(খণ্ড: ১)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: -)
شرح المشكاة للطيبي الكاشف عن حقائق السنن القسم: شروح الحديث
الكتاب: شرح الطيبي على مشكاة المصابيح المسمى بـ (الكاشف عن حقائق السنن)
المؤلف: شرف الدين الحسين بن عبد الله الطيبي (743 هـ)
المحقق: د. عبد الحميد هنداوي
الناشر: مكتبة نزار مصطفى الباز (مكة المكرمة - الرياض)
عدد الأجزاء: 13 (متسلسلة الترقيم) (الأخير فهارس)
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: فريق (رابطة النساخ) برعاية (مركز النخب العلمية)
تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1435
আল-তিবী রচিত মিশকাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ: আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: মিশকাতুল মাসাবিহ-এর ওপর আল-তিবী রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম (আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান)
লেখক: শরফুদ্দীন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-তিবী (৭৪৩ হিজরী)
সম্পাদক: ড. আব্দুল হামিদ হাইন্দাউয়ি
প্রকাশক: মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল-বায (মক্কা মুকাররমা - রিয়াদ)
খণ্ড সংখ্যা: ১৩ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন) (সর্বশেষটি নির্ঘণ্ট)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: (রাবিতাতুন নুসাখ) দল, (মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤١٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله شهادة تكون للنجاة وسيلة، ولرفع الدرجات كفيلة، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، الذي بعثه وطرق الإيمان قد عفت آثارها، وخبت أنوارها، ووهنت أركانها، وجهل مكانها، فشيد صلوات الله وسلامه عليه من معالمها ما عفا، وشفى من الغليل في تأييد كلمة التوحيد من كان على شفى، وأوضح سبيل الهداية لمن أراد أن يسلكها، وأظهر كنوز السعادة لمن قصد أن يملكها.
ــ
بسم الله الرحمن الرحيم
القول في شرح الخطبة
قوله: (الحمد) هو الثناء على الجميل الاختياري من نعمة وغيرها، تقول: حمدت زيدا على علمه وإحسانه، فقوله: (الحمد لله) ههنا مطلق، يتناول حمد الله تعالى نفسه، وأرفع حمد ما كان من أرفع حامد، وأعرفهم بالمحمود، وأقدرهم على إيفاء حقه قال: (لا أحصي ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك). وقيل: ما أثى الله على نفسه هو بث آلائه، وإظهار نعمائه بمحكمات أفعاله، ويتناوله حمد الحامدين من ابتداء الخلق إلى انتهاء قولهم: (وآخر دعواهم أن الحمد لله رب العالمين).
وقوله: (نحمد الله) استئناف وإظهار لتخصيص حمده، لكن باستعانته، ونفى الحول والقوة دفع الرياء والسمعة من نفسه، ومن ثم أتبعه بقوله: (ونعوذ بالله من شرور أنفسنا)، ولما أضيفت الشرور والأعمال إلى الأنفس، وأوهم أن لها الاختيار والاستقلال بالأعمال، أتبعه بقوله: (من يهدي الله فلا مضل له)؛ ليؤذن بأن كل ذلك منه، وليس للعبد إلا الكسب. والضمير المستكن في (نحمده ونستعينه ونستغفره) للمتكلم ومن معه من أصحابه الحاضرين والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، وفي (أشهد) لنفسه عليه السلام خاصة أفرده للتوحيد، وهو إسقاط الحدوث وإثبات القدم، فأشار أولا إلى التفرقة، وثانيا إلى الجمع.
وقوله: (قد عفت) اندرست، (خبت) خفيت، (وهنت) ضعفت.
قوله: (من كان على شفا) جانس بين شفا وشفا من حيث اللفظ، وطابق بينهما من حيث المعنى، يقال: مرضت مرضا أشفيت على الموت، أي أشرفت عليه، ويجوز أن يكون من شفا الذي هو طرف كل شيء، فيكون مقتبسا من قوله تعالى: {وكنتم على شفا حفرة من النار فأنقذكم منها}.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা মুক্তির মাধ্যম এবং মর্তবা উন্নীতকরণের গ্যারান্টি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; যাঁকে তিনি এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন ঈমানের পথসমূহ বিলুপ্তপ্রায় হয়েছিল, এর নূরসমূহ নিভে গিয়েছিল, এর স্তম্ভসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং এর সঠিক অবস্থানটি অজ্ঞাত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তিনি—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর মিটে যাওয়া নিদর্শনগুলোকে পুনর্নির্মাণ করেছেন, আর একত্ববাদের বাণীকে সুসংহত করার মাধ্যমে সেই পিপাসার্ত হৃদয়ের আরোগ্য দান করেছেন যে ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি হেদায়েতের পথকে তাদের জন্য সুস্পষ্ট করেছেন যারা তাতে চলতে চায় এবং সৌভাগ্যের ধনভাণ্ডারকে তাদের জন্য উন্মোচিত করেছেন যারা তা লাভ করতে চায়।
—
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা ভাষণের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আলোচনা
তাঁর উক্তি: (আল-হামদু) বা প্রশংসা হলো—নিয়ামত বা অন্য কোনো কারণে কারো ঐচ্ছিক সুন্দর গুণাবলির প্রশংসা করা। যেমন আপনি বলেন: আমি যায়িদকে তার জ্ঞান ও মহানুভবতার জন্য প্রশংসা করেছি। সুতরাং এখানে ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’ বাক্যটি সাধারণ বা নিঃশর্ত; যা আল্লাহ তাআলার নিজের প্রশংসা নিজে করাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসা তাই, যা সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসাকারীর পক্ষ থেকে আসে, যিনি প্রশংসিত সত্তা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত এবং তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দানে সর্বাধিক সক্ষম। তিনি বলেছেন: ‘আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন।’ কেউ কেউ বলেন: আল্লাহ নিজের যে প্রশংসা করেছেন তা হলো তাঁর নিপুণ কর্মরাজি ও অকাট্য কার্যাবলির মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ ও নেয়ামতসমূহ প্রকাশ করা। আর সৃষ্টির শুরু থেকে প্রশংসাকারীদের সকল প্রশংসা এর অন্তর্ভুক্ত, যার সমাপ্তি ঘটবে তাদের এই কথার মাধ্যমে: ‘তাদের শেষ আহ্বান হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’
আর তাঁর উক্তি: ‘আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি’—এটি একটি নতুন বাক্য এবং তাঁর প্রশংসাকে নির্দিষ্ট করার বহিঃপ্রকাশ, তবে তা তাঁরই সাহায্যের মাধ্যমে। এতে নিজের ক্ষমতা ও শক্তিকে অস্বীকার করে লোকদেখানো ও লোকশোনানোর মানসিকতা দূর করা হয়েছে। এ কারণেই তিনি এর পরপরই বলেছেন: ‘আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি’। যেহেতু অনিষ্ট ও কর্মসমূহকে নফসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, যা নফসের কর্ম-স্বাধীনতার ধারণা দিতে পারে, তাই তিনি এর পরে বলেছেন: ‘যাকে আল্লাহ হেদায়েত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই’; যাতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে সব কিছুই তাঁর পক্ষ থেকে এবং বান্দার কেবল অর্জন করার চেষ্টা রয়েছে। ‘আমরা তাঁর প্রশংসা করি, সাহায্য চাই ও ক্ষমা প্রার্থনা করি’ ক্রিয়াগুলোতে উহ্য সর্বনামটি বক্তা এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের নির্দেশ করে। আর ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি’ বাক্যে ক্রিয়াটি কেবল তাঁর নিজের জন্য এককভাবে ব্যবহৃত হয়েছে একত্ববাদের ঘোষণার নিমিত্তে; যা নশ্বরতাকে অস্বীকার করা এবং অনাদিত্বকে সাব্যস্ত করাকে বোঝায়। এভাবে তিনি প্রথমে পৃথকীকরণ এবং পরে একত্রিতকরণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
আর তাঁর উক্তি: ‘আফাত’ অর্থ বিলুপ্ত হওয়া, ‘খাবাত’ অর্থ স্তিমিত হওয়া, ‘ওয়াহানাত’ অর্থ দুর্বল হওয়া।
তাঁর উক্তি: ‘যে ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল’—এখানে তিনি ‘শাফা’ (আরোগ্য) এবং ‘শাফা’ (প্রান্ত) শব্দ দুটির মধ্যে উচ্চারণগত মিল ও অর্থগত সামঞ্জস্য বজায় রেখেছেন। বলা হয়ে থাকে: ‘আমি এমন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম যে মৃত্যুর নিকটবর্তী হয়েছিলাম’, অর্থাৎ আমি মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত হয়েছিলাম। আবার এটি ‘শাফা’ শব্দ থেকেও হতে পারে যার অর্থ কোনো কিছুর কিনারা; সেক্ষেত্রে এটি মহান আল্লাহর বাণীর নির্যাস হতে পারে: ‘তোমরা আগুনের গর্তের কিনারে ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করেছেন।’
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤١٤)
أما بعد؛ فإن التمسك بهديه لا يستتب إلا بالاقتفاء لما صدر من مشكاته، والاعتصام بحبل الله لا يتم إلا ببيان كشفه، وكان (كتاب المصابيح) الذي صنفه الإمام محيي السنة، قامع البدعة، أبو محمد الحسين بن مسعود الفراء البغوي، رفع الله درجته- أجمع كتاب صنف في بابه، وأضبط لشوارد الأحاديث وأوابدها ولما سلك رضي الله عنه طريق الاختصار، وحذف الأسانيد، تكلم فيه بعض النقاد، وإن كان نقله -وإنه من الثقات- كالإسناد، لكن ليس ما فيه أعلام كالأغفال، فاستخرت الله تعالى، وناستوفقت منه، فأعلمت ما أغفله، فأودعت كل حديث منه في مقره كما رواه الأئمة المتقنون، والثقات الراسخون؛ مثل أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، وأبي الحسين مسلم بن الحجاج القشيري، وأبي عبد الله مالك بن أنس الأصبحي، وأبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي، وأبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، وأبي عيسى محمد بن عيسى الترمذي، وابي داود سليمان بن الأشعث السجستاني، وأبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي، وأبي عبد الله محمد بن يزيد بن ماجه القزويني، وأبي محمد عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، وأبي
ــ
قوله: (لا يستتب) أي لا يستقيم ولا يستمر، من التب والتباب، وهو الاستمرار في الخسران، و (الاقتفاء) الاتباع، و (المشكاة) الكوة في الجدار غير النافذة، يوضع فيها المصباح، وهي ههنا مستعارة لصدر الرسول صلى الله عليه وسلم شبه صدره بها لأنه كالكوة ذو وجهين، فمن وجه يقتبس النور من القلب المستنير، ومن آخر يفيض ذلك النور المقتبس على الخلق، وذلك لاستعداده بإشراحه مرتين، وشبه قلبه صلى الله عليه وسلم بالزجاجة المنعوتة بالكوكب الدري؛ لصفائه وإشراقه، وخلوصه من كدورة الهوى، ولوث النفس الأمارة، وهذا هو المعني في خطبة المصابيح بقوله: (خرجت من مشكوة التقوى) وشبهت اللطيفة القدسية المزهرة في القلب بالمصباح الثاقب.
قوله: (لشوارد الأحاديث) هو من شرد شرودا وشرادا إذا انفرد، فهو شارد، والأوابد: الوحوش، وهو من تأبَدت البهيمة تأبداً، أى توحشت، وأعلام الشيء آثاره التي يستدل بها (عليه) والأغفال الأرض المجهولة، ليس فيها أثر تعرف به.
قوله: (المتقنون) هو من إتقان الأمر وإحكامه، ورجل تقن (بكسر التاء) حاذق، وتقن أيضاً (الراسخون) من رسوخ الشيء، وهو ثباته ثباتا متمكنا، والراسخ في العلم المتحقق به الذي لا
অতঃপর; তাঁর (রাসূলুল্লাহর) হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরা তাঁর প্রদীপ-আধার (মিশকাত) থেকে যা নির্গত হয়েছে তার অনুসরণ ব্যতীত সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না, এবং আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা তাঁর বর্ণনার উন্মোচন ব্যতীত পূর্ণতা পায় না। ইমাম মুহয়িউস সুন্নাহ, বিদআত দমনকারী, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাউই—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—কর্তৃক সংকলিত 'কিতাবুল মাসাবিহ' ছিল এই বিষয়ে রচিত সবচেয়ে সুসংহত গ্রন্থ এবং এটি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ও বিরল হাদিসসমূহের জন্য সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি (বাগাউই)—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করায় এবং হাদিসের সূত্রগুলো (সনদ) বাদ দেওয়ায় কিছু সমালোচক এ নিয়ে কথা বলেছেন, যদিও তাঁর উদ্ধৃতি দেওয়া—যেহেতু তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত—সূত্রের মতোই নির্ভরযোগ্য। তবে চিহ্নযুক্ত বিষয় আর চিহ্নহীন বিষয় সমান নয়। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং তাঁর কাছে তাওফিক কামনা করেছি। ফলে তিনি যা বাদ দিয়েছিলেন আমি তা চিহ্নিত করেছি এবং প্রত্যেক হাদিসকে তার নিজ স্থানে স্থাপন করেছি যেভাবে তা নিখুঁত ইমামগণ এবং সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য রাবিগণ বর্ণনা করেছেন; যেমন—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী, আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী, আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আনাস আল-আসবাহি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হানবাল আশ-শাইবানি, আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তিরমিযী, আবু দাউদ সুলায়মান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি, আবু আব্দুর রহমান আহমদ বিন শুআইব আন-নাসায়ী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ বিন মাজাহ আল-কাযউইনি, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি এবং আবু...
—
তাঁর কথা: (সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না) অর্থাৎ সোজা হয় না এবং স্থায়িত্ব পায় না। এটি 'তাব' এবং 'তাবাব' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ক্রমাগত লোকসান। (অনুসরণ) মানে অনুসরণ করা। (মিশকাত) হলো দেয়ালের এমন কুলঙ্গি যা এপার-ওপার দেখা যায় না, যেখানে প্রদীপ রাখা হয়। এখানে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষদেশের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর বক্ষদেশকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ এটি দুই দিকবিশিষ্ট কুলঙ্গির মতো; এক দিক থেকে এটি জ্যোতির্ময় অন্তর থেকে আলো গ্রহণ করে এবং অন্য দিক থেকে সেই অর্জিত আলো সৃষ্টির মাঝে ছড়িয়ে দেয়। এটি তাঁর (বক্ষ) দুইবার বিদীর্ণ করার মাধ্যমে প্রস্তুতির কারণে হয়েছে। আর তাঁর (সা.) অন্তরকে উজ্জ্বল নক্ষত্রের গুণসম্পন্ন কাঁচের পাত্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে; এর স্বচ্ছতা, উজ্জ্বলতা এবং প্রবৃত্তির অন্ধকার ও কুপ্রবৃত্তির কলুষতা থেকে মুক্ত থাকার কারণে। 'মাসাবিহ'-এর ভূমিকার "তাকওয়ার মিশকাত থেকে নির্গত হয়েছে" কথাটি দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য। আর অন্তরের মধ্যে প্রস্ফুটিত পবিত্র সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক বিষয়কে উজ্জ্বল প্রদীপের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
তাঁর কথা: (বিক্ষিপ্ত হাদিসসমূহ) এটি কোনো কিছুর বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে এসেছে, তাই সে বিচ্ছিন্ন। আর 'আওয়াবিদ' অর্থ বন্য পশু; এটি কোনো পশুর বন্য বা পোষ না মানার অর্থ থেকে এসেছে। আর কোনো বিষয়ের 'আ’লাম' হলো তার নিদর্শন বা চিহ্ন যা দ্বারা তাকে চেনা যায়। আর 'আগফাল' হলো এমন অপরিচিত প্রান্তর যাতে চেনার মতো কোনো চিহ্ন নেই।
তাঁর কথা: (নিখুঁতগণ) এটি কোনো কাজ নিখুঁত ও সুদৃঢ় করা থেকে এসেছে। 'তিকন' (তা-র নিচে যের দিয়ে) মানে দক্ষ ব্যক্তি। (সুদৃঢ়গণ) এটি কোনো জিনিসের স্থায়িত্ব থেকে এসেছে যা অত্যন্ত মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত। আর জ্ঞানে সুদৃঢ় বা রাসিখ হলেন তিনি যিনি তাতে এমন সত্যতা লাভ করেছেন যে তিনি আর বিচ্যুত হন না।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤١٥)
الحسنِ على بن عمرَ الدارقُطنىّ، وأبى بكر أحمدَ بن الحسين البَيهَقىّ، وأبى الحسنِ رزَينِ بن معاويةَ العبدرِىّ، وغيرهم، وقليلٌ ما هو.
وإِنى إِذا نسبتُ الحديثَ إِليهم كأنِى أسندتُ إلى النبىّ صل الله عليه وسلم؛ لأنهم قد فَرغوا منه، وأغنوْنا عنه. وسردُت الكتب والابوابَ كما سردها، واقتفيتُ أثره فيها، وقسمتُ كلَّ بابِ غالباً على فصولٍ ثلاثة:
أوّلها: ما أخرجَه الشيخان أو أحدهُما، واكتفيتُ بهما وإِن اشترك فيه الغيرُ؛ لعلوّ درجتهما في الروّاية.
وثانيهما: ما أورده غيرهُما من الأئمة المذكورين.
وثالثُهما: ما اشتملَ على معنى الباب من مُلحقاتٍ مناسبةٍ مع محافظةٍ على الشريطة، وإِن كان مأثوراً عن السلفِ والخلف.
ثم إنك إنْ فقدتَ حديثًا في بابٍ؛ فذلك عن تكرير أُسقطُه. وإِن وجدت آخر بعضه متروكاً على اختصاره، أو مضموماً إليه تمامه؛ فعن داعى اهتمام أتركهُ وألحقه.
وإن عثرت على اختلاف في الفصلين من ذكر غير الشيخين في الأول، وذكرهما في الثاني، فاعلم أنى بعد تتبعى كتابَىْ (الجمع بين الصحيحين) للحُميدي، و (جامع الأصول)؛ اعتمدتُ على صحيحى الشيخين ومتنيهما.
ــ
يعرضه شبهة، و (ما) فى (قليل ما) إيهامية، يريد الشيوع في القلة، ولفظة: (هو) راجعة إلى غيرهم، والضمير فى (منه) و (عنه) للإسناد.
قوله: (على الشريطة) المراد منها إضافة الحديث إلى الراوى من الصحابة والتابعين، ونسبته إلى مخرجه من الأئمة المذكورين.
قوله: (بعضه) هو بدل البعض من آخر ومتروكاً حاله.
قوله: (على اختصاره) أى اختصار محيي السنة.
قوله: (فعن داعى اهتمام أتركه) وذلك لأن تلك الرواية كانت مختصرة عن حديث طويل جداً، فأتركه اختصاراً، أو كان حديثاً يشتمل على معان جمة، يقتضى كل باب معنى من معناه، وأورد الشيخ كلا في بابه- فاقتفينا أثره فى الإيراد، وما لم
يكن على هذين الوصفين
আবুল হাসান আলী বিন উমর আদ-দারা কুতনী, আবু বকর আহমদ বিন হুসাইন আল-বায়হাকী, আবুল হাসান রাজীন বিন মুয়াবিয়া আল-আবদারী এবং অন্যান্যরা; তবে তাঁদের সংখ্যা সামান্য।
যখন আমি কোনো হাদিস তাঁদের প্রতি নিসবত করি, তখন যেন আমি তা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করলাম; কেননা তাঁরা এর তদন্ত ও সংকলনের কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমাদের সেই শ্রম থেকে দায়মুক্ত করেছেন। আমি কিতাব ও অধ্যায়সমূহকে সেভাবেই বিন্যস্ত করেছি যেভাবে তিনি করেছেন, এ ক্ষেত্রে আমি তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়কে সাধারণত তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথমটি: যা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন। তাঁদের বর্ণনার ওপরই আমি নির্ভর করেছি যদিও অন্য কেউ তাতে অংশীদার থাকুক না কেন; বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে।
দ্বিতীয়টি: উল্লেখিত ইমামগণের মধ্যে শায়খাইন ব্যতীত অন্যরা যা বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়টি: পরিচ্ছেদের মূল বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বর্ণনা, যা শর্তাবলি বজায় রেখে সংযোজন করা হয়েছে, চাই তা সালাফ (পূর্বসূরি) কিংবা খালাফ (উত্তরসূরি) থেকে বর্ণিত হোক না কেন।
অতঃপর, আপনি যদি কোনো অধ্যায়ে কোনো হাদিস খুঁজে না পান, তবে জানবেন যে পুনরাবৃত্তি এড়াতে আমি তা বাদ দিয়েছি। আর যদি অন্য কোনো হাদিস পান যার কিছু অংশ সংক্ষেপণের তাগিদে বাদ দেওয়া হয়েছে অথবা এর পূর্ণ পাঠ তার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তা বিশেষ গুরুত্বের কারণেই আমি বর্জন করেছি কিংবা সংযোজন করেছি।
যদি আপনি পরিচ্ছেদদ্বয়ে এমন কোনো বৈসাদৃশ্য দেখতে পান যে প্রথমটিতে শায়খাইন ব্যতীত অন্য কারো উল্লেখ আছে এবং দ্বিতীয়টিতে শায়খাইনের উল্লেখ রয়েছে, তবে জেনে রাখুন যে আল-হুমাইদীর 'আল-জাম' বাইনাস সহীহাইন' এবং 'জামেউল উসুল' কিতাব দুটি পর্যালোচনার পর আমি শায়খাইনের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয় এবং তাঁদের মূল পাঠের (মতন) ওপরই নির্ভর করেছি।
ــ
এতে সংশয় দেখা দিতে পারে। 'কলীলুন মা' (সামান্য কিছু) বাক্যাংশে 'মা' শব্দটি অস্পষ্টতা বা ব্যাপকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ এই স্বল্পতাও সুপরিচিত। 'হুয়া' সর্বনামটি অন্যদের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে এবং 'মিনহু' ও 'আনহু' এর সর্বনাম দুটি ইসনাদ বা সনদ পরম্পরার দিকে ইঙ্গিত করছে।
তাঁর উক্তি: 'শর্ত রক্ষা করে'—এর উদ্দেশ্য হলো হাদিসকে সাহাবী ও তাবিঈগণের মধ্য থেকে মূল বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং উল্লেখিত ইমামগণের মধ্যে হাদিসটি সংকলনকারী মূল ইমামের প্রতি নিসবত করা।
তাঁর উক্তি: 'তার একাংশ'—এটি 'আখার' (অন্য হাদিস) এর আংশিক স্থলাভিষিক্ত এবং 'মাত্রুকান' শব্দটি অবস্থা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
তাঁর উক্তি: 'সংক্ষেপণের ভিত্তিতে'—অর্থাৎ মুহিউস সুন্নাহ (ইমাম বাগভী)-এর সংক্ষেপণ।
তাঁর উক্তি: 'বিশেষ গুরুত্বের কারণে আমি তা বর্জন করি'—এর কারণ হলো উক্ত বর্ণনাটি একটি অতি দীর্ঘ হাদিসের সংক্ষিপ্ত রূপ ছিল, তাই আমি সংক্ষেপণের জন্য তা বাদ দিয়েছি। অথবা এটি এমন হাদিস ছিল যা বহুবিধ অর্থ বহন করে এবং প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য তার এক একটি অর্থ প্রযোজ্য হয়, আর শায়খ (বাগভী) সেটিকে নিজ নিজ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন—তাই আমরাও বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। আর যা এই দুই গুণের অধিকারী ছিল না...
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤١٦)
وإِن رأيت اختلافُا فى نفس الحديث؛ فذلك من تشُّبِ طرق الأحاديث، ولعلى ما اطلعتُ على تلك الرواية التي سلكها الشيخُ رضى الله عنه. وقليلاً ما تجد أقول:
ماوجدتُ هذه الرواية في كتب الأصول، أو وجدتُ خلافها. فإذا وقفت عليه فانسُبِ القصورَ إلىَّ لقلة الدراية، لا إلى جناب الشيخ رفع الله قدره في الدارين، حاشاَ الله منْ ذلك، رَحِمَ الله من إذا وقف على ذلك نبهنا عليه، وأرشدنا طريق الصواب. ولم آلُ جهداً في التنقير (1) والتفتيشِِِ بقدر الوسع والطاقة، ونقلتُ ذلك الاختلافَ كما وجدتُ.
وما أشار إليه- رضي الله عنه من غريب أو ضعيف أو غيرهما؛ بينت وجهَهُ غالباً. وما لم يشير إليه مما في الأصول؛ فقد قِّفََّيتُه في تزكّه، إلا في مواضع لغرض.
وربما تجدُ مواضعَ مُهملةَ، وذلك حيثُ لم أطلع على راويه فتركَتُ البياض. فإن عثرتَ عليه فألحقهُ به، أحسن الله جزاءك. وسميت الكتاب ب (مشكاة المصابيح)، وأسال الله التوفيق والإعانة والهداية والصيانة، وتيسير ما أقصده، وأن ينفعني في الحياة وبعد الممات، وجميع المسلمين والمسلمات حسبي الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلابالله العزيز الحكيم.
ــ
أتممناه غالبا. (وإن عثرت) أي اطلعت. (ولم آل جهداً) أى ولم أقصر من: ألا يألو: قصَّر، لا يألوك نصحاَ فهو آل. وحكى الكسائى عن العرب: أقبل يضربه لا يأل، يريد لا يألو فحذف، والجهد (بالضم والفتح) الطاقة والمشقة. والتنقير عن الأمر: البحث عنه.
قوله: (مما في الأصول) يعنى جامع الترمذى، وسنن أبى داود، والبيهقى، وهو كثير،
فتبعه وتركته تأسياَ به.
قوله: (لغرض) وذلك أن بعض الطاعنين أفرزوا أحادث من المصابيح، ونسبوها إلى الوضع، ووجدت الترمذي صححها أو حسنها وغير الترمذي أيضا، فبينته لرفع التهم، كحديث أبي هريرة):المرء على دين خليله) فإنهم صرحوا بأنه موضوع، وقال الترمذى في الجامعة: أنه حسن، والنواوى في الرياض: إنه صحيح الإسناد. ومن الغرض الذي شرط الشيخ في خطبته أنه أعرض عن ذكر المنكر، وقد أتى منه في كتابه كثيرا منه، وبين في بعضها كونه منكراً وترك البعض، فبينت أنه منكر.
قوله: (بمشكاة المصابيح) روعى المناسبة بين الاسم مقتبساً من كلام الله المجيد، وذلك أن المشكاة إنما قصد بها ليجتمع ضوء المصباح، فيكون أشد تقوياً، بخلاف المكان الواسع؛ فإن الضوء ينبت فيه وينتشر، و (كذلك) الأحاديث إذا كانت غفلا عن سمة الرواة انتشرت، وإذا قيدت بالراوى انضبطت واستقرت في أمكنتها.
যদি আপনি একই হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো বৈচিত্র্য বা মতপার্থক্য দেখতে পান, তবে তা হাদিসের বর্ণনাসূত্র বা সনদসমূহের শাখা-প্রশাখার কারণে। সম্ভবত আমি সেই বর্ণনাটি অবগত হতে পারিনি যা শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অবলম্বন করেছেন। খুব কম ক্ষেত্রেই আপনি আমাকে বলতে দেখবেন যে: আমি মূল গ্রন্থসমূহে এই বর্ণনাটি পাইনি, অথবা আমি এর বিপরীত বর্ণনা পেয়েছি। সুতরাং আপনি যদি এমন কিছুর সম্মুখীন হন, তবে তা আমার জ্ঞানের স্বল্পতাজনিত ত্রুটি হিসেবে গণ্য করবেন; উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শায়খের (আল্লাহ উভয় জগতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) প্রতি তা আরোপ করবেন না, আল্লাহ তা থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যিনি এমন ত্রুটি অবগত হওয়ার পর আমাদের সতর্ক করবেন এবং সঠিক পথের দিশা দেবেন। আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী অনুসন্ধান ও গবেষণায় কোনো ত্রুটি করিনি এবং মতপার্থক্যগুলো যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই উদ্ধৃত করেছি।
শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যেসব বর্ণনার ক্ষেত্রে 'গরীব', 'যঈফ' বা অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার কারণ ও স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছি। আর মূল গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান যেসব বিষয়ের প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেননি, আমি তা বর্জন করার ক্ষেত্রে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি, কেবল বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক কিছু স্থান ব্যতীত।
সম্ভবত আপনি কিছু স্থান শূন্য বা তথ্যহীন পাবেন; তা এই কারণে যে, আমি সেই হাদিসের বর্ণনাকারী সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি, তাই সেই স্থানটি ফাঁকা রেখে দিয়েছি। যদি আপনি তা খুঁজে পান, তবে তা সেখানে যুক্ত করে দেবেন; আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি কিতাবটির নামকরণ করেছি 'মিশকাতুল মাসাবিহ' (প্রদীপাধার)। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক, সাহায্য, হেদায়াত ও সুরক্ষার প্রার্থনা করছি এবং আমার উদ্দেশ্য যেন সহজ হয় সেই দোয়া করছি। তিনি যেন ইহকালে ও পরকালে এবং সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য একে উপকারী করেন। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ছাড়া কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই।
—
আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সম্পন্ন করেছি। (যদি আপনি পান) অর্থাৎ যদি আপনি অবগত হন। (আমি কোনো ত্রুটি করিনি) অর্থাৎ আমি অবহেলা করিনি। এটি 'আলা-ইয়াসলু' ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অবহেলা করা। ভাষাবিদ কিসায়ি আরবদের থেকে বর্ণনা করেছেন: 'সে তাকে প্রহার করতে উদ্যত হলো এবং কোনো কসুর করল না'। 'জুহদ' (পেশ বা জবর উভয় যোগে) অর্থ সামর্থ্য ও ক্লেশ। কোনো বিষয়ে 'তানকির' অর্থ হলো তা নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা।
তাঁর বক্তব্য: (মূল গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ জামে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ এবং বায়হাকী; আর এমন অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
আমি শায়খের অনুসরণ করতে গিয়ে তা বর্জন করেছি।
তাঁর বক্তব্য: (বিশেষ উদ্দেশ্যে) তা এই কারণে যে, কিছু সমালোচক 'মাসাবিহ' গ্রন্থ থেকে কিছু হাদিস পৃথক করেছেন এবং সেগুলোকে জাল বা বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ আমি দেখেছি যে ইমাম তিরমিযী সেগুলোকে সহীহ বা হাসান বলেছেন এবং তিরমিযী ছাড়াও অন্য ইমামগণও অনুরূপ সত্যায়ন করেছেন। তাই আমি সংশয় দূর করার জন্য বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। যেমন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: 'মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের অনুসারী হয়'। তারা এটি জাল হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট মত দিয়েছেন, অথচ ইমাম তিরমিযী তাঁর 'জামে' গ্রন্থে বলেছেন এটি হাসান এবং ইমাম নববী 'রিয়াযুস সলেহীন' গ্রন্থে বলেছেন এর সনদ সহীহ। শায়খ তাঁর মুখবন্ধে যে শর্তারোপ করেছিলেন তার একটি দিক হলো তিনি 'মুনকার' (প্রত্যাখ্যাত) বর্ণনা এড়িয়ে চলবেন। অথচ তাঁর কিতাবে এমন অনেক বর্ণনা এসেছে। তিনি কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে 'মুনকার' হওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন আবার কোনোটি করেননি; তাই আমি সেগুলো 'মুনকার' হিসেবে স্পষ্ট করে দিয়েছি।
তাঁর বক্তব্য: (মিশকাতুল মাসাবিহ নামে) আল্লাহর মহান কালাম থেকে চয়ন করে নামের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা হয়েছে। কেননা 'মিশকাত' (প্রদীপাধার) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রদীপের আলোকে একত্রিত করা, যাতে তার উজ্জ্বলতা আরও শক্তিশালী হয়; বিশাল উন্মুক্ত স্থানের বিষয়টি এর বিপরীত, যেখানে আলো বিচ্ছুরিত ও ম্লান হয়ে যায়। একইভাবে হাদিসসমূহ যখন বর্ণনাকারীদের পরিচয় ছাড়াই থাকে, তখন তা বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে; কিন্তু যখন বর্ণনাকারীর নামের মাধ্যমে তা সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন তা সুশৃঙ্খল হয় এবং স্বীয় স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤١٧)
1 - وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنما الأعمالُ بالنيات، وإنِما لامرئ ما نوى؛ فمن كانت هجرته إِلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها، أو امرأة يتزوجها فهجرته إلى ما هاجر إليه). متفق عليه.
