(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: -)
الكافية في علم النحو   (ابن الحاجب)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الكافية في علم النحو

المؤلف: ابن الحاجب، جمال الدين عثمان بن عمر بن أبي بكر المصري الإسنوي المالكي (ت 646 هـ)

ويليه: «الشافية في عِلمَي التصريف والخط» للمؤلف [وقد نُشِر على حِدة بالمكتبة الشاملة]

المحقق: الدكتور صالح عبد العظيم الشاعر

الناشر: مكتبة الآداب - القاهرة

الطبعة: الأولى، 2010 م

عدد الصفحات: 57

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1435

ইলমে নাহু বিষয়ক আল-কাফিয়া   (ইবনুল হাজিব)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: ইলমে নাহু বিষয়ক আল-কাফিয়া

লেখক: ইবনুল হাজিব, জামালুদ্দীন উসমান বিন উমর বিন আবি বকর আল-মিসরি আল-ইসনাবি আল-মালিকি (মৃ. ৬৪৬ হিজরি)

এবং এর সাথে রয়েছে: «ইলমে তাসরিফ ও খত বিষয়ে আশ-শাফিয়া» লেখকের রচিত [যা আল-মাকতাবাহ আশ-শামেলায় আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়েছে]

সম্পাদক: ডক্টর সালেহ আব্দুল আজিম আশ-শা'য়ির

প্রকাশনী: মাকতাবাতুল আদাব - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدّمة المحقّق

‌‌[ابن الحاجب-‌‌شيوخه-‌‌تلاميذه-‌‌مؤلّفاته-الكافية والشافية-منهج العمل]

الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسّلام على أشرف الخلق سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، أمّا بعد. . .

 

ابن الحاجب:

هو عثمان بن عمر بي أبي بكر جمال الدين بن الحاجب، ولد في (إسنا) بأقصى صعيد مصر سنة 570 هـ، فأخذه أبوه-وكان حاجبا لعز الدين موسك الصلاحي-إلى القاهرة، فدرس فيها علوم القرآن والعربية، وتفقه على مذهب الإمام مالك، فأصبح من أبرز فقهاء زمانه حتى قيل فيه: "إنه شيخ المالكية في عصره"، ومع هذا كان عالما بالقراءات والنحو، بارعا بعلم الأصول، وقد ألّف في هذه العلوم جميعها.

قصد ابن الحاجب في آخر زمانه الإسكندرية للإقامة فيها، ففاجأه الموت في السّادس والعشرين من شوّال سنة 646 هـ.

 

شيوخه:

من أبرز شيوخه: القاسم الشاطبي، وأبو الجود اللخمي، وأبو الفضل الغزنوي، وأبو الحسن الأبياري، والقاسم ابن عساكر.

 

تلاميذه:

ومن تلاميذه: الرضي القسطنطيني، والملك الناصر داود بن الملك المعظم، وابن العماد زين الدين، وجمال الدين بن مالك.

 

مؤلفاته:

من مؤلفاته النحوية والصرفية:

الأمالي النحوية، الإيضاح: وهو شرح لمفصل الزمخشري، رسالة في العشر، شرح الكافية، شرح الشافية، شرح كتاب سيبويه، شرح المقدمة الجزولية،
‌সম্পাদকের ভূমিকা

‌[ইবনে আল-হাজিব-‌তাঁর শিক্ষকগণ-‌তাঁর ছাত্রগণ-‌তাঁর রচনাবলি-আল-কাফিয়া ও আশ-শাফিয়া-কর্মপদ্ধতি]

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর সকল পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর...

 

ইবনে আল-হাজিব:

তিনি হলেন উসমান ইবনে উমর ইবনে আবি বকর জামালুদ্দিন ইবনে আল-হাজিব। তিনি ৫৭০ হিজরি সনে মিশরের সুদূর উচ্চাঞ্চলের (ইসনা)-তে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা—যিনি ইজ্জুদ্দিন মুসিক আস-সালাহির দেহরক্ষী (حاجب) ছিলেন—তাঁকে কায়রোতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি কুরআন ও আরবি ভাষার বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, এমনকি তাঁর সম্পর্কে বলা হতো: "তিনি ছিলেন তাঁর যুগের মালিকি মাযহাবের শায়খ (شيخ)"। এর পাশাপাশি তিনি ক্বিরাআত এবং নাহু শাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন এবং উসুল (الأصول) শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি এই সকল শাস্ত্রেই গ্রন্থ রচনা করেছেন।

ইবনে আল-হাজিব তাঁর জীবনের শেষ দিকে বসবাসের উদ্দেশ্যে আলেকজান্দ্রিয়ায় গমন করেন এবং সেখানে ৬৪৬ হিজরি সনের ২৬শে শাওয়াল তারিখে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়।

 

তাঁর শিক্ষকগণ:

তাঁর প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আল-কাসিম আশ-শাতিবি, আবু আল-জুদ আল-লাখমি, আবু আল-ফাদল আল-গজনবি, আবু আল-হাসান আল-আবিয়ারি এবং আল-কাসিম ইবনে আসাকির।

 

তাঁর ছাত্রগণ:

তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আর-রাদি আল-কুসতান্তিনি, আল-মালিক আন-নাসির দাউদ ইবনুল মালিক আল-মুয়াজ্জম, ইবনুল ইমাদ যাইনুদ্দিন এবং জামালুদ্দিন ইবনে মালিক।

 

তাঁর রচনাবলি:

তাঁর নাহু ও সরফ বিষয়ক রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

আল-আমালি আন-নাহউইয়াহ, আল-ইদাহ: যা যামাখশারির 'মুফাসসাল' গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, রিসালা ফিল উশর, শারহুল কাফিয়া, শারহুশ শাফিয়া, শারহু কিতাবি সিবওয়াইহ, শারহুল মুকাদ্দিমাতুল জাযুলিয়াহ,
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৪)
شرح الوافية، القصيدة الموشحة بالأسماء المؤنثة، المسائل الدمشقية، (المكتفي للمبتدي) شرح (الإيضاح) لأبي علي الفارسي، وله كذلك قصيدة (المقصد الجليل) في علم العروض.

وله من المؤلفات الأخرى:

(جامع الأمهات) أو (مختصر الفروع) في الفقه، جمال العرب في علم الأدب، ذيل على (تاريخ دمشق) لابن عساكر، شرح الهادي، عقيدة ابن الحاجب، مختصر المنتهى في الأصول، معجم الشيوخ، المقصد الجليل في علم الخليل، منتهى السؤال والأمل في علمي الأصول والجدل.

 

‌‌الكافية:

اسمها الكامل (كافية ذوي الأرب في معرفة كلام العرب)، وهي مقدمة شاملة في علم النحو، تكفي الدارس ليحيط علما بالموضوعات الأصول في علم النحو، بعيدا عن كثير من التفاصيل والفروع والخلافات، وهو ما قصد إليه ابن الحاجب.

وشهرة الكافية جعلت الشروح عليها تكثر كثرة عظيمة، وقد أحصى الدكتور طارق نجم عبد الله مائة واثنين وأربعين من هذه المؤلّفات باللغة العربية، هذا عدا الشّروح التركيّة والفارسيّة، فضلا عن المختصرات والمنظومات، والمصنّفات في إعراب الكافية.

ومن الشروح المشهورة للكافية: شرح الرضي الاستراباذي، والفوائد الضيائية لنور الدين الجامي، ولابن هشام شرح عليها يسمّى (البرود الضافية).

 

‌‌الشافية:

صنّف ابن الحاجب الشّافية في علمي التّصريف والخطّ مستفيدا بجهود السّابقين من علماء اللّغة، ومستعينا بمنهج محكم في الاختصار والتلخيص لتكون مقدمة جامعة صغيرة الحجم عظيمة المحتوى، وقد اهتمّ العلماء بها فكثر شرّاحها وتعدّد ناظموها وكتّاب الحواشي عليها.
শারহু আল-ওয়াফিয়া, আল-কাসিদাহ আল-মুয়াশশাহ বিল-আসমা আল-মুয়ান্নাসাহ, আল-মাসায়িল আদ-দিমাশকিয়্যাহ, আবু আলী আল-ফারিসির আল-ঈজাহ গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-মুক্তাফি লিল-মুবতাদি, এবং ছন্দবিজ্ঞানে তাঁর আল-মাকসাদ আল-জালিল নামক একটি কাসিদাহ রয়েছে।

তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে:

ফিকহ শাস্ত্রের জামিউল উম্মাহাত অথবা মুখতাসারুল ফুরু, সাহিত্য শাস্ত্রের জামালুল আরব, ইবনে আসাকিরের তারিখ দিমাশকের জেইল (পরিশিষ্ট), শারহুল হাদি, আকিদাহ ইবনুল হাজিব, উসুল শাস্ত্রের মুখতাসারুল মুনতাহা, মুজামুশ শুয়ুখ, ইলমুল খালিল বিষয়ক আল-মাকসাদ আল-জালিল এবং উসুল (أصول) ও বিতর্কবিদ্যার মুনতাহাস সুআল ওয়াল আমাল।

 

‌‌আল-কাফিয়া:

এর পূর্ণ নাম হলো ‘কাফিয়াতু জাবিল আরাব ফি মারিফাতি কালামিল আরাব’। এটি নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা (مقدمة), যা একজন শিক্ষার্থীকে নাহু শাস্ত্রের মৌলিক (أصول) বিষয়াবলী সম্পর্কে জ্ঞান লাভে যথেষ্ট করে তোলে। এতে ইবনুল হাজিব অনেক বিস্তারিত বিবরণ, শাখা-প্রশাখা ও মতভেদ এড়িয়ে গেছেন, যা ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।

আল-কাফিয়ার ব্যাপক খ্যাতি এর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার পথ প্রশস্ত করেছে। ডক্টর তারিক নাজমু আব্দুল্লাহ আরবি ভাষায় এই গ্রন্থের এমন একশত বিয়াল্লিশটি রচনার পরিসংখ্যান দিয়েছেন। এটি তুর্কি ও ফারসি ভাষার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সংক্ষিপ্তসার (مختصر), কাব্যগ্রন্থ (منظومة) এবং আল-কাফিয়ার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বা ইরাব (إعراب) বিষয়ক গ্রন্থাবলি ছাড়াই।

আল-কাফিয়ার প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: শারহুর রাদি আল-আস্তারাবাজি, নুরুদ্দিন জামির আল-ফাওয়ায়িদ আদ-দিয়ায়িয়্যাহ এবং ইবনে হিশামের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম ‘আল-বুরূদ আদ-দাফিয়্যাহ’।

 

‌‌আল-শাফিয়া:

ইবনুল হাজিব পূর্ববর্তী ভাষাবিদদের প্রচেষ্টা থেকে উপকৃত হয়ে এবং সংক্ষিপ্তকরণ ও সারসংক্ষেপের একটি সুনিপুণ পদ্ধতির সাহায্যে সরফ (রূপান্তর) ও লিপিবিদ্যা বিষয়ে আল-শাফিয়া রচনা করেন, যা একটি ক্ষুদ্রায়তন অথচ মহান বিষয়বস্তু সম্পন্ন সমন্বিত ভূমিকা (مقدمة) হিসেবে গণ্য হয়। আলেমগণ এর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন, ফলে এর ব্যাখ্যাদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে অনেক কাব্যকার (ناظم) ও টীকা (حاشية) লেখকের উদ্ভব হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৫)
ومن شرّاحها: رضي الدين الأستراباذي، النظام الأعرج النيسابوري، ركن الدين الأستراباذي، أحمد بن الحسين الجاربردي، عز الدين ابن جماعة، محمد بن القاسم الغزي الغرابيلي، ابن هشام الأنصاري.

ومن الناظمين لها: إبراهيم بن حسام الكرمياني، الشيخ أبو النجا ابن خلف، يوسف بن عبد الملك.

 

‌‌منهج العمل:

أمّا العمل في الكافية فقد اطّلعت أوّل الأمر على تحقيق الدكتور طارق نجم عبد الله (1)، وهو عمل من الدّقّة بمكان؛ حيث اعتمد في تحقيقه على تسع نسخ، بين مطبوع منها ومخطوط، ثمّ زدت عليها-بفضل الله-نسخة ممتازة من محفوظات مكتبة جامعة برينستون، Princeton University Library نسخت عام 793 هـ وقوبلت على نسخة المصنّف، وقد قرأها صاحبها (علاء الدين ابن النقيب) على اثنين من شيوخه أولهما عبد الله بن عبد الرحمن البسطامي، والثاني فقد اسمه في آخر المخطوطة، ولوحاتها أربع وأربعون، كتب في ختامها قبل إجازات الشيوخ (بلغ مقابلة بنسخة المصنف وجعل موافقا بحمد الله تعالى).

وقد ظهر فضل هذه النسخة حين وجدت بها بعض النصوص التي خلت منها طبعة د. نجم بلا إشارة إلى نقص أو طمس، ومن الأمثلة الواضحة ما ورد في باب التعجب، حيث جاء النصّ في المخطوطة:

"و (به) فاعل، [و (أفعل) أصله خبر] عند سيبويه، ولا ضمير في (أفعل)، و [أمر] عند الأخفش، والباء للتّعدية، أو زائدة ففيه ضمير. "

وقد كان النصّ الأوّل الذي بين المعكوفين ساقطا في النسخة المطبوعة، فظهرت مشكلة نسبة قول إلى سيبويه لم يقل به وهو القول بفاعلية (به) في أسلوب التّعجّب، كذلك كان النصّ في المطبوعة (ومفعول عند الأخفش) وتم التصحيح من المخطوطة، وهذا ممّا أثبت حسن المخطوطة وكونها في القمّة من الدقّة، والحمد لله.

--------------------------------------------

(1) منشور عام 1986 م، مكتبة دار الوفاء للنشر والتوزيع، جدة.
এর ব্যাখ্যাকারগণের মধ্যে রয়েছেন: রাযীউদ্দীন আল-আসতারাবাদী, নিযাম আল-আ'রাজ আল-নিশাপুরী, রুকনুদ্দীন আল-আসতারাবাদী, আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-জারবারদী, ইযযুদ্দীন ইবনে জামা'আহ, মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-গাযযী আল-গুরাবিলি এবং ইবনে হিশাম আল-আনসারী।

এবং একে কাব্যরূপে বিন্যস্তকারীদের মধ্যে রয়েছেন: ইবরাহিম বিন হুসাম আল-কিরমিয়ানি, শায়খ আবু নাজা ইবনে খালাফ এবং ইউসুফ বিন আব্দুল মালিক।

 

‌‌কর্মপদ্ধতি:

আল-কাফিয়া-এর কাজ সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি প্রথমেই ড. তারিক নাজমু আবদুল্লাহ-এর তাহকীক বা সম্পাদনার (১) ওপর দৃষ্টিপাত করি, যা অত্যন্ত উচ্চমানের সূক্ষ্মতাসম্পন্ন একটি কাজ। তিনি তাঁর এই সম্পাদনায় মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে মোট নয়টি অনুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন। এরপর আমি—আল্লাহর অনুগ্রহে—প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি (Princeton University Library) এর সংগ্রহশালা থেকে প্রাপ্ত একটি চমৎকার পাণ্ডুলিপি এতে যুক্ত করি। এটি ৭৯৩ হিজরিতে প্রতিলিপি করা হয়েছিল এবং লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এর পাঠ-মিলন (مقابلة) সম্পন্ন করা হয়েছিল। এর স্বত্বাধিকারী (আলাউদ্দীন ইবনে আল-নাকীব) তাঁর দুইজন শায়খের নিকট এটি পাঠ করেছিলেন; যাঁদের প্রথমজন হলেন আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বিস্তামি এবং দ্বিতীয়জনের নাম পাণ্ডুলিপির শেষে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর পত্র সংখ্যা ৪৪টি। এর শেষে শায়খদের অনুমতিপত্র (إجازة) প্রদানের বিবরণীর পূর্বে লেখা রয়েছে: (লেখকের মূল অনুলিপির সাথে পাঠ-মিলন সম্পন্ন হয়েছে এবং আল্লাহর প্রশংসায় তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে)।

এই পাণ্ডুলিপিটির শ্রেষ্ঠত্ব তখন স্পষ্ট হয় যখন আমি এতে এমন কিছু পাঠ্যাংশ খুঁজে পাই যা ড. নাজম-এর সংস্করণে কোনো ত্রুটি বা অস্পষ্টতার সংকেত ছাড়াই বাদ পড়েছিল। এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো 'আশ্চর্যবোধক অধ্যায়' (বাবুত তাআজ্জুব)-এ যা বর্ণিত হয়েছে। পাণ্ডুলিপিতে পাঠটি ছিল:

"এবং (বিহি) হলো কর্তা, সিবওয়াইহ-এর মতে [(আফ'আল)-এর মূল হলো সংবাদ], আর (আফ'আল)-এ কোনো সর্বনাম নেই; অন্যদিকে আল-আখফাশ-এর মতে এটি একটি [আদেশ], এবং 'বা' বর্ণটি সকর্মক করার জন্য অথবা এটি অতিরিক্ত, ফলে এতে সর্বনাম রয়েছে।"

তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত প্রথম অংশটি মুদ্রিত সংস্করণে বাদ পড়েছিল, ফলে সিবওয়াইহ-এর দিকে এমন একটি মত আরোপের সমস্যা তৈরি হয়েছিল যা তিনি বলেননি; আর তা হলো 'তাআজ্জুব' পদ্ধতিতে (বিহি)-কে কর্তা হিসেবে গণ্য করা। একইভাবে মুদ্রিত সংস্করণে পাঠটি ছিল (আল-আখফাশ-এর মতে এটি কর্ম), যা এই পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে। এটিই এই পাণ্ডুলিপিটির গুণগত মান এবং এর সূক্ষ্মতার সর্বোচ্চ পর্যায় প্রমাণ করে, আলহামদুলিল্লাহ।

--------------------------------------------

(১) ১৯৮৬ সালে জেদ্দার মাকতাবাতু দারিল ওয়াফা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৬)
وأمّا العمل في الشافية فقد كان المعتمد الأول لإثبات نصّها الطبعة العتيقة المطبوعة مع شرح العلامة الجاربردي وحاشية ابن جماعة الكناني (1)، ثمّ استأنست بالمقابلة على نسخة استجدتها من محفوظات جامعة الملك سعود، منسوخة عام 1372 هـ، ولوحاتها إحدى وأربعون.

وقد حرصت على الدّقّة التّامّة في ضبط الكلمات والأمثلة والصيغ، والله وحده يعلم ما يحتاجه ذلك من جهد في المؤلّفات اللغوية، والصّرفيّة منها خاصّة.

وذيّلت الكتابين بما يحتاجانه من فهارس الآيات القرآنية، وشواهد الشّعر، والأمثال والأقوال، والأعلام، ولم أشأ الفصل بين فهارس الكافية وفهارس الشافية؛ حرصا على جعلهما كتابا واحدا بمثابة مقدمة تضمّ خلاصة القواعد النّحويّة والصّرفيّة.

وبعد أيّها القارئ الكريم، فأتمنّى لك الاستفادة بما رجوناه من تقديم الكافية والشافية بين دفّتي كتاب واحد، ولعلّ الله ينفع بهذا العمل أهل العلم وطلاّبه في كل زمان ومكان، فهو وليّ ذلك والقادر عليه.

وختاما أحمد الله على توفيقه في إخراج هذا العمل إلى النور، وأسأله تعالى أن يستر ما فيه من تقصير ويغفره، إنه حييّ ستّير.

والحمد لله أولا وآخرا. . .

د. صالح عبد العظيم الشاعر

القاهرة

رجب 1431 هـ

يوليو 2010 م

--------------------------------------------

(1) منشور عام 1310 هـ، دار الطباعة العامرة، اسطنبول.
'শাফিয়া' গ্রন্থের কাজের ক্ষেত্রে, এর পাঠ্য প্রমাণের জন্য প্রাথমিক নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল আল্লামা আল-জারবারদি-এর ব্যাখ্যা এবং ইবন জামাআ আল-কিনানি (১)-এর টীকা সংবলিত মুদ্রিত প্রাচীন সংস্করণটি। পরবর্তীতে আমি কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত একটি পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখেছি, যা ১৩৭২ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছিল এবং এর পত্র সংখ্যা ছিল একচল্লিশটি।

আমি শব্দাবলি, উদাহরণ এবং রূপসমূহ যথাযথভাবে নির্ধারণে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে রূপতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থে এ কাজের জন্য কতটা শ্রমের প্রয়োজন হয়, তা কেবল আল্লাহই জানেন।

আমি বই দুটির শেষে প্রয়োজনীয় কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট, কাব্যের উদ্ধৃতি, প্রবাদ ও উক্তি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামের তালিকা যুক্ত করেছি। আমি 'কাফিয়া' ও 'শাফিয়া' গ্রন্থের নির্ঘণ্টসমূহ পৃথক করতে চাইনি; যাতে এগুলোকে ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্বের মৌলিক নিয়মাবলির নির্যাস সংবলিত একটি একক গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা যায়।

অতঃপর হে সম্মানিত পাঠক, এক মলাটে 'কাফিয়া' ও 'শাফিয়া' উপস্থাপনের মাধ্যমে আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি, তা থেকে আপনি উপকৃত হবেন বলে আমি আশা করি। আল্লাহ তাআলা এই কাজের মাধ্যমে সর্বকালের ও সর্বস্থানের আলেম ও শিক্ষার্থীদের উপকৃত করুন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বক্ষমতাবান।

পরিশেষে, এই কাজটি সুসম্পন্ন করার তৌফিক দান করায় আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এতে থাকা আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি গোপন রাখেন ও ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দোষ গোপনকারী।

আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। . .

