(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
العقيدة السلفية فى كلام رب البرية وكشف أباطيل المبتدعة الردية   (عبد الله الجديع)

القسم: العقيدة


الكتاب: العقيدة السلفية فى كلام رب البرية وكشف أباطيل المبتدعة الردية

المؤلف: عبد الله بن يوسف الجديع

الناشر: دار الإمام مالك، دار الصميعي للنشر والتوزيع

الطبعة: الثانية، 1416 هـ - 1995 م

عدد الصفحات: 450

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الآخرة 1435

সৃষ্টির প্রতিপালকের বাণীর আলোকে সালাফী আকিদাহ এবং ভ্রান্ত বিদআতিদের অসারতা উন্মোচন   (আবদুল্লাহ আল-জুদী)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: সৃষ্টির প্রতিপালকের বাণীর আলোকে সালাফী আকিদাহ এবং ভ্রান্ত বিদআতিদের অসারতা উন্মোচন

লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুদী

প্রকাশক: দারুল ইমাম মালিক, দারুস সুমাইয়্যি পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
العقيدة السلفية

فى كلام رب البرية

وكشف أباطيل المبتدعة الردية

 

تأليف

عبد الله بن يوسف الجديع

 

دار الإمام مالك

دار الصميعي للنشر والتوزيع
সালাফি আকীদা

সৃষ্টিজগতের রবের বাণীর বর্ণনায়

এবং নিকৃষ্ট বিদআতীদের বাতিল মতবাদসমূহের উন্মোচন

 

রচনা

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুদিয়্যি

 

দারুল ইমাম মালিক

দারুস সুমাইয়ি প্রকাশনী ও পরিবেশনী
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الثانية

1416هـ - 1995مـ

 

دار الإمام مالك

الرياض - هاتف: 4240235

ص ب: 32503 - الرمز البريدي: 11438

المملكة العربية السعودية

 

دار الصميعى للنشر والتوزيع

هاتف وفاكس: 4262945

الرياض - السويدى - شارع السويدي العام

ص. ب: 4967 - الرمز البريدى 11412

المملكة العربية السعودية
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল ইমাম মালিক

রিয়াদ - টেলিফোন: ৪২৪০২৩৫

পি.ও. বক্স: ৩২৫০৩ - পোস্টাল কোড: ১১৪৩৮

সৌদি আরব রাজতন্ত্র

 

দারুস সুমাইয়ী প্রকাশনা ও বিতরণ

টেলিফোন ও ফ্যাক্স: ৪২৬২৯৪৫

রিয়াদ - আস-সুওয়াইদি - আস-সুওয়াইদি সাধারণ সড়ক

পি.ও. বক্স: ৪৯৬৭ - পোস্টাল কোড: ১১৪১২

সৌদি আরব রাজতন্ত্র
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مدخل

وفيه أربعة أمور:

= مقدمة الطبعة الثانية.

= مقدمة الكتاب.

= التنبيه على مسائل يحتاج إليها قبل الشروع فى المقصود.

= مجمل خطة تأليف الكتاب.
ভূমিকা

এতে চারটি বিষয় রয়েছে:

= দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা।

= গ্রন্থের ভূমিকা।

= মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে প্রয়োজনীয় মাসআলাসমূহের ব্যাপারে সতর্কতা।

= গ্রন্থ রচনার পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

إنَّ الحمدَ لله ، نحمَدُهُ ونستعينُه ونستهديه، ونعوذ بالله من شُرور أنفُسِنا وسيَّئاتِ أعمالِنا، مَن يَهْدِه اللهُ، فَلَا مُضِلَّ له، ومن يُضْلِل؛ فلا هاديَ له.

وَأشْهَدُ أن لا إِلهَ إِلَاّ اللهُ وحدَه لا شَريكَ لهُ، وأشْهَدُ أن محمَّداً عبْدُهُ ورَسُولُهُ، صلى الله عليه وسلم تَسليماً كثيراً.

أما بعدُ:

فلقد كان في حُسباني قبلَ صُدور الطبعة الأولى من هذا الكتاب أنَّهُ سَيُسَرُّ به أناسٌ، ويستاءُ منه آخرون، وذلكَ ما حَصل.

أمَّا السُّرور، فكان لأهلِ السُّنَّةِ ، لِمَا وجَدوا فيه من نَصْرِ اعتقادِ السَّلَفِ والأئمَّةِ من أهلِ السُّنَّةِ والجماعةِ، وإبْطالِ البدَعِ في مسألةِ كلامِ الله التي هي أخطرُ مسائل الخِلافِ في الاعتقادِ بينَ أهَلِ القبلةِ، ولِما رأوْا فيه من الاجتهاد في جمع الأدلَّة وتحريرِها وشرحِها وبيانِها، ودَحْضِ الشُّبَةِ وأباطيلِ المبتدِعَةِ، مِمَّا توالَت بسبَبهِ من بعدُ إشاراتُ عديدٍ من أهلِ العلمِ والفَضْلِ عليَّ بالكتابةِ على لهذا النَّحو في سائر مسائل الاعتقادِ، خاصَّةً
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট হেদায়াত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়াত দেওয়ার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর প্রতি আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে আমার ধারণায় ছিল যে, এটি দেখে কিছু মানুষ আনন্দিত হবে এবং অন্যরা অসন্তুষ্ট হবে; আর বাস্তবে তা-ই ঘটেছে।

আনন্দের কারণ ছিল আহলে সুন্নাতের জন্য; কারণ তারা এতে সালাফ এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণের আকিদার সমর্থন খুঁজে পেয়েছে। পাশাপাশি এতে আল্লাহর কালাম (কথা বলা) সংক্রান্ত মাসআলায় বিদআতকে বাতিল করা হয়েছে, যা কিবলার অনুসারীদের মধ্যে আকিদাগত মতভেদের বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া তারা এতে দলীলসমূহ সংগ্রহ, সেগুলোর বিন্যাস, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং বিদআতীদের সংশয় ও অসারতা খণ্ডনে যে ইজতিহাদ বা প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছেন (তাতে তারা আনন্দিত হয়েছেন)। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে ইলম ও ফযীলতের অধিকারী অনেক ব্যক্তি আকিদার অন্যান্য বিষয়েও এই পদ্ধতিতে লেখার জন্য আমাকে ক্রমাগত পরামর্শ দিতে থাকেন, বিশেষ করে
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
المسائل الكبار، كمسألة إثبات العلوَّ، والرُّؤْيةِ، والقَدَر، وشِبهِها، ولَقِيَ الكتابُ في أنفُسِهم قَبولاً، فعوَّلوا عليه، وأشاروا به.

وهذا كُلُّه من فضلِ الله تعالى ومَنَّهِ، فله الحمدُ وحدَه، وهو المسؤولُ أن يُوفِّقَ للسَّدادِ والصَّواب في الاعتقاد والقولِ والعمل.

وأمَّا الاستياءُ؛ فكان من أهلِ البِدْعةِ، فضاقَت صُدورُهم به ذَرْعاً،

وليسَ بضارَّني أن ينقِمَ عَلَىَّ مُبْتَدعٌ، فَذلكً سَبيلُهم، ولكن حَسبي من ذلكَ نَصرُ الشَّريعةِ والسُّنَّة.

أمَّا هؤلاءِ، فأذَكِّرُهم بالله تعالى، وأقولُ: اتَّقوا اللهَ، وراجِعوا اعتقاداتِكُم، وصَوَّبوها بالأدلَّةِ والبَرَاهين لا بالتَّقليد، وتابعوا السَّلَفَ تَسْلَموا وتَغنَموا، ولا تغَرَّنَّكم جَلالةُ مُتَّبَعٍ فَتتَّبِعوهُ في الخطإِ، فَإنَّكم بذلكَ تُزْرونَ بالسَّلَفِ الذينَ هم أولي بالاتِّباعِ منهُ، وتُزْرونَ بأعيانِ الأئمَّةِ، كالأربعةِ السّادَةِ الفقهاءِ وغيرِهم، وإنِ ارتضَيْتُم مذاهبَهم في الفروعِ، فحريٌّ بكم ارتضاؤها في الأصولِ، وان كُنتم رأيتُم من صَنيعي هَدْمَ ما تربيتُم عليهِ سنين، فلأن تعودوا للصَّواب خيرٌ من تَماديكُم في الباطل وإقامَتِكم عليه، وتَدارُكُ أنفُسِكم بتقويمِ اعتقَاداتِكم وسلوكِ جادَّة السَّلَفِ خيرٌ لكم من أن تَلْقَوا رَبَّكم تعالى بانحرافِ العَقيدةِ.

ثُمَّ بَعدُ، فإنْ كانَ لكم علمٌ، فقولوهُ، وإلا، فالصَّمتُ خيرٌ لكم، واعلَموا أنَّ صَدْري يتَّسعُ لخلافِكم، فاكتبوا لي وناقِشوا وناظِروا، والله يهدي من يشاءُ إلى صراطٍ مُستقيم.

وهناك طَرَفٌ ثالثٌ أشرتُ إليه في مقدِّمة الكتاب الأولى، تُهمُّهم مَصائبُ المسلمينَ في المَعاش وأسباب الحياة، ويَغْفُلَونَ عن مصائبهم
বড় বড় মাসআলাসমূহ, যেমন আল্লাহর সুউচ্চতা সাব্যস্তকরণ, দর্শন, তাকদির এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি; কিতাবটি তাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, ফলে তারা এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং এর প্রতি দিকনির্দেশ করেছেন।

আর এসবই আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও তাঁর দান, সুতরাং কেবল তাঁরই সকল প্রশংসা। তাঁর নিকটই প্রার্থনা করছি তিনি যেন বিশ্বাস, কথা ও কর্মে সঠিক ও নির্ভুল হওয়ার তাওফিক দান করেন।

পক্ষান্তরে অসন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে বিদআতিদের পক্ষ থেকে, ফলে তাদের অন্তর এর কারণে অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

কোনো বিদআতি আমার প্রতি রাগান্বিত হওয়া বা আমার দোষ ধরা আমার কোনো ক্ষতি করবে না, এটিই তাদের চিরাচরিত পথ; তবে আমার জন্য শরিয়ত ও সুন্নাহর বিজয়টুকুই যথেষ্ট।

তবে তাদের আমি আল্লাহ তাআলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছি: আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন, আপনাদের বিশ্বাসসমূহ পুনর্বিবেচনা করুন এবং অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে দলিলাদি ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা সংশোধন করুন। আপনারা সালাফদের অনুগমন করুন, তবেই আপনারা নিরাপদ ও লাভবান হবেন। যাকে অনুসরণ করা হচ্ছে তার মহানুভবতা যেন আপনাদের প্রলুব্ধ না করে যার ফলে আপনারা ভুলের ক্ষেত্রেও তার অনুসরণ করেন; কেননা এর মাধ্যমে আপনারা সেই সালাফদের অবজ্ঞা করছেন যারা তাঁর তুলনায় অনুসরণের অধিক যোগ্য। আপনারা বড় বড় ইমামদেরও অবজ্ঞা করছেন, যেমন চারজন প্রধান ফকিহ ইমাম ও অন্যান্যরা। আপনারা যদি শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ে (ফুরু) তাদের মাযহাব গ্রহণ করে থাকেন, তবে আকিদাগত মূলনীতিতে (উসুল) তাদের মাযহাব গ্রহণ করা আপনাদের জন্য অধিক বাঞ্ছনীয়। আর আমার এই কাজ যদি আপনাদের সেই ভিত্তিকে ভেঙে দেয় যার ওপর আপনারা বহু বছর লালিত-পালিত হয়েছেন, তবে ভুলের ওপর অবিচল থাকার চেয়ে সত্যে ফিরে আসা আপনাদের জন্য উত্তম। নিজেদের আকিদা সংশোধনের মাধ্যমে এবং সালাফদের সঠিক পথে চলার মাধ্যমে নিজেদের সামলে নেওয়া আপনাদের জন্য মহান রবের সাথে পথভ্রষ্ট আকিদা নিয়ে সাক্ষাৎ করার চেয়ে বহুগুণ শ্রেয়।

অতঃপর, যদি আপনাদের নিকট কোনো জ্ঞান থাকে তবে তা ব্যক্ত করুন, নতুবা নীরব থাকাই আপনাদের জন্য উত্তম। জেনে রাখুন যে, আপনাদের ভিন্নমতের জন্য আমার অন্তর যথেষ্ট প্রশস্ত; সুতরাং আমাকে লিখুন, আলোচনা ও বিতর্ক করুন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দান করেন।

আর সেখানে একটি তৃতীয় পক্ষ রয়েছে যাদের কথা আমি কিতাবের প্রথম ভূমিকায় ইঙ্গিত করেছি; তারা কেবল জীবনযাত্রা ও পার্থিব জীবনোপকরণের ক্ষেত্রে মুসলিমদের মুসিবতগুলো নিয়েই চিন্তিত, অথচ তারা তাদের আকিদাগত বিপদসমূহ সম্পর্কে বেখবর।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسَبَب جهلِهم بدينهم، وأنا مع هؤلاءِ في ضَرورةِ الاهتمام لأمرِ المسلمينَ، والاشَتغالُ في ذلك من أعظَم القُرَبِ، واسمُ الإِسلامِ وحدَهُ كافٍ في وجوب نُصرةِ من تَسمَّى بهِ، وبه يثبُتُ له الوَلاءُ العامُّ، فإنَّ الإِنسانَ اليومَ يُحارَبُ لمجرَّدِ انتمائِهِ إلَى هذا الدِّينِ، وعدوُّهُ لا يُبالِي من أيِّ الطَّوائِفِ كانَ، لكنَا حينَ نعتقدُ ذلِكَ لا نُجوِّزُ الاشتغالَ من أجلِ تخليصِهِ من الموتِ بيَدِ عَدوَّهِ الظَّاهر ثُمَّ نَدعُهُ لهواهُ وعدوَّه الباطنِ.

وكُلُّ من يُهمُّهُ أمرُ المسلمينَ يُدرِكُ هَلْهَلَةَ وخلخلةَ الصَّفَّ الإِسلامي، ولكنْ ألا نَتساءلُ: لِمَ ذاكَ؟ لنُدْرِكَ أنَّها الأمراضُ في الاعتقاداتِ والسُّلوكِ والعملِ، وإلا، فلأيِّ شيءٍ يقتُلُ المسلمُ أخاهُ؟

إنَّنا نعتقدُ فَرْضاً على أهل الإِسلام الاشتغال بمُداواةِ النُّفوسِ بإصلاحِ العقيدةِ والعملِ والسُّلوكِ، ولا يشغلُهَم واجبٌ عن واجبٍ، فعدوُّ الباطنِ أفتَكُ من عدوَّ الظَّاهر.

وكما يَجِبُ أن يجدَ المسلمُ أنصاراً من إخوانه يذبُّونَ عنه ويحمونَهُ يجب أن يجدَ منهم الأخذَ بيدِهِ إلى الصَّراطِ المستقيم، وحمايتِهِ من مُضلاتِ الهَوى وشَهواتِ الغيِّ.

ولا يخفى أحداً ما دخلَ جانبَ العقيدةِ من الأهواءِ، وافترقت الأمَّةُ بسبَبِهِ شِيَعاً وتنازعت، ممَّا سَبَّبَ الفَشَلَ وذَهَابَ الرِّيح والهَزيمةَ، فلا بُدَّ أن يَنفرَ من أهلِ الاسلامِ طائفةٌ تقومُ بالإِصلاحِ لما فَسَدَ وتصحيحِ الانحرافِ، لا بالدَّعاوى الفارغةِ الكاذبةِ، وإنَّما بالعملِ الذي يُرى في النَّاسَ أثرُةُ.

ولا أحسَبُ أنَّنا نختلفُ في هذا المبدإ.
তাদের দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে। মুসলমানদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে আমি তাদের সাথে একমত। এ কাজে আত্মনিয়োগ করা মহান ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেবল ইসলামের নাম ধারণ করাই তাকে সাহায্য করার আবশ্যকতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট এবং এর মাধ্যমেই তার জন্য সাধারণ আনুগত্য সাব্যস্ত হয়। কেননা বর্তমানে একজন মানুষ কেবল এই দ্বীনের অনুসারী হওয়ার কারণেই আক্রান্ত হচ্ছে এবং তার শত্রু সে কোন দলের বা মতাদর্শের তা ভ্রুক্ষেপ করছে না। কিন্তু যখন আমরা এটা বিশ্বাস করি, তখন আমরা তাকে প্রকাশ্য শত্রুর হাত থেকে মৃত্যু হতে রক্ষা করার কাজে লিপ্ত হওয়া এবং এরপর তাকে তার প্রবৃত্তি ও অভ্যন্তরীণ শত্রুর হাতে ছেড়ে দেওয়াকে বৈধ মনে করি না।

মুসলমানদের কল্যাণের বিষয়ে যিনিই চিন্তিত, তিনিই ইসলামি কাতারের দুর্বলতা ও বিশৃঙ্খলা অনুভব করেন। কিন্তু আমরা কি প্রশ্ন করি না: কেন এমন হচ্ছে? যাতে আমরা বুঝতে পারি যে, এগুলো হচ্ছে আকিদা, আচরণ এবং কর্মের ব্যাধি। অন্যথায় কেন একজন মুসলমান তার ভাইকে হত্যা করবে?

