من صورة الكتاب المخطوط من مكتبة أحد الأخوة. ثم طلبت صورة مكبرة له من مركز الملك فيصل للبحوث الإِسلامية.

والكتاب يقع في أربع وأربعين لوحة في كل لوحة صفحتان، وعدد أسطر الصفحة أربعة عشر سطرًا إلا في الصفحات الست الأخيرة فإ ن كل صفحة منها حملت اثنين وعشرين سطرًا لدقة الخط. وهي بخط واضح نسخي معتاد قديم كتب في القرن الخامس الهجري قبل سنة 476 هـ.

والسقط في النسخة قليلٌ جدًا لا يجاوز بعض الكلمات في الصفحات الأخيرة. وقد يسر الله إئبات أكثرها من المصادر الأخرى.

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 1/ 336، الأنساب للسمعاني 539 ب، المنتظم لابن الجوزي 6/ 126 اللباب لابن الأثير 3/ 169، الأعلام للزركلي 6/ 197، تاريخ التراث العربي، فؤاد سركين، علوم القرآن والحديث المجلد الأول الجزء الأول.
ইয়াহইয়া এবং আবু যুরআ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তাঁর মৃত্যু ২৩৪ হিজরির শুরুর দিকে হয়েছিল। (আল-জারহ ৭/২১৩, তাযকিরাতুল হুফফায ২/৪৬৮, আত-তাহযীব)।

 

‌‌তাঁর জ্ঞান, পাণ্ডিত্য ও মৃত্যু:

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মুকাদ্দামী বাগদাদের বিচারক (কাযী) ছিলেন। ইবনে কানি‘ বলেন: তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে হাদীস ও সংবাদ বর্ণনা করতেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ইবনে কানি‘ থেকে তাঁর মৃত্যু সাল ৩০১ হিজরি বলে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

তাঁর এই কিতাবটি ব্যতীত অন্য কোনো রচনার কথা উল্লেখ করা হয়নি, আর সেটি হলো: "কিতাবুত তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনাহুম" (ইতিহাস এবং মুহাদ্দিসগণের নাম ও উপনামের কিতাব)। সুতরাং জানা যায় না যে তাঁর আরও কোনো রচনা ছিল কি না যা হারিয়ে গিয়েছে এবং আমাদের নিকট পৌঁছায়নি?! অথবা তিনি কি গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে স্বল্পপ্রজ ছিলেন এবং এই কিতাবটিই তাঁর একমাত্র সংকলন ছিল (১)?!. আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌তৃতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পর্যালোচনা

‌‌গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও এর পাণ্ডুলিপি:

আল-মুকাদ্দামীর গ্রন্থের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি কিতাবের ভূমিকায় আলোচনা করেছি, যা হলো মুহাদ্দিসগণের নাম এবং তাঁদের উপনাম নিয়ে গবেষণা। কিতাবটিতে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম রয়েছে যা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি, এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসবে।

গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে কথা হলো, এটি স্পষ্ট যে মুকাদ্দামীর 'কিতাবুত তারিখ'-এর একটিমাত্র পাণ্ডুলিপিই বিদ্যমান। যারা এই কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন এবং পাণ্ডুলিপির তালিকা তৈরি করেছেন, তাঁরা এই একটি পাণ্ডুলিপি ব্যতীত অন্য কিছুর কথা উল্লেখ করেননি। যেমন ফুয়াদ সেজগিন তাঁর 'তারিখুত তুরাসিল আরাবি' (উলূমুল কুরআন ওয়াল হাদীস, পৃষ্ঠা ৩২৪) এবং ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি তালিকায় (উলূমুল হাদীস, পৃষ্ঠা ১৩৫) উল্লেখ করেছেন। এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সংরক্ষিত সংগ্রহের (পরিশিষ্ট ৬১৭), প্রাচ্য পাণ্ডুলিপি (৩৬১৯)-এর অন্তর্ভুক্ত। আমি জনৈক ভাইয়ের কিতাবাগার থেকে এই পাণ্ডুলিপির একটি প্রতিলিপি সংগ্রহ করেছিলাম। অতঃপর আমি কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ থেকে এর একটি পরিবর্ধিত কপির আবেদন করি।

কিতাবটি চুয়াল্লিশটি পত্রে বিন্যস্ত এবং প্রতিটি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে। প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা চৌদ্দটি, তবে শেষ ছয়টি পৃষ্ঠা ব্যতীত; কারণ সেই পৃষ্ঠাগুলোর প্রতিটিতে হস্তাক্ষরের সূক্ষ্মতার কারণে বাইশটি করে লাইন রয়েছে। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রচলিত প্রাচীন নাসখ লিপিতে লিখিত যা ৪৭৬ হিজরির পূর্বে পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে অনুলিপি করা হয়েছিল।

এই পাণ্ডুলিপিতে বিলুপ্ত অংশ খুবই সামান্য, যা শেষদিকের পৃষ্ঠাগুলোর কয়েকটি শব্দের বেশি নয়। আল্লাহ তাআলা অন্যান্য উৎস থেকে সেগুলোর অধিকাংশ পুনরুদ্ধার করা সহজ করে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) তারিখে বাগদাদ ১/৩৩৬, আল-আনসাব লিস-সামআনী ৫৩৯ খ, আল-মুনতাযাম লি-ইবনিল জাওযী ৬/১২৬, আল-লুবাব লি-ইবনিল আসীর ৩/১৬৯, আল-আলাম লিয-যিরিকলী ৬/১৯৭, তারিখুত তুরাসিল আরাবি, ফুয়াদ সেজগিন, উলূমুল কুরআন ওয়াল হাদীস, প্রথম খণ্ড, প্রথম অংশ।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌نسبة الكتاب لأبي عبد الله محمد بن أحمد بن محمد المقدمي:

من الدلالات على نسبة هذا الكتاب لمؤلفه أبي عبد الله محمد بن أحمد بن محمد المقدمي أمور هي:

1 - سند الكتاب المثبت على غلاف الكتاب وتحت عنوانه والسند هو:

أخبرنا الشيخ الفقيه أبو الفتح نصر بن إبراهيم بن نصر المقدسي رحمه الله ورضي عنه قال: أخبرنا الشيخ أبو نصر طاهر بن محمد بن سليمان بن يوسف الموصلي بالموصل سنة سبع وأربعمائة: قال حدثنا أبو القاسم علي بن إبراهيم ابن أحمد الجوزي قال: حدثنا أبو زكريا يزيد بن محمد بن إياس قال: سمعت القاضي محمد بن أحمد بن محمد بن أبي بكر المقدمي يقول:

2 - نقل الحافظ ابن عساكر في تاريخ دمشق ترجمة حفص بن غيلان عن المقدمي أنه قال: هو مصري. . . وعقّب عليه في ذلك.

3 - نقل عنه الحافظ المزي في ترجمة الحسن البصري من تهذيب الكمال 6/ 123 فقال: وقال محمد بن أحمد بن محمد بن أبي بكر المقدمي سمعت (1) علي بن المديني يقول: مرسلات يحيى بن أبي كثير شبه الريح … " الخ.

وهذا النص موجود في كتاب المقدمي بلفظه.

ونقل عنه كذلك الحافظ المزي في ترجمة عمرة بنت عبد الرحمن من تهذيب الكمال: قال أحمد بن محمَّد بن أبي بكر المقدمي سمعت علي بن المديني ذكر عمرة بنت عبد الرحمن ففخم أمرها وقال: عمرة أحد الثقات العلماء بعائشة … " وهذا النص موجود في كتاب المقدمي بلفظه رقم 982.

4 - الشيوخ الذين روى عنهم المقدمي في هذا الكتاب في بعض المواطن هم ممن ذكر المقدمي في الرواة عنهم مثل حوثرة بن محمد المنقري ذكر المزي في ترجمته من تهذيب الكمال محمد المقدمي في الرواة عنه وكذلك والده.

 

‌‌ميزة الكتاب عن بعض المصنفات التي صنفت قبله:

عندما نقارن الكتاب ببعض الكتب التي أُلفت قبله في الموضوع نفسه نجد وجود الزيادات والإيضاحات فمثلا كتاب الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله "الأسامي

--------------------------------------------

(1) الصحيح سمعت أبي قال سمعت علي بن المديني.
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দামী-র প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধকরণ:

গ্রন্থটির লেখক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দামী-র প্রতি এর নিসবত বা সম্বন্ধের প্রমাণাদি নিম্নরূপ:

১ - গ্রন্থের প্রচ্ছদে এবং এর শিরোনামের নিচে প্রমাণিত গ্রন্থটির সনদ। সনদটি হলো:

শাইখ আল-ফকিহ আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে নাসর আল-মাকদিসি (রাহিমাহুল্লাহ ও রাদিআল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাইখ আবু নাসর তাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ইউসুফ আল-মাওসিলি ৪০৭ হিজরি সনে মাওসিলে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: তিনি বলেন, আবুল কাসিম আলি ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমদ আল-জাওজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: তিনি বলেন, আবু যাকারিয়া ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন: তিনি বলেন, আমি কাজি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-মুকাদ্দামীকে বলতে শুনেছি:

২ - হাফেজ ইবনে আসাকির ‘তারিখে দামেস্ক’-এ হাফস ইবনে গাইলানের জীবনীতে আল-মুকাদ্দামী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তিনি একজন মিসরীয়... এবং তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।

৩ - হাফেজ আল-মিযযি ‘তাহযিবুল কামাল’ (৬/ ১২৩)-এ হাসান বসরীর জীবনীতে তার থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-মুকাদ্দামী বলেছেন, আমি (১) আলি ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের মুরসাল বর্ণনাগুলো বাতাসের মতো..." ইত্যাদি।

এবং এই পাঠটি আল-মুকাদ্দামীর গ্রন্থে হুবহু বিদ্যমান।

হাফেজ আল-মিযযি একইভাবে ‘তাহযিবুল কামাল’-এ আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমানের জীবনীতে তার থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন: "আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-মুকাদ্দামী বলেছেন, আমি আলি ইবনুল মাদিনিকে আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমানের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি; তিনি তার উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমরাহ আয়েশা (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে অভিজ্ঞ নির্ভরযোগ্য আলেমদের একজন..." এই পাঠটি আল-মুকাদ্দামীর গ্রন্থে হুবহু ৯৮২ নম্বর অনুচ্ছেদে বিদ্যমান।

৪ - আল-মুকাদ্দামী এই গ্রন্থে যেসব শাইখদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের কেউ কেউ এমন যাদের থেকে বর্ণনাকারীদের (ছাত্রদের) তালিকায় আল-মুকাদ্দামীকে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন হাওসারা ইবনে মুহাম্মদ আল-মিনকারি; আল-মিযযি ‘তাহযিবুল কামাল’-এ তার জীবনীতে মুহাম্মদ আল-মুকাদ্দামী এবং তার পিতাকে তার থেকে বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

 

‌‌পূর্বে রচিত কিছু গ্রন্থের তুলনায় এই গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য:

যখন আমরা এই গ্রন্থটিকে একই বিষয়ে পূর্বে রচিত কিছু গ্রন্থের সাথে তুলনা করি, তখন এতে আমরা বিভিন্ন সংযোজন ও ব্যাখ্যা দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব ‘আল-আসামী’...

--------------------------------------------

(১) সঠিক হলো: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আলি ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٨)
والكنى" تنتهي أرقام التراجم فيه إلى 438، بينما تصل التراجم في كتاب المقدمي إلى 977 إضافة إلى الاعتناء بذكر التواريخ وأخبار المحدثين وغير ذلك. كذلك الشأن في كتاب الأسامي والكنى لمسلم. فيوجد في كتاب المقدمي هذا زيادات غير موجودة في كتاب مسلم.