ড. সালেহ আবদুল আজিম আল-শায়ির

কায়রো

রজব ১৪৩১ হিজরি

জুলাই ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

(১) ১৩১০ হিজরিতে ইস্তাম্বুলের 'দারুত তিবায়াতিল আমিরা' থেকে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৭)
الصفحة الأولى من الكافية-جامعة برينستون
আল-কাফিয়ার প্রথম পৃষ্ঠা - প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৮)
الصفحة الأخيرة من الكافية-جامعة برينستون
আল-কাফিয়ার শেষ পৃষ্ঠা - প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৯)
اللوحة الأولى من الشافية-جامعة الملك سعود
আশ-শাফিয়া-এর প্রথম ফলক - কিং সউদ ইউনিভার্সিটি
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১০)
اللوحة الأخيرة من الشافية-جامعة الملك سعود
আশ-শাফিয়া-এর সর্বশেষ পৃষ্ঠা - কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১১)
أولا: متن الكافية

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه أستعين، الحمد لله ربّ العالمين، حمد الشّاكرين، والصّلاة والسّلام على أفضل رسله محمّد وآله الطّاهرين.

 

‌‌[الكلمة والكلام]

الكلمة: لفظ وضع لمعنى مفرد، وهي:

اسم، وفعل، وحرف.

لأنها إمّا أن تدلّ على معنى في نفسها أو لا، الثّاني الحرف.

والأوّل إمّا أن يقترن بأحد الأزمنة الثّلاثة أو لا، الثّاني الاسم، والأوّل الفعل، وقد علم بذلك حدّ كلّ واحد منها.

الكلام: ما تضمّن كلمتين بالإسناد، ولا يتأتّى ذلك إلاّ في اسمين، أو فعل واسم.

الاسم: ما دلّ على معنى في نفسه غير مقترن بأحد الأزمنة الثّلاثة.

ومن خواصّه: دخول اللاّم، والجرّ، والتّنوين، والإسناد إليه، والإضافة.

وهو معرب ومبنيّ، فالمعرب: المركّب الّذي لم يشبه مبنيّ الأصل.

وحكمه أن يختلف آخره باختلاف العوامل لفظا أو تقديرا.

 

‌‌[الإعراب]

الإعراب: ما اختلف آخره به ليدلّ على المعاني المعتورة عليه.

وأنواعه: رفع، ونصب، وجرّ.

فالرّفع: علم الفاعليّة، والنّصب: علم المفعوليّة، والجرّ: علم الإضافة.

والعامل: ما به يتقوّم المعنى المقتضي للإعراب.

فالمفرد المنصرف، والجمع المكسّر المنصرف بالضّمة رفعا، والفتحة نصبا، والكسرة جرّا.

جمع المؤنّث السّالم بالضّمّة والكسرة.

غير المنصرف بالضّمّة والفتحة.
প্রথমত: কাফিয়া-এর মূল পাঠ (متن)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই নিকট আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, কৃতজ্ঞদের মতো প্রশংসা। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বোত্তম রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর।

 

‌‌[কালিমা (كلمة) ও কালাম (كلام)]

কালিমা (كلمة): এমন একটি শব্দ (لفظ) যা একটি একক অর্থ প্রকাশের জন্য গঠন করা হয়েছে। আর তা হলো:

বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)।

কারণ এটি হয় তার নিজের সত্তাগত কোনো অর্থের ওপর দালালত (নির্দেশ) করে অথবা করে না; দ্বিতীয়টি হলো অব্যয় (حرف)।

আর প্রথমটি হয় তিন কালের কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত হয় অথবা হয় না; দ্বিতীয়টি হলো বিশেষ্য (اسم), আর প্রথমটি হলো ক্রিয়া (فعل)। এর মাধ্যমেই এদের প্রত্যেকের সংজ্ঞা (حد) জানা গেল।

কালাম (كلام): যা সম্বন্ধযুক্ত (إسناد) দুটি কালিমা (শব্দ) নিয়ে গঠিত হয়, আর তা কেবল দুটি বিশেষ্য (اسم) অথবা একটি ক্রিয়া (فعل) ও একটি বিশেষ্যের (اسم) মাধ্যমেই সম্ভব হয়।

বিশেষ্য (اسم): যা তিন কালের কোনোটির সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়াই নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করতে পারে।

এর বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে: শুরুতে লাম (ال) যুক্ত হওয়া, জর (جر) হওয়া, তানভিন (تنوين) হওয়া, তার প্রতি সম্বন্ধ (إسناد إليه) করা এবং ইজাফত (إضافة) হওয়া।

আর এটি পরিবর্তনশীল (معرب) এবং অপরিবর্তনশীল (مبني)। পরিবর্তনশীল (معرب) হলো: ঐ যৌগিক পদ যা মূল অপরিবর্তনশীলের (مبني الأصل) সদৃশ নয়।

এর বিধান হলো, আমেল (عامل)-এর পরিবর্তনের কারণে এর শেষাংশ শাব্দিকভাবে (لفظا) অথবা উহ্যভাবে (تقديرا) পরিবর্তিত হয়।

 

‌‌[ই’রাব (إعراب)]

ই’রাব (إعراب): যার মাধ্যমে শব্দের শেষাংশ পরিবর্তিত হয় যাতে তার ওপর আপতিত অর্থসমূহ প্রকাশ পায়।

এর প্রকারসমূহ হলো: রফ’ (رفع), নসব (نصب) এবং জর (جر)।

রফ’ (رفع) হলো ফায়েল বা কর্তা হওয়ার নিদর্শন, নসব (نصب) হলো মাফ’উল বা কর্ম হওয়ার নিদর্শন এবং জর (جر) হলো ইজাফত বা সম্বন্ধের নিদর্শন।

আমেল (عامل): যার দ্বারা ই’রাব-এর দাবিদার অর্থটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুতরাং একবচন রূপান্তরিত বিশেষ্য (المفرد المنصرف) এবং রূপান্তরিত ভগ্ন বহুবচন (الجمع المكسّر المنصرف)-এর ই’রাব হলো: রফ’ (رفع) অবস্থায় পেশ (ضمة) দ্বারা, নসব (نصب) অবস্থায় জবর (فتحة) দ্বারা এবং জর (جر) অবস্থায় জের (كسرة) দ্বারা।

সুস্থ স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع المؤنّث السّالم)-এর ই’রাব পেশ (ضمة) এবং জের (كسرة) দ্বারা।

গায়রে মুনসারিফ (غير المنصرف) বা অ-রূপান্তরিত শব্দের ই’রাব পেশ (ضمة) এবং জবর (فتحة) দ্বারা।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১২)
(أخوك)، و (أبوك)، و (حموك)، و (هنوك)، و (فوك)، و (ذومال)، مضافة إلى غير ياء المتكلّم، بالواو، والألف، والياء.

المثنّى، و (كلا) مضافا إلى مضمر، و (اثنان)، بالألف والياء.

جمع المذكّر السّالم، و (أولو)، و (عشرون) وأخواتها، بالواو والياء.

التّقدير فيما تعذّر، ك (عصا)، و (غلامي) مطلقا، أو استثقل، ك (قاض) رفعا وجرّا، ونحو (مسلمي) رفعا، واللّفظيّ فيما عداه.

 

‌‌[الممنوع من الصرف]

غير المنصرف: ما فيه علّتان من تسع، أو واحدة منها تقوم مقامهما، وهي [من البسيط]:

عدل ووصف وتأنيث ومعرفة … وعجمة ثمّ جمع ثمّ تركيب

والنّون زائدة من قبلها ألف … ووزن فعل وهذا القول تقريب

مثل: عمر، وأحمر، وطلحة، وزينب، وإبراهيم، ومساجد، ومعد يكرب، وعمران، وأحمد.

وحكمه أن لا كسر ولا تنوين، ويجوز صرفه للضّرورة، أو للتّناسب مثل: {سَلاسِلَ وَأَغْلالاً} (1).

وما يقوم مقامهما: الجمع وألفا التأنيث.

فالعدل: خروجه عن صيغته الأصليّة، تحقيقا ك (ثلاث) و (مثلث) و (أخر) و (جمع)، أو تقديرا ك (عمر).

وباب (قطام) في بني تميم.

الوصف: شرطه أن يكون وصفا في الأصل، فلا تضرّه الغلبة، فلذلك صرف (أربع) في: (مررت بنسوة أربع)، وامتنع (أسود)، و (أرقم) للحيّة، و (أدهم) للقيد، وضعف منع (أفعى) للحيّة، و (أجدل) للصّقر، و (أخيل) للطّائر.

التّأنيث بالتّاء: شرطه العلميّة، والمعنويّ كذلك، وشرط تحتّم تأثيره: الزّيادة على الثلاثة، أو تحرّك الأوسط، أو العجمة، ف (هند) يجوز صرفه، و (زينب) و (سقر) و (ماه)

--------------------------------------------

(1) الإنسان/4، والحديث هنا عن القراءة بتنوين (سلاسلا)، وهي قراءة نافع والكسائي وهشام وأبي بكر.
(আখুকা), (আবুকা), (হামুকা), (হানুকা), (ফুকা) এবং (যু মাল) শব্দগুলো যখন ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম (ياء المتكلم) ব্যতীত অন্য শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হয়, তখন সেগুলোর ই’রাব ওয়াও (واو), আলিফ (ألف) এবং ইয়া (ياء) দ্বারা হয়।

দ্বিবচন (تثنية), এবং সর্বনামের (مضمر) দিকে সম্বন্ধযুক্ত 'কিলা' (كلا), এবং 'ইসনানি' (اثنان); এগুলোর ই’রাব আলিফ ও ইয়া দ্বারা হয়।

জমা মুযাক্কার সালেম (جمع المذكر السالم), এবং 'উলু' (أولو), এবং 'ইশরুন' (عشرون) ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ; এগুলোর ই’রাব ওয়াও ও ইয়া দ্বারা হয়।

ই’রাব উহ্য বা তকদিরি (تقديري) হবে যেখানে উচ্চারণ অসম্ভব (تعذر), যেমন- 'আসা' (عصا) এবং 'গুলামি' (غلامي) সর্বাবস্থায়; অথবা যেখানে উচ্চারণ কষ্টকর (استثقل), যেমন- রফা (رفع) ও জর (جر) এর অবস্থায় 'কাদি' (قاض) এর মতো শব্দে, এবং রফা (رفع) এর অবস্থায় 'মুসলিমিয়্যা' (مسلمي) এর অনুরূপ শব্দে। আর এছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে ই’রাব শাব্দিক বা লাফজি (لفظي) হবে।

 

‌‌[গাইরে মুনসারিফ বা রূপান্তরহীন বিশেষ্য (الممنوع من الصرف)]

গাইরে মুনসারিফ (غير المنصرف): যাতে (মান্’উ মিনাস সার্ফ-এর) নয়টি কারণের মধ্যে দুটি কারণ বিদ্যমান থাকে, অথবা এমন একটি কারণ থাকে যা দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর সেগুলো হলো [বাসিত ছন্দ থেকে]:

আদল (عدل), ওসফ (وصف), তানিছ (تأنيث) ও মারেফাহ (معرفة) … উজমা (عجمة) এরপর জমা (جمع) তারপর তারকীব (تركيب)

এবং অতিরিক্ত নুন (نون) যার পূর্বে আলিফ (ألف) রয়েছে … এবং ওজনে ফেইল (وزن فعل); আর এই বর্ণনাটি একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা মাত্র (تقريب)

যেমন: উমর, আহমাস, তালহা, যয়নব, ইবরাহিম, মাসাজিদ, মা’দিকারিব, ইমরান এবং আহমদ।

এর বিধান হলো এতে কাসরা (كسرة) বা যের এবং তানউইন (تنوين) হবে না। তবে কাব্যিক প্রয়োজনে বা ছন্দের মিল রক্ষার্থে মুনসারিফ হিসেবে পড়া জায়েজ, যেমন: {سَلاسِلَ وَأَغْلالاً} (১)।

আর যা দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়: জমা (جمع) এবং তানিছ-এর আলিফদ্বয় (ألفا التأنيث)।

আদল (عدل): শব্দ তার মূল রূপ (صيغته الأصلية) থেকে বের হয়ে আসা; এটি নিশ্চিতভাবে (تحقيقا) হতে পারে যেমন- 'সুলাস' (ثلاث), 'মাসলাস' (مثلث), 'উখার' (أخر) এবং 'জুমা' (جمع); অথবা অনুমিত (تقديرا) হতে পারে যেমন- 'উমর' (عمر)।

এবং বনু তামীম গোত্রের নিকট 'কাতামি' (قطام) এর পরিচ্ছেদ।

ওসফ (وصف) বা গুণবাচকতা: এর শর্ত হলো শব্দটিকে মূলত গুণবাচক হতে হবে, ফলে পরবর্তীতে বিশেষ্য হিসেবে এর আধিক্য (الغلبة) তার ক্ষতি করবে না। এই কারণেই 'আরবাউন' (أربع) শব্দটি 'مررت بنسوة أربع' বাক্যে মুনসারিফ হয়েছে। আর সাপ বোঝাতে 'আসওয়াদ' (أسود) ও 'আরকাম' (أرقم) এবং শৃঙ্খল বোঝাতে 'আদহাম' (أدهم) শব্দগুলো গাইরে মুনসারিফ হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে সাপ বোঝাতে 'আফ’আ' (أفعى), বাজপাখি বোঝাতে 'আজদাল' (أجدل) এবং এক প্রকার পাখি বোঝাতে 'আখইয়াল' (أخيل) শব্দগুলোকে গাইরে মুনসারিফ গণ্য করা দুর্বল মত।

তা (تاء) যুক্ত স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث): এর শর্ত হলো আলম (علم) বা নাম হওয়া, এবং অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গের (معنوي) ক্ষেত্রেও একই শর্ত। আর স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার প্রভাব অবধারিত হওয়ার শর্ত হলো: শব্দটি তিন অক্ষরের বেশি হওয়া, অথবা মধ্যাক্ষর হরকতযুক্ত (تحرك الأوسط) হওয়া, অথবা অনারব বা আজমি (عجمة) শব্দ হওয়া। সুতরাং 'হিন্দ' (هند) মুনসারিফ হওয়া জায়েজ, কিন্তু 'যয়নব' (زينب), 'সাকার' (سقر) এবং 'মাহ' (ماه)...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইনসান: ৪; এখানে আলোচনা করা হয়েছে 'সালাসিলা' (سلاسلا) শব্দটিতে তানউইনসহ কিরাত নিয়ে, যা নাফে, কিসায়ি, হিশাম এবং আবু বকর-এর কিরাত।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১৩)
و (جور) ممتنع، فإن سمّي به مذكّر فشرطه الزّيادة على الثّلاثة، ف (قدم) منصرف، و (عقرب) ممتنع.

المعرفة: شرطها أن تكون علميّة.

العجمة: شرطها أن تكون علميّة في العجميّة، وتحرّك الأوسط، أو زيادة على الثلاثة، ف (نوح) منصرف، و (شتر) و (ابراهيم) ممتنع.

الجمع: شرطه صيغة منتهى الجموع بغير هاء، ك (مساجد) و (مصابيح)، وأما (فرزانة) فمنصرف، و (حضاجر) علما للضّبع غير منصرف؛ لأنّه منقول عن الجمع، و (سراويل) إذا لم يصرف-وهو الأكثر-فقد قيل: إنّه أعجميّ حمل على موازنه، وقيل: عربيّ جمع (سروالة) تقديرا، وإذا صرف فلا إشكال (1).

ونحو (جوار) رفعا وجرّا ك (قاض).

التّركيب: شرطه العلميّة، وأن لا يكون بإضافة ولا بإسناد، مثل (بعلبكّ).

الألف والنّون: إن كانا فى اسم فشرطه العلميّة، ك (عمران)، أو في صفة فانتفاء فعلانة، وقيل: وجود فعلى، ومن ثمّ اختلف في (رحمان) دون (سكران) و (ندمان).

وزن الفعل: شرطه أن يختصّ بالفعل، ك (شمّر)، و (ضرب)، أو يكون في أوّله زيادة كزيادته غير قابل للتّاء، ومن ثمّ امتنع (أحمر)، وانصرف (يعمل)، وما فيه علميّة مؤثّرة إذا نكّر صرف؛ لما تبيّن من أنّها لا تجامع مؤثّرة إلاّ ما هي شرط فيه، إلاّ العدل ووزن الفعل، وهما متضادّان، فلا يكون إلاّ أحدهما.

فإذا نكّر بقي بلا سبب، أو على سبب واحد.

وخالف سيبويه (2) الأخفش في مثل (أحمر) علما إذا نكّر اعتبارا للصّفة الأصليّة بعد التّنكير، ولا يلزمه باب (حاتم)؛ لما يلزم من اعتبار المتضادّين في حكم واحد.

وجميع الباب باللاّم أو الإضافة ينجرّ بالكسر.

--------------------------------------------

(1) قال ابن هشام في أوضح المسالك 4/ 117: "نقل ابن الحاجب أن من العرب من يصرفه، وأنكر ابن مالك عليه ذلك".

(2) ينظر: الكتاب 3/ 193.
এবং (জূর) শব্দটি অনিষ্পন্ন (ممتنع), তবে যদি এর দ্বারা কোনো পুরুষকে নামকরণ করা হয় তবে তার শর্ত হলো শব্দটি তিন অক্ষরের অধিক হওয়া; তাই (ক্বদম) শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (منصرف) এবং (আকরাব) শব্দটি অনিষ্পন্ন (ممتنع)।

নির্দিষ্টতা (المعرفة): এর শর্ত হলো এটি নামবাচকতা (علميّة) বিশিষ্ট হওয়া।

অনারবীয়তা (العجمة): এর শর্ত হলো এটি অনারবীয় ভাষায় নামবাচকতা (علميّة) হওয়া, এবং মধ্যাক্ষরটি স্বরযুক্ত হওয়া অথবা তিন অক্ষরের অধিক হওয়া; তাই (নূহ) শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (منصرف) এবং (শাতার) ও (ইব্রাহিম) অনিষ্পন্ন (ممتنع)।

বহুবচন (الجمع): এর শর্ত হলো এটি 'হা' (هاء) ব্যতীত চূড়ান্ত বহুবচনের রূপ (صيغة منتهى الجموع) হওয়া, যেমন: (মাসাজিদ) এবং (মাসাবিহ)। আর (ফারযানা) শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (منصرف); এবং (হাদাজির) যখন হায়েনার নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন অনিষ্পন্ন (غير منصرف), কারণ এটি বহুবচন থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর (সারাবীল) শব্দটি যখন রূপান্তরযোগ্য হয় না—এবং এটিই অধিক প্রচলিত—তখন বলা হয়েছে যে: এটি একটি অনারবীয় শব্দ যা তার সমরূপ ওজনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে; আবার বলা হয়েছে: এটি আরবি শব্দ যা মূলত (সারওয়ালাহ) এর বহুবচন হিসেবে পরিগণিত। আর যদি এটি রূপান্তরযোগ্য (صرف) হয় তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই (১)।

এবং (জাওয়ারি) এর মতো শব্দগুলো রফআ (رفع) এবং জার (جر) এর অবস্থায় (ক্বাদি) শব্দের মতো হয়ে থাকে।

যৌগিকতা (التّركيب): এর শর্ত হলো নামবাচকতা (علميّة) হওয়া এবং এটি ইযাফত (إضافة) বা ইসনাদ (إسناد)-এর মাধ্যমে না হওয়া, যেমন: (বালবাক)।

আলিফ ও নুন (الألف والنّون): যদি তা কোনো বিশেষ্যে থাকে তবে শর্ত হলো নামবাচকতা (علميّة) হওয়া, যেমন: (ইমরান); অথবা যদি কোনো গুণবাচক শব্দে থাকে তবে শর্ত হলো তার স্ত্রীলিঙ্গ রূপ (فعﻻنة) ওজনে না আসা। বলা হয়েছে: স্ত্রীলিঙ্গ রূপ (فعلى) ওজনে বিদ্যমান থাকা শর্ত। আর এখান থেকেই (রহমান) শব্দের বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, যা (সাকরান) ও (নাদমান) এর ক্ষেত্রে হয়নি।

ক্রিয়ার ওজন (وزن الفعل): এর শর্ত হলো এটি ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট হওয়া, যেমন: (শাম্মার) এবং (দারাবা), অথবা এর শুরুতে এমন অতিরিক্ত বর্ণ থাকা যা ক্রিয়ার শুরুতে যুক্ত হয় এবং তা 'তা' (تاء) গ্রহণ করে না। এই কারণেই (আহমার) শব্দটি অনিষ্পন্ন (امتنع) হয়েছে এবং (ইয়া’মালু) রূপান্তরযোগ্য (انصرف) হয়েছে। যে সকল শব্দে নামবাচকতা (علميّة) কার্যকর প্রভাব রাখে, সেগুলো যদি অনির্দিষ্ট (نكرة) করা হয় তবে তা রূপান্তরযোগ্য (صرف) হবে; কারণ এটি স্পষ্ট যে, নামবাচকতা কেবল সেই সব গুণের সাথেই একত্রিত হয়ে প্রভাব ফেলে যেগুলোর জন্য এটি শর্ত, তবে পরিবর্তন (العدل) এবং ক্রিয়ার ওজন (وزن الفعل) এর বিষয়টি ভিন্ন। এই দুটি পরস্পর বিরোধী, তাই একসাথে কেবল একটিই থাকতে পারে।

সুতরাং যখন তা অনির্দিষ্ট (نكرة) করা হয়, তখন তা কোনো কারণ ছাড়া অথবা মাত্র একটি কারণ বিশিষ্ট অবস্থায় অবশিষ্ট থাকে।

সীবওয়াইহ (২) আল-আখফাশের বিরোধিতা করেছেন (আহমার) এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে যখন একে নামবাচক হিসেবে ব্যবহারের পর পুনরায় অনির্দিষ্ট (نكرة) করা হয়, তখন এর মূল গুণবাচকতাকে বিবেচনা করে। তবে (হাতিম) এর পরিচ্ছেদে এটি আবশ্যক হয় না, কারণ একই বিধানে দুটি বিপরীত বিষয়কে বিবেচনা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

এবং এই পরিচ্ছেদের সকল শব্দে যদি আলিফ-লাম যুক্ত হয় অথবা ইযাফত (الإضافة) হয়, তবে তা কাসরা (জের) দ্বারা মাজরুর হবে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম আওদাহুল মাসালিক ৪/১১৭-এ বলেছেন: "ইবনুল হাজিব উল্লেখ করেছেন যে আরবদের মধ্যে কেউ কেউ এটি রূপান্তর করেন, তবে ইবনে মালিক তার এই বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন"‌।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-কিতাব ৩/১৯৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المرفوعات

هو ما اشتمل على علم‌‌ الفاعليّة.

