(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: -)
الاتجاهات الفقهية عند أصحاب الحديث في القرن الثالث الهجري   (عبد المجيد محمود)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الاتجاهات الفقهية عند أصحاب الحديث في القرن الثالث الهجري

المؤلف: الدكتور عبد المجيد محمود عبد المجيد [ت 1443 هـ] أستاذ الشريعة الإسلامية المساعد بكلية دار العلوم

الناشر: مكتبة الخانجي، مصر.

عام النشر: 1399 هـ - 1979 م

عدد الصفحات: 793

أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1435

তৃতীয় হিজরি শতকে আসহাবুল হাদিসের ফিকহি প্রবণতাসমূহ   (আবদুল মাজিদ মাহমুদ)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


বই: তৃতীয় হিজরি শতকে আসহাবুল হাদিসের ফিকহি প্রবণতাসমূহ

লেখক: ডক্টর আবদুল মাজিদ মাহমুদ আবদুল মাজিদ [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরি] দারুল উলুম অনুষদের ইসলামি শরিয়াহ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি, মিশর।

প্রকাশকাল: ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯৩

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: -)
الاِتِّجَاهَاتُ الفِقْهِيَّةُ عِنْدَ أَصْحَابِ الحَدِيثِ فِي القَرْنِ الثَّالِثِ الهِجْرِيِّ

 

تأليف

الدكتور عبد المجيد محمود عبد المجيد

أستاذ الشريعة المساعد بكلية دار العلوم

1399 هـ - 1979 م

 

- عدد الأجزاء: 1.

- عدد الصفحات: 670.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে আসহাবে হাদিসের ফিকহি ধারাগুলো

 

রচনায়

ডক্টর আবদুল মাজিদ মাহমুদ আবদুল মাজিদ

সহকারী অধ্যাপক, শরিয়াহ বিভাগ, দারুল উলুম অনুষদ

১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

 

- খণ্ড সংখ্যা: ১।

- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭০।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রাখা হয়েছে এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১)
الاِتِّجَاهَاتُ الفِقْهِيَّةُ عِنْدَ أَصْحَابِ الحَدِيثِ فِي القَرْنِ الثَّالِثِ الهِجْرِيِّ

 

تأليف

الدكتور عبد المجيد محمود عبد المجيد

أستاذ الشريعة المساعد بكلية دار العلوم

1399 هـ - 1979 م
তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে আসহাবে হাদিসদের ফিকহি প্রবণতাসমূহ

 

গ্রন্থনায়

ডক্টর আবদুল মাজিদ মাহমুদ আবদুল মাজিদ

সহযোগী অধ্যাপক, শরিয়াহ বিভাগ, দারুল উলুম অনুষদ

১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مُقَدِّمَةٌ:

بسم الله الرحمن الرحيم، والحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله إمام المُتَّقِينَ، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان، وبعد.

فقد كان لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أثر بعيد في الحياة الفكرية الإسلامية، منذ أن حمله الصحابة في صدورهم، وصاغوا منه ومن القرآن أعمالهم وسلوكهم، ثم كان لزامًا عليهم أن يسلموا حصيلتهم من هذا الحديث إلى الأجيال التالية لهم، امتثالاً لما افترضه الله على المسلمين في قرآنه من طاعة رسوله الذِي يُبَيِّنُ للناس مَا نُزِّلَ إليهم، وامتثالاً لما أرشد إليه رسول الله في قوله: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَهَا وَوَعَاهَا وَأَدَّاهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرَ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ».

وقد تولى المُحَدِّثُونَ بعد الصحابة هذه المهمة الهامة، وأخذوا على عاتقهم تقديم السنة إلى الناس، وأهدوا إلى الفقهاء الأصل الثاني من أصول التشريع، ولم تكن هذه المهمة يسيرة هينة، بل خاض المُحَدِّثُونَ في أثنائها غمار حرب فكرية ونفسية، ألقى أعداء الإسلام فيها بكل مَا يُشَوِّشُ على الإسلام ويدلس على أهله، فقدموا أفكارًا غريبة خبيثة متنكرة في هيئة أحاديث يختلقونها، وأسانيد يُلَفِّقُونَهَا، ثم حاولوا ترويجها في الأوساط العلمية، حيث خدع بها بعض السطحيين من الرواة. أما علماء الحديث ونقاده فقد وقفوا لها بالمرصاد، وصمدوا أمام سيلها الجارف مبينين زيفها. وأسفر صمودهم عن أدق منهج وأحكمه في نقد الروايات وتمحيصها، والتمييز بين غثها وسمينها، فأبلوا في ذلك أحسن البلاء.

 

ولقد برز المُحَدِّثُونَ في هذا الجانب، واستحدثوا فيه العلوم وضبطوها
ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুত্তাকীদের ইমাম রাসূলুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন তাদের সবার ওপর। অতঃপর:

ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে; যখন থেকে সাহাবীগণ তা নিজেদের অন্তরে ধারণ করেছেন এবং হাদীস ও কুরআন থেকে নিজেদের কর্ম ও আচরণ গঠন করেছেন। অতঃপর তাদের ওপর আবশ্যিক হয়ে পড়েছিল যে, তারা হাদীসের এই অর্জিত জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবেন। এটি আল্লাহর সেই নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ ছিল যা তিনি কুরআনে মুসলিমদের ওপর তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে ফরয করেছেন, যিনি মানুষের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা ব্যাখ্যা করে দেন। এছাড়া এটি রাসূলুল্লাহর সেই নির্দেশনারও অনুসারী ছিল যেখানে তিনি বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে, হৃদয়ে ধারণ করেছে এবং (অন্যের নিকট) পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ফিকহ (তত্ত্ব) বহনকারী ব্যক্তি নিজে ফকীহ (গভীর প্রজ্ঞাবান) নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও বেশি ফকীহ (প্রজ্ঞাবান)»।

সাহাবীদের পরে মুহাদ্দিসগণ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সুন্নাহকে মানুষের কাছে উপস্থাপনের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তারা ফকীহদের নিকট শরীআতের দ্বিতীয় উৎসটি উপহার দিয়েছেন। এই দায়িত্ব মোটেও সহজ বা সাধারণ ছিল না; বরং মুহাদ্দিসগণ এই দায়িত্ব পালনকালে এক বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছেন। ইসলামের শত্রুরা এতে এমন সবকিছু নিক্ষেপ করেছিল যা ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং এর অনুসারীদের প্রতারিত করে। তারা অদ্ভুত ও অনিষ্টকর চিন্তাধারাকে মনগড়া হাদীস এবং জাল সনদের রূপ দিয়ে উপস্থাপন করেছিল; অতঃপর তারা সেগুলো ইলমী মহলে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল, যাতে কিছু অগভীর স্তরের বর্ণনাকারী প্রতারিত হয়েছিলেন। তবে হাদীস বিজ্ঞানী ও সমালোচকগণ এর ওপর সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন এবং এই প্রবল স্রোতের সামনে অটল থেকে সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁদের এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে বর্ণনা সমালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের এবং অসার ও সারগর্ভ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুদৃঢ় এক পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। তাঁরা এ ক্ষেত্রে সর্বোত্তম প্রচেষ্টার স্বাক্ষর রেখেছেন।

 

মুহাদ্দিসগণ এই ক্ষেত্রে অনন্য পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং এতে নতুন নতুন বিজ্ঞান উদ্ভাবন ও তা সুবিন্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৪)
وَأَصَّلُوهَا، حتى شاع في الأذهان أنهم لا يعرفون غير الحديث، وحصرهم الرأي العام في حدود الرواية وعلومها، واستبعد كثيرون أن يكون لِلْمُحَدِّثِينَ نشاط فقهي، بل شاع الفصل بين المحدث والفقيه: فعلى المحدث أن يجمع المادة، وعلى الفقيه أن يستعملها ويضعها موضعها. وهذا ما أشار إليه الأعمش حين قال لأحد الفقهاء: «أَنْتُمُ الأَطِبَّاءُ وَنَحْنُ الصَّيَادِلَةُ».

وقد ساعد على ترويج هذه الفكرة نماذج من الرواة لم تكن تنظر فيما تحمل، ولم يكن لها القدرة على الاجتهاد والاستنباط، مثل مطر الورَّاق - من مُحَدِّثِي القرن الثاني - الذي سأله رجل عن حديث، فحدثه به، فلما سأله الرجل عن معناه، أجابه مطر بقوله: «لَا أَدْرِي، إِنَّمَا أَنَا زَامِلَةٌ».

كما ساعد على ترويج هذه الفكرة كذلك كثرة طلبة الحديث وتزاحمهم على سماعه، وقد أساء كثير من هؤلاء الطلبة إلى المُحَدِّثِينَ بسلوكهم وسطحيتهم ولكن هذا لا يعني أن المُحَدِّثِينَ جميعًا كذلك، إذ ليس صنف من الناس إلا وله حشو وشوب. وقد أجهد أئمة الحديث أنفسهم في تثقيف طلبتهم، وَأَلَّفُوا المؤلفات العديدة في توجيههم وتأديبهم.

والواقع أن المُحَدِّثِينَ لم يقتصر نشاطهم على علوم الحديث، بل كان لهم نشاط فقهي ملحوظ، لا يخطئه من يقرأ كُتُبَ السُنَّةِ قراءة عابرة، أما من يقرأها قراءة متأنية فاحصة، فسيلمس هذا النشاط، وتتكشف له أصالتهم ورسوخ أقدامهم في الفقه، وتتجلى له أصولهم ومناهجهم.

وإنما آثرنا القرن الثالث بالبحث، لأنه كان أزهى العصور بالنسبة لأهل الحديث، وأغناها برجاله وأئمته، وأحفلها بعلومه، وأنشطها في التأليف فيه. جمع علماؤه في هذا القرن، وَهَذَّبُوا، وَصَنَّفُوا وأتوا بما فاقوا فيه من قبلهم ولم يلحقهم فيه من بعدهم.

وقد ذكر ابن الأثير أن نهضة الحديث قد بلغت ذروتها في عصر
এবং তারা একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, যার ফলে মানুষের মনে এই ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে যে, তারা হাদীস ছাড়া আর কিছুই জানেন না। জনমত তাদেরকে কেবল বর্ণনা ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। অনেকে মুহাদ্দিসগণের ফিকহী তৎপরতা থাকাকে অসম্ভব মনে করতেন; বরং মুহাদ্দিস ও ফকীহদের মধ্যে এক প্রকার বিভাজন প্রচলিত হয়ে যায় যে: মুহাদ্দিসের কাজ হলো উপাদান সংগ্রহ করা, আর ফকীহ’র কাজ হলো তা ব্যবহার করা এবং যথাযোগ্য স্থানে প্রয়োগ করা। ইমাম আমাশ যখন একজন ফকীহকে বলেছিলেন: "তোমরা হলে চিকিৎসক, আর আমরা হলাম ফার্মাসিস্ট", তখন তিনি মূলত এই বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন।

এই ধারণাটি প্রসারে সহায়ক হয়েছিল এমন কিছু বর্ণনাকারী, যারা যা বহন (বর্ণনা) করছিলেন সেদিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করতেন না এবং ইজতিহাদ ও মাসআলা উদ্ভাবনের সক্ষমতাও তাদের ছিল না। যেমন দ্বিতীয় শতাব্দীর মুহাদ্দিস মাতার আল-ওয়াররাক—এক ব্যক্তি তাকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা বর্ণনা করলেন। এরপর যখন লোকটি এর অর্থ সম্পর্কে জানতে চাইলেন, তখন মাতার উত্তর দিলেন: "আমি জানি না, আমি তো কেবল একটি মালবাহী উট মাত্র।"

একইভাবে এই ধারণা প্রসারে ভূমিকা রেখেছে বিপুল সংখ্যক হাদীস অন্বেষী ছাত্র এবং হাদীস শ্রবণের জন্য তাদের উপচে পড়া ভিড়। এই ছাত্রদের অনেকে তাদের আচরণ এবং অগভীর জ্ঞানের মাধ্যমে মুহাদ্দিসগণের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সকল মুহাদ্দিসই এমন ছিলেন; কারণ মানুষের এমন কোনো শ্রেণী নেই যার মধ্যে নিম্নমানের বা অসার লোক নেই। হাদীসের ইমামগণ তাঁদের ছাত্রদের শিক্ষিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এবং তাঁদের দিকনির্দেশনা ও শিষ্টাচার শিক্ষার জন্য অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

প্রকৃত বাস্তবতা হলো, মুহাদ্দিসগণের কর্মকাণ্ড কেবল হাদীস শাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাঁদের উল্লেখযোগ্য ফিকহী তৎপরতাও ছিল। কেউ যদি সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ কেবল ভাসা-ভাসা ভাবেও পাঠ করেন, তবে তাঁর দৃষ্টিতে বিষয়টি এড়িয়ে যাবে না। আর যারা গভীর ও সতর্কতার সাথে তা পাঠ করবেন, তারা এই তৎপরতা অনুভব করতে পারবেন এবং তাঁদের নিকট মুহাদ্দিসগণের ফিকহী মৌলিকত্ব ও গভীর পাণ্ডিত্য উন্মোচিত হবে এবং তাঁদের উসুল (মূলনীতি) ও কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আমরা গবেষণার জন্য তৃতীয় শতাব্দীকে বিশেষভাবে বেছে নিয়েছি, কারণ এটি ছিল আহলে হাদীসদের জন্য সবচেয়ে উজ্জ্বল যুগ, যা মহান মণীষী ও ইমামগণের উপস্থিতিতে ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ, জ্ঞান-বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ এবং গ্রন্থ রচনায় সবচেয়ে গতিশীল। এই শতাব্দীর উলামায়ে কেরাম হাদীস সংগ্রহ করেছেন, সেগুলোকে পরিমার্জিত ও শ্রেণীবদ্ধ করেছেন এবং এমন কিছু উপস্থাপন করেছেন যার মাধ্যমে তারা পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং পরবর্তীরা তাঁদের সমকক্ষ হতে পারেননি।

ইবনুল আসীর উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসের পুনর্জাগরণ তার শিখরে পৌঁছেছিল...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৫)
البخاري ومسلم، وأصحاب الكتب الستة. ثم قال: «فكان ذلك العصر خلاصة العصور في تحصيل هذا العلم، وإليه المنتهى، ثم من بعده نقص ذلك الطلب بعد، وقل ذلك الحرص، وفترت تلك الهمم. وكذلك كل نوع من أنواع العلوم والصنائع والدول وغيرهم، فإنه يبتدئ ضئيلاً، وينمو قليلاً قليلاً. ولا يزال ينمو ويزيد ويعظم إلى أن يصل إلى غاية هي منتهاه، ويبلغ إلى أمد هو أقصاه، ثم يعود يكبر، ولا يلبث أن يعود كما بدأ. فكأن غاية هذا العلم انتهت إلى البخاري ومسلم ومن كان في عصرهما من علماء الحديث، ثم نزل وتقاصر إلى زماننا هذا، وسيزداد تقاصر الهمم سنة الله في خلقه {وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا} (1)» (2).

وقد بحثت في فصل خاص أثر القرن الثالث في ظهور فقه المُحَدِّثِينَ وكيف توفَّرت في هذا القرن العوامل التي أدت إلى إعلان هذا الفقه، واستقلاله وتميزه عن المذاهب الفقهية التي عاصرته، والعلاقة بينه وبين هذه المذاهب.

لكن هذا الفقه أخذ في التناقص التدريجي بعد القرن الثالث، سنة الله في خلقه، كما ذكر ابن الأثير، حتى انزوى هذا الفقه، وطغت عليه المذاهب الأخرى، فاندرج تحت ما يقاربه منها، وبخاصة المذهب الحنبلي، والمذهب الظاهري، وهما المذهبان اللذان ينطويان على كثير من خصائص فقه المُحَدِّثِينَ.

وَقَدْ صَوَّرَ الخطيب البغدادي حالة أهل الحديث في عصره بما يبين سوء مستواهم العلمي، فيقول: «وَأَكْثَرُ كَتَبَةِ الْحَدِيثِ فِي هَذَا الزَّمَانِ بَعِيدٌ مِنْ حِفْظِهِ ، خَالٍ مِنْ مَعْرِفَةِ فِقْهِهِ ، لَا يُفَرِّقُونَ بَيْنَ مُعَلِّلٍ وَصَحِيحٍ … كُلُّ ذَلِكَ لِقِلَّةِ بَصِيرَةِ أَهْلِ زَمَانِنَا بِمَا جَمَعُوهُ ، وَعَدَمِ فِقْهِهِمْ بِمَا كَتَبُوهُ وَسَمَعُوهُ ، وَمَنْعِهِمْ

--------------------------------------------

(1) [الأحزاب: 62]، [الفتح: 23].