ولعله من المفيد أن نذكر بعض هذه الزيادات الغير موجودة في كنى الإمام أحمد:

1 - أبو الرواع عباد بن أزهر رقم (327).

2 - أبو صخر المديني حميد بن زياد … رقم (166).

3 - أبو مردود المديني عبد العزيز بن سليمان رقم (167).

4 - عمر بن بشر يكنى أبا هانئ رقم (848).

5 - عثمان بن حكيم بن عباد بن حُنيف … أبو سهل رقم (877). وغيرها.

وأما الزيادات على كنى مسلم فمنها:

1 - محمَّد بن سيف أبو رجاء رقم (872).

2 - أبان بن تغلب يكنى أبا سعيد رقم (921).

3 - يزيد بن إبراهيم التستري يكنى أبا سعيد رقم (668). وغيرها.

وهناك أيضًا زيادات على كلا الكتابين كنى الإمام أحمد وكنى الإمام مسلم معًا.

 

‌‌فوائد كتاب التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم للمقدمي:

سبق أن ذكرت أن موضوع هذا الكتاب هو التعريف بأسماء المحدثين وكناهم إلا أن الكتاب حوى فوائد أخرى هي:

1 - الاعتناء بذكر أحوال بعض الرواة من ضعف أو اتهام بوضع ونحوه انظر رقم: (297، 452، 567، 568).

2 - الاعتناء بذكر الوفيات أحيانًا قليلة انظر رقم: (826، 827، 828).

3 - الاعتناء بذكر بعض الرواة عن المترجم المذكور اسمه وكذلك من يروي عنهم.

4 - الاعتناء بذكر أخبار الحفاظ وحكاياتهم التي تدل على سعة حفظهم ونحو ذلك انظر آخر الكتاب.

وبالجملة فالكتاب مرجع يستفاد منه ويرجع إليه في باب الأسماء والكنى.
"আল-কুনা" গ্রন্থে জীবনীসমূহের সংখ্যা ৪৩৮ পর্যন্ত শেষ হয়েছে, যেখানে মুকাদ্দামির গ্রন্থে জীবনীসমূহ ৯৭৭ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি তারিখসমূহ উল্লেখ, মুহাদ্দিসগণের সংবাদ এবং অন্যান্য বিষয়ের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। ইমাম মুসলিমের "আল-আসমা ওয়াল কুনা" গ্রন্থের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। সুতরাং মুকাদ্দামির এই গ্রন্থে এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে যা ইমাম মুসলিমের গ্রন্থে নেই।

ইমাম আহমদের "কুনা" গ্রন্থে নেই এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্যের উল্লেখ করা সম্ভবত উপকারী হবে:

১ - আবুর্ রুওয়া' আব্বাদ ইবনে আজহার, নম্বর (৩২৭)।

২ - আবু সাখর আল-মাদানি হুমাইদ ইবনে জিয়াদ ... নম্বর (১৬৬)।

৩ - আবু মারদুদ আল-মাদানি আব্দুল আজিজ ইবনে সুলাইমান, নম্বর (১৬৭)।

৪ - উমর ইবনে বিশর, যার উপনাম আবু হানি, নম্বর (৮৪৮)।

৫ - উসমান ইবনে হাকিম ইবনে আব্বাদ ইবনে হুনাইফ ... আবু সাহল, নম্বর (৮৭৭)। এবং অন্যান্য।

আর ইমাম মুসলিমের "কুনা" গ্রন্থের অতিরিক্ত তথ্যাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - মুহাম্মদ ইবনে সাইফ আবু রাজা, নম্বর (৮৭২)।

২ - আবান ইবনে তাগলিব, যার উপনাম আবু সাঈদ, নম্বর (৯২১)।

৩ - ইয়াজিদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তুস্তারি, যার উপনাম আবু সাঈদ, নম্বর (৬৬৮)। এবং অন্যান্য।

ইমাম আহমদ এবং ইমাম মুসলিমের "কুনা" উভয় গ্রন্থেরই অতিরিক্ত আরও অনেক তথ্য এখানে রয়েছে।

 

‌‌মুকাদ্দামির "আত-তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসিন ওয়া কুনাহুম" গ্রন্থের উপকারিতাসমূহ:

আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো মুহাদ্দিসগণের নাম ও উপনামের পরিচিতি প্রদান করা; তবে গ্রন্থটিতে অন্যান্য উপকারিতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা হলো:

১ - কিছু বর্ণনাকারীর অবস্থা যেমন- দুর্বলতা অথবা হাদিস জাল করার অভিযোগ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ। দেখুন নম্বর: (২৯৭, ৪৫২, ৫৬৭, ৫৬৮)।

২ - কদাচিৎ মৃত্যু তারিখ উল্লেখের প্রতি যত্ন নেওয়া। দেখুন নম্বর: (৮২৬, ৮২৭, ৮২৮)।

৩ - উল্লিখিত জীবনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একদল বর্ণনাকারী এবং তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান।

৪ - হাফেজগণের (স্মৃতিধর আলেমদের) সংবাদ এবং তাদের এমন সব ঘটনাবলি উল্লেখের প্রতি যত্ন নেওয়া যা তাদের হেফজ বা মুখস্থ শক্তির প্রশস্ততা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি নির্দেশ করে। গ্রন্থের শেষ অংশ দেখুন।

সারকথা হলো, গ্রন্থটি নাম এবং উপনামের (আসমা ওয়াল কুনা) অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স যা থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং যার শরণাপন্ন হওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌عملي في الكتاب:

1 - كتابة محتوى الكتاب ولما كانت النسخة واحدة حاولت جاهدًا التأكد فيما أشكل بالرجوع إلى المصادر الأخرى للرجال، ولكن -والحمد لله- كانت الإشكالات نادرة لوضوح الخط وقلة السقط.

2 - رقمت الأسامي والكنى المذكورة.

3 - قمت بالتعليق على كل ترجمة ذُكرتْ في الكتاب وحاولتُ أن يكون التعليق مختصرًا موجزًا. وكانت المراجع التي استعنت بها كثيرًا في التعليق هي: الإصابة والاستيعاب في الترجمة للصحابة والجرح والتعديل والتقريب في تراجم غيرهم وقد أستفيدُ من غيرها ولكنه قليل. كما أنني ترجمت لمن ذكر عرضًا في الترجمة كأن يقول المصنف: فلان هو أبو فلان وابنه فلان أو أخوه فلان فأترجم للابن أو الأخ ولم أهمل ذلك إلا نادرًا.

4 - قمت بالتنبيه على ما في كتاب المقدمي من تصحيف أو قول مرجوح بمقارنته بالمصادر الأخرى، ونقلت كذلك ما ذكره المهمش فيما يتعلق بالتصحيح أو التعقيب ونحو ذلك فأقول: قال في الهامش، صححه في الهامش ونحو ذلك.

5 - قمت بالإرجاع إلى موضع الترجمة المذكورة في كتاب المقدمي في كنى الإمام أحمد وكنى مسلم إذا كانت موجودة فيهما أو في أحدهما.

6 - خرجت الأحاديث التي ذكرها المصنف في كتابه أو ذكر طرفًا منها وهي قليلة في الكتاب وذلك بأوجز عبارة.

7 - جعلت الأصل في أعلى الصفحة وتعليقي على الأسماء تحته، والتعليق على الكتاب ككل أسفل الصفحة وجعلت بينها خطوطًا تفصل بينهما وتميز.

8 - عملت فهرسًا للأسماء والكنى الموجودة في الكتاب مرتبًا ذلك على حروف المعجم تسهيلًا لمن أراد التفتيش في الكتاب.

وأسأل الله عز وجل السداد والتوفيق وأن يجعله عملًا صالحًا متقبلًا وصلى الله وسلم على نبينا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

كتبه محمَّد بن إبراهيم اللحيدان

لأربع عشرة ليلة خلون من جمادى الأولى سنة ثلاث عشرة وأربعمائة وألف للهجرة
গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি:

১ - গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু লিপিবদ্ধ করা। যেহেতু পাণ্ডুলিপিটি ছিল একমাত্র, তাই অস্পষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করার জন্য বর্ণনাকারীদের (রিজাল) অন্যান্য উৎসের সহায়তা নিতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। তবে - সকল প্রশংসা আল্লাহর - হস্তাক্ষরের স্পষ্টতা এবং পাণ্ডুলিপির বিচ্যুতি কম থাকার কারণে জটিলতাগুলো ছিল খুবই নগণ্য।

২ - উল্লিখিত নাম এবং কুনিয়াহ (উপনাম) সমূহে নম্বর প্রদান করেছি।

৩ - গ্রন্থে বর্ণিত প্রত্যেকটি জীবনীর ওপর আমি টীকা প্রদান করেছি এবং চেষ্টা করেছি যেন টীকাগুলো সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ হয়। টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি যে রেফারেন্সগুলোর অধিক সহায়তা নিয়েছি সেগুলো হলো: সাহাবীদের জীবনীর ক্ষেত্রে ‘আল-ইসাবাহ’ ও ‘আল-ইস্তিআব’ এবং অন্যদের জীবনীর ক্ষেত্রে ‘আল-জারহ ওয়াত তা’দিল’ ও ‘আত-তাক্বরীব’। এছাড়া অন্যান্য গ্রন্থ থেকেও সামান্য উপকৃত হয়েছি। জীবনীতে প্রাসঙ্গিকভাবে যাদের নাম এসেছে তাদের জীবনীও আমি উল্লেখ করেছি। যেমন লেখক যদি বলেন: অমুক ব্যক্তি হলেন অমুকের পিতা এবং তাঁর পুত্র অমুক কিংবা তাঁর ভাই অমুক, তবে আমি সেই পুত্র বা ভাইয়ের জীবনীও উল্লেখ করেছি এবং কদাচিৎ ছাড়া এটি বাদ দিইনি।

৪ - অন্যান্য উৎসের সাথে তুলনা করে আল-মুকাদ্দামীর গ্রন্থে বিদ্যমান বর্ণবিভ্রাট (তাসহিফ) বা কম গ্রহণযোগ্য মতের ব্যাপারে সতর্ক করেছি। একইভাবে সংশোধন বা পর্যালোচনার বিষয়ে পার্শ্বটীকায় যা উল্লেখ ছিল তাও উদ্ধৃত করেছি; যেমন আমি বলেছি: ‘পার্শ্বটীকায় বলা হয়েছে’, ‘পার্শ্বটীকায় এটি সংশোধন করা হয়েছে’ ইত্যাদি।

৫ - আল-মুকাদ্দামীর গ্রন্থে উল্লিখিত জীবনীগুলোর রেফারেন্স ইমাম আহমাদ এবং ইমাম মুসলিমের ‘কুনিয়াহ’ বিষয়ক গ্রন্থে প্রদান করেছি, যদি তা উভয় গ্রন্থে বা কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে।

৬ - লেখক তাঁর গ্রন্থে যেসকল হাদিস উল্লেখ করেছেন বা হাদিসের কিয়দংশ উল্লেখ করেছেন (যা সংখ্যায় খুবই কম), আমি অতি সংক্ষেপে সেগুলোর তাহরিজ (সূত্র নির্দেশ) করেছি।

৭ - পৃষ্ঠার উপরের অংশে মূল পাঠ রেখেছি এবং তার নিচে নামসমূহের ওপর আমার টীকা প্রদান করেছি। আর সম্পূর্ণ গ্রন্থের ওপর সাধারণ টীকাগুলো পৃষ্ঠার পাদদেশে রেখেছি এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য বিভাজক রেখা ব্যবহার করেছি।

৮ - যারা গ্রন্থটিতে অনুসন্ধান করতে চান তাঁদের সুবিধার্থে আমি এতে বিদ্যমান নাম ও কুনিয়াহ সমূহের একটি বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট (ইনডেক্স) তৈরি করেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট সঠিকতা ও তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং এই কাজটিকে কবুলযোগ্য নেক আমল হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন করছি। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর।

 

এটি লিখেছেন: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-লুহাইদান

১৪ই জুমাদাল উলা, ১৪১৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌سماعات الكتاب:

كتاب التاريخ وأسماء المحدثين وكناهم للمُقدَّمي عليه سماعات عديدة. هذه صورتها:

صورة لنهاية الكتاب في المخطوط
গ্রন্থটির শ্রবণলিপি:

আল-মুকাদ্দামি রচিত 'কিতাবুত তারিখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম' গ্রন্থের উপর অনেকগুলো শ্রবণলিপি রয়েছে। এটি সেগুলোর চিত্র:

পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থটির সমাপ্তি অংশের চিত্র
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
صورة لنهاية الكتاب في المخطوط
পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থের সমাপ্তি অংশের চিত্র।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
صورة لعنوان الكتاب في المخطوط
পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থের শিরোনামের চিত্র
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
صورة لبداية الكتاب في المخطوط
পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থের প্রারম্ভের চিত্র
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنا الشيخ الفقيه أبو الفتح سُليم بن أيوب الرازي رحمه الله -ورضي عنه- قال أخبرنا الشيخ أبو نصر طاوس بن محمَّد بن سليمان بن يوسف الموصلي بالموصل قال: حدثنا أبو القاسم علي بن إبراهيم بن أحمد الجوزي قال: حدثنا أبو زكريا يزيد بن محمَّد بن إياس قال: سمعت القاضي محمَّد بن أحمد بن محمَّد بن أبي بكر المقدمي يقول: هذه كنية من حفظتُ اسمه ممن شهر باسمه، واسم من شهر بكنيته من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم:

1 - أبو بكر الصديق عبد الله بن عثمان ويقال: عتيق التيمي (1).