 

[الفاعل]:

فمنه الفاعل: وهو ما أسند إليه الفعل أو شبهه، وقدّم عليه على جهة قيامه به، مثل:

(قام زيد)، و (زيد قائم أبوه).

والأصل أن يلي فعله، فلذلك جاز (ضرب غلامه زيد) وامتنع (ضرب غلامه زيدا).

وإذا انتفى الإعراب لفظا فيهما والقرينة، أو كان مضمرا متّصلا، أو وقع مفعوله بعد (إلا) أو معناها، وجب تقديمه.

وإذا اتّصل به ضمير مفعول، أو وقع بعد (إلاّ) أو معناها، أو اتّصل مفعوله وهو غير متّصل به، وجب تأخيره.

وقد يحذف الفعل لقيام قرينة جوازا في مثل (زيد) لمن قال: (من قام؟)، و [من الطويل]

ليبك يزيد، ضارع لخصومة .... . . (1)

ووجوبا في مثل قوله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (2).

وقد يحذفان معا في مثل: (نعم) لمن قال: (أقام زيد؟).

 

‌‌[التنازع]:

وإذا تنازع الفعلان ظاهرا بعدهما، فقد يكون في الفاعليّة مثل: (ضربني وأكرمني زيد)، وفي المفعوليّة مثل: (ضربت وأكرمت زيدا)، وفي الفاعليّة والمفعوليّة مختلفين.

فيختار البصريّون إعمال الثّاني، والكوفيّون إعمال الأوّل (3).

فإن أعملت الثّاني أضمرت الفاعل في الأوّل على وفق الظّاهر دون الحذف، خلافا للكسائيّ، وجاز-خلافا للفرّاء-، وحذفت المفعول إن استغني عنه، وإلاّ أظهرت.

--------------------------------------------

(1) تمامه: ومختبط ممّا تطيح الطّوائح، وهو من شواهد الكتاب، أنشده للحارث بن نهيك، وقال الشيخ عبد السّلام هارون: الصواب أنه لنهشل بن حري، ضارع: ذليل خاضع.

(2) التوبة/6.

(3) هي المسألة الثالثة عشرة من كتاب الإنصاف 1/ 83.
‌মারফুসমূহ (المرفوعات)

এটি এমন বিষয় যা কর্তাসত্তার (فاعلية) বৈশিষ্ট্যকে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

[কর্তা (الفاعل)]:

তন্মধ্যে একটি হলো কর্তা (الفاعل): এটি এমন একটি পদ যার দিকে ক্রিয়া বা ক্রিয়াসদৃশ কোনো শব্দকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং তা সম্পাদনের দিক থেকে তাকে ক্রিয়ার পূর্বে আনা হয়েছে, যেমন:

(জায়েদ দাঁড়িয়েছে), এবং (জায়েদ এমন ব্যক্তি যার পিতা দণ্ডায়মান)।

মূল নিয়ম হলো কর্তা তার ক্রিয়ার পরপরই আসবে; একারণেই (তার গোলামকে জায়েদ প্রহার করেছে) বাক্যটি বৈধ, কিন্তু (জায়েদকে তার গোলাম প্রহার করেছে) বাক্যটি অবৈধ।

যদি উভয় পদের ক্ষেত্রে শাব্দিক ই’রাব এবং কোনো প্রকার পরিস্থিতির প্রমাণ (قرينة) অনুপস্থিত থাকে, অথবা যদি কর্তা একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) হয়, অথবা যদি কর্মটি 'ইল্লা' বা তার সমার্থবোধক শব্দের পরে আসে, তবে কর্তাকে আগে আনা আবশ্যক (وجوبا)।

আর যদি কর্তার সাথে কর্মের সর্বনাম যুক্ত থাকে, অথবা কর্তা 'ইল্লা' বা তার সমার্থবোধক শব্দের পরে আসে, অথবা যদি কর্মটি ক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত থাকে অথচ কর্তা বিযুক্ত থাকে, তবে কর্তাকে পরে আনা আবশ্যক (وجوبا)।

কখনো কখনো কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে অনুমতি সাপেক্ষে (جوازا) ক্রিয়াটি উহ্য রাখা হয়, যেমন: (জায়েদ) বলা সেই ব্যক্তির জবাবে যে জিজ্ঞাসা করেছে: (কে দাঁড়িয়েছে?)। এবং যেমন কবি বলেন [তবিল ছন্দে]:

ইয়াজিদের জন্য যেন ক্রন্দন করা হয়, যে বিবাদের ক্ষেত্রে বিনয়ী ছিল...। . (১)

আর ক্ষেত্রবিশেষে এটি উহ্য রাখা আবশ্যক (وجوبا), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ আপনার কাছে আশ্রয় চায়} (২)।

আবার কখনো কখনো ক্রিয়া ও কর্তা উভয়ই একত্রে উহ্য থাকে, যেমন: (হ্যাঁ) বলা সেই ব্যক্তির জবাবে যে জিজ্ঞাসা করেছে: (জায়েদ কি দাঁড়িয়েছে?)।

 

‌[বিরোধ বা তানাযু (التنازع)]:

যখন দুটি ক্রিয়া তাদের পরবর্তী একটি প্রকাশ্য বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তখন তা কর্তার (فاعلية) ক্ষেত্রে হতে পারে যেমন: (জায়েদ আমাকে প্রহার করেছে এবং আমাকে সম্মান করেছে), আবার কর্মের (مفعولية) ক্ষেত্রে হতে পারে যেমন: (আমি জায়েদকে প্রহার করেছি এবং আমি তাকে সম্মান করেছি), আবার কর্তা ও কর্মের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্নভাবেও হতে পারে।

এক্ষেত্রে বাসরীয়গণ দ্বিতীয় ক্রিয়াটিকে আমল বা প্রয়োগ (إعمال) করার বিষয়টিকে পছন্দ করেন এবং কুফীয়গণ প্রথমটিকে প্রয়োগ (إعمال) করার বিষয়টিকে পছন্দ করেন (৩)।

যদি আপনি দ্বিতীয়টিকে প্রয়োগ (إعمال) করেন তবে প্রথম ক্রিয়াটিতে প্রকাশ্য বিশেষ্য পদ অনুযায়ী কর্তার সর্বনাম উহ্য রাখবেন, তা বিলোপ করবেন না—এটি কিসায়ীর মতের পরিপন্থী; তবে এটি বৈধ—যা ফাররা-এর মতের পরিপন্থী; আর যদি কর্মের প্রয়োজন না থাকে তবে তা বিলোপ করবেন, অন্যথায় তাকে প্রকাশ্য আনবেন।

--------------------------------------------

(১) এর পূর্ণ অংশ হলো: 'এবং সেই অভাবী ব্যক্তি যে বিপদসমূহের কারণে নিঃস্ব হয়েছে'; এটি কিতাব-এর অন্যতম শাহিদ বা কাব্যিক প্রমাণ, যা হারিস বিন নাহীক-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। শেখ আবদুস সালাম হারুন বলেছেন: সঠিক হলো এটি নাহশাল বিন হুররির কবিতা। 'দারী' অর্থ: বিনীত ও অনুগত।

(২) সূরা তওবা: ৬।

(৩) এটি কিতাবুল ইনসাফ-এর ১ম খণ্ড, ৮৩ পৃষ্ঠার ত্রয়োদশ মাসআলা।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১৫)
وإن أعملت الأوّل أضمرت الفاعل في الثّاني، والمفعول على المختار، إلاّ أن يمنع مانع فتظهر.

وقول امرئ القيس [من الطويل]:

. . . . … كفاني-ولم أطلب-قليل من المال (1)

ليس منه؛ لفساد المعنى.

 

‌‌[مفعول ما لم يسمّ فاعله]:

كلّ مفعول حذف فاعله وأقيم هو مقامه.

وشرطه أن تغيّر صيغة الفعل إلى (فعل) أو (يفعل)، ولا يقع المفعول الثّاني من باب (علمت)، ولا الثّالث من باب (أعلمت)، والمفعول له، والمفعول معه كذلك.

وإذا وجد المفعول به تعيّن له، تقول: (ضرب زيد يوم الجمعة أمام الأمير ضربا شديدا في داره)، فتعيّن (زيد)، فإن لم يكن فالجميع سواء، والأوّل من باب (أعطيت) أولى من الثّاني.

 

‌‌[المبتدأ والخبر]:

ومنها المبتدأ والخبر.

فالمبتدأ: هو الاسم المجرّد عن العوامل اللفظيّة، مسندا إليه، أو الصّفة الواقعة بعد حرف النّفي وألف الاستفهام، رافعة لظاهر مثل (زيد قائم)، و (ما قائم الزّيدان)، و (أقائم الزّيدان؟)، فإن طابقت مفردا جاز الأمران.

والخبر: هو المجرّد المسند به المغاير للصّفة المذكورة.

وأصل المبتدأ التّقديم، ومن ثمّ جاز (في داره زيد)، وامتنع (صاحبها في الدّار).

 

‌‌[مسوغات الابتداء بالنكرة]:

وقد يكون المبتدأ نكرة إذا تخصّصت بوجه ما، مثل:

--------------------------------------------

(1) صدره: ولو أنّما أسعى لأدنى معيشة، والشاهد فيه عدم كونه من باب التنازع؛ فمقتضى المعنى يمنع كون (ولم أطلب) موجّها إلى (قليل)، فوجب كون (قليل) معمولا للفعل الأول (كفاني).
আর যদি আপনি প্রথমটিকে আমল দেন, তবে দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে কর্তাকে (فاعل) উহ্য রাখবেন এবং পছন্দনীয় মতানুসারে কর্মকেও (مفعول) উহ্য রাখবেন, যদি না কোনো বাধা তাকে প্রকাশ করাকে অনিবার্য করে।

এবং ইমরুল কায়েসের উক্তি [তওয়িল ছন্দ থেকে]:

. . . . … আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে -অথচ আমি তা চাইনি- সামান্য সম্পদ (১)

এটি এর অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এতে অর্থের বিকৃতি ঘটে।

 

‌‌[যেই কর্মের কর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি (مفعول ما لم يسمّ فاعله)]:

প্রত্যেক এমন কর্ম (مفعول) যার কর্তা (فاعل) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তাকে সেই কর্তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

এর শর্ত হলো ক্রিয়ার রূপকে (صيغة الفعل) পরিবর্তিত করে ‘ফুইলা’ (فُعِلَ) বা ‘ইউফআলু’ (يُفْعَلُ) এর ওজনে নিতে হবে। আর ‘আলিমতু’ (علمت) অধ্যায়ের দ্বিতীয় কর্ম (مفعول ثان), ‘আ’লামতু’ (أعلمت) অধ্যায়ের তৃতীয় কর্ম (مفعول ثالث) এবং অনুরূপভাবে মাফউল লাহু (مفعول له) ও মাফউল মা’আহু (مفعول معه) স্থলাভিষিক্ত হতে পারবে না।

আর যদি মাফউল বিহি (مفعول به) বিদ্যমান থাকে, তবে সেটিই স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য নির্ধারিত হবে। আপনি বলবেন: (জুমার দিন আমিরের সামনে জায়েদকে তার ঘরে সজোরে প্রহার করা হয়েছে), এখানে (জায়েদ) নির্ধারিত হয়েছে। আর যদি তা না থাকে, তবে সবকটিই সমান। তবে ‘আ’তয়তু’ (أعطيت) অধ্যায়ের ক্ষেত্রে প্রথমটি দ্বিতীয়টির চেয়ে উত্তম।

 

‌‌[মুক্তাদা ও খবর (المبتدأ والخبر)]:

তার মধ্য থেকে অন্য দুটি হলো মুক্তাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر)।

মুক্তাদা (مبتدأ) হলো: সেই বিশেষ্য (اسم) যা শাব্দিক আমেলসমূহ (عوامل لفظية) থেকে মুক্ত এবং যা মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) হয়, অথবা সেই সিফাত (صفة) যা না-বোধক অব্যয় (حرف نفي) এবং প্রশ্নবোধক আলিফ (ألف استفهام)-এর পরে আসে এবং কোনো প্রকাশ্য বিশেষ্যকে (ظاهر) রাফা প্রদান করে; যেমন: (জায়েদ দণ্ডায়মান), এবং (দুই জায়েদ দণ্ডায়মান নয়), এবং (দুই জায়েদ কি দণ্ডায়মান?)। যদি তা একবচনের (مفرد) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে উভয়টিই জায়েজ।

খবর (خبر) হলো: আমেলমুক্ত সেই পদ যা মুসনাদ বিহি (مسند به) এবং যা উল্লিখিত সিফাত (صفة) থেকে ভিন্ন।

মুক্তাদা (مبتدأ)-এর মূল বিধান হলো পূর্বে আসা (تقديم), এই কারণেই ‘তার ঘরে জায়েদ আছে’ বলা জায়েজ হয়েছে, কিন্তু ‘তার মালিক ঘরে আছে’ বলা নিষিদ্ধ হয়েছে।

 

‌‌[নাকেরা দ্বারা বাক্য শুরু করার বৈধতা (مسوغات الابتداء بالنكرة)]:

মুক্তাদা (مبتدأ) কখনও নাকেরা (نكرة) হতে পারে যদি তা কোনোভাবে বিশিষ্টতা (تخصيص) লাভ করে, যেমন:

--------------------------------------------

(১) কবিতাটির প্রথমাংশ হলো: ‘আমি যদি সামান্যতম জীবিকার জন্য প্রচেষ্টা করতাম’, আর এখানে শাহেদ বা প্রমাণের বিষয়টি হলো এটি তানাজু (تنازع) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া; কারণ অর্থের দাবি অনুযায়ী ‘আমি চাইনি’ কথাটি ‘সামান্য’-এর দিকে নির্দেশিত হওয়া অসম্ভব, ফলে ‘সামান্য’ শব্দটি প্রথম ক্রিয়া ‘আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে’-এর মামুল (معمول) হওয়া ওয়াজিব বা অপরিহার্য হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১৬)
{وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ} (1)، و (أرجل في الدّار أم امرأة؟)، و (ما أحد خير منك)، و (شرّ أهرّ ذا ناب)، و (في الدّار رجل)، و (سلام عليك).

 

‌‌[وقوع الخبر جملة]:

والخبر قد يكون جملة، مثل (زيد أبوه قائم)، و (زيد قام أبوه)، فلا بدّ من عائد، وقد يحذف.

وما وقع ظرفا فالأكثر أنّه مقدّر بجملة.

 

‌‌[وجوب تقديم المبتدأ]:

وإذا كان المبتدأ مشتملا على ما له صدر الكلام مثل: (من أبوك؟)، أو كانا معرفتين مثل: (زيد القائم)، أو متساويين مثل: (أفضل منك أفضل منّي)، أو كان الخبر فعلا له مثل: (زيد قام) وجب تقديمه.

 

‌‌[وجوب تقديم الخبر]:

وإذا تضمّن الخبر المفرد ما له صدر الكلام مثل: (أين زيد؟)، أو كان مصحّحا له مثل: (في الدّار رجل)، أو لمتعلّقه ضمير في المبتدأ مثل: (على التّمرة مثلها زبدا)، أو كان خبرا عن (أنّ) مثل: (عندي أنك قائم)، وجب تقديمه.

 

‌‌[تعدّد الخبر]:

وقد يتعدّد الخبر، مثل: (زيد عالم عاقل).

 

‌‌[دخول الفاء في خبر المبتدأ]:

وقد يتضمّن المبتدأ معنى الشّرط فيصحّ دخول الفاء في الخبر، وذلك الاسم الموصول بفعل أو ظرف، أو النّكرة الموصوفة بهما، مثل (الّذي يأتيني، أو في الدّار، فله درهم)، و (كلّ رجل يأتيني، أو في الدّار، فله درهم)، و (ليت) و (لعلّ) مانعان بالاتّفاق، وألحق بعضهم (إنّ) بهما.

 

‌‌[حذف المبتدأ]:

وقد يحذف المبتدأ لقيام قرينة جوازا، كقول المستهلّ: (الهلال والله!).

--------------------------------------------

(1) البقرة/221.
{এবং অবশ্যই একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম} (১), এবং (বাড়িতে কি কোনো পুরুষ আছে নাকি নারী?), এবং (তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ নেই), এবং (মন্দ কোনো বিষয় কোনো হিংস্র প্রাণীকে খেপিয়ে দিয়েছে), এবং (বাড়িতে একজন লোক আছে), এবং (তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।

 

[খবর বাক্য বা জুমলা হিসেবে হওয়া]:

খবর কখনো বাক্য (জুমলা) হতে পারে, যেমন (যায়েদ, তার পিতা দণ্ডায়মান), এবং (যায়েদ, তার পিতা দাঁড়িয়েছে); এমতাবস্থায় একটি প্রত্যাবর্তক সর্বনাম (আয়িদ) থাকা আবশ্যক, তবে কখনো তা উহ্যও থাকতে পারে।

আর যা অধিকরণ (যরফ) হিসেবে আসে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা একটি উহ্য বাক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।

 

[মুবতাদাকে আগে আনা ওয়াজিব হওয়া]:

যখন মুবতাদা এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা বাক্যের শুরুতে আসা আবশ্যক, যেমন: (তোমার পিতা কে?), অথবা যদি মুবতাদা ও খবর উভয়ই নির্দিষ্ট (মারেফা) হয় যেমন: (যায়েদ দণ্ডায়মান ব্যক্তি), অথবা উভয়ই সমান পর্যায়ের হয় যেমন: (তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ), অথবা খবরটি যদি মুবতাদার জন্য একটি ক্রিয়া (ফেল) হয় যেমন: (যায়েদ দাঁড়িয়েছে), তবে মুবতাদাকে আগে আনা ওয়াজিব বা আবশ্যক।

 

[খবর আগে আনা ওয়াজিব হওয়া]:

যদি একক (মুফরাদ) খবর এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা বাক্যের শুরুতে আসা আবশ্যক, যেমন: (যায়েদ কোথায়?), অথবা যদি খবরটি (মুবতাদাকে) বাক্য শুরু করার উপযোগিতা দান করে যেমন: (বাড়িতে একজন লোক আছে), অথবা খবরের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী কোনো সর্বনাম যদি মুবতাদায় বিদ্যমান থাকে যেমন: (খেজুরের ওপর তার সমপরিমাণ মাখন রয়েছে), অথবা খবরটি যদি 'আন্না'-এর খবর হয় যেমন: (আমার নিকট নিশ্চিত যে তুমি দণ্ডায়মান), তবে খবরকে আগে আনা ওয়াজিব।

 

[খবর একাধিক হওয়া]:

খবর কখনো একাধিক হতে পারে, যেমন: (যায়েদ বিদ্বান ও বুদ্ধিমান)।

 

[মুবতাদার খবরে 'ফা' যুক্ত হওয়া]:

কখনো মুবতাদা শর্তের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে খবরে 'ফা' যুক্ত হওয়া বৈধ হয়। আর তা হলো এমন সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (ইসম মাওসুল) যা ক্রিয়া (ফেল) বা অধিকরণ (যরফ)-এর সাথে যুক্ত, অথবা এমন অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকেরা) যা ঐ দুটির দ্বারা বিশেষিত; যেমন: (যে আমার কাছে আসবে, অথবা যে বাড়িতে আছে, তার জন্য এক দিরহাম) এবং (প্রত্যেক ব্যক্তি যে আমার কাছে আসবে, অথবা যে বাড়িতে আছে, তার জন্য এক দিরহাম)। তবে 'লাইতা' এবং 'লাআল্লা' সর্বসম্মতিক্রমে এর পথে বাধা স্বরূপ, আর কেউ কেউ 'ইন্না'-কেও এগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

 

[মুবতাদা উহ্য হওয়া]:

কোনো প্রাসঙ্গিক আলামত বিদ্যমান থাকার কারণে মুবতাদা উহ্য হওয়া জায়েজ, যেমন নতুন চাঁদ দেখা ব্যক্তির উক্তি: (আল্লাহর কসম, এটি নতুন চাঁদ!)।

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারা/২২১।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[حذف الخبر]:

والخبر جوازا، مثل (خرجت فإذا السّبع).

ووجوبا فيما التزم في موضعه غيره، مثل: (لولا زيد لكان كذا)، و (ضربي زيدا قائما)، و (كلّ رجل وضيعته) و (لعمرك لأفعلنّ كذا).

 

‌‌خبر (إنّ) وأخواتها:

خبر إنّ وأخواتها: هو المسند بعد دخول هذه الحروف، مثل: (إن زيدا قائم)، وأمره كأمر خبر المبتدأ، إلاّ في تقديمه، إلاّ إذا كان ظرفا.

