(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية الصحيحة محاولة لتطبيق قواعد المحدثين في نقد روايات السيرة النبوية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السيرة النبوية الصحيحة
(محاولة لتطبيق قواعد المحدثين في نقد روايات السيرة النبوية)
المؤلف: د. أكرم ضياء العمري
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة
الطبعة: السادسة، 1415 هـ - 1994 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1435
সহীহ সীরাতুত নবী: সীরাতুত নবীর বর্ণনাসমূহ বিচারে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি প্রয়োগের একটি প্রচেষ্টা বিভাগ: সীরাতুত নবী
বই: সহীহ সীরাতুত নবী
(সীরাতুত নবীর বর্ণনাসমূহ বিচারে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি প্রয়োগের একটি প্রচেষ্টা)
লেখক: ড. আকরাম জিয়া আল-উমারী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদীনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: ষষ্ঠ, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বর সম্বলিত)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশনা তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
السِّيرةُ النَّبَويَّةُ الصَّحيْحَةُ
مُحَاوَلَةٌ لِتَطبِيْقِ قَوَاعِدِ المُحَدِّثيْنَ فِيْ نَقْدِ روَايَاتِ السِّيْرَةِ النَّبَويَّةِ
تَأليف
الدكتور أكرم ضياء العمري
الجزْء الأَوَّل
النَاشِر
مَكتَبة العُلوم وَالحِكْمَ
المدَينَة المُنَوَّرة
সহীহ সীরাতে নববী
সীরাতে নববীর বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতিসমূহ প্রয়োগের একটি প্রয়াস
রচনা
ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারী
প্রথম খণ্ড
প্রকাশক
মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম
মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
السِّيرةُ النَّبَويَّةُ الصَّحيْحَةُ
(1)
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة السادسة
1415 هـ - 1994 م
مَكتَبة العُلوم وَالحِكْمَ
ص. ب688
هاتف:8473148 - 8263356
المدَينَة المُنَوَّرة - المملكة العربية السعودية
সর্বস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত
ষষ্ঠ সংস্করণ
১৪১৫ হিজরী - ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ
মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম
ডাক বাক্স ৬৮৮
ফোন: ৮৪৭৩১৪৮ - ৮২৬৩৩৫৬
মদিনা মুনাওয়ারা - সৌদি আরব রাজ্য
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (3) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5) اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)}
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১) সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য (২) পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু (৩) বিচার দিবসের মালিক (৪) আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি (৫) আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬) তাদের পথ যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয় যারা ক্রোধভাজন এবং যারা পথভ্রষ্ট (৭)}
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
{قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}
قرآن كريم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
{বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।}
কুরআন কারীম
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَّا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)}.
* * *
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)}।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন (১)}।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে (৭১)}।
* * *
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
{إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ}
{নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই আল্লাহকে ভয় করেন।}
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقَدّمَةالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه أجمعين.
إن الاهتمام بكتابة السيرة النبوية ظهر مبكراً في تاريخ الإسلام، وقد تناولها بالتصنيف المؤرخون والمحدثون في القرون الأولى.
وتمتاز كتابات المؤرخين مثل الواقدي والبلاذري بالعناية بمراعاة ترتيب الأحداث ترتيباً زمنياً وموضوعياً، في حين تظهر التجزئة للأحداث في كتابات المحدثين الذين التزموا بقواعد الرواية وتمييز الأسانيد عن بعضها، وربما قطَّعوا الرواية الواحدة فخرجوا بعضها في مكان وبقيتها في مكان آخر لموضوعات (تراجم) مؤلفاتهم، كما يظهر ذلك جلياً في قسم المغازي الذي كتبه الإمام البخاري ضمن صحيحه، ويظهر بصورة أخف في صحيح الإمام مسلم بسبب عنايته الخاصة بسرد المتون الطويلة وتحرير ألفاظها. لأنه أقل عناية من البخاري بتقطيع الرواية حسب تراجم كتابه.
وبعض المؤلفين جمع بين صفتي المحدث والمؤرخ مثل محمد بن إسحاق وخليفة بن خياط، ويعقوب بن سفيان الفَسَوى، ومحمد بن جرير الطبري، وهؤلاء أفادوا من منهج المحدثين بالتزام سرد الأسانيد ومحاولة إكمال صورة الحادث عن طريق جمع الأسانيد أحياناً أو سرد الروايات التي تشكل وحدة موضوعية تحت عناوين دالة.
ولكن سائر الذين كتبوا في السيرة اهتموا بجمع ما أمكنهم من الروايات وتدوينها دون أن يشترطوا الصحة فيما يكتبونه، وأحالوا القارئ على الأسانيد التي أوردوها ليعرف الصحيح من الضعيف، ويشذ عن ذلك البخاري ومسلم حيث شرطا الصحة فيما روياه من روايات السيرة ضمن كتابيهما في الصحيح.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
ইসলামী ইতিহাসে সীরাতে নববী রচনার প্রতি গুরুত্বারোপ অনেক আগেই সূচিত হয়েছিল। প্রথম শতাব্দীগুলোতে ইতিহাসবিদ এবং মুহাদ্দিসগণ গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন।
আল-ওয়াকিদী এবং আল-বালাযুরীর মতো ইতিহাসবিদদের রচনাসমূহ ঘটনাবলিকে সময়ানুক্রমিক ও বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস বজায় রাখার বিশেষত্বের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। পক্ষান্তরে, সেই সকল মুহাদ্দিসগণের রচনায় ঘটনাবলির খণ্ডিতাংশ পরিলক্ষিত হয় যারা বর্ণনার নিয়মাবলি এবং একটির সাথে অন্যটির সনদের পার্থক্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। সম্ভবত তারা একই বর্ণনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করেছেন, ফলে তাদের গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তু (অধ্যায় বা পরিচ্ছেদ) অনুযায়ী সেই বর্ণনার কিছু অংশ এক স্থানে এবং বাকি অংশ অন্য স্থানে উল্লেখ করেছেন। যেমনটি ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের ‘মাগাযী’ অংশে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন; আর এটি ইমাম মুসলিমের ‘সহীহ’ গ্রন্থে তুলনামূলক কম দেখা যায়, কারণ তিনি দীর্ঘ পাঠ (মতন) বর্ণনা করা এবং সেগুলোর শব্দবিন্যাস যথাযথভাবে সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন। এর কারণ হলো, তিনি তাঁর গ্রন্থের অধ্যায় অনুযায়ী বর্ণনাকে খণ্ড খণ্ড করার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর চেয়ে কম মনোযোগী ছিলেন।
আবার কিছু লেখক মুহাদ্দিস এবং ইতিহাসবিদ—উভয় গুণের সমন্বয় করেছিলেন। যেমন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, খলিফা বিন খাইয়্যাত, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফাসাওয়ী এবং মুহাম্মদ বিন জারীর আত-তাবারী। তারা মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়েছিলেন সনদের ধারাক্রম বজায় রাখার ক্ষেত্রে এবং কখনও কখনও বিভিন্ন সনদ একত্রিত করার মাধ্যমে অথবা নির্দিষ্ট শিরোনামের অধীনে বিষয়ভিত্তিক একতা বজায় রাখে এমন বর্ণনাসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টার মাধ্যমে।
তবে সীরাত বিষয়ে যারা লিখেছেন তাদের অবশিষ্ট সকলে যতটা সম্ভব বর্ণনা সংগ্রহ এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে তারা যা কিছু লিখেছেন তার বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) শর্তারোপ করেননি এবং পাঠকের সামনে সনদগুলো উপস্থাপন করেছেন যাতে পাঠক নিজেই সহীহ ও যঈফ (দুর্বল) বর্ণনাগুলো চিনে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে বুখারী ও মুসলিম ব্যতিক্রম ছিলেন, কেননা তারা তাদের ‘সহীহ’ গ্রন্থদ্বয়ে সীরাত সম্পর্কিত যে বর্ণনাসমূহ এনেছেন তার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) শর্তারোপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكان المتخصصون في القرون الأولى يعرفون الرواة وأحوالهم والأسانيد وشروط صحتها، فكان بوسعهم الحكم على الروايات وتمييزها، لكن هذه المعرفة بالرجال والأسانيد لم تعد من أسس الثقافة في القرون المتأخرة، بل يندر أن تجد من يهتم بذلك من مثقفي هذا العصر، لذلك جاءت كتابات المعاصرين من الكتاب والمؤرخين خلواً من تمييز الروايات وفق قواعد مصطلح الحديث، ولكن كبار المؤرخين في عصرنا يترسمون مناهج (النقد التاريخي) الذي ظهر ونما في الغرب خلال القرنين الأخيرين، وهم يتعاملون مع روايات السيرة من خلال هذه المناهج النقدية التي وضعت بعد استقراء الكتابات التاريخية الغربية، ولم تكيف للتعامل مع الرواية التاريخية الإسلامية التي لها سماتها الخاصة والتي من أبرزها وجود سلاسل السند التي تتقدم الرواية عادة، والتي يعتمد منهج المحدثين عليها بالدرجة الأولى في الحكم على الرواية بالصحة أو عدمها. مما أدى إلى ظهور مكتبة ضخمة مَعْنِيَّة بتراجم الرواة وبيان أحوالهم وإمكان التقائهم ببعضهم أو عدمه، والحكم عليهم من خلال استقراء مروياتهم بالإضافة إلى رأي معاصريهم فيهم، وهذه الثورة الهائلة من المعلومات والمكتبة النفيسة ظلت بمعزل عن الإفادة منها في الدراسات التاريخية المتعلقة بتاريخ الإسلام ومنها دراسات السيرة. وما أعظمها من خسارة أن نئد جهود المئات من كبار العلماء الذين قدموا لنا هذه الخدمة الخاصة بالتعامل مع "الرواية التاريخية الإسلامية". بسبب جهلنا بقيمتها والتزامنا الحرفي بمنهج النقد التاريخي الغربي. (Historical Method)
وهنا تلزم الإشارة إلى أن إهمال نقد الأسانيد في الرواية التاريخية الإسلامية والاكتفاء بنقد المتون يوقعنا في حيرة أمام الروايات الكثيرة المتعارضة عندما تكون متونها جميعاً متفقة مع المقاييس والقواعد النقدية العقلية، وهذا يحدث مع كثير من تفاصيل الأحداث التأريخية، وخاصة المتعلقة بتاريخ صدر الإسلام. إن ذلك يحتم علي الباحث استعمال منهج المحدثين في نقد الأسانيد وإلا فإنه سيقف أمام العديد من المشاكل دون حل أو ترجيح.
প্রথম শতাব্দীগুলোতে বিশেষজ্ঞগণ বর্ণনাকারী, তাঁদের অবস্থা, সনদ এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতার শর্তাবলি সম্পর্কে অবগত ছিলেন; ফলে তাঁদের পক্ষে বর্ণনাগুলো বিচার করা এবং সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব ছিল। কিন্তু বর্ণনাকারী এবং সনদ সংক্রান্ত এই জ্ঞান পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হিসেবে আর অবশিষ্ট থাকেনি, বরং বর্তমান যুগের শিক্ষিত সমাজের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহী কাউকে পাওয়া বিরল। এ কারণেই সমসাময়িক লেখক ও ঐতিহাসিকদের রচনাগুলো হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা অনুযায়ী বর্ণনা যাচাই-বাছাইয়ের পদ্ধতি থেকে মুক্ত হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান সময়ের বড় বড় ঐতিহাসিকগণ গত দুই শতাব্দীতে পশ্চিমে বিকশিত 'ঐতিহাসিক সমালোচনা' পদ্ধতির অনুকরণ করেন। তাঁরা পশ্চিমা ঐতিহাসিক রচনাবলি পর্যালোচনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই সমালোচনা পদ্ধতির আলোকেই সিরাত বা জীবনীর বর্ণনাগুলোর বিচার-বিশ্লেষণ করেন। অথচ এই পদ্ধতিগুলো ইসলামি ঐতিহাসিক বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তৈরি করা হয়নি, যার নিজস্ব কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো বর্ণনার পূর্বে সনদের ধারাবাহিকতা বিদ্যমান থাকা, যার ওপর ভিত্তি করেই মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি প্রধানত বর্ণনার বিশুদ্ধতা বা অশুদ্ধতার ফয়সালা দেয়। এর ফলে বর্ণনাকারীদের জীবনী, তাঁদের অবস্থা এবং তাঁদের পারস্পরিক সাক্ষাতের সম্ভাবনা বা অসম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য একটি বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে উঠেছে, যেখানে তাঁদের বর্ণিত হাদিসসমূহ ও সমসাময়িকদের মতামতের ভিত্তিতে তাঁদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে। তথ্যের এই বিশাল বিপ্লব এবং মূল্যবান জ্ঞানভাণ্ডার ইসলামের ইতিহাস এবং সিরাত সংক্রান্ত ঐতিহাসিক গবেষণায় যথাযথভাবে কাজে লাগানো থেকে বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত বড় একটি ক্ষতি যে, আমাদের 'ইসলামি ঐতিহাসিক বর্ণনা' নিয়ে কয়েকশ বড় বড় আলেমদের সেই অক্লান্ত পরিশ্রমকে আমরা বিলীন করে দিচ্ছি; যার কারণ হলো সেগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা এবং পশ্চিমা ঐতিহাসিক সমালোচনা পদ্ধতির (ঐতিহাসিক পদ্ধতি) প্রতি আমাদের আক্ষরিক আনুগত্য।
এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইসলামি ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদের সমালোচনা উপেক্ষা করা এবং কেবল মূল পাঠ বা মতনের সমালোচনার ওপর সন্তুষ্ট থাকা আমাদের অসংখ্য পরস্পরবিরোধী বর্ণনার সামনে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়; বিশেষ করে যখন সেই বর্ণনাগুলোর মূল পাঠসমূহ যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ইতিহাসের বহু ঘটনার বর্ণনায় এমনটি ঘটে থাকে, বিশেষ করে ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের ইতিহাসের ক্ষেত্রে। এটি একজন গবেষকের জন্য সনদের সমালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি ব্যবহার করাকে অপরিহার্য করে তোলে; অন্যথায় তিনি কোনো সমাধান বা কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া ছাড়াই অসংখ্য সমস্যার সম্মুখীন হবেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إن هذا لا يعني غمط النقد الغربي حقه، والتعسف في الحكم عليه، فلا شك أنه ثمرة عقول مفكرين كبار، طوروه من خلال التجربة والاستقراء، فأضاف اللاحق منهم على السابق حتى وصل إلى ما وصل إليه من تكامل وشمول وعمق، وهو يلتقي في كثير من جزئياته وقواعده وأصوله بمنهج العلماء المسلمين الذين سبقوا الغربيين في هذا الميدان بعدة قرون، مما يدل على جذور التأثير الإسلامي في الفكر الأوروبي منذ أن حصل التماس بين الغرب وحضارة الإسلام في العصور الوسطى الأوروبية. خاصة إذا أخذنا بعين الاعتبار أن منهج البحث العلمي عند المسلمين لا يقتصر على معطيات مدرسة المحدثين، فهناك معطيات أخرى يقدمها علماء أصول الفقه في منهجهم المنطقي العقلي وتتبلور في كتب أصول الفقه، ومعطيات يقدمها علماء الطب والفلك والرياضيات المسلمون وتتمثل في منهج البحث التجريبي، وهو المنهج الذي ارتبط في تاريخ الفكر الغربي باسم العالم روجر بيكون الذي عول في دراسته على كتب العرب وحدها كما يصرح غوستاف لوبون (1)، وهو المنهج الذي يرجع إليه الفضل في بلوغ حضارة الغرب المادية إلى مستواها التقني الرائع. ولكن الذي يهم هذه المقدمة منهج المحدثين الذي يهتم مباشرة بالتعامل مع "الرواية الحديثية" وبالتالي يمكن سحبه إلى أقرب ميدان ليتعامل مع "الرواية التأريخية" وهو الذي يلتقي كثيراً مع "منهج البحث التاريخي".