2 - عمر بن الخطاب بن نفيل العدوي أبو حفص (2).

3 - عثمان بن عفان الأموي أبو عبد الله وأبو عمرو (3).

4 - علي بن أبي طالب بن عبد المطلب، واسم أبي طالب عبد مناف وعلي أبو الحسن (4).

--------------------------------------------

(1) خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأول من آمن به من الرجال وصاحبه في هجرته وفي غزواته كلها إلى أن مات رسول الله صلى الله عليه وسلم، يلقب عتيقًا، وقال بعضهم: هو اسمه. توفي سنة ثلاث عشرة من الهجرة. (الإستيعاب 1633، الإصابة 4808).

(2) الخليفة الثاني بعد أبي بكر، وأول من لقب بأمير المؤمنين، كان قبل إسلامه شديدًا. على المسلمين ثم أسلم فصار إسلامه فرجًا لهم فسمَّاه الرسول صلى الله عليه وسلم الفاروق، كانت خلافته عشر سنين وستة أشهر قتل في ذي الحجة سنة ثلاث وعشرين. (الإستيعاب 1878، الإصابة 5731).

(3) ثالث الخلفاء الراشدين أسلم قديمًا وزوّجه الرسول صلى الله عليه وسلم ابنته رقية وماتت عنده أيام بدر فزوّجه أختها أم كلثوم فقيل له: ذو النورين قتل سنة خمس وثلاثين من الهجرة وعمره اثنتان وثمانون سنة. ذكر في الاستيعاب أنه قيل: إنه كان يكنى أبا ليلى أيضًا والله أعلم. (الاستيعاب 1778، الإصابة 5440).

(4) رابع الخلفاء الراشدبن ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم-أبوه أبو طالب اسمه عبد مناف وقيل: كنيته اسمه وأمه فاطمة بنت أسد الهاشمية وهي أول هاشمية ولدت لهاشمي توفيت قبل الهجرة مسلمة- يكنى علي أبا الحسن وهو أول من أسلم من الصغار، شهد مع الرسول صلى الله عليه وسلم المشاهد إلا تبوك، مدة خلافته خمس سنين إلا ثلاثة أشهر قتل سنة أربعين للهجرة. (الاستيعاب 1855، الإصابة 5682).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ফকীহ শাইখ আবুল ফাতহ সুলাইম ইবনে আইয়ুব আর-রাজি (রহিমাহুল্লাহ ও তাঁর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, শাইখ আবু নাসর তাউস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ইউসুফ আল-মাওসিলি মাওসিলে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আলী ইবনে ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-জাওজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাকারিয়া ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাজি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মুকাদ্দামিকে বলতে শুনেছি: এটি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সমস্ত সাহাবীদের উপনাম (কুনিয়াহ) যাদের নাম আমি সংরক্ষণ করেছি যারা তাদের নামে পরিচিত ছিলেন, এবং তাদের নাম যারা তাদের উপনামের মাধ্যমে পরিচিত ছিলেন:

১ - আবু বকর আস-সিদ্দিক আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান, তাঁকে আতিক আত-তাইমি বলা হয় (১)।

২ - উমর ইবনে আল-খাত্তাব ইবনে নুফাইল আল-আদাবি আবু হাফস (২)।

৩ - উসমান ইবনে আফফান আল-উমাবি আবু আব্দুল্লাহ এবং আবু আমর (৩)।

৪ - আলী ইবনে আবি তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, আর আবু তালিবের নাম হলো আব্দু মানাফ এবং আলীর উপনাম আবু হাসান (৪)।

--------------------------------------------

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফা এবং পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী। হিজরতে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল পর্যন্ত সমস্ত যুদ্ধে তিনি তাঁর সঙ্গী ছিলেন। তাঁকে আতিক উপাধি দেওয়া হয়, কেউ কেউ বলেছেন: এটিই তাঁর নাম। তিনি হিজরি তেরো সালে ইন্তেকাল করেন। (আল-ইসতিআব ১৬৩৩, আল-ইসাবা ৪৮০৮)।

(২) আবু বকরের পর দ্বিতীয় খলিফা এবং সর্বপ্রথম যাঁকে 'আমীরুল মুমিনীন' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি মুসলমানদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁর ইসলাম গ্রহণ তাদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম দেন 'আল-ফারুক'। তাঁর খিলাফতকাল ছিল দশ বছর ছয় মাস। তিনি তেইশ হিজরির জিলহজ মাসে শাহাদাত বরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৮৭৮, আল-ইসাবা ৫৭৩১)।

(৩) তৃতীয় খলিফায়ে রাশেদ, তিনি ইসলামের সূচনালগ্নেই ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে নিজের কন্যা রুকাইয়াহর বিয়ে দেন। বদরের যুদ্ধের দিনগুলোতে তিনি (রুকাইয়াহ) তাঁর নিকট থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বোন উম্মু কুলসুমের সাথে তাঁর বিয়ে দেন। এ কারণে তাঁকে 'যুন-নুরাইন' (দুই জ্যোতির অধিকারী) বলা হয়। তিনি পঁয়ত্রিশ হিজরিতে বিরাশি বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন। আল-ইসতিআবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বলা হয় তাঁর উপনাম আবু লাইলা-ও ছিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন। (আল-ইসতিআব ১৭৭৮, আল-ইসাবা ৫৪৪০)।

(৪) চতুর্থ খলিফায়ে রাশেদ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই। তাঁর পিতা আবু তালিবের নাম আব্দু মানাফ, এবং বলা হয়: তাঁর উপনামই ছিল তাঁর নাম। তাঁর মা ফাতিমা বিনতে আসাদ আল-হাশিমিয়া; তিনি প্রথম হাশেমি নারী যিনি একজন হাশেমির সন্তান প্রসব করেছেন এবং হিজরতের আগে মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। আলীর উপনাম হলো আবু হাসান এবং তিনি ছোটদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। তিনি তাবুক ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর খিলাফতকাল ছিল তিন মাস কম পাঁচ বছর। তিনি চল্লিশ হিজরিতে শাহাদাত বরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৮৫৫, আল-ইসাবা ৫৬৮২)।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
5 - طلحة بن عبيد الله التيمي يكنى أبا محمَّد (1).

6 - الزبير بن العوام الأسدي يكنى أبا عبد الله (2).

7 - عبد الرحمن بن عوف الزهري يكنى أبا محمَّد (3).

8 - سعد بن مالك أبي وقاص الزهري يكنى أبا إسحاق (4).

9 - سعيد بن زيد بن عمرو بن نُفيل العدوي يكنى أبا الأعور (5).

10 - أبو عبيدة عامر بن عبد الله بن الجراح الفهري (6).

11 - عبد الله بن مسعود الهذلي أبو

--------------------------------------------

(1) طلحة بن عبيد الله أحد الثمانية الذين سبقوا إلى الإِسلام وأحد الستة أصحاب الشورى وهو طلحة الفياض قتل يوم الجمل سنة ست وثلاثين من الهجرة وعمره أربع وستون سنة. (الاستيعاب 1280، الإصابة 4259).

(2) ابن عمة رسول الله صلى الله عليه وسلم "عمته صفية" وهو حواري رسول الله صلى الله عليه وسلم وهاجر الهجرتين قتله ابن جرموز بعدما رجع عن شهود الجمل سنة ست وثلاثين وله ست أو سبع وستون سنة وكان قتله بوادي السباع قريب البصرة. (الاستيعاب 808، الإصابة 2783).

(3) أحد الستة أصحاب الشورى أسلم قديمًا قبل دخول دار الأرقم وهاجر الهجرتين وشهد بدرًا وسائر المشاهد سماه الرسول عبد الرحمن وكان اسمه عبد عمرو وتوفي سنة اثنتين وثلاثين وعمره اثنتان وسبعون سنة. (الاستيعاب 1447، الإصابة 71/ 5).

(4) أحد الستة الشورى وأحد العشرة المبشرون بالجنة وآخرهم موتًا أسلم قديمًا، وهو أول من رمى بسهم في سبيل الله وتولى فتح العراق، كان مجاب الدعوة مشهورًا بذلك مات سنة إحدى وخمسين وقيل خمس وخمسين. (الاستيعاب 963، الإصابة 3187).

(5) ابن عم عمر بن الخطاب وزوج أخته فاطمة بنت الخطاب، كان من السابقين إلى الإِسلام أسلم قبل دخول الرسول صلى الله عليه وسلم في دار الأرقم وهاجر وشهد أحدًا وما بعدها توفي بالعقيق فحمل إلى المدينة سنة إحدى وخمسين وقيل اثتين وخمسين وقيل خمسين للهجرة ذكر له هذه الكنية في الاستيعاب. (الاستيعاب 982، الإصابة 3254).

(6) أمين هذه الأمة فاتح الديار الشامية مشهور بكنيته واسمه عامر بن عبد الله بن الجراح فالأكثر على إثبات عبد الله وبعضهم يحذف "عبد الله" أسلم قديمًا قبل الدخول في دار الأرقم وهاجر الهجرتين وشهد بدرًا وما بعدها مات في طاعون عمواس سنة ثمان عشرة للهجرة. (الاستيعاب 1332، الإصابة 4393).

