(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
تهافت العلمانية في الصحافة العربية   (سالم البهنساوي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: تهافت العلمانية في الصحافة العربية

المؤلف: المستشار سالم علي البهنساوي (ت 1427هـ)

الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، المنصورة - مصر.

الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م.

عدد الصفحات: 284

أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1435

আরবি সংবাদমাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার অসারতা   (সালেম আল-বাহনাসাউই)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


বই: আরবি সংবাদমাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার অসারতা

লেখক: পরামর্শক সালেম আলী আল-বাহনাসাউই (মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি)

প্রকাশক: দার আল-ওয়াফা মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, মানসুরা - মিশর.

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৪

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরায়শি.

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
تهافت العلمانية في الصحافة العربية

 

المستشار سالم البهنساوي

 

دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع - المنصورة. ش. م. م

 

- عدد الأجزاء: 1.

- عدد الصفحات: 284.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
আরবি সংবাদমাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের অসারতা

 

বিচারক সালেম আল-বাহনাসাউই

 

দার আল-ওয়াফা মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ - আল-মানসুরা। এস. এম. এম.

 

- খণ্ড সংখ্যা: ১।

- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৪।

আল-মাকতাবাহ আশ-শামেলাহ-এর জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি - আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন -।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
تهافت العلمانية في الصحافة العربية

 

المستشار سالم البهنساوي

 

دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع - المنصورة. ش. م. م
আরবি সংবাদমাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের অসারতা

 

আল-মুস্তাশার সালেম আল-বাহনাসাউই

 

দারুল ওয়াফা মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ - মানসুরা। এস. এম. এম.
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
الطبعة الأولى

1410 هـ - 1990 م
প্রথম সংস্করণ

১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تَقْدِيمٌ:

العلمانية هى ترجمة لكلمة (SECULARISM) ومعناها القواعد التي لا تربط بالقواعد الكنسية أو الأنظمة الدينية، فلا تبالى بالدين والاعتبارإت الدينية، وقد ظهرت كمذهب أو مصطلح يناهض انحرافات الكنيسة في أوروبا بما كانت تفرضه من صكوك الغفران والحرمان، ومن تحريم البحث في العلوم التجريبية، كالطب أو الهندسة أو الصناعة والمعمار ومن قتل أو سجن من يبحث في هذه العلوم بدعوى أنه يعارض المشيئة الإلهية.

وبالتالى كان رد الفعل فى ظل الثورة الفرنسية سنة 1789 م هو إبعاد الدين عن الحياة وعن المجتمع، فهذه الظروف تمخض عنها النظام العلماني الذي يفصل بين الدين والمجتمع، ويعزل الدين عن القوانين والتشريعات كلها فيما عدا قانون الأحوال الشخصية، بل هذا القانون اضطرت أوروبا إلى الخروج فيه على الدين هناك توصلاً إلى الطلاق الذي تحرمه ديانتهم، ولهذا نشأ نظامان للزواج، هما الزواج المدني، والزواج الكنسي.

ثم كان رد الفعل الأكثر تطرفًا وهو الشيوعية التي تبناها (كارل ماركس)، وهي تنكر الأديان، وتشترك مع شيوعية «مزدك» الذي ظهر في فارس قبل نزول القرآن الكريم، في الدعوة إلى شيوعية المال والجنس، وبالتالي فالتيار الشيوعي هو فرع من فروع التيار العلماني.

إنه على الرغم من أن هذا النوع من الحكم الديني لم تعرفه البلاد العربية والإسلامية، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قد بُعِثَ ليخرج الشعوب من الظلمات، وَلِيُحِلَّ لهم الطيبات ويحرم عليهم الخبائث ويضع عنهم الأغلال التي كانت عليهم. ولهذا فرق بين ما يخضع للتجربة - أي كان للعقل فيه مجال - وبين ما كان مصدره الوحي من الله، وهو ما لا يخضع للتجارب، أي للعقل، فأطلق حرية البحث في النوع الأول وقال صلى الله عليه وسلم: «أَنْتُمْ أَعْلَمُ [بِأَمْرِ] دُنْيَاكُمْ». وقيده في النوع الثاني وذلك لأن مصدره هو الوحي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা (تقديم):

ধর্মনিরপেক্ষতা (العلمانية) হলো (SECULARISM) শব্দের অনুবাদ এবং এর অর্থ হলো এমন সব নিয়মাবলি যা গির্জার আইন বা ধর্মীয় ব্যবস্থার সাথে যুক্ত নয়। এটি ধর্ম ও ধর্মীয় বিষয়াদিকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এটি ইউরোপে গির্জার বিচ্যুতিসমূহের বিরুদ্ধে একটি মতবাদ বা পরিভাষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল; গির্জা তখন 'পাপমুক্তি পত্র' ও 'বর্জন' প্রথা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, শিল্প বা স্থাপত্যের মতো পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানে গবেষণাকে নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি ঐশ্বরিক ইচ্ছার বিরোধিতা করার অজুহাতে যারা এসব বিজ্ঞানে গবেষণা করত, তাদের হত্যা বা কারারুদ্ধ করা হতো।

ফলস্বরূপ, ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এর প্রতিক্রিয়া ছিল জীবন ও সমাজ থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। এই পরিস্থিতি থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা (النظام العلماني) তৈরি হয় যা ধর্ম ও সমাজের মধ্যে বিভাজন ঘটায় এবং ব্যক্তিগত আইন ব্যতীত বাকি সমস্ত আইন ও বিধান থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করে। এমনকি ইউরোপ এই ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রেও সেখানে ধর্মের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল যাতে তালাক কার্যকর করা যায়, যা তাদের ধর্মে নিষিদ্ধ ছিল। এই কারণেই বিবাহের দুটি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল: দেওয়ানি বিবাহ এবং গির্জাভিত্তিক বিবাহ।

এরপর আরও চরমপন্থী প্রতিক্রিয়া ছিল সাম্যবাদ (الشيوعية) যা কার্ল মার্কস গ্রহণ করেছিলেন। এটি ধর্মসমূহকে অস্বীকার করে। পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়ার আগে পারস্যে আবির্ভূত হওয়া 'মাজদাক'-এর সাম্যবাদের সাথে এর মিল রয়েছে, যা সম্পদ ও যৌনতার সাম্যবাদের আহ্বান জানিয়েছিল। ফলত, সাম্যবাদী ধারাটি ধর্মনিরপেক্ষ ধারারই একটি শাখা।

প্রকৃতপক্ষে, এই ধরণের ধর্মীয় শাসন আরব ও ইসলামি দেশসমূহ কখনো দেখেনি, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন জাতিসমূহকে অন্ধকার থেকে বের করে আনার জন্য, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে বৈধ (حلال) করার জন্য এবং অপবিত্র বস্তুসমূহকে নিষিদ্ধ (حرام) করার জন্য, আর তাদের ওপর চেপে থাকা শৃঙ্খলসমূহ দূর করার জন্য। একারণেই তিনি পরীক্ষামূলক বিষয়—যাতে যুক্তির (العقل) অবকাশ রয়েছে—এবং যার উৎস ওহি (الوحي) থেকে প্রাপ্ত—যা পরীক্ষা বা নিছক যুক্তির অধীন নয়—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি প্রথম প্রকারের গবেষণার স্বাধীনতা প্রদান করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের দুনিয়াবি [বিষয়ে] অধিক অবগত।» আর দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে তিনি একে সীমাবদ্ধ করেছেন, কারণ এর উৎস হলো ওহি (الوحي)।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
من الله وليس تجارب الناس.

بالرغم من ذلك كله فإن الاحتلال الغربي للبلاد العربية والإسلامية، قد افترى على الإسلام، فربط بينه وبين الحكم الديني في أوروبا، واستطاع أن يورث هذا الضلال إلى أعراب، ليكونوا أداة للفكر الغربي وللسيادة الغربية، وأخرج من أبناء العرب دعاة للعلمانية لينوبوا عنه في رسالته.

ولقد كانت خطة المستعمر ألا يرحل من البلاد التي احتلها إلا بعد أن يعد جيلاً من المثقفين والسياسيين، يخلفه في حراسة هذه العلمانية، ليضمن تبعية البلاد العربية والإسلامية لأوروبا، فكان ما نشاهده من سيادة هذه الطبقة في السياسة والإعلام والمرافق الهامة، ومن إبعاد كل ملتزم بالإسلام والقيم الإسلامية عن هذه المراكز القيادية، أو عن أدوات التأثير في المجتمع، حتى أن الدول المسلمة، لا تستطيع أن تترك للفتاة حرية الظهور على شاشة التلفاز وهي ترتدي الحجاب الإسلامي، فكل مذيعة تحجبت تم إبعادها عن هذا العمل.

ولقد كان للصحافة دور رئيسي في حراسة العلمانية رغم ما أصابها من عفن، ولم تخرج أي صحيفة يومية عن هذا التيار العلماني، ولو كان صاحبها ممن يشهدون الصلوات في المساجد.

وقد نشطت الأقلام المسخرة لخدمة العلمانية في الدفاع عن هذا الصنم، حفاظًا على مراكزها ومصالحها، بعد شيوع الصحوة الإسلامية، وبعد فرض الهيمنة الإسرائيلية على الأنظمة العربية، وما نتج عن ذلك من رسم خطة لتطبيع العلاقات مع إسرائيل والمجتمعات العربية.

لهذا رأيت جمع أهم مَا نَشَرْتُهُ في الصحف العربية رَدًّا على المفتريات العلمانية وذلك في كتاب باسم " تهافت العلمانية في الصحافة العربية "، وقد تضمن ما يأتي:

• الفصل الأول: عن غسيل المخ والتيارات الفكرية، وهو يتعرض للتيارات الأوروبية الوافدة من الشرق أو الغرب، ولبعض المؤتمرات والمقالات والندوات التي تشترك كلها في إبعاد الإسلام عن المجتمع والحياة الاجتماعية والسياسية، وإحلال غيره محله.

• الفصل الثاني: عن إشهار إفلاس العلمانية العربية. وهذا الفصل يركز على أن فصل
আল্লাহর পক্ষ থেকে, মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে নয়।

এতসব সত্ত্বেও, আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে পাশ্চাত্য উপনিবেশবাদ ইসলামের ওপর অপবাদ আরোপ করেছে এবং ইসলামকে ইউরোপীয় ধর্মীয় শাসনের সাথে যুক্ত করেছে। তারা এই ভ্রষ্টতাকে আরবদের মধ্যে উত্তরসূরি হিসেবে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে, যাতে তারা পাশ্চাত্য চিন্তাধারা ও আধিপত্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি তারা আরব সন্তানদের মধ্য থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবক্তা তৈরি করেছে, যাতে তারা তাদের মিশনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে।

আর উপনিবেশবাদীদের পরিকল্পনা ছিল যে, তারা দখলকৃত দেশগুলো থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিদায় নেবে না, যতক্ষণ না তারা বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদদের এমন এক প্রজন্ম তৈরি করে, যারা এই ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে; যাতে ইউরোপের প্রতি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর আনুগত্য নিশ্চিত করা যায়। ফলে আমরা আজ রাজনীতি, গণমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই শ্রেণীর আধিপত্য দেখতে পাচ্ছি। অন্যদিকে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের অনুসারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে এই সকল নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থান অথবা সমাজের প্রভাবশালী মাধ্যমগুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি মুসলিম দেশগুলো কোনো তরুণীকে টেলিভিশনের পর্দায় হিজাব পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত হওয়ার স্বাধীনতা দিতে পারছে না; ফলে যে উপস্থাপিকা হিজাব গ্রহণ করেছেন, তাকেই তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আর ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় সংবাদপত্রের এক প্রধান ভূমিকা ছিল, যদিও তা কলুষতায় জর্জরিত। কোনো দৈনিক পত্রিকাই এই ধর্মনিরপেক্ষ ধারার বাইরে যেতে পারেনি, এমনকি তার মালিক মসজিদে সালাত আদায়কারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও।

ইসলামী জাগরণ ছড়িয়ে পড়ার পর এবং আরব দেশগুলোর ওপর ইসরায়েলি আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার পর, এবং তার ফলশ্রুতিতে ইসরায়েল ও আরব সমাজগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা গ্রহণের পর, ধর্মনিরপেক্ষতার সেবায় নিয়োজিত কলমগুলো তাদের পদমর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার্থে এই মূর্তির প্রতিরক্ষায় তৎপর হয়ে ওঠে।

এই কারণে আমি আরব সংবাদপত্রে ধর্মনিরপেক্ষ অপবাদসমূহের জবাবে আমার প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো "তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ" (আরব সংবাদপত্রে ধর্মনিরপেক্ষতার অসারতা) নামক একটি গ্রন্থে সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে:

• প্রথম অধ্যায়: মগজ ধোলাই ও বুদ্ধিবৃত্তিক মতাদর্শ প্রসঙ্গে। এতে প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য থেকে আগত ইউরোপীয় চিন্তাধারা এবং বিভিন্ন সম্মেলন, নিবন্ধ ও সেমিনার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলোর মূল লক্ষ্য হলো সমাজ, সামাজিক জীবন ও রাজনীতি থেকে ইসলামকে নির্বাসিত করে তার স্থলাভিষিক্ত অন্য কিছুকে স্থান দেওয়া।

• দ্বিতীয় অধ্যায়: আরব ধর্মনিরপেক্ষতার দেউলিয়াত্ব ঘোষণা প্রসঙ্গে। এই অধ্যায়টি এই বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে যে—
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الدين مع المجتمع - وهو جوهر العلمانية - هو من سمات وخصائص الإنجيل والتوراة، طبقًا للقول المأثور عنهم: «دَعْ مَا لِقَيْصَرَ لِقَيْصَرَ، وَمَا للهِ للهِ»، وكل ذلك لا وجود له في القرآن والسنة النبوية.

كما يكشف مغالطة العلمانيين، حيث خالفوا العلمانية، التي جعلت مصدر مشروعية القوانين هو قبول أغلبية الناس لها، ولكن العلمانيين العرب وغيرهم من أصحاب الأهواء والمصالح الذاتية رفضوا تطبيق هذا المبدأ في المجتمعات العربية، لأنهم على يقين أن الأغلبية الساحقة لا ترضى إلا بالتشريع الإسلامي.

• الفصل الثالث: عن الماركسية والواقع العربي حيث تشترك الماركسية مع العلمانية في إبعاد الدين عن التشريعات والقوانين، وبالتالي فانفراد الماركسية بإبعاد الدين عن الأمور الشخصية - ومنها محاربة العبادات - يجعلها أكثر مناهضة للدين من العلمانية الغربية.

• الفصل الرابع: عن القيم الأخلاقية بين الإلحاد والعلمانية. فالفكر الإلحادي يتفق مع الفكر العلماني في إبعاد الدين والقيم الدينية عن الحياة الاجتماعية، ولهذا يسعى هؤلاء جميعًا إلى تطويع القيم الإسلامية، لتساير العلمانية واللادينية.

• الفصل الخامس: عن الفكر الإسلامي بين التأويل والتعطيل. ويتناول تأثير العلمانية على بعض العلماء، مما جعلهم يبالغون في الاجتهاد لاستبعاد بعض الأحكام الشرعية، كالحدود والعقوبات، بل في استبعاد السنة النبوية في الأمور التشريعية والاجتماعية، وذلك كرد فعل لهجوم التيار العلماني على الإسلام وتشريعاته. ظَنًّا من بعض العلماء أن تعطيل بعض الأحكام أو تأويلها يقرب بين الإسلام وخصومه.

• الفصل السادس: عن الحكومة الدينية بين الإسلام والعلمانية وهي القاعدة الأساسية التي تصوب منها سهام العلمانيين نحو الحكم الإسلامي وتشريعاته.

لقد حرصت على بقاء عبارات هذه المقالات كما هي، بالرغم من مرور ربع قرن أو يزيد على بعضها، لأنها تمثل الواقع والفكر السائد في وقتها.

إن نشر هذه الفصول يكشف أبعاد الحملة الحالية ضد الصحوة الإسلامية، وهي الحملة التي يقودها المعسكر الغربي والمعسكر الشيوعي، حيث يستخدمون في ذلك القفازات العربية التي بعضها من الحديد والآخر من الحرير.
সমাজের সাথে ধর্মের বিচ্ছেদ - যা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মূল নির্যাস - তা ইনজিল ও তাওরাতের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের একটি প্রবাদ অনুসারে: «কাইজারের যা প্রাপ্য তা কাইজারকে দাও, আর আল্লাহর যা প্রাপ্য তা আল্লাহকে দাও», এর কোনো অস্তিত্ব কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-তে নেই।

এটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বিভ্রান্তিও উন্মোচন করে, কারণ তারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদেরই বিরোধিতা করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ আইনের বৈধতার উৎস হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বীকৃতিকে নির্ধারণ করে, কিন্তু আরব ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং প্রবৃত্তি ও ব্যক্তিস্বার্থের অনুসারীরা আরব সমাজে এই নীতি প্রয়োগ করতে অস্বীকার করেছে; কারণ তারা নিশ্চিত যে, বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলামী শরীয়াহ প্রণয়ন (تشريع) ব্যতীত অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হবে না।

• তৃতীয় অধ্যায়: মার্ক্সবাদ ও আরব বাস্তবতা প্রসঙ্গে। এখানে মার্ক্সবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধর্মকে বিধান ও আইন থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে একমত। ফলে ব্যক্তিগত বিষয়াবলী থেকে ধর্মকে সরিয়ে দেওয়া—এবং ইবাদত-বন্দেগির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা—মার্ক্সবাদকে পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের তুলনায় ধর্মের অধিকতর বিরোধী করে তুলেছে।

• চতুর্থ অধ্যায়: নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ। নাস্তিক্যবাদী চিন্তা সামাজিক জীবন থেকে ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার সাথে একমত পোষণ করে। একারণেই তারা সকলে মিলে ইসলামী মূল্যবোধগুলোকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অধর্মতত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য সেগুলোকে বিকৃত করার চেষ্টা চালায়।

• পঞ্চম অধ্যায়: ব্যাখ্যা (تأويل) ও অকার্যকরকরণ (تعطيل)-এর মাঝে ইসলামী চিন্তাধারা। এটি কিছু আলিমের ওপর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রভাব আলোচনা করে, যা তাদেরকে কিছু শরয়ী বিধান যেমন নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حدود) ও শাস্তি বর্জনের লক্ষ্যে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে প্ররোচিত করেছে। এমনকি তারা আইনি ও সামাজিক বিষয়ে নবী করীম (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة)-কে বর্জন করতে শুরু করেছে, যা মূলত ইসলাম ও এর বিধানগুলোর ওপর ধর্মনিরপেক্ষ ধারার আক্রমণের একটি প্রতিক্রিয়া। কিছু আলিম মনে করেন যে, কিছু বিধান অকার্যকর (تعطيل) করা বা সেগুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) করা ইসলাম ও তার শত্রুদের মাঝে দূরত্ব কমিয়ে আনবে।

• ষষ্ঠ অধ্যায়: ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মাঝে ধর্মীয় সরকার। এটিই সেই মূল ভিত্তি যেখান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলামী শাসন ও এর বিধানগুলোর দিকে তাদের লক্ষ্যভেদী তীর নিক্ষেপ করে।

আমি এই নিবন্ধগুলোর শব্দাবলী অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম, যদিও সেগুলোর কোনো কোনোটির ওপর দিয়ে সিকি শতাব্দী বা তারও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে; কারণ এগুলো তৎকালীন বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রচলিত চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করে।

এই অধ্যায়গুলোর প্রকাশনা ইসলামী জাগরণের (صحوة) বিরুদ্ধে বর্তমান অভিযানের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করে। এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে পশ্চিমা ও সাম্যবাদী শিবির, যেখানে তারা আরবের হাতের মোজা ব্যবহার করছে; যার কিছু লোহার তৈরি এবং কিছু রেশমের তৈরি।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
كما أن بعض الفصول يضع اجتهادات بعض العلماء في معارضة النصوص الشرعية في مكانها الطبيعي، من التبعية لبعض القفازات الحمراء والبيضاء.