আমরা বিশ্বাস করি যে, আকিদা, আমল ও আচরণের সংশোধনের মাধ্যমে নফসের চিকিৎসা করা মুসলিম উম্মাহর ওপর একটি ফরজ দায়িত্ব। একটি ওয়াজিব যেন তাদের অন্য ওয়াজিব থেকে বিমুখ না করে; কেননা অভ্যন্তরীণ শত্রু প্রকাশ্য শত্রুর চেয়েও বেশি বিধ্বংসী।

একজন মুসলমান যেমন তার ভাইদের নিকট থেকে এমন সাহায্যকারী পাওয়ার অধিকার রাখে যারা তাকে প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা দিবে, তেমনি তাদের পক্ষ থেকে তাকে সরল পথের দিকে হাত ধরে নিয়ে যাওয়া এবং পথভ্রষ্টকারী প্রবৃত্তি ও কুপ্রবৃত্তির লালসা থেকে রক্ষা করাও আবশ্যক।

আকিদার ক্ষেত্রে যে সমস্ত ভ্রান্ত প্রবৃত্তি প্রবেশ করেছে এবং যার কারণে উম্মাহ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পারস্পরিক কোন্দলে লিপ্ত হয়েছে, তা কারো অজানা নয়। যা ব্যর্থতা, প্রতিপত্তি বিলোপ এবং পরাজয় ডেকে এনেছে। অতএব মুসলিমদের মধ্য থেকে অবশ্যই একটি দলকে বেরিয়ে আসতে হবে, যারা নষ্ট হওয়া বিষয়গুলোর সংস্কার এবং বিচ্যুতির সংশোধন করবে; কোনো ফাঁপা ও মিথ্যা দাবির মাধ্যমে নয়, বরং এমন আমল বা কাজের মাধ্যমে যার প্রভাব মানুষের মাঝে দৃশ্যমান হয়।

আর আমি মনে করি না যে এই মূলনীতির ক্ষেত্রে আমাদের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وعليهِ ، فتناولي لقضيَّةٍ تُعَدُ من أبرزِ مسائل الاعتقادِ وأشدَّها خُطورةً من بابِ الاشتغالِ بأداءِ الواجبِ في تصحيح عقائد المسلمينَ.

ومن الناسِ من يقولُ: لا يلزمني معرفةُ العقائدِ المُبْتَدعةِ والاشتغالُ بتعلُّمِها، ويكفيني أن يكونَ اعتقادي هو اعتقادَ أهلِ السُّنَّةِ والجماعةِ المأثورَ عن السَّلَفِ.

فأقولُ: نعم؛ الأمرُ كذلكَ إذا تيقَّنتَ الصَّوابَ من عقيدةِ السَّلَفِ، وأخذتَها عن أهلِها لا عمَّن ينسبونَ إليهم الاعتقاداتِ المُبتَدَعة يلبِسونَ بها على النَّاس، فإن حصَّلْتَ ذلكَ لم يلزمْكَ معرفةُ اعتقادات الطوائف، واللهُ تبارك وتعالى إنما كلَّفَكَ باتِّباع ما بعثَ به نبيَّهُ صلى الله عليه وسلم من الهُدى ودينِ الحقِّ قبلَ البدَعِ والأهواِءِ، واتِّباعِ سبيلِ المؤمنينَ، وإلا كانَ الأمرُ: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115].

وكتابي لهذا ليسَ في الردِّ على الطَّوائِف المُبْتَدِعَةِ فَحَسْب، بل الأصلُ في وضعِهِ شَرْحُ اعتقادِ السَّلَف، وقد صدَّرْتُهُ بذكر العقيدة السَّلفيَّة مُبيَّنةً بأيسر عبارةٍ، ببُرهانِها من الكتابِ والسُّنَّةِ وتفسيرِ السَّلفِ، ممَّا يلزمُ أهلَ الإِسلامِ اعتقادُه، ثُمَّ بعدَ ذلِكَ عَرَّجتُ على ذكرِ ما يُضادُّها ويُخالفُها، ممَّا يجدُرُ بكَ أن تَعْلَمَهُ، فإن لم تحرِص عليهِ. فهو لمن يهمُّه من الدُّعاةِ أهل السُّنَّة المشتغلينَ بتصحيح عقائد المسلمينَ، أو لمن جانَبَ الصَّوابَ من أَهلِ البدْعَةِ إقامةً للحجَّة ودَحضاً للباطلِ.

ومن هؤلاءِ الناسِ من حدَّثني قائلاً: لقد شَدَّدتَ في كتابِكَ على الأشعريَّةِ خاصَّةً أكثر من غيرِهم!
এমতাবস্থায়, আকিদার অন্যতম প্রধান এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় নিয়ে আমার এই আলোচনা মুসলিমদের আকিদা সংশোধনের ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব পালনেরই একটি অংশ।

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: নবউদ্ভাবিত আকিদাগুলো সম্পর্কে জানা বা সেগুলো শিখতে আত্মনিয়োগ করা আমার জন্য আবশ্যক নয়। বরং সালাফদের থেকে বর্ণিত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাই আমার জন্য যথেষ্ট।

জবাবে আমি বলব: হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই হতো যদি আপনি সালাফদের বিশুদ্ধ আকিদা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন এবং তা এর যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে গ্রহণ করতেন; এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে নয় যারা সালাফদের দিকে নবউদ্ভাবিত আকিদাগুলো সম্বন্ধ করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। আপনি যদি তা অর্জন করতে পারেন, তবে অন্যান্য দল-উপদলের আকিদা জানা আপনার জন্য আবশ্যক নয়। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আপনাকে কেবল সেই হিদায়াত ও সত্য দ্বীন অনুসরণ করার দায়িত্ব দিয়েছেন যা নিয়ে তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন বিদআত ও প্রবৃত্তিপূজার প্রাদুর্ভাবের পূর্বে, এবং মুমিনদের পথ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় বিষয়টি হবে এমন: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিক সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস।" [আন-নিসা: ১১৫]।

আমার এই বইটি কেবল নবউদ্ভাবিত দলগুলোর খণ্ডন করার জন্য নয়, বরং এটি রচনার মূল উদ্দেশ্য হলো সালাফদের আকিদা ব্যাখ্যা করা। আমি বইটির শুরুতে অত্যন্ত সহজ ভাষায় কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফদের ব্যাখ্যার আলোকে দলিলসহ সালাফি আকিদা উল্লেখ করেছি, যা বিশ্বাস করা মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য। এরপর আমি এর বিপরীত ও বিরোধী বিষয়গুলো আলোচনা করেছি যা জানা আপনার জন্য সমীচীন। আপনি যদি এ বিষয়ে আগ্রহী না-ও হন, তবুও এটি সেই সকল আহলুস সুন্নাহর দাঈদের জন্য সহায়ক হবে যারা মুসলিমদের আকিদা সংশোধনে নিয়োজিত, অথবা সেই সব বিদআতিদের জন্য যারা সত্য বিচ্যুত হয়েছে—যাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাতিল অপসারিত হয়।

এসকল মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ আমাকে বলেছেন: আপনি আপনার এই বইয়ে অন্যদের তুলনায় বিশেষ করে আশআরিদের প্রতি অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছেন!
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فقُلتُ: نعم ، لعموم البَلوى باعتقادِهم.

وربَّما عَدَّى البعضُ ذلكَ التَّشديد إلى الأعيانِ، لكني نبَّهتُ في خاتمة كتابي هذا على أنَّ الحُكمَ على العقائد والطَّوائف لا يلزَمُ منه الحكمُ للمعَّينِ من الناسِ ممَّن ينتسبُ إليها.

وأنا إنَّما ناقشْتُ العقائدَ لا الأفرادَ، ولذا تجدُ في كتابي هذا إطلاقَ ما أطْلَقَهُ أئمَّةُ السُّنَّة: (من قالَ كذا، فهوكافر) ،ولكنَّكَ لن تجدَ حُكمي على قائلٍ مُعيَّنٍ بالكُفر.

نعم؛ قد نقلتُ أنَّ من السَّلَفِ مَن كَفَّرَ بعضَ أعيانِ الأفراد، غير أنَّ ذلكَ فيما عَلِموهُ وقامَت لهم به الحُجَّةُ على مَن كفَّروهُ، وإلا، فالأصلُ:

أنَّ مَا اختلف فيهِ أهلُ القِبلةِ من العقائد، قد تكونُ العقيدةُ منه لا تُخرِجُ عن أهلِ السُّنَّةِ فحسْب، بل تُخرِجُ من الإِسلامِ كُلِّهِ، غير أنَّ هذا الحكمَ على العقيدةِ لا على عَيْنِ معتقِدِها، لجوازِ أن يكونَ معذوراً.

ومِن أبطلِ الباطلِ وأظلمِ الظلمِ تنزيلُ النُّصوصِ العامَّةِ في التَّكفير وشِبهِهِ على الأعيانِ من المسلمينَ لمُواقَعَتِهم لذلكَ، خاصَّةً في هذا الزَّمَانِ لغَلَبَةِ الجَهْلِ، قبلَ أن تقومَ عليهِ الحُجَّةُ الشُّرْعِيَّةُ ممَّن هو أهلٌ لإقامَتِها، لا من الصبيانِ في العِلمِ وأتباعِ الخوارج، وتكون الحُجَّةُ قد بلغَت وفَهِمَها المُبَلَّغُ، في تفصيلٍ ليسَ لهذا موضعُهُ.

والمرادُ أنَّ ما تناولتُ به أهلَ البدَعِ إنَّما هو الاعتقاداتُ والأقوالُ، معَ أنِّي أرى الوَصْفَ بالبدعةِ لمُواقِعِها ليسَ من بابِ (الحكمِ للمعَّين بالكُفر) لتعدّي الحُكم بالكُفر إلى الباطِن، بخِلافِ البِدْعَةِ؛ فإنَّها حكمٌ على
আমি বললাম: হ্যাঁ, তাদের বিশ্বাসের ব্যাপক প্রসারের কারণে।

সম্ভবত কেউ কেউ এই কঠোরতাকে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করেছেন, তবে আমি আমার এই গ্রন্থের সমাপ্তিতে সতর্ক করেছি যে, আকিদা ও দলগুলোর ওপর হুকুম আরোপ করলে তাদের সাথে সম্পৃক্ত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হুকুম আরোপ করা আবশ্যক হয় না।

আমি কেবল আকিদা নিয়ে আলোচনা করেছি, ব্যক্তিদের নিয়ে নয়। তাই আমার এই গ্রন্থে আপনি সুন্নাহর ইমামগণের ব্যবহৃত সাধারণ বক্তব্যগুলো পাবেন: (যে ব্যক্তি এমন বলবে, সে কাফির), কিন্তু আপনি কোনো নির্দিষ্ট বক্তার ওপর আমার কুফরের ফতোয়া খুঁজে পাবেন না।

হ্যাঁ, আমি উদ্ধৃত করেছি যে সালাফদের মধ্যে কেউ কেউ নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাফির বলেছেন, তবে তা ছিল তাদের জানা তথ্যের ভিত্তিতে এবং যাদের তারা কাফির বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর। অন্যথায়, মূলনীতি হলো:

কিবলাপন্থীদের মাঝে আকিদাগত যে মতভেদ রয়েছে, তার কোনো আকিদা এমন হতে পারে যা কেবল আহলে সুন্নাত থেকেই বের করে দেয় না, বরং ইসলাম থেকেই বের করে দেয়। তবে এই হুকুমটি ওই আকিদার ওপর প্রযোজ্য, সুনির্দিষ্ট বিশ্বাসীর ওপর নয়, কারণ তার ওজর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আর সবচেয়ে বড় বাতিল এবং চরম জুলুম হলো মুসলমানদের কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে তাদের ওপর তাকফির বা অনুরূপ সাধারণ দলিলসমূহ প্রয়োগ করা—বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন অজ্ঞতা প্রবল—যতক্ষণ না যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে শারয়ী দলিল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এটি ইলমের পথে অপরিণত বা খারেজীদের অনুসারীদের কাজ নয়। দলিলটি যেন যথাযথভাবে পৌঁছে এবং যাকে পৌঁছানো হয়েছে সে যেন তা বুঝতে পারে—এ বিষয়ে এমন বিস্তারিত আলোচনা আছে যার স্থান এটি নয়।

মূল উদ্দেশ্য হলো বিদআতপন্থীদের সম্পর্কে আমি যা আলোচনা করেছি তা তাদের আকিদা ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট। পাশাপাশি আমি মনে করি, কোনো কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে বিদআতি হিসেবে আখ্যায়িত করা 'সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির বলার' পর্যায়ের নয়। কারণ কুফরের হুকুম যেহেতু অন্তরের অভ্যন্তরের দিকে ধাবিত হয়, বিদআতের বিষয়টি তেমন নয়; বরং এটি একটি হুকুম যা...
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الظاهرِ من الأقوالِ والأفعالِ، والكلامُ في ذُلكَ كالكلامِ في تعديلِ الشُّهود وتفسِيقِهم، فإنَّهُ حكمٌ على الظاهر، والله أعلم.

وثَمَّةَ نقدٌ خاصٌّ ورَدني عن بعض العُلَماء والفُضلاءِ، أذكرهُ مُجيباً عنه في نقاطٍ ثَلَاثٍ:

* الأولى: ما ذكَرتُهُ هامشاً (ص268 الطبعة الأولى) من إنكارِ قولِ من قالَ: "لأبي الحَسن الأشعري تحولان"، وتقريرِ أنَّهُ تحوَّلَ عن الاعتزالِ إلى اعتقادِ ابنِ كُلاّبٍ، وثَبَتَ على اعتقادِ ابنِ كُلاّبٍ، يحسَبُهُ اعتقادَ الإِمام أحمد بن حنبل، فأشارَ بعضُ الفُضلاءِ ممَّن يُصحِّحونَ ذلكَ عنه بمُراجعة ذلكَ أكثر.

فأقولُ لكم أيُّها الأحبَّة: لقد بَحَثْتُ وَفتَّشْتُ فلم أجدْ في الحقيقة إلا ما يؤكِّدُ ما ذكرتُهُ، وما زادَني البحثُ إلا يقيناً بصحَّةِ ذلكَ، بل جعلَ عندي مَيلًا لإِفرادِهِ وعقائِدِهِ من كُتُبِهِ وكلام العارفين به بالتصنيفِ لإِطلاعكم على حقيقةِ أمرهِ في عموم مسائل الاعتقادِ.

* الثانية: ما ذكَرْتُهُ (ص: 157، 158 الطبعة الأولى) في إثباتِ صفةِ السُّكوتِ، على معنى أنَّ الله تعالى يتكلَّم إذا شاءَ، والكلامُ متعلِّقٌ بمشيئتِهِ واختيارِهِ، ويسكتُ إذا شاءَ، وأوردتُ لذلكَ ما وردت بهِ السُّنَّةُ والأثرُ، وختمتُهُ بالنَّصِّ التالي: قال شيخ الإِسلام: "فثبتَ بالسُّنَّة والإِجماع أنَّ الله يوصَفُ بالسُّكوتِ" (مجموع الفتاوى 6/ 179).