ــ
قوله: (إنما الأعمال بالنيات) قال الشيخ الإمام المتقن الثقة محيي الدين النووى (رحمة الله عليه) في شرح مسلم: أجمع المسلمون على عظم موقع هذا الحديث، وكثرة فوائده، وصحة روايته، قال الشافعى رضي الله عنه: هو ثلث الإسلام. وقال ابن مهدى وغيره: ينبغى لمن صنف كتاباً أن يبدأ فيه بهذا الحديث، تنبيهاً للطالب على تصحيح النية. واتفق أهل العربية والأصول على أن (إنما) موضوعة للحصر، يثبت المذكور، وينفى ما سواه، فالتقدير: إن الأعمال تحسب إذا كانت بنية، ولا تحسب إذا كانت بلا نية. وفيه دليل على أن الطهارة (وهي الوضوء والغسل والتيمم) وعلى أن الصلاة والزكاة والصوم والحج والاعتكاف- لا يصح إلا بالنية، وأما إزالة النجاسة فالمشهور عندنا أنها لا تفتقر إلى النية، وقد نقلوا الإجماع فيها؛ لأنها من باب التروك. وتدخل النية في الطلاق، والعتاق، والقذف، ومعنى دخولها أنها إذا قارنت كناية صارت كالصريح، وإذا أتى بصريح الطلاق ونوى تطليقتين أو ثلاثاً وقع مانوى، وإن نوى بالصريح غير مقتضاه دِين فيما بينه وبين الله تعالى، ولا تقبل منه في الظاهر.
قوله: (وإنما لامرئ ما نوى) إشارة إلى تعيين المنوى شرط، ولو كانت على إنسان صلاة مقضية لا يكفيه أن ينوى الصلاة الفائتة، بل يشترط أن ينوى كونها ظهراً أو غيرها، لولا الفظ الثاني: (إنما لا مرئ ما نوى) لا قتضى الأول أى (إنما الأعمال بالنيات) صحة النية بلا تعين، أو أوهم ذلك.
قوله صلى الله عليه وسلم: (من كانت هجرته إلى الله ورسوله) معناه من قصد بهجرته وجه الله وقع أجره على الله، ومن قصد بها دنيا أو امرأة فهي حظه، ولانصيب له في الآخرة. وذكر المرأة مع الدنيا يحتمل وجهين: أحدهما أن سبب هذا الحديث ما روى أن رجلا هاجر ليتزوج امرأة يقال لها: أم قيس، والثاني أنه للتنبيه على زيادة التحذير من ذلك، وهو من باب الخاص بعد
১ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে)। (বুখারী ও মুসলিম)।
--
তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) সম্পর্কে শায়খ, ইমাম, পারদর্শী ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব মুহিউদ্দিন আন-নববী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) 'শারহে মুসলিম'-এ বলেছেন: মুসলিমগণ এই হাদীসের সুউচ্চ মর্যাদা, এর বহুবিধ উপকারিতা এবং এর বর্ণনার বিশুদ্ধতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম শাফেঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: এটি ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ। ইবনে মাহদী ও অন্যান্যগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো কিতাব রচনা করেন, তার উচিত এই হাদীস দ্বারা তা শুরু করা, যাতে শিক্ষার্থী তার নিয়ত শুদ্ধ করার বিষয়ে সচেতন হতে পারে। ভাষাবিদ ও উসুলবিদগণ একমত হয়েছেন যে, 'ইন্নামা' (নিশ্চয়ই/কেবল) শব্দটি সীমাবদ্ধতা বা পরিবেষ্টন (হসর) করার জন্য ব্যবহৃত হয়; যা উল্লিখিত হয়েছে তাকে সাব্যস্ত করে এবং তার অতিরিক্ত বিষয়কে নাকচ করে। সুতরাং এর মর্মার্থ হলো: আমলসমূহ তখনই ধর্তব্য হবে যখন তা নিয়তের সাথে হবে, আর নিয়ত ছাড়া হলে তা ধর্তব্য হবে না। এতে প্রমাণ রয়েছে যে, পবিত্রতা অর্জন (যা হলো ওযু, গোসল ও তায়াম্মুম) এবং সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ ও ইতিকাফ—নিয়ত ছাড়া শুদ্ধ হবে না। তবে নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে আমাদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো, এটি নিয়তের মুখাপেক্ষী নয়; এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন, কারণ এটি বর্জনীয় বিষয়সমূহের (তরুক) অন্তর্ভুক্ত। আর তালাক, দাসমুক্তি এবং অপবাদের ক্ষেত্রেও নিয়ত কার্যকর হয়। এর প্রয়োগের অর্থ হলো—যখন রূপক বা অস্পষ্ট শব্দের সাথে নিয়ত যুক্ত হয়, তখন তা স্পষ্ট শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর যদি কেউ তালাকের স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ করে এবং দুই বা তিন তালাকের নিয়ত করে, তবে তার নিয়ত অনুযায়ী তা কার্যকর হবে। আর যদি সে স্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে তার মূল অর্থের পরিপন্থী কোনো কিছুর নিয়ত করে, তবে তার এবং মহান আল্লাহর মধ্যবর্তী বিষয়ের ক্ষেত্রে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে, কিন্তু বাহ্যিক বিচারে তা গ্রহণ করা হবে না।
তাঁর বাণী: (এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে)—এটি নির্দেশ করে যে, যার জন্য নিয়ত করা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করা শর্ত। যদি কোনো ব্যক্তির ওপর কাজা নামাজ থাকে, তবে কেবল কাজা নামাজ পড়ার নিয়ত করাই যথেষ্ট হবে না, বরং তা যোহর না কি অন্য কিছু—তা নির্দিষ্ট করার শর্ত রয়েছে। যদি এই দ্বিতীয় বাক্যটি (এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে) না থাকত, তবে প্রথম বাক্যটি অর্থাৎ (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) নির্দিষ্টকরণ ছাড়াই নিয়ত শুদ্ধ হওয়ার দাবি রাখত অথবা সেরকম অস্পষ্টতা সৃষ্টি করত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে)—এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি তার হিজরতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট অবধারিত। আর যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে দুনিয়া বা কোনো মহিলার সংকল্প করবে, তবে এটিই হবে তার প্রাপ্য অংশ, এবং আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না। দুনিয়ার সাথে মহিলার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার দুটি কারণ হতে পারে: প্রথমত, এই হাদীসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি জনৈকা উম্মে কায়েসকে বিয়ে করার জন্য হিজরত করেছিল। দ্বিতীয়ত, এটি এই ধরণের কাজ থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করার জন্য; আর এটি হলো সাধারণ বিষয়ের পর বিশেষ বিষয় উল্লেখ করার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤١٨)
ــ
العام، تنبيها على مزيته. وقال الراغب: النية تكون مصدراً واسماً من نويت، وهي توجه القلب نحو العمل. وقال القاضى: النية عبارة عن انبعاث القلب نحو ما يراه موافقاً لغرض، من جلب نفع، أو دفع مضرة، حالا أو مآلا. والشرع خصصها بالإرادة المتوجهة نحو الفعل ابتغاء لوجه الله تعالى وامتثالا لحكمه، والنية في الحديث محمولة على المعنى اللغوى؛ ليحسن تطبيقه لما بعده، وتقسيمه بقوله: (من كانت هجرته إلى الله) إلى آخره، فإنه تفصيل لما أجمله، واستنباط المقصود عما أصله.
أقول -والعلم عند الله تعالى-:كل واحد من (الأعمال) و (النيات) جمع محلى بلام الاستغراق، فإما أن يحمل على عرف اللغة فيكون الاستغراق حقيقاً، وإما أن يحمل على عرف الشرع، وحينئذ إما أن يراد بالأعمال الواجبات والمندوبات والمباحات، وبالنيات الإخلاص والرياء، أو أن يراد بالأعمال الواجبات ما لا يصح إلا بالنية، كالطهارة والصلاة والصيام. ولا سبيل إلى الأول أى اللغوى لأنه صلى الله عليه وسلم ما بعث إلا لبيان الشرع، فكيف يتصدى لما جدوى له فيه؟ على أن (إنما) يستعمل فى رد من عنده حكم مشوب بخطأ وصواب، ومن كان عارفاً اللغات لا يخطئ في استعمال اللغة حتى يرد حكمه إلى الصواب بإنما، لاسيما تكراره في الحديث فإنه يدل على إثبات أمر خطير في الشرع، فحينئذ يحمل قوله: (إنما الأعمال بالنيات) على ما اتفقت عليه الفقهاء من أصحابنا، أى ما الأعمال محسوبة بشئ من الأشياء كالششروع فيها والتلبس بها إلا بالنيات، وما خلا عنها لم يعتد بها. فإن قيل: لم خصصت متعلق الخبر والظاهر العموم كمستقر أو حاصل؟ فالجواب أنه يكون بياناً للغة، لا إثبات حكم في الشرع، وقد سبق بطلانه.
ويحمل قوله: (إنما لامرئ ما نوى) إلى آخره على ما تثمره النيات من القبول والرد، والثواب والعقاب، وغير ذلك. ففهم من الأول أن الأعمال لا تكون محسوبة ومسقطة للقضاء إلا إذا كانت مقرونة بالنيات، ومن الثانى أن النيات إنما تكون متعددة ومقبولة إذا كانت مقرونة بالإخلاص، مبعدة عن الرياء، فالأول قصر المسند إليه في المسند، والثاني عكسه. وتقرب منها الصلاة في الأرض المغصوبة، فإنها محسوبة ومسقطة للقضاء. لكن إيقاعها فيها حرام يستحق به العقاب.
وقال الشيخ محيي الدين النووى: قال أصحابنا: الفروض وغيرها من الواجبات إذا أتى بها على وجهها الكامل يترتب عليها شيئان: سقوط الفرض عنه، وحصول الثواب، فإذا أداها في أرض مغصوبة حصل الأول دون الثاني. وتحريره أن قوله: (وإنما لا مرئ ما نوى) دل على أن الأعمال تحسب بحسب النية، إن كانت خالصة لله تعالى وإن كانت الدنيا فهى
সাধারণভাবে, এর বিশেষত্বের প্রতি সজাগ করার জন্য। ইমাম রাগেব বলেন: নিয়ত হলো ‘নাওয়াইতু’ (আমি সংকল্প করলাম) থেকে উদ্ভূত একটি মাসদার বা নামপদ, আর তা হলো কোনো কর্মের প্রতি হৃদয়ের অভিনিবেশ। কাযী বলেন: নিয়ত হলো হৃদয়ের সেই উদ্দীপনা যা কোনো লক্ষ্যের অনুকূল বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়, চাই তা তাৎক্ষণিক বা দূরবর্তী কোনো উপকার লাভ অথবা অপকার দূরীকরণের উদ্দেশ্যেই হোক। আর শরিয়ত একে নির্দিষ্ট করেছে সেই ইচ্ছার মাধ্যমে যা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং তাঁর হুকুম পালনের লক্ষ্যে কোনো কর্মের প্রতি ধাবিত হয়। হাদিসে নিয়ত শব্দটিকে আভিধানিক অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী বক্তব্যের সাথে এর প্রয়োগ ও বিভাজন যথার্থ হয়। যেমন তাঁর বাণী: (যার হিজরত আল্লাহর প্রতি হবে) শেষ পর্যন্ত; কারণ এটি মূলত সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের বিস্তারিত রূপ এবং মূল উৎস থেকে উদ্দিষ্ট অর্থের নির্যাস।
আমি বলছি—আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট—: (আমলসমূহ) এবং (নিয়তসমূহ) এর প্রতিটিই আলিফ-লাম যুক্ত বহুবচন যা ব্যাপকতা প্রকাশ করে। সুতরাং হয় একে আভিধানিক রীতি অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে, ফলে ব্যাপকতা হবে প্রকৃতগত; অথবা একে শরয়ি প্রথা অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। এমতাবস্থায় আমল দ্বারা হয় ওয়াজিব, মুস্তাহাব ও মুবাহ কর্মসমূহ এবং নিয়ত দ্বারা ইখলাস ও রিয়া উদ্দেশ্য হবে; অথবা আমল দ্বারা ঐ সকল ওয়াজিব কাজ উদ্দেশ্য হবে যা নিয়ত ছাড়া শুদ্ধ হয় না, যেমন পবিত্রতা অর্জন, নামাজ ও রোজা। প্রথম অর্থাৎ আভিধানিক অর্থ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল শরিয়তের বর্ণনার জন্যই প্রেরিত হয়েছেন। অতএব, যাতে কোনো শরয়ি ফায়দা নেই, তিনি কেন তা নিয়ে আলোচনা করতে যাবেন? তদুপরি ‘ইন্নামা’ (কেবল) শব্দটি এমন কারো ধারণা খণ্ডন করতে ব্যবহৃত হয় যার সিদ্ধান্ত ভুল ও সঠিকের মিশ্রণ। আর যিনি ভাষাবিদ, তিনি ভাষার ব্যবহারে এমন ভুল করেন না যে তার সিদ্ধান্তকে ‘ইন্নামা’ যোগে সংশোধনের প্রয়োজন হবে। বিশেষত হাদিসে এর পুনরাবৃত্তি শরিয়তের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়। এমতাবস্থায় তাঁর বাণী: (আমলসমূহ কেবল নিয়তের সাথেই ধর্তব্য) আমাদের মাযহাবের ফকিহগণের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে অর্থ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো আমলই কোনোভাবেই ধর্তব্য হবে না—চাই তা শুরু করা বা তাতে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমেই হোক—যদি না তা নিয়তের সাথে হয়। আর নিয়তহীন আমল অগ্রাহ্য। যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন খবরের উহ্য ক্রিয়াকে নির্দিষ্ট করা হলো, অথচ বাহ্যত ‘অস্তিত্বশীল’ বা ‘অর্জিত’ হওয়ার মতো ব্যাপক অর্থই প্রকাশ পায়? উত্তরে বলা হবে যে, সেটি হতো নিছক আভিধানিক বর্ণনা, শরিয়তের কোনো হুকুমের প্রতিষ্ঠা নয়; আর এর অসারতা পূর্বেই প্রমাণিত হয়েছে।
এবং তাঁর বাণী: (প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য কেবল তাই যা সে নিয়ত করেছে) শেষ পর্যন্ত—এই অংশটি নিয়তের ফলাফল তথা কবুল হওয়া, প্রত্যাখ্যান হওয়া, সওয়াব, আজাব ইত্যাদির ওপর প্রয়োগ করা হবে। সুতরাং প্রথম অংশ থেকে বোঝা গেল যে, আমলসমূহ নিয়তের সাথে যুক্ত না হলে তা ধর্তব্য হবে না এবং জিম্মাদারি থেকে মুক্ত করবে না। আর দ্বিতীয় অংশ থেকে বোঝা গেল যে, নিয়ত কেবল তখনই বহুবিধ ও গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা ইখলাসের সাথে হবে এবং রিয়া থেকে মুক্ত থাকবে। প্রথম বাক্যটি হলো উদ্দেশ্যকে বিধেয়তে সীমাবদ্ধ করা, আর দ্বিতীয়টি এর বিপরীত। এর একটি কাছাকাছি উদাহরণ হলো আত্মসাৎকৃত জমিতে নামাজ আদায় করা; এটি আমল হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু এই স্থানে নামাজ পড়ার কারণে সে গুনাহগার হবে এবং শাস্তির যোগ্য হবে।
শায়খ মুহিউদ্দিন আন-নববী বলেন: আমাদের সাথীরা বলেছেন: ফরজ এবং অন্যান্য ওয়াজিব কাজ যখন তার পূর্ণাঙ্গরূপে সম্পন্ন করা হয়, তখন তার দুটি ফলাফল প্রকাশ পায়: নিজের ওপর থেকে ফরজের দায়ভার রহিত হওয়া এবং সওয়াব অর্জিত হওয়া। সুতরাং যদি কেউ তা আত্মসাৎকৃত জমিতে আদায় করে, তবে প্রথমটি অর্জিত হলেও দ্বিতীয়টি হবে না। এর সারকথা হলো, তাঁর বাণী: (আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই যা সে নিয়ত করেছে) একথার প্রমাণ দেয় যে, আমলসমূহ নিয়ত অনুযায়ী পরিগণিত হয়; যদি তা আল্লাহর জন্য খাঁটি হয় তবে তা সেভাবেই হবে, আর যদি দুনিয়ার উদ্দেশ্যে হয় তবে তা তেমনই হবে।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤١٩)
ــ
لها، وإن كانت لنظر الخلق فكذلك، وقد نص به صريحا في قوله: صلى الله عليه وسلم: (والخيل لثلاثة: لرجل أجر، ولرجل ستر، ولرجل على وزر، قال: فأما الذي له أجر فرجل ربطها في سبيل الله، وأما الذي هي ستر فرجل ربطها تغنيّا وتعففا، وأما الذي عليه وزر فرجل ربطها فخرَا ورياء)). وعلي هذا المعنى ينبغي أن يحمل ما بعد الفاء التفصيلية؛ لأنه لن يكون المفصل خلاف المجمل، وكذلك عكسه، فإذا المعني بالهجرة الهجرة المعروفة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم لقوله: ((لا هجرة بعد الفتح))، ومعلوم أن الهجرة لا تقتضي إلا الإخلاص؛ لأن الهجرة إلى الدنيا وإلى المرأة لا يقتضيان النية التي في الطهارة مثلا، وفي تكرير لفظة: ((إلى الله ورسوله)) في الشرط والجزاء تعظيم لمعنى تلك الهجرة، وتفخيم لشأنها، أي هي الهجرة الكاملة التي تستحق أن تسمى هجرة، وأن ما سواها ليست بهجرة، ولم تكن كذلك إلا أن تكون خالصة لوجه الله، كقوله تعالى: ((يأيها الرسول بلغ ما أنزل إليك من ربك وإن لم تفعل فما بلغت رسالته)) أي وإن لم تبلغ فما بلغت رسالته، يعني ارتكبت أمرًا عظيما، وخطبا جسيما، ولهذا السر غير العبارة في متعلق الجزاء الثاني بلفظة: ((ما)) حظا من منزلتها، أي ليست هجرته من الله في شيء، فإنه ما طلب بها وجه الله، بل طلب الدنيا، فله ما طلب، كما هو حال الرجل الذي قصد نكاح تلك المرأة، وعطف قوله: ((أو امرأة يتزوجها)) على ((دنيا يصيبها)) وهي مشتملة على مالها وجمالها وما يتعلق بها من الشهوات، تخصيصًا بعد التعميم؛ لبدل على أن النساء أعظمها ضرّا وأكثرها تبعة، كقوله تعالى: ((زين للناس حس الشهوات من النساء)) الآية، جعلهن من الشهوات حيث بين الشهوات بها.
وقول لشيخ محيي الدين: ((إنما موضوعة للحصر تثبت المذكور وتنفي ما عداه)) مستقيم، إذ لم يتعرض في قوله "إن" للإثبات و"ما" للنفي، كما صرح به الأكثرون وهو غير مستقيم؛ لأن "ما" ليست نافية، بل هي كافة مؤكدة. وروى صاحب المفتاح عن علي بن عيسى الربعي أن إفادة الحصر من "إنما" كانت من أن "إن" كانت لتأكيد إثبات المسند للمسند إليه إليه، ثم اتصلت بها "ما" المؤكدة- لا النافية على ما يظنه من لا وقوف له بعلم النحو - ضاعف تأكيدها، فناسب أن يضمن معنى القصر.
وأصل الهجرة مفارقة الأوطان والأهل. ثيل: الهجرة أنواع: الأولى: الهجرة إلى الحبشة عندما آذى الكفار الصحابة، الثانية: الهجرة من مكة إلى المدينة، والثالثة: هجرة القبائل إلى
ــ
তার জন্য, আর যদি তা সৃষ্টির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হয় তবে তাও অনুরূপ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীতে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন: "ঘোড়া তিন প্রকার মানুষের জন্য: একজনের জন্য নেকির কারণ, একজনের জন্য আব্রু বা সুরক্ষার কারণ এবং একজনের জন্য পাপের বোঝা। তিনি বলেন: যার জন্য নেকির কারণ, সে হলো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে তা বেঁধে রাখে। যার জন্য সুরক্ষার কারণ, সে হলো সেই ব্যক্তি যে অভাবমুক্তি ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার জন্য তা পালন করে। আর যার ওপর এটি পাপের বোঝা, সে হলো সেই ব্যক্তি যে অহংকার ও লোকদেখানোর জন্য তা বেঁধে রাখে।" এই অর্থেই বিশদ বর্ণনামূলক 'ফা'-এর পরবর্তী অংশকে গ্রহণ করা উচিত; কারণ বিশদ বিবরণ মূল বক্তব্যের বিপরীত হতে পারে না এবং বিপরীতটিও সত্য। সুতরাং এখানে হিজরত বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের সেই সুপরিচিত হিজরতকেই বোঝানো হয়েছে, কারণ তিনি বলেছেন: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই।" আর এটি সর্বজনবিদিত যে, হিজরত কেবল নিষ্ঠা বা ইখলাসেরই দাবি রাখে; কারণ দুনিয়া বা কোনো নারীর উদ্দেশ্যে হিজরত করা পবিত্রতার (তাহারাত) মতো নিয়তের দাবি রাখে না। শর্ত ও পরিণতির উভয় ক্ষেত্রে "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি" শব্দটির পুনরাবৃত্তি সেই হিজরতের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব প্রকাশের জন্য করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটিই সেই পূর্ণাঙ্গ হিজরত যা হিজরত নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য, এবং এছাড়া অন্য কিছু হিজরত নয়। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন তা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন। যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না।" অর্থাৎ যদি প্রচার না করেন তবে রিসালাতের হক আদায় করলেন না, যার অর্থ আপনি এক গুরুতর ও ভয়াবহ কাজ করলেন। এই নিগূঢ় রহস্যের কারণেই পরিণতির দ্বিতীয় অংশে "যা কিছু" শব্দটি ব্যবহার করে বাকভঙ্গি পরিবর্তন করা হয়েছে তার গুরুত্ব হ্রাসের উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ, তার এই হিজরতের সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ সে এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করেনি, বরং দুনিয়া অন্বেষণ করেছে; সুতরাং সে যা অন্বেষণ করেছে তাই পাবে। যেমনটি ঘটেছিল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে জনৈক নারীকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছিল। আর "অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য" কথাটিকে "দুনিয়া অর্জনের জন্য" কথাটির ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে—যা সম্পদ, সৌন্দর্য এবং প্রবৃত্তিগত বিষয়াদিকে অন্তর্ভুক্ত করে—এটি মূলত সাধারণের পর বিশেষের উল্লেখ; এর উদ্দেশ্য হলো এটি বুঝানো যে, নারীদের ফিতনা সবচাইতে ক্ষতিকর এবং এর দায়বদ্ধতা অত্যন্ত গুরুতর। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "মানুষের জন্য নারী ও প্রবৃত্তির প্রতি আসক্তিকে সুশোভিত করা হয়েছে..." (আয়াত)। এখানে আল্লাহ নারীদের প্রবৃত্তির অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের মাধ্যমেই প্রবৃত্তির বর্ণনা দিয়েছেন।
শাইখ মহিউদ্দিনের এই বক্তব্য যে: " 'ইন্নামা' সীমাবদ্ধতা প্রকাশের জন্য নির্ধারিত, যা উল্লিখিত বিষয়টিকে সাব্যস্ত করে এবং তদ্ব্যতীত অন্য সবকিছুকে নাকচ করে"—এটি সঠিক। কারণ তিনি এ কথা বলেননি যে, 'ইন্না' ইতিবাচকতার জন্য এবং 'মা' নেতিবাচকতার জন্য। অথচ অধিকাংশ ভাষাবিদ এটি স্পষ্টভাবে বলেছেন, যা সঠিক নয়; কারণ এখানে 'মা' না-বোধক নয়, বরং এটি হলো প্রতিবন্ধক ও তাকিদদানকারী। 'মিফতাহ' গ্রন্থের লেখক আলি ইবনে ঈসা আর-রুবায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'ইন্নামা' দ্বারা সীমাবদ্ধতার অর্থ প্রদান করা হয়েছে এভাবে যে—মূলত 'ইন্না' ছিল 'মুসনাদ ইলাইহি'-র সাথে 'মুসনাদ'-এর সম্পর্কের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য, এরপর এর সাথে তাকিদদানকারী 'মা' যুক্ত হয়েছে—এটি না-বোধক নয় যেমনটি ব্যাকরণশাস্ত্রে জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা মনে করে থাকে। ফলে এটি তাকিদ বা নিশ্চয়তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, আর এর মাধ্যমেই সীমাবদ্ধতার অর্থ অন্তর্ভুক্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত হয়।
হিজরতের মূল অর্থ হলো স্বদেশ ও স্বজনদের ত্যাগ করা। বলা হয়েছে: হিজরত কয়েক প্রকার: প্রথমত: হাবশায় হিজরত, যখন কাফেররা সাহাবীদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছিল। দ্বিতীয়ত: মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত। তৃতীয়ত: বিভিন্ন গোত্রের হিজরত...
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٠)
ــ
النبي صلى الله عليه وسلم لتعلم الشرائع، ثم يرجعون إلى المواطن ويعلمون قومهم، والرابعة: هجرة من أسلم من أهل مكة ليأتي إلى النبي صلى الله عليه وسلم ثم يرجع إلى مكة، والخامسة: الهجرة عما نهى الله عنه. ومعنى الحديث وحكمة صابت متناول للجميع، غر أن حكاية أم قيس تقتضي أن المراد بالحديث الهجرة من مكة إلى المدينة، ولهذا حسن في الحديث ذكر المرأة، دون سائر ما ينوي بالهجرة من أعراض الدنيا.
أقول: إن العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السب. ودنيا مقصورة غير منونة، لأنه فعلي، وسميت الدنيا لدنوها، والجمع دُنى، مثل الكبرى والكُبَر. قال المالكي في كتاب شواهد التوضيح في مشكلات الجامع الصحيح: في استعمال دنيا مع كونه منكرًا إشكال؛ لأنها تأنيث أدنى، وهو أفعل تفضيل، فكان حقه الدنيا، كالكبرى والحسنى، إلا أن دنيا خلعت عنها الوصفية رأسًا، وأجريت مجرى ما لم يكن وصفا، كرجعى وبهمى، ونحوه قول الشاعر:
وإن دعوت إلى جُلّى ومكرمة
… يومًا سراة كرام الناس فادعينا
فإن الجُلّى كؤنث الأجل، فخلعت عنه الوصفية، وجعلت اسما للحادثة العظيمة.
وإنما أورد إمام أئمة الحديث محمد بن إسماعيل البخاري في صحيحه، ومحيي السنة في كتابيه: شرح السنة، والمصابيح هذا الحديث قبل الشروع في أبواب الكتاب – إيذانًا بأن هذا المصنف منويٌّ فيه الإخلاص لله تعالى ومجتنب عن الرياء والسمعة، فلذلك تقبل الله منهما، وجعل الكتب إعلاما من أعلام الدين، ونحن اقتفينا أثرها، فاهتدينا بهديهما، نرجو من فضل الله وكرمه أن يتقبل منا، ويجعل تعبنا سببًا لنجاتنا ونفعًا للطالبين.
