(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: -)
أشرف الوسائل إلى فهم الشمائل   (ابن حجر الهيتمي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: أشرف الوسائل إلى فهم الشّمائل

(ومعه جواهر الدّرر في مناقب ابن حجر، لأبي بكر بن محمد الشافعي)

المؤلف: شهاب الدين أحمد بن حجر الهيتمي (ت 974 هـ)

تحقيق ودراسة: أحمد بن فريد المزيدي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 607

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1435

শামায়িল অনুধাবনের শ্রেষ্ঠতম মাধ্যমসমূহ   (ইবনে হাজার আল-হাইতামী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: শামায়িল অনুধাবনের শ্রেষ্ঠতম মাধ্যমসমূহ

(এবং এর সাথে রয়েছে আবু বকর বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ রচিত ‘জাওয়াহিরুদ দুরার ফি মানাকিবি ইবনি হাজার’ বা ইবনে হাজারের গুণাবলীতে মুক্তার রত্নরাজি’)

লেখক: শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন হাজার আল-হাইতামী (মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি)

সম্পাদনা ও গবেষণা: আহমদ বিন ফরিদ আল-মাযিদী

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تصدير

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الخلق وحبيب الحق سيدنا محمد، صلى الله عليه وعلى آله الطيبين الطاهرين.

وبعد:

فإن كتب شمائل وأحوال المصطفى صلى الله عليه وسلم من أعلى الكتب درجة، وأرفعها منزلة، وأكرمها شأنا ومكانة، لما تحويه من صور عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم تصويرا دقيقا يجعلنا نقف أمام حياته لنتأملها، فتكون لنا سراجا منيرا، وسبيلا مبينا للسعادتين فى الدنيا والآخرة، وتجعلنا نقتفى أثره، ونسير على نهجه ومنهجه، حتى نهدى إلى الصراط المستقيم، وكيف لا؟ وهو الذى زكاه ربه بقوله: وَمايَنْطِقُ عَنِ اَلْهَوى فهو قرآن يمشى على الأرض.

وكتاب الشمائل هذا الذى قام بشرحه العلامة الفقيه ابن حجر الهيتمى، يعتبر من أعظم ما صنف فى شمائل النبى صلى الله عليه وسلم، فهو الكتاب الأول المعتمد عند أهل الحديث والسير، وقد هيّأ الله لمن يقم بتحقيق شرحه الجميل الوافى: الشيخ أحمد فريد، المعروف بأبى الفوارس المزيدى، وهو من طلاب العلم الذين توسمنا فيهم الخير والصلاح، الذين تعلموا على أيدى المشايخ والعلماء الأجلاء، والله حسيبه.

ونسأل الله أن يوفقنا جميعا لما يحبه ويرضاه، وأن ينفعنا وسائر المسلمين بالعلم وأهله، إنه قريب مجيب، سميع الدعاء.

وصلى الله على سيدنا محمد وسلم تسليما كثيرا.

وكتبه كمال عبد العظيم العنانى أستاذ الفقه العام بكلية الشريعة الإسلامية جامعة الأزهر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌মুখবন্ধ

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সত্যের প্রিয়তম আমাদের নেতা মুহাম্মাদের উপর, তাঁর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অত:পর:

নিশ্চয়ই মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শামায়েল (গুণাবলি) ও অবস্থা বিষয়ক গ্রন্থসমূহ মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ, অবস্থানের দিক থেকে উন্নত এবং গুরুত্ব ও মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের এমন সূক্ষ্ম চিত্র ফুটে উঠেছে যা আমাদের তাঁর জীবনের সামনে দাঁড়িয়ে তা নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করে। ফলে তা আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল প্রদীপ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের উভয় জগতের সৌভাগ্যের এক সুস্পষ্ট পথ হয়ে দাঁড়ায়। এটি আমাদের তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে এবং তাঁর তরীকা ও মানহাজ অনুযায়ী চলতে অনুপ্রাণিত করে, যাতে আমরা সরল সঠিক পথের দিশা পাই। আর কেনই বা তা হবে না? তিনি তো সেই সত্তা যার পবিত্রতার ঘোষণা স্বয়ং তাঁর প্রতিপালক এই বাণীর মাধ্যমে দিয়েছেন: "এবং তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না", ফলে তিনি ছিলেন জমিনের বুকে বিচরণকারী এক জীবন্ত কুরআন।

শামায়েলের এই কিতাবটি, যার ব্যাখ্যা করেছেন আল্লামা ফকিহ ইবনে হাজার আল-হাইতামি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শামায়েল বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত। এটি আহলে হাদিস এবং সীরাত বিশেষজ্ঞদের নিকট প্রথম সারির নির্ভরযোগ্য কিতাব। আল্লাহ তাআলা এই সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থটির তাহকীক (সম্পাদনা) করার জন্য শায়খ আহমদ ফারিদকে নিয়োজিত করেছেন, যিনি আবুল ফাওয়ারিস আল-মাযিদি নামে পরিচিত। তিনি এমন একজন ইলম অন্বেষী যার মধ্যে আমরা কল্যাণ ও সততার লক্ষণ দেখতে পেয়েছি, যিনি বরেণ্য শায়খ ও ওলামায়ে কেরামের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আল্লাহই তার হিসাব গ্রহণকারী।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজে তাওফীক দান করেন এবং জ্ঞান ও জ্ঞানীদের মাধ্যমে আমাদের ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, কবুলকারী এবং প্রার্থনা শ্রবণকারী।

এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদের উপর আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন কামাল আব্দুল আজিম আল-আনানি, অধ্যাপক, সাধারণ ফিকহ বিভাগ, ইসলামি শরীয়াহ অনুষদ, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستهديه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله.

اللهم صلّ على محمد النبى وأزواجه أمهات المؤمنين وذريته وأهل بيته كما صليت على آل إبراهيم فى العالمين. . . إنك حميد مجيد.

ياأَيُّهَا اَلَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اَللهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ [آل عمران:102].

ياأَيُّهَا اَلنّاسُ اِتَّقُوا رَبَّكُمُ اَلَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهازَوْجَهاوَبَثَّ مِنْهُمارِجالاً كَثِيراً وَنِساءً وَاِتَّقُوا اَللهَ اَلَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَاَلْأَرْحامَ إِنَّ اَللهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً [النساء:1].

ياأَيُّهَا اَلَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اَللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً* يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اَللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً [الأحزاب:70،71].

فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدى هدى سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة فى النار.

أما بعد:

فلقد كان اتباع النبى صلى الله عليه وسلم لازما لتمام محبته، والاهتداء بهديه، والاقتداء بمنهجه فى الأقوال، والأفعال، والصفات، وقد علم السلف الصالح رضوان الله عليهم مكانة السنة عندهم، فاجتهدوا فى تدوينها، خاصة ما كان من شمائله صلى الله عليه وسلم وأوامره ونواهيه، وهيّأ الله تبارك وتعالى إماما عظيما حافظا فقيها، ليجمع كتابه الرائع البديع «الشمائل النبوية» حيث شمائل أشرف خلق البرية، محمدا صلى الله عليه وسلم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌তাহকীক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ভূমিকা

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁর কাছেই হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে আল্লাহ! নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর স্ত্রীগণ—যারা মুমিনদের জননী—তাদের ওপর এবং তাঁর বংশধর ও আহলে বায়তের ওপর রহমত নাযিল করুন, যেভাবে আপনি বিশ্বজগতের মাঝে ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর রহমত নাযিল করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না [আলে ইমরান: ১০২]।

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক [আন-নিসা: ১]।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর:

নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা পূর্ণ করার জন্য তাঁর অনুসরণ করা, তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী পথ চলা এবং কথা, কাজ ও গুণাবলিতে তাঁর আদর্শকে অনুকরণ করা অপরিহার্য। সালাফে সালেহীন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—তাঁদের নিকট সুন্নাহর মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাই তাঁরা তা সংকলনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য (শামায়েল), তাঁর আদেশ ও নিষেধ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা একজন মহান ইমাম, হাফিয ও ফকীহকে তাওফীক দিয়েছেন যাতে তিনি তাঁর চমৎকার ও অনুপম গ্রন্থ 'শামায়েলুন নাবাবিয়্যাহ' সংকলন করেন, যেখানে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৫)
وحينما نظرت إلى مشروع هذا الكتاب المبارك وجدت أفضل شروحه على الإطلاق، شرح العلامة شهاب الدين أحمد بن حجر الهيتمى، حيث استفاد بمن قبله، كالقسطلانى، صاحب «الحاشية على الشمائل»، والإسفرائينى، وكان كل من أتى بعد الحافظ ابن حجر الهيتمى يقوم ليشرح الشمائل، كان لا بد له أن يرجع لأشرف الوسائل، حتى أنك أيها القارئ الكريم تجد النص متقاربا جدا، ولكن الرجوع إلى الأصل هو دأب طلبة العلم، وممن قاموا بشرح الشمائل بعد ابن حجر، الملا على القارئ، وكذلك عبد الرءوف المناوى، والبيجورى، وحسن الجمل، ومحمد بن قاسم ابن جسّوس، والدومى، واختصره البعض، كالشيخ الألبانى حفظه الله، ومحمود سامى، وأحمد عبد الجواد الدومى.

 

‌‌وقد اعتمدت فى شرح الكتاب على النسخ الآتية:

‌‌1 - النسخة الأصل:

وهى المحفوظة بدار الكتب المصرية-حرسها الله-تحت رقم (487) حديث، وهى نسخة بالرغم ما بها من آثار رطوبة شديدة، وطمس، إلا أنها أتم ما اطلعت عليه من النسخ.

 

‌‌2 - النسخة الثانية:

وهى أيضا من محفوظات دار الكتب المصرية، تحت رقم (693) حديث.

وهذه النسخة بها من السقط الكثير، ولكنها تمتاز بالخط الجيد المقروء، وقد رمزت لها بالرمز (ش).

 

‌‌3 - النسخة الثالثة:

وهى المحفوظة بالدار أيضا تحت رقم (136) حديث.

وهى نسخة واضحة الخط جدا، إلا أن بها بياض كثير، وسقط فى بعض المواضع، ورمزت بها بالرمز (ب).
যখন আমি এই বরকতময় কিতাবের প্রকল্পের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম, তখন আমি এর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে আল্লামা শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনে হাজার আল-হাইতামীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে পেলাম। তিনি তাঁর পূর্ববর্তীদের থেকে উপকৃত হয়েছেন, যেমন ‘হাশিয়া আলাশ শামায়েল’-এর লেখক কাসতালানী এবং ইসফারাইনী। হাফেজ ইবনে হাজার আল-হাইতামীর পরে যারা শামায়েল ব্যাখ্যা করতে এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য ‘আশরাফুল ওয়াসায়েল’-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করা অপরিহার্য ছিল। এমনকি হে সম্মানিত পাঠক, আপনি দেখবেন যে মূল পাঠগুলো খুব কাছাকাছি, তবে মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়াই হলো ইলম অন্বেষণকারীদের রীতি। ইবনে হাজারের পরে যারা শামায়েলের ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মোল্লা আলী আল-কারী, তেমনিভাবে আবদুর রউফ আল-মুনাবী, আল-বাই জুরী, হাসান আল-জামাল, মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে জাসসূস এবং আদ-দূমী। কেউ কেউ একে সংক্ষিপ্ত করেছেন, যেমন শায়খ আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন), মাহমুদ সামী এবং আহমদ আবদুল জাওয়াদ আদ-দূমী।

 

‌‌এবং আমি কিতাবটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি:

‌‌১ - মূল পাণ্ডুলিপি:

এটি মিসরের দারুল কুতুব আল-মিসরীয়্যাহ-তে (আল্লাহ একে রক্ষা করুন) সংরক্ষিত আছে, যার হাদিস নম্বর (৪৮৭)। এটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি যাতে প্রচুর আর্দ্রতার প্রভাব এবং অস্পষ্টতা থাকা সত্ত্বেও, এটি আমার দেখা পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ।

 

‌‌২ - দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:

এটিও দারুল কুতুব আল-মিসরীয়্যাহ-এর সংরক্ষিত সংগ্রহ থেকে নেওয়া, যার হাদিস নম্বর (৬৯৩)।

এই পাণ্ডুলিপিটিতে অনেক বিচ্যুতি রয়েছে, তবে এর বৈশিষ্ট্য হলো এর সুন্দর ও পাঠযোগ্য হস্তাক্ষর। আমি একে (শ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

 

‌‌৩ - তৃতীয় পাণ্ডুলিপি:

এটিও উক্ত প্রতিষ্ঠানে হাদিস নম্বর (১৩৬)-এর অধীনে সংরক্ষিত আছে।

এই পাণ্ডুলিপির হস্তাক্ষর অত্যন্ত স্পষ্ট, তবে এতে অনেক ফাঁকা জায়গা এবং কিছু স্থানে বিচ্যুতি রয়েছে। আমি একে (ব) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌منهج التحقيق

أولا: قمت بنسخ الكتاب، وتفصيله، وترقيمه، وفصل المتن عن الشرح.

ثانيا: قمت بالمقابلة للنسخ الأخرى، لإثبات الفروق اللازمة، وإملاء البياضات، والطمس، والسقط وغير ذلك، حتى يبدو النص واضحا سليما، صحيحا إن شاء الله تعالى.

ثالثا: قمت بدراسة أسانيد كتاب الشمائل، بالحكم عليها وتخريجها من كتب السنة ما استطعت لذلك سبيلا.

رابعا: قمت بتخريج أحاديث الشرح، وبذلت فى ذلك جهدا بالغا كبيرا، قدر المستطاع.

خامسا: عزو الآيات إلى سورها، مع أرقامها.

سادسا: التعليق على بعض المسائل والأقوال الواردة فى الكتاب، خاصة المسائل العقدية، وذلك بدراسته دراسة تدل على المطلوب والمقصود.

سابعا: توثيق بعض الأقوال الفقهية واللغوية وغيرها.

ثامنا: وضع فهارس للكتاب، ليسهل على القارئ معرفة أحاديث الأبواب، وكذا فهرست للموضوعات.

تاسعا: قمت بعمل ترجمة وافية للمصنف، شارح الكتاب ابن حجر الهيتمى.

عاشرا: ألحقت بالكتاب كتابا آخرا، وهو مناقب ابن حجر الهيتمى لتلميذه أبى بكر الشافعى.

وأخيرا أسأل الله جل وعلا التوفيق والسداد، ولا ندعى الكمال أبدا، بل هذا جهد المقل، وهو محاولة الاقتراب من الخير والصواب، والتعرض له «فسددوا وقاربوا». فما كان فيه من الصواب فمن فضل الله وتوفيقه، وما كان فيه من خطأ أو زلل، فمن ذنوبنا والشيطان.

ولا يسعنى إلا أن أتقدم بالشكر لمشايخى وأساتذتى، ولمن ساهم معنا فى تحقيق هذا
তাহকীক পদ্ধতি

প্রথমত: আমি মূল কিতাবটির অনুলিখন করেছি এবং এর বিস্তারিত বিন্যাস ও নম্বর প্রদান করার পাশাপাশি মূল পাঠকে (মতন) ব্যাখ্যা (শারহ) থেকে পৃথক করেছি।

দ্বিতীয়ত: প্রয়োজনীয় পাঠভেদ নিশ্চিত করা, শূন্যস্থান পূরণ করা এবং ঝাপসা ও বিলুপ্ত অংশগুলো উদ্ধার করার লক্ষ্যে আমি অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাথে এর তুলনা (মুকাবালা) করেছি, যাতে ইনশাআল্লাহ তাআলা মূল পাঠ্যটি স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে ফুটে ওঠে।

তৃতীয়ত: আমি 'শামায়েল' কিতাবের সনদসমূহ নিয়ে গবেষণা করেছি, সেগুলোর মান নির্ণয় করেছি এবং সাধ্যানুযায়ী সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে সেগুলোর তথ্যসূত্র (তাখরীজ) বের করেছি।

চতুর্থত: আমি ব্যাখ্যার হাদিসসমূহের তথ্যসূত্র বের করেছি এবং এই কাজে সাধ্যমতো সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করেছি।

পঞ্চমত: আয়াতসমূহকে তাদের সূরার নাম ও নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট করা।

ষষ্ঠত: কিতাবে বর্ণিত কিছু মাসআলা ও বক্তব্যের ওপর টীকা প্রদান করেছি, বিশেষ করে আকিদাগত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে; এমনভাবে পর্যালোচনা করেছি যা উদ্দিষ্ট ও কাঙ্ক্ষিত অর্থের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

সপ্তমত: কিছু ফিকহী, ভাষাগত ও অন্যান্য বক্তব্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই ও উৎস (তাওসীক) উল্লেখ করা।

অষ্টমত: কিতাবটির নির্ঘণ্ট তৈরি করা, যাতে পাঠকের জন্য বিভিন্ন অধ্যায়ের হাদিস ও বিষয়সমূহ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

নবমত: আমি কিতাবটির ব্যাখ্যাকার ইবনে হাজার হাইতামীর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী তৈরি করেছি।

দশমত: আমি এই গ্রন্থটির সাথে আরেকটি কিতাব যুক্ত করেছি, আর সেটি হলো তাঁর ছাত্র আবু বকর শাফেয়ীর রচিত ইবনে হাজার হাইতামীর গুণাবলি (মানাকিব) বিষয়ক গ্রন্থ।

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর কাছে তাওফীক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি। আমরা কখনোই পূর্ণতার দাবি করি না, বরং এটি আমাদের সামান্য প্রচেষ্টা এবং কল্যাণ ও সঠিকতার নিকটবর্তী হওয়ার একটি প্রয়াস মাত্র; যা মূলত 'সঠিক পথে থেকো এবং সঠিকতার নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করো' এই বাণীর প্রতিফলন। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাওফীক, আর যা কিছু ভুল বা বিচ্যুতি রয়েছে তা আমাদের নিজেদের গুনাহ এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।

আমি আমার শ্রদ্ধেয় শায়খগণ ও উস্তাদদের প্রতি এবং যারা আমাদের সাথে এই তাহকীক কার্যে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়া থাকতে পারছি না।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৭)
الكتاب: الشيخ حسين الحوارتى، والأستاذة شيرين علاء الدين البيومى، والأستاذة صفاء عبد العاطى.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه أبو الفوارس أحمد فريد أحمد المزيدى ليسانس الحديث-أصول الدين-جامعة الأزهر الأندلس-الهرم-القاهرة
কিতাবটি: শায়খ হুসাইন আল-হাওয়ারতি, অধ্যাপিকা শিরিন আলাউদ্দিন আল-বায়ুমি এবং অধ্যাপিকা সাফা আব্দুল আতি।

এবং আমাদের সর্বশেষ ঘোষণা হলো যে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন আবু আল-ফাওয়ারিস আহমাদ ফরিদ আহমাদ আল-মাজিদি, হাদিস বিভাগে স্নাতক-উসুলুদ দ্বীন-আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, আল-আন্দালুস-আল-হারাম (পিরামিড)-কায়রো।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ترجمة المصنف

*‌‌ اسمه ونسبه:

هو الإمام العالم العلامة شهاب الدين أبو العباس أحمد بن محمد بن محمد بن على ابن محمد بن على بن حجر الهيتمى، السّعدى، الأنصارى، الشافعى، المصرى، ثم المكى.