والمأخذُ في هذا من جهاتٍ ثلاثٍ:

1) إثبات صفة السُّكوت، وأنَّ النصوصَ عليها غيرُ كافية.
কথাবার্তা ও কাজকর্মের প্রকাশ্য দিক অনুযায়ী, আর এ বিষয়ে আলোচনা হলো সাক্ষীগণকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করা কিংবা পাপাচারী সাব্যস্ত করার আলোচনার মতো। কেননা এটি বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে একটি ফয়সালা, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

কিছু আলেম ও গুণীজনদের পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি বিশেষ সমালোচনা এসেছে, যা আমি তিনটি পয়েন্টে উত্তর দিচ্ছি:

* প্রথমটি: যা আমি টীকায় উল্লেখ করেছি (প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৬৮), ওই ব্যক্তির বক্তব্যের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে যে বলেছে: "আবুল হাসান আল-আশআরীর দুটি রূপান্তর হয়েছিল"। আমার বক্তব্য ছিল যে, তিনি মুতাজিলা মতবাদ থেকে ইবনে কুল্লাবের আকিদায় রূপান্তরিত হয়েছিলেন এবং ইবনে কুল্লাবের আকিদাতেই স্থির ছিলেন, আর তিনি একে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের আকিদা মনে করতেন। যারা তাঁর থেকে এটি সঠিক বলে গণ্য করেন, এমন কিছু গুণী ব্যক্তি এ বিষয়টি আরও পর্যালোচনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

হে প্রিয়জনগণ, আমি আপনাদের বলছি: আমি অনুসন্ধান ও খোঁজখবর করেছি এবং বাস্তবে আমি এমন কিছুই পাইনি যা আমার উল্লেখ করা বিষয়টিকে সমর্থন করা ছাড়া অন্য কিছু হয়। বরং এই অনুসন্ধান আমার কাছে এর সঠিকতা সম্পর্কে কেবল দৃঢ় বিশ্বাসই বৃদ্ধি করেছে। এমনকি এটি আমাকে তাঁর অবস্থা এবং তাঁর বইসমূহ ও তাঁকে যারা চিনতেন তাদের বক্তব্যের আলোকে তাঁর আকিদা সম্পর্কে স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থ রচনার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে, যাতে আপনাদের কাছে সাধারণ আকিদার বিষয়গুলোতে তাঁর প্রকৃত অবস্থা উন্মোচিত হয়।

* দ্বিতীয়টি: যা আমি উল্লেখ করেছি (প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৫৭, ১৫৮) চুপ থাকার গুণটি প্রমাণের ক্ষেত্রে; এই অর্থে যে আল্লাহ তাআলা যখন ইচ্ছা কথা বলেন—আর কথা বলা তাঁর ইচ্ছা ও পছন্দের সাথে সংশ্লিষ্ট—এবং যখন ইচ্ছা তিনি চুপ থাকেন। এর সপক্ষে আমি সুন্নাহ ও আছার থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছি এবং নিম্নোক্ত উদ্ধৃতি দিয়ে তা শেষ করেছি: শাইখুল ইসলাম বলেছেন: "সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা এটি প্রমাণিত যে আল্লাহকে চুপ থাকার গুণে গুণান্বিত করা হয়" (মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/১৭৯)।

এ বিষয়ে আপত্তি তিনটি দিক থেকে:

১) চুপ থাকার গুণটি প্রমাণ করা এবং এ সংক্রান্ত দলিলগুলো যথেষ্ট না হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا أورَده بعضُ الفُضلاء.

وجوابه:

إنْ كَانَ هذا الفاضلُ يعني أنَّهُ خبرُ آحاد، فهذا واسعٌ في هذه القضيَّة، وخبرُ الواحد المحتفّ بالقرائن يُفيدُ العلمَ، وأرى أنَّ القرائنَ قد أكًدتْهُ فيما ذكرتُ وأشرتُ إليه في موضعه.

وإن وقع في نَفْسِهِ من جهة المعنى في إثباتِها؛ فهو من نفسِهِ أُتيَ، وإلا؛ فإنَّا نفهمُ أنَّ من تكلَّم باختياره ومشيئتهِ سكتَ باختيارِهِ ومشيئتهِ، وما دامَ اعتقادُنا هو تعلُّقُ الكلامِ بمشيئتِهِ عز وجل؛ فقد زالَ المَحذورُ.

وقد ثبتَ عندنا الحديثُ به، فنُثْبتُهُ له تعالى كما نُثبِتُ له سائرَ صفاتِهِ، وأنَّهُ لا مِثْلَ له فيها، وقد ذكرتُ سلَفَي في إثباتِها، وما ائتمَمْتُ فيهِ بإمامٍ فليسَ عليَّ فيه من حَرَجٍ، ما دامت الحُجَّهُ من النَّصِّ قد قامَتْ عليه.

2) حول النَّصِّ الذي أوردته عن شيخ الإِسلام قال أحدُ الفُضلاءِ عنِّي: "دلَّس فيه، وهذه خِيانةٌ علميةٌ، فإِنَّهُ أفهمَ أنَّ شيخ الإِسلام هو ابن تيمية، وهذه العبارة ليست من كلام ابن تيمية، إنما نَقَلَها ابنُ تيمية عن شيخ الإِسلام أبي إسماعيل عبد الله بن محمد الأنصاري الهَرَوي).

فأقولُ: ليسَ الأمرُ على ما توهَّمهُ الشَّيخُ الفاضلُ، فإنِّي أعني ابنَ تيميَّة حقيقةً، لم أدلِّس اللَّقبَ، وقد ذكرتُ في مقدِّمة كتابي أنِّي إذا ذكرتُ (شيخ الإِسلام). فإنِّما أعني ابنَ تيمية، وهذا النصُّ الذي ذكرتُ هو له لا لشيخِ الإِسلامِ الأنصاري، نعم؛ قد وردَ كلامُ ابن تيميةَ عقبَ كلام الأنصاري، إلا أنَّهُ مفصولٌ عنه، وبيانُ ذلك كما يأتي:
এটি জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন।

এবং এর উত্তর হলো:

যদি এই বিজ্ঞ ব্যক্তিটি বুঝাতে চান যে এটি একটি একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহেদ), তবে এই বিষয়ে এটি একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র। আর পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি পরিবেষ্টিত একক বর্ণনা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। আমি মনে করি যে, আমি যা উল্লেখ করেছি এবং যে স্থানে ইশারা করেছি, সেখানে প্রমাণাদি একে সুনিশ্চিত করেছে।

আর যদি এটি সাব্যস্ত করার অর্থের দিক থেকে তাঁর মনে কোনো সংশয় জন্মে থাকে, তবে তা তাঁর নিজের পক্ষ থেকেই এসেছে। অন্যথায়, আমরা এটিই বুঝি যে, যিনি নিজের পছন্দ ও ইচ্ছা অনুযায়ী কথা বলেন, তিনি নিজের পছন্দ ও ইচ্ছা অনুযায়ীই নীরব থাকেন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস হলো এই যে, মহান আল্লাহর কালাম তাঁর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট, ততক্ষণ আপত্তির কারণ দূর হয়ে যায়।

আমাদের নিকট এ সংক্রান্ত হাদিস প্রমাণিত হয়েছে, সুতরাং আমরা তা আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত করি যেমনভাবে তাঁর অন্যান্য গুণাবলি সাব্যস্ত করি। আর নিশ্চয়ই এসকল গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সদৃশ নেই। এগুলো সাব্যস্ত করার ব্যাপারে আমি আমার পূর্বসূরিদের (সালাফ) কথা উল্লেখ করেছি। যে বিষয়ে আমি কোনো ইমামের অনুসরণ করেছি, সে বিষয়ে আমার ওপর কোনো দায় নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত নস (দলিল) থেকে এর সপক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত থাকে।

২) শাইখুল ইসলাম থেকে আমি যে উদ্ধৃতিটি পেশ করেছি, সে সম্পর্কে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি আমার বিষয়ে বলেছেন: "তিনি এতে প্রতারণা (তাদলিস) করেছেন, এটি একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক খিয়ানত। কারণ তিনি এটি বুঝিয়েছেন যে শাইখুল ইসলাম হলেন ইবনে তাইমিয়াহ, অথচ এই বক্তব্যটি ইবনে তাইমিয়াহর নয়। ইবনে তাইমিয়াহ এটি শাইখুল ইসলাম আবু ইসমাইল আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-হারাবি থেকে উদ্ধৃত করেছেন।"

আমি বলব: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি বিজ্ঞ শাইখ ধারণা করেছেন। আমি প্রকৃতপক্ষে ইবনে তাইমিয়াহকেই বুঝিয়েছি, আমি উপাধির ক্ষেত্রে কোনো প্রতারণা করিনি। আমি আমার বইয়ের ভূমিকায় উল্লেখ করেছি যে, যখন আমি "শাইখুল ইসলাম" বলব, তখন এর দ্বারা ইবনে তাইমিয়াহকেই উদ্দেশ্য করব। আর আমি যে উদ্ধৃতিটি উল্লেখ করেছি তা তাঁরই, শাইখুল ইসলাম আল-আনসারির নয়। হ্যাঁ, ইবনে তাইমিয়াহর কথাটি আল-আনসারির কথার ঠিক পরেই এসেছে, তবে তা স্বতন্ত্র। এর বর্ণনা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وردَ هذا النَّصُّ عقبَ النقلِ عن أبي إسماعيل الهَرَوي بعضَ النُّصوصِ في مسألةِ القرآن، وما وقع من الإِمام أبي بكر بن خُزيمةَ فيها مع بعض الأعيانِ، فأوردَ (مجموع الفتاوى 6/ 177) قال: "وقال شيخ الإِسلام أبو إسماعيل … "، ونقل من كتابه في اعتقاد أهل السُّنَّة، ثمَّ قال: "وقال شيخ الإِسلام أيضاً في كتاب مناقب الإِمام أحمد … "، ثم قال: "إلى أن قال: ثم جاءت طائفة … "، إلى أن قال: "قال شيخ الإِسلام: فطارَ لتلكَ الفتنة ذاكَ الإِمامُ أبو بكرٍ، فلم يزل يصيحُ بتشويهِها، ويُصنِّفُ في رَدِّها، كأنَّهُ مُنذِرُ جيشٍ، حتى دَوَّنَ في الدَّفاتر، وتمكَّنَ في السَّرائر، ولقَّنَ في الكَتاتيب، ونقَشَ في المحاريب: إنَّ اللهَ مُتكلِّمٌ، إن شاءَ تكلَّمَ، وإن شاءَ سَكَتَ، فجزى اللهُ ذاكَ الإِمامَ وأولئكَ النَّفَرَ الغرَّ عن نُصرةِ دينِهِ وتوقير نبيِّهِ خيراً.

قُلتُ: في حديث سلمان عن النَّبي صلى الله عليه وسلم: "الحلال ما أحلَّ اللهُ في كتابِهِ … "".

ثمَّ أخذَ في ذكر الأدلَّة المُثبِتة للسّكوت، ثمَّ ذكر عقب ذلك النَّصَّ الذي ذكرتُ، ثمَّ أخذَ في تفسيرِ السُّكوتِ، حتى قال (ص: 180): "ثم من تفلسف منهم كالغزالي في مشكاة الأنوار … " الخ.

فهذا فيه:

1 - تمييزُ ابن تيمية كلامَ الهَرَويّ في كلِّ فقرةٍ ينقلها بإضافتِها إليه صراحةً.

2 - الفَصْلُ بينَ كلامهِ وكلامِ الهَرَويّ بقوله: (قلتُ)، وهذه اللفظة
আবু ইসমাইল আল-হারাওয়ী থেকে কুরআনের মাসআলা সম্পর্কে এবং ইমাম আবু বকর ইবনে খুজাইমার সাথে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির এ বিষয়ে যা ঘটেছিল তার কিছু উদ্ধৃতি প্রদানের পর এই পাঠ্যটি এসেছে। অতঃপর (মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/১৭৭) উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বলেন: "শাইখুল ইসলাম আবু ইসমাইল বলেছেন … ", এবং তিনি আহলুস সুন্নাহর আকিদা বিষয়ক তাঁর গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেন: "শাইখুল ইসলাম ইমাম আহমদের মানাকিব (মর্যাদা) বিষয়ক গ্রন্থেও বলেছেন … ", এরপর তিনি বলেন: "এই পর্যন্ত যে তিনি বলেছেন: তারপর এক দল এল … ", এরপর তিনি বলেন: "শাইখুল ইসলাম বলেন: সেই ফিতনার মোকাবেলায় ইমাম আবু বকর দ্রুত এগিয়ে এলেন, তিনি অবিরত সেটিকে কদর্য হিসেবে ঘোষণা করতে থাকলেন এবং তার খণ্ডনে গ্রন্থ রচনা করতে লাগলেন, যেন তিনি এক সতর্ককারী সেনাপতি। এমনকি তিনি তা খাতাসমূহে লিপিবদ্ধ করলেন, মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল করলেন, মক্তবগুলোতে শিক্ষা দিলেন এবং মেহরাবগুলোতে খোদাই করে দিলেন যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কথা বলেন, তিনি চাইলে কথা বলেন এবং তিনি চাইলে চুপ থাকেন। অতএব আল্লাহ সেই ইমামকে এবং সেই সম্মানিত দলটিকে তাঁর দ্বীনের সাহায্য এবং তাঁর নবীর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি বলছি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সালমানের হাদিসে রয়েছে: "হালাল হলো তা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হালাল করেছেন … "।

অতঃপর তিনি আল্লাহর চুপ থাকা সাব্যস্তকারী দলীলসমূহ উল্লেখ করতে শুরু করেন, তারপর আমি যে পাঠ্যটি উল্লেখ করেছি তার পরপরই এটি বর্ণনা করেন। এরপর তিনি চুপ থাকার ব্যাখ্যা প্রদান শুরু করেন, এমনকি তিনি (পৃষ্ঠা: ১৮০) বলেন: "অতঃপর তাদের মধ্যে যারা দর্শন চর্চা করেছে যেমন মিশকাতুল আনওয়ার গ্রন্থে আল-গাজালী … " ইত্যাদি।

সুতরাং এতে রয়েছে:

১ - ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হারাওয়ীর প্রতিটি বক্তব্যকে স্পষ্টভাবে তাঁর দিকে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত করার মাধ্যমে স্বতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

২ - নিজের কথা এবং আল-হারাওয়ীর কথার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য (আমি বলছি) শব্দটির ব্যবহার করেছেন, আর এই শব্দটি
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ظاهرة من غير تكلُّف أنَّها له لا للهروي، ومن زعم أنَّها للهروي؛ فهي دعوى بخلاف الظاهر.

3 - مَجيءُ ما بعد (قلتُ) على أسلوب ابن تيمية الذي يعرفُهُ كُلُّ مَن خبرَ كلامَه، مع بُعدٍ شديدٍ عن مُشابهة سياقة ما أورد ابنُ تيمية من كلام الهَرَويّ.

4 - ذِكْرُ أبي حامد الغَزالي وكتابه، وهذا لا يتهيَّأ عادةً أن يكونَ للهَرَويّ، لمن تأمَّلَ ترجمةَ كُلٍّ منهما، ومتى مات الهرويُّ، ومتى ابتدأ اشتهار الغَزالي وشُروعه في التَّصنيف.

وفي هذا كفايةٌ، وليحذر الشَّيخ الفاضلُ من العجَلة في الحكم.

3) زعم فاضلٌ آخر أنِّي لم أتمَّ نقلَ كلام شيخ الإِسلام في هذه القضيَّة.

وفي هذا إيهام من هذا الفاضل أنِّي كتمتُ من قولِهِ شيئاً له ضَرورةٌ في السِّياق، وليسَت الحقيقةُ كذلكَ، فإنَّ ابن تيميةَ أوردَ حَديثَي سلمان وأبي ثعلبةَ في إثباتِ صفةِ السّكوت، وأشارَ إلى كلام الفُقَهاء في دَلالة المنطوق والمسكوت، ثم قالَ العبارةَ التي ذكرتُها عنه، ثُمَّ قال: "لكن السكوتَ يكونُ تارةً عن التَّكلُّم، وتارةً عن إظهار الكلام"، ثمَّ وجَّه ذلكَ مستدلًا لمعنى السُّكوتِ لا في صفة الله تعالى، بل في عموم الكلام، ثمَّ ذكرَ أنَّ كِلا المعنيين للسكوتِ لا يصحّان على قولِ من لا يعتقد بتعلُّق كلامِهِ تعالى بمشيئته واختياره.

