(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: -)
جهود علماء المسلمين في نقد الكتاب المقدس من القرن الثامن الهجري إلى العصر الحاضر "عرض ونقد" القسم: الفرق والردود
الكتاب: جهود علماء المسلمين في نقد الكتاب المقدس من القرن الثامن الهجري إلى العصر الحاضر «عرض ونقد»
المؤلف: رمضان مصطفى الدسوقى حسنين (ت 1433هـ)
رسالة: دكتوراة - قسم الدعوة والثقافة الإسلامية بكلية أصول الدين والدعوة - جامعة الأزهر - فرع المنصورة / 1424 هـ - 2004 م
إشراف: أ. د/ عمارة نجيب محمَّد موسى
مناقشة كل من: أ. د/ فرج إبراهيم محمد الوصيف، وأ. د/ حسن عبد الحميد حسن
عدد الصفحات: 442
تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1435
অষ্টম হিজরি শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত বাইবেল সমালোচনায় মুসলিম স্কলারদের প্রচেষ্টা: "পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ" বিভাগ: ফেরকাসমূহ এবং খণ্ডন
গ্রন্থ: অষ্টম হিজরি শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত বাইবেল সমালোচনায় মুসলিম স্কলারদের প্রচেষ্টা: «পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ»
লেখক: রমজান মুস্তফা আদ-দাসুকি হাসনাইন (মৃত্যু: ১৪৩৩ হিজরি)
গবেষণাপত্র: পিএইচডি - উসুল আদ-দীন ও দাওয়াহ অনুষদের দাওয়াহ ও ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ - আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় - মানসুরা শাখা / ১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ড/ ইমারা নাজিব মুহাম্মদ মুসা
পরীক্ষকমণ্ডলী: প্রফেসর ড/ ফারাজ ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-ওয়াসিফ এবং প্রফেসর ড/ হাসান আব্দুল হামিদ হাসান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪২
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمَّد وعلى آله وصحبه والتابعين ومن سار على نهجهم إلى يوم الدين.
ثم أما بعد:
فلقد جاء الرسول صلى الله عليه وسلم على فترة من الرسل بنور وكتاب مبين، فأقام دولة وأسس أمة وربى رجالاً بذلوا أرواحهم في سبيل الله من أجل رفعة دينه فرحمة الله عليهم من سلف صالح ولله در من تبعهم من خلف. أولئك الذين رفعوا لواء الإِسلام وكان دين الواحد منهم لحمه ودمه؛ بل أغلى عنده من نفسه، فوقف يدافع عنه ضد الهجمات التى يشنها أعداء الإِسلام، ولازالوا يناصبونه العداء.
فمن يا تُرى وراء تلك الهجمات؟ إنهم اليهود والنصارى على حد سواء في في القديم والحديث وصدق الله العظيم إذ يقول: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ (120)} (1).
فاليهود إذن أشد حقدًا على الإِسلام والمسلمين، لأن النبوة الخاتمة لم تأت من نسل يعقوب الأعجمى، كما كانوا يريدون، ولكنها أتت من نسل إسماعيل العربي، وتلك هي البداية التي دفعتهم لتحريف كل كلمة تشير إلى العرب وأفضليتهم أو إلى النبي الخاتم صلى الله عليه وسلم الذي عرفوا صفته من كتبهم كما يعرفون أبناءهم فقال تعالى: {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} (2) فحرفوا ما يدل عليه من كلمات وبشارات وزيفوا التاريخ وبدلوا الحقائق على هذا الأساس.
وعند تتبع تاريخ بنى إسرائيل وموقفهم من الإِسلام يقف الباحث على حقيقة هامة وهي: أنه قد آمن
منهم من آمن عن طواعية واختيار، ورغبة في العدل والخير، وكائن سماحة الإِسلام السبب المبَاشر في
إسلامهم، وبقي من بقى منهم على يهوديته أو نصرانيته عصبية وحقدًا على المسلمين.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের ওপর।
অতঃপর:
রাসূলগণের আগমনের এক দীর্ঘ বিরতির পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নূর এবং এক সুস্পষ্ট কিতাব নিয়ে আগমন করেছেন। তিনি একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, একটি উম্মাহর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং এমন একদল মানুষ তৈরি করেছেন যারা আল্লাহর দ্বীনের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য তাঁরই পথে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই পুণ্যবান পূর্বসূরিদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক এবং তাঁদের পরবর্তী অনুসারীদের প্রচেষ্টা কতই না চমৎকার! তাঁরাই ছিলেন সেই ব্যক্তিবর্গ যারা ইসলামের ঝাণ্ডা সমুন্নত করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছে দ্বীন ছিল তাঁদের রক্ত-মাংসের মতো, বরং নিজের জীবনের চেয়েও অধিক মূল্যবান। তাই তাঁরা ইসলামের শত্রুদের পরিচালিত আক্রমণসমূহের বিরুদ্ধে এর সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়েছিলেন, যে শত্রুরা আজও ইসলামের বিরুদ্ধে বৈরিতা বজায় রেখেছে।
সেই আক্রমণের নেপথ্যে কারা? তারা হলো ইহুদি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়—অতীতে যেমন ছিল বর্তমানেও তেমন। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {আর ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করেন। বলুন, নিশ্চয় আল্লাহর পথই একমাত্র সঠিক পথ। আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর আপনি যদি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না। (১২০)} (১)।
সুতরাং ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ইহুদিদের বিদ্বেষ সবচেয়ে বেশি, কারণ শেষ নবুওয়াত তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধারা থেকে আসেনি, বরং তা এসেছে আরব ইসমাইল (আ.)-এর বংশধারা থেকে। এটাই ছিল সেই সূচনাবিন্দু যা তাদেরকে আরবের শ্রেষ্ঠত্ব বা শেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ইঙ্গিতবাহী প্রতিটি শব্দ বিকৃত করতে প্ররোচিত করেছে। অথচ তারা তাদের ঐশী গ্রন্থে তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে ঠিক সেভাবেই জানত যেমনটি তারা তাদের সন্তানদের চেনে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (রাসূলকে) তেমনভাবেই চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে। আর নিশ্চয় তাদের একদল জেনেশুনে সত্য গোপন করছে।} (২) ফলে তারা তাঁর (রাসূলের) নির্দেশক শব্দ ও সুসংবাদসমূহ বিকৃত করেছে এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ইতিহাসকে জাল করেছে ও সত্যকে রদবদল করেছে।
বনী ইসরাঈলের ইতিহাস ও ইসলামের প্রতি তাদের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করলে একজন গবেষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের সন্ধান পান, আর তা হলো: তাদের মধ্যে
যারা ঈমান এনেছেন তারা স্বেচ্ছায়, স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং ন্যায় ও কল্যাণের আকর্ষণে ঈমান এনেছেন; ইসলামের উদারতা ও মহানুভবতা ছিল তাদের
ইসলাম গ্রহণের প্রত্যক্ষ কারণ। পক্ষান্তরে যারা তাদের ইহুদি বা খ্রিষ্টধর্মের ওপর অটল থেকেছে, তারা মূলত মুসলিমদের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি ও বিদ্বেষবশতই তা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢)
فهؤلاء الذين أصروا على كفرهم وعنادهم استمرءوا تحريف ما بين أيديهم من كتب على مر العصور، وقد بين ذلك القرآن الكريم فقال تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} (1).
وقد شهد الرسول صلى الله عليه وسلم حادثة تدل على أنهم يحرفون الكلم من بعد مواضعه وهي حادثة الرجل اليهودي الذي أخفى آية الرجم بن التوراة بيديه حتى لا يُطبق حد الرجم علي من أخطأ، فقد جاء في الحديث: "أُتي رسول الله بيهودي ويهودية قد أحدثا جميعًا، فقال لهم: ما تجدون في كتابكم؟ قالو إن أحبارنا أحدثوا تحميم الوجه والتحبية، قال عبد الله بن سلام (2) ادعهم في يا رسول الله بالتوراة، فأتى بها فوضع أحدهم يده على آية الرجم وجعل يقرأ ما قبلها وما بعدها فقال له ابن سلام: ارفع يدك فإذا آية الرجم تحت يده فأمر بها رسول الله فرجما" (3).
وتوالت الأحداث وكلما مر عهد حرف اليهود والنصارى وغيروا وبدلو وزادوا وأنقصوا، وكلما يطبع من كتبهم نسخة تكون غير النسخة الأولي التى قبلها لما يراه رجال دينهم ومجامعهم المقدسة- في زعمهم- من حذف كلمة أو زيادة أخرى أو تبديل كلمة مكان كلمة وغير ذلك يدعون صحة كتبهم وأنها من عند الله، وليس ذلك فحسب، بل وجهوا نقدهم للإسلام ورسوله وكتابه وأثاروا حوله الشبه والشكوك، ولكن الله عز وجل حافظ كتابه من التبديل والتغيير فقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَاءَهُمْ وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ (41) لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} (4) وقال سبحانه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (5).
--------------------------------------------
যারা তাদের কুফর ও হঠকারিতায় অবিচল ছিল, তারা যুগে যুগে তাদের নিকট বিদ্যমান কিতাবসমূহের বিকৃতি সাধন করতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। পবিত্র কুরআনে এ বিষয়টি বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণেই আমি তাদের অভিশপ্ত করেছি এবং তাদের হৃদয়গুলোকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দগুলোকে তাদের স্বস্থান থেকে বিকৃত করে ফেলে এবং তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একাংশ তারা বিস্মৃত হয়েছে। আপনি সর্বদা তাদের অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া বাকিদের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে অবগত হতে থাকবেন। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন।" (১)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন একটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন যা প্রমাণ করে যে, তারা শব্দগুলোকে তাদের স্বস্থান থেকে বিকৃত করে। আর সেটি হলো সেই ইহুদি ব্যক্তির ঘটনা, যে তাওরাতে বর্ণিত রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) আয়াতটি নিজের হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিল, যাতে অপরাধীর ওপর রজমের বিধান কার্যকর করা না হয়। হাদীসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক ইহুদি পুরুষ ও এক ইহুদি নারীকে আনা হলো যারা উভয়েই ব্যভিচার করেছিল। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন: 'তোমরা তোমাদের কিতাবে এ বিষয়ে কী পাও?' তারা বলল: 'আমাদের পণ্ডিতরা মুখ কালো করা এবং পিঠমোড়া করে বাঁধার বিধান উদ্ভাবন করেছে।' তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম (২) বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাদের তাওরাত নিয়ে আসতে বলুন।' সেটি আনা হলে তাদের একজন রজমের আয়াতের ওপর হাত রেখে তার আগের ও পরের অংশ পড়তে শুরু করল। তখন ইবনে সালাম তাকে বললেন: 'তোমার হাত তোলো।' দেখা গেল তার হাতের নিচেই রজমের আয়াত বিদ্যমান। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ দিলেন এবং তাদের রজম করা হলো।" (৩)।
একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে এবং কালক্রমে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের কিতাবসমূহে বিকৃতি, পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে থাকে এবং তাতে সংযোজন-বিয়োজন ঘটায়। তাদের কিতাবের প্রতিটি নতুন সংস্করণ পূর্ববর্তী সংস্করণ থেকে ভিন্ন হতে থাকে; তাদের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও তথাকথিত 'পবিত্র পরিষদ' সমূহের খেয়ালখুশিমতো কোনো শব্দ বাদ দেওয়া, কোনোটি বাড়ানো কিংবা এক শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়। এতৎসত্ত্বেও তারা দাবি করে যে তাদের কিতাবসমূহ সঠিক এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। শুধু তাই নয়, তারা ইসলাম, এর রাসূল এবং এর কিতাবের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও নানা সংশয়-সন্দেহ উত্থাপন করে। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর কিতাবকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই যারা তাদের নিকট উপদেশ (কুরআন) আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে (তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে)। আর এটি অবশ্যই একটি সম্মানিত কিতাব। এর সামনে বা পেছন—কোনো দিক থেকেই বাতিল এতে প্রবেশ করতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রংশসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (৪) এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই এ উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٣)
فهيأ الله عز وجل لدينه من يدافع عنه وكان من العلماء من تصدي لهذه الشبه- فترة البحث- فرد عليها وبين بطلانها، من هؤلاء شيخ الإِسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم والامام الألوسي وغيرهم. ومن العلماء من جعل اليهود والنصارى ينشغلون بأنفسهم وبما تحت أيديهم من كتب لا سند لها ومشكوك في صحة نسبتها إلى كاتبيها فوجه نقده إليها بموضوعية وحيدة تامة ونزاهة واضحة، من هؤلاء العلماء العلامة رحمة الله الهندي والعلامة أحمد ديدات والعلامة الباجه جى زادة البغدادي وغيرهم ممن يمثلون علامات بارزة في تاريخ أمتنا الإِسلامية- فترة البحث- أولئك الذين اهتموا بدراسة الكتاب المقدس سندًا ومتنًا وبيان مكانته من الصحة أو عدمها وكان لكل واحد من هؤلاء منهجه وأسلوبه المتميز في النقد، ويجمعهم منهج مشترك ووجهة واحدة نجعلهم في خندق واحد أمام الحروب الفكرية التي يتزعمها اليهود والنصارى.
سبب اختياري لهذا الموضوع:إبراز جهود أعلام الفكر الإِسلامي في نقد الكتاب المقدس، وذلك اعترافًا بفضلهم وإشادة بحهودهم، وتعريف المسلمين- لا سيما الباحثين منهم- قدر هؤلاء العلماء والقيمة العلمية لمؤلفاتهم في هذا الجانب.
অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর দ্বীনের জন্য এমন সব রক্ষক প্রস্তুত করেছেন যারা একে রক্ষা করবেন। গবেষণার এই সময়কালে আলিমদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব ছিলেন যারা এই সংশয়গুলোর মোকাবিলা করেছেন, সেগুলোর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন এবং সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, তাঁর সুযোগ্য ছাত্র ইবনুল কায়্যিম, ইমাম আলূসী এবং আরও অনেকে। আবার আলিমদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ ছিলেন যারা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে তাদের নিজেদের বিষয় এবং তাদের কাছে থাকা এমন সব কিতাব নিয়ে ব্যতিব্যস্ত রেখেছেন যেগুলোর কোনো শক্তিশালী সূত্র (সনদ) নেই এবং যেগুলোর রচয়িতাদের দিকে সম্পৃক্ত করার বিশুদ্ধতাও প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁরা পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার সাথে সেগুলোর ওপর সমালোচনা নিবদ্ধ করেছেন। এই আলিমদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি, আল্লামা আহমদ দিদাত, আল্লামা বাজাহ জি জাদাহ আল-বাগদাদী এবং অন্যান্যরা, যারা আমাদের ইসলামি উম্মাহর ইতিহাসে—গবেষণার সময়কালে—উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে গণ্য। তাঁরাই সেই মহান ব্যক্তি যারা বাইবেলের সনদ ও মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনা এবং তার বিশুদ্ধতা বা অসারতার মানদণ্ড নির্ণয়ে মনোনিবেশ করেছেন। সমালোচনার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব অনন্য পদ্ধতি ও শৈলী থাকলেও, একটি সাধারণ নীতিমালা ও অভিন্ন লক্ষ্য তাঁদেরকে একই সারিতে উর্ধ্বে আরোহণ করেছে, যা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নেতৃত্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের মোকাবিলায় তাঁদেরকে একই অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ:বাইবেল সমালোচনায় ইসলামি চিন্তাধারার বরেণ্য মনীষীদের প্রচেষ্টাসমূহ তুলে ধরা, যা মূলত তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এবং তাঁদের অবদানের উচ্চসিত প্রশংসা স্বরূপ। সেই সাথে মুসলিমদের—বিশেষ করে গবেষকদের—নিকট এই আলিমদের মর্যাদা এবং এই বিষয়ে তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলির বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মূল্য পরিচিত করানো।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٤)
نبذة عن الدراسة السابقة على موضوع البحث.
هناك دراسة سابقة على هذا الموضوع في جامعة الأزهر فرع المنصورة وهي رسالة الدكتوراه الخاصة بالدكتور ياسر أبو شبانه الرشيدى وتحمل العنوان التالي: جهود علماء المسلمين في نقد الكتاب المقدس من القرن الأول الهجري إلى نهاية القرن السابع الهجري" عرض ونقد"
1 - وقد تحدث فيها أولاً عن حديث القرآن الكريم عن التوراة والإنجيل وأثرة في الحركة النقدية مبينا أن القرآن الكريم هو النبع الصافي الذي استقى منه المسلمون الأوائل أصول علومهم ومبادئ معارفهم، من هذه العلوم والمعارف علم مقارنة الأديان، إذا أنه لم يسهم عالم مسلم بنصيب في هذا المجال إلا وكان القرآن الكريم دافعه الأول ومحركه الأساسي لإنجاز دراسته.
2 - بيَّن في دراسته المنهج القرآني في مخاطبة أهل الكتاب وكيف تدرج القرآن الكريم في ذلك على مرحلتين.
أ - المرحلة المكية
وقد اتسمت هذه المرحلة بالحديث عن الكتب السابقة وبيان مضمونها، والغاية من إنزالها، وذكر البشارة بالنبي صلى الله علية وسلم فيها، وبين موقف أهل الكتاب مما أنزله الله عليهم، وأنهم قد انحرفوا وحادوا عن الصراط المستقيم، وقد بين القرآن في هذه المرحلة أن الكتب السماوية كلها تنبثق عن أصل واحد، وأن هذه الكتب دليل على صدق القرآن الكريم وصحة النبوة الخاتمه كل ذلك على سبيل الإجمال.
ب- المرحلة المدنية
وفيها تم تفصيل ما أجمل في المرحلة المكية، وخاصة قضية التحريف بأنواعه المختلفة ومن أبرز سمات القرآن فيها أنها تبين سوء مسلك أهل الكتاب مع كتاب الله المنزل إليهم كفروا به ونبذوه وراء ظهورهم.
3 - تحدث عن أهم المؤلفات في نقد الكتاب المقدس وقسمها إلى مرحلتين:
الأولى: بعض المؤلفات من القرن الثاني الهجري حتى نهاية القرن الرابع الهجرى وتتميز هذه المرحلة بسيطرة النزعة العقلية على هذه المؤلفات وأرجع ذلك إلى الخلفية الفكرية لأصحابها وقد استوعب في هذه المرحلة بعض المؤلفات بالعرض والتحليل.
গবেষণার বিষয়ের ওপর পূর্ববর্তী অধ্যয়নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ.
এই বিষয়ে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসুরা শাখায় একটি পূর্ববর্তী গবেষণা রয়েছে, যা ডক্টর ইয়াসির আবু শাবানাহ আর-রাশিদির পিএইচডি থিসিস। এর শিরোনাম হলো: "প্রথম হিজরি শতাব্দী থেকে সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত পবিত্র বাইবেল সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা: উপস্থাপন ও পর্যালোচনা"।
১ - এতে তিনি প্রথমে তাওরাত ও ইঞ্জিল সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের আলোচনা এবং সমালোচনা আন্দোলনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পবিত্র কুরআন হলো সেই নির্মল উৎস যেখান থেকে প্রথম যুগের মুসলিমগণ তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূলনীতি ও শিক্ষার ভিত্তি গ্রহণ করেছিলেন। এসকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম হলো তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব। কেননা কোনো মুসলিম পণ্ডিতই এই ক্ষেত্রে অবদান রাখেননি যেখানে পবিত্র কুরআন তাঁর গবেষণার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা ও মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেনি।
২ - তিনি তাঁর গবেষণায় আহলে কিতাবদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে কুরআনিক পদ্ধতি এবং পবিত্র কুরআন কীভাবে তা দুটি পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করেছে তা বর্ণনা করেছেন।
ক - মক্কী পর্যায়
এই পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য হলো পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলোচনা, সেগুলোর বিষয়বস্তু ও অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা এবং সেগুলোতে নবী (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদের কথা উল্লেখ করা। এছাড়াও এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিধানের প্রতি আহলে কিতাবদের অবস্থান এবং তারা যে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল তা বর্ণনা করা হয়েছে। এই পর্যায়ে কুরআন স্পষ্ট করেছে যে, সকল আসমানি কিতাব একই মূল উৎস থেকে উৎসারিত এবং এই কিতাবসমূহ পবিত্র কুরআনের সত্যতা ও সর্বশেষ নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ; এসবই সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ণিত হয়েছে।
খ - মাদানী পর্যায়
এই পর্যায়ে মক্কী যুগে যা সংক্ষেপে আলোচিত হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রকারের বিকৃতি (তাহরিফ) সংক্রান্ত বিষয়টি। এই পর্যায়ে কুরআনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাদের কাছে অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবের প্রতি আহলে কিতাবদের মন্দ আচরণের স্বরূপ উন্মোচন করেছে; তারা তা অস্বীকার করেছে এবং তা অবলীলায় পেছনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
৩ - তিনি বাইবেল সমালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম: দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দী থেকে চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত কিছু রচনাবলি। এই পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য হলো এসব রচনায় যৌক্তিক প্রবণতার প্রাধান্য। তিনি এর কারণ হিসেবে লেখকদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষাপটকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি এই পর্যায়ে কিছু রচনা উপস্থাপন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٥)
الثانية: بعض المؤلفات من القرن الخامس حتى نهاية القرن السابع وقد بين أن هذه المرحلة قد شهدت تحولًا كبيررًا في منهج علماء المسلمين في مجادلة أهل الكتاب، وقال إن أبرز سمات هذه المرحلة الاتجاه إلى مناقشة ونقد ما يراه القوم كتابًا مقدسًا ومن ثم خفت إلى حد كبير نزعة الجدل والحوار الفلسفي والمنطق الجاف وسيطر على هذه المؤلفات تحليل النصوص والموازنة بينها ونقدها نقدًا علميًا سديدًا.
4 - خصص فصلًا لنقد متن العهد القديم وسنده تحدث فيه عن التناقض بين النصوص وبيَّن وقوع كتبة العهد القديم في أخطاء حسابية فادحة، وناقش النصوص التي تتناقض مع جلال الألوهية وعظمة الربوبية، والنصوص التي تقدح في عظمة الأنبياء وتحدث عن النسخ في نصوص العهد القديم والتشريعات وغير ذلك من تفريعات أخرى.
5 - ثم ذكر بعد ذلك كيف نقد علماء المسلمين سند الكتاب المقدس والأدوار التاريخية التي مر بها بنو إسرائيل وكيف كانت سببًا في ضياع التوراة والإنجيل الأصليين ومن ثم فقدان السند كل ذلك من خلال نصوص الكتاب المقدس.
6 - ثم خصص فصلًا آخر لنقد متن العهد الجديد وسنده، وسار فيه على نهج ما سار في نقد العهد في القدم مبينا كيف نقض علماء المسلمين عقائد النصارى في المسيح عليه السلام وأن العهد الجديد يحمل البشارة به صلى الله عليه وسلم.
7 - ثم ذكر بعد ذلك كيف نقد علماء المسلمين سند العهد الجديد من خلال كتبة أسفاره والجانب التاريخي في نقد السند وبين أثر الاضطهادات في فقدان الإنجيل المنزل من عند الله عز وجل.
8 - وفي هذه نهاية الدراسة القيمة بين د/ ياسر أبو شبانه أهم الجوانب الأيجابية والسلبية للحركة النقدية ووضع منهجًا موضوعيًا مقترحًا للدرسات من هذا النوع يتمثل في أهمية العمل الجماعي في إخراج أبحاث متكاملة مع التأكيد على تنوع التخصصات في فريق العمل واستخدام مجالات نقدية جديدة لا تقتصر على العلوم الشرعية فقط بل تمتد إلى إلى التاريح والجغرافيا والأرصاد الجوية والطب وما يتصل به، والعلوم المتصلة بالسكان وتطوير المجتمعات البشرية.
দ্বিতীয়ত: পঞ্চম শতাব্দী থেকে সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত রচিত কিছু গ্রন্থ। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, এই পর্যায়টি আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে মুসলিম পণ্ডিতদের পদ্ধতিতে এক ব্যাপক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। তিনি বলেন যে, এই পর্যায়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—প্রতিপক্ষ যাকে পবিত্র গ্রন্থ মনে করে, তার পর্যালোচনা ও সমালোচনার দিকে ধাবিত হওয়া। ফলে দার্শনিক বিতর্ক ও শুষ্ক যুক্তিনির্ভর বাদানুবাদের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পায় এবং এই গ্রন্থগুলোতে পাঠ্য বিশ্লেষণ, সেগুলোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা এবং অত্যন্ত নিপুণ বৈজ্ঞানিক সমালোচনার প্রাধান্য দেখা দেয়।
৪ - তিনি ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়মের মূল পাঠ এবং এর সূত্রের সমালোচনার জন্য একটি অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন। এতে তিনি বিভিন্ন পাঠ্যের মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্য নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পুরাতন নিয়মের লেখকরা যে গুরুতর গাণিতিক ভুল করেছেন তা স্পষ্ট করেছেন। এছাড়াও তিনি এমন সব পাঠ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন যা মহান আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সাংঘর্ষিক, এবং এমন সব পাঠ্য যা নবীদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। পাশাপাশি তিনি ওল্ড টেস্টামেন্টের পাঠ্য ও বিধানসমূহের রহিতকরণ (নাসখ) এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
৫ - এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন কীভাবে মুসলিম পণ্ডিতগণ বাইবেলের সূত্রের সমালোচনা করেছেন এবং বনী ইসরাঈলরা যেসব ঐতিহাসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে এই ইতিহাসই মূল তাওরাত ও ইঞ্জিল হারিয়ে যাওয়ার কারণ ছিল এবং এর ফলে এর নিরবচ্ছিন্ন সূত্র বা সনদ বিলুপ্ত হয়ে যায়—এসবই তিনি বাইবেলের নিজস্ব পাঠ্যের আলোকে তুলে ধরেছেন।
৬ - অতঃপর তিনি নিউ টেস্টামেন্ট বা নতুন নিয়মের মূল পাঠ ও সূত্রের সমালোচনার জন্য আরেকটি অধ্যায় নিবদ্ধ করেছেন। এতে তিনি পুরাতন নিয়মের সমালোচনায় অনুসৃত পদ্ধতিই অবলম্বন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মুসলিম পণ্ডিতগণ ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে খ্রিস্টানদের আকিদাকে খণ্ডন করেছেন এবং এটিও প্রমাণ করেছেন যে, নিউ টেস্টামেন্ট মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ বহন করে।
৭ - এরপর তিনি বর্ণনা করেছেন মুসলিম পণ্ডিতগণ কীভাবে নিউ টেস্টামেন্টের রচয়িতাদের মাধ্যমে এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর সূত্রের সমালোচনা করেছেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ প্রকৃত ইঞ্জিল হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রভাবও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
৮ - এই মূল্যবান গবেষণার শেষে ড. ইয়াসির আবু শাবানা এই সমালোচনা আন্দোলনের প্রধান ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি এই ধরনের গবেষণার জন্য একটি বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতির প্রস্তাব করেছেন, যা পূর্ণাঙ্গ গবেষণার স্বার্থে সামষ্টিক প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে। এক্ষেত্রে তিনি গবেষণা দলে বিষয়ের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। এই সমালোচনার ক্ষেত্রটি যেন কেবল ধর্মীয় বিজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং ইতিহাস, ভূগোল, আবহাওয়াবিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং জনমিতি ও মানব সমাজের উন্নয়ন সংক্রান্ত জ্ঞান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٦)
خطة البحث:وتشتمل على مقدمة وتمهيد ومدخل وقسمين وخاتمة. فالمقدمة سبق الإشارة إليها في الصفحات السابقة، والتمهيد يشتمل على المطالب التالية:
- المطلب الأول: مسيرة الحركة النقدية للكتاب المقدس.
- المطلب الثاني: العلاقة بين العهد القديم والعهد الجديد.
- المطلب الثالث: دوافع الدراسة النقدية للكتاب المقدس.
- المطلب الرابع: موقف الإِسلام من التوراة والإنجيل.
