(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
المستشرقون والسنة   (سعد المرصفي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: المستشرقون والسُنَّة

المؤلف: الأستاذ الدكتور سعد المرصفي [ت 1439 هـ]

الناشر: مكتبة المنار الإسلامية ومؤسسة الريَّان، بيروت - لبنان

الطبعة: بدون تاريخ

عدد الصفحات: 80

أَعَدَّهُ للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 جُمادَى الآخرة 1432

প্রাচ্যবিদগণ এবং সুন্নাহ   (সা’দ আল-মারসাফি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: প্রাচ্যবিদগণ এবং সুন্নাহ

লেখক: অধ্যাপক ডক্টর সা’দ আল-মারসাফি [মৃত্যু ১৪৩৯ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার আল-ইসলামিয়্যাহ এবং মুয়াসসাসাতুর রায়্যান، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: তারিখ বিহীন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুমাদাল আখিরা ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
دفاع عن الحديث النبوي

[1]

 

المُسْتَشْرِقُونَ والسُنَّةُ

تأليف الدكتور سعد المرصفي

مكتبة المنار الإسلامية ومؤسسة الريَّان، بيروت - لبنان.

الطبعة: بدون تاريخ.

عدد الأجزاء: 1.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
হাদিসে নববীর প্রতিরক্ষা

[1]

 

প্রাচ্যবিদগণ এবং সুন্নাহ

ডক্টর সা’দ আল-মারসাফি কর্তৃক রচিত

মাকতাবাতুল মানার আল-ইসলামিয়্যাহ এবং মুয়াসসাসাতুর রায়্যান, বৈরুত - লেবানন।

সংস্করণ: তারিখহীন।

খণ্ড সংখ্যা: ১।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।

[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
دفاع عن الحديث النبوي في ضوء أصول التحديث رواية ودراية ورد الشبهات ودحض المفتريات

[1]

 

المستشرقون والسُنَّة

 

تأليف الدكتور سعد المرصفي

 

مكتبة المنار الإسلامية ومؤسسة الريَّان، بيروت - لبنان
বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية) সংক্রান্ত হাদিস বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহের আলোকে নববী হাদিসের প্রতিরক্ষা এবং সংশয় নিরসন ও মিথ্যা অপবাদের খণ্ডন

[১]

 

প্রাচ্যবিদ ও সুন্নাহ

 

রচনায়: ডক্টর সাদ আল-মারসাফি

 

মাকতাবাতুল মানার আল-ইসলামিয়া এবং মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান, বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (3) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5) اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১) সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য (২) তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু (৩) বিচার দিবসের অধিপতি (৪) আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি (৫) আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬) তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট (৭)
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة:

الحياة صراع بين الحق والباطل .. وشاءت إرادة الله أنْ يُبتلَى المؤمنون، وأنْ تتنوَّع صُنُوف الابتلاء، وأنْ تكون الغلبة للذين يثبتون ويصمدون، وهذا الثبات يَهِبُ النفوسَ قوَّةً، ويرفعها عن ذواتها، فيصفو عنصرها ويضيء، ويَهِبُ العقيدة عُمقاً وحيويَّة، فتتلألأ حتى في أعين أعدائها وخصومها!

 

وقد ابتُلِيَ المسلمون من قديم الزمان بأعداء ألدَّاء، كادوا ما وسعهم الكيدُ، وحاكوا المؤامرات والدسائس للقضاء على الإسلام، وذهاب دولته. حينما تلألأت في أعينهم عقيدة هذه الأمَّة، لا يألون في ذلك جهداً، ولا يدَّخرون وسعاً!

 

وجاهروا بالعداء والمعالنة بالخصومة أحياناً، واستعملوا أساليب الدَسِّ والخديعة أحياناً أخرى، ووجَّهُوا سهامهم أولاً إلى التشكيك في القرآن الكريم، وفاتهم أنه قد روعي في تسميته قرآنا كونه متلواً بالألسن، وفي تسميته كتاباً كونه مُدَوَّناً بالأقلام، وأنَّ كلتا التسميتين - كما يقول المرحوم الدكتور محمد عبد الله دراز (1) من تسمية شيء بالمعنى الواقع عليه، وفي تسميته بهذين الاسمين إشارة إلى أنَّ من حَقِّهِ العناية بحفظه في موضعين، لا في موضع واحد، أعني أنه يجب حفظه في الصدور والسطور معاً، أنْ تضلَّ إحداهما فتذكر إحداهما الأخرى ..

 

وبهذه العناية المزدوجة التي بعثها الله في نفوس الأمَّة اقتداء بنبيِّها بقي القرآن محفوظاً في حرز حريز، إنجازاً لوعد الله الذي تكفَّل بحفظه، حيث يقول:

{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2).

--------------------------------------------

(1) " النبأ العظيم ": ص 12 - 14 بتصرف.

(2) [الحجر: 9].
ভূমিকা:

জীবন হলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার এক চিরন্তন লড়াই... আর আল্লাহর অভিপ্রায় হলো এই যে, মুমিনরা পরীক্ষিত হবে এবং পরীক্ষার ধরণও হবে বৈচিত্র্যময়। বিজয় হবে তাদেরই যারা অটল ও অবিচল থাকবে। এই দৃঢ়তা আত্মাকে শক্তি জোগায়, তুচ্ছ আমিত্ব থেকে উপরে তুলে ধরে, ফলে তার মূল উপাদান পরিশুদ্ধ ও উদ্ভাসিত হয় এবং আকিদাহ বা বিশ্বাসে গভীরতা ও প্রাণচাঞ্চল্য দান করে; এমনকি শত্রু ও বিরোধীদের চোখেও তা তখন উজ্জ্বল হয়ে প্রতিভাত হয়!

 

প্রাচীনকাল থেকেই মুসলমানরা চরম শত্রুদের দ্বারা পরীক্ষিত হয়ে আসছে। তারা ইসলামকে ধ্বংস করতে এবং ইসলামের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে সাধ্যমতো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে। যখন এই উম্মাহর আকিদাহ তাদের চোখে অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে ধরা দিয়েছে, তখন তারা তা দমনে কোনো প্রচেষ্টায় কমতি রাখেনি এবং কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেনি!

 

তারা কখনও প্রকাশ্যে শত্রুতা ও বিরোধিতা করেছে, আবার কখনও অনুপ্রবেশ ও প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা সর্বপ্রথম তাদের তীরের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে পবিত্র কুরআনকে নিয়ে সংশয় তৈরি করাকে। তারা এটা ভুলে গিয়েছিল যে, এর নামকরণে এটিকে 'কুরআন' হিসেবে গণ্য করার সময় এই লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে এটি মুখে পঠিত (متلو) হয়, আর 'কিতাব' হিসেবে গণ্য করার কারণ হলো এটি কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ (مدون) হয়। এই উভয় নামকরণই—যেমনটি মরহুম ডক্টর মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ দরাজ (১) বলেছেন—কোনো বস্তুর ওপর তার বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে নাম রাখার অন্তর্ভুক্ত। এই দুটি নামের নামকরণের মাঝে ইঙ্গিত রয়েছে যে, এটিকে একটি স্থানে নয় বরং দুটি স্থানে সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান হওয়া তার হক; অর্থাৎ আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, এটি অন্তর এবং লেখা উভয় মাধ্যমে একত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে করে একটিতে বিভ্রান্তি ঘটলে অন্যটি তা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে...

 

উম্মাহর অন্তরে আল্লাহর জাগ্রত করে দেওয়া এই দ্বিমুখী সতর্কতার মাধ্যমে এবং তাদের নবীর অনুসরণে পবিত্র কুরআন সুরক্ষিত দুর্গে (حرز حريز) সংরক্ষিত রয়ে গেছে। এটি মূলত আল্লাহর সেই ওয়াদার বাস্তবায়ন যা তিনি স্বয়ং এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে করেছেন। তিনি বলেন:

“নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (যিকির) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।” (২)

--------------------------------------------

(১) "আন-নাবাউল আযীম": পৃষ্ঠা ১২ - ১৪ (সংক্ষেপিত)।

(২) [হিজর: ৯]।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ولم يصبه ما أصاب الكتب الماضية من التحريف والتبديل وانقطاع السند، حيث لم يتكفَّل الله بحفظها، بل وكلها إلى حفظ الناس فقال تعالى:

{وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ} (1).

 

والسِرُّ في هذه التفرقة أنَّ سائر الكتب السماوية جيء بها على التوقيت لا التأبيد، وأنَّ هذا القرآن جيء به مُصَدِّقاً لما بين يديه من الكتب ومُهيمناً عليها، فكان جامعاً لما فيها من الحقائق الثابتة، زائداً عليها بما شاء الله زيادته، وكان ساداً مسدها، فقضى أنْ يبقى حُجَّة إلى قيام الساعة.

 

ولكن أتباع الكتب الماضية، وغيرهم مِمَّن هم أشد عداء وانحرافاً، قد حاولوا معاً جاهدين التشكيك في هذا الكتاب حقداً وحسداً، وقدروا على تزوير بعض الأحداث، وتقديم العملاء في صور برَّاقة أخَّاذة، ولكنها لم تلبث أنْ تكشف زيفها، ومع كل هذا لم يقدروا على إحداث شيء في هذا الكتاب المحفوظ، الذي لا حماية له من أهله المنتسبين إليه، حين بعدوا عنه، وأصبحوا بعد أنْ نبذوا تحكيمه وراء ظهورهم غثاء كغثاء السيل، لا يدفع ولا يمنع ولا ينفع، فدلَّ هذا مرة أخرى على ربانية هذا الكتاب، وشهد هذا الواقع بأنه حقاً تنزيل من عزيز حكيم.

 

ومن ثم توجَّهُوا إلى السُنَّة النبوية واتَّخذوا للوصول إلى غايتهم الدنيئة أساليب متعددة!، وجاء المُبَشِّرُون والمستشرقون فأخذوا طُعُونَ هؤلاء وأولئك ونفخوا فيها، وزادوا ما شاء لهم هواهم أنْ يزيدوا، مع الاستمرار في محاولاتهم الفاشلة في اتجاهات متوازية، تتمثل فيما يأتي (2):

1 - محاربة الإسلام والبحث عن نقاط ضعف متوهِّمة فيه، وإبرازها والزعم بأنه دين مأخوذ من اليهودية والنصرانية .. !

2 - حَجْبُ حقائق الإسلام عن غير المسلمين، ومحاولة تحذيرهم من معرفته .. !

3 - التبشير ومحاولة إخراج المسلمين عن دينهم .. !

--------------------------------------------

(1) [المائدة: 44]

(2) انظر " الاستشراق والخلفية الفكرية للصراع الحضاري ": ص 72، و " دائرة المعارف الإسلامية ": 13/ 390 وما بعدها.
এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে বিকৃতি, পরিবর্তন এবং সনদের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع السند)-এর যে বিপর্যয় ঘটেছিল, তা একে স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ আল্লাহ সেগুলোর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি, বরং তা মানুষের সংরক্ষণের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{আল্লাহওয়ালা ও পণ্ডিতগণ, কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাব রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল} (১)।

 

এই পার্থক্যের রহস্য হলো, অন্যান্য সকল আসমানী কিতাব নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল, অনন্তকালের জন্য নয়। আর এই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর সংরক্ষকরূপে। এটি সেগুলোর মধ্যে থাকা শাশ্বত সত্যসমূহকে ধারণকারী এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন সে অনুযায়ী অতিরিক্ত বিষয়ের সমাহার। এটি সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত দলিল (حجة) হিসেবে অবশিষ্ট থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

কিন্তু পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের অনুসারী এবং অন্যদের মধ্যে যারা চরম শত্রুভাবাপন্ন ও বিপথগামী, তারা হিংসা ও বিদ্বেষবশত এই কিতাব সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টির প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। তারা কিছু ঘটনা জাল করতে এবং দালালদের চাকচিক্যময় ও আকর্ষণীয়রূপে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু শীঘ্রই তাদের এই মিথ্যা উম্মোচিত হয়ে পড়ে। এতদসত্বেও তারা এই সংরক্ষিত কিতাবের কোনো পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়নি, যার কোনো সুরক্ষা তার সাথে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নেই যখন তারা এটি থেকে দূরে সরে গেছে। তারা এর বিধানকে পেছনে নিক্ষেপ করে বন্যার ফেনার মতো হয়ে গেছে, যা কোনো প্রতিরোধ করতে পারে না এবং কোনো উপকারেও আসে না। এটি পুনরায় এই কিতাবের ঐশ্বরিক উৎস হওয়ার প্রমাণ দেয় এবং এই বাস্তবতা সাক্ষ্য দেয় যে, এটি প্রকৃতপক্ষে মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

 

অতঃপর তারা সুন্নাহর দিকে মনোনিবেশ করল এবং তাদের হীন লক্ষ্য অর্জনে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করল! মিশনারি এবং প্রাচ্যবিদরা এসে এদের ও তাদের সকল সমালোচনা গ্রহণ করল এবং সেগুলোকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করল। তাদের প্রবৃত্তি যা চাইল সে অনুযায়ী তারা তাতে সংযোজন করল এবং তাদের ব্যর্থ প্রচেষ্টাগুলো সমান্তরালভাবে চালিয়ে গেল, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ফুটে ওঠে (২):

১ - ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এবং এতে কাল্পনিক দুর্বলতা খুঁজে বের করা, সেগুলো প্রকাশ করা এবং দাবি করা যে এটি ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম থেকে গৃহীত একটি ধর্ম .. !

২ - অমুসলিমদের কাছে ইসলামের প্রকৃত রূপ আড়াল করা এবং তাদেরকে এটি সম্পর্কে জানতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা .. !

৩ - ধর্মান্তরকরণের অপচেষ্টা এবং মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করা .. !

--------------------------------------------

(১) [আল-মায়িদাহ: ৪৪]

(২) দেখুন "আল-ইস্তিশরাক ওয়াল খলফিয়্যাহ আল-ফিকরিয়্যাহ লিস-সিরা' আল-হাদারী": পৃ. ৭২, এবং "দাইরাতুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ": ১৩/ ৩৯০ এবং পরবর্তী।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ولعل أشدَّ المُسْتَشْرِقِينَ خطراً، وأطولهم باعاً (1)، وأكثرهم خُبثاً وإفساداً في هذا الميدان، هو المُسْتَشْرِقُ اليهودي المَجَرِي «جُولْدْتسِيهِرْ» الذي عُدَّ شيخ المُسْتَشْرِقِينَ في الجيل الماضي، ولا تزال كُتُبُهُ وبُحُوثُهُ مرجعاً خصباً وهَامّاً للمستشرقين في هذا العصر، يقول عنه كاتب مادة «الحديث» في " دائرة المعارف الإسلامية " للمستشرقين: «إنَّ العلم مَدِينٌ دَيْناً كبيراً لما كتبه «جُولْدْتسِيهِرْ» في موضوع الحديث، وقد كان تأثير «جُولْدْتسِيهِرْ» على مسار الدراسات الإسلامية والاستشراقية أعظم مِمَّا كان لأيٍّ من معاصريه من المُسْتَشْرِقِينَ، فقد حَدَّدَ تحديداً حاسماً اتجاه وتطور البحث في هذه الدراسات» (2) ويلخِّصُ «بغانموللر» عمل «جُولْدْتسِيهِرْ» في هذا المجال فيقول: «كان «جُولْدْتسِيهِرْ» أعمق العارفين بعلم الحديث النبوي!، وقد تناول في القسم الثاني من كتابه: " دِرَاسَاتٌ مُحَمَّدِيَّةٌ " موضوع تطوُّر الحديث تناولاً عميقاً، وراح بما له في علم عميق واطِّلَاعٍ يفوق كل وصف! - يبحث التطور الداخلي والخارجي للحديث من كل النواحي .. ! وقد قادته المُعَايَشَةُ العميقة لمادة الحديث الهائلة إلى الشَكِّ في الحديث!، ولم يَعُدْ يثق فيه مثلما كان «دُوزِي» لا يزال يفعل ذلك في كتابه " مقال في تاريخ الإسلام " وبالأحرى كان «جُولْدْتسِيهِرْ» يعتبر القسم الأعظم من الحديث بمثابة نتيجة لتطور الإسلام الديني والتاريخي والاجتماعي في القرن الأول والثاني؟!، فالحديث بالنسبة له لا يُعَدُّ وثيقة لتاريخ الإسلام في عهده الأول: عهد طفولته، وإنما هو أثر من آثار الجهود التي ظهرت في المجتمع الإسلامي في عصور المراحل الناضجة، لتطوُّر الإسلام! ويُصَوِّرُ «جُولْدْتسِيهِرْ» التطور التدريجي للحديث .. وكيف كان انعكاساً لروح العصر؟! وكيف عملت على ذلك الأجيال المختلفة .. ؟! وقد وَجَّهُوا شُبُهاتهم حول مفهوم السُنَّة وتدوينها، وجهالاتهم حول السند والمتن!.

 

ومن هذا وجدت أنَّ موقف المُسْتَشْرِقِينَ من السُنَّةِ النبوية - رغم الجهود الكثيرة التي سبقت في هذا الميدان كما سيأتي - يفرض نفسه بإلحاح، ويتطلَّبُ مواجهة جَادَّة، وِفْقَ أصول التحديث رواية ودراية، وإنْ كان يعتري ذلك كثير من

--------------------------------------------

(1) انظر " السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي ": ص 189.

(2) انطر: " الاستشراق والخلفية الفكرية للصراع الحضاري ": ص 100 - 101، و " دائرة المعارف الإسلامية ": 13/ 391.

সম্ভবত এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক, সবচেয়ে প্রভাবশালী (১) এবং সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষী ও অনিষ্টকারী প্রাচ্যবিদ হলেন হাঙ্গেরীয় ইহুদি প্রাচ্যবিদ «জোল্ডজিহার», যাকে গত প্রজন্মের প্রাচ্যবিদদের গুরু হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান যুগের প্রাচ্যবিদদের কাছেও তার গ্রন্থ ও গবেষণাসমূহ একটি উর্বর ও গুরুত্বপূর্ণ আকর হিসেবে সমাদৃত। প্রাচ্যবিদদের রচিত "ইসলামী বিশ্বকোষ"-এর «হাদিস» বিষয়ের লেখক তার সম্পর্কে বলেন: «হাদিস বিষয়ে জোল্ডজিহার যা লিখেছেন, জ্ঞানজগত তার কাছে ব্যাপকভাবে ঋণী। ইসলামী ও প্রাচ্যবিদ্যা বিষয়ক গবেষণার গতিপথের ওপর জোল্ডজিহারের প্রভাব তার সমসাময়িক অন্য যেকোনো প্রাচ্যবিদের চেয়ে অধিক ছিল। তিনি এই গবেষণাসমূহের ধারা ও বিবর্তনের দিক অত্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন» (২)। «ফ্যানমুলার» এই ক্ষেত্রে জোল্ডজিহারের কাজের সারসংক্ষেপ করতে গিয়ে বলেন: «জোল্ডজিহার ছিলেন নববী হাদিস শাস্ত্রের গভীরতম বোদ্ধা! তিনি তার "মুহাম্মাদান স্টাডিজ" গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে হাদিসের বিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি তার অগাধ পাণ্ডিত্য ও বর্ণনাতীত অধ্যয়নের মাধ্যমে হাদিসের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিবর্তনের সকল দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন...! হাদিসের বিশাল ভাণ্ডারের সাথে এই গভীর নিবিড়তা তাকে হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহের দিকে ধাবিত করেছে! তিনি আর হাদিসের ওপর তেমন আস্থা রাখতে পারছিলেন না, যেমনটি «ডুজি» তার "এসে অন দ্য হিস্ট্রি অফ ইসলাম" গ্রন্থে করেছিলেন। বরং জোল্ডজিহার হাদিসের সিংহভাগকে প্রথম ও দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে ইসলামের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিবর্তনের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করতেন?! তার নিকট হাদিস ইসলামের প্রাথমিক যুগ তথা এর শৈশবকালের ইতিহাসের কোনো প্রামাণ্য দলিল নয়; বরং এটি ইসলামের বিবর্তনের পরিপক্ক পর্যায়ে মুসলিম সমাজে উদ্ভূত প্রচেষ্টাসমূহের একটি নিদর্শন! জোল্ডজিহার হাদিসের ক্রমবিবর্তন চিত্রায়িত করেছেন... এবং এটি কীভাবে সমসাময়িক যুগের পরিস্থিতির প্রতিফলন ছিল?! এবং কীভাবে বিভিন্ন প্রজন্ম এর ওপর কাজ করেছে...?! তারা সুন্নাহ (سنة) এর ধারণা ও এর সংকলন (تدوين) সম্পর্কে তাদের সংশয় এবং সনদ (سند) ও মতন (متন) সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।»

 

এ থেকে আমি অনুভব করেছি যে, নববী সুন্নাহর (سنة) প্রতি প্রাচ্যবিদদের এই অবস্থান—যদিও এই ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে অনেক প্রচেষ্টা হয়েছে যা সামনে আসবে—তা অত্যন্ত জোরালোভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে এবং বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية) উভয় দিক থেকে হাদিসের মূলনীতি (أصول التحديث) অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এর মোকাবিলার দাবি রাখে, যদিও তাতে অনেক...