وجميع هذا لا يَعنينا؛ لأنَّه ليس في صَدَدِ إثباتِ السُّكوتِ كصفةٍ،
এটা কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই স্পষ্ট যে, এটি তাঁরই কথা, হারাবীর নয়; আর যারা দাবি করে যে এটি হারাবীর কথা, তাদের এই দাবি বাহ্যিক অবস্থার বিপরীত।

৩ - 'আমি বলেছি' শব্দের পরবর্তী অংশটুকু ইবনে তাইমিয়ার শৈলীতে বর্ণিত হয়েছে যা তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে অবগত প্রত্যেকের কাছে সুপরিচিত। ইবনে তাইমিয়া হারাবীর যে বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, তার বাচনভঙ্গির সাথে এই অংশের কোনো সাদৃশ্য নেই।

৪ - আবু হামিদ আল-গাজালী ও তাঁর কিতাবের উল্লেখ; যারা এই দুইজনের জীবনী এবং হারাবীর মৃত্যু ও গাজালীর প্রসিদ্ধি ও গ্রন্থ রচনা শুরুর সময়কাল নিয়ে চিন্তা করবেন, তাদের কাছে এটি স্পষ্ট হবে যে—সাধারণত এটি হারাবীর কথা হওয়া সম্ভব নয়।

এটুকুই যথেষ্ট, আর সম্মানিত শাইখের উচিত সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা থেকে সতর্ক থাকা।

৩) অন্য এক গুণী ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, আমি এই বিষয়ে শাইখুল ইসলামের বক্তব্য পুরোপুরি উদ্ধৃত করিনি।

এর মাধ্যমে উক্ত গুণী ব্যক্তিটি এমন এক সংশয় তৈরি করতে চেয়েছেন যেন আমি তাঁর বক্তব্যের এমন কিছু অংশ গোপন করেছি যা প্রসঙ্গের জন্য আবশ্যক ছিল। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তেমন নয়; কারণ ইবনে তাইমিয়া 'চুপ থাকার গুণ' প্রমাণের ক্ষেত্রে সালমান ও আবু সা'লাবা বর্ণিত দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং উচ্চারিত ও অনুচ্চারিত বিষয়ের তাৎপর্য নিয়ে ফকিহদের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এরপর তিনি সেই বাক্যটি উল্লেখ করেছেন যা আমি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছি। অতঃপর তিনি বলেছেন: "তবে চুপ থাকা কখনো কথা বলা থেকে বিরত থাকা অর্থে হয়, আবার কখনো কথা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা অর্থে হয়।" এরপর তিনি একে সাধারণ কথার ক্ষেত্রে চুপ থাকার অর্থের ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, মহান আল্লাহর গুণের ক্ষেত্রে নয়। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যারা মহান আল্লাহর কথাকে তাঁর ইচ্ছা ও নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত মনে করে না, তাদের মতানুসারে চুপ থাকার এই উভয় অর্থই সঠিক নয়।

আর এসবের কোনোটিই আমাদের উদ্দেশ্য নয়; কারণ তিনি এখানে গুণ হিসেবে চুপ থাকাকে সাব্যস্ত করার আলোচনায় ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فقد فرغَ من ذلكَ بما ذكرتُهُ عنه، وإنَّما كانَ في صَدَدِ مناقَشَةِ قولِ من لا يرى تعلُّقَ كلامِهِ تعالى بمشيئتهِ واختيارِهِ، و"الفتاوى" في متناول الجميع، فليُراجعها من شاءَ.

* الثالثة: بلغني عن شيخٍ فاضلٍ آخر دعواه أنِّي أنقلُ من كلام الإِمام ابنِ القيِّم رحمه الله في كتابي هذا ولا أسمِّيه موهِماً أنَّ ذلك من كلامي.

وأقول: هذه دعوى جائرةٌ، فأنا في هذا الكتاب لم يكن من مَراجعي كتُب ابن القيم إلا قليلاً، مُعْتَمِداً على نقلِهِ عن بعضِ العُلماء، وقد عزوتُ ذلكَ في هامشِ كتابي، وسمَّيتُ مَصدرِي.

وأنا يعلمُ اللهُ لم أعمدْ في شيءٍ من كُتبي أوتحقيقاتي إلى نقلِ كلامِ أحدٍ من أهلِ العلمِ ولا أسمِّيهِ، ولكن لكثرةِ ما أقرأ لبعضِ الأئمَّةِ كشيخ الإِسلام ابن تيميَّة مَثلًا فإنَّ بعضَ عباراتِهِم رُبَّما علقت في ذهني، ولا أستحضرُ حالَ الكتابةِ أنَّها لفُلانٍ، سواء كان معيّناً أو مُبهَماً، فتدخل ضمنَ سِياقَتي، وهذا أمرٌ واسعٌ في كِتابَةِ العِلْمِ، وما من إمامٍ من أئمَّتِنا ممَّن نأتَسي ونَقتَدي بهم إلا وله مثلُ ذلكَ كثيرٌ، وهذا لا يَعودُ بالتُّهمةِ عليهم، وما هو بعَيْبٍ، ويكذبُ في العلمِ من ادَّعى أنَّ مِثلَ ذلكَ لا يقعُ له إذا اشتغلَ بالتَّصنيفِ.

هذا في الألفاظ.

أمَّا المَعاني؛ فنحنُ لا نكادُ نتكلَّمُ بِشَيْءٍ لم نُسْبَق إليهِ، ولكنَّا نجتهدُ في إنشائِهِ.
তিনি এ বিষয়টি তাঁর সম্পর্কে আমি যা উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন। তিনি মূলত তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় লিপ্ত ছিলেন যারা মনে করে যে মহান আল্লাহর কালাম তাঁর ইচ্ছা ও পছন্দের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। "ফাতাওয়া" সকলের নাগালে রয়েছে, সুতরাং যে চায় সে তা দেখে নিতে পারে।

তৃতীয়ত: জনৈক গুণী শাইখের পক্ষ থেকে আমার নিকট এই দাবি পৌঁছেছে যে, আমি আমার এই গ্রন্থে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি দিই কিন্তু তাঁর নাম উল্লেখ করি না, যাতে এমন ধারণা সৃষ্টি হয় যে এগুলো আমার নিজস্ব বক্তব্য।

আমি বলব: এটি একটি অন্যায্য দাবি। কারণ এই গ্রন্থে আমার তথ্যসূত্র হিসেবে ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ খুব সামান্যই ছিল; আমি কেবল কতিপয় আলিমের কাছ থেকে তাঁর করা উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করেছি এবং আমার গ্রন্থের টীকায় তা উদ্ধৃত করেছি ও উৎসের নাম উল্লেখ করেছি।

আর আল্লাহ জানেন, আমি আমার কোনো গ্রন্থ বা গবেষণায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো জ্ঞানীর কথা তাঁর নাম উল্লেখ না করে গ্রহণ করিনি। তবে কিছু ইমামের কিতাব প্রচুর পাঠ করার কারণে—উদাহরণস্বরূপ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—তাঁদের কিছু অভিব্যক্তি হয়তো আমার স্মৃতিতে গেঁথে যায় এবং লেখার সময় আমার স্মরণে আসে না যে এটি অমুক ব্যক্তির বক্তব্য—তা নির্দিষ্ট হোক বা অনির্দিষ্ট। ফলে তা আমার রচনার ধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ইলমি রচনার ক্ষেত্রে এটি একটি সাধারণ বিষয়। আমাদের এমন কোনো ইমাম নেই যাদের আমরা আদর্শ হিসেবে মান্য করি ও অনুসরণ করি, যাদের ক্ষেত্রে এমনটি প্রচুর পরিমাণে ঘটেনি। এটি তাঁদের ওপর কোনো অপবাদ বয়ে আনে না এবং এটি কোনো দোষের বিষয়ও নয়। ইলমের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি মিথ্যা বলছে যে দাবি করে যে, গ্রন্থ রচনায় লিপ্ত থাকাকালীন তার সাথে এমনটি ঘটে না।

এটি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আর অর্থের ব্যাপারে কথা হলো; আমরা এমন কোনো বিষয়ে কথা বলি না যাতে আমাদের পূর্বে কেউ কথা বলেনি, তবে আমরা তা নতুনভাবে উপস্থাপনে পরিশ্রম করি।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وإنَّما الخيانةُ في العلمِ أن يُنْقَلَ الكلامُ البيِّنُ الفَصْل والذي لم يدخُلْهُ إنشاءُ الكاتِبِ من غيرِ عزْوٍ إلى قائلهِ.

وإنِّي ليَحزُنُني كثيراً أن أجدَ شُيوعَ ذلكَ عندَ كثيرٍ من الكُتَّابِ والمؤلِّفينَ سابقاً ولاحقاً.

وقابَلَ هؤلاءِ -وللأسفِ- طائفةٌ حملتْهم في الغالبِ خُصوماتٌ خاصَّةٌ على تتبُّعِ عَوراتِ خُصومِهم من الكُتَّاب، فأفحَشوا حتَّى عَدُّوا النَّقْلَ المَعْزُوَّ إذا كَثُرَ سَرِقَةً، وهذا ظُلْمٌ وإجحافٌ؛ فإنَّ عزْوَ الكلامِ إلى قائله يُبَرِّىءُ النِّيَّةَ ولا يلبسُ على القارىءِ.

هذا جملةُ ما بلغني من صوَرِ النَّقدِ لكتابي، وقد عَلمتَ ما فيها، ولله الحمدُ والمِنَّةُ.

وهذه هي الطبعةُ الجَديدةُ له، وهي الثانية، بعد أن نَفِدَت نُسَخُ طبعته الأولي، وكَثُرَ الإِلحاحُ على طلبِهِ، وقد أصلحتُ فيها بعض خلَل الإِنشاءِ في مواضعَ يسيرةٍ وقعتْ في نشرِتهِ السابقة، سِوى المقدِّمة؛ فقد أصلحتُ فيها بعضَ السِّياقةِ، وزِدتُ يَسيراً بما يُحقِّقُ المقصودَ ويُسدِّدُ القَوْلَ.

وحريٌّ بالتَّنبيه أنِّي لا آذنُ بشر كتابي هذا لصالح أيِّ جهةٍ؛ إلا بإذنٍ مكتوبٍ صريح مِنِّي، ولم يصدُر من قبلُ بإذني إلا طبعةٌ واحدةً، على ظهر غلافِها عبارة (طبع في مطابع دار السياسة - الكويت).

وقد طلبَ منِّي الإِذنَ بتصويرهِ بعضُ الإِخوة السَّلفيينَ بمصر والإِسكندرية بواسطة أحد الأصحاب، فذكرتُ أنَّنا بصَدَدِ إعادةِ نشرِهِ نشرةً
ইলমের ক্ষেত্রে খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা হলো স্পষ্ট ও মীমাংসিত কথা—যাতে লেখকের নিজস্ব কোনো রচনাভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত নেই—তা বক্তার দিকে সম্বন্ধ না করে বর্ণনা করা।

আর পূর্বের ও পরের অনেক লেখক ও গ্রন্থকারের মধ্যে এর ব্যাপকতা দেখে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হই।

আর এদের বিপরীতে—দুর্ভাগ্যবশত—এমন একদল রয়েছে যাদেরকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতা প্ররোচিত করেছে লেখকশ্রেণির মধ্য থেকে তাদের বিরোধীদের ভুলত্রুটি অনুসন্ধান করতে। তারা এক্ষেত্রে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছে যে, উদ্ধৃতি প্রদানকৃত বর্ণনাও যদি সংখ্যায় বেশি হয়, তবে তাকেও তারা চুরি বলে গণ্য করেছে। অথচ এটি একটি জুলুম ও অবিচার; কেননা কোনো কথাকে তার বক্তার দিকে সম্বন্ধ করা নিয়তকে কলুষমুক্ত করে এবং পাঠকের সামনে অস্পষ্টতা তৈরি করে না।

আমার কিতাব সম্পর্কে যেসকল সমালোচনা আমার কাছে পৌঁছেছে, এটিই তার সারসংক্ষেপ; আর আপনি এতে কী রয়েছে তা জানতে পেরেছেন। সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য।

এটিই এই কিতাবের নতুন সংস্করণ, যা দ্বিতীয় সংস্করণ; প্রথম সংস্করণের কপিগুলো নিঃশেষ হওয়ার পর এবং এটি পাওয়ার জন্য অধিক পিড়াপিড়ি করার প্রেক্ষিতে এটি প্রকাশ করা হলো। আমি এর পূর্ববর্তী প্রকাশনার সামান্য কিছু স্থানে রচনার কিছু ত্রুটি সংশোধন করেছি, তবে ভূমিকাটির ক্ষেত্রে আমি এর কিছু বর্ণনাভঙ্গি সংশোধন করেছি এবং উদ্দেশ্য হাসিল ও বক্তব্যকে সঠিক করার জন্য সামান্য কিছু সংযোজন করেছি।

এটি সতর্ক করা আবশ্যক যে, আমি আমার লিখিত স্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত কোনো পক্ষের জন্য আমার এই কিতাবটি প্রকাশের অনুমতি দিচ্ছি না। এর আগে আমার অনুমতিতে কেবল একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল, যার প্রচ্ছদের পিঠে এই বাক্যটি ছিল (কুয়েতের দারুস সিয়াসা ছাপাখানায় মুদ্রিত)।

মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ার কিছু সালাফি ভাই আমার জনৈক বন্ধুর মাধ্যমে এটি পুনর্মুদ্রণের অনুমতি চেয়েছিলেন, তখন আমি উল্লেখ করেছিলাম যে আমরা এটি পুনরায় প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছি...
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
جديدةً، فلا يعجل الإِخوةُ بذلكَ، ففوجئتُ من بعدُ من قِبَلِ هذا الصاحبِ أنَّهم قد صوَّروا الكتابَ وباعوه بسعرِ التَّكلفةِ لحاجتهم الماسَّة إليه، فساءَني ما فعلوا، وما كنتُ أحبُّ منهم ذلكَ، ولكن قَدَّرَ الله وما شاءَ فعلَ، وإنِّي أحرِّجُ عليهم وعلى غيرهم مثل هذا الصَّنيع بغير الشَّرط الذي تقدَّم.

وهذه الطبعة الثانية، أسألُ اللهَ تعالى أن يُبارِكَ فيها أكثرَ من سابقَتِها، وأن يكتُبَ لي بذلكَ القَبولَ عندَهُ ووالديَّ وأهلِ بيتِي، هو المُستعان وعليه التُّكلان.

بريطانيا - ليدز

في 1 محرم الحرام 1415 هـ

الموافق 11/ 6/ 1994 م

 

وكتب

أبو محمد عبد الله بن يوسُف بن عيسى

اليعقوب الجُدَيع
নতুন (সংস্করণ), তাই ভাইয়েরা যেন এতে তাড়াহুড়া না করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমি সেই বন্ধুর পক্ষ থেকে বিস্ময়ের সাথে জানতে পারলাম যে, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনের কারণে তারা বইটি অনুলিপি করেছে এবং উৎপাদন মূল্যে বিক্রি করেছে। তাদের এই কাজ আমাকে ব্যথিত করেছে এবং আমি তাদের থেকে এমনটি আশা করিনি। তবে আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন। আমি তাদের ওপর এবং অন্যদের ওপর পূর্বোল্লিখিত শর্ত ব্যতীত এই ধরনের কাজ করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করছি।

এটি দ্বিতীয় সংস্করণ, আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এতে পূর্বেরটির চেয়েও অধিক বরকত দান করেন এবং এর মাধ্যমে আমার জন্য, আমার পিতা-মাতা ও আমার পরিবারের জন্য তাঁর নিকট কবুলিয়ত লিখে দেন। তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁরই ওপর পূর্ণ ভরসা।

ব্রিটেন - লিডস

১ মুহাররমুল হারাম ১৪১৫ হিজরি

১১/০৬/১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক

 

লিখেছেন

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন ঈসা

আল-ইয়াকুব আল-জুদাই
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مقدمة الكتاب

الحمد لله؛ نحمدُهُ ونَسْتَعينُه ونَسْتغْفِرُهُ، ونعوذُ بالله من شرورِ أنْفُسِنا وسيّئاتِ أعمالِنا، من يهدِهِ الله؛ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضْلِل؛ فلا هادِيَ له.

وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحدَه لا شريك لَه، وأشهدُ أنَّ محمّداً عبدُه ورسولُه صلى الله عليه وسلم تسليماً كثيراً.