(2) " جامع الأصول "، لابن الأثير: 1/ 16.
বুখারি ও মুসলিম এবং কুতুবে সিত্তার (ছয়টি মৌলিক হাদিসগ্রন্থ) সংকলকগণ। এরপর তিনি বলেন: «এই জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সেই যুগটি ছিল সকল যুগের নির্যাস, এবং এখানেই এর চরম উৎকর্ষ। অতঃপর এর পরবর্তী সময়ে সেই অন্বেষণ হ্রাস পেতে থাকে, সেই আগ্রহ কমে যায় এবং সংকল্পসমূহ শিথিল হয়ে পড়ে। তদ্রূপ প্রতিটি জ্ঞান, শিল্প, রাষ্ট্র এবং অন্যান্য সবকিছুর ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, তা ক্ষুদ্রভাবে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং বিশালতা লাভ করে যতক্ষণ না তা তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছায় এবং তার সর্বোচ্চ সীমায় উপনীত হয়। এরপর তা পুনরায় অবনতির দিকে ফিরে যায় এবং অতি দ্রুত পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে যেমনটি তা শুরু হয়েছিল। ফলে মনে হয় যেন এই ইলমের চূড়ান্ত শিখর বুখারি, মুসলিম এবং তাঁদের সমসাময়িক হাদিস বিশারদদের মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে। এরপর তা আমাদের এই সময় পর্যন্ত নিম্নমুখী ও সংকুচিত হয়েছে। আর মানুষের সংকল্পের এই সংকোচন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে, যা আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে তাঁর চিরন্তন রীতি {আর আপনি আল্লাহর রীতিতে কোনো পরিবর্তন পাবেন না} (১)» (২)।

আমি একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে মুহাদ্দিসগণের ফিকহ আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে তৃতীয় হিজরি শতকের প্রভাব এবং কীভাবে এই শতাব্দীতে সেই সব অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান ছিল যা এই ফিকহকে প্রকাশ করতে, একে স্বতন্ত্র রূপ দিতে এবং সমসাময়িক ফিকহি মাযহাবগুলো থেকে একে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করতে সহায়তা করেছিল এবং সেই মাযহাবগুলোর সাথে এর সম্পর্ক কী ছিল তা নিয়ে আলোচনা করেছি।

কিন্তু ইবনুল আসির যেমনটি উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টির রীতি অনুযায়ী তৃতীয় শতাব্দীর পর এই ফিকহ পর্যায়ক্রমে সংকুচিত হতে থাকে; এমনকি একপর্যায়ে এই ফিকহ কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং অন্যান্য মাযহাবগুলো এর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে। ফলে এটি এর সমগোত্রীয় মাযহাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, বিশেষ করে হাম্বলি ও জাহিরি মাযহাবের অধীনে, যে দুটি মাযহাব মুহাদ্দিসগণের ফিকহের অনেক বৈশিষ্ট্য নিজেদের মাঝে ধারণ করে।

খতিব আল-বাগদাদি তাঁর সময়ের হাদিসপন্থীদের ইলমি স্তরের অবনতি বর্ণনা করে বলেন: «বর্তমান সময়ে হাদিস লিপিবদ্ধকারীদের অধিকাংশ লোকই হাদিস মুখস্থ রাখা থেকে দূরে রয়েছে, এর ফিকহ (গভীর জ্ঞান) সম্পর্কে তারা শূন্য, তারা ত্রুটিযুক্ত ও সহিহ হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না … এই সবকিছুর কারণ হলো যা তারা সংগ্রহ করেছে সে বিষয়ে আমাদের সমসাময়িকদের প্রজ্ঞার অভাব, যা তারা লিখেছে ও শুনেছে সে বিষয়ে তাদের ফিকহ বা সমঝ না থাকা এবং তাদের বিরত রাখা...

--------------------------------------------

(১) [আল-আহযাব: ৬২], [আল-ফাতহ: ২৩]।

(২) ইবনুল আসিরের "জামি'উল উসুল": ১/ ১৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৬)
نُفُوسَهُمْ عَنْ مُحَاضَرَةِ الفُقَهَاءِ ، وَذَمِّهِمْ مُسْتَعْمِلِي القِيَاسِ مِنَ العُلَمَاءِ ، لِسَمَاعِهِمْ الْأَحَادِيثَ التِي تَعَلَّقَ بِهَا أَهْلُ الظَّاهِرِ فِي ذَمِّ الرَّأْيِ وَالنَّهْيِ عَنْهُ ، وَالتَّحْذِيرِ مِنْهُ ، وَأَنَّهُمْ لَمْ يُمَيِّزُوا بَيْنَ مَحْمُودِ الرَّأْيِ وَمَذْمُومِهِ ، بَلْ سَبَقَ إِلَى نُفُوسِهِمْ أَنَّهُ مَحْظُورٌ عَلَى عُمُومِهِ ، ثُمَّ قَلَّدُوا مُسْتَعْمِلِي الرَّأْيِ فِي نَوَازِلِهِمْ ، وَعَوَّلُوا فِيهَا عَلَى أَقْوَالِهِمْ وَمَذَاهِبِهِمْ» (1) (*).

لهذا كان القرن الثالث عصر المُحَدِّثِينَ والمجتهدين، وسجلاً حافلاً بأعمالهم وفقههم، ولذا آثرناه بالبحث، ونسأل الله التوفيق والعون.

وقد اخترت للدراسة من بين مُحَدِّثِي هذا القرن العناصر الرئيسية والنماذج الممتازة من بينهم، واكتفيت بها في تمثيل الاتجاهات العامة التي تنطبق على سائر المُحَدِّثِينَ، ولم تكن الإحاطة بكل المُحَدِّثِينَ في القرن الثالث من بين أهداف هذا البحث ولا مما يفيده، وكان هذا هو سر اقتصاري على أصحاب الكتب الستة، مراعيًا الخلاف في سادس هذه الكتب، حيث تناولت بالدراسة كُلاً من البخاري، ومسلم، والترمذي، وأبي داود، والنسائي، والدارمي، وابن ماجه. ثم أضفت إليهم ثلاثة من شيوخهم ومن أعلام عصرهم المؤثِّرين فيه، وهم أحمد بن حنبل، وابن راهويه إسحاق بن إبراهيم، وابن أبي شيبة عبد الله بن محمد.

وقد قصدت في أثناء دراستي لهؤلاء المُحَدِّثِينَ ألا أستعين بالشُرَّاحِ إلا في نطاق محدود، ولم يكن ذلك رغبة عن الشروح أو غضًا من شأنها، وإنما كان رغبة في أن أتصل بكتب المُحَدِّثِينَ اتصالاً مباشرًا، أستشف منه اتجاهاتهم الفقهية في ضوء ما يُؤدِّي إليه البحث، دون أن أقع تحت تأثير الآراء الذاتية لِلْشُرَّاحِ، الذين كانوا بدورهم متأثِّرين بمذهبهم الفقهي،

--------------------------------------------

(1) " صفعات البرهان " للكوثري: ص 10، وقد توفي الخطيب سنة 463 هـ.

 

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ / البَاحِثُ: تَوْفِيقْ بْنُ مُحَمَّدٍ القُرَيْشِي]:

(*) انظر " الفقيه والمتفقه "، للخطيب البغدادي (ت 463 هـ)، تحقيق أبي عبد الرحمن عادل بن يوسف الغرازي، 2/ 140، الطبعة الثانية: 1421 هـ، نشر دار ابن الجوزي - المملكة العربية السعودية.

انظر: ص 121 من هذا الكتاب.
...তাদের অন্তরকে ফকীহদের মজলিসে উপস্থিত হওয়া থেকে বিমুখ করেছে এবং আলেমদের মধ্যে যারা কিয়াস ব্যবহার করেন তাদের নিন্দা করতে প্ররোচিত করেছে। এর কারণ হলো তারা এমন কিছু হাদিস শুনেছে যেগুলোকে আহলে জাহিরগণ (আক্ষরিকবাদী) রায় (ব্যক্তিগত অভিমত) এর নিন্দা, তা থেকে নিষেধ এবং তা নিয়ে সতর্ক করার ক্ষেত্রে আঁকড়ে ধরেছে। তারা প্রশংসনীয় রায় এবং নিন্দনীয় রায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি, বরং তাদের মনে এই ধারণা গেঁথে গেছে যে রায় সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। অথচ পরবর্তীতে তারা তাদের নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলিতে রায় ব্যবহারকারীদেরই অনুসরণ করেছে এবং সেগুলোতে তাদের বক্তব্য ও মাযহাবের ওপর নির্ভর করেছে। (১) (*)।

এই কারণেই তৃতীয় হিজরি শতাব্দী ছিল মুহাদ্দিস ও মুজতাহিদদের যুগ এবং তাদের কর্মকাণ্ড ও ফিকহী অবদানের এক সমৃদ্ধ দলিল। তাই আমরা গবেষণার জন্য এই শতাব্দীকেই প্রাধান্য দিয়েছি এবং আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আমি এই গবেষণার জন্য এই শতাব্দীর মুহাদ্দিসদের মধ্য থেকে প্রধান ব্যক্তিত্ব ও শ্রেষ্ঠ উদাহরণগুলো নির্বাচন করেছি এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য সাধারণ প্রবণতাগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি এগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। তৃতীয় শতাব্দীর সকল মুহাদ্দিসকে এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা আমার লক্ষ্য ছিল না এবং এটি খুব একটা উপকারীও হতো না। কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি হাদিস গ্রন্থের সংকলকদের ওপর আমার সীমাবদ্ধ থাকার রহস্য এটাই। এক্ষেত্রে ষষ্ঠ কিতাবটির ব্যাপারে বিদ্যমান মতভেদও আমি বিবেচনায় রেখেছি; ফলে আমি বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, দারেমি এবং ইবনে মাজাহ—এই প্রত্যেকের জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর তাদের সাথে আমি তাদের তিন জন উস্তাদ এবং তাদের যুগের প্রভাবশালী ইমামদের যুক্ত করেছি, তাঁরা হলেন—আহমাদ বিন হাম্বল, ইবনে রাহাওয়াইহ ইসহাক বিন ইব্রাহিম এবং ইবনে আবি শায়বাহ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ।

এই মুহাদ্দিসদের নিয়ে গবেষণার সময় আমি খুব সীমিত পরিসর ব্যতীত ব্যাখ্যাকারকদের সাহায্য না নেওয়ার সংকল্প করেছি। এটি ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর প্রতি বিমুখতা বা সেগুলোর গুরুত্ব কমানোর জন্য নয়, বরং আমার উদ্দেশ্য ছিল মুহাদ্দিসদের কিতাবগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়া, যাতে গবেষণার আলোকে আমি তাদের ফিকহী প্রবণতাগুলো নিজে অনুধাবন করতে পারি; যেন আমি ব্যাখ্যাকারকদের ব্যক্তিগত মতামতের প্রভাবমুক্ত থাকতে পারি, যারা নিজেরাও তাদের নিজ নিজ ফিকহী মাযহাব দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) কাওসারী রচিত "সাফহাতুল বুরহান": পৃষ্ঠা ১০; খতীব ৪৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

[মাকতাবাতুশ শামেলার জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারীর টীকা / গবেষক: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি]:

(*) খতীব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) রচিত "আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ" দেখুন, আবু আবদুর রহমান আদিল বিন ইউসুফ আল-গাররাজি সম্পাদিত, ২/ ১৪০, দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪২১ হি., দার ইবনুল জাওযি প্রকাশিত - সৌদি আরব।

দেখুন: এই বইয়ের ১২১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৭)
يحكمون من خلاله على رأي المُحدِّث، محاولين أن يصوروا رأيه بصورة تتلاءم مع مذهبهم وَتُعضِّدُهُ.

فالبخاري مثلاً عندما يتناول موضوع الكَفَّارَةِ لِمَنْ تَعَمَّدَ الجِمَاعَ في نهار رمضان، في ترجمة: (بَابُ إِذَا جَامَعَ فِي رَمَضَانَ، وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَفَعَهُ: «مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ وَلَا مَرَضٍ، لَمْ يَقْضِهِ صِيَامُ الدَّهْرِ وَإِنْ صَامَهُ» …)

- يستنتج بَعْضُ الشُرَّاح من هذه الترجمة أن البخاري يوجب الكفارة على الآكل والشارب عمدًا قياسًا على المجامع الذي ورد فيه الحديث، على حين يُرَجِّحُ آخرون منهم أنه لم يرد ذلك (1).

هذا على الرغم من أن البخاري هو الوحيد من بين أصحاب الصحاح والسُنن، الذي حظي فقهه باهتمام العلماء مِنْ قُدَمَاءٍ ومُحْدَثِينَ، ولكنه اهتمام غير مستوعب، وَلَا مُبَيِّنٍ للأصول والاتجاهات العامة التي صدر عنها.

أما بقية أصحاب السُنن، فلم يهتم أحد بفقههم ولو بإشارة موجزة. وقد كان هذا من المصاعب التي اعترضت هذا البحث، حيث كان بهذا الاعتبار بحثًا لا سلف له.

وقد كانت كتب هؤلاء المُحَدِّثِينَ، من صحاح وسنن ومصنفات - هي المصدر الأساسي الذي يستمد منه هذا البحث، قرأتها أكثر من مرة، أجمع منها شتات المسائل ومنثور الجزئيات، لأنظِّمها في خيط يجمعها، وكلي يشملها، ثم كان عَلَيَّ أن أوازن بين فقههم وفقه المذاهب الأخرى، وبخاصة المذهب الحنفي، حتى تتضح الميزات، وتتميز الفروق، وقد استعنت على ذلك بكثير من الكتب الفقهية وكتب اختلاف الفقهاء، وبكثير من كتب الأصول، وكتب تاريخ التشريع والتراجم.

--------------------------------------------

(1) انظر " فتح الباري ": 4/ 179.
তারা এর মাধ্যমে মুহাদ্দিসের মতামতের ওপর বিচার করেন, তার মতামতকে এমন একটি চিত্র প্রদানের চেষ্টা করেন যা তাদের মাযহাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং তাকে শক্তিশালী করে।

উদাহরণস্বরূপ, ইমাম বুখারী যখন রমজানের দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসকারীর কাফফারা বিষয়ক প্রসঙ্গের অবতারণা করেন, তখন তার শিরোনামে (তরজমাতুল বাব) ছিল: (অধ্যায়: যখন কেউ রমজানে সহবাস করে। আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ছাড়াই রমজানের কোনো একদিনের রোজা ভঙ্গ করে, সারাজীবনের রোজা দিয়েও তার সেই কাজ আদায় হবে না, যদিও সে সারা জীবন রোজা রাখে’ …)

- কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী এই শিরোনাম থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বুখারী সহবাসকারীর ওপর কিয়াস করে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহারকারীর ওপরও কাফফারা ওয়াজিব মনে করেন যার সম্পর্কে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, অন্যদিকে অন্য কয়েকজন ব্যাখ্যাকারী একে প্রাধান্য দেন যে তিনি তা উদ্দেশ্য করেননি (১)।

এটি এমন এক সত্য যে, সিহাহ ও সুনান গ্রন্থকারদের মধ্যে বুখারীই একমাত্র ব্যক্তি যার ফিকহ প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে, কিন্তু সেই মনোযোগ ছিল অপূর্ণাঙ্গ এবং তা যে উসুল (মূলনীতি) ও সাধারণ ধারার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলেনি।

অন্যদিকে অন্যান্য সুনান গ্রন্থকারদের ফিকহের প্রতি কেউ সংক্ষিপ্তভাবেও গুরুত্বারোপ করেননি। এই গবেষণায় এটিই ছিল অন্যতম প্রতিবন্ধকতা, কারণ সেই বিচারে এটি ছিল এমন একটি গবেষণা যার কোনো পূর্বসূরি নেই।

এই সব মুহাদ্দিসদের কিতাবসমূহ—সিহাহ, সুনান এবং মুসান্নাফ গ্রন্থসমূহ—ছিল এই গবেষণার মূল উৎস; যা আমি একাধিকবার পাঠ করেছি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাসয়ালা এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো সংগ্রহ করেছি যাতে সেগুলোকে একটি সুতোয় গেঁথে একটি সামগ্রিক রূপ দেওয়া যায়। এরপর আমাকে তাদের ফিকহ এবং অন্যান্য মাযহাবের ফিকহের মধ্যে—বিশেষ করে হানাফী মাযহাবের সাথে—তুলনা করতে হয়েছে, যাতে তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট হয় এবং পার্থক্যগুলো চিহ্নিত করা যায়। এক্ষেত্রে আমি অনেক ফিকহ গ্রন্থ, ফুকাহাদের ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) বিষয়ক গ্রন্থ, উসুল বা মূলনীতির গ্রন্থ এবং শরীয়তের ইতিহাস ও জীবনী বিষয়ক গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন "ফাতহুল বারী": ৪/ ১৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৮)
أما منهج هذا الكتاب فيقوم على تمهيد وخمسة أبواب وخاتمة:

شرحت في التمهيد المصطلحات التي تضمنها عنوان الكتاب.

أما الباب الأول فهو عن المدرسة الفقهية لِلْمُحَدِّثِينَ، شرحت فيه الصراع بين أهل الحديث وغيرهم، مُبيِّنًا دوافع هذا الصراع ونتائجه، مُثْبِتًا أنهم أصحاب مذهب فقهي مستقل كشف عن ذاته، وأعلن عن نفسه في القرن الثالث الهجري، مُزاحمًا غيره من المذاهب المعروفة آنذاك.

وفي الفصل الأخير من هذا الباب وصف للاتجاهات الفقهية عند رُواة الحديث من الصحابة، توضيحًا للجذور العميقة لمذهب المُحَدِّثِينَ.

أما الباب الثاني فهو عن اتجاه المُحَدِّثِينَ إلى الآثار، ويقع في ثلاثة فصول:

تناول الفصل الأول علاقة السنة بالقرآن، من حيث مكانتها بالنسبة له، وعرضها عليه، وَوُرُودِهَا بِحُكْمٍ زَائِدٍ، ونسخه بها وتخصيصًا له.

وتناول الفصل الثاني المناهج في الأخذ بأخبار الآحاد، والآراء في المرسل وأقوال التابعين.

وتناول الفصل الثالث نتائج هذا الاتجاه.

أما الباب الثالث فهو عن الاتجاه إلى الظاهر.

وقد عني هذ الباب بذكر أمثلة لهذا الاتجاه، وبحث عن علاقة أهل الحديث بأهل الظاهر في فصله الأول وعن أصول الظاهرية في فصله الثاني، وعن طبيعة العلاقة بين الظاهرية وغيرهم في الفصل الثالث.

وعني الباب الرابع بشرح الاتجاه الخلقي النفسي عند أهل الحديث.