القسم الأول عرض محتويات الكتاب المقدس ونقد سندهويشتمل هذا القسم على بابين
*
الباب الأول: وعنوانه: نماذج من الجهود النقدية وعرض محتويات الكتاب المقدس.
ويتناول بيان ما يلي:
أولا: الجهودالنقدية للكتاب المقدس
ثانيًا: الكتاب المقدس وعرض محتوياته.
الباب الثاني وعنوانه: جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد سند الكتاب المقدس. ويشتمل هذا الباب على فصلين:
• الفصل الأول: جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد سند العهد القديم.
ويشتمل على ثلاثة مباحث:
- المبحث الأول: نقد سند الأسفار الخمسة من العهد القديم.
- المبحث الثاني: نقد سند الأسفار الأخرى من العهد القديم.
- المبحث الثالث: نظرة تاريخية حول العهد القديم.
গবেষণার পরিকল্পনা:এতে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, একটি প্রবেশিকা, দুটি বিভাগ এবং একটি উপসংহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভূমিকার কথা পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, আর উপক্রমণিকাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:
- প্রথম অনুচ্ছেদ: বাইবেলের সমালোচনা আন্দোলনের গতিধারা।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়ম ও নতুন নিয়মের মধ্যকার সম্পর্ক।
- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বাইবেলের সমালোচনামূলক অধ্যয়নের প্রেক্ষাপট।
- চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাওরাত ও ইঞ্জিল সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান।
প্রথম বিভাগ: বাইবেলের বিষয়বস্তুর উপস্থাপন এবং এর সনদের সমালোচনাএই বিভাগটি দুটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত।
*
প্রথম অধ্যায়: শিরোনাম: সমালোচনামূলক প্রচেষ্টার নিদর্শন এবং বাইবেলের বিষয়বস্তুর বর্ণনা।
এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে:
প্রথমত: বাইবেল বিষয়ক সমালোচনামূলক কর্মতৎপরতা।
দ্বিতীয়ত: বাইবেল এবং এর বিষয়বস্তুর উপস্থাপনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: শিরোনাম: বাইবেলের সনদের সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের অবদান—গবেষণার সময়কালীন। এই অধ্যায়টি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মের সনদের সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের অবদান—গবেষণার সময়কালীন।
এটি তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মের প্রথম পাঁচটি পুস্তকের সনদের সমালোচনা।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মের অন্যান্য পুস্তকের সনদের সমালোচনা।
- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়ম সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٧)
الفصل الثاني جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد سند العهد الجديدويشتمل هذا الفصل على ثلاثة مباحث:
- المبحث الأول: نقد سند الأناجيل الأربعة "متي، مرقس، لوقا، يوحنا".
- المبحث الثاني: نقد سند الأسفار الأخرى من العهد الجديد.
- المبحث الثالث: نظرة تاريخية حول العهد الجديد.
القسم الثاني نقد متن الكتاب المقدسويشتمل هذا القسم على بابين:
* الباب الأول: جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد متن العهد القديم.
ويشتمل هذا الباب على أربعة فصول:
• الفصل الأول: جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد العقائد في العهد القديم.
ويشتمل هذا الفصل على سبعة مباحث:
- المبحث الأول: نقد أنوع التوحيد في العهد القديم.
- المبحث الثاني: نقد عقيدة الإيمان بالملائكة ووجود الجن في العهد القديم.
- المبحث الثالث: نقد موقف العهد القديم من الكتب المقدسة.
- المبحث الرابع: نقد عقيدة الإيمان بالنبوة والأنبياء في العهد القديم.
- المبحث الخامس: نقد عقيدة الإيمان باليوم الآخر في العهد القديم.
- المبحث السادس: نقد عقيدة الإيمان بالقضاء والقدر في العهد القديم.
- المبحث السابع: نقد عقيدة أرض الميعاد في العهد القديم.
• الفصل الثاني: جهود علماء المسلمين- فترة - البحث- في نقد التشريعات في العهد القديم.
ويشتمل هذا الفصل على خمسة مباحث:
- المبحث الأول: نقد التشريعات الخاصة بالطهارة والنجاسة في العهد القديم.
- المبحث الثاني: نقد التشريعات الخاصة بالكهنة والقرابين في العهد القديم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মের সনদের সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা (গবেষণা সময়কাল)এই পরিচ্ছেদটি তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম অনুচ্ছেদ: চার সুসমাচার "মথি, মার্ক, লুক ও যোহন"-এর সনদের সমালোচনা।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নতুন নিয়মের অন্যান্য পুস্তকের সনদের সমালোচনা।
- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নতুন নিয়ম সম্পর্কে ঐতিহাসিক পর্যালোচনা।
দ্বিতীয় অংশ: পবিত্র বাইবেলের মূল পাঠের (মতন) সমালোচনাএই অংশটি দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত:
* প্রথম অধ্যায়: পুরাতন নিয়মের মূল পাঠের (মতন) সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা (গবেষণা সময়কাল)।
এই অধ্যায়টি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মের আকিদা বা বিশ্বাসমালার সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা (গবেষণা সময়কাল)।
এই পরিচ্ছেদটি সাতটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে তাওহিদের প্রকারসমূহের সমালোচনা।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস এবং জিনের অস্তিত্বের সমালোচনা।
- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র গ্রন্থসমূহের প্রতি পুরাতন নিয়মের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা।
- চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে নবুওয়াত ও নবীদের প্রতি বিশ্বাস সংক্রান্ত আকিদার সমালোচনা।
- পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে পরকাল বা শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস সংক্রান্ত আকিদার সমালোচনা।
- ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে তকদির বা ভাগ্যলিপির প্রতি বিশ্বাস সংক্রান্ত আকিদার সমালোচনা।
- সপ্তম অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে 'প্রতিশ্রুত ভূমি' সংক্রান্ত আকিদার সমালোচনা।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মের বিধানাবলির সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা (গবেষণা সময়কাল)।
এই পরিচ্ছেদটি পাঁচটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে পবিত্রতা ও অপবিত্রতা সংক্রান্ত বিধানাবলির সমালোচনা।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে পুরোহিত ও উৎসর্গ (কোরবানি) সংক্রান্ত বিধানাবলির সমালোচনা।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٨)
- المبحث الثالث: نقد التشريعات الخاصة بالأسرة والزواج في العهد القديم.
- المبحث الرابع: نقد التشريعات الخاصة بغير اليهود في العهد القديم.
- المبحث الخامس: نقد التشريعات الخاصة بالجرائم والعقوبات في العهد القديم.
• الفصل الثالث: جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد السلوكيات الأخلاقية في العهد
القديم. ويشتمل هذا الفصل على خمسة مباحث:
- المبحث الأول: نقد المادية في أخلاق اليهود في العهد القديم.
- المبحث الثاني: نقد العدوانية في أخلاق اليهود في العهد القديم.
- المبحث الثالث: نقد الانحلال الخُلقي في العهد القديم.
- المبحث الرابع: نقد الغدر والخيانة في العهد القديم.
- المبحث الخامس: نقد الكذب والسرقة في العهد القديم.
الباب الثاني نقد متن العهد الجديدويشتمل هذا الباب على ثلاثة فصول:
° الفصل الأول: جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد العقائد في العهد الجديد ويشتمل هذا الفصل على ستة مباحث:
المبحث الأول: نقض عقيدة ألوهية المسيح في العهد الجديد.
المبحث الثاني: نقض عقيدة بنوة المسيح في العهد الجديد.
المبحث الثالث: نقض عقيدة ألوهية الروح القدس في العهد الجديد.
- المبحث الرابع: نقض عقيدة التثليث في العهد الجديد.
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে পরিবার ও বিবাহ সংক্রান্ত বিধানাবলির সমালোচনা।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে অ-ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত বিধানাবলির সমালোচনা।
- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে অপরাধ ও শাস্তি সংক্রান্ত বিধানাবলির সমালোচনা।
• তৃতীয় অধ্যায়: পুরাতন নিয়মের নৈতিক আচরণসমূহের সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা—গবেষণার সময়কাল অনুযায়ী।
এই অধ্যায়টি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে ইহুদিদের নৈতিকতায় বস্তুবাদের সমালোচনা।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে ইহুদিদের নৈতিকতায় আগ্রাসী মনোভাবের সমালোচনা।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে নৈতিক অবক্ষয়ের সমালোচনা।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে প্রবঞ্চনা ও বিশ্বাসঘাতকতার সমালোচনা।
- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়মে মিথ্যাচার ও চুরির সমালোচনা।
দ্বিতীয় খণ্ড: নতুন নিয়মের পাঠ্যের সমালোচনাএই খণ্ডটি তিনটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
° প্রথম অধ্যায়: নতুন নিয়মের আকিদাহ বা ধর্মবিশ্বাসের সমালোচনায় মুসলিম পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা—গবেষণার সময়কাল অনুযায়ী; এবং এই অধ্যায়টি ছয়টি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মে মসীহের (ঈসা আ.) ঐশ্বরিক সত্তার আকিদাহ খণ্ডন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মে মসীহের (ঈসা আ.) ‘ঈশ্বরের পুত্র’ হওয়ার আকিদাহ খণ্ডন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মে পবিত্র আত্মার (রুহুল কুদুস) ঐশ্বরিক সত্তার আকিদাহ খণ্ডন।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মে ত্রিত্ববাদের (ট্রিনিটি) আকিদাহ খণ্ডন।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٩)
-المبحث الخامس: نقض عقيدة الحلول والاتحاد في العهد الجديد.
-المبحث السادس: نقض عقيدة الصلب والفداء في العهد الجديد.
° الفصل الثاني: جهود علماء المسلمين- فترة البحث- في نقد الشرائع والعبادات والأخلاق في العهد الجديد.
ويشتمل هذا الفصل على مبحثين:
-المبحث الأول: نقد الشرائع والعبادات في العهد الجديد ..
- المبحث الثاني: نقد الأخلاق في العهد الجديد.
الخاتمة:ذكرت فيها النتائج التي أسفر عنها البحث وتوصيات الباحث.
طريقة جمع المادة العلمية:في جمعي للمادة العلمية إلتي تكون منها البحث اتبعت ما يلي:
1 - عزوت الآيات القرآنية إلى سورها والأحاديث النبوية إلى مصادرها الأصلية.
2 - قمت بتعريف الأعلام الذين وجدت لهم سيرة ذاتية في كتب التراجم وغيرها وكذا الأماكن والبلدان من المصادر المعتبرة.
3 - طريقة العزو إلى المصادر، أقوم بذكر المصدر ثم المؤلف ورقم الصفحة ورقم الجزء والصفحة إن كان المصدر له أكثر من جزء ثم الطبعة ورقمها وتاريخها إن وجد.
4 - بينت معانى معظم الألفاظ الغريبة أو الأعجمية التي وردت في البحث.
-পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মে অনুপ্রবেশ (হুলুল) ও ঐক্য (ইত্তিহাদ) মতবাদের খণ্ডন।
-ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মে ক্রুশারোহণ ও পাপমুক্তি (প্রায়শ্চিত্ত) মতবাদের খণ্ডন।
° দ্বিতীয় অধ্যায়: নতুন নিয়মের বিধান, ইবাদত এবং নৈতিকতার সমালোচনায় মুসলিম মণীষীদের প্রচেষ্টা -গবেষণার সময়কাল-।
এই অধ্যায়টি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
-প্রথম পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মের বিধান ও ইবাদতসমূহের সমালোচনা।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নতুন নিয়মের নৈতিকতার সমালোচনা।
উপসংহার:এতে গবেষণালব্ধ ফলাফল এবং গবেষকের সুপারিশসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণা উপকরণ সংগ্রহের পদ্ধতি:গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ - কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে এবং হাদিসসমূহকে তাদের মূল উৎসের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।
২ - চরিত-অভিধান ও অন্যান্য গ্রন্থে যে সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জীবনী পাওয়া গেছে তাদের পরিচয় এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে বিভিন্ন স্থান ও জনপদের বর্ণনা প্রদান করেছি।
৩ - উৎসের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি প্রথমে গ্রন্থের নাম, তারপর লেখকের নাম, পৃষ্ঠা নম্বর এবং একাধিক খণ্ড থাকলে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি; এরপর মুদ্রণ সংখ্যা ও তারিখ (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি।
৪ - গবেষণায় ব্যবহৃত অধিকাংশ দুর্বোধ্য বা অনারব শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
5 - خرجت نصوص الكتاب المقدس فذكرت اسم السفر ثم رقم الإصحاح ورقم الفقرات فيه ثم عنوان الإصحاح.
6 - عندما يذكر أحد المؤلفين نصًا من نسخة قديمة للكتاب المقدس فإذا كان مطابقًا للنسخة البروتستانتية التي بين يديّ أذكر اسم السفر مباشرة وإذا لم يكن موجودًا بالنص ولكن وجد بالمعنى أو بألفاظ متقاربة أو متغيرة أو محرفة أقول قبل كتابة اسم السفر انظر: ثم أذكر اسم السفر والنص من النسخة التي اعتمدت عليها غالبًا.
7 - عالجت القضايا التي تناولها البحث معالجة علمية بالأدلة العقلية والنقلية وسرت مع ما ذكره علماء المسلمين من آراء نقدية مسترشدًا بذلك في الحكم على القضايا التي تناولها البحث بالنقد والتحليل.
منهج البحث:استخدمت في إعداد البحث المناهج التالية:
1 - المنهج الاستنباطى (1) كأداة أساسية لربط المقدمات بالنتائج عن طريق التأمل والملاحظة لاستخلاص الحكم النهائي من الأدلة التي أستشهد بها في كل قضية من قضايا البحث.
2 - المنهج الاستقرائى (2) كأداة أساسية لتتبع الجزئيات في القضية الواحدة من جميع مطالب البحث للوصول إلى رؤية شاملة وعامة عنها.
3 - المنهج التاريخي (3) كأداة لربط النصوص ببعضها عند استرجاع أحداثها ومعرفة مدى توفر الشروط اللازمة في توثيق هذه النصوص ومدى صحة نسبتها التي قائليها ومعرفة زمن كتابتها وأيضًا التسلسل التاريخي للأحداث.