 

‌‌[خبر (لا) النافية للجنس]:

خبر (لا) الّتي لنفي الجنس: هو المسند بعد دخولها، مثل: (لا غلام رجل ظريف فيها). ويحذف كثيرا، وبنو تميم لا يثبتونه.

 

‌‌[اسم (ما) و (لا) المشبّهتين ب (ليس)]:

اسم (ما) و (لا) المشبّهتين ب (ليس): هو المسند إليه بعد دخولهما، مثل: (ما زيد قائما) و (لا رجل أفضل منك)، وهو في (لا) شادّ.
‌‌[খবর (خبر) উহ্য হওয়া]:

এবং খবর (خبر) অনুমোদিতভাবে (جوازا) উহ্য হয়, যেমন: (আমি বের হলাম, অমনি সেখানে একটি সিংহ উপস্থিত)।

এবং আবশ্যিকভাবে (وجوبا) সেখানে উহ্য হয় যেখানে খবরের স্থলে অন্য কিছুকে আবশ্যক করা হয়েছে, যেমন: (যদি জায়েদ না থাকত তবে এমন হতো), এবং (জায়েদ দণ্ডায়মান অবস্থায় আমার তাকে প্রহার করা), এবং (প্রত্যেক ব্যক্তি ও তার সহায়-সম্পদ) এবং (আপনার জীবনের শপথ, আমি অবশ্যই এমনটি করব)।

 

‌‌ইন্না (إنّ) ও তার সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহের খবর (خبر):

ইন্না (إنّ) ও তার সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহের খবর (خبر) হলো সেই মুসনাদ (المسند) যা এই অব্যয়সমূহ প্রবেশের পর আসে, যেমন: (নিশ্চয়ই জায়েদ দণ্ডায়মান), এবং এর বিধান মুবতাদার খবরের (خبر المبتدأ) বিধানের ন্যায়, তবে খবরকে অগ্রবর্তী করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে, যদি না তা যরফ (ظرف) হয়।

 

‌‌[জাতিগত নেতিবাচক 'লা' (لا النافية للجنس)-এর খবর (خبر)]:

জাতিগত নেতিবাচকতা (لنفي الجنس)-এর জন্য ব্যবহৃত 'লা' (لا)-এর খবর (خبر) হলো সেই মুসনাদ (المسند) যা এই অব্যয়টি প্রবেশের পর আসে, যেমন: (সেখানে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির গোলাম নেই)। এটি অনেক ক্ষেত্রে উহ্য থাকে এবং বনু তামীম গোত্র একে উল্লেখ করে না বা তা সাব্যস্ত করে না।

 

‌‌['লাইসা' (ليس)-এর সদৃশ 'মা' (ما) ও 'লা' (لا)-এর ইসিম (اسم)]:

'লাইসা' (ليس)-এর সদৃশ 'মা' (ما) ও 'লা' (لا)-এর ইসিম (اسم) হলো সেই মুসনাদ ইলাইহি (المسند إليه) যা এই দুটি অব্যয় প্রবেশের পর আসে, যেমন: (জায়েদ দণ্ডায়মান নয়) এবং (তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ব্যক্তি নেই), আর 'লা' (لا)-এর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বিরল (شاذ)।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المنصوبات

المنصوبات: هو ما اشتمل على علم المفعوليّة.

 

‌‌[المفعول المطلق]:

فمنه المفعول المطلق، وهو اسم ما فعله فاعل فعل مذكور بمعناه.

ويكون للتّأكيد، والنّوع، والعدد، مثل (جلست جلوسا، وجلسة، وجلسة).

فالأوّل لا يثنّى ولا يجمع، بخلاف أخويه.

وقد يكون بغير لفظه، مثل: (قعدت جلوسا).

وقد يحذف الفعل لقيام قرينة جوازا، كقولك لمن قدم: (خير مقدم).

ووجوبا، سماعا مثل: سقيا، ورعيا، وخيبة، وجدعا، وحمدا، وشكرا، وعجبا.

وقياسا فى مواضع:

منها: ما وقع مثبتا بعد نفي-أو معنى نفي-داخل على اسم لا يكون خبرا عنه.

أو وقع مكرّرا مثل (ما أنت إلاّ سيرا) و (ما أنت إلاّ سير البريد)، و (إنّما أنت سيرا) و (زيد سيرا سيرا).

ومنها ما وقع تفصيلا لأثر مضمون جملة متقدّمة، مثل: {فَشُدُّوا الْوَثاقَ فَإِمّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمّا فِداءً} (1).

ومنها ما وقع للتّشبيه علاجا بعد جملة مشتملة على اسم بمعناه وصاحبه، مثل:

(مررت بزيد فإذا له صوت صوت حمار، وصراخ صراخ الثّكلى).

ومنها ما وقع مضمون جملة لا محتمل لها غيره، مثل: (له عليّ ألف درهم اعترافا)، ويسمّى توكيدا لنفسه.

ومنها ما وقع مضمون جملة لها محتمل غيره، مثل: (زيد قائم حقّا)، ويسمّى توكيدا لغيره.

ومنها ما وقع مثنّى، مثل: (لبّيك وسعديك).

 

‌‌[المفعول به]:

المفعول به: هو ما وقع عليه فعل الفاعل، مثل: (ضربت زيدا)، وقد يتقدّم على الفعل.

--------------------------------------------

(1) محمد/4.
মানসুবাত (المنصوبات)

মানসুবাত: এটি এমন বিষয় যা মাফলিয়াত বা কর্মপদ হওয়ার বৈশিষ্ট্য (علم المفعوليّة) অন্তর্ভুক্ত করে।

 

[মাফউল মুতলাক (المفعول المطلق)]:

তার মধ্যে একটি হলো মাফউল মুতলাক (المفعول المطلق); আর এটি এমন একটি বিশেষ্য (اسم) যা উল্লিখিত ক্রিয়ার (فعل) কর্তা কর্তৃক সম্পাদিত কর্মকে তার অর্থের সাথে ব্যক্ত করে।

এটি তাকিদ বা গুরুত্বারোপ (التأكيد), ধরন বা প্রকার (النوع) এবং সংখ্যা (العدد) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন: (আমি বসা বসলাম - جلست جلوسا), (আমি বিশেষ এক ধরনের বসা বসলাম - وجلسة) এবং (আমি একবার বসলাম - وجلسة)।

এক্ষেত্রে প্রথম প্রকারটি (তাকিদ) দ্বিবচন (يثنى) বা বহুবচন (يجمع) হয় না, তবে তার অপর দুই প্রকারের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।

কখনো কখনো এটি মূল ক্রিয়ার শব্দ ব্যতীত অন্য শব্দ দ্বারাও হতে পারে; যেমন: (আমি বসার মতো বসলাম - قعدت جلوسا)।

কখনো কখনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈধভাবে (جوازا) ক্রিয়াটি উহ্য থাকে; যেমন আগন্তুক ব্যক্তিকে বলা হয়: (আপনার আগমন কল্যাণময় হোক - خير مقدم)।

আবার কখনো কতগুলো ক্ষেত্রে শ্রুতিনির্ভর (سماعا) ভিত্তিতে আবশ্যিকভাবে (وجوبا) ক্রিয়া উহ্য থাকে; যেমন: (সুকইয়া - سقيا), (রাইয়া - رعيا), (খাইবা - خيبة), (জাদআ - جدعا), (হামদান - حمدا), (শুকরান - شكرا) এবং (আজাবান - عجبا)।

এবং কতগুলো স্থানে নিয়ম অনুযায়ী (قياسا) ক্রিয়া উহ্য থাকে:

তন্মধ্যে একটি হলো: যা নফি বা না-বোধক (نفي) অব্যয়—অথবা না-বোধক অর্থের—পরে ইতিবাচকভাবে (مثبتا) আসে এবং এমন বিশেষ্যের (اسم) ওপর দাখিল হয় যা তার খবর (خبر) নয়।

অথবা যা পুনরাবৃত্ত (مكرّرا) হয়ে আসে; যেমন: (তুমি কেবল চলাই চলছ - ما أنت إلا سيرا), (তুমি দ্রুতগতিতে চলাই চলছ - ما أنت إلا سير البريد), (নিশ্চয়ই তুমি চলছ - إنما أنت سيرا) এবং (জায়েদ কেবল চলছেই - زيد سيرا سيرا)।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো: যা পূর্ববর্তী বাক্যের বিষয়ের প্রভাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা (تفصيلا) হিসেবে আসে; যেমন: {অতঃপর তোমরা শক্ত করে বাঁধন দাও, এরপর হয় অনুগ্রহ (منّا), না হয় মুক্তিপণ (فداءً)} (১)।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো: যা কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কাজের সাদৃশ্য (التشبيه) বুঝানোর জন্য এমন বাক্যের পরে আসে যাতে উক্ত কর্মের সমার্থক বিশেষ্য (اسم) এবং তার কর্তা বিদ্যমান থাকে; যেমন:

(আমি জায়েদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ তার আওয়াজ গাধার আওয়াজের মতো - صوت حمار এবং তার চিৎকার সন্তানহারা মায়ের চিৎকারের মতো - صراخ الثكلى অনুভূত হলো)।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো: যা এমন একটি বাক্যের বিষয়বস্তু হিসেবে আসে যার অন্য কোনো অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই; যেমন: (আমার কাছে তার এক হাজার দিরহাম পাওনা রয়েছে - এটি আমার স্বীকৃতি - اعترافا); একে নিজের জন্য তাকিদ (توكيدا لنفسه) বলা হয়।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো: যা এমন একটি বাক্যের বিষয়বস্তু হিসেবে আসে যার অন্য অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; যেমন: (জায়েদ অবশ্যই দণ্ডায়মান - حقا); একে অন্যের জন্য তাকিদ (توكيدا لغيره) বলা হয়।

তন্মধ্যে আরেকটি হলো: যা দ্বিবচন (مثنى) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন: (আমি আপনার সেবায় বারবার হাজির - لبيك وسعديك)।

 

[মাফউল বিহি (المفعول به)]:

মাফউল বিহি: এটি এমন শব্দ যার ওপর কর্তার ক্রিয়া (فعل الفاعل) পতিত হয়; যেমন: (আমি জায়েদকে প্রহার করেছি - ضربت زيدا); আর কখনো এটি ক্রিয়ার পূর্বেও আসতে পারে।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ/৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد يحذف الفعل لقيام قرينة: جوازا، كقولك: (زيدا) لمن قال: (من أضرب؟).

ووجوبا في أربعة أبواب (1):

الأوّل: سماعيّ مثل: (امرأ ونفسه)، و {اِنْتَهُوا خَيْراً لَكُمْ} (2)، و (أهلا وسهلا).

 

‌‌[المنادى]:

والثّاني: المنادى، وهو المطلوب إقباله بحرف نائب مناب (أدعو) لفظا أو تقديرا.

ويبنى على ما يرفع به إن كان مفردا معرفة، مثل: (يا زيد)، و (يا رجل)، و (يا زيدان) و (يا زيدون).

ويخفض بلام الاستغاثة، مثل: (يا لزيد)، ويفتح لإلحاق ألفها ولا لام فيه، مثل:

(يا زيداه).

وينصب ما سواهما، مثل: (يا عبد الله) و (يا طالعا جبلا)، و (يا رجلا) لغير معيّن.

 

‌‌[توابع المنادى]:

وتوابع المنادى المبنيّ المفردة-من التّأكيد، والصّفة، وعطف البيان، والمعطوف بحرف، الممتنع دخول (يا) عليه-ترفع على لفظه، وتنصب على محلّه، مثل (يا زيد العاقل والعاقل).

والخليل في المعطوف يختار الرّفع (3)، وأبو عمرو النّصب (4)، وأبو العبّاس (5) إن كان ك (الحسن) فكالخليل، وإلا فكأبي عمرو.

--------------------------------------------

(1) هي كما فصّل المؤلف: الأول: سماعي، والثّاني: المنادى، والثّالث: ما أضمر عامله على شريطة التّفسير، والرّابع: التحذير.

(2) النساء/171.

(3) في كتاب الجمل المنسوب له ص 83 حكاية للقول بالنصب والقول بالرفع، من غير ترجيح ولا اختيار لأحدهما.

(4) يراجع: معاني القرآن وإعرابه للزّجّاج 4/ 243.

(5) شدّد المبرّد في المقتضب 4/ 211 على اختيار الرفع بقوله: "وتقول: يا عبد الله وزيد أقبلا، لا يكون إلا ذلك"، وفصّل الخلاف في ذي الألف واللام المعطوف على المضاف أو المفرد، فذكر أن الخليل وسيبويه والمازني يختارون الرفع، أما أبو عمرو وعيسى بن عمر ويونس وأبو عمر الجرمي فيختارون النصب، وعلى قولهم جاءت قراءة العامة [أهل المدينة وأهل الكوفة]، وقال: "والنصب عندي حسن على قراءة الناس، " وبهذا يظهر عدم دقّة نص الكافية في مذهب المبرد.
উপযুক্ত প্রমাণের উপস্থিতিতে কখনো কখনো ক্রিয়া উহ্য রাখা হয়: বৈধভাবে, যেমন আপনার উক্তি: (যায়েদকে)—সে ব্যক্তির উত্তরে যে জিজ্ঞাসা করেছে: (আমি কাকে প্রহার করব?)।

এবং চারটি পরিচ্ছেদে ক্রিয়া উহ্য রাখা বাধ্যতামূলক (১):

প্রথমত: শ্রুতি-নির্ভর উদাহরণ, যেমন: (ব্যক্তি ও তার সত্তা), এবং {তোমরা নিবৃত্ত হও, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} (২), এবং (স্বাগতম)।

 

‌‌[আহ্বানকৃত শব্দ (মুনাদা)]:

দ্বিতীয়ত: মুনাদা; আর এটি এমন শব্দ যাকে শাব্দিক বা উহ্যভাবে 'আমি আহ্বান করছি' ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত কোনো অব্যয়ের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়।

যদি তা একক নির্দিষ্ট বিশেষ্য হয়, তবে মারফু হওয়ার চিহ্ন অনুযায়ী তা মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হবে, যেমন: (হে যায়েদ), (হে পুরুষ), (হে দুই যায়েদ) এবং (হে যায়েদগণ)।

সাহায্য প্রার্থনার 'ল্যাম' দ্বারা এটি মাজরুর হয়, যেমন: (হায় যায়েদ—সাহায্যের জন্য), এবং ল্যাম না থাকলে আলিফ যুক্ত হওয়ার কারণে এটি ফাতাহ-যুক্ত হয়, যেমন: (হায় যায়েদ)।

এই দুই অবস্থা ব্যতীত অবশিষ্ট ক্ষেত্রে এটি মানসুব হয়, যেমন: (হে আল্লাহর বান্দা), (হে পাহাড় আরোহণকারী), এবং অনির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে (হে কোনো এক ব্যক্তি)।

 

‌‌[মুনাদার অনুগামী শব্দসমূহ]:

মাবনি মুনাদার একক অনুগামী শব্দসমূহ—তাকিদ, সিফাত, আতফে বায়ান এবং হরফ যোগে মা'তুফ (যার শুরুতে 'ইয়া' অব্যয় আসা অসম্ভব)—মুনাদার বাহ্যিক শব্দের অনুকূলে মারফু হতে পারে অথবা তার মূল অবস্থানের অনুকূলে মানসুব হতে পারে, যেমন: (হে বুদ্ধিমান যায়েদ)।

মা'তুফের ক্ষেত্রে ইমাম খলিল রাফাকে পছন্দ করেছেন (৩), আবু আমর নাসাবকে পছন্দ করেছেন (৪), এবং আবু আব্বাস (৫) বলেছেন: যদি শব্দটি 'আল-হাসান'-এর মতো হয় তবে খলিলের মতানুসারে (রাফা), অন্যথায় আবু আমরের মতানুসারে (নাসাব) হবে।

--------------------------------------------

(১) লেখক যেভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন তা হলো: প্রথম: শ্রুতি-নির্ভর, দ্বিতীয়: মুনাদা, তৃতীয়: যার আমেল বা প্রভাবক ব্যাখ্যার শর্তে উহ্য থাকে, এবং চতুর্থ: সতর্কীকরণ।

(২) আন-নিসা/১৭১।

(৩) তাঁর প্রতি আরোপিত 'কিতাবুল জুমাল'-এর ৮৩ পৃষ্ঠায় নাসাব ও রাফা উভয় মতের উল্লেখ পাওয়া যায়, তবে সেখানে কোনো একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।

(৪) দ্রষ্টব্য: আয-যাজ্জাজ রচিত 'মা'আনিল কুরআন ওয়া ইরাবুহু' ৪/২৪৩।

(৫) আল-মুবাররাদ 'আল-মুক্তাদাব' গ্রন্থে (৪/২১১) রাফাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেছেন: "আপনি বলবেন: হে আব্দুল্লাহ এবং যায়েদ, তোমরা দুজনে আসো; এটি এছাড়া অন্য কিছু হবে না।" তিনি মুদাফ অথবা মুফরাদের ওপর আলিফ-লাম যুক্ত মা'তুফের ক্ষেত্রে মতভেদ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, খলিল, সিবওয়াইহি এবং মাযানী রাফাকে পছন্দ করেছেন। পক্ষান্তরে আবু আমর, ঈসা বিন ওমর, ইউনুস এবং আবু ওমর আল-জারমী নাসাবকে পছন্দ করেছেন এবং তাদের মতানুসারেই সাধারণ কিরাত (মদিনা ও কুফাবাসীদের) প্রচলিত। তিনি বলেন: "মানুষের কিরাত অনুযায়ী নাসাব হওয়া আমার নিকট উত্তম।" এর মাধ্যমে কাফিয়া গ্রন্থের মূল পাঠে মুবাররাদের মাযহাব বর্ণনায় সূক্ষ্মতার অভাব পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২০)
والمضافة [المعنوية] (1) تنصب، والبدل، والمعطوف غير ما ذكر حكمه حكم المستقلّ مطلقا.

والعلم الموصوف ب (ابن) مضافا إلى علم آخر يختار فتحه. وإذا نودي المعرّف باللاّم قيل: (يا أيّها الرّجل)، و (يا هذا الرّجل)، و (يا أيّهذا الرّجل).

والتزموا رفع (الرّجل)، لأنّه هو المقصود بالنّداء، وتوابعه لأنّها توابع معرب، وقالوا: (يا الله) خاصّة.

ولك في مثل [من البسيط]:

يا تيم تيم عديّ. . . .... . . (2)

الضّمّ والنّصب.

والمضاف إلى ياء المتكلّم يجوز فيه (يا غلامي) و (يا غلامي)، و (يا غلام)، و (يا غلاما)، وبالهاء وقفا.

وقالوا: (يا أبي) و (يا أمّي)، و (يا أبت) و (يا أمّت) فتحا وكسرا، وبالألف دون الياء.

و (يا ابن أمّ)، و (يا ابن عمّ) خاصّة مثل باب (يا غلامي)، وقالوا: (يا ابن أمّ)، و (يا ابن عمّ).

 

‌‌[ترخيم المنادى]:

وترخيم المنادى جائز، وفي غيره ضرورة.

وهو حذف في آخره تخفيفا. وشرطه أن لا يكون مضافا، ولا مستغاثا، ولا جملة.

ويكون إمّا علما زائدا على ثلاثة أحرف، وإمّا بتاء التّأنيث.

فإن كان في آخره زيادتان في حكم الواحدة، ك (أسماء) و (مروان)، أو حرف صحيح قبله مدّة، وهو أكثر من أربعة أحرف حذفتا، وإن كان مركّبا حذف الاسم

--------------------------------------------

(1) هذا اللفظ من شرح الرضي، قال 1/ 335: "وليس في نسخ الكافية تقييد المضافة بالمعنوية، ولا بد منه؛ لأن اللفظية-كما ذكرنا-جارية مجرى المفردة".