وقد استقر منهج المحدثين في كتب مصطلح الحديث منذ القرن الخامس للهجرة على يد الخطيب البغدادي، ولم تلحق به إضافات أساسية، وإن أعيدت الصياغة والترتيب لأغراض مدرسية على يد ابن الصلاح والقاضي عياض، وجرت إضافات دقيقة نتيجة تطبيق الحافظ الذهبي والحافظ ابن كثير ومن بعدهما الحافظ ابن حجر لهذا المنهج في مؤلفاتهم، ولكن المنهج لم يتعرض لتعديل
--------------------------------------------
এর অর্থ এই নয় যে, পাশ্চাত্য সমালোচনার প্রাপ্য অধিকারকে উপেক্ষা করা হবে কিংবা এর ওপর বিচার করার ক্ষেত্রে অবিচার করা হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি মহান চিন্তাবিদদের বুদ্ধিবৃত্তিক ফসল, যারা একে অভিজ্ঞতা ও আরোহী পদ্ধতির মাধ্যমে বিকশিত করেছেন। ফলে পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের কাজের ওপর ভিত্তি করে সংযোজন করেছেন, যতক্ষণ না এটি বর্তমানের পূর্ণতা, ব্যাপকতা ও গভীরতায় পৌঁছেছে। এটি এর বহু খুঁটিনাটি বিষয়, নিয়ম ও মূলনীতিতে মুসলিম আলেমদের পদ্ধতির সাথে মিলে যায়, যারা এই ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের চেয়ে কয়েক শতাব্দী আগেই অগ্রগামী ছিলেন। এটি ইউরোপীয় মধ্যযুগে পাশ্চাত্যের সাথে ইসলামি সভ্যতার সংস্পর্শ হওয়ার সময় থেকেই ইউরোপীয় চিন্তাধারায় ইসলামি প্রভাবের শেকড় বিদ্যমান থাকার প্রমাণ দেয়। বিশেষ করে যখন আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিই যে, মুসলিমদের কাছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি কেবল মুহাদ্দিসদের ঘরানার উপাত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং সেখানে উসূলুল ফিকহ-এর আলেমগণ তাদের যুক্তিভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতিতে অন্যান্য উপাত্তও প্রদান করেছেন যা উসূলুল ফিকহের গ্রন্থাবলিতে সুস্পষ্ট হয়েছে, এবং মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদগণও উপাত্ত প্রদান করেছেন যা পরীক্ষণমূলক গবেষণা পদ্ধতিতে প্রতিফলিত হয়েছে। এটি সেই পদ্ধতি যা পাশ্চাত্যের চিন্তার ইতিহাসে বিজ্ঞানী রজার বেকনের নামের সাথে সম্পৃক্ত, যিনি তার গবেষণায় কেবল আরবদের বইয়ের ওপরই নির্ভর করেছিলেন—যেমনটি গুস্তাভ লে বোন (১) ব্যক্ত করেছেন। আর এটিই সেই পদ্ধতি যার কল্যাণে পাশ্চাত্যের বস্তুগত সভ্যতা বর্তমানের চমৎকার প্রযুক্তিগত স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ভূমিকার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো মুহাদ্দিসদের পদ্ধতি, যা সরাসরি 'হাদিস বর্ণনার' সাথে কাজ করার প্রতি গুরুত্ব দেয় এবং ফলস্বরূপ একে নিকটবর্তী ক্ষেত্র হিসেবে 'ঐতিহাসিক বর্ণনার' ওপরও প্রয়োগ করা সম্ভব। আর এটিই 'ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতির' সাথে অনেকাংশেই মিলে যায়।
হিজরি পঞ্চম শতাব্দী থেকে খতিব আল-বাগদাদীর হাতে উলূমুল হাদিসের গ্রন্থাবলিতে মুহাদ্দিসদের পদ্ধতি সুস্থিত হয়েছে এবং এতে কোনো মৌলিক সংযোজন করা হয়নি; যদিও ইবনুস সালাহ ও কাযী ইয়াযের মাধ্যমে শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে এর বিন্যাস ও কাঠামো পুনরায় তৈরি করা হয়েছে। হাফিজ যাহাবী, হাফিজ ইবনে কাসীর এবং তাদের পরে হাফিজ ইবনে হাজার কর্তৃক তাদের রচনাবলিতে এই পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে কিছু সূক্ষ্ম সংযোজন সাধিত হয়েছে, তবে পদ্ধতিটি কোনো পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
جوهري، بل تعتبر إضافات الذهبي وابن كثير وابن حجر في جزئيات القواعد العامة، وهي إضافات مهمة تعطينا تصوراً لما كان يمكن أن يصل إليه هذا المنهج من الاكتمال لو استمرت الحركة الفكرية نشيطة في "عالم الإسلام" ولم يتوقف إبداعها ونموها في عصور التخلف الطويلة.
إن الجمع بين معطيات منهج المحدثين ومنهج النقد الغربي يعطي أمثل النتائج إذا حَكَمت الأخير معايير التصور الإسلامي، ولا شك أن الدراسات التاريخية الإسلامية الحديثة ومنها دراسات السيرة النبوية ما زالت في بداية الطريق، وهي تحتاج إلى جهود هائلة للارتقاء بها إلى مستوى الدراسات التاريخية العالمية. ويكفي أن القارئ لدارسة حديثة في السيرة لا يكاد يحس فرقاً مهماً بينها وبين كتاب سيرة ابن هشام أو زاد المعاد على تباين أسلوب ومنهج الكتابين، رغم التطور الهائل في الدراسات الاجتماعية في العصر الحديث. وما تقدمه العلوم الحديثة من معطيات ضخمة تخدم الدراسات الاجتماعية، وللأسف فإننا نعيش على حافة العالم الحديث ولم نجرؤ على اقتحامه لنفيد من معطياته الثرية المتنوعة، مع أن ما ورثناه من أسلافنا في حقل التأليف التاريخي أعظم بكثير مما ورثه المؤرخون الغربيون عن أسلافهم.
وإذا كان النقد التاريخي يبدو ضعيفاً في دراساتنا، فإن التحليل للروايات والتعامل معها يبدو أكثر قصوراً، بسبب النظرة التجزيئية للقضايا والسطحية في التعامل مع الروايات وعدم وضوح التصور الإسلامي لحركة التاريخ ودور الفرد والجماعة والعلاقة الجدلية بين القدر والحرية وقانون السببية والربط بين المقدمات والنتائج. فضلاً على أن الكتب التاريخية القديمة لا تمدنا بمنحى واضح في التحليل والتصور الكلي بسبب اعتمادها على سرد الروايات فقط، إذ قلما يشير المؤرخ الإسلامي القديم للسنن والنواميس والقوانين الاجتماعية التي تحكم حركة التاريخ رغم أن القرآن الكريم لفت نظر المسلمين إلى ذلك كله بوضوح بل أن أحدا من مؤرخي الإسلام لم يحاول إعادة صياغة النظرة القرآنية للتاريخ وتقديم
মৌলিক; বরং সাধারণ নিয়মাবলির খুঁটিনাটি বিষয়ে আয-যাহাবি, ইবনে কাসীর এবং ইবনে হাজারের সংযোজনসমূহ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। এই সংযোজনগুলো আমাদের একটি ধারণা প্রদান করে যে, যদি "ইসলামি বিশ্বে" বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন সক্রিয় থাকত এবং দীর্ঘ অনগ্রসরতার যুগে এর সৃজনশীলতা ও বিকাশ থমকে না যেত, তবে এই মানহাজ বা পদ্ধতি পূর্ণতার কোন স্তরে পৌঁছাতে পারত।
মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি এবং পশ্চিমা সমালোচনা পদ্ধতির উপাত্তসমূহের সমন্বয় সর্বোত্তম ফলাফল প্রদান করে, যদি শেষোক্তটি ইসলামি ভাবধারার মানদণ্ড দ্বারা পরিচালিত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আধুনিক ইসলামি ইতিহাস চর্চা এবং তার অন্তর্ভুক্ত সীরাতুন্নবী বিষয়ক গবেষণাগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে; একে বৈশ্বিক ইতিহাস চর্চার মানে উন্নীত করার জন্য বিশাল প্রচেষ্টার প্রয়োজন। এটিই যথেষ্ট যে, আধুনিক সীরাত বিষয়ক কোনো গবেষণার পাঠক সীরাতে ইবনে হিশাম বা যাদুল মাআদ-এর সাথে এর তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য খুঁজে পান না—যদিও ওই বই দুটির শৈলী ও পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে এবং আধুনিক যুগে সামাজিক বিজ্ঞানে বিশাল উন্নতি সাধিত হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানসমূহ যেসব বিশাল উপাত্ত প্রদান করে তা সামাজিক গবেষণার ক্ষেত্রে সহায়ক; কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা আধুনিক বিশ্বের কিনারায় বাস করছি এবং এর সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় উপাত্তসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য এতে প্রবেশের সাহস করিনি। অথচ ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, তা পশ্চিমা ঐতিহাসিকরা তাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে যা পেয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি মহৎ।
যদি আমাদের গবেষণায় ঐতিহাসিক সমালোচনা দুর্বল বলে প্রতীয়মান হয়, তবে বর্ণনাসমূহের বিশ্লেষণ এবং সেগুলোর প্রয়োগ আরও বেশি ত্রুটিপূর্ণ মনে হয়। এর কারণ হলো বিষয়গুলোর প্রতি খণ্ডিত দৃষ্টিভঙ্গি, বর্ণনাসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগভীরতা এবং ইতিহাসের গতিধারা, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ভূমিকা, তকদীর ও স্বাধীনতার মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক, কার্যকারণ নীতি এবং কারণ ও ফলাফলের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির অস্পষ্টতা। অধিকন্তু, প্রাচীন ইতিহাসগ্রন্থগুলো আমাদের বিশ্লেষণ এবং সামগ্রিক ধারণার ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয় না, কারণ সেগুলো কেবল বর্ণনানির্ভর। প্রাচীন মুসলিম ঐতিহাসিকগণ ইতিহাসের গতিধারা পরিচালনাকারী সামাজিক রীতিনীতি ও নিয়মাবলির দিকে খুব কমই ইঙ্গিত করেছেন, যদিও পবিত্র কুরআন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মুসলমানদের দৃষ্টি সেদিকে আকর্ষণ করেছে। এমনকি ইসলামের ঐতিহাসিকদের মধ্যে কেউ কুরআনিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন করে বিন্যস্ত করার এবং তা উপস্থাপনের চেষ্টা করেননি।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الوقائع والتطبيقات والشواهد التاريخية عليها بشكل نظريات كلية حتى وقت متأخر عندما كتب ابن خلدون مقدمته، رغم أن المفكرين المسلمين تعاملوا مع الفلسفة والمنطق منذ القرون الأولى وأفادوا منها في بناء علوم اللغة وأصول الفقه بوضوح وتصرفوا في ذلك بعقليتهم اليقظة التي تنفي ما يناقض المعتقد الإيماني والتصور الإسلامي، ونجحوا في ذلك إلى حد كبير، وكان نجاحهم في تخطي التجربة يرتبط بمدى وضوح العقيدة وصفائها في عقولهم.