فائدة على لسان أهل الإشارة: قال بعضهم: العمل سعي الأركان إلى الله، والنية سعي القلوب إلى الله، والقلب ملك، والأركان جنوده، ولا يحارب الملك إلا بجنوده، ولا الجنود إلا بالملك. وقال بعضهم: النية جمع الهم في تنفيذ العمل للمعمول له، وأن لا يسبح في السر ذكر غيره. وقال بعضهم: نية العوام في طلب الأغراض مع نسيان الفضل، ونية الجهال التحصن عن سوء القضاء ونزول البلاء، ونية أهل النفاق التزين عند الله وعند الناس، ونية العلماء إقامة الطاعة لحرمة ناصبها لا لحرمتها، ونية أهل التصوف ترك الاعتماد على ما يظهر منهم من الطاعات، ونية أهل الحقيقة ربوبية تولد عبودية.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শরীয়াহর বিধানসমূহ শিক্ষা করা, অতঃপর নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে নিজ কওমকে শিক্ষা দেওয়া। চতুর্থ প্রকার: মক্কাবাসীদের মধ্য হতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করা এবং অতঃপর পুনরায় মক্কায় ফিরে যাওয়া। পঞ্চম প্রকার: আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা হতে হিজরত করা। হাদিসের অর্থ ও এর অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা সবার জন্যই ব্যাপক, তবে উম্মে কায়েসের ঘটনাটি দাবি করে যে, হাদিসটিতে হিজরত দ্বারা মক্কা হতে মদীনায় হিজরতই উদ্দেশ্য। একারণেই হিজরতের মাধ্যমে অর্জিত দুনিয়াবী অন্যান্য উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ না করে হাদিসটিতে বিশেষভাবে নারীর কথা উল্লেখ করা অধিকতর সঙ্গত হয়েছে।
আমি বলি: মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা, প্রেক্ষাপটের বিশেষত্ব নয়। 'দুনিয়া' শব্দটি আলিফ মাকসূরা যুক্ত এবং তানভীন বিহীন, কারণ এটি 'ফু’লা' ওজনের শব্দ। দুনিয়াকে তার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে 'দুনিয়া' নামকরণ করা হয়েছে, আর এর বহুবচন হলো 'দুনা', যেমন 'কুবরা' এর বহুবচন 'কুব্বার'। আল-মালিকী তার 'শাওয়াহিদুত তাওযীহ ফী মুশকিলাতিল জামিইস সহীহ' গ্রন্থে বলেন: অনির্দিষ্ট (নাকেরা) হওয়া সত্ত্বেও 'দুনিয়া' শব্দের ব্যবহার ব্যাকরণিক জটিলতা তৈরি করে; কারণ এটি 'আদনা' এর স্ত্রীলিঙ্গ এবং এটি ইসমে তাফযীল (আতিশয্যবাচক বিশেষ্য)। তাই 'কুবরা' ও 'হুসনা'-র মতো এতেও আলিফ-লাম যুক্ত হয়ে 'আদ-দুনিয়া' হওয়া উচিত ছিল। তবে 'দুনিয়া' শব্দটি তার বিশেষণীয় গুণ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করেছে এবং এমনভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যেন তা কোনো গুণবাচক শব্দ নয়, বরং একটি বিশেষ্য; যেমন 'রুজআ' এবং 'বুহমা'। কবির নিম্নোক্ত উক্তিটিও অনুরূপ:
এবং যদি তুমি কোনো মহৎ কাজ ও সম্মানের দিকে
… একদিন গোত্রের শ্রেষ্ঠ মানুষদের আহ্বান করো, তবে আমাদেরই আহ্বান করো।
কেননা 'আল-জুল্লা' হলো 'আল-আজাল' এর স্ত্রীলিঙ্গ, যা তার বিশেষণীয় অর্থ ত্যাগ করে বড় কোনো ঘটনার নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
হাদিস বিশারদদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী তার 'সহীহ' গ্রন্থে এবং মুহয়িউস সুন্নাহ তার দুই কিতাব 'শারহুস সুন্নাহ' ও 'আল-মাসাবীহ'-এ কিতাবের মূল অধ্যায়গুলো শুরু করার পূর্বেই এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন—এটি জানান দেওয়ার জন্য যে, এই সংকলনটির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাস (নিষ্ঠা) পোষণ করা হয়েছে এবং রিয়া (লোকদেখানো) ও সুমআহ (যশ-খ্যাতি) থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে। একারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেছেন এবং এই কিতাবগুলোকে দ্বীনের উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমরা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি এবং তাঁদের প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয়েছি। আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও মহানুভবতার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং আমাদের এই পরিশ্রমকে আমাদের নাজাতের উসিলা ও জ্ঞানান্বেষীদের জন্য কল্যাণকর করে দেন।
মারেফাতপন্থীদের পরিভাষায় একটি বিশেষ শিক্ষা: তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: আমল বা কাজ হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া, আর নিয়ত হলো অন্তরের আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। অন্তর হলো রাজা, আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হলো তার সৈন্যবাহিনী। রাজা তার সৈন্যবাহিনী ব্যতীত যুদ্ধ করেন না, আর সৈন্যবাহিনীও রাজা ব্যতীত যুদ্ধ করতে পারে না। অন্য কেউ বলেছেন: নিয়ত হলো যার জন্য কাজ করা হচ্ছে তার উদ্দেশ্যে কাজটিকে এমনভাবে নিবদ্ধ করা, যাতে অন্তরের গহীনে অন্য কারো চিন্তা উদিত না হয়। কেউ কেউ বলেছেন: সাধারণ মানুষের (আওয়াম) নিয়ত হলো আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বিস্মৃত হয়ে কেবল স্বার্থ উদ্ধার করা; মূর্খদের নিয়ত হলো মন্দ ভাগ্য ও বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা পাওয়া; মুনাফিকদের নিয়ত হলো আল্লাহর নিকট ও মানুষের নিকট নিজেকে সুশোভিত করা; আলিমদের নিয়ত হলো ইবাদতের গুরুত্বের কারণে নয় বরং ইবাদতদাতার (আল্লাহর) মহত্ত্বের খাতিরে আনুগত্য কায়েম করা; সুফিদের নিয়ত হলো তাদের থেকে প্রকাশিত ইবাদতসমূহের ওপর নির্ভরতা বর্জন করা; আর হাকীকতপন্থীদের নিয়ত হলো এমন রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) যা উবুদিয়্যাত (দাসত্ব) তৈরি করে।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢١)
كتاب الإيمانالفصل الأول
2 - عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم
ــ
كتاب الإيمان
الفصل الأول
الحديث الأول - قوله: ((بينا)) قال صاحب النهاية: بينا: بين، فأشبعت الفتحة فصارت ألفًا، يقال: بينا وبينما، وهما ظرفا زمان بمعنى المفاجأة ومضافان إلى الجملة: من فعل وفاعل، أول مبتدأ وخبر، ويحتاجان إلى جواب يتم به المعنى، كما يستدعى (إذا) والأفصح في جوابهما أن لا يكون فيه إذ وإذا، وقد جاء في الجواب كثيرًا، وفي اللباب: قال الأصمعي: لا يستفصح إلا طرحمها في جواب بينا وبينما، وأنشد:
وبينا نحن نرقبه أتانا
لأن الظهر أن العامل في ((بينا)) هو الجواب، كما في (إذا) الزمانية على الصحيح، ويلزم تقدم ما في صلة الكضافة إليه على المضاف. قال شارحه: بينا وبينما ظرفان متضمنان لمعنى الشرط،
فلذلك اقتضيا جوابًا، والقياس أن لا يكون (إذا) في جوابه، فعلى هذا يكون (أتانا) عاملا في
(بينا) مع أنَّه مضاف إليه لا يتقدم على المضاف وفيه نظر. انتهى كلامه. فيقال لا ريب أن
عمر وأبا هريرة رضي الله عنهما كأنا أفصح من الشاعر، وقد أتيا ب (إذا) في الحديث، فحينئذ
يكون العامل معنى المفاجأة في (إذا) كما قرره صاحب الكشاف في قوله تعالى: (وإذا ذكر الذين
من دونه إذا هم يستبشرون) العامل في (إذا) المفاجأة، تقديره، وقت ذكر الذين من دونه فاجئوا
وقت الاستبشار، فمعنى الحديث وقت حضورنا في مجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجأنا وقت طلوع
ذلك الرجال، فحينئذ (بينا) ظرف لهذا المقدر، و (إذا) مفعول به بمعنى الوقت، فلا يلزم إذا تقدم
معمول المضاف إليه على المضاف. وقد ساعد هذا القول صاحب اللباب بعد ذلك بقولة:
والعامل فيهما الجواب إذا كان مجرداً من كلمتي المفاجأة المتضمنة هما
إياه. قوله: (هما) أي إذ وإذا، و (إياه) أي ذلك المعنى، ويدل على تضمنهما معنى الشرط
تصريح الفاء في الجواب قوله صلى الله عليه وسلم: (بينا يضحكهم النبي (صلى الله عليه وسلم) الحديث، رواه
أبو داود عن أسيد بن حضير.
ঈমান অধ্যায়প্রথম পরিচ্ছেদ
২ - উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম...
—
ঈমান অধ্যায়
প্রথম পরিচ্ছেদ
প্রথম হাদিস - তাঁর বক্তব্য: ((বায়না))। ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থের রচয়িতা বলেছেন: ‘বায়না’ মূলত ‘বাইন’, এর ফাতহাকে প্রলম্বিত করায় তা আলিফ হয়ে গেছে। বলা হয়ে থাকে ‘বায়না’ এবং ‘বায়নামা’। এ দুটি আকস্মিকতা বা হঠাৎ ঘটা বোঝাতে কালবাচক অব্যয় এবং এগুলো পরবর্তী বাক্যের সাথে—হোক তা ক্রিয়া ও কর্তা অথবা মুক্তাদা ও খবর—সম্বন্ধযুক্ত হয়। এগুলো একটি জওয়াব বা উত্তরের দাবি রাখে যা দ্বারা অর্থ পূর্ণ হয়, যেমনটি ‘ইযা’ শব্দের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। এই দুটির জওয়াবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাবলীল রীতি হলো তাতে ‘ইয’ বা ‘ইযা’ না থাকা, যদিও জওয়াবে এগুলোর প্রয়োগ প্রচুর রয়েছে। ‘আল-লুবাব’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আসমায়ি বলেছেন, ‘বায়না’ এবং ‘বায়নামা’-এর জওয়াব থেকে ‘ইয’ ও ‘ইযা’ বর্জন করা ছাড়া তা পূর্ণ সাবলীল হয় না। তিনি এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করেন:
“আমরা যখন তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তখনই সে আমাদের কাছে এল।”
কারণ স্পষ্টত ‘বায়না’ শব্দের আমিল বা প্রভাবক হলো এর জওয়াবটি, যেমনটি বিশুদ্ধ মতানুসারে কালবাচক ‘ইযা’-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর এতে সম্বন্ধযুক্ত পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটি সম্বন্ধী পদের আগে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এর ব্যাখ্যাকারী বলেছেন: ‘বায়না’ এবং ‘বায়নামা’ হলো শর্তের অর্থ সম্বলিত দুটি অব্যয়।
এই কারণেই এগুলোর একটি জওয়াব প্রয়োজন হয়। আর নিয়ম হলো এর জওয়াবে ‘ইযা’ না থাকা। এই ভিত্তিতে, ‘আতানা’ (সে আমাদের কাছে এল) শব্দটি ‘বায়না’-এর আমিল হবে, যদিও এটি সম্বন্ধযুক্ত পদের অংশ যা সম্বন্ধী পদের আগে আসতে পারে না; তবে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ। এর উত্তরে বলা হয় যে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে উমর এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উক্ত কবির চেয়ে অধিক সাবলীল ও ভাষাজ্ঞানী ছিলেন, আর তাঁরা হাদিসে ‘ইযা’ শব্দটির প্রয়োগ করেছেন। এমতাবস্থায় আমিল হবে ‘ইযা’-এর মধ্যে বিদ্যমান আকস্মিকতার অর্থ, যেমনটি ‘আল-কাশশাফ’ গ্রন্থের রচয়িতা মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেছেন: “আর যখন তিনি ব্যতীত অন্যদের উল্লেখ করা হয়, তখনই তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।” এখানে ‘ইযা’ শব্দের আমিল হলো আকস্মিকতা। এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: “যখন তিনি ব্যতীত অন্যদের আলোচনা করা হয়, তখনই তারা উল্লাসের সময়ের মুখোমুখি হয়।” সুতরাং হাদিসের অর্থ দাঁড়ায়: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে আমাদের উপস্থিত থাকাকালীন সময়ে আমরা সেই ব্যক্তির আগমনের সময়ের মুখোমুখি হলাম। এমতাবস্থায় ‘বায়না’ হলো এই প্রচ্ছন্ন বিষয়ের অব্যয়, আর ‘ইযা’ হলো সময় অর্থে কর্মপদ; ফলে সম্বন্ধযুক্ত পদের আমিল সম্বন্ধী পদের আগে আসার আবশ্যকতা আর থাকে না। ‘আল-লুবাব’ গ্রন্থের লেখক পরবর্তীতে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে একে সমর্থন করেছেন:
“এই দুটির আমিল হলো জওয়াব বা উত্তরটি, যদি তা আকস্মিকতা নির্দেশক শব্দদ্বয় থেকে মুক্ত থাকে যা ওই অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।” এখানে ‘দুটি’ বলতে ‘ইয’ ও ‘ইযা’ এবং ‘ওই অর্থ’ বলতে আকস্মিকতাকে বোঝানো হয়েছে। এ দুটির মধ্যে শর্তের অর্থ বিদ্যমান থাকার প্রমাণ হলো জওয়াবের শুরুতে ‘ফা’ অক্ষরের স্পষ্ট প্রয়োগ, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “একদা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের হাসাচ্ছিলেন...” হাদিসটি। এটি আবু দাউদ উসায়েদ ইবনুল হুদায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٢)
ذات يوم، إِذ طلع علينا رجل شديدُ بياض الثياب، شديدُ سواد الشعر، لا يُرى عليه
أثرُ السفر، ولا يعرفُه منا أحد، حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فأسند ركبتبه إلى ركبتيه،
ووضع كفيه على فخذيه، وقال: يامحمد! أخبرني عن الإِسلام. قال: (الإِسلام: أن
ــ
قوله: (ذات يوم) ظرف لمعنى الاستقرار في الخبر. و (ذات) يجوز أن يكون صله، قال
صاحب النهاية: في الحديث (يطلع عليكم رجل من ذي يمن على وجهه مسحة من ذي ملك)
كذا أورده عمرو الزاهد، وقال: (ذي) هنا صلة؛ وأن يكون غير صلة، في المغرب: ذو بمعنى
الصاحب، تقول للمرأة: امرأة ذات مال، ثم أجروها مجرى الأسماء التامة المستقلة بأنفسها،
فقالوا: ذات قديمة أو محدثة، ثم استعملوها استعمال النفس والشيء، فعلى هذا قوله: (ذات
يوم) يفيد من التوكيد مالا يفيده لو لم يذكر، لئلا يتوهم التجوز إلى مطلق الزمان، نحو
قولك: رأيت نفس زيد، وقولك: رأيت زيداً.
وقوله: (لا يرى عليه أثر السفر) (مح): يعنى تعجبنا من كيفية إتيانه، ووقع في خاطرنا أنه
ملك، أو من الجن؛ لأنه لو بشراً إما أن يكون من المدينة، أو غريباً، ولم يكن من
المدينة؛ لأنا لا نعرفه، ولم يكن إتيانه من بعد؛ لأنه لم يكن عليه أثر السفر من الغبار وغيره.
وقوله: (حتى جلس) متعلق بمحذوف، تقديره: استأذن وأتى حتى جلس عند النبي (عليه
الصلاة والسلام).
وقوله: (فأسند ركبتيه إلى لركبتيه) يقال: أسند، إذا اتكأ على شيء وأوصل. وأنما جلس هكذا
ليتعلم الحاضرون جلوس السائل عند المسئول؛ لأن الجلوس على الركبة أقرب إلى التواضع
والأدب، واتصال ركبة السائل بركبة المسئول يكون أبلغ في استماع كل واحد من السائل
والمسئول كلام صاحبه، وأبلغ في حضور القلب، وألزم للجواب؛ لأن الجلوس على هذه الهيئة
دليل على شدة حاجة السائل إلى السؤال، وتعلق قلبه واهتمامه إلى استماع الجواب، فإذا عرف
المسئول هذا الحرص والاحتياج من السائل إلى يلزم على نفسه جوابه، ويبالغ في الجواب
أكثر وأتم مما سأل السائل. تم كلامه.
قوله: (وضع يديه على فخذيه) قال الشيخ: التوربشتى: الضمير في الكلمتين راجع إلى
جبرئيل عليه السلام فلو ذهب مؤول إلى أن الثاني يعود إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لم ينكر عليه،
لما يدل عليه نسق الكلام من قوله: (وأسند ركبتيه إلى ركبتيه) غير أنا نذهب إلى الوجه الأول،
لأنه أقرب إلى التوقير، وأشبه بسمت ذوى الأدب. وذهب محيي السنة إلى الوجه الثاني فى
كتابه المسمى ب (الكفاية). وكذا إسماعيل بن الفضل التيمى في كتابه المسمى ب (الترغيب
والترهيب).
একদিন, যখন আমাদের সামনে এমন একজন ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটল যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর মাঝে
সফরের কোনো চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতও না। শেষ পর্যন্ত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে গিয়ে বসলেন এবং নিজের হাঁটুদ্বয়কে তাঁর হাঁটুদ্বয়ের সাথে ঠেকালেন।
আর নিজের দুই হাতের তালু তাঁর উরুর ওপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: (ইসলাম হলো: যে
--
তাঁর কথা: (একদিন)—এটি বর্ণনার অন্তর্গত স্থিতিশীলতা বা ঘটনার সময়ের আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে (যাত) শব্দটি অতিরিক্ত বা সংযোগকারী হতে পারে।
'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থের রচয়িতা বলেন: হাদিসে এসেছে (তোমাদের কাছে ইয়ামানি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি আবির্ভূত হবে যার চেহারায় রাজকীয় আভিজাত্যের আভা রয়েছে)
আমর আয-যাহিদ এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এখানে (যি) শব্দটি অতিরিক্ত। আবার এটি অতিরিক্ত না-ও হতে পারে। 'আল-মুগরিব' গ্রন্থে উল্লেখ আছে: 'যু' বলতে
অধিকারী বা সঙ্গীকে বোঝায়; আপনি নারীর ক্ষেত্রে বলবেন: 'সম্পদশালিনী নারী' (যাতু মাল)। পরবর্তীতে তারা এটিকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র বিশেষ্যের ন্যায় ব্যবহার করতে শুরু করেন,
এবং বলেন: অনাদি সত্তা (যাত কাদিমা) বা সৃষ্ট সত্তা (মুহদাছাহ)। এরপর তারা একে 'সত্তা' বা 'বস্তু' অর্থে ব্যবহার করেছেন। সেই হিসেবে, (যাতু ইয়াওম/একদিন)
কথাটি এমন গুরুত্ব বহন করে যা এটি উল্লেখ না করলে প্রকাশ পেত না। যাতে করে ঢালাওভাবে যেকোনো সময়ের কল্পনা করার অবকাশ না থাকে; যেমন
আপনার উক্তি: 'আমি স্বয়ং জায়েদকে দেখেছি' এবং আপনার উক্তি: 'আমি জায়েদকে দেখেছি'—এর মধ্যবর্তী পার্থক্য।
এবং তাঁর কথা: (তার মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না) ইমাম নববী বলেন: এর অর্থ হলো, তাঁর আসার ধরন দেখে আমরা আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম এবং আমাদের মনে খটকা জেগেছিল যে, তিনি
ফেরেশতা নাকি জিন। কারণ, তিনি যদি মানুষ হতেন তবে হয় মদিনার বাসিন্দা হতেন অথবা মুসাফির (আগন্তুক) হতেন। অথচ তিনি
মদিনার বাসিন্দা ছিলেন না, কারণ আমরা তাঁকে চিনতাম না; আবার দূর থেকে আগতও ছিলেন না, কারণ তাঁর ওপর ধূলিবালি বা সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না।
এবং তাঁর কথা: (পর্যন্ত তিনি বসলেন) এটি একটি ঊহ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, যার আনুমানিক রূপ হলো: তিনি অনুমতি চাইলেন এবং আসলেন, পরিশেষে নবী (আলাইহিস
সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কাছে বসলেন।
এবং তাঁর কথা: (নিজের হাঁটুদ্বয়কে তাঁর হাঁটুদ্বয়ের সাথে ঠেকালেন) বলা হয়: 'আসনাদা', যখন কেউ কোনো কিছুর ওপর হেলান দেয় বা কোনো কিছু স্পর্শ করায়। তিনি মূলত এভাবে বসেছিলেন
যাতে উপস্থিত ব্যক্তিরা শিখতে পারেন যে, উত্তরদাতার সামনে প্রশ্নকারীর বসার ভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত। কেননা, হাঁটুর ওপর ভর করে বসা বিনয়
ও শিষ্টাচারের সবচেয়ে নিকটবর্তী। আর প্রশ্নকারীর হাঁটুর সাথে উত্তরদাতার হাঁটু লেগে থাকা উভয়ের পরস্পরের কথা শোনার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর হয়,
হৃদয়ের উপস্থিতির জন্য অধিক সহায়ক এবং উত্তর প্রদানের জন্য অধিক তাগিদস্বরূপ। কারণ, এই ভঙ্গিতে বসা হলো
প্রশ্নকারীর জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং উত্তর শোনার প্রতি তাঁর হৃদয়ের গভীর একাগ্রতা ও গুরুত্ব প্রদানের বহিঃপ্রকাশ। উত্তরদাতা যখন
প্রশ্নকারীর এই আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন, তখন তিনি উত্তর দেওয়া নিজের জন্য আবশ্যক মনে করেন এবং প্রশ্নকারীর চাওয়ার চেয়েও
অধিক পূর্ণাঙ্গ ও নিপুণভাবে উত্তর প্রদানে সচেষ্ট হন। এখানেই তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো।
তাঁর কথা: (নিজের দুই হাত তাঁর দুই উরুর ওপর রাখলেন) শায়খ আত-তূরবিশতী বলেন: এই বাক্যাংশের উভয় সর্বনাম
জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। তবে কোনো ব্যাখ্যাকারী যদি এই মত পোষণ করেন যে দ্বিতীয় সর্বনামটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তবে তাকে প্রত্যাখ্যান করা হবে না;
কারণ বাক্যের ধারাবাহিকতা 'তিনি নিজের হাঁটুদ্বয়কে তাঁর হাঁটুদ্বয়ের সাথে ঠেকালেন'—এর দ্বারা এটিই প্রতীয়মান হয়। তবে আমরা প্রথম মতটিই গ্রহণ করি,
কেননা তা অধিক সম্মানসূচক এবং শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তিদের আচরণের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে মুহয়িউস সুন্নাহ তাঁর
(আল-কিফায়াহ) নামক গ্রন্থে দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করেছেন। তেমনিভাবে ইসমাইল ইবনুল ফাযল আত-তায়মি তাঁর (আত-তারগীব
ওয়াত-তারহীব) নামক গ্রন্থেও একই মত প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٣)
ــ
وأقول: لعل هذا الوجه أرجح؛ لأن الأصل في إسناد الركبة إلى الركبة أن يكون الاعتماد
والاتكاء عليه، فإذا لا يبعد وضع جبريل عليه السلام يديه على فخذى رسول الله صلى الله عليه وسلم على تلك
الحالة، فأشعرت تلك الهيئة بأنها ليست كهيئة التلميذ، وكذا نداؤه لرسول الله صلى الله عليه وسلم باسمه، بل
هما من هيئة الشيخ إذا اهتم بشأن التعليم، واراد مزيد إصغاء المتعلم وإفهامه، فكيف لا؟ وقد
شهد الله تعالى به في قوله: (علمه شديد القوى) وكفى به شاهداً. وينصره أيضا أمران:
أحدهما قوله: (جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم)، فلو كان جلوسه جلوس المتعلم لقيل: بين يديه، فضلا
أن يقال: عنده، فكيف بقوله: (جلس إليه)؟ لأنه متضمن معنى الميل والإسناد، كأنه قيل:
مال إليه حالة جلوسه وأسند إليه، فيكون عطف قوله: (وأسند ركبتيه) على قوله: (جلس إاليه)
للبيان والتفسير، كعطف قوله تعالى: (وإن من الحجارة لما يتفجر منه الأنهار_ إلى قوله_ من
خشية الله) على قوله: (فهى كالحجارة أو أشد قسوة) لما يعلم من المعطوف كون قلوبهم
أقسى من الحجارة، وثانيهما قوله: (صدقت) وإنما يقال هذا إذا طابق قول المسئول عنه قول
السائل؛ لأنه إذا عرف أن المسئول عنه أصاب المخبر وطبق المفضل صوبه، ولهذا السر
قالوا: (تعجبنا من قوله: (صدقت) وأيضاً في إيثار (إذ طلع علينا) على (إذ دخل) إشارة ألى
عظمته وعلوه. (غيب): طلع علينا فلان، مستعار من: طلعت الشمس. (الكشاف): في
قوله: (أطَّلع الغيب): ولا ختيار هذه الكلمة شأن، يقول: أو قد بلغ من عظمة شأنه أن ارتقى
إلى علم الغيب، فحينئذ يتعلق (حتى) بمحذوف يدل عليه (طلع) أى دنا منه حتى جلس إليه.
وإذا تقرر هذا فصورة هذه الحالة كصورة المعيد إذا امتحه عند حضور الطلبة
والمستفيدين منه، ليزيدوا طمأنينة وثقة في أنه يعيد الدرس ويلقى إليهم المسألة كما سمعه من
الشيخ بلا زيادة ولا نقصان، وفيه مسحة من قوله: (وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحى يوحى
علمه شديد القوى) وهذا معنى قوله عليه السلام في آخر الحديث: (ذاك جبريل أتاكم يعلمكم
دينكم).
وأما سر إسناد ركبتيه إلى ركبتيه ففيه إشارة إلى سابقة بينهما، وشدة إخلاص واتحاد، كما
بين المتحابين، ولله در القاتل:
أخ طاهر (الأخلاق) حلو كأنه
… جنا النحل ممزوج بماء غمام
يزيد على الأيام صفو مودة
… وشدة إخلاص ورعى ذمام
ــ
আমি বলি: সম্ভবত এই অভিমতটিই অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য; কারণ হাঁটুতে হাঁটু মেলানোর মূল উদ্দেশ্য হলো ভর দেওয়া এবং তার ওপর হেলান দেওয়া। এমতাবস্থায় সেই বিশেষ অবস্থায় জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উরুদ্বয়ের ওপর তাঁর হাত রাখা মোটেই অসম্ভব নয়। ফলে এই ভঙ্গিটি এটিই জানান দেয় যে, এটি কোনো শিক্ষার্থীর ভঙ্গি ছিল না। তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর নাম ধরে সম্বোধন করাও (শিক্ষার্থীর কাজ নয়), বরং এই উভয় বিষয়ই একজন শাইখ বা শিক্ষকের ভঙ্গি, যখন তিনি শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীর অধিকতর মনোযোগ ও উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষা করেন। তবে তা হবে না কেন? অথচ আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর এই বাণীতে সাক্ষ্য দিয়েছেন: "তাকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী সত্তা," আর সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। দুটি বিষয় এই মতকে আরও জোরালো করে:
প্রথমটি হলো তাঁর এই উক্তি: "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্নিকটে বসলেন"। যদি তাঁর বসাটা শিক্ষার্থীর বসার মতো হতো, তবে বলা হতো: "তাঁর সম্মুখে", এমনকি বলা হতো: "তাঁর কাছে"। তবে "তাঁর সাথে লেগে বসা" (ইলাইহি) বলার তাৎপর্য কী? কারণ এটি ঝুঁকে থাকা এবং ঠেস দেওয়ার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে; যেন বলা হয়েছে: তিনি তাঁর বসা অবস্থায় তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁর ওপর ঠেস দিলেন। সুতরাং "তাঁর হাঁটুদ্বয় ঠেকিয়ে দিলেন" কথাটিকে "তাঁর সাথে লেগে বসলেন" কথার ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে: "পাথরসমূহের মধ্যে এমনও আছে যা থেকে নদী প্রবাহিত হয় - আল্লাহর ভয়ে" কথাটিকে "অতঃপর তোমাদের হৃদয় পাথরের ন্যায় কিংবা তার চেয়েও কঠিন হয়ে গেল" কথাটির ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে সংযোজিত অংশটি থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে তাদের অন্তর পাথরের চেয়েও কঠিন। দ্বিতীয়টি হলো তাঁর উক্তি: "আপনি সত্য বলেছেন"। এটি তখনই বলা হয় যখন উত্তরদাতার কথা প্রশ্নকর্তার জানার সাথে হুবহু মিলে যায়; কারণ যখন জানা যায় যে উত্তরদাতা সঠিক বলেছেন, তখন সংবাদদাতা তাঁর সত্যায়ন করেন। এই রহস্যের কারণেই সাহাবীগণ বলেছিলেন: "আমরা তাঁর ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তাঁর সত্যতাও নিশ্চিত করছেন।" এছাড়া "প্রবেশ করলেন" শব্দের পরিবর্তে "আমাদের সামনে উদিত হলেন" শব্দের অগ্রাধিকার প্রদান তাঁর মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। "গাইব" (অভিধান): "অমুক আমাদের সামনে উদিত হলো" কথাটি "সূর্য উদিত হওয়া" থেকে রূপক হিসেবে নেওয়া হয়েছে। "আল-কাশশাফ" (তাফসীর): "সে কি অদৃশ্যে উঁকি দিয়েছে?" আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই শব্দটি নির্বাচনের একটি বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এটি বলছে যে, তাঁর মর্যাদার মাহাত্ম্য এমন স্তরে পৌঁছেছে যে তা অদৃশ্যের জ্ঞানের দিকে উন্নীত হয়েছে। এমতাবস্থায় "হাত্তা" (পর্যন্ত) শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে যা "উদিত হওয়া" দ্বারা নির্দেশিত; অর্থাৎ তিনি তাঁর নিকটবর্তী হলেন এমনকি তাঁর সাথে লেগে বসলেন।
যখন এটি স্থির হলো, তখন এই অবস্থার চিত্রটি হলো একজন সহকারী শিক্ষকের (মুইদ) মতো, যখন তিনি ছাত্রদের উপস্থিতিতে তাদের পরীক্ষা নেন যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারে যে তিনি পাঠটি যথাযথভাবে পুনরাবৃত্তি করছেন এবং তাদের কাছে মাসয়ালাটি উপস্থাপন করছেন ঠিক সেভাবেই যেভাবে তিনি শাইখের কাছ থেকে শুনেছেন কোনো কমবেশি করা ছাড়াই। এতে এই আয়াতের একটি ছোঁয়া রয়েছে: "তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়; তাকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী সত্তা।" আর হাদীসের শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মর্মও এটাই: "ইনি জিবরাঈল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।"
আর তাঁর হাঁটুতে হাঁটু ঠেকানোর রহস্যের মধ্যে তাঁদের উভয়ের মধ্যকার পূর্ব-পরিচয়, প্রগাঢ় একনিষ্ঠতা এবং একাত্মতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যেমনটি দুই প্রিয়ভাজনের মধ্যে হয়ে থাকে। আর কবির কথা কতই না চমৎকার:
এক নিষ্কলুষ চরিত্রের ভাই, মধুর ন্যায় সুমিষ্ট, যেন
… মেঘের বারিসিঞ্চিত মৌচাকের মধু।
দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে যার বন্ধুত্বের নির্মলতা বৃদ্ধি পায়
… আর বৃদ্ধি পায় প্রগাঢ় একনিষ্ঠতা ও অঙ্গীকার রক্ষা।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٤)
تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلًا)). قال: صدقت. فعجبنا له يسأله ويصدقه؛ قال فأخبرني عن الإيمان. قال ((أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، ــ
ــ
وأما طلوع جبريل عليه السلام على تلك الهيئة والشأن فإشارة إلى معنى قوله: ((حسن الأدب في الباطن)) ولذلك أدب الله رسوله عليه السلام بقوله: (وثيابك فطهر والرجز فاهجر)؛ على هذا ينزل نزوله عليه السلام أحيانا في صورة دحية رضي الله عنه؛ لأنه كان من اجمل الناس، ومن ثمة كان الإمام مالك رضي الله عنه إذغ أراد أن يحدث توضأ وجلس على صدر فراشه، وسرح لحيته وتطيب، وتمكن من الجلوس على وقار وهيبة، ثم حدث، فقيل له في ذلك، فقال: أحب أن أعظم حديث (صلى الله عليه وسلم).