(2) البيت لجرير، وتمامه: لا أبا لكم لا يلقينكم في سوأة عمر والشاهد فيه أنه"إذا كرّر المنادى في حال الإضافة ففيه وجهان: أحدهما أن ينصب الاسمان معا، والثاني أن يضم الأول"اه من المفصّل ص 72،73.
এবং [অর্থগত] সম্বন্ধযুক্ত (المضافة المعنوية) (১) পদ নসব (تنصب) প্রাপ্ত হয়; আর বদলি পদ (البدل) এবং সংযুক্ত পদ (المعطوف) - যার বিধান ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়নি - তার বিধান সবাবস্থায় স্বতন্ত্র পদের বিধানের অনুরূপ হবে।

আর এমন বিশিষ্ট বিশেষ্য বা আলম (العلم) যা 'ইবন' (ابن) শব্দের মাধ্যমে অন্য কোনো আলমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مضافا) হয়ে বিশেষিত পদ বা মাওসুফ (الموصوف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেক্ষেত্রে সেটিকে ফাতহা বা জবর (فتح) প্রদান করা পছন্দনীয়। আর যখন আলিফ-লাম যোগে নির্দিষ্ট (المعرّف باللاّم) কোনো শব্দকে সম্বোধন করা হয়, তখন বলা হয়: 'ইয়া আইয়্যুহার রাজুল' (يا أيّها الرّجل), 'ইয়া হাজাল রাজুল' (يا هذا الرّجل) এবং 'ইয়া আইয়্যুহাজাল রাজুল' (يا أيّهذا الرّجل)।

ব্যাকরণবিদগণ ‘আর-রাজুল’ (الرّجل) শব্দটির রফ' বা পেশ (رفع) হওয়াকে আবশ্যক করেছেন, কারণ এটিই সম্বোধনের মূল উদ্দেশ্য; এবং এর অনুগামী পদ বা তাবে (توابع) সমূহের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য, কারণ সেগুলো পরিবর্তনশীল বা মু'রাব (معرب) পদের অনুগামী। এবং তারা বিশেষভাবে কেবল ‘ইয়া আল্লাহ’ (يا الله) বলে থাকেন।

আর আপনার জন্য নিম্নোক্ত উদাহরণের ন্যায় ক্ষেত্রে [বাসিত ছন্দ থেকে]:

হে তায়িম, আদীর বংশধর তায়িম... (২)

যম্ম (الضّمّ) এবং নসব (النّصب) উভয়টি পড়ার অবকাশ রয়েছে।

আর মুতাকাল্লিম-এর ইয়া (ياء المتكلّم)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে ‘ইয়া গুলামি’ (يا غلامي), ‘ইয়া গুলামিয়া’ (يا غلامي), ‘ইয়া গুলাম’ (يا غلام), ‘ইয়া গুলামা’ (يا غلاما) বলা বৈধ; এবং ওয়াকফ (وقفا) করার সময় ‘হা’ যোগে পড়া যায়।

ব্যাকরণবিদগণ ‘ইয়া আবি’ (يا أبي), ‘ইয়া উম্মি’ (يا أمّي), ‘ইয়া আবাতি’ (يا أبت) এবং ‘ইয়া উম্মাতি’ (يا أمّت) শব্দগুলোতে ফাতহা ও কাসরা উভয়ভাবেই ব্যবহার করেছেন; এছাড়া ইয়া-র পরিবর্তে আলিফ যোগেও ব্যবহার করেছেন।

এবং বিশেষভাবে ‘ইয়া ইবনা উম্মি’ (يا ابن أمّ) ও ‘ইয়া ইবনা আম্মি’ (يا ابن عمّ) শব্দ দুটি ‘ইয়া গুলামি’ (يا غلامي) অধ্যায়ের অনুরূপ। তবে তারা ‘ইয়া ইবনা উম্মা’ (يا ابن أمّ) ও ‘ইয়া ইবনা আম্মা’ (يا ابن عمّ)-ও বলে থাকেন।

 

‌‌[মুনাদার তারখিম বা সংক্ষেপণ]:

আহূত পদ বা মুনাদা (المنادى)-র তারখিম (ترخিম) বা সংক্ষেপণ করা জায়েজ (جائز); তবে মুনাদা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এটি কেবল কাব্যিক প্রয়োজনে (ضرورة) হয়।

এটি মূলত উচ্চারণের সহজীকরণের জন্য শব্দের শেষাংশ বিলুপ্ত করা। এর শর্ত হলো— শব্দটি মুদাফ (مضافا), সাহায্য প্রার্থিত পদ বা মুসতাগাস (مستغاثا), কিংবা বাক্য বা জুমলা (جملة) হতে পারবেনা।

এটি হয় তিন অক্ষরের অধিক কোনো আলম (علم) বা বিশেষ্য হবে, অথবা স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ (تاء التّأنيث) যুক্ত কোনো শব্দ হবে।

যদি শব্দের শেষে এমন দুটি অতিরিক্ত অংশ থাকে যা একটির স্থলাভিষিক্ত, যেমন: ‘আসমা’ (أسماء) ও ‘মারওয়ান’ (مروان), অথবা যদি চার অক্ষরের অধিক শব্দের শেষে এমন কোনো ব্যঞ্জনবর্ণ বা হরফে সহীহ (حرف صحيح) থাকে যার পূর্বে দীর্ঘ স্বর বা মাদ্দ (مدّة) রয়েছে, তবে শেষোক্ত বর্ণ দুটি বিলুপ্ত হবে। আর শব্দটি যদি যৌগিক পদ বা মুরাক্কাব (مركّبا) হয়, তবে পরবর্তী অংশটি বিলুপ্ত হবে।

--------------------------------------------

(১) এই শব্দটি শরহে রাযী থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি (১/৩৩৫) বলেন: "কাফিয়াহর পাণ্ডুলিপিসমূহে ‘মুদাফ’ শব্দটিকে ‘মানাবিয়া’ (অর্থগত) দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়নি। তবে এটি আবশ্যক; কারণ ‘লফযিয়া’ (শাব্দিক) সম্বন্ধ— যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি— একবচন বা মুফরাদ শব্দের বিধানভুক্ত।"

(2) এই পঙক্তিটি জারীরের। এর পূর্ণরূপ হলো: "তোমাদের কোনো পিতা নেই, উমর যেন তোমাদের লাঞ্ছনার মধ্যে নিক্ষেপ না করে।" এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো: "যখন মুদাফ অবস্থায় মুনাদার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তখন তাতে দুটি রূপ থাকে: প্রথমত, উভয় বিশেষ্যই নসব (نصب) হবে। দ্বিতীয়ত, প্রথমটি যম্ম (ضم) হবে।" —আল-মুফাসসাল, পৃ. ৭২, ৭৩ থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২১)
الأخير، وإن كان غير ذلك فحرف واحد، وهو في حكم الثّابت على الأكثر، فيقال: (يا حار) و (يا ثمو)، و (يا كرو)، وقد يجعل اسما برأسه فيقال: (يا حار) و (يا ثمي) و (يا كرا).

 

‌‌[المندوب]:

وقد استعملوا صيغة النّداء في المندوب-وهو المتفجّع عليه-ب (يا) أو (وا)، واختصّ ب (وا).

وحكمه في الإعراب والبناء حكم المنادى، ولك زيادة الألف في آخره، فإن خفت اللّبس قلت: (واغلامكيه، واغلامكموه)، ولك الهاء في الوقف.

ولا يندب إلاّ المعروف، فلا يقال: (وا رجلاه)، وامتنع (وا زيد الطّويلاه)، خلافا ليونس.

 

‌‌[حذف حرف النداء]:

ويجوز حذف حرف النّداء إلا مع اسم الجنس والإشارة، والمستغاث، والمندوب نحو {يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هذا} (1)، و (أيّها الرّجل).

وشذّ (أصبح ليل)، و (افتد مخنوق)، و (أطرق كرا) (2).

وقد يحذف المنادى لقيام قرينة جوازا، نحو ألا يا اسجدوا (3).

 

‌‌[الاشتغال]:

الثّالث: ما أضمر عامله على شريطة التّفسير، وهو كلّ اسم بعده فعل أو شبهه مشتغل عنه بضميره أو متعلّقه، لو سلّط عليه هو أو مناسبه لنصبه، مثل: (زيدا ضربته)،

--------------------------------------------

(1) يوسف/29.

(2) هذه الأقوال معدودة في أمثال العرب، أصبح ليل": يقال ذلك في الليلة الشديدة التي يطول فيها الشر"مجمع الأمثال 1/ 403، "افتد مخنوق": أي يا مخنوق يضرب لكل مشفوق عليه مضطر مجمع الأمثال 2/ 78، أطرق كرا: قال الخليل: (الكرا): الذّكر من الكروان، ويقال له: أطرق كرا؛ إنّك لن ترى، قال: يصيدونه بهذه الكلمة، فإذا سمعها يلبد في الأرض فيلقى عليه ثوب فيصاد. . . يضرب للّذي ليس عنده غناء ويتكلّم، فيقال له: اسكت وتوقّ انتشار ما تلفظ به كراهة ما يتعقبه مجمع الأمثال 1/ 431.

(3) النمل/25، وهي قراءة الكسائي.
সর্বশেষ (অক্ষর), আর যদি তা ব্যতীত অন্য কিছু হয় তবে তা একটি অক্ষর হবে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থির (الثّابت) এর বিধানে থাকে। সুতরাং বলা হয়: (ইয়া হার), (ইয়া সামু) এবং (ইয়া কারু)। আবার একে একটি স্বতন্ত্র নাম হিসেবেও গণ্য করা হতে পারে, তখন বলা হয়: (ইয়া হার), (ইয়া সামি) এবং (ইয়া কারা)।

 

‌‌[বিলাপসূচক আহ্বান (المندوب)]:

আর তারা বিলাপসূচক আহ্বান (المندوب)—যার ওপর শোক প্রকাশ করা হয়—এর ক্ষেত্রে আহ্বানসূচক রূপ ব্যবহার করেছেন ‘ইয়া’ (يا) অথবা ‘ওয়া’ (وا) দ্বারা, তবে এটি ‘ওয়া’ (وا) এর সাথে সুনির্দিষ্ট।

ইরাব (الإعراب) এবং গঠন বা বিন্যাসের (البناء) ক্ষেত্রে এর বিধান হলো আহ্বানকৃত (المنادى) এর বিধানের মতো। আর আপনার জন্য এর শেষে আলিফ (الألف) বৃদ্ধি করার অবকাশ রয়েছে। যদি সংশয়ের আশঙ্কা থাকে তবে বলবেন: (ওয়াগুলামাকিহ, ওয়াগুলামাকুমুহ)। আর বিরতির সময় আপনি ‘হা’ (الهاء) যুক্ত করতে পারেন।

কেবল সুপরিচিত ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রেই বিলাপসূচক আহ্বান (المندوب) করা যায়। সুতরাং (ওয়া রাজুলাহ) বলা যাবে না। আর ইউনুস (রহ.)-এর ভিন্নমত থাকলেও (ওয়া যায়দুন আত-তওয়ীলাহ) বলা নিষিদ্ধ।

 

‌‌[আহ্বানসূচক অব্যয় বিলোপ (حذف حرف النداء)]:

আহ্বানসূচক অব্যয় বিলোপ (حذف حرف النداء) করা জায়েজ বা বৈধ, তবে জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم الجنس), নির্দেশক বিশেষ্য (الإشارة), সাহায্যপ্রার্থী আহ্বান (المستغاث) এবং শোকসূচক আহ্বান (المندوب) এর ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়। যেমন: {ইউসুফ, তুমি এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও} (১), এবং (হে ব্যক্তি)।

আর (হে রাত, ভোর হও), (হে কণ্ঠরোধকৃত, মুক্তিপণ দাও) এবং (হে চাতক, নিস্তব্ধ থাক) (২) বাক্যগুলো বিরল (شاذ)।

কখনো কখনো কোনো প্রসঙ্গের উপস্থিতির কারণে আহ্বানকৃত (المنادى) ব্যক্তিকে উহ্য রাখা জায়েজ, যেমন: ‘শোনো, তোমরা সিজদা করো’ (৩)।

 

‌‌[কর্ম-ব্যস্ততা (الاشتغال)]:

তৃতীয় প্রকার: যার আমিল (عامل) বা ক্রিয়াটি ব্যাখ্যার শর্তে (شريطة التّفسير) উহ্য রাখা হয়েছে। এটি এমন প্রত্যেক বিশেষ্য যার পরে এমন একটি ক্রিয়া বা ক্রিয়াসদৃশ শব্দ থাকে যা উক্ত বিশেষ্যটির সর্বনাম বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে ব্যস্ত থাকার কারণে সেই বিশেষ্যটি থেকে বিমুখ থাকে। যদি সেই ক্রিয়াটি বা তার কোনো সমজাতীয় শব্দ সরাসরি সেই বিশেষ্যের ওপর প্রয়োগ করা হতো, তবে সেটি তাকে নসব (نصب) প্রদান করত। যেমন: (যায়দান দরাবতুহু - যায়দকে আমি তাকে মেরেছি),

--------------------------------------------

(১) ইউসুফ/২৯।

(2) এই প্রবাদগুলো আরবদের প্রবাদবাক্যের অন্তর্ভুক্ত। "আসবাহা লাইল": এটি এমন কঠিন রাতের ক্ষেত্রে বলা হয় যার অনিষ্ট দীর্ঘ হয়—মাজমাউল আমসাল ১/৪০৩; "ইফতাদি মাখনুক": অর্থাৎ হে কণ্ঠরোধকৃত, এটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যার জন্য অনুকম্পা রয়েছে এবং সে নিরুপায়—মাজমাউল আমসাল ২/৭৮; "আতরিক কারা": খলিল (রহ.) বলেন: (আল-কারা) হলো কারাওয়ান পাখির পুরুষ জাত। একে বলা হয় ‘আতরিক কারা’ (হে চাতক নিস্তব্ধ থাক), নিশ্চয়ই তুমি দেখতে পাবে না। তিনি বলেন: তারা এই বাক্য দিয়ে এটি শিকার করত। যখন সে এটি শুনত তখন সে মাটিতে মিশে থাকত, এরপর তার ওপর কাপড় ছুড়ে মেরে তাকে শিকার করা হতো... এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই অথচ সে কথা বলে। তখন তাকে বলা হয়: চুপ থাকো এবং তুমি যা উচ্চারণ করছ তার ছড়িয়ে পড়া থেকে সতর্ক থাকো, কারণ এর পরিণতি অপছন্দনীয়—মাজমাউল আমসাল ১/৪৩১।

(3) আন-নামল/২৫, এটি কিসায়ীর কিরাত।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২২)
و (زيدا مررت به). و (زيدا ضربت غلامه)، و (زيدا حبست عليه)، ينصب بفعل يفسّره ما بعده، أي، (ضربت) و (جاوزت)، و (أهنت) و (لابست).

ويختار الرّفع بالابتداء عند عدم قرينة خلافه، أو عند وجود أقوى منها، ك (إمّا) مع غير الطّلب، و (إذا) للمفاجأة.

ويختار النّصب بالعطف على جملة فعليّة للتّناسب، وبعد حرف النّفي، وحرف الاستفهام، و (إذا) الشّرطيّة، و (حيث)، وفي الأمر والنّهي؛ إذ هي مواقع الفعل، وعند خوف لبس المفسّر بالصّفة مثل: {إِنّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْناهُ بِقَدَرٍ} (49) (1).

ويستوي الأمران في مثل: (زيد قام وعمرو أكرمته).

ويجب النّصب بعد حرف الشّرط، وحرف التّحضيض، مثل: (إن زيدا ضربته ضربك) و (ألا زيدا ضربته)، وليس مثل (أزيد ذهب به؟) منه؛ فالرّفع لازم، وكذلك {وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ} (52) (2)، ونحو {الزّانِيَةُ وَالزّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ واحِدٍ مِنْهُما} (3) الفاء بمعنى الشّرط عند المبرّد (4)، وجملتان عند سيبويه (5)، وإلا فالمختار النّصب.

 

‌‌[التحذير]:

الرّابع: التّحذير، وهو معمول بتقدير (اتّق)؛ تحذيرا ممّا بعده، أو ذكر المحذّر منه مكرّرا، مثل: [رأسك والسّيف] (6)، و (إيّاك والأسد)، و (إيّاك وأن تحذف)، و (الطّريق الطّريق).

وتقول: (إيّاك من الأسد) و (من أن تحذف)، و (إيّاك أن تحذف) بتقدير (من).

ولا تقول: (إيّاك الأسد)؛ لامتناع تقدير (من).

--------------------------------------------

(1) القمر/49.

(2) القمر/52.

(3) النور/2.

(4) في الكامل 2/ 822: "والرفع الوجه؛ لأن معناه الجزاء. . . وما لم يكن فيه معنى جزاء فالنصب الوجه. "

(5) ينظر: الكتاب 1/ 142،143.

(6) زيادة من مخطوطة بريستون.
এবং (জাইদান মারারতু বিহি), (জাইদান দরাবতু গুলামাহু) এবং (জাইদান হাবাসতু আলাইহি); এগুলো এমন একটি ক্রিয়া দ্বারা নাসবপ্রাপ্ত হয় যা পরবর্তী অংশ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। অর্থাৎ, (দরাবতু), (জাওয়াজতু), (আহানতু) এবং (লাবাসতু)।

এর বিপরীতে কোনো আলামত না থাকলে অথবা এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো কারণ বিদ্যমান থাকলে ইবতিদা (বাক্য প্রারম্ভিকতা)-এর ভিত্তিতে রাফ’ হওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যেমন তলব (আদেশ বা প্রার্থনা) ব্যতিরেকে (ইম্মা)-এর সাথে এবং আকস্মিকতা বুঝাতে (ইযা)-এর ক্ষেত্রে।

সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য জুমলা ফে’লিয়া (ক্রিয়া প্রধান বাক্য)-এর ওপর আতফ (সংযোজন) হওয়ার ক্ষেত্রে নাসব হওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া হরফে নফি (না-বোধক অব্যয়), হরফে ইস্তিফহাম (প্রশ্নবোধক অব্যয়), শর্তবাচক (ইযা), এবং (হাইসু)-এর পরে; এবং আমর (আদেশ) ও নাহি (নিষেধ)-এর ক্ষেত্রে নাসব উত্তম; কারণ এগুলো হলো ক্রিয়ার অবস্থান। এছাড়া যখন মুফাসসির (ব্যাখ্যাকারী) এবং সিফাত (গুণবাচক শব্দ)-এর মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ার ভয় থাকে, যেমন: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে} (৪৯) (১)।

উভয় প্রকারের বিধান সমান হয় এমন উদাহরণে: (যায়দুন কমা ওয়া আমরান আকরামতুহু)।

শর্তবাচক হরফ এবং তাহদিদ (উৎসাহব্যঞ্জক) হরফের পরে নাসব হওয়া আবশ্যক। যেমন: (ইন জাইদান দরাবতাহু দরাবাকা) এবং (আলা জাইদান দরাবতাহু)। তবে (আ-যায়দুন যাহাবা বিহি?) এর মতো উদাহরণ এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; এখানে রাফ’ হওয়া আবশ্যক। একইভাবে {তারা যা কিছু করেছে তা রয়েছে আমলনামায়} (৫২) (২), এবং {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশ কশাঘাত করো} (৩) — আল-মুবররাদের (৪) মতে এখানে ‘ফা’ শর্তের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর সিবাহওয়াইহ-এর (৫) মতে এগুলো দুটি পৃথক বাক্য; নতুবা নাসব হওয়াই পছন্দনীয়।

 

‌‌[সতর্কীকরণ]:

চতুর্থ প্রকার হলো তাহযীর (সতর্কীকরণ), আর এটি (ইত্তাকি) ক্রিয়া উহ্য থাকার কারণে আমল করে; যা পরবর্তী বিষয় থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। অথবা যেখানে সতর্ককৃত বিষয়টির পুনরাবৃত্তি করা হয়। যেমন: [তোমার মাথা এবং তলোয়ার থেকে সাবধান] (৬), (সিংহের ব্যাপারে সাবধান), (বাদ দেওয়া থেকে সাবধান) এবং (পথ ছাড়ো, পথ ছাড়ো)।

আপনি বলতে পারেন: (সিংহের থেকে সাবধান) এবং (বাদ দেওয়া থেকে সাবধান), আর (মিন) উহ্য ধরে (বাদ দেওয়া থেকে সাবধান)।

কিন্তু আপনি (ইয়্যাকা আল-আসাদা) বলতে পারবেন না; কারণ এখানে (মিন) উহ্য ধরা অসম্ভব।

--------------------------------------------

(১) আল-কামার/৪৯।

(২) আল-কামার/৫২।

(৩) আন-নূর/২।

(৪) আল-কামিল ২/৮২২-এ বলা হয়েছে: "রাফ’ হওয়াই উত্তম; কারণ এর অর্থ হলো প্রতিদান... আর যেখানে প্রতিদানের অর্থ নেই সেখানে নাসব হওয়াই উত্তম।"

(৫) দ্রষ্টব্য: আল-কিতাব ১/১৪২, ১৪৩।

(৬) প্রিস্টন পাণ্ডুলিপি থেকে অতিরিক্ত অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[المفعول فيه]:

المفعول فيه: هو ما فعل فيه فعل مذكور من زمان أو مكان، وشرط نصبه تقدير (في). وظروف الزّمان كلّها تقبل ذلك، وظرف المكان إن كان مبهما قبل ذلك، وإلاّ فلا.

وفسّر المبهم بالجهات السّتّ، وحمل عليه (عند) و (لدى) وشبههما لإبهامهما، ولفظ (مكان) لكثرته، وما بعد (دخلت) نحو (دخلت الدّار) في الأصحّ.

وينصب بعامل مضمر وعلى شريطة التّفسير.

 

‌‌[المفعول له]:

المفعول له: هو ما فعل لأجله فعل مذكور مثل: (ضربته تأديبا)، و (قعدت [عن الحرب] (1) جبنا)، خلافا للزّجّاج؛ فإنّه عنده مصدر (2).

وشرط نصبه تقدير اللاّم، وإنّما يجوز حذفها إذا كان فعلا لفاعل الفعل المعلّل، ومقارنا له في الوجود.

 

‌‌[المفعول معه]:

المفعول معه: هو المذكور بعد الواو لمصاحبة معمول فعل لفظا أو معنى، فإن كان الفعل لفظا، وجاز العطف، فالوجهان مثل: (جئت أنا وزيد-وزيدا)، وإن لم يجز العطف تعيّن النصب مثل: (جئت وزيدا).

وإن كان الفعل معنى، وجاز العطف تعيّن العطف، مثل: (ما لزيد وعمرو؟)، وإلاّ تعيّن النّصب مثل: (ما لك وزيدا؟). و (ما شأنك وعمرا؟)؛ لأنّ المعنى: ما تصنع؟

--------------------------------------------

(1) زيادة من مخطوطة برينستون.