ويرى العديد من الدارسين -وخاصة المستشرقين- أن علماء المسلمين عنوا بنقد أسانيد الروايات وأهملوا نقد متونها، وقد يتصور البعض أن غياب العقلية النقدية هو سبب إهمال محاكمة المتن، وهنا يلزم الانتباه إلى أن هذا الكلام ليس على إطلاقه، فرغم توسع علماء المسلمين في نقد الأسانيد إلا أنهم لم يهملوا نقد المتون ومحاكمتها، بل عنوا بذلك أيضاً، ويصعب حصر الشواهد على ذلك لكثرتها، ولكن لا بأس من الإشارة إلى بعض المحاكمات التاريخية التي استندت إلى نقد المتن.
لقد رفض ابن حزم الرقم الذي ذكرته المصادر الكثيرة عن عدد جند المسلمين في غزوة أحد بناء على محاكمة المتن وفق أقيسة عقلية بحتة.
وقدَّم موسى بن عقبة غزوة بني المصطلق إلى السنة الرابعة مخالفاً معظم كتاب السيرة الذين يجعلونها في السنة السادسة، وتابعه ابن القيم والذهبي بناء على نقد المتن، حيث اشترك سعد بن معاذ بالغزوة وقد استشهد في أعقاب غزوة بني قريظة.
وقد وقع اختلاف في تاريخ غزوة ذات الرقاع بين قدامى المؤرخين بناء على محاكمة المتن، فأخرها البخاري، وتابعه ابن القيم وابن كثير وابن حجر إلى ما بعد خيبر، خلافاً لرأي ابن إسحق والواقدي، بناء على اشتراك أبي موسى الأشعري وأبي هريرة فيها، وقد قدما على النبي صلى الله عليه وسلم بعد فتح خيبر مباشرة.
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি, প্রয়োগ এবং এর ঐতিহাসিক সাক্ষ্যসমূহকে সামগ্রিক তত্ত্ব আকারে উপস্থাপনের বিষয়টি ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমাহ লেখার পূর্ব পর্যন্ত বিলম্বিত ছিল। যদিও মুসলিম চিন্তাবিদগণ প্রথম শতাব্দী থেকেই দর্শন ও যুক্তিশাস্ত্র নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভাষাবিজ্ঞান ও উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র নির্মাণে তা থেকে স্পষ্টভাবে উপকৃত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের জাগ্রত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেছেন, যা ঈমানি আকিদা ও ইসলামি জীবনদর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলোকে বর্জন করে। তাঁরা এতে অনেকাংশেই সফল হয়েছিলেন এবং এই অভিজ্ঞতা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে তাঁদের সাফল্য নির্ভর করত তাঁদের চিন্তায় আকিদার স্বচ্ছতা ও নির্মলতার ওপর।
অনেক গবেষক—বিশেষ করে প্রাচ্যবিদগণ—মনে করেন যে, মুসলিম আলেমগণ বর্ণনার সনদের পর্যালোচনার প্রতি মনোনিবেশ করলেও মতনের (মূল পাঠ) পর্যালোচনায় অবহেলা করেছেন। কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন যে, এই পর্যালোচনামূলক মানসিকতার অনুপস্থিতিই মতনের বিচারের ক্ষেত্রে অবহেলার কারণ। এখানে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, এই বক্তব্যটি ঢালাওভাবে সত্য নয়। মুসলিম আলেমগণ সনদের পর্যালোচনায় ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটালেও তাঁরা মতনের পর্যালোচনা ও বিচারের বিষয়টি উপেক্ষা করেননি; বরং তাঁরা সেদিকেও গুরুত্বারোপ করেছেন। এ বিষয়ে নজির এত বেশি যে তা সীমাবদ্ধ করা কঠিন, তবে মতনের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত কিছু ঐতিহাসিক বিচারের উল্লেখ করা সমীচীন হবে।
ইবনে হাজম বিশুদ্ধ যৌক্তিক মানদণ্ডের আলোকে মতনের বিচার করে উহুদ যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যদের সংখ্যা সম্পর্কে বহু উৎসে উল্লিখিত সংখ্যাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মুসা ইবনে উকবা বনু মুস্তালিক যুদ্ধকে চতুর্থ হিজরির ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন, যা অধিকাংশ সিরাত রচয়িতার বিপরীত মত, কারণ তাঁরা একে ষষ্ঠ হিজরির ঘটনা বলেন। মতনের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে ইবনুল কাইয়্যিম ও জাহাবি তাঁর অনুসরণ করেছেন; কারণ সাদ ইবনে মুয়াজ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, অথচ তিনি বনু কুরাইজা যুদ্ধের পরপরই শাহাদাত বরণ করেন।
মতনের পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে প্রাচীন ঐতিহাসিকদের মধ্যে জাতুর রিকা যুদ্ধের তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ইমাম বুখারি একে বিলম্বিত করেছেন এবং খায়বার পরবর্তী সময়ের ঘটনা হিসেবে গণ্য করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনে কাসির ও ইবনে হাজার এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছেন, যা ইবনে ইসহাক ও ওয়াকিদির মতের বিপরীত। এর ভিত্তি হলো এই যুদ্ধে আবু মুসা আশআরি ও আবু হুরাইরার অংশগ্রহণ, যাঁরা খায়বার বিজয়ের অব্যবহিত পরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আগমন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وجرت مناقشات مستفيضة حول تاريخ تشريع صلاة الخوف ومعظمها مبني على محاكمة المتن.
وقد كشف الخطابي عن نسخ تحريم وادي وج بالطائف بناء على محاكمة المتن.
وهذه الموضوعات يمكن مراجعتها في مظانها من هذا الكتاب فهي نماذج مستقاة منه.
وهناك نماذج أخرى لا يتسع المقام لسردها، ولكن لا بد من الاعتراف بحقيقة تاريخية وهي أن القرون الثلاثة الأولى انصب فيها جهد المؤرخين على جمع الروايات وتدوينها وتصنيفها في الكتب، مع قدر من الانتقاء، يتضح من المقابلة بين المؤلفات ومصادرها الأقدم، حيث يُسقط المتأخر مجموعة من روايات المتقدم، كما فعل ابن هشام مع ابن إسحق، والطبري مع مصادره الأولية.
ورغم أن الانتقاء نفسه يمثل عملاً نقدياً إلا أن الجهد الضخم الذي بذل في تثبيت الروايات وحفظها في الكتب استنفد طاقة الأوائل من المؤرخين، وقام المتأخرون منهم بدور التلخيص لأعمال الأوائل والتذييل عليهم.
وتبرز في مؤلفات متأخرة محاكمات دقيقة للمتون كما يتضح ذلك بجلاء لمن يطلع على (البداية والنهاية) لابن كثير و (فتح الباري) للحافظ ابن حجر في شرحه لقسم المغازي من صحيح البخاري، ولكن ذلك لا يعني أن نقد المتن تم بنفس التوسع الذي فازت به نصوص التاريخ الأوروبي في القرنين التاسع عشر والعشرين، بعدما اكتملت مناهج النقد التاريخي، ولكن هل من الإنصاف أن تُقَوَّمَ جهود القدامى بمقاييس حديثة هي من منجزات التقدم العلمي في كل ميدان عبر عدة قرون؟!
ومع ذلك فإن تقويم العقلية النقدية عند علماء المسلمين القدامى ينبغي ألا يتم من خلال الكتب التاريخية وحدها، وإنما ينظر إلى جملة النتاج الفكري في الفقه والفقه المقارن (كتب أحاديث الأحكام) فلا شك أن كتب الفقه ركزت
'সালাতুল খাওফ' বা ভীতিপূর্ণ অবস্থায় সালাত আদায়ের বিধান প্রবর্তনের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং এর অধিকাংশ মতন বা মূল পাঠের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
আল-খাত্তাবি মতন পর্যালোচনার ভিত্তিতে তায়েফের ওয়াদি ওয়াজ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান রহিত হওয়ার বিষয়টি উন্মোচন করেছেন।
এই বিষয়গুলো এই কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে দেখা যেতে পারে; এগুলো এখান থেকেই গৃহীত কিছু উদাহরণ।
আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা এখানে বর্ণনা করার সুযোগ নেই। তবে একটি ঐতিহাসিক সত্য স্বীকার করা জরুরি যে, প্রথম তিন শতাব্দীতে ঐতিহাসিকদের প্রচেষ্টা মূলত বর্ণনাগুলো (রিওয়ায়াত) সংগ্রহ করা, লিপিবদ্ধ করা এবং কিতাব আকারে বিন্যস্ত করার ওপর নিবদ্ধ ছিল। এর পাশাপাশি কিছু মাত্রায় বাছাই প্রক্রিয়াও ছিল, যা পরবর্তী সংকলন ও তাদের পূর্ববর্তী উৎসগুলোর মধ্যকার তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। যেখানে পরবর্তী লেখক পূর্ববর্তী লেখকের বর্ণনার এক বড় অংশ বাদ দিয়ে দিয়েছেন, যেমনটি ইবনে হিশাম করেছেন ইবনে ইসহাকের সাথে এবং তাবারি করেছেন তাঁর প্রাথমিক উৎসগুলোর সাথে।
যদিও বাছাই প্রক্রিয়াটি নিজেই একটি সমালোচনামূলক কাজ, তবুও বর্ণনাগুলোকে সুদৃঢ়ভাবে সংস্থাপন ও কিতাবসমূহে তা সংরক্ষণের পেছনে যে বিশাল শ্রম ব্যয় হয়েছে, তা প্রাথমিক যুগের ঐতিহাসিকদের শক্তি ও সামর্থ্যকে নিঃশেষ করে দিয়েছিল। পরবর্তী ঐতিহাসিকগণ পূর্ববর্তীদের কাজের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা এবং সেগুলোর পরিশিষ্ট রচনার ভূমিকা পালন করেছেন।
পরবর্তী সময়ের সংকলনগুলোতে মতনের সূক্ষ্ম পর্যালোচনা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। যারা ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির সহিহ বুখারির 'মাগাজি' অধ্যায়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল বারি' পাঠ করেন, তাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট। তবে এর অর্থ এই নয় যে, মতনের সমালোচনা সেই ব্যাপকতায় হয়েছে যা উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় ইতিহাসের মূল পাঠসমূহের ক্ষেত্রে অর্জিত হয়েছে, যখন ঐতিহাসিক সমালোচনার পদ্ধতিগুলো পূর্ণতা পেয়েছিল। কিন্তু প্রাচীনদের প্রচেষ্টাকে কি এমন আধুনিক মানদণ্ড দিয়ে বিচার করা ন্যায়সঙ্গত হবে, যা কয়েক শতাব্দী ধরে প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্জিত বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ফসল?!
তা সত্ত্বেও প্রাচীন মুসলিম পণ্ডিতদের সমালোচনামূলক মানসিকতার মূল্যায়ন কেবল ইতিহাস বিষয়ক কিতাবগুলোর মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। বরং ফিকহ এবং তুলনামূলক ফিকহ (আহকাম সংক্রান্ত হাদিসের কিতাবসমূহ)-এর সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের দিকেও তাকাতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিকহের কিতাবগুলো নিবদ্ধ হয়েছে
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
على المتون تركيزاً عظيماً تفسيراً وتوضيحاً وإعراباً واستنباطاً. ومن الواضح أن عمل المحدثين والفقهاء يتكامل، فلا بد للمنصف أن يعترف بأن السنة النبوية نالت عناية عظيمة ومتوازنة من قبل العلماء المسلمين.
وتتضح في كتب أصول الفقه المحاكمات الدقيقة للمتون التي تكشف عن عقلية نقدية فذة، وإذا كان المؤرخون القدامى معظمهم له جهود في حقول العلوم الإسلامية الأخرى، فإن الحكم عليهم ينبغي أن يكون من خلال تقويم جملة نتاجهم الفكري مع مراعاة عنصر الزمن حتى لا يغمطوا حقهم من التقويم.
وأيضاً لا بد من توضيح أن الجانب النظري لنقد المتن كان متبلوراً إلى حد كبير منذ القرون الأولى في كتب مصطلح الحديث كما في أقسام المدرج والمعلل والمضطرب والشاذ والمنكر والموضوع وغيرها مما يدور الكلام فيها على نقد الأسانيد والمتون معاً، ولكن القصور كان في تطبيق ذلك عملياً عند التعامل مع الرواية التأريخية التي لم تحظ بنفس القدر من النقد الذي حظيت به الأحاديث النبوية.
ولابد أيضاً من الإشارة إلى الموقف من المعجزات النبوية وإثباتها حيث أن للرسول صلى الله عليه وسلم معجزات كثيرة وإن كان القرآن معجزته الدائمة الباقية.
إنَّ إثبات المعجزة الخالدة (القرآن الكريم) ونفي بقية المعجزات الثابتة بالنقل الصحيح إنما هو في الحقيقة خضوع وانصياع للفكر المادي والفلسفات الوضعية، ولا بد للمسلم من الاستعلاء والاعتزاز الذي يحقق له الاستقلال التام في النظر والبحث العلمي. ومن ثم فإن هذا البحث عُنِيَ بإثبات المعجزات جميعها عندما تثبت بالنقل الصحيح.