فائدة: هؤلاء العشرة هم الذين بشرهم الرسول عليه السلام بالجنة كما أخرجه الترمذي من حديث عبد الرحمن بن عوف.
৫ - তালহা বিন উবাইদুল্লাহ আত-তাইমি, তার উপনাম আবু মুহাম্মদ (১)।

৬ - যুবাইর বিন আল-আওয়াম আল-আসাদি, তার উপনাম আবু আব্দুল্লাহ (২)।

৭ - আব্দুর রহমান বিন আউফ আজ-জুহরি, তার উপনাম আবু মুহাম্মদ (৩)।

৮ - সা'দ বিন মালিক আবু ওয়াক্কাস আজ-জুহরি, তার উপনাম আবু ইসহাক (৪)।

৯ - সাঈদ বিন যায়েদ বিন আমর বিন নুফাইল আল-আদাউয়ি, তার উপনাম আবু আল-আওয়ার (৫)।

১০ - আবু উবাইদাহ আমির বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-জাররাহ আল-ফিহরি (৬)।

১১ - আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আল-হুযালি আবু

--------------------------------------------

(১) তালহা বিন উবাইদুল্লাহ সেই আটজন ব্যক্তির একজন যারা ইসলামের দিকে অগ্রগামী ছিলেন এবং শুরা (পরামর্শ সভা) এর ছয়জন সদস্যের একজন। তিনি 'তালহা আল-ফায়য়াদ' নামে পরিচিত। হিজরি ৩৬ সনে জঙ্গে জামাল (উটের যুদ্ধ) এর দিনে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। সে সময় তার বয়স ছিল চৌষট্টি বছর। (আল-ইসতিআব ১২৮০, আল-ইসাবাহ ৪২৫৯)।

(২) তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাতো ভাই (তার ফুফু সাফিয়্যার পুত্র)। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একনিষ্ঠ সহচর (হাওয়ারি) ছিলেন এবং দুইবার হিজরত করেছিলেন। জঙ্গে জামাল থেকে ফিরে আসার পর ইবনে জুরমুজ তাকে হত্যা করে। ৩৬ হিজরিতে তার মৃত্যু হয় এবং তখন তার বয়স ছিল সাতষট্টি বা ছেষট্টি বছর। বসরা সংলগ্ন ওয়াদি আস-সিবা নামক স্থানে তাকে হত্যা করা হয়। (আল-ইসতিআব ৮০৮, আল-ইসাবাহ ২৭৮৩)।

(৩) তিনি শুরা (পরামর্শ সভা) এর ছয়জন সদস্যের একজন। দারুল আরকামে প্রবেশের পূর্বেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি দুইবার হিজরত করেছিলেন এবং বদরসহ সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার নাম রেখেছিলেন আব্দুর রহমান, আর পূর্বে তার নাম ছিল আব্দু আমর। ৩২ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তখন তার বয়স ছিল বাহাত্তর বছর। (আল-ইসতিআব ১৪৪৭, আল-ইসাবাহ ৭১/৫)।

(৪) তিনি শুরা (পরামর্শ সভা) এর ছয়জন সদস্যের একজন এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের (আশারা মুবাশশারা) একজন। তাদের মধ্যে তিনি সবার শেষে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইসলামের প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ইরাক বিজয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি 'মুজাবুদ দাওয়াহ' (যার দোয়া কবুল হয়) হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। ৫১ হিজরিতে (মতান্তরে ৫৫ হিজরিতে) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৯৬৩, আল-ইসাবাহ ৩১৮৭)।

(৫) তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের চাচাতো ভাই এবং তার বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাবের স্বামী। তিনি ইসলামের অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারুল আরকামে প্রবেশের পূর্বেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিজরত করেছিলেন এবং উহুদ ও পরবর্তী যুদ্ধসমূহে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আকিক নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন এবং ৫১ হিজরিতে (মতান্তরে ৫২ বা ৫০ হিজরিতে) তাকে মদিনায় বহন করে নিয়ে আসা হয়। 'আল-ইসতিআব' গ্রন্থে তার এই উপনাম (কুনিয়া) উল্লেখ করা হয়েছে। (আল-ইসতিআব ৯৮২, আল-ইসাবাহ ৩২৫৪)।

(৬) তিনি এই উম্মতের পরম বিশ্বস্ত ব্যক্তি (আমিন) এবং সিরিয়া বিজয়ের সেনাপতি। তিনি তার উপনাম আবু উবাইদাহ নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ। তার নাম আমির বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-জাররাহ। অধিকাংশ বর্ণনা অনুযায়ী তার নাম আব্দুল্লাহ ছিল, তবে কেউ কেউ 'আব্দুল্লাহ' বাদ দিয়ে শুধু আমির উল্লেখ করেন। দারুল আরকামে প্রবেশের পূর্বেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং দুইবার হিজরত করেছিলেন। তিনি বদর ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮ হিজরিতে আমওয়াস মহামারীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৩৩২, আল-ইসাবাহ ৪৩৯৩)।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই দশজনই তারা যাদেরকে রাসূল আলাইহিস সালাম জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, যেমনটি তিরমিযি আব্দুর রহমান বিন আউফের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
عبد الرحمن (1).

12 - معاذ بن جبل الأنصاري أوسي يكنى أبا عبد الرحمن (2).

13 - أبي بن كعب الأنصاري يكنى أبا المنذر (3).

14 - بلال بن رباح الحبشي يكنى أبا عمرو ويقال أبو عبد الله (4).

15 - صهيب بن مالك الرومي يكنى أبا يحيى (5).

16 - سعد بن معاذ الأنصاري يكنى أبا عمرو (6).

17 - زيد بن حارثة الكلبي مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم يكنى أبا

--------------------------------------------

(1) حليف قريش حالف أبوه في الجاهلية عبد الحارث بن زهرة أسلم عبد الله قديمًا وهاجر الهجرتين وشهد بدرًا وما بعدها ولازم الرسول وكان صاحب نعليه وهو أول من جهر بالقرآن في مكة وشارك في قتل أبي جهل يوم بدر توفي بالمدينة سنة اثنتين وثلاثين للهجرة ودفن بالبقيع. (الإستيعاب 1659، الإصابة 4945).

(2) معاذ بن جبل الأنصاري الخزرجي شهد بدرًا فما بعدها وأمره الرسول صلى الله عليه وسلم على اليمن، مناقبه كثيرة توفي بالطاعون في الشام سنة سبع عشرة أو التي بعدها وعاش أربعًا وثلاثين سنة. (الاستيعاب 2416، الإصابة 8032).

تنبيه: معاذ خزرجي وليس بأوسي وإنما جده أوس بن عائذ بن عديّ بن كعب بن عمرو ابن أدي من جشم من الخزرج.

(3) الخزرجي النجاري كان قبل أن يسلم أحد أحبار اليهود، وكان من أصحاب العقبة الثانية وشهد بدرًا والمشاهد مات في خلافة عثمان سنة ثلاثين وهو أثبت الأقاويل. (الاستيعاب 6، الإصابة 32).

(4) المؤذن ويقال له ابن حمامة وهي أمه، أسلم بمكة وعذبه المشركون على ذلك فاشتراه أبو بكر من المشركين فأعتقه شهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم المشاهد بدرًا فما بعدها وقتل أمية بن خلف يوم بدر توفي بالشام زمن عمر وقيل مات بالطاعون طاعون عمواس وقيل مات سنة عشرين اختلف في كنيته فقيل: أبو عبد الكريم وقيل: أبو عبد الرحمن وقيل: أبو عمر. (الاستيعاب 213، الإصابة 732).

(5) صهيب بن سنان بن مالك النمري أصله من العرب سباه الروم فقيل الرومي أسلم قديمًا في دار الأرقم وكناه الرسول صلى الله عليه وسلم بأبي يحيى توفي سنة ثمان وثلاثين وقيل: تسع وثلاثين. (الإستيعاب 1226، الإصابة 4099).

(6) سيد الأوس شهد بدرًا باتفاق ورُمي يوم الخندق بسهم فعاش بعد ذلك شهرًا حتى قضى في بني قريظة ثم انتقض جرحه فمات قال الرسول صلى الله عليه وسلم "اهتز عرش الرحمن لموت سعد". (الإستيعاب 958، الإصابة 3197).
আব্দুর রহমান (১)।

১২ - মুয়াজ বিন জাবাল আল-আনসারি আওসি, তাঁর কুনিয়াত আবু আব্দুর রহমান (২)।

১৩ - উবাই বিন কাব আল-আনসারি, তাঁর কুনিয়াত আবুল মুনজির (৩)।

১৪ - বিলাল বিন রাবাহ আল-হাবাশি, তাঁর কুনিয়াত আবু আমর এবং বলা হয় আবু আব্দুল্লাহ (৪)।

১৫ - সুহাইব বিন মালিক আর-রুমি, তাঁর কুনিয়াত আবু ইয়াহইয়া (৫)।

১৬ - সা'দ বিন মুয়াজ আল-আনসারি, তাঁর কুনিয়াত আবু আমর (৬)।

১৭ - জায়েদ বিন হারিসাহ আল-কালবি, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্তদাস, তাঁর কুনিয়াত আবু...

--------------------------------------------

(১) কুরাইশদের মিত্র, তাঁর পিতা জাহেলি যুগে আব্দ আল-হারিস বিন জুহরাহর সাথে মিত্রতা করেছিলেন। আব্দুল্লাহ অনেক আগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দুইবার হিজরত করেন। তিনি বদর এবং পরবর্তী যুদ্ধসমূহে উপস্থিত ছিলেন। তিনি রাসুলের সাথে ছায়ার মতো থাকতেন এবং তাঁর জুতা বহনকারী ছিলেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি মক্কায় উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করেন এবং বদরের দিন আবু জেহেলকে হত্যায় অংশ নেন। হিজরি বত্রিশ সনে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন এবং জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত হন। (আল-ইসতিআব ১৬৫৯, আল-ইসাবাহ ৪৯৪৫)।

(২) মুয়াজ বিন জাবাল আল-আনসারি আল-খাজরাজি। তিনি বদর এবং পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ইয়ামেনের শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। তাঁর গুণাবলি অপরিসীম। হিজরি সতেরো বা তার পরবর্তী বছরে শামে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল চৌত্রিশ বছর। (আল-ইসতিআব ২৪১৬, আল-ইসাবাহ ৮০৩২)।

সতর্কবার্তা: মুয়াজ খাজরাজি গোত্রের, আওসি নন। মূলত তাঁর দাদা আউস বিন আইজ বিন আদি বিন কাব বিন আমর বিন আদি ছিলেন খাজরাজের জুশাম শাখার অন্তর্ভুক্ত।

(৩) আল-খাজরাজি আন-নাজ্জারি। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ইহুদি পন্ডিতদের অন্যতম ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় আকাবার শপথের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বদরসহ সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে হিজরি ত্রিশ সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং এটিই সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য মত। (আল-ইসতিআব ৬, আল-ইসাবাহ ৩২)।

(৪) প্রখ্যাত মুয়াজ্জিন, তাঁকে ইবনে হামামাহ-ও বলা হয়, যা তাঁর মায়ের নাম। তিনি মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এ কারণে মুশরিকরা তাঁকে কঠোর নির্যাতন করে। এরপর আবু বকর (রা.) তাঁকে মুশরিকদের থেকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেন। তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বদর এবং পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বদরের দিন উমাইয়া বিন খালাফকে হত্যা করেন। ওমরের খিলাফতকালে শামে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয় তিনি আমওয়াসের প্লেগ মহামারীতে মারা যান, আবার কারো মতে হিজরি বিশ সনে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর কুনিয়াত সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়: আবু আব্দুল কারিম, আবু আব্দুর রহমান অথবা আবু আমর। (আল-ইসতিআব ২১৩, আল-ইসাবাহ ৭৩২)।

(৫) সুহাইব বিন সিনান বিন মালিক আন-নামারি। বংশগতভাবে তিনি আরব হলেও রোমানরা তাঁকে বন্দী করায় তিনি 'রুমি' হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি ইসলামের শুরুর দিকে দারুল আরকামে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে আবু ইয়াহইয়া কুনিয়াত প্রদান করেন। হিজরি আটত্রিশ অথবা উনচল্লিশ সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১২২৬, আল-ইসাবাহ ৪০৯৯)।

(৬) আউস গোত্রের নেতা। তিনি সর্বসম্মতিক্রমে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। খন্দকের যুদ্ধের দিন তিনি তীরের আঘাতে আহত হন এবং এরপর এক মাস জীবিত ছিলেন। বনু কুরাইজা গোত্রের বিচারকার্য সম্পন্ন করার পর তাঁর ক্ষত পুনরায় ফেটে যায় এবং তিনি শাহাদাত বরণ করেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "সা'দের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে।" (আল-ইসতিআব ৯৫৮, আল-ইসাবাহ ৩১৯৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
أسامة (1).

