(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: -)
أساليب دعوة العصاة   (عبد الرب نواب الدين)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أساليب دعوة العصاة

المؤلف: أ. د. : عبد الرب بن نواب الدين بن غريب الدين آل نواب

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة والثلاثون - العدد (123) 1424هـ

عدد الصفحات: 245

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পাপীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি   (আবদুর রব নওয়াব উদ্দিন)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: পাপীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি

লেখক: প্রফেসর. ড. : আবদুর রব বিন নওয়াব উদ্দিন বিন গরিব উদ্দিন আল নওয়াব

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ - সংখ্যা (123) 1424 হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: 245

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-য় প্রকাশের তারিখ: 8 জিলহজ 1431

(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
ال‌‌مقدمة

الحمد لله العلي الكبير، والصلاة والسلام على البشير النذير والسراج المنير محمد بن عبد الله وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد: فإن مناهج الدعوة إلى الله تعالى موضوع واسع الأرجاء متعدد الجوانب، وهو موضوع إيماني تربوي عصري لا يستغني عن معرفته المسلم لا سيما الداعي إلى الله عز وجل الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر، فالداعي كي يكون صائبا رشيدا لا بد له من بصيرة تنير له الطريق وتوقفه على مناهج الدعوة ومعالم الرشد كما قال تعالى:

{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف:108] أي على يقين وحق1.

وأساليب دعوة العصاة محور أساس من محاور مناهج الدعوة، ولقد قيض الله تعالى من عباده العلماء العاملين والدعاة الناصحين على اختلاف الأمصار وتعاقب الأجيال من دعوا إلى الله تعالى بالحكمة والموعظة الحسنة وردوا الشاردين من العصاة والغواة إلى حياض الإيمان، سيدهم وإمامهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وخلفاؤه الراشدون وأصحابه المكْرمون ومن جاء بعدهم من التابعين، وكذلك الأئمة المهديين على تعاقب الأجيال ومنهم ابن تيمية رحمه الله ومدرسته السلفية في القرن السابع الهجري بعد أن مست الحاجة في عصره إلى إقامة السنة وقمع البدعة ورد العدوان عن بلاد المسلمين من قبل التتار وغيرهم وما صاحب ذلك الغزو العسكري من غزو فكري واكبه وسبقه وتلاه، ثم ما تلى عصره من عصور أخرى منها عصر شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وكانت عامة المعاصي في عصره تنصب في الاعتقادات الشركية وما يتعلق بها كانتشار

--------------------------------------------

1 تفسير القرطبي 9/274.
ভূমিকা

সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, আর সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। পরকথা: নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকে দাওয়াতের মানহাজ বা পদ্ধতিসমূহ একটি অতি ব্যাপক ও বহুমুখী বিষয়। এটি একটি ঈমানি, শিক্ষা-প্রশিক্ষণমূলক ও সমসাময়িক বিষয় যা জানার প্রয়োজনীয়তা থেকে কোনো মুসলিমই অমুখাপেক্ষী হতে পারে না, বিশেষ করে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং সৎকাজের আদেশদানকারী ও মন্দকাজে নিষেধকারী ব্যক্তি। কেননা একজন দাঈ যেন সঠিক ও দিশাগ্রস্ত হতে পারেন, সেজন্য তাঁর এমন অন্তর্দৃষ্টির প্রয়োজন যা তাঁর পথকে আলোকিত করবে এবং তাঁকে দাওয়াতের পদ্ধতি ও সঠিক পথের নিদর্শনাবলি সম্পর্কে সম্যক অবগত করবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা জাগ্রত জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টির ওপর থেকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮] অর্থাৎ সুনিশ্চিত বিশ্বাস ও সত্যের ওপর।১

পাপিষ্ঠদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতিসমূহ হলো দাওয়াতী মানহাজের অন্যতম মৌলিক কেন্দ্রবিন্দু। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জনপদে এবং যুগে যুগে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন আমলকারী আলেম ও হিতাকাঙ্ক্ষী দাঈদের নিয়োজিত করেছেন, যাঁরা প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং পাপিষ্ঠ ও পথভ্রষ্টদের ঈমানের আঙিনায় ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁদের নেতা ও ইমাম হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর খুলাফায়ে রাশেদিন, তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ী (تابعين) গণ। একইভাবে যুগে যুগে হিদায়েতপ্রাপ্ত ইমামগণ রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) এবং হিজরি সপ্তম শতাব্দীতে তাঁর সালাফি ধারা; যখন তাঁর যুগে সুন্নাহ (سنة) প্রতিষ্ঠিত করার, বিদআত (بدعة) দমন করার এবং তাতার ও অন্যদের পক্ষ থেকে মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর আক্রমণ প্রতিহত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। সেই সামরিক আক্রমণের সাথে সাথে ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণ, যা যুদ্ধের আগে, সাথে এবং পরেও বিদ্যমান ছিল। অতঃপর তাঁর পরবর্তী অন্যান্য যুগসমূহের আগমন ঘটে, যার মধ্যে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ অন্যতম। তাঁর যুগে অধিকাংশ পাপ মূলত শিরকি আকিদা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের ওপর আবর্তিত ছিল...

--------------------------------------------

১ তাফসিরে কুরতুবি ৯/২৭৪।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪০)
الخرافات والبدع.

وهذا البحث هو قبسات من منهج السلف في دعوة العصاة من المسلمين، والعصاة في الواقع شريحة كبيرة من سواد المسلمين في جل الأعصار والأمصار، وكما هو معروف فالخطأ والمعصية طبيعة بشرية جبل عليها بنو آدم إلا من رحم الله قال تعالى: {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَليْهِ وَهَدَى} [طه:122] فالإنسان يعصي لجهله، والله عز وجل يوفق برحمته من يشاء للتوبة، وكما قال في موضع آخر: {يَاأَيُّهَا الذِينَ آمَنُوا لا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَلوْلا فَضْلُ اللهِ عَليْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلكِنَّ اللهَ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [النور:21]

وكما ورد في حديث أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: “كل ابن آدم خطاء وخير الخطائين التوابون” 1.

فوقوع المعصية ثم إحداث التوبة أمران ينبغي أن يتلازما، فإذا تخلفت التوبة عن المعصية آذن بالخطر الكبير والشرر المستطير، لأن المعصية إن خفيت لم تضر إلا المتلبس بها أما إذا أعلنت ولم تنكر ولم تغير كانت بلاءً وبيلا.

ولقد تركز الحديث في هذا البحث الوجيز على محورين رئيسين وهما:

- تعريف العصاة وبيان أسباب المعصية وأنواعها ودركاتها.

- أساليب دعوة العصاة وآثارها.

أهمية الموضوع والحاجة إليه:

تنبع أهمية البحث في أساليب دعوة العصاة من أن الاستقامة مطلب

--------------------------------------------

1ت: صفة القيامة (2499) ، وقال هذا حديث غريب، ماجة: الزهد (4251) ، أحمد: المكثرين (12576) ، دارمي: الرقاق (2611) .
কুসংস্কার ও উদ্ভাবন (بدعة)।

এই গবেষণাটি মুসলিমদের মধ্য থেকে পাপাচারীদের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতির কিছু প্রতিফলন। প্রকৃতপক্ষে পাপাচারীরা হলো অধিকাংশ যুগ ও ভূখণ্ডে মুসলিম জনসাধারণের একটি বিশাল অংশ। আর যেমনটি সুপরিচিত যে, ভুল ও পাপাচার মানুষের এক সহজাত প্রকৃতি যার ওপর আদম সন্তানদের সৃষ্টি করা হয়েছে, তবে আল্লাহ যাদের ওপর দয়া করেছেন তারা ব্যতীত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আদম তার রবের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হয়ে গেলেন। এরপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, অতঃপর তাঁর তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথপ্রদর্শন করলেন} [ত্বহা: ১২২]। সুতরাং মানুষ তার অজ্ঞতার কারণে অবাধ্যতা করে, আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রহমতে যাকে ইচ্ছা তাওবা করার তাওফিক দান করেন। যেমনটি তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। আর যে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তবে সে তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের (منكر) নির্দেশ দেবে। আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আন-নূর: ২১]।

যেমনটি আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: “প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা তাওবা করে।” ১।

পাপ সংঘটিত হওয়া এবং এরপর তাওবা করা—এই দুটি বিষয় অবিচ্ছেদ্য হওয়া উচিত। যদি পাপের পর তাওবা না করা হয়, তবে তা গুরুতর বিপদ এবং ব্যাপক অনিষ্টের সংকেত দেয়। কারণ পাপ যদি গোপনে করা হয় তবে তা কেবল সম্পৃক্ত ব্যক্তিরই ক্ষতি করে, কিন্তু যখন তা প্রকাশ্যে করা হয় এবং তা পরিবর্তন বা প্রতিরোধ করা হয় না, তখন তা এক ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হয়।

এই সংক্ষিপ্ত গবেষণার আলোচনাটি দুটি প্রধান অক্ষের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে, আর তা হলো:

- পাপাচারীদের সংজ্ঞা এবং পাপের কারণ, প্রকারভেদ ও স্তরসমূহ বর্ণনা করা।

- পাপাচারীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি ও এর প্রভাব।

বিষয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

পাপাচারীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতির গবেষণার গুরুত্ব এখান থেকে ফুটে ওঠে যে, অবিচলতা (ইস্তিকামাত) হলো একটি কাম্য বিষয়...

--------------------------------------------

১. তিরমিজি: সিফাত আল-কিয়ামাহ (২৪৯৯); তিনি বলেছেন: এটি একটি বিরল (غريب) হাদিস। ইবনে মাজাহ: আজ-জুহদ (৪২৫১); আহমাদ: আল-মুকছিরিন (১২৫৭৬); দারিমি: আর-রিকাক (২৬১১)।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪১)
شرعي بدونه لا تتحقق السعادة في الدنيا ولا النعيم المقيم في الآخرة، والتورط في المعاصي داء يستشري فيردي إذا لم تحسم مادته من أول الطريق وبالأسلوب الحكيم!

إن الاستقامة على أمر الله، غاية تهدف إليها الدعوة قال تعالى: {فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلا تَطْغَوْا إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [هود:112] والاستقامة مدعاة للاستقرار النفسي والاستقرار الاجتماعي، قال تعالى: {إِنَّ الذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَليْهِمْ المَلائِكَةُ أَلا تَخَافُوا وَلا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالجَنَّةِ التِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ} [فصلت:30] {إِنَّ الذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلا خَوْفٌ عَليْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} [الأحقاف:13] .

كما أن المعاصي انحراف عن النهج السوي والانحراف مدعاة للاضطراب السلوكي والاضطراب النفسي والاجتماعي، ويظل العاصي في دوامة الشقاء إن لم تتداركه رحمة الله قال تعالى: {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَليْهِ وَهَدَى} [طه:121-122] ومن ثم فإن الابتعاد عن المعاصي وعن أسبابها من بداية الطريق بالحزم مطلب شرعي وهذا كثيرا ما نراه في آيات التنزيل الحكيم مثل قوله تعالى:

{وَلا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلا} [الاسراء:32] ولم يقل ولا تزنوا فهو نهي عن مجرد القرب منه بتجنب أسبابه ودواعيه كالنظر والسمع … الخ وهذا ـ أيضا ـ مطلب اجتماعي هام به يتحقق الاستقرار في المجتمع، ولقد كان من بنود البيعة يوم العقبة كما رواها عبادة بن الصامت رضي الله عنه أن لا يرتكب المسلمون متعمدين المعاصي في معروف، إذ قال عليه الصلاة والسلام يومئذ وحوله عصابة من أصحابه: “ بايعوني على أن لا تشركوا بالله شيئا ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا أولادكم ولا تأتوا ببهتان تفترونه بين
শরীয়তসম্মত একটি বিধান, যা ব্যতীত দুনিয়াতে সুখ এবং আখেরাতে চিরস্থায়ী নিয়ামত লাভ করা সম্ভব নয়। পাপে লিপ্ত হওয়া এমন এক ব্যাধি যা ক্রমশ বিস্তার লাভ করে এবং ধ্বংস ডেকে আনে, যদি পথের শুরুতেই বিজ্ঞোচিত পন্থায় এর মূল উৎপাটন করা না হয়!

নিশ্চয়ই আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকা দাওয়াতের অন্যতম লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ সেভাবে অবিচল থাকো এবং তোমার সাথে যারা তওবা করেছে তারাও; আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।} [হুদ: ১১২]। অবিচলতা মানসিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, তারপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় (এবং বলে), ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ নাও’।} [ফুসসিলাত: ৩০]। {নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।} [আহকাফ: ১৩] ।

তেমনিভাবে পাপাচার হলো সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি, আর এই বিচ্যুতি আচরণগত অস্থিরতা এবং মানসিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণ। আল্লাহর রহমত যদি সাহায্য না করে, তবে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি দুর্ভাগ্যের আবর্তে ঘুরপাক খেতে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আদম তার রবের অবাধ্য হলো, ফলে সে পথ হারালো। এরপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, ফলে তিনি তার তওবা কবুল করলেন এবং তাকে হেদায়েত দিলেন।} [ত্বহা: ১২১-১২২]। অতএব, দৃঢ়তার সাথে পথের শুরু থেকেই পাপাচার ও তার কারণগুলো থেকে দূরে থাকা একটি শরীয়তসম্মত দাবি। প্রজ্ঞাপূর্ণ ওহীর আয়াতসমূহে আমরা এটি প্রায়শই দেখতে পাই, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:

{আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয় এটি ছিল অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।} [বনী ইসরাঈল: ৩২]। তিনি ‘তোমরা ব্যভিচার করো না’ বলেননি; বরং এর কাছে যেতেও নিষেধ করেছেন—দৃষ্টিপাত, শ্রবণ ইত্যাদির মতো ব্যভিচারের কারণ ও প্ররোচনাগুলো পরিহার করার মাধ্যমে... ইত্যাদি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দাবিও, যার মাধ্যমে সমাজে স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়। উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) যেভাবে বর্ণনা করেছেন, আকাবার শপথের অন্যতম শর্ত ছিল যে, মুসলমানরা সৎকাজের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে পাপাচার করবে না। সেদিন তাঁর একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: “আমার কাছে এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করো যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে না যা...”
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪২)
أيديكم وأرجلكم ولا تعصوا في معروف “1.

والمعروف كما قال ابن حجر: ما عُرف من الشارع حُسنه نهيا وأمرا2.

فطاعة الله في كل ما أمر به وتجنب معصيته في كل ما نهى عنه هو التقوى وهو أمر أساس لا ينهض المجتمع الأمثل إلا عليه، وبقدر تحقيق هذه الغاية السنية يكون المجتمع موفقا مسددا.

لمحة في منهج البحث:

وموضوع البحث في طريقة عرضه وأسلوب جمعه غلبت فيه الجانب الإصلاحي الذي هو هدف الدعوة ومقصودها، ثم إن البحث من حيث المحور الموضوعي ليس ببعيد عما كتبه كثير من أهل العلم في موضوعات (الحسبة) مثلما نجده في كتاب الحسبة لابن تيمية، وكتاب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر له أيضا، وباب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في كتب السياسة الشرعية، فإن المادة العلمية التي نجدها في هذه الكتب تحت تصنيف (مراتب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، أو مراتب تغيير المنكر) ضافية تروي ظمأ الباحثين، وتحل استشكالاتهم وتنير الطريق أمام المحتسبين والدعاة والمربين.

ولقد تتبعت في بحثي هذا الدليل وعدت عليه بعد التأمل والدراسة بالاستنباط على ضوء ما قاله علماء السلف رحمهم الله تعالى. وعلى العموم فلقد أكثرت من إيراد النصوص الشرعية (الآيات القرآنية والأحاديث النبوية الشريفة) تأصيلا للبحث العلمي، وتوفيرا للزاد القريب الذي يرجع إليه الدعاة والمحتسبون وهم يدعون العصاة إلى الله.

وعلاوة على قواعد مناهج البحث المعروفة من التوثيق والتحليل، عنيت

--------------------------------------------

1متفق عليه: خ: الإيمان (18) واللفظ له، م: الحدود (1709)

2الفتح 1/ 65.
...তোমাদের হাত ও পায়ের (মধ্যবর্তী কোনো অপবাদ রচনা করো না) এবং সৎকাজে (معروف) অবাধ্য হয়ো না।” ১.

ইবনে হাজার বলেন: ‘মা’রুফ’ (المعروف) হলো—যা শরিয়ত দাতা কর্তৃক আদেশ বা নিষেধের মাধ্যমে কল্যাণকর হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ২.

সুতরাং আল্লাহর সকল আদেশে তাঁর আনুগত্য করা এবং সকল নিষেধে তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করাই হলো তাকওয়া; এটি এমন এক মৌলিক ভিত্তি যার ওপর ভিত্তি করেই কেবল একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। আর এই মহৎ উদ্দেশ্য অর্জনের হারের ওপরই একটি সমাজ সফল ও সুসংহত হয়।

গবেষণা পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:

এই গবেষণার উপস্থাপন ভঙ্গি এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে সংশোধনমূলক দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে, যা দাওয়াতের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাছাড়া বিষয়বস্তুর প্রেক্ষাপটে এই গবেষণাটি অনেক আলেম ‘হিসবাহ’ বিষয়ে যা লিখেছেন তা থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়; যেমনটি আমরা ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর কিতাবুল হিসবাহ এবং তাঁরই ‘সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ’ বিষয়ক গ্রন্থে দেখতে পাই। তদ্রূপ ‘সিয়াসাহ শারইয়্যাহ’ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ‘সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ’ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এই গ্রন্থগুলোতে ‘সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের স্তরসমূহ’ বা ‘অসৎকাজ (المنكر) পরিবর্তনের স্তরসমূহ’ শ্রেণিবিভাগের অধীনে যে তাত্ত্বিক উপাদান পাওয়া যায়, তা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গবেষকদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণকারী এবং তা মুহতাসিব, দায়ী ও শিক্ষকদের সম্মুখপথকে আলোকিত করে।

আমি আমার এই গবেষণায় দলীলসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং সালাফে সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর বক্তব্যের আলোকে গভীরভাবে চিন্তা ও পর্যালোচনার পর তা থেকে সমাধান উদ্ভাবন করেছি। সামগ্রিকভাবে, গবেষণার তাত্ত্বিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে এবং পাপিষ্ঠদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়ী ও মুহতাসিবদের জন্য সহজলভ্য পাথেয় হিসেবে আমি প্রচুর পরিমাণে শরয়ী দলীল (কুরআনের আয়াত ও পবিত্র হাদিস) উল্লেখ করেছি।

গবেষণার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তথ্যসূত্র যাচাইকরণ (توثيق) এবং বিশ্লেষণের পাশাপাশি আমি যত্নবান হয়েছি...

--------------------------------------------

১. মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): সহিহ বুখারী: ঈমান (১৮), শব্দচয়ন তাঁর; সহিহ মুসলিম: হুদুদ (১৭০৯)।

২. ফাতহুল বারী ১/৬৫।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
بالتبويب والعنونة عناية فائقة إذ تبرز هذه الطريقة مكامن الموضوع وتحدد أطره العامة وتجعل المادة العلمية ميسورة سهلة، وفي لغة البحث توخيت كذلك سهولة اللفظ مع إجادة السبك حتى تتسنى الاستفادة من هذا البحث لكل قارئ يريد معالجة مشكلة المعصية في النفس البشرية.

وفي التوثيق رمزت في الحواشي في عزو الأحاديث إلى الصحاح الستة ومعها مسند الإمام أحمد وموطأ الإمام مالك وسنن الدارمي بالرموز الآتية: (خ) صحيح البخاري طبعة فتح الباري المطبعة السلفية، (م) صحيح مسلم ترقيم محمد عبد الباقي، (د) سنن أبي داود الموسوعة الإلكترونية صخر، (ت) سنن الترمذي ترقيم أحمد شاكر، (س) سنن النسائي، (ما) سنن ابن ماجة ترقيم محمد عبد الباقي، (ط) موطأ الإمام مالك ترقيم الموسوعة الإلكترونية صخر، (أحمد) مسند الإمام أحمد ترقيم الموسوعة الإلكترونية صخر، (دارمي) مسند الإمام الدارمي. وأما غيرها من كتب السنة فإني أذكرها باسمها دون رمز لأن ذكرها قليل في هذا البحث وعامة الأحاديث المستشهد بها تدور على الكتب التسعة الآنفة.

وذكرت إثر كل رمز اسم الكتاب من المرجع الحديثي ورقم الحديث وذلك للاختصار وتحرير الحواشي من ثقل الإطالة والتكرار، وعلى سبيل المثال: [ (خ) الصلاة (350) ] معناه: رواه البخاري في كتاب الصلاة حديث رقم (350) وهكذا في بقية الكتب الحديثية الأخرى.. والتزمت بطبعة واحدة في كل المراجع التي أحلت إليها.

التعريف بمفردات البحث:

(أساليب دعوة العصاة) عنوانٌ له دلالاته وخصائصه، وهو في مجموعه يمثل وحدة قيّمة في مناهج الدعوة، إذ تتوجه تلك المناهج إلى المخاطبين على تنوع أجناسهم وتفاوت ثقافاتهم وتعدد مشاربهم، وتتوخى في عمومها الإصلاح والتوجيه نحو الخير والرشد. وأساليب دعوة العصاة أو منهج دعوة العصاة
অধ্যায়বিন্যাস এবং শিরোনাম প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, কারণ এই পদ্ধতিটি বিষয়ের অন্তর্নিহিত দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে, এর সাধারণ কাঠামো নির্ধারণ করে এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদানসমূহকে সহজবোধ্য করে তোলে। গবেষণার ভাষার ক্ষেত্রেও আমি শব্দের সাবলীলতা ও চমৎকার গাঁথুনির চেষ্টা করেছি, যাতে মানবাত্মার পাপ (المعصية) বা অবাধ্যতার সমস্যা নিরসন করতে আগ্রহী প্রত্যেক পাঠক এই গবেষণা থেকে উপকৃত হতে পারেন।

তথ্যসূত্র প্রামাণ্যকরণের (التوثيق) ক্ষেত্রে আমি পাদটীকায় হাদিসসমূহকে সিহাহ সিত্তাহ এবং সেই সঙ্গে মুসনাদে ইমাম আহমাদ, মুওয়াত্তা ইমাম মালিক ও সুনানে দারেমি-র দিকে সম্পৃক্ত করার জন্য নিম্নোক্ত সংকেতসমূহ ব্যবহার করেছি: (খ) সহিহ বুখারি, ফাতহুল বারি সংস্করণ, আস-সালাফিয়্যাহ ছাপাখানা; (ম) সহিহ মুসলিম, মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির নম্বর অনুযায়ী; (দ) সুনানে আবু দাউদ, সখর ইলেকট্রনিক এনসাইক্লোপিডিয়া; (ত) সুনানে তিরমিজি, আহমাদ শাকিরের নম্বর অনুযায়ী; (স) সুনানে নাসাঈ; (মা) সুনানে ইবনে মাজাহ, মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির নম্বর অনুযায়ী; (ত) মুওয়াত্তা ইমাম মালিক, সখর ইলেকট্রনিক এনসাইক্লোপিডিয়া; (আহমাদ) মুসনাদে ইমাম আহমাদ, সখর ইলেকট্রনিক এনসাইক্লোপিডিয়া; (দারেমি) মুসনাদে ইমাম আদ-দারেমি। আর সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে আমি কোনো সংকেত ব্যবহার না করে সরাসরি নাম উল্লেখ করেছি, কারণ এই গবেষণায় সেগুলোর ব্যবহার অল্প এবং উদ্ধৃত অধিকাংশ হাদিস মূলত পূর্বোক্ত নয়টি কিতাবকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে।

সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে এবং পাদটীকাকে দীর্ঘসূত্রিতা ও পুনরাবৃত্তির ভার থেকে মুক্ত রাখতে আমি প্রতিটি সংকেতের পর হাদিসের মূল উৎস থেকে কিতাবের নাম এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি। উদাহরণস্বরূপ: [(খ) সালাত (৩৫০)] এর অর্থ হলো: ইমাম বুখারি এটি সালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং হাদিস নম্বর ৩৫০। অন্যান্য হাদিসের কিতাবগুলোর ক্ষেত্রেও এই একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। আমি প্রতিটি রেফারেন্সের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সংস্করণ ব্যবহার করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।

গবেষণার পরিভাষাগুলোর পরিচিতি:

(পাপীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতিসমূহ) এটি এমন একটি শিরোনাম যার নিজস্ব বিশেষ তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এটি দাওয়াহর পদ্ধতিমালার (مناهج) ক্ষেত্রে একটি মূল্যবান একক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে। কেননা এই পদ্ধতিগুলো সম্বোধিত ব্যক্তিদের (مخاطبين) বিচিত্র শ্রেণি, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এর সামগ্রিক উদ্দেশ্য হলো সংশোধন এবং কল্যাণ ও সঠিক পথের (الرشد) দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করা। পাপীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতিসমূহ বা পাপীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি (منهج)...
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
اصطلاحان متقاربان يتجلى مضمونهما في هذا البحث الموجز، ولنقف باقتضاب على أهم المدلولات التي تتضمنها مفردات البحث:

فـ (الأساليب) جمع أسلوب، وهو كما قال اللغويون: الطريق والوجه والمذهب، قال ابن منظور: “ يقال للسَّطْر من النخيل أُسْلوبٌ وكل طريقٍ ممتدّ فهو أُسلوبٌ قال: والأُسْلوبُ الطريق والوجهُ والمَذْهَبُ يقال أَنتم في أُسْلُوب سُوءٍ ويُجمَعُ أَسالِيبَ، الأُسْلُوبُ: الطريقُ تأُخذ فيه الأُسْلوبُ بالضم الفَنُّ، يقال أَخَذَ فلانٌ في أَساليبَ من القول أَي أَفانِينَ منه “1.

وقد ورد التعبير بـ (الأساليب) عند السلف ويقصد به فنون القول كما عند ابن تيمية؛ قال: “ومن أعظم التقصير نسبة الغلط إلى متكلم مع إمكان تصحيح كلامه وجريانه على أحسن أساليب كلام الناس”2.

فهو هنا عبر بالأساليب في معنى الأنماط البيانية الكلامية. فالأشبه في الأساليب أنها تختص بالبيان والكلام، يقال أساليب الدعوة أي الطرائق البيانية التي يوصل بها الداعية دعوته إلى المدعوين، وأما الوسائل فهي الأعم مدلولا تشمل الطرائق البيانية وغيرها، إذ هي القنوات التي من خلالها يوصل الداعية كلمته إلى الآخرين كالمذياع والراي والكتاب والجريدة والشريط ومنبر الخطابة ودار الأيتام والمستشفى الخيري … الخ وهذا هو الفرق بين أساليب الدعوة ووسائلها.

وقد يتداخل الاصطلاحان في مدلولهما كما سيأتي في غضون هذا البحث، لكن يبقى المعنى الأصلي والأغلب لـ (الأساليب) منصبا نحو الأدوات البيانية الخطابية.

--------------------------------------------

1 لسان العرب 1 / 473 مادة سلب.

2 مجموع الفتاوى 31 / 114.
দুটি কাছাকাছি পরিভাষা যাদের বিষয়বস্তু এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় ফুটে উঠেছে। আসুন আমরা গবেষণার শব্দমালার অন্তর্ভুক্ত প্রধান অর্থবোধক বিষয়গুলো সংক্ষেপে দেখে নেই:

‘রীতিসমূহ’ (الأساليب) হলো ‘রীতি’ (أسلوب)-এর বহুবচন। ভাষাবিদদের মতে এটি হলো: পথ (الطريق), দিক (الوجه) এবং পদ্ধতি (المذهب)। ইবনে মঞ্জুর বলেন: “খেজুর গাছের সারিকে ‘উসলুব’ বলা হয় এবং প্রতিটি প্রসারিত পথই হলো ‘উসলুব’। তিনি আরও বলেন: ‘উসলুব’ হলো পথ (الطريق), দিক (الوجه) এবং পদ্ধতি (المذهب)। বলা হয়, তোমরা একটি মন্দ পদ্ধতির (أسلوب) ওপর আছ। এর বহুবচন হলো রীতিসমূহ (أساليب)। ‘উসলুব’ হলো সেই পথ যাতে কেউ অগ্রসর হয়। পেশ (যম্মাহ) সহযোগে ‘উসলুব’ বলতে শিল্প (الفن) বোঝায়। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি কথার বিভিন্ন ধারায় (أساليب) প্রবেশ করেছে অর্থাৎ এর বিভিন্ন প্রকারে বা শিল্পে।”১

সালাফ (السلف) বা পূর্বসূরিদের নিকট ‘রীতিসমূহ’ (الأساليب) শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায় এবং এর দ্বারা বাচনভঙ্গি বা শিল্প বোঝানো হতো, যেমনটি ইবনে তাইমিয়াহর বক্তব্যে দেখা যায়; তিনি বলেছেন: “কোনো বক্তার বক্তব্যকে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করার এবং তা মানুষের কথার সর্বোত্তম রীতিসমূহের (أساليب) ওপর পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তার প্রতি ভুল আরোপ করা এক বিরাট ত্রুটি।”২

এখানে তিনি ‘আসালিব’ শব্দটিকে বর্ণনামূলক বা ভাষাগত শৈলীর অর্থে ব্যবহার করেছেন। সম্ভবত ‘আসালিব’ বিষয়টি বর্ণনা ও বক্তব্যের সাথে নির্দিষ্ট। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, দাওয়াতের পদ্ধতিসমূহ (أساليب الدعوة), অর্থাৎ বর্ণনামূলক সেই সব পন্থা (الطرائق) যার মাধ্যমে একজন দাঈ বা আহ্বায়ক তার দাওয়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেন। অন্যদিকে ‘উপকরণ’ (الوسائل) শব্দটির অর্থ আরও ব্যাপক, যা বর্ণনামূলক পন্থাসহ অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা এগুলো হলো সেই সব মাধ্যম (القنوات) যার সাহায্যে একজন দাঈ তার কথা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেন, যেমন: রেডিও, টেলিভিশন, বই, পত্রিকা, অডিও ক্যাসেট, খুতবার মিম্বর, এতিমখানা এবং দাতব্য হাসপাতাল … ইত্যাদি। দাওয়াতের পদ্ধতি (أساليب) এবং দাওয়াতের উপকরণের (وسائل) মধ্যে এটাই হলো পার্থক্য।

গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যাবে যে, কখনও কখনও এই দুটি পরিভাষার অর্থে পরস্পরের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, তবে ‘রীতিসমূহ’ (الأساليب) শব্দটির মূল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থটি ভাষাগত এবং অলঙ্কারপূর্ণ বক্তৃতার কৌশলের দিকেই নিবদ্ধ থাকে।

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব, ১ / ৪৭৩, ‘স-ল-ব’ (سلب) মূলশব্দ।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩১ / ১১৪।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
وأما (مناهج الدعوة) فهو أعم وأشمل ينتظم الأساليب والوسائل والخطط والأهداف والغايات يقال مناهج الدعوة ومناهج التربية ومناهج المؤرخين ومناهج المفسرين … ويقصد بذلك جملة الخطط والطرائق والأساليب التي سلكوها.

(والدعوة) هي النداء والصيحة والطلب والاستمالة والحث والحض في اللغة: قال ابن منظور: “ دَعَا: يَدْعُو دَعْوَةً ودُعاءً وادَّعَى يَدَّعي ادِّعاءً ودَعَوى. وفي نسبه دَعْوة أَي دَعْوَى. والدِّعْوَة بكسر الدال ادِّعاءُ الوَلدِ الدَّعِيّ غير أَبيه. “1.

ومن مرادفات الدعوة أيضا الحلف قال: “الدَّعْوة: الحِلفُ، وفي التهذيب: الدَّعوةُ الحِلف، يقال: دَعوة بني فلان في بني فلان. وتَدَاعَى البناءُ والحائط للخَراب إِذا تَكَسَّر وآذنَ بانْهِدامٍ. وداعيناها عليهم من جَوانِبِها: هَدَمْنَاها عليهم. وتَدَاعَى الكثيب من الرمل إِذا هِيل فانْهال”2.

وفي الحديث: “كَمَثَلِ الجَسَدِ إِذا اشْتَكَى بعضُه تَدَاعَى سائرُه بالسَّهَرِ والحُمَّى” 3.

كأَنّ بعضه دعا بعضاً من قولهم تَدَاعَت الحيطان أَي تساقطت أَو كادت، وتَدَاعَى عليه العدوّ من كل جانب: أَقْبَل، من ذلك. وتَدَاعَت القبائلُ على بني فلان إِذا تأَلبوا ودَعا بعضهم بعضاً إِلى التَّناصُر عليهم. وفي الحديث: “تَدَاعَتْ عليكم الأُمَمُ “ أَي اجتمعوا ودعا بعضهم بعضاً. وفي حديث ثَوْبانَ: “ يُوشكُ أَن تَداعَى عليكم الأُمَمُ كما تَدَاعَى الأَكَلةُ على قَصْعَتِها “ 4.

--------------------------------------------

1 لسان العرب 14 / 261 – 262.

2 المرجع السابق.

3 متفق عليه: خ: الأدب (6011) ، م: البر والصلة (2586) .

4 د: الملاحم (3745) ، أحمد: الأنصار (21363) .
وأما (মানহাজুদ দাওয়াহ বা দাওয়াতের কর্মপদ্ধতি) হলো অধিকতর ব্যাপক ও সংবলিত বিষয়, যা পদ্ধতি, মাধ্যম, পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। বলা হয়ে থাকে দাওয়াতের পদ্ধতি, শিক্ষা পদ্ধতি, ঐতিহাসিকদের পদ্ধতি এবং মুফাসসিরদের পদ্ধতি … আর এর দ্বারা তাদের অনুসৃত সকল পরিকল্পনা, পন্থা ও পদ্ধতিসমূহকে বোঝানো হয়।

(দাওয়াত) শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো আহ্বান, চিৎকার, প্রার্থনা, আকৃষ্ট করা, প্ররোচিত করা এবং উৎসাহিত করা। ইবনে মঞ্জুর বলেন: "দা'আ (دعا), ইয়াদউ (يدعو), দাওয়াতান (دعوة) ও দুআয়ান (دعاء) এবং ইদ্দা'আ (ادعى), ইয়াদদা'ঈ (يدعي), ইদ্দিআ'য়ান (ادعاء) ও দাওয়াক (دعوى)। আর বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে দাওয়াহ (دعوة) অর্থ হলো দাবি (دعوى)। আর দাল (د) বর্ণে কাসরা বা জের যোগে 'দি'ওয়াহ' (الدِّعْوة) হলো পালক সন্তানের নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে পিতা হিসেবে দাবি করা।" ১।

দাওয়াতের সমার্থক শব্দসমূহের মধ্যে 'শপথ বা চুক্তি' (الحلف) ও রয়েছে। তিনি বলেন: "আদ-দাওয়াহ (الدَّعْوة) অর্থ হলো চুক্তি। 'আত-তাহজীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: দাওয়াহ হলো চুক্তি; বলা হয়ে থাকে অমুক গোত্রের চুক্তি অমুক গোত্রের সাথে। আর দালান বা প্রাচীর ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে বলা হয় 'তাদাআ' (تَدَاعَى)। আমরা যখন কোনো দালান চারপাশ থেকে গুঁড়িয়ে দিই তখন বলা হয় 'দা'আইনাহা' (داعيناها)। আর বালুর স্তূপ যখন ধসে পড়ে তখন বলা হয় 'তাদাআ' (تَدَاعَى)।" ২।

হাদিসে এসেছে: "একটি দেহের ন্যায়, যখন দেহের কোনো অংশ অসুস্থ হয়, তখন শরীরের বাকি অংশ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তাতে সাড়া (تَدَاعَى) দেয়।" ৩।

যেন শরীরের এক অংশ অন্য অংশকে আহ্বান করছে; যেমনটি তাদের উক্তিতে বলা হয় যে, প্রাচীরগুলো 'তাদাআত' অর্থাৎ ভেঙে পড়েছে বা পড়ার উপক্রম হয়েছে। আর সব দিক থেকে শত্রু যখন কারো ওপর চড়াও হয়, তখন বলা হয় 'তাদাআ' (تَدَاعَى)। আবার কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে অন্য গোত্রসমূহ একত্রিত হয়ে একে অপরকে সাহায্যের জন্য ডাকলে বলা হয় 'তাদাআতিল কাবাইল' (تَدَاعَت القبائل)। হাদিসে এসেছে: "তোমাদের বিরুদ্ধে জাতিগোষ্ঠীসমূহ সমবেত (تَدَاعَتْ) হবে"; অর্থাৎ তারা একত্রিত হবে এবং একে অপরকে আহ্বান জানাবে। সাওবান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "অচিরেই জাতিসমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে এমনভাবে আহ্বান (تَداعَى) করবে, যেভাবে আহারকারীরা তাদের আহারের পাত্রের দিকে একে অপরকে আহ্বান করে।" ৪।

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব ১৪ / ২৬১ – ২৬২।

২ পূর্বোক্ত উৎস।

৩ সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি: আল-আদাব (৬০১১) , মুসলিম: আল-বিরর ওয়া আস-সিলাহ (২৫৮৬) ।

৪ আবু দাউদ: আল-মালাহিম (৩৭৪৫) , আহমদ: আল-আনসার (২১৩৬৩) ।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
فالدعوة على ما تقدم من الألفاظ التي تطلق ويراد منها معان كثيرة ومرادفات متعددة.

والدعوة في الاصطلاح هي: “ الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر “ وفي تعريف آخر: “قيام من له علم ودراية بدعوة الناس إلى الخير ودلالتهم إلى مسالك الرشد في أمور الدين والدنيا”.

وعند ابن تيمية: “ الدعوة إلى الله هي الدعوة إلى الإيمان به وبما جاءت به رسله بتصديقهم فيما أخبروا به وطاعتهم فيما أمروا وذلك يتضمن الدعوة إلى الشهادتين وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصوم رمضان وحج البيت والدعوة إلى الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله “1

والدعوة في استصلاح المنحرفين عن جادة الاستقامة هي: “ استمالة العصاة إلى جانب الاستقامة والرشد وإخراجهم من ظلمات المعصية إلى نور الطاعة ومن أوحال الطغيان والغي والظلم إلى رحاب التقوى والرشد والعدل، ليكونوا صالحين في ذوات أنفسهم مصلحين ـ بعد ذلك ـ لغيرهم” ويراعى في هذا جانب التقويم والتهذيب والإرشاد نحو الخير والفضيلة.

(والعصاة) هم المتساهلون في جانب التقوى المجافون لجناب الطاعة المتجانفون للإثم. وسيأتي التعريف بهم على وجه التفصيل قريبا إن شاء الله.

المشكلة البحثية:

المعاصي تنوعت وتكاثرت في زماننا هذا على نحو لم يسبق له مثيل، وذلك لتنوع وتكاثر الملهيات والصوارف عن طاعة الله عز وجل من جهة، ولضعف الوازع الديني والأخلاقي من جهة أخرى، ثم لتشابك المصالح بالمفاسد في كثير من الأحيان مما لا تنفك عنه الحياة اليومية من جهة ثالثة.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى 15/ 175.
দাওয়াত (دعوة) শব্দটি পূর্ববর্ণিত সেইসব শব্দের অন্তর্ভুক্ত যা বহুল ব্যবহৃত এবং এর দ্বারা অনেক অর্থ ও বিবিধ সমার্থবোধক পরিভাষা বোঝানো হয়।

পরিভাষায় দাওয়াত (دعوة) হলো: “সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر)”; অন্য একটি সংজ্ঞায়: “যাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা রয়েছে তাদের পক্ষ থেকে মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করা এবং দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে তাদের সঠিক পথের দিশা প্রদান করা।”

ইবনে তাইমিয়ার মতে: “আল্লাহর দিকে দাওয়াত (الدعوة إلى الله) হলো তাঁর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান (الإيمان) আনয়নের আহ্বান জানানো; রাসূলগণ যা সংবাদ দিয়েছেন তা বিশ্বাস করা এবং যা আদেশ করেছেন তা পালনের মাধ্যমে। আর এটি শাহাদাতাইন, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা ও বাইতুল্লাহর হজ করার আহ্বানের পাশাপাশি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং রাসূলগণের প্রতি ঈমান (الإيمان) আনয়নের আহ্বানকে অন্তর্ভুক্ত করে।”১

সরল পথ (الاستقامة) থেকে বিচ্যুতদের সংশোধনের ক্ষেত্রে দাওয়াত (دعوة) হলো: “পাপীদের সঠিক পথ (الاستقامة) ও সততার দিকে আকৃষ্ট করা এবং তাদের নাফরমানির অন্ধকার থেকে আনুগত্যের আলোর দিকে এবং সীমালঙ্ঘন, ভ্রষ্টতা ও অন্যায়ের পঙ্কিলতা থেকে তাকওয়া (التقوى), সঠিক পথ ও ন্যায়ের প্রশস্ত অঙ্গনে বের করে আনা; যাতে তারা নিজেরা নেককার (صالحين) হতে পারে এবং পরবর্তীতে অন্যদের সংশোধনকারী (مصلحين) হতে পারে।” এক্ষেত্রে সংশোধন, পরিমার্জন এবং কল্যাণ ও সচ্চরিত্রের দিকে দিকনির্দেশনার বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা হয়।

(পাপীগণ) হলেন তারা যারা তাকওয়া (التقوى)-র ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী, আনুগত্য থেকে বিমুখ এবং গুনাহের দিকে ঝুঁকে পড়া ব্যক্তি। অচিরেই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত সংজ্ঞা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

গবেষণার সমস্যা:

বর্তমান যুগে পাপের ধরণ ও আধিক্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা নজিরবিহীন। এর একদিকে রয়েছে মহান আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখকারী চিত্তবিনোদন ও উপকরণের বিবিধ সমাহার ও প্রবৃদ্ধি, অন্যদিকে রয়েছে ধর্মীয় ও নৈতিক বোধের দুর্বলতা এবং তৃতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে মন্দের সাথে বৈষয়িক স্বার্থের এমন সংমিশ্রণ যা দৈনন্দিন জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয় না।

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ১৫/ ১৭৫।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
لقد تعرضت كثير من المجتمعات الإسلامية للغزو الفكري المنظم والحرب الثقافية المقننة منذ عقود كثيرة، وكان ذلك الغزو بديلا عن الحرب القتالية التي أريقت فيها دماء واستبسل فيها المسلمون دفاعا عن العرض والأرض وقبل ذلك حماية للعقيدة والدين.

خاض أعداء المسلمين حروبا شعواء لمحو الإسلام والقضاء على المسلمين كان من أبرزها الحروب الصليبية التي امتدت زهاء قرنين (488-684?/ 1095-1292م) وأدرك أعداء الإسلام أن القتال لن يزعزع المسلم عن دينه بل يزيده تمسكا ودفاعا واستبسالا ويؤجج فيه روح الجهاد والفداء.. فغيروا الإستراتيجية وأتوا بالغزو الفكري وكان الهدف الأول منه إقصاء الدين من حياة المسلم ليكون مخلوقا لا تحركه غير الشهوات والملذات فلا يهتم بالجهاد ولا بقضايا المسلمين ولا بمعالي الأمور. ونتجت إثر ذلك جملة من المشكلات التي يعاني منها الكثير من المسلمين حين بعد الكثيرون منهم عن هدي ربهم، ومن ثم تنامت في عقول الأكثرين من المسلمين مشكلات عديدة فيما يتعلق بالمعاصي منها:

- الاستهانة بالمعصية، بل الاستخفاف بالدين وأثره في الحياة والتقليل من أهميته.

- ومنها التسويف في التوبة.

- ومنها الجهل بالمعصية ذاتها.

- ومنها الجهل بعواقب المعاصي وتبعاتها.

- ومنها ذلك الانحراف العقدي الذي ظهر مبكرا في تاريخ المسلمين وهو المبالغة والغلو في مرتكبي المعاصي لا سيما الكبائر، غلوا أخرج به الغلاةُ العصاةَ من مسمى الإيمان وظهرت إثر ذلك نعرة التكفير وهو ما عُرف بنزعة الخوارج، وفي المقابل التهاون بالمعاصي وزعم أنه لا تنفع مع الإيمان طاعة كما لا تضر معه معصية، وهو ما عُرف بنزعة المرجئة وغيرهم. وهو فكر متنامي في كثير من
বহু মুসলিম সমাজ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সুসংগঠিত বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন এবং বিধিবদ্ধ সাংস্কৃতিক যুদ্ধের শিকার হয়েছে। এই আগ্রাসন ছিল সেই সশস্ত্র যুদ্ধের বিকল্প, যেখানে রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল এবং মুসলমানরা তাদের সম্মান ও ভূখণ্ড রক্ষায় এবং সর্বোপরি আকিদা (عقيدة) ও দ্বীন সুরক্ষায় বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিল।

ইসলামের শত্রুরা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং মুসলমানদের সমূলে বিনাশ করতে প্রচণ্ড যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ক্রুসেড, যা প্রায় দুই শতাব্দী (৪৮৮-৬৮৪ হি./ ১০৯৫-১২৯২ খ্রি.) ধরে চলেছিল। ইসলামের শত্রুরা অনুধাবন করতে পেরেছিল যে, যুদ্ধ কোনো মুসলমানকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না, বরং তা তার দ্বীনের প্রতি অবিচলতা, প্রতিরক্ষা ও সাহসিকতাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তার মধ্যে জিহাদ (جهاد) ও আত্মত্যাগের চেতনাকে প্রজ্বলিত করে। ফলে তারা রণকৌশল পরিবর্তন করে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন নিয়ে আসে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল মুসলিম জীবন থেকে দ্বীনকে নির্বাসিত করা, যাতে সে এমন এক জীবে পরিণত হয় যাকে প্রবৃত্তি ও ভোগবিলাস ছাড়া আর কিছু তাড়িত করে না, ফলে সে জিহাদ (جهاد) কিংবা মুসলিম উম্মাহর সমস্যাবলি অথবা কোনো মহৎ লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ পায় না। এর ফলে এমন অনেক সমস্যার উদ্ভব হয়েছে যার শিকার আজ অনেক মুসলমান, যেহেতু তাদের অনেকেই তাদের রবের হেদায়াত থেকে দূরে সরে গেছেন। ফলশ্রুতিতে অধিকাংশ মুসলমানের চিন্তাধারায় পাপাচার সংক্রান্ত বিবিধ সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

- গুনাহকে তুচ্ছ মনে করা, এমনকি দ্বীন এবং জীবনে এর প্রভাবকে অবজ্ঞা করা এবং এর গুরুত্বকে খাটো করে দেখা।

- তাওবায় (توبة) গড়িমসি করা।

- খোদ পাপাচার বা গুনাহ (معصية) সম্পর্কে অজ্ঞতা।

- পাপাচারের কুফল এবং এর পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞতা।

- এবং সেই আকিদাগত (عقدي) বিচ্যুতি যা মুসলমানদের ইতিহাসে শুরুর দিকেই প্রকাশ পেয়েছিল; আর তা হলো পাপাচারীদের ক্ষেত্রে—বিশেষ করে কবিরা গুনাহ (الكبائر) লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে—অত্যধিক বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থা (غلو) অবলম্বন করা। এটি এমন এক চরমপন্থা (غلو) যার মাধ্যমে অতিবাদীরা (غلاة) পাপাচারীদের ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়। এরই প্রেক্ষিতে তাকফির (تكفير) বা কাফের সাব্যস্ত করার প্রবণতা দেখা দেয়, যা খাওয়ারেজ (الخوارج) মতবাদ হিসেবে পরিচিত। এর বিপরীতে, পাপাচারের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন এবং এই দাবি করা যে—ঈমান থাকলে কোনো আনুগত্য যেমন উপকারে আসে না, তেমনি কোনো পাপাচারও ক্ষতি করে না; যা মুরজিয়া (المرجئة) ও অন্যদের মতবাদ হিসেবে পরিচিত। এটি এমন একটি চিন্তাধারা যা অনেকের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে...
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
المجتمعات الإسلامية المعاصرة.

وهذا البحث ليس مرتبطا كليا بالغزو الفكري الذي تعرض له المسلمون في هذا العصر خاصة وإن كان ذلك الغزو له تأثيره العميق في مختلف مجالات الحياة في المجتمعات الإسلامية، بل البحث جمع وتحليل لمادة الدعوة من حيثياتها المتنوعة: “الموضوع، والأساليب، والوسائل، والمراتب، والمقاصد والغايات” فيما يخص المعصية والعصاة، المشكلة وطرائق العلاج، من أجل أن تزكو نفس المسلم ويجلو قلبه وتبيضّ صفحته ويخرج من حمأة المعصية وظلماتها إلى نور الإيمان والطاعة كان لا بد له من توبة وإنابة إلى الله ولزوم الاستقامة، وفي هذا البحث جمعٌ لأهم الأساليب المحققة لذلك والمعينة عليه والمقربة له.

تساؤلات البحث:

تنبثق من موضوع البحث عدة تساؤلات مهمة، تثري المحاور الأساسية فيه وتوقف القارئ الكريم على المعالم الكبرى لموضوع العصاة وكيف يمكن استصلاحهم، لا سيما وهم يمثلون الفئة الأكبر عددا في جميع المجتمعات الإسلامية وغير الإسلامية، على حد قوله تعالى: {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} [يوسف:103] وقوله: {وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الأَرْضِ يُضِلوكَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلا يَخْرُصُونَ} [الأنعام:116] وهذه الفئة هي الأكثر حاجة إلى التقويم المستمر والتوجيه المتنامي، وتتلخص التساؤلات في الفقرات التالية:

- ما هي المعاصي وما حدودها؟

- لماذا يقدم الإنسان على معصية خالقه وبارئه؟

- وهل للمعاصي آثار في واقع العصاة واستقرار المجتمع؟

- وكيف يمكن إخراج العصاة من ضيق المعصية إلى سعة الطاعة؟
সমকালীন মুসলিম সমাজ।

আর এই গবেষণাটি বর্তমান যুগে মুসলিমরা যে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে তার সাথে পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট নয়, যদিও মুসলিম সমাজের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই আগ্রাসনের সুগভীর প্রভাব রয়েছে। বরং এই গবেষণাটি দা’ওয়াহর বিষয়বস্তুসমূহকে এর বিভিন্ন দিক থেকে সংকলন ও বিশ্লেষণ করেছে: “বিষয়বস্তু, পদ্ধতি, মাধ্যম, স্তর এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ”; যা মূলত পাপ ও পাপাচারী, সমস্যা এবং প্রতিকারের পন্থার সাথে সংশ্লিষ্ট। একজন মুসলিমের নফস যেন পবিত্র হয়, তার অন্তর যেন পরিচ্ছন্ন হয়, তার আমলনামা যেন শুভ্র হয় এবং সে যেন পাপের পঙ্কিলতা ও অন্ধকার থেকে বের হয়ে ঈমান ও আনুগত্যের নূরের দিকে আসতে পারে, সেজন্য তার তওবা করা, আল্লাহর অভিমুখী হওয়া এবং ইস্তেকামাত বা অটলতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। এই গবেষণায় তা অর্জনের এবং সে বিষয়ে সাহায্যকারী ও সহায়ক প্রধান পদ্ধতিসমূহ সংকলন করা হয়েছে।

গবেষণার প্রশ্নাবলি:

গবেষণার বিষয়বস্তু থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে, যা এর মূল বিষয়গুলোকে সমৃদ্ধ করে এবং সম্মানিত পাঠককে পাপাচারীদের সংশোধনের উপায় এবং এ সংক্রান্ত প্রধান দিকগুলো সম্পর্কে অবহিত করে। বিশেষ করে তারা মুসলিম ও অমুসলিম সকল সমাজেই সংখ্যাগত দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: “আর তুমি যতই আগ্রহী হও না কেন, অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনয়নকারী নয়” [ইউসুফ: ১০৩] এবং তাঁর বাণী: “আর যদি তুমি জমিনের অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে; তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।” [আল-আন’আম: ১১৬]। এই শ্রেণিটিই নিরন্তর সংস্কার এবং ক্রমবর্ধমান নির্দেশনার সর্বাধিক মুখাপেক্ষী। প্রশ্নগুলো নিচের অনুচ্ছেদগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

- পাপ কী এবং এর সীমারেখা কতটুকু?

- মানুষ কেন তার স্রষ্টা ও পালনকর্তার অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়?

- পাপীদের বাস্তব জীবনে এবং সমাজের স্থিতিশীলতায় কি পাপের কোনো প্রভাব রয়েছে?

- কীভাবে পাপীদের পাপের সংকীর্ণতা থেকে আনুগত্যের প্রশস্ততায় বের করে আনা সম্ভব?
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
- وكيف يمكن إبقاؤهم على الطاعة، ودرء النكوص إلى المعصية؟

تلكم أبرز التساؤلات التي تجئ الإجابات عنها مستوفاة إن شاء الله تعالى في غضون هذا البحث.

وبعد: فإن يكن في بحثي ما هو مشمول في رياض الخير والصواب فهو من الله جل ذكره، فله سبحانه الحمد أولا وآخرا وظاهرا وباطنا، وما جانبت فيه الصواب فإني أستغفر الله منه وأتقدم بالاعتذار وأجنح إلى الحق وأطلبه حيث كان ولا أستنكف عن قبوله إن شاء الله.

وأسأل الله التوفيق والعون والسداد. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين،،،
এবং কীভাবে তাদেরকে আনুগত্যের ওপর অবিচল রাখা এবং পাপাচারের দিকে প্রত্যাবর্তন রোধ করা সম্ভব?

এগুলোই হলো প্রধান প্রশ্নাবলি, যেগুলোর উত্তর ইনশাআল্লাহ তাআলা এই গবেষণার আলোচনায় পূর্ণাঙ্গরূপে আসবে।

অতঃপর: আমার এই গবেষণায় যা কিছু কল্যাণ ও সঠিকতার অন্তর্ভুক্ত তা কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং আদি-অন্তে এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁরই। আর এতে আমি যেখানেই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি, সেজন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি সর্বদা সত্যের দিকে ধাবিত হই এবং যেখানেই তা পাওয়া যায় সেখানেই তা অন্বেষণ করি; আর ইনশাআল্লাহ তা গ্রহণ করতে আমি কুণ্ঠাবোধ করব না।

আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক, সাহায্য ও সঠিক পথ প্রদর্শনের আবেদন করছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর (صحابة) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌باب: تعريف العصاة وبيان أسباب المعصية وأنواعها ودركاتها

‌‌تعريف المعصية والعصاة

…

المحور الأول: تعريف العصاة وبيان أسباب المعصية وأنواعها ودركاتها

تعريف المعصية والعصاة:

المعصية والعصيان كما قال في كتب اللغة: (ضد الطاعة، وقد عَصاه من باب رمى ومَعْصِيَةً أيضا وعِصْياناً فهو عَاصٍ وعَصِيٌّ وعَاصَاهُ مثل عصاه واسْتَعْصَى عليه) فالمعصية ضد الطاعة وضد التقوى والاستقامة لذا كان الورع: الكف عن المعاصي1

والعصاة هم المفّرطون، والمسيئون، وأهل الذنوب، والفساق، والذين خلطوا عملا صالحا وآخر سيئا، والمرجون لأمر الله، وكل ذلك من الأوصاف التي وردت في القرآن الكريم.

ومعصية الله ورسوله إذا أطلقت دخل فيها الكفر والفسوق كما قال ابن تيمية، كقوله تعالى: {وَمَنْ يَعْصِ اللهَ وَرَسُولهُ فَإِنَّ لهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا} [الجن:23] وقال تعالى: {وَتِلكَ عَادٌ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُل جَبَّارٍ عَنِيدٍ} [هود:59] قال: “ فأطلق معصيتهم للرسل بأنهم عصوا هودا معصية تكذيب لجنس الرسل فكانت المعصية لجنس الرسل كمعصية من قال: {قَالُوا بَلى قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلنَا مَا نَزَّل اللهُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلا فِي ضَلالٍ كَبِيرٍ} [الملك [9] ومعصية من كذّب وتولى قال تعالى: {لا يَصْلاهَا إِلا الأَشْقَىالذِي كَذَّبَ وَتَوَلى} [الليل:15- 16] أي كذب بالخبر وتولى عن طاعة الأمر”2.

فالمعصية في مفهومها العام تتناول الكفر الأصلي وكذلك الردة إذا تحققت

--------------------------------------------

1 مختار الصحاح 1/184 مادة (ع ص و) .

2 مجموع الفتاوى 7 / 59.
‌‌পরিচ্ছেদ: পাপাচারীদের সংজ্ঞা এবং পাপের কারণ, প্রকারভেদ ও স্তরসমূহের বর্ণনা

‌‌পাপ ও পাপাচারীদের সংজ্ঞা

…

প্রথম অধ্যায়: পাপাচারীদের সংজ্ঞা এবং পাপের কারণ, প্রকারভেদ ও স্তরসমূহের বর্ণনা

পাপ ও পাপাচারীদের সংজ্ঞা:

অভিধানের গ্রন্থাবলীতে যেমন বলা হয়েছে: মাসিয়াহ (المعصية) এবং ইসইয়ান (العصيان) হলো আনুগত্যের (الطاعة) বিপরীত। ‘আসা’ (عَصاه) শব্দটি ‘রামা’ পরিচ্ছেদভুক্ত, এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল হলো ‘মাসিয়াতান’ (مَعْصِيَةً) ও ‘ইসইয়ানান’ (عِصْياناً)। এর কর্তাবাচক বিশেষ্য হলো ‘আসিন’ (عَاصٍ) ও ‘আসিয়্যুন’ (عَصِيٌّ)। ‘আসাহু’ (عَاصَاهُ) অর্থও ‘আসাহু’ (عصاه)-এর অনুরূপ এবং ‘ইস্তাসা আলাইহি’ (اسْتَعْصَى عليه) অর্থ অবাধ্য হওয়া। সুতরাং পাপ (المعصية) হলো আনুগত্যের (الطاعة) বিপরীত এবং তাকওয়া (التقوى) ও ইস্তিকামাত বা অবিচলতার বিপরীত। এ কারণেই ওয়ারা’ (الورع) বা পরহেজগারী হলো: পাপসমূহ (المعاصي) থেকে বিরত থাকা।১

আর পাপাচারী (العصاة) তারা যারা সীমালঙ্ঘনকারী, মন্দকর্মকারী, পাপাচারী, ফাসেক (الفساق), এবং যারা সৎকর্মের সাথে মন্দকর্ম মিশ্রিত করেছে এবং যারা আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে; আর এগুলোর সবই পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন গুণবাচক বৈশিষ্ট্য।

ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি বলেছেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা (معصية) শব্দটি যখন নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অন্তর্ভুক্ত হয় কুফর (كفر) এবং পাপাচার (الفسوق)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য (يعص) হয়, তবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।} [জিন: ২৩] মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর এই ছিল আদ জাতি, তারা তাদের রবের আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর রাসূলগণের অবাধ্য (عصوا) হয়েছিল এবং তারা প্রত্যেক দাম্ভিক ও হঠকারীর নির্দেশের অনুসরণ করেছিল।} [হুদ: ৫৯] তিনি বলেন: “এখানে রাসূলগণের প্রতি তাদের অবাধ্যতাকে (معصية) নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তারা হূদ (আ.)-এর অবাধ্য হয়েছিল, যা মূলত সমগ্র রাসূলগণের প্রতি মিথ্যাচারের অবাধ্যতা ছিল। সুতরাং রাসূলগণের প্রতি এই অবাধ্যতা (المعصية) ছিল তাদের অবাধ্যতার মতোই যারা বলেছিল: {তারা বলবে, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা মিথ্যা আরোপ করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো এক মহা বিভ্রান্তিতেই আছ।} [মুলক: ৯] এবং এটি ছিল সেই ব্যক্তির অবাধ্যতা (معصية) যে মিথ্যা আরোপ করে ও বিমুখ হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {তাতে চরম দুর্ভাগা ব্যক্তিই প্রবেশ করবে, যে মিথ্যা আরোপ করে এবং বিমুখ হয়।} [লাইল: ১৫-১৬] অর্থাৎ সে সংবাদকে মিথ্যা বলেছে এবং আদেশ পালনের আনুগত্য (طاعة) থেকে বিমুখ হয়েছে।”২

সুতরাং অবাধ্যতা (المعصية) তার ব্যাপক অর্থে মৌলিক কুফর (كفر) এবং যদি প্রমাণিত হয় তবে রিদ্দাহ বা ধর্মত্যাগকেও (الردة) অন্তর্ভুক্ত করে।

--------------------------------------------

১ মুখতারুস সাহাহ ১/১৮৪, মূল ধাতু (ع ص و)।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া ৭ / ৫৯।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫১)
موجباتها، وليس هو موضوع هذا البحث، والمفهوم الخاص هو محور هذا البحث وهو ارتكاب الذنوب الصغائر والكبائر تهاونا من غير استحلال.

ومن أصول العقيدة عند أهل السنة والجماعة ـ كما هو معلوم ـ أن المسلم لا يكفر بارتكاب الكبائر ما لم يستحلها، وعلى هذا الاعتقاد مضى سلف الأمة وهو متضافر في كتب السلف متواتر بين الأجيال، قال الإمام مسلم في كتاب الإيمان: باب الدليل على أن من رضي بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا فهو مؤمن، ثم أورد فيه جملة من الأحاديث النبوية الشريفة منها حديث العباس بن عبد المطلب أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: “ ذاق طعم الإيمان من رضي بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد رسولا”1.

فالعصاة مهما فرطوا في جنب الله لا يزالون مسلمين ما لم تصل معصيتهم إلى كبيرة الشرك بالله تعالى أو يرتكبوا كفرا بواحا. ومع ذلك فليس العصاة كالأتقياء قال تعالى {وَمَا يَسْتَوِي الأَعْمَى وَالبَصِيرُ وَالذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَلا المُسِيءُ قَلِيلا مَا تَتَذَكَّرُونَ} [غافر:58]

وكل من هذه الأنواع وعد الله الجنة والمغفرة إذا تخلص من الشرك كما قال تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الكِتَابَ الذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللهِ ذَلِكَ هُوَ الفَضْلُ الكَبِيرُ جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ} [فاطر:32 -33]

قال الامام الطبري: “ قوله تعالى {فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ} لأن يكون من أهل الذنوب والمعاصي التي هي دون النفاق والشرك عندي أشبه بمعنى الآية من أن يكون المنافق أو الكافر، وذلك أن الله تعالى ذكره اتبع هذه الآية قوله {جَنَّاتُ

--------------------------------------------

1 م: الإيمان (34) ، ت: الإيمان (2623) ، أحمد: (1682)
...এর কারণসমূহ, আর এটি এই গবেষণার বিষয়বস্তু নয়। বরং বিশেষ ধারণাটিই এই গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা হলো হালাল মনে না করে কেবল অবহেলার বশবর্তী হয়ে ছোট ও বড় গুনাহে (الكبائر) লিপ্ত হওয়া।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদাগত মূলনীতিসমূহের অন্যতম হলো—যেমনটি সর্বজনবিদিত—কোনো মুসলিম বড় গুনাহ (الكبائر) করার কারণে কাফের হয়ে যায় না যতক্ষণ না সে সেটিকে হালাল মনে করে। উম্মতের পূর্বসূরিগণ এই বিশ্বাসের ওপরই অবিচল ছিলেন এবং এটি পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহে ব্যাপকভাবে বর্ণিত এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে (متواتر) চলে আসছে। ইমাম মুসলিম কিতাবুল ঈমান-এ বলেন: ‘পরিচ্ছেদ: আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসেবে যে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়, সে মুমিন হওয়ার প্রমাণ’। অতঃপর তিনি সেখানে বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব বর্ণিত হাদিস যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদকে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে।”১

সুতরাং পাপীরা আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে যতই শিথিলতা করুক না কেন, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে যতক্ষণ না তাদের পাপ মহান আল্লাহর সাথে বড় শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে যায় অথবা তারা কোনো স্পষ্ট কুফরিতে লিপ্ত হয়। তা সত্ত্বেও, পাপীরা মুত্তাকিদের সমান নয়। মহান আল্লাহ বলেন, “অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারা এবং দুষ্কৃতিকারীরাও সমান নয়; তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।” [গাফির: ৫৮]

এই প্রত্যেক প্রকারের লোকদের জন্যই আল্লাহ জান্নাত ও ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যদি তারা শিরক থেকে মুক্ত থাকে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: “অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করলাম আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি; তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের কাজে অগ্রগামী। এটাই হলো মহা অনুগ্রহ। তারা প্রবেশ করবে চিরস্থায়ী জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।” [ফাতির: ৩২-৩৩]

ইমাম তাবারী বলেন: “মহান আল্লাহর বাণী—‘তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী’—বলতে আমার নিকট মুনাফিক বা কাফের হওয়ার চেয়ে এমন পাপাচারী ও অবাধ্যদের বোঝানোই আয়াতের অর্থের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাদের গুনাহ নিফাক বা শিরকের নিচে। কারণ মহান আল্লাহ এই আয়াতের পরপরই উল্লেখ করেছেন—‘জান্নাত...

--------------------------------------------

১ ম: ঈমান (৩৪), ত: ঈমান (২৬২৩), আহমদ: (১৬৮২)
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫২)
عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا} [فاطر: 33] فعم بدخول الجنة جميع الأصناف الثلاثة) 1.

ومما تقدم يتبين أن: المسلمين ثلاثة أنواع:

السابقون وهم المقربون وهم أعلى الأصناف الثلاثة.

والمقتصدون وهم من لم يجتهدوا في العبادة فكانت أعمالهم قصدا.

والظالمون وهم المسرفون على أنفسهم بإغراقها في الذنوب والآثام.

سمات العصاة:

يُعرف العصاة بسمات يتميزون بها منها ما تلازمهم على الدوام ومنها ما يتلبسون بها تارة ويتخلصون منها تارة بحسب قربهم أو بعدهم من مقام الإيمان والتقوى، ومن أهم تلك السمات:

1- الغفلة عن الله وعن يوم الحساب:

قال تعالى: {وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الجَهْرِ مِنْ القَوْلِ بِالغُدُوِّ وَالآصَالِ وَلا تَكُنْ مِنْ الغَافِلِينَ} [الأعراف:205] والغفلة هي الداء الذي يردي الكثيرين عن العمل ليوم الحساب، والغفلة مذمومة في كل الأحوال لأنها تعمي القلب عن العمل وتلهيه بسفاسف الأمور والشهوات، وتخدع النفس بالأماني إذ تلهيه بها حتى يدنو الأجل وتتبدى الحقيقة وتنكشف الغمة، فيبدأ الغافل في الندم على ما فرط في جنب الله ولا ينفع ساعتئذ الندم. والغفلة عن الله وعن الموت والحساب سببها ضعف الإيمان كما سيأتي.

قال ابن تيمية رحمه الله: “ فصل: فالغفلة والشهوة أصل الشر قال تعالى: {وَلا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلنَا قَلبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا} [الكهف:28] والهوى وحده لا يستقل بفعل السيئات إلا مع الجهل وإلا فصاحب الهوى إذا علم قطعا أن ذلك يضره ضررا راجحا انصرفت نفسه عنه بالطبع فإنّ الله تعالى

--------------------------------------------

1 تفسير الطبري 22 / 90.
{চিরস্থায়ী জান্নাত, তারা তাতে প্রবেশ করবে} [ফাতির: ৩৩]। সুতরাং জান্নাতে প্রবেশের এই বিষয়টি তিনটি শ্রেণীকেই অন্তর্ভুক্ত করে) ১।

পূর্বালোচিত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে: মুসলিমগণ তিন প্রকার:

অগ্রগামী (السابقون), তারা হলেন নৈকট্যপ্রাপ্ত (المقربون) এবং তারা এই তিন শ্রেণীর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের।

মধ্যমপন্থী (المقتصدون), তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করেননি, বরং তাদের আমলগুলো ছিল পরিমিত বা মধ্যম মানের।

যালিম (الظالمون), তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা পাপাচার ও গুনাহের সাগরে নিমজ্জিত হয়ে নিজেদের ওপর অবিচার করেছে।

পাপাচারীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

পাপাচারীদের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে চেনা যায়; এর মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য তাদের সাথে সর্বদা লেগে থাকে এবং কিছু বৈশিষ্ট্য তারা মাঝেমধ্যে লিপ্ত হয় আবার মাঝেমধ্যে তা থেকে মুক্ত হয়; এটি ঈমান (إيمان) ও তাকওয়া (تقوى)-র স্তরের নৈকট্য বা দূরত্বের ওপর নির্ভর করে। সেই সকল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- আল্লাহ এবং বিচার দিবস সম্পর্কে উদাসীনতা (الغفلة):

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর স্মরণ করো তোমার রব্বকে নিজের মনে বিনয় ও শঙ্কার সাথে এবং অনুচ্চ স্বরে, সকালে ও সন্ধ্যায়; আর তুমি উদাসীনদের (الغافلين) অন্তর্ভুক্ত হয়ো না} [আল-আ’রাফ: ২০৫]। উদাসীনতা (الغفلة) হলো এমন একটি ব্যাধি যা অনেককে বিচার দিবস উপলক্ষ্যে আমল করা থেকে বিচ্যুত করে দেয়। উদাসীনতা (الغفلة) সর্বাবস্থায় নিন্দনীয়, কারণ এটি অন্তরকে আমল থেকে অন্ধ করে দেয় এবং তুচ্ছ বিষয় ও কামনা-বাসনায় (الشهوات) লিপ্ত রাখে। এটি মানুষকে মিথ্যা আশার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করে এবং মৃত্যু ঘনিয়ে আসা ও সত্য উন্মোচিত হওয়া পর্যন্ত তাকে ভুলিয়ে রাখে। তখন উদাসীন ব্যক্তি আল্লাহর হকের ব্যাপারে তার ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য অনুতপ্ত হতে শুরু করে, কিন্তু সেই সময়ে অনুশোচনা কোনো কাজে আসে না। আল্লাহ, মৃত্যু এবং বিচার দিবস সম্পর্কে উদাসীনতার (الغفلة) মূল কারণ হলো ঈমান (إيمان)-এর দুর্বলতা, যা সামনে আলোচিত হবে।

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “পরিচ্ছেদ: উদাসীনতা (الغفلة) এবং কামনা-বাসনা (الشهوة) হলো সকল মন্দের মূল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তুমি তার আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে উদাসীন (أغفلنا) করে দিয়েছি এবং যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমালঙ্ঘনমূলক} [আল-কাহফ: ২৮]। কেবল প্রবৃত্তিই মন্দ কাজ সংঘটনে যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না তার সাথে মূর্খতা যুক্ত হয়। অন্যথায়, প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তি যখন নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে এটি তার জন্য চরম ক্ষতিকর, তখন স্বভাবগতভাবেই তার মন তা থেকে ফিরে আসে। কারণ আল্লাহ তাআলা...

--------------------------------------------

১. তাফসীরে তাবারী ২২ / ৯০।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
جعل فى النفس حبا لما ينفعها وبغضا لما يضرها فلا تفعل ما تجزم بأنه يضرها ضررا راجحا بل متى فعلته كان لضعف العقل. ولهذا يوصف هذا بأنه عاقل وذو نهى وذو حجى، ولهذا كان البلاء العظيم من الشيطان لامن مجرد النفس فإن الشيطان يزين لها السيئات ويأمرها بها ويذكر لها ما فيها من المحاسن التى هي منافع لامضار كما فعل ابليس بآدم وحواء فقال: {يَا آدَمُ هَل أَدُلكَ عَلى شَجَرَةِ الخُلدِ وَمُلك لا يَبْلى} [طه:120] وقال ما نهاكما ربكما عن هذه الشجرة إلا أن تكونا ملكين أو تكونا من الخالدين1.

2- ضعف الإيمان:

والإيمان يتقوى بالعمل الصالح وتزكية النفس ومجاهدتها على التزام الحق كما سبق، والإيمان بالمعاصي يضعف كما أنه بالطاعات يتقوى، وإذا كثرت المعاصي ران على القلب حجاب كثيف حتى لا يكاد يرى الحق، وفي بيان ذلك وتوضيحه حديث أبي هريرة صلى الله عليه وسلم مرفوعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم: “ لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن ولا يشرب الخمر حين يشربها وهو مؤمن، ولا يسرق حين يسرق وهو مؤمن، ولا ينتهب نهبة يرفع الناس فيها أبصارهم حين ينتهبها وهو مؤمن” 2

وإذا كان ضعف الإيمان سمة من سمات العصاة فإن هذا لا يعني أن أصل الإيمان ينتفي، وهذا هو المذهب الصحيح الذي عليه السلف، ولعل من أبين من فصل الكلام في هذه المسألة ابن تيمية رحمه الله قال: “ ومما ينبغى أن يعرف أن أكثر التنازع بين أهل السنة في هذه المسألة [أي دخول العمل في مسمى الإيمان] هو نزاع لفظي وإلا فالقائلون بأن الإيمان قول من الفقهاء كحماد بن أبى سليمان وهو أول من قال ذلك ومن اتبعه من أهل الكوفة وغيرهم متفقون مع

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى 14 / 289.

2 متفق عليه: خ: المظالم (2475) واللفظ له، م: الإيمان (57) .
তিনি আত্মার মধ্যে যা তার উপকার করে তার প্রতি ভালোবাসা এবং যা তার ক্ষতি করে তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আত্মা এমন কিছু করে না যা তার জন্য নিশ্চিতভাবে ক্ষতিকর বলে প্রতীয়মান হয়; বরং যখনই সে তা করে, তা বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতার কারণেই হয়ে থাকে। এই কারণেই একে বুদ্ধিমান, প্রজ্ঞাবান এবং বিবেকসম্পন্ন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আর এই কারণেই শয়তানের পক্ষ থেকেই বড় পরীক্ষা আসে, কেবল নফসের পক্ষ থেকে নয়। কারণ শয়তান নফসের কাছে মন্দ কাজগুলোকে শোভনীয় করে তোলে, তাকে সেগুলোর আদেশ দেয় এবং সেগুলোর মধ্যে এমন সব গুনাগুণ উল্লেখ করে যা ক্ষতির বদলে উপকার হিসেবে মনে হয়; যেমনটি ইবলিস আদম ও হাওয়ার সাথে করেছিল। সে বলেছিল: "হে আদম, আমি কি তোমাকে অনন্তকাল বেঁচে থাকার বৃক্ষ এবং অবিনশ্বর রাজত্বের সন্ধান দেব?" [ত্বহা: ১২০] এবং সে আরও বলেছিল: "তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে এই বৃক্ষ থেকে কেবল এই জন্যই নিষেধ করেছেন যাতে তোমরা ফেরেশতা হয়ে না যাও অথবা চিরঞ্জীবদের অন্তর্ভুক্ত না হও।"১

২- ঈমানের দুর্বলতা:

নেক আমল, নফসের পরিশুদ্ধি এবং সত্যের ওপর অটল থাকার সংগ্রামের মাধ্যমে ঈমান শক্তিশালী হয়, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। পাপাচারের মাধ্যমে ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে, যেমন আনুগত্যের মাধ্যমে তা শক্তিশালী হয়। আর যখন পাপাচার বৃদ্ধি পায়, তখন হৃদয়ের ওপর একটি ঘন পর্দা পড়ে যায়, এমনকি সে সত্য দেখতে পায় না। এর বর্ণনায় ও ব্যাখ্যায় আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হিসেবে পৌঁছেছে: “কোনো ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না, কোনো মদ্যপায়ী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন থাকে না, কোনো চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না এবং কেউ যখন এমন কোনো সম্পদ লুণ্ঠন করে যার দিকে মানুষ চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মুমিন থাকে না।”২

ঈমানের দুর্বলতা যদি পাপাচারীদের একটি বৈশিষ্ট্য হয়, তবে এর অর্থ এই নয় যে ঈমানের মূল ভিত্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। আর এটিই হলো সঠিক (صحيح) মাযহাব যা সালাফগণ অনুসরণ করতেন। সম্ভবত এই বিষয়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: “একটি বিষয় জানা উচিত যে, এই মাসআলায় [অর্থাৎ ঈমানের সংজ্ঞায় আমল অন্তর্ভুক্ত কি না] আহলুস সুন্নাহর মধ্যকার অধিকাংশ বিরোধই শাব্দিক। অন্যথায়, ফকিহদের মধ্যে যারা বলেন ঈমান হলো কেবল মৌখিক স্বীকৃতি—যেমন হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান, যিনি প্রথম এই কথা বলেছিলেন এবং কুফাবাসী ও অন্যান্যদের মধ্যে যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন—তারা একমত যে...

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ১৪/২৮৯।

২ সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি: আল-মাজালিম (২৪৭৫), শব্দাবলি তাঁরই; মুসলিম: আল-ঈমান (৫৭)।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
جميع علماء السنة على أن أصحاب الذنوب داخلون تحت الذم والوعيد وان قالوا أن إيمانهم كامل كإيمان جبريل فهم يقولون أن الإيمان بدون العمل المفروض ومع فعل المحرمات يكون صاحبه مستحقا للذم والعقاب كما تقوله الجماعة ويقولون أيضا بأن من أهل الكبائر من يدخل النار كما تقوله الجماعة والذين ينفون عن الفاسق اسم الإيمان من أهل السنة متفقون على أنه لا يخلد في النار فليس بين فقهاء الملة نزاع فى أصحاب الذنوب إذا كانوا مقرين باطنا وظاهرا بما جاء به الرسول وما تواتر عنه أنهم من أهل الوعيد وأنه يدخل النار منهم من أخبر الله ورسوله بدخوله إليها ولا يخلد منهم فيها أحد ولا يكونون مرتدين مباحي الدماء.

ولكن الأقوال المنحرفة قول من يقول بتخليدهم في النار كالخوارج والمعتزلة وقول غلاة المرجئة الذين يقولون ما نعلم أن أحدا منهم يدخل النار بل نقف في هذا كله وحكى عن بعض غلاة المرجئة الجزم بالنفي العام، ويقال للخوارج الذي نفى عن السارق والزاني والشارب وغيرهم الإيمان هو لم يجعلهم مرتدين عن الإسلام بل عاقب هذا بالجلد وهذا بالقطع ولم يقتل أحدا إلا الزاني المحصن ولم يقتله قتل المرتد فإن المرتد يقتل بالسيف بعد الاستتابة وهذا يرجم بالحجارة بلا استتابة فدل ذلك على أنه وإن نفى عنهم الإيمان فليسوا عنده مرتدين عن الإسلام مع ظهور ذنوبهم وليسوا كالمنافقين الذين كانوا يظهرون الإسلام ويبطنون الكفر فأولئك لم يعاقبهم إلا على ذنب ظاهر. [واستطرد رحمه الله في بيان هذه المسألة العقدية الهامة فقال] :

وبسبب الكلام فى مسألة الإيمان تنازع الناس هل فى اللغة أسماء شرعية نقلها الشارع عن مسماها فى اللغة أو أنها باقية فى الشرع على ما كانت عليه فى اللغة لكن الشارع زاد في أحكامها لا في معنى الأسماء وهكذا قالوا في اسم الصلاة والزكاة والصيام والحج إنها باقية في كلام الشارع على معناها اللغوي
আহলুস সুন্নাহর সকল আলেম এ বিষয়ে একমত যে, পাপাচারীরা নিন্দা ও শাস্তির হুমকির (الوعيد) অন্তর্ভুক্ত। এমনকি তারা যদি এ কথাও বলেন যে তাদের ঈমান জিবরাঈল (আ.)-এর ঈমানের মতো পূর্ণাঙ্গ, তবুও তারা বলেন যে, ফরজ আমল ব্যতীত এবং হারাম কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ঈমানদার ব্যক্তি নিন্দা ও শাস্তির যোগ্য হয়, যেমনটি জামাত (আহলুস সুন্নাহ) বলে থাকে। তারা আরও বলেন যে, কবিরা গুনাহগারদের (أهل الكبائر) মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, যেমনটি জামাত বলে থাকে। আহলুস সুন্নাহর মধ্যে যারা ফাসেক (الفاسق) ব্যক্তি থেকে ঈমান শব্দটি নাকচ করেন, তারাও এ বিষয়ে একমত যে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। সুতরাং মিল্লাতের ফকিহদের মধ্যে পাপাচারীদের বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই—যদি তারা রাসুল যা নিয়ে এসেছেন এবং যা তাঁর থেকে মুতাওয়াতির (متواتر) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তার প্রতি অন্তরে ও প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দানকারী হয়—যে তারা শাস্তির হুমকির (الوعيد) অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সংবাদ দিয়েছেন তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে; তবে তাদের কেউই সেখানে চিরস্থায়ী হবে না এবং তারা ধর্মত্যাগী (مرتد) ও যাদের রক্ত বৈধ—এমন কেউ হবে না।

তবে বিচ্যুত অভিমতগুলো হলো তাদের বক্তব্য যারা পাপাচারীদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কথা বলে, যেমন খাওয়ারেজ (الخوارج) ও মুতাজিলা (المعتزلة), এবং সেই সব চরমপন্থী মুরজিয়াদের (غلاة المرجئة) কথা যারা বলে—আমাদের জানা নেই তাদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে কি না, বরং আমরা এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন (نقف) করব। এমনকি কোনো কোনো চরমপন্থী মুরজিয়া (غلاة المرجئة) থেকে শাস্তিকে ঢালাওভাবে নাকচ করার দৃঢ় দাবির কথা বর্ণিত হয়েছে। খাওয়ারেজদের (الخوارج) উদ্দেশ্যে বলা হয় যে, যিনি চোর, ব্যভিচারী, মদ্যপায়ী ও অন্যদের থেকে ঈমান নাকচ করেছেন, তিনি তাদের ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগী (مرتد) গণ্য করেননি। বরং তিনি কাউকে বেত্রাঘাতের মাধ্যমে, আবার কাউকে (অঙ্গ) কর্তনের মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন। তিনি বিবাহিত ব্যভিচারী (الزاني المحصن) ছাড়া কাউকে হত্যা করেননি এবং তাকেও ধর্মত্যাগী (مرتد) হিসেবে হত্যা করেননি। কারণ ধর্মত্যাগী (مرتد) ব্যক্তিকে তওবা করানোর (استتابة) পর তরবারি দিয়ে হত্যা করা হয়, আর একে তওবা করানো (استتابة) ছাড়াই পাথর নিক্ষেপের (রজম) মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে, যদিও তিনি তাদের থেকে ঈমান নাকচ করেছেন, তবুও তাদের গুনাহ প্রকাশ পাওয়া সত্ত্বেও তারা তাঁর নিকট ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত ধর্মত্যাগী (مرتد) ছিল না। তারা মুনাফিকদের (المنافقين) মতোও ছিল না যারা প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করত এবং অন্তরে কুফর গোপন রাখত; কারণ তাদের কেবল প্রকাশ্য গুনাহের জন্যই শাস্তি দেওয়া হতো। [তিনি (রহ.) এই গুরুত্বপূর্ণ আকিদাহগত মাসয়ালা বর্ণনায় আরও বলেন]:

ঈমান সংক্রান্ত মাসয়ালায় আলোচনার কারণে মানুষের মধ্যে এই নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে যে, ভাষাগত দিক থেকে কি এমন কোনো শরিয়তসম্মত নাম (أسماء شرعية) আছে যা বিধানদাতা তার আভিধানিক সত্তা থেকে শরিয়তের সংজ্ঞায় স্থানান্তরিত করেছেন, নাকি সেগুলো শরিয়তেও তার আভিধানিক অর্থের (اللغوي) ওপরই বহাল আছে—তবে বিধানদাতা কেবল তার বিধানে নতুন কিছু সংযোজন করেছেন, নামের অর্থে নয়? একইভাবে তারা সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজের নামের ক্ষেত্রেও বলেছেন যে, এগুলো বিধানদাতার বক্তব্যে তাদের আভিধানিক অর্থের (اللغوي) ওপরই বহাল রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
لكن زاد في أحكامها ومقصودهم أن الإيمان هو مجرد التصديق وذلك يحصل بالقلب واللسان وذهبت طائفة ثالثة إلى أن الشارع تصرف فيها تصرف أهل العرف فهي بالنسبة إلى اللغة مجاز وبالنسبة إلى عرف الشارع حقيقة.

والتحقيق أن الشارع لم ينقلها ولم يغيرها ولكن استعملها مقيدة لا مطلقة كما يستعمل نظائرها كقوله تعالى: {وَلِلهِ عَلى النَّاسِ حِجُّ البَيْتِ مَنْ اسْتَطَاعَ إِليْهِ سَبِيلا} [آل عمران: 57] فذكر حجا خاصا وهو حج البيت وكذلك قوله: {فَمَنْ حَجَّ البَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ} [البقرة: 158] … الخ1.

ولمباحث الإيمان تفصيل ذكره أهل العلم يطلب في مظانه، والخلاصة المعنية هنا أنه اعتقاد بالقلب، وتصديق باللسان، وعمل بالجوارح، ولا بد من تضافر هذه العمد الثلاثة.

3- غلبة الشبهات والشهوات:

وهي ثالثة الأثافي، ولولا غلبة الشهوات لكان الناس في خير، والله تعالى ركب في الإنسان تلك الشهوات كشهوة الزواج وشهوة حب المال والتملك وشهوة التسلط على ما سيأتي تفصيله بعد إن شاء الله تعالى، فمن تغلب على شهواته وسيطر عليها وحاكمها وضبطها سلك سبيل الرشد، ومن غلبته شهوته سلكت به سبيل الغي والعياذ بالله.

وهذه السمات الثلاث بينها تداخل وتشابك وبعضها يتولد من البعض الآخر ثم هي من مرض القلب مما ينعت به المنافقون، قال ابن تيمية رحمه الله: “ذكر الله مرض القلب في مواضع فقال تعالى: {إِذْ يَقُولُ المُنَافِقُونَ وَالذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ غَرَّ هَؤُلاءِ دِينُهُمْ} [الأنفال: 49]

والمرض في القلب كالمرض في الجسد فكما أن هذا هو إحالة عن الصحة

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى 7 / 297.
তবে তিনি এর বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কিছু সংযোজন করেছেন। আর তাদের উদ্দেশ্য হলো এই যে, ঈমান হলো কেবলই সত্যায়ন (التصديق); আর তা অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে অর্জিত হয়। তৃতীয় একটি দল এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, শরীয়ত প্রণেতা (الشارع) এ বিষয়ে পরিভাষাবিদদের (أهل العرف) ন্যায় আচরণ করেছেন। ফলে তা আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রূপক (مجاز), আর শরীয়তের পরিভাষার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত (حقيقة)।

আর সঠিক বিশ্লেষণ (التحقيق) হলো এই যে, শরীয়ত প্রণেতা (الشارع) একে স্থানান্তরিত বা পরিবর্তন করেননি, বরং একে নিরঙ্কুশ (مطلقة) অর্থে ব্যবহার না করে সীমাবদ্ধ (مقيدة) অর্থে ব্যবহার করেছেন; যেমন তিনি এর সদৃশ শব্দগুলো ব্যবহার করেন। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাদের সামর্থ্য আছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই বায়তুল্লাহর হজ করা মানুষের ওপর আবশ্যক} [আলে ইমরান: ৯৭]। এখানে তিনি একটি বিশেষ হজের কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো বায়তুল্লাহর হজ। অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: {সুতরাং যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ বা উমরা করবে...} [আল-বাকারা: ১৫৮] … ইত্যাদি১।

ঈমান সংক্রান্ত আলোচনার বিশদ বিবরণ আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যা সংশ্লিষ্ট গ্রন্থসমূহে তালাশ করা উচিত। আর এখানে উদ্দেশ্যমূলক সারকথা হলো—তা হলো অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস (اعتقاد بالقلب), মৌখিক স্বীকৃতি (تصديق باللسان) এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল (عمل بالجوارح)। আর এই তিনটি স্তম্ভের (العمد) সমন্বয় অপরিহার্য।

৩- সংশয় (الشبهات) ও প্রবৃত্তির (الشهوات) আধিক্য:

এটি হলো প্রধান তিনটি সংকটের মধ্যে তৃতীয়টি (ثالثة الأثافي); যদি প্রবৃত্তির (الشهوات) আধিক্য না থাকতো, তবে মানুষ কল্যাণের ওপরই প্রতিষ্ঠিত থাকতো। আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে সেই প্রবৃত্তিগুলো (الشهوات) সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যেমন—বিয়ের আকাঙ্ক্ষা, ধন-সম্পদ ও মালিকানার মোহ এবং আধিপত্য বিস্তারের লিপ্সা, যার বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ। অতএব, যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির (الشهوات) ওপর জয়লাভ করে, একে নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করে এবং সংযত রাখে, সে সঠিক পথ (الرشد) অবলম্বন করে। আর যার ওপর তার প্রবৃত্তি (الشهوات) জয়ী হয়, তা তাকে ভ্রষ্টতার (الغي) পথে নিয়ে যায়—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পারস্পরিক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং একটি থেকে অন্যটির জন্ম হয়। তদুপরি এগুলো অন্তরের ব্যাধির (مرض القلب) অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা মুনাফিকদের (المنافقون) বিশেষিত করা হয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে অন্তরের ব্যাধির (مرض القلب) কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: {যখন মুনাফিকরা (المنافقون) এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি (مرض) রয়েছে তারা বলছিল, এদের দীন এদেরকে বিভ্রান্ত করেছে} [আল-আনফাল: ৪৯]

আর অন্তরের ব্যাধি (المرض) হলো শরীরের ব্যাধির মতোই; যেমন এটি সুস্থতা থেকে বিচ্যুতি মাত্র

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ৭/২৯৭।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
والاعتدال من غير موت فكذلك قد يكون في القلب مرض يحيله عن الصحة والاعتدال من غير أن يموت القلب سواء أفسد إحساس القلب وإدراكه أو أفسد عمله وحركته.

وذلك كما فسروه هو من ضعف الإيمان إما بضعف علم القلب واعتقاده وإما بضعف عمله وحركته فيدخل فيه من ضعف تصديقه ومن غلب عليه الجبن والفزع فإن أدواء القلب من الشهوة المحرمة والحسد والجبن والبخل وغير ذلك كلها أمراض وكذلك الجهل والشكوك والشبهات التي فيه”1.

4- الجهل:

قال الله تعالى: {إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلى اللهِ لِلذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُوْلئِكَ يَتُوبُ اللهُ عَليْهِمْ وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حَكِيمًا} [النساء:17]

قال القرطبي: “ في هذه الآية والأنعام أنه من عمل منكم سوءا بجهالة يعم الكفر والمعاصي فكل من عصى ربه فهو جاهل حتى ينزع عن معصيته قال قتادة أجمع أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم على أن كل معصية فهي بجهالة عمدا كانت أو جهلا وقاله ابن عباس وقتادة والضحاك ومجاهد والسدي وروى عن الضحاك ومجاهد أنهما قالا الجهالة هنا العمد وقال عكرمة أمور الدنيا كلها جهالة يريد الخاصة بها الخارجة عن طاعة الله وهذا القول جار مع قوله تعالى إنما الحياة الدنيا لعب ولهو وقال الزجاج يعني قوله بجهالة إختيارهم اللذة الفانية على اللذة الباقية وقيل بجهالة أي لا يعلمون كنه العقوبة ذكره إبن فورك قال إبن عطية وضعف قوله هذا ورد عليه”2.

وقال تعالى: {كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِل مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالةٍ ثُمَّ

--------------------------------------------

1 العقود الدرية ص 167.

2 تفسير القرطبي 5/ 92.
তেমনিভাবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সুস্থতা ও ভারসাম্য বিদ্যমান থাকে, ঠিক তেমনিভাবে অন্তরে এমন রোগ হতে পারে যা তাকে সুস্থতা ও ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত করে ফেলে, যদিও অন্তরটি মরে না যায়; চাই তা অন্তরের অনুভূতি ও উপলব্ধিকে কলুষিত করুক অথবা তার কর্ম ও গতিশীলতাকে নষ্ট করুক।

আর ব্যাখ্যাকারগণ যেভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন, তা হলো ঈমানের দুর্বলতার (ضعف الإيمان) অন্তর্ভুক্ত; তা হয় অন্তরের জ্ঞান ও বিশ্বাসের (اعتقاد) দুর্বলতার কারণে অথবা তার আমল ও গতিশীলতার দুর্বলতার কারণে। সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত হবে যার সত্যায়ন (تصديق) দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যার ওপর ভীরুতা ও আতঙ্ক জয়ী হয়েছে। কেননা হারাম প্রবৃত্তি, হিংসা, ভীরুতা, কৃপণতা ও এ জাতীয় অন্যান্য যা কিছু রয়েছে তা সবই অন্তরের ব্যাধি। অনুরূপভাবে অজ্ঞতা (الجهل), সংশয় ও সন্দেহসমূহ (شبهات) যা অন্তরে বিদ্যমান থাকে তাও এর অন্তর্ভুক্ত।”১।

৪- অজ্ঞতা (الجهل):

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন যারা অজ্ঞতাবশত (بجهالة) মন্দ কাজ করে, অতঃপর শীঘ্রই তওবা করে। আল্লাহ এদের তওবা কবুল করেন এবং আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়} [নিসা: ১৭]

ইমাম কুরতুবী বলেন: “এই আয়াতে এবং সূরা আনআমে বলা হয়েছে যে, তোমাদের মধ্য থেকে যে অজ্ঞতাবশত (بجهالة) মন্দ কাজ করবে, তা কুফর ও পাপাচারকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং যে ব্যক্তিই তার রবের অবাধ্য হয়, সে ততক্ষণ পর্যন্ত অজ্ঞ (جاهل) থাকে যতক্ষণ না সে পাপাচার থেকে নিবৃত্ত হয়। কাতাদাহ বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, প্রতিটি পাপাচারই অজ্ঞতাপ্রসূত (جهالة), চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অজ্ঞতাবশত। ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ, দাহহাক, মুজাহিদ ও সুদ্দী এ কথা বলেছেন। দাহহাক ও মুজাহিদ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: এখানে 'জাহালাহ' (الجهالة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সংকল্পবদ্ধভাবে করা কাজ। ইকরিমা বলেন, দুনিয়ার সকল বিষয়ই অজ্ঞতা (جهالة), এর মাধ্যমে তিনি ঐসব বিষয় বুঝিয়েছেন যা আল্লাহর আনুগত্যের বহির্ভূত। এই বক্তব্যটি মহান আল্লাহর বাণী 'নিশ্চয়ই দুনিয়ার জীবন খেলাধুলা ও তামাশা মাত্র'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জাজ্জাজ বলেন, অর্থাৎ 'অজ্ঞতাবশত' (بجهالة) কথাটির দ্বারা তিনি চিরস্থায়ী নিআমতের পরিবর্তে নশ্বর স্বাদকে বেছে নেওয়াকে বুঝিয়েছেন। আবার বলা হয়েছে যে, 'অজ্ঞতাবশত' (بجهالة) মানে হলো তারা শাস্তির প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জানে না; ইবনে ফাওরাক এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আতিয়্যাহ এই মতটিকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন এবং তা খণ্ডন করেছেন।”২।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদের রব দয়া করা নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত (بجهالة) মন্দ কাজ করবে অতঃপর...

--------------------------------------------

১ আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৬৭।

২ তাফসীর কুরতুবী ৫/ ৯২।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [الأنعام:54] .

وقال تعالى: {ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالةٍ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لغَفُورٌ رَحِيمٌ} [النحل:119] .

ونجلي هذا أكثر من خلال الحديث عن أسباب المعصية ودوافعها فنقول وبالله التوفيق:

أسباب المعصية وأنواعها:

ما هي أسباب المعصية؟ ولماذا يعصي المسلم ربه؟! تلكم هي القضية التي يعالجها الدعاة بالحكمة والموعظة الحسنة، وهي قضية العصر وكل عصر، المعاصي داء له بإذن الله دواء، ودواؤه في كتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم.

في علاج مشكلة المعصية يعمل الدعاة جاهدين بشتى الأساليب والوسائل المشروعة، ومعرفة أسباب المعصية جزء من العلاج، وتلكم الأسباب تنحصر في أمرين فهي إما (شبهات أوشهوات) ولنلق بعض الضوء على هذين السببين الرئيسين الَّذين يتفرع عنهما الأسباب الأخرى:

ففي الشهوات قول الله تعالى: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنْ النِّسَاءِ وَالبَنِينَ وَالقَنَاطِيرِ المُقَنْطَرَةِ مِنْ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ وَالخَيْلِ المُسَوَّمَةِ وَالأَنْعَامِ وَالحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللهُ عِنْدَهُ حُسْنُ المَآبِ} [آل عمران:14] .

في هذه الآية الشريفة المنيفة تعداد للشهوات والغرائز المركبة في الانسان وفي أعماقه كغريزة النكاح وغريزة حب الولد والنسل، وحب المال، والجاه وزخارف الدنيا والسلطان، وابتدأ تعالى ذكر هذه الشهوات بشهوة النكاح وهي أخطرها وأنكاها إن لم تعالج مبكرا وفي الإطار المشروع، وقد ورد في الحديث النبوي الشريف: “ ما تركت بعدي فتنة هي أضر على الرجال من النساء” 1.

--------------------------------------------

1 متفق عليه: خ: النكاح (5096) ، م: الذكر والدعاء (2740) .
"...যে ব্যক্তি এরপর তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [আল-আনআম: ৫৪] .

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "অতঃপর তোমার প্রতিপালক তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করেছে, এরপর তওবা করেছে এবং নিজেদের সংশোধন করে নিয়েছে—নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক এসবের পর অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [আন-নাহল: ১১৯] .

আমরা গুনাহের কারণ ও এর নেপথ্যের প্রেষণাগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলব। আর আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:

গুনাহের কারণ ও প্রকারভেদ:

গুনাহের কারণগুলো কী কী? কেন একজন মুসলিম তার প্রতিপালকের অবাধ্য হয়?! এটি এমন একটি বিষয় যা দায়িগণ হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করেন। এটি বর্তমান সময়ের এবং প্রতিটি যুগেরই এক বড় সংকট। গুনাহ হলো একটি ব্যাধি যার প্রতিকার আল্লাহর ইচ্ছায় সম্ভব; আর এর দাওয়াই রয়েছে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবি (সা.)-এর সুন্নাহর মধ্যে।

গুনাহের সমস্যার সমাধানে দায়িগণ বিভিন্ন শরয়ি পদ্ধতি ও উপায়ে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গুনাহের কারণসমূহ অবগত হওয়া এই চিকিৎসারই একটি অংশ। এই কারণগুলো মূলত দুটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ; তা হলো হয় 'সংশয়' অথবা 'প্রবৃত্তি'। আমরা এই দুটি প্রধান কারণের ওপর আলোকপাত করব, যা থেকে অন্যান্য বিবিধ শাখা-প্রশাখামূলক কারণের উৎপত্তি ঘটে:

প্রবৃত্তির তাড়নার ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী: "মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির প্রতি আসক্তি—নারী, সন্তান-সন্ততি, স্তূপীকৃত সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও ক্ষেত-খামারের মোহ। এসব হলো পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু, আর আল্লাহর নিকটই রয়েছে সর্বোত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।" [আল ইমরান: ১৪] .

এই মহান আয়াতে মানুষের অন্তরে প্রোথিত বিভিন্ন প্রবৃত্তি ও সহজাত চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন—বিবাহের সহজাত প্রবৃত্তি, সন্তান ও বংশধরের মোহ, সম্পদের লালসা, পতিপত্তি, দুনিয়ার চাকচিক্য ও ক্ষমতার মোহ। মহান আল্লাহ এই প্রবৃত্তিগুলোর বর্ণনায় বিবাহের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বাগ্রে রেখেছেন, কারণ এটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর যদি না তা যথাসময়ে শরয়ি কাঠামোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি।" ১.

--------------------------------------------

১. একমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি: নিকাহ (৫০৯৬), মুসলিম: জিকির ও দোয়া (২৭৪০)।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
وفي الحديث كما قال الحافظ ابن حجر: أن الفتنة بالنساء أشد من الفتنة بغيرهن1 ثم ذكر تعالى الشهوات الأخرى مجملة، وقد ورد تفصيلها في مواضع أخر كشهوة حب المال في قوله تعالى: {وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلاهُ فَقَدَرَ عَليْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَهَانَنِ كَلا بَل لا تُكْرِمُونَ اليَتِيمَ وَلا تَحَاضُّونَ عَلى طَعَامِ المِسْكِينِ وَتَأْكُلُونَ التُّرَاثَ أَكْلا لمًّا وَتُحِبُّونَ المَال حُبًّا جَمًّا} [الفجر:16-19] .

وجاء في السنة توضيح أبعاد هذه الشهوة الجامحة المتأصلة في الإنسان ففي حديث سهل بن سعد رضي الله عنه قال سمعت عبد الله بن الزبير رضي الله عنهما على المنبر بمكة في خطبته يقول: يا أيها الناس إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول: “ لو أن ابن آدم أعطي واديا ملئا من ذهب أحب إليه ثانيا ولو أعطي ثانيا أحب إليه ثالثا ولا يسد جوف ابن آدم إلا التراب ويتوب الله على من تاب” 2.

ومثله حديث ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعا: “لو كان لابن آدم واديان من مال لابتغى ثالثا، ولا يملأ جوف ابن آدم الا التراب ويتوب الله على من تاب” 3.

وما من ريب أن الشهوات اذا استحوذت على المرء أوردته المهالك وفي حديث أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: “ حجبت النار بالشهوات وحجبت الجنة بالمكاره” ولفظ مسلم: ”حفت النار بالمكاره وحفت النار بالشهوات” 4

قال الحافظ ابن حجر: “وهو من جوامع كلمه صلى الله عليه وسلم وبديع بلاغته في ذم الشهوات وإن مالت إليها النفوس، والحض على الطاعات وإن كرهتها النفوس

--------------------------------------------

1 الفتح 9/138.

2 خ: الرقاق (6438) انفرد به البخاري.

3 متفق عليه: خ: الرقاق (6436) ، م: الزكاة (1049) .

4 متفق عليه: خ: الرقاق (6487) ، م: الجنة وصفة نعيمها (2823) .
হাদিসের বর্ণনায় যেমন হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: নারীদের দ্বারা পরীক্ষা অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষার চেয়ে অধিক তীব্র।১ অতঃপর মহান আল্লাহ অন্যান্য কামনাবাসনার কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, যার বিস্তারিত বিবরণ অন্যান্য স্থানে এসেছে, যেমন সম্পদের প্রতি মোহের প্রবৃত্তি সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {পক্ষান্তরে যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার রিযিক সংকুচিত করেন, তখন সে বলে, 'আমার প্রতিপালক আমাকে হেয় করেছেন।' কখনই নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান করো না। এবং তোমরা অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে একে অন্যকে উৎসাহিত করো না। আর তোমরা উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পদ গোগ্রাসে ভক্ষণ করো। এবং তোমরা ধন-সম্পদকে অতিশয় ভালোবাস।} [ফজর: ১৬-১৯]।

মানুষের অন্তরে প্রোথিত এই লাগামহীন কামনাবাসনার পরিধি সুন্নাহতেও স্পষ্ট করা হয়েছে। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)-কে মক্কায় মিম্বরের ওপর খুতবা প্রদানকালে বলতে শুনেছি: হে লোকসকল! নবী (সা.) বলতেন, “আদম সন্তানকে যদি স্বর্ণে পরিপূর্ণ একটি উপত্যকা দেওয়া হয়, তবে সে দ্বিতীয় আরেকটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে। আর যদি তাকে দ্বিতীয়টি দেওয়া হয়, তবে সে তৃতীয়টি পেতে চাইবে। মাটি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে আদম সন্তানের পেট ভরবে না। আর যে তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।” ২

অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে রাসূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত হাদিস: “আদম সন্তানের যদি দুই উপত্যকা পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে সে তৃতীয়টি অনুসন্ধান করবে। মাটি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে আদম সন্তানের পেট পূর্ণ হবে না। আর যে তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।” ৩

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কামনাবাসনা যখন মানুষের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব লাভ করে, তখন তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন: “জাহান্নামকে প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত করা হয়েছে এবং জান্নাতকে কষ্টসাধ্য বিষয় দিয়ে আবৃত করা হয়েছে।” মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে: “জান্নাতকে প্রতিকূলতা দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে এবং জাহান্নামকে প্রবৃত্তি দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে।” ৪

হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: “এটি নবী (সা.)-এর অত্যন্ত অর্থগর্ভ সংক্ষিপ্ত বাণী (جوامع كلمه) এবং প্রবৃত্তির নিন্দায় তাঁর চমৎকার অলঙ্কারপূর্ণ উপস্থাপনা—যদিও মানুষের মন সেদিকে ঝুঁকে থাকে; আর এটি আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে—যদিও মানুষের মন তা অপছন্দ করে।”

--------------------------------------------

১ আল-ফাতহ ৯/১৩৮।

২ বুখারি: আর-রিকাক (৬৪৩৮), ইমাম বুখারি এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি: আর-রিকাক (৬৪৩৬), মুসলিম: আজ-জাকাত (১০৪৯)।

৪ ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি: আর-রিকাক (৬৪৮৭), মুসলিম: আল-জান্নাহ ওয়া সিফাতু নাইমিহা (২৮২৩)।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
وشق عليها، قال: المراد بالمكاره هنا ما أمر المكلف بمجاهدة نفسه فيه فعلا وتركا … وأطلق عليها المكاره لمشقتها على العامل وصعوبتها عليه”1.

واتباع الشهوات لذاتها لا للاستعانة بها على الطاعات مذموم، وكذلك اتباع الأهواء، قال ابن تيمية رحمه الله: “ قوله سبحانه {كَالذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالا وَأَوْلادًا فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالذِي خَاضُوا أُوْلئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُوْلئِكَ هُمْ الخَاسِرُونَ} [التوبة:69] ففي قوله {فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلاقِكُمْ} إشارة إلى اتباع الشهوات وهو داء العصاة. وقوله {وَخُضْتُمْ كَالذِي خَاضُوا} إشارة إلى اتباع الشبهات وهو داء المبتدعة وأهل الأهواء والخصومات وكثيرا ما يجتمعان فقل من تجد في اعتقاده فسادا إلا وهو ظاهر في عمله وقد دلت الآية على أن الذين كانوا من قبل استمتعوا وخاضوا وهؤلاء فعلوا مثل أولئك.

ثم قوله: {فَاسْتَمْتَعْتُمْ} و {وَخُضْتُمْ} خبر عن وقوع ذلك في الماضي وهو ذم لمن يفعله إلى يوم القيامة كسائر ما أخبر الله به عن أعمال وصفات الكفار والمنافقين عند مبعث عبده ورسوله محمد صلى الله عليه وسلم فإنه ذم لمن يكون حاله حالهم إلى يوم القيامة”2.

وأما الشبهات فقد ذكرها الله في قوله: {هُوَ الذِي أَنْزَل عَليْكَ الكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلم تَأْوِيلهُ إِلا اللهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي العِلمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُل مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلا أُوْلُوا الأَلبَابِ} [آل عمران:7] .

--------------------------------------------

1 الفتح 11/320.

2 اقتضاء الصراط المستقيم ص 26.
এবং এটি তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। তিনি বলেন: এখানে ‘মাকারেহ’ (المكاره) (অপ্রীতিকর বিষয়সমূহ) বলতে সেই বিষয়গুলোকে বোঝানো হয়েছে যা পালনের মাধ্যমে অথবা বর্জনের মাধ্যমে শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে (المكلف) নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে … এবং আমলকারীর জন্য তা কষ্টসাধ্য ও শ্রমসাধ্য হওয়ার কারণেই একে ‘মাকারেহ’ (المكاره) বলা হয়েছে।”১।

আর নিছক প্রবৃত্তি পূরণের জন্য কুপ্রবৃত্তি (الشهوات)-র অনুসরণ করা—ইবাদতে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে নয়—তা নিন্দনীয়। অনুরূপভাবে খেয়াল-খুশি (الأهواء)-র অনুসরণও নিন্দনীয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো, তারা তোমাদের চেয়ে শক্তিতে প্রবল ছিল এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অধিক ছিল। অতঃপর তারা তাদের অংশ ভোগ করেছে; তোমরাও তোমাদের অংশ ভোগ করেছ যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অংশ ভোগ করেছে এবং তোমরাও অনর্থক বিতর্কে মেতেছ যেমন তারা মেতেছিল। এরাই তারা, যাদের আমলসমূহ দুনিয়া ও আখেরাতে নিস্ফল হয়ে গেছে এবং এরাই ক্ষতিগ্রস্ত।} [তওবা: ৬৯] এখানে তাঁর বাণী {তোমরা তোমাদের অংশ ভোগ করেছ}-এর মধ্যে কুপ্রবৃত্তি (الشهوات) অনুসরণের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, যা অবাধ্যদের রোগ। আর তাঁর বাণী {তোমরাও অনর্থক বিতর্কে মেতেছ}-এর মধ্যে সংশয় (الشبهات) অনুসরণের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, যা বিদআতি (المبتدعة), খেয়াল-খুশিতে নিমগ্ন এবং ঝগড়াটে লোকদের রোগ। প্রায়শই এই দুটি রোগ একত্রে পাওয়া যায়। খুব কমই এমন কাউকে পাওয়া যাবে যার আকিদাহ বা বিশ্বাসে ভ্রান্তি রয়েছে কিন্তু তার আমল স্বচ্ছ; বরং তা আমলে প্রকাশ পাবেই। এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, পূর্ববর্তীরা পার্থিব অংশ ভোগ করেছে ও অনর্থক বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী এই লোকগুলোও তাদের মতোই কাজ করেছে।

অতঃপর তাঁর বাণী: {তোমরা ভোগ করেছ} এবং {তোমরা মেতেছ} অতীতে এ জাতীয় ঘটনা ঘটার একটি সংবাদ, এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এমন করবে তাদের জন্য এটি একটি নিন্দা। ঠিক যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরণের সময় কাফের ও মুনাফিকদের আমল ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যা কিছু জানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি তাদের জন্যই নিন্দা কিয়ামত পর্যন্ত যাদের অবস্থা তাদের অবস্থার মতো হবে।”২।

আর সংশয় (الشبهات) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {তিনিই আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো অস্পষ্ট বা সংশয়পূর্ণ (متشابهات)। অতএব যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট (متشابه) তার অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। আর কেবল বুদ্ধিমানরাই শিক্ষা গ্রহণ করে।} [আল ইমরান: ৭] ।

--------------------------------------------

১ আল-ফাতহ ১১/৩২০।

২ ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকিম পৃ. ২৬।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬০)
ولا يخفى أن الشيطان ـ عليه لعائن الله ـ للإنسان بالمرصاد يزخرف له الشهوات ويزين له الشبهات ليوقعه في حبائله، أليس هو الذي قطع على نفسه العهد باغواء بني آدم قال تعالى: {قَال فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لأَقْعُدَنَّ لهُمْ صِرَاطَكَ المُسْتَقِيمَ ثُمَّ لآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} [الأعراف:16-17] .

وقد حذر الله تبارك وتعالى من كيد الشيطان ومكره فقال: {يَا بَنِي آدَمَ لا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ} [الأعراف:27] .

وأخبر أن الشيطان لعنه الله سيحقق أمنيته باغواء الأكثرين من بني آدم فقال تعالى: {وَلقَدْ صَدَّقَ عَليْهِمْ إِبْلِيسُ ظَنَّهُ فَاتَّبَعُوهُ إِلا فَرِيقًا مِنْ المُؤْمِنِينَ} [سبأ:20] .

وقال في موضع: {قَال فَبِعِزَتِكَ لأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ إِلا عِبَادَكَ مِنْهُمْ المُخْلصِينَ} [ص:82-83] .

قال ابن القيم: “ وأما جهاد الشيطان فمرتبتان: إحداهما جهاده على دفع ما يلقي إلى العبد من الشبهات والشكوك القادحة في الإيمان.

الثانية: جهاده على دفع ما يلقي إليه من الإرادات الفاسدة والشهوات فالجهاد الأول يكون بعده اليقين والثاني يكون بعده الصبر قال تعالى: {وَجَعَلنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} [السجدة:24] فأخبر أن إمامة الدين إنما تنال بالصبر واليقين فالصبر يدفع الشهوات والإرادات الفاسدة واليقين يدفع الشكوك والشبهات”1.

ومع كيد الشيطان ومكره هناك عدد من العوامل النفسية التي تسهل

--------------------------------------------

1 زاد المعاد 3 / 10.
এটি অবিদিত নয় যে, শয়তান—তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক—মানুষের জন্য ওত পেতে থাকে, সে তার কাছে প্রবৃত্তির লালসাকে সুশোভিত করে এবং সংশয়সমূহকে চাকচিক্যময় করে তোলে যাতে তাকে তার জালে নিপতিত করতে পারে। সে কি সেই সত্তা নয়, যে আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছিল? মহান আল্লাহ বলেন: {সে বলল, ‘যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে থাকব। তারপর আমি অবশ্যই তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ থেকে ও তাদের পশ্চাৎ দিক থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না’} [আল-আ’রাফ: ১৬-১৭] ।

আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা শয়তানের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন: {হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রলুব্ধ না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল—সে তাদের থেকে তাদের পোশাক হরণ করেছিল যাতে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাতে পারে। নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই আমি শয়তানদেরকে তাদের অভিভাবক করে দিয়েছি যারা ঈমান আনে না} [আল-আ’রাফ: ২৭] ।

আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, লানতপ্রাপ্ত শয়তান আদম সন্তানদের অধিকাংশকে পথভ্রষ্ট করার মাধ্যমে তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর অবশ্যই ইবলিস তাদের ব্যাপারে তার ধারণা সত্য প্রমাণ করল; ফলে মুমিনদের একটি দল ছাড়া তারা সকলেই তার অনুসরণ করল} [সাবা: ২০] ।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: {সে বলল, ‘আপনার মহিমার শপথ! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব। তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া’} [সোয়াদ: ৮২-৮৩] ।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: “শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ দুই স্তরের: প্রথমটি হলো, শয়তান বান্দার মনে ঈমানের ক্ষতিসাধনকারী যেসব সংশয় ও সন্দেহ নিক্ষেপ করে তা প্রতিহত করার জিহাদ।

দ্বিতীয়টি হলো, শয়তান তার প্রতি যেসব মন্দ সংকল্প ও প্রবৃত্তির লালসা নিক্ষেপ করে তা প্রতিহত করার জিহাদ। প্রথম জিহাদের পরবর্তী পর্যায় হলো দৃঢ় বিশ্বাস এবং দ্বিতীয়টির পরবর্তী পর্যায় হলো ধৈর্য। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশানুসারে পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত} [আস-সাজদাহ: ২৪]। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, দ্বীনের ইমামত কেবল ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। অতএব ধৈর্য প্রবৃত্তির লালসা ও মন্দ সংকল্পকে প্রতিহত করে এবং দৃঢ় বিশ্বাস সন্দেহ ও সংশয়কে দূর করে।”১।

শয়তানের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পাশাপাশি বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক উপাদান রয়েছে যা সহজতর করে

--------------------------------------------

১ যাদুল মা’আদ ৩/১০।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬১)
المعصية وتزينها كما دلت عليه نصوص الكتاب والسنة، منها:

أ - إتباع الهوى وهو مذموم قال تعالى: {أَفَمَنْ كَانَ عَلى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ كَمَنْ زُيِّنَ لهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ} [محمد:14] ففرق تعالى بين أهل الإتباع للحق وأهل الأهواء الذين لا ينضبطون باتباع ما ينافي أهواءهم وينغص عليهم رغباتهم، واتباعهم للأهواء نوع من العبودية لغير الله، وفيهم شبه بالبهائم التي لا يهمها غير شهوة البطن والفرج، وقد قال جل ذكره: {أَرَأَيْتَ مَنْ اتَّخَذَ إِلهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَليْهِ وَكِيلا [43] أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلا كَالأَنْعَامِ بَل هُمْ أَضَل سَبِيلا} [الفرقان:44]

وقال في موضع: {وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنْ الهَوَى فَإِنَّ الجَنَّةَ هِيَ المَأْوَى} [النازعات:40-41]

ولا يتبع هواه إلا ضعيف الإيمان ناقص المروءة مهزوز الإرادة من خارت عزيمته ومرض قلبه وقعدت نفسه عن معالي الأمور لذا لا يوصف باتباع الأهواء

في القرآن العظيم إلا أهل الضلالة والشقاوة.

قال ابن تيميّة رحمه الله: ”أصل الهوى محبة النفس ويتبع ذلك بغضها ونفس الهوى وهو الحب والبغض الذى فىالنفس لا يلام عليه فان ذلك قد لا يملك وإنما يلام على اتباعه كما قال تعالى: {يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلنَاكَ خَلِيفَةً فِي الأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالحَقِّ وَلا تَتَّبِعْ الهَوَى فَيُضِلكَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ} [ص: 26] وقال تعالى: {وَمَنْ أَضَل مِمَّنْ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنْ اللهِ} [القصص: 50] وقال النبى صلى الله عليه وسلم: ”ثلاث منجيات خشية الله فى السر والعلانية والقصد فى الفقر والغنى وكلمة الحق فى الغضب والرضا وثلاث مهلكات شح مطاع وهوى متبع واعجاب المرء بنفسه “ 1.

والحب والبغض يتبعه ذوق عند وجود المحبوب والمبغض ووجد وارادة

--------------------------------------------

1 لم أجده في الكتب التسعة وهو في نوادر الأصول 2/7 الأصل الحادي والتسعون.
পাপাচারে লিপ্ত হওয়া এবং তাকে সুশোভিত করা, যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ নির্দেশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক - প্রবৃত্তির অনুসরণ করা এবং এটি নিন্দনীয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে কি যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে ঐ ব্যক্তির সমান যার কাছে তার মন্দ কাজগুলো সুশোভিত করা হয়েছে এবং তারা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে?} [মুহাম্মদ: ১৪]। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সত্যের অনুসারী এবং প্রবৃত্তিপূজারীদের (أهل الأهواء) মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছেন, যারা তাদের প্রবৃত্তিবিরোধী এবং কামনায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কোনো বিধান পালনের মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে না। তাদের এই প্রবৃত্তি অনুসরণ হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দাসত্ব করার শামিল। তাদের মধ্যে চতুষ্পদ জন্তুর সাদৃশ্য রয়েছে, যাদের উদর ও যৌনাঙ্গের লালসা ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? তবুও কি তুমি তার কর্মবিধায়ক হবে? অথবা তুমি কি মনে করো যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট।} [আল-ফুরকান: ৪৩-৪৪]

এবং তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: {পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাসস্থল।} [আন-নাজিআত: ৪০-৪১]

কেবল দুর্বল (ضعيف) ইমান, পৌরুষত্বহীন, টলায়মান সংকল্পের অধিকারী, যার হিম্মত দমে গেছে, যার অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত এবং যার নফস তাকে উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ থেকে নিবৃত্ত করেছে, সেই প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। এজন্যই মহান কুরআনে কেবল পথভ্রষ্ট এবং হতভাগ্যদের ছাড়া আর কাউকে প্রবৃত্তি অনুসরণকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি।

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "প্রবৃত্তির মূল ভিত্তি হলো নফসের ভালোবাসা এবং এর অনুগামী হলো নফসের ঘৃণা। মূলত প্রবৃত্তিজাত বিষয় অর্থাৎ অন্তরের ভালোবাসা বা ঘৃণা—এর জন্য কাউকে তিরস্কার করা হয় না; কারণ এটি অনেক সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বরং তিরস্কার করা হয় এর অনুসরণের কারণে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা বানিয়েছি; সুতরাং তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে।} [সোয়াদ: ২৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আল্লাহর পক্ষ হতে হেদায়েত ব্যতিরেকে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?} [আল-কাসাস: ৫০]। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তিনটি জিনিস নাজাতদানকারী: গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা, দারিদ্র্য ও সচ্ছল উভয় অবস্থায় পরিমিতিবোধ বজায় রাখা এবং ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় হকের কথা বলা। আর তিনটি জিনিস ধ্বংসকারী: যে কার্পণ্য মানুষের আনুগত্য লাভ করে, যে প্রবৃত্তি অনুসৃত হয় এবং কোনো ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে আত্মতৃপ্তি লাভ করা।” ১

ভালোবাসা ও ঘৃণা—এ দুটির পরেই আসে প্রিয় বা অপ্রিয় বস্তুর উপস্থিতিতে ভালো লাগা বা মন্দ লাগার অনুভূতি এবং সংকল্প ও ইচ্ছা।

--------------------------------------------

১. এটি আমি নয়টি কিতাবে (আল-কুতুবুত তিসআহ) পাইনি। তবে এটি 'নাওয়াদিরুল উসুল' ২/৭, ৯১তম পরিচ্ছেদে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬২)
وغير ذلك فمن اتبع ذلك بغير أمر الله ورسوله فهو ممن اتبع هواه بغير هدى من الله بل قد يصعد به الأمر الى أن يتخذ الهه هواه واتباع الأهواء فى الديانات أعظم من اتباع الاهواء فى الشهوات فان الأول حال الذين كفروا من أهل الكتاب والمشركين كما قال تعالى {فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدىً مِنَ اللَّهِ} 1.

ب- والنفس الأمارة بالسوء وفيها قوله: {وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ} [يوسف:53]

قال ابن تيميّة في قوله تعالى: {إِنَّ النَّفْسَ لأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلا مَا رَحِمَ رَبِّي} [يوسف] وهذا يدل على أنه ليس كل نفس أمارة بالسوء بل ما رحم ربى ليس فيه النفس الأمارة بالسوء. وقد ذكر طائفة من الناس أن النفس لها ثلاثة أحوال تكون أمارة بالسوء ثم تكون لوامة أي تفعل الذنب ثم تلوم عليه أو تتلوم فتتردد بين الذنب والتوبة ثم تصير مطمئنة والمقصود هنا أن ما رحم ربي من النفوس ليست بأمارة وإذا كانت النفوس منقسمة إلى مرحومة وأمارة فقد علمنا قطعا أن نفس امرأة العزيز من النفوس الأمارة بالسوء لأنها أمرت بذلك مرة بعد مرة وراودت وافترت وإستعانت بالنسوة وسجنت …) 2.

جـ- والتقليد الأعمى ومسايرة السادة والزعماء في الباطل وفيه قوله تعالى: {قَال الذِينَ اسْتَكْبَرُوا لِلذِينَ اسْتُضْعِفُوا أَنَحْنُ صَدَدْنَاكُمْ عَنْ الهُدَى بَعْدَ إِذْ جَاءَكُمْ بَل كُنتُمْ مُجْرِمِينَ وَقَال الذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلذِينَ اسْتَكْبَرُوا بَل مَكْرُ الليْلِ وَالنَّهَارِ إِذْ تَأْمُرُونَنَا أَنْ نَكْفُرَ بِاللهِ وَنَجْعَل لهُ أَندَادًا وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لمَّا رَأَوْا العَذَابَ وَجَعَلنَا الأَغْلال فِي أَعْنَاقِ الذِينَ كَفَرُوا هَل يُجْزَوْنَ إِلا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [سبأ:32-33] .

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوي 28/132.

2 مجموع الفتاوي 15/143.
এবং এ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়; সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ ব্যতীত সেগুলোর অনুসরণ করে, সে ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়াই নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে। বরং বিষয়টি তাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে যেখানে সে তার খেয়াল-খুশিকেই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে। আর দ্বীনি বিষয়ে খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা জৈবিক প্রবৃত্তির অনুসরণের চেয়েও জঘন্য। কেননা প্রথমটি হলো আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের অবস্থা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তারা যদি আপনার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তারা কেবল নিজ নিজ খেয়াল-খুশিরই অনুসরণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়াই যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে?} ১।

খ- মন্দ কর্মে প্ররোচনাকারী আত্মা; এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না; নিশ্চয় মানুষের আত্মা মন্দ কর্মের নির্দেশ দিয়েই থাকে, কিন্তু আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [ইউসুফ: ৫৩]

মহান আল্লাহর বাণী— {নিশ্চয় মানুষের আত্মা মন্দ কর্মের নির্দেশ দিয়েই থাকে, তবে আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ব্যতীত} [ইউসুফ] এর ব্যাখ্যায় ইবনে তাইমিয়া বলেন: "এটি নির্দেশ করে যে সকল আত্মা মন্দ কর্মের প্ররোচনাকারী নয়, বরং আমার প্রতিপালক যাদের প্রতি দয়া করেছেন তাদের মাঝে মন্দ প্ররোচনাকারী আত্মা বিদ্যমান নেই। একদল লোক উল্লেখ করেছেন যে, আত্মার তিনটি অবস্থা রয়েছে: এটি কখনও মন্দ কর্মে প্ররোচনাকারী হয়, এরপর এটি তিরস্কারকারী হয়—অর্থাৎ সে পাপ করে এবং পরে সেজন্য নিজেকে তিরস্কার করে অথবা পাপ ও তওবার মাঝে দোদুল্যমান থাকে, অতঃপর এটি প্রশান্ত আত্মায় পরিণত হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ যাদের প্রতি দয়া করেছেন সেই আত্মাগুলো মন্দ প্ররোচনাকারী নয়। আর আত্মা যখন দয়াপ্রাপ্ত ও প্ররোচনাকারী—এই দুই ভাগে বিভক্ত, তখন আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে, আযীযের স্ত্রীর আত্মা ছিল মন্দ প্ররোচনাকারী আত্মাগুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ সে বারবার এর নির্দেশ দিয়েছে, ফুসলিয়েছে, অপবাদ দিয়েছে, অন্য নারীদের সাহায্য নিয়েছে এবং কারারুদ্ধ করেছে …) ২।

গ- অন্ধ অনুকরণ এবং বাতিলের পথে নেতা ও প্রধানদের অনুগমন; এ বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: {অহংকারীরা দুর্বলদেরকে বলবে, ‘তোমাদের কাছে হিদায়াত আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে নিবৃত্ত করেছিলাম? বরং তোমরাই ছিলে অপরাধী।’ আর দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, ‘বরং দিন-রাতের চক্রান্তই ছিল প্রধান, যখন তোমরা আমাদের নির্দেশ দিতে যেন আমরা আল্লাহর সাথে কুফরি করি এবং তাঁর সমকক্ষ স্থির করি।’ আর যখন তারা আযাব দেখবে তখন তারা মনে মনে অনুতপ্ত হবে। যারা কুফরি করেছে আমি তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দেব। তারা যা করত কেবল তারই প্রতিফল তাদেরকে দেওয়া হবে।} [সাবা: ৩২-৩৩] ।

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/১৩২।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া ১৫/১৪৩।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
د- والمال والغنى والجاه وكل ذلك يطغي ويلهي إن لم تصاحبه تقوى الله تعالى، قال تعالى: {كَلا إِنَّ الإِنسَانَ ليَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى} [العلق:6-7] .

وقال في موضع: {وَلوْ بَسَطَ اللهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهِ لبَغَوْا فِي الأَرْضِ وَلكِنْ يُنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ بِعِبَادِهِ خَبِيرٌ بَصِيرٌ} [الشورى:27] .

?- والركون إلى الحياة الدنيا بزخارفها وزيناتها وخداعها واغترار الناس بها الا من رحم الله وفي هذا يقول تعالى: {اعْلمُوا أَنَّمَا الحَيَاةُ الدُّنْيَا لعِبٌ وَلهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الأَمْوَالِ وَالأَوْلادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنْ اللهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلا مَتَاعُ الغُرُورِ} [الحديد:20] وقال في موضع: {بَل تُؤْثِرُونَ الحَيَاةَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى} [الأعلى:16-17] .

و_ وأيضا ما يرين على القلوب من المعاصي بالتمادي فيها والغفلة عن الله ونسيان لقائه وكل ذلك يزيد الشقي شقاءا قال تعالى: {كَلا بَل رَانَ عَلى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} [المطففين:14] .

قال ابن تيمية: ” والمؤمن لا يزال يخرج من الظلمات إلى النور ويزداد هدى فيتجدد له من العلم والإيمان ما لم يكن قبل ذلك فيتوب مما تركه وفعله والتوبة تصقل القلب وتجليه مما عرض له من رين الذنوب” كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: “إن العبد إذا أذنب نكتت في قلبه نكتة سوداء فإن تاب ونزع واستغفر صقل قلبه وإن زاد زيد فيها حتى تعلو قلبه فذلك الران الذي قال الله {كَلا بَل رَانَ عَلى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} [المطففين:14] “1.

--------------------------------------------

1 ت: تفسير القرآن (3334) وقال حسن صحيح، ماجة: الزهد (4244) ، أحمد: المكثرين (7611) .
ঘ- ধন-সম্পদ, প্রাচুর্য এবং মান-মর্যাদা; এসব কিছুই মানুষকে সীমা লঙ্ঘন করতে বাধ্য করে এবং সত্যবিমুখ করে দেয় যদি না এর সাথে আল্লাহর তাকওয়া (খোদাভীতি) বিদ্যমান থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: {কখনও না, মানুষ তো অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে থাকে, যখন সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে} [আল-আলাক: ৬-৭] ।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: {আর আল্লাহ যদি তাঁর বান্দাদের জন্য রিযিক প্রশস্ত করে দিতেন, তবে তারা জমিনে অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করত; কিন্তু তিনি যা ইচ্ছা করেন পরিমাণমত নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত ও সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শূরা: ২৭] ।

ঙ- দুনিয়াবি জীবনের চাকচিক্য, সৌন্দর্য ও প্রতারণার প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং আল্লাহ যাদের ওপর দয়া করেছেন তারা ব্যতীত অধিকাংশ মানুষের তাতে মোহিত হওয়া। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা জেনে রাখ যে, দুনিয়ার জীবন তো কেবল খেল-তামাশা, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ব-অহংকার আর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা বৃষ্টির মতো, যার উৎপাদিত ফসল কৃষকদের মুগ্ধ করে, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, অবশেষে তা খড়কুটাতে পরিণত হয়। আর আখেরাতে রয়েছে কঠিন আযাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। দুনিয়ার জীবন তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়} [আল-হাদীদ: ২০]। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: {বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখেরাতই অধিকতর উত্তম ও স্থায়ী} [আল-আ’লা: ১৬-১৭] ।

চ- এছাড়া গুনাহের পুনরাবৃত্তি, আল্লাহর ব্যাপারে উদাসীনতা এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের কথা ভুলে যাওয়ার ফলে হৃদয়ে যে মরিচা পড়ে। এসব কিছুই হতভাগার দুর্ভাগ্যের মাত্রা বৃদ্ধি করে। মহান আল্লাহ বলেন: {কখনও না, বরং তারা যা অর্জন করত, তাই তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়ে দিয়েছে} [আল-মুতাফফিফিন: ১৪] ।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: “মুমিন ব্যক্তি সর্বদা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত হয় এবং তার হেদায়েত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে তার মধ্যে এমন ইলম ও ঈমানের সঞ্চার হয় যা পূর্বে ছিল না। অতঃপর সে তার বর্জনকৃত বা কৃত গুনাহ থেকে তওবা করে। আর তওবা অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করে এবং গুনাহের ফলে অন্তরে যে মরিচা বা আবরণ পড়েছিল তা দূর করে দেয়।” যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর সে যদি তওবা করে, পাপ থেকে ফিরে আসে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি গুনাহ বৃদ্ধি করে, তবে সেই দাগও বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তার পুরো অন্তরকে ছেয়ে ফেলে। আর এটাই হলো সেই ‘রান’ (মরিচা) যার কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন: {কখনও না, বরং তারা যা অর্জন করত, তাই তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়ে দিয়েছে} [আল-মুতাফফিফিন: ১৪]।”১।

--------------------------------------------

১ ত: তাফসীরুল কুরআন (৩৩৩৪) এবং তিনি একে উত্তম ও সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন, মাজাহ: যুহদ (৪২৪৪), আহমাদ: আল-মুকাছছিরীন (৭৬১১)।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح “إنه ليغان على قلبي وإني لأستغفر الله في اليوم مائة مرة” 1.

والتوبة من الإعتقادات أعظم من التوبة من الإرادات فإن من ترك واجبا أو فعل قبيحا يعتقد وجوبه وقبحه كان ذلك الإعتقاد داعيا له إلى فعل الواجب ومانعا من فعل القبيح فلا يكون في فعله وتركه ثابت الدواعي والصوارف بل تكون دواعيه وصوارفه متعارضة ولهذا يكون الغالب على هذا التلوم وتكون نفسهم لوامة تارة يؤدون الواجب وتارة يتركونه وتارة يتركون القبيح وتارة يفعلونه كما تجده في كثير من فساق القبلة الذين يؤدون الحقوق تارة ويمنعونها أخرى ويفعلون السيئات تارة ويتركونها”2.

وعلى الداعية أن يعرف هذه الأسباب ومكامن الداء في النفس حتى إذا أوقع علاجه أوقعه على بصيرة وبقدر وحكمة.

--------------------------------------------

1 م: الذكر والدعاء (2702) ، د: الصلاة (1294) ، أحمد: الكوفيين (17575) .

2 ضمن جامع الرسائل ص 237
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহিহ (صحيح) হাদিসে বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমার অন্তরে মেঘের মতো আবরণ তৈরি হয় এবং আমি দিনে একশত বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।” ১।

আর বিশ্বাসগত বিষয়সমূহ থেকে তওবা করা ইচ্ছাশক্তির বিষয়সমূহ থেকে তওবা করার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে ব্যক্তি কোনো ওয়াজিব বর্জন করে কিংবা কোনো মন্দ কাজ করে এবং সে তার আবশ্যকতা ও মন্দ হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস পোষণ করে, তবে সেই বিশ্বাস তাকে ওয়াজিব পালনে উদ্বুদ্ধকারী এবং মন্দ কাজ থেকে নিবৃত্তকারী হিসেবে কাজ করে। ফলে তার কাজ করা বা না করার ক্ষেত্রে প্ররোচনা ও নিবৃত্তির কারণগুলো সুদৃঢ় থাকে না, বরং তার উদ্দেশ্য ও সংকল্পগুলো দ্বিধাবিভক্ত থাকে। এই কারণেই এদের ওপর অনুশোচনা প্রবল থাকে এবং তাদের আত্মা তিরস্কারকারী হয়ে থাকে; তারা কখনো ওয়াজিব পালন করে আবার কখনো তা বর্জন করে, এবং কখনো মন্দ কাজ বর্জন করে আবার কখনো তা সম্পাদন করে। যেমনটি আপনি কিবলাপন্থী অনেক পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তিদের মধ্যে দেখতে পান যারা কখনো হক আদায় করে আবার কখনো তা থেকে বিরত থাকে এবং কখনো মন্দ কাজ করে আবার কখনো তা ছেড়ে দেয়। ২।

একজন দায়ীর জন্য আবশ্যক হলো এই সকল কারণ এবং নফসের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা ব্যাধির উৎসগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া, যাতে তিনি যখন এর চিকিৎসা করবেন, তখন তা পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি, পরিমিতি ও প্রজ্ঞার সাথে করতে পারেন।

--------------------------------------------

১. মুসলিম: আজ-জিকর ওয়াদ-দুআ (২৭০২), আবু দাউদ: আস-সালাত (১২৯৪), আহমদ: আল-কুফিয়্যিন (১৭৫৭৫)।

২. জামিউর রাসায়িল, পৃষ্ঠা ২৩৭।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
‌‌أنواع المعاصي ودركاتها:

المعاصي تتفاوت بحسب الجرم، وبحسب الحال، وبحسب العاصي المتلبس بالمعصية، وبحسب الزمان والمكان، فمن المعاصي الكبائر ومنها الصغائر، ومنها ما يرتكبه العاصي عمدا ومنها ما يرتكبه ناسيا أو جهلا، ومنها ما يرتكبه متأولا، والداعية الحصيف عليه أن يدرك ذلك كله قبل أن يبدأ العلاج والتقويم والنصح والتوجيه والوعظ.

فالمعاصي باعتبار الدركات: كبائر وصغائر كما في قول الباري جل ذكره {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلكُمْ مُدْخَلا كَرِيمًاء} [النساء:14] .
পাপের প্রকারভেদ ও এর স্তরসমূহ:

অপরাধের ধরন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পাপে লিপ্ত ব্যক্তির অবস্থা এবং স্থান ও কাল ভেদে পাপের তারতম্য হয়ে থাকে। পাপের মধ্যে কিছু রয়েছে বড় গুনাহ (كبائر) এবং কিছু রয়েছে ছোট গুনাহ (صغائر)। পাপিষ্ঠ ব্যক্তি কোনো পাপ ইচ্ছাকৃতভাবে করে, কোনোটি ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত করে, আবার কোনোটি ভুল ব্যাখ্যার (متأولا) কারণে করে থাকে। একজন বিচক্ষণ দায়ীর উচিত সংশোধন, সংস্কার, নসিহত, দিকনির্দেশনা ও ওয়াজ-নসিহত শুরু করার আগে এই সমস্ত বিষয় অনুধাবন করা।

স্তরের বিবেচনায় পাপসমূহ হলো: বড় গুনাহ (كبائر) ও ছোট গুনাহ (صغائر); যেমনটি মহান প্রতিপালক ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা বড় গুনাহ (كبائر), তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো (سيئاتكم) ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদের এক সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।" [নিসা: ১৪]
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
وقال جل ذكره في موضع: {وَالذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الإِثْمِ وَالفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ} [الشورى:37] .

وقال: {الذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الإِثْمِ وَالفَوَاحِشَ إِلا اللمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ المَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُمْ مِنْ الأَرْضِ وَإِذْ أَنْتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلمُ بِمَنْ اتَّقَى} [النجم:32] .

ففي هذه الآيات البينات أن الذنوب كبائر وصغائر والصغائر هي اللمم والسيئات، وينبغي للمسلم أن لا يستهين بالمحقرات والصغائر فإن معظم النار من مستصغر الشرر، وكما قال الحكماء: لا تنظر إلى صغر المعصية ولكن أنظر إلى عظمة من عصيت! وهو الله تبارك وتعالى. وهذا الفهم قالت به عامة الأشعرية وهو أن الذنوب كلها كبائر1.

وهو صحيح لكن باعتبار من عُصي وهو الله تبارك وتعالى، أما باعتبار تفاوت الذنوب فهي صغائر وكبائر بنص التنزيل الحكيم كما سبق إيرادها قريبا وهو قول عامة الفقهاء.

والكبائر المذكورة في الآيات الآنفة كثيرة جدا، منها ما بينتها السنة النبوية كما في أحاديث أنس وأبي هريرة وعبد الله بن مسعود وعبد الله بن عمرو وغيرهم رضي الله عنهم جميعا.

ففي حديث أنس رضي الله عنه قال: سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن الكبائر فقال: “ الإشراك بالله وعقوق الوالدين وقتل النفس وشهادة الزور” 2.

وفي حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ” اجتنبوا السبع الموبقات” قالوا يا رسول الله وما هن؟ قال: ” الشرك بالله، والسحر، وقتل

--------------------------------------------

1 انظر الفتح 10/409 موضع الحديث (5977) .

2 متفق عليه: خ: الشهادات (2653) ، م: الإيمان (88) .
মহান আল্লাহ তাঁর যিকিরে এক স্থানে বলেছেন: {এবং যারা গুরুতর পাপ (كبائر الإثم) ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে এবং যখন তারা রাগান্বিত হয়, তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।} [আশ-শুরা: ৩৭] ।

এবং তিনি বলেছেন: {যারা গুরুতর পাপ (كبائر الإثم) ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে সামান্য পদস্খলন (اللمم) ব্যতীত; নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমার ব্যাপারে অত্যন্ত উদার। তিনি তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত, যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্রতা দাবি করো না; কে মুত্তাকী (পরহেজগার) সে সম্পর্কে তিনি অধিক অবগত।} [আন-নাজম: ৩২] ।

এই সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহসমূহ কবিরা (كبائر) এবং সগিরা (صغائر) — এই দুই প্রকার। আর সগিরা (صغائر) হলো সামান্য পদস্খলন (اللمم) এবং মন্দ কাজ (السيئات)। একজন মুসলিমের জন্য উচিত নয় যে সে তুচ্ছ গুনাহ (المحقرات) ও সগিরা (صغائر) গুনাহগুলোকে অবজ্ঞা করবে, কারণ বড় আগুন মূলত ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ থেকেই সৃষ্টি হয়। যেমনটি প্রাজ্ঞজনরা বলেছেন: পাপের ক্ষুদ্রতার দিকে তাকিও না, বরং তাকাও তাঁর মহান সত্তার দিকে যাঁর তুমি অবাধ্যতা করছ! আর তিনি হলেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা। সাধারণ আশআরী আলেমগণ এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন যে, গুনাহের সবগুলোই মূলত কবিরা (كبائر) [১]।

এটি সঠিক (صحيح), তবে যাঁর অবাধ্যতা করা হচ্ছে সেই মহান আল্লাহর বিচারে। পক্ষান্তরে, গুনাহের পর্যায়ক্রমিক পার্থক্যের বিচারে সেগুলো সগিরা (صغائر) ও কবিরা (كبائر) হিসেবে বিভক্ত, যা পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) দ্বারা প্রমাণিত—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটিই সাধারণ ফকিহগণের অভিমত।

পূর্বোক্ত আয়াতগুলোতে উল্লেখিত কবিরা (كبائر) গুনাহসমূহ অনেক। তার মধ্য থেকে কিছু সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আনাস, আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রমুখের বর্ণিত হাদিসসমূহে পাওয়া যায়।

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কবিরা (كبائر) গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: “আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, হত্যা (قتل النفس) এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান (شهادة الزور)।” [২]।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক (الموبقات) কাজ থেকে বেঁচে থাকো।” তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: “আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু করা এবং হত্যা...”

--------------------------------------------

১. দেখুন: ফাতহুল বারি ১০/৪০৯, হাদিস নং (৫৯৭৭)।

২. বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه): বুখারি: শাহাদাত (২৬৫৩), মুসলিম: ইমান (৮৮)।
(খণ্ড: ১) আসালীবু দাওয়াতিল উসাত (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
النفس التي حرم الله الا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات المؤمنات الغافلات”1.

وفي حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما مرفوعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم: “الكبائر الاشراك بالله وقتل النفس وعقوق الوالدين وقول الزور “ 2

ولا جرم أن الشرك بالله أعظم الذنوب وأكبر الكبائر وهو المبدوء به في الأحاديث السابقة ويوضح ذلك أكثر حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: سألت النبي صلى الله عليه وسلم أي الذنب أعظم عند الله؟ قال: “أن تجعل لله ندا وهو خلقك” قلت ثم أي؟ قال: “ أن تقتل ولدك تحاف أن يطعم معك “ قلت ثم أي؟ قال: “أن تزاني حليلة جارك” 3.

وقد ذكر ابن كثير أقوال العلماء في قوله تعالى: {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلكُمْ مُدْخَلا كَرِيمًا} [النساء:31] منها ما روي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنهم قالوا عن الكبائر هي سبع، فقال: ” أكثر من سبع وسبع قال فلا أدري كم قالها من مرة”. وفي رواية ابن أبي حاتم عن ابن عباس قال: ” هي إلى السبعين أقرب منها إلى السبع” قال ابن كثير: ورواه ابن جرير عن ابن حميد عن ليث عن طاوس قال جاء رجل إلى ابن عباس فقال: أرأيت الكبائر السبع التي ذكرهن الله ما هن قال: “هن إلى السبعين أدنى منهن إلى سبع” وروى بسنده عن سعيد بن جبير: أن رجلا قال لابن عباس رضي الله عنهما: كم الكبائر سبع؟ قال: “هن إلى سبع مئة أقرب منها إلى سبع غير أنه لا كبيرة مع استغفار ولا صغيرة مع إصرار”4.

--------------------------------------------

1 متفق عليه: خ: الوصايا (2767) ، م: الإيمان (89) .

2 متفق عليه: خ: الديات (6871) ، م: الإيمان (88) .

3 متفق عليه: خ: تفسير القرآن (4477) ، م: الإيمان (89) .

4 تفسير ابن كثير 1 / 523.
...আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত কোনো প্রাণকে হত্যা করা (যথাযথ কারণ ব্যতীত), সুদ গ্রহণ করা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন ও উদাসীন নারীদের সতীত্বে অপবাদ দেওয়া।” ১।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে যা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মারফু (مرفوعا) হিসেবে পৌঁছেছে: “কবিরা গুনাহসমূহ হলো—আল্লাহর সাথে শিরক করা, কাউকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা কথা বলা।” ২।

নিঃসন্দেহে আল্লাহর সাথে শিরক করা সবচেয়ে বড় অপরাধ এবং সর্ববৃহৎ কবিরা গুনাহ। পূর্ববর্তী হাদিসসমূহে এটি দিয়েই আলোচনা শুরু করা হয়েছে এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস বিষয়টি আরও বিশদভাবে বর্ণনা করে; তিনি বলেন: আমি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন: “আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: “তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করা যে, সে তোমার সাথে আহার করবে।” আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: “তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।” ৩।

ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেছেন: {যদি তোমরা সেসব বড় গুনাহ (কবিরা গুনাহ) থেকে বেঁচে থাকো যা তোমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব} [আন-নিসা: ৩১]। এর মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তারা কবিরা গুনাহ সম্পর্কে বলেছিল তা সাতটি, তখন তিনি বললেন: “তা সাত এবং সাতের চেয়েও বেশি; বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এটি কতবার বলেছিলেন আমি জানি না।” ইবনে আবি হাতিমের এক বর্ণনায় (رواية) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: “তা সত্তরটির কাছাকাছি, সাতটির চেয়ে নয়।” ইবনে কাসীর বলেন: এটি ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি তাউস থেকে; তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বললেন: আল্লাহ যে সাতটি কবিরা গুনাহের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: “তা সত্তরটির কাছাকাছি, সাতটির চেয়ে নয়।” এবং তিনি তার সানাদ (بسنده) যোগে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন: এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন: কবিরা গুনাহ কি সাতটি? তিনি বললেন: “তা সাতশ-র কাছাকাছি, সাতটির চেয়ে নয়; তবে ক্ষমা প্রার্থনার সাথে কোনো কবিরা গুনাহ থাকে না এবং পাপের ওপর অটল থাকার সাথে কোনো সগিরা গুনাহ থাকে না।” ৪।

--------------------------------------------

১ মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি: আল-ওয়াসায়া (২৭৬৭), মুসলিম: আল-ইমান (৮৯)।

২ মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি: আদ-দিয়াত (৬৮৭১), মুসলিম: আল-ইমান (৮৮)।

৩ মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি: তাফসিরুল কুরআন (৪৪৭৭), মুসলিম: আল-ইমান (৮৯)।

৪ তাফসিরে ইবনে কাসীর ১/৫২৩।