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরিইল ইসলামি": পৃষ্ঠা ১৮৯।

(২) দেখুন: "আল-ইস্তিশরাক ওয়াল খালফিয়্যাতুল ফিকরিয়্যাহ লিস-সিরাইল হাদারি": পৃষ্ঠা ১০০ - ১০১, এবং "ইসলামী বিশ্বকোষ": ১৩/ ৩৯১।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الصعاب التي يشفق منها بعض الباحثين، ويتراجع أمامها كثير من الدَّارسين، فإنَّ أوجب ما يفرضه الحَقُّ علينا أنْ نَرُدَّ هذه الشُبُهَات، ونُبيِّنَ تهافتَ تلك المُفتريات، ونُواجه هذه الأباطيل بعوامل البناء، لِنَدْحَضَ معاول الهدم والفناء، ونرفع صَرْحَ الدِّينِ، لنُجَدِّدَ عهد السَّلَفِ الصالحين.

 

واقتضت مَنْهَجِيَّةُ البحث أنْ يشتمل على الفصول التالية:

 

الفصل الأول: أضواء على الاسْتِشْرَاق والمُسْتَشْرِقِينَ.

الفصل الثاني: شُبُهَاتٌ حول مفهوم السُنَّة وتدوينها.

الفصل الثالث: جهالات حول السند والمَتْنِ.

 

واللهَ أسأل: التوفيق والسداد. والعون والرشاد.

 

إنه سميع مجيب.

 

الكويت في: 21/ 9 / 1400 هـ - 14/ 4 / 1990 م

 

سعد محمد محمد الشيخ (المرصفي)
যেসব প্রতিকূলতা দেখে কিছু গবেষক শঙ্কা বোধ করেন এবং যার সামনে অনেক শিক্ষার্থীই পিছু হটেন, এমতাবস্থায় সত্য আমাদের ওপর যে অনিবার্য কর্তব্য আরোপ করে তা হলো—এসব সংশয় (شبهات) খণ্ডন করা, এসব বানোয়াট অপবাদের (مفتريات) অসারতা স্পষ্ট করা এবং এসব বাতিলকে (أباطيل) গঠনমূলক উপাদানের মাধ্যমে মোকাবিলা করা; যেন ধ্বংস ও বিলুপ্তির হাতিয়ারগুলোকে নস্যাৎ করা যায় এবং আমরা দ্বীনের সুউচ্চ মিনার গড়ে তুলতে পারি, যাতে পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (السلف الصالحين) যুগকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়।

 

গবেষণা পদ্ধতির দাবি এই যে, এটি নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্ত করবে:

 

প্রথম অধ্যায়: প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقين) ওপর আলোকপাত।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর (سنة) ধারণা ও তার সংকলন (تدوين) নিয়ে বিদ্যমান সংশয়সমূহ (شبهات)।

তৃতীয় অধ্যায়: সনদ (سند) ও মতন (متন) সংক্রান্ত অজ্ঞতাসমূহ।

 

আল্লাহর কাছে আমি তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি। এবং সাহায্য ও সুপথের দিশা কামনা করছি।

 

নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

 

কুয়েত: ২১/০৯/১৪০০ হিজরি - ১৪/০৪/১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

 

সাদ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আল-শেখ (আল-মারসাফি)
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول: أضواء على الاسْتِشْرَاق والمُسْتَشْرِقِينَ:

‌‌مفهوم الاسْتِشْرَاق ونشأته:

يطلق لفظ الاسْتِشْرَاق على طلب معرفة ودراسة اللغات والآداب الشرقية، ويطلق لفظ المُسْتَشْرِقِ على الدارس للغات الشرق وفنونه وحضارته، وعليه فَالاسْتِشْرَاقُ دراسة يقوم بها غير الشَرْقِيِّينَ لتُراث الشرق، هذا من حيث المفهوم الواسع.

 

والذي يعنينا كما يقول الدكتور محمود حمدي زقزوق (1) -: هو «المعنى الخاص لمفهوم الاسْتِشْرَاق الذي يعني الدراسات الغربية المتعلِّقة بالشرق الإسلامي في لغاته وآدابه وتاريخه وعقائده وتشريعاته وحضارته بوجه عام، وهذا هو المعنى الذي ينصرف إليه الذهن في عالمنا العربي والإسلامي، عندما يطلق لفظ استشراق أو مستشرق، وهو الشائع أيضاً في كتابات المُسْتَشْرِقِينَ المَعْنِيِّينَ».

 

وقد حظي الإسلام واللغة العربية باهتمام المُسْتَشْرِقِينَ الذين أَوْلَوْا هذين الموضوعين عنايتهم أَيَّمَا عناية، وشملوهما باهتمام دون غيرهما من سائر الموضوعات، وهذا مِمَّا يلفت النظر في - المقدمة - إلى معرفة أسباب هذه العناية - كما سيأتي - وحسبنا هنا أنْ نذكر قول «جون تاكلي»: «يجب أنْ نستخدم كتابهم - أي القرآن الكريم - وهوأمضى سلاح في الإسلام، ضِدَّ الإسلام نفسه، لنقضي عليه تماماً، يجب أنْ نُري هؤلاء الناس أنَّ الصحيح في القرآن ليس جديداً، وأنَّ الجديد فيه ليس صحيحاً!» ويقول «جِبْ»: «إنَّ الاسلام مَبْنِيٌّ على الأحاديث أكثر مِمَّا هو مَبْنِيٌّ على القرآن، ولكننا إذا حذفنا الأحاديث الكاذبة لم يبق من الإسلام شيء» (2)!.

--------------------------------------------

(1) " الاستشراق والخلفية الفكرية للصراع الحضاري ": ص 18.

(2) " التبشير والاستعمار ": ص 40 نقلاً عن المرْجِعَيْنِ الأَصْلِيَيْنِ.
‌‌প্রথম অধ্যায়: প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের ওপর আলোকপাত:

‌‌প্রাচ্যতত্ত্বের ধারণা ও এর উদ্ভব:

'প্রাচ্যতত্ত্ব' শব্দটি প্রাচ্যের ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর 'প্রাচ্যতাত্ত্বিক' শব্দটি প্রাচ্যের ভাষা, শিল্পকলা ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণাকারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সে অনুযায়ী, ব্যাপক অর্থে প্রাচ্যতত্ত্ব হলো প্রাচ্যদেশীয় নয় এমন ব্যক্তিদের দ্বারা প্রাচ্যের ঐতিহ্যের ওপর পরিচালিত গবেষণা।

 

ড. মাহমুদ হামদি জাকজুক (১) যেমনটি বলেছেন, আমাদের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—: «প্রাচ্যতত্ত্বের সেই বিশেষ অর্থ, যা দ্বারা ইসলামি প্রাচ্যের ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, আকিদা, শরিয়ত এবং সামগ্রিক সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্ট পশ্চিমা গবেষণাকে বোঝায়। আমাদের আরব ও ইসলামি বিশ্বে যখন প্রাচ্যতত্ত্ব বা প্রাচ্যতাত্ত্বিক শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়, তখন এই অর্থটিই আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে এবং সংশ্লিষ্ট প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের লেখায়ও এটিই সচরাচর দেখা যায়।»

 

ইসলাম ও আরবি ভাষা প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে, যারা এই দুটি বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় এ দুটিকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই মনোযোগের কারণগুলো জানার বিষয়টি—যেমনটি সামনে আসবে—উপস্থাপনায় অত্যন্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো। আমাদের এখানে 'জন টাকলি'-র বক্তব্য উল্লেখ করাই যথেষ্ট: "আমাদের উচিত তাদের কিতাব—অর্থাৎ পবিত্র কুরআন—ব্যবহার করা, যা ইসলামের বিরুদ্ধে ইসলামেরই সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র, যাতে আমরা একে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারি। আমাদের এই লোকদের দেখানো উচিত যে, কুরআনে যা সত্য তা নতুন নয়, আর যা নতুন তা সত্য নয়!" আর 'গিব' বলেন: "ইসলাম কুরআনের চেয়ে হাদিসের ওপর বেশি ভিত্তিশীল। কিন্তু যদি আমরা মিথ্যা (كاذبة) হাদিসগুলো বাদ দিয়ে দিই, তবে ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না" (২)!.

--------------------------------------------

(১) "আল-ইসতিশরাক ওয়াল খালফিয়াতুল ফিকরিয়্যাহ লিস-সিরা' আল-হাদারি": পৃষ্ঠা ১৮।

(২) "আত-তাবশির ওয়াল ইস্তিমার": পৃষ্ঠা ৪০, মূল দুটি উৎস থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ولخَّصَ «بلغراف» عداءهم للقرآن في كلمته المشهورة: «متى توارى القرآنُ، ومدينة مكة عن بلاد العرب، يمكننا حينئذٍ أنْ نرى العربي يتدرَّج في سبل الحضارة التي لم يبعده عنها إلَاّ محمد وكتابه (1).

 

ولقد قُدِّرَ للقرآن الكريم أنْ يحتضن الإسلام واللغة العربية، كما قُدِّرَ للحديث النبوي ذلك، ومن ثم أصبحا أغنى المواضيع عند المُسْتَشْرِقِينَ على الإطلاق، واستأثرا باهتمامهم، فتوفَّروا عليهما، وبحثوا في كل ما قدروا عليه من علومهما، ودارت حولهما بحوثهم الأكاديمية بصورة تلفت النظر، وتسترعي الانتباه، وتستوقف الباحث المتأمل، ولا نكون غالين ولا مُتزيِّدين إذا قلنا: إنَّ القرآن والسُنَّة هما المحور الذي تدور حوله الدراسات الاستشراقية.

 

يقول الدكتور محمود حمدي زقزوق (1): «ومن الصعب تحديد تاريخ مُعَيَّنٍ لبداية الاسْتِشْرَاق وإذا كان بعض الباحثين يشير إلى أنَّ الغرب النصراني يؤرِّخ لبدء وجود الاسْتِشْرَاق الرسمي بصدور قرار مجمع فيِنَّا الكَنَسِي في عام 1312 هـ بإنشاء عدد من كراسي اللغة العربية في عدد من الجامعات الأوربية (3)، ولكن الإشارة هنا إلى «الاسْتِشْرَاق الكَنَسِي» تدل على أنه كان هناك اسْتِشْرَاق غير رسمي قبل هذا التاريخ، فضلاً عن أنَّ هناك باحثين أُورُوبيِّينَ لا يعتمدون التاريخ المُشار إليه بداية للاِسْتِشْرَاقِ، ولذلك تتَّجه المحاولات في هذا الصدد لا إلى تحديد سَنَةٍ مُعَيَّنة لبداية الاسْتِشْرَاق، وإنما إلى تحديد فترة زمنية مُعَيَّنة على وجه التقريب، يمكن أنْ تُعَدَّ بدايةً للاِسْتِشْرَاقِ، وليس هناك شك في أنَّ الانتشار السريع للإسلام في المشرق والمغرب قد لفت بقوة أنظار رجالات اللَاّهوت النصراني إلى هذا الدين، ومن هنا بدأ اهتمامهم بالإسلام ودراسته .. وعلى الرغم من أنَّ الاسْتِشْرَاقَ يمتدُّ بجذوره إلى ما يقرب من ألف عام مضت، فإنَّ مفهوم مُسْتَشْرِق لم يظهر في أوربا إلَاّ في نهاية القرن الثامن عشر .. وأدرج مفهوم الاسْتِشْرَاق في قاموس الأكاديمية الفرنسية عام 1838 م … وعلى أية حال فإنَّ الدافع لهذه البدايات المُبَكِّرَةِ للاِسْتِشْرَاقِ كان

--------------------------------------------

(1) " لمحات في الثقافة الإسلامية ": ص 174.

(2) " الاستشراق والخلفية الفكرية للصراع الحضاري ": ص 18 وما بعدها بتصرف.

(3) انظر: " الاسْتِشْرَاق " إدوارد سعيد: ص 80.
'বেলগ্রাফ' কোরআনের প্রতি তাদের চরম বিদ্বেষকে তাঁর বিখ্যাত উক্তিতে এভাবে সারসংক্ষেপ করেছেন: "যখন কোরআন এবং মক্কা নগরী আরব ভূখণ্ড থেকে তিরোহিত হবে, কেবল তখনই আমরা আরবদের সভ্যতার সোপানে অগ্রসর হতে দেখব, যে সভ্যতা থেকে মুহাম্মদ এবং তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই তাদের বিচ্যুত করেনি (১)।

 

পবিত্র কোরআন ইসলাম ও আরবি ভাষাকে আগলে রাখার গৌরব লাভ করেছে, ঠিক যেমনটি নবীজির হাদিসের ভাগ্যেও নির্ধারিত হয়েছে। ফলে এ দুটি বিষয় প্রাচ্যবিদদের নিকট নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে সমৃদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তারা এ দুটির ওপর নিবিষ্ট হয়েছেন এবং তাদের সামর্থ্যানুযায়ী এগুলোর সকল শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাগুলো এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই এমনভাবে আবর্তিত হয়েছে যা বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, মনোযোগ কেড়ে নেয় এবং চিন্তাশীল গবেষককে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। আমরা যদি বলি যে, কোরআন ও সুন্নাহ (السنة) হলো সেই অক্ষ যাকে কেন্দ্র করে প্রাচ্যতত্ত্বীয় গবেষণাগুলো আবর্তিত হয়, তবে তা মোটেই অতিশয়োক্তি বা অত্যুক্তি হবে না।

 

ডক্টর মাহমুদ হামদি জাকজুক (১) বলেন: "প্রাচ্যতত্ত্বের সূচনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা দুরূহ। যদিও কোনো কোনো গবেষক ইঙ্গিত করেন যে, খ্রিস্টান পাশ্চাত্য জগত ১৩১২ হিজরি সালে ভিয়েনা চার্চ কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রাচ্যতত্ত্বের সূচনার ইতিহাস চিহ্নিত করে, যার অধীনে বেশ কিছু ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষার কিছু চেয়ার (বিভাগ) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল (৩)। তবে এখানে 'ধর্মীয় প্রাচ্যতত্ত্বের' দিকে ইঙ্গিত করা এটাই প্রমাণ করে যে, এই তারিখের পূর্বেও সেখানে অনানুষ্ঠানিক প্রাচ্যতত্ত্ব বিদ্যমান ছিল। অধিকন্তু এমন অনেক ইউরোপীয় গবেষক রয়েছেন যারা উল্লিখিত তারিখটিকে প্রাচ্যতত্ত্বের সূচনা হিসেবে গণ্য করেন না। এই কারণে এক্ষেত্রে প্রচেষ্টাগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট বছর নির্ধারণের দিকে না গিয়ে বরং একটি আনুমানিক সময়কাল নির্ধারণের দিকে ধাবিত হয় যা প্রাচ্যতত্ত্বের সূচনা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ইসলামের দ্রুত বিস্তার খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদদের দৃষ্টি এই ধর্মের প্রতি প্রবলভাবে নিবদ্ধ করেছিল, আর এখান থেকেই ইসলামের প্রতি তাদের আগ্রহ ও গবেষণার সূত্রপাত ঘটে... যদিও প্রাচ্যতত্ত্বের শিকড় প্রায় এক হাজার বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত, তবুও 'প্রাচ্যবিদ' ধারণাটি আঠারো শতকের শেষভাগের আগে ইউরোপে আবির্ভূত হয়নি... এবং ১৮৩৮ সালে ফরাসি অ্যাকাডেমির অভিধানে 'প্রাচ্যতত্ত্ব' ধারণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় … যাই হোক না কেন, প্রাচ্যতত্ত্বের এই প্রাথমিক সূচনার মূল চালিকাশক্তি ছিল—

--------------------------------------------

(১) "লামাহাত ফিস সাকাফাতিল ইসলামিয়্যাহ": পৃষ্ঠা ১৭৪।

(২) "আল-ইসতিশরাক ওয়াল খালফিয়্যাতুল ফিকরিয়্যাহ লিস-সিরা’য়িল হাদারি": পৃষ্ঠা ১৮ এবং পরবর্তী অংশ, পরিমার্জিত।

(৩) দেখুন: "আল-ইসতিশরাক" এডওয়ার্ড সাইদ: পৃষ্ঠা ৮০।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
يتمثل في ذلك الصراع الذي دار بين العالمين: الإسلامي والنصراني في الأندلس وصقليَّة، كما دفعت الحروب الصليبية بصفة خاصة إلى اشتغال الأوربيين بتعاليم الإسلام وعاداته، ولهذا يمكن القول بأنَّ تاريخ الاسْتِشْرَاق في مراحله الأولى هو تاريخ للصراع بين العالم النصراني الغربي في القرون الوسطى والشرق الإسلامي على الصعيدين: الديني والأيدلوجي ..

 

وقد نشأت الصلة بين الغرب خاصة والمسلمين عامة - كما يقول الدكتور عجيل النشمي (1) - منذ أنْ كان المسلمون في أسبانيا، وكانت أوثق الصلات بالمسلمين من فرنسا وإيطاليا وانجلترا، حيث إنَّ فرنسا عرفت المسلمين منذ أنْ اجتاح عبد الرحمن الغافقي بجيوشه جبال البرانس، واستولى على مدن كثيرة، إلى أنْ كانت موقعة بواتييه سنة 772.

 

وكانت هناك صلة في عهد الخليفة العباسي هارون الرشيد 809 ومراسلاته وهداياه مع الإمبراطور شارلمان 814 كان لها دور في توثيق الصِلَاتِ، ثم جاءت مرحلة الحروب الصليبية!

 

وهناك دوافع الحروب الصليبية التي يطول الحديث فيها، وكذلك الظواهر التي تَتَّسِمُ بها بحوث المُسْتَشْرِقِينَ، فنَّدَهَا المرحوم الدكتور مصطفى السباعي، فليرجع إليها من شاء (1).

 

وسارت فرنسا خطوات في احتلال شمال أفريقيا، وحملة نابليون على مصر، والانتداب الفرنسي على سوريا ولبنان، وكل ذلك أثمر نتائج متعدِّدة متنوِّعة حضارية وثقافية وفكرية وعقائدية، ومن ثم كانت مدارس للدراسات الشرقية ومعاهد وجامعات ومجلَاّت.

 

ومعلوم أنَّ إيطاليا أعرق دول الغرب اتصالاً بالمسلمين وحضارتهم اتصالاً قوياً، ومن ثم عنيت جامعة بولونيا 1076 بعلوم العرب، وجامعة نابولي 1224 بثقافتهم، وجامعة روما 1248 بالآثار واللغة والآداب العربية والألسنة السامية،

--------------------------------------------

(1) " المُسْتَشْرِقُونَ وَمَصَادِرِ التَشْرِيعِ الإِسْلَامِي ": ص 7 وما بعدها بتصرف.

(2) انظر: " السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي ": ص 187 - 189.
এটি মূলত সেই সংঘাতের প্রতিফলন যা আন্দালুস এবং সিসিলিতে ইসলামি ও খ্রিস্টান বিশ্বের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। বিশেষ করে ক্রুসেড যুদ্ধগুলো ইউরোপীয়দের ইসলামের শিক্ষা ও রীতিনীতি সম্পর্কে জানতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাই বলা যায় যে, প্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাসের প্রাথমিক পর্যায়গুলো ছিল মধ্যযুগে পশ্চিমা খ্রিস্টান বিশ্ব এবং ইসলামি প্রাচ্যের মধ্যে ধর্মীয় ও আদর্শিক উভয় ক্ষেত্রে চলমান সংঘাতের ইতিহাস ..

