(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
أصول الدعوة - جامعة المدينة   (جامعة المدينة العالمية)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أصول الدعوة

كود المادة: GDWH5073

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الصفحات: 428

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433

উসুলুদ দাওয়াহ - আল-মদিনা ইউনিভার্সিটি   (আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)

বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ


কিতাব: উসুলুদ দাওয়াহ

বিষয় কোড: GDWH5073

স্তর: মাস্টার্স

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৮

[কিতাবটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
-[أصول الدعوة]-

كود المادة: GDWH5073

المرحلة: ماجستير

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[দাওয়াহর মূলনীতি]

বিষয় কোড: GDWH5073

স্তর: স্নাতকোত্তর

লেখক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدرس: 1 بعض الآفات التي تصيب بعض الدعاة.

بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الأول

(بعض الآفات التي تُصيب بعض الدعاة)

 

‌‌العجلة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، وأشهد إلا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله؛ أما بعد:

إن حديثنا عن بعض الآفات التي تُصيب بعض الدعاة، فيرجعون عن الطريق ويقعدون عن الدعوة، ويتخلفون عن المسير، ومن هذه الآفات العجلة وضعف اليقين والتقصير في عمل اليوم والليلة.

أما العجلة: فهي آفة خطيرة تُصيب الداعية؛ فتَحرمه الوصول إلى غايته وإصابة هدفه، رُوي: "أن نستور بعث صاحبَيْه إلى الملك يدعوانه إلى دين عيسى عليه السلام وأمرهما أن يرفِقا به، وأن يدعواه بالحكمة والموعظة الحسنة؛ فخالف الصاحبان وصيّة مرسلهما؛ فدخلا على الملك فأغلظا له القول وعنّفاه، فأخذهما وحبساهما وآذاهما، فقال لهما نستور: ما مَثَلكما إلا كمثل امرأة لم تلد حتى كبرت سنها فولدت، فاستعجلت شباب ولدها؛ لتنتفع به، فأطعمته أكثر مما يطيق فقتلته، فلم تحقق هدفها".

ومن هنا قيل: "من استعجل الشيء قبل أوانه عوقب بحرمانه" وأصل هذا المثل في السنة النبوية المطهرة قول نبينا صلى الله عليه وسلم: ((لا يرث القاتل)) فمن قتل مورثه استعجالًا للميراث؛ يُعاقب بنقيض قصده، فيحرم من الميراث؛ فالعجلة آفة مذمومة نهى الله تعالى عنها ورسوله صلى الله عليه وسلم. عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((التأنّي من الله، والعجلة من الشيطان)).
পাঠ: ১ কিছু ব্যাধি যা কোনো কোনো দাঈকে আক্রান্ত করে.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রথম পাঠ

(কিছু ব্যাধি যা কোনো কোনো দাঈকে আক্রান্ত করে)

 

তাড়াহুড়া

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:

আমাদের আজকের আলোচনা এমন কিছু ব্যাধি সম্পর্কে যা কোনো কোনো দাঈকে আক্রান্ত করে, ফলে তারা পথ থেকে ফিরে যায়, দাওয়াহর কাজ ছেড়ে দেয় এবং চলার পথে পিছিয়ে পড়ে। এই ব্যাধিগুলোর মধ্যে রয়েছে তাড়াহুড়া, ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাসের দুর্বলতা এবং দিন-রাতের আমলসমূহে অবহেলা।

আর তাড়াহুড়া প্রসঙ্গে: এটি একটি ভয়াবহ ব্যাধি যা একজন দাঈকে আক্রান্ত করে; ফলে এটি তাকে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং লক্ষ্য অর্জনে বঞ্চিত করে। বর্ণিত আছে যে: "নাসতোর তার দুই সঙ্গীকে রাজার কাছে পাঠিয়েছিলেন তাকে ঈসা আলাইহিস সালামের দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য এবং তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা তার সাথে নম্র ব্যবহার করে এবং তাকে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দেয়। কিন্তু সঙ্গীদ্বয় তাদের প্রেরণকারীর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করল; তারা রাজার কাছে প্রবেশ করে তার সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলল এবং তার প্রতি উগ্রতা প্রদর্শন করল। ফলে রাজা তাদের পাকড়াও করে বন্দী করলেন এবং কষ্ট দিলেন। তখন নাসতোর তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: তোমাদের দৃষ্টান্ত সেই নারীর মতো, যে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সন্তান লাভ করেনি, অতঃপর যখন সে সন্তান প্রসব করল, তখন তার থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য তার দ্রুত বড় হওয়ার প্রত্যাশা করল; ফলে সে তাকে তার সহ্যক্ষমতার চেয়ে বেশি খাবার খাইয়ে দিল এবং তাকে মেরে ফেলল। এভাবে সে তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারল না।"

এখান থেকেই বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তি কোনো জিনিস সময়ের আগে পেতে তাড়াহুড়া করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়।" এই প্রবাদের মূল উৎস হলো পবিত্র সুন্নাহ নববীতে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হয় না।" সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তরাধিকার পাওয়ার তাড়াহুড়োয় তার উত্তরাধিকার প্রদানকারীকে হত্যা করে, তাকে তার উদ্দেশ্যের বিপরীত শাস্তি দেওয়া হয় এবং সে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই তাড়াহুড়া একটি নিন্দনীয় ব্যাধি যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাড়াহুড়া শয়তানের পক্ষ থেকে।"
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১০)
قال ابن القيم: إنما كانت العجلة من الشيطان؛ لأنها خفَّة وطيش وحدّة في العبد تمنعه من التثبت والوقار، والحلم، وتوجب وضع الشيء في غير محله، وتجلب الشرور، وتمنع الخيور، وهي متوّلدة بين خلقين مذمومين هما: التفريط والاستعجال قبل الوقت.

والذي يتتبع نصوص الوحيين يرى فيها الكثير والكثير من النهي عن العجلة فمنها النهي عن العجلة في طلب العلم قال تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ * إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ * فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ * ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} (القيامة: 16 - 19) قال ابن كثير رحمه الله في تفسير هذه الآيات: هذا تعليم من الله عز وجل لرسوله صلى الله عليه وسلم في كيفية تلقي الوحي من الملك؛ فإنه كان يبادر إلى أخذه ويسابق الملك في قراءته؛ فأمره الله عز وجل إذا جاء الملك بالوحي أن يستمع له، وتكفّل الله تعالى له أن يجمعه -يعني: ما أوحيه ما في صدره- وأن ييسره لأدائه على الوجه الذي ألقاه إليه، وأن يبينه له ويفسره ويوضحه.

فالحالة الأولى جمعه في صدره، والثانية تلاوته، والثالثة تفسيره وإيضاح معناه، ولهذا قال تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} أي: بالقرآن كما قال تعالى: {وَلَا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} (طه: 114)، ثم قال تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ} في صدرك {وَقُرْآنَهُ} أي: أن تقرأه {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ} أي: إذا تلاه عليك الملك عن الله تعالى: {فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} أي: فاستمع له ثم اقرأه كما أقرأك {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} أي: بعد حفظه وتلاوته نبينه لك ونوضحه، ونفهمك معناه كما أردنا وشرعنا.

وقال السعدي رحمه الله: وفي هذه الآية أدب لأخذ العلم ألا يبادر المُتعلم للعلم قبل أن يفرغ المعلم من المسألة التي شرع فيها؛ فإذا فرغ منها سأله عما
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: তাড়াহুড়া মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে; কেননা এটি বান্দার মধ্যে এক প্রকার অস্থিরতা, চপলতা ও তীব্রতা তৈরি করে যা তাকে স্থিরতা, গাম্ভীর্য ও ধৈর্য থেকে বিরত রাখে। এটি কোনো বিষয়কে তার অনুপযুক্ত স্থানে স্থাপনে বাধ্য করে, মন্দকে টেনে আনে এবং কল্যাণকে বাধাগ্রস্ত করে। এটি দুটি নিন্দনীয় স্বভাবের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়, সেগুলো হলো: অবহেলা এবং সময়ের পূর্বেই তাড়াহুড়া করা।

যারা ওহীর দুটি উৎসের ভাষ্যগুলো অনুসন্ধান করেন, তারা তাতে তাড়াহুড়া করার বিষয়ে প্রচুর নিষেধাজ্ঞা দেখতে পাবেন। তন্মধ্যে একটি হলো জ্ঞান অর্জনে তাড়াহুড়া করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাড়াহুড়া করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা তার সাথে নাড়াবেন না। নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর তার বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমাদেরই।} (কিয়ামাহ: ১৬ - ১৯)। ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতগুলোর তাফসীরে বলেন: এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফেরেশতার কাছ থেকে ওহী গ্রহণের পদ্ধতির শিক্ষা; কেননা তিনি ওহী গ্রহণ করতে দ্রুত তৎপর হতেন এবং ফেরেশতার সাথে সাথে তা পড়তে শুরু করতেন। তখন মহান আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন যে, যখন ফেরেশতা ওহী নিয়ে আসবেন, তখন তিনি যেন তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আর আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর অন্তরে তা জমা করার এবং তাঁর কাছে যেভাবে ওহী পেশ করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা পাঠ করা সহজ করে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁর জন্য তা বর্ণনা করার, ব্যাখ্যা করার ও সুস্পষ্ট করার।

সুতরাং প্রথম অবস্থা হলো তাঁর অন্তরে তা জমা করা, দ্বিতীয়টি হলো তা তিলাওয়াত করা এবং তৃতীয়টি হলো তার ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ পরিষ্কার করা। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাড়াহুড়া করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা তার সাথে নাড়াবেন না} অর্থাৎ কুরআনের সাথে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার প্রতি ওহী পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কুরআন নিয়ে তাড়াহুড়া করবেন না এবং বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।} (ত্বহা: ১১৪)। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ আমাদের দায়িত্ব} আপনার অন্তরে {ও এর পাঠ} অর্থাৎ আপনি তা পাঠ করবেন। {সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি} অর্থাৎ যখন ফেরেশতা আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার নিকট তা পাঠ করেন: {তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} অর্থাৎ আপনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, অতঃপর তিনি যেভাবে আপনাকে পাঠ করিয়েছেন সেভাবে পাঠ করুন। {অতঃপর তার বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমাদেরই} অর্থাৎ তা মুখস্থ করা ও তিলাওয়াতের পর আমরা আপনার জন্য তা বর্ণনা করব ও সুস্পষ্ট করব এবং আপনি যেন আমাদের উদ্দেশ্য ও বিধান অনুযায়ী তার অর্থ বুঝতে পারেন সেই তৌফিক দেব।

আর সাদী রহিমাহুল্লাহ বলেন: এই আয়াতে জ্ঞান অর্জনের একটি আদব বর্ণিত হয়েছে যে, শিক্ষক যে বিষয়টি শুরু করেছেন তা শেষ করার আগেই শিক্ষার্থী যেন জ্ঞান লাভের জন্য তাড়াহুড়া না করে। যখন তিনি তা শেষ করবেন, তখন সে তাকে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে যা...
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১১)
أشكل عليه، وكذلك إذا كان في أول الكلام ما يوجب الرّدّ أو الاستحسان ألا يبادر برده أو قبوله قبل الفراغ من ذلك الكلام؛ ليتبيّن ما فيه من حق أو باطل، وليفهمه فهمًا يتمكّن فيه من الكلام فيه على وجه الصواب.

ومن الاستعجال في العلم التصدّر للتعليم قبل التأهُّل له، والتصدّر للفتيا قبل التأهّل لها، والتسرع بالجواب قبل إدراك السؤال. ومنها: النهي عن العجلة في نقل الأخبار قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا} (الحجرات: 6) أي: فاستظهروا صدقه من كذبه بطريق آخر؛ كراهة أن تصيبوا قومًا بجهالة -أي: قومًا بُرآء مما قذفوا به- بغية أذيّتهم بجهالة لاستحقاقهم إياه، ثم يظهر لكم عدم استحقاقهم؛ فتصبحوا على ما فعلتم نادمين، أي: فتندموا على إصابتكم إياهم بالخيانة التي تصيبونهم بها، وحق المؤمن أن يحترز مما يخافه الندم في العواقب.

ولقد كان للعجلة في نقل الأخبار بلا تثبت أثرها السيئ في انتشار حديث الإفك الذي روّجه المنافقون ضدّ الطاهرة المبرأة النزيهة العفيفة أمنا عائشة رضي الله عنها حتى قال الله في هذه العجلة: {إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ} (النور: 15) وهي سورة فيها الخفّة والاستهتار، وقلة التحرج، وتناول أعظم الأمور وأخطرها بلا مبالاة، ولا اهتمام؛ {إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ} لسان يتلقى عن لسان، بلا تدبّر ولا تروٍّ، ولا فحص ولا إمعان نظر؛ حتى لكأن القول لا يمرّ على الآذان، ولا تتملاه الرءوس، ولا تتدبره القلوب {وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ} بأفواهكم لا بوعيكم ولا بعقلكم ولا بقلبكم؛ إنما هي كلمات تقذف بها الأفواه، قبل أن تستقر في المدارك، وقبل أن تتلقّاها العقول، {وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ}.
কোনো বিষয় তার কাছে অস্পষ্ট হলে, অথবা কথার শুরুতে এমন কিছু থাকলে যা প্রত্যাখ্যান বা অনুমোদনের দাবি রাখে, তবে সেই কথা শেষ হওয়ার আগে তা প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণ করতে তড়িঘড়ি না করা; যাতে তাতে থাকা সত্য বা মিথ্যা স্পষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি তা এমনভাবে বুঝতে পারেন যার মাধ্যমে সঠিক পন্থায় সে বিষয়ে কথা বলতে সক্ষম হন।

ইলমের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর অন্তর্ভুক্ত হলো—যোগ্যতা অর্জনের আগেই শিক্ষকতার আসনে বসা, যোগ্য হওয়ার আগেই ফতোয়া প্রদানের আসনে আসীন হওয়া এবং প্রশ্নটি পুরোপুরি বোঝার আগেই উত্তর প্রদানে দ্রুততা করা। এর মধ্যে আরও রয়েছে: সংবাদ আদান-প্রদানে তাড়াহুড়ো করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও।" (আল-হুজুরাত: ৬) অর্থাৎ: অন্য কোনো উপায়ে তার সত্য-মিথ্যা সুস্পষ্টভাবে জেনে নাও; যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো—অর্থাৎ এমন এক কওমের যারা তাদের ওপর আরোপিত অভিযোগ থেকে মুক্ত—তাদের অজ্ঞতাবশত কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে, এটা মনে করে যে তারা এর যোগ্য, কিন্তু পরবর্তীতে তোমাদের কাছে প্রকাশ পায় যে তারা এর যোগ্য ছিল না; ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হও। অর্থাৎ, তোমরা তাদের প্রতি যে অন্যায্য আচরণ করেছ, তার কারণে তোমরা অনুতপ্ত হও। আর মুমিনের কর্তব্য হলো এমন কাজ থেকে বেঁচে থাকা যার পরিণামে সে অনুতাপের আশঙ্কা করে।

যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ আদান-প্রদানে তড়িঘড়ি করার এক অত্যন্ত কুপ্রভাব পড়েছিল 'ইফক'-এর ঘটনার বিস্তারে, যা মুনাফিকরা আমাদের পবিত্রা, কলঙ্কমুক্তা, নিষ্পাপ ও সতী-সাধ্বী মাতা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিরুদ্ধে ছড়িয়েছিল। এমনকি আল্লাহ তাআলা এই তাড়াহুড়ো সম্পর্কে বলেছেন: "যখন তোমরা তা তোমাদের জিহ্বা দিয়ে গ্রহণ করছিলে এবং মুখে এমন কথা বলছিলে যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না, আর তোমরা সেটাকে অতি তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর নিকট তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।" (আন-নূর: ১৫) এটি এমন এক অবস্থা যাতে চপলতা, বেপরোয়া ভাব, দ্বিধাহীনতা এবং সবচেয়ে বড় ও বিপজ্জনক বিষয়গুলোকে কোনো পরোয়া বা গুরুত্ব ছাড়াই গ্রহণ করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। "যখন তোমরা তা তোমাদের জিহ্বা দিয়ে গ্রহণ করছিলে"—এক জিহ্বা অন্য জিহ্বা থেকে তা গ্রহণ করছিল, কোনো চিন্তা-ভাবনা, ধীরস্থিরতা, পরীক্ষা বা গভীর দৃষ্টিপাত ছাড়াই; যেন কথাটি কানেই পৌঁছাচ্ছে না, মস্তিস্ক তা ধারণ করছে না এবং অন্তরও তা অনুধাবন করছে না। "আর তোমরা তোমাদের মুখে এমন কথা বলছিলে যা তোমাদের নেই"—অর্থাৎ তোমাদের মুখ দিয়ে বলছিলে, তোমাদের সচেতনতা, বুদ্ধি বা অন্তর দিয়ে নয়; এগুলো কেবল মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ মাত্র, যা বোধগম্যতায় আসার আগে এবং বুদ্ধি তা গ্রহণ করার আগেই মুখ থেকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছিল। "আর তোমরা সেটাকে অতি তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর নিকট তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।"
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১২)
وبعد إنكار العجلة عليهم في نقل الأخبار يجيء التحذير من العودة إلى مثل هذا الاستعجال؛ فيقول تعالى: {يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} (النور: 17) فلا بد من التروّي ولا بد التأني، ولا بد من التثبت والتبين، ومنها النهي عن العجلة في الحكم على الناس قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا} (النساء: 94) أي: إذا سافرتم في الغزو فتبينوا؛ أي: فاطلبوا بيان الأمر في كل ما تأتون وما تذرون ولا تعجلوا فيه بغير تدبر ورويّة، {وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا} (النساء: 94) أي: لا تقولوا بغير تدبر لمن حياكم بتحية الإسلام أو من ألقى إليكم مقاليد الاستسلام والانقياد لست مؤمنًا، وإنما أظهر ما أظهر متعوذًا؛ بل اقبلوا منه ما أظهره وعاملوه بموجبه.