وبالله تعالى نعتصم ونتأيد

 

سالم البهنساوي

5 شوال 1408 هـ - 20 مايو 1988 م
একইভাবে কিছু অধ্যায় কতিপয় আলিমের ইজতিহাদকে শরয়ি নসের বিপরীতে তাদের যথাযোগ্য অবস্থানে স্থাপন করে, যা মূলত লাল ও সাদা দস্তানার (বিদেশি শক্তির) অন্ধ অনুকরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

আর আমরা মহান আল্লাহর নিকটই আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনা করি।

 

সালেম আল-বাহনাসাউয়ি

৫ শাওয়াল ১৪০৮ হিজরি - ২০ মে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفَصْلُ الأَوَّلُ: غَسِيلُ المُخِّ وَالتَيَّارَاتُ الفِكْرِيَّةُ:

• يوسف إدريس وموقف المثقفين.

 

• دور طه حسين ولويس عوض في اللعبة الدولية.

 

• الإسلام المفترى عليه بين الشرق والغرب.

 

• التخطيط الأمريكي وغسيل مخ العرب.

 

• ماركسية نجيب محفوظ وكاثوليكية أمين عثمان.

 

• لويس عوض بين السلف الصالح وجاهلية القرن العشرين.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মগজ ধোলাই ও বুদ্ধিবৃত্তিক মতাদর্শ:

• ইউসুফ ইদ্রিস ও বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান।

 

• আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ত্বহা হোসেন ও লুইস আওয়াদ-এর ভূমিকা।

 

• প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাঝে অপবাদের শিকার ইসলাম।

 

• আমেরিকান পরিকল্পনা ও আরবদের মগজ ধোলাই।

 

• নাজিব মাহফুজের মার্কসবাদ ও আমিন উসমানের ক্যাথলিকবাদ।

 

• সালাফে সালেহীন ও বিংশ শতাব্দীর জাহিলিয়্যাতের মাঝে লুইস আওয়াদ।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
غَسِيلُ المُخِّ وَالتَيَّارَاتُ الفِكْرِيَّةُ:

 

بتاريخ 23 رمضان 1396 - الموافق 17 سبتمبر سنة 1976 طلع علينا الدكتور يوسف إدريس بمقال نشرته " القبس " و" الأهرام " في نفس اليوم، والمقال عنوانه «المسلم ماوتسي تونغ!».

وقد سرد دور الزعيم الصيني في غرس القانون الأساسي للبشرية بالصين، وهو العدالة واللاكبت واللاإرهاب حسبما يعلم الدكتور! ثم رتب نتيجة هي: أن الزعيم الصيني وقد مات فإن مصيره الجنة، وحيثيات حكمه هذا هو قوله: «أليس لي حق أن أبشر ماوتسي تونغ وأي ماوتسي تونغ آخر بأنه - مهما بلغ تفكيره - مصيره الجنة، فالجنة لم تعد لمن يعبدون الله ويظلمون الخلق، وينافقون الله كي يقتلوا روح الشرف والكرامة والمحبة في البشر».

ثم يقول الكاتب موجهًا الخطاب إلى الزعيم الصيني: «أعدك وبشرف خالقي أن أقول: لقد كنت حتى ولو لم تنطق بالشهادة: أنت المسلم».

{أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ} [البقرة: 140].

وقبل أن نكشف أوراق هذه اللعبة الجديدة نسائل أصحاب العقول الصحيحة.

هل يجوز لنا أن نزعم أن الماركسية تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله ولو كانت نصوصها الصريحة تنفي هذا الإيمان؟. وهل يقبل أن يقول بمثل هذا القول المخالف لأصول وعقيدة هذا المذهب؟.

إن كل العقائد وكل الرسالات سواءً كانت سماوية أو دعوى بشرية، هي وحدها التي تحدد صفات من ينتسبون إليها وتضع قواعد القبول أو الحرمان أو العقاب.

وإذا جاز لكل من هب ودب أن يضع لأي رسالة أو أي دين أو نظام أسبابًا ونتائج تخالف أصول هذه الرسالة، لما ظلت أي رسالة أو أي عقيدة على وجه الأرض.

فكل من آمن بفكر أوعقيدة إنما يتبع ما أتت به، لهذا لا يكون الإيمان إلا عن
ব্রেইনওয়াশিং এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মতাদর্শসমূহ:

 

২৩ রমজান ১৩৯৬ হিজরি—মোতাবেক ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬ সালে—ডক্টর ইউসুফ ইদ্রিস একটি নিবন্ধ নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হন যা একই দিনে 'আল-কাবাস' এবং 'আল-আহরাম' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল 'মুসলিম মাও সে তুং!'।

তিনি সেখানে চীনে মানবজাতির মৌলিক আইন অর্থাৎ ডক্টরের বর্ণনা অনুযায়ী—ন্যায়বিচার, অবদমনহীনতা এবং সন্ত্রাসহীনতা প্রতিষ্ঠায় এই চীনা নেতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন! এরপর তিনি একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে: এই চীনা নেতা যেহেতু মৃত্যুবরণ করেছেন, তাই তার গন্তব্য হলো জান্নাত। তার এই বিচারের স্বপক্ষে যুক্তি হলো: "মাও সে তুং এবং অন্য যেকোনো মাও সে তুং-এর ক্ষেত্রে—তাদের চিন্তাধারা যাই হোক না কেন—তারা জান্নাতবাসী হবে বলে সুসংবাদ দেওয়ার কি আমার কোনো অধিকার নেই? কেননা জান্নাত কেবল তাদের জন্য নয় যারা আল্লাহর ইবাদত করে কিন্তু সৃষ্টির ওপর জুলুম করে এবং আল্লাহর সাথে মুনাফেকি করে যাতে মানুষের মধ্যে শৌর্য, মর্যাদা ও ভালোবাসার চেতনাকে বিলুপ্ত করা যায়।"

এরপর লেখক চীনা নেতাকে সম্বোধন করে বলেন: "আমি আমার স্রষ্টার সম্মানের কসম খেয়ে বলছি: আপনি শাহাদা (شهادة) উচ্চারণ না করলেও আমি বলব, আপনিই ছিলেন প্রকৃত মুসলিম।"

{তোমরা কি বেশি জানো, নাকি আল্লাহ?} [আল-বাকারাহ: ১৪০]।

এই নতুন খেলার স্বরূপ উন্মোচনের আগে আমরা সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারীদের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই।

মার্ক্সবাদ যদি তার স্পষ্ট পাঠসমূহ (نصوص)-এর মাধ্যমে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাসকে অস্বীকার করে, তবে কি আমাদের পক্ষে দাবি করা বৈধ হবে যে তারা এই বিশ্বাস পোষণ করে? এই মতাদর্শের মূলনীতি (أصول) এবং আক্বিদা (عقيدة)-এর পরিপন্থী এমন কোনো কথা কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

সকল আক্বিদা (عقيدة) এবং সকল আদর্শ, চাই তা আসমানি হোক বা মানুষের তৈরি—তা নিজেই তার অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে এবং অন্তর্ভুক্তিকরণ, বর্জন বা শাস্তির নিয়মাবলি স্থির করে।

যদি প্রতিটি সাধারণ মানুষের জন্য যেকোনো আদর্শ, ধর্ম বা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমন সব কারণ ও ফলাফল নির্ধারণ করা বৈধ হয় যা সেই আদর্শের মূলনীতি (أصول)-এর পরিপন্থী, তবে পৃথিবীতে কোনো আদর্শ বা আক্বিদা (عقيدة) অবশিষ্ট থাকত না।

সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো চিন্তা বা আক্বিদা (عقيدة)-এ বিশ্বাস করে, সে কেবল তার আনীত বিধানেরই অনুসরণ করে। এই কারণেই বিশ্বাস কেবল তখনই সার্থক হয় যখন...
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
اقتناع. قال الله تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} (1).

ولكن يوسف إدريس وقرناءه يخرجون على العالم ببدعة جديدة وهي أن الإسلام لا يملك أن يحدد من هم أتباعه ومن هم المبعدون عن عقيدته، وبالتالي من هم أصحاب الجنة ومن هم أصحاب النار، ومن هو المسلم ومن هو الكافر.

إنه يفرض على الإسلام شروطًا وصفاتٍ ويرتب النتائج التي أنتجها خياله، وأوحى إليه بها أولئك الذين يملكون النواصي الفكرية لهذه الأقزام البشرية.

وإذا كان الكاتب ومن على شاكلته مؤمنًا، فالسؤال هو أأنتم أعلم أم اللهُ؟

فإذا كان حكم اللهِ أن من أنكر وجود الخالق فقد كفر، وكان حكم الله أن من جحد وأنكر معلومًا من الدين بالضرورة فقد كفر، فيجب أن نبحث عن مدى إسلام يوسف إدريس ومن على شاكلته إن لم يعلن التوبة عن هذا الفكر.

 

‌‌الإِسْلَامُ وَالأَسْرَارُ الكَنَسِيَّةٌ:

إذا كانت الكنيسة في بعض العصور قد ادعت أنها تملك صكوك الغفران للطغاة والظالمين، فإن الإسلام كما يعلمه الجاهل قبل العالم، ليس فيه رجال دين يملكون التحليل والتحريم والتبديل والتغيير في النصوص والمناهج التي أوحى الله بها إلى نبيه، والممثلة في القرآن الكريم والحديث النبوي فقد اكتمل الدين قبل وفاة رسوله ولا يملك أحد أن يزيد فيه أو ينقص منه. قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا} (2).

كما لا يحتكر تفسيره فئة من البابوات: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (3).

بل إن النبي لا يملك أن يترخص في أمر ما ولو كان ابتغاء كسب الأنصار لدينه، لأن الله غني عن العالمين، ولا يقبل الشرك في العبادة ولا في المعاملات أو الاقتصاد أو السياسة: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ

--------------------------------------------

(1) [البقرة: 256].

(2) [المائدة: 3].

(3) [القمر، الآيات: 17 و 22 و 32 و 40].
সুদৃঢ় বিশ্বাস। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} (১)।

কিন্তু ইউসুফ ইদ্রিস এবং তার সঙ্গীরা বিশ্ববাসীর সামনে এক নব-উদ্ভাবন (بدعة) নিয়ে উপস্থিত হয়েছে; আর তা হলো—ইসলামের নাকি এই অধিকার নেই যে সে নির্ধারণ করবে কারা তার অনুসারী আর কারা তার আকিদাহ থেকে বিচ্যুত, ফলস্বরূপ কারা জান্নাতবাসী আর কারা জাহান্নামী, এবং কে মুসলিম আর কে কাফির।

সে ইসলামের ওপর এমন সব শর্ত ও বৈশিষ্ট্য আরোপ করছে এবং এমন সব ফলাফল সাজাচ্ছে যা তার নিছক কল্পনাপ্রসূত, আর যা তাকে ঐসব ব্যক্তিরা প্ররোচিত করেছে যারা এই মানব-বামনদের বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রক।

যদি লেখক এবং তার সমমনারা মুমিন হয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন হলো—তোমরা কি অধিক পরিজ্ঞাত নাকি আল্লাহ?

যদি আল্লাহর বিধান এই হয় যে, যে ব্যক্তি স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করল সে কুফরি করল, আর আল্লাহর বিধান যদি এই হয় যে, যে ব্যক্তি দীনের কোনো অপরিহার্য ও স্বতসিদ্ধ বিষয়কে (معلوم من الدين بالضرورة) অস্বীকার করল সে কুফরি করল, তবে ইউসুফ ইদ্রিস ও তার অনুসারীরা যদি এই চিন্তাধারা থেকে তওবা না করে, তবে তাদের ইসলামের পরিধি নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান করা আবশ্যক।

 

‌‌ইসলাম ও গির্জার রহস্যসমূহ:

কোনো এক যুগে গির্জা যদি স্বৈরাচারী ও জালেমদের জন্য পরিত্রাণপত্রের দাবি করে থাকে, তবে ইসলাম—যা একজন আলেমের পূর্বে একজন সাধারণ অজ্ঞ ব্যক্তিও জানে—তাতে এমন কোনো ধর্মযাজক নেই যারা ঐসব অকাট্য মূলপাঠ (نصوص) ও কর্মপন্থার মধ্যে হালাল করা, হারাম করা, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার ক্ষমতা রাখে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর প্রতি ওহি হিসেবে নাজিল করেছেন এবং যা পবিত্র কুরআন ও নববী হাদিসে বিদ্যমান। কেননা রাসুলের ওফাতের পূর্বেই দীন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এতে বৃদ্ধি বা হ্রাস করার অধিকার কারো নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (২)।

তেমনিভাবে পোপদের কোনো গোষ্ঠী এর ব্যাখ্যাকে একচেটিয়া করতে পারে না: {আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} (৩)।

বরং নবী নিজেও কোনো বিষয়ে শিথিলতা দেখানোর ক্ষমতা রাখেন না, এমনকি তা যদি তাঁর দীনের জন্য সাহায্যকারী লাভের উদ্দেশ্যেও হয়; কারণ আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন। তিনি ইবাদত, লেনদেন, অর্থনীতি বা রাজনীতি—কোনো কিছুতেই অংশীদারিত্ব গ্রহণ করেন না: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই...}

--------------------------------------------

(১) [আল-বাকারা: ২৫৬]।

(২) [আল-মায়িদাহ: ৩]।

(৩) [আল-কামার, আয়াত: ১৭, ২২, ৩২ ও ৪০]।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (1). وسورة عبس تعاتب النبي صلى الله عليه وسلم لتقديم المشركين عن الأعمى لعلهم يسلمون.

ولهذا عندما عرض بعض أغنياء قريش أن يسلموا على أن يكون لهم مجلس غير مجلس العبيد والفقراء كان جواب الله لنبيه: {وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَلَنْ تَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا، وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا، وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا …} (2).

ولكن يوسف إدريس ابتدع أن الجنة كانت لمن يعبدون الله ولو ظلموا، واليوم يكفي العدل في مفهوم الناس وبه يدخلون جنة الله ولو أنكروا وجوده.

 

‌‌المُقَدِّمَاتُ الخَاطِئَةُ وَجَنَّةُ الطُّغَاةِ:

إن حيثيات فكر هؤلاء «أن الجنة ليست لمن يعبدون الله ويظلمون الخلق، ويقتلون روح الشرف».

وهذه مغالطة على الإسلام فهو لم يجعل الجنة لهؤلاء بل قال: {إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا} [الكهف: 29].

والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: «لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، … وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ …».

والنصوص في هذا من القرآن والسنة لا يحصيها العد. فمن أين كانت هذه المقدمة؟ إنها للوصول إلى نتائج خاطئة وللزعم بأن من أطاع وصلى وصام فقد نافق الله، وهذا تعبير يدل على الجهل بالدين وبمفهوم النفاق مَعًا.

 

‌‌الإِسْلَامُ الرَّأْسْمَالِيُّ وَالمَارْكْسِيُّ:

لقد حدد الإسلام أركانه وشروط الانتساب له وأسباب الثواب والعقاب:

1 - من شروط الدخول في الإسلام: الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله ويوم الحساب. فمن أنكر شيئًا من هذا أو شك في رسالة أحد الأنبياء فليس بمسلم، فإن كان

--------------------------------------------

(1) [الأنعام: 162، 163].

(2) [الكهف: 27 - 29].
আর এ ব্যাপারেই আমি আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম (১)। আর সূরা আবাসা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অনুযোগ করেছে অন্ধ ব্যক্তির ওপর মুশরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে, যাতে হয়তো তারা ইসলাম গ্রহণ করে।

এ কারণেই যখন কুরাইশদের কিছু ধনী ব্যক্তি এই শর্তে ইসলাম গ্রহণ করতে চাইল যে, তাদের বসার স্থান ক্রীতদাস ও দরিদ্রদের বসার স্থান থেকে আলাদা হতে হবে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীর প্রতি উত্তর ছিল: {আর আপনার প্রতি আপনার রবের কিতাব থেকে যা ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করুন, তাঁর বাণীসমূহ পরিবর্তন করার কেউ নেই এবং আপনি তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয়স্থল পাবেন না। আর আপনি নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায় আপনার চক্ষু যেন তাদের থেকে সরে না যায়। আর আপনি তার আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কর্মকাণ্ড সীমা লঙ্ঘনকারী। আর বলুন, সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে; অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক। নিশ্চয় আমি জালেমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি যার শিখা তাদের পরিবেষ্টন করে থাকবে …} (২)।

কিন্তু ইউসুফ ইদ্রিস এই নতুন মত উদ্ভাবন করেছেন যে, জান্নাত ছিল তাদের জন্য যারা আল্লাহর ইবাদত করত যদিও তারা জুলুম করত; আর বর্তমানে মানুষের ধারণায় কেবল ন্যায়বিচারই যথেষ্ট এবং এর মাধ্যমেই তারা আল্লাহর জান্নাতে প্রবেশ করবে যদিও তারা তাঁর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।

 

‌‌ভুল উপক্রমণিকা ও স্বৈরাচারীদের জান্নাত:

এই লোকেদের চিন্তাধারার প্রেক্ষাপট হলো যে, «জান্নাত তাদের জন্য নয় যারা আল্লাহর ইবাদত করে অথচ সৃষ্টির ওপর জুলুম করে এবং মর্যাদাবোধের আত্মাকে বিনাশ করে»।

আর এটি ইসলামের ওপর এক অপবাদ, কারণ ইসলাম এদের জন্য জান্নাত নির্ধারণ করেনি বরং বলেছে: {নিশ্চয় আমি জালেমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি যার শিখা তাদের পরিবেষ্টন করে থাকবে; যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে তবে তাদের দেওয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে, কতই না মন্দ সেই পানীয় আর কতই না নিকৃষ্ট সেই আশ্রয়স্থল} [সূরা আল-কাহফ: ২৯]।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «কোনো ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না, … এবং কোনো চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না …»।

আর এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ অগণিত। তাহলে এই উপক্রমণিকা কোথা থেকে এল? এটি মূলত ভুল ফলাফলে পৌঁছানোর জন্য এবং এই দাবি করার জন্য যে, যে ব্যক্তি আনুগত্য করল, সালাত আদায় করল এবং সিয়াম পালন করল সে আল্লাহর সাথে মুনাফেকি করল; আর এটি এমন এক অভিব্যক্তি যা একইসাথে দ্বীন এবং নিফাকের ধারণা সম্পর্কে মূর্খতার পরিচয় দেয়।

 

‌‌পুঁজিবাদী ও মার্কসবাদী ইসলাম:

ইসলাম তার রুকনসমূহ, এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্তাবলি এবং সওয়াব ও শাস্তির কারণসমূহ নির্ধারণ করে দিয়েছে:

১ - ইসলামে প্রবেশের অন্যতম শর্ত হলো: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং বিচার দিবসের ওপর ঈমান আনা। অতএব, যে ব্যক্তি এর কোনো কিছু অস্বীকার করল বা কোনো নবীর রিসালাত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করল, সে মুসলিম নয়। যদি সে হয়

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আনআম: ১৬২, ১৬৩]।

(২) [সূরা আল-কাহফ: ২৭ - ২৯]।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
له نفع للناس عجل الله له الثواب في الدنيا، وأيضًا وضعه في الطبقة العليا من النار وليس في الدرك الأسفل، كما هو حكم النبي في عمه (أبو طالب).

فهل أخطأت الرسالة ونزل وحي جديد على الصحافة ومحترف الصحافة والتصحيف، فنسخ هذه الشروط والقواعد المعلومة للمسلم ولغير المسلم.

أم أن هؤلاء أصبحوا شركاء مع الله فلهم حق النسخ والتبديل {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ ائْتُونِي بِكِتَابٍ مِنْ قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (1).

2 - ومن شروط الإسلام أنه لا تفرقة بين الصلاة والزكاة، فمن ادعى الإسلام وأنكر أداء حق الفقير واكتفى بالعبادة الروحية والشعائر التعبدية حوسب وقوتل حتي يفيء إلى أمر الله، ولهذا قال أبو بكر: «وَاللهِ لأُحَارِبَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الزَّكَاةِ وَالصَّلَاةِ».