 

ডক্টর আজিল আন-নাশমি (১) এর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ করে পশ্চিম এবং সাধারণভাবে মুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক সেই সময় থেকেই তৈরি হয়েছিল যখন মুসলিমরা স্পেনে অবস্থান করছিল। মুসলিমদের সাথে সবচেয়ে নিবিড় সম্পর্ক ছিল ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ডের। ফ্রান্স মুসলিমদের সম্পর্কে জানতে পারে যখন আব্দুর রহমান আল-গাফিকি তার সেনাবাহিনী নিয়ে পিরেনিজ পর্বতমালা অতিক্রম করেন এবং অনেক শহর দখল করেন, যা শেষ পর্যন্ত ৭৭২ সালের বাত্তিইয়া (Poitiers) যুদ্ধ পর্যন্ত বজায় ছিল।

 

আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ (৮০৯ খ্রি.) এবং সম্রাট শার্লিমেন (৮১৪ খ্রি.)-এর শাসনামলে তাদের মধ্যে পত্রবিনিময় ও উপহার আদান-প্রদান ছিল, যা সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে ভূমিকা পালন করেছিল। এরপর শুরু হয় ক্রুসেড যুদ্ধের অধ্যায়!

 

ক্রুসেড যুদ্ধের আরও অনেক কারণ রয়েছে যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ আছে। পাশাপাশি প্রাচ্যবিদদের গবেষণার যে বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায়, মরহুম ডক্টর মুস্তফা আস-সিবায়ি সেগুলোকে খণ্ডন করেছেন; ইচ্ছুক যে কেউ সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন (১)।

 

ফ্রান্স উত্তর আফ্রিকা দখল, মিশরে নেপোলিয়নের অভিযান এবং সিরিয়া ও লেবাননে ফরাসি ম্যান্ডেট (অভিভাবকত্ব) প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হয়। এই সমস্ত ঘটনা সভ্যতা, সংস্কৃতি, চিন্তা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময় ফলাফল বয়ে আনে। ফলশ্রুতিতে প্রাচ্যতত্ত্ব গবেষণার জন্য বিভিন্ন স্কুল, ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাময়িকী গড়ে ওঠে।

 

এটি সবার জানা যে, ইতালি পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মুসলিম এবং তাদের সভ্যতার সাথে দৃঢ় সম্পর্কের দিক থেকে প্রাচীনতম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১০৭৬ সালে বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয় আরবদের বিজ্ঞান নিয়ে, ১২২৪ সালে নেপলস বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সংস্কৃতি নিয়ে এবং ১২৪৮ সালে রোম বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্নতত্ত্ব, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং সেমেটিক ভাষাগুলো নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব প্রদান করে।

--------------------------------------------

(১) "আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়া মাসাদিরুত তাশরিয়িল ইসলামি": পৃষ্ঠা ৭ এবং পরবর্তী অংশ, ঈষৎ পরিমার্জিত।

(২) দেখুন: "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিয়িল ইসলামি": পৃষ্ঠা ১৮৭ - ১৮৯।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وجامعة فلورنسا 1321 باللغات الشرقية، والجامعة الغريغورية 1553 باللَاّهوت، والحق والقانون الشرقي والدراسات الإسلامية (1) .. وأصبح الرُهبان يُشَكِّلُونَ طلائع الاسْتِشْرَاق بصفة عامَّة.

 

وأما إنجلترا فقد تهيَّأَ لِلْمُسْتَشْرِقِينَ فيها ما لم يتهيَّأ لغيرهم، حيث امتدَّت الاتصالات العلميَّة والاقتصاديَّة، ثم الاستعماريَّة في الأندلس، ثم الهند والعراق ومصر وفلسطين، فكانت سبيلاً للاتصالات الثقافية والاحتكاك المباشر بالمسلمين وعلومهم (2). ومن ثم نشأت حركة استشراقية واسعة، تتمثَّل في إنشاء كراسي للعربية والدراسات الشرقية في جامعاتها، مثل جامعة أُكسفورد 1167 وجامعة كمبريدج 1257 وجامعة لندن 1828 وجامعة درهام 1838وجامعة فكتوريا 1880 وجامعة ليدز 1884 وجامعة ويلز 1893 وجامعة ليفربول 1903وجامعة بريستول 1909، كما أنشأت المكتبات والمجلَاّت الشرقية المُتَخصِّصَة.

 

وهكذا كانت نشأةُ الاسْتِشْرَاقِ.

 

‌‌مراحل كتابة المُسْتَشْرِقِينَ:

وأما عن مراحل كتابة المُسْتَشْرِقِينَ فهي ترجع في عمومها إلى ثلاث مراحل:

المرحلة الأولى: مرحلة الطلائع.

المرحلة الثانية: مرحلة ما بعد سقوط غرناطة.

المرحلة الثالثة: مرحلة ما بعد سقوط الخلافة الإسلامية.

 

ويطول بنا الحديث لو حاولنا ذكر معالم كل مرحلة (3).

 

‌‌الغارة على المخطوطات والكتب العربية:

وبحلول القرن الثامن عشر بدأ الغرب في استعمار العالم الإسلامي،

--------------------------------------------

(1) انظر: " المُسْتَشْرِقُونَ وَمَصَادِرِ التَشْرِيعِ الإِسْلَامِي ": ص 7 - 8. و " المستشرقون "للعقيقي: 1/ 347 ط. ثالثة دار المعارف بمصر 1964.

(2) انظر: " المستشرقون " للعقيقي: 7: 044 ا _ 1080.

(3) انظر: " المُسْتَشْرِقُونَ وَمَصَادِرِ التَشْرِيعِ الإِسْلَامِي ": ص 10 وما بعدها.
এবং ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয় (১৩২১) প্রাচ্য ভাষাগুলোতে, এবং গ্রেগরীয়ান বিশ্ববিদ্যালয় (১৫৫৩) ধর্মতত্ত্ব, প্রাচ্য অধিকার ও আইন এবং ইসলামি গবেষণার জন্য (১)... এবং সাধারণভাবেই সন্ন্যাসীরা প্রাচ্যতত্ত্বের অগ্রপথিক হিসেবে আবির্ভূত হন।

 

আর ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে বলতে গেলে, সেখানকার প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছিল যা অন্যদের জন্য হয়নি। সেখানে বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক এবং পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক যোগাযোগ আন্দালুস, এরপর ভারত, ইরাক, মিশর ও ফিলিস্তিন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। যা মুসলমানদের সাথে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও প্রত্যক্ষ সংস্পর্শের এবং তাদের জ্ঞানবিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হওয়ার একটি পথ ছিল (২)। ফলস্বরূপ একটি ব্যাপক প্রাচ্যতাত্ত্বিক আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ও প্রাচ্য গবেষণার জন্য চেয়ার (বিভাগ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। যেমন: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬৭, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ১২৫৭, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ১৮২৮, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৩৮, ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৮০, লিডস বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৮৪, ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৩, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় ১৯০৩ এবং ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় ১৯০৯। পাশাপাশি বিশেষায়িত প্রাচ্য গ্রন্থাগার ও সাময়িকীসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

এভাবেই প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্ভব ঘটেছিল।

 

‌‌প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের লেখনীর পর্যায়সমূহ:

আর প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের লেখনীর পর্যায়গুলোর ক্ষেত্রে বলা যায় যে, সেগুলো সাধারণত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত:

প্রথম পর্যায়: অগ্রদূতদের পর্যায়।

দ্বিতীয় পর্যায়: গ্রানাডার পতনের পরবর্তী পর্যায়।

তৃতীয় পর্যায়: ইসলামি খিলাফতের পতনের পরবর্তী পর্যায়।

 

প্রতিটি পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করতে গেলে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে (৩)।

 

‌‌আরবি পাণ্ডুলিপি ও বইপত্রের ওপর আক্রমণ:

আঠারো শতক নাগাদ পশ্চিমারা মুসলিম বিশ্বকে উপনিবেশে পরিণত করতে শুরু করে,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়া মাসাদিরুত তাশরিয়িল ইসলামি": পৃষ্ঠা ৭ - ৮। এবং আকীকী-র "আল-মুস্তাশরিকুন": ১/ ৩৪৭, তৃতীয় সংস্করণ, দারুল মাআরিফ, মিশর ১৯৬৪।

(২) দেখুন: আকীকী-র "আল-মুস্তাশরিকুন": ৭: ০৪৪ ক _ ১০৮০।

(৩) দেখুন: "আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়া মাসাদিরুত তাশরিয়িল ইসলামি": পৃষ্ঠা ১০ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
والاستيلاء على ممتلكاته، واستباحة مُقَدَّسَاتِهِ وذخائره ونفائسه، فأخذ نفر من علماء الغرب ينبغون في الاسْتِشْرَاق، ويُصْدِرُونَ المجلَاّت في عواصم الغرب، وطَفِقُوا يُغِيرُونَ على المخطوطات العربية في البلاد الإسلامية التي أصبحت نهباً مباحاً لهؤلاء الطامعين، بعد أنْ استعمرتها دولُهم وقهرتها، وبشتى الطرق ومختلف الأساليب أخذوا يجمعون هذه المخطوطات وتلك النفائس والذخائر من تراثنا العربي والإسلامي، إمَّا بشرائها من أصحابها الجَهَلَة، أو بسرقتها من المكتبات العامة التي كانت حينذاك في غاية الفوضى، وأخذوا ينقلونها إلى بلادهم ومكتباتهم ومتاحفهم!.

 

وإذا بأعداد من نوادر المخطوطات تنقل إلى مكتبات أوروبا ومتاحفها (1).

وإذا بنا نرى أنه قد بلغ عددها في أوائل القرن التاسع عشر (250000) خمسين ومائتي ألف مجلد، وما زال هذا العدد في زيادة مطردة حتى يومنا هذا!.

 

‌‌عقد المؤتمرات:

ويعتمد المُسْتَشْرِقُونَ - فيما يعتمدون - على عقد المؤتمرات العامة، من وقت لآخر، لتنظيم نشاطهم.

ويرجع تاريخ أول مؤتمر عقدوه إلى سنة 1783 م وما زالت مؤتمراتهم تتكرَّر حتى اليوم.

 

‌‌مرحلة جديدة:

ثم مَرَّ الاسْتِشْرَاق بمرحلة جديدة، ففي القرن الثامن عشر أنشىء كُرْسِيَانِ جديدان للغة العربية في جامعتي أُكسفور وكمبردج، ثم اختتم هذا القرن بحملة نابليون على مصر وبلاد الشام، تلك الحملة التي صحبها عدد كبير من العلماء، كان أغلبهم من المُسْتَشْرِقِينَ.

 

وفي القرن التاسع عشر ازدهر الاسْتِشْرَاق، لما حدث من تطور كبير في الدراسات العربية، وما نشره علماء حملة نابليون، وتخريج مدرسة «دي ساس»

--------------------------------------------

(1) انظر: " الاسْتِشْرَاق والمستشرقون مالهم وما عليهم ": ص 14، و " المستشرقون ": 1/ 113، وكتابنا " الفهارس ومكانتها عند المحدثين ": ص 13 وما بعدها.
এবং এর সহায়-সম্পদ দখল করা, এর পবিত্র স্থানসমূহ, ভাণ্ডার ও মূল্যবান সম্পদরাজির অবমাননা করা। অতঃপর একদল পাশ্চাত্য পণ্ডিত প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) গবেষণায় পারদর্শী হতে শুরু করেন এবং পাশ্চাত্যের রাজধানীগুলো থেকে সাময়িকী প্রকাশ করতে থাকেন। তারা মুসলিম দেশগুলোর আরবি পাণ্ডুলিপির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, যা ওই লোভী ব্যক্তিদের জন্য এক সহজলভ্য লুণ্ঠনের বস্তুতে পরিণত হয়েছিল; বিশেষ করে যখন তাদের রাষ্ট্রগুলো এই দেশগুলোকে উপনিবেশে পরিণত করে পরাজিত করেছিল। বিচিত্র পন্থায় ও বিভিন্ন কৌশলে তারা আমাদের আরবি ও ইসলামী ঐতিহ্যের এই পাণ্ডুলিপি এবং মূল্যবান সম্পদ ও ভাণ্ডারগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করে; হয় তারা এগুলোকে তাদের অজ্ঞ মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করত, নতুবা পাবলিক লাইব্রেরিগুলো থেকে চুরি করত যা তখন চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল। অতঃপর তারা এগুলোকে নিজেদের দেশ, লাইব্রেরি ও জাদুঘরে স্থানান্তর করতে শুরু করে!

 

ফলে বিপুল সংখ্যক দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ইউরোপের লাইব্রেরি ও জাদুঘরগুলোতে স্থানান্তরিত হয় (১)।

আমরা দেখতে পাই যে, উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এর সংখ্যা দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার (২৫০,০০০) খণ্ডে পৌঁছেছিল এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে!

 

‌‌সম্মেলন আয়োজন:

প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ (المستشرقون) তাদের কর্মকাণ্ড সুসংগঠিত করার জন্য সময়ে সময়ে সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের ওপর নির্ভর করেন।

তাদের আয়োজিত প্রথম সম্মেলনের ইতিহাস ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফিরে যায় এবং আজ পর্যন্ত তাদের এই সম্মেলনগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে।

 

‌‌নতুন পর্যায়:

অতঃপর প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) একটি নতুন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। আঠারো শতকে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষার জন্য দুটি নতুন চেয়ার (বিভাগ) প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর এই শতাব্দীর সমাপ্তি ঘটে মিশর ও শাম দেশে নেপোলিয়নের অভিযানের মাধ্যমে। সেই অভিযানে বিপুল সংখ্যক পণ্ডিত তার সঙ্গী ছিলেন, যাদের অধিকাংশ ছিলেন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ (المستشرقون)।

 

আর উনবিংশ শতাব্দীতে প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) বিকশিত হয়, কারণ তখন আরবি গবেষণায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছিল এবং নেপোলিয়নের অভিযানের পণ্ডিতগণ যা প্রকাশ করেছিলেন এবং 'ডি সাসি' স্কুলের স্নাতকদের অবদানের মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আল-ইসতিশরাক ওয়াল মুস্তাশরিকুন: মা লাহুম ওয়া মা আলাইহিম": পৃষ্ঠা ১৪, এবং "আল-মুস্তাশরিকুন": ১/১১৩, এবং আমাদের রচিত গ্রন্থ "আল-ফাহরিস ওয়া মাকানাতুহা ইনদাল মুহাদ্দিসিন": পৃষ্ঠা ১৩ এবং পরবর্তী।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الفرنسية عدداً كبيراً من المُسْتَشْرِقِينَ الأوروبيِّين، وإنشاء كراسي للغة العربية في كثير من جامعات أوروبا، وتأسيس الجمعيات الآسيوية، وإصدار مجلَاّتها، وإتاحة الفرصة لمعظم المُسْتَشْرِقِينَ لزيارة بلاد الشام، فتوافدوا عليها من مختلف الجامعات والبلدان الأوروبية.

 

وهكذا اقترن ازدهار الاسْتِشْرَاق بضعف الدولة العثمانية، وظهور أطماع الدول الأوروبية في الاستحواذ على أملاكها وعلومها المتنوعة.

 

وفي هذه المرحلة عمد المُسْتَشْرِقُونَ إلى تغيير أساليبهم 0 وحاولوا أنْ يظهروا بمظهر جديد، هو ما زعموه - كذباً وزُوراً - من تحرير الاسْتِشْرَاق من الأغراض التبشيرية، والاتجاه به وجهة البحث العلمي البحت!

 

‌‌مواكبة الاسْتِشْرَاق للغزو الاستعماري:

وقد واكب الاسْتِشْرَاق الغزو الاستعماري، ومَضَيَا معاً في طريق واحد، فإذا كان الغربيون قد غزوا البلاد الإسلامية تلك الغزوات الاستعمارية التي نعرفها، فإنَّ المُسْتَشْرِقِينَ منهم قد غزوا التراث الإسلامي، فأخذوا يقلبون وجوه البحث فيه، وألَّفوا فيه كثيراً من الكتب، وساعدوا على تحقيق كثير من المخطوطات التي نقلوها إلى مكتبات بلادهم، أو أخذوا صورها من مكتبات الشرق، أو استنسخوها على ذمة نشرها محققة، وقامت من أجل ذلك صناعة نشر التراث الإسلامي في عدد من العواصم والمُدن الكبرى في أوروبا.

 

وعلى الرغم مِمَّا يزعمه المستشرقون في هذه المرحلة من أنَّ دراساتهم تقوم على أسس علمية وطيدة، فإنَّ الكثيرين منهم - مع الأسف - لم يَحِيدُوا عن الروح الصليبية التعصبية، وبخاصة الذين استعانت بهم دولهم لأغراض استعمارية، فكان هؤلاء يضعون الاتهام أولاً، ثم يبحثون عن الأدلة التي تقوي هذا الاتهام!

 

‌‌تسلل المُسْتَشْرِقِينَ إلى الدوائر العلمية واستعانتهم ببعض نصارى العرب:

ومِمَّا زاد الطين بلة أنَّ كثيراً من طلبة العلم المسلمين وَلَّوْا وُجُوهَهُمْ شطر جامعات الغرب، وأخذوا يَؤُمُّونَهَا للدراسة فيها، وقد تأثر الكثيرون بما كان يلقيه أساتذتهم من المُسْتَشْرِقِينَ في أذهانهم!
ফরাসিরা বিপুল সংখ্যক ইউরোপীয় প্রাচ্যবিদদের আকৃষ্ট করেছিল এবং ইউরোপের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষার জন্য কৃতি আসন (চেয়ার) প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই সঙ্গে এশীয় সমিতিগুলো গঠন, তাদের সাময়িকীগুলো প্রকাশ এবং অধিকাংশ প্রাচ্যবিদদের সিরিয়া (শাম) অঞ্চল ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ থেকে তারা সেখানে ভিড় জমাতে থাকে।

 

এভাবেই প্রাচ্যতত্ত্বের সমৃদ্ধি উসমানীয় সাম্রাজ্যের দুর্বলতা এবং তাদের ভূখণ্ড ও বিচিত্র জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর ইউরোপীয় দেশগুলোর দখলি লালসার আবির্ভাবের সাথে সম্পৃক্ত হয়।

 

এই পর্যায়ে প্রাচ্যবিদগণ তাদের কর্মপদ্ধতি পরিবর্তনের সংকল্প করেন এবং এক নতুন রূপে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করেন। এটি ছিল তাদের—মিথ্যা ও বানোয়াট—দাবি যে, তারা প্রাচ্যতত্ত্বকে ধর্মপ্রচারণামূলক উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত করে একে নিছক বৈজ্ঞানিক গবেষণার দিকে ধাবিত করছেন!

 

‌‌উপনিবেশবাদী আগ্রাসনের সাথে প্রাচ্যতত্ত্বের সহগমন:

প্রাচ্যতত্ত্ব ও উপনিবেশবাদী আগ্রাসন একে অপরের সহগামী ছিল এবং তারা একই পথে অগ্রসর হয়েছিল। পশ্চিমা শক্তিগুলো যদি মুসলিম দেশগুলোতে তাদের পরিচিত সেই ঔপনিবেশিক আগ্রাসন চালিয়ে থাকে, তবে প্রাচ্যবিদরা আক্রমণ চালিয়েছিল ইসলামি ঐতিহ্যের ওপর। তারা গবেষণার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করতে শুরু করে এবং এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করে। তারা অনেক পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় সহায়তা করে, যা তারা নিজেদের দেশের গ্রন্থাগারগুলোতে নিয়ে গিয়েছিল অথবা প্রাচ্যের গ্রন্থাগারগুলো থেকে সেগুলোর অনুলিপি সংগ্রহ করেছিল, কিংবা সম্পাদিত আকারে প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিলিপি তৈরি করেছিল। এই লক্ষ্যেই ইউরোপের বেশ কিছু রাজধানী ও বড় শহরে ইসলামি ঐতিহ্য প্রকাশের একটি শিল্প বা ক্ষেত্র গড়ে ওঠে।

 

যদিও এই স্তরে প্রাচ্যবিদরা দাবি করেন যে তাদের অধ্যয়ন সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তবুও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, তাদের অনেকেই ক্রুসেডীয় গোঁড়ামি থেকে সরে আসেননি। বিশেষ করে যাদেরকে তাদের রাষ্ট্রসমূহ ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেছিল। এই লোকগুলো প্রথমে অভিযোগ স্থির করত এবং পরে সেই অভিযোগকে শক্তিশালী করার জন্য প্রমাণাদি অনুসন্ধান করত!