أمَّا بعد …

فإنَّ الله عز وجل امتنَّ على عبادِهِ أعظمَ المنَّةِ، فأرسلَ إليهم رسولاً منهم يتلو عليهم آياتِهِ، ويبصِّرُهم بسُبُلِ مَرْضاتِهِ، ويَهديهم بهِ إلى صِراطٍ مُستقيم، ولم يكنْ للعبادِ غُنْيَةٌ عن هذه النِّعمةِ؛ لأنَّهم لولاها لَوُكِلوا إلى عُقولهم وأهوائهم، ولو كانَ ذلكَ كذلكَ؛ لضَلّوا السَّبيلَ، وما أمكنَ أحَداً من الخَلْقِ أن يَعْلَمَ التَّحريمَ من التَّحليلِ، ولا الغيبَ من الشَّهادَةِ، ولا عُرِفَ ثَوابٌ ولا عِقابٌ، ولا بَعْثٌ ولا حِسابٌ، ولا تَمَيَّز حقٌ من باطل، ولا كُفْرٌ من إيمانٍ، ولا مَن يَعْبُدُ إبليسَ مِمّن يعبُدُ الرَّحمن، فيكونُ خلقُ الخَلْق عَبثاً لا حكمةَ وراءَه، وهذا المعنى يتنزهُ عنهُ الحَكيمُ الخَبيرُ: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ. فَتَعَالَى الله الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا
গ্রন্থের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল; তাঁর ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতপর …

নিশ্চয়ই মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ করেছেন; তিনি তাদের নিকট তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির পথসমূহ সম্পর্কে অবগত করেন এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে সরল সঠিক পথের দিশা দেন। এই নেয়ামত ব্যতীত বান্দাদের কোনো গত্যন্তর ছিল না; কারণ এই নেয়ামত না থাকলে তারা তাদের নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা ও খেয়াল-খুশির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ত। আর যদি তেমনটি হতো, তবে তারা সঠিক পথ হারিয়ে ফেলত। সৃষ্টির কারো পক্ষেই সম্ভব হতো না হারাম ও হালালের পার্থক্য জানা, কিংবা দৃশ্য ও অদৃশ্যের বিষয়সমূহ অবগত হওয়া। না সওয়াব ও আযাব সম্পর্কে জানা যেত, না জানা যেত পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে। সত্য থেকে মিথ্যার পার্থক্য করা যেত না, কুফর থেকে ঈমানের পার্থক্য করা সম্ভব হতো না; এমনকি কে দয়াময় রহমানের ইবাদতকারী আর কে ইবলিসের উপাসক—তাও চেনা যেত না। এমতাবস্থায় সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হতো একটি নিরর্থক কাজ, যার পেছনে কোনো প্রজ্ঞা থাকত না। অথচ প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত সত্তা এ থেকে পবিত্র: {তবে কি তোমরা ধারণা করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে নিরর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার নিকট ফিরে আসবে না? সুতরাং আল্লাহ সুউচ্চ, যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই...}
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ} [المؤمنون: 115 - 116]، {أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدًى} [القيامة: 36]، {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَاطِلًا ذَلِكَ ظَنُّ الَّذِينَ كَفَرُوا} [ص: 27].

فكان الرسُلُ هم الحكّام على أقْوامِهم بما يُوحى إليهم من الشَّرائع؛ إذْ كانوا هم الوَسائطَ بين الرَّبِّ تعالى وبينَ سائرِ خَلْقهِ، يُبَلِّغون رِسالات ربّهم، ويقوّمون سلوكَ أقوامِهم.

فلَمْ يَدَع العليمُ الخَبيرُ تقويمَ السُّلوك لعَقْل الإِنسانِ المجرَّد، وإنَّما جعَلَهُ أداةً يَعْقِلُ بها مُرادَ ربِّه تعالى؛ فهو تَبَعٌ لوَحْي الله وتشريعهِ، ليس له حَقُّ الابتداءِ والإِنشاءِ للأحكام والتَّشريع.

وهذا المعنى أدركَه الرُّسلُ وأتباعُهم، فكانوا على الصِّراطِ المُسْتقيم، ورفَضَتْهُ طوائفُ من الخَلْق، فخرَجوا عن طريقةِ الرّسل، وحادُوا عن الحَقّ المُبين.

ولقَدْ علَّق ربُّنا تعالى النجاةَ والفلاحَ والفوزَ بطاعةِ الرَّسولِ صلى الله عليه وسلم واتّباعِهِ:

كما قال: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ. وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} [النور:51 - 52]

وكما قال: {وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ الله عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} [النساء: 69].
"তিনিই সম্মানিত আরশের রব" [আল-মুমিনুন: ১১৫-১১৬], "মানুষ কি মনে করে যে তাকে নিরর্থক ছেড়ে দেওয়া হবে?" [আল-কিয়ামাহ: ৩৬], "আমি আসমান, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে, তা উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা।" [সোয়াদ: ২৭]।

সুতরাং রাসূলগণই ছিলেন তাঁদের কওমের ওপর শাসক সেই শরীয়ত অনুযায়ী যা তাঁদের প্রতি ওহী করা হতো; যেহেতু তাঁরা ছিলেন মহান রব এবং তাঁর অপরাপর সৃষ্টির মধ্যে মাধ্যম, তাঁরা তাঁদের রবের রিসালাত (বাণী) পৌঁছে দিতেন এবং তাঁদের কওমের আচরণ সংশোধন করতেন।

সুতরাং সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবগত (আল্লাহ) আচরণ সংশোধনের বিষয়টি মানুষের কেবল বিমূর্ত বিবেকের ওপর ছেড়ে দেননি, বরং তিনি বিবেককে এমন একটি মাধ্যম বানিয়েছেন যার দ্বারা সে তার মহান রবের উদ্দেশ্য বুঝতে পারে; সুতরাং তা আল্লাহর ওহী ও শরীয়তের অনুগামী, বিধান ও শরীয়ত প্রবর্তন বা উদ্ভাবনের কোনো অধিকার তার নেই।

আর এই বিষয়টি রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারীরা উপলব্ধি করেছিলেন, ফলে তাঁরা সরল পথে অবিচল ছিলেন; কিন্তু সৃষ্টির বহু গোষ্ঠী তা প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে তারা রাসূলগণের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সুস্পষ্ট সত্য থেকে সরে গেছে।

নিশ্চয়ই আমাদের মহান রব নাজাত, কল্যাণ ও সফলতা লাভকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য ও অনুসরণের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন:

যেমনটি তিনি বলেছেন: "মুমিনদের উক্তি তো এটাই, যখন তাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।' আর তারাই হলো সফলকাম। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই হলো বিজয়ী।" [আন-নূর: ৫১-৫২]

এবং যেমনটি তিনি বলেছেন: "আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাঁদের সাথী হবে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও নেককার বান্দাগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না চমৎকার!" [আন-নিসা: ৬৯]।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وكما قال: {وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ. وَمَنْ يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} [النساء: 13 - 14].

وكما قال: {وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 71].

وقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "كُلُّ أمَّتي يدخلون الجنَّةَ إلَّا مَنْ أبى". قالوا: يا رسولَ الله! ومَن يأبى؟ قال: "مَن أطاعَني دخلَ الجنَّةَ، وَمَن عَصاني فقَدْ أبى" (1).

وقال صلى الله عليه وسلم: "إنَّ مَثَلي وَمَثَلَ ما بعَثَنَي الله بهِ كَمَثَلِ رَجُلٍ أتى قَوْمَهُ، فقالَ: يا قَوْم! إنّي رأيتُ الجيشَ بِعَيْنَىَّ، وَإنّي أنا النَّذيرُ العُرْيانُ؛ فالنَّجاءَ! فأطاعَهُ طائفةٌ مِنْ قَوْمِهِ، فأدْلَجوا، فانطَلَقوا على مُهْلَتِهِمْ، وكذّبَتْ طائفةٌ منهم، فأصبحوا مكانَهم، فصبَّحَهم الجَيْشُ، فأهلكَهم واجْتاحَهم؛ فذلك مَثَلُ مَنْ أطَاعَني واتَّبَعَ ما جئتُ بهِ، وَمَثَلُ مَنْ عَصاني وَكَذَّبَ ما جِئْتُ بهِ مِنَ الحقّ" (2).

فهما طريقانِ: اتِّباعُ الرَّسولِ صلى الله عليه وسلم وطاعَتُهُ، أو اتِّباعُ الهَوى، وليسَ من

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح.

أخرجه أحمد 2/ 361 والبخاري 13/ 249 من طريق فليح بن سليمان عن هلال بن علي عن عطاء بن يسار عن أبي هريرة مرفوعاً.

(2) حديث صحيح.

أخرجه البخاري 11/ 316 و 13/ 250 ومسلم (2283) من طريق أبي أسامة عن بُرَيد عن أبي بردة عن أبي موسى الأشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم به.
এবং যেমন তিনি বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে; আর এটিই মহাসাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, যেখানে সে চিরকাল থাকবে; আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} [আন-নিসা: ১৩ - ১৪]।

এবং যেমন তিনি বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহযাব: ৭১]।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সেই অস্বীকার করল" (১)।

এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে তার কওমের নিকট এসে বলল: হে আমার কওম! আমি নিজ চোখে শত্রুবাহিনীকে দেখেছি, আর আমি হলাম নগ্ন সতর্ককারী; সুতরাং তোমরা মুক্তি খোঁজো! তখন তার কওমের একদল তার আনুগত্য করল এবং রাতের প্রথম ভাগেই রওনা হয়ে স্বস্তিতে চলে গেল। আর তাদের অন্য একটি দল তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং তারা নিজ স্থানেই রয়ে গেল। ফলে সকালে শত্রুবাহিনী তাদের আক্রমণ করল এবং তাদের ধ্বংস ও সমূলে নির্মূল করে দিল। এটিই হলো ঐ ব্যক্তির উদাহরণ যে আমার আনুগত্য করেছে এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করেছে, আর ঐ ব্যক্তির উদাহরণ যে আমার অবাধ্য হয়েছে এবং আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে" (২)।

সুতরাং পথ হলো দুটি: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও তাঁর আনুগত্য করা, অথবা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা; আর এর বাইরে...

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি সহীহ।

এটি ইমাম আহমাদ ২/৩৬১ এবং বুখারী ১৩/২৪৯ গ্রন্থে ফালিহ ইবনে সুলাইমান সূত্রে হিলাল ইবনে আলী থেকে আতা ইবনে ইয়াসার সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(২) হাদীসটি সহীহ।

এটি বুখারী ১১/৩১৬ ও ১৩/২৫০ এবং মুসলিম (২২৮৩) গ্রন্থে আবু উসামা সূত্রে বুরাইদ থেকে আবু বুরদাহ সূত্রে আবু মুসা আল-আশআরী থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
سَبيلٍ إلى ثالثٍ، فمَن لم يتَّبعِ الرَّسولَ صلى الله عليه وسلم؛ فلا بُدَّ أنْ يَتَّبعَ الهَوى، وقدْ قال الله تعالى: {وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [ص: 26].

فاتِّباعُ مَحْضِ العُقولِ دونَ ما جاءَ به الرَّسولُ اتِّباعٌ للهَوى، وعُدُولٌ عنِ الصِّراط المُستقيم.

قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153].

فالصِّراطُ المستقيمُ واحدٌ، والحَيْدُ عنه يكونُ إلى سُبُلٍ متشعِّبةٍ، ولقَدْ صوَّر ذلكَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم أحسَنَ تصويرٍ بأحْسَنِ عِبَارةٍ؛ فعن عبد الله بن مَسعودٍ رضي الله عنه قال: خَطَّ لَنا رَسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خطّاً، ثُمَّ قالَ: "هذا سبيلُ الله". ثمَّ خَطَّ خُطوطاً عن يَمينهِ وعن شِمالِه، ثمَّ قال: "هذه سُبُلٌ مُتفرِّقةً، على كلِّ سَبيلٍ منها شيطانٌ يَدْعو إليه". ثُمَّ قرأ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} (3).

--------------------------------------------

(3) حديث صحيح.

أخرجه الطيالسي رقم (244) وأحمد رقم (4142، 4437) والنسائي في "الكبرى"- كما في "تحفة الأشراف" 7/ 49 - والدارمي رقم (208) وابن أبي عاصم في "السنة" رقم (17) وابن نصر في "السنة" ص: 5 والبزار رقم (2210 - كشف الأستار) وابن حبان رقم (1741، 1742 - موارد) وابن وضاح في "البدع" ص: 31 والحاكم 2/ 318 وابن الطبري في "السنة"رقم (92 - 94) والبغوي في "شرح السنة" 1/ 196 من طرق عن عاصم بن أبي النُّجود عن أبي وائل عن عبد الله به.

وقال الحاكم "حديث صحيح الإسناد".

قلت: إسناده جيد.
তৃতীয় কোনো পথ নেই; সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করবে না, সে অবশ্যই প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে} [সোয়াদ: ২৬]।

সুতরাং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা বাদ দিয়ে কেবল বুদ্ধিবৃত্তির অনুসরণ করা মূলত প্রবৃত্তিরই অনুসরণ এবং এটি সিরাতে মুস্তাকিম বা সরল পথ থেকে বিচ্যুতি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো} [আল-আনআম: ১৫৩]।

সুতরাং সরল পথ একটিই, আর তা থেকে বিচ্যুত হওয়া মানে নানামুখী পথে পা বাড়ানো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চমৎকার ভাষায় এর অতি উত্তম চিত্রায়ণ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জন্য একটি রেখা টানলেন এবং বললেন: "এটি আল্লাহর পথ।" এরপর তিনি এর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: "এগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথে একটি করে শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} (৩)।

--------------------------------------------

(৩) হাদিসটি সহিহ।

একে বর্ণনা করেছেন তায়ালিসি নং (২৪৪), আহমাদ নং (৪১৪২, ৪৪৩৭), নাসাঈ তাঁর 'আল-কুবরা' গ্রন্থে—যেটি 'তুহফাতুল আশরাফ' ৭/৪৯-এ রয়েছে—দারেমি নং (২০৮), ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে নং (১৭), ইবনে নাসর 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে পৃ. ৫, বাজ্জার নং (২২১০ - কাশফুল আস্তার), ইবনে হিব্বান নং (১৭৪১, ১৭৪২ - মাওয়ারিদ), ইবনে ওয়াদদাহ 'আল-বিদা' গ্রন্থে পৃ. ৩১, হাকেম ২/৩১৮, ইবনে তাবারি 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে নং (৯২ - ৯৪) এবং বাগাউয়ি 'শারহুস সুন্নাহ' ১/১৯৬ গ্রন্থে; যা আসিম ইবনে আবি আন-নুজুদ এর সূত্রে আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাকেম বলেছেন "হাদিসটির সনদ সহিহ"।

আমি বলছি: এর সনদটি জাইয়িদ (উত্তম)।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولقد كانتْ هذِهِ الأمَّةُ مرحومةً في أوَّلِ عَهدِها، جَمَعَها الله على الهُدى، وألَّفَ بين قُلوبِ أفرادِها، وحَماها من الهَوى، حيثُ استقامَت على طاعةِ الله ورسولِهِ صلى الله عليه وسلم، أولئكَ أصحابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، لمْ يكونوا يَعْرِفُونَ غيرَ اتِّباعهِ وتَوْقيرهِ واتِّباع النُّور الَّذي أنْزلَ معَهُ، مُستسلمينَ لِما جاءَ به من الحقّ، لم يكنْ لهم قوْلٌ معَ قولِهِ، ولا اعتراضٌ على حكْمهِ.

وصَدَق عبد الله بن مسعود رضي الله عنه حين قالَ: "إنَّ الله نَظَرَ في قلوبِ العِبادِ، فوجَدَ قلبَ محمّدٍ صلى الله عليه وسلم خيرَ قلوبِ العبادِ، فاصْطَفاه لِنَفْسِهِ، فابتعثَهُ برسالَتِهِ، ثُمَّ نَظَرَ في قُلوبِ العبادِ بَعد قَلْبِ محمّدٍ، فوَجَدَ قلوبَ أصحابِهِ خيرَ قلوبِ العبادِ، فجعَلهمَ وُزراءَ نبيِّهِ، يقاتِلَونَ على دينِهِ، فما رَأى

--------------------------------------------

= وقد رواه أبو بكر بن عياش على هذا الوجه عن عاصم عند غير واحد ممَّن ذكرت، ورواه عن عاصم عن زر عن عبد الله، أخرجه النسائي في "الكبرى" - كما في "تحفة الأشراف" 7/ 25 - وابن نصر ص: 5 والحاكم 2/ 239.

وصححه الحاكم ووافقه الذهبي، وإني أحسبه خطأ من أبي بكر بن عياش، ففد تابَعَ عاصمًا عليه الأعمش فرواه عن أبي وائل عن عبد الله.

أخرجه البزار رقم (2211 - كشف الأستار) وسنده صحيح.

ورواه الربيع بن خثيم عن عبد الله، أخرجه البزار رقم (2212) بسند صحيح. وله شاهد من حديث جابر بن عبد الله.