أما الباب الخامس فهو عن موضوعات الخلاف بين أهل الحديث وأهل الرأي ويقع في فصلين:
এই গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছে:

আমি ভূমিকায় গ্রন্থের শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করেছি।

প্রথম অধ্যায়টি মুহাদ্দিসগণের ফিকহী ধারা সম্পর্কে; এতে আমি আহলে হাদীস এবং অন্যদের মধ্যকার সংঘাত ব্যাখ্যা করেছি, এই সংঘাতের প্রেষণা ও ফলাফল বর্ণনা করেছি এবং প্রমাণ করেছি যে তারা একটি স্বতন্ত্র ফিকহী মাযহাবের অধিকারী যা তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে তার স্বকীয়তা উন্মোচিত করেছিল এবং আত্মপ্রকাশ করেছিল, যা তৎকালীন অন্যান্য পরিচিত মাযহাবগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।

এই অধ্যায়ের শেষ পরিচ্ছেদে সাহাবীদের মধ্য থেকে হাদীস বর্ণনাকারীদের ফিকহী প্রবণতাগুলোর বর্ণনা রয়েছে, যা মুহাদ্দিসগণের মাযহাবের সুগভীর শিকড় স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে রচিত।

দ্বিতীয় অধ্যায়টি আছারের প্রতি মুহাদ্দিসগণের ঝোঁক বা প্রবণতা বিষয়ক, যা তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদে কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক আলোচিত হয়েছে; যেমন কুরআনের প্রেক্ষিতে সুন্নাহর মর্যাদা, কুরআনের সাথে সুন্নাহর তুলনা, অতিরিক্ত বিধানসহ সুন্নাহর আগমন এবং সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের রহিতকরণ ও বিশিষ্টকরণ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ এবং মুরসাল হাদীস ও তাবেঈগণের বক্তব্যের ব্যাপারে বিদ্যমান মতামতসমূহ আলোচিত হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে এই প্রবণতার ফলাফলগুলো আলোচিত হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়টি জাহের বা বাহ্যিক রূপ গ্রহণের প্রবণতা সম্পর্কে।

এই অধ্যায়ে উক্ত প্রবণতার উদাহরণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে; প্রথম পরিচ্ছেদে আহলে হাদীসের সাথে আহলে জাহেরের সম্পর্ক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে জাহেরী মতবাদের মূলনীতিসমূহ এবং তৃতীয় পরিচ্ছেদে জাহেরী ও অন্যদের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়টি আহলে হাদীসের চারিত্রিক-মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতার ব্যাখ্যায় নিবেদিত।

পঞ্চম অধ্যায়টি আহলে হাদীস ও আহলে রা'য়-এর মধ্যকার মতপার্থক্যের বিষয়গুলো সম্পর্কে, যা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৯)
عني الفصل الأول بموضوعات الخلاف بين ابن أبي شيبة وأبي حنيفة.

وعني الفصل الثاني بموضوعات الخلاف بين البخاري وأهل الرأي.

ثم كانت الخاتمة تلخيصًا لأهم نقاط البحث ونتائجه.

وبعد، فأرجو أن يكون هذا البحث قد أوضح جانبًا من تراثنا الفكري، ومهد السبيل لاستكشاف آفاق جديدة في فقه الحديث.

 

والله ولي التوفيق.

 

عبد المجيد محمود عبد المجيد
প্রথম অধ্যায়টি ইবন আবি শায়বাহ এবং আবু হানিফার মধ্যকার মতপার্থক্যের বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়টি বুখারী এবং আহলে রায়ের মধ্যকার মতপার্থক্যের বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে।

অতঃপর উপসংহারটি ছিল গবেষণার প্রধান দিকসমূহ ও এর ফলাফলগুলোর একটি সারসংক্ষেপ।

পরিশেষে, আমি আশা করি যে এই গবেষণাটি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের একটি দিক স্পষ্ট করেছে এবং ফিকহুল হাদিসের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ প্রশস্ত করেছে।

 

আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

 

আব্দুল মাজিদ মাহমুদ আব্দুল মাজিদ
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تَمْهِيدٌ:

 

لعل من الأفضل قبل أن نمضي في البحث، وتتشعب بنا مسائله أن نحدد معاني بعض الألفاظ التي عليها مدار الموضوع، وأن نوضح العلاقة بين معانيها ومعاني ألفاظ قريبة منها في الاستعمال.

 

وسأتناول في هذا التمهيد النقاط الآتية بإيجاز:

• بين الاتجاهات والمنهج.

• بين الحديث والسنة.

• الفقه: معناه، لمحة عن تطوره، علاقته بالحديث، فضله.

 

[أ] بَيْنَ الاِتِّجَاهَاتِ وَالمَنْهَجِ:

 

نعني (بالاتجاهات) الطرق التي سار فيها المُحَدِّثُونَ ليصلوا إلى استنباط الأحكام، مع التجاوز عن المنحنيات اليسيرة التي سار فيها فريق منهم دون إغفال لمفارق الطرق التي تباعد بينهم وبين غيرهم.

أو هي الخصائص والسمات العامة المُمَيِّزَةِ لفقه أهل الحديث.

أو هي القضايا الكلية التي كانت تحكم المُحَدِّثِينَ عند نظرهم في الفقه.

أما المنهج فهو أخص من ذلك، إذ هو الطريق الواضح الذي يبين كيفية التطبيق لهذه القضايا والسمات.

ويمكن أن أقول إن كاتبًا ما له اتجاه اجتماعي، لكن منهجه هو سلوكه إزاء قضايا المجتمع، وكيفية علاجه لها، وتنبيهه لمشكلات عصره، واقتراحاته لحلها.
ভূমিকা:

 

সম্ভবত গবেষণায় বিস্তারিতভাবে অগ্রসর হওয়ার আগে এবং এর বিষয়সমূহ শাখা-প্রশাখায় বিস্তারের পূর্বে সেই সব শব্দের অর্থ নির্ধারণ করা উত্তম হবে যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি আবর্তিত হয়, এবং সেগুলোর অর্থের সাথে ব্যবহারের দিক থেকে নিকটবর্তী অন্যান্য শব্দের অর্থের সম্পর্ক স্পষ্ট করা।

 

আমি এই ভূমিকায় সংক্ষেপে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আলোচনা করব:

• প্রবণতা ও পদ্ধতির মাঝে পার্থক্য।

• হাদিস ও সুন্নাহর মাঝে পার্থক্য।

• ফিকহ: এর অর্থ, এর বিবর্তনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত, হাদিসের সাথে এর সম্পর্ক এবং এর গুরুত্ব।

 

[ক] প্রবণতা ও পদ্ধতির মাঝে:

 

প্রবণতা বলতে আমরা সেই পথগুলোকে বুঝিয়েছি যে পথে মুহাদ্দিসগণ বিধিবিধান আহরণের লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাদের কোনো দলের সামান্য বিচ্যুতিগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে, তবে সেই সন্ধিক্ষণগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়নি যা তাদের এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।

অথবা এটি হলো আহলে হাদিসের ফিকহের সাধারণ এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ।

অথবা এটি হলো সেই সামগ্রিক বিষয়াবলি যা মুহাদ্দিসগণ যখন ফিকহ নিয়ে গবেষণা করতেন তখন তাদের পরিচালিত করত।

আর পদ্ধতি এর চেয়েও সুনির্দিষ্ট; কেননা তা হলো সেই স্পষ্ট পথ যা এই সামগ্রিক বিষয় ও বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রয়োগের ধরন বর্ণনা করে।

আমি এভাবে বলতে পারি যে, কোনো লেখকের একটি সামাজিক প্রবণতা থাকতে পারে, কিন্তু তার পদ্ধতি হলো সমাজের সমস্যাবলির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি, সেগুলো সমাধানের পন্থা, নিজ সময়ের সমস্যাগুলোর প্রতি তার সতর্কতা এবং সেগুলো সমাধানের জন্য তার প্রস্তাবনা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১২)
فالاتجاه عام وصفي، أما المنهج فهو خاص تطبيقي.

وقد يعين على هذه التفرقة قول الله عز وجل {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} (1).

فالشرعة - أي الشريعة - هي الفرائض والحدود والحلال والحرام. والمنهاج هو كيفية تقنين هذه الأحكام، وطريقة تنفيذها، وبيان السبل التطبيقية لها، وغير ذلك مما يختلف باختلاف الأديان.

وبهذا تبرز العلاقة الوثيقة بين الاتجاه والمنهج، فللحصول على الاتجاه، يلزم التعرف على الجزئيات، وإعمال النظر في المنهج، وتلك طريقة تجمع بين التحليل والتركيب.

 

[ب] بَيْنَ الحَدِيثِ وَالسُنَّةِ:

 

الحديث في اللغة، يطلق على الجديد، ضد القديم، كما يطلق على الخبر والقصص. في " القاموس المحيط ": «والحديث: الجديد، والخبر، كالحديثي» وفي " لسان العرب ": «والحديث: الجديد من الأشياء، والحديث: الخبر، يأتي على القليل والكثير والجمع أحاديث، كقطيع وأقاطيع، وهو شاذ على غير قياس …» ثم قال صاحب " اللسان ": «ورجل حدِث، وحدوث، وحدْث، وحديث، ومحدث، بمعنى واحد: كثير الحديث، حسن السياق له، والأحاديث في الفقه وغيره معروفة».

وعند إطلاق لفظ الحديث الآن ينصرف إلى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو ما نقل عنه من قول أو فعل أو تقرير.

--------------------------------------------

(1) [المائدة: 48]. و «الشرعة»: إما من شرع بمعنى وَضَّحَ وَبَيَّنَ وإما من الشروع في الشيء، وهو الدخول فيه، الشريعة بمعنى المشروعة: وهي الأشياء التي أوجب الله على المكلفين أن يشرعوا فيها و «المنهاج»: هو الطريق الواضح. انظر " مفاتيح الغيب " للرازي؛ و" تفسير المنار ": 6/ 413، 414.
দৃষ্টিভঙ্গি হলো সাধারণ ও বর্ণনামূলক, আর মানহাজ (পদ্ধতি) হলো বিশেষ ও প্রায়োগিক।

মহান আল্লাহর এই বাণী এই পার্থক্য নিরূপণে সাহায্য করতে পারে: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও পথ (মানহাজ) নির্ধারণ করেছি} (১)।

শিরআহ—অর্থাৎ শরিয়ত—হলো ফরজসমূহ, হুদুদ (দণ্ডবিধি), হালাল ও হারাম। আর মানহাজ হলো এই বিধানসমূহকে বিধিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া, তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং এর প্রায়োগিক পথগুলোর বর্ণনা এবং এমন বিষয়াবলি যা ধর্মের ভিন্নতার সাথে পরিবর্তিত হয়।

এর মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গি ও মানহাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ফুটে ওঠে। সুতরাং, দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্য খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানা এবং মানহাজের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা আবশ্যক; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণকে একত্রিত করে।

 

[খ] হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য:

 

শাব্দিক অর্থে হাদিস শব্দটি নতুনের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যা পুরাতনের বিপরীত; যেমনটি এটি সংবাদ ও গল্পের ওপরও প্রয়োগ করা হয়। "আল-কামুস আল-মুহিত"-এ বলা হয়েছে: «আল-হাদিস: নতুন এবং সংবাদ, যেমন আল-হাদিসি» আর "লিসানুল আরব"-এ রয়েছে: «আল-হাদিস: বস্তুর মধ্যে নতুন কিছু, এবং হাদিস মানে সংবাদ; এটি অল্প ও অধিক উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এর বহুবচন হলো আহাদিস, যেমন কাতি' (পাল) এর বহুবচন আক্বতি'; আর এটি নিয়মের বহির্ভূত বা বিরল ব্যবহার...» অতঃপর "লিসান" প্রণেতা বলেন: «এবং ব্যক্তি হাদিস (নতুন), হুদুস, হাদছ, হাদিস এবং মুহাদ্দিস—সবই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়: অধিক হাদিস বর্ণনাকারী, যার বর্ণনাশৈলী সুন্দর। আর ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে আহাদিস বা হাদিসসমূহ সুপরিচিত»।

বর্তমানে হাদিস শব্দটি যখন সাধারণভাবে উচ্চারণ করা হয়, তখন তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতিই নির্দেশ করে। আর তা হলো তাঁর থেকে বর্ণিত বাণী, কর্ম অথবা মৌন সম্মতি।

--------------------------------------------

(১) [আল-মায়েদাহ: ৪৮]। আর "শিরআহ": এটি হয় 'শারাআ' থেকে এসেছে যার অর্থ হলো স্পষ্ট ও বর্ণনা করা, অথবা কোনো কিছুতে 'শুরু' (প্রবেশ) করা থেকে এসেছে। শরিয়ত অর্থ হলো যা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে: আর তা হলো এমন বিষয়াবলি যা আল্লাহ মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর বিধি-বিধান কার্যকর হয়) জন্য পালন করা আবশ্যক করেছেন। আর "আল-মানহাজ" হলো স্পষ্ট পথ। দেখুন আর-রাজির "মাফাতিহুল গায়ব"; এবং "তাফসীরুল মানার": ৬/৪১৩, ৪১৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وتخصيص الحديث بما قاله الرسول صلى الله عليه وسلم وُجِدَ في وقت مبكر أي في حياته عليه الصلاة والسلام.

يَشْهَدُ لِهَذَا أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ فَأَجَابَهُ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلُنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ. لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ» (1) ثم اتسع استعمال الحديث بعد وفاة الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم فأصبح يشمل مع القول فعله وتقريره صلى الله عليه وسلم.

وللحديث أقسام كثيرة باعتبارات مختلفة ليس هنا موضع بحثها.

أما السُنَّةُ فلها استعمالات كثير في اللغة، فتستعمل بمعنى الطريقة، والطبيعة والسيرة: حسنة كانت أو قبيحة.

«فَسُنَّةُ كُلِّ أَحَدٍ مَا [عُهِدَتْ] مِنْهُ المُحَافَظَةُ عَلَيْهِ، وَالْإِكْثَارُ مِنْهُ، كَانَ ذَلِكَ مِنَ الْأُمُورِ الحَمِيدَةِ أَوْ غَيْرِهَا» (2). وإذا أضيفت إلى لفظ الجلالة، فقيل: (سُنَّةُ اللَّهِ) فمعناها أحكامه وأمره ونهيه أو قوانينه الطبيعية والإنسانية.

والسنة في الشرع لها عدة إطلاقات (3)، يجمعها أنها الطريقة المرضية المسلوكة في الدين. ومن أشهر هذه الإطلاقات:

1 - أنها المصدر الثاني للتشريع الإسلامي بعد الكتاب العزيز، وعرفها بعض العلماء حينئذٍ بأنها «مَا صَدَرَ عَنِ الرَّسُولِ مِنَ الْأَدِلَّةِ الشَّرْعِيَّةِ مِمَّا لَيْسَ بِمَتْلُوٍّ، وَلَا هُوَ مُعْجِزٌ وَلَا دَاخِلٌ فِي الْمُعْجِزِ … وَيَدْخُلُ فِي ذَلِكَ أَقْوَالُ النَّبِيِّ

--------------------------------------------

(1) " البخاري بحاشية السندي ": 4/ 126.

(2) " الإحكام " للآمدي: 1/ 241.

(3) انظر هذه الإطلاقات في " كشاف اصطلاحات الفنون ": 1/ 703 وما بعدها؛ و" الموافقات ": 3/ 2، 3.
হাদিসের বিশেষায়ন কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া খুব প্রাথমিক সময়েই, অর্থাৎ তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জীবদ্দশাতেই পাওয়া যায়।

এর সাক্ষ্য দেয় যে, আবু হুরায়রা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার শাফায়াতের মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ কে হবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে উত্তর দিয়েছিলেন: «হে আবু হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম যে, তোমার আগে এই হাদিস সম্পর্কে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। কারণ আমি হাদিসের প্রতি তোমার যে আগ্রহ দেখেছি তার জন্য» (১) এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর হাদিস শব্দের প্রয়োগ বিস্তৃত হয় এবং এটি তাঁর কথার সাথে সাথে তাঁর কাজ এবং মৌন সমর্থনকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

বিভিন্ন দিক বিবেচনায় হাদিসের অনেক প্রকার রয়েছে, যার আলোচনার স্থান এটি নয়।

আর সুন্নাহর আভিধানিক ভাষায় অনেক ব্যবহার রয়েছে। এটি পথ, প্রকৃতি ও জীবনচরিত অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা ভালো হোক বা মন্দ।

«প্রত্যেক ব্যক্তির সুন্নাহ হলো তা-ই যা তার কাছ থেকে নিয়মিত পালিত ও বারবার কৃত হওয়া হিসেবে পরিচিত, চাই তা প্রশংসনীয় কাজ হোক বা অন্য কিছু» (২)। আর যখন এটি মহিমান্বিত 'আল্লাহ' শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং বলা হয়: (সুন্নাতুল্লাহ), তখন এর অর্থ হয় তাঁর হুকুম, আদেশ ও নিষেধ অথবা তাঁর প্রাকৃতিক ও মানবিক বিধানসমূহ।

শরিয়তের পরিভাষায় সুন্নাহর বেশ কিছু প্রয়োগ রয়েছে (৩), যার সাধারণ অর্থ হলো এটি দ্বীনের মধ্যে অনুসৃত সন্তোষজনক পথ। এই প্রয়োগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো:

১ - এটি সম্মানিত কিতাব (কুরআন)-এর পর ইসলামি শরিয়তের বিধানের দ্বিতীয় উৎস। সেই প্রেক্ষাপটে কিছু আলেম একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উৎসৃত এমন সব শারয়ী দলিল যা পঠিত (তিলওয়াতকৃত) নয়, অলৌকিক (মুজিজা) নয় এবং অলৌকিকতার অন্তর্ভুক্তও নয় … এবং এর মধ্যে নবীর বাণীসমূহ অন্তর্ভুক্ত»

--------------------------------------------

(১) "বুখারি সিন্ধির টীকাসহ": ৪/ ১২৬।

(২) আমেদির "আল-ইহকাম": ১/ ২৪১।

(৩) "কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন": ১/ ৭০৩ এবং পরবর্তী; এবং "আল-মুওয়াফাকাত": ৩/ ২, ৩-এ এই প্রয়োগগুলো দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১৪)
- عليه السلام، وَأَفْعَالُهُ وَتَقَارِيرُهُ» (1) وقد قرر ابن بدران «أَنَّ هَذَا مَعْنَاهَا بِاعْتِبَارِ العُرْفِ الخَاصِّ (2) وَهِيَ بِهَذَا تُشَارِكُ الحَدِيثَ فِي مَعْنَاهَا المُتَقَدِّمِ» وإن كان الحديث يشمل ما ينقل في الأحكام وغيرها، أما السنة فهي خاصة بما يقرر حكمًا أو يستدل بها عليه.