(2) خلاصة ما ذكره أ. د. عبد العظيم فتحي خليل أنّ الزجاج قد قرّر في مواضع كثيرة من كتاب المعاني مذهب سيبويه والبصريين في أنّ المفعول له منصوب بالفعل على تقدير لام العلّة، وأجاز في بعضها ذلك القول مع ما ينسب إلى الكوفيين من القول بأن المفعول له منصوب على المصدريّة، واختار في موضعين جعل المفعول له منصوبا على المصدريّة وهما (البقرة/19، آل عمران/1)، يراجع: النّحو العربي عند أبي إسحق الزّجّاج مرتّبا على أبواب ألفيّة ابن مالك من ص 203 إلى ص 206.
‌‌[আধার-কর্ম (المفعول فيه)]:

আধার-কর্ম (المفعول فيه): এটি হলো এমন কোনো কাল বা স্থান, যার মধ্যে উল্লেখিত কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হয়। আর একে নসব (accusative case) প্রদানের শর্ত হলো এতে ‘ফি’ (في) অব্যয়টি উহ্য থাকা। সমস্ত কালবাচক অব্যয় (ظرف الزمان) এটি গ্রহণ করে। আর স্থানবাচক অব্যয় (ظرف المكان) যদি অস্পষ্ট (مبهم) হয় তবে তা গ্রহণ করে, অন্যথায় নয়।

অস্পষ্ট (مبهم) বলতে ছয়টি দিককে বোঝানো হয়েছে। ‘ইন্দা’ (عند), ‘লাদা’ (لدى) এবং এই জাতীয় শব্দগুলোকে তাদের অস্পষ্টতার কারণে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ‘মাকান’ (مكان) শব্দটি এর অধিক ব্যবহারের কারণে এবং বিশুদ্ধতর (الأصحّ) মতানুযায়ী ‘দাখালতু’ (دخلت) ক্রিয়ার পরবর্তী শব্দসমূহ— যেমন: (দাখালতুদ দারা - আমি গৃহে প্রবেশ করলাম)— এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

এটি কোনো উহ্য প্রভাবক (عامل) দ্বারা অথবা ব্যাখ্যার শর্তে (شريطة التفسير) নসবপ্রাপ্ত (منصوب) হয়।

 

‌‌[নিমিত্ত-কর্ম (المفعول له)]:

নিমিত্ত-কর্ম (المفعول له): এটি এমন বিষয় যার কারণে কোনো উল্লেখিত ক্রিয়া সংঘটিত হয়। যেমন: (দারাবতুহু তা’দিবান - আমি তাকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য প্রহার করেছি), এবং (কায়া’দতু আনিল হারবি জুবনান - আমি ভীরুতার কারণে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকলাম)। এটি ইমাম যাজ্জাজের মতের বিপরীত; কেননা তাঁর নিকট এটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر)।

একে নসব (accusative) প্রদানের শর্ত হলো ‘লাম’ (اللام) অব্যয়টি উহ্য থাকা। আর এই ‘লাম’ বিলোপ করা কেবল তখনই বৈধ যখন সেটি ওই মূল ক্রিয়ার কর্তারই কাজ হয় এবং অস্তিত্বের দিক থেকে মূল ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়।

 

‌‌[অনুষঙ্গ-কর্ম (المفعول معه)]:

অনুষঙ্গ-কর্ম (المفعول معه): এটি শব্দগত বা অর্থগত কোনো ক্রিয়ার প্রভাবাধীন শব্দের (معمول) সাথে সাহচর্য বোঝানোর জন্য ‘ওয়াও’ (الواو)-এর পরে উল্লেখিত হয়। যদি ক্রিয়াটি শব্দগতভাবে বিদ্যমান থাকে এবং সংযোজন (عطف) করা বৈধ হয়, তবে উভয় পদ্ধতিই জায়েজ। যেমন: (জি’তু আনা ওয়া যায়দুন-ওয়া যায়দান - আমি এবং যায়দ এসেছি)। আর যদি সংযোজন (عطف) করা জায়েজ না হয়, তবে নসব (نصب) হওয়া আবশ্যক। যেমন: (জি’তু ওয়া যায়দান)।

আর যদি ক্রিয়াটি কেবল অর্থগতভাবে বিদ্যমান থাকে এবং সংযোজন (عطف) করা বৈধ হয়, তবে সংযোজন (عطف) করাই আবশ্যক। যেমন: (মা লি যায়দিন ওয়া আমরিন? - যায়দ ও আমরের কী হয়েছে?)। অন্যথায় নসব (نصب) হওয়া আবশ্যক। যেমন: (মা লাকা ওয়া যায়দান? - তোমার ও যায়দের কী হয়েছে?) এবং (মা শানুকা ওয়া আমরান? - তোমার ও আমরের বিষয়টি কী?); কারণ এর অর্থ হলো: তুমি কী করছ?

--------------------------------------------

(১) প্রিন্সটন পাণ্ডুলিপি থেকে অতিরিক্ত অংশ।

(২) প্রফেসর ড. আবদুল আজিম ফাতহি খলিল যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: ইমাম যাজ্জাজ তাঁর 'কিতাবুল মা’আনি'-এর অনেক স্থানে সিবওয়াইহ ও বসরাবাসীদের মাযহাবকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, নিমিত্ত-কর্ম (المفعول له) মূলত ‘লাম’ উহ্য থাকার কারণে ক্রিয়ার মাধ্যমে নসবপ্রাপ্ত (منصوب) হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি কুফাবাসীদের মতানুসারে একে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে নসবপ্রাপ্ত (منصوب) হওয়াকেও বৈধ বলেছেন। তবে দুটি স্থানে তিনি একে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে নসবপ্রাপ্ত (منصوب) হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তা হলো (সূরা আল-বাকারাহ: ১৯, আলে ইমরান: ১)। দ্রষ্টব্য: আবু ইসহাক আল-যাজ্জাজের আরবি ব্যাকরণ (ইবন মালিকের আলফিয়্যাহ-র অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত), পৃষ্ঠা ২০৩ থেকে ২০৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[الحال]:

الحال: ما يبيّن هيئة الفاعل أو المفعول به لفظا أو معنى، نحو: (ضربت زيدا قائما)، و (زيد في الدّار قائما)، و (هذا زيد قائما).

وعاملها الفعل، أو شبهه، أو معناه.

وشرطها أن تكون نكرة وصاحبها معرفة غالبا. و [من الوافر]

أرسلها العراك. . . .... . . (1)

و (مررت به وحده) ونحوه متأوّل.

فإن كان صاحبها نكرة وجب تقديمها.

ولا يتقدّم على العامل المعنوىّ، بخلاف الظّرف، ولا على المجرور في الأصحّ.

وكل ما دلّ على هيئة صحّ أن يقع حالا، مثل: (هذا بسرا أطيب منه رطبا).

وتكون جملة خبرية، فالاسميّة بالواو والضّمير، أو بالواو، أو بالضّمير على ضعف.

والمضارع المثبت بالضّمير وحده، وما سواهما بالواو والضّمير، أو بأحدهما.

ولا بدّ في الماضي المثبت من (قد) ظاهرة أو مقدّرة.

ويجوز حذف العامل، كقولك للمسافر: (راشدا مهديّا).

ويجب في المؤكّدة مثل (زيد أبوك عطوفا)، أي أحقّه، وشرطها أن تكون مقرّرة لمضمون جملة اسميّة.

 

‌‌[التمييز]:

التّمييز: ما يرفع الإبهام المستقرّ عن ذات مذكورة أو مقدّرة.

فالأوّل: عن مفرد مقدار غالبا إما في عدد نحو: (عشرون درهما) وسيأتي، وإما في غيره نحو: (رطل زيتا) و (منوان سمنا) و (على التّمرة مثلها زبدا). فيفرد إن كان جنسا، إلاّ أن يقصد الأنواع، ويجمع في غيره.

ثمّ إن كان بالتّنوين، أو بنون التّثنية جازت الإضافة، وإلاّ فلا.

--------------------------------------------

(1) أرسلها العراك: أي معتركة، يستشهد به على ورود الحال معرفة، وهو للبيد بن ربيعة، وتمامه كما في الإنصاف: فأرسلها العراك ولم يذدها ولم يشفق على نغض الدّخال
‌‌[হাল (الحال)]:

হাল (الحال): যা শব্দতগতভাবে বা অর্থগতভাবে কর্তা (الفاعل) অথবা কর্মের (المفعول به) অবস্থা বর্ণনা করে, যেমন: (আমি যায়েদকে দণ্ডায়মান অবস্থায় প্রহার করেছি), এবং (যায়েদ ঘরে দণ্ডায়মান অবস্থায় আছে), এবং (এই হলো যায়েদ দণ্ডায়মান অবস্থায়)।

এর আমিল (العامل) হলো ক্রিয়া (الفعل), অথবা ক্রিয়া সদৃশ কোনো শব্দ, অথবা ক্রিয়ার অর্থবোধক শব্দ।

এর শর্ত হলো এটি অনির্দিষ্ট (نكرة) হবে এবং যার অবস্থা বর্ণনা করা হচ্ছে (صاحب الحال) সে সাধারণত নির্দিষ্ট (معرفة) হবে। যেমন [ওয়াফির ছন্দে]:

সে সেগুলোকে ভিড়ের মধ্যে ছেড়ে দিল... . . (১)

এবং (আমি তার একাকী থাকা অবস্থায় তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম) এবং এই জাতীয় উদাহরণগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ।

যদি 'সাহেবে হাল' অনির্দিষ্ট (نكرة) হয়, তবে হালকে (الحال) আগে নিয়ে আসা ওয়াজিব বা আবশ্যক।

এটি অর্থগত আমিলের (العامل المعنوي) আগে আসতে পারে না, তবে স্থান বা কালবাচক অব্যয়ের (الظرف) বিষয়টি ভিন্ন। তেমনি বিশুদ্ধতর মতানুসারে এটি মাজরুর (المجرور) এর আগেও আসতে পারে না।

অবস্থা নির্দেশক প্রতিটি শব্দই হাল (الحال) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া সঠিক, যেমন: (এটি কাঁচা খেজুর অবস্থায় পাকা খেজুরের চেয়ে অধিক উৎকৃষ্ট)।

হাল বর্ণনামূলক বাক্য (جملة خبرية) হতে পারে; সেটি বিশেষ্যমূলক বাক্য (الجملة الاسمية) হলে 'ওয়াও' এবং সর্বনাম যোগে হবে, অথবা শুধু 'ওয়াও' যোগে হবে, অথবা দুর্বল (ضعيف) মতানুসারে শুধু সর্বনাম যোগে হবে।

আর বাচক বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع المثبت) শুধু সর্বনাম যোগে হবে; এবং এই দুটি ব্যতীত অন্যগুলো 'ওয়াও' ও সর্বনাম উভয়টি দ্বারা অথবা যেকোনো একটি দ্বারা হবে।

বাচক অতীতকালীন ক্রিয়ার (الماضي المثبت) ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বা উহ্য 'ক্বাদ' (قد) থাকা আবশ্যক।

আমিলকে (العامل) বিলুপ্ত করা জায়েয, যেমন কোনো মুসাফিরের উদ্দেশ্যে আপনার বলা: (সঠিক পথপ্রাপ্ত ও সুপথগামী অবস্থায় চলো)।

আর তাকিদ প্রদানকারী হালের (الحال المؤكدة) ক্ষেত্রে আমিল বিলুপ্ত করা ওয়াজিব, যেমন: (যায়েদ তোমার পিতা, সে দয়ালু), অর্থাৎ 'আমি তাকে হকদার করছি'। এর শর্ত হলো এটি কোনো বিশেষ্যমূলক বাক্যের (الجملة الاسمية) বিষয়বস্তুকে সুনিশ্চিতকারী হতে হবে।

 

‌‌[তাময়িজ (التمييز)]:

তাময়িজ (التمييز): যা উল্লেখিত বা উহ্য কোনো সত্তা থেকে বিদ্যমান অস্পষ্টতা দূর করে।

প্রথম প্রকারটি: সাধারণত পরিমাপবাচক একক শব্দ (المفرد) থেকে অস্পষ্টতা দূর করে; তা সংখ্যার ক্ষেত্রে হতে পারে যেমন: (বিশ দিরহাম)—যা সামনে আসবে—অথবা সংখ্যা ছাড়া অন্য কিছুর ক্ষেত্রে হতে পারে যেমন: (এক রতল তেল), (দুই মান ঘি) এবং (খেজুরের ওপর তার সমপরিমাণ মাখন)। এটি যদি জাতীয় নাম (الجنس) হয় তবে একবচন হবে, যদি না বিভিন্ন প্রকার বোঝানো উদ্দেশ্য হয়; অন্যথায় বহুবচন হবে।

অতঃপর যদি সেটি তানউইন (التنوين) অথবা দ্বিবচনের 'নুন' (نون التثنية) যোগে হয়, তবে ইজাফাত (الإضافة) করা জায়েয হবে, অন্যথায় নয়।

--------------------------------------------

(১) 'সে সেগুলোকে ভিড়ের মধ্যে ছেড়ে দিল': অর্থাৎ ভিড় করা অবস্থায়। এটি হাল (الحال) নির্দিষ্ট (معرفة) হিসেবে আসার উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়। পঙক্তিটি লাবিদ বিন রাবিয়াহ-এর। 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে এর পূর্ণ রূপটি হলো: অতঃপর সেগুলোকে ভিড়ের মধ্যে ছেড়ে দিল, সেগুলোকে তাড়িয়ে দেয়নি এবং পশুর পানি পানের কষ্ট দেখেও করুণা করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وعن غير مقدار، مثل: (خاتم حديدا)، والخفض أكثر.

والثّاني: عن نسبة في جملة، أو ما ضاهاها، مثل (طاب زيد نفسا)؛ و (زيد طيّب أبا، وأبوّة، ودارا، وعلما)، أو في إضافة مثل: (يعجبني طيبه أبا وأبوّة ودارا وعلما)، و (لله درّه فارسا).

ثمّ إن كان اسما يصحّ جعله لما انتصب عنه جاز أن يكون له ولمتعلّقه، وإلاّ فهو لمتعلّقه، فيطابق فيهما ما قصد، إلاّ أن يكون جنسا إلاّ أن يقصد الأنواع.

وإن كان صفة كانت له وطبقه، واحتملت الحال.

ولا يتقدّم التّمييز على عامله، والأصحّ أن لا يتقدّم على الفعل، خلافا للمازنيّ والمبرّد (1).

 

‌‌[المستثنى]:

المستثنى: متّصل ومنقطع.

فالمتّصل: هو المخرج عن متعدّد-لفظا أو تقديرا-ب (إلاّ) وأخواتها.

والمنقطع: هو المذكور بعدها غير مخرج.

وهو منصوب إذا كان بعد (إلاّ) غير الصّفة في كلام موجب، أو مقدّما على المستثنى منه، أو منقطعا في الأكثر، أو كان بعد (خلا) و (عدا) في الأكثر، و (ما خلا) و (ما عدا) و (ليس) و (لا يكون).

ويجوز فيه النّصب، ويختار البدل فيما بعد (إلاّ) في كلام غير موجب، وذكر المستثنى منه مثل {ما فَعَلُوهُ إِلاّ قَلِيلٌ} (2)، وإلا قليلا (3).

ويعرب على حسب العوامل إذا كان المستثنى منه غير مذكور، وهو في غير الموجب ليفيد مثل: (ما ضربني إلاّ زيد)، إلاّ أن يستقيم المعنى مثل: (قرأت إلاّ يوم كذا)، ومن ثمّت لم يجز (ما زال زيد إلاّ عالما).

--------------------------------------------

(1) هذا مذهب بعض الكوفيين، وتابعهم عليه المازني والمبرّد، وهي المسألة (120) في الإنصاف 2/ 828، وفي التصريح 2/ 709 أنه مذهب الكسائي أيضا، قال الناظم في شرح العمدة 1/ 358: "وبقولهم أقول؛ قياسا على سائر الفضلات المنصوبة بفعل متصرف".

(2) النساء/66.

(3) في قراءة ابن عامر.
এবং পরিমাণবাচক নয় এমন কিছু থেকে হয়, যেমন: (লোহার আংটি), তবে ‘জর’ (خفض) প্রদান করাই অধিক প্রচলিত।

এবং দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: কোনো বাক্যের সম্বন্ধ (نسبة) থেকে সৃষ্ট অস্পষ্টতা দূর করা, অথবা যা তার সদৃশ, যেমন: (জায়েদ মনে প্রশান্তি লাভ করল); এবং (জায়েদ পিতা হিসেবে, পিতৃত্বের দিক থেকে, গৃহের দিক থেকে এবং জ্ঞানের দিক থেকে উত্তম), অথবা ইজাফাত (إضافة)-এর ক্ষেত্রে যেমন: (পিতা হিসেবে, পিতৃত্বের দিক থেকে, গৃহের দিক থেকে এবং জ্ঞানের দিক থেকে তার উত্তম হওয়া আমাকে মুগ্ধ করে), এবং (আল্লাহর জন্য তার শ্রেষ্ঠত্ব একজন অশ্বারোহী হিসেবে)।

অতঃপর যদি সেটি এমন একটি বিশেষ্য (اسم) হয় যাকে সেই পদের স্থলাভিxt করা সঠিক হয় যা থেকে সেটি নসবযুক্ত (منصوب) হয়েছে, তবে সেটি তার (আমেলের) জন্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য হওয়া বৈধ হবে, অন্যথায় তা কেবল তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্যই হবে; ফলে যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে তার সাথে উভয় ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকবে, যদি না সেটি কোনো শ্রেণিগত নাম (جنس) হয় অথবা তার দ্বারা বিভিন্ন প্রকার উদ্দেশ্য করা হয়।

আর যদি সেটি গুণবাচক শব্দ (صفة) হয়, তবে তা তার জন্যই হবে এবং তার অনুরূপ হবে, এবং সেক্ষেত্রে এটি হাল (حال) হওয়ার সম্ভাবনাও রাখবে।

তমিজ (تمييز) তার আমেল (عامل)-এর আগে আসতে পারে না, এবং বিশুদ্ধতম মতানুসারে এটি ক্রিয়ার (فعل) আগেও আসতে পারে না, যা মাযিনি ও মুবাররাদের মতের বিপরীত (১)।

 

‌‌[মুসতাসনা (المستثنى)]:

মুসতাসনা (مستثنى): অবিচ্ছিন্ন (متصل) এবং বিচ্ছিন্ন (منقطع)।

অবিচ্ছিন্ন (متصل): যাকে ‘ইল্লা’ (إلا) এবং এর সমজাতীয় অব্যয়সমূহের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু থেকে—শব্দত অথবা উহ্যভাবে—পৃথক করা হয়েছে।

বিচ্ছিন্ন (منقطع): যা উক্ত অব্যয়ের পরে উল্লিখিত হয় কিন্তু তা পূর্বোক্ত বিষয় থেকে বিযুক্ত নয়।

আর এটি নসবযুক্ত (منصوب) হয় যখন এটি ইতিবাচক (موجب) বাক্যে সিফাত (صفة) ব্যতীত ‘ইল্লা’ (إلا)-এর পরে আসে, অথবা মুসতাসনা মিনহু (مستثنى منه)-এর আগে আসে, অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন (منقطع) হয়, অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘খালা’ (خلا) ও ‘আদা’ (عدا)-এর পরে আসে, এবং ‘মা খালা’ (ما خلا), ‘মা আদা’ (ما ععدا), ‘লাইসা’ (ليس) ও ‘লা ইয়াকুনু’ (لا يكون)-এর পরে আসে।

এবং এতে নসব (نصب) প্রদান জায়েজ, তবে নেতিবাচক বাক্যে ‘ইল্লা’ (إلا)-এর পরে বদল (بدل) হওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যখন মুসতাসনা মিনহু (مستثنى منه) উল্লেখ থাকে; যেমন: {তাদের অল্পসংখ্যক লোক ছাড়া অন্যরা তা করেনি} (২), এবং ‘ইল্লা কলিলান’ (إلا قليلا) (৩) পাঠও রয়েছে।

আর যখন মুসতাসনা মিনহু (مستثنى منه) উল্লেখ থাকে না, তখন আমেল (عامل) অনুযায়ী এর ইরাব (إعراب) হয়; এটি কেবল নেতিবাচক বাক্যে অর্থপূর্ণ হওয়ার জন্য আসে, যেমন: (জায়েদ ছাড়া অন্য কেউ আমাকে প্রহার করেনি), তবে যদি অর্থ সঠিক থাকে তবে ব্যতিক্রম হতে পারে যেমন: (আমি অমুক দিন ছাড়া পড়েছি), আর এই কারণেই (জায়েদ আলেম হওয়া ছাড়া ক্ষান্ত হয়নি) বলা বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) এটি কিছু কুফিবাদীর মত, আর মাযিনি ও মুবাররাদ তাদের অনুসরণ করেছেন; এটি আল-ইনসাফ গ্রন্থের বিষয় নম্বর (১২০), খণ্ড ২/৮২৮। আত-তাসরিহ ২/৭০৯ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি কিসায়িরও মত। নাজিম শারহুল উমদাহ ১/৩৫৮ গ্রন্থে বলেছেন: "আমি তাদের মতটিই গ্রহণ করছি; অন্যান্য নসবযুক্ত পদের ন্যায় কিয়াস করে যা রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়া দ্বারা নসব লাভ করে" ।

(২) সূরা আন-নিসা: ৬৬।

(৩) ইবনে আমিরের কিরাআত অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإذا تعذّر البدل على اللّفظ فعلى الموضع، مثل: (ما جاءني من أحد إلاّ زيد)، و (لا أحد فيها إلاّ عمرو)، و (ما زيد شيئا إلاّ شيء لا يعبأ به)؛ لأنّ (من) لا تزاد بعد الإثبات، و (ما) و (لا) لا تقدّران عاملتين بعده؛ لأنّهما عملتا للنّفي، وقد انتقض النّفي ب (إلاّ)، بخلاف (ليس زيد شيئا إلاّ شيئا)؛ لأنّها عملت للفعليّة، فلا أثر لنقض معنى النّفي؛ لبقاء الأمر العاملة هي لأجله، ومن ثمّ جاز (ليس زيد إلاّ قائما) وامتنع (ما زيد إلاّ قائما).

ومخفوض بعد (غير) و (سوى) و (سواء)، وبعد (حاشا) في الأكثر.