أخرجه أحمد 3/ 397 وابن ماجة رقم (11) وابن أبي عاصم رقم (16) وابن نصر ص: 5، 6 وابن الطبري رقم (95) وإسماعيل بن الفضل الأصبهاني في "الحجة" ق 75/ أمن طريق مجالد عن الشعبي عن جابر به نحو مرفوعًا.

قلت: وإسناده لين، لضعف في مجالد.

قال الحكم: "وشاهده لفظًا واحدًا حديث الشعبي عن جابر من وجه غير متعمد".
নিশ্চয়ই এই উম্মত তার সূচনালগ্নে দয়াপ্রাপ্ত ছিল, আল্লাহ তাদের হিদায়াতের ওপর একত্রিত করেছিলেন, তাদের সদস্যদের অন্তরের মধ্যে হৃদ্যতা সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাদের কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করেছিলেন; যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের ওপর অটল ছিল। তারা হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ; তাঁরা তাঁর অনুসরণ, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ ব্যতীত অন্য কিছু জানতেন না। তাঁরা তাঁর আনীত সত্যের নিকট আত্মসমর্পণকারী ছিলেন; তাঁর বাণীর বিপরীতে তাঁদের কোনো বক্তব্য ছিল না এবং তাঁর ফয়সালার ওপর কোনো আপত্তি ছিল না।

আর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন, অতঃপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। ফলে তিনি তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর রিসালাত দিয়ে তাঁকে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরের পর বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন, ফলে তাঁর সাহাবীদের অন্তরসমূহকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর উজির (সহকারী) বানিয়েছেন, যাঁরা তাঁর দ্বীনের জন্য লড়াই করেন। অতঃপর মুমিনগণ যা ভালো মনে করেন...

--------------------------------------------

= আবু বকর ইবনে আইয়াশ আসিম থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যা আমি উল্লেখ করেছি এমন একাধিক ব্যক্তির নিকট রয়েছে; এবং তিনি আসিম থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। নাসায়ি এটি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন - যেমনটি 'তুহফাতুল আশরাফ' ৭/২৫-এ রয়েছে - এবং ইবনে নাসর পৃ. ৫ ও আল-হাকিম ২/২৩৯।

আল-হাকিম একে সহিহ বলেছেন এবং আয-যাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আমি মনে করি এটি আবু বকর ইবনে আইয়াশের পক্ষ থেকে একটি ভুল, কারণ আমাশ এই বর্ণনায় আসিমের অনুসরণ করেছেন এবং তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন নং ২২১১ (কাশফুল আসতার) এবং এর সনদ সহিহ।

আর রাবি ইবনে খুসাইম এটি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন নং ২২১১, সহিহ সনদে। জাবির ইবনে আবদুল্লাহর হাদিস থেকে এর স্বপক্ষে সাক্ষী (শাহিদ) রয়েছে।

আহমাদ ৩/৩৯৭, ইবনে মাজাহ নং ১১, ইবনে আবি আসিম নং ১৬, ইবনে নাসর পৃ. ৫-৬, ইবনে তাবারি নং ৯৫ এবং ইসমাঈল ইবনে ফাদল আল-আসফাহানি 'আল-হুজ্জাহ' পাণ্ডুলিপি ৭৫/ক-তে মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি জাবির থেকে অনুরূপ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমি (লেখক) বলছি: এর সনদ দুর্বল, মুজালিদের দুর্বলতার কারণে।

আল-হাকিম বলেছেন: "এর সমার্থবোধক একটি শব্দ হলো শাবির হাদিস যা তিনি জাবির থেকে এমন এক সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা সুনির্দিষ্ট নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
المسلمون حَسَنًا؛ فهو عندَ الله حَسَنٌ، وما رَأوْا سيئًا؛ فهو عند الله سيّئٌ" (4).

فَخَلَفَ من بَعْدِهم خَلْفٌ لم يَقْنَعوا بوَحْي الله وتشريعِه، ورَأوْا هناكَ حاجةً إلى التَّصحيحِ والزِّياةِ والحَذْفِ، فأعْمَلوا العقولَ في الوَحي المَعصوم، واستدْرَكوا على أحكام الحيِّ القيّوم، ففرَّقوا دينَهم وكانوا شِيَعًا، فتشعَّبَتِ السُّبُلُ بالناس، ووقع ما كانَ يخشاهُ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم على أمتهِ من أئمَّةِ الضَّلالةِ:

كما قالَ: "إنَّما أخافُ على أمَّتي الأئمةَ المُضِلِّين" (5).

--------------------------------------------

(4) أثر جيد الإسناد.

أخرجه أحمد رقم (3600) والبزار رقم (130 - كشف الأستار والطبراني في "الكبير" 9/ 118 من طريق أبي بكر بن عياش حدثنا عاصم عن زر بن حبيش عن عبد الله بن مسعود به.

قلت؛ وهذا إسناد جيد، وعاصم هو ابن بهدلة.

ورواه الطيالسي رقم (246) والطبراني 9/ 118 عن المسعودي عن عاصم عن أبي وائل عن عبد الله والأوَّل أصحّ، فإن المسعوديَّ اختلط، وروى عنه هذا الحديث الطَّيالِسيُّ وعاصم بن علي، وقد أخذا عنه بعدما اختلط.

للحديث إسناد آخر عن ابن مسعود.

أخرجه الطبراني 9/ 121 من طريق الأعمش عن أبي وائل عن عبد الله، وإسناده حسن.

وإسناد ثالث عن عبد الله أيضًا.

أخرجه الخطيب في "الفقيه والمتفقه" 1/ 167 من طريق الأعمش عن مالك ابن الحارث عن عبد الرحمن بن يزيد قال: قال عبد الله بآخره.

(5) حديث صحيح.
"মুসলিমরা যা উত্তম মনে করে, তা আল্লাহর কাছেও উত্তম; আর তারা যা মন্দ মনে করে, তা আল্লাহর কাছেও মন্দ" (৪)।

অতঃপর তাদের পরে এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরিদের আগমন ঘটল যারা আল্লাহর ওহি ও তাঁর প্রবর্তিত বিধানের ওপর তুষ্ট থাকতে পারল না। তারা সেখানে সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। ফলে তারা নির্ভুল ওহির ক্ষেত্রে নিজেদের যুক্তি-বুদ্ধিকে প্রয়োগ করল এবং চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক (হাইয়ুল কাইয়ূম) আল্লাহর বিধানসমূহের ওপর খবরদারি করল। ফলে তারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করল এবং নিজেরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেল। মানুষের সামনে অসংখ্য পথ উন্মোচিত হলো এবং বিভ্রান্ত ইমামদের (নেতৃবৃন্দের) ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের ওপর যা আশঙ্কা করেছিলেন, তা-ই ঘটে গেল:

যেমনটি তিনি বলেছেন: "আমি আমার উম্মতের জন্য পথভ্রষ্টকারী ইমামদের (নেতৃবৃন্দের) ব্যাপারেই বেশি ভয় পাচ্ছি" (৫)।

--------------------------------------------

(৪) আসারটির (বর্ণনাটির) সনদ উত্তম (জায়্যিদ)।

এটি ইমাম আহমাদ ৩৬০০ নং হাদিসে, বাজ্জার ১৩০ নং (কাশফুল আসতার) এবং তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে (৯/১১৮) আবু বকর বিন আইয়াশ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আসেম থেকে, তিনি জির বিন হুবাইশ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমি বলি: এই সনদটি উত্তম (জায়্যিদ); আর আসেম হলেন ইবনে বাহদালা।

আর তায়ালিসি (২৪৬ নং) এবং তাবারানি (৯/১১৮) মাসউদি-এর সূত্রে আসেম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রথমটিই অধিক বিশুদ্ধ; কারণ মাসউদি স্মৃতিভ্রমের (ইখতিলাত) শিকার হয়েছিলেন। তার থেকে এই হাদিসটি তায়ালিসি এবং আসেম বিন আলি বর্ণনা করেছেন, যারা তার স্মৃতিভ্রম ঘটার পর তার থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন।

ইবনে মাসউদ থেকে এই হাদিসের আরেকটি সনদ রয়েছে।

তাবারানি (৯/১২১) এটি আমাশ-এর সূত্রে আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এর সনদ হাসান (উত্তম)।

আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত এর একটি তৃতীয় সনদও রয়েছে।

খতিব বাগদাদি 'আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' গ্রন্থে (১/১৬৭) আমাশ-এর সূত্রে মালেক ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ এটি শেষ বয়সে বলেছিলেন।

(৫) হাদিসটি সহিহ (বিশুদ্ধ)।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وكَما قال: "إنَّ مِمَّا أخشى عليكم شهَواتِ الغَيِّ في بُطونِكم وفُروجِكم ومُضلَّاتِ الهوى" (6).

فوقَعَ الاختلافُ، وعظُمَ في الأمَّةِ، فأعْرَضَ أكثرُها عن الكتابِ، وضَرَبَ آخرونَ آياتِهِ ببعْضِها، وجادَلوا بالباطِل ليُدْحِضوا به الحقَّ، وزيَّنَ ذلكَ إبليسُ في أعيُنِهم فرَأوْه حَسَنًا، وحسِبوُه عَيْنَ العَقْلِ والاستقامةِ.

ولقَدْ أخبرَ المعصومُ صلى الله عليه وسلم عمَّا تؤولُ إليه حالُ الأمَّةِ من بعدِه، ودلَّ على ما فيهِ النَّجاةُ والسَّلامةُ:

فعَن العرباض بن ساريةَ رضي الله عنه؛ قال: صلَّى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الصُّبحَ ذاتَ يوم، ثمَّ أقبلَ علينا، فوعَظَنا مَوْعظةً بليغة؛ ذَرَفَتْ منها العُيونُ، وَوَجِلَتْ منها القُلوبُ، فقال قائلٌ: يا رَسولَ الله! كأنَّ هذه مَوْعظةُ مُوَدِّعٍ؛ فماذا تعهَد إلينا؟ فقال: "أوصيكُمْ بِتَقْوى الله، والسَّمْعِ والطَّاعةِ،

--------------------------------------------

= أخرجه أحمد 5/ 278، 284 وأبو داود رقم (4252) والترمذي رقم (2229) والدارمي رقم (215، 2755) من طريق حماد بن زيد عن أيوب عن أبي قِلابة عن أبي أسماء عن ثوبان به مرفوعًا، وبعضهم يذكره ضمن حديث.

قلت: وإسناده صحيح، وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح".

وله شواهد صالحة الأسانيد من حديث شداد بن أوس وعمر بن الخطاب وأبي ذر وأبي الدرداء …

(6) حديث صحيح.

أخرجه أحمد 4/ 420، 423 والبزار رقم (132 - كشف الأستار) وابن أبي عاصم رقم (14) والطبراني في "الصغير" رقم (511) وغيرهم من طريق أبي الأشهب عن أبي الحكم البُناني عن أبي بَرْزة الأسلمي مرفوعًا به.

قلت: وسنده صحيح.
যেমন তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদের ব্যাপারে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি ভয় করি, তা হলো তোমাদের পেট ও লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তিজনিত কামনা এবং পথভ্রষ্টকারী খেয়াল-খুশি।" (৬)।

অতঃপর মতভেদ দেখা দিল এবং উম্মাহর মধ্যে তা প্রকট আকার ধারণ করল। ফলে তাদের অধিকাংশ কিতাব (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। অন্যরা এর এক আয়াতের বিরুদ্ধে অন্য আয়াতকে দাঁড় করাল এবং সত্যকে দাফন করার জন্য বাতিলের মাধ্যমে তর্কে লিপ্ত হলো। ইবলিস তাদের দৃষ্টিতে একে সুশোভিত করল, ফলে তারা একেই উত্তম মনে করল এবং একেই বিবেক ও সঠিক পথের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করল।

আর মা’সুম (নিষ্পাপ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরবর্তী সময়ে উম্মাহর অবস্থা কী হবে সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং যাতে মুক্তি ও নিরাপত্তা রয়েছে তা নির্দেশ করেছেন:

ইরবাদ বিন সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন, এরপর আমাদের দিকে ফিরে বসলেন। তারপর তিনি আমাদের এক মর্মস্পর্শী নসিহত প্রদান করলেন; যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন জনৈক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি বিদায়ী ভাষণ; সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং (নেতৃবৃন্দের কথা) শোনা ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি,

--------------------------------------------

= এটি আহমাদ ৫/২৭৮, ২৮৪; আবু দাউদ নং (৪২৫২); তিরমিজি নং (২২২৯) এবং দারেমি নং (২১৫, ২৭৫৫) বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে এবং তিনি সাওবান থেকে মারফু হিসেবে। তাদের কেউ কেউ একে একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি: এর সনদ সহিহ। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহিহ।"

শাদ্দাদ বিন আউস, উমর ইবনুল খাত্তাব, আবু যার এবং আবু দারদা থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এর অনেকগুলো শক্তিশালী সাক্ষ্যমূলক সনদ রয়েছে...

(৬) হাদিসটি সহিহ।

এটি আহমাদ ৪/৪২০, ৪২৩; বাযযার নং (১৩২ - কাশফুল আসতার); ইবনে আবি আসিম নং (১৪); তাবারানি 'আস-সাগির' নং (৫১১) এবং অন্যান্যরা আবুল আশহাবের সূত্রে আবুল হাকাম আল-বুনানি থেকে, তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামি থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: এর সনদ সহিহ।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإن كانَ عبدًا حَبَشيًّا؛ فإنَّهُ مَن يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي؛ فسَيرَى اختلافًا كثيرًا؛ فعليكمْ بسُنَّتِي وسُنَّةِ الخُلَفاءِ الرَّاشدينَ المَهْديِّين؛ فتمسَّكوا بها، وعضّوا عليها بالنَّواجِذِ، وإيَّاكُمْ ومُحْدَثاتِ الأمورِ؛ فإنَّ كلَّ مُحْدَثةٍ بِدْعَةٌ، وكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالةٌ" (7).

فأنبأ أنَّ أمَّتَهُ ستختلفُ من بعدهِ اختلافًا عَظيمًا، وما ذلك الاختلافُ إلَاّ بسَبَبِ ما يَدْخل علَيْها من البِدَع والأهواءِ.

وأنْبأ أنَّ المَخْرَجَ من ذلكَ الاعتصامُ بِسُنَّتهِ وسُنَّةِ الخلفاءِ الرَّاشدينَ من بعدِه، ذلك لأنَّهم على الهُدى المُستقيم.

وحذَّرَ من سَبيلِ المُتفرِّقين المختلِفين أهْلِ الأهواءِ والبِدَع.

ولو كان هناكَ سبيلُ سَلامةٍ يُصارُ إليه غيرُ هذا الذي ذكَرَ؛ لدَلَّ عليه أمَّته، ولأرشَدَهم إليه؛ لِما وصفه الله تعالى به حيث قال: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 128]، فكان في هذا حُجَّةٌ على أنَّ السَّلامةَ لا تكونُ إلَاّ باتِّباعِ السُّنَّة وسَبيلِ السَّلَف، وتَرْكِ البدَع وسُبُلِ الخَلَف.

وَلَقَدْ أنْبأنَا عن تَفَرُّق هذه الأمَّةِ من بعْدهِ، ودلَّ على طائفةِ أهْلِ الحَقِّ ليُحْتذى مِثالُها، فقالَ: "ألَا إنَّ مَنْ قبلَكُمْ من أهْلِ الكتابِ افْتَرقوا على ثنتين وسَبعين مِلَّة، وإنَّ هذهِ المِلَّةَ ستفترقُ على ثَلاثٍ وسَبعين، ثنتانِ وسبعونَ في النَّارِ، وواحدةٌ في الجَنًةِ، وهي الجَماعةُ، وإنّه سَيخرجُ مِنْ

--------------------------------------------

(7) حديث صحيح جليل، أخرجه أحمد وأصحاب السنن إلَاّ النسائي، ولتفصيل تحقيقه موضع آخر.
"যদিও সে একজন হাবশী দাস হয়; কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তোমরা তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো; কেননা প্রত্যেক নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।" (৭)।

তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মত তাঁর পরে বড় ধরনের মতপার্থক্যে লিপ্ত হবে, আর এই মতপার্থক্য কেবল বিদআত এবং প্রবৃত্তি তাদের মধ্যে প্রবেশ করার কারণেই ঘটবে।

তিনি আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, তা থেকে পরিত্রাণের পথ হলো তাঁর সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, কারণ তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর ছিলেন।

আর তিনি বিচ্ছিন্ন ও মতভেদকারী প্রবৃত্তি পূজারী এবং বিদআতীদের পথ থেকে সতর্ক করেছেন।

যদি তাঁর উল্লিখিত এই পথ ছাড়া মুক্তির অন্য কোনো পথ থাকত, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর উম্মতকে সেদিকে পথ দেখাতেন এবং তাদের নির্দেশনা দিতেন; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: {তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কষ্ট হয় তা তাঁর জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক, তিনি তোমাদের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু} [আত-তাওবাহ: ১২৮]। সুতরাং এর মধ্যে এই দলীল রয়েছে যে, মুক্তি কেবল সুন্নাহ ও সালাফদের পথ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত এবং বিদআত ও পরবর্তী উত্তরসূরীদের পথসমূহ ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে।

তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পর এই উম্মত বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং তিনি সত্যপন্থী দলের প্রতি পথনির্দেশ করেছেন যাতে তাদের আদর্শ অনুসরণ করা যায়। তিনি বলেছেন: "জেনে রাখো, তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবরা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। বাহাত্তরটি দল জাহান্নামে যাবে এবং একটি দল জান্নাতে যাবে; আর সেটি হলো আল-জামাআত। আর অচিরেই বের হবে..."