 

‌‌শিক্ষায়তনিক পরিমণ্ডলে প্রাচ্যবিদদের অনুপ্রবেশ এবং কিছু আরব খ্রিস্টানদের সাহায্য গ্রহণ:

পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে যখন অনেক মুসলিম জ্ঞানপিপাসু ছাত্র পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে মুখ ফেরায় এবং সেখানে পড়াশোনার জন্য যেতে শুরু করে। ফলে তাদের শিক্ষকরা—যারা ছিলেন প্রাচ্যবিদ—তাদের মনে যে ধ্যান-ধারণা গেঁথে দিয়েছিলেন, তাতে অনেকেই প্রভাবিত হয়ে পড়েছিল!
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
كما أنَّ الغَرْبِيِّينَ استعانوا ببعض نصارى العرب في نشر أفكارهم وترويجها، وبَثِّ سمومهم ضد الإسلام والمسلمين!

هذا بالإضافة إلى أنَّ بعض المُسْتَشْرِقِينَ تسلَّلُوا الى الدوائر العلمية والجامعات في الدول الإسلامية، بل إلى المجامع العلميَّة في القاهرة ودمشق وبغداد!

 

‌‌دور الصهيونية في الاسْتِشْرَاق:

ولا ننسى دور الصهيونية التي دخلت ميدان الاسْتِشْرَاقِ لِتَحُولَ دون اجتماع المسلمين في وحدة تقاوم اليهودية العالميَّة، وتواجه دولة اليهود الباغية (إسرائيل) وفي مقدمة هؤلاء: «جُولْدْتسِيهِرْ» و «بندلي» و «جوزي» وغيرهم!

 

‌‌الغارة مستمرة:

وعلى الرغم من تحرُّر البلاد الإسلامية من ربقة الاستعمار، وجلاء المستعمرين عنها، وتطوُّر علاقاتها بدول الغرب، فضلاً عمَّا قام به أبناؤها من دراسات متعمقة في شتى المجالات أغنت أبناء وطنهم عن الكتابات الاستشراقية المغرضة التي ما فتىء البحث الموضوعي يكشف عمَّا تنطوي عليه من التواء ومغالطات، ومن ثَمَّ أخذ الكثير من المسلمين في الشرق يتعاملون مع هذه الكتب بِحَذَرٍ، فإنَّ الاسْتِشْرَاق ما زال يُصَوِّبُ سهامه إلينا، وما زلنا بحاجة إلى مزيد مِنَ الجُهود، لِرَدِّ كيد المُسْتَشْرِقِينَ إلى نُحورهم.

 

‌‌معاول هدم:

وها هي ذي معاول الهدم، تُرِيبُنَا في الاسْتِشْرَاق والمُسْتَشْرِقِينَ، وتدفعنا إلى أنْ نَتَوَجَّسَ خِيفَةً منهم ومن دراساتهم المُغرضة:

أولاً: استمرار بقاء كثير من المؤسسات التبشيرية الاستعمارية بين ظَهْرَانِينَا، ولا ريب في أنَّ كثيراً من المُسْتَشْرِقِينَ يتعاونون على تحقيق أهداف هذه المؤسسات، لأَنَّ الاسْتِشْرَاق ارتبط منذ نشأته بالتبشير والاستعمار، فالجامعة الأمريكية - على سبيل المثال - لا تزال موجودةً في كل من القاهرة وبيروت واستانبول، وبناء على ذلك يجب ألَاّ نتوقَّع من هؤلاء في الوقت الحاضر الإنصاف
একইভাবে পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের ধ্যান-ধারণা প্রচার ও প্রসারের জন্য এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষবাষ্প ছড়ানোর লক্ষ্যে কিছু আরব খ্রিস্টানদের সাহায্য গ্রহণ করেছিল।

এর পাশাপাশি, কিছু প্রাচ্যবিদ মুসলিম দেশগুলোর জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, এমনকি কায়রো, দামেস্ক ও বাগদাদের বৈজ্ঞানিক একাডেমিগুলোতেও অনুপ্রবেশ করেছিল!

 

‌‌প্রাচ্যবাদে জায়নবাদের ভূমিকা:

আমরা জায়নবাদের ভূমিকার কথা ভুলতে পারি না, যারা প্রাচ্যবাদের ময়দানে প্রবেশ করেছিল যাতে মুসলিমরা এমন এক ঐক্য গড়ে তুলতে না পারে যা বিশ্ব ইহুদিবাদের প্রতিরোধ করবে এবং উদ্ধত ইহুদি রাষ্ট্রের (ইসরায়েল) মোকাবিলা করবে। এদের অগ্রভাগে ছিল: 'গোল্ডজিহার', 'পান্দালি', 'জুজি' এবং অন্যান্যরা!

 

‌‌আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে:

যদিও মুসলিম দেশগুলো উপনিবেশবাদের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছে, ঔপনিবেশিক শক্তির বিদায় ঘটেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে তাদের সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে, এছাড়া মুসলিম গবেষকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞানচর্চা তাদের দেশবাসীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রাচ্যবাদী লেখালেখি থেকে মুক্ত করেছে—যেসব লেখার কুটিলতা ও বিভ্রান্তি বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার মাধ্যমে নিয়মিত উন্মোচিত হচ্ছে; ফলে প্রাচ্যের অনেক মুসলিম এখন এসব বইয়ের সাথে সতর্কতার সাথে আচরণ করছেন—তবুও প্রাচ্যবাদ এখনো আমাদের দিকে তার তীর নিক্ষেপ করে চলেছে। প্রাচ্যবিদদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের আরও প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে।

 

‌‌বিধ্বংসী উপাদানসমূহ:

এখানে এমন কিছু ধ্বংসাত্মক উপাদান রয়েছে যা প্রাচ্যবাদ ও প্রাচ্যবিদদের সম্পর্কে আমাদের সন্দিহান করে তোলে এবং তাদের ও তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গবেষণাগুলো সম্পর্কে আমাদের শঙ্কিত হতে বাধ্য করে:

প্রথমত: আমাদের মাঝে এখনও অনেক মিশনারি ও ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিদ্যমান। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অনেক প্রাচ্যবিদ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য পূরণে সহযোগিতা করছেন, কারণ প্রাচ্যবাদ তার সূচনালগ্ন থেকেই মিশনারি ও উপনিবেশবাদের সাথে সম্পর্কিত। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি এখনও কায়রো, বৈরুত ও ইস্তাম্বুলে বিদ্যমান। এর ভিত্তিতে, বর্তমানে তাদের কাছ থেকে আমাদের নিরপেক্ষতা আশা করা উচিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
والموضوعية، وألَاّ نُضْفِي على كتاباتهم الصِّفَةَ العلميَّة الأكاديمية، باستثناء طائفة قليلة منهم.

 

ثانياً: عدم قيام الدليل على أنَّ الاسْتِشْرَاق انفصل عن الطريق السياسي الاستعماري في تاريخنا المعاصر، فالمُسْتَشْرِقُونَ في كل البلاد الاستعمارية يتَّبعون وزارة الخارجية، مِمَّا يدل على أنَّ مُهمَّتَهُمْ سياسية وليست علميَّة، «فأنتوني إيدن» رئيس وزراء بريطانيا السابق لم يكن يتَّخذ قراراً سياسياً يتصل بالشرق الأوسط إلَاّ بعد الرجوع إلى المُسْتَشْرِقِينَ، أمثال «مرجيليوث»، كما أنَّ المُسْتَشْرِقِينَ اليهود لا يزالون يعملون على تحقيق أهداف الصهيونية العالمية!

 

ثالثاً: استمرار ابتعاث الدول الإسلامية لِبَنِيهَا إلى الغرب للحصول على درجات علميَّة في مجال التربية وعلم النفس والدراسات الفكرية، بل الإسلامية!

 

رابعاً: امتلاء كثير من كتب المُسْتَشْرِقِينَ التي بين أيدينا بالمُغالطات والتحريف والالتواء، وهي - كسابقتها - تحتاج إلى بذل جهود مشتركة من علماء المسلمين، كُلٌّ في تَخَصُّصِهِ، لتوضيح مُعْوَجِّهَا أمام القارىء المسلم وغير المسلم، وحتى تلك التي يكتبونها لمواطنيهم تحتاج إلى تجلية، كي لا يُفْهَمَ الإسلام فهماً خاطئاً!.

 

خامساً: لا يزال بعض تلاميذ المُسْتَشْرِقِينَ، والضَّالِعِينَ معهم من نصارى العرب، يثيرون النزعات الشعوبية بين المسلمين بقصد تفتيت وحدتهم، مثل: «الفِرْعَوْنِيَّةِ» في مصر و «البَرْبَرِيَّةِ» في شمال أفريقيا و «الكُرْدِيَّةِ» في كُلٍّ من العراق وإيران!.

 

سادساً: اعتراف كثير من المُسْتَشْرِقِينَ المُعاصرين - صِدْقاً أو تمويهاً - بأنَّ التعصب الديني لا يزال باقياً في كتابات عدد منهم، يقول برنارد لويس: «لا تزال آثار التعصُّب الديني الغربي ظاهرة في مؤلفات عدد من العلماء المُعاصرين، ومُسْتَتِرَةً وراء الحواشي المرصوصة في كتابات البعض الآخر منهم «كما يقول نورمان دانيل: «على رغم المحاولات التي بذلها بعض الباحثين في العصور الحديثة للتحرُّر من المواقف التقليدية للكُتَّاب المسيحيين عن الإسلام، فإنهم لم يتمكَّنوا من أنْ يَتَجَرَّدُوا منها تَجَرُّداً تاماً كما يتوهَّمون» (1).

--------------------------------------------

(1) انظر " التبشر والاستعمار ": 45 وما بعدها.
...এবং বস্তুনিষ্ঠতা; আর আমরা যেন তাদের লেখনীগুলোতে বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্য আরোপ না করি, তাদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ব্যতীত।

 

দ্বিতীয়ত: আমাদের সমকালীন ইতিহাসে প্রাচ্যতত্ত্ব যে ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ নেই। সকল ঔপনিবেশিক দেশে প্রাচ্যবিদরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুগামী হয়ে থাকে, যা নির্দেশ করে যে তাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক নয়। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘অ্যান্থনি ইডেন’ মধ্যপ্রাচ্য সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতেন না ‘মারগোলিউথ’-এর মতো প্রাচ্যবিদদের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া। তেমনিভাবে ইহুদি প্রাচ্যবিদরা এখনও বিশ্ব জায়নবাদের লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছে!

 

তৃতীয়ত: মুসলিম দেশগুলো কর্তৃক তাদের সন্তানদের শিক্ষা, মনোবিজ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা, এমনকি ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য পশ্চিমা বিশ্বে প্রেরণের ধারাবাহিকতা!

 

চতুর্থত: আমাদের হাতে থাকা প্রাচ্যবিদদের অনেক বই বিভ্রান্তি, বিকৃতি এবং কুটিলতায় পূর্ণ। পূর্বের বিষয়গুলোর মতো এক্ষেত্রেও মুসলিম আলেমদের পক্ষ থেকে তাদের নিজ নিজ বিশেষায়িত ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন, যাতে মুসলিম ও অমুসলিম পাঠকদের সামনে এর অসংগতিগুলো স্পষ্ট করা যায়। এমনকি তারা তাদের স্বদেশীদের জন্য যা লিখে থাকে, তাও স্পষ্ট করা প্রয়োজন যাতে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি না হয়!

 

পঞ্চমত: প্রাচ্যবিদদের কিছু শিষ্য এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট আরব খ্রিস্টানরা এখনও মুসলমানদের মধ্যে আঞ্চলিক ও জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে তাদের ঐক্য বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে; যেমন: মিশরে ‘ফেরাউনবাদ’, উত্তর আফ্রিকায় ‘বারবারবাদ’ এবং ইরাক ও ইরানে ‘কুর্দিবাদ’।

 

ষষ্ঠত: অনেক সমকালীন প্রাচ্যবিদদের স্বীকারোক্তি—সত্যিকারভাবে হোক বা ছদ্মবেশে—যে তাদের অনেকের লেখনীতে ধর্মীয় গোঁড়ামি এখনও রয়ে গেছে। বার্নার্ড লুইস বলেন: "অনেক সমকালীন পণ্ডিতের রচনায় পশ্চিমা ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রভাব এখনও দৃশ্যমান এবং অন্যদের লেখায় তা স্তূপীকৃত পাদটীকার আড়ালে লুকায়িত।" যেমন নর্মান ড্যানিয়েল বলেন: "আধুনিক যুগের কিছু গবেষক ইসলাম সম্পর্কে খ্রিস্টান লেখকদের ঐতিহ্যগত অবস্থান থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা সত্ত্বেও, তারা কল্পনা অনুযায়ী তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি।" (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আত-তাবশির ওয়াল ইস্তিমার": ৪৫ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
هذه هي أهم معاول الهدم التي تدفعنا إلى أنْ نرتاب في دراسات المُسْتَشْرِقِينَ، ونتوجَّسُ منها خِيفَةً!.

 

‌‌إنكار نزول القرآن من عند الله:

وهم ينكرون أنْ يكون القرآن مُنَزَّلاً من عند الله، وحين يفحمهم ما ورد فيه من حقائق تاريخية عن الأمم الماضية، مِمَّا يستحيل صدوره عن النبي الأُمِيِّ محمد صلى الله عليه وسلم، وتبطل دعواهم ببشرية القرآن الكريم، وزعمهم بأنه ليس أكثر من تعبير عن انطباع البيئة العربية في نفس الرسول!.

 

حين تبطل دعواهم التافهة هذه، يزعمون ما زعمه المُشركون الجَاهِلِيُّونَ في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم من أنه اسْتَمَدَّ ذلك من أناس، ويتخبَّطون في ذلك تَخَبُّطاً عجيباً!.

 

وحين يفحمهم ما جاء في القرآن من حقائق علمية لم تُعْرَفْ وَتُشْكَفْ إلَاّ في هذا العصر، يُرْجِعُونَ ذلك إلى ذكاء النبي صلى الله عليه وسلم، ويقعون في تخبُّط أشدَّ غرابة مِمَّا سبق!.

 

وعلى الرغم من أنَّ بعض تلاميذ المُسْتَشْرِقِينَ من العرب والمسلمين يقولون عن القرآن الكريم كلاماً يدل على اعتقادهم أنه فِكْرٌ تَأَثَّرَ ببيئة عربية مُعيَّنة، فإنَّ هناك عدداً من علماء المسلمين المعاصرين قد أعدُّوا دراسات علميَّة وافية في دحض تلك المزاعم الباطلة، والافتراءات المتهافتة (1).

 

‌‌التشكيك في صحة رسالة النبي صلى الله عليه وسلم -:

والمعتدلون منهم في كتاباتهم، يُشَكِّكُونَ في صِحَّةِ رسالة النبي صلى الله عليه وسلم، لأنهم ينكرون أنْ يكون مُحَمَّدٌ نبياً، ويتخبَّطون في تفسير مظاهر الوحي، كأنَّ الله لم يرسل نبياً قبله، حتى يصعب عليهم تفسير الوحي!.

 

ولما كانوا يهوداً أو نصارى - في معظمهم - يعترفون بأنبياء، كان إنكارهم

--------------------------------------------

(1) انظر: " في الشعر الجاهلي " للدكتور طه حسين، والردود عليه في نقض كتاب " في الشعر الجاهلي " للشيخ محمد الخضر حسين، وفي " النقد التحليلي لكتاب في الشعر الجاهلي " للدكتور أحمد محمد الغمراوي.
এগুলোই হচ্ছে ধ্বংসের সেই প্রধান হাতিয়ার, যা আমাদের প্রাচ্যবিদদের গবেষণার ব্যাপারে সন্দিহান করে তোলে এবং তাদের সম্পর্কে আমাদের মনে ভীতির সঞ্চার করে!.

 

‌‌আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআন অবতীর্ণ হওয়াকে অস্বীকার করা:

তারা অস্বীকার করে যে কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (منزل) হয়েছে; যখন তাদের সামনে কুরআনে বর্ণিত এমন সব ঐতিহাসিক সত্য উপস্থাপিত হয় যা তাদের নিরুত্তর করে দেয়—যেহেতু উম্মী নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রদান করা অসম্ভব—তখন কুরআনের মানবীয় উৎস সম্পর্কিত তাদের দাবি এবং এটি যে রাসূলের অন্তরে সমকালীন আরবীয় পরিবেশের প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়—এমন অসার দাবি বাতিল হয়ে যায়!.

 

যখন তাদের এই তুচ্ছ দাবি ব্যর্থ হয়, তখন তারা রাসূল (সা.)-এর যুগের জাহেলি মুশরিকদের মতো দাবি করে যে, তিনি এগুলো কোনো একদল মানুষের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন; আর এই বিষয়ে তারা অদ্ভুত সব বিভ্রান্তির শিকার হয়!.

 

আর যখন কুরআনে বর্ণিত এমন সব বৈজ্ঞানিক সত্য তাদের নির্বাক করে দেয় যা কেবল বর্তমান যুগেই আবিষ্কৃত ও উন্মোচিত হয়েছে, তখন তারা একে নবী (সা.)-এর মেধার ফসল বলে অভিহিত করে এবং পূর্বের চেয়েও চরম বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়!.

 

যদিও আরব ও মুসলিমদের মধ্য থেকে প্রাচ্যবিদদের কিছু শিষ্য পবিত্র কুরআন সম্পর্কে এমন সব কথা বলে যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তারা একে একটি নির্দিষ্ট আরবীয় পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত চিন্তা বলে মনে করে; তবে সমসাময়িক অনেক মুসলিম আলেম সেসব অসার দাবি ও ভিত্তিহীন অপবাদের খণ্ডনে পর্যাপ্ত ও বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা সম্পন্ন করেছেন (১)।

 

‌‌নবী (সা.)-এর রিসালাতের সত্যতা সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা -:

তাদের মধ্যে যারা লিখনীতে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখে, তারাও নবী (সা.)-এর রিসালাতের সত্যতা সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করে। কারণ তারা মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে এবং ওহির (وحي) বহিঃপ্রকাশসমূহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে; তারা যেন এমন আচরণ করে যে আল্লাহ তাঁর আগে কোনো নবীই পাঠাননি, যার ফলে ওহি (وحي) ব্যাখ্যা করা তাদের কাছে দুরূহ হয়ে পড়ে!.

 

যেহেতু তাদের অধিকাংশ ছিল ইহুদি কিংবা খ্রিস্টান—যারা নবীদের প্রতি বিশ্বাস রাখে—সেহেতু তাদের এই অস্বীকৃতি...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ড. তাহা হোসেনের "ফিল শি’র আল-জাহিলি"; এর খণ্ডনে শায়খ মুহাম্মদ আল-খিদর হোসেনের "নাকদু কিতাবি ফিল শি’র আল-জাহিলি" এবং ড. আহমদ মুহাম্মদ আল-গামরাউয়ির "আন-নাকদুত তাহলিলি লি কিতাবি ফিল শি’র আল-জাহিলি"।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
لنبوة خاتم النبيِّين تعنُّتاً مبعثه التعصُّب الديني الذي يملأ نفوس أكثرهم كأحبار ورُهبان وقسس ومُبشِّرين (1).

 

‌‌إنكار كون الإسلام ديناً من عند الله:

ويَتْبَعُ إنكارهم لنبوَّة الرسول صلى الله عليه وسلم ونزول القرآن الكريم، إنكارهم أنْ يكون الإسلام ديناً من عند الله، وإنما هو - في زعمهم - مُلَفَّقٌ من اليهودية والمسيحية وليس لهم في ذلك مستند يؤيِّدُهُ البحث العلمي البَتَّةَ!.