18 - حمزة بن عبد المطلب يكنى أبا عمارة ويقال: أبو يعلى والصحيح أبو عمارة (2).

19 - خباب بن الأرت مولى عتبة بن ربيعة يكنى أبا عبد الله (3).

20 - عمار بن ياسر مولى بني مخزوم يكنى أبا اليقظان (4).

21 - المقداد بن عمرو يكنى أبا معبد (5).

22 - أبو أمامة الأنصاري أسعد بن زرارة (6).

23 - أبو سلمة بن عبد الأسد المخزومي اسمه عبد الله (7).

24 - أبو أيوب الأنصاري خالد بن زيد (8).

--------------------------------------------

(1) مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم وحِبُّه تزوج أم أيمن مولاة رسول الله فولدت له أسامة وبه يكنى، أمّره رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة مؤتة فقتل فيها سنة ثمان للهجرة. (الإستيعاب 1843، الإصابة 2884).

(2) عم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخوه من الرضاعة أسلم في السنة الثانية من البعثة وهاجر مع رسول الله وشهد بدرًا واستشهد في أحد. قتله وحشي ولقبه رسول الله صلى الله عليه وسلم "أسد الله" و"سيد الشهداء" والأكثر على أن كنيته أبو عمارة. (الإستيعاب 544، الإصابة 1102).

(3) خزاعي وقيل: تميمي وهو حليف بني زهرة من قريش لحقه سبي في الجاهلية أسلم قديمًا وعذب لأجل ذلك ثم شهد المشاهد كلها ونزل الكوفة ومات بها سنة سبع وثلاثين. (الاستيعاب 628 الإصابة 1486).

(4) حليف بني مخزوم وأمه سمية مولاة لهم كان من السابقين إلى الإسلام وهو وأبوه وأمه وعذبوا لذلك شهد المشاهد كلها كنيته أبو اليقظان شهد مع علي الجمل وصفين وقتل في صفين سنة 37 هـ وعمره ثلاث وتسعون. (الإستيعاب 1863، الإصابة 5699).

(5) الكندي وقيل: الحضرمي أسلم قديمًا وهاجر الهجرتين وشهد بدرًا وما بعدها وهو أول من قاتل على فرس في سبيل الله توفي سنة ثلاث وثلاثين للهجرة. (الاستيعاب 2561، الإصابة 8178).

(6) أسعد بن زرارة الخزرجي النجاري قديم الإسلام شهد العقبتين ومات قبل بدر غلبت عليه كنيته واشتهر بها. (الاستيعاب 30، الإصابة 111).

(7) المخزومي من السابقين إلى الإسلام وابن عمة رسول الله صلى الله عليه وسلم برة بنت عبد المطلب، وهو أخو الرسول من الرضاعة، مشهور بكنيته وهو زوج أم سلمة مات بالمدينة بعد مرجعه من أحد، وكان هاجر الهجرتين. (الإستيعاب 1589، الإصابة 4774).

(8) الخزرجي النجاري مشهور بكنيته شهد العقبة وبدرًا وما بعدها، ومن مناقبه أن الله اختاره
উসামা (১)।

১৮ - হামযা ইবন আব্দুল মুত্তালিব, তাঁর উপনাম আবু উমারা, বলা হয়: আবু ইয়ালা; তবে সঠিক হলো আবু উমারা (২)।

১৯ - খাব্বাব ইবনুল আরাত, উতবা ইবন রাবিআহর আযাদকৃত দাস, তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ (৩)।

২০ - আম্মার ইবন ইয়াসির, বনু মাখযুমের মিত্র, তাঁর উপনাম আবু আল-ইয়াকযান (৪)।

২১ - আল-মিকদাদ ইবন আমর, তাঁর উপনাম আবু মা'বাদ (৫)।

২২ - আবু উমামা আল-আনসারী আস'আদ ইবন যুরারাহ (৬)।

২৩ - আবু সালামা ইবন আব্দুল আসাদ আল-মাখযুমী, তাঁর নাম আব্দুল্লাহ (৭)।

২৪ - আবু আইয়ুব আল-আনসারী খালিদ ইবন যায়েদ (৮)।

--------------------------------------------

(১) তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত দাস এবং তাঁর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন; তিনি রাসূলুল্লাহর আযাদকৃত দাসী উম্মে আয়মনকে বিবাহ করেন এবং তাঁদের ঘরে উসামা জন্মগ্রহণ করেন, যাঁর নামে তাঁর উপনাম রাখা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মুতা যুদ্ধে সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন এবং হিজরি অষ্টম সালে তিনি সেখানে শাহাদাত বরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৮৪৩, আল-ইসাবাহ ২৮৮৪)।

(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা এবং তাঁর দুধভাই; তিনি নবুওয়াতের দ্বিতীয় বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহর সাথে হিজরত করেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। ওয়াহশী তাঁকে হত্যা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে "আসাদুল্লাহ" (আল্লাহর সিংহ) এবং "সাইয়্যিদুশ শুহাদা" (শহীদদের নেতা) উপাধিতে ভূষিত করেন। অধিকাংশের মতে তাঁর উপনাম আবু উমারা। (আল-ইসতিআব ৫৪৪, আল-ইসাবাহ ১১০২)।

(৩) খুযাঈ গোত্রের, বলা হয়: তামীমী; তিনি কুরাইশের বনু যুহরার মিত্র ছিলেন। জাহেলিয়াত যুগে তিনি যুদ্ধবন্দী হয়েছিলেন। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং একারণে নির্যাতিত হন। এরপর তিনি সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং কুফায় বসতি স্থাপন করেন এবং সাইত্রিশ হিজরিতে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৬২৮, আল-ইসাবাহ ১৪৮৬)।

(৪) বনু মাখযুমের মিত্র; তাঁর মা সুমাইয়া ছিলেন তাঁদের আযাদকৃত দাসী। তিনি ইসলামের অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি, তাঁর পিতা এবং তাঁর মাতা একারণে নির্যাতিত হন। তিনি সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর উপনাম আবু আল-ইয়াকযান। তিনি আলীর সাথে জুমাল ও সিফফীন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ৩৭ হিজরিতে সিফফীন যুদ্ধে ৯৩ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৮৬৩, আল-ইসাবাহ ৫৬৯৯)।

(৫) আল-কিন্দী, বলা হয়: আল-হাদরামী; তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন, দুইবার হিজরত করেন, বদর ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আল্লাহর পথে ঘোড়ায় চড়ে প্রথম যুদ্ধকারী। তেত্রিশ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ২৫৬১, আল-ইসাবাহ ৮১৭৮)।

(৬) আস'আদ ইবন যুরারাহ আল-খাযরাজী আন-নাজ্জারী; তিনি প্রাচীন মুসলিম, দুই আকাবায় উপস্থিত ছিলেন এবং বদরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উপনামটিই তাঁর নামের ওপর প্রাধান্য পায় এবং তিনি এর মাধ্যমেই সুপরিচিত হন। (আল-ইসতিআব ৩০, আল-ইসাবাহ ১১১)।

(৭) আল-মাখযুমী; ইসলামের অগ্রগামীদের একজন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফু বাররাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র। তিনি রাসূলের দুধভাই। তিনি তাঁর উপনামেই সমধিক প্রসিদ্ধ। তিনি উম্মে সালামার স্বামী ছিলেন। উহুদ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দুইবার হিজরত করেছিলেন। (আল-ইসতিআব ১৫৮৯, আল-ইসাবাহ ৪৭৭৪)।

(৮) আল-খাযরাজী আন-নাজ্জারী; তিনি তাঁর উপনামেই সুপরিচিত। তিনি আকাবা, বদর ও পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর অন্যতম মর্যাদা হলো এই যে, আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছেন
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
25 - جعفر بن أبي طالب يكنى أبا عبد الله (1).

26 - محمَّد بن مسلمة الأنصاري يكنى أبا عبد الله (2).

27 - عبادة بن الصامت الأنصاري يكنى أبا الوليد (3).

28 - عثمان بن مظعون يكنى أبا السائب (4).

29 - عامر بن ربيعة العنزي حليف بني عديّ يكنى أبا عبد الله (5).

30 - أبو الهيثم بن التيهان اسمه مالك بن التيهان (6).

31 - العباس بن عبد المطلب يكنى أبا الفضل (7).

--------------------------------------------

لضيافة نبيه صلى الله عليه وسلم عندما وصل إلى المدينة حتى بنى بيته ومسجده توفي أبو أيوب سنة اثنتين وخمسين في غزاة القسطنطينية. (الإستيعاب 600، الإصابة 1439).

(1) الطيار شقيق علي وأسن منه كان الرسول عليه الصلاة والسلام يكنيه بأبي المساكين لعطفه عليهم أسلم قديمًا وهاجر إلى الحبشة وقدم المدينة عام فتح خيبر واستشهد في غزوة مؤتة سنة ثمان للهجرة. (الإستيعاب 328، الإصابة 1162).

(2) الأوسي الحارثي ممن سمي في الجاهلية محمدًا، شهد بدرًا فما بعدها إلا تبوكًا لاستخلاف الرسول صلى الله عليه وسلم إياه عليها، اعتزل الفتنة فلم يشهد الجمل ولا صفين اختلف في كنيته فقيل: أبو عبد الله وقيل: أبو عبد الرحمن وقيل أبو سعيد توفي بالمدينة سنة ثلاث وأربعين للهجرة. (الاستيعاب 2344، الإصابة 7800، سير أعلام النبلاء 77).

(3) الخزرجي كان من النقباء شهد العقبات الثلاث وشهد بدرًا وما بعدها وجهه عمر إلى الشام قاضيًا ومعلمًا ومات بفلسطين وقيل: بقي إلى زمن معاوية. (الإستيعاب 1372، الإصابة 4490).

(4) الجمحي القرشي أسلم بعد ثلاثة عشر رجلا وهاجر الهجرتين وشهد بدرًا وتوفي بعدها وهو أول من مات بالمدينة من المهاجرين وكان ممن حرم الخمر في الجاهلية. (الإستيعاب 1779).

(5) حليف الخطاب والد عمر من السابقين إلى الإِسلام وهاجر إلى الحبشة ثم إلى المدينة وشهد بدرًا فما بعدها يقال: إن الخطاب قد تبناه فكان يدعى إليه حتى نزلت {ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ} توفي سنة ثلاث وثلاثين وقيل: غير ذلك. (الإستيعاب 1327، الإصابة 4374).

(6) الأنصاري الأوسي مشهور بكنيته وقيل اسمه عبد الله شهد المشاهد كلها وكان أول من بايع في العقبة اختلف في وفاته والأقرب أنه شهد صفين مع علي وقتل بها. (الإستيعاب 3213، الإصابة 1189).