فهل تبدل هذا حتى نحكم لمن أنكر الصلاة بالإسلام إن زكى؟

3 - ومن شروط الإسلام أن كُلاًّ من العبادة والمعاملات الاقتصادية والتشريعات القانونية من عند الله ولا يد فيها للبشر، وبالتالي فالمناهج الاقتصادية يجب أن تكون تلك التي وصفها اللهُ في كتابه وسنة نبيه فلا نصلي للهِ ونزكي على مذهب (مَاوْ)، ونقيم الاقتصاد على مذهب (ماركس)، ولهذا عندما جاء عدي بن حاتم ليسلم وكان يحمل صليبًا من ذهب قال له النبي صلى الله عليه وسلم: «أَلْقِ عَنْكَ هَذَا الوَثَنَ» وَقَرَأَ عَلَيْهِ: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة: 31]، فَقَالَ عَدِيٌّ: «مَا عَبَدْنَاهُمْ يَا رَسُولَ اللهِ». فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَلَمْ يُحِلُّوا لَكُمْ الحَرَامَ فَتَتَّبِعُوهُمْ، وَيَحَرِّمُوا عَلَيْكُمْ الحَلالَ فَتَتَّبِعُوهُمْ؟». قَالَ عَدِّيٌّ: «بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ»، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «فَتِلْكَ عِبَادَتَهُمْ مِنْ دُونَ اللهِ تَعَالَى» (*).

- فليس مسلمًا من قال: «أصلي على نظام الإسلام وأتخذ منهجًا سياسيًا على نظام (ميكيافيلي) - الغاية تبرر الوسيلة - أو مذهبًا اقتصاديًا ماركسيًا لعدم صلاحية الإسلام»

- وليس مسلمًا من ادعى الإسلام واختار منهجًا اقتصاديًا رأسماليًا فأحل الربا والاحتكار وأحل أكل حقوق العمال والأجراء بالباطل وأنكر حكم الإسلام.

- وليس مسلمًا من صلى واختار المادية الجدلية مذهبًا أو فضل النظام الاقتصادي

--------------------------------------------

(1) [الأحقاف: 4].

 

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ / البَاحِثُ: تَوْفِيقْ بْنُ مُحَمَّدٍ القُرَيْشِي]:

(*) الحديث كما ورد في " سنن الترمذي " كالآتي:

عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَفِي عُنُقِي صَلِيبٌ مِنْ ذَهَبٍ. فَقَالَ: «يَا عَدِيُّ اطْرَحْ عَنْكَ هَذَا الوَثَنَ»، وَسَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فِي سُورَةِ بَرَاءَةٌ: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة: 31]، قَالَ: «أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ، وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ، وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ».

الترمذي، " السنن "، تحقيق الشيخ أحمد شاكر وآخرون (الشيخ إبراهيم عطوة عوض): (48) كتاب تفسير القرآن (10) باب «ومن سورة التوبة»، حديث رقم 3095، الطبعة الثانية: 1395 هـ / 1975 م، 5/ 278، نشر دار إحياء التراث العربي. بيروت - لبنان.

قارن بما في صفحة: 14، 50، 248، 251، 255 من هذا الكتاب.
মানুষের জন্য কারো কোনো উপকার থাকলে আল্লাহ দুনিয়াতে তার প্রতিদান ত্বরান্বিত করেন এবং তাকে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের পরিবর্তে উপরিভাগে স্থান দেন, যেমনটি নবী করীম (সা.) তাঁর চাচা (আবু তালিব)-এর ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন।

তাহলে রিসালাত কি ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে এবং সাংবাদিকতা ও পেশাদার সাংবাদিকতা ও বর্ণবিকৃতির (تصحيف) কারিগরদের ওপর কি নতুন কোনো ওহি অবতীর্ণ হয়েছে, যা মুসলিম ও অমুসলিম সকলের নিকট সুপরিচিত এই শর্ত ও নিয়মাবলিকে রহিত (نسخ) করে দিয়েছে?

নাকি তারা আল্লাহর শরিকে পরিণত হয়েছে যে, তাদের রহিতকরণ (نسخ) ও পরিবর্তনের অধিকার রয়েছে? {বলুন, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাকো তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও; অথবা আসমানসমূহে কি তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে? এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা ইলমের কোনো অবশিষ্টাংশ (أثارة من علم) আমার কাছে নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’} (১)।

2 - ইসলামের অন্যতম শর্ত হলো সালাত ও জাকাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করা। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের দাবি করে কিন্তু দরিদ্রের হক আদায়কে অস্বীকার করে এবং কেবল আত্মিক উপাসনা ও আনুষ্ঠানিক ইবাদতেই সন্তুষ্ট থাকে, তার হিসাব গ্রহণ করা হবে এবং যতক্ষণ না সে আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে ততক্ষণ তার বিরুদ্ধে লড়াই করা হবে। এই কারণেই আবু বকর (রা.) বলেছিলেন: «আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি জাকাত ও সালাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব»।

তবে কি এর পরিবর্তন ঘটেছে, যার ফলে আমরা সালাত অস্বীকারকারী ব্যক্তি জাকাত প্রদান করলে তাকে মুসলিম বলে গণ্য করব?

3 - ইসলামের অন্যতম শর্ত হলো ইবাদত, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং আইনি বিধিবিধান সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং এতে মানুষের কোনো হাত নেই। ফলশ্রুতিতে, অর্থনৈতিক নীতিমালা অবশ্যই সেই অনুযায়ী হতে হবে যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর সুন্নাহতে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করব আর জাকাত দেব ‘মাও’-এর মতাদর্শ অনুযায়ী, কিংবা অর্থনীতি পরিচালনা করব ‘মার্ক্স’-এর মতাদর্শ অনুযায়ী—তা হতে পারে না। এই কারণেই যখন আদি ইবনে হাতিম (রা.) ইসলাম গ্রহণ করতে এলেন এবং তাঁর গলায় একটি স্বর্ণের ক্রুশ ছিল, তখন নবী করীম (সা.) তাঁকে বললেন: «তোমার থেকে এই মূর্তিটি নিক্ষেপ করো» এবং তিনি তাঁর সামনে তিলাওয়াত করলেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে} [আত-তাওবা: ৩১]। তখন আদি (রা.) বললেন: «হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তো তাদের ইবাদত করতাম না»। তখন নবী করীম (সা.) তাঁকে বললেন: «তারা কি তোমাদের জন্য হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করে দিত না, আর তোমরা কি তাদের অনুসরণ করতে না?» আদি (রা.) বললেন: «হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল», নবী করীম (সা.) বললেন: «সেটাই ছিল আল্লাহ ব্যতীত তাদের ইবাদত করা» (*)।

- সে ব্যক্তি মুসলিম নয় যে বলে: «আমি ইসলামি পদ্ধতিতে সালাত আদায় করি কিন্তু রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে মেকিয়াভেলিবাদ - উদ্দেশ্যই উপায়ের যৌক্তিকতা দান করে - অথবা ইসলামের অযোগ্যতার কারণে মার্ক্সবাদী অর্থনৈতিক মতাদর্শ গ্রহণ করি»।

- সে ব্যক্তিও মুসলিম নয় যে ইসলামের দাবি করে অথচ পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বেছে নেয়, ফলে সুদ ও মজুতদারিকে বৈধ করে এবং শ্রমিক ও মজুরদের ন্যায্য পাওনা অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করাকে বৈধ জ্ঞান করে এবং ইসলামের বিধানকে অস্বীকার করে।

- সে ব্যক্তিও মুসলিম নয় যে সালাত আদায় করে অথচ দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে আদর্শ হিসেবে বেছে নেয় অথবা অন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়।

--------------------------------------------

(১) [আল-আহকাফ: ৪]।

 

[মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য কিতাব প্রস্তুতকারীর মন্তব্য / গবেষক: তাওফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি]:

(*) হাদিসটি সুনান তিরমিজি-তে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নরূপ:

আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী করীম (সা.)-এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে আমার গলায় স্বর্ণের একটি ক্রুশ ছিল। তিনি বললেন: «হে আদি, তোমার থেকে এই মূর্তিটি ফেলে দাও», আর আমি তাঁকে সূরা বারাআহ (তাওবা) থেকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে} [আত-তাওবা: ৩১]। তিনি বললেন: «শোনো, তারা তাদের ইবাদত করত না সত্য, কিন্তু তারা যখন তাদের জন্য কোনো কিছু হালাল করে দিত তারা সেটাকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত, আর যখন তাদের জন্য কোনো কিছু হারাম করে দিত তারা সেটাকে হারাম হিসেবে গ্রহণ করত»।

তিরমিজি, "সুনান", শেখ আহমাদ শাকির ও অন্যান্যদের (শেখ ইব্রাহিম আতাওয়াহ আওয়াদ) তাহকিক (تحقيق) কৃত: (৪৮) কিতাবুত তাফসির (১০) অনুচ্ছেদ «সূরা তাওবা হতে», হাদিস নং ৩০৯৫, দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৩৯৫ হিজরি / ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ, ৫/ ২৭৮, দারু ইহয়াউত তুরাসিল আরাবি কর্তৃক প্রকাশিত। বৈরুত - লেবানন।

এই কিতাবের ১৪, ৫০, ২৪৮, ২৫১, ২৫৫ পৃষ্ঠার আলোচনার সাথে তুলনা করুন।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الماركسي على نظام الله.

ولكن اللعبة الدولية الجديدة تزعم أن كل هذا الخلط من الإسلام رغم أنفه وأهله، فهل جهل الإسلام قواعده وجاء هؤلاء ليصححوها له، أم أن العلمانية التي فشلت في المشرق والمغرب تريد أن تقدم إسلامًا جديدًا هو الإسلام العلماني، والذي يتلون فيصبح ماركسيًا أو رأسماليًا. أم هو أعلم من الله؟.

{أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ} (1).

{أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} (2).

 

‌‌النَّكْبَةُ العَرَبِيَّةُ الكُبْرَى:

إن أصبح لنا إسلام ماركسي وإسلام رأسمالي ثم إسلام عربي وآخر أفريقي، فلا كانت الحياة ولا كان المسلمون، فالمسخ الحاصل للإسلام هو مفتاح زوال الدول الإسلامية، ولئن جاز هذا على بعض العرب فما ذلك بغريب، فقد ادعى العميل (لورانس) أنه لورانس العرب وصدقوه هو واليهودي (ماكمهون) الذي أرسل رسائله إلى زعماء من العرب يبشرهم «بِخِلَافَةٍ عَرَبِيَّةٍ بَدَلاً مِنَ الخِلَافَةِ التُّرْكِيَّةِ» والسبب كما جاء في الرسالة المؤرخة في 11 شوال سنة 1333 - 30 أغسطس 1915 «إِنَّا نُصَرِّحُ هُنَا مَرَّةً أُخْرَى أَنَّ جَلَالَةَ مَلِكَةِ بْرِيطَانْيَا العُظْمَى تَرْغَبُ بِاسْتِرْدَادِ الخِلَافَةِ عَلَى يَدِ عَرَبِيِّ صَمِيمٍ مِنْ فُرُوعِ تِلْكَ الدَّوْحَةِ النَّبَوِيَّةِ المُبَارَكَةِ».

وهكذا كفل العرب للجيوش البريطانية الأمن والخدمات وللفرنسيين مثل ذلك بوصفهم حلفاء جاؤوا لاسترداد الخلافة العربية لتصبح في يد سلالة الدوحة النبوية، فكانت ثورة العرب المسماة بالثورة العربية الكبرى، وكانت النتيجة احتلال المنطقة وتقسيمها. وفي هذا قال (لورانس) في كتاب " أعمدة الحكمة السبعة ": «اسْتَطَاعَ الجِنِرَالْ اللَّنْبِي بِحِكْمَتِهِ أَنْ يُحَقِّقَ ذَلِكَ دُونَ أَنْ يُرَاقَ دَمٌ إِنْجْلِيزِيٌّ».

واليوم يحدث مثل هذا في لبنان!

إن يوسف إدريس ليس وحده صاحب التيار الموجه بخطة ودقة نحو علمانية الإسلام [بماركسيته] أو تغريبه، فقد جيء للعرب بفئة من ضعاف المثقفين بعد أن تربوا على الفكر اللاديني، وكان هو الفكر الغربي قبل ظهور الفكر الماركسي في المنطقة.

--------------------------------------------

(1) [الرعد: 16].

(2) [الشورى: 21].
আল্লাহর ব্যবস্থার উপর মার্কসবাদী।

কিন্তু নতুন আন্তর্জাতিক চক্রান্ত দাবি করছে যে, ইসলাম ও এর অনুসারীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই সমস্ত সংমিশ্রণ ইসলামেরই অংশ। ইসলাম কি তার নিজস্ব মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল যে এরা তা সংশোধন করতে এসেছে? নাকি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে ব্যর্থ হওয়া ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ একটি নতুন 'ধর্মনিরপেক্ষ ইসলাম' উপস্থাপন করতে চায়, যা ক্ষণে ক্ষণে রূপ পরিবর্তন করে কখনো মার্কসবাদী আবার কখনো পুঁজিবাদী হয়ে ওঠে? তারা কি আল্লাহ অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী?

{নাকি তারা আল্লাহর এমন সব শরিক স্থির করেছে যারা আল্লাহর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সৃষ্টিসমূহ তাদের কাছে সদৃশ মনে হয়েছে?} (১)।

{নাকি তাদের এমন সব উপাস্য আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} (২)।

 

‌‌মহা আরব বিপর্যয়:

যদি আমাদের একটি মার্কসবাদী ইসলাম ও একটি পুঁজিবাদী ইসলাম, তারপর একটি আরব ইসলাম এবং আরেকটি আফ্রিকান ইসলাম তৈরি হয়, তবে জীবনের কোনো সার্থকতা থাকবে না এবং মুসলিমদেরও কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। ইসলামের এই যে বিকৃতি ঘটছে, তা-ই হলো মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের বিলুপ্তির মূল চাবিকাঠি। আর যদি কিছু আরবের ক্ষেত্রে এটি ঘটে থাকে তবে তা আশ্চর্যের কিছু নয়। কেননা কুখ্যাত দালাল (লরেন্স) দাবি করেছিল যে সে 'আরবের লরেন্স' এবং তারা তাকে বিশ্বাস করেছিল। ঠিক তেমনিভাবে ইহুদি (ম্যাকমোহন), যে আরব নেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তুর্কি খিলাফতের পরিবর্তে একটি «আরব খিলাফতের» সুসংবাদ দিয়েছিল। ১১ শাওয়াল ১৩৩৩ হিজরি - ৩০ আগস্ট ১৯১৫ তারিখের চিঠিতে যেমনটি উল্লেখ আছে: «আমরা এখানে পুনরায় ঘোষণা করছি যে, মহামান্য ব্রিটিশ রানি সেই বরকতময় নবুওয়াতী বংশের কোনো খাঁটি আরবের মাধ্যমে খিলাফত পুনরুদ্ধারের ইচ্ছা পোষণ করেন»।

এভাবেই আরবরা ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনীদের নিরাপত্তা ও সেবার নিশ্চয়তা দিয়েছিল এই পরিচয়ে যে, তারা এমন এক মিত্র যারা আরব খিলাফত পুনরুদ্ধার করে তা নবুওয়াতী বংশের হাতে ফিরিয়ে দিতে এসেছে। এর ফলেই তথাকথিত 'মহা আরব বিপ্লব' সূচিত হয় এবং এর ফলাফল ছিল এই অঞ্চলের দখলদারিত্ব ও বিভাজন। এ বিষয়ে (লরেন্স) তার "প্রজ্ঞার সাতটি স্তম্ভ" বইয়ে লিখেছে: «জেনারেল অ্যালেনবি তার প্রজ্ঞা দ্বারা কোনো ব্রিটিশ রক্তপাত ছাড়াই এটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন»।

আর আজ লেবাননেও এমনটিই ঘটছে!

ইউসুফ ইদ্রিস একাই এমন কোনো ধারার প্রবর্তক নন যা সুপরিকল্পিতভাবে এবং সূক্ষ্মভাবে ইসলামের ধর্মনিরপেক্ষকরণ [তার মার্কসবাদের মাধ্যমে] বা পাশ্চাত্যকরণের দিকে পরিচালিত হচ্ছে। বরং আরবদের কাছে এমন একদল দুর্বল মেধাজীবীকে নিয়ে আসা হয়েছে যারা ধর্মহীন চিন্তাধারায় লালিত-পালিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলে মার্কসবাদী চিন্তাধারা আসার আগে পশ্চিমা চিন্তাধারা হিসেবে পরিচিত ছিল।

--------------------------------------------

(১) [আর-রাদ: ১৬]।

(২) [আশ-শূরা: ২১]।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وكان التمهيد لهؤلاء وهؤلاء ليتولوا مناصب القيادة الفكرية والاجتماعية وأحيانًا السياسية، وألقى في روع بعض الحكام والمسؤولين أن هؤلاء هم الحلفاء الطبيعيون لهم وللحضارة الحديثة، وبالتالي أبعدوا أهل القيم والدين الصحيح وتحالفت القوى العالمية ضد الاتجاه الديني الصحيح، وانتقلت المعركة إلى الجبهة الداخلية للأمة، فظهرت شعارات القومية والتقدمية والرجعية واليمين واليسار، وليزداد الشقاق وتنشأ الصراعات والحروب التي تمكن إسرائيل المحمية من اليمين واليسار!! وسبق أن كتب الدكتور محمد البهي: «إِنَّ الصِرَاعَ فِي المُجْتَمَعَاتِ الإِسْلَامِيَّةِ المُعَاصِرَةِ بَيْنَ العِلْمَانِيَّةِ - اللَاّدِينِيَّةِ - وَالإِسْلَامِ أَصْبَحَ صِرَاعًا دَاخِلِيًّا بَعْدَ أَنْ وَطَّنَهُ الاِسْتِعْمَارُ وَتَخَرَّجَ عَلَيْهِ أَجْيَالاً مُتَتَابِعَةً، أَصْبَحَ صِرَاعًا فِي وَاقِعِ الأَمْرِ بَيْنَ قُوًى وَطَبَقَاتٍ مِنَ الوَطَنِيِّينَ غَيْرَ مُتَكَافِئَةٍ، بَيْنَ طَبَقَةٍ تَحْكُمُ وَأُخْرَى لَا تَمْلِكُ إِلَاّ الإِذْعَانَ، وَثَالِثَةٌ تُبَارِكُ.

أ - أَمَّا الطَبَقَةُ التِي تَحْكُمُ فَهِيَ طَبَقَةُ المُثَقَّفِينَ المُوَجَّهِينَ الذِينَ يَعْرِفُونَ الأُمُورَ عَلَى أَسَاسٍ مِنَ العِلْمَانِيَّةِ وَاللَاّدِينِيَّةِ.

ب - أَمَّا الطَبَقَةُ التِي لَا تَمْلِكُ إِلَاّ الإِذْعَانَ فَهِيَ طَبَقَةُ المُتَدَيِّنِينَ مِنَ الجَمَاهِيرِ التِي تَعْتَقِدُ الإِسْلَامَ كَدِينٍ وَلَا تَمْلِكُ فَهْمَهُ وَعَرْضَهُ.

ج - أَمَّا الثَّالِثَةُ التِي تُبَارِكُ وَتُفَتِّشُ بِاسْمِ الإِسْلَامِ عَنْ مُبَرِّرَاتٍ، فَهِيَ طَبَقَةُ الذِينَ يَنْتَسِبُونَ إِلَى الدَّعْوَةِ الإِسْلَامِيَّةِ وَيَحْتَرِفُونَ العَمَلَ فِي تُرَاثِ الإِسْلَامِ». (من كتاب " الإسلام ومشكلات الحكم ").