قوله: ((أخبرني عن الإسلام)) الإسلام الانقياد والطاعة عن الطوع والرغبة من غير اعتراض، يقال: سلم وأسلمو (استسلم) إذا خضع وأذعن، ولذلك أجاب عنه بالأركان الخمسة، و ((أن)) في قوله: (أن لا إله إلا الله)) هي المخففة عن المثقلة، يدل عليه عطف: ((وأن محمدًا)).
قوله: ((وأن تقيم الصلاة)) إقامة الصلاة تعديل أركانها وإدامتها، والصلاة فعلة من: صلى بمعنى دعا أو حرك الصلوين؛ لأن المصلى يحركها في ركوعه وسجوده، كالزكاة من: زكى بمعنى نما او طهر، غفإن المال يزيد بأداء الزكاة ويطهر به، وكالصوم من، صام إذا امسك، والحج من: حج إذا قصد، و ((البيت)) اسم جنس غلب على الكعبة وصار علما له.
فإن قلت: كيف خص الأخير بقيد الإستطاعة دون سائرها؛ فإن الاستطاعة التي يتمكن بها المكلف من فعل الطاعة مشروطة في الكل؟ قلت: المعني بهذه الاستطاعة الزاد والراحلة. وكانت طائفة لا يعدونها منها، ويثقلون على الحاج، فنهوا عن ذلك، أو علم الله تعالى: (لاتأكلوا الربا أضعافا مضاعفة)) ولتلك العناية أنزل الله تعلى: (من استطاع)) ومع ذلك نرى كثيرًا من الناس لا يرفعون بهذا النص الجلي رأسا، ويلقون أنفسهم بأيديهم إلى التهلكة.
قوله: ((أخبرني عن الإيمان)) إفعال من الأمن، وهو طمأنينة النفس عن إزالة خوف وشك، يقال: أمنه إذا صدقه، وحقيقته آمنة التكذيب والمخالفة. وإن قيل: قوله: ((أن تؤمن بالله)) في جواب الإيمان يوهم التكرار. فالجواب أن الإيمان الذي هو بمعنى التصديق تعدى بنفسه، كما تقول: آمنته وأمنته، والذي يعدى بالباء يتضمن معنى اعترف به أو وثق به، كانه قيل: الإيمان الاعتراف بالله، ووثوق به.
ــ
তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর প্রতি বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর উত্তর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: (তা হলো) তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি ইমান আনবে—
—
আর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর সেই রূপ ও মহিমায় আত্মপ্রকাশের বিষয়টি মূলত তাঁর (নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) বাণীর মর্মার্থের দিকে ইঙ্গিত করে: "অভ্যন্তরীণ শিষ্টাচারের সৌন্দর্য"। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল (আলাইহিস সালাম)-কে এই বাণীর মাধ্যমে আদব শিক্ষা দিয়েছেন: "আর আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন।" এ ভিত্তিতেই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) মাঝে মাঝে দাহইয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আকৃতিতে অবতরণ করতেন; কারণ তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুশ্রী। এ কারণেই ইমাম মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন হাদিস বর্ণনা করতে চাইতেন, তখন ওজু করতেন, তাঁর আসনের উপরিভাগে বসতেন, দাড়ি বিন্যস্ত করতেন, সুগন্ধি মাখতেন এবং অত্যন্ত গাম্ভীর্য ও সম্মানের সাথে উপবেশন করতেন, অতঃপর হাদিস বর্ণনা করতেন। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: আমি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) হাদিসকে সম্মান করা পছন্দ করি।
তাঁর বাণী: "আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন"—ইসলাম হলো কোনো আপত্তি ছাড়া স্বতঃস্ফূর্ততা ও আগ্রহের সাথে আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ করা। বলা হয়: "সাল্লামা" এবং "আলামা" (বা ইস্তাসলামা) যখন কেউ বিনত ও অনুগত হয়। এ কারণেই তিনি এর উত্তরে পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেছেন। আর তাঁর বাণী: "আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর মধ্যে "আন" শব্দটি হলো "মুসাফফাফা" যা "মুসাক্কালা" (ভারী) থেকে হালকা করা হয়েছে। "ওয়া আন্না মুহাম্মাদান" অংশের সংযোগটি এর প্রমাণ দেয়।
তাঁর বাণী: "এবং সালাত কায়েম করা"—সালাত কায়েম করার অর্থ হলো এর রুকনসমূহ যথাযথভাবে পালন করা এবং তা নিয়মিত আদায় করা। "আস-সালাত" শব্দটি "সাল্লা" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ দোয়া করা অথবা নিতম্বের দুই হাড় নাড়াচড়া করা; কেননা সালাত আদায়কারী রুকু ও সিজদাহ করার সময় তা নাড়াচড়া করে। যেমন "আজ-জাকাত" শব্দটি "জাক্কা" থেকে এসেছে যার অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া অথবা পবিত্র হওয়া; কারণ জাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং পবিত্র হয়। আর "আস-সাওম" শব্দটি "সামা" থেকে এসেছে যার অর্থ বিরত থাকা। আর "আল-হাজ্জ" এসেছে "হাজ্জা" থেকে যার অর্থ সংকল্প করা বা ইচ্ছা করা। আর "আল-বাইত" শব্দটি এখানে সাধারণ বিশেষ্য হলেও কাবার ক্ষেত্রে এটি জয়যুক্ত হয়ে বিশিষ্ট সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছে।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: কেন শেষোক্ত বিষয়টিকে (হজকে) সামর্থ্যের শর্তে বিশেষায়িত করা হয়েছে অন্যগুলোর বিপরীতে? অথচ যে সামর্থ্যের মাধ্যমে একজন মুকাল্লাফ (দায়িত্বশীল ব্যক্তি) ইবাদত পালন করতে সক্ষম হয়, তা তো সব ইবাদতের ক্ষেত্রেই শর্ত। উত্তরে আমি বলব: এখানে সামর্থ্য বলতে পাথেয় এবং যানবাহনকে বোঝানো হয়েছে। একদল লোক এগুলোকে সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত মনে করত না এবং হাজিদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াত, তাই তাদের এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অথবা আল্লাহ তাআলা জানতেন: "তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না"। সেই বিশেষ গুরুত্বের কারণেই আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন: "যে সামর্থ্য রাখে"। তা সত্ত্বেও আমরা অনেক মানুষকে দেখি যারা এই সুস্পষ্ট বাণীর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না এবং নিজেদের হাত দিয়ে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
তাঁর বাণী: "আমাকে ইমান সম্পর্কে অবহিত করুন"—ইমান শব্দটি "আল-আমন" থেকে উদ্ভূত "ইফআল" এর ওজনে, যার অর্থ ভয় ও সন্দেহ দূর করে মনের প্রশান্তি অর্জন করা। বলা হয়ে থাকে: "আমানাহু" যখন সে তাকে বিশ্বাস করে। আর এর প্রকৃত রূপ হলো মিথ্যা সাব্যস্ত করা এবং বিরোধিতা করা থেকে মুক্ত থাকা। যদি বলা হয়: ইমানের উত্তরে "আল্লাহর প্রতি ইমান আনা" কথাটি পুনরুক্তির বিভ্রম সৃষ্টি করে। তবে এর উত্তর হলো, যে ইমান "তাসদিক" বা বিশ্বাসের অর্থে ব্যবহৃত হয় তা সরাসরি ক্রিয়া হিসেবে কাজ করে, যেমন আপনি বলেন: "আমানতুহু" (আমি তাকে বিশ্বাস করেছি)। কিন্তু যা "বা" অক্ষরের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, তা "স্বীকার করা" বা "আস্থা রাখা"র অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে। যেন বলা হয়েছে: ইমান হলো আল্লাহর প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করা এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখা।
—
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٥)
ــ
ــ
واعلم أن السؤال عن الإيمان وجوابه مقدم على السؤال عن الإسلام وجوابه في المصابيح،
وتكلم عليه الشيخ التوربشتى، وهو حق؛ لأنه مؤخر في صحيح مسلم، وفي كتاب الحميدي.
وجامع الأصول، ورياض الصالحين، وشرح السنة برواية عمر رضي الله عنه. ثم إن
التصديق وأن كان مقدماً في الاعتبار لقوله تعالى: (إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات) وعليه
سؤسس قاعدة الإسلام، لكن المقام يقتضي تقديم الإسلام؛ لأنه رأس الأمر وعموده، وشعائر
الدين به تظهر، وهو دليل على التصديق وأمارة عليه، وما جاء جبريل عليه السلام إلا ليعلم
الشريعة؛ فينبغى أن يبدأ بما هو الأهم فالأهم، ويترقى من الأدنى إلى الأعلى، فإن الإسلام
مقدم على الإيمان، وهو على الإخلاص، وفي هذا الكتاب مسطور بعد قوله: (إن استطعت إليه
سبيلا، قال: صدقت، فعجبنا له يسأله ويصدقه).
قوله: (بالله) الله أصله إله، فحذف همزته معوضاً عنها حرف التعريف، ولذلك قطع الألف،
وأدخل عليه حرف النداء، والإله فعال بمعنى مفعول، كالكتاب بمعنى المكتوب، من: أله إلهة
أي عبد عبادة، أو أله ألها إذا تحير؛ لأن الفطن يدهش في معرفة المعبود، والعقول متحيرة
في كبريائه. والملائكة جمع ملاك على الأصل، كالشمائل جمع شمال، والتاء لتأنيث الجمع،
مشتق من الألوكة بمعنى الرسالة. والكتب ما أنزلت على أنبيائه (صلوات الله وسلامه عليهم) إما
مكتوباً على نحو ألواح، أو مسموعا من الله تعالى من وراء حجاب، أو من ملك مشاهد
مشافهة، أو مصوت هاتف. وإنما قدم ذكر الملك على الكتاب والرسل اتباعا للترتيب الواقع،
فإنه سبحانه وتعالى أرسل الملك بالكتاب إلى الرسول لا تفضيلا للملائكة على الرسل، فإن
فيه خلافا، ولا على الكتب، فإنه لم يقل به أحد.
قوله: (رسله) يقال: أرسلت فلانا في رسالة، فهو مرسل ورسول، والجمع رُسُل ورُسل،
(قال) الكشاف: الفرق بين النبي والرسول أن الرسول من الأنبياء من جمع إلى المعجزة الكتاب
المنزل عليه، والنبي غير الرسول من لم ينزل عليه، وإنما أمر أن يدعو إلى شريعة من قبله.
وعن الإمام أحمد بن حنبل عن أبى أمامة، قال أبو ذر: يارسول الله، كم وفاء عدة
الأنبياء؟ قال: (مائة ألف وأربعة وعشرون ألفا، الرسل من ذلك ثلاث مائة وخمسة عشر جما
غفيراً).
[قلت: قيل المنزَّلة مائة وأربعة كتب: على آدم عشر صحائف، وعلى شيث عليه السلام
خمسون صحيفة، وعلى أخنوخ وهو إدريس عليه السلام ثلاثون صحيفة، وعلى إبراهيم عليه
السلام عشر صحائف. والتوارة، والإنجيل، والفرقان، والزبور. فعلى هذا القول الذى ذكره جار
ــ
ــ
জেনে রাখুন যে, 'মাসাবীহ' গ্রন্থে ঈমান সম্পর্কিত প্রশ্ন ও তার উত্তরকে ইসলাম সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তরের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
শেখ আল-তুরবাশতী এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এটিই সঠিক; কারণ সহীহ মুসলিম, হুমায়দীর গ্রন্থ,
জামেউল উসূল, রিয়াযুস সালিহীন এবং উমর (রা.)-এর বর্ণনায় শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে এটি পরেই বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর
যদিও আল্লাহর বাণী: 'নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে' অনুযায়ী বিশ্বাসের গুরুত্ব বিবেচনায় তা অগ্রগণ্য এবং এর ওপরই
ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হবে, তথাপি এই স্থানটি ইসলামের বর্ণনায় অগ্রাধিকারের দাবি রাখে; কেননা ইসলাম হচ্ছে বিষয়ের মূল ও স্তম্ভ এবং এর মাধ্যমেই
দীনের নিদর্শনসমূহ প্রকাশিত হয়। আর এটি অন্তরের বিশ্বাসের দলীল ও চিহ্ন। জিবরাঈল (আ.) কেবল
শরীয়ত শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন; সুতরাং যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা দিয়েই শুরু করা উচিত এবং ক্রমান্বয়ে নিম্নতর স্তর থেকে উচ্চতর স্তরের দিকে অগ্রসর হওয়া সমীচীন। কেননা ইসলাম
ঈমানের ওপর এবং ঈমান ইখলাসের ওপর অগ্রগণ্য। এই গ্রন্থে এটি আল্লাহর এই বাণীর পর লিখিত হয়েছে: (যদি তুমি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখো। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর ব্যাপারে বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন)।
তাঁর বাণী: (আল্লাহর প্রতি) 'আল্লাহ' শব্দের মূল হলো 'ইলাহ', এর হামযা বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে আলিফ-লাম (নির্ধারক অব্যয়) যুক্ত করা হয়েছে। এই কারণে এর আলিফে 'ক্বাত' (উচ্চারণ) করা হয়
এবং এর শুরুতে সম্বোধনসূচক অব্যয় যুক্ত করা যায়। 'ইলাহ' শব্দটি 'ফিআল' ওজনে 'মাফউল'-এর অর্থে ব্যবহৃত, যেমন 'কিতাব' শব্দটি 'মাকতুব' (লিখিত) অর্থে আসে। এটি 'আলাহা ইলাহাতান'
অর্থাৎ ইবাদত করা থেকে উদ্ভূত; অথবা এটি 'আলাহা আলহান' থেকে এসেছে যার অর্থ হলো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া; কারণ বুদ্ধিমানরা মাবুদের পরিচয়ে বিস্ময়াভিভূত হন এবং মানুষের বুদ্ধি
তাঁর মহত্ত্বের সামনে হতবুদ্ধি হয়ে যায়। 'মালাইকা' শব্দটি মূলে 'মালাক'-এর বহুবচন, যেমন 'শামাইল' শব্দটি 'শিমাল'-এর বহুবচন। শেষের 'তা' বর্ণটি বহুবচনের স্ত্রীলিঙ্গ রূপের জন্য,
যা 'আলুকাহ' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ বার্তা বা রিসালাত। আর 'আসমানী কিতাবসমূহ' হলো সেই সকল বাণী যা তাঁর নবীদের ওপর নাযিল করা হয়েছে (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), তা হয়
ফলকের মতো লিখিত আকারে, অথবা পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রুত, কিংবা সামনাসামনি কোনো ফেরেশতার মাধ্যমে
কথোপকথন, অথবা অদৃশ্যের কোনো আওয়াজের মাধ্যমে। কিতাব ও রাসূলের পূর্বে ফেরেশতার উল্লেখ কেবল বাস্তব পরম্পরা অনুসরণের খাতিরে করা হয়েছে,
কেননা মহান আল্লাহ ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলের কাছে কিতাব পাঠিয়েছেন। এটি রাসূলদের ওপর ফেরেশতাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য নয়, কারণ
এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; আর কিতাবসমূহের ওপর ফেরেশতাদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা তো কেউ বলেননি।
তাঁর বাণী: (তাঁর রাসূলগণের প্রতি) বলা হয়: আমি অমুককে বার্তার কাজে প্রেরণ করেছি, সে ক্ষেত্রে সে হলো 'মুরসাল' বা 'রাসূল'। এর বহুবচন হলো 'রুসুল'।
'কাশশাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য হলো, রাসূল সেই সকল নবীকে বলা হয় যাঁদের অলৌকিক নির্দশনের পাশাপাশি আসমানী কিতাব
প্রদান করা হয়েছে। আর নবী রাসূলের থেকে ভিন্ন, যাঁকে কোনো কিতাব প্রদান করা হয়নি, বরং তিনি কেবল পূর্ববর্তী শরীয়তের দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছেন।
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র.) থেকে আবু উমামা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, আবু যার (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! নবীদের পূর্ণ
সংখ্যা কত? তিনি বললেন: (এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। তাঁদের মধ্যে রাসূল হলেন তিনশ পনের জন, যা একটি বিশাল
দল)।
[আমি বলি: বলা হয়ে থাকে যে, অবতীর্ণ কিতাবের সংখ্যা মোট একশত চারটি: আদমের ওপর দশটি সহীফা, শীস (আ.)-এর ওপর
পঞ্চাশটি সহীফা, আখনুখ তথা ইদরীস (আ.)-এর ওপর ত্রিশটি সহীফা এবং ইব্রাহীম (আ.)-এর ওপর
দশটি সহীফা। আর তাওরাত, ইঞ্জিল, ফুরকান (কুরআন) এবং যাবুর। জারুল্লাহ কর্তৃক বর্ণিত এই মত অনুযায়ী...
ــ
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٦)
واليوم الآخر، وتُومن بالقدر خيرِه وشَره) قال: صدقت. قال: فأخبرني عن .....
ــ
الله بين الرسول والنبي لا يساعد الحديث المذكور؛ بل الفرق من وجه آخر؛ وهو أن يقال:
الرسول من نزل عليه جبريل، والنبي مع سمع صوتا أو رأى في المنام أنه نبي وبلغ
الرسالة]
قوله: (واليوم الآخر) هو يوم القيامة؛ لأنه آخر أيام الدنيا، أو آخر الأزمنة المحدودة، والمراد
الإيمان به وبما فيه من البعث والحساب، ودخول أهل الجنة الجنة، وأهل النار النار، إلى غير
ذلك مما ورد النص القاطع عليه.
قوله: (تؤمن بالقدر) (قال القاضي عياض): القضاء هو الإرادة الأزلية والعناية الإلهية المقتضية
لنظام الموجودات على ترتيب خاص، والقدر تعلق تلك الإدارة بالأشياء في أوقاتها. والقدرية
قالوا: القضاء علمه تعالى بنظام الموجودات، وأنكروا تأثير قدرة الله تعالى بنظام الموجودات،
وأنكروا تأثير قدرة الله تعالى في أعمالنا، وتعلق إرادته بأفعالنا، وزعموا أنها واقعة بقدرنا،
ودواع منا، فأثبتوا لنا قدرة مستقلة بالإيجاد والتأثير في أفعالنا_ تم كلامه. وسيجئ الكلام في
القضاء والقدر على عكس ما ذكره القاضي. فإن قيل: لم أعاد ذكر (تؤمن) عند القدر؟ فالجواب
أنه عرف أن الأمة يخوضون فيه، وبعضهم ينفونه، ويقولون: إن الأمر أُنُف ولا قدر، مثل
المعتزلة، فلذلك اهتم بذلك بإعادة (تؤمن) ثم قرره بالإبدال بقوله: (شره وخيره) فإن البدل
توضيح مع التأكيد لتكرير العامل.
قال الشيخ محيي الدين النواوى في شرح صحيح مسلم: الإيمان قول وعمل، يزيد وينقص،
وهو قول ابن مسعود، وحذيفة، ومالك، والثورى، والأوزاعى، والنخعى، والحسن، وعطاء،
وطاوس، ومجاهد، وابن المبارك، وسفيان بن عبينه، ومعمر بن راشد وابن جريج، وجماعة
أهل السنة من سلف الأمة وخلفها. والحجة على زيادته ونقصانه الآيات، وقوله تعالى: (فاخشوهم فزادهم
إيمانا مع إيمانهم) وقوله تعالى: (ويزداد الذين آمنوا إيمانا) وقوله تعالى: (فاخشوهم فزادهم
إيمانا).
...এবং শেষ দিবস, আর আপনি ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন) তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: তবে আমাকে ..... সম্পর্কে অবহিত করুন
—
রাসুল ও নবীর মধ্যে আল্লাহ যে পার্থক্য করেছেন, তা উল্লিখিত হাদিস দ্বারা সমর্থিত নয়; বরং পার্থক্যটি অন্য দিক থেকে; আর তা হলো এই যে:
রাসুল হলেন তিনি যাঁর নিকট জিবরাঈল অবতীর্ণ হয়েছেন, আর নবী হলেন তিনি যিনি কোনো কণ্ঠস্বর শুনেছেন অথবা স্বপ্নে দেখেছেন যে তিনি একজন নবী এবং তিনি বার্তা
পৌঁছে দিয়েছেন]
তাঁর কথা: (এবং শেষ দিবস) এটি হলো কিয়ামতের দিন; কেননা এটি দুনিয়ার দিনসমূহের শেষ দিন, অথবা নির্ধারিত সময়কালের শেষ ভাগ। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো
সেদিনের প্রতি এবং তাতে পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ, জান্নাতবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে প্রবেশসহ অকাট্য দলিলে বর্ণিত
অন্যান্য বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
তাঁর কথা: (ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা) (কাযী আইয়ায বলেন): ফয়সালা বা ‘কাযা’ হলো অনাদি ইচ্ছা ও খোদায়ী তদারকি যা
বিদ্যমান বস্তুসমূহের একটি বিশেষ বিন্যাসকে দাবি করে, আর ‘কদর’ বা ভাগ্য হলো সেই ইচ্ছার সাথে বস্তুসমূহের তাদের নিজ নিজ সময়ে সংশ্লিষ্ট হওয়া। আর ক্বাদারিয়া
সম্প্রদায় বলেছে: ‘কাযা’ হলো বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিন্যাস সম্পর্কে মহান আল্লাহর জ্ঞান; তারা বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিন্যাসে আল্লাহর কুদরতের প্রভাব অস্বীকার করেছে,
এবং আমাদের কর্মে আল্লাহর কুদরতের প্রভাব ও আমাদের কাজের সাথে তাঁর ইচ্ছার সংশ্লিষ্টতাকেও অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে যে, আমাদের কর্মসমূহ আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা
ও তাড়না থেকে সংঘটিত হয়। এভাবে তারা আমাদের কাজের সৃজন ও প্রভাবের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি স্বাধীন ক্ষমতা সাব্যস্ত করেছে—তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। অচিরেই
কাযা ও কদর বিষয়ে আলোচনা আসবে যা কাযী সাহেবের উল্লেখ করা মতের বিপরীত। যদি প্রশ্ন করা হয়: কদরের ক্ষেত্রে তিনি কেন পুনরায় ‘বিশ্বাস করা’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন? এর উত্তর হলো
তিনি জানতেন যে উম্মত এই বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হবে এবং তাদের কেউ কেউ একে অস্বীকার করবে; তারা বলবে: সকল বিষয় নতুনভাবে উৎপন্ন হয় এবং এর কোনো পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য নেই,
যেমন মুতাজিলারা বলে থাকে। একারণে তিনি ‘বিশ্বাস করা’ শব্দের পুনরাবৃত্তি করে বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, অতঃপর ‘এর মন্দ ও ভালো’ বলে বদল (বিকল্প পদ) ব্যবহারের মাধ্যমে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। কেননা বদল মূলত আমলকারী শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বিষয়ের
তাকিদ ও স্পষ্টীকরণ করে থাকে।
শেখ মুহিউদ্দীন আন-নববী শরহে সহীহ মুসলিমে বলেন: ঈমান বা বিশ্বাস হলো কথা ও কাজের নাম, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।
এটিই ইবনে মাসউদ, হুযাইফা, মালিক, সাওরী, আওযায়ী, নাখায়ী, হাসান, আতা,
তাউস, মুজাহিদ, ইবনুল মুবারক, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা, মা’মার ইবনে রাশিদ, ইবনে জুরাইজ এবং উম্মতের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অভিমত। ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির পক্ষে দলিল হলো কুরআনের আয়াতসমূহ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো; ফলে এটি তাদের বিশ্বাসের সাথে আরও বিশ্বাস বাড়িয়ে দিল) এবং মহান আল্লাহর বাণী: (যাতে মুমিনদের বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়) এবং মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো; ফলে এটি তাদের বিশ্বাসকে
আরও বাড়িয়ে দিল)।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٧)
ــ
قال الشيخ: أنكر أكثر المتكلمين زيادته ونقصانه، وقالوا: متى قبل الزيادة والنقصان كان شكّا وكفرًا. قال المحققون من المتكلمين: نفس التصديق لا يزيد ولا ينقص، والإيمان الشرعي يزيد وينقص بزيادة ثمراته- وهي الأعمال- ونقصانها، وفي هذا توفيق بين ظواهر النصوص التي جاءت بالزيادة، وأقاويل السلف، وبين وصفه في اللغة وما عليه المتكلمون. وقال صاحب التحرير في شرح صحيح مسلم: الإيمان في اللغة هو التصديق، فإن عني بذلك فلا يزيد ولا ينقص لأن التصديق ليس بشيء يتجزأ، حتى يتصور زيادته مرة ونقصانه أخرى، وفي لسان الشرع هو التصديق بالقلب، والإقرار باللسان، والعمال بالأركان، وإذا فسر بهذا تطرق إليه الزيادة والنقصان، وهو مذهب أهل السنة.
وأقول: على التفسير الأول أيضًا يمكن الزيادة والنقصان به (قال) الكشاف في قوله تعالى في سورة الأنفال):وإذا تليت عليهم آياته زادتهم إيمانا):ازدادوا بها يقينًا وطمأنينة النفس؛ لأن تظاهر الأدلة أدل المدلول عليه، وأثبت لقدمه، ويؤيده ما نسب إلى علي (رضي الله عنه) (لو كشف الغطاء ما ازددت يقياا)) وقوله تعالى: (أو لم تؤمن قال بلى ولكن ليطمئن قلبي)).
(قال الخطابي): المسلم قد يكون مؤمنا في بعض الأحوال ولا يكون مؤمنا في بعضها، والمؤمن المسلم في جميع الأحوال، فكل مؤمن مسلم، وليس كل مسلم مؤمنا. أقول: ومصداقه قوله تعالى: (قالت الأعراب آمنا قل لم تؤمنوا ولكن قولوا أسلمنا) (قال الحسن) في شرح السنة في باب الإيمان من الاعمال: اتفقت الصحابة والتابعون فمن بعدهم من علماء السنة على أن الأعمال من الإيمان، وقال في تأويل حديث عمر وجبريل. جعل النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث الإسلام اسما لما ظهر من الأعمال، وجعل الإيمان اسما لما بطن من الإعتقاد، وليس ذلك لأن الأعمال ليست من الإيمان، والتصديق بالقلب ليس من الإسلام، بل ذلك تفصيل لجملة، كلها شيء واحد وجماعها الدين، ولذلك قال: (ذاك جبريل أتاكم يعلمكم أمر دينكم). وأقول: يرد الشيخ بهذا زعم من يذهب إلى أن الأعمال خارجة من الإيمان، والإيمان عبارة عن مجرد التصديق، ويتمسك الزاعم بظاهر الحديث، ومعنى ما قال الشيخ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يجعل الإسلام اسما لما ظهر من الأعمال، والإيمان اسما لما بطن من الاعتقاد، لأن يتمسك به المتمسك أن الأعمال ليست من الإيمان، والتصديق بالقلب ليس من الإسلام، بل جعل ذلك تفصيلا للمجمل الذي هو الدين.