3 - كما تطلق السُنَّةُ على ما كان من العبادات نافلة منقولة عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فإن تعلقت بتركها كراهة وإساءة فهي سُنَّةُ الهُدَى، وَتُسَمَّى سُنَّةً مُؤَكَّدَةً، كالأذان والجماعة وسنة الفجر وغيرها، وإنْ لم تتعلق بتركها كراهة وإساءة تسمى سنن الزوائد «أَوْ سُننًا غَيْرَ مُؤكَّدَةٍ» (3).

وقد تطلق السنة على العادة الدينية أو القانونية التي أقرها الرسول صلى الله عليه وسلم وكانت سائدة في عصره، ونُقلت عن السلف من الصحابة والتابعين وغيرهم من الأئمة المُقتدى بهم. وهذا معناها باعتبار العرف العام (4).

وهذا الإطلاق الثالث للسنة كان هو الأسبق، وهو الذي كان شائعًا في العصر. قال السرخسي: «وَالسَّلَفُ كَانُوا يُطْلِقُونَ اسْمَ السُنَّةِ عَلَى طَرِيقَةِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما، وَكَانُوا يَأْخُذُونَ البَيْعَةَ عَلَى سُنَّةِ العُمَرَيْنِ» (5) كما كان شائعًا على ألسنة العلماء في القرن الثاني للهجرة. يَقُولُ ابْنُ مَهْدِي (6)

عَنْ

--------------------------------------------

(1) " الإحكام " للآمدي: 1/ 241.

(2) " المدخل إلى مذهب الإمام أحمد ": ص 89.

(3) " كشاف اصطلاحات الفنون ": 1/ 704.

(4) " المدخل إلى مذهب الإمام أحمد ": ص 89؛ " نظرة عامة في [تاريخ] الفقه الإسلامي " للدكتور علي حسن عبد القادر: 1/ 115.

(5) " أصول السرخسي ": 1/ 114.

(6) " تهذيب التهذيب ": 3/ 10؛ و" تقدمة الجرح والتعديل ": ص 177.
- তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, এবং তাঁর কার্যাবলি ও মৌন সম্মতি» (১) ইবনে বদরান নির্ধারণ করেছেন যে, «বিশেষ পরিভাষার বিবেচনায় এটিই এর অর্থ (২) এবং এর মাধ্যমে এটি হাদিসের পূর্বোক্ত অর্থের সাথে অংশীদার হয়,» যদিও হাদিস বিধিবিধান ও অন্যান্য বিষয়ে বর্ণিত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে সুন্নাহ কেবল ঐ বিষয়গুলোর সাথে নির্দিষ্ট যা কোনো বিধান নির্ধারণ করে অথবা যার মাধ্যমে বিধানের দলিল পেশ করা হয়।

৩ - একইভাবে সুন্নাহ শব্দটি এমন নফল ইবাদতের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। যদি তা পরিত্যাগ করার সাথে অপছন্দনীয়তা ও মন্দ কিছু জড়িত থাকে, তবে তা 'সুন্নাতুল হুদা' (হেদায়াতের সুন্নাহ), এবং একে 'সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ' বলা হয়, যেমন আযান, জামাত, ফজরের সুন্নাহ ইত্যাদি। আর যদি তা পরিত্যাগ করার সাথে অপছন্দনীয়তা বা মন্দ কিছু জড়িত না থাকে, তবে একে 'সুনানে যাওয়াইদ' বা «অ-মুয়াক্কাদাহ সুন্নাহ» বলা হয় (৩)।

কখনও কখনও সুন্নাহ শব্দটি ঐ সকল ধর্মীয় রীতি বা আইনি প্রথার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন করেছিলেন এবং যা তাঁর যুগে প্রচলিত ছিল, এবং যা সাহাবী, তাবেয়ী ও অনুসরণীয় অন্যান্য ইমামগণের মতো সালাফদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। সাধারণ পরিভাষার বিবেচনায় এটিই এর অর্থ (৪)।

সুন্নাহর এই তৃতীয় প্রয়োগটিই ছিল প্রাচীনতম এবং সেই যুগে এটিই প্রচলিত ছিল। সারাখসি বলেন: «সালাফগণ আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পদ্ধতির ওপর সুন্নাহ শব্দটি প্রয়োগ করতেন এবং তাঁরা দুই উমরের (আবু বকর ও উমর) সুন্নাহর ওপর বায়াত গ্রহণ করতেন» (৫)। যেমনটি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে আলেমদের মুখে প্রচলিত ছিল। ইবনে মাহদী (৬) বলেন

... থেকে

--------------------------------------------

(১) আমেদি রচিত "আল-ইহকাম": ১/ ২৪১।

(২) "আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ": পৃষ্ঠা ৮৯।

(৩) "কাশশাফু ইস্তিলাইহাতিল ফুনুন": ১/ ৭০৪।

(৪) "আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ": পৃষ্ঠা ৮৯; ড. আলি হাসান আব্দুল কাদির রচিত "নাজরাহ আম্মাহ ফি [তারিখিল] ফিকহিল ইসলামি": ১/ ১১৫।

(৫) "উসুলুস সারাখসি": ১/ ১১৪।

(৬) "তাহযিবুত তাহযিব": ৩/ ১০; এবং "তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল": পৃষ্ঠা ১৭৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১৫)
حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ: «لَمْ أرَ أَحَدًا قَطُّ أَعْلَمَ بِالسُنَّةِ وَلَا بِالحَدِيثِ الذِي يَدْخُلُ فِي السُّنَّةِ مِنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ». والمتبادر من هذا اللفظ أنّ السنة تغاير الحديث، وأنها أعم منه، وقال عبد الرحمن بن مهدي أيضًا: «النَّاسُ عَلَى وُجُوهٍ. فَمِنْهُمْ مَنْ هُوَ إِمَامٌ فِي السُنَّةِ إِمَامٌ فِي الحَدِيثِ وَمِنْهُمْ مَنْ هُوَ إِمَامٌ فِي السُنَّةِ وَلَيْسَ بِإِمَامٍ فِي الحَدِيثِ، وَمِنْهُمْ مَنْ هُوَ إِمَامٌ فِي الحَدِيثِ لَيْسَ بِإِمَامٍ فِي السُنَّةِ، فَأَمَّا مَنْ هُوَ إِمَامٌ فِي السُنَّةِ وَإِمَامٍ فِي الحَدِيثِ فَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ» (1).

ولأن السنة كانت شائعة بهذا المعنى - وهو الحض على اتباع التقاليد الإسلامية، والتمسك بما كان عليه المسلمون في خير أوقاتهم - سُمِّيَتْ المَدِينَةُ (مَهْدَ السُنَّةِ) وَ (دَارَ السُنَّةِ). وهو ما حمل مالك بن أنس رضي الله عنه على أن يُخَصِّصَ لعمل أهل المدينة وإجماعهم مكانًا بين أدلة الشرع.

ولهذا الاستعمال الشائع للسنة أيضًا كانت مثار اختلاف العلماء عند إطلاقها كما إذا قيل: «مِنَ السُنَّةِ كَذَا»، فهل المراد حينئذٍ سنة الرسول خاصة، أو سنة غيره من السلف الصالح؟ فالذين لا يأخذون أقوال الصحابة كدليل شرعي يقصرونها على الرسول صلى الله عليه وسلم، والذين يأخذون بأقوال الصحابة يوسعون في مدلولها. وفي هذا يقول البزدوي: «لَا خِلَافَ فِي أَنَّ السُّنَّةَ هِيَ الطَّرِيقَةُ المَسْلُوكَةُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا الخِلَافُ فِي أَنَّ لَفْظَ السُّنَّةُ [إذَا أُطْلِقَ يَنْصَرِفُ] إلَى سُنَّةِ الرَّسُولِ أَوْ إلَيْهَا، [وَإِلَى سُنَّةِ الصَّحَابِيِّ]».

وثمرة هذا الخلاف تظهر إذا قال الراوي: «مِنَ السُنَّةِ كَذَا» فهل يحمل هذا القول على سُنَّة الرسول صلى الله عليه وسلم «وَلَا يَجِبُ حَمْلُهُ عَلَى سُنَّةِ الرَّسُولِ إِلَّا بِدَلِيلٍ» (2).

--------------------------------------------

(1) " تقدمة الجرح والتعديل ": ص 118.

(2) " كشاف اصطلاحات الفنون ": 1/ 704.
হাম্মাদ ইবনে যাইদ: “আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদের চেয়ে সুন্নাহ এবং সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হাদিস সম্পর্কে অধিক বিজ্ঞ কাউকে কখনও দেখিনি।” এই শব্দচয়ন থেকে এটিই প্রতিভাত হয় যে, সুন্নাহ হাদিস থেকে ভিন্ন এবং তা হাদিসের চেয়ে অধিক ব্যাপক। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীও বলেছেন: “মানুষ কয়েক প্রকারের। তাদের মধ্যে কেউ সুন্নাহর ইমাম এবং হাদিসেরও ইমাম। আবার কেউ সুন্নাহর ইমাম কিন্তু হাদিসের ইমাম নন। আর কেউ হাদিসের ইমাম কিন্তু সুন্নাহর ইমাম নন। তবে যিনি সুন্নাহর ইমাম এবং হাদিসেরও ইমাম, তিনি হলেন সুফিয়ান আস-সাওরী” (১)।

যেহেতু সুন্নাহ এই অর্থে প্রচলিত ছিল—আর তা হলো ইসলামী ঐতিহ্য অনুসরণে উৎসাহিত করা এবং মুসলমানদের সর্বোত্তম সময়ে তারা যে বিষয়ের ওপর অটল ছিলেন তা আঁকড়ে ধরা—তাই মদিনাকে ‘সুন্নাহর দোলনা’ এবং ‘সুন্নাহর আবাস’ বলা হতো। আর এটিই মালিক ইবনে আনাস (রা.)-কে শরঈ দলিলসমূহের মধ্যে মদিনাবাসীদের আমল ও তাদের ইজমার (ঐক্যমত) জন্য একটি বিশেষ স্থান নির্ধারণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

সুন্নাহর এই প্রচলিত ব্যবহারের কারণেই এটি আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণ হয়েছিল যখন শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা হতো; যেমন যদি বলা হয়: “অমুক বিষয়টি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত”, তখন কি এর দ্বারা বিশেষভাবে রাসুলের সুন্নাহ উদ্দেশ্য, নাকি সালাফে সালেহীনদের মধ্য থেকে অন্যদের সুন্নাহ উদ্দেশ্য? সুতরাং যারা সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যকে শরঈ দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন না, তারা একে কেবল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। আর যারা সাহাবীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন, তারা এর অর্থের পরিধি বিস্তৃত করেন। এ বিষয়ে বাযদাভী বলেন: “দ্বীনের মধ্যে অনুসৃত পথই যে সুন্নাহ—এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। মতভেদ কেবল এ বিষয়ে যে, সুন্নাহ শব্দটি [যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তা কি কেবল] রাসুলের সুন্নাহর দিকে ধাবিত হয়, নাকি রাসুলের এবং [সাহাবীদের সুন্নাহর দিকেও ধাবিত হয়]।”

এই মতভেদের ফলাফল তখন প্রকাশ পায় যখন কোনো বর্ণনাকারী বলেন: “অমুক বিষয়টি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।” তখন কি এই বক্তব্যকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করা হবে? “আর দলিল ছাড়া একে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করা ওয়াজিব নয়” (২)।

--------------------------------------------

(১) "তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত্তাদীল": পৃ. ১১৮।

(২) "কাশশাফু ইস্তিলাইহাতিল ফুনুন": ১/ ৭০৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১৬)
ونستطيع أن نحدد العلاقة بين الحديث والسنة بهذا الإطلاق الأخير بأن الحديث أمر علمي نظري، وأن السنة أمر عملي، إذ أنها كانت تعتبر المثل الأعلى للسلوك في كل أمور الدين والدنيا وكان هذا سبب الاجتهاد في البحث عنها والاعتناء بحفظها والاقتداء بها (1).

والسنة بهذا الإطلاق العام قد تنتظم الفرض والواجب، مع اشتمالها على المستحب والمباح (2)، فَقَدْ رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: «السُّنَّةُ سُنَّتَانِ سُنَّةٌ فِي فَرِيضَةٍ وَسُنَّةٌ فِي غَيْرِ فَرِيضَةٍ: السُّنَّةُ التَّي فِي الفَرِيضَةِ أَصْلُهَا في كِتَابِ الله تَعَالَى، أَخْذُها هُدًى وَتَرْكُهَا ضَلَالَةٌ، وَالسُّنَّة التَّي أَصْلُهَا لَيْسَ في كِتَابِ الله تَعَالَى: الأَخْذُ بِهَا فَضِيلَةٌ وَتَرْكُهَا لَيْسَ بِخَطِيئَةٍ» (3) ولهذا قال مكحول: «السُّنَّةُ سُنَّتَانِ. سُنَّةٌ الْأَخْذُ بِهَا فَرِيضَةٌ وَتَرْكُهَا كُفْرٌ، وَسُنَّةٌ الْأَخْذُ بِهَا فَضِيلَةٌ وَتَرْكُهَا إِلَى غَيْرِ حَرَجٍ» (4).

ولن يكون ترك السُنَّةِ كُفْرًا إلا إذا كانت عادة إسلامية، وشعيرة من شعائر الإسلام، بحيث إذا خلا منها بلد مسلم كان في ولائه للإسلام شك، ويشرح السرخسي هذه العبارة بقوله: «حُكْمُ السُنَّةِ هُوَ الاتِّبَاعُ … وَهَذَا الاتِّبَاعُ الثَّابِتُ بِمُطْلَقِ السُنَّةِ خَالٍ عَنْ صِفَةِ الفَرْضِيَّةِ وَالوُجُوبِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مِنْ أَعْلَامِ الدِّينِ، فَإِنَّ ذَلِكَ بِمَنْزِلَةِ الوَاجِبِ فِي حُكْمِ العَمَلِ بِهْ، عَلَى مَا قَالَ مَكْحُولٌ رحمه الله: " السُّنَّةُ سُنَّتَانِ. سُنَّةٌ أَخْذُهَا هُدًى وَتَرْكُهَا ضَلَالَةٌ، وَسُنَّةٌ أَخْذُهَا

--------------------------------------------

(1) انظر " نظرة عامة في تاريخ الفقه الإسلامي ": 1/ 116.

(2) انظر " كليات أبي البقاء ": ص 103.

(3) " مجمع الزوائد ومنبع الفوائد ": 1/ 122 نقلاً عن الطبراني في " الأوسط "، وقال: لم يروه عن أبي أسامة إلَاّ عيسى بن واقد، تَفَرَّدَ به عبد الله بن الرومي ولم أر من ترجمه وفي الهامش نقلاً عن هامش الأصل أنَّ ابن الرومي هذا وثَّقَهُ أبو حاتم وغيره.

(4) " سنن الدارمي ": 1/ 145.
এবং আমরা এই শেষোক্ত ব্যাপক অর্থে হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যকার সম্পর্ক এভাবে নির্ধারণ করতে পারি যে, হাদিস হলো একটি তাত্ত্বিক বিষয়, আর সুন্নাহ হলো একটি প্রায়োগিক বিষয়। কেননা সুন্নাহকে দ্বীন ও দুনিয়ার সকল বিষয়ে আচরণের সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং এটিই ছিল তা অনুসন্ধানে ইজতিহাদ করা, তা সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া এবং তা অনুসরণের মূল কারণ (১)।

এবং সুন্নাহ এই সাধারণ অর্থে ফরজ ও ওয়াজিবকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, পাশাপাশি এতে মুস্তাহাব ও মুবাহও শামিল থাকে (২)। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সুন্নাহ দুই প্রকার: ফরজ বিষয়ক সুন্নাহ এবং নফল (গাইরে ফরজ) বিষয়ক সুন্নাহ। ফরজ বিষয়ক যে সুন্নাহর মূল উৎস মহান আল্লাহর কিতাবে রয়েছে, তা গ্রহণ করা হেদায়াত এবং তা বর্জন করা গোমরাহি। আর যে সুন্নাহর মূল উৎস আল্লাহর কিতাবে নেই, তা গ্রহণ করা ফজিলত এবং তা বর্জন করা কোনো গুনাহ নয়» (৩)। একারণেই মাকহুল বলেছেন: «সুন্নাহ দুই প্রকার। এমন সুন্নাহ যা গ্রহণ করা ফরজ এবং বর্জন করা কুফরি; আর এমন সুন্নাহ যা গ্রহণ করা ফজিলত এবং বর্জনে কোনো দোষ নেই» (৪)।

সুন্নাহ বর্জন করা ততক্ষণ পর্যন্ত কুফরি হবে না যতক্ষণ না তা একটি ইসলামি রীতি এবং ইসলামের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়, যাতে কোনো মুসলিম জনপদ তা থেকে শূন্য হলে ইসলামের প্রতি তাদের আনুগত্যের বিষয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। আস-সারাহসি এই উক্তিটি ব্যাখ্যা করে বলেন: «সুন্নাহর বিধান হলো অনুসরণ করা … আর সাধারণ সুন্নাহর দ্বারা সাব্যস্ত এই অনুসরণ ফরজ বা ওয়াজিবের বৈশিষ্ট্যমুক্ত, যদি না তা দ্বীনের প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়। এমতাবস্থায় তা আমল করার বিধানের ক্ষেত্রে ওয়াজিবের সমপর্যায়ভুক্ত হবে, যেমনটি মাকহুল (রহ.) বলেছেন: "সুন্নাহ দুই প্রকার। এমন সুন্নাহ যা গ্রহণ করা হেদায়াত এবং বর্জন করা গোমরাহি, আর এমন সুন্নাহ যা গ্রহণ...