فهو السلمنتى أصلا، والهيتمى مولدا-فى محلة أبى الهيتم-من إقليم الغربية بمصر -والوائلى السعدى نسبا-نسبة إلى بنى سعد من عرب الشرقية بمصر.

 

*‌‌ مولده:

ولد الإمام فى شهر رجب سنة تسعمائة وتسع (909 هـ).

 

*‌‌ نشأته العلمية ورحلاته:

مات أبوه وهو صغير فكفله الإمامان: شمس الدين بن أبى الحمائل وشمس الدين الشناوى. وقد نقله الإمام شمس الدين الشناوى إلى مقام أحمد البدوى بقرية طنطا بمصر، وهناك قرأ مبادئ العلوم، ثم نقله بعد ذلك إلى الجامع الأزهر الشريف سنة (924 هـ)، فأخذ عن علماء الأزهر الأفاضل ونهل من علمهم الفقه والتفسير، والحديث وغيرها من العلوم، وقد أذن له بالإفتاء والتدريس وعمره دون العشرين، وبرع فى علوم كثيرة منها التفسير، والحديث، وعلم الكلام، والفقه، والأصول، والفرائض والحساب والنحو، والصرف، والمعانى، والبيان، والمنطق، والتصوف. ومن محفوظاته: المنهاج الفرعى، ومفرداته: لا يمكن حصرها، وأما إجازات المشايخ له: فكثيرة جدا، استوعبها فى معجم‌‌ مشايخه. وقد قدم الإمام إلى مكة فى آخر سنة ثلاث وثلاثين، فحج وجاور بها، ثم عاد إلى مصر، ثم حجّ بعياله فى آخر سنة سبع وثلاثين، ثم حجّ سنة أربعين وجاور من ذلك الوقت بمكة، وأقام يدرس ويفتى ويؤلف ويملى بالمسجد الحرام بمكة المكرمة.

 

* مشايخه:

لقد أخذ ابن حجر العلم عن مشايخ كثيرين فمنهم:

1 - شهاب الدين الرملى الشافعى.
গ্রন্থকারের পরিচিতি

*‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী ইবনে মুহাম্মদ বিন আলী ইবনে হাজার আল-হাইতামি, আস-সা’দি, আল-আনসারি, আশ-শাফিয়ি, আল-মিসরি, অতঃপর আল-মাক্কি।

তিনি মূলগতভাবে সালামান্তি এবং জন্মসূত্রে হাইতামি—মিসরের গারবিয়্যাহ প্রদেশের ‘মাহাল্লাতু আবি আল-হাইতাম’ নামক স্থানে—এবং বংশগতভাবে ওয়াইলি সা’দি, যা মিসরের শারকিয়্যাহ অঞ্চলের আরব বনু সা’দ গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত।

 

*‌‌ তাঁর জন্ম:

ইমাম ৯০৯ হিজরি সনের রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন।

 

*‌‌ তাঁর শিক্ষা জীবন ও সফরসমূহ:

শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে দুই ইমাম—শামসুদ্দীন ইবনে আবিল হামাইল এবং শামসুদ্দীন আশ-শিন্নাউয়ি তাঁর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইমাম শামসুদ্দীন আশ-শিন্নাউয়ি তাঁকে মিসরের তানতা পল্লীর আহমদ আল-বাদাভির মাকামে নিয়ে যান এবং সেখানে তিনি প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি ৯২৪ হিজরি সনে তাঁকে জামি’ আল-আযহার শরীফে নিয়ে যান। সেখানে তিনি আল-আযহারের শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁদের নিকট হতে ফিকহ, তাফসির, হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রের ইলম লাভ করেন। মাত্র বিশ বছর বয়সের পূর্বেই তাঁকে ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি অনেকগুলো শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, যার মধ্যে রয়েছে তাফসির, হাদিস, ইলমুল কালাম, ফিকহ, উসুল (মূলনীতি), ফারাইয (উত্তরাধিকার আইন), হিসাববিজ্ঞান, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), আল-মাআনি, আল-বায়ান, মানতিক (তর্কশাস্ত্র) এবং তাসাউফ। তাঁর মুখস্থকৃত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ‘আল-মিনহাজ আল-ফারই’ এবং তাঁর অনন্য পারদর্শিতার বিষয়গুলো বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। আর শিক্ষকদের থেকে প্রাপ্ত তাঁর ইজাযতসমূহ (অনুমতিপত্র) সংখ্যায় অনেক, যা তিনি তাঁর ‘মু’জামু মাশায়িখিহি’ গ্রন্থে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। ইমাম ৩৩ হিজরি সনের (৯৩৩ হি.) শেষভাগে মক্কায় আসেন এবং হজ পালন করে সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি মিসরে ফিরে যান এবং ৩৭ হিজরি সনের (৯৩৭ হি.) শেষে সপরিবারে পুনরায় হজ করতে আসেন। এরপর ৪০ হিজরি সনে (৯৪০ হি.) হজ করেন এবং সেই সময় থেকে মক্কায় স্থায়ীভাবে অবস্থান শুরু করেন। তিনি মক্কাতুল মুকাররমার মসজিদুল হারামে পাঠদান, ফতোয়া প্রদান, গ্রন্থ রচনা ও শ্রুতিলিখনের কার্যে নিয়োজিত থাকেন।

 

* তাঁর শিক্ষকগণ:

ইবনে হাজার বহু সংখ্যক শিক্ষকের নিকট হতে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - শিহাবুদ্দীন আর-রামলি আশ-শাফিয়ি।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৯)
2 - الشهاب بن الصائغ.

3 - شهاب الدّين أحمد بن يحيى الأيدونى.

4 - شهاب الدين أحمد بن أحمد الطيبى.

5 - الشهاب بن النّجار الحنبلى.

6 - شهاب الدين أحمد الغزّى.

7 - الشمس المشهدى.

8 - الشمس السمهودى.

9 - الشمس اللّقانى الضيروطى.

10 - شيخ الإسلام زكريا بن محمد الأنصارى.

11 - الشيخ عبد الحق السنباطى.

12 - أبو الحسن البكرى.

13 - شمس الدين الشنشورى.

وغيرهم خلق كثير.

 

*‌‌ تلامذته:

أخذ العلم عن شهاب الدين ابن حجر الهيتمى خلق كثير من مختلف البلاد والأقطار، خاصة من مصر، ومكة المكرمة، حيث ما كان يدرس بالحرم الشريف، فكان يملى شرح المنهاج، والإرشاد، والشمائل، وغيرها من التصانيف النافعة، فمن تلامذته الأجلاء:

أبو عمر أبو بكر بن محمد بن عبد الله الشافعى، صاحب (مناقب ابن حجر).

 

*‌‌ مؤلفاته:

‌‌فالمطبوع منها حسب علمنا الكتب التالية:

1 - الفتاوى الفقهية، والفتاوى الحديثية.

2 - الزواجر فى اقتراف الكبائر.

3 - تحفة المحتاج لشرح المنهاج للنووى.
2 - শিহাব বিন আস-সাইগ।

3 - শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-আইদুনি।

4 - শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন আহমদ আত-তিবি।

5 - শিহাব বিন আন-নাজ্জার আল-হাম্বলি।

6 - শিহাবুদ্দীন আহমদ আল-গাজ্জি।

7 - শামস আল-মাশহাদি।

8 - শামস আস-সামহুদি।

9 - শামস আল-লাকানি আদ-দাইরুতি।

10 - শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি।

11 - শায়খ আব্দুল হক আস-সিনবাতি।

12 - আবুল হাসান আল-বাকরি।

13 - শামসুদ্দীন আশ-শানশুরি।

এবং তাঁদের ছাড়া আরও অসংখ্য লোক।

 

*‌‌ তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার আল-হাইতামির নিকট থেকে বিভিন্ন দেশ ও জনপদ থেকে আগত অসংখ্য লোক জ্ঞান অর্জন করেছেন, বিশেষ করে মিশর ও মক্কা মুকাররমা থেকে; যখন তিনি হারাম শরীফে পাঠদান করতেন। তিনি শরহুল মিনহাজ, আল-ইরশাদ, আশ-শামায়েল এবং অন্যান্য উপকারী রচনাবলি পাঠ করে শোনাতেন। তাঁর বিশিষ্ট ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:

আবু উমর আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ি, (মানাকিবু ইবনে হাজার) গ্রন্থের রচয়িতা।

 

*‌‌ তাঁর রচনাবলি:

‌‌আমাদের জানামতে তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত কিতাবগুলো রয়েছে:

1 - আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ এবং আল-ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ।

2 - আজ-জাওয়াজির ফি ইক্তিরাফিল কাবায়ির।

3 - তুহফাতুল মুহতাজ লি-শরহিল মিনহাজ লিন-নওয়াবি।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১০)
4 - الخيرات الحسان فى مناقب أبى حنيفة النعمان.

5 - الجوهر المنظم فى زيارة قبر النبى المعظم.

6 - الصواعق المحرقة على أهل البدع والزنادقة.

7 - الإعلام بقواطع الإسلام فى الألفاظ المكفرة.

8 - المنهج القويم فى مسائل التعليم.

9 - المنح المكية فى شرح الهمزة البوصيرية.

10 - إسعاف الأبرار شرح مشكاة الأنوار.

11 - فتح المبين فى شرح الأربعين (النووية).

12 - مبلغ الأرب فى فضائل العرب.

13 - كفّ الرعاع عن محرمات اللهو والسماع.

14 - أحاديث النكاح.

 

‌‌أما المخطوطات:

1 - أشرف الوسائل فى شرح الشمائل للترمذى، وهو كتابنا هذا.

2 - الفتاوى الحديثية.

3 - شرح مشكاة المصابيح للتبريزى.

4 - الإمداد فى شرح الإرشاد للمقرئ.

5 - الدرر الزاهرة فى كشف بيان الآخرة.

6 - خلاصة الأئمة الأربعة.

7 - تحذير الثقات من أكل الكفتة والقات.

8 - الإيعاب فى شرح العباب.

9 - تحرير المقال فى آداب وأحكام يحتاج إليها مؤدبو الأطفال.

10 - القول المختصر فى علامات المهدى المنتظر.

11 - كنز الناظر فى مختصر الزواجر.

12 - تاريخ الخلفاء الراشدين.
৪ - ইমাম আবু হানিফা আল-নুমানের মহাত্ম্য বর্ণনায় অতি উত্তম কল্যাণসমূহ।

৫ - মহান নবীর রওজা জিয়ারত সংক্রান্ত সুবিন্যস্ত মণি।

৬ - বিদআত ও ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দহনকারী বজ্রসমূহ।

৭ - কুফরি কালামের মাধ্যমে ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবহিতকরণ।

৮ - শিক্ষা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহে সঠিক পথ।

৯ - বুসিরি-র হামজিয়্যা-র ব্যাখ্যায় মক্কী উপহারসমূহ।

১০ - মিশকাতুল আনোয়ার-এর ব্যাখ্যায় পুণ্যবানদের কল্যাণ।

১১ - ইমাম নববীর আরবাঈন-এর ব্যাখ্যায় সুস্পষ্ট বিজয়।

১২ - আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় লক্ষ্যের চূড়ান্ত সীমা।

১৩ - নিষিদ্ধ খেল-তামাশা ও গান-বাজনা হতে সাধারণদের নিবৃত্তকরণ।

১৪ - বিবাহ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

 

‌‌পাণ্ডুলিপিসমূহ:

১ - ইমাম তিরমিযী-র শামায়িল-এর ব্যাখ্যায় সর্বোত্তম মাধ্যম; যা আমাদের বর্তমান এই গ্রন্থ।

২ - হাদিস বিষয়ক ফতোয়াসমূহ।

৩ - তিবরিযী-র মিশকাতুল মাসাবীহ-এর ব্যাখ্যা।

৪ - মুকরি-র আল-ইরশাদ-এর ব্যাখ্যায় প্রদত্ত সহায়তা।

৫ - পরকাল বর্ণনায় উজ্জ্বল মুক্তাসমূহ।

৬ - চার ইমামের জীবন-সারসংক্ষেপ।

৭ - কোফতা ও কাত ভক্ষণ হতে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সতর্কতা প্রদান।

৮ - আল-উবাব-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।

৯ - শিশুদের শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় আদব ও বিধানাবলী সংশোধন।

১০ - প্রতীক্ষিত মাহদীর আলামতসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।

১১ - আয-যাওয়াজির-এর সংক্ষেপণে দর্শকের গুপ্তধন।

১২ - খোলাফায়ে রাশেদীনের ইতিহাস।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১১)
13 - كنه أمراد فى شرح بانت سعاد.

14 - المطالب فى صلة الأقارب.

15 - الإيضاح لما جاء فى الراشدين.

16 - الإيضاح والبيان لما جاء فى ليلتى الرغائب والنصف من شعبان.

17 - النعمة الكبرى على العالم بمولد سيد بنى آدم.

18 - الدر المنضود فى الصلاة والسلام على صاحب المقام المحمود.

19 - زوائد على سنن ابن ماجه.

20 - تطهير الجنان واللسان من الخوض والتفوه بثلب معاوية بن أبى سفيان.

21 - أربعون عدلية.

22 - در الغمامة فى در الطيلسان والعذبة والعمامة.

23 - تنبيه الأخيار عن معضلات وقعت فى كتاب الوظائف وأذكار الأذكار.

24 - تلخيص الإصرا فى حكم الطلاق المعلق بالإبرا.

25 - تطهير العيبة من دنس الغيبة.

26 - النخب العلية فى الخطب.

27 - قرة العين فى بيان أن التبرع لا يبطله الدين.