--------------------------------------------
৫ - পবিত্র বাইবেলের উদ্ধৃতিগুলোর ক্ষেত্রে প্রথমে পুস্তকের নাম, এরপর অধ্যায় নম্বর ও অনুচ্ছেদ নম্বর এবং শেষে অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৬ - যখন কোনো লেখক বাইবেলের কোনো প্রাচীন সংস্করণ থেকে কোনো উদ্ধৃতি প্রদান করেন, সেটি যদি আমার নিকট বিদ্যমান প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্করণের সাথে হুবহু মিলে যায়, তবে আমি সরাসরি পুস্তকের নাম উল্লেখ করেছি। আর যদি উদ্ধৃতিটি হুবহু না হয়ে কেবল ভাবার্থগতভাবে মিলে যায় অথবা শব্দগত সামান্য পরিবর্তন বা বিকৃতি থাকে, তবে পুস্তকের নামের আগে 'দেখুন:' শব্দনি ব্যবহার করেছি এবং এরপর পুস্তকের নাম ও সাধারণত যে সংস্করণের ওপর আমি নির্ভর করেছি তার পাঠ উল্লেখ করেছি।
৭ - গবেষণায় আলোচিত বিষয়সমূহ যৌক্তিক ও শাস্ত্রীয় প্রমাণের ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পর্যালোচনা করা হয়েছে। মুসলিম মনিষীদের সমালোচনামূলক মতামতের অনুসরণ করে গবেষণার বিষয়বস্তুর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে।
গবেষণার পদ্ধতি:এই গবেষণাটি প্রস্তুত করতে আমি নিম্নলিখিত পদ্ধতিসমূহ ব্যবহার করেছি:
১ - অবরোহী পদ্ধতি (১): এটি ভূমিকা বা প্রাঙ্গণের সাথে পরিণতির যোগসূত্র স্থাপনের একটি মৌলিক হাতিয়ার। এর মাধ্যমে গবেষণার প্রতিটি বিষয়ে উপস্থাপিত প্রমাণাদি থেকে গভীর পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনার দ্বারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে।
২ - আরোহী পদ্ধতি (২): গবেষণার প্রতিটি প্রসঙ্গের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়সমূহ অনুসরণের মাধ্যমে উক্ত বিষয়ে একটি সামগ্রিক ও সাধারণ রূপরেখা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি মৌলিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
৩ - ঐতিহাসিক পদ্ধতি (৩): বিভিন্ন পাঠ বা পাঠ্যের মধ্যে পারষ্পরিক যোগসূত্র স্থাপন, ঘটনার প্রেক্ষাপট পুনরুদ্ধার, পাঠ্যসমূহের নির্ভরযোগ্যতার শর্তাবলী যাচাই, প্রণেতাদের সাথে সেগুলোর সম্পৃক্ততার সত্যতা নিরূপণ, রচনার সময়কাল এবং ঘটনার ঐতিহাসিক ক্রমধারা নির্ণয়ের হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
التمهيدويشتمل على المطالب التالية:
المطلب الأول: مسيرة الحركة النقدية للكتاب المقدس.
المطلب الثاني: العلاقة بين العهد القديم والعهد الجديد.
المطلب الثالث: دوافع الدراسة النقدية للكتاب المقدس.
المطلب الرابع: موقف الإِسلام من التوراة والإنجيل.
প্রারম্ভিকাএটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র বাইবেলের সমালোচনামূলক আন্দোলনের পরিক্রমা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়ম ও নতুন নিয়মের মধ্যকার সম্পর্ক।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র বাইবেলের সমালোচনামূলক অধ্যয়নের প্রেষণাসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাওরাত ও ইঞ্জিলের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
المطلب الأول مسيرة الحركة النقدية للكتاب المقدسإن الجذور التاريخية لنقد الكتاب المقدس، تمتد التي عمق الزمن، حيث مدرسة الاسكندرية الفلسفية، التي دخلت في صراع فكرى مع اليهود، حول العلاقة بين العقل والنقل، وأيهما يسبق الآخر (1).
وعندما تتبعت هذه المسيرة في مؤلفات علماء المسلمين، وجدت الفضل فيها أولا، يرجع إلى علماء الغرب، في القرن التاسع الميلادي، حيث بدأ نقد العهد القديم، على يد المؤلف اليهودي "حيوي البلخي"، وقد ظهرت بعده مؤلفات متفرقة هنا وهناك (2).
ثم نشطت حركة النقد ابتداءً من القرن السابع عشر الميلادي، وقام القسيس الفرنسى" ريتشارد سيمون" ووضع كتابًا موجها التي "اسبينوزا" (3) نقد فيه الكتاب المقدس نقدًا عنيفًا، ثم قدم اسبينوزا نقده الشامل في كتابه "رسالة في اللاهوت والسياسة"، وفي القرن الثامن عشر، حمل لواء النقد فولتير (4).
وبعد هذه الفترة، توالى علماء الغرب في نقد الكتاب المقدس، حيث أخضعوه للدراسات النقدية، وتوالت العصور ودام الصراع بين الكنيسة والمحتجين عليها الخارجين على أحكامها، وكثرت المؤلفات النقدية الغربية للكتاب المقدس.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: বাইবেলীয় সমালোচনা আন্দোলনের পরিক্রমাবাইবেলীয় সমালোচনার ঐতিহাসিক শিকড় কালের সুগভীর পরিক্রমা পর্যন্ত বিস্তৃত, যা আলেকজান্দ্রিয়ার দার্শনিক ঘরানা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই দার্শনিক গোষ্ঠী ইহুদিদের সাথে বুদ্ধি ও বর্ণনা (আকল ও নকল) এবং এ দুইয়ের মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য—তা নিয়ে তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছিল (১)।
মুসলিম পণ্ডিতগণের রচনাবলিতে যখন আমি এই পরিক্রমা অনুসন্ধান করি, তখন দেখতে পাই যে এর কৃতিত্ব প্রাথমিকভাবে নবম খ্রিস্টাব্দের পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের প্রাপ্য। তখন ইহুদি লেখক ‘হিওয়ি আল-বালখি’-এর হাত ধরে পুরাতন নিয়মের (ওল্ড টেস্টামেন্ট) সমালোচনা শুরু হয় এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয় (২)।
অতঃপর সপ্তদশ খ্রিস্টাব্দ থেকে সমালোচনা আন্দোলন সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফরাসি যাজক ‘রিচার্ড সাইমন’ ‘স্পিনোজা’র (৩) উদ্দেশ্যে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে তিনি বাইবেলের কঠোর সমালোচনা করেন। এরপর স্পিনোজা তাঁর ‘থিওলজিকো-পলিটিক্যাল ট্রিটিজ’ (ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক গবেষণাপত্র) গ্রন্থে বাইবেলের একটি সামগ্রিক সমালোচনা পেশ করেন। আর অষ্টাদশ শতাব্দীতে সমালোচনার এই ঝাণ্ডা বহন করেন ভলতেয়ার (৪)।
এই সময়ের পর থেকে পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ পর্যায়ক্রমে বাইবেলের সমালোচনা অব্যাহত রাখেন এবং তাঁরা একে সমালোচনামূলক গবেষণার অধীন করেন। যুগ পরম্পরায় গির্জা এবং এর বিধানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের মধ্যকার সংঘাত স্থায়ী রূপ লাভ করে এবং বাইবেলের ওপর পাশ্চাত্য সমালোচনামূলক গ্রন্থের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
هذا .. وفي أثناء هذه الحركة النقدية، وبعد أن جاء الإِسلام، وعرف المسلمون كيف حرف اليهود والنصارى، ما بين أيديهم من كتب، عن طريق ما ورد في القرآن الكريم، حيث يخبر رب العزة سبحانه وتعالي عن وجود التحريف في التوراة والإنجيل في آيات كثيرة، منها: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} (1).
وفتح باب الحوار بين المسلمين وأهل الكتاب، وكان للجدل المديني أهميته القصوى في العلاقة بينهم، وذلك من أجل مد جذور التواصل لطريق الهداية إلى الإِسلام، وقد وضعت الأسس الإِسلامية لهذا الجدال في قوله تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَأُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} (2) وقوله تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (3).
فلما جاء عصر التدوين، في منتصف القرن الثاني الهجري، وبدأ المسلمون يكتبون في الفقه والتفسير والحديث، واليهودية والنصرانية (4) وغير ذلك، نشطت الحركة النقدية بعد ذلك على يد عمالقة الفكر الإِسلامى، وكثرت المؤلفات التي تهتم بدراسة الكتاب المقدس، من هذه المؤلفات:
1 - الرد على النصارى لأبي عثمان الجاحظ، ت 255 هـ.
2 - كتاب التوحيد لأبي منصور الماتريدي، ت 333 هـ.
3 - رسالة الحسن بن أيوب، ت 378 هـ.
4 - التمهيد للقاضى أبو بكر الباقلاني، ت 403 هـ.
5 - الفصل في الملل والأهواء والنحل، لابن حزم الأندلسي، ت 456 هـ.
6 - شفاء العليل في بيان ما وقع في التوراة والإنجيل من التبديل، لأبي المعالى الجوينى، ت 589 هـ.
--------------------------------------------
এই সমালোচনামূলক ধারার প্রবাহ চলাকালীন, ইসলামের আগমনের পর এবং পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের মাধ্যমে মুসলিমরা যখন জানতে পারল কীভাবে ইহুদি ও নাসারারা তাদের নিকট বিদ্যমান কিতাবসমূহ বিকৃত করেছে। কেননা মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে তাওরাত ও ইঞ্জিলে বিকৃতির উপস্থিতির সংবাদ দিয়েছেন, যার মধ্যে একটি হলো: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের ওপর লানত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দসমূহকে তার নির্ধারিত স্থান থেকে বিচ্যুত করে (বিকৃত করে) এবং তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা তার একটি বড় অংশ ভুলে গিয়েছে। আর আপনি সর্বদা তাদের মধ্য থেকে অল্প সংখ্যক ব্যতীত অন্যদের কোনো না কোনো বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে অবগত হতে থাকবেন। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন} (১)।
এভাবেই মুসলিম ও আহলে কিতাবদের মধ্যে সংলাপের দ্বার উন্মোচিত হয়। তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মদিনার বিতর্কের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, যা ছিল ইসলামের হেদায়াতের পথে যোগাযোগের ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে। এই বিতর্কের ইসলামি নীতিমালা মহান আল্লাহর এই বাণীতে নির্ধারিত হয়েছে: {তোমরা উত্তম পদ্ধতি ব্যতীত আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না; তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তারা ব্যতীত। আর তোমরা বলো, 'আমরা ঈমান এনেছি আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর। আর আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো এক ও অভিন্ন, এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত (মুসলিম)'} (২) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, 'হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন একটি কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো- আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের একে অপরকে আল্লাহ ব্যতীত প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করব না।' অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, ' তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)'} (৩)।
অতঃপর যখন হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গ্রন্থ সংকলনের যুগ শুরু হলো এবং মুসলিমরা ফিকহ, তাফসির, হাদিস এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম (৪) ইত্যাদি বিষয়ে গ্রন্থ রচনা শুরু করল, তখন ইসলামি চিন্তার মহান দিকপালদের হাত ধরে এই সমালোচনামূলক ধারাটি আরও বেগবান হয়। ফলে 'কিতাবুল মুকাদ্দাস' (বাইবেল) পর্যালোচনার গুরুত্ব সম্বলিত প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়, এ জাতীয় কিছু গ্রন্থ হলো:
১ - আর-রাদ্দু আলান নাসারা, লেখক: আবু উসমান আল-জাহিজ, মৃত্যু: ২৫৫ হিজরি।
২ - কিতাবুত তাওহিদ, লেখক: আবু মনসুর আল-মাতুরিদি, মৃত্যু: ৩৩৩ হিজরি।
৩ - রিসালাতু হাসান বিন আইয়ুব, মৃত্যু: ৩৭৮ হিজরি।
৪ - আত-তামহিদ, লেখক: কাজি আবু বকর আল-বাকিল্লানি, মৃত্যু: ৪০৩ হিজরি।
৫ - আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, লেখক: ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি, মৃত্যু: ৪৫৬ হিজরি।
৬ - শিফাউল আলিল ফি বায়ানি মা ওয়াকাআ ফিত তাওরাতি ওয়াল ইঞ্জিলি মিনাত তাবদিল, লেখক: আবুল মাআলি আল-জুয়াইনি, মৃত্যু: ৫৮৯ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
7 - النصيحة الإيمانية في فضيحة الملة النصرانية، للمهتدي نصر بن يحيي، ت 589 هـ.
8 - الرد على النصارى، لأبي البقاء الجعفرى، ت 632 هـ.
9 - الأجوبة الفاخرة عن الأسئلة الفاجرة، للقرافي، ت 684 هـ.
وغير ذلك من المؤلفات، وهناك من الدراسات الحديثة من استوعب هذه المؤلفات وغيرها، بالعرض والتقويم (1).
وتواصلا لهذه المسيرة تابع هؤلاء العلماء في نقد الكتاب المقدس، علماء فترة البحث وسوف أتناول مؤلفاتهم بإذن الله تعالى بالعرض والتقويم (2) بداية من القرن الثامن الهجري التي العصر الحاضر، وذلك من أجل إبراز الجهود النقدية القيمة لهؤلاء العلماء تكملة للفترة السابقة.
والجدير بالذكر، أن ما قام به علماء فترة البحث من جهود، ما هو إلا امتداد لتلك الحركة النقدية التي سبقت، غربية كانت أو إسلامية، فقد استفادوا من كتب السابقين عليهم في هذا المجال، وكان علماؤنا الأجلاء في نقدهم، بين متأثر بمن سبقه وبين مجتهد له رؤيته الخاصة، التي تتميز بالإبداع والابتكار في الأسلوب والطريقة النقدية، فكان معظم من نقد الكتاب المقدس، من علماء المسسلمين له رؤيته النقدية التي يتميز بها عن غيره، ولذلك تعددت هذه الرؤى تبعًا لتعدد مشارب العلماء وثقافاتهم المختلفة.