শায়খ বলেন: অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ (তাত্ত্বিক) ইমানের হ্রাস-বৃদ্ধি অস্বীকার করেছেন; তারা বলেছেন যে, ইমান যখনই হ্রাস ও বৃদ্ধি গ্রহণ করবে, তখন তা সন্দেহ ও কুফরিতে পরিণত হবে। কালামশাস্ত্রবিদদের মধ্যকার গবেষকগণ বলেছেন: মূল তাসদিক (অন্তরের প্রত্যয়ন) বাড়েও না, কমেও না; তবে শরয়ি ইমান এর ফলশ্রুতিসমূহ অর্থাৎ আমল বা নেক আমলের বৃদ্ধি ও হ্রাসের মাধ্যমে হ্রাস-বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। এর মাধ্যমেই হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কিত পবিত্র পাঠের (নস) বাহ্যিক অর্থ, সালাফে সালেহীনের বক্তব্য এবং আভিধানিক সংজ্ঞার সাথে কালামশাস্ত্রবিদদের মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়। সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাহরীর' এর লেখক বলেন: আভিধানিক অর্থে ইমান হলো তাসদিক বা প্রত্যয়ন। যদি এটিই উদ্দেশ্য হয়, তবে তা বাড়েও না, কমেও না; কারণ তাসদিক এমন কোনো বিভাজ্য বিষয় নয় যে, কখনো এর বৃদ্ধি আর কখনো এর হ্রাস কল্পনা করা যাবে। পক্ষান্তরে শরিয়তের পরিভাষায় ইমান হলো অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। যখন ইমানকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, তখন এতে হ্রাস ও বৃদ্ধির অবকাশ থাকবে এবং এটিই আহলুস সুন্নাহর অভিমত।
আমি বলছি: প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ীও ইমানের হ্রাস-বৃদ্ধি সম্ভব। আল-কাশশাফ রচয়িতা সূরা আল-আনফালের আয়াতে—"যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ইমান বৃদ্ধি করে"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: এর দ্বারা তাদের ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) এবং মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়; কেননা প্রমাণের প্রাচুর্য প্রমাণিত বিষয়কে আরও সুস্পষ্ট করে এবং বিশ্বাসের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-র প্রতি নিসবতকৃত এই উক্তিটিও একে সমর্থন করে যে, "যদি পর্দা উন্মোচন করে দেওয়া হতো, তবে আমার ইয়াকিন একটুও বৃদ্ধি পেত না"। এছাড়া মহান আল্লাহর এই বাণীও এর সমর্থক: "তুমি কি বিশ্বাস করোনি? তিনি বললেন, অবশ্যই করেছি, তবে তা কেবল আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য।"
খাত্তাবি বলেন: একজন মুসলিম কোনো কোনো অবস্থায় মুমিন হতে পারে, আবার কোনো অবস্থায় মুমিন না-ও হতে পারে। কিন্তু মুমিন ব্যক্তি সর্বাবস্থায় মুসলিম। সুতরাং প্রত্যেক মুমিনই মুসলিম, কিন্তু প্রত্যেক মুসলিম মুমিন নয়। আমি বলছি: এর সত্যতা পাওয়া যায় মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "মরুবাসী আরবরা বলে, আমরা ইমান এনেছি। আপনি বলুন, তোমরা ইমান আননি, বরং বলো যে আমরা ইসলাম কবুল করেছি।" হাসান (ইমাম বাগভী) 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থের 'আমল ইমানের অন্তর্ভুক্ত' অধ্যায়ে বলেন: সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী আহলুস সুন্নাহর উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আমল ইমানের অংশ। তিনি উমর (রা.) ও জিবরীল (আ.) এর হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদিসে ইসলামকে প্রকাশ্য আমলসমূহের নাম হিসেবে এবং ইমানকে অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের নাম হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, আমল ইমানের অংশ নয় অথবা অন্তরের প্রত্যয়ন ইসলামের অংশ নয়; বরং এটি একটি সামগ্রিক বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা, যা মূলত এক ও অভিন্ন এবং এর সমষ্টিই হলো দীন। একারণেই তিনি বলেছিলেন: "তিনি ছিলেন জিবরীল, তিনি তোমাদের নিকট তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।" আমি বলছি: এর মাধ্যমে শায়খ তাদের দাবি খণ্ডন করেছেন যারা মনে করে আমল ইমানের বহির্ভূত এবং ইমান কেবল মাত্র অন্তরের প্রত্যয়ন; যারা এই হাদিসের বাহ্যিক রূপকে দলীল হিসেবে পেশ করে। শায়খের বক্তব্যের মর্মার্থ হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামকে প্রকাশ্য আমল এবং ইমানকে অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের নাম হিসেবে এই জন্য বলেননি যে কেউ একে ইমান থেকে পৃথক মনে করবে, বরং তিনি 'দীন' নামক একটি সামগ্রিক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা হিসেবে তা উপস্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٨)
ــ
وتلخيص كلمه أن الإسلام في عرف الشرع يطلق تارة مجرد الانقياد وظاهر الأعمال، كما في قوله تعالى: (وقالت الأعراب آمنا قل لم تؤمنوا ولكن قولوا أسلمنا) وأخرى على الانقياد مع التصديق والقول المذكور في الحديث هو الأول، ليطابق المجمل والمفصل، لا الثاني، فلا يكون هذا دليل على نفي الثاني، وإنما اقتضى الحديث التفصيل في الإجمال؛ لأن المقام مقام تعليم للأمة وتفهيم لهم، فيجب حمل الإيمان والإسلام على ما يتعارفون بينهم، والقوم لما تواردت النصوص مثل قوله تعالى: (إن الدين عند الله الإسلام) وقوله تعالى: (ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه) وقوله صلى الله عليه وسلم: (الإيمان بضع وسبعون شعبة) إلى غير ذلك من النصوص الدالة على الزيادة في الإيمان- اصطلحوا على ترادف الإيمان والإسلام والدين، وأن الإعمال داخلة فيها، ولا مشاحة في الصطلاح.
(قال) الراغب: اختلفوا في الايمان أهو الاعتقاد المجرد أم الاعتقاد والعمل معًا؟ واختلافهم بسبب اختلاف نظرهم، فمن قال: هو الاعتقاد المجرد فنظره إلى اشتقاق اللفظ. وإلى أنه تعالى فصل بينهما في عامة التنزيل بالعطف، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم فرق بينهما في خبر جبريل عليه السلام حين سأله عن الإسلام والإيمان، وفسر الأوال بالأعمال والثاني بالاعتقاد، ومن قال: هو الاعتقاد والعمال فلما ورد من قوله: (الإيمان معرفة في القلب، وإقرار باللسان، وعمل بالأركان) ولأن الإيمان ليس بذي منزلة واحدة، قال النبي صلى الله عليه وسلم (الإيمان بضع وسبعون شعبة) الحديث، ومن تأمله وعرف حقيقته على أن الإيمان الواجب هو اثنتان وسبعون درجة لا أقل ولا أكثر؛ لأنه صلى الله عليه وسلم (لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى).
وأقول: أما تأويل الحديث فقد كفى محيي السنة أهل السنة القتال، وأما تأويل العطف فبيانه من وجهين: أحدهما: أن العطف من باب قوله تعالى: (وملائكته ورسله وجبريل وميكال) وذلك لأن الأعمال لما كانت مقررة مثبتة للإ] مان، وبها يستقيم ويتقوى، كقوله تعالى: (إن الذين قالوا ربنا الله ثم استقاموا) أو رفعا له وتشييدا لبنيانه، كقوله: (إليه يصعد الكلم الطيب والعمال الصالح يرفعه) جعل شيئا آخر، وعطف عليه ولهذا السر جعل الله تعالى في قوله: (يأيها الناس اعبدوا ربكم الذي خلقكم) وقوله تعالى: (وما
ــ
সারকথা হলো, শরয়ী পরিভাষায় 'ইসলাম' শব্দটি কখনো কখনো কেবল বাহ্যিক আনুগত্য ও প্রকাশ্য আমলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "মরুবাসী আরবরা বলে, 'আমরা ঈমান এনেছি।' আপনি বলুন, 'তোমরা ঈমান আনোনি, বরং বলো—আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি (আত্মসমর্পণ করেছি)।'" আবার কখনো এটি বিশ্বাসের সাথে আনুগত্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। হাদিসে উল্লিখিত বক্তব্যটি প্রথম অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট, যাতে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে, দ্বিতীয়টির সাথে নয়। সুতরাং এটি দ্বিতীয় অর্থটিকে নাকচ করার প্রমাণ নয়। বরং হাদিসটি একটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনার দাবি রাখে; কারণ এটি উম্মাহর শিক্ষা ও তাদের বুঝানোর ক্ষেত্র। তাই ঈমান ও ইসলামকে মানুষের মাঝে প্রচলিত সাধারণ অর্থের ওপরই প্রয়োগ করা আবশ্যক। উলামায়ে কেরাম যখন বিভিন্ন বর্ণনা পর্যালোচনা করলেন—যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মনোনীত একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম" এবং আল্লাহর বাণী: "কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন অনুসন্ধান করলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না" এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে"—এই জাতীয় ঈমান বৃদ্ধির প্রমাণবাহী বর্ণনাগুলোর কারণে তাঁরা ঈমান, ইসলাম ও দ্বীনকে সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আমলকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর পরিভাষার ব্যবহারে কোনো বিতর্ক নেই।
রাগেব রহ. বলেন: ঈমানের স্বরূপ নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে—এটি কি কেবল বিশ্বাস, নাকি বিশ্বাস ও আমল উভয়ের সমন্বয়? তাঁদের এই মতপার্থক্য মূলত দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে। যারা বলেন এটি কেবল বিশ্বাস, তাঁদের যুক্তি হলো শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ এবং পবিত্র কুরআনের অধিকাংশ স্থানে মহান আল্লাহ 'ঈমান' ও 'আমল'কে সংযোজক অব্যয় (আতফ) দ্বারা পৃথক করেছেন। এছাড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর হাদিসে যখন তাঁকে ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন; প্রথমটিকে (ইসলামকে) আমল দ্বারা এবং দ্বিতীয়টিকে (ঈমানকে) বিশ্বাস দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে যারা বিশ্বাস ও আমলের সমন্বয়কে ঈমান বলেন, তাঁদের দলিল হলো বর্ণিত হাদিস: "ঈমান হলো অন্তরের পরিচয়, জিহ্বা দ্বারা স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা।" তাছাড়া ঈমান কোনো একটি স্তরে সীমাবদ্ধ নয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে।" যে ব্যক্তি এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে এবং এর হাকিকত অনুধাবন করবে, সে বুঝতে পারবে যে ওয়াজিব ঈমানের স্তর হলো বাহাত্তরটি, এর কমও নয় বেশিও নয়। কারণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "নিজের খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলেন না, তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।"
আমি বলি: হাদিসের ব্যাখ্যার ব্যাপারে 'মুহিউস সুন্নাহ' (সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী) আহলে সুন্নাতকে বিতর্কের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আর সংযোজক অব্যয়ের (আতফ) ব্যাখ্যার স্বরূপ দুটি দিক থেকে বর্ণনা করা যায়: প্রথমত, এই সংযোজন মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর অনুরূপ: "...এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ও তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাইল।" এর কারণ হলো, আমল যখন ঈমানকে সুপ্রতিষ্ঠিত ও মজবুত করে এবং এর মাধ্যমেই ঈমান সুসংহত ও শক্তিশালী হয়—যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে"—কিংবা আমল যখন ঈমানকে সমুন্নত করে ও এর বুনিয়াদকে দৃঢ় করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "পবিত্র বাক্যসমূহ তাঁরই দিকে আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে"; তখন আমলকে ভিন্ন কিছু হিসেবে গণ্য করে ঈমানের ওপর 'আতফ' বা সংযোজন করা হয়েছে। আর এই নিগূঢ় রহস্যের কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে বলেছেন: "হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর যা..."
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٢٩)
الإحسان. قال: (أن تعبدالله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك). قال: فأخبرني
ــ
خلقت الجن والأنس إلا ليعبدون) المطلوب من الخلق هو العبادة التي هي غاية الخضوع والاستكانة، وجعل المعرفة والتصديق كالمقدمة للواجب، ولعل الحكمة فيه إظهار الكبرياء والعظمة لله تعالى بإبداء غاية التضرع والاستطانة من المخلوقين، وإليه الإشارة بقوله تعالى: (يأيها الناس أنتم الفقراء إلى الله والله هو الغني الحميد) وقوله تعالى: (والله الغني وأنتم الفقراء وإن تتولوا يستبدل قوما غيركم ثم لا يكونوا أمثالكم) أي إن استكبرتم وأعرضتكم عن إظهار الافتقار يستبدل قوما غيركم.
وثانيهما- وهو الوجه-أن غالب هذا العطف في صلة الموصول، والصلة والموصول شيء واحد، والدليل عليه قوله تعالى: (الذين كفروا لهم عذاب شديد والذين آمنوا وعملوا الصالحات) مقالب لقوله: (الذين كفروا وكذبوا) وقوله تعالى: (هدى للمتقين الذين يؤمنون بالغيب ويقيمون الصلاة ومما رزقناهم ينفقون) في معنى هدى للمتقين المؤمنين، وهو عين المطلوب.
فإن قيل: إذا جعل الإيمان عبارة عن مجموع التصديق والإقرار والعمل، فمن أخل بواحد منها يلزم أن لا يكون مؤمنًا؛ لأن الكل ينتفي بانتفاء الجزء. قلت: المراد بالإيمان ههنا هو الإيمان الكامل، وإذا كان المراد ذلك فإذا انتفى بعض منها ينتفي الإيمان الكامل، لا مطلق الإيمان.
قوله: ((فأخبرني عن الإحسان)) (قال الخاطبي): إنما أراد بالإحسان هاهنا الإخلاص، وهو شرط في صحة الإيمان والإسلام معًا، وذلك أن من تلفظ بالكلمة وجاء بالعمل من غير نية الإخلاص لم يكن محسنًا، ولا كان إيمانه صحيحًا، قال صلى الله عليه وسلم (أن تعبد الله كأنك تراه) أي في إخلاص العبادة لوجه الله الكريم، ومجانبته الشرك الخفي، والعبادة لله الذي لا تنبغي العبادة إلا له على نعت الهيبة والتعظيم، حتى كأنه ينظر إلى الله خوفا منه وحياء وخضوعا له. (قال الراغب): الحسن عبارة عن كل مبهج مرغوب فيه، وهو ثلاثة أضرب: مستحسن من جهة العقل، ومن جهة الهوى، ومن جهة الحس. والإحسان يقال على وجهين: أحدهما: الإنعما على الغير، يقال: أحسن إلى فلان. والثاني: إحسان في فعله، وذلك إذا علم علما حسنا، أو عمل عملًا حسنا.
ইহসান। তিনি বললেন: (তা হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখছো, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখছেন)। তিনি বললেন: তবে আমাকে সংবাদ দিন...
—
(আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি)। সৃষ্টির নিকট যা কাম্য তা হলো ইবাদত, যা বিনয় ও নম্রতার চূড়ান্ত রূপ। আর মারেফাত (পরিচয়) ও তাসদিক (বিশ্বাস)-কে ওয়াজিবের ভূমিকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সম্ভবত এতে হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো, সৃষ্টিজীবের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কাকুতি-মিনতি ও দীনতা প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: (হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহ তো অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন, অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না)। অর্থাৎ, যদি তোমরা অহংকার করো এবং তোমাদের মুখাপেক্ষীতা প্রকাশ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন।
দ্বিতীয় কারণ—আর এটাই যুক্তিযুক্ত দিক—হলো, সিলার (বাক্যাংশ) ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় এই সংযোজন (আতফ) ঘটে থাকে, যেখানে সিলা ও মউসুল (সম্বন্ধবাচক পদ) একই অর্থ প্রকাশ করে। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (যারা কুফরি করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর আজাব, আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে...)। এটি আল্লাহ তাআলার বাণী—(যারা কুফরি করে ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে)—এর বিপরীত সমান্তরাল। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: (মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক, যারা অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যা রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে)—এখানে অর্থ হলো 'মুত্তাকি মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক', আর এটাই কাঙ্ক্ষিত বিষয়।
যদি প্রশ্ন করা হয়: যদি ঈমানকে তাসদিক (বিশ্বাস), ইকরার (স্বীকৃতি) ও আমল (কর্ম)—এগুলোর সমষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে কেউ এর একটি বাদ দিলে সে আর মুমিন থাকবে না; কারণ কোনো অংশের অনুপস্থিতিতে পূর্ণ বিষয়টিই অনুপস্থিত হয়ে যায়। আমি বলব: এখানে ঈমান দ্বারা ‘পূর্ণাঙ্গ ঈমান’ উদ্দেশ্য। আর যখন তাই উদ্দেশ্য হয়, তখন এর কোনো একটি অংশ না থাকলে পূর্ণাঙ্গ ঈমানটিই বিলুপ্ত হয়, সাধারণ ঈমান (ঈমানের মূল ভিত্তি) নয়।
তাঁর উক্তি: ((আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন))। (আল-খাত্তাবি বলেছেন): এখানে ইহসান দ্বারা ‘ইখলাস’ বা একনিষ্ঠতা উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যা ঈমান ও ইসলাম উভয়ের শুদ্ধতার জন্য শর্ত। কেননা, যে ব্যক্তি কালিমাহ পাঠ করল এবং আমল করল কিন্তু ইখলাসের নিয়ত থাকল না, সে ‘মুহসিন’ (ইহসানকারী) হতে পারবে না এবং তার ঈমানও সহিহ হবে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তা হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখছো), অর্থাৎ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদতে ইখলাস অবলম্বন করা এবং গুপ্ত শিরক বর্জন করা। আর আল্লাহর জন্য এমনভাবে ইবাদত করা—যিনি ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নন—গাম্ভীর্য ও সম্মানের বৈশিষ্ট্য সহকারে, যেন সে আল্লাহর দিকে ভয়, লজ্জা ও আনুগত্যের সাথে তাকিয়ে আছে। (আর-রাগিব বলেছেন): ‘হুসন’ বা সৌন্দর্য হলো এমন প্রত্যেক আনন্দদায়ক বিষয় যা আকাঙ্ক্ষা করা হয়। এটি তিন প্রকার: বুদ্ধিবৃত্তিক সৌন্দর্য, প্রবৃত্তিগত সৌন্দর্য এবং ইন্দ্রিয়গত সৌন্দর্য। আর ‘ইহসান’ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমত: অন্যের প্রতি অনুগ্রহ করা; যেমন বলা হয়: অমুকের প্রতি ইহসান (অনুগ্রহ) করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: নিজের কাজে নৈপুণ্য প্রদর্শন করা; আর তা হয় যখন কেউ কোনো উত্তম জ্ঞান অর্জন করে অথবা কোনো সুন্দর কাজ সম্পাদন করে।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٠)
ــ
وأقول: يجوز أن يحمل الإحسان على الإنعام، وذلك أن العمال المرائي يبطل عمله ويحبطه، فيظلم على نفسه، فقيل له: أحسن إلى نفسك، ولا تشرك بالله، واعبد الله كأنك تراه، وإلا فتهلك، قال الله تعالى:) الذين يمكرون الشيئات لهم عذاب شديد) فإنها واردة في المرائي. ويجوز أن يحمل على المعنى الثاني، وعليه قوله تعالى: (أحسن كل شيء خلقه) وقوله تعالى: (نبئنا بتأويله إنا نراك من المحسنين) أي المجيدين المتقنين في تعبير الرؤيا، كأنه سأل جبريل عليه السلام بما ينبيء عنه الإخلاص، كما قال الله تعالى: (بلى من أسلم وجهه لله وهو محسن).
وأما تقدير الشرط والجزاء فهو أن يقال: إن لم تعبدالله كأنك تراه فاعبده كأنه يراك. وتحرير المعنى وإن لم تكن تراه كذلك أي مثل تلك الرؤية المعنوية فكن بحيث إنه يراك. وهو من جوامع الكلم، أي كن عالما متيقظا، لا ساهيا غافلا، كجدا في مواقف العبودية، مخلصا في نيتك، آخذا أهبة الحذر إلى ما لا يحصى؛ فإن من علم أن له حافظا رقيبا شاهدا بحركاته وسكناته- لا سيما ربه ومالك أمره- فلا يسىء الأدب طرفة عين، ولا فلتة خاطر، هذا هو معنى الإجادة في الإيمان والإسلام. وقيل: التقدير فإن لم تكن تراه فلا تغفل فإنه يراك.
والأولى أن نضرب عن هذا المجل صفحا، ونأخذ في منهل آخر، فنقول: (كأنك) إما مفعول مطلق، أو حال من الفاعل، والثاني أوجه؛ لأنه يحصل به للعابد ثلاث حالات، كما إذا قلت: كأن زيدا قائم، فتصور له حالات القعود والانتصاب، والقيام، فتشبه حالة الانتصاب بالقيام؛ لأنك فإدخال (كأن) توهم أن له حالة غير القيام، وهي المشبه بالقيام، كما إذا رأى الناظر شخصا من بعيد فتردد بين قيامه وقعوده، ثم خيل له أنه إلى القيام أقرب فقال: كأنه قائم، أي يشبه انتصابه بالقيام، كذلك في الحديث. للعبد بين يدي مولاه حالات ثلاث إحداها: حالة اشتغاله بالعبادة على سنن تسقط القضاء، من حفظ شرائطها وأركانها وهيآتها. وحالة تمكنه من الإخلاص في القصد، وأنه بمرأى من مولاه، وهو مراقب لحركاته وسكناته. وحالة مشاهدته، واستغراقه في بحار المكاشفة، وإليه لمح قوله صلى الله عليه وسلم: (جعلت قرة عيني في الصلاة وأرحنا بها يا بلال) فشبه الحالة الثانية التي هي المراقبة بحالة المكاشفة التي هي من خواص النبي صلى الله عليه وسلم في الدنيا. ووجه التشبيه حصول الاستلذاذ بالطاعة، والراحة بالعبادة، وانسداد مسالك الالتفات إلى الغير باستيلاء أنوار الكشف عليه، وهو ثمرة امتلاء زوايا القلب من المحبوب، واشتغال السر به، ونتيجته نسيان الأحوال من العلوم، واضمحلال الرسول. فلما
আর আমি বলি: ‘ইহসান’-কে অনুগ্রহ অর্থে গ্রহণ করা বৈধ। বিষয়টি এমন যে, লোকদেখানো আমলকারী নিজের আমল বাতিল ও ধ্বংস করে দেয়, ফলে সে নিজের ওপর জুলুম করে। তাই তাকে বলা হয়েছে: তুমি নিজের প্রতি অনুগ্রহ করো, আল্লাহর সাথে শরিক করো না এবং এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো যেন তুমি তাঁকে দেখছ, নতুবা তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন: “যারা মন্দ কর্মের চক্রান্ত করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি” (সূরা ফাতির: ১০); এই আয়াতটি লোকদেখানো আমলকারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আবার দ্বিতীয় অর্থটিও (অর্থাৎ নৈপুণ্য বা পূর্ণতা) গ্রহণ করা সম্ভব। এর ওপর ভিত্তি করেই মহান আল্লাহর বাণী: “তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা অতি সুন্দর বা নিপুণভাবে করেছেন” (সূরা সাজদাহ: ৭)। আর মহান আল্লাহর বাণী: “আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলে দিন, নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে সুন্দর আমলকারীদের অন্তর্ভুক্ত দেখছি” (সূরা ইউসুফ: ৩৬); অর্থাৎ স্বপ্ন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আপনি অত্যন্ত নিপুণ ও দক্ষ। বিষয়টি এমন যেন তিনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে ইখলাস বা নিষ্ঠা সম্পর্কে যা অবহিত করে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করেছে এবং সে মুহসিন (সদাচারী বা নিষ্ঠাবান)।”
আর শর্ত ও প্রতিদানের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বলা যায়: যদি তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে না করো যেন তুমি তাঁকে দেখছ, তবে এমনভাবে ইবাদত করো যেন তিনি তোমাকে দেখছেন। এর অর্থের বিশ্লেষণ হলো—যদি তুমি তাঁকে ঐরূপ অর্থাৎ আধ্যাত্মিক দর্শনের ন্যায় দেখতে না পাও, তবে এমন অবস্থায় থাকো যেন তিনি তোমাকে দেখছেন। এটি ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী)-এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ তুমি জ্ঞানী ও সচেতন হও, অমনোযোগী ও গাফেল হয়ো না; দাসত্বের ময়দানে কঠোর পরিশ্রমী হও, নিয়তের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ হও এবং অগণিত বিষয়ে সতর্কতার প্রস্তুতি গ্রহণ করো। কেননা যে ব্যক্তি জানে যে তার একজন সংরক্ষণকারী, পর্যবেক্ষণকারী ও তার প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন—বিশেষ করে যখন তিনি তার প্রতিপালক ও সবকিছুর মালিক—তখন সে এক মুহূর্তের জন্যও আদব পরিপন্থী কাজ করতে পারে না এবং মনের অগোচরেও কোনো ত্রুটি করতে পারে না। এটিই হলো ঈমান ও ইসলামের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের অর্থ। আরও বলা হয়েছে যে, এর ব্যাখ্যা হলো: যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে গাফেল হয়ো না, কারণ তিনি তোমাকে দেখছেন।
উত্তম হলো এই আলোচনার ইতি টেনে অন্য একটি প্রসঙ্গের অবতারণা করা। আমরা বলি: ‘কা-আন্নাকা’ (যেন তুমি) শব্দগুচ্ছটি হয় ‘মাফউলে মুতলাক’ অথবা কর্তা থেকে ‘হাল’ (অবস্থা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। দ্বিতীয় মতটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত; কারণ এর মাধ্যমে ইবাদতকারীর তিনটি অবস্থা অর্জিত হয়। যেমন যদি আপনি বলেন: ‘যায়েদ যেন দাঁড়িয়ে আছে’, তবে এতে তার বসা, সোজা হওয়া এবং দাঁড়িয়ে থাকার অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। এখানে সোজা হয়ে থাকার অবস্থাকে দণ্ডায়মান হওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা ‘কা-আন্না’ (যেন) যুক্ত করার ফলে ধারণা হয় যে, দণ্ডায়মান হওয়া ছাড়া তার অন্য কোনো অবস্থাও রয়েছে, যাকে দণ্ডায়মান হওয়ার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। যেমন কোনো দর্শক দূর থেকে কোনো ব্যক্তিকে দেখে তার দাঁড়ানো বা বসা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে, অতঃপর তার ধারণা হয় যে সে দাঁড়ানোর কাছাকাছি অবস্থায় আছে, তখন সে বলে: ‘সে যেন দাঁড়িয়ে আছে’, অর্থাৎ তার সোজা হওয়াকে দণ্ডায়মান হওয়ার সাথে তুলনা করা হয়। হাদিসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। নিজ মওলার সামনে বান্দার তিনটি অবস্থা থাকে। প্রথমত: এমনভাবে ইবাদতে মগ্ন হওয়া যা শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী কাজা আদায়ের বাধ্যবাধকতা দূর করে, যেমন এর শর্তাবলি, রোকন ও বাহ্যিক রূপসমূহ যথাযথভাবে পালন করা। দ্বিতীয়ত: সংকল্পে একনিষ্ঠতা অর্জন করা এবং এই অনুভূতি রাখা যে সে তার মওলার দৃষ্টির সামনে রয়েছে এবং তিনি তার প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা পর্যবেক্ষণ করছেন। তৃতীয়ত: মহান আল্লাহর প্রত্যক্ষ দর্শন লাভ করা এবং আধ্যাত্মিক উন্মোচনের সাগরে নিমজ্জিত হওয়া। আর এই শেষের দিকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: “নামাজ আমার চোখের শীতলতা করা হয়েছে এবং হে বেলাল, এর মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।” এখানে দ্বিতীয় অবস্থা তথা ‘মুরাকাবা’ বা পর্যবেক্ষণকে ‘মুকাশাফা’ বা আধ্যাত্মিক উন্মোচনের অবস্থার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। এই উপমার কারণ হলো আনুগত্যের মাধ্যমে স্বাদ লাভ, ইবাদতে প্রশান্তি পাওয়া এবং আধ্যাত্মিক জ্যোতির প্রাবল্যে অন্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া। আর এটি হলো হৃদয়ের প্রতিটি কোণ প্রিয়তমের স্মরণে পূর্ণ হওয়া এবং গোপন সত্তা তাঁর ধ্যানে মগ্ন থাকার ফল। এর পরিণাম হলো জাগতিক জ্ঞান ও অবস্থাসমূহ ভুলে যাওয়া এবং অস্তিত্বের বিলুপ্তি ঘটা। অতঃপর যখন...
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣١)
عن الساعة. قال: (ما المسؤول عنها بأعلمَ من السائل). قال: ........
ــ
استبان الصبح أدرج ضوءه بإسفاره أنوار ضوء الكواكب فقوله: فإن لم تكن تراه تنزل من مقام
المكاشفة إلى مقام المراقبة، فينبغى أن يقدر: فاعلم قولى: إنه يراك.
قال الشيخ العارف أبو إسماعيل الأنصاري: الإحسان اسم جامع لجميع أبواب الحقائق،
وبهو ثلاث درجات: الدرجة الأولى: الإحسان في القصد بتهذيبه علما، وإبرامه عزما، وتصفيته
حالا. الدرجة الثانية: الإحسان في الأحوال: وهو أن يراعيها غيره، ويسترها تطرقا، ويصححها
تحقيقا، الدرجة الثالثة: الإحسان في المواقف، وهوأن لا تزايل المشاهدة أبداً، ولا تلحظ بهمتك
أملا، وتجعل هجرتك إلى الحق سرمداً. فإن قلت: قد جعل الشيخ درجات الإحسان ثلاثا،
وليس في الحالات التي قسمتها ما يدخل في معني الإحسان إلااثنين. قلت: تشبيه الثانية
بالثالثة يوجب حالة أخرى متوسطة بين الإخلاص في القصد الذي هو شريطة فيه، وبين
المشاهدة التي هي غايتها، وتلك المتوسطة هي الدرجة الثانية في قول الشيخ، لأنها نتيجة
الإخلاص في العمل، ومحصلة للحالة الثالثة، أعنى المشاهدة، والله أعلم.
قوله: (فأخبرني عن الساعة) الساعة القيامة. (قال) الكشاف: سميت ساعة لوقوعها بغتة، أو
لسرعة حسابها، أو على العكس لطولها، أو لأنها عند الله على طولها كساعة من الساعات عند
الخلق. عني بالعكس أنها سميت بها بناء على عكس ما هي عليه من الطول تلميحاً، كما سمى
المهلكة مفازة والأسود كافوراً.
قوله: (ما المسئول عنها) (قال) المظهر: (ما) نافية، يعنى لست أنا أعلم منك ياجبريل
بعلم القيامة. أقول: أراد المظهر أن أصل الكلام هكذا، فعدل عنه إلى ما عليه، وذلك أن
الأجوبة الثلاثة على خطاب جبرئيل عليه السلام كانت (تعريضا) للسامعين على طريقة
الخطاب العام، نحو قوله تعالى: (لئن أشركت ليحبطن عملك) ولو أجري على ذلك
الأسلوب لقيل: لست بأعلم منك. ولم يفد فائدة العموم؛ لأن المعني كل مسئول عنه
وسائل، أيا ما كان فهو داخل في هذا العموم. فإن قلت: من حق الظاهر أن يقال: ما
المسئول عنه ليرجع الضمير إلى اللام. قلت: كما يقال: سألت عن زيد المسئلة، يقال: سألته
عن المسئلة، فالضمير المرفوع راجع إلى اللام، والمجرور إلى الساعة.
ــ
কিয়ামত সম্পর্কে। তিনি বললেন: (এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা অধিক অবগত নন)। তিনি বললেন: ........