(7) عم رسول الله صلى الله عليه وسلم أمه نتيلة بنت جناب بن كلب ولد قبل الرسول بسنتين وحضر بيعة العقبة قبل أن يسلم وشهد بدرًا مع المشركين مكرهًا وأسر فافتدى نفسه ورجع إلى مكة
২৫ - জাফর বিন আবি তালিব, তার উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ (১)।

২৬ - মুহাম্মদ বিন মাসলামা আল-আনসারি, তার উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ (২)।

২৭ - উবাদাহ বিন আস-সামিত আল-আনসারি, তার উপনাম হলো আবু আল-ওয়ালিদ (৩)।

২৮ - উসমান বিন মাজউন, তার উপনাম হলো আবু আস-সাইব (৪)।

২৯ - আমির বিন রাবিআহ আল-আনজি, বনু আদি গোত্রের মিত্র, তার উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ (৫)।

৩০ - আবু আল-হাইসাম বিন আত-তাইয়াহান, তার নাম মালিক বিন আত-তাইয়াহান (৬)।

৩১ - আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব, তার উপনাম হলো আবু আল-ফজল (৭)।

--------------------------------------------

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় পৌঁছানোর পর যতক্ষণ না তিনি নিজের ঘর ও মসজিদ নির্মাণ করলেন, ততক্ষণ তাঁর আতিথেয়তার জন্য। আবু আইয়ুব বায়ান্ন হিজরিতে কনস্টান্টিনোপল যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৬০০, আল-ইসাবাহ ১৪৩৯)।

(১) আত-তৈয়ার, আলীর সহোদর ভাই এবং তাঁর চেয়ে বয়সে বড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসকিনদের প্রতি তাঁর অনুকম্পার কারণে তাঁকে 'আবু আল-মাসাকিন' (মিসকিনদের পিতা) উপনামে ডাকতেন। তিনি অনেক আগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হাবশায় হিজরত করেন। খায়বার বিজয়ের বছর তিনি মদিনায় আসেন এবং হিজরি অষ্টম বর্ষে মুতাহর যুদ্ধে শহীদ হন। (আল-ইসতিআব ৩২৮, আল-ইসাবাহ ১১৬২)।

(২) আল-আউসি আল-হারিসি; জাহেলিয়াত যুগে যাদের নাম মুহাম্মদ রাখা হয়েছিল তিনি তাঁদের একজন। তিনি বদর এবং এরপরের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, তবে তাবুক যুদ্ধ ছাড়া; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মদিনায় স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছিলেন। তিনি ফিতনা (গৃহযুদ্ধ) থেকে দূরে ছিলেন, ফলে জামাল কিংবা সিফফিন যুদ্ধে অংশ নেননি। তাঁর উপনাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়: আবু আবদুল্লাহ, আবার বলা হয়: আবু আবদুর রহমান, আবার বলা হয় আবু সাইদ। তিনি হিজরি ৪৩ সালে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ২৩৪৪, আল-ইসাবাহ ৭৮০০, সিয়ার আলাম আন-নুবালা ৭৭)।

(৩) আল-খাজরাজি; তিনি নকিবদের (নেতৃস্থানীয়দের) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তিনটি আকাবার শপথেই উপস্থিত ছিলেন এবং বদরসহ পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উমর (রা.) তাঁকে বিচারক ও শিক্ষক হিসেবে শামে পাঠান এবং তিনি ফিলিস্তিনে মৃত্যুবরণ করেন। মতান্তরে: তিনি মুয়াবিয়ার সময় পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। (আল-ইসতিআব ১৩৭২, আল-ইসাবাহ ৪৪৯০)।

(৪) আল-জুমাহি আল-কুরাশি; তিনি তেরোজন ব্যক্তির পরে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দুইবার হিজরত করেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং এর পরেই মৃত্যুবরণ করেন। মুহাজিরদের মধ্যে মদিনায় মৃত্যুবরণকারী প্রথম ব্যক্তি হলেন তিনি। তিনি জাহেলিয়াত যুগেও মদ হারাম মনে করতেন। (আল-ইসতিআব ১৭৭৯)।

(৫) উমরের পিতা খাত্তাবের মিত্র। তিনি প্রথম যুগের মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং হাবশায় ও পরে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি বদর ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বলা হয় যে, খাত্তাব তাঁকে দত্তক নিয়েছিলেন, ফলে "তোমরা তাদের ডাকো তাদের পিতৃপরিচয়ে" আয়াতটি নাযিল হওয়া পর্যন্ত তাঁকে খাত্তাবের দিকে সম্বন্ধ করে ডাকা হতো। তিনি হিজরি ৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন, তবে অন্য মতও রয়েছে। (আল-ইসতিআব ১৩২৭, আল-ইসাবাহ ৪৩৭৪)।

(৬) আনসারি আল-আউসি; তিনি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। বলা হয় তাঁর নাম আবদুল্লাহ। তিনি সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আকাবার শপথে প্রথম বায়আতকারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যু নিয়ে মতভেদ আছে, তবে গ্রহণযোগ্য মত হলো তিনি আলীর সাথে সিফফিন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানেই শাহাদাত বরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৩২১৩, আল-ইসাবাহ ১১৮৯)।

(৭) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা। তাঁর মা হলেন নুত্যয়লা বিনতে জানাব বিন কালব। তিনি রাসূলুল্লাহর দুই বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইসলাম গ্রহণের আগেই আকাবার শপথে উপস্থিত ছিলেন। বদর যুদ্ধে তিনি মুশরিকদের সাথে বাধ্য হয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং বন্দি হন। অতঃপর তিনি মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করেন এবং মক্কায় ফিরে যান।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
32 - عبد الله بن العباس يكنى أبا العباس (1).

33 - الحسن بن علي بن أبي طالب يكنى أبا محمَّد (2).

34 - الحسين بن علي أبو عبد الله (3).

35 - عبد الله بن جعفر يكنى أبا جعفر (4).

36 - أسيد بن حضير الأنصاري يكنى أبا يحيى (5).

37 - أبو قتادة الأنصاري الحارث بن ربعي (6).

38 - أبو دُجانة سِمَاك بن خَرَشة الأنصاري (7).

--------------------------------------------

فيقال: إنه أسلم وكتم إسلامه ثم هاجر قبل الفتح بقليل وشهد الفتح، وثبت يوم حنين توفي سنة اثنتين وثلاثين للهجرة. (الإستيعاب 1378، الإصابة 4511).

(1) حبر الأمة ولد بمكة فنشأ في عصر النبوة لازم الرسول صلى الله عليه وسلم وروى عنه توفي الرسول وعمره عشر سنوات وتوفي هو سنة ثمان وستين للهجرة. (الإستيعاب 1588، الإصابة 4772).

(2) سبط رسول الله وخامس الخلفاء الراشدين أمه فاطمة بنت الرسول صلى الله عليه وسلم ولد في المدينة في السنة الثالثة للهجرة، كتب إلى معاوية يشترط شروطًا للصلح ورضي معاوية فخلع الحسن نفسه وانصرف إلى المدينة وتوفي بها سنة خمسين للهجرة. (الإستيعاب 555، الإصابة 1715).

(3) سبط رسول الله صلى الله عليه وسلم وريحانته ولد في المدينة سنة أربع بعد الهجرة أمه فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شقيق الحسن نشأ في بيت النبي صلى الله عليه وسلم، قتل زمن إمرة يزيد بن معاوية سنة إحدى وستين في العاشر من المحرم. (الإستيعاب 556، الإصابة 1720).

(4) عبد الله بن جعفر بن أبي طالب الهاشمي أمه أسماء بنت عميس ولد بالحبشة لما هاجر أبوه إليها روى عن النبي صلى الله عليه وسلم، كنيته أبو جعفر وهو أشهر وقيل: أبو محمَّد وقيل: أبو هاشم والصحيح: أبو جعفر توفي سنة ثمانين للهجرة. (الإستيعاب 1488، الإصابة 4582).

(5) الأوسي الأشهلي يكنى أبا يحيى وأبا عتيك، كان من السابقين إلى الإِسلام وهو أحد النقباء ليلة العقبة ثبت يوم أحد وجرح سبع جراحات اختلف في شهوده بدرًا، توفي زمن عمر سنة عشرين وقيل إحدى وعشرين للهجرة. (الإستيعاب 54، الإصابة 183).

(6) فارس رسول الله صلى الله عليه وسلم الخزرجي الأسلمي اختلف في اسمه فقيل: الحارث بن ربعي وقيل: النعمان بن ربعي وقيل النعمان بن عمر بن بلدمة والمشهور الأول اختلف شهوده بدرًا وشهد أحدًا وما بعدها، وشهد مع علي مشاهده كلها وتوفي سنة أربعين للهجرة. (الإستيعاب 3130، الإصابة 913 كنى).

(7) سماك بن خرشة ويقال: سماك بن أوس بن خرشة والأكثر على حذف أوس الخزرجي
32 - আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, তাঁর উপনাম আবু আব্বাস (১)।

33 - হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব, তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ (২)।

34 - হুসাইন ইবনে আলী, আবু আব্দুল্লাহ (৩)।

35 - আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর, তাঁর উপনাম আবু জাফর (৪)।

36 - উসাইদ ইবনে হুদাইর আল-আনসারী, তাঁর উপনাম আবু ইয়াহইয়া (৫)।

37 - আবু কাতাদা আল-আনসারী, আল-হারিস ইবনে রিবয়ী (৬)।

38 - আবু দুজানা সিমাক ইবনে খারাশাহ আল-আনসারী (৭)।

--------------------------------------------

বলা হয়ে থাকে: তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ইসলাম গোপন রেখেছিলেন, অতঃপর বিজয়ের (মক্কা বিজয়) কিছুকাল আগে হিজরত করেন এবং বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি হুনাইনের দিন অবিচল ছিলেন এবং হিজরী বত্রিশ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৩৭৮, আল-ইসাবাহ ৪৫১১)।

(1) উম্মতের বিজ্ঞ আলিম, তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং নবুওয়াতের যুগে বেড়ে ওঠেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছর। তিনি হিজরী আটষট্টি সালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৫৮৮, আল-ইসাবাহ ৪৭৭২)।

(2) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৌহিত্র এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের পঞ্চম খলীফা। তাঁর মা ফাতিমা বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি হিজরী তৃতীয় বর্ষে মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সন্ধির জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করে মুয়াবিয়ার কাছে পত্র লিখেছিলেন এবং মুয়াবিয়া তাতে সম্মত হন। ফলে হাসান নিজেকে পদ থেকে সরিয়ে নেন এবং মদীনায় চলে যান। সেখানে তিনি হিজরী পঞ্চাশ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৫৫৫, আল-ইসাবাহ ১৭১৫)।

(3) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৌহিত্র ও তাঁর সুগন্ধি ফুল। তিনি হিজরতের চার বছর পর মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা ফাতিমা বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি হাসানের সহোদর ভাই। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে বেড়ে ওঠেন। তিনি ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার শাসনকালে হিজরী একষট্টি সালের দশই মহররম শহীদ হন। (আল-ইসতিআব ৫৫৬, আল-ইসাবাহ ১৭২০)।

(4) আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবী তালিব আল-হাশিমী। তাঁর মা আসমা বিনতে উমাইস। তাঁর পিতা যখন হাবশায় হিজরত করেছিলেন তখন তিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর উপনাম আবু জাফর এবং এটিই অধিক প্রসিদ্ধ। বলা হয়ে থাকে আবু মুহাম্মদ এবং আরও বলা হয় আবু হাশিম। তবে সঠিক হলো আবু জাফর। তিনি হিজরী আশি সালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৪৮৮, আল-ইসাবাহ ৪৫৮২)।

(5) আল-আওসী আল-আশহালী। তাঁর উপনাম আবু ইয়াহইয়া এবং আবু আতিক। তিনি ইসলামের অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন আকাবার রজনীর নকীবদের (প্রধানদের) একজন। তিনি উহুদ দিবসে অবিচল ছিলেন এবং সাতটি জখমপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। বদর যুদ্ধে তাঁর উপস্থিত থাকার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তিনি উমরের যুগে হিজরী বিশ সালে অথবা বলা হয় একুশ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৫৪, আল-ইসাবাহ ১৮৩)।

(6) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অশ্বারোহী বীর, আল-খাযরাজী আল-আসলামী। তাঁর নামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়: আল-হারিস ইবনে রিবয়ী, আবার বলা হয়: নুমান ইবনে রিবয়ী, আরও বলা হয়: নুমান ইবনে উমর ইবনে বালদামাহ। তবে প্রথমটিই প্রসিদ্ধ। বদর যুদ্ধে তাঁর উপস্থিত থাকার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে এবং তিনি উহুদ ও পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আলীর সাথে তাঁর সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং হিজরী চল্লিশ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৩১৩০, আল-ইসাবাহ ৯১৩ উপনামসমূহ)।

(7) সিমাক ইবনে খারাশাহ। বলা হয়: সিমাক ইবনে আওস ইবনে খারাশাহ, তবে অধিকাংশের মতে 'আওস' শব্দটি বাদ দিয়ে। তিনি আল-খাযরাজী।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٣١)
39 - أسامة بن زيد بن حارثة يكنى أبا محمَّد (1).