 

ويلاحظ أنَّ المُسْتَشْرِقِينَ اليهود أمثال: «جُولْدْتسِيهِرْ» و «شَاخْتْ» هم أشد حِرْصاً على ادِّعاء استمداد الإسلام من اليهودية وتأثيرها فيه!

 

أما المُسْتَشْرِقُونَ المسيحيون فَيَجْرُونَ وراءهم في هذه الدعوى المتهافتة، إذ ليس في المسيحية تشريع يستطيعون أنْ يزعموا تأثُّر الإسلام به، وَأَخْذِهِ عنه، وإنما فيها مبادئ أخلاقية، زعموا أنها أثَّرت في الإسلام، ودخلت عليه منها، كأنَّ المفروض في الرسالات الإلهية أنْ تتعارض مبادؤُها الأخلاقية، وكأنَّ الذي أوحى من قبل هو غير الذي أوحى بعده، فتعالى الله عَمَّا يقولون علواً كبيراً!.

 

والظاهر أنَّ المُسْتَشْرِقِينَ اليهود أقبلوا على الاسْتِشْرَاق لأسباب دينية، ترمي إلى التشكيك في قِيَمِ الإسلام، بدعوى فضل اليهود عليه وكأنَّ اليهودية مصدره الأول، ولأسباب سياسية تتَّصل بخدمة الصهيونية فكرة أولاً، ثم دولة ثانياً!.

 

وحول ما يتعلق بالإسلام يَدَّعِي المُسْتَشْرِقُونَ أنَّ المجتمع الإسلامي في صلته بالإسلام لم يكن على نحو قوي إلَاّ في فترة قصيرة، هي الفترة الأولى، التي يطلقون عليها: عهد ابتدائية المجتمع الإسلامي، التي وجدت نوعاً من التلازم بين الحياة وتعاليم الإسلام، ويزعمون أنه كلما تطوَّر المجتمع ازدادت الفجوة، لأَنَّ الإسلام لا يوافق التطور!.

 

ومن هنا يسارعون إلى تقرير أنَّ التخلُّف عن تعاليم الإسلام تمليه الضرورة الاجتماعية، تحت ضغط ظروف الحياة المُتجدِّدَةَ، التي لا يستطيع الإسلام - كما

--------------------------------------------

(1) انظر " الاستشراق والمستشرقون ": ص 20.
শেষ নবীর (خاتم النبيين) নবুওয়াতের প্রতি একগুঁয়েমি, যার মূলে রয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি; যা তাদের অধিকাংশের অন্তরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যেমন ইহুদি পণ্ডিত, সন্ন্যাসী, পাদ্রি এবং মিশনারিবৃন্দ (১)।

 

‌‌ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ধর্ম হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করা:

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত এবং পবিত্র কুরআন নাযিল হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করার পথ ধরেই তারা ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ধর্ম হওয়াকেও অস্বীকার করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের সংমিশ্রণে তৈরি; অথচ তাদের এই দাবির স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সমর্থিত কোনো ভিত্তি (مستند) আদতে নেই!

 

লক্ষ্যণীয় যে, গোল্ডজিহার এবং শ্যাখটের মতো ইহুদি প্রাচ্যবিদরা ইসলামকে ইহুদি ধর্ম থেকে আহরিত এবং তাতে ইহুদি ধর্মের প্রভাব বিদ্যমান থাকার দাবি করার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী!

 

অন্যদিকে খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদরা তাদের এই অসার দাবির পেছনে ছুটে চলেন। কেননা খ্রিস্টধর্মে এমন কোনো বিধিবদ্ধ বিধান (تشريع) নেই যা সম্পর্কে তারা দাবি করতে পারে যে ইসলাম তার দ্বারা প্রভাবিত বা তার থেকে গৃহীত হয়েছে। বরং সেখানে কেবল কিছু নৈতিক মূলনীতি রয়েছে, যা সম্পর্কে তারা দাবি করে যে সেগুলো ইসলামকে প্রভাবিত করেছে এবং খ্রিস্টধর্ম থেকেই ইসলামে প্রবেশ করেছে। যেন ঐশী বার্তাসমূহের নৈতিক মূলনীতিসমূহ পরস্পরের বিরোধী হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক! আর যেন ইতিপূর্বে যিনি ওহি (وحي) পাঠিয়েছেন তিনি এবং পরবর্তী সময়ে ওহি (وحي) দানকারী সত্তা ভিন্ন ছিলেন! তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি মহান ও সুউচ্চ!

 

স্পষ্টত ইহুদি প্রাচ্যবিদরা ধর্মীয় কারণে প্রাচ্যতত্ত্বের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, যার উদ্দেশ্য হলো ইসলামের ওপর ইহুদি ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি তুলে ইসলামের মূল্যবোধ নিয়ে সংশয় তৈরি করা, যেন ইহুদি ধর্মই ইসলামের আদি উৎস। এছাড়া এর পেছনে কিছু রাজনৈতিক কারণও রয়েছে, যা প্রথমে জায়নবাদী মতাদর্শ এবং পরবর্তীতে জায়নবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থ রক্ষার সাথে জড়িত!

 

ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাচ্যবিদরা দাবি করেন যে, ইসলামের সাথে মুসলিম সমাজের সম্পর্ক কেবল একটি স্বল্প সময়ের জন্যই সুদৃঢ় ছিল; আর সেটি হলো প্রাথমিক যুগ, যাকে তারা মুসলিম সমাজের শৈশবকাল বলে আখ্যায়িত করে। সেই যুগে জীবন ও ইসলামের শিক্ষার মধ্যে এক ধরণের অবিচ্ছেদ্যতা ছিল। তারা দাবি করে যে, সমাজ যত বিবর্তিত হয়েছে, এই ব্যবধান ততই বৃদ্ধি পেয়েছে; কেননা ইসলাম বিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়!

 

এ কারণেই তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে তড়িঘড়ি করে যে, ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হওয়াটা সামাজিক প্রয়োজনেই ঘটে থাকে, যা জীবনের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির চাপে তৈরি হয় এবং ইসলাম তা মোকাবিলা করতে—যেমন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আল-ইস্তিশরাক ওয়াল মুস্তাশরিকুন": পৃ. ২০।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
يزعمون - أنْ يكيفها في تعاليمه، وعلى هذا فإنَّ تطبيق الإسلام في نظرهم، إنما يعني العُزلة والتخلُّف، ويرون أنَّّ الحل هو في الخضوع لما يسمُّونه «قانون التطور» ولا يتمُّ ذلك كما ينادون إلَاّ بالسير وفق المُثُلِ الغربية والتفاعل معها!

 

‌‌التشكيك في صِحَّةِ الحديث النبوي:

ويتذرَّعُ هؤلاء المُسْتَشْرِقِينَ - أحياناً - بما دخل على الحديث من وَضْعٍ ودَسٍّ، متجاهلين تلك الجهود التي بذلها علماؤنا لتنقية الحديث الصحيح من غيره، مستندين إلى قواعد بالغة الدِقَّةِ في التثبُّتِ والتحرِّي، مِمَّا لم يعهد عُشْرَ مِعْشَارِهِ في التأكد من صِحَّةِ الكتب المقدَّسة عندهم!

 

والذي حملهم على ركوب متن الشطط في دعواهم هذه ما رأوه في الحديث النبوي الذي اعتمده علماؤنا من ثروة فكرية وتشريعية مُدْهِشَةٍ، وهم لا يعتقدون بنبوَّة خاتم النبيّين - كما أسلفنا - فادَّعُوا أنَّ هذا لا يعقل أنْ يصدر كله عن النبي الأميِّ، بل هو عمل المسلمين خلال القرون الثلاثة الأولى، فالعقدة النفسية عندهم هي عدم تصديقهم بنبوَّةِ خاتم النبيِّين صلى الله عليه وسلم ومنها تنبعث كل تخبُّطاتهم ومُفترياتهم وجهالاتهم!.

 

‌‌التشكيك في قيمة الفقه الإسلامي:

ومن ثم شكَّك المُسْتَشْرِقُونَ في قيمة الفقه الإسلامي، ذلك التشريع الهائل الذي لم يجتمع مثله لجميع الأمم في جميع العصور، لقد أسقط في أيديهم حين اطِّلاعهم على عظمته، وهم لا يؤمنون بنبوَّة خاتم النبيين، ومن ثم فلم يجدوا بُدًّا من الزعم بأنَّ هذا الفقه العظيم مُسْتَمَدٌّ من الفقه الروماني، أي أنه مُسْتَمَدٌّ منهم هُمْ، وقد بيَّنَ علماؤنا تهافت هذه الدعوى، وأيَّدَ ذلك ما قرَّرَهُ " مؤتمر القانون المقارن " المنعقد بلاهاي من أنَّ الفقه الإسلامي فِقْهٌ مُسْتَقِلٌّ بذاته، وليس مُسْتَمَدًّا من أي فِقْهٍ آخر!

 

‌‌التشكيك في قُدرة اللغة العربية:

وشكَّكُوا في قدرة لغتنا على مسايرة التطور العلمي، لنظلَّ عالة على مصطلحاتهم التي تُنادي بفضلهم وسلطانهم العلمي علينا، وشكَّكُوا كذلك في غنى
তারা দাবি করে—যে তিনি যেন তাঁর শিক্ষার মাধ্যমে একে (ইসলামকে) খাপ খাইয়ে নেন। এই প্রেক্ষাপটে তাদের দৃষ্টিতে ইসলামের বাস্তবায়ন মানেই হলো বিচ্ছিন্নতা ও অনগ্রসরতা। তারা মনে করে, সমাধান নিহিত রয়েছে তাদের তথাকথিত 'বিবর্তনবাদ'-এর আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করার মধ্যে। আর তাদের আহ্বান অনুযায়ী, এটি কেবল পাশ্চাত্য আদর্শ অনুসরণ এবং তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব!

 

‌‌নববী হাদিসের বিশুদ্ধতা (صِحَّةِ) নিয়ে সংশয় সৃষ্টি:

এই প্রাচ্যবিদরা মাঝেমধ্যে হাদিসে প্রবেশকৃত জালিয়াতি (وضع) ও অনুপ্রবেশকে অজুহাত হিসেবে পেশ করে। অথচ তারা আমাদের ওলামায়ে কেরামের সেই সুমহান প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করে, যা তারা সহিহ (صحيح) হাদিসকে অন্যগুলো থেকে পৃথক করার জন্য ব্যয় করেছেন। তারা (ওলামায়ে কেরাম) হাদিস যাচাই ও অনুসন্ধানে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়মনীতির ওপর নির্ভর করেছেন, যার সামান্যতম অংশও তাদের নিজেদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর বিশুদ্ধতা (صِحَّةِ) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেখা যায় না!

 

তাদের এই বিভ্রান্তিকর দাবির পেছনে মূল কারণ হলো নববী হাদিসে বিদ্যমান সেই বিস্ময়কর বুদ্ধিবৃত্তিক ও আইনি সম্পদ যা আমাদের ওলামায়ে কেরাম গ্রহণ করেছেন। যেহেতু তারা সর্বশেষ নবীর নবুওয়াতের ওপর বিশ্বাস রাখে না—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—তাই তারা দাবি করে যে, এই বিশাল ভাণ্ডার একজন উম্মি নবীর পক্ষ থেকে আসা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়; বরং এটি প্রথম তিন শতাব্দীর মুসলমানদের কাজ। মূলত তাদের মানসিক সমস্যা হলো সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের প্রতি অবিশ্বাসের মধ্যে, আর সেখান থেকেই তাদের সকল বিভ্রান্তি, মিথ্যাচার এবং অজ্ঞতার জন্ম!

 

‌‌ইসলামি ফিকহের গুরুত্ব নিয়ে সংশয় সৃষ্টি:

ফলশ্রুতিতে প্রাচ্যবিদরা ইসলামি ফিকহের গুরুত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। এই সুবিশাল আইনব্যবস্থা যার কোনো নজির কোনো যুগে কোনো জাতির ইতিহাসে আর পরিলক্ষিত হয় না। যখন তারা এর মহত্ত্ব অবলোকন করল, তখন তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল। যেহেতু তারা সর্বশেষ নবীর নবুওয়াতের ওপর বিশ্বাসী নয়, তাই তারা এ দাবি করতে বাধ্য হলো যে—এই মহান ফিকহ রোমান আইন থেকে গৃহীত, অর্থাৎ তা মূলত তাদের থেকেই নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের ওলামায়ে কেরাম এই দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন এবং হেগ শহরে অনুষ্ঠিত "তুলনামূলক আইন সম্মেলন"-এর সিদ্ধান্তও একে সমর্থন করেছে যে, ইসলামি ফিকহ সম্পূর্ণ একটি স্বতন্ত্র ফিকহ, যা অন্য কোনো ফিকহ থেকে গৃহীত নয়!

 

‌‌আরবি ভাষার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি:

তারা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে আমাদের ভাষার সক্ষমতা নিয়েও সংশয় পোষণ করেছে, যাতে করে আমরা সর্বদা তাদের পরিভাষাগুলোর ওপর নির্ভরশীল থাকি, যা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও আমাদের ওপর তাদের বৈজ্ঞানিক কর্তৃত্বের জানান দেয়। তারা একইভাবে আরবি ভাষার প্রাচুর্য নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الأدب العربي، وحاولوا إظهاره مُجدباً فقيراً، لنتجه إلى آدابهم، وذلك هو الاستعمار الأدبي، الذي يبغونه مع الاستعمار الفكري الذي يرتكبونه!.

 

ومن المُبَشِّرِينَ نفر يشتغلون بالآداب العربية، والعلوم الإسلامية، أو يستخدمون غيرهم في سبيل ذلك، ثم يرمون كلهم بما يكتبونه إلى أنْ يوازنوا بين الآداب العربية والآداب الأجنبية، أو بين العلوم الإسلامية والعلوم الغربية التي يعُدُّونها نصرانية، لأنّض أمم الغرب تدين بها، ليخرجوا بتفضيل الآداب الغربية على الآداب العربية والإسلامية، وبالتالي إلى إبراز نواحي النشاط الثقافي في الغرب، وتفضيلها على أمثالها في تاريخ العرب والإسلام، وما غايتهم في ذلك إلَاّ تخاذل روحي، وشعور بالنقص في نفوس الشرقيين، وحملهم من هذا الطريق على الرضا بالخضوع للمدنية المادية الغربية (1)!

 

‌‌تشكيك المسلمين بقيمة تراثهم الحضاري:

وبتذرَّعُون لذلك بدعوى أنَّ الحضارة الإسلامية منقولة من حضارة الرومان، ولم يكن العرب والمسلمون إلَاّ نقلة لفلسفة تلك الحضارة وآثارها، ولم يكن لهم إبداع فكري ولا ابتكاري حضاري، وكان في حضارتهم كل النقائص، وإذا تحدَّثُوا بشيء عن حسناتها - وقليلاً ما يفعلون - يذكرونها على مضض، مع انتقاص كبير!.

 

‌‌إضعاف ثقة المسلمين بتراثهم:

وذلك ببث روح الشك في كل ما بين أيديهم من قيم ومُثُلٍ عليا، ليسهل على الاستعمار تشديد وطأته عليهم، ونشر ثقافته فيما بينهم، فيكونوا عبيداً لها، أو على الأقل تضعف روح المقاومة في نفوسهم!

 

‌‌أخطاء سببها الجهل بالعربية والبعد عن الحياة الإسلامية:

وقد تَرَدَّى كثير من المُسْتَشْرِقِينَ في أخطاء كان سببها جهلُهُم بأساليب اللغة العربية، وجهْلِهِمْ بالأجواء الإسلامية التاريخية على حقيقتها، حيث يتصوَّرُونها كما

--------------------------------------------

(1) انظر: " التبشير والاستعمار ": ص 24.
আরবি সাহিত্য; তারা একে অনুর্বর ও রিক্ত হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে, যাতে আমরা তাদের সাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ি। আর এটাই হলো সেই সাহিত্যিক উপনিবেশবাদ, যা তারা তাদের দ্বারা পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক উপনিবেশবাদের পাশাপাশি কামনা করে!.

 

ধর্মপ্রচারকদের (মিশনারি) মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যারা আরবি সাহিত্য ও ইসলামি বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করে, অথবা এই উদ্দেশ্যে অন্যদের ব্যবহার করে। অতঃপর তারা তাদের লেখার মাধ্যমে যা লিখে তার লক্ষ্য থাকে আরবি সাহিত্য ও বিদেশি সাহিত্যের মধ্যে, অথবা ইসলামি বিজ্ঞান ও পশ্চিমা বিজ্ঞানের মধ্যে (যাকে তারা খ্রিস্টীয় মনে করে কারণ পশ্চিমারা তা পালন করে) ভারসাম্য বজায় রাখার ছলে পশ্চিমা সাহিত্যকে আরবি ও ইসলামি সাহিত্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা। পরিশেষে তারা পশ্চিমা সাংস্কৃতিক তৎপরতাকে ফুটিয়ে তোলে এবং আরব ও ইসলামের ইতিহাসের সমতুল্য বিষয়গুলোর ওপর সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়। তাদের লক্ষ্য কেবল আধ্যাত্মিক পরাজয় এবং প্রাচ্যের মানুষের মনে হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করা এবং এই পথে তাদের পশ্চিমা জড়বাদী সভ্যতার বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করা (১)!

 

‌‌মুসলমানদের সভ্যতার ঐতিহ্যের মূল্য সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করা:

তারা এই অজুহাত পেশ করে যে, ইসলামি সভ্যতা রোমান সভ্যতা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং আরব ও মুসলমানরা ছিল সেই সভ্যতার দর্শন ও ঐতিহ্যের নিছক বাহক মাত্র। তাদের কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতা বা সভ্যতাগত উদ্ভাবন ছিল না এবং তাদের সভ্যতায় সব ধরণের ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। তারা যদি কখনো এর ভালো দিকগুলো সম্পর্কে কিছু বলে—যা তারা খুব কমই করে—তবে তা অনেক অনিচ্ছার সাথে এবং ব্যাপক তুচ্ছতাচ্ছিল্য সহকারে উল্লেখ করে!.

 

‌‌নিজেদের ঐতিহ্যের ওপর মুসলমানদের আস্থা দুর্বল করা:

আর এটি করা হয় তাদের হাতে থাকা যাবতীয় মূল্যবোধ ও উচ্চ আদর্শের মধ্যে সন্দেহের বীজ বপন করার মাধ্যমে; যাতে উপনিবেশবাদের পক্ষে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করা এবং তাদের মাঝে নিজস্ব সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হয়। ফলে তারা সেই সংস্কৃতির দাসে পরিণত হয়, অথবা অন্তত তাদের মনে প্রতিরোধের স্পৃহা দুর্বল হয়ে পড়ে!

 

‌‌আরবি ভাষায় অজ্ঞতা এবং ইসলামি জীবনধারা থেকে দূরত্বের কারণে সৃষ্ট ভুলসমূহ:

অনেক প্রাচ্যবিদ এমন সব ভুলের আবর্তে নিপতিত হয়েছেন যার মূল কারণ ছিল আরবি ভাষার অলঙ্কার ও প্রয়োগরীতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা এবং ইসলামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাদের প্রকৃত জ্ঞানের অভাব। তারা সেগুলোকে সেভাবেই কল্পনা করে যেমন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আত-তাবশির ওয়াল ইস্তিমার": পৃষ্ঠা ২৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
يتصوَّرون مجتمعاتهم، ناسين الفروق الطبيعية والنفسية والزمنية التي تفرِّقُ بين الأجواء التاريخية التي يدرسونها وبين الأجواء الحاضرة التي يعيشونها!

 

تلك نبذة مُختصرة عن الاسْتِشْرَاق والمُسْتَشْرِقِينَ، تضع يَدَنَا على معاول الهدم التي تنطق بها أعمالُهم التي حاولنا في هذه العُجالة كشفها، رجاء أنْ تكون في ذلك ذكرى، والذكرى تنفع المؤمنين!