—
সুবহে সাদেক স্পষ্ট হয়েছে, এর দীপ্তি নক্ষত্রের আলোর প্রভাকে তার উদ্ভাসনের মাধ্যমে বিলীন করে দিয়েছে। সুতরাং তাঁর বাণী: "যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও," এটি মুকাশাফা (প্রত্যক্ষদর্শন) এর মাকাম থেকে মুরাকাবা (সতর্ক পর্যবেক্ষণ) এর মাকামে অবতরণ করা। অতএব, এখানে এই বক্তব্যটি ঊহ্য ধরতে হবে: তবে আমার এই কথাটি জেনে রাখো যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।
আরিফ শায়েখ আবু ইসমাইল আল-আনসারী বলেছেন: ইহসান হলো হাকীকতের সকল অধ্যায়ের জন্য একটি ব্যাপক নাম। এর তিনটি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তর: সংকল্পে ইহসান; যা অর্জিত হয় ইলমের মাধ্যমে একে পরিশুদ্ধ করা, সংকল্পের মাধ্যমে একে সুদৃঢ় করা এবং অবস্থার (হাল) মাধ্যমে একে স্বচ্ছ করার দ্বারা। দ্বিতীয় স্তর: অবস্থার (আহওয়াল) ক্ষেত্রে ইহসান; আর তা হলো একে অন্যের থেকে রক্ষা করা, গোপনীয়তা বজায় রেখে তা ঢেকে রাখা এবং সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে একে সঠিক করা। তৃতীয় স্তর: অবস্থানের (মাওয়াকিফ) ক্ষেত্রে ইহসান; আর তা হলো মুশাহাদা বা প্রত্যক্ষদর্শন থেকে কখনো বিচ্যুত না হওয়া, স্বীয় সংকল্পে কোনো পার্থিব আশার দিকে দৃষ্টিপাত না করা এবং সত্যের পানে স্বীয় হিজরতকে চিরস্থায়ী করা। আপনি যদি বলেন: শায়েখ ইহসানের স্তর তিনটি নির্ধারণ করেছেন, অথচ আপনি যে অবস্থাগুলো বিভক্ত করেছেন তাতে দু’টি ব্যতীত অন্যগুলো ইহসানের অর্থের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমি বলব: দ্বিতীয় স্তরের সাথে তৃতীয় স্তরের সাদৃশ্য নির্ধারণ করা সংকল্পের ইখলাস (যা এর জন্য শর্ত) এবং মুশাহাদা (যা এর লক্ষ্য) - এই দুইয়ের মাঝে অন্য একটি মধ্যবর্তী অবস্থার দাবি রাখে। আর সেই মধ্যবর্তী অবস্থাটিই শায়েখের বক্তব্যে বর্ণিত দ্বিতীয় স্তর; কেননা তা আমলের ইখলাসের ফলাফল এবং তৃতীয় অবস্থা তথা মুশাহাদার পাথেয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তাঁর বাণী: (আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন); এখানে 'সা'আত' অর্থ কিয়ামত। 'কাশশাফ' রচয়িতা বলেন: একে 'সা'আত' (মুহূর্ত) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অকস্মাৎ ঘটবে, অথবা এর হিসাব দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে, অথবা বিপরীত অর্থে এর দীর্ঘতার কারণে, কিংবা আল্লাহর নিকট এর দীর্ঘতা সত্ত্বেও এটি মাখলুকের নিকট থাকা মুহূর্তগুলোর মতোই একটি মুহূর্ত মাত্র। বিপরীত অর্থে বলতে উদ্দেশ্য হলো, এর দীর্ঘতার বিপরীত গুণের ভিত্তিতে এর নামকরণ করা হয়েছে ইঙ্গিতস্বরূপ, যেমন ধ্বংসস্থলকে 'মাফাযাহ' (সাফল্যের স্থান) এবং কৃষ্ণকায় ব্যক্তিকে 'কাফুর' (শুভ্র কর্পূর) বলা হয়।
তাঁর বাণী: (এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি); মুযহির বলেছেন: এখানে 'মা' না-বোধক, অর্থাৎ হে জিবরাঈল! কিয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে আমি আপনার অপেক্ষা অধিক অবগত নই। আমি বলব: মুযহির বুঝাতে চেয়েছেন যে মূল বাক্যটি এরূপ ছিল, তবে তা থেকে বর্তমান রূপে পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর সম্বোধনের প্রেক্ষিতে তিনটি উত্তরই সাধারণ সম্বোধনের পদ্ধতিতে শ্রোতাদের প্রতি একটি ইঙ্গিত ছিল, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (যদি তুমি শিরক করো তবে অবশ্যই তোমার আমল নষ্ট হয়ে যাবে)। যদি এই পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো তবে বলা হতো: আমি আপনার চেয়ে অধিক অবগত নই। কিন্তু তাতে ব্যাপকতার ফায়দা অর্জিত হতো না; কারণ এর অর্থ হলো যে কোনো জিজ্ঞাসিত এবং যে কোনো জিজ্ঞাসাকারী, তারা যে-ই হোক না কেন, এই ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত। আপনি যদি বলেন: শাব্দিক বিচারে বলা উচিত ছিল 'যাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে' যাতে সর্বনামটি আল-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আমি বলব: যেমন বলা হয় 'আমি যায়েদ সম্পর্কে মাসআলাটি জিজ্ঞাসা করেছি', তেমনি বলা হয় 'আমি তাকে মাসআলাটি জিজ্ঞাসা করেছি'। সুতরাং উহ্য সর্বনামটি আল-এর দিকে এবং সম্বন্ধযুক্ত সর্বনামটি কিয়ামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে।
—
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٢)
فأخبرني عن أماراتها. قال: (أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاةَ العُراةَ العالةَ رعاء
الشاء ــ
ــ
واعلم أن الضمير في (عنها) راجع إلى الساعة، فلا بد من تقدير مضاف في السؤال
والجواب، نحو وقت وأيان؛ إذ وجود الساعة ومجيؤها مقطوع به، وإنما يسأل عن وقتها، كقوله
تعالى (يسئلونك عن الساعة أيان مرساها فيم أنت من ذكراها) أي في وقت أي شيء أنت
من أن تذكر وقتها لهم يعني ما أنت من ذكراها لهم وبتبيين وقتها في شيء. فإن قلت:
لفظة: (أعلم) مشعرة بوقوع الاشتراك في العلم، وأحدهما أزيد من الآخر، وهما يتساويان في
انتفاء العلم منهما. فالجواب أنه صلى الله عليه وسلم نفى أن يكون صالحاً لأن يسأل عنه على سبيل الكناية، لما
عرف أن المسئول في الجملة ينبغي أن يكون أعلم من السائل، فهو من باب قوله تعالى: (ولا
شفيع يطاع) ويقال: إنه صلى الله عليه وسلم نفى عن نفسه العلم بالمسئول عنه بوجه خاص، تلخيصه: أنا
متساويان في أنا نعلم أن للساعة مجيئا في وقت ما من الأوقات، وذلك هو العلم المشترك بيننا،
ولا مزيد للمسئول على هذا العلم حتى يتعين عنده المسئول عنه، وهو الوقت المتعين الذي يتحقق
فيه مجيء الساعة.
قوله: (الله ورسوله أعلم) فهو على بابه؛ لأن الأمارة السابقة وتعجبهم منها أوقعتهم في
التردد، أهو بشر أم ملك؟ وهذا القدر يكفى في الشركة.
قوله: (أن تلد الأمة ربتها) الرب مشترك بين المالك والمربى، قال صاحب الأساس: ربَّ
الدار وربَّ العبد وربَّ ولده تربيته. (قال) الجوهري: رب كل شيء مالكه، (قال) الكشاف
الرب المالك، ومنه قول صفوان لأبى سفيان: لأن يربني رجل من قريش أحب إلى من أن
يربني رجل من هوازن. هذا هو المعني في الحديث.
فإن قيل: كيف أطلق الرب علي غير الله تعالى وقد نهى صلى الله عليه وسلم عن ذلك في قوله: (لا يقل
أحدكم أطعم ربك، وأرض ربك، ولا يقل أحدكم: ربي، وليقل: سيدي
ومولاي).،والجواب أن هذا من باب التشديدوالمبالغة، كما سنقرره.
(تو): فسر هذا القول كثير من العلماء على أن السبي يكثر بعد اتساع رقعة الإسلام،
فيستولد الناس إماءهم، فيكون الولد كالسيد لأمه؛ لأن ملك الأمة راجع في التقدير إلى الولد،
وذكر بلفظ التأنيث وأراد به النسمة؛ ليشتمل الذكور والإناث، أو كره أن يقول: ربها؛ تعظيما
لجلال رب العباد، أو أراد البنت، وإذا كانت هكذا فالابن أولى.
ــ
অতঃপর আমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “(নিদর্শনগুলো হলো) দাসী তার মালিককে প্রসব করবে এবং আপনি নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও অভাবী মেষপালকদের দেখবেন...
—
—
জেনে রাখুন যে, ‘তার সম্পর্কে’ (আনহা) বাক্যাংশের সর্বনামটি কিয়ামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। তাই প্রশ্ন এবং উত্তর উভয়ের ক্ষেত্রে একটি উহ্য শব্দ (মুদাফ) ধরে নেওয়া আবশ্যক, যেমন সময় বা কখন; কেননা কিয়ামতের অস্তিত্ব ও আগমন সুনিশ্চিত, মূলত এর সময় সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হয়। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: ‘তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন ঘটবে? আপনি এর আলোচনার সাথে কোন পর্যায়ে জড়িত?’ অর্থাৎ, আপনি কি অবস্থায় আছেন যে তাদের কাছে এর সময় উল্লেখ করবেন? অর্থাৎ, তাদের কাছে এর আলোচনা করা বা এর সময় স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আপনার কোনো ভূমিকা নেই।
যদি আপনি বলেন: ‘অধিক জ্ঞাত’ (আ’লামু) শব্দটি জ্ঞানের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে একজন অন্যজনের চেয়ে বেশি জানে; অথচ কিয়ামতের সময় সম্পর্কে অজ্ঞতার ক্ষেত্রে উভয়ই সমান। এর উত্তর হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রূপক অর্থে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার যোগ্যতাকে অস্বীকার করেছেন। কেননা এটি স্বীকৃত যে, সাধারণত যাকে প্রশ্ন করা হয় তাকে প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞানী হতে হয়। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: ‘এমন কোনো সুপারিশকারী নেই যাকে মান্য করা হবে’। আরও বলা হয় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি বিশেষ দিক থেকে জিজ্ঞাসিত বিষয়টি সম্পর্কে নিজের জ্ঞানকে অস্বীকার করেছেন। এর সারসংক্ষেপ হলো: আমরা উভয়েই এই বিষয়ে সমান যে, আমরা জানি কোনো এক সময়ে কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে। এটিই আমাদের মধ্যকার অভিন্ন জ্ঞান। তবে এই জ্ঞানের বাইরে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার অতিরিক্ত কোনো জ্ঞান নেই যার মাধ্যমে জিজ্ঞাসিত বিষয়টি অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়টি তার কাছে স্পষ্ট হতে পারে।
তাঁর বাণী: ‘আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত’—এটি তার আক্ষরিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা পূর্ববর্তী নিদর্শন এবং সে বিষয়ে তাদের বিস্ময় তাদেরকে দ্বিধার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল যে, তিনি কি মানুষ নাকি ফেরেশতা? আর অংশীদারিত্বের (জ্ঞানের ক্ষেত্রে) জন্য এই পরিমাণটুকুই যথেষ্ট।
তাঁর বাণী: ‘দাসী তার মালিককে প্রসব করবে’—এখানে ‘রব’ শব্দটি মালিক এবং লালন-পালনকারী উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। ‘আসাস’ গ্রন্থের প্রণেতা বলেন: ঘরের মালিক, দাসের মালিক এবং সন্তানের লালন-পালন করা। জাওহারী বলেন: প্রতিটি বস্তুর ‘রব’ হলো তার মালিক। ‘কাশশাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘রব’ হলো মালিক। এখান থেকেই আবু সুফিয়ানের প্রতি সাফওয়ানের সেই উক্তি: ‘কুরাইশ বংশীয় কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন থাকা আমার কাছে হাওয়াযিন গোত্রের কোনো ব্যক্তির অধীনে থাকার চেয়ে অধিক প্রিয়।’ হাদীসে এই অর্থটিই উদ্দেশ্য।
যদি প্রশ্ন করা হয়: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে ‘রব’ শব্দটির প্রয়োগ কীভাবে বৈধ হলো, অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে নিষেধ করে বলেছেন— ‘তোমাদের কেউ যেন না বলে: তোমার মালিককে খাবার দাও, তোমার মালিককে অজু করাও; এবং কেউ যেন না বলে: আমার রব (মালিক), বরং সে যেন বলে: আমার সায়্যিদ ও আমার মাওলা।’ এর উত্তর হলো, এটি কঠোরতা ও সতর্কতার খাতিরে বলা হয়েছে, যা আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব।
ব্যাখ্যা: অনেক আলিম এই বাণীর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, ইসলামের সীমানা বিস্তারের পর যুদ্ধবন্দীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ফলে মানুষ তাদের দাসীদের মাধ্যমে সন্তান লাভ করবে এবং সেই সন্তান তার মায়ের জন্য মনিব বা মালিকের মতো হবে। কারণ দাসীর মালিকানা প্রকৃতপক্ষে সন্তানের দিকেই বর্তায়। এখানে স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ ব্যবহার করে মূলত কোনো প্রাণসত্তাকে বোঝানো হয়েছে, যাতে নারী ও পুরুষ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অথবা বান্দাদের রবের (আল্লাহর) মহিমা ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ‘রব্বুহা’ (পুংলিঙ্গ) বলতে অপছন্দ করেছেন। অথবা এর দ্বারা কন্যা সন্তান উদ্দেশ্য হতে পারে, আর যদি কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হয় তবে পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি প্রযোজ্য হবে।
—
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٣)
ــ
(قض): وتأنيث (ربتها) وإضافتها إما لأجل أنه سبب عتقها، أو لأنه ولد ربها أو مولاها
بعد الأب، وذلك إشارة إلى قوة الإسلام؛ لأن كثرة السبي والتسري دليل على استعلاء الدين،
واستيلاء المسلمين، وهي من الأمارات؛ لان قوته وبلوغ أمره غايته منذر بالتراجع والانحطاط
المؤذن بأن القيامة ستقوم.
وأقول_ والعلم عند الله_: الكلام فيه صعب، بل هو مقام دحض، قلما تثبت فيه الأقدام
الراسية في البيان، وكان قلما يلتفت الخاطر إلى معرفته، وما تكلم فيه العلماء لم يكن يشفى
العليل، إلى أن تصديت أن تصديت لأمر هذا الخطب الجليل، فالواجب أولا تعيين المقام؛ لأن بيده زمام
حكم الكلام، ولا ارتياب أن أمارات الساعة وأشراطها من عظائم الشئون، وجلائل الخطوب،
فيجب حينئذ تأويل القريتين، أعنى قوله: (أن تلد الأمة ربتها) وقوله: (وأن ترى الحفاة العراة_
إلى قوله_ يتطاولون في البنيان) بما ينبئ عن ذلك النبأ العظيم من تغير الزمان، وانقلاب
أحوال الناس، بحيث لم يشاهد قبله، ولم ير مثله، وكيف؟ ولفظة (ترى) تنادى عن ذلك؛
لأنها من الخطاب العام على الاستغراق، كقوله تعالى: (ولو ترى إذ المجرمون ناكسو رءوسهم
عند ربهم) يعنى بلغ الخطب في العظم والفخامة بحيث لا يختص برؤية راء ةاحد، بل
كل من يتأتى منه الرؤية فهو مخاطب به.
فإذا تقرر بيان اقتضاء المقام فنثنى العنان إلى بيان الأساليب التي يستعان بها على تطبيق
القرينتين على ما يقتضيه المقام، من (المطابقة المعنوية)، (والكناية الزبدية)، و (الإدماج) المسمى
بإشارة النص. فنقول القرينة الثانية دلت بالكناية الزبدية_ التي لا ينظر فيها إلى مفردات
التركيب، لا حقيقة ولا مجازاً، بل تؤخذ الزبدية والخلاصة من المجموع_على أن الأذلة من
الناس ينقلبون أعزه، ملوك الأرض، فينبغي أن تتول القرينة السابقة بما يقابلها؛ ليطابقا في أن
يصير الأعزة أذلة، ومعلوم أن الأم مربية للولد، ومدبرة أمره، فإذا صار الولد ربا ومالكا لها -
لا سيما إذا كانت بنتا- ينقلب الأمر، هذا هو المعنى بالتشديد والمبالغة الموعود بهما، ثم في
وضع الأمة ووصفها بالولادة موضع الأم إشعار بمعنى الاسترقاق والاستيلاء، وأن أولئك
الضعفة الأذلة الذين فهموا من القرينة الثانية هم الذين يتعدون ويتسلطون ويفتحون البلاد
ويسترقون كرائم النساء وشرائفها، ويستولدونها، فتلد الأمة ربتها.
فالحاصل: أن قوله: (أن تلد الأمة ربتها) دل بعبارته على المقصود، وبإشارته على معنى
آخر، وهو كثرة المستولدات، وإنما وصف النساء بالشرف والكرامة ليفيد المعنى المقصود، كان
الواقع كذلك، ألا ترى إلى الملكة حرقة بنت النعمان حين سبيت وأحضرت بين يدى سعد
ابن أبى وقاص رضي الله عنه كيف انشدت:
(ক্বাযী আয়ায): (রাব্বাতাহা) শব্দটিকে স্ত্রীলিঙ্গ রূপে ব্যবহার করা এবং সেটিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইযাফাত) করার কারণ হলো—হয়তো সন্তানটিই তার মায়ের মুক্তির কারণ হবে, অথবা সন্তানটি তার পিতার পরে তার মায়ের মনিব বা কর্তার স্থলাভিষিক্ত হবে। এটি ইসলামের শক্তির প্রতি একটি ইঙ্গিত; কারণ যুদ্ধবন্দী এবং দাসী গ্রহণের আধিক্য দ্বীনের বিজয় এবং মুসলিমদের আধিপত্যের প্রমাণ। এটি কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন; কারণ ইসলামের এই শক্তি এবং এর প্রভাবের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানো মূলত পরবর্তী অবনতি ও হ্রাসেরই আগাম বার্তা, যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ঘোষণা প্রদান করে।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি—প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহরই নিকট—এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা বেশ কঠিন, বরং এটি এমন এক পিচ্ছিল স্থান যেখানে খুব কম বিদগ্ধ বাগ্মীই দৃঢ় পদক্ষেপে স্থির থাকতে পেরেছেন। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি এবং উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে যা বলেছেন, তা কোনো পিপাসার্তের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত আমি এই মহান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির সমাধানে ব্রতী হয়েছি। এক্ষেত্রে প্রথমত আলোচনার প্রেক্ষাপট (মাক্বাম) নির্ধারণ করা আবশ্যক; কারণ প্রেক্ষাপটই আলোচনার গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিয়ামতের আলামত ও পূর্বলক্ষণসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুতর বিষয়। এমতাবস্থায় এই জোড়া অনুষঙ্গের এমন ব্যাখ্যা করা আবশ্যক—অর্থাৎ তাঁর বাণী: (দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে) এবং তাঁর বাণী: (তুমি দেখতে পাবে নগ্নপদ ও উলঙ্গ গাত্রের অধিকারীদের—শেষ পর্যন্ত—অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে)—যা মহাপ্রলয়, মহাকালের পরিবর্তন এবং মানুষের অবস্থার আমূল বিবর্তনের সেই মহা সংবাদ প্রদান করে, যার নজির পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। কেনই বা তা হবে না? এখানে 'তুমি দেখবে' শব্দটি সেই গাম্ভীর্যেরই জানান দিচ্ছে; কারণ এটি একটি সর্বব্যাপী সম্বোধন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (হায়, তুমি যদি দেখতে পেতে যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়াবে!) অর্থাৎ বিষয়টি গাম্ভীর্য ও ভয়াবহতায় এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, তা কেবল বিশেষ কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যারই দেখার সক্ষমতা আছে, সে-ই এর সম্বোধিত ব্যক্তি।
যখন প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনীয়তা সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আমরা সেই পদ্ধতিগুলোর বর্ণনায় মনোনিবেশ করব যা এই জোড়া অনুষঙ্গকে প্রেক্ষাপটের সাথে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করবে। যেমন: (মানবিক সামঞ্জস্য), (সারমর্মমূলক রূপক) এবং (সমন্বয়), যাকে পাঠ্যের ইঙ্গিত (ইশারাতুন নাস) বলা হয়। আমরা বলব যে, দ্বিতীয় অনুষঙ্গটি 'সারমর্মমূলক রূপক'-এর মাধ্যমে—যেখানে শব্দের আক্ষরিক বা রূপক অর্থের দিকে স্বতন্ত্রভাবে না তাকিয়ে সামগ্রিক বিষয়ের নির্যাস ও সারমর্ম গ্রহণ করতে হয়—এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে যে, মানুষের মধ্যে যারা হীন ও তুচ্ছ ছিল, তারা সম্মানিত ও পৃথিবীর অধিপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এমতাবস্থায় পূর্ববর্তী অনুষঙ্গটির এমন এক বিপরীত অর্থ গ্রহণ করা উচিত যাতে উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান হয়—অর্থাৎ যেখানে সম্মানিত ব্যক্তিরা লাঞ্ছিত ও হীন হবে। এটি সর্বজনবিদিত যে, মা হলো সন্তানের লালনকারিণী ও তার বিষয়াদির পরিচালিকা। কিন্তু যখন সন্তান মনিব ও মালিক হয়ে যায়—বিশেষ করে সন্তানটি যদি কন্যা হয়—তখন বিষয়টি উল্টে যায়। এটিই হলো সেই জোরালো ও অতিশয়োক্তিপূর্ণ অর্থ যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পুনরায়, 'মা' শব্দের স্থলে 'দাসী' শব্দটি ব্যবহার করা এবং তার প্রসব বা জন্ম দেওয়ার বর্ণনা দেওয়ার মধ্যে দাসত্ব এবং বিজয়ের একটি ইঙ্গিত রয়েছে। অর্থাৎ, দ্বিতীয় অনুষঙ্গ থেকে যে দুর্বল ও লাঞ্ছিত একদল মানুষের কথা বোঝা গিয়েছিল, তারাই হবে তারা যারা সীমালঙ্ঘন করবে, আধিপত্য বিস্তার করবে, দেশ জয় করবে এবং উচ্চবংশীয় ও অভিজাত নারীদের বন্দী করবে ও দাসীতে পরিণত করবে। অতঃপর তাদের গর্ভে সন্তান জন্মাবে এবং এভাবে দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে।
সারকথা হলো: (দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে)—এই উক্তিটি তার বাহ্যিক বাক্যের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে এবং তার ইঙ্গিতের মাধ্যমে অন্য একটি অর্থ প্রদান করেছে, যা হলো 'উম্মুল ওয়ালাদ' বা সন্তানবতী দাসীদের আধিক্য। এখানে নারীদের আভিজাত্য ও মর্যাদার গুণাবলী যুক্ত করা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রদানের জন্য, বাস্তবেও বিষয়টি এমনই ছিল। আপনি কি নূমান ইবনুল মুনযিরের কন্যা 'হুরক্বা'র প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যখন তাকে বন্দী করা হয়েছিল এবং সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে আনা হয়েছিল, তখন তিনি কীভাবে কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন:
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٤)
يتطاولون في البنيان).
قال: ثم انطلق، فلبثتُ مليَّا، ثم قال لي: (ياعمر أتدرى من السائل)؟ قلتُ: اللهُ
ورسوله أعلم. قال: (فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم). رواه مسلم
ــ
فبينا نوس الناس والأمر أمرنا
… إذا نحن فيهم سوفة نتنصف
فأف لدينا لا يدوم نعيمها
… تقلب تارات بنا وتصرف
والى قول أبي الطيب:
تبكى عليهن البطاريق في الدجى
… وهن لدينا ملقيات كواسد
وفي معناه أنشد:
إذا ذل الدنيا الأعز واكتسى
… أعزتها ذلا وساد مسودها
هناك فلا جادت سماء بضوئها
… ولا أشرقت أرض ولا اخضر عودها
وإن استبدعت بيان المطابقة المعنوية بين القريتين على ما مر فانظر إلى قوله (تعالى)
(أفمن أسس بنيانه على تقوى من الله ورضوان خير أم من أسس بنيانه على شفا جرف هار)
وإلى تقرير صاحب الكشاف المطابقة فيها، وما في التبيان لتقف على دقة هذا
الأسلوب، ومواقع استنباط المعاني من القرينتين، وفي القرينتين إيذان بنصرة المؤمنين
وفتحهم البلاد مشارقها ومغاربها، كما ورد: (إن الله زوى لى الأرض فرأيت مشارقها ومغاربها
وإن أمتي سيبلغ ملكها ما زوى لى منها) أخرجه مسلم عن ثوبان. و (العالة) الفقراء، واحدها
عائل، يقال: (يتطاولون في البنيان) أي يتفاخرون في طول بيوتهم ورفعتها، تطاول الرجل إذا
تكبر، يعني من علامات القيامة أن ترى أهل البادية ممن ليس لهم لباس ولا نعل، بل كانوا
رعاء الإبل والشاء يتوطنون البلاد، ويتخذون العقار، ويبنون الدور والقصور المرتفعة، قاله
المظهر.
ــ
দালানকোঠার উচ্চতা নিয়ে তারা অহমিকা করবে)।
তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর তিনি চলে গেলেন, আর আমি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন: (হে উমর, তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?) আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই তিনি জিবরীল; তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে তোমাদের নিকট এসেছিলেন)। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
—
যখন আমরা মানুষের নেতৃত্ব দিচ্ছিলাম এবং কর্তৃত্ব ছিল আমাদের হাতে
… তখন হঠাৎ করেই আমরা তাদের মাঝে এমন অবস্থায় উপনীত হলাম যে আমরা কেবল অংশীদারিত্ব বা ইনসাফ কামনা করছি।
ধিক আমাদের এই পার্থিব জীবনের প্রতি যার সুখ-সম্পদ চিরস্থায়ী নয়
… এটি সময়ের আবর্তনে আমাদের নিয়ে পরিবর্তিত হয় এবং ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
এবং আবু আল-তাইয়িবের বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন:
রাতের অন্ধকারে উচ্চপদস্থ রোমান সেনাপতিরা তাদের জন্য ক্রন্দন করে
… অথচ সেগুলো আমাদের নিকট অবহেলিত ও অচল পণ্যের মতো পড়ে আছে।
একই অর্থে আবৃত্তি করা হয়েছে:
যখন এই দুনিয়া তার সম্মানিত ব্যক্তিদের লাঞ্ছিত করে এবং তাদের অপমানের চাদর পরিধান করায়, আর যখন অধম ব্যক্তিরা নেতৃত্বের আসনে আসীন হয়;
তখন আকাশ যেন তার আলো দান না করে, আর পৃথিবী যেন উদ্ভাসিত না হয় এবং কোনো বৃক্ষশাখা যেন আর সজীব না থাকে।
আর আপনি যদি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী দুই বাক্যাংশের মধ্যকার অর্থগত সামঞ্জস্যের বর্ণনাকে চমৎকার মনে করেন, তবে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন:
(যে ব্যক্তি তার ইমারতের ভিত্তি আল্লাহর তাকওয়া ও তাঁর সন্তুষ্টির ওপর স্থাপন করেছে সে কি উত্তম, নাকি ঐ ব্যক্তি যে তার ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করেছে কোনো ধসে পড়া গর্তের ক্ষীয়মান কিনারার ওপর?)
এবং এই আয়াতের সামঞ্জস্য বিধানে আল-কাশশাফ গ্রন্থকারের সিদ্ধান্ত এবং আল-তিবিয়ান গ্রন্থে যা রয়েছে তার প্রতি লক্ষ্য করুন, যাতে আপনি এই শৈলীর সূক্ষ্মতা এবং উভয় বাক্যাংশ থেকে অর্থ আহরণের উৎসসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আর এই দুই বাক্যাংশের মধ্যে মুমিনদের বিজয় এবং তাদের দেশসমূহ জয়ের সুসংবাদ নিহিত রয়েছে—
প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্য পর্যন্ত তাদের রাজ্য বিস্তৃত হবে, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে সংকুচিত করে দেখিয়েছেন, ফলে আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখেছি। আর আমার উম্মতের রাজত্ব সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে যা আমার জন্য সংকুচিত করে দেখানো হয়েছে)। সাওবান (রা.) থেকে ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। আর 'আল-আলাহ' অর্থ হলো দরিদ্র লোক, যার একবচন হলো 'আইল'। বলা হয়: (তারা দালানকোঠার উচ্চতা নিয়ে অহমিকা করবে) অর্থাৎ তারা তাদের ঘরের উচ্চতা ও সুউচ্চতা নিয়ে একে অপরের ওপর গর্ব করবে। কোনো ব্যক্তি যখন দম্ভ প্রকাশ করে তখন 'তাতাওলা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে একটি হলো—আপনি মরুচারী বেদুইনদের দেখবেন যাদের পর্যাপ্ত পোশাক বা জুতো ছিল না, বরং তারা ছিল
উট ও ছাগলের রাখাল; তারা শহরগুলোতে বসবাস শুরু করবে, স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলবে এবং সুউচ্চ অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করবে। আল-মাযহার এমনটিই বলেছেন।
—
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٥)
3 - ورواه أبو هريرة مع اختلاف، وفيه: (وإذا رأيت الحفاة العُراة الصمَّ البكمَ،
ملوك الأرض في خمس لا يعلمهن إلا الله. ثم قرأ: (إن الله عنده علم الساعة وينزلُ
الغيث) الآية متفق عليه
ــ
قوله: (الصم البكم) كانت حواسهم سليمة، ولكن جعلوا لبلادتهم وعدم تمييزهم كأنه
أصيبت مشاعرهم. قوله: (في خمس) أي علم وقت الساعة داخلة في جملة خمس، وحذف
متعلق الجار سائغ شائع، كما في قوله (تعالى): (تسع أيات) أي أذهب إلى فرعون في شأن
تسع أيات، ويجوز أن يتعلق ب (أعلم) يعنى ما المسئول عنها بأعلم فى خمس أي في علم
الخمس، فكما عم في المسئول عنه أولا عم في المسئول ثانياً، أي لا ينبغي لأحد أن يسأل أحداً
في علم الخمس؛ لأن العلم بها مختص بالله (تعالى). وفيه إشارة إلى إبطال الكهانة والنجامة
وما شاكلها. قال لبيد:
لعمرك ما تدرى الضوارب بالحصى
… ولا زاجرات الطير ما الله صانع
وإدشاد للأمة وتحذير لهم عن إتيان من يدعى علم الغيب، فإذا الجواب من (الأسلوب
الحكيم). أجاب عن سؤاله في ضمن أشياء مهمة لا بد من بيانها (إرشادا) للأمة وتنبيها
للمعلم عليها. كأنه قيل: سؤالك هذا يقتضي أن لا يقتصر على جواب واحد، بل يجاب مع
هذه الأمور المهمة، فإن اهتمامها كاهتمامه. أو يقال: كان يجب عليك أيها المعلم أن لا تقتصر
على سؤال واحد بل تسأل عن هذه الأشياء المهمة.