--------------------------------------------

(৭) এটি একটি মহান সহীহ হাদীস, ইমাম আহমাদ এবং নাসাঈ ব্যতীত সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন। এর তাহকীক বা বিশ্লেষণের বিস্তারিত বিবরণ অন্য স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أمَّتي أقْوامٌ تَجارى بهمْ تِلكَ الأهواءُ كما يَتجارى الكَلَبُ لصاحبهِ (أو: بصاحبهِ) لا يَبْقى منه عِرْقٌ ولا مَفْصِلٌ إلَاّ دَخَلَه" (8).

وإنَّمَا عَظُمَ شَرُّ هذه الطوائفِ بِسَبَبِ ما خرَجوا به عن الشَّريعةِ، من الخَوْضِ في آياتِ الله بغيْرِ الحقّ، والقَوْلِ على الله بِغيْرِ علْمٍ، وتحريفِ الكَلِم عن مَواضِعِه، ففارَقوا بذلكَ الكتابَ والسُّنَّة، وارْتَضَوا لأنفُسِهم مناهِجَ مِن وضْع عُقولِهم وإمْلاءِ أهْوائِهم، وعصَمَ الله طائفةَ أهلِ الحقِّ باتِّباع الرَّسولِ صلى الله عليه وسلم وما جاءَ به وما كانَ عليه الجَماعَةُ أصحابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؛ لأنَّهُمْ رَأوا ضَلَالَ سائِر الطَّوائفِ وخُروجَها عن مَنْهَجِ الصَّحابَةِ الكِرام الذين كانوا أعْلَمَ الأمَّةِ بما جاءَ به الرَّسولُ صلى الله عليه وسلم، وأبعدَها عن مُحْدَثاتِ الأمورِ، فرفَعَ الله بهذِهِ الطائفة لِواءَ أهْل السُّنَّةِ والجَماعةِ، وَقَمَعَ بهم أهْلَ البِدَع، فأظْهروا دلائلَ الوَحْي الشَّريفِ، وأبانوا عنها بالفَهْمِ السَّديدِ، وصَوَّبوها سِهامًا على المُبْتَدِعَةِ في الأصولِ والفُروعِ، ولم يكن لهم أسوةٌ يأتَسون به إلَّا رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا طائفةٌ ينْتَمونَ إليها إلَاّ أهْل السُّنَّة والجَماعةِ، ولا خُطَّةٌ يَنْتَهِجونها إلَاّ خُطَّة سَلَفِهم أصحاب النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، والتابعينَ لهم بإحسانٍ، فكانوا بهذا أقْوَمَ النَّاسِ سبيلًا، وأحْسَنَهم طَريقًا.

ولقدْ كانَ من أعْظَم ما حصَلَ فيه الاختلافُ ما أحْدثَتْهُ المُبْتَدعةُ من

--------------------------------------------

(8) حديث صحيح.

أخرجه أحمد 4/ 102 وأبو داود رقم (4597) من حديث معاوية بن أبي سفيان مرفوعًا به، وسنده جيد.

وله شواهد عن عوف بن مالك وأبي هريرة وأنس وغيرهم، يصح بها الحديث.

وقوله "الكَلَب": داء يقع للإنسان يشبه الجنون، يكون بسبب عضّ الكَلْب الكَلِب.
আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু দল আসবে যাদের মাঝে এই প্রবৃত্তিগুলো এমনভাবে সঞ্চারিত হবে যেভাবে জলাতঙ্ক রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সঞ্চারিত হয়; তার কোনো শিরা বা জোড়া বাকি থাকে না যেখানে তা প্রবেশ করে না" (৮)।

আর মূলত এই উপদলগুলোর অনিষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে শরীয়ত থেকে তাদের বিচ্যুত হওয়ার কারণে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো—ন্যায়বহির্ভূতভাবে আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া, জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলা এবং শব্দসমূহকে তার যথাযথ স্থান থেকে বিকৃত করা। এর মাধ্যমে তারা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং নিজেদের জন্য এমন এক কর্মপন্থা পছন্দ করে নিয়েছে যা তাদের নিজস্ব বুদ্ধিপ্রসূত ও প্রবৃত্তির নির্দেশিত। আর আল্লাহ সত্যপন্থী দলকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জামাত যে পথের ওপর অটল ছিলেন তা অনুসরণের মাধ্যমে রক্ষা করেছেন। কারণ তারা অন্যান্য উপদলগুলোর বিভ্রান্তি এবং সম্মানিত সাহাবীদের মানহাজ থেকে তাদের বিচ্যুতি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যারা ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ে উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং দ্বীনের নব-উদ্ভাবিত বিষয়াদি থেকে সবচেয়ে দূরে। ফলে আল্লাহ এই দলের মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পতাকা সমুন্নত করেছেন এবং তাদের দ্বারা বিদআতিদের দমন করেছেন। অতঃপর তারা পবিত্র ওহীর প্রমাণাদি প্রকাশ করেছেন এবং সঠিক বোধশক্তির মাধ্যমে তা সুস্পষ্ট করেছেন এবং দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় বিদআতিদের বিরুদ্ধে সেগুলোকে তীরের মতো নিক্ষেপ করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া তাদের কোনো অনুসরণীয় আদর্শ ছিল না, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত ছাড়া তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার মতো কোনো দল ছিল না এবং তাদের পূর্বসূরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ তারা অবলম্বন করত না। ফলে তারা ছিল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক পথের অনুসারী এবং সর্বোত্তম পন্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আর যেসব বিষয়ে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো বিদআতিদের উদ্ভাবিত...

--------------------------------------------

(৮) হাদিসটি সহিহ।

এটি ইমাম আহমাদ ৪/১০২ এবং আবু দাউদ (৪৫৯৭ নং হাদিস) মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, এবং এর সনদ উত্তম।

আউফ ইবনে মালিক, আবু হুরায়রা, আনাস ও অন্যান্যদের থেকে এর সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, যা দ্বারা হাদিসটি সহিহ সাব্যস্ত হয়।

আর তাঁর উক্তি "আল-কালব": এটি মানুষের আক্রান্ত হওয়া একটি রোগ যা পাগলামির সদৃশ, যা জলাতঙ্কগ্রস্ত কুকুরের কামড়ের কারণে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الخَوْضِ في ذاتِ الله تعالى وأسْمائِهِ وَصِفاتِهِ، بل كانَ هذا أعْظَمَ ما وقَعَ من الفِتَنِ التي ابتُليت بها هذهِ الأمَّةُ، فحصَلَ إلحادُ طوائفَ في أسماءِ الله وصفاتهِ، وتكذيبٌ لِما جاءَ به الرَّسولُ صلى الله عليه وسلم، ورَدٌّ للمَقطوع به من شَرائعِ المُرْسَلينَ، مما وقَعَ به شرٌّ عَظيمٌ، وفَسادٌ كبيرٌ.

وكانَ من أخَصّ تلكَ القضايا التي طارَ في الأمَّة شَرَرُها، وعَظُمَ في النَّاس خَطَرُها، ما أحْدَثَتْهُ الجَهميةُ -أضلّ الطوائفِ الخارجةِ عن أهْلِ الحق- من وصْفِ الباري تعالى بالنقائِص، وتعْطيلِ صفاتِ الكَمال التي أثْبَتَها لنفسهِ، وأثبَتَها له رسولُه صلى الله عليه وسلم، أشدّ ممَّا وقَعَ من اليهودِ والنَّصارى.

ومِن أبْرَزِ ذلكَ اعتقادُهم أن لا كلامَ لله على الحَقيقة، فسَوَّوْهُ بالأصنام التي لا تَرْجِعُ لعابِديها قَوْلًا، ولا تَمْلِكُ لهم ضَرًّا ولا نَفْعًا.

وأرادوا بذلك إبطالَ الرِّسالةِ؛ فإنَّ الرُّسُلَ إنَّما بُعثوا ليبلّغوا رسالاتِ الله؛ فحين ينتفي أن يكونَ لله كلامٌ؛ فقد انتفى أنْ يكونَ لَه وَحْيٌ؛ لأنَّ الذي يُوحى إنَّما هو كلامُه وتشريعُه، وإذا انتفى أنْ يكونَ لَه وَحْيٌ؛ فالرَّسول رسولُ مَن؟ وما يوحى إليه وحْيُ مَن؟

فلِعِظَم الخُطورةِ بسبَب هذه القضيَّة، خاصَّةً وأنَّ البدعَ فيها تشعَّبت وكَثُرت، ودينُ الإِسلام يقومُ على صِحَّة الاعتقادِ فيها، رأيتُ لذلكَ تناوُلَها بالخُصوصِ من بين سائر مَسائل الاعتقاد في هذا الكتاب.

وأكَّدَ ذلك عندِي ما دَخَلَ الأمَّة -بسبَب تلبيس أهل البِدَع- من تَهوين شأْن لهذه القضيَّةِ الخطيرة، بل وإهمالِها، مَعَ أنَّ للبدْعَة رؤوسًا لا زِلْنا نَراهم يُشيعون ما يُضادُّ الاعتقادَ الصَّحيحَ وينشرونَه، ويَدْعونَ إليه في أكثرِ بلادِ المُسلمينَ، ونَرى أكثرَ إخوانِنا الدُّعاةِ في العالَم الإِسلامِيّ لم
মহান আল্লাহর সত্তা, তাঁর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া; বরং এটিই ছিল এই উম্মত যেসব ফিতনার দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এর ফলে বিভিন্ন দল আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ব্যাপারে সত্যবিচ্যুত হয়েছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তাকে অস্বীকার করেছে এবং রাসূলগণের শরীয়তের অকাট্য বিষয়গুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যার ফলে এক মহাক্ষতি ও বড় ধরণের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

আর সেই সমস্যাগুলোর মধ্যে বিশেষ একটি বিষয়, যার স্ফুলিঙ্গ উম্মতের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মানুষের মাঝে যার বিপদ প্রকট হয়েছিল, তা ছিল জাহমিয়াদের—হকের অনুসারীদের বহির্ভূত সবচেয়ে পথভ্রষ্ট দল—সৃষ্ট বিভ্রান্তি। তারা স্রষ্টাকে অপূর্ণতা দ্বারা বিশেষিত করেছে এবং পূর্ণতার সেই গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে যা আল্লাহ নিজের জন্য এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন। তাদের এই কর্মকাণ্ড ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের কর্মকাণ্ডের চেয়েও ভয়াবহ ছিল।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল তাদের এই বিশ্বাস যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কোনো কথা নেই। ফলে তারা তাঁকে সেই প্রতিমাগুলোর সমান বানিয়ে ফেলেছে, যারা তাদের উপাসকদের কথার কোনো উত্তর দিতে পারে না এবং তাদের কোনো অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না।

এর মাধ্যমে তারা মূলত রিসালাত বা রাসূল পাঠানোর উদ্দেশ্যকে বাতিল করতে চেয়েছিল; কেননা রাসূলগণকে তো পাঠানোই হয়েছিল আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য। সুতরাং যখন আল্লাহর কথা থাকাই নাকচ হয়ে যায়, তখন তাঁর কোনো ওহী থাকাও নাকচ হয়ে যায়। কারণ যা ওহী হিসেবে পাঠানো হয় তা তো তাঁর কথা ও তাঁর প্রবর্তিত বিধানই। আর যদি তাঁর ওহী থাকাই নাকচ হয়ে যায়, তবে রাসূল কার রাসূল? আর তাঁর প্রতি যা নাযিল করা হয় তা-ই বা কার ওহী?

এই বিষয়ের ভয়াবহতার কারণে এবং বিশেষ করে যেহেতু এই ক্ষেত্রে বিদআতগুলো শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে পড়েছে ও বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ইসলামের দ্বীন এই বিষয়ের সঠিক আকিদার ওপরই প্রতিষ্ঠিত, তাই আমি এই কিতাবে আকিদার অন্যান্য সকল বিষয়ের মধ্য থেকে বিশেষভাবে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা সমীচীন মনে করেছি।

আমার এই সিদ্ধান্তকে আরও জোরালো করেছে উম্মতের মাঝে—বিদআতিদের বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে—এই গুরুতর বিষয়টির গুরুত্ব কমিয়ে দেখা, এমনকি একে অবহেলা করার প্রবণতা। অথচ এই বিদআতের এমন সব মূলহোতা রয়েছে যাদের আমরা এখনও দেখছি যে তারা সঠিক আকিদার পরিপন্থী বিষয়গুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ও প্রচার করছে। তারা মুসলিমদের অধিকাংশ দেশে এর দিকে আহ্বান জানাচ্ছে, আর আমরা দেখছি যে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দাঈ ভাইয়েরা এ ব্যাপারে...
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
يستوعِبوا خُطورةَ هذا الأمْرِ، فَهُمْ يُهوِّنونَ من شأْنِ أهل البدَع، وربَّما اعتذَروا عنهم، وربَّما حَسِبَ بعضُهم هذه القَضايا ثانويةً، بل ربَّما حَسِبَ آخرونَ أنَّها ليستْ من أساسياتِ الدِّين، وآخرون ظنُّوا أنَّ هذه القضيَّة، بل عُموم ما يتعلَّق بأسماءِ الله وصفاتِهِ لم تَعُدْ من المَسائل ذاتِ الخُطورة، وفي الواقع هناك مسائل أولى بالاعتناء بها منها، ورُبَّما قالَ البعضُ: لقد ذهبَ عهدُ المعتزلةِ والفتنةِ التي لَقِيَها الإِمامُ أحمد، والمُسلمونَ الآن يتعرَّضونَ لأنْواع أخْرى من الفِتَن … إلى غير ذلك مما يُشْبِهُ هذا من التلبيسات التي يُلْقِيها الشَّيْطانُ على ألْسنةِ هؤلاء.

وغفلوا عن كونِ مَعْرِفَةِ ما يتعلَّقُ بأسْماءِ الله تعالى وصفاتهِ من الأصولِ التي بعثَ الله بها رسُلَه، وأنْزَلَ بها كُتُبَه، والفِتَنُ التي حَصَلَتْ بسَبب أهْل البِدَع لم تُحْدِثْ هذا النَّوْعَ من الاعتقادِ، وإنَّما نبَّهتْ أهْلَ الحَقِّ واستنْفَرَتْهُمْ لمُواجَهةِ الباطل، فقابَلوهم بحُجَج الكتاب والسُّنَّةِ، لا بالآراء المُحْدَثَةِ، والمَعقولاتِ الفاسدةِ؛ فإنَّ الأدلَّةَ على اعتقادِهم من كتابِ الله وسُنَّةِ نَبِيّه صلى الله عليه وسلم كانت موجودةً قبلَ وجودهم لإِثباتِ اعتقادِهم، ولَمْ يكن لأهلِ السُّنَّةِ أَتْباعِ السَّلَفِ أنْ يَبْتدعوا أصولًا لم يَرِدْ بها كتابٌ ولا سُنَّةٌ، ولو كانوا كذلك، فبأيِّ شَيْءٍ إذاً فارقوا مَنْ سِواهم من الطوائِف؟

وإني قائلٌ لهؤلاء: أيّ شَيْءٍ يكون هذا الَّذي رأيتُم تقديمَ الاشتغالِ به على اشتغالِكم بمَعْرِفةِ أصْل الأصول، وهو معرفةُ الربّ تعالى، الأساسُ الَّذي يرتبط به قبولُ كل عمَل، وعليه تنبني سَلامةُ الدّين؟ صَحَّحوا الأصولَ ثم انتقلوا إلى الفروع.