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "كان رجل في غُنيمة له؛ فلحقه المسلمون فقال: السلام عليكم، فقتلوه وأخذوا بتلك الغنيمة؛ فأنزل الله في ذلك قوله: {وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا} (النساء: 94) "، فلا يجوز التعجّل في الحكم على الناس بالكفر قبل البيان، بل لا يجوز للعامة أن يشغلوا أنفسهم بمسألة التكفير، فإن باب التكفير باب خطير، أقدم عليه كثير من الناس فسقطوا، وتوقف فيه الفحول فسلموا، ولا نعدل بالسلامة شيئًا.

ومنها النهي عن العجلة في القضاء: عن علي رضي الله عنه قال: "بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن قاضيًا فقلت: يا رسول الله، تُرسلني وأنا حديث السن، ولا علم لي بالقضاء، فقال صلى الله عليه وسلم: ((إن الله سيهدي قلبك ويثبت لسانك، فإذا جلس بين يديك الخصمان، فلا تقضينّ حتى تسمع من الآخر كما سمعت من الأول، فإنه أحرى أن يتبيّن لك القضاء)) قال علي: فما زلت قاضيًا، أو ما شككت في قضاء بعد".
সংবাদ আদান-প্রদানে তাদের তাড়াহুড়োকে অস্বীকার করার পর পুনরায় অনুরূপ তাড়াহুড়ো করার ব্যাপারে সতর্কবাণী এসেছে; মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যদি মুমিন হও তবে কখনোই যেন আর অনুরূপ কাজ না করো" (আন-নূর: ১৭)। সুতরাং ধীরস্থিরতা ও ধৈর্য অবলম্বন করা অপরিহার্য, এবং যাচাই-বাছাই ও নিশ্চিত হওয়াও আবশ্যক। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের ওপর ফয়সালা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করা। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! যখন তোমরা আল্লাহর পথে যাত্রা করো, তখন তোমরা যাচাই করে নাও" (আন-নিসা: ৯৪)। অর্থাৎ: যখন তোমরা যুদ্ধে বের হবে তখন যাচাই করে নাও; এর অর্থ হলো: তোমরা যা কিছু করবে বা ছাড়বে, তার সবকিছুর স্পষ্টতা অনুসন্ধান করো এবং চিন্তা ও ধীরস্থিরতা ছাড়া তাতে তাড়াহুড়ো করো না। "এবং যে তোমাদের সালাম দেয়, তাকে বলো না যে, 'তুমি মুমিন নও'" (আন-নিসা: ৯৪)। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি তোমাদের ইসলামের সম্ভাষণে অভিবাদন জানায় অথবা যে তোমাদের কাছে আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যের নিদর্শন পেশ করে, তাকে চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই বলো না যে 'তুমি মুমিন নও' এবং সে কেবল আত্মরক্ষার জন্যই তা প্রকাশ করেছে; বরং সে যা প্রকাশ করেছে তা গ্রহণ করো এবং তদানুযায়ী তার সাথে আচরণ করো।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি তার কিছু বকরি নিয়ে ছিল; মুসলিমরা তাকে পেয়ে গেল। সে তখন বলল: 'আসসালামু আলাইকুম'। কিন্তু তারা তাকে হত্যা করল এবং সেই বকরিগুলো নিয়ে নিল। তখন আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ে তাঁর বাণী নাজিল করেন: 'এবং যে তোমাদের সালাম দেয়, তাকে বলো না যে, তুমি মুমিন নও' (আন-নিসা: ৯৪)।" সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার আগে মানুষের ওপর কুফরের ফয়সালা দিতে তাড়াহুড়ো করা জায়েজ নেই। বরং সাধারণ মানুষের জন্য তাকফিরের (কাউকে কাফের বলার) মাসআলায় নিজেদের নিয়োজিত করাও বৈধ নয়। কারণ তাকফিরের বিষয়টি অত্যন্ত বিপদসংকুল; অনেক মানুষ এতে অগ্রসর হয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর বিজ্ঞ আলিমগণ এ থেকে বিরত থেকে নিরাপদ থেকেছেন। আর আমরা নিরাপত্তার সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা করি না।

এর মধ্যে রয়েছে বিচারকার্যে তাড়াহুড়ো করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বিচারক হিসেবে ইয়ামেনে পাঠালেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে পাঠাচ্ছেন অথচ আমি নবীন এবং বিচারকার্য সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার অন্তরকে সঠিক পথ দেখাবেন এবং তোমার জিহ্বাকে অটল রাখবেন। সুতরাং যখন তোমার সামনে বিবাদমান দুই পক্ষ বসবে, তখন দ্বিতীয় পক্ষের কথা না শুনে ফয়সালা দিও না, যেমনটি প্রথম পক্ষের কথা শুনেছ। কারণ এতে তোমার কাছে বিচারটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠার সম্ভাবনা বেশি।' আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: 'এরপর থেকে আমি বিচারকার্য পরিচালনা করে আসছি অথবা এরপর কোনো বিচারকার্যে আমি কখনো সন্দিহান হইনি'।"
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومنها النهي عن العجلة في الدعاء: قال الله تعالى: {وَيَدْعُ الْإِنْسَانُ بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ وَكَانَ الْإِنْسَانُ عَجُولًا} (الإسراء: 11) قال ابن كثير رحمه الله: يخبر الله تعالى عن عجلة الإنسان في دعائه في بعض الأحيان على نفسه، أو ولده، أو ماله بالشر، أي: بالموت أو الهلاك، أو الدمار، واللعنة، ونحو ذلك، فلو استجاب له ربه لهلك بدعائه، كما قال الله تعالى: {وَلَوْ يُعَجِّلُ اللَّهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ} (يونس: 11)، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((لا تدعوا على أنفسكم، ولا تدعوا على أولادكم، ولا تدعوا على خَدَمكم، ولا تدعوا على أموالكم، لا توافقوا من الله تبارك وتعالى ساعة نيل فيها عطاء فيستجيب لكم)).

ومن العجلة في الدعاء: أن يستعجل الإنسان عقوبة ذنبه في الدنيا قبل الآخرة. عن أنس رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد رجلًا من المسلمين قد خَفَت فصار مثل الفرخ، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هل كنت تدعوا بشيء أو تسأله إيَّاه؟ قال: نعم، كنت أقول: اللهم ما كنت معاقبي به في الآخرة؛ فعجّله لي في الدنيا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سبحان الله لا تطيقه، أو لا تستطيعه، أفلا قلت: اللهم آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار)). قال: فدعا الله له فشفاه.

ومن العجلة في الدعاء: أن يدعو الداعي قبل أن يحمد الله ويثني عليه، ويصلي على رسوله صلى الله عليه وسلم. عن فضالة بن عُبيد قال: "سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلًا يدعو في صلاته لم يُمجّد الله ولم يصلّ على النبي صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((عجلت أيها المصلي)) ثم علَّمهم رسول الله صلى الله عليه وسلم. وسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلًا يُصلي؛ فمجد الله وحمده وصلى على النبي صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ادعُ تُجب، وسَلْ تُعْطَ)) ".
এর মধ্যে একটি হলো দোয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা থেকে নিষেধ করা। মহান আল্লাহ বলেন: "আর মানুষ অকল্যাণের জন্য প্রার্থনা করে যেভাবে সে কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করে; আর মানুষ অত্যন্ত তাড়াহুড়োকারী।" (আল-ইসরা: ১১)। ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মহান আল্লাহ মানুষের সেই তাড়াহুড়ো সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যা সে কখনো কখনো নিজের বিরুদ্ধে, নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে অথবা নিজের সম্পদের বিরুদ্ধে অকল্যাণের মাধ্যমে করে থাকে; অর্থাৎ মৃত্যু, ধ্বংস, বিনাশ, অভিশাপ এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর মাধ্যমে। যদি তার রব তার সেই দোয়া কবুল করে নিতেন, তবে সে নিজ দোয়ার কারণেই ধ্বংস হয়ে যেত, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ যদি মানুষের অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতেন যেভাবে তারা কল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চায়, তবে তাদের আয়ুষ্কাল সমাপ্ত হয়ে যেত।" (ইউনুস: ১১)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না, তোমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না, তোমাদের খাদেমদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না এবং তোমাদের সম্পদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না; পাছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোনো মুহূর্তের সাথে মিলে যায় যখন কোনো দান চাওয়া হলে তা প্রদান করা হয়, ফলে তিনি তোমাদের জন্য তা কবুল করে নেবেন।"

দোয়ার মধ্যে তাড়াহুড়োর আরেকটি দিক হলো: মানুষ আখেরাতের আগে দুনিয়াতেই তার পাপের শাস্তির জন্য তাড়াহুড়ো করা। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মুসলিম ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন যিনি (অসুস্থতায়) জীর্ণ হয়ে পাখির ছানার মতো হয়ে গিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি কি আল্লাহর কাছে কোনো প্রার্থনা করছিলে অথবা তাঁর কাছে কিছু চেয়েছিলে?" সে বলল: হ্যাঁ, আমি বলতাম: হে আল্লাহ! আপনি আখেরাতে আমাকে যে শাস্তি দেবেন, তা দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সুবহানাল্লাহ! তুমি তা সহ্য করতে পারবে না—অথবা সামর্থ্য রাখবে না। তুমি কেন এমন বললে না: হে আল্লাহ! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দিলেন।

দোয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর আরেকটি দিক হলো: দোয়াকারী ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান গাওয়ার এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করার আগেই দোয়া করে ফেলা। ফাদালাহ বিন উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে তার সালাতে দোয়া করতে শুনলেন যে আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করেনি এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করেনি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'হে সালাত আদায়কারী! তুমি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ।' অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের শিক্ষা দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে শুনলেন; সে আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করল, তাঁর প্রশংসা করল এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'দোয়া করো, কবুল করা হবে এবং চাও, তোমাকে দেওয়া হবে'।"
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن العجلة في الدعاء: استعجال الإجابة: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا يزال يُستجاب للعبد ما لم يدعُ بإثم أو قطيعة رحم، ما لم يستعجل. قيل: يا رسول الله، ما الاستعجال؟ قال: يقول: قد دعوت وقد دعوت، فلم أرَ يستجيب لي، فيستحسر عند ذلك ويدع الدعاء)).

ومن الاستعجال المذموم: الحرص على تجميع الناس، وتكثير عددهم حول الداعية دون تمحيص ولا تربية، وإنما فقط لمجرَّد تكثير العدد، وهذا الاستعجال فيه من المضارّ والمخاطر ما فيه، ففي الاستعجال خطورة كبيرة تتمثَّل في عدة نقاط؛ منها: أن الاستعجال يجمع أعضاء بُسطاء الفكرة، ضعفاء التربية، تجربة قليلة، وطريق هذه الدعوة شاقّ يُشترط على السير فيه التزام التقوى، ولذلك يحصل التساقط في الطريق، وهذا خطر كبير.

ومنها: أن الدعوة في نشأتها وبدايتها تقوم على أكتاف الأقوياء؛ لتكوين القاعدة الصلبة، والاستعجال يُخالف ذلك.

ومنها: أن كثرة الضعفاء في هذه المرحلة داخلَ الصف الإسلامي تُؤدّي إلى تأخير ساعات النصر وإشغال المربِّين، وإضاعة طاقتهم في نوعية ساذجة تأخذ منهم أوقاتهم وجهودهم التي ينبغي عليهم أن يصرفوها في أعمال أخرى يرفعون فيها من مستوى الشباب في المجالات المختلفة، وينتج عن ذلك خطورة واضحة لا شكّ فيها.

ومنها: أن عملية الاستعجال سيكون من نتاجها بعد فترة تجميع فئة من الضعفاء تشغل المربّين في تصريفها في مجال يتناسوا معها، وبالتالي تنشأ قضية جديدة تأخذ منهم جهدًا فكريًّا وتنظيمًا هي في غنًى عنه الآن، وفي هذه المرحلة من العمل؛ لذلك ينبغي على الداعية المربي أن يتريَّث على إخوانه في المحاضر التربوية وغيرهم من الدعاة الجُدد في انتهاز الفرص في تربيتهم جميعًا، تربية مركزة قائمة على
দোয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর অন্তর্ভুক্ত হলো: কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয়, যতক্ষণ না সে কোনো পাপের বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার দোয়া করে এবং যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তাড়াহুড়ো কী? তিনি বললেন: "সে বলে: আমি দোয়া করেছি, আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমি তো দেখছি না যে আমার দোয়া কবুল হচ্ছে। অতঃপর সে তখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দোয়া করা ছেড়ে দেয়।"

আর নিন্দনীয় তাড়াহুড়োর অন্তর্ভুক্ত হলো: যাচাই-বাছাই ও তরবিয়ত ছাড়াই দাঈর চারপাশে লোক জড়ো করা এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার প্রতি অতি আগ্রহ দেখানো, যা কেবল সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই করা হয়। এই তাড়াহুড়োর মধ্যে নানাবিধ ক্ষতি ও ঝুঁকি রয়েছে। তাড়াহুড়োর মধ্যে বড় ধরণের বিপদ নিহিত রয়েছে যা কয়েকটি পয়েন্টে ফুটে ওঠে; তার মধ্যে একটি হলো: তাড়াহুড়ো এমন সব সদস্যদের একত্রিত করে যারা চিন্তাধারায় অপরিপক্ক, তরবিয়তের দিক থেকে দুর্বল এবং যাদের অভিজ্ঞতা খুব কম। অথচ এই দাওয়াতের পথ অত্যন্ত কঠিন, যেখানে চলার জন্য তাকওয়া অবলম্বন করা শর্ত। ফলে পথিমধ্যে ঝরে পড়ার ঘটনা ঘটে, আর এটি একটি বড় বিপদ।

আরেকটি বিষয় হলো: দাওয়াতের কাজ তার সূচনা ও প্রারম্ভিক পর্যায়ে শক্তিশালী ব্যক্তিদের কাঁধের ওপর ভর করে পরিচালিত হয়; যাতে একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করা যায়। কিন্তু তাড়াহুড়ো করা এর বিপরীত।

আরও একটি দিক হলো: এই পর্যায়ে ইসলামী সারির ভেতরে দুর্বলদের আধিক্য বিজয়ের মুহূর্তকে বিলম্বিত করে এবং মুরব্বীদের ব্যস্ত করে রাখে। এতে তাদের শক্তি এমন এক ধরণের সাধারণ শ্রেণির পেছনে অপচয় হয় যারা তাদের সেই সময় ও শ্রম কেড়ে নেয়, যা অন্য এমন সব কাজে ব্যয় করা উচিত ছিল যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুবকদের মান উন্নয়ন করতে পারতেন। এর ফলে সন্দেহাতীতভাবে এক স্পষ্ট বিপদ সৃষ্টি হয়।

আরেকটি বিষয় হলো: তাড়াহুড়োর প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে কিছুকাল পর এমন একদল দুর্বল লোক একত্রিত হবে যারা মুরব্বীদেরকে তাদের উপযোগী কোনো ক্ষেত্রে নিয়োজিত করতে ব্যস্ত করে তুলবে। ফলস্বরূপ একটি নতুন সমস্যার উদ্ভব হবে যা তাদের থেকে এমন চিন্তাগত ও সাংগঠনিক শ্রম কেড়ে নেবে যার প্রয়োজন এখন এবং কাজের এই পর্যায়ে নেই। অতএব, দাঈ ও মুরব্বীর উচিত হবে শিক্ষামূলক মজলিসগুলোতে তার ভাইদের ব্যাপারে এবং অন্যান্য নতুন দাঈদের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধারণ করা এবং তাদের সকলকে নিবিড়ভাবে গড়ে তোলার সুযোগ গ্রহণ করা, যা এমন এক সুসংহত তরবিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে যা...
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
المُكث لا على الاستعجال، وبذلك يكون قد وافق الأسلوب القرآني في التربية، فإن مما ذكره الله تعالى في القرآن قوله عز وجل: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً} (الفرقان: 32) قال تعالى: {كَذَلِكَ} أي: نزلناه مفرقًا {كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا} (الفرقان: 32)، وقال: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} (الإسراء: 106)، وفي هذا إشارة إلى أنه ينبغي للمتكلم في العلم من محدّث ومعلم وواعظ أن يتأمّل في توجيه ربه سبحانه، في تدبيره أمر الخلق وبعث الرسل إليهم، فكلما حدث موجب أو حصل موسم أتى بما يُناسب ذلك من الآيات القرآنية والأحاديث النبوية، والمواعظ الموافقة لذلك.

فعلى الدُّعاة إلى الله عز وجل أن يبذلوا جهدهم في الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى، وعليهم ألا يستعجلوا جني ثمار ما بذلوه من الجهد في الدعوة إلى الله عز وجل، فإن الله تبارك وتعالى أكثر على نبيه صلى الله عليه وسلم من الأمر بالصبر، والنهي عن الاستعجال قال الله: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِلْ لَهُمْ} (الأحقاف: 35)، فعليك أيها الداعية أن تغرس وتحرث، وأن تترك الإنبات لله عز وجل: {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (القصص: 56).