--------------------------------------------

(১) দেখুন "নাজরাহ আম্মাহ ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি": ১/১১৬।

(২) দেখুন "কুল্লিয়াতু আবিল বাকা": পৃষ্ঠা ১০৩।

(৩) "মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ": ১/১২২, তাবারানির "আল-আওসাত" থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: ঈসা ইবনে ওয়াকিদ ব্যতীত আর কেউ এটি আবু উসামা থেকে বর্ণনা করেননি, আবদুল্লাহ ইবনে রুমি এটি বর্ণনায় একক ছিলেন এবং আমি তার জীবনীকার কাউকে দেখিনি। মূল পাণ্ডুলিপির পাদটীকার উদ্ধৃতি দিয়ে টীকায় বলা হয়েছে যে, এই ইবনে রুমিকে আবু হাতিম এবং অন্যান্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

(৪) "সুনানে দারেমি": ১/১৪৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১৭)
حَسَنٌ وَتَرْكُهَا لَا بَأْسَ فِيهِ "، فَالأَوَّلُ نَحْوُ صَلَاةِ العِيدِ وَالأَذَانِ وَالإِقَامَةِ وَالصَّلَاةِ بِالجَمَاعَةِ، وَلِهَذَا لَوْ تَرَكَهَا قَوْمٌ اسْتَوْجَبُوا اللَّوْمَ وَالعِتَابَ وَلَوْ تَرَكَهَا أَهْلُ بَلْدَةٍ وَأَصَرُّوا عَلَى ذَلِكَ قُوتِلُوا عَلَيْهَا لِيَأْتُوا بِهَا» (1).

ويُعَرِّفُ ابن حزم السُنَّةَ تعريفًا يقترب من هذا الإطلاق العام للسُنَّة، فيقول: «وَالسُنَّةُ هِيَ الشَّرِيعَةُ نَفْسُهَا، وَهِيَ فِي أَصْلِ اللُّغَةِ: وَجْهُ الشَّيْءِ وَظَاهِرُهُ. قَالَ الشَّاعِرُ:

تُرِيكَ سُنَّةَ وَجْهٍ غَيْرَ مُقْرِفَةٍ … مَلْسَاءُ لَيْسَ بِهَا خَالٌ وَلَا نَدْبُ

وَأَقْسَامُ السُنَّةِ فِي الشَّرِيعَةِ: فَرْضٌ أَوْ نَدْبٌ، أَوْ إِبَاحَةٌ أَوْ كَرَاهَةٌ، أَوْ تَحْرِيمٌ، كُلُّ ذَلِكَ قَدْ سَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ اللَّهِ عز وجل» (2).

 

مِنْ تَقْسِيمَاتِ السُنَّةِ:

 

ومع أنّ العلماء متفقون على وجوب الاقتداء بالرسول صلى الله عليه وسلم، ولزوم اتباع سنته قد يختلفون في الأمر من قول الرسول أو فعله: هل هذا القول أو الفعل جرى من الرسول مجرى الجبلة والعادة، أو التجربة الشائعة في قومه، فالاتباع فيه غير لازم، كما لا يلزم إذا كان الفعل من خواص الرسول. أم أن القول والفعل مقصود بهما التشريع فيلزم حينئذٍ الاتباع؟.

ومرجع ذلك أن الرسول صلى الله عليه وسلم بشر، له مطالب البشر، ويحتاج إلى ضرورات الحياة وخبرتها وتجاربها، وَقَدْ نبَّهَ عليه الصلاة والسلام أصحابه إلى التفرقة بين أمور التشريع وأمور الحياة العادية في قوله أو فعله، فقال: «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ دِينِكُمْ فَخُذُوا بِهِ،

--------------------------------------------

(1) " أصول السرخسي ": 1/ 114.

(2) " الإحكام " لابن حزم: 1/ 47.
উত্তম এবং তা বর্জন করাতে কোনো দোষ নেই," প্রথম প্রকারটি হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ, আজান, ইকামত এবং জামাতে নামাজের মতো বিষয়সমূহ। এই কারণেই যদি কোনো সম্প্রদায় তা বর্জন করে, তবে তারা তিরস্কার ও ভর্ৎসনার যোগ্য হবে; আর যদি কোনো জনপদের অধিবাসীরা তা বর্জন করে এবং তার ওপর অটল থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে যাতে তারা তা পালন করে (১)।

ইবনে হাযম সুন্নাহর এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যা সুন্নাহর এই সাধারণ প্রয়োগের নিকটবর্তী। তিনি বলেন: "সুন্নাহ হলো স্বয়ং শরীয়ত; আর আভিধানিক মূলে এটি হলো: কোনো বস্তুর উপরিভাগ ও তার প্রকাশ্য রূপ। কবি বলেছেন:

সে তোমাকে দেখায় চেহারার উপরিভাগ যা কদর্য নয় ... মসৃণ, যাতে নেই কোনো তিল কিংবা কোনো ক্ষতচিহ্ন।

শরীয়তের পরিভাষায় সুন্নাহর প্রকারভেদ হলো: ফরজ, মুস্তাহাব, মুবাহ, মাকরূহ অথবা হারাম; এই সব কিছুই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিধান হিসেবে প্রবর্তন করেছেন" (২)।

 

সুন্নাহর বিভাজনসমূহ থেকে:

 

যদিও আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে একমত, তবুও তাঁরা রাসূলের কোনো কথা বা কাজের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন: এই কথা বা কাজটি কি রাসূলের পক্ষ থেকে মানবীয় প্রকৃতি ও স্বভাবজাত অভ্যাস হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, অথবা তাঁর কওমের মাঝে প্রচলিত কোনো অভিজ্ঞতা হিসেবে? এমন ক্ষেত্রে অনুসরণ করা আবশ্যকীয় নয়, যেমনটি রাসূলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যাবলীর (খাসায়েস) অন্তর্ভুক্ত কাজের ক্ষেত্রেও অনুসরণ আবশ্যক নয়। নাকি এই কথা এবং কাজ দ্বারা শরীয়তের বিধান প্রদান উদ্দেশ্য? সেক্ষেত্রে তখন অনুসরণ করা আবশ্যক।

এর মূল কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ, তাঁর মানবিক চাহিদা রয়েছে এবং জীবনের প্রয়োজনীয়তা ও অভিজ্ঞতার প্রতি তিনি মুখাপেক্ষী। তিনি (সা.) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে শরীয়তের বিধান এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামকে সচেতন করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি কেবল একজন মানুষ; যখন আমি তোমাদের দ্বীনের কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন তা গ্রহণ করো,

--------------------------------------------

(১) "উসুল আস-সারাকসি": ১/ ১১৪।

(২) ইবনে হাযম রচিত "আল-ইহকাম": ১/ ৪৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ رَأْيٍ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ». وقال في قصة تأبير النخيل: «فَإِنِّي إِنَّمَا ظَنَنْتُ ظَنًّا، فَلَا تُؤَاخِذُونِي بِالظَّنِّ، وَلَكِنْ إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ اللَّهِ شَيْئًا فَخُذُوا بِهِ» (1).

وكما نبه الرسول صلى الله عليه وسلم أصحابه إلى مراعاة الفرق بين التشريع وغيره في قوله وفعله - نبه الصحابة بدورهم تلامذتهم من التابعين إلى مراعاة هذا الفرق. فَقَدْ رُوِيَ أَنَّ نَفَرًا مِنَ الحَرِيصِينَ عَلَى الحَدِيثِ دَخَلُوا عَلَى زَيدِ بْنِ ثَابِتٍ رضي الله عنه فَقَالُوا: «حَدِّثْنَا أَحَادِيثَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: كُنْتُ جَارَهُ، فَكَانَ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الوَحْيُ بَعَثَ إِليَّ فَكَتَبْتُهُ لَهُ، فَكُنَّا إِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرَهَا مَعَنَا، وَإِذَا ذَكَرْنَا الآخِرَةَ ذَكَرَهَا مَعَنَا، وَإِذَا ذَكَرْنَا الطَّعَامَ ذَكَرَهُ مَعَنَا، فَكُلُّ هَذَا أُحَدِّثُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟!» (2).

وفي ذلك يقول البطليوسي: «أَنَّهُ عليه السلام كَانَ يَذْكُرُ فِي مَجْلِسِهِ الأَخْبَارَ حِكَايَةً، وَيَتَكَلَّمُ بِمَا لَا يُرِيدُ بِهِ أَمْرًا وَلَا نَهْيًا. وَلَا أَنْ يُجْعَلَ أَصْلاً فِي دِينِهِ. وَذَلِكَ مَعْلُومٌ مِنْ فِعْلِهِ مَشْهُورٌ مِنْ قَوْلِهِ» (3).

--------------------------------------------

(1) " حُجة الله البالغة "، للدهلوي بتحقيق سيد سابق: 1/ 171 - 173؛ وجاء في " مجمع الزوائد ": 1/ 178 (عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَطُوفُ فِي النَّخْلِ بِالمَدِينَةِ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَقُولُونَ: فِيهَا وَسْقٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فِيهَا كَذَا وَكَذَا "، فَقَالُوا: صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: [" إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ، فَمَا حَدَّثْتُكُمْ عَنِ اللَّهِ فَهُوَ حَقٌّ، وَمَا قُلْتُ فِيهِ مِنْ قِبَلِ نَفْسِي] فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أُصِيبُ وَأُخْطِئُ»). رواه البزار وإسناده حسن، وانظر أيضًا " مجمع الزوائد ": 1/ 79. في قصة تلقيح النخل.

(2) " حُجة الله البالغة ": 1/ 102.

(3) " نظرة عامة في [تاريخ] الفقه الإسلامي ": 1/ 118، 120.
"আর যখন আমি তোমাদের আমার পক্ষ থেকে কোনো মতামতের ভিত্তিতে কোনো নির্দেশ দিই, তবে আমি কেবল একজন মানুষই।" এবং খেজুরের পরাগায়নের ঘটনায় তিনি বলেছেন: "আমি তো কেবল একটি ধারণা করেছিলাম, সুতরাং আমাকে আমার ধারণার জন্য পাকড়াও করো না। কিন্তু যখন আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু বলি, তখন তা গ্রহণ করো" (১)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন তাঁর সাহাবীদেরকে তাঁর কথা ও কাজের ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রণয়ন এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য বিবেচনা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, তেমনি সাহাবায়ে কেরামও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম তাবিঈদেরকে এই পার্থক্যের প্রতি সজাগ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, হাদীস শ্রবণে আগ্রহী একদল লোক যায়েদ বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে প্রবেশ করে বললেন: "আমাদের কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করুন।" তিনি বললেন: "আমি তাঁর প্রতিবেশী ছিলাম, তাই যখনই তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতো, তিনি আমাকে ডেকে পাঠাতেন এবং আমি তাঁর জন্য তা লিখে দিতাম। আমরা যখন দুনিয়ার কথা বলতাম, তিনি আমাদের সাথে তা আলোচনা করতেন; আমরা যখন আখেরাতের কথা বলতাম, তিনি আমাদের সাথে তা আলোচনা করতেন; এবং আমরা যখন খাবারের কথা বলতাম, তিনি আমাদের সাথে তা আলোচনা করতেন। আমি কি তোমাদের কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই সবকিছুই বর্ণনা করব?!" (২)।

এ প্রসঙ্গে আল-বাতালইউসি বলেন: "তিনি আলাইহিস সালাম তাঁর মজলিসে সাধারণ বিবরণ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদ আলোচনা করতেন এবং এমন সব কথা বলতেন যা দ্বারা তিনি কোনো আদেশ বা নিষেধের ইচ্ছা করতেন না এবং তা তাঁর দ্বীনের কোনো মূলনীতি হিসেবে গণ্য হোক—এমন উদ্দেশ্যও রাখতেন না। এটি তাঁর কর্ম থেকে সুপরিচিত এবং তাঁর বাণী থেকেও প্রসিদ্ধ" (৩)।

--------------------------------------------

(১) "হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা", দেহলভী প্রণীত, সাঈদ সাবিক কর্তৃক সম্পাদিত: ১/ ১৭১-১৭৩; এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ": ১/ ১৭৮-এ এসেছে (ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার খেজুর বাগানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মানুষ বলতে শুরু করল: এতে এক ওয়াসাক (পরিমাণ খেজুর) আছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'এতে এত এত আছে।' তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সত্য বলেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ['আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ, তাই আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা বলব তা সত্য, আর আমি নিজের পক্ষ থেকে যা বলব] আমি তো একজন মানুষই, আমি সঠিকও বলি আবার ভুলও করি')। বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান। খেজুরের পরাগায়নের ঘটনায় আরও দেখুন "মাজমাউয যাওয়াইদ": ১/ ৭৯।

(২) "হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা": ১/ ১০২।

(৩) "নাযরাতু আম্মাহ ফি [তারিখিল] ফিকহিল ইসলামি": ১/ ১১৮, ১২০।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ১৯)
لهذا أفاض العلماء في الكلام عن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقسيمها إلى سنة تشريعية وسنة عادية كما قسموا التشريعية إلى أقسام مختلفة عبروا عنها أحيانًا بشخصيات الرسول (1).

 

[جـ]- الفِقْهُ، تَعْرِيفُهُ:

 

كلمة «الفقه» كانت موجودة في كلام العرب قبل الإسلام، لا بالمعنى الاصطلاحي الذي اكتسبته في الإسلام، إذ لم يكن لديهم ما يمكن أن تطلق عليه، ولهذا أيضًا لم يوجد عندهم من يطلق عليهم «الفقهاء» وإنما كانت الكلمة تستعمل بمعنى العلم بالشيء وتفهمه والوصول إلى أعماقه. قال تعالى: {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي، يَفْقَهُوا قَوْلِي} (2) أي يعلموا المراد منه ويفهموه.

وقد فرق الآمدي بين العلم والفهم فقال: «الفَهْمُ عِبَارَةٌ عَنْ جَوْدَةِ الذِّهْنِ مِنْ جِهَةِ تَهْيِئَتِهِ لِاقْتِنَاصِ كُلِّ مَا يَرِدُ عَلَيْهِ مِنَ المَطَالِبِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ المُتَّصِفُ بِهِ عَالِمًا كَالعَامِّيِّ الفَطِنِ» (3) أما ابن القيم فإنه يجعل الفقه في درجة أعلى من الفهم فيقول: «وَالفِقْهُ أَخَصُّ مِنْ الفَهْمِ، وَهُوَ فَهْمُ مُرَادِ المُتَكَلِّمِ مِنْ كَلَامِهِ، وَهَذَا قَدْرٌ زَائِدٌ عَلَى مُجَرَّدِ فَهْمِ وَضْعِ اللَّفْظِ فِي اللُّغَةِ، وَبِحَسَبِ تَفَاوُتِ مَرَاتِبِ النَّاسِ فِي هَذَا تَتَفَاوَتُ مَرَاتِبُهُمْ فِي الفِقْهِ وَالعِلْمِ» (4).

--------------------------------------------

(1) انظر " الفروق " للقرافي: 1/ 205، 209، ومقال المرحوم الشيخ شلتوت. بمجلة " الرسالة " في 30 مارس 1942 وللشيخ الخضر حسين نقد له نشر بمجلة " الهداية الإسلامية " في العددين جمادى الآخرة 1361 هـ ورجب وشعبان من العام نفسه، وانظر " دروس في فقه الكتاب والسنة - البيوع منهج وتطبيقه " للمرحوم محمد يوسف موسى.

(2) [طه: 27 - 28].

(3) " الإحكام " للآمدي: 1/ 7.

(4) " إعلام الموقعين ": 1/ 264.
এজন্য আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং একে আইনি সুন্নাহ ও সাধারণ সুন্নাহ-তে ভাগ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যেমন তারা আইনি সুন্নাহকেও বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন যা কখনো কখনো রাসূলের ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে (১)।

 

[জ]- ফিকহ, এর সংজ্ঞা:

 

'ফিকহ' শব্দটি ইসলামের আগে আরবদের কথাবার্তায় বিদ্যমান ছিল, তবে ইসলামে অর্জিত পরিভাষাগত অর্থে নয়; কারণ তখন তাদের কাছে এমন কিছু ছিল না যার ওপর এই নাম প্রয়োগ করা যায়। এ কারণে তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যাদেরকে 'ফকীহ' বলা হতো, বরং শব্দটি কোনো কিছু সম্পর্কে জানা, তা অনুধাবন করা এবং এর গভীরে পৌঁছানোর অর্থে ব্যবহৃত হতো। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে} (২) অর্থাৎ তারা এর উদ্দেশ্য জানতে পারে এবং তা বুঝতে পারে।

আল-আমেদী জ্ঞান (ইলম) এবং বুঝের (ফাহম) মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন: "বুঝ বা ফাহম হলো মেধার উৎকর্ষতার একটি অভিব্যক্তি, যা এর নিকট উপস্থাপিত প্রতিটি উদ্দেশ্য আহরণ করার প্রস্তুতির দিক থেকে কাজ করে, যদিও সেই গুণসম্পন্ন ব্যক্তিটি আলেম না হয়ে একজন বুদ্ধিমান সাধারণ মানুষ হয়" (৩)। অন্যদিকে ইবনুল কাইয়্যিম ফিকহকে বুঝের চেয়ে উচ্চতর স্তরে রেখেছেন। তিনি বলেন: "ফিকহ হলো বুঝের চেয়েও সুনির্দিষ্ট, আর তা হলো বক্তার কথা থেকে তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারা। এটি ভাষায় শব্দের আভিধানিক অর্থ বোঝার চেয়েও অতিরিক্ত একটি বিষয়। এই ক্ষেত্রে মানুষের স্তরের ভিন্নতা অনুযায়ী ফিকহ ও ইলমের ক্ষেত্রেও তাদের মর্যাদার ভিন্নতা ঘটে থাকে" (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-কারাফির "আল-ফুরূক": ১/ ২০৫, ২০৯; এবং মরহুম শায়খ শালতুতের নিবন্ধ, "আর-রিসালাহ" সাময়িকী, ৩০ মার্চ ১৯৪২; এবং শায়খ আল-খিদর হুসাইনের পক্ষ থেকে এর একটি সমালোচনা যা "আল-হিদায়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ" সাময়িকীতে ১৩৬১ হিজরির জুমাদাল আখিরা সংখ্যায় এবং একই বছরের রজব ও শাবান সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। আরও দেখুন মরহুম মুহাম্মদ ইউসুফ মুসার "দুরুস ফি ফিকহিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - আল-বুয়ু' মানহাজ ওয়া তাতবিকুহু"।

(২) [তহা: ২৭ - ২৮]।

(৩) আল-আমেদী রচিত "আল-ইহকাম": ১/ ৭।

(৪) "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন": ১/ ২৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২০)
ثم خصت الكلمة في الاصطلاح «بِالْعِلْمِ الحَاصِلِ بِجُمْلَةٍ مِنَ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ [الفُرُوعِيَّةِ] بِالنَّظَرِ وَالِاسْتِدْلَالِ» (1) وهذا التعريف بجعل الفقه صفة علمية للإنسان، ولكننا عندما نقول: «إِنَّ الفِقْهَ الإِسْلَامِيَّ يَتَّسِمُ بِالمُرُونَةِ وَالشُّمُولِ»، فإننا نعني بالفقه حينئذٍ «مَجْمُوعَةَ الأَحْكَامِ العَمَلِيَّةِ وَالمَشْرَوعَةَ فِي الإِسْلَامِ» (2).