 

‌‌العِلْمَانِيَّةُ فِي مَاضِيهَا وَحَاضِرِهَا:

لقد كان يوسف إدريس وقرناؤه مسبوقين بحركات أخرى مهدت لهم، بعضها كان يحاول الدفاع عن الدين ولكنه أخطأ السبيل في بعض النواحي، كمدرسة الشيخ محمد عبده التي تنبه صاحبها في أواخر أمره ولذا رفض مسألة الدين الموجه العالمي الذي يجمع بين الإسلام والمسيحية واليهودية بطريقة ما، ثم كان منها خلفاء طبيعيون للمستعمر مثل حركة الكماليين بتركيا وأحمد خان بالهند، وفي هذا قال (كرومر) في كتابه " مصر الحديثة ": «إَنَّ مُحَمَّدْ عَبْدُهْ كَانَ مُؤَسِّسًا لِمَدْرَسَةٍ فِكْرِيَّةٍ حَدِيثَةٍ فِي مِصْرَ قَرِيبَةَ الشَّبَهِ بِتِلْكَ التِي أَسَّسَهَا السَّيِّدُ أَحْمَدْ خَانْ فِي الهِنْدِ، - مُؤَسِّسُ جَامِعَةَ عَلِيكْرَهْ - إِنَّ مِنْ أَهَمِّيَّتِهِ السِّيَاسِيَّةِ أَنَّهُ يَقُولُ بِتَقْرِيبِ الهُوَّةِ التِي تَفْصِلُ بَيْنَ الغَرْبِ وَالمُسْلِمِينَ، وَأَنَّهُ وَتَلَامِيذُهُ خَلِيقُونَ بِأَنْ يُقَدَّمَ لَهُمْ كُلَّ
এবং এই উভয় গোষ্ঠীর জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পদ গ্রহণ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর কিছু শাসক ও দায়িত্বরত ব্যক্তিদের মনে এই ধারণা প্রক্ষিপ্ত করা হয়েছিল যে, এরাই হচ্ছে তাদের এবং আধুনিক সভ্যতার স্বাভাবিক মিত্র। ফলস্বরূপ, তারা আদর্শবান ও সঠিক দ্বীনের অনুসারীদের দূরে সরিয়ে দেয় এবং বিশ্বশক্তিগুলো সঠিক ধর্মীয় ধারার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। এই লড়াই উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টে স্থানান্তরিত হয়; ফলে জাতীয়তাবাদ, প্রগতিশীলতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং ডান ও বাম পন্থার মতো স্লোগানগুলো প্রকাশ পায়। এতে বিভেদ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এমন সব দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের সূচনা হয় যা ডান ও বাম উভয় পক্ষ থেকে সুরক্ষিত ইসরায়েলকে শক্তিশালী করে!! ড. মুহাম্মাদ আল-বাহী পূর্বেই লিখেছিলেন: "বর্তমান মুসলিম সমাজগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতা —ধর্মহীনতা— এবং ইসলামের মধ্যকার দ্বন্দ্বটি একটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে, যা উপনিবেশবাদ এখানে থিতু করেছে এবং যার অধীনে একের পর এক প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি স্বদেশী অসম শক্তি ও শ্রেণীগুলোর মধ্যকার একটি দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে; এমন এক শ্রেণীর মাঝে যারা শাসন করে, অন্য এক শ্রেণী যারা কেবল আনুগত্য করতেই জানে এবং তৃতীয় এক শ্রেণী যারা এসবকে সমর্থন জোগায়।

ক - শাসনকারী শ্রেণীটি হলো নির্দেশিত বুদ্ধিজীবীদের শ্রেণী, যারা ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতার ভিত্তিতে বিষয়গুলোকে অনুধাবন করে।

খ - আর যে শ্রেণীটি কেবল আনুগত্য করতে জানে, তারা হলো সাধারণ ধর্মপ্রাণ জনগণ, যারা ইসলামকে একটি ধর্ম হিসেবে বিশ্বাস করে কিন্তু তা যথাযথভাবে বোঝা ও উপস্থাপন করার সামর্থ্য রাখে না।

গ - তৃতীয় শ্রেণীটি হলো তারা যারা ইসলামের নামে সমর্থন জোগায় এবং অজুহাত খুঁজে বেড়ায়; এরা মূলত ইসলামী দাওয়াতের সাথে সম্পৃক্ত এবং ইসলামের ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে।" (ইসলাম ও শাসনের সমস্যাসমূহ নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত)।

 

‌‌ধর্মনিরপেক্ষতা: অতীত ও বর্তমান:

ইউসুফ ইদ্রিস এবং তার সমসাময়িকদের পূর্বে অন্য কিছু আন্দোলন তাদের জন্য পথ সুগম করেছিল। এদের মধ্যে কোনো কোনো আন্দোলন দ্বীনকে রক্ষার চেষ্টা করেছিল কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, যেমন শাইখ মুহাম্মাদ আবদুহ-এর ধারা। এর প্রতিষ্ঠাতা অবশ্য তার জীবনের শেষ দিকে সচেতন হয়েছিলেন, তাই তিনি 'বৈশ্বিক নির্দেশিত ধর্ম' এর ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যা ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম এবং ইহুদি ধর্মকে কোনোভাবে একত্রিত করতে চেয়েছিল। এরপর তার মধ্য থেকেই উপনিবেশবাদীদের কিছু স্বাভাবিক উত্তরসূরি তৈরি হয়, যেমন তুরস্কের কামালীবাদী আন্দোলন এবং ভারতের আহমদ খান। এ প্রসঙ্গে (ক্রোমার) তার 'মডার্ন ইজিপ্ট' গ্রন্থে লিখেছেন: "মুহাম্মাদ আবদুহ মিশরে একটি আধুনিক চিন্তাধারার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা ভারতের সাইয়্যেদ আহমদ খান—যিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—তার প্রতিষ্ঠিত ধারার সাথে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে তার গুরুত্বের একটি দিক হলো তিনি পশ্চিম এবং মুসলিমদের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার কথা বলেন এবং তিনি ও তার ছাত্ররা এই যোগ্যতাসম্পন্ন যে তাদের সব ধরণের..."
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عَوْنٍ، فَهُمْ الخُلَفَاءُ الطَّبِيعِيُّونَ لِلْمُصْلِحِ الأُورُبِيِّ».

ولقد ساهمت هذه الحركة في ظهور القاديانية بالهند وباكستان، والتي تزعم أن للإسلام نبيًا جديدًا هو غلام أحمد!! الذي نسخ الجهاد وأمر بطاعة الأجانب المستعمرين وحارب المسلمين وحكم بكفرهم.

أما تقريب الهوة بين الإسلام والغرب فيحدده المستشرق (جب) الذي كان عضوًا بمجمع اللغة الغربية!؟.

فيقول في كتابه " [إلى أين] يتجه الإسلام ": «إِنَّ جَعْلَ العَالَمَ الإِسْلَامِيَّ غَرْبِيًّا، أَوْ حَمْلِهِ عَلَى حَضَارَةِ الغَرْبِ لَا يَتَوَقَّفُ عَلَى المَظَاهِرِ الخَارِجِيَّةِ لِلْتَّقْلِيدِ وَالاِقْتِبَاسِ، بَلْ يَجِبُ عَلَيْنَا أَنْ نَبْحَثَ عَنْ الآرَاءِ الجَرِيئَةِ وَالحَرَكَاتِ المُسْتَحْدَثَةِ التِي ابْتُكِرَتْ بِدَافِعٍ مِنَ التَّأْثِيرِ بِالأَسَالِيبِ الغَرْبِيَّةِ - وَيَنْتَهِي إِلَى ضَرُورَةِ خُضُوعِ العَالَمِ الإِسْلَامِيِّ لِقِيَمِ الغَرْبِ وَعَادَاتِهِ». ويقول: «المَدَارِسُ وَالمَعَاهِدُ لَيْسَتْ إِلَاّ خُطْوَةً فِي الطَّرِيقِ».

 

‌‌وَضْعُ عَمِيدِ الأَدَبِ العَرَبِيِّ:

ثم جاء طه حسين وأصبح رئيسًا لتحرير مجلة " الكاتب المصري " التي أنشأها جماعة من اليهود. وخرج على الأمة - في محنتها عند إعلان انتهاء الخلافة الإسلامية - وطبع كتابًا " في الشعر الجاهلي " زعم فيه أن الإسلام ليس دينًا سماويًا والقرآن ليس وحيًا من الله.

وقد ثارت ضده الأمة، ثم أشيع أنه تاب حيث جاء بكتابه " على هامش السيرة " وهو لم يعدل فيه من هذا الفكر، ومع هذا ما زال الكتاب موضع اقتباس وتدريس في المدارس رغم علمانيته فزعم أن السيرة ليست حقائق بل كالقصة التي ترويها الجدة لحفيدها.

وبعد ذلك يصبح عميدًا للأدب العربي، ولذا ما زالت تتكرر مهزلة كتاب " الإسلام وأصول الحكم " للشيخ علي عبد الرازق (العِلْمِانِي).

 

‌‌كَاثُولِيكِيَّةُ أَمِينْ عُثْمَانْ:

أمام هذا لم يتورع أمين عثمان أن يعلن أن مصر تزوجت بريطانيا زواجًا كاثوليكيًا، أي لا انفصام له وبالتالي يضفي شرعية على الاحتلال البريطاني، ولقد دفع أمين عثمان رأسه ثمنًا لهذه الكلمة بحادث الاغتيال المشهور.
সাহায্যকারী; সুতরাং তারা হলেন ইউরোপীয় সংস্কারকদের স্বাভাবিক উত্তরসূরি।»

এই আন্দোলন ভারত ও পাকিস্তানে কাদিয়ানি মতবাদের উত্থানে ভূমিকা রেখেছিল, যারা দাবি করে যে ইসলামের একজন নতুন নবী রয়েছেন, তিনি হলেন গোলাম আহমদ!! যিনি জিহাদকে রহিত (نسخ) করেছিলেন এবং বিদেশী উপনিবেশবাদীদের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের কাফের (كفر) সাব্যস্ত করার ফয়সালা দিয়েছিলেন।

আর ইসলাম ও পাশ্চাত্যের মধ্যবর্তী ব্যবধান কমানোর বিষয়টি প্রাচ্যবিদ (গিব) নির্ধারণ করেছেন, যিনি পশ্চিমা ভাষা একাডেমির সদস্য ছিলেন!।

তিনি তার "[إلى أين] يتجه الإسلام" (ইসলাম কোন দিকে যাচ্ছে) গ্রন্থে বলেন: «ইসলামী বিশ্বকে পশ্চিমা করে তোলা অথবা তাকে পশ্চিমা সভ্যতার ছাঁচে ঢেলে সাজানো কেবল অনুকরণ ও গ্রহণের বাহ্যিক প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করে না, বরং আমাদের উচিত সেই সাহসী মতাদর্শ ও আধুনিক আন্দোলনগুলো অনুসন্ধান করা যা পশ্চিমা পদ্ধতির প্রভাবে উদ্ভাবিত হয়েছে - এবং তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ইসলামী বিশ্বকে পশ্চিমা মূল্যবোধ ও রীতিনীতির বশ্যতা স্বীকার করা আবশ্যকীয়।’ তিনি আরও বলেন: ‘স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই পথের একটি ধাপ মাত্র।’

 

‌‌আরবি সাহিত্যের ডিনের অবস্থান:

এরপর তাহা হোসেন আসলেন এবং তিনি একদল ইহুদি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত "আল-কাতিব আল-মিসরি" সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক হলেন। যখন ইসলামী খিলাফত বিলুপ্তির ঘোষণার মাধ্যমে উম্মাহ এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি জাতির সামনে আবির্ভূত হলেন এবং "ফিল শির আল-জাহিলি" নামক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করলেন, যেখানে তিনি দাবি করলেন যে ইসলাম কোনো আসমানি ধর্ম নয় এবং কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো ওহি নয়।

উম্মাহ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল, এরপর রটে গেল যে তিনি তওবা করেছেন যখন তিনি তার "আলা হামিশিস সিরাহ" গ্রন্থটি রচনা করলেন। অথচ তিনি সেখানে তার সেই চিন্তা থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেননি। তা সত্ত্বেও গ্রন্থটি এখনো স্কুলগুলোতে পাঠ্য ও উদ্ধৃতির উৎস হিসেবে রয়ে গেছে, যদিও তা ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি দাবি করেছিলেন যে সীরাত কোনো বাস্তব সত্য নয়, বরং তা যেন দাদির কাছে নাতনির শোনা কোনো রূপকথার গল্প।

এরপর তিনি আরবি সাহিত্যের ডিন হন, একারণেই শেখ আলী আবদুর রাজ্জাক (ধর্মনিরপেক্ষ) এর "আল-ইসলাম ওয়া উসুলুল হুকুম" গ্রন্থের প্রহসন এখনো বারবার ফিরে আসছে।

 

‌‌আমিন ওসমানের ক্যাথলিকবাদ:

এর সামনে আমিন ওসমান এই ঘোষণা দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেননি যে, মিশরের সাথে ব্রিটেনের বিয়ে হয়েছে 'ক্যাথলিক বিবাহ', অর্থাৎ যার কোনো বিচ্ছেদ নেই। ফলে তিনি ব্রিটিশ দখলদারিত্বকে বৈধতা দান করেন। এই বক্তব্যের মূল্য হিসেবে আমিন ওসমানকে তার জীবন দিতে হয়েছে সেই বিখ্যাত গুপ্তহত্যার ঘটনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌تَوْبَةُ خَالِدْ مُحَمَّدْ خَالِدْ:

ثم جاء خالد محمد خالد وأخرج كتابه " من هنا نبدأ "، زعم فيه أن الغيرة على الفضيلة تدفعنا إلى معارضة التطور، ويجب بالتالي أن نحدد معنى الفضيلة والرذيلة. وعنده أن كل زحف إلى الوراء مهما اتسم بحسن النية، وسلامة القصد ليس سوى رذيلة في ثوب تنكري خداع. ويقول الكاتب الإسلامي!! ما هو خير وما هو شر موضوعات تتغير مع المواسم والأعياد.

الحق المطلق والخير المطلق والفضيلة المجردة توجد في عقول المتصوفين والمجاذيب والحالمين. والطريقة العصرية لبلوغ الفضيلة ليست الصلاة، إنما هو الطعام الجيد والمسكن الجيد!!.

فهل تاب خالد محمد خالد في كتابه " رجال حول الرسول "؟ أم أن الكتاب به لمسات من الفكر البشري غربيًا أو شرقيًا صيغت به ثورة المحرومين بقيادة أبي ذر الغفاري ضد الرأسماليين، الممثلين في عثمان بن عفان!. ليس هذا موضوع جوابنا، إنما نضع النقاط على الحروف (1) (وتفصيله في كتاب " الغزو الفكري للتاريخ والسيرة ").

 

‌‌التَّفْسِيرُ العَصْرِيُّ بَيْنَ لُبْنَانَ وَمِصْرَ:

ثم جاء خالد العظم وادعى بحرية نقد نصوص القرآن في كتاب أصدره في لبنان.

وفي فترة من الزمن جاء مصطفى محمود ووضع كتابه " نحو تفسير عصري للقرآن "، زعم فيه أن الذي ينظر إلى الفتاة التي لا يسترها إلا قطعة المايوه يكون مُسَبِّحًا بِحَمْدِ اللهِ وَجَمَالِ خَلْقِ اللهِ، ثم بدأ الدكتور في التوبة. ولقد أصبح من صلاحيات روجيه غارودي سكرتير الحزب الشيوعي الفرنسي سابقًا أن تنشر له " الأهرام " في 19/ 11 / 1969: «أَنَّ الإِسْلَامَ يَدْعُو إِلَى العَدْلِ وَالمَارْكْسِيَّةِ تُحَقِّقُ العَدْلَ، فَالمُؤْمِنُ عِنْدَمَا يُطَبِّقُ المَارْكْسِيَّةَ إِنَّمَا يُطَبِّقُ الإِسْلَامَ». (ولقد تاب كلاهما).

 

‌‌دَوْرُ لْوِيسْ عَوَضْ:

وجاء لويس عوض ونشر في " القبس " بتاريخ أول أبريل سنة 1976 أن العودة إلى

--------------------------------------------

(1) نشر الأستاذ خالد محمد خالد كتابه " الإسلام والدولة " أعلن فيه أن منهجه في كتابه " من هنا نبدأ " قد تغشاه الخطأ، حيث ربط الوضع في أوروبا بإبان حكم البابوات بالحكم الإسلام ولا مجال لذلك.
‌‌খালেদ মুহাম্মদ খালেদের তওবা:

অতঃপর খালেদ মুহাম্মদ খালেদ আগমন করেন এবং তার "এখান থেকেই আমরা শুরু করি" গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। এতে তিনি দাবি করেন যে, সচ্চরিত্রের প্রতি অনুরাগ আমাদের প্রগতির বিরোধিতা করতে প্ররোচিত করে; ফলে আমাদের সচ্চরিত্র ও দুশ্চরিত্রের সংজ্ঞাকে সুনির্দিষ্ট করা আবশ্যক। তার মতে, পশ্চাৎমুখী প্রতিটি পদক্ষেপ—তা যে কোনো সদিচ্ছা বা মহৎ উদ্দেশ্যেই হোক না কেন—তা একটি প্রতারণামূলক ছদ্মবেশে থাকা মন্দ স্বভাব বৈ কিছু নয়। এই 'ইসলামী লেখক'!! বলেন: কল্যাণ ও অকল্যাণ হলো এমন সব বিষয় যা ঋতু ও উৎসবের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

পরম সত্য, পরম কল্যাণ এবং বিমূর্ত সচ্চরিত্র কেবল সুফি, মজ্জুব এবং স্বপ্নবিলাসীদের মস্তকেই বিদ্যমান থাকে। আর সচ্চরিত্র অর্জনের আধুনিক পদ্ধতি সালাত নয়, বরং তা হলো উত্তম খাদ্য এবং উত্তম বাসস্থান!!

তবে কি খালেদ মুহাম্মদ খালেদ তার "রাসূলের চতুষ্পার্শ্বের ব্যক্তিবর্গ" গ্রন্থে তওবা করেছেন? নাকি এই গ্রন্থটিতে প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের মানবীয় চিন্তাধারার ছোঁয়া রয়েছে, যার মাধ্যমে উসমান ইবনে আফফানের প্রতিনিধিত্বকারী পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে আবু যার আল-গিফারীর নেতৃত্বে বঞ্চিতদের বিপ্লবকে রূপ দেওয়া হয়েছে! এটি আমাদের উত্তরের মূল বিষয় নয়, বরং আমরা কেবল বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট করছি (১) (এর বিস্তারিত বিবরণ "ইতিহাস ও সীরাতের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন" গ্রন্থে রয়েছে)।

 

‌‌লেবানন ও মিশরের আধুনিক তাফসীর:

অতঃপর খালেদ আল-আজম এসে লেবানন থেকে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে কুরআনের পাঠ্যসমূহ (নস) পর্যালোচনার স্বাধীনতার দাবি করেন।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোস্তফা মাহমুদ আসেন এবং তার "কুরআনের আধুনিক তাফসীরের পথে" গ্রন্থটি রচনা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন যে, যে ব্যক্তি এমন কোনো তরুণীর দিকে তাকাবে যার শরীরে কেবল এক টুকরো সাঁতারের পোশাক (সুইমস্যুট) ছাড়া আর কিছু নেই, সে মূলত আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর সৃষ্টির সৌন্দর্যের মহিমা পাঠকারী। পরবর্তীতে ডাক্তার তওবা করতে শুরু করেন। আর ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সম্পাদক রজে গারোদির জন্য এটি সম্ভব হয়েছিল যে, ১৯৬৯ সালের ১৯শে নভেম্বর "আল-আহরাম" পত্রিকায় তার এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়: "নিশ্চয়ই ইসলাম ন্যায়বিচারের আহ্বান জানায় এবং মার্ক্সবাদ সেই ন্যায়বিচারকে বাস্তবায়িত করে; সুতরাং একজন মুমিন যখন মার্ক্সবাদ প্রয়োগ করেন, তিনি মূলত ইসলামকেই প্রয়োগ করেন।" (পরবর্তীতে তারা উভয়েই তওবা করেন)।

 

‌‌লুইস আওয়াদ-এর ভূমিকা:

লুইস আওয়াদ এসে ১৯৭৬ সালের ১লা এপ্রিল "আল-কাবাস" পত্রিকায় প্রকাশ করেন যে, প্রত্যাবর্তন...