 

‌‌ضعف اليقين

ومن الآفات التي تُصيب الداعية فتُقعده عن دعوته: ضعف اليقين واليأس من الناس، واليأس من النصر إذا تأخّر النصر؛ لذلك كثر في القرآن الكريم أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالصبر، وبيان أن العاقبة له كما كانت لإخوانه المرسلين من قبله قال تعالى: {فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ} (هود: 49)، وقال: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ} (الأحقاف: 35)، وقال: {وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا
ধীরস্থিরভাবে অবস্থান করা, তাড়াহুড়ো করে নয়; আর এর মাধ্যমেই তারবিয়াত বা লালন-পালনের ক্ষেত্রে কুরআনি পদ্ধতির অনুসরণ করা হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআনে যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর কাফেররা বলে, কেন তাঁর উপর কুরআন একবারে অবতীর্ণ হলো না?} (আল-ফুরকান: ৩২)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এরূপই} অর্থাৎ: আমি একে পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ করেছি {এরূপই, যাতে এর মাধ্যমে আমি আপনার হৃদয়কে সুদৃঢ় করি এবং আমি একে ক্রমে ক্রমে আবৃত্তি করেছি} (আল-ফুরকান: ৩২)। এবং তিনি বলেছেন: {আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি এটি মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি এটি পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি} (আল-ইসরা: ১০৬)। এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইলম বা জ্ঞান বিষয়ে কথা বলেন এমন ব্যক্তি—যেমন মুহাদ্দিস, শিক্ষক ও ওয়ায়েজ বা উপদেশদাতা—তাদের উচিত তাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার নির্দেশনার প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করা। মাখলুক বা সৃষ্টির বিষয় পরিচালনা এবং তাদের কাছে রাসূলদের প্রেরণের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবস্থাপনার প্রতি লক্ষ্য রাখা। যখনই কোনো কারণ তৈরি হয় বা কোনো বিশেষ মৌসুম আসে, তখনই তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আয়াত ও হাদীস থেকে এবং তদানুযায়ী উপদেশাবলী থেকে তা উপস্থাপন করেন যা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অতএব আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের (দাঈদের) উচিত আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা। আর আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের ব্যয়কৃত প্রচেষ্টার ফল পাওয়ার জন্য তাদের তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ এবং তাড়াহুড়ো করার ব্যাপারে নিষেধ বহুবার করেছেন। আল্লাহ বলেন: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং তাদের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না} (আল-আহকাফ: ৩৫)। অতএব হে দাঈ! আপনার কাজ হলো রোপণ করা ও চাষাবাদ করা, আর অঙ্কুরোদগমের বিষয়টি মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া: {আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে আপনি হেদায়েত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন} (আল-কাসাস: ৫৬)।

 

‌‌দৃঢ় বিশ্বাসের দুর্বলতা

দাঈর ওপর যেসব আপদ বা বিপদ আসে যা তাকে দাওয়াতের কাজ থেকে বসিয়ে দেয় বা থামিয়ে দেয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো: দৃঢ় বিশ্বাসের দুর্বলতা, মানুষের ব্যাপারে হতাশ হয়ে যাওয়া এবং বিজয় বিলম্বিত হলে বিজয় থেকে নিরাশ হওয়া। এই কারণেই পবিত্র কুরআনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বহুবার ধৈর্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বর্ণনা করা হয়েছে যে, পরিণাম তাঁর অনুকূলেই আসবে, যেমনটি তাঁর পূর্ববর্তী রাসূল ভাইদের ক্ষেত্রে হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন; নিশ্চয়ই শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য} (হুদ: ৪৯)। তিনি আরও বলেন: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ ধৈর্য ধারণ করেছিলেন} (আল-আহকাফ: ৩৫)। তিনি আরও বলেন: {অবশ্যই আপনার পূর্ববর্তী রাসূলদেরকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছিল, তারা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়ার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিলেন...}
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ} (الأنعام: 34)، {حَتَّى إِذَا اسْتَيْئَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ} (يوسف: 110) وقال تعالى: {وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ} (هود: 120) وقال سبحانه: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ * إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِقَوْمٍ عَابِدِينَ} (الأنبياء: 105، 106) وقال سبحانه: {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ * إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ * وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} (الصافات: 171 - 173)، وقال تعالى: {إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ} (غافر: 51) وقال سبحانه: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} (التوبة: 33).

ولقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يحثّ أصحابه على الصبر ويبشّرهم بالنصر في أحلك الظروف وأصعبها حتى يستمروا في الثبات على الدين والانتشار به هاهنا وهاهنا، دون يأس يُقعدهم، ودون تشاؤم يصدهم عن تبليغ دعوة ربهم، عن خباب بن الأرت رضي الله عنه قال: ((شكونا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو متوسّد بردة له في ظلّ الكعبة، فقلنا: ألا تدعو لنا ألا تستنصر لنا، فقال صلى الله عليه وسلم: قد كان من كان قبلكم يُؤتى بالرجل فيحفر له في الأرض، فيوضع فيها، ثم يؤتى بالمنشار فيوضع على رأسه فيُفرق فرقتين ما يصده ذلك عن دينه، والله)) قسم يدل على الثقة المتناهية الثقة الكاملة في وعد الله عز وجل الذي أشارت إليه تلك الآيات التي صدّرنا بها الحديث: ((والله ليتمنّ الله هذا الأمر حتى يصير الراكب من صنعاء إلى حضرموت لا يخاف إلا الله والذئب على غنمه، ولكنكم تستعجلون)).

ويوم الخندق: {إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا * هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا} (الأحزاب: 10، 11) في هذا اليوم، وفي هذه الظروف، وفي هذه
এবং তাদের কষ্ট দেয়া হয়েছিল যতক্ষণ না তাদের কাছে আমাদের সাহায্য পৌঁছেছে এবং আল্লাহর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তনকারী নেই (আল-আনআম: ৩৪); {এমনকি যখন রাসূলগণ হতাশ হয়ে যেতেন এবং তারা মনে করতেন যে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে, তখন তাদের কাছে আমাদের সাহায্য পৌঁছেছে। অতঃপর আমরা যাদের ইচ্ছা করেছি তাদের রক্ষা করা হয়েছে। আর অপরাধী কওমের থেকে আমাদের শাস্তি ফিরিয়ে নেয়া হয় না} (ইউসুফ: ১১০)। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি রাসূলদের সংবাদ থেকে যা কিছু আপনার কাছে বর্ণনা করছি, তা দিয়ে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি} (হুদ: ১২০)। তিনি আরও বলেন: {আর আমি যিকরের পর যবুরেও লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই যমীনের উত্তরাধিকারী হবে। নিশ্চয় এতে ইবাদতকারী কওমের জন্য স্পষ্ট বার্তা রয়েছে} (আল-আনবিয়া: ১০৫, ১০৬)। তিনি আরও বলেন: {আর আমার প্রেরিত বান্দাদের ব্যাপারে আমার কথা আগেই চূড়ান্ত হয়েছে যে, নিশ্চয় তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই জয়লাভ করবে} (আস-সাফফাত: ১৭১-১৭৩); মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদের এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের দুনিয়ার জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে, সেদিন সাহায্য করব} (গাফির: ৫১)। তিনি আরও বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যেন তিনি তাকে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে} (আত-তাওবাহ: ৩৩)।

নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের ধৈর্য ধারণে উৎসাহিত করতেন এবং অত্যন্ত অন্ধকার ও কঠিনতম পরিস্থিতিতেও তাদের বিজয়ের সুসংবাদ দিতেন, যাতে তারা দ্বীনের ওপর অটল থাকতে পারেন এবং সর্বত্র তা ছড়িয়ে দিতে পারেন; কোনো নিরাশা যেন তাদের স্থবির করে না দেয় এবং কোনো নৈরাশ্য যেন তাদের রবের দাওয়াত পৌঁছানো থেকে বিরত না রাখে। খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ জানালাম, তখন তিনি কাবার ছায়ায় তাঁর একটি চাদরে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম: আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য চাইবেন না? তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা এমন ছিল যে, কোনো ব্যক্তিকে ধরে আনা হতো এবং তার জন্য জমিনে গর্ত খুঁড়ে তাকে তাতে রাখা হতো, তারপর করাত এনে তার মাথার ওপর রেখে তাকে দুই খণ্ড করে ফেলা হতো, তবুও এই কঠিন পরীক্ষা তাকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। আল্লাহর শপথ))—এটি এমন এক শপথ যা আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ, যে প্রতিশ্রুতির দিকে আলোচনার শুরুতে সেই আয়াতগুলো ইঙ্গিত করেছে—((আল্লাহর শপথ, আল্লাহ অবশ্যই এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করবেন, এমনকি একজন আরোহী সানআ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না, আর তার মেষপালের ওপর নেকড়ের ভয় ছাড়া আর কোনো ভয় থাকবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়ো করছ।))

আর খন্দকের যুদ্ধের দিন: {যখন তারা তোমাদের ওপর থেকে এবং তোমাদের নিচ থেকে তোমাদের কাছে আক্রমণ করতে এসেছিল, আর যখন চক্ষুসমূহ স্থির হয়ে গিয়েছিল এবং কলিজাগুলো গলার কাছে চলে এসেছিল, আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা ধারণা পোষণ করছিলে। সেখানে মুমিনদের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল} (আল-আহযাব: ১০, ১১)। এই দিনে, এই পরিস্থিতিতে এবং এই
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
الأثناء وهم يحفرون الخندق عرضت لهم صخرة عجزوا عن كسرها، فشكوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((إني نازلٌ، أنا قادم لأكسر هذه الصخرة التي عجزت عنها معاولكم؛ فجاء عليه الصلاة والسلام وقد ربط على بطنه، ونزل فأتى هذه الصخرة ورفع المعول قائلًا: بسم الله فطار ثلثها، فقال: الله أكبر أعطيت مفاتيح الشام، والله إني لأرى قصورها من مكاني هذا، ثم ضرب الضربة الثانية فطار الثلث الثاني من تلك الصخرة فقال: الله أكبر أعطيك مفاتيح فارس، والله إني لأرى قصورها من مكاني هذا، ثم ضرب الضربة الثالثة فصارت هباء منثورًا فقال: الله أكبر أعطيت مفاتيح اليمن، والله لأني لأبصر أبواب صنعاء من مكاني هذا)).

هكذا كان صلى الله عليه وسلم يبَشِّرُ أصحابه بأن النصر قريب، وبأن المستقبل لهذا الدين مهما اشتدّت الأزمات، وعظمت الخطوب، ومهما حاول أعداء الدين أن يُطفئوا نور الله عز وجل فإنهم لن يصلوا إلى تلك الغاية كما أخبر الله عز وجل: {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ} (التوبة: 32)، ولقد ظلّ صلى الله عليه وسلم يُبشر أصحابه بالنصر والتمكين، وفتح بلاد المشركين، وأكثر عليهم في ذلك؛ تضمينًا لقلوبهم، ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: ((بَشّر هذه الأمة بالثناء والدين، والرفعة والنصر، والتمكين في الأرض)).

وقوله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله زوى لي الأرض، فرأيت مشارقها ومغاربها، وإن ملك أمتي سيبلغ ما زُوي لي منها))، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله استقبل بي الشام وولّى ظهري اليمن، وقال لي: يا محمد، إني جعلت لك ما تجاهك غنيمة ورزقًا، وما خلف ظهرك مددًا، ولا يزال الإسلام يزيد وينقص الشرك وأهله؛ حتى تسير المرأتان لا تخشيان إلا جورًا، والذي نفسي بيده لا تذهب الأيام والليالي حتى يبلغ هذا الدين مبلغ هذا النجم)). وقوله صلى الله عليه وسلم: ((ليبلغنَّ هذا الأمر ما بلغ الليل
সেই সময়ে যখন তারা পরিখা খনন করছিলেন, তখন তাদের সামনে এমন এক বিশাল পাথর দেখা দিল যা ভাঙতে তারা অক্ষম হলেন। তখন তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন: "আমি নামছি, আমি আসছি সেই পাথরটি ভাঙার জন্য যা তোমাদের কোদালগুলো ভাঙতে অক্ষম হয়েছে।" অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর পেটে পাথর বেঁধেছিলেন। তিনি নিচে নামলেন এবং সেই পাথরের কাছে এসে কোদাল উঁচিয়ে বললেন: "আল্লাহর নামে"; তখন পাথরটির এক-তৃতীয়াংশ চূর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন: "আল্লাহ মহান, আমাকে শামের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি আমার এই স্থান থেকে শামের রাজপ্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি।" অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন, তখন সেই পাথরের দ্বিতীয় এক-তৃতীয়াংশ চূর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন: "আল্লাহ মহান, আমাকে পারস্যের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি আমার এই স্থান থেকে পারস্যের রাজপ্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি।" এরপর তিনি তৃতীয়বার আঘাত করলেন এবং তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হলো। তিনি বললেন: "আল্লাহ মহান, আমাকে ইয়ামেনের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই আমার এই স্থান থেকে সানআর ফটকগুলো দেখতে পাচ্ছি।"

এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সুসংবাদ দিতেন যে বিজয় নিকটবর্তী, এবং সংকট যত তীব্রই হোক আর বিপদ যত বড়ই হোক না কেন, ভবিষ্যৎ এই দ্বীনেরই। আর দ্বীনের শত্রুরা আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য যত চেষ্টাই করুক না কেন, তারা সেই উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে পারবে না, যেমনটি মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন: "তারা তাদের মুখ দিয়ে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করেন" (আত-তাওবাহ: ৩২)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা তাঁর সাহাবীদের বিজয়, আধিপত্য এবং মুশরিকদের ভূখণ্ড বিজয়ের সুসংবাদ দিতে থাকতেন; তাঁদের অন্তরকে আশ্বস্ত করার জন্য। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "এই উম্মতকে মর্যাদা, দ্বীন, উচ্চতা, সাহায্য এবং জমিনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুসংবাদ দাও।"

এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে সংকুচিত করেছেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তগুলো দেখেছি। আর আমার উম্মতের রাজত্ব অবশ্যই সেখানে পৌঁছাবে যে পর্যন্ত জমিনকে আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে।" এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ শামকে আমার সম্মুখপানে রেখেছেন এবং ইয়ামেনকে আমার পৃষ্ঠদেশে রেখেছেন। আর তিনি আমাকে বলেছেন: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আমি আপনার সম্মুখের বিষয়গুলোকে আপনার জন্য গনীমত ও রিযিক বানিয়েছি এবং আপনার পৃষ্ঠদেশের বিষয়গুলোকে সাহায্যকারী করেছি। আর ইসলাম সর্বদা বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং শিরক ও মুশরিকরা কমতে থাকবে; এমনকি অবস্থা এমন হবে যে দুইজন নারী একাকী পথ চলবে অথচ তারা অন্যায় বা জুলুম ছাড়া আর কিছুই ভয় পাবে না। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, দিন ও রাত ততক্ষণ গত হবে না যতক্ষণ না এই দ্বীন সেই নক্ষত্র পর্যন্ত পৌঁছাবে।" এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "অবশ্যই এই বিষয়টি সেখানে পৌঁছাবে যেখানে রাত পৌঁছায়..."
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
والنهار، ولا يترك الله بيت مدر ولا وبر إلا أدخله الله هذا الدين بعزّ عزيز، أو بذل ذليل، عزًّا يُعز الله به الإسلام، وذلًّا يزل الله به الكفر)). وهذه كلها بشارات عامة.

وقد بَشّر صلى الله عليه وسلم بفتح بعض البلاد وسماها، ففتحت كما بشر صلى الله عليه وسلم من هذه البلاد: أرض الكنانة، مصرنا الحبيبة؛ فقد قال صلى الله عليه وسلم: ((إنكم ستفتحون مصر، وهي أرض يُسمى فيها القيراط، فإذا فتحتموها فاستوصوا بأهلها خيرًا، فإنّ لهم ذمة ورحمًا))، ومنها: اليمن والشام والعراق، كما قال صلى الله عليه وسلم: ((تُفتح اليمن فيأتي قومٌ يبثّون فيحملون بأهليهم ومن أطاعهم، والمدينة خيرٌ لهم لو كانوا يعلمون، وتفتح الشام فيأتي قومٌ يبثون فيحملون بأهليهم ومن أطاعهم والمدينة خيرٌ لهم لو كانوا يعلمون. وتفتح العراق فيأتي قوم يبثون فيحلمون بأهليهم ومن أطاعهم، والمدينة خيرٌ لهم لو كانوا يعلمون)). فبشر صلى الله عليه وسلم أصحابه بفتح مصر واليمن والشام والعراق، وقد فُتحت تلك البلاد كما أخبر صلى الله عليه وسلم.

وهناك بلاد بشر صلى الله عليه وسلم بفتحها ولمَّا تفتح، من هذه البلاد: روما عاصمة إيطاليا، عند عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: ((بينما نحن حول رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نكتب؛ إذ سُئل صلى الله عليه وسلم أي: المدينتين تُفتح أولًا القسطنطينية أو رومية؟ فقال: مدينة هرقل تُفتح أولًا)) يعني: قسطنطينية، وقد فتحت قسطنطينية، ونحن في انتظار فتح رومية كما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم وهو الذي لا ينطق عن الهوى كما أخبر عن ربه سبحانه وتعالى.