 

‌‌دوافع الإحن والعصبية:

وإليك هذا المثال لدوافع الإحن والعصبية، فقد روى أحمد وغيره بسند صحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه: دخل أعرابي المسجد، فصلى ركعتين ثم قال: اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا، وَلَا تَرْحَمْ مَعَنَا أَحَدًا. فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «لَقَدْ تَحَجَّرْتَ وَاسِعًا».

ثُمَّ لَمْ يَلْبَثْ أَنْ بَالَ فِي الْمَسْجِدِ! فَأَسْرَعَ النَّاسُ إِلَيْهِ، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ، وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ، أَهْرِيقُوا عَلَيْهِ دَلْوًا مِنْ مَاءٍ، أَوْ سَجْلاً مِنْ مَاءٍ» (1).

 

وهو حديث واضح المعنى في وصف هذا الأعرابي البادي الجافي - كما يقول الشيخ أحمد شاكر (2) - جاء من البادية بجفائه وجهله، فصنع ما يصنع الأحمق الجاهل، حتى علَّمَهُ معلِّمُ الخير صلى الله عليه وسلم، لا يرتاب في معرفة جفاء الرجل وجهله من قرأ الحديث أو سمعه، أياً كان القارئ أو السامع عالماً أو جاهلاً وذكياً أو غبيًّا، عربياً أو أعجمياً.

 

أفليس عجباً - بعد هذا - أنْ يغلب الهوى وبُغْضُ الإسلام، رَجُلاً مُسْتَشْرِقاً كنا نظنُّ أنه من أبعد المُسْتَشْرِقِينَ عن أهواء المُبَشِّرِينَ، ودناءات المُنْحَرِفِينَ! هو المُسْتَشْرِقُ بروكلمان، صاحب كتاب " تاريخ الأدب العربي " الذي حاول فيه

--------------------------------------------

(1) " مسند أحمد ": 12/ 244 - 247 (7254) تحقيق أحمد شاكر، وأبو داود. الطهارة (376) " عون المعبود "، و " سُنن الترمذي ". الطهارة (147) وقال: هذا حديث حسن صحيح.

(2) " مسند أحمد ": 12/ 245 - 247 بتصرف.
তারা তাদের সমাজকে এমনভাবে কল্পনা করে যেন তারা সেই প্রাকৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং কালানুক্রমিক পার্থক্যসমূহ ভুলে গেছে যা তাদের গবেষণালব্ধ ঐতিহাসিক পরিবেশ এবং তাদের বর্তমান যাপিত পরিবেশের মধ্যে বিদ্যমান!

 

এটি প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত, যা আমাদের সামনে তাদের সেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের স্বরূপ তুলে ধরে যা আমরা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে উন্মোচনের চেষ্টা করেছি। আশা করি এতে উপদেশ নিহিত রয়েছে, আর উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে!

 

‌‌বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার নেপথ্য কারণসমূহ:

বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার কারণসমূহের জন্য আপনার সামনে এই উদাহরণটি পেশ করছি। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা একটি সহিহ (صحيح) সনদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: এক গ্রাম্য আরব ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করল। এরপর সে বলল: হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং মুহাম্মদের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের সাথে আর কাউকে রহম করবেন না। তখন নবী (সা.) তার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: «তুমি একটি প্রশস্ত বিষয়কে সংকীর্ণ করে দিয়েছ।»

এরপর সে বিলম্ব না করেই মসজিদে প্রস্রাব করে দিল! তখন মানুষ তার দিকে তেড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের বললেন: «তোমরা তো সহজকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছ, কঠোরতা আরোপকারী হিসেবে প্রেরিত হওনি। তার ওপর এক বালতি পানি অথবা বড় এক পাত্র পানি ঢেলে দাও।» (১)।

 

মরুভূমি থেকে রূঢ়তা ও অজ্ঞতা নিয়ে আসা এই গ্রাম্য ব্যক্তির বর্ণনায় হাদিসটির অর্থ অত্যন্ত স্পষ্ট—যেমনটি শাইখ আহমাদ শাকির (২) বলেছেন। সে রূঢ়তা ও অজ্ঞতা নিয়ে মরুভূমি থেকে এসেছিল এবং অজ্ঞ ও নির্বোধদের মতোই কাজ করেছিল, যতক্ষণ না কল্যাণের শিক্ষক (সা.) তাকে শিক্ষা দিলেন। এই হাদিস যে পড়বে বা শুনবে, সে চাই আলেম হোক বা জাহেল, বুদ্ধিমান হোক বা নির্বোধ, আরব হোক বা অনারব—ঐ ব্যক্তির রূঢ়তা ও অজ্ঞতা সম্পর্কে তার মনে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকবে না।

 

তবে এরপরেও কি এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, খেয়াল-খুশি ও ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ এমন একজন প্রাচ্যতাত্ত্বিককে গ্রাস করল যাকে আমরা মনে করতাম ধর্মপ্রচারকদের প্রবৃত্তি এবং বিচ্যুতদের হীনম্মন্যতা থেকে বহু দূরে! তিনি হলেন প্রাচ্যতাত্ত্বিক ব্রোকলম্যান, "তারিখুল আদাব আল-আরাবি" গ্রন্থের লেখক, যিনি এতে চেষ্টা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) "মুসনাদে আহমাদ": ১২/ ২৪৪ - ২৪৭ (৭২৫৪) আহমাদ শাকিরের তাহকিক; এবং আবু দাউদ, কিতাবুত তাহারাত (৩৭৬) "আওনুল মাবুদ"; এবং "সুনানে তিরমিজি", কিতাবুত তাহারাত (১৪৭), তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)।

(২) "মুসনাদে আহমাদ": ১২/ ২৪৫ - ২৪৭ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
استقصاء المؤلفات العربية، والقديم منها خاصة، مع الإشارة الى مكان النادر والمخطوط منها.

 

ذلك المُسْتَشْرِق، الذي كنا نتوهَّمه مُتسامياً على ما يرتكس فيه إخوانه علماء المشرقيات، ألَّف كتاباً آخر في " تاريخ الشعوب الإسلامية " ترجمه أستاذان من بيروت، هُمَا الدكتور نبيه أمين فارس، والأستاذ منير البَعْلَبَكِي، في خمسة أجزاء، وطبع ببيروت، وجزؤه الأول طبع سنة 1949 م.

 

هذا الرجل الذي كنا نظنُّهُ عاقلاً! يقول في الجزء الأول من كتابه (1)، حين يتحدَّثُ عن بلاد العرب قبل الإسلام، وعن أحوالهم الاجتماعية في شمالي الجزيرة، يقول بالحرف الواحد:

«والبَدَوِيُّ كائن فردي النزعة، مُفْرطُ الأنانية قبل كل شيء، ولا تزال بعض الأحاديث تسمح للعربي الداخل في الإسلام، أنْ يقول في صلاته: اللهم ارحمني ومحمداً ولا ترحم معنا أحداً»!

 

هكذا يقول هذا الرجل الواسع الاطلاع على الكتب العربية، والمؤلفات الإسلامية! غير الجاهل بكلام العرب، ولا الغافل عن معنى ما يقرأ، والحديث أمامه في كتب السُنَّة كاملاً، ينقل منه حرفاً واحداً، وَيَدَعُ ما قبله وما بعده! هذا الرجل الذي أظهرت كلمته أنَّ الإحن والعصبية الصليبية تملأ صدره، وتغطي على بصره وعقله!.

 

حادث فردي، من بدوي جاهل، لم يمر دون أنْ ينكر عليه الناس، ودون أنْ يعلمه المُعَلِّمُ الرفيق، صلى الله عليه وسلم: يجعله هذا المُفتري الكذَّاب، قاعدة عامة لخُلُقِ أهل البادية! يجعل الحادثة الجزئية قاعدة كلية، وهذا آعجب أنواع الاستنباط فيما رأينا وعلمنا!

 

ولستُ أدري لماذا لم يستنبط أيضاً من هذه الحادثة الفردية قاعدة كلية أخرى: أنَّ من خُلُقِ أهل البادية إذا دخلوا مسجداً، أو حضروا جمعاً عظيماً من الناس أنْ يُبادروا إلى البول في المسجد، أو في حضرة الناس! حتى يكون هذا المُسْتَشْرِق منطقياً مع نفسه، والأعرابي صاحب الحادثة صنع الأمرين!.

--------------------------------------------

(1) الترجمة العربية: 16.
আরবি গ্রন্থাবলি, বিশেষ করে প্রাচীন রচনাগুলোর অনুসন্ধান এবং সেগুলোর মধ্যে দুর্লভ ও পাণ্ডুলিপিগুলোর অবস্থানের নির্দেশ প্রদান।

 

সেই প্রাচ্যবিদ, যাঁকে আমরা তাঁর অন্যান্য প্রাচ্যবিদ সহকর্মীদের তুলনায় উচ্চতর ও সংকীর্ণতামুক্ত মনে করতাম, তিনি "ইসলামি জাতিসমূহের ইতিহাস" নামে আরও একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। বৈরুতের দুই জন অধ্যাপক—ডক্টর নাবিহ আমিন ফারিস এবং উস্তাদ মুনির আল-বালাবাকি এটি অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থটি পাঁচ খণ্ডে বিভক্ত এবং বৈরুতে মুদ্রিত হয়েছে। এর প্রথম খণ্ড ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

 

এই ব্যক্তি, যাঁকে আমরা বুদ্ধিমান বলে মনে করতাম! তিনি তাঁর গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে (১), যখন ইসলাম-পূর্ব আরব ভূখণ্ড এবং জাযিরাতুল আরবের উত্তরাঞ্চলের সামাজিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন, তখন আক্ষরিকভাবে বলেন:

«মরুবাসী আরব বা বেদুঈনরা চরম ব্যক্তিবাদী এবং সর্বাগ্রে অতিমাত্রায় অহংবোধে আচ্ছন্ন। আজও কিছু হাদিস ইসলামে দীক্ষিত আরবরা তাদের নামাজে এই দোয়া করার অনুমতি দেয়: ‘হে আল্লাহ, আপনি আমার এবং মুহাম্মাদের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের সাথে অন্য কারো প্রতি রহম করবেন না’!»

 

আরবি কিতাবাদি এবং ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডারে ব্যাপক প্রজ্ঞাসম্পন্ন এই ব্যক্তি এমনটিই বলছেন! তিনি আরবি ভাষার ব্যবহারে অজ্ঞ নন এবং তিনি যা পাঠ করেন তার অর্থ সম্পর্কেও অসচেতন নন। অথচ হাদিসের কিতাবসমূহ বা সুন্নাহর গ্রন্থাবলিতে পূর্ণাঙ্গ হাদিসটি তাঁর চোখের সামনেই বিদ্যমান, তিনি সেখান থেকে মাত্র একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন এবং তার আগে-পিছনের বর্ণনা বাদ দিয়েছেন! এই ব্যক্তির বক্তব্যই প্রমাণ করে যে, তাঁর অন্তর বিদ্বেষ ও ক্রুসেডীয় গোঁড়ামিতে পূর্ণ এবং এটি তাঁর দৃষ্টি ও বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

 

এক মূর্খ বেদুঈনের ব্যক্তিগত একটি ঘটনা, যা মানুষের প্রতিবাদ এবং দয়ালু শিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা প্রদান ব্যতিরেকে অতিবাহিত হয়নি—সেটিকে এই অপবাদদানকারী চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) মরুবাসীদের চরিত্রের সাধারণ মূলনীতিতে পরিণত করেছে! সে একটি আংশিক ঘটনাকে সার্বিক নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। আমাদের দেখা ও জানা মতে এটি ইস্তিমবাত বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর রূপ!

 

আর আমি জানি না কেন তিনি এই ব্যক্তিগত ঘটনাটি থেকে আরেকটি সার্বিক মূলনীতি উদ্ভাবন করলেন না যে—মরুবাসীদের চরিত্র হলো তারা যখন মসজিদে প্রবেশ করে অথবা মানুষের বড় কোনো সমাবেশে উপস্থিত হয়, তখন তারা মসজিদে অথবা মানুষের সামনেই প্রস্রাব করতে শুরু করে! এটি করলে অন্তত এই প্রাচ্যবিদের যুক্তি নিজের সাথে সংগতিপূর্ণ হতো, কারণ সেই ঘটনার নায়ক গ্রাম্য আরব্য ব্যক্তিটি তো উভয় কাজই করেছিলেন!

--------------------------------------------

(১) আরবি অনুবাদ: ১৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولم يكتف هذا المُسْتَشْرِق بما أبدى من ذكاء وأمانة! فافترى على الإسلام الكذب الصراح، حين زعم أنه لا تزال بعض الأحاديث تسمح للعربي الداخل في الإسلام أنْ يدعو بهذا في صلاته! أهذا صحيح أم كذب؟!

 

وإنْ أَعْجَبُ فَعَجَبٌ أنْ يَدَعَ الدكتور عمر فروخ التعليق على كلام هذا المُسْتَشْرِقِ الكذَّاب! وأنْ يقتصر الأستاذان مُعَرِّبَا الكتاب على التعليق ببيان موضع الحديث في بعض كُتُبِ السُنَّةِ، نقلاً عن فهارس المُسْتَشْرِقِينَ!

 

نعم، فقد ذكر المُتَرْجِمَانِ، في مقدمة الترجمة (1) أنه إذا كان في الكتاب بضعة آراء خاصة بالمؤلف تتنافى أحياناً مع وجهة النظر الإسلامية، فقد عهدنا بالتعليق إلى زميلنا الدكتور عمر فروخ، أستاذ الفلسفة في كلية المقاصد الإسلامية في بيروت، وعضو المجمع العلمي بدمشق، وأنهما ليسا في حاجة إلى القول أنَّ هذا لا يفيد بالضرورة موافقتنا المؤلف على آرائه الباقية جميعاً، لأنَّا لم نستهدف بالتعليق إلَاّ تلك الآراء التي تتَّصل بحياة الرسول وتعاليم الإسلام.

 

أفلم يقرأ الأستاذان المُتَرْجِمَانِ هذا الحديث في مصادره التي أشارا إليها حين الترجمة والتعليق؟ إِذْ أكاد أثق أنهما قرآهُ، حين ترجما نص الدعاء ترجمة صحيحة، وما أظنُّ أنهما كانا حافظين لنصِّه في الذاكرة من قبل، ولوكان لكان أبعد لهما من العذر!

 

أولم يعرفا ولم يعرف الدكتور عمر فروخ، من بَدَائِهِ دينهم، أنه لا يعقل عقلاً أنَّ بعض الأحاديث لا تزال تسمح للعربي الداخل في الإسلام بهذا الدعاء؟ إ

--------------------------------------------

(1) المقدمة: ص 7.
এই প্রাচ্যবিদ তার বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্বস্ততার যে পরিচয় দিয়েছেন তাতেই ক্ষান্ত হননি! বরং তিনি ইসলামের নামে নির্জলা মিথ্যাচার করেছেন, যখন তিনি দাবি করেছেন যে এখনও কিছু হাদিস ইসলামে নবাগত আরবের জন্য তার নামাজে এই দোয়া করার সুযোগ দেয়! এটি কি সঠিক (صحيح) নাকি মিথ্যা?!

 

আমি যদি বিস্মিত হই, তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে ডক্টর ওমর ফাররুখ এই মিথ্যাবাদী (الكذاب) প্রাচ্যবিদের বক্তব্যের ওপর কোনো মন্তব্য করা পরিহার করেছেন! আর বইটির অনুবাদক দুই শিক্ষক প্রাচ্যবিদদের নির্ঘণ্ট থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সুন্নাহর কিছু কিতাবে হাদিসটির অবস্থান বর্ণনার মাধ্যমেই তাদের মন্তব্য সীমাবদ্ধ রেখেছেন!

 

হ্যাঁ, অনুবাদকদ্বয় অনুবাদের ভূমিকায় (১) উল্লেখ করেছেন যে, যদি বইটিতে লেখকের নিজস্ব কিছু অভিমত থাকে যা কখনো কখনো ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে আমরা তার ওপর মন্তব্যের দায়িত্ব আমাদের সহকর্মী বৈরুতের মাকাসিদ ইসলামিয়া কলেজের দর্শনের অধ্যাপক এবং দামেস্কের বৈজ্ঞানিক একাডেমির সদস্য ডক্টর ওমর ফাররুখের ওপর অর্পণ করেছি। তারা আরও বলেছেন যে, এটি বলার প্রয়োজন নেই যে এর মাধ্যমে লেখকের অন্যান্য সকল মতামতের সাথে আমাদের একমত হওয়া আবশ্যক হয় না, কারণ আমরা মন্তব্যের মাধ্যমে কেবল সেই সকল মতামতের প্রতি লক্ষ্য রেখেছি যা রাসূলের জীবন ও ইসলামের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট।

 

অনুবাদক শিক্ষকদ্বয় কি এই হাদিসটি এর সেই উৎসসমূহে পাঠ করেননি যেগুলোর দিকে তারা অনুবাদ ও টীকা প্রদানের সময় ইঙ্গিত করেছেন? আমার প্রায় পূর্ণ বিশ্বাস যে তারা এটি পাঠ করেছেন যখন তারা দোয়ার মূলপাঠের সঠিক অনুবাদ করেছেন। আমার মনে হয় না যে তারা এর পাঠ পূর্বে স্মৃতিতে সংরক্ষণ করেছিলেন, আর যদি তা-ই হতো তবে তাদের ওজর বা অজুহাত দেখানোর সুযোগ আরও কমে যেত!

 

তারা কি জানতেন না এবং ডক্টর ওমর ফাররুখও কি জানতেন না—যা তাদের দ্বীনের মৌলিক ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়—যে বিচারবুদ্ধিতে এটি অসম্ভব যে কিছু হাদিস ইসলাম গ্রহণকারী আরবের জন্য এখনও এই দোয়ার অনুমতি দেয়?

--------------------------------------------

(১) ভূমিকা: পৃষ্ঠা ৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الفصل الثاني: شُبُهَات حول‌‌ مفهوم السُنَّة وتدوينها:

‌‌تمهيد:

أثار المُسْتَشْرِقُونَ شُبُهَاتٍ حول مفهوم السُنَّة والحديث، تدعونا إلى بيان هذه الشُبُهَات ودحض ما ذهبوا إليه، ومن ثَمَّ كان لَا بُدَّ في المقدمة من بيان المفهوم لغةً واصطلاحاً.

 

مَفْهُومُ السُنَّة:

يطلق لفظ السُنَّة لغةً على الطريقة والسيرة حسنةً كانت أوسيئةً (1) .. وخَصَّهَا بعضُهُم بالطريقة الحسنة .. قال الأزهري: والسُنَّة: الطريقة المستقيمة المحمودة، ولذلك قيل: فلان من أهل السُنَّة (2). وقال الخطَّابي: إنَّ السُنَّة في اللُّغة الطريقة المحمودة خاصة (3).

قلت: الأول راجح لغة والثاني مرجوح، ففي الحديث الذي رواه مسلم وغيره عن جرير بن عبد الله أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا،

--------------------------------------------

(1) " لسان العرب "، و " القاموس المحيط "، و" الصحاح "، و " المعجم الوسيط " (سنن) و " كشاف اصطلاحات الفنون ": ص 403.

(2) " تهذيب اللغة ": 4/ 298.

(3) " إرشاد الفحول ": ص 33.
‌দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর ধারণা ও এর সংকলন বিষয়ক সংশয়সমূহ (شبهات):

‌‌ভূমিকা:

প্রাচ্যবিদরা (المستشرقون) সুন্নাহ ও হাদিসের ধারণা নিয়ে কিছু সংশয় (شبهات) উত্থাপন করেছেন, যা আমাদের এই সংশয়গুলো স্পষ্ট করতে এবং তাদের দাবিগুলোকে খণ্ডন করতে আহ্বান জানায়। তাই ভূমিকার শুরুতে শাব্দিক (لغةً) এবং পারিভাষিক (اصطلاحاً) দৃষ্টিকোণ থেকে এর ধারণা স্পষ্ট করা অপরিহার্য।

 

সুন্নাহর ধারণা:

আভিধানিকভাবে ‘সুন্নাহ’ শব্দটি পদ্ধতি ও জীবনপদ্ধতি (سيرة) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা ভালো (حسنة) হোক কিংবা মন্দ (سيئة) (১)। কেউ কেউ একে কেবল উত্তম পদ্ধতির সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। আল-আযহারী বলেছেন: সুন্নাহ হলো সোজা ও প্রশংসিত পদ্ধতি; আর এ কারণেই বলা হয়: অমুক ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) অন্তর্ভুক্ত (২)। আল-খাত্তাবি বলেছেন: অভিধানে সুন্নাহ কেবল প্রশংসিত পদ্ধতিকেই বোঝায় (৩)।

আমি (লেখক) বলছি: শাব্দিক অর্থে প্রথম মতটিই প্রাধান্যযোগ্য (راجح) এবং দ্বিতীয়টি অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوح)। সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে জারির বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করল, তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে এবং পরবর্তীতে যারা এর ওপর আমল করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে, তবে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যতমও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি (سنة سيئة) প্রবর্তন করল, তার ওপর তার পাপ বর্তাবে...»