--------------------------------------------

(১) উস্তাদ খালেদ মুহাম্মদ খালেদ তার "ইসলাম ও রাষ্ট্র" গ্রন্থটি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তার "এখান থেকেই আমরা শুরু করি" গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি ভুল ছিল; যেহেতু তিনি পোপদের শাসনামলে ইউরোপের পরিস্থিতির সাথে ইসলামী শাসনকে সম্পৃক্ত করেছিলেন, অথচ এর কোনো অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
مناهج السلف الصالح (وَهُمْ الصَّحَابَةُ) عودة إلى الرجعية ونادى بالأخذ بمدنية الغرب وتقاليده وقيمه، ومعلوم أن الإباحية واللاأخلاقية جزء لا يتجزأ منها.

فهل آن الأوان لنميز الخبيث من الطيب ولنحدد مواقع وأغراض وهؤلاء الكُتَّابِ ثم تتحدد أحجامهم تبعًا لذلك؟.

هؤلاء الكتاب الذين أريد لهم الشهرة إنما يرددون ما كتبه وأوحى به سدنة الفكر الغربي، أو سدنة الفكر الماركسي، وذلك تحقيقًا لأغراض لا تخدم أمتنا، وإن شاء هؤلاء لتتبعنا أقوال سدنتهم ونشرناها مقرونة بما تولد عنها من المقالات ليعلم القاصي والداني أنهم أبواق لجهات معلومة.

فَهَلْ يُسِّرَ لنا النشر كما هو ميسر لهم. نريد جوابًا من الصحافة العربية! التي حال بعض المحترفين فيها دون نشر هذا المقال حتى سمحت به " الوطن " (1).

 

‌‌غَسِيلُ مُخِّ المَرْأَةِ بَيْنَ الشُّيُوعِيَّةِ وَالأُمِّيَّةِ:

عقدت ندوة «وضع المرأة في المجتمع العربي» وجاءت ضمن أسبوع المرأة الذي نظمته جمعية الهندسة والبترول، وقد أورد الدكتور باسم سرحان أن كثيرًا من طالبات الجامعة لديهم قناعة أن العمل للمحتاجات ماديًا فقط، وأنه لا ضرورة لعملهن إذا لم توجد حاجة مادية للعمل. وهذا إحباط أصاب المرأة العربية في الدول التي لم تنعم بمثل هذه البحبوحة النفطية، فإن دخل المرأة من العمل يشكل إسهامًا أساسيًا في تحقيق مستوى معيشي لائق للأسرة.

وقد نتج هذا الفكر عن النظرة الماركسية التي تنكر الملكية، وبالتالي لم يصدر مثل هذا الرأي دفاعًا عن المرأة. ويفسر هذه الخلفية الفكرية قول الدكتور علي القراح في هذه الندوة: «إِنَّ الرَّجُلَ تَمَكَّنَ تَارِيخِيًّا بِحُكْمِ سَيْطَرَتِهِ عَلَى الإِنْتَاجِ، وَعَلَى المِلْكِيَّةِ الخَاصَّةِ مِنْ إِخْضَاعِ المَرْأَةِ إِخْضَاعًا تَامًّا وَمِنَ السَّيْطَرَةِ عَلَيْهَا وَتَحْوِيلِهَا إِلَى أَسِيرَةٍ أَوْ سَجِينَةٍ عَلَى الصَّعِيدِ الاجْتِمَاعِيِّ».

--------------------------------------------

(1) نشر في " الوطن " يومي 22، 29/ 10 / 1976 مع الإشارة إلى أن الدكتور يوسف إدريس قد صحح مفاهيمه بمقال نشر في " الأهرام " يوم 8/ 2 / 1988.
সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) (যাঁরা হলেন সাহাবীগণ (الصحابة)) এর পদ্ধতিসমূহকে পশ্চাৎপদতায় প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং পশ্চিমা সভ্যতা, তাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে; অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, অবাধ যৌনাচার ও অনৈতিকতা সেই সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তবে কি এখন সময় আসেনি যে আমরা অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করব এবং এই লেখকদের অবস্থান ও উদ্দেশ্যসমূহ নির্দিষ্ট করব, যাতে সেই অনুযায়ী তাদের গুরুত্ব নির্ধারিত হয়?।

এই লেখকগণ, যাদের প্রসিদ্ধি দান করা হয়েছে, তারা মূলত পশ্চিমা চিন্তাধারার রক্ষক অথবা মার্ক্সবাদী চিন্তাধারার রক্ষকদের লিখিত ও প্ররোচিত বুলিই আওড়াচ্ছেন। এটি এমন সব উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করা হচ্ছে যা আমাদের উম্মাহর কোনো কল্যাণে আসে না। তারা যদি চায়, তবে আমরা তাদের সেই রক্ষকদের বক্তব্যগুলো অনুসন্ধান করে তা থেকে জন্ম নেওয়া প্রবন্ধসহ প্রকাশ করতে পারি, যাতে অদূর ও সুদূরের সকলেই জানতে পারে যে তারা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর মুখপাত্র মাত্র।

তাদের জন্য প্রকাশনা যেভাবে সহজ করা হয়েছে, আমাদের জন্য কি তা সহজ করা হয়েছে? আমরা আরব সংবাদমাধ্যমের কাছে এর উত্তর চাই! যাদের মধ্যে থাকা কিছু পেশাদার ব্যক্তি এই নিবন্ধটি প্রকাশে বাধা দিয়েছিল, যতক্ষণ না 'আল-ওয়াতান' (১) এটি প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে।

 

‌‌নারীমনস্তত্ত্ব ধোলাই: সাম্যবাদ ও নিরক্ষরতার মাঝে:

‘আরব সমাজে নারীর অবস্থা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা প্রকৌশল ও পেট্রোলিয়াম সমিতি কর্তৃক আয়োজিত নারী সপ্তাহের অংশ ছিল। সেখানে ডক্টর বাসিম সারহান উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নারী শিক্ষার্থীর মনে এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, কর্মসংস্থান কেবল তাদের জন্যই যারা আর্থিকভাবে অভাবী, আর আর্থিক প্রয়োজন না থাকলে তাদের কাজ করার কোনো আবশ্যকতা নেই। এটি সেইসব আরব দেশগুলোর নারীদের মাঝে এক ধরণের হতাশা সৃষ্টি করেছে যারা এ ধরণের তেল-ভিত্তিক প্রাচুর্য ভোগ করেনি; কারণ নারীর কর্মসংস্থান থেকে প্রাপ্ত আয় পরিবারের জন্য একটি উপযুক্ত জীবনমান অর্জনে মৌলিক অবদান রাখে।

এই চিন্তাধারার উৎপত্তি হয়েছে মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যা ব্যক্তিগত মালিকানাকে অস্বীকার করে, ফলে এ জাতীয় মতামতের প্রকাশ নারীর পক্ষাবলম্বন করে হয়নি। এই চিন্তাগত পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডক্টর আলী আল-ক্বারাহ সেই সেমিনারে বলেন: «উৎপাদন এবং ব্যক্তিগত মালিকানার ওপর কর্তৃত্বের কারণে পুরুষ ঐতিহাসিকভাবে নারীকে সম্পূর্ণ বশীভূত করতে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করে সামাজিক ক্ষেত্রে একজন বন্দি বা কয়েদিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে»।

--------------------------------------------

(১) ২২ ও ২৯/ ১০ / ১৯৭৬ তারিখে 'আল-ওয়াতান' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সাথে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ডক্টর ইউসুফ ইদ্রিস ৮/ ২ / ১৯৮৮ তারিখে 'আল-আহরাম' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধের মাধ্যমে তাঁর ধারণাগুলো সংশোধন করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وتظهر هنا عدة مغالطات منها:

1 - ادعاء أن الرجل هو المسيطر على الملكية الخاصة وعلى الإنتاج وهذا أمر لا وجود له في المجتمع العربي الذي يناقش المحاضر قضاياه. فالمرأة تملك كالرجل.

2 - المرأة التي لا تعمل لدى الغير ليست محرومة من المشاركة في العمل والإنتاج كما يقول الفكر الشيوعي؛ لأن هذه المرأة قد تعمل في منشأتها أو تعمل في بيتها وفي تربية أولادها بدلاً من تركهم لغير الأمهات، وقد ثبت أن ترك الأطفال لدى غير الأمهات يسبب لهم أضرارًا لا ينكرها إلا من ينكر طلوع الشمس من المشرق.

3 - أن هذا الفكر يعتبر المرأة التي تعمل لدى الغير في تربية وحضانة أولاد آخرين غير أولادها، سواء في دور الحضانة العامة أو في البيوت الخاصة، يعتبر هذه المرأة منتجة، بينما لو قامت بهذا العمل في بيتها وجعلت جهدها وثقافتها وخبرتها لتربية أولادها، أصبحت غير منتجة ومصابة بإحباط اجتماعي، كذلك لو عملت في منشأة لها.

4 - أن هذا الفكر يعتبر المرأة التي تحصل على دراهم قليلة من عملها لدى الغير منتجة، وتحقق المستوى المعيشي اللائق للأسرة، بينما لو كان لها دخل أكبر من ميراثها عن أبويها أو من ملكيتها الخاصة أو ملكية زوجها، تصبح مصابة بإحباط ولا تحقق المستوى المعيشي اللائق للأسرة. وهذه مغالطة لا تخفى إلا على الأميين، أو من أثر غسيل المخ الشيوعي في عقولهم والذي نسب ضمان حقوق المرأة إلى (ماركس) دون سواه.

5 - أن هذا الفكر يعتبر المرأة التي لا تعمل لدى الغير قد تحولت إلى سجينة على الصعيد الاجتماعي؛ لأنها لا تتحرر من الرق الاجتماعي إلا إذا اشتغلت لدى الغير، أما إذا كانت تملك عقارات تديرها بنفسها، أو بأجير لديها، فهي أسيرة اجتماعيًا؛ لأن هذا الفكر يحرم الملكية الخاصة، وحاصل القول في هذه الندوة حسبما نشرته عنه الصحف اليومية، أنها لا تدافع عن المرأة فيما هضمت من حقوق في أي مكان أو زمان، بل تدافع عن الفكر الشيوعي دون سواه (1).

--------------------------------------------

(1) نشرت في " السياسة " يوم 29/ 5 / 1986.
এখানে বেশ কিছু ভুল ধারণা পরিলক্ষিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - এই দাবি করা যে, পুরুষই ব্যক্তিগত মালিকানা এবং উৎপাদনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী। অথচ আলোচক যে আরব সমাজের বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করছেন, সেখানে এমন কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। কেননা সেখানে নারী পুরুষের মতোই মালিকানা লাভ করে।

২ - যে নারী অন্যের অধীনে কাজ করে না, সে কাজ ও উৎপাদনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত নয়—যেমনটি কমিউনিস্ট মতাদর্শ দাবি করে। কারণ, এই নারী হয়তো নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন অথবা নিজের ঘরে সন্তানদের লালন-পালনের কাজে নিয়োজিত থাকেন, তাদের অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে। আর এটি প্রমাণিত যে, শিশুদের মা ব্যতীত অন্যের কাছে ছেড়ে দেওয়া তাদের জন্য এমন ক্ষতির কারণ হয়, যা কেবল সেই ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারে যে পূর্ব দিকে সূর্যোদয় হওয়াকে অস্বীকার করে।

৩ - এই মতাদর্শ মনে করে যে, কোনো নারী যদি অন্যের অধীনে কাজ করে অন্য কারো সন্তানদের লালন-পালন ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে—চাই তা সরকারি শিশুসদন হোক বা ব্যক্তিগত বাড়ি—তবে সেই নারী উৎপাদনশীল। পক্ষান্তরে, তিনি যদি নিজের ঘরে এই একই কাজ করেন এবং নিজের শ্রম, মেধা ও অভিজ্ঞতা সন্তানদের লালন-পালনে ব্যয় করেন, তবে তিনি অনুৎপাদনশীল এবং সামাজিক হতাশায় আক্রান্ত বলে গণ্য হন; অনুরূপভাবে তিনি যদি নিজের কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাহলেও।

৪ - এই মতাদর্শ সেই নারীকে উৎপাদনশীল মনে করে যে অন্যের অধীনে কাজ করে সামান্য কয়েক দিরহাম উপার্জন করে এবং মনে করে সে পরিবারের জন্য একটি উপযুক্ত জীবনমান নিশ্চিত করছে। অথচ যদি তার বাবা-মায়ের উত্তরাধিকার থেকে প্রাপ্ত সম্পদ, বা তার নিজস্ব মালিকানা অথবা তার স্বামীর মালিকানা থেকে আরও বেশি আয় থাকে, তবে তাকে হতাশাগ্ৰস্ত মনে করা হয় এবং বলা হয় যে সে পরিবারের জন্য উপযুক্ত জীবনমান নিশ্চিত করছে না। এটি এমন এক বিভ্রান্তি যা কেবল নিরক্ষরদের কাছে অথবা যাদের মস্তিষ্কে কমিউনিস্ট ব্রেইনওয়াশের প্রভাব রয়েছে তাদের কাছেই গোপন থাকতে পারে, যারা নারীর অধিকারের নিশ্চয়তাকে অন্য কারো পরিবর্তে কেবল (মার্কস)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট করে।

৫ - এই মতাদর্শ মনে করে যে, যে নারী অন্যের অধীনে কাজ করে না, সে সামাজিক স্তরে বন্দীতে পরিণত হয়েছে। কারণ সে সামাজিক দাসত্ব থেকে ততক্ষণ মুক্তি পায় না যতক্ষণ না অন্যের অধীনে নিয়োজিত হয়। অন্যদিকে, যদি সে কোনো স্থাবর সম্পত্তির মালিক হয় যা সে নিজে পরিচালনা করে অথবা কোনো কর্মচারীর মাধ্যমে পরিচালনা করায়, তবে সে সামাজিকভাবে বন্দী; কারণ এই মতাদর্শ ব্যক্তিগত মালিকানাকে নিষিদ্ধ করে। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে এই সেমিনারের যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার সারকথা হলো—এটি কোনো স্থানে বা সময়ে নারীর যে অধিকার খর্ব হয়েছে তা নিয়ে কথা বলে না, বরং অন্য কিছু বাদ দিয়ে কেবলমাত্র কমিউনিস্ট মতাদর্শের পক্ষাবলম্বন করে (১)।

--------------------------------------------

(১) ২৯/ ৫ / ১৯৮৬ তারিখে "আস-সিয়াসা" পত্রিকায় প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الإِسْلَامُ المُفْتَرَى عَلَيْهِ بَيْنَ الشَّرْقِ وَالغَرْبِ: (*).

لقد ذهبت إلى الكويت خلال شهر سبتمبر 1972 وأثناء اطلاعي على [الأعداد] السابقة للصحف والمجلات، لفت نظري كلمتان بجريدة " السياسة " بتاريخ 19/ 8 / 1972 بتوقيع العامل العربي «خليل أبو عطايا» يدافع عن روسيا والشيوعية، ويطلب العامل أن نطرح الدين جانبًا، ولا نستخدمه للإحراج، وفي الوقت نفسه يؤكد أن الإسلام كفل الحرية الحقيقية والعدل والمساواة، وينعى على المسلمين الانحراف عن الإسلام، ولكنه لا يطلب العودة إلى الإسلام إنما جعل تصحيح الأوضاع بالالتجاء للاشتراكية، لأنها هي جوهر الدين كما يفهم.

أما المقالة الثانية فمنشورة في 27/ 8 / 1972 بتوقيع «تيسير عودة الله» وهي تتحمس للشيوعية أكثر من الشيوعيين. فعنوانها ومضمونها أن الشيوعية هي النظام الوحيد الذي يكفل حياة حرة للجميع، وتقول: «وهذا ما لا نجده في أي مجتمع آخر».

ولقد اندهشت لمثل هذه الكتابات، لأن قادة الشيوعية لا يكتبون مثل ذلك. فالخبير السوفياتي (زولين) يطالب بعودة روسيا إلى نوع من الملكية الفردية، و (روجيه غارودي) عندما كان سكرتيرًا عامًا للحزب الشيوعي الفرنسي كشف عن بعض أخطاء الماركسية حتى أبعد عن الحزب، كما أن الأحزاب الشيوعية في العالم انقسمت على نفسها، بسبب جمود الفكر الماركسي، وخرجت على شعوبها ببرامج لا تتقيد بالخط الماركسي أو اللينيني.

وإذا كانت الشيوعية قد لجأت في السنوات الأخيرة إلى شراء بعض الأقلام لنشر مبادئها، وأصبحت نشرات السفارات الشيوعية تصدر بأقلام عربية، فإن هذه الأقلام لم تبلغ بها الجرأة بعد لكتابة هذه الأحلام وللتبشير بهذه الأوهام.

 

‌‌لَمْحَةٌ خَاطِفَةٌ عَنْ إِلَهِ الشُّيُوعِيِّينَ:

لقد ابتدع الألماني (فيورباخ) دينًا جديدًا في القرن التاسع عشر (1804 - 1872). فقدس علم الإنسان، حتى أصبح هذا العلم هو معبود الإنسانية في مفهومه، وورث (كارل ماركس) (1818 - 1883) هذه البدعة، ولكنه جعل المادة

--------------------------------------------

(*) نشر بمجلة " البلاغ " الصادرة في الكويت بتاريخ 1/ 10 / 1972 م وأكثر المقال عن الشيوعية لأنها أصل العلمانية فهي أشد إنكارًا للدين.
পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে অপবাদগ্রস্ত ইসলাম: (*).

আমি ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কুয়েত গিয়েছিলাম এবং পূর্ববর্তী সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলো পর্যালোচনা করার সময় ১৯/০৮/১৯৭২ তারিখে "আস-সিয়াসা" পত্রিকায় 'খলিল আবু আতায়া' নামক জনৈক আরব শ্রমিকের স্বাক্ষর সম্বলিত দুটি লেখা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি রাশিয়া ও কমিউনিজমের পক্ষে ওকালতি করছিলেন। উক্ত শ্রমিক দাবি করেছিলেন যেন আমরা ধর্মকে একপাশে সরিয়ে রাখি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার না করি। একই সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলাম প্রকৃত স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং সমতা নিশ্চিত করেছে। তিনি মুসলমানদের ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়ার জন্য আক্ষেপ করেন, তবে তিনি ইসলামের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাননি; বরং তার বুঝ অনুযায়ী সমাজতন্ত্রই ধর্মের মূল নির্যাস হওয়ায় পরিস্থিতির সংশোধনের জন্য সমাজতন্ত্রের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

দ্বিতীয় নিবন্ধটি ২৭/০৮/১৯৭২ তারিখে 'তাইসির আওদাহুল্লাহ'-এর স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি কমিউনিস্টদের চেয়েও বেশি কমিউনিজমের প্রতি উৎসাহ প্রদর্শন করে। এর শিরোনাম এবং বিষয়বস্তু ছিল এই যে, কমিউনিজমই একমাত্র ব্যবস্থা যা সকলের জন্য একটি স্বাধীন জীবন নিশ্চিত করে। তিনি বলেন: "অন্য কোনো সমাজে আমরা এটি খুঁজে পাই না।"

আমি এই ধরণের লেখায় বিস্মিত হয়েছিলাম, কারণ কমিউনিস্ট নেতারাও এমনটি লেখেন না। সোভিয়েত বিশেষজ্ঞ (জোলিন) রাশিয়াকে এক ধরণের ব্যক্তিগত মালিকানায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন (রজার গারৌদি) মার্কসবাদের কিছু ভুল ত্রুটি উন্মোচন করেছিলেন, যার ফলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তেমনিভাবে বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্ট দলগুলো মার্কসীয় চিন্তাধারার স্থবিরতার কারণে নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা তাদের জনগণের সামনে এমন কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছে যা মার্কসবাদী বা লেলিনবাদী ধারা অনুসরণ করে না।

যদি কমিউনিজম সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাদের নীতি প্রচারের জন্য কিছু লেখককে অর্থের বিনিময়ে নিযুক্ত করার আশ্রয় নিয়ে থাকে এবং কমিউনিস্ট দূতাবাসগুলোর বুলেটিনগুলো যদি এখন আরব লেখকদের কলমে প্রকাশিত হতে শুরু করে, তবে এই কলমগুলো এখনও এই ধরণের স্বপ্ন লিখতে এবং এই বিভ্রমের প্রচার করার মতো দুঃসাহস অর্জন করতে পারেনি।

 

কমিউনিস্টদের উপাস্য সম্পর্কে এক ঝলক:

জার্মান নাগরিক (ফয়ারবাখ) উনবিংশ শতাব্দীতে (১৮০৪ - ১৮৭২) একটি নতুন ধর্ম উদ্ভাবন করেছিলেন। তিনি নৃবিজ্ঞানকে পবিত্র জ্ঞান করেছিলেন, এমনকি তার ধারণায় এই বিজ্ঞানই মানবতার উপাস্যে পরিণত হয়েছিল। কার্ল মার্কস (১৮১৮ - ১৮৮৩) এই নব-উদ্ভাবন (بدعة) উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি পদার্থকে

--------------------------------------------

(*) কুয়েত থেকে প্রকাশিত "আল-বালাগ" সাময়িকীতে ০১/১০/১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত। নিবন্ধটির বেশিরভাগ অংশ কমিউনিজম সম্পর্কে, কারণ এটিই ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ভিত্তি এবং ধর্মের সবচেয়ে কট্টর অস্বীকারকারী।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
والحزب الشيوعي هما المعبود الجديد، فقد جعل العقل تابعًا للمادة وأنكر ما وراء المادة، فلا وجود لله في النظام الشيوعي لذا أوجز انحراف عقيدتهم في:

1 - إلغاء الدين وابتداع دين آخر هو الدولة، برغم أنها شخصية معنوية غير محسوسة وهم ينكرون غير المحسوس.