وقال صلى الله عليه وسلم: ((عُصيِّبة من المسلمين يفتحون البيت الأبيض بيت كسرى)). بل إنه صلى الله عليه وسلم أخبر عن رفع الخلافة، ثم أخبر عن عودتها، رفع الخلافة التي سقطت كما هو معلوم في العام الرابع والعشرين من الميلاد بعد التسعمائة والألف، سقطت الخلافة كما أخبر عليه الصلاة والسلام وإخباره هذا ليس من عنده إنما هو من الله عز وجل-
...এবং দিবস; আর আল্লাহ কোনো মাটির ঘর বা পশমের তাঁবু বাকি রাখবেন না যেখানে এই দ্বীনকে প্রবেশ করাবেন না, কোনো সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দিয়ে অথবা কোনো লাঞ্ছিতকে লাঞ্ছনা দিয়ে। এমন সম্মান যার মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামকে সম্মানিত করবেন এবং এমন লাঞ্ছনা যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে লাঞ্ছিত করবেন। আর এগুলো সবই সাধারণ সুসংবাদ।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু দেশ বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং সেগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন, ফলে সেগুলো সেভাবেই বিজিত হয়েছে যেভাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দিয়েছিলেন। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে: কিনানার ভূমি, আমাদের প্রিয় মিশর; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমরা মিশর বিজয় করবে, আর এটি এমন এক দেশ যেখানে কিরাত (মুদ্রার একক) ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন তোমরা তা বিজয় করবে, তখন সেখানের অধিবাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, কারণ তাদের জন্য নিরাপত্তা ও আত্মীয়তার অধিকার রয়েছে।" আরও রয়েছে: ইয়ামেন, শাম এবং ইরাক, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইয়ামেন বিজিত হবে, তখন কিছু লোক তাদের পরিবার-পরিজন এবং যারা তাদের আনুগত্য করে তাদের নিয়ে দ্রুত চলে যাবে, অথচ মদিনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা জানত। আর শাম বিজিত হবে, তখন কিছু লোক তাদের পরিবার-পরিজন এবং যারা তাদের আনুগত্য করে তাদের নিয়ে দ্রুত চলে যাবে, অথচ মদিনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা জানত। আর ইরাক বিজিত হবে, তখন কিছু লোক তাদের পরিবার-পরিজন এবং যারা তাদের আনুগত্য করে তাদের নিয়ে দ্রুত চলে যাবে, অথচ মদিনাই ছিল তাদের জন্য কল্যাণকর যদি তারা জানত।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মিশর, ইয়ামেন, শাম এবং ইরাক বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং সেই দেশগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ অনুযায়ীই বিজিত হয়েছে।

এবং এমন কিছু দেশ রয়েছে যেগুলোর বিজয়ের সুসংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন কিন্তু সেগুলো এখনও বিজিত হয়নি, যেমন: ইতালির রাজধানী রোম। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারপাশে বসে লিখছিলাম; তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: দুটি শহরের মধ্যে কোনটি আগে বিজিত হবে, কনস্টান্টিনোপল নাকি রোম? তিনি বললেন: হেরাক্লিয়াসের শহর আগে বিজিত হবে।" অর্থাৎ: কনস্টান্টিনোপল। আর কনস্টান্টিনোপল বিজিত হয়েছে, এবং আমরা রোম বিজয়ের অপেক্ষায় আছি যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না, বরং তিনি তাঁর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে যা প্রাপ্ত হন তাই বলেন।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুসলিমদের একটি ছোট দল সাদা প্রাসাদ অর্থাৎ কিসরার প্রাসাদ বিজয় করবে।" এমনকি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খিলাফত উঠে যাওয়ার সংবাদ দিয়েছেন, এরপর পুনরায় তার প্রত্যাবর্তনের সংবাদ দিয়েছেন। খিলাফত উঠে যাওয়া যা ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছে বলে সুপরিচিত, সেই খিলাফতের পতন হয়েছে যেভাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন। আর তাঁর এই সংবাদ তাঁর নিজের পক্ষ থেকে নয় বরং তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে—
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
القائل: {عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا * إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ} (الجن: 26، 27) أخبر صلى الله عليه وسلم عن سقوط الخلافة، ثم أخبر عن عودتها وارتفاع رايتها؛ حتى لا ييأس الدعاة بعد سقوط الخلافة من عودتها، قال صلى الله عليه وسلم: ((تكون النبوّة فيكم ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها الله إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون خلافة على منهاج النبوة؛ فتكون فيكم ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها الله إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون ملكًا عاضًّا، فتكون فيكم ما شاء الله أن تكون ثم يرفعها إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون ملكًا جبريًّا فتكون فيكم ما شاء الله أن تكون، ثم يرفعها إذا شاء أن يرفعها، ثم تكون خلافة على منهاج النبوة، ثم سكت صلى الله عليه وسلم).

فأخبر عليه الصلاة والسلام أنه بعد النبوّة خلافة، وبعد الخلافة ملك عاضّ وملك جبري، وبعد الملك العاض والملك الجبري خلافة على منهاج النبوة تنتهي بها الدنيا كما بدأت بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فيا أيّها الداعية هذه النصوص التي ذكّرتك بها تبعث في نفسك الأمل، وتجعلك لا تيأس ولا تفتر، بل امضِ قُدمًا في طريق دعوتك، وأنت متفائل، وأنت على يقين من أن المستقبل لهذا الدين، وتأمّل التاريخ على مداره بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم والأزمنة المتتابعة إلى اليوم، تأمّل وخُذ من التاريخ العبر والدروس حتى لا تيأس أبدًا، ولا يضعف يقينك أن المستقبل لهذا الدين مهما كانت العقبات، ومهما عظمت الخطوب، ومهما ازدادت الكروب، ومهما تقوَّى وتحصّن أعداء الدين ضد أهل الدين إلا أن الله لا بد أن يُظهر دينه كما وعد، والتاريخ أكبر شاهد.

وإليك هذه الوقائع الثلاث: من كان يظن أن تقوم للإسلام قائمة بعد أن استلم أبو بكر رضي الله عنه مقاليد الخلافة؛ ففي هذا الوقت من خلافة أبي بكر عظم الخطب، واشتدّ الحال، ونجم النفاق، وارتدّ من ارتد من أحياء العرب، وظهر مدعو النبوة، وامتنع قوم عن أداء الزكاة، ولم يبقَ للجمعة مقام في بلد سوى مكة
সেই সত্তা যিনি বলেছেন: "তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারও কাছে প্রকাশ করেন না, তবে তাঁর মনোনীত কোনো রাসুল ব্যতীত" (আল-জিন: ২৬, ২৭)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খিলাফতের পতন সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর এর প্রত্যাবর্তন ও এর পতাকা সমুন্নত হওয়া সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; যাতে খিলাফতের পতনের পর এর ফিরে আসার ব্যাপারে দাঈগণ হতাশ না হন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে নবুওয়াত থাকবে আল্লাহ যতদিন তা রাখা ইচ্ছা করবেন, অতঃপর আল্লাহ যখন তা তুলে নিতে চাইবেন তখন তিনি তা তুলে নেবেন। এরপর নবুওয়াতের আদলে খিলাফত কায়েম হবে এবং তা তোমাদের মধ্যে থাকবে যতদিন আল্লাহ রাখা ইচ্ছা করবেন, অতঃপর আল্লাহ যখন তা তুলে নিতে চাইবেন তখন তিনি তা তুলে নেবেন। এরপর শুরু হবে কামড় দিয়ে ধরে রাখা রাজতন্ত্র, আর তা তোমাদের মাঝে থাকবে যতদিন আল্লাহ রাখা ইচ্ছা করবেন, অতঃপর আল্লাহ যখন তা তুলে নিতে চাইবেন তখন তিনি তা তুলে নেবেন। এরপর আসবে জবরদস্তিমূলক রাজতন্ত্র, আর তা তোমাদের মাঝে থাকবে যতদিন আল্লাহ রাখা ইচ্ছা করবেন, অতঃপর আল্লাহ যখন তা তুলে নিতে চাইবেন তখন তিনি তা তুলে নেবেন। এরপর পুনরায় নবুওয়াতের আদলে খিলাফত কায়েম হবে।" অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরব হলেন।

সুতরাং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, নবুওয়াতের পর আসবে খিলাফত, আর খিলাফতের পর আসবে কামড় দিয়ে ধরে রাখা রাজতন্ত্র ও জবরদস্তিমূলক রাজতন্ত্র। আর এই কামড় দিয়ে ধরে রাখা রাজতন্ত্র ও জবরদস্তিমূলক রাজতন্ত্রের পর পুনরায় নবুওয়াতের আদলে খিলাফত আসবে, যার মাধ্যমেই দুনিয়ার সমাপ্তি ঘটবে ঠিক যেভাবে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকালের পর তা শুরু হয়েছিল।

হে দাঈ! এই দলিলগুলো যা আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, তা আপনার মনে আশার সঞ্চার করবে এবং আপনাকে হতাশ ও নিস্তেজ হওয়া থেকে রক্ষা করবে। বরং আপনি আপনার দাওয়াতের পথে আশাবাদী হয়ে এবং এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান যে, ভবিষ্যৎ কেবল এই দ্বীনেরই। নবীজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকালের পর থেকে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের পরিক্রমা ও ধারাবাহিক সময়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করুন যাতে আপনি কখনও হতাশ না হন এবং আপনার এই দৃঢ় বিশ্বাস যেন দুর্বল না হয় যে, আগামীর ভবিষ্যৎ এই দ্বীনেরই; চাই বাধা-বিপত্তি যত বড়ই হোক না কেন, বিপদ যত চরম হোক না কেন, দুঃখ-কষ্ট যত বৃদ্ধি পাক না কেন, আর দ্বীনের শত্রুরা দ্বীনদারদের বিরুদ্ধে যতই শক্তিশালী ও সুসংহত হোক না কেন। আল্লাহ অবশ্যই তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করবেন যেমনটি তিনি ওয়াদা করেছেন, আর ইতিহাসই এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

আপনার সামনে এই তিনটি ঘটনা তুলে ধরছি: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন কে ভেবেছিল যে ইসলামের অস্তিত্ব আবার পুনরুজ্জীবিত হবে? কারণ আবু বকরের খিলাফতের সেই সময়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ এবং অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। মুনাফিকির প্রকাশ ঘটেছিল, আরব গোত্রগুলোর মধ্যে যারা মুরতাদ হওয়ার তারা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল, নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদারদের আবির্ভাব ঘটেছিল এবং একদল লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল। এমনকি মক্কা ব্যতীত কোনো জনপদে জুমার নামাজ কায়েম থাকার মতো অবস্থা ছিল না।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২০)
والمدينة، وأصبح المسلمون كما يقول عروة بن الزبير رضي الله عنهما: كالغنم في الليلة المطيرة الشاتية لفقد نبيهم، وقلة عددهم، وكثرة عدوهم؛ حتى وجد من المسلمين من قال لأبي بكر رضي الله عنه: يا خليفة رسول الله، أغلقك بابك، والزم بيتك، واعبد ربك حتى يأتيك اليقين -يعني: الموت- ولكن أبا بكر رضي الله عنه لم يعترِه اليأس، ولم يستحوذ عليه القنوط، وإنما واجه هذه الأحداث الجسام كلها بإيمان راسخ، وعزيمة ثابتة، وتفاؤل عظيم.

هو الذي قال للدنيا قولته الخالدة: "أينقص الدين وأنا حي".

وهو الذي قال لعمر رضي الله عنه حين جاء يعاتبه على قتال مانعي الزكاة: "مه يا عمر، رجوت نصرتك وجئتني بخذلانك، أجبّار في الجاهلية وخوَّار في الإسلام، ماذا عسيت أن أتألَّفهم بسحر مفتعل، أم بشعر يُفترى هيات هيات، مضى رسول الله صلى الله عليه وسلم وانقطع الوحي؛ فوالله لأجاهدنّهم ما استمسك السيف في يدي، فوالله لأقاتلنّ من فرّق بين الصلاة والزكاة، فوالله لو منعوني عقال بعير كانوا يؤدُّونه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم عليه، قال عمر: فوالله ما هو إلا أن رأيت أن قد شرح الله صدر أبي بكر للقتال؛ فعلمت أنه الحق".

وأبو بكر هو الذي أنفذ جيش أسامة رضي الله عنه وقال لمعارضيه: والذي نفس أبي بكر بيده لو ظننت أن السباع تخطفني؛ لأنفذت بعث أسامة، كما أمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو لم يبقَ في القرى غيري لأنفذته ما كنت أحلّ عقدًا عقده رسول الله صلى الله عليه وسلم بيديه. ولم يزل أبو بكر رضي الله عنه يُخطّط ويجاهد ويرسل البعوث، ويسهر على مصالح الرعية؛ حتى استطاع أن يتغلَّب على الصعاب، وأن يقضي على الثورات والفتن، وأن ينتصر على المرتدّين ومدّعي النبوة، ومانعي الزكاة، ومبطلي
এবং মদিনা; উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যেমনটি বলেছেন: মুসলমানরা তাদের নবীকে হারানো, সংখ্যায় অল্প হওয়া এবং শত্রুদের আধিক্যের কারণে শীতকালীন বৃষ্টির রাতের ভেড়ার পালের মতো হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি মুসলমানদের মধ্যে এমন লোকও পাওয়া গিয়েছিল যারা আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন: হে রাসূলুল্লাহর খলীফা, আপনি আপনার দরজা বন্ধ রাখুন, ঘরে অবস্থান করুন এবং আপনার রবের ইবাদত করতে থাকুন যতক্ষণ না আপনার কাছে ইয়াকীন (অর্থাৎ মৃত্যু) আসে। কিন্তু আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতাশাগ্রস্ত হননি এবং নিরাশা তাকে গ্রাস করেনি। বরং তিনি এই সমস্ত বিশাল ঘটনাপ্রবাহের মোকাবিলা করেছিলেন সুদৃঢ় ঈমান, অবিচল সংকল্প এবং মহান আশাবাদের সাথে।

তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি দুনিয়ার সামনে তাঁর সেই চিরন্তন বাণী উচ্চারণ করেছিলেন: "আমি জীবিত থাকতে দ্বীন কি হ্রাস পাবে?"

তিনিই উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন, যখন তিনি যাকাত দিতে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁকে অনুযোগ করতে এসেছিলেন: "থামো হে উমর! আমি তোমার সাহায্যের আশা করেছিলাম, আর তুমি আমার কাছে আসলে অসহযোগিতা নিয়ে। জাহেলি যুগে তুমি ছিলে প্রতাপশালী, আর ইসলামে এসে কি দুর্বল হয়ে গেলে? আমি কি কোনো কৃত্রিম জাদু দিয়ে তাদের মন জয় করব, নাকি কোনো মিথ্যা কবিতা দিয়ে? অসম্ভব, অসম্ভব! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এবং ওহী বন্ধ হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! যতক্ষণ আমার হাতে তলোয়ার ধরা থাকবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ চালিয়ে যাব। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। আল্লাহর কসম! তারা যদি একটি উটের রশিও দিতে অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রদান করত, তবে আমি তার জন্যও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহর কসম, আমি যখন দেখলাম আল্লাহ যুদ্ধের জন্য আবু বকরের অন্তর প্রশস্ত করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটাই সত্য।"

আর আবু বকরই সেই ব্যক্তি যিনি উসামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাহিনীকে পাঠিয়েছিলেন এবং এর বিরোধিতাকারীদের বলেছিলেন: "সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আবু বকরের প্রাণ, যদি আমি আশঙ্কা করতাম যে হিংস্র পশুরা আমাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে, তবুও আমি উসামার অভিযান প্রেরণ করতাম যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশ দিয়েছিলেন। যদি এই জনপদগুলোতে আমি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট না থাকত, তবুও আমি তা কার্যকর করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ হাতে যে গিট বেঁধেছিলেন আমি তা খুলতে পারি না।" আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অনবরত পরিকল্পনা করতে থাকেন, জিহাদ চালিয়ে যান, সেনাদল পাঠাতে থাকেন এবং প্রজাসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় সজাগ থাকেন; যতক্ষণ না তিনি প্রতিকূলতা জয় করতে সক্ষম হন এবং বিদ্রোহ ও ফিতনা নির্মূল করেন। তিনি মুরতাদ, নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার, যাকাত অস্বীকারকারী এবং বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২১)
الصلاة، وأن يعيد للمسلمين عزتهم، ولليائسين تفاؤلهم، وللإسلام دولته، وللخلافة هيبتها.

من كان يظن أن تقوم للمسلمين قائمة لمّا استولى الصليبيون على كثير من البلاد الإسلامية، والمسجد الأقصى ما يُقارب قرنًا من الزمان؛ حتى ظن الكثير من المسلمين وغير المسلمين ألَّا أمل في انتصار المسلمين على الصليبيين، وألَّا رجاء في ردّ أرض فلسطين مع المسجد الأقصى إلى حوزة المسلمين، ومن كان يظن أن هذه البلاد ستتحرّر في يوم ما على يد البطل المغوار صلاح الدين في معركة حطين الحاسمة، ويُصبح للمسلمين من الكيان والقوة والعزة والسيادة، من كان يظن أن تقوم للمسلمين قائمة لما خرَّب المغول والتتار العالم الإسلامي من أقصاه إلى أقصاه، ونهبوا الأموال وداسوا القيم، وفتكوا في الأنفس والأعراض فتكًا ذريعًا. من كان يظن أن بلاد الإسلام بعد هذا الذي حدث ستتحرر في يوم ما على يد البطل المقدام قطز في معركة عين جالوت الحاسمة، ويصبح للمسلمين من المجد والعظمة والرفعة.