 

*‌‌ عقيدته:

مع كون شيخ الإسلام ابن حجر الهيتمى علامة وإماما كبيرا له علمه وقدره ومكانته بين العلماء إلا أنه له من الأشياء ما غبّر به علمه رحمه الله، فمنها: نهجه نهج المتكلمة من الأشعرية حتى أنه كان يقول بتأويل الصفات، ونفى العلو والفوقية، والانتصار لمشايخ المتصوفة الغلاة. أمثال: محيى الدين ابن عربى، والقسطلانى، والجيلانى، والباقلانى، وغيرهم ممن اتبعوا نهج المتكلمة والمتصوفة، بل كان يأخذ على أكابر العلماء ومشايخ الإسلام أعمدة أهل السنة والجماعة وناصرى مذهبهم كشيخ الإسلام ناصر السنة وقامع البدعة: أحمد بن تيمية رحمه الله وقدس سره وروحه، وكذا تلميذه الإمام العالم الهمام شمس الدين والإسلام ابن قيم الجوزية رحمهما الله تعالى. فقد أخذ عليهما بل ودعا عليهما أيضا، فنسأل الله أن يغفر لنا وله وأن يسامحه. . اللهم آمين.
১৩ - 'বানাত সুয়াদ' এর ব্যাখ্যায় 'কুনহুল আমরাদ'।

১৪ - আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার দাবিগুলো।

১৫ - খুলাফায়ে রাশিদীনের ব্যাপারে যা এসেছে তার বিশদ বিবরণ।

১৬ - লাইলাতুর রাগায়িব এবং শা'বানের মধ্যরাত্রি (নিসফে শা'বান) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিশদ বিবরণ ও ব্যাখ্যা।

১৭ - বনী আদমের সরদারের জন্মের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত।

১৮ - মাকামে মাহমুদের অধিকারীর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার সুবিন্যস্ত মুক্তামালা।

১৯ - সুনানে ইবনে মাজাহ-এর অতিরিক্ত সংকলন।

২০ - মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের সমালোচনায় লিপ্ত হওয়া ও কটু কথা বলা থেকে অন্তর ও জিহ্বাকে পবিত্র করা।

২১ - ইনসাফ বিষয়ক চল্লিশ হাদিস।

২২ - চাদর, পাগড়ির ঝালর ও পাগড়ি পরিধানের শ্রেষ্ঠত্ব।

২৩ - 'কিতাবুল ওয়াযাইফ' এবং 'আযকারুল আযকার' গ্রন্থে বিদ্যমান জটিলতা সম্পর্কে নেককারদের সতর্ক করা।

২৪ - ইবরা (দায়মুক্তি) এর সাথে ঝুলন্ত তালাকের বিধানের সংক্ষিপ্তসার।

২৫ - গীবতের অপবিত্রতা থেকে অন্তরকে পবিত্র করা।

২৬ - খুতবা বিষয়ক উন্নত সংকলন।

২৭ - ঋণ থাকার কারণে দান বাতিল হয়ে যায় না - এর বর্ণনায় চোখের শীতলতা।

 

*‌‌ তাঁর আকিদা:

শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার আল-হাইতামী একজন আল্লামা এবং বড় ইমাম হওয়া সত্ত্বেও, আলেমদের মাঝে যার বিশেষ জ্ঞান, মর্যাদা ও অবস্থান রয়েছে, তবুও তাঁর মধ্যে এমন কিছু বিষয় ছিল যা তাঁর জ্ঞানকে ধূলিমলিন করেছে, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আশআরী কালাম শাস্ত্রবিদদের পন্থা অবলম্বন করা, এমনকি তিনি আল্লাহর গুণাবলীর অপব্যাখ্যা করতেন, আল্লাহর উচ্চতা ও ঊর্ধ্বে অবস্থানকে অস্বীকার করতেন এবং চরমপন্থী সূফী মাশায়েখদের পক্ষ অবলম্বন করতেন। যেমন: মহিউদ্দিন ইবনে আরাবী, কাসতালানী, জিলানী, বাকিলানী এবং অন্যান্য যারা কালাম শাস্ত্রবিদ ও সূফীদের পথ অনুসরণ করেছেন। বরং তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের স্তম্ভ ও তাঁদের মাযহাবের সাহায্যকারী মহান আলেম ও শাইখুল ইসলামদেরও সমালোচনা করতেন; যেমন সুন্নাহর সাহায্যকারী ও বিদআতের দমনকারী শাইখুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়াহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর রূহকে পবিত্র করুন), এবং তেমনিভাবে তাঁর ছাত্র মহান আলেম ইমাম শামসুদ্দিন ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন)। তিনি তাঁদের সমালোচনা করেছেন এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে বদদুআও করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করেন এবং মার্জনা করেন। হে আল্লাহ! কবুল করুন।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১২)
*‌‌ مكانته العلمية وثناء العلماء عليه:

قال الفقيه المؤرخ الأديب ابن العماد الحنبلى رحمه الله: وبالجملة فقد كان شيخ الإسلام خاتمة العلماء الأعلام بحرا لا تكدره الدلا، إمام الحرمين كما أجمع عليه الملا، كوكبا سيارا فى منهاج سماء السارى يهتدى به المهتدون تحقيقا لقوله تعالى: وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ واحد العصر، وثانى القطر، وثالث الشمس والبدر، أقسمت المشكلات إلا تتضح إلا لديه، وأكدت المعضلات ألبتها أن لا تنجلى إلا عليه لا سيما فى الحجاز عليها قد حجر ولا عجب فإنه المسمى بابن حجر.

 

*‌‌ وفاته:

توفّى رحمه الله بمكة فى رجب، ودفن بالمعلاة على تربة الطبريين سنة تسعمائة وثلاثة وسبعين (973 هـ) (1).

وكتبه أبو الفوارس أحمد فريد أحمد المزيدى الشافعى السلفى ليسانس الحديث-أصول الدين-جامعة الأزهر الأندلس-الهرم-القاهرة

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته: شذرات الذهب لابن العماد الحنبلى (8/ 370،371)، البدر الطالع للإمام الشوكانى (1/ 109)، هدية العارفين لإسماعيل باشا البغدادى (5/ 146)، النور السافر للعبدروسى (287،298)، تاريخ آداب اللغة العربية (3/ 334،335)، جلاء العينين لمخير الدين الألوسى (137،139)، الأعلام للزركلى (1/ 234)، معجم المؤلفين (1/ 293،294)، ريحانة الألباب للخفاجى (211،212)، كشف الظنون لحاجى خليفة (57،60،128، 307،620،735،1059،1083،1324،1349،1502،1876)، إيضاح المكنون للبغدادى: (1/ 15،77،81،128،161،230،233،234،249،294،446، 450،451،614)، (2/ 241،253،425،496،510،543،565،661)، فهرس الأزهرية (2/ 431)، فهرس الخديوية (5/ 51،52،76،77)، فهرس مخطوطات الظاهرية، فهرس مخطوطات المدنية، ودار الكتب المصرية، دائرة المعارف الإسلامية (1/ 133)، ومجلة المجمع العلمى العربى بدمشق (20/ 530).
তাঁর বৈজ্ঞানিক মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা:

ফকিহ, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি ছিলেন শায়খুল ইসলাম, প্রথিতযশা আলেমদের সমাপ্তি ও এক বিশাল সমুদ্র যাকে বালতি দিয়ে ঘোলা করা যায় না। তিনি ছিলেন হারামাইন শরীফাইনের ইমাম, যেমনটি আলেম সমাজ তাঁর ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তিনি ছিলেন পরিভ্রমণকারী নক্ষত্রসদৃশ এক আলোকবর্তিকা যার মাধ্যমে সঠিক পথ অনুসারীরা হিদায়াত লাভ করে, যা মহান আল্লাহর বাণীরই প্রতিফলন: ‘এবং নক্ষত্ররাজির সাহায্যে তারা পথপ্রাপ্ত হয়’। তিনি ছিলেন সমকালীন যুগের অদ্বিতীয়, ভূখণ্ডের অনন্য এবং সূর্য ও চন্দ্রের সাথে তৃতীয় জ্যোতি। জটিল সমস্যাসমূহ কেবল তাঁর কাছেই পরিষ্কার হওয়ার শপথ নিয়েছে এবং কঠিন বিষয়সমূহ কেবল তাঁর মাধ্যমেই উন্মোচিত হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে, বিশেষ করে হিজাজ ভূমিতে যা তিনি পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁর নাম ইবনে হাজার (পাথরের পুত্র)।

 

*‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি ৯৭৩ হিজরি সনের রজব মাসে মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে তাবারীয়িনদের সমাধিস্থলে আল-মুয়াল্লাতে দাফন করা হয় (১)।

এটি লিখেছেন আবু আল-ফাওয়ারিস আহমদ ফরিদ আহমদ আল-মাজিদি আল-শাফিয়ি আল-সালাফি, হাদিস বিভাগে স্নাতক, উসুলুদ্দীন অনুষদ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, আল-আন্দালুস-আল-হারাম-কায়রো।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহ: ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালীর শাযারাতুয যাহাব (৮/৩৭০, ৩৭১), ইমাম আশ-শাওকানীর আল-বাদরুত তালি (১/১০৯), ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদীর হাদিয়াতুল আরিফিন (৫/১৪৬), আল-আইদারুসীর আন-নূরুস সাফির (২৮৭, ২৯৮), ইতিহাস আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (৩/৩৩৪, ৩ ৩৫), মহিউদ্দীন আল-আলুসির জালাউল আইনাইন (১৩৭, ১৩৯), আয-যিরিকলির আল-আলাম (১/২৩৪), মুজামুল মুআল্লিফিন (১/২৯৩, ২৯৪), আল-খাফাজির রায়হানাতুল আলবাব (২১১, ২১২), হাজি খলিফার কাশফুয যুনুন (৫৭, ৬০, ১২৮, ৩০৭, ৬২০, ৭৩৫, ১০৫৯, ১০৮৩, ১৩২৪, ১৩৪৯, ১৫০২, ১৮৭৬), আল-বাগদাদীর ঈযাহুল মাকনুন: (১/১৫, ৭৭, ৮১, ১২৮, ১৬১, ২৩০, ২৩৩, ২৩৪, ২৪৯, ২৯৪, ৪৪৬, ৪৫০, ৪৫১, ৬১৪), (২/২৪১, ২৫৩, ৪২৫, ৪৯৬, ৫১০, ৫৪৩, ৫৬৫, ৬৬১), আল-আজহারি সূচিপত্র (২/৪৩১), খিদাইউই সূচিপত্র (৫/৫১, ৫২, ৭৬, ৭৭), যাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপি সূচিপত্র, মদিনা পাণ্ডুলিপি সূচিপত্র, এবং মিশরের দারুল কুতুব, ইসলামী বিশ্বকোষ (১/১৩৩), এবং দামেস্কের মাজমাউল ইলমি আল-আরাবি সাময়িকী (২০/৫৩০)।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ترجمة موجزة لمصنف الشمائل

هو الحافظ الإمام الفقيه الورع: أبو عيسى محمد بن سورة الترمذى الضرير.

صاحب «الجامع الصحيح» أحد الكتب الستة، وصاحب «العلل الكبير»، و «التاريخ»، و «الزهد»، و «الأسماء والكنى»، و «الشمائل النبوية».

قال فيه ابن حبان: «كان ممن جمع وصنف، وحفظ وذاكر».

وقد أخذ العلم عن أجلاء وعلماء ومشايخ الدنيا فى عصره، منهم: الإمام البخارى، ومسلم، وأبو داود، وقتيبة بن سعيد، وغيرهم كثير.

وأخذ عنه العلم والرواية خلق كثير، منهم: محمود بن غيلان، ومكحول بن الفضل، ومحمد بن المنذر، وغيرهم.

وتوفى الإمام سنة تسع وسبعين ومائتين، رحمه الله تعالى.

…
আশ-শামাইল সংকলকের সংক্ষিপ্ত জীবনী

তিনি হলেন হাফিজ, ইমাম, ফকিহ এবং পরহেযগার: আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন সূরাহ আত-তিরমিযী আদ-দারীর।

তিনি সিত্তাহ গ্রন্থসমূহের অন্যতম ‘আল-জামি আস-সহিহ’ এর রচয়িতা এবং ‘আল-ইলালুল কাবীর’, ‘আত-তারিখ’, ‘আয-যুহদ’, ‘আল-আসমা ওয়াল কুনা’ ও ‘আশ-শামাইলুন নববিয়্যাহ’ গ্রন্থের প্রণেতা।

তাঁর সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন: “তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হাদীস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন এবং তা সংরক্ষণ ও আলোচনা করেছেন।”

তিনি তাঁর সমসাময়িক বিশ্বের প্রথিতযশা আলিম ও শায়খদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ, কুতাইবা বিন সাঈদ এবং আরও অনেকে।

অসংখ্য লোক তাঁর নিকট থেকে ইলম ও বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মাহমুদ বিন গাইলান, মাকহুল বিন ফাদল, মুহাম্মদ বিন মুনযির এবং আরও অনেকে।

ইমাম ২৭৯ হিজরী সালে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

…
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১৫)
صورة الصفحة الأولى من النسخة الأصل لكتاب أشرف الوسائل
আশরাফুল ওয়াসায়েল গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১৬)
صورة الصفحة الأخيرة من النسخة الأصل لكتاب أشرف الوسائل
আশরাফুল ওয়াসায়েল কিতাবের মূল পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১৭)
كتاب‌‌ جواهر الدّرر في مناقب ابن حجر

تصنيف الشّيخ أبي بكر بن محمّد بن عبد الله الشّافعيّ

تحقيق أبي الفوارس أحمد بن فريد المزيدي
গ্রন্থ‌‌ জাওয়াহিরুদ দুরার ফী মানাকিবি ইবনি হাজার

শায়খ আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আশ-শাফেয়ি-এর রচনা

আবুল ফাওয়ারিস আহমাদ বিন ফারিদ আল-মাজিদি-এর সম্পাদনা
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه تعالى نستعين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم، وعلى صحبه أجمعين.

 

مقدمة:

مناقب الهمام الأجل والحبر الأكمل فريد عصره وأوانه، والمقدم على أقرانه فى زمانه العلامة شهاب الدين أحمد بن حجر الهيتمى. . . نفعنا الله تعالى به والمسلمين أجمعين. . . آمين.

الشيخ الإمام العلامة شهاب الدين أحمد بن محمد بن محمد بن على بن حجر الهيتمى، نسبة إلى محلة أبى الهيتم من أقاليم مصر، السّعدى نسبة إلى بنى سعد الموجودين الآن فى مصر، الأنصارى باعتبار المشهور فى بنى سعد المذكورين أنهم من الأنصار، وروى بخطه فى سبب شهرته بابن حجر، أن جدّه لما كان ملازما للصمت فى جميع أحواله لا ينطق إلا لضرورة سمى حجرا!.

وكان إمام زمانه وواحد عصره وأوانه يعضد بالفتاوى الدّينية من كل فجّ عميق، وتأتيه المشكلات محفلة فتعود بفتح مبين ووجه طليق. أكرم به من عالم عمّ نفعه، وأصبح أبهى الناس، مرتفع الذكر، فمصنفاته جديرة بأن تكتب بماء العيون، وأن يبذل فى تحصيلها المال والأهل والبنون، ولقد أجاد من قال:

إمام إذا عدّ الأكابر خلة … إذا حقق التحقيق واسطة العقد (1)

يشار إليه بالأصابع هيبة … ويذكر فى أهل العلا أول العدّ

ولد-رضى الله عنه-كما شق هو بخطه بمحلة أبى الهيتم بعد انتقال أهله عن بلدهم الأصلية «سلمنت» أواخر سنة تسع وتسعمائة، ومات أبوه وهو صغير فكفله شيخا أبيه الإمامان الكاملان، الشمس ابن أبى الحمائل، وتلميذه الشمس الشنّاوى (2)، ثم إن

--------------------------------------------

(1) واسطة العقد: هى الدّرّة التى فى وسط العقد وهى أنفس خرزها أو هى الجوهر الذى هو فى وسط القلادة وهو أجودها:

(2) الشناوى: هو أحمد بن على بن عبد القدوس بن محمد المصرى ثم المدنى، المعروف بالشناوى =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আমরা মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি, এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

 

ভূমিকা:

নিজ সময়ের অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিত্ব, সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান সম্পন্ন ইমাম, নিজ যুগের সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য আল্লামা শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল-হাইতামীর মহৎ গুণাবলি... আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে আমাদের এবং সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন... আমীন।

শায়খ, ইমাম, আল্লামা শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-হাইতামি। মিশরের প্রদেশসমূহের মধ্য হতে 'মাহাল্লাতু আবিল হাইতাম' অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে 'হাইতামি' বলা হয়। 'সাদি' বলা হয় বর্তমান মিশরে বিদ্যমান বনু সা'দ গোত্রের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে। আনসারি বলা হয় কারণ উল্লেখিত বনু সা'দ গোত্র আনসারদের বংশধর হিসেবে প্রসিদ্ধ। তিনি নিজ হস্তাক্ষরে তাঁর নামের সাথে 'ইবনে হাজার' যুক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর দাদা সব অবস্থায় এতটাই নীরব থাকতেন যে, প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না, ফলে তাঁকে 'পাথর' (হাজার) বলে অভিহিত করা হতো!

তিনি ছিলেন নিজ সময়ের ইমাম এবং নিজ যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ধর্মীয় ফতোয়ার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতো। তাঁর কাছে জটিল ও কঠিন সব সমস্যা আসত এবং সেগুলো সুস্পষ্ট সমাধান ও প্রসন্ন চিত্তে নিষ্পত্তি হয়ে ফিরে যেত। কতই না মহান সেই আলেম যাঁর উপকার সর্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং যিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দ্যুতিময় ও সুউচ্চ খ্যাতির অধিকারী হয়েছেন। তাঁর রচনাবলি চোখের মণি বা অত্যন্ত মূল্যবান কালি দিয়ে লেখার এবং সেগুলো অর্জনে ধন-সম্পদ, পরিবার ও সন্তানাদি ব্যয় করার যোগ্য। যে ব্যক্তি বলেছেন তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন:

তিনি এমন একজন ইমাম যে, যখন মহান ব্যক্তিদের গণ্য করা হয়... তখন সূক্ষ্ম বিচারে তিনি হন কন্ঠহারের মধ্যমণি (১)

গাম্ভীর্যের কারণে আঙুল দিয়ে তাঁর দিকে ইশারা করা হয়... এবং উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিদের তালিকায় সর্বাগ্রে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়।

তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন—নয়শ নয় হিজরি সালের শেষভাগে মাহাল্লাতু আবিল হাইতামে জন্মগ্রহণ করেন, যেমনটি তিনি নিজ হাতে লিখে গেছেন। তাঁর পরিবার তাঁদের আদি নিবাস 'সালামানত' থেকে স্থানান্তরের পর সেখানে বসবাস শুরু করেন। শৈশবেই তাঁর পিতার মৃত্যু হলে তাঁর পিতার দুই শায়খ—পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্ত দুই ইমাম—শামস ইবনে আবিল হামায়েল এবং তাঁর ছাত্র শামস আশ-শিনাওয়ি (২) তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর...