واعلَمْ أنَّ السَّبَبَ الأعظمَ في وقوعِ مثلِ ذلك هو الجهلُ باعتقاد
তারা এই বিষয়ের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছে না; ফলে তারা বিদআতিদের বিষয়টি তুচ্ছজ্ঞান করছে, কখনো তাদের পক্ষে অজুহাত পেশ করছে, আবার কখনো তাদের কেউ কেউ এই বিষয়গুলোকে গৌণ মনে করছে। এমনকি অন্য অনেকে মনে করছে যে এগুলো দ্বীনের মৌলিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। আবার কেউ কেউ ধারণা করছে যে এই বিষয়টি—বরং আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয়গুলো—এখন আর কোনো গুরুত্ববহ বিষয় নয়, বরং বাস্তবে এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কেউ হয়তো বলছে: মুতাজিলাদের যুগ এবং ইমাম আহমাদ যে ফিতনার সম্মুখীন হয়েছিলেন তা শেষ হয়ে গেছে, আর বর্তমানের মুসলিমরা অন্য প্রকারের ফিতনার সম্মুখীন হচ্ছে … এ জাতীয় আরও অনেক বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা যা শয়তান এদের মুখে তুলে দিচ্ছে।

তারা এ বিষয়টি ভুলে গেছে যে, মহান আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান সেইসব মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর প্রচারের জন্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। আর বিদআতিদের কারণে সৃষ্ট ফিতনাগুলো এই আকিদার জন্ম দেয়নি, বরং তা সত্যপন্থীদের সজাগ করেছে এবং বাতিলকে মোকাবিলা করার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করেছেন, কোনো নব-উদ্ভাবিত মতামত কিংবা ভ্রান্ত যুক্তির মাধ্যমে নয়। কারণ তাঁদের আকিদার স্বপক্ষে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর দলিলসমূহ তাদের অস্তিত্বের পূর্বেই আকিদা প্রমাণের জন্য বিদ্যমান ছিল। আর সালাফদের অনুসারী আহলে সুন্নাতের পক্ষে এমন কোনো মূলনীতি উদ্ভাবন করা সম্ভব ছিল না যা কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়নি। যদি তাঁরা এমনই করতেন, তবে অন্য সব দল ও উপদলের সাথে তাদের পার্থক্য কোথায় থাকত?

আমি এদের উদ্দেশে বলতে চাই: তোমরা এমন কোন বিষয়ে ব্যস্ত থাকাকে ‘মূলের মূল’ তথা মহান রবকে জানার চেয়ে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছ? অথচ এই মারেফত বা পরিচয়ই হলো সেই ভিত্তি যার সাথে প্রতিটি আমল কবুল হওয়া সম্পৃক্ত এবং যার ওপর দ্বীনের সঠিকতা নির্ভরশীল। তোমরা প্রথমে মূল বিষয়সমূহ সংশোধন করো, তারপর শাখা-প্রশাখার দিকে অগ্রসর হও।

আর জেনে রেখো যে, এ জাতীয় পরিস্থিতির শিকার হওয়ার প্রধানতম কারণ হলো আকিদা সম্পর্কে অজ্ঞতা
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
السَّلَف، وأن لهؤلاء -أو كثيرًا منهم- لَمَّا رأوا كتب الأشعريةِ والماتُريدية ومِن قبلهم المعتزلة، وما طَفَحَت به من الطرقِ الكلاميةِ والمناهجِ الفلسفيةِ لِإثبات اعتقاداتهم؛ ظنُّوا هذا اعتقادَ أهل السُّنَّة، وأكَّدَ ذلك أنَّهم يرَوْنَ هذه الطَّوائفَ ينتسبُ أصحابُها إلى السُّنَّة، خاصَّةً الأشعرية والماتُريدية، ويذكرونَ اعتقاداتِهم على أنَّها إعتقاداتُ أهل السُّنَّة، وكذا حينَ رأوا وقوعَ طائفةٍ من الفُضلاءِ في مُوافقةِ تلكَ الاعتقاداتِ؛ قالوا: كيفَ يُمكنُ أنْ تكونَ هذه العقائدُ مُبتَدَعةً وهي عقائدُ هؤلاءِ الجِلَّةِ؟! غافلينَ عن الأصْلِ في ذلك: (الحقُّ لا يُعرَفُ بالرِّجالِ، اعْرِف الحقَّ تعرِفْ أهلَه).

فلهؤلاء نقولُ: ليسَ اعتقادُ السَّلَفِ والأئمَّةِ على ما ظننتُم، وليس لهؤلاء الذين ظننتُم هم أهلَ السُّنَّة أتباع السَّلف، وما في كُتبهم من الكَلام والجَدَلِ؛ فليس هو من طريقة السَّلف؛ فاحْذَروا أن تنقلبَ عليكم الحقائقُ فتظنُّوا الباطلَ حقًّا، والعلمُ اللازمُ للخلقِ مبسوطٌ في الكتابِ والسُّنَّة وكلام السَّلَفِ أحسنَ بَسْطٍ وأيْسَرَهُ، ولو أنَّكم تبيَّنتُم ذلكَ؛ وجدتموهُ؛ فليسَ من يقولُ: "نعتقدُ كذا ونُثبتُ كذا وننفي كذا لقولِ اللهِ ولقولِ نبيِّه صلى الله عليه وسلم"؛ كمَن يقول: "نعتقدُ كذا على اعتقادِ أبي الحَسَنِ الأشعري وأبي منصورٍ الماتُريدي"، أو فُلانٍ وفُلانٍ، فيفهَمُ الناسُ أنَّ اعتقادَهم هو الحقُّ، ومن ثَمَّ يُسمَّى أتباعُهم (أهل الحق) و (أهل السُّنَّة) وغير ذلك من الألقابِ والأوصافِ، فيكونُ الحقُّ عند العامَّةِ ما صَدَرَ عن طريقهم، وما عَداه فهو الباطلُ.

ولسنا نُطالبُكم إلّا بعَرْضِ عقائِدِ الطوائفِ على الكتاب والسُّنَّة والآثار الصَّحيحةِ عن السَّلَفِ، ومثلما تبيَّنتُم اعتقاداتِ الرافضةِ والخوارج
সালাফগণ, এবং যখন এঁরা—অথবা এঁদের অধিকাংশ—আশআরি ও মাতুরিদিদের এবং তাদের পূর্বে মুতাযিলাদের কিতাবসমূহ এবং তাদের আকিদা প্রমাণের জন্য তাতে ভরপুর কালাম শাস্ত্রীয় পদ্ধতি ও দার্শনিক পন্থাসমূহ দেখল; তখন তারা একেই আহলুস সুন্নাহর আকিদা বলে মনে করল। এই ধারণাকে আরও বদ্ধমূল করল এই বিষয়টি যে, তারা দেখেছে এই দলগুলোর অনুসারীরা নিজেদের সুন্নাহর দিকে সম্বন্ধিত করছে, বিশেষ করে আশআরি ও মাতুরিদিরা; এবং তারা তাদের আকিদাকে আহলুস সুন্নাহর আকিদা হিসেবে উল্লেখ করছে। অনুরূপভাবে, যখন তারা একদল গুণী ব্যক্তিকে এসব আকিদার সাথে একমত হতে দেখল, তখন তারা বলল: কীভাবে এই আকিদাগুলো বিদআত হতে পারে যেখানে এগুলো এই মহান ব্যক্তিদের আকিদা?! অথচ তারা এই মূলনীতি সম্পর্কে গাফেল যে: (সত্য ব্যক্তিদের দ্বারা চেনা যায় না; সত্যকে জানো, তবেই সত্যের অনুসারীদের চিনতে পারবে)।

তাই তাঁদের উদ্দেশ্যে আমরা বলি: সালাফ ও ইমামগণের আকিদা তেমন নয় যা আপনারা ধারণা করেছেন; আর যাদের আপনারা আহলুস সুন্নাহ ও সালাফদের অনুসারী মনে করেছেন তারা তা নয়। তাদের কিতাবসমূহে যে কালাম ও বিতর্ক রয়েছে, তা সালাফদের পদ্ধতি নয়। সুতরাং সাবধান হোন যেন সত্য আপনাদের নিকট উল্টে না যায় এবং আপনারা বাতিলকে সত্য মনে না করেন। মাখলুকের জন্য প্রয়োজনীয় ইলম কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং সালাফদের বাণীতে অত্যন্ত উত্তম ও সহজভাবে বর্ণিত আছে। আপনারা যদি তা অন্বেষণ করতেন, তবে অবশ্যই তা খুঁজে পেতেন। কেননা যে ব্যক্তি বলে: "আমরা আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে অমুক বিষয়ে বিশ্বাস করি, অমুক বিষয়কে সাব্যস্ত করি এবং অমুক বিষয়কে অস্বীকার করি"; সে ওই ব্যক্তির মতো নয় যে বলে: "আমরা আবুল হাসান আল-আশআরি ও আবু মনসুর আল-মাতুরিদি" অথবা অমুক ও অমুকের আকিদা অনুযায়ী বিশ্বাস করি। ফলে মানুষ মনে করে যে তাদের আকিদাই সত্য, আর একারণেই তাদের অনুসারীদের ‘আহলুল হক’ (সত্যের অনুসারী), ‘আহলুস সুন্নাহ’ এবং এ জাতীয় অন্যান্য উপাধি ও বিশেষণে ভূষিত করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষের নিকট সত্য হলো তা-ই যা তাদের পথ থেকে এসেছে, আর এর বাইরে যা আছে তা-ই বাতিল।

আমরা আপনাদের কাছে শুধু এই দাবি করছি যে, আপনারা এই দলগুলোর আকিদাকে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং সালাফদের সহীহ আসার (বর্ণনা)-এর মানদণ্ডে যাচাই করুন; ঠিক যেভাবে আপনারা রাফেজি ও খারেজিদের আকিদাকে যাচাই করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-আকীদাতুস সালাফিয়্যাহ ফী কালামি রাব্বিল বারিয়্যাহ ওয়া কাশফি আবাতীলিল মুবতাদিআতিল রাদিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ونحوهم، فتبيَّنوا جميعَ الاعتقاداتِ التي تُنْسَبُ إلى أشْخاص أو طوائف، حتى يحكمَ فيها الكتابُ والسُّنَّة على طريقةِ السَّلفِ من الصحابة وأتباعهم.

واعلَموا أنَّ كُلَّ لَقَبٍ أو وَصْفٍ لطائفةٍ أو جَماعةٍ لا يصحُّ أن يُقضى به على غيرِها حتى تَرِدَ به الشريعة، وإن كانَ التقليدُ مذمومًا في فروعِ المسائِل؛ فأحْرَى أنْ يُذَمَّ في أصولِها.

ولعلَّكَ بهذا تُدركُ ضَرورةَ الاجتهاد لمعرفةِ حقيقةِ المُعْتقد السَّلَفي، للتفريق بينه وبين اعتقاداتِ أصحابِ البِدَع.

ولعلَّه يحدو بكَ أكثر إلى طلب معرفة الاعتقادِ الصَّحيح ما يَشيعُ ويَنْتشرُ في بلادِ المسلمينَ مِنْ عَقائِد أهلِ الزّيغِ، الذين يتظاهَرون زورًا أو غفلةً بالانتسابِ إلى أهل السُّنَّةِ، وتُقَرِّرُ كتبهم لتُدَرَّسَ في مَعاهِد المُسلمين وجامعاتِهم على أنَّ ما فيها هو اعتقاد أهل السُّنَّة، كَما قد رأيْناه وجرَّبناهُ، فقَدْ كان مُقرَّرًا علينا في أوَّل أيام الطلب ونحنُ في مقتَبل العُمُر أنْ نَدْرُسَ "شرح العقائد النسفية" للسَّعْد التفتازاني، ولم نكن حينَها قد عرَفْنا عقيدةَ السَّلَف، ولكن الله تعالى مَنَّ علينا بشيخ فاضل هو شيخُنا أبو عُمَر عادل ابن كايد البصري رحمه الله (9)، فشرحَ لنا اعتقادَ السَّلَف، ونَبَّهَنا لِما كُنَّا

--------------------------------------------

(9) كان رحمه الله تعالى أفضل شيوخنا، لَمْ أرَ فيهم مثله، سلفيًّا في الاعتقاد، نابذًا للتقليد، معظِّمًا لأئمة السُّنَّة، يقفو أثرَ شيخ الإِسلام ابن تيمية، وكان علاّمةً في الحديث والتفسير واللّغة، وعنه تلقّيْنا عِلمَ الحديث والعقيدة، وهو الذي حبّبَ الله إلينا علمَ السُّنَّة والحديث بسَببه، وقد نَفَعنا الله به كثيرًا، وكانت فيه بذاذةٌ وزهادةٌ، وصبرٌ على الشرح والإيضاح، توفي سنة (1405 هـ) رحمه الله، وأدخله الجنة ووقاه من النار بمنّه وكرمه.
...এবং তাদের অনুরূপ যারা রয়েছে; তাই আপনারা এমন সকল বিশ্বাসকে সুস্পষ্টভাবে যাচাই করে নিন যা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে সম্বন্ধ করা হয়, যাতে সাহাবী ও তাদের অনুসারী সালাফদের তরীকা অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহ সেগুলোর ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা করতে পারে।

এবং আপনারা জেনে রাখুন যে, কোনো গোষ্ঠী বা দলের জন্য ব্যবহৃত কোনো উপাধি বা বিশেষণকে অন্য কারো ওপর প্রয়োগ করা ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ নয় যতক্ষণ না শরীয়তে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। আর যদি মাসআলার শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসরণ (তাকলীদ) নিন্দনীয় হয়ে থাকে, তবে দ্বীনের মূল বিষয়গুলোর (আকীদাহর) ক্ষেত্রে তা নিন্দনীয় হওয়ার বিষয়টি আরও বেশি অগ্রগণ্য।

সম্ভবত এর মাধ্যমেই আপনি সালাফী আকিদার প্রকৃত স্বরূপ জানার জন্য গবেষণার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারবেন, যাতে এই আকিদা এবং বিদআতিদের আকিদার মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়।

আর সম্ভবত মুসলিম দেশগুলোতে বিভ্রান্ত দলগুলোর যেসব আকিদা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিস্তার লাভ করেছে, তা আপনাকে সঠিক আকিদা অন্বেষণের প্রতি আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে; যারা মিথ্যাবশত অথবা অসতর্কতাবশত নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহর অনুসারী হিসেবে জাহির করে। অথচ তাদের লিখিত কিতাবগুলো মুসলিমদের মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্য হিসেবে এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যেন সেগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে তাই আহলে সুন্নাহর আকিদা। যেমনটি আমরা সচক্ষে দেখেছি এবং অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। আমাদের ছাত্রজীবনের শুরুতে যখন আমরা অল্পবয়সী ছিলাম, তখন আমাদের পাঠ্যসূচিতে সাদ আল-তাফতাজানি রচিত "শারহুল আকাইদ আন-নাসাফিয়্যাহ" পাঠ্য হিসেবে নির্ধারিত ছিল। সে সময় আমরা সালাফদের আকিদা সম্পর্কে জানতাম না। কিন্তু মহান আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন এক ফযীলতপূর্ণ শাইখের মাধ্যমে, তিনি হলেন আমাদের শাইখ আবু উমর আদিল ইবনে কায়িদ আল-বাসরী রহিমাহুল্লাহ (৯)। তিনি আমাদের নিকট সালাফদের আকিদা ব্যাখ্যা করলেন এবং আমাদের সেই বিষয়ে সতর্ক করলেন যা সম্পর্কে আমরা...

--------------------------------------------

(৯) তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের শাইখদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন, তাদের মধ্যে আমি তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি। তিনি আকিদার ক্ষেত্রে সালাফী ছিলেন, অন্ধ অনুসরণ বর্জনকারী ছিলেন, সুন্নাহর ইমামদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। তিনি হাদিস, তাফসীর ও ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর নিকট থেকেই আমরা হাদিস ও আকিদার ইলম গ্রহণ করেছি। আল্লাহ তাআলা তাঁর উসিলাতেই আমাদের নিকট সুন্নাহ ও হাদিসের ইলমকে প্রিয় করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদের প্রভূত কল্যাণ দান করেছেন। তাঁর মধ্যে সাদাসিধা জীবনযাপন ও দুনিয়াবিমুখতা ছিল এবং পাঠদান ও বিশদ ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ১৪০৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন এবং নিজ অনুগ্রহ ও করমে তাঁকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।