2 - بإلغاء الدين لا وجود للوحي أوالرسل، ولكن الشيوعية ابتدعت مصدرًا جديدًا للمعرفة حل محل الوحي والرسول، ألا هو العلم المادي الذي حل محل العقل.

3 - حاربت الماركسية كل مظاهر الإيمان بالله والرسل، واعتبرت الدين أفيون الشعوب، بينما حملت الشعوب السوفيتية بالعنف على مظاهر أخرى لدين آخر، فالإيمان بالزعامة والاعتقاد بالحزب والرهبة منه من أخص خصائص العقيدة الماركسية، فما ينطق به الحزب لا يرد ولا يناقش، وتهمة الخيانة العظمى تلحق كل من خرج عن الحزب أو ناقش تصرفات الزعامة.

4 - النتيجة لكل هذا أن فقد الإنسان في النظام الشيوعي إنسانيته، وأصبح مجبرًا كالحيوان على سلوك ونظام لا اختيار له فيه، وعليه أن يبصر بعين واحدة هي عين الحزب حتى لو عمى قائده.

ولقد ظلت الرهبة من (ستالين) تملأ النفوس، حتى بعد موته بسنوات بعد أن تمكن (خروتشوف) من السيطرة التامة على الحزب ثم بدأ بنبش قبره ونشر خطئه.

 

‌‌المَادِّيَّةُ الجَدَلِيَّةُ جَهْلٌ وَجَاهِلِيَّةٌ:

المادية الجدلية هي المعبود الجديد عند الماركسيين، فكاهنهم (كارل ماركس) جعل المادية الجدلية هي المفسر الوحيد للوجود، فالإنسان يخضع للمادة، وهي التي تفسر الوجود الإنساني، والطبيعة هي التي أوجدت الإنسان، وبالتالي يخضع لها كالأشياء المادية الأخرى، فالطبيعة والمادة هي الأزلية أي الخالقة فلا يتوقف وجودها على شيء آخر.

وهذا ما كان يقول به بعض السفهاء العرب، ولقد روى لنا القرآن نظريتهم الفاسدة {وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَاّ حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَاّ الدَّهْرُ} (1). فهل هذا صحيح؟

--------------------------------------------

(1) [الجاثية: 24].
এবং কমিউনিস্ট পার্টি হলো নতুন উপাস্য। তারা বুদ্ধিবৃত্তিকে পদার্থের অনুগামী করেছে এবং অতীন্দ্রিয় বিষয়কে অস্বীকার করেছে। কমিউনিস্ট ব্যবস্থায় আল্লাহর কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই তাদের আকিদাগত (عقيدة) বিচ্যুতির সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

১ - ধর্মকে বিলুপ্ত করা এবং রাষ্ট্র নামক অন্য এক ধর্মের উদ্ভাবন করা, যদিও এটি একটি অদৃশ্য বিমূর্ত সত্তা, অথচ তারা অদৃশ্য বিষয়কে অস্বীকার করে।

২ - ধর্ম বিলুপ্ত করার মাধ্যমে ওহি (وحي) বা রাসুলগণের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। তবে কমিউনিজম জ্ঞানের একটি নতুন উৎস উদ্ভাবন করেছে যা ওহি (وحي) ও রাসুলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, আর তা হলো বস্তুবাদী বিজ্ঞান যা বুদ্ধিবৃত্তির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

৩ - মার্ক্সবাদ আল্লাহ ও রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাসের সকল বহিঃপ্রকাশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং ধর্মকে জনগণের আফিম হিসেবে গণ্য করেছে। অন্যদিকে সোভিয়েত জনগণকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অন্য একটি ধর্মের রীতিনীতি পালনে বাধ্য করা হয়েছে; ফলে নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস, পার্টির প্রতি আকিদা (عقيدة) এবং এর প্রতি ভীতি হলো মার্ক্সবাদী আকিদার (عقيدة) অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য। পার্টি যা বলে তা প্রত্যাখ্যান বা আলোচনা করা যায় না এবং যে ব্যক্তিই পার্টির বাইরে যায় বা নেতৃত্বের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করে, তার ওপর রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়।

৪ - এ সবকিছুর ফলাফল হলো এই যে, কমিউনিস্ট ব্যবস্থায় মানুষ তার মানবতা হারিয়ে ফেলেছে এবং পশুর মতো এমন এক আচরণ ও ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত হতে বাধ্য হয়েছে যাতে তার কোনো নিজস্ব পছন্দ নেই। তাকে কেবল পার্টির চোখ দিয়েই দেখতে হয়, এমনকি যদি তার নেতা অন্ধও হয়।

স্ট্যালিনের প্রতি ভীতি মানুষের অন্তরে গেঁথে ছিল তার মৃত্যুর বহু বছর পর পর্যন্তও, যতক্ষণ না ক্রুশ্চেভ পার্টির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন এবং এরপর তার কবর খনন ও তার ভুলগুলো প্রচার করতে শুরু করেন।

 

‌‌দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ হলো অজ্ঞতা ও জাহিলিয়াত (جاهلية):

দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ মার্ক্সবাদীদের কাছে নতুন উপাস্য। তাদের পুরোহিত (কার্ল মার্ক্স) দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে অস্তিত্বের একমাত্র ব্যাখ্যাকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ফলে মানুষ পদার্থের অধীন এবং এই পদার্থই মানুষের অস্তিত্বের ব্যাখ্যা দেয়। প্রকৃতিই মানুষকে সৃষ্টি করেছে, ফলে মানুষ অন্যান্য জড়বস্তুর মতোই প্রকৃতির অধীন। প্রকৃতি ও পদার্থই হলো অনাদি অর্থাৎ স্রষ্টা, তাই এর অস্তিত্ব অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করে না।

আর আরবের কিছু নির্বোধ লোক এই কথাই বলত। কুরআন আমাদের নিকট তাদের এই ভ্রান্ত মতবাদ বর্ণনা (روى) করেছে: {এবং তারা বলে, 'আমাদের এই পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি এবং কাল (মহাকাল) ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না'} (১)। এটা কি সঠিক?

--------------------------------------------

(১) [আল-জাসিয়া: ২৪]।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وهل كان كل ما وراء المادة خرافة وخيالاً؟ وهل ما لا نحسه - أي غير المادي - لا وجود له؟ نجيب على ذلك بإيجاز شديد، ليعلم ذلك كل ذي حس وبصيرة.

ولقد ثبت علميًا جهل (كارل ماركس) وخطؤه الفاحش، فقد اكتشفت الطاقات الضوئية والإشعاعية والرادار والأصوات في الأثير، كما تمكن العلماء من معرفة عنصر الهليون عن طريق الأشعة التي صدرت عنه في الشموس، وحددوا حجم ومدار كوكب النبتون قبل أن تراه الأجهزة العلمية، وذلك بنفس الوسيلة العلمية، وهي معرفة الجانب غير المحسوس من الحقائق عن طريق شواهده، وآثاره في العالم المحسوس.

وهكذا اكتشف الإنسان ما وراء المادة بل قد أحاط بالمادة، فيستحيل أن تكون هي الخالقة له وهي المفسرة لحياته.

وأصبح مِنَ المُسَلَّمِ بِهِ عِلْمِيًّا أن تعرف الجانب الغير المرئي من الحقائق عن طريق الآثار التي تدل عليه في العالم المحسوس.

هذه الحقيقة أدركها العرب بالنظرة وبغير أجهزة علمية أو اكتشافات أثيرية فقالوا: «البَعْرَةُ تَدُلُّ عَلَى البَعِيرِ، وَالأَثَرُ يَدُلُّ عَلَى المَسِيرِ، أَلَا تَدُلُّ السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ عَلَى اللَّطِيفِ الخَبِيرِ».

أمام هذا الاكتشاف العلمي، وأمام الفشل التي منيت به الماركسية، دعا (روجيه غارودي) سكرتير الحزب الشيوعي الفرنسي إلى تطوير الماركسية في عدة أمور، منها: ضرورة الاعتراف بالإيمان والمؤمنين في الحزب الشيوعي.

 

‌‌المَادِّيَّةُ الجَدَلِيَّةُ تَهْدِمُ المُجْتَمَعَ الشُّيُوعِيَّ:

فمن الناحية الفلسفية:

تقوم المادية الجدلية على عدة قوانين للنمو، هي: قانون تحول التغيرات الكمية إلى كيفية، وقانون تداخل الأضداد، أي وجود التناقضات، وقانون نفي النفي، فالإقطاع تنفيه وتهدمه الرأسمالية، وهذه تهدمها الاشتراكية، في كل مجتمع يتضمن عُنْصُرَا الضِّدِّ وَالنَّقِيضِ فيهدم نفسه ويحل محله غيره. وإذا سلمنا جدلاً بحقيقة هذه القوانين وحتميتها كما يدعي (ماركس) فإنها تتضمن بهذا التحليل، أن يهدم المجتمع الشيوعي نفسه، وينشأ عنه مجتمع آخر تنفيذًا لقانون النقيض، والشيوعية لا بد أن تنفي نفسها. ونذكر أن مبدأ
বস্তু জগতের বাইরের সবকিছুই কি রূপকথা ও কল্পনা ছিল? আর আমরা যা অনুভব করতে পারি না—অর্থাৎ যা বস্তুগত নয়—তার কি কোনো অস্তিত্ব নেই? আমরা অত্যন্ত সংক্ষেপে এর উত্তর দেব, যাতে সংবেদনশীলতা ও অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তি এটি উপলব্ধি করতে পারে।

বৈজ্ঞানিকভাবে কার্ল মার্ক্সের (Karl Marx) অজ্ঞতা ও তার জঘন্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ইথারে আলোকশক্তি, তেজস্ক্রিয়তা, রাডার ও শব্দের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়েছে। তেমনি বিজ্ঞানীরা সূর্যের বিচ্ছুরিত রশ্মির মাধ্যমে হিলিয়াম উপাদান সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়েছেন এবং তারা নেপচুন গ্রহের আকার ও কক্ষপথ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে প্রত্যক্ষ করার আগেই নির্ধারণ করেছিলেন। আর তা সম্ভব হয়েছিল একই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, যা হলো—দৃশ্যমান জগতের নিদর্শন ও প্রভাবের মাধ্যমে বাস্তবতার অদৃশ্য দিকগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

এভাবেই মানুষ বস্তু জগতের বাইরের বিষয়সমূহ আবিষ্কার করেছে, বরং সে বস্তুকে পরিবেষ্টন করেছে; সুতরাং এটা অসম্ভব যে, এই বস্তুই মানুষের স্রষ্টা হবে এবং তার জীবনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।

আর বর্তমানে এটি বৈজ্ঞানিকভাবে একটি স্বীকৃত সত্যে পরিণত হয়েছে যে, দৃশ্যমান জগতের নিদর্শনাবলির মাধ্যমে সত্যের অদৃশ্য দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।

এই সত্যটি আরবরা সাধারণ দৃষ্টিতে এবং কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বা ইথারীয় আবিষ্কার ছাড়াই উপলব্ধি করেছিল। তারা বলেছিল: «উটের বিষ্ঠা উটের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং পদচিহ্ন চলার পথের নির্দেশ দেয়; তবে কি এই আসমান ও জমিন সেই সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ সত্তার প্রমাণ দেয় না?»

এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং মার্ক্সবাদের ব্যর্থতার মুখে ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি রজার গারৌদি (Roger Garaudy) বেশ কিছু বিষয়ে মার্ক্সবাদের সংস্কারের আহ্বান জানান। তার মধ্যে অন্যতম হলো: কমিউনিস্ট পার্টিতে ঈমান এবং মুমিনদের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা।

 

‌‌দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ কমিউনিস্ট সমাজকে ধ্বংস করে:

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে:

দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বিকাশের কয়েকটি নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো: পরিমাণগত পরিবর্তনের গুণগত পরিবর্তনে রূপান্তরের নিয়ম, বিপরীতমুখী শক্তির পারস্পরিক ক্রিয়ার নিয়ম—অর্থাৎ বৈপরিত্যের অস্তিত্ব—এবং নেতির নেতিকরণ নিয়ম। যেমন সামন্তবাদকে পুঁজিবাদ অস্বীকার ও ধ্বংস করে, আর পুঁজিবাদকে সমাজতন্ত্র ধ্বংস করে। প্রতিটি সমাজেই যেহেতু বিপরীত ও পরস্পরবিরোধী উপাদান বিদ্যমান থাকে, তাই তা নিজেকে ধ্বংস করে এবং তার স্থলে অন্য কিছু স্থলাভিষিক্ত হয়। যদি আমরা তর্কের খাতিরে মার্ক্সের দাবিকৃত এই নিয়মগুলোর সত্যতা ও অনিবার্যতা মেনে নেই, তবে এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী কমিউনিস্ট সমাজও নিজেকে ধ্বংস করবে এবং বৈপরিত্যের নিয়মের অধীনে অন্য একটি সমাজের জন্ম দেবে। আর কমিউনিজম অবশ্যই নিজেকে অস্বীকার করবে। আমরা উল্লেখ করছি যে, এই মূলনীতি...
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
النقيض أخذه (ماركس) عن الألمانيين (نيتشه) و (هيجل) وَلَكِنَّهُ قَلَبَهُ، فلا يسير على رجليه بل على رأسه، فاستخدمه في مجال آخر غير مجال التصور الذهني عند (نيتشه) وغير مجال الفكر عند (هيجل)، بل جعل ميدانه هو الاقتصاد، وسخر له تاريخ الإنسانية وانتهى إلى أنه باستقراء التاريخ وجد أن كل شيء يتضمن نقيضه، ولكنه وقف عند المجتمع الشيوعي، وكان لزامًا عليه إعمالاً لنظريته أن يجري على هذا المجتمع مبدأ النقيض.

ومن الناحية الاجتماعية:

يقتضي مبدأ النقيض حتمية التغيير، فالقيم والأخلاق عند الماركسيين ليست قابلة للتغيير فحسب بل واجبة التغيير، وهو تغيير إلى الحيوانية، لأنه لا توجد حياة أخرى عندهم، فعلى كل فرد أن يسارع إلى إشباع شهواته وغرائزه بشتى الوسائل.

وبهذا انعدمت رابطة الأبوة، وتلاشت أواصر العائلات، وأصبح الزواج معاشرة جنسية مؤقتة، للرجل أو المرأة العدول عنها والاقتران بشخص آخر في أي وقت، وقد أوجب القانون كتابة ذلك فقط.

هكذا يصبح البطن والفرج هما غاية الإنسان في الحياة، ولذا فالحرمان من الطعام وسيلة الحزب لإخضاع المواطن واسترقاقه تحت ستار العمل والإنتاج ..

والشعوب السوفياتية تشقى لتنال لقمة العيش لا لتبني مستقبلاً سعيدًا، وحدث أن طالب رئيس جمهورية تركستان بعدم نقل القمح إلى روسيا إلا بعد سد حاجة أهله منه، فما كان إلا أن اختفى من الوجود كغيره من الجنرالات الذين يخطفون، ولا يعلم أحد أَبَيْنَ الأحياء هم أم بين الأموات ..

والحرية لقادة الحزب وحدهم وهؤلاء تتفاوت درجاتها بينهم، فلا عجب أن يصبح الرئيس سجينًا في بيته، أو منفيًا في مكان مجهول، أو عاملاً بأحد المحلات دون أي ضمانات.

وسترًا لهذه العبودية ابتدعوا النقد الذاتي، وهذا يستخدم عندما يسيطر أحد الزعماء على السلطة ويريد تنحية سلفه، فيكرهه على نقد نفسه والاستقالة المُقَنَّعَةَ، كما يحدث النقد الذاتي لامتصاص الشعور عندما يصبح الخطأ همس الجماهير الشاغل ..