وقد اهتم البحث بالإشارة إلى الأحكام الفقهية وتاريخ تشريعها، لأن التاريخ للسيرة ينبغي أن يعني بالجانب التشريعي الذي يحتكم إليه المجتمع ويوضح الضوابط الخلقية والقانونية التي تحكم حركة الأفراد والجماعات ولا يمكن الفصل بين الجانب السياسي والعسكري والجانب الخلقي والتشريعي
মূল পাঠগুলোর (মতন) ব্যাখ্যা, স্পষ্টীকরণ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং বিধি আহরণের ক্ষেত্রে বিশাল গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এটি সুস্পষ্ট যে, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের কার্যাবলি একে অপরের পরিপূরক; তাই যেকোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, মুসলিম পণ্ডিতগণের পক্ষ থেকে নববী সুন্নাহ এক মহান ও ভারসাম্যপূর্ণ যত্ন লাভ করেছে।
উসূলে ফিকহের কিতাবগুলোতে মূল পাঠের (মতন) এমন সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ পরিলক্ষিত হয় যা একটি অনন্য সমালোচনামূলক ধীশক্তির পরিচয় দেয়। যদি প্রাচীন ইতিহাসবিদদের অধিকাংশেরই ইসলামের অন্যান্য জ্ঞানশাখায় অবদান থেকে থাকে, তবে তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাদের সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মতৎপরতার পর্যালোচনার মাধ্যমে, সেই সাথে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যাতে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়।
এছাড়াও এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, মতন বা মূল পাঠ পর্যালোচনার তাত্ত্বিক দিকটি প্রথম শতাব্দীগুলো থেকেই হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা (মুসতালাহুল হাদীস) বিষয়ক কিতাবসমূহে যথেষ্ট সুসংহত ছিল। যেমন: মুদ্রাজ, মুআল্লাল, মুদতারিব, শায, মুনকার, মাওযূ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিভাগ, যেখানে সনদ ও মতন—উভয় বিষয়ের সমালোচনার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। তবে ঘাটতি ছিল ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগে; কারণ ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো নববী হাদীসের ন্যায় সমপর্যায়ের যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার সুযোগ পায়নি।
রাসূলুল্লাহর মুজিযাসমূহ এবং সেগুলো সাব্যস্ত করার অবস্থানের প্রতিও ইঙ্গিত করা জরুরি, কেননা রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর অসংখ্য মুজিযা রয়েছে, যদিও কুরআন তাঁর স্থায়ী ও চিরন্তন মুজিযা।
চিরন্তন মুজিযা (আল-কুরআনুল কারীম) সাব্যস্ত করা এবং সহীহ বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত অন্যান্য মুজিযাসমূহ অস্বীকার করা মূলত বস্তুবাদী চিন্তা ও মানবীয় দর্শনের নিকট নতি স্বীকার ও আনুগত্য করারই নামান্তর। একজন মুসলিমের জন্য এমন আত্মমর্যাদা ও গর্ব থাকা আবশ্যক, যা তার চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। ফলশ্রুতিতে, এই গবেষণাটি সহীহ বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত সকল মুজিযা সাব্যস্ত করার বিষয়ে বিশেষ যত্নশীল হয়েছে।
এই গবেষণায় ফিকহি বিধানসমূহ এবং সেগুলোর প্রবর্তনের ইতিহাসের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কারণ সীরাতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সেই বিধানগত দিকের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত যা সমাজ অনুসরণ করে এবং যা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী নৈতিক ও আইনি মানদণ্ডসমূহকে স্পষ্ট করে। রাজনৈতিক ও সামরিক দিককে নৈতিক ও বিধানগত দিক থেকে পৃথক করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خاصة في القرون الأولى من تاريخ الإسلام حيث تتشابك العلاقات الاجتماعية والاقتصادية والسياسية والعسكرية بالعقيدة والشريعة تشابكاً وثيقاً بحيث يصعب فهم حركة التاريخ في تلك المرحلة دون فهم روح الإسلام ومبادئه.
وقد لاحظ البحث إعطاء مساحة مناسبة لحركة الفرد إلى جانب الحركة الجماعية فمن خلال بعض الشخصيات تظهر ملامح وأبعاد الحركة التاريخية لقوة فاعليتهم وأثرهم في دفع عجلة التاريخ، فليس من الصحيح إهمال أخبار الأبطال التاريخيين بحجة أنهم مجرد دمى في حركة المجتمع الواسعة. ولكن هؤلاء الأفراد لم يبرزوا لمجرد تفوقهم وامتيازهم على أقرانهم ووجود الاستعداد عندهم، إذ ما كانت هذه السمات المميزة لتظهر لولا العقيدة التي مست شغاف قلوبهم وأوقدت وهجاً منيراً في عقولهم وبصيرة عميقة في نفوسهم، فكان أن حدث التغيير الكبير في بناء الشخصية العربية ومقوماتها، وهذا الفهم سيعطي الفضل الأكبر للعقيدة ويمنع الانزلاق نحو تمجيد "الفردية" والإغراق في غرس نزعة الاستعلاء والغرور. ويكفي أن الرسول صلى الله عليه وسلم وهو بطل الأبطال كان ينحني لله تعالى ويخشع بالدعاء ويرد إليه الفضل أولاً وآخراً في كل نصر وفتح.
ولا يجد القارئ أي اهتمام بالرد على الشبهات التي أثارتها بعض الدراسات الحديثة في موضوعات السيرة وخاصة دراسات المستشرقين سواء كانت نتيجة تعسف في تفسير النصوص والأحداث بسبب الأهواء الدينية والعنصرية أو بسبب سوء فهم للغة العربية أو للإسلام وأحكامه ونظمه ومقاصده، وذلك لأن هذا المؤلَّف قصد إِلى رسم معالم السيرة بصورة صحيحة، وهو جانب إيجابي يستحق أن يُفْرَد فيه مصنف، ولا يعني ذلك التقليل من أهمية تصحيح الأخطاء سواء كانت عفوية أم مقصودة، وقد نهضت بهذا العبء دراسات أخرى في الموضوع، وإن كنت أعتقد أن الاهتمام بالتاريخ الإسلامي ينبغي أن ينصب أولاً على إعادة البناء قبل تناول الشبهات.
বিশেষ করে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম শতাব্দীগুলোতে, যেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক সম্পর্কসমূহ আকিদা ও শরীয়তের সাথে এমন নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল যে, ইসলামের চেতনা ও মূলনীতিসমূহ অনুধাবন করা ছাড়া সেই পর্যায়ের ইতিহাসের গতিধারা বোঝা কঠিন।
এই গবেষণায় লক্ষ্য করা গেছে যে, সমষ্টিগত আন্দোলনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে ঐতিহাসিক আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও মাত্রাগুলো ফুটে ওঠে, কারণ ইতিহাসের চাকা সচল রাখতে তাদের কার্যকারিতা ও প্রভাব ছিল অত্যন্ত জোরালো। সুতরাং, ঐতিহাসিক বীরদের সংবাদকে এই অজুহাতে অবহেলা করা সঠিক নয় যে, তারা সমাজের বিশাল আন্দোলনের মাঝে নিছক পুতুলমাত্র। কিন্তু এই ব্যক্তিরা কেবল তাদের সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব, বিশেষত্ব বা প্রস্তুতির কারণে আত্মপ্রকাশ করেননি; বরং এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পেত না যদি না আকিদা বা বিশ্বাস তাদের হৃদয়ের মূলে স্পন্দিত না হতো এবং তাদের বুদ্ধিতে উজ্জ্বল আলো ও আত্মায় গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রজ্বলিত না করত। ফলে আরবীয় ব্যক্তিত্বের গঠন ও তার উপাদানে এক বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। এই উপলব্ধি মূলত আকিদাকেই সর্বোচ্চ কৃতিত্ব প্রদান করে এবং এটি কেবল "ব্যক্তিবাদ" মহিমান্বিত করার প্রবণতা থেকে রক্ষা করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও অহংবোধে নিমজ্জিত হওয়া প্রতিরোধ করে। এটিই যথেষ্ট যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)—যিনি বীরদের মাঝে শ্রেষ্ঠ বীর—তিনি মহান আল্লাহর সামনে নত হতেন, দোয়ায় বিনম্র থাকতেন এবং প্রতিটি বিজয় ও জয়ের ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ কৃতিত্ব কেবল আল্লাহর প্রতিই নিবেদন করতেন।
পাঠক এখানে সিরাত বা জীবনীর বিষয়ে আধুনিক কিছু গবেষণার মাধ্যমে উত্থাপিত সংশয়গুলোর জবাব দেওয়ার প্রতি কোনো বিশেষ মনোযোগ দেখতে পাবেন না, বিশেষ করে প্রাচ্যবিদদের গবেষণার ক্ষেত্রে। এই সংশয়গুলো ধর্মীয় ও বর্ণবাদী প্রবৃত্তির কারণে পাঠ্য বা ঘটনার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা থেকে সৃষ্ট হতে পারে, কিংবা আরবি ভাষা অথবা ইসলাম এবং এর বিধান, পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল বোঝার কারণে হতে পারে। কারণ এই রচনার উদ্দেশ্য ছিল সিরাতের বৈশিষ্ট্যগুলোকে সঠিকভাবে অঙ্কন করা; এটি একটি ইতিবাচক দিক যা স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার দাবি রাখে। এর অর্থ এই নয় যে, অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভুলগুলো সংশোধনের গুরুত্বকে খাটো করা হচ্ছে; বরং অন্যান্য গবেষণা এই দায়িত্বটি পালন করেছে। তবে আমি বিশ্বাস করি যে, ইসলামের ইতিহাসের প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত প্রথমে তা পুনর্গঠন করার দিকে, সংশয়গুলো নিয়ে আলোচনার আগে।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إن هذه الدراسة التي أقدم لها لا تمثل طموحي، ولكنها محاولة للإفادة من منهج المحدثين في نقد الرواية التاريخية، ويظهر بها التركيز على نقد الأسانيد والرواة إلى جانب نقد المتن، وخاصة في عملية الانتقاء من مجموع الروايات الضخمة التي دونها القدامى في السيرة. إذ أن الاعتماد على الروايات التي صححها النقاد القدامى أحياناً، أو الإفادة من منهجهم في تصحيح أو تضعيف ما لم يحكموا عليه من الروايات، هو أهم ما تهدف إليه هذه الدراسة، لينال البحث ثقة القارئ، وليعطي أصدق صورة عن السيرة.
وقد تبرز معان خلقية ودينية مؤثرة في الروايات التي أهملتها، لكنني لم أكترث لذلك ما دامت ضعيفة الثبوت، وقد ظهر جلياً أن الاعتماد على صحيح الروايات وحسنها يكفل توضيح الأبعاد التاريخية للسيرة النبوية دون حاجة إلى الضعيف من الروايات.
ويلاحظ القارئ أن الروايات الضعيفة من الناحية الحديثية لم تستبعد نهائياً بل تمت الإفادة منها في الموضوعات التي لا تتعلق بالعقيدة أو الشريعة، حيثما لم نجد روايات صحيحة وفق معايير المحدثين، حيث يمكن التعامل معها وفق معايير منهج النقد التاريخي.
ويلاحظ الاهتمام في الدراسة بنقل الخبر عن شاهد عيان مشارك بالحادثة، وهو منهج معتبر في الدراسات التاريخية المعاصرة، كما أنه معتبر في الدراسات الحديثية في القرون الهجرية الأولى، ونلحظ أن الإمام البخاري في صحيحه كثيراً ما يختار الرواية من طريق الصحابي المشارك بالحادثة، كما فعل في نقل قصة الإفك عن عائشة رضي الله عنها، وسبب نزول سورة المنافقين عن زيد ابن الأرقم، وسبب نزول سورة الجمعة عن جابر بن عبد الله الأنصاري، وقصة نزول سورة التحريم عن عائشة، إلى غير ذلك من الأمثلة الكثيرة (1). فشاهد
--------------------------------------------
আমি যে গবেষণাটি এখানে উপস্থাপন করছি তা আমার চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়, বরং এটি ঐতিহাসিক বর্ণনা সমালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি থেকে উপকৃত হওয়ার একটি প্রচেষ্টা। এতে বিশেষত সিরাত বিষয়ে প্রাচীনদের লিপিবদ্ধ করা বিশাল বর্ণনা সমষ্টি থেকে বাছাই প্রক্রিয়ায় মতনের সমালোচনার পাশাপাশি সনদ ও বর্ণনাকারীদের সমালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কেননা, প্রাচীন সমালোচকগণ যেসব বর্ণনা সহিহ বলে গণ্য করেছেন সেগুলোর ওপর নির্ভর করা অথবা যেসব বর্ণনার ব্যাপারে তারা কোনো সিদ্ধান্ত দেননি সেগুলো সহিহ বা জয়িফ নির্ধারণে তাদের মূলনীতি থেকে উপকৃত হওয়া—এটিই এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য, যাতে গবেষণাটি পাঠকের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সিরাত সম্পর্কে সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরতে পারে।
আমি যেসব বর্ণনা বর্জন করেছি তাতে হয়তো অনেক সময় প্রভাবশালী চারিত্রিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য ফুটে উঠতে পারত, কিন্তু সেগুলোর প্রমাণিকতা দুর্বল হওয়ায় আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করিনি। এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সহিহ ও হাসান বর্ণনার ওপর নির্ভর করাই সিরাত-এ-নববীর ঐতিহাসিক দিকগুলো স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট, সেখানে দুর্বল বর্ণনার কোনো প্রয়োজন নেই।
পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, হাদিস শাস্ত্রের মানদণ্ডে দুর্বল বর্ণনাগুলোকে একেবারে বর্জন করা হয়নি, বরং আক্বিদা বা শরিয়াহর সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন সব বিষয়ে সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়া হয়েছে—যেখানে মুহাদ্দিসগণের মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায়নি এবং যেখানে ঐতিহাসিক সমালোচনা পদ্ধতির মানদণ্ড অনুযায়ী সেগুলোর সাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
এই গবেষণায় কোনো ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রত্যক্ষদর্শীর নিকট থেকে সংবাদ সংগ্রহের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সমকালীন ঐতিহাসিক গবেষণায় একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। তেমনিভাবে হিজরি প্রথম শতাব্দীগুলোর হাদিস বিষয়ক গবেষণাতেও এটি একটি স্বীকৃত বিষয়। আমরা লক্ষ্য করি যে, ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে প্রায়শই ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত সাহাবির মাধ্যমেই বর্ণনা নির্বাচন করেন। যেমনটি তিনি করেছেন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে ইফকের ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে, যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে সূরা আল-মুনাফিকুনের শানে নুযূল, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারি থেকে সূরা আল-জুমু'আর শানে নুযূল এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সূরা আত-তাহরিমের শানে নুযূল বর্ণনার ক্ষেত্রে। এ ছাড়াও আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে (১)। সুতরাং সাক্ষী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
العيان أدق رواية إذ تشترك الحواس العديدة من العين والسمع واللمس في ضبط الخبر
… وهذا أقوى من النقل بواسطة السمع فقط كما يحدث عندما يغيب عن الرواية شاهد العيان.