--------------------------------------------

(১) কন্ঠহারের মধ্যমণি: এটি হলো কন্ঠহারের ঠিক মাঝখানে থাকা মুক্তা, যা এর সকল পুতির মধ্যে সবচাইতে মূল্যবান। অথবা এটি হলো মালার মাঝখানে থাকা এমন একটি রত্ন যা অন্যগুলোর তুলনায় উৎকৃষ্ট।

(২) আশ-শিনাওয়ি: তিনি হলেন আহমদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি অতঃপর আল-মাদানি, যিনি আশ-শিনাওয়ি নামে পরিচিত =
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২০)
الشناوى نقله إلى الجامع الأزهر أول سنة أربع وعشرين وتسعمائة، وجمعه بعلمائه، فحفظ المنهاج، وقرأ على جماعة أعلام فى الحديث، كالإمام الزّينى عبد الحق السنباطى (1) واجتمع مع شيخ الإسلام القاضى (2) زكريا وحدثه بالمسلسل بالأوليّة، وأجازه به وبسائر مروياته، ولم يجتمع به قط إلا وقال له: أسأل الله أن يفقهك فى الدّين، وقرأ فى الفقه على جماعة كالنّاصر الطبلاوى، وتاج العارفين أبو الحسن البكرى وفى بقية العلوم على جماعة من المحققين: كالنّاصر اللقانى (3)، والشنشورى (4)، وابن

--------------------------------------------

= (أبو المواهب)، عالم أديب. ولد فى شوال فى محلة روح من غربية مصر، وتوفى بالمدينة فى 8 ذى الحجة. من تصانيفه: الإرشاد إلى سبيل الرشاد، خلاصة الاختصاص وما للكل من الخواص، إفاضة الجود فى وحدة الوجود: الإقليد فى تجريد التوحيد، وفواتح الصلوات الأحمدية فى لوائح مدائح الذات المحمدية، التأصيل والتفصيل، وله شعر. هدية العارفين للبغدادى (1/ 154،155). معجم المؤلفين لعمر رضا كحالة (1/ 205).

(1) السنباطى: هو أحمد بن أحمد بن عبد الحق السنباطى، المصرى، الشافعى (شهاب الدين)، عالم مشارك فى أنواع من العلوم. من تصانيفه: توضيح على رسالة الماردينى فى العمل بالربع المجيب، شرح البسملة لزكريا الأنصارى: روضة الفهوم بنظم نقاية العلوم للسيوطى، ثم شرحه وسماه فتح الحى القيوم بشرح روضة الفهوم والنقاية، إظهار الأسرار الخطية فى حل الرسالة الجيبية، وشرح القصيدة الهمزية فى المدائح النبوية. وتوفى (995 هـ-1586 م). كشف الظنون لحاجى خليفة. معجم المؤلفين لعمر رضا كحالة (1/ 95).

(2) شيخ الإسلام القاضى زكريا (826 - 926 هـ/1423 - 1520 م) هو زكريا بن محمد بن أحمد بن زكريا الأنصارى، السنيكى (نسبة إلى سنيكة بليدة من شرقية مصر)، القاهرى الأزهرى الشافعى (زين الدين، أبو يحيى) عالم مشارك فى الفقه والفرائض والتفسير والقراءات والتجويد والحديث والتصوف والنحو والتصريف والمنطق والجدل. ولد بسنيكة، ونشأ بها. ثم تحول إلى القاهرة وتولى القضاء وتوفى بها فى 4 من ذى الحجة من تصانيفه: شرح مختصر المزنى فى فروع الفقه الشافعى، حاشية على تفسير البيضاوى. الدقائق المحكمة فى التجويد: فتح الرحمن فى كشف ما يلتبس فى القرآن.

(3) ناصر اللقانى: (توفى 958 هـ-1551 م): محمد اللقانى، المالكى (ناصر الدين، أبو عبد الله) فقيه، أصولى، صرفى، من آثاره حاشية على شرح جمع الجوامع فى أصول الفقه، وحاشية على شرح التصريف للزنجانى. كشف الظنون لحاجى خليفة.

(4) محمد الشنشورى (888 - 983 هـ/1483 - 1575 م). محمد بن عبد الله بن على الشنشورى المصرى، الشافعى (أبو عبد الله، شمس الدين) فرضى، نسبته إلى شنشور من قرى المنوفية بمصر: وكانت إقامته بالقاهرة. له مؤلفات فى الفرائض وغيرها. شذرات الذهب لابن العماد (8/ 395).
শিননাওয়ী তাকে নয়শত চব্বিশ হিজরী সালের শুরুতে জামে আল-আযহারে নিয়ে আসেন এবং সেখানে তাকে আলিমদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ফলে তিনি 'আল-মিনহাজ' মুখস্থ করেন। তিনি ইলমে হাদিসের একদল বরেণ্য ব্যক্তিত্বের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন, যেমন ইমাম যাইনী আব্দুল হক আস-সুনবাতী (১)। তিনি শাইখুল ইসলাম কাজী (২) যাকারিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তিনি তাকে 'আল-মুসালসাল বিল-আউয়্যালিয়া' হাদিসটি বর্ণনা করেন এবং এটিসহ তার অন্যান্য সকল বর্ণিত হাদিসের ইজাযত প্রদান করেন। তিনি যখনই তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখনই তাকে বলতেন: "আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তোমাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" তিনি একদল আলিমের কাছে ফিকহ শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেন, যেমন আন-নাসির আত-তাবলাওয়ী এবং তাজুল আরিফীন আবুল হাসান আল-বাকরী। আর অন্যান্য ইলম অর্জন করেন একদল গবেষক আলিমের কাছে: যেমন আন-নাসির আল-লাক্কানী (৩), আশ-শানশূরী (৪) এবং ইবনে

--------------------------------------------

= (আবু আল-মাওয়াহিব), একজন আলিম ও সাহিত্যিক। তিনি মিশরের গারবিয়ার অন্তর্গত মাহাল্লা রাওহ নামক স্থানে শাওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং মদীনায় ৮ই যিলহজ্জ ইন্তেকাল করেন। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল-ইরশাদ ইলা সাবীলির রাশাদ, খুলাসাতুল ইখতিসাস ওয়া মা লিল-কুল্লি মিনাল খাওয়াছ, ইফাজাতুল জূদ ফী ওয়াহদাতিল উজূদ, আল-ইকলীদ ফী তাজরীদিত তাওহীদ, ফাওয়াতিহুত সালাওয়াতিল আহমাদিয়্যাহ ফী লাওয়াইহি মাদাইহিজ যাতিিল মুহাম্মাদিয়্যাহ এবং আত-তাসীল ওয়াত তাফসীল। তার কাব্যগ্রন্থও রয়েছে। হাদিয়াতুল আরিফীন লিল-বাগদাদী (১/ ১৫৪, ১৫৫)। মু'জামুল মুয়াল্লিফীন লি-উমর রেজা কাহ্হালা (১/ ২০৫)।

(১) আস-সুনবাতী: তিনি হলেন আহমদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হক আস-সুনবাতী, মিশরীয়, শাফি'ঈ (শিহাবুদ্দীন), বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী একজন আলিম। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আর-রুবউিল মুজায়্যিব দ্বারা কাজ করার বিষয়ে আল-মারিদিনীর রিসালার ওপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তাওদীহ', যাকারিয়া আল-আনসারীর শারহুস বাসমালাহ, সুয়ূতীর 'নুকায়াতুল উলূম' এর কাব্যিক রূপ 'রওজাতুল ফুহূম' এবং পরবর্তীতে সেটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম দিয়েছেন 'ফাতহুল হাইয়্যিল কাইয়্যূম বি-শারহি রওজাতিল ফুহূম ওয়ান নুকায়াহ', আর-রিসালাতুল জাইবিয়্যাহ-এর সমাধানে 'ইযহারুল আসরারিল খাত্তিয়্যাহ' এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রশংসায় রচিত 'আল-কাসিদাতুল হামযিয়্যাহ' এর ব্যাখ্যা। তিনি (৯৯৫ হি.-১৫৮৬ খ্রি.) ইন্তেকাল করেন। কাশফুয যুনূন লি-হাজী খলীফা। মু'জামুল মুয়াল্লিফীন লি-উমর রেজা কাহ্হালা (১/ ৯৫)।

(২) শাইখুল ইসলাম কাজী যাকারিয়া (৮২৬ - ৯২৬ হি./১৪২৩ - ১৫২০ খ্রি.) হলেন যাকারিয়া বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন যাকারিয়া আল-আনসারী, আস-সুনাইকী (মিশরের শারকিয়া অঞ্চলের সুনাইকা নামক ছোট শহরের অধিবাসী), আল-কাহিরী আল-আযহারী আশ-শাফি'ঈ (যাইনুদ্দীন, আবু ইয়াহইয়া)। তিনি ফিকহ, ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন), তাফসীর, কিরাআত, তাজবিদ, হাদিস, তাসাউফ, নাহু (ব্যাকরণ), তাসরীফ (রূপতত্ত্ব), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) এবং বিতর্কশাস্ত্রে পারদর্শী একজন আলিম ছিলেন। তিনি সুনাইকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। এরপর কায়রোতে চলে আসেন এবং বিচারপতির (কাজী) দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেই তিনি ৪ঠা যিলহজ্জ ইন্তেকাল করেন। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: শাফি'ঈ ফিকহের শাখা উপশাখার ওপর 'শারহু মুখতাসারিিল মুযানী', বায়যাবীর তাফসীরের ওপর হাশিয়া (টীকা), তাজবিদ শাস্ত্রের ওপর 'আদ-দাকাইকুল মুহকামাহ' এবং কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ উন্মোচনে 'ফাতহুর রহমান'।

(৩) নাসির আল-লাক্কানী (ইন্তেকাল ৯৫৮ হি.-১৫৫১ খ্রি.): মুহাম্মাদ আল-লাক্কানী, মালিকী (নাসিরুদ্দীন, আবু আব্দুল্লাহ)। তিনি একজন ফকীহ, উসূলবিদ ও রূপতত্ত্ববিদ। তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে উসূলে ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ 'জামউল জাওয়ামি' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর হাশিয়া এবং আয-যানজানীর 'শারহুত তাসরীফ' এর ওপর হাশিয়া। কাশফুয যুনূন লি-হাজী খলীফা।

(৪) মুহাম্মাদ আশ-শানশূরী (৮৮৮ - ৯৮৩ হি./১৪৮৩ - ১৫৭৫ খ্রি.)। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আশ-শানশূরী আল-মিশরী, আশ-শাফি'ঈ (আবু আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দীন)। তিনি একজন ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) বিশেষজ্ঞ ছিলেন। মিশরের মানুফিয়ার শানশূর গ্রামের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাকে আশ-শানশূরী বলা হয়। তার বসবাস ছিল কায়রোতে। ফারায়েয এবং অন্যান্য বিষয়ে তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে। শাযারাতুয যাহাব লি-ইবনিল ইমাদ (৮/ ৩৯৫)।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২১)
الطحان والشهاب النبطوى، والسيد الخطابى، والشمس المناهلى، والدلجى (1)، وابن الصانع، والعبادى (2) وغيرهم، حتى أجازوه أواخر سنة تسع وعشرين وتسعمائة بالإفتاء والتدريس والتأليف من غير سؤال منه لذلك.

ثم حجّ سنة ثلاث وثلاثين وخطر له أن يؤلف فتوقف حتى رأى الحارث المحاسبى وهو يأمره بالتأليف، ورأى امرأة فى غاية الجمال كشفت له عن أسفل بطنها وقالت:

اكتب شرعا ومتنا فكتب سطرا بالأحمر وسطرا بالأسود. فقيل له فى تعبيره: ستظهر مؤلفاتك فاستبشر وشرع فى شرحه الكبير على الإرشاد. ورأى القاضى زكريا بعد وفاته وقد نزع عمامته وألبسه إيّاها قال: فعلمت أن الله يلحقنى به.

ثم عاد إلى مصر واختصر الروض وشرحه شرحا استوفى ما فى الجواهر والأسنى، وأكثر شروح المنهاج ثم حجّ سنة سبع وثلاثين وجاوز سنة ثمان، وألحق فى هذا الشرح كثيرا من العباب والتجريد، فشفق به بعض علماء بنى الصديق ابن أخى الجلال الدّوانى.

ثم سافر شيخنا الإمام إلى مصر فأرسل البعض المذكور دراهم لتحصيل الشرح المذكور بمصر فسمع بعض الحسّاد له بذلك فاغتنم فرصة وسرقه، وأتلفه ولم نعلم لذلك كيفية وسمع وهو يقول فى حقه: حلله الله وعفا عنه ثم شرع فى تجديد المتن بسائره بالشرح حتى وصل صلاة المسافر وتركه.

--------------------------------------------

(1) محمد الدّلجى (860 - 947 هـ/1456 - 1540 م). محمد بن محمد بن محمد بن أحمد الدلجى العثمانى، الشافعى (شمس الدين، أبو عبد الله) محدث مؤرخ، عروضى. ولد بدلجة سنة 860 هـ تقريبا وحفظ القرآن ورحل إلى القاهرة، وقرأ على بعض علمائها ثم رحل إلى دمشق، وأقام بها نحو ثلاثين سنة، وأخذ عن البرهان البقاعى، وبرهان الدين الناجحى والقطب الخيضرى، وناصر الدين بن زريق الحنبلى، وشمس الدين السخاوى، وسافر إلى بلاد الروم واجتمع بسلطانها أبى يزيد، وحج وعاد إلى القاهرة وأخذ عنه جماعة منهم، النجم الغيطى وتوفى بالقاهرة ومن تصانيفه: شرح الرامزة على علمى العروض والقافية لعبد الله الخزرجى، شرح الأربعين النواوية، واختصر المناهج والمقاصد وسماه مقاصد المقاصد وشرحه وتفسير المعوذتين. الكواكب السائرة للغزى.

(2) العبادى: هو أحمد بن قاسم الصباغ العبادى القاهرى الشافعى الأزهرى يلقب بشهاب الدين ويكنى بأبى العباس، درس بالأزهر وبرع فى علوم العربية والبلاغة، والتفسير، والفقه، والأصول وأهم تصانيفه الشرح الكبير على الورقات.
আত-তাহহান, আশ-শিহাব আন-নাবতাউয়ি, আস-সাইয়িদ আল-খাত্তাবি, আশ-শামস আল-মানাহিলি, আদ-দালজি (১), ইবনুস সানি, আল-আব্বাদি (২) এবং আরও অনেকে; এমনকি তারা নয়শ ঊনত্রিশ হিজরি সনের শেষভাগে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আবেদন ছাড়াই তাঁকে ফতোয়া প্রদান, শিক্ষাদান এবং গ্রন্থ রচনার অনুমতি প্রদান করেন।

অতঃপর তিনি নয়শ তেত্রিশ হিজরি সনে হজ সম্পাদন করেন এবং তাঁর মনে গ্রন্থ রচনার সংকল্প জাগে। তবে তিনি দ্বিধান্বিত ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি হারিস আল-মুহাসিবি-কে স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি তাঁকে গ্রন্থ রচনার আদেশ দিচ্ছেন। তিনি আরও দেখলেন অত্যন্ত সুন্দরী এক নারীকে, যে তাঁর কাছে নিজের পেটের নীচের অংশ উন্মুক্ত করল এবং বলল:

আপনি শরীয়ত এবং মূল পাঠ (মতন) লিখুন। অতঃপর তিনি লাল রঙে এক লাইন এবং কালো রঙে এক লাইন লিখলেন। স্বপ্নে প্রাপ্ত এই ঘটনার ব্যাখ্যায় তাঁকে বলা হলো: আপনার রচনাবলি শীঘ্রই প্রসিদ্ধি লাভ করবে। এতে তিনি আনন্দিত হলেন এবং 'আল-ইরশাদ'-এর ওপর তাঁর বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহুল কাবীর) রচনা শুরু করলেন। তিনি আল-কাজি জাকারিয়াকে তাঁর ইন্তেকালের পর স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি নিজের পাগড়ি খুলে তাঁকে পরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বললেন: তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ আমাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করবেন।

অতঃপর তিনি মিশরে ফিরে আসেন এবং 'আর-রাওদ' কিতাবটি সংক্ষেপ করেন এবং এর এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যাতে 'আল-জাওয়াহির', 'আল-আসনা' এবং 'আল-মিনহাজ'-এর অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থের সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর তিনি নয়শ সাঁইত্রিশ হিজরি সনে হজ করেন এবং আটত্রিশ সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে তিনি 'আল-উবাব' এবং 'আত-তাজরিদ' থেকে অনেক উদ্ধৃতি যুক্ত করেন। এ কারণে বনু সিদ্দিক বংশীয় আল-জালাল আদ-দাওয়ানির ভ্রাতুষ্পুত্র জনৈক আলেম তাঁর প্রতি বিশেষ অনুরাগী হলেন।

এরপর আমাদের শায়খ ইমাম মিশরে সফর করেন। তখন উল্লেখিত সেই ব্যক্তি মিশরে উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংগ্রহের জন্য দিরহাম (অর্থ) পাঠান। জনৈক হিংসুক ব্যক্তি তা জানতে পেরে সুযোগ বুঝে সেটি চুরি করে এবং ধ্বংস করে ফেলে। আমরা জানি না কীভাবে তা ঘটেছিল। তাঁকে চোরের ব্যাপারে বলতে শোনা গেছে: আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। এরপর তিনি পুনরায় নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ মূল পাঠটি ঢেলে সাজাতে শুরু করেন, যতক্ষণ না তিনি মুসাফিরের সালাত অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছালেন এবং সেটি স্থগিত করলেন।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আদ-দালজি (৮৬০ - ৯৪৭ হিজরি / ১৪৫৬ - ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ)। মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আদ-দালজি আল-উসমানি, আশ-শাফিয়ি (শামসুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ) মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক এবং ছন্দশাস্ত্রবিদ। তিনি ৮৬০ হিজরির দিকে দালজায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কুরআন হিফজ করেন। এরপর কায়রো ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার কিছু আলেমের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। অতঃপর দামেশকে যান এবং সেখানে প্রায় ত্রিশ বছর অবস্থান করেন। তিনি আল-বুরহান আল-বিকায়ি, বুরহানুদ্দিন আন-নাজিহি, আল-কুতুব আল-খাইদারি, নাসিরুদ্দিন বিন জুরাইক আল-হাম্বলি এবং শামসুদ্দিন আস-সাখাভির নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি আনাতোলিয়া সফর করেন এবং সেখানে সুলতান বায়েজিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি হজ সম্পাদন করে কায়রোতে ফিরে আসেন এবং একদল শিক্ষার্থী তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন, যাদের মধ্যে আন-নাজম আল-গাইতি অন্যতম। তিনি কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আব্দুল্লাহ আল-খাজরাজির ছন্দ ও অন্ত্যমিল শাস্ত্রের ওপর রচিত 'আর-রামজিয়া'-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'আরবাঈন আন-নববী'-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এবং তিনি 'আল-মানাহিজ' ও 'আল-মাকাসিদ' সংক্ষেপ করে তার নাম দেন 'মাকাসিদুল মাকাসিদ' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'মুআউবিজাতাইন'-এর তাফসির। সূত্র: গাজ্জির 'আল-কাওয়াকিব আস-সায়্যিরাহ'।

(২) আল-আব্বাদি: তিনি হলেন আহমদ বিন কাসিম আস-সাব্বাগ আল-আব্বাদি আল-কাহিরি আশ-শাফিয়ি আল-আজহারি। তাঁর উপাধি ছিল শিহাবুদ্দিন এবং কুনিয়াত ছিল আবুল আব্বাস। তিনি আল-আজহারে পড়াশোনা করেন এবং আরবি ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র, তাফসির, ফিকহ এবং উসুলে দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর অন্যতম প্রধান রচনা হলো 'আল-ওয়ারাকাত'-এর ওপর বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২২)
ثم رجع لمكة، ونوى الاستيطان بها وأتم شرحه على الإرشاد وشرع فى شرح العباب وعوضه الله بتلك المصيبة كتبا تغنى رؤيتها عن الإطناب فى وضعها.