وإننا لنسائل المتغنين بالحرية الشيوعية من العرب، أين هذه الحرية إذا كان ملايين
বৈপরীত্য (النقيض) এর ধারণাটি (মার্কস) জার্মান দার্শনিক (নিৎশে) এবং (হেগেল)-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তিনি এটিকে উল্টে দিয়েছেন; ফলে এটি আর নিজের পায়ের ওপর নয়, বরং মাথার ওপর ভর করে চলে। তিনি একে (নিৎশে)-র মানসিক কল্পনা বা (হেগেল)-এর চিন্তাজগতের পরিবর্তে অন্য একটি ক্ষেত্রে অর্থাৎ অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। তিনি এর জন্য মানব ইতিহাসকে অনুগত করেছেন এবং ইতিহাসের পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, প্রতিটি বস্তুই তার বিপরীত বিষয়কে ধারণ করে। তবে তিনি সাম্যবাদী সমাজের ক্ষেত্রে এসে থমকে গেছেন, অথচ তার তত্ত্বের সার্থক প্রয়োগের দাবি ছিল এই সমাজের ওপরও বৈপরীত্যের (النقيض) নীতিটি বলবৎ করা।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে:

বৈপরীত্যের (النقيض) নীতি পরিবর্তনের অনিবার্যতার দাবি রাখে। মার্কসবাদীদের কাছে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা কেবল পরিবর্তনশীলই নয়, বরং তা পরিবর্তন করা আবশ্যক। আর এই পরিবর্তন হলো পশুত্বের দিকে; কারণ তাদের নিকট পরকালীন কোনো জীবনের অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত বিভিন্ন উপায়ে নিজ নিজ কামনা-বাসনা ও প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করতে সচেষ্ট হওয়া।

এর ফলে পিতৃত্বের বন্ধন বিলুপ্ত হয়েছে, পারিবারিক সম্পর্কগুলো ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বিবাহ পরিণত হয়েছে একটি সাময়িক যৌন সহবাসে। নারী বা পুরুষ যে কেউ যেকোনো সময় তা ত্যাগ করে অন্য কারো সাথে যুক্ত হতে পারে; আইন কেবল বিষয়টি লিপিবদ্ধ করাকে বাধ্যতামূলক করেছে।

এভাবেই উদরপূর্তি এবং যৌনাচার মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। আর এই কারণেই খাদ্য থেকে বঞ্চিত করাকে দল (পার্টি) নাগরিকদের অনুগত করার এবং কাজ ও উৎপাদনের আড়ালে তাদের দাসে পরিণত করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে।

সোভিয়েত জনগণ কেবল দুবেলা দুমুঠো অন্নের জন্যই হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে, কোনো সুখী ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য নয়। একদা তুর্কিস্তান প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট দাবি জানিয়েছিলেন যে, তার দেশের মানুষের প্রয়োজন মেটানোর আগে যেন রাশিয়ায় গম পাঠানো না হয়। এর পরিণামে তিনি অন্যান্য নিখোঁজ হয়ে যাওয়া জেনারেলদের মতোই অস্তিত্বহীন হয়ে যান, যাদের অপহরণ করা হয় এবং কেউ জানে না তারা জীবিত আছেন নাকি মৃত।

স্বাধীনতা কেবল দলের নেতাদের জন্য সীমিত, আর তাদের মধ্যেও এই স্বাধীনতার মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। তাই কোনো প্রেসিডেন্ট যদি নিজ গৃহে বন্দী হন, কিংবা কোনো অজ্ঞাত স্থানে নির্বাসিত হন, অথবা কোনো প্রকার নিশ্চয়তা ছাড়াই কোনো দোকানে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

এই দাসত্বকে আড়াল করার জন্য তারা আত্ম-সমালোচনার (النقد الذاتي) উদ্ভাবন করেছে। এটি তখন ব্যবহৃত হয় যখন কোনো নেতা ক্ষমতা দখল করেন এবং তার পূর্বসূরিকে সরিয়ে দিতে চান; তখন তাকে নিজের সমালোচনা করতে এবং ছদ্মবেশী পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এছাড়া যখন কোনো ভুল জনগণের মধ্যে গুঞ্জন ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন জনরোষ প্রশমিত করার জন্যও আত্ম-সমালোচনা (النقد الذاتي) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

আমরা সেই সব আরবদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই যারা সাম্যবাদী স্বাধীনতার গুণগান করেন—কোথায় সেই স্বাধীনতা, যদি লক্ষ লক্ষ...
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
المسلمين بشبه جزيرة القرم قد طردوا من ديارهم سنة 1944 على يد (ستالين)، ووضعوا في مجاهل سيبيريا للهلاك البطيء، وما زالوا ينتهزون المناسبات لعفو السلطات عنهم وإعادتهم إلى أوطانهم، وكان آخر هذه الالتماسات ما نقلته " الهيرالد تربيون إنترناشيونال " 15/ 8 / 1972 إن ثمانية عشر ألفًا من المسلمين المنفيين في سيبيريا أرسلوا التماسًا إلى (بريجنيف) يمتدحون الشيوعية ويلتمسون السماح بالعودة إلى وطنهم ..

 

‌‌فَشَلُ المَارْكْسِيَّةِ اقْتِصَادِيًّا:

إذا كانت الرأسمالية لا ترتكز على أصول علمية، ولا تستمد وجودها من القوانين الاقتصادية، بل من سيطرة رأسم المال على النظم والحكومات التي تقوم بدورها بخلق نظريات كاذبة متحصنة بالمفهوم المضلل للحرية.

إذا كان ذلك كذلك بالنسبة للرأسمالية، فإن الماركسية أكثر فشلاً، فهي لا تقوم على أسس علمية ثابتة، إنما تستغل أخطاء الرأسمالية في علاج المشاكل الناجمة عن الحرب العالمية، كمشكلة البطالة، وتزايد السكان واحتلال البلدان ومنع شعوبها من تقرير مصيرها، وغير ذلك من المخازي والأخطاء ..

ولا ينكر أحد أن شيوعية (ماركس) وصديقه (إنجلز) إنما ولدت كرد فعل للمظالم الأوروبية، فعهد ما يسمى بعصر الإيمان، المنسوب إلى الكنيسة، كانت تحرق فيه جثث الملايين من الرجال والنساء باسم الدين.

 

‌‌إِنْكَارُ الدِّينِ:

وكان رد الفعل أيضًا، الدعوة إلى الملكية الجماعية، باسم الاشتراكية أو الشيوعية، لأن المظالم هذه ارتكبت بقوة الإقطاعيين وجبروتهم.

والتجربة العملية تثبت أن المذهبين قد فشلا عمليًا، ولهذا اتجهت الدول الرأسمالية إلى تطعيم نظمها الفردية بأنواع معينة من النظام الجماعي، والأخذ بنظام الاقتصاد الموجه فظهرت فيها الاشتراكية الديمقراطية.

كما أن لدول الشيوعية وفي مقدمتها الاتحاد السوفياتي عاد إلى الأخذ بأنواع محددة من الملكية الفردية عملاً ببقاء الخبراء. من ذلك ما نقلته جريدة " الأهرام " القاهرية في عددها الصادر في 18/ 8 / 1965 أن الخبير السوفيتي (رولين) - نقلاً عن صحيفة
১৯৪৪ সালে (স্ট্যালিন) কর্তৃক ক্রিমিয়া উপদ্বীপের মুসলমানদের তাদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং ধীর মৃত্যুর জন্য সাইবেরিয়ার গহীন অরণ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তারা এখনও কর্তৃপক্ষের ক্ষমা লাভের এবং নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আবেদনের সর্বশেষ নমুনা ছিল "দ্য হেরাল্ড ট্রিবউন ইন্টারন্যাশনাল" পত্রিকায় ১৫/০৮/১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত একটি সংবাদ, যেখানে বলা হয়েছে যে, সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত আঠারো হাজার মুসলমান (ব্রেজনেভ)-এর কাছে একটি আবেদন পাঠিয়েছে, যাতে তারা কমিউনিজমের প্রশংসা করেছে এবং নিজ দেশে ফেরার অনুমতি প্রার্থনা করেছে।

 

‌‌অর্থনৈতিকভাবে মার্ক্সবাদের ব্যর্থতা:

পুঁজিবাদ যদি বৈজ্ঞানিক মূলনীতির ওপর ভিত্তি না করে এবং অর্থনৈতিক আইনের পরিবর্তে শাসনব্যবস্থা ও সরকারের ওপর পুঁজির আধিপত্যের ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাধীনতার বিভ্রান্তিকর ধারণায় সুরক্ষিত মিথ্যা তত্ত্ব তৈরি করে।

পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে মার্ক্সবাদ আরও বেশি ব্যর্থ। কারণ এটি কোনো সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং এটি বিশ্বযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে পুঁজিবাদের ভুলগুলোকে কাজে লাগায়, যেমন বেকারত্ব সমস্যা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দেশ দখল এবং জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার হরণসহ অন্যান্য কলঙ্কজনক অধ্যায় ও ভুলসমূহ...

কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, (মার্ক্স) এবং তার বন্ধু (এঙ্গেলস)-এর সাম্যবাদ মূলত ইউরোপীয় জুলুম-নির্যাতনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নিয়েছিল। তথাকথিত 'বিশ্বাসের যুগ', যা গির্জার সাথে সম্পৃক্ত ছিল, সেই আমলে ধর্মের নামে লক্ষ লক্ষ নারী ও পুরুষের দেহ পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হতো।

 

‌‌ধর্ম অস্বীকার:

সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদের নামে যৌথ মালিকানার যে আহ্বান জানানো হয়েছিল, তাও ছিল একটি প্রতিক্রিয়া; কারণ এই জুলুমগুলো সামন্তবাদীদের শক্তি ও প্রতাপের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছিল।

বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, উভয় মতবাদই ব্যবহারিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একারণেই পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো তাদের ব্যক্তিতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে নির্দিষ্ট কিছু যৌথ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটাতে এবং নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে সেখানে সামাজিক গণতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটেছে।

অনুরূপভাবে সাম্যবাদী রাষ্ট্রসমূহ, বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন, বিশেষজ্ঞদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থে পুনরায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিগত মালিকানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করেছে। কায়রোর "আল-আহরাম" পত্রিকার ১৮/০৮/১৯৬৫ সংখ্যায় সোভিয়েত বিশেষজ্ঞ (রোলিন)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সংবাদে এমনটিই উল্লেখ করা হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
" برافدا " السوفيتية - قدم تقريرًا قال فيه: «بِيَقِينِ عَلَى رُوسْيَا أَنْ تَعُودَ إِلَى نظامٍ يَسْمَحُ بِالمِلْكِيَّةِ الفَرَدِيَّةِ لِلأَرْضِ الزِّرَاعِيَّةِ، وَذَلِكَ لِحَلِّ مُشْكِلَاتِ الزِّرَاعَةِ التِي تَتَجَدَّدُ عَامًا بَعْدَ عَامٍ، عَلَى أَنْ يَكُونَ تَمَلُّكُ الأَرْضِ لِمَنْ يَفْلَحُهَا».

وهذا الذي لجأت إليه الماركسية، وهو تملك الأرض لمن يفلحها نجده في سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم التي غفل عنها المسلمون قرونًا طويلة من الزمان - ففي الحديث الشريف: «مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ» (1).

ولكن الإسلام ليس رأسماليًا ولا شيوعيًا فهو إسلام، أي خضوع الإنسان للهِ، والتزامه بمنهج الله في الشعائر والشرائع، أي فيما سُمِّيَ بالعبادات وما سمي بالمعاملات، فمن جعل للهِ الشعائر من صلاة وصيام وحج، وأعلن أنه ماركسي في غير ذلك، من السياسة والاقتصاد؛ فقد أشرك مع الله، الذِي أَمَرَ أَلَاّ نُشْرِكَ بِهِ فِي أَيٍّ مِنَ الشَّعَائِرِ أَوْ الشَّرَائِعِ: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ} (2).

 

‌‌اعْتِرَافُ القَادَةِ السُّوفْيِيتْ:

لقد ظل الروس يصبون نيران الغضب ضد الصحافة، لأن رجالها يزعمون أن المواطنين في روسيا عبيد للدولة، وكانوا يعتبرون ما نشر عن ذلك من قبيل الدعاية الأمريكية المضادة، ولكن الواقع كشف عن الحقيقة.

فاليوم اعترف الروس بما كانوا يصفونه بالدعاية المضادة، فقد أذاعت موسكو أنه ما سمحت بهجرة اليهود السوفييت إلى إسرائيل، إلا بعد دفعهم ثمن التعليم في كل المراحل، وذلك تطبيقًا للمبدأ الذي أعلنه مجلس السوفييت الأعلى والجامعات من اليهود المهجرين إلى إسرائيل.

ومن هنا نسأل الماركسيين العرب والمخدوعين هل قيام روسيا بتزويد إسرائيل بالرجال، يختلف عن تزويد أمريكا لهم بالسلاح والمال؟ وإذا كان الولاء لغير الوطن خيانة، فإن إعطاء

--------------------------------------------

(1) " البخاري ": ج 5 ص 18 ط. دار الفكر.

(2) [الأنعام: 162، 163].
সোভিয়েত "প্রাভদা" একটি প্রতিবেদন পেশ করেছে যাতে বলা হয়েছে: "নিশ্চিতভাবেই রাশিয়াকে এমন একটি ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে যা কৃষি জমির ব্যক্তিগত মালিকানার অনুমতি দেয়, যাতে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা কৃষি সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়, তবে শর্ত হলো জমির মালিকানা তার হবে যে তা চাষ করবে।"

মার্কসবাদ যেটির আশ্রয় নিয়েছে—অর্থাৎ চাষির জমির মালিকানা হওয়া—সেটি আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মধ্যে খুঁজে পাই, যা মুসলমানরা দীর্ঘ শতাব্দী ধরে অবহেলা করে আসছে। একটি হাদিস শরিফে এসেছে: "যে ব্যক্তি কোনো মৃত জমিকে পুনরুজ্জীবিত করবে, তা তারই।" (১)

কিন্তু ইসলাম পুঁজিবাদীও নয়, সাম্যবাদীও নয়; বরং তা হলো ইসলাম। অর্থাৎ মানুষের আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং ইবাদত ও শরিয়ত সংক্রান্ত আল্লাহর পদ্ধতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া; অর্থাৎ যা ইবাদত এবং লেনদেন হিসেবে অভিহিত। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ, রোজা ও হজের মতো ইবাদতগুলো আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করল, কিন্তু রাজনীতি ও অর্থনীতির মতো অন্য বিষয়ে নিজেকে মার্কসবাদী হিসেবে ঘোষণা করল, সে আল্লাহর সাথে শিরক করল; অথচ আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা কোনো ইবাদত বা শরিয়তের বিধানে তাঁর সাথে শরিক না করি: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি।} (২)

 

‌‌সোভিয়েত নেতাদের স্বীকারোক্তি:

রাশিয়ানরা সংবাদমাধ্যমের ওপর রাগান্বিত ছিল, কারণ সাংবাদিকরা দাবি করতেন যে রাশিয়ার নাগরিকরা রাষ্ট্রের দাস। তারা এ সংক্রান্ত প্রচারণাকে আমেরিকান বিরোধী প্রোপাগান্ডা বলে মনে করত, কিন্তু বাস্তব সত্য উন্মোচিত হয়েছে।

আজ রাশিয়ানরা তা স্বীকার করেছে যা তারা একসময় বিরোধী প্রোপাগান্ডা বলে অভিহিত করত। মস্কো ঘোষণা করেছে যে, তারা সোভিয়েত ইহুদিদের ইসরায়েলে অভিবাসনের অনুমতি দেয়নি যতক্ষণ না তারা সমস্ত স্তরের শিক্ষার খরচ পরিশোধ করেছে। এটি সোভিয়েত সুপ্রিম কাউন্সিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনকারী ইহুদিদের ক্ষেত্রে ঘোষিত নীতিমালার প্রয়োগ হিসেবে করা হয়েছে।

এখান থেকে আমরা আরব মার্কসবাদী এবং যারা বিভ্রান্ত হয়েছে তাদের কাছে প্রশ্ন করি, রাশিয়া কর্তৃক ইসরায়েলকে জনবল সরবরাহ করা কি আমেরিকার পক্ষ থেকে তাদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের চেয়ে ভিন্ন কিছু? আর যদি স্বদেশের বাইরে অন্য কারো প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা বিশ্বাসঘাতকতা হয়, তবে প্রদান করা...

--------------------------------------------

(১) বুখারি: ৫ম খণ্ড, ১৮ পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর সংস্করণ।

(২) [আল-আনআম: ১৬২, ১৬৩]।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الولاء لدولة ونظام هذا منهاجه وسلوكه يعد خيانة للوطن وللأمة العربية.

وإذا كان اليهود الروس يباعون للمنظمات اليهودية، فإن غيرهم من المواطنين الروس أكثر استرقاقًا وعبودية في هذه الدولة، الأمر الذي جعل الشعب في ألمانيا الشرقية يهرب من جنة الشيوعية إلى نار الرأسمالية بألمانيا الغربية، حتى أقامت الدولة الشيوعية سُورًا بينهما وبين الدولة الرأسمالية.

ومع هذا لا نرى ذلك اليوم الذي يسمح فيه للمسلمين بشراء إخوانهم المعذبين في مجاهل سيبيريا، ولكن لم يحدث، بل ولن يحدث لا لشيء لأنهم مسلمون، وليسوا يهودًا.

 

‌‌الخِيَانَةُ الوَطَنِيَّةُ:

 

ظلت الخيانة الوطنية في بلادنا تنادي ألا حرية إلا بتقويض دعائم الرأسمالية، والماركسيون هم الطليعة وبالتالي فالماركسية هي القادرة على توفير الحرية بهذا الأسلوب.

غير أن الماركسية هي توفير رغيف العيش دون سواه.

وتقتضي مبادئ الماركسية أن يكون ولاء الشيوعيين إلى أمهم روسيا، وإلى أبيهم لينين، وإلى دينهم الجديد وهو الشيوعية، ولذلك عندما كان يهتف الشعب في مصر في أعقاب الهزيمة: «هَيَّا إِلَى القِتَالِ»، كان الشيوعيون المصريون يهتفون «هَيَّا إِلَى فْيِتْنَامْ».

وقد تجلت ظاهرة الولاء لغير الأوطان العربية في الصراع الأخير في الحزب الشيوعي السوري، وهو أقدم الأحزاب الشيوعية العربية، فقد انقسمت اللجنة المركزية سنة 1969 بسبب برنامج سياسي خاص بتحرير الأرض والوحدة العربية وفلسطين، وعجز المؤتمر الثالث للحزب عن حسم الخلاف، كما عجزت لجنته المركزية، فما كان من الحزب إلا أن لجأ في النهاية إلى الحزب الشيوعي السوفيتي لأنه الأم، فماذا كان الجواب الذي أخذ به الماركسيون العرب؟.

 

‌‌كَانَ قَرَارُ الحِزْبِ الشُّيُوعِيِّ السُّوفْيِتِي هُوَ:

1 - لا يوجد شيء اسمه الأمة العربية، وقد تكون في سبيل التكوين غير أنها اليوم لا توجد وفقًا لتعريف ستالين للأمة.

2 - الوحدة العربية ليست الهدف الرئيسي للشيوعيين، وإنما الهدف الرئيسي هو وحدة الدولة الشيوعية.
এমন একটি রাষ্ট্র ও ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, যার কর্মপদ্ধতি ও আচরণ এই রূপ, তা দেশ ও আরব জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য।

যদি রুশ ইহুদিদের ইহুদি সংগঠনগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়ে থাকে, তবে অন্যান্য রুশ নাগরিকরা এই রাষ্ট্রে আরও বেশি দাসত্ব ও পরাধীনতার শিকার। এই পরিস্থিতির কারণেই পূর্ব জার্মানির জনগণ সাম্যবাদের স্বর্গ থেকে পশ্চিম জার্মানির পুঁজিবাদের নরকে পালিয়ে যেত, এমনকি শেষ পর্যন্ত সাম্যবাদী রাষ্ট্র উভয় রাষ্ট্রের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেয়।

তা সত্ত্বেও, আমরা এমন দিন দেখি না যেখানে সাইবেরিয়ার গহীন অরণ্যে নির্যাতিত ভাইদের মুক্ত করার জন্য মুসলমানদের সুযোগ দেওয়া হবে; বরং তা ঘটেনি এবং কখনও ঘটবেও না, আর এর একমাত্র কারণ হলো তারা মুসলিম, ইহুদি নয়।

 

‌‌জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা:

 

আমাদের দেশে জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা নিরন্তর এই দাবি করে আসছিল যে, পুঁজিবাদের ভিত্তি ধ্বংস করা ছাড়া স্বাধীনতা সম্ভব নয়। তাদের মতে মার্কসবাদীরাই হলো অগ্রগামী দল এবং ফলস্বরূপ মার্কসবাদই এই পন্থায় স্বাধীনতা প্রদানে সক্ষম।

অথচ বাস্তব হলো, মার্কসবাদ শুধুমাত্র এক টুকরো রুটির সংস্থান ছাড়া আর কিছুই নয়।

মার্কসবাদের নীতি অনুযায়ী সাম্যবাদীদের আনুগত্য হতে হবে তাদের মাতৃভূমি রাশিয়ার প্রতি, তাদের পিতা লেনিনের প্রতি এবং তাদের নতুন ধর্ম অর্থাৎ সাম্যবাদের প্রতি। এ কারণেই মিশরের পরাজয়ের পর যখন জনগণ স্লোগান দিচ্ছিল: 'চলো যুদ্ধে যাই', তখন মিশরীয় সাম্যবাদীরা স্লোগান দিচ্ছিল 'চলো ভিয়েতনামে যাই'।

আরব ভূখণ্ডের বাইরে আনুগত্য প্রকাশের এই চিত্রটি সিরীয় সাম্যবাদী দলের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা আরব দেশগুলোর অন্যতম প্রাচীন সাম্যবাদী দল। ১৯৬৯ সালে ভূমি উদ্ধার, আরব ঐক্য এবং ফিলিস্তিন সংক্রান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলের তৃতীয় সম্মেলন এবং এর কেন্দ্রীয় কমিটি এই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত দলটি সোভিয়েত সাম্যবাদী দলের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখেনি, কারণ তারা এটিকে তাদের 'মাতৃসংগঠন' মনে করত। সেই আরব মার্কসবাদীরা সেখান থেকে কী উত্তর পেয়েছিল?