وهذا التجديد الاصطلاحي لكلمة الفقه، لم يتم فجأة وإنما استغرق وقتًا كافيًا تقلبت فيه الكلمة في مراحل مختلفة قبل أن تنتهي إلى هذا الاصطلاح، فقد وجدنا علماء القرنين الأول والثاني يطلقون كلمة الفقه على ما يشمل موضوعات الزهد وعلم الكلام: فَقَدْ رَوَى " الدَّارِمِيُّ " بِسَنَدِهِ عَنْ عِمْرَانَ المِنْقَرِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِلْحَسَنِ يَوْمًا فِي شَيْءٍ قَالَهُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ، لَيْسَ هَكَذَا يَقُولُ الفُقَهَاءُ. فَقَالَ: «وَيْحَكَ وَرَأَيْتَ أَنْتَ فَقِيهًا قَطُّ؟، إِنَّمَا الفَقِيهُ الزَّاهِدُ فِي الدُّنْيَا، الرَّاغِبُ فِي الْآخِرَةِ، البَصِيرُ بِأَمْرِ دِينِهِ، المُدَاوِمُ عَلَى عِبَادَةِ رَبِّهِ» (3).

وَرَوَى أَيْضًا عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ (*)، قَالَ: قِيلَ لَهُ: «مَنْ أَفْقَهُ أَهْلِ المَدِينَةِ؟»، قَالَ: «أَتْقَاهُمْ لِرَبِّهِ [عز وجل]» (4).

كَمَا رَوَى بِسَنَدِهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: «إِنَّ الفَقِيهَ حَقَّ الفَقِيهِ، مَنْ لَمْ يُقَنِّطِ النَّاسَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ، وَلَمْ يُرَخِّصْ لَهُمْ فِي مَعَاصِي اللَّهِ، وَلَمْ يُؤَمِّنْهُمْ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ، وَلَمْ يَدَعْ القُرْآنَ رَغْبَةً عنْهُ إِلَى غَيْرِهِ، إِنَّهُ لَا خَيْرَ فِي عِبَادَةٍ لَا عِلْمَ فِيهَا، وَلَا عِلْمٍ لَا فَهْمَ فِيهِ، وَلَا قِرَاءَةٍ لَا تَدَبُّرَ فِيهَا» (5).

وقد استمر عدم التحديد هذا حتى منتصف القرن الثاني، فقد رأينا أن أبا حنيفة ألف في العقائد ما سمي بـ " الفقه الأكبر ".

--------------------------------------------

(1) " الأحكام " للآمدي: 1/ 7.

(2) " المدخل الفقهي العام " للزرقا: ص 24، 25.

(3): (5) " سنن الدارمي ": 1/ 89.

 

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ / البَاحِثُ: تَوْفِيقْ بْنُ مُحَمَّدٍ القُرَيْشِي]:

(*) سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف، انظر " السنن "، الدارمي (ت 255 هـ)، تحقيق حسين سليم أسد الداراني، حديث رقم 303، 1/ 338، (حاشية 1)، الطبعة الأولى: 1421 هـ - 2000 م، دار المغني للنشر والتوزيع - المملكة العربية السعودية.
এরপর পারিভাষিক অর্থে এই শব্দটি বিশেষায়িত হয়েছে "গবেষণা ও দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে শরীয়তের [শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত] বিধি-বিধানের সমষ্টিগত জ্ঞান অর্জন করা" হিসেবে (১)। এই সংজ্ঞাটি ফিকহকে মানুষের একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করে। কিন্তু আমরা যখন বলি: «ইসলামী ফিকহ নমনীয়তা ও ব্যাপকতার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত», তখন ফিকহ দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হয় «ইসলামে বিধিবদ্ধ ব্যবহারিক বিধানাবলীর সমষ্টি» (২)।

ফিকহ শব্দের এই পারিভাষিক বিবর্তন হঠাৎ করে ঘটেনি, বরং এই পরিভাষায় উপনীত হওয়ার আগে এটি বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যথেষ্ট সময় অতিবাহিত করেছে। আমরা দেখতে পাই যে, প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর আলেমগণ ফিকহ শব্দটি এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করতেন যা যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং ইলমুল কালামকেও (ধর্মতত্ত্ব) অন্তর্ভুক্ত করত। ইমাম দারেমী তাঁর সনদে ইমরান আল-মিনকারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমি হাসান বসরীকে তাঁর একটি কথা প্রসঙ্গে বললাম: হে আবু সাঈদ, ফকীহগণ তো এমন বলেন না। তখন তিনি বললেন: «তোমার জন্য আফসোস! তুমি কি কখনো কোনো ফকীহকে দেখেছ? ফকীহ তো তিনিই যিনি দুনিয়ার প্রতি বিরাগী, আখেরাতের প্রতি অনুরাগী, নিজের দ্বীনের ব্যাপারে সূক্ষ্মদর্শী এবং স্বীয় রবের ইবাদতে সদা নিমগ্ন» (৩)।

তিনি সা'দ ইবনে ইবরাহীম (*) থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: «মদীনাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ কে?» তিনি উত্তর দিলেন: «তাদের মধ্যে যে তার রবের [যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহান] প্রতি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান» (৪)।

অনুরূপভাবে তিনি তাঁর সনদে আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «প্রকৃত ফকীহ সেই ব্যক্তি, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, তাদের আল্লাহর নাফরমানিতে শিথিলতা প্রদর্শন করে না, তাদের আল্লাহর আযাব থেকে নির্ভয় করে না এবং কুরআনের প্রতি বিমুখ হয়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হয় না। প্রকৃতপক্ষে সেই ইবাদতে কোনো কল্যাণ নেই যাতে জ্ঞান নেই, সেই জ্ঞানে কোনো কল্যাণ নেই যাতে সঠিক উপলব্ধি নেই এবং সেই তিলাওয়াতে কোনো কল্যাণ নেই যাতে চিন্তা-গবেষণা নেই» (৫)।

পরিভাষার এই অনির্দিষ্ট অবস্থা দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম আবু হানীফা আকীদা বা বিশ্বাসের ওপর যে কিতাবটি রচনা করেছিলেন তার নাম দিয়েছিলেন "আল-ফিকহুল আকবার"।

--------------------------------------------

(১) আল-আমিদীর "আল-আহকাম": ১/৭।

(২) আজ-যারকার "আল-মাদখালুল ফিকহিল আম": পৃষ্ঠা ২৪, ২৫।

(৩): (৫) "সুনানুদ দারেমী": ১/৮৯।

 

[শামেলা লাইব্রেরির জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারীর মন্তব্য / গবেষক: তাওফীক ইবনে মুহাম্মাদ আল-কুরাইশী]:

(*) সা'দ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ, দেখুন "আস-সুনান", আদ-দারেমী (মৃত্যু ২৫৫ হিজরী), তাহকীক হুসাইন সালীম আসাদ আদ-দারানী, হাদীস নং ৩০৩, ১/৩৩৮, (টীকা ১), প্রথম সংস্করণ: ১৪২১ হিজরী - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ, দারুল মুগনী পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - সৌদি আরব।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২১)
وفي تحقيق هذا التطور التاريخي لكلمة «الفِقْهِ» يقول الغزالي: «وَلَقَدْ كَانَ اسْمُ الفِقْهِ فِي العَصْرِ الأَوَّلِ مُطْلَقًا عَلَى عِلْمِ الآخِرَةِ، وَمَعْرِفَةِ دَقَائِقِ وَآفَاتِ النُّفُوسِ وَمُفْسِدَاتِ الأَعْمَالِ، وَقُوَّةِ الإِحَاطَةِ بِحَقَارَةِ الدُّنْيَا، وَشِدَّةِ التَّطَلُّعِ إِلَى نَعِيمِ الآخِرَةِ، وَاسْتِيلَاءِ الخَوْفِ عَلَى القَلْبِ» إلى أن قال: «وَلَسْتُ أَقُولُ إِنَّ اسْمَ الفِقْهِ لَمْ يَكُنْ مَتْنًا وَلَا لِلْفَتَاوَى فِي الأَحْكَامِ الظَّاهِرَةِ، وَلَكِنْ بِطَرِيقِ العُمُومِ وَالشَّمُولِ لَا بِطَرِيقِ التَّخْصِيصِ كَمَا حَدَثَ فِي العُصُورِ المُتَأَخِّرَةِ» (1).

وقد لاحظ بعض العلماء هذه الإطلاقات المتعددة لكلمة الفقه، فوضع تعريفًا يمكن أن يشملها فقال: «الفِقْهُ مَعْرِفَةُ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا» وهذا يشمل الاعتقاديات والوجدانيات، فإذا أضفت إلى التعريف كلمة (عَمَلاً) خرج علم الكلام والتصوف (2).

 

مَرَاحِلُ التَّطَوُّرِ لِلْفِقْهِ الإِسْلَامِيِّ: (3).

 

لا شك أن العرب قبل الإسلام كانت لهم طقوس دينية، وعادات اجتماعية، وعلاقات تجارية وحربية، وبعض هذه العلاقات والعادات والطقوس بقايا دين إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام ورثها العرب عن آبائهم مشوهة أو صحيحة وبعضها أملته عليهم طبيعة البيئة البدوية التي يعيشون فيها، وبعض ثالث كان نتيجة احتكاكهم بالأمم المجاورة لهم وتأثرهم بها في بعض شؤون حياتهم. هذه العادات والأعراف المختلفة المصادر كان لها قوة القانون، بل كانت هي القانون النافذ فيهم فلما جاء الإسلام ألغى

--------------------------------------------

(1) انظر " إحياء علوم الدين " للغزالي: 1/ 21 - 28. المطبعة الأزهرية المصرية 1316 هـ.

(2) انظر " التوضيح على التنقيح " لصدر الشريعة: 1/ 68. المطبعة الخيرية بمصر 1306 هـ.

(3) انظر " موسوعة جمال عبد الناصر في الفقه الإسلامي ": الجزء الأول، فقد صدر ببحوث قيمة في كل نواحي الفقه: من ص 9، 59.
‘ফিকহ’ শব্দটির এই ঐতিহাসিক বিবর্তনের স্বরূপ বর্ণনায় আল-গাযালি বলেন: “প্রথম যুগে ‘ফিকহ’ শব্দটি মূলত পরকালের জ্ঞান, নফসের সূক্ষ্ম বিষয়াবলী ও আপদসমূহ চেনা, আমল বিনষ্টকারী বিষয়গুলোর জ্ঞান লাভ করা, দুনিয়ার তুচ্ছতা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত হওয়া, পরকালের নেয়ামতের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা রাখা এবং অন্তরে ভয় প্রবল থাকা অর্থে ব্যবহৃত হতো।” তিনি আরও বলেন: “আমি এ কথা বলছি না যে, প্রকাশ্য আহকাম বা বিধিবিধানের ফতোয়ার ক্ষেত্রে ফিকহ শব্দের প্রয়োগ ছিল না; বরং তা ছিল ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে, পরবর্তী যুগে যেভাবে কেবল নির্দিষ্ট বিষয়ে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে সেভাবে নয়।” (১)।

কতিপয় আলিম ফিকহ শব্দের এই নানাবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করেছেন এবং এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যা সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। তিনি বলেন: “ফিকহ হলো নফসের নিজের জন্য উপকারী ও ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।” এটি বিশ্বাসগত ও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে। অতঃপর যদি এই সংজ্ঞার সাথে ‘আমলের ক্ষেত্রে’ শব্দটি যোগ করা হয়, তবে ইলমুল কালাম ও তাসাউফ এর গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়। (২)।

 

ইসলামি ফিকহের বিবর্তনের পর্যায়সমূহ: (৩)।

 

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামের পূর্বে আরবদের মধ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রথা এবং বাণিজ্যিক ও যুদ্ধকালীন সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। এসব সম্পর্ক, অভ্যাস ও আচারের কিছু অংশ ছিল ইবরাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের দ্বীনের অবশিষ্টাংশ, যা আরবরা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে বিকৃত বা সঠিক অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল। কিছু অংশ তাদের মুরুভূমি বা যাযাবর জীবনপ্রকৃতির কারণে গড়ে উঠেছিল। আবার তৃতীয় এক প্রকারের বিষয়গুলো ছিল পার্শ্ববর্তী জাতিগোষ্ঠীর সাথে তাদের মেলামেশা এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবের ফল। বিভিন্ন উৎস থেকে উৎসারিত এসব অভ্যাস ও প্রথা আইনের মর্যাদা পেত, বরং এগুলোই ছিল তাদের মধ্যে প্রচলিত আইন। অতঃপর যখন ইসলাম আসল, তখন তা বাতিল করল—

--------------------------------------------

(১) দেখুন গাযালি রচিত “ইহয়াউ উলুমিদ্দিন”: ১/ ২১ - ২৮। আল-মাতবাআহ আল-আযহারিয়্যাহ আল-মিসরিয়্যাহ ১৩১৬ হিজরি।

(২) দেখুন সদরুশ শারীআহ রচিত “আত-তাওদীহ আলাত তানকীহ”: ১/ ৬৮। আল-মাতবাআতুল খাইরিয়্যাহ, মিশর ১৩০৬ হিজরি।

(৩) দেখুন “মাওসুআতু জামাল আবদিন নাসির ফিল ফিকহিল ইসলামি”: প্রথম খণ্ড, এতে ফিকহের সকল দিকের ওপর মূল্যবান গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে: পৃষ্ঠা ৯ ও ৫৯ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২২)
الأعراف الفاسدة، والعادات السيئة وأبقى على ما كان منها صالحًا أو تناوله بالتهذيب والتقويم، كقولهم في القصاص: «القَتْلُ أَنْفَى لِلْقَتْلِ»، وكحكمهم بأن الدية على العاقلة، إلى غير ذلك من القواعد القليلة التي كانت شائعة بينهم والتي لم تكن تكفي لسد حاجات شَعْبٍ مُتَحَضِّرٍ.

وقد قسم الأستاذ مصطفى الزرقا الأدوار التي مر بها الفقه الإسلامي إلى سبعة أدوار:

1 - عصر حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، وكانت سلطة التشريع والفتوى والقضاء بيده وحده، ولم يترك عليه السلام فِقْهًا مُدَوَّنًا، وإنما ترك جملة من الأصول والقواعد الكلية والأحكام الجزئية مثبوتة في القرآن والسنة.

2 - عصر الخلفاء فما بعده إلى منتصف القرن الأول حيث استبد الأمويون بالأمر. وهذان الدوران هما المرحلة التمهيدية للفقه الإسلامي.

3 - من منتصف القرن الأول إلى أوائل القرن الثاني، حيث استقل علم الفقه وأصبح اختصاصًا يقصر العلماء جهودهم عليه، وتكونت المدارس الفقهية أو الاجتهادات المسماة بالمذاهب. وهذا الدور هو المرحلة التأسيسية في الفقه.

4 - من أوائل القرن الثاني إلى منتصف القرن الرابع، حيث بلغ الفقه الأوج في الاجتهاد والتدوين والتفريغ المذهبي، وتم فيه وضع أصول الفقه وتكامل. وهذا الدور هو دور الكمال في الفقه الإسلامي.

5 - من منتصف القرن الرابع إلى سقوط بغداد في أيدي التتار في منتصف القرن السابع وفيه نشطت حركة التحرير والتخريج والترجيح في المذاهب مع غلبة التقليد والتعصب.
ভ্রষ্ট প্রথা ও মন্দ অভ্যাসসমূহ বাতিল করা হয়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে যা কল্যাণকর ছিল তা বহাল রাখা হয়েছে অথবা পরিমার্জন ও সংশোধনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন কিসাস সম্পর্কে তাদের প্রবাদ: "হত্যাই হত্যাকে সবচেয়ে বেশি রোধ করে", এবং তাদের এই নিয়ম যে রক্তপণ ‘আকিলা’র (হত্যাকারীর পিতৃকুলীয় আত্মীয়দের) ওপর বর্তাবে। এ জাতীয় আরও কিছু সীমিত নিয়ম তাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, যা একটি সভ্য জাতির প্রয়োজন পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

অধ্যাপক মোস্তফা আল-জারকা ইসলামী ফিকহ যে পর্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে সেগুলোকে সাতটি যুগে বিভক্ত করেছেন:

১ - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকাল; তখন আইন প্রণয়ন, ফতোয়া প্রদান এবং বিচারিক ক্ষমতা একমাত্র তাঁর হাতেই ছিল। তিনি আলাইহিস সালাম কোনো সংকলিত ফিকহ রেখে যাননি, বরং কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে সংরক্ষিত একগুচ্ছ মূলনীতি, সামষ্টিক নিয়মাবলি এবং শাখা-প্রশাখাগত বিধান রেখে গেছেন।

২ - খলিফাদের যুগ এবং তার পরবর্তী সময় থেকে প্রথম হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত, যখন উমাইয়ারা শাসন ক্ষমতা দখল করে। এই দুটি যুগ হলো ইসলামী ফিকহের প্রাথমিক পর্যায়।

৩ - প্রথম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত; যখন ফিকহ শাস্ত্র স্বতন্ত্র রূপ লাভ করে এবং এটি এমন একটি বিশেষত্বে পরিণত হয় যে ওলামায়ে কেরাম এতেই নিজেদের প্রচেষ্টা নিবদ্ধ করেন। এই সময়েই ফিকহি মাযহাব বা ইজতিহাদ নামে পরিচিত মাযহাবগুলোর উদ্ভব ঘটে। এই যুগটি হলো ফিকহের ভিত্তি স্থাপনকাল।

৪ - দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত; যখন ফিকহ ইজতিহাদ, সংকলন এবং মাযহাবগত শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের চরম শিখরে পৌঁছেছিল। এই যুগেই উসূলে ফিকহ বা ফিকহের মূলনীতিসমূহ প্রণীত ও পূর্ণতা লাভ করে। এই যুগটি হলো ইসলামী ফিকহের পূর্ণতা প্রাপ্তির যুগ।

৫ - চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগে তাতারীদের হাতে বাগদাদের পতন পর্যন্ত; এই যুগে মাযহাবগুলোর মধ্যে পরিমার্জন, উদ্ভাবন এবং অগ্রাধিকার প্রদানের কার্যক্রম জোরালো হয়, যদিও তখন অন্ধ অনুসরণ ও গোঁড়ামির প্রভাব প্রবল ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২৩)
6 - من منتصف القرن السابع إلى ظهور " مجلة الأحكام العدلية " سنة 1286 هـ، والتي عمل بها منذ سنة 1292 هـ. وهذا هو دور الانحطاط الفقهي.