ولقد أجاد بعض تلاميذه، حيث قال فى شرح الإرشاد الصغير المسمى (بفتح الجواد):

أيا قارئ الإرشاد إن رمت حله … وفهم معانيه وفحوى رموزه

فبادر إلى فتح الجوّاد الذى … اعتنى بكشف خباياه وفتح كنوزه

ومن مؤلفاته المشهورة: (تحفة المحتاج بشرح المنهاج) المشتمل على ما فى أكثر شروح المنهاج مع أبحاث له لم يسبق إليها وتوجيهات لعبارات المتن يتعيّن الوقوف عليها، وقد حصل له البشارة بقبوله، وذلك أنه أرسله إلى «تريم» بلدة بحضرموت اليمن ففى ليلة اليوم الذى وصلهم الشرح فيه رأى جماعة منهم علماء صالحون، كالسيّد العالم العارف محمد بن حسن بن على العلوى الحسينى، أن الشيخ دخل بلدهم تريم وكان الناس يهرعون إليه وهو يدرس فى جامعهم وهم فرحون بذلك فأصبح الشرح المذكور عندهم فكتبوا بذلك إليه فسرّ به، ووقف تلك النسخة عليهم.

ومن مؤلفاته: «قرة العين بأن التبرع لا يبطله الدّين» وذيله «بكشف الغين» ألفه لما تفاقم الأمر بينه وبين الشيخ عبد الرحمن بن عبد الكريم بن زياد فى المسألة لأجلها، وقرة العين له و «بغية المسترشدين» لابن زياد المذكور ولكن نصر الشيخ أئمة أعلاما من علماء اليمن، والقاهرة، والبلد الحرام، وصرّحوا بأن قوله هو الصواب الحق الواضح بلا ارتياب، ونظم حينئذ الشيخ الإمام عزّ الدّين عبد العزيز بن على بن عبد العزيز الزمر فى قصيدة يمدحه بها وهى هذه:

جوزيت عن ملّة المختار من مضر (1) … خير المجازاة فى الأولى وفى الأخر

يا عالم العصر يا خير الزمان ومن … به ازدهى عصرنا هذا على العصر

منك المعارف فاضت عذبة ولكم … عذبا زلالا (2) معينا فاض من حجر

شيّدت أركان دين الله أنت إذا … أولى بتحريره من سائر البشر

--------------------------------------------

(1) مضر: قبيلة عربية معروفة.

(2) الماء الزلال، البارد، وقيل عذب أو صافى خالص، والمراد: أن المعارف تفيض منه متدفقة كما يتدفق الماء البارد العذب من الحجر.
তারপর তিনি মক্কায় ফিরে আসেন এবং সেখানে স্থায়ী বসবাসের নিয়ত করেন। তিনি 'আল-ইরশাদ'-এর ওপর তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ সম্পন্ন করেন এবং 'আল-উবাব'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখতে শুরু করেন। আল্লাহ তাকে সেই বিপদের বিনিময়ে এমন কিছু কিতাব দান করেন, যা বর্ণনা করার চেয়ে সচক্ষে দেখাই তার গুরুত্ব বোঝার জন্য যথেষ্ট।

তার জনৈক ছাত্র 'ফাতহুল জাওয়াদ' নামক আল-ইরশাদ আস-সগিরের ব্যাখ্যাগ্রন্থ সম্পর্কে চমৎকার একটি পঙক্তি বলেছেন:

হে ইরশাদ পাঠক! যদি তুমি এর জট খুলতে চাও … এবং এর অর্থসমূহ ও সংকেতগুলোর মর্ম বুঝতে চাও,

তবে ‘ফাতহুল জাওয়াদ’-এর দিকে দ্রুত অগ্রসর হও … যা এর নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন এবং জ্ঞানভাণ্ডার উন্মুক্ত করতে সচেষ্ট হয়েছে।

তার প্রসিদ্ধ রচনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো: ‘তুহফাতুল মুহতাজ বি-শরহিল মিনহাজ’। এটি মিনহাজের অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থের সারকথা ধারণ করার পাশাপাশি এমন কিছু মৌলিক গবেষণা ও মূল পাঠের ব্যাখ্যা সংবলিত, যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেনি এবং যা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই কিতাবটি কবুল হওয়ার সুসংবাদ তিনি পেয়েছিলেন। ঘটনাটি হলো, তিনি কিতাবটি ইয়েমেনের হাজরামাউত অঞ্চলের ‘তারিম’ শহরে পাঠিয়েছিলেন। যে রাতে ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সেখানে পৌঁছেছিল, সেই রাতেই সেখানকার নেককার আলেমদের একটি দল—যাদের মধ্যে প্রাজ্ঞ আলিম এবং আরিফ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলী আল-আলাভি আল-হুসাইনিও ছিলেন—স্বপ্ন দেখেন যে, শেখ তারিম শহরে প্রবেশ করেছেন। মানুষ তার কাছে ভিড় জমাচ্ছে এবং তিনি তাদের জামে মসজিদে পাঠদান করছেন, আর তারা এতে অত্যন্ত আনন্দিত। পরদিন সকালে সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি তাদের হস্তগত হলো। তারা চিঠির মাধ্যমে তাকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তিনি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং কিতাবটির সেই পাণ্ডুলিপি তাদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন।

তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে আরও রয়েছে: ‘কুররাতুল আইন বি-আন্না আত-তাবাররুআ লা ইউবতিলাহু আদ-দাইন’ এবং এর পরিশিষ্ট ‘কাশফুল গাইন’। তিনি এটি রচনা করেছিলেন যখন একটি মাসআলা নিয়ে তার এবং শেখ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল কারিম বিন যিয়াদের মধ্যে মতপার্থক্য চরমে পৌঁছেছিল। ‘কুররাতুল আইন’ তার রচনা এবং ইবনে যিয়াদের কিতাব হলো ‘বুগইয়াতুল মুস্তারশিদিন’। তবে ইয়েমেন, কায়রো এবং মক্কার প্রথিতযশা ইমামগণ শেখকে সমর্থন করেছেন এবং তারা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তার বক্তব্যই নিঃসন্দহে সুস্পষ্ট ও সঠিক। সেই সময় শেখ ইমাম ইজ্জুদ্দিন আব্দুল আজিজ বিন আলী বিন আব্দুল আজিজ আয-যামর তাকে প্রশংসা করে একটি কাসিদা রচনা করেন, যা নিম্নরূপ:

মুদার (১) বংশীয় মনোনীত নবির মিল্লাতের পক্ষ থেকে আপনাকে জাযা দেওয়া হোক … দুনিয়া ও আখেরাতে সর্বোত্তম প্রতিদান।

হে সমসাময়িক কালের শ্রেষ্ঠ আলিম, হে জামানার শ্রেষ্ঠ পুরুষ … আপনার মাধ্যমেই আমাদের এই যুগ অন্যান্য যুগের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

আপনার থেকে জ্ঞানরাশি সুমিষ্ট ঝরনার মতো প্রবাহিত হয়েছে … যেন পাথর থেকে প্রবাহিত স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট (২) শীতল পানি।

আপনি আল্লাহর দ্বীনের ভিত্তিগুলো সুদৃঢ় করেছেন … তাই অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে আপনিই এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের জন্য অধিক যোগ্য।

--------------------------------------------

(১) মুদার: একটি সুপরিচিত আরব গোত্র।

(২) 'যুলাল' পানি মানে শীতল পানি; বলা হয়ে থাকে সুমিষ্ট অথবা স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ। এর উদ্দেশ্য হলো: পাথর থেকে যেমন শীতল ও সুমিষ্ট পানি প্রবাহিত হয়, তেমনি তার থেকে জ্ঞানরাশিও অবিরাম উৎসারিত হয়।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২৩)
حفطته بشهاب منك متقد (1) … يرمى الشياطين دون الحطب بالشرر

فى مصر فى الشام فى هند وفى يمن … سارت فتاويك سير الشمس والقمر

فمن يساويك فى علم وفى ورع؟! … ومن سواك غبى قاصر النظر

لك التصانيف فى الآفاق تنشر بها … رواتها وسواء بها غير منتشر

على فوائدها الطلاب قد عكفت … لما حلّت وحوت صفوا بلا كدر

حلت لديهم فصارت عندما انتفعوا … بها أعزّ من الأسماع والبصر

منها استفدنا علوما عنك قد صدرت … يا حسن موقعها فى الورد والصّدر

وأنت مرجعنا فى كل مشكلة … عنها الجواب إذا رمناه لم تحر

قدّرت فى قرّة العين المنقّح (2) ما … قرّت (3) به العين من ألفاظك الدّرر

كشفت عن أوجه الحق النقاب (4) وقد … أسفرت فى غرّة كزهو (5) وفى طرر (6)

لقد قضت علماء مصر بصحته … ووافقوك على ما فيه من غرر

وقرّضوك (7) بمدح طوّقوك بما … أبدوه من درر فيه ومن شذر (8)

فكنت أولهم فتيا وآخرهم … ثنا عليك بمنظوم (9) ومنتثر

فجمّل الله ذو الجلال بلدتنا … بنشر علمك فى الآصيال والبكر

ودمت فى رفعة دهرا وفى دعة … وصحّة منتهاها العمر

--------------------------------------------

(1) المتّقد: المتوقد، أى: المتوهج دليل على شدة وقوة ناره وبالغ الأثر الذى سيحدثه.

(2) المنقح: التنقيح: التهذيب والإصلاح، والمراد: أن كتاب الشيخ له من المكانة العالية التى استطاع بها تهذيب وإصلاح العلة وأن ينحّى عنه كل الخرافات والشوائب.

(3) النقاب: القناع على مارن الأنف والمقصود الساتر الذى يحجب الحقيقة.

(4) قرت به العين: أى تقرّ العين من السكون والثبوت دليل السكينة والطمأنينة.

(5) الزهو: الكبر والتيه والفخر والعظمة.

(6) الطّرر: الهيئة الحسنة والجمال.

(7) قرّضوك: يجازوك بالمدح ويمدحوك.

(8) شذر: الشّذر: قطع من الذهب يلقط من المعدن من غير إذابة الحجارة.

(9) منظوم: أى الكلام المنظوم وهو الشعر.
আপনি একে আপনার এক প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখা (১) দ্বারা রক্ষা করেছেন... যা কাঠ ছাড়াই শয়তানদের দিকে স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করে।

মিশরে, শামে, ভারতে এবং ইয়ামেনে... আপনার ফতোয়াসমূহ সূর্য ও চন্দ্রের গতির ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে।

ইলম এবং তাকওয়ার ক্ষেত্রে কে আপনার সমকক্ষ হতে পারে?!... আর আপনি ছাড়া অন্য সবাই স্থূলবুদ্ধি ও ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন।

দিগন্তজুড়ে আপনার এমন সব রচনা রয়েছে যার মাধ্যমে বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধি লাভ করে... আর অন্য যারা আপনার সমতুল্য নয় তারা অপ্রকাশিত থাকে।

শিক্ষার্থীরা এর উপকারিতা লাভে নিমগ্ন হয়েছে... যখন তা প্রকাশিত হয়েছে এবং আবিলতামুক্ত স্বচ্ছতা ধারণ করেছে।

তাদের নিকট তা সমাদৃত হয়েছে, ফলে যখন তারা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে... তখন তা তাদের নিকট শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির চেয়েও প্রিয় হয়ে উঠেছে।

তা থেকে আমরা এমন সব ইলম অর্জন করেছি যা আপনার থেকে নিঃসৃত হয়েছে... আগমনে ও প্রস্থানে (শুরুতে ও শেষে) তার অবস্থান কতই না চমৎকার!

প্রতিটি জটিল সমস্যায় আপনিই আমাদের আশ্রয়স্থল... আমরা যখন এর সমাধান খুঁজি, আপনি দ্বিধাগ্রস্ত হন না।

আপনি 'কুররাতুল আইন আল-মুনাক্কাহ'-তে (২) এমন সব মণি-মুক্তার ন্যায় শব্দাবলি সন্নিবেশিত করেছেন... যা দ্বারা চোখ শীতল (৩) হয়।

আপনি সত্যের চেহারা থেকে আবরণ (৪) উন্মোচন করেছেন... এবং তা গৌরবের (৫) ন্যায় ললাটে ও সৌন্দর্যে (৬) উদ্ভাসিত হয়েছে।

মিশরের উলামায়ে কেরাম এর বিশুদ্ধতার পক্ষে রায় দিয়েছেন... এবং এতে বিদ্যমান শ্রেষ্ঠ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আপনার সাথে একমত হয়েছেন।

তারা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন (৭) এবং আপনাকে এমন মালায় ভূষিত করেছেন... যা তারা এতে প্রকাশ করেছেন মণি-মুক্তা ও স্বর্ণখণ্ডের (৮) মাধ্যমে।

ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে আপনি ছিলেন তাদের অগ্রগণ্য এবং তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত... কবিতা (৯) ও গদ্যের মাধ্যমে আপনার প্রশংসা করেছেন।

অতএব মহান আল্লাহ আমাদের জনপদকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন... সকাল ও সন্ধ্যায় আপনার ইলম প্রচারের মাধ্যমে।

আপনি যুগে যুগে উচ্চমর্যাদা ও প্রশান্তিতে থাকুন... এবং দীর্ঘ জীবনব্যাপী সুস্বাস্থ্যে থাকুন।

--------------------------------------------

(১) প্রজ্জ্বলিত: যা উদ্ভাসিত, অর্থাৎ আগুনের তীব্রতা ও শক্তির প্রমাণ এবং তা যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে তার পরিচায়ক।

(২) পরিমার্জিত: তানকিহ অর্থ পরিমার্জন ও সংশোধন। উদ্দেশ্য হলো: শায়খের কিতাবটি এমন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী যে, এর মাধ্যমে তিনি ত্রুটিসমূহ সংশোধন ও পরিমার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং একে সমস্ত কুসংস্কার ও আবিলতা থেকে মুক্ত করেছেন।

(৩) আবরণ: নাকের বাঁশির ওপর যে পর্দা থাকে, এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই অন্তরায় যা সত্যকে ঢেকে রাখে।

(৪) চোখ শীতল হওয়া: অর্থাৎ স্থিরতা ও দৃঢ়তা লাভ করা, যা প্রশান্তি ও স্থৈর্যের প্রমাণ।

(৫) গৌরব: অহংকার, গরিমা, গর্ব ও মাহাত্ম্য।

(৬) সৌন্দর্য: উত্তম অবয়ব ও কমনীয়তা।

(৭) প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়া: তারা আপনাকে প্রশংসার মাধ্যমে প্রতিদান প্রদান করে এবং আপনার স্তুতি গায়।

(৮) স্বর্ণখণ্ড: স্বর্ণের এমন টুকরো যা পাথর না গলিয়েই খনি থেকে কুড়িয়ে পাওয়া যায়।

(৯) ছন্দোবদ্ধ: অর্থাৎ ছন্দোবদ্ধ বাক্য তথা কবিতা।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وللشيخ عبد القادر بن أحمد الفاكهى قصيدة يمدحه بها منها قوله:

لا زلت فينا شهاب الدين نجم يهدى … ترمى الشياطين عن فهم وعن فكر

قرّت بك العين إذا قرّرت بهجتها … فى قرّة العين ما يغنى عن الخبر

ومن مؤلفاته رضى الله تعالى عنه: «كفّ الرعاع عن محرمات اللهو والسماع» وروى بخطه على ظهر مسودته ما صورته، قال بعض الصوفية: نأخذ من التعبير بالرعاع، أن العارفين لا حكم لنا عليهم وإن سمعوا، ثم كتب تحته «وهو أخذ مقبول»، لأن من تحلى بحقيقة المعرفة يكون مجتهدا فلا يعترض عليه لأن لم يسمع بشهوة تدعوه لمذموم أصلا، وقطعا بخلاف غيره.