 

‌‌সোভিয়েত সাম্যবাদী দলের সিদ্ধান্ত ছিল নিম্নরূপ:

১ - 'আরব জাতি' বলতে কিছুর অস্তিত্ব নেই। এটি হয়তো গঠিত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, তবে স্ট্যালিনের সংজ্ঞানুসারে বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।

২ - আরব ঐক্য সাম্যবাদীদের প্রধান লক্ষ্য নয়, বরং প্রধান লক্ষ্য হলো সাম্যবাদী রাষ্ট্রের ঐক্য।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - يستبعد الصدام المسلح لتحرير الأرض، ويجب البحث عن حل سياسي يضمن فتح قناة السويس.

4 - ليس للفلسطينيين حق تقرير مصيرهم، لأن هذا يتم على حساب ظرف آخر هو إسرائيل التي أصبحت حقيقة واقعة.

 

‌‌وَلَاءُ العَرَبِ لِغَيْرِهِمْ خِيَانَةٌ وَطَنِيَّةٌ:

لا توجد أي دولة في المعسكر الغربي أو الشرقي تعمل لصالح العرب على حساب مصلحتها الوطنية، ولا يمكن أن تقرر هذه أو تلك أمرًا إلا إذا كان يخدم مصلحتها الوطنية أولاً، وتلك بديهيات لا ينكرها إلا محترفو العمالات. ورغم هذه البديهيات فالشيوعية تُلْزِمُ أَتْبَاعَهَا في أنحاء العالم بالولاء لروسيا، وباعتبار لينين هو المثل الأعلى «المكافح» وهذا الولاء للشرق عمالة صريحة وخيانة وطنية لا يقل في ذلك عن الولاء لأمريكا. ونسائل الماركسيين العرب: ما هي الخيانة إن لم يكن تنكرهم لأمتهم العربية خيانة؟ وتنكرهم للوحدة العربية خيانة؟ والرضا بالاحتلال الإسرائيلي للبلاد العربية خيانة؟ وإنكار حق الفلسطينيين في العودة إلى ديارهم خيانة؟.

ولقد أعطى بعض العرب ولاءهم لبريطانيا؛ لتساعدهم على استرداد الخلافة الإسلامية من الأتراك، وصدقوا (مكماهون) من أن بريطانيا تريد خلافة عربية قرشية هاشمية، فقامت الثورة العربية ضد الخلافة التركية في 9 شعبان 1345 هـ - 10 يونيو 1916 م، فنال الإنجليز والفرنسيون من العرب كل مأرب وكفلوا للجيوش (الأنجلو - فرنسية) الأمن في البلاد العربية.

واكتشف العرب بعد سنوات أن الأصدقاء والحلفاء كانوا متفقين سِرًّا باتفاق سايكس - بيكو (1904) قبل الثورة العربية باثني عشر عامًا، على تقسيم البلاد العربية بين بريطانيا وفرنسا، وجعل فلسطين وطنًا قوميًا لليهود.

واليوم تحل الصداقة السوفيتية محل الصداقة البريطانية والفرنسية مع أن الحقيقة أن الروس والأمريكان على اتفاق سري ضد العرب هو أشبه باتفاق سايكس - بيكو، وما أمر الاتفاق السري في «جلاسبور» سنة 1968 ببعيد.

كما أن الاتفاق السري في موسكو سنة 1972 بين نيكسون وبريجنيف مازال يزكم أنوف المخلصين من العرب.
3 - ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের জন্য সশস্ত্র সংঘাতকে অসম্ভব মনে করা হয়, এবং সুয়েজ খাল উন্মুক্ত করার নিশ্চয়তা প্রদানকারী একটি রাজনৈতিক সমাধান অনুসন্ধান করা আবশ্যক।

4 - ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনো অধিকার নেই, কারণ এটি অন্য একটি বাস্তবতার বিনিময়ে সম্পন্ন হয়—আর তা হলো ইসরায়েল, যা এখন একটি প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হয়েছে।

 

‌‌অন্যের প্রতি আরবদের আনুগত্য একটি জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা:

প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য শিবিরের এমন কোনো রাষ্ট্র নেই যা নিজের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে আরবদের কল্যাণে কাজ করে। এই বা ওই কোনো পক্ষই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যা প্রথমে তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে না; আর এগুলো এমন স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যা কেবল পেশাদার দালালরাই অস্বীকার করতে পারে। এই স্বতঃসিদ্ধ সত্যগুলো থাকা সত্ত্বেও কমিউনিজম বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীদের রাশিয়ার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করে এবং লেলিনকে একজন ‘সংগ্রামী’ আদর্শ হিসেবে গণ্য করে। প্রাচ্যের প্রতি এই আনুগত্য একটি প্রকাশ্য দালালি এবং জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা, যা আমেরিকার প্রতি আনুগত্যের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আমরা আরব মার্ক্সবাদীদের নিকট জানতে চাই: তাদের আরব উম্মাহকে অস্বীকার করা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না হয়, তবে বিশ্বাসঘাতকতা কী? আরব ঐক্যকে অস্বীকার করা কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়? আরব ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়? এবং ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ডে প্রত্যাবর্তনের অধিকার অস্বীকার করা কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়?।

কিছু আরব ব্রিটেনের প্রতি এই আশায় আনুগত্য প্রকাশ করেছিল যে, তারা তুর্কিদের থেকে ইসলামি খেলাফত পুনরুদ্ধারে তাদের সাহায্য করবে। তারা (ম্যাকমোহন)-এর এই কথা বিশ্বাস করেছিল যে, ব্রিটেন একটি আরব কুরাইশি হাশেমি খেলাফত চায়। ফলে ৯ শাবান ১৩৪৫ হিজরি - ১০ জুন ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি খেলাফতের বিরুদ্ধে আরব বিপ্লব সংঘটিত হয়। এর ফলে ইংরেজ ও ফরাসিরা আরবদের থেকে তাদের সকল উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয় এবং আরব দেশগুলোতে (অ্যাংলো-ফ্রেঞ্চ) বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

কয়েক বছর পর আরবরা আবিষ্কার করে যে, সেই বন্ধু ও মিত্ররা আরব বিপ্লবের বারো বছর আগেই ১৯০৪ সালে ‘সাইকস-পিকট’ চুক্তির মাধ্যমে গোপনে একমত হয়েছিল যে, আরব দেশগুলোকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে এবং ফিলিস্তিনকে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসে পরিণত করা হবে।

আজ ব্রিটিশ ও ফরাসি বন্ধুত্বের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে সোভিয়েত বন্ধুত্ব, যদিও বাস্তবতা এই যে রুশ ও আমেরিকানরা আরবদের বিরুদ্ধে একটি গোপন চুক্তিতে আবদ্ধ যা ‘সাইকস-পিকট’ চুক্তিরই অনুরূপ। ১৯৬৮ সালে ‘গ্লাসবোরো’র গোপন চুক্তির বিষয়টি খুব বেশি দিন আগের নয়।

তেমনিভাবে ১৯৭২ সালে মস্কোতে নিক্সন ও ব্রেজনেভের মধ্যকার গোপন চুক্তিটি আজও নিষ্ঠাবান আরবদের নিকট অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও পীড়াদায়ক হয়ে আছে।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌تَخْطِيطٌ أَمِرِيكِيٌّ:

إن موقف قادة أمريكا لا يقل حِقْدًا من موقف زعماء الشيوعية فها هو (يوجين روستو) الذي كان حتى حرب سنة 1967 مستشارًا للرئيس الأمريكي (جونسون) لشؤون الشرق الأوسط ورئيسًا لقسم التخطيط في وزارة الخارجية الأمريكية. كتب ما يلي:

«يَجِبُ أَنْ نُدْرِكَ أَنَّ الخِلَافَاتِ القَائِمَةِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الشُّعُوبِ العَرَبِيَّةِ لَيْسَتْ خِلَافَاتٌ بَيْنَ دُوَلٍ أَوْ شُعُوبٍ، بَلْ هِيَ خِلَافَاتٌ بَيْنَ الحَضَارَةِ الإِسْلَامِيَّةِ وَالحَضَارَةِ المَسِيحِيَّةِ، لَقَدْ كَانَ الصِّرَاعُ مُحْتَدِمًا مَا بَيْنَ المَسِيحِيَّةِ وَالإِسْلَامِ مُنْذُ القُرُونِ الوُسْطَى، وَهُوَ مُسْتَمِرٌّ حَتَّى هَذِهِ اللَّحْظَةَ بِصُورَةٍ مُخْتَلِفَةٍ، وَمُنْذُ قَرْنٍ وَنِصْفٍ خَضَعَ الإِسْلَامُ لِسَيْطَرَةِ الغَرْبِ وَخضعَ التُّرَاثُ الإِسْلَامِيُّ لِلْتُّرَاثِ المَسِيحِيِّ.

إِنَّ الظُّرُوفَ التَّارِيخِيَّةَ تُؤَكِّدُ أَنَّ أَمِرِيكَا إِنَّمَا هِيَ جُزْءٌ مُكَمِّلٌ لِلْعَالَمِ الغَرْبِيِّ، فَلْسَفَتُهُ، وَعَقِيدَتُهُ، وَنِظَامُهُ، وَذَلِكَ يَجْعَلُهَا تَقِفُ مُعَادِيَةً لِلْعَالَمِ الشَّرْقِيِّ الإِسْلَامِيِّ، بِفَلْسَفَتِهِ وَعَقِيدَتِهِ المُتَمَثِّلَةِ بِالدِّينِ الإِسْلَامِيِّ، وَلَا تَسْتَطِيعُ أَمِرِيكَا إِلَاّ أَنْ تَقِفَ هَذَا المَوْقِفَ فِي الصَفِّ المُعَادِي لِلإِسْلَامِ وَإِلَى جَانِبِ العَالَمِ الغَرْبِيِّ وَالدَّوْلَةِ الصُّهْيُونِيَّةِ، لأَنَّهَا إِنْ فَعَلَتْ عَكْسَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَتَنَكَّرُ لِلُغَتِهَا وَفَلْسَفَتِهَا وَثَقَافَتِهَا وَمُؤَسَّسَاتِهَا» (1).

وقد كشف (مايلز كوبلاند) في كتابه " لعبة الأمم " دور الانقلابات العسكرية في الشرق الأوسط. وهذه إحدى الأدوات التي اقترح (ولتر روستو) استخدامها في عرض الاشتراكية المحلية (2).

 

‌‌غَسِيلُ مُخِّ العَرَبِ وَالتَّيَّارَاتِ الفِكْرِيَّةِ الحَدِيثَةِ:

إن من سنة الله تعالى في خلقه أن ينقسم الناس إلى حزبين، حزب الله وحزب الشيطان، ولهذا كان شياطين الإنس والجن هم أعداء كل رسول، قال الله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ

--------------------------------------------

(1) نقلاً عن كتاب " دمروا الإسلام وأبيدوا أهله " للأستاذ جلال العالم: ص 24، 25؛ وكتاب " معركة المصير ": ص 87، 94.

(2) انظر: " نظرية مراحل النمو الاقتصادي " بآخر الفصل الثالث.
আমেরিকান পরিকল্পনা:

আমেরিকার নেতাদের অবস্থান কমিউনিস্ট নেতাদের অবস্থানের চেয়ে কোনো অংশে কম বিদ্বেষপূর্ণ নয়। এই যে (ইউজিন রোস্টো), যিনি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট (জনসন)-এর উপদেষ্টা এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ছিলেন, তিনি নিম্নোক্ত কথাগুলো লিখেছেন:

«আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, আমাদের এবং আরব জাতিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মতভেদগুলো রাষ্ট্র বা জাতির মধ্যকার কোনো বিরোধ নয়; বরং এটি ইসলামি সভ্যতা ও খ্রিস্টীয় সভ্যতার মধ্যকার বিরোধ। মধ্যযুগ থেকেই খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছিল এবং তা এই মুহূর্ত পর্যন্ত ভিন্ন রূপে অব্যাহত রয়েছে। দেড় শতাব্দী আগে ইসলাম পশ্চিমের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং ইসলামি ঐতিহ্য (تراث) খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের বশীভূত হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করে যে, আমেরিকা পশ্চিমা বিশ্বেরই একটি পরিপূরক অংশ—তার দর্শন, আকিদাহ ও ব্যবস্থার দিক থেকে। আর এটিই তাকে ইসলামি প্রাচ্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়, যার দর্শন ও আকিদাহ ইসলামি ধর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত। আমেরিকা ইসলামবিরোধী এই কাতারে এবং পশ্চিমা বিশ্ব ও জায়নবাদী রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনো অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না; কারণ সে যদি এর বিপরীত কিছু করে, তবে সে তার ভাষা, দর্শন, সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেই অস্বীকার করবে» (১)।

(মাইলস কোপল্যান্ড) তার 'গেম অব নেশনস' গ্রন্থে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভ্যুত্থানের ভূমিকা উন্মোচন করেছেন। আর এটি সেই মাধ্যমগুলোর একটি যা (ওয়াল্টার রোস্টো) স্থানীয় সমাজতন্ত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন (২)।

 

আরবদের মগজ ধোলাই এবং আধুনিক চিন্তাধারা:

সৃষ্টির বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলার সুন্নাত হলো যে, মানুষ দুই দলে বিভক্ত হবে—আল্লাহর দল এবং শয়তানের দল। এই কারণেই মানুষ ও জিনের শয়তানরা প্রত্যেক রাসুলের শত্রু হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, যারা একে অপরকে প্ররোচিত করে...

--------------------------------------------

(১) জালাল আল-আলম রচিত "দাম্মিরুল ইসলাম ওয়া আবিদু আহলাহু" (ইসলামকে ধ্বংস করো এবং এর অনুসারীদের নির্মূল করো) গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত: পৃষ্ঠা ২৪, ২৫; এবং "মা’রাকাতুল মাসির" (ভাগ্যের লড়াই) গ্রন্থ: পৃষ্ঠা ৮৭, ৯৪।

(২) দেখুন: "নজরিয়্যাতু মারাহিলিন নুমুওয়িল ইকতিসাদি" (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর্যায়ের তত্ত্ব) এর তৃতীয় অধ্যায়ের শেষে।
(খণ্ড: ১) তাহাফুতুল আলমানিয়্যাহ ফিস সাহাফাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا} (1).

والعداء الناشب بين هذين الحزبين سببه الوحيد هو تمسك أتباع الشياطين بمصالحهم وبالمنافع والمكاسب التي يحققونها من استغلالهم لغيرهم من بني الإنسان.

فأهل مدين كان اعتراضهم وكان حربهم لنبيهم شعيب ومن آمن معه، منصبًا حول ربط الدين بالأخلاق، حيث أمرهم بهذا في قوله: {وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الأَرْضِ مُفْسِدِينَ} (2).

فكان جوابهم هو: {قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ} (3). كما كان اعتراض أعداء الإسلام في عصر النبي صلى الله عليه وسلم مُنْصَبًّا حول تسوية الإسلام بين الأغنياء والفقراء في الحقوق العامة والخاصة، ولهذا نزل الوحي بالرد على طلبهم أن يكون للأغنياء مزايا خاصة حتى يؤمنوا بهذا الدين، فقال تعالى: {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا، وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ} (4).

 

‌‌أَعْدَاءُ الدِّينِ فِي المَاضِي وَالحَاضِرِ:

لقد استخدم أعداء هذا الدين الحرب الساخنة للقضاء على الإسلام وأتباعه، فلما فشلوا ونصر الله القلة المؤمنة، تحول أتباع حزب الشيطان إلى النفاق فأظهروا الإيمان وأبطنوا الكفر؛ ليهدموا الإسلام من داخله فكان حديث الإفك عن أم المؤمنين عائشة، ثم كان مقتل عثمان ثم مقتل الإمام علي، ثم الحرب التي كان وراءها هؤلاء المنافقون.

ثم كانت الحروب الصليبية، وبعد فشلها تحول المعول إلى الداخل، فكانت أعمال اليهود داخل المجتمع عن طريق حزب الاتحاد والترقي. ثم كان ما سمي بالثورة العربية ضد الخلافة العثمانية التي تمخضت عن تقسيم البلاد العربية وتوزيعها بين بريطانيا وفرنسا واليهود.

--------------------------------------------

(1) [الأنعام: 112].

(2) [هود: 85].

(3) [هود: 87].

(4) [الكهف: 28، 29].
প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে চাকচিক্যময় কথাবার্তা} (১)।

এই দুই দলের মধ্যে বিদ্যমান চিরস্থায়ী শত্রুতার একমাত্র কারণ হলো শয়তানের অনুসারীদের নিজেদের কায়েমি স্বার্থ এবং সেই সকল সুযোগ-সুবিধা ও লাভের প্রতি আসক্তি, যা তারা অন্য মানুষদের শোষণের মাধ্যমে অর্জন করে থাকে।

মাদইয়ানবাসীদের আপত্তি এবং তাদের নবী শুআইব ও তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারীদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বীনকে নৈতিকতার সাথে সম্পৃক্ত করা; যেখানে তিনি তাদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন: {হে আমার কওম! ন্যায়নিষ্ঠার সাথে পরিমাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য জিনিস কম দিও না, আর জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না} (২)।

তাদের উত্তর ছিল: {তারা বলল, হে শুআইব! তোমার সালাত কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্বপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে, অথবা আমরা আমাদের ধন-সম্পদ নিয়ে যা ইচ্ছা তা করা ছেড়ে দেব? তুমি তো বড়ই সহনশীল ও সুপথপ্রাপ্ত} (৩)। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইসলামের শত্রুদের আপত্তি ছিল সাধারণ ও বিশেষ অধিকারে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ইসলামের সমতা বিধানের ওপর। এই কারণে ধনীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে ওহি নাজিল হয়েছিল—যেখানে তারা এই দ্বীনে ঈমান আনার জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দাবি করেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ডাকে এবং পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায় তাদের থেকে আপনার দৃষ্টি সরিয়ে নেবেন না। আর আপনি ওই ব্যক্তির আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং যে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কর্মকাণ্ড সীমা লঙ্ঘন করে। আর আপনি বলুন, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে; সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক} (৪)।

 

‌‌অতীত ও বর্তমানে দ্বীনের শত্রুরা:

এই দ্বীনের শত্রুরা ইসলাম ও এর অনুসারীদের নির্মূল করার জন্য প্রত্যক্ষ যুদ্ধ (Hard War) ব্যবহার করেছিল। যখন তারা ব্যর্থ হলো এবং আল্লাহ মুমিনদের ক্ষুদ্র দলকে বিজয় দান করলেন, তখন শয়তানের দলের অনুসারীরা কপটতা বা মুনাফেকির (نفاق) আশ্রয় নিল। তারা প্রকাশ্য ঈমান জাহির করল এবং অন্তরে কুফর গোপন করল; যাতে তারা ভেতর থেকে ইসলামকে ধ্বংস করতে পারে। ফলে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে অপবাদের ঘটনা বা হাদিসে ইফক সংঘটিত হলো, এরপর উসমান (রা.)-এর শাহাদাত, তারপর ইমাম আলী (রা.)-এর শাহাদাত এবং এরপর ওই সকল যুদ্ধ সংঘটিত হলো যার নেপথ্যে ছিল এই মুনাফিকরা।

এরপর ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ সংঘটিত হলো। এতে ব্যর্থ হওয়ার পর ধ্বংসাত্মক তৎপরতা মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরে মোড় নিল; তখন 'ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রগ্রেস' (ইত্তিহাদ ওয়া তারাক্কি) দলের মাধ্যমে সমাজের ভেতরে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র শুরু হলো। এরপর উসমানীয় খিলাফতের বিরুদ্ধে তথাকথিত 'আরব বিপ্লব' সংঘটিত হলো, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল আরব ভূখণ্ডগুলোর বিভাজন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইহুদিদের মধ্যে সেগুলোর বণ্টন।

--------------------------------------------

(১) [আল-আনআম: ১১২]।

(২) [হুদ: ৮৫]।

(৩) [হুদ: ৮৭]।

(৪) [আল-কাহফ: ২৮, ২৯]।