وإعراب (غير) فيه كإعراب المستثنى ب (إلاّ) على التّفصيل، و (غير) صفة حملت على (إلاّ) في الاستثناء كما حملت (إلاّ) عليها في الصّفة إذا كانت تابعة لجمع منكور غير محصور؛ لتعذّر الاستثناء، نحو {لَوْ كانَ فِيهِما آلِهَةٌ إِلَاّ اللهُ لَفَسَدَتا} (1)، وضعف في غيره.

وإعراب (سوى) و (سواء) النّصب على الظرفية على الأصح.

 

‌‌[خبر (كان) وأخواتها]:

خبر كان وأخواتها: هو المسند بعد دخولها، مثل: (كان زيد قائما). وأمره كأمر خبر المبتدأ، ويتقدّم على اسمها معرفة.

وقد يحذف عامله في مثل: (النّاس مجزيّون بأعمالهم، إن خيرا فخير، وإن شرّا فشرّ). ويجوز مثلها أربعة أوجه، ويجب الحذف في مثل: (أمّا أنت منطلقا انطلقت)، أي لأن كنت.

 

‌‌[اسم (إن) وأخواتها]:

اسم (إنّ) وأخواتها: هو المسند إليه بعد دخولها، مثل: (إنّ زيدا قائم).

 

‌‌[المنصوب ب (لا) التي لنفي الجنس]:

المنصوب ب (لا) الّتي لنفي الجنس: هو المسند إليه بعد دخولها، يليها نكرة مضافا أو مشبّها به، مثل: (لا غلام رجل)، و (لا عشرين درهما لك).

--------------------------------------------

(1) الأنبياء/22.

আর যখন শব্দের (উচ্চারণের) ওপর ভিত্তি করে বদল (বিকল্প) করা অসম্ভব হয়, তখন তা স্থান বা অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে হবে। যেমন: (ما جاءني من أحد إلاّ زيد - আমার নিকট যায়েদ ব্যতীত কেউ আসেনি), এবং (لا أحد فيها إلاّ عمرو - আম্র ব্যতীত সেখানে কেউ নেই), এবং (ما زيد شيئا إلاّ شيء لا يعবأ به - যায়েদ এমন কোনো বস্তু নয় যা গুরুত্বহীন নয়); কারণ (من) অব্যয়টি ইতিবাচক বাক্যের পরে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয় না, এবং (ما) ও (لا) অব্যয় দুটি ইতিবাচক বাক্যের পরে আমিল (প্রভাবক) হিসেবে গণ্য হয় না; যেহেতু তারা কেবল নেতিবাচক অর্থের জন্যই আমল করে থাকে, আর এখানে (إلاّ) এর মাধ্যমে সেই নেতিবাচকতা ভেঙে গেছে। পক্ষান্তরে, (ليس زيد شيئا إلاّ شيئا) এর বিষয়টি ভিন্ন; কারণ এটি ক্রিয়াসদৃশ হওয়ার কারণে আমল করে থাকে, তাই নেতিবাচক অর্থ ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রভাব এখানে পড়ে না; যেহেতু যে বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি আমল করে তা বিদ্যমান থাকে। আর এ কারণেই (ليس زيد إلاّ قائما) বলা বৈধ, কিন্তু (ما زيد إلاّ قائما) বলা অবৈধ।

(غير), (سوى) এবং (سواء) এর পরবর্তী শব্দ সর্বদা যেরযুক্ত (মাজরুর) হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে (حاشا) এর পরবর্তী শব্দও মাজরুর হয়।

এ ক্ষেত্রে (غير) এর ই’রাব (কারক বিভক্তি) হবে (إلاّ) এর মাধ্যমে ব্যতিরেককৃত (মুসতাসনা) শব্দের ই’রাবের বিস্তারিত নিয়ম অনুযায়ী। (غير) হলো একটি বিশেষণ (সিফাত) যা ব্যতিরেকের (ইস্তিসনা) ক্ষেত্রে (إلاّ) এর অনুগামী হয়, যেমনটি অনির্দিষ্ট ও অগণিত সমষ্টির বিশেষণ হওয়ার ক্ষেত্রে (إلاّ) শব্দটিকে (غير) এর অনুগামী করা হয়; কারণ সেখানে ব্যতিরেক (ইস্তিসনা) করা অসম্ভব। যেমন: {لَوْ كانَ فِيهِما آلِهَةٌ إِلَاّ اللهُ لَفَسَدَتا} (১), তবে অন্য ক্ষেত্রে এটি দুর্বল (ضعيف) হিসেবে গণ্য।

আর সর্বাধিক বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী (سوى) এবং (سواء) এর ই’রাব হবে যরফ (স্থান বা কালবাচক অব্যয়) হওয়ার কারণে নসব (যবর) যুক্ত।

 

‌‌[(কানা) এবং এর সমজাতীয় অব্যয়সমূহের খবর]:

(কানা) এবং এর সমজাতীয় অব্যয়সমূহের খবর: এটি হলো সেই মুসনাদ (বিধেয়) যা উক্ত অব্যয়গুলো প্রবেশের পর আসে। যেমন: (كان زيد قائما)। এর বিধান মুবতাদার খবরের বিধানের মতোই, তবে ইসমটি মারেফা (নির্দিষ্ট) হলে খবরটি তার পূর্বে আসতে পারে।

কখনো কখনো এর আমিল (ক্রিয়া) উহ্য থাকে, যেমন: (النّاس مجزيّون بأعمالهم، إن خيرا فخير، وإن شرّا فشرّ - মানুষ তাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল পাবে, যদি তা ভালো হয় তবে প্রতিদান ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ)। এ জাতীয় ক্ষেত্রে চারটি রূপ বৈধ। আর নিম্নোক্ত উদাহরণের মতো ক্ষেত্রে আমিল উহ্য রাখা ওয়াজিব (আবশ্যক): (أمّا أنت منطلقا انطلقت), যার অর্থ হলো: (لأن كنت)।

 

‌‌[(ইন্না) এবং এর সমজাতীয় অব্যয়সমূহের ইসম]:

(إنّ) এবং এর সমজাতীয় অব্যয়সমূহের ইসম: এটি হলো সেই মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য) যা উক্ত অব্যয়গুলো প্রবেশের পর আসে। যেমন: (إنّ زيدا قائم)।

 

‌‌[জাতিবাচক নেতিবাচকতার (লা) দ্বারা নসবযুক্ত শব্দ]:

জাতিবাচক নেতিবাচকতার (نفي الجنس) জন্য ব্যবহৃত (لا) এর মাধ্যমে নসবযুক্ত শব্দ: এটি হলো সেই মুসনাদ ইলাইহি যা উক্ত (لا) প্রবেশের পর আসে এবং তার অব্যবহিত পরে কোনো অনির্দিষ্ট শব্দ (নাকিরা) যা মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) অথবা মুদাফ-সদৃশ হয়ে আসে। যেমন: (لا غلام رجل), এবং (لا عشرين درهما لك)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া/২২।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২৭)
فإن كان مفردا فهو مبنيّ على ما ينصب به، وإن كان معرفة أو مفصولا بينه وبين (لا) وجب الرّفع والتّكرير.

ومثل (قضيّة ولا أبا حسن لها) متأوّل، وفي مثل: (لا حول ولا قوّة إلاّ بالله) خمسة أوجه (1):

فتحهما، ونصب الثّاني ورفعه.

ورفعهما.

ورفع الأوّل-على ضعف-وفتح الثّاني.

وإذا دخلت الهمزة لم يتغيّر العمل، ومعناها الاستفهام والعرض والتّمنّي.

ونعت المبنيّ الأوّل مفردا يليه مبنيّ ومعرب، رفعا ونصبا نحو (لا رجل ظريف، وظريف، وظريفا)، وإلاّ فالإعراب، والعطف على اللّفظ وعلى المحلّ جائز مثل [من الطويل]:

لا أب وابنا. . . . .... . . (2)

وابن، ومثل (لا أبا له) و (لا غلامى له) جائز؛ تشبيها له بالمضاف، لمشاركته له في أصل معناه، ومن ثمّ لم يجز (لا أبا فيها) وليس بمضاف؛ لفساد المعنى، خلافا لسيبويه (3).

ويحذف في مثل: (لا عليك) أي (لا بأس).

 

‌‌[خبر (ما) و (لا) المشبّهتين ب (ليس)]:

خبر (ما) و (لا) المشبّهتين ب (ليس): هو المسند بعد دخولهما.

وهي لغة أهل الحجاز.

وإذا زيدت (إن) مع (ما)، أو انتقض النّفي ب (إلاّ)، أو تقدّم الخبر، بطل العمل.

وإذا عطف عليه بموجب فالرّفع.

--------------------------------------------

(1) هي هكذا على الترتيب: لا حول ولا قوة إلا بالله، لا حول ولا قوة إلا بالله، لا حول ولا قوة إلا بالله، لا حول ولا قوة إلا بالله، لا حول ولا قوة إلا بالله.

(2) البيت بتمامه: فلا أب وابنا مثل مروان وابنه إذا هو بالمجد ارتدى وتأزّرا ينسب إلى الفرزدق أو إلى رجل من عبد مناة، والشاهد فيه العطف على اسم (لا) النافية للجنس من غير تكريرها بالنصب، ويجوز الرفع على أنه معطوف على محل (لا) مع اسمها؛ إذ هما في محل رفع مبتدأ.

(3) ينظر: الكتاب 2/ 276.
যদি এটি একক শব্দ হয়, তবে তা যে অবস্থায় নাসব (জবর) প্রাপ্ত হয় তার ওপর মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হবে। আর যদি তা মারেফাহ (নির্দিষ্ট) হয় অথবা তার ও (লা) এর মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়, তবে রফ্ (পেশ) প্রদান করা এবং পুনরাবৃত্তি করা ওয়াজিব (আবশ্যক)।

(কাযিইয়াতুন ওয়া লা আবা হাসানা লাহা)-এর মতো উদাহরণগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। আর (লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)-এর মতো বাক্যের ক্ষেত্রে পাঁচটি দিক (পঠনপদ্ধতি) জায়েজ (১):

উভয় শব্দে ফাতহাহ (জবর) প্রদান করা; দ্বিতীয় শব্দে নাসব এবং রফ্ করা।

উভয় শব্দে রফ্ করা।

প্রথম শব্দে রফ্ করা—যদিও তা দুর্বল (ضعيف)—এবং দ্বিতীয় শব্দে ফাতহাহ প্রদান করা।

যখন এতে প্রশ্নবোধক হামজা যুক্ত হয় তখন আমল (ব্যাকরণিক কার্যকারিতা) পরিবর্তিত হয় না; আর তখন এটি প্রশ্নবোধক, প্রস্তাব প্রদান অথবা আকাঙ্ক্ষা করার অর্থ প্রদান করে।

প্রথম মাবনি শব্দটির পরে যদি এমন একক সিফাত (বিশেষণ) আসে যা সরাসরি তাকে অনুসরণ করে, তবে তা মাবনি অথবা মু’রাব হতে পারে—চাই রফ্ হোক বা নাসব, যেমন: (লা রাজুলা জারিফুন, জারিফুন, জারিফান)। নতুবা কেবল ই’রাব হবে। এবং শব্দের বাহ্যিক রূপ (লাফয) ও অবস্থানের (মাহাল) ওপর ভিত্তি করে আতফ (সংযোজন) করা জায়েজ, যেমন [তিল ছন্দ থেকে]:

লা আবা ওয়া ইবনান. . . . .... . . (২)

এবং ‘ইবনু’ পড়া (অর্থাৎ রফ্ করাও জায়েজ)। ‘লা আবা লাহু’ এবং ‘লা গুলামাই লাহু’-এর মতো ব্যবহার জায়েজ; মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত শব্দ) এর সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে। কারণ এটি মূল অর্থের ক্ষেত্রে মুদাফ এর সাথে অংশীদার। আর এই কারণেই ‘লা আবা ফিহা’ জায়েজ নয়; কারণ এটি মুদাফ নয়। অর্থের বিকৃতির কারণে এখানে সিবওয়াইহি-এর মতের বিরোধিতা করা হয়েছে (৩)।

আর ‘লা আলাইকা’-এর মতো বাক্যে (খবর) উহ্য থাকে, যার অর্থ হলো ‘লা বাসা’ (কোনো সমস্যা নেই)।

 

‌‌[লাইসা-এর সদৃশ ‘মা’ এবং ‘লা’-এর খবর]:

লাইসা-এর সদৃশ ‘মা’ এবং ‘লা’-এর খবর হলো সেই মুসনাদ যা এ দুটি আসার পরে ব্যবহৃত হয়।

এটি হিজাজবাসীদের ভাষা।

যদি ‘মা’-এর সাথে অতিরিক্ত ‘ইন’ যুক্ত হয়, অথবা ‘ইল্লা’-এর মাধ্যমে নফি (নাবোধক অর্থ) নষ্ট হয়ে যায়, কিংবা খবর আগে চলে আসে, তবে আমল বাতিল হয়ে যাবে।

আর যদি এরপর কোনো ইতিবাচক শব্দের মাধ্যমে আতফ করা হয়, তবে রফ্ হবে।

--------------------------------------------

(১) সেগুলো ধারাবাহিকভাবে নিম্নরূপ: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (উভয়টি ফাতহাহ), লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতান ইল্লা বিল্লাহ (দ্বিতীয়টি নাসব), লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতুন ইল্লা বিল্লাহ (দ্বিতীয়টি রফ্), লা হাওলুন ওয়া লা কুওয়াতুন ইল্লা বিল্লাহ (উভয়টি রফ্), লা হাওলুন ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (প্রথমটি রফ্ ও দ্বিতীয়টি ফাতহাহ)।

(২) পূর্ণ কবিতাটি হলো: "ফালা আবা ওয়া ইবনান মিছলা মারওয়ানা ওয়া ইবনিহি...।" এটি ফারাজদাক অথবা আবদে মানাহ গোত্রের এক ব্যক্তির দিকে নিসবত করা হয়। এখানে শাহিদ (প্রমাণ) হলো ‘লা নাফিয়া লিল জিলস’-এর ইসমের ওপর পুনরাবৃত্তি ছাড়াই নাসব সহকারে আতফ করা। রফ্ করাও জায়েজ, কারণ এটি ‘লা’ এবং তার ইসমের সামষ্টিক অবস্থানের (মাহাল) ওপর আতফ; যেহেতু তারা মূলত মুক্তাদা হিসেবে রফ্-এর স্থানে রয়েছে।

(৩) দেখুন: আল-কিতাব ২/২৭৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌[المجرورات]

المجرورات: هو ما اشتمل على علم المضاف إليه.

والمضاف إليه: كلّ اسم نسب إليه شيء بواسطة حرف الجرّ لفظا أو تقديرا، مرادا.

فالتّقدير شرطه أن يكون المضاف اسما مجرّدا تنوينه لأجلها، وهي معنويّة، ولفظيّة.

فالمعنويّة: أن يكون المضاف فيها غير صفة مضافة إلى معمولها، وهي إمّا بمعنى اللاّم فيما عدا جنس المضاف وظرفه، أو بمعنى (من) في جنس المضاف، أو بمعنى (في) في ظرفه وهو قليل نحو: (غلام زيد) و (خاتم فضّة) و (ضرب اليوم).

وتفيد تعريفا مع المعرفة، وتخصيصا مع النّكرة.

وشرطها تجريد المضاف من التّعريف.

وما أجازه الكوفيّون من (الثّلاثة الأثواب) وشبهه من العدد ضعيف.

واللّفظيّة أن يكون صفة مضافة إلى معمولها، مثل (ضارب زيد) و (حسن الوجه)، ولا تفيد إلاّ تخفيفا في اللّفظ، ومن ثمّ جاز (مررت برجل حسن الوجه)، وامتنع (بزيد حسن الوجه)، وجاز (الضّاربا زيد)، و (الضّاربو زيد)، وامتنع (الضّارب زيد)، خلافا للفرّاء، وضعف [من الكامل]:

الواهب المائة الهجان وعبدها .... . . . (1)

وإنّما جاز (الضّارب الرّجل) حملا على المختار في (الحسن الوجه) و (الضّاربك) وشبهه فيمن قال إنّه مضاف حملا على (ضاربك).

ولا يضاف موصوف إلى صفته، ولا صفة إلى موصوفها، ومثل: (مسجد الجامع)، و (جانب الغربيّ)، و (صلاة الأولى)، و (بقلة الحمقاء) متأوّل.

ومثل: (جرد قطيفة)، و (أخلاق ثياب) متأوّل.

--------------------------------------------

(1) تمام البيت: عوذا تزجّي خلفها أطفالها، وهو للأعشى، الهجان: البيض، وهي أكرم الإبل عند العرب، والشاهد في قوله: (عبدها) بالجر عطفا على (المائة)، وهو مضاف إلى ما ليس فيه (أل)، فجعل ضمير المعرّف باللام في التابع مثل المعرف باللام، واغتفر هذا لكونه تابعا، والتابع يجوز فيه ما لا يجوز في المتبوع.
[মাজরুরাত (জের-যুক্ত শব্দসমূহ)]

মাজরুরাত: এটি এমন বিষয় যা মুদাফ ইলাইহির (সম্বন্ধিত পদ) চিহ্নকে অন্তর্ভুক্ত করে।

মুদাফ ইলাইহি: এটি এমন প্রত্যেকটি বিশেষ্য (ইসিম), যার দিকে শাব্দিক অথবা উহ্যভাবে কোনো হরফে জারের (অব্যয়) মাধ্যমে কোনো কিছুকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যা উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য।

উহ্য বা প্রাক্কলিত হওয়ার শর্ত হলো, মুদাফকে (সম্বন্ধিত পদ) এমন একটি বিশেষ্য হতে হবে যার তানউইন এই সম্বন্ধের কারণে বিলুপ্ত হয়েছে। আর এই ইদাফাত (সম্বন্ধ) দুই প্রকার: মানাবিয়্যাহ (অর্থগত) এবং লাফজিয়্যাহ (শাব্দিক)।

মানাবিয়্যাহ হলো: যেখানে মুদাফটি তার আমলের (কারক নির্ধারণী শব্দ) দিকে সম্বন্ধযুক্ত কোনো সিফাত (গুণবাচক শব্দ) হবে না। এটি হয় 'লাম' (র/এর) এর অর্থে ব্যবহৃত হবে—যদি মুদাফটি মুদাফ ইলাইহির সমজাতীয় বা তার আধার (যরফ) না হয়; অথবা এটি 'মিন' (থেকে/জাত) এর অর্থে ব্যবহৃত হবে—যদি মুদাফটি মুদাফ ইলাইহির সমজাতীয় হয়; অথবা এটি 'ফি' (মধ্যে) এর অর্থে ব্যবহৃত হবে—যদি তা মুদাফ ইলাইহির আধারে (যরফ) সংঘটিত হয়। এর ব্যবহার অল্প, যেমন: (যায়েদের দাস), (রুপার আংটি) এবং (দিনের প্রহার)।

এটি মারেফা (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) এর সাথে যুক্ত হলে নির্দিষ্টতা (তারিফ) প্রদান করে এবং নাকেরা (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) এর সাথে যুক্ত হলে বিশেষত্ব (তাখসিস) প্রদান করে।

এর শর্ত হলো মুদাফকে 'তারিফ' (নির্দিষ্টকরণ বা আলিফ-লাম) থেকে মুক্ত হওয়া।

কুফাবাসীগণ 'আল-সালাসাতুল আসওয়াব' (তিনটি পোশাক) এবং এই জাতীয় সংখ্যার ক্ষেত্রে যা বৈধ বলেছেন, তা দুর্বল (ضعيف)।

আর লাফজিয়্যাহ হলো: সিফাত বা গুণবাচক শব্দকে তার আমলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা, যেমন: (যায়েদকে প্রহারকারী) এবং (সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট)। এটি শব্দে কেবল লঘুতা বা সহজতা (তাখফিফ) প্রদান করে। একারণেই 'আমি এক সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম' বাক্যটি সঠিক, কিন্তু 'আমি সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট যায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম' (আলিফ-লাম সহ) বলা অবৈধ। আবার 'যায়েদকে প্রহারকারী দুইজন' এবং 'যায়েদকে প্রহারকারী ব্যক্তিগণ' (আলিফ-লাম সহ) বলা বৈধ হলেও, 'যায়েদকে প্রহারকারী একজন' (আলিফ-লাম সহ) বলা অবৈধ। তবে ইমাম ফাররা এর দ্বিমত পোষণ করেছেন। কামিল ছন্দের এই কাব্যটি দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য:

যিনি দান করেন একশত সাদা উট এবং তার রাখালকে... (১)

অবশ্য 'ব্যক্তিটিকে প্রহারকারী' (আলিফ-লাম সহ) বলা বৈধ হয়েছে 'সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট' এর উত্তম ব্যবহারের ওপর কিয়াস করে। আর 'তোমার প্রহারকারী' এবং এর সদৃশ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে যারা একে মুদাফ বলেন, তারা একে 'তোমার প্রহারকারী' (ইদাফাতে মানাবিয়্যাহ) এর ওপর কিয়াস করে বৈধ বলেছেন।

কোনো মাওসুফকে (গুণান্বিত বিশেষ্য) তার সিফাতের (গুণবাচক শব্দ) দিকে সম্বন্ধ করা যায় না, আবার কোনো সিফাতকেও তার মাওসুফের দিকে সম্বন্ধ করা যায় না। আর 'মসজিদুল জামি', 'জানিবুল গারবি', 'সালাতুল উলা' এবং 'বাকলাতুল হামকা' এর মতো উদাহরণগুলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা (তাবিল) করতে হবে।

অনুরূপভাবে 'জারদু কাতিফাহ' এবং 'আখলাকু সিয়াব' এর মতো উদাহরণগুলোকেও ব্যাখ্যা সাপেক্ষ ধরে নিতে হবে।

--------------------------------------------

(১) কবিতার পূর্ণ চরণটি হলো: 'আউযান তুযাজ্জি খালফাহা আতফালাহা'। এটি কবি আল-আশার কবিতা। 'আল-হিজান' অর্থ সাদা উট, যা আরবদের নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সম্পদ। এখানে প্রমাণ হলো 'আবদিহা' শব্দটিতে মাজরুর (জের) হওয়া, যা 'আল-মিয়াহ' এর ওপর আতফ (সংযোজন) হিসেবে এসেছে। এখানে মুদাফকে এমন একটি শব্দের সাথে যুক্ত করা হয়েছে যাতে 'আলিফ-লাম' নেই। ফলে আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট শব্দের সর্বনামকে আলিফ-লাম যুক্ত শব্দের মতোই গণ্য করা হয়েছে। এটি অনুগামী (তাবে) হওয়ার কারণে জায়েজ বা বৈধ করা হয়েছে; কেননা অনুগামীর ক্ষেত্রে এমন অনেক কিছু জায়েজ হয় যা মূল শব্দের (মাতবু) ক্ষেত্রে হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولا يضاف اسم مماثل للمضاف إليه في العموم والخصوص، ك (ليث) و (أسد)، و (حبس) و (منع)؛ لعدم الفائدة، بخلاف (كلّ الدّراهم) و (عين الشّيء)؛ فإنّه يختصّ.