إن هذه الدراسة لم تبن على انتقاء للروايات يرتبط بخدمة فكرة معينة ويهدف لتحقيق كسب (ايديولوجي) بل إنه انتقاء للقوى من الروايات سواء عومل بمعايير المحدثين أو بمعايير النقد التاريخي.
وبالتالي فإن الصورة التي ستعطيها الروايات هي أقرب الصور إلى الحقيقة التاريخية، خاصة أن فهمها والاستنباط منها تم وفق أساليب العربية وقواعدها دون أي تعسف أو تمحل في التفسير.
وينبغي الانتباه إلى أن الانتقاء عندما يتم وفق قواعد صارمة، فإنه يدع مجالاً
لتفلت العديد من النصوص التاريخية التي يمكن التعامل معها وفق معايير أقل صرامة، ومن ثم فإن قراءة نصوص الواقدي وفق منهج النقد التاريخي تتيح الفرصة لإضافات أخرى لمادة السيرة، وهذا ينطبق على الروايات التي أوردها ابن إسحق دون إسناد، كما ينطبق على روايات ابن سعد التي نقلها عن ابن الكلبي
…إن هؤلاء الرجال المتخصصين في فن السيرة قد عوملوا من قبل النقاد القدامى بتساهل كبير بغية الإفادة من رصيدهم التاريخي الهائل.
إن الأمور المتفق عليها بين هؤلاء الإخباريين يمكن أن تحتل مكانها في الدراسات التاريخية ما لم تتعلق بالعقيدة أو الشريعة ..
أما بخصوص الآيات التي استشهدت بها في هذه الدراسة فقد راجعت الروايات المتعلقة بأسباب النزول وأثبت ما تبين أنه نزل في الحادثة التاريخية أو تعقيباً عليها.
চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ হলো সবচেয়ে নির্ভুল বর্ণনা, কারণ সংবাদ সংরক্ষণে চোখ, কান এবং স্পর্শের মতো একাধিক ইন্দ্রিয় এতে অংশগ্রহণ করে
… আর এটি কেবল শ্রবণের মাধ্যমে স্থানান্তরের চেয়ে শক্তিশালী, যা ঘটে যখন বর্ণনায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী অনুপস্থিত থাকে।
এই গবেষণাটি কোনো নির্দিষ্ট চিন্তাধারার সেবা করা বা (মতাদর্শগত) সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে বর্ণনার কোনো নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি; বরং এটি বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে শক্তিশালী বর্ণনাগুলোরই নির্বাচন, চাই তা মুহাদ্দিসগণের মানদণ্ড অনুযায়ী হোক বা ঐতিহাসিক সমালোচনার মানদণ্ড অনুযায়ী।
এর ফলে বর্ণনাগুলো যে চিত্র তুলে ধরবে তা ঐতিহাসিক বাস্তবতার সবচেয়ে নিকটবর্তী চিত্র হবে, বিশেষ করে যেহেতু এগুলোর উপলব্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনো প্রকার জোরপূর্বক ব্যাখ্যা বা কৃত্রিমতা ছাড়াই আরবি ভাষার রীতি ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছে।
এটি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, যখন কঠোর নিয়মনীতি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তখন তা এমন অনেক ঐতিহাসিক পাঠ বাদ পড়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে যেগুলোর সাথে কম কঠোর মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব। তাই ঐতিহাসিক সমালোচনার পদ্ধতি অনুযায়ী ওয়াকিদির পাঠগুলো পাঠ করা সিরাতের উপাদানে অন্যান্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি করে। এটি ইবনে ইসহাকের সেই বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা তিনি সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইবনে সা’দের সেই বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা তিনি ইবনে আল-কালবি থেকে বর্ণনা করেছেন
…সিরাত শাস্ত্রের এই বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পূর্ববর্তী সমালোচকগণ অত্যন্ত উদার আচরণ করেছেন যাতে তাদের বিশাল ঐতিহাসিক ভাণ্ডার থেকে উপকৃত হওয়া যায়।
এই ইতিহাসবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত বিষয়গুলো ঐতিহাসিক গবেষণায় স্থান পেতে পারে, যতক্ষণ না তা আকিদা বা শরিয়তের সাথে সম্পৃক্ত হয়...
আর এই গবেষণায় আমি যে আয়াতগুলো উদ্ধৃত করেছি, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি শানে নুযুল সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং যা ঐতিহাসিক ঘটনায় অবতীর্ণ হওয়া বা তার প্রেক্ষাপটে নাযিল হওয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে, তা-ই সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقد نبه الحافظ ابن حجر إلى أنه "يوجد كثير من أسباب النزول في كتب المغازي، فما كان منها من رواية معتمر بن سليمان عن أبيه - يعني سليمان بن طرخان التيمي صاحب السيرة- أو من رواية إسماعيل بن إبراهيم بن عقبة عن عمه موسى بن عقبه، فهو أصلح مما فيها من كتاب محمد بن إسحاق، وما كان من رواية ابن إسحق أمثل مما فيها من رواية الواقدي" (1).
ومعنى أسباب النزول ذكر الأحداث والأسئلة التي نزل بشأنها وقت وقوعها (2) أو بعده بيسير (3). ولكن دراسة روايات أسباب النزول لإفادة منها تاريخياً تقف أمامها عوائق عديدة أهمها الاختلاف القديم حول سبب نزول العديد من الآيات. وخاصة عندما تتعارض الروايات الصحيحة في هذا المجال كما يحدث في كتاب التفسير من صحيح البخاري. وعندما يصار إلى محاولة الجمع بالقول بتعدد المرات التي نزلت فيها الآية الواحدة (4) فالقصص قد تتعدد، والأحداث المتماثلة تتوالى في وقت متقارب، مما يحتاج إلى جواب أو فتيا، فتنزل الآية لتجيب أصحاب الوقائع عن حكم ما حدث لهم. لذلك قال ابن حجر: "لا مانع أن تتعدد القصص ويتعدد النزول" (5).
--------------------------------------------
হাফিজ ইবনে হাজার এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যে, "মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে আসবাবুন নুযূলের (নাযিলের প্রেক্ষাপট) অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। এর মধ্যে মুতামির বিন সুলাইমান তাঁর পিতা—অর্থাৎ সীরাত রচয়িতা সুলাইমান বিন ত্বরখান আত-তৈমী—থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তা মুহাম্মদ বিন ইসহাকের কিতাবে বর্ণিত বর্ণনার চেয়ে অধিক শুদ্ধ। আর ইবনে ইসহাকের বর্ণনা ওয়াকিদীর বর্ণনার চেয়ে উত্তম" (১)।
আসবাবুন নুযূলের অর্থ হলো এমন সব ঘটনা ও প্রশ্নের উল্লেখ করা, যা ঘটার সময় (২) অথবা তার কিছুকাল পরেই (৩) সে সম্পর্কে আয়াত নাযিল হয়েছে। তবে আসবাবুন নুযূলের বর্ণনাগুলো থেকে ঐতিহাসিক ফায়দা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাধা বিদ্যমান, যার মধ্যে প্রধান হলো বহু আয়াতের শানে নুযূল নিয়ে পুরনো মতপার্থক্য। বিশেষ করে যখন এ ক্ষেত্রে সহীহ বর্ণনাগুলোর মধ্যে পরস্পর বিরোধিতা দেখা দেয়, যেমনটি সহীহ বুখারীর তাফসীর অধ্যায়ে ঘটে থাকে। এমতাবস্থায় যখন এই বলে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয় যে, একই আয়াত একাধিকবার নাযিল হয়েছে (৪), তখন দেখা যায় ঘটনা একাধিক হতে পারে এবং সদৃশ ঘটনাবলি কাছাকাছি সময়ে ধারাবাহিকভাবে ঘটতে পারে, যার সমাধান বা ফতোয়ার প্রয়োজন হয়। ফলে যারা এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের ঘটে যাওয়া বিষয়ের বিধান জানানোর জন্য আয়াত নাযিল হয়। এই কারণেই ইবনে হাজার বলেছেন: "ঘটনা একাধিক হওয়া এবং নাযিল হওয়া একাধিক বার হওয়ার মধ্যে কোনো বাধা নেই" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وتجدر الإشارة إلى أن صحيح البخاري من أوسع كتب السنة التي استقصت روايات أسباب النزول إضافة إلى أنها في أعلى درجات الصحة (1). وأن أوسع الصحابة رواية لأسباب النزول هو ابن عباس (2). ويلي صحيح البخاري في كثرة العناية بأسباب النزول مستدرك الحاكم (3) ومعظم ما أورده الحاكم من حديث ابن عباس (29 رواية) ويليه حديث عائشة (7 روايات).
أما أوسع كتب السنة رواية لأسباب النزول فهو مسند أحمد (28 رواية) معظمها صحيح وقليل منها ضعيف، حيث أورد معظم ما أورده البخاري وزاد عليه (4).
وتبقى كتب التفسير التي تكفلت ببيان أسباب النزول سواء كانت الرواية مرفوعة أو موقوفة على الصحابة شاهدي العيان أم كانت موقوفة على التابعين فمن بعدهم، وخاصة تفسير الطبري الذي احتوى على خمسمائة سبب نزول غير مكررة (5) وقد يخرج للآية الواحدة خمسة أسباب لكنه لا يلتزم صحة الروايات، وأكثرها موقوف أو مقطوع (6). والآيات التي وردت روايات صحيحة مسندة إلى الصحابة في أسباب نزولها لا تكاد تبلغ الثلاثمائة من عدد آي القرآن (6200 آية) (7).
وقد اختصت بعض الكتب بحصر الروايات في أسباب النزول وهي: "أسباب النزول" للواحدي، و"لباب النقول" للسيوطي، و"العجاب في الأسباب" لابن حجر العسقلاني، وهذه الكتب هي العمدة في هذا الفن، وقد بلغت زيادات السيوطي على الواحدي 370 رواية (8).
* * *
--------------------------------------------
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সহীহ বুখারী সুন্নাহর সেই প্রশস্ত কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা শানে নুযূলের বর্ণনাগুলোকে সবিস্তারে অনুসন্ধান করেছে, পাশাপাশি এটি বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে (১)। আর সাহাবীদের মধ্যে শানে নুযূল বর্ণনায় সবচেয়ে অগ্রগামী হলেন ইবনে আব্বাস (২)। শানে নুযূলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সহীহ বুখারীর পরেই মুস্তাদরাকে হাকেম (৩) এর স্থান। হাকেম ইবনে আব্বাস থেকে যে বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করেছেন তার অধিকাংশই (২৯টি বর্ণনা) এবং এরপরেই রয়েছে আয়েশা (রা.) এর বর্ণিত হাদীস (৭টি বর্ণনা)।
শানে নুযূল বর্ণনায় সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত হলো মুসনাদে আহমাদ (২৮টি বর্ণনা), যার অধিকাংশই সহীহ এবং সামান্য কিছু যঈফ। এতে বুখারীতে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধিকাংশই যেমন এসেছে, তেমনি আরও কিছু অতিরিক্ত বর্ণনাও যুক্ত হয়েছে (৪)।
আর তাফসীরের কিতাবগুলো শানে নুযূল বর্ণনার দায়িত্ব পালন করেছে, চাই সেই বর্ণনাটি মারফু হোক কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবীদের ওপর মাওকুফ হোক, অথবা তাবেয়ীন ও তাদের পরবর্তী ব্যক্তিদের ওপর মাওকুফ হোক। বিশেষ করে তাফসীরে তাবারী, যা পুনরাবৃত্তি ছাড়াই পাঁচশটি শানে নুযূলের বর্ণনা ধারণ করেছে (৫)। কখনও কখনও একটি আয়াতের ক্ষেত্রে পাঁচটি কারণ বর্ণিত হতে পারে, তবে তিনি (তাবারী) বর্ণনার বিশুদ্ধতা রক্ষার বাধ্যবাধকতা মানেননি এবং এর অধিকাংশই মাওকুফ বা মাকতু (৬)। কুরআনের মোট আয়াতের (৬২০০ আয়াত) মধ্যে যে আয়াতগুলোর শানে নুযূল সাহাবীদের নিকট থেকে সহীহ ও মুসনাদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তা তিনশ’র কাছাকাছিও পৌঁছাবে না (৭)।
কিছু কিতাব কেবল শানে নুযূলের বর্ণনাগুলোকে সীমাবদ্ধ বা একত্রিত করার জন্য নিবেদিত হয়েছে, সেগুলো হলো: ওয়াহেদীর "আসবাবুন নুযূল", সুয়ূতী-র "লুবাবুন নুকুল", এবং ইবনে হাজার আসকালানীর "আল-উজাব ফিল আসবাব"। এই কিতাবগুলোই এই শাস্ত্রের মূল ভিত্তি। ওয়াহেদীর তুলনায় সুয়ূতী-র অতিরিক্ত বর্ণনার সংখ্যা ৩৭০টি পর্যন্ত পৌঁছেছে (৮)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لقد قمت بتدريس السيرة النبوية عشرين سنة في كلية الآداب بجامعة بغداد أولا ثم في الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وقد دونت محاضراتي لطلبة الجامعتين، ونقحتها مراراً، ونشرت بعض الموضوعات منها (1).
على أمل أن أعيد النظر فيها لإعدادها للنشر كاملة، ثم واتتني الفرصة لإعادة كتابة قسم السيرة منها بعد أن أشرفت على رسائل العديد من طلبة الدراسات العليا لمرحلتي الماجستير والدكتوراه في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، وقد وجهت تلك الرسائل إلى نقد مرويات السيرة النبوية وتحكيم مناهج النقد عند المحدثين فيها. فكانت محاولة ضخمة طبقت فيها تلك القواعد على سائر الروايات التي أوردتها كتب الحديث والتاريخ والتراجم والأدب عن السيرة، وتقع هذه الرسائل في أكثر من ستة آلاف صفحة (فلوسكاب) وقد استغرق تنفيذ هذا المشروع أكثر من عشر سنوات (1976 - 1988)، ويعتبر أعظم إنجاز في توثيق مرويات السيرة النبوية رغم ما يكتنف التجارب الأولى من قصور في العادة (2)، وأملي كبير في أن يتمكن الباحثون من تطوير هذا الإنجاز والإفادة منه
--------------------------------------------
আমি দীর্ঘ বিশ বছর যাবত সيرةতে নববী অধ্যাপনা করেছি, প্রথমে বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে এবং পরবর্তীতে মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগে। আমি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আমার বক্তৃতাগুলো লিপিবদ্ধ করেছিলাম, বারবার সেগুলো পরিমার্জন করেছি এবং এর মধ্য থেকে কিছু বিষয় প্রকাশও করেছি (১)।
এই আশায় যে আমি সেগুলো পুনরায় পর্যবেক্ষণ করে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করব। পরবর্তীতে মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অনেক উচ্চতর গবেষণার ছাত্রের থিসিস তত্ত্বাবধান করার পর সيرةত অংশটি পুনরায় লেখার সুযোগ পাই। আমি ওই থিসিসগুলোকে সيرةতে নববীর বর্ণনাগুলোর সমালোচনা এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের সমালোচনার মূলনীতিসমূহ প্রয়োগের দিকে পরিচালিত করেছিলাম। এটি ছিল এক বিশাল প্রচেষ্টা যেখানে হাদিস, ইতিহাস, জীবনী এবং সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে সيرةত সম্পর্কে বর্ণিত সকল বর্ণনার ওপর ওই নিয়মাবলি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই থিসিসগুলো ছয় হাজারেরও বেশি (ফুলস্ক্যাপ) পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে দশ বছরেরও বেশি সময় (১৯৭৬ - ১৯৮৮) লেগেছে। প্রথম দিকের প্রচেষ্টাগুলোতে সাধারণত যেসব সীমাবদ্ধতা থাকে, তা সত্ত্বেও সيرةতে নববীর বর্ণনাগুলোর প্রামাণিকতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বলে গণ্য করা হয় (২)। আমি অনেক আশাবাদী যে গবেষকগণ এই অর্জনকে আরও উন্নত করতে এবং এটি থেকে উপকৃত হতে সক্ষম হবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ليتم إعادة تحليل السيرة وعرضها من جوانبها المختلفة بالاعتماد على الروايات الموثقة ووفق التصور الإسلامي الصحيح للأحداث والدوافع والسمات. لقد أغنت هذه الرسائل الجامعية تجربتي في كتابة السيرة، ومكنتني من الاستقراء الشامل من جديد لسائر مرويات السيرة مع الموازنة بينها والتأمل فيها خلال عشر سنوات انصرمت. وما زال العديد من الرسائل يكتب في السيرة بإشرافي. وإنني آمل أن يفيد المعنيون بكتابة السيرة النبوية من هذه الرسائل الجامعية في تقديم دراسات تحليلية نافعة، وهو الجانب الذي ما زال بحاجة إلى عناية كبيرة من قبل الكتاب المتمرسين وأصحاب الأقلام الراسخين والمفكرين الناضجين وذلك خدمة للسيرة النبوية وتعميقاً للمعاني السامية التي تحتاجها الأجيال الصاعدة
--------------------------------------------
যাতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এবং ঘটনা, প্রেরণা ও বৈশিষ্ট্যের সঠিক ইসলামি ধারণার ভিত্তিতে সীরাতকে বিভিন্ন দিক থেকে পুনরায় বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন করা যায়। এই বিশ্ববিদ্যালয় অভিসন্দর্ভগুলো সীরাত রচনায় আমার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিগত দশ বছর ধরে সীরাতের যাবতীয় বর্ণনার পুনরায় ব্যাপক অনুসন্ধান, সেগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং সেগুলো নিয়ে চিন্তা করার ক্ষেত্রে আমাকে সক্ষম করে তুলেছে। এখনও আমার তত্ত্বাবধানে সীরাতের ওপর অনেক অভিসন্দর্ভ লেখা হচ্ছে। আমি আশা করি সীরাতে নববী রচনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ এই বিশ্ববিদ্যালয় অভিসন্দর্ভগুলো থেকে উপকারী বিশ্লেষণধর্মী গবেষণার উপস্থাপনায় উপকৃত হবেন, এটি এমন একটি দিক যেখানে অভিজ্ঞ লেখক, সুপ্রতিষ্ঠিত কলম-সৈনিক এবং পরিপক্ক চিন্তাবিদদের পক্ষ থেকে এখনও গভীর মনোযোগের প্রয়োজন রয়েছে; যা সীরাতে নববীর খেদমতে এবং উদীয়মান প্রজন্মের প্রয়োজনীয় মহৎ অর্থসমূহকে গভীরতর করতে সহায়ক হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بدرجة لا تقل عن الضرورات من وسائل المعيشة التي تسعى تكنولوجيا العصر إلى تهيئتها للإنسان، إذ إنما يمتاز الإنسان بروحه وعقله وهما ينموان بالمعاني التي تغذيهما كما يغذي الطعام الجسد وإلا فإن إنسان الغد سيتحول إلى جسد بلا روح.
إن التخلف في مستوى النتاج الفكري الإسلامي لن يؤدي إلا إلى رضاع الأجيال من لبان العقول الغربية التي تشبعت عبر قرون طويلة بجفاف المادية القاتلة والبُعد عن الله تعالى والتمرد على القيم الروحية والانقياد للفكر الوضعي الحائر. وإن ما صارت إليه المجتمعات الغربية المعاصرة من أخطار اجتماعية وخلقية هو نتاج الشجرة المسمومة التي غذتها الأفكار العلمانية فلا بد أن يسعى مفكرونا لتجنيب أجيالنا أن تمر في نفس الأطوار الاجتماعية التي مرت بها أوروبا .. وخير سلاح أن ترضع الأجيال المعاصرة من لبان الإسلام وفكره فهو خير سبيل للوقاية من أخطار المادية القاتلة.
وأملي كبير في نقد هذه التجربة وتقويمها من قبل العلماء المدققين والباحثين المعنيين بدراسات السيرة والتاريخ الإسلامي للإفادة من آرائهم في هذا الشأن إذ ما زلنا في أول الطريق نحو تطبيق منهج المحدثين في نقد الروايات التاريخية في القرون الأولى، وهو أمر عسير يحتاج إلى استيعاب دقيق لمصطلح الحديث، ومرونة في التعامل وفقه مع الرواية التاريخية.
لقد سبق أن نشرت المقدمة والبابين الأول والثاني من (السيرة الصحيحة) بعنوان (المجتمع المدني) ولكنني في هذه الطبعة الجامعة نقحت ما سبق نشره وضممت إليه فوائد جديدة.
والله أسأل أن يتقبل عملي ويجعله من حسناتي في حياتي وصدقاتي بعد مماتي إنه خير مأمول وأعظم مسئول، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الدكتور أكرم ضياء العمري
المدينة المنورة.
জীবনধারণের জন্য আবশ্যকীয় উপকরণসমূহের চেয়ে এটি কোনো অংশে কম গুরুত্বের নয়, যা বর্তমান যুগের প্রযুক্তি মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে সচেষ্ট। কেননা মানুষ তার আত্মা ও বিবেকের মাধ্যমেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় এবং এই দুটিই এমন সব অর্থের মাধ্যমে বিকশিত হয় যা তাদের পুষ্ট করে, যেমনভাবে খাদ্য শরীরকে পুষ্ট করে। অন্যথায় ভবিষ্যতের মানুষ আত্মা বিহীন এক জড় দেহে পরিণত হবে।
ইসলামী চিন্তাধারার ক্ষেত্রে এই অনগ্রসরতা কেবল আগামী প্রজন্মগুলোকে পশ্চিমা মস্তিস্কের স্তন্যপানেই বাধ্য করবে, যা দীর্ঘ শতাব্দী ধরে প্রাণঘাতী জড়বাদের শুষ্কতা, মহান আল্লাহ থেকে দূরত্ব, আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং বিভ্রান্ত মানবীয় মতাদর্শের আনুগত্যে সিক্ত হয়েছে। সমসাময়িক পশ্চিমা সমাজ যে সামাজিক ও নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, তা মূলত ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারায় পুষ্ট সেই বিষবৃক্ষের ফল। তাই আমাদের চিন্তাবিদদের অবশ্যই সচেষ্ট হতে হবে যাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম ইউরোপের পার হওয়া সেই একই সামাজিক ধাপগুলোর মধ্য দিয়ে না যায়। আর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো বর্তমান প্রজন্মকে ইসলামের সুধা ও চিন্তাধারায় গড়ে তোলা, কারণ এটিই প্রাণঘাতী জড়বাদের বিপদ থেকে রক্ষার সর্বোত্তম পথ।
এই প্রচেষ্টার পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আমি সূক্ষ্মদর্শী আলেম এবং সীরাত ও ইসলামী ইতিহাস গবেষণায় নিয়োজিত গবেষকদের প্রতি অনেক আশাবাদী, যাতে এ বিষয়ে তাঁদের মতামত থেকে উপকৃত হওয়া যায়। কারণ আমরা প্রথম শতাব্দীগুলোর ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অনুসৃত পদ্ধতি প্রয়োগের পথে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। এটি একটি কঠিন কাজ যার জন্য হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহের সূক্ষ্ম অনুধাবন এবং ঐতিহাসিক বর্ণনার সাথে আচরণের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা ও গভীর সমঝদারির প্রয়োজন।
ইতিপূর্বে আমি ‘আস-সীরাহ আস-সহীহাহ’ (সহীহ সীরাত)-এর ভূমিকা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ‘আল-মুজতামাউল মাদানী’ (মাদানী সমাজ) শিরোনামে প্রকাশ করেছিলাম। তবে এই সংকলিত সংস্করণে আমি পূর্বপ্রকাশিত অংশগুলো পরিমার্জন করেছি এবং এতে নতুন অনেক তথ্য ও উপকারিতা যুক্ত করেছি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজ কবুল করেন এবং একে আমার জীবনে নেক আমল হিসেবে এবং মৃত্যুর পরে আমার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আশাস্থল এবং মহান আবেদন গ্রহণকারী। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ড. আকরাম জিয়া আল-উমারী
মদীনা মুনাওয়ারা।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
منهج كتابة تاريخ صدر الإسلام ومصادر السيرة النبوية
ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের ইতিহাস রচনার পদ্ধতি এবং সীরাতুন্নবীর উৎসসমূহ
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
منهج كتابة تاريخ صدر الإسلام.
من الثغرات التي انتبه لها المفكرون المسلمون في بداية الستينات من هذا القرن قضية إعادة صياغة التاريخ الإسلامي وفق التصور الإسلامي لحركة التاريخ من ناحية التفسير التاريخي، ووفق مناهج المحدثين من ناحية البحث في التاريخ الإسلامي
… ولا شك أن تقديم المقترحات والملاحظات حول إعادة صياغة التاريخ الإسلامي خلال أربعة عشر قرناً في غاية الصعوبة، لطول الفترة الزمنية من ناحية، ولتنوع المصادر واختلافها من حيث التنظيم وطرق العرض واختلاف الجوانب التي تستحق التركيز عليها في كل حقبة، وظهور انحراف عن الإسلام في الحياة السياسية منذ فترة مبكرة، ثم انحرافات أخرى في الحياة الاجتماعية والاقتصادية والتربوية في الفترات المتأخرة، ثم انحراف أخطر عن العقيدة والشريعة في القرن العشرين، مما يؤثر في تفسير دوافع حركة "التاريخ الإسلامي".
ولذلك سأقصر كلامي على إعادة صياغة تاريخ صدر الإسلام ويشتمل على السيرة النبوية المطهرة وعصر الراشدين حيث يقوي تأثير العقيدة في دوافع سلوك المسلمين من ناحية، كما أن المصادر تتشابه من ناحية التزامها بسوق الروايات تتقدمها الأسانيد على طريق المحدثين في الغالب، وكذلك لخطورة تاريخ صدر الإسلام حيث يمثل التطبيق الصحيح لتعاليم الإسلام الكاملة الشاملة، فهو الصورة النموذجية والمثال الذي نسعى بمجتمعاتنا الإسلامية المعاصرة للوصول إليه، وسأتعرض لبعض ملامح التصور الإسلامي للتفسير التاريخي، ثم أتعرض لمنهج البحث الافتراضي وفق قواعد مصطلح الحديث مع تمهيد لذلك ببيان الحاجة إلى كتابة تاريخنا بأقلام إسلامية.
إن تاريخ الأمم الأخرى كتب بأقلام أبنائها وإن أسهم فيه غيرهم، والأصل أن نحمل - نحن المسلمين - مسئولية كتابة تاريخنا بأيدينا، وأن نعرف
ইসলামি ইতিহাসের প্রথম যুগের ইতিহাস রচনার পদ্ধতি.
এই শতাব্দীর ষাটের দশকের শুরুতে মুসলিম চিন্তাবিদগণ যে সব অভাব বা শূন্যতা লক্ষ্য করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হলো ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ইসলামি ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী এবং ইসলামি ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী ইসলামি ইতিহাস পুনরায় বিন্যাস করার বিষয়টি
… নিঃসন্দেহে চৌদ্দশ বছরের ইসলামি ইতিহাস পুনরায় বিন্যাস করার বিষয়ে প্রস্তাবনা ও পর্যবেক্ষণ প্রদান করা অত্যন্ত কঠিন। একদিকে যেমন দীর্ঘ সময়কাল, অন্যদিকে উৎসের বৈচিত্র্য এবং বিন্যাস ও উপস্থাপনার পদ্ধতির ভিন্নতা। এছাড়া প্রতিটি যুগে এমন ভিন্ন ভিন্ন দিক রয়েছে যার ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম দিক থেকেই রাজনৈতিক জীবনে ইসলাম থেকে বিচ্যুতি প্রকাশ পায়, অতঃপর পরবর্তী সময়গুলোতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত জীবনে অন্যান্য বিচ্যুতি দেখা দেয়। এরপর বিংশ শতাব্দীতে আকীদাহ ও শরীয়াহর ক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ বিচ্যুতি দেখা দেয়, যা "ইসলামি ইতিহাস" এর গতির পেছনের চালিকাশক্তির ব্যাখ্যাকে প্রভাবিত করে।
তাই আমি আমার আলোচনাকে ইসলামের প্রথম যুগের ইতিহাস পুনরায় বিন্যাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব, যার অন্তর্ভুক্ত হলো পবিত্র সীরাতুন্নবী এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ। কারণ এই সময়ে একদিকে যেমন মুসলমানদের আচরণের পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে আকীদাহর প্রভাব অত্যন্ত প্রবল ছিল, তেমনি অন্যদিকে ঐতিহাসিক উৎসগুলোও প্রায় একই ধরনের যেখানে মুহাদ্দিসগণের অনুসৃত পদ্ধতিতে বর্ণনার শুরুতে সনদ বা সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামি ইতিহাসের প্রথম যুগের গুরুত্বের কারণ হলো, এটি ইসলামের পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক শিক্ষার সঠিক বাস্তবায়নের প্রতিনিধিত্ব করে। এটিই সেই আদর্শ রূপ ও উদাহরণ যার পর্যায়ে পৌঁছাতে আমরা আমাদের সমসাময়িক মুসলিম সমাজগুলোর জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইসলামি দর্শনের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরব, এরপর হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষার নিয়ম অনুযায়ী গবেষণা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব এবং এর ভূমিকা হিসেবে আমাদের ইতিহাস ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে আমাদের নিজেদের কলমে রচনার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করব।
অন্যান্য জাতির ইতিহাস তাদের নিজেদের সন্তানদের কলমেই রচিত হয়েছে, যদিও সেখানে অন্যদেরও কিছু অবদান রয়েছে। আর মূল কথা হলো আমাদের—মুসলমানদেরই—নিজেদের হাতে আমাদের ইতিহাস লেখার দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত, এবং আমাদের জানা উচিত
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بحضارتنا ومبادئنا وقيمنا وفق فهمنا لها، وإن أسهم الآخرون في الكتابة معنا فإنها مشاركة محدودة وليست في الأصل في تصورنا لتاريخنا ولا في عرضنا له أمام أنظار العالم.
إن ما حدث هو عكس ما ينبغي، حيث إن التخلف الحضاري للعالم الإسلامي ينعكس على تقويمه لتاريخه. إن البعض من المعنيين بالتاريخ ما بين ناكصين عن الإسلام كارهين لتاريخه معتقدين أنه سبب التأخر الحضاري في ديار الإسلام وهم يحملونه حتى مسئولية الهزائم العسكرية أمام يهود، وهؤلاء يؤمنون بضرورة إحداث فجوة بين الماضي والحاضر وعزل الأجيال الإسلامية الجديدة عن الإسلام. وتراثه الأدبي، أو كسالى احترفوا الكتابة التاريخية فهم يسودون الصحف البيضاء بما يترجمونه من كتب المستشرقين التي يجدون فيها مادة للتدريس والكتابة لا تكلفهم عناء البحث والتدقيق والتأليف، ولا يبالون بعد ذلك بالسموم التي ينفثونها في المجتمع الإسلامي.
إن مما ساعد على ذلك تخلف الحركة الفكرية في العالم الإسلامي وعدم مواكبتها للحركة الفكرية العالمية، وذلك مرتبط بما حدث من تباين حضاري بين الشرق والغرب منذ عهد النهضة في أوروبا، فقلما تجد دراسة تاريخية جادة كتبت من قبل المسلمين في القرن التاسع عشر والعقود الأولى من القرن العشرين، فلا غرابة إذا ما كانت معظم الدراسات التاريخية التي قام بها المسلمون في تلك الفترة صدى وانعكاساً لآراء وأفكار المستشرقين.
أما المؤمنون بالإسلام، العاملون على توثيق صلة الأجيال الجديدة به فهم يحملون عبئاً ضخماً ومسئولية كبيرة في هذا الميدان لأنهم وحدهم القادرون على التصور الصحيح للتاريخ الإسلامي والمجتمع الإسلامي، ويتذوقون طعم الإيمان ويحسون بأثره على سلوكهم مما يمكنهم من فهم دوافع حركة الفرد المسلم والمجتمع المسلم وبالتالي حركة التاريخ الإسلامي.
আমাদের সভ্যতা, মূলনীতি এবং মূল্যবোধের আলোকে এবং এগুলোর ব্যাপারে আমাদের নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী। যদি অন্য কেউ আমাদের সাথে লেখায় অংশ নেয়ও, তবে তা একটি সীমিত অংশগ্রহণ মাত্র; মূলত তা আমাদের ইতিহাসের ধারণা কিংবা বিশ্ববাসীর সামনে তা উপস্থাপনের মৌলিক ভিত্তি নয়।
যা ঘটেছে তা হওয়া উচিত ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত, কারণ মুসলিম বিশ্বের সভ্যতাগত অনগ্রসরতা তার ইতিহাস মূল্যায়নের ওপর প্রভাব ফেলছে। ইতিহাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ ইসলাম থেকে বিমুখ এবং এর ইতিহাসের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ; তারা মনে করে যে, মুসলিম দেশগুলোর সভ্যতাগত পশ্চাৎপদতার কারণ হলো ইসলাম। এমনকি ইহুদিদের কাছে সামরিক পরাজয়ের দায়ভারও তারা ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেয়। তারা অতীত ও বর্তমানের মাঝে একটি ফাটল তৈরি করা এবং নতুন মুসলিম প্রজন্মকে ইসলাম ও তার সাহিত্যিক ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করা অপরিহার্য বলে মনে করে। আবার কেউ কেউ অলস প্রকৃতির, যারা ইতিহাস লেখাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে; তারা সাদা কাগজগুলো প্রাচ্যবিদদের বই থেকে করা অনুবাদের মাধ্যমে কালো করে ফেলে, যেগুলোতে তারা পাঠদান ও লেখার এমন উপকরণ খুঁজে পায় যা তাদের গবেষণা, যাচাই-বাছাই ও মৌলিক রচনার কষ্ট থেকে রেহাই দেয়। এরপর তারা মুসলিম সমাজে যে বিষবাষ্প ছড়ায়, সে ব্যাপারে তারা ভ্রূক্ষেপও করে না।
এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে অন্যতম সহায়ক ছিল মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের অনগ্রসরতা এবং বৈশ্বিক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সাথে তাল মেলাতে না পারা। এটি ইউরোপের রেনেসাঁ বা নবজাগরণের যুগ থেকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সৃষ্ট সভ্যতাগত পার্থক্যের সাথে জড়িত। উনবিংশ শতাব্দী এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম কয়েক দশকে মুসলমানদের দ্বারা রচিত কোনো সিরিয়াস ঐতিহাসিক গবেষণা খুব কমই পাওয়া যায়। তাই সেই সময়ে মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত অধিকাংশ ঐতিহাসিক গবেষণা যদি প্রাচ্যবিদদের মতাদর্শ ও চিন্তাধারারই প্রতিধ্বনি ও প্রতিফলন হয়ে থাকে, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
পক্ষান্তরে যারা ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী এবং নতুন প্রজন্মের সাথে ইসলামের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, এই ময়দানে তারা এক বিশাল বোঝা ও গুরুদায়িত্ব বহন করছেন। কারণ কেবল তারাই ইসলামী ইতিহাস ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পোষণ করতে সক্ষম। তারা ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেন এবং নিজেদের আচরণের ওপর এর প্রভাব অনুভব করেন, যা তাদের একজন মুসলিম ব্যক্তি ও মুসলিম সমাজের কর্মকাণ্ডের পেছনের চালিকাশক্তি এবং ফলশ্রুতিতে ইসলামী ইতিহাসের গতিধারা অনুধাবনে সক্ষম করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
إن التفسير الإسلامي منبثق من تصور الإسلام للكون والحياة والإنسان، فهو يقوم على الإيمان بالله تعالى وكتبه ورسله، وباليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره من الله تعالى، وهو لا يخرج عن دائرة المعتقدات الإسلامية، وهو مبني على فهم دوافع السلوك في المجتمع الإسلامي مما يجعل حركة التاريخ الإسلامي ذات طابع متميز عن حركة التاريخ العالمي لأثر الوحي الإلهي فيه. وهو ليس تفسيراً تبريرياً بل تبرز فيه خصائص الإيمان المستعلي على ما سواه. كما أنه ليس تفسيراً مادياً يحصر المؤثرات على حركة التاريخ البشري في العوامل المادية كتبديل وسائل الإنتاج - كما في الفكر الماركسي، أو التفسيرات المعتمدة على أثر البيئة الخارجية (من مناخ وجغرافية واقتصاد …). كما في الفكر المادي الغربي، بل هو يوضح دور الإنسان ومسئوليته عن التغير الاجتماعي والتاريخي في إطار المشيئة الإلهية. وكذلك فإنه ليس عنصرياً يركز على دور شعب بعينه، بل يقوم دور الشعوب الإسلامية وفق حجمها وعطائها الحقيقي. كما أنه ليس طائفياً يوجه التاريخ لخدمة مذهب معين أو طائفة على حساب الحقائق التاريخية. وكل هذه الملامح تحتاج إلى تفصيل كثير لا مجال له في هذا الكتاب، لكنني سأفصل بعض هذه الملامح فقط، وأرجئ تفصيل بقية الملامح إلى وقت آخر إن شاء الله تعالى.