--------------------------------------------

(১) "লিসানুল আরব", "আল-কামুস আল-মুহিত", "আস-সিহাহ", "আল-মুজাম আল-ওয়াসিত" (মূলধাতু: স-ন-ন) এবং "কাশশাফু ইস্তিলাইহাতিল ফুনুন": পৃষ্ঠা ৪০৩।

(২) "তাহযিবুল লুগাহ": ৪/২৯৮।

(৩) "ইরশাদুল ফুহুল": পৃষ্ঠা ৩৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ» (1).

 

وفي رواية للشيخين عن أبي سعيد الخُدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ» قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ؟» (2).

 

قال ابن حجر: (سَنَنَ) بفتح السين للأكثر، وقال ابن التين: قرأناهْ بضمها.

وقال المهلب: بالفتح أولى، لأنه الذي يستعمل فيه الذراع والشبر، وهو الطريق (3).

 

وفي الاصطلاح يختلف معناها حسب اختلاف مناهج العلماء .. حيث اصطبغت في الإسلام صبغة أكسبتها معاني، استمدَّ كل فريق من علماء الإسلام المدلول الخاص به من تلك الصبغة، إذ إنها من الكلمات التي خصَّصها المفهوم الإسلامي عن معناها اللغوي المطلق (4).

 

فقد استعملت بمعنى تعاليم الشريعة الإسلامية، وعلى هذا المعنى تشمل كافة التعاليم الواردة في القرآن والحديث، أو المستنبطة منهما مِمَّا هو حُجَّةٌ، ويحمل على هذا المعنى ما جاء من الأخبار والآثار التي تَحُثُّ على التزام تعاليم الشريعة، وعدم التفريط فيها، وكذلك الأحاديث التي تُبَيِّنُ أحكاماً معيَّنة لحوادث وقعت، أو تظهر الأمر الذي كان عليه عمل النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه عند مخالفة

--------------------------------------------

(1) " صحيح مسلم ": 2 ا، الزكاة 69 (1017) وفيه قصة، و " سُنن الدارمي ": 1: 130، و " مسند أحمد ": 4/ 357، 358 - 362، و " سُنن النسائي ": 5/ 75، 76، و " سُنن ابن ماجه ": المقدمة (203)، و " الترمذي ": 42 - العلم (2675) بلفظ: «مَنْ سَنَّ سُنَّةَ خَيْرٍ فَاتُّبِعَ عَلَيْهَا فَلَهُ أَجْرُهُ وَمِثْلُ أُجُورِ مَنْ اتَّبَعَهُ، غَيْرَ مَنْقُوصٍ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا، وَمَنْ سَنَّ سُنَّةَ شَرٍّ فَاتُّبِعَ عَلَيْهَا كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهُ وَمِثْلُ أَوْزَارِ مَنْ اتَّبَعَهُ، غَيْرَ مَنْقُوصٍ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْئًا».

(2) " البخاري ": 96، الاعتصام (7320)، و " مسلم ": 47، العلم 6 (2669)، وانظر: " منحة المعبود ": 1/ 40 - 41.

(3) " فتح الباري ": 13/ 301.

(4) " الوضع في الحديث ": 1/ 31 وما بعدها بتصرف.
এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের বোঝা, তাদের পাপ হতে কোনো কিছু কম করা ছাড়াই (১)।

 

এবং শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) নিকট হতে একটি বর্ণনায় (رواية) আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত এবং হাত হাত অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো সন্ডার গর্তে প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে» আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি ইহুদি ও খ্রিস্টান? তিনি বললেন: «তবে আর কারা?» (২)।

 

ইবনে হাজার বলেছেন: অধিকাংশের মতে (সানানা) শব্দটি 'সীন' বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে পঠিত। ইবনে তীন বলেছেন: আমরা এটি দাম্মাহ (পেশ) যোগে (সুনানা) পড়েছি।

মুহাল্লাব বলেছেন: ফাতহা যোগে পড়া অধিক যুক্তিযুক্ত, কারণ এটিই বিঘত ও হাতের বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো পথ (৩)।

 

এবং পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে ওলামায়ে কেরামের কর্মপদ্ধতির ভিন্নতা অনুযায়ী এর অর্থ পৃথক হয়... যেখানে ইসলামে এটি এমন এক রং লাভ করেছে যা একে বিশেষ অর্থ প্রদান করেছে। ইসলামী পণ্ডিতগণের প্রতিটি দল সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য থেকে তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য বের করেছেন। কারণ এটি এমন একটি শব্দ যাকে ইসলামি ধারণা এর নিরঙ্কুশ শাব্দিক অর্থ থেকে পৃথক করে বিশেষায়িত করেছে (৪)।

 

এটি ইসলামী শরীয়াহর শিক্ষার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অর্থ অনুযায়ী, এটি কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত সমস্ত শিক্ষা অথবা সেই দুটি থেকে উদ্ভাবিত শিক্ষাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে যা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে সেই সকল সংবাদ (أخبار) ও নিদর্শন (آثار) এর মর্ম বহন করে যা শরীয়াহর বিধান পালনে উৎসাহিত করে এবং এতে অবহেলা না করার তাগিদ দেয়। একইভাবে ঐ হাদিসগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত যা নির্দিষ্ট ঘটনার জন্য বিশেষ বিধান বর্ণনা করে অথবা নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণের কর্মপদ্ধতিকে ফুটিয়ে তোলে যখন কোনো বিরোধিতা দেখা দিত

--------------------------------------------

(১) "সহীহ মুসলিম": ২/১, যাকাত ৬৯ (১০১৭) এতে একটি ঘটনা রয়েছে, এবং "সুনান দারেমী": ১/১৩০, এবং "মুসনাদ আহমদ": ৪/৩৫৭, ৩৫৮-৩৬২, এবং "সুনান নাসাঈ": ৫/৭৫, ৭৬, এবং "সুনান ইবনে মাজাহ": মুকাদ্দিমা (২০৩), এবং "তিরমিযী": ৪২-ইলম (২৬৭৫) এই শব্দে: «যে ব্যক্তি উত্তম কোনো রীতিনীতির (سُنَّةَ خَيْرٍ) প্রচলন করল যা পরবর্তীতে অনুসরণ করা হলো, তবে তার জন্য তার প্রতিদান রয়েছে এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছে তাদের অনুরূপ প্রতিদানও রয়েছে, তাদের প্রতিদান হতে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতিনীতির (سُنَّةَ شَرٍّ) প্রচলন করল যা পরবর্তীতে অনুসরণ করা হলো, তবে তার ওপর তার পাপের বোঝা রয়েছে এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছে তাদের অনুরূপ পাপের বোঝাও রয়েছে, তাদের পাপের বোঝা হতে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।»

(২) "বুখারী": ৯৬, আল-ইতিসাম (৭৩২০), এবং "মুসলিম": ৪৭, ইলম ৬ (২৬৬৯), এবং দেখুন: "মিনহাতুল মাবুদ": ১/৪০-৪১।

(৩) "ফাতহুল বারী": ১৩/৩০১।

(৪) "আল-ওয়াদু ফিল হাদিস": ১/৩১ এবং পরবর্তী অংশ পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ذلك - فكلها تستعمل السُنَّة بمعنى تعاليم الشريعة .. والأدلَّة على ذلك كثيرة (1).

 

وفي كثير من الأحاديث جاءت كلمة السُنَّة في مقابلة القرآن أو معطوفة على كلمة الكتاب، والمقابلة والعطف يقتضيان المغايرة غالباً، فمن الطبيعي أنْ تحمل على معنى مُسْتَقِلٍّ يغاير المعنى الأول - الذي هو تعاليم الشريعة وقد فُسِّرَ بالوحي غير المَتْلُوِّ، وغير المُعْجِزِ الذي كان ينزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم، والذي عرف لدى العلماء بالحديث.

 

وهذا التفسير أَخَصُّ من التفسير الأول .. ويمكن القول بأنه متى اجتمعا افترقا، وحيث يكتفى بذكر السُنَّة تشمل الاثنين معاً، وقد جاءت الأحاديث بالمعنى الثاني كما جاءت بالمعنى الأول ..

 

بهذين المعنيين عرفت كلمة السُنَّة في الرعيل الأول، وبهما اصطبغت الكلمة في المفهوم الإسلامي في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وعصر الصحابة، والتابعين، ثم بدأت تأخذ مفهوماً أَخَصَّ، حيث إنَّ علماء التشريع الإسلامي بدأت نظراتهم تختلف في مدلول كلمة السُنَّة تَبَعاً لاختلاف الموضوع الذي يَحُثُّ فيه كل فريق منهم ..

 

فهي عند المُحَدِّثِينَ - على ما ذهب إليه جمهورهم: أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته، وصِفَاتِهِ الخَلْقِيَّةِ والخُلُقِيَّةِ، وسِيَرِهِ ومغازيه، وبعض أخباره قبل البعثة، مثل تَحنُّثِهِ في غار حراء، وحُسْنُ سِيرَتِهِ، وأنه كان أُمِيًّاً، وما إلى ذلك من صفات الغير وحُسْنُ الخُلُقِ (2).

 

وتعريفهم هذا مَبْنِيٌّ على عنايتهم بإثبات (3) وتصحيح كل ما يتَّصِل بالنبي صلى الله عليه وسلم من أقوال أو أفعال، أو تقريرات، وخُلُقٍ وسيرةٍ، وشمائل، وأخبار، سواء أثبتت أحكاماً شرعية أولا .. وهو مستمدٌّ من تفسير السلف للسُنَّة بأنها آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم ..

--------------------------------------------

(1) انظر: المرجع السابق.

(2) " الحَدِيثُ والمُحَدِّثُونَ ": ص 10، وانظر " مجموع فتاوى " شيخ الإسلام ابن تيمية: 10/ 18، و " إرشاد الفحول ": ص 33، و " السُنّة قبل التدوين ": ص 16، و " السُنَّة ومكانتها في التشريع ": ص 59، و " السُنَّة النبوية ومكانتها " عباس متولى حمادة: ص 23.

(3) " الوضع في الحديث ": 1/ 37 بتصرف.
এগুলো—সুতরাং এই সবক্ষেত্রেই 'সুন্নাহ' (السنة) শব্দটি শরিয়তের শিক্ষা (تعاليم الشريعة) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে... এবং এর সপক্ষে অসংখ্য দলিল (الأدلة) বিদ্যমান (১)।

 

অনেক হাদিসে 'সুন্নাহ' (السنة) শব্দটি কুরআনের বিপরীতে অথবা 'কিতাব' শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে এসেছে। বৈপরীত্য এবং সংযোজন সাধারণত অর্থের ভিন্নতা দাবি করে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে একে একটি স্বতন্ত্র অর্থে গ্রহণ করা হবে যা প্রথম অর্থের—অর্থাৎ শরিয়তের শিক্ষার—চেয়ে ভিন্ন। একে অপঠিত ওহি (الوحي غير المتلو) এবং মুজিজা নয় এমন ওহি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো এবং যা আলেমদের নিকট 'হাদিস' হিসেবে পরিচিত।

 

এই ব্যাখ্যাটি প্রথম ব্যাখ্যার তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট (أخص)। বলা যেতে পারে যে, যখন এই শব্দ দুটি একত্রে আসে তখন তারা ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে; আর যেখানে কেবল 'সুন্নাহ' (السنة) উল্লেখ করা হয়, সেখানে তা উভয় অর্থকেই শামিল করে। প্রথম অর্থের ন্যায় হাদিসগুলো দ্বিতীয় অর্থ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে...

 

এই উভয় অর্থেই প্রথম যুগের শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের নিকট 'সুন্নাহ' (السنة) শব্দটি পরিচিত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ, সাহাবি (الصحابة) ও তাবেয়িদের (التابعين) যুগে ইসলামী ধারণায় শব্দটি এই অর্থেই রঞ্জিত ছিল। এরপর এটি আরও সুনির্দিষ্ট (أخص) অর্থ গ্রহণ করতে শুরু করে, কারণ ইসলামী শরিয়ত বিশেষজ্ঞগণের (علماء التشريع) দৃষ্টিভঙ্গি তাদের প্রত্যেকের গবেষণার বিষয়ের ভিন্নতা অনুযায়ী 'সুন্নাহ' শব্দের তাৎপর্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতে থাকে...

 

মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট—তাদের অধিকাংশের (جمهور) মত অনুযায়ী—সুন্নাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা (أقوال), কাজ (أفعال), মৌনসম্মতি (تقريرات), তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (صفاته الخلقية والخلقية), তাঁর জীবনী (سير) ও যুদ্ধাভিযান (مغازي) এবং নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বের কিছু সংবাদ, যেমন হেরা গুহায় তাঁর ইবাদত সাধনা (تحنث), তাঁর সুন্দর জীবনচরিত, এবং তিনি নিরক্ষর ছিলেন—এরূপ অন্যান্য গুণাবলি ও উত্তম চরিত্র (২)।

 

তাদের এই সংজ্ঞাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত সকল কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقريرات), চরিত্র, জীবনী, গুণাবলি (شمائل) ও সংবাদসমূহ সাব্যস্তকরণ (إثبات) এবং বিশুদ্ধতা নিরূপণের (تصحيح) প্রতি তাদের বিশেষ মনোযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; চাই তা দ্বারা কোনো শরয়ি বিধান (أحكام شرعية) প্রমাণিত হোক বা না হোক। এটি সালাফদের (السلف) দেওয়া সুন্নাহর সেই ব্যাখ্যা থেকে গৃহীত যেখানে তারা সুন্নাহকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা বা নিদর্শন (آثار) হিসেবে অভিহিত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস।

(২) "আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন": পৃষ্ঠা ১০, এবং দেখুন "মাজমুউ ফাতাওয়া" শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া: ১০/১৮, এবং "ইরশাদুল ফুহুল": পৃষ্ঠা ৩৩, এবং "আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদউইন": পৃষ্ঠা ১৬, এবং "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরি": পৃষ্ঠা ৫৯, এবং "আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা" আব্বাস মুতাওয়াল্লি হামাদাহ: পৃষ্ঠা ২৩।

(৩) "আল-ওয়াদউ ফিল হাদিস": ১/৩৭ (সংক্ষেপিত)।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وعند الأصولييِّن ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم غير القرآن من الأقوال والأفعال، وبعضهم يضيف التقرير، وبعضهم يضيف الترك، وغيرهم يضيف الهَمَّ والإشارة، ونحو ذلك، والأولى ترك ما ذكر، ما عدا الأقوال والأفعال، كما منع البيضاوي في " المنهاج "، لأَنَّ كل ما ذكر مِمَّا سواهما فهو فعل على الراجح .. ومن ادَّعَى أنَّ شيئاً مِمَّا ذكر ليس فعلاً، وأنه حُجَّةٌ، فيلزمه ذكره في التعريف (1).

 

وتعريفهم هذا مَبْنِيٌّ على عنايتهم بالدليل، ومنه السُنَّة التي أُمِرْنَا باتِّباعها. وعند الفقهاء: الطريقة المسلوكة في الدين من غير افتراض ولا وجوب، بمعنى النافلة والمندوب .. وبعضهم خَصَّ ذلك بنوع من القُرْبَةِ يطلق على ما داوم عليه النبي صلى الله عليه وسلم من التعبُّدات، كالرواتب وصوم الاثنين والخميس، دون ما لم يُداوم عليه (2) ..

وتعريفهم هذا مَبْنِيٌّ على عنايتهم بالحُكم.

 

وعند علماء العقيدة والوعظ والإرشاد (3): ما وافقت الكتاب والحديث، وإجماع سلف الأمَّة من الاعتقادات والعبادات، وتقابلها البدعة، ومن هنا استعمل الاصطلاح المشهور: «أهل السُنَّة».

وتعريفهم هنا مَبْنِيٌّ على عنايتهم بالأعمال التعبُّدية وموافقتها للدليل، وَرَدِّ ما خالف ذلك.

 

‌‌مفهوم الحديث:

أماالحديث فإنه يطلق لغة على الجديد والخبر .. ولا يختلف معناهُ عَمَّا سبق .. وما جاء من أقوال يبدو فيها اختلافٌ في الألفاظ فهو من قَبِيلِ اختلاف العبارات لاختلاف الاعتبارات،، وليس من قَبِيلِ الاختلاف في الحقيقة، كما يتوهَّمُهُ الذين لا يمعنون النظر (4).

--------------------------------------------

(1) " أفعال الرسول صلى الله عليه وسلم ": ص 4 - 7 بتصرف.

(2) " الحَدِيثُ والمُحَدِّثُونَ ": ص 10، و " أفعال الرسول صلى الله عليه وسلم ": ص 5 - 6، و " السُنّة قبل التدوين ": ص 18.

(3) " الوضع في الحديث ": 1/ 39 بتصرف.

(4) " توجيه النظر ": ص 2 - 3.
উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليون) মতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কুরআন ব্যতিত যা কিছু কথা (أقوال) ও কাজ (أفعال) হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে তাই সুন্নাহ। তাঁদের কেউ কেউ এর সাথে মৌন সম্মতি (تقرير), কেউ বর্জন (ترك), আবার কেউ সংকল্প (هم) ও ইঙ্গিত (إشارة) ইত্যাদিকে যুক্ত করেছেন। তবে আল-বায়যাভী তাঁর 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, সে অনুযায়ী কথা ও কাজ ব্যতিত অন্য বিষয়গুলো বর্জন করাই উত্তম। কারণ রাজেহ বা বিশুদ্ধতম (الراجح) মতানুসারে কথা ও কাজ ব্যতিত যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত কাজেরই (فعل) অন্তর্ভুক্ত। আর কেউ যদি দাবি করেন যে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনোটি কাজ নয় বরং তা একটি দলিল (حجة), তবে সংজ্ঞার মধ্যে তা উল্লেখ করা তাঁর জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে (১)।

 

তাঁদের এই সংজ্ঞাটি দলিলের (الدليل) প্রতি গুরুত্বারোপের ভিত্তিতে প্রণীত, যার অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সুন্নাহ যা অনুসরণের জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ফকিহদের (الفقهاء) মতে: সুন্নাহ হলো ধর্মের ক্ষেত্রে অনুসৃত এমন পথ যা ফরজ (افتراض) বা ওয়াজিব (وجوب) নয়, বরং নফল (نافلة) ও পছন্দনীয় (مندوب) অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাঁদের কেউ কেউ একে এমন এক প্রকার ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করতেন, যেমন: সুন্নতে মুয়াক্কাদা (الرواتب) এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা। তবে যা তিনি নিয়মিত করতেন না, তা এর অন্তর্ভুক্ত নয় (২)।

তাঁদের এই সংজ্ঞাটি হুকুম বা বিধানের (الحكم) প্রতি গুরুত্বারোপের ভিত্তিতে প্রণীত।

 

আকিদা বিশেষজ্ঞ, ওয়ায়েজ ও ইরশাদকারী আলেমদের (علماء العقيدة والوعظ والإرشاد) মতে: বিশ্বাস ও ইবাদতের ক্ষেত্রে যা কিতাবুল্লাহ, হাদিস এবং উম্মতের পূর্বসূরি বা সালাফদের ঐকমত্যের (إجماع) সাথে সংগতিপূর্ণ; আর এর বিপরীত হলো বিদআত (بدعة)। এখান থেকেই প্রসিদ্ধ পরিভাষা 'আহলুস সুন্নাহ' ব্যবহৃত হয়েছে।

এখানে তাঁদের সংজ্ঞাটি ইবাদতগত আমলসমূহ এবং দলিলের (الدليل) সাথে সেগুলোর সামঞ্জস্য বিধান ও দলিল-পরিপন্থী বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যানের প্রতি গুরুত্বারোপের ভিত্তিতে প্রণীত।

 

‌‌হাদিসের ধারণা:

আভিধানিক অর্থে হাদিস নতুন এবং সংবাদ (الخبر) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ পূর্বে বর্ণিত সুন্নাহর অর্থ থেকে ভিন্ন নয়। আর এ সংক্রান্ত বিভিন্ন উক্তিতে যে শাব্দিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তা মূলত দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে প্রকাশের ভিন্নতা মাত্র; এটি প্রকৃত কোনো পার্থক্য নয়, যেমনটি গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন নন এমন ব্যক্তিরা ধারণা করে থাকেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) "আফআলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম": পৃষ্ঠা ৪-৭, সংক্ষেপিত।

(২) "আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন": পৃষ্ঠা ১০, এবং "আফআলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম": পৃষ্ঠা ৫-৬, এবং "আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদউইন": পৃষ্ঠা ১৮।

(৩) "আল-ওয়াদউ ফিল হাদিস": ১/৩৯, সংক্ষেপিত।

(৪) "তাওজিহুন নাজার": পৃষ্ঠা ২-৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وحسبنا أنْ نذكر تعريفه من حيث موضوعه: هو علم يعرف به أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وأحواله.