7 - منذ ظهور المجلة إلى اليوم (1).

ولقد يختلف المؤرخون للفقه الإسلامي في تحديدهم للمراحل التي مر بها تطور الفقه، تبعًا لاعتبارات خاصة، وسمات معينة تميز في نظرهم مراحله المختلفة. لهذا فإني أرى أن المرحلتين الثانية والثالثة من هذه المراحل المذكورة تشكلان مرحلة واحدة يمكن أن نطلق عليها (عصر الصحابة والتابعين) كما يلاحظ أَنَّ تَكَوُّنَ المَذَاهِبِ الفِقْهِيَّةِ قد بدأ حقيقة منذ العقود الأولى من القرن الثاني، ولكن حركة هذا التكوين قد استمرت حتى أواخر القرن الثالث، كما يجدر بنا أن نشيد بالنهضة الفقهية في العصر الحديث، فإن المتأمل في حال الفقه الإسلامي اليوم يستطيع أن يرى حياة جديدة تسري في أعضائه وتموج في جنباته فتحرك كيانه وتنفض عنه ركود السنين وتزيل كثبان الجمود التي جمعتها الأحقاب المتتابعة وتدعوه إلى ورود منابعه الأصلية الصافية، بعيدًا عن التقليد والتعصب وتطالبه بأن ينزل إلى معترك الحياة فيُدلي برأيه في هذا المجتمع الحديث، ويعمل على حل مشكلاته، وإنه على هذا قدير، وله كفء، فقد أثبت الذين قاموا بدراسات مقارنة بين الفقه الإسلامي والقانون الوضعي أن الفقه الإسلامي عظيم وأصيل، ومرن وشامل.

ولا شك أن نهضة الفقه في هذا العصر هي نتيجة لجهود سبقت، ودعوات للإصلاح لم يعدم الإسلام طائفة تنادي بها حتى أحلك العصور (2).

--------------------------------------------

(1) انظر " المدخل " للزرقا: 1/ 122 - 125 من المجلد الأول.

(2) في النهضة الفقهية الحديثة والاتجاه إلى الفقه المقارن انظر " تاريخ التشريع الإسلامي =
৬ - সপ্তম হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ১২৮৬ হিজরি সনে "মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যাহ" এর আবির্ভাব পর্যন্ত, যা ১২৯২ হিজরি সন থেকে কার্যকর করা হয়েছিল। এটিই ফিকহী অবক্ষয়ের যুগ।

৭ - মাজাল্লাহর আবির্ভাব থেকে আজ পর্যন্ত (১)।

ইসলামী ফিকহের ইতিহাসবিদগণ ফিকহের বিবর্তনের পর্যায়গুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কিছু বিবেচনা এবং নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন, যা তাদের দৃষ্টিতে বিভিন্ন পর্যায়কে পৃথক করে। এই কারণে আমি মনে করি যে, উল্লিখিত এই পর্যায়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় মিলে একটি একক পর্যায় গঠন করে, যাকে আমরা (সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগ) হিসেবে অভিহিত করতে পারি। যেমনটি লক্ষ্য করা যায় যে, ফিকহী মাযহাবগুলোর গঠন প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শুরুর দশকগুলো থেকেই আরম্ভ হয়েছিল, তবে এই গঠনের প্রক্রিয়াটি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। একইভাবে বর্তমান যুগে ফিকহী পুনর্জাগরণের প্রশংসা করা আমাদের জন্য সমীচীন। কেননা বর্তমান ইসলামী ফিকহের অবস্থার ওপর গভীর দৃষ্টিপাতকারী এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে একটি নতুন প্রাণের সঞ্চার এবং এর পরতে পরতে স্পন্দন লক্ষ্য করতে পারবেন যা এর সত্তাকে আন্দোলিত করছে, বছরের পর বছর ধরে জেঁকে বসা স্থবিরতাকে ঝেড়ে ফেলছে এবং যুগের পর যুগ ধরে পুঞ্জীভূত জড়তার স্তূপ অপসারণ করছে। এটি ফিকহকে তার আসল ও স্বচ্ছ উৎসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যা হবে অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত। এটি ফিকহকে জীবনের কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হতে দাবি করছে যাতে সে এই আধুনিক সমাজে নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে পারে এবং এর সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে। নিশ্চয়ই ফিকহ এর ওপর সক্ষম এবং এর জন্য উপযুক্ত। যারা ইসলামী ফিকহ এবং মানবরচিত আইনের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেছেন, তারা প্রমাণ করেছেন যে ইসলামী ফিকহ মহান, মৌলিক, নমনীয় এবং ব্যাপক।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই যুগে ফিকহের যে পুনর্জাগরণ ঘটেছে তা পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা এবং সংস্কারের আহ্বানেরই ফল। এমনকি চরম অন্ধকারের যুগেও ইসলামে এমন এক দল বিদ্যমান ছিল যারা সংস্কারের ডাক দিয়েছিল (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন যারকার রচিত "আল-মাদখাল": ১ম খণ্ডের ১২২ - ১২৫ পৃষ্ঠা।

(২) আধুনিক ফিকহী পুনর্জাগরণ এবং তুলনামূলক ফিকহের ঝোঁক সম্পর্কে দেখুন "তারিখুত তাশরি' আল-ইসলামি" =
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২৪)
عَلَاقَةُ الحَدِيثِ بِالفِقْهِ:

 

والحديث يساند القرآن الكريم في تقديم مادة الفقه، فمن نصوصهما صيغت القواعد واستنبطت الأحكام، ولا غنى للباحث في الفقه الإسلامي عن الحديث لأنه المُبَيِّنُ لِلْقُرْآنِ، المُفَصِّلُ لِمُجْمَلِهِ، المُقيِّدُ لِمُطْلَقِهِ، المُخَصِّصُ لِعَامِّهِ، المُعَبِّرُ عن روحه واتجاهه.

وعلاقة الفقه بالحديث علاقة وثيقة متلازمة، نشأت منذ عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، فعندما ينطق الرسول بحديث تشريعي إنما يقرر حكمًا، وعندما تعرض له عليه الصلاة والسلام حالة من القضاء إنما يفصل فيها بحديث، ولهذا لم يكن البحث عن الحديث لمجرد جمعه في دواوين، أو المحافظة عليه من الضياع - وإن كان هذا في ذاته جليلة - وإنما كان البحث عن الأحكام التي تقررها الأحاديث هو الدافع الأول والأهم، ولهذا لم يكن في عصر الصحابة والتابعين فاصل بين المحدث والفقيه، حتى إذا وجد من يتخصص في استنباط الأحكام من القرآن والحديث، ومن يتخصص في رواية الأحاديث ونقدها ومعرفة إسنادها وعللها - أخذ الحديث ينفصل عن الفقه، وبدأ المحدث يتميز عن الفقيه، واقتضى هذا الفصل فترة من الزمن استغرقت جل القرن الثاني، فقد وجدنا في هذا القرن كُتُبًا اختلطت فيها الأحاديث بالأحكام وآراء الصحابة والتابعين وآراء المؤلف كما هو واضح في " موطأ " الإمام مالك رضي الله عنه الذي يمثل بحق مرحلة متوسطة بين دمج الحديث بالفقه وانفصالهما كل في كتب خاصة، وكما يتضح في كتاب " المجموع " المنسوب للإمام زيد (ت 121) والذي ألفه في مطلع القرن الثاني على أننا ينبغي أن نلاحظ أن الحديث لم ينس علاقته بالفقه، حتى

--------------------------------------------

= ومصادره " للأستاذ محمد سلام مدكور: ص 130، 138، والمصدر نفسه: 200، 204 في مراحل تدوين الفقه.
হাদিসের সাথে ফিকহ্-এর সম্পর্ক:

 

কুরআনুল কারীমের পাশাপাশি হাদিসও ফিকহ শাস্ত্রের উপাদান সরবরাহে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই দুইয়ের মূল পাঠ (নস) থেকেই মূলনীতিসমূহ কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে এবং বিধানাবলি আহরণ করা হয়েছে। ইসলামি ফিকহ্-এর কোনো গবেষকের পক্ষেই হাদিস থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়; কারণ হাদিস হলো কুরআনের বিশদ ব্যাখ্যাকারী, এর সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনাকারী, এর নিঃশর্ত বিষয়ের সীমাবদ্ধকারী, এর সাধারণ বিষয়ের বিশেষত্ব দানকারী এবং কুরআনের মর্ম ও অভিলক্ষ্যের সার্থক বহিঃপ্রকাশকারী।

ফিকহ্ ও হাদিসের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ থেকেই গড়ে উঠেছে। রাসূলুল্লাহ যখন কোনো বিধানগত হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি মূলত একটি শারঈ বিধানই নির্ধারণ করতেন। আবার যখন তাঁর কাছে কোনো বিচারিক বিষয় পেশ করা হতো, তখন তিনি হাদিসের মাধ্যমেই তার ফয়সালা দিতেন। এ কারণেই হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্য কেবল দিওয়ান বা সংকলনসমূহে তা একত্রিত করা বা একে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করা ছিল না—যদিও এটি স্বয়ং একটি মহৎ কাজ—বরং হাদিস দ্বারা নির্ধারিত বিধানাবলি অনুসন্ধান করাই ছিল প্রাথমিক ও প্রধান চালিকাশক্তি। এ কারণে সাহাবী ও তাবিঈদের যুগে মুহাদ্দিস ও ফকীহ্-এর মধ্যে কোনো বিভেদরেখা ছিল না। পরবর্তীতে যখন কুরআন ও হাদিস থেকে বিধান আহরণে একদল বিশেষজ্ঞ এবং হাদিস বর্ণনা, এর সমালোচনা, সনদ ও ত্রুটিসমূহ (ইল্লাত) নির্ণয়ে অন্য একদল বিশেষজ্ঞ তৈরি হলেন, তখন ফিকহ্ থেকে হাদিস স্বতন্ত্র হতে শুরু করল এবং মুহাদ্দিস ও ফকীহ্-এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেতে লাগল। এই পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ায় এমন একটি সময় অতিবাহিত হয়েছে যা প্রায় সমগ্র দ্বিতীয় শতাব্দী জুড়ে বিস্তৃত ছিল। আমরা এই শতাব্দীতে এমন কিছু গ্রন্থ পাই যেখানে হাদিসের সাথে ফিকহি বিধান, সাহাবী ও তাবিঈদের মতামত এবং লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি সংমিশ্রিত অবস্থায় ছিল। যেমনটি ইমাম মালিক (রা.)-এর 'মুওয়াত্তা' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা ফিকহ্ ও হাদিসের একীভূত অবস্থা এবং এ দুটির স্বতন্ত্র গ্রন্থে বিভাজনের মধ্যবর্তী পর্যায়ের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করে। ইমাম যাইদ (মৃত্যু ১২১ হি.)-এর প্রতি সম্বন্ধিত 'আল-মাজমু' গ্রন্থেও এটি স্পষ্ট, যা দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে রচিত হয়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্য করা উচিত যে, হাদিস ফিকহ্-এর সাথে তার সম্পর্কের কথা বিস্মৃত হয়নি, এমনকি...

--------------------------------------------

= এবং এর উৎসসমূহ", অধ্যাপক মুহাম্মদ সালাম মাদিকুর: পৃষ্ঠা ১৩০, ১৩৮ এবং একই উৎস: পৃষ্ঠা ২০০, ২০৪, ফিকহ্ সংকলনের পর্যায়সমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২৫)
عندما أصبح له دواوين مستقلة متمثلة في الجوامع والسنن، وهو ما جعل مؤلفي هذه الكتب يراعون في ترتيبها أن تكون على أبواب الفقه، وسيأتي تفصيل ذلك إن شاء الله.

 

فَضْلُ الفِقْهِ وَالفُقَهَاءِ:

 

قال الله عز وجل {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} (1) وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» (2) وروى ابن ماجه عن ابن عباس مرفوعًا: «فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ» (3). وروى الخطيب بسنده عن أبي هريرة يرفعه: «مَا عُبِدَ اللَّهُ بِشَيْءٍ أَفْضَلَ مِنَ الفِقْهِ في الدِّينِ» (4)، وقال أبو هريرة: «لَأَنْ أَفْقَهُ سَاعَةً أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُحْيِيَ لَيْلَةً أُصَلِّيهَا حَتَّى أُصْبِحَ، وَالفَقِيهُ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ، وَلِكُلِّ دِعَامَةٌ، وَدِعَامَةُ الدِّينِ الفِقْهُ» (5). وروى الرامهرمزي عَنْ البُخَارِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ المَدِينِيِّ يَقُولُ: «التَّفَقُّهُ فِي مَعَانِي الحَدِيثِ نِصْفُ العِلْمِ، وَمَعْرِفَةُ الرِّجَالِ نِصْفُ العِلْمِ» (6).

--------------------------------------------

(1) [التوبة: 122].

(2) " البخاري بحاشية السندي ": 1/ 15؛ و" سنن ابن ماجه ": 1/ 8؛ و " جامع بيان العلم ": 1/ 19.

(3) " سنن ابن ماجه ": 1/ 8؛ ورواه الخطيب في " الجامع ": لوحة 131 من قول أبي هريرة.

(4) " الجامع لأخلاق الراوي ": لوحة 131؛ ورواه ابن عبد البر في " جامع بيان العلم ": 1/ 24 من قول الزهري؛ ورواه صاحب " مجمع الزوائد ": 1/ 131 نقلاً عن الطبراني في " الأوسط " وزاد فيه جزءًا من قول أبي هريرة التالي وقال: فيه يزيد بن عياض وهو كذاب.

(5) المصدران السابقان الأولان في الهامش السابق.

(6) " المحدث الفاصل ".
যখন এর জন্য জাওয়ামি এবং সুনান গ্রন্থসমূহের আকারে স্বতন্ত্র সংকলন তৈরি হলো, তখন এই কিতাবগুলোর লেখকগণ সেগুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে ফিকহী অধ্যায়গুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন। ইনশাআল্লাহ এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

 

ফিকহ ও ফকিহগণের মর্যাদা:

 

মহান আল্লাহ বলেছেন, {তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের কওমের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সাবধান হয়।} (১) এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন।" (২) এবং ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "একজন ফকিহ শয়তানের কাছে এক হাজার আবেদের (ইবাদতকারী) চেয়েও বেশি কঠিন।" (৩)। এবং আল-খাতিব তার সনদসহ আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জনের চেয়ে উত্তম কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি।" (৪), এবং আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "মুহূর্তকাল ফিকহ চর্চা করা আমার কাছে সারারাত জেগে সকাল পর্যন্ত সালাত আদায় করার চেয়েও বেশি প্রিয়। আর একজন ফকিহ শয়তানের কাছে এক হাজার আবেদের চেয়েও বেশি কঠিন। প্রত্যেক জিনিসেরই একটি খুঁটি থাকে, আর দ্বীনের খুঁটি হলো ফিকহ।" (৫)। এবং রামহুরমুজি ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছি: "হাদিসের মর্মার্থ বোঝা (তাফাক্কুহ) হলো অর্ধেক জ্ঞান, আর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) পরিচয় জানা হলো অর্ধেক জ্ঞান।" (৬)।

--------------------------------------------

(১) [আত-তাওবাহ: ১২২]।

(২) "আল-বুখারী বি-হাশিয়াতিস সিন্দি": ১/১৫; এবং "সুনান ইবনে মাজাহ": ১/৮; এবং "জামি' বয়ানিল ইলম": ১/১৯।

(৩) "সুনান ইবনে মাজাহ": ১/৮; এবং আল-খাতিব এটি "আল-জামি" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: পাণ্ডুলিপি ১৩১, আবু হুরায়রার উক্তি হিসেবে।

(৪) "আল-জামি' লি-আখলাকির রাবি": পাণ্ডুলিপি ১৩১; এবং ইবনে আবদিল বার এটি "জামি' বয়ানিল ইলম": ১/২৪ গ্রন্থে যুহরীর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন; এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ" এর লেখক এটি বর্ণনা করেছেন: ১/১৩১, আত-তাবারানির "আল-আওসাত" থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে এবং তাতে আবু হুরায়রার পরবর্তী উক্তির একাংশ যোগ করেছেন এবং বলেছেন: এতে ইয়াজিদ বিন ইয়াদ রয়েছে এবং সে একজন মিথ্যাবাদী।

(৫) পূর্ববর্তী টীকাভুক্ত প্রথম দুটি উৎস।

(৬) "আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল"।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذه النصوص وكثير غيرها تنبئ عن أهمية الفقه ، وبالتالي عن مكانة الفقيه لأن الإسلام يحرص على العلم وَيُجِلُّ العُلَمَاءَ، ويسند إليهم ما هو من وظيفة الأنبياء، فالله تعالى يقول: {إِنَّمَا أَنْتَ نَذِيرٌ} (1)، {وَأَنْذِرِ النَّاسَ} (2)، {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} (3). هذا (الإنذار) الذي أمر به النبي صلى الله عليه وسلم قد كلف به العلماء وأمروا بالتفقه من أجله {لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ} (4)، ولهذا كان للفقيه في الإسلام مركز الريادة والتوجيه، والإنكار والتقويم والإرشاد إلى النهج الواضح في شؤون الدين والدنيا، منصاعًا لمبدأ الإسلام في المزج بينهما مزجًا تامًا تجعل فيه الدنيا مزرعة للآخرة، وتجعل فيه الآخرة حافزًا على الإنتاج والعمل الصالح في الدنيا.

ولهذا كان علماء الدين في الإسلام عنوانًا لمستوى السلوك في المجتمع الإسلامي وكتابًا تُدوَّنُ فيه أدوار القوة والضعف التي يمر بها، وميزانًا يوزن به استمساكه بالقيم الدينية ومقومات حياته الروحية أو إهداره لهذه القيم: فحيث وجد علماء يرفعون لواء الحق ولا يبالون بما يلقون في سبيله فإننا نحكم بوجود روح دينية عامة. وحيث ينغمس علماء الدين في ترف الحياة، ويفقدون استقلالهم الفكري فيجعلون الحق طوعًا لمن يملك الرهبة أو الرغبة - فإننا نحكم بأن القيم الدينية تمر بأزمة حادة لأن خطورة عالم الدين أو الفقيه تتركز في أنه مَثَلٌ وَقُدْوَةٌ وأن له خبرة في الأحكام فقوله فيها مصدق، ورأيه فيها له وزنه، فإذا لم يكن لديه من فقهه ما يَزَعُهُ عن تنكب الطريق - كان له أثر بالغ في تشويه الدين وتضليل العامة، وهذا ما حدا بعض العلماء إلى التنبيه على خطورة اقتصار الفقيه على معرفة الأحكام، بَلْ صَرَّحَ الغزالي بأن المشاهد أن التجرد لمعرفة هذه الأحكام يقسي القلب

--------------------------------------------

(1) [هود: 12].

(2) [إبراهيم: 44].

(3) [الشعراء: 214].

(4) [التوبة: 122].
এই পাঠ্যসমূহ এবং এর মতো আরও অনেক কিছু ফিকহের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করে, এবং ফলস্বরূপ ফকীহের মর্যাদা সম্পর্কেও। কারণ ইসলাম জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী এবং উলামাদের সম্মান করে, আর তাদের ওপর সেই দায়িত্ব অর্পণ করে যা নবীদের কাজ ছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আপনি একজন সতর্ককারী মাত্র} (১), {এবং মানুষকে সতর্ক করুন} (২), {এবং আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} (৩)। এই (সতর্ক করা) যার নির্দেশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেওয়া হয়েছে, তা উলামাদের ওপরও অর্পণ করা হয়েছে এবং এ উদ্দেশ্যেই তাদের দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের (তাফাক্কুহ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে {যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে} (৪)। এই কারণেই ইসলামে ফকীহ নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা, অন্যায়ের প্রতিবাদ, সংশোধন এবং দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে স্পষ্ট পথের দিকে পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। তারা ইসলামের সেই নীতির অনুসারী ছিলেন যা এই দুটির মাঝে এমন পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় ঘটায় যাতে দুনিয়াকে আখেরাতের শস্যক্ষেত্র বানানো হয় এবং আখেরাতকে দুনিয়াতে উৎপাদন ও নেক আমলের প্রেরণা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

এই কারণে ইসলামে দ্বীনি আলেমগণ ছিলেন ইসলামী সমাজের আচরণের মানের প্রতীক এবং একটি কিতাবস্বরূপ যাতে সমাজের শক্তি ও দুর্বলতার পর্যায়গুলো লিপিবদ্ধ হয়; এটি একটি তুলাদণ্ড যার মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক জীবনের উপাদানের প্রতি সমাজের দৃঢ়তা অথবা এই মূল্যবোধের বিসর্জনের বিষয়টি পরিমাপ করা হয়। ফলে যেখানে এমন আলেম পাওয়া যায় যারা সত্যের পতাকা উড্ডীন করেন এবং এর পথে আসা কোনো কিছুর পরোয়া করেন না, তখন আমরা সেখানে সাধারণ ধর্মীয় চেতনার অস্তিত্বের রায় দেই। আর যেখানে দ্বীনি আলেমগণ বিলাসবহুল জীবনে নিমজ্জিত হন এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেন, ফলে সত্যকে এমন ব্যক্তির অনুগত করে দেন যার কাছে ভীতি প্রদর্শন বা প্রলুব্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে—তখন আমরা রায় দেই যে ধর্মীয় মূল্যবোধ এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ দ্বীনি আলেম বা ফকীহের গুরুত্ব এই বিষয়টির ওপর নির্ভরশীল যে তিনি হলেন একটি আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং আহকামের (বিধান) বিষয়ে তার বিশেষ ব্যুৎপত্তি রয়েছে, তাই সে বিষয়ে তার বক্তব্য সমর্থিত হয় এবং তার মতামতের গুরুত্ব থাকে। সুতরাং তার যদি ফিকহ থেকে এমন কোনো চেতনা না থাকে যা তাকে ভুল পথে চলা থেকে বিরত রাখবে, তবে এটি দ্বীনকে বিকৃত করতে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। আর এটাই কিছু আলেমকে এই সতর্কবাণী দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে যে, ফকীহের জ্ঞান কেবল বিধান জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা কতটা বিপজ্জনক। এমনকি ইমাম আল-গাজ্জালী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এটি প্রত্যক্ষ করা গেছে যে কেবল এই বিধানসমূহ জানার পেছনে নিজেকে উৎসর্গ করা অন্তরকে কঠোর করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) [হুদ: ১২]।

(২) [ইবরাহীম: ৪৪]।

(৩) [আশ-শুআরা: ২১৪]।

(৪) [আত-তাওবাহ: ১২২]।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وينزع الخشية منه (1).

إنَّ النصوص التي أشادت بالعلماء والفقهاء إنما امتدحتهم إذا امتلأت قلوبهم بالتقوى ونفوسهم بالخشية وإذا نصبوا من أنفسهم أعوانًا على الحق، إن قوله تعالى في مدح العلماء: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} قد سبقه مباشرة قول الله عز وجل {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ} (2).

--------------------------------------------

(1) انظر " إحياء علوم الدين ": 1/ 28.

(2) [الزمر: 9].
এবং তাঁর থেকে ভীতি ছিনিয়ে নেওয়া হয় (১)।

নিশ্চয়ই আলেম ও ফকিহগণের প্রশংসায় বর্ণিত দলিলসমূহ কেবল তখনই তাঁদের প্রশংসা করেছে যখন তাঁদের অন্তর তাকওয়ায় পূর্ণ থাকে এবং তাঁদের নফস খোদাভীতিতে আপ্লুত হয়, আর যখন তাঁরা নিজেদেরকে সত্যের সাহায্যকারী হিসেবে নিয়োজিত করেন। আলেমদের প্রশংসায় মহান আল্লাহর এই বাণী: "বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?" এর ঠিক পূর্বেই মহান আল্লাহর এই বাণী এসেছে: "নাকি সেই ব্যক্তি (উত্তম), যে রাতের প্রহরগুলোতে সেজদারত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় আনুগত্য প্রকাশ করে, পরকালকে ভয় করে এবং তাঁর রবের রহমতের আশা রাখে?" (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন "ইহয়াউ উলুমিদ্দিন": ১/২৮।

(২) [যুমার: ৯]।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌البَابُ الأَوَّلُ: المَدْرَسَةُ الفِقْهِيَّةُ لِلْمُحَدِّثِينَ:

• الفصل الأول: أهل الحديث وأهل الرأي.

 

• الفصل الثاني: الخصومة بين المُحَدِّثِينَ وغيرهم.

 

• الفصل الثالث: فقهاء المُحَدِّثِينَ ومذهب أهل الحديث.

 

• الفصل الرابع: رُواة الحديث من الصحابة وتأثيرهم في أهل الحديث.
প্রথম অধ্যায়: মুহাদ্দিসগণের ফিকহি ঘরানা:

• প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলে হাদিস ও আহলে রায়।

 

• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাদ্দিস ও অন্যদের মধ্যবর্তী বিরোধ।

 

• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাদ্দিস ফকিহগণ এবং আহলে হাদিসের মাযহাব।

 

• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাহাবীদের মধ্য থেকে হাদিস বর্ণনাকারীগণ এবং আহলে হাদিসের ওপর তাঁদের প্রভাব।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الفَصْلُ الأَوَّلُ: أَهْلُ الحَدِيثِ وَأَهْلُ الرَّأْيِ:

‌‌(تَتَبُّعٌ وَتَحْدِيدٌ):

الاتجاهات الفقهية لأهل الحديث لا يتصور أن نضع يدنا عليها إلا بعد أن نعرف أولاً من هم المُحَدِّثُونَ؟ ومن هم أهل الرأي؟ حتى يمكن التمييز بينهما.

وقد يبدو للوهلة الأولى أن الإجابة عن هذا السؤال أمر سهل ميسّر ولكن الخلط الذي يلحظه مطالع كتب الفقه والتاريخ، وما يرى فيه من اختلاف الأنظار في الشخص الواحد فِي عَدِّهِ من أهل الحديث أو من أهل الرأي - هذا الخلط يحمل الإنسان على الحذر من الإجابة الفورية، ويحثه على الأناة والتتبع حتى تكون إجابته أقرب إلى الحق، وأميل للصواب.

والحق أنه ما من كتاب في التاريخ الإسلامي بعامة، أو في تاريخ التشريع بخاصة، في القديم والحديث إلا تطالعك بعد صفحات قليلة أو كثيرة منه هذه العبارة (أَهْلِ الحَدِيثِ وَأَهْلِ الرَّأْيِ)، يتناقلها المؤرخون، ويتداولها الدارسون.

وإذا استثنينا قليلاً من المحققين الذين وقفوا عند هذه العبارة محاولين الرجوع بها إلى أصل إطلاقها، ومسمى أهلها، فإن الكثرة الغالبة من المؤرخين كانوا يذكرونها نقلاً عمن سبقهم، وتقليدًا لهم، دون عناية بمعرفة حقيقة هذا الإطلاق، ودون إدراك لعامل الزمن في تطويره لهذا المصطلح، بما يجعل إطلاقه غير متساوٍ تمامًا في عصرين مختلفين.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলে হাদিস ও আহলে রায়:

(অনুসন্ধান ও সংজ্ঞায়ন):

আহলে হাদিসের ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গিগুলো চিহ্নিত করা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্পনা করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আমরা প্রথমে এটি জানতে পারি যে, মুহাদ্দিসগণ কারা? এবং আহলে রায় কারা? যাতে তাদের উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়।

প্রথম দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অত্যন্ত সহজ ও সরল একটি বিষয়। কিন্তু ফিকহ ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলি পাঠকারী যে বিভ্রান্তি বা সংমিশ্রণ লক্ষ্য করেন এবং একই ব্যক্তিকে আহলে হাদিস নাকি আহলে রায়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির যে ভিন্নতা সেখানে পরিলক্ষিত হয়, সেই বিভ্রান্তি মানুষকে তাৎক্ষণিক উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে বাধ্য করে। এটি তাকে ধীরস্থিরতা ও গভীর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহিত করে, যাতে তার উত্তরটি সত্যের অধিক নিকটবর্তী এবং সঠিক হওয়ার দিকে অধিক ধাবিত হয়।

প্রকৃতপক্ষে, সাধারণ ইসলামের ইতিহাস কিংবা বিশেষভাবে ইসলামি আইন প্রণয়নের ইতিহাসের প্রাচীন বা আধুনিক এমন কোনো কিতাব নেই, যার অল্প কিংবা অধিক কিছু পৃষ্ঠা উল্টানোর পরই আপনার সামনে ‘আহলে হাদিস ও আহলে রায়’ এই পরিভাষাটি ভেসে উঠবে না। ঐতিহাসিকগণ এটি যুগ যুগ ধরে বর্ণনা করে আসছেন এবং গবেষকগণ এটি নিয়ে আলোচনা করছেন।

যদি আমরা সেই স্বল্পসংখ্যক গবেষককে ব্যতিক্রম ধরি যারা এই পরিভাষাটির ওপর আলোকপাত করেছেন এবং এর প্রয়োগের মূল উৎস ও এর দ্বারা উদ্দিষ্ট ব্যক্তিদের নামকরণের স্বরূপ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছেন, তবে দেখা যায় যে, অধিকাংশ ঐতিহাসিকই তাদের পূর্বসূরিদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে এবং তাদের অন্ধ অনুকরণ করে এটি উল্লেখ করেছেন। এই প্রয়োগের প্রকৃত রূপ জানার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা এবং এই পরিভাষাটির বিবর্তনে সময়ের প্রভাব উপলব্ধি করা ছাড়াই তারা এটি করেছেন; অথচ সময়ের বিবর্তনে দুটি ভিন্ন যুগে এই পরিভাষার প্রয়োগের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ অভিন্ন থাকে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকহিয়্যাহ ইনদা আসহাবিল হাদীস ফিল কারনিস স্যালিসিল হিজরী (পৃষ্ঠা: ৩২)
وبدهي ألا يُتاح لهذه العبارة أن تكون عَلَمًا على طائفتين في الفقه الإسلامي إلا بعد وجود هاتين الطائفتين في الواقع، وإلا بعد بروز الخصائص التي تميز إحداهما عن الأخرى. ولم يحدث في عصر الصحابة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ - أن وضح هذا التكوين للطائفتين، ولم يتجسم اختلافهم فيما اختلفوا فيه من مسائل، ولم يتطور حتى يتمخض عن وجود مدارس فقهية متنافسة في عصرهم وإن وضعوا بذورها.

وعلى الرغم من أن فتنة عثمان رضي الله عنه قد نشأ عنها انقسام المسلمين إلى شيعة وخوارج وجمهور، فإنه لم يكن بين هذه الفرق - ممن لم يخرج منهم بآرائه عن الإسلام - اختلافات في التشريع تستدعي إطلاق هذه العبارة على فريق منهم.

وفي عصر التابعين - ونتيجة لنزول أعداد كبيرة من الصحابة في البلدان المختلفة - نمت البذور التي غرسها الصحابة، واشتد عودها، فنشأ في البلدان المختلفة من التلاميذ من أعلن تمسكه واعتزازه بمن أخذ عنهم من الصحابة، واثقًا بما رواه عنهم، عاملاً به، مخضعًا حكم مَا يَجِدُّ من أحداث لما يفهمه من القرآن وما يرويه عنهم مِنْ سُنَّةٍ، وما أفتوا به من رأي مما يتلاءم مع بيئتهم وَعُرْفِهِمْ.

وعلى الرغم من أن هذه المدارس الفقهية قد تكونت في معظم الأمصار الإسلامية، فإن الأضواء في عصر التابعين تركزت على مدرستين هما: مدرسة الكوفة، ومدرسة المدينة، لعوامل توافرت فيهما، أبرزت زعامتهما للمدارس الفقهية. فالمدينة موطن الرسول صلى الله عليه وسلم وفيها قبره، وهي مقام جمهور الصحابة وعاصمة الخلافة الإسلامية حتى عهد عثمان.

والكوفة هي المنشأة الإسلامية الخالصة، التي خطها الصحابة وبنوها
এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, বাস্তবে এই দুই দলের অস্তিত্ব লাভের আগে এবং একে অপর থেকে পৃথক করার মতো বৈশিষ্ট্যগুলো সুস্পষ্ট হওয়ার আগে এই পরিভাষাটি ইসলামি ফিকহের দুটি দলের বিশেষ সংজ্ঞায় পরিণত হওয়া সম্ভব ছিল না। সাহাবিদের—আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন—যুগে এই দুই দলের গঠন স্পষ্ট হয়নি এবং যেসব বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল তা কোনো সুসংহত রূপ ধারণ করেনি। এমনকি তাঁদের যুগে এটি প্রতিদ্বন্দ্বী ফিকহি মাযহাব বা স্কুল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যদিও তাঁরা এর বীজ বপন করে গিয়েছিলেন।

উসমান—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—এর ফিতনার ফলে যদিও মুসলিমরা শিয়া, খারেজি ও সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমষ্টিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, তবুও এই দলগুলোর মধ্যে—যাঁদের মতামত তাঁদের ইসলাম থেকে বের করে দেয়নি—আইনগত বা বিধানগত ক্ষেত্রে এমন কোনো মতপার্থক্য ছিল না যা তাঁদের কোনো একটি দলের ওপর এই পরিভাষাটি প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।

তাবেয়িদের যুগে—ভিন্ন ভিন্ন জনপদে বিপুল সংখ্যক সাহাবির বসতি স্থাপনের ফলে—সাহাবিদের রোপণ করা সেই বীজগুলো বিকশিত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে বিভিন্ন জনপদে এমন সব ছাত্রের উদ্ভব হয় যারা সেই সব সাহাবির প্রতি নিজেদের সম্পৃক্ততা ও গর্ব প্রকাশ করেন যাঁদের কাছ থেকে তাঁরা জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের ওপর আস্থা রাখতেন, সে অনুযায়ী আমল করতেন এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির বিধান নির্ধারণে কুরআন থেকে তাঁদের উপলব্ধ জ্ঞান, সাহাবিদের থেকে বর্ণিত সুন্নাহ এবং তাঁদের প্রদত্ত সেই সব ইজতিহাদি মতামতের অনুসারী হতেন যা তাঁদের পরিবেশ ও রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

যদিও অধিকাংশ ইসলামি জনপদে এই ফিকহি স্কুলগুলো গঠিত হয়েছিল, তবুও তাবেয়িদের যুগে আলোকপাত মূলত দুটি স্কুলের ওপরই নিবদ্ধ ছিল: কুফা স্কুল এবং মদিনা স্কুল। কিছু বিশেষ উপাদানের উপস্থিতির কারণে এই দুটি স্কুল ফিকহি মাযহাবগুলোর মধ্যে নেতৃত্বে চলে আসে। মদিনা ছিল আল্লাহর রাসুল—আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—এর হিজরতস্থল এবং সেখানেই তাঁর সমাধি অবস্থিত। এটি ছিল অধিকাংশ সাহাবির আবাসস্থল এবং উসমানের যুগ পর্যন্ত ইসলামি খিলাফতের রাজধানী।

আর কুফা হলো একটি নিরেট ইসলামি জনপদ, যার পরিকল্পনা সাহাবিরাই করেছিলেন এবং তাঁরাই এটি নির্মাণ করেছিলেন।