40 - أبو طلحة الأنصاري زيد بن سهل (2).

41 - سلمان الفارسي يكنى أبا عبد الله (3).

42 - أبو ذر الغفاري جندب بن جنادة (4).

43 - أبو الدرداء الأنصاري عويمر بن عامر ويقال: ابن مالك (5).

44 - حذيفة بن اليمان يكنى أبا عبد الله (6).

--------------------------------------------

الأنصاري مشهور بكنيته شهد بدرًا فما بعدها وكان أحد الشجعان استشهد يوم اليمامة وقيل: عاش حتى شهد مع علي صفين. (الإستيعاب 1060، الإصابة 373 "كنى").

(1) ولد بمكة ونشأ على الإِسلام وكان الرسول صلى الله عليه وسلم يحبه، وأمّره على الجيش الذي فيه أبو بكر وعمر. يكنى: أبا محمَّد وقيل: أبا زيد توفي بالجرف سنة أربع وخمسين للهجرة. (الإستيعاب 21، الإصابة 189).

(2) النجاري الخزرجي مشهور بكنيته ووهم من سماه سهل بن زيد شهد بدرًا فما بعدها وتوفي سنة خمسين أو إحدى وخمسين هجرية. (الإستيعاب 850، الإصابة 2899).

(3) ابن الإِسلام وسلمان الخير أصله من رام هرمز وقيل: من أصبهان خرج بحثًا عن الرسول الذي سيبعث وبيع بالمدينة وأول مشاهده الخندق وشهد ما بعدها، وفتوح العراق وولي المدائن عُمّر طويلًا، وجزم الذهبي أنه لم يجاوز الثمانين مات سنة اثنتين وثلاثين أو ثلاث وثلاثين للهجرة. (الإستيعاب 1014، الإصابة 3350).

(4) أسلم قديمًا بعد ثلاثة أو أربعة ثم رجع إلى قومه وقدم إلى المدينة بعد الخندق فصحب الرسول عليه الصلاة والسلام حتى مات وبعد وفاة أبي بكر خرج إلى الشام حتى أسكنه عثمان الربذة ومات بها سنة اثنتين وثلاثين للهجرة اختلف في اسمه كثيرًا والأشهر ما ذكر هنا. (الإستيعاب 340، الإصابة 1210).

(5) الخزرجي مشهور بكنيته اختلف في اسمه واسم أبيه والأشهر ما ذكر هنا، أسلم يوم بدر وشهد أحدًا فأبلى فيها كان من العلماء الحكماء مات بالشام سنة اثنتين وثلاثين للهجرة. (الإستيعاب 2940، الإصابة 6111).

(6) حذيفة بن حسل بن جابر العبسي حليف بني عبد الأشهل وأمه أوسية أنصارية واليمان لقب لأبيه، كان حذيفة صاحب سر رسول الله صلى الله عليه وسلم صده المشركون عن شهود بدر، ولاه
৩৯ - উসামা বিন যায়িদ বিন হারিসা, তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ (১)।

৪০ - আবু তালহা আল-আনসারী যায়িদ বিন সাহল (২)।

৪১ - সালমান আল-ফারিসী, তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ (৩)।

৪২ - আবু যার আল-গিফারী জুনদুব বিন জুনাদা (৪)।

৪৩ - আবু আদ-দারদা আল-আনসারী উওয়াইমির বিন আমির, মতান্তরে ইবনে মালিক (৫)।

৪৪ - হুজাইফা বিন আল-ইয়ামান, তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ (৬)।

--------------------------------------------

আল-আনসারী তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। তিনি বদর ও পরবর্তী যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তিনি অন্যতম সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। আবার বলা হয়: তিনি আলী (রা.)-এর সাথে সিফফিনের যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। (আল-ইসতিআব ১০৬০, আল-ইসাবাহ ৩৭৩ "কুনুন")।

(১) তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ইসলামের ওপর বেড়ে ওঠেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ভালোবাসতেন এবং তাঁকে সেই বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন যাতে আবু বকর ও উমর (রা.) ছিলেন। তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ, মতান্তরে আবু যায়িদ। তিনি হিজরি চুয়ান্ন সালে আল-জুরুফ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। (আল-ইসতিআব ২১, আল-ইসাবাহ ১৮৯)।

(২) আন-নাজ্জারি আল-খাজরাজি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। যিনি তাঁকে সাহল বিন যায়িদ নামকরণ করেছেন তিনি ভুল করেছেন। তিনি বদর এবং তার পরবর্তী যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেছেন এবং হিজরি পঞ্চাশ বা একান্ন সালে ইন্তেকাল করেন। (আল-ইসতিআব ৮৫০, আল-ইসাবাহ ২৮৯৯)।

(৩) ইসলামের সন্তান এবং সালমান আল-খায়ের। তাঁর আদি নিবাস ছিল রাম হুরমুজ, মতান্তরে আসফাহান। তিনি সেই রাসূলের খোঁজে বের হয়েছিলেন যিনি প্রেরিত হবেন এবং মদিনায় ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হন। তাঁর প্রথম প্রত্যক্ষ করা যুদ্ধ ছিল খন্দক এবং পরবর্তীতে অন্যান্য যুদ্ধেও শরিক হন। ইরাক বিজয় ও মাদায়েনের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন। আয-যাহাবী নিশ্চিত করে বলেছেন যে, তিনি আশি বছর অতিক্রম করেননি। তিনি হিজরি বত্রিশ বা তেত্রিশ সালে ইন্তেকাল করেন। (আল-ইসতিআব ১০১৪, আল-ইসাবাহ ৩৩৫০)।

(৪) তিনি অনেক আগে তৃতীয় বা চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর নিজ কওমের কাছে ফিরে যান এবং খন্দকের যুদ্ধের পর মদিনায় আসেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত পর্যন্ত তাঁর সাহচর্যে ছিলেন। আবু বকরের ওফাতের পর তিনি শামের উদ্দেশ্যে বের হন এবং উসমান (রা.) তাঁকে রাবযাহ নামক স্থানে বসবাস করতে পাঠান, সেখানেই তিনি হিজরি বত্রিশ সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর নাম নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে, তবে এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেটিই অধিক প্রসিদ্ধ। (আল-ইসতিআব ৩৪০, আল-ইসাবাহ ১২১০)।

(৫) আল-খাজরাজি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর ও তাঁর পিতার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেটিই অধিক প্রসিদ্ধ। তিনি বদরের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরত্ব প্রদর্শন করেন। তিনি জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হিজরি বত্রিশ সালে শামে ইন্তেকাল করেন। (আল-ইসতিআব ২৯৪০, আল-ইসাবাহ ৬১১১)।

(৬) হুজাইফা বিন হুসাইল বিন জাবির আল-আবাসি। বনু আবদিল আশহাল গোত্রের মিত্র। তাঁর মাতা আওস গোত্রের আনসারী নারী ছিলেন। আল-ইয়ামান ছিল তাঁর পিতার উপাধি। হুজাইফা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন রহস্যের আমানতদার। মুশরিকরা তাঁকে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বাধা দিয়েছিল, তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
45 - أبو بُرْدة بن نيار الأنصاري اسمه هانئ (1).

46 - أبو أُسيد الأنصاري مالك بن ربيعة (2).

47 - أبو موسى الأشعري عبد الله بن قيس (3).

48 - وأخوه لأمه أبو عامر الأشعري اسمه عبيد بن وهب (4).

49 - خُوات بن جبير الأنصاري يكنى أبا عبد الله (5).

50 - أبو رهم الغفاري اسمه كلثوم بن حصين (6).

--------------------------------------------

عمر المدائن وتوفي سنة ست وثلاثين. (الإستيعاب 495، الإصابة 11643).

(1) البَلَوي حليف الأنصار، خال البراء بن عازب مشهور بكنيته واختلف في اسمه والمشهور هانئ شهد بدرًا فما بعدها وشهد مع علي حروبه كلها وتوفي سنة إحدى وأربعين وقيل: اثنتين وأربعين وقيل: خمس وأربعين. (الإستيعاب 2869، الإصابة 116 "كنى").

(2) الخزرجي الساعدي مشهور بكنيته شهد بدرًا وأحدًا وما بعدها، ذهب بصره في آخر حياته وهو آخر من مات من البدريين توفي سنة ستين للهجرة بالمدينة. (الإستيعاب 2266، الإصابة 7622).

(3) مشهور بكنيته هاجر إلى أرض الحبشة ثم قدم ورسول الله صلى الله عليه وسلم بخيبر، وكان قد أسلم قديمًا ولَّاه عمر البصرة ثم ولي الكوفة لعثمان ولم يزل عليها حتى قُتِلَ عثمان توفي بمكة وقيل: بالكوفة سنة اثنتين وأربعين أو أربع وأربعين للهجرة. (الإستيعاب 3193، الإصابة 4889).

(4) اختلف في اسمه فقيل: عبد الله بن هانئ وجزم البخاري بأنه عبيد بن وهب وقيل: عبد الله بن عامر وقيل: عبيد الله بن عامر وقيل غير ذلك. ذكره خليفة فيمن نزل الشام من الصحابة من قبائل اليمن وتوفى في خلافة عبد الملك بن مروان. (الإستيعاب 3064، الإصابة 690 "كنى").

تنبيه: لم يذكروا أنه أخ لأبي موسى الأشعري لأمه فالله أعلم.

(5) الأوسي أبو عبد الله وقال الواقدي: أبو صالح وكذلك قاله مسلم في الكنى، خرج مع رسول الله إلى بدر فأصاب ساقه حجر فرجع فضرب له الرسول عليه السلام بسهم وشهد أحدًا فما بعدها توفي سنة أربعين للهجرة. (مسلم في الكنى ص 131، الإستيعاب 686، الإصابة 1573).