 

وينقسم إلى قسمين: علم الحديث رواية، وعلم الحديث دراية.

أما من حيث الرواية فهو علم يشتمل على أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله، وروايتها وضبطها، وتحرير ألفاظها.

وأما من حيث الدراية فهو علم يُعْرَفُ منه حقيقة الرواية، وشروطها، وأنواعها، وأحكامها، وحال الرُواة، وشروطهم، وأصناف المرويَّات، وما يتعلق بها (1).

 

‌‌بين السُنَّة والحديث:

وبهذا يَتَبَيَّنُ أنهما مُتَرَادِفَانِ لدى غالب المُحَدِّثِينَ والأصوليين، باعتبار أنَّ كُلٍّ منهما إضافة قول أو فعل .. الخ، وأنه إذا كان هناك مِنْ تَبَاُيٍن فإنه يبدو في الإطلاق اللغوي (2)، وأنَّ الشعور بالترادف أو التقارب - على الأقل - يساور العلماء، وتذكر دواوين السُنَّة أفعال النبي صلى الله عليه وسلم مبثوثة بين أحاديثه القولية، ولم يفردها من المسلمين أحد بالرواية - فيما نعلم (3) - كما لم يفرد الأقوال أحد عن الأفعال، ولما استقرت دواوين السُنَّة المُسنَدَةِ من الصحاح والسُنن والمسانيد والمُوَطَآتِ والمُسْتَخْرَجَاتِ وغيرها، في القرن الخامس تقريباً، وبدأ عصر التجميع منها، جمع الشيخ ابن العاقولي، وهو محمد بن محمد بن عبد الله (733 - 797 هـ) كتابه " الرصف لما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من الفعل والوصف " قال في مقدمته (4): أما الأفعال فلم نر من اعتنى بجمعها مفصَّلة قبل كتابنا هذا، وإنما تذكر في أثناء الأقوال، وذلك لأَنَّ القول عندهم أدلّ من الفعل، وهو كذلك، إلَاّ أنَّ الفعل القائل زيادة تأكيد ليست للقول وحده خصوصاً، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما رواه البخاري

--------------------------------------------

(1) " تدريب الراوي ": 1/ 40 - 41.

(2) انظر " توجيه النظر ": ص 2 - 3، و " كشاف اصطلاحات الفنون ": 1/ 279.

(3) " أفعال الرسول صلى الله عليه وسلم ": ص 51 - 53 بتصرف.

(4) " الرصف لما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من الفعل والوصف ": 1/ 3.
বিষয়বস্তুর বিচারে এর সংজ্ঞা উল্লেখ করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট: এটি এমন এক বিজ্ঞান যার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম ও অবস্থাসমূহ জানা যায়।

 

এটি দুই ভাগে বিভক্ত: বর্ণনাভিত্তিক হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث رواية) এবং বিশ্লেষণধর্মী হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث دراية)।

বর্ণনাভিত্তিক (رواية) দিক থেকে এটি এমন এক বিজ্ঞান যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্মসমূহ, সেগুলোর বর্ণনা (رواية), সংরক্ষণ (ضبط) এবং শব্দমালার যথাযথ বিন্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর বিশ্লেষণধর্মী (دراية) দিক থেকে এটি এমন এক বিজ্ঞান যার মাধ্যমে বর্ণনার (رواية) প্রকৃত স্বরূপ, এর শর্তাবলি (شروط), প্রকারভেদ (أنواع), বিধানসমূহ (أحكام), বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা ও তাদের শর্তাবলি (شروط), বর্ণিত বিষয়সমূহের (مرويات) শ্রেণিবিভাগ এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি জানা যায় (১)।

 

‌‌সুন্নাহ ও হাদিসের মধ্যবর্তী পার্থক্য:

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও উসুলবিদদের নিকট এই শব্দ দুটি সমার্থক (مترادف); কেননা তাঁদের প্রত্যেকের নিকটই কোনো বাণী বা কর্ম ইত্যাদির সংযোজনই হলো হাদিস বা সুন্নাহ। আর যদি কোনো পার্থক্য থেকে থাকে তবে তা কেবল আভিধানিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয় (২)। সমার্থবোধকতা বা অন্ততপক্ষে ঘনিষ্ঠতার একটি অনুভূতি উলামায়ে কেরামের মাঝে বিদ্যমান। সুন্নাহর মূল গ্রন্থগুলোতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মসমূহ তাঁর বাচনিক হাদিসগুলোর মাঝেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের জানামতে মুসলিমদের মধ্যে কেউই কেবল কর্মসমূহ নিয়ে পৃথকভাবে কোনো বর্ণনা (رواية) সংকলন করেননি (৩)—যেমনটি বাচনিক বাণীসমূহকেও কেউ কর্মসমূহ থেকে পৃথক করেননি। যখন সহিহ, সুনান, মুসনাদ, মুওয়াত্তাত, মুস্তাখরাজাত এবং অন্যান্য সনদভিত্তিক সুন্নাহর সংকলনসমূহ মোটামুটিভাবে পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে সুসংবদ্ধ হলো এবং সেগুলো থেকে নতুন সংকলনের যুগ শুরু হলো, তখন শেখ ইবনুল আকুলি—যিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (৭৩৩ - ৭৯৭ হিজরি)—তাঁর "আর-রাসফ লিমা রুবিয়া আনিন নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাল ফিলি ওয়াল ওয়াসফ" গ্রন্থটি সংকলন করেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেন (৪): কর্মসমূহকে আমাদের এই গ্রন্থের পূর্বে বিস্তারিতভাবে সংকলন করার প্রতি কেউ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বলে আমরা দেখিনি; বরং সেগুলো বাচনিক বাণীর মাঝেই উল্লেখ করা হতো। কারণ তাঁদের নিকট কর্মের তুলনায় বাণী অধিকতর নির্দেশক (দলিল), আর বিষয়টিও তেমনই। তবে কোনো বর্ণনাকারীর কর্ম বর্ণনা করা একটি অতিরিক্ত নিশ্চয়তা প্রদান করে যা কেবল বাচনিক বাণীর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন সে সম্পর্কে ইমাম বুখারি যা বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) "তাদরিবুর রাবি": ১/ ৪০-৪১।

(২) দেখুন "তাওজিহুন নাজার": পৃষ্ঠা ২-৩, এবং "কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন": ১/ ২৭৯।

(৩) "আফআলুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম": পৃষ্ঠা ৫১-৫৩ (সংক্ষেপিত)।

(৪) "আর-রাসফ লিমা রুবিয়া আনিন নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাল ফিলি ওয়াল ওয়াসফ": ১/ ৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومسلم - رَحِمَهُمَا اللهُ - عن عاثشة رضي الله عنها قالت: صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَرَخَّصَ فِيهِ، فَتَنَزَّهَ عَنْهُ قَوْمٌ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ فَحَمِدَ اللَّهَ، ثُمَّ قَالَ: «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَتَنَزَّهُونَ عَنْ الشَّيْءِ أَصْنَعُهُ، فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُهُمْ بِاللَّهِ وَأَشَدُّهُمْ لَهُ خَشْيَةً» (1).

 

وجاء السيوطي، فأفرد الأفعال عن الأقوال .. وجاء بعده المُتَّقي الهِنْدِي، فجمع القِسْمَيْنِ من كتاب السيوطي مرة أخرى في ترتيبٍ مُخَالِفٍ (2) ..

 

‌‌شُبُهَاتٌ مُتَهَافِتَةٌ:

ومع هذا يزعم «جُولْدْتسِيهِرْ» أنَّ السُنَّة: هي جوهر العادات، وتفكير الأُمَّة الإسلامية قديماً، فهي العادة المقدَّسة والأمر الأول (3)!.

 

وأنه ما من أمر أو فعل يوصف عندهم بالفضل أو العدالة، إلَاّ إذا كان له أصل في عاداتهم الموروثة أو مُتَّفقاً معها، وهذه العادات التي تتألَّف منها السُنَّة تقوم عندهم مقام القانون أو الديانة، كما أنهم كانوا يرونها المصدر الأوحد للشريعة والدِّينِ، ويعدُّون اطراحها خطأ جسيماً، ومخالفة خطيرة للقواعد المعروفة، والتقاليد المرعية التي لا يَصِحُّ الخروج عليها، وما يصدق عن الأفعال أيضاً يصدق عن الأفكار الموروثة، والجماعة يَتَحَتَّمُ عليها أنْ لا تقبَلَ في هذا المجال شيئاً جديداً لا يتَّفق مع آراء أسلافها الأقدمين.

 

ثم يضيف قائلاً بأنَّ فكرة السُنَّة يمكن إدراجها بين الظواهر التي سمَّاها «سْبَنْسِرْ» بـ: «العواطف القائمة مقام غيرها»، وهي النتائج العضوية التي جمعتها بيئة من البيئات خلال الأجيال والأحقاب، والتي تركَّزت وتجمَّعت في غريزة وراثية تتألف منها الصِفَةُ أو الصفات التي توارثها أفراد هذه البيئة.

 

وقد نقل العرب فيما بعد فكرة السُنَّة إلى الإسلام الذي أوهم بمخالفة سُنَّتهم

--------------------------------------------

(1) " البخاري ": 78، الأدب (6101) - الاعتصام (7301)، ومسلم: 43 - الفضائل 127، 128 (2356).

(2) انظر كتابنا " الفَهَارِسْ عِنْدَ المُحَدِّثِينَ ": ص 262 وما بعدها.

(3) " المُسْتَشْرِقُونَ وَمَصَادِرِ التَشْرِيعِ الإِسْلَامِي ": ص 81 - 82. نقلاً عن " العَقِيدَةُ وَالشَرِيعَةُ ": ص 49.

.
এবং মুসলিম - আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাজ করলেন এবং তাতে অনুমতি (رخصة) প্রদান করলেন। এতে কিছু লোক তা থেকে বিরত থাকল। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেন: "সেই সব লোকদের কী হলো যারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকে যা আমি করি? আল্লাহর শপথ! আমি তাদের চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তাঁদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি।" (১)।

 

অতঃপর সুয়ূতী আসলেন, এবং তিনি কর্ম (أفعال) সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে বাণী (أقوال) সংক্রান্ত হাদিসগুলো থেকে পৃথক করলেন। তাঁর পরে আসলেন মুত্তাকী আল-হিন্দি, তিনি সুয়ূতীর কিতাবের এই দুই অংশকে ভিন্ন এক বিন্যাসে পুনরায় একত্রিত করলেন (২)।

 

‌‌অসার সংশয়সমূহ:

এতদসত্ত্বেও "গোল্ডজিহার" দাবি করেন যে, সুন্নাহ হলো প্রাচীন মুসলিম উম্মাহর চিন্তাধারা ও আচার-আচরণের সারমর্ম; এটি একটি পবিত্র প্রথা ও আদি বিষয় (৩)!

 

এবং তাঁর মতে, তাদের কাছে কোনো বিষয় বা কাজকে ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব বা ন্যায়পরায়ণতার গুণে গুণান্বিত করা হয় না, যতক্ষণ না তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অভ্যাসের মধ্যে এর কোনো মূল ভিত্তি থাকে অথবা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এই অভ্যাসগুলো তাদের কাছে আইন বা ধর্মের স্থলাভিষিক্ত ছিল। তারা এগুলোকে শরীয়াহ ও দ্বীনের একমাত্র উৎস হিসেবে গণ্য করত এবং এগুলো বর্জন করাকে তারা মারাত্মক ভুল এবং সুপরিচিত নিয়মকানুন ও পালিত ঐতিহ্যের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করত, যা থেকে বিচ্যুত হওয়া সমীচীন নয়। কাজের ক্ষেত্রে যা সত্য, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত চিন্তাধারার ক্ষেত্রেও তা সত্য; এই ক্ষেত্রে উম্মাহর জন্য আবশ্যক হলো এমন কোনো নতুন বিষয় গ্রহণ না করা যা তাদের প্রাচীন পূর্বসূরিদের মতামতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

 

এরপর তিনি আরও যোগ করেন যে, সুন্নাহর ধারণাকে সেই সব ঘটনার অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যেগুলোকে "স্পেন্সার" 'অন্যের স্থলাভিষিক্ত আবেগসমূহ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এগুলো হলো এমন কিছু কাঠামোগত ফলাফল যা কোনো এক পরিবেশ বংশপরম্পরায় ও যুগ যুগ ধরে অর্জন করেছে এবং যা একটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সহজাত প্রবৃত্তিতে পুঞ্জীভূত হয়েছে, যার মাধ্যমে সেই পরিবেশের ব্যক্তিবর্গের মাঝে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ গঠিত হয়।

 

পরবর্তীকালে আরবরা সুন্নাহর এই ধারণাকে ইসলামের দিকে স্থানান্তরিত করেছে, যা তাদের (প্রাক-ইসলামী) সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়ার বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল।

--------------------------------------------

(১) "বুখারী": ৭৮, আদাব (৬১০১) - আল-ইতিসাম (৭৩০১), এবং মুসলিম: ৪৩ - ফাদায়েল ১২৭, ১২৮ (২৩৫৬)।

(২) দ্রষ্টব্য আমাদের রচিত গ্রন্থ "আল-ফাহারিস ইনদাল মুহাদ্দিসিন": পৃষ্ঠা ২৬২ এবং পরবর্তী।

(৩) "আল-মুস্তাশরিকুন ওয়া মাসাদিরুত তাশরিয়িল ইসলামি": পৃষ্ঠা ৮১ - ৮২। "আল-আকিদাহ ওয়াশ শারীয়াহ" থেকে উদ্ধৃত: পৃষ্ঠা ৪৯।

.
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাশরিকূনা ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
القديمة، وأصبحت السُنَّة الإسلامية دعامات الفقه والتفكير في الإسلام، ولا شك أنَّ نظرية السُنَّة في الجاهلية قد أصابها تعديل جوهريٌّ عند انتقالها إلى الإسلام.

 

ففي الإسلام أصبح المسلمون لا يطالبون بإحياء السُنن الوثنية التي نُسِخَتْ معالمُها، بل بدأوا بالمأثور من المذاهب والأقوال والأفعال التي كانت لأقدم جِيلٍ من أجيال المسلمين، وأصبح أفراد هذا الجيل هم المُؤسِّسين لسُنَّة جديدة تغاير السُنَّة العربية القديمة.

 

وأخذ المسلمون من ذلك الوقت، ينهجون في حياتهم نهج الأساليب والآراء التي صَحَّ عندهم أنها من أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله، ويضعونها في المحل الأول، أو تلك التي صَحَّتْ عن الصحابة، ويضعونها في المحل الثاني (1).

 

ونقل الدكتور الأعظمي قول شَاخْتْ (2):

«إنَّ النظرية الكلاسيكية للفقه الإسلامي تُعَرِّفُ السُنَّةَ بأفعال النبي صلى الله عليه وسلم المثالية، وفي هذا المفهوم يستعمل الشافعي كلمة السُنَّة، وعنده أنَّ السُنَّة أو سُنَّةَ الرسول صلى الله عليه وسلم كلمتان مترادفتان، لكن معنى السُنَّة - على وجه الدِقَّةِ - إنما هو النظائر السابقة، ومنهج للحياة».

 

واستنتج «مَارْغُولْيُوثْ» أنَّ مفهوم السُنَّة في المجتمع الإسلامي في العصر الأول كان الأمر العُرْفِي، أو الأمر المجتمع عليه.

 

‌‌تقليد:

وإلى هذا التفسير ذهب الدكتور علي حسن عبد القادر، حيث قال (3).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق: نقلاً عن " العقيدة والشريعة ": ص 250.

(2) " دراسات في الحديث النبوي [وتاريخ تدوينه] ": ص 5 وما بعدها.

(3) " نظرة عامة في [تاريخ] الفقه الإسلامي ": ص 122 - 123 ط. العلوم، القاهرة 1361 هـ - 1942 م.
প্রাচীন; এবং ইসলামি সুন্নাহ ইসলামি ফিকহ ও চিন্তাধারার স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জাহিলিয়াত যুগের সুন্নাহর তত্ত্বটি ইসলামে স্থানান্তরের সময় একটি মৌলিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে।

 

কেননা ইসলামে মুসলিমগণ সেই পৌত্তলিক সুন্নাহসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার দাবি তোলেননি যেগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ রহিত (منسوخة) হয়ে গিয়েছিল, বরং তারা মুসলিমদের প্রথম প্রজন্মের নিকট থেকে প্রাপ্ত মা’সুর বা ঐতিহ্যগত মাযহাব, উক্তি ও কর্মসমূহ অনুসরণ শুরু করেন। এই প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গই এমন এক নতুন সুন্নাহর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যা প্রাচীন আরবীয় সুন্নাহ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।

 

এবং সেই সময় থেকেই মুসলিমগণ তাদের জীবনে এমন পদ্ধতি ও মতাদর্শ অনুসরণ করতে শুরু করেন যা তাদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্ম হিসেবে সহিহ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছিল এবং তারা সেগুলোকে প্রথম স্থানে মর্যাদা দিতেন। অথবা সেই বিষয়গুলো যা সাহাবীগণ থেকে সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছিল, সেগুলোকে তারা দ্বিতীয় স্থানে রাখতেন (১)।

 

ড. আজমী শাখত-এর উক্তি বর্ণনা করেছেন (২):

«ইসলামি ফিকহের ধ্রুপদী তত্ত্বে সুন্নাহকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ কার্যাবলি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ইমাম শাফিঈ এই অর্থেই সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁর মতে 'সুন্নাহ' বা 'রাসূলের সুন্নাহ' শব্দ দুটি সমার্থক। তবে সূক্ষ্মভাবে সুন্নাহর প্রকৃত অর্থ হলো পূর্ববর্তী নজিরসমূহ এবং জীবন পরিচালনার পদ্ধতি।»

 

'মারগোলিউথ' এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, প্রথম যুগের ইসলামি সমাজে সুন্নাহর ধারণা ছিল প্রথাগত বিষয় (عرفي) অথবা এমন বিষয় যেটির ওপর ইজমা বা ঐক্যমত (مجمع عليه) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

 

‌‌অনুকরণ (تقليد):

ড. আলী হাসান আব্দুল কাদির এই ব্যাখ্যার দিকেই গিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস: "আল-আকিদাহ ওয়াশ-শারিয়াহ" থেকে উদ্ধৃত: পৃষ্ঠা ২৫০।

(২) "দিরাসাত ফিল হাদিস আন-নাবাউয়ি [ওয়া তারিখু তাদওয়িনিহি]": পৃষ্ঠা ৫ এবং পরবর্তী অংশ।

(৩) "নাজরাহ আম্মাহ ফি [তারিখিল] ফিকহ আল-ইসলামি": পৃষ্ঠা ১২২ - ১২৩, উলুম সংস্করণ, কায়রো ১৩৬১ হিজরি - ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দ।