فإن قيل: أليس إخباره صلى الله عليه وسلم عن أمارات الساعة من قبيل قوله: (وما تدرى نفس ماذا تكسب
غدا)؟ قلت: إذا أظهر بعض المرتضين من عباده بعض ما كوشف له من الغيوب لمصلحة ما
لا يكون إخباراً بالغيب بل يكون تبليغا له، قال الله تعالى: (ولا يظهر على غيبه أحدا إلا من
ارتضى من رسول)
فإن قلت: كيف يطابق تفسير سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم الآية بقوله: (في خمس لا يعلمهن إلا الله)
وليس في الآية أداة الحصر كما في الحديث؟ قلت: فيه وجهان: أحدهما: أن يكون (علم
الساعة) فاعلا للظرف؛ لاعتماده على اسم إن، ويعطف (وينزل الغيث) عن الغير، أي يعلم
الظرف وفاعله على تأويل الجملتين المنفيتين بإثبات ما نفى فيهما لله (تعالى) عن الغير، أي يعلم
ماذا تكسب كل نفس غداً، ويعلم أن كل نفس بأي أرض تموت. قال أبو البقاء: هذا العطف
ــ
৩ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও এটি সামান্য ভিন্নতাসহ বর্ণিত হয়েছে, যাতে রয়েছে: (এবং যখন তুমি দেখবে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, বধির ও মূক ব্যক্তিদের পৃথিবীর রাজা হিসেবে; যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না এমন পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত)। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে এবং তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন...) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।
ــ
তাঁর বাণী: (বধির ও মূক) তাদের ইন্দ্রিয়সমূহ সুস্থ ছিল, কিন্তু তাদের স্থূলবুদ্ধিতা ও বিচারবুদ্ধিহীনতার কারণে তাদের এমনভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে যেন তাদের অনুভূতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বাণী: (পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে) অর্থাৎ কিয়ামতের সময়ের জ্ঞান এই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। এখানে 'জার' (অব্যয়)-এর সংশ্লিষ্ট পদটি উহ্য রাখা ব্যাকরণগতভাবে বৈধ ও প্রচলিত, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (নয়টি নিদর্শন) অর্থাৎ তুমি ফেরাউনের নিকট নয়টি নিদর্শনের বিষয় নিয়ে যাও। আবার এটি 'অধিক জ্ঞাত' (আ’লাম) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়াও সম্ভব; অর্থাৎ যাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি এই পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞানে (প্রশ্নকারীর চেয়ে) অধিক জ্ঞাত নন। সুতরাং প্রথম প্রশ্নে যেমন উভয় পক্ষ সমান ছিলেন, দ্বিতীয় প্রশ্নেও তদ্রূপ। অর্থাৎ এই পাঁচটি বিষয়ে কারো কাউকে প্রশ্ন করা উচিত নয়; কারণ এগুলোর জ্ঞান কেবল মহান আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। এতে জ্যোতিষশাস্ত্র, গণকবিদ্যা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের অসারতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। লাবিদ বলেন:
তোমার জীবনের শপথ! পাথর নিক্ষেপকারী গণক কিংবা পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ণয়কারী কেউই জানে না আল্লাহ কী করতে যাচ্ছেন
... এটি উম্মতের জন্য একটি নির্দেশনা এবং যারা গায়েবের ইলম দাবি করে তাদের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা। সুতরাং এই উত্তরটি 'বিজ্ঞোচিত শৈলী' (আল-উসলুব আল-হাকিম)-এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি তার প্রশ্নের উত্তর এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রেক্ষিতে দিয়েছেন যা উম্মতের নির্দেশনার জন্য বর্ণনা করা আবশ্যক এবং শিক্ষককে এ বিষয়ে সচেতন করার জন্য।
যেন বলা হচ্ছে: তোমার এই প্রশ্নটি কেবল একটি উত্তরে সীমাবদ্ধ না থাকার দাবি রাখে, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোসহ উত্তর দেওয়া প্রয়োজন, কারণ এগুলোর গুরুত্বও সেই প্রশ্নের মতোই। অথবা বলা যায়: হে শিক্ষক, আপনার জন্য উচিত ছিল কেবল একটি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা।
যদি প্রশ্ন করা হয়: কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে নবী করীম (সা.)-এর সংবাদ প্রদান কি আল্লাহর এই বাণীর বিপরীত নয়— (এবং কোনো সত্তাই জানে না সে আগামীকাল কী উপার্জন করবে)?
আমি বলি: আল্লাহ যখন তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্য থেকে কারো নিকট কোনো কল্যাণের উদ্দেশ্যে তাঁর গায়েবি রহস্য উন্মোচন করেন, তখন সেটি নিছক গায়েবের খবর বলা হয় না, বরং তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বার্তার পৌঁছানো (তাবলীগ)। মহান আল্লাহ বলেন: (তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না, তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত)।
যদি আপনি বলেন: সায়্যিদুল মুরসালীন (সা.)-এর ব্যাখ্যা কীভাবে এই আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যখন তিনি বলেছেন: (পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না), অথচ আয়াতে তো হাদিসের মতো সীমাবদ্ধতা জ্ঞাপক অব্যয় (আদাতুল হাসর) নেই?
আমি বলি: এখানে দুটি দিক রয়েছে: প্রথমটি হলো— 'কিয়ামতের জ্ঞান' শব্দগুচ্ছটি এখানে 'যারফ'-এর ফায়েল (কর্তা) হিসেবে গণ্য, যেহেতু এটি 'ইন্না'-এর ইসিমের ওপর নির্ভরশীল। আর 'তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন' অংশটি অন্যের থেকে (জ্ঞান) অস্বীকার করার ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে। অর্থাৎ বাক্য দুটির ব্যাখ্যা হলো— যা অন্যের থেকে নাকচ করা হয়েছে তা মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা। অর্থাৎ তিনি জানেন প্রতিটি আত্মা আগামীকাল কী উপার্জন করবে এবং তিনি জানেন প্রতিটি আত্মা কোন ভূমিতে মৃত্যুবরণ করবে। আবু আল-বাকা বলেন: এই সংযুক্তি (আতফ)...
ــ
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٦)
ــ
يدل على قوة شبه الظرف بالفعل. وقال صاحب الكشاف: جاء بالظرف وما أرتفع به ثم قال:
(وينزل الغيث) فعطف الجملة على الجملة، ومثله قوله (تعالى): (نسقيكم مما في (بطونها) ولكم
فيها منافع) فصدر بالفعل والفاعل، ثم عطف بالظرف، وما ارتفع به.
وإذا تقرر هذا فنقول: إذا كان الفعل عظيم الخطر، وما بنى عليه الفعل علي القدر رفيع
الشأن فهم منه الحصر على سبيل الكناية. وفي (الكشاف) في قوله (تعالى): (الله نزل أحسن
الحديث) الآية: وإيقاع اسم الله مبتدأ وما نزل عليه من تفخيم لأحسن الحديث ورفع منه،
يصدر إلا عنه، وقال الله (تعالى): (الله يبسط الرزق لمن يشاء) [وقال في قوله تعالى:
(الله يبسط الرزق)] في الرعد الله وحده هو يبسط الرزق ويقدر، دون غيره.
فإن قلت: إذا عطف (وينزل) على الجملة كيف دل على العلم؟ قلت: إذا نفى إنزال الغيث عما كانوا ينسبون إليه من طلوع الأنواء اختص بالله (تعالى) فيلزم منه اختصاص علم الله (تعالى).
وثانيهما: أن يذهب إلى أن الظرف خبر مقدم على المبتدأ لإفادة الحصر، ويعطف (ينزل) على المضاف إليه، يعني عنده علم الساعة، وعلم تنزيل الغيث على تقدير: أن ينزل، فحذف (أن) فارتفع الفعل، نحو قوله: أحضر الوغى، ويعطف (ويعلم مافي الأرحام) وما بعده على المضاف، أي إن الله عنده علم مافي الأرحام، وعلم ماذا تكسب كل نفس غدًا، على التقدير المذكور.
فإن قلت: فأي نكتة دعت إلى العدول عن المثبت إلى المنفي في قوله: (وماتدري نفس) وما فائدة تكرير نفس تنكيرها، وإيثار الدارية على العلم؟ فإنها إدراك الشيء بالحيلة. قلت: إذا نفيت الدراية لما فيها من معنى الحيلة في اكتساب العلم من كل نفس على سبيل الاستغراق لوقوع النكرة في سياق النفي- أفاد أن كل نفس منفوسة من الإنسان وغيره إذا أعملت حيلها في معرفة ما يختص ويلصق بها، ولا شيء أخص من الإنسان من كسب نفسه وعاقية أمره، ولا يقف على شيء من ذلك، فكيف يقف على ما هو أبعد وأبعد، خصوصًا من معرفة وقت الساعة، وأيان إنزال الغيث، ومعرفة ما في الأرحام. والفائدة في بيان الأمارات هي أن يتأهب الملكف المسير إلى المعاد بزاد التقوى.
ولما اشتمل هذا الحديث على هذه المطالب العزيزة، والمقاصد السنية التي هي أمهات أصول الدين - أودعه محيي السنة في مستهل باب كتابيه: شرح السنة، والمصابيح؛ تأسيّا بالله (عز
ــ
এটি ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট আধারের (জরফ) সদৃশ হওয়ার শক্তির ওপর প্রমাণ বহন করে। 'কাশশাফ' গ্রন্থের রচয়িতা বলেন: এখানে আধার এবং যা দ্বারা সেটি মারফু হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর তিনি বলেছেন:
(এবং তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন) ফলে এখানে একটি বাক্যকে অপর একটি বাক্যের ওপর সংযোজিত (আতফ) করা হয়েছে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আমি তোমাদের তাদের উদরস্থিত বস্তু হতে পান করাই এবং তোমাদের জন্য
তাতে অনেক উপকার রয়েছে)। এখানে ক্রিয়া ও কর্তা দ্বারা শুরু করা হয়েছে, অতঃপর আধারের মাধ্যমে এবং যা দ্বারা সেটি মারফু হয়েছে তার মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে।
যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো তখন আমরা বলি: যখন কোনো ক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং যার ওপর ক্রিয়াটি বিন্যস্ত হয়েছে তা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন
হয়, তখন তা থেকে ইঙ্গিতবাচকভাবে একচ্ছত্রতা (হাসর) বোঝা যায়। 'কাশশাফ' গ্রন্থে মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: আল্লাহর পবিত্র নামকে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হিসেবে ব্যবহার করা এবং যার ওপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বোত্তম বাণীর মহিমা প্রকাশ ও এর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, যা কেবল
তাঁর পক্ষ থেকেই প্রকাশিত হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন: (আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করে দেন)। [এবং মহান আল্লাহর বাণী:
(আল্লাহ রিজিক প্রশস্ত করেন)] প্রসঙ্গে সূরা আর-রা'দে বলা হয়েছে: আল্লাহ একাই রিজিক প্রশস্ত করেন এবং পরিমিত করেন, অন্য কেউ নয়।
আপনি যদি বলেন: যদি (বর্ষণ করেন) অংশটি পূর্ববর্তী বাক্যের ওপর সংযোজিত হয়, তবে তা জ্ঞানের ওপর কীভাবে প্রমাণ বহন করে? আমি বলব: যখন বৃষ্টি বর্ষণকে সেসব বিষয় থেকে অস্বীকার করা হলো যার প্রতি তারা নক্ষত্রের উদয় হওয়ার মাধ্যমে একে সম্বন্ধযুক্ত করত, তখন এটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেল; ফলে এটি থেকে মহান আল্লাহর জ্ঞানের বিশিষ্টতাও অনিবার্য হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ত: এটি এই অভিমত পোষণ করা যে, আধারটি মুবতাদার পূর্বে খবর হিসেবে এসেছে একচ্ছত্রতা বোঝানোর জন্য, এবং (বর্ষণ করেন) অংশটি মুদাফ ইলাইহির ওপর সংযোজিত হয়েছে। অর্থাৎ কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁরই কাছে, এবং বৃষ্টি বর্ষণের জ্ঞানও—এই অনুমানে যে: বৃষ্টি বর্ষিত হওয়া। এখানে (আন) উহ্য থাকায় ক্রিয়াটি মারফু হয়েছে, যেমনটি বলা হয়: আমি যুদ্ধে উপস্থিত হই। আর (এবং তিনি জরায়ূতে যা আছে তা জানেন) এবং পরবর্তী অংশগুলো মুদাফের ওপর সংযোজিত হবে। অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট জরায়ূতে যা আছে তার জ্ঞান এবং আগামীকাল প্রতিটি প্রাণ যা অর্জন করবে তার জ্ঞান নিহিত রয়েছে, উপরোক্ত অনুমান অনুযায়ী।
আপনি যদি বলেন: আল্লাহর বাণী (এবং কোনো প্রাণী জানে না)-তে ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক রূপান্তরের রহস্য কী? এবং 'প্রাণ' (নফস) শব্দটির অনির্দিষ্টভাবে পুনরুল্লেখের সার্থকতা কী? এবং কেন 'ইলম'-এর পরিবর্তে 'দিরায়াহ' শব্দটিকে প্রাধান্য দেওয়া হলো? কেননা 'দিরায়াহ' অর্থ হলো কোনো কিছুকে কৌশলের মাধ্যমে উপলব্ধি করা। আমি বলব: যেহেতু 'দিরায়াহ' শব্দের মধ্যে জ্ঞান অর্জনে কৌশলের অর্থ নিহিত রয়েছে, তাই যখন প্রতিটি প্রাণ থেকে এটি অস্বীকার করা হলো—না-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপকতা বোঝাতে—তখন এটি এই অর্থ প্রদান করে যে, মানুষ বা অন্য যেকোনো প্রাণ যদি তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানার জন্য তার সমস্ত কৌশলও প্রয়োগ করে—আর মানুষের জন্য তার নিজের আমল ও পরিণতির চেয়ে ঘনিষ্ঠ আর কিছু নেই—তবুও সে এর কোনো কিছুই জানতে পারে না। এমতাবস্থায় সে কীভাবে তার চেয়েও দূরবর্তী বিষয়গুলো জানতে পারবে, বিশেষ করে কিয়ামতের সময়কাল, কখন বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং জরায়ূতে কী আছে সে সম্পর্কিত জ্ঞান। আর নিদর্শনসমূহ বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে দায়বদ্ধ ব্যক্তি পরকালের পাথেয় হিসেবে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আখেরাতের যাত্রার প্রস্তুতি নিতে পারে।
যেহেতু এই হাদিসটি এমন সব মূল্যবান চাহিদা ও উচ্চতর লক্ষ্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা দ্বীনের মৌলিক নীতিমালার মূল ভিত্তি—তাই 'মুহয়িউস সুন্নাহ' তাঁর দুই কিতাব 'শারহুস সুন্নাহ' এবং 'আল-মাসাবিহ'-এর সূচনায় এটি স্থান দিয়েছেন; মহান আল্লাহর অনুসরণে...
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٧)
4 - وعن ابن عمر، قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الإيمان بضع وسبعون شعبة، فأفضلها: قول لا إله إلا الله، وأدناها: إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان). متفق عليه.
ــ
وجل) في تقديم الفاتحة التي هي أم القرآن المشتملة على ما بعدها إجمالا براعة للاستهلال، والله أعلم بالأسرار.
قوله: (فلبثت مليّا) أي زمانا طويلًا، يقال: عشت معه ملاوة من الدهر (بالحركات الثلاث). ويقال لليل والنهار: الملوان. وفي رواية أبي داود والنسائي: (قال عمر: فلبثت مليّا).
قوله: (فإنه جبرئيل) الفاء فيه جزاء شرط محذوف. تقديره: أما إذا فوضتم العلم إلى الله عز وجل وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم وقرينة الشرط المحذوف قولهم: (الله ورسوله أعلم). (قض): جبريل عليه السلام ملك متوسط بين الله ورسوله، ومن خواص الملك أن يتمثل للبشر، فيراه جسما مشكلا محسوسًا. ثم الدليل عليه اتفاق الحاضرين من الصحابة الكرام على ذلك، وروى محيي السنة أنه صلى الله عليه وسلم قال لعمر (رضي الله عنه): (ذاك جبريل أتاكم يعلمكم أمر دينكم، وما أتى في صورة إلا عرفته فيها إلا صورته هذه). (تو): هذه الأسئلة والأجوبة صدرت قبيل حجة الوداع في السنة العاشرة من الهجرة قريب انقطاع الوحي واستقرار الشرع.
الحديث الثاني عن ابن عمر (رضي الله عنه) قوله: (بني الإسلام على خمس). (غب): الإسلام الدخول في السلم، وهو أن يسلم كل واحد منهما أن يناله ألم من صاحبه. والإيمان هو الإذعان للحق على سبيل التصديق له باليقين. هذا أصله، ثم صار اسما لشريعو رسول الله صلى الله عليه وسلم كالإسلام. (مح): وفي رواية وقع: (خمسة) بالهاء على تأويل أركان، أو أشياء، أو نحو ذلك، وبرواية حذفها يراد به خصال، أو دعائم أو قواعد.
أقول: لا تخلو هذه الخمس من أن تكون قواعد البيت، أو أعمدة الخباء، وليس الأول؛ لكون القواعد على أربع، فتعين الثاني، وينصره ما جاء في حديث معاذ: (وعمود الصلاة). مثلت حالة الإسلام مع أركانه الخمسة بحالة خباء أقيمت على خمسة أعمدة، وقطبها الذي تدور عليها الأركان هي: شهادة أن لا إله إلا الله، وبقية شعب الإيمان كالأوتاد للخباء. روى أن
৪ - ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (ঈমানের সত্তরটিরও কিছু বেশি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা)। (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত)।
—
(মহান ও পরাক্রমশালী) সূরা ফাতিহাকে সামনে নিয়ে আসার মধ্যে—যা হলো উম্মুল কুরআন এবং যা পরবর্তী বিষয়বস্তুসমূহকে সংক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত করে—রয়েছে এক চমৎকার প্রারম্ভিক অলঙ্কার। আর আল্লাহ তাআলাই রহস্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।
তাঁর উক্তি: (অতঃপর আমি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলাম) অর্থাৎ দীর্ঘ সময়। বলা হয়ে থাকে: "আমি তার সাথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি" (শব্দটির তিনটি হরকতেই উচ্চারণ করা যায়)। আর দিন ও রাতকে ‘মালাওয়ান’ (দুই সময়কাল) বলা হয়। আবু দাউদ ও নাসাঈর বর্ণনায় এসেছে: (উমর রা. বলেন: অতঃপর আমি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলাম)।
তাঁর উক্তি: (নিশ্চয়ই তিনি জিবরাঈল) এখানে ‘ফা’ হরফটি একটি উহ্য শর্তের উত্তর হিসেবে এসেছে। এর মূল বক্তব্য হলো: যখন তোমরা জ্ঞানের বিষয়টি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর সোপর্দ করলে। আর এই উহ্য শর্তের প্রমাণ হলো তাদের উক্তি: (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন)। (কাযী আয়ায বলেন): জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) হলেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের মধ্যবর্তী দূত। ফেরেশতাদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে, ফলে মানুষ তাকে দৃশ্যমান ও অনুভূত অবয়বে দেখতে পায়। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো উপস্থিত সম্মানিত সাহাবীগণের এ বিষয়ে ঐকমত্য। মুহিউস সুন্নাহ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন: (তিনি জিবরাঈল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের বিষয় শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। তিনি ইতিপূর্বে যখনই কোনো আকৃতিতে এসেছেন আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, শুধু এই আকৃতিটি ব্যতীত)। (তূরিবিশতী বলেন): এই প্রশ্নোত্তরগুলো হিজরি দশম সনে বিদায় হজের ঠিক আগে ওহী বন্ধ হওয়ার এবং শরীয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সমসাময়িক কালে অবতীর্ণ হয়েছিল।
দ্বিতীয় হাদিসটি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তাঁর উক্তি: (ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তিশীল)। (আল-গারিবাঈন): ইসলাম হলো শান্তিতে প্রবেশ করা, আর তা হলো প্রত্যেকেই যেন অপরজনের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে। আর ঈমান হলো ধ্রুব বিশ্বাসের সাথে সত্যের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা। এটিই এর মূল অর্থ, পরবর্তীতে এটি ইসলামের ন্যায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীয়তের নাম হিসেবে পরিগণিত হয়। (আল-মাজহার): একটি বর্ণনায় ‘খামসাহ’ (পাঁচটি) শব্দটি এসেছে রুকন বা স্তম্ভের ব্যাখ্যায়, আর ‘তা’ বিহীন বর্ণনায় এর দ্বারা গুণাবলি, খুঁটি বা মূলনীতি বোঝানো হয়েছে।
আমি বলছি: এই পাঁচটি বিষয় হয় গৃহের ভিত্তি অথবা তাঁবুর খুঁটির মতো হবে। তবে এটি প্রথমটি নয়; কারণ ভিত্তি সাধারণত চারটি হয়ে থাকে। সুতরাং দ্বিতীয়টিই নিশ্চিত হলো। মুয়াজ (রা.)-এর হাদিসের এই উক্তিটি একে সমর্থন করে: (আর সালাত হলো স্তম্ভ)। ইসলামের অবস্থাকে তার পাঁচটি স্তম্ভসহ একটি তাঁবুর সাথে তুলনা করা হয়েছে যা পাঁচটি খুঁটির ওপর দণ্ডায়মান। আর এর মূল কেন্দ্রবিন্দু যার ওপর ভিত্তি করে স্তম্ভগুলো আবর্তিত হয়, তা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য প্রদান করা। আর ঈমানের অবশিষ্ট শাখাগুলো হলো তাঁবুর পেরেকের মতো। বর্ণিত আছে যে,
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٨)
ــ
الفرزدق حضر جنازة، فسأله بعض أئمة أهل البيت رضي الله عنهم يا فرزدق! ما أعددت لمثل هذه الحالة؟ قال: شهادة أن لا إله إلا الله، فقال: هذا العمود، فأين الأطناب؟ هذا على أن يكون استعارة تمثيلية؛ لأنها وقعت في حالتي الممثل والممثل به، ويجوز أن تكون الاستعارة تبعية، بأن يقدر الاستعارة في (بني) والقرينة الإسلام)، شبه ثبات الإسلام واستقامته على هذه الأركان الخمسة ببناء الخباء على الأعمدة الخمسة، ثم تسري الاستعارة من المصدر إلى الفعل. وأن تكون مكنية، بأن تكون الاستعارة في الإسلام، والقرينة (بني) على التخييل، ثم خيل ما يلازم الخباء المشبه به من البناء، ثم أثبت له ما هو ملازم البيت من البناء على الاستعارة التخييلية، ثم نسب إليه ليكون قرينة مانعة من إرادة الحقيقة.
فظهر من هذا التحقيق أن الإسلام غير، والأركان غير. كما أن البيت غير، والاعمدة غير، ولا يستقيم ذلك إلا على مذهب أهل السنة؛ فإن الإسلام عبارة عن التصديق بالجنان، والقول باللسان، والعمل بالأركان. وعلى هذا حديث الإيمان،. ولهذا السر عقب محيي السنة بهذا الحديث حديث: (الإيمان بضع وسبعون شعبة) وفيه أن أعلى شعبها (قول: لا إله إلا الله). وكما شبه الإسلام في الحديث الأول بخباء ذات أعمدة وأطناب، شبه الإيمان في الثاني بشجرة ذات أغصان وشعب، وإيرادها بعد حديث جبرئيل عليه السلام يحقق ما قررناه من أن الإصطلاح حصل بعد الاستعمال.
الحديث الثالث عن أبي هريرة رضي الله عنه: قوله: (بضع وسبعون) البضع القطعة من الشيء، وهي في العدد ما بين الثلاث إلى التسع؛ لأنه قطعة من العدد، والشعبة غصن الشجر، وفرع كلأصل. (وأدناها) أي أقربها منزلة وأدونها مقداراً، من الدنو بمعنى القرب، يقال: فلان أدنى القدر، وقريب المنزلة، كما يعبر بالبعيد عن ضد ذلك فيقال: فلان بعيد الهمة، وبعيد المنزلة، بعنى رفيع العالي، ولذلك استعمله في مقابلة في مقابلة الأعلى. (وإماطة) الشيء عن الشيء إذا أزاله عنه، وأذهبه، و (الأذى) في الحديث اسم ما يؤذي الناس، نحو الشوك، والحجر، والطين، وما أشبهها. فإن قلت: ما معنى الفاء في (فأفضلها)؟ قلت: هي جزاء شرط محذوف، كأنه قيل: إذا كان الإيمان ذا شعب يلزم التعدد، وحصول الفاضل والمفضول، بخلافه إذا كان أمرًا واحدًا.
ــ
আল-ফারাজদাক একটি জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। এমতাবস্থায় আহলে বাইতের জনৈক ইমাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ফারাজদাক! এই অবস্থার জন্য তুমি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? তিনি বললেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য। তখন তিনি (ইমাম) বললেন, এটি তো খুঁটি, কিন্তু রশিগুলো কোথায়? এটি রূপক উপমা (ইস্তিআরা তামসিলিয়্যাহ) হওয়ার ভিত্তিতে বলা হয়েছে; কারণ এটি উপমেয় এবং উপমানের উভয় অবস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়েছে। আবার এটি অনুগামী রূপক (ইস্তিআরা তাবায়িয়্যাহ)-ও হতে পারে; এভাবে যে, 'বুনিয়া' (ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে) ক্রিয়ায় রূপকটি উহ্য ধরা হবে এবং 'ইসলাম' শব্দটি এখানে প্রাসঙ্গিক চিহ্ন (কারিনাহ)। এখানে ইসলামের সুদৃঢ়তা ও এই পাঁচটি স্তম্ভের ওপর তার স্থিতিশীলতাকে পাঁচটি খুঁটির ওপর তাবু স্থাপনের সাথে তুলনা করা হয়েছে, অতঃপর রূপকটি মূল ধাতু (মাসদার) থেকে ক্রিয়া পদে সঞ্চারিত হয়েছে। এছাড়া এটি উহ্য রূপক (ইস্তিআরা মাকনিয়্যাহ)-ও হতে পারে; সে ক্ষেত্রে ইসলাম শব্দটিতে রূপক হবে এবং 'বুনিয়া' শব্দটি কল্পনাপ্রসূত (তাখয়িল) প্রাসঙ্গিক চিহ্ন হবে। অতঃপর উপমান তাবুর অবিচ্ছেদ্য বিষয়াবলিকে কল্পনা করা হয়েছে এবং ঘরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহকে 'কাল্পনিক রূপক' (ইস্তিআরা তাখয়িলিয়্যাহ) হিসেবে তার জন্য সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতঃপর তা ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যাতে তা আক্ষরিক অর্থ গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
এই বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম এক বস্তু এবং এর রুকন বা স্তম্ভসমূহ অন্য বস্তু। যেমন ঘর এক বস্তু এবং এর খুঁটিসমূহ অন্য বস্তু। আর এই বিষয়টি কেবল আহলুস সুন্নাহর মাযহাব অনুসারেই সঠিক হতে পারে; কেননা তাঁদের মতে ইসলাম হলো অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকারোক্তি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করার সমষ্টি। আর ঈমান সংক্রান্ত হাদিসটিও এই ভিত্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত। এই নিগূঢ় রহস্যের কারণেই মুহিউস সুন্নাহ (ইমাম বাগাবী) এই হাদিসের পরপরই 'ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে' শীর্ষক হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে এর সর্বোচ্চ শাখা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা। আর প্রথম হাদিসে ইসলামকে যেমন খুঁটি ও রশিবিশিষ্ট তাবুর সাথে তুলনা করা হয়েছে, দ্বিতীয় হাদিসে ঈমানকে তেমনি ডালপালা ও শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়েছে। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিসের পর এই হাদিসটি আনয়ন আমাদের সেই সিদ্ধান্তকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে, পারিভাষিক প্রয়োগ ব্যবহারের পরবর্তী সময়ে সংজ্ঞায়িত হয়েছে।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তৃতীয় হাদিস: তাঁর উক্তি— (সত্তর ও কয়েক); 'বিদউন' শব্দের অর্থ কোনো বস্তুর টুকরো বা অংশ, আর সংখ্যার ক্ষেত্রে এটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত বোঝায়; কারণ এটি সংখ্যারই একটি অংশ। 'শুবাহ' অর্থ গাছের ডাল বা মূলের শাখা। (এবং এর সর্বনিম্ন স্তর) অর্থাৎ মর্যাদার দিক থেকে নিকটতম এবং পরিমাণে ক্ষুদ্রতম; এটি 'দুনুউ' ধাতু থেকে আগত যার অর্থ নৈকট্য। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি অতি নিকটবর্তী ভাগ্যের অধিকারী বা মর্যাদার দিক থেকে অতি কাছের। যেমন এর বিপরীতে 'দূর' শব্দটি ব্যবহার করে বলা হয়: অমুক উচ্চাকাঙ্ক্ষী বা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, যা সুউচ্চ অর্থে ব্যবহৃত হয়। একারণেই তিনি একে 'সর্বোচ্চ' শব্দের বিপরীতে ব্যবহার করেছেন। (সরিয়ে দেওয়া); কোনো বস্তু থেকে অন্য কিছুকে অপসারিত করা বা দূর করাকে 'ইমাতাহ' বলা হয়। হাদিসে 'আযা' (কষ্টদায়ক বস্তু) বলতে এমন সব জিনিসকে বোঝানো হয়েছে যা মানুষকে কষ্ট দেয়, যেমন কাঁটা, পাথর, কাদা এবং এই জাতীয় বস্তু। যদি আপনি প্রশ্ন করেন: (অতঃপর এর শ্রেষ্ঠ শাখা) বাক্যে 'ফা' বর্ণের অর্থ কী? আমি বলব: এটি একটি উহ্য শর্তের উত্তর (জাযা)। যেন বলা হয়েছে: ঈমান যখন বহু শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট, তখন এর বহুত্ব এবং শ্রেষ্ঠ ও সাধারণের অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে; পক্ষান্তরে ঈমান যদি একক কোনো বিষয় হতো তবে এমন হতো না।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٣٩)
(قض): (الحياء) تغيير وانكسار يعتري المرء من خوف ما يلام به قيل هو مأخوذ من الحياة، وكأن الحيي صار لما يعتريه من التغيير والانكسار، مؤوف الحياة، منكسر القوى، ولذلك قيل مات حياء وجمد في مكانه خجلا. وإنما أفرده بالذكر لأنه كالداعي والباعث إلى سائر الشعب، فإن الحيي يخاف فضيحة الدنيا، وفظاعة الأخرة، فينزجر عن المعاصي، فصار من الإيمان، إذ الإيمان ينقسم إلى ائتمار لما أمر الله به وانتهاء عما نهى عنه.