(6) مشهور بكنيته وباسمه أسلم بعد قدوم الرسول صلى الله عليه وسلم المدينة وشهد أحدًا فرمي بسهم في نحره فبصق الرسول عليه السلام عليه فبرأ فسمي المنحور استخلفه الرسول صلى الله عليه وسلم على المدينة في عمرة القضاء، وعام فتح مكة، وكان ممن بايع تحت الشجرة. (الإستيعاب 2960، الإصابة 7436).
৪৫ - আবু বুরদাহ ইবনে নিইয়ার আল-আনসারী, তাঁর নাম হানি (১)।

৪৬ - আবু উসাইদ আল-আনসারী, মালিক ইবনে রাবিআহ (২)।

৪৭ - আবু মুসা আল-আশআরী, আবদুল্লাহ ইবনে কায়স (৩)।

৪৮ - এবং তাঁর বৈমাত্রেয় (মায়ের দিক থেকে) ভাই আবু আমির আল-আশআরী, তাঁর নাম উবাইদ ইবনে ওয়াহাব (৪)।

৪৯ - খুওয়াত ইবনে জুবাইর আল-আনসারী, তাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ (৫)।

৫০ - আবু রুহম আল-গিফারী, তাঁর নাম কুলসুম ইবনে হুসাইন (৬)।

--------------------------------------------

মাদায়েনে বসবাস করেন এবং ছত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইস্তিআব ৪৯৫, আল-ইসাবাহ ১১৬৪৩)।

(১) আল-বালাউয়ী, আনসারদের মিত্র, বারা ইবনে আযিবের মামা। তিনি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ আছে, তবে প্রসিদ্ধ নাম হলো হানি। তিনি বদর এবং পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আলীর সাথে তাঁর সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং একচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কেউ কেউ বলেন বিয়াল্লিশ হিজরি আবার কেউ বলেছেন পঁয়তাল্লিশ হিজরি। (আল-ইস্তিআব ২৮৬৯, আল-ইসাবাহ ১১৬ "উপনামসমূহ")।

(২) আল-খাযরাজী আস-সাঈদী, তিনি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। তিনি বদর, উহুদ এবং পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন। শেষ জীবনে তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি। ষাট হিজরিতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইস্তিআব ২২৬৬, আল-ইসাবাহ ৭৬২২)।

(৩) তিনি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। তিনি হাবশা অভিমুখে হিজরত করেছিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বারে ছিলেন তখন তিনি ফিরে আসেন। তিনি প্রাচীনকালেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। উমর তাঁকে বসরার গভর্নর নিয়োগ করেন, অতঃপর উসমান তাঁকে কুফার গভর্নর নিয়োগ করেন এবং উসমান নিহত হওয়া পর্যন্ত তিনি সেই পদে বহাল ছিলেন। মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেন কুফায়—বিয়াল্লিশ বা চুয়াল্লিশ হিজরিতে। (আল-ইস্তিআব ৩১৯৩, আল-ইসাবাহ ৪৮৮৯)।

(৪) তাঁর নামের ব্যাপারে মতভেদ আছে। বলা হয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে হানি। ইমাম বুখারী দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, তাঁর নাম উবাইদ ইবনে ওয়াহাব। আবার বলা হয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে আমির, কেউ বলেছেন ওবায়দুল্লাহ ইবনে আমির, আবার কেউ অন্য কিছু বলেছেন। খলিফা ইবনে খাইয়াত তাঁকে ইয়েমেনের গোত্রগুলোর মধ্য থেকে সিরিয়ায় বসবাসকারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইস্তিআব ৩০৬৪, আল-ইসাবাহ ৬৯০ "উপনামসমূহ")।

সতর্কবার্তা: ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেননি যে তিনি আবু মুসা আল-আশআরীর সহোদর ভাই, সুতরাং আল্লাহই ভালো জানেন।

(৫) আল-আউসী, আবু আবদুল্লাহ। ওয়াকিদী বলেছেন: আবু সালেহ, ইমাম মুসলিমও 'আল-কুনা' গ্রন্থে তাই বলেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহর সাথে বদরের যুদ্ধে বের হয়েছিলেন, কিন্তু একটি পাথরের আঘাতে তাঁর পায়ে চোট লাগায় তিনি ফিরে আসেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তাঁর জন্য গনিমতের একটি অংশ নির্ধারণ করেন। তিনি উহুদ এবং পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন। চল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (মুসলিম ফি আল-কুনা পৃষ্ঠা ১৩১, আল-ইস্তিআব ৬৮৬, আল-ইসাবাহ ১৫৭৩)।

(৬) তিনি তাঁর উপনাম ও নামে সমধিক পরিচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখন তাঁর ঘাড়ে একটি তীর নিক্ষেপ করা হয়েছিল, অতঃপর রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাম সেখানে থুতু দিলেন এবং তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন। এ কারণে তাঁকে 'আল-মানহুর' (ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত) বলা হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমরাতুল কাযা এবং মক্কা বিজয়ের বছর তাঁকে মদিনায় স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। তিনি গাছের নিচে বাইয়াত গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (আল-ইস্তিআব ২৯৬০, আল-ইসাবাহ ৭৪৩৬)।
(খণ্ড: ১) আত-তারীখ ওয়া আসমাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া কুনা-হুম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
51 - أبو بصرة الغفاري اسمه جميل بن نصر ويقال: حُميل (1).

52 - أبو محذورة الجمحي سمرة بن معين (2).

53 - أبو هريرة الدوسي اسمه عبد شمس ويقال: سكين (3).

54 - عمران بن حصين الخزاعي يكنى أبا محمَّد (4).

55 - أبو بكرة مولى النبي صلى الله عليه وسلم اسمه نفيع (5).

56 - أبو عياش الزُرْقي زيد بن الصامت (6).

57 - معقل بن يسار المزني يكنى أبا علي (7).

--------------------------------------------

(1) الأصح أن اسمه جميل كما في الإستيعاب روى عن النبي صلى الله عليه وسلم سكن الحجاز ثم تحول إلى مصر وبها توفي. (الإستيعاب 2874، الإصابة 116 "الكنى"، الكنى لمسلم ص 92 وسماه: حُميل).

(2) القرشي المؤذن اختلف في اسمه واسم أبيه فقيل: أوس بن مِعْير ومال إليه ابن عبد البر، وقيل: اسمه سمرة بن معير ذكره مسلم والإمام أحمد ورجحه ابن ماكولا وقال ابن حجر: هو المشهور وقيل: سمرة بن معين، أسلم عام الفتح وتوفي سنة تسع وخمسين وقبل: تسع وسبعين للهجرة بمكة. (الإستيعاب 3162، الإصابة 1010 "كنى"، الكنى لأحمد رقم 13، كنى مسلم ص 185).

(3) الأزدي الأوسي حافظ الصحابة لازم الرسول صلى الله عليه وسلم ثلاث سنين وأخذ عنه الكثير وهو أكثر الصحابة حديثا، اختلف في اسمه كثيرًا والأقرب أن اسمه بعد الإِسلام عبد الرحمن، تولى إمرة المدينة وتوفي سنة تسع وخمسين وقيل: سبع وخمسين. (الإستيعاب 3208، الإصابة 1180).

(4) الخزاعي كان إسلامه عام خيبر وغزا عدة غزوات وكان صاحب راية خزاعة يوم الفتح، أرسله عمر إلى البصرة ليفقه أهلها وقال الطبراني: أسلم قديمًا يكنى أبا نجيد بابنه كما في المصادر ولم أر من تابع المقدمي في تكنيته ابا محمَّد، توفي في البصرة سنة اثنتين وخمسين للهجرة. (الإستيعاب 1969، الإصابة 6005).

(5) مشهور بكنيته اسمه نفيع بن الحارث وقيل: ابن مسروح وقيل: اسمه مسروح، كان من فضلاء الصحابة سكن البصرة وكان تدلى إلى النبي صلى الله عليه وسلم من حصن الطائف ببكرة فاشتهر بأبي بكرة، اعتزل الفتنة، توفي سنة إحدى وخمسين. (الإستيعاب 266، الإصابة 8794).

(6) الخزرجي الأنصاري مشهور بكنيته واختلف في اسمه فقيل: زيد بن نعمان وقيل: عبيد بن زيد والأكثر على أنه: زيد بن الصامت، شهد أحدًا فما بعدها وتوفي بعد سنة أربعين هجرية أو بعد خمسين. (الإستيعاب 3111، الإصابة 2902).

(7) أسلم قبل الحديبية وشهد بيعة الرضوان وإليه ينسب نهر معقل بالبصرة، نزل البصرة ومات
51 - আবু বাসরাহ আল-গিফারী, তাঁর নাম জামিল ইবনে নাসর এবং বলা হয়: হুমাইল (১)।

52 - আবু মাহজুরাহ আল-জুমাহি সামুরাহ ইবনে মুঈন (২)।

53 - আবু হুরায়রাহ আদ-দাওসী, তাঁর নাম আবদু শামস এবং বলা হয়: সুকাইন (৩)।

54 - ইমরান ইবনে হুসাইন আল-খুজাঈ, তাঁর কুনিয়াত আবু মুহাম্মাদ (৪)।

55 - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্ত দাস আবু বাকরাহ, তাঁর নাম নুফাই (৫)।

56 - আবু আইয়াশ আজ-যুরাকী যায়েদ ইবনে সামিত (৬)।

57 - মা'কিল ইবনে ইয়াসার আল-মুযানী, তাঁর কুনিয়াত আবু আলী (৭)।

--------------------------------------------

(১) অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো তাঁর নাম জামিল, যেমনটি 'আল-ইসতিআব' গ্রন্থে এসেছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হিজাজে বসবাস করতেন, এরপর মিশরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ২৮৭৪, আল-ইসাবাহ ১১৬ "কুনা", মুসলিমের আল-কুনা পৃ. ৯২, যেখানে তিনি তাকে হুমাইল নামকরণ করেছেন)।

(২) কুরায়শী মুয়াজ্জিন। তাঁর নাম এবং তাঁর পিতার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: আউস ইবনে মি'ইয়ার এবং ইবনে আবদুল বার এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন। আবার বলা হয়েছে: তাঁর নাম সামুরাহ ইবনে মি'ইয়ার; এটি ইমাম মুসলিম এবং ইমাম আহমদ উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে মাকুলা এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ইবনে হাজার বলেছেন: এটিই প্রসিদ্ধ। আবার বলা হয়েছে: সামুরাহ ইবনে মুঈন। তিনি মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হিজরি ঊনষাট সালে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয়েছে: মক্কায় ঊনআশি হিজরিতে। (আল-ইসতিআব ৩১৬২, আল-ইসাবাহ ১০১০ "কুনা", আহমদের কুনা নং ১৩, মুসলিমের কুনা পৃ. ১৮৫)।

(৩) আল-আযদি আল-দাওসী, সাহাবীদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হাফেজ। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তিন বছর সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী। তাঁর নাম নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে এবং অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম আবদুর রহমান। তিনি মদিনার গভর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং হিজরি ঊনষাট সালে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয়েছে: সাতান্ন সালে। (আল-ইসতিআব ৩২০৮, আল-ইসাবাহ ১১৮০)।

(৪) আল-খুজাঈ। খাইবার যুদ্ধের বছর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি খুজাআহ গোত্রের পতাকাবাহী ছিলেন। উমর (রা.) তাঁকে বসরার অধিবাসীদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। তাবারানি বলেন: তিনি অনেক আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাঁর পুত্রের নামানুসারে তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু নুজাইদ, যেমনটি উৎসসমূহে পাওয়া যায়। মুকাদ্দামি যে তাঁকে আবু মুহাম্মাদ কুনিয়াত দিয়েছেন তার অনুসরণ করতে আমি কাউকে দেখিনি। তিনি হিজরি বায়ান্ন সালে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ১৯৬৯, আল-ইসাবাহ ৬০০৫)।

(৫) তিনি তাঁর কুনিয়াত বা ডাকনামেই প্রসিদ্ধ। তাঁর নাম নুফাই ইবনে আল-হারিস, বলা হয়েছে ইবনে মাসরুহ, আবার বলা হয়েছে তাঁর নাম মাসরুহ। তিনি মর্যাদাবান সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বসরায় বসবাস করতেন। তিনি তায়েফের দুর্গ থেকে কপিকলের (বাকরাহ) সাহায্যে ঝুলে নিচে নেমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন, তাই তিনি আবু বাকরাহ নামে প্রসিদ্ধ হন। তিনি ফিতনা থেকে দূরে ছিলেন। হিজরি একান্ন সালে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ২৬৬, আল-ইসাবাহ ৮৭৯৪)।

(৬) আল-খাযরাজী আল-আনসারী। তিনি তাঁর কুনিয়াত বা ডাকনামেই প্রসিদ্ধ এবং তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: যায়েদ ইবনে নুমান, বলা হয়েছে: উবাইদ ইবনে যায়েদ। তবে অধিকাংশের মতে তিনি হলেন যায়েদ ইবনে সামিত। তিনি উহুদ এবং তৎপরবর্তী যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেছেন এবং হিজরি চল্লিশ কিংবা পঞ্চাশ সালের পর মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসতিআব ৩১১১, আল-ইসাবাহ ২৯০২)।

(৭) হুদায়বিয়ার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করেন। বসরার 'মা'কিল খাল' তাঁর নামেই নামকরণ করা হয়েছে। তিনি বসরায় আগমন করেন এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।