وقولهم: (سعيد كرز) ونحوه متأوّل.

وإذا أضيف الاسم الصّحيح، أو الملحق به إلى ياء المتكلّم كسر آخره، والياء مفتوحة أو ساكنة.

فإن كان آخره ألفا تثبت، وهذيل تقلبها لغير التّثنية ياء.

وإن كان ياء أدغمت.

وإن كان واوا قلبت ياء وأدغمت وفتحت الياء للسّاكنين.

وأمّا الأسماء السّتّة ف (أخي) و (أبي)، وأجاز المبرّد (أخيّ) و (أبيّ).

وتقول: (حميّ وهنيّ)، ويقال (فيّ) في الأكثر، و (فمي).

وإذا قطعت قيل: (أخ) و (أب) و (حم)، و (هن) و (فم)، وفتح الفاء أفصح منهما.

وجاء (حم) مثل (يد) و (خبء) و (دلو) و (عصا) مطلقا.

وجاء (هن) مثل (يد) مطلقا.

و (ذو) لا يضاف إلى مضمر، ولا يقطع عن الإضافة.

 

‌‌[التوابع]:

التّوابع: كلّ ثان بإعراب سابقه من جهة واحدة.

 

‌‌[النعت]:

النّعت: تابع يدلّ على معنى في متبوعه مطلقا.

وفائدته تخصيص أو توضيح.

وقد يكون لمجرّد الثّناء، أو الذّمّ، أو التّأكيد مثل: {نَفْخَةٌ واحِدَةٌ} (1).

ولا فصل بين أن يكون مشتقّا أو غيره إذا كان وضعه لغرض المعنى عموما مثل:

(تميميّ)، و (ذي مال)، أو خصوصا مثل: (مررت برجل أيّ رجل)، و (مررت بهذا الرّجل) و (بزيد هذا).

--------------------------------------------

(1) الحاقة/13.
সাধারণ (عموم) এবং বিশেষ (خصوص) হওয়ার দিক থেকে মুদাফ ইলাইহ-এর (مضاف إليه) অনুরূপ কোনো বিশেষ্যকে (اسم) মুদাফ (مضاف) করা হয় না; যেমন: (লাইস) ও (আসাদ), এবং (হাবস) ও (মান’); কারণ এতে কোনো উপকারিতা নেই। তবে (কুল্লু আদ-দারাতিম) এবং (আইনুশ শাই)-এর বিষয়টি ভিন্ন; কারণ এটি বিশিষ্টতা দান করে।

এবং তাদের উক্তি: (সাঈদ কুরয) এবং এর সমজাতীয় উদাহরণগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।

যখন সহীহ (صحيح) বা তার সাথে সংযুক্ত (ملحق) বিশেষ্যকে (اسم) মুতাকাল্লিম-এর ইয়া (ياء المتكلم)-এর দিকে মুদাফ (مضاف) করা হয়, তখন তার শেষ অক্ষরে কাসরাহ বা জের প্রদান করা হয় এবং ইয়া-টি জবরযুক্ত (مفتوحة) অথবা সাকিনযুক্ত (ساكنة) থাকে।

যদি এর শেষে আলিফ (ألف) থাকে তবে তা বহাল থাকে, তবে হুযাইল গোত্র দ্বিবচন (تثنية) ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে একে ইয়া-তে রূপান্তরিত করে।

আর যদি তা ইয়া (ياء) হয়, তবে তা ইদগাম (أدغمت) করা হবে।

আর যদি তা ওয়াও (واو) হয়, তবে তাকে ইয়া-তে রূপান্তরিত করা হবে এবং ইদগাম (أدغمت) করা হবে এবং দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে ইয়া-তে ফাতহাহ বা জবর প্রদান করা হবে।

আসমায়ে সিত্তাহ (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে তা হলো (আখী) এবং (আবী), আর ইমাম মুবাররাদ (আখিয়্যা) এবং (আবিয়্যা) বলা বৈধ বলেছেন।

এবং আপনি বলবেন: (হামিয়্যা ও হানিয়্যা), আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে (ফায়্যা) এবং (ফামী) বলা হয়।

আর যখন ইযাফাত (إضافة) বিচ্ছিন্ন (قطعت) করা হয়, তখন বলা হয়: (আখ), (আব), (হাম), (হান) এবং (ফাম); এবং 'ফা' বর্ণে ফাতহাহ প্রদান করা এই দুটির মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ।

এবং (হাম) শব্দটি শর্তহীনভাবে (مطلقا) (ইয়াদ), (খাব্উ), (দাল্উ) এবং (আসা)-এর অনুরূপ ব্যবহূত হয়েছে।

এবং (হান) শব্দটি শর্তহীনভাবে (مطلقا) (ইয়াদ)-এর অনুরূপ ব্যবহূত হয়েছে।

এবং (যু) শব্দটি সর্বনামের (مضمر) দিকে মুদাফ (مضاف) হয় না এবং এটি ইযাফাত (إضافة) থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

 

‌‌[অনুসারীসমূহ (التوابع)]:

অনুসারীসমূহ (التوابع): এমন প্রত্যেক দ্বিতীয় পদ যা একক দিক থেকে তার পূর্ববর্তী পদের ইরাব (إعراب) গ্রহণ করে।

 

‌‌[বিশেষণ (النعت)]:

বিশেষণ (النعت): এমন একটি অনুসারী (تابع) যা শর্তহীনভাবে (مطلقا) তার অনুসৃত পদের (متبوعه) কোনো গুণের অর্থ প্রকাশ করে।

এর উপকারিতা হলো বিশেষায়ন (تخصيص) অথবা স্পষ্টীকরণ (توضيح)।

কখনও কখনও এটি কেবল প্রশংসা (ثناء), নিন্দা (ذم) অথবা তাকিদ (تأكيد)-এর জন্য হতে পারে, যেমন: {একমাত্র ফুৎকার} (১)।

এটি কৃদন্ত পদ (مشتق) হওয়া বা অন্য কিছু হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, যদি তা অর্থের সাধারণ (عموما) উদ্দেশ্যে গঠিত হয়, যেমন: (তামিমী) এবং (যী মাল); অথবা বিশেষ (خصوصا) উদ্দেশ্যে হয়, যেমন: (মারারতু বি-রাজুলিন আইয়্যা রাজুলিন), (মারারতু বি-হাযার রাজুলি) এবং (বি-যাইদিন হাযা)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাক্কাহ/১৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৩০)
وتوصف النّكرة بالجملة الخبريّة ويلزم الضّمير. ويوصف بحال الموصوف، وبحال متعلّقه نحو (مررت برجل حسن غلامه).

فالأوّل يتبعه في الإعراب، والتّعريف والتّنكير، والإفراد والتّثنية والجمع، والتّذكير والتّأنيث.

والثّاني يتبعه في الخمس الأول، وفي البواقي كالفعل، ومن ثمّ حسن (قام رجل قاعد غلمانه)، وضعف (قاعدون غلمانه)، ويجوز (قعود غلمانه).

والمضمر لا يوصف ولا يوصف به، والموصوف أخصّ أو مساو، ومن ثمّ لم يوصف ذو اللاّم إلاّ بمثله، أو بالمضاف إلى مثله، وإنّما التزم وصف باب (هذا) بذي اللاّم للإبهام، ومن ثمّ ضعف (مررت بهذا الأبيض) وحسن (مررت بهذا العالم).

 

‌‌العطف:

العطف: تابع مقصود بالنّسبة مع متبوعه، يتوسّط بينه وبين متبوعه أحد الحروف العشرة-وسيأتي-مثل (قام زيد وعمرو).

وإذا عطف على الضّمير المرفوع المتّصل أكّد بمنفصل، مثل (ضربت أنا وزيد)، إلاّ أن يقع فصل فيجوز تركه نحو (ضربت اليوم وزيد).

وإذا عطف على الضّمير المجرور أعيد الخافض، نحو (مررت بك وبزيد).

والمعطوف في حكم المعطوف عليه، ومن ثمّ لم يجز في (ما زيد بقائم أو قائما، ولا ذاهب عمرو) إلاّ الرّفع، وإنّما جاز (الّذي يطير فيغضب زيد الذّباب) لأنّها فاء السّببيّة.

وإذا عطف على عاملين مختلفين لم يجز، خلافا للفرّاء (1)، إلاّ في نحو (في الدّار زيد والحجرة عمرو)، خلافا لسيبويه (2).

 

‌‌[التأكيد]:

التّأكيد: تابع يقرّر أمر المتبوع في النّسبة أو الشّمول، وهو لفظيّ ومعنويّ:

--------------------------------------------

(1) لا يعرف القول بإجازة هذا من مذهب الفرّاء، لكنه منسوب إلى الأخفش كما في المقتضب 4/ 95، وابن يعيش 3/ 27، والمغني ص 318.

(2) يخرّج هذا القول على إضمار الجارّ عند سيبويه والمحقّقين كما ذكر ابن هشام (المغني ص 318).
অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে (نكرة) সংবাদসূচক বাক্য (جملة خبرية) দ্বারা বিশেষিত করা যায় এবং সেক্ষেত্রে একটি সর্বনাম (ضمير) থাকা আবশ্যক। এছাড়া বিশেষ্যকে তার নিজের অবস্থা অনুযায়ী অথবা তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অবস্থা অনুযায়ী বিশেষিত করা যায়, যেমন: (مررت برجل حسن غلامه - আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম যার গোলাম সুন্দর)।

প্রথম প্রকারটি (نعت حقيقي) বিভক্তি (إعراب), নির্দিষ্টতা (تعريف) ও অনির্দিষ্টতা (تنكير), একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন এবং পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী পদের অনুগামী হয়।

দ্বিতীয় প্রকারটি (نعت سببي) প্রথম পাঁচটি বিষয়ের ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী পদের অনুগামী হয়, আর অবশিষ্ট বিষয়গুলোতে এটি ক্রিয়ার (فعل) ন্যায় ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই (قام رجل قاعد غلمانه) বাক্যটি উত্তম হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু (قاعدون غلمانه) বলা দুর্বল (ضعيف) এবং (قعود غلمانه) বলা জায়েজ।

সর্বনাম (مضمر) দ্বারা কাউকে বিশেষিত করা যায় না এবং এটি নিজেও অন্য পদের বিশেষণ হতে পারে না। বিশেষণ অপেক্ষা বিশেষ্যকে অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص) অথবা সমপর্যায়ের (مساو) হতে হয়। এই কারণেই আল-যুক্ত শব্দ (ذو اللام) দ্বারা কেবল সমপর্যায়ের শব্দ অথবা সমপর্যায়ের শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) শব্দকেই বিশেষিত করা হয়। আর অস্পষ্টতা দূর করার জন্যই (هذا) জাতীয় শব্দের পর আল-যুক্ত শব্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই কারণে (مررت بهذا الأبيض) বলা দুর্বল (ضعيف) এবং (مررت بهذا العالم) বলা উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

‌‌সংযোজন (العطف):

সংযোজন (العطف): এটি এমন এক অনুগামী পদ যা তার পূর্ববর্তী পদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট হয়ে থাকে এবং এর ও এর পূর্ববর্তী পদের মাঝে দশটি অব্যয়ের কোনো একটি ব্যবধান হিসেবে থাকে - যা সামনে আলোচিত হবে - যেমন: (قام زيد وعمرو)।

যখন কোনো সংলগ্ন কর্তৃকারক সর্বনামের (ضمير مرفوع متصل) ওপর সংযোজন করা হয়, তখন বিযুক্ত সর্বনাম দ্বারা সেটিকে তাকিদ বা জোর প্রদান করা হয়; যেমন: (ضربت أنا وزيد)। তবে যদি উভয়ের মাঝে অন্য পদের ব্যবধান থাকে তবে তাকিদ বর্জন করা জায়েজ; যেমন: (ضربت اليوم وزيد)।

যখন কোনো মাজরুর সর্বনামের (ضمير مجرور) ওপর সংযোজন করা হয়, তখন অব্যয়টির (خافض) পুনরাবৃত্তি করতে হয়; যেমন: (مررت بك وبزيد)।

সংযোজিত পদ (معطوف) তার পূর্ববর্তী পদের (معطوف عليه) বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত হয়। এই কারণে (ما زيد بقائم أو قائما، ولا ذاهব عمرو) বাক্যটিতে পেশ বা রাফ (رفع) ছাড়া অন্য কিছু জায়েজ নয়। আর (الذي يطير فيغضب زيد الذباب) বাক্যটি জায়েজ হয়েছে কারণ এখানে 'ফা' কারণ নির্দেশক (فاء السببية) হিসেবে এসেছে।

দুটি ভিন্ন আমিল (عامل)-এর ওপর সংযোজন করা জায়েজ নয়, যদিও আল-ফাররা (১) এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তবে (في الدار زيد والحجرة عمرو) এর ন্যায় ক্ষেত্রে এটি জায়েজ, যদিও সিবওয়াইহি (২) এর বিরোধিতা করেছেন।

 

‌‌[দৃঢ়করণ (التأكيد)]:

দৃঢ়করণ (التأكيد): এটি এমন এক অনুগামী পদ (تابع) যা তার পূর্ববর্তী পদের নিসবত বা ব্যাপকতাকে সুনিশ্চিত করে। এটি শাব্দিক (لفظي) ও অর্থগত (معنوي) - দুই প্রকারের হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাররা-এর মাযহাবে এটি জায়েজ হওয়ার কথা জানা যায় না, তবে এটি আল-আখফাশের প্রতি সম্পর্কিত করা হয়েছে যেমনটি আল-মুকতাদাব ৪/৯৫, ইবনু ইয়াইশ ৩/২৭ এবং আল-মুগনি ৩১৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(২) সিবওয়াইহি এবং গবেষক আলেমদের মতে, ইবনু হিশামের বর্ণনা অনুযায়ী (আল-মুগনি ৩১৮ পৃষ্ঠা), এই অভিমতটি অব্যয় (جار) উহ্য থাকার ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাফিয়া ফী ইলমিন নাহব (পৃষ্ঠা: ৩১)
فاللّفظيّ: تكرير اللّفظ الأوّل، مثل (جاءني زيد زيد)، ويجري في الألفاظ كلّها.

والمعنويّ بألفاظ محصورة، وهي: نفسه، وعينه، وكلاهما، وكلّه، وأجمع، وأكتع، وأبتع، وأبصع.

فالأوّلان يعمّان باختلاف صيغتهما وضميرهما، تقول: (نفسه)، (نفسها)، (أنفسهما)، (أنفسهم)، (أنفسهنّ).

والثّاني للمثنّى: (كلاهما)، و (كلتاهما)، والباقي لغير المثنّى باختلاف الضمير في:

(كلّه)، و (كلّها)، و (كلّهم)، و (كلّهنّ).

والصيغ في البواقي، تقول: (أجمع) و (جمعاء) و (أجمعون) و (جمع).

ولا يؤكّد ب (كلّ) و (أجمع) إلاّ ذو أجزاء يصح افتراقها حسّا أو حكما، نحو (أكرمت القوم كلّهم)، و (اشتريت العبد كلّه)، بخلاف (جاءني زيد كلّه).

وإذا أكّد المضمر المرفوع المتّصل بالنّفس والعين أكّد بمنفصل، مثل: (ضربت أنت نفسك).

و (أكتع) وأخواه أتباع ل (أجمع)، فلا تتقدّم عليه، وذكرها دونه ضعيف.

 

‌‌[البدل]:

البدل: تابع مقصود بما نسب إلى المتبوع دونه.

وهو بدل الكلّ، والبعض، والاشتمال، والغلط.

فالأوّل: مدلوله مدلول الأوّل.

والثّاني: جزؤه.

والثّالث: بينه وبين الأوّل ملابسة بغير هما.

والرّابع: أن تقصد إليه بعد أن غلطت بغيره، ويكونان معرفتين، ونكرتين، ومختلفين.

وإذا كان نكرة من معرفة فالنّعت، مثل: {بِالنّاصِيَةِ (15) ناصِيَةٍ كاذِبَةٍ} (1).

ويكونان ظاهرين، ومضمرين، ومختلفين.

ولا يبدل ظاهر من مضمر بدل الكلّ إلاّ من الغائب، نحو: (ضربته زيدا).

--------------------------------------------

(1) العلق/15،16.
শাব্দিক তাকিদ: এটি হলো প্রথম শব্দটির পুনরাবৃত্তি করা, যেমন (جاءني زيد زيد), এবং এটি সকল প্রকার শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আর অর্থগত তাকিদ নির্দিষ্ট কতগুলো শব্দের মাধ্যমে হয়, আর সেগুলো হলো: نفس (নাফস), عين (আইন), كلا (কিলা), كلتا (কিলতা), كل (কুল্লুন), أجمع (আজমাউ), أكتع (আকতাউ), أبتع (আবতাউ), أبصع (আবসাউ)।

প্রথম দুটি শব্দ তাদের শব্দরূপ এবং সর্বনামের পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে, আপনি বলবেন: (نفسه), (نفسها), (أنفسهما), (أنفسهم), (أنفسهنّ)।

আর দ্বিতীয়টি দ্বিবচনের জন্য: (كلاهما) এবং (كلتاهما), আর অবশিষ্টাংশগুলো দ্বিবচন ব্যতীত অন্য বচনের জন্য সর্বনামের পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়:

(كلّه), (كلّها), (كلّهم) এবং (كلّهنّ)।

বাকি শব্দগুলোর রূপগুলো হলো, আপনি বলবেন: (أجمع), (جمعاء), (أجمعون) এবং (جمع)।

'কুল্লুন' এবং 'আজমাউ' দ্বারা কেবল এমন বিষয়েরই তাকিদ দেওয়া যায় যার এমন কতগুলো অংশ রয়েছে যা বাহ্যিকভাবে বা বিধানগতভাবে পৃথক করা সম্ভব, যেমন (أكرمت القوم كلّهم) এবং (اشتريت العبد كلّه), এর বিপরীতে (جاءني زيد كلّه) বলা সহীহ নয়।

আর যখন 'নাফস' এবং 'আইন' দ্বারা মারফু মুত্তাসিল জমিরকে তাকিদ দেওয়া হয়, তখন একটি মুনফাসিল জমির দ্বারা তাকিদ দিতে হয়, যেমন: (ضربت أنت نفسك)।

আর 'আকতাউ' এবং তার অপর দুই অনুগামী শব্দ 'আজমাউ'-এর অনুসারী, তাই এগুলো তার আগে আসতে পারে না এবং 'আজমাউ' ব্যতীত সেগুলোর উল্লেখ করা দুর্বল (ضعيف)।

 

‌‌[বদল]:

বদল হলো এমন অনুগামী শব্দ, যাকে তার পূর্ববর্তী শব্দের ওপর আরোপিত বিধানের মাধ্যমে উদ্দেশ্য করা হয়।

আর এটি চার প্রকার: বদলে কুল্ল, বদলে বাজ, বদলে ইশতিমাল এবং বদলে গালাত।

প্রথমটি হলো: যার অর্থ ও পূর্ববর্তী শব্দের অর্থ অভিন্ন।

দ্বিতীয়টি হলো: যা পূর্ববর্তী শব্দের অংশ।

তৃতীয়টি হলো: যার এবং প্রথম শব্দের মাঝে অংশ বা পূর্ণতা ব্যতিরেকে অন্য কোনো সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।

চতুর্থটি হলো: ভুলবশত অন্য কোনো শব্দ উল্লেখ করার পর পুনরায় উদ্দেশ্যকৃত শব্দটি ব্যক্ত করা। আর এগুলো নির্দিষ্ট (মারিফা) ও অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) উভয় প্রকারেরই হতে পারে।

আর যদি অনির্দিষ্ট শব্দ নির্দিষ্ট শব্দ থেকে বদল হিসেবে আসে, তবে সেখানে সিফাত বা গুণের উল্লেখ থাকে, যেমন: {بِالنّاصِيَةِ (15) ناصِيَةٍ كاذِبَةٍ} (১)।

আর সেগুলো প্রকাশ্য বিশেষ্য ও সর্বনাম উভয় প্রকারেরই হতে পারে।

আর নামপুরুষ বা গায়েব ব্যতীত অন্য কোনো সর্বনাম থেকে কোনো প্রকাশ্য বিশেষ্য 'বদলে কুল্ল' হিসেবে আসতে পারে না, যেমন: (ضربته زيدا)।

--------------------------------------------

(১) আল-আলাক/১৫, ১৬।