ইসলামী ইতিহাসতত্ত্ব মূলত মহাবিশ্ব, জীবন এবং মানুষ সম্পর্কে ইসলামের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা থেকেই উৎসারিত। এটি মহান আল্লাহ তাআলা, তাঁর কিতাবসমূহ ও রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এটি ইসলামী আকিদাহর পরিমণ্ডল অতিক্রম করে না এবং এটি ইসলামী সমাজের আচরণের উৎসসমূহ অনুধাবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা ঐশী ওহির প্রভাবের কারণে ইসলামী ইতিহাসের গতিধারাকে বিশ্ব ইতিহাসের গতিধারা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত করেছে। এটি কোনো কৈফিয়ত প্রদানকারী ব্যাখ্যা নয়, বরং এতে অন্য সব কিছুর ওপর ঈমানের শ্রেষ্ঠত্বের বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে ওঠে। তদ্রূপ এটি কোনো বস্তুবাদী ব্যাখ্যাও নয়, যা মানব ইতিহাসের গতিধারার প্রভাবকসমূহকে কেবল উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তনের মতো বৈষয়িক উপাদানে সীমাবদ্ধ করে—যেমনটি মার্ক্সবাদী চিন্তাধারায় দেখা যায়—কিংবা বাহ্যিক পরিবেশের (যেমন জলবায়ু, ভূগোল ও অর্থনীতি ...) প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল ব্যাখ্যার মতো, যেমনটি পশ্চিমা বস্তুবাদী চিন্তাধারায় পরিলক্ষিত হয়; বরং এটি ঐশী ইচ্ছার কাঠামোর মধ্যে সামাজিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতাকে স্পষ্ট করে। একইভাবে এটি কোনো বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নয় যা বিশেষ কোনো জাতির ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে, বরং এটি মুসলিম জাতিসমূহের ভূমিকা তাদের বিস্তৃতি ও প্রকৃত অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে। তদুপরি এটি কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নয় যা ঐতিহাসিক সত্যকে বিসর্জন দিয়ে বিশেষ কোনো মাযহাব বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ইতিহাসকে পরিচালিত করে। এই সকল বৈশিষ্ট্যের জন্য বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন যার অবকাশ এই গ্রন্থে নেই, তবে আমি এখানে কেবল এগুলোর মধ্য থেকে কিছু বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত বর্ণনা দেব এবং বাকি বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোচনা মহান আল্লাহ চাহেন তো অন্য কোনো সময়ের জন্য স্থগিত রাখছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ملامح التصور الإسلامي للتفسير التاريخي.
1 - مراعاة الحقائق التي قررها القرآن الكريم: مثلاً (الأصل في عقائد البشر التوحيد لا الشرك) الأصل في عقيدة البشر التوحيد من لدن آدم عليه السلام، ثم طرأ عليهم الشرك (كان الناس أمة واحدة فبعث الله النبيين مبشرين ومنذرين) أي كانوا أمة واحدة على التوحيد، فلما تركوه وانحرفوا عنه أرسل الله تعالى الأنبياء ليردوهم إليه. هذا ما قرره القرآن الكريم، فإذا راجعنا كتب التاريخ القديم، وجدنا المؤرخ المنتسب للإسلام يقرر ما يخالف القرآن حين يذكر أن الأصل عبادة الحيوان والكواكب والقوى الطبيعية، ثم نتيجة ارتقاء العقل البشري وصل إلى التوحيد .. وهم يعتبرون الفرعون "اخناتون" أقدم الموحدين لأنه دعا إلى عبادة الشمس وحدها دون بقية المعبودات عند المصريين.
إن هذا التقرير يرجع إلى أمرين:
الأول: إنكار الوحي والنبوة حيث اعتبر ظهور العقائد الدينية وتطورها من تعدد الآلهة إلى التوحيد مجهوداً بشرياً نتيجة الارتقاء العقلي والثقافي.
الثاني: التأثر بنظرية داروين وتطبيق نظرية النشوء والارتقاء في مجال العقيدة الدينية.
على أن من الحق أن نذكر فكرة شاملة تتطابق مع النظرة القرآنية طرحها عالم الأجناس البشرية إيفار ليسنر في كتابه (الإنسان والله والسحر) تقول: "إن أسلافنا البدائيين قد اعتقدوا بوجود إله واحد، ثم انحطوا بالتدريج بسبب النفوذ الشرير لسحرة القبائل وساحراتها وتحولوا إلى عباد لآلهة متعددة" *.
إن المطلوب من المؤرخ المسلم أن يستوعب كليات التصور القرآني للتاريخ البشري ويلتزم به في الكتابة التاريخية، ولو ظهرت بعض النظريات التي تخالف بعض هذه الكليات فليتهم هذه النظريات ما دامت لم تصبح حقائق قطعية،
--------------------------------------------
ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার ইসলামি ভাবধারার রূপরেখা.
১ - কুরআনুল কারিম নির্ধারিত সত্যসমূহকে বিবেচনা করা: উদাহরণস্বরূপ (মানুষের আকিদাহর মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ, শিরক নয়)। আদম আলাইহিস সালামের সময় থেকেই মানুষের আকিদাহর মূল ছিল তাওহিদ, পরবর্তীতে তাদের মধ্যে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে (মানুষ ছিল এক উম্মত, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবিগণকে প্রেরণ করেন) অর্থাৎ তারা তাওহিদের উপর এক উম্মত ছিল, যখন তারা তা বর্জন করল এবং তা থেকে বিচ্যুত হলো, তখন মহান আল্লাহ তাদেরকে পুনরায় সেদিকে ফিরিয়ে নিতে নবিগণকে পাঠালেন। এটিই কুরআনুল কারিম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু আমরা যখন প্রাচীন ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করি, তখন ইসলামি পরিচয়ধারী ঐতিহাসিকদেরও কুরআনের বিপরীত সিদ্ধান্ত নিতে দেখি যখন তারা উল্লেখ করেন যে, ধর্মের মূল ভিত্তি ছিল পশুপাখি, গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রাকৃতিক শক্তির উপাসনা, অতঃপর মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তনের ফলে তারা তাওহিদের স্তরে পৌঁছায়। তারা ফেরাউন 'আখেনাতেন'-কে প্রাচীনতম একেশ্বরবাদী মনে করে, কারণ সে মিশরীয়দের অন্যান্য উপাস্য ত্যাগ করে কেবল সূর্যের উপাসনার আহ্বান জানিয়েছিল।
এই ধরনের সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে দুটি বিষয়:
প্রথমত: ওহি ও নবুওয়তকে অস্বীকার করা; যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের উদ্ভব এবং বহু-ঈশ্বরবাদ থেকে তাওহিদে উত্তরণকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ফলস্বরূপ মানুষের একক প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: ডারউইনের মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং ধর্মীয় আকিদাহর ক্ষেত্রে বিবর্তনবাদ প্রয়োগ করা।
তবে সত্যের খাতিরে আমাদের এমন একটি সামগ্রিক ধারণা উল্লেখ করা উচিত যা কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সংগতিপূর্ণ, যা নৃবিজ্ঞানী ইভার লিসনার তার 'মানুষ, ঈশ্বর ও জাদু' গ্রন্থে পেশ করেছেন। তিনি বলেন: "আমাদের আদি পূর্বপুরুষরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন, অতঃপর গোত্রীয় জাদুকর ও জাদুকরীদের অশুভ প্রভাবে তারা ক্রমে অধঃপতিত হন এবং বহু-ঈশ্বরবাদী উপাসকে পরিণত হন।" *।
একজন মুসলিম ঐতিহাসিকের কর্তব্য হলো মানব ইতিহাসের ব্যাপারে কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গির মূলনীতিসমূহকে অনুধাবন করা এবং ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে তা মেনে চলা। যদি এমন কিছু মতবাদ প্রকাশ পায় যা এই মূলনীতিগুলোর বিরোধী, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেগুলো অকাট্য সত্য হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ সেই মতবাদগুলোকেই ত্রুটিপূর্ণ মনে করা উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সীরাতুন নববিয়্যাতুস সহীহাহ মুহাওয়াহ লি-তাতবীক কাওয়ায়িদিল মুহাদ্দিসীন ফী নাকদি রিওয়ায়াতিস সীরাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومعظم استنتاجات التاريخ القديم ترتكز على علم الآثار والحفريات، وهي تعطي معلومات مشتتة لا تكفي لتغطية الفجوات الكبيرة في التاريخ البشري القديم، وإذا كان المؤرخ غير المسلم لا يستطيع التصور إلا من خلال الآثار المادية التي تزوده بالمعلومات
… فإن المؤرخ المسلم يستند إلى القرآن الكريم الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وهو الكتاب الإلهي الوحيد الذي لم ينله التحريف والتبديل وهي نعمة عظيمة أنعمها الله تعالى على المسلمين بحفظ كتابه يتلونه كما أنزل في كل عصر، مطمئنة نفوسهم إلى أنه "كلام الله" مما له أعمق الأثر في نفوسهم وعقولهم وسلوكهم وشخصيتهم وطبيعة مجتمعهم وحضارتهم، وهو أمر لم يتحقق لأمة أخرى غير الأمة الإسلامية.
2 - تفسير دوافع السلوك عند المسلمين في صدر الإسلام: إن دوافع السلوك في المجتمع الإسلامي الذي تهيمن عليه العقيدة تتأثر كثيراً بالتطلع إلى ما عند الله
… إلى الجزاء الأخروى، وصفوة المؤمنين لا يشركون دوافع أخرى في سلوكهم، إذ لا بد من إخلاصهم النية لله تعالى في كل أعمال المسلم سواء كانت جهاداً بالنفس أو نشاطاً اجتماعياً أو اقتصادياً أو سياساً، فنشاط المسلم في كل مجالات الحياة يدور حول محور - إرضاء الله تعالى - ويعرف المسلم أنه إذا أشرك في نيته فإنه يحبط عمله كما في الحديث الشريف "إن الله لا يقبل من العمل إلا ما كان خالصاً له وابتغي به وجهه" وإذا كان هذا التصور يتحكم في الكثير من المسلمين الواعين اليوم فكيف كان أثر ذلك في جيل الصحابة والتابعين والأتباع - وهم خير القرون - إذاً؟.
إن معرفة أثر الإسلام في تربية أتباعه في صدر الإسلام وتزكية أرواحهم وتثقيف عقولهم وإخلاص عقيدتهم وتوجههم إلى الله وحده بالعبادة والمجاهدة يجعل من البدهي التسليم بأن الدافع لهم في مشاركتهم في الفتوح ونشر الإسلام والتمكين له وتنظيم المناطق المفتوحة والاجتهاد في حل المشاكل والأقضية المستجدة وفق تعاليم الإسلام، لم يكن دافعاً دنيوياً ولا رغبة في التسلط
প্রাচীন ইতিহাসের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই প্রত্নতত্ত্ব ও খননকার্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য প্রদান করে এবং মানব ইতিহাসের বিশাল শূন্যস্থানগুলো পূরণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। আর অমুসলিম ঐতিহাসিকরা যদি কেবল সেই সব বস্তুগত নিদর্শনের মাধ্যমেই কল্পনা করতে সক্ষম হন যা তাদের তথ্য সরবরাহ করে
… তবে মুসলিম ঐতিহাসিক পবিত্র কুরআনের ওপর নির্ভর করেন যার সম্মুখ থেকে কিংবা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। এটিই একমাত্র ঐশী কিতাব যা কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তনের শিকার হয়নি। এটি একটি মহান নিআমত যা আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের ওপর তাঁর কিতাব সংরক্ষণের মাধ্যমে দান করেছেন, যা তারা প্রত্যেক যুগে ঠিক সেভাবেই তেলাওয়াত করে যেভাবে তা নাজিল হয়েছিল। তাদের অন্তরসমূহ এ বিষয়ে প্রশান্ত যে এটি "আল্লাহর কালাম", যা তাদের মন, মস্তিষ্ক, আচরণ, ব্যক্তিত্ব এবং তাদের সমাজের প্রকৃতি ও সভ্যতার ওপর গভীরতম প্রভাব ফেলে। এটি এমন এক বিষয় যা মুসলিম উম্মাহ ছাড়া অন্য কোনো উম্মাহর জন্য অর্জিত হয়নি।
২ - ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে মুসলিমদের আচরণের প্রেরণার ব্যাখ্যা: ইসলামি সমাজে আচরণের চালিকাশক্তি, যেখানে আকিদার আধিপত্য বিদ্যমান, তা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে এবং পরকালীন প্রতিদানের আকাঙ্ক্ষার দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। ঈমানদারদের মনোনীত ব্যক্তিবর্গ তাদের আচরণের সাথে অন্য কোনো উদ্দেশ্যকে শরিক করেন না। কারণ একজন মুসলিমের প্রতিটি কাজে—চাই তা জিহাদ হোক অথবা সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হোক—আল্লাহ তাআলার জন্য নিয়তকে খাঁটি করা অপরিহার্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের তৎপরতা ‘আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি’কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। একজন মুসলিম জানেন যে, তিনি যদি তাঁর নিয়তে কাউকে শরিক করেন তবে তাঁর আমল বাতিল হয়ে যাবে, যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমলের মধ্য থেকে কেবল সেটিই কবুল করেন যা খাঁটিভাবে তাঁর জন্য সম্পাদিত হয়েছে এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর চেহারার অন্বেষণ করা হয়েছে।" বর্তমান সময়ের সচেতন মুসলিমদের ওপর যদি এই ধারণা এতটা প্রভাব বিস্তার করে থাকে, তবে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন এবং তাবে-তাবেয়িনদের প্রজন্মের ওপর—যারা সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ—এর প্রভাব কেমন ছিল?
ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে এর অনুসারীদের গঠনে ইসলামের প্রভাব, তাঁদের আত্মার পরিশুদ্ধি, মেধার বিকাশ, আকিদাকে বিশুদ্ধ করা এবং ইবাদত ও জিহাদের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর দিকে তাঁদের নিবিষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানা থাকলে এটি মেনে নেওয়া স্বতসিদ্ধ হয়ে যায় যে, বিজয় অভিযান, ইসলাম প্রচার, বিজিত অঞ্চলসমূহে ইসলামের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী নতুন উদ্ভূত সমস্যা ও বিচারিক বিষয়ের সমাধানে ইজতিহাদ করার ক্ষেত্রে তাঁদের মূল প্রেরণা পার্থিব কোনো স্বার্থ বা আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা ছিল না।