ومن مؤلفاته رضى الله عنه: «كشف الغين عن أحكام الطاعون وأنه لا يدخل البلدين» ألفّه مستهل رجب سنة ثنتين وسبعين وتسعمائة لمّا سئل أيدخل الطاعون مكة، وسبب ذلك أنه جاءت سفينة من قرب مصر فيها جماعة مطعونون فلما وصلت جدّة طعن كثير من المقيمين بها ثم وصل إليها مكى لأخذ تركة أخيه الميت فى السفينة بالطعن فطعن ومات فذهب أخوه لأخذ تركة أخويه فطعن ومات أيضا.

ومن مؤلفاته: منظومة فى أصول الدين، ومنظومة الأجرومية، لكنها لم تتم ولم ير له نظم سواها غير تقريض لبعض تلاميذه على نظمه نقاية السيوطى.

وله ثلاثة أبيات فى معنى حديث «الراحمون يرحمهم الرحمن» الأول منها:

ارحم هديت جميع الخلق إنك ما … رحمت يرحمك الرحمن فاغتنما

والآخران هما:

ارحم عباد الله يرحمك الذى … عمّ الخلائق جوده ونواله

فالراحمون لهم نصيب وافر … من رحمة الله جل جلاله

وفتاويه فى خمسة مجلدات أضخمها مجلد «الجامع» المشتمل على علوم عديدة ونفائس فريدة ووجد بخطه ما صورته وكابدت فى أربع سنين بالجامع الأزهر ما لا يطيق الغير مكابدته فى عشرين سنة.

ووقعت له وقائع مع معاصريه تعلم من ديباجات بعض مؤلفاته ثم أفضى به الحال معهم إلى الانفراد المطلق بحيث ينشد عند فتواه إذا قالت حزام فصدقوها البيت،
শেখ আবদুল কাদির বিন আহমাদ আল-ফাকিহী-এর একটি কাসিদা রয়েছে যাতে তিনি তাঁর প্রশংসা করেছেন, তার কিছু অংশ হলো:

আপনি আমাদের মাঝে শিহাবুদ্দিন (দীনের উল্কাপিণ্ড) হয়ে থাকুন, এমন এক নক্ষত্র যা পথ দেখায় … আপনি আপনার প্রজ্ঞা ও চিন্তাশক্তি দ্বারা শয়তানদের বিতাড়িত করেন।

আপনার মাধ্যমে চোখ শীতল হয়েছে যখন আপনি এর আনন্দকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন … 'কুররাতুল আইন' (চোখের শীতলতা)-এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বর্ণনার মুখাপেক্ষী নয়।

তাঁর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) রচনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো: ‘কাফফুর রাআ’ আন মুহররামাতিল লাহউ ওয়াস সামা’ (সাধারণ লোকেদের বাদ্যযন্ত্র ও গান শোনার হারাম বিষয়গুলো থেকে বিরত রাখা)। তাঁর পান্ডুলিপির পৃষ্ঠদেশে তাঁর নিজ হাতের লেখায় যা বর্ণিত হয়েছে তার সারকথা হলো: জনৈক সুফি বলেছেন, 'রাআ' (সাধারণ মানুষ) শব্দটির প্রয়োগ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, আরেফীনদের (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) ওপর আমাদের কোনো হুকুম নেই, যদিও তারা (গান) শোনেন। অতঃপর তিনি এর নিচে লিখেছেন, "এটি একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত।" কারণ, যিনি হাকীকতে মারেফাত (পরিচয়ের গূঢ় রহস্য) দ্বারা বিভূষিত হন, তিনি একজন মুজতাহিদ হয়ে যান। তাই তাঁর ওপর আপত্তি করা যাবে না; কারণ তিনি এমন কোনো লালসা নিয়ে শোনেন না যা তাঁকে মূলত কোনো নিন্দনীয় কাজের দিকে আহ্বান করে, যা অন্যদের চেয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত।

তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) রচনাবলির মধ্যে আরও রয়েছে: ‘কাশফুল গাইন আন আহকামিত তাউন ওয়া আন্নাহু লা ইয়াদখুলুল বালাদাইন’ (প্লেগ মহামারীর বিধান এবং দুই পবিত্র শহরে এর প্রবেশ না করার রহস্য উন্মোচন)। এটি তিনি নয়শত বাহাত্তর হিজরির রজব মাসের শুরুতে রচনা করেন, যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—মক্কায় কি মহামারী প্রবেশ করবে? এর কারণ ছিল এই যে, মিসরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে একটি জাহাজ এসেছিল যাতে একদল প্লেগ আক্রান্ত লোক ছিল। যখন এটি জেদ্দায় পৌঁছাল, তখন সেখানকার অনেক অধিবাসী আক্রান্ত হলো। এরপর মক্কার এক ব্যক্তি জাহাজে মহামারীতে মারা যাওয়া তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত সম্পদ নিতে সেখানে পৌঁছাল এবং সেও আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। এরপর তার ভাই তার দুই ভাইয়ের পরিত্যক্ত সম্পদ নিতে গেল এবং সেও আক্রান্ত হয়ে মারা গেল।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে আরও রয়েছে: উসুলুদ্দীনের ওপর একটি কাব্যগ্রন্থ এবং আজরুমিয়ার ওপর একটি কাব্যগ্রন্থ, তবে এটি সম্পন্ন হয়নি। এই কাব্যগুলো ছাড়া তাঁর অন্য কোনো কবিতা দেখা যায়নি, কেবল তাঁর কোনো এক ছাত্রের সুয়ূতির 'নুকায়া'-এর পদ্যানুবাদের ওপর লিখিত প্রশংসাতিসূক কিছু পঙ্ক্তি ছাড়া।

'দয়ালুদের ওপর রহমান দয়া করেন'—এই হাদিসের মর্মার্থে তাঁর তিনটি পঙ্ক্তি রয়েছে, যার প্রথমটি হলো:

তুমি সকল সৃষ্টির প্রতি দয়া করো, তোমাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে; কারণ যতক্ষণ তুমি … দয়া করবে, রহমান তোমার ওপর দয়া করবেন, তাই এই সুযোগ লুফে নাও।

আর অবশিষ্ট পঙ্ক্তি দুটি হলো:

আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া করো, তবেই তিনি তোমার প্রতি দয়া করবেন যাঁর … দান ও অনুগ্রহ সকল সৃষ্টিকে পরিব্যাপ্ত করে আছে।

অতএব দয়ালুদের জন্য এক বিশাল অংশ রয়েছে … আল্লাহর রহমত থেকে, যাঁর মহিমা অতি মহান।

তাঁর ফতোয়াগুলো পাঁচ খণ্ডে বিন্যস্ত, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো 'আল-জামে' নামক খণ্ডটি, যা বহুবিধ জ্ঞান এবং অনন্য রত্নরাজি সমৃদ্ধ। তাঁর হস্তলিপিতে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারকথা হলো: "আমি জামে আজহারে চার বছরে যে পরিমাণ কষ্ট সহ্য করেছি, অন্য কেউ বিশ বছরেও তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না।"

তাঁর সমসাময়িকদের সাথে তাঁর কিছু ঘটনা ঘটেছিল যা তাঁর কিছু গ্রন্থের ভূমিকা থেকে জানা যায়। অতঃপর তাদের সাথে তাঁর অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল যে তিনি সম্পূর্ণ একক ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন, এমনকি তাঁর ফতোয়ার ক্ষেত্রে এই কবিতাটি আবৃত্তি করা হতো—"যখন হিযাম কিছু বলে, তবে তোমরা তাকে সত্য বলে মেনে নাও।" (অর্থাৎ তাঁর কথাই চূড়ান্ত)।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২৫)
واعترف بكماله وتقدمه المحققون الأعلام مع ما يشاهدونه من أخلاقه الحسنة وتواضعه الكلّى، لا سيما لآل النبى صلى الله عليه وسلم مع الدأب فى التصنيف والإقراء والإفتاء ليلا ونهارا، وكان ابتداء مرضه الذى انتقل فيه فى شهر رجب فترك التدريس نيفا وعشرين يوما ووصى يوم السبت الحادى والعشرين من الشهر المذكور وتوفى ضحى يوم الإثنين الثالث والعشرين منه سنة أربع وسبعين وتسعمائة وحصل للناس من الأسف عليه ما لا يوصف وازدحموا على جنازته يتبركون بحملها حتى كاد يطأ بعضهم بعضا.

ورؤى فى أثناء الطريق من نعالهم التى تقطعت حال الازدحام وتركوها شيئا كثيرا ودفن فى المصلاة بالقرب من مصلب ابن الزبير وجعل عليه تابوت من خشب.

ورثاه الشيخ عبد القادر الفاكهى بمرثيتين كبرى وصغرى فمن الكبرى قوله:

فيالك شيخا لا يضاهى مصابه … وقد كان بحرا تستقى غيثه السّحب

به أقلت شمس العلوم بمكة … ويا عجبا شمس يحيط به الترب

وقد جرّ ذيل العلم قبل مماته … على جهة العلياء إذ يشرق السّحب

ومنها قوله:

ويا عجبا للطّيّب وهو مطيّب … بطيب تصانيف تسير بها النّجب

تصانيف علم زاد فى الكمّ عدّها … على السّبع والسّبعين حرّرها الحسب

وكيف وطلاب العلوم بها غدت … شفاف (1) كعيس (2) ساقها الشوق والخصب

فمن لدروس العلم بعد ندارسه … وتقرير أبحاث تضمنها الكتب

ومن لفتاوى فى الأقاليم سيرها … تحث لها نجب ويجليها جلب

ومن لعباب (3) العلم بعد مغاضن (4) … على در فى الشرح يسعى لها العرب

--------------------------------------------

(1) شفافا: الشفوف: نحول الجسم من الهم والوجد.

(2) العيس: الإبل والمراد أن طلاب العلم لن يجدوا من يعلمهم فيصيبهم الهم والنحول شوقا إلى العلم، كما يصيب الإبل الهم والنحول عندما يزيد عليها الشوق.

(3) العباب: أول الشىء أو معظمه، والمقصود معظم العلم.

(4) مغاضن: الغضون هو كل تثنّ فى ثوب أو جلد والمغاضن هو الذى ينحنى وينثنى حتى يصل إلى النهاية أو الذى يقوّم الغضون والتثنى، والمراد: أن الممدوح يحاول اختراق أصعب المسائل للوصول إلى حلها.
বিশিষ্ট গবেষক ও ইমামগণ তাঁর পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিয়েছেন, সাথে সাথে তাঁরা তাঁর উত্তম চরিত্র এবং বিনয়ের পূর্ণতাও প্রত্যক্ষ করেছেন; বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের প্রতি তাঁর বিনয় ছিল অত্যন্ত গভীর। এর পাশাপাশি দিনরাত গ্রন্থ রচনা, পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের কাজে তিনি নিরলস পরিশ্রম করতেন। যে অসুস্থতার মধ্য দিয়ে তিনি পরলোকে পাড়ি জমান, তার সূচনা হয়েছিল রজব মাসে। ফলে তিনি বিশ দিনের কিছু বেশি সময় পাঠদান থেকে বিরত থাকেন। উক্ত মাসের একুশ তারিখ শনিবার তিনি অসিয়ত করেন এবং তেইশ তারিখ সোমবার চাশতের সময় নয়শত চুয়াত্তর হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মানুষের মনে যে অবর্ণনীয় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল এবং তাঁর জানাজায় মানুষের এত ভিড় হয়েছিল যে, বরকত লাভের আশায় খাটিয়া বহন করতে গিয়ে একে অপরকে মাড়িয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছিল।

প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে রাস্তায় তাঁদের অসংখ্য ছিঁড়ে যাওয়া জুতো পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল যা তাঁরা ফেলে গিয়েছিলেন। তাঁকে ইবনে যুবায়েরের শূলে চড়ানোর স্থানের নিকটবর্তী নামাযের স্থানে দাফন করা হয় এবং তাঁর কবরের ওপর একটি কাঠের সিন্দুক স্থাপন করা হয়।

শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাকিহি তাঁর স্মরণে বড় ও ছোট দুটি শোকগাথা রচনা করেছেন। বড় শোকগাথাটির কিছু অংশ হলো:

হায় সেই শায়খ! যাঁর বিয়োগব্যথা অতুলনীয় … অথচ তিনি ছিলেন এমন এক সমুদ্র যাঁর বারিবর্ষণ থেকে মেঘমালাও পানি সংগ্রহ করত।

তাঁর মাধ্যমেই মক্কায় ইলমের সূর্য উদিত হয়েছিল … আর কতই না আশ্চর্যের বিষয় যে, এক সূর্যকে আজ মাটি আবৃত করে আছে!

মৃত্যুর পূর্বে তিনি ইলমের আঁচলকে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে টেনে নিয়েছিলেন … যখন মেঘমালা সেই উচ্চতায় আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

কবিতার আরও অংশ:

সেই পবিত্র ব্যক্তির জন্য কতই না বিস্ময় যিনি সুবাসিত … এমন সব কিতাবের সুগন্ধে যা নিয়ে শ্রেষ্ঠ উটগুলো পথ চলে।

ইলমি কিতাবসমূহ যার সংখ্যা গণনায় ছাড়িয়ে গেছে … সাতাত্তরেরও অধিক, যা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সম্পাদিত।

কেনই বা হবে না, যখন ইলম অন্বেষণকারীরা সেগুলোর বিরহে হয়েছে … কৃশ ও দুর্বল, যেমন আকাঙ্ক্ষা ও উর্বরতার টানে চালিত উটগুলো হয়ে থাকে।

তাঁর পরে ইলমের পাঠদানের জন্য আর কে আছে … এবং কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত গবেষণামূলক আলোচনার নিষ্পত্তির জন্যই বা কে আছে?

বিভিন্ন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়া ফতোয়াগুলোর জন্যই বা আর কে আছে … যার অন্বেষণে উটগুলো দ্রুত ধাবিত হতো এবং জনসমাগম যাকে স্পষ্ট করত।

জটিল বিষয়াবলির পর ইলমের অতল সমুদ্রের রহস্য উদঘাটনে আর কে আছে … যার ব্যাখ্যার মুক্তো আহরণের জন্য আরবরা সচেষ্ট থাকে।

--------------------------------------------

(১) শাফাফান: আশ-শুফুফ অর্থ হলো দুঃখ ও আবেগের আতিশয্যে শরীর শুকিয়ে যাওয়া বা কৃশ হয়ে যাওয়া।

(২) আল-ঈস: এর অর্থ হলো উট। উদ্দেশ্য হলো—ইলম অন্বেষণকারীরা তাদের শেখানোর মতো কাউকে খুঁজে পাবে না, ফলে ইলমের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষায় তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও কৃশ হয়ে পড়বে; যেমনটা উটগুলোর ক্ষেত্রে ঘটে যখন তাদের গন্তব্যের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়।

(৩) আল-উবাব: কোনো বস্তুর সূচনা বা তার অধিকাংশ। এখানে উদ্দেশ্য হলো ইলমের মূল নির্যাস বা বৃহদংশ।

(৪) মাগাদিন: আল-গুদুন হলো কাপড় বা চামড়ার প্রতিটি ভাঁজ। আর মাগাদিন হলো যা ভাঁজ হয়ে শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছায় অথবা যা ভাঁজ ও বক্রতাকে সোজা করে। উদ্দেশ্য হলো: প্রশংসিত ব্যক্তিটি সবচেয়ে কঠিন ও জটিল মাসআলাগুলো ভেদ করে তার সমাধানের পৌঁছানোর প্রচেষ্টা করেন।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن لحديث المصطفى بعد شرحه … أحاديث مشكات لفانوسها تصبو

فيبكيه أحجار الحطيم وزمزم … ويبكيه بيت الله يحمه الركب

ويفقده المقرئ لإرشاد غيّه (1) … ومنهاج محيى الدين يوحشه النّدب

ولو جاز أن يبقى كريما مخلدا … لكان رسول الله والسادة الصّحب

فيا معشر الإخوان عصبة شيخنا … تأسوا فإن البعد سهلة القرب

ومن الصغرى قوله:

الله أكبر شن الموت غارته … وخط خطى عسالاته الذبل

وسل صارمه الهندى من غمد … وجال فينا مجال الفارس البطل

وأرسل السّهم فى الأحشاء منحدرا … إلى القلوب فأدناها إلى الأجل

وصال بالنفع فى حضر الجياد على … فريد أهل التقى والعلم والعمل

فهدّ ركنا مشيّدا لا نظير له … بأرض مكة فى الفتوى بلا بدل

وصير الناس فوضى لا شهاب لهم … هذا يقول من المفتى علىّ ولى

بموت رب الهدى والعلم أحمد من … سارت فتاويه سير الشمس فى الحمل

وحلّ تصنيفه فى النّفع مثل ضيا … شمس الظهيرة فى داج من السّبل

يا نعم شرح عباب فاض كوثره … للواردين كفيض البحر لا الوشل

ونعم شرح لمنهاج به شففت … نفس الأفاضل فى حل ومرتحل

رؤى له بعد موته منامات دلت على عظم منزلته وعلوّ درجته، منها: رؤى عن بعض تلاميذه قال: رأيته جالسا فى المسجد الحرام يدرّس كعادته ونحن حوله فاستشعرت أنه قد مات فكيف يدرس وهو ميت فرفع رأسه إلىّ قائلا: هذه عادتنا ما ننساكم.