--------------------------------------------
৭ - 'খ্রিস্টীয় মতবাদের কলঙ্ক উন্মোচনে ঈমানী উপদেশ', ইসলাম গ্রহণকারী নসর বিন ইয়াহইয়া (মৃত্যু: ৫৮৯ হিজরি) কর্তৃক রচিত।
৮ - 'খ্রিস্টানদের প্রত্যুত্তর', আবুল বাকা আল-জাফরি (মৃত্যু: ৬৩২ হিজরি) কর্তৃক রচিত।
৯ - 'ধৃষ্টতাপূর্ণ প্রশ্নাবলির চমৎকার উত্তর', আল-কারাফি (মৃত্যু: ৬৮৪ হিজরি) কর্তৃক রচিত।
এ ধরনের আরও বহু গ্রন্থ রয়েছে; এছাড়াও কিছু আধুনিক গবেষণা বিদ্যমান যেখানে এই সকল গ্রন্থ এবং অন্যান্য সাহিত্যসমূহ উপস্থাপন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সংকলিত করা হয়েছে (১)।
এই ধারার ধারাবাহিকতায় বর্তমান গবেষণাধীন সময়ের আলেমগণ বাইবেলের সমালোচনায় তাঁদের পূর্বসূরি আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। আমি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় অষ্টম হিজরি শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত তাঁদের রচিত গ্রন্থগুলো উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করব (২), যাতে পূর্ববর্তী সময়ের পরিপূরক হিসেবে এই আলেমদের মূল্যবান সমালোচনামূলক প্রচেষ্টাসমূহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
উল্লেখ্য যে, এই গবেষণাধীন সময়ের আলেমগণ যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তা মূলত পূর্ববর্তী সমালোচনামূলক আন্দোলনেরই একটি বিস্তৃতি—চাই তা পাশ্চাত্য হোক বা ইসলামি। তাঁরা এই ক্ষেত্রে তাঁদের পূর্বসূরিদের গ্রন্থসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছেন। আমাদের বরেণ্য আলেমগণ তাঁদের সমালোচনার ক্ষেত্রে কেউ পূর্বসূরিদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বতন্ত্র ও কঠোর পরিশ্রমী, যা তাঁদের সমালোচনার পদ্ধতি ও শৈলীতে সৃজনশীলতা ও নতুনত্বের স্বাক্ষর বহন করে। বাইবেলের সমালোচনা করেছেন এমন অধিকাংশ মুসলিম আলেমরি নিজস্ব স্বতন্ত্র সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যা তাঁদের অন্যদের থেকে পৃথক করে। ফলস্বরূপ, আলেমদের ভিন্ন ভিন্ন ঝোঁক ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো বহুমুখী রূপ লাভ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ومازالت الحركة النقدية في تطور مستمر، حيث اتجه النقاد في العصر الحديث إلى الدراسات الأكاديمية، وأنشأت الجامعات في الدول العربية والإِسلامية، الأقسام الخاصة بدراسة الأديان، واهتمت هذا التخصص الدقيق، كل ذلك من أجل بيان عظمة الإِسلام، وتميزه عن غيره، وعالميته وخلوده، إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وأن كتابه محفوظ من التبديل والتغيير والتحريف، فقال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)} (1).
--------------------------------------------
সমালোচনামূলক ধারাটি নিরন্তর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে; আধুনিক যুগের সমালোচকগণ বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার দিকে ধাবিত হয়েছেন। আরব ও ইসলামি দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের জন্য বিশেষ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এই সূক্ষ্ম বিশেষায়িত বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এই সবকিছুর মূলে রয়েছে ইসলামের মহানুভবতা, অন্যান্য মতাদর্শ থেকে এর স্বাতন্ত্র্য এবং এর বিশ্বজনীনতা ও চিরন্তনতা ফুটিয়ে তোলা—যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী হবেন। সেই সঙ্গে এটিও স্পষ্ট করা যে, তাঁর কিতাব যেকোনো প্রকার রদবদল, পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষিত। মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয় আমিই এই উপদেশবাণী অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক” (৯) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
المطلب الثاني العلاقة بين العهد القديم والعهد الجديد
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরাতন নিয়ম ও নতুন নিয়মের মধ্যকার সম্পর্ক
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
العلاقة بين العهد القديم والعهد الجديد:
قبل عرض الجهود النقدية لعلماء المسلمين حول الكتاب المقدس سندًا ومتنًا، لا بد من إلقاء الضوء على ما قام به النقاد من علماء المسلمين، في البحث عن السبب الذي جعل النصارى يضمون العهد الجديد إلى جوار العهد القدىم في كتاب واحد، وأطلقوا عليه اسم "الكتاب المقدس" رغم ما يوجد بين اليهود والنصارى من عداوة وتناحر على مر العصور، ولذلك يتساءل كثير من الناس هل هناك علاقة بين العهدين (القديم والجديد) أم أن كلاً منهما مستقل عن الآخر؛ وما مدي اعتراف اليهود والنصارى بالكتاب المقدس جملة وتفصيلاً؟ هذا سيتضح إن شاء الله تعالى في الصفحات التالية: (يعتمد اليهود في إثبات عقائدهم واستخراج شرائعهم وعباداتهم على مصدرين أساسيين:
الأول: العهد القديم أو التوراة (1) الكتابية.
الثاني: التلمود (2) أو التوراة الشفهية (3).
أما النصارى فالكتاب المقدس برمته يشكل عقائدهم وتشريعاتهم إلا أن التوراة تعد المصدر الأساسى للتشريع عند النصارى؛ لأن عيسى عليه السلام أعلن أنه غير ناسخ للتوراة فقد ورد في الإنجيل "لاتظنوا أني جئت لأنقض (4) الناموس (5) أو الأنبياء، ما جئت لأنقض بل لأكمل، فإني الحق أقول لكم إلى أن تزول السماء والأرض لا يزول حرف واحد أو نقطة واحدة من الناموس حتى يكون الكل" (6) (7).
ولذلك فإن عيسى عليه السلام جاء مصدقًا للتوراة في العقيدة والشريعة باستثناء بعض التعديلات والتشريعات فقال تعالى: {وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَلِأُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَاتَّقُوا اللهَ وَأَطِيعُونِ} (8) وجاء في التوراة: "اسمع يا إسرائيل الرب إلهنا رب واحد" (9) وجاء في الإنجيل: "فجاء واحد من الكتبة وسمعهم يتحاورون فلما رأي أنه أجابهم حسنًا فسأله أية وصية هى أول الكل "فأجابه يسوع: إن أول كل الوصايا هى:
--------------------------------------------
পুরাতন ও নতুন নিয়মের মধ্যকার সম্পর্ক:
বাইবেলের সনদ (সূত্রপরম্পরা) ও মতন (মূলপাঠ) নিয়ে মুসলিম পণ্ডিতগণের সমালোচনামূলক গবেষণার উপস্থাপনার পূর্বে, খ্রিষ্টানগণ কেন পুরাতন নিয়মের পাশাপাশি নতুন নিয়মকে একই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করে এর নাম ‘পবিত্র বাইবেল’ রেখেছেন—যদিও যুগ যুগ ধরে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে শত্রুতা ও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান—সে বিষয়ে মুসলিম সমালোচক ও পণ্ডিতদের গবেষণার ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন। তাই অনেক মানুষ প্রশ্ন করেন যে, এই দুই নিয়মের (পুরাতন ও নতুন) মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে, নাকি প্রতিটি একে অপরের থেকে স্বাধীন? ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে বাইবেলকে কতটুকু স্বীকার করে? ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে তা স্পষ্ট হবে: (ইহুদিরা তাদের আকিদা-বিশ্বাস সাব্যস্তকরণ এবং শরিয়ত ও ইবাদত আহরণের ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক উৎসের ওপর নির্ভর করে:
প্রথমত: পুরাতন নিয়ম বা লিখিত তাওরাত (১)।
দ্বিতীয়ত: তালমুদ (২) বা মৌখিক তাওরাত (৩)।
অন্যদিকে খ্রিষ্টানদের নিকট সমগ্র বাইবেলই তাদের আকিদা ও বিধানের ভিত্তি, তবে তাওরাত খ্রিষ্টানদের নিকট বিধানের প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য; কারণ ঈসা আলাইহিস সালাম ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি তাওরাতের রহিতকারী নন। ইঞ্জিলে এসেছে: “তোমরা মনে করো না যে আমি মোশির ব্যবস্থা (৪) (শরিয়ত) (৫) কিংবা ভাববাদীদের শিক্ষা বাতিল করতে এসেছি। আমি বাতিল করতে আসিনি, বরং পূর্ণ করতে এসেছি। আমি তোমাদের সত্য বলছি, যে পর্যন্ত না আসমান ও জমিন বিলুপ্ত হবে, সে পর্যন্ত ব্যবস্থার একটি হরফ বা একটি বিন্দুও বিলুপ্ত হবে না, যতক্ষণ না সব সম্পন্ন হয়” (৬) (৭)।
তাই ঈসা আলাইহিস সালাম আকিদা ও শরিয়তের ক্ষেত্রে তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবেই এসেছিলেন, কেবল কিছু পরিমার্জন ও বিধান ব্যতিরেকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আমি এসেছি আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে এবং তোমাদের জন্য সেই সব জিনিসের কোনো কোনোটিকে হালাল করতে যা তোমাদের জন্য হারাম ছিল। আর আমি তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো} (৮)। তাওরাতে এসেছে: “শোনো হে ইসরায়েল, প্রভু আমাদের ঈশ্বর এক প্রভু” (৯)। আর ইঞ্জিলে এসেছে: “অতঃপর আলেমদের একজন এসে তাদের বিতর্ক করতে শুনলেন। যখন তিনি দেখলেন যে তিনি তাদের উত্তম উত্তর দিয়েছেন, তখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, সর্বপ্রথম আদেশ কোনটি? তখন যিশু উত্তর দিলেন: সকল আদেশের মধ্যে প্রথমটি হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
اسمع يا إسرائيل الرب إلهنا رب واحد) (1) وعلى هذا الأساس سار عيسى عليه السلام -ومن كان معه وكان عليه السلام يزيل تشدد علماء بني إسرائيل ويصحح لهم تفسير ما اختلفوا فيه (2).
وبهذا يتضح أن العلاقة بين العهدين علاقة تكاملية أي أن العهد الجديد جاء مكملاً لما في العهد القدم ومزيلاً لما فيه من تشدد ومصححًا لما اختلفوا فيه.
وليس معني إقرار المسيح عليه السلام للعهد القديم الاتباع الحرفي لكل ما جاء في الإنجيل: "قد سمعتم أنه قيل للقدماء لا تقتل ومن قتل يكون مستوجب الحكم وأما أنا فأقول لكم: إن كل من يغضب علي أخيه باطلاً يكون مستوجا الحكم" (3) ويقول أيضًا "قال لهم: إن موسى من أجل قساوة قلوبكم أذن لكم أن تطلقوا نساءكم ولكن من البدء لم يكن هذا" (4). (هذا وقد اعتبرت الكنيسة (5) الأولى العهد القديم هو كاتبها المقدس حتى القرن الثاني للميلاد حيث تم جمع العهد الجديد واعتبرت منذ هذا العصر كتبًا مقدسة وقد روعى في قبولها اتفاقها مع العهد القدىم وبهذا أصبح للكنيسة عهدان مقدسان: عهد قديم وعهد جديد (6).
والذي يؤكد تلك العلاقة الوثيقة بين العهد القديم والعهد الجديد اقتباس كتَّاب الأناجيل من التوراة وبيان ذلك كالتالي:
أ. أن الله تعالى يقول لبني إسرائيل علي لسان النبي هوشع (7): "إني أريد رحمة لا ذبيحة" (8) يعني أنه لا يريد ذبائح وقرابين والقلوب قاسية على خلق الله.
ب. " بينما كان عيسى عليه السلام في بيت متي -وهو واحد من الحواريين - جلس معه على المائدة كثيرون من الخطاة والمذنبين فلما رأي ذلك علماء بني إسرائيل استنكروا؛ لأنم كانوا يترفعون عن مخالطة هؤلاء وقالوا للحواريين: لماذا يأكل معلمكم مع العشارين (9) والخطاة؟ فلما سمع يسوع قال لهم:
--------------------------------------------
"শোনো হে ইসরায়েল, আমাদের প্রতিপালক প্রভু এক" (১) এবং এই ভিত্তির ওপরই ঈসা আলাইহিস সালাম পরিচালিত হয়েছিলেন—এবং তাঁর সাথে যারা ছিলেন তারাও। তিনি আলাইহিস সালাম বনী ইসরায়েলের আলিমদের কঠোরতা দূর করতেন এবং যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত তার ব্যাখ্যা সংশোধন করে দিতেন (২)।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, দুই নিয়মের (টেস্টামেন্ট) মধ্যকার সম্পর্কটি একটি পরিপূরক সম্পর্ক। অর্থাৎ নতুন নিয়ম (ইঞ্জিল) পুরাতন নিয়মে যা আছে তার পরিপূরক হিসেবে এবং তার কঠোরতা দূরকারী ও তাদের মধ্যকার মতভেদসমূহ সংশোধনকারী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।
আর মাসীহ আলাইহিস সালাম কর্তৃক পুরাতন নিয়মের স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, ইঞ্জিলে যা কিছু এসেছে তার আক্ষরিক অনুসরণ করতে হবে: "তোমরা শুনেছ যে প্রাচীনদের বলা হয়েছিল: তোমরা হত্যা করো না, আর যে হত্যা করবে সে বিচারের যোগ্য হবে। কিন্তু আমি তোমাদের বলছি: যে কেউ তার ভাইয়ের ওপর অহেতুক রাগান্বিত হবে, সে বিচারের যোগ্য হবে" (৩)। তিনি আরও বলেন, "তিনি তাদের বললেন: মূসা তোমাদের অন্তরের কঠোরতার কারণে তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু শুরু থেকে এমনটি ছিল না" (৪)। (উল্লেখ্য যে, খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত আদি গির্জা (৫) পুরাতন নিয়মকেই তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে গণ্য করত। অতঃপর যখন নতুন নিয়ম সংকলিত হলো, তখন সেই যুগ থেকে এগুলোকেও পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হতে থাকে। আর পুরাতন নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি এর গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছিল। এভাবেই গির্জার নিকট দুটি পবিত্র নিয়ম বা বিধান সাব্যস্ত হয়: পুরাতন নিয়ম ও নতুন নিয়ম (৬)।
পুরাতন নিয়ম ও নতুন নিয়মের মধ্যবর্তী এই নিবিড় সম্পর্ককে যা জোরালোভাবে প্রমাণ করে তা হলো ইঞ্জিল রচয়িতাদের তাওরাত থেকে উদ্ধৃতি প্রদান। তার বিবরণ নিম্নরূপ:
ক. আল্লাহ তাআলা নবী হোশেয়ার (৭) যবানে বনী ইসরায়েলকে বলেন: "আমি দয়া চাই, কুরবানি নয়" (৮)। এর অর্থ হলো, তিনি এমন জবেহ ও উপঢৌকন চান না যখন আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি হৃদয় কঠোর থাকে।
খ. ঈসা আলাইহিস সালাম যখন মথি—যিনি ছিলেন একজন হাওয়ারী—তার ঘরে ছিলেন, তখন তাঁর সাথে দস্তরখানে অনেক পাপী ও অপরাধী লোক বসল। বনী ইসরায়েলের আলিমরা যখন এটি দেখল, তারা এর প্রতিবাদ করল; কারণ তারা এই শ্রেণির মানুষের সাথে মেলামেশা থেকে নিজেদের দূরে রাখত। তারা হাওয়ারীদের বলল: "তোমাদের শিক্ষক কেন কর আদায়কারী (৯) ও পাপীদের সাথে আহার করছেন?" ঈসা এটি শুনে তাদের বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
"لا يحتاج الأصحاء إلي طبيب بل المرضى فاذهبوا وتعلموا ما هو: إنما أريد رحمة لا ذبيحة لأني لم آت لأدعو أبرارًا بل خطاة التي التوبة (1) " (2).
وهنا يظهر مدي التماثل بين النصين وإلى أي حد وصل الاقتباس من التوراة ومن ينظر في الآية "إنما أريد الرحمة لا الذبيحة" وهي من سفر هوشع يجد عيسى عليه السلام قد نطقها كما هى واستدل بها على المعني الخلقى الذي يريد تقريره وإذاعته في الناس فالنص الثاني مقتبس من التوراة أي منقول منها للاستشهاد به في الإنجيل (3).
وبناء على ذلك (يقرر علماء النصارى أن الترابط الوثيق بين العهدين جعل منهما في الحقيقة كتابًا واحدًا لا ينفصل متدرجًا في الإعلان ومتنوعًا في طرق الوحى، ويصرح البعض الآخر بما يفيد أفضلية وأكملية العهد الجديد فيقرر أن في العهد القدم يستتر العهد الجديد وفي العهد الجديد ينكشف القديم وأن العهد القديم إنما كان بمثابة طريق التي غاية لم يُكشف عنها إلا في العهد الجديد) (4).
وخلاصة ما سبق:1 - توجد علاقة واضحة وارتباط وثيق بين العهد القديم والعهد الجديد يجعل منهما كتاباً واحداً
2 - يعتبر العهد الجديد مكملاً للعهد القديم وكاشفًا ما فيه من غموض وإبهام.
3 - رغم ما بين العهدين من علاقة أكيدة إلا أن كلاً منهما يناقض الآخر في مواضع كثيرة.
4 - اعتمد كتَّاب الأناجيل على العهد القديم حتى قيل إن العهد الجديد مقتبس من العهد القديم.
--------------------------------------------
"সুস্থদের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই, বরং অসুস্থদেরই প্রয়োজন। তোমরা যাও এবং এর মর্ম শেখো: আমি করুণাই চাই, বলিদান নয়; কারণ আমি পুণ্যবানদের নয়, বরং পাপীদের অনুতাপের দিকে ডাকতে এসেছি (১)" (২)।
এখান থেকে উভয় পাঠ্যের মধ্যে সাদৃশ্যের মাত্রা এবং তাওরাত থেকে কতখানি উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে ব্যক্তি "আমি করুণাই চাই, বলিদান নয়" আয়াতটি লক্ষ্য করবেন—যা হোশেয়র পুস্তক (Book of Hosea) থেকে নেওয়া—তিনি দেখতে পাবেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) এটি হুবহু উচ্চারণ করেছেন এবং একে সেই নৈতিক অর্থ প্রমাণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন যা তিনি মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত ও প্রচার করতে চেয়েছেন। সুতরাং, দ্বিতীয় পাঠ্যটি তাওরাত থেকে উদ্ধৃত, অর্থাৎ ইঞ্জিলে সাক্ষ্য হিসেবে এটি সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে (৩)।
এর ভিত্তিতে (খ্রিস্টান পণ্ডিতগণ সাব্যস্ত করেন যে, উভয় নিয়মের (Old and New Testaments) মধ্যকার নিবিড় বন্ধন প্রকৃতার্থে সেগুলোকে একটি অবিচ্ছেদ্য গ্রন্থে পরিণত করেছে, যা পর্যায়ক্রমিক ঘোষণা এবং ওহী বা প্রত্যাদেশের বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিন্যস্ত। অন্যরা নতুন নিয়মের শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতা বুঝাতে গিয়ে বলেন যে, পুরাতন নিয়মের ভেতর নতুন নিয়ম প্রচ্ছন্ন ছিল এবং নতুন নিয়মের মাধ্যমে পুরাতন নিয়ম প্রকাশিত হয়েছে; আর পুরাতন নিয়ম ছিল সেই গন্তব্যের পথস্বরূপ যা কেবল নতুন নিয়মের মাধ্যমেই উন্মোচিত হয়েছে) (৪)।
পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ:১ - পুরাতন নিয়ম ও নতুন নিয়মের মধ্যে একটি স্পষ্ট সম্পর্ক ও নিবিড় বন্ধন বিদ্যমান যা উভয়কে একটি গ্রন্থে পরিণত করেছে।
২ - নতুন নিয়মকে পুরাতন নিয়মের পরিপূরক এবং তাতে থাকা অস্পষ্টতা ও জটিলতার উন্মোচনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৩ - উভয় নিয়মের মধ্যে সুনিশ্চিত সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, অনেক স্থানে একটি অন্যটির সাথে বৈপরীত্য প্রকাশ করে।
৪ - ইঞ্জিল রচয়িতাগণ পুরাতন নিয়মের ওপর এমনভাবে নির্ভর করেছেন যে, এমনকি বলা হয়ে থাকে নতুন নিয়ম পুরাতন নিয়ম থেকেই উদ্ধৃত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
المطلب الثالث دوافع الدراسة النقدية للكتاب المقدس
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র বাইবেলের সমালোচনামূলক অধ্যয়নের কারণসমূহ
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
دوافع الدراسة النقدية للكتاب المقدس:
كثيرة هى الدوافع التى تكمن وراء تناول الكتاب المقدس بالنقد والتحليل، والتي كانت وراء تنوع الجهود في هذا الميدان مما أسفر عن حصيلة هائلة من الكتب إلى تضطلع بدراسة الكتاب المقدس "دراسة نقدية" من هذه الدوافع ما يلي:
1 - ما ذكره القرآن الكريم من أدلة كثيرة تخبر عن وقوع التحريف في التوراة والإنجيل فقال تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ (13)} (1) فقوله تعالى: {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ} أى فسدت فهومهم وساء تصرفهم فى آيات الله وتأولوا كتابه على غير ما أنزله وحمَّلوه على غير مراده وقالوا عليه ما لم يقل عياذاً بالله من ذلك (2).
(وكان لهذه الآيات الكريمة أثرها في حمل بعض المسلمين على دراسة معتقدات أهل الكتاب دراسة نقدية هادئة يستنبط من خلالها الأدلة الدامغة علي تحريف هؤلاء لما ورثوا، وتبديلهم لما ينبغى عليهم أن يعتقدوا، وقد قامت الدراسة علي النصوص المتوارثة عن السابقين والتي يدعى أربابها أنهم قد تلقوها خلفًا عن سلف دون تصرف بالقبض أو البسط في الوقت الذي صرحت فيه التوراة والإنجيل بأن الكتبة تصرفوا فيما كتبوا بالزيادة والنقصان ودليل ذلك: "لا يرتد غضب الرب حتى يجري ويقيم مقاصد قلبه في آخر الأيام تفهمون فهما لم أرسل الأنبياء بل هم جروا لم أتكلم معهم بل هم تنبأوا ولو وقفوا في مجلسى لأخبروا شعبى بكلامى وردوهم عن طريقهم الردىء وعن شر أعمالهم" (3)) (4).
2 - ما ذكر في السنة النبوية المطهرة من تحريف اليهود للتوراة فقد جاء في الحديث: "أتي رسول الله بيهودي ويهودية قد أحدثا جميعًا فقال لهم: ما تجدون في كتابكم؟ قالوا: إن أحبارنا أحدثوا تحميم الوجه والتحبية قال عبد الله بن سلام: ادعهم يا رسول الله بالتوراة، فأتي بها فوضع أحدهم يده على آية الرجم وجعل يقرأ ما قبلها وما بعدها فقال له ابن سلام: ارفع يدك، فإذا آية الرجم تحت يده فأمر بهما رسول الله فرجما" (5).
--------------------------------------------
পবিত্র বাইবেলের সমালোচনামূলক পর্যালোচনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
পবিত্র বাইবেলের সমালোচনা ও বিশ্লেষণের পেছনে অনেক লক্ষ্য নিহিত রয়েছে, যার ফলে এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রচেষ্টার সমন্বয় ঘটেছে এবং এর ফলস্বরূপ বাইবেলের 'সমালোচনামূলক পর্যালোচনা'র ওপর ভিত্তি করে রচিত বিশাল এক গ্রন্থভাণ্ডার গড়ে উঠেছে। এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত অসংখ্য প্রমাণাদি, যা তাওরাত ও ইঞ্জিলে বিকৃতি ঘটার সংবাদ দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের ওপর অভিশাপ দিয়েছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করে (বিকৃত করে) এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একটি অংশ তারা ভুলে গেছে। আর আপনি সর্বদা তাদের অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত অন্যদের পক্ষ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার খবর পেতে থাকবেন। সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।" (১৩) (১) মহান আল্লাহর বাণী: "তারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করে" এর অর্থ হলো—তাদের বোধশক্তি কলুষিত হয়ে গিয়েছিল এবং আল্লাহর আয়াতের ক্ষেত্রে তারা মন্দ আচরণ করেছিল। তারা আল্লাহর কিতাবের এমন ব্যাখ্যা করেছিল যা তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং এর এমন অর্থ গ্রহণ করেছিল যা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না, আর তারা আল্লাহর ওপর এমন কথা আরোপ করেছিল যা তিনি বলেননি। এ থেকে আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। (২)
(আর এই পবিত্র আয়াতগুলো কিছু মুসলিমকে আহলে কিতাবদের বিশ্বাসসমূহ অত্যন্ত ধীরস্থির ও সমালোচনামূলকভাবে অধ্যয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে তারা তাদের প্রাপ্ত উত্তরাধিকারের মধ্যে যে বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং যা তাদের বিশ্বাস করা উচিত ছিল তাতে যে পরিবর্তন এনেছে, তার অকাট্য প্রমাণাদি নিরূপণ করেছেন। এই গবেষণাটি পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সেইসব মূলপাঠের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে এর অনুসারীরা দাবি করে যে, তারা কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই পরম্পরাগতভাবে তা প্রাপ্ত হয়েছে। অথচ তাওরাত ও ইঞ্জিল নিজেই স্পষ্ট করে বলছে যে, লেখকরা যা লিখেছিলেন তাতে হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। এর প্রমাণ হলো: "শেষ দিনগুলোতে তোমরা তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে, প্রভুর ক্রোধ প্রশমিত হবে না যতক্ষণ না তিনি তাঁর অন্তরের সংকল্প পূর্ণ করেন। আমি সেই নবীদের পাঠাইনি, অথচ তারা দৌড়েছে; আমি তাদের সাথে কথা বলিনি, অথচ তারা নব্যুয়ত দাবি করেছে। তারা যদি আমার সভায় দাঁড়াতো, তবে আমার প্রজাদের কাছে আমার কথা প্রচার করতে পারতো এবং তাদের মন্দ পথ ও তাদের কর্মের অনিষ্টতা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারতো।") (৩) (৪)
২ - পবিত্র সুন্নাহতে ইহুদিদের তাওরাত বিকৃতির যে বিবরণ এসেছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জনৈক ইহুদি পুরুষ ও নারীকে নিয়ে আসা হলো যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের কিতাবে তোমরা কী পাও? তারা বলল: আমাদের আলেমরা মুখ কালো করে দেওয়া এবং গাধার পিঠে উল্টো করে বসিয়ে ঘোরানোর বিধান প্রবর্তন করেছে। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের তাওরাত নিয়ে আসতে বলুন। অতঃপর তাওরাত আনা হলো। তাদের একজন রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা)-এর আয়াতের ওপর হাত রেখে তার আগের ও পরের অংশ পড়তে লাগল। ইবনে সালাম তাকে বললেন: তোমার হাত তোলো। তখন দেখা গেল তার হাতের নিচেই রজমের আয়াত বিদ্যমান। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের রজম করা হলো।" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وغير ذلك من الأحاديث التي دفعت علماء المسلمين إلى وضع الكتاب المقدس في الميزان لبيان ما حدث فيه من تحريف وتبديل.
3 - ظهور مؤلفات تنتصر للكتاب المقدس على ما سواه من كتب والادعاء من قبل النصارى أنه غير محرف، الأمر الذي دفع علماء المسلمين لنقد ما يدعون وإثبات التحريف والتبديل في الكتاب المقدس.
4 - ادعاء النصارى أن المسيحية دين عالمي وغير ذلك من الدعاوى الباطلة إلى يتمسك بها النصارى مما جعل علماء المسلمين يوجهون أقلامهم للرد علي هؤلاء بالدراسة النقدية لبيان حقيقة ما يدعون.
5 - أن التوراة الحالية وكذلك الأناجيل ليست وحيا من عند الله وبالتالى فهي من وضع بشر وكلام البشر خاضع بلا شك للنقد والمناقشة لبيان الصحيح من الفاسد فيه.
6 - الكشف عن حقيقة كتبة التوراة والأناجيل وأنهم الذين أفسدوا دين عيسى عليه السلام فزادوا وأنقصوا وبدلوا وغيروا حسب أهوائهم.
7 - اختلاف عقائد النصارى، وتباين أفكارهم مما أدى إلى تعرض طوائفهم- بما تتبنى من أفكار خاطئة- للنقد من قبل علماء المسلمين.
8 - تعدد فرق اليهود بين متعصبين ومفرطين ومغالين في العقيدة والتشريع والأخلاق واعتمادهم في ذلك كله على نصوص التوراة المحرفة وبقية مصادرهم المزيفة ومن هؤلاء:
(شاول "بولس" الذي حقد على دعوة المسيح ولم يستطع القضاء بالكلية على أهلها أو عليها فتظاهر باتباع المسيح على أثر اختياره له وهو في طريقه إلى الشام للقضاء على المسيحيين فيها ثم ألف كتبا وأرسى قواعد صارت ضمن التشريع المعمول به عند النصارى وكان لتعاليمه أثرها الواضح في تحريم ما أحل المسيح بدءاً أو نقلاً عن العهد القديم وكذلك حل ما حرمه العهد القديم وكذلك المسيح وقد عمل ذلك دون نظر إلى نصوص العهد القديم أو الأناجيل بعين التقدير) (1).
وبالتالى كان لا بد للنقاد المسلمين وغيرهم أن يفضحوا أفعال هؤلاء وينبهوا الناس لما أحدثوه من تحريف وتزييف حتى لا يُخدع بأقوالهم أحد.
--------------------------------------------
এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদিস, যা মুসলিম আলেমদের পবিত্র বাইবেলকে পর্যালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে তাতে সংঘটিত বিকৃতি ও পরিবর্তনের বিষয়গুলো স্পষ্ট করা যায়।
৩ - এমন সব রচনার আবির্ভাব যা অন্যান্য গ্রন্থের তুলনায় পবিত্র বাইবেলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করে এবং খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা যে এটি বিকৃত নয়; যা মুসলিম আলেমদের তাদের এই দাবি খণ্ডন করতে এবং পবিত্র বাইবেলে বিকৃতি ও পরিবর্তনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে উৎসাহিত করেছে।
৪ - খ্রিস্টানদের এই দাবি যে খ্রিস্টধর্ম একটি বিশ্বজনীন ধর্ম এবং তাদের এই জাতীয় অন্যান্য অসার দাবি যা তারা আঁকড়ে ধরে থাকে; ফলে মুসলিম আলেমগণ তাদের দাবির অসারতা প্রমাণের লক্ষ্যে সমালোচনামূলক অধ্যয়নের মাধ্যমে তাদের জবাব দিতে কলম ধরেছেন।
৫ - বর্তমান তাওরাত এবং একইভাবে ইঞ্জিলসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি নয়, বরং এগুলো মানুষের তৈরি। আর মানুষের কথা নিঃসন্দেহে সমালোচনা ও পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, যাতে তার মধ্য থেকে সঠিক ও ভুল পার্থক্য করা যায়।
৬ - তাওরাত ও ইঞ্জিলের লেখকদের প্রকৃত পরিচয় উন্মোচন করা এবং এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, তারাই ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ধর্মকে কলুষিত করেছে; তারা নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী তাতে সংযোজন-বিয়োজন করেছে এবং পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ঘটিয়েছে।
৭ - খ্রিস্টানদের আকিদা বা বিশ্বাসের ভিন্নতা এবং তাদের মতাদর্শের বৈচিত্র্য; যার ফলে তাদের বিভিন্ন উপদলের ভ্রান্ত চিন্তাধারা মুসলিম আলেমদের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।
৮ - আকিদা, শরিয়ত ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে ইহুদিদের বিভিন্ন উপদলের বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থা এবং এই সবকিছুর ক্ষেত্রে তাদের বিকৃত তাওরাত ও অন্যান্য জাল উৎসের ওপর নির্ভরতা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো:
(শাউল "পল", যে মসিহ-এর দাওয়াতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত এবং এর অনুসারীদের বা এই দাওয়াতকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে সক্ষম হয়নি। ফলে সে মসিহের অনুসারী হওয়ার ভান করে—তার দাবি অনুযায়ী সিরিয়ার পথে থাকাকালীন মসিহ তাকে মনোনীত করেছিলেন যখন সে সেখানে খ্রিস্টানদের নির্মূল করতে যাচ্ছিল। অতঃপর সে এমন সব কিতাব রচনা করে এবং এমন সব মূলনীতি প্রবর্তন করে যা খ্রিস্টানদের প্রচলিত শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। মসিহ প্রারম্ভিকভাবে অথবা পুরাতন নিয়ম থেকে যা বৈধ করেছিলেন তা অবৈধ করার ক্ষেত্রে এবং একইভাবে পুরাতন নিয়ম ও মসিহ যা অবৈধ করেছিলেন তা বৈধ করার ক্ষেত্রে তার শিক্ষার সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। সে পুরাতন নিয়ম বা ইঞ্জিলের ভাষ্যসমূহের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাশীল না হয়েই এই কাজগুলো সম্পাদন করেছে) (১)।
ফলে মুসলিম সমালোচক ও অন্যদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল যে তারা এদের কর্মকাণ্ড ফাঁস করে দেবেন এবং মানুষকে তাদের করা বিকৃতি ও জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্ক করবেন, যাতে কেউ তাদের কথায় প্রতারিত না হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
9 - اختلاف تراجم (1) العهد القديم وتعددها إلى سامرية، عبرية، يونانية وغيرها مما أدى إلى وجود تناقضات كثيرة جداً فضلاً عما فيها من زيادة ونقصان يؤدى إلى فقدان الثقة في العهد القديم خاصة وفي الكتاب المقدس عامة، الأمر الذي يدفع علماء المسلمين إلى ضرورة المقابلة بين النسخ لاكتشاف ما فيها من تناقضات واختلافات.
ولذلك فإن (تفاوت الطبعات يحمل بين طياته تفاوتا في كثير من النصوص بما لا يمكن القطع بأن الطبعة الثانية هى عين الأولى، ومن يرجع إلى الطبعة المفهرسة للكتاب المقدس (1883 م /1983م) يدرك من الصفحة الأولى وعنوانها "تنبيه" أن التحريف قد وقع في هذا الكتاب من خلال ما ذكره هؤلاء من إشارات متعلقة بالكتاب إلى تدل دلالة قطعية على الزيادة والنقصان
--------------------------------------------
৯ - পুরাতন নিয়মের (১) অনুবাদসমূহের ভিন্নতা এবং সামেরীয়, হিব্রু, গ্রিক ও অন্যান্য সংস্করণে এর বহুধা বিভক্তি; যা অসংখ্য বৈপরীত্য সৃষ্টির পাশাপাশি এতে সংযোজন ও বিয়োজনের পথ প্রশস্ত করেছে। এটি বিশেষত পুরাতন নিয়ম এবং সাধারণভাবে সমগ্র বাইবেলের নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করে। এই পরিস্থিতিই মুসলিম পণ্ডিতদের অনুলিপিগুলোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে বাধ্য করে, যাতে সেখানে বিদ্যমান বৈপরীত্য ও পার্থক্যসমূহ উন্মোচিত হয়।
এই কারণেই (সংস্করণগুলোর ভিন্নতা অনেক পাঠ্যের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বহন করে, যার ফলে দ্বিতীয় সংস্করণটি হুবহু প্রথমটির মতো বলে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয় না। কেউ যদি বাইবেলের নির্ঘণ্টসহ সংস্করণে (১৮৮৩ খ্রি./১৯৮৩ খ্রি.) ফিরে তাকায়, তবে সে এর প্রথম পৃষ্ঠা এবং "সতর্কবার্তা" শিরোনাম দেখেই উপলব্ধি করতে পারবে যে, এই গ্রন্থে বিকৃতি ঘটেছে। সেখানে উল্লিখিত গ্রন্থ-সংশ্লিষ্ট ইঙ্গিতসমূহ নিশ্চিতভাবে এতে সংযোজন ও বিয়োজনের প্রমাণ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
والذكر والعدم والاختيار بين بدائل دون أخرى) (2).
--------------------------------------------
এবং উল্লেখ, অনুপস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কিছু বিকল্পের মধ্যে নির্বাচন) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المطلب الرابع موقف الإسلام من التوراة والإنجيلويشتمل على ما يلي:
- موقف الإِسلام من التوراة المترلة من عند الله عز وجل
- موقف الإِسلام من التوراة الحالية والعهد القديم
- موقف الإِسلام من الإنجيل المنزل من عند الله عز وجل
- مكانة الأناجيل الحالية
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাওরাত ও ইঞ্জিলের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থানএবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাওরাতের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান
- বর্তমান তাওরাত ও ওল্ড টেস্টামেন্ট (পুরাতন নিয়ম)-এর ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান
- মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ইঞ্জিলের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান
- বর্তমান ইঞ্জিলসমূহের মর্যাদা ও অবস্থান
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أ - موقف الإِسلام من التوراة المنزلة على سيدنا موسى عليه السلام:الإِسلام له رأيه المستقيم الواضح في التوراة والإنجيل، وقد أعطي لكل نبي من الأنبياء حقه من القداسة والاحترام إذ أن الرسل "صلوات الله وسلامه عليهم" هم المبلغين عن الله عز وجل بواسطة أمين الوحى جبريل عليه السلام.
وقد جعل الله عز وجل الإيمان بهم جزءاً أساسياً يسهم في تشكيل عقيدة المسلم فلا يصح إيمان عبد إلا إذا آمن برسل الله أجمعين وبما أنزله الله عز وجل عليهم من كتب ولا يصح التفريق بين أحد منهم فقال تعالى: {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (136) فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} (1).
في هذه الآيات يخص القرآن الكريم (التوراة والإنجيل) من بين ما أنزل علي الأنبياء، ويدلي بشهاداته القيمة بشأنهما تكريماً لهما، وبياناً لأهمية أحكامهما ولأنهما الكتابان الوحيدان اللذان بقيت آثارهما حتى الآن (2). وقد وصف القرآن الكريم التوراة المنزلة علي سيدنا موسى "عليه السلام" بأنها هدي لبنى إسرائيل فقال تعالى: {وَآتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَجَعَلْنَاهُ هُدًى لِبَنِي إِسْرَائِيلَ أَلَّا تَتَّخِذُوا مِنْ دُونِي وَكِيلًا} (3). ويقول سبحانه: {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْهُدَى وَأَوْرَثْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ الْكِتَابَ (53) هُدًى وَذِكْرَى لِأُولِي الْأَلْبَابِ} (4). وهي نور يهتدي به الساري في ظلمات الحياة ومسالكها يقول تعالى: {قُلْ مَنْ أَنْزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نُورًا وَهُدًى لِلنَّاسِ} (5). وهي نظام دقيق لشؤون الحياة، والالتزام بها رقة للقلب وشفافية للروح وإحسان وتراحم لما فيها من تفصيل لكل شىء وذكر للآخرة- ثوابها وعقابها (6).
--------------------------------------------
ক - আমাদের নেতা মূসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ তাওরাতের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সুসংহত ও সুস্পষ্ট। মহান আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে পবিত্রতা ও শ্রদ্ধার যথাযোগ্য মর্যাদা দান করেছেন; কারণ রাসূলগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী প্রচারকারী।
মহান আল্লাহ তাঁদের প্রতি ঈমান আনাকে একজন মুসলিমের আকিদা বা বিশ্বাস গঠনের একটি মৌলিক ও অপরিহার্য অংশ করেছেন। সুতরাং কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর সকল রাসূল এবং তাঁদের ওপর মহান আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেই কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। তাঁদের মধ্য থেকে কারো মধ্যে পার্থক্য করা বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি; আর যা অবতীর্ণ হয়েছে ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি; এবং মূসা ও ঈসাকে যা প্রদান করা হয়েছে এবং অন্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে যা দেওয়া হয়েছে তার প্রতি। আমরা তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী (১৩৬)। অতঃপর তারা যদি তোমাদের মতো ঈমান আনে, তবে অবশ্যই তারা সুপথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা কেবল বিরোধিতায় লিপ্ত। সুতরাং তাদের বিপরীতে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা (১৩৭)} (১)।
এই আয়াতসমূহে পবিত্র কুরআন নবীদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে (তাওরাত ও ইঞ্জিলকে) বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে এবং এ দুটির সম্মানে ও এদের বিধানের গুরুত্ব বর্ণনায় মূল্যবান সাক্ষ্য প্রদান করেছে; কারণ এ দুটিই একমাত্র কিতাব যেগুলোর নিদর্শনাবলি এখন পর্যন্ত অবশিষ্ট রয়েছে (২)। পবিত্র কুরআন আমাদের নেতা মূসা "আলাইহিস সালাম"-এর ওপর অবতীর্ণ তাওরাতকে বনী ইসরাঈলের জন্য হেদায়াত বা পথপ্রদর্শক হিসেবে বর্ণনা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তাকে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক করেছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে কর্মবিধায়ক হিসেবে গ্রহণ করো না} (৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আমি মূসাকে হেদায়াত দান করেছি এবং বনী ইসরাঈলকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি (৫৩); যা বুদ্ধিমানদের জন্য পথপ্রদর্শক ও উপদেশস্বরূপ (৫৪)} (৪)। এটি এমন এক নূর বা জ্যোতি যা জীবনের অন্ধকার ও এর বিভিন্ন বাঁকে পথযাত্রীকে পথ দেখায়। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, কে অবতীর্ণ করেছে সেই কিতাব যা মূসা নিয়ে এসেছিলেন, যা মানুষের জন্য নূর ও হেদায়াতস্বরূপ?} (৫)। এটি জীবনের বিষয়াবলির জন্য এক সূক্ষ্ম নিয়ম-পদ্ধতি; এর অনুসরণ হৃদয়ের কোমলতা ও আত্মার স্বচ্ছতা এবং দয়া ও সহমর্মিতা আনয়ন করে। কারণ এতে প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ এবং পরকালের সওয়াব ও শাস্তির উল্লেখ রয়েছে (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فقال تعالى: {ثُمَّ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ تَمَامًا عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَعَلَّهُمْ بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ (154)} (1) وإن الغاية من إنزالها لعلهم يؤمنون بالآخرة، وهم ينكرونها في توراتهم ولا يقيمون لها وزناً وغير ذلك من الأوصاف التي عددها القرآن الكريم من أنها ضياء وفرقان (2) ودستور حكم (3): حكم بها الأنبياء والأحبار بما حفظوا منها وبهذا يتضح رأي الإِسلام فيما أُنزل على سيدنا موسى عليه السلام ..
ب. موقف الإِسلام من التوراة الحالية:1 - يقرر القرآن الكريم وقوع التحريف في التوراة الحالية فقال تعالى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ} (4) أعم من أن يكون اختلافاً في جوهرها أو في فهمها، وقرر أيضًا وجود الاختلاف بين بين إسرائيل بعضهم البعض فقال تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَكْثَرَ الَّذِي هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ} (5).
فالتوراة الحالية ليست هى المنزلة على سيدنا موسى عليه السلام وقد حرف اليهود التوراة تحريفاً مادياً ومعنوياً أما التحريف المادي اللفظى فكان للكلمات والفقرات بأخرى فأزالوا وقدموا وأخروا وبدلوا وأضافوا حسب أهوائهم، وأما تحريفهم المعنوي فكان بتغيير مدلول الكلمات لتوافق أهواءهم وانحرافاتهم العقدية والأخلاقية فقال تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} (6).
2 - ما كان من مضمون التوراة موافقاً للقرآن الكريم أو السنة المطهرة يُقبل ولا يرد باعتبار أن معناه صحيح، رغم فقدانه للنص المقدس، وذلك مثل الأحكام الموجودة في التوراة وأكدها القرآن في سورة إلى المائدة كأحكام القتل والزنا وغيرهما (7).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমি মূসাকে কিতাব দান করেছি, যা সৎকর্মশীলদের জন্য পূর্ণাঙ্গ, প্রতিটি বিষয়ের বিশদ ব্যাখ্যা, এবং হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ, যেন তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপন করে। (১৫৪)} (১) আর তা অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্য হলো যাতে তারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনে, অথচ তারা তাদের বর্তমান তাওরাতে তা অস্বীকার করে এবং একে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এছাড়াও পবিত্র কুরআন এর আরও কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছে, যেমন এটি জ্যোতি ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (২) এবং বিধানের সংবিধান (৩): নবিগণ ও পণ্ডিতগণ আল্লাহর কিতাবের যা কিছু তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল সে অনুযায়ী এর মাধ্যমে বিচার করতেন। এর মাধ্যমেই আমাদের নেতা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল সে সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়...
খ. বর্তমান তাওরাতের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান:১ - পবিত্র কুরআন বর্তমান তাওরাতে বিকৃতি ঘটার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি অবশ্যই মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তোমার রবের পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। আর নিশ্চয় তারা এ ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।} (৪) এই মতভেদ এর মূল সত্তার ক্ষেত্রে হতে পারে অথবা এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে হতে পারে। আল্লাহ বনী ইসরায়েলের নিজেদের মধ্যকার মতভেদের অস্তিত্ব সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় এই কুরআন বনী ইসরায়েলের নিকট অধিকাংশ বিষয় বর্ণনা করে যেগুলোতে তারা মতভেদ করে।} (৫)।
সুতরাং বর্তমান তাওরাত সেটি নয় যা আমাদের নেতা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। ইহুদিরা তাওরাতকে শাব্দিক ও অর্থগতভাবে বিকৃত করেছে। শাব্দিক বিকৃতি ছিল শব্দ ও অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের মাধ্যমে; তারা তাদের খেয়ালখুশি মতো কিছু অংশ বাদ দিয়েছে, আগে-পাছে করেছে, রদবদল করেছে এবং নতুন কিছু যুক্ত করেছে। আর তাদের অর্থগত বিকৃতি ছিল শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ পরিবর্তনের মাধ্যমে, যাতে তা তাদের প্রবৃত্তি এবং আকিদাগত ও চারিত্রিক বিচ্যুতিগুলোর অনুকূলে হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের লানত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দগুলোকে আপন স্থান থেকে পরিবর্তন করে এবং তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি অংশ তারা ভুলে গিয়েছে। আর তুমি সর্বদা তাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া বাকি সবার পক্ষ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার খবর পেতে থাকবে। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা করো এবং মার্জনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।} (৬)।
২ - তাওরাতের বিষয়বস্তুর মধ্যে যা কিছু পবিত্র কুরআন বা সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা গ্রহণযোগ্য এবং তা প্রত্যাখ্যান করা হবে না এই বিবেচনায় যে এর অর্থ সঠিক, যদিও এর পবিত্র মূল পাঠ হারিয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, তাওরাতে বিদ্যমান সেই সকল বিধান যা কুরআন সূরা আল-মায়িদাহ-তে নিশ্চিত করেছে, যেমন হত্যা ও ব্যভিচারের বিধান এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
3 - (إذا خالفت نصوص القرآن الكريم أو السنة المطهرة فهي ترد قطعاً ولا تُقبل وكذلك لا تُقبل نصوص التوراة إذا صادمت الحقائق العلمية اليقينية أو خالفت الواقع ومعطياته، وذلك لأن الوحى الصادق لا يصطدم بالحقائق العلمية ولا ينكر المعلومات التي شهدها له الواقع- التاريخي أو الجغرافي أو العلم المادي التجريبي وما سكت عنه القرآن والسنة مما جاء في التوراة يُسكت عنه دون تصديقٍ أو تكذيبٍ وذلك اتباعاً لتوجيهات النبي صلى الله عليه وسلم "لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذبوهم، وقولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إليكم (1) ") (2).
مع ملاحظة أن الإِسلام لا يعترف إلا بالتوراة التي أنزلها الله علي سيدنا موسى عليه السلام ولا يعترف بسواها من أسفار العهد القديم
… لأنهم قد حرفوا ما معهم من الكتب المقدسة قال تعالى: {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ} (3). وأن ما معهم الآن مكتوب بأيديهم ومنسوب خطأ إلى الله عز وجل فقال تعالى: {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ (79)} (4). وبهذا يتحدد موقف المسلم من كتب اليهود والنصارى، فالطعن الموجه إلى اليهود هو موجه بالدرجة الأولى إلى النصارى؛ لأن التوراة تشكل الجزء الأكبر من كتابهم الذي يزعمون أنه مقدس، وسقوط التوراة بهذه الصورة يعد سقوطاً للنصرانية بأكملها؛ لأنهم مطالبون بالعمل بتشريعاتها (5).
--------------------------------------------
৩ - (যদি তা পবিত্র কুরআনের নصوص (সুস্পষ্ট পাঠ) বা পবিত্র সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং তা গ্রহণ করা হবে না। তদ্রূপ তাওরাতের বক্তব্যসমূহও গ্রহণযোগ্য হবে না যদি তা সুনিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক হয় অথবা বাস্তবতা ও এর উপাত্তসমূহের বিরোধী হয়। কেননা সত্য ওহী বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় না এবং বাস্তবতা তথা ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক বা অভিজ্ঞতালব্ধ বস্তুগত বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রমাণিত তথ্যাবলিকে অস্বীকার করে না। আর তাওরাতে বর্ণিত যেসব বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ নীরবতা অবলম্বন করেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কোনোটিই না করে নীরব থাকতে হবে। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনার অনুগামী হয়ে, যিনি বলেছেন: "তোমরা আহলে কিতাবদের (কিতাবধারী) সত্য মনে করো না এবং মিথ্যাও প্রতিপন্ন করো না; বরং বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর ওপর এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর (১)") (২)।
উল্লেখ্য যে, ইসলাম কেবল সেই তাওরাতকেই স্বীকৃতি দেয় যা আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মূসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। এছাড়া ওল্ড টেস্টামেন্টের (পুরাতন নিয়ম) অন্য কোনো পুস্তককে ইসলাম স্বীকৃতি দেয় না… কারণ তারা তাদের কাছে থাকা পবিত্র গ্রন্থসমূহ বিকৃত করে ফেলেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা শব্দগুলোকে নিজ স্থান থেকে বিকৃত করে এবং তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি অংশ তারা ভুলে গিয়েছে} (৩)। আর বর্তমানে তাদের কাছে যা রয়েছে তা তাদের নিজেদের হাতের লেখা এবং ভুলবশত তা মহান আল্লাহর প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং নগণ্য মূল্য প্রাপ্তির আশায় বলে, 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে'। অতএব তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং তারা যা উপার্জন করছে তার জন্যও তাদের ধ্বংস (৭৯)} (৪)। এর মাধ্যমেই ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের কিতাবসমূহের ব্যাপারে একজন মুসলিমের অবস্থান নির্ধারিত হয়। মূলত ইয়াহুদিদের প্রতি যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তা প্রাথমিকভাবে খ্রিষ্টানদের ওপরও আপতিত হয়; কেননা তাওরাত তাদের কিতাবের (বাইবেল) বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে যেটিকে তারা পবিত্র বলে দাবি করে। এভাবে তাওরাতের অসারতা প্রমাণিত হওয়া মানে সমগ্র খ্রিষ্টধর্মেরই অসারতা; কারণ তারা এর বিধানগুলো মেনে চলতে আদিষ্ট (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী নাকদিল কিতাবিল মুকাদ্দাস মিনাল কারনিত সামিনিল হিজরী ইলাল আসরিল হাদির আরদ ওয়া নাকদ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
ج. موقف الإِسلام من الإنجيل المنزل علي سيدنا عيسى عليه السلام:المسلم يؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله بلا تفرقة أو تحيزٍ لأحد منهم فقال تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ (285)} (1).
(فإن آمن أحد برسولٍ وأنكر آخر فهو كافر وإذا صدق بكتاب وكذب كتاباً آخر فهذا ليس بمؤمن وهو في ضلالِ مبين فقال تعالى: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} (2) فيجب الإيمان بالكتب المنزلة ومنها الإنجيل سيدنا عيسى عليه السلام لأنه من لم يؤمن به يكون منكراً لآيات القرآن الكريم التى تحدثت عن الإنجيل ومن أنكر شيئًا من القرآن الكريم كان كافراً) (3).
هذا .. ولقد أخبر القرآن الكريم أن سيدنا عيسى عليه السلام رسول قد أوحى الله عز وجل إليه فأنزل عليه الإنجيل مصدقًا لما في التوراة من أحكام ومكملاً لدعوة سيدنا موسى عليه السلام فقال تعالى: {وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ (48) وَرَسُولًا إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ} (4)، وقال سبحانه: {وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَلِأُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ} (5)، وقال تعالى: {نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ * مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ وَأَنْزَلَ الْفُرْقَانَ} (6).
ولذلك فإن أصول المسيحية ترجع إلى الوحي الإلهي "الإنجيل" الذي أوحي به إلى سيدنا عيسى عليه السلام تصديقاً للتوراة المنزلة على سيدنا موسى عليه السلام وتكميلاً لشريعة التوراة إذ الرسولين الكريمين كانت رسالتهما قاصرة على بنى إسرائيل (7).
--------------------------------------------
গ. আমাদের নেতা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ ইঞ্জিল কিতাব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:একজন মুসলিম আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর কোনো প্রকার পার্থক্য বা কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই ঈমান পোষণ করেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {রাসূল তাঁর প্রতি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সকলেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছে। (তারা বলে) 'আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।' আর তারা বলেছে, 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনারই দিকে (সবার) প্রত্যাবর্তন।' (২৮৫)} (১)।
(যদি কেউ কোনো একজন রাসূলের ওপর ঈমান আনে এবং অন্যকে অস্বীকার করে, তবে সে কাফির। আর যদি সে একটি কিতাবকে সত্য বলে গ্রহণ করে এবং অন্য কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে সে মুমিন নয় এবং সে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালকে অস্বীকার করে, সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হলো।} (২)। সুতরাং অবতীর্ণ কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনা আবশ্যক, যার অন্তর্ভুক্ত হলো আমাদের নেতা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি অবতীর্ণ ইঞ্জিল। কারণ, যে ব্যক্তি এতে ঈমান আনবে না, সে পবিত্র কুরআনের সেই আয়াতগুলোকে অস্বীকারকারী হিসেবে গণ্য হবে যেগুলোতে ইঞ্জিল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের কোনো অংশকে অস্বীকার করে, সে কাফির বলে গণ্য হয়) (৩)।
তাছাড়া, পবিত্র কুরআন সংবাদ দিয়েছে যে, আমাদের নেতা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এমন একজন রাসূল ছিলেন যাঁকে মহান আল্লাহ ওহী প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর ওপর ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছিলেন যা তাওরাতের বিধানসমূহের সত্যায়নকারী এবং আমাদের নেতা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর দাওয়াতের পরিপূরক ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি তাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দেবেন (৪৮)। এবং বনী ইসরাঈলের জন্য রাসূল হিসেবে (প্রেরণ করবেন), (তিনি বলবেন) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি} (৪)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {আর আমি এসেছি আমার সামনে বিদ্যমান তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে এবং তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছিল এমন কিছু বিষয় হালাল করে দিতে। আর আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো} (৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আর তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছেন ইতিপূর্বে মানুষের হিদায়াতের জন্য, এবং তিনি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন} (৬)।
অতএব, খ্রিস্টধর্মের মূল উৎস হলো সেই ঐশী প্রত্যাদেশ 'ইঞ্জিল', যা আমাদের নেতা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর ওহী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল; যা আমাদের নেতা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং তাওরাতের শরীয়তের পরিপূরক হিসেবে এসেছিল। কেননা এই দুই সম্মানিত রাসূলের দাওয়াত কেবল বনী ইসরাঈলদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল (৭)।
--------------------------------------------