أيها الداعية؛ إن هذه الكوارث الثلاث التي وقعت في عصور مختلفة، وانتفاضة الأمة الإسلامية بعدها، ونهوض العرب يلتقي على نقطة واحدة، وهي وجود قيادة مؤمنة راسخة العقيدة، قوية الإيمان بوعد الله ونصره، وبصلاح الإسلام، وبالقوة الكامنة فيه، شديدة التمسك بتعاليم الإسلام وآدابه وأخلاقه، مجردة عن كل أنانية وعصبية جاهلية، ويلتقي هؤلاء القادة على أنهم كلهم كانوا يدعون إلى الإسلام، ويقاتلون بسيف محمد عليه الصلاة والسلام واستحقوا بذلك نصر الله، وتأييده الخارق للعادة، وظهرت المعجزة وكان حزب الله هم المفلحون كما قال تعالى: {وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} (الصافات: 173).
সালাত, এবং তিনি যেন মুসলিমদের নিকট তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেন, হতাশদের নিকট তাদের আশাবাদ, ইসলামের নিকট তার রাষ্ট্র এবং খিলাফতের নিকট তার গাম্ভীর্য।

কে ভেবেছিল যে মুসলিমরা আবার উঠে দাঁড়াতে পারবে যখন ক্রুসেডাররা অনেক মুসলিম ভূখণ্ড এবং প্রায় এক শতাব্দী ধরে মসজিদে আকসা দখল করে নিয়েছিল? এমনকি অনেক মুসলিম এবং অমুসলিমও মনে করতে শুরু করেছিল যে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়ের কোনো আশা নেই, এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডসহ মসজিদে আকসা মুসলিমদের অধিকারে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। এবং কে ভেবেছিল যে একদিন এই দেশগুলো নির্ভীক বীর সালাহউদ্দীনের হাতে হিত্তিনের চূড়ান্ত যুদ্ধে স্বাধীন হবে, এবং মুসলিমদের জন্য স্বতন্ত্র অস্তিত্ব, শক্তি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অর্জিত হবে। কে ভেবেছিল যে মুসলিমরা আবার উঠে দাঁড়াবে যখন মঙ্গোল ও তাতাররা মুসলিম বিশ্বকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ধ্বংস করে দিয়েছিল, সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল, মূল্যবোধকে পদদলিত করেছিল এবং জান ও সম্মানের ওপর ভয়াবহ ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। কে ভেবেছিল যে এতসব ঘটনার পর ইসলামের দেশগুলো একদিন অকুতোভয় বীর কুতুজের হাতে আইন জালুতের চূড়ান্ত যুদ্ধে স্বাধীন হবে এবং মুসলিমদের জন্য গৌরব, মহিমা ও উচ্চ মর্যাদা অর্জিত হবে।

হে দাঈ; বিভিন্ন যুগে সংঘটিত এই তিনটি বিপর্যয়, তারপর মুসলিম উম্মাহর জেগে ওঠা এবং আরবদের পুনরুত্থান একটি বিন্দুতে মিলিত হয়, আর তা হলো এমন এক মুমিন নেতৃত্বের উপস্থিতি যাদের আকিদা সুদৃঢ়, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও তাঁর সাহায্যের ওপর এবং ইসলামের যোগ্যতা ও এর ভেতরে নিহিত শক্তির ওপর যাদের ঈমান অত্যন্ত শক্তিশালী। যারা ইসলামের শিক্ষা, আদব ও আখলাকের ওপর কঠোরভাবে অবিচল এবং যাবতীয় স্বার্থপরতা ও জাহেলি গোঁড়ামি থেকে মুক্ত। এই নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে একমত ছিলেন যে তারা সবাই ইসলামের দিকেই আহ্বান করতেন এবং মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করতেন। এভাবেই তারা আল্লাহর সাহায্য এবং তাঁর অলৌকিক সমর্থনের যোগ্য হয়েছিলেন। ফলে অলৌকিক বিজয় দৃশ্যমান হয়েছিল এবং আল্লাহর দলই সফলকাম হয়েছিল, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "আর অবশ্যই আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে" (আস-সাফফাত: ১৭৩)।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২২)
إن الثقة بوعد الله، والتفاؤل بانتصار دين الله هو مقدمة الفوز والنصر، وإن القوة المعنوية في كل أمة هي التي تدفع شبابها ورجالها إلى تحقيق المزيد من الانتصارات الخالدة في كل زمان ومكان، والله سبحانه وتعالى مع المتقين المخلصين المجاهدين، الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر، والحافظين لحدود الله {وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ} (القصص: 5)، ووعد الله حق لن يتخلف {وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} (آل عمران: 139)، فلا يضعف يقينك، ولا تيأس أخي الداعية مهما أحاطت بك الخطوب، وعظمت بك وبالمسلمين الكروب، واعلم أن الله تعالى منجز وعده.

 

‌‌التقصير في عمل اليوم والليلة

ومن الآفات التي تصيب الداعية فتوهن قوته وتضعفه: تقصيره في عمل اليوم والليلة:

أعني: تقصير الداعية في القيام بوظيفة اليوم والليلة من العبادات النوافل المستحبة كالصلاة، والصيام، والأذكار، ونحوها مما هو مندوب من العبادات؛ فلا يعقل أن يقصر الداعية في الواجبات، ولكن التقصير قد يكون في نوافل العبادات، ومن الصلاة النوافل وقراءة القرآن والأذكار، مع أن ذكر الله عز وجل من أعظم أسباب قوة الداعية المعنوية والحسية، قال الله تبارك وتعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} (الرعد: 28).

ولما ذهب علي رضي الله عنه مع زوجه فاطمة رضي الله عنها إلى النبي صلى الله عليه وسلم يشكوان إليه ما لاقته فاطمة من التعب والنصب والعناء، من حملها ما تحتاج على رأسها، وطحنها
আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা এবং আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদই হলো সফলতা ও বিজয়ের পূর্বশর্ত। প্রতিটি উম্মাহর আত্মিক শক্তিই তার যুবক ও পুরুষদেরকে প্রতিটি যুগে ও স্থানে আরও অধিক চিরস্মরণীয় বিজয় অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুত্তাকী, মুখলিস মুজাহিদদের সাথে আছেন, যারা সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন এবং আল্লাহর সীমারেখা হিফাযত করেন। "আর আমি ইচ্ছা করলাম যে, জমিনে যাদেরকে দুর্বল করা হয়েছিল তাদের ওপর অনুগ্রহ করতে এবং তাদেরকে নেতা বানাতে ও তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে।" (আল-কাসাস: ৫)। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, যা কখনো খেলাপ হয় না। "তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।" (আলে ইমরান: ১৩৯)। সুতরাং হে দাঈ ভাই, আপনার দৃঢ় বিশ্বাস যেন দুর্বল না হয় এবং আপনি নিরাশ হবেন না, আপনার চারপাশ যতই বিপদসংকুল হোক না কেন এবং আপনার ও মুসলমানদের ওপর বিপদ যতই ভয়াবহ হোক না কেন। জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী।

 

‌‌দিন ও রাতের আমলে অবহেলা

দাঈর ওপর যেসব ব্যাধি আপতিত হয় এবং তার শক্তিকে হীন ও দুর্বল করে দেয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো: দিন ও রাতের আমলে তার শিথিলতা:

আমার উদ্দেশ্য হলো: দিন ও রাতের নিয়মিত ইবাদত পালনে দাঈর শিথিলতা, যেমন মুস্তাহাব নফল ইবাদতসমূহ: সালাত, সিয়াম, যিকির এবং এই জাতীয় অন্যান্য পছন্দনীয় ইবাদতসমূহ; কেননা একজন দাঈ ফরয ইবাদতসমূহে অবহেলা করবেন তা অভাবনীয়, বরং অবহেলা হতে পারে নফল ইবাদতসমূহে, যেমন নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত এবং যিকির। অথচ মহান আল্লাহর যিকির হলো দাঈর আত্মিক ও বাহ্যিক শক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: "যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর যিকিরে তাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।" (আর-রাদ: ২৮)।

যখন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁর স্ত্রী ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন এবং ফাতিমা মাথায় প্রয়োজনীয় আসবাব বহন ও যাতায় পেষার কারণে যে ক্লান্তি, পরিশ্রম ও কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছিলেন সে সম্পর্কে অভিযোগ করলেন...
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
بيدها، وغير ذلك من وظيفة المرأة في بيتها جاءت إلى رسول الله تشكو ما أصابها من التعب والنصب، وتسأله خادمًا يعينها على واجباتها المنزلية، فما كان من النبي صلى الله عليه وسلم إلا أن قال لعلي وفاطمة: ((ألا أدلّكما على خير لكما من خادم، إذا أويتما إلى فراشكما عند النوم تسبحان الله ثلاثًا وثلاثين، وتحمدان ثلاثًا وثلاثين، وتكبران أربع وثلاثين؛ فذلكما خير لكما من خادم)).

قال العلماء: في إرشاد النبي صلى الله عليه وسلم عليًّا وفاطمة إلى ذكر الله عز وجل بدلًا من الخادم إشارة إلى أن ذكر الله عز وجل يُعين البدن كما يعين القلب، ولقد كان صلى الله عليه وسلم إذا حزبه أمر يقول: ((أرحنا بالصلاة يا بلال، أرحنا بالصلاة يا بلال))، والله تعالى قال: {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} (طه: 14)، ولقد أمر الله سبحانه وتعالى الدعاة بكثرة ذكره عند المواجهة، فقال لموسى عليه السلام وقد كلفه بالذهاب إلى فرعون: {اذْهَبْ أَنْتَ وَأَخُوكَ بِآيَاتِي وَلَا تَنِيَا فِي ذِكْرِي} (طه: 42)، وقال الله تعالى للمؤمنين عند القتال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (الأنفال: 45).

وإذا كان الداعية يدعو الناس إلى التقرب إلى الله عز وجل بما يُحب من نوافل العبادات؛ فإن الداعية أولى وأحق بذلك أن يكون هو أكثر الناس لله ذكرًا؛ فعلى الداعية أن يُحافظ على الصلوات الخمس في الجماعة، وإن لم يرَ الجماعة واجبة؛ فليحافظ عليها لفضلها، وما يترتب عليها من الأجر والثواب، فصلاة الرجل في جماعة تزيد على صلاته في سوقه وبيته سبعًا وعشرين ضعفًا، ثم إن تواجد الداعية في المسجد خمس مرات في اليوم والليلة فرصة عظيمة للالتقاء بالناس ودعوتهم وتذكيرهم، واقتراب الداعية من الناس سببٌ لقربهم منه
নিজের হাতে (গৃহস্থালি কাজ সম্পাদন) এবং ঘরে একজন নারীর অন্যান্য দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষিতে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং নিজের ক্লান্তি ও পরিশ্রমের অভিযোগ ব্যক্ত করলেন। তিনি তাঁর গৃহস্থালি কাজে সাহায্যের জন্য একজন খাদেম প্রার্থনা করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ও ফাতিমা (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বললেন: "আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দেব না যা তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম? যখন তোমরা ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাবে, তখন ৩৩ বার আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা (সুবহানাল্লাহ), ৩৩ বার আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) এবং ৩৪ বার আল্লাহর মহিমা (আল্লাহু আকবার) বর্ণনা করবে; এটি তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও অনেক উত্তম।"

উলামায়ে কেরাম বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ও ফাতিমা (রা.)-কে খাদেমের পরিবর্তে মহান আল্লাহর জিকিরের যে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, তাতে এই ইঙ্গিত নিহিত রয়েছে যে, আল্লাহর জিকির যেমন অন্তরকে প্রশান্তি দেয়, তেমনি এটি শরীরকেও শক্তি যোগায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো উদ্বেগের বিষয়ের সম্মুখীন হতেন, তখন বলতেন: "হে বিলাল! সালাতের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও, হে বিলাল! সালাতের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} (ত্বহা: ১৪)। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা দাঈদেরকে প্রতিকূলতার মোকাবিলা করার সময় অধিক পরিমাণে তাঁর জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন মুসা আলাইহিস সালামকে যখন ফিরআউনের নিকট যাওয়ার দায়িত্ব প্রদান করেন, তখন তিনি বলেছিলেন: {তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলীসহ যাত্রা করো এবং আমার স্মরণে অলসতা করো না} (ত্বহা: ৪২)। আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের ময়দানে মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কোনো শত্রু দলের মোকাবিলা করো, তখন অটল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} (আল-আনফাল: ৪৫)।

যদি একজন দাঈ মানুষকে নফল ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আহ্বান জানান, তবে সেই দাঈ নিজেই আল্লাহর জিকিরে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অগ্রগামী হওয়ার অধিক দাবিদার ও যোগ্য। অতএব, দাঈর উচিত জামাআতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া; এমনকি যদি তিনি জামাআতকে ওয়াজিব মনে নাও করেন, তবুও এর মর্যাদা এবং এর প্রতিদান ও সওয়াবের আশায় তা নিয়মিত পালন করা সমীচীন। কেননা কোনো ব্যক্তির জামাআতে সালাত আদায় করা তার বাজারে বা ঘরে একা সালাত আদায়ের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব বহন করে। এছাড়া, দিন-রাতে পাঁচবার মসজিদে দাঈর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের সাথে মেলামেশা, দাওয়াত দান ও নসীহতের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে। মানুষের সাথে দাঈর এই নৈকট্য তাদের সত্যের পথে এগিয়ে আসার একটি অন্যতম কারণ।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومحبتهم له، ولا سيما إن أجاب دعوتهم وقضى حاجتهم وأعطاهم من جاهه ووقته وماله.

وعلى الداعية أن يكون أحرص الناس على التبكير بالرواح إلى المسجد، والمحافظة على السنن الرواتب القبلية والبعدية، ولا سيما التي قال فيها النبي صلى الله عليه وسلم: ((من صلى لله تعالى ثنتي عشرة ركعة كل يوم بنى الله له بيتًا في الجنة))، وهي ركعتان قبل الصبح، وأربع قبل الظهر، وركعتان بعدها، وركعتان بعد المغرب، وركعتان بعد العشاء، وعلى الداعية أن يحافظ على الأذكار المشروعة دُبر كل صلاة، وعليه أن يحافظ على أذكار الصباح، وأذكار المساء، وأذكار النوم، وأن يحافظ على الأذكار المطلقة والمقيدة، وأن يكون كما تعلّم من رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد قال له رجل: ((يا رسول الله، إن شرائع الإسلام قد كثرت علي، فمرني بشيء أتشبّث به، فقال: لا يزال لسانك رطبًا من ذكر الله)).

وعلى الداعية أن يأخذ حظه من صلاة الضحى، تلك الصلاة التي سماها النبي صلى الله عليه وسلم "صلاة الأوَّابين" فقد خرج على أهل قباء وهم يصلون الضحى فقال عليه الصلاة والسلام: ((صلاة الأوَّابين حين ترمض الفصال من الضحى)).

وعلى الداعية أن يأخذ حظه من قيام الليل، تلك الصلاة التي جعلها الله تعالى دليل الإيمان، وعنوان الإحسان فقال عز وجل: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ * تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ * فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (السجدة: 15 - 17) وقال
এবং তাঁর প্রতি তাদের ভালোবাসা, বিশেষ করে যদি তিনি তাদের আহ্বানে সাড়া দেন, তাদের প্রয়োজন পূরণ করেন এবং নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি, সময় ও সম্পদ থেকে তাদের দান করেন।

একজন দাঈর উচিত মসজিদে আগেভাগে যাওয়ার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যত্নবান হওয়া এবং সালাতের আগের ও পরের সুন্নতে রাতিবাগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা। বিশেষ করে সেই সালাত সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রতিদিন আল্লাহর জন্য বারো রাকাত সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" আর তা হলো—ফজরের পূর্বে দুই রাকাত, যোহরের পূর্বে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত এবং এশার পরে দুই রাকাত। দাঈর উচিত প্রত্যেক সালাতের পর শরীয়তসম্মত যিকিরসমূহ নিয়মিত আদায় করা। তাঁর উচিত সকালের যিকির, সন্ধ্যার যিকির এবং ঘুমের যিকিরগুলো নিয়মিত করা। তাঁর উচিত সাধারণ ও নির্দিষ্ট যিকিরসমূহ নিয়মিত পালন করা এবং তাঁর অবস্থা এমন হওয়া উচিত যা তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শিখেছেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের বিধানসমূহ আমার কাছে অনেক মনে হচ্ছে, তাই আমাকে এমন একটি বিষয়ের নির্দেশ দিন যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরব।" তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে।"

দাঈর উচিত চাশতের সালাত থেকে নিজের অংশ গ্রহণ করা। এটি সেই সালাত যাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "আওয়াবীনদের সালাত" (আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের সালাত) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কুবা বাসীদের নিকট বের হলেন যখন তারা চাশতের সালাত আদায় করছিল, তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বললেন: "আওয়াবীনদের সালাত তখন, যখন প্রখর রৌদ্রে উটের বাচ্চার পা পুড়তে শুরু করে।"

দাঈর উচিত তাহাজ্জুদের সালাত থেকে নিজের অংশ গ্রহণ করা। এটি সেই সালাত যাকে আল্লাহ তাআলা ঈমানের প্রমাণ এবং ইহসানের প্রতীক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আমার আয়াতসমূহ কেবল তারাই বিশ্বাস করে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা উপদেশ প্রদান করা হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে, আর তারা অহংকার করে না। তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ভয় ও আশার সাথে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। সুতরাং কোনো ব্যক্তিই জানে না তাদের আমলের বিনিময়স্বরূপ তাদের জন্য নয়ন জুড়ানো কী কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।" (সূরা আস-সাজদাহ: ১৫-১৭) এবং তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
تعالى: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ * آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ * كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ * وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} (الذاريات: 15 - 18)، ولقد فرّق الله تبارك وتعالى بين القائمين والنائمين فقال: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الأَلْبَابِ} (الزمر: 9).

وعلى الداعية أن يكون شديد الصلة بمصدر دعوته الأول وهو القرآن الكريم فيُعنى به تلاوة وتدبرًا وفهمًا، وعلى الداعية أن يكون له ورد من القرآن كل يوم بحيث يختم كل ثلاثة أو كل أسبوع، ولا يزيد على ذلك ولا يتأخر عن ختم القرآن أكثر من أسبوع؛ فلأن جاز ذلك لعامة المسلمين فلا يجوز للدعاة خاصة، فإن القرآن الكريم هو حبل الله المتين، وهو النور المبين، والصراط المستقيم، عصمة لمن تمسّك به، ونجاة لمن اتبعه، {كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} (هود: 1)، {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ * لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} (فصلت: 41، 42)، تلاوته قربة يُتقرَّب بها إلى الله سبحانه وتعالى وتجارة رابحة وصفها الله تبارك وتعالى بعدم البوار والكساد، فقال عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ * لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ} (فاطر: 29، 30).

والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((من قرأ حرف من كتاب الله فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا "الم" حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف))، وقال عليه الصلاة والسلام: ((اقرءوا القرآن؛ فإنه يأتي القرآن شفيعًا لصاحبه)).
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা জান্নাতসমূহ ও ঝরনাধারার মধ্যে থাকবে। তারা তা গ্রহণ করবে যা তাদের প্রতিপালক তাদের দান করেছেন। নিশ্চয়ই তারা ইতঃপূর্বে ইহসানকারী ছিল। তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমাতো। এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো} (আয-যারিয়াত: ১৫ - ১৮), এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা ইবাদতে দণ্ডায়মান এবং ঘুমন্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে এবং দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার প্রতিপালকের রহমত প্রত্যাশা করে (সে কি তার সমান?); বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? কেবল বুদ্ধিমান লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে} (আয-জুমার: ৯)।

একজন দায়ীর উচিত তার দাওয়াতের প্রথম উৎসের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক রাখা, আর তা হলো পবিত্র কুরআন। সুতরাং কুরআন তিলাওয়াত, অনুধাবন এবং বোঝার ব্যাপারে তাকে অত্যন্ত যত্নশীল হতে হবে। একজন দায়ীর প্রতিদিন কুরআনের একটি নির্দিষ্ট অংশ থাকা উচিত যাতে সে প্রতি তিন দিনে বা প্রতি সপ্তাহে একবার খতম করতে পারে। এর চেয়ে অধিক সময় নেওয়া যাবে না এবং কুরআন খতম এক সপ্তাহের বেশি বিলম্ব করা যাবে না; সাধারণ মুসলমানদের জন্য যদি তা বৈধ হয়, তবে বিশেষ করে দায়ীদের জন্য তা সমীচীন নয়। কেননা পবিত্র কুরআন হলো আল্লাহর মজবুত রশি, সুস্পষ্ট নূর এবং সরল পথ। যে একে আঁকড়ে ধরবে তার জন্য এটি সুরক্ষা এবং যে একে অনুসরণ করবে তার জন্য এটি মুক্তি। {এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর পক্ষ থেকে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে} (হুদ: ১), {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব। এতে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এর অগ্রভাগ থেকেও নয় এবং এর পশ্চাৎভাগ থেকেও নয়। এটি প্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} (ফুসসিলাত: ৪১, ৪২)। এর তিলাওয়াত আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের মাধ্যম এবং এটি এমন এক লাভজনক ব্যবসা যাকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা লোকসান ও মন্দামুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদের পূর্ণ বিনিময় দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত গুণগ্রাহী} (ফাতির: ২৯, ৩০)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি বর্ণ পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে। আর একটি নেকি দশ গুণের সমান। আমি বলছি না যে 'আলিফ-লাম-মীম' একটি বর্ণ, বরং আলিফ একটি বর্ণ, লাম একটি বর্ণ এবং মীম একটি বর্ণ।" এবং তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেছেন: "তোমরা কুরআন পাঠ করো; কেননা কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে।"
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال صلى الله عليه وسلم: ((الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة، يقول الصيام: أي رب منعته الطعام والشراب بالنهار فشفّعني فيه، ويقول القرآن: أي رب منعته النوم بالليل فشفعني فيه، قال: فيُشّفَعَان))، وقد قال عليه الصلاة والسلام: ((إن الله يرفع بهذا الكتاب أقوامًا ويضع به آخرين)).

فهذه بعض وظائف اليوم والليلة التي قد يقع فيها تقصير من بعض الدعاة، والتقصير في هذه الوظائف يؤثّر على الداعية معنويًّا، وروحانيًّا، وإنما الداعية بقلبه وروحه لا ببدنه ولسانه، ولذلك كانت هذه الوظائف من أهم الوظائف التي أمر الله تبارك وتعالى بها رسوله صلى الله عليه وسلم في أول ما كلّفه بالدعوة، اقرءوا إن شئتم سورة المزمل بسم الله الرحمن الرحيم: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ * قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا * نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا * أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا * إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا * إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا * إِنَّ لَكَ فِي اَلنَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلًا * وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا * رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا} (المزمل: 1 - 9).

نسأل الله تبارك وتعالى أن يعيننا على ذكره وشكره وحسن عبادته، وأن يجعلنا من الدعاة إليه بسلوكنا وعملنا قبل أن نكون دعاة بأقوالنا، فإن عمل رجل في ألف رجل خير من قول ألف رجل في رجل، وحسبنا قول شعيب عليه السلام: {وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} (هود: 88).

فهذه أيها الداعية بعض الآفات التي قد تعترضك في طريقك، فتقعدك عن دعوتك، وتجعلك تترك السير في ركاب الدعوة إلى الله عز وجل فكن منها على حذر، والله يحفظك ويعصمك من الزلل هو ولي ذلك والقادر عليه.

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রোজা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে: হে আমার রব, আমি তাকে দিনে খাবার ও পানীয় থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। আর কুরআন বলবে: হে আমার রব, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাব দ্বারা কিছু জাতিকে উচ্চাসনে আসীন করেন এবং এর মাধ্যমেই অন্যদের অবদমিত করেন।"

এগুলো হলো দিন ও রাতের এমন কিছু আমল বা দায়িত্ব যাতে অনেক সময় কিছু দায়ীর (দাওয়াত প্রদানকারী) পক্ষ থেকে অবহেলা প্রকাশ পায়। আর এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা একজন দায়ীর মানসিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মূলত একজন দায়ী তার অন্তর ও রূহ দ্বারা বিবেচিত হন, তার দেহ বা জিহ্বা দ্বারা নয়। একারণেই এই আমলগুলো ছিল সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিয়েছিলেন যখন তিনি তাঁকে সর্বপ্রথম দাওয়াতের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। আপনারা চাইলে সূরা আল-মুজ্জাম্মিল পাঠ করতে পারেন, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে: {হে বস্ত্রাবৃত! রাতে দণ্ডায়মান হোন, তবে অল্প সময় ব্যতীত। রাতের অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে কিছু কম করুন। অথবা তার চেয়ে বৃদ্ধি করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে। নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করব। নিশ্চয়ই রাতে ওঠা প্রবৃত্তি দমনে অধিকতর কার্যকর এবং সঠিক কথা উচ্চারণে অধিকতর সহায়ক। নিশ্চয়ই দিনে আপনার জন্য রয়েছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। আর আপনি আপনার রবের নাম স্মরণ করুন এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠভাবে নিবিষ্ট হোন। তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তাঁকেই কর্মবিধায়ক হিসেবে গ্রহণ করুন} (আল-মুজ্জাম্মিল: ১ - ৯)।

আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাঁর জিকির, শোকর এবং উত্তম ইবাদতের তৌফিক দান করেন। আর তিনি যেন আমাদের তাঁর দিকে আহ্বানকারী বানান আমাদের আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে, আমাদের কথার মাধ্যমে হওয়ার আগে। কেননা এক হাজার মানুষের মাঝে একজন মানুষের (সৎ) কর্ম, একজনের প্রতি এক হাজার মানুষের (খালি) কথার চেয়ে অনেক বেশি কল্যাণকর। আর আমাদের জন্য শুয়াইব আলাইহিস সালামের এই কথাটিই যথেষ্ট: {আমি যে বিষয়ে তোমাদের নিষেধ করছি, তার বিপরীতে নিজে তা করতে চাই না। আমি তো কেবল আমার সাধ্যমতো সংশোধনই চাই। আর আমার তৌফিক তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই} (হুদ: ৮৮)।

হে দায়ী! এগুলো হলো কিছু ব্যাধি যা আপনার পথে বাধা হতে পারে, আপনাকে আপনার দাওয়াতি কাজ থেকে বসিয়ে দিতে পারে এবং মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার কাফেলা থেকে আপনাকে বিচ্যুত করতে পারে। সুতরাং এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন এবং সকল পদস্খলন থেকে রক্ষা করুন; তিনিই এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الدرس: 2 أصول العقيدة (1).
পাঠ: ২ আকিদার মূলনীতিসমূহ (১)
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الثاني

(أصول العقيدة (1))

 

‌‌علاقة الدعوة بأصول الإسلام

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، وأشهد إلا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أما بعد:

إن الإسلام هو دين الله الذي ارتضاه لعباده كما قال سبحانه: {وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (المائدة: 3) وهو الدين الذي لا يقبل الله دين سواه كما قال سبحانه: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَام} (آل عمران: 19) وقال عز وجل: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (آل عمران: 85) والإسلام الذي هو دين الله عز وجل عقيدة وعبادة ومعاملة؛ عقيدة تصل الإنسان بالله عز وجل {فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنْ الأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ * لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (الشورى: 11، 12).

وعبادة يؤديها الإنسان وفاءً بحق الله الذي خلقه وصوره وشق سمعه وبصره يرجو بها رضوان الله والجنة؛ ويخاف إن تركها عقاب الله والنّار؛ فهو دائمًا كما وصف الله أولياءه: {سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ} (الزمر: 9) وهو مع ذلك محسنٌ في معاملة الناس، كما أمره الله عز وجل شعاره دائمًا: {لا تَظْلِمُونَ وَلا تُظْلَمُون} (البقرة: 279) فالعدل عنده أساس المعاملة، وهو مع ذلك قد يعفو عن من ظلمه، ويصل من قطعه، ويحلم على من يجهل عليه؛ لأن الإسلام أمره بالإحسان فيما بينه وبين الله، وأمره بالإحسان فيما بينه وبين الناس، وأخبر الله سبحانه وتعالى أنه يحب المحسنين، وأنه يجزي المحسنين بالإحسان إحسانًا كما قال سبحانه: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} (يونس: 26).
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

দ্বিতীয় পাঠ

(আকীদার মূলনীতি (১))

 

‌ইসলামের মূলনীতির সাথে দাওয়াতের সম্পর্ক

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। এরপর:

নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর সেই দ্বীন যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন, যেমনটি তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেন: "আর আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম" (সূরা আল-মায়িদা: ৩)। আর এটিই সেই দ্বীন যা ব্যতীত আল্লাহ অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করবেন না, যেমনটি তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম" (সূরা আলে ইমরান: ১৯)। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে" (সূরা আলে ইমরান: ৮৫)। আর ইসলাম, যা মহান আল্লাহর মনোনীত দ্বীন, তা হলো আকীদা, ইবাদত এবং মুআমালা (আচরণ-ব্যবহার) এর সমষ্টি; এমন এক আকীদা যা মানুষকে মহান আল্লাহর সাথে সংযুক্ত করে: "তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং চতুষ্পদ জন্তুর মধ্য থেকেও জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবেই তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর চাবিকাঠি তাঁরই কাছে। তিনি যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সংকীর্ণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত" (সূরা আশ-শুরা: ১১, ১২)।

এবং ইবাদত, যা মানুষ আল্লাহর হক আদায়ের জন্য পালন করে—যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, আকৃতি দান করেছেন এবং তার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি উন্মুক্ত করেছেন—যার মাধ্যমে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত আশা করে; এবং তা বর্জন করলে আল্লাহর শাস্তি ও আগুনের ভয় করে। ফলে সে সর্বদা সেরূপ থাকে যেমন আল্লাহ তাঁর অলীদের বর্ণনা দিয়েছেন: "সিজদারত ও দণ্ডায়মান অবস্থায়, সে পরকালকে ভয় করে এবং তার রবের রহমত আশা করে" (সূরা আয-যুমার: ৯)। সেইসাথে সে মানুষের সাথে আচরণের ক্ষেত্রেও ইহসানকারী (সদাচারী), যেমন মহান আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তার মূলমন্ত্র হলো সর্বদা: "তোমরা যুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও যুলুম করা হবে না" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৯)। কাজেই ইনসাফ বা ন্যায়বিচারই তার আচরণের ভিত্তি। সেইসাথে সে তাকে ক্ষমা করে দেয় যে তার ওপর যুলুম করেছে, তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে যে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তার প্রতি ধৈর্য ধারণ করে যে তার সাথে মূর্খতাসূলভ আচরণ করে; কারণ ইসলাম তাকে আল্লাহর সাথে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং মানুষের সাথে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইহসান বা সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছে। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুহসিনদের (সদাচারীদের) ভালোবাসেন এবং তিনি মুহসিনদের ইহসানের বিনিময়ে ইহসান দ্বারা পুরস্কৃত করবেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: "যারা ইহসান (সদাচার) করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও বেশি কিছু। তাদের মুখমণ্ডলকে অন্ধকার বা লাঞ্ছনা আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে" (সূরা ইউনুস: ২৬)।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
والمسلم مطالب بأن يُحَكّم الإسلام كله في حياته كلها كما قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ} (البقرة: 208). ومعنى الآية: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} يا من رضيتم بالله ربًّا، وبالإسلام دينًا، وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبيًّا ورسولًا، يا من صدقتم بالله ورسوله، والكتاب الذي نزله على رسوله، والكتاب الذي أنزل من قبل {ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً} أي: استسلموا لله تبارك وتعالى استسلامًا مطلقًا، وأطيعوا الله عز وجل في كل ما أمركم به بأن تمتثلوه وتفعلوه. وفي كل ما نهاكم عنه بأن تتركوه وتجتنبوه، {وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ} فيما يدعوكم إليه من العصيان والفسوق عن أمر الله عز وجل بترك ما به أمر، أو فعل ما عنه نهى وزجر.

{ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً} استسلموا لله عز وجل وأطيعوه طاعة مطلقة واقبلوا منه كل ما شرع لكم من العقيدة والعبادة والأخلاق والمعاملة، والجهاد والاقتصاد والسياسة والاجتماع، ونحو ذلك من كل ما شرع الله تبارك وتعالى لا تأخذوا العقيدة وتتركوا العبادة، لا تأخذوا العقيدة وتتركوا العمل؛ فإن العمل الصالح هو عنوان سلامة العقيدة إن العقيدة إن سلمت وصحت أنتجت ولا بد وأثمرت العمل الصالح، كما قال الله تعالى: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ * تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ} (إبراهيم: 24، 25) فإذا صحت العقيدة في القلب صلح العمل على الجوارح ولذلك اقترن العمل الصالح بالإيمان في كثير من آي القرآن الكريم.
একজন মুসলিমের ওপর আবশ্যক হলো তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করা, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু} (আল-বাকারাহ: ২০৮)। আর এই আয়াতের অর্থ হলো: {হে মুমিনগণ} হে তারা যারা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছ; হে তারা যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এবং যে কিতাব তিনি তাঁর রাসূলের ওপর নাজিল করেছেন আর যা পূর্বে নাজিল হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছ; {তোমরা ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো} অর্থাৎ: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট নিরঙ্কুশভাবে আত্মসমর্পণ করো এবং মহান আল্লাহর প্রত্যেকটি আদেশে তাঁর আনুগত্য করো তা পালন ও সম্পাদনের মাধ্যমে। আর প্রতিটি নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্য করো তা বর্জন ও পরিহার করার মাধ্যমে। {এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না} সে তোমাদের মহান আল্লাহর আদেশের অবাধ্যতা এবং পাপাচারের দিকে যা কিছু আহ্বান জানায়, যেমন তাঁর আদেশ বর্জন করা কিংবা যা থেকে তিনি নিষেধ ও সতর্ক করেছেন তা করা।

{তোমরা ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো} মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করো এবং তাঁর প্রতি নিরঙ্কুশ আনুগত্য পোষণ করো। আর তিনি তোমাদের জন্য যা কিছু শরিয়তভুক্ত করেছেন তা গ্রহণ করো— চাই তা আকিদা, ইবাদত, চরিত্র, লেনদেন, জিহাদ, অর্থনীতি, রাজনীতি বা সামাজিক জীবন সংক্রান্ত হোক অথবা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা যা কিছু শরিয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তার সবকিছু। তোমরা আকিদা গ্রহণ করে ইবাদত ত্যাগ করো না; আকিদা গ্রহণ করে আমল বর্জন করো না। কেননা সৎ কাজ হলো আকিদা সঠিক হওয়ার পরিচয়। আকিদা যদি নিরাপদ ও সঠিক হয়, তবে তা অবশ্যই সৎ কাজ উৎপন্ন করবে এবং ফলপ্রসূ হবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তুমি কি দেখনি আল্লাহ কেমন উদাহরণ দিয়েছেন? একটি পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত। সেটি তার রবের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে} (ইবরাহিম: ২৪, ২৫)। সুতরাং যখন অন্তরে আকিদা সঠিক হয়, তখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলও সংশোধিত হয়। এই কারণেই পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে সৎ কাজকে ঈমানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
وشهد الله للموفقين الذين جمعوا بين العقيدة الصحيحة والعمل الصالح ببلوغ حقيقة الإيمان؛ فقال سبحانه: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ * الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ * أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} (الأنفال: 2 - 4) وقال سبحانه: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} (الأنفال: 74).

يقول الدكتور عبد الكريم زيدان في (أصول الدعوة): وأحكام الإسلام بالنسبة لما تتعلق به: تنقسم إلى الأقسام الآتية:

أولًا أحكام العقيدة الإسلامية، وهي تتعلق بأمور العقيدة كالإيمان بالله واليوم الآخر وهذه هي الأمور الاعتقادية.

ثانيًا: أحكام الأخلاق وهي المتعلقة بما يجب أن يتحلى به المسلم، وما يجب أن يتخلى عنه. كوجوب الصدق وحرمة الكذب.

ثالثًا: أحكامٌ تتعلق بتنظيم علاقة الإنسان بخالقه كالصلاة والصيام وغيرها من العبادات، رابعًا: أحكام تتعلق بتنظيم علاقات الأفراد فيما بينهم وهذه على أنواع:

أ- أحكام الأسرة: من نكاح وطلاق وإرث ونفقة إلى غير ذلك، وتُسمى هذه الأحكام في الاصطلاح الحديث بأحكام الأسرة، أو قانون الأحوال الشخصية.

ب- أحكام تتعلق بعلاقات الأفراد ومعاملاتهم كالبيع والإجارة والرهن والكفالة، وهي التي تُسمى في الاصطلاح الحديث بأحكام المعاملات المالية أو بالقانون المدني.

جـ- أحكام تتعلق بالقضاء والدعوة، وأصول الحكم والشهادة واليمين والبينات، وهي تتدخل فيما يسمى اليوم بقانون المرافعات.
আল্লাহ সেই সফলকাম ব্যক্তিদের জন্য প্রকৃত ঈমানে পৌঁছানোর সাক্ষ্য দিয়েছেন, যারা সঠিক আকীদা ও নেক আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের হৃদয় প্রকম্পিত হয় যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, আর যখন তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তারাই মূলত প্রকৃত মুমিন; তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক।} (আল-আনফাল: ২ - ৪) এবং তিনি আরও বলেন: {আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক।} (আল-আনফাল: ৭৪)।

ডক্টর আব্দুল কারীম যাইদান (উসুলুদ দাওয়াহ) গ্রন্থে বলেন: ইসলামের বিধানসমূহ যে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেই অনুযায়ী তা নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত:

প্রথমত: ইসলামি আকীদা সংক্রান্ত বিধান, যা বিশ্বাসগত বিষয়াবলির সাথে সংশ্লিষ্ট যেমন আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং পরকালের প্রতি ঈমান; আর এগুলোই হলো বিশ্বাসগত বিষয়।

দ্বিতীয়ত: চরিত্র সংক্রান্ত বিধান, যা একজন মুসলিমের কোন গুণাবলী দ্বারা সুশোভিত হওয়া উচিত এবং কোন বিষয়গুলো বর্জন করা উচিত তার সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন সত্য কথা বলার আবশ্যকতা এবং মিথ্যা বলার নিষিদ্ধতা।

তৃতীয়ত: স্রষ্টার সাথে মানুষের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধান, যেমন সালাত, সিয়াম এবং অন্যান্য ইবাদত। চতুর্থত: ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধান এবং এগুলো কয়েক প্রকার:

ক- পারিবারিক বিধান: বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার ও ভরণপোষণ থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়। আধুনিক পরিভাষায় এই বিধানগুলোকে পারিবারিক বিধান বা ব্যক্তিগত আইন বলা হয়।

খ- ব্যক্তিদের পারস্পরিক লেনদেন সংক্রান্ত বিধান, যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, বন্ধক ও জামিনদারী। আধুনিক পরিভাষায় একে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিধান বা দেওয়ানি আইন বলা হয়।

গ- বিচার ব্যবস্থা ও মামলা সংক্রান্ত বিধান, বিচার পরিচালনার মূলনীতি, সাক্ষ্য প্রদান, শপথ ও প্রমাণাদি; যা বর্তমানে কার্যবিধি আইনের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩২)
د- أحكام تتعلق بمعاملات الأجانب غير المسلمين، عند دخولهم إلى إقليم الدولة الإسلامية، والحقوق التي يتمتعون بها، والتكاليف التي يلتزمون بها، وهذه الأحكام تتدخل فيما يسمى اليوم بالقانون الدولي الخاص.

هـ- أحكام تتعلق بتنظيم علاقات الدولة الإسلامية بالدول الأخرى في السلم والحرب، وتدخل فيما يُسمى اليوم بالقانون الدولي العام.

وأحكام تتعلق بنظام الحكم وقواعده، وكيفية اختيار رئيس الدولة وشكل الحكومة، وعلاقات الأفراد بها، وحقوقهم إزاءها وهي تدخل فيما يسمى اليوم بالقانون الدستوري.

ز- أحكام تتعلق بموارد الدولة الإسلامية ومصارفها وتنظيم العلاقات المالية بين الأفراد والدولة، وبين الأغنياء والفقراء، وهي تدخل في القانون المالي بمختلف فروعه.

حـ- أحكام تتعلق بتحديد علاقة الفرد بالدولة، من جهة الأفعال المنهي عنها؛ أعني: الجرائم ومقدار عقوبة كل جريمة، وهذه تدخل فيما يسمى اليوم بالقانون الجنائي ويلحق بهذه الأحكام الإجراءات التي تتبع في تحقيق الجرائم وإنزال العقوبات بالمجرمين، وكيفية تنفيذها، وهي تدخل فيما يسمى اليوم بقانون تحقيق الجنائيات أو بقانون المرافعات الجزائية.

 

‌‌تعريف العقيدة وأصولها الستة

العقيدة: هي مجموعة من قضايا الحق البدهية المسلمة بالعقل والسمع والفطرة؛ يعقد عليها الإنسان قلبه، ويثني عليها صدره جازمًا بصحتها، قاطعًا بوجودها وثبوتها، لا يرى خلافها أنه يصح أو يكون أبدًا؛ وذلك كاعتقاد الإنسان بوجود خالقه وعلمه به، وقدرته عليه ولقائه به بعد موته، ونهاية حياته ومجازاته إياه على كسبه الاختياري، وعلمه غير الاضطراري، وكاعتقاده بغنى ربه تبارك
দ- ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অমুসলিম বিদেশিদের লেনদেন সংক্রান্ত বিধানসমূহ, তারা যে সকল অধিকার ভোগ করবে এবং যে সকল দায়-দায়িত্ব তাদের পালন করতে হবে। এই বিধানগুলো বর্তমানে ‘ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক আইন’ নামে অভিহিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

হ- শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায় অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে ইসলামি রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিধানসমূহ, যা বর্তমানে ‘আন্তর্জাতিক গণ-আইন’ নামে পরিচিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

এবং শাসনব্যবস্থা ও এর নীতিমালা সংক্রান্ত বিধানসমূহ, রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের পদ্ধতি ও সরকারের রূপরেখা, সরকারের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক এবং সরকারের প্রতি তাদের অধিকারসমূহ। এগুলো বর্তমানে ‘সাংবিধানিক আইন’ নামে অভিহিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

জ- ইসলামি রাষ্ট্রের আয়ের উৎস ও ব্যয়ের খাতসমূহ এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের মধ্যে এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আর্থিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিধানসমূহ। এগুলো ‘আর্থিক আইন’-এর বিভিন্ন শাখার অন্তর্ভুক্ত।

ছ- নিষিদ্ধ কার্যাবলির নিরিখে রাষ্ট্রের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ; অর্থাৎ: অপরাধ এবং প্রতিটি অপরাধের শাস্তির পরিমাণ। এগুলো বর্তমানে ‘ফৌজদারি আইন’ নামে পরিচিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। এই বিধানসমূহের সাথে অপরাধ তদন্ত, অপরাধীদের শাস্তি প্রদান এবং তা কার্যকরের পদ্ধতি বিষয়ক প্রক্রিয়াগুলোও সংযুক্ত, যা বর্তমানে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি আইন’ হিসেবে অভিহিত।

 

‌‌আকিদার সংজ্ঞা ও এর ছয়টি মূল ভিত্তি

আকিদা: এটি হলো বুদ্ধি, শ্রুতি ও ফিতরাত দ্বারা স্বীকৃত এমন কিছু স্বতঃসিদ্ধ সত্য বিষয়ের সমষ্টি, যার ওপর মানুষ তার অন্তরকে সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করে এবং নিজের বক্ষে তা গেঁথে নেয়—এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এবং এর অস্তিত্ব ও সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে অকাট্য বিশ্বাস রেখে। সে কখনোই মনে করে না যে এর বিপরীত কিছু সঠিক হতে পারে বা হওয়া সম্ভব। যেমন: মানুষের তার স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস, তার ওপর স্রষ্টার জ্ঞান ও ক্ষমতা থাকা এবং মৃত্যুর পর ও জীবনের শেষে স্রষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করা এবং বান্দার ঐচ্ছিক কর্মকাণ্ড ও অনাবশ্যক জ্ঞানের ভিত্তিতে তাকে প্রতিফল প্রদানের বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা। অনুরূপভাবে তার রবের অভাবহীনতা সম্পর্কে বিশ্বাস রাখা, বরকতময় তিনি...
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وتعالى عنه، وافتقاره هو إليه وفي كل شأنه حتى في أنفاسه التي يرددها؛ فبالله تعالى حياته، وعليه وحده توكله واعتماده، إذ هو محض رجائه إذا طمع، ومأمن خوفه إذا خاف بحبه يحب، وببغضه يبغض، هو مولاه الذي لا مولى له غيره، ومعبوده الذي لا معبود له سواه، لا يرى ربوبية غيره ولا يعتقد ألوهية سواه.

وعقيدة المؤمن تقوم على أركان ستة، معلومة من الدين بالضرورة؛ وهي: الإيمان بالله، وملائكة، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والإيمان بالقدر كله خيره وشره حلوه ومره، من الله تعالى يقول الله سبحانه وتعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} (البقرة: 177) ويقول سبحانه: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} (النساء: 136) وفي حديث عمر رضي الله عنه المشهور في سؤال جبريل عليه السلام للنبي صلى الله عليه وسلم عن الإيمان قال صلى الله عليه وسلم: ((الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره من الله تعالى)).

 

‌‌الركن الأول: الإيمان بالله

فالركن الأول من أركان الإيمان هو: الإيمان بالله عز وجل:

والإيمان بالله سبحانه وتعالى على أربع مراتب؛ هي: الإيمان بوجوده، والإيمان بربوبيته، والإيمان بألوهيته، والإيمان بأسمائه وصفاته. أما الإيمان بوجود الله تعالى؛ فإن العلماء استدلوا عليه بأربعة أنواع من الأدلة هي: العقل والشرع والفطرة والحس. أما الاستدلال بالعقل والشرع؛ فإن الناظر في ملكوت السموات والأرض يرى فيهما الكثير والكثير من الآيات الدالة على
এবং তাঁর প্রতি তার মুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর প্রতিটি বিষয়ে, এমনকি তার শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রেও যা সে গ্রহণ করে; মহান আল্লাহর মাধ্যমেই তার জীবন, এবং শুধুমাত্র তাঁরই ওপর তার ভরসা ও নির্ভরতা। কেননা তিনি যখন আকাঙ্ক্ষা করেন তখন তিনিই তার বিশুদ্ধ আশার স্থল এবং যখন সে ভয় পায় তখন তিনিই তার ভয়ের আশ্রয়স্থল। তাঁর ভালোবাসার মাধ্যমেই সে ভালোবাসে এবং তাঁর ঘৃণার মাধ্যমেই সে ঘৃণা করে। তিনি তার অভিভাবক, যিনি ছাড়া তার আর কোনো অভিভাবক নেই এবং তিনিই তার উপাস্য, যিনি ছাড়া তার কোনো উপাস্য নেই। সে অন্য কারো রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) দেখে না এবং অন্য কারো উলুহিয়্যাহ (উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা) বিশ্বাস করে না।

আর মুমিনের আকিদাহ ছয়টি রুকনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা দ্বীন থেকে অকাট্যভাবে জ্ঞাত; সেগুলো হলো: আল্লাহর ওপর ঈমান, ফেরেশতাদের ওপর ঈমান, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর ঈমান, তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান, শেষ দিবসের ওপর ঈমান এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দ ও তিক্ত-মধুর সবকিছুর ওপর ঈমান, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {পুণ্য কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানো নয়; বরং পুণ্য হলো তার যে ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, শেষ দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর, কিতাবের ওপর এবং নবীগণের ওপর} (সূরা আল-বাকারা: ১৭৭)। তিনি আরও বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের সাথে কুফরি করল, সে অবশ্যই সুদূর বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হলো} (সূরা আন-নিসা: ১৩৬)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের প্রশ্ন করার বিষয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((ঈমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, শেষ দিবসের ওপর এবং তুমি বিশ্বাস করবে ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়))।

 

‌‌প্রথম রুকন: আল্লাহর ওপর ঈমান

ঈমানের রুকনসমূহের মধ্যে প্রথম রুকনটি হলো: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর ঈমান আনা।

মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনার বিষয়টি চারটি স্তরের ওপর প্রতিষ্ঠিত; সেগুলো হলো: তাঁর অস্তিত্বের ওপর ঈমান, তাঁর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্ব) ওপর ঈমান, তাঁর উলুহিয়্যাহর (উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা) ওপর ঈমান এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান। মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর ঈমানের ক্ষেত্রে আলেমগণ চার প্রকারের দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, সেগুলো হলো: বুদ্ধি, শরিয়ত, ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) এবং প্রত্যক্ষ অনুভূতি। বুদ্ধি এবং শরিয়ত দ্বারা প্রমাণের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, আসমান ও জমিনের রাজত্বের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি তাতে এমন অনেক অনেক নিদর্শন দেখতে পায় যা নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وجود الله تعالى؛ فهذه السموات بارتفاعها وشدة بنائها، وما فيها من كواكب ونجوم تسير بانتظام، بلا خلل ولا صدام، كل في فلك يسبحون.

هذه السموات بارتفاعها وإمساكها عن الوقوع على الأرض تدل على أن لهذا الكون مدبرًا؛ لأن العقل السليم يحيل أن توجد هذه السموات وما فيها بنفسها، كما تحيل أن توجد من غير موجد؛ وهذا هو ما قرره ربنا سبحانه وتعالى بقوله: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ * أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَا يُوقِنُونَ} (الطور: 35، 36) هذه الأرض وما فيها وما عليها، هذه الأرض باتساعها وطولها وما عليها من جبال، وما يجري فيها من بحار وأنهار، وما يخرج منها من زروع وثمار؛ كل ذلك من صنع من؟ صنع ربي {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْء} (النمل: 88).

والمتأمل في كتاب ربنا سبحانه يجد الرب عز وجل كثير ما يشير إلى هذه الآيات ويأمر بالنظر المتأمل فيها يقول سبحانه: {كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ * هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (البقرة: 28، 29) ويقول سبحانه: {أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا * رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا * وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا * وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا * أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا * وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا * مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ} (النازعات: 27 - 33) ويقول سبحانه: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ * الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِنْ فُطُورٍ * ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنْقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ} (الملك: 1 - 4).

ويقول سبحانه: {أَفَلَا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ * وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ * وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ * وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ} (الغاشية: 17 - 20) أفلا ينظرون
মহান আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব; এই আসমানসমূহ তাদের উচ্চতা ও সুদৃঢ় নির্মাণশৈলী নিয়ে, এবং এতে বিদ্যমান গ্রহ ও নক্ষত্ররাজি যা সুশৃঙ্খলভাবে বিচরণ করছে, কোনো ত্রুটি বা সংঘর্ষ ছাড়াই, প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণ করছে।

এই আসমানসমূহ তাদের বিশাল উচ্চতা এবং জমিনের ওপর আছড়ে পড়া থেকে সংরক্ষিত থাকা এই কথার প্রমাণ দেয় যে, এই মহাবিশ্বের একজন পরিচালক রয়েছেন; কারণ সুস্থ বিবেক এটি অসম্ভব মনে করে যে, এই আসমানসমূহ এবং এর মধ্যকার বিষয়াবলি নিজে নিজে অস্তিত্ব লাভ করবে, যেমনটি সে একজন অস্তিত্বদানকারী ব্যতীত কোনো কিছুর অস্তিত্ব লাভকে অসম্ভব মনে করে। আর এটিই আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সুনিশ্চিত করেছেন: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না} (আত-তূর: ৩৫, ৩৬)। এই জমিন এবং এতে ও এর ওপর যা কিছু আছে— এই জমিন তার প্রশস্ততা ও দৈর্ঘ্য নিয়ে এবং এর ওপর অবস্থিত পাহাড়সমূহ, এতে প্রবহমান সমুদ্র ও নদ-নদী এবং তা থেকে নির্গত শস্য ও ফলমূল; এই সবকিছু কার সৃষ্টি? আমার প্রতিপালকের সৃষ্টি {এটি আল্লাহরই কারুকার্য, যিনি প্রতিটি বিষয়কে নিখুঁত করেছেন} (আন-নামল: ৮৮)।

আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু-র কিতাব নিয়ে যে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে যে মহান রব অনেক স্থানেই এই নিদর্শনগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং এগুলোর প্রতি চিন্তাশীল দৃষ্টি নিবদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি সুবহানাহু বলেন: {কীভাবে তোমরা আল্লাহকে অস্বীকার করো? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জীবন দান করেছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন, পুনরায় তোমাদের জীবিত করবেন, অতঃপর তাঁরই দিকে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন এবং সেগুলোকে সাত আসমানে সুবিন্যস্ত করলেন, আর তিনি প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত} (আল-বাকারাহ: ২৮, ২৯)। তিনি সুবহানাহু আরও বলেন: {তোমাদের সৃষ্টি করা কি বেশি কঠিন নাকি আসমান সৃষ্টি করা? যা তিনি নির্মাণ করেছেন। তিনি এর উচ্চতাকে সমুন্নত করেছেন এবং একে সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর সূর্যালোক প্রকাশ করেছেন। আর এরপর জমিনকে তিনি বিস্তৃত করেছেন। তিনি তা থেকে এর পানি ও চারণভূমি বের করেছেন। আর পাহাড়সমূহকে তিনি দৃঢ়ভাবে গেঁথে দিয়েছেন। তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগের সামগ্রী হিসেবে} (আন-নাযিআত: ২৭-৩৩)। তিনি সুবহানাহু আরও বলেন: {বরকতময় সেই সত্তা যাঁর হাতে রাজত্ব এবং তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে আমলে কে শ্রেষ্ঠ? আর তিনি মহাপরাক্রমশালী ও অত্যন্ত ক্ষমাশীল। যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন; তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসংগতি দেখতে পাবে না, সুতরাং তুমি আবার দৃষ্টি ফেরাও, তুমি কি কোনো ফাটল দেখতে পাচ্ছ? অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফেরাও, তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার কাছে ফিরে আসবে} (আল-মুলক: ১-৪)।

তিনি সুবহানাহু আরও বলেন: {তবে কি তারা উটের দিকে তাকায় না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আসমানের দিকে যে, তা কীভাবে সমুন্নত করা হয়েছে? এবং পাহাড়গুলোর দিকে যে, তা কীভাবে স্থাপিত হয়েছে? এবং জমিনের দিকে যে, তা কীভাবে বিছানো হয়েছে?} (আল-গাশিয়াহ: ১৭-২০) তবে কি তারা দেখে না...
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ويتأملون ويتدبرون، فيعلمون أن لهذا الكون إله؛ فبهذا كان العرب قديمًا يستدلون على الله سبحانه وتعالى حتى قيل لبعضهم: بم عرفت ربك؟ فقال: إن البعر يدل على البعير، وإن الأثر يدل على المسير؛ فسماء ذات أبراج، وأرض ذات فجاج، وبحار ذات أمواج؛ أفلا يدل ذلك على وجود اللطيف الخبير.

وأما الاستدلال بالفطرة والحس على جود الله عز وجل: فإن كل إنسان إذا نزلت به نازلة وعجز عن دفعها، وجد نفسه مندفعًا إلى النداء والاستغاثة بالله وحده دون سواه؛ فيقول مضطرًا: يا الله يا الله؛ فإذا به يجاب إلى ما سأل، فيكشف عنه ما سأل كشفه، أو يعطى ما طلبه. وهذا شيء محسوس ومجرب دعت إليه الفطرة التي فطر الناس عليها، وهو دليل على وجود الله السميع البصير، اللطيف الخبير وفي ذلك يقول ربنا سبحانه: {أَمْ مَنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ} (النمل: 62).

أما المرتبة الثانية من مراتب الإيمان بالله عز وجل فهي: الإيمان بربوبيته سبحانه وتعالى:

ومعنى الإيمان بالربوبية: الإيمان بأن الله وحده هو الخالق الرازق المحي المميت مالك الملك ومدبر الأمر كما قال سبحانه: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ} (الملك: 1) وقال عز وجل: {فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} (يس: 83) وقال سبحانه: {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ} (آل عمران: 26، 27).

فالله سبحانه وحده هو خالق الخلق، ومالك الملك لا خالق غيره، ولا مالك سواه، وهو سبحانه وتعالى هو الذي يُدبر أمر كل شيء فما شاء كان، وإن لم يشأ العباد،
তারা গভীর চিন্তা ও গবেষণা করেন এবং জানতে পারেন যে এই মহাবিশ্বের একজন ইলাহ আছেন। প্রাচীনকালে আরবরা এভাবেই মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দিতেন, এমনকি তাদের কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "তুমি কীভাবে তোমার রবকে চিনলে?" তিনি উত্তর দিলেন: "উটের বিষ্ঠা উটের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং পদচিহ্ন পথচারীর চলার প্রমাণ দেয়; তাহলে বুরুজ বা নক্ষত্রশোভিত আকাশ, প্রশস্ত পথবিশিষ্ট পৃথিবী এবং তরঙ্গবিক্ষুব্ধ সমুদ্র কি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় না?"

আর ফিতরাত (সহজাত প্রবৃত্তি) ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির মাধ্যমে মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ হলো: যখনই কোনো মানুষ বিপদে পড়ে এবং তা দূর করতে অক্ষম হয়, তখন সে নিজেকে কেবল আল্লাহর কাছেই ফরিয়াদ ও সাহায্য চাইতে উদ্বুদ্ধ দেখে; সে তখন নিরুপায় হয়ে বলে: "হে আল্লাহ, হে আল্লাহ!" ফলে তাকে তার প্রার্থনার উত্তর দেওয়া হয় এবং সে যা দূর করতে চেয়েছিল তা দূর করে দেওয়া হয়, অথবা যা চেয়েছিল তা তাকে দান করা হয়। এটি একটি অনুভূত ও পরীক্ষিত বিষয় যার প্রতি সেই ফিতরাত আহ্বান করে যার ওপর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ। এই সম্পর্কে আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।" (আন-নামল: ৬২)।

মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার দ্বিতীয় স্তর হলো: তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের প্রতি ঈমান আনা।

রুবুবিয়্যাতের ওপর ঈমান আনার অর্থ হলো: এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ এককভাবে সবকিছুর স্রষ্টা, রিজিকদাতা, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, রাজত্বের মালিক এবং সকল বিষয় পরিচালনাকারী; যেমনটি তিনি বলেছেন: "বরকতময় তিনি যাঁর হাতে রাজত্ব।" (আল-মুলক: ১)। এবং তিনি বলেছেন: "অতএব পবিত্র তিনি যাঁর হাতে প্রতিটি জিনিসের রাজত্ব এবং তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।" (ইয়াসিন: ৮৩)। এবং তিনি বলেছেন: "বলুন, হে আল্লাহ! আপনি রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে চান রাজত্ব ছিনিয়ে নেন; আপনি যাকে চান সম্মানিত করেন এবং যাকে চান অপদস্থ করেন; আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান, আপনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন; আর আপনি যাকে চান হিসাবহীন রিজিক দান করেন।" (আল ইমরান: ২৬-২৭)।

সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তাআলা এককভাবে সৃষ্টির স্রষ্টা এবং রাজত্বের মালিক; তিনি ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো মালিক নেই। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলাই প্রতিটি বিষয় পরিচালনা করেন; সুতরাং তিনি যা চান তা-ই হয়, যদিও বান্দারা তা না চায়।
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وما لم يشأ لم يكن وإن شاء العباد، وبهذا استدل عقلاء العرب على ربوبية الله سبحانه، قيل لأعرابي: بم عرفت ربك؟ قال: بنقض العزائم وصرف الهمم.

المرتبة الثالثة: الإيمان بألوهية الله عز وجل:

ومعناه: الاعتقاد والإقرار بأن الله وحده هو المستحق للعبادة دون غيره؛ فكما خلق وحده يجب أن يُعبد وحده ولذلك قال سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ * الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} (البقرة: 21، 22) وقال سبحانه: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ هَلْ مِنْ شُرَكَائِكُمْ مَنْ يَفْعَلُ مِنْ ذَلِكُمْ مِنْ شَيْءٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} (الروم: 40).

وبالدعوة إلى ألوهية الله عز وجل وإفراده وحده بالعبادة أرسل الله الرسل وأنزل الكتب قال سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (الأنبياء: 25) وقال سبحانه: {يُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنْذِرُوا أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاتَّقُونِ} (النحل: 2) ولذلك اتفقت كلمة الأنبياء على: {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُه} (الأعراف: 59). وهذا التوحيد هو سبب النجاة من النار، والفوز بالجنة وتركه هو سبب الهلاك والعذاب، قال الله تعالى: {لَنْ يَسْتَنْكِفَ الْمَسِيحُ أَنْ يَكُونَ عَبْدًا لِلَّهِ وَلَا الْمَلَائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ وَمَنْ يَسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيْهِ جَمِيعًا * فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدُهُمْ مِنْ فَضْلِهِ وَأَمَّا الَّذِينَ اسْتَنْكَفُوا وَاسْتَكْبَرُوا فَيُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَلَا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا} (النساء: 172، 173). وعن جابر قال: "أتى
আর তিনি যা চান না তা ঘটে না, যদিও বান্দারা তা চায়। আর এর মাধ্যমেই আরবের বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের প্রমাণ পেশ করেছেন। জনৈক বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "তুমি তোমার রবকে কিসের মাধ্যমে চিনেছ?" সে বলল: "দৃঢ় সংকল্প ভেঙে যাওয়া এবং উদ্দেশ্যসমূহ বদলে যাওয়ার মাধ্যমে।"

তৃতীয় স্তর: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর উলুহিয়্যাতের (ইবাদতের যোগ্য হওয়ার) ওপর ঈমান আনা:

এর অর্থ হলো: এই বিশ্বাস করা ও স্বীকার করা যে, আল্লাহ একাই ইবাদতের যোগ্য, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নয়; যেহেতু তিনি একাই সৃষ্টি করেছেন, তাই একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা আবশ্যক। একারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকা হিসেবে ফলমূল উৎপাদন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করো না} (আল-বাকারা: ২১, ২২) এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহই তিনি, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিজিক দান করেছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন এবং পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এগুলোর কোনো একটি করতে পারে? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান} (আর-রুম: ৪০)।

মহান আল্লাহর উলুহিয়্যাতের দাওয়াত এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদতের আহ্বানের লক্ষ্যেই আল্লাহ রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তাকে এই ওহিই দান করেছি যে, 'আমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা একমাত্র আমারই ইবাদত করো'} (আল-আম্বিয়া: ২৫) এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নিজ নির্দেশে রূহসহ (ওহি) ফেরেশতা অবতীর্ণ করেন এই মর্মে যে, তোমরা সতর্ক করো, 'আমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো'} (আন-নাহল: ২)। একারণেই সমস্ত নবীগণের বাণী এক ছিল: {হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} (আল-আ'রাফ: ৫৯)। আর এই তাওহিদই হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত লাভের উপায়; আর এটি বর্জন করাই হলো ধ্বংস ও শাস্তির কারণ। মহান আল্লাহ বলেছেন: {মসীহ আল্লাহর বান্দা হতে কখনো অবজ্ঞা বোধ করেন না এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও না। আর যারা তাঁর ইবাদতকে তুচ্ছ মনে করবে এবং অহংকার করবে, তিনি অচিরেই তাদের সকলকে নিজের কাছে সমবেত করবেন। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে, তিনি তাদের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেবেন। পক্ষান্তরে যারা তুচ্ছ জ্ঞান করেছে এবং অহংকার করেছে, তিনি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন। আর তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না} (আন-নিসা: ১৭২, ১৭৩)। জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জনৈক ব্যক্তি আসল... (অসম্পূর্ণ)"
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
النبي صلى الله عليه وسلم رجلٌ فقال: يا رسول الله، ما الموجبتان؟ فقال: ((من مات لا يشرك بالله شيئًا دخل الجنة، ومن مات يشرك بالله شيئًا دخل النار)).

أما المرتبة الرابعة من مراتب الإيمان بالله عز وجل فهي: الإيمان بأسماء الله تعالى الحسنى، وصفاته العلا:

فالله سبحانه وتعالى ذات وكل ذات لا بد لها من أسماء وصفات، وأسماء الله وصفاته توقيفية لا يجوز لأحد أن يُسمي الله تعالى أو يصفه إلا بما سمى الله به نفسه أو سماه به رسله، وكل ما سمى الله به نفسه، وجب الإيمان به من غير تمثيل ولا تعطيل ولا تكييف، ولا تحريف وقوفًا عند قوله سبحانه: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (الشورى: 11).

هذه العقيدة: عقيدة الإيمان بالله عز وجل وتوحيده سبحانه لها آثارها العظيمة في حياة الإنسان؛ فالله سبحانه وتعالى بَيّن أن المؤمن الموحد إنسان مطمئن البال، مُستقرٌ في حياته، لا يصيبه القلق ولا الضجر؛ لأنه أسلم وجهه لله سبحانه وتعالى وحده، ودان له بالسمع والطاعة؛ فهو لا يتلقى الأمر إلا منه، ولا يتلقى النهي إلا منه وقد فرق الله سبحانه وتعالى بين المؤمن الموحد الذي يدين لله -تعالى- وحده بالسمع والطاعة، وبين المشركين الذين يعبدون آلهة كثيرة فقال عز وجل: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَجُلًا فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} (الزمر: 29) فشبه الله تعالى النفس الموحدة لربها، بالعبد الذي يملكه رجل واحد؛ فجميع تصرفات هذا العبد تأتي حسب رغبة سيده، وبهذا تهدئ نفسه وتستقيم حياته، وتنسجم تصرفاته، وفق نظام معين وعلى نسق واحد.

أما العبد الذي يملكه عدة شركاء متشاكسين، لا يؤمن أن يتصرف اليوم على نمط يعاكس تصرفاته بالأمس، وتبقى نفسه نهبًا للمخاوف والهواجس، كذلك العبد
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, ওয়াজিবকারী দুটি বিষয় কী কী? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"

আর মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের স্তরসমূহের মধ্যে চতুর্থ স্তরটি হলো: মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একজন সত্তা, আর প্রত্যেক সত্তার জন্যই নাম ও গুণাবলী থাকা অনিবার্য। আল্লাহর নাম ও গুণাবলীসমূহ হলো শরীয়ত নির্ধারিত (তাওকিফিয়্যাহ); কারো জন্য আল্লাহ তাআলাকে এমন কোনো নামে নামকরণ করা বা এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা বৈধ নয়, যা দিয়ে আল্লাহ নিজেই নিজেকে নামকরণ করেননি কিংবা তাঁর রাসূলগণ তাঁকে অভিহিত করেননি। আল্লাহ নিজেকে যে সমস্ত বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, তার প্রত্যেকটির প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব—কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন (তামসিল), অস্বীকার (তাতিল), ধরণ নির্ধারণ (তাকয়িফ) কিংবা বিকৃতি (তাহরিফ) ছাড়াই; মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" (সূরা আশ-শূরা: ১১)।

এই আকিদা তথা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর তাওহিদের আকিদার মানুষের জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, একত্ববাদী মুমিন ব্যক্তি প্রশান্ত চিত্তের অধিকারী এবং তার জীবনে সে স্থির থাকে; অস্থিরতা বা বিরক্তি তাকে স্পর্শ করে না। কারণ সে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট নিজেকে সঁপে দিয়েছে এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগত হয়েছে। সে তাঁর পক্ষ থেকেই আদেশ গ্রহণ করে এবং তাঁর পক্ষ থেকেই নিষেধ গ্রহণ করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই একত্ববাদী মুমিনের মধ্যে—যে একমাত্র মহান আল্লাহর শ্রবণ ও আনুগত্যে নিজেকে সঁপে দেয়—এবং সেই মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছেন যারা অনেক উপাস্যের ইবাদত করে। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন: একটি লোক, যার মালিকানায় রয়েছে পরস্পর বিরোধী বহু অংশীদার, আর অন্যটি এমন এক লোক, যে পূর্ণত কেবল একজনের অনুগত; এই দুই ব্যক্তি কি সমান হতে পারে? সকল প্রশংসা আল্লাহরই; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।" (সূরা আয-জুমার: ২৯)। এখানে আল্লাহ তাআলা আপন রবের প্রতি একত্ববাদী আত্মাকে এমন এক দাসের সাথে তুলনা করেছেন যার মালিক কেবল একজন ব্যক্তি; ফলে সেই দাসের যাবতীয় কার্যকলাপ তার মালিকের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে তার মন শান্ত থাকে, জীবন সঠিক পথে পরিচালিত হয় এবং তার কার্যাবলী একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও ধারায় সুশৃঙ্খল থাকে।

পক্ষান্তরে সেই দাস, যার মালিক পরস্পর বিবাদমান একাধিক অংশীদার, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই যে আজ সে এমন কোনো আচরণ করবে না যা তার গতকালের আচরণের বিপরীত; তার আত্মা সর্বদা ভয় ও কুচিন্তার শিকার হয়ে থাকে। তদ্রূপ সেই দাসও...