ورآه بعض جماعاته فسأله عن حاله فقال: نحن فى عليين، وكفى بأبحاثه الجمة وتوليدات أفكاره المهمة كرامات وخوارق عادات.

وقد صرح الإمام البلقينى بأنها تعظم من كرامات الصوفى لأنها تدوم ويتعدد نفعها

--------------------------------------------

(1) غيه: الضلال.
মুস্তফার হাদিসের জন্য তাঁর ব্যাখ্যার পর আর কে আছে? … মিশকাতের হাদিসসমূহ যার প্রদীপের জন্য ব্যাকুল হয়।

হাতীমের পাথরসমূহ এবং যমযম তাঁর জন্য রোদন করছে … এবং আল্লাহর ঘরও তাঁর জন্য কাঁদছে, কাফেলা যাকে ঘিরে থাকে।

পথভ্রষ্টতা থেকে সংশোধনের জন্য কারীগণ তাঁকে হারিয়েছে (১) … এবং মুহিউদ্দীনের 'মিনহাজ' তাঁর বিয়োগে শোকাতুর।

যদি কোনো সম্মানিত ব্যক্তির চিরস্থায়ী বেঁচে থাকা সম্ভব হতো … তবে আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর মহান সাথীবর্গই চিরস্থায়ী হতেন।

হে আমাদের শাইখের অনুসারী ভ্রাতৃবৃন্দ … আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই বিরহের পর মিলন সহজ হয়।

এবং তাঁর 'সুগরা' কাব্যগ্রন্থ থেকে তাঁর উক্তি:

আল্লাহু আকবার! মৃত্যু তার ধ্বংসলীলা শুরু করেছে … এবং তার কম্পমান ধারালো বল্লমগুলো নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

সে তার ভারতীয় তলোয়ারটি খাপ থেকে বের করেছে … এবং আমাদের মাঝে এক বীর ঘোড়সওয়ারের মতো বিচরণ করছে।

সে শরীরের অভ্যন্তরে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছে … যা হৃদপিণ্ড পর্যন্ত বিদ্ধ হয়ে তাকে মৃত্যুর সন্নিকটে নিয়ে গেছে।

সে ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে আক্রমণ করেছে … তাকওয়া, ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ব্যক্তির ওপর।

সে এমন এক সুদৃঢ় স্তম্ভ ধ্বংস করেছে যার কোনো নজির নেই … মক্কার জমিনে ফতোয়া প্রদানে তিনি ছিলেন অতুলনীয়।

সে মানুষকে অভিভাবকহীন বিশৃঙ্খলার মাঝে ছেড়ে দিয়েছে … এখন প্রত্যেকে বলছে: কে আমার অভিভাবক মুফতি?

হেদায়েত ও ইলমের অধিপতি আহমদের মৃত্যুতে, যাঁর ফতোয়াসমূহ … মেষ রাশিতে সূর্যের গতির ন্যায় সর্বত্র আলো ছড়িয়ে দিত।

উপকারের দিক থেকে তাঁর রচনাবলী সেই জ্যোতির মতো … যা অন্ধকার পথসমূহে দ্বিপ্রহরের সূর্যের ন্যায় আলো প্রদান করে।

'উবাব'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কতই না চমৎকার, যার কাউসার উথলে পড়ছে … জ্ঞানপিপাসুদের জন্য যা সমুদ্রের প্রবাহের মতো, সামান্য জলবিন্দু নয়।

আর 'মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কতই না চমৎকার, যার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মন … আবস্থানকালে ও ভ্রমণের সময় প্রশান্তি লাভ করেছে।

তাঁর মৃত্যুর পর এমন কিছু স্বপ্ন দেখা গেছে যা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান মাকামের প্রমাণ দেয়। তার মধ্যে রয়েছে: তাঁর জনৈক ছাত্র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাঁকে মসজিদুল হারামে বসে তাঁর নিয়ম অনুযায়ী পাঠদান করতে দেখলাম এবং আমরা তাঁর চারপাশ ঘিরে ছিলাম। তখন আমার মনে হলো যে তিনি তো ইন্তেকাল করেছেন, তবে মৃত অবস্থায় কীভাবে পাঠদান করছেন? তখন তিনি আমার দিকে মাথা তুলে বললেন: "এটিই আমাদের নিয়ম, আমরা তোমাদের ভুলে যাই না।"

তাঁর সঙ্গীদের কেউ তাঁকে স্বপ্নে দেখে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমরা ইল্লিয়্যিনে আছি।" তাঁর অগাধ গবেষণা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাগুলোই তাঁর কারামত এবং অলৌকিক নিদর্শনের জন্য যথেষ্ট।

ইমাম বুলকিনী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আলেমদের এই জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজগুলো সুফিদের কারামত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, কারণ এগুলোর উপকারিতা স্থায়ী হয় এবং বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

--------------------------------------------

(১) গায়্যিহি: পথভ্রষ্টতা।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২৭)
بخلاف تلك. انتهى.

ملخصات من ترجمته لتلميذه الشيخ أبى بكر بن محمد بن عبد الله أبا عمرو رحمه الله تعالى والحمد لله رب العالمين.

تمت المناقب (1)

وكتبه أحمد فريد أحمد المزيدى الشافعى السلفى ليسانس الحديث جامعة الأزهر

--------------------------------------------

(1) والكتاب من محفوظات دار الكتب المصرية، تحت رقم (274) تاريخ تيمور، ميكرو فيلم (28217)، وعدد صفحاته 10 صفحات، بخط نسخ واضح.
সেগুলোর বিপরীত। সমাপ্ত।

তাঁর ছাত্র শায়খ আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আবু আমরের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সংকলিত তাঁর জীবনী থেকে সারসংক্ষেপ। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

গুণাবলি আলোচনা সমাপ্ত হলো (১)

এবং এটি লিখেছেন আহমেদ ফরিদ আহমেদ আল-মাজিদি আশ-শাফিয়ি আস-সালাফি, হাদিস বিভাগে স্নাতক, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

--------------------------------------------

(১) কিতাবটি মিশরের দারুল কুতুব-এর সংরক্ষিত সংগ্রহশালার অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর (২৭৪) তারিখ-ই-তৈমুর, মাইক্রোফিল্ম (২৮২১৭); এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০ এবং এটি স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ২৯)
أشرف الوسائل إلى فهم الشّمائل

تصنيف العالم العلاّمة شهاب الدّين أحمد بن حجر الهيتميّ المتوفّى سنة 974 هـ
শামায়িল অনুধাবনের শ্রেষ্ঠতম মাধ্যমসমূহ

রচনায়: প্রাজ্ঞ আলেম ও আল্লামা শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল-হাইতামি, মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌تنبيه

بيان المقصود بالرموز الواردة بالشرح

ح/حينئذ

وح/وحينئذ

آه/استئناف، أو-أنه
সতর্কীকরণ

ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত সংকেতসমূহের উদ্দেশ্য বর্ণনা

হা/তখন

ওয়া-হা/এবং তখন

আহ/নতুন প্রারম্ভ, অথবা-নিশ্চয়ই তা
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين والمرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد:

فهذه عجالة نلقها على مشكل شمائل الإمام الحافظ أبى عيسى محمد بن سورة- بفتح المهملة فسكون-أصلها الغدة الحدة، الترمذى نسبة لترمذ (1) بفوقية مثناة ثم ميم مكسورة أو مضمومة فمعجمة-مدينة بطرف جيحون، وهو نهر بلخ، لما قرئ علىّ فى رمضان من سنة تسع وأربعين وتسعمائة (2) بالمسجد الحرام المكرم، وسميتها: أشرف الوسائل إلى فهم الشمائل، أسأل الله قبولها. . آمين.

…

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم البلدان للحموى (2/ 31).

(2) أى قبل وفاة المصنف باثنين وعشرين سنة رحمه الله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি।

অতঃপর:

ইমাম হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন সূরাহ্ (নুকতাহীন 'সীন' বর্ণে জবর ও 'ওয়াও' বর্ণে সুকুন যোগে—যার মূল আভিধানিক অর্থ হলো উঁচু গ্রন্থি)—যিনি তিরমিজ (১) শহরের দিকে সম্বন্ধিত হয়ে তিরমিজি নামে পরিচিত, এটি 'তা' বর্ণের পর 'মিম' বর্ণে কাসরাহ (জের) বা দাম্মাহ (পেশ) এবং এরপর 'জাল' বর্ণ যোগে পঠিত হয়—যা জাইহুন নদীর তীরের একটি শহর এবং জাইহুন হলো বালখ নদী; তাঁর রচিত 'শামায়েল'-এর জটিল বিষয়গুলোর ওপর এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ। যখন নয়শত উনপঞ্চাশ (২) হিজরি সনের রমজান মাসে পবিত্র মসজিদুল হারামে এটি আমার নিকট পাঠ করা হয়েছিল, তখন আমি এর নামকরণ করেছি: 'আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামায়েল' (শামায়েল অনুধাবনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যমসমূহ)। আমি আল্লাহর নিকট এর কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি। আমীন।

…

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হামাভীর মু'জামুল বুলদান (২/ ৩১)।

(২) অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুর বাইশ বছর পূর্বে, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌1 - باب: ما جاء فى خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم

ــ

قال رحمه الله:

(باب ما جاء فى الأحاديث الواردة) وبه علم، ذكر ما جاء هنا، وفى بقية الأبواب، إذ هى إنما وضعت لذلك لا لذات الخلق مثلا (فى خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بالفتح:

التقدير والإيجاد، وقيل: هو فى الإيجاد فجاز، وإن استعمل فيه كثيرا والمراد هنا اسم المفعول، الذى هو هيئة الإنسان الظاهرة فالإضافة للبيان، وبقولنا الذى. . . إلى آخره اندفع ما يقال: إضافة البيان لا تصح هنا! لأنها التى بمعنى «من» وشرطها: أن يكون الأول بعض الثانى، وأن يصح الإخبار به عنه، وقدم الكلام فيه عليه فى الخلق- بضمتين، أو ضم فسكون-وإن كان أولى بالتقديم من حيث أن الكلام فيه أظهر وأتم، إذ هو الطبع والسجية وحقيقة الصورة الباطنة من النفس وأوصافها ومعانيها المختصة بها، ومن ثم سمى هذا الكتاب بالشمائل: جمع شمال، وهو بالكسر: الطبع، فقلب نظرا إلى شرفه، لا بالفتح والهمزة، لأنه مرادف للمكسور الذى هو الريح غير المناسب لما نحن فيه، وذلك لسبق الأول طبعا، فقدم وضعا، رعاية لترتيب الوجود، لأنه كالدليل على الثانى، فاعلم أن من تمام الإيمان به صلى الله عليه وسلم: اعتقاد أنه لم يجتمع فى بدن آدمى من المحاسن الظاهرة، ما اجتمع فى بدنه صلى الله عليه وسلم، وسر ذلك أن المحاسن الظاهرة آيات على المحاسن الباطنة، والأخلاق الزكية، ولا أكمل منه، بل ولا مساو له فى هذا المدلول، فكذلك فى الدّال، ومن ثمّ نقل القرطبى عن بعضهم: أنه لم يظهر تمام حسنه صلى الله عليه وسلم، وإلا لما طاقت الصحابة النظر إليه.

واعلم أن الكلام على خلقه صلى الله عليه وسلم يستدعى الكلام على ابتداء وجوده، فاحتيج إلى ذكره، وإن أغفله المصنف-رحمه الله-وملخصه:

أنه صح فى مسلم (1) [أنه قال] (2): إن الله قد كتب مقادير الخلق قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين ألف سنة، وكان عرشه على الماء، ومن جملة ما كتب فى الذّكر وهو أمّ الكتاب أن محمدا خاتم النبيين. وصحّ أيضا «إنى عبد الله فى أمّ الكتاب

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم فى القدر (2643)، باب كيفية الخلق الآدمى فى بطن أمه وكتابة رزقه وأجله وعمله، وشقاوته وسعادته (4/ 2036،2042).

(2) الزيادة من النسخة (ش).
১ - পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক গঠন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

--

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন:

(বর্ণিত হাদিসসমূহে যা এসেছে সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ) এর মাধ্যমে জানা গেল যে, এখানে এবং অবশিষ্ট পরিচ্ছেদসমূহে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত ওই বিষয়ের (হাদিসের) জন্যই সংকলিত হয়েছে, নিছক সৃষ্টির (গঠন) সত্তার জন্য নয় (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক গঠন সম্পর্কে)। 'খালক' শব্দটি প্রথম অক্ষরে জবর যোগে ব্যবহূত হলে তার অর্থ:

পরিমাপ করা ও অস্তিত্ব দান করা। কেউ কেউ বলেছেন: এটি অস্তিত্ব দান করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা জায়েজ; যদিও এর ব্যবহার প্রচুর। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাফউল), যা মানুষের বাহ্যিক আকৃতি বা অবয়ব। সুতরাং এখানে সম্বন্ধটি (ইযাফত) হলো বর্ণনামূলক (বিয়ানিয়্যাহ)। আর আমাদের কথা "যা মানুষের বাহ্যিক আকৃতি..." এর মাধ্যমে ওই আপত্তির খণ্ডন হয়ে যায় যাতে বলা হয়: এখানে বর্ণনামূলক সম্বন্ধ (ইযাফতে বিয়ানিয়্যাহ) সঠিক নয়! কারণ এটি 'থেকে' (মিন) এর অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এর শর্ত হলো প্রথম অংশ দ্বিতীয় অংশের অংশবিশেষ হওয়া এবং প্রথমটি সম্পর্কে দ্বিতীয়টির মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা শুদ্ধ হওয়া। এবং বাহ্যিক গঠনের (খালক) আলোচনাকে অভ্যন্তরীণ চরিত্রের (খুলুক - দুই পেশ যোগে অথবা পেশ ও সাকিন যোগে) আলোচনার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যদিও অভ্যন্তরীণ চরিত্রের আলোচনা প্রাধান্য পাওয়ার বেশি যোগ্য ছিল এই দিক থেকে যে, সেই আলোচনা অধিক স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ। কেননা চরিত্র হলো প্রকৃতি, স্বভাব এবং আত্মার অভ্যন্তরীণ রূপের হাকিকত ও তার বৈশিষ্ট্য ও অর্থসমূহ। আর এ কারণেই এই কিতাবটির নাম রাখা হয়েছে 'শামায়েল'। এটি 'শিমাল' শব্দের বহুবচন, যা শীন অক্ষরে যের যোগে অর্থ হলো 'প্রকৃতি'। এর মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে এটিকে বহুবচন করা হয়েছে। এটি শীন অক্ষরে জবর এবং হামযাহ যোগে নয়, কারণ তা যের বিশিষ্ট শব্দের সমার্থক যা বায়ু অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর এটি (শারীরিক গঠনকে আগে আনা) হয়েছে এ কারণে যে, প্রথমটি (বাহ্যিক গঠন) প্রকৃতিগতভাবে আগে আসে, তাই অস্তিত্বের ক্রমানুসারে বিন্যাসে একে আগে রাখা হয়েছে। কারণ এটি দ্বিতীয়টির (অভ্যন্তরীণ চরিত্রের) প্রমাণের মতো। অতএব জেনে রাখুন, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ঈমানের পূর্ণতা হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, কোনো মানুষের দেহে এত অধিক বাহ্যিক সৌন্দর্য একত্রিত হয়নি, যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেহে একত্রিত হয়েছে। এর রহস্য হলো, বাহ্যিক সৌন্দর্য হলো অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য ও পবিত্র চরিত্রের নিদর্শন। আর এই নিহিত অর্থের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ আর কেউ নেই, এমনকি তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই। তেমনিভাবে নিদর্শনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই কারণেই ইমাম কুরতুবি জনৈক আলিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৌন্দর্যের পূর্ণতা প্রকাশ করা হয়নি, অন্যথায় সাহাবীগণ তাঁর দিকে তাকানোর শক্তি রাখতেন না।

জেনে রাখুন, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শারীরিক গঠনের আলোচনা তাঁর অস্তিত্বের সূচনা সম্পর্কে আলোচনার দাবি রাখে। তাই এর উল্লেখের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যদিও লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এটি এড়িয়ে গেছেন। এর সারকথা হলো:

সহিহ মুসলিমে (১) এটি প্রমাণিত যে [তিনি বলেছেন] (২): নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে মাখলুকের ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন এবং তখন তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর। আর 'যিকির' তথা উম্মুল কিতাবে (মূল কিতাব) যা লেখা হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন শেষ নবী। আরও সহিহ বর্ণনায় এসেছে, "নিশ্চয়ই আমি উম্মুল কিতাবে আল্লাহর বান্দা..."

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম এটি 'তাকদির' অধ্যায়ে (২৬৪৩), মায়ের গর্ভে মানুষের সৃষ্টির প্রকৃতি এবং তার রিজিক, বয়স, আমল, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য লিখে রাখা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (৪/২০৩৬, ২০৪২)।

(২) এই অতিরিক্ত অংশটি (শ) পান্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

خاتم النبيين، وإن آدم لمنجدل فى طينته» (1) أى: طريحا ملقى قبل نفخ الروح [فيه] (2)، وصح أيضا: يا رسول الله متى كنت نبيا؟ فقال: «وآدم بين الروح والجسد» ويروى:

«كتبت»: من الكتابة، وخبر «كنت نبيا وآدم بين الماء والطين» (3).