(قض): قوله صلى الله عليه وسلم: (بضع وسبعون) يحتمل أن يكون المراد به التكثير دون التعديد، كما في قوله (تعالى): (إن تستغفر لهم سبعين مرة) واستعمال لفظة السبعة والسبعين للتكثير كثيرة، وذلك لاشتمال السبعة على جملة أقسام العدد، فإنه ينقسم إلى فرد وزوج، وكل منهما إلى أول ومركب، والفرد الأول ثلاثة، والمركب خمسة، والزوج الأول اثنان، والمركب أربعة، وينقسم أيضًا إلى منطقة كالأربعة، وأصم كالستة، والسبعة يشتمل على جميع هذه الأقسام. ثم إن أريد مبالغة جعلت آحادها أعشارا، ويحتمل أن حاصلها يرجع إلى أصل واحد، وهو تكميل النفس على وجه يصلح معاشه، ويحسن معاده، وذلك بأن يعتقد الحق، ويستقيم في العمل، وإليه أشار صلى الله عليه وسلم حيث قال لسفيان حين سأله في الإسلام قولا جامعًا: (قل: آمنت بالله: ثم استقم).
وفنون اعتقاد الحق ينشعب ستة عشر شعبة: طلب العلم، ومعرفة الصانع، وتنزيه عن النقائص، وما يتداعى إليها، والإيمان بصفات الإكرام، مثل الحياة، والعمل، والقدرة، والإقرار بالوحدانية، والاعتراف بأن ما عداه صنعه لا يوجد، ولا يعدم إلا بقضائه وقدره، والإيمان بالملائكة المتطهرة عن الرجس، وتصديق رسله المؤيدين بالآيات في دعوى النبوة، وحسن الإعتقاد فيهم، والعلم بحدوث العالم، واعتقاد فنائه على ما ورد به التنزيل، والجزم بالنشأة الثانية، وإعادة الأرواح إلى لاجساد، والإقرار باليوم الآخر، أعني بما فيه من الصراط والحساب، وموازنة الأعمال، وسائر ما تواتر عن الرسول صلى الله عليه وسلم والوثوق على وعد الجنة وثوابها، واليقين بوعيد النار وعقابها.
وفن العمل ينقسم إلى ثلاثة أقسام: أحدها يتعلق بالمرأ نفسه، وهو ينقسم إلى قسمين: أحدهما ما يتعلق بالباطن، وحاصله تزكية النفس عن الرذائل، وأمهاتها عشرة: شره الطعام، وشره الكلام، والبخل، والكبر، وحب المال، وحب الجاه، وحب الدنيا، والحقد والحسد، والرياء، والعجب، وتحلية النفس بالكمالات، وأمهاتها ثلاثة عشرة: التوبة، والخوف، والرجاء، والزهد، والحياء والشكر، والوفاء، والصبر، والإخلاص، والصدق، والمحبة، والتوكل، والرضى بالقضاء، وثانيها ما يتعلق بالظاهر، ويسمى العبادات، وشعبها ثلاث عشرة: طهارة البدن عن الحدث والخبث، وإقامة الصلاة، وإيتاء الزكاة، والقيام بأمر الجنايز، وصيام رمضان، والاعتكاف، وقراءة القرآن، وحج البيت، والعمرة، وذبح الضحايا، والوفاء بالنذكر، وتعظيم الإيمان وأداء الكفارات.
(কাদি): (লজ্জা) হলো এমন এক পরিবর্তন ও বিনয় যা কোনো নিন্দনীয় কাজের ভয়ে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়। বলা হয় যে, এটি 'হায়াত' বা জীবন শব্দ থেকে গৃহীত। লজ্জা অনুভূত হওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তন ও ভেঙে পড়ার অবস্থা তৈরি হয়, তাতে মনে হয় যেন তার জীবনশক্তি বাধাগ্রস্ত ও সামর্থ্য চূর্ণ হয়ে গেছে। এজন্য বলা হয় যে, কেউ লজ্জায় মৃত্যুবরণ করল অথবা লজ্জায় স্বস্থানে জড়সড় বা পাথর হয়ে গেল। এই গুণটিকে আলাদাভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, এটি ঈমানের অন্যান্য সকল শাখার প্রবর্তক ও অনুপ্রেরক। কেননা লজ্জাশীল ব্যক্তি পার্থিব লাঞ্ছনা ও পরকালীন ভয়াবহতাকে ভয় পায়, ফলে সে পাপাচার থেকে বিরত থাকে। তাই এটি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেহেতু ঈমান মূলত আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জন করার নাম।
(কাদি): রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: 'সত্তর বা তারও কিছু বেশি'—এখানে সংখ্যাটি নির্দিষ্ট গণনা বুঝানোর চেয়ে আধিক্য বুঝানোর উদ্দেশ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: 'যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন'। আধিক্য বুঝাতে সাত এবং সত্তর শব্দটির ব্যবহার প্রচুর। কারণ সাত সংখ্যাটি সংখ্যার সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা সংখ্যা জোড় বা বিজোড় হয়, এবং এর প্রতিটি আবার মৌলিক বা যৌগিক হয়। প্রথম বিজোড় হলো তিন, যৌগিক হলো পাঁচ; প্রথম জোড় হলো দুই, যৌগিক হলো চার। আবার সংখ্যাকে সুষম (যেমন চার) এবং বিষম (যেমন ছয়) হিসেবেও ভাগ করা যায়। সাত সংখ্যাটি এই সকল প্রকারকে ধারণ করে। অতঃপর যদি আরও আধিক্য বুঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে এর এককগুলোকে দশকে রূপান্তর করা হয়। আবার এমনও হতে পারে যে, এর সারমর্ম একটি মূল বিষয়ের দিকেই ফিরে যায়, আর তা হলো মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন জীবন সুন্দর করার লক্ষ্যে আত্মার পূর্ণতা সাধন। আর তা হলো সত্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও কর্মে অবিচল থাকা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুফিয়ানকে ইসলামের সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ কথা বলার সময় একথার দিকেই ইশারা করেছেন: 'বলো, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অতঃপর অবিচল থাকো'।
সত্য বিশ্বাসের শাখাগুলো ১৬টি ভাগে বিভক্ত: জ্ঞান অন্বেষণ করা, মহান স্রষ্টাকে চেনা, তাঁকে সকল দোষ-ত্রুটি ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে পবিত্র জানা, তাঁর মহিমান্বিত গুণাবলির প্রতি ঈমান আনা—যেমন জীবন, জ্ঞান ও শক্তি, তাঁর একত্ববাদ স্বীকার করা, আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুই তাঁর সৃষ্টি এবং তাঁর ফয়সালা ও তকদির ছাড়া কোনো কিছুর অস্তিত্ব লাভ বা ধ্বংস হওয়া সম্ভব নয় বলে স্বীকার করা, কলুষতামুক্ত ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা, মুজেযার মাধ্যমে সমর্থিত নবী-রাসুলগণের নবুওয়াতের দাবিতে সত্যয়ন ও তাঁদের প্রতি উত্তম বিশ্বাস পোষণ করা, জগত যে নতুনভাবে সৃষ্ট তা জানা এবং প্রত্যাদেশ অনুযায়ী এর বিনাশের বিশ্বাস রাখা, পুনরুত্থান ও দেহের সাথে রূহের পুনর্মিলন নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করা, পরকাল স্বীকার করা—অর্থাৎ পুলসিরাত, হিসাব-নিকাশ, আমলের ওজন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত অন্যান্য বিষয়কে বিশ্বাস করা, জান্নাতের প্রতিশ্রুতি ও এর পুরস্কারের ওপর আস্থা রাখা এবং জাহান্নামের ভীতি ও এর শাস্তির বিষয়ে সুনিশ্চিত থাকা।
কর্মের শাখাগুলো তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগটি ব্যক্তির নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি আবার দুই প্রকার: এক প্রকার অন্তরের সাথে সম্পর্কিত, যার মূল লক্ষ্য হলো আত্মাকে কুপ্রবৃত্তি থেকে পরিশুদ্ধ করা। এর মূল ব্যাধি দশটি: খাদ্যে লালসা, বাকপটুতা বা অনর্থক কথা বলা, কৃপণতা, অহংকার, সম্পদের মোহ, পদের মোহ, দুনিয়ার মোহ, বিদ্বেষ, হিংসা, রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত এবং আত্মগরিমা। আর আত্মাকে উৎকর্ষের মাধ্যমে সজ্জিত করা, যার মূল তেরোটি: তওবা, ভয়, আশা, দুনিয়াবিমুখতা, লজ্জা, শোকর, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, ধৈর্য, ইখলাস বা নিষ্ঠা, সত্যবাদিতা, ভালোবাসা, তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতা এবং তাকদিরে সন্তুষ্ট থাকা। দ্বিতীয় প্রকারটি বাহ্যিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যাকে ইবাদত বলা হয়। এর শাখা তেরোটি: নাপাকি ও অপবিত্রতা থেকে শরীর পবিত্র করা, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, জানাজার দায়িত্ব পালন করা, রমজানের রোজা রাখা, ইতিকাফ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, বায়তুল্লাহর হজ পালন করা, ওমরাহ করা, কোরবানি করা, মানত পূর্ণ করা, কসম বা শপথের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কাফফারা আদায় করা।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٤٠)
وثانيهما: ما يتعلق به وبخواصه وأهل منزلته وشعبها ثمان التعفف عن الزنا والنكاح والقيام بحقوقه والبر بالوالدين وصلة الرحم وطاعة السادة والإحسان إلى المماليك والعتق.
وثالثها: ما يعم الناس، وينوط به إصلاح العباد، وشعبها سبع عشرة: القيام بإمارة المسلمين، واتباع الجماعة، ومطاوعة أولى الأمر، ومعاونتهم على البر، وإحياء معالم الدين ونشرها، والامر بالمعروف والنهي عن المنكر، وحفظ الدين بالرجز عن الكفر، ومجاهدة الكفار، والمرابطة في سبيل الله، وحفظ النفس بالكف عن الجنايات، وإقامة حقوقها من القصاص والديات، وحفظ الأنساب وأعراض الناس بإقامة حدود الزنا والقذف، وصيانة العقل بالمنع عن تناول المسكرات والمخبثات بالتهديد والتأديب عليه، ودفع ضرر عن المسلمين، ومن هذا القبيل إماطة الأذى.
(غب): هذا حديث من تأمله وعرف حقيقته على أن الإيمان بالواجب هو اثنتان وسبعون درجة، لا يصح أن يكون أكثر منها ولا أقل، ولا يوجد من الإيمان ما هو خارج عنها بوجه.
وأقول: ثم شرع بعد هذا في تقسيم الإيمان بهذا العدد المخصوص، ولم نذكره لصعوبته، وها هو الإمام المتقن قدوة المحدثين أبو بكر البيهقي، قد صنف كتاب شعب الإيمان في مصنفات مجلدات مطنبا فيها كل الإطناب في حصر الاعداد.
وأقول - والعلم عند الله -: والأظهر أن يذهب إلى معنى التكثير، ويكون ذكر البضع للترقي، يعني أن شعب الإيمان أعداد مبعهمة، ولا نهاية لكثرتها، إذ لو أريد التحديد لم يبهمه، ولعمري أنه كذلك، وبيانه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بين ابتدائها وانتائها ووسطها. فلو أخذت من الابتداء إلى الانتهاء كان على وزن قوله (تعالى): إن الذين قالوا ربنا الله ثم استقاموا) معناه من رضي بالله ربّا، وعمل بمقتضاه، لم يدع ما يحب عليه أن ياتي ويذر، فإنك إن تنزلت من حديث خالق الموجودات إلى حديث الشوكة وإماطتها هل تجد شيئا مما يحسنه الشرع والعقل من الاخلاق، ومراضي الأعمال خارجا من ذلك؟ وكذا لو عكست وترقيت من إماطة الشوكة إلى الاعلى، ولو شرعت في معنى الحياء وفسرته بما ورد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: (استحيتوا من الله، قالوا: إنا نستحيي من الله يا رسول الله، والحمد لله، قال: ليس ذلك، ولكن الاستحياء من الله حق الحياء أن يحفظ الرأس وما وعى، والبطن وماحوى، ويذكر الموت والبلى، ومن أراد الآخرة ترك زينة الدنيا، وآثر الآخرة على الأولى، فمن فعل ذلك فقد استحيى من الله حق الحياء) لقد حاولت أمرًا عظيماً، وفيه إشارة إلى منازل السائرين إلى الله، والسالكين لطريق الآخرة.
قال الشيخ العارف أبو القاسم الجنيد (رحمة الله عليه): الحياء حالة تتولد في رؤية الآلاء ورؤية التقصير. وقد صنف الإمام أبو اسماعيل عبدالله الأنصاري فيها كتابًا، وحصرها في مائة باب، كل باب يشتمل على درجات شتى، ثم ليذق من منح الفضل الإلهي
এবং এর দ্বিতীয়টি হলো যা মানুষের ব্যক্তি-সত্তা, তার বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তার সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর শাখা আটটি: ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, বিবাহ ও এর অধিকারসমূহ আদায় করা, পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, মালিিক বা প্রভুদের আনুগত্য করা, অধীনস্থদের প্রতি ইহসান করা এবং তাদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করা।
এবং এর তৃতীয়টি হলো যা সর্বসাধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যার সাথে মহান আল্লাহর বান্দাদের সংশোধন ও কল্যাণ জড়িত। এর শাখা সতেরোটি: মুসলিমদের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা, জামাতের অনুসরণ করা, উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করা, নেক কাজে তাদের সহযোগিতা করা, দ্বীনের নিদর্শনসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করা ও তা প্রচার করা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা, কুফর প্রতিহত করার মাধ্যমে দ্বীন হিফাযত করা, কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারা দেওয়া, অপরাধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা, কিসাস ও দিয়াতের বিধান বাস্তবায়ন করা, যিনা ও অপবাদের দণ্ডবিধি কার্যকর করার মাধ্যমে বংশমর্যাদা ও মানুষের সম্মান রক্ষা করা, এবং কঠোর শাসন ও শাস্তির মাধ্যমে মাদক ও অপবিত্র বস্তু গ্রহণ থেকে বিরত রেখে আকল বা বুদ্ধি হিফাযত করা, মুসলিমদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা—আর এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা।
(গব): এটি এমন একটি হাদীস যে ব্যক্তি এতে চিন্তা-গবেষণা করবে এবং এর প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করবে, সে জানতে পারবে যে ওয়াজিব বা আবশ্যিক ঈমান বাহাত্তরটি স্তরে বিভক্ত। এর চেয়ে বেশি বা কম হওয়া সম্ভব নয় এবং ঈমানের এমন কোনো অংশ নেই যা কোনোভাবেই এর বাইরে বিদ্যমান।
আমি বলি: এরপর তিনি এই নির্দিষ্ট সংখ্যা অনুযায়ী ঈমানকে বিভক্ত করতে শুরু করেছেন, কিন্তু এর জটিলতার কারণে আমরা তা উল্লেখ করিনি। আর এই তো নিপুণ ইমাম, মুহাদ্দিসগণের আদর্শ আবু বকর আল-বাইহাকী ‘শুআবুল ঈমান’ নামক গ্রন্থটি কয়েক খণ্ডে সংকলন করেছেন, যেখানে তিনি এই সংখ্যাগুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
আমি বলি—আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই—অধিকতর স্পষ্ট মত হলো একে আধিক্যের অর্থে গ্রহণ করা, আর ‘বিয’উন’ (কয়েক) শব্দের উল্লেখটি উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য। অর্থাৎ ঈমানের শাখাগুলো সংখ্যায় অনির্দিষ্ট এবং এর আধিক্যের কোনো সীমা নেই। কারণ যদি সুনির্দিষ্ট সীমা উদ্দেশ্য হতো, তবে তিনি তা অস্পষ্ট রাখতেন না। আমার জীবনের কসম! বিষয়টি তেমনই। এর ব্যাখ্যা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুরু, শেষ এবং মধ্যভাগ বর্ণনা করেছেন। যদি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য করেন, তবে তা মহান আল্লাহর এই বাণীর সমতুল্য হবে: “নিশ্চয় যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে।” এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হলো এবং সে অনুযায়ী আমল করল, সে তার ওপর অর্পিত কোনো কর্তব্য পালন করতে বা বর্জনীয় বিষয় ত্যাগ করতে দ্বিধা করবে না। আপনি যদি সৃষ্টিজগতের স্রষ্টার কথা থেকে শুরু করে পথের কাঁটা সরানো পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে দৃষ্টিপাত করেন, তবে শরীয়ত ও বুদ্ধি বিবেচনার দৃষ্টিতে যা কিছু উত্তম চরিত্র ও পছন্দনীয় আমল রয়েছে, তার কোনোটিকে কি এর বাইরে পাবেন? তেমনিভাবে যদি আপনি এর বিপরীত করেন এবং কাঁটা সরানো থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তরে আরোহণ করেন, তবেও তাই হবে। আর যদি আপনি ‘হায়া’ বা লজ্জাশীলতার অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসের আলোকে তার ব্যাখ্যা করেন: (তোমরা আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করো। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আলহামদুলিল্লাহ আমরা আল্লাহকে লজ্জা করি। তিনি বললেন: বিষয়টি তেমন নয়, বরং আল্লাহর প্রতি যথাযথ লজ্জা হলো মাথা ও তাতে যা আছে তার হিফাযত করা, পেট ও তাতে যা সঞ্চিত হয় তার হিফাযত করা, এবং মৃত্যু ও পচাগলে যাওয়াকে স্মরণ করা। আর যে ব্যক্তি পরকাল চায়, সে দুনিয়ার চাকচিক্য ত্যাগ করে এবং ইহকালের ওপর পরকালকে প্রাধান্য দেয়। যে ব্যক্তি এমনটি করল, সে মূলত আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করল)। তবে আপনি এক মহান বিষয়ের অনুসন্ধান করলেন। আর এতে আল্লাহর দিকে ধাবমান পথিক এবং পরকালের পথের যাত্রীদের মাকাম বা স্তরসমূহের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
আরেফ বিল্লাহ শায়খ আবুল কাসিম আল-জুনাইদ (আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: ‘হায়া’ বা লজ্জা হলো এমন একটি অবস্থা যা আল্লাহর নিয়ামতসমূহ প্রত্যক্ষ করা এবং নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি অনুধাবন করার ফলে সৃষ্টি হয়। ইমাম আবু ইসমাইল আব্দুল্লাহ আল-আনসারী এ বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং একে একশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন, যার প্রতিটি অধ্যায় বিভিন্ন স্তরের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি যেন আল্লাহর অনুগ্রহের দান থেকে আস্বাদন করেন।
(খণ্ড: ٢)
শারহুল মিশকাত লিত্তীবী আল-কাশিফ আন হাকাইকিস সুনান
(পৃষ্ঠা: ٤٤١)
6 - وعن عبدالله بن عمرو، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (المسلمُ من سلم المسلمون
من يده، والمهاجرُ من هجر ما نهى الله عنه) هذا لفظ البخاري. ولمسلم قال:
(إن رجلاً سأل النبي صلى الله عليه وسلم: أي المسلمين خير؟ قال: من سلم المسلمون من لسانه
ويده).
ــ
ورزق الطبع السليم إفراد الحياء بالذكر بعد دخوله في الشعب، كأنه يقول: هذه شعبة
واحد من شعبه، فهل تحصى وتعد شعبها؟ هيهات! إن البحر لا ينزف.
وكفى بهذا الحديث شاهداً على أن الإيمان جامع للتصديق والإقرار والأعمال، ومن رده كابر
عقله. وظهر من هذا معنى التكثير في سبعين، ولخص بعض المفسرين قول علي بن عيسى
النحوي في ذلك وقال: السبعة أكمل الأعداد! لأن الستة أول عدد تام؛
لأنها تعادل أجزاؤها، فإن نصفها ثلاثة، وثلثها اثنان، وسدسها واحد، وجملتها ستة سواء،
وهي مع الواحد سبعة، وكانت كاملة؛ إذ ليست بعد التمام سوى الكمال، ولعل واضع اللغة
يسمى الأسد سبعاً لكمال قوته، كما أنه أسد لإساده في السير، ثم السبعون غاية الغاية؛ إذ
الآحاد غايتها العشرات. انظر أيها المتأمل، في هذه الألفاظ القليلة المستقلة بالمعاني الجمة الجليلة،
واشهد له أنه صلى الله عليه وسلم أوتى كنوز الحكمة، وفصل الخطاب.
الحديث الرابع عن عبدالله رضي الله عنه: قوله: (المسلم من سلم المسلمون) فإن قلت:
إذا سلم المسلمون منه يلزم أن يكون مسلما وإن لم يأت بسائر الأركان؟ قلت: هذا وارد على
سبيل المبالغة تعظيما لترك الإيذاء، كأن الإيذاء هو نفس الإسلام الكامل، ولعل واضع اللغة يسمى الأسد سبعاً لكمال قوته، كما أنه أسد لإساده في السير، ثم السبعون غاية الغاية؛ إذ الآحاد غايتها العشرات. انظر أيها المتأمل، في هذه الألفاظ القليلة المستقلة بالمعاني الجميلة الجليلة، واشهد له أنه صلى الله عليه وسلم أوتي كنوز الحكمة، وفصل الخطاب.
الحديث الرابع عن عبدالله رضي الله عنه: قوله: (المسلم من سلم المسلمون). فإن قلت: إذا سلم المسلمون منه يلزم أن يكون مسلما وإن لم يأت بسائر الأركان؟ قلت: هذا وارد على سبيل المبالغة تعظيما لترك الإيذاء، كأن ترك الإيذاء هو نفس الإسلام الكامل، وهو محصور فيه على الإدعاء كرماد. (حس): أراد أن المسلم الممدوح والمهاجر من هذه صفته، لا أن الإسلام ينتفي عمن لم يكن بهذه الصفة، فهو كقولهم: الناس العرب، والمال الإبل، يريدون أن الأفضل منهما ذلك، وكذلك أفضل المسلمين من جمع إلى أداء حقوق الله (تعالى) أداء حقوق المسلمين، والكف عن أعراضهم، وأفضل المهاجرين من جمع إلى هجران وطنه هجران ما حرم الله عليه. وأقول: تحقيقه أن التعريف في المسلم والمهاجر للجنس، قال ابن جني: من عادتهم أن يوقعوا على الشيء الذي يخصونه بالمدح اسم الجنس، ألا ترى كيف سموا الكعبة بالبيت؟ وكتاب سيبويه بالكتاب؟ (غب): كل اسم نوع فإنه يستعمل على وجهين: أحدهما: دلالة على المسمى وفصلا بينه وبين غيره. والثاني: لوجود المعنى المختص به، وذلك هو الذي يمدح به، وذلك أن كل ما اوجده الله في هذا العالم جعله صالحا لفعل خاص، ولا يصلح لذلك العمل سواه، كالفرس
৬ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার হাত হতে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে; আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করে।) এটি বুখারীর শব্দ। আর মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে:
(এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন: মুসলিমদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যার জিহ্বা ও হাত হতে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।)।
—
আর সুস্থ বিচারবুদ্ধি লজ্জাশীলতাকে ঈমানের শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত করার পর পৃথকভাবে উল্লেখ করার সৌভাগ্য লাভ করেছে; যেন তিনি বলছেন: এটি এর শাখাগুলোর মধ্যে কেবল একটি শাখা মাত্র, তবে কি এর সকল শাখাকে গণনা করে শেষ করা সম্ভব? অসম্ভব! নিশ্চয়ই সমুদ্র কখনো নিঃশেষ হয় না।
এই হাদীসটিই এ বিষয়ে সাক্ষ্য হিসেবে যথেষ্ট যে, ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং আমল বা কার্যাবলীর সমষ্টি; আর যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করবে, সে তার বিচারবুদ্ধির সঙ্গেই হঠকারিতা করবে। আর এখান থেকে সত্তর সংখ্যাটির দ্বারা আধিক্য বুঝানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়। জনৈক মুফাসসির এ বিষয়ে আলী ইবনে ঈসা আন-নাহবী’র উক্তিটি সংক্ষেপে এভাবে ব্যক্ত করেছেন: সাত হলো সংখ্যার দিক থেকে পূর্ণতম! কারণ ছয় হলো প্রথম পূর্ণ সংখ্যা; কারণ এটি এর উপাদানের সমতুল্য; যেমন এর অর্ধেক হলো তিন, এক-তৃতীয়াংশ দুই, এবং ষষ্ঠাংশ এক—যাদের সমষ্টি ঠিক ছয়।
আর এর সাথে এক যোগ করলে তা হয় সাত, যা পূর্ণতা লাভ করে; যেহেতু পূর্ণতার পরে আর কিছুই নেই। সম্ভবত ভাষাতত্ত্ববিদগণ সিংহকে 'সাবউ' (সাত শব্দ সংশ্লিষ্ট) নামকরণ করেছেন তার শক্তির পূর্ণতার কারণে, ঠিক যেমন তাকে 'আসাদ' বলা হয় ক্ষিপ্র গতির কারণে। অতঃপর সত্তর হলো চূড়ান্ত সীমা; যেহেতু এককের চূড়ান্ত সীমা হলো দশক। হে চিন্তাশীল পাঠক! লক্ষ্য করুন—অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই শব্দমালার প্রতি যা গভীর ও মহান অর্থ বহন করে; এবং সাক্ষ্য দিন যে, তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিকমত বা প্রজ্ঞার ভাণ্ডার এবং সুস্পষ্ট ভাষণ প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
চতুর্থ হাদীস আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত: তাঁর উক্তি: (প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যার থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে)। এখন আপনি যদি প্রশ্ন করেন: যদি মুসলিমরা তার থেকে নিরাপদ থাকে, তবে কি সে মুসলিম হওয়া আবশ্যক হবে যদিও সে অন্যান্য রুকন বা স্তম্ভসমূহ পালন না করে? আমি বলবো: এটি অতিশয়োক্তি হিসেবে বলা হয়েছে কষ্ট প্রদান পরিহার করার গুরুত্বকে মহিমান্বিত করার জন্য; যেন কষ্ট প্রদান না করাটাই হলো পূর্ণাঙ্গ ইসলাম। সম্ভবত ভাষাতত্ত্ববিদগণ সিংহকে 'সাবউ' নামকরণ করেছেন তার শক্তির পূর্ণতার কারণে, ঠিক যেমন তাকে 'আসাদ' বলা হয় ক্ষিপ্র গতির কারণে। অতঃপর সত্তর হলো চূড়ান্ত সীমা; যেহেতু এককের চূড়ান্ত সীমা হলো দশক। হে চিন্তাশীল পাঠক! লক্ষ্য করুন—অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই শব্দমালার প্রতি যা গভীর ও মহান অর্থ বহন করে; এবং সাক্ষ্য দিন যে, তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিকমত বা প্রজ্ঞার ভাণ্ডার এবং সুস্পষ্ট ভাষণ প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
চতুর্থ হাদীস আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত: তাঁর উক্তি: (প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যার থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে)। এখন আপনি যদি প্রশ্ন করেন: যদি মুসলিমরা তার থেকে নিরাপদ থাকে, তবে কি সে মুসলিম হওয়া আবশ্যক হবে যদিও সে অন্যান্য রুকনগুলো পালন না করে? আমি বলবো: এটি অতিশয়োক্তি হিসেবে বলা হয়েছে কষ্ট প্রদান পরিহার করার গুরুত্বকে মহিমান্বিত করার জন্য; যেন কষ্ট না দেয়াটাই হলো পূর্ণাঙ্গ ইসলাম, এবং রূপক অর্থে এটি এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। (হুস): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—প্রশংসিত মুসলিম এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে এই গুণের অধিকারী; এমন নয় যে, যার মধ্যে এই গুণ নেই তার ইসলামই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এটি ঠিক আরবদের সেই উক্তির মতো: "মানুষ মানেই আরব" এবং "সম্পদ মানেই উট"; তারা এর মাধ্যমে এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব বুঝাতে চান। অনুরূপভাবে, মুসলিমদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ যে আল্লাহ তায়ালার হক আদায়ের পাশাপাশি মুসলিমদের হক আদায় এবং তাদের সম্মান রক্ষা করে; আর মুহাজিরদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ যে স্বদেশ ত্যাগের পাশাপাশি আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা বর্জন করে। আমি বলি: এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো—'মুসলিম' এবং 'মুহাজির' শব্দদ্বয়ের নির্দিষ্টতা (আলিফ-লাম) আভিজাত্য বা জাতি বুঝানোর জন্য। ইবনুজ জিন্নি বলেছেন: আরবদের অভ্যাস হলো প্রশংসা করার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বস্তুকে জাতিবাচক বিশেষ্যের রূপ প্রদান করা। আপনি কি লক্ষ্য করেননি তারা কীভাবে কাবাকে 'আল-বাইত' (ঘর) এবং সিবাওয়াইহ-এর কিতাবকে 'আল-কিতাব' হিসেবে অভিহিত করেছেন? (গাব): প্রতিটি প্রকারের নাম দুইভাবে ব্যবহৃত হয়: প্রথমটি হলো যার নামকরণ করা হয়েছে তাকে নির্দেশ করা এবং অন্যের থেকে তাকে পৃথক করা। দ্বিতীয়টি হলো তার মাঝে বিদ্যমান বিশেষ গুণের কারণে, যার মাধ্যমে তার প্রশংসা করা হয়। আর তা এই কারণে যে, আল্লাহ এই পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাকে একটি বিশেষ কাজের যোগ্য করেছেন, যা অন্য কিছুর দ্বারা সম্ভব নয়, যেমন ঘোড়া...