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد فى «المسند» (4/ 127،128)، وابن أبى عاصم فى «المسند» (1/ 179)، وابن سعد فى «الطبقات الكبرى» (1/ 96)، والطبرانى فى «الكبير» (18/ 252)، (629،630)، والحاكم فى «المستدرك» (2/ 418)، والبيهقى فى «الدلائل» (1/ 80،81)، وأبو نعيم فى «الدلائل» (ص 22،23)، وفى حلية الأولياء (6/ 89). قال الحاكم: صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبى. وقال الهيثمى فى «مجمع الزوائد» (8/ 223): رواه أحمد بأسانيد، وأحد رجالها رجال الصحيح غير سعيد بن سويد وقد وثقه ابن حبان، قلت: ولم يجرحه أحد من علماء الجرح والتعديل.

(2) الزيادة من النسخة (ش).

(3) ذكره السيوطى فى «الدرر» (126)، والكنانى فى «التنزيه» (2/ 341)، والعجلونى فى «كشف الخفاء» (2/ 129) وقال: قال الحافظ ابن حجر فى بعض أجوبته عن الزيادة: أنها ضعيفة والذى قبلها أقوى، وقال الزركشى: لا أصل له بهذا اللفظ، وقال السيوطى: وزاد العوام: ولا آدم ولا ماء ولا طين، لا أصل له أيضا. وقال القارئ: فى تذكرة الموضوعات (ص 86): يعنى بحسب مبناه وإلا فهو صحيح باعتبار معناه. فائدة: قال شيخ الإسلام أحمد بن تيمية قدس الله روحه: وأما ما يرويه هؤلاء الجهال: كابن عربى فى الفصوص وغيره من جهال العامة «كنت نبيا وآدم بين الماء والطين»، «كنت نبيا ولا آدم لا ماء ولا طين». فهذا لا أصل له ولم يروه أحد من أهل العلم الصادقين، ولا هو فى شىء من كتب العلم المعتمدة بهذا اللفظ بل هو باطل! فإن آدم لم يكن بين الماء والطين قط، فإن الله خلقه من تراب، وخلط التراب بالماء حتى صار طينا، وأيبس الطين حتى صار صلصالا كالفخار، فلم يكن له حال بين الماء والطين مركب من الماء والطين، ولو قيل: بين الماء والتراب لكان أبعد عن المحال، مع أن هذه الحال لا اختصاص لها، وإنما قال: «بين الروح والجسد» وقال: «وإن آدم لمنجدل فى طينته» لأن جسد آدم بقى أربعين سنة قبل نفخ الروح فيه كما قال الله تعالى: هَلْ أَتى عَلَى اَلْإِنْسانِ حِينٌ مِنَ اَلدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئاً مَذْكُوراً الآية. . . وقال أيضا: وَإِذْ قالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي خالِقٌ بَشَراً مِنْ صَلْصالٍ الآيتين. وقال تعالى: اَلَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ وَبَدَأَ خَلْقَ اَلْإِنْسانِ مِنْ طِينٍ الآيتين، وقال تعالى: إِذْ قالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي خالِقٌ بَشَراً مِنْ طِينٍ. الآية، والأحاديث فى خلق آدم ونفخ الروح فيه مشهورة فى كتب الحديث والتفسير وغيرهما. وانظر بقية كلامه فيما يتعلق بالمسألة: مجموع الفتاوى (2/ 147،148).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

নবীগণের মোহর বা সমাপ্তিকারী, আর আদম তখনো তাঁর মাটিতে লুণ্ঠিত ছিলেন» (১) অর্থাৎ: রূহ ফুঁকে দেওয়ার পূর্বে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন (২)। আরও বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কখন নবী ছিলেন? তিনি বললেন: «যখন আদম রূহ এবং দেহের মাঝখানে ছিলেন»। আরও বর্ণিত হয়েছে:

«আমি লিখিত ছিলাম»: লিখনী হতে। এবং এই হাদীসটি: «আমি নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটির মাঝে ছিলেন» (৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ তাঁর «মুসনাদ» (৪/১২৭, ১২৮) গ্রন্থে, ইবনু আবী আসিম «মুসনাদ» (১/১৭৯) গ্রন্থে, ইবনু সাদ «তাবাকাতুল কুবরা» (১/৯৬) গ্রন্থে, তাবারানি «আল-কাবীর» (১৮/২৫২), (৬২৯, ৬৩০) গ্রন্থে, হাকিম «আল-মুসতাদরাক» (২/৪১৮) গ্রন্থে, বায়হাকী «আদ-দালাইল» (১/৮০, ৮১) গ্রন্থে, আবু নুয়াইম «আদ-দালাইল» (পৃ. ২২, ২৩) এবং «হিলয়াতুল আউলিয়া» (৬/৮৯) গ্রন্থে। হাকিম বলেছেন: এর সনদ সহীহ তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি উদ্ধৃত করেননি, এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। হাইসামি «মাজমাউয যাওয়াইদ» (৮/২২৩) গ্রন্থে বলেছেন: আহমাদ এটি একাধিক সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের একজন সাঈদ বিন সুওয়াইদ ব্যতীত বাকিরা সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আর ইবনু হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: জারাহ ও তাদীল (বর্ণনাকারী বিশ্লেষণ) শাস্ত্রের আলেমদের কেউ তাঁকে নিয়ে আপত্তি করেননি।

(২) অতিরিক্ত অংশটি (শ) পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া।

(৩) এটি উল্লেখ করেছেন সুয়ূতী «আদ-দুরার» (১২৬) গ্রন্থে, কিনানী «আত-তানযীহ» (২/৩৪১) গ্রন্থে এবং আজলুনী «কাশফুল খাফা» (২/১২৯) গ্রন্থে। আজলুনী বলেন: হাফেয ইবনু হাজার তাঁর কিছু উত্তরে এই অতিরিক্ত অংশটি সম্পর্কে বলেছেন যে এটি দুর্বল এবং এর আগের অংশটি অধিক শক্তিশালী। যারকাশী বলেছেন: এই শব্দে এর কোনো ভিত্তি নেই। সুয়ূতী বলেছেন: সাধারণ মানুষ আরও বাড়িয়ে বলে: «না আদম ছিল, না পানি ছিল, না মাটি ছিল»—এটিরও কোনো ভিত্তি নেই। মোল্লা আলী কারী «তাযকিরাতুল মাওদুআত» (পৃ. ৮৬) গ্রন্থে বলেছেন: অর্থাৎ এটি এর গঠনের দিক থেকে (বানোয়াট), অন্যথায় অর্থের দিক থেকে এটি সহীহ। উপকারিতা: শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনু তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন) বলেছেন: আর এই জাহেলরা যা বর্ণনা করে—যেমন ইবনু আরাবি ‘ফুসূস’ গ্রন্থে এবং অন্যান্য মূর্খ সাধারণ মানুষ—«আমি নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটির মাঝে ছিলেন», «আমি নবী ছিলাম যখন আদম ছিল না, পানি ছিল না, মাটিও ছিল না»। এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং সত্যবাদী কোনো আলেম এটি বর্ণনা করেননি। নির্ভরযোগ্য কোনো ইলমী কিতাবে এই শব্দে এটি বর্ণিত হয়নি বরং এটি বাতিল! কারণ আদম কখনো পানি ও মাটির মাঝে ছিলেন না। কেননা আল্লাহ তাঁকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, মাটির সাথে পানি মিশিয়েছেন যতক্ষণ না তা কাদা হয়েছে, অতঃপর সেই কাদাকে শুকিয়েছেন যতক্ষণ না তা পোড়া মাটির ন্যায় ঠনঠনে হয়েছে। সুতরাং তাঁর এমন কোনো অবস্থা ছিল না যা পানি ও মাটির মাঝে অবস্থিত বা পানি ও মাটির মিশ্রণ। যদি বলা হতো: ‘পানি ও শুষ্ক মাটির মাঝে’, তবে তা অসম্ভব থেকে দূরে হতো, যদিও এই অবস্থার কোনো বিশেষত্ব নেই। তিনি কেবল বলেছেন: «রূহ ও দেহের মাঝে» এবং বলেছেন: «নিশ্চয়ই আদম তাঁর মাটিতে লুণ্ঠিত ছিলেন» কারণ আদমের দেহ তাতে রূহ ফুঁকার পূর্বে চল্লিশ বছর অবস্থান করেছিল যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: «মানুষের ওপর কি এমন এক সময় আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না?» (আয়াত)। এবং তিনি আরও বলেছেন: «যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, আমি কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি» (দুই আয়াত)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: «যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানুষের সৃষ্টি শুরু করেছেন» (দুই আয়াত)। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: «যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, আমি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি» (আয়াত)। আদমের সৃষ্টি এবং তাতে রূহ ফুঁকার বিষয়ে হাদীসসমূহ হাদীস ও তাফসীর এবং অন্যান্য কিতাবে প্রসিদ্ধ। এই মাসআলা সংক্রান্ত তাঁর বাকি আলোচনা দেখুন: «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২/১৪৭, ১৪৮)।
(খণ্ড: ১) আশরাফুল ওয়াসাইল ইলা ফাহমিশ শামাইল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

قال بعض الحفاظ: لم نقف عليه بهذا اللفظ، وحسّن المصنف خبر: يا رسول الله متى وجبت لك النبوة؟ قال: «وآدم بين الروح والجسد» (1) ومعنى وجوب النبوة وكتابتها ثبوتها وظهورها فى الخارج نحو: كَتَبَ اَللهُ لَأَغْلِبَنَّ (2)، كُتِبَ عَلَيْكُمُ اَلصِّيامُ (3) والمراد: ظهورها للملائكة أى: ظهور النبوة، وروحه صلى الله عليه وسلم مبتدأ، فى عالم الأرواح خبره، والجملة قال: إعلاما لعظم شرفه وتميزه على بقية الأنبياء كما يأتى، وخصّ الإظهار بحالة كون آدم بين الروح والجسد لأنه أوان دخول الأرواح إلى عالم الأجساد والتمايز حينئذ أتم وأظهر فاختص النبى صلى الله عليه وسلم بزيادة إظهار شرفه بتميزه على غيره تمييزا أعظم وأتم.

وأجاب الغزالى عن وصف نفسه بالنبوة قبل وجود ذاته عند (4) خبر «أنا أول الأنبياء خلقا وآخرهم بعثا» بأن المراد بالخلق هنا التقدير لا الإيجاد فإنه قبل أن تحمل به أمه لم يكن مخلوقا موجودا، ولكن الغايات والكمالات سابقة فى التقدير لاحقة فى الوجود فقوله: «كنت نبيا» أى فى التقدير قبل تمام خلقة آدم، إذ لم ينشأ إلا لينتزع من ذريته محمد صلى الله عليه وسلم وتحقيقه: أن للدار فى ذهن المهندسين وجودا ذهنيا سببا للوجود الخارجى وسابقا عليه، فالله يقدر ثم يوجد على وفق التقدير ثانيا انتهى ملخصا، وذهب السبكى إلى ما هو أحسن وأبين، وهو أنه جاء: أن الأرواح خلقت قبل الأجساد فالإشارة «بكنت نبيا» إلى روحه الشريفة، أو حقيقة من حقائقه ولا يعلمها إلا الله، ومن حباه بالاطلاع عليها ثم إنه تعالى يؤتى كل حقيقة منها ما شاء فى أى وقت شاء، فحقيقته صلى الله عليه وسلم قد تكون من حين خلق آدم أتاها الله ذلك الوصف بأن خلقها متهيئة له وأفاضه عليها من ذلك الوقت فصار نبيا، وكتب اسمه على العرش لتعلم ملائكته وغيرهم كرامته عنده (5) فحقيقته موجودة فى ذلك الوقت، وإن تأخر جسده الشريف المتصف

--------------------------------------------

(1) رواه أبو بكر بن أبى شيبة فى «المصنف»، (14/ 292)، وابن سعد فى «الطبقات» (1/ 118)، والبخارى فى «التاريخ الكبير» (7/ 374)، والحاكم فى «المستدرك» (2/ 209).

(2) سورة المجادلة: آية (21).

(3) سورة البقرة: آية (183).

(4) فى (ش): [وعن].

(5) فى الأصل: (أ) [هذه] وما أثبت من (ش).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

কিছু হাফেজ (হাদিস বিশারদ) বলেছেন: আমরা এই শব্দে এটি খুঁজে পাইনি। তবে গ্রন্থকার এই সংবাদটিকে হাসান (গ্রহণযোগ্য) বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনার জন্য নবুওয়াত কখন অবধারিত হয়েছিল? তিনি বললেন: যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।" (১) আর নবুওয়াত অবধারিত হওয়া এবং তা লিখিত হওয়ার অর্থ হলো এর সাব্যস্ত হওয়া এবং বাস্তবে প্রকাশ পাওয়া, যেমন: "আল্লাহ লিখে দিয়েছেন (ফয়সালা করেছেন), আমি অবশ্যই বিজয়ী হব" (২), "তোমাদের ওপর রোজা অবধারিত (ফরজ) করা হয়েছে" (৩)। আর এর উদ্দেশ্য হলো: ফেরেশতাদের নিকট তা প্রকাশ পাওয়া অর্থাৎ নবুওয়াত প্রকাশ পাওয়া। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুহ হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), আর 'রুহ জগতে' হলো তার খবর (বিধেয়)। এই বাক্যটি তাঁর মর্যাদার বিশালতা এবং অন্যান্য নবীদের ওপর তাঁর স্বাতন্ত্র্য জানানোর জন্য বলা হয়েছে, যা সামনে আসবে। আর এই প্রকাশকে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থার সাথে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ এটি হলো রুহসমূহের দেহের জগতে প্রবেশের সময়। তখন স্বাতন্ত্র্য অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট হয়। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যদের ওপর তাঁর মর্যাদার অতিরিক্ত প্রকাশ ও এক মহান ও পূর্ণাঙ্গ স্বাতন্ত্র্যের মাধ্যমে বিশেষায়িত হয়েছেন।

আর ইমাম গাজালি (রহ.) তাঁর সত্তার অস্তিত্বের পূর্বেই নিজেকে নবুওয়াতের গুণে গুণান্বিত করার বিষয়ে "আমি সৃষ্টির দিক থেকে প্রথম নবী এবং প্রেরণের দিক থেকে শেষ নবী" সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর দিয়েছেন যে, এখানে সৃষ্টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নির্ধারণ (তাকদির), অস্তিত্ব দান (ইজাদ) নয়। কারণ তাঁর মা গর্ভে ধারণ করার পূর্বে তিনি সৃষ্ট ও বিদ্যমান সত্তা ছিলেন না। তবে লক্ষ্য ও পূর্ণতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী এবং অস্তিত্বের ক্ষেত্রে পরবর্তী হয়ে থাকে। সুতরাং তাঁর কথা "আমি নবী ছিলাম" অর্থাৎ আদমের সৃষ্টি পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তা নির্ধারণে ছিল। কেননা আদমকে সৃষ্টিই করা হয়েছে যাতে তাঁর বংশধর থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বের করে আনা হয়। এর বিশ্লেষণ হলো: প্রকৌশলীদের মনে কোনো প্রাসাদের একটি মানসিক অস্তিত্ব থাকে যা বাহ্যিক অস্তিত্বের কারণ এবং তার অগ্রগামী। সুতরাং আল্লাহ প্রথমে নির্ধারণ করেন, তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্ধারণ অনুযায়ী অস্তিত্ব দান করেন—সারসংক্ষেপ সমাপ্ত। আর আল্লামা সুবকি (রহ.) আরও সুন্দর ও স্পষ্ট মতের দিকে গিয়েছেন, আর তা হলো: বর্ণিত আছে যে, রুহসমূহ দেহের পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং "আমি নবী ছিলাম" দ্বারা তাঁর সম্মানিত রুহ বা তাঁর হাকিকতসমূহের (প্রকৃত রহস্য) কোনো একটির দিকে ইশারা করা হয়েছে, যা আল্লাহ এবং যাঁকে তিনি এটি দেখার তৌফিক দিয়েছেন তিনি ছাড়া কেউ জানে না। অতঃপর মহান আল্লাহ এই হাকিকতসমূহের প্রত্যেকটিকে যা ইচ্ছা এবং যখন ইচ্ছা দান করেন। সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাকিকত হয়তো আদম সৃষ্টির সময় থেকেই ছিল, আল্লাহ তাকে সেই গুণ দান করেছেন এভাবে যে, তাকে এর জন্য প্রস্তুত করে সৃষ্টি করেছেন এবং সেই সময় থেকেই তাঁর ওপর তা বর্ষণ করেছেন, ফলে তিনি নবী হয়েছেন। আর তাঁর নাম আরশের ওপর লিখে দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁর ফেরেশতারা এবং অন্যরা আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারে (৫)। সুতরাং তাঁর হাকিকত সেই সময়ে বিদ্যমান ছিল, যদিও তাঁর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সম্মানিত দেহ পরে এসেছে।

--------------------------------------------

(১) আবু বকর ইবনে আবি শাইবা 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে (১৪/২৯২), ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে (১/১১৮), বুখারি 'আত-তারিখুল কাবির' গ্রন্থে (৭/৩৭৪) এবং হাকেম 'আল-মুসতাদরাক' গ্রন্থে (২/২০৯) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) সুরা আল-মুজাদালাহ: আয়াত (২১)।

(৩) সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত (১৮৩)।

(৪) 'শ' পাণ্ডুলিপিতে: [এবং হতে]।

(৫) মূলে রয়েছে: [এই] এবং 'শ' পাণ্ডুলিপি থেকে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে।